বাংলাদেশের সরকার অনুমোদিত পতিতালয় গুলোর ব্যাপারে আলেম সমাজের ভূমিকা কি?

👉👉 প্রেসিডেন্ট এরশাদ (বাংলাদেশের অন্যতম চরিত্রহীন প্রেসিডেন্ট)১৯৮৮ সালে সর্বপ্রথম বাংলাদেশে পতিতাদেরকে যৌন ব্যবসা করার জন্য পতিতালয়ের লাইসেন্স প্রদান করে।
দৌলতদিয়া যৌনপল্লী রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দে অবস্থিত, যা বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় যৌনপল্লী। এটি ১৯৮৮ সালে সরকারি অনুমোদন দান করে এরশাদ সরকার। । তবে কয়েক দশক আগে থেকেই সেখানে অনানুষ্ঠানিক এবং অনুমোদনহীন যৌনবৃত্তি চালু ছিল । এরশাদ সরকার সর্বপ্রথম বাংলাদেশে পতিতাবৃত্তি কে ব্যবসা হিসাবে উল্লেখ করেন এবং এই অশ্লীল জেনা বেবিচার কে সার্বজনীন করে দেন। তার জন্য অবশ্যই আল্লাহর লানত তার উপর কেয়ামত পর্যন্ত বর্ষিত হতে থাকবে যতদিন যৌনপল্লী থাকে। কত নিকৃষ্ট চরিত্রের হলে এরশাদ দরিদ্র মহিলাদেরকে জেনা ব্যভিচার এর মতো জঘন্য এবং মানবতা বিরোধী কাজে লাইসেন্স প্রদান করতে পারেন চিন্তা করুন। এরশাদ শুধু স্বৈরশাসক ছিল না বরং সে ছিল বড় রকমের একজন চরিত্রহীন অসভ্য ইতর প্রকৃতির লোক।
অতঃপর ক্রমান্বয়ে বাংলাদেশে 14টির মত প্রদীপ্যালয়ের অনুমোদন দেওয়া হয় এবং বর্তমানে তা অব্যাহত আছে। এরমধ্যে ৭টি ঢাকা বিভাগের মধ্যে ! ছয়টি খুলনা বিভাগে এবং একটি চরমোনাই পীরের বাড়ির কাছে বরিশালে।

কল্পনা করুন,
আপনার দেশে এমন একটা স্থান আছে যেখানে চার হাজার নারী যৌন পেশায় জড়িত।
একই পরিবারের সকল নারী সদস্য একই সাথে সামনা সামনি পরপুরুষের সাথে সঙ্গমে লিপ্ত হচ্ছে। হাতে সিগারেট, টেবিলে ইয়াবা, মদের বোতল। মা মেয়ে একই ঘরে একজন পুরুষের সাথে যৌনতা করছে বিনা সংকোচে।
হ্যাঁ, এটা বৈধ। আপনার দেশেই হচ্ছে প্রতিনিয়ত। প্রশাসনের অনুমতি নিয়েই হচ্ছে। আপনার আশেপাশেই হচ্ছে। এমনকি বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় পীরের বাড়ির কাছেও হচ্ছে। অর্থাৎ বড় বড় লম্বা লম্বা ওয়াজ করা সেই চরমোনাই পীরের বাড়ির কাছেই বাংলাদেশের অন্যতম একটি বড় পতিতালয় অবস্থিত অথচ কোনদিন এই ব্যাপারে সে মুখ খুলতে দেখেছেন?

তবে এখানে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় পতিতালয় এর কথা বলছি , বলছি গোয়ালন্দ, রাজবাড়ির দৌলতদিয়া পতিতা পল্লীর কথা। বাংলাদেশে সরকারিভাবে অনুমোদিত পতিতালয়ের মধ্যে দৌলতদিয়া সবচেয়ে বড় যৌন পল্লী। এশিয়ার সবচেয় বড় পতিতালয়ের অন্যতম এই পল্লীতে প্রতিদিন ৩ হাজারের বেশি পুরুষ যেনা ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়ার জন্য আসে। যাদের অধিকাংশই মুসলিম ধর্মাবলম্বী।
মরণব্যাধি এইডস, ক্যান্সার , সিফিলিস গনোরিয়া এবং ভয়াবহ সব ছোঁয়াছে এবং ভাইরাস জনিত চর্মরোগ ছড়িয়ে পড়ছে সারাদেশে এসব নোংরা পল্লী থেকেই।

১৯৮৮ সালে চরিত্রহীন প্রেসিডেন্ট এরশাদ ও তার জঘন্য চরিত্রের অর্থাৎ প্রতিটা চরিত্রের মন্ত্রিসভার লোকদের দ্বারা সরকারিভাবে অনুমোদনের পর থেকে আজ অব্দি নিরলসভাবে এখানে পতিতাবৃত্তি হচ্ছে অত্যন্ত স্বাভাবিক নিয়মে। অধিকাংশ যৌন কর্মীর বয়স ১৫ এর নিচে।
যৌনতার পাশাপাশি প্রত্যেক আড্ডাখানায় আছে জুয়া, মদের আসর, ইয়াবা, গাঁজা অর্থাৎ ইসলামী শরিয়ায় নিষিদ্ধ সকল কার্যক্রম চলছে কোনোপ্রকার বাধা বিপত্তি ছাড়াই।

১৪টি অনুমোদিত পতিতালয়সহ দেশের আনাচে-কানাচে সহস্রাধিক অনুমোদনহীন পতিতালয় আছে বাংলাদেশে। একটি বেসরকারি হিসেবে দেখা গেছে, বাংলা দেশে অনুমোদনহীন পতিতালয়ের সংখ্যা ১২০০ এর অধিক। বিভিন্ন জেলা সদরের ও বিভিন্ন বাণিজ্যিক এলাকার হোটেলগুলোতে চলে এই অবৈধ যৌন ব্যবসা।
১৯৮৮ এর এরশাদ কর্তিক যৌনপল্লী অনুমোদনের পর থেকে গত ৩৮ বছর যাবত বাংলাদেশে কয়েক কোটি ওয়াজ মাহফিল হয়েছে।
এখনও প্রতিদিন হচ্ছে বিভিন্ন জেলায়।
দু এক পার্সেন্ট ওয়াজ মাহফিল ছাড়া আজ অব্দি কোনো ওয়াজ মাহফিলে এসব পতিতালয়ের বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। ইসলামী শরিয়া আইনে পরপুরুষ পরনারী সঙ্গমে লিপ্ত হলে এটাকে ‘জেনা’ বলা হয়। যার শাস্তি হল যদি সে বিবাহিত হয় তবে পাথর মেরে হত্যা করা। আর যদি অবিবাহিত হয় তবে একশত বেত মারা।
ওয়াজ মাহফিলের মাধ্যমে যেহেতু বন্ধ করা যায়নি, এর অর্থ দাঁড়ায় ৩৮ বছরের ৯৮% ওয়াজ মাহফিল সম্পূর্ণ ব্যর্থ।

অত্যন্ত হাস্যকর এবং অবাক ঘটনা হলো, আমাদের বাংলাদেশে পবিত্র হজের পরেই পৃথিবীর সবচেয়ে বড় মুসলিম জামায়েত অনুষ্ঠিত হয় যা তাবলীগ জামায়াতের ইজতেমা নামে পরিচিত।
এই এস্তেমা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে হাজার ১৯৫৮সাল থেকে ৬৬ সাল পর্যন্ত লালবাগ এবং ১৯৬৬ সাল থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত গাজীপুর জেলার টঙ্গীতে। কিন্তু আজ পর্যন্ত কোন তাবলীগের বয়ানে দেশের এই এক হাজারের উপর পতিতালয় এবং ১৪ টি সরকার অনুমোদিত পতিতালয় বন্ধ করার বা সেখানে গমন না করার কোন নসীয়ত শুনেছেন কেউ?
অথচ ইসলামের মূল মন্ত্র হলো “সৎ কাজের আদেশ করা এবং অসৎ কাজ থেকে মানুষকে বিরত রাখা।”
মূলত এই সমস্ত ওয়াজ মাহফিল এবং এস্তেমাগুলোতে সস্তা জনপ্রিয় কিছু কথাবার্তা বলা হয় এবং সস্তা কিছু আমলের কথা বলা হয়।

👉👉এবার আসি দ্বিতীয় পয়েন্টে–
৩৮ বছরে বাংলাদেশে ক্ষমতায় ছিলেন এরশাদ, যিনি বাংলাদেশকে ইসলামী জমহুরিয়াত বানাতে চেয়েছিলেন। শুধু তাই নয় তিনি বাংলাদেশের প্রথম প্রেসিডেন্ট যিনি টুপি মাথায় দেওয়া শুরু করেন এবং নিজের ধার্মিকতা প্রকাশ করার জন্য দেশের বিভিন্ন অলি আউলিয়ার দরবারে আসা যাওয়া শুরু করেন। তাছাড়া তৎকালীন জনপ্রিয় পীর আটরশির একনিষ্ঠ মুরিদ ছিলেন এরশাদ এবং প্রায়ই নাকি সরকারি পয়সা খরচ করে ঢাকা থেকে ফরিদপুর পর্যন্ত হেলিকপ্টারে গিয়ে তিনি জুমার নামাজ পড়তেন তার বাবা পীরের পেছনে।
ক্ষমতায় ছিল বি এনপি, এরপর আওয়ামী লীগ, চারদলীয় জোট, (বিএনপি ,জামাত ইসলামী ঐক্য জোট) মইনুদ্দিন ফখরুদ্দিন, আবার আওয়ামী লীগ টানা ১৭ বছর ফ্যাসিবাদী ও স্বৈরশাসন চালিয়েছেন এরশাদের চেয়েও জঘন্যভাবে!,
এরপর ২০২৪ সালের পাঁচই আগস্ট গণ অসন্তোষ এবং ছাত্র জনতার বিপ্লবের ফলে হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর ক্ষমতায় আসে ইউনুস রেজিম; যিনি আমূল পরিবর্তন করে ফেলবেন বলে ঘোষণা করেছিলেন। এখন আবার বিএনপি । কোন সরকারই দৌলতদিয়া সহ বাংলাদেশের প্রায় ১৪টি সরকার অনুমোদিত যৌনপল্লীর হাজার হাজার যৌনকর্মীর তথা পতিতার কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারেনি।
তবে চার দলীয় জোট ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় জামাত ইসলামের পক্ষ থেকে মাওলানা সাঈদী বেশ কয়েকবার বিষয়টি উত্থাপন করলেও বিএনপি কোন আমল দেয়নি বরং বহু এমপি এবং মন্ত্রী বিরোধীতা করেছে। সাঈদী সাহেবের প্রশ্নের জবাবে এটাও বলেছে যে, দেশে পতিতালয় থাকলে নাকি ধর্ষণ সংখ্যা কমে যাবে। অথচ ধর্ষণের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই যাচ্ছে।
আজকাল হঠাৎ মন্ত্রী হয়ে যাওয়া বা পয়সা দিয়ে নমিনেশন খরিদ করে এমপি হয়ে যাওয়া বহু লোককে সংসদে দাঁড়িয়ে বড় বড় বক্তৃতা দিতে দেখা যায়। স্বার্থে আঘাত লাগলে সংসদের ভেতরে এবং বাইরে গালাগালি এবং অপবাদ দিতেও দেখা যায়। এবং নারীদের পক্ষে কথা বলার জন্য বহু লোক পাওয়া যায় কিন্তু দেশের লক্ষ লক্ষ যৌনকর্মীদের পক্ষে এবং তাদের সম্মান ও কর্মসংস্থানের ব্যাপারে একমাত্র জামাত ছাড়া আর কাউকে কথা বলতে শোনা যায়নি।
জামাতের কোন এমপি বা কোন নেতা যতবার যৌনপল্লী গরু বন্ধ করার কথা বলেছেন ততবারই বিরোধী পক্ষগুলো এবং তথাকথিত নারী পক্ষ গুলো, এবং নাস্তিকেরা ও বামপন্থীরা হেই হেই গেল গেল বলে চিৎকার করতে করতে জামাতের মুখ স্তব্ধ করে দিয়েছে এবং দিচ্ছে। এবছরের জামাতে ইসলামের নির্বাচনের বিভিন্ন বক্তৃতা ও প্রতিশ্রুতির মধ্যে ও পতিতাদের পুনর্বাসন করা এবং হিজড়াদের পুনর্বাসন করার প্রতিশ্রুতি ছিল। কিন্তু ইলেকশান ইঞ্জিনিয়ারিং এর মাধ্যমে তাদের প্রায় একশত আসন চুরি করে নিয়ে যাওয়ার ফলে তারা আর ক্ষমতায় যেতে পারেনি।
যারা এই দেশে পতিতালয় রাখতে চায়, তাদের যুক্তি হলো- এটা নাকি পেশা! ইজ্জত বিক্রি করে দুনিয়াতে কোন পেশা হতে পারে না। এই পতিতারা শুধু নিজেরা পতিতা নয় বরং এক একজন পতিতার কাছে যাচ্ছে বছরের প্রায় ৪ #পতিত পুরুষ। এরা #পতিতা হলেও পুরুষ কিন্তু “পতিত” হয় না!
পতিতালয়ে গমন করা বহু পতিত পুরুষকে আমি প্রতিটা বলে গালি দিতে দেখেছি এবং শুনেছি।

👉👉 প্রায়শই ছাত্রদের আন্দোলন করতে দেখা যায়। রাস্তায় বসে, বৃষ্টিতে ভিজে ঢাবির শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করছে। এটা চাই ওটা চাই, দাবী পূরণ করতে হবে। কিন্ত কারও দাবীতে যৌনকর্মীদের কথা নেই। এবং মাদকবিরোধী কথাবার্তা নেই। যদিও বাংলাদেশি ইসলামী ছাত্রশিবির এই সমস্ত কথার বিরুদ্ধে কিছু বলতে চেষ্টা করে ঠিক তখনই চারদিক থেকে রে রে করে ছুটে আসে এ তথাকথিত সেক্যুলার , ধর্মনিরপেক্ষতাবাদী , জাতীয়তাবাদী ও অন্যান্য এমনকি নারীবাদী সংগঠন পর্যন্ত তাদের সমালোচনা করে ছাড়ে না।

একটি দেশে ১৪ টি অনুমোদিত এবং সহস্রাধিক অনুমোদনহীন যৌন পল্লী থাকা নিশ্চয়ই গর্বের বিষয় নয়। বরং এটি আমাদের জাতীয় লজ্জা। যেখানে দেশের ৯০% মুসলিম। এবং দেশের অলিতে গলিতে গড়ে উঠেছে ব্যাঙের ছাতার মত হাজার হাজার কওমি মাদ্রাসা। এমনকি বহু মাদ্রাসা এ পতিতালয় থেকে দান-খয়রাত নিয়েও চলে এবং পতিতারা তাদের পাপ মোচনের জন্য এবং নেকির উদ্দেশ্যে মাদ্রাসাগুলোতে দান করে থাকে এমন বহু প্রমাণ রয়েছে।
তাছাড়া বাংলাদেশ #হেফাজতে_ইসলাম নামক বিরাট এক সংগঠন আছে যাদের উদ্দেশ্য হল ইসলামকে হেফাজত করা (যদিও তাদের মুখ এবং চরিত্রকে আজ পর্যন্ত তারা হেফাজত করতে পারেনি এবং হেফাজত করতে পারেনি তাদের কর্মীদের যেখানে শাপলা চত্বরে তাদের পিটিয়ে মারা হয়েছে! )
যতদিন অবাধে এসব যৌনতা চলবে, ততদিন এদেশে কোনো ওয়াজ মাহফিল, তাবলীগ জামাত, ইজতেমা, নামাজ রোজা হজ্ব প্রায় অর্থহীন। কারণ যে ইসলাম যে ওয়াজ মাহফিল যে তাবলীগ ও এস্তেমা পতিতালয় বন্ধ করতে পারেনা, যারা এই সমস্ত পতিতালয় বন্ধ করার জন্য সরকারকে চাপ দেয় না বরং যে সরকার এই সমস্ত পতিতালয় চালু রাখে সেই সরকারকে সমর্থন দিয়ে ক্ষমতায় নেয় তাদের এবাদত কতটা কবুল হবে তা একমাত্র আল্লাহ জানেন।
যৌন পল্লী বন্ধ না করে উন্নয়ন প্রকল্পের পদক্ষেপ নিলে সেটাও অর্থহীন। যারা মানুষের উন্নয়ন করতে পারেনা যারা দরিদ্র শ্রেণীর নারীদের উন্নয়ন করতে পারেনা সেই দেশে অন্যান্য উন্নয়ন মূলত কিছুই না। প্রথমে তো মানুষ। একটা কথা আছে, সবার উপর মানুষত্ব তাহার উপর নাই। সেই মানুষেরই যখন উন্নয়ন হয় না, সেখানে অবকাঠামোর উন্নয়ন একটা ধোকাবাজি ছাড়া আর কিছুই নয়। আপনি বাড়িতে একটা কুকুর পালন করেন সেই কুকুরকে খাবার না দিয়ে এবং চিকিৎসা না দিয়ে যদি কুকুরের ঘর বানানোর জন্য সুন্দর ও দৃষ্টি নন্দন উপকরণ কিনে আনেন তাহলে এই কুকুরের লাভ হল কি?
সরকারের উচিত দ্রুত এগুলোর অনুমোদন বাতিল করে হালাল পন্থায় যৌন কর্মীদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা। তাদের জন্য বিশেষ করে আলাদাভাবে প্রকল্প হাতে নেওয়া এবং ঐ সমস্ত প্রকল্প সরাসরি সরকার দ্বারা পরিচালিত করে এবং দুর্নীতিমুক্ত করে তাদের কাজে লাগানো এবং প্রশিক্ষণ দেওয়া। আর হিজড়া সম্প্রদায়কে বিভিন্ন কাজের ও চাকরির আওতায় নিয়ে আসা।
Mahabubur Rahman
mahabuburrahman1720@gmail.com

রাসূলুল্লাহ সাঃ এর দৃষ্টিতে সর্বোত্তম মানুষ

🇸🇦🇸🇦 রাসূলুল্লাহ সাঃ এর দৃষ্টিতে “সর্বোত্তম মানুষ”।

মানুষের মর্যাদা ধন-সম্পদ বা বাহ্যিক অবস্থার উপর নয়; বরং ঈমান, চরিত্র ও নেক আমলের উপর নির্ভর করে। রাসূলুল্লাহ ﷺ আমাদেরকে এমন কিছু গুণের কথা শিখিয়েছেন, যেগুলো অর্জন করলে একজন মানুষ আল্লাহর কাছে প্রিয় ও মর্যাদাবান হয়ে ওঠে। নিচে হাদিসের আলোকে সেই ১২টি গুণ তুলে ধরা হলো—নিজেকে মিলিয়ে দেখার জন্য:

🇸🇦রাসুলুল্লাহ সাঃ বলেছেন,
“তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম সে, যে নিজে কুরআন শেখে এবং অন্যকে শেখায়।”
(সহিহ বুখারি: ৫০২৭)
কুরআনের সাথে যার সম্পর্ক গভীর, সে আল্লাহর কাছে তত প্রিয়।

🇸🇦“তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম সে, যার চরিত্র সবচেয়ে উত্তম।”
(সহিহ বুখারি: ৬০৩৫)
উত্তম আখলাক একজন মুমিনের আসল পরিচয়।

🇸🇦 সর্বোত্তম ব্যক্তি সে, যে ঋণ পরিশোধে উত্তম।”
(সহিহ বুখারি: ২৩৩৫)
দায়িত্বশীলতা ও আমানতদারিতা ঈমানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

🇸🇦সর্বোত্তম সেই ব্যক্তি, যার থেকে মানুষ কল্যাণ আশা করে এবং অনিষ্টের ভয় করে না।”
(তিরমিজি: ২২৬৩/২৪০১)
একজন প্রকৃত মুমিন মানুষের জন্য নিরাপত্তার উৎস।

🇸🇦তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম সে, যে তার পরিবারের কাছে উত্তম।”
(সহিহ ইবনে হিব্বান: ৪১৭৭)
পরিবারের সাথে আচরণই একজন মানুষের প্রকৃত চরিত্র প্রকাশ করে।

🇸🇦 সর্বোত্তম সে, যার জীবন দীর্ঘ এবং আমল উত্তম।”
(মুসনাদ আহমাদ: ৭২১২)
দীর্ঘ জীবন তখনই মূল্যবান, যখন তা নেক আমলে পরিপূর্ণ হয়।

🇸🇦 সর্বোত্তম মানুষ সে, যে মানুষের জন্য সবচেয়ে বেশি উপকারী।”
(সহিহুল জামে’: ৩২৮৯)
মানুষের উপকারে আসাই প্রকৃত সফলতা।

🇸🇦 শ্রেষ্ঠ মানুষ সে, যার অন্তর পরিষ্কার এবং জিহ্বা সত্যবাদী।”
(ইবনে মাজাহ: ৪২১৬)
হিংসা, বিদ্বেষ ও প্রতারণামুক্ত হৃদয়ই প্রকৃত সৌন্দর্য।

🇸🇦 আল্লাহর কাছে উত্তম সঙ্গী সে, যে তার সঙ্গীর জন্য উত্তম। আর উত্তম প্রতিবেশী সে, যে তার প্রতিবেশীর জন্য উত্তম।”
(তিরমিজি: ১৯৪৪)
সুন্দর সম্পর্ক একজন মানুষের মর্যাদা বাড়ায়।

🇸🇦 নিশ্চয়ই তোমাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ সে, যার চরিত্র সবচেয়ে সুন্দর।”
(সহিহ বুখারি: ৩৫৫৯)
আখলাকের গুরুত্ব বারবার স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে।

🇸🇦 মর্যাদায় শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি সে, যে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দৃঢ়ভাবে দাঁড়ায় এবং অন্যায়কে প্রতিহত করে।”
(সহিহুল জামিউস সাগীর: ৪২৯১)
সাহস ও ন্যায়ের প্রতি অটল থাকা বড় গুণ।

🇸🇦 সেই মুমিন শ্রেষ্ঠ, যে আল্লাহর পথে তার জান ও মাল দিয়ে সংগ্রাম করে।”
(সহিহ বুখারি: ২৭৮৬, মুসলিম: ১৮৮৪)
ত্যাগ ও কুরবানি ঈমানকে পরিপূর্ণ করে।

এই গুণগুলো একদিনে অর্জন করা সম্ভব নয়, তবে চেষ্টা শুরু করা যায় আজ থেকেই। প্রতিদিন একটি করে গুণ নিজের জীবনে আনার চেষ্টা করলে ধীরে ধীরে আমরা সেই উত্তম মানুষের কাতারে পৌঁছাতে পারি, যাদেরকে রাসূলুল্লাহ  সাঃ ভালোবাসতেন।

জাপান! কথিত সভ্য জাতির এক অসভ্য ইতিহাসের গল্প…

চিন্তা করে দেখুন, পৃথিবীতে এমন একটি দেশ আছে যাকে আজ সভ্য, উন্নত এবং শৃঙ্খলাপূর্ণ জাতি হিসেবে সবাই সম্মান করে। সেই দেশের মানুষকে বলা হয় ন্যায়পরায়ণ, পরিশ্রমী, দয়ালু এবং শান্তিপ্রিয়। আধুনিক প্রযুক্তি, শিক্ষা আর উন্নয়নের উদাহরণ হিসেবে বহু দেশের তরুণদের কাছে তারা আজ অনুপ্রেরণা।

কিন্তু ইতিহাসের পাতা উল্টালে দেখা যায় ভিন্ন এক চিত্র। একসময় এই দেশই নিজেদের সামরিক শক্তির দাপটে পুরো এশিয়াজুড়ে অস্থিরতা ছড়িয়ে দিয়েছিল। ক্ষমতা আর আধিপত্যের নেশায় বহু দেশকে যুদ্ধ, ধ্বংস আর মানবিক বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল। এই দেশের অতীত ইতিহাস অত্যন্ত জঘন্য; ইতিহাসের পাতায় তাদের কর্মকাণ্ড সভ্য না অসভ্য জাতি হিসাবে বেশি পরিচিত।
দেশটির নাম জাপান। শুনে কি একটু অবাক লাগছে?

১৯৩০ থেকে ১৯৪৫ সালের মধ্যে পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় জাপানের সাম্রাজ্যবাদী বিস্তার এমন এক বাস্তবতা তৈরি করেছিল, যেখানে যুদ্ধ শুধু সেনাবাহিনীর সংঘর্ষ ছিল না; বরং কোটি মানুষের জীবনে নেমে এসেছিল সংগঠিত সহিংসতা, যৌন দাসত্ব, গণহত্যা, বাধ্যতামূলক শ্রম এবং ব্যাপক সম্পদ লুটের এক দীর্ঘ অন্ধকার অধ্যায়।

জাপান তখন দ্রুত শিল্পশক্তিতে পরিণত হচ্ছিল, কিন্তু তাদের বড় সমস্যা ছিল প্রাকৃতিক সম্পদের অভাব তাদের কোন প্রাকৃতিক সম্পদ নাই। তেল, লোহা, রাবার, খাদ্যশস্য—সবকিছুর জন্য বিদেশের ওপর নির্ভর করতে হতো। সামরিক নেতৃত্ব বিশ্বাস করতে শুরু করে, যদি তারা এশিয়ার সম্পদসমৃদ্ধ অঞ্চল দখল করতে পারে, তাহলে জাপান বিশ্বশক্তি হয়ে উঠবে। এই চিন্তাধারা থেকেই শুরু হয় সামরিক সম্প্রসারণ, যা শেষ পর্যন্ত কয়েক কোটি মানুষের জীবনে অভিশপ্ত করে তুলে।

সবচেয়ে ভয়াবহ অধ্যায় শুরু হয় চীনে। ১৯৩৭ সালে জাপানি বাহিনী নানজিং শহরে প্রবেশ করার পর যা ঘটে, তা আধুনিক ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত। মাত্র ছয় সপ্তাহের মধ্যে আনুমানিক ৩ লাখ থেকে ৪ লাখ মানুষ নিহত হয় বলে আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল ও বহু ঐতিহাসিক গবেষণায় উল্লেখ আছে। শহরের রাস্তায় সারিবদ্ধভাবে মানুষকে গুলি করা, নদীর ধারে গণহত্যা, জীবন্ত মানুষ পুড়িয়ে মারা—এসব ঘটনা প্রত্যক্ষদর্শীদের ডায়েরি ও বিদেশি কূটনীতিকদের রিপোর্টে উঠে আসে। অনেক গবেষক অনুমান করেন, শুধু নানজিংয়েই প্রতিদিন গড়ে কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছিল।

এই হত্যাযজ্ঞের পাশাপাশি ঘটে ব্যাপক যৌন সহিংসতা। বিভিন্ন গবেষণায় অনুমান করা হয়, নানজিং দখলের কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই প্রায় ৮০,০০০ থেকে ১০০,০০০ নারী ধর্ষণের শিকার হন। বয়স ছিল ৮ বছর থেকে ৩৫ বছর। অনেক নারীকে পরিবার সদস্যদের সামনে নির্যাতন করা হয়, এরপর হত্যা করা হয় যাতে কোনো সাক্ষী না থাকে। এই ঘটনাগুলো এতটাই ব্যাপক ছিল যে বিদেশি মিশনারিরা শহরের মধ্যে “সেফটি জোন” তৈরি করে হাজার হাজার নারীকে লুকিয়ে রাখার চেষ্টা করেছিলেন।

কিন্তু নানজিং কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছিল না। জাপানি সামরিক বাহিনী যুদ্ধ চলাকালে একটি সংগঠিত যৌন দাসত্ব ব্যবস্থা গড়ে তোলে, যা ইতিহাসে “কমফোর্ট উইমেন” নামে পরিচিত। নামটি যতই নরম শোনাক, বাস্তবে এটি ছিল সামরিক নিয়ন্ত্রিত যৌন দাসত্ব। কোরিয়া, চীন, ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, মিয়ানমার এবং অন্যান্য দখলকৃত অঞ্চল থেকে নারী ও কিশোরীদের অপহরণ বা প্রতারণার মাধ্যমে নিয়ে গিয়ে সামরিক ক্যাম্পে বন্দি রাখা হতো।

ইতিহাসবিদদের অনুমান অনুযায়ী এই ব্যবস্থায় অন্তত ২০০,০০০ থেকে ৩,০০,০০০ নারী জোরপূর্বক যৌন দাসে পরিণত হন। কিছু গবেষণা বলছে প্রকৃত সংখ্যা ৫ থেকে ৬ লাখ পর্যন্ত হতে পারে, কারণ যুদ্ধ শেষে বহু নথি ধ্বংস করা হয় এবং অসংখ্য ভুক্তভোগী সামাজিক লজ্জার কারণে কখনো সামনে আসেননি। প্রতিদিন একজন নারীকে ২০ থেকে ৪৫ জন সৈন্য পর্যন্ত নির্যাতন করত—এমন সাক্ষ্য বহু বেঁচে থাকা নারীর জবানবন্দিতে পাওয়া গেছে। যুদ্ধ শেষে অনুমান করা হয়, এই নারীদের অর্ধেকেরও বেশি জীবিত ফিরে যেতে পারেননি।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় জাপানের দখলদারিত্ব আরেক ধরনের মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি করে। ইন্দোনেশিয়ায় “রোমুশা” নামে বাধ্যতামূলক শ্রম ব্যবস্থা চালু করা হয়। আনুমানিক ৮০ লাখের বেশি মানুষকে শ্রমে বাধ্য করা হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়। তাদের দিয়ে রেললাইন, সামরিক ঘাঁটি, রাস্তা ও বিমানঘাঁটি নির্মাণ করানো হয়। খাদ্যস্বল্পতা, রোগ এবং নির্যাতনের কারণে লাখ লাখ শ্রমিক মারা যায়। অনেক অঞ্চলে মৃত্যুহার এত বেশি ছিল যে শ্রমিকদের গণকবর দেওয়া হতো।

মিয়ানমার ও থাইল্যান্ড সীমান্তে নির্মিত কুখ্যাত বার্মা রেলওয়ে ছিল এই শ্রম ব্যবস্থার প্রতীক। প্রায় ৩ লাখ এশীয় শ্রমিক এবং ৬০ হাজার যুদ্ধবন্দী সেখানে কাজ করতে বাধ্য হয়। অনুমান করা হয়, শুধু এই রেললাইন নির্মাণেই ১২০০০০ হাজারের বেশি এশীয় শ্রমিক এবং ৩০ হাজারের বেশি যুদ্ধবন্দী প্রাণ হারান।

ফিলিপাইনে জাপানি দখলদারিত্বের শেষ পর্যায়ে ১৯৪৫ সালে ম্যানিলা শহর প্রায় সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়। কয়েক সপ্তাহে আনুমানিক ২ লাখ বেসামরিক মানুষ নিহত হয়। শহরের হাসপাতাল, স্কুল ও ধর্মীয় স্থাপনাও রক্ষা পায়নি। প্রত্যক্ষদর্শীরা লিখেছেন, অনেক পরিবার পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়।

কোরিয়ায় দীর্ঘ ৩৫ বছরের উপনিবেশ শাসনের সময় জাপান শুধু রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণই নেয়নি, সাংস্কৃতিক পরিচয়ও মুছে ফেলার চেষ্টা করেছিল। কোরিয়ান ভাষা ব্যবহার সীমিত করা হয়, মানুষকে জাপানি নাম নিতে বাধ্য করা হয়, এবং শিল্প ও কৃষি উৎপাদনের বড় অংশ জাপানে পাঠানো হতো। যুদ্ধের সময় লক্ষাধিক কোরিয়ান শ্রমিককে জাপানের কারখানা ও খনিতে কাজ করতে বাধ্য করা হয়।

অর্থনৈতিক দিক থেকেও জাপানের দখলদারিত্ব ছিল ব্যাপক লুটপাটের সঙ্গে জড়িত। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার তেল, রাবার ও খনিজ সম্পদ সরাসরি যুদ্ধ পরিচালনায় ব্যবহৃত হয়। ইন্দোনেশিয়ার তেলক্ষেত্র, মালয়েশিয়ার রাবার বাগান এবং চীনের শিল্প কারখানা জাপানি সামরিক অর্থনীতির অংশে পরিণত হয়। ঐতিহাসিক অনুমান অনুযায়ী দখলকৃত অঞ্চলগুলো থেকে যুদ্ধ চলাকালে শত শত কোটি ডলারের সমপরিমাণ সম্পদ জাপানের নিয়ন্ত্রণে যায়, যা বর্তমান মূল্যে ট্রিলিয়ন ডলারের সমান অর্থনৈতিক ক্ষতির প্রতিনিধিত্ব করে।

এই সময় খাদ্য সংকটও একটি বড় অস্ত্র হয়ে ওঠে। অনেক অঞ্চলে খাদ্য জব্দ করে সেনাবাহিনীর জন্য রাখা হতো, ফলে সাধারণ মানুষ অনাহারে মারা যেত। চীনের কিছু এলাকায় দুর্ভিক্ষে মৃত্যুর সংখ্যা কয়েক মিলিয়ন পর্যন্ত পৌঁছায় বলে গবেষকরা ধারণা করেন।

ইতিহাসবিদদের হিসাব অনুযায়ী, জাপানের সামরিক অভিযানের ফলে এশিয়াজুড়ে মোট নিহতের সংখ্যা ২.৫ থেকে ৩ কোটিরও বেশি হতে পারে, যার বড় অংশই ছিল বেসামরিক মানুষ। এই সংখ্যার মধ্যে যুদ্ধক্ষেত্রে নিহত সৈন্যের তুলনায় সাধারণ মানুষের মৃত্যুই বেশি।

তবে ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর জাপান নিজেও ভয়াবহ ধ্বংসের মুখে পড়ে। টোকিওসহ বহু শহর বোমাবর্ষণে ধ্বংস হয়, শিল্পভিত্তি ভেঙে পড়ে, এবং শেষ পর্যন্ত পারমাণবিক হামলার মাধ্যমে যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটে। ফলে যে সাম্রাজ্য গড়ার স্বপ্ন থেকে এই অভিযান শুরু হয়েছিল, সেটি সম্পূর্ণ বিপর্যয়ে শেষ হয়।

আজ এশিয়ার বহু দেশে সেই সময়ের স্মৃতি এখনো রাজনৈতিক ও সামাজিক আলোচনার অংশ। কোরিয়ার বেঁচে থাকা “কমফোর্ট উইমেন”রা বহু দশক ধরে ক্ষমা ও স্বীকৃতির দাবিতে আন্দোলন করেছেন। চীনে নানজিং গণহত্যার স্মৃতিসৌধ প্রতি বছর লাখো মানুষ পরিদর্শন করে। ফিলিপাইন ও ইন্দোনেশিয়ার বহু পরিবার এখনো তাদের নিখোঁজ পূর্বপুরুষদের গল্প ধরে রেখেছে।

এই ইতিহাস আমাদের মনে করিয়ে দেয়, যুদ্ধের ভয়াবহতা শুধু বন্দুকের শব্দে সীমাবদ্ধ থাকে না। যুদ্ধ শেষ হলেও তার প্রতিধ্বনি প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বেঁচে থাকে। হারিয়ে যাওয়া মানুষ, ভাঙা সমাজ এবং নীরব কষ্টের গল্পগুলোই শেষ পর্যন্ত ইতিহাসের সবচেয়ে সত্য অংশ হয়ে দাঁড়ায়। কারণ মানচিত্র বদলায় দ্রুত, কিন্তু মানুষের স্মৃতি বদলাতে অনেক সময় লাগে।

গোলাম আহমদ কাদিয়ানীর উৎপত্তি দেওবন্দ থেকে, এবং তা শুরু করেছে দেওবন্দের প্রতিষ্ঠাতা কাসেম নানুতুবিদ সাহায্যে।

👉👉কাদিয়ানীর উৎপত্তি দেওবন্দের প্রতিষ্ঠতা কাছেম নানুতবীর মাধ্যমে!??

গোলাম আহমদ কাদিয়ানীর নবুওত দাবী করা সংক্রান্ত বিষয়ে দেওবন্দের ক্বাসিম নানুতুভী সাহেবকে জড়িয়ে একজন একটা বিবরণী দিয়েছে । এই বিষয়টি একটু খোলাসা হওয়ার দরকার । প্রকৃত সত্য সামনে না থাকলে যে কেউ বিভ্রান্ত হতে পারে । বিষয়টি খোলাসা করার ব্যাপারে আমি আপনাকেই উপযুক্ত ও বিশ্বস্ত মনে করেছি । তাই হুবহু তার বক্তব্যটি পাঠালাম । দয়া করে একটি আর্টিকেল লিখে বিষয়টি পরিষ্কার করবেন । বিবরণীটি নিম্নরূপ :

👉👉কাদিয়ানী ফিৎনার মূল প্রতিষ্ঠাতা দেওবন্দের কাছিম নানুতবী।
কাদিয়ানী মতবাদের প্রতিষ্ঠাতা মির্জা গোলাম আহমদ কাদিয়ানি মূলতঃ কাশেম নানুতবীর শিষ্য। যিনি দেওবন্দ মাদ্রাসা হতে ফারেগ কওমি ঘরনার একজন আলেম।
বর্তমানে মুসলমানদের ছুরতে ইসলামের মধ্যে যে ফিৎনাগুলো শিয়া, ওহাবী, রাফেজী, কওমি, বীর, মুরুব্বী ,সিলসিলা ইত্যাদি বিরাজমান তার মধ্যে চরম ভয়ঙ্কর ফিৎনা হচ্ছে কাদিয়ানী ফিৎনা।

মূলত পাঞ্জাবের “কাদিয়ান” নামক গ্রামে ১৮৩৫ সালে জন্ম গ্রহণকারী ব্রিটিশের দালাল মির্জা গোলাম আহমদকে যদিও কাদিয়ানী মতবাদের প্রতিষ্ঠাতা বলা হয়, কিন্তু তাকে এই মতবাদ প্রতিষ্ঠায় প্ররোচিত করে ভারতের দেওবন্দ মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা কাসেম নানুতবী।
এই কাসেম নানুতবী দেওবন্দ মাদরাসার প্রতিষ্ঠার ৭ বছর পর ১৮৭৪ সালে ‘তাহ্‌যীরুন্নাছ’ নামক একটি গ্রন্থ রচনা করে; যার ২৫ পৃষ্ঠায় সে কুরআন -এর সূরা আহযাব-এর ৪০ নাম্বার আয়াত -এ বর্ণিত ‘খাতামুন্‌ নাবিয়্যীন’-এর ব্যাখ্যায় উল্লেখ করে যে, “খাতামুন্‌ নাবিয়্যীন অর্থ হলো মূল নবী।
অন্যান্য নবীগণ ছিলেন সাময়িক নবী। যারা খাতামুন্‌ নাবিয়্যীন-এর অর্থ শেষ নবী বলে তারা জাহিল ও মূর্খ।
নবী পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আগে বা সর্বশেষে আসার মধ্যে কোন ফযীলত নেই। ফযীলত হলো মূল নবী হওয়ার মধ্যে। তার পরে যদি ১০০০ নবীরও আগমন মেনে নেয়া হয়, তাতেও হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর খতমে নুবুওয়াত-এর কোনরূপ তারতম্য হবে না।”
নাঊযুবিল্লাহ মিন যালিক! এই হল আজকের তথাকথিত সহীহ আকিদার দেওবন্দ মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতার আকীদা।

কাছিম নানুতবীর বাতলে দেয়া এই পথ ধরে ১৯০৫ সালে মির্জা গোলাম কাদিয়ানী নবী দাবি করে বসে। পরবর্তিতে গোলাম কাদিয়ানীকে এই বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে সে বলে যে, “মাওলানা কাছিম নানুতবী ছাহেব তো তার ‘তাহ্‌যীরুন্নাছ’ গ্রন্থে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পরে ১০০০ নবীর আগমনের সম্ভাবনা স্বীকার করে নিয়েছে। সুতরাং আমি (কাদিয়ানী) একজন নবী দাবি করাতে দোষ কোথায়? আরো তো ৯৯৯ জন দাবি করতে পারে।” নাঊযুবিল্লাহ মিন যালিক!

সুতরাং দেখা যাচ্ছে, কাদিয়ানী সমপ্রদায়ের মূল প্রতিষ্ঠাতা হচ্ছে দেওবন্দের কাছিম নানুতবী, আর মির্জা গোলাম কাদিয়ানী তার রূপদানকারী।

মানুষের নামে দেশের নামঃ পৃথিবীতে গোটা দশেক দেশ রয়েছে, যে দেশগুলোর নাম নির্দিষ্ট প্রথম ব্যক্তির নাম অনুসারে  হয়েছে, যেমন সৌদি আরব…

👉👉একজন মানুষের নামে একটি দেশের নাম, ভাবতেই কেমন লাগে! মানুষের নামে গ্রামের নাম, শহরের নাম, জেলার নাম আছে লক্ষ লক্ষ, কিন্তু দেশের নাম একটু আনইউজুয়াল। একজন ব্যক্তি একটা রাজনৈতিক জাতির পরিচয় হয়ে উঠতে পারে কীভাবে? পৃথিবীতে বর্তমানে এমন দেশ আছে প্রায় ৯টি, যেগুলোর নামকরণ করা হয়েছে নির্দিষ্ট কোনো ঐতিহাসিক ব্যক্তি বা শাসকের নাম অনুসারে। দেশেগুলো হল:

🇸🇦 ২. সৌদি আরব (Saudi Arabia)
এই দেশটির নাম এসেছে আধুনিক সৌদি আরবের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ বিন সৌদ (Ibn Saud) বা ‘সৌদ’ বংশের নাম থেকে। ১৯৩২ সালে এই নামকরণ করা হয়।
সৌদি অ্যারাবিয়া অর্থাৎ মিঃ সৌউদ এর আরব। অথচ এই দেশটির নাম হওয়ার কথা ছিল হিজাজ।
১৯৩২ সালে বর্তমান নামে পরিচিত হওয়ার আগে সৌদি আরবের প্রধান অংশগুলোর নাম ছিল #হিজাজ এবং #নজদ রাজ্য (Kingdom of Hejaz and Nejd) । ১৯৩২ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর বাদশাহ আবদুল আজিজ ইবনে সউদ এই অঞ্চলগুলোকে একত্রিত করে রাসূল সাল্লাহু আলাই সাল্লাম এর দেওয়া সেই নামকে পরিবর্তন করে সম্পূর্ণ বেদাতি এবং ইসলাম বহির্ভূত পন্থায় নিজের নাম অনুসারে দেশটির নাম রাখে ‘আল-মামলাকাতুল আরাবিয়াতুস সউদিয়াহ’ বা ‘সৌদি আরব রাজ্য’ নামকরণ করেন । অথচ একটু লক্ষ্য করলে দেখবেন আমাদের দেশের মাদখালি আহলে হাদিস গোষ্ঠীর লোক গুলো রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম এর দেওয়া সেই নাম পরিবর্তন করে সম্পূর্ণ বেদাতি এবং ইসলাম বহির্ভূত পদ্ধতিতে সৌদি আরব নাম ডাকে কিন্তু এই সমস্ত কিছুতে তাদের বেদাত হয় না।

🇵🇭 ১. ফিলিপাইন (Philippines)
স্পেনের রাজা দ্বিতীয় ফিলিপের (King Philip II) নামানুসারে এই দেশটির নামকরণ করা হয়েছে। ১৫৪২ সালে স্পেনীয় অভিযাত্রীরা এই দ্বীপপুঞ্জটির নাম দেন ‘লাস ইসলাস ফিলিপিনাস’।

🇧🇴 ৩. বলিভিয়া (Bolivia)
দক্ষিণ আমেরিকার এই দেশটির নাম রাখা হয়েছে বিখ্যাত বিপ্লবী নেতা সাইমন বলিভারের (Simon Bolivar) সম্মানে, যিনি দক্ষিণ আমেরিকার বেশ কিছু দেশকে স্পেনীয় শাসন থেকে মুক্ত করতে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।

🇨🇴 ৪. কলম্বিয়া (Colombia)
ভাগ্যানেষী ইতালিয় নাবিক ক্রিস্টোফার কলম্বাসের (Christopher Columbus) নামানুসারে এই দেশটির নামকরণ করা হয়েছে।

🇲🇺 ৫. মরিশাস (Mauritius)
১৫৯৮ সালে ওলন্দাজরা দ্বীপটি দখল করে এবং রাজপুত্র মরিটস অফ অরেঞ্জ (Maurice of Orange)-এর নামানুসারে এই দ্বীপরাষ্ট্রটির নাম রাখে ‘মরিশাস’।

🇸🇨 ৬. সিশেলস (Seychelles)
ভারত মহাসাগরের এই দ্বীপরাষ্ট্রটির নাম ফ্রান্সের তৎকালীন অর্থমন্ত্রী জ্যঁ মরে ডি সিশেলস (Jean Moreau de Séchelles)-এর নামানুসারে রাখা হয়েছে।

🇲🇭 ৭. মার্শাল আইল্যান্ডস (Marshall Islands)
ব্রিটিশ ক্যাপ্টেন জন মার্শালের নামানুসারে এই দ্বীপরাষ্ট্রের নামকরণ করা হয়, যিনি ১৭৮৮ সালে এই দ্বীপগুলো পরিদর্শন করেছিলেন।

🇰🇳 ৮. সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস (Saint Kitts and Nevis)
Saint Kitts অংশটি এসেছে “Saint Christopher” থেকে, অর্থাৎ Saint Christopher-এর নামে।
“Kitts” হলো “Christopher”-এর সংক্ষিপ্ত রূপ।
Nevis এসেছে স্প্যানিশ শব্দ “Nuestra Señora de las Nieves” থেকে, যার অর্থ “Virgin Mary of the Snows”।

🇰🇮 ৯. কিরিবাস (Kiribati)
প্রশান্ত মহাসাগরের এই দেশটির নাম আগে ছিল গিলবার্ট আইল্যান্ডস। এই নামটি দেওয়া হয়েছিল ব্রিটিশ নাবিক Thomas Gilbert-এর নামে, যিনি ১৮শ শতকে এই দ্বীপপুঞ্জে আসেন। গিলবার্টকে স্থানীয়রা উচ্চারণ করত ” কিরিবাস” যা ইংরেজি বানানে Kiribati. গিলবার্ট আইল্যান্ডস যখন স্বাধীন হয় তখন স্থানীয় উচ্চারণে নাম পাল্টে রাখে।

🇺🇲 ১০. আমেরিকার যুক্তরাষ্ট্র:
এটা শুধু একটা দেশের নাম না, দুটো মহাদেশের নাম। আমেরিকা মহাদেশের নামকরণ করা হয়েছে ইতালীয় অভিযাত্রী এবং মানচিত্রকর আমেরিগো ভেসপুচি (Amerigo Vespucci)-এর নামানুসারে।

​১৫শ শতাব্দীর শেষভাগে যখন ক্রিস্টোফার কলম্বাস বর্তমান আমেরিকা অঞ্চলে পৌঁছান, ধারণা করেছিলেন যে তিনি এশিয়ার কোনো অংশে (ইন্ডিজ) পৌঁছেছেন। কিন্তু আমেরিগো ভেসপুচিই প্রথম ব্যক্তি যিনি যুক্তি দেন যে, এটি এশিয়া নয় বরং একটি সম্পূর্ণ ‘নতুন বিশ্ব’ বা নতুন মহাদেশ।
১৫০৭ সালে জার্মান মানচিত্রকর মার্টিন ওয়াল্ডসিমুলার (Martin Waldseemüller) একটি বিশ্ব মানচিত্র তৈরি করেন। তিনি ভেসপুচির এই নতুন আবিষ্কারের প্রতি সম্মান জানাতে দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের নাম দেন ‘আমেরিকা’ (Amerigo-এর স্ত্রীলিঙ্গ রূপ)।
প্রথমে এটি ছিল শুধু দক্ষিণ আমেরিকার নাম, পরো পুরো দুটো মহাদেশের নাম হয় আমেরিকা, উত্তর ও দক্ষিণ। দুটো মহাদেশের সবগুলো দেশকে একত্রে বলা হয় “আমেরিকাস”, আর স্বাধীনতার পর দেশটির নাম রাখা হয় ইউনাইটেড স্টেটস অব আমেরিকা।

অতীতে:
উপনিবেশিক আমলে ইউরোপিয় বেনিয়া সেসিল রোডসের নামে আফ্রিকার দুটো পরাধীন দেশের নাম রাখা হয়েছিল। দেশ দুটো হল- উত্তর রোডেশিয়া (১৯১১-১৯৬৪) ও দক্ষিন রোডেশিয়া (১৯২৩-৬৫ ও ১৯৭৯-৮০); যা বর্তমানে যথাক্রমে জাম্বিয়া ও জিম্বাবুয়ে।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ইসলাম বিরোধী ও মুসলিম বিদ্বেষী কিছু লেখালেখি।

দলিল প্রমাণ সহ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ইসলাম বিদ্বেষী কাজ এবং অপকর্ম তুলে ধরা হলো!!
রবীন্দ্রনাথের পৈতৃক ব্যবসার মধ্যে অন্যতম সফল ব্যবসা ছিল পতিতালয় ব্যবসা।
রবীন্দ্রনাথের দাদা দ্বারকানাথের কলকাতা নগরীতে ৪৩টি বেশ্যালয় ছিল। এছাড়াও ছিল মদ ও আফিমের ব্যবসা।
(সূত্র: এ এক অন্য ইতিহাস, অধ্যায়: অসাধারণ দ্বারকানাথ, লেখক: গোলাম আহমদ মর্তুজা, পৃষ্ঠা: ১৪১)
“রবীন্দ্রনাথের দাদা দ্বারকানাথ ছিলেন দেড়শ টাকা বেতনের ইংরেজ ট্রেভর প্লাউডেনের চাকর। দ্বারকানাথ ধনী হয়েছিলেন অনৈতিক ব্যবসার দ্বারা। রবীন্দ্রনাথের দাদা দ্বারকানাথ ঠাকুরের তেতাল্লিশটি বেশ্যালয় ছিল কলকাতাতেই।”
(তথ্যসূত্র: কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকা, ২৮শে কার্তিক, ১৪০৬, রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়)
তবে রবীন্দ্রনাথ পতিতাদের মধ্যেও যে সাহিত্যরস খুঁজে পেয়েছেন, সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না। রবীন্দ্রনাথ ঢাকায় বুড়িগঙ্গার পাশে বিখ্যাত ‘গঙ্গাজলী’ (একটি এলাকা যেখানে ঐ সময় বিশাল পতিতালয় ছিল) এর পাশে এসে লিখেছিলেন:
“বাংলার বধূ বুকে তার মধু”।
সত্যি কথা বলতে, ঐ সময় কলকাতায় বিশেষ কারণে যৌনরোগ সিফিলিস খুব কমন ছিল। তাই ১৯২৮ সালে অবতার পত্রিকায় কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সিফিলিস রোগের খবরটা তেমন গুরুত্ব পায়নি।
(রবীন্দ্রনাথের সিফিলিস হয়েছিল—এর সূত্র: নারী নির্যাতনের রকমফের, লেখক: সরকার সাহাবুদ্দিন আহমদ, পৃষ্ঠা: ৩৪১)
রবীন্দ্রনাথকে যারা দেবতা ভাবতে চান, তাদের বলছি—সিফিলিস-গনোরিয়া কাদের হয়? বলবেন দয়া করে?
দুই.
আজকাল ভারতের উগ্র জাতীয়তাবাদী দল বিজেপি প্রায়ই বলে থাকে, ভারতের সকল মুসলমানই হিন্দু। ফলে তাদেরকে ঘরে ফেরাতে হবে (ঘরে ওয়াপসি)। পুরোপুরি হিন্দু হয়ে যেতে হবে। কথাটা কিন্তু ভারতের জাতীয় কবি রবীন্দ্রনাথই প্রথম চালু করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন:
“মুসলমানরা ধর্মে ইসলামানুরাগী হলেও জাতিতে তারা হিন্দু। কাজেই তারা ‘হিন্দু মুসলমান’।”
(সূত্র: আবুল কালাম শামসুদ্দিনের লেখা অতীত দিনের স্মৃতি, পৃষ্ঠা: ১৫০)
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এমন ব্যক্তি, যিনি মুসলমানদের আবার হিন্দুতে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য যে কমিটি হয়, সেই কমিটির অন্যতম সদস্য ছিলেন। এই কমিটির কাজ ছিল নিম্নবর্ণের যেসব হিন্দু মুসলিম হয়েছে, তাদের আবার হিন্দু ধর্মে ফিরিয়ে নেওয়া।
(উৎস: প্রশান্ত পালের রবি জীবনী ৬ষ্ঠ খণ্ড, পৃষ্ঠা ২০৭-২০৮, আনন্দ পাবলিশার্স লিমিটেড, কলকাতা)
গোঁড়া হিন্দুদের মতো সতীদাহ প্রথাকে সমর্থন করে কবিতাও লিখেছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। লিখুন, সমস্যা নেই। কিন্তু স্বামীর চিতায় জীবন্ত স্ত্রীর পুড়ে যাওয়াকে মুসলমানরা অপছন্দ করেন বলে তিনি ‘যবন’ গালি দিয়ে মুসলমানদের হুমকি দিচ্ছেন:

“জ্বল জ্বল চিতা! দ্বিগুণ দ্বিগুণ পরান সপিবে বিধবা বালা জ্বলুক জ্বলুক চিতার আগুন জুড়াবে এখনই প্রাণের জ্বালা শোনরে যবন, শোনরে তোরা যে জ্বালা হৃদয়ে জ্বালালি সবে স্বাক্ষী রলেন দেবতার তারা এর প্রতিফল ভুগিতে হবে!”
(জ্যোতিন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা জ্যোতিন্দ্রনাথের নাট্য সংগ্রহ, কলকাতা: বিশ্বভারতী, ১৯৬৯, পৃষ্ঠা: ২২৫)
যারা রবীন্দ্রনাথকে অসাম্প্রদায়িক বানাতে চান, দয়া করে বলুন—কোন অর্থে তিনি অসাম্প্রদায়িক?
তিন.
রবীন্দ্রনাথের প্রতিষ্ঠিত শান্তিনিকেতনে এক সময় কোনো মুসলমান ছাত্রের প্রবেশাধিকার ছিল না। রবীন্দ্রনাথ বিশ্বভারতী প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে চাঁদা চেয়েছিলেন হায়দরাবাদের নিজামের কাছেও। নিজাম তাকে চাঁদা দেন এক লাখ টাকা। এক লাখ টাকা সে সময় ছিল অনেক। রবীন্দ্রনাথ ভাবতে পারেননি নিজাম এতটা চাঁদা দেবেন। নিজামের চাঁদার সূত্র ধরেই সামান্য কিছু মুসলিম ছাত্র সুযোগ পায় বিশ্বভারতীতে লেখাপড়া শেখার। সাহিত্যিক মুজতবা আলী হলেন যাদের মধ্যে একজন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপিত হয় ১৯২১ সালের জুলাই মাসে। হিন্দুরা চাননি ঢাকায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপিত হোক। এমনকি ঢাকার হিন্দুরাও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের বিরুদ্ধে ছিলেন। তারা মনে করেছিলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হবে আসলে একটি মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়। শোনা যায়, রবীন্দ্রনাথও চাননি ঢাকায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপিত হোক।
(সেক্যুলারদের অতিমাত্রায় রবীন্দ্রপুজার রহস্য উন্মোচন – এবনে গোলাম সামাদ : ০৭ মে, ২০১১, বিডিনিউজ টুয়েন্টি ফোর ডট কমে প্রকাশিত)
১৯১২ খ্রিস্টাব্দের ২৮ মার্চ কলকাতার গড়ের মাঠে এক বিরাট সমাবেশ করা হয়। ঠিক তার দু’দিন পূর্বে আর একটি গুরুত্বপূর্ণ মিটিং হয়েছিল। সেখানেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল যে, ঢাকায় ইউনিভার্সিটি হতে দেওয়া যাবে না। উক্ত উভয় সভার সভাপতি ছিলেন রবীন্দ্রনাথ।
(তথ্যসূত্র: কলকাতা ইতিহাসের দিনলিপি, ড. নীরদ বরণ হাজরা, ২য় খণ্ড, ৪র্থ পর্ব)
“ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে কলকাতার গড়ের মাঠে যে সভা হয়, তাতে সভাপতি ছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। এসব বাধার কারণে ১৯১১ সালে ঘোষণা দিলেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবটি আঁতুর ঘরে পড়ে থেকে মৃত্যুর প্রহর গুনছিল। অবশেষে নানা বিষয়ে সমঝোতা হয়, যার মধ্যে ছিল মনোগ্রামে ‘সোয়াস্তিকা’ এবং ‘পদ্ম’ ফুলের প্রতীক থাকবে। প্রতিবাদকারীরা খুশি হন। এরপর ১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়।”
(তথ্যসূত্র: ডক্টর কাজী জাকের হোসেন : দৈনিক ইনকিলাব, ১০ মার্চ, ২০০২)
১৯১২ সালের ২৮শে মার্চ কলকাতা গড়ের মাঠে কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সভাপতিত্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রতিবাদে এক বিশাল জনসভার আয়োজন করা হয়।
[তথ্যসূত্র: আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের ধারাবাহিকতা এবং প্রাসঙ্গিক কিছু কথা, লেখক: মেজর জেনারেল (অব.) এম এ মতিন]
১৯১২ সালের ১৮ই মার্চ কলকাতার গড়ের মাঠে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করে হিন্দুরা যে সভা করল, সেই সভায় সভাপতিত্ব করলেন স্বয়ং কবি রবীন্দ্রনাথ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে সেদিন নেমেছিল হিন্দু সংবাদপত্রগুলো, হিন্দু বুদ্ধিজীবী ও নেতারা। গিরিশচন্দ্র ব্যানার্জী, রাসবিহারী ঘোষ এমনকি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর স্যার আশুতোষ মুখার্জির নেতৃত্বে বাংলার এলিটরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরুদ্ধে ১৮ বার স্মারকলিপি দেন লর্ড হার্ডিঞ্জকে এবং বড়লাটের সঙ্গে দেখা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা বাধা দান করতে।
(ক্যালকাটা ইউনিভার্সিটি কমিশন রিপোর্ট, খণ্ড ৪, পৃ. ১৩০)
যারা এ দেশে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য লবিং করেন, দয়া করে বলুন—কিসের ঋণ পরিশোধে তাঁর নামে বিশ্ববিদ্যালয়?
চার.
‘প্রায়শ্চিত্ত’ নাটকে প্রতাপাদিত্যের মুখ দিয়ে রবীন্দ্রনাথ বলাচ্ছেন-
“খুন করাটা যেখানে ধর্ম, সেখানে না করাটাই পাপ। যে মুসলমান আমাদের ধর্ম নষ্ট করেছে তাদের যারা মিত্র তাদের বিনাশ না করাই অধর্ম।”
‘রীতিমত নভেল’ নামক ছোটগল্পে মুসলিম চরিত্র হরণ করেছেন –
“আল্লাহু আকবর শব্দে বনভূমি প্রতিধ্বনিত হয়ে উঠেছে। একদিকে তিন লক্ষ যবন (অসভ্য) সেনা অন্য দিকে তিন সহস্র আর্য সৈন্য। … পাঠক, বলিতে পার … কাহার বজ্রমণ্ডিত ‘হর হর বোম বোম’ শব্দে তিন লক্ষ ম্লেচ্ছ (অপবিত্র) কণ্ঠের ‘আল্লাহু আকবর’ ধ্বনি নিমগ্ন হয়ে গেলো। ইনিই সেই ললিতসিংহ। কাঞ্চীর সেনাপতি। ভারত-ইতিহাসের ধ্রুব নক্ষত্র।”
রবীন্দ্রনাথ তার ‘কণ্ঠরোধ’ (ভারতী, বৈশাখ-১৩০৫) নামক প্রবন্ধে বলেন,
“কিছুদিন হইল একদল ইতর শ্রেণীর অবিবেচক মুসলমান কলিকাতার রাজপথে লোষ্ট্রখণ্ড হস্তে উপদ্রবের চেষ্টা করিয়াছিল। তাহার মধ্যে বিস্ময়ের ব্যাপার এই যে- উপদ্রবের লক্ষ্যটা বিশেষ রূপে ইংরেজদেরই প্রতি। তাহাদের শাস্তিও যথেষ্ট হইয়াছিল। প্রবাদ আছে- ইটটি মারিলেই পাটকেলটি খাইতে হয়; কিন্তু মূঢ়গণ (মুসলমান) ইটটি মারিয়া পাটকেলের অপেক্ষা অনেক শক্ত শক্ত জিনিস খাইয়াছিল।”
(রবীন্দ্র রচনাবলী, ১০ খণ্ড, ৪২৮ পৃষ্ঠা)
ঐতিহাসিক ডঃ রমেশচন্দ্র মজুমদারকে তাই লিখতে হলো –
“হিন্দু জাতীয়তা জ্ঞান বহু হিন্দু লেখকের চিত্তে বাসা বেঁধেছিল, যদিও স্বজ্ঞানে তাঁদের অনেকেই কখনই এর উপস্থিতি স্বীকার করবে না। এর প্রকৃষ্ট দৃষ্টান্ত হচ্ছে, ভারতের রবীন্দ্রনাথ যাঁর পৃথিবীখ্যাত আন্তর্জাতিক মানবিকতাকে সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে কিছুতেই সুসংগত করা যায় না। তবুও বাস্তব সত্য এই যে, তার কবিতাসমূহ শুধুমাত্র শিখ, রাজপুত ও মারাঠাকুলের বীরবৃন্দের গৌরব ও মাহাত্ম্যেই অনুপ্রাণিত হয়েছে, কোনও মুসলিম বীরের মহিমা কীর্তনে তিনি কখনও একচ্ছত্রও লেখেননি। যদিও তাদের অসংখ্যই ভারতে আবির্ভূত হয়েছেন।”
(সূত্র: Dr. Romesh Chandra Majumder, History of Bengal, p 203.)
যারা রবীন্দ্রনাথকে সর্বজনীন কবি হিসাবে গ্রহণ করতে চান, দয়া করে বলুন—মুসলিমদের অপমান করে, হত্যার উস্কানি দিয়ে এবং হিন্দুত্বের নিবেদিত প্রচারক হয়েও তিনি কোন বিচারে সর্বজনীন?
পাঁচ.
কয়েক পুরুষ ধরে প্রজাদের উপর পীড়ন চালিয়েছেন জোড়াসাকোর ঠাকুর পরিবার। রবীন্দ্রনাথ ও তাঁর ব্যতিক্রম ছিলেন না। রবীন্দ্রনাথের পরিবারের জমিদারী ছিল কুষ্টিয়ার শিলাইদহ, পাবনার শাহজাদপুর, রাজশাহীর পতিসর প্রভৃতি অঞ্চলে। আর এই অঞ্চলগুলি ছিল মুসলিম প্রধান। মুসলিম প্রজাগণই তার রাজস্ব জোগাতো। কিন্তু রবীন্দ্রনাথ ব্যর্থ হন সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রজাদের সাথে মনের সংযোগ বাড়াতে। তাদের সমস্যাগুলোর সমাধান নিয়েও তিনি কোনদিন মাথা ঘামাননি। প্রজাদের জোগানো অর্থ দিয়ে মুসলিম প্রধান কুষ্টিয়া, পাবনা বা রাজশাহীতে তিনি একটি প্রাথমিক স্কুল প্রতিষ্ঠা করেছেন – তার প্রমাণ নাই। অথচ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছেন হিন্দুপ্রধান পশ্চিম বাংলার বোলপুরে। উল্টো তার সাহিত্যে প্রকাশ পেয়েছে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিমদের বিরুদ্ধে উগ্র সাম্প্রদায়িক মনভাব। উৎকট মুসলিম বিরোধী সংলাপ দেখা যায় তার নাটকে।
(ফিরোজ মাহবুব কামাল: বাঙালীর রবীন্দ্রাসক্তি ও আত্মপচন-৬ জুন ২০১৫-শেখনিউজডটকম)
“১৮৯৪ সনে রবীন্দ্রনাথ চাষীদের খাজনা বাড়িয়ে দিয়েছিলেন, খাজনা আদায়ও করেছিলেন।”
[তথ্যসূত্র: শচীন্দ্র অধিকারি, শিলাইদহ ও রবীন্দ্রনাথ, পৃঃ ১৮, ১১৭]
সব জমিদার খাজনা আদায় করত একবার, কিন্তু রবীন্দ্রনাথ এলাকার কৃষকদের থেকে খাজনা আদায় করত দুইবার। একবার জমির খাজনা, দ্বিতীয় বার কালী পূজার সময় চাঁদার নামে খাজনা।
(তথ্যসূত্র: ইতিহাসের নিরিখে রবীন্দ্র-নজরুল চরিত, লেখক: সরকার শাহাবুদ্দীন আহমেদ)
কর বৃদ্ধি করে বল প্রয়োগে খাজনা আদায়ের ফলে প্রজাবিদ্রোহ ঘটলে তা তিনি সাফল্যের সঙ্গে দমন করেন।
“শোষক রবীন্দ্রনাথের বিরুদ্ধে শিলাইদহের ইসলাইল মোল্লার নেতৃত্বে দু’শ ঘর প্রজা বিদ্রোহ করেন।”
[তথ্যসূত্র: অমিতাভ চৌধুরী, জমিদার রবীন্দ্রনাথ, দেশ শারদীয়া, ১৩৮২]
কবিতায় তো মানবতার কথা বলেছেন খুব জোরে। কিন্তু জীবনাচারে যিনি এমন, তিনি কেমন মানবতাবাদী?
ছয়.
“মরহুম মোতাহার হোসেন চৌধুরী শান্তিনিকেতনে কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, আপনার লেখায় ইসলাম ও বিশ্বনবী সম্পর্কে কোনো কথা লেখা নেই কেন? উত্তরে কবি বলেছিলেন, ‘কোরআন পড়তে শুরু করেছিলুম কিন্তু বেশিদূর এগুতে পারিনি আর তোমাদের রসুলের জীবন চরিতও ভালো লাগেনি।”
[তথ্যসূত্র: বিতণ্ডা, লেখক: সৈয়দ মুজিবুল্লা, পৃ. ২২৯]
অবাক হই, যখন কোনো কোনো মুসলিম রবীন্দ্রচর্চাকে ইবাদত বলে ঘোষণা করেন!
সাত.
রবীন্দ্রনাথ বর্ণবাদী নন এমনকি হিন্দুত্ববাদী নন, তা প্রমাণ করার জন্য ব্রাহ্মধর্মকে হাতিয়ার বানানো হয়, ভুলে যাওয়া হয়, ব্রাহ্মধর্ম হিন্দুত্ববাদেরই এক শাখা। রবীন্দ্রনাথের বাবা দেবেন্দ্রনাথকে বলা হয় ব্রাহ্ম সমাজের প্রচারক ও দার্শনিক (উইকি দেখুন) অথচ ইতিহাস কি বলে!
“পুরো পরিবারকে দুর্গা পূজার ব্যবস্থা করে দিয়ে নিজে একটু আড়ালে থাকতেন এই আরকি।”
(সূত্র: বসন্তকুমার চট্টপাধ্যায়ের লেখা জ্যোতিন্দ্রনাথের জীবনস্মৃতি, ১৯২০, পৃষ্ঠা: ৩৬)
নিজে ব্রাহ্ম দাবি করলেও বাবার শ্রাদ্ধ হিন্দু পদ্ধতিতেই করেছেন দেবেন্দ্রনাথ। ব্রাহ্মদের মধ্যে পৈতা ত্যাগ করা জরুরি ছিলো, অথচ রবীন্দ্রনাথকে অনুষ্ঠান করে পৈতা দেওয়া হয়েছিলো।
(সূত্র: এ এক অন্য ইতিহাস, লেখক: গোলাম আহমদ মর্তুজা)
শুধু তাই না, ব্রাহ্ম সমাজে জাতিভেদ নিষিদ্ধ। অথচ রবীন্দ্রনাথের পৈতা পরার অনুষ্ঠানে রাজনারায়ণ বসু নামক এক ব্যক্তিকে শূদ্র বলে অপমানিত করে বের করে দেওয়া হয়।
(রাজনারায়ণ বসুর লেখা আত্মচরিত, পৃ: ১৯৯)
বর্ণবাদ ও হিন্দুত্বে যিনি মজ্জমান, তার পিছে আমাদের সংস্কৃতিকে হাঁকিয়ে নেয়ার আগে পরিণতি ভেবে নেয়া উচিত নয় কি মুসলমান?
আট.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ইংরেজি লেখার কারিগর ছিলো সি. এফ. অ্যানড্রুজ। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একজন প্রধান সহযোগী ছিল মি. অ্যানড্রুজ। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর যার নাম দিয়েছিলেন ‘দীনবন্ধু’।
(তথ্যসূত্র: আত্মঘাতী রবীন্দ্রনাথ-অখণ্ড সংস্করণ, দ্বিতীয় খণ্ড, কলকাতা, পৃষ্ঠা ১০৮)
এই রবীন্দ্রই ড. ডেভিসের মধ্যস্থতায় এন্ডারসনের কাছ থেকে টাকা নিয়ে ‘চার অধ্যায়’ লেখেন। শুধু তাই নয়, ‘ঘরে বাইরে’ও তাকে টাকা দিয়ে লেখানো হয়।”
(তথ্যসূত্র: দৈনিক বাংলাবাজারে প্রকাশিত ড. আহমদ শরীফের সাক্ষাৎকার, তারিখ ০১/০৫/১৯৯৭)
“কালীপ্রসন্ন বিদ্যাবিশারদ তার ‘মিঠেকড়া’তে পরিষ্কার বলেই দিয়েছিলেন যে, রবীন্দ্রনাথ মোটেই লিখতে জানতেন না, স্রেফ টাকার জোরে ওর লেখার আদর হয়। পাঁচকড়ি বাবু একথাও বহুবার স্পষ্ট বলে দিয়েছেন, রবীন্দ্রনাথের প্রায় যাবতীয় সৃষ্টিই নকল। বিদেশ থেকে ঋণ স্বীকার না করে অপহরণ।”
(তথ্যসূত্র: জ্যোতির্ময় রবি, ও কালোমেঘের দল, লেখক: সুজিত কুমার সেনগুপ্ত, পৃ. ১১১)
রবীন্দ্রনাথ ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন গীতাঞ্জলির জন্য নয়, বরং গীতাঞ্জলির ইংরেজি অনুবাদ ‘Song Offerings’-এর জন্য। রবীন্দ্রনাথ হলেন বাংলা ভাষী, ইংরেজিতে কবিতা লিখে নোবেল প্রাইজ পাওয়াটা তার মতো ব্যক্তির পক্ষে একদমই অসম্ভব। কিন্তু এই অসম্ভবটাই সম্ভব হয়েছিল, কারণ পর্দার আড়ালে থেকে কলম ধরেছিল সি. এফ. অ্যানড্রুজ। ‘গীতাঞ্জলি’র ইংরেজি অনুবাদ কিন্তু বাংলা থেকে হুবহু অনুবাদ ছিল না, বরং তা ছিল ভাবানুবাদ। সেই ইংরেজি অনুবাদের ভাব সম্পূর্ণ মিলে গিয়েছিল খ্রিস্টানদের বাইবেল ও তাদের ধর্মীয় সাধকদের রচনার সাথে। যে প্রসঙ্গে গীতাঞ্জলির ইংরেজি অনুবাদের ভূমিকার লেখক, কবি ইয়েটস বলেছিলেন –
“Yet we are not moved because of its strangeness, but because we have met our own image”
অর্থাৎ ‘গীতাঞ্জলি’র ভাব ও ভাষার সাথে পশ্চিমাদের নিজস্ব মনোজগতে লালিত খ্রিস্টীয় ভাবধারা সম্পূর্ণ মিলে গিয়েছিল। ইয়েটস তার বক্তব্যের যৌক্তিকতা তুলে ধরতে সেন্ট বার্নার্ড, টমাস-এ- কেম্পিস ও সেন্ট জন অফ দি ক্রসের সাথে ‘গীতাঞ্জলি’র ইংরেজি অনুবাদের মিল উল্লেখ করেছিলেন। অন্যান্য পশ্চিমা সাহিত্য সমালোচকরাও ‘গীতাঞ্জলি’র ইংরেজি অনুবাদের ২৬নং কবিতা ও ইংরেজি বাইবেলের Songs of Solomon-এর ৫: ২-৬ নম্বর শ্লোক, তাছাড়া সেন্ট ফ্রান্সিসের রচিত খ্রিস্টীয় গান Canticle এবং ইংরেজি গীতাঞ্জলির ৮৬নং কবিতা এই দুটো পাশাপাশি রেখে তাদের মিল দেখিয়েছেন।
(তথ্যসূত্র: আত্মঘাতী রবীন্দ্রনাথ-১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ১৪৫)
ভাগ্য রবীন্দ্রনাথের! ইংরেজি অনুবাদটি রবীন্দ্রনাথ-অ্যানড্রুজের নবসৃষ্টি হলেও নোবেল পেয়েছেন শুধু রবীন্দ্রনাথ, এতে আমরা বেজার হবার কে?
নয়.
“‘শিবাজী উৎসব’ (১৯০৪) কবিতাটি যখন রবীন্দ্রনাথ রচনা করেন তখন তিনি কবি হিসাবে প্রতিষ্ঠিত। একই সঙ্গে কলকাতার বুদ্ধিজীবী মহলেও তিনি সম্মানের সাথে সমাদৃত। পারিবারিক এবং আর্থিক কারণে তিনি কলকাতার অভিজাত মহলের নেতৃস্থানীয় পর্যায়ে অবস্থান করছেন। বয়সের পরিসীমায়ও তিনি পরিণত। বলা যেতে পারে উনিশ শতকের শেষ এবং বিশ শতকের শুরুর পর্বের রবীন্দ্রনাথের চিন্তা ও কর্মের ধারাবাহিকতার সাথে কবিতাটির মর্মার্থ ওতপ্রোতভাবে জড়িত।
মহারাষ্ট্রের বালগঙ্গাধর তিলক ১৮৯৫ সালের ১৫ এপ্রিল সেখানে শिवাজী উৎসব প্রতিষ্ঠা করেন। তিলক শিবাজী উৎসব প্রতিষ্ঠা করেছিলেন উগ্র হিন্দু জাতীয়তা ও সাম্প্রদায়িকতা প্রচার ও প্রসারের জন্য। ক্রমে শিবাজী উৎসবের অনুকরণে চালু হয় গণপতি পূজা। ইতিপূর্বে ১৮৯৩ সালে প্রতিষ্ঠিত গো-রক্ষিণী সভা ঐ অঞ্চলে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করে।
মহারাষ্ট্রের শিবাজী উৎসবের অনুকরণে সখারাম গণেশ দেউস্করের প্রচেষ্টায় কলকাতায় শিবাজী উৎসব প্রচলিত হয় ১৯০২ সালের ২১ জুন তারিখে। সরলা দেবী ১৯০২ সালের অক্টোবর মাসে দূর্গাপূজার মহাষ্টমীর দিনে বীরাষ্টমী উৎসব প্রচলন করেন। তিনি ১৯০৩ সালের ১০ মে শिवাজী উৎসবের অনুকরণে প্রতাপাদিত্য উৎসব প্রচলন করেন এবং একই বছরের ২০ সেপ্টেম্বর তারিখে প্রবর্তন করেন উদয়াদিত্য উৎসব।
কলকাতার বাইরে থাকার কারণে রবীন্দ্রনাথ এই তিনটি উৎসবে উপস্থিত ছিলেন না। কিন্তু ২৯ সেপ্টেম্বর ১৯০৩ সালে দূর্গাপূজার মহাষ্টমীর দিনে ২৬ বালিগঞ্জ সার্কুলার রোডে জানকীনাথ ঘোষালের বাড়িতে যে বীরাষ্টমী উৎসব অনুষ্ঠিত হয় রবীন্দ্রনাথ তাতে সক্রিয়ভাবে যোগ দেন।
… শিবাজী উৎসবের মূল মন্ত্র ছিল চরম মুসলিম বিদ্বেষ, সন্ত্রাস এবং সাম্প্রদায়িকতা। বস্তুত এই শিবাজী উৎসবের সূত্র ধরেই বাংলায় সন্ত্রাসবাদী রাজনীতির এবং সাম্প্রদায়িক ভেদনীতির ভিত্তি স্থাপিত হয়।
——“কবিতার শুরুতে রবীন্দ্রনাথ শিবাজীর কর্মকাণ্ড ও জীবনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে বলেন :
“কোন দূর শতাব্দীর এক অখ্যাত দিবসে
নাহি জানি আজ
মারাঠার কোন শৈল অরণ্যের অন্ধকারে ব’সে
হে রাজা শিবাজী
তব ভাল উদ্ভাসিয়া এ ভাবনা তরীৎ প্রভাবৎ
এসেছিল নামি
‘একরাজ্যধর্ম পাশে খণ্ড ছিন্ন বিক্ষিপ্ত ভারত
বেধে দিব আমি’।
এখানে রবীন্দ্রনাথ শিবাজীকে ভারতের ঐক্যের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরেছেন। তিনি বলতে চেয়েছেন যে খণ্ড, ছিন্ন, বিক্ষিপ্ত ভারত ধর্মের ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ করা ছিল শিবাজীর জীবনের উদ্দেশ্য। মহারাষ্ট্রে শিবাজী উৎসবের প্রচলন, পরবর্তী সময়ে কলকাতাসহ ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে শিবাজী উৎসব প্রচলনের এবং এই উৎসবকে জনপ্রিয় করে তোলার জন্য নিবেদিত প্রাণ বালগঙ্গাধর তিলক এবং সখারাম দেউস্করের মূল উদ্দেশ্য ছিল শিবাজীর আদর্শে ভারতকে ঐক্যবদ্ধ করা। এখানে এটা স্পষ্টতই লক্ষণীয় যে তিলক, দেউস্কর আর রবীন্দ্রনাথের ভাবনা সম্পূর্ণ অভিন্ন।
(- ড. নুরুল ইসলাম মনজুর / শতবর্ষ পরে ফিরে দেখা ইতিহাস : বঙ্গভঙ্গ ও মুসলিম লীগ
[গতিধারা – জুলাই, ২০১০। পৃ: ৫২-৮৬])
যারা বলেন রবীন্দ্রনাথের বাংলাদেশ, বাংলাদেশের রবীন্দ্রনাথ, তারা কি জানেন না—রবীন্দ্রনাথের বাংলাদেশ হিন্দুত্ববাদের মহাভারতে বিলীন হয়ে যায়? তখন সে আর স্বাধীন থাকে না!
দশ.
“এখন ভারতের ‘ইতিহাস ব্যবসায়ী’দের মধ্যে রবীন্দ্রনাথের সংখ্যাই বেশি। তাঁহারা সাড়ে পাঁচশত বৎসরের মুসলিম শাসনকে বিদেশি শাসনই মনে করেন।”
(সলিমুল্লাহ খান-সাম্প্রদায়িকতা)
জনাব খানের এ প্রবন্ধের সমালোচনায় মাসুদ রানা লিখেন—
“১৯৪৭ সালে আসিয়া ভারত দুই ভাগ হইল কেন? সবাই বলে, হিন্দু-মুসলমান দুই জাতি। তাই দুই আলাদা দেশ হইল। দ্বিজাতি তত্ত্বের মূল কথা এই। এই বাবদ মুহম্মদ আলী জিন্নাহকে বাহবা দিয়া থাকেন সকলেই। এখানে তাঁহার কৃতিত্ব কি? এ তো ষোল আনা রবীন্দ্রনাথ পথিকের কৃতিত্ব।”
ডঃ খানের প্রবন্ধে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নাম বারবারই ফিরে এসেছে। তাঁকে সাম্প্রদায়িক হিসেবে চিহ্নিত করেই তিনি ক্ষান্ত হননি। এ-প্রবন্ধে তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে ‘চুতিয়া’ বানিয়ে ছেড়েছেনঃ
“বৌধায়ন চট্টোপাধ্যায় সিপিআইয়ের অনেক বড় নেতা ছিলেন। ১৯৬৮ সালে দাস ক্যাপিটালের শতবর্ষ উপলক্ষে তাঁহারা একটি বই প্রকাশ করেন। দিল্লির পিপলস পাবলিশিং হাউস প্রকাশ করে বইটি। ‘মার্কস অ্যান্ড উইন্ডিয়াস ক্রাইসিস’ নামের নিবন্ধে বৌধায়ন বলেন, ‘ভারতের বুদ্ধিজীবীরা সবাই চুতিয়া; দুইজনই শুধু ব্যতিক্রম—গান্ধীজি ও রবীন্দ্রনাথ।’ ‘চুতিয়া’ বলিয়া তিনি ঠিক বলিলেন; কিন্তু ওই দুইজনের ব্যাপারে ব্যতিক্রম কেন? ভারতের সব বুদ্ধিজীবীই যদি চুতিয়া, রবীন্দ্রনাথও ব্যতিক্রম নহেন।”
“চুতিয়া” শব্দটি হিন্দি, যা এসেছে ‘চুত’ থেকে। হিন্দিতে ‘চুত’ মানে হচ্ছে অক্ষত যোনি বা কুমারী। আর “চুতিয়া” হচ্ছে অক্ষত যোনিজাত বা কুমারী মাতার সন্তান, যার বাংলা অর্থ হচ্ছে জারজ।
ডঃ সলিমুল্লাহ খান মনে করেন, কমিউনিস্ট নেতা বৌধায়ন চট্টোপাধ্যায় ভারতের বুদ্ধিজীবীদেরকে চুতিয়া বলে ঠিক করেছেন। কিন্তু ডঃ খান তাঁর ওপরও তিনি সন্তুষ্ট নন, কারণ তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও গান্ধীকে রেহাই দিয়েছেন। ডঃ খানের দাবী, রবীন্দ্রনাথ ঠакুরও “চুতিয়া”।
(সাপ্তাহিক পত্রিকা-১৫–০১-২০১৪)
কিন্তু কেন? কেন বামপন্থী সলিমুল্লাহ খান এমন আক্রমণ করলেন? জবাব পাবো ইতিহাসে।
১৯০৫ সালে বঙ্গ প্রদেশকে দ্বিখণ্ডিত করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম প্রধান পূর্ববঙ্গ ও আসামকে নিয়ে যে প্রদেশ গঠন করা হয়, তার পক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের সমর্থন ছিল। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এ প্রদেশ বাতিল করার জন্য প্রবল গণআন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন। এই প্রদেশকে বিলীন করার জন্য সন্ত্রাসবাদী আন্দোলনসমূহের নেতা কর্মীদের অত্যন্ত দক্ষতার সাথে বীর হিসেবে উপস্থাপন করা হয় এখন। এখন বলা হয় না, মুসলিম প্রধান প্রদেশ সৃষ্টির ফলে অনগ্রসর ও শোষিত মুসলিম সম্প্রদায় কি সুফল পেয়েছিল? রবীন্দ্রনাথ ও সন্ত্রাসবাদী আন্দোলনের নেতা কর্মীরা কেনই বা এই প্রদেশকে রদ করার জন্য তৎপরতা চালালেন?
১৯০৫ সালে পূর্ববঙ্গ ও আসামকে নিয়ে প্রতিষ্ঠিত মুসলিম প্রধান নতুন প্রদেশ সৃষ্টির প্রথম বছরই এই প্রদেশের বৈদেশিক বাণিজ্য, ২,৯৮,২৭,৩৯৭ টাকা থেকে বেড়ে ৩,১৭,৭৭,৮৪৬ টাকায় উন্নীত হয়। ১৯০৫ সালেই শিক্ষাখাতে ব্যয় হয় ৭৩,০৫,২৬০ টাকা। স্কুল ছাত্র সংখ্যা বেড়ে ৬,৯৯,০৫১ থেকে ৯,৩৬,৬৫৩তে দাঁড়ায়। নারী শিক্ষার আশানুরূপ উন্নতি সাধিত হয়। বালিকা বিদ্যালয় সংখ্যা ৮১৯ থেকে বেড়ে ১৯১০-১১ সালে ৪,৫৫০ তে বৃদ্ধি পায় এবং ছাত্রী সংখ্যা ২৪,৪৯৩ থেকে বেড়ে ১,৩১,১৩৯ এ উন্নীত হয়।
(উৎস: ১. Report on the Administration of Eastern Bengal and Assam, 1905-06 and 1910-11
২. The pioneer mail, ২৩শে ফেব্রুয়ারি, ১৯১২
৩. এ সম্পর্কে আরো তথ্য: বাঙালী বুদ্ধিজীবী ও বিচ্ছিন্নতাবাদ—অমলেন্দু দে, ৩য় অধ্যায়, পশ্চিম বঙ্গ রাজ্য পুস্তক পর্ষদ)
এ প্রদেশ ছয় বছর টিকে না থাকলে আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় না হলে আজ যারা রবীন্দ্রনাথকে প্রণম্য মনে করছেন তাদের হিন্দু জমিদারদের গরু-ছাগলের রাখাল হয়ে থাকতে হত কি না—একটু ভেবেছেন কি? রবীন্দ্রনাথ চেয়েছিলেন তারা সেভাবেই থাকুক।

দ্বীনি শিক্ষা এবং দুনিয়ার শিক্ষা, এই দুই ভাগে ভাগ করে দিয়ে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।

🤲🤲সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক নবী সা. তাঁর সাহাবীগণ ও কিয়ামত পর্যন্ত তাঁর সকল ও অনুসারীদের উপর।

প্রথমেই বলে নেই, বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করার প্রথম পদক্ষেপ হলো শিক্ষা ব্যবস্থাকে আলাদা করা অর্থাৎ দুই ভাগে বিভক্ত করা।
অর্থাৎ দ্বীনই শিক্ষা এবং দুনিয়া শিক্ষা এই দুইটি ভাগে ভাগ করে শিক্ষাকে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।

আমার দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা দিন দিন এমন হয়ে যাচ্ছে যে, আমরা এখন বলতে বাধ্য হবো যে আমাদের বাপ-দাদাদের আমলের পড়াশোনার মান আরো হাজার গুন ভালো ছিল, যদি তারা পড়াশোনার জন্য তেমন পরিবেশ পাই নি। যাইহোক, দিন দিন বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা বিদেশে পড়াশোনার দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
এটা স্বাভাবিক কারণ বর্তমানে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার যে অবস্থা, যদি এই ভাবে চলতে থাকে তাহলে কিছুদিন পর বাংলাদেশে আসলে কোন প্রকৃত শিক্ষিত লোক পাওয়া দুষ্কর হয়ে যাবে।

👉👉ইসলামের শিক্ষাব্যবস্থাকে কোন ভাগ করেনি। অথচ আমাদের দেশের কিছু আলেম আর কিছু নাস্তিকেরা শিক্ষা ব্যবস্থাকে ভাগ করে নিয়েছে। শিক্ষা ব্যবস্থা কেমন হওয়া উচিত অর্থাৎ দেশের উপকারের জন্য এবং ইসলামী শিক্ষা ব্যবস্থা কিরকম হওয়া উচিত, এই বিষয়টি যারা বুঝেছে তারা অসহায়ের মতো শুধু দৌড়াচ্ছে আর চিৎকার করে যাচ্ছে কিন্তু কেউ শুনছে না।

একদিকে নাস্তিক আর সেকুলাররা বলছে যে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার মধ্যে কোন ইসলামী শিক্ষা থাকতে পারবেনা।

অপরদিকে একদল তথাকথিত আলেম বলছে যে ধর্মীয় শিক্ষা ছাড়া অন্য কোন শিক্ষা থাকতে পারবেনা। এ সমস্ত আলেমদের মতে শুধু কোরান হাদিস শিখে কাজ করে আল্লাহর কাছে দোয়া করলেই নাকি সবকিছু হয়ে যাবে।

অথচ আল্লাহ সুবাহানাহুওয়া তা’য়ালা মানুষের উপদেশের জন্য কোরআন নাজিল করতে গিয়ে প্রথমেই শিক্ষার প্রতি এত গুরুত্ব আরোপ করেছেন এবং শিক্ষাকে আনলিমিটেড করে দিয়ে বলেছেন যে ‘পড়’! এখানে আল্লাহ পড়ার কোন সীমাবদ্ধতা রাখ। প্রথম নাযিল করা প্রথম পাঁচটি আয়াতের শেষের আয়াতে আল্লাহ লিখার উপকরণ কলমের কথা উল্লেখ করেছেন। অর্থাৎ আল্লাহ প্রথম পাঁচটি আয়াত নাজিল করেই মানুষকে পড়ালেখার প্রতি উৎসাহিত করেছেন এবং এটাকে ফরজ করে দিয়েছেন।
অপর এক আয়াতে আল্লাহ স্পষ্ট বলে দিয়েছেন, “তোমরা যা জানো না তা যারা জানে তাদের নিকট থেকে জেনে নাও”!
অর্থাৎ এখানে আল্লাহ শুধু কুরআন এবং হাদিস পড়ার মধ্যে ইসলামকে সীমাবদ্ধ করেননি। কারণ আল্লাহ ভালো করেই জানেন মানুষের জন্য দুনিয়ার শিক্ষা খুবই জরুরী এবং দুনিয়া আগে দরকার।
দুনিয়াতে চলাফেরা করতে গিয়ে মানুষ সর্বক্ষেত্রে আল্লাহর নাম উচ্চারণ করবে এবং আল্লাহর আনুগত্য করবে এটাই ঈমানের দাবী।
আর মানুষের প্রয়োজনে তারা বিজ্ঞান, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, দর্শন, কৃষি কেমিস্ট্রি ইত্যাদি আরো অনেক সাবজেক্ট পড়বে। কিন্তু পড়ার পূর্বে শুধু আল্লাহর নাম নেওয়ার জন্য কোরআনের প্রথম নাজিল করা প্রথম আয়াতে আল্লাহ বলে দিয়েছেন।
কেননা আল্লাহর নাম নিয়ে এই সমস্ত বিষয় অধ্যয়ন করলে সে বিপথগামী হবে না।

আল্লাহর রাসূল, সাঃ বলেছেন প্রত্যেক নরনারীর উপর বিদ্যা অর্জন করা ফরজ। অথচ একদল মোল্লা বলে বেড়ায় যে দ্বীনি ইলিম বা দ্বীনি বিদ্যা শিক্ষা করা নাকি শুধু ফরজ আর বাকি অন্য কিছু ফরজ নয়। অথচ রাসুলুল্লাহ এখানে শুধু দ্বীনি ইলম বলেননি। তিনি সার্বিকভাবে শুধু বিদ্যা অর্জন করা ফরজ বলেছেন অর্থাৎ সকল প্রকার উপকারী বিদ্যা অর্জন করা ফরজ।

আমাদের দেশের মোল্লারা আখেরাতের শিক্ষা এবং দুনিয়ার শিক্ষা এই দুই প্রকারে ভাগ করে দিয়েছে। নাউজুবিল্লাহ।

আজকের দিনে যে মোল্লারা AI technologi কে হারাম ফতোয়া দিচ্ছে, মাত্র কয়েকদিন আগেও এই মোল্লারাই চার দেয়ালে আবদ্ধ মাদ্রাসায় বসে বিজ্ঞান শিক্ষা করাকে হারাম ফতোয়া দিয়েছিল।

এই মোল্লারাই মাত্র ২০০ বছর আগে ইংরেজি শিক্ষাকে হারাম ফতোয়া দিয়েছিল এবং ইংরেজিকে ইহুদী-খ্রিস্টানদের ভাষা হিসেবে ফতোয়া দিয়েছিল, অথচ সকল ভাষার স্রষ্টা আল্লাহ। এবং আল্লাহ সকল ভাষা বুঝেন এবং সকল ভাষায় মানুষের ফরিয়াদ শোনেন।

গত শতাব্দীর মাঝামাঝি পর্যন্ত এই মোল্লারাই তরবারি বর্ষা ব্যতীত আধুনিক যুদ্ধাস্ত্র বন্দুক বিমান ইত্যাদি দিয়ে যুদ্ধ বা জেহাদ করা নাজায়েজ ও হারাম ফতোয়া দিয়েছিল।

৩০টির অধিক হাদিস দিয়ে ঘোড়া খাওয়া হালাল হওয়া সত্বেও এখনো পর্যন্ত তারা ঘোড়া খাওয়া হারাম ফতোয়া দিচ্ছে এই জন্য ঘোড়া নাকি যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহার হয়। মোটকথা তারা চার দেয়াল থেকে এবং সেকেলে চিন্তা-ভাবনা থেকে কখনোই বের হয়ে আসতে পারেনি এবং তারা অগ্রসরমান মানুষদের বা মুসলিমদেরও পেছন থেকে টেনে ধরে রাখছে আর ফতোয়ায়ে জর্জরিত করে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করছে।

আখেরাতের শিক্ষা আমাদের দেশে অনেক ভালো বিদ্যমান। আমাদের দেশের মাদরাসা গুলো অনেক ভালো যেমন হাট-হাজারী মাদরাসা, তামিরুল মিল্লাত মাদ্রাসা, আহলে হাদিসের মাদ্রাসা সহ অনেক ভালো ভালো ইসলামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আমাদের দেশে আছে। আর এ সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে কিছু ফালতু ফতোয়াবাজ আলেম ব্যতীত সবাই মোটামুটি মধ্যপন্থা অবলম্বন করে চলে এবং কিছু মুষ্টিমেয় ফতোয়া ব্যতীত আর বাকি সব ঠিক আছে।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ শুধু আখেরাত চাইতে বলেননি বরং প্রথমেই আল্লাহ দুনিয়া চাইতে শিক্ষা দিয়েছেন।
যেমন আল্লাহ বলেন তোমরা বলো,”ربنا اتنا في الدنيا حسنه وفي الاخره حسنه وقنا عذاب النار
অর্থাৎ বলো হে আমার রব আমাদেরকে দুনিয়াতে কল্যাণ দান করুন এবং আখেরাতেও কল্যাণ দান করুন আর আগুনের আজাব থেকে আমাদের রক্ষা করুন, আমিন।
এখানে আল্লাহ প্রথমে দুনিয়া চাইতে বলেছেন। কেননা আমাদেরকে দুনিয়াতে থাকতে হবে দুনিয়াতে থেকেই দুনিয়াবী কাজকর্ম ইত্যাদি করে আল্লাহর এবাদত করে জাহান্নামের আগুন থেকে নিজেদেরকে আল্লাহর রহমতে বাঁচাতে হবে।
আল্লাহ যেখানে নিজেই প্রথমে দুনিয়া চাইতে বলেছেন সেখানে তারা দুনিয়া বাদ দিয়ে শুধু আখেরাত অর্থাৎ মাটির নিচে আর আসমানের উপরে নিয়ে ব্যস্ত আছে।

যেখানে আল্লাহ প্রথম এই দুনিয়া চাইতে বলেছেন সেখানে আমরা দুনিয়াবী শিক্ষায় কতটুকু এগিয়ে আছি?
চীনের স্কুল গুলাতে Ai শিখা বাধ্যতা মূলক সেখানে আমাদের দেশে Ai কে ক্ষতি এবং হারাম বলে আমাদের পিছিয়ে দিচ্ছে এই আলেম নামক মোল্লা গুলো।
আমাদের সরকারি ভালো কোন আইটি টিম আছে কি?
আমাদের সরকারি কোন সাইবার সিকিউরিটি টিম আছে কি?

একজন বিদগ্ধ শিক্ষাবিদকে জিজ্ঞেস করেছিল যে শিক্ষার দিক থেকে যুক্তরাষ্ট,কানাডা, চীন, জার্মানি এদেরকে 10 এর মধ্যে 8,6,9,7 দেবেন।
তারপর বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে 10এর মধ্য কত দিবেন জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, -1 ও দিবো না।

ভাই বিদেশে যেখানে শিখছে মেশিং লার্নিং, ডাটা সায়েন্স, ন্যানো টেকনোলজি, সেখানে আমরা এখনো Html css js দিয়ে কিভাবে ওয়েবসাইট তৈরি করতে হয় তা শিখছি।

সরকারের কাছে আমি একজন ছাত্র হিসেবে অনুরোধ করছি, প্লিজ প্লিজ দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে উন্নত করুন বাস্তব বাস্তবমুখী শিক্ষা চালু করুন আমাদের বিপুল বড় জন সংখ্যাকে কাজে লাগান। উল্টা পাল্টা বিষয়কে বাদ দিয়ে বিজ্ঞান প্রযুক্তি মুখী শিক্ষা চালু করুন। নাহলে পূর্বে যেভাবে বাংলাদেশ অনেক মেধাবীকে হারিছে, আবারও হারাবেন কারণ এমন শিক্ষা ব্যবস্থা থাকলে দেশে কেও থাকবে না। পাশাপাশি অবশ্যই কোরআন হাদিস ও নৈতিক শিক্ষা থাকবে। কেননা সদ ও নীতিবান মানুষ তৈরি করার জন্য শুধু দুনিয়ার শিক্ষা দিলে চলবে না। শিক্ষা ব্যবস্থায় যদি ইসলামী শিক্ষা না থাকে তাহলে সমাজের মধ্যে যেমন এই শিক্ষার মূল উপকারিতা পাবে না কারণ নীতি নৈতিকতা বর্জিত হয়ে তারা বিপথগামী হয়ে যাবে, তদ্রূপ জারজ দিয়ে সমাজ ভরে যাবে।
তাছাড়া হিন্দু এবং খ্রিস্টান ধর্মীয় শিক্ষার মধ্যেও কোথাও মদ খাওয়া শিক্ষা দেওয়া হয় না, কোথাও বিবাহ বহির্ভূত যৌন সম্পর্ক শিক্ষা দেওয়া হয় না বরং অনুৎসাহিত করা হয়, বা কোন ধর্মে মিথ্যা কথা বলা বা অসামাজিক কোন কাজ এর শিক্ষা নেই। আর যেহেতু আমাদের দেশের মধ্যে নব্বই শতাংশ মুসলিম তাই এখানে ৯০ শতাংশ মুসলিমের জন্য অবশ্যই প্রত্যেক ক্লাসে ইসলামী ও নৈতিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা উচিত। এবং অন্যান্য ধর্মের লোকেরা তাদের ধর্মীয় গ্রন্থ পড়বে সমস্যা নেই।

Mahabubur Rahman
mahabuburrahman1720@gmail.com

Mountain goat বা পাহাড়ি ছাগল।

দুইটি মাউন্টেন গোট প্রায় ১৩ হাজার ফুট উপরে খারা পাহাড়ে ঘাস খাচ্ছে।

✅✅ Mountain Goat বা পাহাড়ি ছাগলে
কথা অনেকেই শুনেছেন, এবং এই অনলাইনের যুগে নিশ্চয়ই ছবি অথবা ভিডিওটি দেখেছেন? বিরল প্রজাতির এই ছাগল পাহাড়ে চড়ার দক্ষতার জন্য বিশ্ববিখ্যাত। বিশেষ ধরনের খুরের সাহায্যে সে খাড়া পাহাড় বেয়ে ১৩,০০০ ফুট উপরে উঠে যাওয়ার রেকর্ড আছে। ওদিকে পাহাড়ের নিচে বাস করা সিংহ, চিতার আর হায়নার দল বসে থাকে তার পতনের অপেক্ষায়, পা পিছলে নিচে পড়লেই ঘাড় মটকে মজা করে খাবে। আর এই আশায় তারা যুগের পর যুগ আর প্রজন্মের পর প্রজন্ম কাটিয়ে দিচ্ছে।
প্রতিমুহূর্তে তাদের মনে হয়, এই বুঝি মাউন্টেন গোট পা হড়কে নিচে পড়ল! কিন্তু পড়বে কিভাবে, মাউন্টেন গোটের প্রকৃতি প্রদত্ত খুরগুলো যে চুম্বকের মতো পাহাড়ের খাঁজে আটকে থাকে!

একটি ‘মাউন্টেন গোট’ পাহাড়ের অপেক্ষা কৃত সমতল অঞ্চলে বিশ্রাম নিচ্ছে।

এই অসাধারণ দক্ষতা সম্পন্ন স্বাধীন, ধৈর্যশীল, সাহসী এবং বৃহদাকৃতির এই ছাগলটিকে জাতীয় পশুর মর্যাদা দিয়েছে পাকিস্তান। পাকিস্তানের জাতীয় পশু এই দৃষ্টিনন্দন ও অবাক করা পাহাড়ী ছাগল।
পাকিস্তানের এর স্থানীয় নাম #মারখোর’ ।
এই ছাগলকে পোষ মানানো অত্যন্ত জটিল এবং এরা সম্পূর্ণ স্বাধীন ভাবে থাকে আর এই জন্যই পাকিস্তান তাদের জাতীয় পশু হিসাবে এই “মারখোর”কে পছন্দ করেছে।

সে যাই হোক, বাস্তব জীবনেও কাউকে কাউকে মাউন্টেন গোট বা মারখোর এর সাথে তুলনা করা যায়। আর পিছনে থাকা সমালোচকদের নিচে থাকা ওই সিংহ, চিতা এবং হায়না, ও বন্য শুকরের সাথে তুলনা করা যায়। সমালোচকরা অপেক্ষায় থাকে কখন ‘মাউন্টেন গোট’রূপী মানুষটির পতন হবে আর সেটা নিয়ে তারা উল্লাসে মেতে উঠবে। কিন্তু ওই সমালোচকরা তো জানে না, তাদের টার্গেট করা ওই মানুষটি জাতে একটা “মাউন্টেন গোট”!

✅✅ জাতিতে মারখোর নামক প্রাণীটি ছাগল হলেও এরা স্বাভাবিক ছাগলের মত নয়। এদেরকে যেমন পোষ মানানো যায় না এবং সব সময় স্বাধীন থাকতেই পছন্দ করে তদ্রূপ খাবারের খোঁজে এরা উঠে যায় প্রায় ১৩০০০ ফুট পাহাড়ের উচ্চতায়।
দেখতে কিছুটা স্বাভাবিক ছাগল হলেও তা অনেকটা আলাদা। অত্যন্ত প্রতিকূল পরিবেশেও এই ছাগল টিকে থাকতে পারে। এই মাউন্টেন গুড বা মারখোর।

মারখোর এর বৈজ্ঞানিক নাম: Capra falconeri। এরা ক্যাপরা গণের একটি বড় প্রজাতি যেটি উত্তর আমেরিকা, আফগানিস্তান, উত্তর পাকিস্তান, দক্ষিণ তাজিকিস্তান, দক্ষিণ উজবেকিস্তান, এবং অল্প সংখ্যক দেখা যায় জম্মু ও কাশ্মীরে।
আইইউসিএন এটিকে বিপন্নশ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত করেছে। সমগ্র পৃথিবীতে এই প্রজাতির আর মাত্র ২৫০০টির মতো প্রাণী টিকে আছে এবং গত দু’প্রজন্মে ২০% সংখ্যা কমেছে। পাকিস্তান এদেরকে জাতীয় পশুর স্বীকৃতি দেয়ার পর পাকিস্তানের এটি স্বীকার করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং কোন প্রয়োজন ছাড়া ও সরকারের প্রাণী বিভাগের অনুমতি ছাড়া এটি কেউ শিকার বা হত্যা করলে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়।

এই প্রাণীটি গ্রামেগঞ্জে দেখতে পাওয়া ছাগলের থেকে আকার এবং আয়তনে বেশ অনেকটাই বড়। এগুলোর ওজন প্রায় ৪৫ কেজি থেকে ১৪০ কেজি পর্যন্ত হয়ে থাকে। একটা সদ্যোজাত মাউন্টেন গোট প্রায় তিন কেজির হয়ে থাকে। এদের গায়ে মোটা পুরু পশমে ঢাকা থাকে। তার জন্য এরা খুব বেশি ঠান্ডা যথা মাইনাস ৪০ ডিগ্রী সেলসিয়া তাপমাত্রায়ও তারা অনায়াসে খুব স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকতে পারে।

আমাদের বাংলাদেশের জাতীয় পশু যেমন রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার বা বাঘ ! পাকিস্তানের তেমন ভয়ংকর দর্শন পাহাড়ি ছাগল মারখোর ! এমন তার চেহারা যে দেখলেই ভয় হয় ! পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে মানুষের লোভের কারণে এদের সংখ্যা ও অনেক কমে গেছে ! তোরা শিকারীরা এই ছাগল হত্যা করে খেয়ে ফেলে। হয়তো কোনদিন বিলীন হয়ে যাবে !

কেন এই পাহাড়ি ছাগল টির নাম মারখোর ?
“মারখোর” শব্দটি দুইটি ফার্সি শব্দ ‘মার’ ও ‘খোর’ যোগে গঠিত হয়েছে ! ‘মার’ শব্দের অর্থ “সাপ” এবং ‘খোর’ শব্দের অর্থ “ভক্ষক”, অর্থ্যাৎ ‘মারখোর’ দ্বারা বোঝানো হয় – যে সাপ খায় ! এরা সাপ মারতে পারে বলে এদের এমন নাম হয়েছে বলে অনেকে মনে করেন ! আবার অনেক বিশেষজ্ঞের মতে এদের সাপের মতো পেঁচানো শিং-এর কারণে এদের এমন নাম !

ঘোড়ার গোসত খাওয়া শতভাগ হালাল; হারাম হওয়ার হাদিস অত্যন্ত দুর্বল ও জাল।

ঘোড়ার গোশত খাওয়া শতভাগ হালাল।
গরু-ছাগল, হাস-মুরগি, হরিণ-খরগোশ ইত্যাদির মতই হালাল।
জাবের রাঃ বলেন, খায়বারের যুদ্ধে রাসূল সা. গাধার গোশত খেতে নিষেধ করেছেন এবং ঘোড়ার গোশত খাওয়ার অনুমতি দিয়েছেন !
— বুখারী -৫৫২০; মিশকাত – ৪১০৭)।
আসমা রাঃ বলেন, আমরা রাসূল সা. এর যুগে ঘোড়া যবেহ করেছি এবং গোশত খেয়েছি

  • বুখারী ৫৫১৯।

জাবের রা. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, আমরা আল্লাহর রাসুলের সা. সঙ্গে সফর করেছিলাম। ওই সফরে আমরা ঘোড়ার মাংস খেতাম এবং তার দুধ পান করতাম।
–দারাকুতনি ও বায়হাকি!
সপ্তম হিজরীতে রাসুলুল্লাহ সা. ঘোড়ার গোস্ত খাওয়ার হাদিস বর্ণনা করার পর সাহাবায়ে কেরাম রাঃ ঘোড়ার গোশত খেয়েছেন। বিভিন্ন হাদীছ গ্রন্থে ১৮টি বিশুদ্ধ হাদিসে বর্ণিত হওয়ায় সকল মাযহাবের ইমামগণ এবং মুহাদ্দিছগণ এর গোশতকে শতভাগ হালাল গণ্য করেছেন।

বোখারী মুসলিম সহ বিভিন্ন হাদিস গ্রন্থের শত হাদীস এ ঘোরার মাংস খাওয়া হালাল উল্লেখ থাকা সত্ত্বেও যারা ফতোয়া অন্বেষণ করে এবং মন মস্তিষ্কপ্রসূত মতামত প্রদান করে এটাকে হারাম বানায়, বুঝতে হবে সে মূলত আলেম নয়।
আর এই জাতীয় লোকের কথাবার্তা গ্রহণ করা জায়েজ নয়। কোরআন হাদিসের বিশুদ্ধ দলিল থাকার পরও ফতোয়া অন্বেষণ করা বড় রকমের জাহালত।
কিছু আলেম ফতোয়া দিতে গিয়ে বলে থাকেন যুদ্ধের ময়দানে ঘোড়া খাওয়া হালাল যেমন,
খায়বারের যুদ্ধে রাসুলুল্লাহ (স.) গাধার গোশত খেতে নিষেধ করেছেন এবং ঘোড়ার গোশত খাওয়ার অনুমতি দিয়েছেন।
–বুখারি: ৫৫২০ ।
এই হাদিসে রাসুল স. ঘোড়ার গোশত খাওয়ার অনুমতি দিয়েছেন। এর মানে হলো- আগে অনুমতি ছিল না। শুধু যুদ্ধের সময় খাবারের প্রয়োজনে এই সুযোগ দেওয়া হয়।
কিন্তু এখানে প্রশ্ন হল, রাসুলুল্লাহ সা. উম্মতকে সতর্ক করার জন্য ও সঠিক পথ দেখানোর জন্য এত কথা বলেছেন, অথচ এখানে আর একটি কথা কেন বলেননি যে “যুদ্ধ ছাড়া তোমরা ঘোরা খাবে না”?
অথবা তিনি এটাও তো বলতে পারতেন, “যুদ্ধের ময়দানে খাবারের সংকট হলে তোমরা ঘোড়া খাবে নতুবা খাবে না” ।
অতএব তাদের এই ফতোয়া সম্পূর্ণ মনগড়া এবং বানোয়াট।

যারা ঘোড়ার গোশত খাওয়া হারাম ফতোয়া দেয় তারা নিজেরাই শতভাগ কনফিউজড বা সন্দেহের মধ্যে পরে আছে।

দেওবন্দী সিলসিলার কিতাব ফতোয়ায়ে হিন্দিয়ার ৫ম খন্ডের ২৯০ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে- “ঘোড়ার গোশত খাওয়া জায়েজ আছে। ঘোড়ার গোশত হালাল। কিন্তু গণহারে ঘোড়ার গোশত খেলে যদি জিহাদের সময় ঘোড়ার মাধ্যমে খেদমত নিতে সমস্যা হতে পারে বলে ইমাম আবু হানিফা রহ. যুদ্ধের সময় ঘোড়ার গোশত খাওয়া মাকরুহ বলেছেন। এটা ইমাম আবু হানিফা রহঃ এর মত, দলিল নয়।
বর্তমানে যেহেতু ঘোড়া দিয়ে যুদ্ধ করা হয় না এবং তা সম্ভব নয়, এবং অদূর ভবিষ্যতে তো দূরের কথা সুদূর ভবিষ্যতেও ঘোড়া দিয়ে যুদ্ধ করা হবে কিনা তা নিয়ে বিরাট সন্দেহ রয়েছে।
আর তাই হানাফি মাজহাবের অন্য দুই বড় ইমাম আবু ইউসুফ রহ. ও ইমাম মুহাম্মাদ রহ. এবং মালেকী, সাফেঈ, হাম্বলী রহঃ গণ সহ অন্যান্য মাজহাবের ইমামগণ ঘোড়ার মাংস খাওয়াকে পুরোপুরি হালাল বলেছেন।
সকল মাযহাবে ঘোরার মাংস খাওয়া শতভাগ হালাল।
এ সকল ইমামগণ সরাসরি মত বা ফতোয়া বাদ দিয়ে বিশুদ্ধ দলিল তথা বুখারী মুসলিমের হাদিসকে গ্রহণ করেছেন যা আর্টিকেলের প্রথমেই উল্লেখ করা হয়েছে, আবারো নিচে দেওয়া হল–

জাবের ইবনে আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসুল সা. খায়বারের দিন গৃহপালিত গাধার মাংস খাওয়া নিষিদ্ধ করেছিলেন এবং ঘোড়ার মাংস খাওয়ার অনুমতি দিয়েছিলেন। –সহিহ বুখারি: ৩৯৮২, সহিহ মুসলিম: ১৯৪১!

আবু বকর রাঃ এর মেয়ে আসমা বিনতে আবু বকর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা আল্লাহর রাসুলের সা. যুগে একটি ঘোড়া জবাই করে তা খেয়েছিলাম।
-সহিহ বুখারি: ৫১৯১, সহিহ মুসলিম: ১৯৪২।

উপরে উল্লেখিত দুইটি হাদিসের নিচের হাদিস থেকে এটা প্রমাণিত যে যুদ্ধের ময়দান ছাড়াও ওই সময় সাহাবা কেরাম ঘোড়া জবাই করে খেতেন।

ঘোড়া দিয়ে যদি যুদ্ধ করা হয় তবে সেই যুদ্ধের ঘোড়া খাওয়া নিষেধ এটা খুবই স্বাভাবিক যেমন একটি হাদিসে খালিদ ইবনে ওলিদ রা. বলেন, রসুল সা. যুদ্ধের ঘোড়ার গোশত খেতে নিষেধ করেছেন।

  • সুনানে নাসাঈ ৮/২০৬;
    এটা শুধু ঘোড়ার ক্ষেত্রে নয়, এই হাদিস গরুর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে যদি সেই গরু যুদ্ধের সরঞ্জাম আনা নেওয়ার কাজে গাড়ি টানার জন্য ব্যবহার করা হয়, তবে সেই গরুর মাংস খাওয়াবো হারাম হবে।
    তাছাড়া যুদ্ধ ক্ষেত্রেই ঘোড়ার মাংস খাওয়া হালাল হওয়ার হাদিস বুখারী, মুসলিম, মিশকাত ইত্যাদি শক্তিশালী হাদীস গ্রন্থে মজুদ আছে।
    তার উপর বর্তমানে ঘোড়া দিয়ে যুদ্ধ করা হয় না শুধুমাত্র ঐতিহ্য ও সৌন্দর্যের জন্য সৈনিকরা সেনানিবাসে ঘোড়া লালন পালন করে।

ঘোড়াসহ বিভিন্ন প্রাণীকে আল্লাহ শুধু মানুষের কাজের জন্য অথবা খাদ্যের জন্য তৈরি করেননি বরং শোভা সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য তৈরি করেছেন।
আল্লাহ তাআলা ঘোড়াকে বাহন ও ও সৌন্দর্য হিসাবে উল্লেখ করেছেন, কিন্তু খেতে নিষেধ করেননি। যদি ঘোড়া খাওয়া হারাম হত তাহলে আল্লাহ এটা বলে দিতেন যে এটা তোমাদের বাহন ও সৌন্দর্য কিন্তু তোমরা খাবে না। খেতে নিষেধ করেননি।
কেউ কেউ হয়তো বলবেন, আল্লাহ যেমন খেতে নিষেধ করেননি তেমন খাওয়ার জন্য অনুমতি ও দেননি, তাই খাওয়া যাবেনা।
এখন যদি আমি আপনাকে বলি, আল্লাহ কোরআনে কোথায় মূলা, গাজর, ঢেঁড়স, টাকি মাছ ইলিশ মাছ ইত্যাদি খাওয়ার অনুমতি দিয়েছেন?
বরং যা খাওয়া নিষেধ নয় তাই শতভাগ হালাল।

আল্লাহ তাআলা বলেন,
وَّ الۡخَیۡلَ وَ الۡبِغَالَ وَ الۡحَمِیۡرَ لِتَرۡكَبُوۡهَا وَ زِیۡنَۃً وَ یَخۡلُقُ مَا لَا تَعۡلَمُوۡنَ
তিনি ঘোড়া, খচ্চর ও গর্দভ সৃষ্টি করেছেন যাতে তোমরা ওগুলোতে আরোহণ করতে পার আর শোভা-সৌন্দর্যের জন্যও; তিনি সৃষ্টি করেন অনেক কিছু যা তোমাদের জানা নেই।
— সুরা নাহল: ৮।

এটা ঠিক যে, “আল্লাহ তা‘আলা মানুষকে সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব হিসাবে সৃষ্টি করেছেন। আর মানুষের কল্যাণেই পৃথিবীর অন্য সবকিছু সৃষ্টি করেছেন –বাক্বারাহ -২৯)।
সেই সাথে আল্লাহ মানব দেহের জন্য যা উপকারী তা হালাল করা হয়েছে এবং যা ক্ষতিকর তা হারাম করা হয়েছে।
(এরই মধ্যে বলে নেই, যারা ঘোড়ার মাংস হারাম ফতোয়া দেয়, খোঁজ নিয়ে গিয়ে দেখুন ,তাদের শতকরা ৯৯ জনে শরীরের জন্য ক্ষতিকর জর্দা, সুপারি, চুন, খয়ের ইত্যাদি খায় যা আল্লাহ হারাম করেছেন।
এসব আল্লাহ কোথায় হারাম করেছেন?
আল্লাহ পবিত্র কুরআনে স্পষ্ট বলে দিয়েছেন যে শরীরের জন্য ক্ষতিকর সবকিছু তোমাদের জন্য হারাম। আর এই শব্দে হারাম তা ডাক্তাররা যেমন বলে আর যারা খায় এই নোংরা জিনিস তারাও জানে)

ঘোড়ার মাধ্যমে যেমন যুদ্ধ করা যায় তেমনি বাহন হিসাবেও ব্যবহার করা হয়। আবার ঘোড়াকে মনোরঞ্জনের ও সৌন্দর্যের জন্যও পোষা হয়। আর এর গোশত খাদ্য হিসাবে গ্রহণ করার মাধ্যমে আমিষের চাহিদা মিটানো যায়। তবে ঘোড়া যুদ্ধে ব্যবহার হওয়া ঘোড় রাসূল সাঃ সাময়িক কিছুদিনের জন্য গোশত খেতে নিষেধ করেছিলেন। যেমন আমাদের দেশে এখনো কিছুদিনের জন্য বিভিন্ন বিলে মাছ শিকার বা নদীতে ইলিশ শিকার নিষিদ্ধ করা হয়।
৭ম হিজরী সনে ঘোড়ার গোশত খাওয়ার আদেশ দিয়ে আল্লার রাসুল হাদিস বর্ণনা করেন যা প্রথমেই দেওয়া হয়েছে।

কোরআন থেকে দলীল :
মুসলমানদের জন্য কেবল সে সকল প্রাণী হারাম যেগুলো হারাম হওয়ার বিষয়ে আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল সা. নির্দেশনা দিয়েছেন কিংবা শরী‘আতে হারাম হওয়ার যে সূত্র বর্ণিত হয়েছে তার আওতাভুক্ত হয়ে যাচ্ছে। তাছাড়া সকল প্রাণীর গোশত মুসলমানদের জন্য হালাল।
আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
“হে রাসুল আপনি বলে দিন,আমার নিকট যেসব বিধান অহি করা হয়েছে, সেখানে ভক্ষণকারীর জন্য আমি কোন খাদ্য হারাম পাইনি যা সে ভক্ষণ করে, কেবল মৃত প্রাণী, প্রবাহিত রক্ত ও শূকরের গোশত ব্যতীত। কেননা এগুলি নাপাক বস্ত্ত এবং ঐ প্রাণী ব্যতীত, যা অবাধ্যতা বশে আল্লাহ ব্যতীত অন্যের নামে উৎসর্গ করা হয়েছে। তবে যে ব্যক্তি ক্ষুধায় কাতর হয়ে বাধ্যগত অবস্থায় জীবন রক্ষার্থে তা খায় কোনরূপ আকাঙ্ক্ষা ও সীমালংঘন ছাড়াই, তার ব্যাপারে আল্লাহ ক্ষমাশীল ও দয়াবান”।
–আন‘আম -১৪৫!!

এখানে উল্লেখ্য যে, কমন ভাবে
“ঘাস ও লতাপাতা খেয়ে বেঁচে থাকে এমন সকল প্রাণী হালাল” করেছেন শুধুমাত্র পালিত গাধা ছাড়া। কেননা গাধাকে আল্লাহর রাসুল সা. খাওয়ার জন্য সরাসরি নিষেধ করেছেন।
অপরদিকে “মাংস খেয়ে বেঁচে থাকে এমন সকল স্থলচর প্রাণী হারাম।”

হাদিসের দলিলঃ
ঘোড়ার মাংস খাওয়ার ব্যাপারে বহু হাদীছ বর্ণিত হয়েছে। নিচে কয়েকটি উল্লেখ করবো ইনশাআল্লাহ।

(১) আসমা রাঃ হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাঃ এর সময় আমরা একটি ঘোড়া যবেহ করলাম এবং সেটি খেলাম। আর আমরা তখন মদীনায় ছিলাম।উক্ত গোশত আমরা খেলাম এবং রাসূলুল্লাহ সাঃ এর পরিবারের সদস্যরাও খেয়েছিলেন।
— তাবারানী কাবীর- ২৩২।

আরেকটি বর্ণনায় রয়েছে, আসমা (রাঃ) বলেন,আমরা রাসূলুল্লাহর যুগে আমাদের একটি ঘোড়ার গোশত খেয়েছিলাম।
— আহমাদ ২৬৯৭৫, সনদ ছহীহ।
উক্ত হাদিসকে তাফসীর করতে গিয়ে ইমামগণ উল্লেখ করেন যে, মদীনায় হিজরতের পর ঘোড়ার গোশত খাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করার কারণ হচ্ছে কেউ যেন বলতে না পারে যে, জিহাদ ফরযের পর ঘোড়ার গোশত হারাম করা হয়েছে।
আর “নবীর সময়ে” বাক্যটি বলার উদ্দেশ্য হচ্ছে কেউ যেন বলতে না পারে যে, সাহাবায়ে কেরামের গোশত খাওয়ার বিষয়টি রাসূল সাঃ জানতেন না।
— ফাতহুল বারী, ৯/৬৪৯।

২// জাবের রাঃ বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাঃ খায়বারের যুদ্ধের দিন গৃহপালিত গাধার গোশত হারাম করেছেন এবং ঘোড়ার গোশত খাওয়ার অনুমতি দিয়েছেন। অন্য বর্ণনায় রয়েছে, আর ঘোড়ার গোশতের ব্যাপারে অনুমতি দেওয়া হয়েছে’।
— বুখারী – ৪২১৯।
উপরে হাদিসে বর্ণিত গৃহপালিত গাধা হারাম কিন্তু বন্য গাধা খাওয়া হালাল। যেমন: জেব্রা একপ্রকার বন্য গাধার অন্তর্ভুক্ত প্রাণী।

৩// জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, তিনি বলেন, খায়বারে আমরা ঘোড়া এবং বন্য গাধার গোশত খেয়েছি। পক্ষান্তরে নবী করীম সাঃ আমাদেরকে “গৃহপালিত” গাধার গোশত খেতে নিষেধ করেছেন’।
–মুসলিম – ১৯৪১।
উপরে উল্লেখিত হাদিস দ্বারা প্রমাণিত যে, গৃহপালিত গাধা খাওয়ার হারাম হলেও বন্য গাধা খাওয়া হালাল।

৪// জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ রাঃ বলেন, খায়বারের দিন আমরা ঘোড়া, খচ্চর ও গাধা যবহ করেছি। রাসূলুল্লাহ সাঃ আমাদেরকে খচ্চর ও গাধার গোশত খেতে বারণ করলেন, কিন্তু ঘোড়ার গোশত খাওয়ার অনুমতি দিলেন, এবং তিনি তা নিষেধ করেননি।
— আবূদাউদ – ৩৭৮৯; আহমাদ – ১৪৮৮৩; ছহীহাহ –৩৫৯-এর আলোচনা।

আর খায়বারের যুদ্ধ হয়েছিল ,৭ম হিজরীতে। এরপরে যদি ঘোড়ার গোশত হারাম করা হত তাহ’ষলে সাহাবায়ে কেরাম অবশ্যই বর্ণনা করতেন।

ঘোড়ার গোশত খাওয়ার বিষয়ে তাবেঈগণের রহঃ উল্লেখ্যরা কিছু হাদিস নিম্নে দেওয়া হলো–
তাবেঈগণ থেকে ঘোড়ার মাংস হালাল হওয়ার ব্যাপারে একটি দুটি নয় বরং বহু বর্ণনা পাওয়া যায়। তার মধ্যে কয়েকটি বিশুদ্ধ সনদে বর্ণিত হাদিস নিম্নে উল্লেখ করা হল–

১// বিখ্যাত তাবেয়ী এবং হাদিস বিশারদ হাসান বছরী বলেন, রাসূলুল্লাহ সাঃ এর সাহাবীগণ যুদ্ধকালীন সময়ে ঘোড়ার গোশত খেতেন।
— ইবনু আবী শায়বাহ, হাদিস নং ৪৩১২।

২// ইবরাহীম নাখঈ বলেন, আব্দুল্লাহর সাথীরা ঘোড়া যবহ করেছিলেন এবং এর গোশত নিজেদের মাঝে বণ্টন করে নিয়েছিলেন।
— ইবনু আবী শায়বাহ হাদিস নং ২৪৩১২; মুছান্নাফে আব্দুর রাযযাক- ৮৭৩২।

(৩) আত্বা বিন রাবাহ (রহঃ) বলেন, আমাদের নিকট হাদীছ পৌঁছেছে যে, নবী করীম সাঃ এর ছাহাবীগণ ঘোড়ার গোশত খেতেন।
–মুছান্নাফে আব্দুর রাযযাক হাদিস-৮৭৩৩।

(৪) আত্বা বিন রাবাহ রহঃ বলেন, তোমার পূর্ব পুরুষেরা ঘোড়ার গোশত খেয়ে আসছেন। ইবনু জুরাইজ বলেন, আমি তাকে বললাম, রাসূলুল্লাহর ছাহাবীগণ? তিনি বললেন, হ্যাঁ।
— ফাতহুল বারী ৯/৬৫০, নায়লুল আওতার ৮/১২৬।

ঘোড়ার মাংস হালাল হওয়ার বিষয়ে প্রসিদ্ধ চার ইমামের অভিমতঃ

হানাফী মাযহাবের মধ্যে অল্প কিছু মতপার্থক্য রয়েছে। ইমাম আবু হানীফার নিকট ঘোড়ার গোশত খাওয়া হারাম বলেননি বরং মাকরূহ বলেছেন। তবে তার প্রধান দুই ছাত্র ইমাম আবু ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মাদ রহঃ সহ অন্যান্য সকল ছাত্ররা ঘোড়ার গোশতকে গরু ছাগলের মাংসোর মতই শতভাগ হালাল বলেছেন।

হানাফী মাযহাবের অন্যতম একজন ইমাম এবং হাদীস শাস্ত্র ও ফিকাহ বিশারদ ইমাম ত্বাহাবী রহঃ
যিনি বিখ্যাত বিশুদ্ধ হাদিস গ্রন্থ তো হাদীস শরীফের সংকলক, তিনি বলেন, ‘ইমাম আবু হানীফা ঘোড়ার গোশত খাওয়াকে মাকরূহ হওয়ার পক্ষে গিয়েছেন। কিন্তু তার দুই সাথীদ্বয় ইমাম আবু ইউসুফ ও মুহাম্মাদ ও অন্যান্যরা বিরোধিতা করেছেন ও ঘোড়ার গোশত খাওয়া হালাল বলেছেন।
— কুদূরী ২/১৮৫; ফাতহুল বারী ৯/৬৫০।

মালেকী মাযহাবের বিদ্বানগণ তিনভাগে ভাগ হয়েছেন। একদল জায়েযের পক্ষে, আরেকদল মাকরূহের পক্ষে এবং অন্য দলটি খাওয়া ঠিক নয় পক্ষে।
তবে ইমাম মালেক রহঃ যুদ্ধে ব্যবহার করা ঘোড়ার গোশত না খাওয়ার পক্ষে মত প্রকাশ করেছেন।
— শরহুয যারকানী আলা মুয়াত্তা ৩/১৯৩।

মালেকী বিদ্বান ইমাম বাজী, হাত্তাব, খলীল ও অন্যান্যরা ঘোড়ার গোশত খাওয়াকে হালাল বলেই শেষ করেননি বরং কিভাবে এটা যবেহ করতে হবে তাও বিস্তারিত বলে দিয়েছেন। তারা বলেন, যবহের ক্ষেত্রে গরুর মতই যবেহ করতে হবে ।
— মাওয়াহিবুজ জলীল, তৃতীয় খন্ড,২২০ পৃঃ।

শাফেঈ মাযহাবের সকল বিদ্বান ঘোড়ার গোশতকে হালাল বলেছেন। শুধু তাই নয় বরং
ইমাম শাফেঈ রাঃ বলেন,‘ঘোড়ার নামে এবং ঘোরার মতো যা কিছু আছে, যেমন ইরাব, মাক্বারীফ ও বিরযান সব খাওয়া জায়েয’।
— কিতাবুল উম্ম ২/২৭৫।

মুসলিম শরীফের তাফসীরকারক এবং বিখ্যাত কিতাব “রিয়াদুস সালেহীন” এর লেখক ইমাম নববী রহঃ বলেন, ‘ঘোড়ার গোশতের বৈধতার ব্যাপারে বিদ্বানগণ কিছুটা মতপার্থক্য করেছেন। শাফেঈ মাযাহাব এবং পূর্ব ও পরের জমহূর বিদ্বানগণ ঘোড়ার গোশতকে হালাল মনে করেন। তবে ইমাম নববী বলেন ঘোরার মাংসের মধ্যে কোন অপসন্দনীয় কিছু নেই । অর্থাৎ সম্পূর্ণ হালাল।।
— শরহুন নববী ১৩/৯৫।

হাম্বলী মাযহাবের সর্বসম্মত মত হচ্ছে ঘোড়ার গোশত খাওয়া সম্পূর্ন হালাল। এ বিষয়ে তাঁরা বুখারী, মুসলিম ও মুসনাদে আহমাদে বর্ণিত অত্যন্ত মজবুত ও বিশুদ্ধ হাদীছগুলো দলীল হিসাবে গ্রহণ করেছেন।
ইবনু কুদামাহ রহঃ একেবারে পরিষ্কার করে বলে দিয়েছেন, শুধু নির্দিষ্ট কিছু ঘোড়া নয় বরং ‘সকল প্রকার ও প্রজাতির ঘোড়া ও তাদের বাচ্চাদের গোশত জায়েয।
ইমাম আহমাদ রহঃ এর উপরেই দলীল এর উপর অটল অবিচল থেকেছেন।
— আল-মুগনী ৯/৪১১।

🇸🇦🇸🇦 ঘোড়ার মাংস খাওয়ার ব্যাপারে পরবর্তী আলেমগণের অভিমতঃ
১// ইমাম ইবনু হাযম রহঃ বলেন ‘ঘোড়ার গোশত খাওয়ার ব্যাপারে আলেমদের ফৎওয়াগুলো প্রায় সর্বসম্মতভাবে প্রমাণিত।
আমরা আগে যা উল্লেখ করেছি তার উপর ভিত্তি করে এবং ইবনে আববাস রাঃ কর্তৃক একটি বর্ণনা ব্যতীত যা বিশুদ্ধ নয় পূর্বসূরীদের মধ্যে কেউ ঘোড়ার গোশত খাওয়াকে অপসন্দ করতেন বলে আমরা জানি না’।
— মুহাল্লা ৬/৮৩।

ইমাম ইবনু হাযম রহঃ অন্যত্র বলেন, ‘ঘোড়ার গোশত খাওয়া সম্পূর্ণ হালাল’।
–মুহাল্লা ৬/৮৮।

২// ইমাম নববী রহঃ যিনি মুসলিম শরীফের ব্যাখ্যা লিখেছেন এবং বিখ্যাত গ্রন্থ রিয়াদুস সালেহীন লিখেছেন- ঘোড়ার গোশত হালাল ও বৈধতার দীর্ঘ বর্ণনা শেষে বলেন, ‘আমরা পূর্বেই উল্লেখ করেছি যে, আমাদের মাযহাব হচ্ছে ঘোড়ার মাংস সম্পূর্ণ হালাল, এর মধ্যে কোন অপসন্দনীয় বিষয় নেই। এরপর তিনি বহু সাহাবী ও তাবেঈর নাম উল্লেখ করেন, যারা ঘোড়ার গোশতকে হালাল সাব্যস্ত করেছেন’।
— আল-মাজমূ- ৯/০৪।

৩// হাফেয ইবনু হাজার আসক্বালানী রহঃ , যিনি বুখারী শরীফের সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা লিখেছেন এবং এ পৃথিবীর বিখ্যাত গ্রন্থ “বুলুগুল মারাম” গ্রন্থ লিখেছেন, তিনি বলেন, বেশ কিছু তাবেঈ সাহাবীগণ থেকে কাউকে বাদ না দিয়ে সবার থেকে ঘোড়ার গোশত হালাল হওয়ার কথা বর্ণনা করেছেন’।
— ফাতহুল বারী ৯/৬৫০।

৪// ইমাম ইবনু তায়মিয়াহ রহঃ বলেন, ‘কোন একটি সহীহ হাদীসেও রাসূলুল্লাহ সা. থেকে ঘোড়ার গোশত হারাম হওয়ার বিষয়টি সাব্যস্ত হয়নি’।
— জামেউল মাসায়েল ৪/৩৪৩।

ইবনু তায়মিয়াহ রহঃ)ষ বলেন ‘ইমাম শাফেঈ, আহমাদ ও আবু হানীফার সাথীদ্বয়সহ সকল হাদীছের ফক্বীহদের নিকট ঘোড়ার গোশত হালাল’।
— মাজমূউল ফাতাওয়া ৩৫/২০৮।

৫// ইমাম ইবনুল ক্বাইয়িম রহঃ বলেন, ‘রাসূলুল্লাহ থেকে সাব্যস্ত হয়েছে যে, তিনি ঘোড়ার গোশত খাওয়ার অনুমতি দিয়েছেন এবং গাধার গোশত খেতে নিষেধ করেছেন।
(যেহেতু রাসূল সাঃ অনুমতি দিয়েছেন সেহেতু এটা সুন্নত হিসেবে সাব্যস্ত। তাই এটাই ঠিক যে ঘোড়ার মাংস খাওয়া শুধু জায়েজ বা হালাল নয় বরং রাসূল সাল্লাল্লাহু ওয়া সাল্লামের অনুমতি জন্য এটি খাওয়া সুন্নত)
এরপর তিনি এ সংক্রান্ত দু’টি হাদীছ উল্লেখ করে বলেন, ‘হাদীছ দু’টি ঘোড়ার গোশত হালাল হওয়ার ব্যাপারে বিশুদ্ধ সনদে প্রমাণিত। এ দু’টোর বিরোধী কোন বর্ণনা নেই’।
— যাদুল মা‘আদ ৪/৩৪৩-৪৪।

৬// শায়খ আব্দুল আযীয বিন বায রহঃ বলেন, (যিনি বর্তমান সময়ের বিখ্যাত আলেম হিসেবে সমস্ত দুনিয়ায় প্রসিদ্ধ)
বিন বায বলেন- “ঘোড়ার গোশত হালাল। এর উপরেই জমহূর বিদ্বানগণের ফৎওয়া। আর এটাই সঠিক। আর নবী করীম সা. ঘোড়ার মাংস খাওয়ার ব্যাপারে অনুমতি দিয়েছেন’।
— ফাতাওয়া নূরুন আলাদ-দারব।

আধুনিক বিশ্বের আরেক বাহারুল আলম, শায়খ মুহাম্মাদ বিন ছালেহ আল-উছায়মীন রহঃ কে শায়খকে ঘোড়ার গোশত হালাল হওয়ার বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি হালাল হওয়ার বিষয়ে উত্তর দিয়ে হারামের পক্ষে উপস্থাপিত দলীলগুলোর কড়া জওয়াব দেন। এবং হারাম হওয়ার বিষয়গুলোকে তিনি সম্পূর্ণরূপে উড়িয়ে দেন।
–আশ-শারহুল মুমতে‘ ১৫/২৮,৩০।

বিশ্ব বিখ্যাত ফতোয়ার কিতাব “ফাতাওয়া লাজনা দায়েমা”য় বলা হয়েছে, ঘোড়ার গোশত হালাল হওয়া কোন গোপন বিষয় নয় ।
ইসলামের সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী ঘোড়ার গোশত খাওয়া হালাল এবং এটিই আমাদের সাথীগণ এবং আলেমদের মধ্যে যারা তাদের সাথে একমত তাদের মতামত’।
— ফাতাওয়া লাজনা দায়েমাহ ২৬/১৮৮।

মুষ্টিমেয় আলেম কর্তৃক ঘোড়ার গোশত “হারাম” হওয়ার পক্ষে তাঁদের পেশকৃত দলীল সমূহ ও তার উত্তর।

আল্লাহ বলেন-
“তোমাদের আরোহণ ও শোভা বর্ধনের জন্য তিনি সৃষ্টি করেছেন ঘোড়া, খচ্চর ও গাধা
— নাহল -৮।
অত্র আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা ঘোড়া, খচ্চর ও গাধা সৃষ্টির দু’টি উদ্দেশ্য আলোচনা করেছেন আর তা হচ্ছে আরোহণ ও শোভাবর্ধন।
আল্লাহ খাওয়ার জন্য ঘোড়া সৃষ্টি করেননি। তাছাড়া রাসূল স. খচ্চর ও গাধার গোশত হারাম করেছেন। আর ঘোড়ার কথা আল্লাহ ঐ ২টির সাথেই উল্লেখ করেছেন।

তাদের এই ফতোয়ার উত্তর হল–
প্রথমত: সূরা নাহল মাক্কী আর ঘোড়ার গোশত হালালের বিষয়টি ৭ম হিজরীতে সংঘটিত খায়বার যুদ্ধের সময় রুখছত বা ছাড় দেওয়ার বিষয়টি প্রমাণিত।

দ্বিতীয়ত : এই যুক্তি তখনই গ্রহণযোগ্য হত যদি না স্পষ্ট হাদীস থাকত। কারণ হাদীস হচ্ছে কুরআনের তাফসীর। অতএব তাদের উক্ত যুক্তি কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

তৃতীয়ত : বাহন হিসাবে উল্লেখ করার অর্থ এটা নয় যে, এ প্রাণীগুলো অন্য কাজে ব্যবহার করা যাবে না। বরং এর অর্থ হচ্ছে এগুলো সৃষ্টির প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে বাহন এবং শোভাবর্ধন।
যেমন জনৈক লোক গরুকে বাহন হিসাবে ব্যবহার করলে গরু রাসূলের নিকট অভিযোগ করে। এমনকি গরুটি বলে ‘আমাকে তো এজন্য সৃষ্টি করা হয়নি, আমার সৃষ্টি তো হাল-চাষ করার জন্য’।
— মুসলিম হা/২৩৮৮; তিরমিযী হা/৩৬৭৭।

অথচ এরপরেও কিন্তু গরু যবেহ করা, কুরবানী দেওয়া ইত্যাদি জায়েয।
অনুরূপভাবে উট বাহন হলেও তার গোশত হালাল।
বাহন হিসাবে ঘোড়া হারাম হলে তো উট, মহিষ ও হারাম হওয়ার কথা।

২// হারাম ফতোয়া দেওয়া আলেমদের দ্বিতীয় যুক্তিঃ
আল্লাহ বলেন, “আর তোমরা কাফেরদের মুকাবিলার জন্য সাধ্যমত শক্তি ও সদা সজ্জিত অশ্ববাহিনী প্রস্তুত রাখ, যা দিয়ে তোমরা আল্লাহর শত্রু ও তোমাদের শত্রুদের ভীত করবে’ ।
–আনফাল ৮/৬০।
ওনাদের অভিমত হলো, অত্র আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা ঘোড়াকে যুদ্ধের পশু হিসাবে উল্লেখ করেছেন। অতএব ঘোড়া যবেহ করে খাওয়া যাবে না।
এ বিষয়ে তাদের জবাব হলো:
প্রথমত: কোন পশুকে যুদ্ধের পশু হিসাবে উল্লেখ করা তার গোশত হারাম হওয়ার দলীল নয়।
বরং ঘোড়াও অন্যতম গবাদি পশু, যার দ্বারা বহু উপকার গ্রহণ করা যায়। যেমন-
আল্লাহ বলেন, “আর তোমাদের জন্য গবাদিপশু হালাল করা হয়েছে। তবে যেগুলি হারাম হওয়া বিষয়ে তোমাদের উপর পাঠ করা হয়েছে সেগুলি ব্যতীত” !
–মায়েদাহ -০১!

উল্লেখ্য যে সর্বসম্মতিক্রমে ঘোড়া একটি গবাদি পশু যা কোরআনে উল্লেখ করা হয়েছে।

দ্বিতীয়ত: আল্লাহ তা‘আলা যে প্রাণীর গোশত সরাসরি হারাম করেননি তা হারাম করার কারো অধিকার নেই। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘তুমি বলে দাও, আমার নিকট যেসব বিধান ওহি করা হয়েছে, সেখানে ভক্ষণকারীর জন্য আমি কোন খাদ্য হারাম পাইনি যা সে ভক্ষণ করে, কেবল মৃত প্রাণী, প্রবাহিত রক্ত ও শূকরের গোশত ব্যতীত। কেননা এগুলি নাপাক বস্তু এবং ঐ প্রাণী ব্যতীত, যা অবাধ্যতা বশে আল্লাহ ব্যতীত অন্যের নামে উৎসর্গ করা হয়েছে। তবে যে ব্যক্তি ক্ষুধায় কাতর হয়ে বাধ্যগত অবস্থায় জীবন রক্ষার্থে তা খায় কোনরূপ আকাঙ্ক্ষা ও সীমালংঘন ছাড়াই, তার ব্যাপারে আল্লাহ ক্ষমাশীল ও দয়াবান !
— আন‘আম ৬/১৪৫।

৩// খালিদ ইবনুল ওয়ালিদ রাঃ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন ‘রাসূলুল্লাহ সাঃ আমাদেরকে ঘোড়া, খচ্চর ও গাধার গোশত খেতে নিষেধ করেছেন’।
— আবূদাউদ হা/৩৭৯০; মিশকাত হা/৪১৩০।

উক্ত হাদিসের জবাব
প্রথমত : উক্ত হাদীছের সনদ নিতান্তই খুবই যঈফ বা দূর্বল যা আমলযোগ্য নয়।।
— যঈফুল জামে‘ হা/৬০৩৪।

দ্বিতীয়ত : ইমাম আবূদাউদ রহঃ উক্ত হাদীছ বর্ণনার পর বলেন, ঘোড়ার গোশত খাওয়া দোষের কিছু নয় এবং উপরোক্ত হাদীছ মোতাবেক আমল করা হয় না।

তৃতীয়ত : এটি বুখারী ও মুসলিমের হাদীছ দ্বারা মানসূখ অর্থাৎ বাতিল। ইমাম আবূদউদ রহঃ বলেন, এ হাদীছ মানসূখ বা বাতিল।
রাসূলুল্লাহ সাঃ এর একদল ছাহাবী ঘোড়ার গোশত খেয়েছেন। ইবনু যুবায়র, ফাযালাহ ইবনু উবাইদ, আনাস ইবনু মালেক, আসমা বিনতু আবূবকর, সুওয়াইদ ইবনু গাফলাহ রহঃ ও আলকামাহ রহঃ তাদের অন্তর্ভুক্ত। রাসূলুল্লাহ সঃ এর যুগে মুসলিম কুরাইশগণ ঘোড়া যবহ করতেন।
— আবুদাউদ হা/৩৭৯০-এর আলোচনা দ্রষ্টব্য।

৪// খালিদ ইবনুর ওয়ালিদ রাঃ সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাঃ এর সঙ্গে খায়বার যুদ্ধে যোগদান করেছি। ইহুদীরা এসে অভিযোগ করল যে, লোকেরা তাড়াহুড়া করে তাদের বাঁধা পশুগুলো লুণ্ঠন করে নিয়ে যাচ্ছে। রাসূলুল্লাহ সাঃ বললেন, সাবধান! যে কাফেররা তোমাদের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয় ন্যায়সংগত অধিকার ছাড়া তাদের মাল আত্মসাৎ করা বৈধ নয়।
তোমাদের প্রতি হারাম করা হয়েছে গৃহপালিত গাধা, ঘোড়া, খচ্চর, প্রত্যেক শিকারী দাঁতযুক্ত হিংস্র জন্তু এবং প্রত্যেক পাঞ্জাধারী শিকারী পাখী।
— আবুদাউদ হা/৩৮০৬।

উক্ত হাদিসের জবাব
প্রথমত: হাদীছের সনদ যঈফ, যা গ্রহণযোগ্য নয়।– যঈফাহ হা/৩৯০২।

দ্বিতীয়ত: খালিদ বিন ওয়ালীদের ওপর এটা বড়ই অপবাদ। কারণ খালিদ বিন ওয়ালীদ খায়বার বিজয়েরও এক বছর পরে ইসলাম গ্রহণ করেন।
— বুখারী হা/৫৫১১, ৫৫১৯; মুসলিম হা/১৯৪২।

আল্লামা ওয়াক্বেদী নামক বিখ্যাত মুহাদ্দিস বলেন ‘এটা ছহীহ নয়; কারণ খালিদ ইসলাম গ্রহণ করেছেন খায়বার বিজয়ের পর’।

সবশেষে হালাল বা হারাম নির্ণয়ের মানদন্ড হচ্ছে পবিত্র কুরআন ও ছহীহ সুন্নাহ। সুতরাং কুরআন ও সুন্নাহ যে বস্ত্ত বা প্রাণীকে হারাম করেছে কেবল সেগুলো হারাম। হালালকে হালাল এবং হারামকে হারাম হিসাবে জানা ঈমানের অন্যতম অংশ। অতএব ঘোড়ার গোশত খাওয়ার ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ সাঃ অনুমতি দিয়েছেন এবং ছাহাবায়ে কেরাম খেয়েছেন। ফলে তাকে হারাম বলার কোন সুযোগ নেই। তবে যদি ঘোড়ার যোগান পর্যাপ্ত না থাকে বা যুদ্ধের জন্য ব্যাপক প্রয়োজন দেখা দেয় তাহ’লে সে অজুহাতে ঘোড়া যবেহ থেকে বিরত থাকা যায়।
তাই বলে হালালকে হারাম বলার অধিকার কারো নেই। তবে এ কথাও সত্য যে, কোন জাতি কোন বিষয়ে অজানা থাকলে বা কোন বৈধ এবং যৌক্তিক কাজ করার ফলে সমাজে ফিৎনা সৃষ্টি হওয়ার আশংকা থাকলে সে কাজ থেকে সাময়িক বিরত থাকা বুদ্ধিমত্তার পরিচায়ক। আল্লাহ তা‘আলা আমাদের সকলকে কুরআন ও সুন্নাহ সঠিকভাবে বুঝার তাওফীক দান করুন
আমীন!

(বিঃ দ্রঃ উক্ত আর্টেক্যালে কোরআন হাদিসের আরবি এবারত গুলো আর্টিকেল বড় হয়ে যাওয়ার জন্য পরিহার করা হয়েছে। তাছাড়া হাদিসের নাম্বার গুলো বিভিন্ন হাদিস গ্রন্থে ভিন্ন ভিন্ন থাকতে পারে।)
Mahabubur Rahman
mahabuburrahman1720@gmail.com

ফানি অ্যাপ গুলো কেড়ে নিচ্ছে মুসলিমদের ঈমান আকিদা।

ফেইসবুকের বিভিন্ন funny এ্যাপ কেড়ে নিচ্ছে মুসলিমদের ঈমান!
আমার wife কেমন হবে, আমার Gf কেমন
হবে,আমার কয়টি বাচ্চা হবে, ২০ বছর পর আমি
দেখতে কেমন হব, বলে যারা বিভিন্ন পোষ্ট
করছেন তারা নিজের অজান্তেই নিজের ঈমান
হারিয়ে ফেলেছেন!

ভাই আপনারা কি আমার এই কথায় আশ্চর্য হচ্ছেন?
এতে আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই যেটা সত্য সেটাই
বললাম..

আপনি ফেইসবুকের যেসব এ্যাপ ইউজ করে
নিজের ভবিষ্যৎ জেনে নিচ্ছেন তা আপনার নিজের
অজান্তেই আপনাকে মুশরিক বানিয়ে ফেলেছে!
বানিয়ে ফেলছে আপনাকে কাফির ! বের করে
দিচ্ছে আপনাকে মুসলিম মিল্লাত থেকে!
তওবা করে ফিরে আসুন..

ভাই আপনারা হয়তো ফান করার জন্যই পোষ্ট গুলি
করছেন কিন্তুু এটা এমন এক বিষয় নিয়ে ফান করা
হচ্ছে যা আপনার ঈমান ধ্বংস করে দিচ্ছে!

আপনি যে এপের আশ্রয় নিয়ে নিজের ভবিষ্যৎ
জানলেন তাকে ইসলামী পরিভাষায় গায়িব বলা হয় বা
ভবিষ্যৎ বক্তা বা গনকের কথা বিশ্বাস করাকে বুঝায়!

মনে রাখতে হবে পৃথিবীর কোন এ্যাপ গনক শুধু
নয় পৃথিবীতে যত নবী রাসুল এসেছিলেন তারা
কেউই গায়িব বা ভবিষ্যৎ জানতেন না! অথচ আপনি
বিশ্বাস করছেন একটি এ্যাপ আপনার ভবিষ্যৎ জানে!
আস্তাগফিরুল্লাহ!
আল্লাহ বলেনঃ
ﻗُﻞ ﻟَّﺎ ﻳَﻌْﻠَﻢُ ﻣَﻦ ﻓِﻰ ﭐﻟﺴَّﻤَٰﻮَٰﺕِ ﻭَﭐﻟْﺄَﺭْﺽِ ﭐﻟْﻐَﻴْﺐَ ﺇِﻟَّﺎ ﭐﻟﻠَّﻪُ ﻭَﻣَﺎ
ﻳَﺸْﻌُﺮُﻭﻥَ ﺃَﻳَّﺎﻥَ ﻳُﺒْﻌَﺜُﻮﻥَ
বলুন, আল্লাহ ব্যতীত নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলে
কেউ গায়বের খবর জানে না এবং তারা জানে না যে,
তারা কখন পুনরুজ্জীবিত হবে।
সূরা আন নম্ল ( ﺍﻟﻨّﻤﻞ ), আয়াত: ৬৫

উপরের আয়াতটি ভালভাবে দেখুন যেখানে
পৃথিবীর কেউই গায়িব জানেনা একমাত্র আল্লাহ ছাড়া
সেখানে আপনি একটি এ্যাপকে গায়িব জানে বলে
বিশ্বাস করছেন! যেটা সরাসরি আল্লাহর সাথে শরিক
করা..

রাসুল ﷺ বলেনঃ যে ব্যাক্তি কোন
ভবিষ্যৎ বক্তা তথা গনক এ্যাপ পীর জ্বীনের কথা
বিশ্বাস করে সে আমার উপর নাযিলকৃত কোরআন
হাদিস অস্বীকার করল!
বলুনতো, যে ব্যাক্তি কোরআন হাদিস অস্বীকার
করে সে কি মুসলিম হতে পারে??
অবশ্যই না!
ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻲ ﻫُﺮَﻳْﺮَﺓَ ﻭَﺍﻟْﺤَﺴَﻦِ ﻋَﻦ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲِّ ﷺ
ﻗَﺎﻝَ ﻣَﻦْ ﺃَﺗَﻰ ﻛَﺎﻫِﻨًﺎ ﺃَﻭْ ﻋَﺮَّﺍﻓًﺎ ﻓَﺼَﺪَّﻗَﻪُ ﺑِﻤَﺎ ﻳَﻘُﻮﻝُ ﻓَﻘَﺪْ ﻛَﻔَﺮَ
ﺑِﻤَﺎ ﺃُﻧْﺰِﻝَ ﻋَﻠَﻰ ﻣُﺤَﻤَّﺪٍ ﷺ
আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘যে ব্যক্তি কোন ভবিষ্যৎ
বক্তার নিকট উপস্থিত হয়ে সে যা বলে তা সত্য
মনে (বিশ্বাস) করল, সে ব্যক্তি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপর অবতীর্ণ (কুরআনের
হাদিস ) অস্বীকার করল।’’
গ্রন্থঃ হাদীস সম্ভার
অধ্যায়ঃ ২২/ নিষিদ্ধ কার্যাবলী
হাদিস নম্বরঃ ২০৫৩
আহমাদ ৯৫৩৬, হাকেম ১৫, সহীহুল জামে’ ৫৯৩৯,
ইবনু মাজাহ ৬৩৯, তিরমিজি ১৩৫ ইফাঃ
হাদিসের মানঃ সহিহ
অভিশপ্ত শয়তান আপনাদের কোথায় নিয়ে যাচ্ছে তা
কি একটুও ভাববেন না??
রাসুল ﷺ আরো বলেন,যে ব্যাক্তি
কোন ভবিষ্যৎ বক্তার কথা বিশ্বাস করে তার চল্লিশ
দিনের সালাত কবুল হবেনা!
ﻭَﻋَﻦْ ﺻَﻔِﻴَّﺔَ ﺑِﻨﺖِ ﺃَﺑِﻲ ﻋُﺒَﻴﺪٍ ﻋَﻦ ﺑَﻌﺾِ ﺃَﺯﻭَﺍﺝِ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲِّ
ﷺ ﻭَﺭَﺿِﻲَ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻨﻬَﺎ ﻋَﻦِ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲِّ
ﷺ ﻗَﺎﻝَ ﻣَﻦْ ﺃَﺗَﻰ ﻋَﺮَّﺍﻓﺎً ﻓَﺴَﺄَﻟَﻪُ ﻋَﻦْ ﺷَﻲْﺀٍ
ﻟَﻢْ ﺗُﻘْﺒَﻞْ ﻟَﻪُ ﺻَﻼَﺓٌ ﺃَﺭْﺑَﻌِﻴﻦَ ﻟَﻴﻠَﺔ ﺭﻭﺍﻩ ﻣﺴﻠﻢ
স্বাফিয়্যাহ বিনতে আবূ উবাইদ নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লাম এর কোন স্ত্রী (হাফসাহ রাযিয়াল্লাহু
আনহা) হতে বর্ণনা করেছেন, নাবী সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি গণকের
নিকট এসে কোন (গায়বী) বিষয়ে প্রশ্ন করে,
তার চল্লিশ দিনের নামায কবুল করা হয় না।’
গ্রন্থঃ সহীহ মুসলিম (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ৪০/ সালাম ( ﻛﺘﺎﺏ ﺍﻟﺴﻼﻡ )
হাদিস নম্বরঃ ৫৬২৭
হে আমার মুসলিম ভাইয়েরা শয়তানের ফাঁদে পড়ে
কেন এভাবে নিজের ঈমান বিসর্জন দিচ্ছেন? ?
একটু ফান করতে গিয়ে শয়তান আপনাকে কাফির
মুশরিকে পরিনত করছে অথচ আপনি টেরও
পাচ্ছেন না!
কবে ফিরবে আপনাদের হুশ??