
👉👉১: আল্লাহ তাআলা কেন জুলুমে বাধা দেন না।
👉👉২. আল্লাহর দেয়া বিজয় কোথায়?
👉👉৩. ইহুদিরা মুসলমানদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ, এজন্য বারবার বিজয় লাভ করছে?
🟩🟪১: যখন কেউ প্রশ্ন করে, আল্লাহ কেন জুলুমে বাধা দিচ্ছেন না?
উত্তর: আমাদের পাল্টা পশ্ন থাকে, আল্লাহ তাআলা ওয়াদা ভঙ্গ করেছেন, এমন কোনো নজির আছে? আল্লাহ তাআলা কি কোথাও এমন কথা বলেছেন, এই দুনিয়া হল দারুল জাযা বা প্রতিদানের জায়গা। তাই এখানে জালেমের বিরুদ্ধে মাজলুমের ইনসাফ পাওয়াটা আবশ্যক।
সুরা বুরুজে আছে, একদল লোক ঈমান এনেছিল। বিরোধীরা গর্ত খুঁড়ে মুমিনদেরকে সেখানে জড়ো করে জীবন্ত পুড়িয়ে মেরেছিল। তা সত্ত্বেও আল্লাহ তাআলা এই মুমিনদের সম্পর্কে বলেছেন,
اِنَّ الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا وَ عَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ لَهُمْ جَنّٰتٌ تَجْرِیْ مِنْ تَحْتِھَا الْاَنْھٰرُ ذٰلِکَ الْفَوْزُ الْکَبِیْرُ
যারা ঈমান এনেছে ও সৎকর্ম করেছে, নিশ্চয়ই তাদের জন্য আছে এমন উদ্যান, যার নিচে নহর প্রবাহিত। এটাই মহা সাফল্য (বুরুজ: ১১)।
তাদাব্বুর: যারা আল্লাহর আনুগত্য ও ঈমানের ওপর মৃত্যুবরণ করবে, তারা বিরাট সাফল্য লাভ করবে। এই মৃত্যুকে আল্লাহ তাআলা আল-ফাউযুল কাবীর’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। শত্রুরা তাদেরকে দ্বীন থেকে বিচ্যুত করতে চেয়েছিল। পারেনি। এই মৃত্যুর মাধ্যমে সেই মুমিনদল মূলত বিজয়ী হয়েছিল। কীভাবে? তারা ঈমানের ওপর অটল থেকে, তাওহিদের ওপর অবিচল থেকে কাফেরদের পরিকল্পনা ভণ্ডুল করে দিয়েছিল। কাফেরদের বিপুল আয়োজন ভেস্তে দিয়েছিল। এটাই জয়। ঈমান নিয়ে মৃত্যুবরণ করতে পারাটাই আসলে বিরাট বিজয়। আলফাওযুল কাবীর।
আমাকে বিশ্বাস রাখতে হবে, এই দুনিয়া হল দারু বালা (পরীক্ষাগার), দারে জাযা (প্রতিদানক্ষেত্র) নয়। তাহলে আর প্রশ্ন উঠবে না। মুমিনের জীবনে আখেরাতই মূল কেন্দ্রবিন্দু হবে। মুমিনের চিন্তা থেকে একমুহূর্তও আখেরাত সরে যাওয়া উচিত নয়।
আল্লাহ তাআলা কখনো ওয়াদা ভঙ্গ করেন না। তিনি কোথায় কী হচ্ছে সব জানেন। তিনি মাজলুমদের সম্পর্কে সম্যক ওয়াকিবহাল,
وَلَا تَحْسَبَنَّ اللهَ غَافِلًا عَمَّا یَعْمَلُ الظّٰلِمُوْنَ ۬ؕ اِنَّمَا یُؤَخِّرُهُمْ لِیَوْمٍ تَشْخَصُ فِیْهِ الْاَبْصَارُ
আপনি কিছুতেই মনে করবেন না জালিমগণ যা-কিছু করছে আল্লাহ সে সম্পর্কে বেখবর। তিনি তো তাদেরকে সেই দিন পর্যন্ত অবকাশ দিচ্ছেন, যে দিন চক্ষুসমূহ থাকবে বিস্ফারিত (ইবরাহিম: ৪২)।
তাদাব্বুর: আমরা জালেমদের শাস্তি নিয়ে কথা বলি। আখেরাতে দৃঢ় বিশ্বাস থাকলে এমন চিন্তা আসত না। সবকিছু দুনিয়াতে শেষ হয়ে যাবে না। জুলুমের ফয়সালার জন্য আখেরাত আছে তো। আল্লাহ তাআলা তো বলেই দিয়েছেন,
وَ اِنَّمَا تُوَفَّوْنَ اُجُوْرَكُمْ یَوْمَ الْقِیٰمَۃِ
এবং তোমাদের সকলকে তোমাদের কর্মের) পুরোপুরি প্রতিদান কেবল কিয়ামতের দিনই দেওয়া হবে (আলে ইমরান: ১৮৫)।
তাদাব্বুর: আল্লাহ তাআলা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, কেয়ামত দিবসে সবাইকে পরিপূর্ণ প্রতিদান দিবেন। আল্লাহ তাআলা দুনিয়াতে পরীক্ষা করার ওয়াদা করেছেন নাকি না করার? পরীক্ষা করার ওয়াদা করেছেন,
لَتُبْلَوُنَّ فِیْۤ اَمْوَالِكُمْ وَاَنْفُسِكُمْ ۟ وَلَتَسْمَعُنَّ مِنَ الَّذِیْنَ اُوْتُوا الْکِتٰبَ مِنْ قَبْلِكُمْ وَمِنَ الَّذِیْنَ اَشْرَكُوْۤا اَذًی کَثِیْرًا ؕ وَ اِنْ تَصْبِرُوْا وَتَتَّقُوْا فَاِنَّ ذٰلِکَ مِنْ عَزْمِ الْاُمُوْرِ
(হে মুসলিমগণ!) তোমাদেরকে তোমাদের অর্থ-সম্পদ ও জীবনের ব্যাপারে (আরও) পরীক্ষা করা হবে এবং তোমরা ‘আহলে কিতাব’ ও ‘মুশরিক’ উভয় সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে অনেক পীড়াদায়ক কথা শুনবে। তোমরা যদি সবর ও তাকওয়া অবলম্বন কর, তবে নিশ্চয়ই এটা অতি বড় হিম্মতের কাজ (যা তোমাদেরকে অবলম্বন করতেই হবে) (আলে ইমরান: ১৮৬)।
তাদাব্বুর: এই আয়াতে আরো স্পষ্ট হয়ে গেছে, দুনিয়া পরীক্ষার স্থান। প্রতিদানের স্থান নয়। আল্লাহ তাআলা আরো বলছেন,
ذٰلِکَ ؕۛ وَلَوْ یَشَآءُ اللهُ لَانْتَصَرَ مِنْهُمْ وَ لٰکِنْ لِّیَبْلُوَا۠ بَعْضَكُمْ بِبَعْضٍ
আল্লাহ চাইলে নিজেই তাদেরকে শাস্তি দিতেন, কিন্তু (তোমাদেরকে এ নির্দেশ দিচ্ছেন এজন্য যে,) তিনি তোমাদের একজনকে অপরের দ্বারা পরীক্ষা করতে চান (মুহাম্মাদ: ৪)।
তাদাব্বুর: গা/যা/বাসির ওপর বোমার পাহাড় নেমে এলেও তারা অবিচল আছে। এটাই আল্লাহ তাআলার রহমত। আল্লাহ তাআলা বিশ্বশক্তির ভয়াবহ জুলুমে বাধা দিচ্ছেন না, যাতে পরীক্ষা করতে পারেন। কে জালেম, কে মাজলুম। কে জালেমের পক্ষে আছে, সে মাজলুমের পক্ষে আছে। কে জালেমের সাহায্যে এগিয়ে যাচ্ছে, কে মাজলুমের সাহায্যে এগিয়ে যাচ্ছে। কে মাজলুমের অসহায় অবস্থা দেখেও কে নিরব আছে আর কে সরব হয়ে উঠেছে। কে সচেষ্ট হয়েছে আর কে সামর্থ থাকা সত্ত্বেও নিশ্চেষ্ট হয়ে মুখে কুলুপ এঁটে বসে আছে।
তাদাব্বুর: পরীক্ষা করতে করতে যে গাযাবাসীর কেয়ামত হয়ে যাচ্ছে? উত্তর হবে, যারা মারা যাচ্ছেন, তারা শহিদি মর্যাদা লাভ করছেন। তারা চূড়ান্ত বিজয়ী হয়েই ইন্তেকাল করছেন।
২. দ্বিতীয় প্রশ্ন: আল্লাহ তাআলা গা/যা/বাসীকে সাহায্য করছেন না কেন?
কার বিরুদ্ধে সাহায্য করবেন? জা/য়োনিস্টদের বিরুদ্ধে? জা/য়োনিস্টরা হল বিশ্বচালানো সাম্রাজ্যবাদী দুষ্টমোড়লদের প্রতিনিধি। ইসলামবিরোধী শক্তির প্রতিনিধি। ইসলামের বিরুদ্ধে পুরো বিশ্বশক্তি একাট্টা। পুরো বিশ্ব এক হয়ে ইসলাম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে লড়ছে। কুরআনে আছে,
وَقَاتِلُوا الْمُشْرِکِیْنَ کَآفَّۃً کَمَا یُقَاتِلُوْنَكُمْ کَآفَّۃً
এবং তোমরা সকলে মিলে মুশরিকদের সাথে লড়াই কর, যেমন তারা তোমাদের সাথে লড়াই করে (তাওবা: ৩৬)।
তাদাব্বুর: কাফের-মুশরিকরা যেমন সম্মিলিতভাবে মুসলিমদের বিরুদ্ধে লড়ছে, মুসলমানদেরও উচিত তেমন সম্মিলিতভাবে তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করা। তাহলেই আল্লাহর প্রতিশ্রুত সামষ্টিক বিজয় আসবে,
یٰۤاَیُّهَا الَّذِیْنَ اٰمَنُوْۤا اِنْ تَنْصُرُوا اللهَ یَنْصُرْكُمْ وَ یُثَبِّتْ اَقْدَامَكُمْ
হে মুমিনগণ! তোমরা যদি আল্লাহ (তাআলার দ্বীন)-এর সাহায্য কর, তবে তিনি তোমাদের সাহায্য করবেন এবং তোমাদের কদম অবিচলিত রাখবেন (মুহাম্মাদ: ৭)।
তাদাব্বুর: আমাদের একথা মনে রাখা উচিত, বিজয় দানের মালিক একমাত্র আল্লাহ তাআলা। তিনি যখন ইচ্ছা বিজয় দান করবেন,
وَمَا النَّصْرُ اِلَّا مِنْ عِنْدِ اللهِ
অন্য কারও পক্ষ থেকে নয়, কেবল আল্লাহর পক্ষ থেকেই সাহায্য আসে (আনফাল: ১০)।
তাদাব্বুর: বিজয় যেহেতু আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকেই আসে, আমার এত দুশ্চিন্তার কী আছে? আমি বিজয় নিয়ে ভাবিত হবো না। আমার ভাবার বিষয় হল, আমি বিজয় অর্জনের জন্য যথাযথ মেহনত করছি কি না। সময় হলে বিজয় আসবেই। কেউ ঠেকাতে পারবে না,
اِنْ یَّنْصُرْكُمُ اللهُ فَلَا غَالِبَ لَكُمْ ۚ وَ اِنْ یَّخْذُلْكُمْ فَمَنْ ذَا الَّذِیْ یَنْصُرُكُمْ مِّنْۢ بَعْدِهٖ
আল্লাহ তোমাদেরকে সাহায্য করলে কেউ তোমাদেরকে পরাস্ত করতে পারবে না। আর তিনি যদি তোমাকে একা ছেড়ে দেন, তবে কে আছে, যে তোমাকে সাহায্য করবে (আলে ইমরান: ১৬০)?
তাদাব্বুর: গা/যা/বাসি জা/য়োনিস্টদের বিরুদ্ধে লড়ছে না, লড়ছে বিশ্বশক্তির বিরুদ্ধে। ই/স/রায়েলের শাসনক্ষমতায় থাকা ব্যক্তিরা ইসলামবিরোধী শক্তিরই প্রতিনিধি। এটা ঈমান ও কুফর-নিফাকের লড়াই। প্রশ্ন উঠতে পারে, এই ঈমান ও কুফরের লড়াইয়ে মুসলিম বিশ্ব হাত গুটিয়ে বসে থাকার বোঝা গা/যা/বাসীকে কেন ওঠাতে হচ্ছে? কুরআনে আছে,
وَلَا تَزِرُوَازِرَۃٌ وِّزْرَ اُخْرٰی
একজন্য অন্যের বোঝা বহন করে না (আনআম: ১৬৪)।
তাদাব্বুর: এই হামলায় যারা মারা যাচ্ছেন, তারা শহিদি দরজা লাভ করছেন। আল্লাহ তাআলা তাদেরকে ইসতিফা-বাছাই করছেন। এটা মৃত্যু নয়; পুরস্কার। আল্লাহ তাআলা বলেছেন,
وَ الَّذِیْنَ قُتِلُوْا فِیْ سَبِیْلِ اللهِ فَلَنْ یُّضِلَّ اَعْمَالَهُمْ ﴿۴﴾ سَیَهْدِیْهِمْ وَ یُصْلِحُ بَالَهُمْ ۚ﴿۵﴾ وَ یُدْخِلُهُمُ الْجَنَّۃَ عَرَّفَهَا لَهُمْ
আর যারা আল্লাহর পথে নিহত হয়েছে, আল্লাহ কখনই তাদের কর্ম নিষ্ফল করবেন না। তিনি তাদেরকে গন্তব্যে পৌঁছিয়ে দেবেন এবং তাদের অবস্থা শুধরে দেবেন। তাদেরকে দাখিল করবেন জান্নাতে, যা তাদেরকে ভালোভাবে চিনিয়ে দিয়েছিলেন (মুহাম্মাদ: ৪-৬)।
তাদাব্বুর: এরপর আর কথা থাকে না। তাছাড়া মুসলমানদের এই অবস্থা চিরদিন এমন থাকবে না,
وَتِلْکَ الْاَیَّامُ نُدَاوِلُهَا بَیْنَ النَّاسِ ۚ وَلِیَعْلَمَ اللهُ الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا وَیَتَّخِذَ مِنْكُمْ شُهَدَآءَ ؕ وَاللهُ لَا یُحِبُّ الظّٰلِمِیْنَ
এ তো দিন -পরিক্রমা, যা আমি মানুষের মধ্যে পালাক্রমে বদলাতে থাকি। এর উদ্দেশ্য ছিল মুমিনদেরকে পরীক্ষা করা এবং তোমাদের মধ্যে কিছু লোককে শহীদ করা। আর আল্লাহ জালিমদেরকে ভালোবাসেন না (আলে ইমরান: ১৪০)।
তাদাব্বুর: আল্লাহ তাআলা তাদেরকে (وَیَتَّخِذَ مِنْكُمْ شُهَدَآءَ ؕ) শহিদ হিসেবে গ্রহণ করছেন। আল্লাহর রাস্তায় শহীদ হওয়া মুমিন পুরোপুরি প্রতিদান লাভ করবে। আল্লাহ তাআলা তাদেরকে সম্মানিত করবেন। শ্রেষ্ঠ অনুগ্রহে ভুষিত করবেন। বাকি উম্মাহ শর্ত পূরণ করার আগ পর্যন্ত চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করতে সক্ষম হবে না। বিজয় লাভের জন্য কিছু শর্ত আছে। পুরো উম্মাহ এখনো বিজয়লাভের কোনো শর্ত পূরণ করেনি।
وَ اِنْ تَصْبِرُوْا وَتَتَّقُوْا لَا یَضُرُّكُمْ کَیْدُهُمْ شَیْـًٔا
তোমরা সবর ও তাকওয়া অবলম্বন করলে তাদের চক্রান্ত তোমাদের কোন ক্ষতি সাধন করতে পারবে না (আলে ইমরান: ১২০)।
তাদাব্বুর: আমাদের এই অজুহাত দেয়ার কোনো সুযোগ নেই, আমরা গাযাবাসীকে সাহায্য করতে চাই, শাসকগোষ্ঠী ও বিশ্বশক্তির বাধার কারণে পারছি না। আমরা মুসলমান হিসেবে নিজেদের প্রতি যা করছি, সেটা ভেতরে ও বাইরে থাকা শত্রুদের কর্মকা-ের চেয়েও ভয়ংকর। মূল সমস্যা হল আয়াতে বর্ণিত ‘সবর ও তাকওয়া’-তে।
তাদাব্বুর: বিজয় আসার যেসব আসবাব গ্রহণ করা প্রয়োজন, আমরা সেসব গ্রহণ করছি না। আমরা বিজয়ের উপযুক্ত হইনি এখনো। বিজয় অর্জনের জন্য কিছু শর্ত আছে। উপরে বর্ণিত সুরা তাওবার ৩৬-তম আয়াতখানা আবার লক্ষ্য করি। কাফেররা যেভাবে একাট্টা হয়ে লড়ছে, চূড়ান্ত বিজয় অর্জনের জন্য আমাদেরও একাট্টা হয়ে লড়তে হবে। প্রশ্ন জাগতে পারে, আল্লাহ তাআলা তো চাইলেই পারেন, এখুনি এই মুহূর্তে আমাদের সাহায্য করতে। করছেন না কেন? উত্তরটা সুরা মুহাম্মাদের চতুর্থ আয়াতে (উপরে) আছে।
তাদাব্বুর: তাছাড়া এখুনি বিজয় হাসিল করাটা আমার জন্য কল্যাণকর হবে কি না, সেটাও বিবেচনায় রাখতে হবে। বিজয় আমাদের জীবদ্দশায় দেখে যাওয়া জরুরী নয়। জরুরি হল দ্বীনের জন্য কাজ করে যাওয়া। মেহনত অব্যাহত রাখা। আল্লাহ তাআলা পেয়ারা নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সান্ত¡না দিয়ে বলেছিলেন,
فَاصْبِرْ اِنَّ وَعْدَ اللهِ حَقٌّ ۚ فَاِمَّا نُرِیَنَّکَ بَعْضَ الَّذِیْ نَعِدُهُمْ اَوْ نَتَوَفَّیَنَّکَ فَاِلَیْنَا یُرْجَعُوْنَ
সুতরাং (হে রাসূল!) আপনি সবর অবলম্বন করুন। নিশ্চিত থাকুন যে, আল্লাহর ওয়াদা সত্য। আমি তাদেরকে (অর্থাৎ কাফেরদেরকে) যার (অর্থাৎ যে শাস্তির) ভয় দেখাচ্ছি, আমি তার কিছুটা আপনাকে (আপনার জীবনে) দেখিয়ে দেই অথবা আপনাকে দুনিয়া থেকে তুলে নেই, সর্বাবস্থায় তাদেরকে আমার কাছেই ফিরিয়ে আনা হবে (গাফির: ৭৭)।
তাদাব্বুর: আল্লাহ তাআলা মুসলমানদের বিজয়ী করবেনই। এটাই চূড়ান্ত কথা। বিজয় হয়তো আমি দেখে যেতে পারব অথবা পারবো না। কাফেরদের বিচার একদিন হবেই হবে। নবীজিকে আরো বলা হয়েছে,
وَ اِنْ مَّا نُرِیَنَّکَ بَعْضَ الَّذِیْ نَعِدُهُمْ اَوْ نَتَوَفَّیَنَّکَ فَاِنَّمَا عَلَیْکَ الْبَلٰغُ وَعَلَیْنَا الْحِسَابُ
আমি তাদেরকে (অর্থাৎ কাফেরদেরকে) যে বিষয়ের শাসানি দেই, তার অংশবিশেষ আমি আপনাকে (আপনার জীবদ্দশায়ই) দেখিয়ে দেই অথবা (তার আগেই) আপনাকে দুনিয়া থেকে তুলে নেই, সর্বাবস্থায় আপনার দায়িত্ব তো কেবল বার্তা পৌঁছানো। আর হিসাব গ্রহণের দায়িত্ব আমার (রাদ: ৪০)।
তাদাব্বুর: আল্লাহ তাআলা কুরআনের আরো কয়েক জায়গায় নবীজিকে এভাবে আশ্বাস দিয়েছেন,
فَاِمَّا نَذْهَبَنَّ بِکَ فَاِنَّا مِنْهُمْ مُّنْتَقِمُوْنَ ﴿ۙ۴۱﴾ اَوْ نُرِیَنَّکَ الَّذِیْ وَعَدْنٰهُمْ فَاِنَّا عَلَیْهِمْ مُّقْتَدِرُوْنَ ﴿۴۲﴾ فَاسْتَمْسِكْ بِالَّذِیْۤ اُوْحِیَ اِلَیْکَ
এখন তো এটাই হবে যে, আমি আপনাকে দুনিয়া থেকে তুলে নিলেও তাদেরকে শাস্তিদান করবÑ কিংবা যদি আপনাকেও তা (অর্থাৎ সেই শাস্তি) দেখিয়ে দেই, যার ওয়াদা আমি তাদের সাথে করেছি, তবে তাদের উপর সে ক্ষমতাও আমার আছে। সুতরাং আপনার প্রতি যে ওহী নাযিল করা হয়েছে, তা দৃঢ়ভাবে ধরে রাখুন (যুখরুফ: ৪১-৪৩)।
তাদাব্বুর: এসব আয়াত থেকে শেখার বিষয় হল, আমাদেরকে সবর করতে হবে। সবর শিখতে হবে। সবর অর্জন করতে হলে আমাদের কর্তব্য হল,
ক. যে কোনো মূল্যে, যে কোনো পরিস্থিতিতে হকের ওপর অবিচল থাকা। সাময়িক বিপদ, ক্ষণিকের মুসিবত যেন আমাকে টলিয়ে দিতে না পারে। সবরের সাথে আপন কাজে লেগে থাকব। নবীজি বলে গেছেন,
أنَّ النَّصْرَ مَعَ الصَّبْرِ وَأَنَّ الفَرَجَ مَعَ الكَرْبِ وَأَنَّ مَعَ العُسْرِ يُسْراً
ধৈর্য্য ধারণের ফলে (আল্লাহর) সাহায্য লাভ করা যায়। কষ্টের পর স্বাচ্ছন্দ আসে। কঠিন অবস্থার পর স্বচ্ছলতা আসে (ইবনে আব্বাস রা। ইমাম নববীর ৪০ হাদীস)।
খ. সর্বাবস্থায় মানুষের কাছে হকের দাওয়াত পৌঁছাতে থাকা। সুস্পষ্ট ভাষায় হকের কথা বলে যাওয়া।
গ. বিজয় অর্জনে বিলম্ব হওয়াটা আমাদেরকে যেন হাহুতাশে লিপ্ত না করে। আমি যেন এই সঙ্গীন সময়ে নিজেকে বাদ দিয়ে অন্যের দোষ খোঁজায় মশগুল হয়ে না পড়ি।
ঘ. যে কোনো মূল্যে হককে আঁকড়ে ধরে থাকা। আমরা যে বিজয় কামনা করছি, সেটা তো নিজের জন্য নয়। আমরা বিজয় কামনা করছি হকের। যে হক দ্বারা আমরা বাতিলকে ধ্বংস করার কাজে মশগুল আছি।
৩. তৃতীয় প্রশ্ন: ইহুদিরা মুসলমানদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ, এজন্য বারবার বিজয় লাভ করছে?
উত্তর: আল্লাহ তাআলা ই/হু/দিদের নানা সুযোগসুবিধা দিয়ে পরীক্ষা করছেন। এতসব সুবিধা পেয়ে ই/হু/দিদের ভালো হয়ে যাওয়া উচিত ছিল। ই/হু/দিরা উল্টো আরো দুষ্টতর হচ্ছে। ই/হু/দিরা বাহ্যিক দৃষ্টিতে যে বিজয় অর্জন করছে, সেটা মূলত বিজয় নয়; সাময়িক প্রাপ্তি বলা যেতে পারে। আরো নির্দিষ্ট করে বলতে গেলে, এই জয় ই/হু/দিদের নয়, সাম্রাজ্যবাদী ইউরোপিয়ান খ্রিস্টশক্তির। তাদের সাহায্য-সহযোগিতাতেই ই/হু/দিরা সাময়িক জয় পেয়ে থাকে। ই/হু/দিরা তাদের মিত্রশক্তি ও অস্ত্রশক্তির জোরে সাময়িক দাপট হাসিল করেছে। এটাকে জয়ী হওয়া বলে না। ই/হু/দিরা চব্বিশ ঘণ্টা মারাত্মক ভীতসন্ত্রস্ত থাকে। জয়ী মানুষের মতো তাদের মনে কোনো তৃপ্তি নেই। শান্তি নেই, সুখ নেই। এটাকে কি জয় বলা যায়?
তাদাব্বুর: ই/হু/দিরা সবসময়ই অস্তিত্বের হুমকিতে থাকে। তারা জানে, আরব ও মুসলমানদের ঘুম ভাঙলে তাদের ঘুম হারাম হয়ে যাবে। ভবিষ্যতের অজানা আশংকাতেই ই/হু/দিরা সারাক্ষণ নিজেদেরকে সুরক্ষিত রাখার কাজে ব্যতিব্যস্ত থাকে। এই মানসিক অস্থিরতাই তাদের পরাজয়।
রাব্বে কারীম মুমিনদের চূড়ান্ত বিজয় দান করুন। আমীন।









