👉👉অনেকেই বলেন,””কাবার ওপর দিয়ে_প্লেন,পাখি ওড়ে না””👉👉কারণ কাবার ওপর দিয়ে উড়লে প্লেনে আগুন লেগে যায় ও পাখি পড়ে যায় ।আসলেই কি তাই⁉️👉👉কাবার উপর দিয়ে প্লেন বা পাখি উড়েনা এইটা একটা পুরো ভুল কথা । এটি কিছু মূর্খ কাঠ মোল্লা ও পীরদের  বানানো একটা মিথ্যা মাত্র ।কাবার উপর দিয়ে পাখি বিশেষ করে প্রচুর কবুতর উড়ে । কাবার ছাদে  কবুতর পায়খানাও করে । কাবা ও বার বার ধ্বংস হয়েছে, বন্যাতে ডুবেছে, ইমাম মাহদী দাবিদার শিয়াদের দ্বারা অবরুদ্ধ হয়েছে, আবার পরে তা নির্মান করা হয়েছে ।আর কাবার ওপর দিয়ে প্লেন না ওড়ার কারণ হলো  মক্কার আকাশ “#নো_ফ্লাই_জোন”। তাছাড়া অন্য আর কোনো কারণ নেই। যেহেতু কাবা একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা এবং কাবায়  অমুসলিমদের প্রবেশ নিষেধ তাই এর আকাশ সীমানাতেও যেনো কেউ প্রবেশ না করে তাই মক্কার আকাশকে নো ফ্লাই জোন হিসেবে রাখা হয়েছে।তাছাড়া কাবায় সারাক্ষণ লক্ষ লক্ষ মুসলীম তওয়াফ করে । নিরাপত্তার বিষয়টি এখানে প্রধান । যে কোন সময় যে কোন বদমাশ লোক বিমান নিয়ে গিয়ে একটি কুকর্ম করতে পারে । “নো ফ্লাই জোন” হওয়াতে তা সহজজে সম্ভব নয় ।কাবার উপর দিয়ে সৌদি নিরাপত্তাবাহিনীর হেলিকপ্টার প্রায়ই চলাচল করে।মূর্খতা বশত বাংলাদেশের একদল বিশেষ করে কওমী শিক্ষিত মোল্লা কাবাকে এমনভাবে দেখায়  যে সেটা উপাসনার একটি বস্তু! বস্তুতঃ কাবা আল্লাহর হুকুমে ইব্রাহিম আঃ এর দ্বারা নির্মিত একটি ইবাদত গৃহ বা আল্লাহর ঘর । কাবার দিকে ফিরে নামাজ পড়ার জন্য আল্লাহ আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন তাই আমরা ঐ দিকে ফিরে নামাজ পড়ি এবং আজীবন ইনশাল্লাহ পড়ব । প্রতিবছর কাবা পরিষ্কার করা বা গিলাফ পরিবর্তনের সময় কাবার ছাদে ওঠে অনেকেই। এমন তো না যে কাবার ওপরে ওঠা নিষেধ!#আল্লাহর_ঘর পবিত্র কাবা ছাড়াও  পৃথিবীতে ১০/১২টি #No_Fly_Zoon ” #নো_ফ্লাই_জোন” আছে ।পৃথিবীর বেশ কয়েকটি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে রয়েছে এমন নিষেধাজ্ঞা। সার্বিক নিরাপত্তা এবং গোপনীয়তা রক্ষার্থে নেওয়া হয়েছে এমন ব্যবস্থা। কারণ এসব অঞ্চলে যদি কখনো কোনো কারণে বিমান দুর্ঘটনা ঘটে, তাহলে বিমানের পাশাপাশি সেই অঞ্চলের এত বিপুল পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হবে যা এককথায় অপূরণীয়। এর কয়েকটি হলো-

১// #মক্কার_কাবাঃ
মুসলমানদের তীর্থ স্থান মক্কার উপর দিয়ে আপনি কখনও কোনো যাত্রীবাহী বিমান উড়ে যেতে দেখবেন না। কেন সেখান দিয়ে কোনো বিমান ওড়ে না তার পেছনে অবশ্য বেশ কিছু ব্যাখ্যা আছে। কিন্তু এর অধিকাংশেরই কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ বা গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা নেই। প্রথম যে ব্যাখ্যাটি পাওয়া যায়, সেটি হলো, মক্কার ভূ চৌম্বকত্ব এতই প্রবল যে, সেখান দিয়ে কোনো বিমান উড়ে গেলে বিমানের কম্পাস বিচ্ছিন্ন আচরণ করতে থাকে। তাই বিমান চালকের পক্ষে দিক ঠিক রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। আরেকটি ব্যাখ্যামতে, মক্কার অঞ্চলে পৃথিবীর অভিকর্ষজ টান বেশি হওয়ায় বিমানের পক্ষে সেখানে নিজের উচ্চতা বজায় রাখা বেশ কঠিন হয়ে পড়ে। কিন্তু এগুলো যে খুব একটা প্রমাণিত কথা, তেমনটা নয়। বরং হজের মৌসুমে এবং অন্যান্য সময়ে নিরাপত্তার জন্য মক্কার আকাশে হেলিকপ্টারগুলোকে স্বাচ্ছন্দ্যেই উড়তে দেখা যায়।
তবে মূল কথা হলো, মক্কায় বিমান ওঠা-নামা করার জন্য কোনো বিমানবন্দর নেই। যদিও সেখানে প্রতি বছর শতকোটি মুসল্লি জমায়েত হয়, তবুও কাবার সার্বিক নিরাপত্তা এবং অন্যান্য বিষয় বিবেচনায় রেখে সেখানে কোনো বিমানবন্দর তৈরি করা হয়নি। যেহেতু মক্কায় কোনো বিমানবন্দর নেই, তাই মক্কার আকাশে বিমান উড়তে দেখা যাবে, এমন আশা করাও উচিত নয়।

২// #আগ্রার_তাজমহলঃ

১৯৮৩ সালে ইউনেস্কোর স্বীকৃতি পাওয়া এই নির্মাণশৈলী তৈরি করতে সময় লেগেছিলো পুরো ২১ বছর। মুঘল সম্রাট শাহজাহান তার স্ত্রী মমতাজ মহলের স্মৃতিতে ১৬৩২ থেকে ১৬৫৩ খ্রিষ্টাব্দ সময়ব্যাপী যমুনার পাড়ে নির্মাণ করেন এই ভালোবাসার নিদর্শন। বর্তমানে এই নিদর্শনকে টিকিয়ে রাখা এবং রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে আছে ভারত সরকার। তাজমহলের অঞ্চলটি এতটাই নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যে রাখা হয়েছে যে, সেখানকার ৫০০ মিটারের মধ্যে কোনো যান্ত্রিক যানবাহন চলাচল করতে পারে না। যান্ত্রিকতার সাথে মিশে গিয়ে মূল তাজ মহলের যাতে কোনোপ্রকার ক্ষতি না হয়, সেজন্য এ ব্যবস্থা। তার চেয়েও বড় কথা, ২০০৬ সাল থেকে তাজমহলের ওপর দিয়ে বিমান চলাচলও নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। আগ্রায় কোনো প্রকার বিমান দুর্ঘটনা হলে, তাজমহল এবং অন্যান্য স্থাপনার ওপর তার সরাসরি প্রভাব পড়বে। সেরকম কোনো সম্ভাবনা যাতে না থাকে, সেজন্য আগ্রার ওপর দিয়ে বিমান চলাচল পুরোপুরি নিষিদ্ধ।

৩// #তিব্বতঃ
দেশটির অধিকাংশ অঞ্চল প্রাকৃতিক কারণেই নো ফ্লাই জোন হিসেবে পরিচিত। বিশাল আকৃতির সব পাহাড়-পর্বতে ঘেরা এই দেশটি বিমান ওঠানামা করার জন্য বেশ কঠিন একটি জায়গা। বিমান চালককে প্রায়ই বিমানের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য কঠিন পরীক্ষা দিতে হয়। তিব্বতের পাহাড়-পর্বতগুলোর গড় উচ্চতা সমুদ্রতল থেকে ১৬,০০০ ফুট ওপরে। এই উচ্চতা দিয়ে অধিকাংশ বাণিজ্যিক বিমান স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচল করতে পারলেও, জরুরি অবতরণ করতে হলে পাহাড়ের উপর তো আর বিমান নামানো সম্ভব না। এখানে বিমান চলাচলের চেয়েও যাত্রীদের নিরাপত্তা দেয়াটা বেশি জরুরি। এজন্য পুরো তিব্বতে পাঁচটি বিমানবন্দরের অঞ্চল বাদে আর কোথাও বিমান চলাচল করতে দেখা যায় না।

৩// #বাকিংহাম_প্যালেসঃ
যুক্তরাজ্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল হলো এই বাকিংহাম প্যালেস। রানীর বাসভবন এবং তার সকল সরকারি কর্মকর্তার অফিস এই এলাকায়। যুক্তরাষ্ট্রের সকল রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বাকিংহাম প্যালেস থেকেই পরিচালিত হয়। তাই প্রতিনিয়ত বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এই অঞ্চলে যাতায়াত করে থাকেন। এই অঞ্চলটি এতটাই নিরাপত্তার মধ্যে রাখা হয় যে, ব্রিটেনের সর্বসাধারণের জন্যও এখানের বেশক’টি সড়ক ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। কেবল বিশেষ দিনগুলোতে এই সড়কগুলো উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। এই অঞ্চলের গুরুত্ব বিবেচনা করে সকল গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষা করা এবং সকলের নিরাপত্তার স্বার্থে এখান দিয়ে বিমান চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়।

৩// #পেরুর_মাচু_পিচুঃ
ইনকা সভ্যতার সকল অবশিষ্ট ভবন ও নির্মাণশৈলী নিয়ে গভীর জঙ্গল এবং পাহাড়-পর্বতের মাঝে গড়ে ওঠা মাচু পিচু হলো পেরুর অন্যতম সংরক্ষিত অঞ্চল। ইউনেস্কো এই অঞ্চলকে বিশেষ স্বীকৃতি দেয়ার পর ২০০৬ সাল থেকে পেরু সরকার এই অঞ্চলের ওপর দিয়ে সকল প্রকার বিমান চলাচল বন্ধ করে দেয়। কারণ এই অঞ্চলটিতে বর্তমানে আধুনিক সভ্যতার তেমন কোনো ছোঁয়া নেই বললেই চলে। অত্যন্ত সুরক্ষিত এই অঞ্চলটিতে রয়েছে বিলুপ্তপ্রায় সকল জীব-জন্তুর বসবাস। যদি কখনও এই অঞ্চলে বিমান দুর্ঘটনা ঘটে, তাহলে তা সরাসরি ইনকা সভ্যতার অবশিষ্ট ভবনগুলোতে আঘাত করবে। এর ফলে সভ্যতার শেষ চিহ্নটুকুও মুছে যাবে। আর যদি জঙ্গলে বিমান আছড়ে পড়ে, তাহলে পশু-পাখির বসবাসের নীরব পরিবেশ নষ্ট হয়ে যাবে। আর সবচেয়ে খারাপ হতে পারে জঙ্গলে দাবানল লেগে যাওয়া। এসকল বিষয় বিবেচনা করে পেরু সরকার মাচু পিচু অঞ্চলের উপর দিয়ে বিমান চলাচল পুরোপুরি নিষিদ্ধ করে দিয়েছে।

৪// #প্যারিসঃ
আপনি যদি কখনো প্যারিসে ভ্রমণ করে থাকেন তাহলে প্রশ্ন করতেই পারেন, সেখানে তো বিমান উড়তে দেখেছেন। তাহলে এই শহরের নাম এই তালিকায় কেন? একটা শহরে চারটি বিমানবন্দর থাকার পরেও কেন সেখানে বিমান উড়তে পারে না? এখানে একটি শর্ত আছে। প্যারিসে কোনো বিমান উড়তে হলে সেগুলোকে ৬,৫০০ ফুট উচ্চতা থেকে উড়তে হবে। এর নিচে কোনো বিমান সেখানে উড়তে পারবে না। এজন্য প্যারিসে সাধারণত কোনো বিমান দেখা যায় না।

৫// #কিউবাঃ
কিউবার ব্যাপারটা একটু ভিন্ন। এমন নয় যে এখানে নিরাপদ অবতরণ নিয়ে কোনো সমস্যা আছে কিংবা কোনো সভ্যতার অস্তিত্ব রক্ষার্থে বিমান চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কিউবার ভেতরে আঞ্চলিক বিমানগুলো সহজেই যাতায়াত করতে পারে। কিন্তু বিশেষ নিয়ম হলো আন্তর্জাতিক বিমানগুলোর বেলায়। আপনি যদি বাণিজ্যিক বিমান নিয়ে কিউবাতে অবতরণের জন্য প্রবেশ করেন, তাহলে ভিন্ন কথা। কিন্তু ভিনদেশী কোনো বিমান যদি কিউবার আকাশসীমা ব্যবহার করতে চায়, তাহলে তাদের নিতে হবে কিউবা সরকারের বিশেষ অনুমতি। অবশ্যই আকাশে উড়ন্ত অবস্থায় আপনি কিউবা সরকারের কাছে আবেদনপত্র জমা দিতে পারবেন না। কিউবার আকাশসীমা যদি আপনার ব্যবহার করার দরকারই পড়ে, তাহলে আগে থেকেই সেখানকার সরকারের অনুমতি নিতে হবে এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এই আবেদন নাকচ হয়ে ফিরে আসে।

এই সকল অঞ্চলের পাশাপাশি আরও অনেক অঞ্চলেই ভৌগোলিক কিংবা রাজনৈতিক কারণে বিমান চলাচল নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। খোদ যুক্তরাষ্ট্রেরই ১১টি অঞ্চলে বিমান চলাচল নিষিদ্ধ।

আবু_দাহদাহ (রাঃ)-এর দানশীলতা

মদীনা ছিল খেজুর বৃক্ষ সমৃদ্ধ অঞ্চল। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর হিজরতের পর একে ‘মদীনাতুন্নবী’ নামে আখ্যায়িত করা হয়। মদীনার চতুষ্পার্শেব খেজুর বাগান ও গাছের এত আধিক্য ছিল যে, বৃষ্টির কারণে কোন খেজুর নিচে পড়লে তা নির্ণয় করা কঠিন হত যে, এটা কোন গাছের খেজুর। এরূপ বাগানকে কেন্দ্র করে ছাহাবীগণের মধ্যেও কোন কোন সময় বিতর্কের সৃষ্টি হ’ত। সমাধানের জন্য তাঁরা রাসূল (ছাঃ)-এর কাছে যেতেন এবং সঠিক সমাধান পেতেন। এক্ষেত্রে ছাহাবীগণ তাঁকে সহযোগিতা করতেন। আবু দাহদাহ (রাঃ) তার ছয়শ’ খেজুর গাছের বাগান দান কারার মাধ্যমে এরূপ এক বিবাদের সমাধান করেছিলেন।

আবু_দাহদাহ (রাঃ)-এর পরিচয় : তাঁর আসল নাম ছাবেত ইবনু দাহদাহ। তবে তিনি আবু দাহদাহ নামে সমধিক পরিচিত। তিনি একজন উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন ছাহাবী ছিলেন। মদীনায় মুছ‘আব ইবনু ওমায়ের (রাঃ)-এর হাতে ইসলাম গ্রহণ করেন। তাঁর দানশীলতার কথা ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লিপিবদ্ধ রয়েছে। তিনি ওহুদের যুদ্ধে শাহাদাত বরণ করেন। ওয়াক্বেদী আব্দুল্লাহ ইবনু আমের থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, ওহুদের যুদ্ধের দিন যখন মুসলমানেরা রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর মৃত্যুর মিথ্যা সংবাদে দিশেহারা হয়ে ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়েছিল, তখন আবু দাহদাহ (রাঃ) বলেছিলেন, বলে ওঠেন,

يَا مَعْشَرَ الْأَنْصَارِ،إنْ كَانَ مُحَمّدٌ قَدْ قُتِلَ فَإِنّ اللهَ حَيّ لَا يَمُوتُ! فَقَاتِلُوا عَنْ دِينِكُمْ، فَإِنّ اللهَ مُظْهِرُكُمْ وَنَاصِرُكُمْ

‘হে আনছারগণ! যদি মুহাম্মাদ নিহত হয়ে থাকেন, তবে আল্লাহ জীবিত আছেন, তিনি মরেন না। তোমরা তোমাদের দ্বীনের উপরে যুদ্ধ করো। কেননা আল্লাহ তোমাদের বিজয় দানকারী ও সাহায্যকারী’। … তার একথা শুনে একদল আনছার উঠে দাঁড়াল এবং তাদেরকে সাথে নিয়ে ছাবিত সরাসরি খালিদ ইবনে ওয়ালীদের বাহিনীর উপরে হামলা চালালেন, পরে খালিদের বর্শার আঘাতে তিনি শহীদ হন। সঙ্গীরাও শহীদ হয়ে যান (ইবনুল জাওযী, ছিফাতুছ ছাফওয়াহ ১/৬১৬; ওয়াক্বেদী, মাগাযী ১/২৮১; আর-রাহীকুল মাখতূম ১/২৪১)

দানশীলতারঅনুপমদৃষ্টান্ত : মদীনার বাগান সমূহের মধ্যে এক ইয়াতীম বাচ্চার একটি বাগান ছিল। তার বাগানের সাথে অন্য এক লোকেরও একটি বাগান ছিল। যার নাম ছিল আবু লুবাবা। ইয়াতীম চিন্তা করল, আমি জমির সীমানা বরাবর প্রাচীর নির্মাণ করে বাগানটি আদালা করে নেব। যাতে প্রত্যেকের অংশ পৃথক হয়ে যায়। যখন প্রাচীর দিতে শুরু করল তখন দেখা গেল তার প্রতিবেশীর একটি খেজুর গাছ সীমানার মধ্যে পড়ে যাচ্ছে। যার কারণে প্রাচীরটি সোজা হচ্ছে না। তাই সে তার প্রতিবেশীর নিকট গিয়ে বলল, আপনার বাগানে অনেক খেজুর গাছ। আমি একটি প্রাচীর দিতে চাচ্ছি, কিন্তু আপনার একটি খেজুর গাছের কারণে প্রাচীরটি সোজা হচ্ছে না। ঐ গাছটি আমাকে দিয়ে দিন তাহ’লে আমার দেওয়ালটি সোজা হয়ে যাবে। এতে আপনার কোন ক্ষতি হবে না। লোকটি বলল, আল্লাহর কসম! আমি খেজুর গাছটি দান করব না। ইয়াতীম ছেলেটি বলল, ভাই আপনার তো কোন ক্ষতি হবে না। হয় আপনি গাছটি দান করুন আর না হয় আমার কাছ থেকে এর মূল্য নিয়ে নিন। সে বলল, আল্লাহর কসম! আমি এর কোনটাই করব না। ইয়াতীম ছেলেটি তাকে বুঝানোর চেষ্টা করল। প্রতিবেশীর অধিকারের কথা বলল। কিন্তু সে ছিল দুনিয়াপ্রেমিক। তাই না সে ইয়াতীমের অসহায়ত্বের প্রতি লক্ষ্য করল, আর না প্রতিবেশীর অধিকারের প্রতি। ইয়াতীম বলল, তাহ’লে কি আমি প্রাচীর দিব না এবং তা সোজা করব না? প্রতিবেশী লোকটি বলল, এটা তোমার ব্যাপার। এ ব্যাপারে আমার কিছুই করার নেই। ইয়াতীম যখন তার কথায় নিরাশ হ’ল তখন সে চিন্তা করল যে, এমন একজন ব্যক্তি আছেন যদি তিনি সুপারিশ করেন, তাহ’লে হয়ত আমার কাজ হ’তে পারে। একথা মনে করে সে মসজিদে নববীর দিকে রওয়ানা হ’ল।

ঐ ইয়াতীম মসজিদে নববীতে এসে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর নিকট আরয করল, হে আল্লাহর রাসূল (ছাঃ)! আমার বাগান অমুক ব্যক্তির বাগানের সাথে মিশে আছে। আমি এর মাঝে প্রাচীর দিতে চাচ্ছি। কিন্তু ততক্ষণ পর্যন্ত প্রাচীর সোজা হচ্ছে না যতক্ষণ না আমার প্রতিবেশীর একটি খেজুর গাছ আমার দখলে আসবে। আমি তার মালিককে বলেছি যে, এটি আমার নিকট বিক্রি করে দাও। আমি তাকে যথেষ্ট বুঝানোরও চেষ্টা করেছি। কিন্তু সে তা অস্বীকার করছে। হে আল্লাহর রাসূল (ছাঃ)! আমার জন্য তার নিকট একটু সুপারিশ করুন যাতে সে আমাকে ঐ খেজুর গাছটি দিয়ে দেয়। তিনি বললেন, যাও! তাকে ডেকে নিয়ে এসো।

ঐ ইয়াতীম তার নিকট গিয়ে বলল, আল্লাহর রাসূল (ছাঃ) আপনাকে ডেকেছেন। সে মসজিদে নববীতে আসল। নবী করীম (ছাঃ) তার দিকে তাকিয়ে বললেন, সে বেড়া দিয়ে তোমার বাগান থেকে তার বাগান পৃথক করতে চায়। তোমার একটি খেজুর গাছের কারণে তা সম্ভব হচ্ছে না। তুমি তোমার ভাইকে ঐ খেজুর গাছটি দিতে নাকি অস্বীকার করেছ?

লোকটি বলল, হ্যাঁ। রাসূল (ছাঃ) তাকে বললেন, গাছটি তোমার ভাইকে দিয়ে দাও।

সে বলল, আমি দিব না। তিনি তাকে কয়েকবার বলার পরেও যখন রাযী হ’ল না তখন তিনি তাকে বললেন, তোমার ভাইকে ঐ খেজুর গাছটি দিয়ে দাও। আমি তোমার জন্য জান্নাতে একটি খেজুর গাছের যিম্মাদার হব। ঐ লোকটি এ কথা শুনেও বলল, না আমি তা দিব না। তিনি তখন চুপ হয়ে গেলেন। এর চেয়ে বেশী তিনি তাকে আর কী বলতে পারেন!

ছাহাবীগণ নিশ্চুপ থেকে কথাবার্তা শুনছিলেন। উপস্থিত লোকদের মধ্যে আবু দাহদাহ (রাঃ)ও ছিলেন। মদীনায় তার খুব সুন্দর একটি বাগান ছিল। সেখানে ৬০০ খেজুর গাছ ছিল। সুস্বাদু খেজুরের কারণে বাগানটি খুবই প্রসিদ্ধ ছিল। এর খেজুর ছিল খুব উন্নতমানের এবং বাজারে তার যথেষ্ট চাহিদাও ছিল। মদীনার বড় বড় ব্যবসায়ী এ কামনা করত যদি এ বাগানটি আমার হ’ত। আবু দাহদাহ (রাঃ) ঐ বাগানের মধ্যে খুব সুন্দর করে স্বীয় ঘর নির্মাণ করেছিলেন। স্বপরিবারে তিনি সেখানে বসবাস করতেন। মিষ্টি পানির কূপ এ বাগানের গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি করেছিল। আবু দাহদাহ (রাঃ) যখন রাসূল (ছাঃ)-এর কথা শুনছিলেন তখন মনে মনে ভাবছিলেন যে, এ দুনিয়া কি? আজ নয় তো কাল মৃত্যুবরণ করতেই হবে। এরপর শুরু হবে চিরস্থায়ী জীবন। যা স্বাচ্ছন্দ্যময় হবে, না দুঃখে ভরপুর হবে তা কে জানে? যদি জান্নাতে একটি খেজুর গাছ পাওয়া যায়, তাহ’লে আর কি চাই? সামনে এসে আবু দাহদাহ (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল (ছাঃ)! যে কথা আপনি বললেন, এটা কি শুধু তার জন্যই খাছ? আমি যদি ঐ ব্যক্তির কাছ থেকে ঐ খেজুর গাছটি ক্রয় করে এ ইয়াতীমকে দিয়ে দেই তাহ’লে আমিও কি জান্নাতে খেজুর গাছের মালিক হব?

রাসূল (ছাঃ) বললেন, হ্যাঁ, তোমার জন্যও জান্নাতে খেজুর গাছ থাকবে। আবু দাহদাহ (রাঃ) ভাবতে লাগলেন, এমন কি সম্পদ আছে যা আমি ঐ ব্যক্তিকে দিয়ে খেজুর গাছটি ক্রয় করব। তিনি ভেবে দেখলেন, মদীনায় তার একটি বাগান আছে। যেখানে ছয়শ’ খেজুর গাছ, পানির কূপ ও একটি বাড়ি আছে। এগুলোর বিনিময়ে ঐ গাছটি কিনে ইয়াতীমকে দিয়ে দিব। তিনি ঐ ব্যক্তিকে সম্বোধন করে বললেন, শোন! তুমি আমার বাগান সম্পর্কে অবগত আছ, যেখানে ৬০০ খেজুর গাছ আছে, সাথে ঘর ও কুয়াও আছে? সে বলল, মদীনাতে এমন কে আছে যে আপনার বাগান সম্পর্কে জানে না? তিনি বললেন, তাহ’লে তুমি আমার ঐ সম্পূর্ণ বাগান গ্রহণ করে তোমার একটি খেজুর গাছ আমাকে দিয়ে দাও।

ঐ ব্যক্তি তা বিশ্বাস করতে পারছিল না। সে আবু দাহদাহ (রাঃ)-এর দিকে ফিরে তাকাল। অতঃপর লোকজনের দিকে তাকিয়ে বলল, তোমরা লক্ষ্য কর, আবু দাহদাহ কি বলছে? লোকজন যখন তার কথার ব্যাপারে সাক্ষী হ’ল, তখন সে বলল, হ্যাঁ আমি তোমার খেজুর গাছের বাগান গ্রহণ করলাম এবং ঐ খেজুর গাছটি তোমাকে দিয়ে দিলাম। যখন তিনি ঐ খেজুর গাছের মালিক হয়ে গেলেন তখন ঐ ইয়াতীমকে বললেন, এখন থেকে ঐ খেজুর গাছটি তোমার। আমি তা তোমাকে উপহার হিসাবে দিলাম। এখন তোমার দেয়াল সোজা করতে আর কোন বাঁধা নেই। এরপর আবু দাহদাহ (রাঃ) রাসূল (ছাঃ)-এর দিকে তাকিয়ে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল (ছাঃ)! এখন আমি কি জান্নাতে খেজুর গাছের মালিক হ’লাম? তিনি বলেন,

كَمْ مِنْ عِذْقِ رَدَاحٍ لِأَبِي الدَّحْدَاحِ فِي الْجَنَّةِ

‘আবু দাহদাহর জন্য জান্নাতে এখন কত বিশাল বিশাল খেজুরের বাগান অপেক্ষা করছে’!

বর্ণনাকারী আনাস (রাঃ) বলেন, এ শব্দটি তিনি এক, দুই বা তিনবার বলেননি; বরং খুশী হয়ে বারংবার বলেছেন।

শেষে আবু দাহদাহ (রাঃ) সেখান থেকে বের হ’লেন। জান্নাতে বাগানের সুসংবাদ পেয়ে নিজের বর্তমান বাগানের পথে রওয়ানা হ’লেন। মনে মনে বললেন, নিজের ব্যবহারিক কিছু কাপড় এবং কিছু যরূরী জিনিসপত্র তো ওখান থেকে নিতে হবে। তিনি বাগানের দরজায় এসে ভিতরে বাচ্চাদের কণ্ঠ শুনতে পেলেন। স্ত্রী তখন ঘরের কাজে ব্যস্ত ছিল আর বাচ্চারা খেলাধূলা করছিল। ভিতরে গিয়ে তিনি স্ত্রীকে সংবাদ দিতে চাইলেন। কিন্তু তিনি দরজার সামনে দাঁড়িয়ে ডাক দিলেন, হে উম্মে দাহদাহ!

উম্মে দাহদাহ অত্যন্ত অবাক হ’লেন যে, আজকে আবু দাহদাহ বাগানের বাইরে দরজায় কেন দাঁড়িয়ে আছেন? ভিতরে আসছেন না কেন? আবারও আওয়াজ আসল! উম্মে দাহদাহ! উত্তর আসল, আমি উপস্থিত হে আবু দাহদাহ! বাচ্চাদেরকে নিয়ে এ বাগান থেকে বের হয়ে আস। ঊম্মে দাহদাহ (রাঃ) বললেন, আমি বাগান হ’তে বের হয়ে আসব? তিনি বললেন, হ্যাঁ, আমি এ বাগান বিক্রি করে দিয়েছি। উম্মে দাহদাহ (রাঃ) বললেন, আপনি কার নিকট এটা বিক্রি করেছেন? কে কত দাম দিয়ে এটা ক্রয় করেছে? আবু দাহদাহ (রাঃ) বললেন, আমি জান্নাতে একটি খেজুর বাগানের বিনিময়ে তা বিক্রি করে দিয়েছি। উম্মে দাহদাহ (রাঃ) বললেন, আল্লাহু আকবার। হে আবু দাহদাহ (রাঃ)! আপনি অত্যন্ত লাভজনক ব্যবসা করেছেন। জান্নাতের একটি বৃক্ষ, যার নিচে অশ্বারোহী একশত বছর পর্যন্ত চলার পরেও তার ছায়া শেষ হবে না (বুখারী হা/৩২৫১)। কী সৌভাগ্য আমাদের যে, আমরা জান্নাতে এমন একটি গাছ পাব। (মাজমাউয যাওয়ায়েদ হা/১৫৭৯১-৯৩; হাকেম হা/২১৯৪; সিলসিলা ছহীহাহ হা/২৯৬৪; মু‘জামুল কাবীর হা/৭৬৩; শু‘আবুল ঈমান হা/৩৪৫১)।

উপসংহার :

আবু দাহদাহ এবং উম্মে দাহদাহ (রাঃ)-এর এ দান কোন সাধারণ দান ছিল না। আল্লাহর রাসূল (ছাঃ)-এর আশা পূরণের জন্য ও একজন ইয়াতীমকে সহায়তা করার জন্য নিজের সবচেয়ে মূল্যবান বস্ত্ত তারা আল্লাহর রাস্তায় বিলিয়ে দিয়েছিলেন। স্বীয় বাসস্থান, মূল্যবান বাগান, কূপ ছেড়ে দিয়ে মানব জাতির জন্য দানের এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত রেখে গেলেন। এটাই হল সত্যিকারের নবীপ্রেম। আবু দাহদাহ ও তাঁর পরিবারের প্রতি আল্লাহ অবিরত ধারায় রহমত বর্ষণ করুন! এবং আমাদেরকে অনুরূপ দানশীল হওয়ার তাওফীক দান করুন।-আমীন!

আবু_দাহদাহ (রাঃ)-এর দানশীলতা

মদীনা ছিল খেজুর বৃক্ষ সমৃদ্ধ অঞ্চল। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর হিজরতের পর একে ‘মদীনাতুন্নবী’ নামে আখ্যায়িত করা হয়। মদীনার চতুষ্পার্শেব খেজুর বাগান ও গাছের এত আধিক্য ছিল যে, বৃষ্টির কারণে কোন খেজুর নিচে পড়লে তা নির্ণয় করা কঠিন হত যে, এটা কোন গাছের খেজুর। এরূপ বাগানকে কেন্দ্র করে ছাহাবীগণের মধ্যেও কোন কোন সময় বিতর্কের সৃষ্টি হ’ত। সমাধানের জন্য তাঁরা রাসূল (ছাঃ)-এর কাছে যেতেন এবং সঠিক সমাধান পেতেন। এক্ষেত্রে ছাহাবীগণ তাঁকে সহযোগিতা করতেন। আবু দাহদাহ (রাঃ) তার ছয়শ’ খেজুর গাছের বাগান দান কারার মাধ্যমে এরূপ এক বিবাদের সমাধান করেছিলেন।

আবু_দাহদাহ (রাঃ)-এর পরিচয় : তাঁর আসল নাম ছাবেত ইবনু দাহদাহ। তবে তিনি আবু দাহদাহ নামে সমধিক পরিচিত। তিনি একজন উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন ছাহাবী ছিলেন। মদীনায় মুছ‘আব ইবনু ওমায়ের (রাঃ)-এর হাতে ইসলাম গ্রহণ করেন। তাঁর দানশীলতার কথা ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লিপিবদ্ধ রয়েছে। তিনি ওহুদের যুদ্ধে শাহাদাত বরণ করেন। ওয়াক্বেদী আব্দুল্লাহ ইবনু আমের থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, ওহুদের যুদ্ধের দিন যখন মুসলমানেরা রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর মৃত্যুর মিথ্যা সংবাদে দিশেহারা হয়ে ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়েছিল, তখন আবু দাহদাহ (রাঃ) বলেছিলেন, বলে ওঠেন,

يَا مَعْشَرَ الْأَنْصَارِ،إنْ كَانَ مُحَمّدٌ قَدْ قُتِلَ فَإِنّ اللهَ حَيّ لَا يَمُوتُ! فَقَاتِلُوا عَنْ دِينِكُمْ، فَإِنّ اللهَ مُظْهِرُكُمْ وَنَاصِرُكُمْ

‘হে আনছারগণ! যদি মুহাম্মাদ নিহত হয়ে থাকেন, তবে আল্লাহ জীবিত আছেন, তিনি মরেন না। তোমরা তোমাদের দ্বীনের উপরে যুদ্ধ করো। কেননা আল্লাহ তোমাদের বিজয় দানকারী ও সাহায্যকারী’। … তার একথা শুনে একদল আনছার উঠে দাঁড়াল এবং তাদেরকে সাথে নিয়ে ছাবিত সরাসরি খালিদ ইবনে ওয়ালীদের বাহিনীর উপরে হামলা চালালেন, পরে খালিদের বর্শার আঘাতে তিনি শহীদ হন। সঙ্গীরাও শহীদ হয়ে যান (ইবনুল জাওযী, ছিফাতুছ ছাফওয়াহ ১/৬১৬; ওয়াক্বেদী, মাগাযী ১/২৮১; আর-রাহীকুল মাখতূম ১/২৪১)

দানশীলতারঅনুপমদৃষ্টান্ত : মদীনার বাগান সমূহের মধ্যে এক ইয়াতীম বাচ্চার একটি বাগান ছিল। তার বাগানের সাথে অন্য এক লোকেরও একটি বাগান ছিল। যার নাম ছিল আবু লুবাবা। ইয়াতীম চিন্তা করল, আমি জমির সীমানা বরাবর প্রাচীর নির্মাণ করে বাগানটি আদালা করে নেব। যাতে প্রত্যেকের অংশ পৃথক হয়ে যায়। যখন প্রাচীর দিতে শুরু করল তখন দেখা গেল তার প্রতিবেশীর একটি খেজুর গাছ সীমানার মধ্যে পড়ে যাচ্ছে। যার কারণে প্রাচীরটি সোজা হচ্ছে না। তাই সে তার প্রতিবেশীর নিকট গিয়ে বলল, আপনার বাগানে অনেক খেজুর গাছ। আমি একটি প্রাচীর দিতে চাচ্ছি, কিন্তু আপনার একটি খেজুর গাছের কারণে প্রাচীরটি সোজা হচ্ছে না। ঐ গাছটি আমাকে দিয়ে দিন তাহ’লে আমার দেওয়ালটি সোজা হয়ে যাবে। এতে আপনার কোন ক্ষতি হবে না। লোকটি বলল, আল্লাহর কসম! আমি খেজুর গাছটি দান করব না। ইয়াতীম ছেলেটি বলল, ভাই আপনার তো কোন ক্ষতি হবে না। হয় আপনি গাছটি দান করুন আর না হয় আমার কাছ থেকে এর মূল্য নিয়ে নিন। সে বলল, আল্লাহর কসম! আমি এর কোনটাই করব না। ইয়াতীম ছেলেটি তাকে বুঝানোর চেষ্টা করল। প্রতিবেশীর অধিকারের কথা বলল। কিন্তু সে ছিল দুনিয়াপ্রেমিক। তাই না সে ইয়াতীমের অসহায়ত্বের প্রতি লক্ষ্য করল, আর না প্রতিবেশীর অধিকারের প্রতি। ইয়াতীম বলল, তাহ’লে কি আমি প্রাচীর দিব না এবং তা সোজা করব না? প্রতিবেশী লোকটি বলল, এটা তোমার ব্যাপার। এ ব্যাপারে আমার কিছুই করার নেই। ইয়াতীম যখন তার কথায় নিরাশ হ’ল তখন সে চিন্তা করল যে, এমন একজন ব্যক্তি আছেন যদি তিনি সুপারিশ করেন, তাহ’লে হয়ত আমার কাজ হ’তে পারে। একথা মনে করে সে মসজিদে নববীর দিকে রওয়ানা হ’ল।

ঐ ইয়াতীম মসজিদে নববীতে এসে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর নিকট আরয করল, হে আল্লাহর রাসূল (ছাঃ)! আমার বাগান অমুক ব্যক্তির বাগানের সাথে মিশে আছে। আমি এর মাঝে প্রাচীর দিতে চাচ্ছি। কিন্তু ততক্ষণ পর্যন্ত প্রাচীর সোজা হচ্ছে না যতক্ষণ না আমার প্রতিবেশীর একটি খেজুর গাছ আমার দখলে আসবে। আমি তার মালিককে বলেছি যে, এটি আমার নিকট বিক্রি করে দাও। আমি তাকে যথেষ্ট বুঝানোরও চেষ্টা করেছি। কিন্তু সে তা অস্বীকার করছে। হে আল্লাহর রাসূল (ছাঃ)! আমার জন্য তার নিকট একটু সুপারিশ করুন যাতে সে আমাকে ঐ খেজুর গাছটি দিয়ে দেয়। তিনি বললেন, যাও! তাকে ডেকে নিয়ে এসো।

ঐ ইয়াতীম তার নিকট গিয়ে বলল, আল্লাহর রাসূল (ছাঃ) আপনাকে ডেকেছেন। সে মসজিদে নববীতে আসল। নবী করীম (ছাঃ) তার দিকে তাকিয়ে বললেন, সে বেড়া দিয়ে তোমার বাগান থেকে তার বাগান পৃথক করতে চায়। তোমার একটি খেজুর গাছের কারণে তা সম্ভব হচ্ছে না। তুমি তোমার ভাইকে ঐ খেজুর গাছটি দিতে নাকি অস্বীকার করেছ?

লোকটি বলল, হ্যাঁ। রাসূল (ছাঃ) তাকে বললেন, গাছটি তোমার ভাইকে দিয়ে দাও।

সে বলল, আমি দিব না। তিনি তাকে কয়েকবার বলার পরেও যখন রাযী হ’ল না তখন তিনি তাকে বললেন, তোমার ভাইকে ঐ খেজুর গাছটি দিয়ে দাও। আমি তোমার জন্য জান্নাতে একটি খেজুর গাছের যিম্মাদার হব। ঐ লোকটি এ কথা শুনেও বলল, না আমি তা দিব না। তিনি তখন চুপ হয়ে গেলেন। এর চেয়ে বেশী তিনি তাকে আর কী বলতে পারেন!

ছাহাবীগণ নিশ্চুপ থেকে কথাবার্তা শুনছিলেন। উপস্থিত লোকদের মধ্যে আবু দাহদাহ (রাঃ)ও ছিলেন। মদীনায় তার খুব সুন্দর একটি বাগান ছিল। সেখানে ৬০০ খেজুর গাছ ছিল। সুস্বাদু খেজুরের কারণে বাগানটি খুবই প্রসিদ্ধ ছিল। এর খেজুর ছিল খুব উন্নতমানের এবং বাজারে তার যথেষ্ট চাহিদাও ছিল। মদীনার বড় বড় ব্যবসায়ী এ কামনা করত যদি এ বাগানটি আমার হ’ত। আবু দাহদাহ (রাঃ) ঐ বাগানের মধ্যে খুব সুন্দর করে স্বীয় ঘর নির্মাণ করেছিলেন। স্বপরিবারে তিনি সেখানে বসবাস করতেন। মিষ্টি পানির কূপ এ বাগানের গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি করেছিল। আবু দাহদাহ (রাঃ) যখন রাসূল (ছাঃ)-এর কথা শুনছিলেন তখন মনে মনে ভাবছিলেন যে, এ দুনিয়া কি? আজ নয় তো কাল মৃত্যুবরণ করতেই হবে। এরপর শুরু হবে চিরস্থায়ী জীবন। যা স্বাচ্ছন্দ্যময় হবে, না দুঃখে ভরপুর হবে তা কে জানে? যদি জান্নাতে একটি খেজুর গাছ পাওয়া যায়, তাহ’লে আর কি চাই? সামনে এসে আবু দাহদাহ (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল (ছাঃ)! যে কথা আপনি বললেন, এটা কি শুধু তার জন্যই খাছ? আমি যদি ঐ ব্যক্তির কাছ থেকে ঐ খেজুর গাছটি ক্রয় করে এ ইয়াতীমকে দিয়ে দেই তাহ’লে আমিও কি জান্নাতে খেজুর গাছের মালিক হব?

রাসূল (ছাঃ) বললেন, হ্যাঁ, তোমার জন্যও জান্নাতে খেজুর গাছ থাকবে। আবু দাহদাহ (রাঃ) ভাবতে লাগলেন, এমন কি সম্পদ আছে যা আমি ঐ ব্যক্তিকে দিয়ে খেজুর গাছটি ক্রয় করব। তিনি ভেবে দেখলেন, মদীনায় তার একটি বাগান আছে। যেখানে ছয়শ’ খেজুর গাছ, পানির কূপ ও একটি বাড়ি আছে। এগুলোর বিনিময়ে ঐ গাছটি কিনে ইয়াতীমকে দিয়ে দিব। তিনি ঐ ব্যক্তিকে সম্বোধন করে বললেন, শোন! তুমি আমার বাগান সম্পর্কে অবগত আছ, যেখানে ৬০০ খেজুর গাছ আছে, সাথে ঘর ও কুয়াও আছে? সে বলল, মদীনাতে এমন কে আছে যে আপনার বাগান সম্পর্কে জানে না? তিনি বললেন, তাহ’লে তুমি আমার ঐ সম্পূর্ণ বাগান গ্রহণ করে তোমার একটি খেজুর গাছ আমাকে দিয়ে দাও।

ঐ ব্যক্তি তা বিশ্বাস করতে পারছিল না। সে আবু দাহদাহ (রাঃ)-এর দিকে ফিরে তাকাল। অতঃপর লোকজনের দিকে তাকিয়ে বলল, তোমরা লক্ষ্য কর, আবু দাহদাহ কি বলছে? লোকজন যখন তার কথার ব্যাপারে সাক্ষী হ’ল, তখন সে বলল, হ্যাঁ আমি তোমার খেজুর গাছের বাগান গ্রহণ করলাম এবং ঐ খেজুর গাছটি তোমাকে দিয়ে দিলাম। যখন তিনি ঐ খেজুর গাছের মালিক হয়ে গেলেন তখন ঐ ইয়াতীমকে বললেন, এখন থেকে ঐ খেজুর গাছটি তোমার। আমি তা তোমাকে উপহার হিসাবে দিলাম। এখন তোমার দেয়াল সোজা করতে আর কোন বাঁধা নেই। এরপর আবু দাহদাহ (রাঃ) রাসূল (ছাঃ)-এর দিকে তাকিয়ে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল (ছাঃ)! এখন আমি কি জান্নাতে খেজুর গাছের মালিক হ’লাম? তিনি বলেন,

كَمْ مِنْ عِذْقِ رَدَاحٍ لِأَبِي الدَّحْدَاحِ فِي الْجَنَّةِ

‘আবু দাহদাহর জন্য জান্নাতে এখন কত বিশাল বিশাল খেজুরের বাগান অপেক্ষা করছে’!

বর্ণনাকারী আনাস (রাঃ) বলেন, এ শব্দটি তিনি এক, দুই বা তিনবার বলেননি; বরং খুশী হয়ে বারংবার বলেছেন।

শেষে আবু দাহদাহ (রাঃ) সেখান থেকে বের হ’লেন। জান্নাতে বাগানের সুসংবাদ পেয়ে নিজের বর্তমান বাগানের পথে রওয়ানা হ’লেন। মনে মনে বললেন, নিজের ব্যবহারিক কিছু কাপড় এবং কিছু যরূরী জিনিসপত্র তো ওখান থেকে নিতে হবে। তিনি বাগানের দরজায় এসে ভিতরে বাচ্চাদের কণ্ঠ শুনতে পেলেন। স্ত্রী তখন ঘরের কাজে ব্যস্ত ছিল আর বাচ্চারা খেলাধূলা করছিল। ভিতরে গিয়ে তিনি স্ত্রীকে সংবাদ দিতে চাইলেন। কিন্তু তিনি দরজার সামনে দাঁড়িয়ে ডাক দিলেন, হে উম্মে দাহদাহ!

উম্মে দাহদাহ অত্যন্ত অবাক হ’লেন যে, আজকে আবু দাহদাহ বাগানের বাইরে দরজায় কেন দাঁড়িয়ে আছেন? ভিতরে আসছেন না কেন? আবারও আওয়াজ আসল! উম্মে দাহদাহ! উত্তর আসল, আমি উপস্থিত হে আবু দাহদাহ! বাচ্চাদেরকে নিয়ে এ বাগান থেকে বের হয়ে আস। ঊম্মে দাহদাহ (রাঃ) বললেন, আমি বাগান হ’তে বের হয়ে আসব? তিনি বললেন, হ্যাঁ, আমি এ বাগান বিক্রি করে দিয়েছি। উম্মে দাহদাহ (রাঃ) বললেন, আপনি কার নিকট এটা বিক্রি করেছেন? কে কত দাম দিয়ে এটা ক্রয় করেছে? আবু দাহদাহ (রাঃ) বললেন, আমি জান্নাতে একটি খেজুর বাগানের বিনিময়ে তা বিক্রি করে দিয়েছি। উম্মে দাহদাহ (রাঃ) বললেন, আল্লাহু আকবার। হে আবু দাহদাহ (রাঃ)! আপনি অত্যন্ত লাভজনক ব্যবসা করেছেন। জান্নাতের একটি বৃক্ষ, যার নিচে অশ্বারোহী একশত বছর পর্যন্ত চলার পরেও তার ছায়া শেষ হবে না (বুখারী হা/৩২৫১)। কী সৌভাগ্য আমাদের যে, আমরা জান্নাতে এমন একটি গাছ পাব। (মাজমাউয যাওয়ায়েদ হা/১৫৭৯১-৯৩; হাকেম হা/২১৯৪; সিলসিলা ছহীহাহ হা/২৯৬৪; মু‘জামুল কাবীর হা/৭৬৩; শু‘আবুল ঈমান হা/৩৪৫১)।

উপসংহার :

৬০০আবু দাহদাহ এবং উম্মে দাহদাহ (রাঃ)-এর এ দান কোন সাধারণ দান ছিল না। আল্লাহর রাসূল (ছাঃ)-এর আশা পূরণের জন্য ও একজন ইয়াতীমকে সহায়তা করার জন্য নিজের সবচেয়ে মূল্যবান বস্ত্ত তারা আল্লাহর রাস্তায় বিলিয়ে দিয়েছিলেন। স্বীয় বাসস্থান, মূল্যবান বাগান, কূপ ছেড়ে দিয়ে মানব জাতির জন্য দানের এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত রেখে গেলেন। এটাই হল সত্যিকারের নবীপ্রেম। আবু দাহদাহ ও তাঁর পরিবারের প্রতি আল্লাহ অবিরত ধারায় রহমত বর্ষণ করুন! এবং আমাদেরকে অনুরূপ দানশীল হওয়ার তাওফীক দান করুন।-আমীন!

এপিজে আবদুল কালাম হিন্দু ছিলেন।

🟢🔵#ভারতের প্রয়াত সাবেক #রাষ্ট্রপতি #এপিজেআব্দুলকালাম কৃষ্ণ ভক্ত, মুর্তি পুজারি ও হিন্দু ছিলেন। তিনি নিয়মিত শিবের পূজা করতেন।

🟤🟣#বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে ভারতের প্রয়াত রাষ্ট্রপতি এপিজে আব্দুল কালামকে নিয়ে।
আরএসএস বলছে আব্দুল কালাম হিন্দু ছিলেন। সংগঠনটির নেতাদের মধ্যে সামাজিক মিডিয়ায় ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি এপিজে আব্দুল কালামের আকস্মিক প্রয়াণে ‘এ প্যাসেজ টু বিহার’ খ্যাত ‘দ্য বিহার টাইমস’-এ প্রকাশিত প্রভাবশালী স্টেটসম্যান পত্রিকার পাটনা প্রতিনিধি নলীন ভার্মা’র নিবন্ধ ‘বিলিভ ইট অর নট: কালাম ইজ এ হিন্দু, সেইজ আরএসএস’ বিতর্কের ঝড় তুলেছে।
পাশাপাশি তাতে যুক্ত হয়েছে ভারতের রাষ্ট্রপতি হিসেবে এপিজে আব্দুল কালামের নিয়োগ অর্জনের এক অজানা তথ্য। এতে তাকে গীতা পাঠক, নিরামিষভোজী, কৃষ্ণের ভক্ত এবং অগ্নি ও #সূর্য_পূজক চিত্রিত করে বলা হয়েছে- বিজেপি’র অটল বিহারী বাজপেয়ী সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন ২০০২ সালের ২৫ জুলাই তাকে রাষ্ট্রপতি পদে নিয়োগ দেয়। প্রেক্ষাপট বিবেচনায় ওই বছরের ফেব্রুয়ারী থেকে মার্চে গুজরাটে চলে মুসলিম বিরোধী দাঙ্গা এবং স্বভাবতই মুসলিমরা হয় ক্ষিপ্ত। আর তা প্রশমিত করতে শুরুতেই এই রাষ্ট্রপতির বক্তব্য ছিল- ‘মাই মিশন ওয়াজ নট টু লুক এট হোয়াট হ্যাড হেপেন্ড, নট টু লুক এট হোয়াট ওয়াজ হেপেনিং, বাট টু ফোকাস অন হোয়াট শুড বি ডান’। অর্থাৎ কী ঘটেছে বা ঘটছে তা আমার জানার লক্ষ্য নয়, বরং কী করা দরকার সেটার প্রতিই রয়েছে আমার আগ্রহ।
এরপর পর্যায়ক্রমিক ২০০৭ ও ২০১২ সালে বিজেপি তাকে আবারও রাষ্ট্রপতি পদে নিয়োগ দিতে চাইলে কংগ্রেসের বিরোধীতায় সম্ভব হয়ে ওঠেনি। একইভাবে ওই আলোচনায় উঠে এসেছে ভারতের দুই সাবেক মুসলিম রাষ্ট্রপতি যথাক্রমে জাকির হুসাইন ও ফখরুদ্দীন আলীসহ প্রধান বিচারপতি আজিজ মুবাশশির-এর কথা। ওই রাষ্ট্রপতিদ্বয় নাকি ছিলেন নেহেরুভক্ত এবং সমাজতান্ত্রিক ও নাস্তিক এবং প্রধান বিচারপতি ছিলেন শিয়া সম্প্রদায়ভুক্ত। তাই তাদের নিয়োগ কোনো ধর্মনিরপেক্ষ কিংবা উদারতার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে ঘটেনি, বরং বিচক্ষণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ঘটেছে এবং সে কারণে উল্লসিত হবারও কিছু নেই।
তবে নলীন ভার্মা’র ওই নিবন্ধের সূচনায় বলা হয়েছে- ‘প্রেসিডেন্ট এপিজে আব্দুল কালাম রিডস দ্য গীতা অ্যান্ড ট্রিটস দ্য কান্ট্রি এজ হিজ মাদার, সো হি ইজ এ হিন্দু’। অর্থাৎ তিনি গীতা পাঠ করেন এবং দেশ তার কাছে মাতৃতুল্য, তাই তিনি হিন্দু।অচঔথঅনফঁষকধষধসথডড়ৎংযরঢ়২
এতে পর্যায়ক্রমিক আরো বলা হয়Ñ ওই মন্ত্রটাই আরএসএস তাদের তরুণ ক্যাডারদের প্রাতঃকালীন সম্মিলনে শিখিয়ে থাকে। সেটা নিবন্ধকার নিজেই প্রত্যক্ষ করেছেন একজন আরএসএস শিক্ষক তার স্বেচ্ছাসেবীদের উদ্দেশ্য করে বলছেন- ‘প্রেসিডেন্ট একজন হিন্দু, গীতার প্রতি তার ভালবাসা দেশপ্রেম থেকেই উৎসারিত’। সে সময় ১২-১৫ বছর বয়সী এই কিশোরেরা সূর্য দেবতার প্রার্থনা, শারীরিক কসরত এবং দেশপ্রেমের দীক্ষা ধারণে নিমগ্ন ছিল। দেশপ্রেমের অনুভূতি জাগাতে রাজ্যে সেটা সকাল সাড়ে ৫টায় ঘটে। কেন্দ্রীয় বিহার ও ঝাড়খন্ডের আরএসএস সদর দপ্তর পাটনার রাজেন্দ্র নগরের বিজয় নিকেতনে এ সম্মিলনটি হয়।
এরপরই ওই নিবন্ধে আরএসএস কেন ডক্টর কালামকে একজন হিন্দু আখ্যায়িত করেছে, তার যৌক্তিক বক্তব্য তুলে ধরা হয়। এক্ষেত্রে আরএসএস শিক্ষা প্রচারক রাজেসের প্রশ্ন হচ্ছে- ‘রাষ্ট্রের প্রথম নাগরিককে হিন্দু বলায় দোষের কী আছে’? তার স্বগতোক্তি- হিন্দু শব্দের সঙ্গে ধর্ম ও জাত-পাতের কোনো সম্পর্ক নেই। সরাসরি তার ভাষ্যানুযায়ী- ‘অল দোজ হু আর পেট্রয়েটস অ্যান্ড ট্রিট ইন্ডিয়া এজ দেয়ার মাদার আর হিন্দুজ’। অর্থাৎ যারা দেশপ্রেমী এবং ভারতকে মায়ের পরিচর্যায় দেখে তারা সকলেই হিন্দু। কিন্তু ড. কালাম কোরআন পড়েন এবং নামাজ আদায় করেন, এমন প্রশ্নের জবাবেও তার উত্তর হচ্ছে, ‘তাতে কিছু যায় আসে না; হিন্দু হলেও তাতে কোনো বাধা নেই’। তার যুক্তি হচ্ছে- আপনি যে কোনো ধর্মগ্রন্থ পাঠ বা উপাসনা পদ্ধতি অনুসরণ করতে পারেন, কিন্তু আপনি যখন গীতা পাঠসহ দেশকে মাতৃতুল্য পরিচর্যায় দেখবেন, তখনই আপনি হিন্দু।
ওই নিবন্ধের শেষে এই শিক্ষা প্রচারক আরো নিশ্চিত করেছেন যে, বিহারের দরভাঙ্গা, মোজাফফরপুরসহ অপরাপর আরএসএস শিক্ষায়তনের দীক্ষাটি হচ্ছে- ‘প্রেসিডেন্ট কালাম ইজ এ হিন্দু’। এটা এমন নয় যে পাটনায় যা শিক্ষা দেওয়া হয়, তা দরভাঙ্গা কিংবা অন্যত্র ভিন্ন। মূলতঃ এই সকল শিক্ষায়তনের সম্মিলনগুলো প্রভাবশালী মধ্যবিত্ত পরিবার সদস্যরা পরিচালনা করে থাকেন। কিন্তু স্বল্প সংখ্যক কিশোরেরা এই পরিবারগুলো থেকে যোগ দেয়। শুধুমাত্র পড়াশোনা পরিচালনায় অক্ষম পরিবারের দরিদ্র কিশোরেরাই তাতে অধিক সংখ্যায় যোগ দিয়ে থাকে।

অবশ্যই মুসলিমগণ মুসলিম রাষ্ট্র প্রধানের আনুগত্য করা ফরজ, কিন্তু শাসক যদি ইসলামিক না হয়??

🟦🟥ইসলামী রাষ্ট্রের মুসলিম শাসকের আনুগত্য থেকে মুক্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করলে জাহেলি মৃত্যু হয়। এখন প্রশ্ন হল, ইসলামী রাষ্ট্র না থাকলে অর্থাৎ রাষ্ট্রই যদি ইসলাম বহির্ভূত জাহেলি রাষ্ট্র হয়, সে ক্ষেত্রে এমন রাষ্ট্রকে ইসলামী রাষ্ট্রে পরিণত করার চেষ্টা না করে বরং এ জাহেলিয়াতের উপর সন্তুষ্টি থেকে মৃত্যুবরণ করলে কি সেটা জাহেলি মৃত্যু নয়?
👉👉এ বিষয়ে সকালেই একমত যে, কোনো ব্যক্তি যদি ইসলামী রাষ্ট্রের মুসলিম শাসকের আনুগত্য বর্জন করে এবং মুসলিম জামায়াত ত্যাগ করে মৃত্যুবরণ করে, তাহলে তার মৃত্যু হয় জাহেলিয়াতের মৃত্যু। কিন্তু প্রশ্ন হল, ইসলামী রাষ্ট্র না থাকলে অর্থাৎ রাষ্ট্রই যদি ইসলাম বহির্ভূত জাহেলি রাষ্ট্র হয়, সে ক্ষেত্রে এমন রাষ্ট্রকে ইসলামী রাষ্ট্রে পরিণত করার চেষ্টা না করে বরং এ জাহেলিয়াতের উপর সন্তুষ্টি থেকে মৃত্যুবরণ করলে কি সেটা জাহেলি মৃত্যু নয়? অবশ্যই জাহেলি মৃত্যু বলে গণ্য হবে। আর এই জাহেলি মৃত্যুর হাত থেকে নিজেকে রক্ষা করতে হলে রাষ্ট্রে এমন শাসক নির্বাচন করতে হবে, যিনি রাষ্ট্রীয়ভাবে জাহেলি বিধান অপসরণ করে আল্লাহর বিধান প্রতিষ্ঠা করবেন। আর এটি কোনো নফল বা মুস্তাহাব বিষয় নয় বরং এটি মুসলিমদের উপর গুরুত্বপূর্ণ ফরজ কাজ।

ইমাম শানকীতি (রাহঃ) বলেনঃ
من الواضح المعلوم من ضرورة الدين إن المسلمين يجب عليهم نصب امام تجتمع به الكلمة وتنفذ به احكام الله في ارضه.
“এ কথা সুস্পষ্ট যে, দ্বীনের আবশ্যকীয় বিষয়গুলো মধ্যে একটি হলোঃ মুসলিমদের জন্য একজন (রাষ্ট্রের) ইমাম নিযুক্ত করা ফরয। যার নেতৃত্বে মুসলিমগণ ঐক্যবদ্ধ হবে, তিনি আল্লাহর জমিনে আল্লাহর বিধান কায়েম করবেন।” (তাফসীরে আদওয়াউল বায়ান ১/২৩)

ইমাম কুরতুবী রাহঃ সূরা বাকারার ৩০ নং আয়াতের তাফসীর প্রসঙ্গে বলেনঃ
هذه الاية اصل في نصب امام وخليفة يسمع له ويطاع لتجتمع به الكلمة وتنفذ به احكام الخليفة ولاخلاف في وجوب ذلك بين الامة و لا بين الاءمة.
“এই আয়াতটি মুসলিমদের একজন ইমাম বা খলিফা নিযুক্ত করার ব্যাপারে মূলভিত্তি। খলিফার কথা শুনতে হবে এবং তার নির্দেশ মানতে হবে। তার নেতৃত্বে মুসলিম জাতি ঐক্যবদ্ধ থাকবে। তিনি আল্লাহর খলিফা হিসাবে আল্লাহর জমিনে আল্লাহর বিধান কার্যকর করবেন। এজন্যই মুসলিম জাতির জন্য খলিফা নিযুক্ত করা সর্বসম্মতিক্রমে ওয়াজিব। এ ব্যাপারে কারো দ্বিমত নেই।” (তাফসীরে কুরতুবী ১/২৬০)

আল্লামা ইবনে কাসীর রাহঃ বলেনঃ
وقد استدل القرطبي وغيره بهذه الآية على وجوب نصب الخليفة গ بين الناس فيما اختلفوا فيه ويقطع تنازعهم وينتصر لمظلومهم من ظالمهم ويقيم الحدود ويزجر عن تعاطي الفواحش إلى غير ذلك من الامور المهمة التي لا تمكن إقامتها إلا بالإمام وما لا يتم الواجب إلا به فهو واجب.
“ইমাম কুরতুবী রাহঃ সহ প্রভৃতি মনীষীগণ এ (সূরা বাকারা ৩০ নং) আয়াত হতে দলিল গ্রহণ করেছেন যে, রাষ্ট্রের খলিফা নিযুক্ত করা ওয়াজিব। তিনি মতবিরোধের মীমাংসা করবেন, ঝগড়া বিবাদ মিটিয়ে দিবেন, অত্যাচারী হতে অত্যাচারিত ব্যক্তির প্রতিশোধ নিবেন, ‘হুদুদ’ কায়েম করবেন, অন্যায় ও পাপের কাজ হতে জনগণ বিরত রাখবেন ইত্যাদি বড় বড় কাজগুলো যার সমাধান ইমাম ছাড়া হতে পারে না। এসব কাজ ওয়াজিব এবং ইমাম ছাড়া পুরো হতে পারে না। আর যা ছাড়া কোন ওয়াজিব পুরো হয় না, ওটাও ওয়াজিব। সুতরাং খলিফা নিযুক্ত করা ওয়াজিব সাব্যস্ত হলো”।(তাফসীরে ইবনে কাসীর, সূরা বাকারাঃ ২/৩০)

ইমামুল হারামাইন আবুল মাআলী জুওয়াইনী (রাহঃ) এর বলেন,
ولا يشك احد من علماء المسلمين في وجوب نصب الامام- بل قد روي الاجماع علي وجوب ذلك كل نن تكلم في هذه المسألة من العلماء-
“মুসলিম আলেমদের এ ব্যাপারে কারো সন্দেহ নেই যে, মুসলিমদের (রাষ্ট্রীয়) ইমাম নিযুক্ত করা ফরয। বরং এ ব্যাপারে যারাই কথা বলেছেন তারা সকলে ইজমা ‘ঐক্যমত’ পোষণ করেছেন।” (غياث الامم في التياث الظلم، الباب الأول في وجوب نصب الأءمة وقادة الأمة)

মোল্লা আলী কারী (রাহঃ) লিখেছেন,
فقد أجمعوا على وجوب نصب الإمام.
ইমাম – ইসলামী রাষ্ট্র পরিচালক নিয়োগ করা সর্বসম্মতিক্রমে আবশ্যক। (শারহে ফিকহুল আকবর, পৃ. ১৭৯)
ইমাম নিয়োগের কাজ যে কতখানি গুরুত্বপূর্ণ, তা বুঝতে গিয়ে তিনি আরো বলেন,
ولإن لصحابة جعلوا أهم المهمات نصب الإمام حتى قد موه على دفنه صلعم.
সাহাবায়ে কিরামও ইমাম নিয়োগকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েছেন। এমনকি নবী (ﷺ) কে দাফন করার পূর্বেই তারা ইমাম নিয়োগের কাজ সুসম্পন্ন করেছেন। (শারহে ফিকহুল আকবর, পৃ. ১৭৯)

ইসলামী রাষ্ট্রে ইমাম নিয়োগ ছাড়া আল্লাহর আইন ও বিধান প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়। তাই ইসলামী রাষ্ট্র বা ইমারত প্রতিষ্ঠা করা গুরুত্বপূর্ণ ফরজ। শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া (রাহঃ) এ বিষয়ে ইঙ্গিত করে বলেছেনঃ
ان ولاية امر الناس اعظم واجبات الدين بل لاقيام للدين الا بها ولان الله تعالي اوجب الامر بالمعروف و النهي عن المنكر ولايتم ذلك الا بقوة وإمارة ونصرة المظلوم وكذلك ساءر ما اوجبه من الجهاد والعدل واقامة الحدود لا تتم الا بالقوة والامارة.
“জনগণের যাবতীয় ব্যাপার সুসম্পন্ন করা তথা শাসন-ব্যবস্থা কায়েম করা দ্বীনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও অপরিহার্য বিষয় বরং শাসন-ব্যবস্থা (রাষ্ট্র) এমন এক অপরিহার্যতা যা ছাড়া দ্বীন প্রতিষ্ঠা হতেই পারে না। কেননা আল্লাহ তা’য়ালা ন্যায়ের প্রতিষ্ঠা ও অন্যায়ের প্রতিরোধ এবং মজলুমদের সাহায্য করা ওয়াজিব করে দিয়েছেন। এ ওয়াজিব পালন রাষ্ট্র ও শাসন ছাড়া সম্ভব নয়। এ ভাবে তিনি জিহাদ, ইনসাফ ও আইন-শাসন প্রভৃতি যেসব কাজ ওয়াজিব করে দিয়েছেন তা রাষ্ট্রশক্তি ও শাসন-ব্যবস্থা ছাড়া কিছুতেই হতে পারে না।” (আস-সিয়াসাতুশ শরইয়্যাহ, শরীয়াহর নীতি, পৃষ্ঠাঃ ১৬১-১৬২)
বিঃদ্রঃ ওয়াজিব বলতে এখানে ফিকহের ভাষায় ফরজের পরবর্তী স্তর ‘ওয়াজিব’ বুঝানো হয়নি বরং এখানে ওয়াজিব বলতে ‘ফরজ’ বুঝানো হয়েছে।

সারকথাঃ মুসলিম আলেমগণ সর্বসম্মতিক্রমে এ বিষয়ে একমত যে, রাষ্ট্রে এমন একজন ইমাম নিযুক্ত করা ফরয, যার নেতৃত্বে মুসলিমগণ ঐক্যবদ্ধ হবে, তিনি আল্লাহর জমিনে আল্লাহর দ্বীন/বিধান কায়েম করবেন। আর দ্বীন কায়েমের এ কাজ একা একা কারো পক্ষে করা সম্ভব নয়। তাই আল্লাহ তা’য়ালা বলেন,
أَنْ أَقِيمُوا الدِّينَ وَلَا تَتَفَرَّقُوا فِيهِ-
তোমরা (ঐক্যবদ্ধ ভাবে) দ্বীন কায়েম কর এবং এতে বিচ্ছিন্ন হয়ো না। (সূরা শুরা: ৪২/১৩)
ইকামতে দ্বীনের এ কাজকে সফলতার শীর্ষে পৌঁছে দেওয়ার জন্য আল্লাহ তা’য়ালা তাঁর নবী (ﷺ) এর জন্যেও সাহাবীদের নির্বাচন করেছেন। আর রাসুলুল্লাহ (ﷺ) সাহাবীদের সংগঠিত করে ইকামাতে দ্বীনের কাজ করেছেন। আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা) সাহাবায়ে কেরাম সম্পর্কে বলেন,
اخْتَارَهُمُ اللَّهُ لِصُحْبَةِ نَبِيِّهِ وَلِإِقَامَةِ دِينِهِ رَوَاهُ رزين.
“আল্লাহ তাঁদের বাছাই করে নিয়েছেন তাঁর নবী (ﷺ) এর সাথী হওয়ার জন্য এবং তাঁর দ্বীন কায়েম করার জন্য।” (মিশকাত, হাদীস নং ১৯৩; হিলইয়াহ ১/৩০৫-৩০৬; ইবনে আব্দুল বার ২/৯৭)

তাহলে ইকামতে দ্বীনের যে কাজ করতে গিয়ে রাসুলুল্লাহ (ﷺ) নিজেই সাহাবীদের সংগঠিত করেছিলেন, সেই কাজ সংগঠন ছাড়া সুসম্পন্ন কিভাবে সম্ভব হতে পারে? শায়েখ আহমাদুল্লাহ নিজেই বলেছেন,
“ইসলামী কোনো কাজকে গোছালো ভাবে করার জন্য সংগঠনের কোনো বিকল্প নেই। সেই হিসেবে সংগঠনের সাথে যুক্ত হওয়া ভালো কাজ।…. কিন্তু এসব সংগঠনের সাথে যুক্ত হওয়া ফরজ, না হলে জাহেলিয়াতের মৃত্যু হবে – এটা একেবারেই মূর্খতা সূলভ কথা।” নাউজুবিল্লাহ, আল্লাহ শায়েখকে সহীহ বুঝ দান করুন!

শায়েখ এখানে স্ববিরোধী বক্তব্য পেশ করেছেন। সংগঠনের সাথে যুক্ত হওয়াকে তিনি ভালো কাজ বললেও এর গুরুত্বকে অস্বীকার করেছেন। ইসলামী কোনো কাজ (যেমন ইকামাতে দ্বীনের কাজ) গোছালো ভাবে করার জন্য যদি সংগঠনের বিকল্প কিছু না থাকে তাহলে ইকামতে দ্বীনের ফরজ কাজ সংগঠন ছাড়া করবেন কিভাবে? যেহেতু সংগঠন ছাড়া ইকামাতে দ্বীনের ফরজ কাজ সুসম্পন্ন হয় না, সুতরাং দ্বীন কায়েমের জন্য সংগঠনে যুক্ত হওয়াও ফরজ। আল্লামা ইবনে কাসীর (রাহঃ) বলেন,
وما لا يتم الواجب إلا به فهو واجب.
“আর যা ছাড়া কোন ওয়াজিব/ফরজ পুরো হয় না, ওটাও ওয়াজিব/ফরজ।”

যেসব দেশে আল্লাহর আইন প্রতিষ্ঠিত নেই বরং জাহেলি বিধান কার্যকর রয়েছে সেইসব দেশে যারা জাহেলি বিধান অপসারণ করে আল্লাহর বিধান প্রতিষ্ঠা করার উদ্দেশ্যে সংগঠন গড়ে তোলেনি অথবা সংগঠনের সাথে যুক্ত হয়নি কিংবা সমর্থনও করেনি, তারা নিশ্চয় জাহেলি বিধানে সন্তুষ্ট ও সমর্থনকারী। আর যারা জাহেলি বিধান সমর্থন করে মৃত্যুবরণ করে তাদের মৃত্যু জাহেলি মৃত্যু বলেই গণ্য হবে। এমনকি শায়েখ আহমাদুল্লাহ নিজেও যদি ইকামাতে দ্বীনের কোনো সংগঠনের সাথে যুক্ত না হয় কিংবা সমর্থন না করে, তাহলে প্রমাণিত হবে যে, তিনি জাহেলি বিধানে সন্তুষ্ট। এমতাবস্থায় মৃত্যুবরণ করলে, তার মৃত্যুও জাহেলিয়াতের মৃত্যু বলে গণ্য হবে।

নো-ফ্লাই জোন

🟪🟥 চীনের #তিব্বত হলো পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে বড় এলাকা যুক্ত #নোফ্লাইজোন অর্থাৎ আকাশযান চলাচল নিষিদ্ধ এলাকা। বিমান বা আকাশযান চলাচল করার জন্য খোলা এবং বাধামুক্ত এলাকা লাগে। তিব্বতের #পামিরমালভূমি হল পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু মালভূমি যাকে #পৃথিবীর_ছাদ বলা হয়। মূলত তিব্বত পুরোটাই একটি মালভূমি যার গড় উচ্চতা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে 5 হাজার মিটার অর্থাৎ ৫ কিলোমিটার এবং পৃথিবীর সর্বোচ্চ শিখরগুলির আবাসস্থল ।

👉👉এখানে প্রশ্ন জাগে যে,তাহলে এর সাথে বিমানের কি সম্পর্ক আছে?
আধুনিক যাত্রীবাহী বিমানের কেবিনগুলো চাপে রাখা হয়। যখন এই চাপ ব্যবস্থায় কোনও ত্রুটি দেখা দেয়, তখন যাত্রীদের শ্বাস নিতে দেওয়ার জন্য প্রথমে অক্সিজেন মাস্কগুলি সক্রিয় করা হয়। যাইহোক, অক্সিজেন সিস্টেমের ক্ষমতা 15-20 মিনিটের জন্যই যথেষ্ট।
তাই কেবিন প্রেসার সিস্টেমে ব্যর্থতা দেখা দিলে পাইলটগণ এরোপ্লেনকে 3 হাজার মিটার উচ্চতায় নিয়ে যেতে বাধ্য হন যাতে করে ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রাকৃতিক অক্সিজেন সরবরাহ হয় বা প্রাকৃতিক অক্সিজেন সরবরাহের এলাকায় চলে আসে।
তিব্বত অঞ্চলের বেশিরভাগ অংশে, উচ্চতা 3 হাজার মিটারের উপরে অর্থাৎ বেশিরভাগ পর্বত শিখর গুলোর উচ্চতা ৩ কিলোমিটার এরও বেশি। তাই যাত্রীবাহী অথবা বাণিজ্যিক বিমান গুলো কোন সমস্যায় পড়লে তারা নিচে নেমে আসতে পারবে না।
এছাড়া তিব্বতে এমন কোনো পরিবেশ নেই যেখানে জরুরি পরিস্থিতিতে বিমান নিরাপদে অবতরণ করতে পারে।
তাছাড়া টুইন-ইঞ্জিন বিমানের অর্থাৎ ২ ইঞ্জিন বিশিষ্ট এরোপ্লেনের একটি ইঞ্জিন ব্যর্থ বা কোন কারণে অকার্যকর হলে, নিরাপদে উড়তে বিমানটিকে একটি নির্দিষ্ট উচ্চতায় নামতে হবে। দুর্ভাগ্যবশত, তিব্বতের ভৌগোলিক কাঠামোর কারণে এটি সম্ভব নয়। এসব কারণে তিব্বতের ওপর দিয়ে কোনো বিমান উড়ে না।
উল্লেখ্য যে, পৃথিবীর বেশির ভাগ এরোপ্লেনগুলো দুই ইঞ্জিন বিশিষ্ট অর্থাৎ যাত্রীবাহী বাণ্যবাহী প্রায় ৮০% এরোপ্লেন ইং দুই ইঞ্জিন বিশিষ্ট হয়ে থাকে। আর প্লেনের ইঞ্জিন গুলো থাকে পাখার নিচে। (ছোটবেলায় এই ইঞ্জিন গুলোকে আমরা প্লেনের লাইট মনে করতাম)!
তবে কিছু কিছু এরোপ্লেনের দুই ইঞ্জিনের পাশাপাশি লেজের উপরে আরো একটি ইঞ্জিন থাকে অর্থাৎ তিনটি ইঞ্জিন থাকে। তবে বড় বড় যাত্রীবাহী ও বন্যবাহী এরোপ্লেনে এবং ডাবল ডেকার এরোপ্লেনে চারটি অথবা লেজের উপর একটি শহর পাঁচটি ইঞ্জিন থাকে।।।

🟥🟪 #মৃত্যু একটি সোনার চাবি , যা নির্ধারিত সময়ে নির্দিষ্ট প্রসাদের দার উন্মুক্ত করে।👉👉উপরের এই কথাটি আমি পড়েছিলাম একটি দেয়ালে । তাও আজ থেকে ৩৮ বছর পূর্বে যখন আমি সবেমাত্র হাইস্কুলে উঠেছি। এই লিখাটা আমি প্রায় প্রতিদিন দেখতাম এবং বিভিন্ন এলোমেলো চিন্তা করতাম মৃত্যু নিয়ে।আল্লাহ পবিত্র কুরআনে সূরা আম্বিয়ায় বলেছেন–“”প্রত্যেক প্রাণই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবে ।আমি তোমাদের ভালো ও খারাপ অবস্থা দিয়ে পরীক্ষা করি । আর আমারই কাছে তোমাদের ফিরে আসতে হবে ।— সূরা আম্বিয়া, আয়াতঃ ৩৫

🟥🟪 #মৃত্যু একটি সোনার চাবি , যা নির্ধারিত সময়ে নির্দিষ্ট প্রসাদের দার উন্মুক্ত করে।
👉👉উপরের এই কথাটি আমি Mahabubur Rahman পড়েছিলাম একটি দেয়ালে । তাও আজ থেকে ৩৮ বছর পূর্বে যখন আমি সবেমাত্র হাইস্কুলে উঠেছি। এই লিখাটা আমি প্রায় প্রতিদিন দেখতাম এবং বিভিন্ন এলোমেলো চিন্তা করতাম মৃত্যু নিয়ে।
আল্লাহ পবিত্র কুরআনে সূরা আম্বিয়ায় বলেছেন–
“”প্রত্যেক প্রাণই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবে ।
আমি তোমাদের ভালো ও খারাপ অবস্থা দিয়ে পরীক্ষা করি । আর আমারই কাছে তোমাদের ফিরে আসতে হবে ।
— সূরা আম্বিয়া, আয়াতঃ ৩৫

🟥🟪 সবাই মৃত্যু থেকে পালায়।
মানুষ মৃত্যু থেকে পালাতে চায় কিন্তু টুডে ওর টুমরো তাকে মৃত্যুর কাছে ধরা দিতেই হয়। মোটকথা মৃত্যুর নির্ধারিত সময় যখন উপস্থিত হয় তখন মৃত্যু থেকে কেউ পালিয়ে বাঁচতে পারে না।
শুধু মানুষ নয় বরং প্রত্যেকটা প্রাণী মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যায় শেষ পর্যন্ত।
কোন হিংস্র জন্তু বা সাপ দেখলে আমরা দৌড়ে পালিয়ে যাই। কোন বিপদের সম্ভাবনা দেখলে আমরা ওই এলাকা এড়িয়ে যাই। বজ্রপাত হলে আমরা ভয়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেই। এবং যেকোনো অসুখ হলে আমরা ডাক্তার এবং ঔষধ এর শরণাপন্ন হই। ঔষধ খাই আমরা এজন্য যে, ওসব ভালো না হলে আমরা মরে যাব। মোটকথা এই যে আমাদের তৎপরতা সবগুলো মৃত্যু থেকে পালানোর চেষ্টা ছাড়া আর কিছুই নয়। মৃত্যু আমাদের সকল প্রচেষ্টা আত্ম অহমিকা, মেধা মনন, ও জীবনের সবকিছুকে প্লান করে দেয়।
কখন আসবে কেউ তা জানে না।
জানেন শুধু একমাত্র আল্লাহ সুবাহানাহু তায়ালা।
পবিত্র কোরআনে ঘোষণা করেছেন, কেউ জানে না আগামীকাল সে কি করবে আর কেউ জানে না কখন কোথায় কিভাবে তার মৃত্যু হবে”!

🟥🟪কয়েকদিন আগে ভাইরাল হওয়া একটি ঘটনা–
জাহাঙ্গীরনগর ইউনিভার্সিটির একটা ছেলের মারা যাওয়ার খবর দেখে হুট করেই মনে হলো, মৃত্যু ছাড়া আমাদের আসলে নিজের বলতে আছেটা কী?

এই ছেলেটা গ্র্যাজুয়েশন করেছে। বিয়ে করেছে। দুইটা বাচ্চা আছে। বৌ আছে। ৪১ তম বিসিএসে সুপারিশ পেয়েছে। ৪৩ তমর ভাইবাও দিয়ে ফেলেছে।

এই এতো এতো স্ট্রাগল, এতো এতো পরিশ্রম এক মুহূর্তে শূণ্য হয়ে গেল, ছেলেটার তাহলে নিজের বলে থাকলো কী?

ভালো ক্যারিয়ার, অসম্ভব পরিশ্রম করে তিলে তিলে গড়ে তোলা ক্যারিয়ার, এই ক্যারিয়ারটাও কি আসলে আমার নিজের? না তো। এই ক্যারিয়ারে মায়ের ভাগ আছে, বাপের ভাগ আছে, ভাইয়ের লেখাপড়া আছে, বোনের বিয়ে আছে, বৌ এর শখ আছে, বাচ্চার দুধ আর খেলনাও আছে।

এবং এই একটা ক্যারিয়ার বানানোর জন্য মানুষরে সবকিছুই ছাড়তে হয়। লিটারালি সবকিছুই। টাকার ব্যাপারটা তো আছেই, সময়ের ব্যাপারটাও খুব ভাইটাল। চাকরির পেছনে ছুটতে ছুটতে বহু ছেলেমেয়ে ট্যুর দেওয়া ছেড়ে দেয়, বই পড়া ছেড়ে দেয়, প্রেম করা ছেড়ে দেয়, রেস্টুরেন্টে খাওয়া ছেড়ে দেয়, এমনকি অনেকে তো ইবাদত পর্যন্ত করতে পারে না।

একবার এক ভাইরে রাতের বেলা অনেক নামাজ পড়ার কারণ জিজ্ঞেস করে জানছিলাম, সারাদিন ল্যাবে কাজের ঠেলায় নামাজটা পর্যন্ত পড়তে পারেন নাই। খাওয়া তো দূরের কথা। মলিন হাসি মুখে নিয়ে তিনি বলেছিলেন, আমি ধনী হইতে চাই না ভাই, শুধু এতোটুকু অবসর চাই, যতটুকু অবসর পাইলে আমি একটু শান্তিমতো নামাজটা পড়তে পারি।

কেউ সরারাত ফোন নিয়ে রাতে দাঁড়াইয়া থাকে, বাপ অসুস্থ, বাপের কাছে যাইতে পারে না। শুধুমাত্র একটা ক্যারিয়ারের জন্য। একটা ব্রাইট ফিউচারের জন্য।

সমস্যা হলো, ফিউচার প্ল্যানে আমরা সবকিছুই ইনক্লুড করি, শুধু #মৃত্যুটছাড়া। আমাদের প্ল্যানে পরিবার থাকে, প্রেমিকা থাকে, গাড়ি থাকে, বাড়ি থাকে, বাট #মৃত্যুটাথাকে_না।

অথচ মৃত্যুটাকে প্ল্যানে রাখতে পারলেই কিন্তু আমার আপনার অনেক প্রায়োরিটি লিস্ট চেঞ্জ হয়ে যাবে। সেন্টমার্টিন ট্যুরটা দিয়ে ফেলা যাবে, ওয়্যার এন্ড পিসটা পড়ে ফেলার সময় হবে, তাহাজ্জুদ পড়ার সময়টাও বের করে ফেলতে পারবেন। কারণ, আপনি জানেন, মৃত্যু ওয়েট করতেসে। আপনার হাতে খুব বেশি সময় নাই।

না, আমি নিজে বোহেমিয়ান টাইপ মানুষ না, আপনাকেও বাউন্ডুলে হতে বলতেসি না। বরং পরিবারকে আমরা ওউন করবো, ভালোবাসবো, দায়িত্ব পালন করবো, সবটাই করবো।

সাথে সাথে ওউন করে নিবো আমাদের দুর্বলতাকেও, আমাদের #মৃত্যুকেও।

তখন দেখবেন, কিছু কাজ যেইটা আপনি একান্তই আপনার বলে অবহেলায় ফেলে রেখেছেন, কাজটা আপনার করা হয়ে যাবে। মৃত্যু আপনার পরিবারের পাশাপাশি আপনাকেও আপনার কাছে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলবে।

জীবন নিয়ে প্ল্যান করার সময় একটা জিনিস মাথায় রাইখেন, জীবনটা আপনার না। এইখানে আপনার ভাগ কম। আপনার জীবন আপনার চোখের সামনেই ভাগ করে নেবে আপনার পরিবার, আপনার বন্ধু বা আপনার আত্মীয়রা।

কিন্তু #মৃত্যুটা আপনার #একান্তই_নিজের। আপনার মৃত্যুর ভাগটা কেউ নেবে না, ঐটা আপনাকেই নিতে হবে। তাই, যে কোন প্ল্যানে জীবনের আগে মৃত্যুর কথাটা থাকা চাই। কষ্ট করতে করতে নিজেরে যন্ত্র করে ফেলার আগে মনে থাকা চাই কবি ইমতিয়াজ মাহমুদের লেখা দুইটা লাইন,

“মৃত্যু ছাড়া মানুষের একান্ত নিজের কিছু নেই,
জীবন অন্যরা ভাগ করে নেয় খুব প্রকাশ্যেই।”
জীবমাত্রই মৃত্যু রয়েছে। আল্লাহর ভাষায়, كُلُّ نَفْسٍ ذَآئِقَةُ الْمَوْتِ ۗ ‘ প্রত্যেক প্রাণীই মৃত্যুর স্বাদ ভোগ করবে’- সুরা আলে ইমরান ১৮৫। কী আস্তিক, আর কী নাস্তিক কেউ তা অস্বীকার করে না।

পার্থক্য হলো, আস্তিক মৃত্যু পরবর্তী জীবন বিশ্বাস করে এবং সেই আলোকে সে দুনিয়ার জীবনটা পরিচালনা করে। মৃত্যু এজন্যই, যাতে নেক ও বদ আমলের বিনিময়ে মানুষ জান্নাত বা জাহান্নাম ভোগ করতে পারে।

অনিবার্য সত্যের মুখোমুখি
মৃত্যু এ দুনিয়ার সকল আনন্দ, ভোগ-বিলাস মুহূর্তেই শেষ করে দেয়। মৃত্যুর কথা স্মরণ হলে মানুষ ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে এবং বাঁচার জন্য প্রাণপণ চেষ্টা করে। একজন কাফিরের জন্য মৃত্যু যতখানি ভয়ের, মুমিনের জন্য ততখানি নয়।

এ দুনিয়ায় মুমিনের নামাজ-রোজা ও সকল নেক আমলের পেছনে একটিই লক্ষ্য, মৃত্যুর পরে সে যেন আল্লাহর ক্ষমা ও জান্নাত পায়। জান্নাতের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য ও জাহান্নামের ভয়াবহ আজাব সম্পর্কে সে পুরোপুরি অবহিত; তাই মৃত্যুকে নয়, জাহান্নামের আজাবকে সে ভয় পায়।

মুমিনের মৃত্যু মানে রবের সান্নিধ্যে
মুমিন হয় সাহসী, চলার পথে সব ধরনের সতর্কতা ও সাবধানতা অবলম্বন করে সে তার নির্দিষ্ট লক্ষ্যপানে এগিয়ে যায় এবং সে জানে মৃত্যুর বিষয়টি একান্তই আল্লাহর হাতে। আল্লাহর বাণী, ۗ وَاللَّهُ يُحْىِۦ وَيُمِيتُ ۗ وَاللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ بَصِيرٌ আল্লাহ জীবন দান করেন ও মৃত্যু দেন। আর তোমরা যা কর আল্লাহ সে বিষয়ে সম্যক দ্রষ্টা- সূরা আলে-ইমরান:১৫৬ । সে আরো জানে, যুদ্ধ-বিগ্রহ ও রোগ-মহামারি কোনো কিছুই তাকে মৃত্যু দিতে পারে না, যদি আল্লাহ না চান এবং মৃত্যুর সময় সুনির্দিষ্ট। আল্লাহর কথা,

وَمَا كَانَ لِنَفْسٍ أَن تَمُوتَ إِلَّا بِإِذْنِ اللَّهِ كِتٰبًا مُّؤَجَّلًا ۗ وَمَن يُرِدْ ثَوَابَ الدُّنْيَا نُؤْتِهِۦ مِنْهَا وَمَن يُرِدْ ثَوَابَ الْءَاخِرَةِ نُؤْتِهِۦ مِنْهَا ۚ وَسَنَجْزِى الشّٰكِرِينَ -আর কোন প্রাণী আল্লাহর অনুমতি ছাড়া মারা যায় না, তা নির্দিষ্টভাবে লিখিত আছে। আর যে দুনিয়ার প্রতিদান চায়, আমি তা থেকে তাকে দিয়ে দেই, আর যে আখিরাতের বিনিময় চায়, আমি তা থেকে তাকেও দেই এবং আমি অচিরেই কৃতজ্ঞদের প্রতিদান দেব। সূরা আলে-ইমরান:১৪৫

সুরা আল ইমরানের বেশ কিছু আয়াত আমি এখানে উদ্ধৃত করেছি। মূলত এই অংশটি ওহুদ যুদ্ধের পরবর্তী সময়ে অবতীর্ণ এবং এসব আয়াতে সেই যুদ্ধেরই পর্যালোচনা করা হয়েছে। আল্লাহপাক আমাদের তাঁরই সৃষ্ট এক অদৃশ্য শক্তি করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে এক যুদ্ধে নামিয়ে দিয়েছেন। সেই যুদ্ধের সৈনিক হচ্ছে দেশের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, ডাক্তার-নার্স, ত্রাণকর্মী-স্বেচ্ছাসেবক এবং তাদের সহযোগী হলেন দেশের জনগণ।

বিপদ মানুষের পাপের প্রতিফলন
মহামারি, ভূমিকম্প, জলোচ্ছাস বা বিপদ- মুসিবত যাই বলি, তা নিজ থেকে আসে না, আসে আল্লাহর পক্ষ থেকে।আল কুরআনে, مَآ أَصَابَ مِن مُّصِيبَةٍ إِلَّا بِإِذْنِ اللَّهِ ۗ وَمَن يُؤْمِنۢ بِاللَّهِ يَهْدِ قَلْبَهُۥ ۚ وَاللَّهُ بِكُلِّ شَىْءٍ عَلِيمٌ আল্লাহর অনুমতি ছাড়া কোন বিপদই আপতিত হয় না। যে আল্লাহর প্রতি ঈমান আনে, আল্লাহ তার অন্তরকে সৎপথে পরিচালিত করেন। আল্লাহ প্রত্যেক বিষয়ে সর্বজ্ঞ-সূরা আত-তাগাবুন:১১।

আল্লাহর ভাষায়, এসবই আমাদের হাতের কামাই। মানুষ যখন সীমালঙ্ঘন করে এবং জমিনে অশ্লীলতা ও পাপাচার বেড়ে যায় তখন আল্লাহ তাঁর বান্দাদের সতর্ক করার জন্য নানাবিধ বালা-মুসিবত দিয়ে থাকেন। করোনা ভাইরাস সমগ্র বিশ্বকে নাড়া দিয়েছে। লক্ষ লক্ষ মানুষ আক্রান্ত হয়েছে এবং ইতোমধ্যেই লাখের কাছে মানুষ মারা গেছেন। মানুষ তার জ্ঞান-বুদ্ধি ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে এটিকে প্রতিরোধ করার চেষ্টা করছে। একজন বিশ্বাসী হিসেবে আমরা বিশ্বাস করি, এই বিপদ আল্লাহর পক্ষ থেকে, তাই বৈষয়িক সকল ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি আমাদের আল্লাহরই কাছে ফিরে আসতে হবে।

রবের পক্ষ থেকে সতর্কতা
প্রশ্ন উঠতে পারে, মহামারি যেহেতু আল্লাহর পক্ষ থেকে, সেহেতু সব কিছু থেকে মুখ ফিরিয়ে আমরা আল্লাহর কাছে ধর্ণা দিতে পারি এবং নামাজ, রোজা ও দোয়া-দরুদের মাধ্যমে তাঁর কাছে সাহায্য কামনা করতে পারি। কিন্তু এটি আল্লাহর সুন্নাহর (নিয়ম) বিপরীত। মানুষ তো আল্লাহরই প্রতিনিধি।

তাকে জ্ঞান-বুদ্ধি ও যোগ্যতা দিয়ে সকল সৃষ্টির ওপর ক্ষমতাবান করা হয়েছে। এজন্য প্রয়োজন তাঁর সৃষ্টি নিয়ে চিন্তা-ভাবনা ও গবেষণা করা। পৃথিবীতে যত রোগ-ব্যাধি আছে, আল্লাহ তার আরোগ্যেরও ব্যবস্থা রেখেছেন। সকল চেষ্টা-প্রচেষ্টার পাশাপাশি যারা নিজেদেরকে আল্লাহর কাছে সঁপে দিতে পারবে তারাই সফলকাম এবং তারাই হবে সৌভাগ্যের অধিকারী।

করোনা ভাইরাস একটি সংক্রামক ব্যাধি। ফলে মানুষ ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পড়ছে। কোনো বাসায় কেউ করোনায় আক্রান্ত হলে তার সকল প্রিয়জন তার থেকে পালিয়ে যাচ্ছে; এমন কি দাফন-কাফনেও শরীক হতে রাজী হচ্ছে না। আখিরাতের সেই চিত্রই যেন পরিস্ফুট হচ্ছে। সেদিন আপনজনরা একে অপর থেকে পালাবে। এই করোনা ভাইরাস আল্লাহর অনেক বান্দাকে পাপ-পঙ্কিলতা থেকে ফিরিয়ে এনেছে এবং অনেকে মানবতার সেবায় আত্মনিয়োগ করে নেকির পাল্লাকে ভারি করতে সক্ষম হয়েছে।

বিপদে অগ্রগামীদের মৃত্যু
করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসা ও সেবা-যত্ন এবং ত্রাণ বিতরণ সবই ঝুঁকিপূর্ণ। ঝুঁকিপূর্ণ বলেই সেখানে গেলে কি কারো মৃত্যু অনিবার্য? মোটেই না, মৃত্যুর ফয়সালাটা সম্পূর্ণ আল্লাহর এখতিয়ারে। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ বলেন, ۗ قُل لَّوْ كُنتُمْ فِى بُيُوتِكُمْ لَبَرَزَ الَّذِينَ كُتِبَ عَلَيْهِمُ الْقَتْلُ إِلٰى مَضَاجِعِهِمْ ۖ وَلِيَبْتَلِىَ اللَّهُ مَا فِى صُدُورِكُمْ وَلِيُمَحِّصَ مَا فِى قُلُوبِكُمْ ۗ ‘তোমরা যদি তোমাদের ঘরে থাকতে তাহলেও যাদের ব্যাপারে নিহত হওয়া অবধারিত রয়েছে, অবশ্যই তারা তাদের নিহত হওয়ার স্থলের দিকে বের হয়ে যেত।

আর যাতে তোমাদের মনে যা আছে আল্লাহ তা পরীক্ষা করেন এবং তোমাদের অন্তরসমূহে যা আছে তা পরিষ্কার করেন। আর আল্লাহ তোমাদের অন্তরের বিষয় সম্পর্কে পূর্ণ জ্ঞাত’-সূরা আলে-ইমরান:-১৫৪। আল্লাহ আরো বলেন, الَّذِينَ قَالُوا لِإِخْوٰنِهِمْ وَقَعَدُوا لَوْ أَطَاعُونَا مَا قُتِلُوا ۗ قُلْ فَادْرَءُوا عَنْ أَنفُسِكُمُ الْمَوْتَ إِن كُنتُمْ صٰدِقِينَ যারা তাদের ভাইদেরকে বলেছিল এবং বসেছিল, ‘যদি তারা আমাদের অনুকরণ করত, তারা নিহত হত না’। বল, ‘তাহলে তোমরা তোমাদের নিজ থেকে মৃত্যুকে দূরে সরাও যদি তোমরা সত্যবাদী হও’-সূরা আলে-ইমরান:১৬৮। মৃত্যু সম্পর্কে আল্লাহর স্পষ্ট উল্লেখ, এটি একান্তই তাঁর ইচ্ছাধীন। এখানে অন্য কারো কোনো অংশ নেই। তাই নিজেদের পক্ষ থেকে সাধ্যমত সুরক্ষা গ্রহণ করেই এই পরিস্থিতির মোকাবেলা করতে হবে।

আল্লাহর বান্দাদের কল্যাণে যারা এগিয়ে আসবে তাদের সুরক্ষা দানের দায়িত্ব একান্তই আল্লাহর। কারণ রব হিসেবে সমগ্র সৃষ্টির লালন- পালন ও পরিচর্চার দায়িত্ব আল্লাহর এবং তাঁর পক্ষে যারা এ দায়িত্ব পালন করবে তারা যথার্থই তাঁর খলিফা বা প্রতিনিধি।

🟥🟪 সবাই মৃত্যু থেকে পালায়।
মানুষ মৃত্যু থেকে পালাতে চায় কিন্তু টুডে ওর টুমরো তাকে মৃত্যুর কাছে ধরা দিতেই হয়। মোটকথা মৃত্যুর নির্ধারিত সময় যখন উপস্থিত হয় তখন মৃত্যু থেকে কেউ পালিয়ে বাঁচতে পারে না।
শুধু মানুষ নয় বরং প্রত্যেকটা প্রাণী মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যায় শেষ পর্যন্ত।
কোন হিংস্র জন্তু বা সাপ দেখলে আমরা দৌড়ে পালিয়ে যাই। কোন বিপদের সম্ভাবনা দেখলে আমরা ওই এলাকা এড়িয়ে যাই। বজ্রপাত হলে আমরা ভয়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেই। এবং যেকোনো অসুখ হলে আমরা ডাক্তার এবং ঔষধ এর শরণাপন্ন হই। ঔষধ খাই আমরা এজন্য যে, ওসব ভালো না হলে আমরা মরে যাব। মোটকথা এই যে আমাদের তৎপরতা সবগুলো মৃত্যু থেকে পালানোর চেষ্টা ছাড়া আর কিছুই নয়। মৃত্যু আমাদের সকল প্রচেষ্টা আত্ম অহমিকা, মেধা মনন, ও জীবনের সবকিছুকে প্লান করে দেয়।
কখন আসবে কেউ তা জানে না।
জানেন শুধু একমাত্র আল্লাহ সুবাহানাহু তায়ালা।
পবিত্র কোরআনে ঘোষণা করেছেন, কেউ জানে না আগামীকাল সে কি করবে আর কেউ জানে না কখন কোথায় কিভাবে তার মৃত্যু হবে”!

🟥🟪কয়েকদিন আগে ভাইরাল হওয়া একটি ঘটনা–
জাহাঙ্গীরনগর ইউনিভার্সিটির একটা ছেলের মারা যাওয়ার খবর দেখে হুট করেই মনে হলো, মৃত্যু ছাড়া আমাদের আসলে নিজের বলতে আছেটা কী?

এই ছেলেটা গ্র্যাজুয়েশন করেছে। বিয়ে করেছে। দুইটা বাচ্চা আছে। বৌ আছে। ৪১ তম বিসিএসে সুপারিশ পেয়েছে। ৪৩ তমর ভাইবাও দিয়ে ফেলেছে।

এই এতো এতো স্ট্রাগল, এতো এতো পরিশ্রম এক মুহূর্তে শূণ্য হয়ে গেল, ছেলেটার তাহলে নিজের বলে থাকলো কী?

ভালো ক্যারিয়ার, অসম্ভব পরিশ্রম করে তিলে তিলে গড়ে তোলা ক্যারিয়ার, এই ক্যারিয়ারটাও কি আসলে আমার নিজের? না তো। এই ক্যারিয়ারে মায়ের ভাগ আছে, বাপের ভাগ আছে, ভাইয়ের লেখাপড়া আছে, বোনের বিয়ে আছে, বৌ এর শখ আছে, বাচ্চার দুধ আর খেলনাও আছে।

এবং এই একটা ক্যারিয়ার বানানোর জন্য মানুষরে সবকিছুই ছাড়তে হয়। লিটারালি সবকিছুই। টাকার ব্যাপারটা তো আছেই, সময়ের ব্যাপারটাও খুব ভাইটাল। চাকরির পেছনে ছুটতে ছুটতে বহু ছেলেমেয়ে ট্যুর দেওয়া ছেড়ে দেয়, বই পড়া ছেড়ে দেয়, প্রেম করা ছেড়ে দেয়, রেস্টুরেন্টে খাওয়া ছেড়ে দেয়, এমনকি অনেকে তো ইবাদত পর্যন্ত করতে পারে না।

একবার এক ভাইরে রাতের বেলা অনেক নামাজ পড়ার কারণ জিজ্ঞেস করে জানছিলাম, সারাদিন ল্যাবে কাজের ঠেলায় নামাজটা পর্যন্ত পড়তে পারেন নাই। খাওয়া তো দূরের কথা। মলিন হাসি মুখে নিয়ে তিনি বলেছিলেন, আমি ধনী হইতে চাই না ভাই, শুধু এতোটুকু অবসর চাই, যতটুকু অবসর পাইলে আমি একটু শান্তিমতো নামাজটা পড়তে পারি।

কেউ সরারাত ফোন নিয়ে রাতে দাঁড়াইয়া থাকে, বাপ অসুস্থ, বাপের কাছে যাইতে পারে না। শুধুমাত্র একটা ক্যারিয়ারের জন্য। একটা ব্রাইট ফিউচারের জন্য।

সমস্যা হলো, ফিউচার প্ল্যানে আমরা সবকিছুই ইনক্লুড করি, শুধু #মৃত্যুটছাড়া। আমাদের প্ল্যানে পরিবার থাকে, প্রেমিকা থাকে, গাড়ি থাকে, বাড়ি থাকে, বাট #মৃত্যুটাথাকে_না।

অথচ মৃত্যুটাকে প্ল্যানে রাখতে পারলেই কিন্তু আমার আপনার অনেক প্রায়োরিটি লিস্ট চেঞ্জ হয়ে যাবে। সেন্টমার্টিন ট্যুরটা দিয়ে ফেলা যাবে, ওয়্যার এন্ড পিসটা পড়ে ফেলার সময় হবে, তাহাজ্জুদ পড়ার সময়টাও বের করে ফেলতে পারবেন। কারণ, আপনি জানেন, মৃত্যু ওয়েট করতেসে। আপনার হাতে খুব বেশি সময় নাই।

না, আমি নিজে বোহেমিয়ান টাইপ মানুষ না, আপনাকেও বাউন্ডুলে হতে বলতেসি না। বরং পরিবারকে আমরা ওউন করবো, ভালোবাসবো, দায়িত্ব পালন করবো, সবটাই করবো।

সাথে সাথে ওউন করে নিবো আমাদের দুর্বলতাকেও, আমাদের #মৃত্যুকেও।

তখন দেখবেন, কিছু কাজ যেইটা আপনি একান্তই আপনার বলে অবহেলায় ফেলে রেখেছেন, কাজটা আপনার করা হয়ে যাবে। মৃত্যু আপনার পরিবারের পাশাপাশি আপনাকেও আপনার কাছে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলবে।

জীবন নিয়ে প্ল্যান করার সময় একটা জিনিস মাথায় রাইখেন, জীবনটা আপনার না। এইখানে আপনার ভাগ কম। আপনার জীবন আপনার চোখের সামনেই ভাগ করে নেবে আপনার পরিবার, আপনার বন্ধু বা আপনার আত্মীয়রা।

কিন্তু #মৃত্যুটা আপনার #একান্তই_নিজের। আপনার মৃত্যুর ভাগটা কেউ নেবে না, ঐটা আপনাকেই নিতে হবে। তাই, যে কোন প্ল্যানে জীবনের আগে মৃত্যুর কথাটা থাকা চাই। কষ্ট করতে করতে নিজেরে যন্ত্র করে ফেলার আগে মনে থাকা চাই কবি ইমতিয়াজ মাহমুদের লেখা দুইটা লাইন,

“মৃত্যু ছাড়া মানুষের একান্ত নিজের কিছু নেই,
জীবন অন্যরা ভাগ করে নেয় খুব প্রকাশ্যেই।”
জীবমাত্রই মৃত্যু রয়েছে। আল্লাহর ভাষায়, كُلُّ نَفْسٍ ذَآئِقَةُ الْمَوْتِ ۗ ‘ প্রত্যেক প্রাণীই মৃত্যুর স্বাদ ভোগ করবে’- সুরা আলে ইমরান ১৮৫। কী আস্তিক, আর কী নাস্তিক কেউ তা অস্বীকার করে না।

পার্থক্য হলো, আস্তিক মৃত্যু পরবর্তী জীবন বিশ্বাস করে এবং সেই আলোকে সে দুনিয়ার জীবনটা পরিচালনা করে। মৃত্যু এজন্যই, যাতে নেক ও বদ আমলের বিনিময়ে মানুষ জান্নাত বা জাহান্নাম ভোগ করতে পারে।

অনিবার্য সত্যের মুখোমুখি
মৃত্যু এ দুনিয়ার সকল আনন্দ, ভোগ-বিলাস মুহূর্তেই শেষ করে দেয়। মৃত্যুর কথা স্মরণ হলে মানুষ ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে এবং বাঁচার জন্য প্রাণপণ চেষ্টা করে। একজন কাফিরের জন্য মৃত্যু যতখানি ভয়ের, মুমিনের জন্য ততখানি নয়।

এ দুনিয়ায় মুমিনের নামাজ-রোজা ও সকল নেক আমলের পেছনে একটিই লক্ষ্য, মৃত্যুর পরে সে যেন আল্লাহর ক্ষমা ও জান্নাত পায়। জান্নাতের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য ও জাহান্নামের ভয়াবহ আজাব সম্পর্কে সে পুরোপুরি অবহিত; তাই মৃত্যুকে নয়, জাহান্নামের আজাবকে সে ভয় পায়।

মুমিনের মৃত্যু মানে রবের সান্নিধ্যে
মুমিন হয় সাহসী, চলার পথে সব ধরনের সতর্কতা ও সাবধানতা অবলম্বন করে সে তার নির্দিষ্ট লক্ষ্যপানে এগিয়ে যায় এবং সে জানে মৃত্যুর বিষয়টি একান্তই আল্লাহর হাতে। আল্লাহর বাণী, ۗ وَاللَّهُ يُحْىِۦ وَيُمِيتُ ۗ وَاللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ بَصِيرٌ আল্লাহ জীবন দান করেন ও মৃত্যু দেন। আর তোমরা যা কর আল্লাহ সে বিষয়ে সম্যক দ্রষ্টা- সূরা আলে-ইমরান:১৫৬ । সে আরো জানে, যুদ্ধ-বিগ্রহ ও রোগ-মহামারি কোনো কিছুই তাকে মৃত্যু দিতে পারে না, যদি আল্লাহ না চান এবং মৃত্যুর সময় সুনির্দিষ্ট। আল্লাহর কথা,

وَمَا كَانَ لِنَفْسٍ أَن تَمُوتَ إِلَّا بِإِذْنِ اللَّهِ كِتٰبًا مُّؤَجَّلًا ۗ وَمَن يُرِدْ ثَوَابَ الدُّنْيَا نُؤْتِهِۦ مِنْهَا وَمَن يُرِدْ ثَوَابَ الْءَاخِرَةِ نُؤْتِهِۦ مِنْهَا ۚ وَسَنَجْزِى الشّٰكِرِينَ -আর কোন প্রাণী আল্লাহর অনুমতি ছাড়া মারা যায় না, তা নির্দিষ্টভাবে লিখিত আছে। আর যে দুনিয়ার প্রতিদান চায়, আমি তা থেকে তাকে দিয়ে দেই, আর যে আখিরাতের বিনিময় চায়, আমি তা থেকে তাকেও দেই এবং আমি অচিরেই কৃতজ্ঞদের প্রতিদান দেব। সূরা আলে-ইমরান:১৪৫

সুরা আল ইমরানের বেশ কিছু আয়াত আমি এখানে উদ্ধৃত করেছি। মূলত এই অংশটি ওহুদ যুদ্ধের পরবর্তী সময়ে অবতীর্ণ এবং এসব আয়াতে সেই যুদ্ধেরই পর্যালোচনা করা হয়েছে। আল্লাহপাক আমাদের তাঁরই সৃষ্ট এক অদৃশ্য শক্তি করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে এক যুদ্ধে নামিয়ে দিয়েছেন। সেই যুদ্ধের সৈনিক হচ্ছে দেশের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, ডাক্তার-নার্স, ত্রাণকর্মী-স্বেচ্ছাসেবক এবং তাদের সহযোগী হলেন দেশের জনগণ।

বিপদ মানুষের পাপের প্রতিফলন
মহামারি, ভূমিকম্প, জলোচ্ছাস বা বিপদ- মুসিবত যাই বলি, তা নিজ থেকে আসে না, আসে আল্লাহর পক্ষ থেকে।আল কুরআনে, مَآ أَصَابَ مِن مُّصِيبَةٍ إِلَّا بِإِذْنِ اللَّهِ ۗ وَمَن يُؤْمِنۢ بِاللَّهِ يَهْدِ قَلْبَهُۥ ۚ وَاللَّهُ بِكُلِّ شَىْءٍ عَلِيمٌ আল্লাহর অনুমতি ছাড়া কোন বিপদই আপতিত হয় না। যে আল্লাহর প্রতি ঈমান আনে, আল্লাহ তার অন্তরকে সৎপথে পরিচালিত করেন। আল্লাহ প্রত্যেক বিষয়ে সর্বজ্ঞ-সূরা আত-তাগাবুন:১১।

আল্লাহর ভাষায়, এসবই আমাদের হাতের কামাই। মানুষ যখন সীমালঙ্ঘন করে এবং জমিনে অশ্লীলতা ও পাপাচার বেড়ে যায় তখন আল্লাহ তাঁর বান্দাদের সতর্ক করার জন্য নানাবিধ বালা-মুসিবত দিয়ে থাকেন। করোনা ভাইরাস সমগ্র বিশ্বকে নাড়া দিয়েছে। লক্ষ লক্ষ মানুষ আক্রান্ত হয়েছে এবং ইতোমধ্যেই লাখের কাছে মানুষ মারা গেছেন। মানুষ তার জ্ঞান-বুদ্ধি ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে এটিকে প্রতিরোধ করার চেষ্টা করছে। একজন বিশ্বাসী হিসেবে আমরা বিশ্বাস করি, এই বিপদ আল্লাহর পক্ষ থেকে, তাই বৈষয়িক সকল ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি আমাদের আল্লাহরই কাছে ফিরে আসতে হবে।

রবের পক্ষ থেকে সতর্কতা
প্রশ্ন উঠতে পারে, মহামারি যেহেতু আল্লাহর পক্ষ থেকে, সেহেতু সব কিছু থেকে মুখ ফিরিয়ে আমরা আল্লাহর কাছে ধর্ণা দিতে পারি এবং নামাজ, রোজা ও দোয়া-দরুদের মাধ্যমে তাঁর কাছে সাহায্য কামনা করতে পারি। কিন্তু এটি আল্লাহর সুন্নাহর (নিয়ম) বিপরীত। মানুষ তো আল্লাহরই প্রতিনিধি।

তাকে জ্ঞান-বুদ্ধি ও যোগ্যতা দিয়ে সকল সৃষ্টির ওপর ক্ষমতাবান করা হয়েছে। এজন্য প্রয়োজন তাঁর সৃষ্টি নিয়ে চিন্তা-ভাবনা ও গবেষণা করা। পৃথিবীতে যত রোগ-ব্যাধি আছে, আল্লাহ তার আরোগ্যেরও ব্যবস্থা রেখেছেন। সকল চেষ্টা-প্রচেষ্টার পাশাপাশি যারা নিজেদেরকে আল্লাহর কাছে সঁপে দিতে পারবে তারাই সফলকাম এবং তারাই হবে সৌভাগ্যের অধিকারী।

করোনা ভাইরাস একটি সংক্রামক ব্যাধি। ফলে মানুষ ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পড়ছে। কোনো বাসায় কেউ করোনায় আক্রান্ত হলে তার সকল প্রিয়জন তার থেকে পালিয়ে যাচ্ছে; এমন কি দাফন-কাফনেও শরীক হতে রাজী হচ্ছে না। আখিরাতের সেই চিত্রই যেন পরিস্ফুট হচ্ছে। সেদিন আপনজনরা একে অপর থেকে পালাবে। এই করোনা ভাইরাস আল্লাহর অনেক বান্দাকে পাপ-পঙ্কিলতা থেকে ফিরিয়ে এনেছে এবং অনেকে মানবতার সেবায় আত্মনিয়োগ করে নেকির পাল্লাকে ভারি করতে সক্ষম হয়েছে।

বিপদে অগ্রগামীদের মৃত্যু
করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসা ও সেবা-যত্ন এবং ত্রাণ বিতরণ সবই ঝুঁকিপূর্ণ। ঝুঁকিপূর্ণ বলেই সেখানে গেলে কি কারো মৃত্যু অনিবার্য? মোটেই না, মৃত্যুর ফয়সালাটা সম্পূর্ণ আল্লাহর এখতিয়ারে। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ বলেন, ۗ قُل لَّوْ كُنتُمْ فِى بُيُوتِكُمْ لَبَرَزَ الَّذِينَ كُتِبَ عَلَيْهِمُ الْقَتْلُ إِلٰى مَضَاجِعِهِمْ ۖ وَلِيَبْتَلِىَ اللَّهُ مَا فِى صُدُورِكُمْ وَلِيُمَحِّصَ مَا فِى قُلُوبِكُمْ ۗ ‘তোমরা যদি তোমাদের ঘরে থাকতে তাহলেও যাদের ব্যাপারে নিহত হওয়া অবধারিত রয়েছে, অবশ্যই তারা তাদের নিহত হওয়ার স্থলের দিকে বের হয়ে যেত।

আর যাতে তোমাদের মনে যা আছে আল্লাহ তা পরীক্ষা করেন এবং তোমাদের অন্তরসমূহে যা আছে তা পরিষ্কার করেন। আর আল্লাহ তোমাদের অন্তরের বিষয় সম্পর্কে পূর্ণ জ্ঞাত’-সূরা আলে-ইমরান:-১৫৪। আল্লাহ আরো বলেন, الَّذِينَ قَالُوا لِإِخْوٰنِهِمْ وَقَعَدُوا لَوْ أَطَاعُونَا مَا قُتِلُوا ۗ قُلْ فَادْرَءُوا عَنْ أَنفُسِكُمُ الْمَوْتَ إِن كُنتُمْ صٰدِقِينَ যারা তাদের ভাইদেরকে বলেছিল এবং বসেছিল, ‘যদি তারা আমাদের অনুকরণ করত, তারা নিহত হত না’। বল, ‘তাহলে তোমরা তোমাদের নিজ থেকে মৃত্যুকে দূরে সরাও যদি তোমরা সত্যবাদী হও’-সূরা আলে-ইমরান:১৬৮। মৃত্যু সম্পর্কে আল্লাহর স্পষ্ট উল্লেখ, এটি একান্তই তাঁর ইচ্ছাধীন। এখানে অন্য কারো কোনো অংশ নেই। তাই নিজেদের পক্ষ থেকে সাধ্যমত সুরক্ষা গ্রহণ করেই এই পরিস্থিতির মোকাবেলা করতে হবে।

আল্লাহর বান্দাদের কল্যাণে যারা এগিয়ে আসবে তাদের সুরক্ষা দানের দায়িত্ব একান্তই আল্লাহর। কারণ রব হিসেবে সমগ্র সৃষ্টির লালন- পালন ও পরিচর্চার দায়িত্ব আল্লাহর এবং তাঁর পক্ষে যারা এ দায়িত্ব পালন করবে তারা যথার্থই তাঁর খলিফা বা প্রতিনিধি।

🤔🤔কুমারীত্ব সম্পর্কে বাইবেলের শিক্ষা !!Deuteronomy 22:13-21

13 “একজন পুরুষ কোন স্ত্রীলোককে বিবাহ করে তার সাথে য়ৌন সম্পর্ক স্থাপন করার পরে মনস্থ করতে পারে সে তাকে আর চায না|
14 সেই জন্য সে মিথ্যাভাবে বলতে পারে, ‘আমি এই স্ত্রীলোকটিকে বিবাহ করেছিলাম বটে কিন্তু য়ৌন সহবাসের সময় দেখলাম য়ে সে কুমারী নয়|’ এই বলে সে সেই স্ত্রীলোকটির উপর দুর্নাম আনতে পারে|
15 এই রকম ঘটলে মেয়েটির পিতা-মাতা সেই মেয়েটির কুমারীত্বের প্রমাণ নিয়ে নগরের প্রবীণদের সাথে নগরের সভাস্থলে উপস্থিত হবে|
16 মেয়েটির পিতা প্রবীণদের বলবেন, ‘আমি আমার মেয়েকে এই লোকটির হাতে তার স্ত্রী হিসাবে দিয়েছিলাম কিন্তু এখন সে তাকে পছন্দ করে না|
17 এই লোকটি আমার মেয়ের নামে মিথ্যা বলেছে| সে বলেছে, “তোমার মেয়ে কুমারী ছিল না|” কিন্তু এই দেখুন আমার মেয়ে য়ে কুমারী তার প্রমাণ|” এই বলে তারা কাপড়টি নগরের প্রবীণদের দেখাবে|
18 তখন সেই নগরের প্রবীণরা অবশ্যই সেই লোকটিকে নিয়ে গিয়ে শাস্তি দেবে|
19 তারা অবশ্যই লোকটির জন্য40 আউন্স রৌপ্য় জরিমানা করবে| সেই টাকা য়েন মেয়েটির পিতাকে দেওয়া হয়, কারণ মেয়েটির স্বামী একজন ইস্রায়েলীয় কুমারীর উপর দুর্নাম এনেছে| আর সেই মেয়েটি সেই লোকটির স্ত্রী হয়েই থাকবে| সেই লোকটি তার জীবনকালে তাকে বিবাহ বিচ্ছেদ দিতে পারবে না|
20 “কিন্তু এও হতে পারে য়ে মেয়েটির স্বামী তার সম্বন্ধে যা বলেছে তা সত্য| স্ত্রীলোকটির মাতা-পিতার কাছে তার কুমারীত্বের প্রমাণ নাও থাকতে পারে|
21 যদি তাই ঘটে তবে নগরের প্রবীণরা সেই মেয়েটিকে নিয়ে তার পিতার বাড়ীর দরজায আসবে| তারপর সেই নগরের লোকরা মেয়েটিকে পাথর মেরে হত্যা করবে| কারণ ইস্রায়েলের মধ্যে সে লজ্জাজনক কাজ করেছে| সে পিতার বাড়ীতে বেশ্যার মতো ব্যবহার করেছে| তুমি তোমার লোকদের মধ্যে থেকে এইভাবে দুষ্টাচার দূর করবে|

সুধের লেখক এর আমলনামায় প্রতিদিন ৩৬ টা জেনা করার আমল লিপিবদ্ধ করা হয়।

🟦🟥দীর্ঘ পঁচিশ বছর অক্লান্ত পরিশ্রম করে পড়াশোনা করার পর আপনি যে সুদি ব্যাংক অথবা সুদী প্রতিষ্ঠানে চাকরির জন্য দৌড়াচ্ছেন, কষ্ট করছেন, এবং ঘুষ দিচ্ছেন ও লোকজন ধরছেন । সেখানে আপনার চাকরির উপর আল্লাহ এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু ওয়া সাল্লাম লানত করে গেছেন।
অর্থাৎ অভিসম্পাত করে গেছেন।।
আর আল্লাহ ও রাসুল এর অভিশাপ যেখানে থাকে সেখানে সমস্ত সৃষ্টি কুলের অভিশাপ থাকে।।
আর যাদের উপর আল্লাহর অভিশাপ থাকে তাদের দুনিয়া এবং আখেরাত দুটোই বরবাদ হয়ে যায়।।
🟦🟥একটি সহিহ হাদিসের স্পষ্ট এসেছে যে, সুদের লেখক এর উপর প্রতিদিন সুদের হিসাব লেখার জন্য ৩৬ টি জেনা করার পাপ তার আমলনামায় লিপিবদ্ধ করা হয়।।
আর যারা সুদী প্রতিষ্ঠানে বা সুদী ব্যাংকে চাকরি করে তারা সুদের চারটি গুনাহের সাথেই সরাসরি জড়িত।
অর্থাৎ সুদের দাতা, সুদের গ্রহীতা, সুদের লেখক, এবং সুদের সাক্ষী।
হয়তো এখানে কেউ বলতে পারে যে, তারা তো শুধু লিখে রাখে কিন্তু তারা তো সুদ খায় না অথবা সুদ দেয় না।
👉👉বিষয়টি একটু গভীর থেকে দেখলেই বুঝতে পারবেন যে প্রত্যেকটা সুধী প্রতিষ্ঠানের প্রত্যেক নিয়োগকৃত ব্যক্তি সুদের চারটি গুনাহের সাথে জড়িত।।

👉👉প্রথমত যারা সুদি ব্যাংকে চাকরি করে তারা সুদের গ্রহীতা বা তারা সুদ খায়, এক কথায় সুদখোর।।
তারা সরাসরি সুদ না খেলেও তারা মালিক কে বা ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে সুদ খাওয়ার জন্য বিভিন্নভাবে সাহায্য করে থাকে।
এবং সেই মালিকের প্রাপ্ত সুদের টাকা থেকেই তাদের বেতন বোনাস ইত্যাদি সবকিছু দেওয়া হয়।।অর্থাৎ সুদী ব্যাংক বা সুধী প্রতিষ্ঠানে চাকরি করে পাওয়া টাকা সরাসরি সুদের।।
অতএব যারা সুদী ব্যাংক বা সুধি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করে এবং বলে থাকে যে আমরা তো সুদ খাই না শুধুমাত্র সুধী প্রতিষ্ঠানে চাকরি করি, তাদের কথাটা খুবই হাস্যকর কারণ তারা সুদ খায় না কিন্তু সুদের থেকে প্রাপ্ত টাকা বেতন খায়।
কথাটা এমন যে, “ভাই আমি চুরি করি না শুধু না বলে নিয়ে আসি”।।
অথবা “আমি তো কাঁঠাল খাই না বরং কাঁঠালের খোশ খাই”⁉️
👉👉দ্বিতীয়তঃ যারা সুধী ব্যাংকে চাকরি করে তারা সুদের দাতা।
অর্থাৎ তারা টাকা গ্রহণ করে সেই টাকার বিপরীতে সুদ দিয়ে থাকে।
তা কিভাবে??
এটা সকলেই জানে যে প্রত্যেকটি ব্যাংকের কর্মকর্তা কর্মচারীর জন্য সহজ শর্তে ঋণ নেওয়ার একটা অপশন সব সময়, সকল ব্যাংকে ও অর্থলগ্নী প্রতিষ্ঠানে খোলা থাকে এবং ব্যাংকের শতভাগ কর্মকর্তা-কর্মচারী বিভিন্ন সময়ে, বিভিন্ন অকেশনে তারা ব্যাংক থেকে এই সুবিধা নিয়ে থাকেন।। অর্থাৎ ঋণ নিয়ে থাকেন।।
তবে যেকোনো ব্যাংক বা অর্থ রোগী প্রতিষ্ঠান তাদের নিজস্ব কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ঋণ দিলেও কিন্তু শতভাগ সুদ মুক্ত ঋণ দেয় না বরং তারা সহজ শর্ত ও স্বল্প সুদে ঋণ দিয়ে থাকে।।
আপনি এমন একজন ব্যাংকে কর্মকর্তা বা কর্মচারী দুনিয়াতে খুঁজে পাবেন না যারা কোন না কোন সময় ব্যাংক থেকে নিজেদের প্রয়োজনে ঋণ নেয়নি।।
অতএ ব তারা স্বল্প মেয়াদে হোক কিংবা দীর্ঘ মেয়াদে হোক অথবা অল্প টাকার হোক কিংবা বেশি টাকার হোক তারা কিন্তু সরাসরি সুদের দাতা।।।

👉👉তৃতীয়তঃ যারা সুদি ব্যাংকে চাকরি করে তারা সুদের সরাসরি লেখক।
আশা করি এই বিষয়টি আর ব্যাখ্যা করার প্রয়োজন পড়বে না কেননা ব্যাংকে যারা চাকরি করে এমনকি ব্যাংকের সিকিউরিটি পর্যন্ত কতজন লোক আসা-যাওয়া করলো তা লিখে রাখে অর্থাৎ সুদী কারবারের সাথে জড়িত প্রত্যেকটি লোক সুদের লেখক হিসাবে গণ্য কেননা প্রতিদিন তারা কিছু না লিখে থাকে এবং তাতে সুধি প্রতিষ্ঠান লাভবান হয়।।

👉👉 চতুর্থতঃ যারা সুদি ব্যাংকে চাকরি করে তারা সরাসরি সুদের সাক্ষী।
আশা করি এটাও ব্যাখ্যার প্রয়োজন পড়বে না কেননা আর সাক্ষী ওই ব্যক্তিকে বলা হয় যারা নিজ চোখে তা দেখে এবং তা গ্রহণ করে।
শুধুই ব্যাংকের বা সুদি অর্থলোগ্নী প্রতিষ্ঠানের প্রত্যেকটা কর্মকর্তা কর্মচারী যারা সুদ গ্রহণ করে বা যারা সুদ দিয়ে থাকে তাদের ব্যাপারে সাক্ষী হিসেবে নিচে সিগনেচার করে থাকেন।।
এমনকি বর্তমানে প্রতিটা ব্যাংক সিসিটিভি দ্বারা পরিচালিত হয় তাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা করে সিসিটিভির অপারেটর যদিও এক অক্ষরে না লিখে রাখে তথাপিও সে হলো সবচেয়ে বড় সুদের সাক্ষী।।

মোটকথা যারা শুনি ব্যাংকের সাথে অথবা সুধী অর্থলগ্নী প্রতিষ্ঠানের সাথে প্রত্যক্ষ হোক কিংবা পরোক্ষ হোক অথবা সমর্থক হিসেবে হোক যে কোনোভাবেই জড়িত থাকুক তারা প্রত্যেকেই সুদের একটা গুনাহের সাথে বা একাধিক গুনাহের সাথে লিপ্ত এবং তারা প্রত্যেকেই জেনার শাস্তির যোগ্য।।
সুদের সর্বোচ্চ গুনাহের তুলনা হলো, কেউ যদি এক টাকা বা এক দিরহাম সুদ খায় তবে তার আমলনামায় ৭০ বার জেনা করার গুনাহ লিপিবদ্ধ করা হয়।।
আরো একটি হাদিসে এসেছে যে কেউ যখন সুদ খায় তখন তার আমলনামায় সেই সুদের সম্পূর্ণ টাকা ফিরিয়ে দেওয়ার পূর্ব পর্যন্ত নিজের মাকে বিবাহ করার এবং নিজের মায়ের সাথে জেনা করার গুনাহ লেখা হতে থাকে।।
শুধু সুদের লেখক এর আমলনামায় ৩৬ জন নারীকে প্রতিদিন যেনা করার গুনাহ লেখা হয়ে থাকে।।।

একটা মানুষ হত চেষ্টা করেও প্রতিদিন ৩৬ জন কিংবা ৭০ জন নারীর সাথে জেনা করতে পারবেনা অথচ তারা শুধুমাত্র অল্প একটু দুনিয়াবী সুযোগ-সুবিধা লাভের প্রত্যাশায় সুধি অর্থ লগ্নী প্রতিষ্ঠান ও সুধী ব্যাংকে চাকরি করে প্রতিদিন ৩৬ থেকে ৭০ জন নারীর সাথে জেনা করার গুনাহের ভাগীদার হয়ে যাচ্ছে।।
নাউজুবিল্লাহ।।
লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ।।
আল্লাহ আমাদেরকে এবং আমাদের সন্তান-সন্ততি কিয়ামত পর্যন্ত ও আমাদের আত্মীয়-স্বজনকে যে কোন সুধী ব্যাংক বা সুধি প্রতিষ্ঠানের চাকরি করা থেকে বিরত রাখুন আমিন ইয়া রাব্বানা আলামিন।।

উল্লেখ্য যে এখানে আমি আরবি এ ভারত কিংবা কোন হাদিস সরাসরি উল্লেখ করিনি কারণ এই হাদীসগুলো এত বেশি প্রচলিত যে সকলেই জানে।

তাছাড়া আপনারা যে কেউ সুদের শাস্তি কিংবা সুদ সম্পর্কিত যে কোন আর্টিকেলের জন্য একটু গুগলে সার্চ করলেই সবকিছু পেয়ে যাবেন সকল দলিল গুলি পেয়ে যাবেন। আমি শুধু এখানে একটা ভুল বুঝাবুঝির অবসান ঘটাতে চেষ্টা করেছি যে কিছু লোক আছে যারা শুধু ব্যাংকে চাকরি করছেন আর বলছেন আমরা সুদ খাই না আবার তারা হজও করছেন যাকাতও দিচ্ছেন মসজিদের সভাপতি ও হচ্ছেন আবার মানুষকে দান করছেন।।

ভারতীয় একজন নওমুসলিমকে জিজ্ঞাসা করা হলো, আপনি কেন মুসলিম হলেন??

এরা হলো হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে উচুস্তরের ধর্মগুরু!!

কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম এস সি পাশ করা একজন নওমুসলিমকে জিজ্ঞাস করা হয়েছিল আপনি কি দেখে মুসলিম হলেন।

তিনি জবাবে বললেন, হিন্দুদের যারা পূজনীয় ব্যক্তি তাদের আদর্শ যদি পৃথিবীর সর্বত্র বাস্তবায়ন করা হত তাহলে আজ সমাজের অবস্থা কি দাড়াত তা দেখে আমি মুসলমান হয়েছি।

প্রতি হিন্দু যদি আজ শ্রীকৃষ্ণের চরিত্র ধারণ করে যুবতী মেয়েদের কাপড় নিয়ে গাছে উঠে বসে থাকে তাহলে সমাজের অবস্থা কি দাড়াত তা দেখেই আমি মুসলমান হয়েছি।

হিন্দু ধর্মের দেবতাদের কথাগুলা কাগজেকলমে লিখাও লজ্জাকর। যেমন এই বিংশশতাব্দীতেও শীবের লিঙ্গের পূজার ন্যায়ও দৃষ্টান্ত পাওয়া যায়।মা বাবা ভাই বোন আত্মীয় স্বজন একসাথে লিঙ্গের উপর ভক্তি করে।এটা খুবি লজ্জা লাগে।এগুলা কি কোন ধর্মীয় কাজ হতে পারে?
আমি এসব দেখতে পারব না বলেই মুসলমান হয়েছি।

আপনি ধ্রুপদীর কথা চিন্তা করুন।একজন মহিলাকে পাচ ভাই স্ত্রীর দাবী করে।আবার সেটাকে হিন্দু ধর্মের লোকেরা তাদের জন্য খুব গৌরবের কাজ মনে করে।এটা নিয়ে তারা খুব গর্ববোধ করে।এসব ভেবে আমি আর হিন্দু ধর্মে থাকতে পারি নাই।

আমি চিন্তা করেছি যে কোথায় হিন্দুদের ভগবান দেবতাদের লীলা আর কোথায় মুসলমানদের নবী রাসুল গণের চরিত্র।আমি এসব চিন্তা ভাবনা করে আর হিন্দু থাকতে পারিনি।

ইসলামের দৃষ্টিতে সত্যিকারের পূণ্যবান ব্যক্তি হচ্ছেন যারা দ্বীনের কথা বলে,আল্লাহর কালাম যারা প্রচার করে। দ্বীন সম্পর্কে তাদের জ্ঞান যথেষ্ট। তাদের চলাফেরা, পোষাক, পাক পবিত্রতা থাকা তাদের ধর্মীয় আদেশ এবং তারা কেউ সংসার ত্যাগী নন।
ইসলামে কাউকে সংসার ত্যাগী হতে বলে না।আমি সম্পুর্ণ কোরআন স্টাডি করেছি,এমন কোনো তথ্য আজও পাইনি।

অন্যদিকে আপনি হিন্দু সাধুদের অবস্থা দেখুন।হিন্দু ধর্মের বেশিরভাগ সাধুদের ধর্মীয়জ্ঞান নেই।অশিক্ষিত, গেরুয়া বসন পরিধানকারী, চিমটাধারী সংসারত্যাগী, ল্যাংটা, শ্মশানে বসবাসকারী। যাদের সঙ্গে কিছু বিধবা নারী কদুর বস হাতে নিয়ে শ্মশানে একত্রে বসবাস করে। কলকাতার কালী মন্দিরের চেহারা তো আরো ভয়ঙ্কর। সেখানের সাধুরা মেয়েদের ন্যায় মাথায় লম্বা চুল রাখে আর সমস্ত শরীরে ছাই মেখে উলঙ্গ হয়ে পড়ে থাকে।সকল হিন্দুরা এসে তাদের কাছ থেকে আর্শীবাদ নিতে আসে।

এসব আমার কাছে পছন্দ হয়নি,বরং এটা সম্পুর্ণ একটা কুসংস্কার, ভ্রান্ত,পথভ্রষ্ট হওয়ার একটা সহজ মাধ্যম। এগুলা দেখে ইসলাম গ্রহণ করেছি। আলহামদুলিল্লাহ
তথ্যসূত্রঃ- বই , সত্যের ডাক
পৃষ্ঠা নং-৬৪

আল্লাহ

আল্লাহকে নিরাকার বা আকার কোনটাই বলা উচিৎ নয়।
আসুন জেনে নিই কোরআন ও হাদিসের আলোকে।

“যে তার প্রতিপালকের দেখার কামনা করে, সে যেন উত্তম কাজ করে।”( সূরা আল কাহফ ১৮, আয়াত ১১০)।

“হে মানুুষ! তুমি তোমার প্রতিপালকের নিকট পৌছানো পর্যন্ত সাধনা করতে থাক, অতঃপর তুমি তার দেখা লাভ করবে “। (সূরা আল ইনশিকাক ৮৪ : আয়াত নং৬)।

“তিনি (আল্লাহ) আদি, তিনি অন্ত, তিনি প্রকাশ্য, তিনি গোপন, তিনি সব কিছুই অবগত আছেন।” ( সূরা – আল হাদীদ, আয়াত নং ৩) ।

” আল্লাহর আধিপত্য পূর্বে ও পশ্চিমে, অতঃপর তোমরা যেদিকে মুখ ফিরাও সেদিকেই আল্লাহর চেহারা বিদ্যমান “। ( সূরা আল বাকারা, আয়াত নং ১১৫ ) ।

” স্মরণ কর সে দিনের কথা, যেদিন পায়ের গোছা উন্মোচিত হবে এবং তাদেরকে সেজদা করার জন্য আহবান করা হবে, কিন্তু তারা তা করতে সক্ষম হবে না। হীনতাগ্রস্হ হয়ে তারা তাদের দৃষ্টি অবনত করবে, অথচ যখন তারা নিরাপদে ছিল, তখন তো তাদেরকে সিজদা করার জন্য আহবান করা হয়েছিল “। ( সূরা আল কালাম, আয়াত নং ৪২ ও ৪৩ )।

” তারপর যখন সে আগুনের কাছে আসলো তখন তাকে ডেকে বলা হলো – হে মুসা ! নিশ্চয় আমিই তোমার প্রতিপালক। অতএব তুমি তোমার জুতা খুলো, কারণ তুমি এখন পবিত্র তোয়া উপত্যকায় রয়েছে “। ( সূরা তোয়াহা, আয়াত নং ১১ ও ১২ )।

” যখন মুসা আগুনের কাছে পৌছলো তখন উপত্যকার ডান পাশের পবিত্র স্হানের একটি বৃক্ষ থেকে তাকে ডেকে বলা হলো – হে মুসা ! আমি আল্লাহ, বিশ্ব জগতের প্রতিপালক “। ( সূরা আল কাসাস, আয়াত নং ৩০ )।

” প্রত্যেকটি বিষয় নির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতকাল পর্যন্ত আবর্তিত হয়, আল্লাহ প্রত্যেকটি বিষয়কে পরিচালিত করেন এবং নিদর্শনাবলী বর্ণনা করেন, যাতে তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের সাথে সাক্ষাৎ সম্বন্ধে নিশ্চিত বিশ্বাস করতে পার “। ( সূরা আর রাদ, আয়াত নং ২ )।

” যে আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ লাভের আশা রাখে তার জন্য সেই নির্দিষ্ট সময় অবশ্যই আসবে। তিনি সব শোনেন ও জানেন “। ( সূরা আল আনকাবুত, আয়াত নং ৫ )।

” আল্লাহর সাক্ষাৎ যারা অস্বীকার করেছে তার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং তারা সৎপথ প্রাপ্ত ছিল না “। ( সূরা ইউনুস, আয়াত নং ৪৫)।

” যারা আমার দর্শন লাভ করার আকাংখা করে না এবং পার্থিব সম্পদ পেয়েই খুশী আছে এবং যারা আমার নিদর্শন হতে উদাসীন রয়েছে তাদের বাসস্থান অগ্নিপূর্ণ জাহান্নাম “। ( সূরা ইউনুস, আয়াত নং ৭ ও ৮ )।

” সুতরাং, যারা আমার দর্শন লাভের আকাংখা করে না তাদেরকে আমি বিদ্রোহাচরণের মধ্যে অন্ধভাবে বিচরণ করা অবস্হায় পরিত্যাগ করবো “। ( সূরা ইউনুস, আয়াত নং ১১ )।

” তিনি ঐ জ্যোতি দ্বিতীয়বার দেখেছেন। সিদরাতুল মুনতাহার নিকটে “। ( সূরা আন নাজম, আয়াত নং ১৩ ও ১৪ )।

” আমি (আল্লাহ) তোমাদের দিলে ( ক্বালবের ৭ম স্তর নফসীর মাকামে) অবস্থান করি, তোমরা কি দেখ না “? ( সূরা আয যারিয়াত, আয়াত নং ২১ )।

” নিশ্চয় আল্লাহ মানুষের ক্বালব এবং তার সীমারেখার মধ্যে ঘুরাফিরা করেন “। ( সূরা আল আনফাল, আয়াত নং ২৪ )।

” যখন আমি তাকে (আদমকে) সুঠাম করব এবং তার মধ্যে আমার রুহ ফুঁকে দেব, তখন তোমরা তার প্রতি সেজদাবনত হবে “। ( সূরা সোয়াদ, আয়াত নং ৭২ )।

” আমি (আল্লাহ) আমার রুহ থেকে আদমের ভিতরে রুহ ফুঁকে দিলাম “। ( সূরা আল হিজর, আয়াত নং ২৯ )।

” তুমি যেদিকে তাকাও সেদিকেই আল্লাহর চেহারা মোবারক বিদ্যমান রয়েছে “। ( সূরা আল বাকারা, আয়াত নং ১১৫ )।

” ভূপৃষ্ঠে যা কিছু আছে সমস্তই নশ্বর, কেবল অবিনশ্বর তোমার প্রতিপালকের চেহারা, যিনি মহিমাময়, মহানুভব “। ( সূরা আর রাহমান, আয়াত নং ২৬ ও ২৭ )।

” আমি তার (মানুষের ) শাহরগের চেয়েও নিকটে “। ( সূরা ক্বাফ, আয়াত নং ১৬ )। হযরত দয়াল রাসূল পাক (সঃ) বলেন ,

” আমাদের প্রভু তার পায়ের গোছা উন্মোচন করে দেবেন, অতঃপর প্রত্যেক বিশ্বাসী পুরুষ ও নারী তাকে সেজদা করবে”। বোখারী শরিফ, ২য় খন্ড, পাতা ৭৩১।

” আমি গুপ্ত ধনাগার ছিলাম, নিজে পরিচিত হওয়ার বাসনা করলাম, তাই পরিচিত হওয়ার জন্য বিশ্বজাহান সৃষ্টি করলাম “। ( সিররুল আসরার, পৃষ্ঠা নং ১০ )।

” নিশ্চয় আল্লাহ আদমকে তার নিজ সুরতে সৃজন করেছেন “। ( মেশকাত শরিফ, পৃষ্ঠা নং ৩৯৭ )।

” আমি আমার প্রতিপালককে যুবকের আকৃতিতে দেখেছি “। ( শরহে ফিকহে আকবার, পৃষ্ঠা নং ২১৬ )।

” শীঘ্রই তোমরা তোমাদের প্রভুকে পূর্ণিমার চাঁদের মত উজ্জ্বলতর দেখতে পাবে “। ( বোখারী শরীফ ২য় খন্ড, পৃষ্ঠা নং ১১০৫ এবং তিরমিযী শরীফ ২য় খন্ড, পৃষ্ঠা ৮২ )।

” আমার প্রভুকে আমি অতি উত্তম সুরতে দেখেছি “। ( তাফসীরে রুহুল বয়ান ৯ম খন্ড, পৃষ্ঠা নং ২২২ এবং তাফসীরে দুররে মানছুর ২৭তম খন্ড, পৃষ্ঠা নং ৬৪৭ )।

” আমি আমার প্রভুকে দাড়ি- গোফ বিহীন যুবকের আকৃতি বিশিষ্ট দেখেছি “। ( সিররুল আসরার, পৃষ্ঠা নং ৬৮ )।

” মেরাজ রজনীতে আমি আমার প্রতিপালককে কোকড়ানো চুল বিশিষ্ট যুবকের ন্যায় দেখেছি “। ( সিররুল আসরার, পৃষ্ঠা নং ৪৫ ) । হযরত মাওলা আলী বলেন,

” আমি এমন প্রভুর ইবাদত করি না যাকে আমি দেখি না “। ( তিরমিযী শরিফ ও সিররুল, পৃষ্ঠা নং ৬৫ )।

” যে নিজের নফসকে চিনতে পেরেছে, সে তার প্রভুকে চিনতে পেরেছে “। ( সিররুল আসরার, পৃষ্ঠা নং ১৮ )।

হানাফী মাযহাবের ইমাম হযরত আবু হানিফা (রহঃ)
বলেছেন,

” আমি মহান প্রতিপালককে (আল্লাহকে) স্বপ্নে ৯৯ বার দর্শন করেছি “। ( শরহে ফেকহে আকবর, পৃষ্ঠা নং ২১৬ )।

হাম্বল মাযহাবের ইমাম হযরত ইবনে হাম্বল (রহঃ) বলেন,

” আমি মহান প্রতিপালক ( আল্লাহ) কে স্বপ্নে দেখেছি।
এসব পর্যালোচনা করলে আল্লাহর আকার আছে মনে হলেও আসলে এগুলো রহস্যময় আয়াত।এগুলো দিয়ে আল্লাহর আকার আছে তা বলা উচিত হবে না।কারন আল্লাহ বলেছেন,তিনি কারও মত নন,কেউ তার সমতুল্য নেই,কিছুই নেই।