হাঁটার ব্যাপারে রাসুলুল্লাহ সাঃ দ্রুত হাঁটার এবং খালিপায়ে হাঁটার নির্দেশ দিয়েছেন।

✅✅ রাসুলুল্লাহ সাঃ দ্রুত হাঁটার নির্দেশ দিয়েছেন এবং মাঝেমধ্যে খালি পায়ে হাঁটার বিষয়ে উৎসাহিত করেছে। তিনি নিজেও তাই করতেন।
যেসব বিষয় মানুষের জন্য উপকারী তা করতে কোরআন-হাদিসে নানাভাবে উৎসাহিত করেছে; যেমন হাঁটা।
সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবন লাভে চিকিৎসকরা প্রতিদিন কমপক্ষে ৩০ মিনিট হাঁটার পরামর্শ দেন। কোরআন ও হাদিসে মানুষকে নানাভাবে হাঁটতে উৎসাহিত করা হয়েছে।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম বললেন যে তোমরা দ্রুত বেগে হাঁটবে। সাহাবায়ে কেরাম বলেন, রাসূলুল্লাহ বলার পর আমরা দ্রুত হেঁটে দেখলাম এটি আমাদের জন্য অতি সহজ এবং উপকারী।
-ইবনে খুযাইমা-২৫৩৭, হাদিসের মান সহি ।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে অত্যন্ত সাবলীল, দৃঢ় এবং কিছুটা দ্রুত গতিতে হাঁটতেন। সাহাবিদের বর্ণনা অনুযায়ী, তাঁর হাঁটার গতি সাধারণ মানুষের চেয়ে বেশি ছিল এবং মনে হতো যেন তিনি কোনো উঁচু জায়গা থেকে নিচের দিকে নামছেন।
এটি অত্যন্ত অবাক করা বিষয় যে, বর্তমান যুগে প্রতিটি দেশের আর্মির জেনারেল ও বড় বড় অফিসাররা যেভাবে দৃঢ় পদক্ষেপে হার্টেন এবং প্যারেড অবজারভেশন করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম এর হাটার ধরন ছিল ঠিক তেমন। মোটকথা একজন সেনাপতি যেভাবে সর্বক্ষণ হাঁটেন রাসূলুল্লাহ সেভাবেই হাঁটতেন।
রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর হাঁটার ধরণ ছিল:
১// রাসূলুল্লাহ সা. কখনো অলসভাবে বা পা টেনে টেনে হাঁটতেন না। তার হাঁটা ছিল উদ্যমী এবং দৃঢ় প্রদাচারণা।
আলী রা. বলেন, “রাসূলুল্লাহ সা. যখন হাঁটতেন, তখন কিছুটা ঝুঁকে চলতেন, দেখে মনে হতো তিনি যেন কোনো ঢালু পাহাড় থেকে নিচে নামছেন”।
হাঁটার গতি ছিল সহজ স্বাভাবিক । আবু হুরায়রা রা. বর্ণনা করেন, “আমি আল্লাহর রাসূল সাঃ এর চেয়ে দ্রুত গতিতে আর কাউকে হাঁটতে দেখিনি; যেন পথ তাঁর জন্য সংকুচিত বা গুটিয়ে দেওয়া হতো। আমরা তাঁর সাথে তাল মেলাতে হিমশিম খেতাম, অথচ তিনি স্বাভাবিকভাবেই হাঁটতেন”।
২// নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে দ্রুত হাঁটার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। হজ্জ বা ওমরাহর সময় তাওয়াফে প্রথম তিন চক্করে পুরুষদের জন্য কিছুটা বীরদর্পে দ্রুত হাঁটার বিধান রয়েছে হাদিসে; যাকে রমল বলা হয়।
রাসূল সা. নিজেই সাহাবিদের এ নির্দেশ দিয়েছিলেন।
এছাড়া সাধারণ চলাফেরায় অলসতা পরিহার করে চটপটে ও সজীব থাকার বিস্তারিত বিবরণ হাদিসে পাওয়া যায়।
৩// তিনি বিনয় বজায় রাখে দ্রুত হাঁটলেও তাঁর মধ্যে কোনো অহংকার বা কৃত্রিমতা ছিল না। পবিত্র কোরআনে গর্বভরে বা বুক ফুলিয়ে মাটিতে অহংকারের সাথে হাঁটতে কঠোরভাবে নিষেধ করা হয়েছে।
✅✅ খালি পায়ে হাঁটার ব্যাপারে ও রাসূলুল্লাহর সাঃ উৎসাহ দিয়েছেনঃ
চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের মতে খালি পায়ে হাঁটলে প্রাকৃতিকভাবে অকুপ্রেসার হয়, ফলে মানসিক চাপ কমে। মন ভালো থাকে। শারীরিক কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। এ ছাড়া ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপে বিশেষ কার্যকর ভূমিকা রাখে। ক্যালোরি ও মেদ কমাতে তাই হাঁটার কোনো বিকল্প নেই।
খালি পায়ে হাঁটা নবী সা. এর সুন্নত। চিকিৎসাবিজ্ঞানের আবিষ্কারের আগেই প্রায় ১৫ শত বছর আগে খালি পায়ে হাঁটার জন্য আদেশ করেছেন তিনি সা. । হাদিসের বিখ্যাত গ্রন্থ সুনানে নাসায়ির এক হাদিসে বলা হয়েছে, ‘রাসুল সা. মাঝেমধ্যে খালি পায়ে হাঁটার নির্দেশ করেছেন’।
আবদুল্লাহ ইবনে বুরাইদাহ রা. থেকে বর্ণিত, রাসুল সা. এর এক সাহাবী মিসরে অবস্থানরত ফাদালাহ ইবনে উবাইদ রা. -এর কাছে পৌঁছেন। অতঃপর তিনি বলেন, ‘আমি শুধু আপনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে আসিনি, বরং আমি ও আপনি যে হাদিসটি রাসুল সাঃ এর কাছে শুনেছি, আশা করি এ সম্পর্কে আপনার আরো কিছু জানা আছে।’
ইবনে উবাইদ রা. বলেন, ‘তা কোন বিষয়ে?’ তিনি বলেন, ‘এরূপ আপনি একটি স্থানের নেতা, অথচ আপনার মাথায় চুল এলোমেলো দেখছি?’ ফাদালাহ বলেন, ‘রাসুল (সা.) আমাদের মাত্রাতিরিক্ত জাঁকজমক দেখাতে নিষেধ করেছেন। এরপর তিনি (ফাদালাহ) জিজ্ঞেস করেন , ‘আপনার পায়ে জুতা দেখছি না কেন?’ সাহাবি বলেন, ‘নবী সা. আমাদের মাঝে মাঝে খালি পায়ে চলার আদেশ দিতেন ।
-আবু দাউদ : ৪১৬০।’
হাদিসের ব্যাখ্যা গ্রন্থে বলা হয়েছে, ‘মাঝে মাঝে খালি পায়ে হাঁটলে বিনয় আসে, অহমিকা দূর হয় এবং এটি স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।’
উল্লিখিত হাদিস দ্বারা বোঝা যায়, রাসুল সা. এর নির্দেশনা পালনের উদ্দেশ্যে মাঝে মাঝে খালি পায়ে হাঁটা সুন্নত।
এতে মানুষের আত্ম-অহমিকা কিছুটা সংবরণ হয়। হাঁটাহাঁটি সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে বর্ণনা রয়েছে এবং বলা হয়েছে, “পৃথিবীতে গর্বভরে পদচারণ কোরো না। নিশ্চয় আল্লাহ কোনো দাম্ভিক অহংকারীকে পছন্দ করেন না। পদচারণায় মধ্যবর্তিতা অবলম্বন করো এবং কণ্ঠস্বর নিচু করো। নিশ্চয় গাধার স্বরই সর্বাপেক্ষা অপ্রীতিকর।” -সুরা লুকমান- ১৮-১৯।
চিকিৎসা বিজ্ঞানীগণ নিচু এবং সমান জুতা পড়ার নির্দেশ দিয়ে থাকেন। এবং ভারসাম্য রক্ষা করে এমন জুতা পরার নির্দেশ দিয়ে থাকেন।
এই কথা রাসূলুল্লাহ দেড় হাজার বছর পূর্বেই বলে গেছেন।
রাসূলুল্লাহ সাঃ বলেন- তোমরা এক পায়ে জুতা পরিধান করে অন্য পা খালি রেখে হাঁটবেনা।
রাসুল সা. বলেছেন, ‘তোমাদের কেউ যেন এক পায়ে জুতা পরে না হাঁটে। হয়তো উভয় পায়ে জুতা পরে হাঁটবে নয়তো উভয় পায়ের জুতা খুলে হাঁটবে’
-বুখারি ও মুসলিম।
✅✅ ইসলাম বিভিন্ন ভাবে হাঁটতে উৎসাহিত করেছে। এখানে তার কয়েকটি তুলে ধরা হলো-
১/বেশি পথ অতিক্রম করে মসজিদে আসার উৎসাহ:
জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রা. বলেন, বনু সালিমা গোত্রের লোকজন মসজিদ-ই-নববীর কাছে এসে ওই খালি স্থানে বসতি স্থাপনের ইচ্ছা করল। মসজিদ-ই-নববীর পাশে কিছু খালি জায়গা ছিল। বিষয়টি নবী সা. অবগত হলে তিনি তাদের বললেন, হে বনু সালিমা গোত্রের লোকেরা! তোমরা তোমাদের বর্তমান ঘরবাড়িতেই থাকো। নামাজের জন্য মসজিদে আসতে তোমাদের প্রতিটি পদক্ষেপ লিখিত হয়।
-সহিহ মুসলিম, হাদিস : ৬৬৫।
২/আল্লাহর পথে হেঁটে পায়ে ধুলা মাখা একটি বিরাট নেকীর কাজ।
আবু আবস রা. বলেন, ‘যে ব্যক্তির দুই পা আল্লাহর পথে ধূলি-ধূসরিত হয়, তা জাহান্নামের জন্য হারাম হয়ে যায়।’
-সুনানে নাসায়ি, হাদিস : ৩১১৬।
৩/পায়ে হেঁটে জুমায় অংশগ্রহণ করার জন্য রাসুলুল্লাহ উৎসাহিত করেছেন:
আউস বিন আউস সাকাফি রা. বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সা. কে বলতে শুনেছি, “যে ব্যক্তি জুমার জন্য বাহনে চড়ে নয়, বরং হেঁটে মাসজিদে যাবে এবং কোনোরূপ অনর্থক কথা না বলে ইমামের কাছে বসে খুতবা শুনবে, তার প্রতিটি পদক্ষেপ সুন্নত হিসেবে গণ্য হবে এবং প্রতিটি পদক্ষেপের বিনিময়ে সে দীর্ঘদিন রোজা পালন ও রাতভর নামাজ আদায়ের সওয়াব পাবে।’ (কোন হাদিসে এক বছরের কোথায় এসেছে)
-সুনানে আবি দাউদ, হাদিস : ৩৪৫।
৪/ ইসলামী শরিয়ত হেঁটে তাওয়াফ করার নির্দেশ দিয়েছে। কোন সমস্যা এবং অসুস্থতা না থাকলে হেঁটে তাওয়াফ করা সুন্নত।
হাদিসে এসেছে, ‘রাসুলুল্লাহ সা. যখন মক্কায় আগমন করলেন, তখন তিনি প্রথমে মসজিদে হারামে প্রবেশ করে হাজরে আসওয়াদ চুম্বন করলেন। এরপর এর ডান দিকে গেলেন এবং তিনবার রমল করলেন বা দ্রুত হাঁটলেন এবং চতুর্থবার স্বাভাবিকভাবে হেঁটে তাওয়াফ করলেন।’
-সুনানে নাসায়ি, হাদিস : ২৯৪৯!
এই হাদিস থেকে প্রমাণ পাওয়া যায় যে যতক্ষণ শক্তি সামর্থ্য থাকে ততক্ষণ পর্যন্ত দ্রুত হাঁটতে হবে এবং এটাই স্বাস্থ্যকর।
৫/ হজ্জের গুরুত্বপূর্ণ বিধান সাফা ও মারওয়া পাহাড়ে সায়ি করা তথা হাঁটা।
হাদিসে এসেছে, ‘রাসুলুল্লাহ সা. যখন সাফা থেকে অবতরণ করতেন তখন (স্বাভাবিক) হাঁটতেন, এমনকি তাঁর পদদ্বয় উপত্যকার নিম্নভূমিতে অবতরিত হলে তিনি সায়ি করে তা পার হতেন।’
সুনানে নাসায়ি, হাদিস : ২৯৮১।
৬/ একাধিক হাদিসে রাসুলুল্লাহ লাশের সাথে হাঁটার নির্দেশ দিয়েছেন।
রাসুলুল্লাহ সা. এর সাহাবিরা লাশের সঙ্গে হেঁটে কবরস্থানে যেতেন। রাসুলুল্লাহ সা. তাঁদের লাশের সাথে মধ্যম গতিতে পথচলার নির্দেশ দিয়েছিলেন।
-সুনানে আবি দাউদ, ৩১৮০-৩১৮২।

“ব্যবহার বংশের পরিচয়” !? ব্যবহার বংশের পরিচয় নয়; ব্যবহার হলো মূলত ব্যক্তির নিজস্ব পরিচয়।” এবং ভাষা’র ব্যবহারে রুচির পরিচয়। আর, অপরের উদ্দেশ্যে ছুঁড়ে দেওয়া কদর্য ভাষা ছোটলোকে’দের পরিচয়।

ঐতিহ্যগতভাবে একটি প্রবাদ প্রচলিত রয়েছে যে “ব্যবহারে বংশের পরিচয়”, তবে আধুনিক চিন্তাভাবনা ও সামাজিক বিশ্লেষণে এটি ভুল প্রমাণিত হয়েছে।
জনপ্রিয় এই ভুল প্রবাদটি ইসলামি দৃষ্টিভঙ্গি এবং বাস্তবতার আলোকে সঠিক নয়।

আল্লাহ প্রদত্ত জীবন বিধান ইসলামে মানুষের পরিচয় নির্ধারিত হয় তার ব্যক্তিগত চরিত্র, তাকওয়া বা আল্লাহভীতি, মানুষের ব্যক্তিগত আচরণ তথা কর্মের মাধ্যমে।
বংশের বা গোত্রের মাধ্যমে নয়।

ব্যবহারে বংশের পরিচয়” বাক্যটির মূল উৎস হলো সংস্কৃত ভাষা। মূলতঃ এটি একটি সংস্কৃত শ্লোক যার সংস্কৃত উচ্চারণ হল- “কুলমাখ্যাতি দেশমাখ্যাতি ভাষণম্”।
অর্থ: আচার বা ব্যবহার দিয়ে বংশের পরিচয় পাওয়া যায় এবং ভাষা বা কথা বলার ভঙ্গি দিয়ে অঞ্চলের পরিচয় পাওয়া যায়।
এই নীতিবাক্যটি প্রাচীন ভারতীয় বা সংস্কৃত সাহিত্য যেমন চাণক্য নীতি বা বিভিন্ন সুভাষিত থেকে প্রচলিত হয়ে পরবর্তীকালে বাংলাসহ অন্যান্য ভারতীয় ভাষায় প্রবাদ হিসেবে রূপ লাভ করেছে।
সংস্কৃত ভাষা থেকে বাংলায় রূপান্তরিত এই প্রবাদ বাক্যটির সবচেয়ে বেশি প্রচলিত ইংরেজি হল- Manners make the man.
তবে আমাদের ভুল বুঝতে লেখা থাকলেও ইংরেজরা এই কথাটা বিশ্বাস করে না।

✅✅এ ব্যপারে ইসলাম কী বলে আসুন তা জেনে নেয়া যাক:
ব্যক্তিগত দায়ভার ও পরিচয়ের ক্ষেত্রে ইসলামে প্রত্যেক মানুষ তার নিজের কাজের জন্য আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করবে।
সূরা ইসরা ও সূরা ফাতির এ আল্লাহ বলেন-
“কোনো বোঝা বহনকারী অন্যের বোঝা বহন করবে না।” । অর্থাৎ একজনের পাপের ভার অন্যজন গ্রহণ করবে না।
ভালো বংশে জন্ম নিলেই কেউ স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভালো হয়ে যায় না, আবার খারাপ বংশে জন্ম নিলেও সে খারাপ হবে এমন নয়।
তাকওয়া বা আল্লাহর ভয়ে খারাপ থাকাই কাজ থেকে বিরত থাকাই হলো শ্রেষ্ঠত্বের মাপকাঠি। ইসলামে বংশ, বর্ণ বা আভিজাত্যের চেয়ে আল্লাহর কাছে তাকওয়া বা উত্তম চরিত্রই গ্রহণ যোগ্যতা রয়েছে।

আবুল হাশেম রচিত “বিদায় হজ্জ” কবিতার জনপ্রিয় দুটি পংক্তি হলো-
“নহে আশরাফ যার আছে শুধু
বংশের পরিচয়,
সেই আশরাফ জীবন যাহার
পুণ্য কর্মময়।”
আরবী ‘আশরাফ’ শব্দের বাংলা অর্থ হলো কুলীন, সম্ভ্রান্ত বা শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি।
কবি এখানে তার কবিতার মাধ্যমে বুঝাতে চেয়েছেন- কেবল উচ্চবংশ বা পরিবারে জন্ম নিলেই কেউ প্রকৃত কুলীন বা মহৎ হতে পারে না। মানুষের আসল পরিচয় তার বংশে নয়, বরং তার সৎকর্ম, চরিত্র ও কল্যাণকর কাজের মধ্যে নিহিত। যিনি ভালো ও পুণ্যময় কর্ম করেন, সমাজে তিনিই প্রকৃত ‘আশরাফ’ বা শ্রেষ্ঠ মানুষ।
রাসুলুল্লাহ সা. বিদায় হজের ভাষণে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, আরব-অনারব কিংবা সাদা-কালো চামড়ার মাঝে কোনো ভেদাভেদ নেই; শ্রেষ্ঠত্বের একমাত্র মাপকাঠি হলো তাকওয়া।
পরিচিতির জন্য বংশের গুরুত্ব রয়েছে, কিন্তু বংশ চরিত্র বা আচরণের মাপকাঠি নয়।
ইসলামে বংশ পরিচয় জানা এবং আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করার গুরুত্ব দেয়,তবে তা বাধ্যতামূলক নয়।
নুহ আ.-এর পুত্র কিংবা লুত আ.-এর স্ত্রীর মতো উত্তম বংশে বা পরিবারেও অবাধ্য ও মন্দ চরিত্রের মানুষ জন্ম নিয়েছে।
আবার অনেক সাধারণ বা ভিন্ন বংশ থেকেও ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ মহামানব তৈরি হয়েছেন।
আলী রাঃ, সালমান ফারসি রাঃ এর বংশ বা গোত্র পরিচয় কি? কিন্তু তাদের অবস্থান এবং মর্যাদা আজ কোথায়!

ভালো বা মন্দ আচরণ মূলত ব্যক্তির নিজস্ব শিক্ষা, রুচি ও চরিত্রের বহিঃপ্রকাশ, কোনো বংশের সিলমোহর নয়।
👉👉 “ব্যবহারে বংশের পরিচয়” প্রবাদ বাক্যটি কোনো নির্দিষ্ট একজন ব্যক্তির বলা সুনির্দিষ্ট বা মৌলিক কোনো উক্তি নয়; এটি বাংলা ভাষার একটি প্রচলিত প্রবাদ বা লোকজ বচন, যা বহু প্রাচীনকাল থেকেই সমাজে মুখে মুখে চলে আসছে।
এই প্রবাদটির মাধ্যমে বোঝানো হতো যে, ভালো পরিবারের সন্তানরা সাধারণত ভালো ও মার্জিত ব্যবহার করে থাকে।
তবে আধুনিককালে এই প্রবাদটি নিয়ে যথেষ্ট সমালোচনা রয়েছে। এবং এই কথাটি যে ভুল তা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ব্যবহারে মূলত ব্যক্তির নিজস্ব ব্যক্তিত্ব, শিক্ষা ও চরিত্রের পরিচয় পাওয়া যায়; কারণ ভালো বংশেও অনেক সময় খারাপ চরিত্রের মানুষ বা কুলাঙ্গার জন্ম নিয়েছে।

ব্যবহারে বংশের পরিচয়” প্রবাদটি সর্বপ্রথম সংস্কৃত ভাষায় প্রচলিত হয়।
সংস্কৃত সাহিত্যের প্রাচীন নীতিশ্লোক।
সংস্কৃত ভাষায় এই বিষয়টি নিয়ে বিখ্যাত একটি শ্লোক রয়েছে:
“মানুষের আচার-ব্যবহার বা আচরণ দেখে তার বংশ বা কুল সম্পর্কে পরিচয় পাওয়া যায়।” এই কথাটি আধুনিক গবেষণায় সম্পূর্ণ ভুল প্রমাণিত হয়েছে। কেননা ব্যবহার বংশের পরিচয় নয় বরং
“ব্যবহার হল ব্যক্তির পরিচয়।”
আরবী ভাষায় একটি প্রবাদ আছে-
মানুষের ” মানুষের ভাষা বা কথা বলার ধরন থেকে তার অঞ্চলের পরিচয় মেলে।” এই কথাটা তো আমরা সবাই জানি। চট্টগ্রাম, সিলেট বা নোয়াখালীর মানুষের কথা শুনেই বোঝা যায় তারা কোন এলাকা থেকে আগত।

সংস্কৃত নীতিশাস্ত্র, চাণক্য নীতি বা বিভিন্ন পুরাণে এই শিক্ষাগুলো বহুকাল ধরে প্রচলিত ছিল। যে “ব্যবহারে বংশের পরিচয়”! বিশেষ করে প্রাচীন হিন্দু বিভিন্ন নীতিবাক্য থেকে এই ভুল কথাটি প্রচলিত হয়ে আসছে। আর এই বংশগুলো বা বংশের classification যেমন উচ্চ বংশ – নিম্ন বংশ ইত্যাদি এসেছে হিন্দুদের ধর্মীয় আচার-আচরণ থেকে। যেমন ব্রাহ্মণরা তাদের সন্তানদের শিক্ষা দেয়- “ব্রাহ্মণ হল ভগবানের মোচ থেকে তৈরি। অতএব তোমার আচরণ যেন বংশের পরিচয় বহন করে। সেখান থেকেই মূলত “ব্যবহারে বংশের পরিচয়” কথাটার প্রচলন।

✅ ‘ব্যবহার ব্যক্তির পরিচয়’, বংশের নয়! তুর্কি ভাষায় একটি প্রবাদ আছে-
“খড়ের আগুন দিয়ে যেমন সোনা চেনা বা পরীক্ষা করা যায়, তেমনি মানুষের আচরণের বা ব্যবহারের মাধ্যমে তার আসল পরিচয় বা আভিজাত্য জানা যায়।”

১৯৭১ সালে পশ্চিম পাকিস্তান থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর শেখ মুজিবের নেতৃত্বাধীন সরকার মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এই দেশের শাসন কাঠামো, শিক্ষা ব্যবস্থা এবং সাংস্কৃতিক পরিচয় থেকে ধর্মীয় স্বকীয়তা ও প্রতীকগুলো একে একে অপসারণের এক নজিরবিহীন নীতি গ্রহণ করেছিল। শেখ মুজিবুর রহমান নিজে বিভিন্ন বক্তৃতায় বারবার আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেছিলেন যে ধর্মনিরপেক্ষতা মানে ধর্মহীনতা নয়। তবে তা শুধু বক্তৃতাতাই ছিলো।

৪ নভেম্বর ১৯৭২ সালে গণপরিষদে দাঁড়িয়ে শেখ মুজিব বলেছিলেন:

“ধর্মনিরপেক্ষতা মানে ধর্মহীনতা নয়। মুসলমানরা তাদের ধর্ম পালন করবে, কেউ তাদের বাধা দেওয়ার অধিকার রাখে না… আমাদের শুধু আপত্তি হলো এই যে, ধর্মকে কেউ রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে পারবে না।”

কিন্তু মুখে এই সাম্য ও ধর্মীয় স্বাধীনতার বুলি আউড়ানো হলেও, শেখ মুজিবুর রহমানের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নির্দেশনায় তৎকালীন সরকারের কর্মকাণ্ডে দেখা গিয়েছিল সম্পূর্ণ বিপরীত এক রূপ। শুধু রাষ্ট্র বা সংবিধান নয়, নিজের রাজনৈতিক দল ও ছাত্র সংগঠন থেকে শুরু করে দেশের প্রতিটি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ইসলাম ও মুসলিম স্বকীয়তা একে একে উপড়ে ফেলা হয়েছিল।

প্রথমত,
ইসলামি স্বকীয়তা বর্জনের এই মানসিকতা কেবল স্বাধীনতার পরেই নয়, বরং তার বীজ রোপণ করা হয়েছিল পাকিস্তান আমলেই। ১৯৪৯ সালে প্রতিষ্ঠার সময় মূল দলটির নাম ছিল “পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ” এবং ১৯৪৮ সালে গঠিত ছাত্র সংগঠনটির নাম ছিল “পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগ”। কিন্তু ১৯৫৫ সালের কাউন্সিলে অসাম্প্রদায়িকতার দোহাই দিয়ে মূল দল থেকে ‘মুসলিম’ শব্দটি ছেঁটে ফেলে করা হয় “পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগ” এবং ছাত্র সংগঠনটির নাম থেকে ‘মুসলিম’ বাদ দিয়ে করা হয় “পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগ”। শেখ মুজিবুর রহমান তখন মূল দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে এই মুসলিম নাম বর্জনের সিদ্ধান্তের প্রধান কারিগরদের একজন ছিলেন।

এরপর,
১০ জানুয়ারি ১৯৭২। শেখ মুজিব পশ্চিম পাকিস্তানের যুদ্ধকালীন নিরাপত্তা থেকে দেশে ফেরার মাত্র দুই সপ্তাহের মাথায়, ২৪ জানুয়ারি তাঁর সরকার জারি করে বিতর্কিত “দালাল আইন”। তৎকালীন প্রেক্ষাপটে অভিযোগ ওঠে, এই আইনের আড়ালে দেশের শীর্ষস্থানীয় বহু আলেম, বরেণ্য ইসলামি চিন্তাবিদ এবং মাদ্রাসার শিক্ষকদের ঢালাওভাবে “দালাল” তকমা দিয়ে বিনা বিচারে কারারুদ্ধ করা হয়। সমসাময়িক রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ইতিহাসবিদ বদরুদ্দীন উমর তাঁর লেখায় তৎকালীন পরিস্থিতি সম্পর্কে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছেন-

“দালাল আইনের নামে যেভাবে বেছে বেছে আলেম সম্প্রদায় ও ইসলামপন্থী বুদ্ধিজীবীদের ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছে, তা কোনো অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রের লক্ষণ ছিল না; বরং তা ছিল একটি নির্দিষ্ট মতাদর্শকে জোরপূর্বক চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা।”

স্বাধীনতার পরপরই শেখ মুজিব সরকারের অধীনে বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশনের শুরুতে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াতসহ সব ধরনের ধর্মীয় অনুষ্ঠান প্রচার সাময়িকভাবে সম্পূর্ণ বন্ধ বা সংকুচিত করা হয়। একই সাথে এ দেশের চলচ্চিত্র ও নাট্যজগতে এক বিষাক্ত অপসংস্কৃতির বীজ বুনে দেওয়া হয়। সিনেমা বা নাটকে রাজাকার, খলনায়ক, শোষক, চোর কিংবা খুনি চরিত্রগুলোকে সুনির্দিষ্টভাবে দাড়ি, টুপি এবং ইসলামি লেবাস পরিয়ে উপস্থাপন করা শুরু হয়, যা সাধারণ মানুষের মনে ইসলামি সংস্কৃতির প্রতি এক ধরনের তীব্র অবমাননাকর মনস্তত্ত্ব তৈরি করে।

৪ নভেম্বর ১৯৭২। শেখ মুজিবের হাত ধরে গণপরিষদে বাংলাদেশের প্রথম সংবিধান গৃহীত হয়। এই সংবিধানের ১২ নম্বর অনুচ্ছেদ দিয়ে ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’-কে রাষ্ট্রের অন্যতম মূলনীতি করা হয় এবং ৩৮ নম্বর অনুচ্ছেদ ব্যবহার করে ধর্মীয় নামের সমস্ত রাজনৈতিক দল ও সংগঠন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। এর মাধ্যমে মুসলিমদের ধর্মীয় রাজনৈতিক কণ্ঠস্বর স্তব্ধ করার চেষ্টা করা হয়।

সংবিধান কার্যকরের পরপরই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর ঐতিহাসিক পরিচয় ও লোগো থেকে ইসলামি আধ্যাত্মিক বাণীগুলো সম্পূর্ণ তুলে দেওয়ার এক রাষ্ট্রীয় তৎপরতা শুরু হয়। ঢাকা বোর্ডের মূল মনোগ্রাম থেকে পবিত্র কুরআনের আয়াত “ইকরা বিসমি রাব্বিকাল্লাজি খালাক” মুছে ফেলা হয়।

শেখ মুজিবুর রহমানের আমলে ১৯৭২ সালের বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশের মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগো থেকে ঐতিহ্যবাহী ইসলামি জ্ঞানবৃদ্ধির দোয়া “রাব্বি জিদনী ইলমা”। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোগ্রাম থেকেও পবিত্র কুরআনের আয়াত “ইকরা বিসমি রাব্বিকাল্লাজি খালাক” সরিয়ে ফেলা হয়।

মুসলিমদের ঐতিহাসিক অবদান এবং নামগুলোকে মুছে দিতে প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয় জোরপূর্বক বদলে দেওয়া হয়েছিল। জাহাঙ্গীরনগর মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মুসলিম শব্দটি মুছে করা হয় “জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়”। শেখ মুজিব সরকারের ১৯৭৩ সালের সংশোধিত বিশ্ববিদ্যালয় আইনে ‘মুসলিম’ শব্দটি সম্পূর্ণরূপে বাদ দিয়ে কেবল “জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়” রাখা হয়।

সলিমুল্লাহ মুসলিম হল ও ফজলুল হক মুসলিম হল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ঐতিহাসিক আবাসিক হল দুটির প্রাতিষ্ঠানিক নাম ও সাইনবোর্ড থেকে ‘মুসলিম’ শব্দ বাদ দিয়ে কেবল “সলিমুল্লাহ হল” এবং “ফজলুল হক হল” করা হয়। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের নামের এই কলেজটি থেকে ‘ইসলাম’ শব্দ বাদ দিয়ে “নজরুল কলেজ” নাম দেওয়া হয়।

অথচ অবাক করা বিষয় হলো, প্রতিবেশী ভারতের মতো কট্টর হিন্দুত্ববাদী দেশেও প্রায় ২০০ বছরের পুরনো ঐতিহাসিক ‘আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়’-এর নামের সাথে আজও ‘মুসলিম’ শব্দটি রাষ্ট্রীয়ভাবে টিকে রয়েছে, অথচ স্বাধীন বাংলাদেশে ইসলাম ও মুসলিম শব্দগুলো মুছে দেওয়া হয়েছিল!

১৯৭৩-৭৪ সালে তৎকালীন ভারতীয় উপমহাদেশের দীর্ঘদিনের ইসলামি ঐতিহ্য ভেঙে শেখ মুজিব সরকারের আমলে দেশের সমস্ত স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা এবং অফিস-আদালতের সাপ্তাহিক ছুটি শুক্রবারের পরিবর্তে রবিবার ঘোষণা করা হয়। তৎকালীন প্রেক্ষাপটে সাধারণ মুসলমানদের মাঝে এই ক্ষোভের আগুন ছড়িয়ে পড়ে যে, প্রতিবেশী ভারতের সাথে সামঞ্জস্য রাখতে এবং মুসলমানদের জুমার নামাজের ঐতিহ্যকে ধ্বংস করতেই এই ছুটির দিন পরিবর্তন করা হয়েছিল।

১৯৭৪ সালে শেখ মুজিব সরকারের গঠিত ড. কুদরাত-এ-খুদা শিক্ষা কমিশনের রিপোর্ট পেশ করা হয়। সেখানে ধর্মনিরপেক্ষ শিক্ষানীতির আওতায় প্রচলিত মাদ্রাসা শিক্ষাকে সংকুচিত, নিয়ন্ত্রিত ও একপ্রকার বিলুপ্ত করার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ছিল, যা আলেম সমাজ ও ধর্মপ্রাণ জনগণের মাঝে তীব্র গণ-অসন্তোষের জন্ম দেয়।

তৎকালীন শেখ মুজিব সরকারের এই চরম ধর্মনিরপেক্ষতাবাদী এবং ইসলাম-বিদ্বেষী নীতিমালার তীব্র সমালোচনা করেছিলেন সমসাময়িক প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ ও সাহিত্যিক আবুল মনসুর আহমদ। তিনি তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ “আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর” এবং বিভিন্ন প্রবন্ধে তৎকালীন বুদ্ধিজীবী ও সরকারের এই দেউলিয়াত্ব উন্মোচন করে লিখেছেন:

“ধর্মনিরপেক্ষতার অর্থ এই নয় যে সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিমদের ধর্মীয় স্বকীয়তা ও ঐতিহ্যকে রাষ্ট্র থেকে ঝেঁটিয়ে বিদায় করতে হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ছাত্র সংগঠন আর হলের নাম থেকে ‘মুসলিম’ শব্দ বাদ দেওয়া প্রগতিশীলতা নয়, বরং এটি ছিল এক ধরণের হীনম্মন্যতা ও সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের মনস্তত্ত্বকে অস্বীকার করার শামিল।”

একইভাবে তৎকালীন সময়ের বিশিষ্ট চিন্তাবিদ ও বামপন্থী নেতারাও স্বীকার করেছিলেন যে, শেখ মুজিবুর রহমান ব্যক্তিগত জীবনে টুকটাক ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান মেনে চললেও এবং পরবর্তীকালে তীব্র জনরোষ ও রাজনৈতিক কৌশলের অংশ হিসেবে ‘ইসলামিক ফাউন্ডেশন’ প্রতিষ্ঠা করলেও, তাঁর শাসনামলের প্রথম তিন বছরে রাষ্ট্রীয় ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায় থেকে ইসলামকে কোণঠাসা করার যে তীব্র প্রয়াস চালানো হয়েছিল, তা ছিল আত্মঘাতী।

ইতিহাসবিদদের মতে, মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ একটি দেশের জনগণের ধর্মীয় চেতনা ও ঐতিহ্যের পরিপন্থী এই চরম পদক্ষেপগুলোই পরবর্তীতে তৎকালীন প্রশাসনের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের মনে গভীর ক্ষোভ, ঘৃণা ও তীব্র দূরত্বের জন্ম দিয়েছিল। ১৫ই আগস্ট রাষ্ট্রের শাসকের মৃত্যুতে জনগণের মিষ্টি বিতরণ বাধ্যতামূলক হয়ে উঠেছিল।

পরবর্তী লেখায়, শেখ মুজিবের মৃত্যুর পরে ঢাকাসহ সারাদেশের অবস্থা কেমন ছিল এবং কেন ছিলো? তা নিয়ে আলোচনা করা হবে।

ভুট্টোর প্রতি বাদশা ফয়সালের একটি সুন্দর নসিহত

ছবিতে পাকিস্তানের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ভুট্টোকে সৌদির বাদশা ফায়সালের সাথে দেখা যাচ্ছে।

✅✅ ভুট্টুর প্রতি বাদশা ফয়সালের একটি সুন্দর নসিহা বা ইসলামিক উপদেশ সকল ঈমানদার নয় বরং সকল মানুষের জন্য সমহারে প্রযোজ্য , যা তিনি পাকিস্তান সফরে গিয়ে করেছিলেন।

সালটা ছিল ১৯৭৪ ইচ্ছাই সালের ২২ ফেব্রুয়ারি!রাষ্ট্রীয় সফরে সৌদি বাদশাহ ফয়সাল পাকিস্তান এলেন!
তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জুলফিকার আলি ভূট্টো সরকারী সফরসুচী অনুযায়ী বাদশাহকে নিয়ে-
পাকিস্তানের জাতির পিতা কয়েদ এ আজম মুহাম্মদ আলি জিন্নাহর কবরের কাছে গেলেন।
শ্বেতপাথরে বাঁধানো উঁচু জাঁকজমকপূর্ন কবর।ভূট্টো নিজে জিন্নাহর কবরকে স্যালুট করলেন ও বাদশাহ ফয়সালকেও অনুরূপ সম্মান জানাতে অনুরোধ করলেন!

উল্লেখ্য যে, বাদশাহ ফয়সাল ছিলেন শিরক ও বিদআতের বিরুদ্ধে কঠোর‌‌ সাহসী এক মহান পুরুষ।
অবাক হয়ে বাদশাহ ফয়সাল বললেন-একটি কবরকে আমি কেনো স্যালুট করবো?
ভূট্টো বললেন- এটি পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা জিন্নাহর কবর!এখানে সম্মান প্রদর্শন করতে হয়। এবং এটাই নিয়ম।
বাদশাহ বললেন- মিঃ ভূট্টো,তোমার কাছে আছে জিন্নাহ’র কবর,আর আমার কাছে আছে নবী মুহাম্মাদ সঃ এর কবর!
অবশ্যই মিস্টার জিন্দা একজন ভালো ব্যক্তিত্ব ছিলেন এবং সম্মানিত লোক ছিলেন আমরা অবশ্যই তার জন্য দোয়া করব কিন্তু কুফুরি কায়দায় সেলুট নয়।
যদি তা জায়েজই থাকতো,তবে আমি মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম এবং সাহাবাগণের কবরকে স্বর্ণ দিয়ে মুড়িয়ে দৈনিক পাঁচবার সিজদাহ করতাম!

কিন্তু আফসোস,ইসলামে এটা নিষিদ্ধ!
তুমি কবরের পাশে দাঁড়িয়ে মহান আল্লাকে স্মরণ করবে।
মৃত ব্যাক্তিকে নয়। বরং তোমার জন্য উত্তম হলো এই কবর থেকে উপদেশ গ্রহণ করা আর কবরের ব্যক্তির জন্য দোয়া করা।

হে মুহাম্মদ সাঃ, আপনাকে অভিনন্দন। আলজেরিয়া আবার আপনার কাছে ফিরে এসেছে।

আলজেরিয়ার পতাকায় মোড়ানো যে কফিনগুলো দেখছেন সেগুলো গতানুগতিক কোনো কফিন নয়। বরং এগুলো আফ্রিকার বুকে ফ্রান্স যে ঔপনিবেশিক বর্বরতা চালিয়েছিল তার নিদর্শন, আলজেরিয়ার স্বাধীনতা সংগ্রামীদের মাথার খুলি।

এই খুলিগুলো তৎকালীন ফরাসিরা তাদের বিজয়ের ট্রফি হিসেবে প্যারিসে পাঠিয়েছিল। আর সেগুলোকে তারা স্বযত্নে রেখেছিল প্যারিসের মুজে দে লোম বা মিউজিয়াম অব ম্যানকাইন্ডে। ২০২০ সালে আলজেরিয়ার সাথে সম্পর্ক পুনর্গঠনের লক্ষ্যে ২৪টি মাথার খুলি ফেরত পাঠায় ফ্রান্স।

আইফেল টাওয়ারের দিকে মুখ করে দাঁড়িয়ে থাকা ঝলমলে এই জাদুঘরে কমপক্ষে ১৮ হাজার মানব খুলি আছে, যার মধ্যে অসংখ্য মানবখুলির উৎস আফ্রিকা। যেখান থেকে ফরাসিরা সম্পদ লুট করেছে, লাখ লাখ মানুষকে নির্মমভাবে হ*ত্যা করেছে এবং আজ অবধি তারা তাদের নব্য ঔপনিবেশিকতা অব্যাহত রেখেছে নানা ফরম্যাটে।

আলজেরিয়ার প্রতিরোধ যোদ্ধারা ফরাসিদের নৃশংস দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল। সেসব প্রতিরোধকে দমন করার জন্য এমন কোনো বর্বরতা ছিল না যা ফরাসিরা করেনি। এমনকি তারা প্রতিরোধ যু দ্ধে শহীদ সেনারা মর্যাদাপূর্ণ দাফনেরও সুযোগ দেয়নি। শহীদ যোদ্ধাদের শিরচ্ছেদ করে আলজেরিয়ার সাধারণ জনগণের সামনে প্রদর্শন করা হতো, যাতে তারা আর বিদ্রোহ করার সাহস না পায়।

পাশাপাশি তারা এসব ছিন্ন মস্তক বাক্স বন্দী করে প্যারিসে পাঠাতো, যার মাধ্যমে শাসকদের বার্তা দেওয়া হতো আফ্রিকায় ফরাসিদের প্রকৃত বিজয় অর্জিত হচ্ছে, লুণ্ঠন আর দখল দারিত্ব ঠিকঠাকই চলছে। সেই সব প্রতিরোধ যোদ্ধাদের মাথার খুলি ফরাসিরা প্যারিসের মিউজিয়াম অব ম্যানকাইন্ডে রেখে দিয়েছিল।

এবং সেখানে যে ১৮ হাজার মানব খুলি আছে তার অসংখ্যের উৎস অস্পষ্ট এবং হাজার হাজার খুলি বেজমেন্টে লুকিয়ে রাখা ছিল। ধারণা করা হয় এসবের মধ্যে আলজেরিয়ার আরো অনেক মানুষের মাথার খুলি রয়ে গেছে। যাদের মধ্যে প্রতিরোধ যোদ্ধা থেকে শুরু করে অনেক আলেমও আছেন।
.

১৮৩০ সালে আলেজেরিয়া দখল করে ফ্রান্স। এরপর তারা সাধারণ আলজেরীয় নাগরিকদের থেকে উর্বর জমিগুলো কেড়ে নেয়। ফলে হাজার হাজার পরিবার ভূমিহীন ও নিঃস্ব হয়ে পড়ে। সামাজিক কাঠামো ভেঙে যায়। সেখানকার প্রশাসন, শিক্ষা ও ব্যবসাতে ফরাসিদের আধিপত্য বাড়তে থাকে এবং এক সময় ফ্রান্স আলজেরিয়াকে তাদের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে বিবেচনা করা শুরু করে।

ফরাসিদের এই দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে আলজেরীয়রা যখন প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করতো তখন তাদের উপর নেমে আসতো ভয়াবহ নির্যাতন। কালেকটিভ পানিশমেন্ট হিসেবে গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দেওয়া হতো। এমনকি শত শত আলজেরীয়কে গুহার ভেতরে বন্দী করে ধোঁয়ায় শ্বাসরোধ করে হ ত্যা করার নজিরও আছে।

১৯৪৫ সালে ৮ মে যখন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ সমাপ্ত হয়, তখন অনেক আলজেরীয় ভেবেছিলেন এবার হয়তো তারাও মুক্ত। দেশটির সেতিফ শহরে হাজার হাজার মানুষ বিজয় মিছিল নিয়ে রাস্তায় নামে এবং নিজেদের পতাকা উত্তোলন করে। কিন্তু সেসব মিছিলে গুলি চালিয়ে একদিনে ৪৫ হাজার মানুষকে হ ত্যা করে ফরাসিরা। এর মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হয় স্বাধীনতা শুধু ইউরোপের জন্য, তোমাদের জন্য নয়।

এরপর ১৯৫৪ সালে শুরু হয় আলজেরিয়ার স্বাধীনতা সংগ্রাম। আট বছরব্যাপী চলা সেই যুদ্ধে ১৫ লক্ষ মানুষকে হ ত্যা করে ফরাসিরা। শুধু সেখানেই থেমে থাকেনি, আলজেরিয়ার স্বাধীনতার আগে পরে মিলিয়ে সেখানে প্রায় ১৭টি পারমাণবিক পরীক্ষা চালায় ফ্রান্স। যার ফলে আজও স্থানীয় আলজেরীয়দের স্বাস্থ্যগত সমস্যায় ভুগতে হচ্ছে।

১৮৩০ সালে ফরাসিরা আলজেরিয়া দখল করার পর থেকে দেশটির মুসলিম আইডেন্টি মুছে ফেলার চেষ্টা করেছে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ মসজিদ থেকে শুরু করে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে তারা ধ্বংস করে দেয়।

সেই সময় আলজেরিয়ানরা এই ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো থেকেই শিক্ষা গ্রহণ করতো। ঔপনিবেশিক সরকার এসব প্রতিষ্ঠানে অর্থ বরাদ্দ বন্ধ করে দেয়। যার ফলে প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংস হয়ে যায়।

এসব প্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ার ফলে আলজেরিয়ার সিংহভাগ জনগণ নিরক্ষর হয়ে পড়ে৷ যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান টিকেছিল সেসব থেকে আরবিকে সরিয়ে ফ্রেঞ্চ কারিকুলাম চালু করা হয়। সবমিলিয়ে ফরাসিরা আলজেরিয়া থেকে ইসলামকে মুছে ফেলার চেষ্টা করে। কিন্তু আলজেরিয়ানদের হৃদয় ছিল ইসলামের আলোয় উদ্ভাসিত।

যে কারণে ১৯৬২ সালে ফরাসিদের হাত থেকে আলজেরিয়ানরা যখন স্বাধীনতা পায় তখন দেশটির সাধারণ জনগণ স্লোগান দিয়েছিল-

“ইয়া মুহাম্মাদ মাবরুক আলাইক, আল জাজা আ রাজআ তিব “

“হে মুহাম্মদ (সাঃ), আপনাকে অভিনন্দন। আলজেরিয়া আবার আপনার কাছে ফিরে এসেছে।”

বাংলাদেশের সরকার অনুমোদিত পতিতালয় গুলোর ব্যাপারে আলেম সমাজের ভূমিকা কি?

👉👉 প্রেসিডেন্ট এরশাদ (বাংলাদেশের অন্যতম চরিত্রহীন প্রেসিডেন্ট)১৯৮৮ সালে সর্বপ্রথম বাংলাদেশে পতিতাদেরকে যৌন ব্যবসা করার জন্য পতিতালয়ের লাইসেন্স প্রদান করে।
দৌলতদিয়া যৌনপল্লী রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দে অবস্থিত, যা বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় যৌনপল্লী। এটি ১৯৮৮ সালে সরকারি অনুমোদন দান করে এরশাদ সরকার। । তবে কয়েক দশক আগে থেকেই সেখানে অনানুষ্ঠানিক এবং অনুমোদনহীন যৌনবৃত্তি চালু ছিল । এরশাদ সরকার সর্বপ্রথম বাংলাদেশে পতিতাবৃত্তি কে ব্যবসা হিসাবে উল্লেখ করেন এবং এই অশ্লীল জেনা বেবিচার কে সার্বজনীন করে দেন। তার জন্য অবশ্যই আল্লাহর লানত তার উপর কেয়ামত পর্যন্ত বর্ষিত হতে থাকবে যতদিন যৌনপল্লী থাকে। কত নিকৃষ্ট চরিত্রের হলে এরশাদ দরিদ্র মহিলাদেরকে জেনা ব্যভিচার এর মতো জঘন্য এবং মানবতা বিরোধী কাজে লাইসেন্স প্রদান করতে পারেন চিন্তা করুন। এরশাদ শুধু স্বৈরশাসক ছিল না বরং সে ছিল বড় রকমের একজন চরিত্রহীন অসভ্য ইতর প্রকৃতির লোক।
অতঃপর ক্রমান্বয়ে বাংলাদেশে 14টির মত প্রদীপ্যালয়ের অনুমোদন দেওয়া হয় এবং বর্তমানে তা অব্যাহত আছে। এরমধ্যে ৭টি ঢাকা বিভাগের মধ্যে ! ছয়টি খুলনা বিভাগে এবং একটি চরমোনাই পীরের বাড়ির কাছে বরিশালে।

কল্পনা করুন,
আপনার দেশে এমন একটা স্থান আছে যেখানে চার হাজার নারী যৌন পেশায় জড়িত।
একই পরিবারের সকল নারী সদস্য একই সাথে সামনা সামনি পরপুরুষের সাথে সঙ্গমে লিপ্ত হচ্ছে। হাতে সিগারেট, টেবিলে ইয়াবা, মদের বোতল। মা মেয়ে একই ঘরে একজন পুরুষের সাথে যৌনতা করছে বিনা সংকোচে।
হ্যাঁ, এটা বৈধ। আপনার দেশেই হচ্ছে প্রতিনিয়ত। প্রশাসনের অনুমতি নিয়েই হচ্ছে। আপনার আশেপাশেই হচ্ছে। এমনকি বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় পীরের বাড়ির কাছেও হচ্ছে। অর্থাৎ বড় বড় লম্বা লম্বা ওয়াজ করা সেই চরমোনাই পীরের বাড়ির কাছেই বাংলাদেশের অন্যতম একটি বড় পতিতালয় অবস্থিত অথচ কোনদিন এই ব্যাপারে সে মুখ খুলতে দেখেছেন?

তবে এখানে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় পতিতালয় এর কথা বলছি , বলছি গোয়ালন্দ, রাজবাড়ির দৌলতদিয়া পতিতা পল্লীর কথা। বাংলাদেশে সরকারিভাবে অনুমোদিত পতিতালয়ের মধ্যে দৌলতদিয়া সবচেয়ে বড় যৌন পল্লী। এশিয়ার সবচেয় বড় পতিতালয়ের অন্যতম এই পল্লীতে প্রতিদিন ৩ হাজারের বেশি পুরুষ যেনা ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়ার জন্য আসে। যাদের অধিকাংশই মুসলিম ধর্মাবলম্বী।
মরণব্যাধি এইডস, ক্যান্সার , সিফিলিস গনোরিয়া এবং ভয়াবহ সব ছোঁয়াছে এবং ভাইরাস জনিত চর্মরোগ ছড়িয়ে পড়ছে সারাদেশে এসব নোংরা পল্লী থেকেই।

১৯৮৮ সালে চরিত্রহীন প্রেসিডেন্ট এরশাদ ও তার জঘন্য চরিত্রের অর্থাৎ প্রতিটা চরিত্রের মন্ত্রিসভার লোকদের দ্বারা সরকারিভাবে অনুমোদনের পর থেকে আজ অব্দি নিরলসভাবে এখানে পতিতাবৃত্তি হচ্ছে অত্যন্ত স্বাভাবিক নিয়মে। অধিকাংশ যৌন কর্মীর বয়স ১৫ এর নিচে।
যৌনতার পাশাপাশি প্রত্যেক আড্ডাখানায় আছে জুয়া, মদের আসর, ইয়াবা, গাঁজা অর্থাৎ ইসলামী শরিয়ায় নিষিদ্ধ সকল কার্যক্রম চলছে কোনোপ্রকার বাধা বিপত্তি ছাড়াই।

১৪টি অনুমোদিত পতিতালয়সহ দেশের আনাচে-কানাচে সহস্রাধিক অনুমোদনহীন পতিতালয় আছে বাংলাদেশে। একটি বেসরকারি হিসেবে দেখা গেছে, বাংলা দেশে অনুমোদনহীন পতিতালয়ের সংখ্যা ১২০০ এর অধিক। বিভিন্ন জেলা সদরের ও বিভিন্ন বাণিজ্যিক এলাকার হোটেলগুলোতে চলে এই অবৈধ যৌন ব্যবসা।
১৯৮৮ এর এরশাদ কর্তিক যৌনপল্লী অনুমোদনের পর থেকে গত ৩৮ বছর যাবত বাংলাদেশে কয়েক কোটি ওয়াজ মাহফিল হয়েছে।
এখনও প্রতিদিন হচ্ছে বিভিন্ন জেলায়।
দু এক পার্সেন্ট ওয়াজ মাহফিল ছাড়া আজ অব্দি কোনো ওয়াজ মাহফিলে এসব পতিতালয়ের বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। ইসলামী শরিয়া আইনে পরপুরুষ পরনারী সঙ্গমে লিপ্ত হলে এটাকে ‘জেনা’ বলা হয়। যার শাস্তি হল যদি সে বিবাহিত হয় তবে পাথর মেরে হত্যা করা। আর যদি অবিবাহিত হয় তবে একশত বেত মারা।
ওয়াজ মাহফিলের মাধ্যমে যেহেতু বন্ধ করা যায়নি, এর অর্থ দাঁড়ায় ৩৮ বছরের ৯৮% ওয়াজ মাহফিল সম্পূর্ণ ব্যর্থ।

অত্যন্ত হাস্যকর এবং অবাক ঘটনা হলো, আমাদের বাংলাদেশে পবিত্র হজের পরেই পৃথিবীর সবচেয়ে বড় মুসলিম জামায়েত অনুষ্ঠিত হয় যা তাবলীগ জামায়াতের ইজতেমা নামে পরিচিত।
এই এস্তেমা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে হাজার ১৯৫৮সাল থেকে ৬৬ সাল পর্যন্ত লালবাগ এবং ১৯৬৬ সাল থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত গাজীপুর জেলার টঙ্গীতে। কিন্তু আজ পর্যন্ত কোন তাবলীগের বয়ানে দেশের এই এক হাজারের উপর পতিতালয় এবং ১৪ টি সরকার অনুমোদিত পতিতালয় বন্ধ করার বা সেখানে গমন না করার কোন নসীয়ত শুনেছেন কেউ?
অথচ ইসলামের মূল মন্ত্র হলো “সৎ কাজের আদেশ করা এবং অসৎ কাজ থেকে মানুষকে বিরত রাখা।”
মূলত এই সমস্ত ওয়াজ মাহফিল এবং এস্তেমাগুলোতে সস্তা জনপ্রিয় কিছু কথাবার্তা বলা হয় এবং সস্তা কিছু আমলের কথা বলা হয়।

👉👉এবার আসি দ্বিতীয় পয়েন্টে–
৩৮ বছরে বাংলাদেশে ক্ষমতায় ছিলেন এরশাদ, যিনি বাংলাদেশকে ইসলামী জমহুরিয়াত বানাতে চেয়েছিলেন। শুধু তাই নয় তিনি বাংলাদেশের প্রথম প্রেসিডেন্ট যিনি টুপি মাথায় দেওয়া শুরু করেন এবং নিজের ধার্মিকতা প্রকাশ করার জন্য দেশের বিভিন্ন অলি আউলিয়ার দরবারে আসা যাওয়া শুরু করেন। তাছাড়া তৎকালীন জনপ্রিয় পীর আটরশির একনিষ্ঠ মুরিদ ছিলেন এরশাদ এবং প্রায়ই নাকি সরকারি পয়সা খরচ করে ঢাকা থেকে ফরিদপুর পর্যন্ত হেলিকপ্টারে গিয়ে তিনি জুমার নামাজ পড়তেন তার বাবা পীরের পেছনে।
ক্ষমতায় ছিল বি এনপি, এরপর আওয়ামী লীগ, চারদলীয় জোট, (বিএনপি ,জামাত ইসলামী ঐক্য জোট) মইনুদ্দিন ফখরুদ্দিন, আবার আওয়ামী লীগ টানা ১৭ বছর ফ্যাসিবাদী ও স্বৈরশাসন চালিয়েছেন এরশাদের চেয়েও জঘন্যভাবে!,
এরপর ২০২৪ সালের পাঁচই আগস্ট গণ অসন্তোষ এবং ছাত্র জনতার বিপ্লবের ফলে হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর ক্ষমতায় আসে ইউনুস রেজিম; যিনি আমূল পরিবর্তন করে ফেলবেন বলে ঘোষণা করেছিলেন। এখন আবার বিএনপি । কোন সরকারই দৌলতদিয়া সহ বাংলাদেশের প্রায় ১৪টি সরকার অনুমোদিত যৌনপল্লীর হাজার হাজার যৌনকর্মীর তথা পতিতার কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারেনি।
তবে চার দলীয় জোট ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় জামাত ইসলামের পক্ষ থেকে মাওলানা সাঈদী বেশ কয়েকবার বিষয়টি উত্থাপন করলেও বিএনপি কোন আমল দেয়নি বরং বহু এমপি এবং মন্ত্রী বিরোধীতা করেছে। সাঈদী সাহেবের প্রশ্নের জবাবে এটাও বলেছে যে, দেশে পতিতালয় থাকলে নাকি ধর্ষণ সংখ্যা কমে যাবে। অথচ ধর্ষণের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই যাচ্ছে।
আজকাল হঠাৎ মন্ত্রী হয়ে যাওয়া বা পয়সা দিয়ে নমিনেশন খরিদ করে এমপি হয়ে যাওয়া বহু লোককে সংসদে দাঁড়িয়ে বড় বড় বক্তৃতা দিতে দেখা যায়। স্বার্থে আঘাত লাগলে সংসদের ভেতরে এবং বাইরে গালাগালি এবং অপবাদ দিতেও দেখা যায়। এবং নারীদের পক্ষে কথা বলার জন্য বহু লোক পাওয়া যায় কিন্তু দেশের লক্ষ লক্ষ যৌনকর্মীদের পক্ষে এবং তাদের সম্মান ও কর্মসংস্থানের ব্যাপারে একমাত্র জামাত ছাড়া আর কাউকে কথা বলতে শোনা যায়নি।
জামাতের কোন এমপি বা কোন নেতা যতবার যৌনপল্লী গরু বন্ধ করার কথা বলেছেন ততবারই বিরোধী পক্ষগুলো এবং তথাকথিত নারী পক্ষ গুলো, এবং নাস্তিকেরা ও বামপন্থীরা হেই হেই গেল গেল বলে চিৎকার করতে করতে জামাতের মুখ স্তব্ধ করে দিয়েছে এবং দিচ্ছে। এবছরের জামাতে ইসলামের নির্বাচনের বিভিন্ন বক্তৃতা ও প্রতিশ্রুতির মধ্যে ও পতিতাদের পুনর্বাসন করা এবং হিজড়াদের পুনর্বাসন করার প্রতিশ্রুতি ছিল। কিন্তু ইলেকশান ইঞ্জিনিয়ারিং এর মাধ্যমে তাদের প্রায় একশত আসন চুরি করে নিয়ে যাওয়ার ফলে তারা আর ক্ষমতায় যেতে পারেনি।
যারা এই দেশে পতিতালয় রাখতে চায়, তাদের যুক্তি হলো- এটা নাকি পেশা! ইজ্জত বিক্রি করে দুনিয়াতে কোন পেশা হতে পারে না। এই পতিতারা শুধু নিজেরা পতিতা নয় বরং এক একজন পতিতার কাছে যাচ্ছে বছরের প্রায় ৪ #পতিত পুরুষ। এরা #পতিতা হলেও পুরুষ কিন্তু “পতিত” হয় না!
পতিতালয়ে গমন করা বহু পতিত পুরুষকে আমি প্রতিটা বলে গালি দিতে দেখেছি এবং শুনেছি।

👉👉 প্রায়শই ছাত্রদের আন্দোলন করতে দেখা যায়। রাস্তায় বসে, বৃষ্টিতে ভিজে ঢাবির শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করছে। এটা চাই ওটা চাই, দাবী পূরণ করতে হবে। কিন্ত কারও দাবীতে যৌনকর্মীদের কথা নেই। এবং মাদকবিরোধী কথাবার্তা নেই। যদিও বাংলাদেশি ইসলামী ছাত্রশিবির এই সমস্ত কথার বিরুদ্ধে কিছু বলতে চেষ্টা করে ঠিক তখনই চারদিক থেকে রে রে করে ছুটে আসে এ তথাকথিত সেক্যুলার , ধর্মনিরপেক্ষতাবাদী , জাতীয়তাবাদী ও অন্যান্য এমনকি নারীবাদী সংগঠন পর্যন্ত তাদের সমালোচনা করে ছাড়ে না।

একটি দেশে ১৪ টি অনুমোদিত এবং সহস্রাধিক অনুমোদনহীন যৌন পল্লী থাকা নিশ্চয়ই গর্বের বিষয় নয়। বরং এটি আমাদের জাতীয় লজ্জা। যেখানে দেশের ৯০% মুসলিম। এবং দেশের অলিতে গলিতে গড়ে উঠেছে ব্যাঙের ছাতার মত হাজার হাজার কওমি মাদ্রাসা। এমনকি বহু মাদ্রাসা এ পতিতালয় থেকে দান-খয়রাত নিয়েও চলে এবং পতিতারা তাদের পাপ মোচনের জন্য এবং নেকির উদ্দেশ্যে মাদ্রাসাগুলোতে দান করে থাকে এমন বহু প্রমাণ রয়েছে।
তাছাড়া বাংলাদেশ #হেফাজতে_ইসলাম নামক বিরাট এক সংগঠন আছে যাদের উদ্দেশ্য হল ইসলামকে হেফাজত করা (যদিও তাদের মুখ এবং চরিত্রকে আজ পর্যন্ত তারা হেফাজত করতে পারেনি এবং হেফাজত করতে পারেনি তাদের কর্মীদের যেখানে শাপলা চত্বরে তাদের পিটিয়ে মারা হয়েছে! )
যতদিন অবাধে এসব যৌনতা চলবে, ততদিন এদেশে কোনো ওয়াজ মাহফিল, তাবলীগ জামাত, ইজতেমা, নামাজ রোজা হজ্ব প্রায় অর্থহীন। কারণ যে ইসলাম যে ওয়াজ মাহফিল যে তাবলীগ ও এস্তেমা পতিতালয় বন্ধ করতে পারেনা, যারা এই সমস্ত পতিতালয় বন্ধ করার জন্য সরকারকে চাপ দেয় না বরং যে সরকার এই সমস্ত পতিতালয় চালু রাখে সেই সরকারকে সমর্থন দিয়ে ক্ষমতায় নেয় তাদের এবাদত কতটা কবুল হবে তা একমাত্র আল্লাহ জানেন।
যৌন পল্লী বন্ধ না করে উন্নয়ন প্রকল্পের পদক্ষেপ নিলে সেটাও অর্থহীন। যারা মানুষের উন্নয়ন করতে পারেনা যারা দরিদ্র শ্রেণীর নারীদের উন্নয়ন করতে পারেনা সেই দেশে অন্যান্য উন্নয়ন মূলত কিছুই না। প্রথমে তো মানুষ। একটা কথা আছে, সবার উপর মানুষত্ব তাহার উপর নাই। সেই মানুষেরই যখন উন্নয়ন হয় না, সেখানে অবকাঠামোর উন্নয়ন একটা ধোকাবাজি ছাড়া আর কিছুই নয়। আপনি বাড়িতে একটা কুকুর পালন করেন সেই কুকুরকে খাবার না দিয়ে এবং চিকিৎসা না দিয়ে যদি কুকুরের ঘর বানানোর জন্য সুন্দর ও দৃষ্টি নন্দন উপকরণ কিনে আনেন তাহলে এই কুকুরের লাভ হল কি?
সরকারের উচিত দ্রুত এগুলোর অনুমোদন বাতিল করে হালাল পন্থায় যৌন কর্মীদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা। তাদের জন্য বিশেষ করে আলাদাভাবে প্রকল্প হাতে নেওয়া এবং ঐ সমস্ত প্রকল্প সরাসরি সরকার দ্বারা পরিচালিত করে এবং দুর্নীতিমুক্ত করে তাদের কাজে লাগানো এবং প্রশিক্ষণ দেওয়া। আর হিজড়া সম্প্রদায়কে বিভিন্ন কাজের ও চাকরির আওতায় নিয়ে আসা।
Mahabubur Rahman
mahabuburrahman1720@gmail.com

রাসূলুল্লাহ সাঃ এর দৃষ্টিতে সর্বোত্তম মানুষ

🇸🇦🇸🇦 রাসূলুল্লাহ সাঃ এর দৃষ্টিতে “সর্বোত্তম মানুষ”।

মানুষের মর্যাদা ধন-সম্পদ বা বাহ্যিক অবস্থার উপর নয়; বরং ঈমান, চরিত্র ও নেক আমলের উপর নির্ভর করে। রাসূলুল্লাহ ﷺ আমাদেরকে এমন কিছু গুণের কথা শিখিয়েছেন, যেগুলো অর্জন করলে একজন মানুষ আল্লাহর কাছে প্রিয় ও মর্যাদাবান হয়ে ওঠে। নিচে হাদিসের আলোকে সেই ১২টি গুণ তুলে ধরা হলো—নিজেকে মিলিয়ে দেখার জন্য:

🇸🇦রাসুলুল্লাহ সাঃ বলেছেন,
“তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম সে, যে নিজে কুরআন শেখে এবং অন্যকে শেখায়।”
(সহিহ বুখারি: ৫০২৭)
কুরআনের সাথে যার সম্পর্ক গভীর, সে আল্লাহর কাছে তত প্রিয়।

🇸🇦“তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম সে, যার চরিত্র সবচেয়ে উত্তম।”
(সহিহ বুখারি: ৬০৩৫)
উত্তম আখলাক একজন মুমিনের আসল পরিচয়।

🇸🇦 সর্বোত্তম ব্যক্তি সে, যে ঋণ পরিশোধে উত্তম।”
(সহিহ বুখারি: ২৩৩৫)
দায়িত্বশীলতা ও আমানতদারিতা ঈমানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

🇸🇦সর্বোত্তম সেই ব্যক্তি, যার থেকে মানুষ কল্যাণ আশা করে এবং অনিষ্টের ভয় করে না।”
(তিরমিজি: ২২৬৩/২৪০১)
একজন প্রকৃত মুমিন মানুষের জন্য নিরাপত্তার উৎস।

🇸🇦তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম সে, যে তার পরিবারের কাছে উত্তম।”
(সহিহ ইবনে হিব্বান: ৪১৭৭)
পরিবারের সাথে আচরণই একজন মানুষের প্রকৃত চরিত্র প্রকাশ করে।

🇸🇦 সর্বোত্তম সে, যার জীবন দীর্ঘ এবং আমল উত্তম।”
(মুসনাদ আহমাদ: ৭২১২)
দীর্ঘ জীবন তখনই মূল্যবান, যখন তা নেক আমলে পরিপূর্ণ হয়।

🇸🇦 সর্বোত্তম মানুষ সে, যে মানুষের জন্য সবচেয়ে বেশি উপকারী।”
(সহিহুল জামে’: ৩২৮৯)
মানুষের উপকারে আসাই প্রকৃত সফলতা।

🇸🇦 শ্রেষ্ঠ মানুষ সে, যার অন্তর পরিষ্কার এবং জিহ্বা সত্যবাদী।”
(ইবনে মাজাহ: ৪২১৬)
হিংসা, বিদ্বেষ ও প্রতারণামুক্ত হৃদয়ই প্রকৃত সৌন্দর্য।

🇸🇦 আল্লাহর কাছে উত্তম সঙ্গী সে, যে তার সঙ্গীর জন্য উত্তম। আর উত্তম প্রতিবেশী সে, যে তার প্রতিবেশীর জন্য উত্তম।”
(তিরমিজি: ১৯৪৪)
সুন্দর সম্পর্ক একজন মানুষের মর্যাদা বাড়ায়।

🇸🇦 নিশ্চয়ই তোমাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ সে, যার চরিত্র সবচেয়ে সুন্দর।”
(সহিহ বুখারি: ৩৫৫৯)
আখলাকের গুরুত্ব বারবার স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে।

🇸🇦 মর্যাদায় শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি সে, যে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দৃঢ়ভাবে দাঁড়ায় এবং অন্যায়কে প্রতিহত করে।”
(সহিহুল জামিউস সাগীর: ৪২৯১)
সাহস ও ন্যায়ের প্রতি অটল থাকা বড় গুণ।

🇸🇦 সেই মুমিন শ্রেষ্ঠ, যে আল্লাহর পথে তার জান ও মাল দিয়ে সংগ্রাম করে।”
(সহিহ বুখারি: ২৭৮৬, মুসলিম: ১৮৮৪)
ত্যাগ ও কুরবানি ঈমানকে পরিপূর্ণ করে।

এই গুণগুলো একদিনে অর্জন করা সম্ভব নয়, তবে চেষ্টা শুরু করা যায় আজ থেকেই। প্রতিদিন একটি করে গুণ নিজের জীবনে আনার চেষ্টা করলে ধীরে ধীরে আমরা সেই উত্তম মানুষের কাতারে পৌঁছাতে পারি, যাদেরকে রাসূলুল্লাহ  সাঃ ভালোবাসতেন।

জাপান! কথিত সভ্য জাতির এক অসভ্য ইতিহাসের গল্প…

চিন্তা করে দেখুন, পৃথিবীতে এমন একটি দেশ আছে যাকে আজ সভ্য, উন্নত এবং শৃঙ্খলাপূর্ণ জাতি হিসেবে সবাই সম্মান করে। সেই দেশের মানুষকে বলা হয় ন্যায়পরায়ণ, পরিশ্রমী, দয়ালু এবং শান্তিপ্রিয়। আধুনিক প্রযুক্তি, শিক্ষা আর উন্নয়নের উদাহরণ হিসেবে বহু দেশের তরুণদের কাছে তারা আজ অনুপ্রেরণা।

কিন্তু ইতিহাসের পাতা উল্টালে দেখা যায় ভিন্ন এক চিত্র। একসময় এই দেশই নিজেদের সামরিক শক্তির দাপটে পুরো এশিয়াজুড়ে অস্থিরতা ছড়িয়ে দিয়েছিল। ক্ষমতা আর আধিপত্যের নেশায় বহু দেশকে যুদ্ধ, ধ্বংস আর মানবিক বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল। এই দেশের অতীত ইতিহাস অত্যন্ত জঘন্য; ইতিহাসের পাতায় তাদের কর্মকাণ্ড সভ্য না অসভ্য জাতি হিসাবে বেশি পরিচিত।
দেশটির নাম জাপান। শুনে কি একটু অবাক লাগছে?

১৯৩০ থেকে ১৯৪৫ সালের মধ্যে পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় জাপানের সাম্রাজ্যবাদী বিস্তার এমন এক বাস্তবতা তৈরি করেছিল, যেখানে যুদ্ধ শুধু সেনাবাহিনীর সংঘর্ষ ছিল না; বরং কোটি মানুষের জীবনে নেমে এসেছিল সংগঠিত সহিংসতা, যৌন দাসত্ব, গণহত্যা, বাধ্যতামূলক শ্রম এবং ব্যাপক সম্পদ লুটের এক দীর্ঘ অন্ধকার অধ্যায়।

জাপান তখন দ্রুত শিল্পশক্তিতে পরিণত হচ্ছিল, কিন্তু তাদের বড় সমস্যা ছিল প্রাকৃতিক সম্পদের অভাব তাদের কোন প্রাকৃতিক সম্পদ নাই। তেল, লোহা, রাবার, খাদ্যশস্য—সবকিছুর জন্য বিদেশের ওপর নির্ভর করতে হতো। সামরিক নেতৃত্ব বিশ্বাস করতে শুরু করে, যদি তারা এশিয়ার সম্পদসমৃদ্ধ অঞ্চল দখল করতে পারে, তাহলে জাপান বিশ্বশক্তি হয়ে উঠবে। এই চিন্তাধারা থেকেই শুরু হয় সামরিক সম্প্রসারণ, যা শেষ পর্যন্ত কয়েক কোটি মানুষের জীবনে অভিশপ্ত করে তুলে।

সবচেয়ে ভয়াবহ অধ্যায় শুরু হয় চীনে। ১৯৩৭ সালে জাপানি বাহিনী নানজিং শহরে প্রবেশ করার পর যা ঘটে, তা আধুনিক ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত। মাত্র ছয় সপ্তাহের মধ্যে আনুমানিক ৩ লাখ থেকে ৪ লাখ মানুষ নিহত হয় বলে আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল ও বহু ঐতিহাসিক গবেষণায় উল্লেখ আছে। শহরের রাস্তায় সারিবদ্ধভাবে মানুষকে গুলি করা, নদীর ধারে গণহত্যা, জীবন্ত মানুষ পুড়িয়ে মারা—এসব ঘটনা প্রত্যক্ষদর্শীদের ডায়েরি ও বিদেশি কূটনীতিকদের রিপোর্টে উঠে আসে। অনেক গবেষক অনুমান করেন, শুধু নানজিংয়েই প্রতিদিন গড়ে কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছিল।

এই হত্যাযজ্ঞের পাশাপাশি ঘটে ব্যাপক যৌন সহিংসতা। বিভিন্ন গবেষণায় অনুমান করা হয়, নানজিং দখলের কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই প্রায় ৮০,০০০ থেকে ১০০,০০০ নারী ধর্ষণের শিকার হন। বয়স ছিল ৮ বছর থেকে ৩৫ বছর। অনেক নারীকে পরিবার সদস্যদের সামনে নির্যাতন করা হয়, এরপর হত্যা করা হয় যাতে কোনো সাক্ষী না থাকে। এই ঘটনাগুলো এতটাই ব্যাপক ছিল যে বিদেশি মিশনারিরা শহরের মধ্যে “সেফটি জোন” তৈরি করে হাজার হাজার নারীকে লুকিয়ে রাখার চেষ্টা করেছিলেন।

কিন্তু নানজিং কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছিল না। জাপানি সামরিক বাহিনী যুদ্ধ চলাকালে একটি সংগঠিত যৌন দাসত্ব ব্যবস্থা গড়ে তোলে, যা ইতিহাসে “কমফোর্ট উইমেন” নামে পরিচিত। নামটি যতই নরম শোনাক, বাস্তবে এটি ছিল সামরিক নিয়ন্ত্রিত যৌন দাসত্ব। কোরিয়া, চীন, ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, মিয়ানমার এবং অন্যান্য দখলকৃত অঞ্চল থেকে নারী ও কিশোরীদের অপহরণ বা প্রতারণার মাধ্যমে নিয়ে গিয়ে সামরিক ক্যাম্পে বন্দি রাখা হতো।

ইতিহাসবিদদের অনুমান অনুযায়ী এই ব্যবস্থায় অন্তত ২০০,০০০ থেকে ৩,০০,০০০ নারী জোরপূর্বক যৌন দাসে পরিণত হন। কিছু গবেষণা বলছে প্রকৃত সংখ্যা ৫ থেকে ৬ লাখ পর্যন্ত হতে পারে, কারণ যুদ্ধ শেষে বহু নথি ধ্বংস করা হয় এবং অসংখ্য ভুক্তভোগী সামাজিক লজ্জার কারণে কখনো সামনে আসেননি। প্রতিদিন একজন নারীকে ২০ থেকে ৪৫ জন সৈন্য পর্যন্ত নির্যাতন করত—এমন সাক্ষ্য বহু বেঁচে থাকা নারীর জবানবন্দিতে পাওয়া গেছে। যুদ্ধ শেষে অনুমান করা হয়, এই নারীদের অর্ধেকেরও বেশি জীবিত ফিরে যেতে পারেননি।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় জাপানের দখলদারিত্ব আরেক ধরনের মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি করে। ইন্দোনেশিয়ায় “রোমুশা” নামে বাধ্যতামূলক শ্রম ব্যবস্থা চালু করা হয়। আনুমানিক ৮০ লাখের বেশি মানুষকে শ্রমে বাধ্য করা হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়। তাদের দিয়ে রেললাইন, সামরিক ঘাঁটি, রাস্তা ও বিমানঘাঁটি নির্মাণ করানো হয়। খাদ্যস্বল্পতা, রোগ এবং নির্যাতনের কারণে লাখ লাখ শ্রমিক মারা যায়। অনেক অঞ্চলে মৃত্যুহার এত বেশি ছিল যে শ্রমিকদের গণকবর দেওয়া হতো।

মিয়ানমার ও থাইল্যান্ড সীমান্তে নির্মিত কুখ্যাত বার্মা রেলওয়ে ছিল এই শ্রম ব্যবস্থার প্রতীক। প্রায় ৩ লাখ এশীয় শ্রমিক এবং ৬০ হাজার যুদ্ধবন্দী সেখানে কাজ করতে বাধ্য হয়। অনুমান করা হয়, শুধু এই রেললাইন নির্মাণেই ১২০০০০ হাজারের বেশি এশীয় শ্রমিক এবং ৩০ হাজারের বেশি যুদ্ধবন্দী প্রাণ হারান।

ফিলিপাইনে জাপানি দখলদারিত্বের শেষ পর্যায়ে ১৯৪৫ সালে ম্যানিলা শহর প্রায় সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়। কয়েক সপ্তাহে আনুমানিক ২ লাখ বেসামরিক মানুষ নিহত হয়। শহরের হাসপাতাল, স্কুল ও ধর্মীয় স্থাপনাও রক্ষা পায়নি। প্রত্যক্ষদর্শীরা লিখেছেন, অনেক পরিবার পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়।

কোরিয়ায় দীর্ঘ ৩৫ বছরের উপনিবেশ শাসনের সময় জাপান শুধু রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণই নেয়নি, সাংস্কৃতিক পরিচয়ও মুছে ফেলার চেষ্টা করেছিল। কোরিয়ান ভাষা ব্যবহার সীমিত করা হয়, মানুষকে জাপানি নাম নিতে বাধ্য করা হয়, এবং শিল্প ও কৃষি উৎপাদনের বড় অংশ জাপানে পাঠানো হতো। যুদ্ধের সময় লক্ষাধিক কোরিয়ান শ্রমিককে জাপানের কারখানা ও খনিতে কাজ করতে বাধ্য করা হয়।

অর্থনৈতিক দিক থেকেও জাপানের দখলদারিত্ব ছিল ব্যাপক লুটপাটের সঙ্গে জড়িত। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার তেল, রাবার ও খনিজ সম্পদ সরাসরি যুদ্ধ পরিচালনায় ব্যবহৃত হয়। ইন্দোনেশিয়ার তেলক্ষেত্র, মালয়েশিয়ার রাবার বাগান এবং চীনের শিল্প কারখানা জাপানি সামরিক অর্থনীতির অংশে পরিণত হয়। ঐতিহাসিক অনুমান অনুযায়ী দখলকৃত অঞ্চলগুলো থেকে যুদ্ধ চলাকালে শত শত কোটি ডলারের সমপরিমাণ সম্পদ জাপানের নিয়ন্ত্রণে যায়, যা বর্তমান মূল্যে ট্রিলিয়ন ডলারের সমান অর্থনৈতিক ক্ষতির প্রতিনিধিত্ব করে।

এই সময় খাদ্য সংকটও একটি বড় অস্ত্র হয়ে ওঠে। অনেক অঞ্চলে খাদ্য জব্দ করে সেনাবাহিনীর জন্য রাখা হতো, ফলে সাধারণ মানুষ অনাহারে মারা যেত। চীনের কিছু এলাকায় দুর্ভিক্ষে মৃত্যুর সংখ্যা কয়েক মিলিয়ন পর্যন্ত পৌঁছায় বলে গবেষকরা ধারণা করেন।

ইতিহাসবিদদের হিসাব অনুযায়ী, জাপানের সামরিক অভিযানের ফলে এশিয়াজুড়ে মোট নিহতের সংখ্যা ২.৫ থেকে ৩ কোটিরও বেশি হতে পারে, যার বড় অংশই ছিল বেসামরিক মানুষ। এই সংখ্যার মধ্যে যুদ্ধক্ষেত্রে নিহত সৈন্যের তুলনায় সাধারণ মানুষের মৃত্যুই বেশি।

তবে ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর জাপান নিজেও ভয়াবহ ধ্বংসের মুখে পড়ে। টোকিওসহ বহু শহর বোমাবর্ষণে ধ্বংস হয়, শিল্পভিত্তি ভেঙে পড়ে, এবং শেষ পর্যন্ত পারমাণবিক হামলার মাধ্যমে যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটে। ফলে যে সাম্রাজ্য গড়ার স্বপ্ন থেকে এই অভিযান শুরু হয়েছিল, সেটি সম্পূর্ণ বিপর্যয়ে শেষ হয়।

আজ এশিয়ার বহু দেশে সেই সময়ের স্মৃতি এখনো রাজনৈতিক ও সামাজিক আলোচনার অংশ। কোরিয়ার বেঁচে থাকা “কমফোর্ট উইমেন”রা বহু দশক ধরে ক্ষমা ও স্বীকৃতির দাবিতে আন্দোলন করেছেন। চীনে নানজিং গণহত্যার স্মৃতিসৌধ প্রতি বছর লাখো মানুষ পরিদর্শন করে। ফিলিপাইন ও ইন্দোনেশিয়ার বহু পরিবার এখনো তাদের নিখোঁজ পূর্বপুরুষদের গল্প ধরে রেখেছে।

এই ইতিহাস আমাদের মনে করিয়ে দেয়, যুদ্ধের ভয়াবহতা শুধু বন্দুকের শব্দে সীমাবদ্ধ থাকে না। যুদ্ধ শেষ হলেও তার প্রতিধ্বনি প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বেঁচে থাকে। হারিয়ে যাওয়া মানুষ, ভাঙা সমাজ এবং নীরব কষ্টের গল্পগুলোই শেষ পর্যন্ত ইতিহাসের সবচেয়ে সত্য অংশ হয়ে দাঁড়ায়। কারণ মানচিত্র বদলায় দ্রুত, কিন্তু মানুষের স্মৃতি বদলাতে অনেক সময় লাগে।

গোলাম আহমদ কাদিয়ানীর উৎপত্তি দেওবন্দ থেকে, এবং তা শুরু করেছে দেওবন্দের প্রতিষ্ঠাতা কাসেম নানুতুবিদ সাহায্যে।

👉👉কাদিয়ানীর উৎপত্তি দেওবন্দের প্রতিষ্ঠতা কাছেম নানুতবীর মাধ্যমে!??

গোলাম আহমদ কাদিয়ানীর নবুওত দাবী করা সংক্রান্ত বিষয়ে দেওবন্দের ক্বাসিম নানুতুভী সাহেবকে জড়িয়ে একজন একটা বিবরণী দিয়েছে । এই বিষয়টি একটু খোলাসা হওয়ার দরকার । প্রকৃত সত্য সামনে না থাকলে যে কেউ বিভ্রান্ত হতে পারে । বিষয়টি খোলাসা করার ব্যাপারে আমি আপনাকেই উপযুক্ত ও বিশ্বস্ত মনে করেছি । তাই হুবহু তার বক্তব্যটি পাঠালাম । দয়া করে একটি আর্টিকেল লিখে বিষয়টি পরিষ্কার করবেন । বিবরণীটি নিম্নরূপ :

👉👉কাদিয়ানী ফিৎনার মূল প্রতিষ্ঠাতা দেওবন্দের কাছিম নানুতবী।
কাদিয়ানী মতবাদের প্রতিষ্ঠাতা মির্জা গোলাম আহমদ কাদিয়ানি মূলতঃ কাশেম নানুতবীর শিষ্য। যিনি দেওবন্দ মাদ্রাসা হতে ফারেগ কওমি ঘরনার একজন আলেম।
বর্তমানে মুসলমানদের ছুরতে ইসলামের মধ্যে যে ফিৎনাগুলো শিয়া, ওহাবী, রাফেজী, কওমি, বীর, মুরুব্বী ,সিলসিলা ইত্যাদি বিরাজমান তার মধ্যে চরম ভয়ঙ্কর ফিৎনা হচ্ছে কাদিয়ানী ফিৎনা।

মূলত পাঞ্জাবের “কাদিয়ান” নামক গ্রামে ১৮৩৫ সালে জন্ম গ্রহণকারী ব্রিটিশের দালাল মির্জা গোলাম আহমদকে যদিও কাদিয়ানী মতবাদের প্রতিষ্ঠাতা বলা হয়, কিন্তু তাকে এই মতবাদ প্রতিষ্ঠায় প্ররোচিত করে ভারতের দেওবন্দ মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা কাসেম নানুতবী।
এই কাসেম নানুতবী দেওবন্দ মাদরাসার প্রতিষ্ঠার ৭ বছর পর ১৮৭৪ সালে ‘তাহ্‌যীরুন্নাছ’ নামক একটি গ্রন্থ রচনা করে; যার ২৫ পৃষ্ঠায় সে কুরআন -এর সূরা আহযাব-এর ৪০ নাম্বার আয়াত -এ বর্ণিত ‘খাতামুন্‌ নাবিয়্যীন’-এর ব্যাখ্যায় উল্লেখ করে যে, “খাতামুন্‌ নাবিয়্যীন অর্থ হলো মূল নবী।
অন্যান্য নবীগণ ছিলেন সাময়িক নবী। যারা খাতামুন্‌ নাবিয়্যীন-এর অর্থ শেষ নবী বলে তারা জাহিল ও মূর্খ।
নবী পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আগে বা সর্বশেষে আসার মধ্যে কোন ফযীলত নেই। ফযীলত হলো মূল নবী হওয়ার মধ্যে। তার পরে যদি ১০০০ নবীরও আগমন মেনে নেয়া হয়, তাতেও হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর খতমে নুবুওয়াত-এর কোনরূপ তারতম্য হবে না।”
নাঊযুবিল্লাহ মিন যালিক! এই হল আজকের তথাকথিত সহীহ আকিদার দেওবন্দ মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতার আকীদা।

কাছিম নানুতবীর বাতলে দেয়া এই পথ ধরে ১৯০৫ সালে মির্জা গোলাম কাদিয়ানী নবী দাবি করে বসে। পরবর্তিতে গোলাম কাদিয়ানীকে এই বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে সে বলে যে, “মাওলানা কাছিম নানুতবী ছাহেব তো তার ‘তাহ্‌যীরুন্নাছ’ গ্রন্থে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পরে ১০০০ নবীর আগমনের সম্ভাবনা স্বীকার করে নিয়েছে। সুতরাং আমি (কাদিয়ানী) একজন নবী দাবি করাতে দোষ কোথায়? আরো তো ৯৯৯ জন দাবি করতে পারে।” নাঊযুবিল্লাহ মিন যালিক!

সুতরাং দেখা যাচ্ছে, কাদিয়ানী সমপ্রদায়ের মূল প্রতিষ্ঠাতা হচ্ছে দেওবন্দের কাছিম নানুতবী, আর মির্জা গোলাম কাদিয়ানী তার রূপদানকারী।

মানুষের নামে দেশের নামঃ পৃথিবীতে গোটা দশেক দেশ রয়েছে, যে দেশগুলোর নাম নির্দিষ্ট প্রথম ব্যক্তির নাম অনুসারে  হয়েছে, যেমন সৌদি আরব…

👉👉একজন মানুষের নামে একটি দেশের নাম, ভাবতেই কেমন লাগে! মানুষের নামে গ্রামের নাম, শহরের নাম, জেলার নাম আছে লক্ষ লক্ষ, কিন্তু দেশের নাম একটু আনইউজুয়াল। একজন ব্যক্তি একটা রাজনৈতিক জাতির পরিচয় হয়ে উঠতে পারে কীভাবে? পৃথিবীতে বর্তমানে এমন দেশ আছে প্রায় ৯টি, যেগুলোর নামকরণ করা হয়েছে নির্দিষ্ট কোনো ঐতিহাসিক ব্যক্তি বা শাসকের নাম অনুসারে। দেশেগুলো হল:

🇸🇦 ২. সৌদি আরব (Saudi Arabia)
এই দেশটির নাম এসেছে আধুনিক সৌদি আরবের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ বিন সৌদ (Ibn Saud) বা ‘সৌদ’ বংশের নাম থেকে। ১৯৩২ সালে এই নামকরণ করা হয়।
সৌদি অ্যারাবিয়া অর্থাৎ মিঃ সৌউদ এর আরব। অথচ এই দেশটির নাম হওয়ার কথা ছিল হিজাজ।
১৯৩২ সালে বর্তমান নামে পরিচিত হওয়ার আগে সৌদি আরবের প্রধান অংশগুলোর নাম ছিল #হিজাজ এবং #নজদ রাজ্য (Kingdom of Hejaz and Nejd) । ১৯৩২ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর বাদশাহ আবদুল আজিজ ইবনে সউদ এই অঞ্চলগুলোকে একত্রিত করে রাসূল সাল্লাহু আলাই সাল্লাম এর দেওয়া সেই নামকে পরিবর্তন করে সম্পূর্ণ বেদাতি এবং ইসলাম বহির্ভূত পন্থায় নিজের নাম অনুসারে দেশটির নাম রাখে ‘আল-মামলাকাতুল আরাবিয়াতুস সউদিয়াহ’ বা ‘সৌদি আরব রাজ্য’ নামকরণ করেন । অথচ একটু লক্ষ্য করলে দেখবেন আমাদের দেশের মাদখালি আহলে হাদিস গোষ্ঠীর লোক গুলো রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম এর দেওয়া সেই নাম পরিবর্তন করে সম্পূর্ণ বেদাতি এবং ইসলাম বহির্ভূত পদ্ধতিতে সৌদি আরব নাম ডাকে কিন্তু এই সমস্ত কিছুতে তাদের বেদাত হয় না।

🇵🇭 ১. ফিলিপাইন (Philippines)
স্পেনের রাজা দ্বিতীয় ফিলিপের (King Philip II) নামানুসারে এই দেশটির নামকরণ করা হয়েছে। ১৫৪২ সালে স্পেনীয় অভিযাত্রীরা এই দ্বীপপুঞ্জটির নাম দেন ‘লাস ইসলাস ফিলিপিনাস’।

🇧🇴 ৩. বলিভিয়া (Bolivia)
দক্ষিণ আমেরিকার এই দেশটির নাম রাখা হয়েছে বিখ্যাত বিপ্লবী নেতা সাইমন বলিভারের (Simon Bolivar) সম্মানে, যিনি দক্ষিণ আমেরিকার বেশ কিছু দেশকে স্পেনীয় শাসন থেকে মুক্ত করতে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।

🇨🇴 ৪. কলম্বিয়া (Colombia)
ভাগ্যানেষী ইতালিয় নাবিক ক্রিস্টোফার কলম্বাসের (Christopher Columbus) নামানুসারে এই দেশটির নামকরণ করা হয়েছে।

🇲🇺 ৫. মরিশাস (Mauritius)
১৫৯৮ সালে ওলন্দাজরা দ্বীপটি দখল করে এবং রাজপুত্র মরিটস অফ অরেঞ্জ (Maurice of Orange)-এর নামানুসারে এই দ্বীপরাষ্ট্রটির নাম রাখে ‘মরিশাস’।

🇸🇨 ৬. সিশেলস (Seychelles)
ভারত মহাসাগরের এই দ্বীপরাষ্ট্রটির নাম ফ্রান্সের তৎকালীন অর্থমন্ত্রী জ্যঁ মরে ডি সিশেলস (Jean Moreau de Séchelles)-এর নামানুসারে রাখা হয়েছে।

🇲🇭 ৭. মার্শাল আইল্যান্ডস (Marshall Islands)
ব্রিটিশ ক্যাপ্টেন জন মার্শালের নামানুসারে এই দ্বীপরাষ্ট্রের নামকরণ করা হয়, যিনি ১৭৮৮ সালে এই দ্বীপগুলো পরিদর্শন করেছিলেন।

🇰🇳 ৮. সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস (Saint Kitts and Nevis)
Saint Kitts অংশটি এসেছে “Saint Christopher” থেকে, অর্থাৎ Saint Christopher-এর নামে।
“Kitts” হলো “Christopher”-এর সংক্ষিপ্ত রূপ।
Nevis এসেছে স্প্যানিশ শব্দ “Nuestra Señora de las Nieves” থেকে, যার অর্থ “Virgin Mary of the Snows”।

🇰🇮 ৯. কিরিবাস (Kiribati)
প্রশান্ত মহাসাগরের এই দেশটির নাম আগে ছিল গিলবার্ট আইল্যান্ডস। এই নামটি দেওয়া হয়েছিল ব্রিটিশ নাবিক Thomas Gilbert-এর নামে, যিনি ১৮শ শতকে এই দ্বীপপুঞ্জে আসেন। গিলবার্টকে স্থানীয়রা উচ্চারণ করত ” কিরিবাস” যা ইংরেজি বানানে Kiribati. গিলবার্ট আইল্যান্ডস যখন স্বাধীন হয় তখন স্থানীয় উচ্চারণে নাম পাল্টে রাখে।

🇺🇲 ১০. আমেরিকার যুক্তরাষ্ট্র:
এটা শুধু একটা দেশের নাম না, দুটো মহাদেশের নাম। আমেরিকা মহাদেশের নামকরণ করা হয়েছে ইতালীয় অভিযাত্রী এবং মানচিত্রকর আমেরিগো ভেসপুচি (Amerigo Vespucci)-এর নামানুসারে।

​১৫শ শতাব্দীর শেষভাগে যখন ক্রিস্টোফার কলম্বাস বর্তমান আমেরিকা অঞ্চলে পৌঁছান, ধারণা করেছিলেন যে তিনি এশিয়ার কোনো অংশে (ইন্ডিজ) পৌঁছেছেন। কিন্তু আমেরিগো ভেসপুচিই প্রথম ব্যক্তি যিনি যুক্তি দেন যে, এটি এশিয়া নয় বরং একটি সম্পূর্ণ ‘নতুন বিশ্ব’ বা নতুন মহাদেশ।
১৫০৭ সালে জার্মান মানচিত্রকর মার্টিন ওয়াল্ডসিমুলার (Martin Waldseemüller) একটি বিশ্ব মানচিত্র তৈরি করেন। তিনি ভেসপুচির এই নতুন আবিষ্কারের প্রতি সম্মান জানাতে দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের নাম দেন ‘আমেরিকা’ (Amerigo-এর স্ত্রীলিঙ্গ রূপ)।
প্রথমে এটি ছিল শুধু দক্ষিণ আমেরিকার নাম, পরো পুরো দুটো মহাদেশের নাম হয় আমেরিকা, উত্তর ও দক্ষিণ। দুটো মহাদেশের সবগুলো দেশকে একত্রে বলা হয় “আমেরিকাস”, আর স্বাধীনতার পর দেশটির নাম রাখা হয় ইউনাইটেড স্টেটস অব আমেরিকা।

অতীতে:
উপনিবেশিক আমলে ইউরোপিয় বেনিয়া সেসিল রোডসের নামে আফ্রিকার দুটো পরাধীন দেশের নাম রাখা হয়েছিল। দেশ দুটো হল- উত্তর রোডেশিয়া (১৯১১-১৯৬৪) ও দক্ষিন রোডেশিয়া (১৯২৩-৬৫ ও ১৯৭৯-৮০); যা বর্তমানে যথাক্রমে জাম্বিয়া ও জিম্বাবুয়ে।