
🌳🌳চারদিকে টকটকে লাল হয়ে ফুটে আছে #রক্তচূড়া ফুল।
হিন্দুরা এটাকে তাদের দেবতার সাথে মিলিয়ে কৃষ্ণচূড়া হিসাবে ডাকে। আমি এক হিন্দু মাস্টারকে, জিজ্ঞাসা করেছিলাম যে, এটাকে হিন্দুরা কেন #কৃষ্ণচূড়া ডাকে। তখন তিনি আমাকে বললেন, হিন্দুদের দেবতা এক কৃষ্ণ তাদের দেবী রাঁধা’কে ভালবাসত। তো তাদের দেবী রাঁধা যখন নদীতে গোসল করার জন্য যেত, তখন কৃষ্ণ গোপনে এই গাছের মধ্যে উঠে সেই অশ্লীল দৃশ্য দেখত। তো একদিন চারদিকে কৃষ্ণকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। রাধা তখন নদীতে গোসল করছিল মেয়েদের সাথে। আর কৃষ্ণ সেখানে বসে বসে মেয়েদের গোসল করার সেই অশ্লীল দৃশ্য অবলোকন করছিল। সবাই বলতে লাগল কৃষ্ণ কোথায় কৃষ্ণ কোথায় কারণ কৃষ্ণকে পাওয়া যাচ্ছিল না।
একজন দেখে ফেলল এবং বলল কৃষ্ণ হল গাছের চূড়ায়।
সেই থেকে এই গাছের নাম হয়ে গেল কৃষ্ণচূড়া।
এটা হল এই কৃষ্ণচূড়ার রাতের নাম হওয়ার আসল রহস্য এবং হিন্দুদের কাছে এই কৃষ্ণচূড়া গাছ এই জন্য খুবই প্রিয়।
এটা হলো ঐ শিক্ষকের বর্ণনা তবে আরো বিভিন্ন প্রকার বর্ণনা পাওয়া যায়। কোনটি সত্য কোনটি মিথ্যা তা বলা বড়ই দুষ্কর। তবে সবগুলি যে মিথ্যা এটা শতভাগ নিশ্চিত, কেননা এই বৃক্ষ ভারতবর্ষের নয় বরং এটির আদি জন্মস্থান আফ্রিকার #মাদাগাস্কারে।
মুসলিম যারা জানে, সবাই এটিকে #রক্তচূড়া গাছ হিসেবে জানে।
সে যাই হোক, গাছ তো গাছই। গাছ সকলের জন্য আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন। এবং গাছ সৌন্দর্য এবং প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা করে এবং গাছ মানুষের উপকার করে থাকে। আমাদের কাজ হলো গাছের যত্ন করে প্রাকৃতির ভারসাম্য রক্ষা করা এবং বিনা কারণে গাছ নষ্ট না করা আর যতটুকু সম্ভব গাছ লাগানো। তাছাড়া শেষ নবী রাসূল সাঃ বলেছেন যে আগামীকাল কেয়ামত হয়ে যাবে তথাপিও একটি গাছ লাগাও।
রাসূল সাল্লাল্লাহু সালাম আরো বলেছেন গাছ তো দূরের কথা বিনা কারণে গাছের একটি পাতাও ছেড়ো না। কেননা গাছের পাতা গুলো তাঁর স্রষ্টার অর্থাৎ আল্লাহ পাকের জিকির করে।
তবে প্রয়োজন হলে গাছটি কাটতে পারো কিন্তু বিনা কারণে গাছের পাতা ছিঁড়তে নিষেধ করা হয়েছে।
🌳🌳 এবার আসুন জেনে নেয়া যাক এই রক্তচূড়া অথবা কৃষ্ণচূড়া গাছের সম্পর্কে কিছু তথ্য।
অত্যন্ত দৃষ্টি নন্দন এবং প্রচন্ড গরম ও বিশ্বের মধ্যে ফুটে থেকে মানুষের মনোরঞ্জন করা এই ফুলটির প্রকৃত নাম হলো, #গুলমোহর, তাছাড়া রক্তচূড়া, কৃষ্ণচূড়া ইত্যাদি নামেও ডাকা হয় আমাদের ভারতীয় উপমহাদেশে।
ইংরেজি নাম হল রয়্যাল পৈন্সিয়ানা, ফ্ল্যাম্বোয়ান্ট, ফ্লেম ট্রি, পিকক ফালুয়ার । তাছাড়া পৃথিবীর সকল উদ্ভিদ এবং প্রাণীর শ্রেণীবিন্যাস করার জন্য এবং তাদের দিয়ে গবেষণা করার জন্য বিজ্ঞানীরা প্রত্যেকটি উদ্ভিদ এবং প্রাণীর সব দেশে একই নামে চেনার জন্য একটি কমন নাম দিয়ে থাকেন আর সাথে গিয়ে বৈজ্ঞানিক নাম বলা হয়। আর পৃথিবীর সকল উদ্ভিদ এবং প্রাণীর বৈজ্ঞানিক নাম বিপদ অর্থাৎ দুইটি পদ বিশিষ্ট। এই গুলমোহর বা রক্তচূড়ার বৈজ্ঞানিক নাম “ডেলোনিক্স রেজিয়া”!
🌳🌳 আমাদের এই প্রাকৃতিক গ্রীষ্মের খরতাপে যখন প্রখর রৌদ্রে পুড়তে থাকে, ঠিক তখনই প্রকৃতিকে রাঙিয়ে দিতে, মানুষের মনে রং লাগাতে ও নতুন আশা জাগাতে নিজের সবটুকু রং ছড়িয়ে আনন্দ দিতে শুরু করে এই গুলমোহর বা রক্তচড়া ফুল। পত্রের প্রচন্ড খরতাপের পর ধরণী ফিরে পায় প্রাণ। বসন্ত মূলত বসন্ত এবং গ্রীষ্ম এই দুইটি ঋতু রঙিন করে রাখে এই রক্তচড়া ফুল। গ্রীষ্মের নীল আকাশের পটে দিগন্তে যেন আগুন জ্বলে ওঠে এই কৃষ্ণচূড়া ও পলাশ ফুলের আভায়। বনের ধারে ও রাস্তার আশেপাশে কিংবা মানুষের বাড়ির আঙিনায় টকটকে লাল এই ফুল অনেকের মনে অনেক প্রকার স্মৃতি হয়ে জেগে থাকে আজীবন। কারো কাছে বিপ্লবের স্মৃতি, কারো কাছে ভালোবাসার স্মৃতি হিসেবে।
শুধুমাত্র আনন্দানুভূতির সঙ্গেই নয়, বরং এই ফুলটি জড়িয়ে গেছে আমাদের স্বাভাবিক জীবনাচার ও চেতনার সাথে। সাহিত্য গদ্য কবিতায় তো আছেই প্রত্যেকটি মানুষের হৃদয়ে বিভিন্নভাবে জড়িয়ে আছে এই ফুলের স্মৃতি। রক্তচড়া ফুলটিকে কেউ এখন আর বিদেশি ফুল মনে করে না বরং এটি আমাদের দেশের পরিবেশ প্রকৃতি এবং সংস্কৃতির সাথে পুরোপুরি ভাবে মিশে গেছে।।
বৃহৎ আকৃতির এই ফুলগাছটি বর্তমানে আমাদের দেশে সব জায়গায় পাওয়া যায় এবং যেকোনো নার্সারিতে এর চারা 5 থেকে 10 টাকায় পাওয়া যায়। তাছাড়া বীজ পড়ে এমনিতেই জন্মে থাকে অনেক জায়গায়। মূলত এটির আদি নিবাস কিন্তু সুদূর আফ্রিকা মহাদেশের মাদাগাস্কার দ্বীপ রাষ্ট্রে।
গুলমোহর বা রক্তচূড়া মাদাগাস্কারের শুষ্ক পত্রপতনশীল বৃক্ষের জঙ্গলে পাওয়া যায়।
আনুমানিক ১৮২৪ খ্রিস্টাব্দে সেখান থেকে প্রথম মরিশাস, পরে ইংল্যান্ড এবং অবশেষে মূলত ইংরেজদের দ্বারাই দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এটির বিস্তার ঘটে। বর্তমানে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, নেপাল, শ্রীলংকা,ভারত, মালদ্বীপ, মিয়ানমার হংকং, তাইওয়ান, দক্ষিণ চীন, ক্যারাবিয়ান অঞ্চল, আফ্রিকা, সহ বিশ্বের অনেক দেশেই এটি জন্মায়।
উত্তর গোলার্ধের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রক্তচূড়া শুধু মাত্র দক্ষিণ ফ্লোরিডা, দক্ষিণ পশ্চিম ফ্লোরিডা, টেক্সাসের রিও গ্রান্ড উপত্যকায় পাওয়া যায়।
🌳🌳ডেলোনিক্স রেজিয়া হল এই কৃষ্ণচূড়া বা রক্তচড়ার সাইন্টিফিক নেম বা বৈজ্ঞানিক নাম।আসলে ড্যালোনিক্স একটি গ্রিক শব্দ, যার অর্থ হল – দৃশ্যমান থাবার বা চোখের সামনে থাকার মতো।
সম্ভবত এই ফুলের পাপড়ির বৈশিষ্ট্যেই নামটি অর্থবহ। ‘রিজিয়া’ অর্থ রাজকীয়। নামের এ অংশে রক্তচূড়া’র ঐশ্বর্য বা আভিজাত্য।
এই কৃষ্ণচূড়া বা রক্তচড়ার গাছটি মাঝারি আকৃতির শাখা-প্রশাখাবিশিষ্ট ছাতা কৃতির । বিজ্ঞানের বাসায় এটি পর্ণমোচী জাতীয় উদ্ভিদ।
রক্তচূড়া গাছ উচ্চতায় ৭ থেকে ১২,১৩ মিটার বা ৪৫ থেকে ৫০ ফুট পর্যন্ত উঁচু হতে দেখা যায়।
শাখা প্রশাখায় এটি অনেক দূর পর্যন্ত ছড়ায়। শাখা প্রশাখার অগ্রভাগ নিম্নমুখি এবং নরম প্রকৃতির ও অল্প বাতাসেই অনেক সময় ভেঙে যেতে দেখা যায়। ঝড়ে এ বৃক্ষের বেশ ক্ষতি হয় সবচেয়ে বেশি। ঝড় বৃষ্টিতে অন্যান্য গাছের ডাল একটিও না ভাঙলে এই রক্তচড়া গাছের ডাল দুই একটি ভাঙবেই।।
এ গাছের কান্ডের রং কিছুটা ধুসর বর্ণের হয়ে থাকে। এই গাছের ফুলের রং ও পাতার সৌন্দর্য শুধু মানুষের মনকে আকৃষ্ট করে এমন নয় এটি সৌন্দর্য বর্ধনের পাশাপাশি এই গাছ উষ্ণ আবহাওয়া অঞ্চলে ছায়া দিতে বিশেষভাবে উপযুক্ত।
আর এজন্যই মরুভূমির দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাস্তাঘাট গুলোতে এবং বাড়ির আঙিনার আশেপাশে ব্যাপক হারে এই রক্তচূড়া গাছ লাগাতে দেখা যায়। রক্তচূড়ার জন্মানোর জন্য উষ্ণ বা প্রায়-উষ্ণ আবহাওয়ার দরকার। এই বৃক্ষ শুষ্ক ও লবণাক্ত অবস্থা সহ্য করতে পারে। তাই এটি এখন বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ও বর্তমান পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর শহর দুবাইয়ের প্রধান বৃক্ষ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে এবং ব্যাপক সমাদর পেয়েছে।
শুধু ফুল নয়, পাতার সৌন্দর্যেও এই গুলমোহর বা রক্তচড়া অনন্য। এর পাতার কচি ও সবুজ রঙ এবং সূক্ষ্ম কারুকর্ম বিন্যাস খুবই আকর্ষণীয়। পৃথিবীর সব দেশের বাচ্চাদের খেলাধুলার একটি মুখ্য উপাদান এই গাছের পাতা ও ফুল। আমি Mahabubur Rahman নিজেও ছোটবেলায় এই গাছের পাতা ছিড়ে মুখের মধ্যে বোলাতাম এবং সুড়সুড়ি এক অনুভূতি সৃষ্টি হতো। মনে হলে এখনো হাসি পায়।
এ গাছে পাতা নিবিড় ভাবে বিন্যস্ত নেই, অর্থাৎ আম পাতা জাম পাতা যেভাবে নিবিড়ভাবে একটার সাথে আরেকটা লেগে থাকে তেমন নয়,তবু রৌদ্র প্রতিরোধে সক্ষম এই গাছের পাতা।
রক্তচূড়া জটিল পত্রবিশিষ্ট এবং উজ্জ্বল সবুজ। বিজ্ঞানের বর্ণনায়, পাতা দ্বিপক্ষল, ৩০-৬০ সে মি পর্যন্ত লম্বা, ২০-৪০ টি উপপত্র বিশিষ্ট।
পাতাগুলো ক্ষুদ্র বা ছোট, ১ সেন্টিমিটার পর্যন্ত লম্বা হতে দেখা যায়। আমাদের কালীগঞ্জ – গাজীপুর । এ ও পুরো দেশে শীত গ্রীষ্মে কৃষ্ণচূড়ার পাতা ঝরে যায় অনেকটাই। আর আমাদের দেশে এটি ফেব্রিক এর নিয়ম। কিন্তু পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন সময় এটির পাতা ঝরে এবং ফুল ফোটে। পৃথিবীর সব দেশে একই সময়ে এটি ফুল ফোটে না এবং পাতাও ঝরে না।
মূলত গাছটি পত্রপতনশীল বৃক্ষের অন্তর্ভুক্ত।
যখন ফুলফুটে তখন খুবই অল্প পাতা থাকে এবং, প্রায় পত্রহীন গাছে গাছে বড় বড় থোকায় থোকায় ভরে যায় রক্তের মত রং টকটকে লাল রক্তচূড়া ফুল। তখন এই লাল ফুল গুলোর মাঝে অল্প সবুজ পাতাগুলো একেবারে দেখাই যায় না। লাল ফুলের মাঝে পাতাগুলো মিলিয়ে যায়। অতি শুষ্ক অঞ্চলে গ্রীষ্মকালে কৃষ্ণচূড়ার পাতা ঝরে গেলেও, নাতিষীতোষ্ণ অঞ্চলে এটি বলতে গেলে চিরহরিৎ অর্থাৎ চিরসবুজ।
এখন গ্রীষ্মকাল চলছে। আমি এখন সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই শহরতলীর একটি কৃষ্ণচূড়া বা রক্তচড়া গাছের নিচে বসে এই প্রবন্ধ লিখছি।
এই গাছটিতে এখন প্রচুর ফুল এবং প্রচুর পাতা দেখা যাচ্ছে। দুবাই শহরে এখন প্রায় বৃষ্টিপাত হয় আর তাছাড়া তারা গাছের প্রচুর যত্ন নিয়ে থাকে। ফলো গাছগু প্রায়ই সবুজ থাকে। গ্রীষ্মের আকাশের নিচে প্রচণ্ড তাপ ও রুক্ষতায় এই গুলমোহর গাছের আশ্চর্য দৃষ্টিনন্দন লাল প্রস্ফুটনের কোন তুলনা হয় না । এই গাছের পাতা ও ফুলের সৌন্দর্য যে কোন পথিককে একবার হলেও তার দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করার আহ্বান জানায়।।
অনেক সময় পাতাহীন শাখায় মুকুল ধরার অল্প দিনের মধ্যেই সারা গাছ ফুলে ফুলে ভরে যায়। এত উজ্জ্বল রঙ, এত অক্লান্ত প্রস্ফুটন তরুরাজ্যে বেশ দুর্লভ ই বলা চলে।
কৃষ্ণচূড়া ফুলের রং সাধারনত উজ্জ্বল লাল। কিন্তু কৃষ্ণচূড়ার প্রজাতিভেদে ফুল কখন লাল, কখন কমলা বা কখন হলুদ হয়ে থাকে। … দক্ষিণ এশিয়াতে সাধারণত বসন্ত কালে কৃষ্ণচূড়া ফুল ফোটে এবং তার রেশ চলতে থাকে বর্ষার শেষ পর্যন্ত। কিন্তু পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে রক্তচূড়ার ফুল ফোটার সময় বিভিন্ন।
উদ্ভিদ বিজ্ঞানের তথ্য মতে, রক্তচূড়ার প্রস্ফুটিত ফুলের ব্যাস ২ থেকে ৩ ইঞ্চি। বৃতির বহিরাংশ সবুজ। ভেতরের অংশ রক্তিম। বৃত্যাংশের সংখ্যা ৫টি। কৃষ্ণচূড়ার ফুলগুলো ৫টি পাপড়িযুক্ত। ৫ পাপড়ির একটি বড় ও তাতে হলুদ বা সাদা দাগ। পাপড়ি প্রায় ৮ সেন্টিমিটারের মতো লম্বা হয়ে থাকে। ভেতরে একটি হলুদ গর্ভকেশরকে ঘিরে থাকে ১০টি গাঢ় লাল পুংকেশর।

🌳🌳সত্যিকারের সৌন্দর্য কৃষ্ণচূড়ার ফুলের কাছে গেলে কিছুটা হলেও উপলব্ধি করা সম্ভব। কে জানত যে দেখতে লাল লাল কৃষ্ণচূড়ার পাপড়ির উপরেও প্রকৃতি পরম মমতায় কি সুন্দর নকশা করে রেখেছে! এক অলস বিকেলে হয়তো কোনো পথিক তুলে নেবে, দেখবে, মুগ্ধ হবে – এই তার পরম তৃপ্তি, এই সামান্য মুদ্ধতার জন্য প্রকৃতির কত না অসামান্য আয়োজন! … কৃষ্ণচূড়ার ফুল ফোটার আগে কলি দেখতে মোহরের মতো দেখায় তাই হিন্দিতে এই ফুলকে বলা হয় গুলমোহর।
🌳🌳 উদ্ভিদ বিজ্ঞানের ক্লাসিফিকেশন অনুযায়ী কৃষ্ণচূড়া বা রক্তচূড়া শিম জাতীয় উদ্ভিদের গোত্রভুক্ত, তাই ফলের সঙ্গে চ্যাপ্টা শিমের সাদৃশ্য স্পষ্ট। অবশ্য ফলগুলি আকারে শিমের চেয়ে বহুগুণ বড়, ৪০-৬০ সে মি লম্বা এবং ৫ সে মি চওড়া। কৃষ্ণচূড়ার কচি ফলগুলি সবুজ, তাই পাতার ভিড়ে সহজে দেখা যায় না। শীতের হাওয়ায় পাতা ঝরে গেলেই ফল চোখে পড়ে। পাকা ফল গাঢ় ধূসর ও কাষ্ঠকঠিন। প্রতিটি ফলে প্রায় ১৫-৫০টি ২ সে মি লম্বা বাদামী রঙের বীজ থাকে। নিষ্পত্র রক্তচূড়ার শাখায় যখন ফল ছাড়া আর কিছুই থাকে না তখন তাকে সৌন্দর্যহীন দেখায়। বসন্ত শেষে রক্তচূড়ার দিন ফেরে, একে একে ফিরে আসে পাতার সবুজ, প্রস্ফুটনের বহুবর্ণ দীপ্তি, নিঃশব্দে ঝরে পড়ে বিবর্ণ কালো রঙের লম্বা লম্বা ফলগুলি। রক্তচূড়া আবার দৃষ্টিনন্দন হয়ে ওঠে।
এই এই গুলমোহর বা কৃষ্ণচূড়া ফুল নিয়ে কোন এক কবি লিখেছেন–
“গুলমোহরের ফুল ঝরে যায়
বনে বনে শাখায় শাখায়।
কেন যায় কেন যায়
বাহারের মন ভেঙ্গে যায়”

🌳🌳অর্থনৈতিক দিক থেকে এ গাছ তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয়। তবে এ গাছ দ্রুত বর্ধনশীল হওয়ায় জ্বালানী কাঠ হিসেবেই অধিক ব্যবহূত হয়। এছাড়াও ছায়াপ্রদানকারী গাছ হিসেবে ও শোভাবর্ধনকারী গাছ হিসেবে এর বহুল ব্যবহার রয়েছে। এর বীজ থেকে প্রাপ্ত আঠা ওষুধ শিল্পে বাইন্ডার রূপে ব্যবহার করা হয়। ফল থেকে নানাপ্রকার শৌখিন দ্রব্য প্রস্তুত হয়। বীজ গয়না শিল্পে ব্যবহার করা হয়ে থাকে।
🌳🌳এই রক্তচূড়া’কে নিয়ে অনেকে অনেক গান কবিতা লিখেছেন। যেমন একটি গানে আছে–
রক্তচূড়ার ডালে ডালে
দোয়েল কোয়েল ডাকে।
কেউ যেন কয় চল চলে যাই
অন্য কোন বাঁকে।
পাখির মত দূর অজানায়
হারিয়ে যাওয়ার কাল গুনি, কাল গুনি…..
কোথাও যেন হারিয়ে যাবার ডাক শুনি……।
তাছাড়া এই বৃক্ষের ফুলকে নিয়ে অনেক গান রচিত হয়েছে। এর মধ্যে একটি হলো ভারতের বিখ্যাত গায়ক মান্না দে’র—
এই সেই কৃষ্ণচূড়া, যার তলে দাঁড়িয়ে হাতে হাত….
এবং আরো একটি গান হল—
রক্তজবা হাসে ..
পদ্ম-শাপলা হাসে,
পলাশের রং লাগে কৃষ্ণচূড়ার গায়
সাড়িবাঁধে সুখ পাখি
আমি শুধু বসে থাকি…..

আবার অনেকেই হিন্দু দেবতা শ্রীকৃষ্ণের চুল বাধার ধরনের মত এই গাছের ফুলের ধরন মনে করে থাকে আর এই জন্য এই গাছটির নাম রেখেছে কৃষ্ণচূড়া!!! অথবা সেখান থেকেই হয়ত হিন্দু ধর্মের লোকেরা কৃষ্ণচূড়া নামকরন করে থাকতে পারেন।
যদিও যে যুগে কৃষ্ণের অস্তিত্ব ছিল, সেই যুগে কিন্তু মাদাগাস্কার থেকে কৃষ্ণচূড়া ভারতীয় উপমহাদেশে এসে পৌঁছয়েইনি ।
কারণ ১৮২৪ খ্রিস্টাব্দের পূর্বে কৃষ্ণচূড়া বিশ্ববিজয় শুরু হয়নি। এটি ভারতীয় উপমহাদেশে নিয়ে এসেছে ইংরেজরা, তাও ইংল্যান্ড থেকে। যদিও হিন্দুদের ৩৩ কোটি দেবদেবীর কোন দেবতার পুজোতেই কিন্তু কৃষ্ণচূড়া ফুলের ব্যবহার হয় বলে জানা নেই কারণ ফুলটির আদিনিবাস যে ভারতবর্ষ নয় তা ইতিমধ্যে প্রমাণিত এবং সকলেই জানে।। অতএব এই কৃষ্ণের সাথে পরবর্তী সময়ে এই কৃষ্ণচূড়ার নাম মিলিয়ে রাখাটা কেউ হয়তো তাদের ইচ্ছেমতো করে থাকতে পারে।।
যখন কৃষ্ণ ছিলেন তখন এই গাছের অস্তিত্ব আমাদের অজানা ছিল। সুতরাং কৃষ্ণের সাথে এই গাছের কোন যোগসূত্র থাকার কথা না। পরে একসময় ভারতে এই গাছ এসে পৌঁছালো ইংরেজদের হাত ধরে। দাঁত ভাঙা নাম ডেলোনিক্স রেজিয়াকে ভারতীয়রা নামকরণ করা হলো কৃষ্ণচূড়া এবং রক্তচড়া অথবা গুলমোহর ।

ধন্যবাদ সবাইকে। আল্লাহর অশেষ রহমতে সকলেই ভাল থাকবেন। বেশি করে গাছ লাগান এবং পরিবেশ সংরক্ষণ এগিয়ে আসুন। দুর্ভিত্তরা গাছ কেটে কেটে আমাদের দেশকে গাছ শূন্য করে ফেলেছে। যে কোন গাছ লাগান বিশেষ করে দেশি ফলস এবং ঔষধি গাছগুলো।
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ।
mahabuburrahman1720@gmail.com









