পবিত্র কোরআনের দর্পণে বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতি।


👉👉১: আল্লাহ তাআলা কেন জুলুমে বাধা দেন না।
👉👉২. আল্লাহর দেয়া বিজয় কোথায়?
👉👉৩. ইহুদিরা মুসলমানদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ, এজন্য বারবার বিজয় লাভ করছে?
🟩🟪১: যখন কেউ প্রশ্ন করে, আল্লাহ কেন জুলুমে বাধা দিচ্ছেন না?
উত্তর: আমাদের পাল্টা পশ্ন থাকে, আল্লাহ তাআলা ওয়াদা ভঙ্গ করেছেন, এমন কোনো নজির আছে? আল্লাহ তাআলা কি কোথাও এমন কথা বলেছেন, এই দুনিয়া হল দারুল জাযা বা প্রতিদানের জায়গা। তাই এখানে জালেমের বিরুদ্ধে মাজলুমের ইনসাফ পাওয়াটা আবশ্যক।
সুরা বুরুজে আছে, একদল লোক ঈমান এনেছিল। বিরোধীরা গর্ত খুঁড়ে মুমিনদেরকে সেখানে জড়ো করে জীবন্ত পুড়িয়ে মেরেছিল। তা সত্ত্বেও আল্লাহ তাআলা এই মুমিনদের সম্পর্কে বলেছেন,
اِنَّ الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا وَ عَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ لَهُمْ جَنّٰتٌ تَجْرِیْ مِنْ تَحْتِھَا الْاَنْھٰرُ ذٰلِکَ الْفَوْزُ الْکَبِیْرُ
যারা ঈমান এনেছে ও সৎকর্ম করেছে, নিশ্চয়ই তাদের জন্য আছে এমন উদ্যান, যার নিচে নহর প্রবাহিত। এটাই মহা সাফল্য (বুরুজ: ১১)।

তাদাব্বুর: যারা আল্লাহর আনুগত্য ও ঈমানের ওপর মৃত্যুবরণ করবে, তারা বিরাট সাফল্য লাভ করবে। এই মৃত্যুকে আল্লাহ তাআলা আল-ফাউযুল কাবীর’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। শত্রুরা তাদেরকে দ্বীন থেকে বিচ্যুত করতে চেয়েছিল। পারেনি। এই মৃত্যুর মাধ্যমে সেই মুমিনদল মূলত বিজয়ী হয়েছিল। কীভাবে? তারা ঈমানের ওপর অটল থেকে, তাওহিদের ওপর অবিচল থেকে কাফেরদের পরিকল্পনা ভণ্ডুল করে দিয়েছিল। কাফেরদের বিপুল আয়োজন ভেস্তে দিয়েছিল। এটাই জয়। ঈমান নিয়ে মৃত্যুবরণ করতে পারাটাই আসলে বিরাট বিজয়। আলফাওযুল কাবীর।
আমাকে বিশ্বাস রাখতে হবে, এই দুনিয়া হল দারু বালা (পরীক্ষাগার), দারে জাযা (প্রতিদানক্ষেত্র) নয়। তাহলে আর প্রশ্ন উঠবে না। মুমিনের জীবনে আখেরাতই মূল কেন্দ্রবিন্দু হবে। মুমিনের চিন্তা থেকে একমুহূর্তও আখেরাত সরে যাওয়া উচিত নয়।
আল্লাহ তাআলা কখনো ওয়াদা ভঙ্গ করেন না। তিনি কোথায় কী হচ্ছে সব জানেন। তিনি মাজলুমদের সম্পর্কে সম্যক ওয়াকিবহাল,
وَلَا تَحْسَبَنَّ اللهَ غَافِلًا عَمَّا یَعْمَلُ الظّٰلِمُوْنَ ۬ؕ اِنَّمَا یُؤَخِّرُهُمْ لِیَوْمٍ تَشْخَصُ فِیْهِ الْاَبْصَارُ
আপনি কিছুতেই মনে করবেন না জালিমগণ যা-কিছু করছে আল্লাহ সে সম্পর্কে বেখবর। তিনি তো তাদেরকে সেই দিন পর্যন্ত অবকাশ দিচ্ছেন, যে দিন চক্ষুসমূহ থাকবে বিস্ফারিত (ইবরাহিম: ৪২)।

তাদাব্বুর: আমরা জালেমদের শাস্তি নিয়ে কথা বলি। আখেরাতে দৃঢ় বিশ্বাস থাকলে এমন চিন্তা আসত না। সবকিছু দুনিয়াতে শেষ হয়ে যাবে না। জুলুমের ফয়সালার জন্য আখেরাত আছে তো। আল্লাহ তাআলা তো বলেই দিয়েছেন,
وَ اِنَّمَا تُوَفَّوْنَ اُجُوْرَكُمْ یَوْمَ الْقِیٰمَۃِ
এবং তোমাদের সকলকে তোমাদের কর্মের) পুরোপুরি প্রতিদান কেবল কিয়ামতের দিনই দেওয়া হবে (আলে ইমরান: ১৮৫)।

তাদাব্বুর: আল্লাহ তাআলা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, কেয়ামত দিবসে সবাইকে পরিপূর্ণ প্রতিদান দিবেন। আল্লাহ তাআলা দুনিয়াতে পরীক্ষা করার ওয়াদা করেছেন নাকি না করার? পরীক্ষা করার ওয়াদা করেছেন,
لَتُبْلَوُنَّ فِیْۤ اَمْوَالِكُمْ وَاَنْفُسِكُمْ ۟ وَلَتَسْمَعُنَّ مِنَ الَّذِیْنَ اُوْتُوا الْکِتٰبَ مِنْ قَبْلِكُمْ وَمِنَ الَّذِیْنَ اَشْرَكُوْۤا اَذًی کَثِیْرًا ؕ وَ اِنْ تَصْبِرُوْا وَتَتَّقُوْا فَاِنَّ ذٰلِکَ مِنْ عَزْمِ الْاُمُوْرِ
(হে মুসলিমগণ!) তোমাদেরকে তোমাদের অর্থ-সম্পদ ও জীবনের ব্যাপারে (আরও) পরীক্ষা করা হবে এবং তোমরা ‘আহলে কিতাব’ ও ‘মুশরিক’ উভয় সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে অনেক পীড়াদায়ক কথা শুনবে। তোমরা যদি সবর ও তাকওয়া অবলম্বন কর, তবে নিশ্চয়ই এটা অতি বড় হিম্মতের কাজ (যা তোমাদেরকে অবলম্বন করতেই হবে) (আলে ইমরান: ১৮৬)।

তাদাব্বুর: এই আয়াতে আরো স্পষ্ট হয়ে গেছে, দুনিয়া পরীক্ষার স্থান। প্রতিদানের স্থান নয়। আল্লাহ তাআলা আরো বলছেন,
ذٰلِکَ ؕۛ وَلَوْ یَشَآءُ اللهُ لَانْتَصَرَ مِنْهُمْ وَ لٰکِنْ لِّیَبْلُوَا۠ بَعْضَكُمْ بِبَعْضٍ
আল্লাহ চাইলে নিজেই তাদেরকে শাস্তি দিতেন, কিন্তু (তোমাদেরকে এ নির্দেশ দিচ্ছেন এজন্য যে,) তিনি তোমাদের একজনকে অপরের দ্বারা পরীক্ষা করতে চান (মুহাম্মাদ: ৪)।

তাদাব্বুর: গা/যা/বাসির ওপর বোমার পাহাড় নেমে এলেও তারা অবিচল আছে। এটাই আল্লাহ তাআলার রহমত। আল্লাহ তাআলা বিশ্বশক্তির ভয়াবহ জুলুমে বাধা দিচ্ছেন না, যাতে পরীক্ষা করতে পারেন। কে জালেম, কে মাজলুম। কে জালেমের পক্ষে আছে, সে মাজলুমের পক্ষে আছে। কে জালেমের সাহায্যে এগিয়ে যাচ্ছে, কে মাজলুমের সাহায্যে এগিয়ে যাচ্ছে। কে মাজলুমের অসহায় অবস্থা দেখেও কে নিরব আছে আর কে সরব হয়ে উঠেছে। কে সচেষ্ট হয়েছে আর কে সামর্থ থাকা সত্ত্বেও নিশ্চেষ্ট হয়ে মুখে কুলুপ এঁটে বসে আছে।

তাদাব্বুর: পরীক্ষা করতে করতে যে গাযাবাসীর কেয়ামত হয়ে যাচ্ছে? উত্তর হবে, যারা মারা যাচ্ছেন, তারা শহিদি মর্যাদা লাভ করছেন। তারা চূড়ান্ত বিজয়ী হয়েই ইন্তেকাল করছেন।

২. দ্বিতীয় প্রশ্ন: আল্লাহ তাআলা গা/যা/বাসীকে সাহায্য করছেন না কেন?
কার বিরুদ্ধে সাহায্য করবেন? জা/য়োনিস্টদের বিরুদ্ধে? জা/য়োনিস্টরা হল বিশ্বচালানো সাম্রাজ্যবাদী দুষ্টমোড়লদের প্রতিনিধি। ইসলামবিরোধী শক্তির প্রতিনিধি। ইসলামের বিরুদ্ধে পুরো বিশ্বশক্তি একাট্টা। পুরো বিশ্ব এক হয়ে ইসলাম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে লড়ছে। কুরআনে আছে,
وَقَاتِلُوا الْمُشْرِکِیْنَ کَآفَّۃً کَمَا یُقَاتِلُوْنَكُمْ کَآفَّۃً
এবং তোমরা সকলে মিলে মুশরিকদের সাথে লড়াই কর, যেমন তারা তোমাদের সাথে লড়াই করে (তাওবা: ৩৬)।

তাদাব্বুর: কাফের-মুশরিকরা যেমন সম্মিলিতভাবে মুসলিমদের বিরুদ্ধে লড়ছে, মুসলমানদেরও উচিত তেমন সম্মিলিতভাবে তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করা। তাহলেই আল্লাহর প্রতিশ্রুত সামষ্টিক বিজয় আসবে,
یٰۤاَیُّهَا الَّذِیْنَ اٰمَنُوْۤا اِنْ تَنْصُرُوا اللهَ یَنْصُرْكُمْ وَ یُثَبِّتْ اَقْدَامَكُمْ
হে মুমিনগণ! তোমরা যদি আল্লাহ (তাআলার দ্বীন)-এর সাহায্য কর, তবে তিনি তোমাদের সাহায্য করবেন এবং তোমাদের কদম অবিচলিত রাখবেন (মুহাম্মাদ: ৭)।

তাদাব্বুর: আমাদের একথা মনে রাখা উচিত, বিজয় দানের মালিক একমাত্র আল্লাহ তাআলা। তিনি যখন ইচ্ছা বিজয় দান করবেন,
وَمَا النَّصْرُ اِلَّا مِنْ عِنْدِ اللهِ
অন্য কারও পক্ষ থেকে নয়, কেবল আল্লাহর পক্ষ থেকেই সাহায্য আসে (আনফাল: ১০)।

তাদাব্বুর: বিজয় যেহেতু আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকেই আসে, আমার এত দুশ্চিন্তার কী আছে? আমি বিজয় নিয়ে ভাবিত হবো না। আমার ভাবার বিষয় হল, আমি বিজয় অর্জনের জন্য যথাযথ মেহনত করছি কি না। সময় হলে বিজয় আসবেই। কেউ ঠেকাতে পারবে না,
اِنْ یَّنْصُرْكُمُ اللهُ فَلَا غَالِبَ لَكُمْ ۚ وَ اِنْ یَّخْذُلْكُمْ فَمَنْ ذَا الَّذِیْ یَنْصُرُكُمْ مِّنْۢ بَعْدِهٖ
আল্লাহ তোমাদেরকে সাহায্য করলে কেউ তোমাদেরকে পরাস্ত করতে পারবে না। আর তিনি যদি তোমাকে একা ছেড়ে দেন, তবে কে আছে, যে তোমাকে সাহায্য করবে (আলে ইমরান: ১৬০)?

তাদাব্বুর: গা/যা/বাসি জা/য়োনিস্টদের বিরুদ্ধে লড়ছে না, লড়ছে বিশ্বশক্তির বিরুদ্ধে। ই/স/রায়েলের শাসনক্ষমতায় থাকা ব্যক্তিরা ইসলামবিরোধী শক্তিরই প্রতিনিধি। এটা ঈমান ও কুফর-নিফাকের লড়াই। প্রশ্ন উঠতে পারে, এই ঈমান ও কুফরের লড়াইয়ে মুসলিম বিশ্ব হাত গুটিয়ে বসে থাকার বোঝা গা/যা/বাসীকে কেন ওঠাতে হচ্ছে? কুরআনে আছে,
وَلَا تَزِرُوَازِرَۃٌ وِّزْرَ اُخْرٰی
একজন্য অন্যের বোঝা বহন করে না (আনআম: ১৬৪)।

তাদাব্বুর: এই হামলায় যারা মারা যাচ্ছেন, তারা শহিদি দরজা লাভ করছেন। আল্লাহ তাআলা তাদেরকে ইসতিফা-বাছাই করছেন। এটা মৃত্যু নয়; পুরস্কার। আল্লাহ তাআলা বলেছেন,
وَ الَّذِیْنَ قُتِلُوْا فِیْ سَبِیْلِ اللهِ فَلَنْ یُّضِلَّ اَعْمَالَهُمْ ﴿۴﴾ سَیَهْدِیْهِمْ وَ یُصْلِحُ بَالَهُمْ ۚ﴿۵﴾ وَ یُدْخِلُهُمُ الْجَنَّۃَ عَرَّفَهَا لَهُمْ
আর যারা আল্লাহর পথে নিহত হয়েছে, আল্লাহ কখনই তাদের কর্ম নিষ্ফল করবেন না। তিনি তাদেরকে গন্তব্যে পৌঁছিয়ে দেবেন এবং তাদের অবস্থা শুধরে দেবেন। তাদেরকে দাখিল করবেন জান্নাতে, যা তাদেরকে ভালোভাবে চিনিয়ে দিয়েছিলেন (মুহাম্মাদ: ৪-৬)।

তাদাব্বুর: এরপর আর কথা থাকে না। তাছাড়া মুসলমানদের এই অবস্থা চিরদিন এমন থাকবে না,
وَتِلْکَ الْاَیَّامُ نُدَاوِلُهَا بَیْنَ النَّاسِ ۚ وَلِیَعْلَمَ اللهُ الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا وَیَتَّخِذَ مِنْكُمْ شُهَدَآءَ ؕ وَاللهُ لَا یُحِبُّ الظّٰلِمِیْنَ
এ তো দিন -পরিক্রমা, যা আমি মানুষের মধ্যে পালাক্রমে বদলাতে থাকি। এর উদ্দেশ্য ছিল মুমিনদেরকে পরীক্ষা করা এবং তোমাদের মধ্যে কিছু লোককে শহীদ করা। আর আল্লাহ জালিমদেরকে ভালোবাসেন না (আলে ইমরান: ১৪০)।

তাদাব্বুর: আল্লাহ তাআলা তাদেরকে (وَیَتَّخِذَ مِنْكُمْ شُهَدَآءَ ؕ) শহিদ হিসেবে গ্রহণ করছেন। আল্লাহর রাস্তায় শহীদ হওয়া মুমিন পুরোপুরি প্রতিদান লাভ করবে। আল্লাহ তাআলা তাদেরকে সম্মানিত করবেন। শ্রেষ্ঠ অনুগ্রহে ভুষিত করবেন। বাকি উম্মাহ শর্ত পূরণ করার আগ পর্যন্ত চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করতে সক্ষম হবে না। বিজয় লাভের জন্য কিছু শর্ত আছে। পুরো উম্মাহ এখনো বিজয়লাভের কোনো শর্ত পূরণ করেনি।
وَ اِنْ تَصْبِرُوْا وَتَتَّقُوْا لَا یَضُرُّكُمْ کَیْدُهُمْ شَیْـًٔا
তোমরা সবর ও তাকওয়া অবলম্বন করলে তাদের চক্রান্ত তোমাদের কোন ক্ষতি সাধন করতে পারবে না (আলে ইমরান: ১২০)।

তাদাব্বুর: আমাদের এই অজুহাত দেয়ার কোনো সুযোগ নেই, আমরা গাযাবাসীকে সাহায্য করতে চাই, শাসকগোষ্ঠী ও বিশ্বশক্তির বাধার কারণে পারছি না। আমরা মুসলমান হিসেবে নিজেদের প্রতি যা করছি, সেটা ভেতরে ও বাইরে থাকা শত্রুদের কর্মকা-ের চেয়েও ভয়ংকর। মূল সমস্যা হল আয়াতে বর্ণিত ‘সবর ও তাকওয়া’-তে।

তাদাব্বুর: বিজয় আসার যেসব আসবাব গ্রহণ করা প্রয়োজন, আমরা সেসব গ্রহণ করছি না। আমরা বিজয়ের উপযুক্ত হইনি এখনো। বিজয় অর্জনের জন্য কিছু শর্ত আছে। উপরে বর্ণিত সুরা তাওবার ৩৬-তম আয়াতখানা আবার লক্ষ্য করি। কাফেররা যেভাবে একাট্টা হয়ে লড়ছে, চূড়ান্ত বিজয় অর্জনের জন্য আমাদেরও একাট্টা হয়ে লড়তে হবে। প্রশ্ন জাগতে পারে, আল্লাহ তাআলা তো চাইলেই পারেন, এখুনি এই মুহূর্তে আমাদের সাহায্য করতে। করছেন না কেন? উত্তরটা সুরা মুহাম্মাদের চতুর্থ আয়াতে (উপরে) আছে।

তাদাব্বুর: তাছাড়া এখুনি বিজয় হাসিল করাটা আমার জন্য কল্যাণকর হবে কি না, সেটাও বিবেচনায় রাখতে হবে। বিজয় আমাদের জীবদ্দশায় দেখে যাওয়া জরুরী নয়। জরুরি হল দ্বীনের জন্য কাজ করে যাওয়া। মেহনত অব্যাহত রাখা। আল্লাহ তাআলা পেয়ারা নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সান্ত¡না দিয়ে বলেছিলেন,
فَاصْبِرْ اِنَّ وَعْدَ اللهِ حَقٌّ ۚ فَاِمَّا نُرِیَنَّکَ بَعْضَ الَّذِیْ نَعِدُهُمْ اَوْ نَتَوَفَّیَنَّکَ فَاِلَیْنَا یُرْجَعُوْنَ
সুতরাং (হে রাসূল!) আপনি সবর অবলম্বন করুন। নিশ্চিত থাকুন যে, আল্লাহর ওয়াদা সত্য। আমি তাদেরকে (অর্থাৎ কাফেরদেরকে) যার (অর্থাৎ যে শাস্তির) ভয় দেখাচ্ছি, আমি তার কিছুটা আপনাকে (আপনার জীবনে) দেখিয়ে দেই অথবা আপনাকে দুনিয়া থেকে তুলে নেই, সর্বাবস্থায় তাদেরকে আমার কাছেই ফিরিয়ে আনা হবে (গাফির: ৭৭)।

তাদাব্বুর: আল্লাহ তাআলা মুসলমানদের বিজয়ী করবেনই। এটাই চূড়ান্ত কথা। বিজয় হয়তো আমি দেখে যেতে পারব অথবা পারবো না। কাফেরদের বিচার একদিন হবেই হবে। নবীজিকে আরো বলা হয়েছে,
وَ اِنْ مَّا نُرِیَنَّکَ بَعْضَ الَّذِیْ نَعِدُهُمْ اَوْ نَتَوَفَّیَنَّکَ فَاِنَّمَا عَلَیْکَ الْبَلٰغُ وَعَلَیْنَا الْحِسَابُ
আমি তাদেরকে (অর্থাৎ কাফেরদেরকে) যে বিষয়ের শাসানি দেই, তার অংশবিশেষ আমি আপনাকে (আপনার জীবদ্দশায়ই) দেখিয়ে দেই অথবা (তার আগেই) আপনাকে দুনিয়া থেকে তুলে নেই, সর্বাবস্থায় আপনার দায়িত্ব তো কেবল বার্তা পৌঁছানো। আর হিসাব গ্রহণের দায়িত্ব আমার (রাদ: ৪০)।

তাদাব্বুর: আল্লাহ তাআলা কুরআনের আরো কয়েক জায়গায় নবীজিকে এভাবে আশ্বাস দিয়েছেন,
فَاِمَّا نَذْهَبَنَّ بِکَ فَاِنَّا مِنْهُمْ مُّنْتَقِمُوْنَ ﴿ۙ۴۱﴾ اَوْ نُرِیَنَّکَ الَّذِیْ وَعَدْنٰهُمْ فَاِنَّا عَلَیْهِمْ مُّقْتَدِرُوْنَ ﴿۴۲﴾ فَاسْتَمْسِكْ بِالَّذِیْۤ اُوْحِیَ اِلَیْکَ
এখন তো এটাই হবে যে, আমি আপনাকে দুনিয়া থেকে তুলে নিলেও তাদেরকে শাস্তিদান করবÑ কিংবা যদি আপনাকেও তা (অর্থাৎ সেই শাস্তি) দেখিয়ে দেই, যার ওয়াদা আমি তাদের সাথে করেছি, তবে তাদের উপর সে ক্ষমতাও আমার আছে। সুতরাং আপনার প্রতি যে ওহী নাযিল করা হয়েছে, তা দৃঢ়ভাবে ধরে রাখুন (যুখরুফ: ৪১-৪৩)।

তাদাব্বুর: এসব আয়াত থেকে শেখার বিষয় হল, আমাদেরকে সবর করতে হবে। সবর শিখতে হবে। সবর অর্জন করতে হলে আমাদের কর্তব্য হল,

ক. যে কোনো মূল্যে, যে কোনো পরিস্থিতিতে হকের ওপর অবিচল থাকা। সাময়িক বিপদ, ক্ষণিকের মুসিবত যেন আমাকে টলিয়ে দিতে না পারে। সবরের সাথে আপন কাজে লেগে থাকব। নবীজি বলে গেছেন,
أنَّ النَّصْرَ مَعَ الصَّبْرِ وَأَنَّ الفَرَجَ مَعَ الكَرْبِ وَأَنَّ مَعَ العُسْرِ يُسْراً
ধৈর্য্য ধারণের ফলে (আল্লাহর) সাহায্য লাভ করা যায়। কষ্টের পর স্বাচ্ছন্দ আসে। কঠিন অবস্থার পর স্বচ্ছলতা আসে (ইবনে আব্বাস রা। ইমাম নববীর ৪০ হাদীস)।

খ. সর্বাবস্থায় মানুষের কাছে হকের দাওয়াত পৌঁছাতে থাকা। সুস্পষ্ট ভাষায় হকের কথা বলে যাওয়া।

গ. বিজয় অর্জনে বিলম্ব হওয়াটা আমাদেরকে যেন হাহুতাশে লিপ্ত না করে। আমি যেন এই সঙ্গীন সময়ে নিজেকে বাদ দিয়ে অন্যের দোষ খোঁজায় মশগুল হয়ে না পড়ি।

ঘ. যে কোনো মূল্যে হককে আঁকড়ে ধরে থাকা। আমরা যে বিজয় কামনা করছি, সেটা তো নিজের জন্য নয়। আমরা বিজয় কামনা করছি হকের। যে হক দ্বারা আমরা বাতিলকে ধ্বংস করার কাজে মশগুল আছি।

৩. তৃতীয় প্রশ্ন: ইহুদিরা মুসলমানদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ, এজন্য বারবার বিজয় লাভ করছে?
উত্তর: আল্লাহ তাআলা ই/হু/দিদের নানা সুযোগসুবিধা দিয়ে পরীক্ষা করছেন। এতসব সুবিধা পেয়ে ই/হু/দিদের ভালো হয়ে যাওয়া উচিত ছিল। ই/হু/দিরা উল্টো আরো দুষ্টতর হচ্ছে। ই/হু/দিরা বাহ্যিক দৃষ্টিতে যে বিজয় অর্জন করছে, সেটা মূলত বিজয় নয়; সাময়িক প্রাপ্তি বলা যেতে পারে। আরো নির্দিষ্ট করে বলতে গেলে, এই জয় ই/হু/দিদের নয়, সাম্রাজ্যবাদী ইউরোপিয়ান খ্রিস্টশক্তির। তাদের সাহায্য-সহযোগিতাতেই ই/হু/দিরা সাময়িক জয় পেয়ে থাকে। ই/হু/দিরা তাদের মিত্রশক্তি ও অস্ত্রশক্তির জোরে সাময়িক দাপট হাসিল করেছে। এটাকে জয়ী হওয়া বলে না। ই/হু/দিরা চব্বিশ ঘণ্টা মারাত্মক ভীতসন্ত্রস্ত থাকে। জয়ী মানুষের মতো তাদের মনে কোনো তৃপ্তি নেই। শান্তি নেই, সুখ নেই। এটাকে কি জয় বলা যায়?

তাদাব্বুর: ই/হু/দিরা সবসময়ই অস্তিত্বের হুমকিতে থাকে। তারা জানে, আরব ও মুসলমানদের ঘুম ভাঙলে তাদের ঘুম হারাম হয়ে যাবে। ভবিষ্যতের অজানা আশংকাতেই ই/হু/দিরা সারাক্ষণ নিজেদেরকে সুরক্ষিত রাখার কাজে ব্যতিব্যস্ত থাকে। এই মানসিক অস্থিরতাই তাদের পরাজয়।
রাব্বে কারীম মুমিনদের চূড়ান্ত বিজয় দান করুন। আমীন।

গণতন্ত্র বিষয়ে জামায়াত শিবিরের অবস্থান ও সৌদি শাইখদের ফতোয়াঃ

মাসিক ছাত্রসংবাদের আগষ্ট সংখ্যার প্রশ্নোত্তর বিভাগে একজন ভাই ছাত্র শিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতিকে ‘গণতন্ত্র’ সম্পর্কে প্রশ্ন করেছেন। প্রশ্ন এবং উত্তরটা নিম্নে প্রদত্ত হলো।

প্রশ্ন: ইসলামী ছাত্রশিবির কি গণতান্ত্রিক উপায়ে ক্ষমতা পরিবর্তনের মাধ্যমে ইসলাম কায়েমে বিশ্বাসী নাকি পরিপূর্ণ দাওয়াত, মোয়ামেলাত, মোয়াশারাত, জিহাদের মাধ্যমে খেলাফার সোনালী সূর্য আনার জন্য কাজ করে?

উত্তর: গণতন্ত্র দিয়ে ইসলাম কায়েম করার কোনো সুযোগ নেই। ইসলাম কায়েম করতে হবে কুরআন দিয়ে; খেলাফতব্যবস্থা দিয়ে। বর্তমান সময়ে গণতন্ত্র হলো ক্ষমতা পরিবর্তনের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ও গ্রহণযোগ্য পন্থা বা ব্যবস্থা। আর ক্ষমতার পরিবর্তন হলেই যে ইসলাম কায়েম হয়ে যাবে এমনটা ভাবার কোনো সুযোগ নেই। বরং এটি একটি সুযোগ যে ক্ষমতা পরিবর্তন হলে ইসলাম কায়েমের পরিবেশ তৈরি হবে। আপনার মনে হয়তো আরেকটি বিষয় খটকা লাগতে পারে যে, প্রচলিত ভোটব্যবস্থা জায়েজ কিনা…? এটা সব থেকে সহজ ভাষায় বললে বলতে হবে- ভোট ব্যবস্থাকে সরাসরি নাজায়েজ বলার সুযোগ নেই। কারণ যে পন্থা ইসলাম সাপোর্ট করে তা হচ্ছে কেউ ক্ষমতার অভিলাষী হতে পারবে না কিন্তু প্রার্থী শুরা দ্বারা (পরামর্শের মাধ্যমে) নির্ধারিত হবে। এই সিস্টেমটি খোলাফায়ে রাশেদীনের যুগেও ছিলো। তাহলে সিদ্ধান্ত কি? গণতান্ত্রিক উপায়ে যেহেতু লোকের মধ্যে দাওয়াতী কাজের সুযোগ আছে, মেশার, মোয়ামেলাতের সুযোগ আছে তাই সেটিকে কাজে লাগিয়ে প্রতিষ্ঠিত পলিসি ভেঙ্গে খেলাফতের ঝাণ্ডা উড্ডয়ন করতে হবে ইনশাআল্লাহ।
হাফেজ রাশেদুল ইসলাম
মুহতারাম কেন্দ্রীয় সভাপতি, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।

দেখুন, এই হচ্ছে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি, আমরা গণতন্ত্রকে দ্বীন কায়েমের একমাত্র পথ, কিংবা গণতন্ত্র হচ্ছে এই যুগের জিহাদ ; ইত্যাদি মনে করি না। আমাদের কাজ মৌসুম ভিত্তিক না। বছরে বারোটি মাস, সপ্তাহে সাতটি দিন, দিনে ছব্বিশটা ঘন্টাই আমাদের কাজ আছে। আমরা দাওয়াত-তারবিয়াতের কাজ নিয়মিতই করে থাকি। এরমধ্যে গণতান্ত্রিক নির্বাচন আসে পাঁচ বছরে একবার। আর আমরা সেই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলেও নির্বাচন হবে, না করলেও হবে। বরঞ্চ ইসলামের প্রতি সহনশীল কেউ নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করলে ইসলাম বিদ্বেষীরা আরো বেশি সুযোগ পাবে, সে কারণে আমরা সৎ-নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা ও প্রদর্শনের একটা সুযোগ এবং মাধ্যম মনে করি গণতান্ত্রিক এই নির্বাচনকে। আমরা যদি তা ব্যবহার না করি তবে দুই দিক দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হবো:

প্রথমত, সৎকাজে আদেশ ও সমাজে ইসলাম বিরোধী কর্মকান্ড পরিবর্তন করে পরিপূর্ণ ইসলাম প্রতিষ্ঠার একটি বড় মাধ্যম আমরা হারাব।
দ্বিতীয়ত, বর্তমানে সমাজে যারা ইসলামী মূল্যবোধের প্রসার ও প্রতিষ্ঠা চান না, তারা এই গণতান্ত্রিক মাধ্যম ব্যবহার করে ইসলামী মূল্যবোধের বিকাশ রোধ করবেন। এ কারণে ইসলামের বিরুদ্ধে সকল প্রচেষ্টার মোকাবিলা করাও আমাদের দায়িত্ব।

এ জন্য গণতান্ত্রিক রাজনীতিকে একটি নব উদ্ভাবিত উপকরণ হিসাবে বিবেচনা করতে হবে এবং প্রয়োজনে ইসলামী শরীয়তের শিক্ষার আলোকে শরীয়ত সম্মত ভাবে সৎ কাজের আদেশ, অসৎ কাজের নিষেধ ইত্যাদি ইসলামের সুনির্দিষ্ট ইবাতদ পালনের মাধ্যম হিসাবে একে ব্যবহার করতে হবে।

শাইখ মুহাম্মদ বিন উসাইমীন (রাহঃ) কে গণতান্ত্রিক নির্বাচনে অংশ নেয়ার হুকুম সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি জবাবে বলেন:
আমি মনে করি এ নির্বাচনগুলোতে অংশ নেয়া ফরজ। আমরা যাকে ভালমনে করি তাকে সহযোগিতা করা ফরজ। কারণ ভাল লোকেরা যদি ঢিলেমি করে তাহলে এ স্থানগুলো কে দখল করবে? খারাপ লোকেরাই দখল করবে কিংবা এমন লোকেরা দখল করবে যাদের কাছে না আছে ভাল; না আছে খারাপ; যারা সুবিধাবাদী। তাই আমাদের উচিত যাকে যোগ্য মনে করি তাকে নির্বাচিত করা।যদি কেউ বলেন: আমরা যাকে নির্বাচিত করলাম আইনসভার অধিকাংশ সদস্য তার বিপক্ষে।আমরা জবাবে বলব: কোন অসুবিধা নেই। এই একজনের মধ্যে আল্লাহ বরকত দিতে পারেন। তিনি যদি আইনসভার সামনে হক কথা বলতে পারেন তাহলে অবশ্যই এর প্রভাব থাকবে, প্রভাব থাকতেই হবে। তবে যে ক্ষেত্রে আমাদের কসুর হয় সেটা হচ্ছে আল্লাহর সাথে বিশ্বস্ত হওয়া। আমরা শুধু বৈষয়িক বিষয়ের উপর নির্ভর করি আল্লাহর বাণী এর দিকে তাকাই না। সুতরাং আপনি যাকে ভাল মনে করেন তাকে নির্বাচিত করুন; এরপর আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল করুন।(শাইখ মুহাম্মাদ বিন উসাইমীন, লিকাআতুল বাব আল-মাফতুহ)

সৌদি আরবে ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটিকে জিজ্ঞেস করা হয় যে, আপনারা জানেন, আমাদের আলজেরিয়াতে “আইনসভার নির্বাচন” অনুষ্ঠিত হয়। কোন দল আছে যারা ইসলামী হুকুমত কায়েমের দিকে আহ্বান করে। আর কোন দল আছে যারা ইসলামী হুকুমত চায় না। এখন যে ব্যক্তি এমন কাউকে ভোট দেয় যে প্রার্থী ইসলামী হুকুম চায় না সে ব্যক্তির হুকুম কি হবে; তবে এ ব্যক্তি নামায আদায় করে?

জবাবে তাঁরা বলেন: যে সব দেশে ইসলামী শরিয়াভিত্তিক শাসনব্যবস্থা চালু নাই সেসব দেশের মুসলমানদের উপর ফরজ ইসলামী হুকুমত ফিরিয়ে আনার জন্য তাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা নিয়োজিত করা এবং যে দল ইসলামী হুকুমত বাস্তবায়ন করবে বলে তারা ধারনা করেন সে দলকে একজোটে সবাই মিলে সহযোগিতা করা। পক্ষান্তরে, যে দল ইসলামী শরিয়া বাস্তবায়ন না করার প্রতি আহ্বান জানায় সে দলকে সহযোগিতা করা নাজায়েয। বরং এ ধরনের সহযোগিতা ব্যক্তিকে কুফরের দিকে ধাবিত করে।
দলিল হচ্ছে আল্লাহর বাণী:
ﻭَﺃَﻥِ ﭐﺣْﻜُﻢ ﺑَﻴْﻨَﻬُﻢ ﺑِﻤَﺎٓ ﺃَﻧﺰَﻝَ ﭐﻟﻠَّﻪُ ﻭَﻟَﺎ ﺗَﺘَّﺒِﻊْ ﺃَﻫْﻮَﺍٓﺀَﻫُﻢْ ﻭَﭐﺣْﺬَﺭْﻫُﻢْ ﺃَﻥ ﻳَﻔْﺘِﻨُﻮﻙَ ﻋَﻦۢ ﺑَﻌْﺾِ ﻣَﺎٓ ﺃَﻧﺰَﻝَ ﭐﻟﻠَّﻪُ ﺇِﻟَﻴْﻚَۖ ﻓَﺈِﻥ ﺗَﻮَﻟَّﻮْﺍ۟ ﻓَﭑﻋْﻠَﻢْ ﺃَﻧَّﻤَﺎ ﻳُﺮِﻳﺪُ ﭐﻟﻠَّﻪُ ﺃَﻥ ﻳُﺼِﻴﺒَﻬُﻢ ﺑِﺒَﻌْﺾِ ﺫُﻧُﻮﺑِﻬِﻢْۗ ﻭَﺇِﻥَّ ﻛَﺜِﻴﺮًﺍ ﻣِّﻦَ ﭐﻟﻨَّﺎﺱِ ﻟَﻔَٰﺴِﻘُﻮﻥَ . ﺃَﻓَﺤُﻜْﻢَ ﭐﻟْﺠَٰﻬِﻠِﻴَّﺔِ ﻳَﺒْﻐُﻮﻥَۚ ﻭَﻣَﻦْ ﺃَﺣْﺴَﻦُ ﻣِﻦَ ﭐﻟﻠَّﻪِ ﺣُﻜْﻤًﺎ ﻟِّﻘَﻮْﻡٍ ﻳُﻮﻗِﻨُﻮﻥَ .
আর তাদের মধ্যে তার মাধ্যমে ফয়সালা কর, যা আল্লাহ নাযিল করেছেন এবং তাদের প্রবৃত্তির অনুসরণ করো না। আর তাদের থেকে সতর্ক থাক যে, আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন, তার কিছু থেকে তারা তোমাকে বিচ্যুত করবে। অতঃপর যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়, তাহলে জেনে রাখ যে, আল্লাহ তো কেবল তাদেরকে তাদের কিছু পাপের কারণেই আযাব দিতে চান। আর মানুষের অনেকেই ফাসিক। তারা কি জাহেলিয়াতের বিধান কামনা করে? যারা (আল্লাহর প্রতি) বিশ্বাস রাখে তাদের কাছে আল্লাহর চেয়ে উত্তম বিধানদাতা কে?” (সূরা মায়েদা, আয়াত: ৪৯-৫০)

এ কারণে যারা ইসলামী শরিয়া অনুযায়ী শাসনব্যবস্থা পরিচালনা করে না আল্লাহ তাদেরকে কাফের হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
ﻭَﻣَﻦ ﻟَّﻢْ ﻳَﺤْﻜُﻢ ﺑِﻤَﺎٓ ﺃَﻧﺰَﻝَ ﭐﻟﻠَّﻪُ ﻓَﺄُﻭ۟ﻟَٰٓﺌِﻚَ ﻫُﻢُ ﭐﻟْﻜَٰﻔِﺮُﻭﻥَ
আর যারা আল্লাহ যা নাযিল করেছেন, তার মাধ্যমে ফয়সালা করে না, তারাই কাফির।(সূরা মায়িদাঃ ৪৪)
তাদের সাথে সহযোগিতা করা থেকে, তাদেরকে মিত্র হিসেবে গ্রহণ করা থেকে সাবধান করেছেন। যদি মুমিনগণ প্রকৃত ঈমানদার হয় তাদেরকে তাকওয়া অবলম্বন করার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন:
ﻳَٰٓﺄَﻳُّﻬَﺎ ﭐﻟَّﺬِﻳﻦَ ﺀَﺍﻣَﻨُﻮﺍ۟ ﻟَﺎ ﺗَﺘَّﺨِﺬُﻭﺍ۟ ﭐﻟَّﺬِﻳﻦَ ﭐﺗَّﺨَﺬُﻭﺍ۟ ﺩِﻳﻨَﻜُﻢْ ﻫُﺰُﻭًﺍ ﻭَﻟَﻌِﺒًﺎ ﻣِّﻦَ ﭐﻟَّﺬِﻳﻦَ ﺃُﻭﺗُﻮﺍ۟ ﭐﻟْﻜِﺘَٰﺐَ ﻣِﻦ ﻗَﺒْﻠِﻜُﻢْ ﻭَﭐﻟْﻜُﻔَّﺎﺭَ ﺃَﻭْﻟِﻴَﺎٓﺀَۚ ﻭَﭐﺗَّﻘُﻮﺍ۟ ﭐﻟﻠَّﻪَ ﺇِﻥ ﻛُﻨﺘُﻢ ﻣُّﺆْﻣِﻨِﻴﻦَ.
হে মুমিনগণ, তোমরা তাদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না, যারা তোমাদের দীনকে উপহাস ও খেল-তামাশারূপে গ্রহণ করেছে, তাদের মধ্য থেকে তোমাদের পূর্বে যাদেরকে কিতাব দেয়া হয়েছে ও কাফিরদেরকে। আর আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন কর, যদি তোমরা মুমিন হয়ে থাক।(সূরা মায়েদা, আয়াত: ৫৭)

আল্লাহই তাওফিকদাতা, আমাদের নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উপর আল্লাহর শান্তি ও রহমত বর্ষিত হোক।
গবেষণা ও ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটি
১. শাইখ আব্দুল আযিয বিন বায,
২. শাইখ আব্দুর রাজ্জাক আফিফি,
৩. শাইখ আব্দুল্লাহ গুদইয়ান
৪. শাইখ আব্দুল্লাহ কুয়ুদ।
[স্থায়ী কমিটির ফতোয়াসমগ্র (১/৩৭৩)]

💚❤️সিজদার বিভিন্ন দোয়া।

সিজদারত মুসল্লির


👉👉 নামাজের সিজদায় রাসূল সাল্লাল্লাহু ওয়া সাল্লাম বিভিন্ন দোয়া পড়তেন এবং কোন কোন দোয়া বারবার বারবার পড়তেন। রাসূল সাঃ সিজদায় যে সকল দোয়া বেশি বেশি পড়তেন তার কয়েকটি নিম্নে দেওয়া হলো—

আমাদের মধ্যে বেশিরভাগ মানুষই সালাতে সিজদার জন্য শুধু একটি দোয়াই শিখেছি। অথচ আমাদের রাসুল সাঃ বিভিন্ন সময় বিভিন্ন দোয়া সিজদার সময় পড়েছেন এবং শিখিয়েছেন। আমাদের উচিত এই সহজ দোয়াগুলো শিখে নেয়া এবং ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দোয়াগুলো যেকোনো একটি করে বিভিন্ন সময়ে পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা, যাতে নামাজের অতি অভ্যস্ততার কারণে অমনোযোগিতা আমরা দূর করতে পারি। সেই সাথে রাসূল সাঃ এর সুন্নাহকে ও জাগ্রত করতে পারি।

১//👉👉 سُبْحَانَ رَبِّيَ الأَعْلَى

“সুবহানা রব্বিয়াল ‘আলা”
অর্থঃ আমার মহান সুউচ্চ প্রতিপালকের পবিত্রতা বর্ণনা করছি। (তিনবার)
[সহীহ আত তিরমিযী ১/৮৩]

২//👉👉سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ رَبَّنَا وَبِحَمْدِكَ اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي

“সুবহানাকা আল্লাহুম্মা রব্বানা ওয়াবিহামদিকাল্লাহুম মাগফিরলী”
অর্থঃ হে আল্লাহ! আমার রব্ব! তোমার পূত পবিত্রতা ঘোষণা করি (তোমার প্রসংশা সহ) হে আল্লাহ! তুমি আমাকে মাফ করে দাও।
[বুখারী ও মুসলিম]

৩//👉👉 سُبُّوحٌ، قُدُّسٌ، رَبُّ الْمَلَائِكَةِ وَالرُّوحِ

“সুব্বুহুন ক্কুদ্দুসুন রব্বুল মালা-ইকাতি ওয়াররুহ”
অর্থঃ ফেরেশতাবৃন্দ এবং রুহুল কুদ্দুস (জিব্রাঈল আঃ) এর রব প্রতিপালক স্বীয় সত্তায় এবং গুনাবলীতে পবিত্র।
[মুসলিম ১/৫৩৩]

৪//👉👉 اللَّهُمَّ لَكَ سَجَدْتُ وَبِكَ آمَنْتُ، وَلَكَ أَسْلَمْتُ، سَجَدَ وَجْهِيَ لِلَّذِي خَلَقَهُ، وَصَوَّرَهُ، وَشَقَّ سَمْعَهُ وَبَصَرَهُ، تَبَارَكَ اللهُ أَحْسَنُ الْخَالِقِينَ

“আল্লাহুম্মা লাকা সাজাদতু ওয়াবিকা ‘আ-মানতু ওয়ালাকা ‘আসলামতু সাজাদা ওয়াজহিয়া লিল্লাযী খলাক্কাহু ওয়াসাও ওয়ারাহু ওয়া শাক্কা সাম‘আহু ওয়া বাসারাহু তাবারকাল্লাহু আহসানুল খ-লিক্কীন”
অর্থঃ হে আল্লাহ! আমি তোমারই জন্য সিজদা করেছি, তোমারই প্রতি ঈমান এনেছি, তোমার জন্য নিজেকে সঁপে দিয়েছি, আমার মুখমণ্ডল (আমার সমগ্র দেহ) সিজদায় অবনমিত সেই মহান সত্তার জন্য যিনি উহাকে সৃষ্টি করেছেন এবং উহার কর্ণ ও চক্ষু উদ্ভিন্ন করেছেন, মহিমান্বিত আল্লাহ সর্বোত্তম স্রষ্টা।
[মুসলিম ১/৫৩৪]

৫//👉👉 “سُبْحَانَ ذِي الْجَبَرْوتِ، وَالْمَلَكُوتِ، وَالْكِبْرِيَاءِ، وَالْعَظَمَةِ”.

“সুবহানা যিল জাবারূতি ওয়াল মালাকূতি ওয়াল কিবরিয়া-ই ওয়াল ‘আযামাতি ”
অর্থঃ পাক পবিত্র সেই মহান আল্লাহ বিপুল শক্তির অধিকারী, বিশাল সাম্রাজ্য, বিরাট গরিমা এবং অতুল্য মহত্বের অধিকারী।
[আবু দাউদ ১/২৩০]

৬//👉👉 اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي ذَنْبِي كُلَّهُ، دِقَّهُ وَجِلَّهُ، وَأَوَّلَهُ وَآخِرَهُ وَعَلَانِيَتَهُ وَسِرَّهُ

“আল্লাহুম্মাগফিরলী যানবীকুল্লাহু, দিক্কাহু ওয়া জিল্লাহু, ওয়া আউওয়ালাহু ওয়াআ-খিরাহু ওয়া ‘আলানিয়াতা ওয়া সিররাহু”
অর্থঃ হে আল্লাহ, আমার সমস্ত গুনাহ মাফ করে দাও, ছোট গুনাহ, বড় গুনাহ, আগের গুনাহ, পরের গুনাহ, প্রকাশ্য এবং গোপন গুনাহ।
[মুসলিম ১/৩৫০]

৭//👉👉 اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِرِضَاكَ مِنْ سَخَطِكَ، وَبِمُعَافَاتِكَ منْ عُقُوبَتِكَ، وَاَعُوذُ بِكَ مِنْكَ، لَا أُحصِي ثَنَاءً عَلَيْكَ أَنْتَ كَمَا أَثْنَيْتَ عَلَى نَفْسِكَ

“আল্লাহুম্মা ইন্নী আ’উযু বিরিদাকা মিন সাখাতিকা, ওয়া বিমু’আ-ফাতিকা মিন ‘উক্কুবাতিকা ওয়া ‘আউযু বিকামিনকা, লা-উহসী সানা-আন ‘আলাইকা আনতা কামা আসনাইতা ‘আলা নাফসিকা”
অর্থঃ হে আল্লাহ! আমি আশ্রয় চাই তোমার অসন্তুষ্টি হতে তোমার সন্তুষ্টির মাধ্যমে, তোমার শাস্তি হতে তোমার ক্ষমার মাধ্যমে, আর আমি তোমার নিকট আশ্রয় চাই তোমার গজব হতে। তোমার প্রশংসা গুণে শেষ করা যায় না; তুমি সেই প্রশংসার যোগ্য নিজের প্রশংসা যেরূপ তুমি নিজে করেছ।
[মুসলিম ১/৩৫২]

আল্লাহর নামের বহুবচন এর ব্যবহার প্রসঙ্গেঃ

🟪🟥সম্মান সূচক অর্থে আল্লাহর শানে বহু বচন শব্দ ব্যবহারের গুরুত্বঃ

🟣🔴শব্দকে তার নিজস্ব অর্থে ব্যবহার না করে ভিন্ন অর্থে প্রয়োগ করা হলে বাড়তি মর্ম পাওয়া যায়। এটি ভাষার একটি মার্জিত ও স্বীকৃত বৈশিষ্ট্য।
উদাহরণ স্বরূপ বলা যায়; শের বা বাঘ শব্দটি গঠিত হয়েছে বনের একটি জন্তুর নাম হিসেবে। উক্ত শব্দ দ্বারা বন্য সেই জন্তুকে বুঝানো হলো তখন তা নিজস্ব অর্থই প্রকাশ করে। কিন্তু যখন শব্দটি এই অর্থে ব্যবহার না হয়ে মানুষকে বুঝানোর জন্য ব্যবহার করা হয় ‘শেরে বাংলা’ বা বাংলার বাঘ বলে, তখন বাড়তি যে মর্ম তাতে যোগ হয় তা হলো মানুষটির ভেতরে রয়েছে শক্তি ও সাহসিকতা।
আরবীভাষায় নাহনু (نحن) মানে আমরা। এটি দুইজন বা একাধিকজনের জন্য গঠিত একটি সর্বনাম। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে একে নিজস্ব অর্থ থেকে সরিয়ে এক বচনের জন্য যখন ব্যবহার করা হয় তখন বাড়তি যে মর্ম তাতে স্থান করে নেয় তা হলো, ব্যক্তির মর্যাদাবান ও সম্মানিত হওয়া।
বিখ্যাত আরবী অভিধান ‘আল-মুজামুল ওয়াসীত’ এর লেখক বলেন, ‘সম্মান প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে বহু বচনের শব্দকে একজনের জন্য ব্যবহার করা হয়ে থাকে।’
সম্মানের প্রশ্নে আল্লাহ তাআলা হলেন সবার চেয়ে অগ্রগামী। তিনি একক, লা শরীকা লাহু তথা অংশীদারবিহীন। কুরআনে অনেক আয়াতে তাঁর জন্য বহুবচনের শব্দ ব্যবহৃত হওয়ার একটি প্রধান কারণ এটি—সম্মান, ক্ষমতা ও প্রতিপত্তি প্রদর্শন।
এখানে যে প্রশ্নটা থেকে যায় তা হলো, আল্লাহ তাআলা তো সবসময়ই ও সর্বক্ষেত্রেই সম্মানিত ও ক্ষমতার অধিকারী। কোন ক্ষুদ্রতম সময়ের জন্যও তাঁর মর্যাদা ও ক্ষমতা বিলুপ্ত হয় না, হবার মত নয়। তাহলে কেন কুরআনে সর্বদাই তাঁর জন্য আমরা বহুবচনের শব্দ ব্যবহৃত হতে দেখি না? বরং কোথাও বহুবচন আর কোথাও একবচনের শব্দ ব্যবহৃত হতে দেখি। যেখানে একবচনের শব্দ ব্যবহৃত হয় সেখানে কি তাঁর সম্মান-মর্যাদা ও প্রতিপত্তি থাকে না? কোথায় একবচনের শব্দ আর কোথায় বহুবচনের শব্দ ব্যবহার করা হয় আল্লাহর জন্য? এই লেখাতে আমরা জিজ্ঞাসাগুলোর জবাব খোঁজার চেষ্টা করব ইনশাআল্ললাহ।
এই বিষয়টি বুঝার জন্য মোটাদাগে যেই মূলনীতি মাথায় রাখা যেতে পারে তা হলো, আল্লাহ তাআলা নিজের পরিচয় সংক্রান্ত আলোচনাতে সবসময় এক বচনের শব্দ ব্যবহার করেন। কেননা মূলত পরিচয়ের প্রশ্নে তিনি একক সত্তা। সেখানে কোন শরীক নেই। তাঁর কোন ছেলে-মেয়ে বা মা-বাবা নেই। তিনি যেমন কারো থেকে জন্ম নেননি, তেমনি কাউকে জন্মও দেননি। তাই এই ক্ষেত্রে একবচন উল্লেখ করাই যথার্থতার দাবি। যেমন কুরআনে বলা হয়েছে,
إِنَّنِي أَنَا اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنَا
“নিশ্চয়ই আমি আল্লাহ, আমি ছাড়া কোন উপাস্য নেই।”
পক্ষান্তরে যেখানে তিনি স্বীয় কর্মের কথা উল্লেখ করেন সেখানে সাধারণত বহুবচনের শব্দ উল্লেখ করেন। যেন তাঁর মর্যাদা, ক্ষমতা ও জালালত প্রকাশ পায়। যেমন-
وَبَنَيْنَا فَوْقَكُمْ سَبْعًا شِدَادًا
“এবং আমরা (আমি) তোমাদের ওপর মজবুত সাতটি আসমান নির্মাণ করেছি।” (নাবা :১২)

মোটাদাগের কথাটি জানার পর এবার আমরা একে আরেকটু সবিস্তারে জানব।

মর্যাদা, সম্মান, ক্ষমতা, প্রতিপত্তি, বড়ত্ব, মহানুভবতা, দয়া, দান ইত্যাদি ক্ষেত্রে একবচন ও বহুবচন দুইটিই ব্যবহার করা হয়। কারণ এই কর্মগুলো দুই ধরনের-
১. যা সম্পাদনার ক্ষেত্রে আল্লাহই একমাত্র সত্তা। তিনি এটি নিজেই সম্পাদন করেন। এর সাথে অন্য কেউ সম্পৃক্ত হয় না। যেমন ক্ষমা করা, দুআ কবুল করা, অদৃশ্যের সংবাদ জানা ইত্যাদি। এসব ক্ষেত্রে অধিকাংশ জায়গায় একবচন ব্যবহার করা হয়।
কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন,
وَإِنِّي لَغَفَّارٌ لِمَنْ تَابَ
“এবং নিশ্চয়ই আমি যারা তওবা করে তাদেরকে বারবার ক্ষমা করি।” (সূরা ত্বহা : ৮২)
وَقَالَ رَبُّكُمُ ادْعُونِي أَسْتَجِبْ لَكُمْ
“এবং তোমাদের রব বলেছেন, আমাকে ডাকো। আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দিবো।” (গফির: ৬০)
তবে এই জাতীয় কর্মের ক্ষেত্রেও মাহাত্ম্য-বড়ত্ত্ব ও মহানুভবতা বুঝানোর জন্য বহুবচনের শব্দ আসতে পারে; কিন্তু সেটা তুলনামূলক কম। যেমন-
فَاسْتَجَبْنا لَهُ وَوَهَبْنالَهُ يَحْيى وَأَصْلَحْنا لَهُ زَوْجَهُ
“অতপর আমরা (আমি) তাঁর দুআ কবুল করলাম, তাকে দান করলাম ইয়াহয়াকে এবং তাঁর স্ত্রীকে করে দিলাম সুস্থ।” (আম্বিয়া : ৯০)
২. যা মূলত আল্লাহ তাআলা সম্পাদন করলেও তিনি সেটা বাস্তবায়নের দায়িত্ব অন্য কাউকে দান করেন। তাঁর নির্দেশনা অনুপাতে তারা সেটি করে থাকে। কিংবা কোন বস্তুর মাধ্যমে তিনি কাজের বাস্তবায়ন ঘটান। এসব কাজের বাস্তব রূপায়নে অন্যদের অংশগ্রহণ থাকলেও মূল ভূমিকা আল্লাহরই এবং তাঁর নির্দেশনামা মেনেই অন্যরা সেগুলো পালন করে। এসব ক্ষেত্রে অধিকাংশ জায়গায় বহুবচন ব্যবহার করা হয়।
কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন,
إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ
“নিশ্চয়ই আমরা (আমি) কুরআন নাযিল করেছি এবং আমরাই (আমিই) তাকে হিফাজত করব।” (সূরা হিজর : ০৯)
وَلَقَدْ كَرَّمْنَا بَنِي آدَمَ وَحَمَلْنَاهُمْ فِي الْبَرِّ وَالْبَحْرِ
“এবং আমরা (আমি) আদম সন্তানকে সম্মানিত করেছি। আমরা (আমি) তাদেরকে বাহন দিয়েছি জলে ও স্থলে…। (ইসরা :৭০)
وَأَنْزَلْنَا مِنَ السَّمَاءِ مَاءً طَهُورًا
“এবং আমরা (আমি) আকাশ থেকে পবিত্র পানি বর্ষণ করেছি।” (ফুরকান:৪৯)
তবে এই জাতীয় কর্ম যেহেতু মূলত আল্লাহই ঘটান সেটা বুঝানোর জন্য একবচনের শব্দেও আসতে পারে; কিন্তু সেটা তুলনামূলক কম। যেমন-
ذَرْنِي وَمَنْ خَلَقْتُ وَحِيدًا
“আমাকে ও আমি এককভাবে যা সৃষ্টি করেছি তাকে ছেড়ে দাও। (সূরা মুদ্দাসসির : ১১)

আল্লাহর পরিচয়, ইবাদাতের নির্দেশনা, তাওহীদ সাব্যস্ত করা, শিরককে নাকচ করা ইত্যাদি ক্ষেত্রে সর্বদা একবচনের শব্দ ব্যবহৃত হয়। কারণ এই বিষয়গুলোর এটিই যথার্থ দাবি। যেমন-
لاَ تُشْرِكْ بِي شَيْئاً
“তোমরা আমার সাথে কাউকে শরীক করো না।” (সূরা হজ : ২৬ )
ومَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالإِنْسَ إِلاَ لِيَعْبُدُونِ

“এবং আমি মানুষ ও জিনকে সৃষ্টি করেছি কেবল আমার ইবাদাত করার জন্য।” (যারিয়াত : ৫৬)
وَأَنَا رَبُّكُمْ فَاعْبُدُونِ
“এবং আমি তোমাদের রব। অতএব তোমরা আমার ইবাদাত করো।” (আম্বিয়া : ৯২)
তবে একটি বিষয় স্মরণ রাখতে হবে। তা হলো, বিভিন্ন উপযোগিতার বিবেচনায় যদিও নানান আয়াতে আল্লাহর জন্য বহুবচনের শব্দ ব্যবহার করা হয়, কিন্তু এর আগে-পরে সাধারণত এমন কোন কিছু থাকে, যা আল্লাহর একক হওয়ার প্রমাণ বহন করে। যেমন সূরা কাউসারে আল্লাহ তাআলা বলছেন-
إِنَّا أَعْطَيْنَاكَ الْكَوْثَرَ فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَانْحَرْ
“নিশ্চয়ই আমরা (আমি) আপনাকে কাউসার দান করেছি। সুতরাং আপনি আপনার রবের জন্য সালাত আদায় করুন এবং কুরবানী করুন।” (কাউসার: ১-২)
এই আয়াতে প্রথমে বহুবচনে দান করার কথা বলা হলেও পরক্ষণেই এক বচনে ‘রব’ শব্দ আনা হয়েছে। যার দ্বারা আগের আয়াতে আলোচিত দাতাকেই উদ্দেশ্য নেওয়া হচ্ছে। ফলে আর কোন সংশয় থাকে না যে, উক্ত দাতা একক সত্তা, একাধিকজন নন।
এমনই আরেকটি উদাহরণ সূরা ফাতহের এই আয়াত থেকেও দেখা যেতে পারে-
إِنَّا فَتَحْنَا لَكَ فَتْحاً مُّبِيناً لِيَغْفِرَ لَكَ اللَّهُ مَا تَقَدَّمَ مِن ذَنبِكَ وَمَا تَأَخَّرَ وَيُتِمَّ نِعْمَتَهُ عَلَيْكَ وَيَهْدِيَكَ صِرَاطاً مُّسْتَقِيماً
“নিশ্চয়ই আমরা (আমি) আপনাকে স্পষ্ট বিজয় দান করেছি, যেন আল্লাহ আপনার আগে-পরের সকল পাপ মাফ করে দেন এবং আপনার ওপর তাঁর নিয়ামতকে পূর্ণ করেন ও আপনাকে সঠিক পথ দেখান।” (সূরা ফাতহ : ১-২)
কপি করুন ও ছড়িয়ে দিন

বিচারের দিনের আল্লাহর আদালতের কিছু বৈশিষ্ট্য এবং নিয়ম কানুনঃ

👉👉সব ধরনের ফাইল খোলা অবস্থায় হবে।
দলীলঃ ونُخرِجُ لَهُ يَوْمَ القِيامَةِ كِتابا يَلقاهُ مَنْشُورًا•
অর্থ- এবং কিয়ামতের দিন আমি তার জন্য
বের করব এক কিতাব, যা সে উন্মুক্ত পাবে।
সুরাঃ বনি ইসরায়েল, আয়াত- ১৩

👉👉কঠোর নিরাপত্তার মাধ্যমে উপস্থিত করা হবে।
দলীলঃ وَجَاءتْ كُلُّ نَفْسٍ مَّعَهَا سَائِقٌ وَشَهِيدٌ
অর্থ- সেদিন প্রত্যেক ব্যক্তি নিরাপত্তার সাথে
উপস্থিত হবে, তার সাথে থাকবে সাক্ষী।
সুরাঃ ক্বাফ, আয়াত-২১

👉👉কারো উপর কোন জুলুম করা হবে না।
দলীলঃ وَمَا أَنَا بِظَلَّامٍ لِّلْعَبِيدِ
অর্থ- আমার কথার রদ-বদল হয় না
এবং আমি আমার বান্দাদের প্রতি
কোন অবিচার করি না।
সুরাঃ ক্বাফ, আয়াত- ২৯

👉👉 জেরা করার জন্য সেখানে কোন উকিল হবেনা। তবে অপরাধীকে উদ্ধার করার জন্য আল্লাহ যাকে সুপারিশ করার অনুমতি প্রদান করবেন তিনি তার জন্য সুপারিশ করতে পারবেন তবে বিষয়টা সম্পূর্ণ আল্লাহর এখতিয়ার।
দলীলঃ اقْرَأْ كِتَابَكَ كَفَىٰ بِنَفْسِكَ الْيَوْمَ عَلَيْكَ حَسِيبًا
অর্থ- তাকে বলা হবে,‘তুমি তোমার
আমলনামা পড়, আজ তুমি নিজেই তোমার
হিসাব-নিকাশের জন্য যথেষ্ট।’
সুরাঃ বনি ইসরায়েল, আয়াত-১৪

👉👉 ঐদিন কোন প্রকার বাহুবল দলীয় শক্তি কিংবা ঘুষ কিছুই চলবে না।
দলীলঃ يَوْمَ لا يَنفَعُ مَالٌ وَلا بَنُونَ
অর্থ- যেদিন ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি
কোন কাজে আসবে না।
সুরাঃ আশ শুআরা, আয়াত-৮৮

👉👉 শেষ বিচারের দিন মানুষের বিচারের ফয়সালা আপনার হাতেই দেওয়া হবে।

আল্লাহ পবিত্র কুরআনে বলেন–اقرا كتابك كفى بنفسك يوم عليك حسيبه….. এই নাও তোমার কিতাব তুমি নিজেই পড়ো এবং আজকের এই দিনে তোমার হিসাব নেওয়ার জন্য তুমি নিজেই যথেষ্ট।


অন্যত্র আল্লাহ বলেন— فَأَمَّا مَنْ أُوتِيَ كِتَابَهُ بِيَمِينِهِ فَيَقُولُ هَاؤُمُ اقْرَؤُوا كِتَابِيهْ•
অর্থ-সুতরাং যাকে তার আমলনামা
তার ডান হাতে দেওয়া হবে! সে বলবে,
‘এই নাও, আমার আমলনামা পড়ে দেখ।
সুরাঃ আল হাক্কাহ, আয়াত-১৯

👉👉কোন গায়েবানা ফয়সালা হবেনা। অর্থাৎ কারো প্ররোচনায় কিংবা কাউকে ফাঁসানোর জন্য কোন প্রকার মিথ্যার আশ্রয় গ্রহণ করা হবে না।
দলীলঃ وَإِنْ كُلٌّ لَمَّا جَمِيعٌ لَدَيْنَا مُحْضَرُونَ•
অর্থ- এবং অবশ্যই ওদের সকলকে
একত্রে আমার নিকট উপস্থিত করা হবে।
সুরাঃ ইয়াসিন, আয়াত-৩২

👉 শেষ বিচারের দিন ফয়সালার মধ্যে কোন রদবদল হবেনা, অর্থাৎ সেখানে কোন আপিলের ব্যবস্থা থাকবে না। দলিলপত্র দেখে বিচারের রায় হবে। উকিল অর্থাৎ রাসূল সাঃ সুপারিশ করবেন এবং বিচারকের অর্থাৎ আল্লাহর ইচ্ছা হলে ক্ষমা করবেন নতুবা শাস্তি দিবেন।


দলীলঃ مَا يُبَدَّلُ الْقَوْلُ لَدَيَّ•
অর্থ- আমার কথার রদ-বদল হয় না
এবং আমি আমার বান্দাদের প্রতি
কোন অবিচার করি না।
সুরাঃ ক্বাফ, আয়াত-২৯

👉👉আখেরাতের বিচার দিবসে মিথ্যা স্বাক্ষী হবেনা।
দলীলঃ يَوْمَ تَشْهَدُ عَلَيْهِمْ أَلْسِنَتُهُمْ وَأَيْدِيهِمْ
وَأَرْجُلُهُم بِمَا كَانُوا يَعْمَلُونَ•
অর্থ- যেদিন তাদের বিরুদ্ধে তাদের হাত ও পা
তাদের কৃতকর্ম সম্বন্ধে সাক্ষী দেবে।
সুরাঃ নুর, আয়াত-২৪
👉👉 শেষ বিচারের দিন পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসাব গ্রহণের জন্য চার প্রকারের সাক্ষী উপস্থা করা হবে।

১// পৃথিবী সেদিন তার খবর বলতে থাকবে।

কাফের বা অবিশ্বাসীদের সাথে আন্তরিক বন্ধুত্ব রাখার ইসলামিক রীতি-


🟤🟤ইসলাম ওবিশ্বাসী বা কাফেরদের সাথে আন্তরিক বন্ধুত্ব অনুমোদন করে না। এই রীতি কারো পছন্দ হোক বা না হোক আল্লাহ এবং মুমিনদের তাতে কোন আসে যায় না।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ সূরা আল ইমরানের 28 নং আয়াতে বলেন–لا يتخذ المؤمنين الكافرين الاولياء মুমিনরা কাফিরদেরকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করে না।
কাফেরদের সাথে তিন প্রকারের সম্পর্ক বা বন্ধুত্ব হতে পারে মুমিনদের। এরমধ্যে দুই প্রকারের সম্পর্ক বৈধ এবং অনুমোদিত আর এক প্রকারের বন্ধুত্ব বা সম্পর্ক হারাম।
অবিশ্বাসীদের সাথে মুমিনের তিন প্রকারের বন্ধুত্ব হল–
১// মুয়ালাত বা আন্তরিক বন্ধুত্ব।
২//মুদারাত বা বাহ্যিক নম্র ব্যবহার ও সুন্দর আচরণ।
৩//মুয়াসাত বা যেকোনো বিপদ মুসিবতে সাহায্য সহানুভূতি পৌঁছানো।
আর এর মধ্যে প্রথম প্রকারের আন্তরিক বন্ধুত্ব কোন অবস্থাতেই বৈধ নয় এবং সম্পূর্ণ নাজায়েজ। বাকি দুই অবস্থা বৈধ এবং এই জাতীয় বন্ধুত্ব করার উৎসাহ প্রদান করা হয়েছে।
প্রথম প্রকার সম্পর্ক বা বন্ধুত্ব বৈধ না হওয়ার কারণ হলো যদি অবিশ্বাসীদের সাথে আন্তরিকতা থাকে তাহলে যে কোন সময় পদস্খলন হওয়ার অথবা ঈমানহারা হয়ে যাওয়ার অথবা কাফেরের আচরণ প্রকাশ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে ‌।
প্রথমতঃ অবিশ্বাসীদের ক্ষতি ও বিভিন্ন খারাপ দিক থেকে নিরাপদ থাকার জন্য।
দ্বিতীয়তঃ ধর্মীয় কৌশলগত কারণে অর্থাৎ কোন অবিশ্বাসীকে সৎ পথে আনার উদ্দেশ্যে তার সাথে নোংরা ব্যবহার করতে হবে। তাছাড়া একজন মানুষ হিসাবে আল্লাহর একজন মাখলুক হিসেবে যে কেউ নম্র ব্যবহার পাওয়ার উপযোগী।
তৃতীয়তঃ অতিথির সম্মানার্থে অর্থাৎ কোন কাফির কোন মুসলিমের অতিথি হলে তার সাথে সর্বোত্তম ব্যবহার করতে হবে যেমন ব্যবহার করা হয় মুসলিম বা ঈমানদার অতিথির সাথে।
অতিথি মুসলিম হোক কিংবা কাফের হোক তার সাথে কোন প্রকার অশালীন কিংবা খারাপ আচরণ করার বৈধতা ইসলাম কখনো কাউকে দেয় না।
তথ্যসূত্রঃ
ইসলামের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা।
ইবনে মোশারফ

ফজর এবং আসর ফরজ নামাজ গুলোর মধ্যে বেশি গুরুত্বপূর্ণ

♥️💙#ফজর ও #আসরের বিষয়ে পবিত্র কুরআনে দুটি পরিপূর্ণ সূরা নাযিল করা হয়েছে। একটি হল সূরা আসর অন্যটি হলো সূরা ফজর।
নামাজের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ফজিলতপূর্ণ ফজর ও আসরের নামাজ । ফজর ও আসরের নামাজের ব্যাপারে হাদিসে এবং পবিত্র কুরআনে অত্যন্ত গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।

👉👉#ইমানের পর প্রত্যেক মুসলমানের জন্য সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হলো #হালালউপার্জন ও পাঁচ ওয়াক্ত #ফরজনামাজ। এ পাঁচ ওয়াক্ত সলাতের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ফজিলতপূর্ণ ফজরের সলাত। কোরআনে আল্লাহ “ফজর” ও “আসর” নামে দুটি স্বতন্ত্র সুরা অবতীর্ণ করেছেন। প্রথম”ইন্না” (অবশ্যই) শব্দ যোগ করে ফজর এবং আসরের কসম করেছেন। যেহেতু আল্লাহ নিজেই সময় সৃষ্টি করেছেন এবং এই সময়ে সালাত বা নামাজ নির্ধারণ করেছেন এবং সেই সময়ের শপথ করেছেন। অতএব এখান থেকেই স্পষ্ট প্রতিীয়মান হয় যে এই দুইটি সময় এবং এই দুইটি সময়ের ইবাদত কত গুরুত্বপূর্ণ! সুবাহানাল্লাহ।
আল্লাহ যে কোন কাজের বাজে কোন বিষয়ের পূর্বে “ইন্না” শব্দ যোগ করেছেন বুঝতে হবে ওই বিষয় বা বস্তুকে তিনি অত্যন্ত অত্যন্ত গুরুত্ব আরোপ করেছেন।(ইন্না শব্দের অর্থ-অবশ্যই, Must be, Of course,)

👉হাদিসে ফজরের নামাজের প্রতি বিশেষ তাগিদ দিয়ে রসুলুল্লাহ সাঃ বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি ফজরের নামাজ আদায় করলো, সে আল্লাহর রক্ষণাবেক্ষণের অন্তর্ভুক্ত হলো।’ –মুসলিম।
অন্য হাদিসে ফজর ও আসরের নামাজ আদায়কারীকে জান্নাতি মানুষ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। রসুলুল্লাহ সাঃ ইরশাদ করেছেন- ‘যে ব্যক্তি দুটি শীতল সময়ে(ফজরের সময় এবং আসরের সময় ) নামাজ আদায় করবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।’
—বুখারি, মুসলিম।

👉কিয়ামতের কঠিন সময় ফজরের নামাজ নুর হয়ে দেখা দেবে। এমনকি আদায়কারীকে মহাবিপদের দিনে এই নূর বা আলো পথ দেখাবে।
হাদিসে এসেছে, রসুলুল্লাহ সাঃ বলেছেন,- ‘যারা আঁধারে (ফজরে) মসজিদের দিকে হেঁটে যায়, তাদের কিয়ামতের দিন পরিপূর্ণ নুর প্রাপ্তির সুসংবাদ দাও।’ —আবু দাউদ।
👉ফজরের নামাজ আদায়কারীকে অর্ধেক রাত ইবাদতের সওয়াব দান করা হবে।
হাদিসে এসেছে, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন– ‘যে ব্যক্তি (জামাতের সঙ্গে) এশার নামাজ আদায় করল, সে যেন অর্ধেক রাত পর্যন্ত নামাজ আদায় করল। আর যে ব্যক্তি ফজরের নামাজ (জামাতের সঙ্গে) আদায় করল সে যেন সারা রাত জেগে নামাজ আদায় করল।’
— মুসলিম।
♥️ফজরের নামাজ আদায়কারীর নাম #মুনাফিকের তালিকা থেকে বের করে দেওয়া হয়। এর মানে হলো যে ব্যক্তি ফজরের নামাজ আদায় করলো না তার নাম মুনাফিকের খাতায় লিখে দেওয়া হয়! আর ফজরের নামাজ আদায়কারীকে সেই মুনাফিকি থেকে পরিত্রাণ দেওয়া হয়।
রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন– ‘মুনাফিকদের জন্য ফজর ও এশার নামাজের চেয়ে অধিক ভারী আর কোনো নামাজ নেই। কিন্তু তারা যদি এ দুই নামাজের ফজিলত জানত, তাহলে হামাগুড়ি দিয়ে হলেও নামাজে উপস্থিত হতো। —বুখারি।

💙 ফজর এবং আসরের সালাত আদায়কারীর নাম ফেরেশতাগণ আল্লাহর কাছে উল্লেখ করেন। এবং তাদের নামাজ আদায়ের সাক্ষ্য দেন।
আবু হুরাইরা রাঃ থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ সাঃ বলেছেন, ‘তোমাদের কাছে পালাক্রমে দিনে ও রাতে মালাইকা (ফেরেশতা) আসেন।(পৃথিবীর যে স্থানে যখনই দিন এবং রাত সংঘটিত হয় তার পূর্বে প্রত্যেক মানুষের রক্ষণাবেক্ষণের কাজে নিয়োজিত ফেরেশতাগণ বাইরুটেশন ডিউটি বদল করেন) এবং ডিউটি পরিবর্তন করার সময় তাঁরা আসর ও ফজরের সময় একত্রিত হয়। যারা রাতের কর্তব্যে ছিল তাঁরা ওপরে উঠে যায়। আল্লাহ তো সব জানেন, তবু ফেরেশতাদের প্রশ্ন করেন, আমার বান্দাদের কেমন রেখে এলে? ফেরেশতারা বলে, আমরা তাদের নামাজরত রেখে এসেছি। যখন গিয়েছিলাম, তখনো তারা নামাজরত ছিল।’
—বুখারি, হাদিস : ৫৫৫

💜ফজরের নামাজ দিয়ে দিনটা শুরু করলে পুরো দিনের কার্যক্রম বরকতম হয়। সবকিছুতে আল্লাহ-প্রদত্ত কল্যাণ লাভ হয়।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন,
হে আল্লাহ! আমার উম্মতের জন্য, তার সকালবেলায় বরকত দান করুন।’
—তিরমিজি।

👉👉👉👉👉👉👉
💙 তাছাড়া আসরের নামাজ এর ফজিলত বা উপকারিতা সম্পর্কে একাধিক সহি হাদিস বর্ণিত হয়েছে।
👉আবু মালিহ রাঃ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন- এক যুদ্ধে আমরা বুরাইদাহ এর সঙ্গে ছিলাম। দিনটি ছিল মেঘাচ্ছন্ন। তাই বুরাইদাহ রাঃ বলেন, শিগগির আসরের নামাজ আদায় করে নাও। কারণ নবী (সা.) বলেছেন-
‘যে ব্যক্তি আসরের নামাজ ছেড়ে দেয়, তার আমল বিনষ্ট হয়ে যায়।’ –বুখারি, হাদিস : ৫৫৩ (হাদিসের নাম্বার বিভিন্ন প্রকাশনীর ছাপানো কিতাবে বিভিন্ন এসেছে তাই নাম্বার গুলো এদিক সেদিক হতে পারে)

👉 ফজর এবং আসরের নামাজের সময়ের ব্যাপারে গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে এবং ছাড় দেওয়া হয়েছে।
আবু হুরাইরা রাঃ হতে বর্ণিত হাদিসে রাসুল সাঃ বলেন- তোমাদের কেউ যদি সূর্যাস্তের আগে আসরের নামাজে এক সিজদা পায়, তাহলে সে যেন সালাত পূর্ণ করে নেয়। আর যদি সূর্যোদয়ের আগে ফজরের সালাতের এক সিজদা পায়, তাহলে সে যেন সালাত পূর্ণ করে নেয়।
–বুখারি, হাদিস : ৫৫৬!

♥️ফজর এবং আসরের সুন্নত নামাজের গুরুত্বঃ
🟣দুনিয়ার বুকে যত বস্তু আছে সবকিছু থেকে ফজরের দুই রাকাত সুন্নত নামাজ উত্তম।
রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন- ‘ফজরের (সুন্নত)দুই রাকাত নামাজ দুনিয়া ও তার সবকিছুর চেয়ে উত্তম।’
—- মুসলিম।
👉আসরের সালাতের আগে ৪ রাকায়াত সুন্নাত রয়েছে। এটি গায়রে মুওয়াক্কাদা, তাই আদায় করা উত্তম। রাসুল সাঃ নিজেও এই নামাজ আদায় করেছেন। আলী ইবনে আবু তালিব (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুল সাঃ আসরের ফরজ নামাজে আগে চার রাকাত সুন্নত পড়তেন।
(-তিরমিজি, হাদিস : ৪২৯; সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস : ১১৬১!
অন্য একটি হাদিসে রয়েছে, উমর ফারুক রাঃ হতে বর্ণিত, রাসুল সাঃ বলেছেন—
‘আল্লাহ সেই ব্যক্তিদের ওপর রহম করুন, যারা আসরের সালাতের আগে চার রাকাত সুন্নত আদায় করে।’
–আবু দাউদ, হাদিস : ১২৭১; তিরমিজি, হাদিস : ৪৩০

🤲🤲 আল্লাহ আমাদের সবাইকে সময় মত সকল নামাজ সঠিক সময় সঠিকভাবে জামাতের সহিত আদায় করার তৌফিক দান করুন আমীন। এবং আমরা যা বলি তা আমাদের কার্যে পরিণত করার তৌফিক দান করুন। কেননা আমরা যা বলি অনেক সময় আমরা নিজেরা কার্যে পরিবর্তন করতে অক্ষম হয়ে যাই। আমাদের প্রভৃতি এবং শয়তানের প্ররোচনা আমাদের নেক কর্ম থেকে বিরত রাখে।
আল্লাহ আমাদের হেফাজত করুন এবং সাহায্য করুন সর্ব বিষয়ে আমীন।
ইবনে মোশারফ

মনের ভাব প্রকাশের সকল শব্দ প্রতীক এবং ইঙ্গিত সবই ভাষার অন্তর্ভুক্ত।

🇧🇩🇧🇩মূলত মনের ভাব প্রকাশের যেকোনো শব্দ বা ইঙ্গিত এর নাম হল “ভাষা”। পৃথিবীর মানুষগুলো মনের ভাব প্রকাশের জন্য যা ব্যবহার করে তার ৬৫% হলো শারীরিক বাসা বা বডি ল্যাঙ্গুয়েজ এবং বাকি 35% হলো মুখ দিয়ে উচ্চারিত বিভিন্ন শব্দ।
হাসি এবং কান্নার কোন ভাষা নেই কোন নির্দিষ্ট শব্দ নেই অথচ কেউ হাসি বা কান্না করলে দুনিয়ার সবাই এই ভাষা বুঝতে পারে।
😃হাসি এবং 😭কান্না সমস্ত দুনিয়ার একটি কমন ভাষা। এবং এই কমন ভাষা দিয়ে মানুষ অপর মানুষকে অনেক কিছু বুঝিয়ে ফেলতে পারে।
😡চোখ লাল করা অথবা 🙄চোখ মটকানো কিংবা
😲চোখ বড় বড় করে ফেলা কোন শাব্দিক ভাষা নয় ‌। বরং এটা শারীরিক ভাষা বা বডি ল্যাঙ্গুয়েজ। এই শারীরিক ভাষা দিয়ে আপনি পৃথিবীর যেকোনো দেশের যেকোনো মানুষকে আপনার অবস্থান বুঝিয়ে দিতে পারবেন খুব সহজেই।
👍👍শুধুমাত্র হাতের আঙ্গুল ব্যবহার করে আমরা অনেক কিছু বুঝিয়ে দিতে পারি। {{👍👏👎🫶🙌👐🤲🤝🤜🤛✊👊🫳🫴🫱🖐️🖖🤟🤘✌️🤞🫰🤙🤌🤏👌🫵👉👈☝️👇🖕🙏}}
এখানে শুধু হাতের আঙ্গুলের মাধ্যমে ভাষার ব্যবহারের কিছু ইমেজ দেওয়া হলো তাছাড়া আপনি বডি বা শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ব্যবহার করে আপনার মনের ভাব প্রকাশ করতে পারেন অপরের কাছে।
দুনিয়ার মানুষ ৬৫% ক্ষেত্রে যে শারীরিক বাসা বা বডি ল্যাঙ্গুয়েজ ব্যবহার করে আশা করি বিষয়টি আপনার কাছে এখন ক্লিয়ার হয়ে গেছে।
আমি (ইবনে মোশারফ ) আমার লিখার মধ্যে ইংরেজি বা অন্যান্য ভাষা ব্যবহার করছি দেখে আপনি হয়তো নাক কুচকাতে পারেন এইজন্য যে ভাষার মাসে আমি ভিন্ন ভাষা ব্যবহার করছি 🤔❗
আসলে বিষয়টি তা নয়। বরং আমরা বিদেশি ভাষা ছাড়া একটি বাক্য গঠন করতে সক্ষম নই।
আমাদের বাংলা ভাষা মূলত পাঁচটি উৎস থেকে নির্গত।
১/তৎসম শব্দ ২/অর্ধতৎসম শব্দ ৩/তদ্ভব শব্দ ৪/ দেশী শব্দ এবং ৫/বিদেশি শব্দ।।
বরং বর্তমানে বিদেশি শব্দের এত বেশি আধিক্য যে আপনি দেশি শব্দ খুঁজে পাবেন না এবং আপনাকে যদি বলা হয় একটি দেশি শব্দ বলার জন্য আপনি শতভাগ নাম্বার পেয়ে ফেল করবেন আমি নিশ্চিত!
তাছাড়া শব্দ গঠন অনুসারে দুই প্রকারের।
১//মৌলিক শব্দ এবং ২//সাধিত শব্দ!
শব্দের উৎস এবং শব্দের প্রকার গুলো অনলাইন লাইব্রেরী থেকে অথবা কোন ব্যাকরণের ভালো বই থেকে আপনারা পড়ে নিবেন। এখানে এত বিস্তারিত আলোচনা করা সম্ভব হলেও হয়তো আপনাদের ধৈর্যচুত্যি ঘটবে তাই একটি গল্প দিয়ে শেষ করছি—

😊😊চায়ের কাপে বিস্কুট ডুবিয়ে খাওয়ার সময় হঠাৎ মাথায় আসলো যে এই #চা চীনা শব্দ।
আবার #বিস্কুট ফরাসি শব্দ। বিস্কুটের সাথে থাকা #চানাচুর ভারতীয় শব্দ।
চায়ে যে চিনি ও পানি থাকে সেখানে #চিনি চীনা অথচ #পানি উর্দু ও হিন্দি শব্দ।
আবার চা ভর্তি #পেয়ালাটা ফারসি কিন্তু #কাপ’টা ইংরেজি শব্দ।
এদিকে #ইংরেজি শব্দটাই আবার পর্তুগিজ😆। দারুন মজার তাইনা। আপনি নিশ্চয়ই অবাক হচ্ছেন?

চা চীনা হলেও #কফি কিন্তু #তুর্কি শব্দ। আবার #কেক #পাউরুটির কেক ইংরেজি, পাউরুটি পর্তুগীজ।

দাঁড়ান একটু দম নিয়ে নেই 😴😴❗
নামি দামী খানাপিনায় যাওয়া যাক এবার। আমরা সব করি বাড়িতে কিংবা রেস্টুরেন্টে গিয়ে মাঝেমধ্যে নামিদামি খাবার খেয়ে আসি বা বন্ধু-বান্ধবের সাথে আড্ডায় ঐ সমস্ত খাবার খেয়ে থাকি ‌।

আগেই বলে রাখি, #খানাপিনা হিন্দী আর #দাম গ্রীক। রেস্তোরাঁ বা ব্যুফেতে গিয়ে পিৎজা, বার্গার বা চকোলেট অর্ডার দেয়ার সময় কখনো কি খেয়াল করেছেন, #রেস্তোরা আর #ব্যুফে দুইটাই ফরাসী ভাষার, সাথে #পিৎজাও। পিৎজাতে দেয়া #মশলাটা আরবি। মশলাতে দেয়া #মরিচটা ফারসি!
নিশ্চয়ই আরো বেশি অবাক হচ্ছেন আর তাছাড়া অবাক হওয়ারই কথা আপনি হয়তো ভাবছেন যে আমাদের দেশি বাংলা শব্দ কোথায় ❓ জনাব আমাদের দেশি বাংলা শব্দের সংখ্যা খুবই নগণ্য আমরা যতই লম্বা লম্বা কথা বলি।

বার্গার কিংবা #চপ দুটোই আবার ইংরেজি। কিন্তু #চকোলেট আবার মেক্সিকান শব্দ। #অর্ডারটা ইংরেজি। যে #মেন্যু থেকে অর্ডার করছেন সেটা আবার ফরাসী।

ম্যানেজারকে নগদে টাকা দেয়ার সময় মাথায় রাখবেন, #নগদ আরবি, আর #ম্যানেজার ইতালিয়ান।
আর যদি দারোয়ান কে বকশিস দেন, #দারোয়ান ও তার #বকশিস দুটোই ফারসি।
কারণ বৃটিশের পূর্বে ও ফরাসিরা আমাদের দেশে এসেছিল এবং তারা আমাদের দেশে ব্যবসা বাণিজ্যের পাশাপাশি তাদের অনেক ভাষা আমাদের দেশে রেখে গেছে।

এবার চলুন দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি সম্পন্ন লাগামহীন আমাদের এই বাজার থেকে একটু ঘুরে আসি।
সবজি ফলমূল কিনতে যাবেন? #বাজার’টা কিন্তু ফারসি এবং সবজিও….।
যে #রাস্তা দিয়ে চলছেন সেটাও ফারসি।
রাস্তাকে আপনি বাংলায় 👉পথ বলবেন?
আপনার আসার ঘুরি বালি। পথ শব্দটা ইংরেজি।

🍉🥭ফলমূলে আনারস পর্তুগিজ, আতা কিংবা বাতাবিলেবুও। লিচুটা আবার চীনা, তরমুজটা ফারসি, লেবুটা তুর্কী। পেয়ারা-কামরাঙা দুইটাই পর্তুগীজ। পেয়ারার রঙ সবুজটা কিন্তু ফারসি।
এখন আপনি হয়তো চিন্তা করছেন যে আমাদের বাসার আর বাকি রইল কি সবই তো দেখা যাচ্ছে
বিদেশি শব্দ ❗ একটু থামুন এবং শ্বাস নিয়ে নিন। এবার দেখুন–
👉ওজন করে আসল দাম দেয়ার সময় মাথায় রাখবেন ওজনটা 👉আরবি, 👉আসল শব্দটাও আসলে আরবি। তবে 👉দাম কিন্তু গ্রীক, আগেই বলেছি।
এবার আসা যাক ধর্মের বিষয়ে বা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে।
ধর্ম কর্মেও একই অবস্থা। 👉মসজিদ আরবি 👉দরগাহ/ঈদগাহ ফারসি। 👉গীর্জা কিন্তু পর্তুগীজ, সাথে গীর্জার 👉পাদ্রীও। 👉যিশু নিজেই পর্তুগীজ। 👉কেয়াং এদিকে বর্মিজ, সাথে 👉প্যাগোডা শব্দটা জাপানি। আর, 👉মন্দিরের ঠাকুর হলেন এরদোগানের দেশ তুর্কী থেকে আগত😆😆❗

👉👉এবার হয়তো বলবেন, কি বাকি আছেরে ভাই?
ও হ্যাঁ। কর্মস্থল! অফিস আদালতে বাবা, স্কুল কলেজে কিন্ডারগার্টেনে সন্তান। বাবা নিজে কিন্তু তুর্কী, যে অফিসে বসে আছেন সেটা ইংরেজি, তবে আদালত আরবি, আদালতের আইন ফারসি, তবে উকিল আরবি।

ছেলে যে স্কুলে বা কলেজে পড়ে সেটা ইংরেজি, কিন্তু 👉কিন্ডারগার্টেন শব্দটা আমরা অনেকেই ইংরেজি হিসেবে জানলেও এটা আবার জার্মান!
স্কুলে পড়ানো 🤔বই-কেতাব দুইটাই আরবি শব্দ। যে 👉কাগজে এত পড়াশোনা সেটা ফারসি। তবে 👉কলমটা আবার আরবি। রাবার 👉পেনসিল কিন্তু আবার ইংরেজি!
পুরো স্ট্যাটাস মনে না থাকলে অন্তত এটা মনে রাখবেন যে 💜”মন” শব্দটা আরবি।
😇😇শব্দের কেচ্ছা-কাহিনী এখানেই খতম। তবে
👉কেচ্ছাটা আরবি, কাহিনীটা হিন্দি, উভয়ের খতমটা আরবিতে। মাফ চাইলামনা বা সরি বললাম না, কারণ 👉মাফটা আরবি আর 👉সরিটা ইংরেজি।
আর এত বড় একটা লেখা প্রেজেন্টেশন করার জন্য আমি আপনাদের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।
আর এই ক্ষমা শব্দ টাও কিন্তু 😊সংস্কৃত শব্দ।

💜💜 আমরা ১৯৫২ সালে ❤️মাতৃভাষার জন্য সংগ্রাম করেছি, এবং ১৯৭১ সালে ❤️পিতৃভূমির জন্য সংগ্রাম করেছি। মাতৃভাষা এবং পিতৃভূমি আমাদের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব এবং মনের ভাব প্রকাশের অন্যতম হাতিয়ার।
গতকাল ছিল আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস।
এই দিবসটাকে বাংলা ভাষায় আমরা আঁটি ফাল্গুন না বলে বরং ইংরেজি ভাষায় একুশে ফেব্রুয়ারি বলতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ বোধ করি।
কেউ কেউ হয়তো যুক্তি দেখিয়ে বলবেন যে যেহেতু এটা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস আর যেহেতু একুশে ফেব্রুয়ারি অর্থাৎ ইংরেজি সন তারিখ হল আন্তর্জাতিক ভাষা তাই এটা গ্রহণযোগ্য।
সুন্দর যুক্তি!!
কিন্তু ভাইজান আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা তো হল মাত্র কয়েকদিন আগে।
এতদিন যে আপনারা ভুল করে আসছেন তার খেসারত কিভাবে দিবেন???
মূলত এটা কোন যুক্তি নয় বরং এটা একটা অজুহাত মাত্র। সে যাই হোক আমরা ♥️ভাষার জন্য জীবন দানকারী এবং যারা ভাষা আন্দোলন করেছেন সকলের রুহের মাগফেরাত কামনা করছি!

সকল ভাষার স্রষ্টা আল্লাহ এবং আল্লাহ সকল ভাষা বুঝেন এমনকি আল্লাহ মনের সংকল্প ও জানেন।
তো এখন চলুন আমরা ইসলামের দৃষ্টিতে ভাষার গুরুত্ব এবং মর্যাদার বিষয়টি একটু খতিয়ে দেখি…
ইসলামের দৃষ্টিতে মাতৃভাষাঃ
ভাষার আদি স্রষ্টা হলেন আল্লাহ তা’য়ালা। কুরআনের ভাষায়:
عَلَّمَهُ ٱلْبَيَانَ.
তিনিই শিখিয়েছেন মনের কথা প্রকাশ করতে। -সূরা রহমান: ৪
বৈচিত্র্যময় বিশ্বে বিভিন্ন জনপদে নানা ভাষা, বর্ণ ও গোত্রে বিভক্তি আল্লাহর অসীম কুদরত ও মহা তাৎপর্যময় সৃষ্টি। পবিত্র কুরআনে বর্ণিত হয়েছে,
وَمِنْ ءَايَٰتِهِۦ خَلْقُ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ وَٱخْتِلَٰفُ أَلْسِنَتِكُمْ وَأَلْوَٰنِكُمْۚ إِنَّ فِى ذَٰلِكَ لَءَايَٰتٍ لِّلْعَٰلِمِينَ.
তাঁর নিদর্শনের মধ্যে হল, আসমানসমূহ ও যমীনের সৃষ্টি এবং তোমাদের ভাষা ও বর্ণের বিভিন্নতা। জ্ঞানীদের জন্য অবশ্যই এতে আছে বহু নিদর্শন। (সূরা রূমঃ ২২)

পৃথিবীর সকল ভাষাই আল্লাহর কাছে গুরুত্বের অধিকারী। আল্লাহ পবিত্র কুরআনে স্পস্ট ঘোষণা দিয়ে বলেনঃ
وَمَآ أَرْسَلْنَا مِن رَّسُولٍ إِلَّا بِلِسَانِ قَوْمِهِۦ لِيُبَيِّنَ لَهُمْۖ فَيُضِلُّ ٱللَّهُ مَن يَشَآءُ وَيَهْدِى مَن يَشَآءُۚ وَهُوَ ٱلْعَزِيزُ ٱلْحَكِيمُ.
আমি কোন রসূলকেই তার জাতির ভাষা ছাড়া পাঠাইনি যাতে তাদের কাছে স্পষ্টভাবে (আমার নির্দেশগুলো) বর্ণনা করতে পারে। অতঃপর আল্লাহ যাকে ইচ্ছে পথহারা করেছেন, আর যাকে ইচ্ছে সঠিক পথ দেখিয়েছেন, তিনি বড়ই পরাক্রান্ত, বিজ্ঞানময়। (সূরা ইব্রাহীম: ৪)

এ মহাগ্রন্থ কুরআনও যে মহামানবের মাধ্যমে অবতীর্ণ হয় তাঁর মাতৃভাষা আরবীতেই রচিত। এটা যদি মহানবী (সা) এর মাতৃভাষায়, তৎকালীন আরব বাসীর বোধগম্য ভাষায় রচিত না হতো তাহলে এটা প্রেরণের উদ্দেশ্য ব্যর্থ হতো। এ সম্পর্কে স্বয়ং আল্লাহ তা’য়ালা বলেনঃ
قُرْءَانًا عَرَبِيًّا غَيْرَ ذِى عِوَجٍ لَّعَلَّهُمْ يَتَّقُونَ.
আরবী ভাষায় (অবতীর্ণ) কুরআন, এতে নেই কোন বক্রতা (পেচানো কথা), যাতে তারা (অন্যায় অপকর্ম হতে) বেঁচে চলতে পারে। (সূরা যুমারঃ ২৮)
إِنَّآ أَنزَلْنَٰهُ قُرْءَٰنًا عَرَبِيًّا لَّعَلَّكُمْ تَعْقِلُونَ.
আমি তা অবতীর্ণ করেছি, আরবী ভাষার কুরআন, যাতে তোমরা ভালভাবে বুঝতে পারো। (সূরা ইউসূফঃ ২)

পবিত্র কালামুল্লাহ থেকে মাতৃভাষার গুরুত্ব জানা যায়। সুতরাং মাতৃভাষা তুচ্ছ বা নিন্দনীয় নয়। কিন্তু বর্তমানে আমাদের দেশে মাতৃভাষার দোহায় দিয়ে এক প্রকার থাম্বা পূঁজা চলছে। এ থেকে বিরত থাকা সকল মুসলিমের জন্য জরুরি।

ভাষা আন্দোলনের সূচনা করেছিলেন মূলত মুসলিম আলেমসমাজ

🇧🇩🇧🇩#ভাষাআন্দোলনের সূচনা করেছিলেন বাংলা ভাষাভাষী আলেম সমাজ এবং ইসলামী ধ্যান-ধারণা লালনকারী মুসলিম সম্প্রদায়। হিন্দুরা মূলত হিন্দি ভাষার প্রতি এবং তৎকালীন বাংলাদেশে অবস্থানরত ইন্ডিয়ান বিহারীরা হিন্দি ভাষার প্রতি আর খুবই মুষ্টিমেয় কিছু লোক উর্দু ভাষার প্রতি আসক্তি ছিল। 👉👉ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগঠন #তমদ্দুনমজলিস ইসলামী ঘরনার ব্যক্তিদের নিয়ে গঠিত হয়েছিল। ওই সংগঠনের সকলেই ছিলেন প্র্যাকটিসিং মুসলিম। তৎকালীন অর্থাৎ পাকিস্তান আমলে বাংলাদেশ শুধুমাত্র কওমি ঘটনার আলেম সমাজ রাষ্ট্রভাষা বাংলা হোক তার পক্ষে ছিলেন না কেননা তারা মূলত ব্রিটিশ খেদাও আন্দোলনের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত থাকলেও এবং ব্রিটিশ বিরোধী যুদ্ধে সরাসরি অংশগ্রহণ করলেও কওমি দেওবন্দী ঘরনার লোক কোনদিন চাইনি বাংলাদেশ বা পাকিস্তান নামক কোন আলাদা ইসলামী বা মুসলিম অধ্যুষিত রাষ্ট্র হোক। দেওবন্দী ঘরনার আলেমরা যেমন সব সময় অবিভক্ত ভারতের পক্ষে ছিল তদ্রুপ তারা উর্দু ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে মনেপ্রাণে চাইতো। কেননা #দেওবন্দ_মাদ্রাসার শিক্ষাদান পদ্ধতি এবং উত্তর ভারতের হিন্দু মুসলিম সকলের ভাষা উর্দু। কিন্তু বাংলাদেশের অর্থাৎ তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের জ্ঞানি মুসলিম জনসাধারণ এবং দূরদর্শী মুসলিম ব্যক্তিত্ব মূলত যারা ছিল সবাই প্র্যাকটিসিং মুসলিম তারা খুব ভালোভাবেই উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন যে মাতৃভাষা ছাড়া দ্বীন ইসলাম চর্চার অন্য কোন সঠিক পন্থা এবং পদ্ধতি নেই।
কারণ মাতৃভাষায় যে বিষয় খুব সহজে বুঝা যায় অন্যান্য ভাষা যত ভালো ভাবেই আয়ত্ত করা হোক না কেন তা শতভাগ মোটেও বোধগম্য হয় না।
((যেমন আমি ইবনে মোশারফ আলহামদুলিল্লাহ ৬টি ভাষা জানি এবং কথা বলতে, বুঝতেও পড়তে পারি।))
কিন্তু আমার মাতৃভাষা আমি যতটুকু বুঝি আর যত সহজে বুঝি তা কি অন্য ভাষার ব্যাপারে বলতে পারি ⁉️ বা কেউ কি বলতে পারবেন?? অবশ্যই নয় ‼️

মূলত যারা সেই প্রথম থেকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তারা সবাই ছিলেন ইসলামী ঘরনার।
যারা ইসলাম ইসলামের অনুশাসন মেনে চলেন তারা দেশ ও দেশের মানুষকে ভালবাসবে এটা স্বাভাবিক।
ব্রিটিশ খেদাও আন্দোলন থেকে আজকের বাংলাদেশ প্রত্যেকটি সংগ্রামে ইসলামী মন মানসিকতা এবং আলেমদের অংশগ্রহণ চোখে পড়ার মত অথচ বিদ্বেষবশত এবং মিডিয়া তাদের আয়ত্তে থাকার দরুন আলেমদের ও ইসলামী ব্যক্তিত্বদের অবদান ইচ্ছেকৃত ভাবে তুলে ধরা হয়না, ইতিহাস বিকৃতি চলছে বহুকাল থেকে।
👉👉বঙ্গবন্ধু যখন স্বাধীনতার কথা বলেছিলেন, তখন সেখানে সবার শেষে তিনি #ইনশাআল্লাহ শব্দটি উচ্চারণ করেছিলেন যা পবিত্র কোরআন থেকে নিঃসৃত এবং শতভাগ ইসলামিক শব্দ।
“”রক্ত যখন দিয়েছি রক্ত আরো দেবো তবুও এই দেশকে স্বাধীন করে ছাড়বো ইনশাল্লাহ””!
সেই ব্রিটিশ খেদাও আন্দোলন থেকে শুরু করে বাংলাদেশ হওয়া পর্যন্ত সকল আন্দোলন সংগঠন এর নেতৃত্ব দানকারী প্রত্যেক ব্যক্তির খোঁজ নিয়ে দেখুন তারা সকলেই মুসলিম ছিলেন।
👉👉বাংলা ভাষার জন্য জালিম শাসকের হাতে জীবন দেওয়া ব্যক্তিদের সবাই ছিলেন মুসলিম একজনও হিন্দু ছিলেন না।
👉👉 স্বাধীনতা যুদ্ধের সাতজন বীরশ্রেষ্ঠদের মধ্যে কেউ অন্য ধর্মের নয় সবাই মুসলিম।
👉👉 স্বাধীনতা যুদ্ধের বীর উত্তমদের মধ্যে সবাই মুসলিম।
👉👉 দেশ স্বাধীনতার জন্য ভাষার জন্য অর্থাৎ সর্বপ্রকার আজাদির জন্য যারা যুগ যুগ ধরে সংগ্রাম করেছেন নেতৃত্ব দিয়েছেন জেল খেটেছেন সবাই মুসলিম।
👉👉 কি ভারতের দিল্লি গেটের মধ্যে দেশ আযানের জন্য সংগ্রাম করে যে সমস্ত লোকেরা জীবন দিয়েছেন শহীদ হয়েছেন তার আশীর্বাদ লোক হলো মুসলিম এবং সেই দিল্লি গেটে তাদের সকলের নাম এখনো লিখা আছে।
নতুনদের জন্য সঠিক ইতিহাস তুলে ধরতে হবে।

বাংলা ভাষা রক্ষার সংগ্রামে সর্বপ্রথম এগিয়ে এসেছিলেন তুর্কি সেনাপতি উক্তি উদ্দিন মোহাম্মদ বিন বখতিয়ার খলজি

♥️💜💙হাজার বছর আগে বাঙ্গালি জাতির মুখের ভাষা ‘বাংলা’কে কেড়ে নিয়েছিল দক্ষিণ ভারত থেকে আগত সেন রাজারা। সেন রাজাদের হিন্দু পণ্ডিতরা নির্দেশ জারি করেছিল, ‘যারা বাংলা ভাষা বলবে ও শুনবে তারা রৌরব নামক নরকে যাবে।’
ওই সময় তুর্কি বংশোদ্ভূত ইখতিয়ার উদ্দিন মুহম্মদ বখতিয়ার খিলজি নির্যাতিত বাঙালিদের মুক্ত করতে এগিয়ে আসেন এবং ১২০৪ খ্রিষ্টাব্দে মাত্র ১৮ জন ঘোড়সওয়ারি নিয়ে সেন রাজাকে পরাজিত করে বাংলাকে স্বাধীন করেন। বক্তারা বলেন, ইখতিয়ার উদ্দিন মুহম্মদ বখতিয়ার খিলজির বাংলা বিজয়ের মাধ্যম সেই দিন শুধু ভূমির বিজয় হয়নি, সঙ্গে মুক্ত হয়েছিল বাঙ্গালিদের মুখের ভাষা ‘বাংলা’।

ভাষাবিদ #দীনেশচন্দ্রসেন বলেন, ‘মুসলমান সম্রাটরা বর্তমান বঙ্গ-সাহিত্যের জন্মদাতা বললে অত্যুক্তি হয় না। বঙ্গ-সাহিত্য মুসলমানদেরই সৃষ্ট, বঙ্গ-ভাষা বাঙালি মুসলমানের মাতৃভাষা।’ অধ্যাপক ও গবেষক মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, ‘যদি বাংলায় মুসলিম বিজয় ত্বরান্বিত না হতো এবং এ দেশে আরও কয়েক শতকের জন্য পূ্র্বের শাসন অব্যাহত থাকত, তবে বাংলা ভাষা বিলুপ্ত হয়ে যেত এবং অবহেলিত ও বিস্মৃত-প্রায় হয়ে অতীতের গর্ভে নিমজ্জিত হতো।’

মধ্যযুগে মুসলিম শাসকদের রাজকীয় পৃষ্ঠপোষকতায় বাংলা ভাষার যে সাহিত্যচর্চা শুরু হয়, তার মাধ্যমে বাংলা ভাষা একটি পরিপূর্ণ ভাষা হিসেবে আত্মপ্রকাশের যোগ্যতা অর্জন করে।

বাংলা ভাষাকে কলুষিত করার চেষ্টা যুগে যুগে আরও হয়। ১৮শ’ সনে ব্রিটিশরা কলকাতায় ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ প্রতিষ্ঠা করে বাংলা ভাষার আরবি ও ফারসি শব্দ বাদ দিয়ে সংস্কৃত শব্দ প্রবেশের উদ্দেশ্যে সাহিত্যচর্চা শুরু করে। তারা দেখাতে চায়—বাংলা ভাষার সঙ্গে মুসলমানদের কোনো সম্পর্ক নেই।

মুসলিমদের হেয় প্রতিপন্ন করতে প্রচার করা হয়, বাংলা ভাষায় প্রথম কুরআন মাজিদ অনুবাদ নাকি গিরিশ চন্দ্র সেন করেছেন। অথচ ১৮৮৬ খ্রিষ্টাব্দে গিরিশ চন্দ্র সেনের অনুবাদের বহু আগে ১৮০৮ খ্রিষ্টাব্দে বাংলা ভাষায় কুরআন মাজিদের আংশিক অনুবাদ করেন মাওলানা আমিরুদ্দিন বসুনিয়া। এরপর ১৮৩৬ খ্রিষ্টাব্দে মৌলবি নাঈমুদ্দিন পূরো কুরআনের বাংলা অনুবাদ সম্পন্ন করেন। অথচ এ ইতিহাস প্রচার করা হয় না।

সুত্র: খন্দকার কামরুল হুদা, স্বাধীনতা সংগ্রাম ও শেখ মুজিব, ১৯৯৫, পৃ. ৩২, বাংলাপিডিয়া