কোরআনের কপি বা টেক্সস দেখে দেখে নামাজ পড়ার প্রসঙ্গে

🔴🟢🟣অবশ্যই যিনি কুরআন থেকে কিছু মুখস্ত জানেন তার জন্য কুরআন দেখে দেখে নামাজ পড়া বৈধ হবে না। তবে যিনি কোরআন মুখস্ত জানেন না দেখে পড়তে পারেন তিনিই কেবল নফল তথা সুন্নত নামাজগুলোতে পবিত্র কোরআন দেখে দেখে নামাজ পড়তে পারেন। যেহেতু কোরান দেখেন নামাজ পড়ার কমপক্ষে দুই একটি হাদিস মৌজুদ আছে সেহেতু এই বিষয়টিকে সম্পূর্ণ অবৈধ বা নাজায়েজ ফতোয়া দেওয়ার কারো অধিকার নেই। আর তাছাড়া আল্লাহ মানুষের জন্য দ্বীন ইসলামকে কঠিন করেননি।

🔴🟢 পবিত্র কোরআন থেকে দেখে দেখে নামাজ পড়ার এবং না পড়ার কিছু দলিল তুলে ধরা হলো এবং কিছু মনীষীদের মতামত ও তুলে ধরা হলো।

👉👉ইমাম শাফেয়ি রাহিমাহুল্লাহ যখন কুফায় যেতেন, তখন নামাজে রফয়ে ঈদাইন করতেন না৷ কারণ জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, ইমাম অাবু হানিফার সম্মানার্থে করি না৷

👉👉শাহ ওয়ালিউল্লাহ মুহাদ্দিসে দেহলবি রাহিমাহুল্লাহ “আল ইনসাফ” নামে একটি গ্রন্থ রচনা করেছন৷ সেখানে তিনি জোরালোভাবে একটি বিষয়ে আলোচনা করেছন৷ যে এলাকায় একটি সুন্নাহ প্রচলিত আছে, সে এলাকায় গিয়ে যদি একই বিষয়ে ভিন্ন আরেকটি সুন্নাহ থাকে, সে সুন্নাহর দাওয়াত প্রদান করবে না৷ কারণ, এরদ্বারা মানুষের মাঝে ফিতনা মাথাচাড়া দিয়ে ওঠেছে

🔴🟣নফল নামাজে দেখে কুরআন পড়ার বিষয়টি আয়েশা রাঃ এর গোলাম জাকওয়ান থেকে বর্ণিত হয়েছে৷ তিনি মুসহাফ অর্থাৎ কোরআনের টেক্সট বা লেখা দেখে রমজানে সলাত পড়িয়েছিলেন৷ এবং এটা হাদিস দ্বারা শতভাগ প্রমাণিত।

🟢🟤হাদিসে নামাজের ব্যাপারে একটি মূলনীতি বর্ণিত হয়েছে৷
আমাদের দেশের কতিপয় কিছু মডারেট শায়খ বলাবলি করেন, পুরুষ এবং মহিলার নামাজে কোন পার্থক্য নেই৷ দলিল হিসেবে একটি হাদিস পেশ করেন৷
তারা মূলত আমাদেরই ভাই আমাদেরই পাশাপাশি লোক এবং তারা প্রায় সবাই আহলে হাদিস মাযহাবের লোক।
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

صلوا كما رئيتموني أصلي
অর্থাৎ তোমরা নামাজ পড়ো যেভাবে আমাকে নামাজ পড়তে দেখো৷ (বুখারি: হাদিস ন ১০৩৬)

কিন্তু এই ভাইদের জিজ্ঞাসা করা দরকার যে,
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তো জীবনে হাজার হাজার রাকআত নফল নামাজ পড়েছেন৷ তিনি কী কখনো কোন নামাজে কুরআন শরিফ দেখে তেলাওয়াত করেছেন??
এর উত্তরে হয়তো তারা বলবেন যে না তিনি কখনো নামাজ দেখে দেখে তেলাওয়াত করেননি কোরআন নাজিল হওয়ার সাথে সাথে রাসুল সাঃ এতটা মুখস্ত হয়ে যেত।

তারাবিহ ২০ রাকাত উমর রাঃ এর সুন্নাহ বলে এড়িয়ে যান, অথচ ইবনে তাইমিয়া, ইবনে আবদুল বার মালেকি, ইবনে কুদামা মাকদেসি রাহিমাহুমুল্লাহ এর বক্তব্য অনুযায়ী বিশ রাকআত তারাবিহ সকল সাহাবির ইজমা দ্বারা প্রমাণিত৷
তারাবির ক্ষেত্রে সকল সাহাবির ইজমা বাদ দিয়ে দেন, আবার রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং খুলাফায়ে রাশেদিনের আমল বাদ দিয়েদিয় আয়েশা রাঃ এর হাদিসের উপর আমল করে বলেন, নামাজে কুরআন দেখে পড়া যাবে! বিষয়গুলো পরস্পর বিরোধী হয়ে যায় না???

সনদের দিক থেকে দুর্বল হলেও ইবনে আব্বাস রাযি. বর্ণনা করেন,

: نَہَانَا أمیرُ المُوٴمِنِیْنَ عُمَرُ رضی اللّٰہ عنہ أَن یَوٴُمَّ النَّاسَ فِي الْمُصْحَفِ، وَنَہَانَا أَن یَّوٴُمَّنَا اِلَّا الْمُحْتَلِمُ․

অর্থাৎ আমিরুল মুমিনিন উমর রা. রাযি. ইমাম সাহেবকে নামাজে কুরআন দেখে পড়তে নিষেধ করেছেন৷ কিতাবুল মুসহাফ, ইমাম আবু দাউদ লিখিত, হাদিস নং ১৮৯)

উমর রা. কে শয়তান প্রচণ্ড ভয় করত৷ আপনারাও কেন তাকে এত ভয় পান!! বিশ রাকআত তারাবিহ উমর রা. এর সুন্নাহ বলে কমিয়ে ফেলেন! আবার উমর রা. এর মতের অনুসরণ না করে বলেন, নফল নামাজে কুরআন দেখে পড়া যাবেকি???

কাতাদা রাহিমাহুল্লাহ বিখ্যাত তাবেয়ি সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন,

إِذَا کَانَ مَعَہُ مَا یَقُوْمُ بِہِ لَیْلَہُ رَدَّدَہُ وَلاَ یَقْرَأُ فِي الْمُصْحَفِ

অর্থাৎ কেউ যদি কিয়ামুল লাইলে পড়ার মতো সামান্য কুরআন মুখস্থ থাকে, তাহলে সেটা বারবার পড়বে৷ তারপরও কুরআন দেখে পড়বে না৷

লাইস রাহিমাহুল্লাহ মুজাহিদ রাহিমাহুল্লাহ এর ব্যাপারে বলেন,

أنَّہُ کَانَ یَکْرَہُ أَنْ یَّتَشَبَّہُوْا بِأَہْلِ الْکِتَابِ یَعْنِيْ أَنْ یَّوٴُمَّہُمْ فِي الْمُصْحَفِ

অর্থাৎ আহলে কিতাবদের সাথে সাদৃশ্য রেখে তিনি নামাজে কুরআন দেখে পড়াকে মাকরুহে তাহরিমি বলেছেন৷

আমাশ ইবরাহিম নাখাঈ থেকে বর্ণনা করেন,

کَانُوْا یَکْرَہُوْنَ أَنْ یَّوٴُمَّ الرَّجُلُ فِي الْمُصْحَفِ کَرَاہِیَةً شَدِیْدَةً أَن یَّتَشَبَّہُوْا بِأَہْلِ الْکِتَابِ“
অর্থাৎ সাহাবায়ে কেরাম নামাজে কুরআন দেখে পড়াকে মারাত্মক অপছন্দ করতেন আহলে কিতাবদের সাথে সাদৃশ্য হয়ে যাওয়ার কারণে৷ (বক্তব্যগুলো ইমাম আবু দাউদ কিতাবুল মাসাহিফে উল্লেখ করেছেন৷ হাদিস নং ১৮৯, ১৯০, ১৯১)

খতিবে বাগদাদি রাহিমাহুল্লাহ তারিখে বাগদাদ এ আম্মার বিন ইয়াসির রাযি. এর আছার উল্লেখ করেছেন৷

: عَنْ عَمَّارِ بْنِ یَاسِرٍ کَانَ یَکْرَہُ أَن یَّوٴُمَّ الرَّجُلُ النَّاسَ بِاللَّیْلِ فِيْ شَہْرِ رَمَضَانَ فِي الْمُصْحَفِ ہُوَ مِنْ فِعْلِ أَہْلِ الْکِتَابِ

অর্থাৎ আহলে কিতাবদের সাথে সাদৃশ্য হয়ে যাওয়ার কারণে রমজানের রাতের নামাজে কুরআন দেখে ইমামতি করাকে তিনি মাকরুহ বলেছেন৷ (তারিখে বাগদাদ: ৮/১২০)

আরও অনেক বক্তব্য নকল করা যাবে৷ বাকি থাকল আয়শা রাযি. এর হাদিসের কথা৷ এ হাদিসের ব্যাপারে খোদ মডারেট শায়খদের মান্যবর নাসির উদ্দিন আলবানি রাহিমাহুল্লাহ বলেন,

وما ذکر عن ذکوان حادثة عین لا عموم لہا
অর্থাৎ জাকওয়াম এর ঘটনা একটি বিশেষ ঘটনা৷ এটা ব্যাপক বিষয় নয়৷ (ফাতহুর রাহমান: ১২৩)

ইমাম কাসানি রাহিমাহুল্লাহ বলেন,
وأما حدیث ذکوان فیحتمل أن عائشة ومن کان من أہل الفتوی من الصحابة لم یعلموا بذلک وہذا ہو الظاہر بدلیل أن ہذا الصنیع مکروہ بلا خلاف ولو علموا بذلک لما مکنوہ من عمل المکروہ في جمیع شہر رمضان من غیرحاجة، ویَحْتَمِلُ أن یکون قول الراوي کان یوٴم الناس في شہر رمضان وکان یقرأ من المصحف إخبارا عن حالتین مختلفین أي کان یوٴم الناس في رمضان وکان یقرأ من المصحف في غیر حالة الصلاة

অর্থাৎ সম্ভবত আয়েশা রাযি. সে বিধান জানতেন না৷ জানলে তিনি এমনটা করতেন না৷ অথবা বর্ণাকারীর কথা দ্বারা এটাও উদ্দেশ্য হতে পারে যে, তিনি রমজানের দুটি অবস্থা বর্ণনা করেছেন৷ তিনি রমজানে ইমামতি করতেন এবং নামাজের বাহিরে কুরআন দেখে পড়তেন৷ (বাদায়িউস সানায়ে: ২/১২৩)

ইমাম আইনি রাহিমাহুল্লাহও একই ধরণের বক্তব্য দিয়েছেন৷ তাদের উভয়ের কথা আরেকটি আছার দ্বারা শক্তিশালী হয়৷ হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানি রাহিমাহুল্লাহ আয়শা রাযি. থেকে এ সংক্রান্ত একটি আছার নকল করেছেন৷ সেখানে কুরআন দেখে পড়ার কথা নেই৷

عن ابن أبي ملیکة أنہم کانوا یأتون عائشة بأعلی الوادي ہو وعبید بن عمیر والمسور بن مخرمة وناس کثیر فیوٴمہم أبو عمر و مولی عائشة، وأبو عمر وغلامہا حینئذ لم یعتق․

ইবনে আবি মুলাইকা বর্ণনা করেন, তিনি, মিসওয়ার বিন মাখরামা এবং আরও অনেক মানুষ আয়েশা রাযি. এর কাছে আসেন৷ আয়েশা রাযি. গোলাম আবু আমর ইমামতি করেন৷ (আত তালখিসুল হাবির: ,২/১১০)

এ বর্ণনায় কুরআন দেখে পড়ার কথা নেই এর দ্বারা কাসানি এবং আইনি রাহিমাহুমাল্লাহ এর বক্তব্য শক্তিশালী হয়৷ অর্থাৎ নামাজের বাহিরে তিনি কুরআন দেখে পড়েছেন৷

আলোচনা দীর্ঘ না করে মডারেটদের প্রিয় ব্যক্তি শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানি রাহি. এর বক্তব্য তুলে ধরছি৷ তিনি বলেন,

لا نری ذلک، وما ذکر عن ذکوان حادثة عین لاعموم لہا، وبإباحة ذلک لأئمة المساجد یوٴدي بہم إلی ترک تعاہد القرآن والعنایة بحفظہ غیبا وہذا خلاف قولہ صلی اللہ علیہ وسلم: تعاہدوا القرآن فوالذي نفسي بیدہ لہو أشد تفصیا من الإبل في عقلہا، ومعلوم أن للوسائل حکم الغایات کقولہم مالا یقوم الواجب إلا بہ فہو واجب وما یوٴدي إلی معصیة فہو معصیة
অর্থাৎ আমি এটাকে জায়েজ মনে করি না৷ আর জাকওয়ানের ঘটনা একটি বিশেষ অবস্থার, ব্যাপক বিধান নয়৷ এটাকে জায়েজ বললে মসজিদের ইমামরা কুরআন মুখস্থ করা ধীরে ধীরে বাদ দিতে থাকবে৷ আর এটা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হাদিস বিরোধী৷ আর শরিয়তে যে কাজ গুনাহের দিকে ধাবিত করে, সেটাও গুনাহ৷ (ফাতহুর রহমান: ১২৫)

মডারেটদের কাজই হলো, কোন এলাকায় শত বছর থেকে চলে আসা স্বীকৃত আমলের বিপরিত ফতোয়া দিয়ে সাধারণ মানুষকে ফিতনায় পতিত করা৷ কিতাবাদির গলি ঘুপচি খুঁজে বিচ্ছিন্ন বা মারজুহ বক্তব্য উল্লেখ করে ঢেলে দেন ফতোয়া৷ বিভ্রান্ত হয় সাধারণ মানুষ৷ মডারেটরা ইসলামের জন্য ক্ষতিকর৷ তাদের ফতোয়া গ্রহণ করার অাগে তাহকিক করবেন৷

কলকাতাআলিয়ার ২৬ জন খৃস্টান প্রিন্সিপালদের গালী রাসূলের (সাঃ) চাচা আবু তালিবকে গালীর সমান।

👉👉 এখানে প্রথমেই জেনে নেওয়া ভালো যে যদি সরকারি তত্ত্বাবধানে কোন প্রতিষ্ঠান তৈরি করা হয় তখন নিয়ম অনুসারে এবং পদাধিকার বলে দেশের প্রেসিডেন্ট কিংবা এলাকার গভর্নর সেই প্রতিষ্ঠানের প্রধান হয়ে থাকেন অটোমেটিকলি। যেমন বাংলাদেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর হলেন পদাধিকার বলে দেশের #মহামান্যপ্রেসিডেন্ট। এই প্রেসিডেন্ট যদি একজন হিন্দু খ্রিস্টান কিংবা যেকোনো ধর্মের হন তখন অটোমেটিকলি সকল বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিশ্ববিদ্যালয় সমমানের সকল প্রতিষ্ঠানের এবং তা যদি মাদ্রাসাও হয় তবে স্বয়ংক্রিয়ভাবেই তিনি ওই মাদ্রাসার বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান বা chensellore হয়ে যাবেন। আপনারা অনেকেই হয়তো জানেন যে দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর আছে কিন্তু অনেকেই অবহেলা বা অজানা হেতু প্রশ্ন করেন না যে, ভাইস চ্যান্সেলর যেহেতু আছেন কিন্তু chancellor কে?? অথচ আমরা অনেকেই অজ্ঞতা হেতু এবং পড়াশোনার প্রতি অবহেলা হেতু গুরুত্বপূর্ণ অনেক জিনিস বা অনেক বিষয় পাশ কেটে যায় কিংবা জানতে চেষ্টা করি না ‌
(এই পোস্টের শেষে আমরা কলকাতা আলিয়ার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস জেনে নেব ইনশাআল্লাহ)
🤔🤔মনে বড় কষ্ট পাই যখন দেখি কিছু সংকির্ণ চিন্তার আলেমদের ফেসবুক ইউটিউবে এসে তাদের অজ্ঞতা হেতু কলকাতা আলিয়ার খ্রিস্টান প্রিন্সিপালদের অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে ৷
মূলত খ্রিস্টান হোক বা মুসলিম হোক অথবা যে কোন ধর্মের লোক হোক এমন কি পশু পাখি কে ও বিনা কারণে গালাগালি করা ইসলামে সরাসরি হারাম এবং কবিরা গুনাহ ‌
সেজন্য আগেই বলে রাখি ,সকল খৃস্টান যেমন খারাপ নয় সবাই আবার ভালো ও নয়৷৷৷

যেসব খৃস্টান পাদ্রীরা রাসূল (সাঃ)এর ছোট বেলায় নবী স্বীকৃতি দিয়েছেন৷৷তাদের মধ্যে সিরিয়ার পাদ্রী ও ওরাকা বিন নওফেল অন্যতম৷৷

এই সমস্ত গালাগালি করনেওয়ালা আলেম যাদের ওয়াজ নসিহত ও বিভিন্ন মাহফিল আল্লামা ইকবাল রহঃ এর কবিতার অংশ বা কবিতা ছাড়া হয় না সেই আল্লামা ইকবালের প্রাথমিক শিক্ষা হয়েছিলো
খৃস্টান মিশনারী স্কটিশ স্কুলে৷৷স্যার টমাসকে তিনি
পীরের মতো মানতেন বলে তার কথায় তিনি অক্সফোর্ডে পড়তে যান ৷৷আরেকজন খৃস্টান অধ্যাপকের থেকে তিনি কবিতা লেখা শিখেন৷৷

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম এর সময়ে এক যুদ্ধে ইহুদী এবং খ্রিস্টানদের অনেক শিক্ষিত লোক ধরা পড়ে এবং তারা যুদ্ধবন্দী হিসেবে বন্দি অবস্থায় থাকে। রাসূল সাল্লাল্লাহু ওয়া সাল্লাম নির্দেশ দিলেন প্রত্যেক শিক্ষিত ব্যক্তি মুসলিমদের মধ্য থেকে দশ জন নিরক্ষর ব্যাক্তিকে শিক্ষাদান এবং লেখা ও পড়া শিক্ষা দিলে তাদেরকে মুক্ত করে দেওয়া হবে। এবং পরবর্তী সময়ে তাই হয়েছিল। এবং ওই কৌশল গ্রহণের ফলে মুসলিমদের মধ্যে শিক্ষার হার ব্যাপক বেড়ে গিয়েছিল তখন। অথচ এই ইতিহাস তারা ভুলে গেছে অথবা জানিই না।

আমি আমার স্কুল কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে বহু হিন্দু শিক্ষকের নিকট ইংরেজী, গণিত, এবং ফিজিক্স শিখেছি৷৷

👉👉 যেই কওমী দেওবন্দী মাদ্রাসার শিক্ষিত লোকেরা আলিয়া মাদ্রাসাকে এবং খ্রিস্টানদের কে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে সেই কওমী মাদ্রাসার #নফহাতুল_ইয়ামান কিতাবটি ও একজন খৃস্টান শিক্ষক মাত্তালি মাজদানের সম্পাদনা করা৷৷

বর্তমান তুরুস্কে বহু খৃস্টান কোরানে হাফেজ ইউনি
ভার্সিটি গুলাতে হিফজুল কোরান পড়ায়৷৷
কোরানের প্রথম মার্কেটিং বাংলা অনুবাদক রাজা
রাম মোহন রায়৷৷

ইবনেসিনা, #ইমামরাজি’র বহু কিতাব ইংরেজরা অনুবাদ করে ইলমের বিশাল বিশাল খেদমত করেছেন৷৷ হেদায়া বোখারীর মতো বহু গ্রন্থ ইংরেজরা কষ্টকরে অনুবাদ করেছে৷৷

সেজন্য ইসলামী জ্ঞান বিজ্ঞানে খৃস্টান পণ্ডিতদের
অবদান অস্বীকার করার সুযোগ নেই৷৷

সেজন্য ইংরেজ সরকারের অধিনে চাকরি করা
কলকাতা আলিয়ার খৃস্টান শিক্ষকদের ছোট করে কথা
বলা ঠিক নয়৷৷ কারণ মুসলিম উম্মার জাগরণে
তারা অনেক অবদান রেখে গেছেন৷৷

রাসূল (সাঃ)এর চাচা আবু তালিব ও ওরাকা বিন
নওফেলের মতো৷৷৷যদি ও তারা ইসলাম গ্রহণ করেন নি৷

কোরান হাদিস পড়ুয়া আলেমরা এসব জেনে ও কলকাতা আলিয়ার ২৬জন খৃস্টান পৃন্সিপালদের
গালা গালি করা বোকামী ছাড়া কিছু নয়৷৷

কলকাতা আলিয়ার শাখা দিল্লি মাদ্রাসায়ে গাজিউদ্দিন
কলেজ থেকে পড়া লেখা করেই কাসেম নানুতবী
(রহঃ) দেওবন্দ প্রতিষ্ঠা করেন৷৷

ইদানিং কমবুঝ সংকির্ণমনা হিজবুত তাওহিদের ভন্ডসেলিম থেকে শুরু করে কওমী ভার্সিটি পন্থী
কিছু আলেম কলকাতার আলিয়ার ২৬জন খৃস্টান পৃন্সিপালকে গালাগালি করছেন৷৷

এমনকি নেগলেট ষড়যন্ত্রকারি বলে কথা বলছেন৷৷
অতচ তারা নিজেরা খৃস্টান হলেও ইসলামী
জাগরণে তারা রাসূল (সাঃ)এর কাফের চাচা আবু
তালিবের মতো অবদান রেখেছেন৷৷

এসব সংকির্ণবাদীদের জানা উচিত,,,,,উপমহাদেশে
ইংরেজ জুলুমের সাথে অনেক ভালো কাজও
করেছিলো৷৷৷

যেমন গোঁড়া ধর্মান্ধ হিন্দু মুসলিমদের তারা চাষার
ক্ষেত থেকে তুলে যুগবিজ্ঞান শিখতে উৎসাহ
দিয়েছিলো৷৷

কারণ এর আগে হিন্দু পণ্ডিতরা টোলে সংস্কৃত ছাড়া
কিছু পড়াতো না৷৷৷ মুফতী মাওলানারা কোরান হাদিস
ছাড়া বিজ্ঞান ইংরেজি ল গণিত পড়াকে হারাম ফতোয়া
দিতো৷৷৷

হিন্দুরা সতিদাহ প্রথা আর মুসলিমরা জেনা বন্ধের
নামে বাল্য বিয়ে দারিদ্র বিয়ে দিয়ে রুহিঙ্গাদের মতো
বর্বর মূর্খ হতো৷৷

সেই ভয়ঙ্কর অসভ্যতা দূর করেছে কোন মুফতী কিংবা
ঠাকুর নয়৷৷ইংরেজ শাসকরাই৷৷

যেমন রাসূলের চাচা আবু তালিব কাফের হলেও
ইসলামের অনেক খেদমত করেছেন৷৷

সেই হিসেবে তৎকালিন বর্বর মূর্খ মুসলিম জাতিকে
ধর্মের সাথে জ্ঞান বিজ্ঞান শিক্ষার জন্য ইংরেজরা
মোল্লা মাজদুদ্দিনের অনুরোধে কলকাতা আলিয়া
প্রতিষ্ঠা করেন৷৷

ইংরেজ পৃন্সিপালদের অধিনে থাকা কালিন কলকাতা আলিয়াতে এত ভালো লেখাপড়া হতো৷৷

যা পরবর্তি মুসলিম পৃন্সিপালদের সময় হয়নি৷৷

তার মানে কে ধোকাবাজ? ইংরেজ পৃন্সিপালরা
না মুসলিম পৃন্সিপালরা??

সেজন্য ইংরেজ পৃন্সিপালদের সময় কলকাতা আলিয়ার ইংলিশ ডিপার্টমেন্টের ছাত্রদের মধ্যে
তৈরি হয়েছে রাহবরে মিল্লাত নবাব আঃলতিফ,
(রহঃ)জন্ম হয়েছে সৈয়দ আমীর আলী (রহঃ)
এর মতো বাঘা বাঘা মেধাবী মুসলিম নেতা৷৷

যা মুসলিম পৃন্সিপালদের সময় হয়নি৷৷

বর্তমান ইংরেজ খৃস্টান পাদ্রী চ্যারিটি পরিচালিত
নটরডেম,ওয়াই ডব্লিউ প্রতিষ্ঠান গুলি যেমন
দেশ সেরা মেধাবী তৈরির প্রোডাকশন হাউজ৷৷

আজকে যেমন সবাই,, ইংরেজ খৃস্টান পরিচালিত স্কুল
কলেজে সন্তানকে পড়ানোকে দুনিয়া জয় মনে করে৷৷
তখনো এমন চিন্তাই ছিলো মুসলিম জাতির৷৷

সেজন্য কলকাতা আলিয়ার ২৬জন খৃস্টান পৃন্সিপালকে গালা গালি করা রাসুল (সাঃ) এর
চাচা আবু তালিবকে গালা গাল করার শামিল৷

আল্লামা ইকবালের খৃস্টান শিক্ষক গণকে
গালা গালি করার শামিল৷৷৷

নবাব আঃলতিফ,সৈয়দ আমীর আলিকে গালি
দেয়ার শামিল৷৷৷

আমার হিন্দু শিক্ষকগণকে গালা গালি করার
শামিল৷৷৷

আল্লাহ সংকির্ণ মনা হুজুরদের বুঝা সহজ করে
দিন৷৷৷ আমীন৷৷৷

🟢🟤🔴এবার আসুন জেনে নেওয়া যাক কলকাতা আলিয়ার সংক্ষিপ্ত ইতিহাসঃ

👉👉মাদ্রাসা-ই-আলিয়া, কলকাতা বা কলকাতা মাদ্রাসা বা উপমহাদেশের ইসলামি শিক্ষা ব্যবস্থার সবচেয়ে প্রাচীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।মাদ্রাসাটি কলকাতা আলিয়া মাদ্রাসা নামেই অধিক পরিচিত ছিলো, তবে মাদ্রাসাটির প্রাতিষ্ঠানিক নাম ছিলো কলকাতা মোহামেডান কলেজ।১৭৮০ সালে ওয়ারেন হেস্টিংস কতৃক কলকাতা মোহামেডান কলেজ নামে মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠিত হয়, সাথে সাথে উপমহাদেশে নতুন আধুনিক ইসলামি শিক্ষা ব্যবস্থার প্রচলন ঘটে এই মাদ্রাসার অনুকরণে ভারত ও বাংলাদেশে হাজার হাজার আলিয়া মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।তবে পরবর্তীতে মাদ্রাসাটি কলকাতা আলিয়া মাদ্রাসা নামে পরিচিতি লাভ করে। আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০০৭ অনুযায়ী মাদরাসাটিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত করা হয়।

মোটকথা,১৭৮০ সালে বাংলার ফোর্ট উইলিয়ামের গর্ভনর জেনারেল ওয়ারেন হেস্টিংস কর্তৃক কলকাতায় কলকাতা আলিয়া মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠিত হয়।
১৯৪৭ সালে দেশ ভাগ হলে আলিয়া মাদ্রাসা কলকাতার ঢাকায় অনুরূপ একটি নির্মাণ করা হয়। যা বর্তমানে ঢাকা আলিয়া হিসেবে পরিচিত। যখন ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়, তখন মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ছিলেন

খানবাহাদুরমাওলানাজিয়াউলহক, তিনিই এই মাদ্রাসার প্রথম অধ্যক্ষ।

কলকাতা আলিয়া মাদ্রাসাটির শিক্ষা কার্যক্রম তৎকালীন ব্রিটিশ সরকার পরিচালিত ভারতে রাষ্ট্রীয়-ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হতো। এই মাদ্রাসায় শুরুতে দারসে নিজামিয়া শিক্ষা পদ্ধতি অনুকরণ করে পাঠদান করা হতো। ১৭৮০ থেকে ১৮৫৩ সাল পর্যন্ত পাঠাদানে ফার্সি ভাষার প্রাধান্য ছিলো, এরপরে ধীরে ধীরে ইংরেজির প্রভাব বাড়তে থাকে। পাঠ্য সিলেবাসের মধ্যে কুরআন-হাদিসের সার্বিক বিষয়ের পাশাপাশি ইউক্লিডয় গণিত ও জ্যামিতি, এরিস্টটলের পুরনো দর্শন, যুক্তিবিদ্যা প্রভৃতি পড়ানো হতো।

🟢🟤কলকাতা আলিয়ার ইতিহাসঃ

👉১৭৮০-১৮৫০, প্রাথমিক অবস্থাঃ
১৭৮০ মতান্তরে ১৭৮১ সালের অক্টোবর মাসে বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির গভর্নর জেনারেল ওয়ারেন হেস্টিংস মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠা করে। কলকাতার শিয়ালদাহের নিকটস্থ বউবাজার অঞ্চলের বৈঠকখানায় এই মাদ্রাসার সূত্রপাত হয়। দীর্ঘ ৪৭ বছর পর, ১৮২৭ সালে মাদ্রাসাটি এর বর্তমান অবস্থান (আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান অবস্থান) তালতলার হাজী মোহাম্মদ মুহসিন স্কোয়ারে স্থানান্তরিত করা হয়। প্রথম দেড় বছর ওয়ারেন হেস্টিংস নিজস্ব ব্যয়ভারে মাদ্রাসার কাজ চলতে থাকে, তবে পরবর্তীতে মাদ্রাসা ফান্ডের অর্থ থেকে এই টাকা ফেরত দেওয়া হয়।এরপর ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি পরিচালিত বেঙ্গল প্রেসিডেন্সি সরকার মাদ্রাসাটি পরিচালনার ভারবহন করে।

প্রতিষ্ঠার শুরুতে এটি মাদ্রাসার প্রথম প্রধান শিক্ষক মোল্লা মাজদুদ্দিনের বাড়িতে স্থাপিত হয়েছিলো।১৭৯১ সালে অব্যবস্থাপনা ও ছাত্রদের উচ্ছৃঙ্খলতার অভিযোগ উঠে, ফলে তাকে অপসারণ করে ২৪ পরগণার জেলার কালেক্টর মুহম্মদ ইসমাইলকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়। এবং তিন-সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে মাদ্রাসার সর্বোচ্চ ভার এই কমিটির উপর ন্যস্ত করা হয়।

১৯ শতকের শুরুর দিকে মাদ্রাসার আর্থিক সংকট দেখা দিলে, ১৮১৯ সালে এই সংকট নিরসন করতে ও মাদ্রাসার প্রশাসনিক কর্দমক্ষতা বৃদ্ধি করতে কোম্পানি অবসরপ্রাপ্ত ব্রিটিশ সেনা কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন অ্যায়রনকে মাদ্রাসা ব্যবস্থাপনা কমিটির সচিব নিয়োগ করে। কিন্তু ১৮৪২ সালে এই কমিটি বিলুপ্তি ঘোষণা করা হয় এবং ১৮৫০ সালে মাদ্রাসায় অধ্যক্ষ পদের সৃষ্টি করা হয়। এই অধ্যক্ষের পদে প্রথম নিয়োগ দেওয়া হয় এলায়স স্প্রেংগার নামে ইউরোপীয় ব্যক্তিকে। এরপর ১৯২৫ সাল পর্যন্ত মোট ২৬ জন ইউরোপীয় ব্যক্তি অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও ১৮২১ সালে মাদ্রাসার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মতামত উপেক্ষা করেই মাদ্রাসায় আনুষ্ঠানিক ফরমাল পরীক্ষার ব্যবস্থা চালু করা হয়।

🔴🟢১৮৫০-১৯২৭, অধ্যক্ষের সূচনা

১৮৫৩ সালে এই মাদ্রাসার কার্যক্রম ও শিক্ষাব্যবস্থা তদন্ত করার জন্য প্রাক্তন শিক্ষার্থী নবাব আবদুল লতীফকে প্রধান করে একটি কমিটি বানানো হয়। তিনি তদন্ত শেষে সরকারকে একটি ইংরেজি শিক্ষার উচ্চতর বিভাগ খোলার অনুরোধ করেন, এর পরিপ্রেক্ষিতে ইনস্টিটিউট ইঙ্গ-ফারসি বিভাগ প্রতিষ্ঠা করা হয়। এই ইনস্টিটিউটে উচ্চ ইংরেজি স্কুলের মানের সাথে মিল রেখে ইংরেজি ও ফার্সি ভাষার উপর বিশেষভাবে শিক্ষা প্রদান করা হতো, যাতে করে উচ্চ অভিজাত মুসলিমরা ইংরেজিতে অতি দক্ষ হতে পারে। একই সালের শেষের দিকে শিক্ষাসংক্রান্ত একটা কমিটির সিদ্ধান্ত পরামর্শ অনুসারে কলকাতা মাদ্রাসাকে প্রস্তাবিত কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ করার আভাস থাকলেও, সেটা বাস্তবায়ন করা হয়নি।

১৮৫৭ সালের সিপাহী বিপ্লবে এই মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের ইন্ধন রয়েছে বলে অভিযোগ করে ব্রিটিশ সরকার মাদ্রাসাটি বন্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা চালায় এবং মাদ্রাসার বিরোধিতা করতে শুরু করে। ১৮৭১ সালে মাদ্রাসা পরিচালনা করার জন্য স্থানীয় ভারত সরকারের প্রতিনিধি জন প্যাকসটন নরম্যান সভাপতি করে কমিটি গঠন করা হয় এবং মাদ্রাসার পাঠ্যক্রমে ইংরেজি ভাষার প্রচলন ঘটানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।১৮৬৩ সালে মাদ্রাসায় এফএ ক্লাস চালু করার চেষ্টা করা হয়, কিন্তু সেটা সম্ভব হয়নি।

১৯১৪ সালে স্থানীয় সরকারের পক্ষ থেকে নিউ স্কীম শিক্ষাধারা ধারণার প্রচলন করা হয়। এই শিক্ষাধারায় ইংরেজি ভাষাকে গুরুত্বারোপ করা হয়েছিলো। ১৯২১ সালে মাদ্রাসার অভ্যন্তরীণ উন্নয়ন ও ইসলামি শিক্ষার সংস্করণের লক্ষ্যে সৈয়দ শামসুল হুদাকে সভাপতি করে ২৩ সদস্যের একটি কমিটি প্রস্তুত করা হয়, যারা ইংরেজি ভাষাকে ঐচ্ছিক রাখার প্রস্তাব করে।[১৪]

🔴🔵১৯২৭-১৯৪৭, মুসলিম অধ্যক্ষের সূচনা

১৯২০ সালের পর থেকেই মাদ্রাসা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ভারতের মুসলিমদের মাদ্রাসার অধ্যক্ষ বানানোর আন্দোলন করে। ১৯২৭ সালে প্রথম মুসলিম অধ্যক্ষ হিসাবে খাজা কামালউদ্দীন আহমদ নিয়োগপ্রাপ্ত হোন। এবং তিনি মাদ্রাসার সিলেবাসে ব্যপক পরিবর্তন নিয়ে আসেন। এই বছরই অন্যান্য মাদ্রাসার সঙ্গে কলকাতা মাদ্রাসাতেও আলিম, ফাজিল, কালিম, মুমতাজুল মুহাদ্দেসিন প্রভৃতি শিক্ষাক্রমের সূচনা ঘটে।

🔵🟢১৯৪৭ বিভাজন
সরকারি মাদ্রাসা-ই-আলিয়া, ঢাকা
১৭৮০ সাল থেকে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত এই মাদ্রাসা ইংরেজদের কোম্পানি পরিচালনা করেছে। এরপর ১৯৪৭ সালে ভারত ইংরেজদের প্রভাব মুক্ত হলে কলকাতা আলিয়া মাদ্রাসার একাংশ ঢাকাতে স্থানান্তরিত হয়, এবং ১৯৭১ সাল পর্যন্ত ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসা পাকিস্তান সরকার কর্তৃক পরিচালিত হয় এবং ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করলে এরপর থেকে বাংলাদেশ সরকার পরিচালনা করে আসছে।

🟤🟢১৯৪৭-২০০৭, বিভাজন পরবর্তী

১৯৪৭ সালে কলকাতা মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী, চেয়ার-টেবিল সহ নানা জিনিসপত্র ঢাকায় স্থানান্তর করলে মাদ্রাসা নানা সংকটে কিছুদিনের জন্য বন্ধ হয়ে যায়। মাদ্রাসার বিশাল গ্রন্থাগারের বহু বই হারিয়ে যায়।এর দুই বছর পরে কলকাতার বুদ্ধিজীবীদের চেষ্টায় মাওলানা আবুল কালাম আজাদের উদ্যোগে মাদ্রাসাটি পুনরায় চালু করা হয়। উন্নত শিক্ষার জন্য ১৮৬৩ সালে কলকাতা মাদ্রাসায় এফ এ পর্যায়ের ক্লাস সংযোজিত হয়। ১৯০৭ সালে কলকাতা আলিয়া মাদরাসায় তিন বছর মেয়াদি মাস্টার্স মানের কামিল কোর্স চালু হয়।এই মাদ্রাসায় ১৯৭০ সাল পর্যন্ত দারসে নিজামি শিক্ষা ব্যবস্থা চালু ছিলো, এরপরে ভারতের সাধারণ শিক্ষা ব্যবস্থার সাথে মিল করে সিলেবাস প্রণয়ন করা হয়।

কলকাতা আলিয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা মাদ্রাসাটিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করার আন্দোলন করতে থাকে, সেই পরিপ্রেক্ষিতে ২০০৮ সালে মাদ্রাসাটিকে আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করা হয়।

♥️💜শিক্ষা কার্যক্রম

কলিকাতা আলিয়া মাদ্রাসা সম্পর্কে এর প্রতিষ্ঠাতা ওয়ারেন হেস্টিংসের ১৭৮১ সালের ১৭ই এপ্রিলে প্রদত্ত একটি বিবরণীতে বিস্তারিত বিষয়াদি জানা যায়। বিবরণীতে সে উল্লেখ করে:

“ ১৭৮০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে মুসলমানদের একটি প্রতিনিধিদল আমার সাথে সাক্ষাত করে আমাকে অনুরোধ করে যে, মোল্লা মাজদুদ্দিন নামের জনৈক ব্যক্তিকে কলিকাতায় স্থায়ীভাবে রাখার ব্যাপারে আমি যেন সচেষ্ট হই। যাতে এখানকার মুসলমান ছাত্ররা প্রচলিত ইসলামী বিষয়ে শিক্ষালাভ করতে পারে। এই ব্যক্তি ইসলামী জ্ঞান-বিজ্ঞানে অগাধ বুৎপত্তিসম্পন্ন। ভারতের মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্যে একটি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে এই ব্যক্তি বিশেষ যোগ্যতা রাখেন। তাছাড়া বর্তমান পরিস্থিতিতে আমাদের সরকারেরও এমন অসংখ্য অফিসারের প্রয়োজন যাদের প্রচুর যোগ্যতা রয়েছে, এবং ফৌজদারি আদালত ও দেওয়ানী আদালতে এই সময় বিচারক নিয়োগের ব্যাপারে খুবই যোগ্যতাসম্পন্ন ও নির্ভরযোগ্য লোকের প্রয়োজন। আমি এই প্রতিনিধিদলকে এই আশ্বাস দিয়ে বিদায় করেছি যে, যতটুকু সম্ভব আমি এই ব্যাপারে চেষ্টা করব। অতঃপর আমি মোল্লা মাজদুদ্দিনকে ডেকে পাঠাই এবং মুসলমানদের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী দায়িত্ব পালনের অনুরোধ জানাই। তিনি আমার কথায় সম্মত হলেন এবং ১৭৮০ সালে প্রস্তাবিত মাদ্রাসার জন্যে কার্যক্রম শুরু করে দিলেন। ”
(বাংলাদেশে মাদরাসা শিক্ষা ও সমাজ জীবনে তার প্রভাব, পৃষ্ঠা ১২০-১২১)

ইনস্টিটিউট ইঙ্গ-ফারসি বিভাগ, কলকাতা মাদ্রাসা
প্রথম দিকে এই মাদ্রাসায় আইন, জ্যোতির্বিদ্যা, যুক্তিবিজ্ঞান, দর্শন, পাটিগণিত, জ্যামিতি, ছন্দবিজ্ঞান, ব্যাকরণ, ধর্মতত্ত্ব ইত্যাদি পড়ানো হত। ১৮২৭ সালে চিকিৎসাবিজ্ঞানের অধ্যাপক পি ব্রেটন এই কলেজে একটি মেডিক্যাল ক্লাস শুরু করেন। ১৮৩৬ সালে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ প্রতিষ্ঠা পর্যন্ত চিকিৎসা বিজ্ঞানের ক্লাস শুধু এই মাদ্রাসায়ই নেওয়া হতো।

এই মাদ্রাসায় শুরু থেকেই লখনউইয়ের ফিরিঙ্গি মহল নামক স্থানের আরবি স্কুল দারসে নিজামি পদ্ধতি অনুসরণ করে পাঠদান করা হতো। এছাড়াও এই মাদ্রাসার অনুকরণে বাংলার অধিকাংশ মাদ্রাসা দরসে নিজামির আদলে পাঠদান করা হতো। এই ব্যবস্থা ১৯৭০ সাল পর্যন্ত চালু ছিলো। দরসে নিজামি পাঠক্রম অনুযায়ী একজন ছাত্রকে ১৭/১৮ বছর বয়সেই আরবি ও ফার্সি ভাষায় লিখিত নির্বাচিত প্রায় শতাধিক বই অন্তত একবার পড়ার ও অনুধাবনের যোগ্যতা অর্জন করতে হতো। ধর্মীয় পাঠ্যক্রম ছাড়াও চিকিৎসা বিদ্যা, কুটির শিল্প ও কারিগরি প্রশিক্ষণের জন্য দারসে নিজামি শিক্ষাক্রম চালু ছিলো, এই শিক্ষা কার্যক্রমের শিক্ষাকাল ছিলো ৯ বছর।

১৮২১ সালে মাদ্রাসায় আনুষ্ঠানিক পরীক্ষা ব্যবস্থার চালু করা হয়। মাদ্রাসায় প্রথম থেকেই প্রচলিত ফার্সি ভাষায় অধিক পাঠদান হতো। কিন্তু মাদ্রাসায় ইংরেজি ভাষার প্রাধান্য বিস্তারের জন্য ১৮২৬ সাল থেকে কোর্সসমূহে ইংরেজি ভাষা সংযুক্তিকরণের চেষ্টা করা হয়, এবং ১৯২৯ সালে ইংরেজি বিভাগ খোলা হয়। ১৮৫৪ সালেই শিক্ষাসংক্রান্ত ‘ডেসপাচ কমিটি’ মাদ্রাসাকে প্রস্তাবিত কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ করার ইঙ্গিত দিলেও, কিন্তু সেটা বাস্তবায়ন হয়নি।[৭]

সেই সময়ে কলকাতা আলিয়া মাদ্রাসার লাইব্রেরিতে ২ লক্ষ ৫০ হাজারের অধিক দুর্লভ ও মূল্যবান বই ছিলো।

♥️💜অ্যাংলো-পার্সিয়ান বিভাগ
অ্যাংলো-পার্সিয়ান বিভাগ, কলকাতা মাদ্রাসা
১৮৫৪ সালে মাদ্রাসার অভ্যন্তরে একটি পৃথক গবেশনা ইনস্টিটিউট ইঙ্গ-ফারসি বিভাগ প্রতিষ্ঠা করা হয়। যা অ্যাংলো-পার্সিয়ান বিভাগ নামে পরিচিত ছিলো। মাদ্রাসার কতৃপক্ষের অনুমোদনে অধ্যক্ষ এলায়স স্প্রেংগারের তত্ত্বাবধায়নে এই বিভাগটি চালু করা হয়। এই বিভাগটি এতোটাই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিলো যে, ভারতের ও বাংলাদেশের সকল আলিয়া মাদ্রাসায় এই বিভাগের সিলেবাস অনুসরণ করে নতুন বিভাগ প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছিলো। অনেক গুণী ব্যক্তি এই বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন।

🛑🛑অন্তর্ভুক্তি
বাংলাদেশের ও ভারতের অনন্য আলিয়া মাদ্রাসা মূলত এই কলকাতা আলিয়া মাদ্রাসার আদলেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলো। কলকাতা আলিয়া মাদ্রাসা ছিলো সকল মাদ্রাসার কেন্দ্র ও অনুমোদনকারী প্রতিষ্ঠান। উপমহাদেশের সকল আলিয়া মাদ্রাসাতেই এই মাদ্রাসার পাঠ্যসুচী অনুসরণ করা হতো। এইজন্য দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকরন করার জন্য বিভিন্ন সময় কমিটি গঠন করে পাঠ্যসূচিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। কলকাতা আলিয়া মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার ১০ বছর পর, ১৭৯১ সালে মাদ্রাসার পরিচালনা পর্ষদ মাদ্রাসা শিক্ষা পাঠ্যসূচি ও সিলেবাসে প্রবর্তন আনে। এ সিলেবাস কলকাতা আলিয়া মাদ্রাসার অধিভুক্ত বাংলা, আসাম, বিহার ও উড়িষ্যার সকল মাদ্রাসায় বাস্তবায়ন করা হয়। এরপর ১৮৬৯ সালে আরেকটি কমিটি মাদ্রাসায় কিছু সংশোধনী আনলে, সেটাও অধিভুক্ত সকল মাদ্রাসার সিলেবাসে বাস্তবায়িত হয়। ১৮৭১ সালে জন প্যাকসটন নরম্যান কমিটি বেঙ্গল মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থায় বেশ কিছু পরিবর্তন আনে।

কলকাতার এই শিক্ষা ব্যবস্থাকে পূর্ব বাংলায় প্রতিষ্ঠিত করতে ১৮৭৪ সালে তিনটি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করা হয়।

রাজশাহী মাদ্রাসা (বর্তমানে: হাজী মুহম্মদ মুহসীন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, রাজশাহী)
ঢাকা মাদ্রাসা (বর্তমানে: কবি নজরুল সরকারি কলেজ, ঢাকা ও‌ ইসলামিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, ঢাকা)
চট্টগ্রাম মাদ্রাসা (বর্তমানে: সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজ, চট্টগ্রাম ও হাজী মুহাম্মদ মহসিন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, চট্টগ্রাম)

♥️💜💙অধ্যক্ষগণের তালিকা
মাদ্রাসায় প্রথম দিকে প্রধান শিক্ষক ও হেড মাওলানা দিয়ে পরিচালনা কাজ হলেও, ১৮৫০ সালে সর্বপ্রথম অধ্যক্ষের পদ সৃষ্টি হয়। প্রথম ২৬ জন ছিলেন ইউরোপিয়ান খ্রিষ্টান অধ্যক্ষ। এরপরে ৪ জন মুসলিম অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করার পরই, ১৯৪৭ সালে কলকাতা মাদ্রাসার একাংশ সম্পূর্ণ আলাদাভাবে ঢাকায় স্থানান্তরিত হয়। অধ্যক্ষের তালিকা:
👉👉মাদ্রাসা-ই-আলিয়া, কলকাতার অধ্যক্ষের তালিকাঃ
👉এ স্প্রেংগার (এম, এ) – (১৮৫০- ১৮৭০)
স্যার উইলিয়াম নাসনলীজ (এল, এল, ডি) – (১৮৭০- ১৮৭০)
👉জে স্যাটক্লিফ (এম, এ) – (১৮৭০- ১৮৭৩)
👉এফ ব্রকম্যান (এম, এ) – (১৮৭৩- ১৮৭৮)
👉এ ই গাফ (এম, এ) – (১৮৭৮- ১৮৮১)
👉এ এফ আর হোর্নেল (সি, আই, ই), ( পি, এইচ, ডি) – (১৮৮১- ১৮৯০)
👉এইচ প্রথেরো (এম, এ) – (১৮৯০- ১৮৯০)
👉এ এফ হোর্নেল – (১৮৯০- ১৮৯২)
👉এ জে রো – (এম, এ) – (১৮৯২- ১৮৯২)
👉এ এফ হোর্নেল – (১৮৯২-১৮৯৫)
👉এ জে রো – (১৮৯৫-১৮৯৭)
👉এ এফ হোর্নেল – (১৮৯৭- ১৮৯৮)
👉এফ জে রো – (১৮৯৮- ১৮৯৯)
👉এফ সি হল – (১৮৯৯- ১৮৯৯)
👉স্যার অর‍্যাল স্টেইন – (১৮৯৯- ১৯০০)
👉এইচ এ স্টার্ক – (১৯০০- ১৯০০)
👉কর্ণেল রেস্কিং – (১৯০০- ১৯০১)
👉এইচ এ স্টার্ক – (১৯০১- ১৯০৩)
👉এডওয়ার্ড ভেনিসন – (১৯০৩- ১৯০৩)
👉এইচ ই স্টেপেল্টন – (১৯০৩-১৯০৪)
👉ডেনিসন রাস – (১৯০৪-১৯০৭)
👉মিঃ চিফম্যান – (১৯০৭- ১৯০৮)
👉এডওয়ার্ড ডেনিসন – (১৯০৮- ১৯১১)
👉এ এইচ হারলি – (১৯১১- ১৯২৩)
👉জে এম বুটামলি – (১৯২৩- ১৯২৫)
👉এ এইচ হারলি – (১৯২৫- ১৯২৭)
👉খাজা কামালউদ্দীন আহমদ- (১৯২৭-১৯২৮) (প্রথম মুসলিম অধ্যক্ষ)
👉খান বাহাদুর মোহাম্মদ হেদায়াত হোসাইন (১৯২৮- ১৯৩৪)
👉খান বাহাদুর মোহাম্মদ মুসা (১৯৩৪- ১৯৪১)
👉মোহাম্মদ ইউসুফ (১৯৪২- ১৯৪৩)
👉খান বাহাদুর জিয়াউল হক (১৯৪৩- ১৯৪৭)❗

“পাপকে ঘৃণা কর, পাপীকে নয়” এটি কুফরি বাক্য।

🤔🤔”পাপকে ঘৃণা করো ,পাপীকে নয়”।
অনেক আলেম অজ্ঞতা হেতু এবং অনেক হক্কানী আলেম ভর করে ভ্রম হেতু বয়ানে, ওয়াজের ময়দানে এমন ইসলাম বিরোধী কথা প্রচার করেন সঠিক ইসলামী গবেষণা না থাকার কারনে।
শুধু পাপকে ঘৃণা করার কথা থাকলে শ য় তা ন আজ ও জান্নাতে থাকত।
💜💙আল্লাহ যখন কোন লোককে অপছন্দ করেন তখন জিব্রাইল আঃ কে ডাক দিয়ে বলেন, আমি অমুক বান্দাকে অপছন্দ করি তুমিও তাকে অপছন্দ কর, তখন জিব্রাইল আঃ তাকে অপছন্দ করেন। এবং সেই খবর সমস্ত আসমান জমিনের ফেরেশতাদের মাঝে ছড়িয়ে পড়ে এবং সমস্ত আসমান-জমিনের ফেরেশতারাও তাকে ঘৃণা করতে থাকে।
–সহীহ মুসলিম-২৬৩৯।
উক্ত হাদিসের(ﺑﻐﺾ) শব্দ এসেছে যার অর্থ সরাসরি ঘৃণা করা, বিদ্বেষ পোষণ করা, অপছন্দ করা।
অর্থাৎ জিব্রাইল আঃ ও ঘৃণা করেন, বিদ্বেষ পোষণ করেন বা অপছন্দ করেন তা প্রমাণিত।

মূলত কেউ যদি স্বেচ্ছায় এবং সজ্ঞানে কোরআনের এই আয়াতগুলোকে অস্বীকার করে অথবা অ্যাপ্লাই করার চিন্তাভাবনা থেকে বিরত থাকে অথবা পাপকে ঘৃণা করে পাপীকে ভালবাসতে থাকে তাহলে সরাসরি কোরআনের আয়াত অস্বীকারকারী এবং কুফুরি কাজ হিসেবে গণ্য হবে।

আমার দেশের বহু আলেম অজ্ঞতাবশত গানের এই কলিকে আওড়ে ঘন্টার পর ঘন্টা ওয়াজ করতে দেখা গেছে। আবার বহু হক্কানী আলেম ও গবেষণা না করার ধরণ এই কথাটাকেই চালিয়ে দিচ্ছে এবং অনেক ওয়াজ মাহফিলে বলেও বেড়াচ্ছেন। মূলত হক্কানী হোক আর ভন্ড আলেম হোক আমার দেশের মেক্সিমাম আলেমগণ গবেষণা করেন না ‌। তাছাড়া বিশেষ করে ভারতীয় উপমহাদেশে ভন্ড আলেমের সংখ্যা ব্যাপক এবং অগণিত মূলত ৯০% আলেম ব্যবসায়ী মনোভাব নিয়ে ওয়াজ নসিহত করে বেড়ান।

চোর,যিনাকারী ব্যাভিচারিকে শাস্তি দেয়ার কথা বলা হয়েছে কোরআনে৷ চুরি,যিনা,অপরাধকে শুধু ঘৃনা করার মধ্যে সীমিত করে দেয়া হয়নি বরং পাপিকে দুনিয়াতেই মানুষের হাতে শাস্তি দেওয়ার কথা বলেছেন।

কোরআনের বিভিন্ন আয়াত মতে ক্ষমাকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে ।ক্ষমা একটি মহৎ কাজ হিসাবে।
তবে সেই ক্ষমা তাদের জন্য প্রযোজ্য যারা তওবাকারী।সামাজিক অপরাধী পাপির ক্ষমা দুনিয়াতে নেই। সামাজিক অপরাধি এবং প্রকাশ্যে কবিরা গুনায় লিপ্ত কারীর সাজা দুনিয়াতে দেওয়ার জন্য আল্লাহ নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু কেউ যদি শুধু পাপকে ঘৃণা করে আর পাপীকে ক্ষমা করে দেয় তাহলে ওই সমাজের সবাই পাপের সমান গুনাগার হবে এবং জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে। তার সাজা জনসমক্ষে প্রচন্ড ঘৃণা ভরে দিতে হবে এবং তা যেন দৃষ্টান্ত হয়ে থাকে। এবং এই শাস্তি দেখে পরবর্তী কেউ যেন এই কাজ করতে আর সাহস না করে।
ব্যভিচারিণী নারী ব্যভিচারী পুরুষ, তাদের প্রত্যেককে একশ’ করে বেত্রাঘাত কর। আল্লাহর বিধান কার্যকর কারণে তাদের প্রতি যেন তোমাদের মনে দয়ার উদ্রেক না হয়, যদি তোমরা আল্লাহর প্রতি ও পরকালের প্রতি বিশ্বাসী হয়ে থাকো। মুসলমানদের একটি দল যেন তাদের শাস্তি প্রত্যক্ষ করে। নূর-২। এখানে আল্লাহ সরাসরি ঘৃণাভরে শাস্তির নির্দেশ দিয়েছেন এবং কোন প্রকার দয়ামায়া না করার জন্য স্পষ্ট বলে দেওয়া হয়েছে।
সুতরাং পাপি ও পাপ উভয়কে ঘৃণা করতে হবে।কোনটাই ছাড় দেয়া হয়নি কোরআন এবং হাদিসে। কারণ এভাবে ছাড় দিতে দিতে সমাজের মধ্যে পাপকর্ম এমনভাবে ছড়িয়ে পড়বে এবং ইতিমধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে যে ইহা রোধ করা আর অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রায়।
আমাদের দেশে এই জাতীয় একটা সিনেমার গান ও প্রচলিত আছে–
মানুষ নিষ্পাপ পৃথিবীতে আসে. ……..
পাপকে ঘৃণা কর পাপীকে নয়………
এ সমস্ত কথা মূলত কোরআন হাদিসের বিষয়ে অজ্ঞ অথবা না স্তি ক মুরতাদদের কথা।

মক্কা মদিনা শুধুমাত্র মুসলিম তথা সকল মানুষের জন্য নিরাপদ স্থান। আর এই বিষয়টা পবিত্র কোরআন দ্বারা নির্ধারিত।

🔴🔴প্রশ্ন – ১
আল্লাহর ভাষ্যমতে, মৃত্যুর পরে সকল প্রানী (পশুপাখি থেকে শুরু করে কীটপতঙ্গ) মানুষের সাথে যোগ দেবে, যাদের একইসাথে পাপকাজের বিচার অনুষ্ঠিত হবে (Quran 6:38) ! প্রশ্ন হলো, অন্যান্য জীবের বেলায় পাপ কাজের মাপকাটি ধরা যায় কিভাবে ? মানুষের মত তাদের মাঝেও কি কোন নবী নির্বাচিত হয় বা কোন আসমানি কিতাব দেওয়া হয় ? তাদের কি #আল্লাহ/সৃষ্টিকর্তা ব্যাপারটা বোঝার মত কোন ধরনের বোধবুদ্ধি আছে ? কিংবা আছে তাঁকে অস্বীকার করার মত কোন বিষয় (অর্থাৎ কাফেরের উপস্থিতি) ?

🔵🔵প্রশ্ন – ২

মৌমাছি বেঁচে থাকে মধু খেয়ে ! কিন্তু কুরানে উল্লেখ আছে তাদের খাদ্য ফল (Quran 16:68-69) ! এটা কি মুহম্মদের ভুল অনুমানের ফসল নয় ?

প্রশ্ন – ৩

আল্লাহ ঘোড়া, গাধা এবং খচ্চর কে তৈরি করে দিয়েছেন মানুষের আরোহনের জন্যে (Quran 16:8) ! কিন্তু তিনি কি এটা জানতে না যে এগুলোকে পোষ মানাতে মানুষের বহু বছর লেগেছে (Horses were domesticated approximately 4,000 years ago in East Europe or Central Asia) যার পূর্বে তা ছিল বন্য ? আর ভবিষ্যতে মানুষ আরোহনের জন্যে যে অন্য কিছু ব্যবহার করবে তাও কি তার অজানা ছিলো ?

প্রশ্ন – ৪

আরব অঞ্চলে সচরাচর যে সকল জীব দেখা যায় অর্থাৎ – যেগুলো বুকে হেটে চলে (সাপ), দুই পায়ে (মানুষ) এবং চার পায়ে (অন্যান্য জন্তু, গিরগিটি) চলে সেগুলোর কথাই উঠে এসেছে কুরানে (Quran 24:45) ! অথচ হাজার পা যুক্ত প্রানীও পৃথিবিতে বিদ্যমান (Millipedes) ! এসব কি মুহম্মদের অজ্ঞতার ফসল নয় ?

প্রশ্ন – ৫

ইহুদিরা (Jews) সম্পূর্ণ রূপে একেশ্বরবাদী থাকা সত্বেও কুরান কিসের ভিত্তিতে দাবি করে তারা বহুঈশ্বরে বিশ্বাসি (Quran 9:30) ?

http://en.wikipedia.org/wiki/Judaism%27s_view_of_Jesus

প্রশ্ন – ৬

কুরানে উল্লেখ আছে আল্লাহ মুহম্মদ কে Masjid al-Haram (Sacred Mosque) থেকে Masjid al-Aqsa (farthest Mosque) পর্যন্ত ভ্রমন করান (Quran 17:1) ! কিন্তু মুহম্মদের জীবনকালে Masjid al-Aqsa ‘র কোন অস্তিত্বই ছিল না ! তাহলে এধরনের #মিথ্যাচারের কারন কি ?

http://en.wikipedia.org/wiki/Al-Aqsa_Mosque

প্রশ্ন – ৭

কুরান বলে একজন মুসলিম কে সুর্যোদয় থেকে সুর্যাস্ত পর্যন্ত রোজা পালন করতে হবে (Quran 2:187) ! আবার প্রার্থনার ব্যাপারটাও সুর্যোদয় এবং সুর্যাস্তের সাথে সম্পর্কিত (Quran 17:78) ! কিন্তু সমগ্র মানুষের এই জীবন বিধানে Eskimo দের ব্যাপারে কোন #নির্দেশনা_নেই ! এটা কি কুরান রচয়িতার অজ্ঞতা নয় ?

In polar regions, there are six months without sunlight and six months perpetual night during winter and summer.

প্রশ্ন – ৮

কুরান অনুসারে, পবিত্র মক্কা মুসলিম দের জন্যে একটা সুরক্ষিত বা নিরাপদ জায়গা (Quran 2:125, 5:97) (যেটা আল্লাহর একটা মিথ্যা প্রতিশ্রুতি) ! অথচ তিনি কি ভবিষ্যতে এই #মক্কাতেইমুসলিমনিধনের ব্যাপারে অজ্ঞেয় ছিলেন না ?

Juhayman al-Otaybi and Abd-Allah ibn al-Zubayr, and Abu Tahir al-Janabi killed thousands of Muslim pilgrims in Mecca. Moreover, Yazid Bin Muawiya sent a battalion of army to attack Mecca and desecrated the Kaaba.

http://www.webcitation.org/mainframe.php

দাবা খেলা কি হালাল না কি হারামঃ

দুই আরব বেদুইন দাবা খলছেন

নবিজি দাবা খেলা নিষেধ করেন নি।

ইমাম মুনযিরি তার বিখ্যাত “আত তারগিব ওয়াত তারহিব” গ্রন্থে বলেন,

وقد ورد ذكر الشطرنج في أحاديث لا أعلم لشيء منها إسنادا صحيحا ولا حسنا

“দাবা খেলার বিষয়ে কিছু হাদিস বর্ণিত হয়েছে, কিন্তু এগুলোর মাঝে এমন কোন হাদিস আমার জানা নেই যা সনদের দিক থেকে সহিহ কিংবা হাসান।”

আল্লামা সাখাভি তার “উমদাতুল মুহতাজ” রিসালাতে তার শায়খ ইবনে হাজার আসকালানির বক্তব্য উল্লেখ করে বলেন,

وقد قال شيخنا إنه لا يثبت في الشطرنج عن النبي شيء

“আমাদের শায়খ বলেছেন, নবিজি থেকে দাবা খেলার ব্যাপারে কোন কথাই প্রমাণিত না।”

ইবনে হাজার আল হায়তামি “তুহফাতুল মুহতাজ” কিতাবে বলেন,

قال الحفاظ : لم يثبت منها حديث من طريق صحيح ولا حسن

“হাদিসবিদগণ বলেছেন, দাবা খেলার নিষেধাজ্ঞা ব্যাপারে একটি হাদিসও সহিহ কিংবা হাসান সুত্রে প্রমাণিত না।”

ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম রহিমাহুল্লাহ ‘আল মানার আল মুনিফ’ গ্রন্থে রাসুলের নামে জাল করা করা হাদিসের উদাহরণ হিসেবে বলেন,

ومِن ذَلِكَ أحادِيثُ اللِّعْبِ بِالشَّطَرَنْجِ إباحَةً وتَحْرِيمًا كُلُّها كَذِبٌ عَلى رَسُولُ اللَّهِ ﷺ

“দাবা খেলার জায়েয-নাজায়েয বিষয়ে বর্ণিত প্রত্যেকটা হাদিস আল্লাহর রাসুলের নামে বানানো মিথ্যাচার।”

ইমাম ইবনে হাযম “আল মুহাল্লা” গ্রন্থে সঙ্গীত ও দাবা নিয়ে আলোচনা করার পর বলেন,

فَلَمّا لَمْ يَأْتِ عَنْ اللَّهِ – تَعالى -، ولا عَنْ رَسُولِهِ – ﷺ – تَفْصِيلٌ بِتَحْرِيمِ شَيْءٍ مِمّا ذَكَرْنا صَحَّ أنَّهُ كُلُّهُ حَلالٌ مُطْلَقٌ

“যেহেতু আল্লাহ কিংবা নবিজি থেকে এই বিষয়গুলো হারাম হবার হবার ব্যাপারে কোন আলোচনা আসে নি, সুতরাং এর সবগুলোই নিরেট হালাল।”

জুতা পায়ে দিয়ে নামাজ পড়া কি

আমার দেশে কেউ যদি জুতা পায়ে দিয়ে নামাজ পড়ে তবে সাধারণ মানুষ তো দূরের কথা এমনকি ইমাম, আলেম পর্যন্ত আপনাকে হাজারো প্রশ্নবানে জর্জরিত করবে।

অথচ রাসূল সাঃ ও সাহাবা কেরাম ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রায়ই সফরে ও বাড়িতে থাকা অবস্থায় ও নামাজ পড়েছেন।

অনেকেই হাদীসের সত্যতা স্বীকার করলেও বলবেন, জুতার তলা পবিত্র হতে হবে। তা ঠিক। তবে মনে রাখতে হবে,রাস্তার, বা জমিনের মাটি শতভাগ পবিত্র,যদিনা তাতে প্রকাশ্য নাপাকি দেখা যায়। অনুমান হলো শয়তানের আসওয়াসা।

জুতা পরিধান করে সালাত অর্থাৎ নামায আদায়
বাংলাদেশের ৯০% ভাগ লোকই বিষয়টি জানেনা। হাদিসে পড়লেও এমন দৃশ্য আমার দেশে চোখে পড়েনা। অথচ আল্লাহ আমাদের জন্য দ্বীন ইসলাম সহজ করে চান।
কিছু মুসলিম যখন কাউকে জুতা পড়ে নামায পড়তে দেখে তখন সেটা তার কাছে আশ্চর্য লাগে এবং কখনও কখনও তাকে দোষী আরোপ করে। তবে জুতা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে (কাঁদা, ধুলা বালি এগুলিতে সমস্যা নাই, নাপাক কিছু লেগে থাকা যাবে না)। তবেই সালাত আদায় করার সময় জুতা খুলার প্রয়োজন নেই , ইশাআল্লাহ।

জুতা পরিধান করে নামাজ পড়ার একাধিক দলিল রয়েছে, আসুন পরিচিত হই।

  1. তোমরা জুতা পরিধান করে সালাত/ নামাজ পড়ো এবং ইয়াহুদীদের সাদৃশ্য অবলম্বন করিও না। (صحيح الجامع)
  2. তোমরা ইয়াহুদীদের বিরোধিতা করো কেননা তারা জুতা পরিধান করে নামাজ পড়ে না নাই বা মুজা পরিধান করে (اخرجه ابو داود وابن حبان في صحيحه)
  3. এবং আনাস কে
    জিজ্ঞেস করা হয়েছিল : রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুতো পরিধান করিয়া কি নামাজ পড়িতেন? তিনি বলেন : হ্যাঁ (اخرجه البخاري ومسلم وغيرهما)
  4. ইবনে আবি আউস থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, আমার দাদু কখনো কখনো নামাজ পড়তেন এবং নামাযের অবস্থাতেই তিনি আমার দিকে ইশারা করতেন এবং আমি তাকে তার জুতো দিতাম এবং তিনি বলতেন যে, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ‘জুতা’ পরিধান করিয়া নামাজ পড়িতে দেখেছি
    (ابن ماجه)
    হাদীসগুলো আপনি যাচাই করলে বুখারী,আবু দাউদ, ইবনে মাজাতে তে খুঁজে পাবে।

মুসলিম শাসকের আনুগত্য ছাড়া মৃত্যুবরণকারী জাহেল

মুসলিম শাসকের আনুগত্য বর্জন করে মৃত্যুবরণ করা কি জাহেলি মৃত্যু?

মনে রাখতে হবে, মুসলিম নাম হলেই সে মুসলীম নয়। আল্লাহর আইন দিয়ে যারা দেশ চালায় শুধু তাদের আনুগত্য করা ফরজ। বরং “”আল্লাহ যা নাজিল করেছেন সে কিতাবের আইন দিয়ে যারা রাষ্ট্রের আইন তৈরী করে না তারা কাফের,ফাঁসের,জালেম” মায়েদা- ৪৪,৪৫,৪৭!

আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেন,
مَنْ خَرَجَ مِنْ الطَّاعَةِ وَفَارَقَ الْجَمَاعَةَ فَمَاتَ مَاتَ مِيتَةً جَاهِلِيَّةً.
“যে ব্যক্তি (আমীরের) আনুগত্য বর্জন করে জামায়াত ত্যাগ করল অতঃপর সেই অবস্থায় সে মারা গেল, সে জাহেলিয়াতের মৃত্যুবরণ করল।” (সহীহ মুসলিম হাঃ ১৮৪৮; সুনান নাসায়ী হাঃ ৪১১৪; মুসনাদে আহমদ হাঃ ১৫২৬৬)
এ কথা বলা হয় যে, হাদীসটি ইসলামী রাষ্ট্রের মুসলিম শাসকের ব্যাপারে বলা হয়েছে। অর্থাৎ যে ব্যক্তি ইসলামী রাষ্ট্রের মুসলিম শাসকের আনুগত্য বর্জন করে এবং মুসলিম জামায়াত ত্যাগ করে মৃত্যুবরণ করে, তার মৃত্যু জাহেলিয়াতের মৃত্যু। কিন্তু যে শাসক তথাকথিত মুসলিম হওয়ার পরেও ইসলামের বিধান বর্জন করে উল্টো জাহেলী বিধান দ্বারা মুসলিম উম্মাহকে শাসন করে, সেসব শাসকের জন্য এই হাদীস প্রযোজ্য নয়। কেননা, একজন মুসলিম শাসক আল্লাহর বিধান দ্বারা শাসন ফায়সালা করতে বাধ্য, অন্য কোনো বিধান দ্বারা নয়।

আল্লাহ তা’য়ালা বলেন,
وَأَنِ احْكُمْ بَيْنَهُمْ بِمَا أَنْزَلَ اللَّهُ وَلَا تَتَّبِعْ أَهْوَاءَهُمْ وَاحْذَرْهُمْ أَنْ يَفْتِنُوكَ عَنْ بَعْضِ مَا أَنْزَلَ اللَّهُ إِلَيْكَ ۖ فَإِنْ تَوَلَّوْا فَاعْلَمْ أَنَّمَا يُرِيدُ اللَّهُ أَنْ يُصِيبَهُمْ بِبَعْضِ ذُنُوبِهِمْ ۗ وَإِنَّ كَثِيرًا مِنَ النَّاسِ لَفَاسِقُونَ. أَفَحُكْمَ الْجَاهِلِيَّةِ يَبْغُونَ ۚ وَمَنْ أَحْسَنُ مِنَ اللَّهِ حُكْمًا لِقَوْمٍ يُوقِنُونَ.
আল্লাহ যা নাযিল করেছেন সে অনুযায়ী শাসন- ফয়সালা কর এবং তাদের প্রবৃত্তির (অর্থাৎ মানব রচিত জাহেলি মতবাদের) অনুসরণ করো না। আর তাদের থেকে সতর্ক থাক যে, আল্লাহ (বিধান হিসেবে) যা অবতীর্ণ করেছেন, তার কিছু থেকে তারা তোমাকে বিচ্যুত করবে। অতঃপর যদি তারা (আল্লাহর বিধান থেকে) মুখ ফিরিয়ে নেয়, তাহলে জেনে রাখ যে, আল্লাহ তো কেবল তাদেরকে তাদের কতিপয় পাপের কারণেই (জাহান্নামের) আযাব দিতে চান। আর মানুষের অনেকেই ফাসিক। কি তবে তারা জাহিলিয়াতের বিধান চায়? আর নিশ্চিত বিশ্বাসী জাতির জন্য বিধান প্রদানে আল্লাহর চেয়ে কে অধিক উত্তম? (সূরা মায়িদাঃ ৫/৪৯-৫০)

এখানে জাহেলিয়াত শব্দটি ইসলামের বিপরীত শব্দ হিসাবে ব্যবহার করা হয়েছে। ইসলাম হচ্ছে পুরোপুরি ওহী ভিভিত্তিক জ্ঞানের পথ। কারণ, ইসলামের পথ দেখিয়েছেন আল্লাহ নিজেই। অপরদিকে ইসলামের বাইরের যে কোন মত, পথই জাহেলিয়াতের পথ। আরবের ইসলামপূর্ব যুগকে জাহেলিয়াতের যুগ বলার কারণ হচ্ছে এই যে, সে যুগে নিছক ধারণা, কল্পনা, আন্দাজ, অনুমান বা মানসিক কামনা-বাসনার ভিত্তিতে মানুষেরা নিজেদের জন্য জীবনের পথ তথা মানবরচিত জাহেলি মতবাদ তৈরী করে নিয়েছিল। যেখানেই যে যুগেই মানুষেরা এ কর্মপদ্ধতি অবলম্বন করবে, তাকে অবশ্যই জাহেলিয়াতের কর্মপদ্ধতি বলা হবে। সুতরাং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর উপর আল্লাহ যা নাযিল করেছেন তার বিপরীত বিধান প্রদান করাই জাহিলিয়াত। (তাফসীরে ইবন আবি হাতিম, তাফসীরে ইবন কাসীর, তাফসীরে তাফহীমুল কুরআন, তাফসীরে সা’দী)।

হাদীসে এসেছে, রাসূল (ﷺ) বলেছেনঃ
َأَبْغَضُ النَّاسِ إِلَى اللهِ ثَلاَثَةٌ مُلْحِدٌ فِي الْحَرَمِ وَمُبْتَغٍ فِي الإِسْلاَمِ سُنَّةَ الْجَاهِلِيَّةِ وَمُطَّلِبُ دَمِ امْرِئٍ بِغَيْرِ حَقٍّ لِيُهَرِيقَ دَمَهُ.
আল্লাহর কাছে সবচেয়ে ঘৃণিত ব্যক্তি হচ্ছে তিনজন। যে ব্যক্তি হারাম শরীফের মধ্যে অন্যায় কাজ করে, যে ব্যক্তি মুসলিম হওয়া সত্বেও জাহেলী রীতি-নীতি, বিবিধি-বিধান অনুসন্ধান করে এবং যে ব্যক্তি কোন অধিকার ব্যতীত কারো রক্তপাত দাবী করে। (সহীহ বুখারী হাঃ ৬৮৮২)

আর যে শাসক মুসলিম হওয়া সত্বেও ইসলামের বিধান বর্জন করে জাহেলী-কুফুরী বিধান দ্বারা শাসন করে এবং যারা জাহেলী শাসন মানতে আহ্বান করে কিংবা স্বতঃস্ফূর্তভাবে মেনে চলে তাদের পরিণতি অত্যন্ত ভয়ঙ্কর। হারিস আল-আশয়ারী (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন,
وَمَنْ دَعَا بِدَعْوَى الْجَاهِلِيَّةِ فَهُوَ مِنْ جُثَاءِ جَهَنَّمَ قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ وَإِنْ صَامَ وَإِنْ صَلَّى قَالَ وَإِنْ صَامَ وَإِنْ صَلَّى وَزَعَمَ أَنَّهُ مُسْلِمٌ.
“যে ব্যক্তি জাহেলী বিধানের দিকে আহ্বান জানাবে (এবং যে জাহেলী বিধানের আনুগত্য করব) , সে জাহান্নামী হবে। জিজ্ঞাস করা হল, হে আল্লাহর রাসূল (সাঃ)! সে যদি সাওম পালন করে, সালাত আদায় করে তবুও জাহান্নামী হবে? তিনি বললেন, সে যদি সাওম পালন করে, সালাত আদায় করে এবং নিজেকে মুসলিম বলে দাবী করে তবুও।” (মুসনাদে আহমদ হাঃ ১৬৭১৮, ১৭৩৪৪; জামে তিরমিযী হাঃ ২৮৬৩; মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক হাঃ ৫১৪১; সহীহ ইবনে খুযায়মা হাঃ ১৮৯৫; সহীহ ইবনে হিব্বান হাঃ ৬২৩৩; জামিউল আহাদীস হাঃ ৪৪; মিশকাত হাঃ ৩৬৯৪; সহীহুল জামে হাঃ ১৭২৮)

সুতরাং যে মুসলিম শাসক আল্লাহর বিধান ও তাঁর রাসূল (সাঃ) এর সুন্নাতের তোয়াক্কা না করে বিদয়াতী বিধান তথা জাহেলী মানবরচিত মতবাদ কায়েমের মাধ্যমে আল্লাহর অবাধ্যাচরণ করে, সেই শাসকের আনুগত্য করা জায়েয নেই। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেনঃ
سَيَلِي أُمُورَكُمْ بَعْدِي رِجَالٌ يُطْفِئُونَ السُّنَّةَ وَيَعْمَلُونَ بِالْبِدْعَةِ وَيُؤَخِّرُونَ الصَّلَاةَ عَنْ مَوَاقِيتِهَا فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللهِ إِنْ أَدْرَكْتُهُمْ كَيْفَ أَفْعَلُ قَالَ تَسْأَلُنِي يَا ابْنَ أُمِّ عَبْدٍ كَيْفَ تَفْعَلُ لَا طَاعَةَ لِمَنْ عَصَى اللهَ.
“অচিরেই আমার পরে এমন সব লোক তোমাদের আমীর হবে, যারা আমার সুন্নাতকে বিলুপ্ত করবে, (জাহেলী মানব রচিত মতবাদ) বিদয়াতের অনুসরণ করবে এবং নামায নির্দিষ্ট ওয়াক্ত থেকে বিলম্বে পড়বে। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমি যদি তাদের (যুগ) পাই, তবে কী করবো? তিনি বলেনঃ হে উম্মু আবদ-এর পুত্র! তুমি আমাকে জিজ্ঞেস করছো যে, তুমি কী করবে? ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর অবাধ্যাচরণ করে, তার আনুগত্য করা যাবে না’।” (ইবনে মাজাহ হাঃ ২৮৬৫; আহমাদ ৩৭৮০; আরো দেখুন- সহীহ বুখারী হাঃ ৪৩৪০, ৭১৪৪, ৭১৪৫, ৭২৫৭; সহীহ মুসলিম হাঃ ১৮৩৯, ১৮৪০, ১৮৪৪; জামে তিরমিযী হাঃ ১৭০৭; সুনান নাসায়ী হাঃ ৪২০৫; আবু দাউদ হাঃ ২৬২৫, ৪২৪৮; ইবনে মাজাহ হাঃ ২৮৬৩; মুসনাদে আহমদ হাঃ ৬২৩, ৭২৬, ৭৪০, ১০২১, ১০৯৮, ৩৮৭৯, ১৯৪০৩; মুয়াত্তা মালিক হাঃ ১০; ইবনে আবী শায়বা হাঃ ৩৩৭১৭; মুজামুল কাবীর হাঃ ৩৮১; মুসনাদে শিহাব হাঃ ৮৭৩; জামেউল আহাদীস হাঃ ১৩৪০৫; কানযুল উম্মাল হাঃ ১৪৮৭৫)

মোটকথাঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর উপর আল্লাহ তা’য়ালা যে বিধান নাযিল করেছেন তার বিপরীত বিধান প্রদান করাই জাহিলিয়াত। সুতরাং যে রাষ্ট্র আল্লাহর বিধান অনুযায়ী পরিচালিত হয় না, সেটা কোনো তথাকথিত মুসলিম পরিচালনা করলেও জাহেলি রাষ্ট্র বলে গণ্য। এমন রাষ্ট্রকে ইসলামী রাষ্ট্রে পরিণত করার চেষ্টা না করে বরং এ জাহেলিয়াতের উপর সন্তুষ্টি থেকে মৃত্যুবরণ করাই হচ্ছে জাহেলি মৃত্যু।

এক বারাকার গল্পঃ

আমাদের নবীর পিতা #আব্দুল্লাহ, একদিন মক্কার বাজারে গিয়েছিলেন কিছু কেনা-কাটা করার জন্য I এক জায়গায় তিনি দেখলেন, এক লোক কিছু দাস- দাসী নিয়ে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে বিক্রি করছে I

আব্দুল্লাহ দেখলেন সেখানে দাঁড়িয়ে আছে, একটা ছোট নয় বছরের কালো আফ্রিকান আবিসিনিয়ার মেয়ে I মেয়েটাকে দেখে আব্দুল্লাহর অনেক মায়া হলো, একটু রুগ্ন হালকা-পাতলা কিন্তু কেমন মায়াবী ও অসহায় দৃষ্টি দিয়ে তাঁকিয়ে আছে I

তিনি ভাবলেন ঘরে আমেনা একা থাকেন, মেয়েটা পাশে থাকলে তার একজন সঙ্গী হবে I এই ভেবে তিনি মেয়েটাকে কিনে নিলেন I

মেয়েটিকে আব্দুল্লাহ ও আমেনা অনেক ভালোবাসতেন I স্নেহ করতেন I এবং তারা লক্ষ্য করলেন যে, তাদের সংসারে আগের চেয়েও বেশি রাহমাত ও বরকত চলে এসেছে I
এই কারণে আব্দুল্লাহ ও আমেনা মেয়েটিকে আদর করে নাম দিলেন “বারাকাহ”I

এই গল্প, বারাকার গল্প I

তারপর একদিন আব্দুল্লাহ, ব্যবসার কারণে সিরিয়া রওনা দিলেন I আমেনার সাথে সেটাই ছিল উনার শেষ বিদায় I

উনার যাত্রার দুই এক দিন পর আমেনা একরাতে স্বপ্নে দেখলেন, আকাশের একটা তারা যেন খুব আলো করে তার কোলে এসে পড়লো I

পরদিন ভোরে তিনি বারাকাকে এই স্বপ্নের কথা বললেন I
উত্তরে বারাকা মৃদু হেসে বললেন, “আমার মন বলছে আপনার একটা সুন্দর সন্তানের জন্ম হবে”

আমেনা তখনও জানতেন না তিনি গর্ভ ধারণ করেছেন কিন্তু কিছুদিন পর তিনি বুঝতে পারলেন, বারাকার ধারণাই সত্যি I

আব্দুল্লাহ আর ফিরে আসেন নি, সিরিয়ার পথেই মৃত্যুবরণ করেছেন I

আমেনার সেই বিরহ ও কষ্টের সময়ে, বারাকা ছিলেন একমাত্র সবচেয়ে কাছের সঙ্গী I

একসময় আমেনার অপেক্ষা শেষ হয় এবং তিনি জন্ম দিলেন আমাদের প্রিয় নবীকে I

শেখ ওমর সুলাইমানের বর্ণনা অনুযায়ী, সর্বপ্রথম আমাদের নবীকে দেখার ও স্পর্শ করার সৌভাগ্য হয়েছিল যে মানুষটির, সে হলো এই আফ্রিকান ক্রিতদাসী ছোট কালো মেয়েটি I

আমাদের নবীকে নিজ হাতে আমেনার কোলে তুলে দিয়েছিলেন, আনন্দে ও খুশিতে বলেছিলেন,
“আমি কল্পনায় ভেবেছিলাম সে হবে চাঁদের মত কিন্তু এখন দেখছি, সে যে চাঁদের চেয়েও সুন্দর “

এই সেই বারাকা I নবীজির জন্মের সময় উনার বয়স ছিল তের বছর I ছোটবেলায় শিশু নবীকে আমেনার সাথে যত্ন নিয়েছেন, গোসল দিয়েছেন, খাওয়াতে সাহায্য করেছেন,আদর করে ঘুম পাড়িয়েছেন I

মৃত্যুর সময় আমেনা, বারাকার হাত ধরে অনুরোধ করেছিলেন তিনি যেন তাঁর সন্তানকে দেখে শুনে রাখেন I
বারাকা তাই করেছিলেন Iবাবা-মা দুজনকেই হারিয়ে, ইয়াতিম নবী চলে আসলেন দাদা আবদুল মোত্তালিবের ঘরে I

উত্তরাধিকার সূত্রে নবী হলেন বারাকার নতুন মনিব I
কিন্তু তিনি একদিন বারাকাকে মুক্ত করে দিলেন, বললেন,
-“আপনি যেখানে ইচ্ছে চলে যেতে পারেন , আপনি স্বাধীন ও মুক্ত I”

সেই শিশুকাল থেকেই নবী এই ক্রীতদাস প্রথাকে দূর করতে চেয়েছিলেন Iবারাকা নবীকে ছেড়ে যেতে রাজি হলেন না I রয়ে গেলেন I মায়ের ছায়া হয়ে পাশে থেকে গেলেন I

এমনকি নবীজির দাদা উনাকে বিয়ে দেয়ার জন্য বেশ কয়েকবার চেষ্টা করেছিলেন কিন্তু তিনি কিছুতেই রাজি হলেন না I উনার একই কথা, -“আমি আমেনাকে কথা দিয়েছি, আমি কোথাও যাবো না”

তারপর একদিন খাদিজা (রাঃ) এর সাথে নবীজির বিয়ে হলো I বিয়ের দিন রাসূল (সাঃ) খাদিজা (রাঃ) এর সাথে বারাকাকে পরিচয় করিয়ে দিলেন I তিনি বললেন, “উনি হলেন আমার মায়ের পর আরেক মা “

বিয়ের পর রাসূল (সাঃ) একদিন বারাকাকে ডেকে বললেন,
-“উম্মি ! আমাকে দেখাশুনা করার জন্য এখন খাদিজা আছেন, আপনাকে এখন বিয়ে করতেই হবে I” (নবীজি উনাকে উম্মি ডাকতেন, নাম ধরে ডাকতেন না )

তারপর রাসূল (সাঃ) ও খাদিজা মিলে উনাকে উবাইদ ইবনে জায়েদের সাথে বিয়ে দিয়ে দিলেন I কিছুদিন পর বারাকার নিজের একটা ছেলে হলো, নাম আইমান I এরপর থেকে বারাকার নতুন নাম হয়ে গেলো “উম্মে আইমান”I

একদিন বারাকার স্বামী উবাইদ মৃত্যু বরণ করেন, নবীজি গিয়ে আইমান ও বারাকাকে সাথে করে নিজের বাড়ি নিয়ে আসেন এবং সেখানেই থাকতে দিলেন I

কিছুদিন যাওয়ার পর নবীজি একদিন বেশ কয়েকজন সাহাবীকে ডেকে বললেন,

“আমি একজন নারীকে জানি, যার কোন সম্পদ নেই, বয়স্ক এবং সাথে একটা ইয়াতিম সন্তান আছে কিন্তু তিনি জান্নাতি, তোমাদের মধ্যে কেউ কি একজন জান্নাতি নারীকে বিয়ে করতে চাও?”

এইকথা শুনে জায়েদ ইবনে হারিসা (রাঃ) নবীজির কাছে এসে বিয়ের প্রস্তাব দিলেন I নবীজি উম্মে আইমানের সাথে কথা বলে বিয়ের আয়োজন করলেন I

বিয়ের দিন রাসূল (সাঃ) জায়েদকে বুকে জড়িয়ে আনন্দে ও ভালোবাসায়, ভেজা চোখে, কান্না জড়িত কণ্ঠে বললেন,
“তুমি কাকে বিয়ে করেছো, জানো জায়েদ ?”
-হাঁ, উম্মে আইমানকে I জায়েদের উত্তর I নবীজি বললেন, -“না, তুমি বিয়ে করেছো, আমার মা কে “

সাহাবীরা বলতেন, রাসূল (সাঃ) কে খাওয়া নিয়ে কখনো জোর করা যেত না I উনি সেটা পছন্দ করতেন না I কিন্তু উম্মে আইমান একমাত্র নারী, যিনি রাসূল (সাঃ) কে খাবার দিয়ে “খাও”..” খাও”.. বলে তাড়া দিতেন I আর খাওয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত পাশে বসে থাকতেন I নবীজি মৃদু হেসে, চুপ চাপ খেয়ে নিতেন I

রাসূল (সাঃ) উনার দুধ মাতা হালিমাকে দেখলে যেমন করে নিজের গায়ের চাদর খুলে বিছিয়ে তার উপর হালিমাকে বসতে দিতেন ঠিক তেমনি মদিনায় হিজরতের পর দীর্ঘ যাত্রা শেষে উম্মে আইমান যখন ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন নবীজি উনার গায়ের চাদরের একটা অংশ পানিতে ভিজিয়ে, উম্মে আইমানের মুখের ঘাম ও ধুলোবালি নিজ হাতে মুছে দিয়েছিলেন এবং বলেছিলেন, “উম্মি ! জান্নাতে আপনার এইরকম কোন কষ্ট হবে না”

নবীজি মৃত্যুর আগে সাহাবীদের অনেক কিছুই বলে গিয়েছিলেন I সেই সব কথার মধ্যে একটা ছিল, উম্মে আইমানের কথা Iবলেছেন, “তোমরা উম্মে আইমানের যত্ন নিবে, তিনি আমার মায়ের মত I তিনিই একমাত্র নারী, যিনি আমাকে জন্ম থেকে শেষ পর্যন্ত দেখেছেন I আমার পরিবারের একমাত্র সদস্য, যিনি সারাজীবন আমার পাশে ছিলেন I”

সাহাবীরা সেই কথা রেখেছিলেন I গায়ের রং নয়, এক সময়ের কোন ক্রিতদাসী নয়, তাঁর পরিচয় তিনি যে নবীর আরেক মা I মায়ের মতোই তাঁরা, এই বৃদ্ধা নারীকে ভালোবেসে আগলে রেখেছিলেন I

সূত্র: ইবনে হিশাম ও শেখ ওমর সুলাইমান,

সাইয়েদ কামালউদ্দিন আব্দুল্লাহ জাফরী। একটি জীবন্ত কিংবদন্তি।

সাইয়েদ কামাউদ্দিন আব্দুল্লাহ জাফরী

💙♥️ইসলামী শিক্ষার প্রচলন ও শরিয়াভিত্তিক সমাজ গঠনে তাঁর অবদান অসামান্য। তিনি একাধারে নির্ভেজাল তাওহীদ ও সুন্নাহর একনিষ্ঠ অনুসারী, শিরক ও বিদআতবিরোধী আন্দোলনের বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর, বাংলাদেশে ইসলামী চিন্তা ও শিক্ষাবিস্তারের সফলতম অগ্রনায়ক এবং ব্যাংকিং ও ইন্স্যুরেন্স জগতে ইসলামী শরিয়া প্রতিষ্ঠার অন্যতম চিন্তাসরবরাহকারী। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন এই ইসলামী চিন্তাবিদ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানের বহু প্রতিষ্ঠানের সফল প্রতিষ্ঠাতা। তাঁর হাতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে নরসিংদীর জামেয়া কাসেমিয়া এবং বাংলাদেশ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো আলোকিত প্রতিষ্ঠানের।
👉জন্মঃ বিচক্ষণ আর দূরদৃষ্টিসম্পন্ন এই মানুষটির আদি বসতি বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত দ্বীপাঞ্চল ভোলায়। ১৯৪৫ সনের ৩ মার্চ তারিখে বরিশালের ভোলা জেলার বোরহানুদ্দিন থানার সৈয়দ আওলিয়া গ্রামে তাঁর জন্ম হয়। পিতা মাওলানা সাইয়্যেদ আবু জাফর আব্দুল্লাহ ছিলেন একজন খ্যাতনামা আলেম। তাঁর দাদার নাম হযরত মাওলানা মুফতি আব্দুল হাদী। তাঁর মহিয়সী মাতা ফাতেমা খাতুন ও নানা প্রখ্যাত আলেম আবেদ আলহাজ্ব মকবুল আহমেদ।
পারিবারিক ঐতিহ্যঃ তাঁর পরিবারের রয়েছে এক ঐতিহাসিক ও গৌরবজনক পরিচিতি। তাঁর পরিবারের উর্ধ্বতন পুরুষ প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর বংশধর। একারণেই তাঁর নামের পূর্বে ‘সাইয়্যেদ’ শব্দটি যোগ করা হয়।
শৈশবঃ অত্যন্ত দ্বীনি পরিবেশে আল্লামা জাফরীর শৈশব অতিবাহিত হয় । তাঁর পিতা ছিলেন অত্যন্ত পরহেজগার আলেম। পিতার তত্ত্বাবধানে ছোটকাল থেকেই তিনি ইলম ও আমলের উপর বেড়ে উঠেন। তাঁর পারিবারিক ইতিহাস অনুসন্ধান করলে জানা যায়, জমিদার আগা বাখের খানের সময় একটি আরব পরিবার ‘বোরহান উদ্দিন’ নামক দ্বীপাঞ্চলে আগমন করেন। তখন জমিদার সাহেব তাদেরকে পূর্ব ও পশ্চিমে দু’টি দ্বীপ লাখেরাজ করে দেন। সেই আরব পরিবারের প্রধান ছিলেন সৈয়দ আওলিয়া, তাঁর নামানুসারেই এ দু’টি দ্বীপের সমন্বয়ে গঠিত গ্রামের নাম দেয়া হয় ‘সৈয়দ আওলিয়া’।
তাঁর সম্মানিত পিতা মাওলানা আবু জাফর আব্দুল্লাহ ছিলেন স্থানীয় মির্জাকালু ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ। আবেদ জাহেদ ও প্রখ্যাত আলেমে দ্বীন হিসেবে এলাকায় তাঁর বিশেষ খ্যাতি ছিল।
তাঁর দাদা মাওলানা মুফতি আবদুল হাদী ছিলেন ফুরফুরার প্রথম পীর হযরত মাওলানা আবু বকর সাহেবের খলিফা। কোলকাতা আলিয়া মাদরাসা থেকে তিনি সেকালে গোল্ডমেডেল পেয়ে টাইটেল পাশ করেছিলেন।
তাঁর নানা-বাড়ি ছিল ভোলা জেলার তজুমুদ্দিন থানার মহাদেবপুর গ্রামে। তাঁর নানাও একজন প্রখ্যাত আলেম ও আবেদ ছিলেন। তৎকালীন নোয়াখালীর কলাগাছিয়া পীর সাহেবের খলীফা ছিলেন তিনি।
কৈশোরঃ আল্লামা জাফরীর বাবা মাওলানা আবু জাফর আব্দুল্লাহ ছিলেন তাঁর দাদার প্রতিষ্ঠিত ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ এবং প্রখ্যাত আলেমে দ্বীন। তাঁর বাবার কাছে বহু আলেম প্রতিনিয়ত আসা যাওয়া করতেন। তিনি সেসব আলেমদের খেদমত করবার স্থায়ী সুযোগ পেয়েছিলেন। তাঁর দাদা মাওলানা মুফতি আবদুল হাদীও ছিলেন প্রসিদ্ধ আলেম এবং সেই এলাকার প্রসিদ্ধ পীর। তাঁর কাছে বহু আলেম ও মুত্তাকী লোকদের আগমন ঘটত। আল্লামা জাফরী শিশু ও কিশোর বয়সে আন্তরিকভাবে তাঁদের সেবা-যত্ন করতেন। বিনিময়ে এসব মানুষের কাছ থেকে তিনি পেতেন অকৃত্রিম স্নেহ আদর আর হৃদয় নিংড়ানো দোয়া।
বাল্য ও কৈশোর বয়সের কয়েকটি ঘটনাঃ বাল্য বয়সে তিনি পরহেজগার, মুত্তাকী, পীর, আলেমে দ্বীন ও উস্তাদদের সেবা করার সুযোগ পান। তাঁর পিতা ও দাদার কারণে তিনি এই সুযোগ পেয়েছিলেন। মাঝে মাঝে তাঁর দাদার কাছে আসতেন সৈয়দ মাওঃ আব্দুল গণি মাদানী। আল্লামা জাফরী সাহেবের বয়স তখন মাত্র ১০ বছর। একবার আল্লামা আবদুল গণি মাদানী তাঁর দাদার কাছে এলে জাফরী সাহেব তাঁর অনেক খেদমত করেন। মাদানী সাহেব খুশি হয়ে তাঁর জন্যে দোয়া করে বলেন-
“কামাল তুম কামাল বন যাও ”
এই সৈয়দ আবদুল গণি মাদানী ছিলেন রাসূল (সা.) এর মায়ের বংশের লোক। তিনি একজন বিশ্বখ্যাত ক্বারী ছিলেন। বিভিন্ন স্থানে সহীহ শুদ্ধভাবে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের শিক্ষা দিতেন তিনি। জাফরী সাহেবের দাদার সাথে তাঁর আত্মার সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল। একারণে প্রায়ই তিনি তাঁর নানার বাড়িতে আসতেন। সে সুবাদে আল্লামা জাফরী এই মহান মানুষটির সাহচর্য পাবার সুযোগ পেয়েছিলেন। সৈয়দ আবদুল গণী মাদানী মসজিদে নববীতে নামাজ পড়াতেন। তাঁর নামে মসজিদে নববীর একটি দরজার নামও রাখা হয়েছে। পরবর্তীতে তাঁর ছাত্র ক্বারী আবদুল মজিদও মসজিদে নববীতে নামাজ পড়াতেন। বাংলাদেশের জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম তিনিই উদ্বোধন করেন। শেষ বয়সে তিনি বাংলার সবুজ মাটিতেই মৃত্যুবরণ করেন, তবে সৌদি সরকার তাঁকে দাফন করেন মদিনার পবিত্র মাটিতে।
কিশোর বয়স থেকেই কামালুদ্দীন জাফরী একজন একনিষ্ঠ নামাজি ছিলেন। শুধু নিজেই নামাজ পড়তেন- তা নয়, বরং এলাকার অন্যসব বাল্যবন্ধুদের নিয়েও নামাজ আদায় করতে যেতেন তিনি। সমাজের সবাইকে নামাজি মুত্তাকি মানুষে পরিণত করবার লক্ষ্যে কিশোর বয়সেই তিনি “নামাজ কায়েম পরিষদ” গঠন করেন। প্রতিদিন ভোর বেলা ঘুম থেকে উঠে কিশোর বন্ধুদের নিয়ে সুর করে গান গেয়ে নামাজের প্রতি আহবান করত এই দল। গান ছিল এরকম:
“উঠ মুমিন মুসলমান সময় যায় যে বইয়া
পরকালে কি জব দিবা নামাজ অ লাগিয়া।”
বাল্যশিক্ষাঃ বাল্যকাল থেকেই আল্লামা জাফরী তুখোর মেধাবী ও প্রচণ্ড সাহসী ছিলেন। গ্রামের মক্তবে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপ্ত করে দাদার প্রতিষ্ঠিত মির্জাকালু ইসলামিয়া সিনিয়ার ফাজিল মাদরাসায় ভর্তি হন। তখনও মাদরাসার অধ্যক্ষ ছিলেন তাঁর বাবা অধ্যক্ষ আবু জাফর আব্দুল্লাহ।
কুমরাদী সিনিয়র মাদরাসায় উচ্চশিক্ষাঃ উনিশ শতকে পূর্ব বাংলার সেরা ইসলামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে নরসিংদীর শিবপুরস্থ কুমরাদী দারুল উলুম সিনিয়র ফাজিল মাদরাসার ব্যাপক সুখ্যাতি ছিল। উচ্চ শিক্ষার জন্য আল্লামা জাফরী ১৯৫৬ সনে অত্র মাদরাসায় ভর্তি হন। বাল্য বয়সে এত দূরে তাঁর মন টিকে নি বলে বাধ্য হয়ে অল্পদিনের ব্যবধানেই উস্তাদদের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে তিনি পুনরায় বাবার প্রতিষ্ঠানে ফিরে আসেন এবং ১৯৫৮ সনে কৃতিত্বের সাথে দাখিল পাশ করেন।
আবারো কুমরাদী মাদরাসায়: ভারতবর্ষের সেরা ইসলামী বিদ্যাপিঠ কুমরাদী মাদরাসায় ভর্তি হয়ে চার বৎসর অধ্যয়ন করে ১৯৬২ সনে তিনি আলিম পাশ করেন। অতপর ফাজিল শ্রেণীতে দুই বৎসর অধ্যয়ন করেও কুমরাদী মাদরাসা থেকে কেন্দ্রীয় পরীক্ষা দেয়ার সৌভাগ্য হয়নি তাঁর। পরীক্ষার কিছুদিন পূর্বে তাকে ফিরে যেতে হয় নিজ বাড়িতে। অবশেষে মির্জাকালু ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসা থেকে ১৯৬৪ সনে ফাজিল পরীক্ষা দেন এবং কৃতিত্বের সাথে কৃতকার্য হন।
ঢাকা আলিয়া মাদরাসায় ভর্তি: ফাজিল পাশ করে তিনি ঢাকা আলিয়া মাদরাসায় ভর্তি হন এবং কিছু দিন অধ্যয়ন করবার পর নিয়মিত ক্লাশ করা তাঁর পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়ে।
রেডিও পাকিস্তান ‘ঢাকা সেন্টারে’ নিয়োগ লাভ: রেডিও পাকিস্তানে তখন “আমাদের জিন্দেগী” নামের একটি ইসলামী অনুষ্ঠান পরিবেশিত হতো। এই অনুষ্ঠানে কুরআন ও হাদিসের আলোকে নিয়মিত জ্ঞানগর্ভ আলোচনা পেশ করার জন্যে তিনি ঢাকা সেন্টারে নিয়োগ পান।
ইমাম ও খতীব হিসেবে নিয়োগ লাভঃ রেডিও পাকিস্তানে তার যুগোপযোগী ও জ্ঞানগর্ভ আলোচনার সুনাম-সুখ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে দেশব্যাপী। এসময় মিরপুর বায়তুল মুশাররফ মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে তাকে মসজিদটির ইমাম ও খতীব করার প্রস্তাব দেয়া হয়। রাজি হয়ে যান তিনি। মসজিদকেন্দ্রিক নানামুখী দ্বীনি কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েন তিনি।
ঢাকা আলিয়া মাদরাসা ত্যাগ: নানামুখী ব্যস্ততার কারণে ঢাকা আলিয়া মাদরাসায় লেখাপড়া অব্যাহত রাখতে পারেন নি তিনি। বিভিন্ন ব্যস্ততার মাঝে ক্লাস চালিয়ে যাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়লে একসময় ঢাকা আলিয়া মাদরাসা ত্যাগ করতে বাধ্য হন তিনি।
সেকেন্ড মুহাদ্দিস হিসেবে নিয়োগ লাভ: গাজীপুর জেলার কালিগঞ্জ থানায় অবস্থিত দুর্বাটি মদিনাতুল উলুম আলিয়া মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা আবদুস সালাম সাহেব আল্লামা জাফরীকে সেকেন্ড মুহাদ্দিস পদে নিয়োগ দেন। দুই বছর সেখানে মুহাদ্দিস হিসেবে অধ্যাপনা করেন তিনি।
প্রথম শ্রেণীতে কামিল পাশঃ দুর্বাটি আলিয়া মাদরাসায় মুহাদ্দিস থাকাকালে একই মাদরাসা থেকে ১৯৭৩ সনে কামিল পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে হাদীস বিভাগে প্রথম শ্রেণীতে কৃতিত্বের সাথে কামিল পাশ করেন তিনি। ছাত্রজীবনে লেখাপড়ার পাশাপাশি উস্তাদদের খেদমত ছিল তাঁর নেশা।
সুবক্তা হিসেবে পরিচিতি লাভ: কুমরাদী মাদরাসায় ছাত্র থাকাকালেই মাওলানা জাফরী নরসিংদীবাসীর কাছে সুবক্তা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। দুর্বাটি মাদরাসায় মুহাদ্দিস পদে যোগদানের পর থেকে তার আলোচনা আরো সমৃদ্ধ হতে থাকে। কুরআন-সুন্নাহর দলিল সহযোগে যুক্তিপ্রমাণনির্ভর আলোচনার জন্য নরসিংদীবাসীর মাঝে তাঁর ভক্তের সংখ্যা ক্রমেই বাড়তে থাকে। চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে তার সুনাম-সুখ্যাতি।
নরসিংদী আগমনের আহবান: সুবক্তা ও একজন যোগ্য আলেম হিসেবে পরিচিতি লাভ করার সুবাদে নরসিংদীর স্থানীয় গুণীজন তাঁকে তাদের মাঝে নিয়ে আসবার পরিকল্পনা করেন। ১৯৭৬ সনে একদল ইসলামপ্রেমী মানুষ তাকে নরসিংদী আসবার আমন্ত্রণ জানান। সেটি ছিল ইতিহাসের এক মাহেন্দ্রক্ষণ।
জামেয়া প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন: বিজ্ঞ এই আলেমকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন নরসিংদীর প্রভাবশালী ও সম্ভ্রান্ত সুধীমহল। তাদের মাঝে উল্লেখযোগ্য হলেন- সর্ব জনাব রুস্তম আলী আশরাফি, আসহাব উদ্দীন ভূঁইয়া (মধু ভূঞা), মৌলানা মোঃ জালাল উদ্দীন, আব্দুর রহমান ভূঁইয়া, তায়েব উদ্দীন ভূঁঞা, মৌলভী তাফাজ্জল হোসেন, এ, কে, এম জয়নাল আবেদীন, তোতা মিয়া, শমসের আলী, শামসুদ্দীন ভূঁঞা, সাহাবুদ্দীন মিয়া, মোঃ বদরুজ্জামান, পোস্ট মাস্টার, মাওলানা ফজলুল হক প্রমুখ। এসব বিদগ্ধ গুণীজন আল্লামা জাফরীর কাছে একটি আধুনিক মানের ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করবার আবেদন রাখেন। জাফরী সাহেব তাদের এ প্রস্তাবকে ধন্যবাদের সাথে গ্রহণ করেন এবং আন্তরিকতার সাথে একটি আদর্শ প্রতিষ্ঠান গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করবার প্রতিশ্রুতি দেন।
জামেয়া প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রথম সভা: জামেয়া প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সর্বপ্রথম সভাটি নরসিংদীর ব্রাহ্মন্দী মোড় (বর্তমানে বায়তুল আমান) জামে মসজিদে অনুষ্ঠিত হয়। বাংলা ১৩৮০ সালের ২৩ পৌষ তারিখে নরসিংদীর পূর্বোল্লিখিত সুধীজন সেই সভায় অংশগ্রহণ করেন। বৈঠকে একটি অর্গানাইজিং কমিটি গঠিত হয়; এর সভাপতি হন জনাব রুস্তম আলী আশরাফী এবং সেক্রেটারি হন মাওলানা জালাল উদ্দিন। আল্লামা জাফরী কমিটির সদস্য থাকেন।
মূলত এই সভাটিই ছিল জামেয়া প্রতিষ্ঠার প্রথম সোপান। মিটিংয়ে সর্বসম্মতিক্রমে জামেয়া প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। একরাশ স্বপ্ন নিয়ে একদল আল্লাহমুখী মানুষের মহান উদ্দেশ্যের যাত্রা আরম্ভ হয়।
আল্লামা জাফরীকে সেক্রেটারি নিয়োগ: ৪ আগস্ট ১৯৭৬ তারিখে অর্গানাইজিং কমিটির নবম বৈঠক আহ্বান করা হয়। সভায় তৎকালীন সেক্রেটারী জনাব মাওলানা জালাল উদ্দিন বিভিন্ন কাজে তার কর্মব্যস্ততার কারণ দেখিয়ে সেক্রেটারির দায়িত্ব পালনে অপারগতা প্রকাশ করেন। তখন জনাব মাস্টার বশির উদ্দিন মাওলানা জাফরীকে সেক্রেটারী করার প্রস্তাব উত্থাপন করেন এবং জনাব শমসের আলী সাহেব সেই প্রস্তাবের প্রতি সমর্থন জ্ঞাপন করেন। সর্বসম্মতি ক্রমে মাওলানা জাফরী কমিটির সেক্রেটারী হিসেবে মনোনীত হন। শুধু তাই নয়, সেদিন থেকে জামেয়া প্রতিষ্ঠার যাবতীয় কর্মকাণ্ড সকলের অনুরোধক্রমে সেক্রেটারির কাঁধে অর্পিত হয়।
শুরু হলো স্বপ্নের পথচলা : জামেয়া কাসেমিয়ার যাবতীয় দায়িত্ব তাঁর কাঁধে অর্পিত হওয়ার পর তিনি তা আন্তরিকতার সাথে গ্রহণ করেন। জামেয়া কাসেমিয়াকে একটি আদর্শ আবাসিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গড়ার স্বপ্ন নিয়ে দৃপ্ত পায়ে যাত্রা শুরু করেন আল্লামা জাফরী। তাঁর প্রতি অকুণ্ঠ সমর্থন প্রদান করেন স্থানীয় এলাকাবাসী।
হজ্বে গমনঃ জামেয়া প্রতিষ্ঠার মাত্র এক বৎসরের মাথায় ১৯৭৭ সালে মাদরাসার পরিচালনা কমিটি আল্লামা জাফরীকে হজ্জে পাঠানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। উদ্দেশ্য ছিল জামেয়ার উন্নয়ন। হজ্জ্বে পাঠাতে প্রচুর অর্থের প্রয়োজন। তাই কমিটির সম্মানিত সদস্যগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় নরসিংদী বাজার থেকে তখন প্রায় ১৬০০০/=(ষোল হাজার টাকা) উত্তোলন করে আল্লামা জাফরীকে হজ্জ্বে পাঠানো হয়।
রাবেতা আলম আল ইসলামীতে আবেদন: আল্লামা জাফরী হজ্জ্বে গিয়ে ক্বাবাকে সামনে রেখে মহান প্রভুর দরবারে তাওহীদের মশাল হিসেবে জামেয়াকে কবুল করার দুয়া করেন। পাশাপাশি জামেয়ার অর্থনৈতিক দুর্দশা লাঘবের জন্যে “রাবেতা আলম আল ইসলামী”তে একটি আবেদন দাখিল করেন। মাত্র এক বছর পর রাবেতার পক্ষ থেকে জামেয়ার অনুকূলে ১২,০০,০০০/= (বারো লক্ষ টাকা) প্রেরিত হয়। তখনকার যুগে এটা ছিল এক রাজ্য পাওয়ার আনন্দ। প্রদত্ত অর্থ থেকে ৯,০০,০০০/= (নয় লক্ষ টাকা) দিয়ে ইমাম ইবনে তাইমিয়া নামের বিশাল এক শিক্ষা ইমারত তৈরি করা হয়। আর অবশিষ্ট ৩,০০,০০০/= (তিন লক্ষ টাকা) দিয়ে গাবগাছসহ পশ্চিমের ঈদগাহের জায়গা ক্রয় করা হয়।
মহামান্য সৌদি রাষ্ট্রদূতের আগমন: জামেয়া প্রতিষ্ঠার মাত্র দুই বছরের মাথায় ১৯৭৮ সনের ৫ এপ্রিল অধ্যক্ষ কামালুদ্দীন জাফরী তৎকালীন মহামান্য সৌদি রাষ্ট্রদূতকে জামেয়ার বার্ষিক মহাসম্মেলনে প্রধান অতিথি করে নিয়ে আসতে সক্ষম হন।
মক্কার কিং আবদুল আজিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি: ঢাকাস্থ সৌদি দূতাবাসের প্রথম রাষ্ট্রদূত নিযুক্ত হন শেখ ফুয়াদ আবদুল হামিদ আল খতীব। তিনি জামেয়ার বার্ষিক মাহফিলে এসে ইসলাম ও আধুনিক শিক্ষার অপূর্ব সমন্বয় দেখে অত্যন্ত মুগ্ধ হন। আল্লামা জাফরীর জ্ঞান ও প্রজ্ঞা দেখে তিনি তাঁকে মক্কা কিং আব্দুল আজিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নের পরামর্শ এবং এব্যাপারে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করেন।

রেডিও জেদ্দায় নিয়মিত আলোচক হিসেবে নিয়োগ লাভ: মক্কা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নের পাশাপাশি তিনি রেডিও জেদ্দায় নিয়মিতভাবে সাওয়াল-জওয়াব কথিকা, দারসুল কুরআন ও দারসুল হাদিস পেশ করতেন।
ক্বাবার মালিকের কাছে আরাধনা: হজ্জের সময় ও মক্বা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে আল্লামা জাফরী ক্বাবাকে সামনে নিয়ে প্রায়শই দীর্ঘ সিজদায় মহান রবের দরবারে আরাধনা করতেন তাঁর হৃদয়ে লালিত স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য।
দ্বীনের টানে দেশে প্রত্যাবর্তন: মক্বা বিশ্ববিদ্যালয়ে মাত্র দুই বৎসর অধ্যয়নশেষে জামেয়ার পরিচালনা ও তাওহীদের বাণী প্রচারের মহান লক্ষ্যকে সামনে রেখে আল্লামা জাফরীকে দেশে ফিরিয়ে নিয়ে আসেন মহামান্য সৌদি রাষ্ট্রদূত শেখ ফুয়াদ আব্দুল হামিদ আল খাতিব ও অন্যান্য ওলামায়ে কেরামগণ।
সৌদি আরবের গ্রান্ড মুফতী আব্দুল্লাহ বিন বাজ এর প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ লাভ : সৌদি আরব থেকে দেশে ফেরার পর তিনি ইসলামের সেবায় আত্মনিয়োগ করেন। এক পর্যায়ে তিনি সৌদি আরবের গ্র্যান্ড মুফতী আব্দুল্লাহ বিন বাজ এর পক্ষ থেকে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ লাভ করেন।
দা’য়ী হিসেবে বিভিন্ন দেশে আমন্ত্রণ: জামেয়া কাসেমিয়ার অধ্যক্ষ এবং দা’য়ী হিসেবে সারা দেশে সুনাম ছড়িয়ে পড়লে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে তার প্রতি আমন্ত্রণ আসতে থাকে। সে থেকে আজ পর্যন্ত ইসলামের প্রসারে তিনি ছুটে বেড়াচ্ছেন বিশ্বের নানান দিক-দিগন্তে। বর্তমানে ইসলামের এই ক্রান্তিলগ্নে তাঁর দাওয়াতি মিশন এখন সারা পৃথিবীব্যাপী বিস্তৃত। ইলেকট্রনিক মিডিয়া এবং ইন্টারনেট প্রযুক্তি তার এই দাওয়াতি মিশনে অসাধারণ গতি এনেছে। এ পর্যন্ত বিশ্বের প্রায় ৪০টি দেশ সফর করেছেন তিনি। এর মধ্যে কোনো কোনো দেশে বহুবার সফর হয়েছে তাঁর।
ইসলাম ও মুসলমানদের সেবায় বিভিন্ন দেশে আল্লামা জাফরী:
ইউরোপ:
ইউরোপে সফরে গেলেই সেখানকার ‘চ্যানেল এস’-সহ বিভিন্ন চ্যানেল এবং কমিউনিটি ও ম্যানচেস্টার রেডিও তাঁর আলোচনা প্রচার করে।
ইউরোপে মসজিদ নির্মাণ:
ইউরোপের সর্ববৃহৎ মসজিদ নির্মাণে বিশেষ অবদান রাখেন আল্লামা জাফরী। ইউরোপ অবস্থানকালে তিনি সেখানে ইমামতি করেন, খুৎবা দেন এবং ঈদের সময় ঈদের সালাত পড়ান। এছাড়াও তিনি ইউরোপের আল-আমিন কমার্শিয়াল ইসলামিক বিনিয়োগ সংস্থার শরিয়া বোর্ডের চেয়ারম্যান এছাড়াও ইউরোপের সবচেয়ে বড় মসজিদ ইস্ট লন্ডন মসজিদ প্রতিষ্ঠার অন্যতম সদস্য তিনি।অস্ট্রিয়ায় সফরকালে তিনি সেখানে একটি সুদৃশ্য মসজিদ নির্মাণ করেন এবং উক্ত মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হন।
কানাডার টরেন্টো মহানগরীতে ইসলামিক সেন্টার প্রতিষ্ঠা:
প্রথমবারের মতো কানাডার টরেন্টো মহানগরীতে ইসলামের দায়ী হিসেবে এক কনফারেন্সে সফরে গেলে সেখানকার ইসলামপ্রিয় ব্যক্তিবর্গ সেখানে একটি ইসলামিক সেন্টার প্রতিষ্ঠার অনুরোধ জানায়। সকলের সার্বিক সহযোগিতায় তিনি “ইসলামিক সেন্টার অফ টরেন্টো” প্রতিষ্ঠা করেন। এই প্রতিষ্ঠানটির মধ্য দিয়ে তিনি উত্তর আমেরিকায় ইসলামের প্রসারে এক অবিস্মরণীয় উদ্যোগ গ্রহণ করেন; যা যুগ যুগ ধরে সেই অঞ্চলের মুসলিমদের সত্যের পথ দেখাবে ইনশাআল্লাহ।
সুদমুক্ত অর্থ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় আল্লামা জাফরীর অবদানঃ
দেশ বিদেশে ইসলাম প্রচারের পাশাপাশি বাংলাদেশে সুদমুক্ত অর্থ ব্যবস্থা প্রবর্তনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছেন আল্লামা জাফরী। ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিঃ প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই শরিয়া এডভাইজারি কাউন্সিল’র ‘সদস্য সচিব’ হিসেবে দীর্ঘ দিন গুরুত্বপূর্ণ দিক নিদের্শনা দান করে সুদমুক্ত ব্যাংক ব্যবস্থাপনায় ইসলামী ব্যাংককে বহুদূর এগিয়ে নিয়ে যান। বর্তমানে বাংলাদেশের অধিকাংশ জীবন বীমা প্রতিষ্ঠানের শরিয়া বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে নিষ্ঠার দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।
শিক্ষা ব্যবস্থায় আল্লামা জাফরীর অবদান:
শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড; উন্নয়নের চাবিকাঠি; একটি জাতির আশা-আকাক্সক্ষার বাস্তবায়ন ও ভবিষ্যতের প্রত্যাশিত সমাজ বিনির্মাণের হাতিয়ার। জাতি গঠনে শিক্ষার রূপরেখা কেমন হওয়া উচিত- সে ব্যাপারে আল্লামা জাফরী গভীর চিন্তা করে থাকেন। ইসলাম ও আধুনিক শিক্ষার সুসমন্বয় সাধন এবং তার বাস্তব প্রতিফলনের লক্ষ্যে তিনি জামেয়া কাসেমিয়ার পাশাপাশি আরো বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন করেছেন। ঢাকায় উত্তরায় তাঁর হাতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ‘হলি ক্রিসেন্ট স্কুল’। ব্রিটিশ কাউন্সিলের কারিকুলামের সাথে ইসলামি শিক্ষার সমন্বয় সাধনের ক্ষেত্রে এটি একটি চমৎকার দৃষ্টান্ত। তাঁর দীর্ঘলালিত বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার স্বপ্নও বাস্তবায়িত হয়েছে। ঢাকার গোপীবাগে তিনি প্রতিষ্ঠা করেছেন ‘বাংলাদেশ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়’যা বর্তমানে গ্রীন মডেল টাউন, মুগদা ঢাকায় অবস্থিত। শিক্ষার অসাধারণ বিশেষত্বের কারণে অল্পদিনের ব্যবধানে বিশ্ববিদ্যালয়টি অভিভাবক ও ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। ইসলাম ও সমসাময়িক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াদির পাঠদানের পাশাপাশি এই বিশ্ববিদ্যালয় ইসলামি দাওয়াহর প্রসার ও জনহিতকর কর্মসূচিও গ্রহণ করে আসছে।
সমাপনীঃ
সাইয়্যেদ কামালুদ্দীন আব্দুল্লাহ জাফরী কোন ব্যক্তি নয় বরং গৌরবদীপ্ত জীবন্ত ইতিহাসের নাম। মহান রবের দরবারে দুয়া করছি, তিনি যেন তাকে, নেক হায়াত দান করেন, তাঁর জীবনের সকল নেক আমলগুলো কবুল করেন, ভুল ত্রুটিগুলো মাফ করেন এবং পরকালে সর্বোচ্চ মাক্বাম দান করেন। আমীন।

আধুনিক গাইনোকোলজির সাথে জড়িয়ে আছে নিষ্ঠুর এক ইতিহাস।

🟣🟣আধুনিক #গাইনিকোলজির জনক বলা হয় জে. ম্যারিয়োন সিমস কে। তার সার্জিক্যাল পরীক্ষানিরীক্ষাগুলোর জন্য কিনে আনা হতো কালো মহিলা দাসদের, এবং তাদেরকে গিনিপিগের মতো ব্যবহার করতেন ল্যাবে।

তিনি দিনের পর দিন এই মহিলাদের উপরে জননাঙ্গের সার্জারি চালিয়ে গেছেন কোনো অ্যানেস্থেশিয়া ছাড়াই, কেননা তার মতে- “কালো মেয়েদের ব্যথার অনুভূতি নেই।”

জে. ম্যারিয়োন সিমস ‘গাইনিকোলজির জনক’ অভিধাটি পেয়েছিলেন বিশেষত আলাবামার বিভিন্ন খামারে দাসী হিসেবে নিয়োজিত জে. ম্যারিয়োন সিমস- নারীদের উপর পরীক্ষানিরীক্ষা চালিয়ে, যে-নারীদেরকে তাদের খামার-মালিকরা যৌননির্যাতন চালাতে গিয়ে প্রতিরোধের শিকার হয়েছেন। অর্থাৎ, এদেরকে তারা এই গিনিপিগের মতো ব্যবহারের কাজে দিয়ে দিতো তাদেরকে শাস্তি দেওয়ার জন্য।

আনার্কা, উল্লিখিত নারীদের একজন, যিনি ছিলেন একজন আফ্রো-আমেরিকান দাসী, তাঁর এক পরিচিতকে আকুল কান্নায় তাঁকে ওই নরক থেকে উদ্ধার করার জন্য সাহায্য চেয়ে জানিয়েছিলেন, যে, তাঁকে নিয়মিত ওইসব ভয়ানক সার্জিক্যাল পরীক্ষার জন্য নিয়ে যাওয়া হতো হাতপা বেঁধে টেনেহিঁচড়ে, এরপর সিমস-এর ‘কাটাকুটির’ টেবিলটির উপরে চিৎ করে শুইয়ে দিয়ে, চার হাতপা চারদিকে টেনে বেঁধে, কোনোরূপ ওষুধ দেওয়া ছাড়াই, অজ্ঞান না-করেই, পশু জবাইয়ের মতো তাঁর জননাঙ্গে কাটাকুটি করতেন ডাক্তার সিমস।

হিসেব করে নিশ্চিত হওয়া গেছে- আনার্কার দেহে, ১৮৪৫ থেকে ১৮৪৯ পর্যন্ত, এই মাত্র ৪ বছরে, সর্বমোট ৩৪ বার অপারেশন করেছেন সিমস। এবং এই অপারেশনগুলোই ডাক্তার সিমসকে আধুনিক গাইনিকোলজির বিভিন্ন সার্জারির পদ্ধতি ও নিয়ম তৈরিতে সহযোগিতা করেছিলো।

পৃথিবীকে, একদিন না একদিন, দুখিনী আনার্কাকে, এবং আনার্কার মতো অসংখ্য নাম না-জানা কালো নারী-দাসীকে, অবশ্যই কৃতজ্ঞতা জানিয়ে স্বীকার করতে হবে- ‘গাইনিকোলজির জননী’ আপনারাই মা।

কতো বীভৎস অমানবিকতার, কতো সমুদ্র অশ্রুর, বিনিময়ে, আমাদের আজকের আধুনিক জীবনের প্রাপ্তি! আমাদের কাছ থেকে সেইসব সত্য-ইতিহাস সুচতুরতায় লুকিয়ে রাখা হয়, চিরকাল।


তথ্যসূত্র: আফ্রিকান ভয়েস