মৃত্যু হল পরকালীন Endless জীবনের প্রবেশ পথ। মৃত্যু মানব জীবনের শেষ নয়।

📕📕 মৃত্য জীবনের শেষ নয় বরং Endless life বা পরকালের অনন্ত জীবনে প্রবেশের পথ!
🇸🇦🇸🇦 আলহামদুলিল্লাহ, নাহমাদুহু ওয়া নুসাল্লি আলা রাসূলিহিল কারীম।
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ তা’য়ালার জন্য, শান্তি এবং কল্যাণ বর্ষিত হোক রাসূলুল্লাহ সঃ ও তাঁর পরিবারবর্গ, তাঁর বংশধর, তাঁর সাহাবায়ে কিরাম রাঃ ও সলেহ বা নেক বান্দাদের বান্দাগণের প্রতি।
আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নাই এবং মুহাম্মাদ সাঃ আল্লাহর বান্দা ও তার রসুল। নিশ্চয়ই শুভ পরিণতি কেবলমাত্র মুত্তাকীনদের জন্যই নির্ধারিত।

🇸🇦🇸🇦 মৃত্যু প্রত্যেক জীবের জন্য নির্ধারিত একটি সত্য ঘটনা। মৃত্যু না থাকলে এই দুনিয়ার জীবন দুর্বিষহ হয়ে পড়তো। তাই আল্লাহ এই দুনিয়া জীবনের মৃত্যু নির্ধারণ করেছেন।

🤔🤔জীবন-মৃত্যু সৃষ্টির লক্ষ্যঃ
আল্লাহ তা’য়ালা মানব জাতিকে দুনিয়ায় তাঁর খলিফা বা প্রতিনিধি হিসেবে কেবলমাত্র তাঁরই ইবাদত করার জন্য সৃষ্টি করেছেন। সৃষ্টির মানবাত্মাকে অন্ততঃ পাঁচটি জগতে অবস্থান করতে হবে। যথা- আলমে আরওয়াহ, আলমে দুনিয়া, আলমে বারযাখ, ইয়াওমুল হাশর এবং জান্নাত বা জাহান্নাম এর চিরস্থায়ী আবাসস্থল।
দুনিয়ার জীবন মানুষের ক্ষণস্থায়ী আবাসমাত্র। দুনিয়ায় আগমনের পর মৃত্যুর মাধ্যমে মানুষ অনন্ত জীবনে প্রবেশ করে। এই জীবন-মৃত্যু সৃষ্টির লক্ষ্য প্রসংগে আল্লাহ তা’য়ালা বলেন :

-“তোমাদের মধ্যে কে আমলে সবচেয়ে ভাল তা পরীক্ষা করার জন্য যিনি মৃত্যু ও জীবন সৃষ্টি করেছেন। তিনি মহাপরাক্রমশালী, অসীম ক্ষমাশীল।”

  • সূরা মুলকঃ আয়াত ২।

👉👉প্রত্যেক প্রাণকেই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবেঃ
দুনিয়ার জীবনের সবচেয়ে চরম সত্য হল মৃত্যু। ছলনাময় ভোগসামগ্রী দিয়ে দুনিয়ার জীবনকে সুশোভিত করে রাখা হয়েছে। আল্লাহ তা’য়ালা এই ছলনায় আকৃষ্ট না হয়ে মৃত্যু পরবর্তী অনন্ত জীবনের পাথেয় সংগ্রহের জন্য মানব জাতিকে নসিহত করেছেন। কারণ প্রত্যেক প্রাণকেই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। এ প্রসংগে তিনি বলেন :

-“প্রতিটি প্রাণই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবে। কিয়ামাতের দিন তোমাদের কাজের প্রতিফল তোমাদেরকে পুরোপুরিই দেয়া হবে। এরপর যাকে জাহান্নাম থেকে দূরে রাখা হবে এবং জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে, সেই সফল। আর দুনিয়ার জীবন ছলনাময় ভোগসামগ্রি ছাড়া আর কিছু নয়।” – [সূরা আলে ইমরানঃ আয়াত ১৮৫]

তিনি আরও বলেন :
-“প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। আমি তোমাদেরকে ভাল ও মন্দ দ্বারা পরীক্ষা করে থাকি এবং আমারই কাছে তোরা পত্যাবর্তিত হবে।”

  • সূরা আম্বিয়াঃ আয়াত ৩৫

তিনি আরও বলেন :
-“মৃত্যু যন্ত্রণা নিশ্চিতভাবেই আসবে, এ থেকেই তুমি টাল বাহানা করতে।”

  • সূরা ক্বফঃ আয়াত ১৯।

তিনি আরও বলেন :
“প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। অতঃপর তোমরা আমার কাছেই পত্যাবর্তিত হবে।” – —সূরা আনকাবুতঃ আয়াত ৫৭!

-“বলুন, তোমরা যে মৃত্যু থেকে পলায়নপর, সেই মৃত্যু অবশ্যই তোমাদের মুখামুখি হবে, অতঃপর তোমরা অদৃশ্য, দৃশ্যের জ্ঞানী আল্লাহর কাছে উপস্থিত হবে। তিনি তোমাদেরকে জানিয়ে দিবেন সেসব কর্ম, যা তোমরা করতে।” – (সূরা আল-জুমুয়াঃ আয়াত ৮)

তিনি আরও বলেন :
-“হে মানুষ, নিশ্চয় আল্লাহর ওয়াদা সত্য; অতএব দুনিয়ার জীবন যেন তোমাদেরকে কিছুতেই প্রতারিত না করে; আর বড় প্রতারক(শয়তান) যেন তোমাদেরকে আল্লাহর ব্যাপারে প্রতারণা না করে। নিশ্চয় শয়তান তোমাদের শত্রু, অতএব তাকে শত্রু হিসেবে গণ্য কর। সে তার দলকে কেবল এজন্যই ডাকে যাতে তারা জ্বলন্ত আগুনের অধিবাসী হয়।” – (সূরা আল ফাতিরঃ আয়াত ৫-৬)

🤔🤔প্রতিটি প্রাণের মৃত্যুকাল নির্ধারিতঃ

মানুষের মৃত্যুর সময় ও স্থান আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত। এর কোন পরিবর্তন নাই। মৃত্যু থেকে কোনভাবেই পলায়ন করা যায় না। মৃত্যুর নির্ধারিত সময়ের আগে বা পরে কোনক্রমেই কারও মৃত্যু আসে না। এ প্রসংগে আল্লাহ তা’য়ালা বলেন :

وَمَا كَانَ لِنَفْسٍ أَنْ تَمُوتَ إِلاَّ بِإِذْنِ الله كِتَابًا مُّؤَجَّلاً وَمَن يُرِدْ ثَوَابَ الدُّنْيَا نُؤْتِهِ مِنْهَا وَمَن يُرِدْ ثَوَابَ الآخِرَةِ نُؤْتِهِ مِنْهَا وَسَنَجْزِي الشَّاكِرِينَ

-“আল্লাহর হুকুম ছাড়া কেউ মরতে পারে না-সেজন্য একটা সময় নির্ধারিত রয়েছে। বস্তুতঃ যে লোক দুনিয়ায় বিনিময় কামনা করবে, আমি তাকে তা দুনিয়াতেই দান করব। পক্ষান্তরে-যে লোক আখেরাতে বিনিময় কামনা করবে, তা থেকে আমি তাকে তাই দেবো। আর যারা কৃতজ্ঞ তাদেরকে আমি প্রতিদান দেবো।” – [সূরা আলে-ইমরানঃ আয়াত ১৪৫]

তিনি আরও বলেন :

نَحْنُ قَدَّرْنَا بَيْنَكُمُ الْمَوْتَ وَمَا نَحْنُ بِمَسْبُوقِينَ 0

  • “আমি তোমাদের মৃত্যুকাল নির্ধারণ করেছি আর এ ব্যাপারে আমি অক্ষম নই।”
  • [সূরা ওয়াক্বিয়াঃ আয়াত ৬০]

তিনি আরও বলেন :

أَيْنَمَا تَكُونُوا يُدْرِكُكُمُ الْمَوْتُ وَلَوْ كُنْتُمْ فِي بُرُوجٍ مُشَيَّدَةٍ وَإِنْ تُصِبْهُمْ حَسَنَةٌ يَقُولُوا هَذِهِ مِنْ عِنْدِ اللَّهِ وَإِنْ تُصِبْهُمْ سَيِّئَةٌ يَقُولُوا هَذِهِ مِنْ عِنْدِكَ قُلْ كُلٌّ مِنْ عِنْدِ اللَّهِ فَمَالِ هَؤُلَاءِ الْقَوْمِ لَا يَكَادُونَ يَفْقَهُونَ حَدِيثًا0

  • “তোমরা যেখানেই থাক না কেন, মৃত্যু তোমাদের নাগাল পাবেই, এমনকি তোমরা যদি সুউচ্চ সুরক্ষিত দুর্গেও থাক। যদি তাদের কোন কল্যাণ হয় তাহলে তারা বলে: এটা আল্লাহর নিকট থেকে। আর তাদের যদি কোন অমঙ্গল হয়, তারা বলে: এটা আপনার পক্ষ থেকে। হে নবী (স)! আপনি বলে দিন: কল্যাণ-অকল্যাণ সবকিছুই আল্লাহর নিকট থেকে। আর এসব লোকের কী হল যে, তারা কোন কথাই বোঝে না!” – [সূরা নিসাঃ আয়াত ৭৮]

তিনি আরও বলেন :

اللَّهُ يَتَوَفَّى الْأَنْفُسَ حِينَ مَوْتِهَا وَالَّتِي لَمْ تَمُتْ فِي مَنَامِهَا فَيُمْسِكُ الَّتِي قَضَى عَلَيْهَا الْمَوْتَ وَيُرْسِلُ الْأُخْرَى إِلَى أَجَلٍ مُسَمًّى إِنَّ فِي ذَلِكَ لَآَيَاتٍ لِقَوْمٍ يَتَفَكَّرُونَ 0

  • “নিশ্চয় আল্লাহ মৃত্যুর সময় মানুষের জান কবয করেন এবং যাদের মৃত্যুর সময় হয়নি, তাদের জান কবয করেন ঘুমের সময়। এরপর তিনি যার মৃত্যুর সিদ্ধান্ত নেন তার জান রেখে দেন এবং অন্যদের জান একটি নির্ধারিত সময়ের জন্য ফিরিয়ে দেন। এরমধ্যে অবশ্যই চিন্তাশীল লোকদের জন্য নিদর্শন আছে।” – [সূরা জুমারঃ আয়াত ৪২]

قُلْ يَتَوَفَّاكُمْ مَلَكُ الْمَوْتِ الَّذِي وُكِّلَ بِكُمْ ثُمَّ إِلَى رَبِّكُمْ تُرْجَعُونَ 0

  • “(হে রাসূল!) আপনি বলুন, তোমাদের প্রাণ হরণের দায়িত্বে নিয়োজিত ফিরিশতা তোমাদের প্রাণ হরণ করবে, অতঃপর তোমরা তোমাদের পালনকর্তার কাছেই পত্যাবর্তিত হবে।” – [সূরা সিজদাহঃ আয়াত ১১]

তিনি আরও বলেন :

إِنَّ اللَّهَ عِندَهُ عِلْمُ السَّاعَةِ وَيُنَزِّلُ الْغَيْثَ وَيَعْلَمُ مَا فِي الْأَرْحَامِ وَمَا تَدْرِي نَفْسٌ مَّاذَا تَكْسِبُ غَدًا وَمَا تَدْرِي نَفْسٌ بِأَيِّ أَرْضٍ تَمُوتُ إِنَّ اللَّهَ عَلِيمٌ خَبِيرٌ0

  • “নিশ্চয় কিয়ামাতের জ্ঞান রয়েছে একমাত্র আল্লাহর, তিনিই বৃষ্টি বর্ষণ করেন এবং তিনিই জানেন জরায়ুতে কী আছে। কেউ জানে না, আগামিকাল সে কী অর্জন করবে এবং কেউ জানে না, কোন স্থানে সে মৃত্যুবরণ করবে। নিশ্চয় আল্লাহ সবকিছু জানেন, সব বিষয়ের খবর রাখেন।” – [সূরা লোকমানঃ আয়াত ৩৪]

🇸🇦🇸🇦মৃত্যু উপস্থিত হলে সবাই আফসোস করবেঃ
যখন কারো মৃত্যুর নির্ধারিত সময় উপস্থিত হবে, তখন সবাই আফসোস করবে। বদকার হলে এ জন্য আফসোস করবে যে, কেন সে নেক কাজ করল না। আর নেককার হলে আফসোস করবে যে, কেন সে আরও অধিক নেক কাজ করল না। এ প্রসংগে আল্লাহ বলেন :

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آَمَنُوا لَا تُلْهِكُمْ أَمْوَالُكُمْ وَلَا أَوْلَادُكُمْ عَنْ ذِكْرِ اللَّهِ وَمَنْ يَفْعَلْ ذَلِكَ فَأُولَئِكَ هُمُ الْخَاسِرُونَ 0 وَأَنْفِقُوا مِنْ مَا رَزَقْنَاكُمْ مِنْ قَبْلِ أَنْ يَأْتِيَ أَحَدَكُمُ الْمَوْتُ فَيَقُولَ رَبِّ لَوْلَا أَخَّرْتَنِي إِلَى أَجَلٍ قَرِيبٍ فَأَصَّدَّقَ وَأَكُنْ مِنَ الصَّالِحِينَ 0 وَلَنْ يُؤَخِّرَ اللَّهُ نَفْسًا إِذَا جَاءَ أَجَلُهَا وَاللَّهُ خَبِيرٌ بِمَا تَعْمَلُونَ 0

-“হে মুমিনগণ! তোমাদের অর্থ-সম্পদ এবং তোমাদের সন্তুান-সন্তুতি যেন তোমাদেরকে আল্লাহর স্মরণ থেকে বিরত না রাখে। যারা আল্লাহর যিকর থেকে বিরত থাকে, তারাই (দুনিয়া ও আখিরাতে) ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তোমাদের কারো মৃত্যু উপস্থিত হওয়ার আগেই আমি তোমাদেরকে যে জীবিকা দিয়েছি তোমরা সেখান থেকে দান কর। যে তা করবে না সে মৃত্যু উপস্থিত হলে বলবে: হে আমার প্রতিপালক! আমাকে যদি আরো কিছু দিনের সুযোগ দিতেন তাহলে আমি (মুক্ত হস্তে সম্পদের) সাদাকা দিতাম এবং সৎকর্মশীল লোকদের অন্তর্ভুক্ত হতাম। কিন্তু যখন কারো মৃত্যুর নির্ধারিত সময় উপস্থিত হবে, তখন আল্লাহ তাকে কোনক্রমেই (মৃত্যুর সময় আগে পরে করার) কোন সুযোগ দেবেন না। তোমরা যা কর আল্লাহ সে সম্পর্কে সকল খবরই জানেন।” -[সূরা মুনাফিক্বূনঃ আয়াত ৯-১১]

তিনি আরও বলেন :

حَتَّى إِذَا جَاءَ أَحَدَهُمُ الْمَوْتُ قَالَ رَبِّ ارْجِعُونِ (99) لَعَلِّي أَعْمَلُ صَالِحًا فِيمَا تَرَكْتُ كَلَّا إِنَّهَا كَلِمَةٌ هُوَ قَائِلُهَا وَمِنْ وَرَائِهِمْ بَرْزَخٌ إِلَى يَوْمِ يُبْعَثُونَ (100)

  • “যখন তাদের কারও কাছে মৃত্যু আসে, তখন সে বলে, হে আমার পালণকর্তা ! আমাকে পুনরায় (দুনিয়াতে ) প্রেরণ করুন, যাতে আমি সৎকর্ম করতে পারি। কখনোই নয়, এ তো তার একটি কথার কথা মাত্র। আর তাদের সামনে পর্দা রয়েছে পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত।” – [সূরা আল-মুমিনুনঃ আয়াত ৯৯-১০০]

🇸🇦🇸🇦মুমিন বা ইমানদাদের মৃত্যুকালীন অবস্থাঃ
রূহ তখন তার স্বাধীনতা ও দুনিয়ার মহব্বত স্বেচ্ছায় বিসর্জন দিয়ে আল্লাহকেই রব হিসাবে ঘোষণা দেয় এবং এর উপর কায়েম থাকে তখন তার জীবন ধারা আল্লাহ তা’য়ালার পছন্দনীয় পথে পরিচালিত হয়। মৃত্যুকালীন মহান প্রভু আল্লাহ তা’য়ালার পক্ষ থেকে সুসংবাদ নিয়ে তার কাছে ফিরিশতাগণ আগমন করেন। আল্লাহ তা’য়ালা বলেন :

إِنَّ الَّذِينَ قَالُوا رَبُّنَا اللَّهُ ثُمَّ اسْتَقَامُوا تَتَنَزَّلُ عَلَيْهِمُ الْمَلَائِكَةُ أَلَّا تَخَافُوا وَلَا تَحْزَنُوا وَأَبْشِرُوا بِالْجَنَّةِ الَّتِي كُنْتُمْ تُوعَدُونَ ০ نَحْنُ أَوْلِيَاؤُكُمْ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَفِي الْآَخِرَةِ وَلَكُمْ فِيهَا مَا تَشْتَهِي أَنْفُسُكُمْ وَلَكُمْ فِيهَا مَا تَدَّعُونَ ০ نُزُلًا مِنْ غَفُورٍ رَحِيمٍ ০

-“নিশ্চয়ই যারা বলে আমাদের প্রভু হচ্ছেন আল্লাহ, অতঃপর তারা অটল রয়েছে, তাদের প্রতি ফিরিশতা অবতীর্ণ হয়, (এবং বলে) তোমরা ভয় পেয়ো না, চিন্তা করো না আর সেই জান্নাতের সুসংবাদ গ্রহন কর যার প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে। পার্থিব জীবনেও আমরা তোমাদের বন্ধু ছিলাম এবং পরকালেও থাকব, তোমাদের জন্য সেথায় রয়েছে, যা কিছু তোমাদের বাসনা হবে আর তাও মজুদ রয়েছে, যা কিছু তোমরা চাইবে। আর এগুলো ক্ষমাশীল ও করুণাময়ের পক্ষ থেকে মেহমানদারী।” – (সূরা হা মীম সিজদা : আয়াত ৩০-৩২)

মুমিন বান্দাগনের মৃত্যু কষ্টদায়ক হয় না। জীবন হরণকারী ফিরিশতা আত্মাকে আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে সন্তুষ্টির সাথে বের হয়ে আশার নির্দেশ দেয়ার সাথে সে হাসিমুখে বের হয়ে আসে। এমন আত্মার পরিত্যাক্ত দেহের মুখে তাই মৃত্যুর পরও হাসি লেগে থাকে। এ প্রসংগে আল্লাহ বলেন :

يَا أَيَّتُهَا النَّفْسُ الْمُطْمَئِنَّةُ 0 رْجِعِي إِلَى رَبِّكِ رَاضِيَةً مَّرْضِيَّةً 0 فَادْخُلِي فِي عِبَادِي 0 وَادْخُلِي جَنَّتِ

  • “হে প্রশান্ত আত্মা! তুমি তোমার প্রভুর দিকে এমনভাবে ফিরে আস যে, তুমি তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট আর তিনিও তোমার প্রতি সন্তুষ্ট। অতঃপর শামীল হয়ে যাও আমার বিশিষ্ট বান্দাগণের মধ্যে আর দাখিল হয়ে যাও আমার জান্নাতে।” – (সূরা আল-ফাজরঃ আয়াত ২৭-৩০)

👉👉গুনাহগার বা অপরাধীদের মৃত্যুকালীন অবস্থাঃ
কাফির, মুশরিক, মুনাফিক, তাগুত, জালিম ও পাপাচারী বান্দাগনের মৃত্যু মারাত্মক কষ্টদায়ক হয়। আল্লাহর পক্ষ থেকে তাদের অনন্ত জীবনের জন্য অবধারিত শাস্তি মৃত্যুর সময় থেকেই শুরু হয়ে যায়। জীবন হরণকারী ফিরিশতা তাদের উপর চড়াও হয়ে মারাত্মক কষ্ট দিয়ে তাদের আত্মা কবজ করে থাকেন। এ প্রসংগে মহাণ আল্লাহ তা’য়ালা বলেন :

….. وَلَوْ تَرَى إِذِ الظَّالِمُونَ فِي غَمَرَاتِ الْمَوْتِ وَالْمَلَائِكَةُ بَاسِطُو أَيْدِيهِمْ أَخْرِجُوا أَنْفُسَكُمُ الْيَوْمَ تُجْزَوْنَ عَذَابَ الْهُونِ بِمَا كُنْتُمْ تَقُولُونَ عَلَى اللَّهِ غَيْرَ الْحَقِّ وَكُنْتُمْ عَنْ آَيَاتِهِ تَسْتَكْبِرُونَ 0

“…….. আপনি যদি দেখতেন, যখন যালিমরা মৃত্যু যন্ত্রণায় থাকবে, ফেরেশতাগণ হাত বাড়িয়ে বলবেন: তোমাদের প্রাণ বের করে দাও। আজ তোমাদেরকে অপমানকর শাস্তি দেয়া হবে কেননা তোমরা আল্লাহ সম্পর্কে অশোভন কথা বলতে ও তাঁর আয়াতসমূহ কবূল করার ব্যাপারে অহঙ্কার করতে।” – [সূরা আনআমঃ আয়াত ৯৩]

তিনি আরও বলেন :

وَلَوْ تَرَى إِذْ يَتَوَفَّى الَّذِينَ كَفَرُواْ الْمَلآئِكَةُ يَضْرِبُونَ وُجُوهَهُمْ وَأَدْبَارَهُمْ وَذُوقُواْ عَذَابَ الْحَرِيقِ0
ذَلِكَ بِمَا قَدَّمَتْ أَيْدِيكُمْ وَأَنَّ اللّهَ لَيْسَ بِظَلاَّمٍ لِّلْعَبِيدِ0

-“আপনি যদি দেখতে পেতেন, যখন ফেরেশতাগণ কাফিরদের হত্যা করে এবং তাদের মুখে ও পিঠে আঘাত করে আর তাদেরকে বলে : তোমরা আগুনে পোড়ার শাস্তি ভোগ কর – এ শাস্তি তার (সে অপকর্মের) বিনিময় যা তোমাদের হাত আগেই প্রেরণ করেছে। নিশ্চয় আল্লাহ তাঁর বান্দাদের প্রতি অত্যাচারী নন।” – (সূরা আনফালঃ আয়াত ৫০-৫১)

🇸🇦🇸🇦শহীদদের মৃত্যু কষ্ট হবে নাঃ
হযরত আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মওতের ছোঁয়া একজন শহীদের কাছে তেমন, যেমনটি তোমাদেরকে কেউ চিমটি কাটলে অনুভব করে।” – (তিরমিযী, নাসায়ী ও দারেমী)

মৃত ব্যক্তির জানাজার খাটিয়া বহণকালীন অবস্থার বিবরণঃ

হযরত আবূ সাঈদ খুদরী রাদ্বিয়াল্লা-হু আনহু কর্তৃক বর্ণিত । তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লা-হু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যখন জানাযা খাটে রাখা হয় এবং লোকেরা অথবা পুরুষেরা কাঁধে বহন করতে শুরু করে, তখন সে নেককার হলে বলতে থাকে, ‘আমাকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাও।’ আর বদকার হলে সে বলতে থাকে, ‘হায় ধ্বংস আমার ! তোমরা আমাকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছ ?’ মানুষ ছাড়া সবাই তার শব্দ শুনতে পায়। মানুষ তা শুনলে জ্ঞান হারিয়ে ফেলত (বা মারা যেত)”।-[বুখারীঃ ১৩১৪,১৩১৬,১৩৮০]

মুর্দাকে কবরে রেখে সবাই ফিরে যায়, শুধু তার আমল সাথে থেকে যায়ঃ হযরত আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “করে; তার পরিবার-পরিজন, তার ধন-সম্পদ এবং তার আমল। এসবের দু’টি ফিরে আসে এবং শুধু তার আমল তার সাথে থেকে যায়।” -[বুখারী: ৬০৩৩]

✅✅পরকালের অনন্ত জীবনে প্রবেশ পথের বিবরণঃ

হযরত বারা ইবনে আযেব রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক আনসারী ব্যক্তির দাফন-কাফনের জন্য আমরা একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সাথে বের হলাম। আমরা কবরের কাছে পৌছে গেলাম তখনও কবর খোড়া শেষ হয়নি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সেখানে বসলেন। আমরা তাঁর চার পাশে এমনভাবে বসে গেলাম যেন আমাদের মাথার উপর পাখি বসেছে। আর তাঁর হাতে ছিল চন্দন কাঠ যা দিয়ে তিনি মাটির উপর মৃদু পিটাচ্ছিলেন। তিনি তখন মাথা জাগালেন আর বললেন : তোমরা কবরের শাস্তি থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করো। কথাটি তিনি দু বার কিংবা তিন বার বললেন।

অতঃপর তিনি আরো বললেন : যখন কোন ঈমানদার বান্দা পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়ে আখেরাতের দিকে যাত্রা করে তখন আকাশ থেকে তার কাছে ফেরেশতা আসে। তাদের চেহারা থাকবে সূর্যের মত উজ্জল। তাদের সাথে থাকবে জান্নাতের কাফন ও সুগন্ধি। তারা তার চোখ বন্ধ করা পর্যন্ত তার কাছে বসে থাকবে। মৃত্যুর ফেরেশতা এসে তার মাথার কাছে বসবে। সে বলবে, হে সুন্দর আত্মা! তুমি আল্লাহ তাআলার ক্ষমা ও তার সন্তুষ্টির দিকে বেরিয়ে এসো। আত্মা বেরিয়ে আসবে যেমন বেড়িয়ে আসে পান-পাত্র থেকে পানির ফোটা। সে আত্মাকে গ্রহণ করে এক মুহুর্তের জন্যেও ছাড়বে না। তাকে সেই জান্নাতের কাফন পরাবে ও সুগন্ধি লাগাবে। পৃথিবিতে যে মিশক আছে সে তার চেয়ে বেশী সুগন্ধি ছড়াবে। তাকে নিয়ে তারা আসমানের দিকে যেতে থাকবে। আর ফেরেশতাদের প্রতিটি দল বলবে, কে এই পবিত্র আত্মা? তাদের প্রশ্নের উত্তরে তারা তার সুন্দর নাম নিয়ে বলবে যে, অমুক অমুকের ছেলে। এমনিভাবে প্রথম আসমানে চলে যাবে। তার জন্য প্রথম আসমানের দরজাগুলো খুলে দেয়া হবে। এমনি করে প্রতিটি আসমান অতিক্রম করে যখন সপ্তম আসমানে যাবে। তখন আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলবেন : আমার বান্দা আমলনামাটা ইল্লিয়ীনে লিখে দাও। আর আত্মাটা দুনিয়াতে তার দেহের কাছে পাঠিয়ে দাও। এরপর কবরে প্রশ্নোত্তরের জন্য দুজন ফেরেশতা আসবে। তারা প্রশ্ন করবে, তোমার প্রভূ কে? সে বলবে, আমার প্রভূ আল্লাহ। তারা প্রশ্ন করবে, তোমার ধর্ম কি? সে উত্তর দেবে, আমার ধর্ম ইসলাম। তারা প্রশ্ন করবে, এই ব্যক্তিকে কি চেন, যাকে তোমাদের কাছে পাঠানো হয়েছে? সে উত্তরে বলবে, তিনি আল্লাহর রাসূল। তারা বলবে, তুমি কিভাবে জানলে? সে উত্তরে বলবে, আমি আল্লাহর কিতাব পাঠ করেছি, তার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করেছি এবং তাকে সত্য বলে স্বীকার করেছি। তখন আসমান থেকে একজন আহবানকারী বলবে : আমার বান্দা অবশ্যই সত্য বলেছে। তাকে জান্নাতের বিছানা বিছিয়ে দাও। তার কবর থেকে জান্নাতের একটি দরজা খুলে দাও। জান্নাতের সুঘ্রাণ ও বাতাস আসতে থাকবে। যতদূর চোখ যায় ততদূর কবর প্রশস্ত করে দেয়া হবে।

এ সময় তার কাছে সুন্দর চেহারার সুন্দর পোশাক পরিহিত সুগন্ধি ছড়িয়ে এক ব্যক্তি আসবে। সে তাকে বলবে, তুমি সুসংবাদ নাও। সূখে থাকো। দুনিয়াতে এ দিনের ওয়াদা দেয়া হচ্ছিল তোমাকে। মৃত ব্যক্তি সুসংবাদ দাতা এ ব্যক্তিকে সে জিজ্ঞেস করবে, তুমি কে? সে উত্তরে বলবে, আমি তোমার নেক আমল (সৎকর্ম)। তখন সে বলবে, হে আমার রব! কেয়ামত সংঘটিত করুন! হে আমার রব! কেয়ামত সংঘটিত করুন! যেন আমি আমার সম্পদ ও পরিবারের কাছে ফিরে যেতে পারি।

আর যখন কোন কাফের দুনিয়া থেকে বিদায় হয়ে আখেরাত পানে যাত্রা করে তখন তার কাছে কালো চেহারার ফেরেশতা আগমন করে। তার সাথে থাকে চুল দ্বারা তৈরী কষ্ট দায়ক কাপড়। তারা চোখ বুজে যাওয়া পর্যন্ত তার কাছে বসে থাকে। এরপর আসে মৃত্যুর ফেরেশতা। তার মাথার কাছে বসে বলে, হে দুর্বিত্ত পাপিষ্ট আত্মা বের হয়ে আল্লাহর ক্রোধ ও গজবের দিকে চলো। তখন তার দেহে প্রচন্ড কম্পন শুরু হয়। তার আত্মা টেনে বের করা হয়, যেমন আদ্র রেশমের ভিতর থেকে লোহার ব্রাশ বের করা হয়। যখন আত্মা বের করা হয় তখন এক মুহুর্তের জন্যও ফেরেশতা তাকে ছেড়ে দেয় না। সেই কষ্টদায়ক কাপড় দিয়ে তাকে পেচিয়ে ধরে। তার লাশটি পৃথিবীতে পড়ে থাকে। আত্মাটি নিয়ে যখন উপরে উঠে তখন ফেরেশতারা বলতে থাকে কে এই পাপিষ্ট আত্মা? তাদের উত্তরে তার নাম উল্লেখ করে বলা হয় অমুক, অমুকের ছেলে। প্রথম আসমানে গেলে তার জন্য দরজা খোলার অনুরোধ করা হলে দরজা খোলা হয় না।

এ সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ আয়াতটি পাঠ করলেন: “ তাদের জন্য আসমানের দরজাসমূহ খোলা হবে না এবং তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে না, যতক্ষণ না উট সূঁচের ছিদ্রতে প্রবেশ করে। -(সূরা আরাফ, আয়াত ৪০) অতঃপর আল্লাহ তাআলা বলবেন, তার আমলনামা সিজ্জীনে লিখে দাও যা সর্ব নিম্ন স্তর। এরপর তার আত্মাকে পৃথিবীতে নিক্ষেপ করা হবে।এ কথা বলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ আয়াতটি পাঠ করেন : “আর যে আল্লাহর সাথে শরীক করে, সে যেন আকাশ থেকে পড়ল। অতঃপর পাখি তাকে ছোঁ মেরে নিয়ে গেল কিংবা বাতাস তাকে দূরের কোন জায়গায় নিক্ষেপ করল।” -(সূরা আল হজ, আয়াত : ৩১)

অতঃপর তার দেহে তার আত্মা চলে আসবে। দুই ফেরেশতা আসবে। তাকে বসাবে। এরপর তাকে জিজ্ঞেস করবে, তোমার প্রভূ কে? সে বলবে,হায়! হায়! আমি জানি না। তারা তাকে আবার জিজ্ঞেস করবে, তোমার ধর্ম কি? সে বলবে, হায়! হায়!! আমি জানি না। তারপর জিজ্ঞেস করবে, এ ব্যক্তি কে যাকে তোমাদের মধ্যে পাঠানো হয়েছিল? সে উত্তর দেবে, হায়! হায়! আমি জানি না। তখন আসমান থেকে এক আহবানকারী বলবে, সে মিথ্যা বলেছে। তাকে জাহান্নামের বিছানা বিছিয়ে দাও। জাহান্নামের একটি দরজা তার জন্য খুলে দাও। জাহান্নামের তাপ ও বিষাক্ততা তার কাছে আসতে থাকবে। তার জন্য কবরকে এমন সঙ্কুচিত করে দেয়া হবে যাতে তার হাড্ডিগুলো আলাদা হয়ে যাবে।

এ সময় তার কাছে এক ব্যক্তি আসবে যার চেহার বিদঘুটে, পোশাক নিকৃষ্ট ও দুর্গন্ধময়। সে তাকে বলবে, যে দিনের খারাপ পরিণতি সম্পর্কে তোমাকে বলা হয়েছিলো তা আজ উপভোগ করো। সে এই বিদঘুটে চেহারার লোকটিকে জিজ্ঞেস করবে, তুমি কে? সে বলবে, আমি তোমার অসৎকর্ম। এরপর সে বলবে, হে প্রভূ! আপনি যেন কেয়ামত সংঘটিত না করেন। -(আহমদ, আবু দাউদ, হাকেম)

👉👉 মৃত্যুর পর অথবা কবরে রাখার পরে ঈমানী পরীক্ষার বিবরণঃ
আনাস রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাঃ বলেছেনঃ “কোনো বান্দাকে যখন তার কবরে রাখা হয়, অতঃপর তার সঙ্গী সাথীরা ফিরে যায়, এমনকি ঐ মৃত ব্যক্তি তাদের চলন্ত অবস্থায় জুতার আওয়াজ শুনতে পায়। তখন তার নিকট দুজন ফেরেশতা আগমন করে, অতঃপর তারা তাকে উঠিয়ে বসায় এবং জিজ্ঞাসা করে, মুহাম্মদ সা. কে ? তখন মৃত ব্যক্তি মুমিন হলে বলে, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, তিনি আল্লাহর বান্দা ও রাসূল। তখন তাকে বলা হয়, তুমি তোমার জাহান্নামের স্থানটি দেখে নাও। আল্লাহ্ ইহা জান্নাতের বিনিময়ে তোমার জন্য পরিবর্তন করে দিয়েছেন। নবীজি সা. বলেন, তখন সেই ব্যক্তি উভয় স্থানটি দেখতে পায়। আর যদি মৃত ব্যক্তি কাফের বা মুনাফিক হয়, তাহলে সে বলতে থাকে, আমি কিছুই জানি না। লোকেরা যা বলতো আমিও তাই বলতাম। তখন তাকে বলা হয় তুমি কিছুই জানার চেষ্টা করোনি এবং কিছুই পড়নি। অতঃপর লোহার হাতুড়ি বা মুগুর দিয়ে তার ঘাড়ে আঘাত করা হয় ফলে সে এত জোরে চিৎকার করে যে, জ্বীন ও মানব জাতি ছাড়া আশে পাশের সবাই তা শুনতে পায়।”
-সহীহ বুখারী, সহীহ মুসলীম।
অন্য একটি বর্ণনায়ঃ আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন : “যখন তোমাদের মধ্য হতে কোন মৃত ব্যক্তিকে কবর দেয়া হয় তখন কালো ও নীল বর্ণের দু জন ফেরেশতা আগমন করে। একজনের নাম মুনকার অন্যজনের নাম হল নাকীর। তারা তাকে জিজ্ঞেস করে, এই ব্যক্তি সম্পর্কে তোমরা কী বলতে? সে বলবে, সে আল্লাহর বান্দা ও রাসূল। আমি স্বাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল। তখন ফেরেশতাদ্বয় বলবে, আমরা আগেই জানতাম তুমি এ উত্তরই দেবে।এরপর তার কবরকে সত্তর হাত প্রশস্ত করে দেয়া হয়। সেখানে আলোর ব্যবস্থা করা হয়। এরপর তাকে বলা হয়, এখন তুমি নিদ্রা যাও। সে বলবে, আমি আমার পরিবারের কাছে ফিরে যাবো, তাদেরকে (আমার অবস্থা সম্পর্কে) এ সংবাদ দেব। তখন ফেরেশতাদ্বয় তাকে বলে, তুমি ঘুমাও সেই নব বধুর মত যাকে তার প্রিয়জন ব্যতীত কেহ জাগ্রত করে না। এমনিভাবে একদিন আল্লাহ তাকে জাগ্রত করবেন।

আর যদি সে ব্যক্তি কাফির বা মুনাফিক হয়, সে উত্তর দেবে আমি তাঁর (রাসূলুল্লাহ) সম্পর্কে মানুষকে যা বলতে শুনেছি তাই বলতাম। বাস্তব অবস্থা আমি জানি না। তাকে ফেরেশ্‌তাদ্বয় বলবে, আমরা জানতাম, তুমি এই উত্তরই দেবে। তখন মাটিকে বলা হবে তার উপর চাপ সৃষ্টি করো।মাটি এমন চাপ সৃষ্টি করবে যে, তার হাড্ডিগুলো আলাদা হয়ে যাবে। কেয়ামত সংঘটনের সময় তার উত্থান পর্যন্ত এ শাস্তি অব্যাহত থাকবে।” -(তিরমিজী, তিনি বলেছেন হাদীসটি হাসান গরীব। আলবানী রহ. বলেছেন হাদীসটির সুত্র হাসান। হাদীসটি ইমাম মুসলিমের বিশুদ্ধতার শর্তে উত্তীর্ণ)

শহীদের কবরের প্রশ্ন করা হবে নাঃ হযরত রাশেদ বিন সা’দ জনৈক সাহাবী থেকে বর্ণনা করেছেন- কোনো এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! কবরে সকল মুমিনের পরীক্ষা হবে, কিন্তু শহীদের হবে না, এর কারণ কি? হুজুর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জবাবে বলেন: তার মাথার ওপর তলোয়ার চমকানোই তার পরীক্ষার জন্যে যথেষ্ট”।

  • সুনানে নাসায়ী।

✅✅পেশাব শেষে পবিত্র না হওয়া চোগলখুরীর কারণেও বারযাখের জীবনে বা কবরে আজাব হয়ঃ

ইবনে আব্বাস রাঃ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, “নবী সাঃ একবার মদীনা বা মক্কার কোন এক বাগানের কাছ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি এমন দুব্যাক্তির আওয়াজ শুনতে পেলেন, যাদের কবরে আযাব হচ্ছিল। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহে অসাল্লাম) বললেন: এদের দুজনকে আযাব দেয়া হচ্ছে, অথচ কোন বড় গুনাহের জন্য এদের আযাব দেয়া হচ্ছে না। তারপর তিনি বললেন: হ্যাঁ, এদের একজন তার পেশাবের নাপাকি থেকে সতর্কতা অবলম্বন করতো না। আর একজন চোগলখুরী করত। তারপর তিনি একটি খেজুরের ডাল আনালেন এবং তা ভেঙ্গে দু’খন্ড করে প্রত্যেকের কবরের উপর একখন্ড রাখলেন। তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হল, ইয়া রাসূলুল্লাহ! এরুপ কেন করলেন? তিনি বললেন: হয়ত তাদের আযাব কিছুটা লাঘব করা হবে, যতদিন পর্যন্ত এ দুটি না শুকায়।” – (বুখারীঃ হাদিস নং: ২১৬)

✅✅আখেরাতের প্রথম মঞ্জিল হল কবরঃ
উসমান রাঃ যখন কবরের পাশ দিয়ে যেতেন এতটাই কাঁদতেন যে তার দাড়ি ভিজে যেত।
মানুষ তাঁকে জিজ্ঞাসা করতেন,”আপনি জান্নাত – জাহান্নামের কথা শুনলে কাঁদেন না, অথচ কবরের কথা ভাবলেই এত কেঁদে ওঠেন!?” তিনি বললেন, রাসুল সাঃ কে বলতে শুনেছি : “কবর হচ্ছে আখিরাতের বাসস্থানসমূহের মাঝে প্রথমটি। যদি এখানে সে পরিত্রাণ পেয়ে যায়, তবে এরপর যা আসবে সবই তার জন্য আরও সহজ হয়ে যাবে। আর যদি এখানে সে পরিত্রাণ না পায় তবে তার জন্যপরে আরও কঠিন দুর্দশা অপেক্ষা করছে।” তিনি সাঃ আরও বলেন – “আমি এমন কোনও দৃশ্য দেখিনি যার চাইতে কবর অধিক ভয়াবহ নয়।”
-আত-তিরমিযী, ইবন মাজাহ ও আল-হাকিম।

✅✅সব মৃত্যুবরণকারীগণ লজ্জিত ও অনুতপ্ত হয়ঃ
আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাঃ বলেছেনঃ
“যে ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করে, সে লজ্জিত ও অনুতপ্ত হয়। সাহাবায়ে কেরাম জিজ্ঞাসা করলেন, এই অনুশোচনার কারণ কী? রাসূলুল্লাহ সাঃ বললেন, যদি সে নেককার হয় তবে এই কারণে অনুতপ্ত হয় যে, কেনো সে আরো অধিক নেককাজ করেনি। আর যদি লোকটা গুনাহগার হয় তবে সে এই কারণে অনুতপ্ত হয় যে, কেনো সে নিজেকে মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখেনি।”

  • তিরমিযী, মিশকাত-৫৩১১

🇸🇦🇸🇦মৃত্যুকে বেশী বেশী স্মরণ করাঃ
আবু সাঈ’দ রাদিয়াল্লাহু আ’নহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, “একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম নামাযের জন্য মাসজিদে আসলেন। দেখলেন যে, হাসির কারণে কিছু লোকের দাঁত দেখা যাচ্ছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করলেন, যদি তোমরা স্বাদ বিনষ্টকারী মৃত্যুকে বেশী বেশী স্মরণ করতে তবে তোমাদের এই অবস্থা হত না যা আমি দেখছি। সুতরাং স্বাদবিনষ্টকারী মৃত্যুকে বেশী বেশী স্মরণ কর। কেননা কবরের উপর এমন কোনদিন যায় না যেদিন সে এই আওয়াজ দেয় না যে, আমি অপরিচিতের ঘর, আমি একাকিত্বের ঘর, আমি মাটির ঘর, আমি পোকামাকড়ের ঘর।”-তিরিমিযী।

    আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে পরিপূর্ণ ঈমানের সাথে দুনিয়াতে থাকার এবং নেক আমল করার তৌফিক দান করুন। যে কাজগুলো রাসুল সাঃ এবং সাহাবাগণ করে গেছেন তার ইত্তেবা করার তৌফিক দান করুন। আর অবশ্যই আমাদের মৃত্যুদান করুন ঈমানের সহিত, সুস্থ শরীরে, এবাদত দ্রুত অবস্থায় এবং প্রিয়জনদের মাঝে। তামিম ইয়া রাব্বুল আলামিন।

    পীর অস্বীকার করা নাকি রাসূল সাঃ এর উদ্দেশ্য কি অস্বীকার করার শামিল। বলেছে কওমি দেওবন্দী  মোল্লা হাসান জামিল।

    🤔🤔পীরকে অস্বীকার করা নাকি রাসূলের উদ্দেশ্যকে অস্বীকার করার শামিল?!
    — বয়ানে জামানার দাজ্জাল হাসান জামিল

    বিস্‌মিল্লাহির রাহ্‌মানির রাহিম।
    “যাহারা অন্তরের কার্পণ্য হইতে মুক্ত; তাহারাই সফলকাম”। — সূরা তাগাবুন ৬৪:১৬।
    {{👉👉প্রথমেই আমি মন্তব্যকারীদের জ্ঞাতার্থে দুটি কথা বলতে চাই: এ লেখার সাথে যে কেউ অবশ্যই দ্বিমত পোষন করতে পারেন। সে ক্ষেত্রে লেখাটির কোন অংশের সাথে আপনি দ্বিমত পোষন করছেন, তা সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ পূর্বক আপনার মতে তা কি হওয়া উচিত, কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে মন্তব্যে তুলে ধরুন, কারো মত বা ফতোয়া এক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। অনুগ্রহপূর্বক ঢালাও ও মনগড়া মন্তব্য পরিহার করুন। ঢালাও ও মনগড়া মন্তব্য মূলতঃ অজ্ঞতারই বহিঃপ্রকাশ। আলোচ্য বিষয়ের উপর মন্তব্য করা বাঞ্ছনীয়। অশ্লীল বাক্য প্রয়োগ ইসলাম পরিপন্থী। অশ্লীল বাক্য প্রয়োগের মাধ্যমে ইবলিশের দাসত্ব করা বুদ্ধিমানের কাজ নয় }}

    ✅✅সম্প্রতি কওমি দেওবন্দী মতাদর্শের আলেম হাসান জামিল, যিনি দুইদিন আগেও অত্যন্ত অহংকার করে একটি বক্তৃতায় বলেছেন যে তার আমল আবু বকরের আমলের চেয়ে অনেক বেশি তার তেলাওয়াত আবু বকরের আমলের চেয়ে অনেক বেশি এবং সে আবু বকরের চেয়ে অনেক বেশি হজ করেছে ইত্যাদি ইত্যাদি, সেই অহংকারী তারিখ জামিলের একটি ভিডিও লিংক ভাই Nurulislam BD গত ১লা মার্চ আপলোড করেছেন। তিনি এ ভিডিওটির ক্যাপশনে লিখেছেন “পীরকে অস্বীকার করা এটা রসূলের উদ্দেশ্যকে অসিকার করার সামিল”” (নাউজুবিল্লাহ)Hasan Jamil,,,,.
    Dolil sunun,,। বড় বড় পুস্তক করে বা মুখস্ত করে বক্তৃতা করলেই সে বড় আলেম হয়ে যায় না, অনেক সময় সে বড় দাজ্জাল হয়ে যায়।

    🤔🤔আমি গভীর আগ্রহ নিয়ে হাসান জামিলের চার মিনিট একুশ সেকেন্ডের ভিডিওটি দেখি। হাসান জামিলের প্রায় সাড়ে চার মিনিটের এ বক্তব্যটির সারাশং এখানে তুলে ধরছি।
    হাসান জামিল পীরের পক্ষে সাফাই গাইতে গিয়ে এবং পীরগীরি যে ইসলামেরই অংশ তা প্রমাণ করার জন্য সূরা জুমুআ’র ২নং আয়াত তিলাওয়াত ও ব্যাখ্যা করেছেন। সূরা জুমুআ’র ২নং আয়াতে আল্লাহ্‌তাআ’লা বলেন,

    👉👉“তিনিই উম্মীদের মধ্য থেকে তাহাদের জন্য একজন রাসূল পাঠিয়েছেন, যে তাহাদের নিকট তাঁহার আয়াতসমূহ পাঠ করে; তাহাদিগকে পবিত্র করে এবং কিতাব ও হিক্‌মত শিক্ষা দেয়; ইতিপূর্বে উহারা সুস্পষ্ট পথভ্রষ্টতায় নিমজ্জিত ছিল”। _ সূরা জুমু’আ ৬২:২।

    আল্লাহ্‌তাআ’লা এখানে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামাকে পাঠানোর উদ্দেশ্য সম্পর্কে বলছেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অনেক কাজ সমূহের মধ্যে অনত্যম কাজ ছিল মানুষকে আল্লাহ্‌র কিতাব পাঠ করে শোনানো এবং তাদেরকে পবিত্র করা এবং পথভ্রষ্টা থেকেও রক্ষা করা। হাসান জামিল এখানে শুধু কিতাব পাঠ এবং পবিত্রকরণ করার মধ্যেই তার বক্তব্য সীমাবদ্ধ রেখেছেন, পথভ্রষ্টার ব্যাপারে কিছুই বলেননি। আল্লাহ্‌তাআ’লা এখানে পবিত্রকরণ করতে কি বুঝিয়েছেন সে সম্পর্কেও হাসান জামিল কোন ব্যাখ্যা করেননি।

    আমরা জানি পবিত্রতা দু্ই প্রকার, এক বাহ্যিক পবিত্রকরণ যেমন আমরা অজু গোসলের মাধ্যমে বাহ্যিক পবিত্রতা অর্জন করি। দুই, কুফর ও শির্‌ক থেকে পবিত্রকরণ। এখানে একটি কথা মনে রাখতে হবে কুফর এবং শির্‌কের অপবিত্রতা দূর না করে যতই বাহ্যিক পবিত্রতা হাসিল করা হউক না কেন, তার কোন মূল্য নেই। সুতরাং এ আয়াতে আল্লাহ্‌ সুব্‌হানাহু ওয়া তাআ’লা কুফর ও শির্‌ক থেকে পবিত্রকরণ করার কথাই বলেছেন। হাসান জামিল এখানে গুরুত্তপূর্ণ এ বিষয়টি উপেক্ষা করে চরম দায়িত্ব জ্ঞানহীনতারই পরিচয় দিয়েছেন। কারণ বেশিরভাগ মুসলমানই পবিত্রতা বলতে তারা বাহ্যিক পবিত্রতার কথাই বুঝে থাকেন।

    👉👉আল্লাহ্‌তাআ’লা বলেন,
    “হে মু’মিনগণ! মুশরিকরা তো অপবিত্র; সুতরাং এই বৎসরের পর তাহারা যেন মসজিদুল হারামের নিকট না আসে”। _ সূরা তাওবা ৯:২৮।

    শির্‌ককারীকে বলা হয় মুশরিক এবং আল্লাহ্‌তাআ’লা বলছেন মুশরিকরা অপবিত্র তাই তাদেরকে মসজিদুল হারামের কাছে আল্লাহ্‌তাআ’লা যেতে নিষেধ করেছেন। এখন প্রশ্ন ঈমানদারদের মধ্যে যারা মুশরিক যেমনটা আল্লাহ্‌তাআ’লা বলেন,
    “তাহাদের অধিকাংশ আল্লাহ্‌তে বিশ্বাস করে, কিন্তু তাঁহার শরীক করে”। _ সূরা ইউসুফ ১২:১০৬।

    তাদের জন্যেও কি এ নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে?
    আল্লাহ্‌ সুব্‌হানাহু ওয়া তাআ’লা শির্‌ক মিশ্রিত ইবাদত কবূল করেননা, তিনি বলেন,

    “তুমি আল্লাহ্‌র শরীক স্থির করিলে তোমার কর্ম তো নিষ্ফল হইবে এবং অবশ্য তুমি ক্ষতিগ্রস্থ হইবে। অতএব তুমি আল্লাহ্‌র ইবাদত কর এবং কৃতজ্ঞ হও’’। _ সূরা যুমার ৩৯:৬৫-৬৬।

    আল্লাহ্‌তাআ’লা তাঁর রাসূলকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পাঠানোর উদ্দেশ্য ছিল কুফর ও শির্‌ক থেকে মানুষকে পবিত্রকরণ। এখানে হাসান জামিল এ বিষয়টির উপর গুরুত্ব আরোপ না করার কারণ তার অজ্ঞতা, নাকি পীরের পক্ষে ওকালতি করতে গিয়ে ইল্‌ম গোপন তা আল্লাহ্‌তাআ’লাই ভাল জানেন। আল্লাহ্‌তাআ’লা ইল্‌ম গোপনকারীদের বিরুদ্ধে হুশিয়ারী উচ্চারণ করে বলেন,

    “নিশ্চয়ই আমি যে সব স্পষ্ট নির্দশন ও পথ নির্দেশ অবতীর্ণ করিয়াছি মানুষের জন্য কিতাবে উহা স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করার পরও যাহারা উহা গোপন রাখে আল্লাহ্ তাহাদিগকে লা’নত দেন এবং অভিশাপকারীরাও তাহাদিগকে অভিশাপ দেয়”। –+সূরা বাকারা ২:১৫৯।

    👉👉“আল্লাহ্ যে কিতাব অবতীর্ণ করিয়াছেন যাহারা তাহা গোপন রাখে ও বিনিময়ে তুচ্ছমূল্য গ্রহন করে তাহারা নিজেদের পেটে আগুন ব্যতীত আর কিছু ভরে না। কিয়ামতের দিন আল্লাহ্ তাহাদের সাথে কথা বলিবেন না এবং তাহাদিগকে পবিত্র করিবেন না। তাহাদের জন্য মর্মন্তুদ শাস্তি রহিয়াছে। তাহারাই সৎপথের পরিবর্তে ভ্রান্তপথ এবং ক্ষমার পরিবর্তে শাস্তি ক্রয় করিয়াছে; আগুন সহ্য করিতে তাহারা কতই না ধৈর্যশীল!”– সূরা বাকারা ২:১৭৪-১৭৫।

    হাসান জামিল পীর পদ্ধতিকে রাসূলে আগমনের উদ্দেশ্যের সাথে সম্পর্কিত করে ধৃষ্টতার পরিচয় দিয়েছেন। ‌আমাদের দেশে যারা প্রচলিত অর্থে পীর তারা আসলে ধর্ম ব্যবসায়ী। তারা মানুষের আত্মাকে পরিশুদ্ধ করবে তো দূরের কথা তারা নিজেদের আত্মাই শির্‌ক বিদআ’তের আবর্জনা দ্বারা কলুষিত। তারা মানুষদেরকে শির্‌কের দিকে আহ্‌বান করে অর্থাৎ মুশরিক বানায়। সূরা জুমুআ’র ২নং আয়াতের শেষে আল্লাহ্‌তাআ’লা আরেকটি কথা বলেছেন যে, “ইতিপূর্বে উহারা সুস্পষ্ট পথভ্রষ্টতায় নিমজ্জিত ছিল”। কিন্তু এ পীরের দল মানুষকে পথভ্রষ্টতার দিকেই আহ্‌বান করে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে পাঠানোর দুটি উদ্দেশ্যকেই এরা ধ্বংস করছে।

    আমাদের দেশে এ পীর নামক শ্রেণীটি বেশিরভাগই দেওবন্দী ঘারানার আলিম (নাকি জালিম আল্লাহু আ’লাম)। হাসান জামিলও দেওবন্দী, সুতরাং সে পীরগীরির সাফাই গাইবে সেটাই স্বাভাবিক। হাসান জামিল হয়তো ভবিষ্যতে পীর হিসাবে আত্মপ্রকাশ করার ধান্দায় আছে। কারণ পীর হচ্ছে বিনা পূজির এক বিরাট লাভজনক ব্যবসা। হাসান জামিল তার বক্তব্যে এও ব্যাখ্যা করেননি কিভাবে বা কোন ফর্মুলায় পীরেরা মানুষের আত্মাকে পরিশুদ্ধ করে। রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কিভাবে মানুষের আত্মাকে পরিশুদ্ধ করতেন তার কোন উল্লেখ হাসান জামিল করেননি। তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর অবর্তমানে সাহাবা আজমাঈনগণ কিভাবে মানুষের আত্মাকে পরিশুদ্ধ করবে, সে বিষয়ে তিনি কি দিক নির্দেশনা দিয়ে গিয়েছিলেন সেটারও উল্লেখ হাসান জামিল করেননি, যার মাধ্যমে আমরা বুঝতে পারতাম সেই ধারাবাহিকতায় এ কথিক পীরের দল মানুষের আত্মাকে পরিশুদ্ধ করণের লাইসেন্স পেয়েছে?

    হাসান জামিল তার বক্তব্যে বলেছে, …. “কিতাব তিলাওয়াত কে করবে নবী করবে, আত্মা পরিশুদ্ধ কে করবে নবী করবে। আল্লাহ্‌তাআ’লা বলেন নাই কিতাব পড়লেই তোমার আত্মা পরিশুদ্ধ হয়ে যাবে। তুমি হাদীস পড়লেই তোমার আত্মা পরিশুদ্ধ হয় যাবে। কোন ব্যক্তির এখানে কোন কিছু করার নাই আল্লাহ্‌তাআ’লা একথা কিন্তু বলেন নাই এ আয়াতে”। ….. ঠিক আছে এ আয়াতে আল্লাহ্‌তআ’লা একথা বলেন নাই। অন্য কোন আয়াতে আল্লাহ্‌তাআ’লা এ সম্পর্কে কোন কিছু বলেছেন কি-না দেখে নেয়া যাক।

    কোন ব্যক্তি সে পরিশুদ্ধ হবে কি হবে না, সে ক্ষমতা বা এখতিয়ার কি আল্লাহ্‌তাআ’লা কোন নবী রাসূলকে দিয়েছিলেন? যেমনটা আল্লাহ্‌ সুবহানাহু ওয়া তাআ’লা বলেন,
    👉👉“ (হে নবী)তুমি যাহাকে ভালবাস, ইচ্ছা করিলেই তাহাকে সৎপথে আনিতে পারিবে না। তবে আল্লাহ্‌ই যাহাকে ইচ্ছা সৎপথে আনয়ন করেন এবং তিনিই ভাল জানেন সৎপথ অনুসারীদিগকে”।
    —সূরা কাসাস ২৮:৫৬।

    আবূ লাহাব আবূ জাহেলরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কথায় পরিশুদ্ধ হয়েছিল কি?

    👉👉আল্লাহ্‌তাআ’লা বলেন,
    “সে ভ্রূকুঞ্চিত করিল এবং মুখ ফিরাইয়া লইল, কারণ তাহার নিকট অন্ধ লোকটি আসিল। তুমি কেমন করিয়া জানিবে- সে হয়তো পরিশুদ্ধ হইত, অথবা উপদেশ গ্রহন করিত, ফলে উপদেশ তাহার উপকারে আসিত। পক্ষান্তরে যে পরোয়া করে না, তুমি তাহার প্রতি মনোযোগ দিয়াছ। অথচ সে পরিশুদ্ধ না হইলে তোমার কোন দায়িত্ব নাই”।
    👉👉সূরা আবাসা ৮০:১-৭।

    উপরের আয়াতের মাধ্যমে বোঝা গেল কাউকে জোড় জবরদস্তি পরিশুদ্ধ করার দায়িত্ব রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ছিল না। এ প্রসঙ্গে

    👉👉আল্লাহ্‌তাআ’লা আরও বলেন,
    “তোমরা আল্লাহ্‌র আনুগত্য কর এবং রাসূলের আনুগত্য কর; যদি তোমরা মুখ ফিরাইয়া লও, তবে আমার রাসূলের দায়িত্ব কেবল স্পষ্টভাবে প্রচার করা”। —-সূরা তাগাবুন ৬৪:১২।

    মানুষ আল্লাহ্‌র প্রতি ঈমান না আনার কারণে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হয়রান পেরেশান হয়ে গেলে ।
    👉👉আল্লাহ্‌তআ’লা তাঁর রাসূলকে উদ্দেশ্য করে বলেন,
    “তোমার প্রতিপালক ইচ্ছা করিলে পৃথিবীতে যাহারা আছে তাহার সকলে অবশ্যই ঈমান আনিত। তবে কি তুমি মু’মিন হইবার জন্য মানুষের উপর জবরদস্তি করিবে? আল্লাহ্‌র অনুমতি ব্যতিত ঈমান আনা কাহারও সাধ্য নহে”।
    —-সূরা ইউনুস ১০:৯৯-১০০।

    কোন মানুষের আত্মাকে পরিশুদ্ধ করার প্রথম ধাপ হচ্ছে আল্লাহ্‌তাআ’লার প্রতি ঈমান আনা। এরপর শির্‌ক সম্পর্কে যথাযথ জ্ঞান অর্জন করা এবং শির্‌ক থেকে দূরে থাকা। কারণ শির্‌ক হচ্ছে সবচেয়ে বড় গোনাহ্‌, শির্‌ককে বলা হয়েছে চরম যুল্‌ম (৩১:১৩)।

    আল্লাহ্‌তাআ’লা একাধিক আয়াতে শির্‌ককারীদের ভয়াবহ পরিণতির কথা বলেছেন। আল্লাহ্‌তআ’লা বলেন,
    “নিশ্চয়ই আল্লাহ্‌ তাঁহার সহিত শরীক করাকে ক্ষমা করেন না; এ ছাড়া সব কিছু যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন এবং যে আল্লাহ্‌র শরীক করে সে ভীষনভাবে পথভ্রষ্ট হয়”। _ সূরা নিসা ৪:১১৬। “কেহ আল্লাহ্‌র শরীক করিলে আল্লাহ্ তাহার জন্য জান্নাত অবশ্যই নিষিদ্ধ করিবেন এবং তাহার আবাস জাহান্নাম। যালিমদের জন্য কোন সাহায্যকারী নাই।” _ সূরা মায়িদা ৫:৭২।

    পক্ষান্তের রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে বিদআ’ত থেকে দূরে থাকতে বলেছেন। তিনিও বিদআ’তকারীদের ভয়াবহ পরিণতির কথা উল্লেখ করেছেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন বিদআ’তিরা পথভ্রষ্ট এবং তাদেরও পরিণতি জাহান্নাম। সুতরাং কোন মু’মিন কোন আক্কেলে শির্‌ক ও বিদআ’তের মত ভয়াবহ গোনাহে লিপ্ত হতে পারে?

    এখন আমরা যদি এই কথিত পীরের দল যারা স্বঘোষিত আত্মা পরিশুদ্ধ করণের লাইসেন্সধারী তাদের কর্মকান্ড রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তো অনেক দূরের কথা শুধু সাহাবা আজমাঈনদের সাথে তুলনা করি তাহলে আমরা কি দেখতে পাই? সাহাবা আজমাঈনগণ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ইন্তেকালের পর কোন খানকা দরগা বানিয়ে কি মুরিদ কালেকশন করতেন? তারপর সেই মুরিদদের হাদিয়া তোহ্‌ফা দিয়ে কি জীবন ধারণ করতেন? সাহাবা আজমাঈনদের কথা বাদ দিন, ইমাম আবূ হানীফা(র), ইমাম মালিক(র), ইমাম শা’ফি(র), ইমাম আহ্‌মাদ ইব্‌ন হাম্বল(র), ইমাম বুখারী(র), ইমাম মুসলিম(র) প্রমূখ, তারা কি খানকা দরগা বানিয়ে পীরগীরি করতেন, মুরীদদের কাছ থেকে হাদিয়া আদায় করতেন, উরশের মেলা করতেন?

    হাসান জামিলের কথা অনুযায়ী ধরে নিলাম এরাও পীর ছিলেন। কিন্তু তাদের ইন্তেকালের পর তাদের পরীগীরি তাদের সন্তানেরা করেননি কেন যেমনটা আমাদের দেশের পীরেরা করে? আমাদের দেশের পীরের দলেরা বংশ পরম্পরায় পীর। পীর মারা গেলে পীরের ছেলে গদ্দীশীন হন অর্থাৎ গদিতে আসন গ্রহন করেন। পুরান ঢাকার বিভিন্ন আড়তের মালিকদের বসার স্থানকে গদি বলা হয়। গদি বলতে আমরা এ প্রকার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বসার স্থানকেই বুঝে থাকি। পীরগীরিও যে আমাদের দেশে বিনা পূজিঁর লাভজনক একটি ব্যবসা এ গদ্দীনশীন হওয়া থকেই তা প্রমাণিত হয়। আরও প্রমাণিত হয়, পীরের ছেলেরা বাবার সম্পত্তির উত্তরাধিকার হওয়ার মতই পীরগীরিরও উত্তরাধিকার হন। রাজনৈতিক গদির মত এ গদিরও এমন মজা যে পীরের কোন ছেলে এ গদীর অধিকার লাভ করবে তা নিয়ে মারামারি হতে দেখা যায়। আমার সাথে একবার এক পীরের ছেলের সাথে সাক্ষাত হয়েছিল, তিনি তার ভিজিটিং কার্ডে (পীরের আবার ভিজিটিং কার্ড লাগে?) নিজের পরিচয় দিতে গিয়ে লিখেছেন ‘প্রধান গদ্দীনশীন’ তার মানে আমি বুঝে নিলাম এ গদির জন্য অনেক প্রার্থী রয়েছে আর তিনি হচ্ছেন একেবারে উপরে অবস্থানরত। এ যেন অনেকটা ‘ক্রাউন প্রিন্স’-এর মত!

    হাসান জামিলের যদি সৎ সাহস থেকে থাকে তাহলে আমাদের দেশের পীরদের একটি তালিকা প্রকাশ করুক। কে হাক্কানী পীর আর কে ধাক্কানী পীর সেটি উল্লেখ করুক। তাদের প্রত্যেকের জীবন বৃত্তান্ত প্রকাশ করে তাদের আয় রোজগারের উৎস সম্পর্কে জনগণকে জানাক, অর্থাৎ তাদের জীবন ধারণের মত মৌলিক চাহিদাগুলি কোন আয়ের উৎস থেকে নির্বাহ হচ্ছে তা জনগনকে জানাক। এ পীরদের বর্তমান স্থাবর অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ এবং তা কিভাবে অর্জিত তার বিস্তারিত বর্ণনা পীরদের স্বচ্ছতার স্বার্থেই প্রকাশ করুক।

    পীরের নামে যত প্রকার তরিকার উদ্ভব হয়েছে যেমন নকশ্‌বন্দী, মুজাদ্দেদী, কাদেরিয়া, চিশ্‌তিয়া, সোহ্‌রার্দী ইত্যাদি যে কুরআন সুন্নাহ্‌র আলোকেই হয়েছে হাসান জামিল তার বিস্তারিত তুলে ধরে সাধারণ মানুষের সন্দেহ সংশয় কে দূর করতে সাহায্য করুক। পীরদের যে উরসের উৎসব হয় তাও যে কুরআন ও সুন্নাহ্‌র আলোকেই হয় সে তথ্য দিয়ে হাসান জামিল মানুষকে উপকৃত করুক।

    কিছুদিন আগে আল্লামা(?) আহমাদ শফি সাহেবের মুরিদ বানানোর জন্য বায়াতের অনুষ্ঠানের একটি ভিডিও প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে আল্লামা(?) আহ্‌মাদ শফি সাহেব যে বক্তব্য রেখেছেন, সেখানে তিনি যে বিভিন্ন তরিকার কথা উল্লেখ করেছেন কুরআন ও সুন্নাহ্‌র আলোকে হাসান জামিল তা নির্ভরযোগ্য হওয়ার দলীল পেশ করুক। চরমোনাই পীরসহ অনান্য পীরদের যে ঘটা করে বাৎসরিক উরস মাহফিল হয়, কুরআন সুন্নাহ্‌র আলোকে তা যে বিদআ’ত নয় তা প্রমাণ করুক। এ সব উরসের মাধ্যমে পীরেরা হাদীয়া সংগ্রহ করে তা যে কুরআন ও সুন্নাহ্‌ সম্মত অর্থাৎ আল্লাহ্‌ এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নির্দেশ মোতাবেকই হয় তা প্রমান করুক।

    হাসান জামিল তার বক্তব্যে বলেছেন, “যদিও কোন কোন পন্ডিত ওস্তাদ ছাড়া দীন শিখা হাজারো লাখো মানুষকে বিভ্রান্ত কইরা সবাইকে মুস্তাহিদ বানাইয়া দিছে। এখন ঘরে ঘরে মুস্তাহিদ, বুখারী আছে বগলের নীচে খুইলা দেখে জোড়ে আমীন বলা, শুরু করে জোড়ে আমীন বলা, খুইলা দেখে রফ ইয়াদাঈন করা, শুরু কইরা দেয় রফ ইয়াদাঈন। আমরা বলি অসুবিধা নাই, জোড়ে আমীন বল, বল সমস্যা নাই, রফ ইয়াদাঈন কর, কর সমস্যা নাই। কিন্তু কোনটা করবা কোনটা করবা না সেটা সিদ্ধান্ত তুমি নেওয়ার কে? সে সিদ্ধান্ত দিবেন আইমায়ে মুজতাহীদীন, সে সিদ্ধান্ত দিবেন হাদীস ও কুরআনের উপর পুরাপুরি পান্ডিত্য যাদের আছে, তারা সিদ্ধান্ত দিবেন”।

    কোন্‌ কোন্‌ পন্ডিত ওস্তাদ ছাড়া দীন শিখে হাজারো লাখো মানুষকে বিভ্রান্ত করে মুস্তাহীদ বানিয়েছে হাসান জামিল তার উল্লেখ করেননি। হাসান জামিল কিসের ভয়ে তাদের নাম উল্লেখ করলেন না? তার উচিত ছিল তাদের নাম উল্লেখ করা তাহলে বোঝা যেত হাসান জামিল সত্য প্রকাশে ভীত নন। আসলে হাসান জামীলদের কথা এখন আর মানুষেরা শোনা না, তাদেরকে এখন আর কেউ বিশ্বাস করে না। কারণ তাদের অবস্থা হয়েছে হিন্দু পন্ডিতদের মত। হিন্দু পন্ডিতেরা যেমন সবাইকে তাদের ধর্মীয় গ্রন্থ ধরতে ও পড়তে দেয় না। আমাদের দেশেও হাসান জামিল মার্কা আলিমরা সাধারণ মানুষ কুরআন সুন্নাহ্‌ বুঝে পড়ুক সেটা চায় না। আগে মানুষ তাদেরকে অনেক মূল্যায়ন করতো এখন করে না। কারণ তারা দুনিয়াবী স্বার্থে ইল্‌ম গোপন করতো। হাসান জামিলদের মুশকিল হচ্ছে এখন সাধারণ মুসলমানরা আগের তুলনায় অনেক সচেতন এবং তারা এখন নিজেরা কুরআন সুন্নাহ্‌র জ্ঞানে নিজেদেরকে সমৃদ্ধ করছে। তারা এটা করতে পারেছে এ কারণে যে আগে কুরআন ও হাদীসের বাংলা তরজমা ছিল না, এখন এগুলি হাতের নাগালে। ইসলামের বিষয় ভিত্তিক অনেক গবেষণামূলক লেখার বাংলা অনুবাদ এখন পাওয়া যাচ্ছে। তাছাড়াও সৌদি আরবের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইসলামের উপর উচ্চ ডিগ্রী নিয়েছেন এমন অনেক ভাইয়েরা বাংলায় বই লিখছেন। হাসান জামিলের উপরের বক্তব্য তার ক্ষোভ এবং নীচু মানসিকতারই বহি:প্রকাশ।

    এক মসজিদের ইমাম কুরআন হাদীসের বাংলা তরজমা পড়ে যারা জ্ঞান অর্জন করছে তাদের প্রতি বিষেদাগার করতে দেখা গেল। তার বক্তব্য “এখন অনেকেই কুরআন হাদীসের বাংলা তরজমা পড়ে নিজেদেরকে মুফাস্‌সীর মুহাদ্দীস ভাবতে শুরু করেছে”। তার এ ক্ষোভের কারণ বাংলা তরজমা পড়ে জ্ঞান অর্জনকারী ভাইদের বিভিন্ন বিষয়ে এ ইমামদের কাছে প্রশ্ন রাখা, বিশেষত যে সমস্ত বিদআ’তি রসূম রেওয়াজের অনুষ্ঠান পরিচালনার মাধ্যমে তারা বাড়তি উপার্জন করেন। তারা দিনরাত বাংলা ভাষায় যে বয়ান করছেন সেটা কি তরজমা নয়? তারা যখন কুরআন হাদীসের জ্ঞান অর্জন করেছে তা কি তরজমার আশ্রয় ছাড়াই করেছে? তাদের বাংলা বক্তব্য শুনে যদি মানুষ কিছু শিখতে পারে অর্থাৎ জ্ঞান অর্জন করতে পারে, তাহলে যারা এ সমস্ত ইমামদের চাইতে উচ্চ ডিগ্রী সম্পন্ন আরও বেশি জানলে ওয়ালা, তাদের বই পড়ে কেন মানুষের জ্ঞান অর্জন হবে না?

    হাসান জামিলরা আসলে সব সময় হীনমন্যতায় ভোগেন। আমি এখন পর্যন্ত কোন মসজিদের ইমামকে পাইনি যিনি মুসোল্লিদেকে কুরআন ও সুন্নাহ্‌ বুঝে পড়ার উপদেশ দেয়, উৎসাহ দেয়, সাহায্য সহযোগীতা করে! তাদের এ হীনমন্যতার কারণ দুনিয়াবী ফায়দা।

    “যাহারা অন্তরের কার্পণ্য হইতে মুক্ত; তাহারাই সফলকাম”। __ সূরা তাগাবুন ৬৪:১৬

    [হাসান জামিলের বক্তব্যের ভিডিও লিংক।
    https://www.facebook.com/video.php?v=1563275260624555&set=vb.100008262887456&type=2&theater%5D

    বিশ্বের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ধনী মানুষ মনসা মুসা।

    🇸🇦🇸🇦বিশ্বের সবচে ধনী মানুষ কে?
    নিঃসন্দেহে বিল গেটস, কার্লোস স্লিম, ওয়ারেন বাফেট, রথচাইল্ড কিংবা রকফেলার পরিবার, অথবা তরুণ বিলিয়নেয়ার মার্ক জাকারবার্গের নামই মনে আসবে। কিন্তু না, এরও অনেক আগে ১৪ শতকে পশ্চিম আফ্রিকার এক ধনকুবের তাদের সবার চেয়ে ঢের বেশি সম্পদের মালিক ছিলেন।

    কিছুদিন আগে প্রকাশিত ফোর্বস বিলিয়নিয়ারের তালিকায় সেরা ধনী হয়েছেন আমাজোনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস। ১৩১ বিলিয়ন (১৩ হাজার ১০০ কোটি) ডলার সম্পদের মালিক মি. বোজোস আধুনিক সময়ের সেরা ধনী।
    তবে সর্বকালের সেরা ধনীর সম্পদের কাছাকাছিও তিনি নেই।

    সেই খেতাবের মালিক #মানসা_মুসা, ১৪ শতকে পশ্চিম আফ্রিকার এই মুসলিম শাসক এতটাই ধনী ছিলেন যে তার দানশীলতার কারণে একটি পুরো দেশের অর্থনীতিতে পর্যন্ত ধস নেমেছিল।

    “মুসার সম্পদের যে শ্বাসরুদ্ধকর বর্ণনা পাওয়া যায় তাতে আসলে তিনি যে কতটা সম্পদশালী এবং ক্ষমতাশালী ছিলেন তা ধারণা করাও কঠিন,”- বিবিসিকে বলেন রুডলফ বুচ ওয়ার, ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়ার ইতিহাস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক।

    “কারো পক্ষে যতটা বর্ণনা করা সম্ভব তার চেয়েও ধনী ছিলেন মানসা মুসা,”- ২০১৫ সালে মানি ডট কমের জন্য লেখেন জ্যাকব ডেভিডসন।

    ২০১২ সালে একটি মার্কিন ওয়েবসাইট, সেলিব্রিটি নেট ওর্থ তাঁর মোট সম্পদের মূল্য ৪০ হাজার কোটি ডলার বলে একটি ধারণা দেয়। তবে অর্থনীতির ইতিহাসবিদরা একমত যে সংখ্যা দিয়ে তাঁর সম্পদের কোন সঠিক ধারণা দেয়া একরকম অসম্ভব।

    ২০১২ সালে ইতিহাসে ধনী ব্যক্তিদের সম্পদের পরিমাণ নিয়ে গবেষণাকারী সংস্থা ‘সেলিব্রেটি নেট ওয়ার্থ’ ওই ধনকুবেরকে বিশ্বের সর্বকালের সবচে ধনী মানুষের খেতাব দিয়েছে। ২০১৫ সালে ফোর্বস ম্যাগাজিনও বিশ্বের সবচে ধনী মানুষের তালিকায় শীর্ষে রেখেছে তাকে।

    বর্ণের_রাজাঃঃ——

    ১২৮০ সালে একটি শাসক পরিবারেই জন্ম মানসা মুসার। তিনি ক্ষমতায় আসার আগে মালি সাম্রাজ্যের শাসক ছিলেন তাঁর ভাই মানসা আবু-বকর। ১৩১২ খ্রিস্টাব্দে আবু-বকর সিংহাসন ত্যাগ করে একটি অভিযানে বের হন।

    চতুর্দশ শতকের সিরীয় ইতিহাসবিদ শিহাব আল-উমারির বর্ণনা অনুযায়ী, আটলান্টিক মহাসাগর এবং তার ওপারে কী আছে তা নিয়ে মারাত্মক কৌতুহলী ছিলেন আবু-বকর। বলা হয় ২ হাজার জাহাজ এবং হাজার-হাজার পুরুষ, নারী এবং দাস-দাসী নিয়ে সমুদ্রে পাড়ি জমান তিনি, এবং এরপর আর কখনো ফিরে আসেননি।

    প্রয়াত মার্কিন ইতিহাসবিদ আইভান ভ্যান সারটিমার মতো অনেকেই মনে করেন আবু-বকর শেষপর্যন্ত দক্ষিণ আমেরিকায় পৌঁছুতে পেরেছিলেন। যদিও এর কোন প্রমাণ নেই।

    যাইহোক, উত্তরাধিকার সূত্রে ভাইয়ের ফেলে যাওয়া রাজত্বের শাসনভার নেন মানসা মুসা।

    তাঁর শাসনামলে মালি রাজত্বের আকার বাড়তে থাকে। তিনি তার রাজত্বে আরো ২৪ টি শহর যুক্ত করেন, যার একটি ছিল টিম্বাকটু।

    তাঁর রাজত্ব বিস্তৃত ছিল ২,০০০ মাইলজুড়ে, আটলান্টিক মহাসাগর থেকে শুরু করে বর্তমান নিজার, সেনেগাল, মৌরিতানিয়া, মালি, বুর্কিনা ফাসো, গাম্বিয়া, গিনি-বিসাউ, গিনি এবং আইভোরি কোস্টের বড় অংশ ছিল তার রাজত্বে।এই বিশাল সাম্রাজ্যের সাথে তাঁর আয়ত্ত্বে আসে মূল্যবান খনিজ সম্পদ- বিশেষ করে স্বর্ণ এবং লবণ।

    ব্রিটিশ মিউজিয়ামের হিসেবে মানসা মুসার শাসনামলে তৎকালীন বিশ্বে যে পরিমাণ স্বর্ণের মজুত ছিল তার অর্ধেকই ছিল মালিতে।

    আর তার সবটারই মালিক ছিলেন মানসা মুসা।

    “শাসক হিসেবে মধ্যযুগের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদটির প্রায় অফুরান যোগান ছিল মানসা মুসার,”- বিবিসিকে বলেন ক্যাথলিন বিকফোর্ড বারজক, নর্থওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে আফ্রিকাবিষয়ক বিশেষজ্ঞ।

    “বড় বাণিজ্যিক কেন্দ্রগুলো তার সাম্রাজ্যে স্বর্ণ এবং অন্যান্য পণ্যের ব্যবসা করতো, সেই বাণিজ্য থেকে আরো সম্পদশালী হয়ে ওঠেন মানসা মুসা”।

    বিশ্বের সর্বকালের সেরা ধনী ওই ব্যক্তির নাম মানসা মুসা। ‘মানসা’ তার নামের অংশ নয়; উপাধী। এর অর্থ সুলতান বা সম্রাট। মুসার পুরো নাম ‘প্রথম মুসা কিতা’। পশ্চিম আফ্রিকার দেশ মালির সুলতান হওয়ার কারণে তাকে মানসা খেতাবে ভূষিত করা হয়। মানসা ছাড়াও কমপক্ষে আরো ডজনখানেক উপাধী ছিল তার। তাকে প্রথম মুসা, মালির আমির, ওয়াংগারা খনির সম্রাট, কনকান মুসা/কানকো মুসা, মালির সিংহ, গঙ্গা মুসা ইত্যাদি নামেও ডাকা হয়।

    মানসা মুসার জন্ম আনুমানিক ১২৮০ সালে এবং মৃত্যু ১৩৩৭ সালে। তিনি ছিলেন মালি সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা সান্দিয়াতা কিতার ভাগ্নে। ১৩০৭ সালে ৩২ বছর বয়সে তিনি সিংহাসনে আরোহণ করেন। তিনি প্রথম আফ্রিকান শাসক, যিনি ইউরোপ এবং মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপকভাবে প্রভাব বিস্তার করতে পেরেছিলেন।

    মুসা মালির দশম মানসা। ২০১২ সালের জরিপ মতে, ৪০ হাজার কোটি ডলারের মালিক ছিলেন মুসা। যেখানে ২০১৭ সালে ফোর্বসের হিসাব মতে, বিল গেটসের নেট সম্পদের পরিমাণ ৮ হাজার ৪৫০ কোটি মার্কিন ডলার।

    শুধু সম্পদ নয়, বিশাল একটি সেনাবাহিনীও ছিল তার, যাকে আজকের দিনে বলা যায়, ‘সুপারপাওয়ার আর্মি’। তার সেনাবাহিনীতে সদস্য ছিল দুই লক্ষাধিক, যার মধ্যে ৪০ হাজারই ছিল তীরন্দাজ। তখনকার দিনে এত সংখ্যক সেনাবাহিনী ছিল কল্পনাতীত। ক্ষমতায় আরোহণের পর আফ্রিকার ২৪টি বড় বড় শহর জয় করেছিলেন তিনি।

    মুসা ছিলেন একাধারে দক্ষ শাসনকর্তা, ধর্ম প্রচারক, শিক্ষা ও বিজ্ঞান অনুরাগী এবং অত্যন্ত দানশীল ব্যক্তিত্ব। ইউরোপকেও তিনি এতোটা প্রভাবিত করতে পেরেছিলেন যে তাদের আঁকা আফ্রিকার মানচিত্রে মুসার ছবি ব্যবহার করা হতো।

    মক্কার উদ্দেশ্যে মানসা মুসাঃঃ—-

    মালি সাম্রাজ্যে স্বর্ণের বিশাল মজুত থাকলেও, এই রাজত্ব বহির্বিশ্বে অতটা পরিচিত ছিল না।

    তবে ধর্মপ্রাণ মুসলিম মানসা মুসা যখন সাহারা মরু এবং মিশর পার হয়ে মক্কায় হ্জ্জ্ব পালনের উদ্দেশ্যে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন, তখনি সেই অবস্থার পরিবর্তন হতে শুরু করলো।
    বলা হয় ৬০,০০০ মানুষের একটি দল নিয়ে মালি ত্যাগ করেন মুসা।

    তার সেই দলে ছিলেন সম্পূর্ণ মন্ত্রী পরিষদ, কর্মকর্তারা, সৈনিক, কবি, ব্যবসায়ী, উটচালক এবং ১২,০০০ দাস-দাসী। একইসাথে খাবারের জন্য ছিলো ছাগল এবং ভেড়ার এক বিশাল বহর।

    মরুর বুক দিয়ে যেন একটি শহর চলছিল।

    যে শহরের এমনকি একজন দাসের গায়েও স্বর্ণখচিত পারস্যের সিল্কের জামা। শহরের সাথে চলছিল শত-শত উটের আরেকটি বহর, যার প্রতিটির পিঠে শত-শত সের খাঁটি স্বর্ণ।

    দেখার মত দৃশ্য ছিল সেটি।

    সেই দেখার মত মানুষ পাওয়া গেল যখন পুরো ক্যারাভানটি কায়রোতে পৌঁছুল।

    কায়রোর স্বর্ণধসঃঃ——

    কায়রোতে মানসা মুসার ভ্রমণ সেখানকার বাসিন্দাদের মনে এতটাই দাগ কেটেছিল যে তাঁর ভ্রমণের ১২ বছর পর যখন আল-উমারি শহরটিতে যান, তখনো মানুষের মুখে মুখে ছিল মানসা মুসার স্তুতিবাক্য।

    কায়রোতে তিন মাস অবস্থানের সময় তিনি যে হারে মানুষকে স্বর্ণ দান করেছেন তাতে পরবর্তী ১০ বছর ঐ পুরো অঞ্চলে স্বর্ণের দাম তলানিতে গিয়ে পৌঁছায়, অর্থনীতি ভেঙ্গে পড়ে।

    যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্মার্টঅ্যাসেট ডট কমের এক হিসেবে, মানসা মুসার মক্কা যাত্রার ফলে স্বর্ণের যে অবমূল্যায়ন হয় তাতে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে তৎকালীন সময়ে ১৫০ কোটি ডলারের অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়েছিল।

    ফেরার পথে আবারো মিশর পার হন মানসা মুসা। অনেকের মতে যেসময় দেশটির অর্থনীতিকে সাহায্য করার চেষ্টা করেন তিনি। চড়া সুদে তিনি বেশকিছু স্বর্ণ ধার করে সেগুলো তিনি বাজার থেকে তুলে নেন। আবার অনেকে বলেন, তিনি এত বেশি খরচ করেন যে তাঁর স্বর্ণ শেষ হয়ে যায়।

    লন্ডনের স্কুল অফ আফ্রিকান এবং ওরিয়েন্টাল স্টাডিজের লুসি ডুরান বলেন, মালির চারণকবি, যারা কিনা গানের সুরে ইতিহাস বর্ণনা করতেন, তারা মানসা মুসার প্রতি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন।

    “তিনি মালির এত বেশি স্বর্ণ দান-খয়রাত করেন যে তারা (চারণকবিরা) তাদের গানে মানসা মুসার প্রশংসা করেন না। কারণ তারা মনে করেন, তিনি দেশটির সম্পদ বিদেশের মাটিতে নষ্ট করেছেন”।

    হৃদয়ে ছিল শিক্ষা

    মানসা মুসা তার তীর্থযাত্রায় যে প্রচুর পরিমাণ স্বর্ণ খরচ অথবা নষ্ট করেছেন তাতে কোন সন্দেহ নেই। তবে তার এই অতি দানশীলতাই তাকে বিশ্বের নজরে এনে দেয়।

    মানসা মুসা আক্ষরিক অর্থেই মালি এবং নিজেকে বিশ্বের মানচিত্রে স্থান করে দেন। ১৩৭৫ সালের একটি কাতালান মানচিত্রে টিম্বাকটুর ওপরে একজন আফ্রিকান রাজাকে স্বর্ণের টুকরো হাতে বসে থাকার ছবি দেখা যায়। তিনিই মানসা মুসা।

    দূর-দুরান্ত থেকে মানুষজন টিম্বাকটু দেখতে আসা শুরু করেন।

    উনিশ শতকেও টিম্বাকটু ছিল কিংবদন্তীর হারিয়ে যাওয়া এক স্বর্ণের শহর। ভাগ্যান্বেষণে ইউরোপ থেকেও পরিব্রাজকেরা খোঁজ করতেন এই টিম্বাকটুর। আর এর পেছনে মূল কারণটিই ছিল ৫০০ বছর আগে মানসা মুসার সেই শাসনামল।

    মক্কা থেকে বেশ কয়েকজন ইসলামী চিন্তাবিদকে সাথে নিয়ে আসেন মানসা মুসা। যাদের মধ্যে ছিলেন নবী মোহাম্মদের সরাসরি বংশধর এবং একজন আন্দালুসিয়ান কবি ও স্থপতি আবু এস হক এস সাহেলি, যাকে কিনা বিখ্যাত জিংগারেবার মসজিদের নকশাকার হিসেবে ধারণা করা হয়।

    মানসা মুসা সেই কবিকে পারিশ্রমিক হিসেবে ২০০ কেজি স্বর্ণ দিয়েছিলেন বলে কথিত আছে। যার বর্তমান বাজারমূল্য ৮২ লক্ষ মার্কিন ডলার।

    শিল্প এবং স্থাপনায় উৎসাহ দেয়ার পাশাপাশি তিনি সাহিত্যক্ষেত্রে অনুপ্রেরণা দেন, স্কুল, লাইব্রেরি এবং মসজিদ তৈরিতে অর্থ দান করেন। অল্প সময়ের মধ্যেই টিম্বাকটু হয়ে ওঠে শিক্ষার কেন্দ্র এবং সারাবিশ্ব থেকে মানুষজন সেখানে পড়তে আসা শুরু করে, যা পরবর্তীতে পরিচিত হয় সাংকোর বিশ্ববিদ্যালয় নামে।

    ধনী সেই রাজাকে পশ্চিম আফ্রিকায় শিক্ষার প্রসারের অগ্রদূত হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যদিও সেই সাম্রাজ্যের বাইরে তার সেই গল্প খুব কম মানুষই জানতে পেরেছিলেন।

    মুসার সময় থিমবুকতু শহরের শাঙ্কোর বিশ্ববিদ্যালয় হয়ে ওঠে মধ্যপ্রাচ্য এবং আফ্রিকার আইন বিশেষজ্ঞ, জ্যোতির্বিদ এবং গণিতবিদদের একটি মিলনমেলা। ১৩৩০ সালে পার্শ্ববর্তী মোসি সাম্রাজ্য থিমবুকতু দখল করে নেয়। সঙ্গে সঙ্গেই সেনাবাহিনী পাঠিয়ে তা নিয়ন্ত্রণ পুনর্দখল করতে সক্ষম হন মানসা মুসা।

    দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিল বলেছিলেন, “ইতিহাস লেখে বিজয়ীরা”।

    ১৩৩৭ সালে ৫৭ বছর বয়সে মানসা মুসার মৃত্যুর পর তার ছেলেরা আর সেই সাম্রাজ্য ধরে রাখতে পারেনি। ছোট রাজ্যগুলো একে একে বেরিয়ে যেতে থাকে এবং একসময় পুরো সাম্রাজ্য ধসে পড়ে।
    পরবর্তীতে ইউরোপিয়দের আফ্রিকায় উপনিবেশ স্থাপন ছিল প্রতাপশালী সম্রাট মানসা মুসার কফিনের শেষ পেরেক।

    “মধ্যযুগের ইতিহাসকে এখনো অনেকটা পশ্চিমা ইতিহাস হিসেবেই দেখা হয়,”- মানসা মুসার কাহিনী কেন এতটা প্রচারিত নয় তার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বলেন ব্লক মিউজিয়ামের পরিচালক লিসা করিন গ্রাজিও।

    “কয়েক’শ বছর পরে না এসে, মানসা মুসার সময়ে মালি যখন সামরিক এবং অর্থনৈতিক শক্তিতে সবার শীর্ষে ছিল, তখন যদি ইউরোপিয়রা আফ্রিকায় আসতো- তাহলে হয়তো পুরো বিষয়টা অন্যরকম হতো,” বলেন মিস্টার ওয়ার।

    মুসার মক্কায় হজ করতে যাওয়ার একটি ঘটনা আফ্রিকা এবং মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাসে খুবই আলোচিত। মালির এই শাসক মনে করতেন, ইসলামে প্রবেশ মানে হচ্ছে একটি সভ্য সাংস্কৃতিক দুনিয়ায় পদার্পণ। নিজের সাম্রাজ্যের মধ্যে ধর্ম প্রসারের কাজেই বেশিরভাগ সময় ব্যস্ত থাকতেন তিনি। ১৩২৪-২৫ সালের মধ্যে হজ করতে গিয়েছিলেন মুসা। ওই সময় তার সঙ্গে ছিল ৬০ হাজার মানুষ। এদের মধ্যে ১২ হাজার ছিল সেবক।

    এসব সেবকের প্রত্যেকের সঙ্গে ছিল একটি করে সোনার বার। এছাড়া ৮০ থেকে ১০০টি উট ছিল বহর, যেগুলো প্রত্যেকটি প্রায় ১৪০ কেজি করে স্বর্ণ বহন করছিল। যাত্রাপথে কয়েকশ কোটি টাকা মূল্যের সোনা বিতরণ করেন তিনি। এত বেশি স্বর্ণ বিতরণ করেছিলেন যে পরের কয়েক বছর কায়রো, মক্কা এবং মদিনায় সেখানে স্বর্ণের দাম একেবারেই নেমে গিয়েছিল। এতে অবশ্য শহরগুলোর অর্থনীতিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। বেড়ে গিয়েছিল মুদ্রাস্ফীতি।

    মুসার এই হজযাত্রায় সঙ্গী হন তার প্রথম স্ত্রী। এছাড়া নিযুক্ত ছিলেন আরো ৫০০ সেবিকা। কাফেলায় বেশ কয়েকজন শিক্ষক, চিকিৎসক, সরকারি কর্মকর্তা ও সংগীতশিল্পীও ছিলেন। কথিত আছে, প্রতি জুমাবারে একটি করে মসজিদ নির্মাণ করতেন তিনি। মক্কায় হজ পালনের পর আরব বিশ্বের একটি বড় অংশ ঘুরে বেড়াতে থাকেন এই পশ্চিম আফ্রিকান শাসক।

    তখন মক্কাবাসীর জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চা দেখে অভিভূত হয়ে পড়েন তিনি। ফেরার সময় সেখান থেকে বহু উট বোঝাই করে চিকিৎসা, জোতির্বিদ্যা, দর্শন, ভূগোল, ইতিহাস, গণিত এবং আইন বিষয়ে প্রচুর বই নিয়ে আসেন। এছাড়া মক্কার সবচে মেধাবী এবং সেরা গণিতবিদ, চিকিৎসক, বিজ্ঞানী ও স্থাপত্যবিদদের আমন্ত্রণ করে নিয়ে আসেন মালিতে। ইসলামি শিক্ষাভিত্তিক অনেকগুলো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন এবং নিজের সাম্রাজ্য থেকে উত্তর আফ্রিকার ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অনেক শিক্ষার্থী প্রেরণ করেন মুসা।

    বলা হয়ে থাকে, ওই হজে মুসা আজকের দিনের প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার পাউন্ড ওজনের স্বর্ণ ব্যয় করেছিলেন। মালি সাম্রাজ্যের প্রায় ৪০০ শহরকে আধুনিক রূপ দিয়েছিলেন আলোচিত এই শাসক। তার নির্মিত উল্লেখযোগ্য স্থাপত্যের মধ্যে ইউনিভার্সিটি অব শাঙ্কোর, হল অডিয়েন্স, গ্র্যান্ড প্যালেস ইত্যাদি রয়েছে।

    আফ্রিকার বিশাল অংশজুড়ে বিস্তৃত ছিল মুসার সাম্রাজ্য। তার সময়েই মালি সাম্রাজ্য সবচে বেশি বিস্তার করে। ইতিহাসবিদদের মতে, তার সাম্রাজ্যের আয়তন ছিল প্রায় ১২ লাখ ৯৪ হাজার ৯৯৪ বর্গকিলোমিটার। বর্তমান সময়ের মালি, আইভরি কোস্ট, মৌরিতানিয়া, সেনেগাল, নাইজার, গাম্বিয়া, বুর্কিনা ফাসো, গিনি, গিনি বিসাউ, ঘানা ইত্যাদি দেশগুলোও তখন মালি সাম্রাজ্যের অধীনে ছিল।

    মক্কায় হজপালনকালেই মুসা খবর পান, তার জেনারেল সাগমান্দিয়া গাও শহর দখল করেছে। বিজয়ের পর শহরটি সফর করতে যান তিনি। সেখানে গিয়ে গাও সম্রাটের দুই পুত্রকে বন্দিদশা থেকে মুক্তি দেন এবং মালি সাম্রাজ্যের রাজধানী নিয়ানিতে নিয়ে আসেন। তাদের দুই ভাইকেই উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করেন। মালির থিমবুকতু শহরকে বৃত্তিপ্রাপ্ত মুসলিমদের শিক্ষাকেন্দ্রে পরিণত করেন এই সম্রাট। একইসঙ্গে শহরটি হয়ে ওঠে বাণিজ্য এবং সংস্কৃতি চর্চার একটি কেন্দ্রও। ভেনিস, গ্রানাডা এবং জেনোয়ার মতো ইউরোপীয় শহরগুলোতে যখন এই বাণিজ্যকেন্দ্রটির সংবাদ পৌঁছায় তখন সেখানকার ব্যবসায়ীরা দ্রুত এটিকে তাদের বাণিজ্যিক শহরের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে নেন।

    মুসার সময় থিমবুকতু শহরের শাঙ্কোর বিশ্ববিদ্যালয় হয়ে ওঠে মধ্যপ্রাচ্য এবং আফ্রিকার আইন বিশেষজ্ঞ, জ্যোতির্বিদ এবং গণিতবিদদের একটি মিলনমেলা। ১৩৩০ সালে পার্শ্ববর্তী মোসি সাম্রাজ্য থিমবুকতু দখল করে নেয়। সঙ্গে সঙ্গেই সেনাবাহিনী পাঠিয়ে তা নিয়ন্ত্রণ পুনর্দখল করতে সক্ষম হন মানসা মুসা।

    ওই শহরের রাজপ্রাসাদটি ধ্বংস হয়ে গেলেও এখনো কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় এবং মসজিদগুলো। তার সময়েই লাইব্রেরি অব আলেকজান্দ্রিয়ার পর আফ্রিকার দ্বিতীয় বৃহত্তম শিক্ষাকেন্দ্রে পরিণত হয় ইউনিভার্সিটি অব শাঙ্কোর। সেই সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ২৫ হাজার আবাসিক শিক্ষার্থী বিদ্যার্জন করতো এবং পাঠাগারে ছিল এক লাখেরও বেশি বই।

    টানা ২৫ বছর মালি শাসন করে ১৩৩২ সালে মৃত্যুবরণ করেন বিশ্বের সর্বকালের সবচে ধনী এই ব্যক্তি। তবে মৃত্যুর সঠিক কোনো কারণ এখনো উদ্ধার করতে পারেননি ইতিহাসবিদরা। মৃত্যুর সাল নিয়েও আছে বিতর্ক। ইতিহাসবিদ ইবনে খালদুনের মতে, কমপক্ষে ১৩৩৭ সাল পর্যন্ত বেঁচে ছিলেন তিনি। ওই বছরই আলজেরিয়া বিজয়ে সেনাবাহিনী পাঠিয়েছিলেন মুসা।

    মুসার মক্কায় হজ করতে যাওয়ার একটি ঘটনা আফ্রিকা এবং মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাসে খুবই আলোচিত। মালির এই শাসক মনে করতেন, ইসলামে প্রবেশ মানে হচ্ছে একটি সভ্য সাংস্কৃতিক দুনিয়ায় পদার্পণ। নিজের সাম্রাজ্যের মধ্যে ধর্ম প্রসারের কাজেই বেশিরভাগ সময় ব্যস্ত থাকতেন তিনি। ১৩২৪-২৫ সালের মধ্যে হজ করতে গিয়েছিলেন মুসা। ওই সময় তার সঙ্গে ছিল ৬০ হাজার মানুষ। এদের মধ্যে ১২ হাজার ছিল সেবক।

    এসব সেবকের প্রত্যেকের সঙ্গে ছিল একটি করে সোনার বার। এছাড়া ৮০ থেকে ১০০টি উট ছিল বহর, যেগুলো প্রত্যেকটি প্রায় ১৪০ কেজি করে স্বর্ণ বহন করছিল। যাত্রাপথে কয়েকশ কোটি টাকা মূল্যের সোনা বিতরণ করেন তিনি। এত বেশি স্বর্ণ বিতরণ করেছিলেন যে পরের কয়েক বছর কায়রো, মক্কা এবং মদিনায় সেখানে স্বর্ণের দাম একেবারেই নেমে গিয়েছিল। এতে অবশ্য শহরগুলোর অর্থনীতিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। বেড়ে গিয়েছিল মুদ্রাস্ফীতি।

    মুসার এই হজযাত্রায় সঙ্গী হন তার প্রথম স্ত্রী। এছাড়া নিযুক্ত ছিলেন আরো ৫০০ সেবিকা। কাফেলায় বেশ কয়েকজন শিক্ষক, চিকিৎসক, সরকারি কর্মকর্তা ও সংগীতশিল্পীও ছিলেন। কথিত আছে, প্রতি জুমাবারে একটি করে মসজিদ নির্মাণ করতেন তিনি। মক্কায় হজ পালনের পর আরব বিশ্বের একটি বড় অংশ ঘুরে বেড়াতে থাকেন এই পশ্চিম আফ্রিকান শাসক।

    তখন মক্কাবাসীর জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চা দেখে অভিভূত হয়ে পড়েন তিনি। ফেরার সময় সেখান থেকে বহু উট বোঝাই করে চিকিৎসা, জোতির্বিদ্যা, দর্শন, ভূগোল, ইতিহাস, গণিত এবং আইন বিষয়ে প্রচুর বই নিয়ে আসেন। এছাড়া মক্কার সবচে মেধাবী এবং সেরা গণিতবিদ, চিকিৎসক, বিজ্ঞানী ও স্থাপত্যবিদদের আমন্ত্রণ করে নিয়ে আসেন মালিতে। ইসলামি শিক্ষাভিত্তিক অনেকগুলো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন এবং নিজের সাম্রাজ্য থেকে উত্তর আফ্রিকার ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অনেক শিক্ষার্থী প্রেরণ করেন মুসা।

    বলা হয়ে থাকে, ওই হজে মুসা আজকের দিনের প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার পাউন্ড ওজনের স্বর্ণ ব্যয় করেছিলেন। মালি সাম্রাজ্যের প্রায় ৪০০ শহরকে আধুনিক রূপ দিয়েছিলেন আলোচিত এই শাসক। তার নির্মিত উল্লেখযোগ্য স্থাপত্যের মধ্যে ইউনিভার্সিটি অব শাঙ্কোর, হল অডিয়েন্স, গ্র্যান্ড প্যালেস ইত্যাদি রয়েছে।

    আফ্রিকার বিশাল অংশজুড়ে বিস্তৃত ছিল মুসার সাম্রাজ্য। তার সময়েই মালি সাম্রাজ্য সবচে বেশি বিস্তার করে। ইতিহাসবিদদের মতে, তার সাম্রাজ্যের আয়তন ছিল প্রায় ১২ লাখ ৯৪ হাজার ৯৯৪ বর্গকিলোমিটার। বর্তমান সময়ের মালি, আইভরি কোস্ট, মৌরিতানিয়া, সেনেগাল, নাইজার, গাম্বিয়া, বুর্কিনা ফাসো, গিনি, গিনি বিসাউ, ঘানা ইত্যাদি দেশগুলোও তখন মালি সাম্রাজ্যের অধীনে ছিল।

    মক্কায় হজপালনকালেই মুসা খবর পান, তার জেনারেল সাগমান্দিয়া গাও শহর দখল করেছে। বিজয়ের পর শহরটি সফর করতে যান তিনি। সেখানে গিয়ে গাও সম্রাটের দুই পুত্রকে বন্দিদশা থেকে মুক্তি দেন এবং মালি সাম্রাজ্যের রাজধানী নিয়ানিতে নিয়ে আসেন। তাদের দুই ভাইকেই উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করেন। মালির থিমবুকতু শহরকে বৃত্তিপ্রাপ্ত মুসলিমদের শিক্ষাকেন্দ্রে পরিণত করেন এই সম্রাট। একইসঙ্গে শহরটি হয়ে ওঠে বাণিজ্য এবং সংস্কৃতি চর্চার একটি কেন্দ্রও। ভেনিস, গ্রানাডা এবং জেনোয়ার মতো ইউরোপীয় শহরগুলোতে যখন এই বাণিজ্যকেন্দ্রটির সংবাদ পৌঁছায় তখন সেখানকার ব্যবসায়ীরা দ্রুত এটিকে তাদের বাণিজ্যিক শহরের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে নেন।

    ওই শহরের রাজপ্রাসাদটি ধ্বংস হয়ে গেলেও এখনো কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় এবং মসজিদগুলো। তার সময়েই লাইব্রেরি অব আলেকজান্দ্রিয়ার পর আফ্রিকার দ্বিতীয় বৃহত্তম শিক্ষাকেন্দ্রে পরিণত হয় ইউনিভার্সিটি অব শাঙ্কোর। সেই সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ২৫ হাজার আবাসিক শিক্ষার্থী বিদ্যার্জন করতো এবং পাঠাগারে ছিল এক লাখেরও বেশি বই।

    টানা ২৫ বছর মালি শাসন করে ১৩৩২ সালে মৃত্যুবরণ করেন বিশ্বের সর্বকালের সবচে ধনী এই ব্যক্তি। তবে মৃত্যুর সঠিক কোনো কারণ এখনো উদ্ধার করতে পারেননি ইতিহাসবিদরা। মৃত্যুর সাল নিয়েও আছে বিতর্ক। ইতিহাসবিদ ইবনে খালদুনের মতে, কমপক্ষে ১৩৩৭ সাল পর্যন্ত বেঁচে ছিলেন তিনি। ওই বছরই আলজেরিয়া বিজয়ে সেনাবাহিনী পাঠিয়েছিলেন মুসা।

    দুজন নারী আপনার জান্নাত অথবা জাহান্নাম।কন্যা সন্তান হল জাহান্নাম থেকে মুক্তির উপায় এবং মায়ের পদত্যলে সন্তানদের জান্নাত।

    ♥️♥️ এ পৃথিবীর আপনার নিকটতম দুজন নারী হলো আপনার জান্নাত এবং জাহান্না নির্ধারক তুলাদন্ড। এই দুইজন নারীকে আপনি সঠিক যত্ন করলে এবং আল্লাহ নির্দেশিত পথে পরিচালিত করলে যেমন আপনার জন্য জান্নাত নির্ধারিত তদ্রুপ তাদের অপছন্দ করলে অথবা তাদের অবহেলা করলে কিংবা তাদেরকে আল্লাহর নির্দেশিত পথ ভিন্ন অন্য কোন পথে পরিচালিত করার ব্যবস্থা করলে আপনার জাহান্নাম নির্ধারিত।

    👉👉 জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচতে হলে কন্যা সন্তানের প্রতি যত্নবান হন। তাদেরকে আদর করুন। ইসলামী শিক্ষা প্রদান করুন। এবং দ্বীনদার ছেলে দেখে পাত্রস্থ করুন। ছেলে মেয়ের মধ্যে বৈষম্য করবেন না। জীবিত অবস্থায় আপনি ছেলেমেয়েদেরকে কোন কিছু দান করলে সমান হারে দান করুন।
    ( মেয়ে একভাগ আর ছেলে দুই ভাগ পাবে আপনার মিরাস। অর্থাৎ আপনি মরে যাওয়ার পর আপনার রেখে যাওয়া সম্পত্তি। জীবিত অবস্থায় ছেলে-মেয়েকে কিছু দান করতে চাইলে একেবারে সমান সমান দান করতে হবে । একটু বেশকম করলে আপনাকে জাহান্নামে হতে হবে।
    দলিলঃ একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাই সালাম এর কাছে এক সাহাবী এলেম রাসুলকে সাক্ষী রাখার জন্য। সাহাবী এসে বললেন, ইয়া রাসুল আল্লাহ আমি আমার অমুক ছেলেকে একটা কাজের লোক এবং কিছু সম্পত্তি দান করতে চাই। রাসূলুল্লাহ বললেন, তোমার ছেলে মেয়ে কয়জন। সাহাবী বললেন, ৯ জন।
    এবার রাসুলুল্লাহ লোকটির দিকে তাকিয়ে বললেন, তুমি কি তোমার প্রত্যেক ছেলে মেয়েকে একটি করে দাসী এবং সমপরিমাণ সম্পদ দান করেছ?? লোকটি বলল, না ইয়া রাসুল আল্লাহ। আমি শুধু তাকেই দিতে চাই এবং তার জন্য আপনাকে সাক্ষী রাখতে চাই। রাসূলুল্লাহ বললেন, আমি তোমার এই জুলুমের সাক্ষী হব না। তুমি যদি জীবিত অবস্থায় কিছু দান করতে চাও তাহলে অবশ্যই ছেলেমেয়ে উভয়কে সমান হারে দান করতে হবে।)

    🖋️🖊️আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন আমার নিকট একটি মহিলা তার দুটি কন্যাকে সঙ্গে করে ভিক্ষা করতে (গৃহে) প্রবেশ করল। কিন্তু সে আমার নিকট খেজুর ছাড়া আর কিছু পেল না। আমি খেজুরটি তাকে দিলাম সে সেটিকে দুই খণ্ডে ভাগ করে তার দুটি মেয়েকে খেতে দিল। আর নিজে তা হতে কিছুও খেলনা। অতঃপর সে উঠে বের হয়ে গেল। তারপর নবী (সাঃ) আমাদের নিকট এলে আমি ঐ কথা তাঁকে জানালাম। ঘটনা শুনে তিনি বললেন, “ যে ব্যাক্তি একাধিক কন্যা নিয়ে সঙ্কটাপন্ন হবে, অতঃপর সে তাদের প্রতি যথার্থ সদ্ব্যবহার করবে, সেই ব্যাক্তির জন্য ঐ কন্যারা জাহান্নাম থেকে অন্তরাল (পর্দা) স্বরূপ হবে।” (বুখারী, মুসলিম)

    পৃথিবীতে অদ্যবতী পর্যন্ত যত লোক নিহত হয়েছে তা প্রায় সবই ধর্ম যুদ্ধে। আসলে কি তাই ⁉️

    🤔🤔এক নাস্তিক তার আইডিতে পোষ্ট করেছে-“পৃথিবীতে অদ্যাবধি যত যুদ্ধ হয়েছে, এবং যত মানুষ যুদ্ধে নিহত হয়েছে, তার চেয়েও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে ধর্মযুদ্ধে।
    ধর্মেধর্মে বা একই ধর্মভূক্ত মানুষের মধ্যে বহুধা বিভক্ত মানুষ পরস্পর হানাহানি বা যুদ্ধে লিপ্ত।
    ধর্মযুদ্ধই একমাত্র যুদ্ধ যা বিরামহীন।
    যা কখনওই শেষ হয়না।
    মানুষে মানুষে ভেদ সৃষ্টিতে ধর্মের রয়েছে এক বিশেষ ভুমিকা”।

    👉👉মূলতঃ নাস্তিকেরা খুব কম চিন্তা করে এবং কম জানে বলেই তারা নাস্তিক। ভালো করে পড়াশুনা করলেই কেউ কখনো নাস্তিক হয় না। আর যারা আল্লাহকে ভয় করে তাদেরকে আল্লাহ পবিত্র কোরআনে এই জ্ঞানী বলেছেন।
    আল্লাহ বলেছেন, “একমাত্র জ্ঞানীরাই আল্লাহকে ভয় করে”!
    যাই হোক, ধর্মের জন্য খুউব কম লোকই মরেছে ।

    শুনুন তাহলে আমি এখানে ছোট্ট একটা ফিরিস্তি দিছি মাত্র।
    ২য় বিশ্বযুদ্ধেই নাস্তিকদের বাবা ডারউইনের মতবাদকে কায়েম করতে ৫ কোটি লোক নিহত হয়েছিল। আর তা করেছিল হিটলার নাস্তিকের থিওরি অনুসরণ করে ।
    বেনিতো মোসোলিনি ইতালী ও উত্তর আফ্রিকায় মেরেছে প্রায় ৯০ লক্ষ লোক যা কোন ধর্মের জন্য হয়নি ।
    এ্যারিস্টটলের একান্ত শিষ্য আলেকজেন্ডার শুধু এ্যারিস্টটলের মতবাদকে প্রতিষ্ঠিত করতে যেয়ে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কোটি কোটি বনি আদম হত্যা করেছে যা কোন ধর্মের জন্য হয়নি ।

    নিমরদ বা নমরুদ শুধু ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য কোটি লোক হত্যা করেছে ।
    ফিরাউন বংশের শাষকরা শুধু ক্ষমতার চেয়ারের জন্য টানা ৩০০০ বছর কোটি কোটি মানুষ হত্যা করেছে যা কোন ধর্মের জন্য হয়নি ।

    গত শতাব্দীতে সমাজতন্ত্রকে কায়েমের জন্য শুধু রাশিয়াতেই স্তালিনের নির্দেশে কেজিবি ও তাদের দোসর দ্বারা নিহত হয়েছে ২কোটি বনিআদম ।
    চীন ও পূর্ব ইউরোপে সমাজবাদ কায়েমের বিরোধীতা করায় গত শতকে প্রাণ দিয়েছে ৪ কোটি লোক ,যা কোন ধর্মের জন্য হয়নি ।

    তাছাড়া শুধু আমেরিকা গত ২০০বছর যাবত তাদের বিশ্বে প্রধান্য বজায় রাখার জন্য প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বিভিন্ন জায়গায় যুদ্ধ এবং মহামারী আর কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে মেরেছে প্রায় ৩০ কোটি লোক , যা কোন ধর্মের জন্য হয়নি ।
    বিটিশ ১৬০০ সাল থেকে শুরু করে ১৯০০ সাল পর্যন্ত গোত্রে গোত্রে যুদ্ধ লাগিয়ে হত্যা করেছে কোটি কোটি লোক, যা কোন ধর্মের জন্য হয়নি ।
    তারা আমেরিকায় গুটিবসন্তের জীবানুযুক্ত কম্বল বিতরণ করে পুরো আমেরিকাকে রেড ইন্ডিয়ান শূণ্য করেছিল ফলে বর্তমান আমেরিকার প্রায় সবাই ইউরোপীয় যা কোন ধর্মের জন্য হয়নি ।

    তারা আফ্রিকা উপকুল ও ভূমধ্যসাগরীয় এলাকায় প্লেগ রোগের জীবানু ছড়িয়ে কোটি কোটি লোক মেরে ফেলেছিল যার একটিও কোন ধর্মের জন্য হয়নি ।
    এমন হাজারো ফিরিস্তি দেয়া যাবে ।
    আমি নাস্তিকদের সাথে তর্ক করার জন্য নয় বরং বন্ধুদের জানানোর জন্য কয়েকটি ঘটনা উল্লেখ করলাম ।
    👉👉 আমি সকল ভাইদের কাছে বলব, দয়া করে আপনারা পড়াশোনা করুন এবং চারদিকে দৃষ্টি রাখুন। ইতিহাস গুলো পড়ুন এবং বর্তমান ইতিহাসের উত্তরসূরী নাস্তিকদের দিকে খেয়াল রাখুন এবং তাদের কর্মতৎপরতা পর্যবেক্ষণ করুন। আর যতটুকু পারেন সমাজে পরিবারের এবং অনলাইনে কাজ করুন।
    আপনার অবহেলার জন্য যদি আপনার পরিবার অথবা সমাজ কিংবা সভ্যতা বিনষ্ট হয়, তাহলে অবশ্যই আপনাকে আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করতে হবে। কেননা জ্ঞান আপনার নিকট আমানত রাখা হয়েছে।
    সময় কে আপনি কিছুতেই অপচয় করতে পারেন না, এবং জ্ঞানের অপব্যবহার বা লুকাতে পারেন না।

    mahabuburrahman1720@gmail.com

    মাতৃভূমি নয় বরং পিতৃভূমি বলতে হয়

    👉👉 আপাতদৃষ্টিতে মাতৃভূমি বলতে কোন ব্যক্তির মায়ের দেশকে বুঝায়। যেমন: কোন ব্যক্তির জাতিগোষ্ঠী সংশ্লিষ্ট স্থানে অবস্থান বা অভিবাসিত হয়ে যে দেশে ভূমিষ্ঠ বা জন্মগ্রহণ করবে, তা-ই তার মাতৃভূমি হিসাবে চিহ্নিত করা হয়ে থাকে। কিন্তু বাংলাদেশ ও ভারত ছাড়া পৃথিবীর কোন দেশে মাতৃভূমি বলে না বরং পিতৃভূমি বলে।

    👉👉আপনি কি আপনার মায়ের ভূমিতে থাকেন যে, মাতৃভূমি বলেন?? আপনার বাবা কি ঘরজামাই থাকে??? বরং আপনি যদি আপনার পিতার জমিতে থাকেন তাহলে আপনি পিতৃভূমিতে থাকেন।
    মূলতঃ মাতৃভূমি কথাটি মূর্তিপূজারী মুশরিকদের কথা। কোন মুসলিম মাতৃভূমি বলতেই পারেনা।
    মুশরিকরা দেশ ও মাটিকে মা বলে। নাউজুবিল্লাহ।
    এই জন্য তারা দেশকে মাতৃভূমি বলে।
    একমাত্র হিন্দুরা ছাড়া দেশকে মাতৃভূমি কেউ বলে না এবং পৃথিবীর কোন জাতের লোকেরা বলে না। হিন্দুদের দেখাদেখি বাংলাদেশ ও ইন্ডিয়ার মুসলিমরা ও দেশকে মাতৃভূমি বলে, নাউজুবিল্লাহ। যা সরাসরি শিরক।
    ইউরোপা আমেরিকা সহ পৃথিবীর সব দেশের লোকেরা দেশকে পিতৃভূমি বলে।
    প্রত্যেক দেশের সেনাবাহিনীর মূলমন্ত্র হল-
    “We will fight to protect our Fatherland”.
    এই মাতৃভূমি বলার নিকৃষ্ট পৌত্তলিক প্রথা শুধুমাত্র বাংলাদেশ ও ভারতে।

    ✅✅রাশিয়াকে “দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পিতৃভূমি” হিসাবে উল্লেখ করা হয় কারণ এটি যুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল এবং নাৎসি জার্মানির বিরুদ্ধে মিত্রবাহিনীর বিজয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিল।

    ✅✅সাধারনত ভারতের মত মাত্র কিছু দেশের দেশ কে মাতৃভূমি বলে অভিহিত করে । হঠাৎ যারা দেশকে মা হিসেবে মনে করে। জার্মান ভাষার দেশগুলো নিজেদের দেশ কে পিতৃভূমি বা Vaterland বলে থাকে ।
    👉👉স্বাভাবিকভাবে মাতৃভূমি এবং পিতৃভূমির মধ্যে পার্থক্য হল–
    “মাতৃভূমি” এবং “পিতৃভূমি” দুটি পরিপক্ক বাংলা শব্দ। এদের পার্থক্য হলো:

    মাতৃভূমি: এই শব্দটি বাংলায় “মাতৃভূমি” বা “মাতৃদেশ” অর্থে ব্যবহার করা হয়। এটি কাউকে তার জন্মভূমির সন্তান হিসেবে পরিচিত করার জন্য ব্যবহৃত হয়। এটি কোনো দেশ, অঞ্চল, বা এলাকা হতে পারে, যেখানে একজন ব্যক্তির মা বা জন্মমাতা জন্ম নিয়েছেন। মাতৃভূমি তার সংস্কার, সাংস্কৃতিক পরিচয়, ভাষা, ধর্ম, ঐতিহ্য ইত্যাদির সঙ্গে বিশেষ সংবদ্ধতা অনুভব করা স্বাভাবিক হয়।
    পিতৃভূমি: এই শব্দটি বাংলায় “পিতৃদেশ” অর্থে ব্যবহার করা হয়। এটি কাউকে তার পিতৃবৃন্দের সন্তান হিসেবে পরিচিত করার জন্য ব্যবহৃত হয়। এটি অন্যভাবে যে দেশ বা অঞ্চল তার প্রাজ্ঞাৎ জন্ম নিয়েছে তা অর্থ করতেও পারে। পিতৃভূমি তার বাবা বা জন্মপিতা সম্পর্কে মনোনিবেশ করার সাথে সাথে সম্পর্কিত সংস্কার, ভাষা, ধর্ম, ঐতিহ্য ইত্যাদি সম্পর্কে সাম্প্রতিক সংবদ্ধতা অনুভব করার মাধ্যমে একজন ব্যক্তির স্বতন্ত্র প্রকৃতি হতে পারে।
    এই দুটি শব্দ সাধারণভাবে একজন ব্যক্তির সন্তান হিসেবে তার জন্মভূমি এবং জন্মপিতার দেশ বা অঞ্চল বা তাদের সংস্কার এবং সংস্কৃতির মধ্যে পার্থক্য বোঝানোর জন্য ব্যবহৃত

    ✅✅ বাংলাদেশ ভারত ও নেপালে যেখানে মাতৃভূমি বলা হয় সেখানে রাশিয়া ইউরোপ আমেরিকাতে বলা হয় পিতৃভূমি।

    👉👉মাতৃভূমি না জন্মভূমি — কোনটি বলা বা ব্যবহার করা বেশি যুক্তিযুক্ত?
    জন্মভূমি বলতে নিজে যে দেশে জন্মেছি সেই দেশকে বোঝায় অর্থাৎ স্বদেশ। দেশকে মা হিসেবে কল্পনায় মাতৃভূমি ব্যবহার করা হয়, কিন্তু এটা আমাদের মুসলিম সংস্কৃতির মধ্যে পড়ে না বরং একা পত্তলিক বা মুশরিকি সংস্কৃতি । এইটা মনে হয় মাতৃভূমির ভাবগত বা ব্যবহৃত অর্থ। আক্ষরিক দিক বিবেচনা করলে মায়ের দেশ হয়ে যায়। মূলত এটি হিন্দু কালচার থেকে এসেছে। হিন্দুদের মা কালী মা সরস্বতী মা দুর্গা ইত্যাদি দেব-দেবীর কাছে তাদের অর্থ-সম্পদ ও জায়গা জমি চায়, এবং তারা মনে করে যে এই সমস্ত মাটির তৈরি দেব-দেবীরা তাদেরকে ধন-সম্পদ দিয়ে থাকে।।
    আর সেজন্যই আমাদের দেশে ও ভারতের হিন্দুরা দেশকে মায়ের ভূমি বা মাতৃভূমি বলে।

    যদি মা এবং সন্তান একদদেশীয়ই হন তবে যে অর্থেই ব্যবহার করুক একই দেশ বোঝায় কিন্তু যদি মা ভিন্নদেশীয় হন তবে অর্থ ভিন্ন হতে পারে। শব্দ সবসময় ব্যবহারের ক্ষেত্রবিশেষের উপরই নির্ভর করে। তাই কোন অর্থে ব্যবহৃত হবে তার উপরেই যুক্তিযুক্ততা নির্ভর করে। তবে আপাতদৃষ্টিতে দুটো সমার্থক।

    কোরআনে নামাজের আয়াত ৮২ টি জিহাদের আয়াত ৪৮৪।

    📘📕 পবিত্র কোরআনে নামাজের আয়াত আছে ৮২ টি, এবং জে,হা,দে,র আয়াত আছে ৪৮৪টি।
    উভয় আল্লাহর পক্ষে হতে ফরজ করে হয়েছে !
    📘📕 জেহাদে অংশ গ্রহণ করার ৫০টির মত পন্থা রয়েছে।
    👉👉অথচ এক শ্রেণির আলেম মোনাফিক ও আল্লাহর কিতাব গোপন কারী আলেম নামক কুলাঙ্গার আছে, যারা শুধু নামাজের আলোচনা করে।
    জে হা দের আলোচনা গোপন করে, এবং অতি সাবধানতার সাথে কৌশলে এড়িয়ে যায়।
    তারা জিলাপি ও পকেট ভারি করেতে রমজান মাসে ক্বদরের আলোচনা করে। কিন্তু ঐ রমজান মাসেই যে বদর সংগঠিত হয়েছিল তা তারা মনে হয় জানেই না।তারা বদরের আলোচনা এড়িয়ে যায়।
    তাদের মাহফিলে বাঁধা নেই ,
    বরং তাগুতের গুষ্টিরা মাহফিলে উপস্থিত হয়ে সাধুবাদ জানায়। ঘুষ ,সূদ ও চুরির পয়সা থেকেই লাখ লাখ টাকা ডোনেট করে।
    এই সকল ওরে বাটপার ও কথিত শায়খ মাদানির কপাল চুম্বন করে বরকত হাসিল করতে চেষ্টা করে। আর বলে, এটাই ইসলাম, আর এরাই তো খাঁটি মুসলিম !!

    আর যারা নামাজের আলোচনা করে পাশাপাশি জেহাদের আলোচনা ও করে, তাদের মাহফিলে বাঁধা আসে !

    ইয়াবা কি? ইয়াবা কেন খায়??

    👉👉ইয়াবা কি⁉️
    কেন খায়⁉️ খেলে কি কি ক্ষতি হয়⁉️
    👉👉ইয়াবা- মাদকটির মূল উপাদান মেথঅ্যামফিটামিন। একসময় যা সর্দি ও নাক বন্ধ হয়ে যাওয়ার ওষুধ হিসেবে ব্যবহূত হতো কোনো কোনো দেশে। ব্যবহার করা হতো ওজন কমানোর চিকিৎসায়ও। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে ক্লান্তি দূর করতে ও সজাগ থাকতে সেনাদের মধ্যে জনপ্রিয় ছিল মেথঅ্যামফিটামিন। পরবর্তী সময়ে সাধারণ মানুষ বিশেষত শিক্ষার্থী, দীর্ঘযাত্রার গাড়িচালক ও দৌড়বিদেরা এটি ব্যবহার শুরু করেন।

    👉কোথা থেকে এলো এই ইয়াবা?
    ধীরে ধীরে এর কুফল বা দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতিকর প্রতিক্রিয়া উদঘাটিত হতে থাকায় বিশ্বব্যাপী এর ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়। তবে বিশ্বের কয়েকটি দেশে এর উৎপাদন চলতেই থাকে। মেথঅ্যামফিটামিনের সঙ্গে ক্যাফেইন মিশিয়ে ব্যবহূত হতে থাকে মাদকদ্রব্য হিসেবে। থাইল্যান্ডে এই মাদকটির উৎপাদন হয় সবচেয়ে বেশি। ছড়িয়ে পড়ে পার্শ্ববর্তী অন্যান্য দেশে। গাঁজা, ফেনসিডিল, হেরোইন, পেথেডিনের পথ ধরে বাংলাদেশেও এখন সহজলভ্য হয়ে উঠেছে মাদকটি। অনেকে একে বলে ‘ক্রেজি মেডিসিন’ বা পাগলা ওষুধ। অনেকের কাছে তা নাজি স্পিড বা শুধু স্পিড। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে বাংলাদেশের অনেক এলাকায় এর লেনদেন হয় ‘বাবা’ নামে। হালের মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের কাছে এ মাদকটি সমধিক পরিচিত ‘ইয়াবা’ নামেই। ইয়াবা একটি থাই শব্দ।

    নিশ্চিতভাবে জানা না গেলেও ধরা হয়, ১৯৯৭ সালে বাংলাদেশে ইয়াবার আবির্ভাব ঘটে। পরবর্তী সময়ে ২০০০ সাল থেকে সীমান্তপথে থাইল্যান্ড ও মিয়ানমার থেকে চোরাচালান হয়ে তা দেশে অনুপ্রবেশ করতে থাকে। প্রথম দিকে উচ্চমূল্যের কারণে ইয়াবার প্রচলন সীমাবদ্ধ ছিল শুধু উচ্চবিত্ত ব্যক্তিদের মধ্যেই। পরে প্রচণ্ড উত্তেজক ও নেশাকারক এ ট্যাবলেটটির উপকরণ চোরাইপথে এনে দেশের ভেতরেই তা তৈরি করা শুরু হয়। দাম কিছুটা কমতে থাকে। ফলে উচ্চবিত্তের গণ্ডি ছাড়িয়ে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত যুবক-যুবতীদের মধ্যেও ইয়াবার বিস্তার ঘটে।

    👉👉ইয়াবার প্রতি আকর্ষণের কারণটা কি?
    তরুণ-তরুণীদের কাছে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে মূল উপাদানের সঙ্গে মেশানো হয় আঙুর, কমলা বা ভ্যানিলার ফ্লেভার; সবুজ বা লাল-কমলা রং। ইয়াবা নামের ছোট্ট এ ট্যাবলেটটি দেখতে অনেকটা ক্যান্ডির মতো, স্বাদেও তেমনই। ফলে আসক্ত ব্যক্তিরা এর প্রচণ্ড ক্ষতিকর প্রভাবটুকু প্রথমে বুঝতে পারে না। একই কারণে এটি পরিবহন করা ও লুকিয়ে রাখাও সহজ।

    অধিকাংশ মাদকসেবী ট্যাবলেটটি মুখেই গ্রহণ করে। অনেকে অ্যালুমিনিয়াম ফয়েলের ওপর রাখা ট্যাবলেটের অপর প্রান্তে তাপ দিয়ে একে গলিয়ে ফেলে। এরপর সেখান থেকে যে বাষ্প বের হয়, তা নিঃশ্বাসের সঙ্গে গ্রহণ করে। আবার ট্যাবলেটটি গুঁড়ো করে, পানিতে মিশিয়ে সিরিঞ্জের মাধ্যমে শিরাপথে সরাসরি রক্তেও ঢুকিয়ে দেয় অনেকে।

    👉👉ইয়াবা কিভাবে কাজ করে ?
    ইয়াবার আনন্দ আর উত্তেজনা আসক্ত ব্যক্তিদের সাময়িকভাবে ভুলিয়ে দেয় জীবনের সব যন্ত্রণা। তারা বাস করে স্বপ্নের এক জগতে। ইয়াবার প্রচণ্ড উত্তেজক ক্ষমতা আছে বলে যৌন-উত্তেজক হিসেবে অনেকে ব্যবহার করে এটি। ক্ষুধা কমিয়ে দেয় বলে স্লিম হওয়ার ওষুধ হিসেবে অনেকে শুরু করে ইয়াবা সেবন। ঘুম কমিয়ে দেয়, সারা রাতের পার্টির আগে ক্লান্তিহীন উপভোগ নিশ্চিত করতে অনেকের পছন্দ ইয়াবা।কিন্তু এই সাময়িক আনন্দের ট্যাবলেটটি যে তাদের ধ্বংসের পথে নিয়ে যাচ্ছে, তা টের পাওয়ারও অবকাশ সে সময় তাদের থাকে না।
    প্রথমে কম ডোজে এ ট্যাবলেট কাজ করলেও ধীরে ধীরে ডোজ বাড়াতে হয়। আগে যে পরিমাণ ইয়াবা আনন্দ এনে দিত, পরে তাতে আর হয় না। বাড়তে থাকে ট্যাবলেটের পরিমাণ, ক্ষণস্থায়ী আনন্দের পর বাড়তে থাকে ক্ষতিকর নানা উপসর্গও।

    👉👉ইয়াবার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কি কি?
    রাত কাটে নির্ঘুম, ইয়াবা প্রতিক্রিয়ায় টানা সাত থেকে ১০ দিনও জেগে থাকতে বাধ্য হয় অনেকে। শরীর নিস্তেজ হয়ে পড়তে থাকে, মেজাজ হয় খিটখিটে, গলা-মুখ শুকিয়ে আসতে থাকে অনবরত। প্রচণ্ড ঘাম আর গরমের অসহ্য অনুভূতি বাড়তে থাকে। বাড়ে নাড়ির গতি, রক্তচাপ, দেহের তাপমাত্রা আর শ্বাস-প্রশ্বাসের গতি। দীর্ঘদিনের আসক্ত ব্যক্তিরা উচ্চরক্তচাপের রোগীই হয়ে পড়ে। মস্তিষ্কের ভেতরকার ছোট রক্তনালিগুলো ক্ষয় হতে থাকে, এগুলো ছিঁড়ে অনেকের রক্তক্ষরণ শুরু হয়। স্মৃতিশক্তি কমে যায়, মানসিক নানা রোগের উপসর্গ দেখা দেয়। মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায়, অহেতুক রাগারাগি, ভাঙচুরের প্রবণতা বাড়ে। পড়াশোনা, কর্মক্ষেত্র বা পারিবারিক জীবনে বিরূপ প্রভাব পড়ে। সব ক্ষেত্রে ব্যর্থতা বা পিছিয়ে পড়তে থাকায় আসক্ত ব্যক্তিরা বিষণ্নতায় আক্রান্ত হয়।

    কারও কারও মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা দেখা দেয়। দৃষ্টিবিভ্রম, শ্রুতিবিভ্রম আর অস্বাভাবিক সন্দেহ প্রভৃতি উপসর্গ থেকে একসময় সিজোফ্রেনিয়ার মতো জটিল মানসিক ব্যাধিও দেখা দেয়। বেশি পরিমাণে নেওয়া ইয়াবা শারীরবৃত্তীয় স্বাভাবিক কার্যক্রমের ব্যত্যয় ঘটিয়ে রোগীর মৃত্যু পর্যন্ত ডেকে আনতে পারে। আর যারা সিরিঞ্জের মাধ্যমে দেহে ইয়াবা প্রবেশ করায়, তারা হেপাটাইটিস বি, সি ও এইডসের মতো মারাত্মক রক্তবাহিত রোগের জীবাণু দ্বারা সংক্রমিত হতে পারে।
    নেশা ছাড়তে চাইলেও ছাড়া যায় না কেন?

    ইয়াবার পরিমাণ বাড়ানোর পাশাপাশি আসক্ত ব্যক্তিরা এর ওপর শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। একবার ইয়াবা নেওয়ার কয়েক ঘণ্টা বা নির্দিষ্ট সময় পর আবার না নিলে শরীরে ও মনে নানা উপসর্গ দেখা দেয়, ফলে বাধ্য হয়ে আসক্ত ব্যক্তিরা আবার ফিরে যায় নেশার জগতে।

    👉👉ইয়াবার হাত থেকে মুক্তি পেতে চাইলে করনীয় কি?
    তবে হ্যাঁ, যারা আবার ফিরে পেতে চায় স্বাভাবিক সুস্থ জীবন, তাদের নিরাশ হওয়ার কিছু নেই। এমন নয় যে, আসক্ত ব্যক্তিরা আর কখনোই স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে পারবে না। এ জন্য প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা। মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শে বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসা পদ্ধতি আসক্ত ব্যক্তিদের আশার আলো দেখাচ্ছে, তারা ফিরে যেতে পারছে মাদকমুক্ত জীবনধারায়। ওষুধ, সাইকোথেরাপি ও অন্যান্য উপায়ে মাদকাসক্ত ব্যক্তিকে স্বাভাবিক ও সুস্থ জীবনযাপন পদ্ধতিতে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হয়, পরিবর্তন করার চেষ্টা করা হয় তার আগের পারিপার্শ্বিক পরিবেশ, যা তাকে মাদকাসক্ত হতে উদ্বুদ্ধ করেছিল।এতে মানসিক রোগ চিকিৎসক ও মনোবিজ্ঞানীর যেমন ভূমিকা রয়েছে, তেমনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে পরিবার, স্বজন আর প্রকৃত ভালো বন্ধুরও। একজন নেশাসক্ত ব্যক্তি সবার সম্মিলিত সহযোগিতায়ই আবার ফিরে পেতে পারে মাদকমুক্ত সুস্থ জীবন।

    👉👉ইয়াবা প্রতিরোধে আমাদের করণীয় কি?
    তবে ইয়াবার আগ্রাসন থেকে দেশের যুবসমাজকে রক্ষা করতে প্রয়োজন সামগ্রিক প্রতিরোধ। পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে যেসব পথে দেশে ইয়াবা ঢুকছে, সেসব জায়গায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও তৎপর হতে হবে। দেশের ভেতর ইয়াবার উৎপাদন ও সরবরাহ বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। মাদক ব্যবসায়ী ধরা পড়লে তাঁর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। ইয়াবার কুফল সম্পর্কে সবাইকে বিশেষত উঠতি বয়সী তরুণ-তরুণীদের সচেতন করতে হবে।

    আকাশের দিকে তাকিয়ে দোয়া করা সুন্নত

    🤲🤲 দোয়া করার সময় #আকাশের দিকে তাকানো সুন্নতঃ
    🤲🤲কঠিন ও ভয়াবহ বিপদ এবং কষ্টের সময় আকাশের দিকে তাকিয়ে মহান রবের কাছে নিজেদের কষ্টের কথা বলা রাসূল সঃ এর আদর্শ। আর তাতে বিপদ থেকে মুক্ত হওয়া যায়। নবি সাঃ এমন আমল করতেন এবং ছোট্ট একটি দোয়া পড়তেন।
    আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোনো ভয়াবহ বিপদে পড়লে আকাশের দিকে নিজ মাথা তুলে বলতেন-

    سُبْحَانَ اللَّهِ الْعَظِيم
    ‘মহান আল্লাহ খুবই পবিত্র’।
    এবং যখন তিনি আকুতি সহকারে দোয়া করতেন তখন বলতেন-
    يَا حَىُّ يَا قَيُّومُ

    ‘হে চিরঞ্জীব, হে চিরস্থায়ী।’ (তিরমিজি ৩৪৩৬)

    🤲🤲 অত্যাচারির জুলুম থেকে বাঁচার জন্য আকাশের দিকে তাকিয়ে দোয়া করতে হয়ঃ
    “”উম্মে সালমা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. যখনই আমার ঘর হতে বের হতেন, আকাশের দিকে মাথা উঠিয়ে বলতেন-
    “”হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট বিপথগামী হওয়া ও করা থেকে, অত্যাচার করা ও অত্যাচারিত হওয়া থেকে, অজ্ঞতা প্রকাশ করা ও অজ্ঞতা প্রকাশের পাত্র হওয়া থেকে আশ্রয় চাই””!
    –আবু দাউদ, ইবনু মাজাহ, মিশকাত!।
    🤲🤲বাসা-বাড়ি থেকে বের হয়েই রাসুলুল্লাহ সাঃ আকাশের দিকে তাকিয়ে পড়তেন
    বাসা বা ঘর থেকে বের হওয়ার দোয়া:
    “”বিসমিল্লাহি তাওয়াক্কালতু আ’লাল্লাহি, লা-হাওলা ওয়া লা- কুউওয়াতা ইল্লা বিল্লাহি।
    অর্থাৎ- আমি আল্লাহর নামে বের হচ্ছি, আল্লাহর ওপর ভরসা করছি। আল্লাহ ব্যতিত কোনো অভিভাবক ও শক্তি নেই।
    —তিরমিজি, আবু দাউদ!!!
    🤲🤲আকাশের দিকে তাকিয়ে নিজের কষ্টগুলো আল্লাহর কাছে বলা সুন্নত!

    • মুসলিম : ২৫৩১
      “ফা ইন্না মা আল উসরি ইউসরা”
      নিশ্চয়ই কষ্টের সাথে স্বস্তি আছে।

    🤲🤲অজু করার পর আকাশের দিকে তাকিয়ে দোয়াঃ
    অজু করার পর কালেমায়ে শাহাদাত পাঠ করা মুস্তাহাব। কেননা, রাসুলুল্লাহ সাঃ বলেছেন,

    ما مِن مُسلمٍ يتَوضَّأُ فيُحسِنُ الوضوءَ ثمَّ يقولُ أشهدُ أن لا إلهَ إلَّا اللهُ وأشهدُ أنَّ محمَّدًا عبدُه ورَسولُه إلَّا فُتِحتْ لهُ ثمانيةُ أبوابِ الجنَّةِ يدخُلُ مِن أيِّها شاءَ

    যে কোন মুসলিম ব্যাক্তি উত্তমরূপে অজু করার পর বলে (কালিমা শাহাদাত) ‘আমি সাক্ষ্য দেই যে, আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নাই, তাঁর কোন শারীক নাই, তিনি একক এবং আমি আরো সাক্ষ্য দেই যে, মুহাম্মাদ ﷺ তাঁর বান্দা ও রাসূল’; তার জন্য জান্নাতের আটটি দরজা খুলে দেয়া হবে। সে যে কোন দরজা দিয়ে ইচ্ছা তাতে প্রবেশ করবে। (মুসলিম ২৩৪ ইবনু মাজাহ ৪৭০)

    অন্য এক বর্ণনায় এসেছে,
    مَنْ تَوَضَّأَ فَأَحْسَنَ الْوُضُوءَ، ‌ثُمَّ ‌رَفَعَ ‌نَظَرَهُ ‌إِلَى ‌السَّمَاءِ

    যে ব্যক্তি উত্তমরূপে অজু করে আকাশের দিকে তাকিয়ে বলবে…। মুসনাদে আহমাদ ১২১!!

    তাই সম্ভব হলে এর উপর আমল করা ভালো। না করলেও অসুবিধা নেই। তাছাড়া আকাশের দিক মানে উপরের দিক। সুতরাং উপরের তাকিয়ে পড়লেই হবে। এক্ষেত্রে আকাশ দেখা যাওয়া জরুরি নয়। শাহাদাত আঙ্গুল উঁচিয়ে ধরাও জরুরি নয়।

    🤔🤔তবে আজুর পর আকাশের দিকে তাকিয়ে দোয়া করার হাদিসে অনেক আলেম জাল বা মুনকার বলেছেন–
    “বর্ণনাটি মুনকার। ‘আকাশের দিকে তাকানো’ অংশটুকু ছহীহ হাদীছের বিরোধী। তাই বেশ সংখ্যক হাদিস শাস্ত্র বিশারদ বলেন, ‘এই অতিরিক্ত অংশটুকু অস্বীকৃত। কারণ ইবনু আম আবী উক্বাইল এককভাবে বর্ণনা করেছে। সে অপরিচিত’।

    📘📕আদব ও বিশ্বাসের সহিত দোয়া করবে।
    দোয়ার কিছু আদব

    ১। দোয়াকারীকে আল্লাহর রুবুবিয়্যত, উলুহিয়্যত ও আসমা-সিফাতের প্রতি একত্ববাদী হতে হবে। আল্লাহ তাআলা কর্তৃক দোয়া কবুল করার শর্ত হচ্ছে- বান্দা কর্তৃক আল্লাহর আহ্বানে সাড়া দিয়ে নেক কাজ করা ও গুনাহ পরিত্যাগ করা। আল্লাহ তাআলা বলেন: “আর আমার বান্দাগণ যখন আমার সম্পর্কে আপনাকে জিজ্ঞেস করে, (তখন বলে দিন যে) নিশ্চয় আমি অতি নিকটে। আহ্বানকারী যখন আমাকে আহ্বান করে আমি তার আহ্বানে সাড়া দেই।”[সূরা বাক্বারা, আয়াত: ১৮৬]

    ২। একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর কাছে দোয়া করা। আল্লাহ তাআলা বলেন: আর “তাদেরকে কেবল এ নির্দেশই প্রদান করা হয়েছিল যে, তারা যেন আল্লাহ্‌র ইবাদত করে তাঁরই জন্য দ্বীনকে একনিষ্ঠ করে।”[সূরা বাইয়্যেনা, আয়াত: ০৫] দোয়া হচ্ছে- ইবাদত; যেমনটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন। তাই ইখলাস দোয়া কবুলের শর্ত।

    ৩। আল্লাহ্‌র সুন্দর নাম ও গুণাবলী দিয়ে তাঁকে ডাকা। আল্লাহ্‌ তাআলা বলেন: “আর আল্লাহ্‌র জন্যই রয়েছে সুন্দর সুন্দর নাম। অতএব তোমরা তাঁকে সেসব নামেই ডাক; আর যারা তাঁর নাম বিকৃত করে তাদেরকে বর্জন কর।”[সূরা আরাফ, আয়াত: ১৮০]

    ৪। দোয়া করার পূর্বে আল্লাহর যথোপযুক্ত প্রশংসা করা। সুনানে তিরমিযিতে (৩৪৭৬) ফাযালা বিন উবায়দ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উপবিষ্ট ছিলেন। এমন সময় এক ব্যক্তি এসে নামায আদায় করল, এরপর দু’আ করল: ‘হে আল্লাহ! তুমি আমাকে মাফ করে দাও, তুমি আমাকে রহম কর’। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: হে নামাযী! তুমি বেশ তাড়াহুড়া করে ফেললে। তুমি নামায আদায় করে যখন বসবে তখন আগে আল্লাহর যথোপযুক্ত প্রশংসা করবে, আমার ওপর দরুদ পড়বে। এরপর আল্লাহর কাছে দু’আ করবে।” অপর এক রেওয়ায়েতে এসেছে (৩৪৭৭) “যখন তোমাদের কেউ নামায শেষ করবে তখন আল্লাহর প্রশংসা ও স্তুতি শুরু করবে। এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর দরুদ পড়বে। অতঃপর যা ইচ্ছা দোয়া করবে” বর্ণনাকারী বলেন: এরপর অপর এক লোক নামায আদায় করল। সে ব্যক্তি আল্লাহর প্রশংসা করল, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর দরুদ পড়ল। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: “ওহে নামাযী! দোয়া কর, আল্লাহ তোমার দোয়া কবুল করবেন”[আলবানী সহিহুত তিরমিযি গ্রন্থে (২৭৬৫), (২৭৬৭) হাদিসটিকে সহিহ আখ্যায়িত করেছেন]

    ৫। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর দরুদ পড়া। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর দরুদ না পড়া পর্যন্ত যে কোন দোয়া আটকে থাকে”[আল-মুজাম আল-আওসাত (১/২২০), আলবানী ‘সহিহুল জামে’ গ্রন্থে (৪৩৯৯) হাদিসটিকে সহিহ আখ্যায়িত করেছেন]

    ৬। কিবলামুখী হয়ে দোয়া করা। সহিহ মুসলিমে (১৭৬৩) উমর বিন খাত্তাব (রাঃ) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেন: বদর যুদ্ধের দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মুশরিকদের দিকে তাকালেন; তাদের সংখ্যা ছিল এক হাজার। আর তাঁর সাথীবর্গের সংখ্যা ছিল তিনশত উনিশ। তখন তিনি কিবলামুখী হয়ে হাত প্রসারিত করলেন, তারপর তাঁর রবকে ডাকতে শুরু করলেন: ‘হে আল্লাহ! আপনি আমাকে যে ওয়াদা দিয়েছেন সেটা বাস্তবায়ন করে দিন। হে আল্লাহ! আপনি আমাকে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন সেটা দান করুন। হে আল্লাহ! আপনি যদি মুসলমানদের এ দলটিকে ধ্বংস করে দেন তাহলে পৃথিবীতে আপনার ইবাদত হবে না’। এভাবে দুই হাত প্রসারিত করে কিবলামুখী হয়ে তাঁর রবকে ডাকতে থাকলেন; এমনকি এক পর্যায়ে তাঁর কাঁধ থেকে চাদরটি পড়ে গেল…।

    ইমাম নববী (রহঃ) ‘শারহু মুসলিম’ গ্রন্থে বলেন: এ হাদিসে দোয়াকালে কিবলামুখী হওয়া ও দুই হাত তুলে দোয়া করা মুস্তাহাব হওয়ার পক্ষে প্রমাণ রয়েছে।

    ৭। দুই হাত তোলা। সুনানে আবু দাউদ গ্রন্থে (১৪৮৮) সালমান (রাঃ) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “নিশ্চয় আপনাদের সুমহান রব হচ্ছেন লজ্জাশীল ও মহান দাতা। বান্দা যখন তাঁর কাছে দু’হাত তোলে তখন তিনি সে হাতদ্বয় শূন্য ফিরিয়ে দিতে লজ্জাবোধ করেন।”[সহিহ আবু দাউদ গ্রন্থে (১৩২০) আলবানী হাদিসটিকে সহিহ আখ্যায়িত করেছেন]

    হাতের তালু থাকবে আকাশের দিকে; যেভাবে একজন নতজানু দরিদ্র সাহায্যপ্রার্থী কিছু পাওয়ার আশায় হাত পাতে। সুনানে আবু দাউদ গ্রন্থে (১৪৮৬) মালেক বিন ইয়াসার (রাঃ) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: “যখন তোমরা আল্লাহর কাছে কোন কিছু চাইবে তখন হাতের তালু দিয়ে চাইবে; হাতের পিঠ দিয়ে নয়”[আলবানী সহিহ আবু দাউদ গ্রন্থে (১৩১৮) হাদিসটিকে সহিহ আখ্যায়িত করেছেন]

    হাত তোলার সময় দুই হাত কি মিলিয়ে রাখবে; না কি দুই হাতের মাঝে ফাঁক রাখবে?

    শাইখ উছাইমীন (রহঃ) তাঁর ‘আল-শারহুল মুমতি’ গ্রন্থে (৪/২৫) উল্লেখ করেছেন যে, হাত দুইটি মিলিয়ে রাখবে। তাঁর ভাষায়: “দুই হাতের মাঝখানে ফাঁক রাখা ও এক হাত থেকে অন্য হাত দূরে রাখা সম্পর্কে আমি কোন দলিল পাইনি; না হাদিসে; আর না আলেমগণের বাণীতে।” [সমাপ্ত]

    ৮। আল্লাহর প্রতি এ একীন রাখা যে, আল্লাহ দোয়া কবুল করবেন এবং মনোযোগ দিয়ে দোয়া করা। দলিল হচ্ছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী: “তোমরা দোয়া কবুল হওয়ার একীন নিয়ে দোয়া কর। জেনে রাখ, আল্লাহ তাআলা অবহেলাকারী ও অমনোযোগী অন্তরের দোয়া কবুল করেন না।”[সুনানে তিরমিযি (৩৪৭৯), শাইখ আলবানী ‘সহিহুত তিরমিযি’ গ্রন্থে (২৭৬৬) হাদিসটিকে ‘হাসান’ বলেছেন]

    ৯। বারবার চাওয়া। বান্দা আল্লাহর কাছে দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণকর যা ইচ্ছা তা চাইবে, কাকুতি-মিনতি করবে, তবে দোয়ার ফলাফল প্রাপ্তিতে তাড়াহুড়া করবে না। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: “বান্দার দোয়া ততক্ষণ পর্যন্ত কবুল করা হয় যতক্ষণ পর্যন্ত না বান্দা কোন পাপ নিয়ে কিংবা আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা নিয়ে দোয়া করে। বান্দার দোয়া ততক্ষণ পর্যন্ত কবুল করা হয় যতক্ষণ পর্যন্ত না বান্দা ফলাফল প্রাপ্তিতে তাড়াহুড়া না করে। জিজ্ঞেস করা হল: ইয়া রাসূলুল্লাহ! তাড়াহুড়া বলতে কী বুঝাচ্ছেন? তিনি বললেন: বলে যে, আমি দোয়া করেছি, আমি দোয়া করেছি; কিন্তু আমার দোয়া কবুল হতে দেখিনি। তখন সে ব্যক্তি উদ্যম হারিয়ে ফেলে এবং দোয়া ছেড়ে দেয়।[সহিহ বুখারী (৬৩৪০) ও সহহি মুসলিম (২৭৩৫)]

    ১০। দৃঢ়তার সাথে দোয়া করা। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “তোমাদের কেউ যেন অবশ্যই এভাবে না বলে যে, হে আল্লাহ! আপনি যদি চান আমাকে ক্ষমা করুন। হে আল্লাহ! আপনি যদি চান আমাকে দয়া করুন। কেননা নিশ্চয় আল্লাহর ওপর জবরদস্তি করার কেউ নেই।[সহিহ বুখারী (৬৩৩৯) ও সহিহ মুসলিম(২৬৭৯)]

    ১১। অনুনয়-বিনয়, আশা ও ভয় প্রকাশ করা। আল্লাহ তাআলা বলেন: “তোমরা বিনীতভাবে ও গোপনে তোমাদের রবকে ডাক”[সূরা আরাফ, আয়াত: ৫৫] তিনি আরও বলেন: “তারা সৎকাজে প্রতিযোগিতা করত, আর তারা আমাদেরকে ডাকত আগ্রহ ও ভীতির সাথে এবং তারা ছিল আমাদের নিকট ভীত-অবনত।”[সূরা আম্বিয়া, আয়াত: ৯০] তিনি আরও বলেন: “আর আপনি আপনার রবকে নিজ মনে স্মরণ করুন সবিনয়ে, ভীতচিত্তে ও অনুচ্চস্বরে, সকালে ও সন্ধ্যায়।”[সূরা আরাফ, আয়াত: ২০৫]

    ১২। তিনবার করে দোয়া করা। সহিহ বুখারী (২৪০) ও সহিহ মুসলিমে (১৭৯৪) আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেন: “একবার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বায়তুল্লাহ্‌র কাছে নামায আদায় করছিলেন। সেখানে আবূ জেহেল ও তার সঙ্গীরা বসা ছিল। গতদিন উট জবাই করা হয়েছিল। এমন সময় আবু জেহেল বলে উঠল, ‘তোমাদের মধ্যে কে অমুক গোত্রের উটনীর নাড়ীভুঁড়ি এনে মুহাম্মদ যখন সিজদা করবে তখন তার পিঠের উপর রাখতে পারবে?’ তখন কওমের সবচেয়ে নিকৃষ্ট লোকটি দ্রুত গিয়ে উটনীর নাড়ীভুঁড়ি নিয়ে এল এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সিজদায় গেলেন তখন এগুলো তাঁর দুই কাঁধের মাঝখানে রেখে দিল। বর্ণনাকারী বলেন: তারা নিজেরা হাসতে থাকল; হাসতে হাসতে একে অন্যের ওপর হেলে পড়ল। আমি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখছিলাম। হায়! আমার যদি প্রতিরোধ করার ক্ষমতা থাকত তাহলে আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পিঠ থেকে এগুলো ফেলে দিতাম। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সিজদায় পড়ে থাকলেন; মাথা উঠালেন না। এক পর্যায়ে এক লোক গিয়ে ফাতিমা (রাঃ) কে খবর দিল। খবর শুনে তিনি ছুটে এলেন। সে সময় ফাতেমা (রাঃ) ছিলেন ছোট বালিকা। তিনি এসে উটের নাড়ীভুঁড়ি তাঁর পিঠ থেকে ফেলে দিলেন। এরপর লোকদের দিকে মুখ করে তাদেরকে গালমন্দ করলেন। অতঃপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তাঁর নামায শেষ করলেন তখন তিনি কণ্ঠস্বর উঁচু করলেন এবং তাদের বিরুদ্ধে বদ দোয়া করলেন। – তিনি যখন দোয়া করতেন তখন তিনবার করতেন এবং যখন প্রার্থনা করতেন তখন তিনবার করতেন- এরপর বললেন: ইয়া আল্লাহ্! আপনি কুরাইশকে ধ্বংস করুন। এভাবে তিনবার বললেন। তারা যখন তাঁর কণ্ঠস্বর শুনতে পেল তাদের হাসি মিলিয়ে গেল এবং তারা তাঁর বদ দোয়াকে ভয় পেল। এরপর তিনি বললেনঃ ইয়া আল্লাহ্! আবূ জেহেল ইবনে হিশাম, ‘উতবা ইবনে রাবী’আ, শায়বা ইবনে রবী’আ, ওয়ালীদ ইবনে ‘উকবা, উমাইয়্যা ইবনে খালাফ ও ‘উকবা ইবনে আবু মু’আইতকে ধ্বংস করুন। (রাবী বলেন, তিনি সপ্তম ব্যক্তির নামও বলেছিলেন কিন্তু আমি স্মরণ রাখতে পারিনি।) সেই সত্তার কসম! যিনি মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সত্যসহ প্রেরণ করেছেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যাদের নাম উচ্চারণ করেছিলেন, আমি বদর যুদ্ধের দিন তাদেরকে নিহত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেছি। পরবর্তীতে তাদেরকে টেনেহিঁচড়ে বদরের কূপের মধ্যে ফেলে দেয়া হয়।”

    ১৩। ভাল খাবার ও ভাল পোশাক গ্রহণ করা (ভাল হতে হলে হালাল হওয়া জরুরী)। সহিহ মুসলিমে (১০১৫) আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি্ ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “হে লোকসকল! নিশ্চয় আল্লাহ ভাল। তিনি ভাল নয় এমন কিছু গ্রহণ করেন না। তিনি রাসূলদেরকে যে নির্দেশ দিয়েছেন একই নির্দেশ মুমিনদের প্রতিও জারী করেছেন। তিনি বলেন: “হে রাসূলগণ! আপনারা ভাল খাবার গ্রহণ করুন এবং নেক আমল করুন। নিশ্চয় আপনারা যা কিছু আমল করেন সে সম্পর্কে আমি সম্যক অবগত”[সূরা মুমিনূন, আয়াত: ৫১] তিনি আরও বলেন: “হে ঈমানদারেরা! তোমাদেরকে যেসব ভাল রিজিক দিয়েছি সেগুলো থেকে খাও।”[সূরা বাক্বারা, আয়াত: ১৭২] এরপর তিনি উল্লেখ করেন যে, জনৈক ব্যক্তি লম্বা সফর করে উস্কখুস্ক চুল নিয়ে ধুলিমলিন অবস্থায় দুই হাত আকাশের দিকে তুলে দোয়া করে: ইয়া রব্ব, ইয়া রব্ব! অথচ তার খাদ্য হারাম, তার পানীয় হারাম, তার পোশাক হারাম, সে পরিপুষ্ট হয়েছে হারাম খেয়ে তাহলে তার দোয়া কিভাবে কবুল হবে?” ইবনে রজব (রহঃ) বলেন: “হালাল খাওয়া, হালাল পান করা, হালাল পরিধান করা ও হালাল খেয়ে পরিপুষ্ট হওয়া দোয়া কবুল হওয়ার আবশ্যকীয় শর্ত।

    📘📕 জিকির তথা দোয়া আস্তে আস্তে ও
    গোপনে দোয়া করা সুন্নত।
    জিকির ও দোয়ায় উচ্চ শব্দ না করা সুন্নত।
    আল্লাহ তাআলা বলেন:
    “তোমরা বিনীতভাবে ও গোপনে তোমাদের রবকে ডাক”!—সূরা আরাফ, আয়াত: ৫৫। অথচ আজকাল পীরেরা শুধু উচ্চ শব্দে নয় বরং জামায়াতের সহিত লাফালাফি করে ও জাকির করে।।
    আল্লাহ তাআলা যাকারিয়া আঃ এর প্রশংসা করে বলেন: “যখন তিনি তার রবকে ডেকেছিলেন নিভৃতে”–সূরা মারিয়াম, আয়াত: ০৩!!

    জালিমের ইহকালিন এবং পরকালীন শাস্তি।


    👉👉আল্লাহ তায়ালা পৃথিবীর সব মানুষকে বিভিন্ন শ্রেণিবিন্যাসে সৃষ্টি করেছেন। কাউকে করেছেন ধনবান-শক্তিশালী, আবার কাউকে করেছেন দরিদ্র-অসহায়। শক্তি ও ক্ষমতার প্রশ্নে সবার অবস্থান সমান নয়। দুনিয়ার পরিচালনা পদ্ধতি সঠিকভাবে অবিরত রাখতে এভাবে স্তর নির্ধারণ করেছেন। হাতের আঙ্গুলগুলো যদি সমান করে রাখা হতো তাহলে যেমন এই হাত দিয়ে কোন কিছু ধরা যেত না এবং কোন কাজ করা যেত না বরং হাত হয়ে যেত কাঁটা চামচের মত, ঠিক তদ্রুপ যদি সকল মানুষকে একই আকৃতি একই শক্তি একই মেধা ও একই রকম যোগ্যতা ও ধনসম্পদ দিয়ে সৃষ্টি করা হতো তাহলে দুনিয়ার স্থবির হয়ে যেত। আল্লাহ সৃষ্টির সংখ্যা পরিমাপ ও পরিমাণ নির্ধারণের সঙ্গে সঙ্গে ক্ষমতাবান-ক্ষমতাহীন, নির্বিশেষে সবার প্রতি ইনসাফ ও সম্প্রীতি রক্ষার আদেশ করেছেন।
    জুলুমসহ সব ধরনের অনাচার বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন। সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ক্ষমতাবান কর্তৃক অসহায়দের ওপর অযাচিত জুলুমের চিত্র অহরহ ঘটতে দেখা যায়।
    উঁচু শ্রেণি কর্তৃক সহায়হীন শ্রেণির ওপর দমন-পীড়ন যেন প্রতিষ্ঠিত কোনো নীতির অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অথচ আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনে অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় সর্বপ্রকার জুলুমকে নিষিদ্ধ করেছেন। নবী করিম (সা.) হাদিস শরিফের অসংখ্য স্থানে জালিমের ইহকালীন ও পরকালীন নানাবিধ শাস্তির কথা ব্যক্ত করেছেন।

    👉👉 অত্যাচার তথা জুলুমের ব্যাপারে কোরআন-হাদিসের সতর্কবাণীঃ
    👉আল্লাহ তায়ালা বলেন, “অভিযোগ তো তাদের বিরুদ্ধে, যারা মানুষের ওপর জুলুম করে ও পৃথিবীতে অন্যায়ভাবে বিদ্রোহ করে বেড়ায়। এরূপ লোকদের জন্য আছে যন্ত্রণাময় শাস্তি।”
    –সুরা শূরা : ৪২।

    👉অন্যত্র বর্ণিত হয়েছে, “তুমি যদি সেই সময় দেখ তবে বড় ভয়াল দৃশ্য দেখতে পাবে! যখন (অত্যাচারী রাজা-বাদশা ও আমির লোকেরা অর্থাৎ জালেম সম্প্রদায়েরা মৃত্যু যন্ত্রণায় আক্রান্ত হবে এবং ফেরেশতারা তাদের হাত বাড়িয়ে বলতে থাকবে নিজেদের প্রাণ বের কর; আর এখন থেকে তোমাদের লাঞ্ছনাকর শাস্তি দেওয়া হবে।’
    সুরা আনআম : ৯৩!

    👉 হাদিসে কুদসিতে নবী করিম সা. বলেছেন,
    “আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, হে আমার বান্দা! আমি নিজের জন্য জুলুম হারাম ঘোষণা করেছি এবং তোমাদের পরস্পরের মাঝেও।
    ফলে তোমরা জুলুম কর না।’
    -মুসলিম : ২৫৭৭ ।

    👉অন্য হাদিসে আছে, ‘জুলুম তিন প্রকার।
    ১// যেটা আল্লাহ তায়ালা কখনও ক্ষমা করেন না। যেমন : শিরক।
    ২,// যেটা আল্লাহ তায়ালা চাইলে ক্ষমা করতে পারেন। যেমন : আল্লাহর কোনো হক লঙ্ঘন।
    ৩// যেটার ক্ষমা বান্দার ক্ষমার ওপর নির্ভরশীল। যেমন : মানুষ পরস্পর একে অন্যের ওপর জুলুম করেছে। মজলুম ক্ষমা না করা পর্যন্ত আল্লাহ তায়ালা ক্ষমা করবেন না।’
    –মুসনাদে বাজ্জার : ৩৪৩৯!

    👉👉রাসুলুল্লাহ সা. আরও বলেছেন,
    “তোমরা জুলুম করা থেকে বেঁচে থাক। কারণ, জুলুম কেয়ামতের দিন অন্ধকারে পরিণত হবে।’
    –মুসলিম : ৬৭৪১।

    🤔🤔দুনিয়াতে জালিমের শাস্তিঃ

    👉স্বাভাবিকভাবে আল্লাহ তায়ালা জালিমদের তাদের জুলুম-অন্যায় এবং সমাজে জুলুমের খারাপ প্রতিক্রিয়ার কারণে দ্রুত শাস্তি দেওয়ার ওয়াদা করেছেন। নবী করিম সা.বলেছেন, ‘আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা ও জুলুম করার শাস্তি সবচেয়ে দ্রুত পতিত হয়।’
    -বায়হাকি : ২০৩৬৪!!

    👉🤔অন্য হাদিসে আছে,
    “আল্লাহ তায়ালা জালিমকে অবকাশ দেন ! এরপর জালিম জুলুম থেকে ফিরে না এলে তাকে এমনভাবে শাস্তি দেন যে, জালিম সে শাস্তি থেকে পলায়ন করতে পারে না।’
    —বোখারি : ৪৬৮৬।
    এ কথা বলে নবী (সা.) কোরআনের এই আয়াত তেলাওয়াত করলেন, ‘যেসব জনপদ জুলুমে লিপ্ত হয়, তোমার প্রতিপালক যখন তাদের ধরেন, তখন তার ধরা এমনই হয়ে থাকে। বাস্তবিকই তার ধরা অতি মর্মন্তুদ, অতি কঠিন।’
    –সুরা হুদ : ১০২।

    👉👉আল্লাহ তায়ালা জালিমকে দুনিয়াতেই লাঞ্ছিত করেন। জীবনের তিক্ত স্বাদ আস্বাদন করান।
    👉দুনিয়াতে জালিমের জীবন থেকে কল্যাণ ও নেয়ামত ছিনিয়ে নেন।
    👉 জালিম এবং জালিমের সহযোগীরা ও সমর্থকেরা কখনোই দুনিয়াতে নিশ্চিন্ত জীবন যাপন করতে পারেনা বরং দুশ্চিন্তা তাদেরকে সবসময় আচ্ছন্ন করে রাখে। ((বাংলায় একটা প্রবাদ আছে না; “চোরের মন পুলিশ পুলিশ”)) জালিমদের জীবন থেকে উত্তম চিন্তাভাবনা, নেক কাজের আগ্রহ এবং স্পৃহা আর হেদায়েত ছিনিয়ে নেওয়া হয়। হলে তারা মানসিক বিকারগ্রস্তের মত আর উদভ্রান্তের মতো দিগ্বিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে ঘুরতে থাকে।
    কোন কিছু না পাওয়ার চেয়ে পেয়ে হারানোর বেদনা অনেক অনেক বেশি। অত্যাচারীরা অত্যাচার ও জুলুম করে যত সম্পদ আহরণ করে তা একসময় দুনিয়াতে রেখেই প্রচন্ড আফসোস নিয়ে দুনিয়া থেকে চলে যায় অথবা বিভিন্নভাবে তাদেরকে দুনিয়ার মানুষেরাই এই সম্পদ থেকে বঞ্চিত করে ফেলে।
    দুই দিন আগে দেখতে পেয়েছেন একটি উপজেলার সমান জমি কিনে ফেলা এবং বাংলাদেশের সবচেয়ে ক্ষমতাধর পুলিশ অফিসার বেনজির আহমদ মানুষের উপর অত্যাচার জুলুম নির্যাতনের ফলে আজকে একটি জংলি খেঁকশিয়াল এর মত এখানে সেখানে পালিয়ে বেড়াচ্ছে।
    লিবিয়ার প্রেসিডেন্ট গাদ্দাফি দীর্ঘ প্রায় ৪০ বছর দেশের জনগণের উপর এত বেশি অত্যাচার করেছে যে কোন বর্ণনায় তা প্রকাশ করা সম্ভব নয়। অবশেষে আল্লাহর নির্ধারিত সময় উপস্থিত হলো। একদল অনভিজ্ঞ বন্দুকধারী গুলি করে হত্যা করে মাটিতে শুয়ে রেখেছিল এবং জনগণ তার মুখে থু তু নিক্ষেপ করছিল এবং লা থি মারছিল। অবশেষে এই ছেলেরা তাকে মরুভূমিতে এক অজানা স্থানে মাটি চাপা দিয়ে এসেছে।। গাদ্দাফিকে নির্বংশ করে ফেলা হয়েছে। ছেলের মধ্যে পাঁচ ছেলেকে নিকৃষ্টভাবে হত্যা করা হয়েছে। তার সমর্থকদের দুনিয়া থেকে বিদায় করে দেওয়া হয়েছে বেশিরভাগ।।
    ঠিক আরেক জালিম অসভ্য বর্বর ছিল প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম। সাদ্দাম একমাত্র তার নিজস্ব কমিউনিস্ট পার্টি ছাড়া আর বাকি সবাইকে ব্যাপক জুলুম করেছিল। সুন্নি কুর্দি সম্প্রদায়ের লোকদেরকে এসে এক মুহূর্তের জন্য শান্তি দেয়নি। শিয়াদেরকে সে তাড়িয়ে বেড়িয়েছে। আর ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদেরকে পাখির মতো হত্যা করত। অবশেষে আল্লাহ নির্ধারিত সময় উপস্থিত হলো। তার ১০০০ টন ওজনের সবচেয়ে বড় মূর্তিটি সে স্থাপন করেছিল ইরাকের গ্র্যান্ড মসজিদের সামনে। সেই মূর্তির গলায় ট্রেন লাগিয়ে ভূপতিত করা হয়েছিল এবং দেশ থেকে হাজার হাজার সাদ্দামের মূর্তি ধ্বংস করা হয়েছিল। আর সাদ্দাম কে নিকৃষ্ট অবস্থায় ঈদের দিনে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।
    আর বাকিদের কথা বাদ দিলাম।

    বর্ণিত হয়েছে, ‘অতঃপর ঘটল এই যে, তারা যখন নিদ্রিত ছিল, তোমার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে সেই বাগানে হানা দিল এক উপদ্রব, ফলে বাগানটি ভোরবেলা হয়ে গেল কাঁটা ক্ষেতের মতো। তারা বলল, নিশ্চয়ই আমরা জালিম ছিলাম।’
    —সুরা কলম : ১৯-২৯।

    ইহকালীন জীবনে জালিমদের শাস্তিস্বরূপ আল্লাহ তায়ালা জুলুমের কিসাস বিধান রেখেছেন। বলেছেন, ‘আমি তাদের জন্য বিধান রেখেছিলাম, প্রাণের বদলে প্রাণ, চোখের বদলে চোখ, নাকের বদলে নাক, কানের বদলে কান ও দাঁতের বদলে দাঁত। আর জখমেও (অনুরূপ) বদলা নেওয়া হবে। যারা আল্লাহর নাজিলকৃত বিধানুসারে বিচার করে না, তারা জালিম।’ (সুরা মায়িদা : ৪৫)।

    জালিমদের আল্লাহ তায়ালা সঠিক পথের হেদায়েত দান করেন না। বরং দুনিয়ার জীবনে গোমরাহ করে রাখেন। বলা হয়েছে, ‘যারা ঈমান এনেছে আল্লাহ তাদের এ সুদৃঢ় কথার ওপর স্থিতি দান করেন, দুনিয়ার জীবনেও এবং আখেরাতেও। আর আল্লাহ জালিমদের কারণে বিভ্রান্ত।’ (সুরা ইবরাহিম : ২৭)।

    তবে প্রজ্ঞাগত নীতির কারণে আল্লাহ তায়ালা কখনও কখনও জালিমদের অবকাশ দেন। তৎক্ষণাৎ শাস্তি দেন না। এই অবকাশ দানের একটি রহস্য হলো, ধীরে ধীরে জালিমকে কঠিনভাবে শাস্তি দেওয়ার জন্য ছাড় দেওয়া। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘প্রকৃতপক্ষে আমি তাদের অবকাশ দিই শুধু এ কারণে, যাতে তারা পাপাচারে আরও অগ্রগামী হয় এবং (পরিশেষে) তাদের জন্য আছে এমন শাস্তি, যা তাদের লাঞ্ছিত করে ছাড়বে।’ (সুরা আলে ইমরান : ১৭৮)।

    👉👉আজাবের উদাহরণ

    মিশর সম্রাট বিখ্যাত কাফের ফেরাউন পৃথিবীতে ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছিল। হজরত মুসা (আ.) এর জামানায় মুসলমানদের ওপর চালিয়েছিল বর্বরোচিত জুলুম-অত্যাচার। তার ওপর নিপতিত ধ্বংসশীল আজাবের কথা বর্ণিত হয়েছে, ‘সুতরাং আমি তাকে ও তার সৈন্যদের ধৃত করে সাগরে নিক্ষেপ করলাম। এবার দেখ জালিমদের পরিণতি কী হয়েছে।’
    –সুরা কাসাস : ৪০।

    আরেক বিখ্যাত জুলুমবাজ কাফের সম্প্রদায় হলো সামুদ গোত্র। তারা হজরত সালেহ (আ.) এর দাওয়াত অমান্য করে ঈমান গ্রহণে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল। জুলুমের বিস্তার ঘটিয়েছিল। তাদের শাস্তি হয়েছিল এভাবে, ‘আর যারা জুলুমের পথ অবলম্বন করেছিল, তাদের আঘাত হানল মহাগর্জন। ফলে তারা তাদের ঘরবাড়িতে এভাবে অধঃমুখে পড়ে থাকল।’
    —সুরা হুদ : ৬৭।

    👉👉জালিমের জন্য বদদোয়া
    জুলুমের শিকার ব্যক্তির দোয়া কখনও বিফলে যায় না। মজলুম কাফেরের দোয়াও আল্লাহ কবুল করেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা মজলুমের বদদোয়াকে ভয় কর। যদিও সে কাফের হয়। কারণ, মজলুমের দোয়া ও আল্লাহর মাঝে কোনো প্রতিবন্ধকতা নেই।’
    –আহমাদ।

    দোয়ার ফলে আল্লাহ তায়ালা জালিমের বিপক্ষে মজলুমের হয়ে প্রতিশোধ গ্রহণ করেন। আসমানে মজলুমের দোয়ার অনেক দাম। নবী (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, আমার ইজ্জতের কসম, দেরিতে হলেও আমি মজলুমকে অবশ্যই সাহায্য করব।’
    –ইবনে হিব্বান : ৮৭৪!
    মজলুমের দোয়ার ভেতর মুখাপেক্ষী ভগ্ন হৃদয়, লাঞ্ছিত অন্তরের অনুনয় থাকে। ফলে আল্লাহ তায়ালা একান্ত সাহায্যকারী হয়ে তার দোয়া কবুল করে থাকেন। আল্লাহ তায়ালা সবাইকে জুলুম থেকে হেফাজত করুন।
    আমিন!