বয়কট

বয়কট!
একটি আতঙ্ক মিশ্রিত শব্দ।
এই শব্দটি বিশেষ করে জালিমদের হৃদয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে দেয়।। মজলুম জনসাধারণের একটি প্রিয় ও সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার হল এই বয়কট। সমস্ত দুনিয়া জুড়ে যেহেতু বেশিরভাগ মানুষ মজলুম সেহেতু বয়কট শব্দটা সবচেয়ে জনপ্রিয় শব্দ এর মধ্যে একটি।
জালিম এবং খারাপ সম্প্রদায়কে সোজা করার জন্য বয়কটের চেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র আর কিছুই নেই।।

👉👉সর্বজন পরিচিত শব্দটি অভিধানভুক্ত হওয়ার পেছনে রয়েছেন এক ইংরেজ ভদ্রলোক, যাঁর নাম #চার্লসকানিংহামবয়কট।

তাঁর কীর্তিকলাপের জন্য তাঁকে একঘরে করছিলেন আয়ারল্যান্ডের বর্গাচাষিসহ স্থানীয় লোকজন। বয়কটের এই একঘরে হওয়ার ঘটনা তখন প্রচারমাধ্যমেও আসে, যা কালক্রমে যুক্ত হয় অভিধানেও।

👉👉১৮৮০ সালের কথা সেটা। চার্লস কানিংহাম বয়কট ছিলেন খাজনা আদায়ের দায়িত্বে। সে বছর ফসলের ফলন কম হওয়ায় চাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছিলেন। সে আশঙ্কা আমলে নিয়ে ১০ শতাংশ খাজনা মওকুফের ঘোষণা দেয়া হয়। কিন্তু চাষিরা দাবি তোলেন ২৫ শতাংশ মওকুফের। চাষিদের দাবি অগ্রাহ্য করেন লর্ড আর্নে।

এদিকে বয়কট আরও একধাপ এগিয়ে গিয়ে এক কাণ্ড ঘটান। তিনি ১১ জন বর্গাচাষিকে উচ্ছেদের চেষ্টা করেন। সরব হয়ে ওঠে স্থানীয় লোকজন। সরব হওয়ার পেছনে অবশ্য কারণও আছে।

সে সময়টায় আয়ারল্যান্ডের ভূমি সংস্কারের পক্ষে লড়ে যাচ্ছিলেন আইরিশ রাজনীতিবিদ চার্লস স্টুয়ার্ট পার্নেল (১৮৪৬-১৮৯১)। তিনিই কোনো এক ভাষণে বলেছিলেন, কোনো জমি থেকে বর্গাচাষিকে উচ্ছেদ করা হলে, সে জমি যেন অন্য চাষিরা বর্গা না নেন। মালিকপক্ষ উচ্ছেদের হুমকি দিলে অহিংসভাবে তাঁকে এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছিলেন।

বয়কটের বিরুদ্ধে স্থানীয় লোকজন সেই কৌশল বেছে নিয়েছিলেন। তাঁর গৃহকর্মী থেকে দিনমজুরেরা কাজ বর্জন করেন। ব্যবসায়ীরা ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিন্ন করতে থাকেন। এক সময় দেখা যায়, স্থানীয় ডাকঘরের পিয়নও চিঠি সরবরাহ বন্ধ করেছেন।

বয়কট চেষ্টা করেন অন্য এলাকা থেকে লোক এনে চাষবাসের কাজ করানোর। সে উদ্যোগও সফল হয়নি তাঁর। আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকেন বয়কট। হালের ‘ভাইরাল’ হওয়ার মতো এই ঘটনা তখন ব্যাপকভাবে জানাজানি হয়, ফলাও করে প্রচার করা হয় গণমাধ্যমে। বর্জন ও একঘরের সমার্থক হয়ে ওঠেন ‘বয়কট’, যা কালক্রমে যুক্ত হয় অভিধানেও। কিন্তু কে এই চার্লস কানিংহাম বয়কট?

বয়কট এক বিচিত্র চরিত্রের মানুষ। তাঁর জন্ম ও বেড়ে ওঠা ইংল্যান্ডের নরফোকের এক গ্রামে। পড়াশোনা করেছেন দক্ষিণ-পূর্ব লন্ডনের ব্ল্যাকহিথ এলাকার একটি বোর্ডিং স্কুলে। স্কুলজীবন থেকেই বয়কটের ফৌজি জীবনের প্রতি ছিল দুর্নিবার আকর্ষণ। সশস্ত্র বাহিনীর প্রতি সেই আকর্ষণের টানে ১৮৪৮ সালে দক্ষিণ লন্ডনের উলউইচে অবস্থিত রয়্যাল মিলিটারি একাডেমিতে ভর্তি হন। বছরখানেক পর পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়ে মিলিটারি একাডেমি ছাড়তেও হয় তাঁকে। কিন্তু হাল ছাড়েন না বয়কট।

পরিবারের সহায়তায় ১৮৪৯ সালে ৪৫০ পাউন্ডে ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর ক্যাপটেন পদ পেয়ে (ব্রিটিশ সেনাবাহিনীতে পদ কেনার সুযোগ ছিল) যান তিনি। পদাতিক বাহিনীতে কমিশনপ্রাপ্ত হন। যোগ দেন ৩৯তম ফুট রেজিমেন্টে। কিছুদিনের মধ্যে রেজিমেন্টের সঙ্গে বদলি হয়ে বয়কট চলে আসেন উত্তর আয়ারল্যান্ডের বেলফাস্টে। শুরু হয় আয়ারল্যান্ডের জীবন।

১৮৫১ সালের আগস্টে অসুস্থ হয়ে পড়েন বয়কট। প্রায় ছয় মাস রোগে ভোগার পর বয়কট তাঁর সেনাবাহিনীর পদ বিক্রি করে দেন। সে বছরই বিয়ে করেন মেরি অ্যান দুনেকে। টিপেরারি কাউন্টিতে খামার ইজারা নিয়ে আয়ারল্যান্ডে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। আয়ারল্যান্ডের উত্তরাধিকার সনদ পাওয়ার হওয়ার পর দেশটির পশ্চিম উপকূলীয় মায়ো কাউন্টির একটি দ্বীপে চলে যান বয়কট।

মায়ো কাউন্টিতে তাঁর জীবনের ইতিহাস তো ‘বয়কট’ শব্দেই মিশে আছে!

সূত্র: উইকিপিডিয়া।

চিনির গল্প, Story of sugar

👉👉শুরুটা হল ক্রুসেডের সময়। উইলিয়াম অফ টাইরে কিংডম অফ জেরুসালেমে গিয়ে দেখলেন সেখানে লবনের মত সাদা একধরনের পাউডার পাওয়া যাচ্ছে। লবন নোনতা স্বাদের, কিন্তু এটা মধুর মত মিষ্টি।

হ্যা, এটা চিনির গল্প। দ্যা স্টোরি অফ সুগার, দ্যা স্টোরি অফ পিউর, হোয়াইট এন্ড ডেডলি।

চিনি উৎপাদনে খরচ ছিল আকাশছোয়া, পরিশ্রম ছিল অমানুষিক। কোন স্বাধীন নাগরিক এই পরিশ্রমে রাজি হত না। তাই আখচাষ থেকে চিনি উৎপাদনে ব্যবহার করা হত আবিসিনিয়া বা আফ্রিকার কাফ্রী গোলামদের।

জেরুসালেম, এন্টিয়কসহ ভূমধ্যসাগর তীরের বেশ কিছু শহর যখন ক্রুসেডাররা জয় করে নিল, তারা সেখানে পেয়ে গেল সাদা চিনির সন্ধান। এর আগে প্রায় চারশো বছর ধরে ইউরোপ এই চিনি উৎপাদন করে নি।

সেই যামানায় সাদা চিনি ছিল ওয়ান অফ দ্যা মোস্ট ডিজায়ার্ড লাক্সারি প্রোডাক্ট। এখনকার হীরার মতই ছিল দাম এবং
প্রথম ধাক্কাটা গেল মুসলিম বন্দীদের ওপর দিয়ে, এরপর সেখান থেকে চলে গেল বিশালদেহী রাশান দাসদের কাছে। হ্যা, সে আমলে ক্রিশ্চিয়ানরাও ক্রিশ্চিয়ানদের দাস বানাতো।

কিন্তু, ঠান্ডা জলবায়ুতে জন্মানো রাশানরা মধ্যপ্রাচ্যের গরমে খুব একটা প্রোডাক্টিভ লেবার হিসেবে নিজেদের প্রমান করতে পারলো না।

এরপর হল আরেক মুশকিল, মুশকিলের নাম সুলতান আল নাসির সালাহ উদ্দীন ইউসুফ ইবন নাজমুদ্দীন আল আইয়্যুবী।

১১৭১ থেকে ১১৯৩ সালের মধ্যে ক্রুসেডাররা ফালাস্তিন অঞ্চলের অধিকাংশ রাজ্য হারিয়ে ফেললো সালাহ উদ্দীনের মোকাবিলায়। এর একশো বছরের মধ্যে তারা মুখোমুখি হল আরো সালাহ উদ্দীনের আরো বিপজ্জনক কিছু উত্তরসুরীর, রুকনুদ্দীন আয যাহির বাইবার্স এবং সুলতান আল মানসুর কালাউন আস সালিহী, যারা মধ্যপ্রাচ্য থেকে ক্রুসেডার রাজ্যগুলোর নাম নিশানা মুছে দেন।

জেরুসালেমের স্বাদ ভুলে গেলেও চিনির স্বাদ কিন্তু ইউরোপিয়ানরা ভুলতে পারে নি।

পর্তুগীজরা আটলান্টিক চষে বেড়াতে শুরু করলো পঞ্চদশ শতাব্দীর গোড়ার দিক থেকে। তাদের হাতে চলে এলো আজোরস, মাদেইরা আর ক্যানারী আইল্যান্ডস।

এই দ্বীপগুলো দখল করে তারা প্রথমেই খেয়াল করলো, এখানে আছে উর্বর, রসালো জমি। বৃষ্টিও ভালই হয়, বাতাসে আছে আর্দ্রতা।
এই সুযোগ হেলায় হারানো যায় না। ক্যানারী আইল্যান্ডস আর মাদেইরাতে শুরু হয়ে গেল আখ চাষ। শ্রমিক হিসেবে কাজে লাগানোর জন্য পূর্ব ইউরোপ আর রাশিয়া থেকে ধরে নিয়ে আসা হল শক্তপোক্ত মানুষ।

পৃথিবীতে মানুষের আদিমতম নেশা হচ্ছে গ্লুকোজের নেশা। আর চিনি থেকে মানুষ ঠিক সেই জিনিসটাই পায় সরাসরি।

ক্রুসেডারদের মারফত ইউরোপে গিয়েই সাদা চিনি মাত করে দিয়েছিল বাজার। ইউরোপের অভিজাত পরিবারগুলোতে একটা স্টেইটাস সিম্বল হয়ে গেল বেশি চিনি খাওয়া। যে যত বেশি চিনি খায়, সে তত বড়লোক, এমন একটা অবস্থা।

তো, এই স্টেইটাস ধরে রাখতে গিয়ে বাড়তি চিনি খেয়ে ইউরোপিয়ান এলিটদের দাতের অবস্থার দফারফাও হচ্ছিল সমানে। মধ্যযুগের ১১০০-১৬০০ সালের ইউরোপিয়ান এলিটদের কারো দাত বের করা হাসির ছবি খুব একটা পাওয়া যায় না, কারন তাদের দাত হয়ে থাকতো কালো।

অন্যের চেয়ে আমি বেশি ক্লাসি, এই কথাটা বোঝাতে গিয়ে চিনি খাওয়ার দৌড় কোথায় গিয়ে ঠেকেছিল তার একটা উদাহরন হচ্ছে ইংল্যান্ডের কিং এডওয়ার্ডসের পরিবার। ১২৮৮ সালে শুধু রাজপরিবারের খাবারের জন্যই চিনি লেগেছিল ৬০০০ পাউন্ড।

অতিরিক্ত চিনি খাওয়ার জন্য রানী প্রথম এলিজাবেথের সব দাতই ছিল কালো। এই চিনির সাপ্লাই এসেছিল মরোক্কোর সুলতানদের কাছ থেকে। মরোক্কান সুলতান স্প্যানিশ সাম্রাজ্যের সাথে যুদ্ধ করার জন্য এলিজাবেথের কাছ থেকে অস্ত্র কিনতেন, আর এলিজাবেথকে দিতেন সুন্দর কাপড় এবং চিনি। একদিকে এলিজাবেথের অস্ত্র দিয়ে তিনি মারতেন স্প্যানিশ সৈনিক, অন্যদিকে তার দেয়া চিনি থেকে বানানো ক্যান্ডি খেয়ে নষ্ট হত ব্রিটিশ এলিটদের দাত।

কালো দাত এবং চিনি নিয়ে ইউরোপিয়ানদের পাগলামি এমন পর্যায়ে গিয়ে ঠেকে যে কালো দাতকে মনে করা হতে থাকে আভিজাত্যের প্রতীক। মধ্যবিত্তরা নিজেদের মান মর্যাদা বাড়ানোর জন্য দাতে কালো রঙ করা শুরু করলো যাতে প্রতিবেশীরা ভাবে এদের অনেক টাকা আছে, এরা চিনি খেয়ে দাত কালো করে ফেলছে।

কিন্তু, চিনির উৎপাদন যা হত তা এলিটদের প্রয়োজন মেটানোর তুলনায় ছিল খুবই সামান্য। মাদেইরা বা ক্যানারী আইল্যান্ডস খুবই ছোট জায়গা, এখান থেকে সেভাবে বিপুল পরিমান চিনি উৎপাদন সম্ভবও ছিল না। ফলে চিনি আনা লাগতো সেই ভারত থেকে, আরব ও তুর্কী ব্যবসায়ীদের হাত হয়ে, ভেনিস-জেনোয়া ঘুরে ঐ চিনির দাম যা হত তাতে চিনি এমনকি এলিটদের কাছেও আর মিঠা থাকতো না।

এরইমধ্যে, কলম্বাস ভারত যাওয়ার পথ খুজতে বেরিয়ে পৌছে গেলেন আমেরিকা। তার কাছাকাছি সময়েই গেলেন আরো অনেকে। আমেরিগো ভেসপুচি, হেনরী আমেরিকা, জন ক্যাবট, পেদ্রো ক্যাব্রাল, গনজালো কোয়েলহো আর আলেক্সিও গার্সিয়ারা পুরো আমেরিকা চষে বেড়ালেন।

বাহামা, হিস্পানিওলা, জ্যামাইকা আর কিউবায় পা রাখার সাথে সাথেই কলম্বাস শুরু করেছিলেন আখ চাষের চিন্তাভাবনা। তার দ্বিতীয় সমুদ্রযাত্রার সাথে সাথে শুরু হয়ে গেল ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জে আখ চাষ ও চিনি উৎপাদন।

কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই বোঝা গেল, এভাবে চলবে না। চিনি উৎপাদনের জন্য স্থানীয় আরাওয়াক, তাইনু বা গুয়ানহানিদের মত নেটিভ আমেরিকানরা একেবারেই অদক্ষ এবং এত হাড়ভাঙ্গা পাশবিক পরিশ্রমে তারা অভ্যস্তও ছিল না। তারা ছিল স্বাধীনচেতা এবং ইউরোপিয়ানদের বয়ে আনা রোগজীবানুর বিরুদ্ধে কোন ইমিউনিটিও তাদের ছিল না। পরের পঞ্চাশ বছরে ৯০% এর বেশি নেটিভ আমেরিকানরা মরে সাফ হয়ে গেল মহামারীতে।

ফলে, স্প্যানিশদের বিকল্প ভাবনা ভাবতে হল। তারা সিদ্ধান্ত নিল, চিনি উৎপাদন করতে প্রয়োজনে আফ্রিকা থেকে দাস আমদানী করা হবে।

আমেরিকায় মায়া, অ্যাজটেক ও ইনকাদের লুট করে স্প্যানিশরা যে পরিমান সোনা ও রুপা পেয়েছিল, বা হয় তা দিয়ে আটলান্টিকের এপার থেকে ওপার তক ব্রিজ বানানো যেত।

কিন্তু এই সোনা-রুপার বেশিরভাগটাই তাদের ব্যয় করতে হয়েছিল উসমানী খিলাফতের সাথে যুদ্ধের খরচ মেটাতে৷

এই বাড়তি ব্যয় করা সোনা-রুপার ফলে ষোড়শ শতকের শেষদিকে এক অভুতপূর্ব ঘটনা ঘটে৷ সমস্ত ভু-মধ্যসাগরীয় অঞ্চল-মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপে সোনা রুপা দিয়ে ইচ্ছামত মুদ্রা বানানোর ফলে ব্যাপক মুদ্রাস্ফীতি দেখা দেয়, জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যায় প্রায় দশগুন।

ফলে, আটলান্টিক পাড়ি দিয়ে আমেরিকায় ঘাটি গাড়া কলোনিস্টরা ভাবলো, এবার তাদের এমন কিছু আমেরিকা থেকে রফতানি করতে হবে যা দিয়ে আসলেই ব্যবসা করা যায় এবং যা আসলে খাওয়া যায়।

এই ধরনের পন্যগুলোর মধ্যে তিনটা ছিল চাহিদার শীর্ষে। চিনি, কফি আর তামাক। এই তিনটার মধ্যে, চিনির বাজার ছিল সবচাইতে বড়, আর লাভও ছিল সবচাইতে বেশি।

নেটিভ আমেরিকানরা কথা শুনতো না, তাদের একটা নিজস্ব জীবনদর্শন ছিল। তাই তাদের খাটানো যেত না বেশি। স্প্যানিশরা তাই ভাবলো আফ্রিকার পশ্চিম উপকূল থেকে প্রচুর শ্রমিক আমদানী করবে।

এই সিদ্ধান্তটা পরের তিনশো বছরে বদলে দিয়েছিল আফ্রিকা, আমেরিকা ও ইউরোপের ইতিহাস।

১৬৮৩ সালের সেকেন্ড ব্যাটল অফ ভিয়েনায় উসমানী (অটোমান) সামরিক শক্তির মেরুদণ্ড গুড়িয়ে যায়, আর এর ফলেই ইউরোপিয়ান জাহাজগুলো পেয়ে যায় আফ্রিকায় অবাধে দস্যুতা চালানোর লাইসেন্স। প্রতি বছর লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে থাকে আফ্রিকানদের আফ্রিকা থেকে ধরে নিয়ে আমেরিকান কলোনিগুলোতে দাস হিসেবে বিক্রি করে দেয়া মানুষের সংখ্যা।

ইউরোপিয়ানরা ব্রিস্টল, লন্ডন, ম্যানচেস্টার, লিভারপুল, লিসবন, আমস্টারডাম, মালাগা, বার্সেলোনা, ভ্যালেন্সিয়া, আলজাজিরা, বিলবাও, ক্যাস্তেলোনের মত বন্দরগুলো থেকে তথাকথিত সভ্যমানুষদের জাহাজগুলো আফ্রিকার পশ্চিম উপকূলের বন্দরগুলোতে নামতো কামান, বন্দুক, তলোয়ার, ছুরি, ধাতুর তৈরি নানান যন্ত্রপাতি, রঙ্গিন কাপড় আর রাম নিয়ে, আর সেখান থেকে তুলে নিতো পালে পালে মানুষ।

দাস শিকারীরা তছনছ করে দিতো গ্রামের পর গ্রাম। আফ্রিকার সবুজ জলে ভরা নদীগুলো দিয়ে তারা যে গ্রামে ঢুকতো, সে গ্রাম পরিনত হত মৃত্যুপুরীতে। শক্ত-সমর্থ পুরুষদের পরিনত করা হত দাসে, প্রায় সময় নারীদেরও।

তারপর, দেড় থেকে আড়াই মাসের যাত্রাশেষে তারা পৌছুতো আমেরিকায়। কেউ দাস হিসেবে খাটতো ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জে, কেউ উত্তর আমেরিকান কোন কলোনিতে আর বাকিরা ব্রাজিলে।

১৫০০-১৯০০ সাল, এই চারশো বছরে আফ্রিকা থেকে ইউরোপিয়ানরা ধরে নিয়ে গেছে অন্তত ২ কোটি ৬০ লাখ মানুষ। এদের ধরার জন্য মারতে হয়েছে আরো অন্তত কোটিখানেক মানুষ।

তারপর, এই দাসদের দিয়ে উৎপাদন করা হয়েছে হাজার হাজার টন চিনি।

১৭০০-১৯০০ সাল ছিল মূলত চিনির ব্যবসার স্বর্নযুগ। এই সময়টা জুড়ে মসলা বা সোনা-রুপা নয়, পৃথিবীর সবচেয়ে লাভজনক পন্য ছিল চিনি।

চিনির মূল্য কত ছিল তার উদাহরন দেয়া যায় ১৭৬৩, সালের প্যারিস চুক্তির একটা ঘটনা থেকে।

প্যারিস চুক্তির সময়ে ফ্রেঞ্চরা কানাডার প্রায় অর্ধেকটা অঞ্চল জুড়ে রাজত্ব করতো, বাকি অঞ্চলটা ছিল ব্রিটিশদের। আর ব্রিটিশদের অধিকারে ছিল মূলত ক্যারিবিয়ান আইল্যান্ডস।

কানাডাতে আখ চাষ করা সম্ভব ছিল না। আখ চাষ করতে হলে দরকার ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জ এবং দক্ষিণ আমেরিকার। আর এদিক থেকে যে চিনি ও তামাক উৎপন্ন হবে, তা ফ্রান্সে নিয়ে আসতে প্রয়োজন ক্যারিবিয়ানের একটা ভাল বন্দর।

এই বন্দরটি ছিল গুয়াদিলোপে। গুয়াদিলোপে দ্বীপের আয়তন মাত্র ১৬০০ বর্গ কিলোমিটার। চিনির ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে ১৬০০ বর্গ কিলোমিটারের বিনিময়ে ফ্রান্স ব্রিটেনের কাছে বিক্রি করে দিলো কানাডার ৩০ লাখ বর্গ কিলোমিটার জমি।

এমনকি, আজকের আমেরিকা হয়তো ব্রিটিশ সাম্রাজ্য থেকে স্বাধীন হতে পারতো না যদি না ব্রিটিশরা তাদের সৈনিকদের একটা বড় অংশ রেভলুশনারী ওয়ারের সময় আমেরিকাতে না নামিয়ে ক্যারিবিয়ানে রাখতো।
ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জের বাসিন্দাদের শতকরা ৯৫% ছিল আফ্রিকা থেকে ধরে আনা দাস। বাকিরা ছিল মূলত চিনি ব্যবসায়ী। এই চিনি ব্যবসায়ীরা ছিল ব্রিটেনের অর্থনীতির সবচেয়ে বড় সম্পদ। তাদের নিরাপত্তার জন্য ব্রিটেনের পার্লামেন্ট সিদ্ধান্ত নেয়, প্রায় অর্ধেক সামরিক শক্তি ক্যারিবিয়ান আইল্যান্ডে রাখার। বেশিরভাগ সৈন্য আমেরিকায় নামালে ভয় ছিল, দাসরা বিদ্রোহ করে সমস্ত চিনিকলগুলো দখল করে নেবে।

ফলে আমেরিকান সেনাবাহিনী খর্বশক্তির ব্রিটিশ বাহিনীকে ওয়াশিংটনের নেতৃত্বে পরাজিত করে জিতে নেয় আমেরিকান ওয়ার অফ ইন্ডিপেন্ডেন্স। এর বিপরীতে ব্রিটিশরা টিকিয়ে রাখে তাদের চিনির সাম্রাজ্য

👉👉উনবিংশ শতকে ব্রিটিশরা আইন করে দাসত্ব বন্ধ করলো ঠিকই, কিন্তু তার বদলে তারা রেখে দিলো বন্ডেজ সিস্টেম, অনানুষ্ঠানিক দাসত্ব। বাকি ইউরোপিয়ান সাম্রাজ্যগুলিও ধরলো ব্রিটেনের পথ। যেই লাউ সেই কদুই রয়ে গেলো অনেকটা।

শত শত বছরের দাসত্বে আখ, তামাক আর কফি চাষ ছাড়া আর কিছুই শেখানো হয় নি দাসদের এবং তাদের সন্তানদের। তাই দাসত্ব থেকে মুক্তি পেয়ে তাদের অবস্থাটা ছিল এমন যে, আখ খেতে কাজ না করতে পারলে রাহাজানি করে খাওয়া ছাড়া তাদের আর উপায় ছিল না।
কিন্তু রাহাজানির সুযোগটাও কি আসলে ছিল?? নাহ, ছিল না।

সাদারা হাতে ফ্লিন্টলক বন্দুক আর পিস্তল নিয়ে নামতো, তাদের ছিল অশ্বারোহী ও পদাতিক বাহিনী, তাদের ছিল নৌবাহিনী, তাদের ছিল পুলিস বাহিনী। আর কালোদের হাতিয়ার ছিল কুঠার, ছোরা, কোদাল এসব সেকেলে অস্ত্র।

তাই, লড়াইয়ের দিকে যাওয়ার চেষ্টা না করে কালোরা চেয়েছে বউ ছেলেমেয়েকে খাওয়াতে। বছরের পর বছর আখক্ষেত আর চিনিকলে দাসের মতই পরিশ্রম করেছে, দাসত্ব থেকে মুক্তির পরেও, কারন তাদের বেচে থাকার আর কোন উপায় সাদারা রাখে নি।

আজকের আমেরিকার সবচেয়ে ধনী শহর নিউইয়র্কের আশপাশটা তখন ছিল নিউ ইংল্যান্ডের অংশ। নিউ ইংল্যান্ডওয়ালাদের বংশধররা আজকে পৃথিবী শাসন করছে দশকের পর দশক ধরে।

আর দক্ষিনের নিউ অর্লিন্স, সেকালের লুইজিয়ানার দাসদের শহর এখনো আছে সেই কালোদের শহর হিসেবেই, যারা সাদা ধনীদের ওপরে ওঠার সিড়ি হয়ে রয়েছে শত শত বছর ধরে।

চিনির পাপ কিন্তু ব্রিটেন বা আমেরিকাকে ছাড়ে নি। প্রতি তিনজনে একজন ব্রিটিশ/আমেরিকান আজ ওবিস। যে চিনির নেশা তাদের সম্পদের অট্টালিকার চুড়ায় তুলেছে, সেই চিনি থেকে হওয়া রোগ ডায়বেটিস, ওবিসিটি, হার্ট এটাক আর স্ট্রোক ঠেকাতে আমেরিকান সরকার এখন প্রতিবছর খরচ করে ট্রিলিয়ন ডলার।

চিনির সাদা চেহারা দেখে আমাদের চোখে এই রক্তাক্ত ইতিহাস ভেসে ওঠে না। চিনি এখন আমাদের কাছে শুধুই ভোগ্যপন্য।

কিন্তু অষ্টাদশ শতাব্দীর #ব্রিটিশ_বেনিয়া বা আফ্রিকান দাসের কাছে ব্যাপারটা তা ছিল না। তাদের কাছে চিনি ছিল জীবন অথবা মরনের প্রশ্ন, যার জবাব দিতে গিয়ে কেউ মরে বেঁচে যেত, কেউ আবার বেঁচে থাকতো প্রতিদিন মরে যাওয়ার জন্য।

তোমরা সৎ কাজের আদেশ করবে ও অসৎ কাজের নিষেধ করবে

❤️💙 আউজুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজিম
বিসমিল্লাহ হিররাহমানির রাহিম ।

وَلْتَكُن مِّنكُمْ أُمَّةٌ يَدْعُونَ إِلَى الْخَيْرِ وَيَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنكَرِ ۚ وَأُولٰٓئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ

অর্থঃ আর তোমাদের মধ্যে এমন একটি দল যেন থাকে যারা কল্যাণের দিকে আহবান করবে এবং সৎকাজের নির্দেশ দেবে ও অসৎকাজে নিষেধ করবে * আর তারাই সফলকাম।
–সূরা আল ইমরান, আয়াত ১০৪

👉👉 ইসলাম যেসব সৎকর্ম ও পূণ্যের নির্দেশ দিয়েছে এবং প্রত্যেক নবী আপন আপন যুগে যে সব সৎকর্মের প্রচলন করেছেন, তা সবই আয়াতের উল্লেখিত মারুফ তথা সৎকর্মের অন্তর্ভুক্ত। ‘মারুফ’ শব্দের আভিধানিক অর্থ পরিচিত। এসব সৎকর্ম সাধারণ্যে পরিচিত। তাই এগুলোকে ‘মারুফ’ বলা হয়। এমনিভাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেসব অসৎকর্মরূপী কাজকে অবৈধ ঘোষণা করেছেন বলে খ্যাত, তা সবই আয়াতে উল্লেখিত মুনকার’ এর অন্তর্ভুক্ত। এ স্থলে ‘ওয়াজিবাত’ অর্থাৎ জরুরী করণীয় কাজ ও ‘মা’আসী’ অর্থাৎ ‘গোনাহর কাজ’ -এর পরিবর্তে ‘মারুফ’ ও ‘মুনকার’ বলার রহস্য সম্ভবত এই যে, নিষেধ ও বাধাদানের নির্দেশটি শুধু সবার কাছে পরিচিত ও সর্বসম্মত মাসআলা-মাসায়েলের প্রযোজ্য হবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “তোমাদের মধ্যে যে কেউ কোন খারাপ কাজ দেখবে, সে যেন তা হাত দ্বারা প্রতিহত করে, তা যদি সম্ভব না হয় তাহলে মুখ দ্বারা প্রতিহত করবে, আর যদি তাও সম্ভব না হয় তাহলে অন্তর দ্বারা ঘৃণা করবে। এটাই ঈমানের সবচেয়ে দুর্বল স্তর। অন্য বর্ণনায় এসেছে, ‘এর পরে সরিষা পরিমাণ ঈমানও বাকী নেই।
–মুসলিমঃ ৪৯, আবু দাউদঃ ১১৪০।

অন্য এক হাদীসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ‘যার হাতে আমার জীবন তাঁর শপথ করে বলছি, অবশ্যই তোমরা সৎকাজের আদেশ করবে এবং অসৎকাজ থেকে নিষেধ করবে। নতুবা অচিরেই আল্লাহ তোমাদের উপর তাঁর পক্ষ থেকে শাস্তি নাযিল করবেন। তারপর তোমরা অবশ্যই তাঁর কাছে দো’আ করবে, কিন্তু তোমাদের দোআ কবুল করা হবে না।
–তিরমিযীঃ ২১৬৯, মুসনাদে আহমাদঃ ৫/৩৯১!!

অনুরূপভাবে রাসূল সাঃ কে এক লোক জিজ্ঞেস করলেনঃ হে আল্লাহ্‌র রাসূল, কোন লোক সবচেয়ে বেশী ভাল? তিনি বললেনঃ সবচেয়ে ভাল লোক হল যে আল্লাহ্‌র তাকওয়া অবলম্বন করে, সৎকাজে আদেশ দেয় ও অসৎকাজ থেকে নিষেধ করে এবং আত্মীয়তার সম্পর্ক ঠিক রাখে।
—মুসনাদে আহমাদঃ ৬/৪৩১!!!

রমজান মাসে কি কবরের আজাব বন্ধ থাকে!?!

📘📕 রমজানে অর্থাৎ রোজার মাসে কবর বারযাখের আজাব বন্ধ থাকে, মূলত এটি একটি ভ্রান্ত ও ভিত্তিহীন কথা। অনেককেই বিশেষ করে অনেক আলেম ওলামাকে বলতে শোনা যায়, ‘রমজান মাসে কবরের আজাব মাফ থাকে’।আবার আরো একটু আগ বাড়িয়ে একথাও বলতে শোনা যায় যে, ‘দাফনের পর জুমা বা রমজান এলে কেয়ামত পর্যন্ত কবরের আজাব বন্ধ থাকে।
👉👉 আসল কথা হল,মানুষের এমন ধারণা ঠিক নয়, এটি একটি ভিত্তিহীন ধারণা। তাছাড়া অনুমান ধারণা থেকে কথা বলতে আল্লাহ সুবহানাহু তাআলা কঠোরভাবে নিষেধ করেছেন। কোরআন-সুন্নায় এ সম্পর্কে কোনো কথা বলা হয়নি বা কোন দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়নি ।
তবে আল্লাহ তাআলা সবার বারযাখ অর্থাৎ কবরের আজাব মাফ করে দিতে পারেন যেকোনো সময় ।
মূলতঃ কবরের আজাব হওয়া না-হওয়ার সঙ্গে রমজানের কোনো সম্পর্ক নেই। কোন ব্যক্তিকে আল্লাহ মৃত্যু পরবর্তী বারযাখি জীবনে কবরে অথবা অন্য কোথাও কোন ব্যক্তির ঈমান ও নেক আমলের সঙ্গে আজাব হওয়া না হওয়ার সম্পর্ক।

মানুষের উচিত এই জাতীয় অনুমান ও ভিত্তিহীন ধারণা অথবা কথাবার্তার দ্বারা প্রবাহিত না হয়ে, এমনসব আমল করা ও সেই সব আমলের প্রতি যত্নবান হওয়া, যার মাধ্যমে মৃত্যু পরবর্তী বারযাখের জীবন তথা কবরের আজাব থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। বারজাখি জীবনের আজাবকে কবরের আজাব হিসাবে উল্লেখ করা হয়; কেননা বেশিরভাগ মানুষকেই মৃত্যুর পর কবর দেওয়া হয় অর্থাৎ গ্রাউন্ডেড করা হয়। কিংবা অন্যভাবে তার লাশ ধ্বংস হলে কিংবা পুড়ে ফেললেও তা মূলত ধ্বংসাবশেষ মাটির মধ্যেই ফিরে যায় অর্থাৎ গ্রাউন্ডেড হয়ে যায়।
এইজন্য বাহ্যিক অর্থে এবং সার্বিকভাবে এটাকে কবরের আজাব বলা হয়ে থাকে। কেননা কেউ কেউ বলে থাকেন যে অনেকের তো কবর হয় না বরং তাদের পুড়ে ফেলা হয় অথবা বিভিন্ন জীবজন্তু খেয়ে ফেলে তখন তাদের আজাব হয় কি করে। মূলত তাদের এই ধারণা ও কথাবার্তা ভিত্তিহীন ও নিজের সাথেই প্রতারণার শামিল।
যাইহোক, রোজার মাসের সাথে কিংবা রোজার মাসের বরকতের সাথে কবরের আজাবের এর কোন সম্পর্ক নেই। বরং এটি একটি রহমত বরকত মাগফেরাতের মাস এবং পুরো মাস ধরেই রহমত বরকত মাগফেরাত হতে থাকে। তার এরই মধ্যে যদি আল্লাহ কাউকে ক্ষমা করে দেন, তা একান্তই আল্লাহর রহমত। রমজানের বাইরেও আল্লাহ মানুষকে ক্ষমা করেন।

👉👉তবে হ্যা, রোজা রাখা অবস্থায় ইন্তেকাল করলে তার বিশেষ ফজিলত রয়েছে। অথবা যে কোন এবাদতরত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করলে তার বিশেষ ফজিলত রয়েছে। এইজন্যই আল্লাহর নিকট চাইতে হয়, হে আল্লাহ আমার মৃত্যু দান করুন অবশ্যই ঈমানের সহিত, এবাদত তত অবস্থায়, সুস্থ শরীরে এবং প্রিয়জনদের মাঝে (আমিন) । হাদিসে এসেছে, হুযায়ফা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন-‘যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে একদিন রোজা রাখে এবং এ রোজা হয় তার জীবনের শেষ আমল (অর্থাৎ রোজা অবস্থায় তার ইন্তেকাল হয়) সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।
–মুসনাদে আহমাদ ২৩৩২৪; বায়হাকি ৬৫১; মাজমাউয যাওয়ায়েদ ১১৯৩৫)
এ হাদিসের আলোকে জানা যায়, রোজাদার অবস্থায় ইন্তেকাল করলে, আশা করা যায়, আল্লাহ তাআলা তাকে মাফ করে দেবেন।
কিন্তু রমজান মাসে কবরের আজাব বন্ধ থাকে, এমনটি কোথাও পাওয়া যায় না।

সম্ভবত যে কারণে মানুষ এমনটি মনে করে
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন-.
‘যখন রমজানের প্রথম রাতের আগমন ঘটে, তখন দুষ্ট জিন শয়তানদের শৃঙ্খলাবদ্ধ করা হয়(অবশ্য মানুষ শয়তানগুলো ছেড়ে দেওয়া অবস্থায় থাকে আর এই জন্য রমজান মাসে শয়তানেও চলতে থাকে! আর তাই মানুষ শয়তান এবং জিন শয়তান থেকে আশ্রয় চাওয়ার জন্য আল্লাহ বলেছেন, তোমরা বলো- “মিনাল জিন্নাতি ওয়ান নাছ”আমি আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই মানুষ শয়তান আর জ্বিন শয়তান থেকে) ।
এ মাসে জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেওয়া হয়,একটি দরজাও খোলা হয় না এবং জান্নাতের দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হয়, একটি দরজাও বন্ধ করা হয় না। একজন ঘোষক ঘোষণা করতে থাকে- হে কল্যাণের প্রত্যাশী! আরো অগ্রসর হও। হে অকল্যাণের যাত্রী! ক্ষান্ত হও। আর আল্লাহ তাআলা এ মাসের প্রতি রাতে অসংখ্য মানুষকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দান করেন। –ইবনে মাজাহ ১৬৪২; ইবনে খুযায়মা ১৮৮৩; মুসতাদরাকে হাকেম ১৫৩২।।
আর এই সকল হাদিসের মর্মার্থ হল, এই মাসে ব্যাপক কল্যাণ বর্ষিত হয় এবং অকল্যাণ থেকে মানুষকে কল্যাণের দিকে আহবান করা হয়।।।

উপরের হাদিসের বর্ণনায় এসেছে, ‘জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেওয়া হয়’- এখান থেকে হয়ত কারও মাঝে এ ধারণার সৃষ্টি হয়েছে যে, তাহলে রমজানে কবরের আযাবও বন্ধ থাকে। আর এই সকল ধারনা থেকেই মানুষ নিজে মন থেকে বানিয়ে এই সমস্ত কথা বলে থাকেন যদিও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম থেকে এ কথা প্রমাণিত নয়।

হাদিস শাস্ত্র বিশারদ এবং বিজ্ঞ আলেমদের মতে, রমজানে জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ থাকে, প্রতি রাতে আল্লাহ বহু মানুষকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেন এবং রোজাদার অবস্থায় ইন্তেকাল করলে আশা করা যায় আল্লাহ তাআলা মাফ করে দেবেন এবং জান্নাতে প্রবেশ করাবেন- এগুলো বিশুদ্ধ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত। কিন্তু রমজানে কবরের আজাব বন্ধ থাকে- হাদিসের এমন কোনো বর্ণনা পাওয়া যায় না।

আমিন বলা প্রসঙ্গে

❤️💜আমিন শব্দের বাহ্যিক অর্থ হল “কবুল করুন”!
আমিন শব্দের আরো একটি অর্থ হল “”আমি যা বলেছি তাই যেন হয় এবং তাই করুন হে আমাদের রব””!
👉👉বিভিন্ন দোয়া এবং নামাজের সুরা ফাতিহার পর আমরা যে #আমিন বলে থাকি, সেটার অর্থ হলো—”হে আল্লাহ কবুল করুন”। আল্লাহর কাছে যখনই দোয়া করি তখনই কবুলের জন্য আমরা আমিন বলে থাকি। এটি আল্লাহর কাছে কবুলের জন্য দোয়া। মূলত ইহুদি খ্রিস্টান এবং মুসলিমগণ দোয়া ও প্রার্থনা শেষে আমীন বলে থাকে!!
ইহুদি এবং খ্রিস্টান গন কিছু কিছু আল্লাহ প্রদত্ত এবং নবী প্রদত্ত কালচার এখনো ধরে রেখেছে যা ধরে রাখা তাদের জন্য সহজ হয়েছে কিন্তু যা ধরে রাখা কঠিন তা তারা বাদ দিয়েছে এবং শিরক লিপ্ত হয়েছে।
আমিন বা আমেন শব্দটি তাওরাত এবং ইঞ্জিল তথা বাইবেলেও এসেছে। যেহেতু তাওরাত এবং ইঞ্জিল তথা বাইবেলের অরিজিনাল এসেছে সরাসরি আল্লাহর তরফ থেকে যদিও তারা পরবর্তী সময়ে প্রচুর বিকৃতি সাধন করেছে তথাপিও জান্নাত জাহান্নাম এবং এই জাতীয় প্রার্থনার আয়াতগুলো তারা ঠিক রেখেছে।
👉👉সেমেটিক মূলের মূল অর্থ যা থেকে এটি উদ্ভূত হয়েছে “দৃঢ়”, “স্থির” বা “নিশ্চিত” এবং সম্পর্কিত হিব্রু ক্রিয়াপদের অর্থ “বিশ্বস্ত হওয়া” এবং “বিশ্বস্ত হওয়া”। গ্রীক ওল্ড টেস্টামেন্ট সাধারণত আমেনকে “তাই হোক” হিসাবে অনুবাদ করে; ইংরেজি বাইবেলে এটি প্রায়শই “সত্যিই” বা “সত্যি” হিসাবে রেন্ডার করা হয়েছে।
এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটেনিকায় এভাবে দেওয়া আছে—
Amen, expression of agreement, confirmation, or desire used in worship by Jews, Christians, and Muslims. The basic meaning of the Semitic root from which it is derived is “firm,” “fixed,” or “sure,” and the related Hebrew verb also means “to be reliable” and “to be trusted.” The Greek Old Testament usually translates amen as “so be it”; in the English Bible it has frequently been rendered as “verily,” or “truly.”

বিভিন্ন দোয়া,মুনাজাত, এবং আল্লাহর কাছে বিভিন্ন বিষয়ে আশ্রয় বা পানাহ চাওয়ার শেষে যে ‘আ-মীন’ آمـين বলা হয় ।
তার অর্থ: হে আল্লাহ, তুমি কবুল করো, ডাকে সাড়া দিন ইত্যাদি।
আরবি অভিধানে লেখা হয়েছে:
آمِينُ: (اسم) اِسْمُ فِعْلِ أمْرٍ مَبْنِيّ عَلَى الفَتْحِ بِمَعْنَى اِسْتَجِبْ

হাদিসে আবু হুরায়রা রাঃ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
“যখন ইমাম সাহেব “আমীন” বলবেন তখন তোমরাও “আমীন” বলবে। কারণ, যার “আমীন” বলা ফিরিশতাগণের “আমীন” বলার সাথে মিলে যাবে তার পূর্বেকার সকল গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে”।
হাদীসটি বুখারী, মুসলিম, তিরমিজি, এবং আবু দাউদে সরাসরি এসেছে!!

অন্য আরো একটি বর্ণনায় এসেছে—
“যখন ইমাম সাহেব غَيْرِ المَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلاَ الضَّالِّينَ বলবেন তখন তোমরা “আমীন” বলবে। কারণ, যার “আমীন” বলা ফিরিশতাগণের “আমীন” বলার সাথে মিলে যাবে তার পূর্বেকার সকল গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।”
—-এই হাদিসটিও এসেছে বুখারী, মুসলিম এবং আবু দাউদ এর মধ্যে!

👉আবু মুসা আশ‘আরী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের উদ্দেশ্যে খুৎবা দিয়ে তিনি আমাদেরকে সালাত ও সুন্নত শিক্ষা দিয়েছেন তিনি তাঁর খুৎবায় বলেন,
“যখন তোমরা সালাত আদায় করতে যাবে তখন তোমরা সালাতের সারিগুলো সোজা করে নিবে অতঃপর তোমাদের মধ্যকার যে কোনও একজন ইমামতি করবেন। যখন তিনি “আল্লাহু আকবার” বলবেন তখন তোমরাও “আল্লাহু আকবার” বলবে। আর যখন তিনি
غَيْرِ المَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلاَ الضَّالِّينَ
“গায়রিল মাগযুবি আলাইহিম ওয়ালায যাল্লীন” বলবেন তখন তোমরা “আমীন” বলবে-তাহলে আল্লাহ তাআলা তোমাদেরকে ভালবাসবেন।”
—-এই হাদিসটি আছে সহিহ মুসলিম এবং আবু দাউদ শরীফে
👉 আমিন/আমীন শব্দের আরবি বানান, উচ্চারণ ও প্রয়োগের পার্থক্যের কারণে ভিন্ন ভিন্ন অর্থ:
যখন “আ-মীন” এর আলিফকে মাদ্দ সহকারে ( লম্বা করে টেনে) পড়া হবে তখন তার অর্থ কবুল করা (যেমনটি আমরা ইতোপূর্বে উল্লেখ করেছি)। কিন্তু মাদ্দ ছাড়া পড়লে তা বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রয়োগ অনুযায়ী বিভিন্ন ধরণের অর্থ প্রকাশ করে। যেমন:

● আমীন أمين বা আল আমীন الأمين অর্থ: বিশ্বস্ত, আস্থা ভাজন, সৎ।
এ কথা প্রসিদ্ধ যে, নবুওয়ত প্রাপ্তির পূর্বে যুবক বয়সে আমাদের নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ‘আল আমিন’ বা বিশ্বস্ত বলে সম্বোধন করা হত।

💜❤️আল আমীন অর্থ: নিরাপদ, শান্তিময়। আল্লাহ তাআলা মক্কা নগরীকে ‘নিরাপদ বা শান্তিময় নগরী’ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন,
وَهَٰذَا الْبَلَدِ الْأَمِينِ
“এবং (শপথ) এই নিরাপদ নগরীর।” [সূরা ত্বী-ন: ৩]

👉👉মোটকথা এটি ইহুদি, খ্রিস্টান এবং মুসলিম ধর্মীয় অনুশীলনে একটি সমাপ্তি সূচক শব্দ হিসাবে বা দোয়া বা প্রার্থনার প্রতিক্রিয়া হিসাবে ব্যবহৃত হয়। আমিন/আমেন শব্দের সাধারণ ইংরেজি অনুবাদের মধ্যে রয়েছে “সত্যিই”, “সত্যি”, “এটি সত্য”, এবং “এটি হতে দিন”। দৃঢ় চুক্তি প্রকাশ করার জন্য এটি পরস্পর কথোপকথনেও ব্যবহৃত হয়। যেহেতু বান্দা যখন আল্লাহর কাছে কোন কিছু প্রার্থনা করে অথবা আশ্রয় চায় তখন মূলত আল্লাহর সাথে বান্দার কথোপতন চলতে থাকে।

👉👉উইকিপিডিয়াতে এসেছে—

আমিন শব্দের ব্যুৎপত্তিঃ
আমেন বাইবেলের হিব্রু উৎপত্তির একটি শব্দ । এটি হিব্রু বাইবেলে বহুবার একটি নিশ্চিত প্রতিক্রিয়া হিসাবে আবির্ভূত হয়, বিশেষ করে আশীর্বাদ অনুসরণ করে। ইঞ্জিলে অর্থাৎ বাইবেলের শব্দটি ৩০ বার এসেছে। মৌলিক ত্রিকোণীয় মূল যেখান থেকে এই শব্দটি উদ্ভূত হয়েছে, বাইবেলের আরামাইক সহ আফ্রোএশিয়াটিক ভাষার সেমিটিক শাখার বেশ কয়েকটি ভাষায় সাধারণ । হিব্রুতে মূলের অর্থ দৃঢ় বা নিশ্চিত হওয়া, নির্ভরযোগ্য বা নির্ভরযোগ্য হওয়া, বিশ্বস্ত হওয়া, বিশ্বাস করা, বিশ্বাস করা অন্তর্ভুক্ত। শব্দটি প্রাথমিক চার্চের ইহুদি ধর্ম থেকে গ্রীক ভাষায় আমদানি করা হয়েছিল ।গ্রীক থেকে, আমেন অন্যান্য ইউরোপীয় ভাষায় প্রবেশ করেছে। ইংরেজি শব্দের একটি প্রমিত অভিধানের ব্যুৎপত্তি অনুসারে, আমেন গ্রীক থেকে ল্যাটিন ভাষায় এবং সেখান থেকে ইংরেজিতে এসেছে।

হিব্রু থেকে, শব্দটি পরে আরবি ধর্মীয় শব্দভাণ্ডারে গৃহীত হয় এবং আরবি মূল أم ن [ উদ্ধৃতি প্রয়োজন ] , যা হিব্রু ভাষার অনুরূপ অর্থে সমতল করা হয়। খ্রিস্টান এবং ইসলামিক অভিধানে ইন্টারজেকশনটি ঘটে, সাধারণত প্রার্থনায়, সেইসাথে ধর্মনিরপেক্ষভাবে, যদিও কম সাধারণভাবে, যাতে সম্পূর্ণ নিশ্চিতকরণ বা সম্মান বোঝাতে পারে। ধর্মীয় গ্রন্থে, এটি বাইবেলের আরবি অনুবাদে এবং কুরআনের ঐতিহ্যগতভাবে প্রথম অধ্যায় পাঠ করার পরে ঘটে, যা আনুষ্ঠানিকভাবে ধর্মীয় প্রার্থনার অনুরূপ।

কিছু থিওসফিস্টদের মধ্যে জনপ্রিয় , [১২] ইতিহাসের আফ্রোকেন্দ্রিক তত্ত্বের প্রবক্তা , [১৩] এবং গুপ্ত খ্রিস্টধর্মের অনুসারী [১৪] অনুমান হল যে আমেন মিশরীয় দেবতা আমুন (যাকে কখনও কখনও আমেন বানানও বলা হয়) এর নামের একটি উৎস । . পূর্ব ধর্মের কিছু অনুসারী বিশ্বাস করেন যে আমেন হিন্দু সংস্কৃত শব্দ অম এর সাথে শিকড় ভাগ করে । [15] [16] [17] [18] এই ধরনের বাহ্যিক ব্যুৎপত্তি আদর্শ ব্যুৎপত্তিগত রেফারেন্স রচনায় অন্তর্ভুক্ত নয়। উপরে উল্লিখিত হিব্রু শব্দটি আলেফ দিয়ে শুরু হয়, যখন মিশরীয় নামটি যোদ দিয়ে শুরু হয় । [১৯]

ফরাসি ভাষায়, হিব্রু শব্দ আমেন কখনও কখনও আইন্সি সোইট-ইল হিসাবে অনুবাদ করা হয় , যার অর্থ “তাই হোক।” [২০]

ভাষাবিদ গিল’আদ জুকারম্যান যুক্তি দেন যে, হালেলুজার ক্ষেত্রে , আমেন শব্দটি সাধারণত অনুবাদের দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয় না কারণ বক্তাদের আইকনিসিটিতে বিশ্বাসের কারণে , তাদের ধারণা যে শব্দের মধ্যে সম্পর্ক সম্পর্কে অন্তর্নিহিত কিছু আছে। সংকেতকারী (শব্দ) এবং এটি কী বোঝায় (এর অর্থ)। [২১] : ৬২
👉👉 এ শব্দটি ভূমি জরিপকারী ও কর্মচারী অর্থেও ব্যবহৃত হয়। (বাংলা ব্যবহারিক অভিধান-বাংলা একাডেমি)
👉👉আমিন অর্থ: সচিব, সেক্রেটারি, ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তি। (আরবি-বাংলা অভিধান-ফজলুর রাহমান)

এর পরে অন্য শব্দ যুক্ত করে ভিন্ন ভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত হয়। যেমন:
👉👉আমীনুস সানদুক أمـــين الصــندوق অর্থ: ক্যাশিয়ার।
👉👉আমিনুল মাকতাবাহ أمـــين المكتبـــة অর্থ: লাইব্রেরিয়ান।
👉👉আল আমীনুল আম الأمـــين العام অর্থ: সাধারণ সম্পাদক ইত্যাদি।
মোটকথা, বানান এবং ব্যবহারের পার্থক্যের কারণে এই আমীন বা আমিন শব্দটি ভিন্ন ভিন্ন অর্থ প্রকাশ করে থাকে।

🟥🟪 এবার আসা যাক #ছুম্মা_আমিন বলার বিষয়ে–
ছুম্মা শব্দটির অর্থ অতঃপর অথবা আবারও এবং আমিন শব্দটির অর্থ কবুল করো বা গ্রহণ করে নাও। সাধারণত আল্লাহ্ তা’লার নিকট কোন দোয়া চাওয়ার পর আমিন বলা হয়। এর অর্থ- হে আল্লাহ্ কবুল করে নাও। আবার কখনো কখনো দোয়ার শেষে আল্লাহ্ তা’লার কাছে অধিক আকুতির সাথে আমিন-ছুম্মা আমিন কথাটি বলা হয়।

তবে বিষয়ে প্রত্যেকটি আল্লাহ খুব ভালোভাবে অবগত এবং আল্লাহ আমাদের যে কোন বিষয়ে যতটুকু জ্ঞান দান করেছেন আমরা কেবল সেখান থেকে কথা বলতে পারি।

শবে মেরাজের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা, করনীয় এবং বর্জনীয়।।

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ।
নাহমাদুহু ওয়া নুসাল্লি আলা রাসূলিহীল কারীম।
আম্মা বাদ।
কালাল্লাহি তায়ালা ,
আউজুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজিম।
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
سبحان الذي اسرى بعبده ليلا من المسجد الحرام الى المسجد الاقصى الذي باركنا هو له لنوره لنور يهو من اياتنا،انه هو السميع البصير….
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ সুবাহানাহু তায়ালার কাছে জন্য যিনি আমাদেরকে আজকের এই দিন পর্যন্ত জীবিত রেখেছেন এবং আজকের এই আলোচনা করার তৌফিক দান করেছেন, এজন্য আবারও আমরা আল্লাহর শোকর আদায় করি, আলহামদুলিল্লাহ।
উপরোক্ত আয়াতটি সূরা বনী ইসরাইল অথবা ইসরা এর প্রথম আয়াত।
পবিত্র কোরআনে ইসরা বা ভ্রমণ সম্পর্কে এই একটি আয়াতই ব্যক্ত করা হয়েছে। এবং উর্ধা আকাশের কিছু বর্ণনা দেওয়া হয়েছে সূরা নুজমে।
সূরা বনী ইসরাঈলে প্রথম আয়াতে আল্লাহ বলেছেন–
“”তিনি পবিত্র (আল্লাহ) যিনি তার বান্দাকে রাত্রিভ্রমণ করিয়েছেন মসজিদুল হারাম থেকে মসজিদুল আকসা পর্যন্ত। যার আশপাশ আমি বরকতময় করেছি। যাতে আমি তাকে আমার নিদর্শনসমূহ দেখাতে পারি। নিশ্চয় তিনিই সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।’

এই হলো আয়াতের মোটামুটি বাংলা তর্জমা বা অনুবাদ।।
সূরা বনী ইসরাইলে শুধু মক্কা থেকে বায়তুল মুকাদ্দাস পর্যন্ত একরাত্রিতে ভ্রমণের কথা উল্লেখ আছে এবং আয়াতের শেষে বলে দেওয়া হয়েছে যে, তিনি তাঁকে এই জন্য ভ্রমণ করাচ্ছেন এই জন্য, যাতে তিনি আল্লাহর নিদর্শনসমূহ দেখাতে পারেন।।।
অতঃপর তিনি বায়তুল মুকাদ্দাস থেকে উর্ধ আকাশে গমন করেন এবং এই ব্যাপারে কমপক্ষে 25 জন জলিল ও কদর সাহাবীর বর্ণনা করা হাদিস উল্লেখ আছে বিভিন্ন হাদিস গ্রন্থে।
মেরাজ সংঘটিত হয়েছিল নবুওয়তের ১১তম বছরের ২৭ রজবে। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বয়স ৫১ বছর। মেরাজ হয়েছিল সশরীরে জাগ্রত অবস্থায়। মেরাজের বিবরণ পবিত্র কোরআনের সুরা নাজমে ও সুরা ইসরায় বিবৃত হয়েছে। হাদিসের কিতাব বোখারি , মুসলিম ও সিহাহ সিত্তাসহ অন্যান্য কিতাবে মেরাজের বিষয়টি নির্ভরযোগ্য বিশুদ্ধ সূত্রে বিস্তারিত বর্ণিত হয়েছে।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম সকালবেলা যখন বলা শুরু করলেন যে আমি গতরাতে বায়তুল মোকাদ্দাস গিয়েছি এবং সেখান থেকে আকাশের ভ্রমণ করে এসেছি তখন মক্কার কাফেররা ঠাট্টা বিদ্রুপ করা শুরু করলেন।

অতঃপর এই ব্যাপারে আল্লাহ আয়াত নাযিল করেন।

সূরা নাজমে ১ থেকে ১৮ নং আয়াতে আল্লাহ বলেন–
আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘শপথ নক্ষত্রের যখন তা বিলীন হয়। তোমাদের সাথী (মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বিপথগামী হননি এবং বিভ্রান্ত হননি। আর তিনি নিজে থেকে কোনো কথা বলেন না। (বরং তিনি যা বলেন) তা প্রদত্ত ওহি (ভিন্ন অন্য কিছু) নয়। তাকে শিখিয়েছেন মহাশক্তিধর (জিবরাইল আ.)। সে (জিবরাইল আ.) পাখাবিশিষ্ট, সে স্থিত হয়েছে দূর ঊর্ধ্বে। অতঃপর নিকটবর্তী হলো, পরে নির্দেশ করল। তারপর হলো দুই ধনুকের প্রান্তবর্তী বা আরও নিকট। পুনরায় তিনি ওহি করলেন তার বান্দার প্রতি যা তিনি ওহি করেছেন। ভুল করেনি অন্তর যা দেখেছে। তোমরা কি সন্দেহ করছ তাকে, যা তিনি দেখেছেন সে বিষয়ে। আর অবশ্যই দেখেছেন তিনি তাকে দ্বিতীয় অবতরণ স্থলে; সিদরাতুল মুনতাহার কাছে; তার নিকটেই জান্নাতুল মাওয়া। যখন ঢেকে গেল সিদরা যা ঢেকেছে; না দৃষ্টিভ্রম হয়েছে আর না তিনি বিভ্রান্ত হয়েছেন; অবশ্যই তিনি দেখেছেন তাঁর রবের বড় বড় নিদর্শনসমূহ।’

মেরাজ অর্থ ঊর্ধ্বগমন। মূলতঃ মেরাজ হলো, মহানবী মুহাম্মাদ সাঃ কর্তৃক সশরীরে ও সজ্ঞানে জাগ্রত অবস্থায় জিবরাইল আঃ ও মিকাল আঃ সাথে বিশেষ কুদরতি একপ্রকার বাহনের মাধ্যমে মসজিদে হারাম থেকে মসজিদে আকসা এবং সেখান থেকে বিশেষ এক প্রকার কুদরতি সিঁড়ির মাধ্যমে প্রথম আসমান থেকে একে একে সপ্তম আসমান এবং সিদরাতুল মুনতাহা পর্যন্ত গমন করেন।

👉👉এখানে বলে রাখা ভালো যে অনেকেই বলে থাকেন যে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম বোরাকের মাধ্যমে এবং “রফরফ” নামক বাহনের মাধ্যমে বিভিন্ন জায়গায় ভ্রমণ করেছেন।।
এবং “বোরকা” নামক প্রাণীটিকে চিত্রাহিত করা হয়েছে একজন সুন্দরী মহিলার মাথা বিশিষ্ট একটি পাখাওয়ালা ঘোড়া’র আকৃতি দিয়ে।
নাউজুবিল্লাহ।
এ জাতীয় বহু ছবি ও চিত্র এঁকে শিয়া এবং ইহুদীরা প্রচার করেছে এবং করছে ইসলামকে বিভ্রান্ত করার জন্য।

👉 মেরাজ সংক্রান্ত সকল হাদিস একত্রে বিশ্লেষণ করে প্রখ্যাত আলেম-উলামাদের সিদ্ধান্তও এটি যে, রাসুল সাঃ সে রাতে সিঁড়িতে করে আসমানে গিয়েছেন। বুরাকে করে নয়।

সর্বকালের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মুফাসসির ইমাম ইবন কাসির(র) তাঁর তাফসির গ্রন্থে সুরা বনী ইস্রাঈলের ১নং আয়াতের তাফসির] ইসরা-মিরাজ সংক্রান্ত বিভিন্ন হাদিস উল্লেখ করে শেষ অংশে উল্লেখ করেছেন যে, রাসুল সাঃ সে রাতে বুরাকে করে বাইতুল মুকাদ্দাসে গিয়েছেন। এরপর এক প্রকার মইতে বা সিঁড়িতে করে প্রথম আসমানে গিয়েছেন, এরপর অবশিষ্ট আসমানগুলোতে গিয়েছেন। 

 

 

অর্থঃ “রাসুলুল্লাহ() যখন বাইতুল মুকাদ্দাসের কাজ শেষ করলেন তখন তাঁর জন্য মিরাজ (সিঁড়ি) আনা হল এবং এতে করে তিনি আসমানে গমন করেন। বুরাকে করে যাননি। যেমন কতিপয় মানুষ তা ধারণা করে থাকে। বরং বুরাক বাইতুল মুকাদ্দাসের দরজায় সাথে বাঁধা ছিল যেন তাতে করে তিনি আবার মক্কায় ফিরে আসতে পারেন।” [21]

এ সংক্রান্ত সকল হাদিসের আলোকে এটিই তাঁর অভিমত। তিনি তাঁর ‘আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন,

 

 


👉তাফসির মা’আরিফুল কুরআনেও সুরা বনী ইস্রাঈলের ১নং আয়াতের তাফসিরে ও ইবনে কাসিরের মতটিকেই সমর্থন করা হয়েছে। তাঁর বরাতে উল্লেখ করা হয়েছে যে রাসুল সাঃ মেরাজের রাতে সিঁড়িতে করে আসমানে গিয়েছেন , কোন রফরফ বা বোরাকে করে নয় ।

👉জালালুদ্দিন সুয়ুতী রহঃ বলেছেন,
“বিশুদ্ধ মত যা সহীহ হাদিস থেকে স্থিরকৃত হয়েছে, ঊর্ধ্বগমন মিরাজ বা সিঁড়ি জাতীয় এক ধরণের বস্তুর মাধ্যমে হয়েছিল, বোরাকের মাধ্যমে নয়।

আল্লাহর কি সিঁড়ির এত অভাব পড়েছে, বা বিভিন্ন যানবাহনের এত অভাব পড়েছে যে , রাসূলকে একটি মহিলা মার্কা পাখা ওয়ালা ঘোড়া দিয়ে আসমানে নিতে হবে?? মূলত এমন কোন বিষয় নেই যেখানে ইহুদিরা ইসলামকে বিকৃত করেনি!!

👉অনেকেই বলে থাকেন যে সেখানে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম আল্লাহর সাথে দেখা করেছেন। কিন্তু এই কথার কোন দলিল নাই। বরং হাদিসের দলিল অনুযায়ী এটি একটি মিথ্যা বানোয়াট কথা।।
বুখারী শরীফের মেরাজ অধ্যায়ে একটি হাদিসে স্পষ্ট বলে দেওয়া হয়েছে যে, আম্মাজান আয়েশা রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহা বলেন, যে ব্যক্তি বলবে যে রাসূলের সাথে আল্লাহ দেখা করেছেন সাক্ষাত করেছেন সে আল্লাহর প্রতি অপবাদ দিল।
(বুখারী শরীফের মেরাজ অধ্যায় হাদীসটি দেখে নেওয়া যেতে পারে)
রাসূল সাঃ কে উপরে নিয়ে যাওয়ার মূল কারণ হলো আল্লাহর নিদর্শনসমূহ স্বচক্ষে দেখানো যাতে তিনি উম্মতকে তার বিস্তারিত বর্ণনা দিতে পারেন!!
আর এ সমস্ত কথাগুলো বিভিন্ন হাদিস গ্রন্থের হাদিস সমূহে এভাবেই বর্ণনা করা আছে।

সূরা বনী ইসরায়েলে প্রথম আয়াত দিয়ে আল্লাহ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সালাম এর রাত্রিকালীন ভ্রমণের বর্ণনা দিয়েছেন। ইসরা অর্থ রাত্রিকালীন ভ্রমণ। রাসুলুল্লাহ সাঃ মেরাজ রাত্রিকালে হয়েছিল বলে এটিকে ইসরা বলা হয়।
বিশেষত বায়তুল্লাহ অর্থাৎ মসজিদুল হারাম থেকে বায়তুল মুকাদ্দাস পর্যন্ত সফরকে ইসরা বলা হয় ।
সূরা ইসরার অর্থাৎ বনি ইসরাইলের সেই আয়াতটি প্রথমেই বর্ণনা করা হয়েছে।

মেরাজের রাতে রাসুলুল্লাহ জান্নাত-জাহান্নাম দেখানো হয়েছে।
সেখানে রাসূল সাঃ কে বিভিন্ন অপরাধের শাস্তি দেখানো হয়।
এ রাতেই পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ ঘোষণা করা হয়।
এ রাতে আরো কিছু বিষয়ের সতর্কের তার ব্যাপারে বিভিন্ন হাদিসে এসেছে। যেমন–
👉আল্লাহকে ছাড়া কারও ইবাদত করবে না,
👉 পিতা-মাতার সঙ্গে সদ্ব্যবহার করবে,
👉নিকট স্বজনদের তাদের অধিকার দাও;
👉মিসকিনদের ও পথসন্তানদের (তাদের অধিকার দাও);
👉অপচয় করো না, অপচয়কারী শয়তানের ভাই,
👉কৃপণতা করো না,
👉সন্তানদের হত্যা করবে না,
👉 ব্যভিচারের নিকটেও যেও না,
👉 বিনা কারণে মানব হত্যা করো না,
👉 এতিমের সম্পদের কাছেও যেয়ো না,
👉 প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করো,
👉মাপে পূর্ণ দাও,
👉 ওইসবের অনুসরণ করো না যাতে তোমার জ্ঞান নেই,
👉 পৃথিবীতে অহংকার করে চলাফেরা না করা । এ সবই মন্দ, তোমার রবের কাছে অপছন্দ।
আর এই সমস্ত বিষয়গুলো সবিস্তারে বর্ণনা করা হয়েছে সূরা বনী ইসরাইলের 22 থেকে 44 নম্বর আয়াত সমূহে যা তাফসীর থেকে পড়ে নেওয়া যেতে পারে।

শবে মেরাজকে কেন্দ্র করে আমাদের সমাজে বেশ কিছু প্রচলনসহ বিশেষ নামাজ ও রোজা রাখার প্রথাও প্রচলিত রয়েছে। শবে মেরাজ উপলক্ষে কোনো নামাজ বা রোজার বিধান কি আসলেই ইসলামে রয়েছে? বলে?

অনেককে শবে মেরাজ উপলক্ষে বিশেষ নামাজ আদায়ের জন্য মসজিদে সমবেত হতে দেখা যায়। বহু নারীও সেই রাতে নামাজ আদায় করার পদ্ধতি কী জানতে চান। বহু মুসলমান এই রাত উপলক্ষে মেরাজের রোজা রাখতে চান বা রাখার বিধান জানতে চান। নামাজ আদায় করা ও রোজা রাখা অবশ্যই পুণ্যের কাজ। কিন্তু শবে মেরাজ উপলক্ষে বিশেষ কোনো নামাজ ও রোজার বিধান ইসলামি শরিয়তে নেই। এ ব্যাপারে আল্লামা ইবনে রজব হাম্বলি (রহ.) তৎপ্রণীত লাতায়েফ ও মাআরেফ গ্রন্থে বলেন, ‘রজব মাসের সঙ্গে সম্পর্কিত বিশেষ কোনো নামাজ নেই। রজব মাসের প্রথম জুমায় সালাতুর রাগায়েব প্রসঙ্গে যেসব হাদিস বর্ণিত হয়েছে সেগুলো ভিত্তিহীন, মিথ্যা ও বানোয়াট।’

অধিকাংশ আলেমের মতে, শবে মেরাজ উপলক্ষে নামাজ বিদআত। পরবর্তী যুগের আলেমগণের মধ্যে যারা এই মত ব্যক্ত করেছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন আবু ইসমাঈল আনসারি, আবু বকর সামআনি, আবুল ফযল ইবনে নাসির ও আবুল ফারায ইবনে জাওযি (রহ.)সহ আরও অনেক আলেম। শবে মিরাজ উপলক্ষে সুনির্দিষ্ট কোনো নামাজ আল্লাহর রাসুলের হাদিসের মাধ্যমে অথবা সাহাবিদের আমলের মাধ্যমে অথবা তাবেয়িদের আমলের মাধ্যমে সাব্যস্ত হয়নি। এ রাতের কোনো ইবাদত আল্লাহর রাসুলের কোনো হাদিসের মাধ্যমে সাব্যস্ত হয়নি। ভিন্ন কোনো নামাজ, বিশেষ কোনো নামাজ আদায় করার কোনো প্রয়োজন নেই। অন্যান্য রাতের মতোই এ রাতে নফল নামাজ, তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করতে পারেন। সেটা স্বাভাবিক নিয়ানুযায়ী আগে যেভাবে আদায় করতেন সেভাবেই আদায় করবেন।

অনেক মুসলিম ভাই ও বোনেরা শবে মেরাজ উপলক্ষে ১২ /২০/৪০/১০০ রাকাত পর্যন্ত নামাজ আদায় করেন। ইসলামি শরিয়তেও শবে মেরাজের নামাজ বলে কোন নামাজ নেই।
নফল নামাজ পড়া নেকীর কাজ, কিন্তু শবে মেরাজ উপলক্ষে নফল নামাজ আদায়ের কোনো ভিত্তি ও প্রমাণ ইসলামে নেই। কাজেই শবে মেরাজের নামে নফল নামাজ আদায় করা এবং এর ব্যবস্থা প্রণয়ন করা মানে ইসলামি শরিয়তে নিজের পক্ষ থেকে কিছু সংযোজন করা। আর এ ব্যাপারে আল্লাহর রাসুল বলেছেন, যে আমাদের ধর্মে এমন কিছু সংযুক্ত বা উদ্ভাবন করবে, যা তার শরিয়তের অংশ নয়, বরং তা প্রত্যাখ্যাত হবে। -সহিহ বোখারি।

আমাদের অনেক মুসলিম ভাই ও বোনেরা শবে বরাত ও শবে কদরের সঙ্গে মিলিয়ে শবে মেরাজেও নফল রোজা রেখে থাকেন। একটি কথা বিশেষভাবে উল্লেখ্যযোগ্য- নফল রোজা যখন ইচ্ছা তখন রাখা যায় কিন্তু কোনো উপলক্ষে নফল রোজা রাখতে হলে অবশ্যই আগে জেনে নিতে হবে, আমি বা আমরা যে উপলক্ষে নফল রোজা রাখছি শরিয়ত সেটাকে অনুমতি দিয়েছে কিনা।

শবে মেরাজ উপলক্ষে নফল রোজা রাখার কোনো বর্ণনা কোরআন-হাদিসের কোথাও নেই। আল্লাহর রাসুল ও তার অনুসারীরা এই দিনে বিশেষভাবে কোনো রোজা রেখেছেন এমনে কোনো বর্ণনা ইতিহাসে খুঁজে পাওয়া যায় না। তাই এই দিনে শবে মেরাজ উপলক্ষে রোজা রাখা কোনো ইবাদত হিসেবে গণ্য হবে না। সুতরাং শবে মেরাজ উপলক্ষে আলাদা বিশেষ নামাজ-রোজা আদায় করা থেকে বিরত থাকা উচিত
👉👉 এক কথায় বলতে গেলে সবে বেরাজ বা মেরাজের রাত্রিতে কিংবা দিনে কোন অতিরিক্ত আমল নেই। যদি অতিরিক্ত কিছু করা হয় তবে তা বেদআত বলি গণ্য হবে। এটা আমাদের মনে রাখতে হবে যে নফল এবাদতের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ এবাদত হল শেষ রাত্রিতে জেগে এবাদত করা কেননা ওই সময় আল্লাহ দোয়া কবুল করেন।
আর নফল রোজা গুলোর মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ রোজা হলো
১/ আরাফার দিনের রোজা।
২/ আশুরার দুই রোজা।
৩/ শাওয়াল মাসের ছয় রোজা।
অর্থাৎ বছরে এই নয়টি রোজা যে ব্যক্তি রাখবেন তার পূর্বের এক বছরের এবং পরের এক বছরের রোজা রাখার সওয়াব আল্লাহ আমলনামায় লিপিবদ্ধ করে দেবেন এবং পূর্বের এক বছরের ও পরের এক বছরের সকল গুনাহ আল্লাহ মাফ করে দেবেন ইনশাআল্লাহ।
তাছাড়া রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম মাঝেমধ্যেই বৃহস্পতিবার এবং সোমবারে রোজা রাখতেন।
তাছাড়া মাঝেমধ্যে রাসূল সাঃ প্রতি মাসের অর্থাৎ চন্দ্র মাসের ১৩-১৪ এবং ১৫ তারিখে তিনটি রোজা রাখতেন।
আর এই রোজাগুলো বিশুদ্ধ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত।
কিন্তু সবে মেরাজের কোন রোজার কথা কোথাও উল্লেখ নেই কিংবা কোন অতিরিক্ত আমল করার কথা উল্লেখ নেই।
অপরদিকে সবাই বরাত এর কোন আমল বা রোজার কথাও উল্লেখ নেই বরং যা আছে সব মিথ্যা ও বানোয়াট হাদিস দ্বারা সাব্যস্ত করা হয়েছে।।
আল্লাহ আমাদের সঠিক জিনিস সঠিকভাবে জেনে বিশুদ্ধভাবে আমল করার তৌফিক দান করুন।
আল্লাহ আমাদের শিরক বিদআত কুফর এবং নেফাক এর মত ভয়ংকর গুনাহ থেকে হেফাজত করুন।।
আল্লাহ আমাদের মৃত্যুর সময় উপস্থিত হওয়া পর্যন্ত সুস্থ সুন্দর থাকার ও নেক আমল করার তৌফিক দান করুন।
আর আল্লাহ আমাদের অবশ্যই মৃত্যু দান করুন ঈমানের সহিত, সুস্থ শরীরে, এবাদতরত অবস্থায় এবং প্রিয়জনদের মাঝে।
আর আমাদেরকে এবং কেয়ামত পর্যন্ত আমাদের বংশধরগণকে সঠিক ইসলামের উপর ইস্তেকামাত রাখুন।
ওমা তৌফিকি ইল্লা বিল্লাহ।
ও আখেরি জামানা অনিল হামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামিন।
সুবহানাকা আল্লাহুম্মা বিহামদিকা, আশহাদু আনল্লা ইলাহা ইল্লা আংতা আস্তাগ ফিরকা ওতুবূ ইলাইক।

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ।।।

হাট্টিমাটিম টিম মূলত একটি বাহান্ন লাইনের পূর্ণ ছড়া

হাট্টিমাটিম’ আসলে ৫২ লাইনের একটি ছড়া, যার শেষের চার লাইন আমাদের প্রায় সকলকেই শিখানো হয়েছিল আমাদের ছোটবেলায়।। বাঙালিরা ছোটবেলায় পড়া এই ছড়াটি কোনওদিনই ভুলবেন না হয়তো কেউ। কারণ এই জাতীয় উদ্ভট অজনক কথাবার্তা ও ঘটনার কথা সকলের মনে থাকে।। গরুর চারটি ঠ্যাং আছে ও একটি লেজ আছে এটি হয়তো ভুলে যেতে পারে কিন্তু হাট্টিমাটিম টিম নামক অদেখা অচেনা এক পাখি জাতীয় প্রাণী যার শিং আছে আবার ডিমও পারে এই প্রাণীর কথা কেউ বলবে না।।

কারণ কবিতার মাধ্যমে বাচ্চাদের মস্তিষ্কে এমন এক ফালতু চিন্তা ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছিল যে এই বিষয় নিয়ে সব বাচ্চারা চিন্তা করতে বাধ্য হত।

আমি নিজেই বহুদিন পর্যন্ত চিন্তা করেছি, শিংওয়ালা প্রাণীর ডিম পারে কিভাবে?? কারণ আমাদের চোখের সামনে কোন শিংওয়ালা প্রাণী ডিম পাড়তে দেখিনি।।
তাছাড়া ছোটবেলায় চিড়িয়াখানা গিয়েও খুঁজে দেখতাম কোথাও হাট্টিমাটিম টিম প্রাণীটি আছে কিনা!

🔰🔰শরীফ আর শরিফার কাহিনী সৃষ্টিকারী এবং এমন অসংখ্য মিথ্যা ভুল ও বানোয়াট কাহিনী দিয়ে কারিকুলাম সাজানো শিক্ষা কমিশন শুধু বর্তমানেই নয় বরং ইতিপূর্বেও হয়েছিল এবং এরাও একই পথ ধরেছে। কথায় আছে, “শিশুদের সাথে কখনোই মিথ্যা কথা বলতে হয় না”। অথচ শিশুদের প্রাথমিক ও প্রথম শিক্ষা শুরু হয় মিথ্যা কথার ছড়া দিয়ে!!
বাঙালি অবুঝ শিশুদের জন্য তৎকালীন কারিকুলাম তৈরি কারক ছড়াটি মোটেই মাত্র চার লাইনের নয়।
মোটামুটি কথা ফুটলেই বাঙালি শিশুদের যে কয়েকটি ছড়া কণ্ঠস্থ করানো হয়, তার মধ্যে হাট্টিমাটিম ছড়াটি অন্যতম।।
ছড়াটি ছিল—-
“হাট্টিমাটিম টিম’।
তারা মাঠে পাড়ে ডিম,
তাদের খাড়া দুটো শিং,
তারা হাট্টিমাটিম টিম”।
এর চেয়ে বেশি তথ্য শতকরা ৯৯ জন বাঙালির কাছে নেই!! সাহিত্য কবিতা ছড়া নিয়ে যারা গবেষণা করে শুধুমাত্র তারাই এই ব্যাপারটি সম্পর্কে জানে!!
মূলত ছড়াটি মোটেই ৪ লাইনের নয়।
এটি ছড়াকার #রোকনুজ্জামান_খানের লেখা একটি ৫২ লাইনের সম্পূর্ণ ছড়া।

🔰🔰রোকনুজ্জামান খান জন্মেছিলেন ১৯২৫ সালের ৯ এপ্রিল বর্তমান ফরিদপুর জেলায়। বাংলাদেশে তিনি ‘দাদাভাই’ নামে পরিচিত ছিলেন। তৎকালীন দেশের জনপ্রিয় দৈনিক ইত্তেফাক সংবাদপত্রের শিশু-কিশোরদের বিভাগের দায়িত্বে ছিলেন তিনি বহু বছর।
তাঁর রচনার বেশিরভাগই শিশু-কিশোরদের জন্য। হাট্টিমাটিম সম্ভবত তাঁর রচনাগুলির মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয়।
১৯৬২ সালে রচিত হয় ছড়াটি। ১৯৬৮ সালে #বাংলা_একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারে ভূষিত করা হয় তাঁকে। ১৯৯৯ সালে মারা যান রোকনুজ্জামান।
সেই 52 লাইনের আসল ছড়াটা এইরকম –

টাট্টুকে আজ আনতে দিলাম
বাজার থেকে শিম
মনের ভুলে আনল কিনে
মস্ত একটা ডিম।

বলল এটা ফ্রি পেয়েছে
নেয়নি কোনো দাম
ফুটলে বাঘের ছা বেরোবে
করবে ঘরের কাম।

সন্ধ্যা সকাল যখন দেখো
দিচ্ছে ডিমে তা
ডিম ফুটে আজ বের হয়েছে
লম্বা দুটো পা।

উল্টে দিয়ে পানির কলস
উল্টে দিয়ে হাড়ি
আজব দু’পা বেড়ায় ঘুরে
গাঁয়ের যত বাড়ি।

সপ্তা বাদে ডিমের থেকে
বের হল দুই হাত
কুপি জ্বালায় দিনের শেষে
যখন নামে রাত।

উঠোন ঝাড়ে বাসন মাজে
করে ঘরের কাম
দেখলে সবাই রেগে মরে
বলে এবার থাম।

চোখ না থাকায় এ দুর্গতি
ডিমের কি দোষ ভাই
উঠোন ঝেড়ে ময়লা ধুলায়
ঘর করে বোঝাই।

বাসন মেজে সামলে রাখে
ময়লা ফেলার ভাঁড়ে
কাণ্ড দেখে টাট্টু বাড়ি
নিজের মাথায় মারে।

শিঙের দেখা মিলল ডিমে
মাস খানিকের মাঝে
কেমনতর ডিম তা নিয়ে
বসলো বিচার সাঁঝে।

গাঁয়ের মোড়ল পান চিবিয়ে
বলল বিচার শেষ
এই গাঁয়ে ডিম আর রবে না
তবেই হবে বেশ।

মনের দুখে ঘর ছেড়ে ডিম
চলল একা হেঁটে
গাছের সাথে ধাক্কা খেয়ে
ডিম গেলো হায় ফেটে।

গাঁয়ের মানুষ একসাথে সব;
সবাই ভয়ে হিম
ডিম ফেটে যা বের হল তা
হাট্টিমাটিম টিম।

হাট্টিমাটিম টিম-
তারা মাঠে পারে ডিম
তাদের খাড়া দুটো শিং
তারা হাট্টিমাটিম টিম।

🔰🔰 পোস্টমর্টেমঃ একথা সর্বজন বিদিত যে, রোকনুজ্জামান খান একজন জনপ্রিয় ছড়াকার ,সাহিত্যিক, ও সাংবাদিক ছিলেন।
কেউ আকাশচুম্বী জনপ্রিয় হয়ে গেলেই তিনি অনুসরণীয় আদর্শ হয়ে যান না। একজন মুসলিম হিসাবে রোকনুজ্জামান খানের উচিত হয়নি মিথ্যা কথা দিয়ে সাজানো কবিতা লিখে বাচ্চাদেরকে উপহার দেওয়া। তিনি ইসলাম ধর্মের অনুসারী ছিলেন এবং মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছেন।।
মুসলিম অর্থ আত্মসমর্পণকারী এবং মুসলিমের প্রথম ও প্রধান কাজ হল সত্যের সাক্ষ্য দেওয়া।।
সেখানে তিনি প্রথমেই বাচ্চাদেরকে অর্থাৎ মুখে কথা ফোটার পর বাচ্চাদেরকে যে কথা শিক্ষা দেওয়া হবে সেটি তিনি সাজিয়েছেন শুধু মিথ্যা নয় বরং উদ্ভট অজানা এক জন্তুর নামে যার অস্তিত্ব পৃথিবীতে ছিল না, নাই, এবং কোনদিন হবে না।
এটি উনার ভুল ছিল না বরং রীতিমতো একটি অন্যায় কর্ম। কেননা মানুষকে বিশেষ করে বাচ্চাদেরকে মিসগাইড করা একটি বড় রকমের ক্রাইম।।
আর একজন মুসলিমের জন্য তো সেটি হল বিরাট বড় একটি অন্যায় যার শাস্তি জাহান্নাম।।।
দুনিয়াতে এত সুন্দর সুন্দর ও আজব প্রাণী থাকতে এবং এত নবী-রাসূল ও সৎ লোক থাকা অবস্থায় একটি উদ্ভট প্রাণীর ইমেজ উপস্থাপন করে কবিতা লিখতে হবে কেন???
ইবলিশ যখন মানুষকে বিভ্রান্ত করে এবং মানুষ যখন নবী-রাসূলদের শিক্ষা থেকে দূরে সরে গিয়ে নিজেদের মন মস্তিষ্ক অনুযায়ী চলতে থাকে তখন মানুষের মগজ থেকে এই জাতীয় ফালতু কথা বের হয়।।।
শয়তানের কাজ হল মানুষের সামনে খারাপ জিনিস গুলো সুন্দরভাবে উপস্থাপন করা।। এবং এভাবেই সে মানুষকে বিপথগামী করে।।
শয়তান মূলত দুই প্রকার।
একটি হলো “জ্বীন শয়তান” এবং দ্বিতীয় টি হল “মানুষ শয়তান”।
এজন্যই আল্লাহ সূরা নাসে উভয় প্রকার শয়তান থেকে আল্লাহর নিকট পানা বা আশ্রয় চাওয়ার শিক্ষা দিয়েছেন।
“মিনাল জিন্নাতি ওয়ান্নাস” অর্থাৎ (আমি আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই) মানুষ শয়তান এবং জিন শয়তান থেকে।
সত্য জনপ্রিয়তার মানদন্ডে প্রতিষ্ঠিত হয় না বরং একই সাথে একটি বিশাল দল বা জামাত কিংবা একটি দেশের পুরো লোক মিথ্যাবাদী থাকতে পারে এবং মিথ্যার অনুসারী হতে পারে।।
তৎকালীন ইরাকের #নিমরদ বা #নমরুদের পুরো দেশের সব লোক ছিল মিথ্যাবাদী শুধু ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম ছাড়া। অবশেষে তিনি হিজরত করতে বাধ্য হয়েছিলেন।
মিশরের পুরো ফেরাউন কওমের সবাই ছিল মিথ্যাবাদী এবং সেখান থেকে একমাত্র সত্যবাদী মূসা আলাইহিস সালাম হিজরত করতে বাধ্য হয়েছিলেন।

অতএব কোন একজন কবি বা সাহিত্যিক জনপ্রিয় হলেই তিনি ভালো হয়ে যাবেন, কিংবা সত্যবাদী হয়ে যাবেন, অথবা তিনি অনুসরণযোগ্য হয়ে যাবেন, এমনটি চিন্তা করা বোকামি।
তাই আমাদের উচিত অর্থাৎ প্রত্যেকের উচিত সত্যের সাক্ষ্যদানকারী হয়ে যাওয়া, সত্যকে মনেপ্রাণে গ্রহণ করা, এবং সকল প্রকার মিথ্যাকে চিহ্নিত করে তার বিরোধিতা করা।
কেননা মিথ্যার ব্যাপারে নিশ্চুপ থাকলে মিথ্যা ডালপালা প্রসারিত করে সমাজকে কোনো সুখি করে ফেলে।।
যেমন এই মিথ্যা কবিতাটি সেই শৈশবে অর্থাৎ শিশুকালেই আমাদের মন মস্তিষ্কে ঢুকিয়ে দেওয়ার ফলে আমাদের শিশু মেধার অপচয় হয়েছে ব্যাপক হারে এবং একটি ফালতু প্রাণীকে নিয়ে কোটি কোটি শিশুর শৈশব কেটেছে অহেতুক চিন্তা ভাবনায়।
আর এর জন্য দায়ী এই রোকনুজ্জামান খানের মতো মিথ্যা সাক্ষ্য দানকারী এবং উদ্ভট ও মিথ্যা প্রচারকারী কবিগণ।
কাব্য শাশ্বত সুন্দর।
একটি কবিতা দিয়ে মনের ভাব সংক্ষিপ্ত আকারে সুন্দর করে ফুটিয়ে তোলা যায়।
ছোট্ট একটি কবিতার মাধ্যমে বিশাল একটি ইতিহাস তুলে ধরা যায়।
কিন্তু একটি মিথ্যা কবিতা বা ছড়ার মাধ্যমে পুরো একটি জাতিকে বিপথগামী করে দেওয়া যায়।
আল্লাহ আমাদের সঠিক জিনিস সঠিকভাবে বুঝার তৌফিক দান করুন আমিন।

👉👉অনেকেই বলেন,””কাবার ওপর দিয়ে_প্লেন,পাখি ওড়ে না””👉👉কারণ কাবার ওপর দিয়ে উড়লে প্লেনে আগুন লেগে যায় ও পাখি পড়ে যায় ।আসলেই কি তাই⁉️👉👉কাবার উপর দিয়ে প্লেন বা পাখি উড়েনা এইটা একটা পুরো ভুল কথা । এটি কিছু মূর্খ কাঠ মোল্লা ও পীরদের  বানানো একটা মিথ্যা মাত্র ।কাবার উপর দিয়ে পাখি বিশেষ করে প্রচুর কবুতর উড়ে । কাবার ছাদে  কবুতর পায়খানাও করে । কাবা ও বার বার ধ্বংস হয়েছে, বন্যাতে ডুবেছে, ইমাম মাহদী দাবিদার শিয়াদের দ্বারা অবরুদ্ধ হয়েছে, আবার পরে তা নির্মান করা হয়েছে ।আর কাবার ওপর দিয়ে প্লেন না ওড়ার কারণ হলো  মক্কার আকাশ “#নো_ফ্লাই_জোন”। তাছাড়া অন্য আর কোনো কারণ নেই। যেহেতু কাবা একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা এবং কাবায়  অমুসলিমদের প্রবেশ নিষেধ তাই এর আকাশ সীমানাতেও যেনো কেউ প্রবেশ না করে তাই মক্কার আকাশকে নো ফ্লাই জোন হিসেবে রাখা হয়েছে।তাছাড়া কাবায় সারাক্ষণ লক্ষ লক্ষ মুসলীম তওয়াফ করে । নিরাপত্তার বিষয়টি এখানে প্রধান । যে কোন সময় যে কোন বদমাশ লোক বিমান নিয়ে গিয়ে একটি কুকর্ম করতে পারে । “নো ফ্লাই জোন” হওয়াতে তা সহজজে সম্ভব নয় ।কাবার উপর দিয়ে সৌদি নিরাপত্তাবাহিনীর হেলিকপ্টার প্রায়ই চলাচল করে।মূর্খতা বশত বাংলাদেশের একদল বিশেষ করে কওমী শিক্ষিত মোল্লা কাবাকে এমনভাবে দেখায়  যে সেটা উপাসনার একটি বস্তু! বস্তুতঃ কাবা আল্লাহর হুকুমে ইব্রাহিম আঃ এর দ্বারা নির্মিত একটি ইবাদত গৃহ বা আল্লাহর ঘর । কাবার দিকে ফিরে নামাজ পড়ার জন্য আল্লাহ আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন তাই আমরা ঐ দিকে ফিরে নামাজ পড়ি এবং আজীবন ইনশাল্লাহ পড়ব । প্রতিবছর কাবা পরিষ্কার করা বা গিলাফ পরিবর্তনের সময় কাবার ছাদে ওঠে অনেকেই। এমন তো না যে কাবার ওপরে ওঠা নিষেধ!#আল্লাহর_ঘর পবিত্র কাবা ছাড়াও  পৃথিবীতে ১০/১২টি #No_Fly_Zoon ” #নো_ফ্লাই_জোন” আছে ।পৃথিবীর বেশ কয়েকটি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে রয়েছে এমন নিষেধাজ্ঞা। সার্বিক নিরাপত্তা এবং গোপনীয়তা রক্ষার্থে নেওয়া হয়েছে এমন ব্যবস্থা। কারণ এসব অঞ্চলে যদি কখনো কোনো কারণে বিমান দুর্ঘটনা ঘটে, তাহলে বিমানের পাশাপাশি সেই অঞ্চলের এত বিপুল পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হবে যা এককথায় অপূরণীয়। এর কয়েকটি হলো-

১// #মক্কার_কাবাঃ
মুসলমানদের তীর্থ স্থান মক্কার উপর দিয়ে আপনি কখনও কোনো যাত্রীবাহী বিমান উড়ে যেতে দেখবেন না। কেন সেখান দিয়ে কোনো বিমান ওড়ে না তার পেছনে অবশ্য বেশ কিছু ব্যাখ্যা আছে। কিন্তু এর অধিকাংশেরই কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ বা গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা নেই। প্রথম যে ব্যাখ্যাটি পাওয়া যায়, সেটি হলো, মক্কার ভূ চৌম্বকত্ব এতই প্রবল যে, সেখান দিয়ে কোনো বিমান উড়ে গেলে বিমানের কম্পাস বিচ্ছিন্ন আচরণ করতে থাকে। তাই বিমান চালকের পক্ষে দিক ঠিক রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। আরেকটি ব্যাখ্যামতে, মক্কার অঞ্চলে পৃথিবীর অভিকর্ষজ টান বেশি হওয়ায় বিমানের পক্ষে সেখানে নিজের উচ্চতা বজায় রাখা বেশ কঠিন হয়ে পড়ে। কিন্তু এগুলো যে খুব একটা প্রমাণিত কথা, তেমনটা নয়। বরং হজের মৌসুমে এবং অন্যান্য সময়ে নিরাপত্তার জন্য মক্কার আকাশে হেলিকপ্টারগুলোকে স্বাচ্ছন্দ্যেই উড়তে দেখা যায়।
তবে মূল কথা হলো, মক্কায় বিমান ওঠা-নামা করার জন্য কোনো বিমানবন্দর নেই। যদিও সেখানে প্রতি বছর শতকোটি মুসল্লি জমায়েত হয়, তবুও কাবার সার্বিক নিরাপত্তা এবং অন্যান্য বিষয় বিবেচনায় রেখে সেখানে কোনো বিমানবন্দর তৈরি করা হয়নি। যেহেতু মক্কায় কোনো বিমানবন্দর নেই, তাই মক্কার আকাশে বিমান উড়তে দেখা যাবে, এমন আশা করাও উচিত নয়।

২// #আগ্রার_তাজমহলঃ

১৯৮৩ সালে ইউনেস্কোর স্বীকৃতি পাওয়া এই নির্মাণশৈলী তৈরি করতে সময় লেগেছিলো পুরো ২১ বছর। মুঘল সম্রাট শাহজাহান তার স্ত্রী মমতাজ মহলের স্মৃতিতে ১৬৩২ থেকে ১৬৫৩ খ্রিষ্টাব্দ সময়ব্যাপী যমুনার পাড়ে নির্মাণ করেন এই ভালোবাসার নিদর্শন। বর্তমানে এই নিদর্শনকে টিকিয়ে রাখা এবং রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে আছে ভারত সরকার। তাজমহলের অঞ্চলটি এতটাই নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যে রাখা হয়েছে যে, সেখানকার ৫০০ মিটারের মধ্যে কোনো যান্ত্রিক যানবাহন চলাচল করতে পারে না। যান্ত্রিকতার সাথে মিশে গিয়ে মূল তাজ মহলের যাতে কোনোপ্রকার ক্ষতি না হয়, সেজন্য এ ব্যবস্থা। তার চেয়েও বড় কথা, ২০০৬ সাল থেকে তাজমহলের ওপর দিয়ে বিমান চলাচলও নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। আগ্রায় কোনো প্রকার বিমান দুর্ঘটনা হলে, তাজমহল এবং অন্যান্য স্থাপনার ওপর তার সরাসরি প্রভাব পড়বে। সেরকম কোনো সম্ভাবনা যাতে না থাকে, সেজন্য আগ্রার ওপর দিয়ে বিমান চলাচল পুরোপুরি নিষিদ্ধ।

৩// #তিব্বতঃ
দেশটির অধিকাংশ অঞ্চল প্রাকৃতিক কারণেই নো ফ্লাই জোন হিসেবে পরিচিত। বিশাল আকৃতির সব পাহাড়-পর্বতে ঘেরা এই দেশটি বিমান ওঠানামা করার জন্য বেশ কঠিন একটি জায়গা। বিমান চালককে প্রায়ই বিমানের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য কঠিন পরীক্ষা দিতে হয়। তিব্বতের পাহাড়-পর্বতগুলোর গড় উচ্চতা সমুদ্রতল থেকে ১৬,০০০ ফুট ওপরে। এই উচ্চতা দিয়ে অধিকাংশ বাণিজ্যিক বিমান স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচল করতে পারলেও, জরুরি অবতরণ করতে হলে পাহাড়ের উপর তো আর বিমান নামানো সম্ভব না। এখানে বিমান চলাচলের চেয়েও যাত্রীদের নিরাপত্তা দেয়াটা বেশি জরুরি। এজন্য পুরো তিব্বতে পাঁচটি বিমানবন্দরের অঞ্চল বাদে আর কোথাও বিমান চলাচল করতে দেখা যায় না।

৩// #বাকিংহাম_প্যালেসঃ
যুক্তরাজ্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল হলো এই বাকিংহাম প্যালেস। রানীর বাসভবন এবং তার সকল সরকারি কর্মকর্তার অফিস এই এলাকায়। যুক্তরাষ্ট্রের সকল রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বাকিংহাম প্যালেস থেকেই পরিচালিত হয়। তাই প্রতিনিয়ত বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এই অঞ্চলে যাতায়াত করে থাকেন। এই অঞ্চলটি এতটাই নিরাপত্তার মধ্যে রাখা হয় যে, ব্রিটেনের সর্বসাধারণের জন্যও এখানের বেশক’টি সড়ক ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। কেবল বিশেষ দিনগুলোতে এই সড়কগুলো উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। এই অঞ্চলের গুরুত্ব বিবেচনা করে সকল গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষা করা এবং সকলের নিরাপত্তার স্বার্থে এখান দিয়ে বিমান চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়।

৩// #পেরুর_মাচু_পিচুঃ
ইনকা সভ্যতার সকল অবশিষ্ট ভবন ও নির্মাণশৈলী নিয়ে গভীর জঙ্গল এবং পাহাড়-পর্বতের মাঝে গড়ে ওঠা মাচু পিচু হলো পেরুর অন্যতম সংরক্ষিত অঞ্চল। ইউনেস্কো এই অঞ্চলকে বিশেষ স্বীকৃতি দেয়ার পর ২০০৬ সাল থেকে পেরু সরকার এই অঞ্চলের ওপর দিয়ে সকল প্রকার বিমান চলাচল বন্ধ করে দেয়। কারণ এই অঞ্চলটিতে বর্তমানে আধুনিক সভ্যতার তেমন কোনো ছোঁয়া নেই বললেই চলে। অত্যন্ত সুরক্ষিত এই অঞ্চলটিতে রয়েছে বিলুপ্তপ্রায় সকল জীব-জন্তুর বসবাস। যদি কখনও এই অঞ্চলে বিমান দুর্ঘটনা ঘটে, তাহলে তা সরাসরি ইনকা সভ্যতার অবশিষ্ট ভবনগুলোতে আঘাত করবে। এর ফলে সভ্যতার শেষ চিহ্নটুকুও মুছে যাবে। আর যদি জঙ্গলে বিমান আছড়ে পড়ে, তাহলে পশু-পাখির বসবাসের নীরব পরিবেশ নষ্ট হয়ে যাবে। আর সবচেয়ে খারাপ হতে পারে জঙ্গলে দাবানল লেগে যাওয়া। এসকল বিষয় বিবেচনা করে পেরু সরকার মাচু পিচু অঞ্চলের উপর দিয়ে বিমান চলাচল পুরোপুরি নিষিদ্ধ করে দিয়েছে।

৪// #প্যারিসঃ
আপনি যদি কখনো প্যারিসে ভ্রমণ করে থাকেন তাহলে প্রশ্ন করতেই পারেন, সেখানে তো বিমান উড়তে দেখেছেন। তাহলে এই শহরের নাম এই তালিকায় কেন? একটা শহরে চারটি বিমানবন্দর থাকার পরেও কেন সেখানে বিমান উড়তে পারে না? এখানে একটি শর্ত আছে। প্যারিসে কোনো বিমান উড়তে হলে সেগুলোকে ৬,৫০০ ফুট উচ্চতা থেকে উড়তে হবে। এর নিচে কোনো বিমান সেখানে উড়তে পারবে না। এজন্য প্যারিসে সাধারণত কোনো বিমান দেখা যায় না।

৫// #কিউবাঃ
কিউবার ব্যাপারটা একটু ভিন্ন। এমন নয় যে এখানে নিরাপদ অবতরণ নিয়ে কোনো সমস্যা আছে কিংবা কোনো সভ্যতার অস্তিত্ব রক্ষার্থে বিমান চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কিউবার ভেতরে আঞ্চলিক বিমানগুলো সহজেই যাতায়াত করতে পারে। কিন্তু বিশেষ নিয়ম হলো আন্তর্জাতিক বিমানগুলোর বেলায়। আপনি যদি বাণিজ্যিক বিমান নিয়ে কিউবাতে অবতরণের জন্য প্রবেশ করেন, তাহলে ভিন্ন কথা। কিন্তু ভিনদেশী কোনো বিমান যদি কিউবার আকাশসীমা ব্যবহার করতে চায়, তাহলে তাদের নিতে হবে কিউবা সরকারের বিশেষ অনুমতি। অবশ্যই আকাশে উড়ন্ত অবস্থায় আপনি কিউবা সরকারের কাছে আবেদনপত্র জমা দিতে পারবেন না। কিউবার আকাশসীমা যদি আপনার ব্যবহার করার দরকারই পড়ে, তাহলে আগে থেকেই সেখানকার সরকারের অনুমতি নিতে হবে এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এই আবেদন নাকচ হয়ে ফিরে আসে।

এই সকল অঞ্চলের পাশাপাশি আরও অনেক অঞ্চলেই ভৌগোলিক কিংবা রাজনৈতিক কারণে বিমান চলাচল নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। খোদ যুক্তরাষ্ট্রেরই ১১টি অঞ্চলে বিমান চলাচল নিষিদ্ধ।

আবু_দাহদাহ (রাঃ)-এর দানশীলতা

মদীনা ছিল খেজুর বৃক্ষ সমৃদ্ধ অঞ্চল। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর হিজরতের পর একে ‘মদীনাতুন্নবী’ নামে আখ্যায়িত করা হয়। মদীনার চতুষ্পার্শেব খেজুর বাগান ও গাছের এত আধিক্য ছিল যে, বৃষ্টির কারণে কোন খেজুর নিচে পড়লে তা নির্ণয় করা কঠিন হত যে, এটা কোন গাছের খেজুর। এরূপ বাগানকে কেন্দ্র করে ছাহাবীগণের মধ্যেও কোন কোন সময় বিতর্কের সৃষ্টি হ’ত। সমাধানের জন্য তাঁরা রাসূল (ছাঃ)-এর কাছে যেতেন এবং সঠিক সমাধান পেতেন। এক্ষেত্রে ছাহাবীগণ তাঁকে সহযোগিতা করতেন। আবু দাহদাহ (রাঃ) তার ছয়শ’ খেজুর গাছের বাগান দান কারার মাধ্যমে এরূপ এক বিবাদের সমাধান করেছিলেন।

আবু_দাহদাহ (রাঃ)-এর পরিচয় : তাঁর আসল নাম ছাবেত ইবনু দাহদাহ। তবে তিনি আবু দাহদাহ নামে সমধিক পরিচিত। তিনি একজন উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন ছাহাবী ছিলেন। মদীনায় মুছ‘আব ইবনু ওমায়ের (রাঃ)-এর হাতে ইসলাম গ্রহণ করেন। তাঁর দানশীলতার কথা ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লিপিবদ্ধ রয়েছে। তিনি ওহুদের যুদ্ধে শাহাদাত বরণ করেন। ওয়াক্বেদী আব্দুল্লাহ ইবনু আমের থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, ওহুদের যুদ্ধের দিন যখন মুসলমানেরা রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর মৃত্যুর মিথ্যা সংবাদে দিশেহারা হয়ে ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়েছিল, তখন আবু দাহদাহ (রাঃ) বলেছিলেন, বলে ওঠেন,

يَا مَعْشَرَ الْأَنْصَارِ،إنْ كَانَ مُحَمّدٌ قَدْ قُتِلَ فَإِنّ اللهَ حَيّ لَا يَمُوتُ! فَقَاتِلُوا عَنْ دِينِكُمْ، فَإِنّ اللهَ مُظْهِرُكُمْ وَنَاصِرُكُمْ

‘হে আনছারগণ! যদি মুহাম্মাদ নিহত হয়ে থাকেন, তবে আল্লাহ জীবিত আছেন, তিনি মরেন না। তোমরা তোমাদের দ্বীনের উপরে যুদ্ধ করো। কেননা আল্লাহ তোমাদের বিজয় দানকারী ও সাহায্যকারী’। … তার একথা শুনে একদল আনছার উঠে দাঁড়াল এবং তাদেরকে সাথে নিয়ে ছাবিত সরাসরি খালিদ ইবনে ওয়ালীদের বাহিনীর উপরে হামলা চালালেন, পরে খালিদের বর্শার আঘাতে তিনি শহীদ হন। সঙ্গীরাও শহীদ হয়ে যান (ইবনুল জাওযী, ছিফাতুছ ছাফওয়াহ ১/৬১৬; ওয়াক্বেদী, মাগাযী ১/২৮১; আর-রাহীকুল মাখতূম ১/২৪১)

দানশীলতারঅনুপমদৃষ্টান্ত : মদীনার বাগান সমূহের মধ্যে এক ইয়াতীম বাচ্চার একটি বাগান ছিল। তার বাগানের সাথে অন্য এক লোকেরও একটি বাগান ছিল। যার নাম ছিল আবু লুবাবা। ইয়াতীম চিন্তা করল, আমি জমির সীমানা বরাবর প্রাচীর নির্মাণ করে বাগানটি আদালা করে নেব। যাতে প্রত্যেকের অংশ পৃথক হয়ে যায়। যখন প্রাচীর দিতে শুরু করল তখন দেখা গেল তার প্রতিবেশীর একটি খেজুর গাছ সীমানার মধ্যে পড়ে যাচ্ছে। যার কারণে প্রাচীরটি সোজা হচ্ছে না। তাই সে তার প্রতিবেশীর নিকট গিয়ে বলল, আপনার বাগানে অনেক খেজুর গাছ। আমি একটি প্রাচীর দিতে চাচ্ছি, কিন্তু আপনার একটি খেজুর গাছের কারণে প্রাচীরটি সোজা হচ্ছে না। ঐ গাছটি আমাকে দিয়ে দিন তাহ’লে আমার দেওয়ালটি সোজা হয়ে যাবে। এতে আপনার কোন ক্ষতি হবে না। লোকটি বলল, আল্লাহর কসম! আমি খেজুর গাছটি দান করব না। ইয়াতীম ছেলেটি বলল, ভাই আপনার তো কোন ক্ষতি হবে না। হয় আপনি গাছটি দান করুন আর না হয় আমার কাছ থেকে এর মূল্য নিয়ে নিন। সে বলল, আল্লাহর কসম! আমি এর কোনটাই করব না। ইয়াতীম ছেলেটি তাকে বুঝানোর চেষ্টা করল। প্রতিবেশীর অধিকারের কথা বলল। কিন্তু সে ছিল দুনিয়াপ্রেমিক। তাই না সে ইয়াতীমের অসহায়ত্বের প্রতি লক্ষ্য করল, আর না প্রতিবেশীর অধিকারের প্রতি। ইয়াতীম বলল, তাহ’লে কি আমি প্রাচীর দিব না এবং তা সোজা করব না? প্রতিবেশী লোকটি বলল, এটা তোমার ব্যাপার। এ ব্যাপারে আমার কিছুই করার নেই। ইয়াতীম যখন তার কথায় নিরাশ হ’ল তখন সে চিন্তা করল যে, এমন একজন ব্যক্তি আছেন যদি তিনি সুপারিশ করেন, তাহ’লে হয়ত আমার কাজ হ’তে পারে। একথা মনে করে সে মসজিদে নববীর দিকে রওয়ানা হ’ল।

ঐ ইয়াতীম মসজিদে নববীতে এসে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর নিকট আরয করল, হে আল্লাহর রাসূল (ছাঃ)! আমার বাগান অমুক ব্যক্তির বাগানের সাথে মিশে আছে। আমি এর মাঝে প্রাচীর দিতে চাচ্ছি। কিন্তু ততক্ষণ পর্যন্ত প্রাচীর সোজা হচ্ছে না যতক্ষণ না আমার প্রতিবেশীর একটি খেজুর গাছ আমার দখলে আসবে। আমি তার মালিককে বলেছি যে, এটি আমার নিকট বিক্রি করে দাও। আমি তাকে যথেষ্ট বুঝানোরও চেষ্টা করেছি। কিন্তু সে তা অস্বীকার করছে। হে আল্লাহর রাসূল (ছাঃ)! আমার জন্য তার নিকট একটু সুপারিশ করুন যাতে সে আমাকে ঐ খেজুর গাছটি দিয়ে দেয়। তিনি বললেন, যাও! তাকে ডেকে নিয়ে এসো।

ঐ ইয়াতীম তার নিকট গিয়ে বলল, আল্লাহর রাসূল (ছাঃ) আপনাকে ডেকেছেন। সে মসজিদে নববীতে আসল। নবী করীম (ছাঃ) তার দিকে তাকিয়ে বললেন, সে বেড়া দিয়ে তোমার বাগান থেকে তার বাগান পৃথক করতে চায়। তোমার একটি খেজুর গাছের কারণে তা সম্ভব হচ্ছে না। তুমি তোমার ভাইকে ঐ খেজুর গাছটি দিতে নাকি অস্বীকার করেছ?

লোকটি বলল, হ্যাঁ। রাসূল (ছাঃ) তাকে বললেন, গাছটি তোমার ভাইকে দিয়ে দাও।

সে বলল, আমি দিব না। তিনি তাকে কয়েকবার বলার পরেও যখন রাযী হ’ল না তখন তিনি তাকে বললেন, তোমার ভাইকে ঐ খেজুর গাছটি দিয়ে দাও। আমি তোমার জন্য জান্নাতে একটি খেজুর গাছের যিম্মাদার হব। ঐ লোকটি এ কথা শুনেও বলল, না আমি তা দিব না। তিনি তখন চুপ হয়ে গেলেন। এর চেয়ে বেশী তিনি তাকে আর কী বলতে পারেন!

ছাহাবীগণ নিশ্চুপ থেকে কথাবার্তা শুনছিলেন। উপস্থিত লোকদের মধ্যে আবু দাহদাহ (রাঃ)ও ছিলেন। মদীনায় তার খুব সুন্দর একটি বাগান ছিল। সেখানে ৬০০ খেজুর গাছ ছিল। সুস্বাদু খেজুরের কারণে বাগানটি খুবই প্রসিদ্ধ ছিল। এর খেজুর ছিল খুব উন্নতমানের এবং বাজারে তার যথেষ্ট চাহিদাও ছিল। মদীনার বড় বড় ব্যবসায়ী এ কামনা করত যদি এ বাগানটি আমার হ’ত। আবু দাহদাহ (রাঃ) ঐ বাগানের মধ্যে খুব সুন্দর করে স্বীয় ঘর নির্মাণ করেছিলেন। স্বপরিবারে তিনি সেখানে বসবাস করতেন। মিষ্টি পানির কূপ এ বাগানের গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি করেছিল। আবু দাহদাহ (রাঃ) যখন রাসূল (ছাঃ)-এর কথা শুনছিলেন তখন মনে মনে ভাবছিলেন যে, এ দুনিয়া কি? আজ নয় তো কাল মৃত্যুবরণ করতেই হবে। এরপর শুরু হবে চিরস্থায়ী জীবন। যা স্বাচ্ছন্দ্যময় হবে, না দুঃখে ভরপুর হবে তা কে জানে? যদি জান্নাতে একটি খেজুর গাছ পাওয়া যায়, তাহ’লে আর কি চাই? সামনে এসে আবু দাহদাহ (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল (ছাঃ)! যে কথা আপনি বললেন, এটা কি শুধু তার জন্যই খাছ? আমি যদি ঐ ব্যক্তির কাছ থেকে ঐ খেজুর গাছটি ক্রয় করে এ ইয়াতীমকে দিয়ে দেই তাহ’লে আমিও কি জান্নাতে খেজুর গাছের মালিক হব?

রাসূল (ছাঃ) বললেন, হ্যাঁ, তোমার জন্যও জান্নাতে খেজুর গাছ থাকবে। আবু দাহদাহ (রাঃ) ভাবতে লাগলেন, এমন কি সম্পদ আছে যা আমি ঐ ব্যক্তিকে দিয়ে খেজুর গাছটি ক্রয় করব। তিনি ভেবে দেখলেন, মদীনায় তার একটি বাগান আছে। যেখানে ছয়শ’ খেজুর গাছ, পানির কূপ ও একটি বাড়ি আছে। এগুলোর বিনিময়ে ঐ গাছটি কিনে ইয়াতীমকে দিয়ে দিব। তিনি ঐ ব্যক্তিকে সম্বোধন করে বললেন, শোন! তুমি আমার বাগান সম্পর্কে অবগত আছ, যেখানে ৬০০ খেজুর গাছ আছে, সাথে ঘর ও কুয়াও আছে? সে বলল, মদীনাতে এমন কে আছে যে আপনার বাগান সম্পর্কে জানে না? তিনি বললেন, তাহ’লে তুমি আমার ঐ সম্পূর্ণ বাগান গ্রহণ করে তোমার একটি খেজুর গাছ আমাকে দিয়ে দাও।

ঐ ব্যক্তি তা বিশ্বাস করতে পারছিল না। সে আবু দাহদাহ (রাঃ)-এর দিকে ফিরে তাকাল। অতঃপর লোকজনের দিকে তাকিয়ে বলল, তোমরা লক্ষ্য কর, আবু দাহদাহ কি বলছে? লোকজন যখন তার কথার ব্যাপারে সাক্ষী হ’ল, তখন সে বলল, হ্যাঁ আমি তোমার খেজুর গাছের বাগান গ্রহণ করলাম এবং ঐ খেজুর গাছটি তোমাকে দিয়ে দিলাম। যখন তিনি ঐ খেজুর গাছের মালিক হয়ে গেলেন তখন ঐ ইয়াতীমকে বললেন, এখন থেকে ঐ খেজুর গাছটি তোমার। আমি তা তোমাকে উপহার হিসাবে দিলাম। এখন তোমার দেয়াল সোজা করতে আর কোন বাঁধা নেই। এরপর আবু দাহদাহ (রাঃ) রাসূল (ছাঃ)-এর দিকে তাকিয়ে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল (ছাঃ)! এখন আমি কি জান্নাতে খেজুর গাছের মালিক হ’লাম? তিনি বলেন,

كَمْ مِنْ عِذْقِ رَدَاحٍ لِأَبِي الدَّحْدَاحِ فِي الْجَنَّةِ

‘আবু দাহদাহর জন্য জান্নাতে এখন কত বিশাল বিশাল খেজুরের বাগান অপেক্ষা করছে’!

বর্ণনাকারী আনাস (রাঃ) বলেন, এ শব্দটি তিনি এক, দুই বা তিনবার বলেননি; বরং খুশী হয়ে বারংবার বলেছেন।

শেষে আবু দাহদাহ (রাঃ) সেখান থেকে বের হ’লেন। জান্নাতে বাগানের সুসংবাদ পেয়ে নিজের বর্তমান বাগানের পথে রওয়ানা হ’লেন। মনে মনে বললেন, নিজের ব্যবহারিক কিছু কাপড় এবং কিছু যরূরী জিনিসপত্র তো ওখান থেকে নিতে হবে। তিনি বাগানের দরজায় এসে ভিতরে বাচ্চাদের কণ্ঠ শুনতে পেলেন। স্ত্রী তখন ঘরের কাজে ব্যস্ত ছিল আর বাচ্চারা খেলাধূলা করছিল। ভিতরে গিয়ে তিনি স্ত্রীকে সংবাদ দিতে চাইলেন। কিন্তু তিনি দরজার সামনে দাঁড়িয়ে ডাক দিলেন, হে উম্মে দাহদাহ!

উম্মে দাহদাহ অত্যন্ত অবাক হ’লেন যে, আজকে আবু দাহদাহ বাগানের বাইরে দরজায় কেন দাঁড়িয়ে আছেন? ভিতরে আসছেন না কেন? আবারও আওয়াজ আসল! উম্মে দাহদাহ! উত্তর আসল, আমি উপস্থিত হে আবু দাহদাহ! বাচ্চাদেরকে নিয়ে এ বাগান থেকে বের হয়ে আস। ঊম্মে দাহদাহ (রাঃ) বললেন, আমি বাগান হ’তে বের হয়ে আসব? তিনি বললেন, হ্যাঁ, আমি এ বাগান বিক্রি করে দিয়েছি। উম্মে দাহদাহ (রাঃ) বললেন, আপনি কার নিকট এটা বিক্রি করেছেন? কে কত দাম দিয়ে এটা ক্রয় করেছে? আবু দাহদাহ (রাঃ) বললেন, আমি জান্নাতে একটি খেজুর বাগানের বিনিময়ে তা বিক্রি করে দিয়েছি। উম্মে দাহদাহ (রাঃ) বললেন, আল্লাহু আকবার। হে আবু দাহদাহ (রাঃ)! আপনি অত্যন্ত লাভজনক ব্যবসা করেছেন। জান্নাতের একটি বৃক্ষ, যার নিচে অশ্বারোহী একশত বছর পর্যন্ত চলার পরেও তার ছায়া শেষ হবে না (বুখারী হা/৩২৫১)। কী সৌভাগ্য আমাদের যে, আমরা জান্নাতে এমন একটি গাছ পাব। (মাজমাউয যাওয়ায়েদ হা/১৫৭৯১-৯৩; হাকেম হা/২১৯৪; সিলসিলা ছহীহাহ হা/২৯৬৪; মু‘জামুল কাবীর হা/৭৬৩; শু‘আবুল ঈমান হা/৩৪৫১)।

উপসংহার :

আবু দাহদাহ এবং উম্মে দাহদাহ (রাঃ)-এর এ দান কোন সাধারণ দান ছিল না। আল্লাহর রাসূল (ছাঃ)-এর আশা পূরণের জন্য ও একজন ইয়াতীমকে সহায়তা করার জন্য নিজের সবচেয়ে মূল্যবান বস্ত্ত তারা আল্লাহর রাস্তায় বিলিয়ে দিয়েছিলেন। স্বীয় বাসস্থান, মূল্যবান বাগান, কূপ ছেড়ে দিয়ে মানব জাতির জন্য দানের এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত রেখে গেলেন। এটাই হল সত্যিকারের নবীপ্রেম। আবু দাহদাহ ও তাঁর পরিবারের প্রতি আল্লাহ অবিরত ধারায় রহমত বর্ষণ করুন! এবং আমাদেরকে অনুরূপ দানশীল হওয়ার তাওফীক দান করুন।-আমীন!

আবু_দাহদাহ (রাঃ)-এর দানশীলতা

মদীনা ছিল খেজুর বৃক্ষ সমৃদ্ধ অঞ্চল। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর হিজরতের পর একে ‘মদীনাতুন্নবী’ নামে আখ্যায়িত করা হয়। মদীনার চতুষ্পার্শেব খেজুর বাগান ও গাছের এত আধিক্য ছিল যে, বৃষ্টির কারণে কোন খেজুর নিচে পড়লে তা নির্ণয় করা কঠিন হত যে, এটা কোন গাছের খেজুর। এরূপ বাগানকে কেন্দ্র করে ছাহাবীগণের মধ্যেও কোন কোন সময় বিতর্কের সৃষ্টি হ’ত। সমাধানের জন্য তাঁরা রাসূল (ছাঃ)-এর কাছে যেতেন এবং সঠিক সমাধান পেতেন। এক্ষেত্রে ছাহাবীগণ তাঁকে সহযোগিতা করতেন। আবু দাহদাহ (রাঃ) তার ছয়শ’ খেজুর গাছের বাগান দান কারার মাধ্যমে এরূপ এক বিবাদের সমাধান করেছিলেন।

আবু_দাহদাহ (রাঃ)-এর পরিচয় : তাঁর আসল নাম ছাবেত ইবনু দাহদাহ। তবে তিনি আবু দাহদাহ নামে সমধিক পরিচিত। তিনি একজন উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন ছাহাবী ছিলেন। মদীনায় মুছ‘আব ইবনু ওমায়ের (রাঃ)-এর হাতে ইসলাম গ্রহণ করেন। তাঁর দানশীলতার কথা ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লিপিবদ্ধ রয়েছে। তিনি ওহুদের যুদ্ধে শাহাদাত বরণ করেন। ওয়াক্বেদী আব্দুল্লাহ ইবনু আমের থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, ওহুদের যুদ্ধের দিন যখন মুসলমানেরা রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর মৃত্যুর মিথ্যা সংবাদে দিশেহারা হয়ে ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়েছিল, তখন আবু দাহদাহ (রাঃ) বলেছিলেন, বলে ওঠেন,

يَا مَعْشَرَ الْأَنْصَارِ،إنْ كَانَ مُحَمّدٌ قَدْ قُتِلَ فَإِنّ اللهَ حَيّ لَا يَمُوتُ! فَقَاتِلُوا عَنْ دِينِكُمْ، فَإِنّ اللهَ مُظْهِرُكُمْ وَنَاصِرُكُمْ

‘হে আনছারগণ! যদি মুহাম্মাদ নিহত হয়ে থাকেন, তবে আল্লাহ জীবিত আছেন, তিনি মরেন না। তোমরা তোমাদের দ্বীনের উপরে যুদ্ধ করো। কেননা আল্লাহ তোমাদের বিজয় দানকারী ও সাহায্যকারী’। … তার একথা শুনে একদল আনছার উঠে দাঁড়াল এবং তাদেরকে সাথে নিয়ে ছাবিত সরাসরি খালিদ ইবনে ওয়ালীদের বাহিনীর উপরে হামলা চালালেন, পরে খালিদের বর্শার আঘাতে তিনি শহীদ হন। সঙ্গীরাও শহীদ হয়ে যান (ইবনুল জাওযী, ছিফাতুছ ছাফওয়াহ ১/৬১৬; ওয়াক্বেদী, মাগাযী ১/২৮১; আর-রাহীকুল মাখতূম ১/২৪১)

দানশীলতারঅনুপমদৃষ্টান্ত : মদীনার বাগান সমূহের মধ্যে এক ইয়াতীম বাচ্চার একটি বাগান ছিল। তার বাগানের সাথে অন্য এক লোকেরও একটি বাগান ছিল। যার নাম ছিল আবু লুবাবা। ইয়াতীম চিন্তা করল, আমি জমির সীমানা বরাবর প্রাচীর নির্মাণ করে বাগানটি আদালা করে নেব। যাতে প্রত্যেকের অংশ পৃথক হয়ে যায়। যখন প্রাচীর দিতে শুরু করল তখন দেখা গেল তার প্রতিবেশীর একটি খেজুর গাছ সীমানার মধ্যে পড়ে যাচ্ছে। যার কারণে প্রাচীরটি সোজা হচ্ছে না। তাই সে তার প্রতিবেশীর নিকট গিয়ে বলল, আপনার বাগানে অনেক খেজুর গাছ। আমি একটি প্রাচীর দিতে চাচ্ছি, কিন্তু আপনার একটি খেজুর গাছের কারণে প্রাচীরটি সোজা হচ্ছে না। ঐ গাছটি আমাকে দিয়ে দিন তাহ’লে আমার দেওয়ালটি সোজা হয়ে যাবে। এতে আপনার কোন ক্ষতি হবে না। লোকটি বলল, আল্লাহর কসম! আমি খেজুর গাছটি দান করব না। ইয়াতীম ছেলেটি বলল, ভাই আপনার তো কোন ক্ষতি হবে না। হয় আপনি গাছটি দান করুন আর না হয় আমার কাছ থেকে এর মূল্য নিয়ে নিন। সে বলল, আল্লাহর কসম! আমি এর কোনটাই করব না। ইয়াতীম ছেলেটি তাকে বুঝানোর চেষ্টা করল। প্রতিবেশীর অধিকারের কথা বলল। কিন্তু সে ছিল দুনিয়াপ্রেমিক। তাই না সে ইয়াতীমের অসহায়ত্বের প্রতি লক্ষ্য করল, আর না প্রতিবেশীর অধিকারের প্রতি। ইয়াতীম বলল, তাহ’লে কি আমি প্রাচীর দিব না এবং তা সোজা করব না? প্রতিবেশী লোকটি বলল, এটা তোমার ব্যাপার। এ ব্যাপারে আমার কিছুই করার নেই। ইয়াতীম যখন তার কথায় নিরাশ হ’ল তখন সে চিন্তা করল যে, এমন একজন ব্যক্তি আছেন যদি তিনি সুপারিশ করেন, তাহ’লে হয়ত আমার কাজ হ’তে পারে। একথা মনে করে সে মসজিদে নববীর দিকে রওয়ানা হ’ল।

ঐ ইয়াতীম মসজিদে নববীতে এসে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর নিকট আরয করল, হে আল্লাহর রাসূল (ছাঃ)! আমার বাগান অমুক ব্যক্তির বাগানের সাথে মিশে আছে। আমি এর মাঝে প্রাচীর দিতে চাচ্ছি। কিন্তু ততক্ষণ পর্যন্ত প্রাচীর সোজা হচ্ছে না যতক্ষণ না আমার প্রতিবেশীর একটি খেজুর গাছ আমার দখলে আসবে। আমি তার মালিককে বলেছি যে, এটি আমার নিকট বিক্রি করে দাও। আমি তাকে যথেষ্ট বুঝানোরও চেষ্টা করেছি। কিন্তু সে তা অস্বীকার করছে। হে আল্লাহর রাসূল (ছাঃ)! আমার জন্য তার নিকট একটু সুপারিশ করুন যাতে সে আমাকে ঐ খেজুর গাছটি দিয়ে দেয়। তিনি বললেন, যাও! তাকে ডেকে নিয়ে এসো।

ঐ ইয়াতীম তার নিকট গিয়ে বলল, আল্লাহর রাসূল (ছাঃ) আপনাকে ডেকেছেন। সে মসজিদে নববীতে আসল। নবী করীম (ছাঃ) তার দিকে তাকিয়ে বললেন, সে বেড়া দিয়ে তোমার বাগান থেকে তার বাগান পৃথক করতে চায়। তোমার একটি খেজুর গাছের কারণে তা সম্ভব হচ্ছে না। তুমি তোমার ভাইকে ঐ খেজুর গাছটি দিতে নাকি অস্বীকার করেছ?

লোকটি বলল, হ্যাঁ। রাসূল (ছাঃ) তাকে বললেন, গাছটি তোমার ভাইকে দিয়ে দাও।

সে বলল, আমি দিব না। তিনি তাকে কয়েকবার বলার পরেও যখন রাযী হ’ল না তখন তিনি তাকে বললেন, তোমার ভাইকে ঐ খেজুর গাছটি দিয়ে দাও। আমি তোমার জন্য জান্নাতে একটি খেজুর গাছের যিম্মাদার হব। ঐ লোকটি এ কথা শুনেও বলল, না আমি তা দিব না। তিনি তখন চুপ হয়ে গেলেন। এর চেয়ে বেশী তিনি তাকে আর কী বলতে পারেন!

ছাহাবীগণ নিশ্চুপ থেকে কথাবার্তা শুনছিলেন। উপস্থিত লোকদের মধ্যে আবু দাহদাহ (রাঃ)ও ছিলেন। মদীনায় তার খুব সুন্দর একটি বাগান ছিল। সেখানে ৬০০ খেজুর গাছ ছিল। সুস্বাদু খেজুরের কারণে বাগানটি খুবই প্রসিদ্ধ ছিল। এর খেজুর ছিল খুব উন্নতমানের এবং বাজারে তার যথেষ্ট চাহিদাও ছিল। মদীনার বড় বড় ব্যবসায়ী এ কামনা করত যদি এ বাগানটি আমার হ’ত। আবু দাহদাহ (রাঃ) ঐ বাগানের মধ্যে খুব সুন্দর করে স্বীয় ঘর নির্মাণ করেছিলেন। স্বপরিবারে তিনি সেখানে বসবাস করতেন। মিষ্টি পানির কূপ এ বাগানের গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি করেছিল। আবু দাহদাহ (রাঃ) যখন রাসূল (ছাঃ)-এর কথা শুনছিলেন তখন মনে মনে ভাবছিলেন যে, এ দুনিয়া কি? আজ নয় তো কাল মৃত্যুবরণ করতেই হবে। এরপর শুরু হবে চিরস্থায়ী জীবন। যা স্বাচ্ছন্দ্যময় হবে, না দুঃখে ভরপুর হবে তা কে জানে? যদি জান্নাতে একটি খেজুর গাছ পাওয়া যায়, তাহ’লে আর কি চাই? সামনে এসে আবু দাহদাহ (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল (ছাঃ)! যে কথা আপনি বললেন, এটা কি শুধু তার জন্যই খাছ? আমি যদি ঐ ব্যক্তির কাছ থেকে ঐ খেজুর গাছটি ক্রয় করে এ ইয়াতীমকে দিয়ে দেই তাহ’লে আমিও কি জান্নাতে খেজুর গাছের মালিক হব?

রাসূল (ছাঃ) বললেন, হ্যাঁ, তোমার জন্যও জান্নাতে খেজুর গাছ থাকবে। আবু দাহদাহ (রাঃ) ভাবতে লাগলেন, এমন কি সম্পদ আছে যা আমি ঐ ব্যক্তিকে দিয়ে খেজুর গাছটি ক্রয় করব। তিনি ভেবে দেখলেন, মদীনায় তার একটি বাগান আছে। যেখানে ছয়শ’ খেজুর গাছ, পানির কূপ ও একটি বাড়ি আছে। এগুলোর বিনিময়ে ঐ গাছটি কিনে ইয়াতীমকে দিয়ে দিব। তিনি ঐ ব্যক্তিকে সম্বোধন করে বললেন, শোন! তুমি আমার বাগান সম্পর্কে অবগত আছ, যেখানে ৬০০ খেজুর গাছ আছে, সাথে ঘর ও কুয়াও আছে? সে বলল, মদীনাতে এমন কে আছে যে আপনার বাগান সম্পর্কে জানে না? তিনি বললেন, তাহ’লে তুমি আমার ঐ সম্পূর্ণ বাগান গ্রহণ করে তোমার একটি খেজুর গাছ আমাকে দিয়ে দাও।

ঐ ব্যক্তি তা বিশ্বাস করতে পারছিল না। সে আবু দাহদাহ (রাঃ)-এর দিকে ফিরে তাকাল। অতঃপর লোকজনের দিকে তাকিয়ে বলল, তোমরা লক্ষ্য কর, আবু দাহদাহ কি বলছে? লোকজন যখন তার কথার ব্যাপারে সাক্ষী হ’ল, তখন সে বলল, হ্যাঁ আমি তোমার খেজুর গাছের বাগান গ্রহণ করলাম এবং ঐ খেজুর গাছটি তোমাকে দিয়ে দিলাম। যখন তিনি ঐ খেজুর গাছের মালিক হয়ে গেলেন তখন ঐ ইয়াতীমকে বললেন, এখন থেকে ঐ খেজুর গাছটি তোমার। আমি তা তোমাকে উপহার হিসাবে দিলাম। এখন তোমার দেয়াল সোজা করতে আর কোন বাঁধা নেই। এরপর আবু দাহদাহ (রাঃ) রাসূল (ছাঃ)-এর দিকে তাকিয়ে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল (ছাঃ)! এখন আমি কি জান্নাতে খেজুর গাছের মালিক হ’লাম? তিনি বলেন,

كَمْ مِنْ عِذْقِ رَدَاحٍ لِأَبِي الدَّحْدَاحِ فِي الْجَنَّةِ

‘আবু দাহদাহর জন্য জান্নাতে এখন কত বিশাল বিশাল খেজুরের বাগান অপেক্ষা করছে’!

বর্ণনাকারী আনাস (রাঃ) বলেন, এ শব্দটি তিনি এক, দুই বা তিনবার বলেননি; বরং খুশী হয়ে বারংবার বলেছেন।

শেষে আবু দাহদাহ (রাঃ) সেখান থেকে বের হ’লেন। জান্নাতে বাগানের সুসংবাদ পেয়ে নিজের বর্তমান বাগানের পথে রওয়ানা হ’লেন। মনে মনে বললেন, নিজের ব্যবহারিক কিছু কাপড় এবং কিছু যরূরী জিনিসপত্র তো ওখান থেকে নিতে হবে। তিনি বাগানের দরজায় এসে ভিতরে বাচ্চাদের কণ্ঠ শুনতে পেলেন। স্ত্রী তখন ঘরের কাজে ব্যস্ত ছিল আর বাচ্চারা খেলাধূলা করছিল। ভিতরে গিয়ে তিনি স্ত্রীকে সংবাদ দিতে চাইলেন। কিন্তু তিনি দরজার সামনে দাঁড়িয়ে ডাক দিলেন, হে উম্মে দাহদাহ!

উম্মে দাহদাহ অত্যন্ত অবাক হ’লেন যে, আজকে আবু দাহদাহ বাগানের বাইরে দরজায় কেন দাঁড়িয়ে আছেন? ভিতরে আসছেন না কেন? আবারও আওয়াজ আসল! উম্মে দাহদাহ! উত্তর আসল, আমি উপস্থিত হে আবু দাহদাহ! বাচ্চাদেরকে নিয়ে এ বাগান থেকে বের হয়ে আস। ঊম্মে দাহদাহ (রাঃ) বললেন, আমি বাগান হ’তে বের হয়ে আসব? তিনি বললেন, হ্যাঁ, আমি এ বাগান বিক্রি করে দিয়েছি। উম্মে দাহদাহ (রাঃ) বললেন, আপনি কার নিকট এটা বিক্রি করেছেন? কে কত দাম দিয়ে এটা ক্রয় করেছে? আবু দাহদাহ (রাঃ) বললেন, আমি জান্নাতে একটি খেজুর বাগানের বিনিময়ে তা বিক্রি করে দিয়েছি। উম্মে দাহদাহ (রাঃ) বললেন, আল্লাহু আকবার। হে আবু দাহদাহ (রাঃ)! আপনি অত্যন্ত লাভজনক ব্যবসা করেছেন। জান্নাতের একটি বৃক্ষ, যার নিচে অশ্বারোহী একশত বছর পর্যন্ত চলার পরেও তার ছায়া শেষ হবে না (বুখারী হা/৩২৫১)। কী সৌভাগ্য আমাদের যে, আমরা জান্নাতে এমন একটি গাছ পাব। (মাজমাউয যাওয়ায়েদ হা/১৫৭৯১-৯৩; হাকেম হা/২১৯৪; সিলসিলা ছহীহাহ হা/২৯৬৪; মু‘জামুল কাবীর হা/৭৬৩; শু‘আবুল ঈমান হা/৩৪৫১)।

উপসংহার :

৬০০আবু দাহদাহ এবং উম্মে দাহদাহ (রাঃ)-এর এ দান কোন সাধারণ দান ছিল না। আল্লাহর রাসূল (ছাঃ)-এর আশা পূরণের জন্য ও একজন ইয়াতীমকে সহায়তা করার জন্য নিজের সবচেয়ে মূল্যবান বস্ত্ত তারা আল্লাহর রাস্তায় বিলিয়ে দিয়েছিলেন। স্বীয় বাসস্থান, মূল্যবান বাগান, কূপ ছেড়ে দিয়ে মানব জাতির জন্য দানের এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত রেখে গেলেন। এটাই হল সত্যিকারের নবীপ্রেম। আবু দাহদাহ ও তাঁর পরিবারের প্রতি আল্লাহ অবিরত ধারায় রহমত বর্ষণ করুন! এবং আমাদেরকে অনুরূপ দানশীল হওয়ার তাওফীক দান করুন।-আমীন!

এপিজে আবদুল কালাম হিন্দু ছিলেন।

🟢🔵#ভারতের প্রয়াত সাবেক #রাষ্ট্রপতি #এপিজেআব্দুলকালাম কৃষ্ণ ভক্ত, মুর্তি পুজারি ও হিন্দু ছিলেন। তিনি নিয়মিত শিবের পূজা করতেন।

🟤🟣#বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে ভারতের প্রয়াত রাষ্ট্রপতি এপিজে আব্দুল কালামকে নিয়ে।
আরএসএস বলছে আব্দুল কালাম হিন্দু ছিলেন। সংগঠনটির নেতাদের মধ্যে সামাজিক মিডিয়ায় ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি এপিজে আব্দুল কালামের আকস্মিক প্রয়াণে ‘এ প্যাসেজ টু বিহার’ খ্যাত ‘দ্য বিহার টাইমস’-এ প্রকাশিত প্রভাবশালী স্টেটসম্যান পত্রিকার পাটনা প্রতিনিধি নলীন ভার্মা’র নিবন্ধ ‘বিলিভ ইট অর নট: কালাম ইজ এ হিন্দু, সেইজ আরএসএস’ বিতর্কের ঝড় তুলেছে।
পাশাপাশি তাতে যুক্ত হয়েছে ভারতের রাষ্ট্রপতি হিসেবে এপিজে আব্দুল কালামের নিয়োগ অর্জনের এক অজানা তথ্য। এতে তাকে গীতা পাঠক, নিরামিষভোজী, কৃষ্ণের ভক্ত এবং অগ্নি ও #সূর্য_পূজক চিত্রিত করে বলা হয়েছে- বিজেপি’র অটল বিহারী বাজপেয়ী সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন ২০০২ সালের ২৫ জুলাই তাকে রাষ্ট্রপতি পদে নিয়োগ দেয়। প্রেক্ষাপট বিবেচনায় ওই বছরের ফেব্রুয়ারী থেকে মার্চে গুজরাটে চলে মুসলিম বিরোধী দাঙ্গা এবং স্বভাবতই মুসলিমরা হয় ক্ষিপ্ত। আর তা প্রশমিত করতে শুরুতেই এই রাষ্ট্রপতির বক্তব্য ছিল- ‘মাই মিশন ওয়াজ নট টু লুক এট হোয়াট হ্যাড হেপেন্ড, নট টু লুক এট হোয়াট ওয়াজ হেপেনিং, বাট টু ফোকাস অন হোয়াট শুড বি ডান’। অর্থাৎ কী ঘটেছে বা ঘটছে তা আমার জানার লক্ষ্য নয়, বরং কী করা দরকার সেটার প্রতিই রয়েছে আমার আগ্রহ।
এরপর পর্যায়ক্রমিক ২০০৭ ও ২০১২ সালে বিজেপি তাকে আবারও রাষ্ট্রপতি পদে নিয়োগ দিতে চাইলে কংগ্রেসের বিরোধীতায় সম্ভব হয়ে ওঠেনি। একইভাবে ওই আলোচনায় উঠে এসেছে ভারতের দুই সাবেক মুসলিম রাষ্ট্রপতি যথাক্রমে জাকির হুসাইন ও ফখরুদ্দীন আলীসহ প্রধান বিচারপতি আজিজ মুবাশশির-এর কথা। ওই রাষ্ট্রপতিদ্বয় নাকি ছিলেন নেহেরুভক্ত এবং সমাজতান্ত্রিক ও নাস্তিক এবং প্রধান বিচারপতি ছিলেন শিয়া সম্প্রদায়ভুক্ত। তাই তাদের নিয়োগ কোনো ধর্মনিরপেক্ষ কিংবা উদারতার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে ঘটেনি, বরং বিচক্ষণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ঘটেছে এবং সে কারণে উল্লসিত হবারও কিছু নেই।
তবে নলীন ভার্মা’র ওই নিবন্ধের সূচনায় বলা হয়েছে- ‘প্রেসিডেন্ট এপিজে আব্দুল কালাম রিডস দ্য গীতা অ্যান্ড ট্রিটস দ্য কান্ট্রি এজ হিজ মাদার, সো হি ইজ এ হিন্দু’। অর্থাৎ তিনি গীতা পাঠ করেন এবং দেশ তার কাছে মাতৃতুল্য, তাই তিনি হিন্দু।অচঔথঅনফঁষকধষধসথডড়ৎংযরঢ়২
এতে পর্যায়ক্রমিক আরো বলা হয়Ñ ওই মন্ত্রটাই আরএসএস তাদের তরুণ ক্যাডারদের প্রাতঃকালীন সম্মিলনে শিখিয়ে থাকে। সেটা নিবন্ধকার নিজেই প্রত্যক্ষ করেছেন একজন আরএসএস শিক্ষক তার স্বেচ্ছাসেবীদের উদ্দেশ্য করে বলছেন- ‘প্রেসিডেন্ট একজন হিন্দু, গীতার প্রতি তার ভালবাসা দেশপ্রেম থেকেই উৎসারিত’। সে সময় ১২-১৫ বছর বয়সী এই কিশোরেরা সূর্য দেবতার প্রার্থনা, শারীরিক কসরত এবং দেশপ্রেমের দীক্ষা ধারণে নিমগ্ন ছিল। দেশপ্রেমের অনুভূতি জাগাতে রাজ্যে সেটা সকাল সাড়ে ৫টায় ঘটে। কেন্দ্রীয় বিহার ও ঝাড়খন্ডের আরএসএস সদর দপ্তর পাটনার রাজেন্দ্র নগরের বিজয় নিকেতনে এ সম্মিলনটি হয়।
এরপরই ওই নিবন্ধে আরএসএস কেন ডক্টর কালামকে একজন হিন্দু আখ্যায়িত করেছে, তার যৌক্তিক বক্তব্য তুলে ধরা হয়। এক্ষেত্রে আরএসএস শিক্ষা প্রচারক রাজেসের প্রশ্ন হচ্ছে- ‘রাষ্ট্রের প্রথম নাগরিককে হিন্দু বলায় দোষের কী আছে’? তার স্বগতোক্তি- হিন্দু শব্দের সঙ্গে ধর্ম ও জাত-পাতের কোনো সম্পর্ক নেই। সরাসরি তার ভাষ্যানুযায়ী- ‘অল দোজ হু আর পেট্রয়েটস অ্যান্ড ট্রিট ইন্ডিয়া এজ দেয়ার মাদার আর হিন্দুজ’। অর্থাৎ যারা দেশপ্রেমী এবং ভারতকে মায়ের পরিচর্যায় দেখে তারা সকলেই হিন্দু। কিন্তু ড. কালাম কোরআন পড়েন এবং নামাজ আদায় করেন, এমন প্রশ্নের জবাবেও তার উত্তর হচ্ছে, ‘তাতে কিছু যায় আসে না; হিন্দু হলেও তাতে কোনো বাধা নেই’। তার যুক্তি হচ্ছে- আপনি যে কোনো ধর্মগ্রন্থ পাঠ বা উপাসনা পদ্ধতি অনুসরণ করতে পারেন, কিন্তু আপনি যখন গীতা পাঠসহ দেশকে মাতৃতুল্য পরিচর্যায় দেখবেন, তখনই আপনি হিন্দু।
ওই নিবন্ধের শেষে এই শিক্ষা প্রচারক আরো নিশ্চিত করেছেন যে, বিহারের দরভাঙ্গা, মোজাফফরপুরসহ অপরাপর আরএসএস শিক্ষায়তনের দীক্ষাটি হচ্ছে- ‘প্রেসিডেন্ট কালাম ইজ এ হিন্দু’। এটা এমন নয় যে পাটনায় যা শিক্ষা দেওয়া হয়, তা দরভাঙ্গা কিংবা অন্যত্র ভিন্ন। মূলতঃ এই সকল শিক্ষায়তনের সম্মিলনগুলো প্রভাবশালী মধ্যবিত্ত পরিবার সদস্যরা পরিচালনা করে থাকেন। কিন্তু স্বল্প সংখ্যক কিশোরেরা এই পরিবারগুলো থেকে যোগ দেয়। শুধুমাত্র পড়াশোনা পরিচালনায় অক্ষম পরিবারের দরিদ্র কিশোরেরাই তাতে অধিক সংখ্যায় যোগ দিয়ে থাকে।