মহিলাদের ইদ্দত তালাকপ্রাপ্তা নারীর ক্ষেত্রে তিন মাস দশ দিন আর বিধবা নারীর ক্ষেত্রে চার মাস দশ দিন কেন?

🇸🇦🇸🇦 পবিত্র কোরআন ও হাদিস তথা ইসলামী শরীয়তে ডিভোর্সি রমণী অর্থাৎ তালাকপ্রাপ্তা নারীর ইদ্দত বা অবকাশ যাপনকালীন সময় ৩ মাস বা তিন মাস ১০ দিন এবং বিধবা নারীর ৪ মাস ১০ দিন ইদ্দত নির্ধারণে যে নিগূঢ় তত্ত্ব, তথ্য,উপাত্ত রয়েছে, তা ভালোভাবে স্টাডি করে উপলব্ধি করলে যে কেউ অবাক না হয়ে পারবে না !
সুবহানাল্লাহ!

👉👉 ইসলামে একজন মহিলার জন্য এক‌ই সময়ে একাধিক বিয়ে বা একাধিক স্বামী রাখার অনুমতি দেয়া হয়নি কেন?
অবশেষে চিকিৎসা বিজ্ঞান কুরআনে বর্ণিত বিধানের নির্ভুল ব্যাখ্যা বের করতে সক্ষম হয়েছে যা একজন নিরক্ষর বা উম্মী নবী সা. আজ থেকে দেড় হাজার বছর পূর্বে আল্লাহর নিকট থেকে ওহি প্রাপ্ত হয়ে বলে গিয়েছেন।

👉👉 একজন ভ্রূণ বিশেষজ্ঞ (যিনি একজন ইহুদি ধর্মীয় পণ্ডিতও ছিলেন) তিনি খোলাখুলি বলেছিলেন যে, পৃথিবীতে মুসলিম নারীর চেয়ে পবিত্র ও বিশুদ্ধ নারী অন্য কোন ধর্মে নেই।
পুরো ঘটনাটি ঘটেছিল যখন আলবার্ট আইনস্টাইন ইনস্টিটিউটের (Albert Einstein Institution) সাথে যুক্ত একজন ভ্রূণ বিশেষজ্ঞ, ইহুদি পেশাদার রবার্ট, তার ইসলাম গ্রহণের ঘোষণা দেন।
যার একমাত্র কারণ ছিল, কুরআনে উল্লেখিত তালাক প্রাপ্ত নারীর ইদ্দতের আদেশ সম্পর্কিত আয়াত এবং ইদ্দতের জন্য তিন মাসের সীমা নির্ধারণের পেছনের রহস্য ও হিকমত সম্পর্কে অবগতি।

আল্লাহ তায়ালা কোনো তালাকপ্রাপ্তা নারীকে দ্বিতীয় বিয়ের পূর্বে তিন মাসের একটি গ্যাপ রাখতে বলেছেন। তিনি পবিত্র কুরআনে এরশাদ করেন,

وَٱلْمُطَلَّقَٰتُ يَتَرَبَّصْنَ بِأَنفُسِهِنَّ ثَلَٰثَةَ قُرُوٓءٍۚ

অর্থাৎ ‘তালাকপ্রাপ্তা নারীরা তিন মাসিক পর্যন্ত অপেক্ষা করবে’ –সূরা আল-বাকারাহ ২২৮:২!

এই আয়াতটি একটি আধুনিক বিজ্ঞান ডিএনএ এর আবিষ্কারের রাস্তা সুগম করেছে এবং দেখা গেছে যে একজন পুরুষের বীর্যে থাকা প্রোটিন অন্য পুরুষের থেকে ৬২% পৃথক ও ভিন্ন থাকে।

আর একজন নারীর শরীর একটি কম্পিউটারের মত। যখন একজন পুরুষ তার সাথে ইন্টারকোর্স করে তখন সেই নারীর শরীর সব ব্যাকটেরিয়াকে শোষণ করে এবং তার শরীরে তা ধারণ করে।
অতএব, বিবাহ বিচ্ছেদের পরপরই, যদি একজন মহিলা অন্য পুরুষকে বিয়ে করেন বা একই সাথে বেশ কয়েকজনের সাথে শারীরিক সম্পর্ক করে, তাহলে তার শরীরে বিভিন্ন ধরণের ডিএনএ জমা হয় যা বিপজ্জনক ভাইরাসের রূপ নেয় এবং মারাত্মক রোগ সৃষ্টির কারণ হয়।

শরীর বিজ্ঞান গবেষণা করে দেখে যে, প্রথম মাসিক আসার পর একজন মহিলার শরীর থেকে পূর্ব স্বামীর ৩২% থেকে ৩৫% পর্যন্ত প্রোটিন শেষ হয়ে যায়, এবং দ্বিতীয় মাসিক আসার পর তার শরীর থেকে ৬৭ থেকে ৭২% ডিএনএ ধ্বংস হয়ে যায়। এবং তৃতীয় মাসিকের পর ৯৯.৯% পর্যন্ত প্রোটিন নির্মূল হয়ে যায়।
এরপর জরায়ু আগের ডিএনএ থেকে সম্পূর্নরূপে পরিষ্কার হয়ে যায় এবং কোন প্রকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই নতুন ডিএনএ গ্রহণ করার জন্য প্রস্তুত থাকে।

একজন গণিকা অনেক মানুষের সাথে সঙ্গম করে, যার ফলে বিভিন্ন পুরুষের ব্যাকটেরিয়া তার জরায়ুতে প্রবেশ করে এবং বিভিন্ন ধরণের ডিএনএ তার মধ্যে জমা হয় এবং সে মারাত্মক রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ে। আর এজন্যেই দেখা যায় পৃথিবীর তাবৎ গণিকা ও গণিকালয়গুলো যৌন ও চর্মরোগ সহ বিভিন্ন ভয়ঙ্কর রোগব্যাধির বিস্তার কেন্দ্র।

👉👉 অপরদিকে বিধবা মহিলার ক্ষেত্রে শরীয়তের বিধান হলো, তার ইদ্দত তালাকপ্রাপ্ত মহিলার চেয়ে বেশি অর্থাৎ ৪ মাস ১০ দিন।
এর কারণ হলো দুঃখ ও দুশ্চিন্তার কারণে তার শরীর থেকে প্রাক্তন ডিএনএ দ্রুত শেষ হয় না,
এটি শেষ হতে আগের চেয়ে বেশি সময় লাগে, আর এ জন্য মহিলাদের ইদ্দত চার মাস দশ দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন,

وَٱلَّذِينَ يُتَوَفَّوْنَ مِنكُمْ وَيَذَرُونَ أَزْوَٰجًا يَتَرَبَّصْنَ بِأَنفُسِهِنَّ أَرْبَعَةَ أَشْهُرٍ وَعَشْرًاۖ
‘তোমাদের মধ্য হতে যারা স্ত্রী বা স্ত্রীদেরকে রেখে মারা যাবে সে অবস্থায় স্ত্রীরা নিজেদেরকে ৪ মাস ১০ দিন বিরত রাখবে।’
–আল-বাকারাহ, ২৩৪!

এই সত্যের মুখোমুখি হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের একদল বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দুটি ভিন্ন স্থানে ভিন্ন ২টি গবেষণা পরিচালনা করেন।
প্রথমটি আমেরিকার আফ্রিকান বংশোদ্ভূত মুসলমান নারীর ভ্রূণের মধ্যে মাত্র একজন স্বামীর ডিএনএ পাওয়া গেছে।

দ্বিতীয়টি অন্য এক এলাকায় যেখানে আসল আমেরিকান মহিলারা থাকেন, তাদের ভ্রূণের মধ্যে একাধিক অর্থাৎ দুই বা তিন জনের বেশি পুরুষের ডিএনএ পাওয়া গেছে।

অতঃপর যখন এটি দেখার পর একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার স্ত্রীকে না জানিয়ে তার নিজ স্ত্রীর ভ্রূণ ​​পরীক্ষা করলেন, তখন তিনি একটি মর্মান্তিক সত্য দেখতে পান যে, তার স্ত্রীর মধ্যে তিনটি ভিন্ন ভিন্ন ডিএনএ আছে। যার অর্থ হলো তার স্ত্রী তার সাথে প্রতারণা করছিল এবং তার তিন সন্তানের মধ্যে কেবল মাত্র একজন ছিল তার নিজ সন্তান, বাকিরা ছিল অন্য পুরুষ থেকে।

ডাক্তার তখন নিশ্চিত হন যে ইসলামই একমাত্র ধর্ম যা নারীদের নিরাপত্তা এবং সমাজের সম্প্রীতির নিশ্চয়তা দেয়। এবং এই বিষয়েও নিশ্চিত হন যে, একমাত্র মুসলিম নারীরাই পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন, বিশুদ্ধ ও পবিত্র জীবন যাপন করে থাকে।
উল্লেখ্য যে, চরিত্রহীন রানীর ব্যাপারে ভিন্ন কথা।

কোন হালাল কাজই নিচু কিংবা নিন্দনীয় নয়।

🤔🤔 নবী-রাসুলগণ (আঃ) ছিলেন মানুষের জন্য  সর্বোত্তম আদর্শ।
নবী রাসুলগণের মধ্যে
কেউ ছিলেন কৃষক, যেমন- আদম আঃ।
কেউ ছিলেন কামার, যেমন দাউদ আঃ। কেউ ছিলেন আর্কিটেকচার ইঞ্জিনিয়ার এবং উদ্ভাবক যেমন, সোলাইমান আঃ।
কেউ ছিলেন রাষ্ট্রপ্রধান, যেমন মোহাম্মদ সাঃ, সোলাইমান আঃ।
কেউ ছিলেন যানবাহন ও জাহাজ নির্মাণ শিল্পের উদ্ভাবক, যেমন- নূহ আঃ ।
কেউ ছিলেন উজির বা মন্ত্রী, যেমন ইউসুফ আঃ।
কেউ ছিলেন বিভিন্ন প্রকার ঢ্যাম বা বাঁধ নির্মাণ সহ লোহাতামা পিতল তৈরির ইঞ্জিনিয়ার ও বিশেষজ্ঞ, যেমন- জুলকারনাইন বা বাদশা সিকান্দার আঃ।
কেউ ছিলেন সমর নায়ক বা সেনাবাহিনীর প্রধান যেমন নবী দাউদ আঃ।
কেউ ছিলেন আধুনিক বিল্ডিং নির্মাতা যেমন ইব্রাহিম আঃ। তিনি পুত্র ইসমাইলকে নিয়ে পৃথিবীবাসীকে প্রথম দেখিয়েছেন কিভাবে পাথর কাদামাটির সিমেন্ট ইত্যাদি দিয়ে সমতলে বাড়ি তৈরি করতে হয়।

এভাবে বিভিন্ন নবীগণের মাধ্যমে আল্লাহ মানুষের ক্রমবর্ধমান বিস্তৃতির সাথে সাথে আল্লাহর সৃষ্টি জগতের বিভিন্ন কিছু শিক্ষা দিয়ে মানুষের প্রয়োজন মিটানোর বন্দোবস্ত করেছেন।

মানুষ কিছুই জানতো না। এমনকি মানুষ মৃত্যুর পর যে মানুষের ডেড বডি গ্রাউন্ডেড করতে হবে বা কবর দিতে হবে সেই জ্ঞান টুকু ও মানুষের ছিল না।
উদাহরণস্বরূপ বলা যায় আদম পুত্র কাবিল যখন তার ভাই হাবিলকে হ ত্যা করেছিল তখন তিনি জানতেন না এই লা শ কি করবেন।
অতঃপর আল্লাহ কাক পাঠিয়ে কিভাবে ডেড বডি কবর দিতে হয় তা দেখিয়ে দিলেন।

আল্লাহ পবিত্র কোরআনে বলেছেন যে “তোমাদের সামান্যতম জ্ঞান দেওয়া হয়েছে”!
অন্যত্র আল্লাহ রাসূল সাঃ কে উদ্দেশ্য করে বলেন, “হে নবী আপনি জানতেন না ঈমান কি জিনিস এবং আপনি এটাও জানতেন না কিতাব কি বস্তু, আমি আপনাকে শিখিয়েছি!”
মোটকথা হলো, নবী-রাসূল এবং ফেরেশতা থেকে শুরু করে যত মাখলুক আছে সবার শিক্ষক হলেন আল্লাহ।
আল্লাহ দুনিয়াতে প্রায় এক হাজার এর মত নবী-রাসূল পাঠিয়ে, সেই নবী-রাসূলগণের মাধ্যমে মানুষের প্রয়োজনীয় বিভিন্ন বস্তু ও বস্তু সামগ্রী আবিষ্কার ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে সারা দুনিয়ার মানুষকে শিক্ষা দিয়েছেন।

{উল্লেখ্য যে, আল্লাহ ২ লক্ষ ২৪ হাজার নবী-রাসূল পাঠিয়েছেন, এই কথার কোন ভিত্তি নাই। একটি হাদিসে এসেছে এক লক্ষ চব্বিশ হাজার নবী পাঠিয়েছেন, মূলত এটাও জাল হাদিস। তবে কোরআনের ওই কথাই ঠিক যে, আল্লাহ বলেছেন আমি প্রত্যেক সম্প্রদায়ের কাছে সতর্ককারী অর্থাৎ নবী-রাসূল প্রেরণ করেছি। অর্থাৎ নবী রাসূলের সঠিক কোন কোয়ান্টিটি আল্লাহ মানুষকে জানাননি। কত সম্প্রদায় পাঠিয়েছেন তা আল্লাহ ভালো জানেন। তবে বাহ্যিক দৃষ্টিতে যা দেখা যায়, এটা নিয়ে গবেষণা করলে তাই বেরিয়ে আসে যে, আদম আলাইহিস সালাম থেকে শুরু করে মোহাম্মদ সাঃ পর্যন্ত সম্প্রদায়ের সংখ্যা কোনভাবেই এক হাজারের বেশি নয়। পবিত্র কোরআনে 25 অথবা 27 জন নবীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে মাত্র। কারণ এই নবী রাসূলগণের জীবন ও কর্ম থেকে আমাদের জন্য শিক্ষা গ্রহণ করার আছে অনেক কিছুই। আর পবিত্র কোরআনে আরও এক জায়গায় বলা হয়েছে যে রাসূলুল্লাহ সাঃ এরমধ্যে রয়েছে সবচেয়ে উত্তম আদর্শ}

👉👉 পৃথিবীতে প্রেরণ করা অত্যন্ত জ্ঞানী ও প্রজ্ঞাবান কিছু মানুষের কথা আল্লাহ পবিত্র কুরআনে উল্লেখ করেছেন তার মধ্যে অন্যতম হলেন, লোকমান আঃ।
লোকমান আঃ একবার একটা জায়গায় দাঁড়িয়ে খুতবা দিচ্ছিলেন। তখন একটি লোক উঠে দাঁড়িয়ে বলল, “আপনি কি সেই লোকমান নন যিনি আমার সাথে অমুক মাঠে ছাগল ভেড়া চড়াতেন?
লোকমান আঃ এক মুহূর্ত চুপ থেকে লোকটির দিকে তাকিয়ে বললেন, হ্যাঁ আমি সেই ব্যক্তি যে আপনার সাথে ওই মাঠে ছাগল ভেড়া চড়াতাম।
এবার লোকটি জিজ্ঞাসা করল, আপনার এত মর্যাদা হলো কি করে?
লোকমান আঃ বললেন, এবং আল্লাহ আমাকে সম্মান ও মর্যাদা দান করেছেন এই জন্য যে আমি আল্লাহর নির্দেশ অনুযায়ী পড়াশোনা করেছি কেননা আল্লাহ মানুষকে নির্দেশ দিয়েছেন পড়ো। অপরদিকে আমি তাকওয়া অর্থাৎ আল্লাহ ভীতির পথ অবলম্বন করেছি।
অতএব যে কেউ আল্লাহর নাজিল করা জিনিসগুলো পড়বে এবং আল্লাহর সৃষ্টি সবকিছু নিয়ে চিন্তা গবেষণা করবে এবং আল্লাহকে ভয় করবে তাদের জন্য রয়েছে সম্মান এবং উত্তম জীবিকা।

👉👉 এবার আরও একটি কাহিনী বলে শেষ করি।
আব্রাহাম লিংকন প্রথম যেদিন
প্রেসিডেন্ট হয়ে পার্লামেন্টে ভাষন দিচ্ছিলেন তখন
এক ভদ্রলোক দাড়িয়ে বললেন, “লিংকন সাহেব
ভুলে যাবেন না আপনার বাবা আমাদের
পরিবারের জন্য জুতা তৈরি করে দিতেন ।কারন একজন মুচির ছেলেকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে অনেকেই মেনে নিতে পারেননি ।”

একথা শোনার পরে সবাই চুপ হয়ে
গেলেন কিণ্তু লিংকন মোটেই বিচলিত হলেন না ।
লিংকন লোকটির চোখে চোখ রেখে বললেন, “
আমি জানি স্যার আমার বাবা
আপনার কেন এখানে অনেকেই
আছেন যাদের পরিবারের জন্য জুতা
তৈরি করতেন ।
এজন্য আমি গর্বিত বাবা ছিলেন জুতা তৈরির জন্য
জিনিয়াস । সে কাজকে কখনো ছোট
করে দেখতেন না ।
বাবা ছিলেন জুতা তৈরির নিপুন কারিগড় ।
আজও পর্যন্ত তার কোন কাজের
সমালোচনা হয়নি কারন তিনি
কাজ করতেন শুধু গ্রহিতার সন্তূষ্টির
জন্য নয় নিজের সন্তূষ্টির জন্য ।
আপনার যদি কোন অভিযোগ
থাকে তাহলে বলুন আমি আপনাকে
এক জোড়া জুতা তৈরি করে দেব
আমি ও ভাল জুতা তৈরি করতে পারি ।”

একথা শোনার পর লোকটি লজ্জায়
মাথা নিচু করে রইলেন ,তখন লিংকন বললেন, “

গরুর চামড়া শতভাগ হালাল, পুষ্টিকর এবং সুস্বাদু।

📘📘 #চামড়া_খাওয়া’র ব্যাপারে ইসলামের বিধানঃ
📘📘 সাধারণভাবে গরু-ছাগল ও বিভিন্ন পশুর চামড়া প্রক্রিয়াজাত করে বিভিন্ন পোশাক, জুতা,বেল্ট, মোজা, ব্যাগ ও হাপড় ইত্যাদি তৈরি করা হয়। তবে ইদানিং চামড়ার দাম পড়ে যাওয়ায় বিদেশি স্টাইলে দেশে গরুর ও বিভিন্ন পশুর চামড়া খাওয়া শুরু হয়েছে। প্রথমে একদল মোল্লা ক্যাটাগরির আলেম চামড়া খাওয়া নাজায়েজ ইত্যাদি ফতোয়া দিলেও কোরআন হাদিসে হালাল যেকোনো প্রাণীর চামড়া ও হালাল বিধায় এবং পশু পাখির চামড়া হারাম হওয়ার পক্ষে কোন প্রকার দলিল না থাকায় অবশেষে মোল্লা সম্প্রদায় চুপ হতে বাধ্য হয়েছে।
💚 অবশ্য বিজ্ঞ আলেমগণ কখনোই চামড়া খাওয়ার বিপক্ষে কোন ফতোয়া দেয়নি।
যাইহোক, চামড়া একটি অত্যন্ত উপদেয় এবং পুষ্টিকর খাবার। গরু ছাগলের নাড়িভুঁড়ি যেমন প্রক্রিয়া বা প্রসেসিং করতে যেমন কিছু কায়দা কৌশল অবলম্বন করতে হয় তদ্রূপ চামড়া কেউ প্রসেসিং করতে অতিরিক্ত কিছু কায়দা কানুন প্রয়োজন পড়ে।
তবে চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের মতে যেকোনো পশু পাখির চামড়ার মধ্যে মানুষের জন্য ক্ষতিকর কিছু নেই।
তবে অতিরিক্ত মাংস ভক্ষণ সব সময় শরীরের কোন না কোন ক্ষতি করে থাকে। আর চামড়াটা যেহেতু মাংসের অন্তর্ভুক্ত সেহেতু অন্যান্য মাংসের মত চামড়া কেউ অতিরিক্ত খাওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত স্বাস্থ্যগত দিক চিন্তা করেই।
📘📘 আল্লাহ গৃহপালিত পশু যেমন, ছাগল,গরু, মহিষ,ভেড়া,উট, দুম্বা ,গাড়ল,ঘোড়া, এবং বনের হরিণ, জেব্রা ,জিরাফ, বনগরু সহ ইত্যাদি সকল তৃণভোজী প্রাণীর মাংস খাওয়া হালাল করা করেছেন। (তবে পালিত গাধা হারাম) ।
কিন্তু এই হালাল পশুর বেলাতেও কিছু বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এরমধ্যে প্রথম শর্ত হলো পশুগুলোকে অবশ্যই আল্লাহর নাম নিয়ে জবাই বা হত্যা করতে হবে। তাছাড়া মানুষের জন্য ক্ষতিকর বিদায় হালাল পশুর ৭টি অঙ্গ খাওয়া মুসলমানদের জন্য হারাম করেছে। যেমন- ১/মল ২/ মুত্র ৩/রক্ত ৪/খুড়া, ৫/ শিং, ৬/লোম।
অনেক আলেম তাদের মস্তিষ্কপ্রসূত কিছু ফতোয়া দিয়ে থাকে যে হালাল পশুর ১/নর প্রাণীর পুং লিঙ্গ,
২/অন্ডকোষ, ৩/মাদী প্রাণীর স্ত্রী লিঙ্গ, ৪/মাংসগ্রন্থি, ৫/মুত্রথলি, ৬/পিত্ত, ৭/গরুর নাড়ি তথা রগ ইত্যাদি খাওয়া হারাম। মূলত তাদের এই সমস্ত কথাগুলো মন গড়া এবং কোরআন হাদিসে তাদের এই কথার কোন অস্তিত্ব নেই।
সূরা আন‘আম ১৪৫ নাম্বার আয়াতে যবেহকৃত প্রাণীর শুধু প্রবাহিত রক্ত ছাড়া আর বাকি সবকিছু কে হালাল বলেছে।
হানাফীমাজহাবের কিছু কিতাবে আরো যে ছয়টি বস্তু হারাম বলে উল্লেখ আছে সেগুলি সব #ক্বিয়াস বা অনুমান নির্ভর।
👉👉তবে এক বাক্যে বলা যায় যে হালাল পশুর চামড়া যদি কেউ খেতে চায়, খেতে পারে দাঁতে ইসলামী শরীয়তের কোন প্রকার বিধিনিষেধ নেই এমনকি স্বাস্থ্যগত কোন বিধি নিষেধ নেই।
তবে স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হলে, এমনকি হালাল মাংস খাওয়া থেকেও বিরত থাকতে হবে। কেননা রাসূল সাঃ বলেন, তোমরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ো না এবং ক্ষতি করো না”!! -ইবনু মাজাহ -২৩৪০! ছহীহাহ – ২৫০।
কেননা এতে খাদ্য গ্রহণের লক্ষ্য ব্যাহত হয় । খাদ্য গ্রহণের লক্ষ্য হলো শরীরকে সুস্থ সবল এবং কর্মক্ষম রাখা। কিন্তু কোন খাদ্যদ্রব্য খেয়ে যদি শরীর অসুস্থ হয়ে পড়ে তা হালাল হলেও পরিত্যাগ করতে হবে।
–ফৎহুল ক্বাদীর বাক্বারাহ ১৬৮; মায়েদাহ ৮৮; আনফাল ৬৯; নামল ১১৪।

👉👉 ইতিপূর্বে এমন কিছু ফতোয়া আলেমদের মুখ থেকে শোনা গেছে যে, হালাল পশুর চামড়া হালাল হলেও কুরবানীর পশুর চামড়া হালাল নয় কেননা এটিতে রয়েছে গরীব এর হক।
কিন্তু তাদের এই যুক্তি বা কিয়াসের পক্ষে শক্তিশালী তো দূরের কথা কোন দুর্বল কিংবা জাল দলিলও নেই।
ইসলামী শরীয়তের দৃষ্টিকোণ থেকে সকল হালাল প্রাণীর চামড়া ভক্ষণ হালাল।
👉👉 অনেক আলেম হয়তো এই ব্যাপারে কিয়াস করে থাকেন যে, যেহেতু পশুর চামড়া দিয়ে সাধারণত পোশাক, জুতা, বেল্ট, ব্যাগ ইত্যাদি অতি প্রয়োজনীয় জিনিস তৈরি করা হয়। আবার চামড়া থেকে জিলাটিন বের করে প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, ওষুধ ও প্রসাধনীতেও ব্যবহার হয়। তাই যদি গরু ,মহিষ , ছাগল ইত্যাদি চামড়াগুলো খেয়ে ফেলে তবে নিত্য প্রয়োজনীয় ঐ সকল দ্রব্য তৈরি করতে সমস্যা সৃষ্টি হবে বা কৃত্রিম অভাব তৈরি হবে। মানুষের অসুবিধার এই দিক বিবেচনা করে অনেকে চামড়া খাওয়া কে নাজায়েজ বলে থাকেন।।

কিন্তু সঠিক তথ্য হলো,পশুর চামড়ার তৈরি খাবারেরও প্রচলন রয়েছে বিভিন্ন দেশের মতো অনেক মুসলিম দেশে। যেমন ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও আফ্রিকার নাইজেরিয়ার সহ বহু মুসলিম সম্প্রদায় গরুর চামড়া দিয়ে তৈরি খাবার খেয়ে থাকেন। গরু মহিষের চামড়া ড্রাই করে বিভিন্ন প্রকার কিমা ও সুস্বাদু খাবার প্রস্তুত করা হয়। বাংলাদেশেও বৃহত্তর চট্টগ্রামের কোনো কোনো এলাকায় পশুর চামড়ার তৈরি খাবারের প্রচলন রয়েছে। আমি নিজেও Mahabubur Rahman
বিশেষ করে গরুর চামড়া খুবই শখ করে খেয়ে থাকি।
📘📘 কিতাবুল আছার নামক একটি কিতাবে কোরআন হাদিসের কোন প্রকার #দলিল_ছাড়া শুধু কিয়াস করে, হালাল পশুর যে ৭টি অংশ ( ১. রক্ত, ২. অণ্ডকোষ, ৩. গোশত বা চামড়ার মধ্যে সৃষ্ট জমাট মাংসগ্রন্থি, ৪. মূত্রথলি, ৫. পিত্ত, ৬ ও ৭. নর ও মাদির যৌনাঙ্গ।) খাওয়া নাজায়েজ বলে ফতোয়া দেয়া হয়েছে এর মধ্যেও চামড়া নেই। (যদিও তাদের এই “কিয়াস” একমাত্র হানাফি মাজহাবের একটি অংশ ছাড়া কেউ মানে না, কেননা কি আজ হলো যুক্তি! আর এই জন্যই বিজ্ঞ সাহাবা কেরামের কিয়াস ছাড়া কোন আলেমদের কিয়াসের তেমন কোন ভিত্তি নেই)
এক কথায়, চামড়া খাওয়াকে হারাম বলার সুযোগ নেই।
📘📘 কুরবানীর পশুর গোশত চামড়া খাওয়া যাবে এবং সদকা করা যাবে, কিন্তু পারিশ্রমিক হিসেবে কসাইকে দেওয়া যাবে না।
কোরবানির পশুর চামড়া প্রসেস করে কেউ খেতে চাইলে খেতে পারবেন। অথবা সদকা করে দেবেন।
আলী রাঃ থেকে বর্ণিত, “রাসুল সাঃ আমাকে তাঁর কোরবানির পশু জবাই করতে, পশুর গোশত, চামড়া ও নাড়ি-ভুঁড়ি সদকা করতে নির্দেশ দিয়েছেন। আর এগুলোর কোনো কিছু কসাইকে দিতে নিষেধ করেছেন। –বুখারি: ১৭১৭; মুসলিম: ১৩১৭!!

📘📘তবে, কোরবানিদাতা চামড়া ব্যবহার করতে চাইলে, তা পারবে, তবে বিক্রি করা নিষিদ্ধ। কেননা রাসুলুল্লাহ সাঃ বলেছেন, — তোমরা কোরবানির পশুর চামড়া দ্বারা উপকৃত হও; তবে বিক্রি করে দিও না”।–মাজমাউজ জাওয়ায়েদ খণ্ড: ৪ পৃ-২৯।
তবে হানাফী মাযহাবের কওমি দেওবন্দী শাখার আলেমগণ তাদের ফতোয়ার কিতাব, ফতোয়ায়ে হিন্দিয়ায় পঞ্চম খন্ডের ৩০১ পৃষ্ঠায় মতামত দিয়েছেন,, কোরবানির পশুর চামড়া বিক্রি করে দিলে বিক্রিলব্ধ মূল্য পুরোটা সদকা করা জরুরি।

👉👉চামড়া খাবেন কিভাবে??
উচ্চতাপমাত্রা বা গরম পানিতে চামড়া ১ ফুট বাই ১ ফুট করে কেটে কিছুক্ষণ ডুবিয়ে রেখে ছুরি দিয়ে বা শক্ত চামচ দিয়ে চাঁচলে হালকা চামড়া সহ পশমগুলো উঠে আসে। কাজটি একটু কষ্টসাধ্য । তবে চামড়ায় অনেক মাংস পাওয়া যায়। বাংলাদেশেও অনেক এলাকায় গরুর মাথার বা পায়ার চামড়া খাওয়ার প্রচলন আছে, যা নেহারীর পায়ার রবারের মত অংশের সাথে তুলনা করা যায়।

👉👉চামড়ায় আসলে কি থাকে❓
আমরা চামড়া বলতে বুঝি শুধু উপরের পশমী অংশ। কিন্তু চামড়া মূল অংশটা কিন্তু থাকে ভেতরের অংশে, যেটাকে বলা হয় #কোলাজেন। গরুর চামড়ায় কোলেজেনের পরিমাণ তুলনামূলক বেশি থাকে, তাই গরুর চামড়া বেশি উপদেয়। তাই উপরের পশমী অংশটা বা চাইলে ধারালো ছুরি দিয়ে আস্তে আস্তে শক্ত অংশটাও যদি ফেলে দেয়া যায়, তবে ভেতরে কোলাজেন নামক প্রোটিন পাওয়া সম্ভব, যা মাংশের মতই খুব সুস্বাদু ও অত্যন্ত পুষ্টিকর এবং এলার্জির পরিমাণ অনেক কম।

👉👉চামড়া খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করলে কি লাভ ?
মূলতঃ আমাদের দেশে এতকাল কোরবানীর চামড়া মসজিদ মাদ্রাসায় দান হিসেবে ব্যবহৃত হতো। কিন্তু গত বেশ কিছু বছর যাবত চামড়ার দাম কমে যাওয়ায় ফলে মসজিদ মাদ্রাসায় সেই টাকা আসছে না। তাছাড়া কবে নাগাদ চামড়ার দাম বাড়বে তাও বলা যাচ্ছে না। ট্যানারির মালিকদেরও একটা ধারণা তৈরী হইছে, “যদি আমরা চামড়া না নেই, তবে চামড়া পঁচে যাবে, চামড়া দেয়ার কোন উপায় থাকবে না। তাই যত কম দামই দেই না কেন, চামড়া আমাদের কাছে আসবেই, না দিয়ে যাবে কোথায়?” এই অসাধু চামড়া ব্যবসায়ীরা ও ট্যানারি শিল্পের মালিকরা বিরাট এক সিন্ডিকেট বানিয়ে বসে আছে এবং এই ব্যাপারে সরকারও নিরব।তাই ট্যানারি মালিকরা প্রতিবছর সিন্ডিকেট করে চামড়ার দাম কমিয়ে দিচ্ছে। তবে এতে করে এই অসাধু ব্যবসায়ীরা যে খুব একটা লাভবান হতে পারছে তা কিন্তু নয়,
বরং এই দাম কমার সুযোগ নিচ্ছে পাশ্ববর্তী ভারতীয় চামড়ার ব্যবসায়ীরা। তারা এই কম দামের সুযোগে প্রচুর পরিমাণে চামড়া কিনে ভারতে পাচার করে দিচ্ছে। এই অবস্থায় জনগণ যদি চামড়া খাওয়া শুরু করে দেয়, তবে ট্যানারি শিল্পের মালিকরা অন্তত এটা ভাবতে পারবে না যে, চামড়ার যে দাম দেবো, পাবালিক সেই দামেই বিক্রি করতে বাধ্য।

👉👉 গরু মহিষের চামড়ার গড় ওজন প্রায় ২০ থেকে ৫০ কেজি পর্যন্ত হয়। বাংলাদেশে চামড়া খাওয়ার সংস্কৃতি বা কালচার শুরু হয়ে গেলে প্রথম প্রথম ধনীরা হয়তো চামড়া খাবে না(যেমন গরুর নাড়ি বুড়ি প্রথমে ধনীরা খেত না কিন্তু এখন খায় বরং বেশি খায়)
তাছাড়া প্রসেসিং একটু কষ্টসাধ্য। কিন্তু নিম্নমধ্যবিত্ত ও নিন্মবিত্তরা যারা হাত পেতে মাংশ চাইতে পারে না, তারা মাংশের বিকল্প হিসেবে চামড়া খেতে পারে। প্রথম প্রথম যদি চামড়ার প্রতি কেজি ১০০ টাকা করে হয়, তবে প্রতি চামড়ার দাম ২ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত দাঁড়াবে।
👉👉লক্ষনীয়, ইসলাম ধর্মের নিয়ম হচ্ছে- কোরবানীর পশুর সবকিছু কোরবানীকারী ব্যবহার করতে পারবে। কিন্তু যদি কিছু অংশ বিক্রি করে, তবে বিক্রির টাকা ব্যবহার করতে পারবে না, সেটা ‘গরীবের হক্ক’ হবে।
কোরবানী গরুর চামড়া খাওয়ার কালচার শুরু হলে নিম্নমধ্যবিত্ত , নিম্নবিত্ত এমনকি মধ্যবিত্তদের মধ্যে গরুর চামড়া খাওয়ার কালচার শুরু হবে এবং একটি চামড়ার মূল্য যখন প্রতিনিধির চামড়া কমপক্ষে 100 টাকা কেজি দরে তিন থেকে পাঁচ হাজার টাকা বিক্রি হবে তখন সেই টাকা কিন্তু ধনীরা ব্যবহার করতে পারবে না, কেননা যেহেতু কোরবানির যে কোন অংশ বিক্রি করা নিষিদ্ধ সেহেতু এতিম বা গরীবকেই দিতে হবে। ফলে এখন যেমন চামড়া প্রতি ট্যানারি মালিকরা ২-৩শ’ টাকা ধরিয়ে দিচ্ছে, সেই কাজটা আর করবে পারবে না।

‘মরহুম’,  মৃত ব্যক্তিকে মরহুম বলা জায়েজ নেই।

👉👉 আমাদের দেশে মৃত ব্যক্তিকে অনেকেই মরহুম বলে। মরহুম (مرحوم) আরবি শব্দ।
মরহুম শব্দের অর্থ হলো “যাকে রহম করা হয়েছে”। কিন্তু মৃত ব্যক্তিকে মরহুম বলা জায়েজ নাই !কেননা দুনিয়ার কেউ জানে না মৃত ব্যক্তিকে রহম করা হয়েছে কি না। একমাত্র আল্লাহ জানেন।

👉👉মরহুম” শব্দের স্বাভাবিক অর্থ হলো মৃত বা লোকান্তরিত হওয়া।
এটি আরবি শব্দ “রহিম” থেকে এসেছে, যার অর্থ হলো, “যিনি অনুগ্রহপ্রাপ্ত” বা “যিনি দয়া প্রাপ্ত হয়েছেন”।
সাধারণত, কোনো মৃত মুসলিম ব্যক্তির নামের আগে এই শব্দটি ব্যবহার করে তার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা হয় যা মূলত হিন্দু খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের কালচার থেকে ইসলামে প্রবেশ করেছে।
হিন্দু-খ্রিস্টান ধর্মের লোকেরা কেউ মরা গেলে বলে থাকেন যে, “অমুক ব্যক্তি স্বর্গ লাভ করেছেন বা স্বর্গীয় হয়েছেন”।

কিছু আলেম মনে করেন, “মরহুম” শব্দটি মৃত ব্যক্তির জন্য ব্যবহার করা উচিত নয়, কারণ এটি আল্লাহর অনুগ্রহের উপর নির্ভর করে।
তাঁদের যুক্তি হলো, কোনো মৃত ব্যক্তির জন্য “মরহুম” ব্যবহার করার অর্থ হলো, আমরা নিশ্চিত করছি যে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করেছেন বা তার প্রতি দয়া করেছেন। এই বিষয়ে বিস্তর মতভেদ রয়েছে।

মূলত ‘মারহুম’ বা ‘মারহুমা’ শব্দের অর্থ হল, ‘রহমতপ্রাপ্ত বা অনুগ্রহপ্রাপ্ত’ তা আমরা ইতিমধ্যে জেনেছি।
আর নিশ্চিতভাবে বলা যায় না কে রহমতপ্রাপ্ত বা ক্ষমাপ্রাপ্ত হয়েছে। এ জন্য এই জাতীয় শব্দ যুক্ত করা জায়েয নয়।
মুসলিম মৃত ব্যক্তির ক্ষেত্রে দু‘আ স্বরূপ ‘গাফারল্লাহু লাহু’ অর্থাৎ ‘আল্লাহ তাকে ক্ষমা করুন’ অথবা ‘রাহিমা-হুল্লাহু’ বা রহঃ অর্থাৎ ‘আল্লাহ তার প্রতি রহম করুন এমন দু‘আর বাক্য বলা শরী‘আত সম্মত।
তবে সাধারণভাবে মুমিনদের ক্ষেত্রে সু-ধারণা রাখতে হবে যে, তাঁরা ইনশাআল্লাহ জান্নাতী। কেননা আল্লাহ্ তা‘আলা বলেছেন,
‘আল্লাহ মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন জান্নাতের, যার তলদেশে নদীসমূহ প্রবাহিত, সেখানে তাঁরা স্থায়ী হবে।
–সূরা আত-তাওবাহ : ৭২।

👉👉 অনুরূপ কাফির ও মুসলিম নামধারী মুনাফিক্বদের ক্ষেত্রে কু-ধারণা রাখতে হবে যে, তারা জাহান্নামী।
কেননা আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন,
‘আল্লাহ‌ মুনাফিক্ব পুরুষ, মুনাফিক্ব নারী ও কাফিরদেরকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন জাহান্নামের আগুনের, যেখানে তারা স্থায়ী হবে”!
সূরা আত-তাওবাহ : ৬৮;
মাজমূঊ ফাতাওয়া ইবনু বায, ৫/৩৫৫;

👉👉 কোরআন বা সুন্নাহর কোনো বর্ণনা ছাড়া কোনো মৃত ব্যক্তির রহমপ্রাপ্ত কিংবা জান্নাতি হওয়ার নিশ্চয়তা কেউ দিতে পারে না। সুতরাং যাঁদের জান্নাতি হওয়ার ব্যাপারে কোরআন বা সুন্নাহে নিশ্চিত ও সুনির্দিষ্ট করে বলা হয়নি, তাদের কাউকে মরহুম বলা যাবে না।
এই অভিমত যাঁরা পোষণ করেন, তাঁদের মধ্যে আরবের শায়েখ বিন বাজ রহ.ও রয়েছেন।

অবশ্য তিনি তাঁর ফতোয়ার শেষের দিকে বলেছেন, তবে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাতের উলামায়ে কেরাম নেককারদের প্রতি জান্নাতের আশা ও সুধারণা পোষণ করেন এবং বদকারদের জন্য এর বিপরীত ধারণা পোষণ করেন।

এটা সুরা তাওবার ৭২ ও ৬৮ নম্বর আয়াতে মুমিনদের জন্য জান্নাতের ওয়াদার আলোকেই তাঁরা করে থাকেন।
ফতোয়ার একেবারে শেষে এসে তিনি বলেন, তবে কোনো কোনো আলেমের মতে, যে ব্যক্তির প্রতি কমপক্ষে দুজন বিশ্বস্ত লোক ভালো মানুষ বা নেককার হওয়ার সাক্ষ্য দেয়, তাকে জান্নাতি বলে (ও মরহুম বলে) সাক্ষ্য দেওয়াতে অসুবিধা নেই।
তবে মানব রচিত মতবাদ প্রচার ও প্রসারকারী, তাবিজ কবজ লিখতেন এমন ব্যক্তি, এক কথায় দুনিয়ায় “ত্বগুত” এর অনুসরণ করতো এমন যে কাউকেই মরহুম বলা সম্পূর্ণ হারাম।

তবে মৃত মুসলিমকে মরহুম বলার ক্ষেত্রে যথার্থ ও সঠিক অভিমত হলো আরবের শায়খ ইবনে উসাইমিন (রহ.)-এর অভিমত। তিনি বলেন, কেউ যদি কোনো মৃত ব্যক্তিকে এই অর্থে মরহুম বলে মন্তব্য করে যে, “লোকটিকে আল্লাহ তাআলা নিশ্চিতভাবে ক্ষমা ও দয়া করেছেন।”
অথচ এ বিষয়ে কোরআন-সুন্নাহর বর্ণনা নেই, তাহলে সেটা নিষিদ্ধ।
তবে সচরাচর লোকেরা মৃত মুসলিমদের এই অর্থে মরহুম বলে না; বরং এটি দোয়া ও নেক আশা হিসেবে বলা হয়। তা ছাড়া ‘রাহিমাহুল্লাহ’ (তার প্রতি রহম করা হয়েছে) এই বাক্যটি সংবাদমূলক; অথচ এটাকে দোয়ার অর্থে ব্যবহার করা হয়। আর এভাবে দোয়া হিসেবে ব্যবহার করার ক্ষেত্রে কোনো আলেমের দ্বিমত নেই। অন্যদিকে ‘মরহুম’ (তিনি রহমপ্রাপ্ত) শব্দটিও পরিহার করাই ঈমান নিরাপদ রাখার নিকটতম।

সুতরাং সেটিও দোয়ার অর্থে ব্যবহৃত হতে কোনো অসুবিধা নেই।
আর যেহেতু নিশ্চিতভাবে ক্ষমাপ্রাপ্ত হয়েছে বা জান্নাতি হয়ে গেছে—এমন ধারণা থেকে মৃতকে মরহুম বলা হয় না; বরং দোয়া ও মুমিনের প্রতি সুধারণা থেকে মরহুম বলা হয়, তাই এই অর্থে মরহুম বলাতে কোনো অসুবিধা নেই এক শ্রেণীর আলেম অভিমত দিয়ে থাকেন , যা মূলত ঈমান এর জন্য নিরাপদ নয়।

👉👉 আমাদের দেশের পেপার পত্রিকায়, বিভিন্ন বইতে, রেডিও-টিভিতে এবং অনেক আলেম উলামা ও মানুষের মুখে শুনা যায় যে, কেউ মারা গেলে তাঁকে বা তাঁর নামের আগে “মরহুম” শব্দ যোগ করে নামটা বলেন। এমন কি কেউ মারা গেলে মসজিদ হতে ঘোষণা করা হয় মরহুমের জানাযার নামাজ অমুক সময় অনুষ্ঠিত হবে।

আলোচনার সুবিধার্থে বিষয়টিকে ৩ ভাগে আলোচনা করা হলঃ
👉 মৃত ব্যক্তির নামের আগে “মরহুম” শব্দ ব্যবহার করা কেন উচিত নয়!
👉 কোন চিন্তা হতে “মরহুম” শব্দটা বলা যেতে পারে!
👉 মৃত ব্যক্তির নামের সাথে কি যোগ করা যেতে পারে!

প্রথমতঃ মৃত ব্যক্তির নামের পূর্বে “মরহুম” শব্দ ব্যবহার করা কেন উচিত নয়।❎
“মরহুম” শব্দের অর্থ আল্লাহর রহম প্রাপ্ত❗ অর্থাৎ জান্নাতী❗
কিন্তু কে আল্লাহর রহম প্রাপ্ত তা কেবল আল্লাহই জানেন। গায়েব সম্পর্কে তো আমরা অজ্ঞ।✅
বাংলা ভাষায় “মৃত” শব্দের সাথে “মরহুম” শব্দের মিল থাকায় আমরা মনে করি এটাই মনে হয় আরবিতে ব্যবহৃত হয়। কিন্তু আরবিতে মৃতকে “মাইয়েত” {ميت} বলা হয়।
“মরহুম” তথা ‘আল্লাহর রহমপ্রাপ্ত’ বললে বুঝা যায় আপনি গায়েবের খবরও জানেন❗যা শিরকের পর্যায়ে পড়ে যায়, কেননা
👉 আল্লাহ বলেন–
বলুন, আল্লাহ ব্যতীত নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলে কেউ গায়বের খবর জানে না এবং তারা জানে না যে, তারা কখন পুনরুজ্জীবিত হবে।
— সুরা নামল, আয়াত ৬৫

👉 আল্লাহ বলেন,
যারা বড় বড় গোনাহ ও অশ্লীলকার্য থেকে বেঁচে থাকে ছোটখাট অপরাধ করলেও নিশ্চয় আপনার পালনকর্তার ক্ষমা সুদূর বিস্তৃত। তিনি তোমাদের সম্পর্কে ভাল জানেন, যখন তিনি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন মৃত্তিকা থেকে এবং যখন তোমরা মাতৃগর্ভে কচি শিশু ছিলে। অতএব তোমরা আত্নপ্রশংসা করো না। তিনি ভাল জানেন কে সংযমী।
–সুরা আন নজম, আয়াত ৩২
উক্ত আয়াতে আল্লাহ নিজেদের প্রশংসা নিজেদের না করার জন্য বলছেন।
👉 আল্লাহ বলেন
তোমরা অগ্রে ধাবিত হও তোমাদের পালনকর্তার ক্ষমা ও সেই জান্নাতের দিকে, যা আকাশ ও পৃথিবীর মত প্রশস্ত। এটা প্রস্তুত করা হয়েছে আল্লাহ ও তাঁর রসূলগণের প্রতি বিশ্বাসস্থাপনকারীদের জন্যে। এটা আল্লাহর কৃপা, তিনি যাকে ইচ্ছা, এটা দান করেন। আল্লাহ মহান কৃপার অধিকারী।
— সুরা আল হাদীদ, আয়াত ২১
উক্ত আয়াত হতে বুঝা গেল জান্নাতী জাহান্নামী কারা তার নির্ধারক এক মাত্র আল্লাহ নিজেই।

কেন একজন মৃত ব্যক্তিকে মরহুম বলা যাবে না আশা করি এই বিষয়টা উক্ত আলোচনায় স্পষ্ট হয়ে গেছে ইনশাআল্লাহ।

mahabuburrahman1720@gmail.com

রেড ইন্ডিয়ান কারা ? তাদেরকে রেড ইন্ডিয়ান বলা হয় কেন??

ঐতিহ্যবাহী সাজে একজন রেড ইন্ডিয়ান।

রেড ইন্ডিয়ান বলতে আমেরিকা মহাদেশের স্হানীয় আধিবাসীদের বোঝায়।

১৫ শতাব্দীর শেষভাগে ১৪৯২ সালে ইতালীয় নাবিক ঔপনিবেশিক কলম্বাস মূলত লুটতরাজ  চালানোর জন্য ভারতবর্ষে পৌঁছানোর জলপথ আবিষ্কার করতে গিয়ে বাহামা দ্বীপে এসে পৌঁছান। এখানে বলে রাখা প্রয়োজন যে তখনকার দিনে ইংল্যান্ড ইতালি ফ্রান্স পর্তুগাল এই সমস্ত লোকদের দেশে প্রয়োজনীয় খাদ্য উৎপাদন হতো না ফলে তারা বিশেষ করে জলদস্যু হিসাবে নিজেদেরকে প্রতিষ্ঠিত করে লুটপাট চালিয়ে নিজেদের পেটের খাদ্য যোগাড় করত। ভারতবর্ষ তখন ছিল একটি সমৃদ্ধ জনপদ। এই অঞ্চলে প্রচুর খাদ্যশস্য উৎপন্ন হতো আর এই খবর ইউরোপের এই দস্যু দেশগুলোর কাছে পৌঁছেছিল।

উপকূলে পৌঁছে সেখানে কলম্বাস সেখানে তামাটে বর্ণের মানুষদের ভারতীয় বলে ভেবে নেন। এবং তাদের নাম দেন রেড ইন্ডিয়ান। কেননা গরম বাস বিভিন্ন বই-পুস্তক পড়ে ও বিভিন্ন মানুষের কাছে জানতে পেরেছিলেন যে ভারতবর্ষের বেশিরভাগ মানুষ মিশ্র বর্ণের এবং কালো বর্ণের। কিন্তু সেখানে গিয়ে কলম্বাস দেখল যে এই লোক গুলো তামাটে বর্ণের এবং সেখানে কালো লোকের সন্ধান তিনি পেলেন না তাই এই লোকগুলোকে রেড ইন্ডিয়ান নাম দিলেন এই দস্যু সরদার কলম্বাস।
পরবর্তীতে ইউরোপীয় ঔপনিবেশিও তাদের এ নামে পরিচিত করে তোলে।বর্তমানে, এই শব্দটির পরিবর্তে “আদিবাসী আমেরিকান”, “নেটিভ আমেরিকান” অথবা তাদের নিজ নিজ উপজাতি বা সম্প্রদায়ের নাম ব্যবহার করা হয়।

বলা হয় রেড ইন্ডিয়ানরা প্রায় ১৬ হাজার বছরের পুরোনো জাতি। দেখতে লম্বা, ফর্সা বা তামাটে। অনেকটা নাক চ্যাপটা এই জনগোষ্টীর লোকজন পূর্বে পিরু নামে পরিচিত ছিলেন। কলম্বাস যখন আমেরিকা পৌঁছালেন তখন সেখানকার প্রথম বসতি স্থাপনকারী লোকেরা কলম্বাস ও তার ভ্রমণসঙ্গীদের স্বাগত জানালেন। তিনি ভাবলেন, তিনি ইন্ডিয়াতে এসে পৌঁছেছেন কিন্তু আসলে ছিল এটি আমেরিকা। দীর্ঘদিন কলম্বাস প্রেইরির দিগন্ত জোড়া এলাকায় আধিবাসীদের জীবনযাত্রা পর্যবেক্ষণ করলেন। দেখলেন এই আধিবাসীরা শিকারে বা কোন উৎসবে যাওয়ার সময় একধরনের লাল রং মুখে ও শরীরে নানান অংশে ব্যবহার করেন। তাই কলম্বাস তাদের নাম দিলেন রেড ইন্ডিয়ান।

রেড ইন্ডিয়ানদের জীবনযাপন বেশ চমকপ্রদ। আধুনিক সভ্যতার মানুষ খাদ্য হিসেবে যে ভুট্টা ব্যবহার করেন, সেটি প্রথম উদ্ভাবন করেন রেড ইন্ডিয়ানরা। পশুপালন, শিকার ও কৃষিই তাদের জীবিকার প্রধান উপায় ছিল। তথাপি আমেরিকার একপেশে বর্ণবাদ, বৈষম্য ও পুঁজিবাদি ধারণা চর্চার ফলে রেড ইন্ডিয়ানদের উপর নানান বিধিনিষেধ জারি করে তাদের জীবনপ্রণালী পরিবর্তনের চেষ্টা চলেছে বহু বছর ধরে। রেড ইন্ডিয়ানরা নিজেদের ভেতর নানান ভাষায় যোগাযোগ রাখে। এসব ভাষার মধ্যে রয়েছে নাভাজো, আলাস্কান, ইয়ুপিক, ডাকোটা, সিওক্স, ত্র্যাপাচি, চক্কা, ক্রিক প্রভৃতি। এখনও প্রায় ১৫০টি ভাষা তাদের গোত্রের মধ্যে টিকে আছে। লোকসংখ্যার অধিকাংশই খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বী। অসুখ বিসুখ হলে এরা বিভিন্ন গাছের ছাল, বাকল, রস ব্যবহার করত। ধারণা করা হয় আমেরিকায় লাউ ও শিম সবজি দুটির প্রচলন রেড ইন্ডিয়ানরাই করেছিল। বিশেষ অনুষ্ঠানের দিন পাখির পালক দিয়ে তৈরি পোষাক পরিধান করেন। মুখে লালচে তরল রং মাখেন। তারা মূলত সিউ, অ্যাপাচি, উতে প্রভৃতি গোত্রে বিভক্ত।
সিউ গোত্রের মানুষজন ডাকোটা, লাকোটা এবং নাকোটা এই তিনভাগে বিভক্ত।

১৮৬২ সালে সিউদের বিরুদ্ধে শেতাঙ্গদের উপর হামলার অভিযোগ আনা হয়। ড্যানিয়েল ডাব্লিউ হোমস্টাড সিউদের নিয়ে এক নিবন্ধে লেখেন, প্রায় তিনশতাধিক সিউদের ওই হামলার অভিযোগ এনে হত্যা করা হয়েছিল। মহিষের মতো দেখতে একধরনের প্রাণী বাইসন। এই বাইসনের মাংস সিউদের প্রধান খাবার ছিল। আব্রাহাম লিংকনের প্রশাসন সিউদের পবিত্র জায়গা ব্ল্যাক হিলস দখল করে ও বাইসন হত্যা করে। ফলে অনেক সিউরা খাদ্য সংকটে পড়ে মারা যায়।
নাভাহোরা বসবাস করত মাটির তৈরি ঘরে। নাভাহোরা মেক্সিকোর সাথে যুদ্ধের সময় আমেরিকাকে সাহায্য করেছিল। অথচ যুদ্ধ শেষ হবার পর তাদের ভূখণ্ড আমেরিকার দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চল থেকে আরও তিনশ মাইল দূরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। সেখানে তারা খাদ্য সংকটে পড়ে এবং বহু নাভাহোরা মারা যায়।
কোমানচিরা খুব লড়াকু অশ্বারোহী যোদ্ধা হিসেবে পরিচিত ছিল। যাযাবর প্রকৃতির কোমানচিরা বাইসন শিকার করত।
অন্যদিকে উতেদের আদিবাস হল যুক্তরাষ্ট্রের উতাহ অঞ্চলের পাহাড়ি এলাকায়। ভুট্টাচাষে এরাই সবচেয়ে বেশি দক্ষ ছিল।
মেক্সিকোর উত্তরাঞ্চলে অ্যাপাচিদের আদিবাস ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের সাথে মেক্সিকোর যুুদ্ধের সময় অ্যাপাচিরা যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা করেছিল। পরে মার্কিন সরকার তাদের আদিবাস অ্যাপাচেরিয়া অঞ্চলটি আক্রমণ করে। তাদের খাবার ও বাসস্থান ধ্বংস করার ফলে বহু অ্যাপাচি মারা যায়।

প্রায় ৫০০ বছর আগে ইতালিয় নাবিক কলম্বাস তিন তিনটি জাহাজ ভর্তি করে কিছু নাবিক এবং মুসলিম যুদ্ধ বন্দি নৌ-বিজ্ঞানীদের নিয়ে  ভারতে আসবে বলে ভুলে আটলান্টিক পাড়ি দিয়ে পৌছালো । কলম্বাস ভেবেছিল সে ভারতেই এসেছে। ভারতকে ইউরোপের লোকেরা ইন্ডিয়া বলে ডাকে। নাবিকরা যখন স্থলভাগে নামলো তখন স্থানীয় অধিবাসীরা তাকে স্বাগত জানালো।

কিন্তু দুর্ভাগ্য জনক ইতিহাস হল বা পরবর্তী সময়গুলোতে ইউরোপিয়ান জাতি এই স্থানীয় অধিবাসী red indian তথা স্থানীয় আমেরিকানদের সাথে ভালো আচরণ করেনি। ইউরোপিয়ানরা পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন দেশ থেকে দলে দলে গিয়েছে এবং ইংরেজরা গিয়ে তাদেরকে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিল আর শীত থেকে বাঁচার জন্য দিয়েছিল হাজার হাজার কম্বল আর সেই কম বলে কিলবিল করছিল গুটি বসন্তের জীবাণু। পরবর্তী সময়ে এই গুটি বসন্তের জীবাণুতে আক্রান্ত হয়ে লক্ষ লক্ষ রেড ইন্ডিয়ান মরে গিয়েছিল। 

একজন রেড ইন্ডিয়ান তাদের ঐতিহ্য পোশাক পরে

কলম্বাস তখন ভেবেছিল যেহেতু সে যখন ইন্ডিয়াতে এসেই পড়েছে এখানকার লোকজন নিশ্চই ইন্ডিয়ান হবে। তাই সেই সে নতুন দেশের লোকদের ইন্ডিয়ান ভেবে তাদের ইনডিয়ান বলে ডাকতে শুরু করলো। আর যেহেতু তার কাছে খবর পৌঁছেছিল যে ইন্ডিয়ানরা কালো ও মিশ্র বর্ণের কিন্তু এই ইন্ডিয়ান গুলো তামাটে বর্ণের তাই সে এদেরকে রেডি ইন্ডিয়ান টাকা শুরু করল।  কলম্বাসের বাড়ি  ইতালি হলেও  কিন্তু স্পেনের ধোকাবাজ এবং বর্বর  রাণীর অনুগ্রহে এবং আন্দালুস থেকে যুদ্ধবন্দী হিসেবে প্রাপ্ত শত শত মুসলিম বিজ্ঞানীদের নিয়ে স্পেন থেকে আটলান্টিকের বুকে পাড়ি দেয়। এরা ছিল নেভিগেশন এবং নৌ বিদ্যায় পারদর্শী। মুসলিমদেরকলম্বাস স্পেনে ফিরে গিয়ে জানান যে তিনি পুর্ব ভারত বা ইষ্ট ইন্ডিজ গিয়েছিলেন। সেখানে তিনি একদল মানুষদের দেখেছেন।

কলম্বাসের মতো সবাই ধরেই নিল যে কলম্বাস যেখানে গেছেন সেটাই ইন্ডিয়া আর সেখানকার লোকজন ইন্ডিয়ান।
এরপর অনেকদিন পার হয়ে যায়। সবাই যখন দেশটিকে ইন্ডিয়া বলে ভাবতে শুরু করেছে সে সময় আরেকজন নাবিক বলেন কলম্বাস যে দেশটি আবিস্কার করেছেন তা ইন্ডিয়া নয়। এই নাবিকটির নাম ছিল আমেরিগো ভেসপুচি। তার নামে দেশটির নাম হয় আমেরিকা। দেশটির নাম পাল্টালেও তার আদিবাসীদের নাম কিন্তু পাল্টায়নি। এখনও বিশ্বের মানুষ তাদের ইন্ডিয়ান নামে ডাকে। এখন শুধু নামের আগে রেড শব্দটি বাসানো হয়। যার ফলে আমেরিকার আদিবাসীদের নাম হয়ে গেছে রেড ইন্ডিয়ান।

♦ কাদের কলম্বাস রেড ইন্ডিয়ান ভেবেছিলেনঃ
আজ আমেরিকার সকল আদিবাসীদের রেড ইন্ডিয়ান বলে ডাকা হয়। তবে তারা আসলে ছিলেন আমেরিকার আদিবাসী এবং তারা নিজেদের কখনই রেড ইন্ডিয়ান বলে পরিচয় দেয় না। আমেরিকা এক বিশাল মাহাদেশ এবং এই মহাদেশটির দুটি অংশ রয়েছে। একটিকে বলে উত্তর আমেরিকা আরেকটি হলো দক্ষিন আমেরিকা। পুরো দুটি মহাদেশ এখন থেকে পাঁচশ বছর আগেও এশিয়া আর ইউরোপের মানুষের কাছে অজানা ছিল।

♦ এই বিশাল আমেরিকায় ছড়িয়ে আছে নানা গোষ্ঠী এরাই একত্রে রেড ইন্ডিয়ান নামে পরিচিত। এরা আকারে লম্বা। এদের নাকটা খানিকটা চ্যাপ্টা। তবে এরা নিজেদের নিজস্ব নামে পরিচয় দিতে ভালোবাসে। আমেরিকাকে দুটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। উত্তর আর দক্ষিন। উভয় মহাদেশেই রেড ইনডিয়ান বাস করে। তবে এরা সবাই একই রকম নয়। মানে এদের আচার আচরণ চাল চলন আলাদা আলাদা। যেমন, সিউক্স রেড ইনডিয়ান, কেচুয়া ইনডিয়ান।

♦ এক সময় ভাবা হতো যে রেড ইন্ডিয়ানা যুগ যুগ ধরে আমেরিকায় বাস করতো। তবে নৃবিজ্ঞনীরা এখন গবেষণা করে বলছেন এই রেড ইন্ডিয়ান দর পুর্ব পুরুষ এশিয়া থেকে আমেরিকায় এসেছে। এদের আদি পুরুষ মঙ্গোলীয় মানে চাইনিজদের মতো ছিল দেখতে। বিজ্ঞানীরা হিসেব করে বের করেছেন কত বছর আগে এরা এশীয়া থেকে আমেরিকা পাড়ি দিয়েছে।

♦ বিশেষজ্ঞরা বলেন যে এখন থেকে হাজার হাজার বছর আগে রাশিয়ার সাইবেরিয়ার সাথে মেক্সিকোর একটি অংশের যোগযোগ ছিল। সেই পথ ধরেই এই সব লোকেরা আমেরিকায় এসেছিল। তাদের একটা দল এসে চিলিতে বসতি গড়ে। সেটও ছিল এখন থেকে ১২৫০০০ হাজার বিপি বছর আগে। বিপি বলতে ইংরেজিতে বোঝায় বিফোর প্রজেন্ট। যার মনে হচ্ছে বর্তমান সময়ের আগে। বিপি শব্দটি বর্তমান বিজ্ঞনীরা গড়ে তুলেছে।

♦ ১৯৫০ সালে পুরনো  জিনিষের বয়স পরীক্ষা করার একটি পদ্ধতি আবিস্কার হয় যাকে বলা হয় বিজ্ঞানভিত্তিক বয়স নির্ধারন পদ্ধতি। এই পদ্ধতি যে বছর আবিস্কার হয় সে বছরে আদর্শ ধরে পুরনো কোন বস্তু বা ফসিল প্রাণীর বয়স নির্ধারন করা হয়।

♦ এখন বিপি ১২৫০০০ মানে হলো ১৯৫০ সালের ঠিক ১২৫০০ বছর আগে চিলিতে মানব বসতি ছিল। তবে অনেকে মনে করেন ৩০,০০০ বছর আগেও দক্ষিণ আমেরিকায় মানব বসতি ছিল। এদেরই বংশধর এই রেড ইন্ডিয়ানরা।

♦ রেড ইন্ডিয়ানরা একই সময়ে বেশ কয়েকটি জায়গায় সভ্যতা গড়ে তোলেঃ
আমেরিকার বিভিন্ন জায়গায় পাওয়া ইতিহাস থেকে জানা যায় রেড ইন্ডিয়ানদের অনেকেই হাজার হাজার বছর আগে থেকেই কৃষিকাজ জানতো। তারা আগুনের ব্যবহারও জানতো। এ ছাড়া রেড ইন্ডিয়ানরা দুটি ফসল ফলাতো যা কিনা বাকী দুনিয়া জানতো না। এখন সেই খাবারটি প্রায় আমাদের সবার টেবিলে থাকে, তার নাম আলু। এই আলু কিন্তু রেড ইনডিয়ানদের কাছ থেকে অন্য সবাই খেতে শিখেছে। এ ছাড়া তারা কোকা নামের এক ধরনের গাছের বীজের রস খেত। এই রস দিয়ে এখন চকোলটে বানানো হয়। এ ছাড়া ভুট্টা রেড ইনডিয়ানরা ছাড়া অন্যরা কেউ চাষ করতো জানতো না। তারাই ভুট্টা দিয়ে নানা ধরনের খাবার তৈরী করে খেত।

♦ রেড ইন্ডিয়ানদের মধ্যে অনেক আলাদা জাতি আছে এবং এদের অনেকেই আবার বিভিন্ন ধরনের সভ্যতা সৃষ্টি করেছিল। এদের মধ্যে ছিল মায়া ও ইনকা সভ্যতা। এই সব লোকেরা সুন্দর সুন্দর বিল্ডিং এবং নগর গড়ে তুলেছিল। রেড ইন্ডিয়ানদের মধ্যে অনেকে লিখতে এবং পড়তে শিখেছিল। আর তারা গণনা করতে পারতো। তারা সুন্দর ক্যালেন্ডার তৈরী করতো। যে দিয়ে তারা তদের ফসল বোনা ও কাটার হিসেব করতো। রেড ইন্ডিয়ানদের অনেকে বনে বাস করতো।

♦ এখনও রেড ইন্ডিয়ানদের অনেকে জঙ্গলে বাস করে। এদের অনেকে আদিম দেবদেবীর পুজো করতো। তবে রেড ইন্ডিয়ানদের মধ্যে মায়া আর ইনকারা সুর্যকে দেবতা মেনে পুজা করতো।

♦এক সময় পুরো আমেরিকায় রেড ইনডিয়ানরা বাস করতো এখন তাদের সংখ্যা অনেক কমে এসেছে। এর কারন হচ্ছে ইউরোপ থেকে যে সমস্ত দেশের লোকেরা আসতো তারা অনেকেই এই নতুন দেশে বসতি গড়তো। তাদের সঙ্গে রেড ইনডিয়ানদের যুদ্ধ হত। প্রথম দিকে অনেক রেড ইন্ডিয়ান সাদা মানুষদের দেবতা মনে করে তাদের আমেরিকার মাটিতে জায়গা দেয়। কিন্তু এক সময় উভয়ের যুদ্ধ হয় সেই যুদ্ধে অনেক রেড ইন্ডিয়ান তাদের এলাকা ছেড়ে বনের দিকে চলে যায়। ইউরোপ থেকে লোক আসার আগে আমেরিকায় ঘোড়া ছিল না।

♦ আমেরিকার অনেক দেশে এখনও রেড ইন্ডিয়ানরা সংখ্যায় বেশী। এই সমস্ত দেশগুলো মধ্যে রয়েছে বলিভিয়া, পেরু মেক্সিকো, ব্রাজিল, ইকুয়েডোর, গুয়েতেমালা, কলোম্বিয় ইত্যাদি। রেড ইন্ডিয়ানরা নিজেদের রেড ইন্ডিয়ান ভাবে না। কারন নামটি তাদের দেওয়া নয়। তারা নিজেদের নিজস্ব জাতিগোষ্ঠীর নামে পরিচিত হতেই ভালোবাসে। এদের মধ্যে অনেকে তাদের গোত্রের নামে পরিচিত হয়। অনেকে আবার ভাষার মধ্যে দিয়ে নিজেদের নাম তৈরী করে। এদের মধ্যে রয়েছে কেচুয়া, গুয়ারানি ইত্যাদি রেড ইন্ডিয়ান।

♦ কলম্বাসের আমেরিকা আবিস্কারের পরে ইউরোপ থেকে হাজার হাজার মানুষ আমেরিকা পাড়ি জমায়। এই সব মানুষেরা এসে মূলত রেড ইন্ডিয়ানদের জায়গা দখল করতে থাকে। এক সময় তারা পুরো এলাকা দখল করে ফেলে। এর ফলে গোটা আমেরিকায় ইউরোপের ভাষা আর সংস্কৃতি রাজত্ব করতে থাকে। আর এতে রেড ইন্ডিয়ানরা জাতি হিসেবে টিকে থাকলেও তাদের ভাষা ও সংস্কৃতি হুমকির মুখে পড়ে যায়।

♦ বর্তমানে আমেরিকার আর কানাডায় থাকা রেড ইনডিয়ান যাদের মূলত নেটিভ আমেরিকান বলা হয় তাদের মধ্যে ১৫০টি ভাষা টিকে আছে। এছাড়া মধ্য দক্ষিণ আমেরিকার টিকে আছে প্রায় ৬০০ থেকে ৭০০ ভাষা।

♦ বর্তমানে রেড ইন্ডিয়ানরা তাদের দাবী নিয়ে সচেতন হয়ে ওঠেছে। এখন তারা আমেরিকার অনেক রাজ্যেই গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করছে।
~~ সংগ্রহীত ~~

জুতা পরে বা জুতা পায়ে দিয়ে নামাজ পড়া সুন্নত।

👉👉 জুতা পরে সালাত / নামাজ আদায় করার বিধান , এই নিবন্ধে দলিল সহ সবিস্তারে আলোচনা করা হলোঃ

👉👉 আমাদের দেশে ,বিশেষ করে ভারতীয় উপমহাদেশের সমাজে জুতা পায়ে দিয়ে নামাজ পড়ার কথা কেউ চিন্তাও করতে পারে না।
অথচ জুতা পায়ে দিয়ে নামাজ পড়া একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত।
রাসূলুল্লাহ সাঃ বাড়িতে এবং সফল উভয় অবস্থায় জুতা পরে নামাজ পড়তেন।
সফরে তিনি জুতা খুলে নামাজ পড়েছেন এমন কোন দলিল পাওয়া যায় না।
তবে মসজিদে নামাজ পড়ার সময় তিনি জুতা খুলে নিয়েছেন অথবা ঘরে জায়নামাজে নামাজ পড়ার সময় তিনি জুতা খুলে নিয়েছেন।
মোটকথা, সফরে নামাজ সংক্ষিপ্ত বা কসর করা যেমন একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত, তদ্রূপ সফরে জুতা পায়ে দিয়ে নামাজ পড়াও একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত।

🤔🤔 আমাদের অভ্যাস হলো, যা সুন্নত নয় তা খুব করে প্রচার করি আর যা সুন্নত তা গোপন রাখি।
যেমন নামাজে টুপি পরার কোন দলিল কোথাও নাই। যা দুই একটা দলিল আছে ঐ সকল হাদিস গুলো প্রচুর সন্দেহযুক্ত অত্যন্ত দুর্বল অথবা জাল।
অথচ আমাদের সমাজে টুপি না পড়ে কেউ নামাজ পড়লে তাকে তিরস্কার করা হয় এবং ভিন্ন দৃষ্টিতে দেখা হয়। (টুপি অবশ্যই একটি উত্তম পোশাক এবং পবিত্র কোরআনে উত্তম পোশাক পড়ে নামাজ পড়ার কথা বলা আছে । তাই টুপি পরা ভালো)
কিন্তু আমাদের সমাজে কেউ যদি জুতা পড়ে নামাজ পড়ে তাহলে শুরু হয়ে যাবে চারদিক থেকে ফতোয়াবাজি। এবং আর কিছু যদি না পায় তাহলে বলবে জুতার তলায় নাপাকি লেগে থাকে তাই জুতা পরে নামাজ পড়া নাজায়েজ। অথচ হাদিসে স্পষ্ট উল্লেখ আছে গরু ছাগল তথা হালাল প্রাণীর প্রস্রাব পায়খানা অপবিত্র নয় এবং পথের ধুলা সব সময় পবিত্র। বরং ধুলা-মাটি মেখে তায়ামুম করে আমরা আরো পবিত্র হতে পারি।

👉👉 রাসুল সাঃ জুতা পরে সালাত আদায় করেছেন এবং এর দলিলগুলো নিম্নরূপ-

১// আবু মাসলামাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আনাস ইবন মালিক (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম, নবী (সাঃ) কি তাঁর জুতা পরে সালাত আদায় করতেন? তিনি বললেন, হাঁ’’ [বুখারী ৩৮৬, ৫৮৫০; মুসলিম ৫৫৫; তিরমিযি ৪০০; নাসায়ী ৭৭৫; মুসনাদ আহমাদ ৪০১]

২// আমর ইবন শুয়াইব (রাঃ) হতে পর্যায়ক্রমে তাঁর পিতা ও দাদার সুত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সাঃ)-কে কখনো খালি পায়ে আবার কখনো জুতা পরে সালাত আদায় করতে দেখেছি’’ [আবু দাউদ ৬৫৩; ইবন মাযাহ ১০৩৮; মুসনাদ আহমাদ ৩৯৯]

৩// ইবন আবু আওস তাঁর দাদা হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেনঃ ‘’আমি রাসুলুল্লাহ (সাঃ)-কে তাঁর জুতাজোড়া পরিহিত অবস্থায় সালাত আদায় করতে দেখেছি’’ [ইবন মাযাহ ১০৩৭; মুসনাদ আহমাদ ৪০৭]

৪// আবুদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসুল (সাঃ)-কে জুতা পরিহিত অবস্থায় এবং মোজা পরিহিত অবস্থায় সালাত আদায় করতে দেখেছি’’
–ইবন মাযাহ ১০৩৯!

৫// আবু হুরায়রাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুল (সাঃ) বসে ও দাঁড়িয়ে, জুতা পায়ে ও খালি পায়ে নামাজ পড়েছেন’’
–মুসনাদ আহমাদ ৪০২!

৬// আবু ‘আলা ইবন সিখইয়ির থেকে বর্ণিত। তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেনঃ ‘’আমি রাসুল (সাঃ)-কে জুতাজোড়া পরে নামাজ পড়তে দেখেছি’’
–মুসনাদ আহমাদ ৪০৩!

৭// আবু আওবয়ার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি আবু হুরায়রাহ (রাঃ)-এর নিকট এসে জিজ্ঞেস করলো, আপনি কি জুতা পরে লোকদেরকে নামাজ পড়তে নিষেধ করছেন? তিনি বললেনঃ না, আমি রাসুল (সাঃ)-কে এ স্থানে জুতা পরে নামাজ পড়তে এবং জুতা পরে স্থান ত্যাগ করতে দেখেছি’’
–মুসনাদ আহমাদ ৪০৪!

৮// মুজাম্মা ইবন ইয়াকুব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি কুবার এক গোলাম থেকে বর্ণনা করেন। সে একজন বৃদ্ধ লোকের সাক্ষাৎ পেল। তিনি বলেন রাসুল (সাঃ) আমাদের কাছে কুবায় আসলেন, তখন এক বাড়ির আঙ্গিনায় বসলেন। তাঁর চারপাশে কিছু লোকেরা একত্রিত হল। তখন রাসুল (সাঃ) পানি পান করতে চাইলেন, পান করার সময় আমি তাঁর ডান পাশে বসা ছিলাম। লোকদের মধ্যে আমি ছিলাম সবচেয়ে ছোট। তখন তিনি আমাকে পানি পান করতে দিলেন, আমি পান করলাম। আমার স্মরণ আছে, তিনি আমাদের নিয়ে সে দিন জুতা পরে নামাজ পড়েছিলেন, তা খুলেন নি’’
–মুসনাদ আহমাদ ৪০৫!

৯// অন্য আরেকটি বর্ণনায় আছে। তিনি মুহাম্মাদ ইবন ইসমাইল ইবন মুজাম্মা (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবন আবী হাবিবাকে বলা হল, আপনি রাসুল (সাঃ) থেকে কি শিখেছেন? রাসুল (সাঃ) যখন (কুবায়) আসেন তখন তিনি ছিলেন ছোট বালক। তিনি বলেন, রাসুল (সাঃ) একদিন আমাদের মসজিদে (অর্থাৎ কুবা মসজিদে) আসেন। তখন আমরা সেখানে গমন করি এবং তাঁর পাশে বসি। লোকেরাও তাঁর পাশে বসেন। অতঃপর তিনি নামাজ পড়তে দাঁড়ান। তখন আমি তাকে জুতা পরিহিত অবস্থায় নামাজ পড়তে দেখি’’
-মুসনাদ আহমাদ ৪০৫!

১০// আবদুল্লাহ ইবন মাস’উদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসুল (সাঃ)-কে মোজা ও জুতা পরে নামাজ পড়তে দেখেছি’’
-মুসনাদ আহমাদ ৪০৬!

১১// আবু সাইদ আল-খুদরী (রাঃ) সুত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসুলুল্লাহ (সাঃ) তাঁর সাহাবীদেরকে নিয়ে সলাত আদায়কালে তাঁর জুতাজোড়া খুলে তাঁর বাম পাশে রেখে দিলেন। এ দৃশ্য দেখে লোকেরাও তাঁদের জুতা খুলে রাখল। রাসুল (সাঃ) সালাত শেষে বললেনঃ ‘’জিবরীল (আঃ) আমার কাছে এসে আমাকে জানালেন, আপনার জুতাজোড়ায় অপবিত্র বস্তু লেগে আছে।
তিনি আরও বললেন, তোমাদের কেউ মসজিদে প্রবেশ করলে সে যেন জমিনে তা ঘসে নিয়ে পরিধান করে সালাত আদায় করে’’।
— আবু দাউদ ৬৫০; মুসনাদ আহমাদ ৪৬, ৪০০; দারিমী ১৩৭৮; ইবন খুজাইমাহ (২/৪৩১।

১২// আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
“যখন তোমাদের কেউ (মসজিদে) সালাত আদায় করতে এসে নিজ জুতা জোড়া পা থেকে খুলে ফেলে তখন সে যেন তা দিয়ে কাউকে কষ্ট না দেয়। সে যেন জুতা জোড়া নিজ দু’ পায়ের মাঝখানে রাখে অথবা তা পরেই সালাত পড়ে”।
–আবু দাউদ, হাদীস নং ৬৫৫।

১৩// অন্য বর্ণনায় রয়েছে,
“যখন তোমাদের কেউ (মসজিদে) সালাত আদায় করতে আসে তখন সে যেন নিজ জুতা জোড়া পা থেকে খুলে নিজের ডানে কিংবা বাঁয়ে না রাখে। কারণ, তা সে ব্যক্তির বাঁ দিক হলেও তা কিন্তু অন্য মুসল্লির ডান দিক। তবে তার বাঁ দিকে কোনো মুসল্লি না থাকলে তা আর অন্য মুসল্লির ডান হচ্ছে না। বরং সে যেন তার জুতা জোড়া নিজ দু’ পায়ের মাঝখানেই রাখে”।
–আবু দাউদ, হাদীস নং ৬৫৪।

কারোর পায়ে ফিতা বিশিষ্ট কোনো জুতা কিংবা মোজো পরা থাকলে যা পা থেকে খোলা খানিকটা কষ্টকর, তা হলে তা পরেই সালাত পড়া সুন্নাত: তবে মসজিদে ঢুকার পূর্বে নিজ জুতা জোড়া ভালোভাবে দেখে নিবে। তাতে কোনো নাপাক বা ময়লা দেখলে তা অতি সত্বর ভালোভাবে পরিষ্কার করে নিবে। যাতে করে মসজিদের কার্পেট, পাটি ইত্যাদি নষ্ট না হয়। অতঃপর তা পরেই সালাত পড়বে।
তবে একটা বিষয় লক্ষ্য রাখবে, আজকাল প্রায় সব মসজিদে এমন ভাবে কার্পেটিং করা অথবা টাইলস করা আছে যে সেখানে জুতা নিয়ে যাওয়ার কোন বন্দোবস্ত নেই।
তখন অবশ্যই জুতা খুলে মসজিদে প্রবেশ করবে।

১৪// শাদ্দাদ ইবন আউস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
“তোমরা ইয়াহূদীদের বিরোধিতা করো। তথা জুতা কিংবা মোজা পরেই সালাত পড়ো। কারণ, ইয়াহূদীরা জুতা কিংবা মোজা পরে কখনো সালাত পড়ে না”।
— আবু দাউদ, হাদীস নং ৬৫২
উপরোক্ত হাদিস থেকে এটাই প্রমাণ হয় যে জুতা খুলে নামাজ পড়ার সম্পূর্ণ অপশন থাকলেও মাঝেমধ্যেই জুতা পায়ে দিয়ে নামাজ পড়তে হবে কেননা ইহুদিদের বিরোধিতা করা ও এক প্রকার বড় রকমের নেকীর কাজ।

অনেকেরই মনে হয়তো প্রশ্ন আসতে পারে,-
আমরা তো জুতা বা স্যান্ডেল খুলেই সালাত আদায় করি! এতে কি ইয়াহুদী-নাসারাদের অনুকরণ হচ্ছে?
উত্তর হল, আমাদের জুতা খোলা ও তাদের জুতা খোলার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। আমরা জুতা খুলি পরিছন্নতার জন্য আর তারা জুতা খুলে পবিত্রতার জন্য। জুতা পরিচ্ছন্ন থাকলে একজন মুসলিম জুতা পরে সালাত আদায় করতে পারেন ও মসজিদে প্রবেশ করতে পারেন। কিন্তু ইয়াহুদী-নাসারা জুতা খোলাকে ইবাদতের অংশ ও ইবাদত গৃহের জন্য অসম্মানজনক বলে মনে করে। ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গিতে পাদুকা পায়ে মসজিদে প্রবেশ করলে মসজিদের পবিত্রতা নষ্ট হয় না,
তবে পরিচ্ছন্নতা নষ্ট হতে পারে। যদি বুঝতে পারা যায় যে জুতা পায়ে দিয়ে মসজিদে প্রবেশ করলে পরিচ্ছন্নতা নষ্ট হবে তাহলে উচিত হল জুতা খুলেই মসজিদে প্রবেশ করবে। এবং পৃথিবীর মসজিদ গুলোর ৯৯% মসজিদে এখন জুতা খুলে যাওয়ারই সিস্টেম রাখা হয়েছে।।
তবে যদি সন্দেহ হয় যে জুতাতে নাপাকি লেগে থাকতে পারে তাহলে মাটিতে কতক্ষণ ঘষে নেবে তবেই পবিত্র হয়ে যাবে। কেননা মাটি পানির মতোই পবিত্র। নাপাক জুতা মোজা পড়ে অথবা শরীরে নাপাকি লেগে থাকলে নামাজ হবে না।

👉👉 কেউ হয়তো প্রশ্ন করতে পারেন যে কোন ধরনের জুতা পরে নামাজ হবে আর কোন ধরনের পরে হবে না?
মূলত এই জাতীয় প্রশ্ন হলো অবান্তর প্রশ্ন। জুতা মানে জুতা অর্থাৎ যা পা’য়ে পরা হয়।
তা চামড়ার হোক, কাপড়ের হোক, কাগজের হোক, কিংবা আর্টিফিশিয়াল লেদারের হোক, বা প্লাস্টিকের হোক, জুতা হলেই হবে।
হাদিসে কেবল জুতার কথা অর্থাৎ পাদুকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে ব্যাস এতটুকুই যথেষ্ট।

👉👉 কেউ হয়তো এ প্রশ্ন করতে পারেন যে, আমি কি সুন্নত পালন করার জন্য বাংলাদেশের বা অন্যান্য মসজিদ সমূহে জুতা পায়ে দিয়ে প্রবেশ করব??
মূলতঃ এ জাতীয় অহেতুক প্রশ্নের অবতারণা করা কোন বিষয়কে জটিল ও হাস্যকর করার নামান্তর। বর্তমানে পৃথিবীতে ৯০% এর উপরে মসজিদে জুতা নিয়ে প্রবেশ করার পদ্ধতি নেই। বরং যাতে জুতা পরে মসজিদে প্রবেশ করতে না হয় সেই সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে। মানুষ যাতে জুতা খুলে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন হয়ে মসজিদে প্রবেশ করতে পারে তার জন্য মসজিদের পাশেই অজুখানা এবং টিস্যু,গামছা ইত্যাদি সবকিছুর ব্যবস্থা করে রাখা হয়,
ফলে বর্তমান সময়ে জুতা নিয়ে প্রবেশ করতেও হয় না আর এই জাতীয় পাগলামি করার কথা কেউ চিন্তাও করবে না।
বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে এটাই ঠিক যে, আপনি জুতা নিয়ে মসজিদে প্রবেশ করবেন না কেননা সেখানে জুতা না নিয়ে প্রবেশ করার পরিবেশ ও সুযোগ সৃষ্টি করে রাখা হয়েছে।
অতএব, সুযোগ সুবিধা থাকা সত্ত্বেও যে ব্যক্তি সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করে না তাকে পাগল ছাড়া আর কি বলা যায়?
মসজিদে আপনার ওযুর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, আরামে নামাজ পড়ার জন্য কার্পেটের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, ফ্যান, এয়ার কন্ডিশনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, হাতমুখ মোছার জন্য কাপড় অথবা টিস্যুর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে ‌ ।
এত ব্যবস্থা সত্ত্বেও কেউ যদি জুতা নিয়ে মসজিদে প্রবেশ করে তাহলে তো তাকে পাবলিক তিরস্কার করবে অথবা পাগল বলবে।
সাহাবায়ে কেরাম এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম তো কখনো আমাদের মত আধুনিক বাথরুমে প্রস্রাব-পায়খানা করতেন না বরং তিনি এই জাতীয় প্রয়োজন হলে লোকালয় থেকে দূরে আড়ালে চলে যেতেন।
কিন্তু এখন যদি কেউ বলে যে টয়লেটে রাসুল প্রস্রাব-পায়খানা করেননি তাই এটাই সুন্নত।
অতএব আমি বাইরে জঙ্গলে করব।
আর টয়লেট থাকা সত্ত্বেও যদি এই অপকর্ম আপনি করেন, তাহলে আপনাকে কি করা দরকার?? অতএ বন্ধু,সহজ জিনিসটাকে জটিল করবেন না। প্রশ্ন করার ইচ্ছা থাকলে হাজারো প্রশ্ন তৈরি করা যায়।

👉👉 সর্বশেষ আরো একটি প্রশ্ন থেকে যায়, আর তা হল– নাপাক জুতা অথবা শরীরে নাপাকি নিয়ে অথবা নাপাক শরীর নিয়ে নামাজ শুদ্ধ হবে না এটাই সর্বসম্মতি মত।
আমাদের বাংলাদেশ জুতার তলায় কাদা বা ধুলা মাটি ইত্যাদি লেগে থাকে।
এ পর্যায়ে মনে রাখতে হবে,

প্রথমতঃ পথের ধুলা মাটি সব পবিত্র। বরং পানি না থাকলে ধুলামাটি দ্বারা তা এমন করে পবিত্রতা অর্জন করতে হয়।

দ্বিতীয়তঃ মাত্র তিন প্রকারের জিনিস অপবিত্র। আর তা হলো,
১. মানুষের মলমূত্র,
২.যে কোন নাপাক প্রাণী যেমন শুকর, কুকুর ইত্যাদি প্রাণীর মলমূত্র।
৩. যে কোন প্রাণীর পচা দুর্গন্ধযুক্ত মৃতদেহ ।
উপরোক্ত তিন প্রকারের বস্তুর শরীরে বা জুতার মধ্যে লেগে থাকলে তা সেই জুতা ও শরীর সহ নামাজ পড়া বৈধ নয়। বরং জুতা খুলে ফেলতে হবে আর শরীরে কোন জায়গায় লাগলে তা ধুয়ে ফেলতে হবে।
উল্লেখ্য যে, পৃথিবীর সকল হালাল প্রাণীর মলমত্র অপবিত্র নয় এবং তা শরীরে বা জুতায় লেগে থাকলে সেই জুতা দিয়ে নামাজ হয়ে যাবে।
এবং বিড়াল, বাঘ , সিংহ ইত্যাদি প্রাণী খাওয়া হারাম হলেও প্রাণীগুলো অপবিত্র নয়। এবং এই জাতীয় প্রাণীর মলপুত্র শরীরের লাগলেও বা জুতার তলায় থাকলেও নামাজ হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ।

ভারত বর্ণ প্রথার প্রবর্তন করে পুরো মানব সভ্যতাকে কলঙ্কিত করেছে। অপরদিকে ইউরোপিয়ানরা দাস প্রথার প্রবর্তন করে পুরো মানবতাকে কলঙ্কিত করেছে।

ভারতে বর্ণপ্রথার এক করুণ চিত্র ফুটে উঠেছে ১৯৪৭ সালে মার্গারেট-বোর্ক হোয়াইটের তোলা এই ছবিতে। এখানে দেখা যাচ্ছে একজন উঁচু বর্ণের জমিদার বেশ নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে ও কোনো রকম শারীরিক স্পর্শ যাতে না হয় তা নিশ্চিত করে পাতায় মুড়িয়ে মজুরি দিচ্ছেন তার জন্য কাজ করা নিম্ন বর্ণের শ্রমিকদের বেতন দিচ্ছেন।

ভারতের বর্ণপ্রথা একটি সামাজিক স্তরবিন্যাস পদ্ধতি, যা সমাজকে বিভিন্ন শ্রেণিতে বিভক্ত করে। এই প্রথা মূলত দুটি ধারণার ওপর ভিত্তি করে গঠিত: ‘বর্ণ’ ও ‘জাতি’।
বর্ণ ও জাতি: পার্থক্য ও সংজ্ঞা

  • বর্ণ: ‘বর্ণ’ শব্দের আক্ষরিক অর্থ ‘প্রকার’, ‘শ্রেণি’ বা ‘রঙ’। প্রাচীন ভারতে সমাজকে চারটি প্রধান বর্ণে বিভক্ত করা হয়েছিল:
  • ব্রাহ্মণ: পুরোহিত ও শিক্ষাবিদ
  • ক্ষত্রিয়: যোদ্ধা ও শাসক
  • বৈশ্য: ব্যবসায়ী ও কৃষক
  • শূদ্র: শ্রমিক ও সেবক
  • জাতি: ‘জাতি’ শব্দের অর্থ ‘জন্ম’। এটি সমাজের আরও সূক্ষ্ম বিভাজন নির্দেশ করে, যেখানে পেশা, অঞ্চল ও অন্যান্য সামাজিক বিষয়ের ভিত্তিতে হাজারো উপগোষ্ঠী রয়েছে।
    বর্ণপ্রথার বৈশিষ্ট্য
    বর্ণপ্রথার প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে রয়েছে:
  • জন্মগত সদস্যপদ: একজন ব্যক্তি যে বর্ণে জন্মগ্রহণ করেন, সাধারণত সেই বর্ণের সদস্যপদ বহন করেন।
  • এন্ডোগ্যামি: প্রত্যেক বর্ণের মধ্যে বিবাহ সম্পন্ন হয়; অন্য বর্ণের সঙ্গে বিবাহ সাধারণত নিষিদ্ধ।
  • পেশাগত নির্ধারণ: প্রত্যেক বর্ণের নির্দিষ্ট পেশা বা কাজ নির্ধারিত থাকে, যা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে চলে আসে।
  • সামাজিক পৃথকীকরণ: বিভিন্ন বর্ণের মধ্যে খাদ্য গ্রহণ, সামাজিক মেলামেশা ও বসবাসের ক্ষেত্রে পৃথকীকরণ বজায় থাকে।
    বর্ণপ্রথার উদ্ভব
    ঐতিহাসিকদের মতে, আর্যদের ভারতে আগমনের পর ঋগ্বৈদিক যুগে বর্ণপ্রথার সূচনা হয়। প্রথমে এই প্রথা পেশা ও কর্মের ভিত্তিতে ছিল, কিন্তু সময়ের সাথে সাথে এটি জন্মভিত্তিক হয়ে ওঠে।
    আধুনিক ভারতে বর্ণপ্রথা
    ভারতীয় সংবিধান বর্ণভিত্তিক বৈষম্য নিষিদ্ধ করেছে। তবে, সমাজে এখনও বর্ণপ্রথার প্রভাব দেখা যায়। সরকার তফসিলি জাতি ও উপজাতির জন্য সংরক্ষণ নীতি গ্রহণ করেছে, যাতে তাদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নতি নিশ্চিত হয়।
    বর্ণপ্রথা ভারতের সমাজে গভীর প্রোথিত একটি প্রথা, যা সময়ের সাথে সাথে পরিবর্তিত হয়েছে, তবে এর প্রভাব এখনও বিদ্যমান।

প্রসঙ্গ: বিষয় ভিত্তিক শিক্ষা এবং বর্তমান চাকরির বাজার

🤔🤔 আমার কয়েকজন ক্লাসমেট/ বন্ধু আছে যারা ডাক্তার। নিয়মিত প্র্যাকটিস করেন। একজনকে একটা স্বাস্থ্য পরামর্শের জন্য ফোন করার পর এক ফাঁকে বলল, দোস্ত , তুই তো মধ্যপ্রাচ্যে আছিস । সেখানে কোন একটা ক্লিনিকে আমার একটা চাকরির ব্যবস্থা করে দে না।
বললাম, জামাই বউ দুইজন মিলে ডাক্তারি করছিস দেশে, তোদের আর কত টাকার দরকার? টাকা পয়সা কি কবরে নিয়ে যাবি??
এই কথা শুনে সে বলল, দোস্ত, ফিনাইলের গন্ধযুক্ত ক্লিনিকের ভৌতিক পরিবেশে সাদা গাউন পরা গলায় ঝুলানোর টেথিস্কোপ দেখে অনেকেই মনে করে আমরা মহাজাগতিক কোনো প্রাণী।
কিন্তু তুই তো জানিস বর্তমান চাকরির অবস্থা। সরকারি হাসপাতালের চাকরিতে বেতন কম, বর্তমান সামাজিক প্রেক্ষাপটে সংসার চলে না, তাই চাকরি ছেড়ে দিয়ে সকল পয়সা একত্র করে ক্লিনিক দিয়েছিলাম এবং এক কোটি টাকা ধরা খেয়ে সরষে ফুল দেখছি।
এটা হল একটি ছোট্ট ঘটনা।

👇👇নিচে একজন ডাক্তারের একটি স্ট্যাটাস তুলে ধরলাম–
২০১১ সালের কথা। মাত্র ইন্টার্ন শেষ করেছি। ঢাকায় এসে দেখি প্রাইভেট হাসপাতাল গুলো জবের জন্য রীতিমত কাড়াকাড়ি অবস্থা । ডিউটি ডাক্তার খুঁজে পায় না তারা। তাই খুব সহজে একজন পাশ করা ডাক্তার হ্যান্ডসাম স্যালারিতে জব পেয়ে যেতো। তখন চাকুরির জন্য বিয়ে আটকে থাকত না।

যারা একটু চতুর, তারা একসাথে ৩ হাসপাতালে একি রোস্টারে জব করত। আমার MMC এর এক বড় ভাই একি সাথে পাশাপাশি ৩ হাসপাতালে একি রোস্টারে ডিউটি করত (মডার্ণ, কিডনি এন্ড জেনারেল, প্যানোরমা হাসপাতাল) 😛 । বলা চলে ৩ হাসপাতালে একসাথে অন কল ডাক্তার। সাথে সাথে মৌসুমী ডাক্তার হিসেবে কুমিল্লা, নোয়াখালীর বড় মাত্রায় খ্যাপ। সাথে চলত পোস্ট গ্রাজুয়েশন অনাহারী (অনারারী) ট্রেইনিং।
কিন্তু দিন বদলে গেছে। এখন দিনে দিনে পাশ করা ডাক্তার এর সংখ্যা এতোই বেড়েছে যে, ছোট খাটো একটা হাসপাতালে একজন ডিউটি ডাক্তার পদের জন্য ধন্না দিতে হয় মাসের পর মাস। বিএমডিসি রেজিস্ট্রেশন করা ডাক্তার এর সংখ্যাই প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজারের মতো আর বেনামে, ভুয়া ডাক্তার লাখ ছাড়াবে।

পোস্ট খালি নাই নোটিশও দেখা যায় অনেক হাসপাতালে। সিভি জমা দিয়ে রেখে ধুলায় গড়ায়। তবুও কল আসে না। আজকাল দেখি প্রাইভেট হাসপাতাল গুলো বিনা বেতনে চিকিৎসক খুঁজতেছে। প্রতিযোগিতার মার্কেটে সুযোগ নিচ্ছে প্রাইভেট হাসপাতাল গুলো।

এদিকে এমবিবিএস পাশ করে বাবা মায়ের কাছে হাত পাতাও লজ্জার ব্যাপার। অন্য দিকে বয়স ও বিবাহের দিকে তাকানোর সময় নাই পোস্ট গ্রাজুয়েশন এর কথা ভেবে। দোটানায় নাও বেয়ে কুল কিনারা নাই বেশির ভাগের। সরকার এমবিবিএস পাশের গ্যারান্টি দিলেও সরকারী চাকুরীর নিশ্চয়তা দেয় না। আশির দশকের মত পাশের পর সরকারি চাকুরি ও মোটরসাইকেল পাওয়া এখন রীতিমত ইতিহাস।

সরকারী মেডিকেলে না হয় খরচ কম, কিন্তু প্রাইভেট মেড়িকেলে প্রায় অর্ধ কোটি টাকা খরচ করে এমবিবিএস পাশ করে নামের সাথে বেকার ডাক্তার লাগানোর কষ্ট কেউ বুঝবে না। বন্ধুমহল ভাববে আপনি হাজার ডলার কামান মিনিটে মিনিটে।

এখনি ভাবার সময়। কি অবস্থা হবে আরো ৫ বছর পর। কি অবস্থা হবে ১৫ বছর পর।। পোস্ট ফাঁকার জন্য খুন করে সিট দখল করতে হবে।।
সবাই ভাবে ডাক্তার মানেই হেব্বি টাকাওয়ালা। কিন্তু সেটা শুধুমাত্র কয়েকজন নামকরা বড় মাপের প্রফেসরের বেলায় প্রযোজ্য। বাকিরা গড়ের মাঠের না খাওয়া জমিদার। সো, এখনি চিন্তা করে দেখেন। ড্রিম কিন্তু ড্রিম নয়, এখন নাইটমেয়ার হয়ে গেছে।

  • Dr. Sayed Sujon

👉👉 উপরের এই ডাক্তারের স্ট্যাটাস থেকে হয়তো বর্তমান অবস্থাটা মোটামুটি কিছুটা অনুধাবন করতে পারা যায়। এবার আমার কথা বলি।
আমার আরেক অত্যন্ত কাছের বন্ধু একটি কলেজে শিক্ষকতা করে।
বেশ কয়েক বছর আগে আমার এলএলবি পরীক্ষার সময় হঠাৎ পরীক্ষার হলের সামনে তার সাথে দেখা হয়।
দূর থেকে দৌড়ে এসে জড়িয়ে ধরে বলল দোস্ত তুই এখানে কি করছিস? বললাম উকিল হওয়ার জন্য পরীক্ষা দিতে আসছি। সে বলল, আমিও!
আমি অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলাম, তোরা তো হাজবেন্ড ওয়াইফ দুজনেই কলেজে শিক্ষকতা করিস। তা তোদের আবার ওকালতি শিক্ষা করার দরকার পড়লো কেন?
পাল্টা প্রশ্ন করল, তুই কেন আইন পড়ছিস?
বললাম, তুই তো ভালো করেই জানিস আইন নিয়ে পড়াশোনা করাটা আমার সেই ছোটবেলার শখ।
সেই শখ পূরণ করার জন্য এলএলবি করছি।

👉👉 বর্তমানে নির্দিষ্ট বিষয়ে পড়াশোনা করে সেই নির্দিষ্ট কাজ পাওয়া যায়। আমার এক বন্ধু লেদার টেকনোলজিতে উচ্চতর ডিগ্রি নিয়ে ,সে এখন সচিবালয়ে কেরানির কাজ করে। বেতন কম, তবে ঘুষ আছে। সে ঘুষ খায় কিনা আমি জানিনা।

👉👉আরেক বন্ধু জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে “রসায়ন বিজ্ঞানে” অনার্স, মাস্টার্স ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট হয়ে এখন ‘রসগোল্লা’ আর ‘রসমালাই’ এর বিজনেস করে অনলাইনে । ব্যবসা তেমন সুবিধার না।

👉👉আমার অন্য আরেক বন্ধু একাউন্টিং ও বিজনেস ম্যানেজমেন্টে উচ্চতর ডিগ্রি নিয়ে সৌদি আরব গিয়ে এখন সে সিনিয়র নার্স হিসেবে হাসপাতালে চাকরি করে 😀।

👉👉 এবার একজন ডাক্তারের কথা বলি, যিনি এমবিবিএস পাস করে বহু টাকা খরচ করে সবকিছু শেষ করে ইংল্যান্ডে চলে গিয়েছিলেন। এবং বর্তমানে তিনি ইংল্যান্ডের সিটিজেন। তবে তিনি চাকরি করেন আমার সাথে মধ্য প্রাচ্যে।
এমবিবিএস ডিগ্রি নিয়ে চাকরি না পেয়ে ইংল্যান্ডে গিয়ে ও কোন সুবিধা করতে পারেননি। কারণ সেখানেও ডজন ডজন নয়, বরং হাজার হাজার ডাক্তার বেকার।
অবশেষে তিনি দুবাই এসে আমার সাথেই বেশ কিছু বছর টুরিস্ট গাইড হিসেবে চাকরি করেছেন।
আমি এখন ফ্রিল্যান্সিং ট্রান্সপোর্ট বিজনেস এ আছি, সে কোথায় আছে জানিনা।।

✅✅ কয়েকদিন আগে আমার এক বন্ধু আমাকে ফোন করে বলল, দোস্ত, তুইতো ইউরোপ আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কিছু দেশ ঘুরেছিস। একটা পরামর্শ দে। আমার মেয়েটা ভালোভাবে ইন্টারমিডিয়েট পাশ করেছে এবং আমি তাকে ডাক্তারি পড়াতে চাই।
সরকারি মেডিকেল কলেজগুলোতে যে প্রতিযোগিতা হয়, তাতে চান্স পাওয়ার সম্ভাবনা খুব কম। তাই আমি বেসরকারি মেডিকেলে পড়াতে চাচ্ছি।
ইউরোপ, আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যে ডাক্তারদের চাকরির বাজার কেমন?
আমি তাকে এক কথায় বললাম, দুনিয়ার সব জায়গায় সর্ব কাজের ব্যাপক প্রতিযোগিতা। মেয়েটা যদি স্বাভাবিকভাবে কোন সরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তি হতে পারে তাহলে পড়াতে পারিস। কিন্তু বেসরকারি মেডিকেল কলেজ মানেই হল 50 থেকে 70 লক্ষ টাকা। তারপর চাকরি পাওয়ার কোন গ্যারান্টি নেই।
এরচেয়ে ভালো, স্বাভাবিকভাবে পড়াশোনা করতে থাকুক। আর এরই মধ্যে ভালো পাত্র পেলে দ্রুত বিয়ে দিয়ে দে।

👉👉 আমার সাথে চাকরি করতেন একজনকে জানি যার সাথে এখনো মাঝেমধ্যে দেখা হয়। তিনি গত তিন বছর যাবত দেশে যেতে পারছেন না , কারণ বেসরকারি মেডিকেল কলেজে তার মেয়েকে ভর্তি করিয়েছেন এবং প্রতিনিয়ত পয়সার যোগান দিতে হয়। নিজের উপর এক বিরাট মুসিবত চাপিয়ে নিয়েছেন।।

👉👉 এবার একজন বয়স্ক মুরুব্বির কথা বলি যাকে আমি খুব নিকট থেকে জানি। বিদেশে থেকে বহু কষ্ট করে তার বড় ছেলেকে তিনি ডাক্তার বানিয়েছেন এবং গতবছর ইন্টার্নি শেষ করে বের হয়েছে।
তিনি আশা করছিলেন, ডাক্তারি ডিগ্রী নেওয়ার পরপরই হয়তো ছেলে দুই হাতে টাকা ইনকাম করবেন এবং তার কষ্টের লাঘব হবে।
কিন্তু আসলে কি তাই?? তিনি বৃদ্ধ বয়সে রোগ-ব্যাধি নিয়ে এখনো কষ্ট করে যাচ্ছেন। আশা করছেন ছেলের একটা ভালো চাকরি হবে। আমরাও আশা করি।
কিন্তু পথ এখনো অনেক দীর্ঘ।
বিসিএস করতে হবে। বিসিএস দিলেই পাস করবে এমন কোন কথা নেই। আর বহু কষ্ট করে পাশ করলে কোন মফস্বলের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জেনারেল ফিজিশিয়ান হিসেবে হয়তো চাকরি হবে।

আর সরকারি হাসপাতালে চাকরি পেলে; সরকারি হিসাব মতে “বেতন স্কেল পাবে নবম গ্রেডে”।
নবম গ্রেডের বেতন স্কেল মাত্র ২২ হাজার টাকা এবং আরো অন্যান্য সবমিলিয়ে বেতন পাবে সর্বমোট ৪০ হাজার টাকা!
তবে বেসরকারিভাবে হিসাব করতে গেলে আগে স্থানীয় উপযোগ এর বিষয়টি ভাবতে হবে।
একজন এমবিবিএস ডাক্তার কোন অঞ্চলে তার ডাক্তারি সেবা প্রদান করছেন, তার উপর নির্ভর করবে উপার্জন।
একজন এমবিবিএস ডাক্তার যদি ঢাকা শহরে কোন প্রাইভেট ক্লিনিকে চিকিৎসা দেয়, তবে সে সৎ ভাবে উপার্জন করতে পারবে সর্বোচ্চ দেড় লক্ষ টাকা।
আর যদি অসৎ ও হারাম পথ অবলম্বন করে, বিভিন্ন ঔষধ কোম্পানির প্রলোভনে প্রভাবিত হয়ে তাদের সাজেস্ট করা নরমাল ঔষধ লিখে দেয়, তাহলে সে কোম্পানির তরফ থেকে মোটা অংকের কালো টাকা পাবে।
তাছাড়া বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যদি সে রুগি পাঠায় তাহলে সেখান থেকেও মোটা কমিশন পাবে ঘুষ হিসাবে। তাছাড়া যদি কোন নার্সিংহোমে বা অন্য কোন ক্লিনিকে রোগী পাঠায়, তাহলেও সেখান থেকে এসে মোটা অংকের কমিশন পাবে।
মোটকথা কত টাকা এভাবে অসৎভাবে আসবে তার কোন সীমা পরিসীমা নাই। কারণ চুরি এবং লুটের মালের কোন সীমা থাকে না।
✅✅তবে দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য কথা হলো বাংলাদেশের শতকরা 95 থেকে 98% ডাক্তার এই জাতীয় নিকৃষ্ট দুই নাম্বারি কাজের সাথে জড়িত।।
আবার এই ডাক্তার যদি, ঢাকায় চিকিৎসা না দিয়ে রাজশাহী দিনাজপুর কিংবা চট্টগ্রামে চিকিৎসা দেয়। তবে সে অনায়াসে সৎভাবে এক লক্ষ টাকা ইনকাম করতে পারবে। (ঘুষ, চুরি ও দুর্নীতি ছাড়া)
এবং একই ডাক্তার যদি যেকোনো উপজেলা সদরে চিকিৎসা সেবা দেয় তাহলে সে ইনকাম করতে পারবে ৫০ থেকে ৭০ হাজার টাকা।।
আমি এই ধারণাগুলো পেয়েছি, আমার ডাক্তার বন্ধুদের কাছ থেকে।

✅✅ সে যাই হোক, ডাক্তারি পেশা সরাসরি একটা সেবামূলক পেশা। তবে সেবার মানসিকতা আমার দেশের ডাক্তারদের ৯৯% এর নেই। জনগণের ট্যাক্সের টাকায় পরিচালিত মেডিকেল কলেজগুলোতে পড়াশোনা করে জনগণের সাথেই তারা প্রতারণায় লিপ্ত হয়। অনেকেই হয়তো মনে করে যে আমার ছেলেকে সরকারি মেডিকেল কলেজে পড়াতেও খরচ পড়েছে ২০ লক্ষ টাকা।
কিন্তু এটা অনেকেই জানে না যে, কোন মেডিকেল কলেজ থেকে একটা ছেলেকে এমবিবিএস পাস করাতে, অথবা যে কোন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একটা ছেলেকে এমএ পাস করাতে সরকারের খরচ হয় এক কোটি টাকার উপর, যা আসে জনগণের ট্যাক্সের পয়সা থেকে।
আর বাবা-মা মনে করে এবং বাহাদুরি করে বলে যে, আমার পয়সা দিয়ে আমি আমার ছেলেকে উন্নত পড়াশুনা করিয়েছি।
ধন্যবাদ।
Mahabubur Rahman
mahabuburrahman1720@gmail.com

ইসলামে গালাগালি করা কি আদৌ জায়েজ??

📕📘 প্রসঙ্গঃ ইসলামে গালাগালি করার বিধানঃ
এখানে প্রশ্ন হল, ইসলামী শরীয়তে কি কাউকে গালাগালি করা জায়েজ আছে?? বিশেষ করে ওয়াজের মাহফিলে আলেম নামক কিছু লোক যেভাবে ভিন্ন মতামলম্বী ও ভিন্নমতের আলেম ও মানুষদের গালাগালি করে এটা কতটুকু শরীয়ত সম্মত বা এর কুফল বা পরিণতি কি???
এবং মানুষকে (বাইন চো*দ বলে) গালি
দেওয়ার হুকুম কি⁉️

📕📘 ইসলাম হলো একটা সার্বজনীন জীবন বিধান। পবিত্র কোরআন নাজিল হয়েছে মানুষের জন্য। এই কোরআন শুধু মুসলিমদের জন্য নাযিল হয়েছে এই কথা আমরা বলতে পারিনা। পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে- …… هذا بيان للناس… এটা (কুরআন) বয়ান করা হয়েছে বর্ণনা করা হয়েছে মানুষের জন্য।।
আর সৃষ্টিকর্তা ও পালনকর্তার পক্ষ থেকে যা কিছু বয়ান করা হয় এবং যা জীবন বিধান দেওয়া হয় সেখানে খারাপ কোন কিছুর অস্তিত্ব থাকার প্রশ্নই আসে না। গালাগালি তো হলো শয়তানের কর্ম।।
প্রশ্নকারীর ভাষাগুলি নিকৃষ্ট হওয়া সত্ত্বেও এ
বিষয়ে কথা বলার প্রয়োজন রয়েছে ।
প্রথমেই বলতে চাই যে, কোন মুমিন মুসলিম অন্য কাউকে কষ্ট দিতে পারে না। চাই সে গালির মাধ্যমেই হোক বা অন্য কোন মাধ্যমে।
যারা গালাগালি করে এরা মুনাফেক। কারন ইসলামে সে ব্যক্তি মুমিন নয় যার হাত ও মুখ থেকে অন্য ব্যাক্তি নিরাপদ নয়।
তাছাড়া, এখানে যে গালির কথা বলা হয়েছে তা আরও নিকৃষ্ট্য। যারা এ ভাষা ব্যাবহার করে তারা কি কখন ও ভেবে দেখেছে, যে সে কি বলছে?
বাইন চোদ (হিন্দিতে বেইন চোদ থেকে বাংলায় বাইন চো*দ এসেছে। উল্লেখ্য যে বেইন অর্থ বোন ) শব্দটি ব্যাবহার করে তাদের কাছেও প্রশ্ন, তারা কি যাকে গালি দিচ্ছে তার বোনকে জ্বেনা করতে চায় নাকি তার নিজের বোনকে অন্যকে দ্বারা জ্বেনা করাতে চায়। নাউজুবিল্লাহ।

অনেকেই ভাবতে পারে, আমরা তো এভাবে ভেবে গালি দেই না, তাদের কে আমি বলতে চাই মানুষের মুখ দিয়ে কথা বের হবে অথচ তার কোন অর্থ থাকবে না সেটা কি হয়। যদি অর্থ থাকে তাহলে উক্ত দুটি অর্থ ছাড়া কোনও অর্থ আছে কি?
পৃথীবিতে বাক স্বাধীনতা কি এই জন্য যে, যার মুখে যা আসবে সে তাই বলবে। যদি তাই হত তবে কেন নবি (সা:) এর নামে কথা বলায় সমস্থ বিশ্ব আদালতে, মামলা মোকাদ্দমায় ছোটাছুটি করেছিল।

এখান থেকে কি এ কথা স্পষ্ট বোঝা যায় না যে, কোন মানুষ কথা বললে তার কোন না কোন অর্থ থাকবেই।

দু:খ জনক হলেও সত্য যে, যারা আজকে শিক্ষিত দাবি করছে তারাই সবচেয়ে বেশি অশিক্ষিতের মত গালি দিচ্ছে। আর এক দল আছে এরা কোন প্রতিবাদ তো দূরের কথা আরো হেসে সেটাকে সাপর্ট করছে।
কি দু:খ সে ব্যক্তি বুঝলই না যে তাকে কি বলে গালি দেওয়া হল। এর অর্থই বা কি।
ইসলামে যদি কোন ব্যাক্তি অন্যের মাকে গালি দেয় তবে তা তার নিজের দিকেই ফিরে আসে। বেইন চোদ বা বাইন চোদ দ্বারা অন্যের বোনকে জ্বেনা করতে চাবে সে প্রথমে নিজের বোনকেই……..উক্ত নিকৃষ্টতম কাজ করতে চাইবে। নাউজুবিল্লাহহ। কত নিকৃষ্ট।

অথচ একদল নিকৃষ্ট লোক উক্ত ককথাটি নির্দিধায় ব্যবহার করছে।

রাসূল (সা:) বলেছেন: কিয়ামতের পুর্বে শিক্ষা উঠে যাবে, মুর্খতা বর্ষন হবে।

কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি যে শিক্ষিতের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলছে, তাহলে কি আল্লাহর রাসূল (সা) মিথ্যা বলেছেন নাউজুবিল্লাহ। তিনি মিথ্যা বলেন নি বরং বর্ত্মানে জেটাকে শিক্ষা বলা হচ্ছে তাই মুলত মুর্খতা যার বর্ষনের কথা রাসূল (সা) বলেছেন।
যে শিক্ষা মানুষকে নিকৃষ্ট ভাবে গালিগালাজ করাকে জায়েজ মনে করছে, যে শিক্ষা অন্যের মাকে, বোন কে নিয়ে অমানুষের মত মন্তব্যকে হালাল মনে করছে,
যে শিক্ষা অন্যের মা, বোন কে গালি দিতে গিয়ে নিজের মা, বোনের ইজ্জত নষ্ট করছে অথচ সে বিন্দুমাত্র ভ্রুক্ষেপ করছে না সেটা কোন শিক্ষাই না।
আল্লাহর রাসূল (সা) বলেছেন: মোনাফেকের লক্ষন চারটি (অন্য এক বর্ননায় তিনটি)
কথা বললে মিথ্যা বলে, ওয়াদা করলে ভঙ্গ করে, আমানতের খেয়ানত করে, ও বিবাদের সময় মুখদিয়ে নিকৃষ্ট ভাষা বলে। এরা মোনাফেক। যার স্থান জাহান্নামের নিন্মতর স্থরে অথচ পৌতলিকদের কেও নিন্মতর স্থরের কথা বলা হয় নি।

👉👉আল্লাহ তায়ালা বলেন :
তোমরা একে অন্যেকে সৎকাজ ও আল্লাহভিরুতার কাজে সাহায্য কর। পাপ ও সীমালঙ্ঘনের ব্যাপারে একে অন্যকে সহায়তা কর না। আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চই আল্লাহ তায়ালা কঠোর শাস্তিদাতা।
—সূরা মাইদা: ২!!
হে মুসমান ভাই বোন দ্রুত সেই মহান আল্লাহর দিকে ফিরে আসো, যিনি তোমাকে অস্থিত্যহীন থেকে শুস্ক পোড়া মাটির ন্যায় হতে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর দুনিয়াতে বসবাসের তাওফিক দিয়েছেন, অতঃপর যার কাছে আবার তোমাকে ফিরে যেতে হবে।
যার দেওয়া মুখ দিয়ে নিকৃষ্ট ভাষা বলছ কাল কিয়ামতের মাঠে তার কাছে কি জবাব দিবে। তোমার কি বিবেক নেই, তোমার কি মনুসত্য নেই, তোমার কি হিতাহিত জ্ঞান নেই, তোমার কি বুদ্ধি নেই। তুমি মানুষ নাকি পশু।
যারা আল্লাহর বিধান অমান্য করে এবং মানুষের সাথে ভালো আচরণ করে না আর তাদেরকে আল্লাহ পশু এবং পশুর চেয়ে নিকৃষ্ট বলেছেন।
আল্লাহ বলেন— اولئك عنعم بل هم عدل… এরা হলো বিভিন্ন জন্তু জানোয়ারের মতো বরং এদের চেয়েও নিকৃষ্ট।
আলেম হয়ে যারা অন্যকে গালাগালি করে তারা শুধু আল্লাহর বিধান অমান্যকারী নয় বরং তারা হল ইসলাম বিকৃতকারী এবং ইসলামের দুর্নাম বয়ে আনে এই সমস্ত লোক। যেহেতু এরা আলেম নাম ধারী সেহেতু জনগণ এবং অন্য ধর্মের লোকেরা মনে করে এটাই বুঝি ইসলামের পন্থা এবং গালাগালি করা ইসলামের একটি পদ্ধতি। নাউজুবিল্লাহ। আর এভাবেই তারা ইসলামকে অন্যান্যদের কাছে অপদস্ত করে থাকে। বলে তারা দ্বিগুণ অপরাধী

আল্লাহ কি তাহলে তোমার কথাই বলেছেন:
আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি সুন্দরতম অবয়বে। অত:পর তাকে নামিয়ে দিয়েছি নিচ থেকে নিচে। ( তখন সে পশু, বরং পশুর চেয়েও খারাপ)।
অতএব, ফিরে এসো সেই মহান আল্লাহর দিকে।
ইয়া আল্লাহ তুমি আমাদের মুসলিম ভাই বোনদের কে এ ধরনের মোনাফিকি বাক্য বলা থেকে ফিরে আসার তাওফিক দান কর। এবং সুন্দর অর্থবহ কথা বলার তাওফিক দান কর।
=======আমিন======
আমি দু:খিত যে অনিচ্ছা সত্ত্বেও খারাপ ভাষাগুলো ব্যাবহার করতে হয়েছে। আমি এ জন্য সবার কাছে ক্ষমা চাচ্ছি।

গুড টাচ এবং বেড টাচ হঠাৎ ভালো স্পর্শ এবং মন্দ স্পর্শ কিভাবে শিখাবেন শিশুদের।

👉👉 আলহামদুলিল্লাহ।। বাংলাদেশের সংস্কৃতিতে বড়দের শ্রদ্ধা এবং ছোটদের স্নেহ এই বিষয়টা অনেকটাই প্রতিষ্ঠিত এক ধরনের বাস্তবতা। সেই জায়গা থেকে শিশুদের আদর করাটাও সামাজিকভাবে বেশ প্রচলিত।
🤔🤔এটা ঠিক যে বিশ্বের অনেক দেশেই মা-বাবা ছাড়া অন্য কেউ বা বাইরের কেউ শিশুদের আদর করাকে বেশ নেতিবাচক দৃষ্টিতে দেখা হয়। মা-বাবার অনুমতি ছাড়া এমন ক্ষেত্রে অনেক সময় শক্ত আই’নের ব্যবস্থাও বিভিন্ন দেশে।
আর এর পেছনে একটা বড় কারণ শিশুদের যৌ’ন হয়রানির শিকার হওয়ার ঝুঁ’কি। কারণ সাবধানতা সত্ত্বেও বিশ্বজুড়ে শিশুদের যৌ’ন নিপী’ড়নের শি’কার হওয়ার ঘটনা ঘটছে প্রতিনিয়ত এমনকি নিজের আপন ভাই ও বাবার দ্বারাও পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে এমন কি বাংলাদেশও যৌন নিপীড়নের শিকার হচ্ছে শিশুরা।। শুধু যে নারী শিশু তা নয় বরং পুরুষ শিশু ও এ থেকে বাদ যায় না।।

🤔🤔এক্ষেত্রে অভিভাবকদের করণীয় হল–

👉১. শিশুর সঙ্গে একা সময় কাটাতে চাওয়া ব্যক্তির বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। অভিভাবক ছাড়া কাউকে, এমনকি শিশুর পছন্দের ব্যক্তির সাথেও বাইরে ঘুরতে দেয়া যাবে না। শিশুদের সঙ্গে ছোট বলে এমন আচরণ মেনে নেওয়া যাবে না যাতে তারা অস্বস্তি বোধ করে।
👉২. মা-বাবা ও অভিভাবকদের মাথায় রাখতে হবে পরিবারের ভেতরে-বাইরে কারো কারো অন্যের শরীরে খারাপভাবে হাত দেওয়ার অভ্যাস থাকতে পারে। যেসব জায়গায় হাত দেওয়া উচিত না তেমন জায়গায় হাত দিলে শিশুরা যেন মা-বাবাকে বলে দেয় সেটা শেখাতে হবে।
👉৩. যে ব্যক্তি শিশুদের ব্যক্তিগত জায়গায় স্পর্শ করবে বা শিশুকে দিয়ে তাদের শরীরে এমনভাবে স্পর্শ করার কথা বলবে যেটা শিশুর পছন্দ হবে না, সেক্ষেত্রে শিশুদের বাধা দেওয়া শেখাতে হবে।
👉৪. সব বয়সী শিশুর প্রতি নজর রাখতে হবে। শিশু এমন কোনো অভিযোগ করলে সেটা গুরুত্ব দিয়ে শুনতে হবে।
👉 গুড টাচ-ব্যাড টাচ বা ভালো স্পর্শ, মন্দ স্পর্শ ধারণার সঙ্গে শিশুকে পরিচিত করিয়ে দিতে হবে।
👉 বাচ্চাদের মন খুলে কথা বলা শেখাতে হবে যেন সমস্যার বিষয়ে বলতে তারা ভয় না পায়।
👉 যদি তেমন অপ্রী’তিকর ঘটনা ঘটে যায় সেক্ষেত্রে শিশুকে আশ্বস্ত করতে হবে যে সে ঘটনার জন্য শিশুটি কোনোভাবে দায়ী নয় এবং নিপীড়নকারী ব্যক্তির এমন আচরণ গ্রহণযোগ্য না।
👉 পরিবারের অন্য সদস্য বা পরিচিতদের নিপীড়নকারী ব্যক্তি সম্পর্কে জানাতে হবে যেন তারা নিজ সন্তানদের নিয়ে সতর্ক থাকতে পারেন।
👉 ঘটনাকে তুচ্ছ হিসেবে দেখা বা নিপীড়নকারীর পক্ষ নেয়া যাবে না। আবার এ নিয়ে বাড়াবাড়ি রকমের দুশ্চিন্তা বা প্রতিক্রিয়া বা অতিরিক্ত প্রশ্ন করা থেকেও বিরত থাকতে হবে।

👉👉 প্রথম থেকেই সন্তানকে জানাতে হবে যেন এমন পরিস্থিতিতে তারা না পড়ে একদম, তারপরও যদি ধরনের ঘটনা হয়ে যায় সেটা লঘু মাত্রার হলেও সন্তানদের আগলে রাখতে হবে, চোখে চোখে রাখতে হবে।
আত্মীয় হলেও তেমন ঘটনা ঘটানো ব্যক্তিকে বাড়িতে যতটা সম্ভব আসতে না দেওয়া উচিত , অথবা এমন আচরণ করে এই জাতীয় ব্যক্তিদেরকে সবসময় এগিয়ে চলতে হবে, শিশুকে অস্বস্তিকরভাবে স্পর্শ করা ব্যক্তিদের নিজেদের জীবন থেকে যতদূর সম্ভব ছেঁটে ফেলা অথবা প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিত হবে ।

🤔🤔শিশুদের কীভাবে বোঝাতে হবে⁉️
সন্তানদের সুরক্ষার জন্য এ বিষয়গুলো বোঝানোটাও বাবা-মায়ের দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে। আর ‘গুড টাচ ও ব্যাড টাচ’ এই ধারণা দিতে প্রায় সব পর্যায়ের বিশেষজ্ঞরা যেটা উল্লেখ করেন সেটা হচ্ছে শিশুদের ব্যক্তিগত অঙ্গ সম্পর্কে ধারণা তৈরি করা।
👉ছেলে শিশুদের ক্ষেত্রে ঠোঁট, গোপ’নাঙ্গ ,পায়ুপথ; মেয়েদের ক্ষেত্রে এই তিন অংশ ছাড়াও বুকের দিকের অংশ।
জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা এই অঙ্গগুলোকে একান্ত ব্যক্তিগত হিসেবে শিশুকে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার কথা বলে।
তবে একই সঙ্গে এটাও বলা হয় যে কোনো কোনো ক্ষেত্রে সেখানে স্পর্শ করার প্রয়োজন হতে পারে। যেমন শিশুর যদি টয়লেটে বা গোসলে সাহায্যের প্রয়োজন হয় এবং ডাক্তারের কাছে স্বাস্থ্যের পরীক্ষার জন্য যেতে হয়।
এক্ষেত্রে নিরাপদ স্পর্শের উদাহরণ হিসেবে বলা হয় যদি দাদা-দাদি বা নানা-নানি কেউ জড়িয়ে ধরে এবং গালে চুমু দেয় ।

👉তবে অনিরাপদ স্পর্শ হিসেবে ইউনিসেফ উল্লেখ করেছে––
১. যদি ধরলে ব্যথা লাগে
২. যদি এমন জায়গায় ধরা বা স্পর্শ করা হয় যেখানে ধরলে ভালো লাগে না বা যেখানে ধরা উচিত না (ব্যক্তিগত অঙ্গ)
৩. অস্বস্তি বোধ হয় বা খারাপ লাগে এমনভাবে কেউ ধরলে
৪. যদি এমনভাবে কেউ ধরে যাতে ভয় বা নার্ভাস লাগে
৫. যদি তাকে ধরার জন্য বা স্পর্শ করার জন্য শিশুকে জোর করে
৬. যদি স্পর্শ করে কাউকে এ বিষয়ে বলতে নিষেধ করে, চুপ থাকতে বলে
৭. যদি স্পর্শের কথা কাউকে বললে তার ক্ষতি করার হুমকি দেওয়া হয়
৮. অস্বস্তি বলতে বোঝানো হচ্ছে – মন খারাপ, রাগ, ভয়, লজ্জা কেউ এমন করলে যাকে বিশ্বাস করা যায় বা আস্থা রাখা যায় এমন মানুষকে বলতে হবে।
বাচ্চাদের বুঝাতে হবে শরীরের সেসব ব্যক্তিগত জায়গাগুলোতে যদি কেউ অনাকাঙ্ক্ষিত স্পর্শ করে তাহলে আমরা না বলবো, চিৎকার করবো এবং আমাদের মা-বাবাকে জানাবো বিষয়টা। যদি এরকম পরিস্থিতি হয় যে আমাদের বিপদ মনে হচ্ছে তাহলে সাথে সাথে দৌড়ে আমাদের ওই জায়গা থেকে বেরিয়ে যেতে হবে।
কেউ যদি আমাদেরকে এমনভাবে স্পর্শ করে যেটা আমাদের খারাপ লাগছে তখন আমরা চুপ করে থাকবো না, আমরা কথা বলবো, আমরা জোরে না বলবো।
ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট ডা. ইশরাত শারমিন রহমানও বিবিসি বাংলাকে এই অঙ্গের ক্ষেত্রে বলেছিলেন এখানে বাবা মা গোসল করানো বা পরিষ্কার করার সময় ছাড়া অন্য কেউ স্পর্শ করতে পারবে না। কেউ সেটি করলে সে কী করবে সেটিও তাকে জানানো। সেটা বাবা মাকে যে জানাবে সেটি শেখাতে হবে। এতে বাচ্চারা সচেতন থাকবে।