
🤔🤔 আমার কয়েকজন ক্লাসমেট/ বন্ধু আছে যারা ডাক্তার। নিয়মিত প্র্যাকটিস করেন। একজনকে একটা স্বাস্থ্য পরামর্শের জন্য ফোন করার পর এক ফাঁকে বলল, দোস্ত , তুই তো মধ্যপ্রাচ্যে আছিস । সেখানে কোন একটা ক্লিনিকে আমার একটা চাকরির ব্যবস্থা করে দে না।
বললাম, জামাই বউ দুইজন মিলে ডাক্তারি করছিস দেশে, তোদের আর কত টাকার দরকার? টাকা পয়সা কি কবরে নিয়ে যাবি??
এই কথা শুনে সে বলল, দোস্ত, ফিনাইলের গন্ধযুক্ত ক্লিনিকের ভৌতিক পরিবেশে সাদা গাউন পরা গলায় ঝুলানোর টেথিস্কোপ দেখে অনেকেই মনে করে আমরা মহাজাগতিক কোনো প্রাণী।
কিন্তু তুই তো জানিস বর্তমান চাকরির অবস্থা। সরকারি হাসপাতালের চাকরিতে বেতন কম, বর্তমান সামাজিক প্রেক্ষাপটে সংসার চলে না, তাই চাকরি ছেড়ে দিয়ে সকল পয়সা একত্র করে ক্লিনিক দিয়েছিলাম এবং এক কোটি টাকা ধরা খেয়ে সরষে ফুল দেখছি।
এটা হল একটি ছোট্ট ঘটনা।
👇👇নিচে একজন ডাক্তারের একটি স্ট্যাটাস তুলে ধরলাম–
২০১১ সালের কথা। মাত্র ইন্টার্ন শেষ করেছি। ঢাকায় এসে দেখি প্রাইভেট হাসপাতাল গুলো জবের জন্য রীতিমত কাড়াকাড়ি অবস্থা । ডিউটি ডাক্তার খুঁজে পায় না তারা। তাই খুব সহজে একজন পাশ করা ডাক্তার হ্যান্ডসাম স্যালারিতে জব পেয়ে যেতো। তখন চাকুরির জন্য বিয়ে আটকে থাকত না।
যারা একটু চতুর, তারা একসাথে ৩ হাসপাতালে একি রোস্টারে জব করত। আমার MMC এর এক বড় ভাই একি সাথে পাশাপাশি ৩ হাসপাতালে একি রোস্টারে ডিউটি করত (মডার্ণ, কিডনি এন্ড জেনারেল, প্যানোরমা হাসপাতাল) 😛 । বলা চলে ৩ হাসপাতালে একসাথে অন কল ডাক্তার। সাথে সাথে মৌসুমী ডাক্তার হিসেবে কুমিল্লা, নোয়াখালীর বড় মাত্রায় খ্যাপ। সাথে চলত পোস্ট গ্রাজুয়েশন অনাহারী (অনারারী) ট্রেইনিং।
কিন্তু দিন বদলে গেছে। এখন দিনে দিনে পাশ করা ডাক্তার এর সংখ্যা এতোই বেড়েছে যে, ছোট খাটো একটা হাসপাতালে একজন ডিউটি ডাক্তার পদের জন্য ধন্না দিতে হয় মাসের পর মাস। বিএমডিসি রেজিস্ট্রেশন করা ডাক্তার এর সংখ্যাই প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজারের মতো আর বেনামে, ভুয়া ডাক্তার লাখ ছাড়াবে।
পোস্ট খালি নাই নোটিশও দেখা যায় অনেক হাসপাতালে। সিভি জমা দিয়ে রেখে ধুলায় গড়ায়। তবুও কল আসে না। আজকাল দেখি প্রাইভেট হাসপাতাল গুলো বিনা বেতনে চিকিৎসক খুঁজতেছে। প্রতিযোগিতার মার্কেটে সুযোগ নিচ্ছে প্রাইভেট হাসপাতাল গুলো।
এদিকে এমবিবিএস পাশ করে বাবা মায়ের কাছে হাত পাতাও লজ্জার ব্যাপার। অন্য দিকে বয়স ও বিবাহের দিকে তাকানোর সময় নাই পোস্ট গ্রাজুয়েশন এর কথা ভেবে। দোটানায় নাও বেয়ে কুল কিনারা নাই বেশির ভাগের। সরকার এমবিবিএস পাশের গ্যারান্টি দিলেও সরকারী চাকুরীর নিশ্চয়তা দেয় না। আশির দশকের মত পাশের পর সরকারি চাকুরি ও মোটরসাইকেল পাওয়া এখন রীতিমত ইতিহাস।
সরকারী মেডিকেলে না হয় খরচ কম, কিন্তু প্রাইভেট মেড়িকেলে প্রায় অর্ধ কোটি টাকা খরচ করে এমবিবিএস পাশ করে নামের সাথে বেকার ডাক্তার লাগানোর কষ্ট কেউ বুঝবে না। বন্ধুমহল ভাববে আপনি হাজার ডলার কামান মিনিটে মিনিটে।
এখনি ভাবার সময়। কি অবস্থা হবে আরো ৫ বছর পর। কি অবস্থা হবে ১৫ বছর পর।। পোস্ট ফাঁকার জন্য খুন করে সিট দখল করতে হবে।।
সবাই ভাবে ডাক্তার মানেই হেব্বি টাকাওয়ালা। কিন্তু সেটা শুধুমাত্র কয়েকজন নামকরা বড় মাপের প্রফেসরের বেলায় প্রযোজ্য। বাকিরা গড়ের মাঠের না খাওয়া জমিদার। সো, এখনি চিন্তা করে দেখেন। ড্রিম কিন্তু ড্রিম নয়, এখন নাইটমেয়ার হয়ে গেছে।
- Dr. Sayed Sujon
👉👉 উপরের এই ডাক্তারের স্ট্যাটাস থেকে হয়তো বর্তমান অবস্থাটা মোটামুটি কিছুটা অনুধাবন করতে পারা যায়। এবার আমার কথা বলি।
আমার আরেক অত্যন্ত কাছের বন্ধু একটি কলেজে শিক্ষকতা করে।
বেশ কয়েক বছর আগে আমার এলএলবি পরীক্ষার সময় হঠাৎ পরীক্ষার হলের সামনে তার সাথে দেখা হয়।
দূর থেকে দৌড়ে এসে জড়িয়ে ধরে বলল দোস্ত তুই এখানে কি করছিস? বললাম উকিল হওয়ার জন্য পরীক্ষা দিতে আসছি। সে বলল, আমিও!
আমি অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলাম, তোরা তো হাজবেন্ড ওয়াইফ দুজনেই কলেজে শিক্ষকতা করিস। তা তোদের আবার ওকালতি শিক্ষা করার দরকার পড়লো কেন?
পাল্টা প্রশ্ন করল, তুই কেন আইন পড়ছিস?
বললাম, তুই তো ভালো করেই জানিস আইন নিয়ে পড়াশোনা করাটা আমার সেই ছোটবেলার শখ।
সেই শখ পূরণ করার জন্য এলএলবি করছি।
👉👉 বর্তমানে নির্দিষ্ট বিষয়ে পড়াশোনা করে সেই নির্দিষ্ট কাজ পাওয়া যায়। আমার এক বন্ধু লেদার টেকনোলজিতে উচ্চতর ডিগ্রি নিয়ে ,সে এখন সচিবালয়ে কেরানির কাজ করে। বেতন কম, তবে ঘুষ আছে। সে ঘুষ খায় কিনা আমি জানিনা।
👉👉আরেক বন্ধু জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে “রসায়ন বিজ্ঞানে” অনার্স, মাস্টার্স ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট হয়ে এখন ‘রসগোল্লা’ আর ‘রসমালাই’ এর বিজনেস করে অনলাইনে । ব্যবসা তেমন সুবিধার না।
👉👉আমার অন্য আরেক বন্ধু একাউন্টিং ও বিজনেস ম্যানেজমেন্টে উচ্চতর ডিগ্রি নিয়ে সৌদি আরব গিয়ে এখন সে সিনিয়র নার্স হিসেবে হাসপাতালে চাকরি করে 😀।
👉👉 এবার একজন ডাক্তারের কথা বলি, যিনি এমবিবিএস পাস করে বহু টাকা খরচ করে সবকিছু শেষ করে ইংল্যান্ডে চলে গিয়েছিলেন। এবং বর্তমানে তিনি ইংল্যান্ডের সিটিজেন। তবে তিনি চাকরি করেন আমার সাথে মধ্য প্রাচ্যে।
এমবিবিএস ডিগ্রি নিয়ে চাকরি না পেয়ে ইংল্যান্ডে গিয়ে ও কোন সুবিধা করতে পারেননি। কারণ সেখানেও ডজন ডজন নয়, বরং হাজার হাজার ডাক্তার বেকার।
অবশেষে তিনি দুবাই এসে আমার সাথেই বেশ কিছু বছর টুরিস্ট গাইড হিসেবে চাকরি করেছেন।
আমি এখন ফ্রিল্যান্সিং ট্রান্সপোর্ট বিজনেস এ আছি, সে কোথায় আছে জানিনা।।
✅✅ কয়েকদিন আগে আমার এক বন্ধু আমাকে ফোন করে বলল, দোস্ত, তুইতো ইউরোপ আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কিছু দেশ ঘুরেছিস। একটা পরামর্শ দে। আমার মেয়েটা ভালোভাবে ইন্টারমিডিয়েট পাশ করেছে এবং আমি তাকে ডাক্তারি পড়াতে চাই।
সরকারি মেডিকেল কলেজগুলোতে যে প্রতিযোগিতা হয়, তাতে চান্স পাওয়ার সম্ভাবনা খুব কম। তাই আমি বেসরকারি মেডিকেলে পড়াতে চাচ্ছি।
ইউরোপ, আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যে ডাক্তারদের চাকরির বাজার কেমন?
আমি তাকে এক কথায় বললাম, দুনিয়ার সব জায়গায় সর্ব কাজের ব্যাপক প্রতিযোগিতা। মেয়েটা যদি স্বাভাবিকভাবে কোন সরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তি হতে পারে তাহলে পড়াতে পারিস। কিন্তু বেসরকারি মেডিকেল কলেজ মানেই হল 50 থেকে 70 লক্ষ টাকা। তারপর চাকরি পাওয়ার কোন গ্যারান্টি নেই।
এরচেয়ে ভালো, স্বাভাবিকভাবে পড়াশোনা করতে থাকুক। আর এরই মধ্যে ভালো পাত্র পেলে দ্রুত বিয়ে দিয়ে দে।
👉👉 আমার সাথে চাকরি করতেন একজনকে জানি যার সাথে এখনো মাঝেমধ্যে দেখা হয়। তিনি গত তিন বছর যাবত দেশে যেতে পারছেন না , কারণ বেসরকারি মেডিকেল কলেজে তার মেয়েকে ভর্তি করিয়েছেন এবং প্রতিনিয়ত পয়সার যোগান দিতে হয়। নিজের উপর এক বিরাট মুসিবত চাপিয়ে নিয়েছেন।।
👉👉 এবার একজন বয়স্ক মুরুব্বির কথা বলি যাকে আমি খুব নিকট থেকে জানি। বিদেশে থেকে বহু কষ্ট করে তার বড় ছেলেকে তিনি ডাক্তার বানিয়েছেন এবং গতবছর ইন্টার্নি শেষ করে বের হয়েছে।
তিনি আশা করছিলেন, ডাক্তারি ডিগ্রী নেওয়ার পরপরই হয়তো ছেলে দুই হাতে টাকা ইনকাম করবেন এবং তার কষ্টের লাঘব হবে।
কিন্তু আসলে কি তাই?? তিনি বৃদ্ধ বয়সে রোগ-ব্যাধি নিয়ে এখনো কষ্ট করে যাচ্ছেন। আশা করছেন ছেলের একটা ভালো চাকরি হবে। আমরাও আশা করি।
কিন্তু পথ এখনো অনেক দীর্ঘ।
বিসিএস করতে হবে। বিসিএস দিলেই পাস করবে এমন কোন কথা নেই। আর বহু কষ্ট করে পাশ করলে কোন মফস্বলের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জেনারেল ফিজিশিয়ান হিসেবে হয়তো চাকরি হবে।
আর সরকারি হাসপাতালে চাকরি পেলে; সরকারি হিসাব মতে “বেতন স্কেল পাবে নবম গ্রেডে”।
নবম গ্রেডের বেতন স্কেল মাত্র ২২ হাজার টাকা এবং আরো অন্যান্য সবমিলিয়ে বেতন পাবে সর্বমোট ৪০ হাজার টাকা!
তবে বেসরকারিভাবে হিসাব করতে গেলে আগে স্থানীয় উপযোগ এর বিষয়টি ভাবতে হবে।
একজন এমবিবিএস ডাক্তার কোন অঞ্চলে তার ডাক্তারি সেবা প্রদান করছেন, তার উপর নির্ভর করবে উপার্জন।
একজন এমবিবিএস ডাক্তার যদি ঢাকা শহরে কোন প্রাইভেট ক্লিনিকে চিকিৎসা দেয়, তবে সে সৎ ভাবে উপার্জন করতে পারবে সর্বোচ্চ দেড় লক্ষ টাকা।
আর যদি অসৎ ও হারাম পথ অবলম্বন করে, বিভিন্ন ঔষধ কোম্পানির প্রলোভনে প্রভাবিত হয়ে তাদের সাজেস্ট করা নরমাল ঔষধ লিখে দেয়, তাহলে সে কোম্পানির তরফ থেকে মোটা অংকের কালো টাকা পাবে।
তাছাড়া বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যদি সে রুগি পাঠায় তাহলে সেখান থেকেও মোটা কমিশন পাবে ঘুষ হিসাবে। তাছাড়া যদি কোন নার্সিংহোমে বা অন্য কোন ক্লিনিকে রোগী পাঠায়, তাহলেও সেখান থেকে এসে মোটা অংকের কমিশন পাবে।
মোটকথা কত টাকা এভাবে অসৎভাবে আসবে তার কোন সীমা পরিসীমা নাই। কারণ চুরি এবং লুটের মালের কোন সীমা থাকে না।
✅✅তবে দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য কথা হলো বাংলাদেশের শতকরা 95 থেকে 98% ডাক্তার এই জাতীয় নিকৃষ্ট দুই নাম্বারি কাজের সাথে জড়িত।।
আবার এই ডাক্তার যদি, ঢাকায় চিকিৎসা না দিয়ে রাজশাহী দিনাজপুর কিংবা চট্টগ্রামে চিকিৎসা দেয়। তবে সে অনায়াসে সৎভাবে এক লক্ষ টাকা ইনকাম করতে পারবে। (ঘুষ, চুরি ও দুর্নীতি ছাড়া)
এবং একই ডাক্তার যদি যেকোনো উপজেলা সদরে চিকিৎসা সেবা দেয় তাহলে সে ইনকাম করতে পারবে ৫০ থেকে ৭০ হাজার টাকা।।
আমি এই ধারণাগুলো পেয়েছি, আমার ডাক্তার বন্ধুদের কাছ থেকে।
✅✅ সে যাই হোক, ডাক্তারি পেশা সরাসরি একটা সেবামূলক পেশা। তবে সেবার মানসিকতা আমার দেশের ডাক্তারদের ৯৯% এর নেই। জনগণের ট্যাক্সের টাকায় পরিচালিত মেডিকেল কলেজগুলোতে পড়াশোনা করে জনগণের সাথেই তারা প্রতারণায় লিপ্ত হয়। অনেকেই হয়তো মনে করে যে আমার ছেলেকে সরকারি মেডিকেল কলেজে পড়াতেও খরচ পড়েছে ২০ লক্ষ টাকা।
কিন্তু এটা অনেকেই জানে না যে, কোন মেডিকেল কলেজ থেকে একটা ছেলেকে এমবিবিএস পাস করাতে, অথবা যে কোন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একটা ছেলেকে এমএ পাস করাতে সরকারের খরচ হয় এক কোটি টাকার উপর, যা আসে জনগণের ট্যাক্সের পয়সা থেকে।
আর বাবা-মা মনে করে এবং বাহাদুরি করে বলে যে, আমার পয়সা দিয়ে আমি আমার ছেলেকে উন্নত পড়াশুনা করিয়েছি।
ধন্যবাদ।
Mahabubur Rahman
mahabuburrahman1720@gmail.com















