একজন ঈমানদার ব্যক্তি আল্লাহ তায়ালার উপর পুর্ণ আস্হা ও বিশ্বাস এবং সকল ক্ষমতার উৎস মহান আল্লাহ তায়ালা এমন বিশ্বাস পোষণ না করলে সে কখনো মুসলমানই হতে পারে না।মহাগ্রন্হ আলকোরানে বলা হয়েছে,”আসমান ও জমীনের মধ্যে যা কিছু রয়েছে এর মালিকানা ও সার্বভৌমত্ব আল্লাহর জন্য”।কিন্তু সেক্যুলার আইনে আল্লাহর মালিকানা ও সার্বভৌমত্ব অস্বীকার করা হয়।
সেক্যুলার আইনে মালিকানা ও সার্বভৌমত্ব শুধু জনগণের বলে স্বীকার করা হয়।ফলে সংখ্যাগরীষ্ঠ মুসলিম দেশের আদালত উক্ত অপরাধে একটা প্রতিষ্ঠিত প্রাচীন ইসলামী দলের নিবন্ধন বাতিল করে দিল।দেশটা মুসলিম হলেও এর বিচার ব্যবস্হা ও শাসন কাঠামো সেক্যুলার আইনে পরিচালিত হচ্ছে।এখন সংখ্যাগরীষ্ট মুসলমানেরা সকল ক্ষমতার উৎস মহান আল্লাহ তায়ালা এবং এর মালিকানা ও সার্বভৌমত্ব একমাত্র আল্লাহর জন্য।
আর এই মালিকানা ও সার্বভৌমত্ব আল্লাহর পক্ষে তার নেককার সৎ বান্দারা প্রয়োগ করবেন এবং এই বিশ্বাস রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রতিষ্ঠা করার জন্য লড়াই করতে হবে।প্রত্যেক মুসলমান যার পরিপুর্ণ ঈমান ও সবর তাওয়াক্কুল রয়েছে তারা উক্ত নাফরমানির বিরুদ্ধে কাজ করতে হবে।সেক্যুলারিজম আদর্শটা ইসলামের বিপরীত মতাদর্শ এবং একটা মুসলিম জাতির বিশ্বাস ও সংস্কৃতির সাথে সম্পুর্ন সাংঘর্ষিক। এজন্যই সেক্যুলার আইন ও শিক্ষা ব্যবস্হা মুসলমানদের আদর্শ হতে পারেনা।মুসলমানদের আরো সচেতন হতে হবে।
🟥🟦ফাঁসির আগের রাতে সায়্যিদ কুতুব রহঃ কে জেলখানার নিয়ম অনুযায়ী মৃত্যুর পূর্বে ঈমান নবায়ন ও #কালিমাশাহাদাত পড়ানোর জন্য জেলের ইমামকে পাঠানো হলো। জেলের ইমাম এসে আল্লামা সায়্যিদ কুতুব রহঃ কে কালিমার তালকিন দেয়ার চেষ্টা করতে লাগলেন। তাকে দেখে সায়্যিদ কুতুব জিজ্ঞাসা করলেন আপনি কি জন্য এখানে এসেছেন? ইমাম বললেন, আমি আপনাকে কালিমা পড়াতে এসেছি। মৃত্যুদন্ড কার্যকর করার আগে আসামীকে কালিমা পড়ানো আমার দায়িত্ব। সায়্যিদ কুতুব বললেন, এই দায়িত্ব আপনাকে কে দিয়েছে? ইমাম বললেন, সরকার দিয়েছে। সায়্যিদ কুতুব বললেন, এর বিনিময়ে কি আপনি বেতন পান? ইমাম বললেন, হ্যাঁ আমি সরকার থেকে বেতন-ভাতা পাই। তখন সায়্যিদ কুতুব রহঃ সেই ইমাম সাহেবকে জিজ্ঞাসা করলেন, আপনি কি জানেন কি কারণে আমাকে ফাঁসি দেয়া হচ্ছে? ইমাম বললেন, নাহ্ আমি বেশি কিছু জানি না। তবে আমাকে বলা হয়েছে যে একজন দুর্ধর্ষ আসামিকে আজ রাতে ফাঁসি দেওয়া হবে। সায়্যিদ কুতুব বললেন, আপনি কি জানেন,আপনি আমাকে যে কালিমা পড়াতে এসেছেন, সেই কালিমার ব্যাখ্যা লিখার প্রচার করার কারণে এবং তাতে জ্ঞানী সম্প্রদায় উদ্বুদ্ধ হওয়ার কারণেই আমাকে ফাঁসি দেয়া হচ্ছে। অথচ দেখুন কি আশ্চর্য! যে কালিমা পড়ানোর কারণে আপনি বেতন- ভাতা পান, সেই একই কালিমার ব্যাখ্যা মুসলিম উম্মাহকে জানানোর অপরাধেই আমাকেই ফাঁসি দেয়া হচ্ছে। সুতরাং বোঝা যাচ্ছে, আপনার কালিমার বুঝ আর আমার কালিমার বুঝ এক নয়। আমি দুঃখিত, আপনাকে আমার কোন প্রয়োজন নেই।” 🟥🟦উল্লেখ্য, যে সময় সৈয়দ কুতুবকে পবিত্র কোরআনের ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ ইত্যাদি জনসমক্ষে উপস্থাপন করার জন্য #ফাঁসি দেওয়া হয়, সে সময় মিশরের বিখ্যাত ক্বারী আব্দুল বাসেতকে #রাষ্ট্রীয়পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। দুজনেই মানুষের সামনে সুন্দর করে পবিত্র কোরআনকে উপস্থাপন করেছিল। কিন্তু দুজনের জন্যই রাষ্ট্রীয় পুরস্কার একটি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন ও বিপরীত মাত্রার। দুজনের মধ্যে কারোই দাড়ি ছিল না। 🟥🟦 কেন এমন হলো?? দুজনেই কোরআনের পাখি হওয়া সত্ত্বেও কেন একজনের ভাগ্যে জুটলো লাঞ্ছনা এবং অন্যজনের ভাগ্যে জুটলো পুরস্কার এবং গাড়ি-বাড়ি ইত্যাদি?? এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার জন্য বেশি দূর অগ্রসর হওয়ার প্রয়োজন নেই। শুধু একটু চিন্তা করে নিরবে নিজের বিবেককে প্রশ্ন করলেই বিষয়টি দিবালোকের মতো স্পষ্ট হয়ে যায়। 👉👉 কোরআনের অর্থ কিংবা ব্যাখ্যা আরবি ভাষা হওয়া সত্বেও খোদ আরব দেশের লোকেরাই বুঝেনা। তাই আরব দেশ থেকেই এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম এর সময় থেকেই কুরআনের তাফসীর করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ স্পষ্ট বলেছেন– “”আপনাকে আমি কোরআন এর তাফসীর বা ব্যাখ্যা শিখিয়ে দেব””। আর রাসূল সাঃ এর ইন্তেকালের সাথে সাথেই যখন কোরআনের ব্যাখ্যার প্রয়োজন হয়ে পড়ল অর্থাৎ যখন কোরআন বুঝতে মানুষের অসুবিধা হতে লাগল তখন সর্বপ্রথম কোরআনের তাফসির গ্রন্থ লিখেন ইবনে আব্বাস রাঃ। তাফসীর গ্রন্থটির নাম #তাফসীরেইবনেআব্বাস। (তাফসীর গ্রন্থটি বাংলাদেশেও অনুবাদ অবস্থায় ইসলামিক ফাউন্ডেশন থেকে পাওয়া যায়।) 👉👉 তাফসীর গ্রন্থ লিখার জন্য যে 15 টি বিশেষ জ্ঞানের দরকার পড়ে তার মধ্যে অন্যতম হলো চলতি সময়ে অর্থাৎ রানিং সিচুয়েশনে চলতে থাকা ঘটনাবলীর উপর ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ আর কোরআনের আদেশ ও নিষেধের প্রয়োগ ইত্যাদি কৌশল. এজন্যই যুগে যুগে তাফসির করার প্রয়োজন হয়ে পড়ে এবং পুরনো তাফসির গুলো বর্তমান যুগের জন্য এবং বর্তমান যুগের তাফসীর গুলো ভবিষ্যতের জন্য আংশিকভাবে অচল হতে থাকে। কারণ যুগ বদলানোর সাথে সাথে কুরআনের আয়াতের ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ এবং প্রয়োগ কৌশল বদল হতে থাকে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, পবিত্র কোরআনের লোহার ব্যবহার এবং যুদ্ধ সরঞ্জাম ইত্যাদি কথা উল্লেখ আছে। আগের দিনে এই যুদ্ধ সরঞ্জাম বলতে বর্ম, তোর বাড়ি বর্ষা ইত্যাদি বুঝানো হতো। কিন্তু বর্তমানে যদি এই ব্যাখ্যা করা হয় তাহলে কি চলবে?? বর্তমান যুদ্ধ সরঞ্জাম ট্যাঙ্ক, কামান, ফাইটার প্লেন মিসাইল ইত্যাদি। কিন্তু সবকিছু বানানো হয় লোহা বা লোহা জাতীয় পদার্থ দিয়ে। আর তাই লোহা বা হাদিদ নামে একটি সূরা অবতীর্ণ করা হয়েছে। এভাবে প্রত্যেকটি বিষয়ে নতুন করে ব্যাখ্যা বিশ্লেষণের প্রয়োজন পরে বিদায় পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেছেন এই কালামের ব্যাখ্যা লিখার জন্য যদি সাতটি সমুদ্র আরো নিয়ে আসা হয় কালী হিসাবে তবু তার ব্যাখ্যা লেখা শেষ হবে না। 👉👉 কোরআনের তেলাওয়াত মানুষের মনে সাময়িক আলোড়ন সৃষ্টি করলেও তা স্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারে না। কিন্তু কোরআনের ব্যাখ্যা মানুষের হৃদয় স্থায়ী প্রভাব ফেলে এবং মানুষের জীবনকে পরিবর্তন করে ফেলে। আর এজন্যই আল্লাহ কপি কোরআন নাজিল না করে বরং সাথে ব্যাখ্যাকারী নবী-রাসূল প্রেরণ করেছেন। কারী আব্দুল বাসেত সাহেবের তেলাওয়াত মানুষের মনে একটি সাময়িক এবং ক্ষণস্থায়ী আলোড়ন সৃষ্টি করে মাত্র। কিন্তু সাইদ কুতুবের লেখা তাফসির ও ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ মানুষের মনে স্থায়ী প্রভাব পড়ে এবং একটি কোরআনিক বিপ্লব ঘটিয়ে একটি কুরআনিক সমাজ উপহার দেওয়ার প্রেরণা যোগায়। আর এরি ফলশ্রুতিতে বাতিলের ও মিথ্যা শক্তির ভিত কেঁপে উঠে ফলে মিথ্যুক ও বাতিল মিলে সঠিক কোরআনের ব্যাখ্যাকারীদের ফাঁসি দিয়ে এবং কোরআন তেলাওয়াতকারীদের পুরস্কৃত করে জনগণের চোখে ধুলা দিবেন এবং জনগণের দৃষ্টিকে অন্যদিকে প্রবাহিত করবেন এটাই স্বাভাবিক। ওই সময় সাঈদ কুতুবকে ফাঁসি দেওয়ার ফলে এবং তার সাথে আরো কয়েকশো নেতাকর্মীকে ফাঁসি দেওয়ার ফলে জনমনে যে অসন্তু সৃষ্টি হয়েছিল, ঠিক তখনই কুরআনের আরেকজন লোককে পুরস্কৃত করে প্রমাণ করা প্রয়োজন হয়ে পড়েছিল যে, “আমরা তো কোরআনের পক্ষেই আছি, আর এই দেখো আমরা কোরআন তেলাওয়াতকারীকে পুরস্কার দিচ্ছি! আর মূর্খ জনগণ এক বাক্যে বাহ বাহ দিয়ে বলে উঠলো– ঠিইইইক হে!! কিন্তু তাতে কত বড় ক্ষতি হলো এবং এখনো এই জাতীয় লোকদেরকে হত্যার ফলে কত বড় ক্ষতি হচ্ছে তা একমাত্র বিদগ্ধ আর পবিত্র কোরআনের জ্ঞানে জ্ঞানী লোক ছাড়া কেউ জানে না। অবশ্যই আল্লাহ একদিন সবকিছু ফায়সালা করে দেবেন এবং সেই দিন বেশি দূরে নয়। দুনিয়ার আয়ু কমে আসছে। ধর্ম বিক্রি করে খাওয়ার এবং ধর্মহীন লোকের সংখ্যা ব্যাপকহারে বেড়ে যাচ্ছে। ধার্মিক লোকেরা এখন পালিয়ে বেড়ানো খরগোশ থানার মত। কোথাও একটু মাথা উঠালেই ধর ধর করে ছুটে আসে ঘৃণিত হায়নার দল।
শাসন, শোষণ ও ভাষণ নয় দুর্নীতি মুক্ত পরিবার চাই। স্মৃতি ঝলমল গ্রামবাংলার ইছামতির বিলের মাঝে। পানি টলমল নবগঙ্গা নদীর কাছে আমার অনেক ঋণ আছে। তাইতো বার বার ফিরে আসি পরিবার এবং তোমাদের কাছে। মানবিক কারণে পাশে এসে দাঁড়ায় স্বশরীরে না হলেও ভালোবাসার ফেরিওয়ালা হয়ে দূর পরবাস থেকে। ছবিটি ফেসবুক থেকে সংগৃহীত, এই ছবি যেন এক প্রতিচ্ছবি যা মনে করে দেয় ছোট বেলার দিনগুলোর স্মৃতি, বাধ্য করে আমাকে ফিরে আসতে দায়িত্ব, কর্ত্বব্যব্রতে এখনো সেই অতিতের স্নেহ, প্রেম, প্রিতি এবং ঋণের বোঝা ভরা এই বাংলার মানুষের কাছে। কতইনা ভালোবাসা ক্ষরণ হয় আমার এই ছোট্ট হৃদয়ে। এমন ভালোবাসা কী কারণে ঘৃণায় পরিনত হতে পারে? আমরা সমাজের অশিক্ষা, ঘুষ, দুর্নীতি, অন্যায়, অত্যাচার, প্রতারণা রোধে সব সময় কথা বলি, সংগ্রাম করি। যে সংগ্রাম শুরু হয় ঐক্যবদ্ধ হয়ে নিজ পরিবার, প্রিয়জন, বন্ধু থেকে যে প্রচারণা প্রতিবাদী করে তুলে অদম্য প্রতিরোধ সৃষ্টি করে। কিন্তু আমরা কখনো বলি না বা বলতেও চাই না যে আমাদের অনেকের পরিবারের মধ্যেই রয়েছে এই ধরনের মানুষ, তাই রক্তের বাঁধনকে উপেক্ষা করে এই সংগ্রাম নির্বাক থাকে। কিন্তু আমি যদি আমার নিজের পরিবারেরই পরিবর্তন করতে না পারি তবে এই বুলির অর্থ হবে অন্তসার শূণ্য মাত্র। সময় এসেছে সম্পর্কগুলো রক্তের শিরায় প্রবাহিত হলেও ডিজিটালের যুগে লাভ-ক্ষতির হিসাবের। “আমরা যদি না জাগি মা কেমনে সকাল হবে” সেই ছোট্ট বেলার মুখস্ত কবিতা যেন এই বৃদ্ধ বয়সেও দুর্বোধ্য লাগে। কারণ তা বাস্তবায়ন করতে পারিনি বলে।
ভালোমানুষ হিসাবে খারাপ মানুষের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করাটাও ভালো মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ বলে আমি মনে করি। সেক্ষেত্রে দুষ্টলোকের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হওয়া উচিত প্রথমে নিজেকে নিয়ে, নিজের পরিবারকে নিয়ে। তবেই না সমাজ এবং দেশের উন্নয়ন সম্ভব। আজ আমি এমন একটি পরিবারের বেদনার কথা তুলে ধরতে চাই। যে পরিবার নাম, যশ, অর্থে, সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে শত বর্ষধরে দেশে ও বিদেশে সুনামের সাথে পরিবারিক মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রেখে টিকে রয়েছে। কিন্তু দুঃখের বিষয় এই যে, ভাইবোন সম্পর্কের বঞ্চনাকারী ও অত্যাচারী এক সহোদর এই পরিবারের স্বচ্চল ফুলের বাগানকে কীটপতঙ্গের মত তিলে তিলে নিঃশেষ করে চলছে। এভাবে নিজ পরিবারের দূর্বল দিক উপস্থাপন করে বা কাউকে ইঙ্গিত করে লেখাটা যদিও নিজের কাছেও সমাচীন নয়। তবে আমি জানি এবং অনুভব করি প্রায় সকল পরিবারেই এমন কতিপয় ব্যক্তির কান্ডজ্ঞানহীন কর্মকাণ্ডে সে পরিবার কতটা বিষণ্নতা, কতটা অসহায়। যেন পূর্ণ চন্দ্রে লাগা গ্রহণ সব রুপালী জোৎস্না এক নিমিশেই হারিয়ে সব অন্ধকারে ঢেকে দেয়। যদি পরিবারের কেউ দরিদ্র না হয় তখন তারা মনে করে এটা প্রকাশ করলে পারিবারিক গুডউইল একেবারে নষ্ট হয়ে যাবে। এগুলো হয় পারিবারিক ভাবে বসে মিমাংসা করতে হবে নতুবা ভুলে যেতে হবে। পরিবারের গুডউইল ধ্বংস হয় এমন কাজও সঠিক নয়। যে ক্ষতি হয়েছে সেটা পুনরুদ্ধার করাও সম্ভব নয়। তাই গুডউইল নষ্ট করে আরও ক্ষতি ডেকে আনা কি উচিত? পরিবারে বা বংশে কেউ কেউ এমন থাকে। তাদেরকে পারিবারিকভাবে মোকাবেলা করাও একটা দক্ষতা ইত্যাদি ইত্যাদি।
আমি সব কিছু বিচার বিবেচনা করেই আজ সারা দেশের মানুষের কাছে আমার এই বার্তা তুলে ধরছি কারণ বাংলাকে সোনার বাংলা করতে হলে আমাদের মধ্যে পরিবর্তন আনতে হবে এবং নিজেকে বা নিজের পরিবারকে দিয়ে শুরু করতে হব। দুর্নীতি করে না এমন লোক শুধু বাংলাদেশ নয় সারা বিশ্বে খুঁজে পাওয়া যাবে না, তবে পরিমান বা তার মাত্রার ওপর নির্ভর করছে পরিবর্তনের। ছোট ভাই-বোনদের জন্য কিছু করে যদি কোনো বড় ভাই-বোন তা সুদ-আসলে তুলে নেয় এবং সারাক্ষণ কঠিন ভাবে মানসিক অশান্তিতে রাখে তখন ভালোবাসার সম্পর্ক ঘৃণায় রুপান্তরিত হয়। আমার এ লেখা পড়তেই মনে হবে আরে এ তো আমারই পরিচিত এক আপনজনের চরিত্রের একটি অংশ এবং আমি জানি এ বাংলাদেশের লাখো লাখো পরিবারের মনের কথা এবং যা আজ লাখো লাখো পরিবারের কাছে ঘৃণায় পরিনত হয়ে রয়েছে। আজ এই অপ্রিয় সত্যকে তুলে ধরতে এই লিখা তা হোল, অর্থনৈতিক ভাবে ঋণগ্রস্ত ছোট ভাই-বোনের উপর বড়দের জুলুমের পরিমান যখন সীমা লঙ্ঘন করে, এবং ছোটদের প্রতি অত্যাচার এবং অবিচার করতে শুরু করে, তখন ঘৃণা ছাড়া ছোটদের আর কিছু দেবার থাকে না। সে ক্ষেত্রে ব্যর্থ হয় ভালোবাসা এবং বিনাশ হয় সম্পর্কের । সম্পর্ক তখন আর ভাই-বোনের মত থাকে না, যার প্রমাণ আমার এই লেখা। যেহেতু করব বর্ণনা এমন একটি অপ্রিয় সত্য কথা যা সারা দেশের এক জলন্ত প্রতিচ্ছবি সেহেতু ধরে নেই এই পরিচিত আপনজন আজ সবার কাছে এখন একটি পুরাতন নাম মাত্র। যার ওপর ছিলো ভালো স্মৃতি বহু বছর আগে যখন সে বিয়ে করেনি। তার পর সে মনের অজান্তে হারিয়ে গেছে। সে কিছুই করেনি পরিবারের কারো জন্য। করেছে শুধু নিজেকে লোভি আর গড়েছে তার চারপাশে এক ব্যক্তিকেন্দ্রিক প্রাচীর যা অন্ধকারে বন্ধ করে রেখেছে তার মনুষ্যত্বকে, দিনের পর দিন আর বছরের পর বছর। সামান্যতম ত্রুটি-বিচ্যুতি বড় করে তুলে ধরে সবাইকে নিচু করে তুলে ধরতে কৃপণতা করে না সে।
এই ভদ্রলোকের এখন নিজের পরিবার হয়েছে এবং সে তাই নিয়ে ব্যস্ত। তার ছেলেকে বিদেশে এনে ছয় বছর তার সমস্ত দায়িত্ব নিয়ে তাকে শিক্ষিত করে কাজ এবং স্থায়ী নাগরিকত্ব দিয়ে এখানকার সমস্ত সুযোগ-সুবিধা করে দেওয়া সত্বেও সে বা তার পরিবার খুশি হয়নি। সে সবার সব কিছু ভোগ দখল করে আসছে এত বছর ধরে, তার পরও সে খুশি নয়। তার সব থাকতেও সে অন্ধের মত পরিবারের সকলের সম্পদ গ্রাস করে চলছে। আজ সে বাকি পরিবারের কাছে ঘৃণার পাত্র হয়েছে। কারণ সে শুধু নিতে শিখেছে, দিতে ভুলে গেছে। আজ এত বছর পর, প্রথম যখন তাকে বলা হয়েছে অন্যের সম্পদ থেকে সরে যেতে তখন সে হয়েছে পাগল। তার দীর্ঘদিন কারো সঙ্গে যোগাযোগ না থাকায় সে পড়ে আছে ১৯৮৫ সালের জগতে। আজ ২০১৮ সাল। সে মাঝখানের এত বছর সব থেকে বঞ্চিত শুধু ভোগদখল ছাড়া। সে শুধু নিয়েছে, দেয়নি কিছু। যার কারণে জং ধরেছে সম্পর্কের এত বেশি যে সেই ভালোবাসার সম্পর্ক এখন হয়েছে “গুড ফর নাথিং”। তাকে শ্রদ্ধা করার মত কিছু কি সে রেখে গেছে? যা দিয়েছিল তার দশ গুন নিয়ে গেছে জোর করে। কিভাবে সে আশা করে ভালোবাসা? বহু বছর ধরে ঘৃণা জমা হয়েছে হৃদয়ে তাই আগুন জ্বলছে শরীরে এখন, “ঠু লেট তা নেভানো”। আজ দুঃখের সাথে জানাতে বাধ্য হলাম সারা দেশের মানুষকে, এমন একটি কুৎসিত চরিত্রের মানুষের কথা। এ ধরণের কুৎসিত চরিত্রের মানুষ এখন বাংলার ঘরে ঘরে। দুর্নীতি, পরিবারকে ঠকানো, মিথ্যাকথা বলা এই গুলোকে কুৎসিত চরিত্রের মধ্যে ধরা হয়েছে।
যে অসৎ ও দুর্নীতিগ্রস্থ তাকে লজ্জ্বা দেওয়া যায় না। যে উলঙ্গ তাকে কি লজ্জ্বা দেবে? আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। সমাজে তুলে ধরতে মিডিয়াতে যেতে হবে কি? পরিবারের গুডউইল অবশ্যই নষ্ট হবে। তখন প্রশ্ন হবে বাবা মাকে নিয়ে। সবাই সফল পিতামাতা হিসেবে যে সম্মান করে তাতে দাগ পড়বে। তা ছাড়া মিডিয়া বিচার করতে পারে না। মিডিয়া মানুষকে ছোট বা বড় করতে পারে। তারচেয়ে বরং ভালো আইনের সাহায্য নেওয়া। পরিবারের সম্মানও কম ক্ষুন্ন হবে। এমন ভাবে যখন ভাবা হচ্ছে ঠিক সেই সময় সেই পরিচিত আপনজন শুধু ঋণের বোঝা ভারি করতে সবার বিরুদ্ধে কম্প্লেন এবং তার যে একটি বড় ক্ষমতা রয়েছে তা দেখানো এটাই ছলছে তার কাজ পরিবারের প্রতি। আজ পাগলের সাথে পাগলামির খেলা শুরু হয়েছে। যদিও ইচ্ছে করছে দানবের নয় মানবের সমাজে ফিরে যেতে। কিন্তু দানব শেষ না করলে এরকম সৈরাচারির জন্ম হতে থাকবে। আর বাড়তে থাকবে সমাজে এবং দেশে এদের সংখ্যা এত বেশি যে, শেষ পর্যন্ত খুঁজে পাওয়া কষ্টকর হবে মানবজাতিকে। এই ধরণের আপনজন রয়েছে দেশের সর্সত্রে, এখন প্রশ্ন কী ভাবে এদেরকে সৎ চরিত্রে ফিরে আনা সম্ভব? আদোও কি সম্ভব? পারবে কি এরা নতুন করে ভালোবাসা দেখিয়ে প্রমান করতে? পারবে যে তারা সমাজের ও পরিবারের সত্যিকার আপনজন? তাহলে তাকে বা তাদেরকে প্রমান করে দেখাতে হবে, যে অন্যায় তারা অতীতে এবং বর্তমান করছে, তারজন্য তাদেরকে অনুতপ্ত ও লজ্জিত হতে হবে, তবেই ক্ষমা, নইলে নয়। যে বা যারা পরিবারকে ভালোবাসেনা, সে বা তারা দেশের শত্রু তাদের থেকে দুরে থাকতে অনুরোধ করছি। বুঝতে নিশ্চয় সহজ হবে এখন কেন সুশিক্ষার জন্য লড়াই আমার? সুশিক্ষার ওপর লিখছি আজ থেকে বছর খানেক ধরে, তাই আজ তুলে ধরলাম এমন একটি পারিবারিক জলন্ত উদাহরণ।
এই সেই বর্ণচোরা মুখোশধারী মানুষ নামের দানবেরা যারা তাদের ক্ষমতার অপব্যবহার করে পুরো ফ্যামিলিকে ঠকিয়ে চলছে দীর্ঘ বহু বছর ধরে। কী করে তারা দাবী করে সবার ভালোবাসা? শ্রদ্ধা? তারা তো ভুলে গেছে এসব ভালো কথা। কারন কী? কারন ভালোবাসার মৃত্যু হয়েছে ৪০ বছর আগে। তাদের সব হয়েছে, তারা সব পেয়েছে। কিন্তু তারা তাদের ভালোবাসাকে কবর দিয়েছে। কিন্তু কেন? সে এখন লেগেছে পরিবারের বিভিন্ন ব্যক্তির চরিত্র নিয়ে কথা বলতে, সে কি ভুলে গেছে তার অতীত? তাকে যদি বোনেরা নারীনির্যাতন এবং চরিত্রহীনতার অপরাধে কোর্টে হাজির করে, ভেবেছে কি এর পরিনতি কি হবে? তার এই অধঃপতনের কারনে দেশে যেতে মন চাই না। এদের আমি ঘৃণা করি। জানিনে কত জন বাংলাদেশী এমনটি বেদনা নিয়ে বেঁচে আছে! আজ এত বছর পরে কলম ধরতে বাধ্য হয়েছি শিক্ষিত মানুষরুপী লোভী এক মানুষের অধঃপতনের কথা তুলে ধরার জন্য। আমি এখন এদেরকে নিয়ে গর্ব করতে ভুলে গেছি। একজন শিক্ষিত এবং ক্ষমতাবান ব্যক্তি যে শুধু নিজেকে নিয়ে ভাবে, এমন লোভি আপনজনকে কেউ চাই না। শিক্ষার আলোতে গড়া ভালোবাসাময় সাধারণ পরিবার চাই। ধ্বংস করতে চাই সুশিক্ষা এবং ভালোবাসা দিয়ে সেই মুখোশধারী ও লোভি আপনজনকে এবং একইসাথে ফিরে পেতে চাই অতীতের সেই আদর্শ ও সুখি পরিবারকে। সুশিক্ষা এবং মানবতার ধ্বংস নয়, ধ্বংস হোক তার নিজের মধ্যের কুশিক্ষা এবং সে ফিরে পাক তার মানবতা ও জয় হোক ভালোবাসার এমনটি কামনা করছি।
🟢🔴 আমি যখন আমার স্ত্রীকে চাকরি করতে নিষেধ করলাম এবং সেখান থেকে ফিরিয়ে আনলাম তখন আমার বাড়ির আত্মীয়-স্বজন এবং আমার শ্বশুরবাড়িসহ সকল আত্মীয়-স্বজন আমাকে খুব ভালোভাবে তিরস্কার করলেন এবং আমাকে ব্যাকডেটেড, নিচু মনের, মোল্লা ইত্যাদি বিভিন্ন বিশেষণে বিশেষিত করলেন। আমি আমার স্ত্রীর অরিজিনাল সার্টিফিকেটগুলো তখন কার মত ছিঁড়ে ফেলেছিলাম। যাতে করে তিনি আমার পরিবার এবং আমার শ্বশুর বাড়ির আত্মীয়স্বজনের প্ররোচনায় খুব সহজে সার্টিফিকেট নিয়ে কোন চাকরির জন্য উপস্থিত হতে না পারেন। আমার বাবা যার পর নাই আমার প্রতি না খুশ হয়েছিলেন এবং এখনো সম্ভবত তিনি সেই রাগ আমার প্রতি পোষণ করে চলেছেন (আল্লাহ তাদের সবাইকে ক্ষমা করুন)! মূলত আমি আমার স্ত্রীকে চাকরি থেকে বিরত রেখেছিলাম এই জন্য যে, মহিলারা চাকরি করলে কোনভাবেই সঠিক পর্দা ধরে রাখা সম্ভব নয় তা যত চেষ্টাই করুক না কেন। কেউ যদি বলে যে চাকরি করে সঠিক পর্দা ধরে রাখা সম্ভব তবে ওই ব্যক্তি হলো ওই নির্বোধের মতো যে নির্বোধ বলে থাকে, গোসল করেও শরীর না ভিজিয়ে থাকা যায়। যদিও কিছু কিছু ক্ষেত্রে নারীদের চাকরি করা ফরজ বলে আমি মনে করি যেমন নারীদের বিদ্যালয়গুলোতে এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে। আর বাংলাদেশের মেডিকেল গুলোতে ডাক্তারের সংখ্যা ৬০ থেকে ৮০ পার্সেন্ট নারী রাখা উচিত অর্ধেকসংখ্যক নারী এবং বাচ্চাদের চিকিৎসা দেওয়ার জন্য। একজন পুরুষ চাকরি করতে যাওয়ার সময় তার মাথায় যে সকল চিন্তা কাজ করে তা হল– ১//তিনি সকালে ঘুম থেকে উঠবেন এবং স্ত্রীর বানানো নাস্তা খেয়ে চাকরির জন্য কর্মস্থলে যাবেন। ২// কর্মস্থলের কাজ শেষ করে তিনি বাসায় ফিরে আসবেন, হয়তো রাস্তায় বাজার করে নিয়ে আসবেন। ৩// বাড়িতে এসে তিনি স্ত্রীর হাতের রান্না করা খাবার খেয়ে চা-কফি সিগারেট ইত্যাদি খেয়ে কিছুক্ষণ বিশ্রাম করবেন অথবা বিকেলের দিকে বাজারে বা রাস্তার মোড়ে চায়ের স্টলে বসে রাত আটটা নয়টা কিংবা দশটা পর্যন্ত আড্ডা মেরে ঘরে আসবেন। মূলত উপরের তিনটি রুটিন মাফিক কাজ একজন চাকরিজীবী পুরুষের বেশিরভাগ ক্ষেত্রে করে থাকেন। 🟢🔴কিন্তু একজন চাকরিজীবী নারীর জন্য তা আদৌ সম্ভব নয়!! সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠে একজন চাকরিজীবী নারী ঘুমুতে যাওয়ার পূর্ব পর্যন্ত যে কাজগুলি বাধ্যতামূলকভাবে করতে হয় তাহল– ((শতকরা ৯৫ জন চাকরিজীবী মহিলা তাদের সংসার টিকিয়ে রাখার স্বার্থে এই কাজগুলি করতে বাধ্য)) ১// সকালে ঘুম থেকে উঠেই একজন চাকরিজীবী মহিলা সর্বপ্রথম বিছানা গুছাতে হয় নিজের ও বাচ্চাদের । আর যদি ছোট বাচ্চা থাকে তাহলে তো কাজের কোন অন্ত নাই। বাচ্চাকে বুকের দুধ খাওয়ানোর অথবা ফিডার দিয়ে দুধ খাওয়ানোর কাজটি তাকেই করতে হয়। ২// একজন চাকরিজীবী মহিলা নিজের বাচ্চাদের এবং হাজবেন্ডের জন্য সকালের নাস্তা ও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দুপুরের খাবার একসাথে তৈরি করতে হয়। এবং এই কাজটিতে শতকরা ৯৫ শতাংশ পুরুষ স্ত্রীকে সাহায্য করে না প্রকৃতিগত কারণেই। কেননা মূলত রান্নাবান্নার কাজটি স্ত্রীরাই করে থাকেন। ৩// অতঃপর একজন চাকরিজীবী মহিলাকে খুব দ্রুত এবং নন স্টপ এই কাজগুলি করে হাজবেন্ড চাকরির ক্ষেত্রে যাওয়ার পূর্বেই তাকে রওনা হতে হয় কেননা একজন পুরুষের চেয়ে একজন মহিলার রাস্তায় এবং যানবাহনের বিলম্ব না বেশি। তাই একই দূরত্ব হলেও একজন মহিলাকে পুরুষের পূর্বেই বের হতে হয়। আর যদি বৃষ্টি বাদল কিংবা প্রাকৃতিক দুর্যোগ থাকে তবে তো আর কথাই নেই। কিন্তু চাকরি বাঁচাতে হলে তাকে চাকরির ক্ষেত্রে উপস্থিত হতেই হবে। ৪// একজন পুরুষ যেভাবে রিলাক্স মুডে চাকরি স্থলে উপস্থিত হয় তদ্রূপ রিলাক্স মোডে একজন মহিলা চাকরির স্থলে উপস্থিত হওয়া আদৌ সম্ভব নয়। কারণ সে ঘরে রেখে এসেছে হয়তো ছোট বাচ্চাদের অথবা রান্নাবান্না কিংবা অন্য কোন আত্মীয়-স্বজন ইত্যাদি। ৫// বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই চাকরিজীবী মহিলাদের নিজেদের বাজার বা পরিবারের বাজার নিজেদেরই করতে হয়। যেখানে একজন পুরুষ চাকরিজীবীর টার্গেট থাকে চাকরি শেষ করে ঘরে যাওয়ার পূর্বে চা স্টলে বসে বন্ধুবান্ধবদের সাথে আড্ডা মারবে সেখানে একজন মহিলা চাকরিজীবী টার্গেট থাকে দ্রুত ঘরে গিয়ে বাচ্চাদের দেখাশোনা ও তাদের খোঁজ খবর নেবে। ৬// একজন চাকরিজীবী মহিলা বিকেল বেলা কখনোই অবসর থাকতে পারেন না কেননা মূলত সে চাকরির স্থল থেকে ফিরতে ফিরতে বিকেল শেষ হয়ে যায় এবং বাসায় এসে তাকে আরো অনেক কাজ করতে হয় যেমন জামা কাপড় ধোঁয়া, গড় দৌড় পরিষ্কার করা এবং রাতের খাবার তৈরি করা। মূলত পুরুষদের এই সমস্ত কাজ করতে হয় না এবং করার মানসিকতা ও থাকেনা। ৭// যেখানে একজন চাকরিজীবী পুরুষ সন্ধ্যার পর বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দোকানে বা বিভিন্ন জায়গায় বসে আড্ডা দেয়, সেখানে একজন নারী চাকরিজীবী তাদের সন্তানদের লেখাপড়া করানো সহ বাচ্চাদের বিভিন্ন আবদার ও মর্জি জোগাতে ব্যস্ত থাকে। আর শত ইচ্ছা করলেও তারা এই সমস্ত দায়িত্ব গুলো এড়াতে পারে না কারণ এড়ানো সম্ভব নয়। ৮// মহিলাদের কিছু শারীরিক প্রতিবন্ধকতা এবং সমস্যা থাকে। মহিলারা ইচ্ছা করলেই পুরুষদের মত ঝুঁকিপূর্ণ এবং শক্তিমত্তার কাজগুলো করতে পারে না। তাই সব সময় তাদেরকে পুরুষদের শরণাপন্ন হতে হয়। কারণ প্রাকৃতিকতভাবেই আল্লাহ নারীদেরকে অর্ধেক শক্তি দিয়ে তৈরি করেছেন। মহিলাদের কিছু মেয়েলি রোগ ব্যাধি বা সমস্যা থাকে সব সময়। তাছাড়া মেয়েরা গর্ভবতী হয় এবং বাচ্চা বহন করতে হয় পেটে এবং কোলে। বাচ্চাদের বেশিরভাগ আব্দার মা’কে শুনতে হয় অথচ এই ঝামেলা বাবাকে বা পুরুষদের কখনোই পোহাতে হয় না। ৯// একজন পুরুষ ইচ্ছে করলে দৌড়ে অথবা বাসে ঝুলে ঝুলে তার চাকরি ক্ষেত্রে যেতে পারে কিন্তু একজন মহিলা তা পারে না। অথবা একজন পুরুষ তার কর্মক্ষেত্র থেকে রাতে কিংবা যেকোনো সময় ফিরতে পারে কিন্তু ইচ্ছে করলেই এবং শত স্বাধীনতা অথবা সিকিউরিটি থাকা সত্ত্বেও একজন মহিলা তা পারে না। মোটকথা রাস্তায় চলার ও চাকরি করার কিংবা শক্তি সামর্থের কাজ করার অপরচুনিটি সব সময় জন্মগত ও প্রাকৃতিকত ভাবে মহিলাদেরকে পুরুষদের অর্ধেক প্রদান করা হয়েছে, এবং এটা করা হয়েছে আমাদের সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর পক্ষ থেকে। এবং যিনি সৃষ্টি করেছেন তিনি মহিলাদের জন্য তাদের কর্মস্থল নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন #ঘর। আর এই ঘর ছেড়ে যখন মহিলারা বাইরে বেরিয়ে আসলো তখন তারা পুরুষদের দায়িত্ব কাঁদে নেওয়ার সাথে সাথে তাদের ঘরের দায়িত্ব গুলো তাদের কাঁধেই রয়ে গেল। তথাকথিত প্রগতিবাদীরা স্বাধীনতার কথা বলে তাদেরকে দুর্গতির মধ্যে ফেলে দিল। সত্যি কথা বলতে কি আমি আমার স্ত্রীকে সরকারি চাকরি পাওয়া সত্ত্বেও চাকরির করতে যেতে দেইনি আমার নিজের জন্যই। 🟥🟪কারণ 👉👉প্রথমত আমি চাইনা আল্লাহর হুকুম অমান্য করে আমার স্ত্রীকে বেপর্দায় চাকরি ক্ষেত্রে পাঠাতে। কেউ কেউ হয়তো বলবেন যে পর্দা করেও তো চাকরি করা সম্ভব।। মূলত এটি একটি হাস্যকর কথা ছাড়া আর কিছুই নয়। শরীর শুকনা রেখে গোসল করা যেমন সম্ভব নয় তদ্রুপ পর্দার মধ্যে থেকে চাকরি করাও সম্ভব নয়। পর্দা করে চাকরি করা সম্ভব এই জাতীয় প্রতারণামূলক কথা বলে নিজেকে সান্ত্বনা দেওয়া যায় আর মানুষের সাথে তর্ক করা যায় কিন্তু বাস্তবতা বহুদূর।। 👉👉আমি দিনশেষে কাছ থেকে ফিরে আমার স্ত্রীর বিষন্ন মুখ দেখতে এবং অবসন্ন দেহ দেখতে আমি প্রস্তুত নই। 👉👉সুগন্ধ মানুষের কাছে খুবই প্রিয় একটি বস্তু।প্রত্যেক হাজবেন্ড তার প্রিয়জনদের নিকট থেকে সু ব্যবহার এবং সুগন্ধ পেতে চায়। আমি চাইনা আমার স্ত্রীর শরীর থেকে ঘামের দুর্গন্ধ বেরিয়ে আসুক। 👉👉 হাজব্যান্ড ওয়াইফ চাকরি করে এই জাতীয় পরিবারের মধ্যে সুখ শান্তি খুব কমই থাকে। টাকা পয়সা থাকতে পারে কিন্তু সুখ থাকে না। সুখ থাকবে কি করে?? মানুষ তো আর মেশিন নয় যে নতুন একটা পার্টস লাগিয়ে দিলে সে আগের মতই চলবে। 👉👉 রাত দিন 24 ঘন্টা এভাবে সংসার সন্তান আর চাকরি নিয়ে টানাটানি করার দরুন একজন নারী শারীরিক স্বাস্থ্যের সাথে সাথে মানসিক স্বাস্থ্য হারিয়ে ফেলে ফলে মেজাজ হয়ে যায় খিটখিটে। আর এই জন্যই দেখা যায় যে চাকরিজীবী মহিলাদের হাজবেন্ড বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পরকীয়ায় লিপ্ত হয়। কারণ স্থির নিকট থেকে যেভাবে রেসপন্স পাওয়ার কথা ওইভাবে সে পায় না কারণ চাকরি করার ফলে তা সম্ভব নয়। তাই চাকরিজীবী মহিলাদের হাজবেন্ড বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পরকীয়ায় লিপ্ত হয়ে পরে। 👉👉 ইসলাম মহিলাদেরকে চাকরি করার এবং ব্যবসা-বাণিজ্য করার সুযোগ দিয়েছেন। কিন্তু মনে রাখতে হবে ইসলাম নারীদেরকে জামাতে নামাজ পড়ার সুযোগ দিয়েছে মসজিদে গিয়ে। ঠিক সেভাবেই নারীদেরকে আবার বলেছে যে মসজিদে নামাজ পড়ার চেয়ে ঘরের কোনে নামাজ পড়া সবচেয়ে বেশি নেকির কাজ। নারীর অবশ্যই চাকরি করবেন যেখানে নারীদের অবস্থান এবং নারী ছাড়া যাদের চলবে না। বিশেষ করে হাসপাতালগুলোতে ফিফটি পার্সেন্ট নারীর চিকিৎসা দিবেন নারীরাই তাই নারী ডাক্তারের প্রয়োজনীয়তা আছে ৭০ থেকে ৮০%। কেননা নারীদের সাথে সাথে বাচ্চাদের চিকিৎসা ও নারীরাই দেবেন এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু আমাদের দেশে যেভাবে নারীরা রাস্তাঘাটে কাজ করা থেকে শুরু করে পল্লী বিদ্যুতের পিলারে ওঠে লাইন লাগানোর কাজ করা ও শুরু করেছেন তাতে মনে হয় যে পুরুষদের আর কাজ করতেই হবে না। 😭🤣 সারা জীবন শুধু নারীরা সংগ্রাম করে যাবে সম অধিকারের জন্য অথচ ইসলাম তাদের যে অগ্রাধিকার দিয়েছে তা ভুলে গিয়ে তারা সম অধিকারের জন্য ব্যস্ত হয়ে ডাবল কাজ করার দায়িত্ব নিজেরাই নিজেদের কাঁধে নিয়েছেন। 👉👉 শহরের দিকে অথবা এখন গ্রামেগঞ্জেও নারীরা কর্মক্ষেত্রে চলে যাওয়ার দরুন বাচ্চাকাচ্চা মানুষ হচ্ছে অশিক্ষিত অর্ধশিক্ষিত ও আনকালচার্ড কাজের মহিলাদের হাতে। এবং সেই কাজের মহিলাদের নিকট থেকে বাচ্চা শিখছে আচার-আচরণ এবং কথা বলা। অথচ বাচ্চাদের প্রথম এবং সর্বোত্তম শিক্ষক হলো তার মা। মূলত আল্লাহর হুকুম লংঘন করে যারা যত বেশি উপরে উঠতে চায় মূলত তারা তত বেশি নিছে পতিত হয়।
আল্লাহ সকলকে ভাল রাখুন সুস্থ রাখুন এবং সঠিক জিনিসটি সঠিকভাবে বুঝার তৌফিক দান করুন আমিন।
সমাজে যেসব পাপের প্রচলন সবচেয়ে বেশী তন্মধ্যে গীবত অন্যতম। এই পাপটি নীরব ঘাতকের মতো। বান্দার অজান্তেই এটা তার নেকীর ভান্ডার নিঃশেষ করে দেয় এবং তাকে জাহান্নামের আগুনে নিক্ষেপ করে ছাড়ে। এটি চুরি-ডাকাতি, সূদ-ঘুষ, যিনা-ব্যভিচার ও মরা মানুষের পঁচা গোশত খাওয়ার চেয়েও মারাত্মক ও নিকৃষ্ট। কিন্তু অবাক করা ব্যাপার হ’ল এই জঘন্য পাপটি মানুষ হরহামেশাই করে থাকে। চায়ের আসর থেকে শুরু করে সোশাল মিডিয়া ও স্বাভাবিক আলাপচারিতায় এটা অনেকের স্বভাবসুলভ আচরণে পরিণত হয়ে গেছে। আরো আশ্চর্যের ব্যাপার হচ্ছে আল্লাহর ঘর মসজিদে বসেও অনেকে এই গর্হিত পাপ করতে কুণ্ঠিত হয় না। সমাজের পরিচিত নেককার বান্দাদের মধ্যেও খুব কম মানুষই গীবতের এই নোংরা পাপ থেকে বাঁচতে পারে। নবী-রাসূল ছাড়া পৃথিবীর কোন মানুষই দোষ-ত্রুটি ও ভুলের ঊর্ধ্বে নয়। কিন্তু ইসলাম সেই ত্রুটি-বিচ্যুতি নিয়ে আলাপ-আলোচনা করাকে হারাম ঘোষণা করেছে। এমনকি সেই দোষচর্চা শ্রবণ করাকেও নিষিদ্ধ করেছে।
🟥🟪গীবতের পরিচয়
‘গীবত’ (الغِيْبَةُ) আরবী শব্দ। যার আভিধানিক অর্থ হ’ল- পরনিন্দা করা, দোষচর্চা করা, কুৎসা রটনা, পেছনে সমালোচনা করা, দোষারোপ করা, কারো অনুপস্থিতিতে তার দোষগুলো অন্যের সামনে তুলে ধরা। [ ইবনু ফারেস, মু‘জামু মাক্বাঈসিল লুগাহ, ৪/৪০৩; ড. মুহাম্মদ ফজলুর রহমান, মু‘জামুল ওয়াফী, পৃ. ৭৪০। ]
গীবতের পারিভাষিক অর্থ রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর ভাষায় অত্যন্ত সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে। আবূ হুরায়রা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন :- ‘তোমরা কি জান গীবত কী? ছাহাবীগণ বললেন, ‘(এ ব্যাপারে) আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভাল জানেন’। তখন রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বললেন :- ‘‘(গীবত হচ্ছে) তোমার ভাইয়ের ব্যাপারে এমন কিছু বলা, যা সে অপসন্দ করে’। জিজ্ঞেস করা হ’ল- ‘আমি যা বলছি, তা যদি আমার ভাইয়ের মধ্যে থাকে, তাহ’লে আপনার অভিমত কি? তিনি বললেন :- ‘তুমি তার (দোষ-ত্রুটি) সম্পর্কে যা বলছ, সেটা যদি তার মধ্যে থাকে, তাহ’লে তুমি তার গীবত করলে। আর যদি সেই (ত্রুটি) তার মধ্যে না থাকে, তাহ’লে তুমি তার প্রতি অপবাদ আরোপ করলে’।[ মুসলিম হা/২৫৮৯; আবূদাঊদ হা/৪৮৭৪; তিরমিযী হা/১৯৩৪ ]
ইমাম মুহিউদ্দীন নববী (রহঃ) বলেন, ‘গীবত হচ্ছে মানুষের মধ্যে বিদ্যমান দোষ-ত্রুটি নিয়ে আলোচনা করা, যা সে অপসন্দ করে। চাই সেই দোষ-ত্রুটির সম্পর্ক তার দেহ-সৌষ্ঠব, দ্বীনদারিতা, দুনিয়া, মানসিকতা, আকৃতি, চরিত্র, ধন-সম্পদ, সন্তান-সন্ততি, পিতামাতা, স্ত্রী, চাকর-বাকর, পাগড়ি, পোষাক, চলাফেরা, ওঠা-বসা, আনন্দ-ফুর্তি, চরিত্রহীনতা, রূঢ়তা, প্রফুল্লতা-স্বেচ্ছাচারিতা বা অন্য যেকোন কিছুর সাথেই হোক না কেন। এসবের আলোচনা আপনি মুখে বলে, লিখে, আকার-ইঙ্গিতে, চোখের ইশারায়, হাত দিয়ে, মাথা দুলিয়ে বা অন্য যেকোন উপায়েই করুন না কেন, তা গীবত’। [ নববী, আল-আয্কার, পৃ. ৩৩৬।]
গীবতের কতিপয় পরিভাষা :
হাসান বাছরী (রহঃ) বলেন, ‘গীবতের তিনটি ধরন আছে। যার প্রত্যেকটি আল্লাহর কিতাব কুরআনে উল্লেখিত হয়েছে-
১. গীবত (পরনিন্দা) : গীবত হচ্ছে তোমার ভাইয়ের ব্যাপারে এমন কিছু দোষ-ত্রুটির কথা বলা, যা বাস্তবেই তার মাঝে বিদ্যমান আছে।
২. ইফ্ক (মিথ্যা রটনা) : তোমার কাছে কারো দোষ-ত্রুটির ব্যাপারে যে সংবাদ পৌঁছেছে, সেটা বলে বেড়ানো বা যাচাই না করে অন্যকে বলে দেওয়া। (যেমন- মা আয়েশা (রাঃ)-এর ব্যাপারে ঘটেছিল)।
৩. বুহতান (অপবাদ) : রাসূলের উক্তি তোমার ভাইয়ের ব্যাপারে এমন কিছু বলা, যা তার মাঝে নেই’। [ তাফসীরে কুরতুবী, ১৬/৩৩৫; মাওসূ‘আতুল আখলাক্ব, ২/৪০১]
তবে গীবতের আরো কিছু পরিভাষা আছে। যা পবিত্র কুরআন ও ছহীহ হাদীছে বর্ণিত হয়েছে। যেমন-
৪. নামীমাহ (চোগলখুরী) : পরস্পরের মাঝে ফাসাদ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে একজনের কথা অরেকজনকে বলা। এটাকে নামীমাহ বা চোগলখুরী বলা হয়। [ইবনে মানযূর, লিসানুল আরব ১২/৫৯২; ইবনুল আছীর, আন-নিহায়াহ ফী গারীবিল হাদীছ, ৫/২৫৬।] ইবনু হাজার (রহঃ) বলেন, ‘অনেকে ইখতিলাফ করেন যে, ‘গীবত’ ও ‘নামীমাহ’ কি একই জিনিস নাকি ভিন্ন কিছু? এ ব্যাপারে সঠিক কথা হ’ল উক্ত দুই পরিভাষার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। ‘নামীমাহ’ হ’ল ফাসাদ সৃষ্টি করার মানসিকতা নিয়ে একজনের অপসন্দনীয় কথা অন্যকে বলে দেওয়া, সেটা জেনে হোক বা না জেনে হোক। আর ‘গীবত’ হ’ল কারো অনুপস্থিতিতে তার দোষ-ত্রুটি বর্ণনা করা, যা সে অপসন্দ করে। এখানে সূক্ষ্ম পার্থক্য হ’ল- ‘নামীমাহ’-তে দ্বন্দ্ব বা অশান্তি সৃষ্টি করার হীন উদ্দেশ্য থাকে। কিন্তু ‘গীবতে’ সেই উদ্দেশ্য নাও থাকতে পারে’।[ফাৎহুল বারী ১০/৪৭৩।]
৬. হুমাযাহ ও লুমাযাহ : পবিত্র কুরআনের ‘সূরা হুমাযাহ’-তে এই দু’টি পরিভাষা ব্যবহার করা হয়েছে। ‘হুমাযাহ’ শব্দের অর্থ হ’ল ‘সম্মুখে নিন্দাকারী’। আর ‘লুমাযাহ’ শব্দের অর্থ হ’ল ‘পিছনে নিন্দাকারী’। আবুল ‘আলিয়াহ, হাসান বাছরী, রবী‘ বিন আনাস, মুজাহিদ, আত্বা প্রমুখ বিদ্বান বলেন:-، ‘হুমাযাহ’ হ’ল সেই ব্যক্তি, যে মানুষের মুখের উপর নিন্দা করে এবং দোষারোপ করে। আর ‘লুমাযাহ’ হ’ল সেই ব্যক্তি যে পিছনে তার অনুপস্থিতিতে নিন্দা করে’।[তাফসীরে কুরতুবী, ২০/১৮১।]
৭. শাত্ম : ‘শাত্ম’-এর অর্থ হ’ল- তিরস্কার করা, ভৎর্সনা করা, গালি দেওয়া, ব্যঙ্গ করা, কটূক্তি করা। অর্থাৎ সত্য কথার বিপরীতে কারো দোষ-ত্রুটি বর্ণনা করা, সেটা নিয়ে ঠাট্টা করা বা কটূক্তি করাকে ‘শাত্ম’ বলা হয়।[ আব্দুর রঊফ মুনাভী, আত-তাওক্বীফ, পৃ.২৫৪; নাযরাতুন নাঈম, ১১/৫১৬৩।]
সাধারণ মানুষকে নিয়ে কটূক্তি করলে সেটা মহাপাপ। কিন্তু রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-কে নিয়ে যদি কেউ কটূক্তি করে, তাহ’লে তাকে হত্যা করা অপরিহার্য। এ ব্যাপারে পৃথিবীর সকল মাযহাবের সকল আলেম একমত। রাসূলকে নিয়ে ব্যঙ্গকারীকে ‘শাতিমুর রাসূল’ বলা হয়। [এ ব্যাপারে ইমাম ইবনে তাইমিয়াহ রচিত ‘আছ-ছামিরুল মাসলূল ‘আলা শাতিমির রাসূল’ গ্রন্থে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।]
১. জিহবার গীবত : গীবতের সবচেয়ে বড় মাধ্যম হ’ল জিহবা। আলাপচারিতা, কথা-বার্তা ও বক্তৃতায় যবানের মাধ্যমে সবচেয়ে বেশী গীবত হয়। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন :- নিশ্চয়ই বান্দা কখনো কখনো এমন কথা বলে ফেলে, যার পরিণাম সে চিন্তা করে না। অথচ এ কথার মাধ্যমে সে জাহান্নামের গভীরে নিক্ষিপ্ত হবে, যার দূরত্ব পূর্ব-পশ্চিমের দূরত্বের সমপরিমাণ’।[ বুখারী হা/৬৪৭৭; মুসলিম হা/২৯৮৮।] অন্যত্র তিনি বলেন:- ” বান্দা কখনো আল্লাহর অসন্তুষ্টিমূলক এমন কথা বলে ফেলে, যার গুরুত্ব সে নিজেও উপলব্ধি করতে পারে না। অথচ এ কারণে সে জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে’।[বুখারী হা/৬৪৭৮; মিশকাত হা/৪৮১৩। ] আল্লাহর কিতাব ও রাসূলকে নিয়ে উপহাস করা, গীবত পরনিন্দা বা চোগলখুরি, গালি দিয়ে মুসলিমকে কষ্ট দেওয়াসহ প্রভৃতি কথার মাধ্যমে বান্দা গুরুতর পাপ করে ফেলে। তাই জিহবার হেফাযত অত্যন্ত যরূরী।[আব্দুল আযীয রাজেহী, তাওফীকুর রাবিবল মুন‘ইম ৮/৪২০]
২. অন্তরের গীবত : কুধারণা, হিংসা, অহংকার এবং কেউ গীবত করলে সেটা অন্তর দিয়ে মেনে নেওয়া বা তা সমর্থন করার মাধ্যমে অন্তরের গীবত হয়। ইবনে হাজার হায়তামী (রহঃ) বলেন, ‘অন্তরের গীবত হচ্ছে কারো ব্যাপারে মন্দ ধারণা পোষণ করা’।[হায়তামী, আয-যাওয়াজির আন ইক্বতিরাফিল কাবায়ের ২/২৮ ] ইমাম মাক্বদেসী (রহঃ) বলেন, بالمسلمين، ‘মুসলিমদের ব্যাপারে খারাপ ধারণা করার মাধ্যমে অন্তরের গীবত সংঘটিত হয়’। [নাজমুদ্দীন আল-মাক্বদেসী, মুখতাছার মিনহাজিল ক্বাছেদীন, পৃ.১৭২ ] ইমাম গাযালী বলেন, মুখের ভাষায় গীবত বা পরনিন্দা করার ন্যায় মনে মনে কুধারণা পোষণ করাও হারাম। অর্থাৎ ভাষার ব্যবহারে কারো গীবত করা যেমন হারাম, অনুরূপভাবে মনে মনে কাউকে খারাপ বলা বা খারাপ ধারণা করাও হারাম’। [ গাযালী, ইহ্য়াউ উলূমিদ্দীন, ৩/১৫০ ]
মহান আল্লাহ বলেন :- ‘হে বিশ্বাসীগণ! তোমরা অধিক ধারণা হ’তে বিরত থাক। নিশ্চয়ই কিছু কিছু ধারণা পাপ। আর তোমরা ছিদ্রান্বেষণ কর না এবং পরস্পরের পিছনে গীবত কর না’ (হুজুরাত ৪৯/১২)। ]
৩. ইশারা-ইঙ্গিতের গীবত : কখনো কখনো চোখ, হাত ও মাথার ইশারার মাধ্যমেও গীবত হয়ে থাকে। আয়েশা (রাঃ) বলেন:- ‘একজন খাটো মহিলা (আমাদের ঘরে) প্রবেশ করলেন। তখন রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বসেছিলেন। আমি আমার বৃদ্ধাঙ্গুলি দিয়ে রাসূল (ছাঃ)-এর দিকে এভাবে ইশারা করে বললাম, أَنَّهَا قَصِيرَةٌ ‘সে তো বেঁটে মহিলা’। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বললেন, ‘তুমি তো তার গীবত করে ফেললে’।[মুসনাদে আহামাদ হা/২৫৭০৮; ইবনু আবীদ্দুনইয়া, যাম্মুল গীবাত ওয়ান নামীমাহ, হা/৭০; পৃ.২৪, সনদ হাসান ]
অপর বর্ণনায় সেই আগন্তুক মহিলার পরিচয় দেওয়া হয়েছে। হুযাইফা (রাঃ) বলেন, আয়েশা (রাঃ) বলেছেন, আমি নবী করীম (ছাঃ)-কে বললাম, قَصِيرَةً، ‘ছাফিইয়াহ (রাঃ)-এর ব্যাপারে এতটুকুই বলা যথেষ্ট যে, তিনি এরূপ অর্থাৎ খাটো প্রকৃতির। তিনি বললেন,، ‘তুমি এমন একটি কথা বলেছ, যদি তা সমুদ্রে মিশিয়ে দেওয়া হয়, তবে সমুদ্রের পানির রং পাল্টে যাবে’। আয়েশা (রাঃ) বলেন :- ‘(আরেক দিন) আমি এক ব্যক্তিকে অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে নকল করলাম। তিনি বললেন, আমাকে এতো এতো সম্পদ দেওয়া হ’লেও আমি কারো অনুকরণ পসন্দ করবো না’।[আবূদাঊদ হা/ ৪৮৭৫; তিরমিযী হা/২৫০২, সনদ ছহীহ ]
ইবনু হাজার আসকালনী (রহঃ) বলেন, ‘আয়েশা (রাঃ) গীবত করার উদ্দেশ্যে ছাফিয়্যা (রাঃ)-এর দোষ বর্ণনা করেননি; বরং বৈশিষ্ট্য তুলে ধরে তার ব্যাপারে খবর দেওয়াই ছিল মূল উদ্দেশ্য। তথাপি সেটা গীবতের পর্যায়ভুক্ত ছিল’।[আসকালানী, ফাৎহুল বারী ১০/৪৬৯]
সুতরাং গীবতের প্রকাশ হচ্ছে সেই দোষ বর্ণনা দেওয়ার মতোই। সংকেত, অঙ্গভঙ্গি, চোখ টেপা, ইশারা-ইঙ্গিত এবং অপরকে হেয় করা বুঝায় এমন প্রত্যেক কিছুই গীবতের অন্তর্ভুক্ত। অপরদিকে গীবতকে সমর্থন দেওয়াও গীবত। কেননা গীবত শ্রবণকারীও গীবতের দায় এড়াতে পারবে না, যদি না সে অন্তর দিয়ে সেটা প্রত্যাখ্যান করে এবং মুখের ভাষায় সেটার প্রতিবাদ করে। [তাহানাওয়ী, কাশ্শাফু ইছত্বিলাহাতিল ফুনূন ওয়াল উলূম ২/১২৫৬ ]
৪. লেখার মাধ্যমে গীবত : মানুষের মনের ভাব ও মতামত প্রকাশের একটি বড় মাধ্যম হ’ল লেখা। ড. সাঈদ ইবনে ওয়াহফ আল-কাহত্বানী (রহঃ) বলেন, ‘গীবত শুধু মুখের ভাষার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বরং গীবতকারী যে কোন মাধ্যমে অপরের কুৎসা রটাতে পারেন। হ’তে পারে সেটা ইশারা-ইঙ্গিত, কাজ-কর্ম, অঙ্গ-ভঙ্গি, ভেংচানো, খোঁটা দেওয়া ও লেখালেখির মাধ্যমে অথবা যার নিন্দা করা হচ্ছে তিনি অপসন্দ করেন এমন যে কোন মাধ্যমে’। [কাহত্বানী, আফাতুল লিসান, পৃ. ৯।]
গীবতের ধরনসমূহ :
গীবত বলা হয় অপরের এমন সমালোচনা, যা শুনলে তার খারাপ লাগবে বা মন খারাপ হবে। এই সমালোচনা অন্যের দৈহিক ত্রুটি, বংশগত দোষ, চারিত্রিক ত্রুটি, কাজ-কর্ম, পোষাক-পরিচ্ছদ, ঘর-বাড়ি, গাড়ি-ঘোড়া সম্পর্কিত দোষ হ’লেও তা গীবত। গীবতের রকমভেদ সম্পর্কে বিভিন্ন গ্রন্থে বর্ণনা এসেছে। এখানে ইমাম নববী (রহঃ)-এর ‘আল-আযকার’, ইমাম গাযালী (রহঃ)-এর ‘ইহয়াউ উলূমিদ্দীন’ এবং ‘মাওসূ‘আতুল আখলাক্ব’ থেকে একত্রে এবং সংক্ষিপ্তাকারে গীবতের ধরনগুলো তুলে ধরা হ’ল।-
১. শারীরিক গঠন বা অবয়বের গীবত : যেমন তাচ্ছিল্য করে বলা হয়- কানা, খোঁড়া, ল্যাংড়া, লম্বু, খাটো, বাঁটু, কালা, হলদে, ধলা, অন্ধ, ট্যারা, টেকো মাথা, চোখে ছানি পড়া, ঠোঁট মোটা, কান ছোট, নাক বোঁচা, ঠসা প্রভৃতি। উদ্দিষ্ট ব্যক্তি যদি এগুলো অপসন্দ করেন, তবে সেটা গীবত হয়ে যাবে।
৩. বংশের গীবত : যেমন অবজ্ঞা করে বলা- অজাত, ছোটলোক, নিগ্রো, মুচি, চামার, মেথর, কাঠমিস্ত্রি, ভ্যানচালক, কামার, তাঁতি, পাঠান, বিহারী, বাঙ্গাল প্রভৃতি। বংশের দিকে বা পিতামাতার দিকে সম্বন্ধ করে অপসন্দনীয় যাই বলা হবে, সেটাই গীবত।
৪. পোষাক-পরিচ্ছদের গীবত : যেমন কারো পোষাক সম্পর্কে বলা, চওড়া আস্তিন, দীর্ঘ অাঁচল, নোংরা পোষাক পরিধানকারী, লম্বা আঁচলওয়ালী ইত্যাদি।
৫. পরোক্ষ গীবত : পরোক্ষ গীবত বলতে এমন পরনিন্দাকে বুঝায়, যা সরাসরি না বলে ভিন্ন আঙ্গিকে বলা হয়ে থাকে। নিমেণ তার কয়েকটি উদাহরণ দেওয়া হ’ল-
কোন ব্যক্তির প্রসঙ্গ বলতে বলতে বা শুনতে শুনতে বলা- ‘আল্লাহ তার নির্লজ্জতা থেকে পানাহ দিন’ অথবা ‘গোমরাহী থেকে পানাহ চাই’ ইত্যাদি বলা। মূলতঃ এভাবে বলে আলোচিত ব্যক্তির নির্লজ্জতা ও গোমরাহীর কথা উল্লেখ হয়ে থাকে।
‘কিছু লোক এই করে’ বা ‘কিছু মানুষ এই বলে’ বলা। এই ‘কিছু’ শব্দের মাধ্যমে সম্বোধিত ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট করে বুঝানো হয়, তাহ’লে সেটা গীবত।
‘অমুক পন্ডিত’, ‘অমুক ছাহেব’, ‘অমুক নেতা’ ইত্যাদি তাচ্ছিল্যের সাথে বলা। অর্থাৎ দোষ বা ত্রুটি বর্ণনার সময় সম্বোধিত ব্যক্তির নাম উল্লেখ না করলেও শ্রোতা বুঝে নিতে পারে কাকে উদ্দেশ্য করে এই কথাগুলো বলা হচ্ছে।
পরোক্ষ গীবতের এরকম আরো অনেক উদাহরণ আছে। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ এগুলোকে গীবত মনে করে না। অথচ এগুলোও সর্বনাশা গীবত।
গীবতের প্রকারভেদ
ণ্ঠ
ওলামায়ে কেরামের পরিভাষায় গীবত মূলতঃ তিন প্রকার।
১. হারাম গীবত : কারো অনুপস্থিতিতে তার দোষ-ত্রুটির বর্ণনা দেওয়া, যেটা সে পসন্দ করে না। এটা হারাম গীবত।
২. ওয়াজিব গীবত : মুসলিম সমাজকে বা ব্যক্তিকে সতর্ক ও সাবধান করার জন্য দোষ-ত্রুটি বর্ণনা করা ক্ষেত্রবিশেষে ওয়াজিব। যেমন- ইলমুল জারাহ ওয়াত তা‘দীলের ক্ষেত্রে যদি মুহাদ্দিছগণ রাবীদের দোষ-ত্রুটি বর্ণনা না করতেন, তাহ’লে ছহীহ-যঈফ, গ্রহণযোগ্য-অগ্রহণযোগ্য হাদীছসমূহের মান নির্ধারণ করা কখনোই সম্ভব হ’ত না। তাই এক্ষেত্রে দোষ বর্ণনা করা ওয়াজিব। অনুরূপভাবে বিবাহ-শাদীর ক্ষেত্রে যদি বর বা কনে সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়, তাহ’লে তাদের দোষ-ত্রুটি স্পষ্টভাবে বলে দেওয়া ওয়াজিব। কারণ দোষ বর্ণনা না করলে জিজ্ঞেসকারীকে ধোঁকা দেওয়া হবে। কোন ব্যক্তি যদি খিয়ানতকারী অসৎ লোকের সাথে ব্যবসা করতে চায়, সেই ব্যক্তিকে সতর্ক করার জন্য ঐ অসৎ লোকের দোষ বর্ণনা করা ওয়াজিব। কারণ সে না জেনে না বুঝে তার সাথে ব্যবসা করে ধোঁকায় পড়তে পারে। তাই তাকে সাবধান করা অপরিহার্য। এভাবে আরো কিছু ক্ষেত্র আছে, যেখানে দোষ বর্ণনা করা হারাম নয়; বরং তখন দোষ বর্ণনা করা অপরিহার্য হয়ে যায়।
৩. মুবাহ বা জায়েয গীবত : যদি নিন্দা করার পিছনে যুক্তিসঙ্গত বা শরী‘আত সম্মত কোন কারণ থাকে, তবে সেই গীবত করা মুবাহ বা জায়েয। যেমন- যুলুমের বিচার প্রাপ্তির জন্য শাসকের কাছে নালিশ করার সময় গীবত করা। কোন ব্যক্তি যদি মযলূম হয়ে বিচারকের কাছে গিয়ে বলে, ‘অমুক ব্যক্তি আমার টাকা আত্মসাৎ করেছে, আমার প্রতি যুলুম করেছে, আমার বাড়িতে চুরি করেছে ইত্যাদি। তবে এটা হারাম গীবতের অন্তর্ভুক্ত হবে না। অনুরূপভাবে আলেম বা মুফতীর কাছে কোন বিষয়ে ফৎওয়া নেওয়ার জন্য অন্যায়কারীর গীবত করা জায়েয। অবজ্ঞা করার উদ্দেশ্য না করে স্রেফ পরিচয় দেওয়ার জন্য কারো ত্রুটি বর্ণনা করা জায়েয। যেমন- কানা, কালো, খোড়া ইত্যাদি।
গীবতের বিধান
গীবত করার বিধান দুই ভাগে বিভক্ত। (১) গীবত করার বিধান। (২) গীবত শোনার বিধান।
১. গীবত করার বিধান :
গীবত একটি জঘন্য পাপ। গীবতের মাধ্যমে হাক্কুল ইবাদ বা বান্দার অধিকার ক্ষুণ্ণ হয়। মহান আল্লাহ বলেন:- ‘হে বিশ্বাসীগণ! তোমরা অধিক ধারণা হ’তে বিরত থাক। নিশ্চয়ই কিছু কিছু ধারণা পাপ। আর তোমরা ছিদ্রান্বেষণ কর না এবং পরস্পরের পিছনে গীবত কর না। তোমাদের কেউ কি তার মৃত ভাইয়ের গোশত খেতে পসন্দ করে? বস্ত্ততঃ তোমরা সেটি অপসন্দ করে থাক। তোমরা আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বাধিক তওবা কবুলকারী ও পরম দয়ালু’ (হুজুরাত ৪৯/১২)।
ইমাম হায়তামী বলেন, অত্র আয়াত ও অসংখ্য ছহীহ হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত যে, গীবত করা কবীরা গুনাহ’।[হায়তামী, আয-যাওয়াখের ‘আন ইক্বতিরাফিল কাবায়ের, পৃ. ৩৭১ ]
রাসূল (ছাঃ) বলেন:- ‘যে ব্যক্তি কোন মুসলমানের গীবতের বিনিময়ে এক গ্রাসও খাদ্য ভক্ষণ করবে, আল্লাহ তাকে সমপরিমাণ জাহানণামের আগুন ভক্ষণ করাবেন। আর যে ব্যক্তি কোন মুসলমানকে অপমান করার মাধ্যমে কোন কাপড় পরিধান করবে, আল্লাহ তাকে সমপরিমাণ জাহানণামের আগুন পরিধান করাবেন। আর যে ব্যক্তি কাকেও হেয় প্রতিপন্ন করে লোকদের নিকট নিজের বড়ত্ব যাহির করে এবং শ্রেষ্ঠত্ব দেখায়, ক্বিয়ামতের দিন আল্লাহ স্বয়ং ঐ ব্যক্তির শ্রুতি ও রিয়া প্রকাশ করে দেবার জন্য দন্ডায়মান হবেন’।[আবুদাঊদ হা/৪৮৮১; মিশকাত হা/৫০৪৭ ‘শিষ্টাচার সমূহ’ অধ্যায়; ছহীহাহ হা/৯৩৪।]
আমর ইবনুল আছ একদিন একটা মরা গাধার পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন। গাধাটির দিকে ইশারা করে তার সাথীদের বললেন:- ، ‘একজন মুসলিমের গোশত খাওয়া বা গীবত করার চেয়ে কোন মানুষের জন্য এই (মরা গাধার) গোশত খেয়ে পেট ভর্তি করা উত্তম’।[ছহীহুত তারগীব হা/২৮৩৮; সনদ ছহীহ।]
ইবনু হাজার আসক্বালানী (রহ.) বলেন, ‘অত্র হাদীছ এটা প্রমাণ করে যে, গীবত করা কবীরা গুনাহ’।[ফাৎহুল বারী ১০/৪৭০।]
গীবতকারীরা এই ঘৃণ্য পাপের কারণে সে পরকালেও ভয়াবহ শাস্তির সম্মুখীন হবে।[আবূদাঊদ হা/৪৮৭৮; মিশকাত হা/৫০৪৬; সনদ ছহীহ।]
সালাফে ছালেহীন এই পাপকে এত বেশী ভয় করতেন যে, পরনিন্দা করা তো দূরের কথা, যারা পরনিন্দা করে তাদেরকেও ভয় করতেন, যেন তাদের সাথে মিশে এই পাপে না জড়িয়ে পড়েন। আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারক (রহঃ) বলেছেন, ‘তুমি বাঘ থেকে যেভাবে পলায়ন কর, গীবতকারী থেকে সেভাবে পালিয়ে যাও’।[আর-রিসালাতুল কুশাইরিয়্যাহ ১/২৯২।]
২. গীবত শোনার বিধান :
গীবত করা যেমন মহাপাপ তেমনি খুশি মনে পরনিন্দা শোনাও পাপ। মহান আল্লাহ মুমিনদের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করে বলেন, ‘তারা যখন অসার বাক্য শ্রবণ করে তখন যেন তা উপেক্ষা করে’ (ক্বাছাছ ২৮/৫৫)।
ওলামায়ে কেরাম বলেন :- ، ‘গীবত শোনা এবং এর দিকে কান পেতে থাকা বৈধ নয়। গীবতকারী এবং গীবত শ্রবণকারী উভয়ই সমান পাপী’।[মাওসূ‘আতুল আখলাক্ব ২/৪০৭।]
আপডেট: ০১৩৭ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০১৯
ইমাম নববী (রহঃ) বলেন :- উপরে মানুষের দোষ-ত্রুটির বর্ণনা দেওয়া যেমন হারাম, ঠিক তেমনি সেটার নিন্দা শ্রবণ করা এবং তার স্বীকৃতি দেওয়াও হারাম’।[নববী, আল-আযকার, পৃ.২৯১।]
তিনি বলেন :- ، ‘গীবত শ্রবণকারীর কর্তব্য হ’ল নিন্দাকারীকে প্রতিহত করা এবং তাকে ধমক দেওয়া। যদি কথার মাধ্যমে বিরত না রাখতে পারে, তবে হাত দিয়ে বাধা দিবে। যদি হাত বা মুখ দিয়ে বাধা দিতে না পারে, তাহ’লে সেই মজলিস পরিত্যাগ করবে। আর বয়স্ক লোক, বাধা দেওয়ার অধিকার আছে এমন ব্যক্তি, গণ্য-মান্য লোকের গীবত শোনার ব্যাপারে আলোচিত পরিস্থিতির চেয়ে আরো সজাগ-সতর্ক থাকতে হবে’।[আল-আযকার, পৃ. ২৯৪।]
সালাফগণ গীবতের ব্যাপারে এতটাই কঠোর ছিলেন যে, কোন বৈঠকে কারো নিন্দা করা হ’লে সেই বৈঠকই পরিত্যাগ করতেন। ইবরাহীম ইবনে আদহাম (রহ.) দাওয়াতের মেহমান হয়ে এক খাবার মজলিসে হাযির হ’লেন। লোকজন বলল, ‘অমুক ব্যক্তি এখনো আসেনি’। একজন বলে উঠল, ‘সে একটু অলস প্রকৃতির লোক’। তখন ইবরাহীম (রহ.) বললেন, ‘যে বৈঠকে বসলে আমার মাধ্যমে কোন মুসলিম ভাইয়ের গীবত হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে, এমন মসলিসে উপস্থিত থাকা আমার জন্য সমীচীন নয়’। একথা বলে তিনি না খেয়েই সেখান থেকে উঠে চলে গেলেন।[সামারকান্দী, তাম্বীহুল গাফেলীন, পৃ. ১৬৬]য়
যেসব মানুষের গিবত করা যায়
প্রশ্ন: কোনো ব্যক্তি যদি এমন হয় যে ধর্মীয় ক্ষেত্রে মানুষ তাকে অনুসরণ করে, অথচ তার চিন্তাচেতনার মধ্যে ভ্রান্তি আছে, এমন ব্যক্তির অনিষ্টতা ও ভ্রান্তি বিষয়ে তুলে ধরা কি গিবত হবে?
উত্তর: কোনো ব্যক্তি যদি ধর্মীয় ক্ষেত্রে মানুষের কাছে অনুসরণীয় ব্যক্তি হয়, আর তার দৃষ্টিভঙ্গি ও চিন্তাচেতনা ভ্রান্ত হয়, তাহলে মানুষের সামনে তার ভ্রান্ত চিন্তা তুলে ধরা যাবে, যাতে মানুষ ওই ব্যক্তির বিভ্রান্তিপূর্ণ চিন্তাচেতনার শিকার হয়ে পথভ্রষ্ট না হয়। এটা শরিয়তের দৃষ্টিতে গিবত হবে না।
ইমাম নববী (রহ.) ‘রিয়াজুস সালেহিন’ কিতাবে এবং ইমাম গাজ্জালি (রহ.) ‘ইহইয়া’ কিতাবে লিখেছেন, ধর্মীয় উদ্দেশ্যে একজন মৃত বা জীবিত ব্যক্তির গিবত করা বৈধ, বিশেষত যখন এ ছাড়া বিকল্প কোনো পথ থাকে না।আর ছয় স্থানে এই বৈধতা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে চতুর্থ নম্বর হলো, কোনো ব্যক্তির অনিষ্ট থেকে মুসলমানদের হেফাজত করা এবং তাদের নসিহত করা।আর পঞ্চম নম্বর হলো, যদি সেই ব্যক্তি নিজেই নিজের বিদআত প্রকাশ করে, তাহলে শুধু ততটুকুই মানুষের সামনে বলা যাবে, যতটুকু ওই ব্যক্তি প্রকাশ করেছে। এর বেশি তার কোনো দোষত্রুটি নিয়ে আলোচনা করবে না।এ ছাড়া এ বিষয়ে প্রমাণ রয়েছে, মাওসুয়াহ ফিকহিয়া কুয়েতিয়্যাহর ৩১ নম্বর খণ্ডের ৩৩৫ ও ৩৩৬ পৃষ্ঠায়। আদুররুল মুখতারেও এ সম্পর্কিত প্রমাণ রয়েছে। (খণ্ড : ৯, পৃষ্ঠা-৫৮৬ ও ৫৮৬, মাকতাবায়ে জাকারিয়া, দেওবন্দ)
ফকিহ আবুল লাইস সমরকন্দি ‘তাম্বিহুল গাফিলিন’ কিতাবে লিখেছেন, গিবত চার ধরনের। এর মধ্যে একটি বৈধ মুবাহ তথা শরিয়ত কর্তৃক অনুমোদিত। আর তা হলো, যে ব্যক্তি নিজের ভ্রান্ত বিশ্বাসের কথা প্রকাশ্যে বলে অথবা বিদআতের সঙ্গে জড়িত। সুতরাং যদি ফাসেকের ব্যাপারে মানুষকে সতর্ক করার উদ্দেশ্যে কিছু বলে, তা গিবত তো হবেই না, বরং বক্তব্যদাতাকে বিশেষ সম্মান দান করবে। [ফতোয়া দেওয়ার তারিখ : ৭ এপ্রিল ২০১৯] (সংক্ষেপিত)
যে ছয়টি কারণে গিবত করা জায়েজ এক. জুলুম থেকে নিজে বাঁচতে, অন্যকে বাঁচাতে জালিমের ব্যাপারে এমন ব্যক্তির কাছে গিবত করতে পারবে, যে একে প্রতিহত করতে পারবে।
দুই. খারাপ কাজ বন্ধ করার জন্য সাহায্য চাইতে এমন ব্যক্তির কাছে গিবত করতে পারবে, যে তা বন্ধ করার ক্ষমতা রাখে।
তিন. কোনো বিষয় সম্পর্কে ইসলামী বিধান জানতে গিবত করে মূল বিষয় উপস্থাপন করা জায়েজ আছে। যেমন—এ কথা বলা যে অমুক ব্যক্তি আমাকে আঘাত করেছে, আমার জন্য কি তাকে আঘাত করা জায়েজ? ইত্যাদি।
চার. সাধারণ মুসলমানদের ধোঁকা ও প্রতারণা থেকে বাঁচাতে গিবত করা জায়েজ। যেমন—সাক্ষ্য সম্পর্কে, হাদিস ও ইতিহাস বর্ণনাকারী সম্পর্কে, লেখক, বক্তা প্রমুখ সম্পর্কে জনসমক্ষে বলা বৈধ, যাতে মানুষ তার ধোঁকা ও মিথ্যাচার থেকে বাঁচতে পারে।
পাঁচ. প্রকাশ্যে যদি কেউ গর্হিত কাজ করে, তাহলে তার অপকর্ম এমন ব্যক্তির কাছে বর্ণনা করা যায়, যারা এর দ্বারা বিভ্রান্ত হওয়া থেকে বাঁচতে পারে। যেমন—কেউ প্রকাশ্যে মদ খায়, তাহলে মানুষের সামনে তার সম্পর্কে বলা জায়েজ। যেন এমন খারাপ কাজ করতে ভবিষ্যতে কেউ সাহস না করে।
ছয়. কারো পরিচয় প্রকাশ করতে তার গিবত করা যায়, যদি সে এই নামে প্রসিদ্ধ হয়। যেমন—কেউ কানা। তার পরিচয় দেওয়া দরকার। কিন্তু কানা বললেই সবাই চিনে ফেলে। তখন কানা বলা বাহ্যিক দৃষ্টিতে গিবত হলেও এটা বলা বৈধ। এতে গিবতের গুনাহ হবে না। (তাফসিরে রুহুল মাআনি : ১৪/২৪২, সুরা : হুজরাত, আয়াত : ১২)
ইসলাম বিভাগে আপনিও লিখতে পারেন। লেখা ও প্রশ্ন পাঠাতে মেইল করুন: bn24.islam@gmail.com
বাংলাদেশ সময়: ২১৩৭ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০১৯ এমএমইউ
👉👉১: আল্লাহ তাআলা কেন জুলুমে বাধা দেন না। 👉👉২. আল্লাহর দেয়া বিজয় কোথায়? 👉👉৩. ইহুদিরা মুসলমানদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ, এজন্য বারবার বিজয় লাভ করছে? 🟩🟪১: যখন কেউ প্রশ্ন করে, আল্লাহ কেন জুলুমে বাধা দিচ্ছেন না? উত্তর: আমাদের পাল্টা পশ্ন থাকে, আল্লাহ তাআলা ওয়াদা ভঙ্গ করেছেন, এমন কোনো নজির আছে? আল্লাহ তাআলা কি কোথাও এমন কথা বলেছেন, এই দুনিয়া হল দারুল জাযা বা প্রতিদানের জায়গা। তাই এখানে জালেমের বিরুদ্ধে মাজলুমের ইনসাফ পাওয়াটা আবশ্যক। সুরা বুরুজে আছে, একদল লোক ঈমান এনেছিল। বিরোধীরা গর্ত খুঁড়ে মুমিনদেরকে সেখানে জড়ো করে জীবন্ত পুড়িয়ে মেরেছিল। তা সত্ত্বেও আল্লাহ তাআলা এই মুমিনদের সম্পর্কে বলেছেন, اِنَّ الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا وَ عَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ لَهُمْ جَنّٰتٌ تَجْرِیْ مِنْ تَحْتِھَا الْاَنْھٰرُ ذٰلِکَ الْفَوْزُ الْکَبِیْرُ যারা ঈমান এনেছে ও সৎকর্ম করেছে, নিশ্চয়ই তাদের জন্য আছে এমন উদ্যান, যার নিচে নহর প্রবাহিত। এটাই মহা সাফল্য (বুরুজ: ১১)।
তাদাব্বুর: যারা আল্লাহর আনুগত্য ও ঈমানের ওপর মৃত্যুবরণ করবে, তারা বিরাট সাফল্য লাভ করবে। এই মৃত্যুকে আল্লাহ তাআলা আল-ফাউযুল কাবীর’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। শত্রুরা তাদেরকে দ্বীন থেকে বিচ্যুত করতে চেয়েছিল। পারেনি। এই মৃত্যুর মাধ্যমে সেই মুমিনদল মূলত বিজয়ী হয়েছিল। কীভাবে? তারা ঈমানের ওপর অটল থেকে, তাওহিদের ওপর অবিচল থেকে কাফেরদের পরিকল্পনা ভণ্ডুল করে দিয়েছিল। কাফেরদের বিপুল আয়োজন ভেস্তে দিয়েছিল। এটাই জয়। ঈমান নিয়ে মৃত্যুবরণ করতে পারাটাই আসলে বিরাট বিজয়। আলফাওযুল কাবীর। আমাকে বিশ্বাস রাখতে হবে, এই দুনিয়া হল দারু বালা (পরীক্ষাগার), দারে জাযা (প্রতিদানক্ষেত্র) নয়। তাহলে আর প্রশ্ন উঠবে না। মুমিনের জীবনে আখেরাতই মূল কেন্দ্রবিন্দু হবে। মুমিনের চিন্তা থেকে একমুহূর্তও আখেরাত সরে যাওয়া উচিত নয়। আল্লাহ তাআলা কখনো ওয়াদা ভঙ্গ করেন না। তিনি কোথায় কী হচ্ছে সব জানেন। তিনি মাজলুমদের সম্পর্কে সম্যক ওয়াকিবহাল, وَلَا تَحْسَبَنَّ اللهَ غَافِلًا عَمَّا یَعْمَلُ الظّٰلِمُوْنَ ۬ؕ اِنَّمَا یُؤَخِّرُهُمْ لِیَوْمٍ تَشْخَصُ فِیْهِ الْاَبْصَارُ আপনি কিছুতেই মনে করবেন না জালিমগণ যা-কিছু করছে আল্লাহ সে সম্পর্কে বেখবর। তিনি তো তাদেরকে সেই দিন পর্যন্ত অবকাশ দিচ্ছেন, যে দিন চক্ষুসমূহ থাকবে বিস্ফারিত (ইবরাহিম: ৪২)।
তাদাব্বুর: আমরা জালেমদের শাস্তি নিয়ে কথা বলি। আখেরাতে দৃঢ় বিশ্বাস থাকলে এমন চিন্তা আসত না। সবকিছু দুনিয়াতে শেষ হয়ে যাবে না। জুলুমের ফয়সালার জন্য আখেরাত আছে তো। আল্লাহ তাআলা তো বলেই দিয়েছেন, وَ اِنَّمَا تُوَفَّوْنَ اُجُوْرَكُمْ یَوْمَ الْقِیٰمَۃِ এবং তোমাদের সকলকে তোমাদের কর্মের) পুরোপুরি প্রতিদান কেবল কিয়ামতের দিনই দেওয়া হবে (আলে ইমরান: ১৮৫)।
তাদাব্বুর: আল্লাহ তাআলা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, কেয়ামত দিবসে সবাইকে পরিপূর্ণ প্রতিদান দিবেন। আল্লাহ তাআলা দুনিয়াতে পরীক্ষা করার ওয়াদা করেছেন নাকি না করার? পরীক্ষা করার ওয়াদা করেছেন, لَتُبْلَوُنَّ فِیْۤ اَمْوَالِكُمْ وَاَنْفُسِكُمْ ۟ وَلَتَسْمَعُنَّ مِنَ الَّذِیْنَ اُوْتُوا الْکِتٰبَ مِنْ قَبْلِكُمْ وَمِنَ الَّذِیْنَ اَشْرَكُوْۤا اَذًی کَثِیْرًا ؕ وَ اِنْ تَصْبِرُوْا وَتَتَّقُوْا فَاِنَّ ذٰلِکَ مِنْ عَزْمِ الْاُمُوْرِ (হে মুসলিমগণ!) তোমাদেরকে তোমাদের অর্থ-সম্পদ ও জীবনের ব্যাপারে (আরও) পরীক্ষা করা হবে এবং তোমরা ‘আহলে কিতাব’ ও ‘মুশরিক’ উভয় সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে অনেক পীড়াদায়ক কথা শুনবে। তোমরা যদি সবর ও তাকওয়া অবলম্বন কর, তবে নিশ্চয়ই এটা অতি বড় হিম্মতের কাজ (যা তোমাদেরকে অবলম্বন করতেই হবে) (আলে ইমরান: ১৮৬)।
তাদাব্বুর: এই আয়াতে আরো স্পষ্ট হয়ে গেছে, দুনিয়া পরীক্ষার স্থান। প্রতিদানের স্থান নয়। আল্লাহ তাআলা আরো বলছেন, ذٰلِکَ ؕۛ وَلَوْ یَشَآءُ اللهُ لَانْتَصَرَ مِنْهُمْ وَ لٰکِنْ لِّیَبْلُوَا۠ بَعْضَكُمْ بِبَعْضٍ আল্লাহ চাইলে নিজেই তাদেরকে শাস্তি দিতেন, কিন্তু (তোমাদেরকে এ নির্দেশ দিচ্ছেন এজন্য যে,) তিনি তোমাদের একজনকে অপরের দ্বারা পরীক্ষা করতে চান (মুহাম্মাদ: ৪)।
তাদাব্বুর: গা/যা/বাসির ওপর বোমার পাহাড় নেমে এলেও তারা অবিচল আছে। এটাই আল্লাহ তাআলার রহমত। আল্লাহ তাআলা বিশ্বশক্তির ভয়াবহ জুলুমে বাধা দিচ্ছেন না, যাতে পরীক্ষা করতে পারেন। কে জালেম, কে মাজলুম। কে জালেমের পক্ষে আছে, সে মাজলুমের পক্ষে আছে। কে জালেমের সাহায্যে এগিয়ে যাচ্ছে, কে মাজলুমের সাহায্যে এগিয়ে যাচ্ছে। কে মাজলুমের অসহায় অবস্থা দেখেও কে নিরব আছে আর কে সরব হয়ে উঠেছে। কে সচেষ্ট হয়েছে আর কে সামর্থ থাকা সত্ত্বেও নিশ্চেষ্ট হয়ে মুখে কুলুপ এঁটে বসে আছে।
তাদাব্বুর: পরীক্ষা করতে করতে যে গাযাবাসীর কেয়ামত হয়ে যাচ্ছে? উত্তর হবে, যারা মারা যাচ্ছেন, তারা শহিদি মর্যাদা লাভ করছেন। তারা চূড়ান্ত বিজয়ী হয়েই ইন্তেকাল করছেন।
২. দ্বিতীয় প্রশ্ন: আল্লাহ তাআলা গা/যা/বাসীকে সাহায্য করছেন না কেন? কার বিরুদ্ধে সাহায্য করবেন? জা/য়োনিস্টদের বিরুদ্ধে? জা/য়োনিস্টরা হল বিশ্বচালানো সাম্রাজ্যবাদী দুষ্টমোড়লদের প্রতিনিধি। ইসলামবিরোধী শক্তির প্রতিনিধি। ইসলামের বিরুদ্ধে পুরো বিশ্বশক্তি একাট্টা। পুরো বিশ্ব এক হয়ে ইসলাম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে লড়ছে। কুরআনে আছে, وَقَاتِلُوا الْمُشْرِکِیْنَ کَآفَّۃً کَمَا یُقَاتِلُوْنَكُمْ کَآفَّۃً এবং তোমরা সকলে মিলে মুশরিকদের সাথে লড়াই কর, যেমন তারা তোমাদের সাথে লড়াই করে (তাওবা: ৩৬)।
তাদাব্বুর: কাফের-মুশরিকরা যেমন সম্মিলিতভাবে মুসলিমদের বিরুদ্ধে লড়ছে, মুসলমানদেরও উচিত তেমন সম্মিলিতভাবে তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করা। তাহলেই আল্লাহর প্রতিশ্রুত সামষ্টিক বিজয় আসবে, یٰۤاَیُّهَا الَّذِیْنَ اٰمَنُوْۤا اِنْ تَنْصُرُوا اللهَ یَنْصُرْكُمْ وَ یُثَبِّتْ اَقْدَامَكُمْ হে মুমিনগণ! তোমরা যদি আল্লাহ (তাআলার দ্বীন)-এর সাহায্য কর, তবে তিনি তোমাদের সাহায্য করবেন এবং তোমাদের কদম অবিচলিত রাখবেন (মুহাম্মাদ: ৭)।
তাদাব্বুর: আমাদের একথা মনে রাখা উচিত, বিজয় দানের মালিক একমাত্র আল্লাহ তাআলা। তিনি যখন ইচ্ছা বিজয় দান করবেন, وَمَا النَّصْرُ اِلَّا مِنْ عِنْدِ اللهِ অন্য কারও পক্ষ থেকে নয়, কেবল আল্লাহর পক্ষ থেকেই সাহায্য আসে (আনফাল: ১০)।
তাদাব্বুর: বিজয় যেহেতু আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকেই আসে, আমার এত দুশ্চিন্তার কী আছে? আমি বিজয় নিয়ে ভাবিত হবো না। আমার ভাবার বিষয় হল, আমি বিজয় অর্জনের জন্য যথাযথ মেহনত করছি কি না। সময় হলে বিজয় আসবেই। কেউ ঠেকাতে পারবে না, اِنْ یَّنْصُرْكُمُ اللهُ فَلَا غَالِبَ لَكُمْ ۚ وَ اِنْ یَّخْذُلْكُمْ فَمَنْ ذَا الَّذِیْ یَنْصُرُكُمْ مِّنْۢ بَعْدِهٖ আল্লাহ তোমাদেরকে সাহায্য করলে কেউ তোমাদেরকে পরাস্ত করতে পারবে না। আর তিনি যদি তোমাকে একা ছেড়ে দেন, তবে কে আছে, যে তোমাকে সাহায্য করবে (আলে ইমরান: ১৬০)?
তাদাব্বুর: গা/যা/বাসি জা/য়োনিস্টদের বিরুদ্ধে লড়ছে না, লড়ছে বিশ্বশক্তির বিরুদ্ধে। ই/স/রায়েলের শাসনক্ষমতায় থাকা ব্যক্তিরা ইসলামবিরোধী শক্তিরই প্রতিনিধি। এটা ঈমান ও কুফর-নিফাকের লড়াই। প্রশ্ন উঠতে পারে, এই ঈমান ও কুফরের লড়াইয়ে মুসলিম বিশ্ব হাত গুটিয়ে বসে থাকার বোঝা গা/যা/বাসীকে কেন ওঠাতে হচ্ছে? কুরআনে আছে, وَلَا تَزِرُوَازِرَۃٌ وِّزْرَ اُخْرٰی একজন্য অন্যের বোঝা বহন করে না (আনআম: ১৬৪)।
তাদাব্বুর: এই হামলায় যারা মারা যাচ্ছেন, তারা শহিদি দরজা লাভ করছেন। আল্লাহ তাআলা তাদেরকে ইসতিফা-বাছাই করছেন। এটা মৃত্যু নয়; পুরস্কার। আল্লাহ তাআলা বলেছেন, وَ الَّذِیْنَ قُتِلُوْا فِیْ سَبِیْلِ اللهِ فَلَنْ یُّضِلَّ اَعْمَالَهُمْ ﴿۴﴾ سَیَهْدِیْهِمْ وَ یُصْلِحُ بَالَهُمْ ۚ﴿۵﴾ وَ یُدْخِلُهُمُ الْجَنَّۃَ عَرَّفَهَا لَهُمْ আর যারা আল্লাহর পথে নিহত হয়েছে, আল্লাহ কখনই তাদের কর্ম নিষ্ফল করবেন না। তিনি তাদেরকে গন্তব্যে পৌঁছিয়ে দেবেন এবং তাদের অবস্থা শুধরে দেবেন। তাদেরকে দাখিল করবেন জান্নাতে, যা তাদেরকে ভালোভাবে চিনিয়ে দিয়েছিলেন (মুহাম্মাদ: ৪-৬)।
তাদাব্বুর: এরপর আর কথা থাকে না। তাছাড়া মুসলমানদের এই অবস্থা চিরদিন এমন থাকবে না, وَتِلْکَ الْاَیَّامُ نُدَاوِلُهَا بَیْنَ النَّاسِ ۚ وَلِیَعْلَمَ اللهُ الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا وَیَتَّخِذَ مِنْكُمْ شُهَدَآءَ ؕ وَاللهُ لَا یُحِبُّ الظّٰلِمِیْنَ এ তো দিন -পরিক্রমা, যা আমি মানুষের মধ্যে পালাক্রমে বদলাতে থাকি। এর উদ্দেশ্য ছিল মুমিনদেরকে পরীক্ষা করা এবং তোমাদের মধ্যে কিছু লোককে শহীদ করা। আর আল্লাহ জালিমদেরকে ভালোবাসেন না (আলে ইমরান: ১৪০)।
তাদাব্বুর: আল্লাহ তাআলা তাদেরকে (وَیَتَّخِذَ مِنْكُمْ شُهَدَآءَ ؕ) শহিদ হিসেবে গ্রহণ করছেন। আল্লাহর রাস্তায় শহীদ হওয়া মুমিন পুরোপুরি প্রতিদান লাভ করবে। আল্লাহ তাআলা তাদেরকে সম্মানিত করবেন। শ্রেষ্ঠ অনুগ্রহে ভুষিত করবেন। বাকি উম্মাহ শর্ত পূরণ করার আগ পর্যন্ত চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করতে সক্ষম হবে না। বিজয় লাভের জন্য কিছু শর্ত আছে। পুরো উম্মাহ এখনো বিজয়লাভের কোনো শর্ত পূরণ করেনি। وَ اِنْ تَصْبِرُوْا وَتَتَّقُوْا لَا یَضُرُّكُمْ کَیْدُهُمْ شَیْـًٔا তোমরা সবর ও তাকওয়া অবলম্বন করলে তাদের চক্রান্ত তোমাদের কোন ক্ষতি সাধন করতে পারবে না (আলে ইমরান: ১২০)।
তাদাব্বুর: আমাদের এই অজুহাত দেয়ার কোনো সুযোগ নেই, আমরা গাযাবাসীকে সাহায্য করতে চাই, শাসকগোষ্ঠী ও বিশ্বশক্তির বাধার কারণে পারছি না। আমরা মুসলমান হিসেবে নিজেদের প্রতি যা করছি, সেটা ভেতরে ও বাইরে থাকা শত্রুদের কর্মকা-ের চেয়েও ভয়ংকর। মূল সমস্যা হল আয়াতে বর্ণিত ‘সবর ও তাকওয়া’-তে।
তাদাব্বুর: বিজয় আসার যেসব আসবাব গ্রহণ করা প্রয়োজন, আমরা সেসব গ্রহণ করছি না। আমরা বিজয়ের উপযুক্ত হইনি এখনো। বিজয় অর্জনের জন্য কিছু শর্ত আছে। উপরে বর্ণিত সুরা তাওবার ৩৬-তম আয়াতখানা আবার লক্ষ্য করি। কাফেররা যেভাবে একাট্টা হয়ে লড়ছে, চূড়ান্ত বিজয় অর্জনের জন্য আমাদেরও একাট্টা হয়ে লড়তে হবে। প্রশ্ন জাগতে পারে, আল্লাহ তাআলা তো চাইলেই পারেন, এখুনি এই মুহূর্তে আমাদের সাহায্য করতে। করছেন না কেন? উত্তরটা সুরা মুহাম্মাদের চতুর্থ আয়াতে (উপরে) আছে।
তাদাব্বুর: তাছাড়া এখুনি বিজয় হাসিল করাটা আমার জন্য কল্যাণকর হবে কি না, সেটাও বিবেচনায় রাখতে হবে। বিজয় আমাদের জীবদ্দশায় দেখে যাওয়া জরুরী নয়। জরুরি হল দ্বীনের জন্য কাজ করে যাওয়া। মেহনত অব্যাহত রাখা। আল্লাহ তাআলা পেয়ারা নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সান্ত¡না দিয়ে বলেছিলেন, فَاصْبِرْ اِنَّ وَعْدَ اللهِ حَقٌّ ۚ فَاِمَّا نُرِیَنَّکَ بَعْضَ الَّذِیْ نَعِدُهُمْ اَوْ نَتَوَفَّیَنَّکَ فَاِلَیْنَا یُرْجَعُوْنَ সুতরাং (হে রাসূল!) আপনি সবর অবলম্বন করুন। নিশ্চিত থাকুন যে, আল্লাহর ওয়াদা সত্য। আমি তাদেরকে (অর্থাৎ কাফেরদেরকে) যার (অর্থাৎ যে শাস্তির) ভয় দেখাচ্ছি, আমি তার কিছুটা আপনাকে (আপনার জীবনে) দেখিয়ে দেই অথবা আপনাকে দুনিয়া থেকে তুলে নেই, সর্বাবস্থায় তাদেরকে আমার কাছেই ফিরিয়ে আনা হবে (গাফির: ৭৭)।
তাদাব্বুর: আল্লাহ তাআলা মুসলমানদের বিজয়ী করবেনই। এটাই চূড়ান্ত কথা। বিজয় হয়তো আমি দেখে যেতে পারব অথবা পারবো না। কাফেরদের বিচার একদিন হবেই হবে। নবীজিকে আরো বলা হয়েছে, وَ اِنْ مَّا نُرِیَنَّکَ بَعْضَ الَّذِیْ نَعِدُهُمْ اَوْ نَتَوَفَّیَنَّکَ فَاِنَّمَا عَلَیْکَ الْبَلٰغُ وَعَلَیْنَا الْحِسَابُ আমি তাদেরকে (অর্থাৎ কাফেরদেরকে) যে বিষয়ের শাসানি দেই, তার অংশবিশেষ আমি আপনাকে (আপনার জীবদ্দশায়ই) দেখিয়ে দেই অথবা (তার আগেই) আপনাকে দুনিয়া থেকে তুলে নেই, সর্বাবস্থায় আপনার দায়িত্ব তো কেবল বার্তা পৌঁছানো। আর হিসাব গ্রহণের দায়িত্ব আমার (রাদ: ৪০)।
তাদাব্বুর: আল্লাহ তাআলা কুরআনের আরো কয়েক জায়গায় নবীজিকে এভাবে আশ্বাস দিয়েছেন, فَاِمَّا نَذْهَبَنَّ بِکَ فَاِنَّا مِنْهُمْ مُّنْتَقِمُوْنَ ﴿ۙ۴۱﴾ اَوْ نُرِیَنَّکَ الَّذِیْ وَعَدْنٰهُمْ فَاِنَّا عَلَیْهِمْ مُّقْتَدِرُوْنَ ﴿۴۲﴾ فَاسْتَمْسِكْ بِالَّذِیْۤ اُوْحِیَ اِلَیْکَ এখন তো এটাই হবে যে, আমি আপনাকে দুনিয়া থেকে তুলে নিলেও তাদেরকে শাস্তিদান করবÑ কিংবা যদি আপনাকেও তা (অর্থাৎ সেই শাস্তি) দেখিয়ে দেই, যার ওয়াদা আমি তাদের সাথে করেছি, তবে তাদের উপর সে ক্ষমতাও আমার আছে। সুতরাং আপনার প্রতি যে ওহী নাযিল করা হয়েছে, তা দৃঢ়ভাবে ধরে রাখুন (যুখরুফ: ৪১-৪৩)।
তাদাব্বুর: এসব আয়াত থেকে শেখার বিষয় হল, আমাদেরকে সবর করতে হবে। সবর শিখতে হবে। সবর অর্জন করতে হলে আমাদের কর্তব্য হল,
ক. যে কোনো মূল্যে, যে কোনো পরিস্থিতিতে হকের ওপর অবিচল থাকা। সাময়িক বিপদ, ক্ষণিকের মুসিবত যেন আমাকে টলিয়ে দিতে না পারে। সবরের সাথে আপন কাজে লেগে থাকব। নবীজি বলে গেছেন, أنَّ النَّصْرَ مَعَ الصَّبْرِ وَأَنَّ الفَرَجَ مَعَ الكَرْبِ وَأَنَّ مَعَ العُسْرِ يُسْراً ধৈর্য্য ধারণের ফলে (আল্লাহর) সাহায্য লাভ করা যায়। কষ্টের পর স্বাচ্ছন্দ আসে। কঠিন অবস্থার পর স্বচ্ছলতা আসে (ইবনে আব্বাস রা। ইমাম নববীর ৪০ হাদীস)।
খ. সর্বাবস্থায় মানুষের কাছে হকের দাওয়াত পৌঁছাতে থাকা। সুস্পষ্ট ভাষায় হকের কথা বলে যাওয়া।
গ. বিজয় অর্জনে বিলম্ব হওয়াটা আমাদেরকে যেন হাহুতাশে লিপ্ত না করে। আমি যেন এই সঙ্গীন সময়ে নিজেকে বাদ দিয়ে অন্যের দোষ খোঁজায় মশগুল হয়ে না পড়ি।
ঘ. যে কোনো মূল্যে হককে আঁকড়ে ধরে থাকা। আমরা যে বিজয় কামনা করছি, সেটা তো নিজের জন্য নয়। আমরা বিজয় কামনা করছি হকের। যে হক দ্বারা আমরা বাতিলকে ধ্বংস করার কাজে মশগুল আছি।
৩. তৃতীয় প্রশ্ন: ইহুদিরা মুসলমানদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ, এজন্য বারবার বিজয় লাভ করছে? উত্তর: আল্লাহ তাআলা ই/হু/দিদের নানা সুযোগসুবিধা দিয়ে পরীক্ষা করছেন। এতসব সুবিধা পেয়ে ই/হু/দিদের ভালো হয়ে যাওয়া উচিত ছিল। ই/হু/দিরা উল্টো আরো দুষ্টতর হচ্ছে। ই/হু/দিরা বাহ্যিক দৃষ্টিতে যে বিজয় অর্জন করছে, সেটা মূলত বিজয় নয়; সাময়িক প্রাপ্তি বলা যেতে পারে। আরো নির্দিষ্ট করে বলতে গেলে, এই জয় ই/হু/দিদের নয়, সাম্রাজ্যবাদী ইউরোপিয়ান খ্রিস্টশক্তির। তাদের সাহায্য-সহযোগিতাতেই ই/হু/দিরা সাময়িক জয় পেয়ে থাকে। ই/হু/দিরা তাদের মিত্রশক্তি ও অস্ত্রশক্তির জোরে সাময়িক দাপট হাসিল করেছে। এটাকে জয়ী হওয়া বলে না। ই/হু/দিরা চব্বিশ ঘণ্টা মারাত্মক ভীতসন্ত্রস্ত থাকে। জয়ী মানুষের মতো তাদের মনে কোনো তৃপ্তি নেই। শান্তি নেই, সুখ নেই। এটাকে কি জয় বলা যায়?
তাদাব্বুর: ই/হু/দিরা সবসময়ই অস্তিত্বের হুমকিতে থাকে। তারা জানে, আরব ও মুসলমানদের ঘুম ভাঙলে তাদের ঘুম হারাম হয়ে যাবে। ভবিষ্যতের অজানা আশংকাতেই ই/হু/দিরা সারাক্ষণ নিজেদেরকে সুরক্ষিত রাখার কাজে ব্যতিব্যস্ত থাকে। এই মানসিক অস্থিরতাই তাদের পরাজয়। রাব্বে কারীম মুমিনদের চূড়ান্ত বিজয় দান করুন। আমীন।
মাসিক ছাত্রসংবাদের আগষ্ট সংখ্যার প্রশ্নোত্তর বিভাগে একজন ভাই ছাত্র শিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতিকে ‘গণতন্ত্র’ সম্পর্কে প্রশ্ন করেছেন। প্রশ্ন এবং উত্তরটা নিম্নে প্রদত্ত হলো।
প্রশ্ন: ইসলামী ছাত্রশিবির কি গণতান্ত্রিক উপায়ে ক্ষমতা পরিবর্তনের মাধ্যমে ইসলাম কায়েমে বিশ্বাসী নাকি পরিপূর্ণ দাওয়াত, মোয়ামেলাত, মোয়াশারাত, জিহাদের মাধ্যমে খেলাফার সোনালী সূর্য আনার জন্য কাজ করে?
উত্তর: গণতন্ত্র দিয়ে ইসলাম কায়েম করার কোনো সুযোগ নেই। ইসলাম কায়েম করতে হবে কুরআন দিয়ে; খেলাফতব্যবস্থা দিয়ে। বর্তমান সময়ে গণতন্ত্র হলো ক্ষমতা পরিবর্তনের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ও গ্রহণযোগ্য পন্থা বা ব্যবস্থা। আর ক্ষমতার পরিবর্তন হলেই যে ইসলাম কায়েম হয়ে যাবে এমনটা ভাবার কোনো সুযোগ নেই। বরং এটি একটি সুযোগ যে ক্ষমতা পরিবর্তন হলে ইসলাম কায়েমের পরিবেশ তৈরি হবে। আপনার মনে হয়তো আরেকটি বিষয় খটকা লাগতে পারে যে, প্রচলিত ভোটব্যবস্থা জায়েজ কিনা…? এটা সব থেকে সহজ ভাষায় বললে বলতে হবে- ভোট ব্যবস্থাকে সরাসরি নাজায়েজ বলার সুযোগ নেই। কারণ যে পন্থা ইসলাম সাপোর্ট করে তা হচ্ছে কেউ ক্ষমতার অভিলাষী হতে পারবে না কিন্তু প্রার্থী শুরা দ্বারা (পরামর্শের মাধ্যমে) নির্ধারিত হবে। এই সিস্টেমটি খোলাফায়ে রাশেদীনের যুগেও ছিলো। তাহলে সিদ্ধান্ত কি? গণতান্ত্রিক উপায়ে যেহেতু লোকের মধ্যে দাওয়াতী কাজের সুযোগ আছে, মেশার, মোয়ামেলাতের সুযোগ আছে তাই সেটিকে কাজে লাগিয়ে প্রতিষ্ঠিত পলিসি ভেঙ্গে খেলাফতের ঝাণ্ডা উড্ডয়ন করতে হবে ইনশাআল্লাহ। হাফেজ রাশেদুল ইসলাম মুহতারাম কেন্দ্রীয় সভাপতি, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।
দেখুন, এই হচ্ছে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি, আমরা গণতন্ত্রকে দ্বীন কায়েমের একমাত্র পথ, কিংবা গণতন্ত্র হচ্ছে এই যুগের জিহাদ ; ইত্যাদি মনে করি না। আমাদের কাজ মৌসুম ভিত্তিক না। বছরে বারোটি মাস, সপ্তাহে সাতটি দিন, দিনে ছব্বিশটা ঘন্টাই আমাদের কাজ আছে। আমরা দাওয়াত-তারবিয়াতের কাজ নিয়মিতই করে থাকি। এরমধ্যে গণতান্ত্রিক নির্বাচন আসে পাঁচ বছরে একবার। আর আমরা সেই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলেও নির্বাচন হবে, না করলেও হবে। বরঞ্চ ইসলামের প্রতি সহনশীল কেউ নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করলে ইসলাম বিদ্বেষীরা আরো বেশি সুযোগ পাবে, সে কারণে আমরা সৎ-নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা ও প্রদর্শনের একটা সুযোগ এবং মাধ্যম মনে করি গণতান্ত্রিক এই নির্বাচনকে। আমরা যদি তা ব্যবহার না করি তবে দুই দিক দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হবো:
প্রথমত, সৎকাজে আদেশ ও সমাজে ইসলাম বিরোধী কর্মকান্ড পরিবর্তন করে পরিপূর্ণ ইসলাম প্রতিষ্ঠার একটি বড় মাধ্যম আমরা হারাব। দ্বিতীয়ত, বর্তমানে সমাজে যারা ইসলামী মূল্যবোধের প্রসার ও প্রতিষ্ঠা চান না, তারা এই গণতান্ত্রিক মাধ্যম ব্যবহার করে ইসলামী মূল্যবোধের বিকাশ রোধ করবেন। এ কারণে ইসলামের বিরুদ্ধে সকল প্রচেষ্টার মোকাবিলা করাও আমাদের দায়িত্ব।
এ জন্য গণতান্ত্রিক রাজনীতিকে একটি নব উদ্ভাবিত উপকরণ হিসাবে বিবেচনা করতে হবে এবং প্রয়োজনে ইসলামী শরীয়তের শিক্ষার আলোকে শরীয়ত সম্মত ভাবে সৎ কাজের আদেশ, অসৎ কাজের নিষেধ ইত্যাদি ইসলামের সুনির্দিষ্ট ইবাতদ পালনের মাধ্যম হিসাবে একে ব্যবহার করতে হবে।
শাইখ মুহাম্মদ বিন উসাইমীন (রাহঃ) কে গণতান্ত্রিক নির্বাচনে অংশ নেয়ার হুকুম সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি জবাবে বলেন: আমি মনে করি এ নির্বাচনগুলোতে অংশ নেয়া ফরজ। আমরা যাকে ভালমনে করি তাকে সহযোগিতা করা ফরজ। কারণ ভাল লোকেরা যদি ঢিলেমি করে তাহলে এ স্থানগুলো কে দখল করবে? খারাপ লোকেরাই দখল করবে কিংবা এমন লোকেরা দখল করবে যাদের কাছে না আছে ভাল; না আছে খারাপ; যারা সুবিধাবাদী। তাই আমাদের উচিত যাকে যোগ্য মনে করি তাকে নির্বাচিত করা।যদি কেউ বলেন: আমরা যাকে নির্বাচিত করলাম আইনসভার অধিকাংশ সদস্য তার বিপক্ষে।আমরা জবাবে বলব: কোন অসুবিধা নেই। এই একজনের মধ্যে আল্লাহ বরকত দিতে পারেন। তিনি যদি আইনসভার সামনে হক কথা বলতে পারেন তাহলে অবশ্যই এর প্রভাব থাকবে, প্রভাব থাকতেই হবে। তবে যে ক্ষেত্রে আমাদের কসুর হয় সেটা হচ্ছে আল্লাহর সাথে বিশ্বস্ত হওয়া। আমরা শুধু বৈষয়িক বিষয়ের উপর নির্ভর করি আল্লাহর বাণী এর দিকে তাকাই না। সুতরাং আপনি যাকে ভাল মনে করেন তাকে নির্বাচিত করুন; এরপর আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল করুন।(শাইখ মুহাম্মাদ বিন উসাইমীন, লিকাআতুল বাব আল-মাফতুহ)
সৌদি আরবে ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটিকে জিজ্ঞেস করা হয় যে, আপনারা জানেন, আমাদের আলজেরিয়াতে “আইনসভার নির্বাচন” অনুষ্ঠিত হয়। কোন দল আছে যারা ইসলামী হুকুমত কায়েমের দিকে আহ্বান করে। আর কোন দল আছে যারা ইসলামী হুকুমত চায় না। এখন যে ব্যক্তি এমন কাউকে ভোট দেয় যে প্রার্থী ইসলামী হুকুম চায় না সে ব্যক্তির হুকুম কি হবে; তবে এ ব্যক্তি নামায আদায় করে?
জবাবে তাঁরা বলেন: যে সব দেশে ইসলামী শরিয়াভিত্তিক শাসনব্যবস্থা চালু নাই সেসব দেশের মুসলমানদের উপর ফরজ ইসলামী হুকুমত ফিরিয়ে আনার জন্য তাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা নিয়োজিত করা এবং যে দল ইসলামী হুকুমত বাস্তবায়ন করবে বলে তারা ধারনা করেন সে দলকে একজোটে সবাই মিলে সহযোগিতা করা। পক্ষান্তরে, যে দল ইসলামী শরিয়া বাস্তবায়ন না করার প্রতি আহ্বান জানায় সে দলকে সহযোগিতা করা নাজায়েয। বরং এ ধরনের সহযোগিতা ব্যক্তিকে কুফরের দিকে ধাবিত করে। দলিল হচ্ছে আল্লাহর বাণী: ﻭَﺃَﻥِ ﭐﺣْﻜُﻢ ﺑَﻴْﻨَﻬُﻢ ﺑِﻤَﺎٓ ﺃَﻧﺰَﻝَ ﭐﻟﻠَّﻪُ ﻭَﻟَﺎ ﺗَﺘَّﺒِﻊْ ﺃَﻫْﻮَﺍٓﺀَﻫُﻢْ ﻭَﭐﺣْﺬَﺭْﻫُﻢْ ﺃَﻥ ﻳَﻔْﺘِﻨُﻮﻙَ ﻋَﻦۢ ﺑَﻌْﺾِ ﻣَﺎٓ ﺃَﻧﺰَﻝَ ﭐﻟﻠَّﻪُ ﺇِﻟَﻴْﻚَۖ ﻓَﺈِﻥ ﺗَﻮَﻟَّﻮْﺍ۟ ﻓَﭑﻋْﻠَﻢْ ﺃَﻧَّﻤَﺎ ﻳُﺮِﻳﺪُ ﭐﻟﻠَّﻪُ ﺃَﻥ ﻳُﺼِﻴﺒَﻬُﻢ ﺑِﺒَﻌْﺾِ ﺫُﻧُﻮﺑِﻬِﻢْۗ ﻭَﺇِﻥَّ ﻛَﺜِﻴﺮًﺍ ﻣِّﻦَ ﭐﻟﻨَّﺎﺱِ ﻟَﻔَٰﺴِﻘُﻮﻥَ . ﺃَﻓَﺤُﻜْﻢَ ﭐﻟْﺠَٰﻬِﻠِﻴَّﺔِ ﻳَﺒْﻐُﻮﻥَۚ ﻭَﻣَﻦْ ﺃَﺣْﺴَﻦُ ﻣِﻦَ ﭐﻟﻠَّﻪِ ﺣُﻜْﻤًﺎ ﻟِّﻘَﻮْﻡٍ ﻳُﻮﻗِﻨُﻮﻥَ . আর তাদের মধ্যে তার মাধ্যমে ফয়সালা কর, যা আল্লাহ নাযিল করেছেন এবং তাদের প্রবৃত্তির অনুসরণ করো না। আর তাদের থেকে সতর্ক থাক যে, আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন, তার কিছু থেকে তারা তোমাকে বিচ্যুত করবে। অতঃপর যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়, তাহলে জেনে রাখ যে, আল্লাহ তো কেবল তাদেরকে তাদের কিছু পাপের কারণেই আযাব দিতে চান। আর মানুষের অনেকেই ফাসিক। তারা কি জাহেলিয়াতের বিধান কামনা করে? যারা (আল্লাহর প্রতি) বিশ্বাস রাখে তাদের কাছে আল্লাহর চেয়ে উত্তম বিধানদাতা কে?” (সূরা মায়েদা, আয়াত: ৪৯-৫০)
এ কারণে যারা ইসলামী শরিয়া অনুযায়ী শাসনব্যবস্থা পরিচালনা করে না আল্লাহ তাদেরকে কাফের হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ﻭَﻣَﻦ ﻟَّﻢْ ﻳَﺤْﻜُﻢ ﺑِﻤَﺎٓ ﺃَﻧﺰَﻝَ ﭐﻟﻠَّﻪُ ﻓَﺄُﻭ۟ﻟَٰٓﺌِﻚَ ﻫُﻢُ ﭐﻟْﻜَٰﻔِﺮُﻭﻥَ আর যারা আল্লাহ যা নাযিল করেছেন, তার মাধ্যমে ফয়সালা করে না, তারাই কাফির।(সূরা মায়িদাঃ ৪৪) তাদের সাথে সহযোগিতা করা থেকে, তাদেরকে মিত্র হিসেবে গ্রহণ করা থেকে সাবধান করেছেন। যদি মুমিনগণ প্রকৃত ঈমানদার হয় তাদেরকে তাকওয়া অবলম্বন করার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন: ﻳَٰٓﺄَﻳُّﻬَﺎ ﭐﻟَّﺬِﻳﻦَ ﺀَﺍﻣَﻨُﻮﺍ۟ ﻟَﺎ ﺗَﺘَّﺨِﺬُﻭﺍ۟ ﭐﻟَّﺬِﻳﻦَ ﭐﺗَّﺨَﺬُﻭﺍ۟ ﺩِﻳﻨَﻜُﻢْ ﻫُﺰُﻭًﺍ ﻭَﻟَﻌِﺒًﺎ ﻣِّﻦَ ﭐﻟَّﺬِﻳﻦَ ﺃُﻭﺗُﻮﺍ۟ ﭐﻟْﻜِﺘَٰﺐَ ﻣِﻦ ﻗَﺒْﻠِﻜُﻢْ ﻭَﭐﻟْﻜُﻔَّﺎﺭَ ﺃَﻭْﻟِﻴَﺎٓﺀَۚ ﻭَﭐﺗَّﻘُﻮﺍ۟ ﭐﻟﻠَّﻪَ ﺇِﻥ ﻛُﻨﺘُﻢ ﻣُّﺆْﻣِﻨِﻴﻦَ. হে মুমিনগণ, তোমরা তাদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না, যারা তোমাদের দীনকে উপহাস ও খেল-তামাশারূপে গ্রহণ করেছে, তাদের মধ্য থেকে তোমাদের পূর্বে যাদেরকে কিতাব দেয়া হয়েছে ও কাফিরদেরকে। আর আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন কর, যদি তোমরা মুমিন হয়ে থাক।(সূরা মায়েদা, আয়াত: ৫৭)
আল্লাহই তাওফিকদাতা, আমাদের নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উপর আল্লাহর শান্তি ও রহমত বর্ষিত হোক। গবেষণা ও ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটি ১. শাইখ আব্দুল আযিয বিন বায, ২. শাইখ আব্দুর রাজ্জাক আফিফি, ৩. শাইখ আব্দুল্লাহ গুদইয়ান ৪. শাইখ আব্দুল্লাহ কুয়ুদ। [স্থায়ী কমিটির ফতোয়াসমগ্র (১/৩৭৩)]
👉👉 নামাজের সিজদায় রাসূল সাল্লাল্লাহু ওয়া সাল্লাম বিভিন্ন দোয়া পড়তেন এবং কোন কোন দোয়া বারবার বারবার পড়তেন। রাসূল সাঃ সিজদায় যে সকল দোয়া বেশি বেশি পড়তেন তার কয়েকটি নিম্নে দেওয়া হলো—
আমাদের মধ্যে বেশিরভাগ মানুষই সালাতে সিজদার জন্য শুধু একটি দোয়াই শিখেছি। অথচ আমাদের রাসুল সাঃ বিভিন্ন সময় বিভিন্ন দোয়া সিজদার সময় পড়েছেন এবং শিখিয়েছেন। আমাদের উচিত এই সহজ দোয়াগুলো শিখে নেয়া এবং ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দোয়াগুলো যেকোনো একটি করে বিভিন্ন সময়ে পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা, যাতে নামাজের অতি অভ্যস্ততার কারণে অমনোযোগিতা আমরা দূর করতে পারি। সেই সাথে রাসূল সাঃ এর সুন্নাহকে ও জাগ্রত করতে পারি।
১//👉👉 سُبْحَانَ رَبِّيَ الأَعْلَى
“সুবহানা রব্বিয়াল ‘আলা” অর্থঃ আমার মহান সুউচ্চ প্রতিপালকের পবিত্রতা বর্ণনা করছি। (তিনবার) [সহীহ আত তিরমিযী ১/৮৩]
🟪🟥সম্মান সূচক অর্থে আল্লাহর শানে বহু বচন শব্দ ব্যবহারের গুরুত্বঃ
🟣🔴শব্দকে তার নিজস্ব অর্থে ব্যবহার না করে ভিন্ন অর্থে প্রয়োগ করা হলে বাড়তি মর্ম পাওয়া যায়। এটি ভাষার একটি মার্জিত ও স্বীকৃত বৈশিষ্ট্য। উদাহরণ স্বরূপ বলা যায়; শের বা বাঘ শব্দটি গঠিত হয়েছে বনের একটি জন্তুর নাম হিসেবে। উক্ত শব্দ দ্বারা বন্য সেই জন্তুকে বুঝানো হলো তখন তা নিজস্ব অর্থই প্রকাশ করে। কিন্তু যখন শব্দটি এই অর্থে ব্যবহার না হয়ে মানুষকে বুঝানোর জন্য ব্যবহার করা হয় ‘শেরে বাংলা’ বা বাংলার বাঘ বলে, তখন বাড়তি যে মর্ম তাতে যোগ হয় তা হলো মানুষটির ভেতরে রয়েছে শক্তি ও সাহসিকতা। আরবীভাষায় নাহনু (نحن) মানে আমরা। এটি দুইজন বা একাধিকজনের জন্য গঠিত একটি সর্বনাম। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে একে নিজস্ব অর্থ থেকে সরিয়ে এক বচনের জন্য যখন ব্যবহার করা হয় তখন বাড়তি যে মর্ম তাতে স্থান করে নেয় তা হলো, ব্যক্তির মর্যাদাবান ও সম্মানিত হওয়া। বিখ্যাত আরবী অভিধান ‘আল-মুজামুল ওয়াসীত’ এর লেখক বলেন, ‘সম্মান প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে বহু বচনের শব্দকে একজনের জন্য ব্যবহার করা হয়ে থাকে।’ সম্মানের প্রশ্নে আল্লাহ তাআলা হলেন সবার চেয়ে অগ্রগামী। তিনি একক, লা শরীকা লাহু তথা অংশীদারবিহীন। কুরআনে অনেক আয়াতে তাঁর জন্য বহুবচনের শব্দ ব্যবহৃত হওয়ার একটি প্রধান কারণ এটি—সম্মান, ক্ষমতা ও প্রতিপত্তি প্রদর্শন। এখানে যে প্রশ্নটা থেকে যায় তা হলো, আল্লাহ তাআলা তো সবসময়ই ও সর্বক্ষেত্রেই সম্মানিত ও ক্ষমতার অধিকারী। কোন ক্ষুদ্রতম সময়ের জন্যও তাঁর মর্যাদা ও ক্ষমতা বিলুপ্ত হয় না, হবার মত নয়। তাহলে কেন কুরআনে সর্বদাই তাঁর জন্য আমরা বহুবচনের শব্দ ব্যবহৃত হতে দেখি না? বরং কোথাও বহুবচন আর কোথাও একবচনের শব্দ ব্যবহৃত হতে দেখি। যেখানে একবচনের শব্দ ব্যবহৃত হয় সেখানে কি তাঁর সম্মান-মর্যাদা ও প্রতিপত্তি থাকে না? কোথায় একবচনের শব্দ আর কোথায় বহুবচনের শব্দ ব্যবহার করা হয় আল্লাহর জন্য? এই লেখাতে আমরা জিজ্ঞাসাগুলোর জবাব খোঁজার চেষ্টা করব ইনশাআল্ললাহ। এই বিষয়টি বুঝার জন্য মোটাদাগে যেই মূলনীতি মাথায় রাখা যেতে পারে তা হলো, আল্লাহ তাআলা নিজের পরিচয় সংক্রান্ত আলোচনাতে সবসময় এক বচনের শব্দ ব্যবহার করেন। কেননা মূলত পরিচয়ের প্রশ্নে তিনি একক সত্তা। সেখানে কোন শরীক নেই। তাঁর কোন ছেলে-মেয়ে বা মা-বাবা নেই। তিনি যেমন কারো থেকে জন্ম নেননি, তেমনি কাউকে জন্মও দেননি। তাই এই ক্ষেত্রে একবচন উল্লেখ করাই যথার্থতার দাবি। যেমন কুরআনে বলা হয়েছে, إِنَّنِي أَنَا اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنَا “নিশ্চয়ই আমি আল্লাহ, আমি ছাড়া কোন উপাস্য নেই।” পক্ষান্তরে যেখানে তিনি স্বীয় কর্মের কথা উল্লেখ করেন সেখানে সাধারণত বহুবচনের শব্দ উল্লেখ করেন। যেন তাঁর মর্যাদা, ক্ষমতা ও জালালত প্রকাশ পায়। যেমন- وَبَنَيْنَا فَوْقَكُمْ سَبْعًا شِدَادًا “এবং আমরা (আমি) তোমাদের ওপর মজবুত সাতটি আসমান নির্মাণ করেছি।” (নাবা :১২)
মোটাদাগের কথাটি জানার পর এবার আমরা একে আরেকটু সবিস্তারে জানব।
মর্যাদা, সম্মান, ক্ষমতা, প্রতিপত্তি, বড়ত্ব, মহানুভবতা, দয়া, দান ইত্যাদি ক্ষেত্রে একবচন ও বহুবচন দুইটিই ব্যবহার করা হয়। কারণ এই কর্মগুলো দুই ধরনের- ১. যা সম্পাদনার ক্ষেত্রে আল্লাহই একমাত্র সত্তা। তিনি এটি নিজেই সম্পাদন করেন। এর সাথে অন্য কেউ সম্পৃক্ত হয় না। যেমন ক্ষমা করা, দুআ কবুল করা, অদৃশ্যের সংবাদ জানা ইত্যাদি। এসব ক্ষেত্রে অধিকাংশ জায়গায় একবচন ব্যবহার করা হয়। কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, وَإِنِّي لَغَفَّارٌ لِمَنْ تَابَ “এবং নিশ্চয়ই আমি যারা তওবা করে তাদেরকে বারবার ক্ষমা করি।” (সূরা ত্বহা : ৮২) وَقَالَ رَبُّكُمُ ادْعُونِي أَسْتَجِبْ لَكُمْ “এবং তোমাদের রব বলেছেন, আমাকে ডাকো। আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দিবো।” (গফির: ৬০) তবে এই জাতীয় কর্মের ক্ষেত্রেও মাহাত্ম্য-বড়ত্ত্ব ও মহানুভবতা বুঝানোর জন্য বহুবচনের শব্দ আসতে পারে; কিন্তু সেটা তুলনামূলক কম। যেমন- فَاسْتَجَبْنا لَهُ وَوَهَبْنالَهُ يَحْيى وَأَصْلَحْنا لَهُ زَوْجَهُ “অতপর আমরা (আমি) তাঁর দুআ কবুল করলাম, তাকে দান করলাম ইয়াহয়াকে এবং তাঁর স্ত্রীকে করে দিলাম সুস্থ।” (আম্বিয়া : ৯০) ২. যা মূলত আল্লাহ তাআলা সম্পাদন করলেও তিনি সেটা বাস্তবায়নের দায়িত্ব অন্য কাউকে দান করেন। তাঁর নির্দেশনা অনুপাতে তারা সেটি করে থাকে। কিংবা কোন বস্তুর মাধ্যমে তিনি কাজের বাস্তবায়ন ঘটান। এসব কাজের বাস্তব রূপায়নে অন্যদের অংশগ্রহণ থাকলেও মূল ভূমিকা আল্লাহরই এবং তাঁর নির্দেশনামা মেনেই অন্যরা সেগুলো পালন করে। এসব ক্ষেত্রে অধিকাংশ জায়গায় বহুবচন ব্যবহার করা হয়। কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ “নিশ্চয়ই আমরা (আমি) কুরআন নাযিল করেছি এবং আমরাই (আমিই) তাকে হিফাজত করব।” (সূরা হিজর : ০৯) وَلَقَدْ كَرَّمْنَا بَنِي آدَمَ وَحَمَلْنَاهُمْ فِي الْبَرِّ وَالْبَحْرِ “এবং আমরা (আমি) আদম সন্তানকে সম্মানিত করেছি। আমরা (আমি) তাদেরকে বাহন দিয়েছি জলে ও স্থলে…। (ইসরা :৭০) وَأَنْزَلْنَا مِنَ السَّمَاءِ مَاءً طَهُورًا “এবং আমরা (আমি) আকাশ থেকে পবিত্র পানি বর্ষণ করেছি।” (ফুরকান:৪৯) তবে এই জাতীয় কর্ম যেহেতু মূলত আল্লাহই ঘটান সেটা বুঝানোর জন্য একবচনের শব্দেও আসতে পারে; কিন্তু সেটা তুলনামূলক কম। যেমন- ذَرْنِي وَمَنْ خَلَقْتُ وَحِيدًا “আমাকে ও আমি এককভাবে যা সৃষ্টি করেছি তাকে ছেড়ে দাও। (সূরা মুদ্দাসসির : ১১)
আল্লাহর পরিচয়, ইবাদাতের নির্দেশনা, তাওহীদ সাব্যস্ত করা, শিরককে নাকচ করা ইত্যাদি ক্ষেত্রে সর্বদা একবচনের শব্দ ব্যবহৃত হয়। কারণ এই বিষয়গুলোর এটিই যথার্থ দাবি। যেমন- لاَ تُشْرِكْ بِي شَيْئاً “তোমরা আমার সাথে কাউকে শরীক করো না।” (সূরা হজ : ২৬ ) ومَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالإِنْسَ إِلاَ لِيَعْبُدُونِ
“এবং আমি মানুষ ও জিনকে সৃষ্টি করেছি কেবল আমার ইবাদাত করার জন্য।” (যারিয়াত : ৫৬) وَأَنَا رَبُّكُمْ فَاعْبُدُونِ “এবং আমি তোমাদের রব। অতএব তোমরা আমার ইবাদাত করো।” (আম্বিয়া : ৯২) তবে একটি বিষয় স্মরণ রাখতে হবে। তা হলো, বিভিন্ন উপযোগিতার বিবেচনায় যদিও নানান আয়াতে আল্লাহর জন্য বহুবচনের শব্দ ব্যবহার করা হয়, কিন্তু এর আগে-পরে সাধারণত এমন কোন কিছু থাকে, যা আল্লাহর একক হওয়ার প্রমাণ বহন করে। যেমন সূরা কাউসারে আল্লাহ তাআলা বলছেন- إِنَّا أَعْطَيْنَاكَ الْكَوْثَرَ فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَانْحَرْ “নিশ্চয়ই আমরা (আমি) আপনাকে কাউসার দান করেছি। সুতরাং আপনি আপনার রবের জন্য সালাত আদায় করুন এবং কুরবানী করুন।” (কাউসার: ১-২) এই আয়াতে প্রথমে বহুবচনে দান করার কথা বলা হলেও পরক্ষণেই এক বচনে ‘রব’ শব্দ আনা হয়েছে। যার দ্বারা আগের আয়াতে আলোচিত দাতাকেই উদ্দেশ্য নেওয়া হচ্ছে। ফলে আর কোন সংশয় থাকে না যে, উক্ত দাতা একক সত্তা, একাধিকজন নন। এমনই আরেকটি উদাহরণ সূরা ফাতহের এই আয়াত থেকেও দেখা যেতে পারে- إِنَّا فَتَحْنَا لَكَ فَتْحاً مُّبِيناً لِيَغْفِرَ لَكَ اللَّهُ مَا تَقَدَّمَ مِن ذَنبِكَ وَمَا تَأَخَّرَ وَيُتِمَّ نِعْمَتَهُ عَلَيْكَ وَيَهْدِيَكَ صِرَاطاً مُّسْتَقِيماً “নিশ্চয়ই আমরা (আমি) আপনাকে স্পষ্ট বিজয় দান করেছি, যেন আল্লাহ আপনার আগে-পরের সকল পাপ মাফ করে দেন এবং আপনার ওপর তাঁর নিয়ামতকে পূর্ণ করেন ও আপনাকে সঠিক পথ দেখান।” (সূরা ফাতহ : ১-২) কপি করুন ও ছড়িয়ে দিন
👉👉সব ধরনের ফাইল খোলা অবস্থায় হবে। দলীলঃ ونُخرِجُ لَهُ يَوْمَ القِيامَةِ كِتابا يَلقاهُ مَنْشُورًا• অর্থ- এবং কিয়ামতের দিন আমি তার জন্য বের করব এক কিতাব, যা সে উন্মুক্ত পাবে। সুরাঃ বনি ইসরায়েল, আয়াত- ১৩
👉👉কঠোর নিরাপত্তার মাধ্যমে উপস্থিত করা হবে। দলীলঃ وَجَاءتْ كُلُّ نَفْسٍ مَّعَهَا سَائِقٌ وَشَهِيدٌ অর্থ- সেদিন প্রত্যেক ব্যক্তি নিরাপত্তার সাথে উপস্থিত হবে, তার সাথে থাকবে সাক্ষী। সুরাঃ ক্বাফ, আয়াত-২১
👉👉কারো উপর কোন জুলুম করা হবে না। দলীলঃ وَمَا أَنَا بِظَلَّامٍ لِّلْعَبِيدِ অর্থ- আমার কথার রদ-বদল হয় না এবং আমি আমার বান্দাদের প্রতি কোন অবিচার করি না। সুরাঃ ক্বাফ, আয়াত- ২৯
👉👉 জেরা করার জন্য সেখানে কোন উকিল হবেনা। তবে অপরাধীকে উদ্ধার করার জন্য আল্লাহ যাকে সুপারিশ করার অনুমতি প্রদান করবেন তিনি তার জন্য সুপারিশ করতে পারবেন তবে বিষয়টা সম্পূর্ণ আল্লাহর এখতিয়ার। দলীলঃ اقْرَأْ كِتَابَكَ كَفَىٰ بِنَفْسِكَ الْيَوْمَ عَلَيْكَ حَسِيبًا অর্থ- তাকে বলা হবে,‘তুমি তোমার আমলনামা পড়, আজ তুমি নিজেই তোমার হিসাব-নিকাশের জন্য যথেষ্ট।’ সুরাঃ বনি ইসরায়েল, আয়াত-১৪
👉👉 ঐদিন কোন প্রকার বাহুবল দলীয় শক্তি কিংবা ঘুষ কিছুই চলবে না। দলীলঃ يَوْمَ لا يَنفَعُ مَالٌ وَلا بَنُونَ অর্থ- যেদিন ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি কোন কাজে আসবে না। সুরাঃ আশ শুআরা, আয়াত-৮৮
👉👉 শেষ বিচারের দিন মানুষের বিচারের ফয়সালা আপনার হাতেই দেওয়া হবে।
আল্লাহ পবিত্র কুরআনে বলেন–اقرا كتابك كفى بنفسك يوم عليك حسيبه….. এই নাও তোমার কিতাব তুমি নিজেই পড়ো এবং আজকের এই দিনে তোমার হিসাব নেওয়ার জন্য তুমি নিজেই যথেষ্ট।
অন্যত্র আল্লাহ বলেন— فَأَمَّا مَنْ أُوتِيَ كِتَابَهُ بِيَمِينِهِ فَيَقُولُ هَاؤُمُ اقْرَؤُوا كِتَابِيهْ• অর্থ-সুতরাং যাকে তার আমলনামা তার ডান হাতে দেওয়া হবে! সে বলবে, ‘এই নাও, আমার আমলনামা পড়ে দেখ। সুরাঃ আল হাক্কাহ, আয়াত-১৯
👉👉কোন গায়েবানা ফয়সালা হবেনা। অর্থাৎ কারো প্ররোচনায় কিংবা কাউকে ফাঁসানোর জন্য কোন প্রকার মিথ্যার আশ্রয় গ্রহণ করা হবে না। দলীলঃ وَإِنْ كُلٌّ لَمَّا جَمِيعٌ لَدَيْنَا مُحْضَرُونَ• অর্থ- এবং অবশ্যই ওদের সকলকে একত্রে আমার নিকট উপস্থিত করা হবে। সুরাঃ ইয়াসিন, আয়াত-৩২
👉 শেষ বিচারের দিন ফয়সালার মধ্যে কোন রদবদল হবেনা, অর্থাৎ সেখানে কোন আপিলের ব্যবস্থা থাকবে না। দলিলপত্র দেখে বিচারের রায় হবে। উকিল অর্থাৎ রাসূল সাঃ সুপারিশ করবেন এবং বিচারকের অর্থাৎ আল্লাহর ইচ্ছা হলে ক্ষমা করবেন নতুবা শাস্তি দিবেন।
দলীলঃ مَا يُبَدَّلُ الْقَوْلُ لَدَيَّ• অর্থ- আমার কথার রদ-বদল হয় না এবং আমি আমার বান্দাদের প্রতি কোন অবিচার করি না। সুরাঃ ক্বাফ, আয়াত-২৯
👉👉আখেরাতের বিচার দিবসে মিথ্যা স্বাক্ষী হবেনা। দলীলঃ يَوْمَ تَشْهَدُ عَلَيْهِمْ أَلْسِنَتُهُمْ وَأَيْدِيهِمْ وَأَرْجُلُهُم بِمَا كَانُوا يَعْمَلُونَ• অর্থ- যেদিন তাদের বিরুদ্ধে তাদের হাত ও পা তাদের কৃতকর্ম সম্বন্ধে সাক্ষী দেবে। সুরাঃ নুর, আয়াত-২৪ 👉👉 শেষ বিচারের দিন পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসাব গ্রহণের জন্য চার প্রকারের সাক্ষী উপস্থা করা হবে।