শত্রুর সবকিছু বয়কট করতে হয়না। এবং এটাই রাসূল সাঃ এর শিক্ষা। একবার এক যুদ্ধে বেশকিছু ইহুদী শিক্ষিত শত্রু না সৈন্য ধরা পড়ল এবং তারা আটক হল। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম ছিলেন বিদ্যোৎসাহী। তিনি তিনি ইহুদি আটক সৈন্যদের শর্ত দিলেন যে যদি প্রতিজন ইহুদি 10 জন করে মুসলিমকে লেখাপড়া শিক্ষা দিতে পারে তবে তারা মুক্তি পেয়ে যাবে। এবং যে যত তাড়াতাড়ি শিক্ষা দিবে তত তাড়াতাড়ি মুক্তি পাবে। ইহুদিরা এই অফার পেয়ে খুব দ্রুত এই কাজে অগ্রসর হলো এবং প্রতিজন দশজন করে মুসলিমকে লেখা ও পড়া শিখিয়ে তারা মুক্ত হয়ে গেল এবং পরবর্তীতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম এর এই সুন্দর পদ্ধতি এবং জ্ঞানের প্রতি আগ্রহ আর মুসলিমদের সুন্দর আচরণ দেখে তারা মুসলিম হয়ে গিয়েছিল।। 👉👉শত্রুর একটা ধারালো তরবারি যদি আপনার হাতে আসে, আপনার উচিত সেটা তার বিরুদ্ধেই কাজে লাগানো!আপনি যতদিন পর্যন্ত পুরোপুরি স্বনির্ভর না হবেন, ততোদিন এটাই হবে উত্তম সিদ্ধান্ত। তাদের ফেসবুক google ইত্যাদি আমাদের যোগাযোগের এবং দিন প্রচারের কাজে লাগানো উচিত। তারা অবশ্যই চাচ্ছে এবং আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছে যাতে করে আমরা এই গুগল কিংবা ফেসবুক ইত্যাদি ব্যবহার করে কোনভাবেই কোন উপকৃত হতে না পারি।। কিন্তু ভূ-প্রাকৃতিক অবস্থা এবং ইথার সিস্টেম আল্লাহ এমনভাবে তৈরি করেছে যে তারা শত চেষ্টা করেও এবং কোনোভাবেই আমাদেরকে বাদ দিতে পারছে না।। যদি বাদ দিতে পারত তাহলে বহু আগেই তারা আমাদেরকে অন্ধকারে নিক্ষেপ করে রাখত।। আল্লাহ অনেক সময় কাফেরদের নিকট থেকেও ইসলামের খেদমত নিয়ে থাকেন।। 👉👉যেমন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম এর ব্যাপারে এবং ইসলামের ব্যাপারে রাসূল সাল্লাল্লাহু ওয়া সাল্লামের দাদা এবং রাসূলের বংশধরের মনে এমন গোত্র প্রীতি সৃষ্টি করে দিয়েছিলেন যে তারা সার্বক্ষণিকভাবে রাসূলকে নিরাপত্তা দিতে বাধ্য হত যদিও তারা কাফের ছিল।। 👉👉 ফেরাউনের চেয়ে নিকৃষ্ট কাফের আসমানের নিচে জমিনের উপরে আর কেউ ছিল না। অথচ আল্লাহর এক শক্তিশালী রাসূল মুসা আলাইহি ওয়াসাল্লামের লালন পালন এবং তাকে সেনাপ্রধান বানানোর ও বিভিন্নভাবে প্রশিক্ষিত করে দেওয়া ব্যাপারে তৎকালীন সবচেয়ে শক্তিশালী ফেরাউনের খেদমত নেওয়া হয়েছিল।। 👉👉 ফেরাউনের পূর্ববর্তী সম্প্রদায় ছিল ইসলামের প্রতি আরো বিদ্বেষী। কিন্তু ইউসুফ আলাইহিস সালামকে আল্লাহ তাদের নিকট লালন পালন করিয়েছেন এবং এভাবেই ইসলামের খেদমত নিয়েছেন কাফেরদের নিকট থেকে।।। 👉👉 আল্লাহ পবিত্র কুরআনে দুইবার বলেছেন যে, আমি যদি একদলকে দিয়ে আরেক দলের উপর হুমকি সৃষ্টি করে না রাখতাম এবং একদলকে দিয়ে আরেকদলকে দমিয়ে না রাখতাম তাহলে পৃথিবীতে কত কিছুই না ঘটে যেত।। আপনি একটা বিষয় চিন্তা করে দেখুন যে সমস্ত পৃথিবীর মাত্র দুইটা বলয়ে বিভক্ত। একটি হল কমিউনিজম আর অন্যটি হলো ক্যাপিটালিজম। অর্থাৎ একটি হলো সমাজতন্ত্র আরেকটি হলো গণতন্ত্র। রুশপন্থী দেশগুলো যেমন আমেরিকা পন্থী কোন দেশকে এবং তাদের শাসন ব্যবস্থাকে দুই চোখে দেখতে পারেনা ঠিক তদ্রূপ আমেরিকা পন্থী দেশগুলোর রুশপন্থী দেশগুলোকে দুই চোখে দেখতে পারেনা। বিভিন্ন অজুহাতে তারা সব সময় ঝগড়া লেগেই থাকে এবং ঝগড়ারত দুইটি বাহিনীকে দুই দিক থেকে তারা সাপোর্ট দিতে থাকে। যেমন বর্তমান ২০২৩ সাল থেকে ২০২৪ সাল চলছে। এরই মধ্যে শুধুমাত্র রাশিয়া আর ইউরিন ইস্যুতে সমস্ত পৃথিবীর দুই দলে বিভক্ত হয়ে আছে।। এভাবে পৃথিবীর ভারসাম্য রক্ষা করার জন্য আল্লাহ এই কাফেরদের মধ্যে দুটো দল সবসময় সৃষ্টি করে রাখেন ফলে মুসলিমরা নিরাপদ থাকে। কিন্তু এই মুসলিমরা যদি শুধু একটু চিন্তা-ভাবনা করে চলতে পারতো এবং তারা যদি নিজেদের মধ্যে শত শত দল সৃষ্টি না করতো তাহলে মুসলিমদেরকে কেউ কোনদিন প্রধানত করে রাখতে পারতো না।। মুসলিমদের উপর যত বিপদ আসে সব আল্লাহর কোরআন অনুযায়ী তাদের দুই হাতে কামাই করা।। অবশ্যই আল্লাহু আলম ।। আল্লাহ সবকিছু জানেন এবং দেখেন।।
তাছাড়া বর্তমানে মোবাইল ফোনের যুগ আসার পর,কোনও গ্রাহক প্রতিবার লকার খোলার সঙ্গে সঙ্গে ব্যাংকের পক্ষ থেকে গ্রাহকের মোবাইলে ইমেল এবং এসএমএস পৌঁছে যাবে। এই পদ্ধতির প্রধান কারণই হল, জালিয়াতি আটকানো। অর্থাৎ ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট থেকে যদি টাকা উত্তোলন করা হয় অথবা কোন কিছু খরিদ করা হয় ডেবিট কার্ড দিয়ে অথবা যে কোন ভাবে একাউন্ট এ যদি টাকা ডিপোজিট করা হয় বা উত্তোলন করা হয়, সেখানে যেমন গ্রাহকের নিকট সাথে সাথে এসএমএস ও ইমেইল পৌঁছে যায় তদ্রূপ লকারের ক্ষেত্রেও একই। তাছাড়া ব্যাংক এর নিয়ম অনুসারে নির্দিষ্ট কিছু বা কয়েক বছরের জন্য কোন গ্রাহককে লকার ভাড়া দিতে পারে। যদি লকার ভাড়া বার্ষিক ৫০০০ টাকা হয়, তা হলে গ্রাহকের কাছ থেকে মোট নির্দিষ্ট বছরগুলো হিসাব করে অগ্রিম টাকা নিয়ে নেবে।। অতিরিক্ত কোন টাকা ব্যাংক নিতে পারবে না। অবশ্য রক্ষণাবেক্ষণের চার্জ আলাদা হিসেবে গণ্য হবে। 📘📕 লকার বরাবর অথবা লকারের সামনে যে কোন সিসিটিভি বা ক্যামেরা রাখা নিষেধ। কেননা তাতে গ্রাহকের প্রাইভেসি নষ্ট হয়। কিন্তু লকারের বাইরে ক্যামেরা লাগানো থাকে। তাছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংক এর নিয়ম অনুযায়ী বর্তমানেআরেকটি নিয়ম বাধ্যতামূলক করেছে। তা হল, লকা রূমে কারা আসছে, কারা যাচ্ছেন, সেই সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে ধরে রাখতে হবে ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে কমপক্ষে ছয় মাসের জন্য। এই ফুটেজ ৬ মাস পর্যন্ত সংরক্ষিত রাখার ব্যবস্থা রাখতে হবে । যাতে কোনওরকম জালিয়াতি, চুরি-ডাকাতির ঘটনা ঘটলে পুলিশ সেই ফুটেজ দেখে তদন্ত করতে পারে।
📘📕ইসলামী শরীয়াহ ব্যাংক গুলোতে লকার সেবা “আল আমানাহ” নীতিতে দিয়ে থাকেন। এখানে গ্রাহক কি রাখেন সেই ব্যাপারে ডিক্লারেশান থাকেনা। ডিক্লারেশান থাকে কোন ইলিগাল জিনিস রাখবেনা এতটুকু। তাই গ্রাহক কত ভরি জিনিস রাখল অথবা কত টাকা রাখল সেটা একান্তই গ্রাহক জানেন। তাই ব্যাংক এই ক্ষেত্রে লায়াবল থাকে না।
ব্যাংকের লকারের এলাকায় সিসি ক্যামেরা থাকেনা। কারন গ্রাহক কি জিনিস রাখবে সেটা গ্রাহকের একান্তই নিজের বিষয়। তার ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা এবং তার সম্পদের সুরক্ষার জন্য এই ব্যবস্থা।
লকারের দুইটি চাবি থাকে। একটি গ্রাহকের কাছে আরেকটি ম্যানেজারের/কাস্টডিয়ানের কাছে। দুই চাবি একত্রে দেয়া ব্যতীত লকার খোলা পসিবল না।
কোন কোন ক্ষেত্রে এটা চেম্বার আকারে থাকে সেক্ষেত্রে মুল দরজার কাস্টডিয়ান থাকেন। আর ভেতরের লকারের চাবি গ্রাহকের কাছে থাকে।
তাই কোনভাবেই গ্রাহকের সম্পদ ব্যাংকের ফ্রড করার সুযোগ নাই যদি গ্রাহক নিজের সম্পদের ব্যাপারে সচেতন থাকেন।
কোন গ্রাহক তার লকারের চাবি লক করল না। তাহলে সেখানে ফ্রড হলে দায় গ্রাহকের ই বেশি। আর কি আছে সেই ডিক্লারেশান দেয়া না থাকার কারনে কি রেখেছে সেটা ১০০ ভরি নাকি ১০০০ ভরি সেটা ব্যাংকের জানার কথা ও না।
এই লেখা এই কারনে লিখলাম আমাদের কোন ঘটনায় আমরা নিজেরা যদি ক্লিয়ার না থাকি তাহলে লোকজনকে জবাব দিতে পারব না। কেউ এইভাবে যদি প্রশ্ন করেন “আমাদের অমুক শাখায় নাকি এত ভরি সোনা মেরে দিছে” তাহলে সেটা পত্রিকার ভাষা হয়ে যায়। গ্রাহক তার অবহেলাকে ব্যাংকের উপর চাপাতে চাইতে পারে অথবা আরো ঘটনা থাকতে পারে। প্রিভিয়াস হিস্টোরি বলে গ্রাহক কোর্টে গিয়ে ক্ষমা চাইতে হয়েছে এরকম মামলা করে। তাই নিজেদের দিক থেকে পরিস্কার থাকা জরুরী।।
📘📕ব্যাঙ্কের লকার (Bank Locker) ভাড়া নিতে আপনাকে খুঁটিনাটি অনেক বিষয় জানতে হবে। খরচ-সহ খুঁটিনাটি নিয়ম জানা না থাকলে আপনার ব্যাংক লকার ব্যবহার না করাই উচিত। ব্যাঙ্কিং খাতে প্রায় প্রতিদিনই নিত্যনতুন বদল আসে। এবার লকারের ক্ষেত্রে নতুন নিয়মও কার্যকর করা হয়েছে। সম্প্রতি ব্যাঙ্কের লকারের নিয়মে পরিবর্তন হয়েছে। জেনে নেওয়া যাক।
মূল্যবান সম্পদ, গয়না, টাকাপয়সা নিরাপদে রাখার জন্য অনেকেই ব্যাঙ্কের লকার ব্যবহার করেন। ব্যাংকের লকারের ক্ষেত্রে বেশকিছু নিয়ম চালু য়য়েছে। এই নতুন নিয়মের উদ্দেশ্যই হল, গ্রাহকদের মূল্যবান সম্পদ যেমন , গয়না, টাকাপয়সা যেন চুরি বা ডাকাতি না হয়ে যায় সেজন্য মানুষ নিরাপত্তার জন্য ব্যাংকের লকার ব্যবহার করে। 📘📕 বাংলাদেশের রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংকের ৫৪টি শাখায় লকার সেবা রয়েছে। ব্যাংকটির ছোট লকারের বার্ষিক চার্জ ২ হাজার টাকা। মাঝারি ও বড় লকারের চার্জ যথাক্রমে ২ হাজার ৫০০ ও ৩ হাজার টাকা। রাষ্ট্রায়ত্ত অন্য ব্যাংকগুলোও প্রায় একই চার্জে গ্রাহকদের লকার সেবা দিচ্ছে।
📘📕 চট্টগ্রাম চকবাজারের ইসলামী ব্যাংকের একটি শাখার ব্যাংকের লকার থেকে গায়েব হওয়া স্বর্ণের খবরটি নিম্নরূপ —
গতকাল সরেজমিনে ইসলামী ব্যাংকের চকবাজার শাখাটিতে গিয়ে দেখা গেছে, সকাল থেকেই স্বাভাবিক দিনের থেকে আমানতকারীদের ভিড় কিছুটা বেশি ছিল। তবে বেশি ভিড় দেখা যায় লকারে গচ্ছিত রাখা গ্রাহকদের। এসব গ্রাহকরা ব্যাংক কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে লকারে ঢুকছেন। আমানত নিরাপদ আছে কিনা যাচাই করে আবার চলে যাচ্ছেন তারা। অনেকে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলছেন। গ্রাহকদের সবার চেহারায় ছিল আতঙ্কের ছাপ। তারা প্রশ্ন তুলেছেন ব্যাংকের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে।
নগরীর চন্দনপুরা থেকে ব্যাংকে এসেছেন তসলিমা খানম ও জয়নাল আবেদীন দম্পতি। ২২ বছর ধরে ইসলামী ব্যাংকের লকার ব্যবহার করছেন তারা। তসলিমা আমাদের সময়কে বলেন, লকারে আমাদের স্বর্ণালঙ্কার ছিল। খবর শোনার পরে খোঁজ নিতে এসেছি। কিছুটা আতঙ্কে ছিলাম। লকারে গিয়ে দেখেছি সব অক্ষত আছে। কিছু স্বর্ণ বাড়ি নিয়ে যাচ্ছি। বাকিগুলো লকারে রেখে এসেছি। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ আশ্বস্ত করেছে কোনো সমস্যা হবে না।
গনি বেকারি মোড়ের আসাবিক এলাকা থেকে ছুটে এসেছেন আরেক আমানতকারী রাকিবুল ইসলাম। বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করেন তিনি। লকার যাচাই করে সবকিছু অক্ষত পেয়েছেন রাকিবুল। জানতে চাইলে তিনি বলেন, এমনিতে দেশের ব্যাংক ব্যবস্থার পরিস্থিতি তেমন ভালো না। চুরির বিষয়টি শুনে শঙ্কিত হয়ে ছুটে আসলাম। তবে আলহামদুলিল্লাহ, সব ঠিকঠাক আছে।
ব্যাংকের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আরেক গ্রাহক সৈয়দ মাসরুফ সালেহীন বলেন, ব্যাংক থেকে দেড়শ ভরি স্বর্ণ গায়েব হয়ে গেল, অথচ কর্তৃপক্ষ টেরই পেল না! শাখাটিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল অরক্ষিত নতুবা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ছিলেন দায়িত্বহীন। তাই এমনটা হয়েছে। মানুষ নিরাপত্তার জন্য নিজের কষ্টার্জিত মূল্যবান জিনিসপত্র ব্যাংকে আমানত রাখে। কিন্তু সেই আমানতের খেয়ানত হলে মানুষ যাবে কোথায়? এমন হলে মানুষ ব্যাংকে আমানত রাখতে ১০ বার চিন্তা করবে।
ব্যাংক কর্মকর্তারাই সরিয়েছেন স্বর্ণ!
নগরীর চকবাজার এলাকার ইসলামী ব্যাংক থেকে গত ২৯ মে লকার খুলে ১৫০ ভরি স্বর্ণ গায়েবের বিষয়টি বুঝতে পারেন স্বর্ণের মালিক রোকেয়া বারী। এরপর গত শনিবার রাত থেকে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। ভুক্তভোগীর দাবি, ব্যাংক কর্মকর্তা, কর্মচারীরাই এসব স্বর্ণ সরিয়েছেন। গায়েব হওয়া স্বর্ণালঙ্কারের মধ্যে রয়েছে ৪০ পিস হাতের চুরি (বড় সাইজ); যার ওজন ৬০ ভরি। গলা ও কানের অলঙ্কার; যার ওজন ২৫ ভরি। ১০ ভরি ওজনের একটি গলার সেট, ২৮ ভরি ওজনের ৭টি গলার চেইন। ১৫ ভরি ওজনের ৪টি আংটি ও ৩০ জোড়া কানের দুল; যার ওজন ১১ ভরি বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগী রোকেয়া বারী জানান, গত ১৭ বছর ধরে চকবাজারের ইসলামী ব্যাংকের একটি লকার ব্যবহার করছেন তিনি। তাদের পরিবারের সবার স্বর্ণালঙ্কার ছিল ওই লকারে। সেখানে প্রায় ১৬১ ভরি স্বর্ণ ছিল, তার মধ্যে ১৪৯ ভরি স্বর্ণালংকার গায়েব হয়েছে।
স্বর্ণের মালিক বলেন, গত ২৯ মে দুপুরে তিনি কিছু স্বর্ণালঙ্কার লকার থেকে আনতে যান। এ সময় লকারের দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে লকার খুলে দেন। চাবি দিয়ে লকার রুমের দরজা খোলার পর দেখতে পাই আগে থেকে আমার বরাদ্দকৃত লকারটি খোলা। পরে বিষয়টি ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ও চকবাজার থানায় অবহিত করি। থানার ওসি ব্যাংকে গিয়ে দেখতে পান লকারে মাত্র ১০-১১ ভরি স্বর্ণালঙ্কার আছে।
ব্যাংকের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে রোকেয়া বারী বলেন, নিরাপত্তার জন্য আমরা ব্যাংকে এসব স্বর্ণ রেখেছি। আজকে এত বছর কিছু হয়নি এখন হঠাৎ করে স্বর্ণগুলো উধাও হয়ে গেল। ব্যাংকেই যদি নিরাপদ না হয় আমরা কোথায় যাব? আমি আমার স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার বা ক্ষতিপূরণ দাবি করছি। এ ঘটনায় আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলে আগামীকাল (আজ সোমবার) আদালতে মামলা করার কথা জানান তিনি। স্বর্ণ চুরির বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গে না জানানো প্রসঙ্গে রোকেয়া বারী বলেন, ব্যাংক কর্তৃপক্ষ আমাদের কাছে কয়েকদিন সময় চেয়েছিল। তাই কাউকে বলিনি।
অস্বীকার ব্যাংক কর্তৃপক্ষের : স্বর্ণালঙ্কার গায়েবের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন ব্যাংকটির চকবাজার শাখার প্রধান এএম শফিকুল মাওলা চৌধুরী। তিনি আমাদের সময়কে বলেন, এখান থেকে চুরি কিংবা ডাকাতি হওয়ার সুযোগ নেই। তবুও ভুক্তভোগী গ্রাহক যেহেতু অভিযোগ করেছেন, আমরা বিষয়টি আমলে নিয়েছি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তিন সদস্যের অভ্যন্তরীণভাবে তদন্ত কমিটিও করা হয়েছে।
দেড়শ ভরি স্বর্ণ খুইয়ে পাবেন দুই লাখ টাকা!
ইসলামী ব্যাংকে ছোট, মাঝারি ও বড় তিন ধরনের লকার রয়েছে। ভুক্তভোগী রাবেয়ার মাঝারি আকারের লকার ছিল। যদি ব্যাংক থেকে স্বর্ণ গায়েবের বিষয়টি সত্যি হয়, তাহলে তিনি দুই লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ পাবেন। এ বিষয়ে শাখাটির প্রধান এম শফিকুল মাওলা চৌধুরী বলেন, আমরা তদন্ত করছি। গ্রাহকের দাবি অনুযায়ী ১৫০ ভরি স্বর্ণ গায়েবের বিষয়টি সত্যি হলে বেরিয়ে আসবে। তবে লকার থেকে কোনো ধরনের চুরি কিংবা ডাকাতি ঘটনা ঘটে থাকলে ভুক্তভোগী গ্রাহকের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী ইন্স্যুরেন্স কাভারেজ পেয়ে থাকেন। এ ক্ষেত্রে ছোট লকারের জন্য ১ লাখ টাকা, মাঝারি লকারের জন্য ২ লাখ টাকা ও বড় লকারের জন্য তিন লাখ টাকা পাবেন গ্রাহক। অর্থাৎ দেড় কোটি টাকার বেশি স্বর্ণ খুইয়ে ভুক্তভোগী রোকেয়া পাবেন মাত্র দুই লাখ টাকা।
লকারে থাকা জিনিসপত্রের রেকর্ড রাখে না ব্যাংক, চাবি থাকে একটি ব্যাংকিং লেনদেনের সিস্টেমে যে কোনো আমানতের রেকর্ড রাখে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। তবে লকারে রাখা জিনিসপত্রের রেকর্ড কিংবা তালিকা নেওয়া হয় না গ্রাহক থেকে। বছরে নির্দিষ্ট পরিমাণ চার্জ দিয়ে লকার ভাড়া নেন গ্রাহকরা।
শাখাটির প্রধান এম শফিকুল মাওলা চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী, একজন গ্রাহক লকারের কী রাখছেন এবং কতটুকু রাখছেন, সে ব্যাপারে কোনো রেকর্ড রাখা হয় না। শুধু আগ্নেয়াস্ত্র ও দাহ্য পদার্থ না রাখার ব্যাপারে একটি লিখিত নেওয়া হয়। আমরা মূলত লকারে গ্রাহকের আমানতের নিরাপত্তার কাজ করে থাকি। এমনকি লকারের ভেতরে রাখা হয় না কোনো সিসি ক্যামেরা।
মালিক ছাড়া লকার খোলা অসম্ভব জানিয়ে তিনি বলেন, ব্যাংকে কোনো গ্রাহক আসলে লকারের দায়িত্বরত ইনচার্জ দালালিক কার্যক্রম সম্পন্ন করে লকারে ভেতরে ঢোকার অনুমতি দিয়ে থাকে। দায়িত্বরত ইনচার্জ মাস্টার কি (চাবি) দিয়ে লকার কার্যালয় ওপেন করেন। তবে লকারের ভেতর ইনচার্জ প্রবেশ করেন না। ব্যাংকের নিয়মানুযায়ী লকারের একটি মাত্র চাবি থাকে, যেটা গ্রাহকের কাছে সংরক্ষিত। ওই চাবি দিয়ে গ্রাহক লকার খুলে। চাবিটির কপিও বানানো যাবে না। হেড অফিসের নিজস্ব সরঞ্জাম দিয়ে চাবিটি তৈরি করা। তাই নির্দিষ্ট গ্রাহক ছাড়া লকারটি কেউ খুলতে পারবে না। ওদিনের ঘটনায় লকারটি ভাঙা ছিল না, স্বাভাবিকই ছিল। লকারটি মূলত চাবি দিয়ে খোলা হয়েছে। যদিও লকারের মালিকের দাবি তিনি খোলেননি। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। তদন্তে মূল ঘটনা বেরিয়ে আসবে।
চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (চকবাজার জোন) সহকারী কমিশনার নূরে আল মাহমুদ আমাদের সময়কে বলেন, ব্যাংকের গ্রাহক এক নারীর মৌখিক অভিযোগ পেয়ে তাৎক্ষণিক পুলিশ ব্যাংকে যায়। সেখানে লকার খোলা অবস্থায় এবং ভেতরে কিছু স্বর্ণালঙ্কার পাওয়া যায়। গ্রাহকের অভিযোগ প্রায় ১৫০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার মিসিং হয়েছে। যেহেতু চুরির বিষয় তাই মামলা করতে বলেছি। কিন্তু তারা করেনি। শুনেছি তারা আদালতে মামলা করবে।
রাসূল সাঃ বলেন, তোমরা আমাকে মুসা আঃ এর উপর শ্রেষ্ঠত্ব দিও না। -বোখারী
রাসুল সাঃ কি শ্রেষ্ঠ নবী? নাকি সকল নবীগণ সমান মর্যাদার অধিকার? এই প্রসঙ্গে কোরআন হাদিসের যেমন কিছু বিপরীতমুখী বক্তব্য রয়েছে তদ্রূপ ইসলামী স্কলারদের মধ্যেও এ বিষয়ে মতভেদ ও কিয়াস অর্থাৎ যুক্তি রয়েছে। কুরআনের বক্তব্য যদি বিপরীতমুখী হয় তাহলে শানে নজুল দিয়ে অর্থাৎ প্রেক্ষাপট দিয়ে তা বিচার করলেই খুব সহজে হিসাব মিলে যাবে। আর হাদিসের বক্তব্যগুলোও তদ্রূপ প্রেক্ষাপট পর্যালোচনা করলেই সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া সম্ভব।।
আমি এই প্রসঙ্গে আজকে আমার নিজস্ব স্টাডি থেকে কিছু আলোচনা করতে চেষ্টা করব ইনশাআল্লাহ। কেননা এই বিষয়টি নিয়ে কমবেশি কিছু বিতর্ক রয়েই গেছে।
কোরআনের কিছু আয়াত ও কিছু হাদিস আলোচনা করলে আমরা দেখতে পাই,পবিত্র কোরআনে শুধু রাসুল সাঃ কে ই শ্রেষ্ঠ নবী বলা হয়নি বরং আল্লাহর তরফ থেকে সকল নবী রাসূলকে শ্রেষ্ঠ বলা হয়েছে সমভাবে।
বরং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে শেষ নবী বলা হয়েছে পবিত্র কুরআনে। আর নবীদের ব্যাপারে আকিদা-বিশ্বাস এবং তাদের প্রতি সম্মান ভালোবাসার বিষয়ে পবিত্র কুরআনের সূরা বাকারার শেষ আয়াতের পূর্বের আয়াতে স্পষ্ট বলে দেওয়া হয়েছে–امن الرسول بما انزل اليه من ربه والمؤمن كل امن بالله وملائكته وكتبه ورسوله…………. রসূল বিশ্বাস রাখেন ঐ সমস্ত বিষয় সম্পর্কে যা তাঁর পালনকর্তার পক্ষ থেকে তাঁর কাছে অবতীর্ণ হয়েছে এবং মুসলমানরাও সবাই বিশ্বাস রাখে আল্লাহর প্রতি, তাঁর ফেরেশতাদের প্রতি, তাঁর গ্রন্থসমুহের প্রতি এবং তাঁর পয়গম্বরগণের প্রতি। তারা বলে ***আমরা তাঁর পয়গম্বরদের মধ্যে কোন তারতম্য করিনা***। তারা বলে, আমরা শুনেছি এবং কবুল করেছি। আমরা তোমার ক্ষমা চাই, হে আমাদের পালনকর্তা। তোমারই দিকে প্রত্যাবর্তন করতে হবে।– বাকারা, আয়াত ২৮৫।
উক্ত আয়াতে স্পষ্ট বলে দেওয়া হয়েছে যে, মোমেনদের বৈশিষ্ট্য হল, তারা বলে যে- “আমরা পয়গম্বরদের মধ্যে কোনরকম তারতম্য করি না”। অর্থাৎ কে বড়, কে ছোট , কে মর্যাদাশীল কে মর্যাদায় কম এই সমস্ত পার্থক্য করা কোন ঈমানদারের জন্য জায়েজ নেই বরং হারাম এবং ইসলাম থেকে বের হয়ে যাওয়ার একটি রাস্তা।
সূরা আল আহযাব এর ৪০ নাম্বার আয়াতে আল্লাহ বলেন مكانه محمد ابا احد من رجالكم ولكن رسول الله وخاتم النبي،…………….মুহাম্মাদ (সাঃ) তোমাদের মধ্যেকার কোন পুরুষের পিতা নয়, কিন্তু তিনি আল্লাহর রাসূল এবং শেষ নবী। আল্লাহ সর্ববিষয়ে সর্বজ্ঞাতা। ।
কোরআনের কোন আয়াতের মধ্যেই রাসূল সাল্লাল্লাহু ওয়া সাল্লামকে শ্রেষ্ঠ অথবা সর্বশ্রেষ্ঠ রাসুল বলা হয়নি বরং বলা হয়েছে তিনি রাসূলদের মধ্যে একজন এবং তিনি সর্বশেষ রাসূল। অতএব সর্বশেষ রাসূলকে অনুসরণ করা ফরজ হলো পৃথিবীর সর্বশেষ অবস্থানরত অর্থাৎ সেই রাসূলের পর থেকে আগত সকল জ্বীন এবং মানুষের জন্য।
মোট কথা, একজন নবী পৃথিবীতে আগমনের পর সকল মানুষ এবং জিন জাতির জন্য সেই নবী অথবা রাসুল কে অনুসরণ করা ফরজ হয়ে যায়। আরেকজন নবী আসার পূর্ব পর্যন্ত সবাই পূর্ববর্তী এবং সর্বশেষ নাযিল হওয়া কিতাব ও নবীকে অনুসরণ করবেন যতক্ষণ পর্যন্ত না অন্য আরেকজন নবীর আগমন হবে।
কিন্তু যেহেতু রাসূল সাল্লাল্লাহু ওয়া সাল্লাম এর পর আর কোন নবী পৃথিবীতে আসবেন না এবং তা সূরা আহযাবের ৪০ নাম্বার আয়াত দ্বারা আল্লাহ নবুয়তের দরজা খতম বা শিলমোহর করে দিয়েছেন । অতএব, কেয়ামত পর্যন্ত পৃথিবীতে অবস্থানরত এবং আগমন করা সকল জিন এবং মানুষের জন্য অনুসরণীয় এবং অনুকরণীয় হলো আল্লাহর শেষ কিতাব কোরআন এবং শেষ নবী মোহাম্মদ সঃ।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সালাম এর শ্রেষ্ঠত্বের কথা তিরমিজি শরীফের এবং মেশকাত শরীফের একটি হাদিসের মধ্যে এসেছে। হাদীসটি হল—-আব্বাস রাঃ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন – রাসূলুল্লাহ সাঃ মিম্বারে উঠে বললেন, আমি কে? তখন সাহাবীগণ বললেন, আপনি আল্লাহর রাসূল। তখন রাসূল সাঃ বললেন, আমি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল মুত্তালিব। আল্লাহ সৃষ্টি জীব সৃষ্টি করে আমাকে তাদের ভালোদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। অতঃপর মানুষকে দু’ভাগে ভাগ করেছেন, তথা আরব ও আজম, অর্থাৎ আরব ও আনারব এবং আমাকে শ্রেষ্ঠ ভাগের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। অতঃপর তাদেরকে বিভিন্ন গোত্রে বিভক্ত করেছেন এবং আমাকে শ্রেষ্ঠ গোত্রে স্থান দিয়েছেন। অতঃপর তাদেরকে বিভিন্ন বাড়িতে পৃথক করেছেন এবং আমাকে শ্রেষ্ঠ বাড়িতে স্থান দিয়েছেন। অতএব আমি তাদের মধ্যে বাড়ির দিক দিয়েও শ্রেষ্ঠ এবং ব্যক্তির দিক দিয়েও শ্রেষ্ঠ।
উপরোক্ত হাদিসটি দিয়ে প্রমাণিত হয় যে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম গোত্র এবং মানুষের দিক থেকে শ্রেষ্ঠ। আর তাছাড়া প্রত্যেক নবী-রাসূলকে আল্লাহ তৎকালীন সময় সর্বশ্রেষ্ঠ গোত্র বা সম্প্রদায়ের মধ্যে থেকেই নির্বাচন করেছেন। কেননা অপরিচিত বা অখ্যাত কোন গোত্র বা সম্প্রদায়ের লোক থেকে নবী-রাসুল নির্বাচিত হলে তাদেরকে মানুষ মেনে নেয় না এবং গণ্য করে না।
আর আপনি যদি লক্ষ্য করে দেখেন তাহলে দেখতে পাবেন প্রত্যেক নবী রাসুলগণ ওই সময়ের এবং ওই এলাকার সর্বশ্রেষ্ঠ গোত্র ও পরিবার থেকে জন্ম নিয়েছেন। শুধুমাত্র মূসা আলাইহি ওয়াসাল্লাম অখ্যাত পরিবারে জন্ম নিয়েছেন কিন্তু মুসা আলাইহি ওয়াসাল্লামের গোত্র ছিল বনি ইসরাইল অর্থাৎ নবীর বংশ অর্থাৎ শ্রেষ্ঠ বংশ। এবং আল্লাহ তাকে ওই সময়ের পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ এবং সবচেয়ে শক্তিশালী রাজবংশ ফেরাউনের ঘরে লালন পালন করার ব্যবস্থা করেছেন। আর এটার মধ্যে একটি হেকমত যে, মানুষ যাতে বলতে না পারে যে তুমি নিম্ন গোত্র নিম্ন বংশ থেকে উঠে এসেছো অতএব তোমাকে মেনে নেওয়া যায় না। কেননা এটা মানুষের একটি সহজাত প্রবৃত্তি।
আর এই দিকগুলি হিসাব করতে গেলে সকল নবীরাই শ্রেষ্ঠ এবং সবাই শ্রেষ্ঠ গোত্র বা শ্রেষ্ঠ সম্প্রদায়ের মধ্যে জন্মগ্রহণ করেছেন অথবা লালিত-পালিত হয়েছেন।
📕📕পবিত্র কোরআনের সূরা আল ইমরানের ১১০ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে যে, তোমরাই শ্রেষ্ঠ উম্মাত, তোমাদেরকে মানুষদের জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে। তোমরা মানুষদেরকে সৎ কাজের আদেশ করবে, অসৎ কাজ থেকে বাঁধা প্রদান করবে এবং আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস করবে। যদি আহলে কিতাবরা ঈমান আনতো, তাহলে তা তাদের জন্য কল্যাণকর হ’ত”। অর্থাৎ ইহুদি ও খ্রিষ্টানের এই শ্রেষ্ঠ উম্মাতের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যেত। তাদের মধ্যে কিছু মুসলিন এবং অধিকাংশই ফাসেক’। মোহাম্মদ সাঃ এর উম্মতকে এখানে শ্রেষ্ঠ উম্মত বলা হয়েছে। এবং এই আয়াতের মাধ্যমে এটা প্রমাণ হয় যে, যদি উম্মত শ্রেষ্ঠ হয় তাহলে নবীও শ্রেষ্ঠ হবেন এটাই স্বাভাবিক।
📘📘মুসলিম শরীফের একটি হাদিসের মধ্যে এসেছে, এবং এই হাদিসটি সবচেয়ে বড় সংকলন গ্রন্থ মেশকাত শরীফের মধ্যেও সংকলন করা হয়েছে–, ঈসা আঃ যখন আসমান থেকে অবতরণ করবেন, তখন ইমাম মাহদী আঃ তাঁকে ইমামতি করতে বলবেন। কিন্তু তিনি এই উম্মতের সম্মানে ইমামতি করাবেন না। বরং ঈসা আলাইহিস সালাম বলবেন যে আপনি ইমামতি করুন অতঃপর ইমাম মাহদী ইমামতি করবেন! এদিক থেকে ও উম্মতে মোহাম্মদীর ও মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম এর শ্রেষ্ঠত্ব উপলব্ধি করা যায়। নবীগণ নিজেদের সাহাবাগণের ইমামতিতে নামাজ পড়েছেন এবং রাসুল সা নিজেও আবু বকর রাঃ এর ইমামতিতে নামাজ পড়েছেন।
📘📘মুসনাদে আহমদ এবং তিরমিজি শরীফের একটি হাদিসের এসেছে– মহান আল্লাহ ইসমাইল আঃ এর সন্তানদের মধ্যে থেকে বনী কিনানাকে নির্বাচন করেছেন এবং বনী কিনানার মধ্যে থেকে কুরাইশকে নির্বাচন করেছেন এবং কুরাইশের মধ্যে থেকে বনী হাশেমকে নির্বাচন করেছেন আর আমাকে নির্বাচন করেছেন বনী হাশেম থেকে। আর ইতিহাস থেকে জানা যায় যে বংশপরম্পরায় এই গোত্রগুলো সেই প্রাচীনকাল থেকেই শ্রেষ্ঠ ছিল।
📘📘যৌক্তিক ক্ষেত্রে দেখতে গেলে এটা সহজেই বুঝা যায় যে, সর্বশেষ আগত বক্তা মূলতঃ অন্যান্যদের থেকে আলাদা ও শ্রেষ্ঠ হয়ে থাকেন। বক্তব্যের দিক থেকে কোরআন হলো আল্লাহর দেওয়া সর্বশেষ বক্তব্য মানুষের জন্য। আর এই কোরআনকে বর্ণনা করানো হয়েছে নবী মুহাম্মদ সাঃ এর মাধ্যমে।
সকল আসমানী কিতাবের মধ্যে কোরআন সর্বশ্রেষ্ঠ কিতাব। কোরআন যে মাসে অবতীর্ণ হয়েছে সে রমজান মাসটি সর্বশ্রেষ্ঠ মাস। কোরআন যে রাতে অবতীর্ণ হয়েছে সে কদরের রাত সর্বশ্রেষ্ঠ রাত। যেই স্থানে অবতীর্ণ হয়েছে তা সর্বশ্রেষ্ঠ জায়গা। যিনি আল্লাহর নিকট থেকে এই কিতাব নিয়ে আসতেন সেই জিব্রিল আঃ ফেরেশতাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী। আর এত সব শেষ রক্তের মধ্যে যে নবীর উপর কোরআন নাজিল হয়েছে, তিনি অবশ্যই সর্বশ্রেষ্ঠ রাসূল হবেন এটাই অধিকতর যুক্তিসঙ্গত।
এটা অবশ্যই ঠিক যে, মুহাম্মাদ সাঃ এর নবুঅত অন্যান্য রাসূলদের নবুঅতের চেয়ে বৈশিষ্ট্যগতভাবে অনেক মহান। কেননা, মহান আল্লাহ রাসুলুল্লাহ সাঃ এর নবুঅতের দ্বারা অন্য সকল নবীর নবুঅত ও দ্বীনকে মানসূখ বা রহিত করে দিয়েছেন। অন্য দিকে আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মাদ সাঃ এর নবুঅত অন্য কোনও নবীর নবুঅত দ্বারা মানসুখ হবেনা কেননা তিনি কুরআনের বর্ণনা অনুযায়ী শেষ নবী। এই দিক দিয়ে তিনি অন্যান্য নবীর চেয়ে আলাদা বৈশিষ্ট্যের অধিকারী। অন্য নবীদের আঃ গণের নবুঅত ছিল নির্দিষ্ট গোত্রের জন্য এবং রাসূল সাঃ এর নবুঅত সারা পৃথিবীর সকল মানুষের জন্য। আর যিনি এই নবুঅতের অধিকারী তিনি অবশ্যই অন্য সকল নবীদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ।
📕 📕যদিও অনেক বক্তা তাদের বক্তৃতায় ও অনেক লেখক তাদের বই-পুস্তকে লিখে থাকে, সকল নবীকে যে জ্ঞান এবং যে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম কে একাই সকল জ্ঞান ও ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এই কথাটা আদৌ ঠিক নয়। সোলাইমান আঃ জীবজন্তুর ভাষা বোঝার এবং বাতাসকে নিয়ন্ত্রণ করার মোজেজা বা ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল। যা রাসূল সাঃ কে দেওয়া হয়নি। দাউদ আলাইহিস সালামকে লোহার ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দেওয়া হয়েছিল। তিনি লোহা ধরলেই কাদার মতো নরম হয়ে যেত এবং তা দিয়ে তিনি সবকিছু তৈরি করতে পারবেন। ঈসা আলাইহিস সালামকে মরা মানুষ জীবিত করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল। আল্লাহর হুকুমে তিনি মৃতকে জীবিত করতে পারতেন। এটাই প্রমাণিত যে সকল নবীকে সকল বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্ব দেওয়া হয়নি।
📘📕 তবে মুসলিম শরীফের এই হাদিসটি থেকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সালাম এর শ্রেষ্ঠত্ব ও নেতৃত্বের প্রমাণ পাওয়া যায়। তিনি সাঃ বলেন, “আমি নিজকে রাসূলদের জামাতের মধ্যে পেলাম। ইতিমধ্যে নামাজের সময় হয়ে গেলে আমি তাদের ইমামতি করলাম। আর এই ঘটনা ঘটেছিল মেরাজের রাত্রে বাইতুল মাকদাসে। আর এটা এজন্য ও হয়ে থাকতে পারে যে, সেখানে নবী সাল্লাল্লাহু ওয়া সাল্লাম ছিলেন কেবলমাত্র জীবিত আর সকল নবী-রাসূলগণ রুহ এর জগত থেকে এসেছিলেন। আর যৌক্তিকভাবে বলতে গেলে যিনি বর্তমানে জীবিত আছেন এবং পৃথিবীতে অবস্থান করছেন ইমামতি করার অধিকার তার বেশি।
📘📕 বুখারী ও মুসলিমের বর্ণনা অনুযায়ী রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম হাশরের দিন অর্থাৎ বিচার দিবসে সাফায়াতে কুবরা বা সবচেয়ে বড় সুপারিশকারী হবেন সকল মানুষের জন্য। এটি একটি লম্বা হাদিস। —— তিনি সাঃ মানুষকে এই বিপদজনক অবস্থা হতে মুক্ত করার জন্য আল্লাহর আরশের নীচে সিজদাবনত হবেন। আল্লাহর প্রশংসা ও গুণকীর্তন করবেন। তখন আল্লাহ তাঁকে সেজদা থেকে উঠে দোয়া করার অনুমতি দিবেন। তিনি তখন সমগ্র মানুষের হিসাব-নিকাশের জন্যে আল্লাহর কাছে সুপারিশ করবেন। আল্লাহ তাঁর দোআ এবং সুপারিশ কবুল করবেন। এটিই হল “মাক্বামে মাহমূদ” বা সুমহান মর্যাদা যা আল্লাহ তাঁকে দান করেছেন। এই দোয়াটি আমরা অনেক সময় আযানের দোয়ার সাথে পড়ে থাকি
🌳🌳চারদিকে টকটকে লাল হয়ে ফুটে আছে #রক্তচূড়া ফুল। হিন্দুরা এটাকে তাদের দেবতার সাথে মিলিয়ে কৃষ্ণচূড়া হিসাবে ডাকে। আমি এক হিন্দু মাস্টারকে, জিজ্ঞাসা করেছিলাম যে, এটাকে হিন্দুরা কেন #কৃষ্ণচূড়া ডাকে। তখন তিনি আমাকে বললেন, হিন্দুদের দেবতা এক কৃষ্ণ তাদের দেবী রাঁধা’কে ভালবাসত। তো তাদের দেবী রাঁধা যখন নদীতে গোসল করার জন্য যেত, তখন কৃষ্ণ গোপনে এই গাছের মধ্যে উঠে সেই অশ্লীল দৃশ্য দেখত। তো একদিন চারদিকে কৃষ্ণকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। রাধা তখন নদীতে গোসল করছিল মেয়েদের সাথে। আর কৃষ্ণ সেখানে বসে বসে মেয়েদের গোসল করার সেই অশ্লীল দৃশ্য অবলোকন করছিল। সবাই বলতে লাগল কৃষ্ণ কোথায় কৃষ্ণ কোথায় কারণ কৃষ্ণকে পাওয়া যাচ্ছিল না। একজন দেখে ফেলল এবং বলল কৃষ্ণ হল গাছের চূড়ায়। সেই থেকে এই গাছের নাম হয়ে গেল কৃষ্ণচূড়া। এটা হল এই কৃষ্ণচূড়ার রাতের নাম হওয়ার আসল রহস্য এবং হিন্দুদের কাছে এই কৃষ্ণচূড়া গাছ এই জন্য খুবই প্রিয়। এটা হলো ঐ শিক্ষকের বর্ণনা তবে আরো বিভিন্ন প্রকার বর্ণনা পাওয়া যায়। কোনটি সত্য কোনটি মিথ্যা তা বলা বড়ই দুষ্কর। তবে সবগুলি যে মিথ্যা এটা শতভাগ নিশ্চিত, কেননা এই বৃক্ষ ভারতবর্ষের নয় বরং এটির আদি জন্মস্থান আফ্রিকার #মাদাগাস্কারে।
মুসলিম যারা জানে, সবাই এটিকে #রক্তচূড়া গাছ হিসেবে জানে। সে যাই হোক, গাছ তো গাছই। গাছ সকলের জন্য আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন। এবং গাছ সৌন্দর্য এবং প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা করে এবং গাছ মানুষের উপকার করে থাকে। আমাদের কাজ হলো গাছের যত্ন করে প্রাকৃতির ভারসাম্য রক্ষা করা এবং বিনা কারণে গাছ নষ্ট না করা আর যতটুকু সম্ভব গাছ লাগানো। তাছাড়া শেষ নবী রাসূল সাঃ বলেছেন যে আগামীকাল কেয়ামত হয়ে যাবে তথাপিও একটি গাছ লাগাও। রাসূল সাল্লাল্লাহু সালাম আরো বলেছেন গাছ তো দূরের কথা বিনা কারণে গাছের একটি পাতাও ছেড়ো না। কেননা গাছের পাতা গুলো তাঁর স্রষ্টার অর্থাৎ আল্লাহ পাকের জিকির করে। তবে প্রয়োজন হলে গাছটি কাটতে পারো কিন্তু বিনা কারণে গাছের পাতা ছিঁড়তে নিষেধ করা হয়েছে।
🌳🌳 এবার আসুন জেনে নেয়া যাক এই রক্তচূড়া অথবা কৃষ্ণচূড়া গাছের সম্পর্কে কিছু তথ্য। অত্যন্ত দৃষ্টি নন্দন এবং প্রচন্ড গরম ও বিশ্বের মধ্যে ফুটে থেকে মানুষের মনোরঞ্জন করা এই ফুলটির প্রকৃত নাম হলো, #গুলমোহর, তাছাড়া রক্তচূড়া, কৃষ্ণচূড়া ইত্যাদি নামেও ডাকা হয় আমাদের ভারতীয় উপমহাদেশে। ইংরেজি নাম হল রয়্যাল পৈন্সিয়ানা, ফ্ল্যাম্বোয়ান্ট, ফ্লেম ট্রি, পিকক ফালুয়ার । তাছাড়া পৃথিবীর সকল উদ্ভিদ এবং প্রাণীর শ্রেণীবিন্যাস করার জন্য এবং তাদের দিয়ে গবেষণা করার জন্য বিজ্ঞানীরা প্রত্যেকটি উদ্ভিদ এবং প্রাণীর সব দেশে একই নামে চেনার জন্য একটি কমন নাম দিয়ে থাকেন আর সাথে গিয়ে বৈজ্ঞানিক নাম বলা হয়। আর পৃথিবীর সকল উদ্ভিদ এবং প্রাণীর বৈজ্ঞানিক নাম বিপদ অর্থাৎ দুইটি পদ বিশিষ্ট। এই গুলমোহর বা রক্তচূড়ার বৈজ্ঞানিক নাম “ডেলোনিক্স রেজিয়া”!
🌳🌳 আমাদের এই প্রাকৃতিক গ্রীষ্মের খরতাপে যখন প্রখর রৌদ্রে পুড়তে থাকে, ঠিক তখনই প্রকৃতিকে রাঙিয়ে দিতে, মানুষের মনে রং লাগাতে ও নতুন আশা জাগাতে নিজের সবটুকু রং ছড়িয়ে আনন্দ দিতে শুরু করে এই গুলমোহর বা রক্তচড়া ফুল। পত্রের প্রচন্ড খরতাপের পর ধরণী ফিরে পায় প্রাণ। বসন্ত মূলত বসন্ত এবং গ্রীষ্ম এই দুইটি ঋতু রঙিন করে রাখে এই রক্তচড়া ফুল। গ্রীষ্মের নীল আকাশের পটে দিগন্তে যেন আগুন জ্বলে ওঠে এই কৃষ্ণচূড়া ও পলাশ ফুলের আভায়। বনের ধারে ও রাস্তার আশেপাশে কিংবা মানুষের বাড়ির আঙিনায় টকটকে লাল এই ফুল অনেকের মনে অনেক প্রকার স্মৃতি হয়ে জেগে থাকে আজীবন। কারো কাছে বিপ্লবের স্মৃতি, কারো কাছে ভালোবাসার স্মৃতি হিসেবে। শুধুমাত্র আনন্দানুভূতির সঙ্গেই নয়, বরং এই ফুলটি জড়িয়ে গেছে আমাদের স্বাভাবিক জীবনাচার ও চেতনার সাথে। সাহিত্য গদ্য কবিতায় তো আছেই প্রত্যেকটি মানুষের হৃদয়ে বিভিন্নভাবে জড়িয়ে আছে এই ফুলের স্মৃতি। রক্তচড়া ফুলটিকে কেউ এখন আর বিদেশি ফুল মনে করে না বরং এটি আমাদের দেশের পরিবেশ প্রকৃতি এবং সংস্কৃতির সাথে পুরোপুরি ভাবে মিশে গেছে।। বৃহৎ আকৃতির এই ফুলগাছটি বর্তমানে আমাদের দেশে সব জায়গায় পাওয়া যায় এবং যেকোনো নার্সারিতে এর চারা 5 থেকে 10 টাকায় পাওয়া যায়। তাছাড়া বীজ পড়ে এমনিতেই জন্মে থাকে অনেক জায়গায়। মূলত এটির আদি নিবাস কিন্তু সুদূর আফ্রিকা মহাদেশের মাদাগাস্কার দ্বীপ রাষ্ট্রে। গুলমোহর বা রক্তচূড়া মাদাগাস্কারের শুষ্ক পত্রপতনশীল বৃক্ষের জঙ্গলে পাওয়া যায়। আনুমানিক ১৮২৪ খ্রিস্টাব্দে সেখান থেকে প্রথম মরিশাস, পরে ইংল্যান্ড এবং অবশেষে মূলত ইংরেজদের দ্বারাই দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এটির বিস্তার ঘটে। বর্তমানে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, নেপাল, শ্রীলংকা,ভারত, মালদ্বীপ, মিয়ানমার হংকং, তাইওয়ান, দক্ষিণ চীন, ক্যারাবিয়ান অঞ্চল, আফ্রিকা, সহ বিশ্বের অনেক দেশেই এটি জন্মায়। উত্তর গোলার্ধের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রক্তচূড়া শুধু মাত্র দক্ষিণ ফ্লোরিডা, দক্ষিণ পশ্চিম ফ্লোরিডা, টেক্সাসের রিও গ্রান্ড উপত্যকায় পাওয়া যায়। 🌳🌳ডেলোনিক্স রেজিয়া হল এই কৃষ্ণচূড়া বা রক্তচড়ার সাইন্টিফিক নেম বা বৈজ্ঞানিক নাম।আসলে ড্যালোনিক্স একটি গ্রিক শব্দ, যার অর্থ হল – দৃশ্যমান থাবার বা চোখের সামনে থাকার মতো। সম্ভবত এই ফুলের পাপড়ির বৈশিষ্ট্যেই নামটি অর্থবহ। ‘রিজিয়া’ অর্থ রাজকীয়। নামের এ অংশে রক্তচূড়া’র ঐশ্বর্য বা আভিজাত্য।
এই কৃষ্ণচূড়া বা রক্তচড়ার গাছটি মাঝারি আকৃতির শাখা-প্রশাখাবিশিষ্ট ছাতা কৃতির । বিজ্ঞানের বাসায় এটি পর্ণমোচী জাতীয় উদ্ভিদ। রক্তচূড়া গাছ উচ্চতায় ৭ থেকে ১২,১৩ মিটার বা ৪৫ থেকে ৫০ ফুট পর্যন্ত উঁচু হতে দেখা যায়। শাখা প্রশাখায় এটি অনেক দূর পর্যন্ত ছড়ায়। শাখা প্রশাখার অগ্রভাগ নিম্নমুখি এবং নরম প্রকৃতির ও অল্প বাতাসেই অনেক সময় ভেঙে যেতে দেখা যায়। ঝড়ে এ বৃক্ষের বেশ ক্ষতি হয় সবচেয়ে বেশি। ঝড় বৃষ্টিতে অন্যান্য গাছের ডাল একটিও না ভাঙলে এই রক্তচড়া গাছের ডাল দুই একটি ভাঙবেই।। এ গাছের কান্ডের রং কিছুটা ধুসর বর্ণের হয়ে থাকে। এই গাছের ফুলের রং ও পাতার সৌন্দর্য শুধু মানুষের মনকে আকৃষ্ট করে এমন নয় এটি সৌন্দর্য বর্ধনের পাশাপাশি এই গাছ উষ্ণ আবহাওয়া অঞ্চলে ছায়া দিতে বিশেষভাবে উপযুক্ত। আর এজন্যই মরুভূমির দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাস্তাঘাট গুলোতে এবং বাড়ির আঙিনার আশেপাশে ব্যাপক হারে এই রক্তচূড়া গাছ লাগাতে দেখা যায়। রক্তচূড়ার জন্মানোর জন্য উষ্ণ বা প্রায়-উষ্ণ আবহাওয়ার দরকার। এই বৃক্ষ শুষ্ক ও লবণাক্ত অবস্থা সহ্য করতে পারে। তাই এটি এখন বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ও বর্তমান পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর শহর দুবাইয়ের প্রধান বৃক্ষ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে এবং ব্যাপক সমাদর পেয়েছে।
শুধু ফুল নয়, পাতার সৌন্দর্যেও এই গুলমোহর বা রক্তচড়া অনন্য। এর পাতার কচি ও সবুজ রঙ এবং সূক্ষ্ম কারুকর্ম বিন্যাস খুবই আকর্ষণীয়। পৃথিবীর সব দেশের বাচ্চাদের খেলাধুলার একটি মুখ্য উপাদান এই গাছের পাতা ও ফুল। আমি Mahabubur Rahman নিজেও ছোটবেলায় এই গাছের পাতা ছিড়ে মুখের মধ্যে বোলাতাম এবং সুড়সুড়ি এক অনুভূতি সৃষ্টি হতো। মনে হলে এখনো হাসি পায়। এ গাছে পাতা নিবিড় ভাবে বিন্যস্ত নেই, অর্থাৎ আম পাতা জাম পাতা যেভাবে নিবিড়ভাবে একটার সাথে আরেকটা লেগে থাকে তেমন নয়,তবু রৌদ্র প্রতিরোধে সক্ষম এই গাছের পাতা। রক্তচূড়া জটিল পত্রবিশিষ্ট এবং উজ্জ্বল সবুজ। বিজ্ঞানের বর্ণনায়, পাতা দ্বিপক্ষল, ৩০-৬০ সে মি পর্যন্ত লম্বা, ২০-৪০ টি উপপত্র বিশিষ্ট। পাতাগুলো ক্ষুদ্র বা ছোট, ১ সেন্টিমিটার পর্যন্ত লম্বা হতে দেখা যায়। আমাদের কালীগঞ্জ – গাজীপুর । এ ও পুরো দেশে শীত গ্রীষ্মে কৃষ্ণচূড়ার পাতা ঝরে যায় অনেকটাই। আর আমাদের দেশে এটি ফেব্রিক এর নিয়ম। কিন্তু পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন সময় এটির পাতা ঝরে এবং ফুল ফোটে। পৃথিবীর সব দেশে একই সময়ে এটি ফুল ফোটে না এবং পাতাও ঝরে না। মূলত গাছটি পত্রপতনশীল বৃক্ষের অন্তর্ভুক্ত। যখন ফুলফুটে তখন খুবই অল্প পাতা থাকে এবং, প্রায় পত্রহীন গাছে গাছে বড় বড় থোকায় থোকায় ভরে যায় রক্তের মত রং টকটকে লাল রক্তচূড়া ফুল। তখন এই লাল ফুল গুলোর মাঝে অল্প সবুজ পাতাগুলো একেবারে দেখাই যায় না। লাল ফুলের মাঝে পাতাগুলো মিলিয়ে যায়। অতি শুষ্ক অঞ্চলে গ্রীষ্মকালে কৃষ্ণচূড়ার পাতা ঝরে গেলেও, নাতিষীতোষ্ণ অঞ্চলে এটি বলতে গেলে চিরহরিৎ অর্থাৎ চিরসবুজ।
এখন গ্রীষ্মকাল চলছে। আমি এখন সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই শহরতলীর একটি কৃষ্ণচূড়া বা রক্তচড়া গাছের নিচে বসে এই প্রবন্ধ লিখছি। এই গাছটিতে এখন প্রচুর ফুল এবং প্রচুর পাতা দেখা যাচ্ছে। দুবাই শহরে এখন প্রায় বৃষ্টিপাত হয় আর তাছাড়া তারা গাছের প্রচুর যত্ন নিয়ে থাকে। ফলো গাছগু প্রায়ই সবুজ থাকে। গ্রীষ্মের আকাশের নিচে প্রচণ্ড তাপ ও রুক্ষতায় এই গুলমোহর গাছের আশ্চর্য দৃষ্টিনন্দন লাল প্রস্ফুটনের কোন তুলনা হয় না । এই গাছের পাতা ও ফুলের সৌন্দর্য যে কোন পথিককে একবার হলেও তার দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করার আহ্বান জানায়।। অনেক সময় পাতাহীন শাখায় মুকুল ধরার অল্প দিনের মধ্যেই সারা গাছ ফুলে ফুলে ভরে যায়। এত উজ্জ্বল রঙ, এত অক্লান্ত প্রস্ফুটন তরুরাজ্যে বেশ দুর্লভ ই বলা চলে। কৃষ্ণচূড়া ফুলের রং সাধারনত উজ্জ্বল লাল। কিন্তু কৃষ্ণচূড়ার প্রজাতিভেদে ফুল কখন লাল, কখন কমলা বা কখন হলুদ হয়ে থাকে। … দক্ষিণ এশিয়াতে সাধারণত বসন্ত কালে কৃষ্ণচূড়া ফুল ফোটে এবং তার রেশ চলতে থাকে বর্ষার শেষ পর্যন্ত। কিন্তু পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে রক্তচূড়ার ফুল ফোটার সময় বিভিন্ন। উদ্ভিদ বিজ্ঞানের তথ্য মতে, রক্তচূড়ার প্রস্ফুটিত ফুলের ব্যাস ২ থেকে ৩ ইঞ্চি। বৃতির বহিরাংশ সবুজ। ভেতরের অংশ রক্তিম। বৃত্যাংশের সংখ্যা ৫টি। কৃষ্ণচূড়ার ফুলগুলো ৫টি পাপড়িযুক্ত। ৫ পাপড়ির একটি বড় ও তাতে হলুদ বা সাদা দাগ। পাপড়ি প্রায় ৮ সেন্টিমিটারের মতো লম্বা হয়ে থাকে। ভেতরে একটি হলুদ গর্ভকেশরকে ঘিরে থাকে ১০টি গাঢ় লাল পুংকেশর।
🌳🌳সত্যিকারের সৌন্দর্য কৃষ্ণচূড়ার ফুলের কাছে গেলে কিছুটা হলেও উপলব্ধি করা সম্ভব। কে জানত যে দেখতে লাল লাল কৃষ্ণচূড়ার পাপড়ির উপরেও প্রকৃতি পরম মমতায় কি সুন্দর নকশা করে রেখেছে! এক অলস বিকেলে হয়তো কোনো পথিক তুলে নেবে, দেখবে, মুগ্ধ হবে – এই তার পরম তৃপ্তি, এই সামান্য মুদ্ধতার জন্য প্রকৃতির কত না অসামান্য আয়োজন! … কৃষ্ণচূড়ার ফুল ফোটার আগে কলি দেখতে মোহরের মতো দেখায় তাই হিন্দিতে এই ফুলকে বলা হয় গুলমোহর।
🌳🌳 উদ্ভিদ বিজ্ঞানের ক্লাসিফিকেশন অনুযায়ী কৃষ্ণচূড়া বা রক্তচূড়া শিম জাতীয় উদ্ভিদের গোত্রভুক্ত, তাই ফলের সঙ্গে চ্যাপ্টা শিমের সাদৃশ্য স্পষ্ট। অবশ্য ফলগুলি আকারে শিমের চেয়ে বহুগুণ বড়, ৪০-৬০ সে মি লম্বা এবং ৫ সে মি চওড়া। কৃষ্ণচূড়ার কচি ফলগুলি সবুজ, তাই পাতার ভিড়ে সহজে দেখা যায় না। শীতের হাওয়ায় পাতা ঝরে গেলেই ফল চোখে পড়ে। পাকা ফল গাঢ় ধূসর ও কাষ্ঠকঠিন। প্রতিটি ফলে প্রায় ১৫-৫০টি ২ সে মি লম্বা বাদামী রঙের বীজ থাকে। নিষ্পত্র রক্তচূড়ার শাখায় যখন ফল ছাড়া আর কিছুই থাকে না তখন তাকে সৌন্দর্যহীন দেখায়। বসন্ত শেষে রক্তচূড়ার দিন ফেরে, একে একে ফিরে আসে পাতার সবুজ, প্রস্ফুটনের বহুবর্ণ দীপ্তি, নিঃশব্দে ঝরে পড়ে বিবর্ণ কালো রঙের লম্বা লম্বা ফলগুলি। রক্তচূড়া আবার দৃষ্টিনন্দন হয়ে ওঠে। এই এই গুলমোহর বা কৃষ্ণচূড়া ফুল নিয়ে কোন এক কবি লিখেছেন– “গুলমোহরের ফুল ঝরে যায় বনে বনে শাখায় শাখায়। কেন যায় কেন যায় বাহারের মন ভেঙ্গে যায়”
🌳🌳অর্থনৈতিক দিক থেকে এ গাছ তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয়। তবে এ গাছ দ্রুত বর্ধনশীল হওয়ায় জ্বালানী কাঠ হিসেবেই অধিক ব্যবহূত হয়। এছাড়াও ছায়াপ্রদানকারী গাছ হিসেবে ও শোভাবর্ধনকারী গাছ হিসেবে এর বহুল ব্যবহার রয়েছে। এর বীজ থেকে প্রাপ্ত আঠা ওষুধ শিল্পে বাইন্ডার রূপে ব্যবহার করা হয়। ফল থেকে নানাপ্রকার শৌখিন দ্রব্য প্রস্তুত হয়। বীজ গয়না শিল্পে ব্যবহার করা হয়ে থাকে।
🌳🌳এই রক্তচূড়া’কে নিয়ে অনেকে অনেক গান কবিতা লিখেছেন। যেমন একটি গানে আছে– রক্তচূড়ার ডালে ডালে দোয়েল কোয়েল ডাকে। কেউ যেন কয় চল চলে যাই অন্য কোন বাঁকে। পাখির মত দূর অজানায় হারিয়ে যাওয়ার কাল গুনি, কাল গুনি….. কোথাও যেন হারিয়ে যাবার ডাক শুনি……।
তাছাড়া এই বৃক্ষের ফুলকে নিয়ে অনেক গান রচিত হয়েছে। এর মধ্যে একটি হলো ভারতের বিখ্যাত গায়ক মান্না দে’র— এই সেই কৃষ্ণচূড়া, যার তলে দাঁড়িয়ে হাতে হাত…. এবং আরো একটি গান হল— রক্তজবা হাসে .. পদ্ম-শাপলা হাসে, পলাশের রং লাগে কৃষ্ণচূড়ার গায় সাড়িবাঁধে সুখ পাখি আমি শুধু বসে থাকি…..
আবার অনেকেই হিন্দু দেবতা শ্রীকৃষ্ণের চুল বাধার ধরনের মত এই গাছের ফুলের ধরন মনে করে থাকে আর এই জন্য এই গাছটির নাম রেখেছে কৃষ্ণচূড়া!!! অথবা সেখান থেকেই হয়ত হিন্দু ধর্মের লোকেরা কৃষ্ণচূড়া নামকরন করে থাকতে পারেন। যদিও যে যুগে কৃষ্ণের অস্তিত্ব ছিল, সেই যুগে কিন্তু মাদাগাস্কার থেকে কৃষ্ণচূড়া ভারতীয় উপমহাদেশে এসে পৌঁছয়েইনি । কারণ ১৮২৪ খ্রিস্টাব্দের পূর্বে কৃষ্ণচূড়া বিশ্ববিজয় শুরু হয়নি। এটি ভারতীয় উপমহাদেশে নিয়ে এসেছে ইংরেজরা, তাও ইংল্যান্ড থেকে। যদিও হিন্দুদের ৩৩ কোটি দেবদেবীর কোন দেবতার পুজোতেই কিন্তু কৃষ্ণচূড়া ফুলের ব্যবহার হয় বলে জানা নেই কারণ ফুলটির আদিনিবাস যে ভারতবর্ষ নয় তা ইতিমধ্যে প্রমাণিত এবং সকলেই জানে।। অতএব এই কৃষ্ণের সাথে পরবর্তী সময়ে এই কৃষ্ণচূড়ার নাম মিলিয়ে রাখাটা কেউ হয়তো তাদের ইচ্ছেমতো করে থাকতে পারে।। যখন কৃষ্ণ ছিলেন তখন এই গাছের অস্তিত্ব আমাদের অজানা ছিল। সুতরাং কৃষ্ণের সাথে এই গাছের কোন যোগসূত্র থাকার কথা না। পরে একসময় ভারতে এই গাছ এসে পৌঁছালো ইংরেজদের হাত ধরে। দাঁত ভাঙা নাম ডেলোনিক্স রেজিয়াকে ভারতীয়রা নামকরণ করা হলো কৃষ্ণচূড়া এবং রক্তচড়া অথবা গুলমোহর ।
ধন্যবাদ সবাইকে। আল্লাহর অশেষ রহমতে সকলেই ভাল থাকবেন। বেশি করে গাছ লাগান এবং পরিবেশ সংরক্ষণ এগিয়ে আসুন। দুর্ভিত্তরা গাছ কেটে কেটে আমাদের দেশকে গাছ শূন্য করে ফেলেছে। যে কোন গাছ লাগান বিশেষ করে দেশি ফলস এবং ঔষধি গাছগুলো। আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ। mahabuburrahman1720@gmail.com
👉👉 ভাটিরা গ্রামের আহাম্মদ মিয়ার (ছদ্মনাম) ৬ বছরের শিশু পুত্র তানভীর, মুখে রুচি নেই,দিন দিন শক্তিহীন এবং নির্জীভ হয়ে যাচ্ছে। ব্যস ডাক্তারকে দেখানো ছাড়া এবং ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়াই ধরে নেওয়া হল জন্ডিস হয়েছে। ফুফুর পরামর্শে কোন পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই কিশোর মা বাচ্চা তানভীরকে নিয়ে গেলেন আমাদের কালীগঞ্জ – গাজীপুর । এর জাঙ্গালিয়া গ্রামের জনৈক কথিত কবিরাজ মহিলার কাছে। একেবারে অব্যর্থ এবং বহু পরীক্ষিত জন্ডিস চিকিৎসার নামে তিনি শুকনো চিকন গাছের ডালের “#মালা_পড়া” দিলেন শিশুটির মাথার উপর। একই সাথে দিলেন পাশের কথিত মাযারের এক বোতল “পড়া পানি” ।
এ পানি একুশ দিন পান করবে আর গোসল করাবে।সাথে কিছু ঝাড়-ফুঁকও দিলেন। দিলেন কাইতান নামক একপ্রকার কালো সুতা পড়া। এ চিকিৎসা বাবদ মহিলা ১০১ টাকা ফি নিলেন। অজ্ঞ সমাজে জনশ্রুতি রয়েছে মাথার উপরে দেয়া পড়া মালাটি আস্তে আস্তে বড় হয়ে শরীর বেয়ে পা হয়ে নেমে যাবে, আর সাথে সাথে এই মালা শরীরের সকল জন্ডিস বের করে নিয়ে আসবে ,আর জন্ডিস ভাল হয়ে যাবে। এমন বিশ্বাস নিয়েই বিজ্ঞানের যুগে গ্রামে-গঞ্জে অহরহ এখনো এমন অপচিকিৎসা চোখে পড়ে।
👉👉চিকিৎসা বিজ্ঞান মতে জন্ডিস একটি লিভার অর্থাৎ কলিজার রোগ। জন্ডিসের আক্রান্ত রোগীর মূলতঃ লিভার সেল নষ্ট হওয়ায় রক্তে পিত্তরস ছড়িয়ে পড়ে। যার ফলে সাধারণতঃ ক্ষুধামন্দা,শারীরিক দূর্বলতা সহ প্রস্রাবের রং হলুদ,চোখের সাদা অংশ হলুদ রং প্রকাশ পেয়ে থাকে। এ অবস্থায় রোগীকে হাসপাতালে কিংবা সরকারি অনুমোদিত চিকিৎসকের কাছে নেয়া উত্তম। জন্ডিস সন্দেহ হলে চিকিৎসকের পরামর্শে কিছু পরীক্ষার প্রয়োজন হতে পারে। এ ব্যাপারে ল্যাব টেকনিশিয়ানগণ বলেন, জন্ডিস সন্দেহ হলে একজন চিকিৎসকের কাছে (ন্যুনতম এমবিবিএস) গেলে তিনি প্রয়োজনীয় কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা দিয়ে থাকেন। যেমন সহজ কথায় রক্তে জন্ডিসের পরিমাণ জানতে #সিরামবিলিরুবিন” ছাড়াও #হেপাটাইটিসবি এর পরীক্ষা(এইচ বি এস-এজি), প্রস্রাবের রুটিন পরীক্ষার প্রয়োজন হয়ে থাকে। এসব ছাড়াও আনুষাঙ্গিক আরো কিছু পরীক্ষাও লাগতে পারে। এমনও দেখা গেছে আদৌ জন্ডিস হয়নি,অথচ রোগীকে তথাকথিত মালা পড়া,পানি পড়া,নানা গাছ-গাছড়ার ছাল খায়ানো হয়ে থাকে। পরবর্তীতে দেখা গেলো তার কোন জন্ডিস হয়নি। অনেক কবিরাজ চুন-পানি দ্বারা জন্ডিসের রোগীর হাত ধুয়ে হলুদ পানি বের করে জন্ডিস বের করার দাবী করে থাকে এবং এর বিনিময়ে অনেক টাকা পয়সা নিয়ে থাকে। আর জন্ডিসে আক্রান্ত রোগী আস্তে আস্তে অবনতি হতে থাকে। এতে অনেক ক্ষেত্রেই ভূল ধারণা জন্মে রোগীর অভিভাবকদের মনে। মূলত জন্ডিস রোগ ধরা পড়া অর্থাৎ নির্ণয় করার পর এই রোগের চিকিৎিসায় তেমন ঔষধের প্রয়োজন হয়না। তবে শরীর যদি অনেক দুর্বল হয়ে যায় কিংবা অন্যান্য রোগ সাথে আসে তাহলে ঐ সমস্ত রোগের ঔষধ দিতে হয় এবং কিছু পথ দেওয়া হয় রোগীকে শারীরিক দুর্বলতা কাটিয়ে উঠার জন্য। তেমন কোন ঔষধ নেই। পরিপূর্ণ বিশ্রামই এ রোগের মূল চিকিৎসা। এমনকি গল্প গুজব করা মোবাইল চ্যাটিং করা কিংবা বই পুস্তক পড়াও নিষেধ করেন ডাক্তারগণ। আর এভাবে বিশ্রাম নেওয়া এবং বিশুদ্ধ পানি পান করা ও অর্গানিক ও ফ্রেশ খাবার গ্রহণ করার পর,২/ ৩ সপ্তাহ এর মধ্যে এমনিতেই রক্তে বিলিরুবিনের মাত্রা কমে যাবে, এবং রোগী সুস্থ হয়ে যাবে। অজ্ঞ ও ভূল বিশ্বাসে এ রোগের চিকিৎসায় তথাকথিত মালা পড়া,পানি পড়া সবই অপচিকিৎসা। মূলত জন্ডিসের রুবিকে তথাকথিত এই কবিরাজ গুলো যে মালা দেয়, এই মালা একজন যেকোনো সুস্থ মানুষকে দিলেও একই ভাবে মাথা থেকে পায়ের কাজ দিয়ে বের হয়ে আসবে। এই মালা মূলত কিছু গাছের কাঁচা ডাল দিয়ে গাথা হয় এবং কায়দা করে কিছু গিরা দেওয়া হয়, যাতে আস্তে আস্তে শুকিয়ে গেলে মালাটা বড় হতে থাকে। এখানে বিরাট এক ফাঁকিবাজীর ব্যাপার রয়েছে।
🍲🍲 অনেক সময় লক্ষ্য করলে দেখা যায়, মানুষ দাওয়াত কিংবা কোনো অনুষ্ঠানে খাবারের ভালো-মন্দ, স্বাদ-বিস্বাদ ইত্যাদি বিচার করে থাকে। কিছু খাবারকে তারা উত্তম বলে, আবার অনেক সময় ভালো হয়নি বলে অনীহা প্রকাশ করে, নাক সিটকায় ও বিভিন্ন মন্তব্য করে। 🍲🍲 আমাদের দেশে এমন বহু লোক আছে যারা বিভিন্ন বাড়িতে দাওয়াত খেয়ে এসে খাবারের দোষ ত্রুটি বর্ণনা করতে থাকে। মূলত যারা দাওয়াত খেয়ে এসে খাবারের দোষ ত্রুটি বর্ণনা করে তারা হলো পৃথিবীতে অন্যতম খারাপ লোক গুলোর মধ্যে একটি দল। প্রথমতঃ খাবারের দোষ ত্রুটি অন্বেষণ করা এবং তা বর্ণনা করা ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। দ্বিতীয়তঃ যে ব্যক্তি দাওয়াত করে খাবারের আয়োজন করে তারা কখনোই চায়না দাওয়াতি মেহমানদেরকে কোন প্রকার ত্রুটিযুক্ত, স্বাদহীন খাবার পরিবেশন করতে।। 🍲🍲 আমি ব্যক্তিগতভাবে আমার আত্মীয়-স্বজন এবং পরিচিত বন্ধুবান্ধব অনেককেই দেখেছি তারা বিভিন্ন বাড়িতে দাওয়াত খেয়ে এসে সেই খাবারের দোষ ত্রুটি ইত্যাদি নিজেরা এবং অন্যান্য লোকদের কাছে বর্ণনা করেন। কখনো তারা এমনও বলতে শুনেছি, “ভালো খাবারের আয়োজন করতে না পারলে মানুষকে দাওয়াত দেওয়ার কি দরকার ছিল”। অথবা কখনো তারা খাবার স্বাদহীন হওয়ার জন্য , অর্থাৎ নিজের রুচিসম্মত না হওয়ার জন্য বাবুর্চি কে দোষারোপ করে থাকে। মাংস সিদ্ধ হয়নি, অথবা অতিরিক্ত ঝাল দেওয়া হয়েছে, কিংবা লবণ বেশি দেওয়া হয়েছে। অথবা মাংস গুলি ভালো না বরং চর্বিযুক্ত। এমন বিভিন্ন দোষ ত্রুটি বের করে তারা বর্ণনা করে। 👉 মূলতঃ যিনি দাওয়াত করে খাবারের আয়োজন করেন তিনি কখনোই চান না দাওয়াতি মেহমানদেরকে কোন প্রকার খারাপ বা বাজে খাবার পরিবেশন করতে। তাছাড়া আমাদের দেশে বিশেষ করে বিয়ে শাদি ইত্যাদি অনুষ্ঠানে একজন অভিভাবক বহু কষ্ট করে এবং বহুদিনের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করে তিনি একটি মোটামুটি খাবারের আয়োজন করেন আত্মীয়-স্বজন বন্ধু-বান্ধব ও গ্রামের লোককে দাওয়াত করে। এরমধ্যে আমাদের দেশের অনেক লোক ধার কর্য এমনকি সুদে টাকা নিয়ে পর্যন্ত মেহমানদারীর আয়োজন করেন এমন বহু প্রমাণ প্রত্যেক গ্রামে প্রত্যেক মহল্লায় আছে। অনেকে সামর্থ্য না থাকা সত্ত্বেও মান সম্মান রক্ষার জন্য কিংবা মেয়ের শ্বশুর বাড়ির আবদার রক্ষার জন্য হলেও জমি বন্ধক দিয়ে পর্যন্ত খাবারের আয়োজন করতে দেখা যায়। এখানে, যিনি এত কষ্ট করে এবং এত ত্যাগ স্বীকার করে , খাবারের আয়োজন করলেন আপনার জন্য তিনি কি আপনাকে খারাপ খাবার উপহার দেওয়ার জন্য করেছেন?? দয়া করে আপনি একটু নিজের অবস্থান থেকে বিষয়গুলো বিবেচনা করুন। 👉 দাওয়াতি মেহমানের খাবারের ব্যাপারে দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন একজন বাবুর্চি বা পাকসী। বিশ্বাস করুন আর নাই করুন যিনি খাদ্য তৈরি করেন তিনি কখনোই খাবার রান্না করা খারাপ হোক এটি কিছুতেই চাইবেন না। যদি তিনি একেবারে কাঁচা পাকসী ও হয়ে থাকেন, তথাপিও চাইবেন না যে, তার রান্না করা খাবার খারাপ হোক। নিজের উপর কোন প্রকার দুর্নাম কেউ নিতে চাইবে না।
অপরদিকে বাবুর্চি বা আকসি যদি প্রফেশনাল হয় অর্থাৎ কোন ডেকোরেশন কোম্পানির হয়, তাহলে তো তাকে দিয়ে আপনি কিছুতেই খারাপ খাবার বানাতে পারবেন না। এবং তাকে ঘুষ দিয়েও আপনি খারাপ খাবার তৈরি করাতে পারবেন না । কেননা খাবার বানানো তার পেশা এবং খাবার যদি কোন প্রকারের খারাপ হয় তাহলে তার বদনাম হয়ে যাবে। এবং তার ভবিষ্যৎ পেশার উপর এক বিরাট হুমকিস্বরূপ টা দেখা দেবে। কোনভাবেই একজন পেশাদার বাবুর্চি তার নিজের পেশার উপর এমন ঝুঁকি নেবেন না। তবে হ্যাঁ, কোন প্রকারে অথবা অসাবধানতাবশত খাবার খারাপ হয়ে গেলে সেটি ভিন্ন কথা। এবং সে ক্ষেত্রেও কোনোভাবেই কোন ভদ্রলোক খাবারের দোষ ত্রুটি খুঁজে বেড়ায় না এবং বর্ণনা করে না।।
🍲🍲 খাবারের দোষ ত্রুটি তালাশ করা এবং তা বর্ণনা করা যেমন সামাজিকভাবে একটি বদভ্যাস তদ্রূপ ইসলামের রয়েছে এর সুন্দর ও যুক্তিপূর্ণ সমাধান। বিশ্বনবী রাসূলুল্লাহ সাঃ নিকট থেকে আমাদের জন্য রয়েছে রয়েছে সুস্পষ্ট নীতি ও সুন্নাত । হাদিসে এসেছে- 👉আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কখনো কোনো খাবারকে খারাপ বলেননি। তাঁর নীতি ছিলো, কোনো খাবার জিনিস পছন্দ হলে তা তিনি খেয়ে নিতেন আর অপছন্দ হলে তা খাওয়া থেকে বিরত থাকতেন।—হাদিসটি মুসলিমে এসেছে।
👉আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে অন্য বর্ণনায় এসেছে, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে কখনো কোনো খাবার জিনিসকে খারাপ বলতে দেখিনি। তার নীতি ছিল, কোনো খাবার পছন্দ হলে তিনি খেতেন। আর তা খেতে আগ্রহ না হলে তা তিনি খেতেন না।—মুসলিম! আর উপরোক্ত আলোচনা এবং সামাজিক ও ইসলামিক রীতির ভিত্তিতে কোনো মুমিন ব্যক্তির উচিত নয় যে, কোনো খাবারের ব্যাপারে ভালো-মন্দ দোষারোপ করা। আর তা করলে খাবারের সুন্নাতের পরিপন্থী কাজ হিসেবে বিচেচিত হয়।
তাছাড়া যে খাবার মাত্র ছয় ঘন্টার মধ্যে হজম হয়ে তা টয়লেটে নিক্ষেপের উপযুক্ত হয়ে যায়, এই ক্ষণস্থায়ী জিনিসকে নিয়ে যারা বেহুদা বা অনর্থক মন্তব্য করে তারা আদৌ কোন ভদ্রলোক নয়।
না|স্তিক এক্টিভিস্ট আসাদ নুর সম্প্রতি ইসলামের বিরুদ্ধে এই অভিযোগটি করেছেন। . ■ অভিযোগঃ পাখি বা বিমান যেটিই আকাশে উড়ুক তাদের ডানা প্রয়োজন হয় বায়ুমণ্ডলের জন্য। বায়ু ব্যতিত ডানার প্রয়োজন নেই। মহাশুন্যে কোনো বায়ু নেই, অথচ ইসলাম দাবি করে ফেরেশতাদের অনেক সংখ্যক ডানা রয়েছে, এমনকি ফেরেশতা জিব্রাঈলের(আ.) নাকি ৬০০ ডানা রয়েছে। এই ডানার আবশ্যকতা কী, যেখানে মহাশুন্যে কোনো বায়ু নেই? . ■ জবাবঃ ইসলামে ফেরেশতাদেরকে বস্তুজগতের অন্যান্য সাধারণ প্রাণীদের ন্যায় কিছু বলে দাবি করা হয়নি। বরং ইসলামী ধারণা অনুযায়ী ফেরেশতারা নুর বা জ্যোতির তৈরি। . আয়েশা(রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ(ﷺ) বলেছেন, “ফিরিশতাদেরকে জ্যোতি থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে। জিন জাতিকে সৃষ্টি করা হয়েছে অগ্নিশিখা হতে। আর আদমকে সৃষ্টি করা হয়েছে সেই বস্তু থেকে, যা তোমাদেরকে বর্ণনা করা হয়েছে। [অর্থাৎ মাটি থেকে]।” [মুসলিম ২৯৯৬, আহমাদ ২৪৬৬৮, ২৪৮২৬; রিয়াদুস সালেহীন ১৮৫৫] . পাখি বা কিংবা বিমান এই সব কিছুর ডানা অবশ্যই বায়ুমণ্ডলের জন্য প্রয়োজন হয়। কিন্তু যেই জিনিস জ্যোতি বা আলোর তৈরি, অবশ্যই তার ডানার সঙ্গে বায়ুমণ্ডলের কোনো সম্পর্ক থাকবে না। কেননা বায়ু হচ্ছে এক প্রকারের পদার্থ, কিন্তু আলো কোনো পদার্থ নয় বরং শক্তি। আলোর তৈরি কোনো কিছু বায়ুমণ্ডলের উপর নির্ভর করে উড়তে হবে, এই চিন্তাধারাই ভুল। এই ভুল চিন্তাধারার উপর ভিত্তি করে ইসলামবিরোধীরা অভিযোগ করে। . ফেরেশতারা বস্তুজগতের প্রাণীগুলোর ন্যায় কোনো প্রাণী নয়। আলো দ্বারা সৃষ্টি এই বিশেষ জীব মানুষের আকৃতি সহ বিভিন্ন রূপ ধারণ করতে পারে। নবী-রাসুলরা আল্লাহর সাহায্যে তাঁদের দেখতে পেতেন, সাধারণ মানুষের তাঁদের দেখার ক্ষমতা নেই। ফেরেশতাদের আসল আকৃতি সাধারণ মানুষের কল্পনার অতীত। ইসলামের দাবিমতে ফেরেশতারা এমনই ব্যতিক্রমী এক প্রকারের জীব। ইসলামবিরোধীরা ফেরেশতাদের ডানার সঙ্গে আমাদের চেনা-জানা ধরণের বিভিন্ন জিনিস যেমনঃ বিমান, পাখি ইত্যাদির ডানার বা উড়বার তুলনা দিয়ে কুরআন-হাদিস থেকে ‘বৈজ্ঞানিক ভুল’ বের করার চেষ্টা করে। কিন্তু তাদের এই প্রয়াস সঠিক নয় কেননা ফেরেশতাদের ডানা আমাদের জ্ঞাত বস্তুগুলোর ডানার মতো কিছু নয়। প্রখ্যাত ইসলামী বিদ্বান শায়খ মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল উসাইমিন(র.) উল্লেখ করেছেন, . “[ফেরেশতাদের] এই ডানাসমূহের প্রকৃতি আমাদের জানা নেই। আর এটি মহান আল্লাহর সিফাতের ক্ষেত্রে যা বলা হয়েছে এর অনুরূপ। আমরা এই সিফাতসমূহের অর্থ জানি। কিন্তু সিফাতের প্রকৃতি বা ধরণ আমাদের জানা নেই। যেমন, মহান আল্লাহর চেহারা রয়েছে। আমরা জানি চেহারা অর্থ কী। কিন্তু এর ধরণ কি আমরা জানি? জানি না। কারণ আপনার থেকে যা অদৃশ্য অবস্থায় আছে [যার ধরণ অনুধাবন আপনার সাধ্যের বাইরে], আল্লাহ সে ব্যাপারে শুধু অর্থ উল্লেখ করে সেটি বর্ণনা করেছেন। আর এর ধরণ আপনি অনুধাবন করতে পারবেন না। কেননা এটি আপনার থেকে অদৃশ্য আছে এবং এর সাথে তুলনীয় কিছু নেই। কোনো একটি জিনিসকে জানা যায় একে দেখার দ্বারা অথবা এর সমজাতীয় কোনো কিছুকে দেখার দ্বারা। অথবা এর ব্যাপারে সঠিক তথ্যের দ্বারা।” [তাফসির ইবন উসাইমিন, সুরা ফাতিরের ১ নং আয়াতের তাফসির থেকে।] . অনেক সময় বিভিন্ন স্থানে মানুষের মুখ ও পাখির ডানার মতো আকৃতি সহকারে ফেরেশতাদের বিভিন্ন ছবি অংকন করা হয়। ইসলামবিরোধীরা সেসব ছবি দেখিয়েও ইসলামকে বিদ্রুপ করার চেষ্টা করে। কিন্তু এসব ছবির সাথে ইসলামের ফেরেশতার কোনো সম্পর্ক নেই। এই ছবিগুলোর উৎস মূলত খ্রিষ্টানদের বিভিন্ন গির্জার মধ্যে থাকা ফেরেশতাদের ছবি-মূর্তি। ইসলামবিরোধীরা খ্রিষ্টীয় উৎস থেকে আসা ছবি দেখিয়ে ইসলামকে কটাক্ষ করার অপচেষ্টা চালায়। আমরা ইতিমধ্যেই আলোচনা করেছি আলোর তৈরি ফেরেশতাদের আসল আকৃতি আমাদের চেনা জানা বস্তুগুলোর মতো নয়।
👉👉 মিথ্যা এখন সত্যের পোশাক পরই সমাজে ঘুরে বেড়াচ্ছে আর সত্য লজ্জায় অন্ধ কুয়ায় আশ্রয় নিয়েছে। আমরা সব কিছু জেনে বুঝে ও মিথ্যার মায়ায় আসক্ত হই। নিচের চমৎকার গল্পটি পড়ুন আর ভাবুন…
👉👉নিন্মের ছবিটি নগ্ন। এটি Jean Leon Gerome নামক একজন চিত্রকরের পেইন্টিং। ১৮৯৬ সালে আঁকা এই ছবিটা ঊনিশ শতকের একটি লোক কথাকে ভিত্তি করে আঁকা হয়েছিলো। যার শিরোনাম ছিলো- “The truth is coming out of the well.”
👉👉গল্পটা ছিল এরকম – একবার সত্য এবং মিথ্যা পরস্পরের সঙ্গে দেখা করলো কিছু বিষয়ে মীমাংসার তাগিদে। হাঁটতে হাঁটতে তারা চলে গেলো একটা কুয়োর পাশে।
মিথ্যা বললো, দেখো, কী পরিষ্কার জল। চলো আমরা দুজনে মিলে এখানে গোসল করে নেই ।
বলাবাহুল্য সত্য বিশ্বাস করেনি মিথ্যার কথা। নিজে পরখ করে দেখলো। যখন দেখলো কুয়োর জল সত্যিই পরিষ্কার তখন মিথ্যার প্রস্তাবে রাজী হলো।
দুজনে পোশাক ছেড়ে নেমে পড়লো কুয়োর মধ্যে। গোসল করার মাঝখানে মিথ্যা কুয়ো থেকে উঠে এসে সত্যের পোশাক পরে পালিয়ে গেলো।
খানিকক্ষণ অপেক্ষা করার পর মিথ্যাকে ফিরতে না দেখে সত্য উঠে এলো কুয়ো থেকে। না, মিথ্যা তো কোথাও নেই, পোশাকও নেই। রাগে অন্ধ হয়ে সত্য বের হলো মিথ্যাকে খুঁজতে, কিন্তু নগ্ন সত্যকে দেখে ছিঃ ছিঃ ধিক্কার করলো সভ্য মানুষেরা। এমন কী তেড়েও এলো অনেকে। অসভ্য, বর্বর, ইতর, সমাজবিরোধী, রাজাকার ইত্যাদি বলে গালাগালি শুরু করল অনেকেই। কেউ কেউ নেতৃত্ব দিয়ে সত্যের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করে দিল। কেউ কেউ ফাঁসি চাই ফাঁসি চাই বলে মিছিল করা শুরু করল।
সত্য অনেক চেষ্টা সত্ত্বেও তাদের বোঝাতে না পেরে, নিজের সম্মান রক্ষার্থে, রাগে দুঃখে অপমানে ফের কুয়োয় নেমে গেলো।
তারপর থেকে সত্যকে আর কখনও কেউ দেখেনি। এখন দুনিয়াতে সত্যের পোশাক পড়ে ঘুরে বেড়াতে যাকে দেখেছে সে আসলে সত্যের পোশাক পরা মিথ্যা! সে এখন সব জায়গায় বিরাজ করছে। অফিসে-আদালতে, রাজনীতিতে-ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে! সংসারে সর্বত্র এখন মিথ্যার অবাধ বিচরণ আর সে সব সময় সত্যের পোশাক পড়েই চলাফেরা করে।
📕📘 সৌদি আরবের প্রাণকেন্দ্র মক্কা এবং মদিনার মধ্যবর্তী একটি সুন্দর উপত্যকায় অবস্থিত “রাবেতা আল-আলম আল-ইসলামী” মুসলিম বিশ্বের একটি বুদ্ধিবৃত্তিক ও দাতব্য সংগঠন। ইসলাম ও ইসলামী শিক্ষা সংস্কৃতি কৃষ্টি কালচার ও সভ্যতা প্রচার-প্রসার, ইসলামের ওপর আরোপিত সন্দেহ ও সংশয়ের অবসান, মুসলিম বিশ্বে সৃষ্ট সংকট নিরসন এবং জাতি ধর্ম নির্বিশেষে সবার জন্য মানবিক সহযোগিতা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার নিয়ে ১৮ মে ১৯৬২ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয় এই আন্তর্জাতিক সংগঠনটি। সৌদি আরবের তৎকালীন যুবরাজ ফয়সাল বিন আবদুল আজিজ এবং পরে তিনি বাদশাহ হন এবং তারই উদ্যোগে মক্কা জেলায় প্রতিষ্ঠিত হয় রাবেতা আল-আলম আল-ইসলামী এবং পবিত্র নগরীতেই তার প্রধান কার্যালয় অবস্থিত। তবে পৃথিবীর একাধিক রাষ্ট্রে সংগঠনটির অফিস ও কেন্দ্র রয়েছে।
রাবেতার সম্মেলন কক্ষ
২২টি সদস্য দেশ নিয়ে যাত্রা শুরু করা রাবেতার বর্তমান সদস্যসংখ্যা ৪০ এবং পৃথিবীর ৩৮টি দেশে ৫৩টি শাখা অফিস রয়েছে এর। রাবেতা আল-আলম আল-ইসলামীর প্রধান লক্ষ্য ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহর বুদ্ধিবৃত্তিক সেবা ও উন্নয়ন নিশ্চিত করা; বুদ্ধিবৃত্তিক পদ্ধতি অবলম্বন করে ইসলামের বিশ্বাস, বিধান, মূল্যবোধ ও সংস্কৃতির বিস্তার ঘটানো; বিশেষত মুসলিম সমাজে ছড়িয়ে পড়া সংশয়, বিভ্রান্তি ও চিন্তার ব্যাধিগুলো দূর করে উম্মাহকে সুরক্ষা দেওয়া। পৃথিবীব্যাপী শান্তি, ন্যায়বিচার ও মানবাধিকারের সুরক্ষা, অন্যান্য জাতি-গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলা এবং মুসলিম বিশ্বে সৃষ্ট সংকট নিরসনে কাজ করছে রাবেতা আল-আলম আল-ইসলামী। পাশাপাশি ইসলামী শিক্ষার বিস্তার, মুসলিম দাতব্য প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সংযোগ ও সমন্বয়, মসজিদ-মাদরাসা ও ইসলামী সাংস্কৃতিক কেন্দ্র গড়ে তোলা, সামাজিক সচেতনতা তৈরি, অমুসলিমদের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছানো এবং পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে মুসলিম উম্মাহর অগ্রগতি সাধন সংগঠনটির অন্যতম লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।
সাংগঠনিক কাঠামোতে মহাসচিবই রাবেতা আল-আলম আল-ইসলামীর নির্বাহী ক্ষমতার অধিকারী। সংগঠনের সাধারণ সভায় সদস্য দেশের প্রতিনিধি, উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও সহযোগী সংগঠনের দায়িত্বশীলদের ভোটে নির্বাচিত হন তিনি। বর্তমান মহাসচিব মুহাম্মদ দিন আবদুল করিম ঈসা। তিনি সৌদি আরবের সাবেক আইন ও বিচার বিষয়ক মন্ত্রী।
তবে রাবেতা আল-আলম আল-ইসলামীর নীতিনির্ধারণ ও কর্মপরিকল্পনা তৈরি করে ৬০ সদস্যের সংগঠনের উচ্চতর কমিটি। মুসলিম বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের দ্বারা গঠিত উচ্চতর কমিটির সিদ্ধান্তই সংগঠনের নির্বাহী আদেশ হিসেবে বিবেচিত হয়, যা রাবেতা ও এর সহযোগী সংগঠনগুলো বাস্তবায়ন করে। উচ্চতর কমিটির বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন সৌদি আরবের প্রধান মুফতি। এই কমিটির কোনো সদস্য মারা গেলে বা সদস্য পদ শূন্য হলে কমিটির অন্যান্য সদস্যের মতামতের ভিত্তিতে নতুন সদস্য গ্রহণ করা হয়। গত বহু বছর ধরে শুরু করে আজ পর্যন্ত (এপ্রিল ২০২৪) এই কমিটির গুরুত্বপূর্ণ একজন সদস্য হিসেবে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন বাংলাদেশের স্বনামধন্য প্রখ্যাত আলেম ও বিজ্ঞ ফকিহ, ভারতীয় উপমহাদেশের আলেমদের শিরোমনি সৈয়দ কামাল উদ্দিন জাফরী। রাবেতা আল-আলম আল-ইসলামীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম হলো ‘আল মুতামারিল ইসলামিল আম’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলন। এই সম্মেলনে মুসলিম বিশ্বের শীর্ষ আলেম ও ইসলামী ব্যক্তিত্বদের এই সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানো হয়। তাঁরা মুসলিম উম্মাহর সমকালীন বিভিন্ন সংকটের সমাধান এবং আগামী দিনের করণীয় বিষয়ে আলোচনা করেন। রাবেতা আল-আলম আল-ইসলামীর একটি বহুল প্রশংসিত কার্যক্রম হলো পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে মসজিদ নির্মাণ করা। ১৯৭৫ সালে স্বাক্ষরিত সংগঠনের নীতিমালার আলোকে একটি উচ্চতর কমিটি এই কার্যক্রম পরিচালনা করে।
📕📘এ ছাড়া রাবেতা আল-আলম আল-ইসলামীর সাহিত্য ও সংস্কৃতি, ফিকহুল ইসলামী (ইসলামী আইন), সিরাত (নবী-রাসুলদের জীবনচরিত), হিফজুল কোরআন, ত্রাণ ও সহযোগিতা বিষয়ক পৃথক কমিটি রয়েছে। সদস্য দেশগুলোতে নিজ নিজ লক্ষ্য বাস্তবায়নে এসব কমিটি কাজ করে থাকে।
📘📕 তবে বর্তমান সত্য হলো, এত আশা ভরসা ও লক্ষ্য উদ্দেশ্য নিয়ে তৈরি করা প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে একটি নাম সর্বস্ব প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। এটির কার্যক্রম এখন শুধু পবিত্র কোরআন ছাপানো আর পৃথিবীর কোথাও কিছু মসজিদ প্রতিষ্ঠা করা।
মুসলিম বিশ্বের ও মুসলমানদের স্বার্থ এখানে খুব কম দেখা হয় বর্তমানে। বর্তমান সৌদি প্রশাসন ও রাজতন্ত্র যেহেতু মাদখালি মতবাদে বিশ্বাসী ও সেই অনুযায়ী চলে তাই রাবেতা আলমে আল ইসলামিয়া ও সেই একই পন্থা অবলম্বন করে চলতে বাধ্য হয়। কারণ বাইরে সদস্য রাষ্ট্রগুলো এবং সেখানকার প্রতিনিধিরা তেমন কিছু বলতে পারেনা সৌদি আরবের দাপটের জন্য।
যে রাবেতা আলমে আল ইসলামিয়া তৈরি হয়েছিল একটি ইসলামিক সংস্কৃতি ও ইসলামিক অর্থনীতি ব্যবস্থা বিশ্ববাসীকে উপহার দেওয়ার জন্য, সেই ইসলামী সংস্কৃতির পায়ে কুঠারাঘাত করে খোদ সৌদি আরবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে মুসলিম রাষ্ট্রসমূহের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সিনেমা হল এবং সুদি ব্যাংক।
📕📘ইসলাম হল একটি পূর্ণাঙ্গ এবং স্বাভাবিক জীবন বিধানের নাম। এখানে বাড়াবাড়ি এবং ছাড়াছাড়ি উভয় চরমপন্থা সর্বাবস্থায় পরিত্যাজ্য। আমাদের সমাজের একদল লোক মহিলাদেরকে জোরপূর্বক মসজিদে এবং ঈদগাহে নিতে চায় আরেকদল লোক হুজুর-পূর্বক বের করে দিতে চায়। দুটোই চরমপন্থা। ইসলাম সবসময় স্বাভাবিক এবং মধ্যপন্থা অবলম্বন করার তাগিদ দিয়ে থাকে এবং এটাই হলো রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সালাম এর সুন্নত।।
ইসলাম কারো গোত্রীয় সম্পদ নয় বরং এটি একটি সার্বজনীন জীবন বিধান!! আমার আপনার মত ও চিন্তা- চেতনার বাহিরে গেলেই কি অসহিষ্ণু হয়ে উঠতে হবে? গালাগাল শুরু করতে হবে?? এ স্বভাব তো প্রকৃত মু’মিনের স্বভাব নয়। এটা মূলতঃ মুনাফিকের স্বভাব।
আপনি আমি দ্বি- মত করুন, করতেই পারি। তবে নোংরা ভাষায় নয়? বর্তমান সময়ে এই ফেতনার যুগে মহিলারা মাসজিদ ও ঈদগাহে যাবে কি না, এটা একটি ইখতেলাফি অর্থাৎ মতবিরোধপূর্ণ মাসআলা। একদল আলেম পরিপূর্ণ পর্দা পালনের শর্তে যায়েজ বলেছেন। আরেক দল আলেম নিরুৎসাহিত করেছেন। কোনো আলেমই না জায়েজ বলেন নি। না জায়েজ বলবেন কিভাবে- স্বয়ং রাসূল সা, বলেছেন – তোমরা আল্লাহর দাসীদেরকে তাঁর মাসজিদে যেতে নিষেধ করো না বলেছেন এবং এই কথা মজুদ আছে সহীহ মুসলিম হাদিসে। 👉👉রাসূল সাঃ যুগে নারীরা মাসজিদে যেতেন, সাহাবাগণের যুগে মাসজিদে যেতেন, এখনও মাসজিদে হারাম ও মাসজিদে নববীতে নারীরা উপস্থিত হন। সারা পৃথিবী থেকে আসা হাজার-হাজার নারীকে ঈদের জামায়াতে নামাজ পড়েন। পৃথিবীর শত-শত রাষ্ট্রে জুমু’আর দিন ও ঈদগাহে নারীরা উপস্থিত হন। এ নিয়ে সেখানে কোনো কথা হয় না। কিন্তু বাংলাদেশে একদল আলেম ইসলামকে তাদের গোত্রীয় সম্পদ বানিয়ে নিয়েছে। কারো কথা মনমতো না হলে চরম নিকৃষ্ট মনোভাব পোষণ করে , এবং বলতে দ্বিধা নেই যে এই কাজটি করে থাকে হানাফী মাযহাবের একটি ফিরকা সেটি হলো কওমি দেওবন্দী ও তাবলীগী ফিরিকা। অপরদিকে আমাদের আহলে হাদিস মাযহাবের ভাইরা তাদের বিরুদ্ধে ব্যাপক খেপে গিয়ে তাদেরকে কাফের পর্যন্ত ফতোয়া দিয়ে বসে থাকে। এই হল অবস্থা।
👉👉হ্যাঁ, আমরাও নিঃসন্দেহে একমত যে, বর্তমান এই ফেতনা ফাসাদের যুগে নারীদের নামাজ মাসজিদের চেয়ে ঘরে উত্তম, ঘরের চেয়ে কুঠুরিতে উত্তম, এবং এ কথাগুলো হাদিস দ্বারা প্রমাণিত। কিন্তু জুমু’আ ও ঈদ এক্ষেত্রে ভিন্ন। কারণ এ দুটো ঘরে পড়ার নামাজ নয়, উপরন্তু এখানে খুতবার নাসীহা শুনা থেকে নারীরা বঞ্চিত হতে হয়। তাই তামাম পৃথিবীতে মাসজিদ সমূহে নারীদের জন্য আলাদা স্থান রাখা হয়।
আমি পৃথিবীর অনেকগুলো দেশে গিয়েছি। সব দেশের মাসজিদে ছোট্ট পরিসরে হলেও “মুসাল্লান নিসা/ওইমেন প্রেয়ার রুম”- দেখছি। শুধু বাংলাদেশ ব্যতিক্রম। তবে বাংলাদেশের বায়তুল মোকাররম মসজিদ, নিউমার্কেট মসজিদ, গুলশানের আজাদ মসজিদ, গাউসুর আজম মসজিদ সহ শুধু ঢাকা শহরেই দুই শতাধিক মসজিদে এখন মহিলাদের নামাজের ব্যবস্থা আছে এবং দেশে মডেল মসজিদগুলোতে মহিলাদের নামাজের ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। তবে যেহেতু নারীরা এখন বাইরে বের হয় চাকরির জন্য ও বিভিন্ন কাজে-কর্মে তাই রাস্তাঘাটের পাশে এবং শহরে ও অফিস আদালতের ধারে কাছে প্রত্যেক মসজিদেই নারীদের জন্য নামাজের ব্যবস্থা রাখা এবং তাদের ফ্রেশ হওয়ার ব্যাবস্থা রাখা খুবই।
পর্দা সহ বউ হজ্জ ও ওমরায় যেতে পারে, বাংলাদেশে উল্টো ফাতওয়া দেওয়া হুজুরেরা বউ নিয়ে মাসজিদে হারামে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে, পর্দা সহ বউ নিয়ে মার্কেটে যায়, বাপের বাড়ি যায়, হাসপাতালে যায়, মাসতুরা তাবলীগে যায়, কোথাও উল্টো ফাতওয়া নেই! শুধু জুমু’আ ও ঈদগাহে উল্টো ফাতওয়া কেন রে ভাই?? এখানেও কি আমাকে এখন নবী- রাসূল, সাহাবী ও আওলিয়া বিদ্বেষী বলে গালি দিবেন?? দিতে থাকেন তাতে কোন সমস্যা নেই।। একদিকে আপনার আমাকে গালাগালি করেন অন্যদিকে আহলে হাদিস মাযহাবের বাইরেও আমাকে গালাগালি করে।। অবশ্য নবী-রাসূলগণের সুন্নতের মধ্যে অন্যতম একটি সুন্নত হল মারপিট ও গালাগালি সহ্য করা। আল্লাহ আমাকে ধৈর্য ধরার তৌফিক দান করুন আমিন। গালাগালি করেন, that’s okay। মুখ আছে বলে যান, কলম আছে লিখে যান- সত্য কথা বলা থেকে এক চুলও সরাতে পারবেন না। ইনশা আল্লাহ। অত্যন্ত আমার শক্তি থাকা অবস্থায় মৃত্যু পর্যন্ত ইনশাল্লাহ না। মনে রাখবেন আমিও ওমর ,আলী, খালিদ সালাউদ্দিন আইয়ুবীর উত্তরসূরী।
📕📘স্বাভাবিক অবস্থায় মা বোনদের জন্য কোন নামাজ আদায়ের জন্যই মসজিদে /ঈদগাহে যাওয়া জরুরি নয় ;বরং মসজিদ অপেক্ষা ঘরে নামাজ আদায় করাই উত্তম। হ্যাঁ, একান্ত প্রয়োজন দেখা দিলে তারা মসজিদে যেতে পারবে এবং নামাজ পড়তে পারবে৷ তবে ঈদের জামাতে ও মসজিদে জুমার নামাজে উপস্থিত হতে পারেন এবং হওয়া উচিত দুইটি কারণে প্রথমত খুতবা শোনার জন্য দ্বিতীয়তও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম এর সুন্নত ও ইসলামী সংস্কৃতিকে ধরে রাখার জন্য।। ইসলামী সংস্কৃতিকে সম্মান করা এবং ধরে রাখা ও বিরাট বড় নেকির কাজ।।
📘📘জুমা এবং ঈদের নামাজ ব্যতীত আর রাস্তাঘাটে অফিস আদালতে অথবা শহরে ভ্রমণ থাকা অবস্থা ব্যতীত নারীদের ঘরে নামাজ পড়া সর্বোত্তম।। এই বিষয়ে কয়েকটি হাদিস নিচে দেওয়া হল–
উম্মে হুমাইদ আস সাআদী রাযি. থেকে বর্ণিত, একবার তিনি রাসুলুল্লাহ সাঃ এর নিকট এসে আরজ করলেন, হে আল্লাহর রাসুল! আমি আপনার পিছনে নামাজ আদায় করতে চাই। নবী করীম সাঃ উত্তরে বললেন, ‘আমি ভালো করেই জানি, তুমি আমার পিছনে নামাজ আদায় করতে চাও। কিন্তু তোমার জন্য তোমার রুমে নামাজ আদায় করা অন্য রুমে আদায় করার চেয়ে উত্তম। আর তোমার ঘরের কোনো রুমে আদায় করা বাড়িতে আদায় করার চেয়ে উত্তম। আর তোমার বাড়িতে নামাজ আদায় করা কওমের বা এলাকার মসজিদে আদায় করার চেয়ে উত্তম। আর তোমার কওমের বা এলাকার মসজিদে নামাজ আদায় করা আমার পিছনে নামাজ আদায় করার চেয়ে উত্তম। এরপর ঐ মহিলা তার অন্ধকার কুঠরিতে নামাজের জন্য জায়গা নির্ধারণ করে নেয়। এবং মৃত্যু পর্যমত সেখানেই নামাজ আদায় করতে থাকে।’ –মুসনাদে আহমাদ ৩৭/৪৫।
আরেকটি হাদীস দেখা যায়– আবু আমর বিন শায়বানী থেকে বর্ণিত। তিনি দেখেছেন- আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ রাঃ মহিলাদের মসজিদে থেকে বের করে দিতেন। আর বলতেন যে, মসজিদের চেয়ে তোমাদের জন্য ঘরই উত্তম। –মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক, হাদীস নং-৫২০১,মুসান্নাফে ইবনুল জি’দ, হাদীস নং-৪২৯, সুনানে বায়হাকী কুবরা, হাদীস নং-৫৪৪১,আল মুজামুল কাবীর, হাদীস নং-৯৪৭৫।
আমরাতা বিনতে আবদির রহমান বলেন-রাসূল সাঃ এর সহধর্মীনী হযরত আয়শা রাঃ বলেছেন-যদি রাসূলুল্লাহ সাঃ মহিলাদের এখনকার অবস্থা জানতেন, তারা কি করে? তাহলে তাদের মসজিদে আসতে নিষেধ করতেন যেভাবে বনী ইসরাঈলের মহিলাদের নিষেধ করা হয়েছে। ইয়াহইয়া বলেন-আমি আমরাতাকে বললাম-বনী ইসরাঈলের মহিলাদের কি মসজিদে আসতে নিষেধ করা হয়েছে? তিনি বললেন-হ্যাঁ। সহিহ মুসলিম -১/১৮৩, হাদীস নং-১০২৭,সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং-৫৬৯,মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং-২৫৯৮২,মুসনাদুর রাবী, হাদীস নং-২৫৯,সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং-৫৪০
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সালাম এর মৃত্যুর পর মুসলিম নারীরা এমন কিছু পোশাক পড়তেন, যার কারনে আম্মাজান হযরত আয়শা রাঃ একথা বলেছেন? আর বর্তমান নারীদের পোশাকের দৃশ্য দেখলে আম্মাজান আয়শা রাঃ কী বলতেন? তাই শুধু মসজিদে গেলেই হবে না। ঈদের নামাজে কিংবা জুমার নামাজে অথবা বিশেষ তারাবির নামাজে মহিলারা কোরআন শোনার জন্য নসীয়ত শোনার জন্য মসজিদে যেতেই পারেন এবং তাদেরকে সেখানে বাধা দেওয়া উচিত নয় বরং মাঝেমধ্যে নিয়ে যাওয়া উচিত। কিন্তু সেখানে অবশ্যই স্বাধীনতা বজায় রাখতে হবে এবং শুধুমাত্র আল্লাহকে সন্তুষ্টি করার জন্য যেতে হবে। ফ্যাশন প্রদর্শনের জন্য কিংবা অন্য মহিলাদের সাথে গল্প গুজব করার জন্য বা বাহাদুরি করার জন্য বা নিজেদেরকে প্রদর্শন করার জন্য যাওয়া বড় রকমের গুনাহের কাজ। যা আজকাল মূলত হয়ে থাকে। আর এই জন্যই কিছু কিছু মোহাক্কেক আলেমগণ এই ফেতনার যুগে মসজিদে যেতে নিষেধ করে থাকেন এবং তাদের কথার মধ্যে যুক্তি আছে। উপরোক্ত হাদীসসমূহের আলোকে একথা পরিস্কার যে, মহিলাদের ঈদগাহে ও মসজিদে যাওয়ার অনুমতি থাকলেও এটি পছন্দনীয় নয়।
একটা বিষয় লক্ষ্য করলে দেখবেন যে,নবী সাঃ এর -যুগেই মহিলাদের মসজিদে যাওয়ার তাগিদ তো দূরের কথা, উৎসাহও ছিল না; বরং কেবল অনুমতি ছিল। উৎসাহ কিংবা তাগিদ ছিল মর্মে কোনো একটি বর্ণনাও দেখতে পাওয়া যায় না। তবে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম মহিলাদের কে ঈদের নামাজে উপস্থিত হওয়ার জন্য বলেছেন ঋতুপতি থাকা অবস্থায় এমনকি নিজের ওড়না না থাকলে অন্যের ওড়না ধার হলেও। কিন্তু সেখানে প্রেক্ষাপট ছিল। তখন মুসলিমদের সংখ্যা ছিল খুবই নগণ্য তাই মুসলিমদের সংখ্যা বৃদ্ধি করার জন্য এবং মানুষকে উৎসাহিত করার জন্য আর কাফেরদের নিকট মুসলিমদের সংখ্যাকে বড় করে দেখানোর জন্য আর বিশেষ করে ইসলামের সেই প্রাথমিক যুগে নারীদেরকে ইসলামের বিষয়ে শিক্ষা দান করার জন্য সেখানে যাওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল বলতে হয়। তাছাড়া ওই সময় আজকের দিনের মত ফিতনা ছিল না। আজকাল তো এমন অনেক দেখা যায় যে মাহফিলে যাওয়ার নাম করে সিনেমা হলে চলে যাচ্ছে বয়ফ্রেন্ডের সাথে। অথবা মসজিদে যাওয়ার নাম করে শপিং করতে যাচ্ছে কিংবা বয়ফ্রেন্ডের সাথে দেখা করতে যাচ্ছে।
তৎকালীন সময়ে মুসলিম মহিলাদেরকে মসজিদে যাওয়ার অনুমতি ছিল নিম মুক্ত কয়েকটি কারণে। তবে বিশেষ করে কওমি দেওবন্দী আলেমগণ বলে থাকেন যে এই হাদীসগুলো রহিত হয়ে গেছে। আসল কথা হচ্ছে আমাদের দেশের কওমি ও দেওবন্দী আলেমদের একটি স্বভাব হল তাদের মতের বিপক্ষে গেলেই তারা হাদিসগুলোকে রোহিত হয়ে গেছে বলে ফতোয়া দিয়ে থাকে। অপরদিকে আমাদের বিশেষ করে বাংলাদেশের আহলে হাদিস মাযহাবের ভাইদের আরও একটি স্বভাব হল তাদের মতের বিরুদ্ধে গেলেও হাদিসগুলোকে জাল কিংবা অত্যন্ত দুর্বল বলে ফতোয়া দিয়ে থাকে।। এভাবে উভয় দল সহি হাদিসকে অস্বীকার করে নিজেদের মত প্রতিষ্ঠার জন্য অনেকেই সংগ্রামের মধ্যে লিপ্ত হয় এমনকি বাহাস মুনাজারা করে তারা ইসলামকে বিধর্মীদের কাছে হাসির বস্তুতে পর্যন্ত পরিণত করে। এবং অনেক সময় মারামারি করে আহত নিহত হয়।। 👉ইমাম তাহাবী রহঃ বলেন, মহিলাদের ইসলামের প্রথম যুগে জামাতের উপস্থিত হওয়ার অনুমতি প্রদান করার কারণ হলো বেদ্বীনদের সম্মুখে মুসলমানগণের জনসংখ্যা ও জনশক্তি বৃদ্ধি করা। –মায়ারিফে মাদানিয়াহ, শরহে তিরমিযী)
👉ইমাম আইনী রহঃ বলেন, ইসলামের প্রাথমিক যুগ ফিতনা ফাসাদ থেকে সম্পূর্ণ নিরাপদ ছিল। কিন্তু বর্তমানে তা একেবারেই বিপরীত। বর্তমান যুগ নারীদের বিরত রাখা তো দূরের কথা নিজেরাই এই সমস্ত ফিতনা-ফাসাদ থেকে বেঁচে থাকা একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
👉মূলতঃ মহিলাদের মসজিদে জামাতে উপস্থিত হওয়ার অনুমতি দেয়ার কারণ হিসেবে তা’লীম অর্থাৎ ইলম অর্জন করাকেও উল্লেখ করা হয়েছে এবং তা আরও স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়, বুখারী শারীফের ৯১৫ নং হাদিসের বর্ণনা দ্বারা। উম্মে আতিয়া রাঃ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘ঈদের দিন আমাদেরকে বের হওয়ার আদেশ দেওয়া হতো, আমরা কুমারী মেয়েদেরকে, এমনকি ঋতুবর্তী মহিলাদেরকেও নিয়ে ঘর থেকে বের করতাম। অতঃপর পুরুষদের পিছনে থেকে তাদের তাকবীরের সাথে সাথে তাকবীর পড়তাম এবং তাদের দোয়ার সাথে সাথে আমরাও ঐ দিনের বরকত ও পবিত্রতা লাভের দোয়া করতাম।’
এ হাদিসে এবং অন্যান্য আরও হাদিসে স্পষ্টই উল্লেখ রয়েছে যে, ঋতুবর্তী মহিলাগণও ঈদগাহে উপস্থিত হতো। অথচ শরীয়তে ঋতুবর্তী মহিলাদের জন্য নামায সম্পূর্ণ হারাম। সুতরাং তাদের ঈদগাহে বা জামাতে উপস্থিত হওয়ার অনুমতি যদি শুধুমাত্র নামাজের জন্য হতো, তবে ঋতুবর্তী মহিলাগণ ঈদগাহে উপস্থিত হতো না। মূলতঃ প্রথম যুগে নামাজসহ সকল অনুষ্ঠানাদিতে মহিলাদের উপস্থিত হওয়ার মুখ্য উদ্দেশ্য ছিল, তালীম বা রাসূল সাঃ এর খুতবা থেকে এবং বিভিন্ন আলেমদের খুতবা থেকে ইলম বা জ্ঞান গ্রহন করা। মোটকথা ওই সময় ওহী নাযিল হচ্ছিল এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে নিত্যনতুন আদেশ নিষেধ নাযিল হতো তা যেন পুরুষ মহিলা সকলে সমভাবে জানতে পারে সে কারণে তাদেরও উপস্থিত হওয়ার অনুমতি ছিল। এবং উপস্থিত হওয়া দরকার ছিল।।
তবে এই অনুমতিটাও ছিল শর্ত সাপেক্ষে। 👉পরিপূর্ণ পর্দাসহ গোটা শরীর আবৃত অবস্থায় বের হবে। 👉ঝনঝনানিপূর্ণ অলঙ্কার তথা ঘুঙ্গুর নুপুর ইত্যাদি পরে বের হতে পারবে না। এবং বেপর্দা বের হতে পারবে না তাছাড়া হাদিসে স্পষ্ট বলা আছে যদি কারো কাছে বড় ওড়না না থাকে তাহলে অন্যের কাছ থেকে ওড়না ধার নিয়ে যাবে কিন্তু বেপর্দা যেতে পারবে না 👉সাজগোজ ও সুগন্ধি সহ বের হতে পারবে না। 👉অঙ্গভঙ্গি করে চলতে পারবে না। 👉পুরুষদের ভিড় এড়িয়ে রাস্তার একপাশ হয়ে চলবে। 👉 অপ্রয়োজনে পরপুরুষের সঙ্গে কথা বলতে পারবে না। 👉সবচেয়ে মুখ্য বিষয় হল, তাদের এ বের হওয়াটা ফেতনার কারণ হতে পারবে না। —আবু দাউদ হাদিস নং ৫৬৫, বযলুল মাজহূদ ৪/১৬১!! উল্লেখ্য যে বর্তমান যুগেও এবং এই ফিতনা-ফাসাদের দিনে এসেও যদি এসব শর্ত পাওয়া যায় তবে মহিলারা মসজিদে যেতে চাইলে অনুমতি দেয়ার অবকাশ অবশ্যই আছে। এবং এই জাতীয় শর্ত পূরণ হলে তাদেরকে মসজিদে যেতে বাধা দেওয়া মোটেও ঠিক নয় বরং উৎসাহিত করা উচিত।। তাছাড়া মসজিদে গেলে ছোট ছোট বাচ্চারা মায়ের সাথে মসজিদে যাবে এবং সেখানে গিয়ে খেলাধুলা করবে এবং মসজিদের প্রতি তাদের একটা আকর্ষণ সৃষ্টি হবে এটাও একটা ভালো দিক রয়েছে।
কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো নবী সাল্লাল্লাহু ওয়া সাল্লাম এবং সাহাবা কেরামের যুগের পর যখন উক্ত শর্তগুলো ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হতে থাকে তখন সাহবায়ে কেরাম তা উপলব্ধি করতে পেরে মহিলাদের মসজিদে গমনের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে দিয়েছেন অনেক এলাকাতে অনেক সাহাবী। শুধু রাসূল সাঃ এর সময়ের প্রাথমিক যুগের আমল গুলো নিয়ে ফতোয়াবাজি করে ফেতনা সৃষ্টি করলে হবে না বরং সাহাবাগণের আমল গুলো আমাদেরকে দেখতে হবে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম সাহাবাগণকে অনুসরণ করার জন্য আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন। তাই সাহাবায়ে কেরামের প্রজ্ঞাপুর্ণ বিষয়গুলোকে আমাদের গুরুত্বের সাথে নিতে হবে। এটা তো স্বতসিদ্ধ বিষয়ে যে, নবী সাঃ এর কথা কিংবা কাজ সাহবায়ে কেরামের রাঃ চাইতে বেশি কেউ বুঝেছে বলে দাবি করা কিংবা তাদেরকে আদর্শ মনে না করা নিতান্ত মূর্খতা ছাড়া কিছু নয়।
📘📘নিম্নে সাহাবায়ে কেরামের বক্তব্যসমূহ থেকে কিছু বক্তব্য উল্লেখ করা হল-
👉আয়েশা রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যদি রাসুলুল্লাহ সাঃ বর্তমানকালের মহিলাদের অবস্থা দেখতেন তাহলে তাদেরকে মসজিদে আসতে নিষেধ করতেন। যেমন নিষেধ করা হয়েছিল বনি ইসরাইলের মহিলাদেরকে।’ –সহীহ বুখারী ১/২৯৬!
👉আবু আমর শাইবানি বলেন, আমি আব্দুল্লাহ ইবন মাসউদ রাযি.কে দেখেছি, তিনি জুমার দিন মহিলাদেরকে মসজিদ থেকে বের করে দিতেন এবং বলতেন, আপনারা বের হয়ে যান। আপনাদের ঘরই আপনাদের জন্য উত্তম। (আলমুজামুল কাবির ৯৪৭৫, মজমাউযযাওয়াইদ ২/৩৫) আল্লামা হাইছামি বলেন, এই রেওয়ায়তের সকল বর্ণনা কারী সিকাহ-নির্ভরযোগ্য।
👉জুবাইর ইবন আওয়াম রাযি. তাঁর পরিবারের কোন নারিকে ঈদের জামাতে যেতে দিতেন না। — মুসান্নাফ ইবন আবি শাইবাহ ৫৮৪৬। 📕📕 আসল কথা হলো মহিলাদের মসজিদে যাওয়া জায়েজ এবং বিভিন্ন প্রয়োজনে মসজিদে যাওয়া উচিত। তাছাড়া আমার দেশের শহরের মসজিদগুলোতে এবং রাস্তার পাশের মসজিদগুলোতে যেখানে মানুষ দূরে জার্নি করে সেই প্রত্যেকটি মসজিদে মহিলাদের জন্য নামাজের ব্যবস্থা রাখা খুবই জরুরী কেননা আজকাল মহিলারা প্রায় বাইরে বের হয় বিভিন্ন প্রয়োজনে। মহিলাদেরকে ডেকে ডেকে মসজিদে নিয়ে আসা যেমন একটি চরমপন্থা অতদ্রুপ মহিলাদেরকে মসজিদে আসতে নিষেধ করাটাও একটি চরমপন্থা বরং সামাজিক স্থিতিশীলতার দিকে লক্ষ্য রেখে এবং যাতে ফেতনা-ফাসাত সৃষ্টি না হয় সেই দিকে লক্ষ্য রেখে এই বিষয়ে মধ্যপন্থা অবলম্বন করা খুবই জরুরী।। ঈদের নামাজের খুতবা শোনার জন্য, জুমার নামাজের খুতবা শোনার জন্য, ইসলামী সংস্কৃতিকে ধারণ করার জন্য। মাঝেমধ্যে মহিলাদের উচিত বাচ্চাদের নিয়ে মসজিদে আসা। তবে অবশ্যই পর্দা ও শালীনতার দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। আর উদ্দেশ্য থাকতে হবে একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম এর সুন্নতের প্রতিষ্ঠা।।