
📕📕 মৃত্য জীবনের শেষ নয় বরং Endless life বা পরকালের অনন্ত জীবনে প্রবেশের পথ!
🇸🇦🇸🇦 আলহামদুলিল্লাহ, নাহমাদুহু ওয়া নুসাল্লি আলা রাসূলিহিল কারীম।
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ তা’য়ালার জন্য, শান্তি এবং কল্যাণ বর্ষিত হোক রাসূলুল্লাহ সঃ ও তাঁর পরিবারবর্গ, তাঁর বংশধর, তাঁর সাহাবায়ে কিরাম রাঃ ও সলেহ বা নেক বান্দাদের বান্দাগণের প্রতি।
আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নাই এবং মুহাম্মাদ সাঃ আল্লাহর বান্দা ও তার রসুল। নিশ্চয়ই শুভ পরিণতি কেবলমাত্র মুত্তাকীনদের জন্যই নির্ধারিত।
🇸🇦🇸🇦 মৃত্যু প্রত্যেক জীবের জন্য নির্ধারিত একটি সত্য ঘটনা। মৃত্যু না থাকলে এই দুনিয়ার জীবন দুর্বিষহ হয়ে পড়তো। তাই আল্লাহ এই দুনিয়া জীবনের মৃত্যু নির্ধারণ করেছেন।
🤔🤔জীবন-মৃত্যু সৃষ্টির লক্ষ্যঃ
আল্লাহ তা’য়ালা মানব জাতিকে দুনিয়ায় তাঁর খলিফা বা প্রতিনিধি হিসেবে কেবলমাত্র তাঁরই ইবাদত করার জন্য সৃষ্টি করেছেন। সৃষ্টির মানবাত্মাকে অন্ততঃ পাঁচটি জগতে অবস্থান করতে হবে। যথা- আলমে আরওয়াহ, আলমে দুনিয়া, আলমে বারযাখ, ইয়াওমুল হাশর এবং জান্নাত বা জাহান্নাম এর চিরস্থায়ী আবাসস্থল।
দুনিয়ার জীবন মানুষের ক্ষণস্থায়ী আবাসমাত্র। দুনিয়ায় আগমনের পর মৃত্যুর মাধ্যমে মানুষ অনন্ত জীবনে প্রবেশ করে। এই জীবন-মৃত্যু সৃষ্টির লক্ষ্য প্রসংগে আল্লাহ তা’য়ালা বলেন :
-“তোমাদের মধ্যে কে আমলে সবচেয়ে ভাল তা পরীক্ষা করার জন্য যিনি মৃত্যু ও জীবন সৃষ্টি করেছেন। তিনি মহাপরাক্রমশালী, অসীম ক্ষমাশীল।”
- সূরা মুলকঃ আয়াত ২।
👉👉প্রত্যেক প্রাণকেই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবেঃ
দুনিয়ার জীবনের সবচেয়ে চরম সত্য হল মৃত্যু। ছলনাময় ভোগসামগ্রী দিয়ে দুনিয়ার জীবনকে সুশোভিত করে রাখা হয়েছে। আল্লাহ তা’য়ালা এই ছলনায় আকৃষ্ট না হয়ে মৃত্যু পরবর্তী অনন্ত জীবনের পাথেয় সংগ্রহের জন্য মানব জাতিকে নসিহত করেছেন। কারণ প্রত্যেক প্রাণকেই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। এ প্রসংগে তিনি বলেন :
-“প্রতিটি প্রাণই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবে। কিয়ামাতের দিন তোমাদের কাজের প্রতিফল তোমাদেরকে পুরোপুরিই দেয়া হবে। এরপর যাকে জাহান্নাম থেকে দূরে রাখা হবে এবং জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে, সেই সফল। আর দুনিয়ার জীবন ছলনাময় ভোগসামগ্রি ছাড়া আর কিছু নয়।” – [সূরা আলে ইমরানঃ আয়াত ১৮৫]
তিনি আরও বলেন :
-“প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। আমি তোমাদেরকে ভাল ও মন্দ দ্বারা পরীক্ষা করে থাকি এবং আমারই কাছে তোরা পত্যাবর্তিত হবে।”
- সূরা আম্বিয়াঃ আয়াত ৩৫
তিনি আরও বলেন :
-“মৃত্যু যন্ত্রণা নিশ্চিতভাবেই আসবে, এ থেকেই তুমি টাল বাহানা করতে।”
- সূরা ক্বফঃ আয়াত ১৯।
তিনি আরও বলেন :
“প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। অতঃপর তোমরা আমার কাছেই পত্যাবর্তিত হবে।” – —সূরা আনকাবুতঃ আয়াত ৫৭!
-“বলুন, তোমরা যে মৃত্যু থেকে পলায়নপর, সেই মৃত্যু অবশ্যই তোমাদের মুখামুখি হবে, অতঃপর তোমরা অদৃশ্য, দৃশ্যের জ্ঞানী আল্লাহর কাছে উপস্থিত হবে। তিনি তোমাদেরকে জানিয়ে দিবেন সেসব কর্ম, যা তোমরা করতে।” – (সূরা আল-জুমুয়াঃ আয়াত ৮)
তিনি আরও বলেন :
-“হে মানুষ, নিশ্চয় আল্লাহর ওয়াদা সত্য; অতএব দুনিয়ার জীবন যেন তোমাদেরকে কিছুতেই প্রতারিত না করে; আর বড় প্রতারক(শয়তান) যেন তোমাদেরকে আল্লাহর ব্যাপারে প্রতারণা না করে। নিশ্চয় শয়তান তোমাদের শত্রু, অতএব তাকে শত্রু হিসেবে গণ্য কর। সে তার দলকে কেবল এজন্যই ডাকে যাতে তারা জ্বলন্ত আগুনের অধিবাসী হয়।” – (সূরা আল ফাতিরঃ আয়াত ৫-৬)
🤔🤔প্রতিটি প্রাণের মৃত্যুকাল নির্ধারিতঃ
মানুষের মৃত্যুর সময় ও স্থান আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত। এর কোন পরিবর্তন নাই। মৃত্যু থেকে কোনভাবেই পলায়ন করা যায় না। মৃত্যুর নির্ধারিত সময়ের আগে বা পরে কোনক্রমেই কারও মৃত্যু আসে না। এ প্রসংগে আল্লাহ তা’য়ালা বলেন :
وَمَا كَانَ لِنَفْسٍ أَنْ تَمُوتَ إِلاَّ بِإِذْنِ الله كِتَابًا مُّؤَجَّلاً وَمَن يُرِدْ ثَوَابَ الدُّنْيَا نُؤْتِهِ مِنْهَا وَمَن يُرِدْ ثَوَابَ الآخِرَةِ نُؤْتِهِ مِنْهَا وَسَنَجْزِي الشَّاكِرِينَ
-“আল্লাহর হুকুম ছাড়া কেউ মরতে পারে না-সেজন্য একটা সময় নির্ধারিত রয়েছে। বস্তুতঃ যে লোক দুনিয়ায় বিনিময় কামনা করবে, আমি তাকে তা দুনিয়াতেই দান করব। পক্ষান্তরে-যে লোক আখেরাতে বিনিময় কামনা করবে, তা থেকে আমি তাকে তাই দেবো। আর যারা কৃতজ্ঞ তাদেরকে আমি প্রতিদান দেবো।” – [সূরা আলে-ইমরানঃ আয়াত ১৪৫]
তিনি আরও বলেন :
نَحْنُ قَدَّرْنَا بَيْنَكُمُ الْمَوْتَ وَمَا نَحْنُ بِمَسْبُوقِينَ 0
- “আমি তোমাদের মৃত্যুকাল নির্ধারণ করেছি আর এ ব্যাপারে আমি অক্ষম নই।”
- [সূরা ওয়াক্বিয়াঃ আয়াত ৬০]
তিনি আরও বলেন :
أَيْنَمَا تَكُونُوا يُدْرِكُكُمُ الْمَوْتُ وَلَوْ كُنْتُمْ فِي بُرُوجٍ مُشَيَّدَةٍ وَإِنْ تُصِبْهُمْ حَسَنَةٌ يَقُولُوا هَذِهِ مِنْ عِنْدِ اللَّهِ وَإِنْ تُصِبْهُمْ سَيِّئَةٌ يَقُولُوا هَذِهِ مِنْ عِنْدِكَ قُلْ كُلٌّ مِنْ عِنْدِ اللَّهِ فَمَالِ هَؤُلَاءِ الْقَوْمِ لَا يَكَادُونَ يَفْقَهُونَ حَدِيثًا0
- “তোমরা যেখানেই থাক না কেন, মৃত্যু তোমাদের নাগাল পাবেই, এমনকি তোমরা যদি সুউচ্চ সুরক্ষিত দুর্গেও থাক। যদি তাদের কোন কল্যাণ হয় তাহলে তারা বলে: এটা আল্লাহর নিকট থেকে। আর তাদের যদি কোন অমঙ্গল হয়, তারা বলে: এটা আপনার পক্ষ থেকে। হে নবী (স)! আপনি বলে দিন: কল্যাণ-অকল্যাণ সবকিছুই আল্লাহর নিকট থেকে। আর এসব লোকের কী হল যে, তারা কোন কথাই বোঝে না!” – [সূরা নিসাঃ আয়াত ৭৮]
তিনি আরও বলেন :
اللَّهُ يَتَوَفَّى الْأَنْفُسَ حِينَ مَوْتِهَا وَالَّتِي لَمْ تَمُتْ فِي مَنَامِهَا فَيُمْسِكُ الَّتِي قَضَى عَلَيْهَا الْمَوْتَ وَيُرْسِلُ الْأُخْرَى إِلَى أَجَلٍ مُسَمًّى إِنَّ فِي ذَلِكَ لَآَيَاتٍ لِقَوْمٍ يَتَفَكَّرُونَ 0
- “নিশ্চয় আল্লাহ মৃত্যুর সময় মানুষের জান কবয করেন এবং যাদের মৃত্যুর সময় হয়নি, তাদের জান কবয করেন ঘুমের সময়। এরপর তিনি যার মৃত্যুর সিদ্ধান্ত নেন তার জান রেখে দেন এবং অন্যদের জান একটি নির্ধারিত সময়ের জন্য ফিরিয়ে দেন। এরমধ্যে অবশ্যই চিন্তাশীল লোকদের জন্য নিদর্শন আছে।” – [সূরা জুমারঃ আয়াত ৪২]
قُلْ يَتَوَفَّاكُمْ مَلَكُ الْمَوْتِ الَّذِي وُكِّلَ بِكُمْ ثُمَّ إِلَى رَبِّكُمْ تُرْجَعُونَ 0
- “(হে রাসূল!) আপনি বলুন, তোমাদের প্রাণ হরণের দায়িত্বে নিয়োজিত ফিরিশতা তোমাদের প্রাণ হরণ করবে, অতঃপর তোমরা তোমাদের পালনকর্তার কাছেই পত্যাবর্তিত হবে।” – [সূরা সিজদাহঃ আয়াত ১১]
তিনি আরও বলেন :
إِنَّ اللَّهَ عِندَهُ عِلْمُ السَّاعَةِ وَيُنَزِّلُ الْغَيْثَ وَيَعْلَمُ مَا فِي الْأَرْحَامِ وَمَا تَدْرِي نَفْسٌ مَّاذَا تَكْسِبُ غَدًا وَمَا تَدْرِي نَفْسٌ بِأَيِّ أَرْضٍ تَمُوتُ إِنَّ اللَّهَ عَلِيمٌ خَبِيرٌ0
- “নিশ্চয় কিয়ামাতের জ্ঞান রয়েছে একমাত্র আল্লাহর, তিনিই বৃষ্টি বর্ষণ করেন এবং তিনিই জানেন জরায়ুতে কী আছে। কেউ জানে না, আগামিকাল সে কী অর্জন করবে এবং কেউ জানে না, কোন স্থানে সে মৃত্যুবরণ করবে। নিশ্চয় আল্লাহ সবকিছু জানেন, সব বিষয়ের খবর রাখেন।” – [সূরা লোকমানঃ আয়াত ৩৪]
🇸🇦🇸🇦মৃত্যু উপস্থিত হলে সবাই আফসোস করবেঃ
যখন কারো মৃত্যুর নির্ধারিত সময় উপস্থিত হবে, তখন সবাই আফসোস করবে। বদকার হলে এ জন্য আফসোস করবে যে, কেন সে নেক কাজ করল না। আর নেককার হলে আফসোস করবে যে, কেন সে আরও অধিক নেক কাজ করল না। এ প্রসংগে আল্লাহ বলেন :
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آَمَنُوا لَا تُلْهِكُمْ أَمْوَالُكُمْ وَلَا أَوْلَادُكُمْ عَنْ ذِكْرِ اللَّهِ وَمَنْ يَفْعَلْ ذَلِكَ فَأُولَئِكَ هُمُ الْخَاسِرُونَ 0 وَأَنْفِقُوا مِنْ مَا رَزَقْنَاكُمْ مِنْ قَبْلِ أَنْ يَأْتِيَ أَحَدَكُمُ الْمَوْتُ فَيَقُولَ رَبِّ لَوْلَا أَخَّرْتَنِي إِلَى أَجَلٍ قَرِيبٍ فَأَصَّدَّقَ وَأَكُنْ مِنَ الصَّالِحِينَ 0 وَلَنْ يُؤَخِّرَ اللَّهُ نَفْسًا إِذَا جَاءَ أَجَلُهَا وَاللَّهُ خَبِيرٌ بِمَا تَعْمَلُونَ 0
-“হে মুমিনগণ! তোমাদের অর্থ-সম্পদ এবং তোমাদের সন্তুান-সন্তুতি যেন তোমাদেরকে আল্লাহর স্মরণ থেকে বিরত না রাখে। যারা আল্লাহর যিকর থেকে বিরত থাকে, তারাই (দুনিয়া ও আখিরাতে) ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তোমাদের কারো মৃত্যু উপস্থিত হওয়ার আগেই আমি তোমাদেরকে যে জীবিকা দিয়েছি তোমরা সেখান থেকে দান কর। যে তা করবে না সে মৃত্যু উপস্থিত হলে বলবে: হে আমার প্রতিপালক! আমাকে যদি আরো কিছু দিনের সুযোগ দিতেন তাহলে আমি (মুক্ত হস্তে সম্পদের) সাদাকা দিতাম এবং সৎকর্মশীল লোকদের অন্তর্ভুক্ত হতাম। কিন্তু যখন কারো মৃত্যুর নির্ধারিত সময় উপস্থিত হবে, তখন আল্লাহ তাকে কোনক্রমেই (মৃত্যুর সময় আগে পরে করার) কোন সুযোগ দেবেন না। তোমরা যা কর আল্লাহ সে সম্পর্কে সকল খবরই জানেন।” -[সূরা মুনাফিক্বূনঃ আয়াত ৯-১১]
তিনি আরও বলেন :
حَتَّى إِذَا جَاءَ أَحَدَهُمُ الْمَوْتُ قَالَ رَبِّ ارْجِعُونِ (99) لَعَلِّي أَعْمَلُ صَالِحًا فِيمَا تَرَكْتُ كَلَّا إِنَّهَا كَلِمَةٌ هُوَ قَائِلُهَا وَمِنْ وَرَائِهِمْ بَرْزَخٌ إِلَى يَوْمِ يُبْعَثُونَ (100)
- “যখন তাদের কারও কাছে মৃত্যু আসে, তখন সে বলে, হে আমার পালণকর্তা ! আমাকে পুনরায় (দুনিয়াতে ) প্রেরণ করুন, যাতে আমি সৎকর্ম করতে পারি। কখনোই নয়, এ তো তার একটি কথার কথা মাত্র। আর তাদের সামনে পর্দা রয়েছে পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত।” – [সূরা আল-মুমিনুনঃ আয়াত ৯৯-১০০]
🇸🇦🇸🇦মুমিন বা ইমানদাদের মৃত্যুকালীন অবস্থাঃ
রূহ তখন তার স্বাধীনতা ও দুনিয়ার মহব্বত স্বেচ্ছায় বিসর্জন দিয়ে আল্লাহকেই রব হিসাবে ঘোষণা দেয় এবং এর উপর কায়েম থাকে তখন তার জীবন ধারা আল্লাহ তা’য়ালার পছন্দনীয় পথে পরিচালিত হয়। মৃত্যুকালীন মহান প্রভু আল্লাহ তা’য়ালার পক্ষ থেকে সুসংবাদ নিয়ে তার কাছে ফিরিশতাগণ আগমন করেন। আল্লাহ তা’য়ালা বলেন :
إِنَّ الَّذِينَ قَالُوا رَبُّنَا اللَّهُ ثُمَّ اسْتَقَامُوا تَتَنَزَّلُ عَلَيْهِمُ الْمَلَائِكَةُ أَلَّا تَخَافُوا وَلَا تَحْزَنُوا وَأَبْشِرُوا بِالْجَنَّةِ الَّتِي كُنْتُمْ تُوعَدُونَ ০ نَحْنُ أَوْلِيَاؤُكُمْ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَفِي الْآَخِرَةِ وَلَكُمْ فِيهَا مَا تَشْتَهِي أَنْفُسُكُمْ وَلَكُمْ فِيهَا مَا تَدَّعُونَ ০ نُزُلًا مِنْ غَفُورٍ رَحِيمٍ ০
-“নিশ্চয়ই যারা বলে আমাদের প্রভু হচ্ছেন আল্লাহ, অতঃপর তারা অটল রয়েছে, তাদের প্রতি ফিরিশতা অবতীর্ণ হয়, (এবং বলে) তোমরা ভয় পেয়ো না, চিন্তা করো না আর সেই জান্নাতের সুসংবাদ গ্রহন কর যার প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে। পার্থিব জীবনেও আমরা তোমাদের বন্ধু ছিলাম এবং পরকালেও থাকব, তোমাদের জন্য সেথায় রয়েছে, যা কিছু তোমাদের বাসনা হবে আর তাও মজুদ রয়েছে, যা কিছু তোমরা চাইবে। আর এগুলো ক্ষমাশীল ও করুণাময়ের পক্ষ থেকে মেহমানদারী।” – (সূরা হা মীম সিজদা : আয়াত ৩০-৩২)
মুমিন বান্দাগনের মৃত্যু কষ্টদায়ক হয় না। জীবন হরণকারী ফিরিশতা আত্মাকে আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে সন্তুষ্টির সাথে বের হয়ে আশার নির্দেশ দেয়ার সাথে সে হাসিমুখে বের হয়ে আসে। এমন আত্মার পরিত্যাক্ত দেহের মুখে তাই মৃত্যুর পরও হাসি লেগে থাকে। এ প্রসংগে আল্লাহ বলেন :
يَا أَيَّتُهَا النَّفْسُ الْمُطْمَئِنَّةُ 0 رْجِعِي إِلَى رَبِّكِ رَاضِيَةً مَّرْضِيَّةً 0 فَادْخُلِي فِي عِبَادِي 0 وَادْخُلِي جَنَّتِ
- “হে প্রশান্ত আত্মা! তুমি তোমার প্রভুর দিকে এমনভাবে ফিরে আস যে, তুমি তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট আর তিনিও তোমার প্রতি সন্তুষ্ট। অতঃপর শামীল হয়ে যাও আমার বিশিষ্ট বান্দাগণের মধ্যে আর দাখিল হয়ে যাও আমার জান্নাতে।” – (সূরা আল-ফাজরঃ আয়াত ২৭-৩০)
👉👉গুনাহগার বা অপরাধীদের মৃত্যুকালীন অবস্থাঃ
কাফির, মুশরিক, মুনাফিক, তাগুত, জালিম ও পাপাচারী বান্দাগনের মৃত্যু মারাত্মক কষ্টদায়ক হয়। আল্লাহর পক্ষ থেকে তাদের অনন্ত জীবনের জন্য অবধারিত শাস্তি মৃত্যুর সময় থেকেই শুরু হয়ে যায়। জীবন হরণকারী ফিরিশতা তাদের উপর চড়াও হয়ে মারাত্মক কষ্ট দিয়ে তাদের আত্মা কবজ করে থাকেন। এ প্রসংগে মহাণ আল্লাহ তা’য়ালা বলেন :
….. وَلَوْ تَرَى إِذِ الظَّالِمُونَ فِي غَمَرَاتِ الْمَوْتِ وَالْمَلَائِكَةُ بَاسِطُو أَيْدِيهِمْ أَخْرِجُوا أَنْفُسَكُمُ الْيَوْمَ تُجْزَوْنَ عَذَابَ الْهُونِ بِمَا كُنْتُمْ تَقُولُونَ عَلَى اللَّهِ غَيْرَ الْحَقِّ وَكُنْتُمْ عَنْ آَيَاتِهِ تَسْتَكْبِرُونَ 0
“…….. আপনি যদি দেখতেন, যখন যালিমরা মৃত্যু যন্ত্রণায় থাকবে, ফেরেশতাগণ হাত বাড়িয়ে বলবেন: তোমাদের প্রাণ বের করে দাও। আজ তোমাদেরকে অপমানকর শাস্তি দেয়া হবে কেননা তোমরা আল্লাহ সম্পর্কে অশোভন কথা বলতে ও তাঁর আয়াতসমূহ কবূল করার ব্যাপারে অহঙ্কার করতে।” – [সূরা আনআমঃ আয়াত ৯৩]
তিনি আরও বলেন :
وَلَوْ تَرَى إِذْ يَتَوَفَّى الَّذِينَ كَفَرُواْ الْمَلآئِكَةُ يَضْرِبُونَ وُجُوهَهُمْ وَأَدْبَارَهُمْ وَذُوقُواْ عَذَابَ الْحَرِيقِ0
ذَلِكَ بِمَا قَدَّمَتْ أَيْدِيكُمْ وَأَنَّ اللّهَ لَيْسَ بِظَلاَّمٍ لِّلْعَبِيدِ0
-“আপনি যদি দেখতে পেতেন, যখন ফেরেশতাগণ কাফিরদের হত্যা করে এবং তাদের মুখে ও পিঠে আঘাত করে আর তাদেরকে বলে : তোমরা আগুনে পোড়ার শাস্তি ভোগ কর – এ শাস্তি তার (সে অপকর্মের) বিনিময় যা তোমাদের হাত আগেই প্রেরণ করেছে। নিশ্চয় আল্লাহ তাঁর বান্দাদের প্রতি অত্যাচারী নন।” – (সূরা আনফালঃ আয়াত ৫০-৫১)
🇸🇦🇸🇦শহীদদের মৃত্যু কষ্ট হবে নাঃ
হযরত আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মওতের ছোঁয়া একজন শহীদের কাছে তেমন, যেমনটি তোমাদেরকে কেউ চিমটি কাটলে অনুভব করে।” – (তিরমিযী, নাসায়ী ও দারেমী)
মৃত ব্যক্তির জানাজার খাটিয়া বহণকালীন অবস্থার বিবরণঃ
হযরত আবূ সাঈদ খুদরী রাদ্বিয়াল্লা-হু আনহু কর্তৃক বর্ণিত । তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লা-হু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যখন জানাযা খাটে রাখা হয় এবং লোকেরা অথবা পুরুষেরা কাঁধে বহন করতে শুরু করে, তখন সে নেককার হলে বলতে থাকে, ‘আমাকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাও।’ আর বদকার হলে সে বলতে থাকে, ‘হায় ধ্বংস আমার ! তোমরা আমাকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছ ?’ মানুষ ছাড়া সবাই তার শব্দ শুনতে পায়। মানুষ তা শুনলে জ্ঞান হারিয়ে ফেলত (বা মারা যেত)”।-[বুখারীঃ ১৩১৪,১৩১৬,১৩৮০]
মুর্দাকে কবরে রেখে সবাই ফিরে যায়, শুধু তার আমল সাথে থেকে যায়ঃ হযরত আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “করে; তার পরিবার-পরিজন, তার ধন-সম্পদ এবং তার আমল। এসবের দু’টি ফিরে আসে এবং শুধু তার আমল তার সাথে থেকে যায়।” -[বুখারী: ৬০৩৩]
✅✅পরকালের অনন্ত জীবনে প্রবেশ পথের বিবরণঃ
হযরত বারা ইবনে আযেব রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক আনসারী ব্যক্তির দাফন-কাফনের জন্য আমরা একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সাথে বের হলাম। আমরা কবরের কাছে পৌছে গেলাম তখনও কবর খোড়া শেষ হয়নি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সেখানে বসলেন। আমরা তাঁর চার পাশে এমনভাবে বসে গেলাম যেন আমাদের মাথার উপর পাখি বসেছে। আর তাঁর হাতে ছিল চন্দন কাঠ যা দিয়ে তিনি মাটির উপর মৃদু পিটাচ্ছিলেন। তিনি তখন মাথা জাগালেন আর বললেন : তোমরা কবরের শাস্তি থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করো। কথাটি তিনি দু বার কিংবা তিন বার বললেন।
অতঃপর তিনি আরো বললেন : যখন কোন ঈমানদার বান্দা পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়ে আখেরাতের দিকে যাত্রা করে তখন আকাশ থেকে তার কাছে ফেরেশতা আসে। তাদের চেহারা থাকবে সূর্যের মত উজ্জল। তাদের সাথে থাকবে জান্নাতের কাফন ও সুগন্ধি। তারা তার চোখ বন্ধ করা পর্যন্ত তার কাছে বসে থাকবে। মৃত্যুর ফেরেশতা এসে তার মাথার কাছে বসবে। সে বলবে, হে সুন্দর আত্মা! তুমি আল্লাহ তাআলার ক্ষমা ও তার সন্তুষ্টির দিকে বেরিয়ে এসো। আত্মা বেরিয়ে আসবে যেমন বেড়িয়ে আসে পান-পাত্র থেকে পানির ফোটা। সে আত্মাকে গ্রহণ করে এক মুহুর্তের জন্যেও ছাড়বে না। তাকে সেই জান্নাতের কাফন পরাবে ও সুগন্ধি লাগাবে। পৃথিবিতে যে মিশক আছে সে তার চেয়ে বেশী সুগন্ধি ছড়াবে। তাকে নিয়ে তারা আসমানের দিকে যেতে থাকবে। আর ফেরেশতাদের প্রতিটি দল বলবে, কে এই পবিত্র আত্মা? তাদের প্রশ্নের উত্তরে তারা তার সুন্দর নাম নিয়ে বলবে যে, অমুক অমুকের ছেলে। এমনিভাবে প্রথম আসমানে চলে যাবে। তার জন্য প্রথম আসমানের দরজাগুলো খুলে দেয়া হবে। এমনি করে প্রতিটি আসমান অতিক্রম করে যখন সপ্তম আসমানে যাবে। তখন আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলবেন : আমার বান্দা আমলনামাটা ইল্লিয়ীনে লিখে দাও। আর আত্মাটা দুনিয়াতে তার দেহের কাছে পাঠিয়ে দাও। এরপর কবরে প্রশ্নোত্তরের জন্য দুজন ফেরেশতা আসবে। তারা প্রশ্ন করবে, তোমার প্রভূ কে? সে বলবে, আমার প্রভূ আল্লাহ। তারা প্রশ্ন করবে, তোমার ধর্ম কি? সে উত্তর দেবে, আমার ধর্ম ইসলাম। তারা প্রশ্ন করবে, এই ব্যক্তিকে কি চেন, যাকে তোমাদের কাছে পাঠানো হয়েছে? সে উত্তরে বলবে, তিনি আল্লাহর রাসূল। তারা বলবে, তুমি কিভাবে জানলে? সে উত্তরে বলবে, আমি আল্লাহর কিতাব পাঠ করেছি, তার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করেছি এবং তাকে সত্য বলে স্বীকার করেছি। তখন আসমান থেকে একজন আহবানকারী বলবে : আমার বান্দা অবশ্যই সত্য বলেছে। তাকে জান্নাতের বিছানা বিছিয়ে দাও। তার কবর থেকে জান্নাতের একটি দরজা খুলে দাও। জান্নাতের সুঘ্রাণ ও বাতাস আসতে থাকবে। যতদূর চোখ যায় ততদূর কবর প্রশস্ত করে দেয়া হবে।
এ সময় তার কাছে সুন্দর চেহারার সুন্দর পোশাক পরিহিত সুগন্ধি ছড়িয়ে এক ব্যক্তি আসবে। সে তাকে বলবে, তুমি সুসংবাদ নাও। সূখে থাকো। দুনিয়াতে এ দিনের ওয়াদা দেয়া হচ্ছিল তোমাকে। মৃত ব্যক্তি সুসংবাদ দাতা এ ব্যক্তিকে সে জিজ্ঞেস করবে, তুমি কে? সে উত্তরে বলবে, আমি তোমার নেক আমল (সৎকর্ম)। তখন সে বলবে, হে আমার রব! কেয়ামত সংঘটিত করুন! হে আমার রব! কেয়ামত সংঘটিত করুন! যেন আমি আমার সম্পদ ও পরিবারের কাছে ফিরে যেতে পারি।
আর যখন কোন কাফের দুনিয়া থেকে বিদায় হয়ে আখেরাত পানে যাত্রা করে তখন তার কাছে কালো চেহারার ফেরেশতা আগমন করে। তার সাথে থাকে চুল দ্বারা তৈরী কষ্ট দায়ক কাপড়। তারা চোখ বুজে যাওয়া পর্যন্ত তার কাছে বসে থাকে। এরপর আসে মৃত্যুর ফেরেশতা। তার মাথার কাছে বসে বলে, হে দুর্বিত্ত পাপিষ্ট আত্মা বের হয়ে আল্লাহর ক্রোধ ও গজবের দিকে চলো। তখন তার দেহে প্রচন্ড কম্পন শুরু হয়। তার আত্মা টেনে বের করা হয়, যেমন আদ্র রেশমের ভিতর থেকে লোহার ব্রাশ বের করা হয়। যখন আত্মা বের করা হয় তখন এক মুহুর্তের জন্যও ফেরেশতা তাকে ছেড়ে দেয় না। সেই কষ্টদায়ক কাপড় দিয়ে তাকে পেচিয়ে ধরে। তার লাশটি পৃথিবীতে পড়ে থাকে। আত্মাটি নিয়ে যখন উপরে উঠে তখন ফেরেশতারা বলতে থাকে কে এই পাপিষ্ট আত্মা? তাদের উত্তরে তার নাম উল্লেখ করে বলা হয় অমুক, অমুকের ছেলে। প্রথম আসমানে গেলে তার জন্য দরজা খোলার অনুরোধ করা হলে দরজা খোলা হয় না।
এ সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ আয়াতটি পাঠ করলেন: “ তাদের জন্য আসমানের দরজাসমূহ খোলা হবে না এবং তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে না, যতক্ষণ না উট সূঁচের ছিদ্রতে প্রবেশ করে। -(সূরা আরাফ, আয়াত ৪০) অতঃপর আল্লাহ তাআলা বলবেন, তার আমলনামা সিজ্জীনে লিখে দাও যা সর্ব নিম্ন স্তর। এরপর তার আত্মাকে পৃথিবীতে নিক্ষেপ করা হবে।এ কথা বলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ আয়াতটি পাঠ করেন : “আর যে আল্লাহর সাথে শরীক করে, সে যেন আকাশ থেকে পড়ল। অতঃপর পাখি তাকে ছোঁ মেরে নিয়ে গেল কিংবা বাতাস তাকে দূরের কোন জায়গায় নিক্ষেপ করল।” -(সূরা আল হজ, আয়াত : ৩১)
অতঃপর তার দেহে তার আত্মা চলে আসবে। দুই ফেরেশতা আসবে। তাকে বসাবে। এরপর তাকে জিজ্ঞেস করবে, তোমার প্রভূ কে? সে বলবে,হায়! হায়! আমি জানি না। তারা তাকে আবার জিজ্ঞেস করবে, তোমার ধর্ম কি? সে বলবে, হায়! হায়!! আমি জানি না। তারপর জিজ্ঞেস করবে, এ ব্যক্তি কে যাকে তোমাদের মধ্যে পাঠানো হয়েছিল? সে উত্তর দেবে, হায়! হায়! আমি জানি না। তখন আসমান থেকে এক আহবানকারী বলবে, সে মিথ্যা বলেছে। তাকে জাহান্নামের বিছানা বিছিয়ে দাও। জাহান্নামের একটি দরজা তার জন্য খুলে দাও। জাহান্নামের তাপ ও বিষাক্ততা তার কাছে আসতে থাকবে। তার জন্য কবরকে এমন সঙ্কুচিত করে দেয়া হবে যাতে তার হাড্ডিগুলো আলাদা হয়ে যাবে।
এ সময় তার কাছে এক ব্যক্তি আসবে যার চেহার বিদঘুটে, পোশাক নিকৃষ্ট ও দুর্গন্ধময়। সে তাকে বলবে, যে দিনের খারাপ পরিণতি সম্পর্কে তোমাকে বলা হয়েছিলো তা আজ উপভোগ করো। সে এই বিদঘুটে চেহারার লোকটিকে জিজ্ঞেস করবে, তুমি কে? সে বলবে, আমি তোমার অসৎকর্ম। এরপর সে বলবে, হে প্রভূ! আপনি যেন কেয়ামত সংঘটিত না করেন। -(আহমদ, আবু দাউদ, হাকেম)
👉👉 মৃত্যুর পর অথবা কবরে রাখার পরে ঈমানী পরীক্ষার বিবরণঃ
আনাস রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাঃ বলেছেনঃ “কোনো বান্দাকে যখন তার কবরে রাখা হয়, অতঃপর তার সঙ্গী সাথীরা ফিরে যায়, এমনকি ঐ মৃত ব্যক্তি তাদের চলন্ত অবস্থায় জুতার আওয়াজ শুনতে পায়। তখন তার নিকট দুজন ফেরেশতা আগমন করে, অতঃপর তারা তাকে উঠিয়ে বসায় এবং জিজ্ঞাসা করে, মুহাম্মদ সা. কে ? তখন মৃত ব্যক্তি মুমিন হলে বলে, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, তিনি আল্লাহর বান্দা ও রাসূল। তখন তাকে বলা হয়, তুমি তোমার জাহান্নামের স্থানটি দেখে নাও। আল্লাহ্ ইহা জান্নাতের বিনিময়ে তোমার জন্য পরিবর্তন করে দিয়েছেন। নবীজি সা. বলেন, তখন সেই ব্যক্তি উভয় স্থানটি দেখতে পায়। আর যদি মৃত ব্যক্তি কাফের বা মুনাফিক হয়, তাহলে সে বলতে থাকে, আমি কিছুই জানি না। লোকেরা যা বলতো আমিও তাই বলতাম। তখন তাকে বলা হয় তুমি কিছুই জানার চেষ্টা করোনি এবং কিছুই পড়নি। অতঃপর লোহার হাতুড়ি বা মুগুর দিয়ে তার ঘাড়ে আঘাত করা হয় ফলে সে এত জোরে চিৎকার করে যে, জ্বীন ও মানব জাতি ছাড়া আশে পাশের সবাই তা শুনতে পায়।”
-সহীহ বুখারী, সহীহ মুসলীম।
অন্য একটি বর্ণনায়ঃ আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন : “যখন তোমাদের মধ্য হতে কোন মৃত ব্যক্তিকে কবর দেয়া হয় তখন কালো ও নীল বর্ণের দু জন ফেরেশতা আগমন করে। একজনের নাম মুনকার অন্যজনের নাম হল নাকীর। তারা তাকে জিজ্ঞেস করে, এই ব্যক্তি সম্পর্কে তোমরা কী বলতে? সে বলবে, সে আল্লাহর বান্দা ও রাসূল। আমি স্বাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল। তখন ফেরেশতাদ্বয় বলবে, আমরা আগেই জানতাম তুমি এ উত্তরই দেবে।এরপর তার কবরকে সত্তর হাত প্রশস্ত করে দেয়া হয়। সেখানে আলোর ব্যবস্থা করা হয়। এরপর তাকে বলা হয়, এখন তুমি নিদ্রা যাও। সে বলবে, আমি আমার পরিবারের কাছে ফিরে যাবো, তাদেরকে (আমার অবস্থা সম্পর্কে) এ সংবাদ দেব। তখন ফেরেশতাদ্বয় তাকে বলে, তুমি ঘুমাও সেই নব বধুর মত যাকে তার প্রিয়জন ব্যতীত কেহ জাগ্রত করে না। এমনিভাবে একদিন আল্লাহ তাকে জাগ্রত করবেন।
আর যদি সে ব্যক্তি কাফির বা মুনাফিক হয়, সে উত্তর দেবে আমি তাঁর (রাসূলুল্লাহ) সম্পর্কে মানুষকে যা বলতে শুনেছি তাই বলতাম। বাস্তব অবস্থা আমি জানি না। তাকে ফেরেশ্তাদ্বয় বলবে, আমরা জানতাম, তুমি এই উত্তরই দেবে। তখন মাটিকে বলা হবে তার উপর চাপ সৃষ্টি করো।মাটি এমন চাপ সৃষ্টি করবে যে, তার হাড্ডিগুলো আলাদা হয়ে যাবে। কেয়ামত সংঘটনের সময় তার উত্থান পর্যন্ত এ শাস্তি অব্যাহত থাকবে।” -(তিরমিজী, তিনি বলেছেন হাদীসটি হাসান গরীব। আলবানী রহ. বলেছেন হাদীসটির সুত্র হাসান। হাদীসটি ইমাম মুসলিমের বিশুদ্ধতার শর্তে উত্তীর্ণ)
শহীদের কবরের প্রশ্ন করা হবে নাঃ হযরত রাশেদ বিন সা’দ জনৈক সাহাবী থেকে বর্ণনা করেছেন- কোনো এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! কবরে সকল মুমিনের পরীক্ষা হবে, কিন্তু শহীদের হবে না, এর কারণ কি? হুজুর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জবাবে বলেন: তার মাথার ওপর তলোয়ার চমকানোই তার পরীক্ষার জন্যে যথেষ্ট”।
- সুনানে নাসায়ী।
✅✅পেশাব শেষে পবিত্র না হওয়া চোগলখুরীর কারণেও বারযাখের জীবনে বা কবরে আজাব হয়ঃ
ইবনে আব্বাস রাঃ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, “নবী সাঃ একবার মদীনা বা মক্কার কোন এক বাগানের কাছ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি এমন দুব্যাক্তির আওয়াজ শুনতে পেলেন, যাদের কবরে আযাব হচ্ছিল। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহে অসাল্লাম) বললেন: এদের দুজনকে আযাব দেয়া হচ্ছে, অথচ কোন বড় গুনাহের জন্য এদের আযাব দেয়া হচ্ছে না। তারপর তিনি বললেন: হ্যাঁ, এদের একজন তার পেশাবের নাপাকি থেকে সতর্কতা অবলম্বন করতো না। আর একজন চোগলখুরী করত। তারপর তিনি একটি খেজুরের ডাল আনালেন এবং তা ভেঙ্গে দু’খন্ড করে প্রত্যেকের কবরের উপর একখন্ড রাখলেন। তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হল, ইয়া রাসূলুল্লাহ! এরুপ কেন করলেন? তিনি বললেন: হয়ত তাদের আযাব কিছুটা লাঘব করা হবে, যতদিন পর্যন্ত এ দুটি না শুকায়।” – (বুখারীঃ হাদিস নং: ২১৬)
✅✅আখেরাতের প্রথম মঞ্জিল হল কবরঃ
উসমান রাঃ যখন কবরের পাশ দিয়ে যেতেন এতটাই কাঁদতেন যে তার দাড়ি ভিজে যেত।
মানুষ তাঁকে জিজ্ঞাসা করতেন,”আপনি জান্নাত – জাহান্নামের কথা শুনলে কাঁদেন না, অথচ কবরের কথা ভাবলেই এত কেঁদে ওঠেন!?” তিনি বললেন, রাসুল সাঃ কে বলতে শুনেছি : “কবর হচ্ছে আখিরাতের বাসস্থানসমূহের মাঝে প্রথমটি। যদি এখানে সে পরিত্রাণ পেয়ে যায়, তবে এরপর যা আসবে সবই তার জন্য আরও সহজ হয়ে যাবে। আর যদি এখানে সে পরিত্রাণ না পায় তবে তার জন্যপরে আরও কঠিন দুর্দশা অপেক্ষা করছে।” তিনি সাঃ আরও বলেন – “আমি এমন কোনও দৃশ্য দেখিনি যার চাইতে কবর অধিক ভয়াবহ নয়।”
-আত-তিরমিযী, ইবন মাজাহ ও আল-হাকিম।
✅✅সব মৃত্যুবরণকারীগণ লজ্জিত ও অনুতপ্ত হয়ঃ
আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাঃ বলেছেনঃ
“যে ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করে, সে লজ্জিত ও অনুতপ্ত হয়। সাহাবায়ে কেরাম জিজ্ঞাসা করলেন, এই অনুশোচনার কারণ কী? রাসূলুল্লাহ সাঃ বললেন, যদি সে নেককার হয় তবে এই কারণে অনুতপ্ত হয় যে, কেনো সে আরো অধিক নেককাজ করেনি। আর যদি লোকটা গুনাহগার হয় তবে সে এই কারণে অনুতপ্ত হয় যে, কেনো সে নিজেকে মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখেনি।”
- তিরমিযী, মিশকাত-৫৩১১
🇸🇦🇸🇦মৃত্যুকে বেশী বেশী স্মরণ করাঃ
আবু সাঈ’দ রাদিয়াল্লাহু আ’নহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, “একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম নামাযের জন্য মাসজিদে আসলেন। দেখলেন যে, হাসির কারণে কিছু লোকের দাঁত দেখা যাচ্ছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করলেন, যদি তোমরা স্বাদ বিনষ্টকারী মৃত্যুকে বেশী বেশী স্মরণ করতে তবে তোমাদের এই অবস্থা হত না যা আমি দেখছি। সুতরাং স্বাদবিনষ্টকারী মৃত্যুকে বেশী বেশী স্মরণ কর। কেননা কবরের উপর এমন কোনদিন যায় না যেদিন সে এই আওয়াজ দেয় না যে, আমি অপরিচিতের ঘর, আমি একাকিত্বের ঘর, আমি মাটির ঘর, আমি পোকামাকড়ের ঘর।”-তিরিমিযী।
আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে পরিপূর্ণ ঈমানের সাথে দুনিয়াতে থাকার এবং নেক আমল করার তৌফিক দান করুন। যে কাজগুলো রাসুল সাঃ এবং সাহাবাগণ করে গেছেন তার ইত্তেবা করার তৌফিক দান করুন। আর অবশ্যই আমাদের মৃত্যুদান করুন ঈমানের সহিত, সুস্থ শরীরে, এবাদত দ্রুত অবস্থায় এবং প্রিয়জনদের মাঝে। তামিম ইয়া রাব্বুল আলামিন।















