কাফের বা অবিশ্বাসীদের সাথে আন্তরিক বন্ধুত্ব রাখার ইসলামিক রীতি-


🟤🟤ইসলাম ওবিশ্বাসী বা কাফেরদের সাথে আন্তরিক বন্ধুত্ব অনুমোদন করে না। এই রীতি কারো পছন্দ হোক বা না হোক আল্লাহ এবং মুমিনদের তাতে কোন আসে যায় না।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ সূরা আল ইমরানের 28 নং আয়াতে বলেন–لا يتخذ المؤمنين الكافرين الاولياء মুমিনরা কাফিরদেরকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করে না।
কাফেরদের সাথে তিন প্রকারের সম্পর্ক বা বন্ধুত্ব হতে পারে মুমিনদের। এরমধ্যে দুই প্রকারের সম্পর্ক বৈধ এবং অনুমোদিত আর এক প্রকারের বন্ধুত্ব বা সম্পর্ক হারাম।
অবিশ্বাসীদের সাথে মুমিনের তিন প্রকারের বন্ধুত্ব হল–
১// মুয়ালাত বা আন্তরিক বন্ধুত্ব।
২//মুদারাত বা বাহ্যিক নম্র ব্যবহার ও সুন্দর আচরণ।
৩//মুয়াসাত বা যেকোনো বিপদ মুসিবতে সাহায্য সহানুভূতি পৌঁছানো।
আর এর মধ্যে প্রথম প্রকারের আন্তরিক বন্ধুত্ব কোন অবস্থাতেই বৈধ নয় এবং সম্পূর্ণ নাজায়েজ। বাকি দুই অবস্থা বৈধ এবং এই জাতীয় বন্ধুত্ব করার উৎসাহ প্রদান করা হয়েছে।
প্রথম প্রকার সম্পর্ক বা বন্ধুত্ব বৈধ না হওয়ার কারণ হলো যদি অবিশ্বাসীদের সাথে আন্তরিকতা থাকে তাহলে যে কোন সময় পদস্খলন হওয়ার অথবা ঈমানহারা হয়ে যাওয়ার অথবা কাফেরের আচরণ প্রকাশ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে ‌।
প্রথমতঃ অবিশ্বাসীদের ক্ষতি ও বিভিন্ন খারাপ দিক থেকে নিরাপদ থাকার জন্য।
দ্বিতীয়তঃ ধর্মীয় কৌশলগত কারণে অর্থাৎ কোন অবিশ্বাসীকে সৎ পথে আনার উদ্দেশ্যে তার সাথে নোংরা ব্যবহার করতে হবে। তাছাড়া একজন মানুষ হিসাবে আল্লাহর একজন মাখলুক হিসেবে যে কেউ নম্র ব্যবহার পাওয়ার উপযোগী।
তৃতীয়তঃ অতিথির সম্মানার্থে অর্থাৎ কোন কাফির কোন মুসলিমের অতিথি হলে তার সাথে সর্বোত্তম ব্যবহার করতে হবে যেমন ব্যবহার করা হয় মুসলিম বা ঈমানদার অতিথির সাথে।
অতিথি মুসলিম হোক কিংবা কাফের হোক তার সাথে কোন প্রকার অশালীন কিংবা খারাপ আচরণ করার বৈধতা ইসলাম কখনো কাউকে দেয় না।
তথ্যসূত্রঃ
ইসলামের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা।
ইবনে মোশারফ

ফজর এবং আসর ফরজ নামাজ গুলোর মধ্যে বেশি গুরুত্বপূর্ণ

♥️💙#ফজর ও #আসরের বিষয়ে পবিত্র কুরআনে দুটি পরিপূর্ণ সূরা নাযিল করা হয়েছে। একটি হল সূরা আসর অন্যটি হলো সূরা ফজর।
নামাজের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ফজিলতপূর্ণ ফজর ও আসরের নামাজ । ফজর ও আসরের নামাজের ব্যাপারে হাদিসে এবং পবিত্র কুরআনে অত্যন্ত গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।

👉👉#ইমানের পর প্রত্যেক মুসলমানের জন্য সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হলো #হালালউপার্জন ও পাঁচ ওয়াক্ত #ফরজনামাজ। এ পাঁচ ওয়াক্ত সলাতের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ফজিলতপূর্ণ ফজরের সলাত। কোরআনে আল্লাহ “ফজর” ও “আসর” নামে দুটি স্বতন্ত্র সুরা অবতীর্ণ করেছেন। প্রথম”ইন্না” (অবশ্যই) শব্দ যোগ করে ফজর এবং আসরের কসম করেছেন। যেহেতু আল্লাহ নিজেই সময় সৃষ্টি করেছেন এবং এই সময়ে সালাত বা নামাজ নির্ধারণ করেছেন এবং সেই সময়ের শপথ করেছেন। অতএব এখান থেকেই স্পষ্ট প্রতিীয়মান হয় যে এই দুইটি সময় এবং এই দুইটি সময়ের ইবাদত কত গুরুত্বপূর্ণ! সুবাহানাল্লাহ।
আল্লাহ যে কোন কাজের বাজে কোন বিষয়ের পূর্বে “ইন্না” শব্দ যোগ করেছেন বুঝতে হবে ওই বিষয় বা বস্তুকে তিনি অত্যন্ত অত্যন্ত গুরুত্ব আরোপ করেছেন।(ইন্না শব্দের অর্থ-অবশ্যই, Must be, Of course,)

👉হাদিসে ফজরের নামাজের প্রতি বিশেষ তাগিদ দিয়ে রসুলুল্লাহ সাঃ বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি ফজরের নামাজ আদায় করলো, সে আল্লাহর রক্ষণাবেক্ষণের অন্তর্ভুক্ত হলো।’ –মুসলিম।
অন্য হাদিসে ফজর ও আসরের নামাজ আদায়কারীকে জান্নাতি মানুষ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। রসুলুল্লাহ সাঃ ইরশাদ করেছেন- ‘যে ব্যক্তি দুটি শীতল সময়ে(ফজরের সময় এবং আসরের সময় ) নামাজ আদায় করবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।’
—বুখারি, মুসলিম।

👉কিয়ামতের কঠিন সময় ফজরের নামাজ নুর হয়ে দেখা দেবে। এমনকি আদায়কারীকে মহাবিপদের দিনে এই নূর বা আলো পথ দেখাবে।
হাদিসে এসেছে, রসুলুল্লাহ সাঃ বলেছেন,- ‘যারা আঁধারে (ফজরে) মসজিদের দিকে হেঁটে যায়, তাদের কিয়ামতের দিন পরিপূর্ণ নুর প্রাপ্তির সুসংবাদ দাও।’ —আবু দাউদ।
👉ফজরের নামাজ আদায়কারীকে অর্ধেক রাত ইবাদতের সওয়াব দান করা হবে।
হাদিসে এসেছে, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন– ‘যে ব্যক্তি (জামাতের সঙ্গে) এশার নামাজ আদায় করল, সে যেন অর্ধেক রাত পর্যন্ত নামাজ আদায় করল। আর যে ব্যক্তি ফজরের নামাজ (জামাতের সঙ্গে) আদায় করল সে যেন সারা রাত জেগে নামাজ আদায় করল।’
— মুসলিম।
♥️ফজরের নামাজ আদায়কারীর নাম #মুনাফিকের তালিকা থেকে বের করে দেওয়া হয়। এর মানে হলো যে ব্যক্তি ফজরের নামাজ আদায় করলো না তার নাম মুনাফিকের খাতায় লিখে দেওয়া হয়! আর ফজরের নামাজ আদায়কারীকে সেই মুনাফিকি থেকে পরিত্রাণ দেওয়া হয়।
রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন– ‘মুনাফিকদের জন্য ফজর ও এশার নামাজের চেয়ে অধিক ভারী আর কোনো নামাজ নেই। কিন্তু তারা যদি এ দুই নামাজের ফজিলত জানত, তাহলে হামাগুড়ি দিয়ে হলেও নামাজে উপস্থিত হতো। —বুখারি।

💙 ফজর এবং আসরের সালাত আদায়কারীর নাম ফেরেশতাগণ আল্লাহর কাছে উল্লেখ করেন। এবং তাদের নামাজ আদায়ের সাক্ষ্য দেন।
আবু হুরাইরা রাঃ থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ সাঃ বলেছেন, ‘তোমাদের কাছে পালাক্রমে দিনে ও রাতে মালাইকা (ফেরেশতা) আসেন।(পৃথিবীর যে স্থানে যখনই দিন এবং রাত সংঘটিত হয় তার পূর্বে প্রত্যেক মানুষের রক্ষণাবেক্ষণের কাজে নিয়োজিত ফেরেশতাগণ বাইরুটেশন ডিউটি বদল করেন) এবং ডিউটি পরিবর্তন করার সময় তাঁরা আসর ও ফজরের সময় একত্রিত হয়। যারা রাতের কর্তব্যে ছিল তাঁরা ওপরে উঠে যায়। আল্লাহ তো সব জানেন, তবু ফেরেশতাদের প্রশ্ন করেন, আমার বান্দাদের কেমন রেখে এলে? ফেরেশতারা বলে, আমরা তাদের নামাজরত রেখে এসেছি। যখন গিয়েছিলাম, তখনো তারা নামাজরত ছিল।’
—বুখারি, হাদিস : ৫৫৫

💜ফজরের নামাজ দিয়ে দিনটা শুরু করলে পুরো দিনের কার্যক্রম বরকতম হয়। সবকিছুতে আল্লাহ-প্রদত্ত কল্যাণ লাভ হয়।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন,
হে আল্লাহ! আমার উম্মতের জন্য, তার সকালবেলায় বরকত দান করুন।’
—তিরমিজি।

👉👉👉👉👉👉👉
💙 তাছাড়া আসরের নামাজ এর ফজিলত বা উপকারিতা সম্পর্কে একাধিক সহি হাদিস বর্ণিত হয়েছে।
👉আবু মালিহ রাঃ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন- এক যুদ্ধে আমরা বুরাইদাহ এর সঙ্গে ছিলাম। দিনটি ছিল মেঘাচ্ছন্ন। তাই বুরাইদাহ রাঃ বলেন, শিগগির আসরের নামাজ আদায় করে নাও। কারণ নবী (সা.) বলেছেন-
‘যে ব্যক্তি আসরের নামাজ ছেড়ে দেয়, তার আমল বিনষ্ট হয়ে যায়।’ –বুখারি, হাদিস : ৫৫৩ (হাদিসের নাম্বার বিভিন্ন প্রকাশনীর ছাপানো কিতাবে বিভিন্ন এসেছে তাই নাম্বার গুলো এদিক সেদিক হতে পারে)

👉 ফজর এবং আসরের নামাজের সময়ের ব্যাপারে গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে এবং ছাড় দেওয়া হয়েছে।
আবু হুরাইরা রাঃ হতে বর্ণিত হাদিসে রাসুল সাঃ বলেন- তোমাদের কেউ যদি সূর্যাস্তের আগে আসরের নামাজে এক সিজদা পায়, তাহলে সে যেন সালাত পূর্ণ করে নেয়। আর যদি সূর্যোদয়ের আগে ফজরের সালাতের এক সিজদা পায়, তাহলে সে যেন সালাত পূর্ণ করে নেয়।
–বুখারি, হাদিস : ৫৫৬!

♥️ফজর এবং আসরের সুন্নত নামাজের গুরুত্বঃ
🟣দুনিয়ার বুকে যত বস্তু আছে সবকিছু থেকে ফজরের দুই রাকাত সুন্নত নামাজ উত্তম।
রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন- ‘ফজরের (সুন্নত)দুই রাকাত নামাজ দুনিয়া ও তার সবকিছুর চেয়ে উত্তম।’
—- মুসলিম।
👉আসরের সালাতের আগে ৪ রাকায়াত সুন্নাত রয়েছে। এটি গায়রে মুওয়াক্কাদা, তাই আদায় করা উত্তম। রাসুল সাঃ নিজেও এই নামাজ আদায় করেছেন। আলী ইবনে আবু তালিব (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুল সাঃ আসরের ফরজ নামাজে আগে চার রাকাত সুন্নত পড়তেন।
(-তিরমিজি, হাদিস : ৪২৯; সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস : ১১৬১!
অন্য একটি হাদিসে রয়েছে, উমর ফারুক রাঃ হতে বর্ণিত, রাসুল সাঃ বলেছেন—
‘আল্লাহ সেই ব্যক্তিদের ওপর রহম করুন, যারা আসরের সালাতের আগে চার রাকাত সুন্নত আদায় করে।’
–আবু দাউদ, হাদিস : ১২৭১; তিরমিজি, হাদিস : ৪৩০

🤲🤲 আল্লাহ আমাদের সবাইকে সময় মত সকল নামাজ সঠিক সময় সঠিকভাবে জামাতের সহিত আদায় করার তৌফিক দান করুন আমীন। এবং আমরা যা বলি তা আমাদের কার্যে পরিণত করার তৌফিক দান করুন। কেননা আমরা যা বলি অনেক সময় আমরা নিজেরা কার্যে পরিবর্তন করতে অক্ষম হয়ে যাই। আমাদের প্রভৃতি এবং শয়তানের প্ররোচনা আমাদের নেক কর্ম থেকে বিরত রাখে।
আল্লাহ আমাদের হেফাজত করুন এবং সাহায্য করুন সর্ব বিষয়ে আমীন।
ইবনে মোশারফ

মনের ভাব প্রকাশের সকল শব্দ প্রতীক এবং ইঙ্গিত সবই ভাষার অন্তর্ভুক্ত।

🇧🇩🇧🇩মূলত মনের ভাব প্রকাশের যেকোনো শব্দ বা ইঙ্গিত এর নাম হল “ভাষা”। পৃথিবীর মানুষগুলো মনের ভাব প্রকাশের জন্য যা ব্যবহার করে তার ৬৫% হলো শারীরিক বাসা বা বডি ল্যাঙ্গুয়েজ এবং বাকি 35% হলো মুখ দিয়ে উচ্চারিত বিভিন্ন শব্দ।
হাসি এবং কান্নার কোন ভাষা নেই কোন নির্দিষ্ট শব্দ নেই অথচ কেউ হাসি বা কান্না করলে দুনিয়ার সবাই এই ভাষা বুঝতে পারে।
😃হাসি এবং 😭কান্না সমস্ত দুনিয়ার একটি কমন ভাষা। এবং এই কমন ভাষা দিয়ে মানুষ অপর মানুষকে অনেক কিছু বুঝিয়ে ফেলতে পারে।
😡চোখ লাল করা অথবা 🙄চোখ মটকানো কিংবা
😲চোখ বড় বড় করে ফেলা কোন শাব্দিক ভাষা নয় ‌। বরং এটা শারীরিক ভাষা বা বডি ল্যাঙ্গুয়েজ। এই শারীরিক ভাষা দিয়ে আপনি পৃথিবীর যেকোনো দেশের যেকোনো মানুষকে আপনার অবস্থান বুঝিয়ে দিতে পারবেন খুব সহজেই।
👍👍শুধুমাত্র হাতের আঙ্গুল ব্যবহার করে আমরা অনেক কিছু বুঝিয়ে দিতে পারি। {{👍👏👎🫶🙌👐🤲🤝🤜🤛✊👊🫳🫴🫱🖐️🖖🤟🤘✌️🤞🫰🤙🤌🤏👌🫵👉👈☝️👇🖕🙏}}
এখানে শুধু হাতের আঙ্গুলের মাধ্যমে ভাষার ব্যবহারের কিছু ইমেজ দেওয়া হলো তাছাড়া আপনি বডি বা শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ব্যবহার করে আপনার মনের ভাব প্রকাশ করতে পারেন অপরের কাছে।
দুনিয়ার মানুষ ৬৫% ক্ষেত্রে যে শারীরিক বাসা বা বডি ল্যাঙ্গুয়েজ ব্যবহার করে আশা করি বিষয়টি আপনার কাছে এখন ক্লিয়ার হয়ে গেছে।
আমি (ইবনে মোশারফ ) আমার লিখার মধ্যে ইংরেজি বা অন্যান্য ভাষা ব্যবহার করছি দেখে আপনি হয়তো নাক কুচকাতে পারেন এইজন্য যে ভাষার মাসে আমি ভিন্ন ভাষা ব্যবহার করছি 🤔❗
আসলে বিষয়টি তা নয়। বরং আমরা বিদেশি ভাষা ছাড়া একটি বাক্য গঠন করতে সক্ষম নই।
আমাদের বাংলা ভাষা মূলত পাঁচটি উৎস থেকে নির্গত।
১/তৎসম শব্দ ২/অর্ধতৎসম শব্দ ৩/তদ্ভব শব্দ ৪/ দেশী শব্দ এবং ৫/বিদেশি শব্দ।।
বরং বর্তমানে বিদেশি শব্দের এত বেশি আধিক্য যে আপনি দেশি শব্দ খুঁজে পাবেন না এবং আপনাকে যদি বলা হয় একটি দেশি শব্দ বলার জন্য আপনি শতভাগ নাম্বার পেয়ে ফেল করবেন আমি নিশ্চিত!
তাছাড়া শব্দ গঠন অনুসারে দুই প্রকারের।
১//মৌলিক শব্দ এবং ২//সাধিত শব্দ!
শব্দের উৎস এবং শব্দের প্রকার গুলো অনলাইন লাইব্রেরী থেকে অথবা কোন ব্যাকরণের ভালো বই থেকে আপনারা পড়ে নিবেন। এখানে এত বিস্তারিত আলোচনা করা সম্ভব হলেও হয়তো আপনাদের ধৈর্যচুত্যি ঘটবে তাই একটি গল্প দিয়ে শেষ করছি—

😊😊চায়ের কাপে বিস্কুট ডুবিয়ে খাওয়ার সময় হঠাৎ মাথায় আসলো যে এই #চা চীনা শব্দ।
আবার #বিস্কুট ফরাসি শব্দ। বিস্কুটের সাথে থাকা #চানাচুর ভারতীয় শব্দ।
চায়ে যে চিনি ও পানি থাকে সেখানে #চিনি চীনা অথচ #পানি উর্দু ও হিন্দি শব্দ।
আবার চা ভর্তি #পেয়ালাটা ফারসি কিন্তু #কাপ’টা ইংরেজি শব্দ।
এদিকে #ইংরেজি শব্দটাই আবার পর্তুগিজ😆। দারুন মজার তাইনা। আপনি নিশ্চয়ই অবাক হচ্ছেন?

চা চীনা হলেও #কফি কিন্তু #তুর্কি শব্দ। আবার #কেক #পাউরুটির কেক ইংরেজি, পাউরুটি পর্তুগীজ।

দাঁড়ান একটু দম নিয়ে নেই 😴😴❗
নামি দামী খানাপিনায় যাওয়া যাক এবার। আমরা সব করি বাড়িতে কিংবা রেস্টুরেন্টে গিয়ে মাঝেমধ্যে নামিদামি খাবার খেয়ে আসি বা বন্ধু-বান্ধবের সাথে আড্ডায় ঐ সমস্ত খাবার খেয়ে থাকি ‌।

আগেই বলে রাখি, #খানাপিনা হিন্দী আর #দাম গ্রীক। রেস্তোরাঁ বা ব্যুফেতে গিয়ে পিৎজা, বার্গার বা চকোলেট অর্ডার দেয়ার সময় কখনো কি খেয়াল করেছেন, #রেস্তোরা আর #ব্যুফে দুইটাই ফরাসী ভাষার, সাথে #পিৎজাও। পিৎজাতে দেয়া #মশলাটা আরবি। মশলাতে দেয়া #মরিচটা ফারসি!
নিশ্চয়ই আরো বেশি অবাক হচ্ছেন আর তাছাড়া অবাক হওয়ারই কথা আপনি হয়তো ভাবছেন যে আমাদের দেশি বাংলা শব্দ কোথায় ❓ জনাব আমাদের দেশি বাংলা শব্দের সংখ্যা খুবই নগণ্য আমরা যতই লম্বা লম্বা কথা বলি।

বার্গার কিংবা #চপ দুটোই আবার ইংরেজি। কিন্তু #চকোলেট আবার মেক্সিকান শব্দ। #অর্ডারটা ইংরেজি। যে #মেন্যু থেকে অর্ডার করছেন সেটা আবার ফরাসী।

ম্যানেজারকে নগদে টাকা দেয়ার সময় মাথায় রাখবেন, #নগদ আরবি, আর #ম্যানেজার ইতালিয়ান।
আর যদি দারোয়ান কে বকশিস দেন, #দারোয়ান ও তার #বকশিস দুটোই ফারসি।
কারণ বৃটিশের পূর্বে ও ফরাসিরা আমাদের দেশে এসেছিল এবং তারা আমাদের দেশে ব্যবসা বাণিজ্যের পাশাপাশি তাদের অনেক ভাষা আমাদের দেশে রেখে গেছে।

এবার চলুন দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি সম্পন্ন লাগামহীন আমাদের এই বাজার থেকে একটু ঘুরে আসি।
সবজি ফলমূল কিনতে যাবেন? #বাজার’টা কিন্তু ফারসি এবং সবজিও….।
যে #রাস্তা দিয়ে চলছেন সেটাও ফারসি।
রাস্তাকে আপনি বাংলায় 👉পথ বলবেন?
আপনার আসার ঘুরি বালি। পথ শব্দটা ইংরেজি।

🍉🥭ফলমূলে আনারস পর্তুগিজ, আতা কিংবা বাতাবিলেবুও। লিচুটা আবার চীনা, তরমুজটা ফারসি, লেবুটা তুর্কী। পেয়ারা-কামরাঙা দুইটাই পর্তুগীজ। পেয়ারার রঙ সবুজটা কিন্তু ফারসি।
এখন আপনি হয়তো চিন্তা করছেন যে আমাদের বাসার আর বাকি রইল কি সবই তো দেখা যাচ্ছে
বিদেশি শব্দ ❗ একটু থামুন এবং শ্বাস নিয়ে নিন। এবার দেখুন–
👉ওজন করে আসল দাম দেয়ার সময় মাথায় রাখবেন ওজনটা 👉আরবি, 👉আসল শব্দটাও আসলে আরবি। তবে 👉দাম কিন্তু গ্রীক, আগেই বলেছি।
এবার আসা যাক ধর্মের বিষয়ে বা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে।
ধর্ম কর্মেও একই অবস্থা। 👉মসজিদ আরবি 👉দরগাহ/ঈদগাহ ফারসি। 👉গীর্জা কিন্তু পর্তুগীজ, সাথে গীর্জার 👉পাদ্রীও। 👉যিশু নিজেই পর্তুগীজ। 👉কেয়াং এদিকে বর্মিজ, সাথে 👉প্যাগোডা শব্দটা জাপানি। আর, 👉মন্দিরের ঠাকুর হলেন এরদোগানের দেশ তুর্কী থেকে আগত😆😆❗

👉👉এবার হয়তো বলবেন, কি বাকি আছেরে ভাই?
ও হ্যাঁ। কর্মস্থল! অফিস আদালতে বাবা, স্কুল কলেজে কিন্ডারগার্টেনে সন্তান। বাবা নিজে কিন্তু তুর্কী, যে অফিসে বসে আছেন সেটা ইংরেজি, তবে আদালত আরবি, আদালতের আইন ফারসি, তবে উকিল আরবি।

ছেলে যে স্কুলে বা কলেজে পড়ে সেটা ইংরেজি, কিন্তু 👉কিন্ডারগার্টেন শব্দটা আমরা অনেকেই ইংরেজি হিসেবে জানলেও এটা আবার জার্মান!
স্কুলে পড়ানো 🤔বই-কেতাব দুইটাই আরবি শব্দ। যে 👉কাগজে এত পড়াশোনা সেটা ফারসি। তবে 👉কলমটা আবার আরবি। রাবার 👉পেনসিল কিন্তু আবার ইংরেজি!
পুরো স্ট্যাটাস মনে না থাকলে অন্তত এটা মনে রাখবেন যে 💜”মন” শব্দটা আরবি।
😇😇শব্দের কেচ্ছা-কাহিনী এখানেই খতম। তবে
👉কেচ্ছাটা আরবি, কাহিনীটা হিন্দি, উভয়ের খতমটা আরবিতে। মাফ চাইলামনা বা সরি বললাম না, কারণ 👉মাফটা আরবি আর 👉সরিটা ইংরেজি।
আর এত বড় একটা লেখা প্রেজেন্টেশন করার জন্য আমি আপনাদের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।
আর এই ক্ষমা শব্দ টাও কিন্তু 😊সংস্কৃত শব্দ।

💜💜 আমরা ১৯৫২ সালে ❤️মাতৃভাষার জন্য সংগ্রাম করেছি, এবং ১৯৭১ সালে ❤️পিতৃভূমির জন্য সংগ্রাম করেছি। মাতৃভাষা এবং পিতৃভূমি আমাদের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব এবং মনের ভাব প্রকাশের অন্যতম হাতিয়ার।
গতকাল ছিল আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস।
এই দিবসটাকে বাংলা ভাষায় আমরা আঁটি ফাল্গুন না বলে বরং ইংরেজি ভাষায় একুশে ফেব্রুয়ারি বলতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ বোধ করি।
কেউ কেউ হয়তো যুক্তি দেখিয়ে বলবেন যে যেহেতু এটা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস আর যেহেতু একুশে ফেব্রুয়ারি অর্থাৎ ইংরেজি সন তারিখ হল আন্তর্জাতিক ভাষা তাই এটা গ্রহণযোগ্য।
সুন্দর যুক্তি!!
কিন্তু ভাইজান আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা তো হল মাত্র কয়েকদিন আগে।
এতদিন যে আপনারা ভুল করে আসছেন তার খেসারত কিভাবে দিবেন???
মূলত এটা কোন যুক্তি নয় বরং এটা একটা অজুহাত মাত্র। সে যাই হোক আমরা ♥️ভাষার জন্য জীবন দানকারী এবং যারা ভাষা আন্দোলন করেছেন সকলের রুহের মাগফেরাত কামনা করছি!

সকল ভাষার স্রষ্টা আল্লাহ এবং আল্লাহ সকল ভাষা বুঝেন এমনকি আল্লাহ মনের সংকল্প ও জানেন।
তো এখন চলুন আমরা ইসলামের দৃষ্টিতে ভাষার গুরুত্ব এবং মর্যাদার বিষয়টি একটু খতিয়ে দেখি…
ইসলামের দৃষ্টিতে মাতৃভাষাঃ
ভাষার আদি স্রষ্টা হলেন আল্লাহ তা’য়ালা। কুরআনের ভাষায়:
عَلَّمَهُ ٱلْبَيَانَ.
তিনিই শিখিয়েছেন মনের কথা প্রকাশ করতে। -সূরা রহমান: ৪
বৈচিত্র্যময় বিশ্বে বিভিন্ন জনপদে নানা ভাষা, বর্ণ ও গোত্রে বিভক্তি আল্লাহর অসীম কুদরত ও মহা তাৎপর্যময় সৃষ্টি। পবিত্র কুরআনে বর্ণিত হয়েছে,
وَمِنْ ءَايَٰتِهِۦ خَلْقُ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ وَٱخْتِلَٰفُ أَلْسِنَتِكُمْ وَأَلْوَٰنِكُمْۚ إِنَّ فِى ذَٰلِكَ لَءَايَٰتٍ لِّلْعَٰلِمِينَ.
তাঁর নিদর্শনের মধ্যে হল, আসমানসমূহ ও যমীনের সৃষ্টি এবং তোমাদের ভাষা ও বর্ণের বিভিন্নতা। জ্ঞানীদের জন্য অবশ্যই এতে আছে বহু নিদর্শন। (সূরা রূমঃ ২২)

পৃথিবীর সকল ভাষাই আল্লাহর কাছে গুরুত্বের অধিকারী। আল্লাহ পবিত্র কুরআনে স্পস্ট ঘোষণা দিয়ে বলেনঃ
وَمَآ أَرْسَلْنَا مِن رَّسُولٍ إِلَّا بِلِسَانِ قَوْمِهِۦ لِيُبَيِّنَ لَهُمْۖ فَيُضِلُّ ٱللَّهُ مَن يَشَآءُ وَيَهْدِى مَن يَشَآءُۚ وَهُوَ ٱلْعَزِيزُ ٱلْحَكِيمُ.
আমি কোন রসূলকেই তার জাতির ভাষা ছাড়া পাঠাইনি যাতে তাদের কাছে স্পষ্টভাবে (আমার নির্দেশগুলো) বর্ণনা করতে পারে। অতঃপর আল্লাহ যাকে ইচ্ছে পথহারা করেছেন, আর যাকে ইচ্ছে সঠিক পথ দেখিয়েছেন, তিনি বড়ই পরাক্রান্ত, বিজ্ঞানময়। (সূরা ইব্রাহীম: ৪)

এ মহাগ্রন্থ কুরআনও যে মহামানবের মাধ্যমে অবতীর্ণ হয় তাঁর মাতৃভাষা আরবীতেই রচিত। এটা যদি মহানবী (সা) এর মাতৃভাষায়, তৎকালীন আরব বাসীর বোধগম্য ভাষায় রচিত না হতো তাহলে এটা প্রেরণের উদ্দেশ্য ব্যর্থ হতো। এ সম্পর্কে স্বয়ং আল্লাহ তা’য়ালা বলেনঃ
قُرْءَانًا عَرَبِيًّا غَيْرَ ذِى عِوَجٍ لَّعَلَّهُمْ يَتَّقُونَ.
আরবী ভাষায় (অবতীর্ণ) কুরআন, এতে নেই কোন বক্রতা (পেচানো কথা), যাতে তারা (অন্যায় অপকর্ম হতে) বেঁচে চলতে পারে। (সূরা যুমারঃ ২৮)
إِنَّآ أَنزَلْنَٰهُ قُرْءَٰنًا عَرَبِيًّا لَّعَلَّكُمْ تَعْقِلُونَ.
আমি তা অবতীর্ণ করেছি, আরবী ভাষার কুরআন, যাতে তোমরা ভালভাবে বুঝতে পারো। (সূরা ইউসূফঃ ২)

পবিত্র কালামুল্লাহ থেকে মাতৃভাষার গুরুত্ব জানা যায়। সুতরাং মাতৃভাষা তুচ্ছ বা নিন্দনীয় নয়। কিন্তু বর্তমানে আমাদের দেশে মাতৃভাষার দোহায় দিয়ে এক প্রকার থাম্বা পূঁজা চলছে। এ থেকে বিরত থাকা সকল মুসলিমের জন্য জরুরি।

ভাষা আন্দোলনের সূচনা করেছিলেন মূলত মুসলিম আলেমসমাজ

🇧🇩🇧🇩#ভাষাআন্দোলনের সূচনা করেছিলেন বাংলা ভাষাভাষী আলেম সমাজ এবং ইসলামী ধ্যান-ধারণা লালনকারী মুসলিম সম্প্রদায়। হিন্দুরা মূলত হিন্দি ভাষার প্রতি এবং তৎকালীন বাংলাদেশে অবস্থানরত ইন্ডিয়ান বিহারীরা হিন্দি ভাষার প্রতি আর খুবই মুষ্টিমেয় কিছু লোক উর্দু ভাষার প্রতি আসক্তি ছিল। 👉👉ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগঠন #তমদ্দুনমজলিস ইসলামী ঘরনার ব্যক্তিদের নিয়ে গঠিত হয়েছিল। ওই সংগঠনের সকলেই ছিলেন প্র্যাকটিসিং মুসলিম। তৎকালীন অর্থাৎ পাকিস্তান আমলে বাংলাদেশ শুধুমাত্র কওমি ঘটনার আলেম সমাজ রাষ্ট্রভাষা বাংলা হোক তার পক্ষে ছিলেন না কেননা তারা মূলত ব্রিটিশ খেদাও আন্দোলনের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত থাকলেও এবং ব্রিটিশ বিরোধী যুদ্ধে সরাসরি অংশগ্রহণ করলেও কওমি দেওবন্দী ঘরনার লোক কোনদিন চাইনি বাংলাদেশ বা পাকিস্তান নামক কোন আলাদা ইসলামী বা মুসলিম অধ্যুষিত রাষ্ট্র হোক। দেওবন্দী ঘরনার আলেমরা যেমন সব সময় অবিভক্ত ভারতের পক্ষে ছিল তদ্রুপ তারা উর্দু ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে মনেপ্রাণে চাইতো। কেননা #দেওবন্দ_মাদ্রাসার শিক্ষাদান পদ্ধতি এবং উত্তর ভারতের হিন্দু মুসলিম সকলের ভাষা উর্দু। কিন্তু বাংলাদেশের অর্থাৎ তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের জ্ঞানি মুসলিম জনসাধারণ এবং দূরদর্শী মুসলিম ব্যক্তিত্ব মূলত যারা ছিল সবাই প্র্যাকটিসিং মুসলিম তারা খুব ভালোভাবেই উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন যে মাতৃভাষা ছাড়া দ্বীন ইসলাম চর্চার অন্য কোন সঠিক পন্থা এবং পদ্ধতি নেই।
কারণ মাতৃভাষায় যে বিষয় খুব সহজে বুঝা যায় অন্যান্য ভাষা যত ভালো ভাবেই আয়ত্ত করা হোক না কেন তা শতভাগ মোটেও বোধগম্য হয় না।
((যেমন আমি ইবনে মোশারফ আলহামদুলিল্লাহ ৬টি ভাষা জানি এবং কথা বলতে, বুঝতেও পড়তে পারি।))
কিন্তু আমার মাতৃভাষা আমি যতটুকু বুঝি আর যত সহজে বুঝি তা কি অন্য ভাষার ব্যাপারে বলতে পারি ⁉️ বা কেউ কি বলতে পারবেন?? অবশ্যই নয় ‼️

মূলত যারা সেই প্রথম থেকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তারা সবাই ছিলেন ইসলামী ঘরনার।
যারা ইসলাম ইসলামের অনুশাসন মেনে চলেন তারা দেশ ও দেশের মানুষকে ভালবাসবে এটা স্বাভাবিক।
ব্রিটিশ খেদাও আন্দোলন থেকে আজকের বাংলাদেশ প্রত্যেকটি সংগ্রামে ইসলামী মন মানসিকতা এবং আলেমদের অংশগ্রহণ চোখে পড়ার মত অথচ বিদ্বেষবশত এবং মিডিয়া তাদের আয়ত্তে থাকার দরুন আলেমদের ও ইসলামী ব্যক্তিত্বদের অবদান ইচ্ছেকৃত ভাবে তুলে ধরা হয়না, ইতিহাস বিকৃতি চলছে বহুকাল থেকে।
👉👉বঙ্গবন্ধু যখন স্বাধীনতার কথা বলেছিলেন, তখন সেখানে সবার শেষে তিনি #ইনশাআল্লাহ শব্দটি উচ্চারণ করেছিলেন যা পবিত্র কোরআন থেকে নিঃসৃত এবং শতভাগ ইসলামিক শব্দ।
“”রক্ত যখন দিয়েছি রক্ত আরো দেবো তবুও এই দেশকে স্বাধীন করে ছাড়বো ইনশাল্লাহ””!
সেই ব্রিটিশ খেদাও আন্দোলন থেকে শুরু করে বাংলাদেশ হওয়া পর্যন্ত সকল আন্দোলন সংগঠন এর নেতৃত্ব দানকারী প্রত্যেক ব্যক্তির খোঁজ নিয়ে দেখুন তারা সকলেই মুসলিম ছিলেন।
👉👉বাংলা ভাষার জন্য জালিম শাসকের হাতে জীবন দেওয়া ব্যক্তিদের সবাই ছিলেন মুসলিম একজনও হিন্দু ছিলেন না।
👉👉 স্বাধীনতা যুদ্ধের সাতজন বীরশ্রেষ্ঠদের মধ্যে কেউ অন্য ধর্মের নয় সবাই মুসলিম।
👉👉 স্বাধীনতা যুদ্ধের বীর উত্তমদের মধ্যে সবাই মুসলিম।
👉👉 দেশ স্বাধীনতার জন্য ভাষার জন্য অর্থাৎ সর্বপ্রকার আজাদির জন্য যারা যুগ যুগ ধরে সংগ্রাম করেছেন নেতৃত্ব দিয়েছেন জেল খেটেছেন সবাই মুসলিম।
👉👉 কি ভারতের দিল্লি গেটের মধ্যে দেশ আযানের জন্য সংগ্রাম করে যে সমস্ত লোকেরা জীবন দিয়েছেন শহীদ হয়েছেন তার আশীর্বাদ লোক হলো মুসলিম এবং সেই দিল্লি গেটে তাদের সকলের নাম এখনো লিখা আছে।
নতুনদের জন্য সঠিক ইতিহাস তুলে ধরতে হবে।

বাংলা ভাষা রক্ষার সংগ্রামে সর্বপ্রথম এগিয়ে এসেছিলেন তুর্কি সেনাপতি উক্তি উদ্দিন মোহাম্মদ বিন বখতিয়ার খলজি

♥️💜💙হাজার বছর আগে বাঙ্গালি জাতির মুখের ভাষা ‘বাংলা’কে কেড়ে নিয়েছিল দক্ষিণ ভারত থেকে আগত সেন রাজারা। সেন রাজাদের হিন্দু পণ্ডিতরা নির্দেশ জারি করেছিল, ‘যারা বাংলা ভাষা বলবে ও শুনবে তারা রৌরব নামক নরকে যাবে।’
ওই সময় তুর্কি বংশোদ্ভূত ইখতিয়ার উদ্দিন মুহম্মদ বখতিয়ার খিলজি নির্যাতিত বাঙালিদের মুক্ত করতে এগিয়ে আসেন এবং ১২০৪ খ্রিষ্টাব্দে মাত্র ১৮ জন ঘোড়সওয়ারি নিয়ে সেন রাজাকে পরাজিত করে বাংলাকে স্বাধীন করেন। বক্তারা বলেন, ইখতিয়ার উদ্দিন মুহম্মদ বখতিয়ার খিলজির বাংলা বিজয়ের মাধ্যম সেই দিন শুধু ভূমির বিজয় হয়নি, সঙ্গে মুক্ত হয়েছিল বাঙ্গালিদের মুখের ভাষা ‘বাংলা’।

ভাষাবিদ #দীনেশচন্দ্রসেন বলেন, ‘মুসলমান সম্রাটরা বর্তমান বঙ্গ-সাহিত্যের জন্মদাতা বললে অত্যুক্তি হয় না। বঙ্গ-সাহিত্য মুসলমানদেরই সৃষ্ট, বঙ্গ-ভাষা বাঙালি মুসলমানের মাতৃভাষা।’ অধ্যাপক ও গবেষক মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, ‘যদি বাংলায় মুসলিম বিজয় ত্বরান্বিত না হতো এবং এ দেশে আরও কয়েক শতকের জন্য পূ্র্বের শাসন অব্যাহত থাকত, তবে বাংলা ভাষা বিলুপ্ত হয়ে যেত এবং অবহেলিত ও বিস্মৃত-প্রায় হয়ে অতীতের গর্ভে নিমজ্জিত হতো।’

মধ্যযুগে মুসলিম শাসকদের রাজকীয় পৃষ্ঠপোষকতায় বাংলা ভাষার যে সাহিত্যচর্চা শুরু হয়, তার মাধ্যমে বাংলা ভাষা একটি পরিপূর্ণ ভাষা হিসেবে আত্মপ্রকাশের যোগ্যতা অর্জন করে।

বাংলা ভাষাকে কলুষিত করার চেষ্টা যুগে যুগে আরও হয়। ১৮শ’ সনে ব্রিটিশরা কলকাতায় ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ প্রতিষ্ঠা করে বাংলা ভাষার আরবি ও ফারসি শব্দ বাদ দিয়ে সংস্কৃত শব্দ প্রবেশের উদ্দেশ্যে সাহিত্যচর্চা শুরু করে। তারা দেখাতে চায়—বাংলা ভাষার সঙ্গে মুসলমানদের কোনো সম্পর্ক নেই।

মুসলিমদের হেয় প্রতিপন্ন করতে প্রচার করা হয়, বাংলা ভাষায় প্রথম কুরআন মাজিদ অনুবাদ নাকি গিরিশ চন্দ্র সেন করেছেন। অথচ ১৮৮৬ খ্রিষ্টাব্দে গিরিশ চন্দ্র সেনের অনুবাদের বহু আগে ১৮০৮ খ্রিষ্টাব্দে বাংলা ভাষায় কুরআন মাজিদের আংশিক অনুবাদ করেন মাওলানা আমিরুদ্দিন বসুনিয়া। এরপর ১৮৩৬ খ্রিষ্টাব্দে মৌলবি নাঈমুদ্দিন পূরো কুরআনের বাংলা অনুবাদ সম্পন্ন করেন। অথচ এ ইতিহাস প্রচার করা হয় না।

সুত্র: খন্দকার কামরুল হুদা, স্বাধীনতা সংগ্রাম ও শেখ মুজিব, ১৯৯৫, পৃ. ৩২, বাংলাপিডিয়া

কোরআনের কপি বা টেক্সস দেখে দেখে নামাজ পড়ার প্রসঙ্গে

🔴🟢🟣অবশ্যই যিনি কুরআন থেকে কিছু মুখস্ত জানেন তার জন্য কুরআন দেখে দেখে নামাজ পড়া বৈধ হবে না। তবে যিনি কোরআন মুখস্ত জানেন না দেখে পড়তে পারেন তিনিই কেবল নফল তথা সুন্নত নামাজগুলোতে পবিত্র কোরআন দেখে দেখে নামাজ পড়তে পারেন। যেহেতু কোরান দেখেন নামাজ পড়ার কমপক্ষে দুই একটি হাদিস মৌজুদ আছে সেহেতু এই বিষয়টিকে সম্পূর্ণ অবৈধ বা নাজায়েজ ফতোয়া দেওয়ার কারো অধিকার নেই। আর তাছাড়া আল্লাহ মানুষের জন্য দ্বীন ইসলামকে কঠিন করেননি।

🔴🟢 পবিত্র কোরআন থেকে দেখে দেখে নামাজ পড়ার এবং না পড়ার কিছু দলিল তুলে ধরা হলো এবং কিছু মনীষীদের মতামত ও তুলে ধরা হলো।

👉👉ইমাম শাফেয়ি রাহিমাহুল্লাহ যখন কুফায় যেতেন, তখন নামাজে রফয়ে ঈদাইন করতেন না৷ কারণ জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, ইমাম অাবু হানিফার সম্মানার্থে করি না৷

👉👉শাহ ওয়ালিউল্লাহ মুহাদ্দিসে দেহলবি রাহিমাহুল্লাহ “আল ইনসাফ” নামে একটি গ্রন্থ রচনা করেছন৷ সেখানে তিনি জোরালোভাবে একটি বিষয়ে আলোচনা করেছন৷ যে এলাকায় একটি সুন্নাহ প্রচলিত আছে, সে এলাকায় গিয়ে যদি একই বিষয়ে ভিন্ন আরেকটি সুন্নাহ থাকে, সে সুন্নাহর দাওয়াত প্রদান করবে না৷ কারণ, এরদ্বারা মানুষের মাঝে ফিতনা মাথাচাড়া দিয়ে ওঠেছে

🔴🟣নফল নামাজে দেখে কুরআন পড়ার বিষয়টি আয়েশা রাঃ এর গোলাম জাকওয়ান থেকে বর্ণিত হয়েছে৷ তিনি মুসহাফ অর্থাৎ কোরআনের টেক্সট বা লেখা দেখে রমজানে সলাত পড়িয়েছিলেন৷ এবং এটা হাদিস দ্বারা শতভাগ প্রমাণিত।

🟢🟤হাদিসে নামাজের ব্যাপারে একটি মূলনীতি বর্ণিত হয়েছে৷
আমাদের দেশের কতিপয় কিছু মডারেট শায়খ বলাবলি করেন, পুরুষ এবং মহিলার নামাজে কোন পার্থক্য নেই৷ দলিল হিসেবে একটি হাদিস পেশ করেন৷
তারা মূলত আমাদেরই ভাই আমাদেরই পাশাপাশি লোক এবং তারা প্রায় সবাই আহলে হাদিস মাযহাবের লোক।
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

صلوا كما رئيتموني أصلي
অর্থাৎ তোমরা নামাজ পড়ো যেভাবে আমাকে নামাজ পড়তে দেখো৷ (বুখারি: হাদিস ন ১০৩৬)

কিন্তু এই ভাইদের জিজ্ঞাসা করা দরকার যে,
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তো জীবনে হাজার হাজার রাকআত নফল নামাজ পড়েছেন৷ তিনি কী কখনো কোন নামাজে কুরআন শরিফ দেখে তেলাওয়াত করেছেন??
এর উত্তরে হয়তো তারা বলবেন যে না তিনি কখনো নামাজ দেখে দেখে তেলাওয়াত করেননি কোরআন নাজিল হওয়ার সাথে সাথে রাসুল সাঃ এতটা মুখস্ত হয়ে যেত।

তারাবিহ ২০ রাকাত উমর রাঃ এর সুন্নাহ বলে এড়িয়ে যান, অথচ ইবনে তাইমিয়া, ইবনে আবদুল বার মালেকি, ইবনে কুদামা মাকদেসি রাহিমাহুমুল্লাহ এর বক্তব্য অনুযায়ী বিশ রাকআত তারাবিহ সকল সাহাবির ইজমা দ্বারা প্রমাণিত৷
তারাবির ক্ষেত্রে সকল সাহাবির ইজমা বাদ দিয়ে দেন, আবার রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং খুলাফায়ে রাশেদিনের আমল বাদ দিয়েদিয় আয়েশা রাঃ এর হাদিসের উপর আমল করে বলেন, নামাজে কুরআন দেখে পড়া যাবে! বিষয়গুলো পরস্পর বিরোধী হয়ে যায় না???

সনদের দিক থেকে দুর্বল হলেও ইবনে আব্বাস রাযি. বর্ণনা করেন,

: نَہَانَا أمیرُ المُوٴمِنِیْنَ عُمَرُ رضی اللّٰہ عنہ أَن یَوٴُمَّ النَّاسَ فِي الْمُصْحَفِ، وَنَہَانَا أَن یَّوٴُمَّنَا اِلَّا الْمُحْتَلِمُ․

অর্থাৎ আমিরুল মুমিনিন উমর রা. রাযি. ইমাম সাহেবকে নামাজে কুরআন দেখে পড়তে নিষেধ করেছেন৷ কিতাবুল মুসহাফ, ইমাম আবু দাউদ লিখিত, হাদিস নং ১৮৯)

উমর রা. কে শয়তান প্রচণ্ড ভয় করত৷ আপনারাও কেন তাকে এত ভয় পান!! বিশ রাকআত তারাবিহ উমর রা. এর সুন্নাহ বলে কমিয়ে ফেলেন! আবার উমর রা. এর মতের অনুসরণ না করে বলেন, নফল নামাজে কুরআন দেখে পড়া যাবেকি???

কাতাদা রাহিমাহুল্লাহ বিখ্যাত তাবেয়ি সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন,

إِذَا کَانَ مَعَہُ مَا یَقُوْمُ بِہِ لَیْلَہُ رَدَّدَہُ وَلاَ یَقْرَأُ فِي الْمُصْحَفِ

অর্থাৎ কেউ যদি কিয়ামুল লাইলে পড়ার মতো সামান্য কুরআন মুখস্থ থাকে, তাহলে সেটা বারবার পড়বে৷ তারপরও কুরআন দেখে পড়বে না৷

লাইস রাহিমাহুল্লাহ মুজাহিদ রাহিমাহুল্লাহ এর ব্যাপারে বলেন,

أنَّہُ کَانَ یَکْرَہُ أَنْ یَّتَشَبَّہُوْا بِأَہْلِ الْکِتَابِ یَعْنِيْ أَنْ یَّوٴُمَّہُمْ فِي الْمُصْحَفِ

অর্থাৎ আহলে কিতাবদের সাথে সাদৃশ্য রেখে তিনি নামাজে কুরআন দেখে পড়াকে মাকরুহে তাহরিমি বলেছেন৷

আমাশ ইবরাহিম নাখাঈ থেকে বর্ণনা করেন,

کَانُوْا یَکْرَہُوْنَ أَنْ یَّوٴُمَّ الرَّجُلُ فِي الْمُصْحَفِ کَرَاہِیَةً شَدِیْدَةً أَن یَّتَشَبَّہُوْا بِأَہْلِ الْکِتَابِ“
অর্থাৎ সাহাবায়ে কেরাম নামাজে কুরআন দেখে পড়াকে মারাত্মক অপছন্দ করতেন আহলে কিতাবদের সাথে সাদৃশ্য হয়ে যাওয়ার কারণে৷ (বক্তব্যগুলো ইমাম আবু দাউদ কিতাবুল মাসাহিফে উল্লেখ করেছেন৷ হাদিস নং ১৮৯, ১৯০, ১৯১)

খতিবে বাগদাদি রাহিমাহুল্লাহ তারিখে বাগদাদ এ আম্মার বিন ইয়াসির রাযি. এর আছার উল্লেখ করেছেন৷

: عَنْ عَمَّارِ بْنِ یَاسِرٍ کَانَ یَکْرَہُ أَن یَّوٴُمَّ الرَّجُلُ النَّاسَ بِاللَّیْلِ فِيْ شَہْرِ رَمَضَانَ فِي الْمُصْحَفِ ہُوَ مِنْ فِعْلِ أَہْلِ الْکِتَابِ

অর্থাৎ আহলে কিতাবদের সাথে সাদৃশ্য হয়ে যাওয়ার কারণে রমজানের রাতের নামাজে কুরআন দেখে ইমামতি করাকে তিনি মাকরুহ বলেছেন৷ (তারিখে বাগদাদ: ৮/১২০)

আরও অনেক বক্তব্য নকল করা যাবে৷ বাকি থাকল আয়শা রাযি. এর হাদিসের কথা৷ এ হাদিসের ব্যাপারে খোদ মডারেট শায়খদের মান্যবর নাসির উদ্দিন আলবানি রাহিমাহুল্লাহ বলেন,

وما ذکر عن ذکوان حادثة عین لا عموم لہا
অর্থাৎ জাকওয়াম এর ঘটনা একটি বিশেষ ঘটনা৷ এটা ব্যাপক বিষয় নয়৷ (ফাতহুর রাহমান: ১২৩)

ইমাম কাসানি রাহিমাহুল্লাহ বলেন,
وأما حدیث ذکوان فیحتمل أن عائشة ومن کان من أہل الفتوی من الصحابة لم یعلموا بذلک وہذا ہو الظاہر بدلیل أن ہذا الصنیع مکروہ بلا خلاف ولو علموا بذلک لما مکنوہ من عمل المکروہ في جمیع شہر رمضان من غیرحاجة، ویَحْتَمِلُ أن یکون قول الراوي کان یوٴم الناس في شہر رمضان وکان یقرأ من المصحف إخبارا عن حالتین مختلفین أي کان یوٴم الناس في رمضان وکان یقرأ من المصحف في غیر حالة الصلاة

অর্থাৎ সম্ভবত আয়েশা রাযি. সে বিধান জানতেন না৷ জানলে তিনি এমনটা করতেন না৷ অথবা বর্ণাকারীর কথা দ্বারা এটাও উদ্দেশ্য হতে পারে যে, তিনি রমজানের দুটি অবস্থা বর্ণনা করেছেন৷ তিনি রমজানে ইমামতি করতেন এবং নামাজের বাহিরে কুরআন দেখে পড়তেন৷ (বাদায়িউস সানায়ে: ২/১২৩)

ইমাম আইনি রাহিমাহুল্লাহও একই ধরণের বক্তব্য দিয়েছেন৷ তাদের উভয়ের কথা আরেকটি আছার দ্বারা শক্তিশালী হয়৷ হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানি রাহিমাহুল্লাহ আয়শা রাযি. থেকে এ সংক্রান্ত একটি আছার নকল করেছেন৷ সেখানে কুরআন দেখে পড়ার কথা নেই৷

عن ابن أبي ملیکة أنہم کانوا یأتون عائشة بأعلی الوادي ہو وعبید بن عمیر والمسور بن مخرمة وناس کثیر فیوٴمہم أبو عمر و مولی عائشة، وأبو عمر وغلامہا حینئذ لم یعتق․

ইবনে আবি মুলাইকা বর্ণনা করেন, তিনি, মিসওয়ার বিন মাখরামা এবং আরও অনেক মানুষ আয়েশা রাযি. এর কাছে আসেন৷ আয়েশা রাযি. গোলাম আবু আমর ইমামতি করেন৷ (আত তালখিসুল হাবির: ,২/১১০)

এ বর্ণনায় কুরআন দেখে পড়ার কথা নেই এর দ্বারা কাসানি এবং আইনি রাহিমাহুমাল্লাহ এর বক্তব্য শক্তিশালী হয়৷ অর্থাৎ নামাজের বাহিরে তিনি কুরআন দেখে পড়েছেন৷

আলোচনা দীর্ঘ না করে মডারেটদের প্রিয় ব্যক্তি শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানি রাহি. এর বক্তব্য তুলে ধরছি৷ তিনি বলেন,

لا نری ذلک، وما ذکر عن ذکوان حادثة عین لاعموم لہا، وبإباحة ذلک لأئمة المساجد یوٴدي بہم إلی ترک تعاہد القرآن والعنایة بحفظہ غیبا وہذا خلاف قولہ صلی اللہ علیہ وسلم: تعاہدوا القرآن فوالذي نفسي بیدہ لہو أشد تفصیا من الإبل في عقلہا، ومعلوم أن للوسائل حکم الغایات کقولہم مالا یقوم الواجب إلا بہ فہو واجب وما یوٴدي إلی معصیة فہو معصیة
অর্থাৎ আমি এটাকে জায়েজ মনে করি না৷ আর জাকওয়ানের ঘটনা একটি বিশেষ অবস্থার, ব্যাপক বিধান নয়৷ এটাকে জায়েজ বললে মসজিদের ইমামরা কুরআন মুখস্থ করা ধীরে ধীরে বাদ দিতে থাকবে৷ আর এটা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হাদিস বিরোধী৷ আর শরিয়তে যে কাজ গুনাহের দিকে ধাবিত করে, সেটাও গুনাহ৷ (ফাতহুর রহমান: ১২৫)

মডারেটদের কাজই হলো, কোন এলাকায় শত বছর থেকে চলে আসা স্বীকৃত আমলের বিপরিত ফতোয়া দিয়ে সাধারণ মানুষকে ফিতনায় পতিত করা৷ কিতাবাদির গলি ঘুপচি খুঁজে বিচ্ছিন্ন বা মারজুহ বক্তব্য উল্লেখ করে ঢেলে দেন ফতোয়া৷ বিভ্রান্ত হয় সাধারণ মানুষ৷ মডারেটরা ইসলামের জন্য ক্ষতিকর৷ তাদের ফতোয়া গ্রহণ করার অাগে তাহকিক করবেন৷

কলকাতাআলিয়ার ২৬ জন খৃস্টান প্রিন্সিপালদের গালী রাসূলের (সাঃ) চাচা আবু তালিবকে গালীর সমান।

👉👉 এখানে প্রথমেই জেনে নেওয়া ভালো যে যদি সরকারি তত্ত্বাবধানে কোন প্রতিষ্ঠান তৈরি করা হয় তখন নিয়ম অনুসারে এবং পদাধিকার বলে দেশের প্রেসিডেন্ট কিংবা এলাকার গভর্নর সেই প্রতিষ্ঠানের প্রধান হয়ে থাকেন অটোমেটিকলি। যেমন বাংলাদেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর হলেন পদাধিকার বলে দেশের #মহামান্যপ্রেসিডেন্ট। এই প্রেসিডেন্ট যদি একজন হিন্দু খ্রিস্টান কিংবা যেকোনো ধর্মের হন তখন অটোমেটিকলি সকল বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিশ্ববিদ্যালয় সমমানের সকল প্রতিষ্ঠানের এবং তা যদি মাদ্রাসাও হয় তবে স্বয়ংক্রিয়ভাবেই তিনি ওই মাদ্রাসার বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান বা chensellore হয়ে যাবেন। আপনারা অনেকেই হয়তো জানেন যে দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর আছে কিন্তু অনেকেই অবহেলা বা অজানা হেতু প্রশ্ন করেন না যে, ভাইস চ্যান্সেলর যেহেতু আছেন কিন্তু chancellor কে?? অথচ আমরা অনেকেই অজ্ঞতা হেতু এবং পড়াশোনার প্রতি অবহেলা হেতু গুরুত্বপূর্ণ অনেক জিনিস বা অনেক বিষয় পাশ কেটে যায় কিংবা জানতে চেষ্টা করি না ‌
(এই পোস্টের শেষে আমরা কলকাতা আলিয়ার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস জেনে নেব ইনশাআল্লাহ)
🤔🤔মনে বড় কষ্ট পাই যখন দেখি কিছু সংকির্ণ চিন্তার আলেমদের ফেসবুক ইউটিউবে এসে তাদের অজ্ঞতা হেতু কলকাতা আলিয়ার খ্রিস্টান প্রিন্সিপালদের অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে ৷
মূলত খ্রিস্টান হোক বা মুসলিম হোক অথবা যে কোন ধর্মের লোক হোক এমন কি পশু পাখি কে ও বিনা কারণে গালাগালি করা ইসলামে সরাসরি হারাম এবং কবিরা গুনাহ ‌
সেজন্য আগেই বলে রাখি ,সকল খৃস্টান যেমন খারাপ নয় সবাই আবার ভালো ও নয়৷৷৷

যেসব খৃস্টান পাদ্রীরা রাসূল (সাঃ)এর ছোট বেলায় নবী স্বীকৃতি দিয়েছেন৷৷তাদের মধ্যে সিরিয়ার পাদ্রী ও ওরাকা বিন নওফেল অন্যতম৷৷

এই সমস্ত গালাগালি করনেওয়ালা আলেম যাদের ওয়াজ নসিহত ও বিভিন্ন মাহফিল আল্লামা ইকবাল রহঃ এর কবিতার অংশ বা কবিতা ছাড়া হয় না সেই আল্লামা ইকবালের প্রাথমিক শিক্ষা হয়েছিলো
খৃস্টান মিশনারী স্কটিশ স্কুলে৷৷স্যার টমাসকে তিনি
পীরের মতো মানতেন বলে তার কথায় তিনি অক্সফোর্ডে পড়তে যান ৷৷আরেকজন খৃস্টান অধ্যাপকের থেকে তিনি কবিতা লেখা শিখেন৷৷

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম এর সময়ে এক যুদ্ধে ইহুদী এবং খ্রিস্টানদের অনেক শিক্ষিত লোক ধরা পড়ে এবং তারা যুদ্ধবন্দী হিসেবে বন্দি অবস্থায় থাকে। রাসূল সাল্লাল্লাহু ওয়া সাল্লাম নির্দেশ দিলেন প্রত্যেক শিক্ষিত ব্যক্তি মুসলিমদের মধ্য থেকে দশ জন নিরক্ষর ব্যাক্তিকে শিক্ষাদান এবং লেখা ও পড়া শিক্ষা দিলে তাদেরকে মুক্ত করে দেওয়া হবে। এবং পরবর্তী সময়ে তাই হয়েছিল। এবং ওই কৌশল গ্রহণের ফলে মুসলিমদের মধ্যে শিক্ষার হার ব্যাপক বেড়ে গিয়েছিল তখন। অথচ এই ইতিহাস তারা ভুলে গেছে অথবা জানিই না।

আমি আমার স্কুল কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে বহু হিন্দু শিক্ষকের নিকট ইংরেজী, গণিত, এবং ফিজিক্স শিখেছি৷৷

👉👉 যেই কওমী দেওবন্দী মাদ্রাসার শিক্ষিত লোকেরা আলিয়া মাদ্রাসাকে এবং খ্রিস্টানদের কে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে সেই কওমী মাদ্রাসার #নফহাতুল_ইয়ামান কিতাবটি ও একজন খৃস্টান শিক্ষক মাত্তালি মাজদানের সম্পাদনা করা৷৷

বর্তমান তুরুস্কে বহু খৃস্টান কোরানে হাফেজ ইউনি
ভার্সিটি গুলাতে হিফজুল কোরান পড়ায়৷৷
কোরানের প্রথম মার্কেটিং বাংলা অনুবাদক রাজা
রাম মোহন রায়৷৷

ইবনেসিনা, #ইমামরাজি’র বহু কিতাব ইংরেজরা অনুবাদ করে ইলমের বিশাল বিশাল খেদমত করেছেন৷৷ হেদায়া বোখারীর মতো বহু গ্রন্থ ইংরেজরা কষ্টকরে অনুবাদ করেছে৷৷

সেজন্য ইসলামী জ্ঞান বিজ্ঞানে খৃস্টান পণ্ডিতদের
অবদান অস্বীকার করার সুযোগ নেই৷৷

সেজন্য ইংরেজ সরকারের অধিনে চাকরি করা
কলকাতা আলিয়ার খৃস্টান শিক্ষকদের ছোট করে কথা
বলা ঠিক নয়৷৷ কারণ মুসলিম উম্মার জাগরণে
তারা অনেক অবদান রেখে গেছেন৷৷

রাসূল (সাঃ)এর চাচা আবু তালিব ও ওরাকা বিন
নওফেলের মতো৷৷৷যদি ও তারা ইসলাম গ্রহণ করেন নি৷

কোরান হাদিস পড়ুয়া আলেমরা এসব জেনে ও কলকাতা আলিয়ার ২৬জন খৃস্টান পৃন্সিপালদের
গালা গালি করা বোকামী ছাড়া কিছু নয়৷৷

কলকাতা আলিয়ার শাখা দিল্লি মাদ্রাসায়ে গাজিউদ্দিন
কলেজ থেকে পড়া লেখা করেই কাসেম নানুতবী
(রহঃ) দেওবন্দ প্রতিষ্ঠা করেন৷৷

ইদানিং কমবুঝ সংকির্ণমনা হিজবুত তাওহিদের ভন্ডসেলিম থেকে শুরু করে কওমী ভার্সিটি পন্থী
কিছু আলেম কলকাতার আলিয়ার ২৬জন খৃস্টান পৃন্সিপালকে গালাগালি করছেন৷৷

এমনকি নেগলেট ষড়যন্ত্রকারি বলে কথা বলছেন৷৷
অতচ তারা নিজেরা খৃস্টান হলেও ইসলামী
জাগরণে তারা রাসূল (সাঃ)এর কাফের চাচা আবু
তালিবের মতো অবদান রেখেছেন৷৷

এসব সংকির্ণবাদীদের জানা উচিত,,,,,উপমহাদেশে
ইংরেজ জুলুমের সাথে অনেক ভালো কাজও
করেছিলো৷৷৷

যেমন গোঁড়া ধর্মান্ধ হিন্দু মুসলিমদের তারা চাষার
ক্ষেত থেকে তুলে যুগবিজ্ঞান শিখতে উৎসাহ
দিয়েছিলো৷৷

কারণ এর আগে হিন্দু পণ্ডিতরা টোলে সংস্কৃত ছাড়া
কিছু পড়াতো না৷৷৷ মুফতী মাওলানারা কোরান হাদিস
ছাড়া বিজ্ঞান ইংরেজি ল গণিত পড়াকে হারাম ফতোয়া
দিতো৷৷৷

হিন্দুরা সতিদাহ প্রথা আর মুসলিমরা জেনা বন্ধের
নামে বাল্য বিয়ে দারিদ্র বিয়ে দিয়ে রুহিঙ্গাদের মতো
বর্বর মূর্খ হতো৷৷

সেই ভয়ঙ্কর অসভ্যতা দূর করেছে কোন মুফতী কিংবা
ঠাকুর নয়৷৷ইংরেজ শাসকরাই৷৷

যেমন রাসূলের চাচা আবু তালিব কাফের হলেও
ইসলামের অনেক খেদমত করেছেন৷৷

সেই হিসেবে তৎকালিন বর্বর মূর্খ মুসলিম জাতিকে
ধর্মের সাথে জ্ঞান বিজ্ঞান শিক্ষার জন্য ইংরেজরা
মোল্লা মাজদুদ্দিনের অনুরোধে কলকাতা আলিয়া
প্রতিষ্ঠা করেন৷৷

ইংরেজ পৃন্সিপালদের অধিনে থাকা কালিন কলকাতা আলিয়াতে এত ভালো লেখাপড়া হতো৷৷

যা পরবর্তি মুসলিম পৃন্সিপালদের সময় হয়নি৷৷

তার মানে কে ধোকাবাজ? ইংরেজ পৃন্সিপালরা
না মুসলিম পৃন্সিপালরা??

সেজন্য ইংরেজ পৃন্সিপালদের সময় কলকাতা আলিয়ার ইংলিশ ডিপার্টমেন্টের ছাত্রদের মধ্যে
তৈরি হয়েছে রাহবরে মিল্লাত নবাব আঃলতিফ,
(রহঃ)জন্ম হয়েছে সৈয়দ আমীর আলী (রহঃ)
এর মতো বাঘা বাঘা মেধাবী মুসলিম নেতা৷৷

যা মুসলিম পৃন্সিপালদের সময় হয়নি৷৷

বর্তমান ইংরেজ খৃস্টান পাদ্রী চ্যারিটি পরিচালিত
নটরডেম,ওয়াই ডব্লিউ প্রতিষ্ঠান গুলি যেমন
দেশ সেরা মেধাবী তৈরির প্রোডাকশন হাউজ৷৷

আজকে যেমন সবাই,, ইংরেজ খৃস্টান পরিচালিত স্কুল
কলেজে সন্তানকে পড়ানোকে দুনিয়া জয় মনে করে৷৷
তখনো এমন চিন্তাই ছিলো মুসলিম জাতির৷৷

সেজন্য কলকাতা আলিয়ার ২৬জন খৃস্টান পৃন্সিপালকে গালা গালি করা রাসুল (সাঃ) এর
চাচা আবু তালিবকে গালা গাল করার শামিল৷

আল্লামা ইকবালের খৃস্টান শিক্ষক গণকে
গালা গালি করার শামিল৷৷৷

নবাব আঃলতিফ,সৈয়দ আমীর আলিকে গালি
দেয়ার শামিল৷৷৷

আমার হিন্দু শিক্ষকগণকে গালা গালি করার
শামিল৷৷৷

আল্লাহ সংকির্ণ মনা হুজুরদের বুঝা সহজ করে
দিন৷৷৷ আমীন৷৷৷

🟢🟤🔴এবার আসুন জেনে নেওয়া যাক কলকাতা আলিয়ার সংক্ষিপ্ত ইতিহাসঃ

👉👉মাদ্রাসা-ই-আলিয়া, কলকাতা বা কলকাতা মাদ্রাসা বা উপমহাদেশের ইসলামি শিক্ষা ব্যবস্থার সবচেয়ে প্রাচীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।মাদ্রাসাটি কলকাতা আলিয়া মাদ্রাসা নামেই অধিক পরিচিত ছিলো, তবে মাদ্রাসাটির প্রাতিষ্ঠানিক নাম ছিলো কলকাতা মোহামেডান কলেজ।১৭৮০ সালে ওয়ারেন হেস্টিংস কতৃক কলকাতা মোহামেডান কলেজ নামে মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠিত হয়, সাথে সাথে উপমহাদেশে নতুন আধুনিক ইসলামি শিক্ষা ব্যবস্থার প্রচলন ঘটে এই মাদ্রাসার অনুকরণে ভারত ও বাংলাদেশে হাজার হাজার আলিয়া মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।তবে পরবর্তীতে মাদ্রাসাটি কলকাতা আলিয়া মাদ্রাসা নামে পরিচিতি লাভ করে। আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০০৭ অনুযায়ী মাদরাসাটিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত করা হয়।

মোটকথা,১৭৮০ সালে বাংলার ফোর্ট উইলিয়ামের গর্ভনর জেনারেল ওয়ারেন হেস্টিংস কর্তৃক কলকাতায় কলকাতা আলিয়া মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠিত হয়।
১৯৪৭ সালে দেশ ভাগ হলে আলিয়া মাদ্রাসা কলকাতার ঢাকায় অনুরূপ একটি নির্মাণ করা হয়। যা বর্তমানে ঢাকা আলিয়া হিসেবে পরিচিত। যখন ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়, তখন মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ছিলেন

খানবাহাদুরমাওলানাজিয়াউলহক, তিনিই এই মাদ্রাসার প্রথম অধ্যক্ষ।

কলকাতা আলিয়া মাদ্রাসাটির শিক্ষা কার্যক্রম তৎকালীন ব্রিটিশ সরকার পরিচালিত ভারতে রাষ্ট্রীয়-ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হতো। এই মাদ্রাসায় শুরুতে দারসে নিজামিয়া শিক্ষা পদ্ধতি অনুকরণ করে পাঠদান করা হতো। ১৭৮০ থেকে ১৮৫৩ সাল পর্যন্ত পাঠাদানে ফার্সি ভাষার প্রাধান্য ছিলো, এরপরে ধীরে ধীরে ইংরেজির প্রভাব বাড়তে থাকে। পাঠ্য সিলেবাসের মধ্যে কুরআন-হাদিসের সার্বিক বিষয়ের পাশাপাশি ইউক্লিডয় গণিত ও জ্যামিতি, এরিস্টটলের পুরনো দর্শন, যুক্তিবিদ্যা প্রভৃতি পড়ানো হতো।

🟢🟤কলকাতা আলিয়ার ইতিহাসঃ

👉১৭৮০-১৮৫০, প্রাথমিক অবস্থাঃ
১৭৮০ মতান্তরে ১৭৮১ সালের অক্টোবর মাসে বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির গভর্নর জেনারেল ওয়ারেন হেস্টিংস মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠা করে। কলকাতার শিয়ালদাহের নিকটস্থ বউবাজার অঞ্চলের বৈঠকখানায় এই মাদ্রাসার সূত্রপাত হয়। দীর্ঘ ৪৭ বছর পর, ১৮২৭ সালে মাদ্রাসাটি এর বর্তমান অবস্থান (আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান অবস্থান) তালতলার হাজী মোহাম্মদ মুহসিন স্কোয়ারে স্থানান্তরিত করা হয়। প্রথম দেড় বছর ওয়ারেন হেস্টিংস নিজস্ব ব্যয়ভারে মাদ্রাসার কাজ চলতে থাকে, তবে পরবর্তীতে মাদ্রাসা ফান্ডের অর্থ থেকে এই টাকা ফেরত দেওয়া হয়।এরপর ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি পরিচালিত বেঙ্গল প্রেসিডেন্সি সরকার মাদ্রাসাটি পরিচালনার ভারবহন করে।

প্রতিষ্ঠার শুরুতে এটি মাদ্রাসার প্রথম প্রধান শিক্ষক মোল্লা মাজদুদ্দিনের বাড়িতে স্থাপিত হয়েছিলো।১৭৯১ সালে অব্যবস্থাপনা ও ছাত্রদের উচ্ছৃঙ্খলতার অভিযোগ উঠে, ফলে তাকে অপসারণ করে ২৪ পরগণার জেলার কালেক্টর মুহম্মদ ইসমাইলকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়। এবং তিন-সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে মাদ্রাসার সর্বোচ্চ ভার এই কমিটির উপর ন্যস্ত করা হয়।

১৯ শতকের শুরুর দিকে মাদ্রাসার আর্থিক সংকট দেখা দিলে, ১৮১৯ সালে এই সংকট নিরসন করতে ও মাদ্রাসার প্রশাসনিক কর্দমক্ষতা বৃদ্ধি করতে কোম্পানি অবসরপ্রাপ্ত ব্রিটিশ সেনা কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন অ্যায়রনকে মাদ্রাসা ব্যবস্থাপনা কমিটির সচিব নিয়োগ করে। কিন্তু ১৮৪২ সালে এই কমিটি বিলুপ্তি ঘোষণা করা হয় এবং ১৮৫০ সালে মাদ্রাসায় অধ্যক্ষ পদের সৃষ্টি করা হয়। এই অধ্যক্ষের পদে প্রথম নিয়োগ দেওয়া হয় এলায়স স্প্রেংগার নামে ইউরোপীয় ব্যক্তিকে। এরপর ১৯২৫ সাল পর্যন্ত মোট ২৬ জন ইউরোপীয় ব্যক্তি অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও ১৮২১ সালে মাদ্রাসার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মতামত উপেক্ষা করেই মাদ্রাসায় আনুষ্ঠানিক ফরমাল পরীক্ষার ব্যবস্থা চালু করা হয়।

🔴🟢১৮৫০-১৯২৭, অধ্যক্ষের সূচনা

১৮৫৩ সালে এই মাদ্রাসার কার্যক্রম ও শিক্ষাব্যবস্থা তদন্ত করার জন্য প্রাক্তন শিক্ষার্থী নবাব আবদুল লতীফকে প্রধান করে একটি কমিটি বানানো হয়। তিনি তদন্ত শেষে সরকারকে একটি ইংরেজি শিক্ষার উচ্চতর বিভাগ খোলার অনুরোধ করেন, এর পরিপ্রেক্ষিতে ইনস্টিটিউট ইঙ্গ-ফারসি বিভাগ প্রতিষ্ঠা করা হয়। এই ইনস্টিটিউটে উচ্চ ইংরেজি স্কুলের মানের সাথে মিল রেখে ইংরেজি ও ফার্সি ভাষার উপর বিশেষভাবে শিক্ষা প্রদান করা হতো, যাতে করে উচ্চ অভিজাত মুসলিমরা ইংরেজিতে অতি দক্ষ হতে পারে। একই সালের শেষের দিকে শিক্ষাসংক্রান্ত একটা কমিটির সিদ্ধান্ত পরামর্শ অনুসারে কলকাতা মাদ্রাসাকে প্রস্তাবিত কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ করার আভাস থাকলেও, সেটা বাস্তবায়ন করা হয়নি।

১৮৫৭ সালের সিপাহী বিপ্লবে এই মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের ইন্ধন রয়েছে বলে অভিযোগ করে ব্রিটিশ সরকার মাদ্রাসাটি বন্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা চালায় এবং মাদ্রাসার বিরোধিতা করতে শুরু করে। ১৮৭১ সালে মাদ্রাসা পরিচালনা করার জন্য স্থানীয় ভারত সরকারের প্রতিনিধি জন প্যাকসটন নরম্যান সভাপতি করে কমিটি গঠন করা হয় এবং মাদ্রাসার পাঠ্যক্রমে ইংরেজি ভাষার প্রচলন ঘটানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।১৮৬৩ সালে মাদ্রাসায় এফএ ক্লাস চালু করার চেষ্টা করা হয়, কিন্তু সেটা সম্ভব হয়নি।

১৯১৪ সালে স্থানীয় সরকারের পক্ষ থেকে নিউ স্কীম শিক্ষাধারা ধারণার প্রচলন করা হয়। এই শিক্ষাধারায় ইংরেজি ভাষাকে গুরুত্বারোপ করা হয়েছিলো। ১৯২১ সালে মাদ্রাসার অভ্যন্তরীণ উন্নয়ন ও ইসলামি শিক্ষার সংস্করণের লক্ষ্যে সৈয়দ শামসুল হুদাকে সভাপতি করে ২৩ সদস্যের একটি কমিটি প্রস্তুত করা হয়, যারা ইংরেজি ভাষাকে ঐচ্ছিক রাখার প্রস্তাব করে।[১৪]

🔴🔵১৯২৭-১৯৪৭, মুসলিম অধ্যক্ষের সূচনা

১৯২০ সালের পর থেকেই মাদ্রাসা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ভারতের মুসলিমদের মাদ্রাসার অধ্যক্ষ বানানোর আন্দোলন করে। ১৯২৭ সালে প্রথম মুসলিম অধ্যক্ষ হিসাবে খাজা কামালউদ্দীন আহমদ নিয়োগপ্রাপ্ত হোন। এবং তিনি মাদ্রাসার সিলেবাসে ব্যপক পরিবর্তন নিয়ে আসেন। এই বছরই অন্যান্য মাদ্রাসার সঙ্গে কলকাতা মাদ্রাসাতেও আলিম, ফাজিল, কালিম, মুমতাজুল মুহাদ্দেসিন প্রভৃতি শিক্ষাক্রমের সূচনা ঘটে।

🔵🟢১৯৪৭ বিভাজন
সরকারি মাদ্রাসা-ই-আলিয়া, ঢাকা
১৭৮০ সাল থেকে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত এই মাদ্রাসা ইংরেজদের কোম্পানি পরিচালনা করেছে। এরপর ১৯৪৭ সালে ভারত ইংরেজদের প্রভাব মুক্ত হলে কলকাতা আলিয়া মাদ্রাসার একাংশ ঢাকাতে স্থানান্তরিত হয়, এবং ১৯৭১ সাল পর্যন্ত ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসা পাকিস্তান সরকার কর্তৃক পরিচালিত হয় এবং ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করলে এরপর থেকে বাংলাদেশ সরকার পরিচালনা করে আসছে।

🟤🟢১৯৪৭-২০০৭, বিভাজন পরবর্তী

১৯৪৭ সালে কলকাতা মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী, চেয়ার-টেবিল সহ নানা জিনিসপত্র ঢাকায় স্থানান্তর করলে মাদ্রাসা নানা সংকটে কিছুদিনের জন্য বন্ধ হয়ে যায়। মাদ্রাসার বিশাল গ্রন্থাগারের বহু বই হারিয়ে যায়।এর দুই বছর পরে কলকাতার বুদ্ধিজীবীদের চেষ্টায় মাওলানা আবুল কালাম আজাদের উদ্যোগে মাদ্রাসাটি পুনরায় চালু করা হয়। উন্নত শিক্ষার জন্য ১৮৬৩ সালে কলকাতা মাদ্রাসায় এফ এ পর্যায়ের ক্লাস সংযোজিত হয়। ১৯০৭ সালে কলকাতা আলিয়া মাদরাসায় তিন বছর মেয়াদি মাস্টার্স মানের কামিল কোর্স চালু হয়।এই মাদ্রাসায় ১৯৭০ সাল পর্যন্ত দারসে নিজামি শিক্ষা ব্যবস্থা চালু ছিলো, এরপরে ভারতের সাধারণ শিক্ষা ব্যবস্থার সাথে মিল করে সিলেবাস প্রণয়ন করা হয়।

কলকাতা আলিয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা মাদ্রাসাটিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করার আন্দোলন করতে থাকে, সেই পরিপ্রেক্ষিতে ২০০৮ সালে মাদ্রাসাটিকে আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করা হয়।

♥️💜শিক্ষা কার্যক্রম

কলিকাতা আলিয়া মাদ্রাসা সম্পর্কে এর প্রতিষ্ঠাতা ওয়ারেন হেস্টিংসের ১৭৮১ সালের ১৭ই এপ্রিলে প্রদত্ত একটি বিবরণীতে বিস্তারিত বিষয়াদি জানা যায়। বিবরণীতে সে উল্লেখ করে:

“ ১৭৮০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে মুসলমানদের একটি প্রতিনিধিদল আমার সাথে সাক্ষাত করে আমাকে অনুরোধ করে যে, মোল্লা মাজদুদ্দিন নামের জনৈক ব্যক্তিকে কলিকাতায় স্থায়ীভাবে রাখার ব্যাপারে আমি যেন সচেষ্ট হই। যাতে এখানকার মুসলমান ছাত্ররা প্রচলিত ইসলামী বিষয়ে শিক্ষালাভ করতে পারে। এই ব্যক্তি ইসলামী জ্ঞান-বিজ্ঞানে অগাধ বুৎপত্তিসম্পন্ন। ভারতের মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্যে একটি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে এই ব্যক্তি বিশেষ যোগ্যতা রাখেন। তাছাড়া বর্তমান পরিস্থিতিতে আমাদের সরকারেরও এমন অসংখ্য অফিসারের প্রয়োজন যাদের প্রচুর যোগ্যতা রয়েছে, এবং ফৌজদারি আদালত ও দেওয়ানী আদালতে এই সময় বিচারক নিয়োগের ব্যাপারে খুবই যোগ্যতাসম্পন্ন ও নির্ভরযোগ্য লোকের প্রয়োজন। আমি এই প্রতিনিধিদলকে এই আশ্বাস দিয়ে বিদায় করেছি যে, যতটুকু সম্ভব আমি এই ব্যাপারে চেষ্টা করব। অতঃপর আমি মোল্লা মাজদুদ্দিনকে ডেকে পাঠাই এবং মুসলমানদের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী দায়িত্ব পালনের অনুরোধ জানাই। তিনি আমার কথায় সম্মত হলেন এবং ১৭৮০ সালে প্রস্তাবিত মাদ্রাসার জন্যে কার্যক্রম শুরু করে দিলেন। ”
(বাংলাদেশে মাদরাসা শিক্ষা ও সমাজ জীবনে তার প্রভাব, পৃষ্ঠা ১২০-১২১)

ইনস্টিটিউট ইঙ্গ-ফারসি বিভাগ, কলকাতা মাদ্রাসা
প্রথম দিকে এই মাদ্রাসায় আইন, জ্যোতির্বিদ্যা, যুক্তিবিজ্ঞান, দর্শন, পাটিগণিত, জ্যামিতি, ছন্দবিজ্ঞান, ব্যাকরণ, ধর্মতত্ত্ব ইত্যাদি পড়ানো হত। ১৮২৭ সালে চিকিৎসাবিজ্ঞানের অধ্যাপক পি ব্রেটন এই কলেজে একটি মেডিক্যাল ক্লাস শুরু করেন। ১৮৩৬ সালে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ প্রতিষ্ঠা পর্যন্ত চিকিৎসা বিজ্ঞানের ক্লাস শুধু এই মাদ্রাসায়ই নেওয়া হতো।

এই মাদ্রাসায় শুরু থেকেই লখনউইয়ের ফিরিঙ্গি মহল নামক স্থানের আরবি স্কুল দারসে নিজামি পদ্ধতি অনুসরণ করে পাঠদান করা হতো। এছাড়াও এই মাদ্রাসার অনুকরণে বাংলার অধিকাংশ মাদ্রাসা দরসে নিজামির আদলে পাঠদান করা হতো। এই ব্যবস্থা ১৯৭০ সাল পর্যন্ত চালু ছিলো। দরসে নিজামি পাঠক্রম অনুযায়ী একজন ছাত্রকে ১৭/১৮ বছর বয়সেই আরবি ও ফার্সি ভাষায় লিখিত নির্বাচিত প্রায় শতাধিক বই অন্তত একবার পড়ার ও অনুধাবনের যোগ্যতা অর্জন করতে হতো। ধর্মীয় পাঠ্যক্রম ছাড়াও চিকিৎসা বিদ্যা, কুটির শিল্প ও কারিগরি প্রশিক্ষণের জন্য দারসে নিজামি শিক্ষাক্রম চালু ছিলো, এই শিক্ষা কার্যক্রমের শিক্ষাকাল ছিলো ৯ বছর।

১৮২১ সালে মাদ্রাসায় আনুষ্ঠানিক পরীক্ষা ব্যবস্থার চালু করা হয়। মাদ্রাসায় প্রথম থেকেই প্রচলিত ফার্সি ভাষায় অধিক পাঠদান হতো। কিন্তু মাদ্রাসায় ইংরেজি ভাষার প্রাধান্য বিস্তারের জন্য ১৮২৬ সাল থেকে কোর্সসমূহে ইংরেজি ভাষা সংযুক্তিকরণের চেষ্টা করা হয়, এবং ১৯২৯ সালে ইংরেজি বিভাগ খোলা হয়। ১৮৫৪ সালেই শিক্ষাসংক্রান্ত ‘ডেসপাচ কমিটি’ মাদ্রাসাকে প্রস্তাবিত কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ করার ইঙ্গিত দিলেও, কিন্তু সেটা বাস্তবায়ন হয়নি।[৭]

সেই সময়ে কলকাতা আলিয়া মাদ্রাসার লাইব্রেরিতে ২ লক্ষ ৫০ হাজারের অধিক দুর্লভ ও মূল্যবান বই ছিলো।

♥️💜অ্যাংলো-পার্সিয়ান বিভাগ
অ্যাংলো-পার্সিয়ান বিভাগ, কলকাতা মাদ্রাসা
১৮৫৪ সালে মাদ্রাসার অভ্যন্তরে একটি পৃথক গবেশনা ইনস্টিটিউট ইঙ্গ-ফারসি বিভাগ প্রতিষ্ঠা করা হয়। যা অ্যাংলো-পার্সিয়ান বিভাগ নামে পরিচিত ছিলো। মাদ্রাসার কতৃপক্ষের অনুমোদনে অধ্যক্ষ এলায়স স্প্রেংগারের তত্ত্বাবধায়নে এই বিভাগটি চালু করা হয়। এই বিভাগটি এতোটাই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিলো যে, ভারতের ও বাংলাদেশের সকল আলিয়া মাদ্রাসায় এই বিভাগের সিলেবাস অনুসরণ করে নতুন বিভাগ প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছিলো। অনেক গুণী ব্যক্তি এই বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন।

🛑🛑অন্তর্ভুক্তি
বাংলাদেশের ও ভারতের অনন্য আলিয়া মাদ্রাসা মূলত এই কলকাতা আলিয়া মাদ্রাসার আদলেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলো। কলকাতা আলিয়া মাদ্রাসা ছিলো সকল মাদ্রাসার কেন্দ্র ও অনুমোদনকারী প্রতিষ্ঠান। উপমহাদেশের সকল আলিয়া মাদ্রাসাতেই এই মাদ্রাসার পাঠ্যসুচী অনুসরণ করা হতো। এইজন্য দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকরন করার জন্য বিভিন্ন সময় কমিটি গঠন করে পাঠ্যসূচিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। কলকাতা আলিয়া মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার ১০ বছর পর, ১৭৯১ সালে মাদ্রাসার পরিচালনা পর্ষদ মাদ্রাসা শিক্ষা পাঠ্যসূচি ও সিলেবাসে প্রবর্তন আনে। এ সিলেবাস কলকাতা আলিয়া মাদ্রাসার অধিভুক্ত বাংলা, আসাম, বিহার ও উড়িষ্যার সকল মাদ্রাসায় বাস্তবায়ন করা হয়। এরপর ১৮৬৯ সালে আরেকটি কমিটি মাদ্রাসায় কিছু সংশোধনী আনলে, সেটাও অধিভুক্ত সকল মাদ্রাসার সিলেবাসে বাস্তবায়িত হয়। ১৮৭১ সালে জন প্যাকসটন নরম্যান কমিটি বেঙ্গল মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থায় বেশ কিছু পরিবর্তন আনে।

কলকাতার এই শিক্ষা ব্যবস্থাকে পূর্ব বাংলায় প্রতিষ্ঠিত করতে ১৮৭৪ সালে তিনটি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করা হয়।

রাজশাহী মাদ্রাসা (বর্তমানে: হাজী মুহম্মদ মুহসীন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, রাজশাহী)
ঢাকা মাদ্রাসা (বর্তমানে: কবি নজরুল সরকারি কলেজ, ঢাকা ও‌ ইসলামিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, ঢাকা)
চট্টগ্রাম মাদ্রাসা (বর্তমানে: সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজ, চট্টগ্রাম ও হাজী মুহাম্মদ মহসিন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, চট্টগ্রাম)

♥️💜💙অধ্যক্ষগণের তালিকা
মাদ্রাসায় প্রথম দিকে প্রধান শিক্ষক ও হেড মাওলানা দিয়ে পরিচালনা কাজ হলেও, ১৮৫০ সালে সর্বপ্রথম অধ্যক্ষের পদ সৃষ্টি হয়। প্রথম ২৬ জন ছিলেন ইউরোপিয়ান খ্রিষ্টান অধ্যক্ষ। এরপরে ৪ জন মুসলিম অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করার পরই, ১৯৪৭ সালে কলকাতা মাদ্রাসার একাংশ সম্পূর্ণ আলাদাভাবে ঢাকায় স্থানান্তরিত হয়। অধ্যক্ষের তালিকা:
👉👉মাদ্রাসা-ই-আলিয়া, কলকাতার অধ্যক্ষের তালিকাঃ
👉এ স্প্রেংগার (এম, এ) – (১৮৫০- ১৮৭০)
স্যার উইলিয়াম নাসনলীজ (এল, এল, ডি) – (১৮৭০- ১৮৭০)
👉জে স্যাটক্লিফ (এম, এ) – (১৮৭০- ১৮৭৩)
👉এফ ব্রকম্যান (এম, এ) – (১৮৭৩- ১৮৭৮)
👉এ ই গাফ (এম, এ) – (১৮৭৮- ১৮৮১)
👉এ এফ আর হোর্নেল (সি, আই, ই), ( পি, এইচ, ডি) – (১৮৮১- ১৮৯০)
👉এইচ প্রথেরো (এম, এ) – (১৮৯০- ১৮৯০)
👉এ এফ হোর্নেল – (১৮৯০- ১৮৯২)
👉এ জে রো – (এম, এ) – (১৮৯২- ১৮৯২)
👉এ এফ হোর্নেল – (১৮৯২-১৮৯৫)
👉এ জে রো – (১৮৯৫-১৮৯৭)
👉এ এফ হোর্নেল – (১৮৯৭- ১৮৯৮)
👉এফ জে রো – (১৮৯৮- ১৮৯৯)
👉এফ সি হল – (১৮৯৯- ১৮৯৯)
👉স্যার অর‍্যাল স্টেইন – (১৮৯৯- ১৯০০)
👉এইচ এ স্টার্ক – (১৯০০- ১৯০০)
👉কর্ণেল রেস্কিং – (১৯০০- ১৯০১)
👉এইচ এ স্টার্ক – (১৯০১- ১৯০৩)
👉এডওয়ার্ড ভেনিসন – (১৯০৩- ১৯০৩)
👉এইচ ই স্টেপেল্টন – (১৯০৩-১৯০৪)
👉ডেনিসন রাস – (১৯০৪-১৯০৭)
👉মিঃ চিফম্যান – (১৯০৭- ১৯০৮)
👉এডওয়ার্ড ডেনিসন – (১৯০৮- ১৯১১)
👉এ এইচ হারলি – (১৯১১- ১৯২৩)
👉জে এম বুটামলি – (১৯২৩- ১৯২৫)
👉এ এইচ হারলি – (১৯২৫- ১৯২৭)
👉খাজা কামালউদ্দীন আহমদ- (১৯২৭-১৯২৮) (প্রথম মুসলিম অধ্যক্ষ)
👉খান বাহাদুর মোহাম্মদ হেদায়াত হোসাইন (১৯২৮- ১৯৩৪)
👉খান বাহাদুর মোহাম্মদ মুসা (১৯৩৪- ১৯৪১)
👉মোহাম্মদ ইউসুফ (১৯৪২- ১৯৪৩)
👉খান বাহাদুর জিয়াউল হক (১৯৪৩- ১৯৪৭)❗

“পাপকে ঘৃণা কর, পাপীকে নয়” এটি কুফরি বাক্য।

🤔🤔”পাপকে ঘৃণা করো ,পাপীকে নয়”।
অনেক আলেম অজ্ঞতা হেতু এবং অনেক হক্কানী আলেম ভর করে ভ্রম হেতু বয়ানে, ওয়াজের ময়দানে এমন ইসলাম বিরোধী কথা প্রচার করেন সঠিক ইসলামী গবেষণা না থাকার কারনে।
শুধু পাপকে ঘৃণা করার কথা থাকলে শ য় তা ন আজ ও জান্নাতে থাকত।
💜💙আল্লাহ যখন কোন লোককে অপছন্দ করেন তখন জিব্রাইল আঃ কে ডাক দিয়ে বলেন, আমি অমুক বান্দাকে অপছন্দ করি তুমিও তাকে অপছন্দ কর, তখন জিব্রাইল আঃ তাকে অপছন্দ করেন। এবং সেই খবর সমস্ত আসমান জমিনের ফেরেশতাদের মাঝে ছড়িয়ে পড়ে এবং সমস্ত আসমান-জমিনের ফেরেশতারাও তাকে ঘৃণা করতে থাকে।
–সহীহ মুসলিম-২৬৩৯।
উক্ত হাদিসের(ﺑﻐﺾ) শব্দ এসেছে যার অর্থ সরাসরি ঘৃণা করা, বিদ্বেষ পোষণ করা, অপছন্দ করা।
অর্থাৎ জিব্রাইল আঃ ও ঘৃণা করেন, বিদ্বেষ পোষণ করেন বা অপছন্দ করেন তা প্রমাণিত।

মূলত কেউ যদি স্বেচ্ছায় এবং সজ্ঞানে কোরআনের এই আয়াতগুলোকে অস্বীকার করে অথবা অ্যাপ্লাই করার চিন্তাভাবনা থেকে বিরত থাকে অথবা পাপকে ঘৃণা করে পাপীকে ভালবাসতে থাকে তাহলে সরাসরি কোরআনের আয়াত অস্বীকারকারী এবং কুফুরি কাজ হিসেবে গণ্য হবে।

আমার দেশের বহু আলেম অজ্ঞতাবশত গানের এই কলিকে আওড়ে ঘন্টার পর ঘন্টা ওয়াজ করতে দেখা গেছে। আবার বহু হক্কানী আলেম ও গবেষণা না করার ধরণ এই কথাটাকেই চালিয়ে দিচ্ছে এবং অনেক ওয়াজ মাহফিলে বলেও বেড়াচ্ছেন। মূলত হক্কানী হোক আর ভন্ড আলেম হোক আমার দেশের মেক্সিমাম আলেমগণ গবেষণা করেন না ‌। তাছাড়া বিশেষ করে ভারতীয় উপমহাদেশে ভন্ড আলেমের সংখ্যা ব্যাপক এবং অগণিত মূলত ৯০% আলেম ব্যবসায়ী মনোভাব নিয়ে ওয়াজ নসিহত করে বেড়ান।

চোর,যিনাকারী ব্যাভিচারিকে শাস্তি দেয়ার কথা বলা হয়েছে কোরআনে৷ চুরি,যিনা,অপরাধকে শুধু ঘৃনা করার মধ্যে সীমিত করে দেয়া হয়নি বরং পাপিকে দুনিয়াতেই মানুষের হাতে শাস্তি দেওয়ার কথা বলেছেন।

কোরআনের বিভিন্ন আয়াত মতে ক্ষমাকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে ।ক্ষমা একটি মহৎ কাজ হিসাবে।
তবে সেই ক্ষমা তাদের জন্য প্রযোজ্য যারা তওবাকারী।সামাজিক অপরাধী পাপির ক্ষমা দুনিয়াতে নেই। সামাজিক অপরাধি এবং প্রকাশ্যে কবিরা গুনায় লিপ্ত কারীর সাজা দুনিয়াতে দেওয়ার জন্য আল্লাহ নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু কেউ যদি শুধু পাপকে ঘৃণা করে আর পাপীকে ক্ষমা করে দেয় তাহলে ওই সমাজের সবাই পাপের সমান গুনাগার হবে এবং জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে। তার সাজা জনসমক্ষে প্রচন্ড ঘৃণা ভরে দিতে হবে এবং তা যেন দৃষ্টান্ত হয়ে থাকে। এবং এই শাস্তি দেখে পরবর্তী কেউ যেন এই কাজ করতে আর সাহস না করে।
ব্যভিচারিণী নারী ব্যভিচারী পুরুষ, তাদের প্রত্যেককে একশ’ করে বেত্রাঘাত কর। আল্লাহর বিধান কার্যকর কারণে তাদের প্রতি যেন তোমাদের মনে দয়ার উদ্রেক না হয়, যদি তোমরা আল্লাহর প্রতি ও পরকালের প্রতি বিশ্বাসী হয়ে থাকো। মুসলমানদের একটি দল যেন তাদের শাস্তি প্রত্যক্ষ করে। নূর-২। এখানে আল্লাহ সরাসরি ঘৃণাভরে শাস্তির নির্দেশ দিয়েছেন এবং কোন প্রকার দয়ামায়া না করার জন্য স্পষ্ট বলে দেওয়া হয়েছে।
সুতরাং পাপি ও পাপ উভয়কে ঘৃণা করতে হবে।কোনটাই ছাড় দেয়া হয়নি কোরআন এবং হাদিসে। কারণ এভাবে ছাড় দিতে দিতে সমাজের মধ্যে পাপকর্ম এমনভাবে ছড়িয়ে পড়বে এবং ইতিমধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে যে ইহা রোধ করা আর অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রায়।
আমাদের দেশে এই জাতীয় একটা সিনেমার গান ও প্রচলিত আছে–
মানুষ নিষ্পাপ পৃথিবীতে আসে. ……..
পাপকে ঘৃণা কর পাপীকে নয়………
এ সমস্ত কথা মূলত কোরআন হাদিসের বিষয়ে অজ্ঞ অথবা না স্তি ক মুরতাদদের কথা।

মক্কা মদিনা শুধুমাত্র মুসলিম তথা সকল মানুষের জন্য নিরাপদ স্থান। আর এই বিষয়টা পবিত্র কোরআন দ্বারা নির্ধারিত।

🔴🔴প্রশ্ন – ১
আল্লাহর ভাষ্যমতে, মৃত্যুর পরে সকল প্রানী (পশুপাখি থেকে শুরু করে কীটপতঙ্গ) মানুষের সাথে যোগ দেবে, যাদের একইসাথে পাপকাজের বিচার অনুষ্ঠিত হবে (Quran 6:38) ! প্রশ্ন হলো, অন্যান্য জীবের বেলায় পাপ কাজের মাপকাটি ধরা যায় কিভাবে ? মানুষের মত তাদের মাঝেও কি কোন নবী নির্বাচিত হয় বা কোন আসমানি কিতাব দেওয়া হয় ? তাদের কি #আল্লাহ/সৃষ্টিকর্তা ব্যাপারটা বোঝার মত কোন ধরনের বোধবুদ্ধি আছে ? কিংবা আছে তাঁকে অস্বীকার করার মত কোন বিষয় (অর্থাৎ কাফেরের উপস্থিতি) ?

🔵🔵প্রশ্ন – ২

মৌমাছি বেঁচে থাকে মধু খেয়ে ! কিন্তু কুরানে উল্লেখ আছে তাদের খাদ্য ফল (Quran 16:68-69) ! এটা কি মুহম্মদের ভুল অনুমানের ফসল নয় ?

প্রশ্ন – ৩

আল্লাহ ঘোড়া, গাধা এবং খচ্চর কে তৈরি করে দিয়েছেন মানুষের আরোহনের জন্যে (Quran 16:8) ! কিন্তু তিনি কি এটা জানতে না যে এগুলোকে পোষ মানাতে মানুষের বহু বছর লেগেছে (Horses were domesticated approximately 4,000 years ago in East Europe or Central Asia) যার পূর্বে তা ছিল বন্য ? আর ভবিষ্যতে মানুষ আরোহনের জন্যে যে অন্য কিছু ব্যবহার করবে তাও কি তার অজানা ছিলো ?

প্রশ্ন – ৪

আরব অঞ্চলে সচরাচর যে সকল জীব দেখা যায় অর্থাৎ – যেগুলো বুকে হেটে চলে (সাপ), দুই পায়ে (মানুষ) এবং চার পায়ে (অন্যান্য জন্তু, গিরগিটি) চলে সেগুলোর কথাই উঠে এসেছে কুরানে (Quran 24:45) ! অথচ হাজার পা যুক্ত প্রানীও পৃথিবিতে বিদ্যমান (Millipedes) ! এসব কি মুহম্মদের অজ্ঞতার ফসল নয় ?

প্রশ্ন – ৫

ইহুদিরা (Jews) সম্পূর্ণ রূপে একেশ্বরবাদী থাকা সত্বেও কুরান কিসের ভিত্তিতে দাবি করে তারা বহুঈশ্বরে বিশ্বাসি (Quran 9:30) ?

http://en.wikipedia.org/wiki/Judaism%27s_view_of_Jesus

প্রশ্ন – ৬

কুরানে উল্লেখ আছে আল্লাহ মুহম্মদ কে Masjid al-Haram (Sacred Mosque) থেকে Masjid al-Aqsa (farthest Mosque) পর্যন্ত ভ্রমন করান (Quran 17:1) ! কিন্তু মুহম্মদের জীবনকালে Masjid al-Aqsa ‘র কোন অস্তিত্বই ছিল না ! তাহলে এধরনের #মিথ্যাচারের কারন কি ?

http://en.wikipedia.org/wiki/Al-Aqsa_Mosque

প্রশ্ন – ৭

কুরান বলে একজন মুসলিম কে সুর্যোদয় থেকে সুর্যাস্ত পর্যন্ত রোজা পালন করতে হবে (Quran 2:187) ! আবার প্রার্থনার ব্যাপারটাও সুর্যোদয় এবং সুর্যাস্তের সাথে সম্পর্কিত (Quran 17:78) ! কিন্তু সমগ্র মানুষের এই জীবন বিধানে Eskimo দের ব্যাপারে কোন #নির্দেশনা_নেই ! এটা কি কুরান রচয়িতার অজ্ঞতা নয় ?

In polar regions, there are six months without sunlight and six months perpetual night during winter and summer.

প্রশ্ন – ৮

কুরান অনুসারে, পবিত্র মক্কা মুসলিম দের জন্যে একটা সুরক্ষিত বা নিরাপদ জায়গা (Quran 2:125, 5:97) (যেটা আল্লাহর একটা মিথ্যা প্রতিশ্রুতি) ! অথচ তিনি কি ভবিষ্যতে এই #মক্কাতেইমুসলিমনিধনের ব্যাপারে অজ্ঞেয় ছিলেন না ?

Juhayman al-Otaybi and Abd-Allah ibn al-Zubayr, and Abu Tahir al-Janabi killed thousands of Muslim pilgrims in Mecca. Moreover, Yazid Bin Muawiya sent a battalion of army to attack Mecca and desecrated the Kaaba.

http://www.webcitation.org/mainframe.php

দাবা খেলা কি হালাল না কি হারামঃ

দুই আরব বেদুইন দাবা খলছেন

নবিজি দাবা খেলা নিষেধ করেন নি।

ইমাম মুনযিরি তার বিখ্যাত “আত তারগিব ওয়াত তারহিব” গ্রন্থে বলেন,

وقد ورد ذكر الشطرنج في أحاديث لا أعلم لشيء منها إسنادا صحيحا ولا حسنا

“দাবা খেলার বিষয়ে কিছু হাদিস বর্ণিত হয়েছে, কিন্তু এগুলোর মাঝে এমন কোন হাদিস আমার জানা নেই যা সনদের দিক থেকে সহিহ কিংবা হাসান।”

আল্লামা সাখাভি তার “উমদাতুল মুহতাজ” রিসালাতে তার শায়খ ইবনে হাজার আসকালানির বক্তব্য উল্লেখ করে বলেন,

وقد قال شيخنا إنه لا يثبت في الشطرنج عن النبي شيء

“আমাদের শায়খ বলেছেন, নবিজি থেকে দাবা খেলার ব্যাপারে কোন কথাই প্রমাণিত না।”

ইবনে হাজার আল হায়তামি “তুহফাতুল মুহতাজ” কিতাবে বলেন,

قال الحفاظ : لم يثبت منها حديث من طريق صحيح ولا حسن

“হাদিসবিদগণ বলেছেন, দাবা খেলার নিষেধাজ্ঞা ব্যাপারে একটি হাদিসও সহিহ কিংবা হাসান সুত্রে প্রমাণিত না।”

ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম রহিমাহুল্লাহ ‘আল মানার আল মুনিফ’ গ্রন্থে রাসুলের নামে জাল করা করা হাদিসের উদাহরণ হিসেবে বলেন,

ومِن ذَلِكَ أحادِيثُ اللِّعْبِ بِالشَّطَرَنْجِ إباحَةً وتَحْرِيمًا كُلُّها كَذِبٌ عَلى رَسُولُ اللَّهِ ﷺ

“দাবা খেলার জায়েয-নাজায়েয বিষয়ে বর্ণিত প্রত্যেকটা হাদিস আল্লাহর রাসুলের নামে বানানো মিথ্যাচার।”

ইমাম ইবনে হাযম “আল মুহাল্লা” গ্রন্থে সঙ্গীত ও দাবা নিয়ে আলোচনা করার পর বলেন,

فَلَمّا لَمْ يَأْتِ عَنْ اللَّهِ – تَعالى -، ولا عَنْ رَسُولِهِ – ﷺ – تَفْصِيلٌ بِتَحْرِيمِ شَيْءٍ مِمّا ذَكَرْنا صَحَّ أنَّهُ كُلُّهُ حَلالٌ مُطْلَقٌ

“যেহেতু আল্লাহ কিংবা নবিজি থেকে এই বিষয়গুলো হারাম হবার হবার ব্যাপারে কোন আলোচনা আসে নি, সুতরাং এর সবগুলোই নিরেট হালাল।”