অবশ্যই মুসলিমগণ মুসলিম রাষ্ট্র প্রধানের আনুগত্য করা ফরজ, কিন্তু শাসক যদি ইসলামিক না হয়??

🟦🟥ইসলামী রাষ্ট্রের মুসলিম শাসকের আনুগত্য থেকে মুক্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করলে জাহেলি মৃত্যু হয়। এখন প্রশ্ন হল, ইসলামী রাষ্ট্র না থাকলে অর্থাৎ রাষ্ট্রই যদি ইসলাম বহির্ভূত জাহেলি রাষ্ট্র হয়, সে ক্ষেত্রে এমন রাষ্ট্রকে ইসলামী রাষ্ট্রে পরিণত করার চেষ্টা না করে বরং এ জাহেলিয়াতের উপর সন্তুষ্টি থেকে মৃত্যুবরণ করলে কি সেটা জাহেলি মৃত্যু নয়?
👉👉এ বিষয়ে সকালেই একমত যে, কোনো ব্যক্তি যদি ইসলামী রাষ্ট্রের মুসলিম শাসকের আনুগত্য বর্জন করে এবং মুসলিম জামায়াত ত্যাগ করে মৃত্যুবরণ করে, তাহলে তার মৃত্যু হয় জাহেলিয়াতের মৃত্যু। কিন্তু প্রশ্ন হল, ইসলামী রাষ্ট্র না থাকলে অর্থাৎ রাষ্ট্রই যদি ইসলাম বহির্ভূত জাহেলি রাষ্ট্র হয়, সে ক্ষেত্রে এমন রাষ্ট্রকে ইসলামী রাষ্ট্রে পরিণত করার চেষ্টা না করে বরং এ জাহেলিয়াতের উপর সন্তুষ্টি থেকে মৃত্যুবরণ করলে কি সেটা জাহেলি মৃত্যু নয়? অবশ্যই জাহেলি মৃত্যু বলে গণ্য হবে। আর এই জাহেলি মৃত্যুর হাত থেকে নিজেকে রক্ষা করতে হলে রাষ্ট্রে এমন শাসক নির্বাচন করতে হবে, যিনি রাষ্ট্রীয়ভাবে জাহেলি বিধান অপসরণ করে আল্লাহর বিধান প্রতিষ্ঠা করবেন। আর এটি কোনো নফল বা মুস্তাহাব বিষয় নয় বরং এটি মুসলিমদের উপর গুরুত্বপূর্ণ ফরজ কাজ।

ইমাম শানকীতি (রাহঃ) বলেনঃ
من الواضح المعلوم من ضرورة الدين إن المسلمين يجب عليهم نصب امام تجتمع به الكلمة وتنفذ به احكام الله في ارضه.
“এ কথা সুস্পষ্ট যে, দ্বীনের আবশ্যকীয় বিষয়গুলো মধ্যে একটি হলোঃ মুসলিমদের জন্য একজন (রাষ্ট্রের) ইমাম নিযুক্ত করা ফরয। যার নেতৃত্বে মুসলিমগণ ঐক্যবদ্ধ হবে, তিনি আল্লাহর জমিনে আল্লাহর বিধান কায়েম করবেন।” (তাফসীরে আদওয়াউল বায়ান ১/২৩)

ইমাম কুরতুবী রাহঃ সূরা বাকারার ৩০ নং আয়াতের তাফসীর প্রসঙ্গে বলেনঃ
هذه الاية اصل في نصب امام وخليفة يسمع له ويطاع لتجتمع به الكلمة وتنفذ به احكام الخليفة ولاخلاف في وجوب ذلك بين الامة و لا بين الاءمة.
“এই আয়াতটি মুসলিমদের একজন ইমাম বা খলিফা নিযুক্ত করার ব্যাপারে মূলভিত্তি। খলিফার কথা শুনতে হবে এবং তার নির্দেশ মানতে হবে। তার নেতৃত্বে মুসলিম জাতি ঐক্যবদ্ধ থাকবে। তিনি আল্লাহর খলিফা হিসাবে আল্লাহর জমিনে আল্লাহর বিধান কার্যকর করবেন। এজন্যই মুসলিম জাতির জন্য খলিফা নিযুক্ত করা সর্বসম্মতিক্রমে ওয়াজিব। এ ব্যাপারে কারো দ্বিমত নেই।” (তাফসীরে কুরতুবী ১/২৬০)

আল্লামা ইবনে কাসীর রাহঃ বলেনঃ
وقد استدل القرطبي وغيره بهذه الآية على وجوب نصب الخليفة গ بين الناس فيما اختلفوا فيه ويقطع تنازعهم وينتصر لمظلومهم من ظالمهم ويقيم الحدود ويزجر عن تعاطي الفواحش إلى غير ذلك من الامور المهمة التي لا تمكن إقامتها إلا بالإمام وما لا يتم الواجب إلا به فهو واجب.
“ইমাম কুরতুবী রাহঃ সহ প্রভৃতি মনীষীগণ এ (সূরা বাকারা ৩০ নং) আয়াত হতে দলিল গ্রহণ করেছেন যে, রাষ্ট্রের খলিফা নিযুক্ত করা ওয়াজিব। তিনি মতবিরোধের মীমাংসা করবেন, ঝগড়া বিবাদ মিটিয়ে দিবেন, অত্যাচারী হতে অত্যাচারিত ব্যক্তির প্রতিশোধ নিবেন, ‘হুদুদ’ কায়েম করবেন, অন্যায় ও পাপের কাজ হতে জনগণ বিরত রাখবেন ইত্যাদি বড় বড় কাজগুলো যার সমাধান ইমাম ছাড়া হতে পারে না। এসব কাজ ওয়াজিব এবং ইমাম ছাড়া পুরো হতে পারে না। আর যা ছাড়া কোন ওয়াজিব পুরো হয় না, ওটাও ওয়াজিব। সুতরাং খলিফা নিযুক্ত করা ওয়াজিব সাব্যস্ত হলো”।(তাফসীরে ইবনে কাসীর, সূরা বাকারাঃ ২/৩০)

ইমামুল হারামাইন আবুল মাআলী জুওয়াইনী (রাহঃ) এর বলেন,
ولا يشك احد من علماء المسلمين في وجوب نصب الامام- بل قد روي الاجماع علي وجوب ذلك كل نن تكلم في هذه المسألة من العلماء-
“মুসলিম আলেমদের এ ব্যাপারে কারো সন্দেহ নেই যে, মুসলিমদের (রাষ্ট্রীয়) ইমাম নিযুক্ত করা ফরয। বরং এ ব্যাপারে যারাই কথা বলেছেন তারা সকলে ইজমা ‘ঐক্যমত’ পোষণ করেছেন।” (غياث الامم في التياث الظلم، الباب الأول في وجوب نصب الأءمة وقادة الأمة)

মোল্লা আলী কারী (রাহঃ) লিখেছেন,
فقد أجمعوا على وجوب نصب الإمام.
ইমাম – ইসলামী রাষ্ট্র পরিচালক নিয়োগ করা সর্বসম্মতিক্রমে আবশ্যক। (শারহে ফিকহুল আকবর, পৃ. ১৭৯)
ইমাম নিয়োগের কাজ যে কতখানি গুরুত্বপূর্ণ, তা বুঝতে গিয়ে তিনি আরো বলেন,
ولإن لصحابة جعلوا أهم المهمات نصب الإمام حتى قد موه على دفنه صلعم.
সাহাবায়ে কিরামও ইমাম নিয়োগকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েছেন। এমনকি নবী (ﷺ) কে দাফন করার পূর্বেই তারা ইমাম নিয়োগের কাজ সুসম্পন্ন করেছেন। (শারহে ফিকহুল আকবর, পৃ. ১৭৯)

ইসলামী রাষ্ট্রে ইমাম নিয়োগ ছাড়া আল্লাহর আইন ও বিধান প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়। তাই ইসলামী রাষ্ট্র বা ইমারত প্রতিষ্ঠা করা গুরুত্বপূর্ণ ফরজ। শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া (রাহঃ) এ বিষয়ে ইঙ্গিত করে বলেছেনঃ
ان ولاية امر الناس اعظم واجبات الدين بل لاقيام للدين الا بها ولان الله تعالي اوجب الامر بالمعروف و النهي عن المنكر ولايتم ذلك الا بقوة وإمارة ونصرة المظلوم وكذلك ساءر ما اوجبه من الجهاد والعدل واقامة الحدود لا تتم الا بالقوة والامارة.
“জনগণের যাবতীয় ব্যাপার সুসম্পন্ন করা তথা শাসন-ব্যবস্থা কায়েম করা দ্বীনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও অপরিহার্য বিষয় বরং শাসন-ব্যবস্থা (রাষ্ট্র) এমন এক অপরিহার্যতা যা ছাড়া দ্বীন প্রতিষ্ঠা হতেই পারে না। কেননা আল্লাহ তা’য়ালা ন্যায়ের প্রতিষ্ঠা ও অন্যায়ের প্রতিরোধ এবং মজলুমদের সাহায্য করা ওয়াজিব করে দিয়েছেন। এ ওয়াজিব পালন রাষ্ট্র ও শাসন ছাড়া সম্ভব নয়। এ ভাবে তিনি জিহাদ, ইনসাফ ও আইন-শাসন প্রভৃতি যেসব কাজ ওয়াজিব করে দিয়েছেন তা রাষ্ট্রশক্তি ও শাসন-ব্যবস্থা ছাড়া কিছুতেই হতে পারে না।” (আস-সিয়াসাতুশ শরইয়্যাহ, শরীয়াহর নীতি, পৃষ্ঠাঃ ১৬১-১৬২)
বিঃদ্রঃ ওয়াজিব বলতে এখানে ফিকহের ভাষায় ফরজের পরবর্তী স্তর ‘ওয়াজিব’ বুঝানো হয়নি বরং এখানে ওয়াজিব বলতে ‘ফরজ’ বুঝানো হয়েছে।

সারকথাঃ মুসলিম আলেমগণ সর্বসম্মতিক্রমে এ বিষয়ে একমত যে, রাষ্ট্রে এমন একজন ইমাম নিযুক্ত করা ফরয, যার নেতৃত্বে মুসলিমগণ ঐক্যবদ্ধ হবে, তিনি আল্লাহর জমিনে আল্লাহর দ্বীন/বিধান কায়েম করবেন। আর দ্বীন কায়েমের এ কাজ একা একা কারো পক্ষে করা সম্ভব নয়। তাই আল্লাহ তা’য়ালা বলেন,
أَنْ أَقِيمُوا الدِّينَ وَلَا تَتَفَرَّقُوا فِيهِ-
তোমরা (ঐক্যবদ্ধ ভাবে) দ্বীন কায়েম কর এবং এতে বিচ্ছিন্ন হয়ো না। (সূরা শুরা: ৪২/১৩)
ইকামতে দ্বীনের এ কাজকে সফলতার শীর্ষে পৌঁছে দেওয়ার জন্য আল্লাহ তা’য়ালা তাঁর নবী (ﷺ) এর জন্যেও সাহাবীদের নির্বাচন করেছেন। আর রাসুলুল্লাহ (ﷺ) সাহাবীদের সংগঠিত করে ইকামাতে দ্বীনের কাজ করেছেন। আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা) সাহাবায়ে কেরাম সম্পর্কে বলেন,
اخْتَارَهُمُ اللَّهُ لِصُحْبَةِ نَبِيِّهِ وَلِإِقَامَةِ دِينِهِ رَوَاهُ رزين.
“আল্লাহ তাঁদের বাছাই করে নিয়েছেন তাঁর নবী (ﷺ) এর সাথী হওয়ার জন্য এবং তাঁর দ্বীন কায়েম করার জন্য।” (মিশকাত, হাদীস নং ১৯৩; হিলইয়াহ ১/৩০৫-৩০৬; ইবনে আব্দুল বার ২/৯৭)

তাহলে ইকামতে দ্বীনের যে কাজ করতে গিয়ে রাসুলুল্লাহ (ﷺ) নিজেই সাহাবীদের সংগঠিত করেছিলেন, সেই কাজ সংগঠন ছাড়া সুসম্পন্ন কিভাবে সম্ভব হতে পারে? শায়েখ আহমাদুল্লাহ নিজেই বলেছেন,
“ইসলামী কোনো কাজকে গোছালো ভাবে করার জন্য সংগঠনের কোনো বিকল্প নেই। সেই হিসেবে সংগঠনের সাথে যুক্ত হওয়া ভালো কাজ।…. কিন্তু এসব সংগঠনের সাথে যুক্ত হওয়া ফরজ, না হলে জাহেলিয়াতের মৃত্যু হবে – এটা একেবারেই মূর্খতা সূলভ কথা।” নাউজুবিল্লাহ, আল্লাহ শায়েখকে সহীহ বুঝ দান করুন!

শায়েখ এখানে স্ববিরোধী বক্তব্য পেশ করেছেন। সংগঠনের সাথে যুক্ত হওয়াকে তিনি ভালো কাজ বললেও এর গুরুত্বকে অস্বীকার করেছেন। ইসলামী কোনো কাজ (যেমন ইকামাতে দ্বীনের কাজ) গোছালো ভাবে করার জন্য যদি সংগঠনের বিকল্প কিছু না থাকে তাহলে ইকামতে দ্বীনের ফরজ কাজ সংগঠন ছাড়া করবেন কিভাবে? যেহেতু সংগঠন ছাড়া ইকামাতে দ্বীনের ফরজ কাজ সুসম্পন্ন হয় না, সুতরাং দ্বীন কায়েমের জন্য সংগঠনে যুক্ত হওয়াও ফরজ। আল্লামা ইবনে কাসীর (রাহঃ) বলেন,
وما لا يتم الواجب إلا به فهو واجب.
“আর যা ছাড়া কোন ওয়াজিব/ফরজ পুরো হয় না, ওটাও ওয়াজিব/ফরজ।”

যেসব দেশে আল্লাহর আইন প্রতিষ্ঠিত নেই বরং জাহেলি বিধান কার্যকর রয়েছে সেইসব দেশে যারা জাহেলি বিধান অপসারণ করে আল্লাহর বিধান প্রতিষ্ঠা করার উদ্দেশ্যে সংগঠন গড়ে তোলেনি অথবা সংগঠনের সাথে যুক্ত হয়নি কিংবা সমর্থনও করেনি, তারা নিশ্চয় জাহেলি বিধানে সন্তুষ্ট ও সমর্থনকারী। আর যারা জাহেলি বিধান সমর্থন করে মৃত্যুবরণ করে তাদের মৃত্যু জাহেলি মৃত্যু বলেই গণ্য হবে। এমনকি শায়েখ আহমাদুল্লাহ নিজেও যদি ইকামাতে দ্বীনের কোনো সংগঠনের সাথে যুক্ত না হয় কিংবা সমর্থন না করে, তাহলে প্রমাণিত হবে যে, তিনি জাহেলি বিধানে সন্তুষ্ট। এমতাবস্থায় মৃত্যুবরণ করলে, তার মৃত্যুও জাহেলিয়াতের মৃত্যু বলে গণ্য হবে।

নো-ফ্লাই জোন

🟪🟥 চীনের #তিব্বত হলো পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে বড় এলাকা যুক্ত #নোফ্লাইজোন অর্থাৎ আকাশযান চলাচল নিষিদ্ধ এলাকা। বিমান বা আকাশযান চলাচল করার জন্য খোলা এবং বাধামুক্ত এলাকা লাগে। তিব্বতের #পামিরমালভূমি হল পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু মালভূমি যাকে #পৃথিবীর_ছাদ বলা হয়। মূলত তিব্বত পুরোটাই একটি মালভূমি যার গড় উচ্চতা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে 5 হাজার মিটার অর্থাৎ ৫ কিলোমিটার এবং পৃথিবীর সর্বোচ্চ শিখরগুলির আবাসস্থল ।

👉👉এখানে প্রশ্ন জাগে যে,তাহলে এর সাথে বিমানের কি সম্পর্ক আছে?
আধুনিক যাত্রীবাহী বিমানের কেবিনগুলো চাপে রাখা হয়। যখন এই চাপ ব্যবস্থায় কোনও ত্রুটি দেখা দেয়, তখন যাত্রীদের শ্বাস নিতে দেওয়ার জন্য প্রথমে অক্সিজেন মাস্কগুলি সক্রিয় করা হয়। যাইহোক, অক্সিজেন সিস্টেমের ক্ষমতা 15-20 মিনিটের জন্যই যথেষ্ট।
তাই কেবিন প্রেসার সিস্টেমে ব্যর্থতা দেখা দিলে পাইলটগণ এরোপ্লেনকে 3 হাজার মিটার উচ্চতায় নিয়ে যেতে বাধ্য হন যাতে করে ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রাকৃতিক অক্সিজেন সরবরাহ হয় বা প্রাকৃতিক অক্সিজেন সরবরাহের এলাকায় চলে আসে।
তিব্বত অঞ্চলের বেশিরভাগ অংশে, উচ্চতা 3 হাজার মিটারের উপরে অর্থাৎ বেশিরভাগ পর্বত শিখর গুলোর উচ্চতা ৩ কিলোমিটার এরও বেশি। তাই যাত্রীবাহী অথবা বাণিজ্যিক বিমান গুলো কোন সমস্যায় পড়লে তারা নিচে নেমে আসতে পারবে না।
এছাড়া তিব্বতে এমন কোনো পরিবেশ নেই যেখানে জরুরি পরিস্থিতিতে বিমান নিরাপদে অবতরণ করতে পারে।
তাছাড়া টুইন-ইঞ্জিন বিমানের অর্থাৎ ২ ইঞ্জিন বিশিষ্ট এরোপ্লেনের একটি ইঞ্জিন ব্যর্থ বা কোন কারণে অকার্যকর হলে, নিরাপদে উড়তে বিমানটিকে একটি নির্দিষ্ট উচ্চতায় নামতে হবে। দুর্ভাগ্যবশত, তিব্বতের ভৌগোলিক কাঠামোর কারণে এটি সম্ভব নয়। এসব কারণে তিব্বতের ওপর দিয়ে কোনো বিমান উড়ে না।
উল্লেখ্য যে, পৃথিবীর বেশির ভাগ এরোপ্লেনগুলো দুই ইঞ্জিন বিশিষ্ট অর্থাৎ যাত্রীবাহী বাণ্যবাহী প্রায় ৮০% এরোপ্লেন ইং দুই ইঞ্জিন বিশিষ্ট হয়ে থাকে। আর প্লেনের ইঞ্জিন গুলো থাকে পাখার নিচে। (ছোটবেলায় এই ইঞ্জিন গুলোকে আমরা প্লেনের লাইট মনে করতাম)!
তবে কিছু কিছু এরোপ্লেনের দুই ইঞ্জিনের পাশাপাশি লেজের উপরে আরো একটি ইঞ্জিন থাকে অর্থাৎ তিনটি ইঞ্জিন থাকে। তবে বড় বড় যাত্রীবাহী ও বন্যবাহী এরোপ্লেনে এবং ডাবল ডেকার এরোপ্লেনে চারটি অথবা লেজের উপর একটি শহর পাঁচটি ইঞ্জিন থাকে।।।

🟥🟪 #মৃত্যু একটি সোনার চাবি , যা নির্ধারিত সময়ে নির্দিষ্ট প্রসাদের দার উন্মুক্ত করে।👉👉উপরের এই কথাটি আমি পড়েছিলাম একটি দেয়ালে । তাও আজ থেকে ৩৮ বছর পূর্বে যখন আমি সবেমাত্র হাইস্কুলে উঠেছি। এই লিখাটা আমি প্রায় প্রতিদিন দেখতাম এবং বিভিন্ন এলোমেলো চিন্তা করতাম মৃত্যু নিয়ে।আল্লাহ পবিত্র কুরআনে সূরা আম্বিয়ায় বলেছেন–“”প্রত্যেক প্রাণই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবে ।আমি তোমাদের ভালো ও খারাপ অবস্থা দিয়ে পরীক্ষা করি । আর আমারই কাছে তোমাদের ফিরে আসতে হবে ।— সূরা আম্বিয়া, আয়াতঃ ৩৫

🟥🟪 #মৃত্যু একটি সোনার চাবি , যা নির্ধারিত সময়ে নির্দিষ্ট প্রসাদের দার উন্মুক্ত করে।
👉👉উপরের এই কথাটি আমি Mahabubur Rahman পড়েছিলাম একটি দেয়ালে । তাও আজ থেকে ৩৮ বছর পূর্বে যখন আমি সবেমাত্র হাইস্কুলে উঠেছি। এই লিখাটা আমি প্রায় প্রতিদিন দেখতাম এবং বিভিন্ন এলোমেলো চিন্তা করতাম মৃত্যু নিয়ে।
আল্লাহ পবিত্র কুরআনে সূরা আম্বিয়ায় বলেছেন–
“”প্রত্যেক প্রাণই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবে ।
আমি তোমাদের ভালো ও খারাপ অবস্থা দিয়ে পরীক্ষা করি । আর আমারই কাছে তোমাদের ফিরে আসতে হবে ।
— সূরা আম্বিয়া, আয়াতঃ ৩৫

🟥🟪 সবাই মৃত্যু থেকে পালায়।
মানুষ মৃত্যু থেকে পালাতে চায় কিন্তু টুডে ওর টুমরো তাকে মৃত্যুর কাছে ধরা দিতেই হয়। মোটকথা মৃত্যুর নির্ধারিত সময় যখন উপস্থিত হয় তখন মৃত্যু থেকে কেউ পালিয়ে বাঁচতে পারে না।
শুধু মানুষ নয় বরং প্রত্যেকটা প্রাণী মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যায় শেষ পর্যন্ত।
কোন হিংস্র জন্তু বা সাপ দেখলে আমরা দৌড়ে পালিয়ে যাই। কোন বিপদের সম্ভাবনা দেখলে আমরা ওই এলাকা এড়িয়ে যাই। বজ্রপাত হলে আমরা ভয়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেই। এবং যেকোনো অসুখ হলে আমরা ডাক্তার এবং ঔষধ এর শরণাপন্ন হই। ঔষধ খাই আমরা এজন্য যে, ওসব ভালো না হলে আমরা মরে যাব। মোটকথা এই যে আমাদের তৎপরতা সবগুলো মৃত্যু থেকে পালানোর চেষ্টা ছাড়া আর কিছুই নয়। মৃত্যু আমাদের সকল প্রচেষ্টা আত্ম অহমিকা, মেধা মনন, ও জীবনের সবকিছুকে প্লান করে দেয়।
কখন আসবে কেউ তা জানে না।
জানেন শুধু একমাত্র আল্লাহ সুবাহানাহু তায়ালা।
পবিত্র কোরআনে ঘোষণা করেছেন, কেউ জানে না আগামীকাল সে কি করবে আর কেউ জানে না কখন কোথায় কিভাবে তার মৃত্যু হবে”!

🟥🟪কয়েকদিন আগে ভাইরাল হওয়া একটি ঘটনা–
জাহাঙ্গীরনগর ইউনিভার্সিটির একটা ছেলের মারা যাওয়ার খবর দেখে হুট করেই মনে হলো, মৃত্যু ছাড়া আমাদের আসলে নিজের বলতে আছেটা কী?

এই ছেলেটা গ্র্যাজুয়েশন করেছে। বিয়ে করেছে। দুইটা বাচ্চা আছে। বৌ আছে। ৪১ তম বিসিএসে সুপারিশ পেয়েছে। ৪৩ তমর ভাইবাও দিয়ে ফেলেছে।

এই এতো এতো স্ট্রাগল, এতো এতো পরিশ্রম এক মুহূর্তে শূণ্য হয়ে গেল, ছেলেটার তাহলে নিজের বলে থাকলো কী?

ভালো ক্যারিয়ার, অসম্ভব পরিশ্রম করে তিলে তিলে গড়ে তোলা ক্যারিয়ার, এই ক্যারিয়ারটাও কি আসলে আমার নিজের? না তো। এই ক্যারিয়ারে মায়ের ভাগ আছে, বাপের ভাগ আছে, ভাইয়ের লেখাপড়া আছে, বোনের বিয়ে আছে, বৌ এর শখ আছে, বাচ্চার দুধ আর খেলনাও আছে।

এবং এই একটা ক্যারিয়ার বানানোর জন্য মানুষরে সবকিছুই ছাড়তে হয়। লিটারালি সবকিছুই। টাকার ব্যাপারটা তো আছেই, সময়ের ব্যাপারটাও খুব ভাইটাল। চাকরির পেছনে ছুটতে ছুটতে বহু ছেলেমেয়ে ট্যুর দেওয়া ছেড়ে দেয়, বই পড়া ছেড়ে দেয়, প্রেম করা ছেড়ে দেয়, রেস্টুরেন্টে খাওয়া ছেড়ে দেয়, এমনকি অনেকে তো ইবাদত পর্যন্ত করতে পারে না।

একবার এক ভাইরে রাতের বেলা অনেক নামাজ পড়ার কারণ জিজ্ঞেস করে জানছিলাম, সারাদিন ল্যাবে কাজের ঠেলায় নামাজটা পর্যন্ত পড়তে পারেন নাই। খাওয়া তো দূরের কথা। মলিন হাসি মুখে নিয়ে তিনি বলেছিলেন, আমি ধনী হইতে চাই না ভাই, শুধু এতোটুকু অবসর চাই, যতটুকু অবসর পাইলে আমি একটু শান্তিমতো নামাজটা পড়তে পারি।

কেউ সরারাত ফোন নিয়ে রাতে দাঁড়াইয়া থাকে, বাপ অসুস্থ, বাপের কাছে যাইতে পারে না। শুধুমাত্র একটা ক্যারিয়ারের জন্য। একটা ব্রাইট ফিউচারের জন্য।

সমস্যা হলো, ফিউচার প্ল্যানে আমরা সবকিছুই ইনক্লুড করি, শুধু #মৃত্যুটছাড়া। আমাদের প্ল্যানে পরিবার থাকে, প্রেমিকা থাকে, গাড়ি থাকে, বাড়ি থাকে, বাট #মৃত্যুটাথাকে_না।

অথচ মৃত্যুটাকে প্ল্যানে রাখতে পারলেই কিন্তু আমার আপনার অনেক প্রায়োরিটি লিস্ট চেঞ্জ হয়ে যাবে। সেন্টমার্টিন ট্যুরটা দিয়ে ফেলা যাবে, ওয়্যার এন্ড পিসটা পড়ে ফেলার সময় হবে, তাহাজ্জুদ পড়ার সময়টাও বের করে ফেলতে পারবেন। কারণ, আপনি জানেন, মৃত্যু ওয়েট করতেসে। আপনার হাতে খুব বেশি সময় নাই।

না, আমি নিজে বোহেমিয়ান টাইপ মানুষ না, আপনাকেও বাউন্ডুলে হতে বলতেসি না। বরং পরিবারকে আমরা ওউন করবো, ভালোবাসবো, দায়িত্ব পালন করবো, সবটাই করবো।

সাথে সাথে ওউন করে নিবো আমাদের দুর্বলতাকেও, আমাদের #মৃত্যুকেও।

তখন দেখবেন, কিছু কাজ যেইটা আপনি একান্তই আপনার বলে অবহেলায় ফেলে রেখেছেন, কাজটা আপনার করা হয়ে যাবে। মৃত্যু আপনার পরিবারের পাশাপাশি আপনাকেও আপনার কাছে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলবে।

জীবন নিয়ে প্ল্যান করার সময় একটা জিনিস মাথায় রাইখেন, জীবনটা আপনার না। এইখানে আপনার ভাগ কম। আপনার জীবন আপনার চোখের সামনেই ভাগ করে নেবে আপনার পরিবার, আপনার বন্ধু বা আপনার আত্মীয়রা।

কিন্তু #মৃত্যুটা আপনার #একান্তই_নিজের। আপনার মৃত্যুর ভাগটা কেউ নেবে না, ঐটা আপনাকেই নিতে হবে। তাই, যে কোন প্ল্যানে জীবনের আগে মৃত্যুর কথাটা থাকা চাই। কষ্ট করতে করতে নিজেরে যন্ত্র করে ফেলার আগে মনে থাকা চাই কবি ইমতিয়াজ মাহমুদের লেখা দুইটা লাইন,

“মৃত্যু ছাড়া মানুষের একান্ত নিজের কিছু নেই,
জীবন অন্যরা ভাগ করে নেয় খুব প্রকাশ্যেই।”
জীবমাত্রই মৃত্যু রয়েছে। আল্লাহর ভাষায়, كُلُّ نَفْسٍ ذَآئِقَةُ الْمَوْتِ ۗ ‘ প্রত্যেক প্রাণীই মৃত্যুর স্বাদ ভোগ করবে’- সুরা আলে ইমরান ১৮৫। কী আস্তিক, আর কী নাস্তিক কেউ তা অস্বীকার করে না।

পার্থক্য হলো, আস্তিক মৃত্যু পরবর্তী জীবন বিশ্বাস করে এবং সেই আলোকে সে দুনিয়ার জীবনটা পরিচালনা করে। মৃত্যু এজন্যই, যাতে নেক ও বদ আমলের বিনিময়ে মানুষ জান্নাত বা জাহান্নাম ভোগ করতে পারে।

অনিবার্য সত্যের মুখোমুখি
মৃত্যু এ দুনিয়ার সকল আনন্দ, ভোগ-বিলাস মুহূর্তেই শেষ করে দেয়। মৃত্যুর কথা স্মরণ হলে মানুষ ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে এবং বাঁচার জন্য প্রাণপণ চেষ্টা করে। একজন কাফিরের জন্য মৃত্যু যতখানি ভয়ের, মুমিনের জন্য ততখানি নয়।

এ দুনিয়ায় মুমিনের নামাজ-রোজা ও সকল নেক আমলের পেছনে একটিই লক্ষ্য, মৃত্যুর পরে সে যেন আল্লাহর ক্ষমা ও জান্নাত পায়। জান্নাতের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য ও জাহান্নামের ভয়াবহ আজাব সম্পর্কে সে পুরোপুরি অবহিত; তাই মৃত্যুকে নয়, জাহান্নামের আজাবকে সে ভয় পায়।

মুমিনের মৃত্যু মানে রবের সান্নিধ্যে
মুমিন হয় সাহসী, চলার পথে সব ধরনের সতর্কতা ও সাবধানতা অবলম্বন করে সে তার নির্দিষ্ট লক্ষ্যপানে এগিয়ে যায় এবং সে জানে মৃত্যুর বিষয়টি একান্তই আল্লাহর হাতে। আল্লাহর বাণী, ۗ وَاللَّهُ يُحْىِۦ وَيُمِيتُ ۗ وَاللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ بَصِيرٌ আল্লাহ জীবন দান করেন ও মৃত্যু দেন। আর তোমরা যা কর আল্লাহ সে বিষয়ে সম্যক দ্রষ্টা- সূরা আলে-ইমরান:১৫৬ । সে আরো জানে, যুদ্ধ-বিগ্রহ ও রোগ-মহামারি কোনো কিছুই তাকে মৃত্যু দিতে পারে না, যদি আল্লাহ না চান এবং মৃত্যুর সময় সুনির্দিষ্ট। আল্লাহর কথা,

وَمَا كَانَ لِنَفْسٍ أَن تَمُوتَ إِلَّا بِإِذْنِ اللَّهِ كِتٰبًا مُّؤَجَّلًا ۗ وَمَن يُرِدْ ثَوَابَ الدُّنْيَا نُؤْتِهِۦ مِنْهَا وَمَن يُرِدْ ثَوَابَ الْءَاخِرَةِ نُؤْتِهِۦ مِنْهَا ۚ وَسَنَجْزِى الشّٰكِرِينَ -আর কোন প্রাণী আল্লাহর অনুমতি ছাড়া মারা যায় না, তা নির্দিষ্টভাবে লিখিত আছে। আর যে দুনিয়ার প্রতিদান চায়, আমি তা থেকে তাকে দিয়ে দেই, আর যে আখিরাতের বিনিময় চায়, আমি তা থেকে তাকেও দেই এবং আমি অচিরেই কৃতজ্ঞদের প্রতিদান দেব। সূরা আলে-ইমরান:১৪৫

সুরা আল ইমরানের বেশ কিছু আয়াত আমি এখানে উদ্ধৃত করেছি। মূলত এই অংশটি ওহুদ যুদ্ধের পরবর্তী সময়ে অবতীর্ণ এবং এসব আয়াতে সেই যুদ্ধেরই পর্যালোচনা করা হয়েছে। আল্লাহপাক আমাদের তাঁরই সৃষ্ট এক অদৃশ্য শক্তি করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে এক যুদ্ধে নামিয়ে দিয়েছেন। সেই যুদ্ধের সৈনিক হচ্ছে দেশের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, ডাক্তার-নার্স, ত্রাণকর্মী-স্বেচ্ছাসেবক এবং তাদের সহযোগী হলেন দেশের জনগণ।

বিপদ মানুষের পাপের প্রতিফলন
মহামারি, ভূমিকম্প, জলোচ্ছাস বা বিপদ- মুসিবত যাই বলি, তা নিজ থেকে আসে না, আসে আল্লাহর পক্ষ থেকে।আল কুরআনে, مَآ أَصَابَ مِن مُّصِيبَةٍ إِلَّا بِإِذْنِ اللَّهِ ۗ وَمَن يُؤْمِنۢ بِاللَّهِ يَهْدِ قَلْبَهُۥ ۚ وَاللَّهُ بِكُلِّ شَىْءٍ عَلِيمٌ আল্লাহর অনুমতি ছাড়া কোন বিপদই আপতিত হয় না। যে আল্লাহর প্রতি ঈমান আনে, আল্লাহ তার অন্তরকে সৎপথে পরিচালিত করেন। আল্লাহ প্রত্যেক বিষয়ে সর্বজ্ঞ-সূরা আত-তাগাবুন:১১।

আল্লাহর ভাষায়, এসবই আমাদের হাতের কামাই। মানুষ যখন সীমালঙ্ঘন করে এবং জমিনে অশ্লীলতা ও পাপাচার বেড়ে যায় তখন আল্লাহ তাঁর বান্দাদের সতর্ক করার জন্য নানাবিধ বালা-মুসিবত দিয়ে থাকেন। করোনা ভাইরাস সমগ্র বিশ্বকে নাড়া দিয়েছে। লক্ষ লক্ষ মানুষ আক্রান্ত হয়েছে এবং ইতোমধ্যেই লাখের কাছে মানুষ মারা গেছেন। মানুষ তার জ্ঞান-বুদ্ধি ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে এটিকে প্রতিরোধ করার চেষ্টা করছে। একজন বিশ্বাসী হিসেবে আমরা বিশ্বাস করি, এই বিপদ আল্লাহর পক্ষ থেকে, তাই বৈষয়িক সকল ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি আমাদের আল্লাহরই কাছে ফিরে আসতে হবে।

রবের পক্ষ থেকে সতর্কতা
প্রশ্ন উঠতে পারে, মহামারি যেহেতু আল্লাহর পক্ষ থেকে, সেহেতু সব কিছু থেকে মুখ ফিরিয়ে আমরা আল্লাহর কাছে ধর্ণা দিতে পারি এবং নামাজ, রোজা ও দোয়া-দরুদের মাধ্যমে তাঁর কাছে সাহায্য কামনা করতে পারি। কিন্তু এটি আল্লাহর সুন্নাহর (নিয়ম) বিপরীত। মানুষ তো আল্লাহরই প্রতিনিধি।

তাকে জ্ঞান-বুদ্ধি ও যোগ্যতা দিয়ে সকল সৃষ্টির ওপর ক্ষমতাবান করা হয়েছে। এজন্য প্রয়োজন তাঁর সৃষ্টি নিয়ে চিন্তা-ভাবনা ও গবেষণা করা। পৃথিবীতে যত রোগ-ব্যাধি আছে, আল্লাহ তার আরোগ্যেরও ব্যবস্থা রেখেছেন। সকল চেষ্টা-প্রচেষ্টার পাশাপাশি যারা নিজেদেরকে আল্লাহর কাছে সঁপে দিতে পারবে তারাই সফলকাম এবং তারাই হবে সৌভাগ্যের অধিকারী।

করোনা ভাইরাস একটি সংক্রামক ব্যাধি। ফলে মানুষ ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পড়ছে। কোনো বাসায় কেউ করোনায় আক্রান্ত হলে তার সকল প্রিয়জন তার থেকে পালিয়ে যাচ্ছে; এমন কি দাফন-কাফনেও শরীক হতে রাজী হচ্ছে না। আখিরাতের সেই চিত্রই যেন পরিস্ফুট হচ্ছে। সেদিন আপনজনরা একে অপর থেকে পালাবে। এই করোনা ভাইরাস আল্লাহর অনেক বান্দাকে পাপ-পঙ্কিলতা থেকে ফিরিয়ে এনেছে এবং অনেকে মানবতার সেবায় আত্মনিয়োগ করে নেকির পাল্লাকে ভারি করতে সক্ষম হয়েছে।

বিপদে অগ্রগামীদের মৃত্যু
করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসা ও সেবা-যত্ন এবং ত্রাণ বিতরণ সবই ঝুঁকিপূর্ণ। ঝুঁকিপূর্ণ বলেই সেখানে গেলে কি কারো মৃত্যু অনিবার্য? মোটেই না, মৃত্যুর ফয়সালাটা সম্পূর্ণ আল্লাহর এখতিয়ারে। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ বলেন, ۗ قُل لَّوْ كُنتُمْ فِى بُيُوتِكُمْ لَبَرَزَ الَّذِينَ كُتِبَ عَلَيْهِمُ الْقَتْلُ إِلٰى مَضَاجِعِهِمْ ۖ وَلِيَبْتَلِىَ اللَّهُ مَا فِى صُدُورِكُمْ وَلِيُمَحِّصَ مَا فِى قُلُوبِكُمْ ۗ ‘তোমরা যদি তোমাদের ঘরে থাকতে তাহলেও যাদের ব্যাপারে নিহত হওয়া অবধারিত রয়েছে, অবশ্যই তারা তাদের নিহত হওয়ার স্থলের দিকে বের হয়ে যেত।

আর যাতে তোমাদের মনে যা আছে আল্লাহ তা পরীক্ষা করেন এবং তোমাদের অন্তরসমূহে যা আছে তা পরিষ্কার করেন। আর আল্লাহ তোমাদের অন্তরের বিষয় সম্পর্কে পূর্ণ জ্ঞাত’-সূরা আলে-ইমরান:-১৫৪। আল্লাহ আরো বলেন, الَّذِينَ قَالُوا لِإِخْوٰنِهِمْ وَقَعَدُوا لَوْ أَطَاعُونَا مَا قُتِلُوا ۗ قُلْ فَادْرَءُوا عَنْ أَنفُسِكُمُ الْمَوْتَ إِن كُنتُمْ صٰدِقِينَ যারা তাদের ভাইদেরকে বলেছিল এবং বসেছিল, ‘যদি তারা আমাদের অনুকরণ করত, তারা নিহত হত না’। বল, ‘তাহলে তোমরা তোমাদের নিজ থেকে মৃত্যুকে দূরে সরাও যদি তোমরা সত্যবাদী হও’-সূরা আলে-ইমরান:১৬৮। মৃত্যু সম্পর্কে আল্লাহর স্পষ্ট উল্লেখ, এটি একান্তই তাঁর ইচ্ছাধীন। এখানে অন্য কারো কোনো অংশ নেই। তাই নিজেদের পক্ষ থেকে সাধ্যমত সুরক্ষা গ্রহণ করেই এই পরিস্থিতির মোকাবেলা করতে হবে।

আল্লাহর বান্দাদের কল্যাণে যারা এগিয়ে আসবে তাদের সুরক্ষা দানের দায়িত্ব একান্তই আল্লাহর। কারণ রব হিসেবে সমগ্র সৃষ্টির লালন- পালন ও পরিচর্চার দায়িত্ব আল্লাহর এবং তাঁর পক্ষে যারা এ দায়িত্ব পালন করবে তারা যথার্থই তাঁর খলিফা বা প্রতিনিধি।

🟥🟪 সবাই মৃত্যু থেকে পালায়।
মানুষ মৃত্যু থেকে পালাতে চায় কিন্তু টুডে ওর টুমরো তাকে মৃত্যুর কাছে ধরা দিতেই হয়। মোটকথা মৃত্যুর নির্ধারিত সময় যখন উপস্থিত হয় তখন মৃত্যু থেকে কেউ পালিয়ে বাঁচতে পারে না।
শুধু মানুষ নয় বরং প্রত্যেকটা প্রাণী মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যায় শেষ পর্যন্ত।
কোন হিংস্র জন্তু বা সাপ দেখলে আমরা দৌড়ে পালিয়ে যাই। কোন বিপদের সম্ভাবনা দেখলে আমরা ওই এলাকা এড়িয়ে যাই। বজ্রপাত হলে আমরা ভয়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেই। এবং যেকোনো অসুখ হলে আমরা ডাক্তার এবং ঔষধ এর শরণাপন্ন হই। ঔষধ খাই আমরা এজন্য যে, ওসব ভালো না হলে আমরা মরে যাব। মোটকথা এই যে আমাদের তৎপরতা সবগুলো মৃত্যু থেকে পালানোর চেষ্টা ছাড়া আর কিছুই নয়। মৃত্যু আমাদের সকল প্রচেষ্টা আত্ম অহমিকা, মেধা মনন, ও জীবনের সবকিছুকে প্লান করে দেয়।
কখন আসবে কেউ তা জানে না।
জানেন শুধু একমাত্র আল্লাহ সুবাহানাহু তায়ালা।
পবিত্র কোরআনে ঘোষণা করেছেন, কেউ জানে না আগামীকাল সে কি করবে আর কেউ জানে না কখন কোথায় কিভাবে তার মৃত্যু হবে”!

🟥🟪কয়েকদিন আগে ভাইরাল হওয়া একটি ঘটনা–
জাহাঙ্গীরনগর ইউনিভার্সিটির একটা ছেলের মারা যাওয়ার খবর দেখে হুট করেই মনে হলো, মৃত্যু ছাড়া আমাদের আসলে নিজের বলতে আছেটা কী?

এই ছেলেটা গ্র্যাজুয়েশন করেছে। বিয়ে করেছে। দুইটা বাচ্চা আছে। বৌ আছে। ৪১ তম বিসিএসে সুপারিশ পেয়েছে। ৪৩ তমর ভাইবাও দিয়ে ফেলেছে।

এই এতো এতো স্ট্রাগল, এতো এতো পরিশ্রম এক মুহূর্তে শূণ্য হয়ে গেল, ছেলেটার তাহলে নিজের বলে থাকলো কী?

ভালো ক্যারিয়ার, অসম্ভব পরিশ্রম করে তিলে তিলে গড়ে তোলা ক্যারিয়ার, এই ক্যারিয়ারটাও কি আসলে আমার নিজের? না তো। এই ক্যারিয়ারে মায়ের ভাগ আছে, বাপের ভাগ আছে, ভাইয়ের লেখাপড়া আছে, বোনের বিয়ে আছে, বৌ এর শখ আছে, বাচ্চার দুধ আর খেলনাও আছে।

এবং এই একটা ক্যারিয়ার বানানোর জন্য মানুষরে সবকিছুই ছাড়তে হয়। লিটারালি সবকিছুই। টাকার ব্যাপারটা তো আছেই, সময়ের ব্যাপারটাও খুব ভাইটাল। চাকরির পেছনে ছুটতে ছুটতে বহু ছেলেমেয়ে ট্যুর দেওয়া ছেড়ে দেয়, বই পড়া ছেড়ে দেয়, প্রেম করা ছেড়ে দেয়, রেস্টুরেন্টে খাওয়া ছেড়ে দেয়, এমনকি অনেকে তো ইবাদত পর্যন্ত করতে পারে না।

একবার এক ভাইরে রাতের বেলা অনেক নামাজ পড়ার কারণ জিজ্ঞেস করে জানছিলাম, সারাদিন ল্যাবে কাজের ঠেলায় নামাজটা পর্যন্ত পড়তে পারেন নাই। খাওয়া তো দূরের কথা। মলিন হাসি মুখে নিয়ে তিনি বলেছিলেন, আমি ধনী হইতে চাই না ভাই, শুধু এতোটুকু অবসর চাই, যতটুকু অবসর পাইলে আমি একটু শান্তিমতো নামাজটা পড়তে পারি।

কেউ সরারাত ফোন নিয়ে রাতে দাঁড়াইয়া থাকে, বাপ অসুস্থ, বাপের কাছে যাইতে পারে না। শুধুমাত্র একটা ক্যারিয়ারের জন্য। একটা ব্রাইট ফিউচারের জন্য।

সমস্যা হলো, ফিউচার প্ল্যানে আমরা সবকিছুই ইনক্লুড করি, শুধু #মৃত্যুটছাড়া। আমাদের প্ল্যানে পরিবার থাকে, প্রেমিকা থাকে, গাড়ি থাকে, বাড়ি থাকে, বাট #মৃত্যুটাথাকে_না।

অথচ মৃত্যুটাকে প্ল্যানে রাখতে পারলেই কিন্তু আমার আপনার অনেক প্রায়োরিটি লিস্ট চেঞ্জ হয়ে যাবে। সেন্টমার্টিন ট্যুরটা দিয়ে ফেলা যাবে, ওয়্যার এন্ড পিসটা পড়ে ফেলার সময় হবে, তাহাজ্জুদ পড়ার সময়টাও বের করে ফেলতে পারবেন। কারণ, আপনি জানেন, মৃত্যু ওয়েট করতেসে। আপনার হাতে খুব বেশি সময় নাই।

না, আমি নিজে বোহেমিয়ান টাইপ মানুষ না, আপনাকেও বাউন্ডুলে হতে বলতেসি না। বরং পরিবারকে আমরা ওউন করবো, ভালোবাসবো, দায়িত্ব পালন করবো, সবটাই করবো।

সাথে সাথে ওউন করে নিবো আমাদের দুর্বলতাকেও, আমাদের #মৃত্যুকেও।

তখন দেখবেন, কিছু কাজ যেইটা আপনি একান্তই আপনার বলে অবহেলায় ফেলে রেখেছেন, কাজটা আপনার করা হয়ে যাবে। মৃত্যু আপনার পরিবারের পাশাপাশি আপনাকেও আপনার কাছে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলবে।

জীবন নিয়ে প্ল্যান করার সময় একটা জিনিস মাথায় রাইখেন, জীবনটা আপনার না। এইখানে আপনার ভাগ কম। আপনার জীবন আপনার চোখের সামনেই ভাগ করে নেবে আপনার পরিবার, আপনার বন্ধু বা আপনার আত্মীয়রা।

কিন্তু #মৃত্যুটা আপনার #একান্তই_নিজের। আপনার মৃত্যুর ভাগটা কেউ নেবে না, ঐটা আপনাকেই নিতে হবে। তাই, যে কোন প্ল্যানে জীবনের আগে মৃত্যুর কথাটা থাকা চাই। কষ্ট করতে করতে নিজেরে যন্ত্র করে ফেলার আগে মনে থাকা চাই কবি ইমতিয়াজ মাহমুদের লেখা দুইটা লাইন,

“মৃত্যু ছাড়া মানুষের একান্ত নিজের কিছু নেই,
জীবন অন্যরা ভাগ করে নেয় খুব প্রকাশ্যেই।”
জীবমাত্রই মৃত্যু রয়েছে। আল্লাহর ভাষায়, كُلُّ نَفْسٍ ذَآئِقَةُ الْمَوْتِ ۗ ‘ প্রত্যেক প্রাণীই মৃত্যুর স্বাদ ভোগ করবে’- সুরা আলে ইমরান ১৮৫। কী আস্তিক, আর কী নাস্তিক কেউ তা অস্বীকার করে না।

পার্থক্য হলো, আস্তিক মৃত্যু পরবর্তী জীবন বিশ্বাস করে এবং সেই আলোকে সে দুনিয়ার জীবনটা পরিচালনা করে। মৃত্যু এজন্যই, যাতে নেক ও বদ আমলের বিনিময়ে মানুষ জান্নাত বা জাহান্নাম ভোগ করতে পারে।

অনিবার্য সত্যের মুখোমুখি
মৃত্যু এ দুনিয়ার সকল আনন্দ, ভোগ-বিলাস মুহূর্তেই শেষ করে দেয়। মৃত্যুর কথা স্মরণ হলে মানুষ ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে এবং বাঁচার জন্য প্রাণপণ চেষ্টা করে। একজন কাফিরের জন্য মৃত্যু যতখানি ভয়ের, মুমিনের জন্য ততখানি নয়।

এ দুনিয়ায় মুমিনের নামাজ-রোজা ও সকল নেক আমলের পেছনে একটিই লক্ষ্য, মৃত্যুর পরে সে যেন আল্লাহর ক্ষমা ও জান্নাত পায়। জান্নাতের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য ও জাহান্নামের ভয়াবহ আজাব সম্পর্কে সে পুরোপুরি অবহিত; তাই মৃত্যুকে নয়, জাহান্নামের আজাবকে সে ভয় পায়।

মুমিনের মৃত্যু মানে রবের সান্নিধ্যে
মুমিন হয় সাহসী, চলার পথে সব ধরনের সতর্কতা ও সাবধানতা অবলম্বন করে সে তার নির্দিষ্ট লক্ষ্যপানে এগিয়ে যায় এবং সে জানে মৃত্যুর বিষয়টি একান্তই আল্লাহর হাতে। আল্লাহর বাণী, ۗ وَاللَّهُ يُحْىِۦ وَيُمِيتُ ۗ وَاللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ بَصِيرٌ আল্লাহ জীবন দান করেন ও মৃত্যু দেন। আর তোমরা যা কর আল্লাহ সে বিষয়ে সম্যক দ্রষ্টা- সূরা আলে-ইমরান:১৫৬ । সে আরো জানে, যুদ্ধ-বিগ্রহ ও রোগ-মহামারি কোনো কিছুই তাকে মৃত্যু দিতে পারে না, যদি আল্লাহ না চান এবং মৃত্যুর সময় সুনির্দিষ্ট। আল্লাহর কথা,

وَمَا كَانَ لِنَفْسٍ أَن تَمُوتَ إِلَّا بِإِذْنِ اللَّهِ كِتٰبًا مُّؤَجَّلًا ۗ وَمَن يُرِدْ ثَوَابَ الدُّنْيَا نُؤْتِهِۦ مِنْهَا وَمَن يُرِدْ ثَوَابَ الْءَاخِرَةِ نُؤْتِهِۦ مِنْهَا ۚ وَسَنَجْزِى الشّٰكِرِينَ -আর কোন প্রাণী আল্লাহর অনুমতি ছাড়া মারা যায় না, তা নির্দিষ্টভাবে লিখিত আছে। আর যে দুনিয়ার প্রতিদান চায়, আমি তা থেকে তাকে দিয়ে দেই, আর যে আখিরাতের বিনিময় চায়, আমি তা থেকে তাকেও দেই এবং আমি অচিরেই কৃতজ্ঞদের প্রতিদান দেব। সূরা আলে-ইমরান:১৪৫

সুরা আল ইমরানের বেশ কিছু আয়াত আমি এখানে উদ্ধৃত করেছি। মূলত এই অংশটি ওহুদ যুদ্ধের পরবর্তী সময়ে অবতীর্ণ এবং এসব আয়াতে সেই যুদ্ধেরই পর্যালোচনা করা হয়েছে। আল্লাহপাক আমাদের তাঁরই সৃষ্ট এক অদৃশ্য শক্তি করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে এক যুদ্ধে নামিয়ে দিয়েছেন। সেই যুদ্ধের সৈনিক হচ্ছে দেশের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, ডাক্তার-নার্স, ত্রাণকর্মী-স্বেচ্ছাসেবক এবং তাদের সহযোগী হলেন দেশের জনগণ।

বিপদ মানুষের পাপের প্রতিফলন
মহামারি, ভূমিকম্প, জলোচ্ছাস বা বিপদ- মুসিবত যাই বলি, তা নিজ থেকে আসে না, আসে আল্লাহর পক্ষ থেকে।আল কুরআনে, مَآ أَصَابَ مِن مُّصِيبَةٍ إِلَّا بِإِذْنِ اللَّهِ ۗ وَمَن يُؤْمِنۢ بِاللَّهِ يَهْدِ قَلْبَهُۥ ۚ وَاللَّهُ بِكُلِّ شَىْءٍ عَلِيمٌ আল্লাহর অনুমতি ছাড়া কোন বিপদই আপতিত হয় না। যে আল্লাহর প্রতি ঈমান আনে, আল্লাহ তার অন্তরকে সৎপথে পরিচালিত করেন। আল্লাহ প্রত্যেক বিষয়ে সর্বজ্ঞ-সূরা আত-তাগাবুন:১১।

আল্লাহর ভাষায়, এসবই আমাদের হাতের কামাই। মানুষ যখন সীমালঙ্ঘন করে এবং জমিনে অশ্লীলতা ও পাপাচার বেড়ে যায় তখন আল্লাহ তাঁর বান্দাদের সতর্ক করার জন্য নানাবিধ বালা-মুসিবত দিয়ে থাকেন। করোনা ভাইরাস সমগ্র বিশ্বকে নাড়া দিয়েছে। লক্ষ লক্ষ মানুষ আক্রান্ত হয়েছে এবং ইতোমধ্যেই লাখের কাছে মানুষ মারা গেছেন। মানুষ তার জ্ঞান-বুদ্ধি ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে এটিকে প্রতিরোধ করার চেষ্টা করছে। একজন বিশ্বাসী হিসেবে আমরা বিশ্বাস করি, এই বিপদ আল্লাহর পক্ষ থেকে, তাই বৈষয়িক সকল ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি আমাদের আল্লাহরই কাছে ফিরে আসতে হবে।

রবের পক্ষ থেকে সতর্কতা
প্রশ্ন উঠতে পারে, মহামারি যেহেতু আল্লাহর পক্ষ থেকে, সেহেতু সব কিছু থেকে মুখ ফিরিয়ে আমরা আল্লাহর কাছে ধর্ণা দিতে পারি এবং নামাজ, রোজা ও দোয়া-দরুদের মাধ্যমে তাঁর কাছে সাহায্য কামনা করতে পারি। কিন্তু এটি আল্লাহর সুন্নাহর (নিয়ম) বিপরীত। মানুষ তো আল্লাহরই প্রতিনিধি।

তাকে জ্ঞান-বুদ্ধি ও যোগ্যতা দিয়ে সকল সৃষ্টির ওপর ক্ষমতাবান করা হয়েছে। এজন্য প্রয়োজন তাঁর সৃষ্টি নিয়ে চিন্তা-ভাবনা ও গবেষণা করা। পৃথিবীতে যত রোগ-ব্যাধি আছে, আল্লাহ তার আরোগ্যেরও ব্যবস্থা রেখেছেন। সকল চেষ্টা-প্রচেষ্টার পাশাপাশি যারা নিজেদেরকে আল্লাহর কাছে সঁপে দিতে পারবে তারাই সফলকাম এবং তারাই হবে সৌভাগ্যের অধিকারী।

করোনা ভাইরাস একটি সংক্রামক ব্যাধি। ফলে মানুষ ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পড়ছে। কোনো বাসায় কেউ করোনায় আক্রান্ত হলে তার সকল প্রিয়জন তার থেকে পালিয়ে যাচ্ছে; এমন কি দাফন-কাফনেও শরীক হতে রাজী হচ্ছে না। আখিরাতের সেই চিত্রই যেন পরিস্ফুট হচ্ছে। সেদিন আপনজনরা একে অপর থেকে পালাবে। এই করোনা ভাইরাস আল্লাহর অনেক বান্দাকে পাপ-পঙ্কিলতা থেকে ফিরিয়ে এনেছে এবং অনেকে মানবতার সেবায় আত্মনিয়োগ করে নেকির পাল্লাকে ভারি করতে সক্ষম হয়েছে।

বিপদে অগ্রগামীদের মৃত্যু
করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসা ও সেবা-যত্ন এবং ত্রাণ বিতরণ সবই ঝুঁকিপূর্ণ। ঝুঁকিপূর্ণ বলেই সেখানে গেলে কি কারো মৃত্যু অনিবার্য? মোটেই না, মৃত্যুর ফয়সালাটা সম্পূর্ণ আল্লাহর এখতিয়ারে। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ বলেন, ۗ قُل لَّوْ كُنتُمْ فِى بُيُوتِكُمْ لَبَرَزَ الَّذِينَ كُتِبَ عَلَيْهِمُ الْقَتْلُ إِلٰى مَضَاجِعِهِمْ ۖ وَلِيَبْتَلِىَ اللَّهُ مَا فِى صُدُورِكُمْ وَلِيُمَحِّصَ مَا فِى قُلُوبِكُمْ ۗ ‘তোমরা যদি তোমাদের ঘরে থাকতে তাহলেও যাদের ব্যাপারে নিহত হওয়া অবধারিত রয়েছে, অবশ্যই তারা তাদের নিহত হওয়ার স্থলের দিকে বের হয়ে যেত।

আর যাতে তোমাদের মনে যা আছে আল্লাহ তা পরীক্ষা করেন এবং তোমাদের অন্তরসমূহে যা আছে তা পরিষ্কার করেন। আর আল্লাহ তোমাদের অন্তরের বিষয় সম্পর্কে পূর্ণ জ্ঞাত’-সূরা আলে-ইমরান:-১৫৪। আল্লাহ আরো বলেন, الَّذِينَ قَالُوا لِإِخْوٰنِهِمْ وَقَعَدُوا لَوْ أَطَاعُونَا مَا قُتِلُوا ۗ قُلْ فَادْرَءُوا عَنْ أَنفُسِكُمُ الْمَوْتَ إِن كُنتُمْ صٰدِقِينَ যারা তাদের ভাইদেরকে বলেছিল এবং বসেছিল, ‘যদি তারা আমাদের অনুকরণ করত, তারা নিহত হত না’। বল, ‘তাহলে তোমরা তোমাদের নিজ থেকে মৃত্যুকে দূরে সরাও যদি তোমরা সত্যবাদী হও’-সূরা আলে-ইমরান:১৬৮। মৃত্যু সম্পর্কে আল্লাহর স্পষ্ট উল্লেখ, এটি একান্তই তাঁর ইচ্ছাধীন। এখানে অন্য কারো কোনো অংশ নেই। তাই নিজেদের পক্ষ থেকে সাধ্যমত সুরক্ষা গ্রহণ করেই এই পরিস্থিতির মোকাবেলা করতে হবে।

আল্লাহর বান্দাদের কল্যাণে যারা এগিয়ে আসবে তাদের সুরক্ষা দানের দায়িত্ব একান্তই আল্লাহর। কারণ রব হিসেবে সমগ্র সৃষ্টির লালন- পালন ও পরিচর্চার দায়িত্ব আল্লাহর এবং তাঁর পক্ষে যারা এ দায়িত্ব পালন করবে তারা যথার্থই তাঁর খলিফা বা প্রতিনিধি।

🤔🤔কুমারীত্ব সম্পর্কে বাইবেলের শিক্ষা !!Deuteronomy 22:13-21

13 “একজন পুরুষ কোন স্ত্রীলোককে বিবাহ করে তার সাথে য়ৌন সম্পর্ক স্থাপন করার পরে মনস্থ করতে পারে সে তাকে আর চায না|
14 সেই জন্য সে মিথ্যাভাবে বলতে পারে, ‘আমি এই স্ত্রীলোকটিকে বিবাহ করেছিলাম বটে কিন্তু য়ৌন সহবাসের সময় দেখলাম য়ে সে কুমারী নয়|’ এই বলে সে সেই স্ত্রীলোকটির উপর দুর্নাম আনতে পারে|
15 এই রকম ঘটলে মেয়েটির পিতা-মাতা সেই মেয়েটির কুমারীত্বের প্রমাণ নিয়ে নগরের প্রবীণদের সাথে নগরের সভাস্থলে উপস্থিত হবে|
16 মেয়েটির পিতা প্রবীণদের বলবেন, ‘আমি আমার মেয়েকে এই লোকটির হাতে তার স্ত্রী হিসাবে দিয়েছিলাম কিন্তু এখন সে তাকে পছন্দ করে না|
17 এই লোকটি আমার মেয়ের নামে মিথ্যা বলেছে| সে বলেছে, “তোমার মেয়ে কুমারী ছিল না|” কিন্তু এই দেখুন আমার মেয়ে য়ে কুমারী তার প্রমাণ|” এই বলে তারা কাপড়টি নগরের প্রবীণদের দেখাবে|
18 তখন সেই নগরের প্রবীণরা অবশ্যই সেই লোকটিকে নিয়ে গিয়ে শাস্তি দেবে|
19 তারা অবশ্যই লোকটির জন্য40 আউন্স রৌপ্য় জরিমানা করবে| সেই টাকা য়েন মেয়েটির পিতাকে দেওয়া হয়, কারণ মেয়েটির স্বামী একজন ইস্রায়েলীয় কুমারীর উপর দুর্নাম এনেছে| আর সেই মেয়েটি সেই লোকটির স্ত্রী হয়েই থাকবে| সেই লোকটি তার জীবনকালে তাকে বিবাহ বিচ্ছেদ দিতে পারবে না|
20 “কিন্তু এও হতে পারে য়ে মেয়েটির স্বামী তার সম্বন্ধে যা বলেছে তা সত্য| স্ত্রীলোকটির মাতা-পিতার কাছে তার কুমারীত্বের প্রমাণ নাও থাকতে পারে|
21 যদি তাই ঘটে তবে নগরের প্রবীণরা সেই মেয়েটিকে নিয়ে তার পিতার বাড়ীর দরজায আসবে| তারপর সেই নগরের লোকরা মেয়েটিকে পাথর মেরে হত্যা করবে| কারণ ইস্রায়েলের মধ্যে সে লজ্জাজনক কাজ করেছে| সে পিতার বাড়ীতে বেশ্যার মতো ব্যবহার করেছে| তুমি তোমার লোকদের মধ্যে থেকে এইভাবে দুষ্টাচার দূর করবে|

সুধের লেখক এর আমলনামায় প্রতিদিন ৩৬ টা জেনা করার আমল লিপিবদ্ধ করা হয়।

🟦🟥দীর্ঘ পঁচিশ বছর অক্লান্ত পরিশ্রম করে পড়াশোনা করার পর আপনি যে সুদি ব্যাংক অথবা সুদী প্রতিষ্ঠানে চাকরির জন্য দৌড়াচ্ছেন, কষ্ট করছেন, এবং ঘুষ দিচ্ছেন ও লোকজন ধরছেন । সেখানে আপনার চাকরির উপর আল্লাহ এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু ওয়া সাল্লাম লানত করে গেছেন।
অর্থাৎ অভিসম্পাত করে গেছেন।।
আর আল্লাহ ও রাসুল এর অভিশাপ যেখানে থাকে সেখানে সমস্ত সৃষ্টি কুলের অভিশাপ থাকে।।
আর যাদের উপর আল্লাহর অভিশাপ থাকে তাদের দুনিয়া এবং আখেরাত দুটোই বরবাদ হয়ে যায়।।
🟦🟥একটি সহিহ হাদিসের স্পষ্ট এসেছে যে, সুদের লেখক এর উপর প্রতিদিন সুদের হিসাব লেখার জন্য ৩৬ টি জেনা করার পাপ তার আমলনামায় লিপিবদ্ধ করা হয়।।
আর যারা সুদী প্রতিষ্ঠানে বা সুদী ব্যাংকে চাকরি করে তারা সুদের চারটি গুনাহের সাথেই সরাসরি জড়িত।
অর্থাৎ সুদের দাতা, সুদের গ্রহীতা, সুদের লেখক, এবং সুদের সাক্ষী।
হয়তো এখানে কেউ বলতে পারে যে, তারা তো শুধু লিখে রাখে কিন্তু তারা তো সুদ খায় না অথবা সুদ দেয় না।
👉👉বিষয়টি একটু গভীর থেকে দেখলেই বুঝতে পারবেন যে প্রত্যেকটা সুধী প্রতিষ্ঠানের প্রত্যেক নিয়োগকৃত ব্যক্তি সুদের চারটি গুনাহের সাথে জড়িত।।

👉👉প্রথমত যারা সুদি ব্যাংকে চাকরি করে তারা সুদের গ্রহীতা বা তারা সুদ খায়, এক কথায় সুদখোর।।
তারা সরাসরি সুদ না খেলেও তারা মালিক কে বা ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে সুদ খাওয়ার জন্য বিভিন্নভাবে সাহায্য করে থাকে।
এবং সেই মালিকের প্রাপ্ত সুদের টাকা থেকেই তাদের বেতন বোনাস ইত্যাদি সবকিছু দেওয়া হয়।।অর্থাৎ সুদী ব্যাংক বা সুধী প্রতিষ্ঠানে চাকরি করে পাওয়া টাকা সরাসরি সুদের।।
অতএব যারা সুদী ব্যাংক বা সুধি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করে এবং বলে থাকে যে আমরা তো সুদ খাই না শুধুমাত্র সুধী প্রতিষ্ঠানে চাকরি করি, তাদের কথাটা খুবই হাস্যকর কারণ তারা সুদ খায় না কিন্তু সুদের থেকে প্রাপ্ত টাকা বেতন খায়।
কথাটা এমন যে, “ভাই আমি চুরি করি না শুধু না বলে নিয়ে আসি”।।
অথবা “আমি তো কাঁঠাল খাই না বরং কাঁঠালের খোশ খাই”⁉️
👉👉দ্বিতীয়তঃ যারা সুধী ব্যাংকে চাকরি করে তারা সুদের দাতা।
অর্থাৎ তারা টাকা গ্রহণ করে সেই টাকার বিপরীতে সুদ দিয়ে থাকে।
তা কিভাবে??
এটা সকলেই জানে যে প্রত্যেকটি ব্যাংকের কর্মকর্তা কর্মচারীর জন্য সহজ শর্তে ঋণ নেওয়ার একটা অপশন সব সময়, সকল ব্যাংকে ও অর্থলগ্নী প্রতিষ্ঠানে খোলা থাকে এবং ব্যাংকের শতভাগ কর্মকর্তা-কর্মচারী বিভিন্ন সময়ে, বিভিন্ন অকেশনে তারা ব্যাংক থেকে এই সুবিধা নিয়ে থাকেন।। অর্থাৎ ঋণ নিয়ে থাকেন।।
তবে যেকোনো ব্যাংক বা অর্থ রোগী প্রতিষ্ঠান তাদের নিজস্ব কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ঋণ দিলেও কিন্তু শতভাগ সুদ মুক্ত ঋণ দেয় না বরং তারা সহজ শর্ত ও স্বল্প সুদে ঋণ দিয়ে থাকে।।
আপনি এমন একজন ব্যাংকে কর্মকর্তা বা কর্মচারী দুনিয়াতে খুঁজে পাবেন না যারা কোন না কোন সময় ব্যাংক থেকে নিজেদের প্রয়োজনে ঋণ নেয়নি।।
অতএ ব তারা স্বল্প মেয়াদে হোক কিংবা দীর্ঘ মেয়াদে হোক অথবা অল্প টাকার হোক কিংবা বেশি টাকার হোক তারা কিন্তু সরাসরি সুদের দাতা।।।

👉👉তৃতীয়তঃ যারা সুদি ব্যাংকে চাকরি করে তারা সুদের সরাসরি লেখক।
আশা করি এই বিষয়টি আর ব্যাখ্যা করার প্রয়োজন পড়বে না কেননা ব্যাংকে যারা চাকরি করে এমনকি ব্যাংকের সিকিউরিটি পর্যন্ত কতজন লোক আসা-যাওয়া করলো তা লিখে রাখে অর্থাৎ সুদী কারবারের সাথে জড়িত প্রত্যেকটি লোক সুদের লেখক হিসাবে গণ্য কেননা প্রতিদিন তারা কিছু না লিখে থাকে এবং তাতে সুধি প্রতিষ্ঠান লাভবান হয়।।

👉👉 চতুর্থতঃ যারা সুদি ব্যাংকে চাকরি করে তারা সরাসরি সুদের সাক্ষী।
আশা করি এটাও ব্যাখ্যার প্রয়োজন পড়বে না কেননা আর সাক্ষী ওই ব্যক্তিকে বলা হয় যারা নিজ চোখে তা দেখে এবং তা গ্রহণ করে।
শুধুই ব্যাংকের বা সুদি অর্থলোগ্নী প্রতিষ্ঠানের প্রত্যেকটা কর্মকর্তা কর্মচারী যারা সুদ গ্রহণ করে বা যারা সুদ দিয়ে থাকে তাদের ব্যাপারে সাক্ষী হিসেবে নিচে সিগনেচার করে থাকেন।।
এমনকি বর্তমানে প্রতিটা ব্যাংক সিসিটিভি দ্বারা পরিচালিত হয় তাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা করে সিসিটিভির অপারেটর যদিও এক অক্ষরে না লিখে রাখে তথাপিও সে হলো সবচেয়ে বড় সুদের সাক্ষী।।

মোটকথা যারা শুনি ব্যাংকের সাথে অথবা সুধী অর্থলগ্নী প্রতিষ্ঠানের সাথে প্রত্যক্ষ হোক কিংবা পরোক্ষ হোক অথবা সমর্থক হিসেবে হোক যে কোনোভাবেই জড়িত থাকুক তারা প্রত্যেকেই সুদের একটা গুনাহের সাথে বা একাধিক গুনাহের সাথে লিপ্ত এবং তারা প্রত্যেকেই জেনার শাস্তির যোগ্য।।
সুদের সর্বোচ্চ গুনাহের তুলনা হলো, কেউ যদি এক টাকা বা এক দিরহাম সুদ খায় তবে তার আমলনামায় ৭০ বার জেনা করার গুনাহ লিপিবদ্ধ করা হয়।।
আরো একটি হাদিসে এসেছে যে কেউ যখন সুদ খায় তখন তার আমলনামায় সেই সুদের সম্পূর্ণ টাকা ফিরিয়ে দেওয়ার পূর্ব পর্যন্ত নিজের মাকে বিবাহ করার এবং নিজের মায়ের সাথে জেনা করার গুনাহ লেখা হতে থাকে।।
শুধু সুদের লেখক এর আমলনামায় ৩৬ জন নারীকে প্রতিদিন যেনা করার গুনাহ লেখা হয়ে থাকে।।।

একটা মানুষ হত চেষ্টা করেও প্রতিদিন ৩৬ জন কিংবা ৭০ জন নারীর সাথে জেনা করতে পারবেনা অথচ তারা শুধুমাত্র অল্প একটু দুনিয়াবী সুযোগ-সুবিধা লাভের প্রত্যাশায় সুধি অর্থ লগ্নী প্রতিষ্ঠান ও সুধী ব্যাংকে চাকরি করে প্রতিদিন ৩৬ থেকে ৭০ জন নারীর সাথে জেনা করার গুনাহের ভাগীদার হয়ে যাচ্ছে।।
নাউজুবিল্লাহ।।
লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ।।
আল্লাহ আমাদেরকে এবং আমাদের সন্তান-সন্ততি কিয়ামত পর্যন্ত ও আমাদের আত্মীয়-স্বজনকে যে কোন সুধী ব্যাংক বা সুধি প্রতিষ্ঠানের চাকরি করা থেকে বিরত রাখুন আমিন ইয়া রাব্বানা আলামিন।।

উল্লেখ্য যে এখানে আমি আরবি এ ভারত কিংবা কোন হাদিস সরাসরি উল্লেখ করিনি কারণ এই হাদীসগুলো এত বেশি প্রচলিত যে সকলেই জানে।

তাছাড়া আপনারা যে কেউ সুদের শাস্তি কিংবা সুদ সম্পর্কিত যে কোন আর্টিকেলের জন্য একটু গুগলে সার্চ করলেই সবকিছু পেয়ে যাবেন সকল দলিল গুলি পেয়ে যাবেন। আমি শুধু এখানে একটা ভুল বুঝাবুঝির অবসান ঘটাতে চেষ্টা করেছি যে কিছু লোক আছে যারা শুধু ব্যাংকে চাকরি করছেন আর বলছেন আমরা সুদ খাই না আবার তারা হজও করছেন যাকাতও দিচ্ছেন মসজিদের সভাপতি ও হচ্ছেন আবার মানুষকে দান করছেন।।

ভারতীয় একজন নওমুসলিমকে জিজ্ঞাসা করা হলো, আপনি কেন মুসলিম হলেন??

এরা হলো হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে উচুস্তরের ধর্মগুরু!!

কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম এস সি পাশ করা একজন নওমুসলিমকে জিজ্ঞাস করা হয়েছিল আপনি কি দেখে মুসলিম হলেন।

তিনি জবাবে বললেন, হিন্দুদের যারা পূজনীয় ব্যক্তি তাদের আদর্শ যদি পৃথিবীর সর্বত্র বাস্তবায়ন করা হত তাহলে আজ সমাজের অবস্থা কি দাড়াত তা দেখে আমি মুসলমান হয়েছি।

প্রতি হিন্দু যদি আজ শ্রীকৃষ্ণের চরিত্র ধারণ করে যুবতী মেয়েদের কাপড় নিয়ে গাছে উঠে বসে থাকে তাহলে সমাজের অবস্থা কি দাড়াত তা দেখেই আমি মুসলমান হয়েছি।

হিন্দু ধর্মের দেবতাদের কথাগুলা কাগজেকলমে লিখাও লজ্জাকর। যেমন এই বিংশশতাব্দীতেও শীবের লিঙ্গের পূজার ন্যায়ও দৃষ্টান্ত পাওয়া যায়।মা বাবা ভাই বোন আত্মীয় স্বজন একসাথে লিঙ্গের উপর ভক্তি করে।এটা খুবি লজ্জা লাগে।এগুলা কি কোন ধর্মীয় কাজ হতে পারে?
আমি এসব দেখতে পারব না বলেই মুসলমান হয়েছি।

আপনি ধ্রুপদীর কথা চিন্তা করুন।একজন মহিলাকে পাচ ভাই স্ত্রীর দাবী করে।আবার সেটাকে হিন্দু ধর্মের লোকেরা তাদের জন্য খুব গৌরবের কাজ মনে করে।এটা নিয়ে তারা খুব গর্ববোধ করে।এসব ভেবে আমি আর হিন্দু ধর্মে থাকতে পারি নাই।

আমি চিন্তা করেছি যে কোথায় হিন্দুদের ভগবান দেবতাদের লীলা আর কোথায় মুসলমানদের নবী রাসুল গণের চরিত্র।আমি এসব চিন্তা ভাবনা করে আর হিন্দু থাকতে পারিনি।

ইসলামের দৃষ্টিতে সত্যিকারের পূণ্যবান ব্যক্তি হচ্ছেন যারা দ্বীনের কথা বলে,আল্লাহর কালাম যারা প্রচার করে। দ্বীন সম্পর্কে তাদের জ্ঞান যথেষ্ট। তাদের চলাফেরা, পোষাক, পাক পবিত্রতা থাকা তাদের ধর্মীয় আদেশ এবং তারা কেউ সংসার ত্যাগী নন।
ইসলামে কাউকে সংসার ত্যাগী হতে বলে না।আমি সম্পুর্ণ কোরআন স্টাডি করেছি,এমন কোনো তথ্য আজও পাইনি।

অন্যদিকে আপনি হিন্দু সাধুদের অবস্থা দেখুন।হিন্দু ধর্মের বেশিরভাগ সাধুদের ধর্মীয়জ্ঞান নেই।অশিক্ষিত, গেরুয়া বসন পরিধানকারী, চিমটাধারী সংসারত্যাগী, ল্যাংটা, শ্মশানে বসবাসকারী। যাদের সঙ্গে কিছু বিধবা নারী কদুর বস হাতে নিয়ে শ্মশানে একত্রে বসবাস করে। কলকাতার কালী মন্দিরের চেহারা তো আরো ভয়ঙ্কর। সেখানের সাধুরা মেয়েদের ন্যায় মাথায় লম্বা চুল রাখে আর সমস্ত শরীরে ছাই মেখে উলঙ্গ হয়ে পড়ে থাকে।সকল হিন্দুরা এসে তাদের কাছ থেকে আর্শীবাদ নিতে আসে।

এসব আমার কাছে পছন্দ হয়নি,বরং এটা সম্পুর্ণ একটা কুসংস্কার, ভ্রান্ত,পথভ্রষ্ট হওয়ার একটা সহজ মাধ্যম। এগুলা দেখে ইসলাম গ্রহণ করেছি। আলহামদুলিল্লাহ
তথ্যসূত্রঃ- বই , সত্যের ডাক
পৃষ্ঠা নং-৬৪

আল্লাহ

আল্লাহকে নিরাকার বা আকার কোনটাই বলা উচিৎ নয়।
আসুন জেনে নিই কোরআন ও হাদিসের আলোকে।

“যে তার প্রতিপালকের দেখার কামনা করে, সে যেন উত্তম কাজ করে।”( সূরা আল কাহফ ১৮, আয়াত ১১০)।

“হে মানুুষ! তুমি তোমার প্রতিপালকের নিকট পৌছানো পর্যন্ত সাধনা করতে থাক, অতঃপর তুমি তার দেখা লাভ করবে “। (সূরা আল ইনশিকাক ৮৪ : আয়াত নং৬)।

“তিনি (আল্লাহ) আদি, তিনি অন্ত, তিনি প্রকাশ্য, তিনি গোপন, তিনি সব কিছুই অবগত আছেন।” ( সূরা – আল হাদীদ, আয়াত নং ৩) ।

” আল্লাহর আধিপত্য পূর্বে ও পশ্চিমে, অতঃপর তোমরা যেদিকে মুখ ফিরাও সেদিকেই আল্লাহর চেহারা বিদ্যমান “। ( সূরা আল বাকারা, আয়াত নং ১১৫ ) ।

” স্মরণ কর সে দিনের কথা, যেদিন পায়ের গোছা উন্মোচিত হবে এবং তাদেরকে সেজদা করার জন্য আহবান করা হবে, কিন্তু তারা তা করতে সক্ষম হবে না। হীনতাগ্রস্হ হয়ে তারা তাদের দৃষ্টি অবনত করবে, অথচ যখন তারা নিরাপদে ছিল, তখন তো তাদেরকে সিজদা করার জন্য আহবান করা হয়েছিল “। ( সূরা আল কালাম, আয়াত নং ৪২ ও ৪৩ )।

” তারপর যখন সে আগুনের কাছে আসলো তখন তাকে ডেকে বলা হলো – হে মুসা ! নিশ্চয় আমিই তোমার প্রতিপালক। অতএব তুমি তোমার জুতা খুলো, কারণ তুমি এখন পবিত্র তোয়া উপত্যকায় রয়েছে “। ( সূরা তোয়াহা, আয়াত নং ১১ ও ১২ )।

” যখন মুসা আগুনের কাছে পৌছলো তখন উপত্যকার ডান পাশের পবিত্র স্হানের একটি বৃক্ষ থেকে তাকে ডেকে বলা হলো – হে মুসা ! আমি আল্লাহ, বিশ্ব জগতের প্রতিপালক “। ( সূরা আল কাসাস, আয়াত নং ৩০ )।

” প্রত্যেকটি বিষয় নির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতকাল পর্যন্ত আবর্তিত হয়, আল্লাহ প্রত্যেকটি বিষয়কে পরিচালিত করেন এবং নিদর্শনাবলী বর্ণনা করেন, যাতে তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের সাথে সাক্ষাৎ সম্বন্ধে নিশ্চিত বিশ্বাস করতে পার “। ( সূরা আর রাদ, আয়াত নং ২ )।

” যে আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ লাভের আশা রাখে তার জন্য সেই নির্দিষ্ট সময় অবশ্যই আসবে। তিনি সব শোনেন ও জানেন “। ( সূরা আল আনকাবুত, আয়াত নং ৫ )।

” আল্লাহর সাক্ষাৎ যারা অস্বীকার করেছে তার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং তারা সৎপথ প্রাপ্ত ছিল না “। ( সূরা ইউনুস, আয়াত নং ৪৫)।

” যারা আমার দর্শন লাভ করার আকাংখা করে না এবং পার্থিব সম্পদ পেয়েই খুশী আছে এবং যারা আমার নিদর্শন হতে উদাসীন রয়েছে তাদের বাসস্থান অগ্নিপূর্ণ জাহান্নাম “। ( সূরা ইউনুস, আয়াত নং ৭ ও ৮ )।

” সুতরাং, যারা আমার দর্শন লাভের আকাংখা করে না তাদেরকে আমি বিদ্রোহাচরণের মধ্যে অন্ধভাবে বিচরণ করা অবস্হায় পরিত্যাগ করবো “। ( সূরা ইউনুস, আয়াত নং ১১ )।

” তিনি ঐ জ্যোতি দ্বিতীয়বার দেখেছেন। সিদরাতুল মুনতাহার নিকটে “। ( সূরা আন নাজম, আয়াত নং ১৩ ও ১৪ )।

” আমি (আল্লাহ) তোমাদের দিলে ( ক্বালবের ৭ম স্তর নফসীর মাকামে) অবস্থান করি, তোমরা কি দেখ না “? ( সূরা আয যারিয়াত, আয়াত নং ২১ )।

” নিশ্চয় আল্লাহ মানুষের ক্বালব এবং তার সীমারেখার মধ্যে ঘুরাফিরা করেন “। ( সূরা আল আনফাল, আয়াত নং ২৪ )।

” যখন আমি তাকে (আদমকে) সুঠাম করব এবং তার মধ্যে আমার রুহ ফুঁকে দেব, তখন তোমরা তার প্রতি সেজদাবনত হবে “। ( সূরা সোয়াদ, আয়াত নং ৭২ )।

” আমি (আল্লাহ) আমার রুহ থেকে আদমের ভিতরে রুহ ফুঁকে দিলাম “। ( সূরা আল হিজর, আয়াত নং ২৯ )।

” তুমি যেদিকে তাকাও সেদিকেই আল্লাহর চেহারা মোবারক বিদ্যমান রয়েছে “। ( সূরা আল বাকারা, আয়াত নং ১১৫ )।

” ভূপৃষ্ঠে যা কিছু আছে সমস্তই নশ্বর, কেবল অবিনশ্বর তোমার প্রতিপালকের চেহারা, যিনি মহিমাময়, মহানুভব “। ( সূরা আর রাহমান, আয়াত নং ২৬ ও ২৭ )।

” আমি তার (মানুষের ) শাহরগের চেয়েও নিকটে “। ( সূরা ক্বাফ, আয়াত নং ১৬ )। হযরত দয়াল রাসূল পাক (সঃ) বলেন ,

” আমাদের প্রভু তার পায়ের গোছা উন্মোচন করে দেবেন, অতঃপর প্রত্যেক বিশ্বাসী পুরুষ ও নারী তাকে সেজদা করবে”। বোখারী শরিফ, ২য় খন্ড, পাতা ৭৩১।

” আমি গুপ্ত ধনাগার ছিলাম, নিজে পরিচিত হওয়ার বাসনা করলাম, তাই পরিচিত হওয়ার জন্য বিশ্বজাহান সৃষ্টি করলাম “। ( সিররুল আসরার, পৃষ্ঠা নং ১০ )।

” নিশ্চয় আল্লাহ আদমকে তার নিজ সুরতে সৃজন করেছেন “। ( মেশকাত শরিফ, পৃষ্ঠা নং ৩৯৭ )।

” আমি আমার প্রতিপালককে যুবকের আকৃতিতে দেখেছি “। ( শরহে ফিকহে আকবার, পৃষ্ঠা নং ২১৬ )।

” শীঘ্রই তোমরা তোমাদের প্রভুকে পূর্ণিমার চাঁদের মত উজ্জ্বলতর দেখতে পাবে “। ( বোখারী শরীফ ২য় খন্ড, পৃষ্ঠা নং ১১০৫ এবং তিরমিযী শরীফ ২য় খন্ড, পৃষ্ঠা ৮২ )।

” আমার প্রভুকে আমি অতি উত্তম সুরতে দেখেছি “। ( তাফসীরে রুহুল বয়ান ৯ম খন্ড, পৃষ্ঠা নং ২২২ এবং তাফসীরে দুররে মানছুর ২৭তম খন্ড, পৃষ্ঠা নং ৬৪৭ )।

” আমি আমার প্রভুকে দাড়ি- গোফ বিহীন যুবকের আকৃতি বিশিষ্ট দেখেছি “। ( সিররুল আসরার, পৃষ্ঠা নং ৬৮ )।

” মেরাজ রজনীতে আমি আমার প্রতিপালককে কোকড়ানো চুল বিশিষ্ট যুবকের ন্যায় দেখেছি “। ( সিররুল আসরার, পৃষ্ঠা নং ৪৫ ) । হযরত মাওলা আলী বলেন,

” আমি এমন প্রভুর ইবাদত করি না যাকে আমি দেখি না “। ( তিরমিযী শরিফ ও সিররুল, পৃষ্ঠা নং ৬৫ )।

” যে নিজের নফসকে চিনতে পেরেছে, সে তার প্রভুকে চিনতে পেরেছে “। ( সিররুল আসরার, পৃষ্ঠা নং ১৮ )।

হানাফী মাযহাবের ইমাম হযরত আবু হানিফা (রহঃ)
বলেছেন,

” আমি মহান প্রতিপালককে (আল্লাহকে) স্বপ্নে ৯৯ বার দর্শন করেছি “। ( শরহে ফেকহে আকবর, পৃষ্ঠা নং ২১৬ )।

হাম্বল মাযহাবের ইমাম হযরত ইবনে হাম্বল (রহঃ) বলেন,

” আমি মহান প্রতিপালক ( আল্লাহ) কে স্বপ্নে দেখেছি।
এসব পর্যালোচনা করলে আল্লাহর আকার আছে মনে হলেও আসলে এগুলো রহস্যময় আয়াত।এগুলো দিয়ে আল্লাহর আকার আছে তা বলা উচিত হবে না।কারন আল্লাহ বলেছেন,তিনি কারও মত নন,কেউ তার সমতুল্য নেই,কিছুই নেই।

দান সদকা সম্পর্কিত ও দান সদকার উৎসাহ সম্পর্কিত পবিত্র কোরআনের আয়াত সমূহ

দান সাদাকা সম্পর্কিত আল কুরআনের

আয়াত সমূহ ##


[২:২৪৫] আল বাকারা :-
” কে আছে, যে আল্লাহকে উত্তম ঋণ দেবে, ফলে তিনি তার জন্য বহু গুণে বাড়িয়ে দেবেন? আর আল্লাহ সংকীর্ণ করেন ও প্রসারিত করেন এবং তাঁরই নিকট তোমাদেরকে ফিরানো হবে। “

[২:২৬২] আল বাকারা :-
” যারা আল্লাহর রাস্তায় তাদের সম্পদ ব্যয় করে, অতঃপর তারা যা ব্যয় করেছে, তার পেছনে খোঁটা দেয় না এবং কোন কষ্টও দেয় না, তাদের জন্য তাদের রবের নিকট তাদের প্রতিদান রয়েছে এবং তাদের কোন ভয় নেই, আর তারা চিন্তিত হবে না। “

[২:২৬৩] আল বাকারা :-
” দান করে খোঁটা দিয়ে কষ্ট দেয়ার চেয়ে শুধু মিষ্টি কথা বলা বা সমবেদনা প্রকাশ করা অনেক ভালো। নিশ্চয়ই আল্লাহ অভাবমুক্ত, পরমসহনশীল। “

[২:২৬৪] আল বাকারা :-
” হে বিশ্বাসীগণ! দানের কথা প্রচার করে ও গ্রহীতাকে কষ্ট দিয়ে বা খোঁটা দিয়ে তোমাদের দানকে সেই ব্যক্তির ন্যায় নিষ্ফল কোরো না, যে আত্মপ্রচারের জন্যে দান করে এবং আল্লাহ ও আখেরাতে অবিশ্বাসী। এ দানের উপমা হচ্ছে : মাটির আস্তর জমা একটি মসৃণ পাথরের চাতাল। প্রবল বৃষ্টি হলো। চাতালের ওপর থেকে সব মাটি ধুয়ে চলে গেল। তাদের উপার্জন তাদের কোনো উপকারে এলো না। সত্য অস্বীকারকারীদের আল্লাহ সৎপথ দেখান না। “

[২:২৬৫] আল বাকারা :-
” অপরদিকে যারা শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যে আন্তরিকতার সাথে দান করে, তাদের উপমা হচ্ছে : উঁচু জায়গায় এমন একটি বাগান, যেখানে মুষলধারে বৃষ্টি হলে দ্বিগুণ ফল উৎপন্ন হয় আর হালকা ঝিরঝিরে বৃষ্টিও বাগানটিকে ফুলে-ফলে সুশোভিত রাখার জন্যে যথেষ্ট। তোমরা যা করো, আল্লাহ তার সম্যক-দ্রষ্টা। “

[২:২৬৭] আল বাকারা :-
” হে বিশ্বাসীগণ! তোমরা যা উপার্জন করো আর জমিন থেকে যা উৎপাদিত হয়, তা থেকে ভালো অংশ আল্লাহর পথে ব্যয় করো। বেছে বেছে খারাপ জিনিসগুলো দান করতে যেও না। কারণ যে-জিনিস তোমরা গ্রহণ করতে চাইবে না, তা কখনো দান করতে চাওয়া উচিত নয়। তোমাদের জানা থাকা উচিত, নিশ্চয়ই আল্লাহ অভাবমুক্ত, সর্বোত্তম প্রশংসায় প্রশংসিত। “

[২:২৬৮] আল বাকারা :-
“শয়তান তোমাদের দারিদ্র্যের ভয় দেখায় আর বখিল বা কৃপণ হতে উৎসাহ জোগায়। অপরদিকে আল্লাহ তোমাদেরকে ক্ষমা ও অনুগ্রহের প্রতিশ্রুতি দেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ প্রাচুর্যময়, সর্বজ্ঞ। “

[২:২৭১] আল বাকারা :-
” তোমরা প্রকাশ্যে দান করলে তা-ও ভালো। আর যদি গোপনে অভাবীকে দাও, তা আরো ভালো। দানের কারণে তোমাদের অনেক পাপমোচন হবে। তোমরা যা করো আল্লাহ তা জানেন।

[২:২৭২] আল বাকারা :-
” (হে মানুষ!) যে অর্থবিত্ত তোমরা দান করো, সে দান তো তোমাদের নিজেদের কল্যাণের জন্যেই। তোমরা তো আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যে ব্যয় করো। অতএব দানের পুরোপুরি প্রতিদান তোমাদেরকে অবশ্যই দেয়া হবে। তোমাদের হক কখনো নষ্ট করা হবে না। “

[২:২৭৪] আল বাকারা :-
” নিশ্চয়ই যারা তাদের উপার্জন থেকে রাতে বা দিনে, প্রকাশ্যে বা গোপনে, সচ্ছল বা অসচ্ছল অবস্থায় দান করে, তাদের জন্যে তাদের প্রতিপালকের কাছে পুরস্কার রয়েছে। তাদের কোনো ভয় বা পেরেশানি থাকবে না। ”

[২:২৭৬] আল বাকারা :-
” আল্লাহ সুদকে মিটিয়ে দেন এবং সদাকাকে বাড়িয়ে দেন। আর আল্লাহ কোন অতি কুফরকারী পাপীকে ভালবাসেন না।”

[৩:৯২] আল ইমরান :-
” (হে বিশ্বাসীগণ!) তোমার প্রিয় ও পছন্দের জিনিস থেকে দান করতে না পারলে তুমি কখনো সত্যিকারের ধার্মিক হতে পারবে না। অন্যের জন্যে তুমি যা-কিছু ব্যয় বা দান করো আল্লাহ তা ভালোভাবেই জানেন। “

[৩:১৩৪] আল ইমরান :-
” যারা সুসময়ে ও দুঃসময়ে ব্যয় করে এবং ক্রোধ সংবরণ করে ও মানুষকে ক্ষমা করে। আর আল্লাহ সৎকর্মশীলদের ভালবাসেন। “

[ ৪:৩৭] আন নিসা :-
” আর যারা নিজেরা কৃপণ এবং অন্যকে কৃপণতা করতে উৎসাহিত করে (বা দানে নিরুৎসাহিত করে) এবং আল্লাহর অনুগ্রহ-সম্পদ গোপন করে, আল্লাহ তাদেরও অপছন্দ করেন। এ ধরনের অকৃতজ্ঞদের জন্যে আমি অপমানজনক শাস্তির ব্যবস্থা করে রেখেছি। “

[ ৪:৩৮] আন নিসা :-
” আর যারা লোক দেখানোর জন্যে অর্থবিত্ত ব্যয় করে এবং আল্লাহ ও আখেরাতে অবিশ্বাস করে, তাদেরকেও আল্লাহ অপছন্দ করেন। আসলে শয়তান কারো সঙ্গী হলে এর চেয়ে খারাপ সঙ্গ আর কিছু হতে পারে না। “

[ ৪:৩৯] আন নিসা :-
” তারা আল্লাহ ও আখেরাতে বিশ্বাস করলে, আল্লাহপ্রদত্ত রিজিক থেকে অন্যের জন্যে ব্যয় করলে তাদের কী ক্ষতি হতো? আল্লাহ তাদের সবকিছুই জানেন। “

[ ৯:৭৫] আত তাওবাহ :-
” মুনাফেকদের অনেকে আল্লাহর কাছে অঙ্গীকার করেছিল যে, আল্লাহ যদি আমাদের তাঁর অনুগ্রহ-সম্পদে ধন্য করেন, তবে আমরা তা থেকে অবশ্যই দান করব এবং সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত হবো। “

[ ৯:১২১] আত তাওবাহ :-
” একইভাবে তারা (আল্লাহর পথে) কমবেশি যা-ই দান করে এবং (আল্লাহর বাণীবহনে) যত পথেই পদচারণা করে, সবই সৎকর্ম হিসেবে লিপিবদ্ধ হয়। যাতে করে তাদের প্রতিটি কর্মের চেয়েও অনেক উত্তম পুরস্কার আল্লাহ দিতে পারেন। “

[১৬:৭১] আন নাহল :-
” আল্লাহ তোমাদের কাউকে কাউকে অন্যদের চেয়ে বেশি জীবনোপকরণ দিয়েছেন। যাদের অতিরিক্ত জীবনোপকরণ দেয়া হয়েছে, তারাও (সাধারণত) নিজেদের জীবনোপকরণ থেকে তাদের অধীনদের এমন কিছু দেয় না, যাতে ওরা তাদের সমকক্ষ হতে পারে। এর মাধ্যমে তারা কি আল্লাহর নেয়ামতকে অস্বীকার করছে না? “

[২৫:৬৭] আল ফুরকান :-
” আর তারা যখন ব্যয় করে তখন অপব্যয় করে না এবং কার্পণ্যও করে না। বরং মাঝামাঝি অবস্থানে থাকে।”

[৩৬:৪৭] ইয়াসীন :-
” আর যখন তাদেরকে বলা হয়, ‘আল্লাহ তোমাদেরকে যে রিয্ক দিয়েছেন তা থেকে তোমরা ব্যয় কর’, তখন কাফিররা মুমিনদেরকে বলে, ‘আমরা কি তাকে খাদ্য দান করব, আল্লাহ চাইলে যাকে খাদ্য দান করতেন? তোমরা তো স্পষ্ট পথভ্রষ্টতায় রয়েছ’।”

[৪৭:৩৮] মুহাম্মাদ :-
” তোমরাই তো তারা, তোমাদের আহবান করা হচ্ছে যে, তোমরা আল্লাহর পথে ব্যয় করবে। অথচ তোমাদের কেউ কেউ কার্পণ্য করছে। তবে যে কার্পণ্য করছে সে তো নিজের প্রতিই কার্পণ্য করছে। আর আল্লাহ অভাবমুক্ত এবং তোমরা অভাবগ্রস্ত। “

[৫৭:৭] আল হাদীদ :-
“:আল্লাহ ও তাঁর রসুলের ওপর বিশ্বাস স্থাপন করো এবং আল্লাহ তোমাদেরকে যে অর্থবিত্তের অধিকারী করেছেন, তা থেকে অন্যের জন্যে ব্যয় করো। তোমাদের মধ্যে যারা বিশ্বাস করবে ও অন্যের জন্যে ব্যয় করবে, তাদের জন্যে রয়েছে মহাপুরস্কার। “

[৫৭:১০] আল হাদীদ :-
” মহাবিশ্বের সবকিছুর একক মালিক আল্লাহ। তা জানার পরও (হে বিশ্বাসীগণ!) তোমরা আল্লাহর পথে মুক্তহস্তে ব্যয় করো না কেন? তোমাদের মধ্যে যারা মক্কা বিজয়ের পূর্বে আল্লাহর পথে ব্যয় করেছ ও সংগ্রাম করেছ, তারা এবং পরবর্তীরা সমান নয়। যারা বিজয়ের পরে আল্লাহর পথে ব্যয় ও সংগ্রামে অংশ নিয়েছ, তাদের চেয়ে পূর্ববর্তীরা মর্যাদায় শ্রেষ্ঠ। তবে আল্লাহর পথে যারা ব্যয় ও সংগ্রাম করে, তাদের সবার জন্যেই আল্লাহ কল্যাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তোমরা যা করো আল্লাহ তা ভালো করেই জানেন। “

[৫৭:১১] আল হাদীদ :-
” এমন কে আছে যে, আল্লাহকে উত্তম করয দিবে ? তাহলে তিনি তার জন্য তা বহুগুণে বৃদ্ধি করে দিবেন এবং তার জন্য রয়েছে সম্মানজনক প্রতিদান। “

[৫৭:১৮] আল হাদীদ :-
” নিশ্চয় দানশীল পুরুষ ও দানশীল নারী এবং যারা আল্লাহকে উত্তম করয দেয়, তাদের জন্য বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়া হবে এবং তাদের জন্য রয়েছে সম্মানজনক প্রতিদান। “

[৬৩:১০] আল মুনাফিকূন :-
” আর আমি তোমাদেরকে যে রিযক দিয়েছি তা থেকে ব্যয় কর, তোমাদের কারো মৃত্যু আসার পূর্বে। কেননা তখন সে বলবে, হে আমার রব, যদি আপনি আমাকে আরো কিছু কাল পর্যন্ত অবকাশ দিতেন, তাহলে আমি দান-সদাকা করতাম। আর সৎ লোকদের অন্তর্ভুক্ত হতাম। “

[৬৪:১৭] আত তাগাবুন :-
” যদি তোমরা আল্লাহকে উত্তম ঋণ দাও, তিনি তা তোমাদের জন্য দ্বিগুন করে দিবেন এবং তোমাদের ক্ষমা করে দিবেন। আল্লাহ গুণগ্রাহী, পরম ধৈর্যশীল। “

মহান আল্লাহ তা’আলা আমাদেরকে সঠিকভাবে বুঝবার এবং আমল করবার করুন। আমীন

বাংলা’কে ভারতের অংশ মনে করা অর্থই হলো বাংলা এবং ইতিহাসকে শ্রদ্ধা না করা।

বাংলাকে ভারতের অংশ ভাবা মানে বাংলার ইতিহাসকে শ্রদ্ধা না করা। বাংলার মানুষের স্বাধীন হইতে চাইবার হাজার বছরের ইচ্ছেকে অসম্মান করা। আমাদের অর্ধেকটা বাংলা ভারতের মধ্যে ঢুকে গেছে, কিছু করার নাই, সেটা হয়তো আর রিকভার্ড হবে না। কিন্তু আমাদের বাংলাদেশ ভারত থেকে সবসময়েই স্বাধীন থাকতে চেয়েছে, আমরা স্বাধীন থাকবোই।

দিল্লী বেইজড অর্থাৎ দিল্লি কেন্দ্রিক তৎকালীন সময়ে যে সাম্রাজ্য ছিল, সেটা একদম আগে শাসন করতো রাজপুত ডাইনেস্টি, এরপর দিল্লী সুলতানাত, এরপর মুঘল সাম্রাজ্য (মাঝে কিছুদিন শের শাহ), শেষ দিকে মারাঠীরা, এরপরে ব্রিটিশরা। আমাদের বাংলা সেই রাজা শশাঙ্ক-এর পর থেকে (৭ম শতাব্দী) পাল, সেন, পরে মুসলিম দ্বারা পরিচালিত ছিল। বারবার আমরা দিল্লীর শাসন থেকে নিজেদের স্বাধীন রাখার চেষ্টা করেছি। কেউ বাংলাকে “ভারত” বলতো না। বাংলা বাংলা-ই ছিল। বাংলাকে ভারতের মধ্যে ঢোকানোর কাজটা করেছে ব্রিটিশ, শাসনের সুবিধার্থে। মহাভারতে যেসব এলাকার কথা বলা, যেমন কুরুক্ষেত্র পাঞ্জাবের কাছে হরিয়ানাতে। তক্ষশীলা অঞ্চল পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডিতে। বৃন্দাবন, গোকুল, কাশী, এসব উত্তর প্রদেশে। আমি বিভিন্নভাবে খুঁজে মহাভারতের কোনো লোকেশনে বাংলাদেশের কোনও জায়গা ইনক্লুডেড ছিল, খুঁজে পেলাম না। যদি বহু আগে ভারতীয় সাম্রাজ্যের প্রান্তে আমরা দখলকৃত থাকিও, কিন্তু বারবারই আমাদের অঞ্চল স্বাধীন হতে চেয়েছে। ভারতের সাম্রাজ্যের অধীন হতে চায় নি।

🟥🟦আমরা বাংলাদেশীরা “ভারতীয় উপমহাদেশ”-এর অংশ না। দিল্লী বেইজড যে সাম্রাজ্য ছিল, সেটা একদম আগে শাসন করতো রাজপুত ডাইনেস্টি, এরপর দিল্লী সুলতানাত, এরপর মুঘল সাম্রাজ্য (মাঝে কিছুদিন শের শাহ), শেষ দিকে মারাঠীরা, এরপরে ব্রিটিশরা। আমাদের বাংলা সেই রাজা শশাঙ্ক-এর পর থেকে (৭ম শতাব্দী) পাল, সেন, পরে মুসলিম দ্বারা পরিচালিত ছিল। বারবার আমরা দিল্লীর শাসন থেকে নিজেদের স্বাধীন রাখার চেষ্টা করেছি। কেউ বাংলাকে “ভারত” বলতো না। বাংলা বাংলা-ই ছিল। বাংলাকে ভারতের মধ্যে ঢোকানোর কাজটা করেছে ব্রিটিশ, শাসনের সুবিধার্থে। মহাভারতে যেসব এলাকার কথা বলা, যেমন কুরুক্ষেত্র পাঞ্জাবের কাছে হরিয়ানাতে। তক্ষশীলা অঞ্চল পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডিতে। বৃন্দাবন, গোকুল, কাশী, এসব উত্তর প্রদেশে। আমি বিভিন্নভাবে খুঁজে মহাভারতের কোনো লোকেশনে বাংলাদেশের কোনও জায়গা ইনক্লুডেড ছিল, খুঁজে পেলাম না। যদি বহু আগে ভারতীয় সাম্রাজ্যের প্রান্তে আমরা দখলকৃত থাকিও, কিন্তু বারবারই আমাদের অঞ্চল স্বাধীন হতে চেয়েছে। ভারতের সাম্রাজ্যের অধীন হতে চায় নি।

বাংলাকে ভারতের অংশ ভাবা মানে বাংলার ইতিহাসকে শ্রদ্ধা না করা। বাংলার মানুষের স্বাধীন হইতে চাইবার হাজার বছরের ইচ্ছেকে অসম্মান করা। আমাদের অর্ধেকটা বাংলা ভারতের মধ্যে ঢুকে গেছে, কিছু করার নাই, সেটা হয়তো আর রিকভার্ড হবে না। কিন্তু আমাদের বাংলাদেশ ভারত থেকে সবসময়েই স্বাধীন থাকতে চেয়েছে, আমরা স্বাধীন থাকবোই।

আপনারা যারা #দক্ষিণ_এশিয়া কথাটা ব্যবহার করা শুরু করেন, এটাই গ্রহণযোগ্য উপায় আমাদের দেশের উপমহাদেশকে বর্ণনা বা পরিচিতি করার জন্য। নিজেদের “ভারতীয় উপমহাদেশ”-এর অংশ বলা মানে নিজের অজান্তে ভারত ও বাংলার পার্থক্যটাকে মুছে ভারতের আধিপত্যকে মেনে নেওয়া। তারা আমাদের প্রতিবেশী সাম্রাজ্য, কিন্তু তারা আর আমরা আলাদা। এই চিন্তা চেতনা তৈরি করা এবং উজ্জীবিত করা অনেক জরুরী, নিজেদের সম্মান রক্ষার জন্যই।

🟥🟦আমরা বাংলাদেশীরা “ভারতীয় উপমহাদেশ”-এর অংশ না।

দাইয়ুস অর্থ কি, দাইয়ুস করা, দাইয়ুসের পরিনতি কি??

দাইয়ুস বা দাইউস (আরবি: دَيُّوث) হল আরবি-ধাতুমুল হতে আগত একটি পরিভাষা, যার দ্বারা এমন ব্যক্তিকে বোঝায়, যে তার আত্মীয় স্বজন বা দাম্পত্য সঙ্গীর আশালীন আচরণের ব্যাপারে উদাসীন বা সহনশীল।

আরও স্পষ্টভাবে বললে এর দ্বারা এমন পুরুষকে বোঝায়, যার মধ্যে তার পরিবারের নারী সদস্যদের প্রতি পিতৃসম ও তার স্ত্রীর প্রতি পৌরুষেয় নিরাপত্তা প্রদানের যে অহংবোধ (গাইরাহ অর্থাৎ প্রতিরক্ষামূলক ঈর্ষা) তাতে তার ঘাটতি থাকে।ইংরেজিতে শব্দটির বিভিন্নরকম প্রতিবর্ণীকরণ হয় এবং ইংরেজি ভাষায় এর পারিভাষিক শব্দ হল cuckold বা wittold (অসৎপতি)।

দাইয়ুস  আরবী (دَيُّوث) শব্দ দাইয়্যুস শব্দের অর্থ হলো, কলুষিত ও কদর্য বিবেকসম্পন্ন, ব্যভিচারের দূত, নারী-পুরুষের অবৈধ মিলনের দূত। অর্থাৎ যে ব্যক্তি তার স্ত্রী ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের যিনা-ব্যভিচার ও অশ্লীল কাজ-কর্মকে ভাল মনে করে গ্রহণ করে অথবা প্রতিবাদ না করে চুপ থাকে।(আল-
মাউসূ‘আতুল ফিক্বহিয়্যাহ আল-কুয়েতিয়্যাহ,২১/৯৬ পৃ.)।

দাইয়ুস  সংজ্ঞা দিতে গিয়ে ইমাম যাহাবী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘দাইয়্যুস’ সেই ব্যক্তি যে তার স্ত্রীর ফাহেশা কাজ সম্পর্কে অবগত। কিন্তু তার প্রতি ভালোবাসার কারণে উক্ত ব্যপারে সে উদাসীন থাকে। অথবা তার উপর তার স্ত্রীর বৃহৎ ঋণ বা মোহরানার ভয়ে কিংবা ছোট ছেলেমেয়েদের কারণে সে স্ত্রীকে কিছুই বলে না এবং যার আত্মসম্মানবোধ বলতে কিছুই নেই।’(ইমাম যাহাবী, কিতাবুল কাবায়ের ১/৫০ পৃঃ)

ইবনু হাজার হাইথামি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন,قال العلماء : الديوث الذي لا غيرة له على أهل بيته ‘আলেমগণ বলেছেন, দাইয়ুস  বলা হয়, যে নিজের পরিবারের অশ্লীলতার ব্যাপারে দায়িত্ববোধহীন বা আত্ম মর্যাদাহীন।’ (আযযাওয়াজির ২/৩৪৭)

মোটকথা দাইয়ুস  বলতে বুঝায়,যে ব্যক্তি তার স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যদেরকে যিনা-ব্যভিচার,অন্যায়-
অশ্লীল, বেহায়াপনা-বেলেল্লাপনা, অশালীন আচার-
আচরণ এবং শাস্তিযোগ্য পাপাচারে লিপ্ত হওয়া থেকে বিরত রাখে না, বাধা প্রদান করে না, উপরন্ত সন্তুষ্টি প্রকাশ করে এবং বোবা শয়তানের ন্যায় বধির ও অন্ধের মত চোখ বুজে মৌন সম্মতি জ্ঞাপন করে। আর তাদের অবাধ বিচরণে ও তাদের হীন চরিতার্থ করণার্থে সার্বিকভাবে সহযোগিতার হস্তদ্বয় প্রসারিত করে বলেই তারা দাইয়ুস ।’ (মির‘আতুল মাফাতীহ, ৬/২৩৯৯; লিক্বাউল বাব আল-মাফতূহ, ২/৪৮; ইসলাম সাওয়াল ওয় জাওয়াব,ফৎওয়া নং-২৫১১০৪)।

‘দাইয়ুস -এর পরিচয় দিয়ে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মানব রাসূল (ﷺ) বলেন, اَلدَّيُّوْثُ الَّذِي يُقِرُّ فِي أَهْلِهِ الْخَبَثَ ‘দাইয়্যুস’ বলতে বুঝায় ঐ ব্যক্তিকে, যে তার পরিবারের অশ্লীলতা ও বেহায়াপনাকে মেনে নেয়।’(সুনানে নাসাঈ, হা/২৫৬২; মুসনাদে আহমাদ, হা/৫৩৭২, ৬১১৩)।

তিনি অন্য বর্ণনায় বলেন, الَّذِيْ لَا يُبَالِيْ مَنْ دَخَلَ عَلٰى أَهْلِهِ ‘দাইয়ুস  বলতে বুঝায় ঐ ব্যক্তিকে, যে তার পরিবারের নিকট কে প্রবেশ করল (অর্থাৎ কে এলো আর গেল) এ ব্যাপারে কোন ভ্রক্ষেপ করে না। (বাইহাক্বী, হা/১০৮০০; সহীহ আত-তারগীব ওয়া তারহীব,হা/২০১৭, ২৩৬৭)।

সালিম এর পিতা আব্দুল্লাহ্‌ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন যে, রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, তিন ব্যক্তির প্রতি মহামহিয়ান আল্লাহ্‌ তা’আলা কিয়ামতের দিন দৃষ্টি দিবেন না (রহমতের দৃষ্টিতে দেখবেন না)।তারা হলেন- পিতা মাতার অবাধ্য (সন্তান), পুরুষের বেশধারী নারী এবং দাইয়ুস  (নিজ স্ত্রী কন্যার পাপাচারে যে ঘৃণাবোধ করেনা।) আর তিন ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবেনা – পিতা মাতার অবাধ্য (সন্তান), মাদকাসক্ত ব্যক্তি (যে মদ্যপ তাওবা ছাড়া মৃত্যুবরণ করে) এবং দানকৃত বস্তুর খোঁটা দানকারী ব্যক্তি (দান করার পর যে দানের উল্লেখ করে গঞ্জনা দেয়। (নাসাঈ, যাকাত অনুচ্ছেদ ২৫৬২ মুসনাদে আহমাদ ২/১৩৪ সনদ সহীহ)

রাসূল (ﷺ) বলেছেন, তিন শ্রেণীর মানুষের প্রতি আল্লাহ তা‘আলা ক্বিয়ামত দিবসে রহমতের দৃষ্টিতে তাকিয়ে দেখবেন না। (১) পিতা-মাতার অবাধ্য সন্তান, (২) পুরুষের বেশধারী নারী এবং (৩) দাইয়ুস  অর্থাৎ নিজ স্ত্রীর পাপাচারে যে ঘৃণাবোধ করে না…।’ (নাসাঈ হা/২৫৬৪; মুসনাদে আহমাদ, হা/৬১৮০; সনদ ছহীহ, সিলসিলা সহীহাহ, হা/৬৭৩ ও ৬৭৪)।

অন্যত্র তিনি বলেন, তিন শ্রেণীর মানুষ কখনোই জান্নাতে প্রবেশ করবে না। (১) দাইয়ুস , (২) পুরুষের বেশধারী নারী এবং (৩) মাদকাসক্ত ব্যক্তি। সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! দাইয়ুস  কে? উত্তরে তিনি বললেন, ‘দাইয়্যুস’ বলতে বুঝায় ঐ ব্যক্তিকে যে তার পরিবারের নিকট কে প্রবেশ করল (অর্থাৎ কে এলো আর গেল) এ ব্যাপারে কোন ভ্রুক্ষেপ করে না।’ (বাইহাক্বী, হা/১০৮০০;সহীহ আত-তারগীব ওয়াত তারহীব, হা/২০১৭, ২৩৬৭)।

অন্যত্র তিনি বলেন, ‘তিন শ্রেণীর লোকের জন্য আল্লাহ তা‘আলা জান্নাত হারাম করে দিয়েছেন। (১) মাদকাসক্ত ব্যক্তি, (২) পিতা-মাতার অবাধ্য সন্তান এবং (৩) এমন দাইয়ূস যে ব্যক্তি তার পরিবারের অশ্লীলতা ও বেহায়াপনাকে মেনে নেয়।’(সুনানে নাসাঈ, হা/২৫৬২;মুসনাদে আহমাদ, হা/৫৩৭২, ৬১১৩ মিশকাত হা/৩৬৫৫; সিলসিলা সহীহাহ হা/৬৭৪)। উক্ত হাদীসের ব্যাখ্যায় মোল্লা আলী ক্বারী হানাফি রহ. বলেন, যার চুপ থাকার কারণে তার স্ত্রী-কন্যা, দাসী প্রভৃতি নিকটতম মহিলাদের মধ্যে ব্যভিচার, মদ্যপান ও ব্যভিচারমূলক কাজ-কর্ম স্থায়িত্ব ও ব্যাপকতা লাভ করে (মিরক্বাত,হা/৩৬৫৫)। 

পরিশেষে প্রিয় পাঠক! বর্তমান সোশ্যাল মিডিয়ায়র দিকে লক্ষ্য করলে দেখা যায়, অনেক পুরুষ তারা নিজেদের স্ত্রী’র  সুন্দর ছবি আপলোড করে সবাইকে দেখার জন্য অনলাইনে ছড়িয়ে দেয়। কেউবা ইউটিউবে বা টিকটক স্বামী স্ত্রী মিলে বিভিন্ন কন্টেন্ট আপলোড করে অর্থ উপার্জন করে। আবার অনেক মুসলিম পুরুষকে দেখা যায়,তারা তাদের স্ত্রী কন্যাকে হিজাব নিকাব পরিয়ে বাইরে নিয়ে যায়; কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে তাদের শরীরের গঠন বুঝা যায় যার জন্য পর পুরুষেরা তাদের স্ত্রী কন্যাদের দেখে কামুক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে। আবার অনেক পরহেজগার পিতা/অভিভাবক তার পরিবারের অনেক অশ্লীল কাজ দেখেও না দেখার ভান করে থাকেন! বা অনেকে ছোট-খাট ব্যাপার মনে করে এইগুলো কে উড়িয়ে দেন! যারা নিজেদের স্ত্রী কন্যাকে সাজিয়ে গুজিয়ে পর পুরুষের উপভোগের জন্য খোলা ময়দানে বা রাস্তা ঘাটে বেড়াতে পাঠায় বা পরিবারে বেহায়াপনার সুযোগ দেয় শরীয়তের দৃষ্টিতে সেসকল পুরুষ  ‘দাইয়ুস ‘। আর দাইয়ুস  জাহান্নামী এবং কবিরা গুনাহকারী।

মহান আল্লাহ বলেছেন, তোমরা নিজেরা জাহান্নাম থেকে আত্মরক্ষা কর এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনকে জাহান্নাম থেকে রক্ষা কর। যার ইন্দন হবে মানুষ ও পাথর; যার উপর নিয়োজিত রয়েছেন কঠোর হৃদয় সম্পন্ন ফিরিশতাগণ, তারা আল্লাহ যা নির্দেশ করেন তা বাস্তবায়নে অবাধ্যতা করে না, আর তাদের যা নির্দেশ প্রদান করা হয়, তা-ই আমল করে।”

—সূরা আত-তাহরীম,৬৬/৬)।

ইবনে উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ: তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, ‘‘প্রতিটি মানুষই দায়িত্বশীল, সুতরাং প্রত্যেকে অবশ্যই তার অধীনস্থদের দায়িত্বশীলতা বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবে। —-বুখারী ২৫৫৮,৫২০০, ৭১৩৮, মুসলিম ১৮২৯, তিরমিযী ১৭০৫, আবূ দাউদ ২৯২৮)

হাদীসে আরও এসেছে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “তোমরা তোমাদের সন্তানদেরকে সালাতের জন্য সাত বছর বয়সে পৌছলেই নির্দেশ দাও, আর তাদেরকে দশ বছর হলে এর জন্য দণ্ড দাও। আর তাদের শোয়ার জায়গা পৃথক করে দাও। [আবু দাউদ: ৪৯৫, মুসনাদে আহমাদ: ২/১৮০]

অনুরূপভাবে পরিবার পরিজনকে সালাতের সময়, সাওমের সময় হলে স্মরণ করিয়ে দেয়াও এর অন্তর্ভুক্ত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখনই বিতর পড়তেন তখনি আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহাকে ডাকতেন এবং বলতেন, “হে আয়েশা! দাঁড়াও এবং বিতর আদায় কর।”

–সহীহ মুসলিম, ৭৪৪, মুসনাদে আহমাদ: ৬/১৫২]

সাহাবায়ে কেরাম (রাঃ) জিজ্ঞেস করলেনঃ হে আল্লাহ্‌র রাসূল (সাঃ)! দাইয়ূস কে? উত্তরে রাসুলূল্লাহ (সাঃ) বললেন,
الدَّيُّوثُ الَّذِي يُقِرُّ فِي أَهْلِهِ الْخَبَثَ
“ঐ ব্যক্তিকে দাইয়ূস বলা হয় যে তার পরিবারের অশ্লীলতা ও কুকর্মকে মেনে নেয়।” —মুসনাদ আহমদ, নাসাঈ)

অর্থাৎ, যে ব্যক্তি তার পরিবারে আল্লাহ্‌র আদেশ-নিষেধ বাস্তবায়নের ব্যাপারে কোন তৎপরতা অবলম্বন করে না বরং উপেক্ষা করে চলে।’

“আপন স্ত্রী-সন্তানকে অশ্লীলতা ও ব্যভিচারের সুযোগ দেয়া” কবিরা গুনাহ।

উল্লেখ্য যে একটি পরিবারের কর্তা/ প্রধান অভিভাবক হতে পারে পিতা, বড় ভাই, স্বামী, পুত্র। এরা প্রত্যেকেই তার অধনস্থ কেউ যদি কোন অশ্লীলতা করে অথচ সে তাতে বাধা প্রধান না করে তাহলে উক্ত পাপের দায়ভার তাদের উপরও বর্তাবে।

মহান আল্লাহ আমাদেরকে সকল ভ্রান্তির ঊর্ধ্বে উঠে তাঁর সন্তুষ্টির পথে চলার তাওফীক দান করুন-আমীন!
আল্লাহই সর্ব বিষয়ে মহাজ্ঞানী।

তথ্য সূত্রঃ কোরআন , হাদিস, উইকিপিডিয়া