প্রচলিত ছয় উছুলী তাবলীগ ওয়ালারা মানুষকে #কুফরী_আক্বীদা শিক্ষা দেয়


তাদের কিছু কুফরী আক্বীদা উল্লেখ করা হলো – “মালফুযাত’এর ৪৩ পৃষ্ঠার ৪২ নম্বর মালফুযে, ‘নবুওয়ত’ ও ‘মাওলানা ইলিয়াছ’ নামক কিতাবের ৩০-৩২ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে যে, “মুসলমান দু’প্রকার-একদল প্রচলিত তাবলীগের জন্য হিজরত করবে, দ্বিতীয় দল নুছরত বা সাহায্য করবে, এ দু’দলই মুসলমান। অর্থাৎ যারা প্রচলিত তাবলীগও করবে না আর তাবলীগকারীদেরকে সাহায্যও করবে না, তারা মুসলমান নয়।” নাউযুবিল্লাহ! (তাবলীগ গোটা উম্মতের গুরু দায়িত্ব লেখক- মাওলানা ইসমাইল হোসেন দেওবন্দী পৃষ্ঠা ১৭৪, দাওয়াতে তাবলীগ কি ও কেন? লেখক- মাওলানা ওবায়দুল হক পৃষ্ঠা ২১, হযরতজীর কয়েকটি স্মরণীয় বয়ান ২য় খ- পৃষ্ঠা ১১)
#তাবলীগ_জামায়াতের সমর্থনপুষ্ট প্রায় কিতাবেই একথা লেখা আছে যে, নবী আলাইহিমুস সালামগণ কোনো কোনো ক্ষেত্রে ভুল করেছিলেন। যেমন – হযরত আদম আলাইহিস সালাম তিনি গন্দম খেয়ে ভুল করেছিলেন ও হযরত ইউনুস আলাইহিস সালাম তিনি দাওয়াত না দিয়ে ভুল করেছিলেন ইত্যাদি ইত্যাদি। নাউযুবিল্লাহ! (মালফুযাতে শায়খুল হাদীস) পৃষ্ঠা ২৩১, তাবলীগ গোটা উম্মতের গুরু দায়িত্ব লেখক- মাওলানা ইসমাইল হোসেন দেওবন্দী পৃষ্ঠা ৬১)
#ইউনুস_আলাইহিস_সালাম উনার সম্পর্কে প্রচলিত তাবলীগ জামায়াতের লোকদের আক্বীদা হলো যে, “দাওয়াত বন্ধ করার কারণে আল্লাহ পাক তিনি হযরত ইউনুস আলাইহিস সালাম উনাকে গযবে ফেলিলেন।” “হযরত ইউনুস আলাইহিস সালাম তিনি মাছের পেটে ৪০ দিন আবদ্ধ থাকিয়া নিজ ত্রুটি স্বীকার করিয়া তওবা করিবার কারণে বিপদ হইতে উদ্ধার পাইলেন।” নাউযুবিল্লাহ! (তাবলীগ গোটা উম্মতের গুরু দায়িত্ব লেখক- মাওলানা ইসমাইল হোসেন দেওবন্দী পৃষ্ঠা ৬২ ও ৮৯)
#প্রচলিত_তাবলীগ_জামায়াতের লোকেরা আরও বলে থাকে যে, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি গারে হেরায় চিল্লা দেয়ার উসীলাই কুরআন ও নুবুওওয়াত প্রাপ্ত হয়েছেন। যেমন এ প্রসঙ্গে তাদের কিতাবে বিবৃত হয়েছে- “হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ৪০ দিন পর্যন্ত ‘গারে হেরা’ পর্বতে থাকিয়া আল্লাহর ধ্যান ও যিকিরে চিল্লা দিলেন, যাহার ফলে তিনিও কুরআন ও নুবুওওয়াত প্রাপ্ত হইলেন।” নাউযুবিল্লাহ! (তাবলীগ গোটা উম্মতের গুরু দায়িত্ব লেখক- মাওলানা ইসমাইল হোসেন দেওবন্দী পৃষ্ঠা ৮৯)
#মাওলানা_ইসমাইল হোসেন দেওবন্দী লিখিত ‘তাবলীগ গোটা উম্মতের গুরু দায়িত্ব’ নামক কিতাবের ৯৩ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে যে, “লক্ষাধিক সাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের মধ্যে অধিকাংশই মূর্খ ছিলেন।” নাউযুবিল্লাহ! (শরীয়তের দৃষ্টিতে তাবলীগী নেছাব লেখক – মাওলানা জাকারিয়া সাহেব পৃষ্ঠা ১৩, তাবলীগী জামায়াতের প্রধানের তর্ক ও ইচ্ছা পৃষ্ঠা ৮)
#প্রচলিত_তাবলীগ জামায়াতের লোকেরা বলে থাকে যে, হিদায়েতের ক্ষেত্রে মূর্খরাই সমধিক উপযুক্ত। যেক্ষেত্রে নবীগণ এবং আলেমরা ফেল করে, সেখানেও মূর্খরা কৃতিত্ব দেখায়। নাউযুবিল্লাহ! এ প্রসঙ্গে মাওলানা ইসমাইল হোসেন দেওবন্দী লিখিত ‘তাবলীগ গোটা উম্মতের গুরু দায়িত্ব’ নামক কিতাবের ১১৬ পৃষ্ঠায় একথা লেখা আছে যে, “অনেক স্থলে নবীগণ পর্যন্ত হিদায়েতে বিরাট সঙ্কটে ও বিপদে পড়িয়াছিলেন, তাই অনেক স্থলে বিরাট আলেমও ফেল পড়িতেছে। কিন্তু মূর্খগণ তথায় দ্বীন জয় করিতেছে।” নাউযুবিল্লাহ! এ ধরনের আরও বহু কুফরী বক্তব্য ও আক্বীদা তাদের কিতাবে রয়েছে।

হিজাব পরায় ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী বহিষ্কার

হিজাব পরায় ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী বহিষ্কার
19 সেপ্টেম্বর, 2013 ·

স্টাফ রিপোর্টার : শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হিজাব পরা কিংবা ড্রেস কোডের অতিরিক্ত পোশাক পরার কারণে পরীক্ষায় নম্বর কম পাওয়া, জামার হাতা কাটাসহ ক্লাসে অপমানিত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে অনেক ছাত্রীর সাথে। কিন্তু এবার কেবল হিজাব পরার কারণেই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার হতে হয়েছে এক ছাত্রীকে। বহিষ্কৃত ওই ছাত্রী হলেন, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ছাত্রী হাফসা ইসলাম। হিজাব পরার কারণে ওই ছাত্রীকে বহিষ্কার করেছে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষ। গত ১২ সেপ্টেম্বর হিজাব পরায় ড্রেসকোডভঙ্গের অভিযোগে তাকে বহিষ্কার করা হয়। এর আগে গত ২২ জানুয়ারি ড্রেস কোড ও নিরাপত্তার অজুহাতে ক্যাম্পাসে ছাত্রীদের হিজাব পরা নিষিদ্ধ করে বিশ্ববিদ্যালয়টি।

ভারত আসলে কাদের?? ভারতের ইতিহাস শেষ পর্যন্ত পড়ুন!!

ঘৌরি সাম্রাজ্য থেকে নরেন্দ্র মোদী পর্যন্ত ঘোরি কিংডম!!

1 = 1193 মোহাম্মদ ঘোরি
2 = 1206 কুতুবুদ্দিন আইবাক
3 = 1210 বাকি শাহ
4 = 1211
5 = 1236 রকিনউদ্দিন ফিরোজ শাহ
6 = 1236 রাজা সুলতান
7 = 1240 মোজাদ্দিন বাহরাম শাহ
8 = 1242 আল-দীন মাসউদ শাহ
9 = 1246 নাসিরুদ্দিন মাহমুদ
10 = 1266 গিয়াসউদ্দিন বালবিন
11 = 1286 ……….
12 = 1287 মসজিদের কাবাদন
13 = 1290 শামসুদ্দিন কামার্স
মহান সাম্রাজ্যের সমাপ্তি
(সরকার থেকে -97 বছর প্রায় দূরে।)

* সাম্রাজ্যের সাম্রাজ্য *

1 = 1290 জালালউদ্দিন ফিরোজ খিলজি
2 = 1292 ineশিক ধর্ম
4 = 1316 শাহাবুদ্দিন ওমর শাহ
5 = 1316 কুতুবুদ্দীন মোবারক শাহ
6 = 1320 নাসিরুদ্দিন খুসরো শাহ
খলজি সাম্রাজ্যের সমাপ্তি
(সরকারী -30 বছর প্রায়)

* তুঘলক সাম্রাজ্য *

1 = 1320 গিয়াসউদ্দিন তুঘলক (প্রথম)
2 = 1325 মোহাম্মদ ইবনে তুঘলক (দ্বিতীয়)
3 = 1351 ফিরোজ শাহ তুঘলক
4 = 1388 গিয়াসউদ্দিন তুঘলক (দ্বিতীয়)
5 = 1389 আবু বকর শাহ
6 = 1389 মোহাম্মদ তুঘলক (সোম)
7 = 1394 ………. (আমি)
8 = 1394 নাসিরুদ্দিন শাহ (দ্বিতীয়)
9 = 1395 নুসরত শাহ
10 = 1399 নাসিরুদ্দিন মোহাম্মদ শাহ (দ্বিতীয়)
11 = 1413 সরকার
তুঘলক সাম্রাজ্যের সমাপ্তি
(সরকার -94 বছর প্রায় দূরে।)

* সা Saeedদ রাজবংশ *

1 = 1414 খেজুর খান
2 = 1421 মুইজউদ্দিন মোবারক শাহ (দ্বিতীয়)
3 = 1434 মুহাম্মদ শাহ (চতুর্থ)
4 = 1445 আল্লাহ আলম শাহ
সা’দ রাজ্যের সমাপ্তি
(সরকারী -৩ 37 বছর প্রায়)

লোধি সাম্রাজ্য

1 = 1451 বাহলোল লোধি
2 = 1489 লোধি (দ্বিতীয়)
3 = 1517 আব্রাহাম লোধি
লোধি সাম্রাজ্যের সমাপ্তি
(সরকারী-75 বছর প্রায়)

মুঘল সাম্রাজ্য

1 = 1526 জহিরউদ্দিন বাবর
2 = 1530 হুমায়ুন
মুঘল সাম্রাজ্যের সমাপ্তি

সুরিয়ান সাম্রাজ্য

1 = 1539 শের শাহ সুরি
2 = 1545 ইসলাম শাহ সুরি
3 = 1552 মাহমুদ শাহ সুরি
4 = 1553 আব্রাহাম সুরি
5 = 1554 পারভেজ শাহ সুরি
6 = 1554 মোবারক খান সুরি
সুররিয়ান সাম্রাজ্যের সমাপ্তি
(সরকারী -16 বছর প্রায়)

আবার মোগল সাম্রাজ্য

1 = 1555 হুমায়ুন (আবার)
2 = 1556 জালালউদ্দিন আকবর
3 = 1605 জাহাঙ্গীর স্লাম
4 = 1628 শাহ জাহান
5 = 1659 আওরঙ্গজেব
6 = 1707 শাহ আলম (প্রথম)
7 = 1712 বাহাদুর শাহ
8 = 1713 ফার্কুয়ারশিয়ার
9 = 1719 রিফাদ রজত
10 = 1719 ……………
11 = 1719 ……………
12 = 1719 মাহমুদ শাহ
13 = 1748 আহমেদ শাহ
14 = 1754 ……………….
15 = 1759 শাহ আলম
16 = 1806 আকবর শাহ
17 = 1837 সাহসী কিং জাফর
মুঘল সাম্রাজ্যের সমাপ্তি
(সরকারী -১১৫ বছর থেকে দূরে।)

* ব্রিটিশ রাজ *

1 = 1858 লর্ড কিং
2 = 1862 লর্ড জেমস ব্রুস এলগিন
3 = 1864 লর্ড জে লরেন্স
4 = 1869 লর্ড রিচার্ড মায়ো
5 = 1872 লর্ড নর্থবাক
6 = 1876 লর্ড এডওয়ার্ড ল্যাটিন
7 = 1880 লর্ড জর্জ রিপন
8 = 1884 লর্ড ডাফারিন
9 = 1888 লর্ড হ্যানি লেসডন
10 = 1894 লর্ড ভিক্টর ব্রুস এলগিন
11 = 1899 লর্ড জর্জ করজিয়ান
12 = 1905 লর্ড গিলবার্ট মিন্টো
13 = 1910 লর্ড চার্লস হার্ড্জ
14 = 1916 লর্ড ফ্রেডেরিক থেকে এক্সিকিউয়ারে
15 = 1921 লর্ড রাক্স আজাক রিদিগ
16 = 1926 লর্ড এডওয়ার্ড ইরউইন
17 = 1931 লর্ড ফারম্যান ওয়েলডন
18 = 1936 লর্ড আলেজান্দ্রা লিনলিথগো
19 = 1943 লর্ড অর্কিবল্ড হুইল
20 = 1947 লর্ড মাউন্ট ব্যাটন

ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের সমাপ্তি

ভারত, প্রধানমন্ত্রী

1 = 1947 জওহরলাল নেহেরু
2 = 1964 গোলজারি লাল নন্দ
3 = 1964 লাল বাহাদুর শাস্ত্রী
4 = 1966 গোলজারি লাল নন্দ
5 = 1966 ইন্দিরা গান্ধী
6 = 1977 মোরারজি দেশাই
7 = 1979 চরণ সিং
8 = 1980 ইন্দিরা গান্ধী
9 = 1984 রাজীব গান্ধী
10 = 1989 বিশ্বনাথ রিটার্নস
11 = 1990 চন্দ্রশেখর
12 = 1991 পি.ভি. নরসিমা রাও
13 = 1992 অটল বিহারী বাজপেয়ী
14 = 1996 চাদে গৌড়
15 = 1997 আই.কে. গুজরাল
16 = 1998 অটল বিহারী বাজপেয়ী
17 = 2004 মনমোহন সিং
18 = 2014 নরেন্দ্র মোদী

এক হাজার বছর ধরে মুসলমান রাজত্ব হওয়া সত্ত্বেও হিন্দুরা ভারতে রয়ে গেছে। মুসলিম শাসকরা তাদের সাথে কখনই অন্যায় আচরণ করেনি

এবং ….

হিন্দুরা এখনও পর্যন্ত 100 বছর হয়নি এবং তারা মুসলমানদের বিলুপ্ত করার কথা বলে !!
এই তথ্য ছাত্র এবং শিক্ষকদের দেওয়া উচিত।

এই পোস্টটি অবশ্যই সবার সাথে শেয়ার করুন। কারণ আজকাল 90% লোকের এ সম্পর্কে কোনও ধারণা নেই – * = (ভারতের ইতিহাস) = *

দ্য ফার্স্ট মুসলিম: একজন ইহুদীর চোখে মহানুভব হযরত মুহাম্মাদ (সা)

“পাহাড়ের উপর দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটিকে দেখে হয়তো আপনার মনেই হতো না যে স্বাভাবিকের বাহিরে কিছু দেখা যাচ্ছে তার মাঝে, যদি না তার দাঁড়িয়ে থাকাটা এতটা স্থির আর একাকী না হতো। গোড়ার দিকের বর্ণনাগুলোতে এমনভাবে তার কথা বলা হয়েছে যে মনের মাঝে নিশ্চিত কোনো চিত্র আপনি কল্পনা করতেই পারবেন না। তিনি দেখতে এত লম্বাও না, আবার খাটোও না। এত চিকনও না, মোটাও না। এখানে ওখানে মাঝে মাঝে তার সুদর্শন গঠন নিয়ে দুয়েকটা কথা চোখে পড়ে, আর সেগুলো বেশ প্রীতিকর আর আশ্চর্যেরও বটে।

মনে হতে পারত, এই পাহাড়চূড়ায় ধ্যান করতে আসা একটা মানুষ হয়ত রুক্ষসূক্ষ্ম হবেন, কিন্তু না, লালচে ফরসা মানুষটিকে দেখে আপনাকে অবাকই হতে হবে। যখন হাঁটছেন তখন একটু ঝুঁকে পড়ে হাঁটছেন, যেন কোথায় যাবার তাড়া। যখন কারো সাথে কথা বলেন, পুরো ঘাড় ঘুরিয়ে কথা বলেন। তার গড়ন দেখেই আপনি বুঝে যাবেন, সম্ভ্রান্ত এক ঘরে তার জন্ম।

হ্যাঁ, চল্লিশ বছর বয়স তার, আর আট দশজন মক্কাবাসীর মতোই হয়ত চলছেন, এতিম অনাথ থেকে বড় হয়ে এখন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী, সুখের একটা সংসার আছে তার। সবার শ্রদ্ধা আর সম্মানের পাত্র। কিন্তু কেন যেন তার পোশাক পরিচ্ছদ, এমনকি পায়ের জুতোখানা দেখেও বোঝার উপায় নেই তিনি যে এত ধনী মানুষ।

খুব কাছ থেকে যদি খেয়াল করে থাকত কেউ, হয়ত দেখা যেত একটা অস্থিরতা আর একই সাথে দৃঢ়তা কাজ করছে তার মাঝে, তার ঠোঁটদুটো একটুখানি ফাঁক করা, যেন আঁধারের মাঝে ফিসফিস করে বলে উঠবেন কিছু একটা, কিন্তু বলছেন না। এ বয়সে এসে তিনি সবকিছু পেয়েছেন, তবুও কীসের তাড়না তার? কী খুঁজছেন তিনি? নিজের মনের এক ফোঁটা শান্তি বুঝি? কিন্তু তিনি কি শান্তিতে নেই? তাহলে কি আরো বড় কিছু খুঁজছেন? খুব, খুব বড় কিছুর একরত্তি আভাস? ওহ, তাঁর নাম? মুহাম্মাদ (সা)।

একটা ব্যাপার আমরা নিশ্চিত- মুহাম্মাদ (সা) এর নিজের ভাষ্য মতেই, ৬১০ সালের সেই রাত্তিরে তিনি এমন কিছুর মুখোমুখি হয়েছিলেন, এমন কিছু অনুভব করেছিলেন যার জন্য তিনি আদৌ প্রস্তুত ছিলেন না। একটুও না।”

বইয়ের শুরুটা যদি বাংলায় বলতে হয়, তবে ভাবানুবাদটা এরকম। হয়ত শিরোনাম পড়ে ভাবছেন, একজন ইহুদী লিখছেন ইসলাম ধর্মের শেষ নবী মুহাম্মাদ (সা) এর জীবনী? মুসলিমদের মাঝে প্রচলিত ইহুদীবিদ্বেষের কারণে আপনার মনে হতেই পারে, নিশ্চয়ই উলটোপালটা বদনাম করে রেখেছে। কিন্তু অবাক করা বিষয়, আসলেই বইটিতে হযরত মুহাম্মাদ (সা)-কে নিয়ে কোনো খারাপ কিছু নেই। বরং এমনটাও হতে পারে, কিছু কিছু অধ্যায় আর কিছু কিছু ঘটনা পড়ে আপনার চোখের কোণে জমে উঠলো কয়েক ফোঁটা অশ্রু- তিনি এতটাই সুন্দর করে লিখেছেন ‘দ্য ফার্স্ট মুসলিম’ বইটি।

লেখকের নামই তো বলা হলো না। নাম তার লেজলি হ্যাজেল্টন। মহিলার বয়স এখন চলছে ৭৩, জন্ম তার ইহুদী পরিবারে। পরিচয়ের দিক থেকে ইহুদী হলেও বিশ্বাসের দিক থেকে তিনি অ্যাগনস্টিক, বাংলায় যাকে কিনা বলে অজ্ঞেয়বাদী, অর্থাৎ তিনি ঈশ্বরে বিশ্বাস না করলেও অবিশ্বাসও করেন না, কোন ধর্ম সঠিক সে বিষয়েও তিনি সিদ্ধান্তে আসতে পারেননি।

বিখ্যাত টাইম পত্রিকার রিপোর্টার হিসেবে তিনি জেরুজালেমে কাটিয়েছেন ১৯৬৬-৭৯ সাল পর্যন্ত। অবশ্য তিনি বেড়ে উঠেছেন ইংল্যান্ডে। এরপর ১৯৯২ সাল পর্যন্ত তিনি নিউ ইয়র্কে শহরে কাটান। তার লেখনি ছাপা হতো নিউ ইয়র্ক টাইমসেও। সিয়াটলে গিয়েছিলেন পাইলটের লাইসেন্স নিতে, কিন্তু পরে মার্কিন নাগরিকত্ব নিয়ে নেন। তার বইগুলো ধর্ম নিয়ে হলেও, তিনি কিন্তু আসলে পেশায় একজন সাইকোলজিস্ট, মনস্তত্ত্ববিদ। সাইকোলজির উপর দু’খানা ডিগ্রি তার, একটি ম্যানচেস্টার ইউনিভার্সিটি থেকে, আরেকটি জেরুজালেমের হিব্রু ইউনিভার্সিটি থেকে।

আদতে ‘স্কলার’ বলতে যা বোঝায়, তিনি তা নন, নিজেই স্বীকার করেন তিনি। একজন বহিরাগত হিসেবে তিনি পরধর্মগুলো জানতে চান। এজন্যই তিনি ইসলাম নিয়ে জানা শুরু করেন। কুরআন পড়া শুরু করেন। আরবিও শিখে নেন, আরও ভালোভাবে বোঝার জন্য কয়েকটি অনুবাদ সাথে রাখেন। আর তাফসির গ্রন্থগুলো তো আছেই। কুরআন পড়তে গিয়ে তার মনে হয়েছিল, এ শৈল্পিক গ্রন্থটি আসলে যতটা না রিডিং পড়ে যাবার, তার থেকে বেশি শোনার জন্য, সুললিত কন্ঠে কুরআনের বাণীগুলো যেন রন্ধ্রে রন্ধ্রে শিহরণ জাগায়। এ নিয়ে টেড টক-ও দিয়েছেন তিনি।

পেশাগত জীবনে তাকে রিপোর্ট করতে হতো ধর্ম আর রাজনীতির মিলনবিন্দু নিয়ে। সেই থেকে ধর্মের প্রতি তার আগ্রহ, তুলনামূলক ধর্মতত্ত্ব বলে যাকে। ইহুদী হবার কারণে, তাওরাত বা বাইবেল সংক্রান্ত জিনিসগুলো আগে থেকেই তার জানা ছিল। তাই যখন ইসলামকে জানতে শুরু করলেন তখন মোটেও অচেনা লাগেনি তার। কিন্ত অচেনা লেগেছিল ২৩ বছর ধরে ইসলামের বাণী প্রচার করে যাওয়া মুহাম্মাদ (সা)-কে। কারণ পশ্চিমা বিশ্বের মানুষ হিসেবে এতদিন যে তথাকথিত বর্বর ধর্মের কথা তিনি জেনে এসেছিলেন, সে ধর্মের নবীর জীবনে যে এত অসাধারণ সব ঘটনা আছে কে জানতো?

হ্যাঁ, মুসলিম বিশ্বের মানুষেরা হয়তো জানে। কিন্তু যে অঞ্চলগুলো মুসলিমপ্রধান নয়, তাদের জানবার কথা না। তাই তিনি অচেনা থেকে যে মুহাম্মাদ (সা)-কে জানলেন, অজানা পথে পাড়ি জমালেন, নতুন ধর্মকে জানবার জন্য- সেটাই পশ্চিমা বিশ্বের ইসলামভীতিসম্পন্ন মানুষদের জন্য উপস্থাপন করতে চাইলেন। ইসলাম যে কোনো বর্বর ধর্ম নয়, নবী মুহাম্মাদ (সা)-কে নিয়ে যে অপপ্রচারগুলো প্রচলিত সেগুলো যে মিথ্যে, সেটাই তিনি জানাতে চাইলেন। শুরু করলেন লেখা, ‘দ্য ফার্স্ট মুসলিম’

বইয়ের নাম তিনি নিয়েছিলেন পবিত্র কুরআনের ৩৯:১২ আয়াত থেকে, “বল, (হে মুহাম্মাদ,) আমাকে আদেশ করা হয়েছে প্রথম মুসলিম হতে।” সেই থেকে বইয়ের নাম প্রথম মুসলিম, অর্থাৎ মুহাম্মাদ (সা)।

বইয়ের শুরু পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়ানো মুহাম্মাদ (সা) এর চিন্তাভাবাপন্ন অবস্থা থেকে, সে রাত্রেই তিনি নবুয়ত পান। একজন অমুসলিম হিসেবে লেজলিকে নাড়া দেয় সে রাতের ঘটনা- কেন মুহাম্মাদ (সা) প্রথমে বিশ্বাস করতে পারেননি? কেন মনে করেছিলেন, ওহী নিয়ে আসা সত্ত্বা আসলে ফেরেশতা নন? কেন তার মনে ছিল ভয়? কেন সন্দেহ? এতই ভয় পেয়েছিলেন তিনি যে তার জ্বর চলে এসেছিল, আর খাদিজা (রা) তাকে কম্বল দিয়ে জড়িয়ে ধরেন, তাকে সান্ত্বনা দেন।

এ ঘটনার পরপরই লেজলি চলে যান ফ্ল্যাশব্যাকে পেছনের দিকে, মুহাম্মাদ (সা) এর জন্ম আর সে সময়ের কাহিনীগুলো। বাবাহারা শিশুর বেড়ে ওঠার অধ্যায়গুলো পড়তে গেলে মন ভারাক্রান্ত হয়ে ওঠে। এ বইটি লিখতে গিয়ে তিনি এমন একটি ধারা ব্যবহার করেছেন, যেটি এর আগে কেউ করেননি। তিনি বুঝতে চেষ্টা করেছেন, কোন মুহূর্তে মুহাম্মাদ (সা) ঠিক কেমন অনুভব করে থাকতে পারেন। চল্লিশ বছর পর্যন্ত নির্ভেজাল জীবন কাটিয়ে দেয়া একটি মানুষ কি জানতেন যে পরের ২৩ বছরে তিনি হবেন আরবভূমির নেতা? আক্রান্ত নির্যাতিত মানুষগুলো ইসলাম নামের ধর্মটির জন্য মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে চেষ্টা করছিল মক্কার অলিতে গলিতে, তিনি কি তখন জানতেন ১৪০০ বছর পর সেটি হবে প্রায় দেড় বিলিয়ন মানুষের ধর্ম? এ উত্তরগুলো খোঁজার চেষ্টা করেছেন লেজলি হ্যাজেল্টন।

অস্বীকার করবার উপায় নেই, এই অনুভূতিগুলো ধারণা করতে গিয়ে, আন্দাজ করতে গিয়ে সময়ে অসময়ে ভুলও করেছেন তিনি। তিনি যে স্কলার মনে করেন না নিজেকে, সেটা তো আগেই বলা হয়েছে। তাই অনেক সময়ই হয়ত তার লেখনিতে স্থান পেয়েছে কিছু জাল বর্ণনা, কিংবা দুর্বল কাহিনী। কিন্তু একজন বহিরাগত হিসেবে মুহাম্মাদ (সা)-কে জানতে তিনি যে পরিশ্রম করেছেন গোড়া থেকে সেটা প্রসংশার দাবিদার। বইটি হয়ত কোনো প্রামাণ্য সীরাত গ্রন্থ নয়, কিন্তু অমুসলিমদের ইসলামভীতি দূর করবার জন্য প্রথম বই হিসেবে খুবই যোগ্য।

জন্মসূত্রে লেজলি ইহুদী। আর ইহুদীদের নিয়ে সীরাত গ্রন্থগুলোতে রয়েছে নানা কাহিনী, নানা রক্তপাতও। বিশেষ করে সবচেয়ে আলোচিত কুরাইজা গণহত্যা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে হয়ত তার ইহুদী পরিচয়ের দাগ রেখে গেছেন, কিন্তু একইসাথে ঘটনাটি দেখানোর চেষ্টা করেছেন মুহাম্মাদ (সা) এবং মুসলিম দৃষ্টিকোণ থেকেও। তিনি কী লিখেছেন এগুলো নিয়ে সেটা না হয় বইটি পড়ার সময়টার জন্য তুলে রাখা হোক।

একে একে তিনি ব্যাখ্যা করতে চেষ্টা করেছেন, কেন আসলে ইসলাম বর্বর ধর্ম নয়, বরং সহিংসতার নির্দেশগুলো আসলে নির্দিষ্ট সময়ের গণ্ডীর বাহিরের জন্য ছিল না। বইটি পড়তে গিয়ে চেনা জানা ঘটনাগুলোও আপনার কাছে নতুন করে জানছেন মনে হবে। নবী হিসেবে তার জীবনী নিয়ে অনেক অনেক বই লেখা হয়েছে, অমুসলিমদের হাতেও লেখা হয়েছে বটে। কিন্তু, একজন অসহায় অনাথ শিশু থেকে অবিসংবাদিত নেতা হবার গল্পটা যে মানুষকে ঘিরে, সেই মনুষ্যত্বের কাহিনী হয়ত এভাবে জোর দিয়ে লেখা হয়নি আগে। এর বেশি কিছু বলা হয়ত ঠিক হবে না, বাকিটুকু না হয় বইটা পড়েই আপনি অনুভব করুন পাঠক হিসেবে!

প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটির ধর্মতত্ত্ব গবেষক প্রফেসর এমেরিটাস কর্নেল ওয়েস্ট বইটি নিয়ে বলেন, “অসাধারণ সুন্দরভাবে লেখা, ফার্স্ট মুসলিম বইটি ইসলামের শেষ নবীকে যেন পরিপূর্ণ দৃষ্টিতে দেখতে চেষ্টা করে, অতুলনীয় একজন মানুষের মনুষ্যত্বকে তুলে ধরে।”

নিউ ইয়র্ক টাইমসের রিভিউ বলছে, “মুহাম্মাদ (সা) এর কাহিনী আপনার পরিচিত হলেও বইটি পড়তে গিয়ে যেন নতুন রূপে ধরা দেয়। বইটিকে সেদিক দিয়ে আমরা সার্থক বলতে পারি, জীবনীকে জীবন্তভাবে ফুটিয়ে আনতে পেরেছেন লেজলি।”

লেজলির ভাষায়, মুহাম্মাদ (সা) এর জীবনী এতটাই অসাধারণ, যে এর সমান্তরালে ইতিহাসে আর কারো জীবনী নেই, এই মানুষটির জীবনটাকেই তিনি কথার জাদুতে উঠিয়ে আনবার চেষ্টা করেছেন। কতটা সার্থক হয়েছেন, সেটা বিচার করবেন পাঠকরাই। কষ্টিপাথরের যাচাইয়ে নিখাদ প্রামাণ্য গ্রন্থ যদি আপনি চান, তবে বইটি হয়তো আপনার জন্য নয়। কিন্তু সেই যে পাঠ্যবইতে আমরা পড়েছিলাম মানুষ মুহাম্মাদ (সা) এর কথা, তাকে নিয়ে যদি গভীরে জানতে চান, তবে বইটি আপনার প্রিয় হয়ে উঠবে।

সবশেষে বইটি কেমন ভাষায় লেখা সেটার আরেকটি উদাহরণ, ঠিক যেভাবে শেষ হয়ে যায় বইটি-

“বুধবার ভোরের আলো ফুটবার আগেই ঘুম ভেঙে যায় আইশার (রা), ঘুম ভাঙার কারণ আর কিছুই না, পাশের মসজিদের উঠোন থেকে মাটিকাটার আওয়াজের প্রতিধ্বনি। মুহাম্মাদ (স)  এর ইন্তেকালের পর তিনি হাফসার সাথে থাকছেন। গভীর শোকে হয়তো তিনি উঠে গেলেন না শব্দটা কীসের জন্য হচ্ছে দেখতে। যদি যেতেন, তবে তিনি আবিষ্কার করতেন, শব্দটা আসলে পাথুরে জমিতে শাবলের আঘাতের। কোদাল শাবল নিয়ে আলী আর তার সঙ্গীরা কবর খুঁড়ছেন, মুহাম্মাদ (সা) এর কবর।

মুহাম্মাদ (সা) একবার বলেছিলেন, নবীরা যেখানে মারা যায় সেখানেই তাদের কবর হওয়া উচিত। তাই তারা সেখানেই কবর খুঁড়ছিলেন যেখানে তিনি মারা গিয়েছেন। ঠিক যে ঘরে থাকতেন আইশা, ঠিক যে বিছানায় আইশার কোলে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি, এখানেই হয়ত তার শেষ ইচ্ছে ছিল সমাহিত হবার। যথেষ্ট গভীর হবার পর তারা কাফনের কাপড়ে মোড়ানো দেহটিকে শুইয়ে দিলেন মক্কার দিকে মুখ করে, যেন প্রার্থনারত তিনি। এরপরই দ্রুত মাটি দিয়ে ঢেকে ফেলা হলো, আর তার উপর এক খণ্ড পাথর।

কোনো বিশাল হৈ চৈ না, বড় মিছিল না, কান্নার শোরগোল না- ভোরবেলায় সমাহিত হলেন মুহাম্মাদ (সা), একদম নীরবেই। ঠিক যেভাবে নীরবে তিনি এসেছিলেন এক এতিম পরিবারে, ভোরের আলো ফুটবার সাথে সাথে সেভাবেই বিদায় নিলেন নিঃশব্দে। কবরে প্রবেশ করলেন এক অসাধারণ কিন্ত সামান্য মানুষ হিসেবে, কোনো রাজনৈতিক আক্রোশ কিংবা ক্ষমতার হানাহানি তাকে স্পর্শ করবে না আর। ঠিক যে শান্তিটা তার প্রয়োজন ছিল, সেটাই তিনি পেলেন। একদম জীবনের বেলা শেষে- এতটুকু বিশ্রাম।”

#rora থেকে

হিটলারের সহযোগী আইখম্যান এর ইহুদী বিদ্বেষের একটি মাত্র ঘটনা

#হিটলারের সহযোগী #আইখম্যান এর #ইহুদী বিদ্বেষের একটি মাত্র ঘটনার মাধ্যমেই জর্মানদের ইহুদীদের প্রতি ঘৃনার প্রকাশ স্পষ্ট হয়ে উঠে । আর এই ঘৃনা জন্মনোর পেছনে কারণ হলো হাজার বছর ধরে ইহুদী কর্তৃক চালিয়ে যাওয়া কূট চালের প্রতি প্রতিশোধের বহিঃপ্রাশ । ঘটনাটি হলো—-হিটলারের সহযোগী ছিলেন #আইখম্যান।তিনি ছিলেন গ্যাস চেম্বারে ডুকিয়ে ইহুদীদের হত্যা করার রুপকার।
দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধে হিটলারের পরাজয় হলে তিনি ব্রাজিলে পালিয়ে যান এবং ছদ্মবেশে একটি কৃষি ফার্মে কাজ করেন।
কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি,
অনেক বছর পর তিনি ধরা পড়েন ইহুদীদের হাতে। ইহুদীরা তার প্রতি খুব রেগে ছিল।তাকে হত্যা করার সব প্রস্তুতি শেষ করল ।
মৃত্যুর পুর্বে তার শেষ ইচ্ছার কথা জানতে চাওয়া হলে তিনি মৃত্যুর পুর্বে ইহুদী ধর্ম গ্রহন করার কথা বলেন।
তার এমন ইচ্ছার কথা শুনে উপস্থিত সবাই হেসে দিল। বলল, বাছাধন, তুমি মনে করেছ, ইহুদী ধর্ম গ্রহন করলেই ইহুদীরা তোমায় মাফ করে দেবে! তা হবে না। মরতে তোমায় হবেই।
কয়েকজন কৌতুহলী জিজ্ঞাসা করলো, আচ্ছা তোমার এই ইচ্ছা কেন হলো? বল তো আমাদের?আইখম্যান নির্ভিকার চিত্তে বললো, ” তোমরা যে আমায় ছাড়বে না, এটা আমি নিশ্চিত। তাই মারা যাওয়ার আগে দেখে যেতে চাই,অত্যন্ত আরেকটা ইহুদী মারা গেল।”
ইহুদীদের প্রতি কতটুকু ঘৃনা থাকলে মৃত্যুর আগেও আরেকটি ইহুদীর মৃত্যু দেখতে চায়!!!

রাজাকারের তালিকায় শীর্ষে আওয়ামী লীগ !

!!রাজাকারের তালিকায় শীর্ষে আওয়ামী লীগ!!
শীর্ষ ৪৬ জন রাজাকারের তালিকায় আঃলীগ নেতা।

আওয়ামী লীগ দলটি এমনই একটি দল এর জম্মই হয়ে ছিল অবৈধ দিয়ে যা আজ মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে এতোই গান গায় মনে হয় আঃলীগই মুক্তিযুদ্ধ দল অথচ এ দলটিই সব চেয়ে বড় রাজাকারের দল। আঃলীগের শীর্ষ তালিকায় আছি যদি তাহলে সর্ব প্রথমে উঠে আসে শেখ মুজিবুর রহমানের নাম সহ তার ছেলে শেখ কামাল রাজাকারের তালিকায় অন্তভূক্ত। শেখের পরিবার কেহত মুক্তিযুদ্ধ করেই নাই বরং পাকিস্তানের মাসিক বাতা নিত নিয়ম মতো এবং শেখ মজিবুর রহমান কখনও বাংলাদেশের স্বাধীনতা চায়নীই সে চেয়ে ছিল পৃর্ব পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী তাহলে রাজাকার কে??

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তান বাহিনীর সহযোগী হিসেবে কাজ করেছে, এমন অভিযোগে বিরোধীজোট বিএনপি ও জামায়াতরে নেতাদের বিচার করছে রাজাকারের দল আওয়ামী লীগ। তারা নিজেদের মুক্তিযুদ্ধের কথিত স্বপক্ষ শক্তি দাবি করে অথচয় শেখ মজিবুর রহমান সহ শেখ কামাল রাজাকারের নামে তালিকায়ও নম্মর ওয়ান অথচয় আওয়ামী লীগের থাকা রাজাকারদের ব্যাপারে একেবারে নিরব কি কারনে এ নিরব?? এদলটিতেও রয়েছে, কুখ্যাত রাজাকার, আল বদর, আল শামস, গণহত্যকারী, গণধর্ষণকারী, অগ্নিসংযোগাকরীসহ অসংখ্য স্বাধীনতাবিরোধী। আওয়ামী লীগের নেতারা বিভিন্ন সময় বক্তৃতায় বলেছেন, আওয়ামী লীগে রাজাকার থাকলে দেখিয়ে দেন-আমরা তাদের বিচার করব। আমাদের অনুসন্ধানে নিচে ৪৬জন আওয়ামী লীগের রাজাকারের তালিকা তুলে ধরা হলো এবং বিস্তারীত।

আওয়ামী লীগের এই ৪৬ জন যুদ্ধাপরাধী তাদের পরিবার কোন না কোনভাবে ৭১ সালে পাকিস্তান সরকার ও যুদ্ধাপরাধের সাথে জড়িত ছিলেন।১৯৭১ সালে মক্তিযোদ্বাদের হত্যাসহ নানা ধরনের মানবতবিরোধী অপরাধের সঙ্গে তারা যুক্ত ছিলেন তারা।

► অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম:
ঢাকা-২ আসনের সংসদ সদস্য ও আইন প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম রাজাকার পরিবারের সদস্য। তার বড় ভাই হাকিম হাফেজ আজিজুল ইসলাম নেজামে ইসলামি পার্টির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ছিলেন। পাক হানাদার বাহিনীকে সহযোগিতা ও মুক্তিযোদ্ধাদের শায়েস্তা করার জন্য তার নেতৃত্বেই ঢাকায় প্রথম শান্তি কমিটি গঠন হয়। একই সঙ্গে তিনি রাজাকার, আল বদর ও আল শাসম বাহিনীকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছেন। অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম মুক্তিযুদ্ধের নয় মাসই স্বাধীনতা বিরোধী কর্মকাণ্ড চালানোর পাশাপাশি মু্ক্তিযোদ্ধাদের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে বড় ভাইকে সার্বিক সহযোগিতা করেন।

মুক্তিযুদ্ধের সময় তার রাজাকার ভাইয়ের মালিকাধীন প্রিন্টিং প্রেসে তিনি ম্যানেজার হিসেবে কাজ করতেন। ১৯৬৯ সালে এ দেশে পাকিস্তান বিরোধী আন্দোলন জোরদার হলে নেজামের ইসলাম পার্টির পক্ষ থেকে পাকিস্তানের অখণ্ডতা রক্ষার প্রচারণা চালানোর জন্য ‘নেজামে ইসলাম’ নামে একটি সাপ্তাহিক পত্রিকা প্রকাশিত হয়। হাকিম অজিজুল ইসলাম এ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। শেখ মজিবুর রহামনসহ পাকিস্তান বিরোধী আন্দোলনকারীদের নিয়ে তিনি এ পত্রিকায় ‘ইবলিশের দিনলিপি’ নামে প্রতি সপ্তাহে বিশেষ সম্পাদকীয় লিখেন। অ্যাডভোকেট কামরুল ১৯৯৪ সালে আওয়ামী লীগের রাজনীতেতে সক্রিয় হন। এর মধ্যে দিয়ে রাজাকার
পরিবারের গন্ধ হতে মুক্ত হতে চান তিনি। তার ব্যাপারে ‌‌’মুক্তিযুদ্ধে ইসলামী দল’ শীর্ষক বইয়ে বিস্তারিত উল্লেখ আছে।

► লে.কর্ণেল (অব) ফারুক খান:
পর্যটন মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতা। তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানীদের পক্ষে দিনাজপুরে কর্মরত ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি পাকিস্তানী সেনাবাহীনীর পক্ষে প্রথম অপারেশন চালান এবং কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা ও নিরীহ বাঙালিকে নির্মমভাবে হত্যা করেন। সুত্র: “দিনাজপুরের মক্তিযুদ্ধ” বই।

► ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন:
ফরিদপুর– ৩ আসনের সংসদ সদস্য, মন্ত্রী ও শেখ হাসিনার বেয়াই ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন কুখ্যাত রাজাকার ছিলেন। তিনি শান্তি বাহিনী গঠন করে মুক্তিযোদ্বাদের হত্যার জন্য হানাদার বাহিনীদের প্ররোচিত করেন। “ দৃশ্যপট একাত্তর: একুশ শতকের রাজনীতি ও আওয়ামী লীগ” বইয়ের ৪৫ পৃষ্ঠায় বলা হয়েছে, শেখ হাসিনার বেয়াই ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন শান্তি কমিটির জাদরেল নেতা ছিলেন। তার পিতা নুরুল ইসলাম নুরু মিয়া ফরিদপুরের কুখ্যাত রাজাকার ছিলেন।

► অ্যাডভোকেট মোসলেম উদ্দিন:
ময়মনসিংহ ৬ আসনের সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট মোসলেম উদ্দিন ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় রাজাকার ও
শান্তি কমিটির সদস্য ছিলেন বলে গত বছরের ৪ এপ্রিল ট্রাইবুনাল ওয়ার ক্রাইম ফাক্টস ফাইন্ডিং কমিটির আহবায়ক ডা, এম এ হাসানের দেয়া যুদ্ধাপরাধের তালিকায় (ক্রমিক নং-৭৩) উল্লেখ করা হয়েছে। যা গত ২২ এপ্রিল দৈনিক ডেসটিনি পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। এ দিকে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে তার বিরুদ্বে গত ৬ এপ্রিল ফুলবাড়িয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের শ্রম বিষয়ক সম্পাদক ও জোড়বাড়িয়া গ্রামের ওয়াহেদ আলী মণ্ডলের ছেলে মুক্তিযোদ্ধা জালাল উদ্দিন বাদী হয়ে ময়মনসিংয়ের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিট্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন।

► সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী:
আওয়মী লীগের সেকেন্ড ইন কমান্ড সংসদ উপনেতা ফরিদপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পশ্চিম পাকিস্তানী শাসক গোষ্ঠীর কাছে একজন আস্থাভাজন নেত্রী ছিলেন। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে বিজয়ী এবং সংরক্ষিত মহিলা আসনে নির্বাচিতদের মধ্যে থেকে ৮৮ জনকে পাকিস্তানের সামরিক সরকার আস্থাভাজন এন এন এ মেম্বার অব ন্যাশনাল এজেন্সী হিসেবে ঘোষণা করে। ১৯৭১ সালে ৭ আগষ্ট পাকিস্তানের তথ্য অধিদপ্তর থেকে প্রকাশিত ওই তালিকায় সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর নাম ছিল ৮৪ নম্বরে। জেনারেল রোয়াদেদ খান ওই দিন ইসলামাবাদে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তালিকা প্রকাশ করেন। পাকিস্তানের পক্ষে সমর্থন জানানো এবং মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে ভূমিকা পালন করার সুবাদে তিনি এ খ্যাতি অর্জন করেন বলে জানা গেছে। ১৯৭১ সালে পাকিস্তান সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রকাশিত গেজেটে এ তথ্য উল্লেখ আছে।

► সৈয়দ জাফরউল্লাহ:
আওয়ামী লীগের প্রেসেডিয়াম সদস্য সৈয়দ জাফরউল্লাহ মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানের পক্ষ হয়ে কাজ করেছেন। মাসিক “সহজকথা” আয়োজিত যুদ্ধাপরাধের বিচার:বর্তমান প্রেক্ষাপট শীর্ষক সেমিনারে বক্তব্য দিতে গিয়ে কাদের সিদ্দিকী বলেন, আওয়ামী লীগের বর্তমান প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ জাফরঊল্লাহ মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানের পক্ষে ছিলেন। জাফর উল্লাহ স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় পাকিস্তানীদের পূর্ণ সমর্থন দেন। “মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ব্যক্তির অবস্থান ” বইয়ে বিস্তারিত উল্লেখ আছে।

► মুসা বিন শমসের:
গত বছরের ২১ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ক্ষোভ প্রকাশ করে ফরিদপুরের নেতাদের কাছে প্রশ্ন করেন, শেখ সেলিম যে তার ছেলেকে ফরিদপুরের রাজাকার মুসা বিন শমসেরর মেয়ে বিয়ে করিয়েছেন তার কথা কেউ বলছেন না কেন? এ খবর ২২ এপ্রিল আমার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। উল্লেখ্য, মুসা বিন শমসের গোপালগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য। আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিমের ছেলের বেয়াই। ওয়ার ক্রাইম ফ্যাক্টস ফাইডিং কমিটির আহবায়ক ডা: এম এ হাসান যুদ্ধাপরাধী হিসেবে ৩০৭ জনের নাম উল্লেখ করেছেন। সেখানে ফরিদপুর জেলায় গণহত্যাকারী হিসেবে মুসা বিন শমসের নাম রয়েছে। তিনি নিরীহ বাঙ্গালীদের গণহত্যায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এবং মুক্তিযোদ্দ্ধাদের হত্যাসহ নির্মম নির্যাতন করেছেন বলে জানা গেছে।

► মির্জা গোলাম কাশেম:
জামালপুর–৩ আসনের সংসদ সদস্য, যুবলীগের লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সরকার দলীয় হুইপ মির্জা গোলাম আযমের বাবা। ১৯৭১ সালে মির্জা কাশেম জামালপুরের মাদারগঞ্জে শান্তি কমিটির জাদরেল নেতা ছিলেন। তিনি রাজাকার, আল-বদরদের গঠন করে মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দেন। তার বিরুদ্ধে নারী ধর্ষণ ও লুটপাটের একাধিক অভিযোগ আছে। যা “জামালপুরের মুক্তিযুদ্ধ ( “১৯৮১ সালের সংস্বকরণ” বইয়ে উল্লেখ আছে। মির্জা কাশেম জামায়াতের সাবেক আমির অধ্যাপক গোলাম আযমের একনিষ্ঠ ভক্ত ছিলেন। প্রিয় নেতার নামানুসারে ছেলের নাম রাখেন মির্জা গোলাম আযাম।

► এইচ এন আশিকুর রহমান:
রংপুর ৫ আসনের সংসদ সদস্য, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় অর্থ সম্পাদক এইচ এন আশিকুর রহমান ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ হতে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত পাকিস্তার সরকারের অধীনে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক পদে টাঙ্গাইলে কর্মরত ছিলেন। এ সময় তিনি পাকিস্তান সরকারকে মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করেন। এস এস এম শামছুল আরেফিন রচিত ‘মুক্তিযুদ্বের প্রেক্ষাপট ব্যক্তির অবস্থান’ বইয়ের ৩৫০ পৃষ্টায় পূর্ব
পাকিস্তানে কর্মরত বাঙালি অফিসারদের তালিকায় তার নাম প্রকাশিত হয়েছে। ৯ জানুয়ারি রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ইঙ্গিত করে বলেন, রাজাকার আশিকুর রহমান আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ বলে তার বিচার করবেন না তা হয় না। আমরা সব রাজাকারের বিচার চাই। মন্ত্রীসভায় রাজাকার রেখে রাজাকারের বিচার করা যায় না।

► মহিউদ্দিন খান আলমগীর:
চাদপুর-১ আসনের সরকার দলীয় সংসদ সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহিউদ্দিন খান আলমগীর ১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ হতে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত ময়মনসিংহে অতিরিক্তি জেলা প্রশারক পদে কর্মরত ছিলেন। তিনি পাকিস্তান সরকারের অধীনে চাকরি করে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানকে সহযোগিতা করেছেন। তার বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ রয়েছে। এ সময় আরেফিন রচিত “মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ব্যক্তির অবস্থান বইয়ের ৩৫০ পৃষ্ঠার মুক্তিযুদ্ধের সময় পূর্ব পাকিস্তানের কর্মরত বাঙালি অফিসারদের তালিকা সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। তাকে চিহ্নিত রাজাকার হিসেবে আখ্যা দিয়ে গত ৯ ফেব্রুয়ারি তার বিচার দাবি করেন বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী।

► মাওলানা নুরুল ইসলাম:
জামালপুরের সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মাওলানা নুরুল ইসলাম ১৯৭১ সালে জামালপুর সরিষা বাড়ী এলাকার রাজাকার কমান্ডার ছিলেন। তার নেতৃত্বে রাজাকাররা ঐ এলাকায় মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী সকল কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেন। “ দৃশ্যপট এক্ত্তার: একুশ শতকের রাজনীতি ও আওয়ামী লীগ” গ্রন্থের ৪৫ পৃষ্ঠায় এর বিবরণ দেয়া আছে। এ ছাড়া গত ২৮ এগ্রিল দৈনিক আমাদের সময় প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে মাওলানা নুরুল ইসলামকে সরিষাবাড়ি এলাকার রাজাকার কমান্ডার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

► মজিবর রহামান হাওলাদার:
কুটালীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক মজিবর রহমান হাওলাদার সশস্ত্র রাজাকার ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধে বিভিন্ন এলাকায়
বসতবাড়ীতে অগ্নিকাণ্ড ঘটানোসহ নানা অপকর্মের সাথে জড়িত ছিলেন তিনি। গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া ইউনিট কমান্ডের ডেপুটি কমান্ডার মজিবুল হক স্বাক্ষরিত গোপালগঞ্জের যুদ্ধাপরাধীর তালিকায় তার নাম ১ নম্বরে । এ তালিকা প্রকাশ করা হয় ২০০৮ সালের ১ আগষ্ট। দ্বিতীয় বার গত ১ এপ্রিল যে তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে সে তালিকায়ও যুদ্বাপরাধী হিসেব তার নাম আছে।

► আবদুল বারেক হাওলাদার:
গোপালগঞ্জ কোটালীপাড়া উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী রাফেজা বেগমের পিতা আবদুল বারেক হাওলাদার ৭১ এ দালাল ছিলেন। গোপালগঞ্জের কোটলীপাড়া ইউনিট কমান্ডের ডেপুটি কমান্ডার মজিবুল হক স্বাক্ষরিত গোপালগঞ্জের যুদ্বপরাধীর তালিকায় তার নাম ৪১ নম্বরে। এ তালিকা প্রকাশ করা হয় ২০০৮ সালের ১ আগষ্ট । দ্বিতীয় বার গত ১ এপ্রিল যে তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে সে তালিকাতেও তার নাম আছে। বারেক হাওলাদার মুক্তিযুদ্ধের সময় নারী নির্যাতনের সাথে জড়িত ছিলেন।

► আজিজুল হক:
গোপালগঞ্জ কোটালীপাড়া উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী রাফেজা বেগমের ভাই আজিজুল হক কুখ্যাত রাজাকার ছিলেন। গোপালগঞ্জের কোটলীপাড়া ইউনিট কমান্ডের ডেপুটি কমান্ডার মজিবুল হক স্বাক্ষরিত গোপালগঞ্জের যুদ্বপরাধীর তালিকায় তার নাম ৪৯ নম্বরে। এ তালিকা প্রকাশ করা হয় ২০০৮ সালের ১ আগষ্ট। দ্বিতীয় বার গত ১ এপ্রিল যে তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে সেখানেও তার নাম রয়েছে।

► মালেক দাড়িয়া:
আওয়ামী লীগ নেতা ও গোপালগঞ্জ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার আবুল কালাম দাড়িয়ার বাবা মালেক দাড়িয়া কুখ্যাত রাজাকার ছিলেন। তিনি ছিলেন আল বদরের একনিষ্ঠ সহযোগী। গণহত্যায় নেতৃত্ব দেন তিনি। গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া ইউনিট কমান্ডের ডেপুটি কমান্ডার মজিবুল হক স্বক্ষরিত গোপালগঞ্জের যুদ্বাপরাধীর তালিকায় তার নাম ১৪০ নম্বরে। তালিকা প্রকাশ করা হয় ২০০৮ সালের ১ আগষ্ট।

► মোহন মিয়া:
গোপালগঞ্জ কোটারিপাড়া উপজেলা শ্রমিকলীগ সভাপতি আমির হোসেনের পিতা মোহন মিয়া মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানের দালাল ও রাজাকার
ছিলেন। স্থানীয় মু্ক্তিযোদ্ধাদের বাড়ি লুটপাট করে অগ্নিসংযোগ করেছেন। গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া ইউনিট কমান্ডের ডেপুটি কমান্ডার মজিবুল হক স্বাক্ষরিত গোপালগঞ্জের যুদ্ধাপরাধীদের তালিকায় তার নাম ছিল ১৫৭ নম্বরে।

► মুন্সি রজ্জব আলী দাড়িয়া:
উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক গোলাম কিবরিয়া দাড়িয়ার বাবা মুন্সি রজ্জব আলী দাড়িয়া রাজাকার ছিলেন। যুদ্বাপরাধীর তালিকায় তার নাম আছে। তিনি পাকিস্তানীদের গুপ্তচর হিসেবে কাজ
করতেন এবং মুক্তিযোদ্ধাদের কর্মকাণ্ডের গোপন খবর পাকবাহিনীকে পৌঁছে দিতেন।

► রেজাউল হাওলাদারঃ
কোটালিপাড়া পৌর মেয়র ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা এইচ এম অহেদুল ইসলামের ভগ্নিপতি রেজাউল হাওলাদের নাম ২০৩ জন রাজাকার, আল বদর, আলশামসসহ গত ১ এপ্রিল প্রকাশিত কোটালিপাড়ার যুদ্বাপরাধীর তালিকায় রয়েছে। তিনি আল বদর সদস্য হিসেব স্থানীয় মু্ক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে নানা কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতেন।

► বাহাদুর হাজরাঃ
কোটালিপাড়া স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও পৌর মেয়র এইচ এম অহেদুল ইসলামের পিতা বাহাদুর হাজরার নাম গত ১ এপ্রিল প্রকাশিত কোটালিপাড়ার যুদ্ধাপরাধীর তালিকায় রয়েছে। তিনি একজন সক্রিয় রাজাকার ছিলেন। মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যাসহ নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন।

► আ্যাডভোকেট দেলোয়ার হোসেন সরদারঃ
গোপালগঞ্জের এ পি পি ও আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট দেলোয়ার হোসেন সরদারের নাম গত ১ এপ্রিল প্রকাশিত কোটালিপাড়ার যুদ্বাপরাধীর তালিকায় রয়েছে। তিনি পাকিস্তানীদের দোসর ও আল বদর বাহিনীর সহযোগী ছিলেন। আল বদর বাহিনীর সকল ধরনের কর্মকাণ্ডে অংশ গ্রহণ করতেন তিনি।

► হাসেম সরদার:
অ্যাডভোকেট দেলোয়ার হোসেন সরদারের পিতা হাসেম সরদারের নাম কোটালীপাড়ার যুদ্ধাপরাধীর তালিকায় রয়েছে। তিনি একজন রাজাকার ছিলেন। ৭১ সালে তার নেতৃত্বে অনেক সাধারণ বাঙালির বাড়ি-ঘরে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছিল।

► আবদুল কাইয়ুম মুন্সি:
জামালপুর বকশিগঞ্জ আওয়ামী লীগ সভাপতি অবুল কালাম আজাদের পিতা আবদুল কাইয়ুম মুন্সীর বিরুদ্বে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানী বাহিনীকে সহয়তা ও মুক্তিযোদ্বাদের হত্যাসহ অগ্নিসংযোগের অভিযোগে গত ৬ এপ্রিল জামালপুর আমলি আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মালিচর নয়াপাড়া গ্রামের সিদ্দিক আলী এ মামলা দায়ের করেন। আবদুল কাউয়ুম মুন্সী পাকিস্তানী বংশোদ্ভুত বলে জানা গেছে। মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে আবদুল কাউয়ুম মুন্সী পাক হানাদার বাহিনীকে সহায়তা করার জন্য বকশিগঞ্জে আল বদর বাহিনী গড়ে তুলতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। পাক বাহিনীর সাথে থেকে অনেক মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যা করেন।

► নুরুল ইসলাম-নুরু মিয়া:
শেখ হাসিনার বেয়াই ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেনের পিতা নুরুল ইসলাম নূরু মিয়া ফরিদপুরের কুখ্যাত রাজাকার ছিলেন। গত ২১ এপ্রিল ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগ নেতারা শেখ হাসিনার সাথে বৈঠক করেন। এ সময় তারা মন্ত্রী ও তার ভাই খন্দকার মোহতেশাম হোসেন বাবরের বিরুদ্ধে নানা অপকর্মের অভিযোগ তুলে ধরে বলেন, তার বাবা নূরু মিয়া মু্ক্তিযুদ্ধের সময় রাজাকর ছিলেন। এর উত্তরে শেখ হাসিনা বলেন, ফরিদপুরের রাজাকারের তালিকায় ১৪ নম্বরে নুরু মিয়ার নাম থাকলেও তিনি যুদ্বাপরাধী ছিলেন না। পরের দিন ২২ এপ্রিল আমার দেশ পত্রিকায় এ খবরটি প্রকাশিত হয়। নুরু মিয়ার অপকর্মের বিষয়ে ‘মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ব্যক্তির অবস্থান’ বইয়ে বিস্তারিত বলা আছে। জানা যায়, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় জন প্রতিনিধি হয়েও আওয়ামী লীগের ২৭ নেতা মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করে পাক হানাদার বাহিনীর সঙ্গে হাত মিলিয়ে ছিলেন।

► নেত্রকোণার আওয়ামী লীগের স্বাধীনতা বিরোধী যুদ্ধাপরাধী ও মানবতার বিরূদ্ধে অপরাধ সংগঠনকারীবৃন্দ-
১. নেত্রকোণা থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি নুরুল ইসলাম খান,
২. বায়লাতি ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সেক্রেটারী ডাঃ গিয়াসউদ্দীন আহমদ।
৩. নেত্রকোনা শহর আওয়ামী লীগের সদস্য জনাব সোহরাব হোসেন ও
৪. নেত্রকোনা মহকুমা আওয়ামীলীগের সদস্য সদস্য জনাব এমদাদুল হক
৫. নেত্রকোনা শহর আওয়ামী লীগের ভাইস প্রেসিডেন্ট আমিনুল ইসলাম (এ্যাডভোকেট)
► তথ্যসূত্র: দৈনিক আজাদ,তাং- ১০-৯-১৯৭১ ,পৃঃ ৫-ক-৬, প্রকাশ ঢাকা ।
► তথ্য সূত্র: দৈনিক আজাদ, তাং- ৪-৮-১৯৭১ , পৃঃ ৫-ক-৩, প্রকাশ-ঢাকা।

এই সূত্রে পাকিস্তানী বাহিনীকে সহায়তায় তাদের সম্পৃক্ততার ঘটনাটিকে এভাবে বর্ণনা করা হয়েছে-
নেত্রকোণার আওয়ামী লীগের চারজন সদস্য সমপ্রতি সংবাদ পত্রে প্রদত্ত বিবৃতিতে দলের সহিত সম্পর্কচ্ছেদ ও পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। তাহারা বিবৃতিতে বলেন যে, তাহারা আওয়ামী লীগের পাকিস্তানের ঐক্য বিনষ্ট করার দুরভিসন্ধি সম্পর্কে অবগত ছিলেন না। ভারতের ন্যাক্কারজনক আক্রমণাত্মক তৎপরতা এবং ভারত কর্তৃক সশস্ত্র অনুপ্রবেশকারী প্রেরণ ও নাশকতামূলক কার্য সাধণের জন্য ভারতের প্রতি তীব্র নিন্দা করিয়া তাহারা পাকিস্তানের ঐক্যও সংহতি রক্ষাকল্পে সময়োচিত হসক্ষেপের জন্য প্রেসিডেন্টও সেনাবাহিনীর প্রতি আন্তরিক অভিনন্দন জানান। বিবৃতিতে স্বাক্ষরদান কারীগণ হইলেনঃ নেত্রকোণা থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি নুরূল ইসলাম খান, বায়লাতি ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সেক্রেটারী ডাঃ গিয়াসউদ্দীন আহমদ। নেত্রকোনা শহর আওয়ামী লীগের সদস্য জনাব সোহরাব হোসেন ও নেত্রকোনা মহকুমা আওয়ামীলীগের সদস্য জনাব এমদাদুল হক।’
► চাঁদপুর জেলার আওয়ামী লীগের স্বাধীনতা বিরোধী যুদ্ধাপরাধী ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ সংগঠনকারীবৃন্দ-
৬. চাঁদপুর আওয়ামী লীগের জনাব চান্দ বখশ পাটওয়ারী মোক্তার,
৭. মহকুমা আওয়ামীলীগের সভাপতি ডাঃ মুজিবুর রহমান চৌধুরী,
৮. জনাব নাসির উদ্দীন পাটওয়ারী মোক্তার,
৯. মহকুমা আওয়ামীলীগের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও সেক্রেটারী জনাব ফজলুল হক এডভোকেট
১০. মহকুমা আওয়ামীলীগের কার্যকরী কমিটির সাবেক সদস্য জনাব খুরশীদ আলম চৌধুরী,
১১. মহকুমা আওয়ামীলীগের সাবেক কোষাধ্যাক্ষ জনাব বজলুর রহমান শেখ,
১২. আওয়ামী লীগের সাবেক সদস্য ও তরপারচান্দি ইউনিয়ন কাউন্সিলের চেয়ারম্যান সিদ্দিকুর রহমান মৃধা,
১৩. আওয়ামীলীগের সাবেক সদস্য ও ইব্রাহীমপুর ইউনিয়ন কাউন্সিলের চেয়ারম্যান জনাব আজিজ শেখ পাটওয়ারী,
১৪. কণ্ট্রাক্টর ও আওয়ামীলীগের সাবেক সদস্য জনাব মোফাজ্জল হোসেন,
১৫. আওয়ামীলীগের সাবেক সদস্য ডাঃ নুরুল ইসলাম ও
১৬. ফরিদগঞ্জ থানা আওয়ামীলীগের সমাজকল্যাণ সেক্রেটারী।
► তথ্য সূত্র: দৈনিক আজাদ ,তাং- ৯-৯-১৯৭১ ,পৃঃ ১-ক-২-৩, প্রকাশ ঢাকা।
পাকিস্তানী বাহিনীকে সহায়তায় তাদের সম্পৃক্ততার ঘটনাটিকে এভাবে বর্ণনা করা হয়েছে-অধুনালুপ্ত আওয়ামীলীগের বেশ কিছু নেতা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নিকট ওয়াদা করিয়া পাকিস্তানের ঐক্য, সংহতি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির জন্য কাজ করিয়া যাওয়ার নিশ্চয়তা প্রদান করেন। ভারতীয় চর ও রাষ্ট্রদ্রোহী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর ব্যাপারে ও তাহারা তাহাদের দৃঢ় সংকল্পের কথা প্রকাশ করেন। সে সকল ব্যক্তি পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে সহযোগিতা করার দৃঢ় আশ্বাস দিয়েছেন।
তাহারা হইলেন, চাঁদপুর আওয়ামী লীগের জনাব চান্দ বখশ পাটওয়ারী মোক্তার, মহকুমা আওয়ামীলীগের সভাপতি ডাঃ মুজিবুর রহমান চৌধুরী, জনাব নাসির উদ্দীন পাটওয়ারী মোক্তার, মহকুমা আওয়ামীলীগের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও সেক্রেটারী জনাব ফজলুল হক এডভোকেট, মহকুমা আওয়ামীলীগের কার্যকরী কমিটির সাবেক সদস্য জনাব খুরশীদ আলম চৌধুরী, মহকুমা আওয়ামীলীগের সাবেক কোষাধ্যাক্ষ জনাব বজলুর রহমান শেখ, আওয়ামী লীগের সাবেক সদস্য ও তরপারচান্দি ইউনিয়ন কাউন্সিলের চেয়ারম্যান সিদ্দিকুর রহমান মৃধা, আওয়ামীলীগের সাবেক সদস্য ও ইব্রাহীমপুর ইউনিয়ন কাউন্সিলের চেয়ারম্যান জনাব আজিজ শেখ পাটওয়ারী, কণ্ট্রাক্টর ও আওয়ামীলীগের সাবেক সদস্য জনাব মোফাজ্জল হোসেন, আওয়ামীলীগের সাবেক সদস্য ডাঃ নুরুল ইসলাম, ফরিদগঞ্জ থানা আওয়ামীলীগের সমাজকল্যাণ সেক্রেটারী।
১৭. কেরানীগঞ্জ থানা আওয়ামীলীগের ভাইস প্রেসিডেন্ট জনাব আমজাদ হোসেন
১৮. টাঙ্গাইলের সাবেক এম.পি.এ জনাব খোদা বখশ মোখতার
► তথ্য সূত্র: দৈনিক আজাদ, তাং- ২১-৫-১৯৭১, পৃঃ ৪-ক-৬, প্রকাশ-ঢাকা।
তাদের জড়িত থাকার বিষয়টি সূত্র থেকে এভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে:
‘আওয়ামী লীগের ২ জন সদস্য পৃথক পৃথক বিবৃতিতে দল হইতে তাহাদের সম্পর্কচ্ছেদ করিয়া বিচ্ছিন্নতার হাত হইতে দেশকে রক্ষাকল্পে সরকারের সহিত পূর্ণ সহযোগিতা দানের জন্য জনসাধারণের প্রতি আহ্বান জানাইয়াছেন। উক্ত ২ জন সদস্য হইতেছেন অধুনালুপ্ত কেরানীগঞ্জ থানা আওয়ামীলীগের ভাইস প্রেসিডেন্ট জনাব আমজাদ হোসেন, টাঙ্গাইলের সাবেক এম.পি.এ জনাব খোদা বখশ মোখতার।’
১৯. জনাব সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
► তথ্য সূত্র: দৈনিক আজাদ, তাং- ৩-৭-১৯৭১, পৃঃ ৬-ক-৬, প্রকাশ-ঢাকা,
তার জড়িত থাকার বিষয়টি সূত্র থেকে এভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে:
চট্টগ্রামের পি.ই.২৪ নির্বাচনী এলাকা হইতে নবনির্বাচিত প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য জনাব সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বেআইনী ঘোষিত আওয়ামী লীগের সহিত সকল সম্পর্ক ছিন্ন করিয়া পাকিস্তানকে সমর্থন করিয়া একটি বিবৃতি প্রদান করিয়াছেন।
তিনি বলেন, আমি আওয়ামী লীগ প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে নির্বাচিত হই। একজন পাকিস্তানী নাগরিক হিসাবে এবং সরল বিশ্বাসে আমি এই আশায় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করিয়াছিলাম। আমি আমার ক্ষুদ্র ক্ষমতা অনুসারে দেশ ও জনগণের খেদমত করিব। পাকিস্তানকে খণ্ড বিখণ্ড করার জন্য জনগণ আমাকে ভোট দেয় নাই।
তিনি বলেন , আওয়ামীলীগের এই সব ষড়যন্ত্রের ব্যাপারে আমি কিছুই জানিতাম না এবং ২৫ মার্চের পূর্বে এবং পরবর্তী সময়ে আমাদের দেশের গোলযোগের অবস্থায় আমি কোন সমাজবিরোধী কার্যকলাপে অংশগ্রহণ করি নাই। যথাসময়ে হস্তক্ষেপের জন্য এবং ধ্বংস ও ষড়যন্ত্র হইতে দেশকে রক্ষা করার জন্য আমি প্রেসিডেন্টকে ধন্যবাদ ও বীর সেনাবাহিনীকে আন্তরিক মোবারক জানাইতেছি।’
২০. পটুয়াখালি হইতে নবনির্বাচিত এম.পি.এ জনাব মুজিবুর রহমান তালুকদার
► তথ্য সূত্র: দৈনিক আজাদ, তাং- ৬-৭-১৯৭১, পৃঃ ৪-ক-৫, প্রকাশ-ঢাকা।

কি রহস্য রয়েছে জহির রায়হানসহ বুদ্ধিজীবী হত্যা ও ষড়যন্ত্রের নেপথ্যে

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে কিংবা এর পরে কত মানুষ, কতজন বুদ্ধিজীবী নিহত হয়েছে কিভাবে নিহত হয়েছেন কারা হত্যা করেছে, আজকের জোর গলায় মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ব্যবসায়ীরা কে কোথায় কিভাবে সময় কাটিয়েছে এরকম অনেক প্রশ্ন রহস্যই থেকে গেছে। এ নিয়ে কোনো গবেষণাই আলোর মুখ দেখেনি, থেমে গেছে শাসকের ধমকে, এমনকি এই গবেষণা করতে যারা ময়দানে নেমেছেন তাদের অনেকেই গুম হয়ে গেছেন। গুমের শিকার তেমনি একজন হলেন বাংলা চলচ্চিত্রের নামকরা পরিচালক জহির রায়হান। শুধু ‍তিনিই নন তার গুম হওয়ার সাথে সাথে গুম হয়ে গেছে তার গবেষণা, এক সত্য ইতিহাস ও মুক্তিযুদ্ধের স্বত্বভোগীদের মুখোশ উন্মোচনের দলীল। কারণ স্বাধীনতার চেতনার ব্যবসায়ী ও স্বত্বলোভীরা কখনোই চায়নি এরকম কোনো গবেষণা হোক। শুধু এটাই নয় বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করে নিজেদের মুখোশ উন্মোচনের ঝুঁকি এড়িয়ে আবার এক ঢিলে দুই পাখি মারার মত বুদ্ধিজীবি হত্যার দায় চাপিয়েছে নিরাপরাধ জামায়াত নেতৃবৃন্দের উপর।

আসুন দেখা যাক কি রহস্য রয়েছে জহির রায়হানসহ বুদ্ধিজীবী হত্যা ও ষড়যন্ত্রের নেপথ্যে

জহির রায়হান অন্তর্ধান রহস্য ঘাঁটতে গিয়ে এমন কিছু ব্যক্তির এমন কতগুলো চাঞ্চল্যকর তথ্যের সন্ধান পাওয়া গেল যেগুলো পড়ে শরীরের লোম খাড়া হয়ে ওঠে। এসব তথ্য পাওয়া গেছে জহির রায়হানের শালী অভিনেত্রী ববিতা, জহির রায়হানের ভাবী আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য পান্না কায়সার এবং ঘাদানিক নেতা শাহরিয়ার কবির প্রমুখের কাছ থেকে। এছাড়াও এদের জবানীতে সত্যজিৎ রায় এবং শেখ মুজিবের যেসব উক্তি উদ্ধৃত করা হয়েছে সেসব পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, জহির রায়হান ৩০ জানুয়ারি মৃত্যুবরণ করেননি। তার পরেও বেশ কয়েকদিন তাকে বাঁচিয়ে রাখা হয়েছিল। এদের বক্তব্য থেকে বোঝা যায় যে, তিনি বাংলাদেশে এবং ভারতীয় সেনাবাহিনীর বেষ্টনীর মধ্যেই ছিলেন।

জহির রায়হানের পরিচয়:

জহির রায়হান ১৯৩৫ সালের ১৯ আগস্ট বর্তমান ফেনী জেলার অন্তর্গত মজুপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। জন্ম ফেনীতে হলেও ওনারা পারিবারিকভাবে থাকতেন কলকাতায়। ১৯৪৭ সালে দেশবিভাগের পর তিনি তার পরিবারের সাথে কলকাতা হতে বাংলাদেশে (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান) স্থানান্তরিত হন। তিনি ১৯৫৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হতে বাংলায় স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি ব্যক্তিগত জীবনে দু’বার বিয়ে করেন। ১৯৬১ সালে সুমিতা দেবীকে এবং ১৯৬৬ সালে তিনি সুচন্দাকে বিয়ে করেন, দুজনেই ছিলেন সে সময়কার বিখ্যাত চলচ্চিত্র অভিনেত্রী।

মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর জহির রায়হান আগরতলা হয়ে কলকাতায় পৌঁছান। নিজেকে যুক্ত করেন মুক্তিযুদ্ধের প্রচার কাজ সংগঠিত করার কাজে নিজেকে যুক্ত করেন এবং পাকিস্থানের গণহত্যা বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরার জন্য ‘’স্টপ জেনোসাইড” নামের একটি প্রামাণ্যচিত্র তৈরি করার উদ্যোগ নেন। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো যুদ্ধে শরণার্থী শিবিরে মানুষের দুর্দশার চিত্র, কলকাতায় পালিয়ে যাওয়া বড় বড় নেতাদের আরাম আয়েশের চিত্র তুলতে গিয়ে জহির রায়হান মুজিবনগর সরকারের রোষানলে পড়েছিলেন। সাধারন মানুষদের মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহন করার অমানুষিক পরিশ্রমের অনেক চিত্র তিনি জীবন বাজি রেখে ধারন করেছিলেন । ‘স্টপ জেনোসাইড’ প্রামাণ্যচিত্র তৈরি করার সময় ও মুক্তির দেয়ার সময় কলকাতায় আওয়ামীলীগ নেতারা বারবার জহির রায়হানকে বাধাগ্রস্থ করেছিলেন।

“স্টপ জেনোসাইড” ছবিটি নির্মাণের সময় আওয়ামী লীগের নেতারা তাঁকে নানাভাবে বাধা দিয়েছে। বিভিন্ন সেক্টরে শুটিং করতে দেয় নি, এমন কি কোন কোন সেক্টরে তাঁর গমন পর্যন্ত নিষিদ্ধ ছিল।

… আওয়ামী লীগের নেতারা ছবি দেখে ছাড়পত্র না দেয়ার জন্য পশ্চিমবঙ্গ সেন্সর বোর্ডকে অনুরোধ জানিয়েছিলেন।”

তথ্যসূত্র : একুশে ফেব্রুয়ারী / জহির রায়হান (ভূমিকা : শাহরিয়ার কবির) ॥ [ পল্লব পাবলিশার্স – আগস্ট, ১৯৯২ । পৃ: ১৩-১৬ ]
গুম হওয়ার ঘটনা:

বাংলাদেশ স্বাধীন হলে ১৯৭১ সালের ১৭ ডিসেম্বর জহির রায়হান ঢাকায় ফিরে আসেন। ফিরে এসেই শুনলেন তার অগ্রজ শহীদুল্লাহ কায়সার ১৪ ডিসেম্বর থেকে নিখোঁজ। তার উদ্যোগে বেসরকারি বুদ্ধিজীবী হত্যা তদন্ত কমিটি গঠিত হয়। বুদ্ধিজীবী হত্যাকান্ডসহ অন্যান্য ঘটনার প্রচুর প্রমাণাদি তিনি সংগ্রহ করেন এবং সাংবাদিক সম্মেলনে ঘোষণা করেন যে, তার সংগৃহীত প্রমাণাদি প্রকাশ করলেই অনেকের কুকীর্তি ফাঁস হয়ে যাবে। স্বাধীনতাযুদ্ধ চলাকালে ভারতের মাটিতে আওয়ামী লীগের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গের মুক্তিযুদ্ধবিরোধী কর্মকান্ড, বিভিন্ন হোটেলে বিলাসবহুল ও আমোদ-ফুর্তিময় জীবনযাপন, রাজনৈতিকভাবে প্রতিপক্ষ আওয়ামী আদর্শে বিশ্বাসহীন বাঙালিদের নির্মূল করার ষড়যন্ত্র প্রভৃতির প্রামাণ্য দলিল জহির রায়হান কলকাতা থাকাকালে সংগ্রহ করেছিলেন। বড় ভাই শহীদুল্লাহ কায়সারের নিখোঁজ ও বুদ্ধিজীবী হত্যাকান্ডের ঘটনাবলী তাকে বিচলিত করে। এসব ঘটনা তাঁর পূর্বেকার রাজনৈতিক বিশ্বাসের ভিত নাড়িয়ে দেয়।

শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের সর্বময় ক্ষমতায় আসীন হওয়ার ১৫ দিন পর ১৯৭২ সালের ২৫ জানুয়ারি ঢাকা প্রেসক্লাবে এক সাংবাদিক সম্মেলনে চলচ্চিত্রকার জহির রায়হান ঘোষণা দেন, বুদ্ধিজীবী হত্যাকান্ডের পেছনে নীলনকশা উদ্ঘাটনসহ মুক্তিযুদ্ধের সময়ের অনেক গোপন ঘটনার নথিপত্র, প্রামাণ্য দলিল তার কাছে আছে, যা প্রকাশ করলে সদ্যস্বাধীন বাংলাদেশের মন্ত্রীসভায় ঠাঁই নেয়া অনেক নেতার কুকীর্তি ফাঁস হয়ে পড়বে। আগামী ৩০ জানুয়ারি সন্ধ্যায় এই প্রেসক্লাবে ফিল্ম শো প্রমাণ করে দেবে কার কি চরিত্র ছিল।

১৯৭২ সালের ২৫ জানুয়ারি সাংবাদিক সম্মেলনের কয়েকদিন পর ৩০ জানুয়ারি রোববার সকালে এক রফিক নামের অজ্ঞাত টেলিফোন আসে জহির রায়হানের কায়েতটুলির বাসায়। রফিক ছিলেন জহিরের পূর্ব পরিচিত যিনি ইউসিসে চাকরি করতেন । প্রথমে ফোন ধরেছিলেন জহির রায়হানের ছোট বোন ডাক্তার সুরাইয়া যার কাছে জহিরকে খোঁজা হচ্ছিল । সুরাইয়া জহির রায়হানকে ডেকে ফোন ধরিয়ে দেয় । টেলিফোনে জহিরকে বলা হয়েছিল, আপনার বড়দা মিরপুর বারো নম্বরে বন্দী আছেন। যদি বড়দাকে বাঁচাতে চান তাহলে এক্ষুণি মিরপুর চলে যান। একমাত্র আপনি গেলেই তাকে বাঁচাতে পারবেন। টেলিফোন পেয়ে জহির রায়হান দুটো গাড়ী নিয়ে মিরপুরে রওনা দেন। তাঁর সাথে ছিলেন ছোট ভাই মরহুম জাকারিয়া হাবিব, চাচাত ভাই শাহরিয়ার কবির, বাবুল (সুচন্দার ভাই), আব্দুল হক (পান্না কায়সারের ভাই), নিজাম ও পারভেজ।মিরপুর ২ নং সেকশনে পৌছার পর সেখানে অবস্থানরত ভারতীয় সেনাবাহিনী, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী (ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট) এবং পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে জহির রায়হানের টয়োটা গাড়ি (ঢাকা-ক-৯৭৭১)সহ থাকতে বলে অন্যদের ফেরত পাঠিয়ে দেন। শাহরিয়ার কবির অন্যদের সাথে করে বাড়ী ফিরে আসেন । এভাবেই জহির চিরতরে হারিয়ে যায়। অথচ সেদিন বিকেলেই প্রেসক্লাবে তাঁর কাছে থাকা অনেক দুর্লভ তথ্য প্রমান ফাঁস করার কথাছিল যা ফাঁস হলে অনেকের মুখোশ উম্মোচিত হয়ে যেতো যা আর কোনদিন করা হলো না ।

জহির রায়হানের স্বজনদের সন্দেহ ও কারণ:

ঘটনা পরম্পরা পর্যালোচনা করলে তার মৃত্যুর দায়-দায়িত্ব তৎকালীন প্রশাসনকেই গ্রহণ করতে হয় এবং (তাদের ভাষায়) রাজাকার বা দালালদের ওপর কোনভাবেই চাপানো যায় না। এই কলামে নিজস্ব মন্তব্যের পরিবর্তে ওপরে উল্লেখিত ব্যক্তিবর্গের উদ্ধৃতি এবং মন্তব্য ব্যাপকভাবে তুলে ধরা হচ্ছে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবেশ যখন অপপ্রচার এবং উস্কানিমূলক প্রচারণার বিষবাষ্পে আচ্ছন্ন তখন এসব ব্যক্তিবর্গের সেদিনের উক্তি এবং আজকের ভূমিকা মিথ্যা প্রচারণায় বিভ্রান্ত মানুষকে সত্যের আলোকবর্তিকা দেখাতে সাহায্যে করবে।

| এক |
সেই সময়কার সরকার নিয়ন্ত্রিত সাপ্তাহিক ‘বিচিত্রায়’ বিশ্ববিখ্যাত চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায়ের একটি সাক্ষাৎকার ছাপা হয়েছিল। সংখ্যাটি ছিল ১৯৯২ সালের ১ মে। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছিলেন আজকের আওয়ামীপন্থী বুদ্ধিজীবী শাহরিয়ার কবির। সাক্ষাৎকারের একপর্যায়ে সত্যজিৎ রায় শাহরিয়ার কবিরকে হঠাৎ করে জিজ্ঞেস করলেন… -“জহিরের ব্যাপারটা কিছু জেনেছো?”

শাহরিয়ার কবির বলেন, “তাকে সরিয়ে ফেলার পেছনে ষড়যন্ত্র রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। আমরা ব্যক্তিগতভাবে তদন্ত করে যা বুঝতে পেরেছি তাতে বলা যায়, ৩০ জানুয়ারি দুর্ঘটনায় তিনি হয়তো মারা যাননি। তারপরও দীর্ঘদিন তাকে বাঁচিয়ে রাখা হয়েছিল বলে অনেকে মনে করেন। সেটাই ষড়যন্ত্রের মূলসূত্র বলে ধরছি। মিরপুরে দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হলে গভীর ষড়যন্ত্র মনে করার কোনো করণ ছিল না। আমি যতদূর জানি, বুদ্ধিজীবীদের হত্যার তদন্ত করতে গিয়ে তিনি এমন কিছু তথ্য সংগ্রহ করেছিলেন যা অনেক রথী-মহারথীর জন্যই বিপজ্জনক ছিল, যে জন্য তাকে সরিয়ে ফেলার প্রয়োজন হয়েছিল।”

তথ্যসূত্র : একুশে ফেব্রুয়ারী / জহির রায়হান (ভূমিকা : শাহরিয়ার কবির) ॥ [ পল্লব পাবলিশার্স – আগস্ট, ১৯৯২ । পৃ: ১৩-১৬ ]

১৯৯২ সালেও শাহরিয়ার কবির মনে করতেন যে, জহির রায়হানকে ১৯৭২ সালের ৩০ জানুয়ারির পরেও দীর্ঘদিন বাঁচিয়ে রাখা হয়েছিল। তাহলে ঘাদানিক নেতৃবৃন্দ এবং আওয়ামী বুদ্ধিজীবীরা বলুন যে, স্বাধীন বাংলাদেশে জহির রায়হানকে আটকে রাখার ক্ষামতা ছিল কাদের? বলা হচ্ছে যে, বুদ্ধিজীবী হত্যার তদন্ত করতে গিয়ে জহির রায়হানের হাতে এমন কিছু তথ্য এসেছিল যেটা রথী-মহারথীদের জন্য ছিল বিপজ্জনক। স্বাধীন বাংলাদেশে আওয়ামী সরকারের আমলে কারা ছিলেন রথী-মহারথী? যে বিপজ্জনক তথ্যের জন্য তাকে সরিয়ে ফেলার প্রয়োজন হয়েছিল সেসব তথ্য কাদের জন্য বিপজ্জনক ছিল? তাদের ভাষায় ‘রাজাকার’ এবং ‘পাকিস্তানী দালালদের’ রাজনীতি তো নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। কারা তাহলে জহির রায়হানকে সরিয়েছে? যুদ্ধাপরাধী বা দালালদের বিচার করতে গেলে এসব প্রশ্ন এসে পড়বে।

| দুই |
জহির রায়হান নিখোঁজের প্রায় এক বছর পর [ ১৯৭৩ সালের ২২ শে জানুয়ারি] সাংবাদিক আহাম চৌধুরীর লিখা ” জহির রায়হান হত্যা রহস্য আর কতদিন ধামাচাপা পড়ে থাকবে ” শীর্ষক এক প্রতিবেদনে বলেছিলেন – জহির রায়হান মিরপুর কলোনির অভ্যন্তরে যাননি । ক্যাম্প থেকেই তিনি নাকি নিরুদ্দেশ হয়েছিলেন । কারা তাঁকে নিয়ে গিয়েছিলেন সেই খবরও কারো অজানা নয় । সরকার নিখোঁজ জহির রায়হান’কে খুঁজে বের করার কোন আন্তরিকতা দেখায়নি বরং জহির রায়হান নিখোঁজের রহস্য ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করছে। কিন্তু কতদিন থাকবে এই ধামাচাপা?
মুজিবনগরে যে কজন রুই কাতলার সাথে জহির রায়হানের চিন্তাধারার সাথে বচসা হয়েছিল জহির হত্যাকাণ্ডে তারাও নাকি জড়িত রয়েছেন । জহির হত্যার পরিকল্পনা ১৫ দিন ধরে করা হয়েছিল । জহিরকে তিরিশে জানুয়ারি খাঁচায় পুরে একত্রিশ তারিখে অন্য একটি স্থানে সরিয়ে দেয়া হয় । সেখানে তাঁকে তদন্ত কমিটি ভেঙে দেয়ার আহবান জানানো হয় । বুদ্ধিজীবী হত্যার তদন্তের চিন্তা না করে ভাতের চিন্তা করতে বলা হয় । জহির রায়হানের হত্যাকারী দল আরও একদিন তাঁকে চিন্তা করার সময়ও নাকি দিয়েছিলেন – আর সেদিনটি নাকি ছিল উনিশ’শ বাহাত্তর সালের দ্বিতীয় মাসের প্রথম দিন যথা সর্বনাশা ফেব্রুয়ারির সর্বনাশা মঙ্গলবার । ”

|তিন|
জহির রায়হান এর প্রথম স্ত্রী প্রয়াত অভিনেত্রী সুমিতা দেবী এক সাক্ষাতকারে বলেছিলেন ”জহির রায়হান নিখোঁজ এই নিয়ে পত্র-পত্রিকায় বেশ লেখালেখিও হলো। একদিন বড়দি অর্থাৎ জহিরের বড় বোন নাসিমা কবিরকে ডেকে নিয়ে শেখ মুজিব বললেন, জহিরের নিখোঁজ হওয়া নিয়ে এ রকম চিৎকার করলে তুমিও নিখোঁজ হয়ে যাবে। পরে নাসিমা আর কিছু বলেনি। টেলিফোন করেছিল যে রফিক, তাকে নিয়ে যখন পত্র-পত্রিকায় লেখালেখি শুরু হলো। তখন তাকে নাগরিকত্ব দিয়ে পুরো পরিবারসহ আমেরিকায় পাঠিয়ে দেয়া হলো। এই ঘটনা জহিরের নিখোঁজ হওয়ার সম্পর্কে রফিকের ভূমিকাকে আরো সন্দেহযুক্ত করে তোলে আমার কাছে।”

(সুত্রঃ দৈনিক আজকের কাগজ ৮ ডিসেম্বর ১৯৯৩)

|চার|
দৈনিক আজকের কাগজ ৮ ডিসেম্বর ১৯৯৩ সংখ্যা ‘জহির রায়হানের হত্যাকারী রফিক এখন কোথায়’ শীর্ষক প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে সরকার সাহাবুদ্দিন আহমদ লিখেছেন, প্রতিবেদনে বলা হয়, জহির রায়হান নিখোঁজ এই নিয়ে লেখালেখি হলে একদিন বড়দি অর্থাৎ জহির রায়হানের বড় বোন নাফিসা কবিরকে ডেকে নিয়ে শেখ মুজিব বললেন, জহিরের নিখোঁজ নিয়ে এ রকম চিৎকার করলে তুমিও নিখোঁজ হয়ে যাবে। কিন্তু এখন প্রশ্ন হচ্ছে যে, জহির রায়হানের মতো একজন বিখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা স্বাধীনতার পর নিখোঁজ হয়েছে এটা নিয়ে চিৎকার হওয়াটাই স্বাভাবিক। কিন্তু শেখ মুজিব কেন জহির রায়হানের বড় বোনকে ডেকে নিয়ে নিখোঁজ করে ফেলার হুমকি দিলেন। কি রহস্য ছিল এর পেছনে? তাহলে কি বুদ্ধিজীবী হত্যার ব্যাপারে শেখ মুজিব এমন কিছু জানতেন, যা প্রকাশ পেলে তার নিজের কিংবা আওয়ামী লীগের জন্য ক্ষতির কারণ হতো? আর কেনইবা তড়িঘড়ি করে জহির রায়হানের তথাকথিত হত্যাকারী রফিককে সপরিবারে আমেরিকা পাঠিয়ে দেয়া হলো? রফিক কে ছিলেন/ কি তার রাজনৈতিক পরিচয়?

সূত্র : সরকার সাহাবুদ্দিন আহমদ, রাহুর কবলে বাংলাদেশের সংস্কৃতি, ঢাকা, পৃষ্ঠা-১০৮, আসলাম সানী রচিত “শত শহীদ বুদ্ধিজীবী”

|পাঁচ|
৯ আগস্ট ১৯৯৯ দৈনিক বাংলার বাণী পত্রিকায় প্রকাশিত হয় জহির রায়হানের মেজো সন্তান অনল রায়হানের অভিযোগ। তিনি অভিযোগ করেন, ‘জহির রায়হান নিখোঁজ হওয়ার পর আওয়ামী লীগ সরকার এক ভুয়া তদন্ত কমিটি গঠন করেছিলেন। এই কমিটি কোনো কাজ করেনি। মুক্তিযুদ্ধের প্যানপ্যানানি করে আওয়ামী লীগ সরকার আবার ক্ষমতায় এলো …মুজিব হত্যার বিচার হচ্ছে। এই হত্যাকান্ড ঘটেছে ১৯৭৫ সালে। এর আগে জহির রায়হানসহ অনেক বুদ্ধিজীবীকে হত্যা করা হয়েছে। কই তাদের তো বিচার হলো না।

|ছয়|
শহীদ সেলিমের মায়ের মতে, বঙ্গভবনের ওর ঘর থেকে যে প্রয়োজনীয় কাগজগুলো উধাও হয়েছিল সেগুলো সম্ভবত তদন্ত কমিটির গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রই হবে। খোদ বঙ্গভবন থেকে জিনিসপত্র উধাও হয়ে যাবে তা ভাবতেও বিশ্বাস হয় না। শহীদ সেলিম বুদ্ধিজীবী হত্যা তদন্তের কাজে সরাসরি জড়িত ছিলেন একথা আমি আগে জানতাম না। আমি কেন, আর কেউ জানে কিনা তাও জানি না। জহির রায়হান ও সেলিমের নিখোঁজ রহস্য এখন আমার কাছে আরও রহস্যজনক বলে মনে হচ্ছে। বুদ্ধিজীবী হত্যা যেমন ৭১ সালে গুরুত্বের সঙ্গে উদঘাটিত হয়নি, তেমনি জহির রায়হান নিখোঁজ রহস্যও গুরুত্বের সঙ্গে উদঘাটিত করার প্রয়োজনীয়তা কেউ অনুভব করেনি। অথচ এটা একটা গভীর ষড়যন্ত্র। যে ষড়যন্ত্রের বিষবৃক্ষের বীজ রোপণ হয়েছিল সেদিন।”

সূত্র: দৈনিক ‘বাংলার বাণী’ বাংলা ১৩৯৯, ১০ জৈষ্ঠ্য, ইং ১৯৯২

|সাত|
জহির রায়হানের ভাবী আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য পান্না কায়সার নিজেই বলেছেন যে, খোদ বঙ্গভবন থেকে গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র উধাও হয়ে যাবে সেটা ভাবনারও অতীত। জহির রায়হানের সাথে লেফটেন্যান্ট সেলিমও বুদ্ধিজীবী হত্যা তদন্তে সরাসরি জড়িত ছিলেন। এ সম্পর্কিত কাগজপত্র জহির রায়হান এবং সেলিম উভয়ের কাছ থেকেই উধাও হয়ে গেছে। স্বাধীন বাংলাদেশে প্রেসিডেন্টের ভবন থেকে কাগজপত্র উধাও করতে পারে কারা? ‘রাজাকার’ বা ‘পাকিস্তানপন্থীরা’ অবশ্যই নয়। এটা করা সম্ভব একমাত্র তাদের পক্ষে, যারা ক্ষমতার আশপাশে ছিলেন।

সূত্র: দৈনিক ‘বাংলার বাণী’ বাংলা ১৩৯৯, ১০ জৈষ্ঠ্য, ইং ১৯৯২

|আট|
জহির সম্পর্কে বলতে গিয়ে,জহির রায়হানের স্ত্রী সুচন্দার ছোট বোন নায়িকা ববিতা উল্লেখ করেছেন, ভারত থেকে ফিরে আসার পর একবার এক মিটিংয়ে উনি বলেছিলেন “যুদ্ধের নয়মাস আমি কলকাতায় ছিলাম। আমি দেখেছি সেখানে কে কি করেছে। কে দেশের জন্য করেছে, আর কে নিজের আখের গুছিয়েছে। আমার কাছে সব রেকর্ড আছে। আমি সব ফাঁস করে দেব। এটাই জহির রায়হানের জীবনে কাল হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এজন্যই জহিরকে ফাঁদে ফেলে মিরপুর নিয়ে যাওয়া হয় এবং পরিকল্পনামাফিক তাকে সরিয়ে দেয়া হয় পৃথিবী থেকে।

সূত্র: ‘আনন্দ ভুবন’ এর ১৬ মার্চ, ‘১৯৯৭ সংখ্যায় ‘কুলায় কালস্রোত’ বিভাগে শিরোনাম ‘পুরানো সেই দিনের কথা’

|নয়|
বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা ও প্রখ্যাত লেখক রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর এবনে গোলাম সামাদের ‘বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ প্রসঙ্গে’ শীর্ষক লেখায় তিনি বলেছেন, “চলচ্চিত্র পরিচালক জহির রায়হানের সঙ্গে আমার কলকাতায় পরিচয় ঘটে। তার থাকবার কোন জায়গা ছিল না প্রথমে। আমি তাকে তিন মাসের জন্য থাকবার একটা খুব ভাল ব্যবস্থা করে দিতে পেরেছিলাম কলকাতায়। দেশে ফিরবার পর তিনি মারা যান।

ড. সামাদ আরো বলেছেন, ৭ ডিসেম্বর (৭১) কলকাতায় বাংলাদেশ দূতাবাসে একটি উৎসব হয়। রায়হান সেখানে উপস্থিত ছিলেন। আমিও ছিলাম। তিনি বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব হিসেবে ছিলেন আমার দু’সারি আগে। হঠাৎ তাকে বলতে শুনি “দেশকে দু’বার স্বাধীন হতে দেখলাম। আবার একবার স্বাধীন হতে দেখবো কিনা জানি না।” কেন তিনি এ ধরনের মন্তব্য করেছিলেন, তা ভেবে আমার মনে পরে অনেক প্রশ্ন জেগেছে। তার মৃত্যু আজো হয়ে আছে রহস্যঘেরা।

জহির রায়হানের উপরোক্ত মন্তব্যে দেখা যায়, তিনি ৪৭ সালে ইংরেজদের বিদায়, ভারতবর্ষ বিভক্তি, পাকিস্তানের জন্মকেও স্বাধীনতা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন। তার চেয়েও বেশি তাৎপর্যমণ্ডিত ব্যাপার হলো, মওলানা ভাসানীর অনুসারী জহির খুব সম্ভব বাংলাদেশের স্বাধীনতা ভবিষ্যতে ভারতের আগ্রাসন ও আধিপত্যবাদ কবলিত হওয়া এবং তার বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে জনগণের আরেকবার বিজয় অর্জনের দিকেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। আর এই ইঙ্গিতে ভারতপন্থী মহল এবং তাদের গুরুদের গা-জ্বালা ধরে যাওয়াই স্বাভাবিক। তখনকার পরিস্থিতিতে খোদ কলকাতায় বসে প্রকাশ্যে এমন উক্তি করা তাদের কাছে ‘স্পর্ধা’ বলে মনে হতে পারে। হয়তো এই দুঃসাহসের মূল্য হিসেবেই জহিরকে জীবন দিতে হয়েছে। আমার বিশ্বাস জহির মিরপুরে মারা যায়নি। ঘাতকরা তাকে অন্য কোথাও হত্যা করেছে। এ বিশ্বাস এখনো আমার আছে, ।

|দশ|
বামপন্থীদের একটি পক্ষের মতে পাকিস্তানি হানাদার বা অবাঙালিরা নয়, মুক্তিযোদ্ধাদের একটি অংশই জহির রায়হানকে খুন করেছে। মুক্তিযোদ্ধাদের এ অংশটির লক্ষ্য ছিল – বাংলাদেশকে স্বাধীন করা এবং সঙ্গে সঙ্গে বামপন্থী বুদ্ধিজীবিসহ সামগ্রিকভাবে বামপন্থী শক্তিকে নি:শেষ করে দেয়া। এরা নাকি বামপন্থী বুদ্ধিজীবিদের হত্যার একটা তালিকা প্রণয়ন করেছিল। এদের ধারণা এ তালিকাটি জহির রায়হানের হাতে পড়েছিল। জহির রায়হানও জানত তার জীবন নিরাপদ নয়। তবুও সে ছিল ভাইয়ের শোকে মূহ্যমান। তাই শহীদুল্লাহ কায়সারের নাম শুনেই সে ছুটে গিয়েছিল মিরপুরে তারপর আর ফিরে আসেনি। এ মহলই তাকে ডেকে নিয়ে খুন করেছে।

তাহলে কোনটি সত্য? জহির রায়হানকে কারা গুম করেছে? পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীরা, আল বদর, আল শামস্, না রাজাকার? নাকি মুক্তিবাহিনীর একটি অংশ? স্পষ্ট করে বললে বলা যায় – মুক্তিবাহিনীর এ অংশটি মুজিব বাহিনী।
১৯৭১ সালে প্রবাসী স্বাধীন বাংলা সরকারের অজান্তে গড়ে ওঠা মুজিব বাহিনী সম্পর্কে অনেক পরস্পরবিরোধী তথ্য আছে। বিভিন্ন মহল থেকে বারবার বলা হয়েছে, এ বাহিনী গড়ে উঠেছিল ভারতের সামরিক বাহিনীর জেনারেল ওবান-এর নেতৃত্বে। এ বাহিনী নাকি মিজোরামে ভারতীয় বাহিনীর সঙ্গে মিজোদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছে। এদের নাকি দায়িত্ব ছিল – রাজাকার, শান্তি কমিটিসহ বাংলাদেশের সকল বামপন্থীদের নি:শেষ করে ফেলা। মুজিব বাহিনী সম্পর্কে এ কথাগুলো বারবার লেখা হচ্ছে। কোন মহল থেকেই এ বক্তব্যের প্রতিবাদ আসেনি। অথচ দেশে মুজিব বাহিনীর অনেক নেতা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বে আছেন। তারা কোন ব্যাপারেই উচ্চবাচ্চ্য করছেন না। তাদের নীরবতা তাদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত বক্তব্যই প্রতিষ্ঠিত করছে এবং সর্বশেষ জহির রায়হানের নিখোঁজ হবার ব্যাপারেও মুজিব বাহিনীকেই দায়ী করা হচ্ছে॥”

– নির্মল সেন / আমার জবানবন্দি ॥ [ইত্যাদি গ্রন্থ প্রকাশ – ফেব্রুয়ারি, ২০১২ । পৃ: ৪০৫-৪০৬ ]

কবি নজরুলের বাড়ী

অনেকেই এই বাড়িটিকে কবি নজরুলের বাড়ি মনে করেন।এটি কবি নজরুলে বাড়ি নয় । এই বাড়িটি চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুরহুদা উপজেলাধীন কার্পাসডাঙ্গার এই পাড়ার শ্রী মহিম সরকারের গ্রামের বাড়ী । শ্রী মহিম সরকার স্বপরিবারে কলকাতা থাকতেন। সেখান থেকেই শ্রী মহিম সরকারের সাথে কবি কাজী নজরুল ইসলামের খুবই বন্ধুত্ব ছিলো। কেননা কবি নজরুলের রিবারের শাশুরী,স্ত্রী,ছেলেরা এমনকি কাজের মেয়েটিও ছিল হিন্দু ।কবিও তখন একেবারে কালীদেবির পুরোপুরি ভক্ত হয়ে গিয়েছিলেন ।কালী দেবিকে নিয়ে তিনি বিশাল শ্যামা সঙ্গিত রচনা করে গেছেন যা আজও কালী দেবী পূঁজারীদের প্রধান সঙ্গীত । তাই শ্রী মহিম সরকারের বাড়িতে কবির আসা-যাওয়া ছিলো আপনজনের মতো। মহিমের দুই মেয়ে আভা রাণী সরকার ও শিউলী রাণী সরকার নজরুল গীতি চর্চা করতেন। তাদের গানের তালিম দিতেন কবি কাজী নজরুল ইসলাম নিজে। পরবর্তীতে আভা রাণী সরকারের গানের রেকর্ডও বের হয়। প্রখ্যাত লেখক ড. আশরাফ সিদ্দিকী অনুসন্ধান করে নজরুলের কথা ও সুরে আভা রাণী সরকারের ছয়টি গানের রেকর্ড-তথ্য পান। একাধিক তথ্যসূত্রে জানা যায়, মহিম সরকারের পারিবারিক আমন্ত্রণে একাধিকবার কবি নজরুল কার্পাসডাঙ্গায় এসেছেন। তবে ১৯২৬ সালে ২৭ বছর বয়সে কবি সপরিবারে এখানে বেড়াতে আসেন। এ সময় প্রায় দুই মাস কার্পাসডাঙ্গায় অবস্থান করেন । কবি নজরুলের সাথে এসেছিলেন শাশুড়ি গিরিবালা দেবী, স্ত্রী প্রমীলা দেবী ও বড় ছেলে কৃষ্ণ মোহাঃ ।

কৃষ্ণ নগর কটেজঃ
কৃষ্ণ নগর শাশুরীর বাড়ীর সামনে উঠানো ছবি । ছবিতে নজরুল এর কোলে তার ছেলে , সেবিকা প্রণতি ,
শ্বাশুরি গিরিবালা দেবী এবং স্ত্রী প্রমীলা দেবী।এই বাড়ীতেই কবি নিয়মিত বসবাস করতেন ।

ভারত নিয়ন্ত্রিত ঢাকায় ১৪ ডিসেম্বর বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করলো কে?

ভারত নিয়ন্ত্রিত ঢাকায় ১৪ ডিসেম্বর
বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করলো কে?
সাহাদত হোসেন খান

আমাদের জাতীয় ইতিহাসে ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর সংঘটিত বুদ্ধিজীবী হত্যাকান্ড একটি গভীর রহস্য। কোনো সুস্থ মানুষের পক্ষে এ হত্যাকান্ড সমর্থন করা সম্ভব নয়। স্বাধীনতার প্রাক্কালে কোন পক্ষ তাদের হত্যা করতে পারে তা নিয়ে গবেষণার শেষ নেই। বিএনপির সাবেক মহাসচিব মরহুম আবদুল মান্নান ভূঁইয়ার একটি উক্তি স্মরণ করা যেতে পারে। তিনি দৈনিক দিনকালে প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ১২ ডিসেম্বর থেকে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী নিষ্ক্রিয় হয়ে যায় এবং তাদের সামরিক কমান্ড ভেঙ্গে পড়ে। সে সময় তারা ছিল আত্মসমর্পণ ও আত্মরক্ষায় ব্যস্ত। নিজেদের জান নিয়ে যেখানে টানাটানি সেখানে অন্যকে হত্যা করার সুযোগ কই। আমি মান্নান ভূঁইয়ার বিশ্লেষণকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেই। কেননা তিনি শুধু একজন রাজনৈতিক কর্মী নন, তিনি ছিলেন একজন গেরিলা নেতা। ১৯৭১ সালের গেরিলা কমান্ডার আবদুল মান্নান ভূঁইয়া তার সামরিক জ্ঞান থেকে এ মন্তব্য করেছিলেন।
আরো অনেকে অভিন্ন মতামত দিয়েছেন। হত্যাকান্ডের শিকার বুদ্ধিজীবীরা ছিলেন পাকিস্তানপন্থী। তাদের কেউ ভারতে যাননি। জহির রায়হানের মতো অনেকে ছিলেন কমিউনিস্ট। পাকিস্তানি সৈন্যরা তাদের জীবনের সংকটকালে তাদের প্রতি অনুগত বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করতে যাবে কেন, তাই হলো প্রশ্ন। সামরিক বিষয়ে অভিজ্ঞ ব্যক্তি মাত্র বিশ্বাস করেন যে, পাকিস্তানি সৈন্যদের নাম ব্যবহার করে অন্য কেউ তাদের হত্যা করেছে। সন্দেহভাজন হিসেবে ভারতের নাম উচ্চারিত হয় সর্বাগ্রে। ভারতে না যাওয়ায় তাদের প্রতি ছিল ভারতের সন্দেহ। শহীদুল্লাহ কায়সারের হত্যাকান্ডে জড়িত ব্যক্তি ‘জল’ চেয়েছিল। জল কোনো মুসলমানের পরিভাষা নয়। ভারতীয় বাঙালিরা জল বলে। তাই বুদ্ধিজীবী হত্যাকান্ডের তীর ভারতের প্রতি।
পরাজয়ের শেষ মুহূর্তে ১৪ ডিসেম্বর ৯৯১ জন শিক্ষক, ১৩ জন সাংবাদিক, ৪৯ জন চিকিৎসক, ৪২ জন আইনজীবী, ১৬ জন লেখক, শিল্পী ও প্রকৌশলীকে হত্যা করা হয়। ঢাকার রায়েরবাজারসহ বহু জায়গায় গণকবরের সন্ধান পাওয়া যায়। বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনায় মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ’র ভূমিকা ছিল বলে কেউ কেউ দাবি করছেন। তবে এ হত্যাকান্ডের মূল নায়ক হিসেবে পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নরের উপদেষ্টা রাও ফরমান আলীকে অভিযুক্ত করা হয়। তার ডায়েরীতে লেখা ছিল ‘পূর্ব পাকিস্তানের সবুজ মাটিকে রক্তে লাল করে দেয়া হবে।’ একথা লেখা থাকায় ১৯৭৪ সালে লাহোরে ওআইসি শীর্ষ সম্মেলনে যোগদানকালে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিচারের জন্য তাকে বাংলাদেশের হাতে তুলে দেয়ার জন্য পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী জুলফিকার আলী ভুটোর কাছে দাবি জানান। ভুট্টো তাকে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করেননি। বিচারের জন্য তাকে বাংলাদেশের আদালতে হাজির হতে না হলেও ফরমান নিস্তার পাননি। আন্তর্জাতিক রেডক্রস তার কাছে ডায়েরীতে একথা লিখে রাখার উদ্দেশ্য সম্পর্কে জানতে চেয়েছে। তিনি বিস্তারিত তাদের জানান। তার বিরুদ্ধে তদন্ত করা হয়। হামুদুর রহমান কমিশনও তাকে এব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করে। জবাবে তিনি কমিশনকে জানান, লেখাটি তার নিজের হাতের হলেও কথাটি তার নয়।
রাও ফরমান বাংলাদেশি সাংবাদিক সৈয়দ মবনুর সঙ্গে এক একান্ত সাক্ষাৎকারে জানান, ১৯৬৯ সালের ১৬ জুন পল্টন ময়দানে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির (ন্যাপ) সমাবেশে দলের অন্যতম নেতা কাজী জাফর আহমেদ একথা বলেছিলেন। সৈয়দ মবনুর ‘লাহোর থেকে কান্দাহার’ নামে বইয়ের ১৫৬-৫৭ পৃষ্ঠায় ফরমান আলীর সঙ্গে তার সাক্ষাৎকারের বিবরণ দেয়া হয়েছে। ১৪ ডিসেম্বর বুদ্ধিজীবী হত্যাকান্ডে তার ভূমিকা সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, তখন তো ঢাকা ছিল ভারতীয় সৈন্যদের নিয়ন্ত্রণে। তাদের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করলো কে? আমি মনে করি এব্যাপারে কাউকে দায়ী করতে হলে অবশ্যই ভারতকে। তিনি আরো বলেন, পূর্ব পাকিস্তানের সবুজ মাটি লাল করে দেয়ার ঘোষণা তার ছিল না। ঢাকায় কোর হেডকোয়ার্টার থেকে ইস্টার্ন কমান্ডের কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল সাহেবজাদা ইয়াকুব খান তাকে জানান যে, তোয়াহা ঢাকায় ভাসানী ন্যাপের এক মিটিংয়ে বলেছেন, ‘আমি পূর্ব পাকিস্তানের সবুজ মাটি রক্তে লাল করে দেবো।’ ইয়াকুব খানের মুখ থেকে কথাটি শুনে তিনি তার টেবিল ডায়েরীতে লিখে রাখেন। বাংলাদেশে তোয়াহা ছিলেন দু’জন। একজন ছিলেন ইসলামী এবং অন্যজন ছিলেন নোয়াখালীর সেক্যুলার মোহাম্মদ তোয়াহা। রাও ফরমান মোহাম্মদ তোয়াহাকে খবর দেন। তোয়াহার সঙ্গে তার সম্পর্ক ভালো ছিল। গ্রেফতার না করার আশ্বাস দিলে তিনি তার সঙ্গে দেখা করেন। এসময় রাও ফরমান তাকে জিজ্ঞেস করেন, ‘তুমি এসব কি বলছো?’ জবাবে তোয়াহা তাকে জানান, কথাটি তার নয়, কাজী জাফরের। রাও ফরমান তার কাছে কথাটির অর্থ জানতে চাইলে মোহাম্মদ তোয়াহা বলেন, একথার অর্থ এ দেশে কমিউনিস্ট বিপ্লব কায়েম করা হবে। লাল হচ্ছে কমিউনিজমের প্রতীক। ফরমান আলীর সঙ্গে দেখা করে মোহাম্মদ তোয়াহা চলে যান। কিন্তু কথাগুলো তার ডায়েরীতে থেকে যায়। ফরমান আলীর ডায়েরীর লেখার সঙ্গে বাস্তবতার মিল খুঁজে পাওয়ায় তার প্রতি সন্দেহের তীর নিক্ষিপ্ত হয়।
(লেখাটি আমার ‘পলাশী থেকে একাত্তর’ থেকে নেয়া। বইটি প্রকাশ করেছে আফসার ব্রাদার্স।)

হিটলার ও গ্র্যান্ড মুফতির সাক্ষাৎ এবং কিছু অলীক অভিযোগ

হিটলার – আমি তো ইহুদীদের হত্যা করতে চাই না, তাদেরকে দেশ থেকে বিতাড়িত করতে চাই।
মুফতি – তাহলে তো তারা সবাই আমাদের দেশে (প্যালেস্টাইন) এসে জুটবে।
হিটলার – তাহলে আমি কী করতে পারি?
মুফতি – আপনি তাদের মেরে ফেলুন, পুড়িয়ে মেরে ফেলুন!
হিটলার – বাহ! চমৎকার বুদ্ধি! আপনাকে ধন্যবাদ মুফতি সাহেব!

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অসংখ্য ঘটনার মাঝে সবচেয়ে স্পর্শকাতর ঘটনাটি হলো ‘হলোকাস্ট’। ৬০ লক্ষ ইহুদীকে নৃশংসভাবে হত্যা করার এই চূড়ান্ত অমানবিক ঘটনাটি কেন ঘটেছিল, তা নিয়ে ইতিহাসবিদগণ কম গবেষণা করেননি। জল ঘোলা হয়েছে অনেক, তথাপি সমাধান আসেনি। হিটলারের মনে কেন এই নৃশংস বুদ্ধির উদয় হয়েছিল, তা আজও রয়েছে ধোঁয়াশার মাঝেই। ইতিহাসবিদ আর পণ্ডিতগণ প্রচুর পড়াশোনা করেও যে বিষয়টি উদঘাটন করতে পারেননি, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু কোনো এক অলৌকিক ক্ষমতাবলে সে কাজটি করে ফেলেন। তিনি জেনে গেছেন হলোকাস্টের বুদ্ধি হিটলারের মাথায় কোথা থেকে এসেছিল। কোথা থেকে? একজন ফিলিস্তিনির মাথা থেকে!

উপরের কাল্পনিক কথোপকথনটি নেতানিয়াহুর, যা একইসাথে হাস্যকর এবং অযৌক্তিক কল্পনা। ২০১৫ সালের অক্টোবর মাসে বিশ্ব জায়নবাদী কংগ্রেসের উদ্বোধনী বক্তৃতায় এমন ধারণাই পোষণ করেছিলেন তিনি। তার মতে, হলোকাস্টের বুদ্ধিটা এসেছিল তৎকালীন প্যালেস্টাইনের গ্র্যান্ড মুফতি হাজী আমিন আল হুসাইনির মাথা থেকে! হিটলার ইহুদীদের হত্যা করতে চাননি, তাকে অনুপ্রাণিত করেছিলেন হুসাইনি, এমনটাই দাবি করেন নেতানিয়াহু। এই ধারণার বিপরীতে আরেকদল একেবারে বিপরীত মেরুতে গিয়ে দাবি করেন, হুসাইনি কখনোই ইহুদীদের মৃত্যু কামনা করেননি, বরং তিনি হলোকাস্টের প্রতিবাদ করেছিলেন! কিন্তু বাস্তবতা হলো, এই দুটি দাবিই ভুল। সত্যটা কী তা জানার চেষ্টা করা যাক তাহলে চলুন।

কে এই মুফতি?

হিটলারের সম্বন্ধে নতুন করে কিছু বলার অবশিষ্ট নেই। তবে, মুফতি হাজি আমিন আল হুসাইনির সম্বন্ধে জানা এ আলোচনার জন্য জরুরি। মুফতি আমিনকে আরবদের ইতিহাসের অন্যতম কট্টর জাতীয়তাবাদী বললেও ভুল হবে না। ১৯২১ সালে তাকে জেরুজালেমের মুফতি নিয়োগ করা হয়, যখন প্যালেস্টাইন ব্রিটিশদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। ক্ষমতা গ্রহণ করেই তিনি প্যালেস্টাইনে ব্রিটিশ শাসনের সমালোচনা করেন এবং এ অঞ্চলে জায়নবাদীদের একটি ইহুদী রাষ্ট্র গঠনের তীব্র বিরোধীতা করেন। অবশ্য স্বাধীন ফিলিস্তিন গঠনে তার মনোযোগ ছিল না, তার ইচ্ছা ছিল একটি বৃহৎ আরব ফেডারেশন গঠন করা, যার আধ্যাত্মিক নেতা হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করবেন।

প্যালেস্টাইনে ইহুদীদের অভিবাসন সবচেয়ে বেশি হয় ১৯৩৬-৩৭ সালে। সে সময় ইহুদীদের অবৈধ স্থাপনা ও বাড়িঘর নির্মাণের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখান মুফতি আমিন। তার নেতৃত্বে ফিলিস্তিনিরা সংঘটিত হয়ে এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে। ‘প্যালেস্টিনিয়ান ন্যাশনাল মুভমেন্ট’ নামক আন্দোলনের তিনিই নেতৃত্ব দেন। প্রতিবাদ সহিংস রূপ নিলে ব্রিটিশদের তোপের মুখে পড়েন মুফতি। তাকে গ্রেফতারের পরোয়ানা জারি হয়। গ্রেফতার এড়াতে তিনি প্রথমে লেবানন, পরে ইরাক এবং সবশেষ জার্মানি পাড়ি দেন। উল্লেখ্য, জার্মানিতে হিটলারের নাৎসি পার্টির ক্ষমতা গ্রহণ এবং যাবতীয় ইহুদীবিরোধী নীতির সমর্থক ছিলেন তিনি। নিজেদের সীমান্তে ইহুদী আগ্রাসনের কারণে ইহুদীদের প্রতি তিনি বরাবরই বিদ্বেষী মনোভাব প্রকাশ করেন।Newsletter

Subscribe to our newsletter and stay updated.SIGN UP

হিটলার আর মুফতির মধ্যে যেসব কথা হয়

নেতানিয়াহু নিজের মনগড়া তথ্য উপস্থান করলেও তা ইতিহাসবিদ, গবেষক, সমালোচক কারো কাছেই পাত্তা পায়নি, কেননা হিটলার আর মুফতির মধ্যকার কথোপকথনের সম্পূর্ণটাই প্রকাশ করেছে জার্মানি। দুই নেতার এই আলোচনাটি হয় ১৯৪১ সালের ২৮ নভেম্বর। এই আলোচনার বিষয়বস্তুর চেয়েও এর সময়কাল অধিক গুরুত্বপূর্ণ। তখনো যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধে জড়ায়নি, ইহুদী হত্যা ততদিনে শুরু হয়ে গিয়েছে, তবে ইহুদী নিশ্চিহ্ন করার সিদ্ধান্ত তখনই নেয়া হচ্ছে বলে অনেকের ধারণা, জার্মানি তখন সবে সোভিয়েত ইউনিয়ন আক্রমণ করেছে, লেনিনগ্রাদ দখল করে তারা বীরদর্পে এগোচ্ছে মস্কোর দিকে, পুরো বিশ্ব তখন ধরে নিয়েছে হিটলারের কাছে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন অনিবার্য। এরকম এক সময়ে হিটালারের সাথে দেখা করতে যান মুফতি, যখন হিটলার রাশিয়া জয়ের ব্যাপারে শতভাগ নিশ্চিত আর তার চেয়েও বেশি নিশ্চিত মুফতি আমিন নিজে।

মুফতি আমিন তার কথোপকথন শুরুই করেছিলেন জার্মানির প্রতি তার এবং সম্পূর্ণ আরবের (যদিও তিনি পুরো আরবের প্রতিনিধিত্ব করতেন না) সমর্থন প্রকাশ করে। তার ভাষ্য ছিল এই যে, আরবদের এবং জার্মানদের স্বার্থ একই, কেননা উভয়ের শত্রু একই। ব্রিটিশ, ইহুদী এবং কমিউনিস্টদের সাধারণ শত্রু উল্লেখ করে তিনি পুরো আরবজুড়ে বিদ্রোহ ঘটানোর প্রস্তাব করেন। তার প্রস্তাবনায় ছিল নাৎসি বাহিনীর সাথে আরবরা সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সাথে যুদ্ধ করে প্যালেস্টাইন এবং ইরাক থেকে ব্রিটিশদের তাড়াবে, প্যালেস্টাইনে ইহুদী বসতি নির্মাণ বন্ধ করবে, এমনকি লেবানন, সিরিয়া থেকে ফরাসিদেরও ঝেটিয়ে বিদায় করবে। কোনো সন্দেহ নেই, তার উদ্দেশ্য ছিল কেবলই আরবদের স্বাধীনতা। তথাপি, নাৎসিদের সমর্থনে তাদের জন্য মিথ্যা প্রচার-প্রচারণা চালাতেও তিনি সম্মত হয়েছিলেন, যা ছিল তার একটি বড় ভুল।

যা-ই হোক, হিটলার কিন্তু মুফতি আমিনের প্রস্তাবে সরাসরি সম্মতি দেননি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকে ইহুদীবাদ ও কমিউনিজমের বিরুদ্ধে একটি ভাবাদর্শগত যুদ্ধ বলে উল্লেখ করে তিনি আরবদেরকে সর্বোচ্চ সহায়তা করার প্রতিশ্রুতি দেন এবং যুদ্ধে আরবদের অংশগ্রহণকেও স্বাগত জানান। তবে, তাৎক্ষণিকভাবে আরব বিদ্রোহের জন্য তিনি প্রস্তুত ছিলেন না। তিনি চাইছিলেন, রাশিয়ায় জার্মানির অবস্থান আরো শক্ত হলে তবেই আরবদের নিয়ে মাথা ঘামাতে। তবে প্যালেস্টাইনে ইহুদী বসতি নির্মাণ বন্ধের বিষয়ে তিনিও শতভাগ একমত ছিলেন। উল্লেখ্য, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নাৎসিদের হয়ে প্রায় হাজার দশেক আরব যোদ্ধা যুদ্ধ করেছিল।

হলোকাস্টের সিদ্ধান্তে মুফতির প্রভাব কতটুকু?

নেতানিয়াহুর ২০১৫ সালের এ দাবি নানা কারণে কেবল অযৌক্তিকই নয়, হাস্যকরও বটে। প্রথমত, ইহুদীদের ইউরোপ থেকে বিতাড়িত করার পরিকল্পনা নাৎসি জার্মানির প্রথম থেকেই ছিল। তবে তা সর্বোচ্চ ১৯৩৮ সাল পর্যন্ত। এরপরই, হিটলার ভিন্ন কিছু ভাবতে শুরু করেন। এরই মাঝে সিদ্ধান্ত নেয়া হয় ইহুদীদের মাদাগাস্কার দ্বীপে নির্বাসিত করা হবে। কিন্তু, ১৯৪০ সালের ‘ব্যাটেল অব ব্রিটেন’ হারার পর এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন অনেকটাই অসম্ভব হয়ে পড়ে। সম্ভবত তখন থেকেই হলোকাস্টের পরিকল্পনা শুরু হয়ে থাকতে পারে। পরিকল্পনা হোক না হোক, হত্যাকাণ্ড ততদিনে শুরু হয়ে যায়। জুন মাসে জার্মানির রাশিয়া আক্রমণের সাথে শুরু হয় ‘আইনসাটজখুপেন’ (নাৎসিদের ছোট ছোট কিলিং স্কোয়াড) এর ইহুদী নিধন। সেপ্টেম্বরে ইউক্রেনের বাবি ইয়ার গিরিখাতে দুই দিনের অভিযানে ৩৪ হাজার ইহুদী হত্যা করে নাৎসিরা! অথচ মুফতি আর হিটলারের সাক্ষাৎ হতে তখনো আরো দু’মাস বাকি

এদিকে, মুফতি আমিনের ইহুদী বিদ্বেষী মনোভাবের কারণও দিনের আলোর মতো স্পষ্ট ছিল। প্রথমত, মুসলিম আর ইহুদীদের সম্পর্ক ঐতিহাসিকভাবেই শত্রুভাবাপন্ন। তার উপর প্যালেস্টাইনে ইহুদীদের অবৈধ বসতি নির্মাণ এবং ফিলিস্তিনিদের ভূমিতে ইহুদীদের দখলদারিত্ব সেই বিদ্বেষের আগুনে ঘি ঢালে। বিশ্বযুদ্ধের আগে ফিলিস্তিনে বসবাসরত সময়ে কিংবা ১৯৪১-৪৫ পর্যন্ত বার্লিনে থাকাকালীন মুফতি আমিনের ইহুদীবিরোধী অবস্থানের কথা সর্বজনবিদিত। সাথে এটাও পরিষ্কার যে, তার বিরোধ ছিল কেবলই ইহুদীদের বসতি স্থাপনের বিরুদ্ধে, তাদেরকে হত্যা করবার জন্য মদদ তিনি দেননি, দেয়ার প্রয়োজনও ছিল না।

তাছাড়া, ঐ সময়ে মুফতি নিজেই এমন কোনো অবস্থানে ছিলেন না যেখান থেকে হিটলারকে তিনি প্রভাবিত করতে পারবেন। গ্রেফতার এড়াতে দেশান্তরি হওয়া মুফতি আমিন বরং পরাক্রমশালী হিটলার, নাৎসি বাহিনীর জাঁদরেল প্রধান হিমলার আর উপদেষ্টা আইখম্যানের সামনে অনুরোধ করার চেয়ে বেশি কিছু করতে পারেননি। তিনি ৩টি বিষয়ে মূলত জোর দিয়েছিলেন। আরব অঞ্চলে নাৎসি প্রচারণা চালিয়ে তাদের জন্য সমর্থন জোগাড় করা, নাৎসিদের সাথে প্রত্যক্ষ যুদ্ধে আরবদের অংশগ্রহণ এবং এসবের বিনিময়ে প্যালেস্টাইনে ইহুদী বসতি স্থাপন বন্ধে নাৎসিদের হস্তক্ষেপ। অর্থাৎ, মূল ছিল সেই ইহুদী বসতি স্থাপন বন্ধ করা। এসব আলোচনা থেকে হিটলার হলোকাস্টের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, এমনটা ভাবাও পাগলামি বৈ কিছু না।

হলোকাস্টের সিদ্ধান্তের প্রকৃত চিত্র

Image Source: Amazon.com

হলোকাস্ট বা ‘দ্য ফাইনাল সল্যুশন’ এর সিদ্ধান্তে মুফতি আমিনের কোনো প্রভাব ছিল না তা প্রায় সকল ধরনের গবেষণা ও ঐতিহাসিক দলিল দ্বারা প্রমাণিত। মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশেষজ্ঞ বেরি রুবেন এবং জি. শোয়ানিতজের বই ‘নাৎসিস, ইসলামিস্টস অ্যান্ড দ্য মেকিং অব দ্য মডার্ন মিডল ইস্ট’ বইটিকে এ সংক্রান্ত তথ্য উপাত্তের প্রামাণ্য দলিল ধরা যেতে পারে। এ বইয়ে রুবেন এবং শোয়ানিতজ স্পষ্ট করেছেন যে, ২৮ নভেম্বর মুফতির সাথে সাক্ষাতের অনেক আগেই হিমলারের সাথে ইহুদী হত্যা বিষয়ক সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন হিটলার।

আইনসাটজখুপেনের পাশাপাশি নাৎসিদের বিভিন্ন ছোট ছোট বাহিনী ভ্রাম্যমাণ গ্যাসভ্যানে স্থানে স্থানে ইহুদী হত্যা করেছে। ইহুদীদের উপর বিভিন্ন অন্যায় অত্যাচার চাপিয়ে দিয়ে তাদেরকে বিতাড়িত করার পরিকল্পনাও রাশিয়া আক্রমণেরও বছর তিনেক আগেই পাল্টে যায়। প্রাথমিককালে যেখানে নাৎসিবাহিনীর উর্ধ্বতনদের আলোচনায় বিতর্ক হতো কেন ইহুদীদের হত্যা করা উচিৎ তা নিয়ে। অর্থাৎ, তখনো হত্যা শুরু হয়নি। সেখানে ১৯৪০ পরবর্তী বিতর্কগুলো হতো কেন তাদেরকে হত্যা না করলেও চলবে! অর্থাৎ, ততদিনে পুরোদমে নিধনযজ্ঞ শুরু হয়ে গেছে। এক হিসাবে বলা হয়, মুফতির সাথে হিটলারের সাক্ষাতের পূর্বে নাৎসিদের হাতে মারা পড়ে ৭ লক্ষাধিক ইহুদী।

“আন্তর্জাতিক শান্তির বিরুদ্ধে ইহুদীদের ষড়যন্ত্রে যদি আরো একবার বিশ্বযুদ্ধ হয়, তাহলে এবার আর কোনো বলশেভীকরণ ঘটবে না, ইহুদীদের জয় হবে না, বরং তারা ধ্বংস হবে।” – দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরুর মাসখানেক পূর্বে হিটলার

ইহুদী বিদ্বেষের জন্য হিটলারের কোনো বহিঃস্থ প্রভাবের প্রয়োজন ছিল না। ব্যক্তিগত আক্রোশ কিংবা ধর্মীয় কারণের দিকে না গেলেও, রাজনৈতিক ফায়দা দিয়েই তা সহজে বোঝা যায়। যেকোনো একনায়ক সাধারণ জনগণের সামনে তার ক্ষমতাকে বৈধ করার জন্য কোনো কাল্পনিক ষড়যন্ত্র বা নেতিবাচক শক্তির বিশ্বাস মানুষের মনে বদ্ধমূল করতে চায়। হিটলার ও তার প্রশাসন তা-ই করেছিল। তারা বিশ্বব্যাপী ইহুদীদের ষড়যন্ত্র নিয়ে এক অলীক ধারণা মানুষের মনমগজে বদ্ধমূল করেছিল, যে ষড়যন্ত্র রুখতে না পারলে জার্মানি, এমনকি বিশ্বশান্তিই হুমকির মুখে পড়বে! গোয়েবলস, হিমলার, আইখম্যানের মতো মানুষজন এসব ষড়যন্ত্র তত্ত্বকে প্রামাণিকরূপে উপস্থান করতো।

Image Source: feministcurrent.com

হলোকাস্টের মতো নৃশংস সিদ্ধান্তে পৌঁছুতে সহায়তা করেছে আরেকটি বিষয়, তা হলো নাৎসিদের অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস। প্রথমদিকে প্রবল বৈশ্বিক সমালোচনা এবং হস্তক্ষেপের কথা ভেবে ইহুদীদের উপর গণহত্যা চালানো থেকে বিরত ছিল নাৎসিরা। কিন্তু রাশিয়া আক্রমণের সময়, অর্থাৎ ১৯৪১ সালের জুন থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত হিটলার ও তার নাৎসিবাহিনীর মাঝে যুদ্ধ জয়ের এক প্রবল আত্মবিশ্বাস জন্মায়। তারা ধরেই নিয়েছিল কয়েকমাসের মধ্যে রাশিয়া তাদের দখলে থাকবে। ফলে, ইহুদী হত্যায় তাদের আর বাঁধা ছিল না! এছাড়াও আরো কিছু ব্যাপার কাজ করেছিল হলোকাস্টের সিদ্ধান্তের পেছনে। ইহুদীদের উপর শারীরিক অত্যাচার চালিয়ে আর স্থানে স্থানে খুনোখুনি করে তাদের ভয় দেখিয়ে দেশ থেকে বিতাড়িত করার প্রক্রিয়াটা বেশ লম্বাই। কিন্তু এত সংখ্যক নিরীহ মানুষ হত্যার মানসিক ধকল সহ্য করতে পারছিলেন না অনেক নাৎসি কর্মকর্তাও। অনেকে মানসিক সমস্যায় ভোগেন, অনেকে অবসর নিয়ে নেন। এমতাবস্থায় তারা আবিষ্কার করে একত্রে হাজারো মানুষ হত্যার হাতিয়ার গ্যাস চেম্বার আর কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্প! সেখানে হত্যা করলে একে তো অফিসারদের মানসিক ঝক্কি পোহাতে হবে না, তার উপর বিশ্বও অত বেশি জানতে পারবে না!

সবমিলিয়ে নেতানিয়াহুর বক্তব্য সম্পূর্ণরূপে মিথ্যা অপবাদ হিসেবেই প্রমাণিত হয়। প্রথমেই বলা হয়েছে, মুফতি আর হিটলারের সাক্ষাতের সময়টা বেশ জরুরি। এ সময়ের কারণেই মনে হয়েছে হিটলারের সিদ্ধান্তে মুফতি আমিনের প্রভাব থাকতে পারে। আবার সময়টা গভীরভাবে ব্যাখ্যা করলেই প্রতীয়মান হয় যে ইহুদী হত্যায় মুফতির কোনো প্রভাব নেই। মুফতির কর্মকাণ্ড এবং বিভিন্ন সময়ের বক্তৃতায় তার ইহুদীবিদ্বেষই স্পষ্ট। একই সাথে এটিও সত্য যে তিনি ইহুদী হত্যার কথা না বললেও ইহুদী হত্যার বিরুদ্ধেও কিছু বলেননি।

#hitler_grandmufti