ছবিতে পাকিস্তানের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ভুট্টোকে সৌদির বাদশা ফায়সালের সাথে দেখা যাচ্ছে।
✅✅ ভুট্টুর প্রতি বাদশা ফয়সালের একটি সুন্দর নসিহা বা ইসলামিক উপদেশ সকল ঈমানদার নয় বরং সকল মানুষের জন্য সমহারে প্রযোজ্য , যা তিনি পাকিস্তান সফরে গিয়ে করেছিলেন।
সালটা ছিল ১৯৭৪ ইচ্ছাই সালের ২২ ফেব্রুয়ারি!রাষ্ট্রীয় সফরে সৌদি বাদশাহ ফয়সাল পাকিস্তান এলেন! তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জুলফিকার আলি ভূট্টো সরকারী সফরসুচী অনুযায়ী বাদশাহকে নিয়ে- পাকিস্তানের জাতির পিতা কয়েদ এ আজম মুহাম্মদ আলি জিন্নাহর কবরের কাছে গেলেন। শ্বেতপাথরে বাঁধানো উঁচু জাঁকজমকপূর্ন কবর।ভূট্টো নিজে জিন্নাহর কবরকে স্যালুট করলেন ও বাদশাহ ফয়সালকেও অনুরূপ সম্মান জানাতে অনুরোধ করলেন!
উল্লেখ্য যে, বাদশাহ ফয়সাল ছিলেন শিরক ও বিদআতের বিরুদ্ধে কঠোর সাহসী এক মহান পুরুষ। অবাক হয়ে বাদশাহ ফয়সাল বললেন-একটি কবরকে আমি কেনো স্যালুট করবো? ভূট্টো বললেন- এটি পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা জিন্নাহর কবর!এখানে সম্মান প্রদর্শন করতে হয়। এবং এটাই নিয়ম। বাদশাহ বললেন- মিঃ ভূট্টো,তোমার কাছে আছে জিন্নাহ’র কবর,আর আমার কাছে আছে নবী মুহাম্মাদ সঃ এর কবর! অবশ্যই মিস্টার জিন্দা একজন ভালো ব্যক্তিত্ব ছিলেন এবং সম্মানিত লোক ছিলেন আমরা অবশ্যই তার জন্য দোয়া করব কিন্তু কুফুরি কায়দায় সেলুট নয়। যদি তা জায়েজই থাকতো,তবে আমি মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম এবং সাহাবাগণের কবরকে স্বর্ণ দিয়ে মুড়িয়ে দৈনিক পাঁচবার সিজদাহ করতাম!
কিন্তু আফসোস,ইসলামে এটা নিষিদ্ধ! তুমি কবরের পাশে দাঁড়িয়ে মহান আল্লাকে স্মরণ করবে। মৃত ব্যাক্তিকে নয়। বরং তোমার জন্য উত্তম হলো এই কবর থেকে উপদেশ গ্রহণ করা আর কবরের ব্যক্তির জন্য দোয়া করা।
আলজেরিয়ার পতাকায় মোড়ানো যে কফিনগুলো দেখছেন সেগুলো গতানুগতিক কোনো কফিন নয়। বরং এগুলো আফ্রিকার বুকে ফ্রান্স যে ঔপনিবেশিক বর্বরতা চালিয়েছিল তার নিদর্শন, আলজেরিয়ার স্বাধীনতা সংগ্রামীদের মাথার খুলি।
এই খুলিগুলো তৎকালীন ফরাসিরা তাদের বিজয়ের ট্রফি হিসেবে প্যারিসে পাঠিয়েছিল। আর সেগুলোকে তারা স্বযত্নে রেখেছিল প্যারিসের মুজে দে লোম বা মিউজিয়াম অব ম্যানকাইন্ডে। ২০২০ সালে আলজেরিয়ার সাথে সম্পর্ক পুনর্গঠনের লক্ষ্যে ২৪টি মাথার খুলি ফেরত পাঠায় ফ্রান্স।
আইফেল টাওয়ারের দিকে মুখ করে দাঁড়িয়ে থাকা ঝলমলে এই জাদুঘরে কমপক্ষে ১৮ হাজার মানব খুলি আছে, যার মধ্যে অসংখ্য মানবখুলির উৎস আফ্রিকা। যেখান থেকে ফরাসিরা সম্পদ লুট করেছে, লাখ লাখ মানুষকে নির্মমভাবে হ*ত্যা করেছে এবং আজ অবধি তারা তাদের নব্য ঔপনিবেশিকতা অব্যাহত রেখেছে নানা ফরম্যাটে।
আলজেরিয়ার প্রতিরোধ যোদ্ধারা ফরাসিদের নৃশংস দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল। সেসব প্রতিরোধকে দমন করার জন্য এমন কোনো বর্বরতা ছিল না যা ফরাসিরা করেনি। এমনকি তারা প্রতিরোধ যু দ্ধে শহীদ সেনারা মর্যাদাপূর্ণ দাফনেরও সুযোগ দেয়নি। শহীদ যোদ্ধাদের শিরচ্ছেদ করে আলজেরিয়ার সাধারণ জনগণের সামনে প্রদর্শন করা হতো, যাতে তারা আর বিদ্রোহ করার সাহস না পায়।
পাশাপাশি তারা এসব ছিন্ন মস্তক বাক্স বন্দী করে প্যারিসে পাঠাতো, যার মাধ্যমে শাসকদের বার্তা দেওয়া হতো আফ্রিকায় ফরাসিদের প্রকৃত বিজয় অর্জিত হচ্ছে, লুণ্ঠন আর দখল দারিত্ব ঠিকঠাকই চলছে। সেই সব প্রতিরোধ যোদ্ধাদের মাথার খুলি ফরাসিরা প্যারিসের মিউজিয়াম অব ম্যানকাইন্ডে রেখে দিয়েছিল।
এবং সেখানে যে ১৮ হাজার মানব খুলি আছে তার অসংখ্যের উৎস অস্পষ্ট এবং হাজার হাজার খুলি বেজমেন্টে লুকিয়ে রাখা ছিল। ধারণা করা হয় এসবের মধ্যে আলজেরিয়ার আরো অনেক মানুষের মাথার খুলি রয়ে গেছে। যাদের মধ্যে প্রতিরোধ যোদ্ধা থেকে শুরু করে অনেক আলেমও আছেন। .
১৮৩০ সালে আলেজেরিয়া দখল করে ফ্রান্স। এরপর তারা সাধারণ আলজেরীয় নাগরিকদের থেকে উর্বর জমিগুলো কেড়ে নেয়। ফলে হাজার হাজার পরিবার ভূমিহীন ও নিঃস্ব হয়ে পড়ে। সামাজিক কাঠামো ভেঙে যায়। সেখানকার প্রশাসন, শিক্ষা ও ব্যবসাতে ফরাসিদের আধিপত্য বাড়তে থাকে এবং এক সময় ফ্রান্স আলজেরিয়াকে তাদের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে বিবেচনা করা শুরু করে।
ফরাসিদের এই দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে আলজেরীয়রা যখন প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করতো তখন তাদের উপর নেমে আসতো ভয়াবহ নির্যাতন। কালেকটিভ পানিশমেন্ট হিসেবে গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দেওয়া হতো। এমনকি শত শত আলজেরীয়কে গুহার ভেতরে বন্দী করে ধোঁয়ায় শ্বাসরোধ করে হ ত্যা করার নজিরও আছে।
১৯৪৫ সালে ৮ মে যখন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ সমাপ্ত হয়, তখন অনেক আলজেরীয় ভেবেছিলেন এবার হয়তো তারাও মুক্ত। দেশটির সেতিফ শহরে হাজার হাজার মানুষ বিজয় মিছিল নিয়ে রাস্তায় নামে এবং নিজেদের পতাকা উত্তোলন করে। কিন্তু সেসব মিছিলে গুলি চালিয়ে একদিনে ৪৫ হাজার মানুষকে হ ত্যা করে ফরাসিরা। এর মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হয় স্বাধীনতা শুধু ইউরোপের জন্য, তোমাদের জন্য নয়।
এরপর ১৯৫৪ সালে শুরু হয় আলজেরিয়ার স্বাধীনতা সংগ্রাম। আট বছরব্যাপী চলা সেই যুদ্ধে ১৫ লক্ষ মানুষকে হ ত্যা করে ফরাসিরা। শুধু সেখানেই থেমে থাকেনি, আলজেরিয়ার স্বাধীনতার আগে পরে মিলিয়ে সেখানে প্রায় ১৭টি পারমাণবিক পরীক্ষা চালায় ফ্রান্স। যার ফলে আজও স্থানীয় আলজেরীয়দের স্বাস্থ্যগত সমস্যায় ভুগতে হচ্ছে।
১৮৩০ সালে ফরাসিরা আলজেরিয়া দখল করার পর থেকে দেশটির মুসলিম আইডেন্টি মুছে ফেলার চেষ্টা করেছে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ মসজিদ থেকে শুরু করে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে তারা ধ্বংস করে দেয়।
সেই সময় আলজেরিয়ানরা এই ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো থেকেই শিক্ষা গ্রহণ করতো। ঔপনিবেশিক সরকার এসব প্রতিষ্ঠানে অর্থ বরাদ্দ বন্ধ করে দেয়। যার ফলে প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংস হয়ে যায়।
এসব প্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ার ফলে আলজেরিয়ার সিংহভাগ জনগণ নিরক্ষর হয়ে পড়ে৷ যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান টিকেছিল সেসব থেকে আরবিকে সরিয়ে ফ্রেঞ্চ কারিকুলাম চালু করা হয়। সবমিলিয়ে ফরাসিরা আলজেরিয়া থেকে ইসলামকে মুছে ফেলার চেষ্টা করে। কিন্তু আলজেরিয়ানদের হৃদয় ছিল ইসলামের আলোয় উদ্ভাসিত।
যে কারণে ১৯৬২ সালে ফরাসিদের হাত থেকে আলজেরিয়ানরা যখন স্বাধীনতা পায় তখন দেশটির সাধারণ জনগণ স্লোগান দিয়েছিল-
“ইয়া মুহাম্মাদ মাবরুক আলাইক, আল জাজা আ রাজআ তিব “
“হে মুহাম্মদ (সাঃ), আপনাকে অভিনন্দন। আলজেরিয়া আবার আপনার কাছে ফিরে এসেছে।”
👉👉 প্রেসিডেন্ট এরশাদ (বাংলাদেশের অন্যতম চরিত্রহীন প্রেসিডেন্ট)১৯৮৮ সালে সর্বপ্রথম বাংলাদেশে পতিতাদেরকে যৌন ব্যবসা করার জন্য পতিতালয়ের লাইসেন্স প্রদান করে। দৌলতদিয়া যৌনপল্লী রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দে অবস্থিত, যা বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় যৌনপল্লী। এটি ১৯৮৮ সালে সরকারি অনুমোদন দান করে এরশাদ সরকার। । তবে কয়েক দশক আগে থেকেই সেখানে অনানুষ্ঠানিক এবং অনুমোদনহীন যৌনবৃত্তি চালু ছিল । এরশাদ সরকার সর্বপ্রথম বাংলাদেশে পতিতাবৃত্তি কে ব্যবসা হিসাবে উল্লেখ করেন এবং এই অশ্লীল জেনা বেবিচার কে সার্বজনীন করে দেন। তার জন্য অবশ্যই আল্লাহর লানত তার উপর কেয়ামত পর্যন্ত বর্ষিত হতে থাকবে যতদিন যৌনপল্লী থাকে। কত নিকৃষ্ট চরিত্রের হলে এরশাদ দরিদ্র মহিলাদেরকে জেনা ব্যভিচার এর মতো জঘন্য এবং মানবতা বিরোধী কাজে লাইসেন্স প্রদান করতে পারেন চিন্তা করুন। এরশাদ শুধু স্বৈরশাসক ছিল না বরং সে ছিল বড় রকমের একজন চরিত্রহীন অসভ্য ইতর প্রকৃতির লোক। অতঃপর ক্রমান্বয়ে বাংলাদেশে 14টির মত প্রদীপ্যালয়ের অনুমোদন দেওয়া হয় এবং বর্তমানে তা অব্যাহত আছে। এরমধ্যে ৭টি ঢাকা বিভাগের মধ্যে ! ছয়টি খুলনা বিভাগে এবং একটি চরমোনাই পীরের বাড়ির কাছে বরিশালে।
কল্পনা করুন, আপনার দেশে এমন একটা স্থান আছে যেখানে চার হাজার নারী যৌন পেশায় জড়িত। একই পরিবারের সকল নারী সদস্য একই সাথে সামনা সামনি পরপুরুষের সাথে সঙ্গমে লিপ্ত হচ্ছে। হাতে সিগারেট, টেবিলে ইয়াবা, মদের বোতল। মা মেয়ে একই ঘরে একজন পুরুষের সাথে যৌনতা করছে বিনা সংকোচে। হ্যাঁ, এটা বৈধ। আপনার দেশেই হচ্ছে প্রতিনিয়ত। প্রশাসনের অনুমতি নিয়েই হচ্ছে। আপনার আশেপাশেই হচ্ছে। এমনকি বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় পীরের বাড়ির কাছেও হচ্ছে। অর্থাৎ বড় বড় লম্বা লম্বা ওয়াজ করা সেই চরমোনাই পীরের বাড়ির কাছেই বাংলাদেশের অন্যতম একটি বড় পতিতালয় অবস্থিত অথচ কোনদিন এই ব্যাপারে সে মুখ খুলতে দেখেছেন?
তবে এখানে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় পতিতালয় এর কথা বলছি , বলছি গোয়ালন্দ, রাজবাড়ির দৌলতদিয়া পতিতা পল্লীর কথা। বাংলাদেশে সরকারিভাবে অনুমোদিত পতিতালয়ের মধ্যে দৌলতদিয়া সবচেয়ে বড় যৌন পল্লী। এশিয়ার সবচেয় বড় পতিতালয়ের অন্যতম এই পল্লীতে প্রতিদিন ৩ হাজারের বেশি পুরুষ যেনা ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়ার জন্য আসে। যাদের অধিকাংশই মুসলিম ধর্মাবলম্বী। মরণব্যাধি এইডস, ক্যান্সার , সিফিলিস গনোরিয়া এবং ভয়াবহ সব ছোঁয়াছে এবং ভাইরাস জনিত চর্মরোগ ছড়িয়ে পড়ছে সারাদেশে এসব নোংরা পল্লী থেকেই।
১৯৮৮ সালে চরিত্রহীন প্রেসিডেন্ট এরশাদ ও তার জঘন্য চরিত্রের অর্থাৎ প্রতিটা চরিত্রের মন্ত্রিসভার লোকদের দ্বারা সরকারিভাবে অনুমোদনের পর থেকে আজ অব্দি নিরলসভাবে এখানে পতিতাবৃত্তি হচ্ছে অত্যন্ত স্বাভাবিক নিয়মে। অধিকাংশ যৌন কর্মীর বয়স ১৫ এর নিচে। যৌনতার পাশাপাশি প্রত্যেক আড্ডাখানায় আছে জুয়া, মদের আসর, ইয়াবা, গাঁজা অর্থাৎ ইসলামী শরিয়ায় নিষিদ্ধ সকল কার্যক্রম চলছে কোনোপ্রকার বাধা বিপত্তি ছাড়াই।
১৪টি অনুমোদিত পতিতালয়সহ দেশের আনাচে-কানাচে সহস্রাধিক অনুমোদনহীন পতিতালয় আছে বাংলাদেশে। একটি বেসরকারি হিসেবে দেখা গেছে, বাংলা দেশে অনুমোদনহীন পতিতালয়ের সংখ্যা ১২০০ এর অধিক। বিভিন্ন জেলা সদরের ও বিভিন্ন বাণিজ্যিক এলাকার হোটেলগুলোতে চলে এই অবৈধ যৌন ব্যবসা। ১৯৮৮ এর এরশাদ কর্তিক যৌনপল্লী অনুমোদনের পর থেকে গত ৩৮ বছর যাবত বাংলাদেশে কয়েক কোটি ওয়াজ মাহফিল হয়েছে। এখনও প্রতিদিন হচ্ছে বিভিন্ন জেলায়। দু এক পার্সেন্ট ওয়াজ মাহফিল ছাড়া আজ অব্দি কোনো ওয়াজ মাহফিলে এসব পতিতালয়ের বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। ইসলামী শরিয়া আইনে পরপুরুষ পরনারী সঙ্গমে লিপ্ত হলে এটাকে ‘জেনা’ বলা হয়। যার শাস্তি হল যদি সে বিবাহিত হয় তবে পাথর মেরে হত্যা করা। আর যদি অবিবাহিত হয় তবে একশত বেত মারা। ওয়াজ মাহফিলের মাধ্যমে যেহেতু বন্ধ করা যায়নি, এর অর্থ দাঁড়ায় ৩৮ বছরের ৯৮% ওয়াজ মাহফিল সম্পূর্ণ ব্যর্থ।
অত্যন্ত হাস্যকর এবং অবাক ঘটনা হলো, আমাদের বাংলাদেশে পবিত্র হজের পরেই পৃথিবীর সবচেয়ে বড় মুসলিম জামায়েত অনুষ্ঠিত হয় যা তাবলীগ জামায়াতের ইজতেমা নামে পরিচিত। এই এস্তেমা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে হাজার ১৯৫৮সাল থেকে ৬৬ সাল পর্যন্ত লালবাগ এবং ১৯৬৬ সাল থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত গাজীপুর জেলার টঙ্গীতে। কিন্তু আজ পর্যন্ত কোন তাবলীগের বয়ানে দেশের এই এক হাজারের উপর পতিতালয় এবং ১৪ টি সরকার অনুমোদিত পতিতালয় বন্ধ করার বা সেখানে গমন না করার কোন নসীয়ত শুনেছেন কেউ? অথচ ইসলামের মূল মন্ত্র হলো “সৎ কাজের আদেশ করা এবং অসৎ কাজ থেকে মানুষকে বিরত রাখা।” মূলত এই সমস্ত ওয়াজ মাহফিল এবং এস্তেমাগুলোতে সস্তা জনপ্রিয় কিছু কথাবার্তা বলা হয় এবং সস্তা কিছু আমলের কথা বলা হয়।
👉👉এবার আসি দ্বিতীয় পয়েন্টে– ৩৮ বছরে বাংলাদেশে ক্ষমতায় ছিলেন এরশাদ, যিনি বাংলাদেশকে ইসলামী জমহুরিয়াত বানাতে চেয়েছিলেন। শুধু তাই নয় তিনি বাংলাদেশের প্রথম প্রেসিডেন্ট যিনি টুপি মাথায় দেওয়া শুরু করেন এবং নিজের ধার্মিকতা প্রকাশ করার জন্য দেশের বিভিন্ন অলি আউলিয়ার দরবারে আসা যাওয়া শুরু করেন। তাছাড়া তৎকালীন জনপ্রিয় পীর আটরশির একনিষ্ঠ মুরিদ ছিলেন এরশাদ এবং প্রায়ই নাকি সরকারি পয়সা খরচ করে ঢাকা থেকে ফরিদপুর পর্যন্ত হেলিকপ্টারে গিয়ে তিনি জুমার নামাজ পড়তেন তার বাবা পীরের পেছনে। ক্ষমতায় ছিল বি এনপি, এরপর আওয়ামী লীগ, চারদলীয় জোট, (বিএনপি ,জামাত ইসলামী ঐক্য জোট) মইনুদ্দিন ফখরুদ্দিন, আবার আওয়ামী লীগ টানা ১৭ বছর ফ্যাসিবাদী ও স্বৈরশাসন চালিয়েছেন এরশাদের চেয়েও জঘন্যভাবে!, এরপর ২০২৪ সালের পাঁচই আগস্ট গণ অসন্তোষ এবং ছাত্র জনতার বিপ্লবের ফলে হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর ক্ষমতায় আসে ইউনুস রেজিম; যিনি আমূল পরিবর্তন করে ফেলবেন বলে ঘোষণা করেছিলেন। এখন আবার বিএনপি । কোন সরকারই দৌলতদিয়া সহ বাংলাদেশের প্রায় ১৪টি সরকার অনুমোদিত যৌনপল্লীর হাজার হাজার যৌনকর্মীর তথা পতিতার কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারেনি। তবে চার দলীয় জোট ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় জামাত ইসলামের পক্ষ থেকে মাওলানা সাঈদী বেশ কয়েকবার বিষয়টি উত্থাপন করলেও বিএনপি কোন আমল দেয়নি বরং বহু এমপি এবং মন্ত্রী বিরোধীতা করেছে। সাঈদী সাহেবের প্রশ্নের জবাবে এটাও বলেছে যে, দেশে পতিতালয় থাকলে নাকি ধর্ষণ সংখ্যা কমে যাবে। অথচ ধর্ষণের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই যাচ্ছে। আজকাল হঠাৎ মন্ত্রী হয়ে যাওয়া বা পয়সা দিয়ে নমিনেশন খরিদ করে এমপি হয়ে যাওয়া বহু লোককে সংসদে দাঁড়িয়ে বড় বড় বক্তৃতা দিতে দেখা যায়। স্বার্থে আঘাত লাগলে সংসদের ভেতরে এবং বাইরে গালাগালি এবং অপবাদ দিতেও দেখা যায়। এবং নারীদের পক্ষে কথা বলার জন্য বহু লোক পাওয়া যায় কিন্তু দেশের লক্ষ লক্ষ যৌনকর্মীদের পক্ষে এবং তাদের সম্মান ও কর্মসংস্থানের ব্যাপারে একমাত্র জামাত ছাড়া আর কাউকে কথা বলতে শোনা যায়নি। জামাতের কোন এমপি বা কোন নেতা যতবার যৌনপল্লী গরু বন্ধ করার কথা বলেছেন ততবারই বিরোধী পক্ষগুলো এবং তথাকথিত নারী পক্ষ গুলো, এবং নাস্তিকেরা ও বামপন্থীরা হেই হেই গেল গেল বলে চিৎকার করতে করতে জামাতের মুখ স্তব্ধ করে দিয়েছে এবং দিচ্ছে। এবছরের জামাতে ইসলামের নির্বাচনের বিভিন্ন বক্তৃতা ও প্রতিশ্রুতির মধ্যে ও পতিতাদের পুনর্বাসন করা এবং হিজড়াদের পুনর্বাসন করার প্রতিশ্রুতি ছিল। কিন্তু ইলেকশান ইঞ্জিনিয়ারিং এর মাধ্যমে তাদের প্রায় একশত আসন চুরি করে নিয়ে যাওয়ার ফলে তারা আর ক্ষমতায় যেতে পারেনি। যারা এই দেশে পতিতালয় রাখতে চায়, তাদের যুক্তি হলো- এটা নাকি পেশা! ইজ্জত বিক্রি করে দুনিয়াতে কোন পেশা হতে পারে না। এই পতিতারা শুধু নিজেরা পতিতা নয় বরং এক একজন পতিতার কাছে যাচ্ছে বছরের প্রায় ৪ #পতিত পুরুষ। এরা #পতিতা হলেও পুরুষ কিন্তু “পতিত” হয় না! পতিতালয়ে গমন করা বহু পতিত পুরুষকে আমি প্রতিটা বলে গালি দিতে দেখেছি এবং শুনেছি।
👉👉 প্রায়শই ছাত্রদের আন্দোলন করতে দেখা যায়। রাস্তায় বসে, বৃষ্টিতে ভিজে ঢাবির শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করছে। এটা চাই ওটা চাই, দাবী পূরণ করতে হবে। কিন্ত কারও দাবীতে যৌনকর্মীদের কথা নেই। এবং মাদকবিরোধী কথাবার্তা নেই। যদিও বাংলাদেশি ইসলামী ছাত্রশিবির এই সমস্ত কথার বিরুদ্ধে কিছু বলতে চেষ্টা করে ঠিক তখনই চারদিক থেকে রে রে করে ছুটে আসে এ তথাকথিত সেক্যুলার , ধর্মনিরপেক্ষতাবাদী , জাতীয়তাবাদী ও অন্যান্য এমনকি নারীবাদী সংগঠন পর্যন্ত তাদের সমালোচনা করে ছাড়ে না।
একটি দেশে ১৪ টি অনুমোদিত এবং সহস্রাধিক অনুমোদনহীন যৌন পল্লী থাকা নিশ্চয়ই গর্বের বিষয় নয়। বরং এটি আমাদের জাতীয় লজ্জা। যেখানে দেশের ৯০% মুসলিম। এবং দেশের অলিতে গলিতে গড়ে উঠেছে ব্যাঙের ছাতার মত হাজার হাজার কওমি মাদ্রাসা। এমনকি বহু মাদ্রাসা এ পতিতালয় থেকে দান-খয়রাত নিয়েও চলে এবং পতিতারা তাদের পাপ মোচনের জন্য এবং নেকির উদ্দেশ্যে মাদ্রাসাগুলোতে দান করে থাকে এমন বহু প্রমাণ রয়েছে। তাছাড়া বাংলাদেশ #হেফাজতে_ইসলাম নামক বিরাট এক সংগঠন আছে যাদের উদ্দেশ্য হল ইসলামকে হেফাজত করা (যদিও তাদের মুখ এবং চরিত্রকে আজ পর্যন্ত তারা হেফাজত করতে পারেনি এবং হেফাজত করতে পারেনি তাদের কর্মীদের যেখানে শাপলা চত্বরে তাদের পিটিয়ে মারা হয়েছে! ) যতদিন অবাধে এসব যৌনতা চলবে, ততদিন এদেশে কোনো ওয়াজ মাহফিল, তাবলীগ জামাত, ইজতেমা, নামাজ রোজা হজ্ব প্রায় অর্থহীন। কারণ যে ইসলাম যে ওয়াজ মাহফিল যে তাবলীগ ও এস্তেমা পতিতালয় বন্ধ করতে পারেনা, যারা এই সমস্ত পতিতালয় বন্ধ করার জন্য সরকারকে চাপ দেয় না বরং যে সরকার এই সমস্ত পতিতালয় চালু রাখে সেই সরকারকে সমর্থন দিয়ে ক্ষমতায় নেয় তাদের এবাদত কতটা কবুল হবে তা একমাত্র আল্লাহ জানেন। যৌন পল্লী বন্ধ না করে উন্নয়ন প্রকল্পের পদক্ষেপ নিলে সেটাও অর্থহীন। যারা মানুষের উন্নয়ন করতে পারেনা যারা দরিদ্র শ্রেণীর নারীদের উন্নয়ন করতে পারেনা সেই দেশে অন্যান্য উন্নয়ন মূলত কিছুই না। প্রথমে তো মানুষ। একটা কথা আছে, সবার উপর মানুষত্ব তাহার উপর নাই। সেই মানুষেরই যখন উন্নয়ন হয় না, সেখানে অবকাঠামোর উন্নয়ন একটা ধোকাবাজি ছাড়া আর কিছুই নয়। আপনি বাড়িতে একটা কুকুর পালন করেন সেই কুকুরকে খাবার না দিয়ে এবং চিকিৎসা না দিয়ে যদি কুকুরের ঘর বানানোর জন্য সুন্দর ও দৃষ্টি নন্দন উপকরণ কিনে আনেন তাহলে এই কুকুরের লাভ হল কি? সরকারের উচিত দ্রুত এগুলোর অনুমোদন বাতিল করে হালাল পন্থায় যৌন কর্মীদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা। তাদের জন্য বিশেষ করে আলাদাভাবে প্রকল্প হাতে নেওয়া এবং ঐ সমস্ত প্রকল্প সরাসরি সরকার দ্বারা পরিচালিত করে এবং দুর্নীতিমুক্ত করে তাদের কাজে লাগানো এবং প্রশিক্ষণ দেওয়া। আর হিজড়া সম্প্রদায়কে বিভিন্ন কাজের ও চাকরির আওতায় নিয়ে আসা। Mahabubur Rahman mahabuburrahman1720@gmail.com
🇸🇦🇸🇦 রাসূলুল্লাহ সাঃ এর দৃষ্টিতে “সর্বোত্তম মানুষ”।
মানুষের মর্যাদা ধন-সম্পদ বা বাহ্যিক অবস্থার উপর নয়; বরং ঈমান, চরিত্র ও নেক আমলের উপর নির্ভর করে। রাসূলুল্লাহ ﷺ আমাদেরকে এমন কিছু গুণের কথা শিখিয়েছেন, যেগুলো অর্জন করলে একজন মানুষ আল্লাহর কাছে প্রিয় ও মর্যাদাবান হয়ে ওঠে। নিচে হাদিসের আলোকে সেই ১২টি গুণ তুলে ধরা হলো—নিজেকে মিলিয়ে দেখার জন্য:
🇸🇦রাসুলুল্লাহ সাঃ বলেছেন, “তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম সে, যে নিজে কুরআন শেখে এবং অন্যকে শেখায়।” (সহিহ বুখারি: ৫০২৭) কুরআনের সাথে যার সম্পর্ক গভীর, সে আল্লাহর কাছে তত প্রিয়।
🇸🇦“তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম সে, যার চরিত্র সবচেয়ে উত্তম।” (সহিহ বুখারি: ৬০৩৫) উত্তম আখলাক একজন মুমিনের আসল পরিচয়।
🇸🇦 সর্বোত্তম ব্যক্তি সে, যে ঋণ পরিশোধে উত্তম।” (সহিহ বুখারি: ২৩৩৫) দায়িত্বশীলতা ও আমানতদারিতা ঈমানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
🇸🇦সর্বোত্তম সেই ব্যক্তি, যার থেকে মানুষ কল্যাণ আশা করে এবং অনিষ্টের ভয় করে না।” (তিরমিজি: ২২৬৩/২৪০১) একজন প্রকৃত মুমিন মানুষের জন্য নিরাপত্তার উৎস।
🇸🇦তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম সে, যে তার পরিবারের কাছে উত্তম।” (সহিহ ইবনে হিব্বান: ৪১৭৭) পরিবারের সাথে আচরণই একজন মানুষের প্রকৃত চরিত্র প্রকাশ করে।
🇸🇦 সর্বোত্তম সে, যার জীবন দীর্ঘ এবং আমল উত্তম।” (মুসনাদ আহমাদ: ৭২১২) দীর্ঘ জীবন তখনই মূল্যবান, যখন তা নেক আমলে পরিপূর্ণ হয়।
🇸🇦 সর্বোত্তম মানুষ সে, যে মানুষের জন্য সবচেয়ে বেশি উপকারী।” (সহিহুল জামে’: ৩২৮৯) মানুষের উপকারে আসাই প্রকৃত সফলতা।
🇸🇦 শ্রেষ্ঠ মানুষ সে, যার অন্তর পরিষ্কার এবং জিহ্বা সত্যবাদী।” (ইবনে মাজাহ: ৪২১৬) হিংসা, বিদ্বেষ ও প্রতারণামুক্ত হৃদয়ই প্রকৃত সৌন্দর্য।
🇸🇦 আল্লাহর কাছে উত্তম সঙ্গী সে, যে তার সঙ্গীর জন্য উত্তম। আর উত্তম প্রতিবেশী সে, যে তার প্রতিবেশীর জন্য উত্তম।” (তিরমিজি: ১৯৪৪) সুন্দর সম্পর্ক একজন মানুষের মর্যাদা বাড়ায়।
🇸🇦 নিশ্চয়ই তোমাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ সে, যার চরিত্র সবচেয়ে সুন্দর।” (সহিহ বুখারি: ৩৫৫৯) আখলাকের গুরুত্ব বারবার স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে।
🇸🇦 মর্যাদায় শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি সে, যে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দৃঢ়ভাবে দাঁড়ায় এবং অন্যায়কে প্রতিহত করে।” (সহিহুল জামিউস সাগীর: ৪২৯১) সাহস ও ন্যায়ের প্রতি অটল থাকা বড় গুণ।
🇸🇦 সেই মুমিন শ্রেষ্ঠ, যে আল্লাহর পথে তার জান ও মাল দিয়ে সংগ্রাম করে।” (সহিহ বুখারি: ২৭৮৬, মুসলিম: ১৮৮৪) ত্যাগ ও কুরবানি ঈমানকে পরিপূর্ণ করে।
এই গুণগুলো একদিনে অর্জন করা সম্ভব নয়, তবে চেষ্টা শুরু করা যায় আজ থেকেই। প্রতিদিন একটি করে গুণ নিজের জীবনে আনার চেষ্টা করলে ধীরে ধীরে আমরা সেই উত্তম মানুষের কাতারে পৌঁছাতে পারি, যাদেরকে রাসূলুল্লাহ সাঃ ভালোবাসতেন।
চিন্তা করে দেখুন, পৃথিবীতে এমন একটি দেশ আছে যাকে আজ সভ্য, উন্নত এবং শৃঙ্খলাপূর্ণ জাতি হিসেবে সবাই সম্মান করে। সেই দেশের মানুষকে বলা হয় ন্যায়পরায়ণ, পরিশ্রমী, দয়ালু এবং শান্তিপ্রিয়। আধুনিক প্রযুক্তি, শিক্ষা আর উন্নয়নের উদাহরণ হিসেবে বহু দেশের তরুণদের কাছে তারা আজ অনুপ্রেরণা।
কিন্তু ইতিহাসের পাতা উল্টালে দেখা যায় ভিন্ন এক চিত্র। একসময় এই দেশই নিজেদের সামরিক শক্তির দাপটে পুরো এশিয়াজুড়ে অস্থিরতা ছড়িয়ে দিয়েছিল। ক্ষমতা আর আধিপত্যের নেশায় বহু দেশকে যুদ্ধ, ধ্বংস আর মানবিক বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল। এই দেশের অতীত ইতিহাস অত্যন্ত জঘন্য; ইতিহাসের পাতায় তাদের কর্মকাণ্ড সভ্য না অসভ্য জাতি হিসাবে বেশি পরিচিত। দেশটির নাম জাপান। শুনে কি একটু অবাক লাগছে?
১৯৩০ থেকে ১৯৪৫ সালের মধ্যে পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় জাপানের সাম্রাজ্যবাদী বিস্তার এমন এক বাস্তবতা তৈরি করেছিল, যেখানে যুদ্ধ শুধু সেনাবাহিনীর সংঘর্ষ ছিল না; বরং কোটি মানুষের জীবনে নেমে এসেছিল সংগঠিত সহিংসতা, যৌন দাসত্ব, গণহত্যা, বাধ্যতামূলক শ্রম এবং ব্যাপক সম্পদ লুটের এক দীর্ঘ অন্ধকার অধ্যায়।
জাপান তখন দ্রুত শিল্পশক্তিতে পরিণত হচ্ছিল, কিন্তু তাদের বড় সমস্যা ছিল প্রাকৃতিক সম্পদের অভাব তাদের কোন প্রাকৃতিক সম্পদ নাই। তেল, লোহা, রাবার, খাদ্যশস্য—সবকিছুর জন্য বিদেশের ওপর নির্ভর করতে হতো। সামরিক নেতৃত্ব বিশ্বাস করতে শুরু করে, যদি তারা এশিয়ার সম্পদসমৃদ্ধ অঞ্চল দখল করতে পারে, তাহলে জাপান বিশ্বশক্তি হয়ে উঠবে। এই চিন্তাধারা থেকেই শুরু হয় সামরিক সম্প্রসারণ, যা শেষ পর্যন্ত কয়েক কোটি মানুষের জীবনে অভিশপ্ত করে তুলে।
সবচেয়ে ভয়াবহ অধ্যায় শুরু হয় চীনে। ১৯৩৭ সালে জাপানি বাহিনী নানজিং শহরে প্রবেশ করার পর যা ঘটে, তা আধুনিক ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত। মাত্র ছয় সপ্তাহের মধ্যে আনুমানিক ৩ লাখ থেকে ৪ লাখ মানুষ নিহত হয় বলে আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল ও বহু ঐতিহাসিক গবেষণায় উল্লেখ আছে। শহরের রাস্তায় সারিবদ্ধভাবে মানুষকে গুলি করা, নদীর ধারে গণহত্যা, জীবন্ত মানুষ পুড়িয়ে মারা—এসব ঘটনা প্রত্যক্ষদর্শীদের ডায়েরি ও বিদেশি কূটনীতিকদের রিপোর্টে উঠে আসে। অনেক গবেষক অনুমান করেন, শুধু নানজিংয়েই প্রতিদিন গড়ে কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছিল।
এই হত্যাযজ্ঞের পাশাপাশি ঘটে ব্যাপক যৌন সহিংসতা। বিভিন্ন গবেষণায় অনুমান করা হয়, নানজিং দখলের কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই প্রায় ৮০,০০০ থেকে ১০০,০০০ নারী ধর্ষণের শিকার হন। বয়স ছিল ৮ বছর থেকে ৩৫ বছর। অনেক নারীকে পরিবার সদস্যদের সামনে নির্যাতন করা হয়, এরপর হত্যা করা হয় যাতে কোনো সাক্ষী না থাকে। এই ঘটনাগুলো এতটাই ব্যাপক ছিল যে বিদেশি মিশনারিরা শহরের মধ্যে “সেফটি জোন” তৈরি করে হাজার হাজার নারীকে লুকিয়ে রাখার চেষ্টা করেছিলেন।
কিন্তু নানজিং কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছিল না। জাপানি সামরিক বাহিনী যুদ্ধ চলাকালে একটি সংগঠিত যৌন দাসত্ব ব্যবস্থা গড়ে তোলে, যা ইতিহাসে “কমফোর্ট উইমেন” নামে পরিচিত। নামটি যতই নরম শোনাক, বাস্তবে এটি ছিল সামরিক নিয়ন্ত্রিত যৌন দাসত্ব। কোরিয়া, চীন, ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, মিয়ানমার এবং অন্যান্য দখলকৃত অঞ্চল থেকে নারী ও কিশোরীদের অপহরণ বা প্রতারণার মাধ্যমে নিয়ে গিয়ে সামরিক ক্যাম্পে বন্দি রাখা হতো।
ইতিহাসবিদদের অনুমান অনুযায়ী এই ব্যবস্থায় অন্তত ২০০,০০০ থেকে ৩,০০,০০০ নারী জোরপূর্বক যৌন দাসে পরিণত হন। কিছু গবেষণা বলছে প্রকৃত সংখ্যা ৫ থেকে ৬ লাখ পর্যন্ত হতে পারে, কারণ যুদ্ধ শেষে বহু নথি ধ্বংস করা হয় এবং অসংখ্য ভুক্তভোগী সামাজিক লজ্জার কারণে কখনো সামনে আসেননি। প্রতিদিন একজন নারীকে ২০ থেকে ৪৫ জন সৈন্য পর্যন্ত নির্যাতন করত—এমন সাক্ষ্য বহু বেঁচে থাকা নারীর জবানবন্দিতে পাওয়া গেছে। যুদ্ধ শেষে অনুমান করা হয়, এই নারীদের অর্ধেকেরও বেশি জীবিত ফিরে যেতে পারেননি।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় জাপানের দখলদারিত্ব আরেক ধরনের মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি করে। ইন্দোনেশিয়ায় “রোমুশা” নামে বাধ্যতামূলক শ্রম ব্যবস্থা চালু করা হয়। আনুমানিক ৮০ লাখের বেশি মানুষকে শ্রমে বাধ্য করা হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়। তাদের দিয়ে রেললাইন, সামরিক ঘাঁটি, রাস্তা ও বিমানঘাঁটি নির্মাণ করানো হয়। খাদ্যস্বল্পতা, রোগ এবং নির্যাতনের কারণে লাখ লাখ শ্রমিক মারা যায়। অনেক অঞ্চলে মৃত্যুহার এত বেশি ছিল যে শ্রমিকদের গণকবর দেওয়া হতো।
মিয়ানমার ও থাইল্যান্ড সীমান্তে নির্মিত কুখ্যাত বার্মা রেলওয়ে ছিল এই শ্রম ব্যবস্থার প্রতীক। প্রায় ৩ লাখ এশীয় শ্রমিক এবং ৬০ হাজার যুদ্ধবন্দী সেখানে কাজ করতে বাধ্য হয়। অনুমান করা হয়, শুধু এই রেললাইন নির্মাণেই ১২০০০০ হাজারের বেশি এশীয় শ্রমিক এবং ৩০ হাজারের বেশি যুদ্ধবন্দী প্রাণ হারান।
ফিলিপাইনে জাপানি দখলদারিত্বের শেষ পর্যায়ে ১৯৪৫ সালে ম্যানিলা শহর প্রায় সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়। কয়েক সপ্তাহে আনুমানিক ২ লাখ বেসামরিক মানুষ নিহত হয়। শহরের হাসপাতাল, স্কুল ও ধর্মীয় স্থাপনাও রক্ষা পায়নি। প্রত্যক্ষদর্শীরা লিখেছেন, অনেক পরিবার পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়।
কোরিয়ায় দীর্ঘ ৩৫ বছরের উপনিবেশ শাসনের সময় জাপান শুধু রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণই নেয়নি, সাংস্কৃতিক পরিচয়ও মুছে ফেলার চেষ্টা করেছিল। কোরিয়ান ভাষা ব্যবহার সীমিত করা হয়, মানুষকে জাপানি নাম নিতে বাধ্য করা হয়, এবং শিল্প ও কৃষি উৎপাদনের বড় অংশ জাপানে পাঠানো হতো। যুদ্ধের সময় লক্ষাধিক কোরিয়ান শ্রমিককে জাপানের কারখানা ও খনিতে কাজ করতে বাধ্য করা হয়।
অর্থনৈতিক দিক থেকেও জাপানের দখলদারিত্ব ছিল ব্যাপক লুটপাটের সঙ্গে জড়িত। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার তেল, রাবার ও খনিজ সম্পদ সরাসরি যুদ্ধ পরিচালনায় ব্যবহৃত হয়। ইন্দোনেশিয়ার তেলক্ষেত্র, মালয়েশিয়ার রাবার বাগান এবং চীনের শিল্প কারখানা জাপানি সামরিক অর্থনীতির অংশে পরিণত হয়। ঐতিহাসিক অনুমান অনুযায়ী দখলকৃত অঞ্চলগুলো থেকে যুদ্ধ চলাকালে শত শত কোটি ডলারের সমপরিমাণ সম্পদ জাপানের নিয়ন্ত্রণে যায়, যা বর্তমান মূল্যে ট্রিলিয়ন ডলারের সমান অর্থনৈতিক ক্ষতির প্রতিনিধিত্ব করে।
এই সময় খাদ্য সংকটও একটি বড় অস্ত্র হয়ে ওঠে। অনেক অঞ্চলে খাদ্য জব্দ করে সেনাবাহিনীর জন্য রাখা হতো, ফলে সাধারণ মানুষ অনাহারে মারা যেত। চীনের কিছু এলাকায় দুর্ভিক্ষে মৃত্যুর সংখ্যা কয়েক মিলিয়ন পর্যন্ত পৌঁছায় বলে গবেষকরা ধারণা করেন।
ইতিহাসবিদদের হিসাব অনুযায়ী, জাপানের সামরিক অভিযানের ফলে এশিয়াজুড়ে মোট নিহতের সংখ্যা ২.৫ থেকে ৩ কোটিরও বেশি হতে পারে, যার বড় অংশই ছিল বেসামরিক মানুষ। এই সংখ্যার মধ্যে যুদ্ধক্ষেত্রে নিহত সৈন্যের তুলনায় সাধারণ মানুষের মৃত্যুই বেশি।
তবে ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর জাপান নিজেও ভয়াবহ ধ্বংসের মুখে পড়ে। টোকিওসহ বহু শহর বোমাবর্ষণে ধ্বংস হয়, শিল্পভিত্তি ভেঙে পড়ে, এবং শেষ পর্যন্ত পারমাণবিক হামলার মাধ্যমে যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটে। ফলে যে সাম্রাজ্য গড়ার স্বপ্ন থেকে এই অভিযান শুরু হয়েছিল, সেটি সম্পূর্ণ বিপর্যয়ে শেষ হয়।
আজ এশিয়ার বহু দেশে সেই সময়ের স্মৃতি এখনো রাজনৈতিক ও সামাজিক আলোচনার অংশ। কোরিয়ার বেঁচে থাকা “কমফোর্ট উইমেন”রা বহু দশক ধরে ক্ষমা ও স্বীকৃতির দাবিতে আন্দোলন করেছেন। চীনে নানজিং গণহত্যার স্মৃতিসৌধ প্রতি বছর লাখো মানুষ পরিদর্শন করে। ফিলিপাইন ও ইন্দোনেশিয়ার বহু পরিবার এখনো তাদের নিখোঁজ পূর্বপুরুষদের গল্প ধরে রেখেছে।
এই ইতিহাস আমাদের মনে করিয়ে দেয়, যুদ্ধের ভয়াবহতা শুধু বন্দুকের শব্দে সীমাবদ্ধ থাকে না। যুদ্ধ শেষ হলেও তার প্রতিধ্বনি প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বেঁচে থাকে। হারিয়ে যাওয়া মানুষ, ভাঙা সমাজ এবং নীরব কষ্টের গল্পগুলোই শেষ পর্যন্ত ইতিহাসের সবচেয়ে সত্য অংশ হয়ে দাঁড়ায়। কারণ মানচিত্র বদলায় দ্রুত, কিন্তু মানুষের স্মৃতি বদলাতে অনেক সময় লাগে।
গোলাম আহমদ কাদিয়ানীর নবুওত দাবী করা সংক্রান্ত বিষয়ে দেওবন্দের ক্বাসিম নানুতুভী সাহেবকে জড়িয়ে একজন একটা বিবরণী দিয়েছে । এই বিষয়টি একটু খোলাসা হওয়ার দরকার । প্রকৃত সত্য সামনে না থাকলে যে কেউ বিভ্রান্ত হতে পারে । বিষয়টি খোলাসা করার ব্যাপারে আমি আপনাকেই উপযুক্ত ও বিশ্বস্ত মনে করেছি । তাই হুবহু তার বক্তব্যটি পাঠালাম । দয়া করে একটি আর্টিকেল লিখে বিষয়টি পরিষ্কার করবেন । বিবরণীটি নিম্নরূপ :
👉👉কাদিয়ানী ফিৎনার মূল প্রতিষ্ঠাতা দেওবন্দের কাছিম নানুতবী। কাদিয়ানী মতবাদের প্রতিষ্ঠাতা মির্জা গোলাম আহমদ কাদিয়ানি মূলতঃ কাশেম নানুতবীর শিষ্য। যিনি দেওবন্দ মাদ্রাসা হতে ফারেগ কওমি ঘরনার একজন আলেম। বর্তমানে মুসলমানদের ছুরতে ইসলামের মধ্যে যে ফিৎনাগুলো শিয়া, ওহাবী, রাফেজী, কওমি, বীর, মুরুব্বী ,সিলসিলা ইত্যাদি বিরাজমান তার মধ্যে চরম ভয়ঙ্কর ফিৎনা হচ্ছে কাদিয়ানী ফিৎনা।
মূলত পাঞ্জাবের “কাদিয়ান” নামক গ্রামে ১৮৩৫ সালে জন্ম গ্রহণকারী ব্রিটিশের দালাল মির্জা গোলাম আহমদকে যদিও কাদিয়ানী মতবাদের প্রতিষ্ঠাতা বলা হয়, কিন্তু তাকে এই মতবাদ প্রতিষ্ঠায় প্ররোচিত করে ভারতের দেওবন্দ মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা কাসেম নানুতবী। এই কাসেম নানুতবী দেওবন্দ মাদরাসার প্রতিষ্ঠার ৭ বছর পর ১৮৭৪ সালে ‘তাহ্যীরুন্নাছ’ নামক একটি গ্রন্থ রচনা করে; যার ২৫ পৃষ্ঠায় সে কুরআন -এর সূরা আহযাব-এর ৪০ নাম্বার আয়াত -এ বর্ণিত ‘খাতামুন্ নাবিয়্যীন’-এর ব্যাখ্যায় উল্লেখ করে যে, “খাতামুন্ নাবিয়্যীন অর্থ হলো মূল নবী। অন্যান্য নবীগণ ছিলেন সাময়িক নবী। যারা খাতামুন্ নাবিয়্যীন-এর অর্থ শেষ নবী বলে তারা জাহিল ও মূর্খ। নবী পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আগে বা সর্বশেষে আসার মধ্যে কোন ফযীলত নেই। ফযীলত হলো মূল নবী হওয়ার মধ্যে। তার পরে যদি ১০০০ নবীরও আগমন মেনে নেয়া হয়, তাতেও হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর খতমে নুবুওয়াত-এর কোনরূপ তারতম্য হবে না।” নাঊযুবিল্লাহ মিন যালিক! এই হল আজকের তথাকথিত সহীহ আকিদার দেওবন্দ মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতার আকীদা।
কাছিম নানুতবীর বাতলে দেয়া এই পথ ধরে ১৯০৫ সালে মির্জা গোলাম কাদিয়ানী নবী দাবি করে বসে। পরবর্তিতে গোলাম কাদিয়ানীকে এই বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে সে বলে যে, “মাওলানা কাছিম নানুতবী ছাহেব তো তার ‘তাহ্যীরুন্নাছ’ গ্রন্থে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পরে ১০০০ নবীর আগমনের সম্ভাবনা স্বীকার করে নিয়েছে। সুতরাং আমি (কাদিয়ানী) একজন নবী দাবি করাতে দোষ কোথায়? আরো তো ৯৯৯ জন দাবি করতে পারে।” নাঊযুবিল্লাহ মিন যালিক!
সুতরাং দেখা যাচ্ছে, কাদিয়ানী সমপ্রদায়ের মূল প্রতিষ্ঠাতা হচ্ছে দেওবন্দের কাছিম নানুতবী, আর মির্জা গোলাম কাদিয়ানী তার রূপদানকারী।
👉👉একজন মানুষের নামে একটি দেশের নাম, ভাবতেই কেমন লাগে! মানুষের নামে গ্রামের নাম, শহরের নাম, জেলার নাম আছে লক্ষ লক্ষ, কিন্তু দেশের নাম একটু আনইউজুয়াল। একজন ব্যক্তি একটা রাজনৈতিক জাতির পরিচয় হয়ে উঠতে পারে কীভাবে? পৃথিবীতে বর্তমানে এমন দেশ আছে প্রায় ৯টি, যেগুলোর নামকরণ করা হয়েছে নির্দিষ্ট কোনো ঐতিহাসিক ব্যক্তি বা শাসকের নাম অনুসারে। দেশেগুলো হল:
🇸🇦 ২. সৌদি আরব (Saudi Arabia) এই দেশটির নাম এসেছে আধুনিক সৌদি আরবের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ বিন সৌদ (Ibn Saud) বা ‘সৌদ’ বংশের নাম থেকে। ১৯৩২ সালে এই নামকরণ করা হয়। সৌদি অ্যারাবিয়া অর্থাৎ মিঃ সৌউদ এর আরব। অথচ এই দেশটির নাম হওয়ার কথা ছিল হিজাজ। ১৯৩২ সালে বর্তমান নামে পরিচিত হওয়ার আগে সৌদি আরবের প্রধান অংশগুলোর নাম ছিল #হিজাজ এবং #নজদ রাজ্য (Kingdom of Hejaz and Nejd) । ১৯৩২ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর বাদশাহ আবদুল আজিজ ইবনে সউদ এই অঞ্চলগুলোকে একত্রিত করে রাসূল সাল্লাহু আলাই সাল্লাম এর দেওয়া সেই নামকে পরিবর্তন করে সম্পূর্ণ বেদাতি এবং ইসলাম বহির্ভূত পন্থায় নিজের নাম অনুসারে দেশটির নাম রাখে ‘আল-মামলাকাতুল আরাবিয়াতুস সউদিয়াহ’ বা ‘সৌদি আরব রাজ্য’ নামকরণ করেন । অথচ একটু লক্ষ্য করলে দেখবেন আমাদের দেশের মাদখালি আহলে হাদিস গোষ্ঠীর লোক গুলো রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম এর দেওয়া সেই নাম পরিবর্তন করে সম্পূর্ণ বেদাতি এবং ইসলাম বহির্ভূত পদ্ধতিতে সৌদি আরব নাম ডাকে কিন্তু এই সমস্ত কিছুতে তাদের বেদাত হয় না।
🇵🇭 ১. ফিলিপাইন (Philippines) স্পেনের রাজা দ্বিতীয় ফিলিপের (King Philip II) নামানুসারে এই দেশটির নামকরণ করা হয়েছে। ১৫৪২ সালে স্পেনীয় অভিযাত্রীরা এই দ্বীপপুঞ্জটির নাম দেন ‘লাস ইসলাস ফিলিপিনাস’।
🇧🇴 ৩. বলিভিয়া (Bolivia) দক্ষিণ আমেরিকার এই দেশটির নাম রাখা হয়েছে বিখ্যাত বিপ্লবী নেতা সাইমন বলিভারের (Simon Bolivar) সম্মানে, যিনি দক্ষিণ আমেরিকার বেশ কিছু দেশকে স্পেনীয় শাসন থেকে মুক্ত করতে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।
🇨🇴 ৪. কলম্বিয়া (Colombia) ভাগ্যানেষী ইতালিয় নাবিক ক্রিস্টোফার কলম্বাসের (Christopher Columbus) নামানুসারে এই দেশটির নামকরণ করা হয়েছে।
🇲🇺 ৫. মরিশাস (Mauritius) ১৫৯৮ সালে ওলন্দাজরা দ্বীপটি দখল করে এবং রাজপুত্র মরিটস অফ অরেঞ্জ (Maurice of Orange)-এর নামানুসারে এই দ্বীপরাষ্ট্রটির নাম রাখে ‘মরিশাস’।
🇸🇨 ৬. সিশেলস (Seychelles) ভারত মহাসাগরের এই দ্বীপরাষ্ট্রটির নাম ফ্রান্সের তৎকালীন অর্থমন্ত্রী জ্যঁ মরে ডি সিশেলস (Jean Moreau de Séchelles)-এর নামানুসারে রাখা হয়েছে।
🇲🇭 ৭. মার্শাল আইল্যান্ডস (Marshall Islands) ব্রিটিশ ক্যাপ্টেন জন মার্শালের নামানুসারে এই দ্বীপরাষ্ট্রের নামকরণ করা হয়, যিনি ১৭৮৮ সালে এই দ্বীপগুলো পরিদর্শন করেছিলেন।
🇰🇳 ৮. সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস (Saint Kitts and Nevis) Saint Kitts অংশটি এসেছে “Saint Christopher” থেকে, অর্থাৎ Saint Christopher-এর নামে। “Kitts” হলো “Christopher”-এর সংক্ষিপ্ত রূপ। Nevis এসেছে স্প্যানিশ শব্দ “Nuestra Señora de las Nieves” থেকে, যার অর্থ “Virgin Mary of the Snows”।
🇰🇮 ৯. কিরিবাস (Kiribati) প্রশান্ত মহাসাগরের এই দেশটির নাম আগে ছিল গিলবার্ট আইল্যান্ডস। এই নামটি দেওয়া হয়েছিল ব্রিটিশ নাবিক Thomas Gilbert-এর নামে, যিনি ১৮শ শতকে এই দ্বীপপুঞ্জে আসেন। গিলবার্টকে স্থানীয়রা উচ্চারণ করত ” কিরিবাস” যা ইংরেজি বানানে Kiribati. গিলবার্ট আইল্যান্ডস যখন স্বাধীন হয় তখন স্থানীয় উচ্চারণে নাম পাল্টে রাখে।
🇺🇲 ১০. আমেরিকার যুক্তরাষ্ট্র: এটা শুধু একটা দেশের নাম না, দুটো মহাদেশের নাম। আমেরিকা মহাদেশের নামকরণ করা হয়েছে ইতালীয় অভিযাত্রী এবং মানচিত্রকর আমেরিগো ভেসপুচি (Amerigo Vespucci)-এর নামানুসারে।
১৫শ শতাব্দীর শেষভাগে যখন ক্রিস্টোফার কলম্বাস বর্তমান আমেরিকা অঞ্চলে পৌঁছান, ধারণা করেছিলেন যে তিনি এশিয়ার কোনো অংশে (ইন্ডিজ) পৌঁছেছেন। কিন্তু আমেরিগো ভেসপুচিই প্রথম ব্যক্তি যিনি যুক্তি দেন যে, এটি এশিয়া নয় বরং একটি সম্পূর্ণ ‘নতুন বিশ্ব’ বা নতুন মহাদেশ। ১৫০৭ সালে জার্মান মানচিত্রকর মার্টিন ওয়াল্ডসিমুলার (Martin Waldseemüller) একটি বিশ্ব মানচিত্র তৈরি করেন। তিনি ভেসপুচির এই নতুন আবিষ্কারের প্রতি সম্মান জানাতে দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের নাম দেন ‘আমেরিকা’ (Amerigo-এর স্ত্রীলিঙ্গ রূপ)। প্রথমে এটি ছিল শুধু দক্ষিণ আমেরিকার নাম, পরো পুরো দুটো মহাদেশের নাম হয় আমেরিকা, উত্তর ও দক্ষিণ। দুটো মহাদেশের সবগুলো দেশকে একত্রে বলা হয় “আমেরিকাস”, আর স্বাধীনতার পর দেশটির নাম রাখা হয় ইউনাইটেড স্টেটস অব আমেরিকা।
অতীতে: উপনিবেশিক আমলে ইউরোপিয় বেনিয়া সেসিল রোডসের নামে আফ্রিকার দুটো পরাধীন দেশের নাম রাখা হয়েছিল। দেশ দুটো হল- উত্তর রোডেশিয়া (১৯১১-১৯৬৪) ও দক্ষিন রোডেশিয়া (১৯২৩-৬৫ ও ১৯৭৯-৮০); যা বর্তমানে যথাক্রমে জাম্বিয়া ও জিম্বাবুয়ে।
দলিল প্রমাণ সহ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ইসলাম বিদ্বেষী কাজ এবং অপকর্ম তুলে ধরা হলো!! রবীন্দ্রনাথের পৈতৃক ব্যবসার মধ্যে অন্যতম সফল ব্যবসা ছিল পতিতালয় ব্যবসা। রবীন্দ্রনাথের দাদা দ্বারকানাথের কলকাতা নগরীতে ৪৩টি বেশ্যালয় ছিল। এছাড়াও ছিল মদ ও আফিমের ব্যবসা। (সূত্র: এ এক অন্য ইতিহাস, অধ্যায়: অসাধারণ দ্বারকানাথ, লেখক: গোলাম আহমদ মর্তুজা, পৃষ্ঠা: ১৪১) “রবীন্দ্রনাথের দাদা দ্বারকানাথ ছিলেন দেড়শ টাকা বেতনের ইংরেজ ট্রেভর প্লাউডেনের চাকর। দ্বারকানাথ ধনী হয়েছিলেন অনৈতিক ব্যবসার দ্বারা। রবীন্দ্রনাথের দাদা দ্বারকানাথ ঠাকুরের তেতাল্লিশটি বেশ্যালয় ছিল কলকাতাতেই।” (তথ্যসূত্র: কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকা, ২৮শে কার্তিক, ১৪০৬, রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়) তবে রবীন্দ্রনাথ পতিতাদের মধ্যেও যে সাহিত্যরস খুঁজে পেয়েছেন, সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না। রবীন্দ্রনাথ ঢাকায় বুড়িগঙ্গার পাশে বিখ্যাত ‘গঙ্গাজলী’ (একটি এলাকা যেখানে ঐ সময় বিশাল পতিতালয় ছিল) এর পাশে এসে লিখেছিলেন: “বাংলার বধূ বুকে তার মধু”। সত্যি কথা বলতে, ঐ সময় কলকাতায় বিশেষ কারণে যৌনরোগ সিফিলিস খুব কমন ছিল। তাই ১৯২৮ সালে অবতার পত্রিকায় কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সিফিলিস রোগের খবরটা তেমন গুরুত্ব পায়নি। (রবীন্দ্রনাথের সিফিলিস হয়েছিল—এর সূত্র: নারী নির্যাতনের রকমফের, লেখক: সরকার সাহাবুদ্দিন আহমদ, পৃষ্ঠা: ৩৪১) রবীন্দ্রনাথকে যারা দেবতা ভাবতে চান, তাদের বলছি—সিফিলিস-গনোরিয়া কাদের হয়? বলবেন দয়া করে? দুই. আজকাল ভারতের উগ্র জাতীয়তাবাদী দল বিজেপি প্রায়ই বলে থাকে, ভারতের সকল মুসলমানই হিন্দু। ফলে তাদেরকে ঘরে ফেরাতে হবে (ঘরে ওয়াপসি)। পুরোপুরি হিন্দু হয়ে যেতে হবে। কথাটা কিন্তু ভারতের জাতীয় কবি রবীন্দ্রনাথই প্রথম চালু করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন: “মুসলমানরা ধর্মে ইসলামানুরাগী হলেও জাতিতে তারা হিন্দু। কাজেই তারা ‘হিন্দু মুসলমান’।” (সূত্র: আবুল কালাম শামসুদ্দিনের লেখা অতীত দিনের স্মৃতি, পৃষ্ঠা: ১৫০) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এমন ব্যক্তি, যিনি মুসলমানদের আবার হিন্দুতে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য যে কমিটি হয়, সেই কমিটির অন্যতম সদস্য ছিলেন। এই কমিটির কাজ ছিল নিম্নবর্ণের যেসব হিন্দু মুসলিম হয়েছে, তাদের আবার হিন্দু ধর্মে ফিরিয়ে নেওয়া। (উৎস: প্রশান্ত পালের রবি জীবনী ৬ষ্ঠ খণ্ড, পৃষ্ঠা ২০৭-২০৮, আনন্দ পাবলিশার্স লিমিটেড, কলকাতা) গোঁড়া হিন্দুদের মতো সতীদাহ প্রথাকে সমর্থন করে কবিতাও লিখেছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। লিখুন, সমস্যা নেই। কিন্তু স্বামীর চিতায় জীবন্ত স্ত্রীর পুড়ে যাওয়াকে মুসলমানরা অপছন্দ করেন বলে তিনি ‘যবন’ গালি দিয়ে মুসলমানদের হুমকি দিচ্ছেন:
“জ্বল জ্বল চিতা! দ্বিগুণ দ্বিগুণ পরান সপিবে বিধবা বালা জ্বলুক জ্বলুক চিতার আগুন জুড়াবে এখনই প্রাণের জ্বালা শোনরে যবন, শোনরে তোরা যে জ্বালা হৃদয়ে জ্বালালি সবে স্বাক্ষী রলেন দেবতার তারা এর প্রতিফল ভুগিতে হবে!” (জ্যোতিন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা জ্যোতিন্দ্রনাথের নাট্য সংগ্রহ, কলকাতা: বিশ্বভারতী, ১৯৬৯, পৃষ্ঠা: ২২৫) যারা রবীন্দ্রনাথকে অসাম্প্রদায়িক বানাতে চান, দয়া করে বলুন—কোন অর্থে তিনি অসাম্প্রদায়িক? তিন. রবীন্দ্রনাথের প্রতিষ্ঠিত শান্তিনিকেতনে এক সময় কোনো মুসলমান ছাত্রের প্রবেশাধিকার ছিল না। রবীন্দ্রনাথ বিশ্বভারতী প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে চাঁদা চেয়েছিলেন হায়দরাবাদের নিজামের কাছেও। নিজাম তাকে চাঁদা দেন এক লাখ টাকা। এক লাখ টাকা সে সময় ছিল অনেক। রবীন্দ্রনাথ ভাবতে পারেননি নিজাম এতটা চাঁদা দেবেন। নিজামের চাঁদার সূত্র ধরেই সামান্য কিছু মুসলিম ছাত্র সুযোগ পায় বিশ্বভারতীতে লেখাপড়া শেখার। সাহিত্যিক মুজতবা আলী হলেন যাদের মধ্যে একজন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপিত হয় ১৯২১ সালের জুলাই মাসে। হিন্দুরা চাননি ঢাকায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপিত হোক। এমনকি ঢাকার হিন্দুরাও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের বিরুদ্ধে ছিলেন। তারা মনে করেছিলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হবে আসলে একটি মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়। শোনা যায়, রবীন্দ্রনাথও চাননি ঢাকায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপিত হোক। (সেক্যুলারদের অতিমাত্রায় রবীন্দ্রপুজার রহস্য উন্মোচন – এবনে গোলাম সামাদ : ০৭ মে, ২০১১, বিডিনিউজ টুয়েন্টি ফোর ডট কমে প্রকাশিত) ১৯১২ খ্রিস্টাব্দের ২৮ মার্চ কলকাতার গড়ের মাঠে এক বিরাট সমাবেশ করা হয়। ঠিক তার দু’দিন পূর্বে আর একটি গুরুত্বপূর্ণ মিটিং হয়েছিল। সেখানেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল যে, ঢাকায় ইউনিভার্সিটি হতে দেওয়া যাবে না। উক্ত উভয় সভার সভাপতি ছিলেন রবীন্দ্রনাথ। (তথ্যসূত্র: কলকাতা ইতিহাসের দিনলিপি, ড. নীরদ বরণ হাজরা, ২য় খণ্ড, ৪র্থ পর্ব) “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে কলকাতার গড়ের মাঠে যে সভা হয়, তাতে সভাপতি ছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। এসব বাধার কারণে ১৯১১ সালে ঘোষণা দিলেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবটি আঁতুর ঘরে পড়ে থেকে মৃত্যুর প্রহর গুনছিল। অবশেষে নানা বিষয়ে সমঝোতা হয়, যার মধ্যে ছিল মনোগ্রামে ‘সোয়াস্তিকা’ এবং ‘পদ্ম’ ফুলের প্রতীক থাকবে। প্রতিবাদকারীরা খুশি হন। এরপর ১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়।” (তথ্যসূত্র: ডক্টর কাজী জাকের হোসেন : দৈনিক ইনকিলাব, ১০ মার্চ, ২০০২) ১৯১২ সালের ২৮শে মার্চ কলকাতা গড়ের মাঠে কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সভাপতিত্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রতিবাদে এক বিশাল জনসভার আয়োজন করা হয়। [তথ্যসূত্র: আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের ধারাবাহিকতা এবং প্রাসঙ্গিক কিছু কথা, লেখক: মেজর জেনারেল (অব.) এম এ মতিন] ১৯১২ সালের ১৮ই মার্চ কলকাতার গড়ের মাঠে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করে হিন্দুরা যে সভা করল, সেই সভায় সভাপতিত্ব করলেন স্বয়ং কবি রবীন্দ্রনাথ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে সেদিন নেমেছিল হিন্দু সংবাদপত্রগুলো, হিন্দু বুদ্ধিজীবী ও নেতারা। গিরিশচন্দ্র ব্যানার্জী, রাসবিহারী ঘোষ এমনকি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর স্যার আশুতোষ মুখার্জির নেতৃত্বে বাংলার এলিটরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরুদ্ধে ১৮ বার স্মারকলিপি দেন লর্ড হার্ডিঞ্জকে এবং বড়লাটের সঙ্গে দেখা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা বাধা দান করতে। (ক্যালকাটা ইউনিভার্সিটি কমিশন রিপোর্ট, খণ্ড ৪, পৃ. ১৩০) যারা এ দেশে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য লবিং করেন, দয়া করে বলুন—কিসের ঋণ পরিশোধে তাঁর নামে বিশ্ববিদ্যালয়? চার. ‘প্রায়শ্চিত্ত’ নাটকে প্রতাপাদিত্যের মুখ দিয়ে রবীন্দ্রনাথ বলাচ্ছেন- “খুন করাটা যেখানে ধর্ম, সেখানে না করাটাই পাপ। যে মুসলমান আমাদের ধর্ম নষ্ট করেছে তাদের যারা মিত্র তাদের বিনাশ না করাই অধর্ম।” ‘রীতিমত নভেল’ নামক ছোটগল্পে মুসলিম চরিত্র হরণ করেছেন – “আল্লাহু আকবর শব্দে বনভূমি প্রতিধ্বনিত হয়ে উঠেছে। একদিকে তিন লক্ষ যবন (অসভ্য) সেনা অন্য দিকে তিন সহস্র আর্য সৈন্য। … পাঠক, বলিতে পার … কাহার বজ্রমণ্ডিত ‘হর হর বোম বোম’ শব্দে তিন লক্ষ ম্লেচ্ছ (অপবিত্র) কণ্ঠের ‘আল্লাহু আকবর’ ধ্বনি নিমগ্ন হয়ে গেলো। ইনিই সেই ললিতসিংহ। কাঞ্চীর সেনাপতি। ভারত-ইতিহাসের ধ্রুব নক্ষত্র।” রবীন্দ্রনাথ তার ‘কণ্ঠরোধ’ (ভারতী, বৈশাখ-১৩০৫) নামক প্রবন্ধে বলেন, “কিছুদিন হইল একদল ইতর শ্রেণীর অবিবেচক মুসলমান কলিকাতার রাজপথে লোষ্ট্রখণ্ড হস্তে উপদ্রবের চেষ্টা করিয়াছিল। তাহার মধ্যে বিস্ময়ের ব্যাপার এই যে- উপদ্রবের লক্ষ্যটা বিশেষ রূপে ইংরেজদেরই প্রতি। তাহাদের শাস্তিও যথেষ্ট হইয়াছিল। প্রবাদ আছে- ইটটি মারিলেই পাটকেলটি খাইতে হয়; কিন্তু মূঢ়গণ (মুসলমান) ইটটি মারিয়া পাটকেলের অপেক্ষা অনেক শক্ত শক্ত জিনিস খাইয়াছিল।” (রবীন্দ্র রচনাবলী, ১০ খণ্ড, ৪২৮ পৃষ্ঠা) ঐতিহাসিক ডঃ রমেশচন্দ্র মজুমদারকে তাই লিখতে হলো – “হিন্দু জাতীয়তা জ্ঞান বহু হিন্দু লেখকের চিত্তে বাসা বেঁধেছিল, যদিও স্বজ্ঞানে তাঁদের অনেকেই কখনই এর উপস্থিতি স্বীকার করবে না। এর প্রকৃষ্ট দৃষ্টান্ত হচ্ছে, ভারতের রবীন্দ্রনাথ যাঁর পৃথিবীখ্যাত আন্তর্জাতিক মানবিকতাকে সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে কিছুতেই সুসংগত করা যায় না। তবুও বাস্তব সত্য এই যে, তার কবিতাসমূহ শুধুমাত্র শিখ, রাজপুত ও মারাঠাকুলের বীরবৃন্দের গৌরব ও মাহাত্ম্যেই অনুপ্রাণিত হয়েছে, কোনও মুসলিম বীরের মহিমা কীর্তনে তিনি কখনও একচ্ছত্রও লেখেননি। যদিও তাদের অসংখ্যই ভারতে আবির্ভূত হয়েছেন।” (সূত্র: Dr. Romesh Chandra Majumder, History of Bengal, p 203.) যারা রবীন্দ্রনাথকে সর্বজনীন কবি হিসাবে গ্রহণ করতে চান, দয়া করে বলুন—মুসলিমদের অপমান করে, হত্যার উস্কানি দিয়ে এবং হিন্দুত্বের নিবেদিত প্রচারক হয়েও তিনি কোন বিচারে সর্বজনীন? পাঁচ. কয়েক পুরুষ ধরে প্রজাদের উপর পীড়ন চালিয়েছেন জোড়াসাকোর ঠাকুর পরিবার। রবীন্দ্রনাথ ও তাঁর ব্যতিক্রম ছিলেন না। রবীন্দ্রনাথের পরিবারের জমিদারী ছিল কুষ্টিয়ার শিলাইদহ, পাবনার শাহজাদপুর, রাজশাহীর পতিসর প্রভৃতি অঞ্চলে। আর এই অঞ্চলগুলি ছিল মুসলিম প্রধান। মুসলিম প্রজাগণই তার রাজস্ব জোগাতো। কিন্তু রবীন্দ্রনাথ ব্যর্থ হন সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রজাদের সাথে মনের সংযোগ বাড়াতে। তাদের সমস্যাগুলোর সমাধান নিয়েও তিনি কোনদিন মাথা ঘামাননি। প্রজাদের জোগানো অর্থ দিয়ে মুসলিম প্রধান কুষ্টিয়া, পাবনা বা রাজশাহীতে তিনি একটি প্রাথমিক স্কুল প্রতিষ্ঠা করেছেন – তার প্রমাণ নাই। অথচ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছেন হিন্দুপ্রধান পশ্চিম বাংলার বোলপুরে। উল্টো তার সাহিত্যে প্রকাশ পেয়েছে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিমদের বিরুদ্ধে উগ্র সাম্প্রদায়িক মনভাব। উৎকট মুসলিম বিরোধী সংলাপ দেখা যায় তার নাটকে। (ফিরোজ মাহবুব কামাল: বাঙালীর রবীন্দ্রাসক্তি ও আত্মপচন-৬ জুন ২০১৫-শেখনিউজডটকম) “১৮৯৪ সনে রবীন্দ্রনাথ চাষীদের খাজনা বাড়িয়ে দিয়েছিলেন, খাজনা আদায়ও করেছিলেন।” [তথ্যসূত্র: শচীন্দ্র অধিকারি, শিলাইদহ ও রবীন্দ্রনাথ, পৃঃ ১৮, ১১৭] সব জমিদার খাজনা আদায় করত একবার, কিন্তু রবীন্দ্রনাথ এলাকার কৃষকদের থেকে খাজনা আদায় করত দুইবার। একবার জমির খাজনা, দ্বিতীয় বার কালী পূজার সময় চাঁদার নামে খাজনা। (তথ্যসূত্র: ইতিহাসের নিরিখে রবীন্দ্র-নজরুল চরিত, লেখক: সরকার শাহাবুদ্দীন আহমেদ) কর বৃদ্ধি করে বল প্রয়োগে খাজনা আদায়ের ফলে প্রজাবিদ্রোহ ঘটলে তা তিনি সাফল্যের সঙ্গে দমন করেন। “শোষক রবীন্দ্রনাথের বিরুদ্ধে শিলাইদহের ইসলাইল মোল্লার নেতৃত্বে দু’শ ঘর প্রজা বিদ্রোহ করেন।” [তথ্যসূত্র: অমিতাভ চৌধুরী, জমিদার রবীন্দ্রনাথ, দেশ শারদীয়া, ১৩৮২] কবিতায় তো মানবতার কথা বলেছেন খুব জোরে। কিন্তু জীবনাচারে যিনি এমন, তিনি কেমন মানবতাবাদী? ছয়. “মরহুম মোতাহার হোসেন চৌধুরী শান্তিনিকেতনে কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, আপনার লেখায় ইসলাম ও বিশ্বনবী সম্পর্কে কোনো কথা লেখা নেই কেন? উত্তরে কবি বলেছিলেন, ‘কোরআন পড়তে শুরু করেছিলুম কিন্তু বেশিদূর এগুতে পারিনি আর তোমাদের রসুলের জীবন চরিতও ভালো লাগেনি।” [তথ্যসূত্র: বিতণ্ডা, লেখক: সৈয়দ মুজিবুল্লা, পৃ. ২২৯] অবাক হই, যখন কোনো কোনো মুসলিম রবীন্দ্রচর্চাকে ইবাদত বলে ঘোষণা করেন! সাত. রবীন্দ্রনাথ বর্ণবাদী নন এমনকি হিন্দুত্ববাদী নন, তা প্রমাণ করার জন্য ব্রাহ্মধর্মকে হাতিয়ার বানানো হয়, ভুলে যাওয়া হয়, ব্রাহ্মধর্ম হিন্দুত্ববাদেরই এক শাখা। রবীন্দ্রনাথের বাবা দেবেন্দ্রনাথকে বলা হয় ব্রাহ্ম সমাজের প্রচারক ও দার্শনিক (উইকি দেখুন) অথচ ইতিহাস কি বলে! “পুরো পরিবারকে দুর্গা পূজার ব্যবস্থা করে দিয়ে নিজে একটু আড়ালে থাকতেন এই আরকি।” (সূত্র: বসন্তকুমার চট্টপাধ্যায়ের লেখা জ্যোতিন্দ্রনাথের জীবনস্মৃতি, ১৯২০, পৃষ্ঠা: ৩৬) নিজে ব্রাহ্ম দাবি করলেও বাবার শ্রাদ্ধ হিন্দু পদ্ধতিতেই করেছেন দেবেন্দ্রনাথ। ব্রাহ্মদের মধ্যে পৈতা ত্যাগ করা জরুরি ছিলো, অথচ রবীন্দ্রনাথকে অনুষ্ঠান করে পৈতা দেওয়া হয়েছিলো। (সূত্র: এ এক অন্য ইতিহাস, লেখক: গোলাম আহমদ মর্তুজা) শুধু তাই না, ব্রাহ্ম সমাজে জাতিভেদ নিষিদ্ধ। অথচ রবীন্দ্রনাথের পৈতা পরার অনুষ্ঠানে রাজনারায়ণ বসু নামক এক ব্যক্তিকে শূদ্র বলে অপমানিত করে বের করে দেওয়া হয়। (রাজনারায়ণ বসুর লেখা আত্মচরিত, পৃ: ১৯৯) বর্ণবাদ ও হিন্দুত্বে যিনি মজ্জমান, তার পিছে আমাদের সংস্কৃতিকে হাঁকিয়ে নেয়ার আগে পরিণতি ভেবে নেয়া উচিত নয় কি মুসলমান? আট. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ইংরেজি লেখার কারিগর ছিলো সি. এফ. অ্যানড্রুজ। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একজন প্রধান সহযোগী ছিল মি. অ্যানড্রুজ। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর যার নাম দিয়েছিলেন ‘দীনবন্ধু’। (তথ্যসূত্র: আত্মঘাতী রবীন্দ্রনাথ-অখণ্ড সংস্করণ, দ্বিতীয় খণ্ড, কলকাতা, পৃষ্ঠা ১০৮) এই রবীন্দ্রই ড. ডেভিসের মধ্যস্থতায় এন্ডারসনের কাছ থেকে টাকা নিয়ে ‘চার অধ্যায়’ লেখেন। শুধু তাই নয়, ‘ঘরে বাইরে’ও তাকে টাকা দিয়ে লেখানো হয়।” (তথ্যসূত্র: দৈনিক বাংলাবাজারে প্রকাশিত ড. আহমদ শরীফের সাক্ষাৎকার, তারিখ ০১/০৫/১৯৯৭) “কালীপ্রসন্ন বিদ্যাবিশারদ তার ‘মিঠেকড়া’তে পরিষ্কার বলেই দিয়েছিলেন যে, রবীন্দ্রনাথ মোটেই লিখতে জানতেন না, স্রেফ টাকার জোরে ওর লেখার আদর হয়। পাঁচকড়ি বাবু একথাও বহুবার স্পষ্ট বলে দিয়েছেন, রবীন্দ্রনাথের প্রায় যাবতীয় সৃষ্টিই নকল। বিদেশ থেকে ঋণ স্বীকার না করে অপহরণ।” (তথ্যসূত্র: জ্যোতির্ময় রবি, ও কালোমেঘের দল, লেখক: সুজিত কুমার সেনগুপ্ত, পৃ. ১১১) রবীন্দ্রনাথ ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন গীতাঞ্জলির জন্য নয়, বরং গীতাঞ্জলির ইংরেজি অনুবাদ ‘Song Offerings’-এর জন্য। রবীন্দ্রনাথ হলেন বাংলা ভাষী, ইংরেজিতে কবিতা লিখে নোবেল প্রাইজ পাওয়াটা তার মতো ব্যক্তির পক্ষে একদমই অসম্ভব। কিন্তু এই অসম্ভবটাই সম্ভব হয়েছিল, কারণ পর্দার আড়ালে থেকে কলম ধরেছিল সি. এফ. অ্যানড্রুজ। ‘গীতাঞ্জলি’র ইংরেজি অনুবাদ কিন্তু বাংলা থেকে হুবহু অনুবাদ ছিল না, বরং তা ছিল ভাবানুবাদ। সেই ইংরেজি অনুবাদের ভাব সম্পূর্ণ মিলে গিয়েছিল খ্রিস্টানদের বাইবেল ও তাদের ধর্মীয় সাধকদের রচনার সাথে। যে প্রসঙ্গে গীতাঞ্জলির ইংরেজি অনুবাদের ভূমিকার লেখক, কবি ইয়েটস বলেছিলেন – “Yet we are not moved because of its strangeness, but because we have met our own image” অর্থাৎ ‘গীতাঞ্জলি’র ভাব ও ভাষার সাথে পশ্চিমাদের নিজস্ব মনোজগতে লালিত খ্রিস্টীয় ভাবধারা সম্পূর্ণ মিলে গিয়েছিল। ইয়েটস তার বক্তব্যের যৌক্তিকতা তুলে ধরতে সেন্ট বার্নার্ড, টমাস-এ- কেম্পিস ও সেন্ট জন অফ দি ক্রসের সাথে ‘গীতাঞ্জলি’র ইংরেজি অনুবাদের মিল উল্লেখ করেছিলেন। অন্যান্য পশ্চিমা সাহিত্য সমালোচকরাও ‘গীতাঞ্জলি’র ইংরেজি অনুবাদের ২৬নং কবিতা ও ইংরেজি বাইবেলের Songs of Solomon-এর ৫: ২-৬ নম্বর শ্লোক, তাছাড়া সেন্ট ফ্রান্সিসের রচিত খ্রিস্টীয় গান Canticle এবং ইংরেজি গীতাঞ্জলির ৮৬নং কবিতা এই দুটো পাশাপাশি রেখে তাদের মিল দেখিয়েছেন। (তথ্যসূত্র: আত্মঘাতী রবীন্দ্রনাথ-১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ১৪৫) ভাগ্য রবীন্দ্রনাথের! ইংরেজি অনুবাদটি রবীন্দ্রনাথ-অ্যানড্রুজের নবসৃষ্টি হলেও নোবেল পেয়েছেন শুধু রবীন্দ্রনাথ, এতে আমরা বেজার হবার কে? নয়. “‘শিবাজী উৎসব’ (১৯০৪) কবিতাটি যখন রবীন্দ্রনাথ রচনা করেন তখন তিনি কবি হিসাবে প্রতিষ্ঠিত। একই সঙ্গে কলকাতার বুদ্ধিজীবী মহলেও তিনি সম্মানের সাথে সমাদৃত। পারিবারিক এবং আর্থিক কারণে তিনি কলকাতার অভিজাত মহলের নেতৃস্থানীয় পর্যায়ে অবস্থান করছেন। বয়সের পরিসীমায়ও তিনি পরিণত। বলা যেতে পারে উনিশ শতকের শেষ এবং বিশ শতকের শুরুর পর্বের রবীন্দ্রনাথের চিন্তা ও কর্মের ধারাবাহিকতার সাথে কবিতাটির মর্মার্থ ওতপ্রোতভাবে জড়িত। মহারাষ্ট্রের বালগঙ্গাধর তিলক ১৮৯৫ সালের ১৫ এপ্রিল সেখানে শिवাজী উৎসব প্রতিষ্ঠা করেন। তিলক শিবাজী উৎসব প্রতিষ্ঠা করেছিলেন উগ্র হিন্দু জাতীয়তা ও সাম্প্রদায়িকতা প্রচার ও প্রসারের জন্য। ক্রমে শিবাজী উৎসবের অনুকরণে চালু হয় গণপতি পূজা। ইতিপূর্বে ১৮৯৩ সালে প্রতিষ্ঠিত গো-রক্ষিণী সভা ঐ অঞ্চলে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করে। মহারাষ্ট্রের শিবাজী উৎসবের অনুকরণে সখারাম গণেশ দেউস্করের প্রচেষ্টায় কলকাতায় শিবাজী উৎসব প্রচলিত হয় ১৯০২ সালের ২১ জুন তারিখে। সরলা দেবী ১৯০২ সালের অক্টোবর মাসে দূর্গাপূজার মহাষ্টমীর দিনে বীরাষ্টমী উৎসব প্রচলন করেন। তিনি ১৯০৩ সালের ১০ মে শिवাজী উৎসবের অনুকরণে প্রতাপাদিত্য উৎসব প্রচলন করেন এবং একই বছরের ২০ সেপ্টেম্বর তারিখে প্রবর্তন করেন উদয়াদিত্য উৎসব। কলকাতার বাইরে থাকার কারণে রবীন্দ্রনাথ এই তিনটি উৎসবে উপস্থিত ছিলেন না। কিন্তু ২৯ সেপ্টেম্বর ১৯০৩ সালে দূর্গাপূজার মহাষ্টমীর দিনে ২৬ বালিগঞ্জ সার্কুলার রোডে জানকীনাথ ঘোষালের বাড়িতে যে বীরাষ্টমী উৎসব অনুষ্ঠিত হয় রবীন্দ্রনাথ তাতে সক্রিয়ভাবে যোগ দেন। … শিবাজী উৎসবের মূল মন্ত্র ছিল চরম মুসলিম বিদ্বেষ, সন্ত্রাস এবং সাম্প্রদায়িকতা। বস্তুত এই শিবাজী উৎসবের সূত্র ধরেই বাংলায় সন্ত্রাসবাদী রাজনীতির এবং সাম্প্রদায়িক ভেদনীতির ভিত্তি স্থাপিত হয়। ——“কবিতার শুরুতে রবীন্দ্রনাথ শিবাজীর কর্মকাণ্ড ও জীবনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে বলেন : “কোন দূর শতাব্দীর এক অখ্যাত দিবসে নাহি জানি আজ মারাঠার কোন শৈল অরণ্যের অন্ধকারে ব’সে হে রাজা শিবাজী তব ভাল উদ্ভাসিয়া এ ভাবনা তরীৎ প্রভাবৎ এসেছিল নামি ‘একরাজ্যধর্ম পাশে খণ্ড ছিন্ন বিক্ষিপ্ত ভারত বেধে দিব আমি’। এখানে রবীন্দ্রনাথ শিবাজীকে ভারতের ঐক্যের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরেছেন। তিনি বলতে চেয়েছেন যে খণ্ড, ছিন্ন, বিক্ষিপ্ত ভারত ধর্মের ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ করা ছিল শিবাজীর জীবনের উদ্দেশ্য। মহারাষ্ট্রে শিবাজী উৎসবের প্রচলন, পরবর্তী সময়ে কলকাতাসহ ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে শিবাজী উৎসব প্রচলনের এবং এই উৎসবকে জনপ্রিয় করে তোলার জন্য নিবেদিত প্রাণ বালগঙ্গাধর তিলক এবং সখারাম দেউস্করের মূল উদ্দেশ্য ছিল শিবাজীর আদর্শে ভারতকে ঐক্যবদ্ধ করা। এখানে এটা স্পষ্টতই লক্ষণীয় যে তিলক, দেউস্কর আর রবীন্দ্রনাথের ভাবনা সম্পূর্ণ অভিন্ন। (- ড. নুরুল ইসলাম মনজুর / শতবর্ষ পরে ফিরে দেখা ইতিহাস : বঙ্গভঙ্গ ও মুসলিম লীগ॥ [গতিধারা – জুলাই, ২০১০। পৃ: ৫২-৮৬]) যারা বলেন রবীন্দ্রনাথের বাংলাদেশ, বাংলাদেশের রবীন্দ্রনাথ, তারা কি জানেন না—রবীন্দ্রনাথের বাংলাদেশ হিন্দুত্ববাদের মহাভারতে বিলীন হয়ে যায়? তখন সে আর স্বাধীন থাকে না! দশ. “এখন ভারতের ‘ইতিহাস ব্যবসায়ী’দের মধ্যে রবীন্দ্রনাথের সংখ্যাই বেশি। তাঁহারা সাড়ে পাঁচশত বৎসরের মুসলিম শাসনকে বিদেশি শাসনই মনে করেন।” (সলিমুল্লাহ খান-সাম্প্রদায়িকতা) জনাব খানের এ প্রবন্ধের সমালোচনায় মাসুদ রানা লিখেন— “১৯৪৭ সালে আসিয়া ভারত দুই ভাগ হইল কেন? সবাই বলে, হিন্দু-মুসলমান দুই জাতি। তাই দুই আলাদা দেশ হইল। দ্বিজাতি তত্ত্বের মূল কথা এই। এই বাবদ মুহম্মদ আলী জিন্নাহকে বাহবা দিয়া থাকেন সকলেই। এখানে তাঁহার কৃতিত্ব কি? এ তো ষোল আনা রবীন্দ্রনাথ পথিকের কৃতিত্ব।” ডঃ খানের প্রবন্ধে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নাম বারবারই ফিরে এসেছে। তাঁকে সাম্প্রদায়িক হিসেবে চিহ্নিত করেই তিনি ক্ষান্ত হননি। এ-প্রবন্ধে তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে ‘চুতিয়া’ বানিয়ে ছেড়েছেনঃ “বৌধায়ন চট্টোপাধ্যায় সিপিআইয়ের অনেক বড় নেতা ছিলেন। ১৯৬৮ সালে দাস ক্যাপিটালের শতবর্ষ উপলক্ষে তাঁহারা একটি বই প্রকাশ করেন। দিল্লির পিপলস পাবলিশিং হাউস প্রকাশ করে বইটি। ‘মার্কস অ্যান্ড উইন্ডিয়াস ক্রাইসিস’ নামের নিবন্ধে বৌধায়ন বলেন, ‘ভারতের বুদ্ধিজীবীরা সবাই চুতিয়া; দুইজনই শুধু ব্যতিক্রম—গান্ধীজি ও রবীন্দ্রনাথ।’ ‘চুতিয়া’ বলিয়া তিনি ঠিক বলিলেন; কিন্তু ওই দুইজনের ব্যাপারে ব্যতিক্রম কেন? ভারতের সব বুদ্ধিজীবীই যদি চুতিয়া, রবীন্দ্রনাথও ব্যতিক্রম নহেন।” “চুতিয়া” শব্দটি হিন্দি, যা এসেছে ‘চুত’ থেকে। হিন্দিতে ‘চুত’ মানে হচ্ছে অক্ষত যোনি বা কুমারী। আর “চুতিয়া” হচ্ছে অক্ষত যোনিজাত বা কুমারী মাতার সন্তান, যার বাংলা অর্থ হচ্ছে জারজ। ডঃ সলিমুল্লাহ খান মনে করেন, কমিউনিস্ট নেতা বৌধায়ন চট্টোপাধ্যায় ভারতের বুদ্ধিজীবীদেরকে চুতিয়া বলে ঠিক করেছেন। কিন্তু ডঃ খান তাঁর ওপরও তিনি সন্তুষ্ট নন, কারণ তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও গান্ধীকে রেহাই দিয়েছেন। ডঃ খানের দাবী, রবীন্দ্রনাথ ঠакুরও “চুতিয়া”। (সাপ্তাহিক পত্রিকা-১৫–০১-২০১৪) কিন্তু কেন? কেন বামপন্থী সলিমুল্লাহ খান এমন আক্রমণ করলেন? জবাব পাবো ইতিহাসে। ১৯০৫ সালে বঙ্গ প্রদেশকে দ্বিখণ্ডিত করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম প্রধান পূর্ববঙ্গ ও আসামকে নিয়ে যে প্রদেশ গঠন করা হয়, তার পক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের সমর্থন ছিল। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এ প্রদেশ বাতিল করার জন্য প্রবল গণআন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন। এই প্রদেশকে বিলীন করার জন্য সন্ত্রাসবাদী আন্দোলনসমূহের নেতা কর্মীদের অত্যন্ত দক্ষতার সাথে বীর হিসেবে উপস্থাপন করা হয় এখন। এখন বলা হয় না, মুসলিম প্রধান প্রদেশ সৃষ্টির ফলে অনগ্রসর ও শোষিত মুসলিম সম্প্রদায় কি সুফল পেয়েছিল? রবীন্দ্রনাথ ও সন্ত্রাসবাদী আন্দোলনের নেতা কর্মীরা কেনই বা এই প্রদেশকে রদ করার জন্য তৎপরতা চালালেন? ১৯০৫ সালে পূর্ববঙ্গ ও আসামকে নিয়ে প্রতিষ্ঠিত মুসলিম প্রধান নতুন প্রদেশ সৃষ্টির প্রথম বছরই এই প্রদেশের বৈদেশিক বাণিজ্য, ২,৯৮,২৭,৩৯৭ টাকা থেকে বেড়ে ৩,১৭,৭৭,৮৪৬ টাকায় উন্নীত হয়। ১৯০৫ সালেই শিক্ষাখাতে ব্যয় হয় ৭৩,০৫,২৬০ টাকা। স্কুল ছাত্র সংখ্যা বেড়ে ৬,৯৯,০৫১ থেকে ৯,৩৬,৬৫৩তে দাঁড়ায়। নারী শিক্ষার আশানুরূপ উন্নতি সাধিত হয়। বালিকা বিদ্যালয় সংখ্যা ৮১৯ থেকে বেড়ে ১৯১০-১১ সালে ৪,৫৫০ তে বৃদ্ধি পায় এবং ছাত্রী সংখ্যা ২৪,৪৯৩ থেকে বেড়ে ১,৩১,১৩৯ এ উন্নীত হয়। (উৎস: ১. Report on the Administration of Eastern Bengal and Assam, 1905-06 and 1910-11 ২. The pioneer mail, ২৩শে ফেব্রুয়ারি, ১৯১২ ৩. এ সম্পর্কে আরো তথ্য: বাঙালী বুদ্ধিজীবী ও বিচ্ছিন্নতাবাদ—অমলেন্দু দে, ৩য় অধ্যায়, পশ্চিম বঙ্গ রাজ্য পুস্তক পর্ষদ) এ প্রদেশ ছয় বছর টিকে না থাকলে আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় না হলে আজ যারা রবীন্দ্রনাথকে প্রণম্য মনে করছেন তাদের হিন্দু জমিদারদের গরু-ছাগলের রাখাল হয়ে থাকতে হত কি না—একটু ভেবেছেন কি? রবীন্দ্রনাথ চেয়েছিলেন তারা সেভাবেই থাকুক।
🤲🤲সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক নবী সা. তাঁর সাহাবীগণ ও কিয়ামত পর্যন্ত তাঁর সকল ও অনুসারীদের উপর।
প্রথমেই বলে নেই, বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করার প্রথম পদক্ষেপ হলো শিক্ষা ব্যবস্থাকে আলাদা করা অর্থাৎ দুই ভাগে বিভক্ত করা। অর্থাৎ দ্বীনই শিক্ষা এবং দুনিয়া শিক্ষা এই দুইটি ভাগে ভাগ করে শিক্ষাকে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।
আমার দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা দিন দিন এমন হয়ে যাচ্ছে যে, আমরা এখন বলতে বাধ্য হবো যে আমাদের বাপ-দাদাদের আমলের পড়াশোনার মান আরো হাজার গুন ভালো ছিল, যদি তারা পড়াশোনার জন্য তেমন পরিবেশ পাই নি। যাইহোক, দিন দিন বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা বিদেশে পড়াশোনার দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এটা স্বাভাবিক কারণ বর্তমানে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার যে অবস্থা, যদি এই ভাবে চলতে থাকে তাহলে কিছুদিন পর বাংলাদেশে আসলে কোন প্রকৃত শিক্ষিত লোক পাওয়া দুষ্কর হয়ে যাবে।
👉👉ইসলামের শিক্ষাব্যবস্থাকে কোন ভাগ করেনি। অথচ আমাদের দেশের কিছু আলেম আর কিছু নাস্তিকেরা শিক্ষা ব্যবস্থাকে ভাগ করে নিয়েছে। শিক্ষা ব্যবস্থা কেমন হওয়া উচিত অর্থাৎ দেশের উপকারের জন্য এবং ইসলামী শিক্ষা ব্যবস্থা কিরকম হওয়া উচিত, এই বিষয়টি যারা বুঝেছে তারা অসহায়ের মতো শুধু দৌড়াচ্ছে আর চিৎকার করে যাচ্ছে কিন্তু কেউ শুনছে না।
একদিকে নাস্তিক আর সেকুলাররা বলছে যে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার মধ্যে কোন ইসলামী শিক্ষা থাকতে পারবেনা।
অপরদিকে একদল তথাকথিত আলেম বলছে যে ধর্মীয় শিক্ষা ছাড়া অন্য কোন শিক্ষা থাকতে পারবেনা। এ সমস্ত আলেমদের মতে শুধু কোরান হাদিস শিখে কাজ করে আল্লাহর কাছে দোয়া করলেই নাকি সবকিছু হয়ে যাবে।
অথচ আল্লাহ সুবাহানাহুওয়া তা’য়ালা মানুষের উপদেশের জন্য কোরআন নাজিল করতে গিয়ে প্রথমেই শিক্ষার প্রতি এত গুরুত্ব আরোপ করেছেন এবং শিক্ষাকে আনলিমিটেড করে দিয়ে বলেছেন যে ‘পড়’! এখানে আল্লাহ পড়ার কোন সীমাবদ্ধতা রাখ। প্রথম নাযিল করা প্রথম পাঁচটি আয়াতের শেষের আয়াতে আল্লাহ লিখার উপকরণ কলমের কথা উল্লেখ করেছেন। অর্থাৎ আল্লাহ প্রথম পাঁচটি আয়াত নাজিল করেই মানুষকে পড়ালেখার প্রতি উৎসাহিত করেছেন এবং এটাকে ফরজ করে দিয়েছেন। অপর এক আয়াতে আল্লাহ স্পষ্ট বলে দিয়েছেন, “তোমরা যা জানো না তা যারা জানে তাদের নিকট থেকে জেনে নাও”! অর্থাৎ এখানে আল্লাহ শুধু কুরআন এবং হাদিস পড়ার মধ্যে ইসলামকে সীমাবদ্ধ করেননি। কারণ আল্লাহ ভালো করেই জানেন মানুষের জন্য দুনিয়ার শিক্ষা খুবই জরুরী এবং দুনিয়া আগে দরকার। দুনিয়াতে চলাফেরা করতে গিয়ে মানুষ সর্বক্ষেত্রে আল্লাহর নাম উচ্চারণ করবে এবং আল্লাহর আনুগত্য করবে এটাই ঈমানের দাবী। আর মানুষের প্রয়োজনে তারা বিজ্ঞান, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, দর্শন, কৃষি কেমিস্ট্রি ইত্যাদি আরো অনেক সাবজেক্ট পড়বে। কিন্তু পড়ার পূর্বে শুধু আল্লাহর নাম নেওয়ার জন্য কোরআনের প্রথম নাজিল করা প্রথম আয়াতে আল্লাহ বলে দিয়েছেন। কেননা আল্লাহর নাম নিয়ে এই সমস্ত বিষয় অধ্যয়ন করলে সে বিপথগামী হবে না।
আল্লাহর রাসূল, সাঃ বলেছেন প্রত্যেক নরনারীর উপর বিদ্যা অর্জন করা ফরজ। অথচ একদল মোল্লা বলে বেড়ায় যে দ্বীনি ইলিম বা দ্বীনি বিদ্যা শিক্ষা করা নাকি শুধু ফরজ আর বাকি অন্য কিছু ফরজ নয়। অথচ রাসুলুল্লাহ এখানে শুধু দ্বীনি ইলম বলেননি। তিনি সার্বিকভাবে শুধু বিদ্যা অর্জন করা ফরজ বলেছেন অর্থাৎ সকল প্রকার উপকারী বিদ্যা অর্জন করা ফরজ।
আমাদের দেশের মোল্লারা আখেরাতের শিক্ষা এবং দুনিয়ার শিক্ষা এই দুই প্রকারে ভাগ করে দিয়েছে। নাউজুবিল্লাহ।
আজকের দিনে যে মোল্লারা AI technologi কে হারাম ফতোয়া দিচ্ছে, মাত্র কয়েকদিন আগেও এই মোল্লারাই চার দেয়ালে আবদ্ধ মাদ্রাসায় বসে বিজ্ঞান শিক্ষা করাকে হারাম ফতোয়া দিয়েছিল।
এই মোল্লারাই মাত্র ২০০ বছর আগে ইংরেজি শিক্ষাকে হারাম ফতোয়া দিয়েছিল এবং ইংরেজিকে ইহুদী-খ্রিস্টানদের ভাষা হিসেবে ফতোয়া দিয়েছিল, অথচ সকল ভাষার স্রষ্টা আল্লাহ। এবং আল্লাহ সকল ভাষা বুঝেন এবং সকল ভাষায় মানুষের ফরিয়াদ শোনেন।
গত শতাব্দীর মাঝামাঝি পর্যন্ত এই মোল্লারাই তরবারি বর্ষা ব্যতীত আধুনিক যুদ্ধাস্ত্র বন্দুক বিমান ইত্যাদি দিয়ে যুদ্ধ বা জেহাদ করা নাজায়েজ ও হারাম ফতোয়া দিয়েছিল।
৩০টির অধিক হাদিস দিয়ে ঘোড়া খাওয়া হালাল হওয়া সত্বেও এখনো পর্যন্ত তারা ঘোড়া খাওয়া হারাম ফতোয়া দিচ্ছে এই জন্য ঘোড়া নাকি যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহার হয়। মোটকথা তারা চার দেয়াল থেকে এবং সেকেলে চিন্তা-ভাবনা থেকে কখনোই বের হয়ে আসতে পারেনি এবং তারা অগ্রসরমান মানুষদের বা মুসলিমদেরও পেছন থেকে টেনে ধরে রাখছে আর ফতোয়ায়ে জর্জরিত করে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করছে।
আখেরাতের শিক্ষা আমাদের দেশে অনেক ভালো বিদ্যমান। আমাদের দেশের মাদরাসা গুলো অনেক ভালো যেমন হাট-হাজারী মাদরাসা, তামিরুল মিল্লাত মাদ্রাসা, আহলে হাদিসের মাদ্রাসা সহ অনেক ভালো ভালো ইসলামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আমাদের দেশে আছে। আর এ সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে কিছু ফালতু ফতোয়াবাজ আলেম ব্যতীত সবাই মোটামুটি মধ্যপন্থা অবলম্বন করে চলে এবং কিছু মুষ্টিমেয় ফতোয়া ব্যতীত আর বাকি সব ঠিক আছে। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ শুধু আখেরাত চাইতে বলেননি বরং প্রথমেই আল্লাহ দুনিয়া চাইতে শিক্ষা দিয়েছেন। যেমন আল্লাহ বলেন তোমরা বলো,”ربنا اتنا في الدنيا حسنه وفي الاخره حسنه وقنا عذاب النار অর্থাৎ বলো হে আমার রব আমাদেরকে দুনিয়াতে কল্যাণ দান করুন এবং আখেরাতেও কল্যাণ দান করুন আর আগুনের আজাব থেকে আমাদের রক্ষা করুন, আমিন। এখানে আল্লাহ প্রথমে দুনিয়া চাইতে বলেছেন। কেননা আমাদেরকে দুনিয়াতে থাকতে হবে দুনিয়াতে থেকেই দুনিয়াবী কাজকর্ম ইত্যাদি করে আল্লাহর এবাদত করে জাহান্নামের আগুন থেকে নিজেদেরকে আল্লাহর রহমতে বাঁচাতে হবে। আল্লাহ যেখানে নিজেই প্রথমে দুনিয়া চাইতে বলেছেন সেখানে তারা দুনিয়া বাদ দিয়ে শুধু আখেরাত অর্থাৎ মাটির নিচে আর আসমানের উপরে নিয়ে ব্যস্ত আছে।
যেখানে আল্লাহ প্রথম এই দুনিয়া চাইতে বলেছেন সেখানে আমরা দুনিয়াবী শিক্ষায় কতটুকু এগিয়ে আছি? চীনের স্কুল গুলাতে Ai শিখা বাধ্যতা মূলক সেখানে আমাদের দেশে Ai কে ক্ষতি এবং হারাম বলে আমাদের পিছিয়ে দিচ্ছে এই আলেম নামক মোল্লা গুলো। আমাদের সরকারি ভালো কোন আইটি টিম আছে কি? আমাদের সরকারি কোন সাইবার সিকিউরিটি টিম আছে কি?
একজন বিদগ্ধ শিক্ষাবিদকে জিজ্ঞেস করেছিল যে শিক্ষার দিক থেকে যুক্তরাষ্ট,কানাডা, চীন, জার্মানি এদেরকে 10 এর মধ্যে 8,6,9,7 দেবেন। তারপর বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে 10এর মধ্য কত দিবেন জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, -1 ও দিবো না।
ভাই বিদেশে যেখানে শিখছে মেশিং লার্নিং, ডাটা সায়েন্স, ন্যানো টেকনোলজি, সেখানে আমরা এখনো Html css js দিয়ে কিভাবে ওয়েবসাইট তৈরি করতে হয় তা শিখছি।
সরকারের কাছে আমি একজন ছাত্র হিসেবে অনুরোধ করছি, প্লিজ প্লিজ দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে উন্নত করুন বাস্তব বাস্তবমুখী শিক্ষা চালু করুন আমাদের বিপুল বড় জন সংখ্যাকে কাজে লাগান। উল্টা পাল্টা বিষয়কে বাদ দিয়ে বিজ্ঞান প্রযুক্তি মুখী শিক্ষা চালু করুন। নাহলে পূর্বে যেভাবে বাংলাদেশ অনেক মেধাবীকে হারিছে, আবারও হারাবেন কারণ এমন শিক্ষা ব্যবস্থা থাকলে দেশে কেও থাকবে না। পাশাপাশি অবশ্যই কোরআন হাদিস ও নৈতিক শিক্ষা থাকবে। কেননা সদ ও নীতিবান মানুষ তৈরি করার জন্য শুধু দুনিয়ার শিক্ষা দিলে চলবে না। শিক্ষা ব্যবস্থায় যদি ইসলামী শিক্ষা না থাকে তাহলে সমাজের মধ্যে যেমন এই শিক্ষার মূল উপকারিতা পাবে না কারণ নীতি নৈতিকতা বর্জিত হয়ে তারা বিপথগামী হয়ে যাবে, তদ্রূপ জারজ দিয়ে সমাজ ভরে যাবে। তাছাড়া হিন্দু এবং খ্রিস্টান ধর্মীয় শিক্ষার মধ্যেও কোথাও মদ খাওয়া শিক্ষা দেওয়া হয় না, কোথাও বিবাহ বহির্ভূত যৌন সম্পর্ক শিক্ষা দেওয়া হয় না বরং অনুৎসাহিত করা হয়, বা কোন ধর্মে মিথ্যা কথা বলা বা অসামাজিক কোন কাজ এর শিক্ষা নেই। আর যেহেতু আমাদের দেশের মধ্যে নব্বই শতাংশ মুসলিম তাই এখানে ৯০ শতাংশ মুসলিমের জন্য অবশ্যই প্রত্যেক ক্লাসে ইসলামী ও নৈতিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা উচিত। এবং অন্যান্য ধর্মের লোকেরা তাদের ধর্মীয় গ্রন্থ পড়বে সমস্যা নেই।
দুইটি মাউন্টেন গোট প্রায় ১৩ হাজার ফুট উপরে খারা পাহাড়ে ঘাস খাচ্ছে।
✅✅ Mountain Goat বা পাহাড়ি ছাগলে কথা অনেকেই শুনেছেন, এবং এই অনলাইনের যুগে নিশ্চয়ই ছবি অথবা ভিডিওটি দেখেছেন? বিরল প্রজাতির এই ছাগল পাহাড়ে চড়ার দক্ষতার জন্য বিশ্ববিখ্যাত। বিশেষ ধরনের খুরের সাহায্যে সে খাড়া পাহাড় বেয়ে ১৩,০০০ ফুট উপরে উঠে যাওয়ার রেকর্ড আছে। ওদিকে পাহাড়ের নিচে বাস করা সিংহ, চিতার আর হায়নার দল বসে থাকে তার পতনের অপেক্ষায়, পা পিছলে নিচে পড়লেই ঘাড় মটকে মজা করে খাবে। আর এই আশায় তারা যুগের পর যুগ আর প্রজন্মের পর প্রজন্ম কাটিয়ে দিচ্ছে। প্রতিমুহূর্তে তাদের মনে হয়, এই বুঝি মাউন্টেন গোট পা হড়কে নিচে পড়ল! কিন্তু পড়বে কিভাবে, মাউন্টেন গোটের প্রকৃতি প্রদত্ত খুরগুলো যে চুম্বকের মতো পাহাড়ের খাঁজে আটকে থাকে!
একটি ‘মাউন্টেন গোট’ পাহাড়ের অপেক্ষা কৃত সমতল অঞ্চলে বিশ্রাম নিচ্ছে।
এই অসাধারণ দক্ষতা সম্পন্ন স্বাধীন, ধৈর্যশীল, সাহসী এবং বৃহদাকৃতির এই ছাগলটিকে জাতীয় পশুর মর্যাদা দিয়েছে পাকিস্তান। পাকিস্তানের জাতীয় পশু এই দৃষ্টিনন্দন ও অবাক করা পাহাড়ী ছাগল। পাকিস্তানের এর স্থানীয় নাম #মারখোর’ । এই ছাগলকে পোষ মানানো অত্যন্ত জটিল এবং এরা সম্পূর্ণ স্বাধীন ভাবে থাকে আর এই জন্যই পাকিস্তান তাদের জাতীয় পশু হিসাবে এই “মারখোর”কে পছন্দ করেছে।
সে যাই হোক, বাস্তব জীবনেও কাউকে কাউকে মাউন্টেন গোট বা মারখোর এর সাথে তুলনা করা যায়। আর পিছনে থাকা সমালোচকদের নিচে থাকা ওই সিংহ, চিতা এবং হায়না, ও বন্য শুকরের সাথে তুলনা করা যায়। সমালোচকরা অপেক্ষায় থাকে কখন ‘মাউন্টেন গোট’রূপী মানুষটির পতন হবে আর সেটা নিয়ে তারা উল্লাসে মেতে উঠবে। কিন্তু ওই সমালোচকরা তো জানে না, তাদের টার্গেট করা ওই মানুষটি জাতে একটা “মাউন্টেন গোট”!
✅✅ জাতিতে মারখোর নামক প্রাণীটি ছাগল হলেও এরা স্বাভাবিক ছাগলের মত নয়। এদেরকে যেমন পোষ মানানো যায় না এবং সব সময় স্বাধীন থাকতেই পছন্দ করে তদ্রূপ খাবারের খোঁজে এরা উঠে যায় প্রায় ১৩০০০ ফুট পাহাড়ের উচ্চতায়। দেখতে কিছুটা স্বাভাবিক ছাগল হলেও তা অনেকটা আলাদা। অত্যন্ত প্রতিকূল পরিবেশেও এই ছাগল টিকে থাকতে পারে। এই মাউন্টেন গুড বা মারখোর।
মারখোর এর বৈজ্ঞানিক নাম: Capra falconeri। এরা ক্যাপরা গণের একটি বড় প্রজাতি যেটি উত্তর আমেরিকা, আফগানিস্তান, উত্তর পাকিস্তান, দক্ষিণ তাজিকিস্তান, দক্ষিণ উজবেকিস্তান, এবং অল্প সংখ্যক দেখা যায় জম্মু ও কাশ্মীরে। আইইউসিএন এটিকে বিপন্নশ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত করেছে। সমগ্র পৃথিবীতে এই প্রজাতির আর মাত্র ২৫০০টির মতো প্রাণী টিকে আছে এবং গত দু’প্রজন্মে ২০% সংখ্যা কমেছে। পাকিস্তান এদেরকে জাতীয় পশুর স্বীকৃতি দেয়ার পর পাকিস্তানের এটি স্বীকার করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং কোন প্রয়োজন ছাড়া ও সরকারের প্রাণী বিভাগের অনুমতি ছাড়া এটি কেউ শিকার বা হত্যা করলে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়।
এই প্রাণীটি গ্রামেগঞ্জে দেখতে পাওয়া ছাগলের থেকে আকার এবং আয়তনে বেশ অনেকটাই বড়। এগুলোর ওজন প্রায় ৪৫ কেজি থেকে ১৪০ কেজি পর্যন্ত হয়ে থাকে। একটা সদ্যোজাত মাউন্টেন গোট প্রায় তিন কেজির হয়ে থাকে। এদের গায়ে মোটা পুরু পশমে ঢাকা থাকে। তার জন্য এরা খুব বেশি ঠান্ডা যথা মাইনাস ৪০ ডিগ্রী সেলসিয়া তাপমাত্রায়ও তারা অনায়াসে খুব স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকতে পারে।
আমাদের বাংলাদেশের জাতীয় পশু যেমন রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার বা বাঘ ! পাকিস্তানের তেমন ভয়ংকর দর্শন পাহাড়ি ছাগল মারখোর ! এমন তার চেহারা যে দেখলেই ভয় হয় ! পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে মানুষের লোভের কারণে এদের সংখ্যা ও অনেক কমে গেছে ! তোরা শিকারীরা এই ছাগল হত্যা করে খেয়ে ফেলে। হয়তো কোনদিন বিলীন হয়ে যাবে !
কেন এই পাহাড়ি ছাগল টির নাম মারখোর ? “মারখোর” শব্দটি দুইটি ফার্সি শব্দ ‘মার’ ও ‘খোর’ যোগে গঠিত হয়েছে ! ‘মার’ শব্দের অর্থ “সাপ” এবং ‘খোর’ শব্দের অর্থ “ভক্ষক”, অর্থ্যাৎ ‘মারখোর’ দ্বারা বোঝানো হয় – যে সাপ খায় ! এরা সাপ মারতে পারে বলে এদের এমন নাম হয়েছে বলে অনেকে মনে করেন ! আবার অনেক বিশেষজ্ঞের মতে এদের সাপের মতো পেঁচানো শিং-এর কারণে এদের এমন নাম !