দুইটি মাউন্টেন গোট প্রায় ১৩ হাজার ফুট উপরে খারা পাহাড়ে ঘাস খাচ্ছে।
✅✅ Mountain Goat বা পাহাড়ি ছাগলে কথা অনেকেই শুনেছেন, এবং এই অনলাইনের যুগে নিশ্চয়ই ছবি অথবা ভিডিওটি দেখেছেন? বিরল প্রজাতির এই ছাগল পাহাড়ে চড়ার দক্ষতার জন্য বিশ্ববিখ্যাত। বিশেষ ধরনের খুরের সাহায্যে সে খাড়া পাহাড় বেয়ে ১৩,০০০ ফুট উপরে উঠে যাওয়ার রেকর্ড আছে। ওদিকে পাহাড়ের নিচে বাস করা সিংহ, চিতার আর হায়নার দল বসে থাকে তার পতনের অপেক্ষায়, পা পিছলে নিচে পড়লেই ঘাড় মটকে মজা করে খাবে। আর এই আশায় তারা যুগের পর যুগ আর প্রজন্মের পর প্রজন্ম কাটিয়ে দিচ্ছে। প্রতিমুহূর্তে তাদের মনে হয়, এই বুঝি মাউন্টেন গোট পা হড়কে নিচে পড়ল! কিন্তু পড়বে কিভাবে, মাউন্টেন গোটের প্রকৃতি প্রদত্ত খুরগুলো যে চুম্বকের মতো পাহাড়ের খাঁজে আটকে থাকে!
একটি ‘মাউন্টেন গোট’ পাহাড়ের অপেক্ষা কৃত সমতল অঞ্চলে বিশ্রাম নিচ্ছে।
এই অসাধারণ দক্ষতা সম্পন্ন স্বাধীন, ধৈর্যশীল, সাহসী এবং বৃহদাকৃতির এই ছাগলটিকে জাতীয় পশুর মর্যাদা দিয়েছে পাকিস্তান। পাকিস্তানের জাতীয় পশু এই দৃষ্টিনন্দন ও অবাক করা পাহাড়ী ছাগল। পাকিস্তানের এর স্থানীয় নাম #মারখোর’ । এই ছাগলকে পোষ মানানো অত্যন্ত জটিল এবং এরা সম্পূর্ণ স্বাধীন ভাবে থাকে আর এই জন্যই পাকিস্তান তাদের জাতীয় পশু হিসাবে এই “মারখোর”কে পছন্দ করেছে।
সে যাই হোক, বাস্তব জীবনেও কাউকে কাউকে মাউন্টেন গোট বা মারখোর এর সাথে তুলনা করা যায়। আর পিছনে থাকা সমালোচকদের নিচে থাকা ওই সিংহ, চিতা এবং হায়না, ও বন্য শুকরের সাথে তুলনা করা যায়। সমালোচকরা অপেক্ষায় থাকে কখন ‘মাউন্টেন গোট’রূপী মানুষটির পতন হবে আর সেটা নিয়ে তারা উল্লাসে মেতে উঠবে। কিন্তু ওই সমালোচকরা তো জানে না, তাদের টার্গেট করা ওই মানুষটি জাতে একটা “মাউন্টেন গোট”!
✅✅ জাতিতে মারখোর নামক প্রাণীটি ছাগল হলেও এরা স্বাভাবিক ছাগলের মত নয়। এদেরকে যেমন পোষ মানানো যায় না এবং সব সময় স্বাধীন থাকতেই পছন্দ করে তদ্রূপ খাবারের খোঁজে এরা উঠে যায় প্রায় ১৩০০০ ফুট পাহাড়ের উচ্চতায়। দেখতে কিছুটা স্বাভাবিক ছাগল হলেও তা অনেকটা আলাদা। অত্যন্ত প্রতিকূল পরিবেশেও এই ছাগল টিকে থাকতে পারে। এই মাউন্টেন গুড বা মারখোর।
মারখোর এর বৈজ্ঞানিক নাম: Capra falconeri। এরা ক্যাপরা গণের একটি বড় প্রজাতি যেটি উত্তর আমেরিকা, আফগানিস্তান, উত্তর পাকিস্তান, দক্ষিণ তাজিকিস্তান, দক্ষিণ উজবেকিস্তান, এবং অল্প সংখ্যক দেখা যায় জম্মু ও কাশ্মীরে। আইইউসিএন এটিকে বিপন্নশ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত করেছে। সমগ্র পৃথিবীতে এই প্রজাতির আর মাত্র ২৫০০টির মতো প্রাণী টিকে আছে এবং গত দু’প্রজন্মে ২০% সংখ্যা কমেছে। পাকিস্তান এদেরকে জাতীয় পশুর স্বীকৃতি দেয়ার পর পাকিস্তানের এটি স্বীকার করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং কোন প্রয়োজন ছাড়া ও সরকারের প্রাণী বিভাগের অনুমতি ছাড়া এটি কেউ শিকার বা হত্যা করলে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়।
এই প্রাণীটি গ্রামেগঞ্জে দেখতে পাওয়া ছাগলের থেকে আকার এবং আয়তনে বেশ অনেকটাই বড়। এগুলোর ওজন প্রায় ৪৫ কেজি থেকে ১৪০ কেজি পর্যন্ত হয়ে থাকে। একটা সদ্যোজাত মাউন্টেন গোট প্রায় তিন কেজির হয়ে থাকে। এদের গায়ে মোটা পুরু পশমে ঢাকা থাকে। তার জন্য এরা খুব বেশি ঠান্ডা যথা মাইনাস ৪০ ডিগ্রী সেলসিয়া তাপমাত্রায়ও তারা অনায়াসে খুব স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকতে পারে।
আমাদের বাংলাদেশের জাতীয় পশু যেমন রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার বা বাঘ ! পাকিস্তানের তেমন ভয়ংকর দর্শন পাহাড়ি ছাগল মারখোর ! এমন তার চেহারা যে দেখলেই ভয় হয় ! পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে মানুষের লোভের কারণে এদের সংখ্যা ও অনেক কমে গেছে ! তোরা শিকারীরা এই ছাগল হত্যা করে খেয়ে ফেলে। হয়তো কোনদিন বিলীন হয়ে যাবে !
কেন এই পাহাড়ি ছাগল টির নাম মারখোর ? “মারখোর” শব্দটি দুইটি ফার্সি শব্দ ‘মার’ ও ‘খোর’ যোগে গঠিত হয়েছে ! ‘মার’ শব্দের অর্থ “সাপ” এবং ‘খোর’ শব্দের অর্থ “ভক্ষক”, অর্থ্যাৎ ‘মারখোর’ দ্বারা বোঝানো হয় – যে সাপ খায় ! এরা সাপ মারতে পারে বলে এদের এমন নাম হয়েছে বলে অনেকে মনে করেন ! আবার অনেক বিশেষজ্ঞের মতে এদের সাপের মতো পেঁচানো শিং-এর কারণে এদের এমন নাম !
ঘোড়ার গোশত খাওয়া শতভাগ হালাল। গরু-ছাগল, হাস-মুরগি, হরিণ-খরগোশ ইত্যাদির মতই হালাল। জাবের রাঃ বলেন, খায়বারের যুদ্ধে রাসূল সা. গাধার গোশত খেতে নিষেধ করেছেন এবং ঘোড়ার গোশত খাওয়ার অনুমতি দিয়েছেন ! — বুখারী -৫৫২০; মিশকাত – ৪১০৭)। আসমা রাঃ বলেন, আমরা রাসূল সা. এর যুগে ঘোড়া যবেহ করেছি এবং গোশত খেয়েছি
বুখারী ৫৫১৯।
জাবের রা. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, আমরা আল্লাহর রাসুলের সা. সঙ্গে সফর করেছিলাম। ওই সফরে আমরা ঘোড়ার মাংস খেতাম এবং তার দুধ পান করতাম। –দারাকুতনি ও বায়হাকি! সপ্তম হিজরীতে রাসুলুল্লাহ সা. ঘোড়ার গোস্ত খাওয়ার হাদিস বর্ণনা করার পর সাহাবায়ে কেরাম রাঃ ঘোড়ার গোশত খেয়েছেন। বিভিন্ন হাদীছ গ্রন্থে ১৮টি বিশুদ্ধ হাদিসে বর্ণিত হওয়ায় সকল মাযহাবের ইমামগণ এবং মুহাদ্দিছগণ এর গোশতকে শতভাগ হালাল গণ্য করেছেন।
বোখারী মুসলিম সহ বিভিন্ন হাদিস গ্রন্থের শত হাদীস এ ঘোরার মাংস খাওয়া হালাল উল্লেখ থাকা সত্ত্বেও যারা ফতোয়া অন্বেষণ করে এবং মন মস্তিষ্কপ্রসূত মতামত প্রদান করে এটাকে হারাম বানায়, বুঝতে হবে সে মূলত আলেম নয়। আর এই জাতীয় লোকের কথাবার্তা গ্রহণ করা জায়েজ নয়। কোরআন হাদিসের বিশুদ্ধ দলিল থাকার পরও ফতোয়া অন্বেষণ করা বড় রকমের জাহালত। কিছু আলেম ফতোয়া দিতে গিয়ে বলে থাকেন যুদ্ধের ময়দানে ঘোড়া খাওয়া হালাল যেমন, খায়বারের যুদ্ধে রাসুলুল্লাহ (স.) গাধার গোশত খেতে নিষেধ করেছেন এবং ঘোড়ার গোশত খাওয়ার অনুমতি দিয়েছেন। –বুখারি: ৫৫২০ । এই হাদিসে রাসুল স. ঘোড়ার গোশত খাওয়ার অনুমতি দিয়েছেন। এর মানে হলো- আগে অনুমতি ছিল না। শুধু যুদ্ধের সময় খাবারের প্রয়োজনে এই সুযোগ দেওয়া হয়। কিন্তু এখানে প্রশ্ন হল, রাসুলুল্লাহ সা. উম্মতকে সতর্ক করার জন্য ও সঠিক পথ দেখানোর জন্য এত কথা বলেছেন, অথচ এখানে আর একটি কথা কেন বলেননি যে “যুদ্ধ ছাড়া তোমরা ঘোরা খাবে না”? অথবা তিনি এটাও তো বলতে পারতেন, “যুদ্ধের ময়দানে খাবারের সংকট হলে তোমরা ঘোড়া খাবে নতুবা খাবে না” । অতএব তাদের এই ফতোয়া সম্পূর্ণ মনগড়া এবং বানোয়াট।
যারা ঘোড়ার গোশত খাওয়া হারাম ফতোয়া দেয় তারা নিজেরাই শতভাগ কনফিউজড বা সন্দেহের মধ্যে পরে আছে।
দেওবন্দী সিলসিলার কিতাব ফতোয়ায়ে হিন্দিয়ার ৫ম খন্ডের ২৯০ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে- “ঘোড়ার গোশত খাওয়া জায়েজ আছে। ঘোড়ার গোশত হালাল। কিন্তু গণহারে ঘোড়ার গোশত খেলে যদি জিহাদের সময় ঘোড়ার মাধ্যমে খেদমত নিতে সমস্যা হতে পারে বলে ইমাম আবু হানিফা রহ. যুদ্ধের সময় ঘোড়ার গোশত খাওয়া মাকরুহ বলেছেন। এটা ইমাম আবু হানিফা রহঃ এর মত, দলিল নয়। বর্তমানে যেহেতু ঘোড়া দিয়ে যুদ্ধ করা হয় না এবং তা সম্ভব নয়, এবং অদূর ভবিষ্যতে তো দূরের কথা সুদূর ভবিষ্যতেও ঘোড়া দিয়ে যুদ্ধ করা হবে কিনা তা নিয়ে বিরাট সন্দেহ রয়েছে। আর তাই হানাফি মাজহাবের অন্য দুই বড় ইমাম আবু ইউসুফ রহ. ও ইমাম মুহাম্মাদ রহ. এবং মালেকী, সাফেঈ, হাম্বলী রহঃ গণ সহ অন্যান্য মাজহাবের ইমামগণ ঘোড়ার মাংস খাওয়াকে পুরোপুরি হালাল বলেছেন। সকল মাযহাবে ঘোরার মাংস খাওয়া শতভাগ হালাল। এ সকল ইমামগণ সরাসরি মত বা ফতোয়া বাদ দিয়ে বিশুদ্ধ দলিল তথা বুখারী মুসলিমের হাদিসকে গ্রহণ করেছেন যা আর্টিকেলের প্রথমেই উল্লেখ করা হয়েছে, আবারো নিচে দেওয়া হল–
জাবের ইবনে আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসুল সা. খায়বারের দিন গৃহপালিত গাধার মাংস খাওয়া নিষিদ্ধ করেছিলেন এবং ঘোড়ার মাংস খাওয়ার অনুমতি দিয়েছিলেন। –সহিহ বুখারি: ৩৯৮২, সহিহ মুসলিম: ১৯৪১!
আবু বকর রাঃ এর মেয়ে আসমা বিনতে আবু বকর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা আল্লাহর রাসুলের সা. যুগে একটি ঘোড়া জবাই করে তা খেয়েছিলাম। -সহিহ বুখারি: ৫১৯১, সহিহ মুসলিম: ১৯৪২।
উপরে উল্লেখিত দুইটি হাদিসের নিচের হাদিস থেকে এটা প্রমাণিত যে যুদ্ধের ময়দান ছাড়াও ওই সময় সাহাবা কেরাম ঘোড়া জবাই করে খেতেন।
ঘোড়া দিয়ে যদি যুদ্ধ করা হয় তবে সেই যুদ্ধের ঘোড়া খাওয়া নিষেধ এটা খুবই স্বাভাবিক যেমন একটি হাদিসে খালিদ ইবনে ওলিদ রা. বলেন, রসুল সা. যুদ্ধের ঘোড়ার গোশত খেতে নিষেধ করেছেন।
সুনানে নাসাঈ ৮/২০৬; এটা শুধু ঘোড়ার ক্ষেত্রে নয়, এই হাদিস গরুর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে যদি সেই গরু যুদ্ধের সরঞ্জাম আনা নেওয়ার কাজে গাড়ি টানার জন্য ব্যবহার করা হয়, তবে সেই গরুর মাংস খাওয়াবো হারাম হবে। তাছাড়া যুদ্ধ ক্ষেত্রেই ঘোড়ার মাংস খাওয়া হালাল হওয়ার হাদিস বুখারী, মুসলিম, মিশকাত ইত্যাদি শক্তিশালী হাদীস গ্রন্থে মজুদ আছে। তার উপর বর্তমানে ঘোড়া দিয়ে যুদ্ধ করা হয় না শুধুমাত্র ঐতিহ্য ও সৌন্দর্যের জন্য সৈনিকরা সেনানিবাসে ঘোড়া লালন পালন করে।
ঘোড়াসহ বিভিন্ন প্রাণীকে আল্লাহ শুধু মানুষের কাজের জন্য অথবা খাদ্যের জন্য তৈরি করেননি বরং শোভা সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য তৈরি করেছেন। আল্লাহ তাআলা ঘোড়াকে বাহন ও ও সৌন্দর্য হিসাবে উল্লেখ করেছেন, কিন্তু খেতে নিষেধ করেননি। যদি ঘোড়া খাওয়া হারাম হত তাহলে আল্লাহ এটা বলে দিতেন যে এটা তোমাদের বাহন ও সৌন্দর্য কিন্তু তোমরা খাবে না। খেতে নিষেধ করেননি। কেউ কেউ হয়তো বলবেন, আল্লাহ যেমন খেতে নিষেধ করেননি তেমন খাওয়ার জন্য অনুমতি ও দেননি, তাই খাওয়া যাবেনা। এখন যদি আমি আপনাকে বলি, আল্লাহ কোরআনে কোথায় মূলা, গাজর, ঢেঁড়স, টাকি মাছ ইলিশ মাছ ইত্যাদি খাওয়ার অনুমতি দিয়েছেন? বরং যা খাওয়া নিষেধ নয় তাই শতভাগ হালাল।
আল্লাহ তাআলা বলেন, وَّ الۡخَیۡلَ وَ الۡبِغَالَ وَ الۡحَمِیۡرَ لِتَرۡكَبُوۡهَا وَ زِیۡنَۃً وَ یَخۡلُقُ مَا لَا تَعۡلَمُوۡنَ তিনি ঘোড়া, খচ্চর ও গর্দভ সৃষ্টি করেছেন যাতে তোমরা ওগুলোতে আরোহণ করতে পার আর শোভা-সৌন্দর্যের জন্যও; তিনি সৃষ্টি করেন অনেক কিছু যা তোমাদের জানা নেই। — সুরা নাহল: ৮।
এটা ঠিক যে, “আল্লাহ তা‘আলা মানুষকে সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব হিসাবে সৃষ্টি করেছেন। আর মানুষের কল্যাণেই পৃথিবীর অন্য সবকিছু সৃষ্টি করেছেন –বাক্বারাহ -২৯)। সেই সাথে আল্লাহ মানব দেহের জন্য যা উপকারী তা হালাল করা হয়েছে এবং যা ক্ষতিকর তা হারাম করা হয়েছে। (এরই মধ্যে বলে নেই, যারা ঘোড়ার মাংস হারাম ফতোয়া দেয়, খোঁজ নিয়ে গিয়ে দেখুন ,তাদের শতকরা ৯৯ জনে শরীরের জন্য ক্ষতিকর জর্দা, সুপারি, চুন, খয়ের ইত্যাদি খায় যা আল্লাহ হারাম করেছেন। এসব আল্লাহ কোথায় হারাম করেছেন? আল্লাহ পবিত্র কুরআনে স্পষ্ট বলে দিয়েছেন যে শরীরের জন্য ক্ষতিকর সবকিছু তোমাদের জন্য হারাম। আর এই শব্দে হারাম তা ডাক্তাররা যেমন বলে আর যারা খায় এই নোংরা জিনিস তারাও জানে)
ঘোড়ার মাধ্যমে যেমন যুদ্ধ করা যায় তেমনি বাহন হিসাবেও ব্যবহার করা হয়। আবার ঘোড়াকে মনোরঞ্জনের ও সৌন্দর্যের জন্যও পোষা হয়। আর এর গোশত খাদ্য হিসাবে গ্রহণ করার মাধ্যমে আমিষের চাহিদা মিটানো যায়। তবে ঘোড়া যুদ্ধে ব্যবহার হওয়া ঘোড় রাসূল সাঃ সাময়িক কিছুদিনের জন্য গোশত খেতে নিষেধ করেছিলেন। যেমন আমাদের দেশে এখনো কিছুদিনের জন্য বিভিন্ন বিলে মাছ শিকার বা নদীতে ইলিশ শিকার নিষিদ্ধ করা হয়। ৭ম হিজরী সনে ঘোড়ার গোশত খাওয়ার আদেশ দিয়ে আল্লার রাসুল হাদিস বর্ণনা করেন যা প্রথমেই দেওয়া হয়েছে।
কোরআন থেকে দলীল : মুসলমানদের জন্য কেবল সে সকল প্রাণী হারাম যেগুলো হারাম হওয়ার বিষয়ে আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল সা. নির্দেশনা দিয়েছেন কিংবা শরী‘আতে হারাম হওয়ার যে সূত্র বর্ণিত হয়েছে তার আওতাভুক্ত হয়ে যাচ্ছে। তাছাড়া সকল প্রাণীর গোশত মুসলমানদের জন্য হালাল। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, “হে রাসুল আপনি বলে দিন,আমার নিকট যেসব বিধান অহি করা হয়েছে, সেখানে ভক্ষণকারীর জন্য আমি কোন খাদ্য হারাম পাইনি যা সে ভক্ষণ করে, কেবল মৃত প্রাণী, প্রবাহিত রক্ত ও শূকরের গোশত ব্যতীত। কেননা এগুলি নাপাক বস্ত্ত এবং ঐ প্রাণী ব্যতীত, যা অবাধ্যতা বশে আল্লাহ ব্যতীত অন্যের নামে উৎসর্গ করা হয়েছে। তবে যে ব্যক্তি ক্ষুধায় কাতর হয়ে বাধ্যগত অবস্থায় জীবন রক্ষার্থে তা খায় কোনরূপ আকাঙ্ক্ষা ও সীমালংঘন ছাড়াই, তার ব্যাপারে আল্লাহ ক্ষমাশীল ও দয়াবান”। –আন‘আম -১৪৫!!
এখানে উল্লেখ্য যে, কমন ভাবে “ঘাস ও লতাপাতা খেয়ে বেঁচে থাকে এমন সকল প্রাণী হালাল” করেছেন শুধুমাত্র পালিত গাধা ছাড়া। কেননা গাধাকে আল্লাহর রাসুল সা. খাওয়ার জন্য সরাসরি নিষেধ করেছেন। অপরদিকে “মাংস খেয়ে বেঁচে থাকে এমন সকল স্থলচর প্রাণী হারাম।”
হাদিসের দলিলঃ ঘোড়ার মাংস খাওয়ার ব্যাপারে বহু হাদীছ বর্ণিত হয়েছে। নিচে কয়েকটি উল্লেখ করবো ইনশাআল্লাহ।
(১) আসমা রাঃ হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাঃ এর সময় আমরা একটি ঘোড়া যবেহ করলাম এবং সেটি খেলাম। আর আমরা তখন মদীনায় ছিলাম।উক্ত গোশত আমরা খেলাম এবং রাসূলুল্লাহ সাঃ এর পরিবারের সদস্যরাও খেয়েছিলেন। — তাবারানী কাবীর- ২৩২।
আরেকটি বর্ণনায় রয়েছে, আসমা (রাঃ) বলেন,আমরা রাসূলুল্লাহর যুগে আমাদের একটি ঘোড়ার গোশত খেয়েছিলাম। — আহমাদ ২৬৯৭৫, সনদ ছহীহ। উক্ত হাদিসকে তাফসীর করতে গিয়ে ইমামগণ উল্লেখ করেন যে, মদীনায় হিজরতের পর ঘোড়ার গোশত খাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করার কারণ হচ্ছে কেউ যেন বলতে না পারে যে, জিহাদ ফরযের পর ঘোড়ার গোশত হারাম করা হয়েছে। আর “নবীর সময়ে” বাক্যটি বলার উদ্দেশ্য হচ্ছে কেউ যেন বলতে না পারে যে, সাহাবায়ে কেরামের গোশত খাওয়ার বিষয়টি রাসূল সাঃ জানতেন না। — ফাতহুল বারী, ৯/৬৪৯।
২// জাবের রাঃ বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাঃ খায়বারের যুদ্ধের দিন গৃহপালিত গাধার গোশত হারাম করেছেন এবং ঘোড়ার গোশত খাওয়ার অনুমতি দিয়েছেন। অন্য বর্ণনায় রয়েছে, আর ঘোড়ার গোশতের ব্যাপারে অনুমতি দেওয়া হয়েছে’। — বুখারী – ৪২১৯। উপরে হাদিসে বর্ণিত গৃহপালিত গাধা হারাম কিন্তু বন্য গাধা খাওয়া হালাল। যেমন: জেব্রা একপ্রকার বন্য গাধার অন্তর্ভুক্ত প্রাণী।
৩// জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, তিনি বলেন, খায়বারে আমরা ঘোড়া এবং বন্য গাধার গোশত খেয়েছি। পক্ষান্তরে নবী করীম সাঃ আমাদেরকে “গৃহপালিত” গাধার গোশত খেতে নিষেধ করেছেন’। –মুসলিম – ১৯৪১। উপরে উল্লেখিত হাদিস দ্বারা প্রমাণিত যে, গৃহপালিত গাধা খাওয়ার হারাম হলেও বন্য গাধা খাওয়া হালাল।
৪// জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ রাঃ বলেন, খায়বারের দিন আমরা ঘোড়া, খচ্চর ও গাধা যবহ করেছি। রাসূলুল্লাহ সাঃ আমাদেরকে খচ্চর ও গাধার গোশত খেতে বারণ করলেন, কিন্তু ঘোড়ার গোশত খাওয়ার অনুমতি দিলেন, এবং তিনি তা নিষেধ করেননি। — আবূদাউদ – ৩৭৮৯; আহমাদ – ১৪৮৮৩; ছহীহাহ –৩৫৯-এর আলোচনা।
আর খায়বারের যুদ্ধ হয়েছিল ,৭ম হিজরীতে। এরপরে যদি ঘোড়ার গোশত হারাম করা হত তাহ’ষলে সাহাবায়ে কেরাম অবশ্যই বর্ণনা করতেন।
ঘোড়ার গোশত খাওয়ার বিষয়ে তাবেঈগণের রহঃ উল্লেখ্যরা কিছু হাদিস নিম্নে দেওয়া হলো– তাবেঈগণ থেকে ঘোড়ার মাংস হালাল হওয়ার ব্যাপারে একটি দুটি নয় বরং বহু বর্ণনা পাওয়া যায়। তার মধ্যে কয়েকটি বিশুদ্ধ সনদে বর্ণিত হাদিস নিম্নে উল্লেখ করা হল–
১// বিখ্যাত তাবেয়ী এবং হাদিস বিশারদ হাসান বছরী বলেন, রাসূলুল্লাহ সাঃ এর সাহাবীগণ যুদ্ধকালীন সময়ে ঘোড়ার গোশত খেতেন। — ইবনু আবী শায়বাহ, হাদিস নং ৪৩১২।
২// ইবরাহীম নাখঈ বলেন, আব্দুল্লাহর সাথীরা ঘোড়া যবহ করেছিলেন এবং এর গোশত নিজেদের মাঝে বণ্টন করে নিয়েছিলেন। — ইবনু আবী শায়বাহ হাদিস নং ২৪৩১২; মুছান্নাফে আব্দুর রাযযাক- ৮৭৩২।
(৩) আত্বা বিন রাবাহ (রহঃ) বলেন, আমাদের নিকট হাদীছ পৌঁছেছে যে, নবী করীম সাঃ এর ছাহাবীগণ ঘোড়ার গোশত খেতেন। –মুছান্নাফে আব্দুর রাযযাক হাদিস-৮৭৩৩।
(৪) আত্বা বিন রাবাহ রহঃ বলেন, তোমার পূর্ব পুরুষেরা ঘোড়ার গোশত খেয়ে আসছেন। ইবনু জুরাইজ বলেন, আমি তাকে বললাম, রাসূলুল্লাহর ছাহাবীগণ? তিনি বললেন, হ্যাঁ। — ফাতহুল বারী ৯/৬৫০, নায়লুল আওতার ৮/১২৬।
ঘোড়ার মাংস হালাল হওয়ার বিষয়ে প্রসিদ্ধ চার ইমামের অভিমতঃ
হানাফী মাযহাবের মধ্যে অল্প কিছু মতপার্থক্য রয়েছে। ইমাম আবু হানীফার নিকট ঘোড়ার গোশত খাওয়া হারাম বলেননি বরং মাকরূহ বলেছেন। তবে তার প্রধান দুই ছাত্র ইমাম আবু ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মাদ রহঃ সহ অন্যান্য সকল ছাত্ররা ঘোড়ার গোশতকে গরু ছাগলের মাংসোর মতই শতভাগ হালাল বলেছেন।
হানাফী মাযহাবের অন্যতম একজন ইমাম এবং হাদীস শাস্ত্র ও ফিকাহ বিশারদ ইমাম ত্বাহাবী রহঃ যিনি বিখ্যাত বিশুদ্ধ হাদিস গ্রন্থ তো হাদীস শরীফের সংকলক, তিনি বলেন, ‘ইমাম আবু হানীফা ঘোড়ার গোশত খাওয়াকে মাকরূহ হওয়ার পক্ষে গিয়েছেন। কিন্তু তার দুই সাথীদ্বয় ইমাম আবু ইউসুফ ও মুহাম্মাদ ও অন্যান্যরা বিরোধিতা করেছেন ও ঘোড়ার গোশত খাওয়া হালাল বলেছেন। — কুদূরী ২/১৮৫; ফাতহুল বারী ৯/৬৫০।
মালেকী মাযহাবের বিদ্বানগণ তিনভাগে ভাগ হয়েছেন। একদল জায়েযের পক্ষে, আরেকদল মাকরূহের পক্ষে এবং অন্য দলটি খাওয়া ঠিক নয় পক্ষে। তবে ইমাম মালেক রহঃ যুদ্ধে ব্যবহার করা ঘোড়ার গোশত না খাওয়ার পক্ষে মত প্রকাশ করেছেন। — শরহুয যারকানী আলা মুয়াত্তা ৩/১৯৩।
মালেকী বিদ্বান ইমাম বাজী, হাত্তাব, খলীল ও অন্যান্যরা ঘোড়ার গোশত খাওয়াকে হালাল বলেই শেষ করেননি বরং কিভাবে এটা যবেহ করতে হবে তাও বিস্তারিত বলে দিয়েছেন। তারা বলেন, যবহের ক্ষেত্রে গরুর মতই যবেহ করতে হবে । — মাওয়াহিবুজ জলীল, তৃতীয় খন্ড,২২০ পৃঃ।
শাফেঈ মাযহাবের সকল বিদ্বান ঘোড়ার গোশতকে হালাল বলেছেন। শুধু তাই নয় বরং ইমাম শাফেঈ রাঃ বলেন,‘ঘোড়ার নামে এবং ঘোরার মতো যা কিছু আছে, যেমন ইরাব, মাক্বারীফ ও বিরযান সব খাওয়া জায়েয’। — কিতাবুল উম্ম ২/২৭৫।
মুসলিম শরীফের তাফসীরকারক এবং বিখ্যাত কিতাব “রিয়াদুস সালেহীন” এর লেখক ইমাম নববী রহঃ বলেন, ‘ঘোড়ার গোশতের বৈধতার ব্যাপারে বিদ্বানগণ কিছুটা মতপার্থক্য করেছেন। শাফেঈ মাযাহাব এবং পূর্ব ও পরের জমহূর বিদ্বানগণ ঘোড়ার গোশতকে হালাল মনে করেন। তবে ইমাম নববী বলেন ঘোরার মাংসের মধ্যে কোন অপসন্দনীয় কিছু নেই । অর্থাৎ সম্পূর্ণ হালাল।। — শরহুন নববী ১৩/৯৫।
হাম্বলী মাযহাবের সর্বসম্মত মত হচ্ছে ঘোড়ার গোশত খাওয়া সম্পূর্ন হালাল। এ বিষয়ে তাঁরা বুখারী, মুসলিম ও মুসনাদে আহমাদে বর্ণিত অত্যন্ত মজবুত ও বিশুদ্ধ হাদীছগুলো দলীল হিসাবে গ্রহণ করেছেন। ইবনু কুদামাহ রহঃ একেবারে পরিষ্কার করে বলে দিয়েছেন, শুধু নির্দিষ্ট কিছু ঘোড়া নয় বরং ‘সকল প্রকার ও প্রজাতির ঘোড়া ও তাদের বাচ্চাদের গোশত জায়েয। ইমাম আহমাদ রহঃ এর উপরেই দলীল এর উপর অটল অবিচল থেকেছেন। — আল-মুগনী ৯/৪১১।
🇸🇦🇸🇦 ঘোড়ার মাংস খাওয়ার ব্যাপারে পরবর্তী আলেমগণের অভিমতঃ ১// ইমাম ইবনু হাযম রহঃ বলেন ‘ঘোড়ার গোশত খাওয়ার ব্যাপারে আলেমদের ফৎওয়াগুলো প্রায় সর্বসম্মতভাবে প্রমাণিত। আমরা আগে যা উল্লেখ করেছি তার উপর ভিত্তি করে এবং ইবনে আববাস রাঃ কর্তৃক একটি বর্ণনা ব্যতীত যা বিশুদ্ধ নয় পূর্বসূরীদের মধ্যে কেউ ঘোড়ার গোশত খাওয়াকে অপসন্দ করতেন বলে আমরা জানি না’। — মুহাল্লা ৬/৮৩।
ইমাম ইবনু হাযম রহঃ অন্যত্র বলেন, ‘ঘোড়ার গোশত খাওয়া সম্পূর্ণ হালাল’। –মুহাল্লা ৬/৮৮।
২// ইমাম নববী রহঃ যিনি মুসলিম শরীফের ব্যাখ্যা লিখেছেন এবং বিখ্যাত গ্রন্থ রিয়াদুস সালেহীন লিখেছেন- ঘোড়ার গোশত হালাল ও বৈধতার দীর্ঘ বর্ণনা শেষে বলেন, ‘আমরা পূর্বেই উল্লেখ করেছি যে, আমাদের মাযহাব হচ্ছে ঘোড়ার মাংস সম্পূর্ণ হালাল, এর মধ্যে কোন অপসন্দনীয় বিষয় নেই। এরপর তিনি বহু সাহাবী ও তাবেঈর নাম উল্লেখ করেন, যারা ঘোড়ার গোশতকে হালাল সাব্যস্ত করেছেন’। — আল-মাজমূ- ৯/০৪।
৩// হাফেয ইবনু হাজার আসক্বালানী রহঃ , যিনি বুখারী শরীফের সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা লিখেছেন এবং এ পৃথিবীর বিখ্যাত গ্রন্থ “বুলুগুল মারাম” গ্রন্থ লিখেছেন, তিনি বলেন, বেশ কিছু তাবেঈ সাহাবীগণ থেকে কাউকে বাদ না দিয়ে সবার থেকে ঘোড়ার গোশত হালাল হওয়ার কথা বর্ণনা করেছেন’। — ফাতহুল বারী ৯/৬৫০।
৪// ইমাম ইবনু তায়মিয়াহ রহঃ বলেন, ‘কোন একটি সহীহ হাদীসেও রাসূলুল্লাহ সা. থেকে ঘোড়ার গোশত হারাম হওয়ার বিষয়টি সাব্যস্ত হয়নি’। — জামেউল মাসায়েল ৪/৩৪৩।
ইবনু তায়মিয়াহ রহঃ)ষ বলেন ‘ইমাম শাফেঈ, আহমাদ ও আবু হানীফার সাথীদ্বয়সহ সকল হাদীছের ফক্বীহদের নিকট ঘোড়ার গোশত হালাল’। — মাজমূউল ফাতাওয়া ৩৫/২০৮।
৫// ইমাম ইবনুল ক্বাইয়িম রহঃ বলেন, ‘রাসূলুল্লাহ থেকে সাব্যস্ত হয়েছে যে, তিনি ঘোড়ার গোশত খাওয়ার অনুমতি দিয়েছেন এবং গাধার গোশত খেতে নিষেধ করেছেন। (যেহেতু রাসূল সাঃ অনুমতি দিয়েছেন সেহেতু এটা সুন্নত হিসেবে সাব্যস্ত। তাই এটাই ঠিক যে ঘোড়ার মাংস খাওয়া শুধু জায়েজ বা হালাল নয় বরং রাসূল সাল্লাল্লাহু ওয়া সাল্লামের অনুমতি জন্য এটি খাওয়া সুন্নত) এরপর তিনি এ সংক্রান্ত দু’টি হাদীছ উল্লেখ করে বলেন, ‘হাদীছ দু’টি ঘোড়ার গোশত হালাল হওয়ার ব্যাপারে বিশুদ্ধ সনদে প্রমাণিত। এ দু’টোর বিরোধী কোন বর্ণনা নেই’। — যাদুল মা‘আদ ৪/৩৪৩-৪৪।
৬// শায়খ আব্দুল আযীয বিন বায রহঃ বলেন, (যিনি বর্তমান সময়ের বিখ্যাত আলেম হিসেবে সমস্ত দুনিয়ায় প্রসিদ্ধ) বিন বায বলেন- “ঘোড়ার গোশত হালাল। এর উপরেই জমহূর বিদ্বানগণের ফৎওয়া। আর এটাই সঠিক। আর নবী করীম সা. ঘোড়ার মাংস খাওয়ার ব্যাপারে অনুমতি দিয়েছেন’। — ফাতাওয়া নূরুন আলাদ-দারব।
আধুনিক বিশ্বের আরেক বাহারুল আলম, শায়খ মুহাম্মাদ বিন ছালেহ আল-উছায়মীন রহঃ কে শায়খকে ঘোড়ার গোশত হালাল হওয়ার বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি হালাল হওয়ার বিষয়ে উত্তর দিয়ে হারামের পক্ষে উপস্থাপিত দলীলগুলোর কড়া জওয়াব দেন। এবং হারাম হওয়ার বিষয়গুলোকে তিনি সম্পূর্ণরূপে উড়িয়ে দেন। –আশ-শারহুল মুমতে‘ ১৫/২৮,৩০।
বিশ্ব বিখ্যাত ফতোয়ার কিতাব “ফাতাওয়া লাজনা দায়েমা”য় বলা হয়েছে, ঘোড়ার গোশত হালাল হওয়া কোন গোপন বিষয় নয় । ইসলামের সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী ঘোড়ার গোশত খাওয়া হালাল এবং এটিই আমাদের সাথীগণ এবং আলেমদের মধ্যে যারা তাদের সাথে একমত তাদের মতামত’। — ফাতাওয়া লাজনা দায়েমাহ ২৬/১৮৮।
মুষ্টিমেয় আলেম কর্তৃক ঘোড়ার গোশত “হারাম” হওয়ার পক্ষে তাঁদের পেশকৃত দলীল সমূহ ও তার উত্তর।
আল্লাহ বলেন- “তোমাদের আরোহণ ও শোভা বর্ধনের জন্য তিনি সৃষ্টি করেছেন ঘোড়া, খচ্চর ও গাধা — নাহল -৮। অত্র আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা ঘোড়া, খচ্চর ও গাধা সৃষ্টির দু’টি উদ্দেশ্য আলোচনা করেছেন আর তা হচ্ছে আরোহণ ও শোভাবর্ধন। আল্লাহ খাওয়ার জন্য ঘোড়া সৃষ্টি করেননি। তাছাড়া রাসূল স. খচ্চর ও গাধার গোশত হারাম করেছেন। আর ঘোড়ার কথা আল্লাহ ঐ ২টির সাথেই উল্লেখ করেছেন।
তাদের এই ফতোয়ার উত্তর হল– প্রথমত: সূরা নাহল মাক্কী আর ঘোড়ার গোশত হালালের বিষয়টি ৭ম হিজরীতে সংঘটিত খায়বার যুদ্ধের সময় রুখছত বা ছাড় দেওয়ার বিষয়টি প্রমাণিত।
দ্বিতীয়ত : এই যুক্তি তখনই গ্রহণযোগ্য হত যদি না স্পষ্ট হাদীস থাকত। কারণ হাদীস হচ্ছে কুরআনের তাফসীর। অতএব তাদের উক্ত যুক্তি কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
তৃতীয়ত : বাহন হিসাবে উল্লেখ করার অর্থ এটা নয় যে, এ প্রাণীগুলো অন্য কাজে ব্যবহার করা যাবে না। বরং এর অর্থ হচ্ছে এগুলো সৃষ্টির প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে বাহন এবং শোভাবর্ধন। যেমন জনৈক লোক গরুকে বাহন হিসাবে ব্যবহার করলে গরু রাসূলের নিকট অভিযোগ করে। এমনকি গরুটি বলে ‘আমাকে তো এজন্য সৃষ্টি করা হয়নি, আমার সৃষ্টি তো হাল-চাষ করার জন্য’। — মুসলিম হা/২৩৮৮; তিরমিযী হা/৩৬৭৭।
অথচ এরপরেও কিন্তু গরু যবেহ করা, কুরবানী দেওয়া ইত্যাদি জায়েয। অনুরূপভাবে উট বাহন হলেও তার গোশত হালাল। বাহন হিসাবে ঘোড়া হারাম হলে তো উট, মহিষ ও হারাম হওয়ার কথা।
২// হারাম ফতোয়া দেওয়া আলেমদের দ্বিতীয় যুক্তিঃ আল্লাহ বলেন, “আর তোমরা কাফেরদের মুকাবিলার জন্য সাধ্যমত শক্তি ও সদা সজ্জিত অশ্ববাহিনী প্রস্তুত রাখ, যা দিয়ে তোমরা আল্লাহর শত্রু ও তোমাদের শত্রুদের ভীত করবে’ । –আনফাল ৮/৬০। ওনাদের অভিমত হলো, অত্র আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা ঘোড়াকে যুদ্ধের পশু হিসাবে উল্লেখ করেছেন। অতএব ঘোড়া যবেহ করে খাওয়া যাবে না। এ বিষয়ে তাদের জবাব হলো: প্রথমত: কোন পশুকে যুদ্ধের পশু হিসাবে উল্লেখ করা তার গোশত হারাম হওয়ার দলীল নয়। বরং ঘোড়াও অন্যতম গবাদি পশু, যার দ্বারা বহু উপকার গ্রহণ করা যায়। যেমন- আল্লাহ বলেন, “আর তোমাদের জন্য গবাদিপশু হালাল করা হয়েছে। তবে যেগুলি হারাম হওয়া বিষয়ে তোমাদের উপর পাঠ করা হয়েছে সেগুলি ব্যতীত” ! –মায়েদাহ -০১!
উল্লেখ্য যে সর্বসম্মতিক্রমে ঘোড়া একটি গবাদি পশু যা কোরআনে উল্লেখ করা হয়েছে।
দ্বিতীয়ত: আল্লাহ তা‘আলা যে প্রাণীর গোশত সরাসরি হারাম করেননি তা হারাম করার কারো অধিকার নেই। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘তুমি বলে দাও, আমার নিকট যেসব বিধান ওহি করা হয়েছে, সেখানে ভক্ষণকারীর জন্য আমি কোন খাদ্য হারাম পাইনি যা সে ভক্ষণ করে, কেবল মৃত প্রাণী, প্রবাহিত রক্ত ও শূকরের গোশত ব্যতীত। কেননা এগুলি নাপাক বস্তু এবং ঐ প্রাণী ব্যতীত, যা অবাধ্যতা বশে আল্লাহ ব্যতীত অন্যের নামে উৎসর্গ করা হয়েছে। তবে যে ব্যক্তি ক্ষুধায় কাতর হয়ে বাধ্যগত অবস্থায় জীবন রক্ষার্থে তা খায় কোনরূপ আকাঙ্ক্ষা ও সীমালংঘন ছাড়াই, তার ব্যাপারে আল্লাহ ক্ষমাশীল ও দয়াবান ! — আন‘আম ৬/১৪৫।
৩// খালিদ ইবনুল ওয়ালিদ রাঃ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন ‘রাসূলুল্লাহ সাঃ আমাদেরকে ঘোড়া, খচ্চর ও গাধার গোশত খেতে নিষেধ করেছেন’। — আবূদাউদ হা/৩৭৯০; মিশকাত হা/৪১৩০।
উক্ত হাদিসের জবাব প্রথমত : উক্ত হাদীছের সনদ নিতান্তই খুবই যঈফ বা দূর্বল যা আমলযোগ্য নয়।। — যঈফুল জামে‘ হা/৬০৩৪।
দ্বিতীয়ত : ইমাম আবূদাউদ রহঃ উক্ত হাদীছ বর্ণনার পর বলেন, ঘোড়ার গোশত খাওয়া দোষের কিছু নয় এবং উপরোক্ত হাদীছ মোতাবেক আমল করা হয় না।
তৃতীয়ত : এটি বুখারী ও মুসলিমের হাদীছ দ্বারা মানসূখ অর্থাৎ বাতিল। ইমাম আবূদউদ রহঃ বলেন, এ হাদীছ মানসূখ বা বাতিল। রাসূলুল্লাহ সাঃ এর একদল ছাহাবী ঘোড়ার গোশত খেয়েছেন। ইবনু যুবায়র, ফাযালাহ ইবনু উবাইদ, আনাস ইবনু মালেক, আসমা বিনতু আবূবকর, সুওয়াইদ ইবনু গাফলাহ রহঃ ও আলকামাহ রহঃ তাদের অন্তর্ভুক্ত। রাসূলুল্লাহ সঃ এর যুগে মুসলিম কুরাইশগণ ঘোড়া যবহ করতেন। — আবুদাউদ হা/৩৭৯০-এর আলোচনা দ্রষ্টব্য।
৪// খালিদ ইবনুর ওয়ালিদ রাঃ সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাঃ এর সঙ্গে খায়বার যুদ্ধে যোগদান করেছি। ইহুদীরা এসে অভিযোগ করল যে, লোকেরা তাড়াহুড়া করে তাদের বাঁধা পশুগুলো লুণ্ঠন করে নিয়ে যাচ্ছে। রাসূলুল্লাহ সাঃ বললেন, সাবধান! যে কাফেররা তোমাদের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয় ন্যায়সংগত অধিকার ছাড়া তাদের মাল আত্মসাৎ করা বৈধ নয়। তোমাদের প্রতি হারাম করা হয়েছে গৃহপালিত গাধা, ঘোড়া, খচ্চর, প্রত্যেক শিকারী দাঁতযুক্ত হিংস্র জন্তু এবং প্রত্যেক পাঞ্জাধারী শিকারী পাখী। — আবুদাউদ হা/৩৮০৬।
দ্বিতীয়ত: খালিদ বিন ওয়ালীদের ওপর এটা বড়ই অপবাদ। কারণ খালিদ বিন ওয়ালীদ খায়বার বিজয়েরও এক বছর পরে ইসলাম গ্রহণ করেন। — বুখারী হা/৫৫১১, ৫৫১৯; মুসলিম হা/১৯৪২।
আল্লামা ওয়াক্বেদী নামক বিখ্যাত মুহাদ্দিস বলেন ‘এটা ছহীহ নয়; কারণ খালিদ ইসলাম গ্রহণ করেছেন খায়বার বিজয়ের পর’।
সবশেষে হালাল বা হারাম নির্ণয়ের মানদন্ড হচ্ছে পবিত্র কুরআন ও ছহীহ সুন্নাহ। সুতরাং কুরআন ও সুন্নাহ যে বস্ত্ত বা প্রাণীকে হারাম করেছে কেবল সেগুলো হারাম। হালালকে হালাল এবং হারামকে হারাম হিসাবে জানা ঈমানের অন্যতম অংশ। অতএব ঘোড়ার গোশত খাওয়ার ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ সাঃ অনুমতি দিয়েছেন এবং ছাহাবায়ে কেরাম খেয়েছেন। ফলে তাকে হারাম বলার কোন সুযোগ নেই। তবে যদি ঘোড়ার যোগান পর্যাপ্ত না থাকে বা যুদ্ধের জন্য ব্যাপক প্রয়োজন দেখা দেয় তাহ’লে সে অজুহাতে ঘোড়া যবেহ থেকে বিরত থাকা যায়। তাই বলে হালালকে হারাম বলার অধিকার কারো নেই। তবে এ কথাও সত্য যে, কোন জাতি কোন বিষয়ে অজানা থাকলে বা কোন বৈধ এবং যৌক্তিক কাজ করার ফলে সমাজে ফিৎনা সৃষ্টি হওয়ার আশংকা থাকলে সে কাজ থেকে সাময়িক বিরত থাকা বুদ্ধিমত্তার পরিচায়ক। আল্লাহ তা‘আলা আমাদের সকলকে কুরআন ও সুন্নাহ সঠিকভাবে বুঝার তাওফীক দান করুন আমীন!
(বিঃ দ্রঃ উক্ত আর্টেক্যালে কোরআন হাদিসের আরবি এবারত গুলো আর্টিকেল বড় হয়ে যাওয়ার জন্য পরিহার করা হয়েছে। তাছাড়া হাদিসের নাম্বার গুলো বিভিন্ন হাদিস গ্রন্থে ভিন্ন ভিন্ন থাকতে পারে।) Mahabubur Rahman mahabuburrahman1720@gmail.com
ফেইসবুকের বিভিন্ন funny এ্যাপ কেড়ে নিচ্ছে মুসলিমদের ঈমান! আমার wife কেমন হবে, আমার Gf কেমন হবে,আমার কয়টি বাচ্চা হবে, ২০ বছর পর আমি দেখতে কেমন হব, বলে যারা বিভিন্ন পোষ্ট করছেন তারা নিজের অজান্তেই নিজের ঈমান হারিয়ে ফেলেছেন!
ভাই আপনারা কি আমার এই কথায় আশ্চর্য হচ্ছেন? এতে আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই যেটা সত্য সেটাই বললাম..
আপনি ফেইসবুকের যেসব এ্যাপ ইউজ করে নিজের ভবিষ্যৎ জেনে নিচ্ছেন তা আপনার নিজের অজান্তেই আপনাকে মুশরিক বানিয়ে ফেলেছে! বানিয়ে ফেলছে আপনাকে কাফির ! বের করে দিচ্ছে আপনাকে মুসলিম মিল্লাত থেকে! তওবা করে ফিরে আসুন..
ভাই আপনারা হয়তো ফান করার জন্যই পোষ্ট গুলি করছেন কিন্তুু এটা এমন এক বিষয় নিয়ে ফান করা হচ্ছে যা আপনার ঈমান ধ্বংস করে দিচ্ছে!
আপনি যে এপের আশ্রয় নিয়ে নিজের ভবিষ্যৎ জানলেন তাকে ইসলামী পরিভাষায় গায়িব বলা হয় বা ভবিষ্যৎ বক্তা বা গনকের কথা বিশ্বাস করাকে বুঝায়!
মনে রাখতে হবে পৃথিবীর কোন এ্যাপ গনক শুধু নয় পৃথিবীতে যত নবী রাসুল এসেছিলেন তারা কেউই গায়িব বা ভবিষ্যৎ জানতেন না! অথচ আপনি বিশ্বাস করছেন একটি এ্যাপ আপনার ভবিষ্যৎ জানে! আস্তাগফিরুল্লাহ! আল্লাহ বলেনঃ ﻗُﻞ ﻟَّﺎ ﻳَﻌْﻠَﻢُ ﻣَﻦ ﻓِﻰ ﭐﻟﺴَّﻤَٰﻮَٰﺕِ ﻭَﭐﻟْﺄَﺭْﺽِ ﭐﻟْﻐَﻴْﺐَ ﺇِﻟَّﺎ ﭐﻟﻠَّﻪُ ﻭَﻣَﺎ ﻳَﺸْﻌُﺮُﻭﻥَ ﺃَﻳَّﺎﻥَ ﻳُﺒْﻌَﺜُﻮﻥَ বলুন, আল্লাহ ব্যতীত নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলে কেউ গায়বের খবর জানে না এবং তারা জানে না যে, তারা কখন পুনরুজ্জীবিত হবে। সূরা আন নম্ল ( ﺍﻟﻨّﻤﻞ ), আয়াত: ৬৫
উপরের আয়াতটি ভালভাবে দেখুন যেখানে পৃথিবীর কেউই গায়িব জানেনা একমাত্র আল্লাহ ছাড়া সেখানে আপনি একটি এ্যাপকে গায়িব জানে বলে বিশ্বাস করছেন! যেটা সরাসরি আল্লাহর সাথে শরিক করা..
রাসুল ﷺ বলেনঃ যে ব্যাক্তি কোন ভবিষ্যৎ বক্তা তথা গনক এ্যাপ পীর জ্বীনের কথা বিশ্বাস করে সে আমার উপর নাযিলকৃত কোরআন হাদিস অস্বীকার করল! বলুনতো, যে ব্যাক্তি কোরআন হাদিস অস্বীকার করে সে কি মুসলিম হতে পারে?? অবশ্যই না! ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻲ ﻫُﺮَﻳْﺮَﺓَ ﻭَﺍﻟْﺤَﺴَﻦِ ﻋَﻦ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲِّ ﷺ ﻗَﺎﻝَ ﻣَﻦْ ﺃَﺗَﻰ ﻛَﺎﻫِﻨًﺎ ﺃَﻭْ ﻋَﺮَّﺍﻓًﺎ ﻓَﺼَﺪَّﻗَﻪُ ﺑِﻤَﺎ ﻳَﻘُﻮﻝُ ﻓَﻘَﺪْ ﻛَﻔَﺮَ ﺑِﻤَﺎ ﺃُﻧْﺰِﻝَ ﻋَﻠَﻰ ﻣُﺤَﻤَّﺪٍ ﷺ আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘যে ব্যক্তি কোন ভবিষ্যৎ বক্তার নিকট উপস্থিত হয়ে সে যা বলে তা সত্য মনে (বিশ্বাস) করল, সে ব্যক্তি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপর অবতীর্ণ (কুরআনের হাদিস ) অস্বীকার করল।’’ গ্রন্থঃ হাদীস সম্ভার অধ্যায়ঃ ২২/ নিষিদ্ধ কার্যাবলী হাদিস নম্বরঃ ২০৫৩ আহমাদ ৯৫৩৬, হাকেম ১৫, সহীহুল জামে’ ৫৯৩৯, ইবনু মাজাহ ৬৩৯, তিরমিজি ১৩৫ ইফাঃ হাদিসের মানঃ সহিহ অভিশপ্ত শয়তান আপনাদের কোথায় নিয়ে যাচ্ছে তা কি একটুও ভাববেন না?? রাসুল ﷺ আরো বলেন,যে ব্যাক্তি কোন ভবিষ্যৎ বক্তার কথা বিশ্বাস করে তার চল্লিশ দিনের সালাত কবুল হবেনা! ﻭَﻋَﻦْ ﺻَﻔِﻴَّﺔَ ﺑِﻨﺖِ ﺃَﺑِﻲ ﻋُﺒَﻴﺪٍ ﻋَﻦ ﺑَﻌﺾِ ﺃَﺯﻭَﺍﺝِ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲِّ ﷺ ﻭَﺭَﺿِﻲَ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻨﻬَﺎ ﻋَﻦِ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲِّ ﷺ ﻗَﺎﻝَ ﻣَﻦْ ﺃَﺗَﻰ ﻋَﺮَّﺍﻓﺎً ﻓَﺴَﺄَﻟَﻪُ ﻋَﻦْ ﺷَﻲْﺀٍ ﻟَﻢْ ﺗُﻘْﺒَﻞْ ﻟَﻪُ ﺻَﻼَﺓٌ ﺃَﺭْﺑَﻌِﻴﻦَ ﻟَﻴﻠَﺔ ﺭﻭﺍﻩ ﻣﺴﻠﻢ স্বাফিয়্যাহ বিনতে আবূ উবাইদ নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কোন স্ত্রী (হাফসাহ রাযিয়াল্লাহু আনহা) হতে বর্ণনা করেছেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি গণকের নিকট এসে কোন (গায়বী) বিষয়ে প্রশ্ন করে, তার চল্লিশ দিনের নামায কবুল করা হয় না।’ গ্রন্থঃ সহীহ মুসলিম (ইফাঃ) অধ্যায়ঃ ৪০/ সালাম ( ﻛﺘﺎﺏ ﺍﻟﺴﻼﻡ ) হাদিস নম্বরঃ ৫৬২৭ হে আমার মুসলিম ভাইয়েরা শয়তানের ফাঁদে পড়ে কেন এভাবে নিজের ঈমান বিসর্জন দিচ্ছেন? ? একটু ফান করতে গিয়ে শয়তান আপনাকে কাফির মুশরিকে পরিনত করছে অথচ আপনি টেরও পাচ্ছেন না! কবে ফিরবে আপনাদের হুশ??
🇸🇦🇸🇦 পবিত্র কোরআন ও হাদিস তথা ইসলামী শরীয়তে ডিভোর্সি রমণী অর্থাৎ তালাকপ্রাপ্তা নারীর ইদ্দত বা অবকাশ যাপনকালীন সময় ৩ মাস বা তিন মাস ১০ দিন এবং বিধবা নারীর ৪ মাস ১০ দিন ইদ্দত নির্ধারণে যে নিগূঢ় তত্ত্ব, তথ্য,উপাত্ত রয়েছে, তা ভালোভাবে স্টাডি করে উপলব্ধি করলে যে কেউ অবাক না হয়ে পারবে না ! সুবহানাল্লাহ!
👉👉 ইসলামে একজন মহিলার জন্য একই সময়ে একাধিক বিয়ে বা একাধিক স্বামী রাখার অনুমতি দেয়া হয়নি কেন? অবশেষে চিকিৎসা বিজ্ঞান কুরআনে বর্ণিত বিধানের নির্ভুল ব্যাখ্যা বের করতে সক্ষম হয়েছে যা একজন নিরক্ষর বা উম্মী নবী সা. আজ থেকে দেড় হাজার বছর পূর্বে আল্লাহর নিকট থেকে ওহি প্রাপ্ত হয়ে বলে গিয়েছেন।
👉👉 একজন ভ্রূণ বিশেষজ্ঞ (যিনি একজন ইহুদি ধর্মীয় পণ্ডিতও ছিলেন) তিনি খোলাখুলি বলেছিলেন যে, পৃথিবীতে মুসলিম নারীর চেয়ে পবিত্র ও বিশুদ্ধ নারী অন্য কোন ধর্মে নেই। পুরো ঘটনাটি ঘটেছিল যখন আলবার্ট আইনস্টাইন ইনস্টিটিউটের (Albert Einstein Institution) সাথে যুক্ত একজন ভ্রূণ বিশেষজ্ঞ, ইহুদি পেশাদার রবার্ট, তার ইসলাম গ্রহণের ঘোষণা দেন। যার একমাত্র কারণ ছিল, কুরআনে উল্লেখিত তালাক প্রাপ্ত নারীর ইদ্দতের আদেশ সম্পর্কিত আয়াত এবং ইদ্দতের জন্য তিন মাসের সীমা নির্ধারণের পেছনের রহস্য ও হিকমত সম্পর্কে অবগতি।
আল্লাহ তায়ালা কোনো তালাকপ্রাপ্তা নারীকে দ্বিতীয় বিয়ের পূর্বে তিন মাসের একটি গ্যাপ রাখতে বলেছেন। তিনি পবিত্র কুরআনে এরশাদ করেন,
অর্থাৎ ‘তালাকপ্রাপ্তা নারীরা তিন মাসিক পর্যন্ত অপেক্ষা করবে’ –সূরা আল-বাকারাহ ২২৮:২!
এই আয়াতটি একটি আধুনিক বিজ্ঞান ডিএনএ এর আবিষ্কারের রাস্তা সুগম করেছে এবং দেখা গেছে যে একজন পুরুষের বীর্যে থাকা প্রোটিন অন্য পুরুষের থেকে ৬২% পৃথক ও ভিন্ন থাকে।
আর একজন নারীর শরীর একটি কম্পিউটারের মত। যখন একজন পুরুষ তার সাথে ইন্টারকোর্স করে তখন সেই নারীর শরীর সব ব্যাকটেরিয়াকে শোষণ করে এবং তার শরীরে তা ধারণ করে। অতএব, বিবাহ বিচ্ছেদের পরপরই, যদি একজন মহিলা অন্য পুরুষকে বিয়ে করেন বা একই সাথে বেশ কয়েকজনের সাথে শারীরিক সম্পর্ক করে, তাহলে তার শরীরে বিভিন্ন ধরণের ডিএনএ জমা হয় যা বিপজ্জনক ভাইরাসের রূপ নেয় এবং মারাত্মক রোগ সৃষ্টির কারণ হয়।
শরীর বিজ্ঞান গবেষণা করে দেখে যে, প্রথম মাসিক আসার পর একজন মহিলার শরীর থেকে পূর্ব স্বামীর ৩২% থেকে ৩৫% পর্যন্ত প্রোটিন শেষ হয়ে যায়, এবং দ্বিতীয় মাসিক আসার পর তার শরীর থেকে ৬৭ থেকে ৭২% ডিএনএ ধ্বংস হয়ে যায়। এবং তৃতীয় মাসিকের পর ৯৯.৯% পর্যন্ত প্রোটিন নির্মূল হয়ে যায়। এরপর জরায়ু আগের ডিএনএ থেকে সম্পূর্নরূপে পরিষ্কার হয়ে যায় এবং কোন প্রকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই নতুন ডিএনএ গ্রহণ করার জন্য প্রস্তুত থাকে।
একজন গণিকা অনেক মানুষের সাথে সঙ্গম করে, যার ফলে বিভিন্ন পুরুষের ব্যাকটেরিয়া তার জরায়ুতে প্রবেশ করে এবং বিভিন্ন ধরণের ডিএনএ তার মধ্যে জমা হয় এবং সে মারাত্মক রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ে। আর এজন্যেই দেখা যায় পৃথিবীর তাবৎ গণিকা ও গণিকালয়গুলো যৌন ও চর্মরোগ সহ বিভিন্ন ভয়ঙ্কর রোগব্যাধির বিস্তার কেন্দ্র।
👉👉 অপরদিকে বিধবা মহিলার ক্ষেত্রে শরীয়তের বিধান হলো, তার ইদ্দত তালাকপ্রাপ্ত মহিলার চেয়ে বেশি অর্থাৎ ৪ মাস ১০ দিন। এর কারণ হলো দুঃখ ও দুশ্চিন্তার কারণে তার শরীর থেকে প্রাক্তন ডিএনএ দ্রুত শেষ হয় না, এটি শেষ হতে আগের চেয়ে বেশি সময় লাগে, আর এ জন্য মহিলাদের ইদ্দত চার মাস দশ দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন,
وَٱلَّذِينَ يُتَوَفَّوْنَ مِنكُمْ وَيَذَرُونَ أَزْوَٰجًا يَتَرَبَّصْنَ بِأَنفُسِهِنَّ أَرْبَعَةَ أَشْهُرٍ وَعَشْرًاۖ ‘তোমাদের মধ্য হতে যারা স্ত্রী বা স্ত্রীদেরকে রেখে মারা যাবে সে অবস্থায় স্ত্রীরা নিজেদেরকে ৪ মাস ১০ দিন বিরত রাখবে।’ –আল-বাকারাহ, ২৩৪!
এই সত্যের মুখোমুখি হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের একদল বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দুটি ভিন্ন স্থানে ভিন্ন ২টি গবেষণা পরিচালনা করেন। প্রথমটি আমেরিকার আফ্রিকান বংশোদ্ভূত মুসলমান নারীর ভ্রূণের মধ্যে মাত্র একজন স্বামীর ডিএনএ পাওয়া গেছে।
দ্বিতীয়টি অন্য এক এলাকায় যেখানে আসল আমেরিকান মহিলারা থাকেন, তাদের ভ্রূণের মধ্যে একাধিক অর্থাৎ দুই বা তিন জনের বেশি পুরুষের ডিএনএ পাওয়া গেছে।
অতঃপর যখন এটি দেখার পর একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার স্ত্রীকে না জানিয়ে তার নিজ স্ত্রীর ভ্রূণ পরীক্ষা করলেন, তখন তিনি একটি মর্মান্তিক সত্য দেখতে পান যে, তার স্ত্রীর মধ্যে তিনটি ভিন্ন ভিন্ন ডিএনএ আছে। যার অর্থ হলো তার স্ত্রী তার সাথে প্রতারণা করছিল এবং তার তিন সন্তানের মধ্যে কেবল মাত্র একজন ছিল তার নিজ সন্তান, বাকিরা ছিল অন্য পুরুষ থেকে।
ডাক্তার তখন নিশ্চিত হন যে ইসলামই একমাত্র ধর্ম যা নারীদের নিরাপত্তা এবং সমাজের সম্প্রীতির নিশ্চয়তা দেয়। এবং এই বিষয়েও নিশ্চিত হন যে, একমাত্র মুসলিম নারীরাই পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন, বিশুদ্ধ ও পবিত্র জীবন যাপন করে থাকে। উল্লেখ্য যে, চরিত্রহীন রানীর ব্যাপারে ভিন্ন কথা।
🤔🤔 নবী-রাসুলগণ (আঃ) ছিলেন মানুষের জন্য সর্বোত্তম আদর্শ। নবী রাসুলগণের মধ্যে কেউ ছিলেন কৃষক, যেমন- আদম আঃ। কেউ ছিলেন কামার, যেমন দাউদ আঃ। কেউ ছিলেন আর্কিটেকচার ইঞ্জিনিয়ার এবং উদ্ভাবক যেমন, সোলাইমান আঃ। কেউ ছিলেন রাষ্ট্রপ্রধান, যেমন মোহাম্মদ সাঃ, সোলাইমান আঃ। কেউ ছিলেন যানবাহন ও জাহাজ নির্মাণ শিল্পের উদ্ভাবক, যেমন- নূহ আঃ । কেউ ছিলেন উজির বা মন্ত্রী, যেমন ইউসুফ আঃ। কেউ ছিলেন বিভিন্ন প্রকার ঢ্যাম বা বাঁধ নির্মাণ সহ লোহাতামা পিতল তৈরির ইঞ্জিনিয়ার ও বিশেষজ্ঞ, যেমন- জুলকারনাইন বা বাদশা সিকান্দার আঃ। কেউ ছিলেন সমর নায়ক বা সেনাবাহিনীর প্রধান যেমন নবী দাউদ আঃ। কেউ ছিলেন আধুনিক বিল্ডিং নির্মাতা যেমন ইব্রাহিম আঃ। তিনি পুত্র ইসমাইলকে নিয়ে পৃথিবীবাসীকে প্রথম দেখিয়েছেন কিভাবে পাথর কাদামাটির সিমেন্ট ইত্যাদি দিয়ে সমতলে বাড়ি তৈরি করতে হয়।
এভাবে বিভিন্ন নবীগণের মাধ্যমে আল্লাহ মানুষের ক্রমবর্ধমান বিস্তৃতির সাথে সাথে আল্লাহর সৃষ্টি জগতের বিভিন্ন কিছু শিক্ষা দিয়ে মানুষের প্রয়োজন মিটানোর বন্দোবস্ত করেছেন।
মানুষ কিছুই জানতো না। এমনকি মানুষ মৃত্যুর পর যে মানুষের ডেড বডি গ্রাউন্ডেড করতে হবে বা কবর দিতে হবে সেই জ্ঞান টুকু ও মানুষের ছিল না। উদাহরণস্বরূপ বলা যায় আদম পুত্র কাবিল যখন তার ভাই হাবিলকে হ ত্যা করেছিল তখন তিনি জানতেন না এই লা শ কি করবেন। অতঃপর আল্লাহ কাক পাঠিয়ে কিভাবে ডেড বডি কবর দিতে হয় তা দেখিয়ে দিলেন।
আল্লাহ পবিত্র কোরআনে বলেছেন যে “তোমাদের সামান্যতম জ্ঞান দেওয়া হয়েছে”! অন্যত্র আল্লাহ রাসূল সাঃ কে উদ্দেশ্য করে বলেন, “হে নবী আপনি জানতেন না ঈমান কি জিনিস এবং আপনি এটাও জানতেন না কিতাব কি বস্তু, আমি আপনাকে শিখিয়েছি!” মোটকথা হলো, নবী-রাসূল এবং ফেরেশতা থেকে শুরু করে যত মাখলুক আছে সবার শিক্ষক হলেন আল্লাহ। আল্লাহ দুনিয়াতে প্রায় এক হাজার এর মত নবী-রাসূল পাঠিয়ে, সেই নবী-রাসূলগণের মাধ্যমে মানুষের প্রয়োজনীয় বিভিন্ন বস্তু ও বস্তু সামগ্রী আবিষ্কার ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে সারা দুনিয়ার মানুষকে শিক্ষা দিয়েছেন।
{উল্লেখ্য যে, আল্লাহ ২ লক্ষ ২৪ হাজার নবী-রাসূল পাঠিয়েছেন, এই কথার কোন ভিত্তি নাই। একটি হাদিসে এসেছে এক লক্ষ চব্বিশ হাজার নবী পাঠিয়েছেন, মূলত এটাও জাল হাদিস। তবে কোরআনের ওই কথাই ঠিক যে, আল্লাহ বলেছেন আমি প্রত্যেক সম্প্রদায়ের কাছে সতর্ককারী অর্থাৎ নবী-রাসূল প্রেরণ করেছি। অর্থাৎ নবী রাসূলের সঠিক কোন কোয়ান্টিটি আল্লাহ মানুষকে জানাননি। কত সম্প্রদায় পাঠিয়েছেন তা আল্লাহ ভালো জানেন। তবে বাহ্যিক দৃষ্টিতে যা দেখা যায়, এটা নিয়ে গবেষণা করলে তাই বেরিয়ে আসে যে, আদম আলাইহিস সালাম থেকে শুরু করে মোহাম্মদ সাঃ পর্যন্ত সম্প্রদায়ের সংখ্যা কোনভাবেই এক হাজারের বেশি নয়। পবিত্র কোরআনে 25 অথবা 27 জন নবীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে মাত্র। কারণ এই নবী রাসূলগণের জীবন ও কর্ম থেকে আমাদের জন্য শিক্ষা গ্রহণ করার আছে অনেক কিছুই। আর পবিত্র কোরআনে আরও এক জায়গায় বলা হয়েছে যে রাসূলুল্লাহ সাঃ এরমধ্যে রয়েছে সবচেয়ে উত্তম আদর্শ}
👉👉 পৃথিবীতে প্রেরণ করা অত্যন্ত জ্ঞানী ও প্রজ্ঞাবান কিছু মানুষের কথা আল্লাহ পবিত্র কুরআনে উল্লেখ করেছেন তার মধ্যে অন্যতম হলেন, লোকমান আঃ। লোকমান আঃ একবার একটা জায়গায় দাঁড়িয়ে খুতবা দিচ্ছিলেন। তখন একটি লোক উঠে দাঁড়িয়ে বলল, “আপনি কি সেই লোকমান নন যিনি আমার সাথে অমুক মাঠে ছাগল ভেড়া চড়াতেন? লোকমান আঃ এক মুহূর্ত চুপ থেকে লোকটির দিকে তাকিয়ে বললেন, হ্যাঁ আমি সেই ব্যক্তি যে আপনার সাথে ওই মাঠে ছাগল ভেড়া চড়াতাম। এবার লোকটি জিজ্ঞাসা করল, আপনার এত মর্যাদা হলো কি করে? লোকমান আঃ বললেন, এবং আল্লাহ আমাকে সম্মান ও মর্যাদা দান করেছেন এই জন্য যে আমি আল্লাহর নির্দেশ অনুযায়ী পড়াশোনা করেছি কেননা আল্লাহ মানুষকে নির্দেশ দিয়েছেন পড়ো। অপরদিকে আমি তাকওয়া অর্থাৎ আল্লাহ ভীতির পথ অবলম্বন করেছি। অতএব যে কেউ আল্লাহর নাজিল করা জিনিসগুলো পড়বে এবং আল্লাহর সৃষ্টি সবকিছু নিয়ে চিন্তা গবেষণা করবে এবং আল্লাহকে ভয় করবে তাদের জন্য রয়েছে সম্মান এবং উত্তম জীবিকা।
👉👉 এবার আরও একটি কাহিনী বলে শেষ করি। আব্রাহাম লিংকন প্রথম যেদিন প্রেসিডেন্ট হয়ে পার্লামেন্টে ভাষন দিচ্ছিলেন তখন এক ভদ্রলোক দাড়িয়ে বললেন, “লিংকন সাহেব ভুলে যাবেন না আপনার বাবা আমাদের পরিবারের জন্য জুতা তৈরি করে দিতেন ।কারন একজন মুচির ছেলেকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে অনেকেই মেনে নিতে পারেননি ।”
একথা শোনার পরে সবাই চুপ হয়ে গেলেন কিণ্তু লিংকন মোটেই বিচলিত হলেন না । লিংকন লোকটির চোখে চোখ রেখে বললেন, “ আমি জানি স্যার আমার বাবা আপনার কেন এখানে অনেকেই আছেন যাদের পরিবারের জন্য জুতা তৈরি করতেন । এজন্য আমি গর্বিত বাবা ছিলেন জুতা তৈরির জন্য জিনিয়াস । সে কাজকে কখনো ছোট করে দেখতেন না । বাবা ছিলেন জুতা তৈরির নিপুন কারিগড় । আজও পর্যন্ত তার কোন কাজের সমালোচনা হয়নি কারন তিনি কাজ করতেন শুধু গ্রহিতার সন্তূষ্টির জন্য নয় নিজের সন্তূষ্টির জন্য । আপনার যদি কোন অভিযোগ থাকে তাহলে বলুন আমি আপনাকে এক জোড়া জুতা তৈরি করে দেব আমি ও ভাল জুতা তৈরি করতে পারি ।”
একথা শোনার পর লোকটি লজ্জায় মাথা নিচু করে রইলেন ,তখন লিংকন বললেন, “
📘📘 #চামড়া_খাওয়া’র ব্যাপারে ইসলামের বিধানঃ 📘📘 সাধারণভাবে গরু-ছাগল ও বিভিন্ন পশুর চামড়া প্রক্রিয়াজাত করে বিভিন্ন পোশাক, জুতা,বেল্ট, মোজা, ব্যাগ ও হাপড় ইত্যাদি তৈরি করা হয়। তবে ইদানিং চামড়ার দাম পড়ে যাওয়ায় বিদেশি স্টাইলে দেশে গরুর ও বিভিন্ন পশুর চামড়া খাওয়া শুরু হয়েছে। প্রথমে একদল মোল্লা ক্যাটাগরির আলেম চামড়া খাওয়া নাজায়েজ ইত্যাদি ফতোয়া দিলেও কোরআন হাদিসে হালাল যেকোনো প্রাণীর চামড়া ও হালাল বিধায় এবং পশু পাখির চামড়া হারাম হওয়ার পক্ষে কোন প্রকার দলিল না থাকায় অবশেষে মোল্লা সম্প্রদায় চুপ হতে বাধ্য হয়েছে। 💚 অবশ্য বিজ্ঞ আলেমগণ কখনোই চামড়া খাওয়ার বিপক্ষে কোন ফতোয়া দেয়নি। যাইহোক, চামড়া একটি অত্যন্ত উপদেয় এবং পুষ্টিকর খাবার। গরু ছাগলের নাড়িভুঁড়ি যেমন প্রক্রিয়া বা প্রসেসিং করতে যেমন কিছু কায়দা কৌশল অবলম্বন করতে হয় তদ্রূপ চামড়া কেউ প্রসেসিং করতে অতিরিক্ত কিছু কায়দা কানুন প্রয়োজন পড়ে। তবে চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের মতে যেকোনো পশু পাখির চামড়ার মধ্যে মানুষের জন্য ক্ষতিকর কিছু নেই। তবে অতিরিক্ত মাংস ভক্ষণ সব সময় শরীরের কোন না কোন ক্ষতি করে থাকে। আর চামড়াটা যেহেতু মাংসের অন্তর্ভুক্ত সেহেতু অন্যান্য মাংসের মত চামড়া কেউ অতিরিক্ত খাওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত স্বাস্থ্যগত দিক চিন্তা করেই। 📘📘 আল্লাহ গৃহপালিত পশু যেমন, ছাগল,গরু, মহিষ,ভেড়া,উট, দুম্বা ,গাড়ল,ঘোড়া, এবং বনের হরিণ, জেব্রা ,জিরাফ, বনগরু সহ ইত্যাদি সকল তৃণভোজী প্রাণীর মাংস খাওয়া হালাল করা করেছেন। (তবে পালিত গাধা হারাম) । কিন্তু এই হালাল পশুর বেলাতেও কিছু বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এরমধ্যে প্রথম শর্ত হলো পশুগুলোকে অবশ্যই আল্লাহর নাম নিয়ে জবাই বা হত্যা করতে হবে। তাছাড়া মানুষের জন্য ক্ষতিকর বিদায় হালাল পশুর ৭টি অঙ্গ খাওয়া মুসলমানদের জন্য হারাম করেছে। যেমন- ১/মল ২/ মুত্র ৩/রক্ত ৪/খুড়া, ৫/ শিং, ৬/লোম। অনেক আলেম তাদের মস্তিষ্কপ্রসূত কিছু ফতোয়া দিয়ে থাকে যে হালাল পশুর ১/নর প্রাণীর পুং লিঙ্গ, ২/অন্ডকোষ, ৩/মাদী প্রাণীর স্ত্রী লিঙ্গ, ৪/মাংসগ্রন্থি, ৫/মুত্রথলি, ৬/পিত্ত, ৭/গরুর নাড়ি তথা রগ ইত্যাদি খাওয়া হারাম। মূলত তাদের এই সমস্ত কথাগুলো মন গড়া এবং কোরআন হাদিসে তাদের এই কথার কোন অস্তিত্ব নেই। সূরা আন‘আম ১৪৫ নাম্বার আয়াতে যবেহকৃত প্রাণীর শুধু প্রবাহিত রক্ত ছাড়া আর বাকি সবকিছু কে হালাল বলেছে। হানাফীমাজহাবের কিছু কিতাবে আরো যে ছয়টি বস্তু হারাম বলে উল্লেখ আছে সেগুলি সব #ক্বিয়াস বা অনুমান নির্ভর। 👉👉তবে এক বাক্যে বলা যায় যে হালাল পশুর চামড়া যদি কেউ খেতে চায়, খেতে পারে দাঁতে ইসলামী শরীয়তের কোন প্রকার বিধিনিষেধ নেই এমনকি স্বাস্থ্যগত কোন বিধি নিষেধ নেই। তবে স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হলে, এমনকি হালাল মাংস খাওয়া থেকেও বিরত থাকতে হবে। কেননা রাসূল সাঃ বলেন, তোমরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ো না এবং ক্ষতি করো না”!! -ইবনু মাজাহ -২৩৪০! ছহীহাহ – ২৫০। কেননা এতে খাদ্য গ্রহণের লক্ষ্য ব্যাহত হয় । খাদ্য গ্রহণের লক্ষ্য হলো শরীরকে সুস্থ সবল এবং কর্মক্ষম রাখা। কিন্তু কোন খাদ্যদ্রব্য খেয়ে যদি শরীর অসুস্থ হয়ে পড়ে তা হালাল হলেও পরিত্যাগ করতে হবে। –ফৎহুল ক্বাদীর বাক্বারাহ ১৬৮; মায়েদাহ ৮৮; আনফাল ৬৯; নামল ১১৪।
👉👉 ইতিপূর্বে এমন কিছু ফতোয়া আলেমদের মুখ থেকে শোনা গেছে যে, হালাল পশুর চামড়া হালাল হলেও কুরবানীর পশুর চামড়া হালাল নয় কেননা এটিতে রয়েছে গরীব এর হক। কিন্তু তাদের এই যুক্তি বা কিয়াসের পক্ষে শক্তিশালী তো দূরের কথা কোন দুর্বল কিংবা জাল দলিলও নেই। ইসলামী শরীয়তের দৃষ্টিকোণ থেকে সকল হালাল প্রাণীর চামড়া ভক্ষণ হালাল। 👉👉 অনেক আলেম হয়তো এই ব্যাপারে কিয়াস করে থাকেন যে, যেহেতু পশুর চামড়া দিয়ে সাধারণত পোশাক, জুতা, বেল্ট, ব্যাগ ইত্যাদি অতি প্রয়োজনীয় জিনিস তৈরি করা হয়। আবার চামড়া থেকে জিলাটিন বের করে প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, ওষুধ ও প্রসাধনীতেও ব্যবহার হয়। তাই যদি গরু ,মহিষ , ছাগল ইত্যাদি চামড়াগুলো খেয়ে ফেলে তবে নিত্য প্রয়োজনীয় ঐ সকল দ্রব্য তৈরি করতে সমস্যা সৃষ্টি হবে বা কৃত্রিম অভাব তৈরি হবে। মানুষের অসুবিধার এই দিক বিবেচনা করে অনেকে চামড়া খাওয়া কে নাজায়েজ বলে থাকেন।।
কিন্তু সঠিক তথ্য হলো,পশুর চামড়ার তৈরি খাবারেরও প্রচলন রয়েছে বিভিন্ন দেশের মতো অনেক মুসলিম দেশে। যেমন ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও আফ্রিকার নাইজেরিয়ার সহ বহু মুসলিম সম্প্রদায় গরুর চামড়া দিয়ে তৈরি খাবার খেয়ে থাকেন। গরু মহিষের চামড়া ড্রাই করে বিভিন্ন প্রকার কিমা ও সুস্বাদু খাবার প্রস্তুত করা হয়। বাংলাদেশেও বৃহত্তর চট্টগ্রামের কোনো কোনো এলাকায় পশুর চামড়ার তৈরি খাবারের প্রচলন রয়েছে। আমি নিজেও Mahabubur Rahman বিশেষ করে গরুর চামড়া খুবই শখ করে খেয়ে থাকি। 📘📘 কিতাবুল আছার নামক একটি কিতাবে কোরআন হাদিসের কোন প্রকার #দলিল_ছাড়া শুধু কিয়াস করে, হালাল পশুর যে ৭টি অংশ ( ১. রক্ত, ২. অণ্ডকোষ, ৩. গোশত বা চামড়ার মধ্যে সৃষ্ট জমাট মাংসগ্রন্থি, ৪. মূত্রথলি, ৫. পিত্ত, ৬ ও ৭. নর ও মাদির যৌনাঙ্গ।) খাওয়া নাজায়েজ বলে ফতোয়া দেয়া হয়েছে এর মধ্যেও চামড়া নেই। (যদিও তাদের এই “কিয়াস” একমাত্র হানাফি মাজহাবের একটি অংশ ছাড়া কেউ মানে না, কেননা কি আজ হলো যুক্তি! আর এই জন্যই বিজ্ঞ সাহাবা কেরামের কিয়াস ছাড়া কোন আলেমদের কিয়াসের তেমন কোন ভিত্তি নেই) এক কথায়, চামড়া খাওয়াকে হারাম বলার সুযোগ নেই। 📘📘 কুরবানীর পশুর গোশত চামড়া খাওয়া যাবে এবং সদকা করা যাবে, কিন্তু পারিশ্রমিক হিসেবে কসাইকে দেওয়া যাবে না। কোরবানির পশুর চামড়া প্রসেস করে কেউ খেতে চাইলে খেতে পারবেন। অথবা সদকা করে দেবেন। আলী রাঃ থেকে বর্ণিত, “রাসুল সাঃ আমাকে তাঁর কোরবানির পশু জবাই করতে, পশুর গোশত, চামড়া ও নাড়ি-ভুঁড়ি সদকা করতে নির্দেশ দিয়েছেন। আর এগুলোর কোনো কিছু কসাইকে দিতে নিষেধ করেছেন। –বুখারি: ১৭১৭; মুসলিম: ১৩১৭!!
📘📘তবে, কোরবানিদাতা চামড়া ব্যবহার করতে চাইলে, তা পারবে, তবে বিক্রি করা নিষিদ্ধ। কেননা রাসুলুল্লাহ সাঃ বলেছেন, — তোমরা কোরবানির পশুর চামড়া দ্বারা উপকৃত হও; তবে বিক্রি করে দিও না”।–মাজমাউজ জাওয়ায়েদ খণ্ড: ৪ পৃ-২৯। তবে হানাফী মাযহাবের কওমি দেওবন্দী শাখার আলেমগণ তাদের ফতোয়ার কিতাব, ফতোয়ায়ে হিন্দিয়ায় পঞ্চম খন্ডের ৩০১ পৃষ্ঠায় মতামত দিয়েছেন,, কোরবানির পশুর চামড়া বিক্রি করে দিলে বিক্রিলব্ধ মূল্য পুরোটা সদকা করা জরুরি।
👉👉চামড়া খাবেন কিভাবে?? উচ্চতাপমাত্রা বা গরম পানিতে চামড়া ১ ফুট বাই ১ ফুট করে কেটে কিছুক্ষণ ডুবিয়ে রেখে ছুরি দিয়ে বা শক্ত চামচ দিয়ে চাঁচলে হালকা চামড়া সহ পশমগুলো উঠে আসে। কাজটি একটু কষ্টসাধ্য । তবে চামড়ায় অনেক মাংস পাওয়া যায়। বাংলাদেশেও অনেক এলাকায় গরুর মাথার বা পায়ার চামড়া খাওয়ার প্রচলন আছে, যা নেহারীর পায়ার রবারের মত অংশের সাথে তুলনা করা যায়।
👉👉চামড়ায় আসলে কি থাকে❓ আমরা চামড়া বলতে বুঝি শুধু উপরের পশমী অংশ। কিন্তু চামড়া মূল অংশটা কিন্তু থাকে ভেতরের অংশে, যেটাকে বলা হয় #কোলাজেন। গরুর চামড়ায় কোলেজেনের পরিমাণ তুলনামূলক বেশি থাকে, তাই গরুর চামড়া বেশি উপদেয়। তাই উপরের পশমী অংশটা বা চাইলে ধারালো ছুরি দিয়ে আস্তে আস্তে শক্ত অংশটাও যদি ফেলে দেয়া যায়, তবে ভেতরে কোলাজেন নামক প্রোটিন পাওয়া সম্ভব, যা মাংশের মতই খুব সুস্বাদু ও অত্যন্ত পুষ্টিকর এবং এলার্জির পরিমাণ অনেক কম।
👉👉চামড়া খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করলে কি লাভ ? মূলতঃ আমাদের দেশে এতকাল কোরবানীর চামড়া মসজিদ মাদ্রাসায় দান হিসেবে ব্যবহৃত হতো। কিন্তু গত বেশ কিছু বছর যাবত চামড়ার দাম কমে যাওয়ায় ফলে মসজিদ মাদ্রাসায় সেই টাকা আসছে না। তাছাড়া কবে নাগাদ চামড়ার দাম বাড়বে তাও বলা যাচ্ছে না। ট্যানারির মালিকদেরও একটা ধারণা তৈরী হইছে, “যদি আমরা চামড়া না নেই, তবে চামড়া পঁচে যাবে, চামড়া দেয়ার কোন উপায় থাকবে না। তাই যত কম দামই দেই না কেন, চামড়া আমাদের কাছে আসবেই, না দিয়ে যাবে কোথায়?” এই অসাধু চামড়া ব্যবসায়ীরা ও ট্যানারি শিল্পের মালিকরা বিরাট এক সিন্ডিকেট বানিয়ে বসে আছে এবং এই ব্যাপারে সরকারও নিরব।তাই ট্যানারি মালিকরা প্রতিবছর সিন্ডিকেট করে চামড়ার দাম কমিয়ে দিচ্ছে। তবে এতে করে এই অসাধু ব্যবসায়ীরা যে খুব একটা লাভবান হতে পারছে তা কিন্তু নয়, বরং এই দাম কমার সুযোগ নিচ্ছে পাশ্ববর্তী ভারতীয় চামড়ার ব্যবসায়ীরা। তারা এই কম দামের সুযোগে প্রচুর পরিমাণে চামড়া কিনে ভারতে পাচার করে দিচ্ছে। এই অবস্থায় জনগণ যদি চামড়া খাওয়া শুরু করে দেয়, তবে ট্যানারি শিল্পের মালিকরা অন্তত এটা ভাবতে পারবে না যে, চামড়ার যে দাম দেবো, পাবালিক সেই দামেই বিক্রি করতে বাধ্য।
👉👉 গরু মহিষের চামড়ার গড় ওজন প্রায় ২০ থেকে ৫০ কেজি পর্যন্ত হয়। বাংলাদেশে চামড়া খাওয়ার সংস্কৃতি বা কালচার শুরু হয়ে গেলে প্রথম প্রথম ধনীরা হয়তো চামড়া খাবে না(যেমন গরুর নাড়ি বুড়ি প্রথমে ধনীরা খেত না কিন্তু এখন খায় বরং বেশি খায়) তাছাড়া প্রসেসিং একটু কষ্টসাধ্য। কিন্তু নিম্নমধ্যবিত্ত ও নিন্মবিত্তরা যারা হাত পেতে মাংশ চাইতে পারে না, তারা মাংশের বিকল্প হিসেবে চামড়া খেতে পারে। প্রথম প্রথম যদি চামড়ার প্রতি কেজি ১০০ টাকা করে হয়, তবে প্রতি চামড়ার দাম ২ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত দাঁড়াবে। 👉👉লক্ষনীয়, ইসলাম ধর্মের নিয়ম হচ্ছে- কোরবানীর পশুর সবকিছু কোরবানীকারী ব্যবহার করতে পারবে। কিন্তু যদি কিছু অংশ বিক্রি করে, তবে বিক্রির টাকা ব্যবহার করতে পারবে না, সেটা ‘গরীবের হক্ক’ হবে। কোরবানী গরুর চামড়া খাওয়ার কালচার শুরু হলে নিম্নমধ্যবিত্ত , নিম্নবিত্ত এমনকি মধ্যবিত্তদের মধ্যে গরুর চামড়া খাওয়ার কালচার শুরু হবে এবং একটি চামড়ার মূল্য যখন প্রতিনিধির চামড়া কমপক্ষে 100 টাকা কেজি দরে তিন থেকে পাঁচ হাজার টাকা বিক্রি হবে তখন সেই টাকা কিন্তু ধনীরা ব্যবহার করতে পারবে না, কেননা যেহেতু কোরবানির যে কোন অংশ বিক্রি করা নিষিদ্ধ সেহেতু এতিম বা গরীবকেই দিতে হবে। ফলে এখন যেমন চামড়া প্রতি ট্যানারি মালিকরা ২-৩শ’ টাকা ধরিয়ে দিচ্ছে, সেই কাজটা আর করবে পারবে না।
👉👉 আমাদের দেশে মৃত ব্যক্তিকে অনেকেই মরহুম বলে। মরহুম (مرحوم) আরবি শব্দ। মরহুম শব্দের অর্থ হলো “যাকে রহম করা হয়েছে”। কিন্তু মৃত ব্যক্তিকে মরহুম বলা জায়েজ নাই !কেননা দুনিয়ার কেউ জানে না মৃত ব্যক্তিকে রহম করা হয়েছে কি না। একমাত্র আল্লাহ জানেন।
👉👉মরহুম” শব্দের স্বাভাবিক অর্থ হলো মৃত বা লোকান্তরিত হওয়া। এটি আরবি শব্দ “রহিম” থেকে এসেছে, যার অর্থ হলো, “যিনি অনুগ্রহপ্রাপ্ত” বা “যিনি দয়া প্রাপ্ত হয়েছেন”। সাধারণত, কোনো মৃত মুসলিম ব্যক্তির নামের আগে এই শব্দটি ব্যবহার করে তার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা হয় যা মূলত হিন্দু খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের কালচার থেকে ইসলামে প্রবেশ করেছে। হিন্দু-খ্রিস্টান ধর্মের লোকেরা কেউ মরা গেলে বলে থাকেন যে, “অমুক ব্যক্তি স্বর্গ লাভ করেছেন বা স্বর্গীয় হয়েছেন”।
কিছু আলেম মনে করেন, “মরহুম” শব্দটি মৃত ব্যক্তির জন্য ব্যবহার করা উচিত নয়, কারণ এটি আল্লাহর অনুগ্রহের উপর নির্ভর করে। তাঁদের যুক্তি হলো, কোনো মৃত ব্যক্তির জন্য “মরহুম” ব্যবহার করার অর্থ হলো, আমরা নিশ্চিত করছি যে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করেছেন বা তার প্রতি দয়া করেছেন। এই বিষয়ে বিস্তর মতভেদ রয়েছে।
মূলত ‘মারহুম’ বা ‘মারহুমা’ শব্দের অর্থ হল, ‘রহমতপ্রাপ্ত বা অনুগ্রহপ্রাপ্ত’ তা আমরা ইতিমধ্যে জেনেছি। আর নিশ্চিতভাবে বলা যায় না কে রহমতপ্রাপ্ত বা ক্ষমাপ্রাপ্ত হয়েছে। এ জন্য এই জাতীয় শব্দ যুক্ত করা জায়েয নয়। মুসলিম মৃত ব্যক্তির ক্ষেত্রে দু‘আ স্বরূপ ‘গাফারল্লাহু লাহু’ অর্থাৎ ‘আল্লাহ তাকে ক্ষমা করুন’ অথবা ‘রাহিমা-হুল্লাহু’ বা রহঃ অর্থাৎ ‘আল্লাহ তার প্রতি রহম করুন এমন দু‘আর বাক্য বলা শরী‘আত সম্মত। তবে সাধারণভাবে মুমিনদের ক্ষেত্রে সু-ধারণা রাখতে হবে যে, তাঁরা ইনশাআল্লাহ জান্নাতী। কেননা আল্লাহ্ তা‘আলা বলেছেন, ‘আল্লাহ মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন জান্নাতের, যার তলদেশে নদীসমূহ প্রবাহিত, সেখানে তাঁরা স্থায়ী হবে। –সূরা আত-তাওবাহ : ৭২।
👉👉 অনুরূপ কাফির ও মুসলিম নামধারী মুনাফিক্বদের ক্ষেত্রে কু-ধারণা রাখতে হবে যে, তারা জাহান্নামী। কেননা আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন, ‘আল্লাহ মুনাফিক্ব পুরুষ, মুনাফিক্ব নারী ও কাফিরদেরকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন জাহান্নামের আগুনের, যেখানে তারা স্থায়ী হবে”! সূরা আত-তাওবাহ : ৬৮; মাজমূঊ ফাতাওয়া ইবনু বায, ৫/৩৫৫;
👉👉 কোরআন বা সুন্নাহর কোনো বর্ণনা ছাড়া কোনো মৃত ব্যক্তির রহমপ্রাপ্ত কিংবা জান্নাতি হওয়ার নিশ্চয়তা কেউ দিতে পারে না। সুতরাং যাঁদের জান্নাতি হওয়ার ব্যাপারে কোরআন বা সুন্নাহে নিশ্চিত ও সুনির্দিষ্ট করে বলা হয়নি, তাদের কাউকে মরহুম বলা যাবে না। এই অভিমত যাঁরা পোষণ করেন, তাঁদের মধ্যে আরবের শায়েখ বিন বাজ রহ.ও রয়েছেন।
অবশ্য তিনি তাঁর ফতোয়ার শেষের দিকে বলেছেন, তবে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাতের উলামায়ে কেরাম নেককারদের প্রতি জান্নাতের আশা ও সুধারণা পোষণ করেন এবং বদকারদের জন্য এর বিপরীত ধারণা পোষণ করেন।
এটা সুরা তাওবার ৭২ ও ৬৮ নম্বর আয়াতে মুমিনদের জন্য জান্নাতের ওয়াদার আলোকেই তাঁরা করে থাকেন। ফতোয়ার একেবারে শেষে এসে তিনি বলেন, তবে কোনো কোনো আলেমের মতে, যে ব্যক্তির প্রতি কমপক্ষে দুজন বিশ্বস্ত লোক ভালো মানুষ বা নেককার হওয়ার সাক্ষ্য দেয়, তাকে জান্নাতি বলে (ও মরহুম বলে) সাক্ষ্য দেওয়াতে অসুবিধা নেই। তবে মানব রচিত মতবাদ প্রচার ও প্রসারকারী, তাবিজ কবজ লিখতেন এমন ব্যক্তি, এক কথায় দুনিয়ায় “ত্বগুত” এর অনুসরণ করতো এমন যে কাউকেই মরহুম বলা সম্পূর্ণ হারাম।
তবে মৃত মুসলিমকে মরহুম বলার ক্ষেত্রে যথার্থ ও সঠিক অভিমত হলো আরবের শায়খ ইবনে উসাইমিন (রহ.)-এর অভিমত। তিনি বলেন, কেউ যদি কোনো মৃত ব্যক্তিকে এই অর্থে মরহুম বলে মন্তব্য করে যে, “লোকটিকে আল্লাহ তাআলা নিশ্চিতভাবে ক্ষমা ও দয়া করেছেন।” অথচ এ বিষয়ে কোরআন-সুন্নাহর বর্ণনা নেই, তাহলে সেটা নিষিদ্ধ। তবে সচরাচর লোকেরা মৃত মুসলিমদের এই অর্থে মরহুম বলে না; বরং এটি দোয়া ও নেক আশা হিসেবে বলা হয়। তা ছাড়া ‘রাহিমাহুল্লাহ’ (তার প্রতি রহম করা হয়েছে) এই বাক্যটি সংবাদমূলক; অথচ এটাকে দোয়ার অর্থে ব্যবহার করা হয়। আর এভাবে দোয়া হিসেবে ব্যবহার করার ক্ষেত্রে কোনো আলেমের দ্বিমত নেই। অন্যদিকে ‘মরহুম’ (তিনি রহমপ্রাপ্ত) শব্দটিও পরিহার করাই ঈমান নিরাপদ রাখার নিকটতম।
সুতরাং সেটিও দোয়ার অর্থে ব্যবহৃত হতে কোনো অসুবিধা নেই। আর যেহেতু নিশ্চিতভাবে ক্ষমাপ্রাপ্ত হয়েছে বা জান্নাতি হয়ে গেছে—এমন ধারণা থেকে মৃতকে মরহুম বলা হয় না; বরং দোয়া ও মুমিনের প্রতি সুধারণা থেকে মরহুম বলা হয়, তাই এই অর্থে মরহুম বলাতে কোনো অসুবিধা নেই এক শ্রেণীর আলেম অভিমত দিয়ে থাকেন , যা মূলত ঈমান এর জন্য নিরাপদ নয়।
👉👉 আমাদের দেশের পেপার পত্রিকায়, বিভিন্ন বইতে, রেডিও-টিভিতে এবং অনেক আলেম উলামা ও মানুষের মুখে শুনা যায় যে, কেউ মারা গেলে তাঁকে বা তাঁর নামের আগে “মরহুম” শব্দ যোগ করে নামটা বলেন। এমন কি কেউ মারা গেলে মসজিদ হতে ঘোষণা করা হয় মরহুমের জানাযার নামাজ অমুক সময় অনুষ্ঠিত হবে।
আলোচনার সুবিধার্থে বিষয়টিকে ৩ ভাগে আলোচনা করা হলঃ 👉 মৃত ব্যক্তির নামের আগে “মরহুম” শব্দ ব্যবহার করা কেন উচিত নয়! 👉 কোন চিন্তা হতে “মরহুম” শব্দটা বলা যেতে পারে! 👉 মৃত ব্যক্তির নামের সাথে কি যোগ করা যেতে পারে!
প্রথমতঃ মৃত ব্যক্তির নামের পূর্বে “মরহুম” শব্দ ব্যবহার করা কেন উচিত নয়।❎ “মরহুম” শব্দের অর্থ আল্লাহর রহম প্রাপ্ত❗ অর্থাৎ জান্নাতী❗ কিন্তু কে আল্লাহর রহম প্রাপ্ত তা কেবল আল্লাহই জানেন। গায়েব সম্পর্কে তো আমরা অজ্ঞ।✅ বাংলা ভাষায় “মৃত” শব্দের সাথে “মরহুম” শব্দের মিল থাকায় আমরা মনে করি এটাই মনে হয় আরবিতে ব্যবহৃত হয়। কিন্তু আরবিতে মৃতকে “মাইয়েত” {ميت} বলা হয়। “মরহুম” তথা ‘আল্লাহর রহমপ্রাপ্ত’ বললে বুঝা যায় আপনি গায়েবের খবরও জানেন❗যা শিরকের পর্যায়ে পড়ে যায়, কেননা 👉 আল্লাহ বলেন– বলুন, আল্লাহ ব্যতীত নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলে কেউ গায়বের খবর জানে না এবং তারা জানে না যে, তারা কখন পুনরুজ্জীবিত হবে। — সুরা নামল, আয়াত ৬৫
👉 আল্লাহ বলেন, যারা বড় বড় গোনাহ ও অশ্লীলকার্য থেকে বেঁচে থাকে ছোটখাট অপরাধ করলেও নিশ্চয় আপনার পালনকর্তার ক্ষমা সুদূর বিস্তৃত। তিনি তোমাদের সম্পর্কে ভাল জানেন, যখন তিনি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন মৃত্তিকা থেকে এবং যখন তোমরা মাতৃগর্ভে কচি শিশু ছিলে। অতএব তোমরা আত্নপ্রশংসা করো না। তিনি ভাল জানেন কে সংযমী। –সুরা আন নজম, আয়াত ৩২ উক্ত আয়াতে আল্লাহ নিজেদের প্রশংসা নিজেদের না করার জন্য বলছেন। 👉 আল্লাহ বলেন তোমরা অগ্রে ধাবিত হও তোমাদের পালনকর্তার ক্ষমা ও সেই জান্নাতের দিকে, যা আকাশ ও পৃথিবীর মত প্রশস্ত। এটা প্রস্তুত করা হয়েছে আল্লাহ ও তাঁর রসূলগণের প্রতি বিশ্বাসস্থাপনকারীদের জন্যে। এটা আল্লাহর কৃপা, তিনি যাকে ইচ্ছা, এটা দান করেন। আল্লাহ মহান কৃপার অধিকারী। — সুরা আল হাদীদ, আয়াত ২১ উক্ত আয়াত হতে বুঝা গেল জান্নাতী জাহান্নামী কারা তার নির্ধারক এক মাত্র আল্লাহ নিজেই।
কেন একজন মৃত ব্যক্তিকে মরহুম বলা যাবে না আশা করি এই বিষয়টা উক্ত আলোচনায় স্পষ্ট হয়ে গেছে ইনশাআল্লাহ।
রেড ইন্ডিয়ান বলতে আমেরিকা মহাদেশের স্হানীয় আধিবাসীদের বোঝায়।
১৫ শতাব্দীর শেষভাগে ১৪৯২ সালে ইতালীয় নাবিক ঔপনিবেশিক কলম্বাস মূলত লুটতরাজ চালানোর জন্য ভারতবর্ষে পৌঁছানোর জলপথ আবিষ্কার করতে গিয়ে বাহামা দ্বীপে এসে পৌঁছান। এখানে বলে রাখা প্রয়োজন যে তখনকার দিনে ইংল্যান্ড ইতালি ফ্রান্স পর্তুগাল এই সমস্ত লোকদের দেশে প্রয়োজনীয় খাদ্য উৎপাদন হতো না ফলে তারা বিশেষ করে জলদস্যু হিসাবে নিজেদেরকে প্রতিষ্ঠিত করে লুটপাট চালিয়ে নিজেদের পেটের খাদ্য যোগাড় করত। ভারতবর্ষ তখন ছিল একটি সমৃদ্ধ জনপদ। এই অঞ্চলে প্রচুর খাদ্যশস্য উৎপন্ন হতো আর এই খবর ইউরোপের এই দস্যু দেশগুলোর কাছে পৌঁছেছিল।
উপকূলে পৌঁছে সেখানে কলম্বাস সেখানে তামাটে বর্ণের মানুষদের ভারতীয় বলে ভেবে নেন। এবং তাদের নাম দেন রেড ইন্ডিয়ান। কেননা গরম বাস বিভিন্ন বই-পুস্তক পড়ে ও বিভিন্ন মানুষের কাছে জানতে পেরেছিলেন যে ভারতবর্ষের বেশিরভাগ মানুষ মিশ্র বর্ণের এবং কালো বর্ণের। কিন্তু সেখানে গিয়ে কলম্বাস দেখল যে এই লোক গুলো তামাটে বর্ণের এবং সেখানে কালো লোকের সন্ধান তিনি পেলেন না তাই এই লোকগুলোকে রেড ইন্ডিয়ান নাম দিলেন এই দস্যু সরদার কলম্বাস। পরবর্তীতে ইউরোপীয় ঔপনিবেশিও তাদের এ নামে পরিচিত করে তোলে।বর্তমানে, এই শব্দটির পরিবর্তে “আদিবাসী আমেরিকান”, “নেটিভ আমেরিকান” অথবা তাদের নিজ নিজ উপজাতি বা সম্প্রদায়ের নাম ব্যবহার করা হয়।
বলা হয় রেড ইন্ডিয়ানরা প্রায় ১৬ হাজার বছরের পুরোনো জাতি। দেখতে লম্বা, ফর্সা বা তামাটে। অনেকটা নাক চ্যাপটা এই জনগোষ্টীর লোকজন পূর্বে পিরু নামে পরিচিত ছিলেন। কলম্বাস যখন আমেরিকা পৌঁছালেন তখন সেখানকার প্রথম বসতি স্থাপনকারী লোকেরা কলম্বাস ও তার ভ্রমণসঙ্গীদের স্বাগত জানালেন। তিনি ভাবলেন, তিনি ইন্ডিয়াতে এসে পৌঁছেছেন কিন্তু আসলে ছিল এটি আমেরিকা। দীর্ঘদিন কলম্বাস প্রেইরির দিগন্ত জোড়া এলাকায় আধিবাসীদের জীবনযাত্রা পর্যবেক্ষণ করলেন। দেখলেন এই আধিবাসীরা শিকারে বা কোন উৎসবে যাওয়ার সময় একধরনের লাল রং মুখে ও শরীরে নানান অংশে ব্যবহার করেন। তাই কলম্বাস তাদের নাম দিলেন রেড ইন্ডিয়ান।
রেড ইন্ডিয়ানদের জীবনযাপন বেশ চমকপ্রদ। আধুনিক সভ্যতার মানুষ খাদ্য হিসেবে যে ভুট্টা ব্যবহার করেন, সেটি প্রথম উদ্ভাবন করেন রেড ইন্ডিয়ানরা। পশুপালন, শিকার ও কৃষিই তাদের জীবিকার প্রধান উপায় ছিল। তথাপি আমেরিকার একপেশে বর্ণবাদ, বৈষম্য ও পুঁজিবাদি ধারণা চর্চার ফলে রেড ইন্ডিয়ানদের উপর নানান বিধিনিষেধ জারি করে তাদের জীবনপ্রণালী পরিবর্তনের চেষ্টা চলেছে বহু বছর ধরে। রেড ইন্ডিয়ানরা নিজেদের ভেতর নানান ভাষায় যোগাযোগ রাখে। এসব ভাষার মধ্যে রয়েছে নাভাজো, আলাস্কান, ইয়ুপিক, ডাকোটা, সিওক্স, ত্র্যাপাচি, চক্কা, ক্রিক প্রভৃতি। এখনও প্রায় ১৫০টি ভাষা তাদের গোত্রের মধ্যে টিকে আছে। লোকসংখ্যার অধিকাংশই খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বী। অসুখ বিসুখ হলে এরা বিভিন্ন গাছের ছাল, বাকল, রস ব্যবহার করত। ধারণা করা হয় আমেরিকায় লাউ ও শিম সবজি দুটির প্রচলন রেড ইন্ডিয়ানরাই করেছিল। বিশেষ অনুষ্ঠানের দিন পাখির পালক দিয়ে তৈরি পোষাক পরিধান করেন। মুখে লালচে তরল রং মাখেন। তারা মূলত সিউ, অ্যাপাচি, উতে প্রভৃতি গোত্রে বিভক্ত। সিউ গোত্রের মানুষজন ডাকোটা, লাকোটা এবং নাকোটা এই তিনভাগে বিভক্ত।
১৮৬২ সালে সিউদের বিরুদ্ধে শেতাঙ্গদের উপর হামলার অভিযোগ আনা হয়। ড্যানিয়েল ডাব্লিউ হোমস্টাড সিউদের নিয়ে এক নিবন্ধে লেখেন, প্রায় তিনশতাধিক সিউদের ওই হামলার অভিযোগ এনে হত্যা করা হয়েছিল। মহিষের মতো দেখতে একধরনের প্রাণী বাইসন। এই বাইসনের মাংস সিউদের প্রধান খাবার ছিল। আব্রাহাম লিংকনের প্রশাসন সিউদের পবিত্র জায়গা ব্ল্যাক হিলস দখল করে ও বাইসন হত্যা করে। ফলে অনেক সিউরা খাদ্য সংকটে পড়ে মারা যায়। নাভাহোরা বসবাস করত মাটির তৈরি ঘরে। নাভাহোরা মেক্সিকোর সাথে যুদ্ধের সময় আমেরিকাকে সাহায্য করেছিল। অথচ যুদ্ধ শেষ হবার পর তাদের ভূখণ্ড আমেরিকার দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চল থেকে আরও তিনশ মাইল দূরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। সেখানে তারা খাদ্য সংকটে পড়ে এবং বহু নাভাহোরা মারা যায়। কোমানচিরা খুব লড়াকু অশ্বারোহী যোদ্ধা হিসেবে পরিচিত ছিল। যাযাবর প্রকৃতির কোমানচিরা বাইসন শিকার করত। অন্যদিকে উতেদের আদিবাস হল যুক্তরাষ্ট্রের উতাহ অঞ্চলের পাহাড়ি এলাকায়। ভুট্টাচাষে এরাই সবচেয়ে বেশি দক্ষ ছিল। মেক্সিকোর উত্তরাঞ্চলে অ্যাপাচিদের আদিবাস ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের সাথে মেক্সিকোর যুুদ্ধের সময় অ্যাপাচিরা যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা করেছিল। পরে মার্কিন সরকার তাদের আদিবাস অ্যাপাচেরিয়া অঞ্চলটি আক্রমণ করে। তাদের খাবার ও বাসস্থান ধ্বংস করার ফলে বহু অ্যাপাচি মারা যায়।
প্রায় ৫০০ বছর আগে ইতালিয় নাবিক কলম্বাস তিন তিনটি জাহাজ ভর্তি করে কিছু নাবিক এবং মুসলিম যুদ্ধ বন্দি নৌ-বিজ্ঞানীদের নিয়ে ভারতে আসবে বলে ভুলে আটলান্টিক পাড়ি দিয়ে পৌছালো । কলম্বাস ভেবেছিল সে ভারতেই এসেছে। ভারতকে ইউরোপের লোকেরা ইন্ডিয়া বলে ডাকে। নাবিকরা যখন স্থলভাগে নামলো তখন স্থানীয় অধিবাসীরা তাকে স্বাগত জানালো।
কিন্তু দুর্ভাগ্য জনক ইতিহাস হল বা পরবর্তী সময়গুলোতে ইউরোপিয়ান জাতি এই স্থানীয় অধিবাসী red indian তথা স্থানীয় আমেরিকানদের সাথে ভালো আচরণ করেনি। ইউরোপিয়ানরা পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন দেশ থেকে দলে দলে গিয়েছে এবং ইংরেজরা গিয়ে তাদেরকে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিল আর শীত থেকে বাঁচার জন্য দিয়েছিল হাজার হাজার কম্বল আর সেই কম বলে কিলবিল করছিল গুটি বসন্তের জীবাণু। পরবর্তী সময়ে এই গুটি বসন্তের জীবাণুতে আক্রান্ত হয়ে লক্ষ লক্ষ রেড ইন্ডিয়ান মরে গিয়েছিল।
একজন রেড ইন্ডিয়ান তাদের ঐতিহ্য পোশাক পরে
কলম্বাস তখন ভেবেছিল যেহেতু সে যখন ইন্ডিয়াতে এসেই পড়েছে এখানকার লোকজন নিশ্চই ইন্ডিয়ান হবে। তাই সেই সে নতুন দেশের লোকদের ইন্ডিয়ান ভেবে তাদের ইনডিয়ান বলে ডাকতে শুরু করলো। আর যেহেতু তার কাছে খবর পৌঁছেছিল যে ইন্ডিয়ানরা কালো ও মিশ্র বর্ণের কিন্তু এই ইন্ডিয়ান গুলো তামাটে বর্ণের তাই সে এদেরকে রেডি ইন্ডিয়ান টাকা শুরু করল। কলম্বাসের বাড়ি ইতালি হলেও কিন্তু স্পেনের ধোকাবাজ এবং বর্বর রাণীর অনুগ্রহে এবং আন্দালুস থেকে যুদ্ধবন্দী হিসেবে প্রাপ্ত শত শত মুসলিম বিজ্ঞানীদের নিয়ে স্পেন থেকে আটলান্টিকের বুকে পাড়ি দেয়। এরা ছিল নেভিগেশন এবং নৌ বিদ্যায় পারদর্শী। মুসলিমদেরকলম্বাস স্পেনে ফিরে গিয়ে জানান যে তিনি পুর্ব ভারত বা ইষ্ট ইন্ডিজ গিয়েছিলেন। সেখানে তিনি একদল মানুষদের দেখেছেন।
কলম্বাসের মতো সবাই ধরেই নিল যে কলম্বাস যেখানে গেছেন সেটাই ইন্ডিয়া আর সেখানকার লোকজন ইন্ডিয়ান। এরপর অনেকদিন পার হয়ে যায়। সবাই যখন দেশটিকে ইন্ডিয়া বলে ভাবতে শুরু করেছে সে সময় আরেকজন নাবিক বলেন কলম্বাস যে দেশটি আবিস্কার করেছেন তা ইন্ডিয়া নয়। এই নাবিকটির নাম ছিল আমেরিগো ভেসপুচি। তার নামে দেশটির নাম হয় আমেরিকা। দেশটির নাম পাল্টালেও তার আদিবাসীদের নাম কিন্তু পাল্টায়নি। এখনও বিশ্বের মানুষ তাদের ইন্ডিয়ান নামে ডাকে। এখন শুধু নামের আগে রেড শব্দটি বাসানো হয়। যার ফলে আমেরিকার আদিবাসীদের নাম হয়ে গেছে রেড ইন্ডিয়ান।
♦ কাদের কলম্বাস রেড ইন্ডিয়ান ভেবেছিলেনঃ আজ আমেরিকার সকল আদিবাসীদের রেড ইন্ডিয়ান বলে ডাকা হয়। তবে তারা আসলে ছিলেন আমেরিকার আদিবাসী এবং তারা নিজেদের কখনই রেড ইন্ডিয়ান বলে পরিচয় দেয় না। আমেরিকা এক বিশাল মাহাদেশ এবং এই মহাদেশটির দুটি অংশ রয়েছে। একটিকে বলে উত্তর আমেরিকা আরেকটি হলো দক্ষিন আমেরিকা। পুরো দুটি মহাদেশ এখন থেকে পাঁচশ বছর আগেও এশিয়া আর ইউরোপের মানুষের কাছে অজানা ছিল।
♦ এই বিশাল আমেরিকায় ছড়িয়ে আছে নানা গোষ্ঠী এরাই একত্রে রেড ইন্ডিয়ান নামে পরিচিত। এরা আকারে লম্বা। এদের নাকটা খানিকটা চ্যাপ্টা। তবে এরা নিজেদের নিজস্ব নামে পরিচয় দিতে ভালোবাসে। আমেরিকাকে দুটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। উত্তর আর দক্ষিন। উভয় মহাদেশেই রেড ইনডিয়ান বাস করে। তবে এরা সবাই একই রকম নয়। মানে এদের আচার আচরণ চাল চলন আলাদা আলাদা। যেমন, সিউক্স রেড ইনডিয়ান, কেচুয়া ইনডিয়ান।
♦ এক সময় ভাবা হতো যে রেড ইন্ডিয়ানা যুগ যুগ ধরে আমেরিকায় বাস করতো। তবে নৃবিজ্ঞনীরা এখন গবেষণা করে বলছেন এই রেড ইন্ডিয়ান দর পুর্ব পুরুষ এশিয়া থেকে আমেরিকায় এসেছে। এদের আদি পুরুষ মঙ্গোলীয় মানে চাইনিজদের মতো ছিল দেখতে। বিজ্ঞানীরা হিসেব করে বের করেছেন কত বছর আগে এরা এশীয়া থেকে আমেরিকা পাড়ি দিয়েছে।
♦ বিশেষজ্ঞরা বলেন যে এখন থেকে হাজার হাজার বছর আগে রাশিয়ার সাইবেরিয়ার সাথে মেক্সিকোর একটি অংশের যোগযোগ ছিল। সেই পথ ধরেই এই সব লোকেরা আমেরিকায় এসেছিল। তাদের একটা দল এসে চিলিতে বসতি গড়ে। সেটও ছিল এখন থেকে ১২৫০০০ হাজার বিপি বছর আগে। বিপি বলতে ইংরেজিতে বোঝায় বিফোর প্রজেন্ট। যার মনে হচ্ছে বর্তমান সময়ের আগে। বিপি শব্দটি বর্তমান বিজ্ঞনীরা গড়ে তুলেছে।
♦ ১৯৫০ সালে পুরনো জিনিষের বয়স পরীক্ষা করার একটি পদ্ধতি আবিস্কার হয় যাকে বলা হয় বিজ্ঞানভিত্তিক বয়স নির্ধারন পদ্ধতি। এই পদ্ধতি যে বছর আবিস্কার হয় সে বছরে আদর্শ ধরে পুরনো কোন বস্তু বা ফসিল প্রাণীর বয়স নির্ধারন করা হয়।
♦ এখন বিপি ১২৫০০০ মানে হলো ১৯৫০ সালের ঠিক ১২৫০০ বছর আগে চিলিতে মানব বসতি ছিল। তবে অনেকে মনে করেন ৩০,০০০ বছর আগেও দক্ষিণ আমেরিকায় মানব বসতি ছিল। এদেরই বংশধর এই রেড ইন্ডিয়ানরা।
♦ রেড ইন্ডিয়ানরা একই সময়ে বেশ কয়েকটি জায়গায় সভ্যতা গড়ে তোলেঃ আমেরিকার বিভিন্ন জায়গায় পাওয়া ইতিহাস থেকে জানা যায় রেড ইন্ডিয়ানদের অনেকেই হাজার হাজার বছর আগে থেকেই কৃষিকাজ জানতো। তারা আগুনের ব্যবহারও জানতো। এ ছাড়া রেড ইন্ডিয়ানরা দুটি ফসল ফলাতো যা কিনা বাকী দুনিয়া জানতো না। এখন সেই খাবারটি প্রায় আমাদের সবার টেবিলে থাকে, তার নাম আলু। এই আলু কিন্তু রেড ইনডিয়ানদের কাছ থেকে অন্য সবাই খেতে শিখেছে। এ ছাড়া তারা কোকা নামের এক ধরনের গাছের বীজের রস খেত। এই রস দিয়ে এখন চকোলটে বানানো হয়। এ ছাড়া ভুট্টা রেড ইনডিয়ানরা ছাড়া অন্যরা কেউ চাষ করতো জানতো না। তারাই ভুট্টা দিয়ে নানা ধরনের খাবার তৈরী করে খেত।
♦ রেড ইন্ডিয়ানদের মধ্যে অনেক আলাদা জাতি আছে এবং এদের অনেকেই আবার বিভিন্ন ধরনের সভ্যতা সৃষ্টি করেছিল। এদের মধ্যে ছিল মায়া ও ইনকা সভ্যতা। এই সব লোকেরা সুন্দর সুন্দর বিল্ডিং এবং নগর গড়ে তুলেছিল। রেড ইন্ডিয়ানদের মধ্যে অনেকে লিখতে এবং পড়তে শিখেছিল। আর তারা গণনা করতে পারতো। তারা সুন্দর ক্যালেন্ডার তৈরী করতো। যে দিয়ে তারা তদের ফসল বোনা ও কাটার হিসেব করতো। রেড ইন্ডিয়ানদের অনেকে বনে বাস করতো।
♦ এখনও রেড ইন্ডিয়ানদের অনেকে জঙ্গলে বাস করে। এদের অনেকে আদিম দেবদেবীর পুজো করতো। তবে রেড ইন্ডিয়ানদের মধ্যে মায়া আর ইনকারা সুর্যকে দেবতা মেনে পুজা করতো।
♦এক সময় পুরো আমেরিকায় রেড ইনডিয়ানরা বাস করতো এখন তাদের সংখ্যা অনেক কমে এসেছে। এর কারন হচ্ছে ইউরোপ থেকে যে সমস্ত দেশের লোকেরা আসতো তারা অনেকেই এই নতুন দেশে বসতি গড়তো। তাদের সঙ্গে রেড ইনডিয়ানদের যুদ্ধ হত। প্রথম দিকে অনেক রেড ইন্ডিয়ান সাদা মানুষদের দেবতা মনে করে তাদের আমেরিকার মাটিতে জায়গা দেয়। কিন্তু এক সময় উভয়ের যুদ্ধ হয় সেই যুদ্ধে অনেক রেড ইন্ডিয়ান তাদের এলাকা ছেড়ে বনের দিকে চলে যায়। ইউরোপ থেকে লোক আসার আগে আমেরিকায় ঘোড়া ছিল না।
♦ আমেরিকার অনেক দেশে এখনও রেড ইন্ডিয়ানরা সংখ্যায় বেশী। এই সমস্ত দেশগুলো মধ্যে রয়েছে বলিভিয়া, পেরু মেক্সিকো, ব্রাজিল, ইকুয়েডোর, গুয়েতেমালা, কলোম্বিয় ইত্যাদি। রেড ইন্ডিয়ানরা নিজেদের রেড ইন্ডিয়ান ভাবে না। কারন নামটি তাদের দেওয়া নয়। তারা নিজেদের নিজস্ব জাতিগোষ্ঠীর নামে পরিচিত হতেই ভালোবাসে। এদের মধ্যে অনেকে তাদের গোত্রের নামে পরিচিত হয়। অনেকে আবার ভাষার মধ্যে দিয়ে নিজেদের নাম তৈরী করে। এদের মধ্যে রয়েছে কেচুয়া, গুয়ারানি ইত্যাদি রেড ইন্ডিয়ান।
♦ কলম্বাসের আমেরিকা আবিস্কারের পরে ইউরোপ থেকে হাজার হাজার মানুষ আমেরিকা পাড়ি জমায়। এই সব মানুষেরা এসে মূলত রেড ইন্ডিয়ানদের জায়গা দখল করতে থাকে। এক সময় তারা পুরো এলাকা দখল করে ফেলে। এর ফলে গোটা আমেরিকায় ইউরোপের ভাষা আর সংস্কৃতি রাজত্ব করতে থাকে। আর এতে রেড ইন্ডিয়ানরা জাতি হিসেবে টিকে থাকলেও তাদের ভাষা ও সংস্কৃতি হুমকির মুখে পড়ে যায়।
♦ বর্তমানে আমেরিকার আর কানাডায় থাকা রেড ইনডিয়ান যাদের মূলত নেটিভ আমেরিকান বলা হয় তাদের মধ্যে ১৫০টি ভাষা টিকে আছে। এছাড়া মধ্য দক্ষিণ আমেরিকার টিকে আছে প্রায় ৬০০ থেকে ৭০০ ভাষা।
♦ বর্তমানে রেড ইন্ডিয়ানরা তাদের দাবী নিয়ে সচেতন হয়ে ওঠেছে। এখন তারা আমেরিকার অনেক রাজ্যেই গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করছে। ~~ সংগ্রহীত ~~
👉👉 জুতা পরে সালাত / নামাজ আদায় করার বিধান , এই নিবন্ধে দলিল সহ সবিস্তারে আলোচনা করা হলোঃ
👉👉 আমাদের দেশে ,বিশেষ করে ভারতীয় উপমহাদেশের সমাজে জুতা পায়ে দিয়ে নামাজ পড়ার কথা কেউ চিন্তাও করতে পারে না। অথচ জুতা পায়ে দিয়ে নামাজ পড়া একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত। রাসূলুল্লাহ সাঃ বাড়িতে এবং সফল উভয় অবস্থায় জুতা পরে নামাজ পড়তেন। সফরে তিনি জুতা খুলে নামাজ পড়েছেন এমন কোন দলিল পাওয়া যায় না। তবে মসজিদে নামাজ পড়ার সময় তিনি জুতা খুলে নিয়েছেন অথবা ঘরে জায়নামাজে নামাজ পড়ার সময় তিনি জুতা খুলে নিয়েছেন। মোটকথা, সফরে নামাজ সংক্ষিপ্ত বা কসর করা যেমন একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত, তদ্রূপ সফরে জুতা পায়ে দিয়ে নামাজ পড়াও একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত।
🤔🤔 আমাদের অভ্যাস হলো, যা সুন্নত নয় তা খুব করে প্রচার করি আর যা সুন্নত তা গোপন রাখি। যেমন নামাজে টুপি পরার কোন দলিল কোথাও নাই। যা দুই একটা দলিল আছে ঐ সকল হাদিস গুলো প্রচুর সন্দেহযুক্ত অত্যন্ত দুর্বল অথবা জাল। অথচ আমাদের সমাজে টুপি না পড়ে কেউ নামাজ পড়লে তাকে তিরস্কার করা হয় এবং ভিন্ন দৃষ্টিতে দেখা হয়। (টুপি অবশ্যই একটি উত্তম পোশাক এবং পবিত্র কোরআনে উত্তম পোশাক পড়ে নামাজ পড়ার কথা বলা আছে । তাই টুপি পরা ভালো) কিন্তু আমাদের সমাজে কেউ যদি জুতা পড়ে নামাজ পড়ে তাহলে শুরু হয়ে যাবে চারদিক থেকে ফতোয়াবাজি। এবং আর কিছু যদি না পায় তাহলে বলবে জুতার তলায় নাপাকি লেগে থাকে তাই জুতা পরে নামাজ পড়া নাজায়েজ। অথচ হাদিসে স্পষ্ট উল্লেখ আছে গরু ছাগল তথা হালাল প্রাণীর প্রস্রাব পায়খানা অপবিত্র নয় এবং পথের ধুলা সব সময় পবিত্র। বরং ধুলা-মাটি মেখে তায়ামুম করে আমরা আরো পবিত্র হতে পারি।
👉👉 রাসুল সাঃ জুতা পরে সালাত আদায় করেছেন এবং এর দলিলগুলো নিম্নরূপ-
১// আবু মাসলামাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আনাস ইবন মালিক (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম, নবী (সাঃ) কি তাঁর জুতা পরে সালাত আদায় করতেন? তিনি বললেন, হাঁ’’ [বুখারী ৩৮৬, ৫৮৫০; মুসলিম ৫৫৫; তিরমিযি ৪০০; নাসায়ী ৭৭৫; মুসনাদ আহমাদ ৪০১]
২// আমর ইবন শুয়াইব (রাঃ) হতে পর্যায়ক্রমে তাঁর পিতা ও দাদার সুত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সাঃ)-কে কখনো খালি পায়ে আবার কখনো জুতা পরে সালাত আদায় করতে দেখেছি’’ [আবু দাউদ ৬৫৩; ইবন মাযাহ ১০৩৮; মুসনাদ আহমাদ ৩৯৯]
৩// ইবন আবু আওস তাঁর দাদা হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেনঃ ‘’আমি রাসুলুল্লাহ (সাঃ)-কে তাঁর জুতাজোড়া পরিহিত অবস্থায় সালাত আদায় করতে দেখেছি’’ [ইবন মাযাহ ১০৩৭; মুসনাদ আহমাদ ৪০৭]
৪// আবুদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসুল (সাঃ)-কে জুতা পরিহিত অবস্থায় এবং মোজা পরিহিত অবস্থায় সালাত আদায় করতে দেখেছি’’ –ইবন মাযাহ ১০৩৯!
৫// আবু হুরায়রাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুল (সাঃ) বসে ও দাঁড়িয়ে, জুতা পায়ে ও খালি পায়ে নামাজ পড়েছেন’’ –মুসনাদ আহমাদ ৪০২!
৬// আবু ‘আলা ইবন সিখইয়ির থেকে বর্ণিত। তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেনঃ ‘’আমি রাসুল (সাঃ)-কে জুতাজোড়া পরে নামাজ পড়তে দেখেছি’’ –মুসনাদ আহমাদ ৪০৩!
৭// আবু আওবয়ার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি আবু হুরায়রাহ (রাঃ)-এর নিকট এসে জিজ্ঞেস করলো, আপনি কি জুতা পরে লোকদেরকে নামাজ পড়তে নিষেধ করছেন? তিনি বললেনঃ না, আমি রাসুল (সাঃ)-কে এ স্থানে জুতা পরে নামাজ পড়তে এবং জুতা পরে স্থান ত্যাগ করতে দেখেছি’’ –মুসনাদ আহমাদ ৪০৪!
৮// মুজাম্মা ইবন ইয়াকুব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি কুবার এক গোলাম থেকে বর্ণনা করেন। সে একজন বৃদ্ধ লোকের সাক্ষাৎ পেল। তিনি বলেন রাসুল (সাঃ) আমাদের কাছে কুবায় আসলেন, তখন এক বাড়ির আঙ্গিনায় বসলেন। তাঁর চারপাশে কিছু লোকেরা একত্রিত হল। তখন রাসুল (সাঃ) পানি পান করতে চাইলেন, পান করার সময় আমি তাঁর ডান পাশে বসা ছিলাম। লোকদের মধ্যে আমি ছিলাম সবচেয়ে ছোট। তখন তিনি আমাকে পানি পান করতে দিলেন, আমি পান করলাম। আমার স্মরণ আছে, তিনি আমাদের নিয়ে সে দিন জুতা পরে নামাজ পড়েছিলেন, তা খুলেন নি’’ –মুসনাদ আহমাদ ৪০৫!
৯// অন্য আরেকটি বর্ণনায় আছে। তিনি মুহাম্মাদ ইবন ইসমাইল ইবন মুজাম্মা (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবন আবী হাবিবাকে বলা হল, আপনি রাসুল (সাঃ) থেকে কি শিখেছেন? রাসুল (সাঃ) যখন (কুবায়) আসেন তখন তিনি ছিলেন ছোট বালক। তিনি বলেন, রাসুল (সাঃ) একদিন আমাদের মসজিদে (অর্থাৎ কুবা মসজিদে) আসেন। তখন আমরা সেখানে গমন করি এবং তাঁর পাশে বসি। লোকেরাও তাঁর পাশে বসেন। অতঃপর তিনি নামাজ পড়তে দাঁড়ান। তখন আমি তাকে জুতা পরিহিত অবস্থায় নামাজ পড়তে দেখি’’ -মুসনাদ আহমাদ ৪০৫!
১০// আবদুল্লাহ ইবন মাস’উদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসুল (সাঃ)-কে মোজা ও জুতা পরে নামাজ পড়তে দেখেছি’’ -মুসনাদ আহমাদ ৪০৬!
১১// আবু সাইদ আল-খুদরী (রাঃ) সুত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসুলুল্লাহ (সাঃ) তাঁর সাহাবীদেরকে নিয়ে সলাত আদায়কালে তাঁর জুতাজোড়া খুলে তাঁর বাম পাশে রেখে দিলেন। এ দৃশ্য দেখে লোকেরাও তাঁদের জুতা খুলে রাখল। রাসুল (সাঃ) সালাত শেষে বললেনঃ ‘’জিবরীল (আঃ) আমার কাছে এসে আমাকে জানালেন, আপনার জুতাজোড়ায় অপবিত্র বস্তু লেগে আছে। তিনি আরও বললেন, তোমাদের কেউ মসজিদে প্রবেশ করলে সে যেন জমিনে তা ঘসে নিয়ে পরিধান করে সালাত আদায় করে’’। — আবু দাউদ ৬৫০; মুসনাদ আহমাদ ৪৬, ৪০০; দারিমী ১৩৭৮; ইবন খুজাইমাহ (২/৪৩১।
১২// আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “যখন তোমাদের কেউ (মসজিদে) সালাত আদায় করতে এসে নিজ জুতা জোড়া পা থেকে খুলে ফেলে তখন সে যেন তা দিয়ে কাউকে কষ্ট না দেয়। সে যেন জুতা জোড়া নিজ দু’ পায়ের মাঝখানে রাখে অথবা তা পরেই সালাত পড়ে”। –আবু দাউদ, হাদীস নং ৬৫৫।
১৩// অন্য বর্ণনায় রয়েছে, “যখন তোমাদের কেউ (মসজিদে) সালাত আদায় করতে আসে তখন সে যেন নিজ জুতা জোড়া পা থেকে খুলে নিজের ডানে কিংবা বাঁয়ে না রাখে। কারণ, তা সে ব্যক্তির বাঁ দিক হলেও তা কিন্তু অন্য মুসল্লির ডান দিক। তবে তার বাঁ দিকে কোনো মুসল্লি না থাকলে তা আর অন্য মুসল্লির ডান হচ্ছে না। বরং সে যেন তার জুতা জোড়া নিজ দু’ পায়ের মাঝখানেই রাখে”। –আবু দাউদ, হাদীস নং ৬৫৪।
কারোর পায়ে ফিতা বিশিষ্ট কোনো জুতা কিংবা মোজো পরা থাকলে যা পা থেকে খোলা খানিকটা কষ্টকর, তা হলে তা পরেই সালাত পড়া সুন্নাত: তবে মসজিদে ঢুকার পূর্বে নিজ জুতা জোড়া ভালোভাবে দেখে নিবে। তাতে কোনো নাপাক বা ময়লা দেখলে তা অতি সত্বর ভালোভাবে পরিষ্কার করে নিবে। যাতে করে মসজিদের কার্পেট, পাটি ইত্যাদি নষ্ট না হয়। অতঃপর তা পরেই সালাত পড়বে। তবে একটা বিষয় লক্ষ্য রাখবে, আজকাল প্রায় সব মসজিদে এমন ভাবে কার্পেটিং করা অথবা টাইলস করা আছে যে সেখানে জুতা নিয়ে যাওয়ার কোন বন্দোবস্ত নেই। তখন অবশ্যই জুতা খুলে মসজিদে প্রবেশ করবে।
১৪// শাদ্দাদ ইবন আউস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “তোমরা ইয়াহূদীদের বিরোধিতা করো। তথা জুতা কিংবা মোজা পরেই সালাত পড়ো। কারণ, ইয়াহূদীরা জুতা কিংবা মোজা পরে কখনো সালাত পড়ে না”। — আবু দাউদ, হাদীস নং ৬৫২ উপরোক্ত হাদিস থেকে এটাই প্রমাণ হয় যে জুতা খুলে নামাজ পড়ার সম্পূর্ণ অপশন থাকলেও মাঝেমধ্যেই জুতা পায়ে দিয়ে নামাজ পড়তে হবে কেননা ইহুদিদের বিরোধিতা করা ও এক প্রকার বড় রকমের নেকীর কাজ।
অনেকেরই মনে হয়তো প্রশ্ন আসতে পারে,- আমরা তো জুতা বা স্যান্ডেল খুলেই সালাত আদায় করি! এতে কি ইয়াহুদী-নাসারাদের অনুকরণ হচ্ছে? উত্তর হল, আমাদের জুতা খোলা ও তাদের জুতা খোলার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। আমরা জুতা খুলি পরিছন্নতার জন্য আর তারা জুতা খুলে পবিত্রতার জন্য। জুতা পরিচ্ছন্ন থাকলে একজন মুসলিম জুতা পরে সালাত আদায় করতে পারেন ও মসজিদে প্রবেশ করতে পারেন। কিন্তু ইয়াহুদী-নাসারা জুতা খোলাকে ইবাদতের অংশ ও ইবাদত গৃহের জন্য অসম্মানজনক বলে মনে করে। ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গিতে পাদুকা পায়ে মসজিদে প্রবেশ করলে মসজিদের পবিত্রতা নষ্ট হয় না, তবে পরিচ্ছন্নতা নষ্ট হতে পারে। যদি বুঝতে পারা যায় যে জুতা পায়ে দিয়ে মসজিদে প্রবেশ করলে পরিচ্ছন্নতা নষ্ট হবে তাহলে উচিত হল জুতা খুলেই মসজিদে প্রবেশ করবে। এবং পৃথিবীর মসজিদ গুলোর ৯৯% মসজিদে এখন জুতা খুলে যাওয়ারই সিস্টেম রাখা হয়েছে।। তবে যদি সন্দেহ হয় যে জুতাতে নাপাকি লেগে থাকতে পারে তাহলে মাটিতে কতক্ষণ ঘষে নেবে তবেই পবিত্র হয়ে যাবে। কেননা মাটি পানির মতোই পবিত্র। নাপাক জুতা মোজা পড়ে অথবা শরীরে নাপাকি লেগে থাকলে নামাজ হবে না।
👉👉 কেউ হয়তো প্রশ্ন করতে পারেন যে কোন ধরনের জুতা পরে নামাজ হবে আর কোন ধরনের পরে হবে না? মূলত এই জাতীয় প্রশ্ন হলো অবান্তর প্রশ্ন। জুতা মানে জুতা অর্থাৎ যা পা’য়ে পরা হয়। তা চামড়ার হোক, কাপড়ের হোক, কাগজের হোক, কিংবা আর্টিফিশিয়াল লেদারের হোক, বা প্লাস্টিকের হোক, জুতা হলেই হবে। হাদিসে কেবল জুতার কথা অর্থাৎ পাদুকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে ব্যাস এতটুকুই যথেষ্ট।
👉👉 কেউ হয়তো এ প্রশ্ন করতে পারেন যে, আমি কি সুন্নত পালন করার জন্য বাংলাদেশের বা অন্যান্য মসজিদ সমূহে জুতা পায়ে দিয়ে প্রবেশ করব?? মূলতঃ এ জাতীয় অহেতুক প্রশ্নের অবতারণা করা কোন বিষয়কে জটিল ও হাস্যকর করার নামান্তর। বর্তমানে পৃথিবীতে ৯০% এর উপরে মসজিদে জুতা নিয়ে প্রবেশ করার পদ্ধতি নেই। বরং যাতে জুতা পরে মসজিদে প্রবেশ করতে না হয় সেই সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে। মানুষ যাতে জুতা খুলে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন হয়ে মসজিদে প্রবেশ করতে পারে তার জন্য মসজিদের পাশেই অজুখানা এবং টিস্যু,গামছা ইত্যাদি সবকিছুর ব্যবস্থা করে রাখা হয়, ফলে বর্তমান সময়ে জুতা নিয়ে প্রবেশ করতেও হয় না আর এই জাতীয় পাগলামি করার কথা কেউ চিন্তাও করবে না। বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে এটাই ঠিক যে, আপনি জুতা নিয়ে মসজিদে প্রবেশ করবেন না কেননা সেখানে জুতা না নিয়ে প্রবেশ করার পরিবেশ ও সুযোগ সৃষ্টি করে রাখা হয়েছে। অতএব, সুযোগ সুবিধা থাকা সত্ত্বেও যে ব্যক্তি সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করে না তাকে পাগল ছাড়া আর কি বলা যায়? মসজিদে আপনার ওযুর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, আরামে নামাজ পড়ার জন্য কার্পেটের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, ফ্যান, এয়ার কন্ডিশনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, হাতমুখ মোছার জন্য কাপড় অথবা টিস্যুর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে । এত ব্যবস্থা সত্ত্বেও কেউ যদি জুতা নিয়ে মসজিদে প্রবেশ করে তাহলে তো তাকে পাবলিক তিরস্কার করবে অথবা পাগল বলবে। সাহাবায়ে কেরাম এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম তো কখনো আমাদের মত আধুনিক বাথরুমে প্রস্রাব-পায়খানা করতেন না বরং তিনি এই জাতীয় প্রয়োজন হলে লোকালয় থেকে দূরে আড়ালে চলে যেতেন। কিন্তু এখন যদি কেউ বলে যে টয়লেটে রাসুল প্রস্রাব-পায়খানা করেননি তাই এটাই সুন্নত। অতএব আমি বাইরে জঙ্গলে করব। আর টয়লেট থাকা সত্ত্বেও যদি এই অপকর্ম আপনি করেন, তাহলে আপনাকে কি করা দরকার?? অতএ বন্ধু,সহজ জিনিসটাকে জটিল করবেন না। প্রশ্ন করার ইচ্ছা থাকলে হাজারো প্রশ্ন তৈরি করা যায়।
👉👉 সর্বশেষ আরো একটি প্রশ্ন থেকে যায়, আর তা হল– নাপাক জুতা অথবা শরীরে নাপাকি নিয়ে অথবা নাপাক শরীর নিয়ে নামাজ শুদ্ধ হবে না এটাই সর্বসম্মতি মত। আমাদের বাংলাদেশ জুতার তলায় কাদা বা ধুলা মাটি ইত্যাদি লেগে থাকে। এ পর্যায়ে মনে রাখতে হবে,
প্রথমতঃ পথের ধুলা মাটি সব পবিত্র। বরং পানি না থাকলে ধুলামাটি দ্বারা তা এমন করে পবিত্রতা অর্জন করতে হয়।
দ্বিতীয়তঃ মাত্র তিন প্রকারের জিনিস অপবিত্র। আর তা হলো, ১. মানুষের মলমূত্র, ২.যে কোন নাপাক প্রাণী যেমন শুকর, কুকুর ইত্যাদি প্রাণীর মলমূত্র। ৩. যে কোন প্রাণীর পচা দুর্গন্ধযুক্ত মৃতদেহ । উপরোক্ত তিন প্রকারের বস্তুর শরীরে বা জুতার মধ্যে লেগে থাকলে তা সেই জুতা ও শরীর সহ নামাজ পড়া বৈধ নয়। বরং জুতা খুলে ফেলতে হবে আর শরীরে কোন জায়গায় লাগলে তা ধুয়ে ফেলতে হবে। উল্লেখ্য যে, পৃথিবীর সকল হালাল প্রাণীর মলমত্র অপবিত্র নয় এবং তা শরীরে বা জুতায় লেগে থাকলে সেই জুতা দিয়ে নামাজ হয়ে যাবে। এবং বিড়াল, বাঘ , সিংহ ইত্যাদি প্রাণী খাওয়া হারাম হলেও প্রাণীগুলো অপবিত্র নয়। এবং এই জাতীয় প্রাণীর মলপুত্র শরীরের লাগলেও বা জুতার তলায় থাকলেও নামাজ হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ।
ভারতে বর্ণপ্রথার এক করুণ চিত্র ফুটে উঠেছে ১৯৪৭ সালে মার্গারেট-বোর্ক হোয়াইটের তোলা এই ছবিতে। এখানে দেখা যাচ্ছে একজন উঁচু বর্ণের জমিদার বেশ নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে ও কোনো রকম শারীরিক স্পর্শ যাতে না হয় তা নিশ্চিত করে পাতায় মুড়িয়ে মজুরি দিচ্ছেন তার জন্য কাজ করা নিম্ন বর্ণের শ্রমিকদের বেতন দিচ্ছেন।
ভারতের বর্ণপ্রথা একটি সামাজিক স্তরবিন্যাস পদ্ধতি, যা সমাজকে বিভিন্ন শ্রেণিতে বিভক্ত করে। এই প্রথা মূলত দুটি ধারণার ওপর ভিত্তি করে গঠিত: ‘বর্ণ’ ও ‘জাতি’। বর্ণ ও জাতি: পার্থক্য ও সংজ্ঞা
বর্ণ: ‘বর্ণ’ শব্দের আক্ষরিক অর্থ ‘প্রকার’, ‘শ্রেণি’ বা ‘রঙ’। প্রাচীন ভারতে সমাজকে চারটি প্রধান বর্ণে বিভক্ত করা হয়েছিল:
ব্রাহ্মণ: পুরোহিত ও শিক্ষাবিদ
ক্ষত্রিয়: যোদ্ধা ও শাসক
বৈশ্য: ব্যবসায়ী ও কৃষক
শূদ্র: শ্রমিক ও সেবক
জাতি: ‘জাতি’ শব্দের অর্থ ‘জন্ম’। এটি সমাজের আরও সূক্ষ্ম বিভাজন নির্দেশ করে, যেখানে পেশা, অঞ্চল ও অন্যান্য সামাজিক বিষয়ের ভিত্তিতে হাজারো উপগোষ্ঠী রয়েছে। বর্ণপ্রথার বৈশিষ্ট্য বর্ণপ্রথার প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে রয়েছে:
জন্মগত সদস্যপদ: একজন ব্যক্তি যে বর্ণে জন্মগ্রহণ করেন, সাধারণত সেই বর্ণের সদস্যপদ বহন করেন।
এন্ডোগ্যামি: প্রত্যেক বর্ণের মধ্যে বিবাহ সম্পন্ন হয়; অন্য বর্ণের সঙ্গে বিবাহ সাধারণত নিষিদ্ধ।
পেশাগত নির্ধারণ: প্রত্যেক বর্ণের নির্দিষ্ট পেশা বা কাজ নির্ধারিত থাকে, যা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে চলে আসে।
সামাজিক পৃথকীকরণ: বিভিন্ন বর্ণের মধ্যে খাদ্য গ্রহণ, সামাজিক মেলামেশা ও বসবাসের ক্ষেত্রে পৃথকীকরণ বজায় থাকে। বর্ণপ্রথার উদ্ভব ঐতিহাসিকদের মতে, আর্যদের ভারতে আগমনের পর ঋগ্বৈদিক যুগে বর্ণপ্রথার সূচনা হয়। প্রথমে এই প্রথা পেশা ও কর্মের ভিত্তিতে ছিল, কিন্তু সময়ের সাথে সাথে এটি জন্মভিত্তিক হয়ে ওঠে। আধুনিক ভারতে বর্ণপ্রথা ভারতীয় সংবিধান বর্ণভিত্তিক বৈষম্য নিষিদ্ধ করেছে। তবে, সমাজে এখনও বর্ণপ্রথার প্রভাব দেখা যায়। সরকার তফসিলি জাতি ও উপজাতির জন্য সংরক্ষণ নীতি গ্রহণ করেছে, যাতে তাদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নতি নিশ্চিত হয়। বর্ণপ্রথা ভারতের সমাজে গভীর প্রোথিত একটি প্রথা, যা সময়ের সাথে সাথে পরিবর্তিত হয়েছে, তবে এর প্রভাব এখনও বিদ্যমান।