🌲🌳সম্প্রতি জানা গেছে, দীর্ঘ সময় শুষ্ক আবহাওয়ার পর বৃষ্টির পরমুহূর্তে সৃষ্ট ঘ্রাণ বিভিন্ন কারণে মানুষের স্নায়ুতে ভালো লাগার অনুভূতি তৈরি করে।
এই ভালো লাগার পেছনে রাসায়নিক বিক্রিয়াঘটিত বেশকিছু কারণ রয়েছে।
ব্যাকটেরিয়া, গাছপালা বা বিদ্যুৎ চমকানো- সবকিছুই বৃষ্টির সময়কার ভেজা মাটি ও নির্মল বাতাসের মনোরম সৌরভের অনুভূতি তৈরি করার পেছনে ভূমিকা রাখে। ইংরেজিতে ‘পেট্রিকোর’ নামের এই সুঘ্রাণের উৎসের সন্ধানে বহুদিন ধরেই গবেষণা চালাচ্ছেন বৈজ্ঞানিকরা।
ভেজা মাটি ১৯৬০ সালে দুজন অস্ট্রেলীয় গবেষক প্রথম এই নামকরণ করেন। বৃষ্টি যখন প্রথম শুষ্ক মাটি স্পর্শ করে তখন আমরা যে উষ্ণ, সোঁদা গন্ধ পাই তা ব্যাকটেরিয়ার কারণে সৃষ্টি হয় বলে জানান তারা।
যুক্তরাজ্যের জন ইনস সেন্টারের আণবিক জীবাণুবিজ্ঞান বিষয়ের অধ্যাপক মার্ক বাটনার বলেন, “মাটিতে এই ব্যাকটেরিয়া প্রচুর পরিমাণে আছে।”
বিবিসিকে তিনি বলেন, “আপনি যখন মাটির সোঁদা গন্ধ পান তখন আসলে বিশেষ একধরনের ব্যাকটেরিয়ার তৈরি করা অণু গন্ধ পান আপনি।”
জিওসমিন নামের ওই অণু স্ট্রেপটোমাইস দিয়ে তৈরি হয়, যা সাধারণত উর্বর মাটিতে উপস্থিত থাকে।
বৃষ্টির পানির ফোঁটা মাটি স্পর্শ করলে মাটিতে উপস্থিত জিওসমিন বায়ুতে ছড়িয়ে পড়ে এবং বৃষ্টির পর আরো অনেকাংশে বৃদ্ধি পায়।
অধ্যাপক বাটনার বলেন, “অনেক প্রাণীই এই গন্ধের বিষয়ে সংবেদনশীল হলেও মানুষ এ সম্পর্কে অতিরিক্ত অনুভূতিশীল।”
এই গন্ধকে ‘পেট্রিকোর’ নাম দেয়া দুজন গবেষক ইসাবেল বেয়ার আর আর.জি. থমাস ১৯৬০ সালে জানতে পারেন যে সেসময় ভারতের উত্তর প্রদেশে এই ঘ্রাণ আহরণ করে সুগন্ধি হিসেবে বিক্রি করা হতো ‘মাটি কা আত্তর’ নামে।
বর্তমানে সুগন্ধি তৈরির কাঁচামাল হিসেবে জিওসমিনের ব্যবহার বাড়ছে।
তবে জিওসমিনের গন্ধ ভালবাসলেও, অনেকেই কিন্তু এর স্বাদ অপছন্দ করেন।
মানুষের জন্য এটি ক্ষতিকর না হলেও পানিতে বা ওয়াইনে সামান্য পরিমাণ জিওসমিনের উপস্থিতিও সহ্য করতে পারেন না অনেকেই।
ডেনমার্কের আলবর্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জেপ্পে নিয়েলসেন বলেন, “স্বাভাবিকভাবে প্রকৃতিতে যে মাত্রায় পাওয়া যায়, সেই পরিমাণ জিওসমিন মানুষের জন্য ক্ষতিকর না হলেও মানুষ কেন এর স্বাদ পছন্দ করে না সেসম্পর্কে এখনো কিছু জানি না আমরা।”
পেট্রিকোর: পরিভাষা নেচার জার্নালে প্রকাশিত হওয়া বৈজ্ঞানিক ইসাবেল জয় বেয়ার ও রিচার্ড থমাসের ১৯৬৪ সালের প্রবন্ধ ‘ন্যাচার অব আর্গিলেশাস ওডর’ এ প্রথমবার এই শব্দটি ব্যবহৃত হয়।
গ্রিক শব্দ ‘পেত্রোস’ ও ‘ইকোর’ থেকে উদ্ভূত হয়েছে এই শব্দ। পেত্রোস অর্থ ‘পাথর’ আর ইকোর অর্থ ‘ঈশ্বরের শিরায় প্রবাহিত তরল।’
গাছ বিভিন্ন গবেষণার বরাত দিয়ে অধ্যাপক নিয়েলসেন বলেন, “জিওসমিন তারপিনের সাথেও সম্পৃক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অনেক গাছে উদ্ধৃত সুঘ্রাণের উৎস তারপিন।”
যুক্তরাজ্যের রয়্যাল বোটানি গার্ডেনসের গবেষণা প্রধান ফিলিপ স্টিভেনসনের মতে বৃষ্টির কারণে এসব সুবাস প্রকৃতিতে ছড়িয়ে পড়ে।
“গাছে উপস্থিত যেসব রাসায়নিক সুগন্ধ তৈরি করে সেগুলো অনেকসময় পাতার মধ্যে তৈরি হয় এবং বৃষ্টির কারণে এগুলো ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার ফলে বায়ুতে নির্গত হয়।”
নিয়েলসেন বলেন, “শুকনা ভেষজ গুড়া করলে যেমন তার ঘ্রাণ বৃদ্ধি পায়, তেমনি দীর্ঘ শুষ্ক মৌসুমের পর বৃষ্টি হলে গাছের শুকিয়ে যাওয়া অংশগুলো থেকে নতুনভাবে সুবাস তৈরি হয়।”
অতিরিক্ত শুষ্কতার ফলে গাছের অভ্যন্তরীণ রাসায়নিক প্রক্রিয়ার গতি ধীর হয়ে পড়ে। বৃষ্টির সময় গাছ নতুন সজীবতা পায় এবং রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে প্রকৃতিতে সুঘ্রাণ ছড়ায়।
বজ্রপাত বৃষ্টির সময় সুঘ্রাণ তৈরির পেছনে বজ্রপাতেরও ভূমিকা রয়েছে। বিদ্যুৎ চমকানোর কারণে বায়ুমণ্ডলে বৈদ্যুতিক আবেশ তৈরি হওয়ায় প্রকৃতিতে ওজোন গ্যাসের একধরনের গন্ধ প্রতীয়মান হয়।
মিসিসিপি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ম্যারিবেথ স্টোলযেনবার্গ বলেন, “বিদ্যুৎ চমকানোর পাশাপাশি ঝড় এবং বিশেষত বৃষ্টির কারণে বাতাস পরিষ্কার হয়। যার ফলে বৃষ্টি পরবর্তী সুঘ্রাণও সহজে ছড়িয়ে পড়ে।”
📘📕palindrome #প্যালিনড্রোম বা #দ্বিমুখী_শব্দ কি এবং কোথায়, কিভাবে ব্যবহার হয় ⁉️ 📘📕 palindrome #প্যালিনড্রোম অর্থাৎ কোন বাক্যকে সামনে থেকে এবং পিছন থেকে সমান। মানে,উভয় দিক থেকে পড়লে একই উচ্চারণ হয়। এক কথায় প্যালিনড্রোম হচ্ছে এমন কিছু শব্দ, বাক্য বা সংখ্যা যাদেরকে ডান থেকে বামে অথবা বাম থেকে ডানে যেভাবেই সাজানো হোক না কেন তা একই থাকবে। যেমন চাচা, বাবা, মামা Rise to vote sir. Nayan, EYE ইত্যাদি।
মোটকথা, ইংরেজি #Palindrome হল এমন কিছু বিশেষ শব্দ আর সংখ্যা যার আরম্ভ বা শেষ দুদিক থেকেই পড়লে শব্দের উচ্চারণ আর অর্থের কোন বদল হয় না; বা সংখ্যার মান একই থাকে (সংখ্যার ক্ষেত্রে)। মূল গ্রীক শব্দ প্যালিনড্রোমাস অর্থ: Running back again থেকে ইংরেজি প্যালিনড্রোম শব্দটি এসেছে। বাংলা ভাষায় একে দ্বিমুখী শব্দ বা সংখ্যা বলা যায়। এধরনের দ্বিমুখী শব্দ বা বাক্য সাজাতে যারা দক্ষ তাঁদের ‘পেলিনড্রোমিস্ট’ বলা হয়। প্যালিনড্রোমিক লেখা প্রাচীন ‘কিরাতার্জুনীয়’ কাব্যের বহু অনুচ্ছেদে দেখা যায় সংস্কৃত ভাষায়। এমনই একটি অনুচ্ছেদ হল- “সারস নয়না ঘন অঘ নারচিত রতার কলিক হর সার রসাসার রসাহর কলিকর তারত চিরনাঘ অনঘ নায়ন সরসা।
📘📕প্যালিড্রোমের আবিষ্কারঃ অনেক ভাষাবিদ পন্ডিত মনে করেন Palindrome গত শতাব্দীর আবিস্কার। কিন্তু অবাক লাগলেও সত্যি এটাই যে, Palindrome নতুন কিছু নয়। প্রায় দেড় হাজার বছর পূর্বে পবিত্র কুরআনেও Palindrome এর ব্যাবহার পাওয়া যায়। আর পবিত্র কোরআন যেহেতু পূর্ববর্তী আসমানী কিতাবসমূহের সর্বশেষ ভার্সন ও নির্যাস তাই গবেষণায় দেখা গেছে, Palindrome এর ব্যাবহার দেড় হাজার বছরের চেয়েও পুরনো। এর উদ্ভাবনের বর্তমান দাবিদার Herculaneum. Herculaneum এর দেয়াল লিখায় একদল গবেষক প্রথম প্রাচীন Palindrome খুঁজে পায়। গবেষকগণ এটির নাম দেন “Sator square”. ল্যাটিন ভাষায় লিখিত এই Palindrome টি ছিলো “Sator Arepo Tenet Opera Rotas”
মজার ব্যাপার হচ্ছে লিখাগুলো যেমন ডান থেকে বায়ে পড়া যায়, ঠিক তেমনি জাপানি ও চায়না ভাষার মতো উপর থেকে নিচে শব্দ গুলো একই ভাবে পড়া সম্ভব!
Palindrome শব্দে একটি ল্যাটিন ধাঁধা এমন– “In girum imus nocte et consumimur igni” অর্থঃ আমরা রাতে ঘুরে বেড়াই, আলো দেখলে মারা যাই।।
👉👉বাংলা ভাষায়, কবিতায়, সাহিত্যে, গদ্যে বিভিন্ন স্থানে প্যালিনড্রোম এর ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়।। সিমার মাসি বল খেলব ,বই চাইব, ঘুরবে রঘু, নাম লেখালেম না বিকল্প কবি, তুমি কি মিতু ? মার কথা থাক রমা, কীর্তন মঞ্চ পরে পঞ্চম নর্তকী, কাক কাঁদে কাঁক কা চেনা সে ছেলে বলেছে সে নাচে তাল বনে নেব লতা চার সের চা ঠাকুরদাদার কুঠা খা সমস্ত রুটি রুস্তম সখা না না কেনা না। না বললে লব না ওর মা আজ আমারও বিরহে রাধা নয়ন ধারা হেরবি থাক রবি কবির কথা মামাতো মামা, কাকা তো কাকা, রবীন দা দানবীর। এমন আরো বহু বের করা যাবে তবে,বাংলায় প্যালিনড্রোমিক শব্দ অনেক থাকলেও প্যালিনড্রোমিক বাক্য খুব বিরল। কারণ বাংলায় যুক্তবর্ণ ও যুক্তাক্ষরের ব্যবহার প্রচুর। প্যালিনড্রোমিক শব্দের মধ্যে বহুশ্রুত দুই অক্ষরের শব্দ হল- বাবা, দাদা, মামা, কাকা, চাচা, নানা, লালা, চিঁচিঁ, হিহি, জুজু ইত্যাদি।
তিন অক্ষরের প্যালিনড্রোমিক শব্দের সংখ্যা অপেক্ষাকৃত বেশি, যেমন- মরম, মলম, দরদ, জলজ, যমজ, তফাত, মধ্যম, বাহবা, চামচা, সন্ন্যাস, সন্ত্রাস, সরেস, সমাস, সহিস, নতুন, নরুন, নরেন, নন্দন, নবীন, কালিকা ইত্যাদি। একটু বড় প্যালিনড্রোমিক শব্দ হল বনমানব, নবজীবন। প্যালিনড্রোমিক নামও বাংলায় আছে বেশ কিছু – মহিম, নরেন, নটেন, কনক, কটক ইত্যাদি। তবে রমাকান্ত কামার ছাড়াও সুবললাল বসু, সদানন দাস, রায়মনি ময়রা, হারান রাহা, নিধুরাম রাধুনি, দেবী দে ইত্যাদি পদবিসহ প্যালিনড্রোমিক নাম বিরল হলেও বাস্তবে থাকা অসম্ভব নয়।
বাংলায় অর্থপূর্ণ প্যালিনড্রোমিক বাক্য গঠন করা বেশ কষ্টসাধ্য। তবুও সরল কিছু শব্দ সহযোগে ছোট ছোটো প্যালিনড্রোমিক বাক্য গঠন করা যায়। বই চাইব, তুমি কি মিতু, বিকল্প কবি, ঘুরবে রঘু, সীমার মাসী, ইভার ভাই, নাম লেখালেম না ইত্যাদি হলো প্রচলিত প্যালিনড্রোমিক ছোট্টো বাক্য।
বাংলায় উভমুখীসম শব্দ তৈরিতে অন্যতম শরৎচন্দ্র পণ্ডিত। তিনি ‘বিদুষক’ পত্রিকায় বহু প্যালিনড্রোম তৈরি ও প্রচার করেছেন। কাক কাঁদে কাক কাঁ; চেনা সে ছেলে বলেছে সে নাচে; তাল বনে নেব লতা; মার কথা থাক রমা; রমা তো মামা তোমার; চার সের চা; বেনে তেল সলতে নেবে; ক্ষীর রস সর রক্ষী; কেবল ভুল বকে; দাস কোথা থাকো সদা? নিমাই খসে সেখ ইমানি; থাক রবি কবির কথা, বিরহে রাধা নয়ন ধারা হেরবি – ইত্যাদি হল তার সৃষ্ট প্যালিনড্রোম। তার সৃষ্ট ‘কীর্তন মঞ্চ পরে পঞ্চম নর্তকী’-কে বাংলাভাষায় সর্বাধিক জটিল ও সর্বাধিক শব্দ সমন্বিত প্যালিনড্রোম বলে মনে করা হয়।
👉👉বাংলায় প্যালিনড্রোম নাম , যেমন নিধুরাম রাধুনি, সুবল লাল বসু, রমা কান্ত কামার, সদানন দাস, রায়মণি ময়রা, হারান রাহা ইলু দলুই, সুবর্ণা বসু, সদাই দাস 👉👉 তাছাড়াও বাংলা ভাষায় আছে বহু প্যালিনড্রোম শব্দ। যেমন— মরম, মলম, দরদ, জলজ, বনমানব, নবজীবন, সহিস, কালিকা, সরেস, তফাত, বাহবা, সন্ন্যাস, সন্ত্রাস, নরুন, তখত, কনক, নয়্ন, সরস, নিড়ানি, খামোখা, কালিকা, হুবহু, ইহাই, বলিব। 👉👉বাংলাভাষায় সব থেকে বড় প্যালিনড্রোম হল :- চেনা সে ছেলে বলেছে সে নাচে !
🤔🤔আশ্চর্যের ব্যাপার এই যে খ্রীষ্টধর্ম অনুযায়ী পৃথিবীর প্রথম শব্দ ছিল প্যালিনড্রোম! আদম আঃ প্রথম হাওয়া আঃ কে Introduce করেছিল এই বলে! !! MADAM IN EDEN I’M ADAM !
📘📕 গণিত শাস্ত্রেও ব্যাপক হারে পেলিনড্রোম এর ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়। নিম্নে গণিত শাস্ত্রে ব্যবহৃত কিছু ফেলি রুমের ব্যবহার দেখানো হল–
আশ্চর্যের বিষয় হল গণিতে প্যালিনড্রোমিক সংখ্যার অভাব নেই। সাধারণভাবে যে কেউ হাজার হাজার প্যালিনড্রোমিক সংখ্যা তৈরি করতে পারবে, যেমন ১১, ২২, ১২১, ২৩২, ২৪৪২, ১২৩২১ ইত্যাদি। তবে সহজ অ্যালগোরিদম পদ্ধতিতে (নির্দেশমত সুনির্দিষ্ট ধাপে) যে কোনও অ-প্যালিনড্রোমিক সংখ্যাকে প্যালিনড্রোমিক সংখ্যায় পরিণত করা যায়। যেমন ধরা যাক, একটি সংখ্যা হল ৫৭ (দুই, তিন, চার বা তার বেশি অঙ্কের সংখ্যা ধরা যেতে পারে)। এবার সংখ্যাটিকে উল্টে দেওয়া হল। তাহলে সংখ্যাটি হল ৭৫। এবার এই দুটি সংখ্যা যোগ করা হল। তাহলে এবার সংখ্যাটি হল (৫৭+৭৫)=১৩২। একেও উল্টে দেওয়া হল। তাহলে সংখ্যাটি হল ২৩১। আবার এই দুটো সংখ্যা যোগ করা হল। যোগফল হল (১৩২+২৩১)=৩৬৩। এটি একটি প্যালিনড্রোমিক সংখ্যা। তিন অঙ্কের সংখ্যা নিয়ে দেখা যাক। ধরা যাক সংখ্যাটি ২৫৫। একই নিয়মে ২৫৫+৫৫২=৮০৭, ৮০৭+৭০৮=১৫১৫, ১৫১৫+৫১৫১=৬৬৬৬। তিন ধাপেই পাওয়া গেল প্যালিনড্রোমিক সংখ্যা। এভাবেই যে কোনও সংখ্যাকেই এই নিয়মে পর পর যোগ করে গেলে একসময় প্যালিনড্রোমিক সংখ্যা চলে আসবে। তবে এ যাবৎ সবচেয়ে দেরিতে যে সংখ্যাটির প্যালিনড্রোম তৈরি করা গেছে এই নিয়মে তা হল ১,১৮৬,০৬০,৩০৭,৮৯১,৯২৯,৯৯০ । ২৬১ ধাপের পর এটি প্যালিনড্রোমে পরিণত হয়। পাশাপাশি অঙ্কে প্যালিনড্রোমিক-মজার দৃষ্টান্তও প্রচুর। যেমন- ৯ সংখ্যাটির প্যালিনড্রোম জাদু। ৯-এর সব গুণিতককে (যেমন ০,৯,১৮,২৭,…. ৯০) পর পর পাশাপাশি লিখলে তা কিন্তু লম্বা একটা প্যালিনড্রোমিক সংখ্যা হয়ে যাবে। সংখ্যাটি হল- ০৯১৮২৭৩৬৪৫৫৪৬৩৭২৮১৯০ । আবার ১ সংখ্যাটিরও আছে প্যালিনড্রোমিক ম্যাজিক। ১ দিয়ে তৈরি সমসংখ্যক অঙ্কের দুটি সংখ্যার গুণফল সবসময় প্যালিনড্রোমিক হবে। যেমন- ১১x১১=১২১, ১১১x১১১=১২৩২১, ১১১১x১১১১=১২৩৪৩২১, ১১১১১x১১১১১=১২৩৪৫৪৩২১ ইত্যাদি। আবার প্যালিনড্রোমিক গুণফলগুলোর মধ্যে একটা সামঞ্জস্যও লক্ষণীয়। দুই অঙ্কের সংখ্যার গুণফলের মাঝের সংখ্যা ২, তিন অঙ্কের সংখ্যার গুণফলের মাঝের সংখ্যা ৩, চার অঙ্কের সংখ্যার গুণফলের মাঝের সংখ্যা ৪ ইত্যাদি। প্যালিনড্রম নয় এমন একটিই সংখ্যা পাওয়া গেছে যার ঘনফল হল একটি প্যালিনড্রোমিক সংখ্যা। সংখ্যাটি হল ২২০১। অনেক সংখ্যা আছে যেগুলোর বর্গ হল প্যালিনড্রোম। যেমন- ১১-এর বর্গ ১২১, ২২-এর বর্গ ৪৮৪, ২৬-এর বর্গ ৬৭৬, ১০১-এর বর্গ ১০২০১, ১২১-এর বর্গ ১৪৬৪১ ইত্যাদি। একইভাবে ৭, ১১, ১০১ ও ১১১ সংখ্যাগুলির ঘনফল (Cube) যথাক্রমে ৩৪৩, ১৩৩১, ১০৩০৩০১ ও ১৩৬৭৬৩১ হল প্যালিনড্রোম। চতুর্থ পাওয়ারের প্যালিনড্রোমিক সংখ্যাও আছে, যেমন ১৪৬৪১, ১০৪০৬০৪০১, ১০০৪০০৬০০৪০০১ ইত্যাদি। কিন্তু পাঁচ পাওয়ারের প্যালিনড্রোমিক সংখ্যা এখনও পাওয়া যায়নি। বেশ কিছু মৌলিক সংখ্যা আছে যেগুলো প্যালিনড্রোম। তিন অঙ্কের সংখ্যার মধ্যে রয়েছে ১৫টি সংখ্যা, যেমন ১০১, ১৩১, ১৫১, ১৮১, ১৯১, ৩১৩, ৩৫৩, ৩৭৩, ৩৮৩, ৭২৭, ৭৫৭, ৭৮৭, ৭৯৭, ৯১৯, ৯২৯। আবার পাঁচ অঙ্কের সংখ্যার মধ্যে রয়েছে ৯৩টি মৌলিক সংখ্যা। সাত অঙ্কের সংখ্যার মধ্যে রয়েছে ৬৬৮টি। দুটি ক্রমিক সংখ্যার গুণফলের ক্ষেত্রে প্যালিনড্রোম সংখ্যা তৈরি হয় পাঁচটি ক্ষেত্রে। যেমন ১৬x১৭=২৭২, ৭৭x৭৮=৬০০৬, ৫৩৮x৫৩৯=২৮৯৯৮২, ১৬২১x১৬২২=২৬২৯২৬২, ২৪৫৭x২৪৫৮=৬০৩৯৩০৬। তিনটি ক্রমিক সংখ্যার গুণফলের ক্ষেত্রে প্যালিনড্রোম হয় মাত্র একটি ক্ষেত্রে, ৭৭x৭৮x৭৯=৪৭৪৪৭৪ । আবার প্যালিনড্রোমে বিন্যস্ত দুটি সংখ্যার গুণফল হয় প্যালিনড্রোমে বিন্যস্ত অপর দুটি সংখ্যার গুণফল- এমন মজাদার সংখ্যাও নেহাত কম নেই। দু’চারটে নমুনা দেওয়া যাক- ১৪৪x৪৪১=২৫২x২৫২, ১২২৪x৪২২১=২১৪২x২৪১২, ১৩৩৪৪x৪৪৩৩১=২৩৩৫২x২৫৩৩২ ইত্যাদি। গত শতাব্দীর একমাত্র প্যালিনড্রোমিক বছর ছিল ১৯৯১ সাল। একবিংশ শতাব্দীতে ফেলে আসা ২০০২ সালটিই হল একমাত্র প্যালিনড্রোমিক সাল। আর পরের শতাব্দীতে ২১১২ হবে প্যালিনড্রোমিক বছর। আবার দিন, মাস ও সাল ধরে আট সংখ্যার তারিখ খুঁজে দেখলে বর্তমান শতাব্দীতে কুড়িটি প্যালিনড্রোমিক তারিখ পাওয়া যাবে, যেমন প্রথমটি ছিল ১০.০২.২০০১। তারপর চলে গেছে ২০.০২.২০০২, ১১.০২.২০১১, ২১.০২.২০১২, ১২.০২.২০২১ ও ২২.০২.২০২২। আর আসতে বাকি আছে ১৩.০২.২০৩১, ২৩.০২.২০৩২, ১৪.০২.২০৪১, ২৪.০২.২০৪২, ১৫.০২.২০৫১, ২৫.০২.২০৫২, ১৬.০২.২০৬১, ২৬.০২.২০৬২, ১৭.০২.২০৭১, ২৭.০২.২০৭২, ১৮.০২.২০৮১, ২৮.০২.২০৮২, ১৯.০২.২০৯১ এবং ২৯.০২.২০৯২। সুতরাং বলা যায় এই শতাব্দি হল আট সংখ্যার তারিখের ভিত্তিতে প্যালিনড্রোম সমৃদ্ধ। বিগত সহস্রাব্দে শেষ যে আট সংখ্যার তারিখটি আমরা প্যালিনড্রোম হিসেবে পেয়েছি তা দ্বাদশ শতাব্দীতে – ২৯.১১.১১৯২।
📘📕 বাংলা ভাষায় পেলিনড্রম চর্চাঃ বাংলাতে প্যালিনড্রোম নিয়ে একটি বই চোখে পড়ে এবং বইটি লিখেছেন ফরিদ-উদ্দিন নামে একজন। ‘কথা-থাক’ নামের বইটি পুরোটা প্যালিনড্রোম কবিতা/ অণুকাব্য নিয়ে সাজানো। এই ফরিদ উদ্দিন সম্পর্কে তেমন কিছু জানা যায় নাই তবে তিনি #বুয়েটে কোন এক ডিপার্টমেন্টে চাকরি করেন।।
📘📕 ইংরেজি ভাষায় প্যালিনড্রোম এর ব্যবহারঃ ইংরেজি ভাষায় Palindrome এর সবচাইতে ছোট্ট এবং সহজ উদাহরন গুলো হচ্ছে MOM. DAD. ডিকশনারিতে খুঁজলে তিন অক্ষরের এমন অনেক শব্দই আমরা খুঁজে পাবো । তাছাড়া ইংরেজি ভাষায় সবচেয়ে বেশি যে প্যালিনড্রোম ব্যবহার হয় তা হল- MADAM, RACECAR. তাছাড়া, TACOCAT ,এখানে Taco এবং cat আলাদা শব্দ হলেও তারা পরপর বসে তৈরী করেছে । তাছাড়া A man, a plane, a canal, Panama ইত্যাদি বাক্য হিসেবে দেখা যায়। “Was it a cat i saw?” “No ‘X’ in Nixon” এই জাতীয় বাক্যগুলো অনেক সময় চোখের সামনে আমরা দেখতে পাই। কিছু কিছু ইচ্ছে করে বানানো হয় আবার কিছু কিছু এমনিতেই হয়ে যায়। তাছাড়া কমন ভাবে কারো সামনে নিজেকে পরিচয় দিতে একটু ইয়ার্কি করি আপনি বলতেই পারেন– “Madam, I’m Adam”‼️
ইংরেজি ভাষায় কিছু শব্দগত Palindrome এর উদাহরহণ হচ্ছে redivider, noon,, civic, radar, level, rotor, kayak, reviver, racecar, redder, refer.
ইংরেজিতে কয়েকটি বাক্যগত Palindrome হল এমন- “Rats live on no evil star” “Live on time, emit no evil” “Step on no pets”
পবিত্র কোরআন এবং হাদিসের ভাষ্য অনুযায়ী শহীদ সর্বমোট ১৩ প্রকার।
👉👉পবিত্র কোরআন এবং বিশুদ্ধ হাদিসের ভাষ্য অনুযায়ী শহীদ ১৩ প্রকার। 👉👉শহীদ কোন স্বাভাবিক শব্দ নয় বরং এটি একটি উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন মাকাম বা স্থান। একজন শহীদের জন্য আল্লাহর নিকট জান্নাত ছাড়া আর কিছুই নেই।
🍀🌺শহীদের শ্রেনী বিভাগঃ শহীদ ইসলামীক দৃষ্টিতে খুবই মর্যাদাবান ও তাৎপর্যপূর্ণ একটি শব্দ। এটি ইসলামের নিজস্ব পরিভাষা। শহীদ মৃত্যুবরণ করার সাথে সাথেই জান্নাতের নেয়ামত ভোগ করতে থাকে। শহীদ কোন সামাজিক বা রাজনৈতিক পরিভাষা নয়। আল্লাহর রাস্তায় জিহাদরত অবস্থায় যারা শহীদ হন তাদের বলা হয় শহীদ। এটা হল সত্যিকার শহীদ। রাসূল সাঃ কতিপয় ব্যক্তিকে হুকুমের দিক থেকে শহীদ বলেছেন। প্রকৃত শহীদ নয় বরং শহীদের কাছাকাছি মর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তি।
🍀❤️ বিশুদ্ধ হাদিস গ্রন্থ সমূহে ১৩ প্রকার পরিপূর্ণ ঈমানদার লোককে শহীদ এর মাকাম বাসস্থান প্রদান করা হবে। প্রথম ও সবচেয়ে মর্যাদা পূর্ণ শহীদগণ হলেন যারা দ্বীন ইসলামের জন্য এবং ইসলামী রাষ্ট্র রক্ষার জন্য জীবন দিয়ে থাকেন। তাছাড়া আরো ১২ প্রকারের লোক কে শহীদ বলা হয়েছে। 👉👉তবে যারা দিন ইসলামের মর্যাদা রক্ষা করতে গিয়ে শহীদ হয়েছেন তাদের মর্যাদা, সম্মান ,এবং নেয়ামত থাকবে সবার ঊর্ধ্বে।
১২ প্রকার শহীদের মাকাম প্রাপ্তগণ হলেন–
১//যিনি জীবন রক্ষার্থে নিহত হন সে সহীদ। ২//যে ব্যক্তি তার বৈধ সম্পদ রক্ষার্থে নিহত হয়, সেও শহীদ।। ৩//কেউ যদি তার পরিবার পরিজন রক্ষা করতে গিয়ে নিহত হয় তিনিও শহীদ। ৪//কোন ব্যক্তি পেটের পিড়ায় যেমন কলেরা, আমাশয়, ইত্যাদি রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করে, সেও শহীদ। ৫//কোন ঈমানদার ঘুমন্ত বা শয্যাশায়ী অবস্থায় মৃত্যুবরণ করলে সেও শহীদ। ৬//ঈমানদার ব্যক্তি আগুনে পুড়ে নিহত হলে সে ও শহীদ। ৭//ধ্বংসাবশেষ অর্থাৎ ভূমিকম্প বা বিল্ডিং পাহাড় ইত্যাদি ধ্বস হলে তার নিচে চাপা পড়ে মৃত্যুবরণ করা ব্যক্তি ও শহীদ। ৮//কেউ যদি পানিতে নিমজ্জিত হয়ে অথবা নৌকায় ইত্যাদি ডুবে মারা যায় তাহলেও সেই ঈমানদার সহিত বলে গণ্য হবেন। ৯// কোন মোমেনা নারী যদি সন্তান প্রসব করতে গিয়ে মৃত্যুবরণ করেন তাহলেও তাকে শহীদ হিসাবে গণ্য করা হবে। ১০//যে কোন প্রকার মহামারীতে যেমন বসন্ত, করো না ভাইরাস, প্লেগ ইত্যাদি মহামারীতে মৃত্যুবরণ করলে শহীদের কাতারে স্থান দেওয়া হবে। ১১// কোন ঈমানদার যদি মজলুম অবস্থায় নিহত হয় , অর্থাৎ তাকে বিনা কারণে বা অজুহাত সৃষ্টি করে অত্যাচারের মাধ্যমে হত্যা করা হয়েছে তিনিও শহীদ হিসাবে গণ্য হবেন। ১২// যে ব্যক্তি তার প্রাপ্য অধিকার চাইতে গিয়ে জালিম সম্প্রদায় কর্তৃক নিহত হন তিনিও শহীদ হিসেবে গণ্য হবেন। 👉👉 নিম্নে হাদিসের দলিল সহ কারা কারা শহীদ তাদের কথা উল্লেখ করা হলো– ❤️❤️জাবের বিন আতীক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূল (সা:) ইরশাদ করেছেন – আল্লাহর পথে মৃত্যুবরণ করা ছাড়াও সাত প্রকার শহীদ রয়েছে। ১-মহামারীতে মৃত্যুবরণকারী শহীদ। ২-পানিতে নিমজ্জিত শহীদ। ৩-শয্যাশায়ী অবস্থায় মৃত শহীদ। ৪-পেটের রোগ মৃত্যুবরণকারী শহীদ। ৫-আগ্নিদগ্ধ ব্যক্তি শহীদ। ৬-যে ব্যক্তি ধ্বংসাবশেষের নিচে পড়ে মারা যায় সেও শহীদ। ৭-সন্তান প্রসব করতে মারা যাওয়া নারীও শহীদ। –মুয়াত্তা মালিক, হাদিস নং-৫৫৪, ৮০২, আল মু’জামুল কাবীর, হাদিস নং-১৭৮০, সহীহ কুনুজু সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ, হাদিস নং-২৩!!
❤️❤️রাসূলুল্লাহ সা. বলেন , যে ঈমানদার (১) তার দ্বীনের জন্য নিহত হ’ল, সে শহীদ (২) যে তার জীবন রক্ষার্থে নিহত হয়, সে শহীদ (৩) যে ব্যক্তি তার সম্পদ রক্ষার্থে নিহত হয়, সে শহীদ (৪) যে ব্যক্তি তার পরিবার রক্ষার্থে নিহত হয়, সে শহীদ। —মুসলিম, মিশকাত হা/৩৮১১, ছহীহুল জামে‘ হা/৬৪৪৯। ❤️❤️ অন্য একটি হাদিসে এসেছে– ১// যে ব্যক্তি মহামারীতে মারা যায়, সে ব্যক্তি শহীদ, ২// যে ব্যক্তি পেটের পীড়ায় (কলেরা, ডায়রিয়া) মারা যায়, সে শহীদ, ৩// যে ব্যক্তি পানিতে ডুবে মারা যায়, সে শহীদ’। ৪// যে ব্যক্তি মযলূম অবস্থায় নিহত হয়, সে ব্যক্তি শহীদ’। (আহমাদ, ছহীহুল জামে‘ হা/৬৪৪৭।) ৫// যে ব্যক্তি তার ন্যায্য অধিকার রক্ষায় নিহত হয়, সে ব্যক্তি শহীদ’। –আবু ইয়া‘লা হা/৬৭৭৫; সনদ হাসান!
👉👉উল্লেখ্য যে, ঐ সকল মুমিন ব্যক্তি আখেরাতে শহীদের নেকী পাবেন। যদিও দুনিয়াতে তাদের গোসল ও জানাযা করা হবে। তবে যারা সম্মুখ সমরে সরাসরি দ্বীন ইসলামের শত্রুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে ময়দানে নিহত হয় তাদের গোসল ও জানাজার প্রয়োজন নেই। দিলেও কোন সমস্যা নেই।।
🍀❤️শহীদগণ তিন শ্রেণীর: 👉👉প্রথমতঃ যারা দুনিয়া ও আখেরাতে শহীদ। তাঁরা হলেন, অস্বীকারকারী এবং ইসলামবিদ্বেষী ও তাদের দোসরদের সঙ্গে যুদ্ধে নিহত মুমিন ব্যক্তিগণ। 👉👉দ্বিতীয়তঃ আখেরাতে শহীদ। তাঁরা হলেন উপরে বর্ণিত ১২ প্রকার অবস্থায় নিহত হওয়া ব্যক্তিগণ। 👉👉 তৃতীয়তঃ দুনিয়াতে শহীদ কিন্তু আখেরাতে নয়ঃ তারা হলো : 🤔যুদ্ধের ময়দানে গণীমতের মাল আত্মসাৎকারী। 🤔 যুদ্ধের ময়দান থেকে পলাতক অবস্থায় নিহত ব্যক্তি’। 🤔 নিজের মর্যাদা বা সম্মান প্রতিষ্ঠায় নিহত ব্যক্তি। 🤔 নিজেকে বীর হিসাবে প্রচার করার জন্য যুদ্ধ অবস্থায় নিহত ব্যক্তি। —-ফিক্বহুস সুন্নাহ ৩/৯১। 👉👉 মোটকথা প্রকৃত শহীদের অবস্থাটা একমাত্র আল্লাহ ভালো জানেন কেননা মানুষের মনের খবর একমাত্র আল্লাহ ছাড়া আর কেউ জানে না।। অতএব নিয়ত যদি বিশুদ্ধ থাকে তাহলে সে ব্যক্তি ঘুমন্ত অবস্থায় মারা গেলেও আল্লাহর নিকট শহীদ হিসেবে গণ্য হবেন।।
👉👉উপরোল্লেখিত ঘটনায় মৃত্যুবরণকারীদের জন্য চিৎকার চেঁচামেচি, হাহুতাশ বা আফসোস না করে আল্লাহ তাআলার দরবারে শহীদী মর্যাদা দানের জন্য দোয়া করা প্রত্যেক ঈমানদার মুসলিমের কর্তব্য। জন্য প্রতিটি মুমিনের উচিত আল্লাহর রাস্তায় শহীদ হওয়ার আকাক্সক্ষা লালন করা এবং সে অনুযায়ী কাজ করে যাওয়া। আমরা যদি সাহাবিদের জীবনের দিকে তাকাই তাহলে দেখা যাবে, তারা সব সময় শহাদাতের মৃত্যু কামনা করতেন। ওমর রা: আল্লাহর কাছে দোয়া করতেন যে, হে আল্লাহ আমাকে শাহাদাতের মৃত্যু নসিব করুন এবং রাসূলের শহর মদিনায় আমার মৃত্যু দিন। –সহিহ বুখারির, ১৮৯০।। আমরা জানি যে, ওমর রা: এক আততায়ীর হাতে শহীদ হয়েছেন। আর মদিনাতে রাসূল সা:-এর কবরের পাশেই হজরত ওমর রা: এর কবর। সুতরাং তাঁর দোয়া আল্লাহ কবুল করেছেন। 🤔🤔 এতক্ষণ আমরা শহীদদের ক্লাসিফিকেশন বা শ্রেণীবিন্যাস সম্পর্কে অবগত হলাম। এখন আমরা শহীদ হওয়ার ব্যাপারে দুই একটি খুঁটিনাটি বিষয় জেনে নেই, যাতে আমরা শহীদ হওয়ার ব্যাপারে ধোকায় না পড়ে যাই। আল্লাহর রাস্তায় থাকা অবস্থায় সংগ্রাম করতে গিয়ে যে মারা যায় তাকেই ইসলাম শহীদ বলে ঘোষণা করেছে। তবে সে ক্ষেত্রে একটি শর্ত রয়েছে সেটি হচ্ছে, দুনিয়ার কোনো লোভে পড়ে বা দুনিয়ার কোনো স্বার্থের জন্য যদি কেউ আল্লাহর পথে মৃত্যুবরণ করে তবে সে শহীদ হিসেবে গণ্য হবে না। কারণ অনেক হাদিসে বলা হয়েছে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ অনেক শহীদকে জাহান্নামে ফেলে দেবেন। আল্লাহ বলবেন, তুমি তো দুনিয়াতে এ জন্য জিহাদ করেছিলে যে, মানুষ তোমাকে বীর বা সাহসী বলবে। বাহবা পাওয়ার জন্য তুমি লড়াই করে নিহত হয়েছে। এরপর মানুষ তোমাকে বীর বলেছে। তাই তোমার প্রতিদান দুনিয়াতেই শেষ হয়েছে। আমার কাছে তোমার কোনো প্রতিদান গচ্ছিত নেই। সুতরাং তুমি জাহান্নামে যাও।
দুনিয়ায় আল্লাহর দ্বীনকে বাস্তবায়ন করতে গিয়ে বা বিজয়ী করতে গিয়ে কাফেরদের বিরুদ্ধে অথবা তাদের দোসরদের ও ইসলামবিদ্বেষীদের বিরুদ্ধে সংগ্রামে যেসব মোমিন ব্যক্তি নিহত হয় তাদেরকে শহীদ বলা হয়। সহিহ বুখারির ৩১২৬ নং হাদিস থেকে আমরা জানতে পারি’ একবার সাহাবায়ে কেরাম রাসূল সা: কে জিজ্ঞাসা করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! কারা আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করছে এটা আমরা কিভাবে বুঝব। এর উত্তরে রাসূলুল্লাহ সা: বললেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর বিধান বাস্তবায়নের জন্য সংগ্রাম করে যাচ্ছে সেই ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় আছে।
👉👉এখন প্রশ্ন হলো, যারা আল্লাহর রাস্তায় সরাসরি লড়াই করে মারা গেছেন তাঁরা বাদে অন্য কেউ শহীদ হিসেবে গণ্য হবে কি না এ প্রসঙ্গে আল্লামা ইবনে হাজার আসকলানী রহ: বলেছেন, শহীদ মূলতঃ দুই প্রকার। ১// যারা আল্লাহর রাস্তায় নিহত হয়েছেন। ২// যারা দুনিয়াতে আল্লাহর রাস্তায় নিহত হয়নি। কিন্তু পরকালে শহীদের মর্যাদা লাভে ধন্য হবেন। (যাদের বর্ণনা এই আর্টিকেলে উপরে ১২ প্রকার দেওয়া হয়েছে)। এখানে প্রথম প্রকার হলো প্রকৃত শহীদ। এদেরকে আল্লাহ পাক মৃত বলতে নিষেধ করেছেন। আল্লাহ বলেছেন, “”যারা আল্লাহর রাস্তায় নিহত হয় তাদের তোমরা মৃত বলো না। তারা জীবিত কিন্তু মানুষ তা বুঝতে পারে না। –সূরা বাকারা : ১৫৪! প্রথম প্রকারের শহীদদের ব্যাপারে পবিত্র কুরআনে আরো এসেছে– “তারা রবের পক্ষ থেকে রিজিকপ্রাপ্ত”। প্রকৃত শহীদদের মর্যাদা আল্লাহর দরবারে এত বেশি যে, নিহত হওয়ার পর তাদের গোসল দেয়ার প্রয়োজন নেই। তারা রক্ত মাখা শরীর নিয়ে রক্ত ঝরা অবস্থায় বিচার দিবসে আল্লাহর সামনে হাজির হবেন। কুরআনে এসেছে, সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ মর্যাদা হলো নবীদের, এরপর সিদ্দিকীন, এরপরেই শহীদদের মর্যাদা। –সূরা নিসা : ৬৯!!
👉👉 রাসূল সা: একবার সাহাবিদের জিজ্ঞাস করলেন, তোমরা কি জানো কারা শহীদ? উত্তরে তারা বললেন, যারা আল্লাহর রাস্তায় নিহত হয়েছেন তাঁরা। তখন রাসূল সা: বললেন, এ রকম হলে তো আমার উম্মতের মধ্যে শহীদের সংখ্যা একেবারে কমে যাবে। সাহাবিরা বললেন, তাহলে আর কারা শহীদ? রাসূল সা: বললেন, আল্লাহর রাস্তায় যারা নিহত হন তারা তো শহীদ বটেই পাশাপাশি আরো কিছু মানুষ শহীদের মর্যাদা পাবেন। (তাঁদের কথা অর্থাৎ এই শহীদদের কথা এই আর্টিকেলের প্রথমেই বর্ণনা করা হয়েছে)
🤔🤔 মানুষ মেরে উল্লাস করে কিংবা মিথ্যা বিবৃতি দিয়ে আল্লাহর খাতা থেকে যেমন কারো শহীদ হওয়া ঠেকানো যাবে না আল্লাহর শাস্তি থেকে ও বাঁচার কোন সম্ভাবনা নাই। সুনানে নাসাঈর ৪০৯৩ নং হাদিস বর্ণিত হয়েছে, অন্যায়ভাবে যদি কাউকে হত্যা করা হয় সে শহীদের মর্যাদা লাভ করবে। অপরদিকে যে ব্যক্তি হত্যা করেছে, এবং যে ব্যক্তি হত্যার আদেশ দিয়েছে, এবং যে ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গ হত্যা করার জন্য সুপারিশ করেছে কিংবা খুশি হয়েছে তাদের সবাইকে একই সাথে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে এবং নিহত ব্যক্তির সকল গুনাহ সবার উপর চাপিয়ে দেওয়া হবে , বন্টন করে নয় বরং আলাদা আলাদাভাবে পরিপূর্ণরূপে।।
👉👉রাসুলুল্লাহ সাঃ এর হাদিসের আলোকে নিকৃষ্ট ও ঘৃণিত শাসকের ৪ বৈশিষ্ট্য:
নিম্নে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বিশুদ্ধ হাদিসের আলোকে এমন চারটি বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করা হলো যেগুলো একজন শাসকের মধ্যে বিদ্যমান থাকলে সে একদিকে যেমন দেশের সাধারণ মানুষের নিকট নিকৃষ্ট শাসক ও ঘৃণার পাত্রে পরিণত হয় অন্যদিকে সে আল্লাহর নিকটও লাঞ্ছিত-অপদস্ত এবং অভিশাপ যোগ্য বলে বিবেচিত হয়। এমনকি জাহান্নামেরও হকদার হয়ে যায়।সেগুলো হলো:
👉👉১// যে শাসককে জনগণ ঘৃণা করে ও তার প্রতি অভিশাপ দেয় এবং সেও তাই করে:
প্রখ্যাত সাহাবি আওফ ইবনে মালিক আশজাঈ রা. হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি যে,
“তোমাদের সর্বোত্তম শাসক হচ্ছে তারা, যারা তোমাদেরকে ভালোবাসে ও তোমরাও তাদেরকে ভালোবাসো এবং তোমরা তাদের জন্য দুআ কর ও তারাও তোমাদের জন্য দুআ করে।
আর তোমাদের নিকৃষ্ট শাসক হচ্ছে তারা, যাদেরকে তোমরা ঘৃণা কর, তোমাদেরকেও তারা ঘৃণা করে এবং তোমরা তাদেরকে অভিশাপ দাও ও তারাও তোমাদেরকে অভিশাপ দেয়।
সাহাবিগণ বললেন, হে আল্লাহর রসুল, এ সময় আমরা কি তাদেরকে প্রতিহত করবো না? তিনি বললেন, না, যে যাবত তারা তোমাদের মধ্যে সালাত কায়েম রাখবে। তবে যার উপর কোন শাসক নিয়োগ করা হবে আর সে তাকে আল্লাহর কোন নাফরমানি করতে দেখবে তখন ঐ শাসক যতক্ষণ আল্লাহর নাফরমানিতে থাকবে ততক্ষণ তাকে ঘৃণা করতে থাকবে কিন্তু আনুগত্যের হাত গুটিয়ে নেবে না।”
এ হাদিসের একজন বর্ণনাকারী ইবনে জাবের রাহ. বলেন, বর্ণনাকারী জুরাইক যখন এ হাদিস আমার কাছে বর্ণনা করছিলেন তখন তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, হে আবু মিকদাম, আল্লাহর কসম দিয়ে বলছি, সত্যিই কি আপনি মুসলিম ইবনে কারাজাকে বর্ণনা করতে শুনেছেন যে, আওফ ইবনে মালিক রা. রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট থেকে হুবহু এ রকম বলতে শুনেছেন?
বর্ণনাকারী বলেন, তখন তিনি তার দু হাঁটুর উপর ভর করে কিবলা মুখী হয়ে বসে পড়লেন এবং বললেন, সেই আল্লাহর কসম করে বলছি, যিনি ছাড়া সত্য কোন উপাস্য নেই আমি অবশ্যই মুসলিম ইবনে কারাজাকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, আমি আওফ রা. কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, আমি রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি।” [সহীহ মুসলিম (হাদীস একাডেমী), অধ্যায়: ৩৪। প্রশাসন ও নেতৃত্ব, পরিচ্ছেদ: ১৭. উত্তম শাসক ও নিকৃষ্ট শাসক। ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিস নাম্বার: ৪৬৫২, ইসলামিক সেন্টার হাদিস নাম্বার: ৪৬৫৪]
👉👉২// যে শাসককে জনগণ অপছন্দ করে:
আবু উমামা রা. হতে বর্ণনা আছে, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
“তিন ব্যক্তির নামাজ তাদের কানের নিচে অতিক্রম করে না (অর্থাৎ আল্লাহর নিকট কবুল হয় না)। তারা হলো: ক. যে দাস তার মালিক থেকে পালিয়ে যায় যে পর্যন্ত সে তার নিকট ফিরে না আসে। খ. যে মহিলা এমন অবস্থায় রাত অতিবাহিত করে যে তার স্বামী তার উপর রাগান্বিত ছিল। গ. এবং যে ইমামকে তার কওমের লোকেরা অপছন্দ করে।”
আলেমগণ এর ব্যাখ্যায় বলেন, এখানে ইমাম দ্বারা উদ্দেশ্য অত্যাচারী-অনাচারী ও পাপিষ্ঠ শাসক। অর্থাৎ এরাই সর্ব প্রথম উক্ত হাদিসের অন্তর্ভুক্ত হবে। তারপর অন্তর্ভুক্ত হবে নামাজের ইমামগণ। [islamweb]
👉👉৩// যে শাসক জনগণের সাথে নির্দয় আচরণ করে:
উম্মুল মুমিনিন আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,
“হে আল্লাহ, যে আমার উম্মতের বিষয়ে দায়িত্ব ও কর্তৃত্ব লাভ করে এবং তাদের প্রতি কঠিন আচরণ করে তুমি তার প্রতি কঠিন আচরণ করো আর যে আমার উম্মতের বিষয়ে দায়িত্ব ও কর্তৃত্ব লাভ করে এবং তাদের প্রতি নম্র ও সদয় আচরণ করে তুমি তার প্রতি নম্র ও সদয় আচরণ করো।” [সহীহ মুসলিম (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) , ৩৪/ রাষ্ট্রক্ষমতা ও প্রশাসন, পরিচ্ছেদ: ৫. ন্যায়পরায়ণ শাসকের ফজিলত ও জালেম শাসকের শাস্তি। শাসিতদের প্রতি নম্রতা অবলম্বন ও কঠোরতা বর্জন]
👉👉৪//যে শাসক জনগণের সাথে প্রতারণা ও বিশ্বাসঘাতকতা করে:
মাকেল ইবনে ইয়াসার রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে এ কথা বলতে শুনেছি যে,
“আল্লাহ তাআলা যে বান্দাকে জনগণের দায়িত্ব (নেতৃত্ব-কর্তৃত্ব) দিয়েছেন কিন্তু যদি তাদের সাথে প্রতারণা ও খেয়ানত করে এবং এ অবস্থায় যদি তার মৃত্যু হয় তবে আল্লাহ তাআলা তার জন্য জান্নাত হারাম করে দিবেন।” সহীহ মুসলিম (ইসলামিক ফাউন্ডেশন), অধ্যায়: ১/ কিতাবুল ঈমান, পরিচ্ছেদ: ৬২.
জনগণের সঙ্গে খিয়ানত কারী শাসক জাহান্নামের যোগ্য] আল্লাহ তাআলা আমাদের শাসকদেরকে হেদায়েত করুন অথবা তাদের থেকে জাতিকে মুক্তি দান করুন। আমিন।
একান্নবর্তী পরিবার বলা হয় ওই সকল পরিবারকে যারা এক সাথে বসবাস করে এবং একই পরিবারভুক্ত হয়ে খাওয়া খাদ্য গ্রহণ করে। অর্থাৎ একই পাতিলের অন্ন ভক্ষণ (ভাত খায়) করে। শিক্ষিত হোক কিংবা অশিক্ষিত হোক যৌথ পরিবার ইসলামস্বীকৃত নয়। যৌথ পরিবার বা একান্নবর্তী পরিবার বাঙালি সংস্কৃতির একটি উপাদান। আর বাঙালি সংস্কৃতি মানে হল হিন্দু সংস্কৃতি। বাঙালি বলতে হিন্দুদের বুঝানো হয়। আর এজন্যই আমাদের জাতিসত্তার বা জাতীয়তা পাসপোর্ট সহ অন্যান্য সব জায়গায় হল #বাংলাদেশি! অথচ কলকাতার লোকদের জাতীয়তা হলো বাঙালি। যে কথা এখানে প্রনিধানযোগ্য তা হলো যৌথ পরিবার আদৌ ইসলামের সমর্থন করেনা বরং যৌথ পরিবার হলো একটি কবিরা গুনাহের উৎপাদন ক্ষেত্র। যৌথ পরিবারের সকল সদস্য ও কবীরা গুনাহে লিপ্ত এবং কন্টিনিউ। বাঙালি সংস্কৃতি তথা হিন্দু সংস্কৃতির একটি কমন কথা হল “ভাবি হলো মায়ের মত”। আর আমাদের রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সালাম এর কথা হল, “ভাবি হল সাপের মত”! অর্থাৎ দেবর ভাবির সাথে দেখা করা অন্যান্য পুরুষ-মহিলা দেখা করার চেয়ে অনেক বেশী গুনাহের কাজ কারণ এখানে গুনাহ হওয়ার সম্ভাবনা অন্যান্য জায়গার চেয়ে বেশি। হিন্দু সমাজে বাবা-মা দেবর ভাবি সবাই একত্রে থাকবে এটাই হলো তাদের নিয়ম। দেবর শব্দটির অর্থ হলো দ্বিতীয় বর। বা দ্বিতীয় স্বামী। দ্বি-বর শব্দ থেকে দেবর শব্দটি এসেছে। হিন্দু ধর্মগ্রন্থগুলোতে দেখা যায় একজন স্ত্রী পাঁচ ভাই মিলে বিয়ে করেছে এমন ঘটনা আছে। তাই হিন্দু সমাজে একান্নবর্তী পরিবার একটি ধর্মীয় পরিবার হিসেবে গণ্য। কিন্তু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম বলেছেন, সন্তান যখন দশ বছর বয়স পূর্ণ হয়ে যায় তখন তার বিছানা আলাদা করে দাও। সন্তান যখন যৌবনপ্রাপ্ত হয়ে যায় তখন ছেলে হোক মেয়ে হোক তাকে বিয়ে দিয়ে দাও এবং তার ঘর আলাদা করে দাও। অন্য একটি হাদিসের মধ্যে এসেছে তার ঘর খাবার-দাবার সবকিছু আলাদা করে দিতে হবে এবং বিবাহিত ছেলের আয় ব্যয় সবকিছু তার নিজের বলে গণ্য হবে, বাবা-মা যদি নিডি অভাবগ্রস্ত হয় তবে সে বাবা-মাকে অবশ্যই খাওয়াবে পড়াবে আর যদি ছোট ভাই বোন থাকে তবে তার জাকাতের পয়সা দিয়ে অথবা সাহায্য করতে পারবে এবং এতে তার পূর্ণ সওয়াব হবে। অর্থাৎ এই হাদিস দিয়ে প্রমাণ হলো বাবা মাকে ফ্রি এবং অবশ্যই খাওয়াতে হবে আর ভাই বোনদের কে খাওয়ানো ফরজ নয় তবে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তাদের যাকাত এবং সাদাকার পয়সা দেওয়া যাবে। কিন্তু কিছুতেই রাসূল সাল্লাল্লাহু ওয়া সাল্লাম একান্নবর্তী পরিবার কে কখনোই সমর্থন করেননি এবং বারবার তার বিরোধিতা করেছেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে আমাদের সমাজের মধ্যে এমনকি আলেম-ওলামা সমাজের মধ্যে পর্যন্ত এই জঘন্য হিন্দুয়ানী প্রথা বিদ্যমান রয়েছে। আমি এমন অনেক আলেম ফ্যামিলি সম্পর্কে জানি যে ফ্যামিলিতে আলেম বাবা-মায়ের উপস্থিতিতে সকল ভাই বোন ভাইয়ের বউ বোনের হাসবেন্ড সবাই দেখা সাক্ষাৎ করে। এটাকে খুবই স্বাভাবিক ধরে নিয়েছে। যদি এরইমধ্যে ইসলাম সম্পর্কে কেউ জ্ঞান আহরণ করে প্রতিবাদ করে তাহলে তাকে সমাজচ্যুত, পরিবার ভাঙ্গনকারী ইত্যাদি হিসাবে চিহ্নিত করা হয়। এটা খুবই একটি নির্লজ্জ এবং বেহায়াপনা ব্যাপার। ভাবি এবং দেবরেরা সাথে বসে গল্প করছে এক বিছানায় বসে খাচ্ছে তাতে কোন বিকার নেই কারো। অথচ অব্যাহতভাবে কবিরা গুনাহ হয়ে যাচ্ছে যার জন্য জাহান্নাম অবধারিত। একান্নবর্তী পরিবার মূলত একটি জাহান্নামী পরিবার। আল্লাহ এই জাহান্নাম থেকে মুসলমানদের রক্ষা করুন আমিন।
🤔🤔 কুরবানীর পশু কাঁদে কেন ⁉️ 👉👉 আমার দেশে কুরবানীর পশুকে নিয়ে কিছু আবেগী এবং বানানো কথাবার্তা প্রচলিত আছে । ছোটবেলা থেকে বড়দের মুখেই শুনি আসছি, কুরবানির গরু নাকি জবাই হবে বলে কান্না করে, কিংবা সে সারারাত আল্লাহর জিকির করে। কোরবানি করার আগের রাতে সে স্বপ্নে ছুরি দেখে, বা ফেরেশতারা তাকে ছুরি দেখায়।কোরবানির আগের রাত্রে ফেরেশতারা নাকি গরুকে জবাইয়ের সংবাদ জানায় ইত্যাদি এমন আরো বহু আজব কথাবার্তা বিভিন্ন এলাকার মধ্যে প্রচলিত আছে। শুধু আমাদের দেশে নয় এমন মিথ বা গাল গল্প পৃথিবীর সব দেশের ছড়িয়ে আছে। আমাদের দেশে যেরকম কোরবানির আগের রাতে গরুর কান্নার ঘটনা ঘটে, তেমনি উন্নত বিশ্বে যেখানে মাংস বিক্রির জন্য গরুকে আধুনিক যন্ত্রপাতিসমৃদ্ধ কসাইখানায় জবাই ও কাটাকুটি করা হয়, সেখানেও প্রায় একই গল্প প্রচলিত আছে। কসাইখানা বা স্লটারহাউজে নেয়ার আগে সেখানকার গরুও নাকি চোখের পানি ফেলে। 👉👉 ফেরেস্তা কর্তৃক গরুকে মৃত্যুর এই সংবাদ জানিয়ে দেয়া বা কোরবানির আগের রাতে গরু কেন কাঁদে তার কোন ইসলামিক দলিল রয়েছে কিনা এ বিষয়ে দেশের বিভিন্ন বিখ্যাত আলেমদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল।(বিশেষ করে কামাল উদ্দিন জাফরী কাজী মহাম্মদ ইব্রাহিম সহ যারা অনেক বিজ্ঞ আলেম আছেন) উত্তরে তাঁরা বলেছেন যে তাঁরা নিজেও এ ধরণের গল্পের কথা শুনেছেন, তবে কোরআন-হাদীসে এমন কোন ঘটনার উল্লেখ নেই। এসব মূলতঃ লোকমুখে প্রচলিত কাহিনী যার কোন দালিলীক সত্যতা নেই। ফেরেশতাগণ যদি সত্যিই কোরবানির গরুকে আগের রাতে মৃত্যু সংবাদ জানিয়ে থাকেন তাহলে কুরআন-হাদীসে সেই ঘটনার অবশ্যই উল্লেখ থাকত। তাছাড়া,যেহেতু মানুষ গরুর কথা বুঝতে পারে না, তাই গরুর নিকট থেকে এই বিষয়ে কোন তথ্য জানার কোন সম্ভাবনাও নেই। হতে পারে কোন এক সময় কোন এক কল্পনা বিলাসী এবং গল্প বানানোতে পটু দুষ্টু লোক কোন বুজুর্গের নাম ভাঙ্গিয়ে এই গল্প চালিয়ে দিয়েছিল যা শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে লোকমুখেই চলে আসছে। 😆😆 কোরবানি বা জবাইয়ের পূর্বে বুঝতে পেরে মনের দুঃখে গরু কাঁদে, এই ধারণাটা কিছুটা হাস্যকর। গরু যদি মানুষের সকল কথা বুঝতে পারতো তাহলে কি সে আর ‘গরু’ থাকতো? তাকে দিয়ে হাল চাষ করা যেত না। সে প্রতিবাদ করতে এবং পালিয়ে যেত । হয়তো জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মানুষের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দুই একটা আসনে জিতে সংসদে বসতো। অথচ কসাইরা বলে, চোখের সামনে অন্য গরুকে জবাই হতে দেখেও গরু কসাইয়ের আদর উপভোগ করে, জিহবা দিয়ে হাত চেটে দেয়। যদি সত্যিই বুঝতে পারতো তাহলে নিশ্চয়ই শিং দিয়ে গুতিয়ে কসাইয়ের দফারফা করে দিতো। কিংবা মরার আগে দুই চার দশ জনকে আহত বা নিহত করে তারপরে মারা যেত। মনে মনে বলতো যে আমরা তো মরবোই, অতএব আরো দুই-চারটাকে সাথে নিয়ে যাই। তাছাড়া গরুরা যদি ঘুনাক্ষরেও জানতে পারতো, হিন্দুরা তাদের পূজা করে এবং তাদেরকে খোদা মনে করে। তাহলে গরুদের অবস্থা কি হতো ⁉️ তাহলে গরু মানুষের কাঁধে সওয়ার হয়ে বেড়াতো। 👆👆উপরের এই কথোপকথন কাল্পনিক হলেও কোরবানির আগের রাতে গরুর কান্নার সাথে আমরা সবাই মোটামুটি পরিচিত। ফেরেশতা কর্তৃক জবাইয়ের খবর জানিয়ে দেয়ার এই ঘটনাও হয়তো শুনে থাকবে। কিন্তু গরু কি আসলেই কাঁদে? গরু কেন কাঁদে? এ ব্যাপারে পশুপ্রেমী এবং মাংশপ্রেমী দুই দল লোকের কাছ থেকে বিপরীতমুখী বক্তব্য পাওয়া যায়।। এই প্রসঙ্গে পশুপ্রেমী এবং গোশতপ্রেমীরা তাদের নিজ নিজ ধারণা চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে। পশুপ্রেমীদের একাংশের ধারণা – নিরীহ শান্ত এই প্রাণীটি ঠিক বুঝতে পারে আর এজন্যই কাঁদে। অন্যদিকে, মাংশপ্রেমীরা জোর গলায় বলে, গরুর এইসব অনুভূতিই নেই, সুতরাং গরু মনের দুঃখে কাঁদে এসব বোগাস ও ফিলতু কথা। মূলত এই সমস্ত কথার কোন ভিত্তি নেই। সবই হলো কিছু মানুষের অনুমান এবং কল্পনা প্রসূত কথাবার্তা। বিভিন্ন পশু পাখিদের অনুভূতি এবং স্মৃতিশক্তি খুবই ক্ষীণ। তারা চোখের সামনে বিপদ দেখলে শুধু ভয় পায় এবং খুব অল্প সময়ের মধ্যে তা ভুলে যায়। 👉👉 তাহলে গরু কাঁদে কেন ⁉️ গরুর প্রতি মানুষের , বিশেষ করে গরুর ব্যাপারী ও কসাইদের আচরণ কুরবানির আগে একেকটা গরু কঠিন প্রতিকূল অবস্থার মধ্য দিয়ে যায়। নানা রকম শারীরিক কষ্ট গরুদের সহ্য করতে হয়। তাছাড়া নতুন পরিবেশ, নতুন মানুষ, হাট বাজারের ভিড় ইত্যাদি কারণে সে ভয় পায়। ভয় পেয়ে কখনো মারমুখী হয়ে যায় এবং পালিয়ে যেতে চেষ্টা করে। কসাইখানায় যাওয়ার আগেও একই ঘটনা ঘটে। এই শারীরিক কষ্ট সহ্য করতে না পেরে গরু কাঁদে। এর সাথে জবাইয়ের কোন সম্পর্ক নেই। অন্য সময়ও কষ্ট পেয়ে গরু কাঁদতে পারে। যেমন নিঃসঙ্গতা। একটা জিনিস লক্ষ্য করে দেখবেন সাথের গরু কিংবা বাছুর হারানোর শোকে গরু বিকট শব্দ করে হাম্বা হাম্বা স্বরে ডাকে। তখন শব্দ করার শক্তির চাপে চোখ থেকে পানি বের হতে পারে। 👉👉 প্রাণীদের উপর বিভিন্ন গবেষণা চালানো কিছু বিজ্ঞানীরা অবশ্য বলছেন, গরু অনুভূতিহীন নয়। গরু এবং অন্যান্য প্রাণীদের নিয়ে নানা গবেষণা শেষে তারা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন যে, গরুর নিজস্ব কিছু অনুভূতি রয়েছে। গরুও আনন্দিত হয়, ব্যথিত হয় কষ্ট পায়। তাহলে কি গরু সত্যিই মনের দুঃখে কাঁদে? এ বিষয়ে বিজ্ঞানীরা বলেন, মানুষ ছাড়া প্রাণীজগতে আর একমাত্র একটি প্রাণীই রয়েছে যারা মনের দুঃখে অশ্রুপাত করে। সেই প্রাণীটি কিন্তু শিম্পাঞ্জি, গরিলা বা মানুষের সাথে সাদৃশ্য রয়েছে এমন কোন প্রাণী নয়। এই প্রাণীটি হলো স্থলের সবচেয়ে বড় শরীরের অধিকারী হাতি। 👉👉 তারপরও কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যায়, কোরবানির আগের রাতে কিংবা কসাইখানায় যে গরুগুলোকে নিয়ে যাওয়া হয় সেই গরু কাঁদে কেন ?
মূলত গরুর চোখে কিছু রোগ হয়ে থাকে যার কারণে গরুর চোখ দিয়ে অনবরত পানি ঝরতে থাকে। বিশেষ করে অনেক গরুর চোখের নেত্রনালী ব্লক হয়ে গেলে গরুর চোখ দিয়ে অনবরত পানি ঝরতে থাকে। যে পানিগুলো নেত্রনালী দিয়ে নাকের ভেতর দিয়ে গলায় চলে যাওয়ার কথা সেই পানিগুলো ব্লক হয়ে যাওয়ার জন্য গড়িয়ে পড়তে থাকে। একে অনেকে গরুর কান্না বলে মনে করলেও এটি মূলকত একটি অসুখ। ভাল চিকিৎসায় এই কান্না নামক পানি বের হওয়া বন্ধ হতে পারে। কোরবানি বা কসাইখানায় যাওয়ার অনেক আগেই গরুর চোখে এই সমস্যা হতে পারে। গরু গুলোকে নতুন পরিবেশ নেওয়া হয়, প্রচন্ড ধুলাবালি ও ধোঁয়া ইত্যাদির মধ্যে দিয়ে নেওয়া হয়, যে পরিবেশের সাথে গরু কোনদিন ছিল না। ফলে ধুলাবালি ও ধোঁয়ার প্রভাবে গুরুর চোখ দিয়ে পানি পড়তে পারে।
🤔🤔 আমাদের দেশের প্রেক্ষিতে কোরবানি হাটে গরুর চোখে এমন পানি দেখে মনে করবেন না তারা কোরবানি হয়ে যাবে বলে কান্না করছে।। বরং তাদের চোখের পানির পেছনে আমাদের দেশের নির্দয় অসভ্য বর্বর গরুর ব্যাপারীদের নির্মমতা জড়িয়ে আছে৷ এরা গরুগুলো শহরে আসে বিভিন্ন দূরের জেলা থেকে৷ ট্রাকের মাঝে এদের গাদাগাদি করে রাখে৷ তার উপর এমন আছে প্রখর রোদ, দাঁড়িয়ে থাকার ক্লান্তি এবং অসহনীয় ঝাঁকা-ঝাকি৷ অনেক সময় চোখ দিয়ে পানি পড়তে থাকা গরুটার চোখে খেয়াল করলে দেখবেন দাগ আছে৷ গরু চাষি বা ব্যাপারীরা এসব গরুর চোখে কাঁচা মরিচ লাগিয়ে দেয়৷ যাতে করে এরা ঝিমিয়ে না পড়ে৷ এরপর এদের চোখ দিয়ে অনবরত পানি পড়তে থাকে৷ এরা তো বোবা জীব কিছু বলতে পারে না৷ কিন্তু আমরা তো মানুষ কেন এসব অবলা প্রাণীদের কষ্ট দিচ্ছি৷ আপনি আমি পাপি বান্দা আমাদের দোয়া কবুল হোক না হোক৷ এ অবলা জীবের বদ দোয়া ঠিকই শোনেন আল্লাহ৷ কোরবানি বা জবাইয়ের সংবাদে গরু কাঁদে না, বরং শারীরিক কষ্টের কারণে কাঁদতে পারে। তাই আমাদের উচিত কোরবানির আগের রাতে ফেরেশতা কতৃক জবাইয়ের সংবাদের যে বানোয়াট কাহিনী প্রচলিত আছে, তা প্রচার না করা এবং গরু ও বিভিন্ন প্রাণীকে যথাসম্ভব কম কষ্ট দেয়া।
👉👉শানে নুজুল বা প্রেক্ষাপটঃ হালাল পশু পাখির অন্ডকোষ হালাল কিনা এমন এক প্রশ্নের জবাবে শায়েখ আহমদুল্লাহ বলেছিলেন, “আপনার রুচি হলে খেতে পারেন, সমস্যা নাই” ব্যাস, এতটুকুই। কয়েক বছর আগের ভিডিও কাটিং এটি। কিন্তু হঠাৎ করে এই বছর তাদের হালাল-হারামের চেতনা জাগ্রত হয়ে গেল । তাদের মাঝারি কবর পূজারী ও কিছু দেওবন্দী মোল্লা আহমদ উল্লাহর কাছে দেশের সমস্ত কুরবানীর গরুর অণ্ডকোষ পাঠানোর ব্যবস্থা করল তাদের চামচা চেলা ও মুরিদের মাধ্যমে।
😅😅আহমদ উল্লাহর কাছে পাঠানো অন্ডকোষ এই বলে ফেরত দেয়া হয়েছে যে, বিদআতিদের জবেহ করা কোন কিছু শায়েখ খান না। মাশাআল্লাহ যেমন বোলিং তেমন ব্যাটিং। এক্কেবারে ছক্কা।
👉👉মাজারের বেদিতে উৎসর্গ করা পশুর মাংস যাদের কাছে হালাল তাদের কাছেই আবার পশুর অন্ডকোষ হারাম! অথচ মাজার পূজারী ও পীর পূজারী এবং আকাবির পূজারী ও মুরুব্বী পূজারী এই সমস্ত লোকেরাই আবার মাছ , হাঁস ,মোরগ সহ সবকিছুর অন্ডকোষ পেলে মজা করে খান। কখনো প্রশ্ন করতে দেখি নাই, মাছ ও মোরগেরটা ফেলে দেয়া হয় কি! 👉👉 শুধু তাই নয় বরং আমি এই পীর ও মাজার পূজারী এবং কওমি দেওবন্দীদের তাবিজের কিতাবে দেখেছি তারা নিজেরা যৌন শক্তি বৃদ্ধি করার জন্য মোরগের অন্ডকোষ শুকিয়ে গুড়া করে মধু দিয়ে খাওয়ার জন্য বলে থাকে।। শুধু তাই নয় এমনকি নাপাক এবং হারাম প্রানী ও কুকুরের লিঙ্গ কেটে তা কোমরে ঝুলিয়ে রাখার কথা ও লেখা আছে বেদাতিদের সবচেয়ে বড় কিতাব #বেহেস্তি_জেওর এর মধ্যে! কওমি দেওবন্দীদের তাবিজের কিতাবের মধ্যে স্পষ্ট লেখা আছে পুরুষ চড়ুই পাখির মাংস অন্ডকোষ সহ ঘি দিয়ে ভেজে ও ভুনা করে খাওয়ার কথা।। এভাবে কওমি দেওবন্দী এবং কবর পূজারী ও পীর পূজারীদের শত শত বইয়ে বিভিন্ন প্রাণীদের ও পাখিদের অন্ডকোষ খাওয়ার কথা উল্লেখ আছে। 👉👉 এখন প্রশ্ন হল, কে খেলো বা কে খেলো না তা বড় কথা নয়। কোরআন হাদিসে এর নিষিদ্ধ আছে কিনা তা হলো বড় কথা। পবিত্র কোরআনে যেখানে দালাল পশু খাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে সেখানে শুধু প্রবাহিত রক্ত নিষিদ্ধ এই কথাটা বলা হয়েছে। কোরআনের অন্যান্য আয়াতে বলা হয়েছে যে সকল প্রকার উত্তম খাদ্য তোমাদের জন্য হালাল করা হয়েছে। উত্তম খাদ্য হলো ওই সকল খাদ্য যে সকল খাদ্য মানুষের ক্ষতি করে না বরং উপকার করে থাকে। পৃথিবীর মধ্যে ক্ষতিকর এবং অনুত্তম খাদ্যের মধ্যে একটি হল জর্দা, সুপারি ,পান, সিগারেট, খয়ের চুন, গুল ইত্যাদি। আল্লাহ এই ক্ষতিকর খাদ্যগুলিকে হারাম করেছেন অথচ এই সমস্ত মোল্লারা দেদারসে খাচ্ছে। 👉👉 আমি আমার এলাকায় গিয়ে বললাম, ঘোড়া খাওয়া হালাল। ওমনি কয়েকজন প্রশ্ন করল এবং জানতে চাইলো সত্যিই এটাক কোরআন হাদিসে হালাল আছে কিনা। এমনকি কয়েকজন আলেম এসেও আমাকে জিজ্ঞাসা করল, এবং তারা সবাই হানাফী মাযহাবের আলেম। তারা আমাকে বলল যে আমরা তো জানি ঘোড়া🐎 হারাম। কিন্তু তুমি হালাল বাড়াতে অনেকে বিভ্রান্ত হচ্ছে। আমি তখন বললাম যে আপনারা বিভ্রান্ত করছেন কেন? আর একটি হালাল প্রাণী কি হারাম বানাচ্ছেন কেন? বরং হানাফী মাযহাবের সবচেয়ে বড় দলিলের কিতাব হেদায়া এর মধ্যে স্পষ্ট লেখা আছে ঘোড়া খাওয়া হালাল। ইসলামী শরীয়তে শুধুমাত্র গৃহপালিত গাধা খাওয়া হারাম। গাধা আর ঘোড়া এক নয়। যেমন বাইন মাছ আর সাপ এক নয়। তখন তারা কেউ আর কোন প্রশ্ন করেনি। আমি একজন আলহামদুলিল্লাহ আলেমের সন্তান এবং আমার বাবা চাচারা অনেকেই বড় বড় আলেম। হলে অন্যান্য ছোটখাটো আলেমরা আমাকে বেশি ঘাটতে আসেন না, যদিও আমি মাদ্রাসা থেকে সনদপ্রাপ্ত কোন আলেম নই। কেননা তাদের দৃষ্টিতে আলেম হলো ঐ ব্যক্তি যে ব্যক্তি নকল করে হোক চুরি করে হোক বা দুর্নীতি করে হোক মাদ্রাসা থেকে সার্টিফিকেট নিয়েছে। এবং দুর্নীতি করুক বলাৎকার করুক আর যাই করুক মাথায় টুপি আছে মুখে দাড়ি আছে আর গায়ে একটা লম্বা জামা আছে। আমাদের দেশের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে এরাই হলো আলেম।। আপনি যদি শত পড়াশোনা করেন, এবং কোরআনের আগাগোড়া মুখস্থ থাকে অর্থসহ। এবং প্রকৃত হাদিস গ্রন্থ থেকে ও তাফসীর থেকে কথা বলতে পারেন, তথাপিও আপনি আলেম হবেন না কেননা আপনার মাদ্রাসা থেকে সার্টিফিকেট নাই এবং লম্বা জামা ও টুপি নাই।
👉👉যাইহোক, যে কথা বলছিলাম– পবিত্র কুরআনে শুধু প্রবাহিত রক্ত খাওয়া হারাম করা হয়েছে। কিন্তু জমাট রক্ত অর্থাৎ যা স্থায়ী জমাট বাধা আছে অর্থাৎ কলিজা ও যকৃত (মেটে কলিজা) এটিকে হালাল করা হয়েছে। এই সকল বেদাতীরা অন্ডকোষ খাওয়ার ব্যাপারে কোন প্রকার কোরআন হাদিসের দলিল দেখাতে পারেনা। এমনকি একটি দুর্বল জাল হাদিস ও তাদের কাছে নাই যেখানে লেখা আছে অন্ডকোষ খাওয়া নিষিদ্ধ। তারা একটি “আসার” দলিল হিসেবে প্রচার করে থাকে। অথচ পৃথিবীর সবচেয়ে বড় কোরআন হাদিস রিচার্জ সেন্টার সৌদি আরব সহ পৃথিবীর কোন দেশের আলেমদের কাছে এই “আসার” টি গ্রহণযোগ্য নয় বরং প্রক্ষিপ্ত। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে সকল প্রকার ক্ষতিকর বস্তু তোমাদের জন্য হারাম করা হয়েছে। সেই হিসাবে সমস্ত পৃথিবীর আলেম-ওলামা মুফতি মোহাদ্দিস সবাই মিলে কোরআনের এই আয়াতের তাফসীর করেছেন যে, যেহেতু ক্ষতিকর বস্তু হারাম করা হয়েছে তাই হালাল পশুদের মধ্যে ক্ষতিকর বস্তু তারা খুঁজে বের করেছেন এবং তার একটি লিস্ট বা ফর্দ তারা প্রদান করেছেন। আর এই হালাল প্রাণীর ক্ষতিকর অর্থাৎ হারাম বস্তুগুলো হল ১//প্রবাহিত রক্ত, ২// পশু পাখির মল এবং মুত্র। ৩//পশুদের শিং এবং খুড়া। ৪// পশুদের লোম। ৫// পাখিদের ঠোঁট এবং নখ। ৬// পাখিদের পালক।। উপরের ছয়টি বস্তু হারাম-পবিত্র কোরআন দ্বারা তা প্রমাণিত। কেননা এই ছয়টি বস্তু হলো ক্ষতিকর বস্তু আর ক্ষতিকর বস্তুকে পবিত্র কোরান হারাম ঘোষণা করেছে। আল্লাহ সবাইকে ইসলামের শরীয়তের সঠিক জিনিসগুলো ভালোভাবে বুঝার তৌফিক দান করুন এবং নিজস্ব কোন মন গড়া ব্যাখ্যা করা থেকে সকল মুসলিমদেরকে হেফাজত করুন আমীন ইয়া রাব্বাল আলামিন।।
শত্রুর সবকিছু বয়কট করতে হয়না। এবং এটাই রাসূল সাঃ এর শিক্ষা। একবার এক যুদ্ধে বেশকিছু ইহুদী শিক্ষিত শত্রু না সৈন্য ধরা পড়ল এবং তারা আটক হল। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম ছিলেন বিদ্যোৎসাহী। তিনি তিনি ইহুদি আটক সৈন্যদের শর্ত দিলেন যে যদি প্রতিজন ইহুদি 10 জন করে মুসলিমকে লেখাপড়া শিক্ষা দিতে পারে তবে তারা মুক্তি পেয়ে যাবে। এবং যে যত তাড়াতাড়ি শিক্ষা দিবে তত তাড়াতাড়ি মুক্তি পাবে। ইহুদিরা এই অফার পেয়ে খুব দ্রুত এই কাজে অগ্রসর হলো এবং প্রতিজন দশজন করে মুসলিমকে লেখা ও পড়া শিখিয়ে তারা মুক্ত হয়ে গেল এবং পরবর্তীতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম এর এই সুন্দর পদ্ধতি এবং জ্ঞানের প্রতি আগ্রহ আর মুসলিমদের সুন্দর আচরণ দেখে তারা মুসলিম হয়ে গিয়েছিল।। 👉👉শত্রুর একটা ধারালো তরবারি যদি আপনার হাতে আসে, আপনার উচিত সেটা তার বিরুদ্ধেই কাজে লাগানো!আপনি যতদিন পর্যন্ত পুরোপুরি স্বনির্ভর না হবেন, ততোদিন এটাই হবে উত্তম সিদ্ধান্ত। তাদের ফেসবুক google ইত্যাদি আমাদের যোগাযোগের এবং দিন প্রচারের কাজে লাগানো উচিত। তারা অবশ্যই চাচ্ছে এবং আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছে যাতে করে আমরা এই গুগল কিংবা ফেসবুক ইত্যাদি ব্যবহার করে কোনভাবেই কোন উপকৃত হতে না পারি।। কিন্তু ভূ-প্রাকৃতিক অবস্থা এবং ইথার সিস্টেম আল্লাহ এমনভাবে তৈরি করেছে যে তারা শত চেষ্টা করেও এবং কোনোভাবেই আমাদেরকে বাদ দিতে পারছে না।। যদি বাদ দিতে পারত তাহলে বহু আগেই তারা আমাদেরকে অন্ধকারে নিক্ষেপ করে রাখত।। আল্লাহ অনেক সময় কাফেরদের নিকট থেকেও ইসলামের খেদমত নিয়ে থাকেন।। 👉👉যেমন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম এর ব্যাপারে এবং ইসলামের ব্যাপারে রাসূল সাল্লাল্লাহু ওয়া সাল্লামের দাদা এবং রাসূলের বংশধরের মনে এমন গোত্র প্রীতি সৃষ্টি করে দিয়েছিলেন যে তারা সার্বক্ষণিকভাবে রাসূলকে নিরাপত্তা দিতে বাধ্য হত যদিও তারা কাফের ছিল।। 👉👉 ফেরাউনের চেয়ে নিকৃষ্ট কাফের আসমানের নিচে জমিনের উপরে আর কেউ ছিল না। অথচ আল্লাহর এক শক্তিশালী রাসূল মুসা আলাইহি ওয়াসাল্লামের লালন পালন এবং তাকে সেনাপ্রধান বানানোর ও বিভিন্নভাবে প্রশিক্ষিত করে দেওয়া ব্যাপারে তৎকালীন সবচেয়ে শক্তিশালী ফেরাউনের খেদমত নেওয়া হয়েছিল।। 👉👉 ফেরাউনের পূর্ববর্তী সম্প্রদায় ছিল ইসলামের প্রতি আরো বিদ্বেষী। কিন্তু ইউসুফ আলাইহিস সালামকে আল্লাহ তাদের নিকট লালন পালন করিয়েছেন এবং এভাবেই ইসলামের খেদমত নিয়েছেন কাফেরদের নিকট থেকে।।। 👉👉 আল্লাহ পবিত্র কুরআনে দুইবার বলেছেন যে, আমি যদি একদলকে দিয়ে আরেক দলের উপর হুমকি সৃষ্টি করে না রাখতাম এবং একদলকে দিয়ে আরেকদলকে দমিয়ে না রাখতাম তাহলে পৃথিবীতে কত কিছুই না ঘটে যেত।। আপনি একটা বিষয় চিন্তা করে দেখুন যে সমস্ত পৃথিবীর মাত্র দুইটা বলয়ে বিভক্ত। একটি হল কমিউনিজম আর অন্যটি হলো ক্যাপিটালিজম। অর্থাৎ একটি হলো সমাজতন্ত্র আরেকটি হলো গণতন্ত্র। রুশপন্থী দেশগুলো যেমন আমেরিকা পন্থী কোন দেশকে এবং তাদের শাসন ব্যবস্থাকে দুই চোখে দেখতে পারেনা ঠিক তদ্রূপ আমেরিকা পন্থী দেশগুলোর রুশপন্থী দেশগুলোকে দুই চোখে দেখতে পারেনা। বিভিন্ন অজুহাতে তারা সব সময় ঝগড়া লেগেই থাকে এবং ঝগড়ারত দুইটি বাহিনীকে দুই দিক থেকে তারা সাপোর্ট দিতে থাকে। যেমন বর্তমান ২০২৩ সাল থেকে ২০২৪ সাল চলছে। এরই মধ্যে শুধুমাত্র রাশিয়া আর ইউরিন ইস্যুতে সমস্ত পৃথিবীর দুই দলে বিভক্ত হয়ে আছে।। এভাবে পৃথিবীর ভারসাম্য রক্ষা করার জন্য আল্লাহ এই কাফেরদের মধ্যে দুটো দল সবসময় সৃষ্টি করে রাখেন ফলে মুসলিমরা নিরাপদ থাকে। কিন্তু এই মুসলিমরা যদি শুধু একটু চিন্তা-ভাবনা করে চলতে পারতো এবং তারা যদি নিজেদের মধ্যে শত শত দল সৃষ্টি না করতো তাহলে মুসলিমদেরকে কেউ কোনদিন প্রধানত করে রাখতে পারতো না।। মুসলিমদের উপর যত বিপদ আসে সব আল্লাহর কোরআন অনুযায়ী তাদের দুই হাতে কামাই করা।। অবশ্যই আল্লাহু আলম ।। আল্লাহ সবকিছু জানেন এবং দেখেন।।
তাছাড়া বর্তমানে মোবাইল ফোনের যুগ আসার পর,কোনও গ্রাহক প্রতিবার লকার খোলার সঙ্গে সঙ্গে ব্যাংকের পক্ষ থেকে গ্রাহকের মোবাইলে ইমেল এবং এসএমএস পৌঁছে যাবে। এই পদ্ধতির প্রধান কারণই হল, জালিয়াতি আটকানো। অর্থাৎ ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট থেকে যদি টাকা উত্তোলন করা হয় অথবা কোন কিছু খরিদ করা হয় ডেবিট কার্ড দিয়ে অথবা যে কোন ভাবে একাউন্ট এ যদি টাকা ডিপোজিট করা হয় বা উত্তোলন করা হয়, সেখানে যেমন গ্রাহকের নিকট সাথে সাথে এসএমএস ও ইমেইল পৌঁছে যায় তদ্রূপ লকারের ক্ষেত্রেও একই। তাছাড়া ব্যাংক এর নিয়ম অনুসারে নির্দিষ্ট কিছু বা কয়েক বছরের জন্য কোন গ্রাহককে লকার ভাড়া দিতে পারে। যদি লকার ভাড়া বার্ষিক ৫০০০ টাকা হয়, তা হলে গ্রাহকের কাছ থেকে মোট নির্দিষ্ট বছরগুলো হিসাব করে অগ্রিম টাকা নিয়ে নেবে।। অতিরিক্ত কোন টাকা ব্যাংক নিতে পারবে না। অবশ্য রক্ষণাবেক্ষণের চার্জ আলাদা হিসেবে গণ্য হবে। 📘📕 লকার বরাবর অথবা লকারের সামনে যে কোন সিসিটিভি বা ক্যামেরা রাখা নিষেধ। কেননা তাতে গ্রাহকের প্রাইভেসি নষ্ট হয়। কিন্তু লকারের বাইরে ক্যামেরা লাগানো থাকে। তাছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংক এর নিয়ম অনুযায়ী বর্তমানেআরেকটি নিয়ম বাধ্যতামূলক করেছে। তা হল, লকা রূমে কারা আসছে, কারা যাচ্ছেন, সেই সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে ধরে রাখতে হবে ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে কমপক্ষে ছয় মাসের জন্য। এই ফুটেজ ৬ মাস পর্যন্ত সংরক্ষিত রাখার ব্যবস্থা রাখতে হবে । যাতে কোনওরকম জালিয়াতি, চুরি-ডাকাতির ঘটনা ঘটলে পুলিশ সেই ফুটেজ দেখে তদন্ত করতে পারে।
📘📕ইসলামী শরীয়াহ ব্যাংক গুলোতে লকার সেবা “আল আমানাহ” নীতিতে দিয়ে থাকেন। এখানে গ্রাহক কি রাখেন সেই ব্যাপারে ডিক্লারেশান থাকেনা। ডিক্লারেশান থাকে কোন ইলিগাল জিনিস রাখবেনা এতটুকু। তাই গ্রাহক কত ভরি জিনিস রাখল অথবা কত টাকা রাখল সেটা একান্তই গ্রাহক জানেন। তাই ব্যাংক এই ক্ষেত্রে লায়াবল থাকে না।
ব্যাংকের লকারের এলাকায় সিসি ক্যামেরা থাকেনা। কারন গ্রাহক কি জিনিস রাখবে সেটা গ্রাহকের একান্তই নিজের বিষয়। তার ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা এবং তার সম্পদের সুরক্ষার জন্য এই ব্যবস্থা।
লকারের দুইটি চাবি থাকে। একটি গ্রাহকের কাছে আরেকটি ম্যানেজারের/কাস্টডিয়ানের কাছে। দুই চাবি একত্রে দেয়া ব্যতীত লকার খোলা পসিবল না।
কোন কোন ক্ষেত্রে এটা চেম্বার আকারে থাকে সেক্ষেত্রে মুল দরজার কাস্টডিয়ান থাকেন। আর ভেতরের লকারের চাবি গ্রাহকের কাছে থাকে।
তাই কোনভাবেই গ্রাহকের সম্পদ ব্যাংকের ফ্রড করার সুযোগ নাই যদি গ্রাহক নিজের সম্পদের ব্যাপারে সচেতন থাকেন।
কোন গ্রাহক তার লকারের চাবি লক করল না। তাহলে সেখানে ফ্রড হলে দায় গ্রাহকের ই বেশি। আর কি আছে সেই ডিক্লারেশান দেয়া না থাকার কারনে কি রেখেছে সেটা ১০০ ভরি নাকি ১০০০ ভরি সেটা ব্যাংকের জানার কথা ও না।
এই লেখা এই কারনে লিখলাম আমাদের কোন ঘটনায় আমরা নিজেরা যদি ক্লিয়ার না থাকি তাহলে লোকজনকে জবাব দিতে পারব না। কেউ এইভাবে যদি প্রশ্ন করেন “আমাদের অমুক শাখায় নাকি এত ভরি সোনা মেরে দিছে” তাহলে সেটা পত্রিকার ভাষা হয়ে যায়। গ্রাহক তার অবহেলাকে ব্যাংকের উপর চাপাতে চাইতে পারে অথবা আরো ঘটনা থাকতে পারে। প্রিভিয়াস হিস্টোরি বলে গ্রাহক কোর্টে গিয়ে ক্ষমা চাইতে হয়েছে এরকম মামলা করে। তাই নিজেদের দিক থেকে পরিস্কার থাকা জরুরী।।
📘📕ব্যাঙ্কের লকার (Bank Locker) ভাড়া নিতে আপনাকে খুঁটিনাটি অনেক বিষয় জানতে হবে। খরচ-সহ খুঁটিনাটি নিয়ম জানা না থাকলে আপনার ব্যাংক লকার ব্যবহার না করাই উচিত। ব্যাঙ্কিং খাতে প্রায় প্রতিদিনই নিত্যনতুন বদল আসে। এবার লকারের ক্ষেত্রে নতুন নিয়মও কার্যকর করা হয়েছে। সম্প্রতি ব্যাঙ্কের লকারের নিয়মে পরিবর্তন হয়েছে। জেনে নেওয়া যাক।
মূল্যবান সম্পদ, গয়না, টাকাপয়সা নিরাপদে রাখার জন্য অনেকেই ব্যাঙ্কের লকার ব্যবহার করেন। ব্যাংকের লকারের ক্ষেত্রে বেশকিছু নিয়ম চালু য়য়েছে। এই নতুন নিয়মের উদ্দেশ্যই হল, গ্রাহকদের মূল্যবান সম্পদ যেমন , গয়না, টাকাপয়সা যেন চুরি বা ডাকাতি না হয়ে যায় সেজন্য মানুষ নিরাপত্তার জন্য ব্যাংকের লকার ব্যবহার করে। 📘📕 বাংলাদেশের রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংকের ৫৪টি শাখায় লকার সেবা রয়েছে। ব্যাংকটির ছোট লকারের বার্ষিক চার্জ ২ হাজার টাকা। মাঝারি ও বড় লকারের চার্জ যথাক্রমে ২ হাজার ৫০০ ও ৩ হাজার টাকা। রাষ্ট্রায়ত্ত অন্য ব্যাংকগুলোও প্রায় একই চার্জে গ্রাহকদের লকার সেবা দিচ্ছে।
📘📕 চট্টগ্রাম চকবাজারের ইসলামী ব্যাংকের একটি শাখার ব্যাংকের লকার থেকে গায়েব হওয়া স্বর্ণের খবরটি নিম্নরূপ —
গতকাল সরেজমিনে ইসলামী ব্যাংকের চকবাজার শাখাটিতে গিয়ে দেখা গেছে, সকাল থেকেই স্বাভাবিক দিনের থেকে আমানতকারীদের ভিড় কিছুটা বেশি ছিল। তবে বেশি ভিড় দেখা যায় লকারে গচ্ছিত রাখা গ্রাহকদের। এসব গ্রাহকরা ব্যাংক কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে লকারে ঢুকছেন। আমানত নিরাপদ আছে কিনা যাচাই করে আবার চলে যাচ্ছেন তারা। অনেকে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলছেন। গ্রাহকদের সবার চেহারায় ছিল আতঙ্কের ছাপ। তারা প্রশ্ন তুলেছেন ব্যাংকের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে।
নগরীর চন্দনপুরা থেকে ব্যাংকে এসেছেন তসলিমা খানম ও জয়নাল আবেদীন দম্পতি। ২২ বছর ধরে ইসলামী ব্যাংকের লকার ব্যবহার করছেন তারা। তসলিমা আমাদের সময়কে বলেন, লকারে আমাদের স্বর্ণালঙ্কার ছিল। খবর শোনার পরে খোঁজ নিতে এসেছি। কিছুটা আতঙ্কে ছিলাম। লকারে গিয়ে দেখেছি সব অক্ষত আছে। কিছু স্বর্ণ বাড়ি নিয়ে যাচ্ছি। বাকিগুলো লকারে রেখে এসেছি। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ আশ্বস্ত করেছে কোনো সমস্যা হবে না।
গনি বেকারি মোড়ের আসাবিক এলাকা থেকে ছুটে এসেছেন আরেক আমানতকারী রাকিবুল ইসলাম। বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করেন তিনি। লকার যাচাই করে সবকিছু অক্ষত পেয়েছেন রাকিবুল। জানতে চাইলে তিনি বলেন, এমনিতে দেশের ব্যাংক ব্যবস্থার পরিস্থিতি তেমন ভালো না। চুরির বিষয়টি শুনে শঙ্কিত হয়ে ছুটে আসলাম। তবে আলহামদুলিল্লাহ, সব ঠিকঠাক আছে।
ব্যাংকের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আরেক গ্রাহক সৈয়দ মাসরুফ সালেহীন বলেন, ব্যাংক থেকে দেড়শ ভরি স্বর্ণ গায়েব হয়ে গেল, অথচ কর্তৃপক্ষ টেরই পেল না! শাখাটিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল অরক্ষিত নতুবা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ছিলেন দায়িত্বহীন। তাই এমনটা হয়েছে। মানুষ নিরাপত্তার জন্য নিজের কষ্টার্জিত মূল্যবান জিনিসপত্র ব্যাংকে আমানত রাখে। কিন্তু সেই আমানতের খেয়ানত হলে মানুষ যাবে কোথায়? এমন হলে মানুষ ব্যাংকে আমানত রাখতে ১০ বার চিন্তা করবে।
ব্যাংক কর্মকর্তারাই সরিয়েছেন স্বর্ণ!
নগরীর চকবাজার এলাকার ইসলামী ব্যাংক থেকে গত ২৯ মে লকার খুলে ১৫০ ভরি স্বর্ণ গায়েবের বিষয়টি বুঝতে পারেন স্বর্ণের মালিক রোকেয়া বারী। এরপর গত শনিবার রাত থেকে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। ভুক্তভোগীর দাবি, ব্যাংক কর্মকর্তা, কর্মচারীরাই এসব স্বর্ণ সরিয়েছেন। গায়েব হওয়া স্বর্ণালঙ্কারের মধ্যে রয়েছে ৪০ পিস হাতের চুরি (বড় সাইজ); যার ওজন ৬০ ভরি। গলা ও কানের অলঙ্কার; যার ওজন ২৫ ভরি। ১০ ভরি ওজনের একটি গলার সেট, ২৮ ভরি ওজনের ৭টি গলার চেইন। ১৫ ভরি ওজনের ৪টি আংটি ও ৩০ জোড়া কানের দুল; যার ওজন ১১ ভরি বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগী রোকেয়া বারী জানান, গত ১৭ বছর ধরে চকবাজারের ইসলামী ব্যাংকের একটি লকার ব্যবহার করছেন তিনি। তাদের পরিবারের সবার স্বর্ণালঙ্কার ছিল ওই লকারে। সেখানে প্রায় ১৬১ ভরি স্বর্ণ ছিল, তার মধ্যে ১৪৯ ভরি স্বর্ণালংকার গায়েব হয়েছে।
স্বর্ণের মালিক বলেন, গত ২৯ মে দুপুরে তিনি কিছু স্বর্ণালঙ্কার লকার থেকে আনতে যান। এ সময় লকারের দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে লকার খুলে দেন। চাবি দিয়ে লকার রুমের দরজা খোলার পর দেখতে পাই আগে থেকে আমার বরাদ্দকৃত লকারটি খোলা। পরে বিষয়টি ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ও চকবাজার থানায় অবহিত করি। থানার ওসি ব্যাংকে গিয়ে দেখতে পান লকারে মাত্র ১০-১১ ভরি স্বর্ণালঙ্কার আছে।
ব্যাংকের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে রোকেয়া বারী বলেন, নিরাপত্তার জন্য আমরা ব্যাংকে এসব স্বর্ণ রেখেছি। আজকে এত বছর কিছু হয়নি এখন হঠাৎ করে স্বর্ণগুলো উধাও হয়ে গেল। ব্যাংকেই যদি নিরাপদ না হয় আমরা কোথায় যাব? আমি আমার স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার বা ক্ষতিপূরণ দাবি করছি। এ ঘটনায় আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলে আগামীকাল (আজ সোমবার) আদালতে মামলা করার কথা জানান তিনি। স্বর্ণ চুরির বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গে না জানানো প্রসঙ্গে রোকেয়া বারী বলেন, ব্যাংক কর্তৃপক্ষ আমাদের কাছে কয়েকদিন সময় চেয়েছিল। তাই কাউকে বলিনি।
অস্বীকার ব্যাংক কর্তৃপক্ষের : স্বর্ণালঙ্কার গায়েবের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন ব্যাংকটির চকবাজার শাখার প্রধান এএম শফিকুল মাওলা চৌধুরী। তিনি আমাদের সময়কে বলেন, এখান থেকে চুরি কিংবা ডাকাতি হওয়ার সুযোগ নেই। তবুও ভুক্তভোগী গ্রাহক যেহেতু অভিযোগ করেছেন, আমরা বিষয়টি আমলে নিয়েছি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তিন সদস্যের অভ্যন্তরীণভাবে তদন্ত কমিটিও করা হয়েছে।
দেড়শ ভরি স্বর্ণ খুইয়ে পাবেন দুই লাখ টাকা!
ইসলামী ব্যাংকে ছোট, মাঝারি ও বড় তিন ধরনের লকার রয়েছে। ভুক্তভোগী রাবেয়ার মাঝারি আকারের লকার ছিল। যদি ব্যাংক থেকে স্বর্ণ গায়েবের বিষয়টি সত্যি হয়, তাহলে তিনি দুই লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ পাবেন। এ বিষয়ে শাখাটির প্রধান এম শফিকুল মাওলা চৌধুরী বলেন, আমরা তদন্ত করছি। গ্রাহকের দাবি অনুযায়ী ১৫০ ভরি স্বর্ণ গায়েবের বিষয়টি সত্যি হলে বেরিয়ে আসবে। তবে লকার থেকে কোনো ধরনের চুরি কিংবা ডাকাতি ঘটনা ঘটে থাকলে ভুক্তভোগী গ্রাহকের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী ইন্স্যুরেন্স কাভারেজ পেয়ে থাকেন। এ ক্ষেত্রে ছোট লকারের জন্য ১ লাখ টাকা, মাঝারি লকারের জন্য ২ লাখ টাকা ও বড় লকারের জন্য তিন লাখ টাকা পাবেন গ্রাহক। অর্থাৎ দেড় কোটি টাকার বেশি স্বর্ণ খুইয়ে ভুক্তভোগী রোকেয়া পাবেন মাত্র দুই লাখ টাকা।
লকারে থাকা জিনিসপত্রের রেকর্ড রাখে না ব্যাংক, চাবি থাকে একটি ব্যাংকিং লেনদেনের সিস্টেমে যে কোনো আমানতের রেকর্ড রাখে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। তবে লকারে রাখা জিনিসপত্রের রেকর্ড কিংবা তালিকা নেওয়া হয় না গ্রাহক থেকে। বছরে নির্দিষ্ট পরিমাণ চার্জ দিয়ে লকার ভাড়া নেন গ্রাহকরা।
শাখাটির প্রধান এম শফিকুল মাওলা চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী, একজন গ্রাহক লকারের কী রাখছেন এবং কতটুকু রাখছেন, সে ব্যাপারে কোনো রেকর্ড রাখা হয় না। শুধু আগ্নেয়াস্ত্র ও দাহ্য পদার্থ না রাখার ব্যাপারে একটি লিখিত নেওয়া হয়। আমরা মূলত লকারে গ্রাহকের আমানতের নিরাপত্তার কাজ করে থাকি। এমনকি লকারের ভেতরে রাখা হয় না কোনো সিসি ক্যামেরা।
মালিক ছাড়া লকার খোলা অসম্ভব জানিয়ে তিনি বলেন, ব্যাংকে কোনো গ্রাহক আসলে লকারের দায়িত্বরত ইনচার্জ দালালিক কার্যক্রম সম্পন্ন করে লকারে ভেতরে ঢোকার অনুমতি দিয়ে থাকে। দায়িত্বরত ইনচার্জ মাস্টার কি (চাবি) দিয়ে লকার কার্যালয় ওপেন করেন। তবে লকারের ভেতর ইনচার্জ প্রবেশ করেন না। ব্যাংকের নিয়মানুযায়ী লকারের একটি মাত্র চাবি থাকে, যেটা গ্রাহকের কাছে সংরক্ষিত। ওই চাবি দিয়ে গ্রাহক লকার খুলে। চাবিটির কপিও বানানো যাবে না। হেড অফিসের নিজস্ব সরঞ্জাম দিয়ে চাবিটি তৈরি করা। তাই নির্দিষ্ট গ্রাহক ছাড়া লকারটি কেউ খুলতে পারবে না। ওদিনের ঘটনায় লকারটি ভাঙা ছিল না, স্বাভাবিকই ছিল। লকারটি মূলত চাবি দিয়ে খোলা হয়েছে। যদিও লকারের মালিকের দাবি তিনি খোলেননি। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। তদন্তে মূল ঘটনা বেরিয়ে আসবে।
চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (চকবাজার জোন) সহকারী কমিশনার নূরে আল মাহমুদ আমাদের সময়কে বলেন, ব্যাংকের গ্রাহক এক নারীর মৌখিক অভিযোগ পেয়ে তাৎক্ষণিক পুলিশ ব্যাংকে যায়। সেখানে লকার খোলা অবস্থায় এবং ভেতরে কিছু স্বর্ণালঙ্কার পাওয়া যায়। গ্রাহকের অভিযোগ প্রায় ১৫০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার মিসিং হয়েছে। যেহেতু চুরির বিষয় তাই মামলা করতে বলেছি। কিন্তু তারা করেনি। শুনেছি তারা আদালতে মামলা করবে।
রাসূল সাঃ বলেন, তোমরা আমাকে মুসা আঃ এর উপর শ্রেষ্ঠত্ব দিও না। -বোখারী
রাসুল সাঃ কি শ্রেষ্ঠ নবী? নাকি সকল নবীগণ সমান মর্যাদার অধিকার? এই প্রসঙ্গে কোরআন হাদিসের যেমন কিছু বিপরীতমুখী বক্তব্য রয়েছে তদ্রূপ ইসলামী স্কলারদের মধ্যেও এ বিষয়ে মতভেদ ও কিয়াস অর্থাৎ যুক্তি রয়েছে। কুরআনের বক্তব্য যদি বিপরীতমুখী হয় তাহলে শানে নজুল দিয়ে অর্থাৎ প্রেক্ষাপট দিয়ে তা বিচার করলেই খুব সহজে হিসাব মিলে যাবে। আর হাদিসের বক্তব্যগুলোও তদ্রূপ প্রেক্ষাপট পর্যালোচনা করলেই সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া সম্ভব।।
আমি এই প্রসঙ্গে আজকে আমার নিজস্ব স্টাডি থেকে কিছু আলোচনা করতে চেষ্টা করব ইনশাআল্লাহ। কেননা এই বিষয়টি নিয়ে কমবেশি কিছু বিতর্ক রয়েই গেছে।
কোরআনের কিছু আয়াত ও কিছু হাদিস আলোচনা করলে আমরা দেখতে পাই,পবিত্র কোরআনে শুধু রাসুল সাঃ কে ই শ্রেষ্ঠ নবী বলা হয়নি বরং আল্লাহর তরফ থেকে সকল নবী রাসূলকে শ্রেষ্ঠ বলা হয়েছে সমভাবে।
বরং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে শেষ নবী বলা হয়েছে পবিত্র কুরআনে। আর নবীদের ব্যাপারে আকিদা-বিশ্বাস এবং তাদের প্রতি সম্মান ভালোবাসার বিষয়ে পবিত্র কুরআনের সূরা বাকারার শেষ আয়াতের পূর্বের আয়াতে স্পষ্ট বলে দেওয়া হয়েছে–امن الرسول بما انزل اليه من ربه والمؤمن كل امن بالله وملائكته وكتبه ورسوله…………. রসূল বিশ্বাস রাখেন ঐ সমস্ত বিষয় সম্পর্কে যা তাঁর পালনকর্তার পক্ষ থেকে তাঁর কাছে অবতীর্ণ হয়েছে এবং মুসলমানরাও সবাই বিশ্বাস রাখে আল্লাহর প্রতি, তাঁর ফেরেশতাদের প্রতি, তাঁর গ্রন্থসমুহের প্রতি এবং তাঁর পয়গম্বরগণের প্রতি। তারা বলে ***আমরা তাঁর পয়গম্বরদের মধ্যে কোন তারতম্য করিনা***। তারা বলে, আমরা শুনেছি এবং কবুল করেছি। আমরা তোমার ক্ষমা চাই, হে আমাদের পালনকর্তা। তোমারই দিকে প্রত্যাবর্তন করতে হবে।– বাকারা, আয়াত ২৮৫।
উক্ত আয়াতে স্পষ্ট বলে দেওয়া হয়েছে যে, মোমেনদের বৈশিষ্ট্য হল, তারা বলে যে- “আমরা পয়গম্বরদের মধ্যে কোনরকম তারতম্য করি না”। অর্থাৎ কে বড়, কে ছোট , কে মর্যাদাশীল কে মর্যাদায় কম এই সমস্ত পার্থক্য করা কোন ঈমানদারের জন্য জায়েজ নেই বরং হারাম এবং ইসলাম থেকে বের হয়ে যাওয়ার একটি রাস্তা।
সূরা আল আহযাব এর ৪০ নাম্বার আয়াতে আল্লাহ বলেন مكانه محمد ابا احد من رجالكم ولكن رسول الله وخاتم النبي،…………….মুহাম্মাদ (সাঃ) তোমাদের মধ্যেকার কোন পুরুষের পিতা নয়, কিন্তু তিনি আল্লাহর রাসূল এবং শেষ নবী। আল্লাহ সর্ববিষয়ে সর্বজ্ঞাতা। ।
কোরআনের কোন আয়াতের মধ্যেই রাসূল সাল্লাল্লাহু ওয়া সাল্লামকে শ্রেষ্ঠ অথবা সর্বশ্রেষ্ঠ রাসুল বলা হয়নি বরং বলা হয়েছে তিনি রাসূলদের মধ্যে একজন এবং তিনি সর্বশেষ রাসূল। অতএব সর্বশেষ রাসূলকে অনুসরণ করা ফরজ হলো পৃথিবীর সর্বশেষ অবস্থানরত অর্থাৎ সেই রাসূলের পর থেকে আগত সকল জ্বীন এবং মানুষের জন্য।
মোট কথা, একজন নবী পৃথিবীতে আগমনের পর সকল মানুষ এবং জিন জাতির জন্য সেই নবী অথবা রাসুল কে অনুসরণ করা ফরজ হয়ে যায়। আরেকজন নবী আসার পূর্ব পর্যন্ত সবাই পূর্ববর্তী এবং সর্বশেষ নাযিল হওয়া কিতাব ও নবীকে অনুসরণ করবেন যতক্ষণ পর্যন্ত না অন্য আরেকজন নবীর আগমন হবে।
কিন্তু যেহেতু রাসূল সাল্লাল্লাহু ওয়া সাল্লাম এর পর আর কোন নবী পৃথিবীতে আসবেন না এবং তা সূরা আহযাবের ৪০ নাম্বার আয়াত দ্বারা আল্লাহ নবুয়তের দরজা খতম বা শিলমোহর করে দিয়েছেন । অতএব, কেয়ামত পর্যন্ত পৃথিবীতে অবস্থানরত এবং আগমন করা সকল জিন এবং মানুষের জন্য অনুসরণীয় এবং অনুকরণীয় হলো আল্লাহর শেষ কিতাব কোরআন এবং শেষ নবী মোহাম্মদ সঃ।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সালাম এর শ্রেষ্ঠত্বের কথা তিরমিজি শরীফের এবং মেশকাত শরীফের একটি হাদিসের মধ্যে এসেছে। হাদীসটি হল—-আব্বাস রাঃ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন – রাসূলুল্লাহ সাঃ মিম্বারে উঠে বললেন, আমি কে? তখন সাহাবীগণ বললেন, আপনি আল্লাহর রাসূল। তখন রাসূল সাঃ বললেন, আমি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল মুত্তালিব। আল্লাহ সৃষ্টি জীব সৃষ্টি করে আমাকে তাদের ভালোদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। অতঃপর মানুষকে দু’ভাগে ভাগ করেছেন, তথা আরব ও আজম, অর্থাৎ আরব ও আনারব এবং আমাকে শ্রেষ্ঠ ভাগের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। অতঃপর তাদেরকে বিভিন্ন গোত্রে বিভক্ত করেছেন এবং আমাকে শ্রেষ্ঠ গোত্রে স্থান দিয়েছেন। অতঃপর তাদেরকে বিভিন্ন বাড়িতে পৃথক করেছেন এবং আমাকে শ্রেষ্ঠ বাড়িতে স্থান দিয়েছেন। অতএব আমি তাদের মধ্যে বাড়ির দিক দিয়েও শ্রেষ্ঠ এবং ব্যক্তির দিক দিয়েও শ্রেষ্ঠ।
উপরোক্ত হাদিসটি দিয়ে প্রমাণিত হয় যে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম গোত্র এবং মানুষের দিক থেকে শ্রেষ্ঠ। আর তাছাড়া প্রত্যেক নবী-রাসূলকে আল্লাহ তৎকালীন সময় সর্বশ্রেষ্ঠ গোত্র বা সম্প্রদায়ের মধ্যে থেকেই নির্বাচন করেছেন। কেননা অপরিচিত বা অখ্যাত কোন গোত্র বা সম্প্রদায়ের লোক থেকে নবী-রাসুল নির্বাচিত হলে তাদেরকে মানুষ মেনে নেয় না এবং গণ্য করে না।
আর আপনি যদি লক্ষ্য করে দেখেন তাহলে দেখতে পাবেন প্রত্যেক নবী রাসুলগণ ওই সময়ের এবং ওই এলাকার সর্বশ্রেষ্ঠ গোত্র ও পরিবার থেকে জন্ম নিয়েছেন। শুধুমাত্র মূসা আলাইহি ওয়াসাল্লাম অখ্যাত পরিবারে জন্ম নিয়েছেন কিন্তু মুসা আলাইহি ওয়াসাল্লামের গোত্র ছিল বনি ইসরাইল অর্থাৎ নবীর বংশ অর্থাৎ শ্রেষ্ঠ বংশ। এবং আল্লাহ তাকে ওই সময়ের পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ এবং সবচেয়ে শক্তিশালী রাজবংশ ফেরাউনের ঘরে লালন পালন করার ব্যবস্থা করেছেন। আর এটার মধ্যে একটি হেকমত যে, মানুষ যাতে বলতে না পারে যে তুমি নিম্ন গোত্র নিম্ন বংশ থেকে উঠে এসেছো অতএব তোমাকে মেনে নেওয়া যায় না। কেননা এটা মানুষের একটি সহজাত প্রবৃত্তি।
আর এই দিকগুলি হিসাব করতে গেলে সকল নবীরাই শ্রেষ্ঠ এবং সবাই শ্রেষ্ঠ গোত্র বা শ্রেষ্ঠ সম্প্রদায়ের মধ্যে জন্মগ্রহণ করেছেন অথবা লালিত-পালিত হয়েছেন।
📕📕পবিত্র কোরআনের সূরা আল ইমরানের ১১০ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে যে, তোমরাই শ্রেষ্ঠ উম্মাত, তোমাদেরকে মানুষদের জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে। তোমরা মানুষদেরকে সৎ কাজের আদেশ করবে, অসৎ কাজ থেকে বাঁধা প্রদান করবে এবং আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস করবে। যদি আহলে কিতাবরা ঈমান আনতো, তাহলে তা তাদের জন্য কল্যাণকর হ’ত”। অর্থাৎ ইহুদি ও খ্রিষ্টানের এই শ্রেষ্ঠ উম্মাতের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যেত। তাদের মধ্যে কিছু মুসলিন এবং অধিকাংশই ফাসেক’। মোহাম্মদ সাঃ এর উম্মতকে এখানে শ্রেষ্ঠ উম্মত বলা হয়েছে। এবং এই আয়াতের মাধ্যমে এটা প্রমাণ হয় যে, যদি উম্মত শ্রেষ্ঠ হয় তাহলে নবীও শ্রেষ্ঠ হবেন এটাই স্বাভাবিক।
📘📘মুসলিম শরীফের একটি হাদিসের মধ্যে এসেছে, এবং এই হাদিসটি সবচেয়ে বড় সংকলন গ্রন্থ মেশকাত শরীফের মধ্যেও সংকলন করা হয়েছে–, ঈসা আঃ যখন আসমান থেকে অবতরণ করবেন, তখন ইমাম মাহদী আঃ তাঁকে ইমামতি করতে বলবেন। কিন্তু তিনি এই উম্মতের সম্মানে ইমামতি করাবেন না। বরং ঈসা আলাইহিস সালাম বলবেন যে আপনি ইমামতি করুন অতঃপর ইমাম মাহদী ইমামতি করবেন! এদিক থেকে ও উম্মতে মোহাম্মদীর ও মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম এর শ্রেষ্ঠত্ব উপলব্ধি করা যায়। নবীগণ নিজেদের সাহাবাগণের ইমামতিতে নামাজ পড়েছেন এবং রাসুল সা নিজেও আবু বকর রাঃ এর ইমামতিতে নামাজ পড়েছেন।
📘📘মুসনাদে আহমদ এবং তিরমিজি শরীফের একটি হাদিসের এসেছে– মহান আল্লাহ ইসমাইল আঃ এর সন্তানদের মধ্যে থেকে বনী কিনানাকে নির্বাচন করেছেন এবং বনী কিনানার মধ্যে থেকে কুরাইশকে নির্বাচন করেছেন এবং কুরাইশের মধ্যে থেকে বনী হাশেমকে নির্বাচন করেছেন আর আমাকে নির্বাচন করেছেন বনী হাশেম থেকে। আর ইতিহাস থেকে জানা যায় যে বংশপরম্পরায় এই গোত্রগুলো সেই প্রাচীনকাল থেকেই শ্রেষ্ঠ ছিল।
📘📘যৌক্তিক ক্ষেত্রে দেখতে গেলে এটা সহজেই বুঝা যায় যে, সর্বশেষ আগত বক্তা মূলতঃ অন্যান্যদের থেকে আলাদা ও শ্রেষ্ঠ হয়ে থাকেন। বক্তব্যের দিক থেকে কোরআন হলো আল্লাহর দেওয়া সর্বশেষ বক্তব্য মানুষের জন্য। আর এই কোরআনকে বর্ণনা করানো হয়েছে নবী মুহাম্মদ সাঃ এর মাধ্যমে।
সকল আসমানী কিতাবের মধ্যে কোরআন সর্বশ্রেষ্ঠ কিতাব। কোরআন যে মাসে অবতীর্ণ হয়েছে সে রমজান মাসটি সর্বশ্রেষ্ঠ মাস। কোরআন যে রাতে অবতীর্ণ হয়েছে সে কদরের রাত সর্বশ্রেষ্ঠ রাত। যেই স্থানে অবতীর্ণ হয়েছে তা সর্বশ্রেষ্ঠ জায়গা। যিনি আল্লাহর নিকট থেকে এই কিতাব নিয়ে আসতেন সেই জিব্রিল আঃ ফেরেশতাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী। আর এত সব শেষ রক্তের মধ্যে যে নবীর উপর কোরআন নাজিল হয়েছে, তিনি অবশ্যই সর্বশ্রেষ্ঠ রাসূল হবেন এটাই অধিকতর যুক্তিসঙ্গত।
এটা অবশ্যই ঠিক যে, মুহাম্মাদ সাঃ এর নবুঅত অন্যান্য রাসূলদের নবুঅতের চেয়ে বৈশিষ্ট্যগতভাবে অনেক মহান। কেননা, মহান আল্লাহ রাসুলুল্লাহ সাঃ এর নবুঅতের দ্বারা অন্য সকল নবীর নবুঅত ও দ্বীনকে মানসূখ বা রহিত করে দিয়েছেন। অন্য দিকে আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মাদ সাঃ এর নবুঅত অন্য কোনও নবীর নবুঅত দ্বারা মানসুখ হবেনা কেননা তিনি কুরআনের বর্ণনা অনুযায়ী শেষ নবী। এই দিক দিয়ে তিনি অন্যান্য নবীর চেয়ে আলাদা বৈশিষ্ট্যের অধিকারী। অন্য নবীদের আঃ গণের নবুঅত ছিল নির্দিষ্ট গোত্রের জন্য এবং রাসূল সাঃ এর নবুঅত সারা পৃথিবীর সকল মানুষের জন্য। আর যিনি এই নবুঅতের অধিকারী তিনি অবশ্যই অন্য সকল নবীদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ।
📕 📕যদিও অনেক বক্তা তাদের বক্তৃতায় ও অনেক লেখক তাদের বই-পুস্তকে লিখে থাকে, সকল নবীকে যে জ্ঞান এবং যে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম কে একাই সকল জ্ঞান ও ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এই কথাটা আদৌ ঠিক নয়। সোলাইমান আঃ জীবজন্তুর ভাষা বোঝার এবং বাতাসকে নিয়ন্ত্রণ করার মোজেজা বা ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল। যা রাসূল সাঃ কে দেওয়া হয়নি। দাউদ আলাইহিস সালামকে লোহার ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দেওয়া হয়েছিল। তিনি লোহা ধরলেই কাদার মতো নরম হয়ে যেত এবং তা দিয়ে তিনি সবকিছু তৈরি করতে পারবেন। ঈসা আলাইহিস সালামকে মরা মানুষ জীবিত করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল। আল্লাহর হুকুমে তিনি মৃতকে জীবিত করতে পারতেন। এটাই প্রমাণিত যে সকল নবীকে সকল বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্ব দেওয়া হয়নি।
📘📕 তবে মুসলিম শরীফের এই হাদিসটি থেকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সালাম এর শ্রেষ্ঠত্ব ও নেতৃত্বের প্রমাণ পাওয়া যায়। তিনি সাঃ বলেন, “আমি নিজকে রাসূলদের জামাতের মধ্যে পেলাম। ইতিমধ্যে নামাজের সময় হয়ে গেলে আমি তাদের ইমামতি করলাম। আর এই ঘটনা ঘটেছিল মেরাজের রাত্রে বাইতুল মাকদাসে। আর এটা এজন্য ও হয়ে থাকতে পারে যে, সেখানে নবী সাল্লাল্লাহু ওয়া সাল্লাম ছিলেন কেবলমাত্র জীবিত আর সকল নবী-রাসূলগণ রুহ এর জগত থেকে এসেছিলেন। আর যৌক্তিকভাবে বলতে গেলে যিনি বর্তমানে জীবিত আছেন এবং পৃথিবীতে অবস্থান করছেন ইমামতি করার অধিকার তার বেশি।
📘📕 বুখারী ও মুসলিমের বর্ণনা অনুযায়ী রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম হাশরের দিন অর্থাৎ বিচার দিবসে সাফায়াতে কুবরা বা সবচেয়ে বড় সুপারিশকারী হবেন সকল মানুষের জন্য। এটি একটি লম্বা হাদিস। —— তিনি সাঃ মানুষকে এই বিপদজনক অবস্থা হতে মুক্ত করার জন্য আল্লাহর আরশের নীচে সিজদাবনত হবেন। আল্লাহর প্রশংসা ও গুণকীর্তন করবেন। তখন আল্লাহ তাঁকে সেজদা থেকে উঠে দোয়া করার অনুমতি দিবেন। তিনি তখন সমগ্র মানুষের হিসাব-নিকাশের জন্যে আল্লাহর কাছে সুপারিশ করবেন। আল্লাহ তাঁর দোআ এবং সুপারিশ কবুল করবেন। এটিই হল “মাক্বামে মাহমূদ” বা সুমহান মর্যাদা যা আল্লাহ তাঁকে দান করেছেন। এই দোয়াটি আমরা অনেক সময় আযানের দোয়ার সাথে পড়ে থাকি