এরা হলো হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে উচুস্তরের ধর্মগুরু!!
কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম এস সি পাশ করা একজন নওমুসলিমকে জিজ্ঞাস করা হয়েছিল আপনি কি দেখে মুসলিম হলেন।
তিনি জবাবে বললেন, হিন্দুদের যারা পূজনীয় ব্যক্তি তাদের আদর্শ যদি পৃথিবীর সর্বত্র বাস্তবায়ন করা হত তাহলে আজ সমাজের অবস্থা কি দাড়াত তা দেখে আমি মুসলমান হয়েছি।
প্রতি হিন্দু যদি আজ শ্রীকৃষ্ণের চরিত্র ধারণ করে যুবতী মেয়েদের কাপড় নিয়ে গাছে উঠে বসে থাকে তাহলে সমাজের অবস্থা কি দাড়াত তা দেখেই আমি মুসলমান হয়েছি।
হিন্দু ধর্মের দেবতাদের কথাগুলা কাগজেকলমে লিখাও লজ্জাকর। যেমন এই বিংশশতাব্দীতেও শীবের লিঙ্গের পূজার ন্যায়ও দৃষ্টান্ত পাওয়া যায়।মা বাবা ভাই বোন আত্মীয় স্বজন একসাথে লিঙ্গের উপর ভক্তি করে।এটা খুবি লজ্জা লাগে।এগুলা কি কোন ধর্মীয় কাজ হতে পারে? আমি এসব দেখতে পারব না বলেই মুসলমান হয়েছি।
আপনি ধ্রুপদীর কথা চিন্তা করুন।একজন মহিলাকে পাচ ভাই স্ত্রীর দাবী করে।আবার সেটাকে হিন্দু ধর্মের লোকেরা তাদের জন্য খুব গৌরবের কাজ মনে করে।এটা নিয়ে তারা খুব গর্ববোধ করে।এসব ভেবে আমি আর হিন্দু ধর্মে থাকতে পারি নাই।
আমি চিন্তা করেছি যে কোথায় হিন্দুদের ভগবান দেবতাদের লীলা আর কোথায় মুসলমানদের নবী রাসুল গণের চরিত্র।আমি এসব চিন্তা ভাবনা করে আর হিন্দু থাকতে পারিনি।
ইসলামের দৃষ্টিতে সত্যিকারের পূণ্যবান ব্যক্তি হচ্ছেন যারা দ্বীনের কথা বলে,আল্লাহর কালাম যারা প্রচার করে। দ্বীন সম্পর্কে তাদের জ্ঞান যথেষ্ট। তাদের চলাফেরা, পোষাক, পাক পবিত্রতা থাকা তাদের ধর্মীয় আদেশ এবং তারা কেউ সংসার ত্যাগী নন। ইসলামে কাউকে সংসার ত্যাগী হতে বলে না।আমি সম্পুর্ণ কোরআন স্টাডি করেছি,এমন কোনো তথ্য আজও পাইনি।
অন্যদিকে আপনি হিন্দু সাধুদের অবস্থা দেখুন।হিন্দু ধর্মের বেশিরভাগ সাধুদের ধর্মীয়জ্ঞান নেই।অশিক্ষিত, গেরুয়া বসন পরিধানকারী, চিমটাধারী সংসারত্যাগী, ল্যাংটা, শ্মশানে বসবাসকারী। যাদের সঙ্গে কিছু বিধবা নারী কদুর বস হাতে নিয়ে শ্মশানে একত্রে বসবাস করে। কলকাতার কালী মন্দিরের চেহারা তো আরো ভয়ঙ্কর। সেখানের সাধুরা মেয়েদের ন্যায় মাথায় লম্বা চুল রাখে আর সমস্ত শরীরে ছাই মেখে উলঙ্গ হয়ে পড়ে থাকে।সকল হিন্দুরা এসে তাদের কাছ থেকে আর্শীবাদ নিতে আসে।
এসব আমার কাছে পছন্দ হয়নি,বরং এটা সম্পুর্ণ একটা কুসংস্কার, ভ্রান্ত,পথভ্রষ্ট হওয়ার একটা সহজ মাধ্যম। এগুলা দেখে ইসলাম গ্রহণ করেছি। আলহামদুলিল্লাহ তথ্যসূত্রঃ- বই , সত্যের ডাক পৃষ্ঠা নং-৬৪
আল্লাহকে নিরাকার বা আকার কোনটাই বলা উচিৎ নয়। আসুন জেনে নিই কোরআন ও হাদিসের আলোকে।
“যে তার প্রতিপালকের দেখার কামনা করে, সে যেন উত্তম কাজ করে।”( সূরা আল কাহফ ১৮, আয়াত ১১০)।
“হে মানুুষ! তুমি তোমার প্রতিপালকের নিকট পৌছানো পর্যন্ত সাধনা করতে থাক, অতঃপর তুমি তার দেখা লাভ করবে “। (সূরা আল ইনশিকাক ৮৪ : আয়াত নং৬)।
“তিনি (আল্লাহ) আদি, তিনি অন্ত, তিনি প্রকাশ্য, তিনি গোপন, তিনি সব কিছুই অবগত আছেন।” ( সূরা – আল হাদীদ, আয়াত নং ৩) ।
” আল্লাহর আধিপত্য পূর্বে ও পশ্চিমে, অতঃপর তোমরা যেদিকে মুখ ফিরাও সেদিকেই আল্লাহর চেহারা বিদ্যমান “। ( সূরা আল বাকারা, আয়াত নং ১১৫ ) ।
” স্মরণ কর সে দিনের কথা, যেদিন পায়ের গোছা উন্মোচিত হবে এবং তাদেরকে সেজদা করার জন্য আহবান করা হবে, কিন্তু তারা তা করতে সক্ষম হবে না। হীনতাগ্রস্হ হয়ে তারা তাদের দৃষ্টি অবনত করবে, অথচ যখন তারা নিরাপদে ছিল, তখন তো তাদেরকে সিজদা করার জন্য আহবান করা হয়েছিল “। ( সূরা আল কালাম, আয়াত নং ৪২ ও ৪৩ )।
” তারপর যখন সে আগুনের কাছে আসলো তখন তাকে ডেকে বলা হলো – হে মুসা ! নিশ্চয় আমিই তোমার প্রতিপালক। অতএব তুমি তোমার জুতা খুলো, কারণ তুমি এখন পবিত্র তোয়া উপত্যকায় রয়েছে “। ( সূরা তোয়াহা, আয়াত নং ১১ ও ১২ )।
” যখন মুসা আগুনের কাছে পৌছলো তখন উপত্যকার ডান পাশের পবিত্র স্হানের একটি বৃক্ষ থেকে তাকে ডেকে বলা হলো – হে মুসা ! আমি আল্লাহ, বিশ্ব জগতের প্রতিপালক “। ( সূরা আল কাসাস, আয়াত নং ৩০ )।
” প্রত্যেকটি বিষয় নির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতকাল পর্যন্ত আবর্তিত হয়, আল্লাহ প্রত্যেকটি বিষয়কে পরিচালিত করেন এবং নিদর্শনাবলী বর্ণনা করেন, যাতে তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের সাথে সাক্ষাৎ সম্বন্ধে নিশ্চিত বিশ্বাস করতে পার “। ( সূরা আর রাদ, আয়াত নং ২ )।
” যে আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ লাভের আশা রাখে তার জন্য সেই নির্দিষ্ট সময় অবশ্যই আসবে। তিনি সব শোনেন ও জানেন “। ( সূরা আল আনকাবুত, আয়াত নং ৫ )।
” আল্লাহর সাক্ষাৎ যারা অস্বীকার করেছে তার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং তারা সৎপথ প্রাপ্ত ছিল না “। ( সূরা ইউনুস, আয়াত নং ৪৫)।
” যারা আমার দর্শন লাভ করার আকাংখা করে না এবং পার্থিব সম্পদ পেয়েই খুশী আছে এবং যারা আমার নিদর্শন হতে উদাসীন রয়েছে তাদের বাসস্থান অগ্নিপূর্ণ জাহান্নাম “। ( সূরা ইউনুস, আয়াত নং ৭ ও ৮ )।
” সুতরাং, যারা আমার দর্শন লাভের আকাংখা করে না তাদেরকে আমি বিদ্রোহাচরণের মধ্যে অন্ধভাবে বিচরণ করা অবস্হায় পরিত্যাগ করবো “। ( সূরা ইউনুস, আয়াত নং ১১ )।
” তিনি ঐ জ্যোতি দ্বিতীয়বার দেখেছেন। সিদরাতুল মুনতাহার নিকটে “। ( সূরা আন নাজম, আয়াত নং ১৩ ও ১৪ )।
” আমি (আল্লাহ) তোমাদের দিলে ( ক্বালবের ৭ম স্তর নফসীর মাকামে) অবস্থান করি, তোমরা কি দেখ না “? ( সূরা আয যারিয়াত, আয়াত নং ২১ )।
” নিশ্চয় আল্লাহ মানুষের ক্বালব এবং তার সীমারেখার মধ্যে ঘুরাফিরা করেন “। ( সূরা আল আনফাল, আয়াত নং ২৪ )।
” যখন আমি তাকে (আদমকে) সুঠাম করব এবং তার মধ্যে আমার রুহ ফুঁকে দেব, তখন তোমরা তার প্রতি সেজদাবনত হবে “। ( সূরা সোয়াদ, আয়াত নং ৭২ )।
” আমি (আল্লাহ) আমার রুহ থেকে আদমের ভিতরে রুহ ফুঁকে দিলাম “। ( সূরা আল হিজর, আয়াত নং ২৯ )।
” ভূপৃষ্ঠে যা কিছু আছে সমস্তই নশ্বর, কেবল অবিনশ্বর তোমার প্রতিপালকের চেহারা, যিনি মহিমাময়, মহানুভব “। ( সূরা আর রাহমান, আয়াত নং ২৬ ও ২৭ )।
” আমি তার (মানুষের ) শাহরগের চেয়েও নিকটে “। ( সূরা ক্বাফ, আয়াত নং ১৬ )। হযরত দয়াল রাসূল পাক (সঃ) বলেন ,
” আমাদের প্রভু তার পায়ের গোছা উন্মোচন করে দেবেন, অতঃপর প্রত্যেক বিশ্বাসী পুরুষ ও নারী তাকে সেজদা করবে”। বোখারী শরিফ, ২য় খন্ড, পাতা ৭৩১।
” আমি গুপ্ত ধনাগার ছিলাম, নিজে পরিচিত হওয়ার বাসনা করলাম, তাই পরিচিত হওয়ার জন্য বিশ্বজাহান সৃষ্টি করলাম “। ( সিররুল আসরার, পৃষ্ঠা নং ১০ )।
” নিশ্চয় আল্লাহ আদমকে তার নিজ সুরতে সৃজন করেছেন “। ( মেশকাত শরিফ, পৃষ্ঠা নং ৩৯৭ )।
” আমি আমার প্রতিপালককে যুবকের আকৃতিতে দেখেছি “। ( শরহে ফিকহে আকবার, পৃষ্ঠা নং ২১৬ )।
” শীঘ্রই তোমরা তোমাদের প্রভুকে পূর্ণিমার চাঁদের মত উজ্জ্বলতর দেখতে পাবে “। ( বোখারী শরীফ ২য় খন্ড, পৃষ্ঠা নং ১১০৫ এবং তিরমিযী শরীফ ২য় খন্ড, পৃষ্ঠা ৮২ )।
” আমার প্রভুকে আমি অতি উত্তম সুরতে দেখেছি “। ( তাফসীরে রুহুল বয়ান ৯ম খন্ড, পৃষ্ঠা নং ২২২ এবং তাফসীরে দুররে মানছুর ২৭তম খন্ড, পৃষ্ঠা নং ৬৪৭ )।
” আমি আমার প্রভুকে দাড়ি- গোফ বিহীন যুবকের আকৃতি বিশিষ্ট দেখেছি “। ( সিররুল আসরার, পৃষ্ঠা নং ৬৮ )।
” মেরাজ রজনীতে আমি আমার প্রতিপালককে কোকড়ানো চুল বিশিষ্ট যুবকের ন্যায় দেখেছি “। ( সিররুল আসরার, পৃষ্ঠা নং ৪৫ ) । হযরত মাওলা আলী বলেন,
” আমি এমন প্রভুর ইবাদত করি না যাকে আমি দেখি না “। ( তিরমিযী শরিফ ও সিররুল, পৃষ্ঠা নং ৬৫ )।
” যে নিজের নফসকে চিনতে পেরেছে, সে তার প্রভুকে চিনতে পেরেছে “। ( সিররুল আসরার, পৃষ্ঠা নং ১৮ )।
হানাফী মাযহাবের ইমাম হযরত আবু হানিফা (রহঃ) বলেছেন,
” আমি মহান প্রতিপালককে (আল্লাহকে) স্বপ্নে ৯৯ বার দর্শন করেছি “। ( শরহে ফেকহে আকবর, পৃষ্ঠা নং ২১৬ )।
হাম্বল মাযহাবের ইমাম হযরত ইবনে হাম্বল (রহঃ) বলেন,
” আমি মহান প্রতিপালক ( আল্লাহ) কে স্বপ্নে দেখেছি। এসব পর্যালোচনা করলে আল্লাহর আকার আছে মনে হলেও আসলে এগুলো রহস্যময় আয়াত।এগুলো দিয়ে আল্লাহর আকার আছে তা বলা উচিত হবে না।কারন আল্লাহ বলেছেন,তিনি কারও মত নন,কেউ তার সমতুল্য নেই,কিছুই নেই।
[২:২৪৫] আল বাকারা :- ” কে আছে, যে আল্লাহকে উত্তম ঋণ দেবে, ফলে তিনি তার জন্য বহু গুণে বাড়িয়ে দেবেন? আর আল্লাহ সংকীর্ণ করেন ও প্রসারিত করেন এবং তাঁরই নিকট তোমাদেরকে ফিরানো হবে। “
[২:২৬২] আল বাকারা :- ” যারা আল্লাহর রাস্তায় তাদের সম্পদ ব্যয় করে, অতঃপর তারা যা ব্যয় করেছে, তার পেছনে খোঁটা দেয় না এবং কোন কষ্টও দেয় না, তাদের জন্য তাদের রবের নিকট তাদের প্রতিদান রয়েছে এবং তাদের কোন ভয় নেই, আর তারা চিন্তিত হবে না। “
[২:২৬৩] আল বাকারা :- ” দান করে খোঁটা দিয়ে কষ্ট দেয়ার চেয়ে শুধু মিষ্টি কথা বলা বা সমবেদনা প্রকাশ করা অনেক ভালো। নিশ্চয়ই আল্লাহ অভাবমুক্ত, পরমসহনশীল। “
[২:২৬৪] আল বাকারা :- ” হে বিশ্বাসীগণ! দানের কথা প্রচার করে ও গ্রহীতাকে কষ্ট দিয়ে বা খোঁটা দিয়ে তোমাদের দানকে সেই ব্যক্তির ন্যায় নিষ্ফল কোরো না, যে আত্মপ্রচারের জন্যে দান করে এবং আল্লাহ ও আখেরাতে অবিশ্বাসী। এ দানের উপমা হচ্ছে : মাটির আস্তর জমা একটি মসৃণ পাথরের চাতাল। প্রবল বৃষ্টি হলো। চাতালের ওপর থেকে সব মাটি ধুয়ে চলে গেল। তাদের উপার্জন তাদের কোনো উপকারে এলো না। সত্য অস্বীকারকারীদের আল্লাহ সৎপথ দেখান না। “
[২:২৬৫] আল বাকারা :- ” অপরদিকে যারা শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যে আন্তরিকতার সাথে দান করে, তাদের উপমা হচ্ছে : উঁচু জায়গায় এমন একটি বাগান, যেখানে মুষলধারে বৃষ্টি হলে দ্বিগুণ ফল উৎপন্ন হয় আর হালকা ঝিরঝিরে বৃষ্টিও বাগানটিকে ফুলে-ফলে সুশোভিত রাখার জন্যে যথেষ্ট। তোমরা যা করো, আল্লাহ তার সম্যক-দ্রষ্টা। “
[২:২৬৭] আল বাকারা :- ” হে বিশ্বাসীগণ! তোমরা যা উপার্জন করো আর জমিন থেকে যা উৎপাদিত হয়, তা থেকে ভালো অংশ আল্লাহর পথে ব্যয় করো। বেছে বেছে খারাপ জিনিসগুলো দান করতে যেও না। কারণ যে-জিনিস তোমরা গ্রহণ করতে চাইবে না, তা কখনো দান করতে চাওয়া উচিত নয়। তোমাদের জানা থাকা উচিত, নিশ্চয়ই আল্লাহ অভাবমুক্ত, সর্বোত্তম প্রশংসায় প্রশংসিত। “
[২:২৬৮] আল বাকারা :- “শয়তান তোমাদের দারিদ্র্যের ভয় দেখায় আর বখিল বা কৃপণ হতে উৎসাহ জোগায়। অপরদিকে আল্লাহ তোমাদেরকে ক্ষমা ও অনুগ্রহের প্রতিশ্রুতি দেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ প্রাচুর্যময়, সর্বজ্ঞ। “
[২:২৭১] আল বাকারা :- ” তোমরা প্রকাশ্যে দান করলে তা-ও ভালো। আর যদি গোপনে অভাবীকে দাও, তা আরো ভালো। দানের কারণে তোমাদের অনেক পাপমোচন হবে। তোমরা যা করো আল্লাহ তা জানেন।
[২:২৭২] আল বাকারা :- ” (হে মানুষ!) যে অর্থবিত্ত তোমরা দান করো, সে দান তো তোমাদের নিজেদের কল্যাণের জন্যেই। তোমরা তো আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যে ব্যয় করো। অতএব দানের পুরোপুরি প্রতিদান তোমাদেরকে অবশ্যই দেয়া হবে। তোমাদের হক কখনো নষ্ট করা হবে না। “
[২:২৭৪] আল বাকারা :- ” নিশ্চয়ই যারা তাদের উপার্জন থেকে রাতে বা দিনে, প্রকাশ্যে বা গোপনে, সচ্ছল বা অসচ্ছল অবস্থায় দান করে, তাদের জন্যে তাদের প্রতিপালকের কাছে পুরস্কার রয়েছে। তাদের কোনো ভয় বা পেরেশানি থাকবে না। ”
[২:২৭৬] আল বাকারা :- ” আল্লাহ সুদকে মিটিয়ে দেন এবং সদাকাকে বাড়িয়ে দেন। আর আল্লাহ কোন অতি কুফরকারী পাপীকে ভালবাসেন না।”
[৩:৯২] আল ইমরান :- ” (হে বিশ্বাসীগণ!) তোমার প্রিয় ও পছন্দের জিনিস থেকে দান করতে না পারলে তুমি কখনো সত্যিকারের ধার্মিক হতে পারবে না। অন্যের জন্যে তুমি যা-কিছু ব্যয় বা দান করো আল্লাহ তা ভালোভাবেই জানেন। “
[৩:১৩৪] আল ইমরান :- ” যারা সুসময়ে ও দুঃসময়ে ব্যয় করে এবং ক্রোধ সংবরণ করে ও মানুষকে ক্ষমা করে। আর আল্লাহ সৎকর্মশীলদের ভালবাসেন। “
[ ৪:৩৭] আন নিসা :- ” আর যারা নিজেরা কৃপণ এবং অন্যকে কৃপণতা করতে উৎসাহিত করে (বা দানে নিরুৎসাহিত করে) এবং আল্লাহর অনুগ্রহ-সম্পদ গোপন করে, আল্লাহ তাদেরও অপছন্দ করেন। এ ধরনের অকৃতজ্ঞদের জন্যে আমি অপমানজনক শাস্তির ব্যবস্থা করে রেখেছি। “
[ ৪:৩৮] আন নিসা :- ” আর যারা লোক দেখানোর জন্যে অর্থবিত্ত ব্যয় করে এবং আল্লাহ ও আখেরাতে অবিশ্বাস করে, তাদেরকেও আল্লাহ অপছন্দ করেন। আসলে শয়তান কারো সঙ্গী হলে এর চেয়ে খারাপ সঙ্গ আর কিছু হতে পারে না। “
[ ৪:৩৯] আন নিসা :- ” তারা আল্লাহ ও আখেরাতে বিশ্বাস করলে, আল্লাহপ্রদত্ত রিজিক থেকে অন্যের জন্যে ব্যয় করলে তাদের কী ক্ষতি হতো? আল্লাহ তাদের সবকিছুই জানেন। “
[ ৯:৭৫] আত তাওবাহ :- ” মুনাফেকদের অনেকে আল্লাহর কাছে অঙ্গীকার করেছিল যে, আল্লাহ যদি আমাদের তাঁর অনুগ্রহ-সম্পদে ধন্য করেন, তবে আমরা তা থেকে অবশ্যই দান করব এবং সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত হবো। “
[ ৯:১২১] আত তাওবাহ :- ” একইভাবে তারা (আল্লাহর পথে) কমবেশি যা-ই দান করে এবং (আল্লাহর বাণীবহনে) যত পথেই পদচারণা করে, সবই সৎকর্ম হিসেবে লিপিবদ্ধ হয়। যাতে করে তাদের প্রতিটি কর্মের চেয়েও অনেক উত্তম পুরস্কার আল্লাহ দিতে পারেন। “
[১৬:৭১] আন নাহল :- ” আল্লাহ তোমাদের কাউকে কাউকে অন্যদের চেয়ে বেশি জীবনোপকরণ দিয়েছেন। যাদের অতিরিক্ত জীবনোপকরণ দেয়া হয়েছে, তারাও (সাধারণত) নিজেদের জীবনোপকরণ থেকে তাদের অধীনদের এমন কিছু দেয় না, যাতে ওরা তাদের সমকক্ষ হতে পারে। এর মাধ্যমে তারা কি আল্লাহর নেয়ামতকে অস্বীকার করছে না? “
[২৫:৬৭] আল ফুরকান :- ” আর তারা যখন ব্যয় করে তখন অপব্যয় করে না এবং কার্পণ্যও করে না। বরং মাঝামাঝি অবস্থানে থাকে।”
[৩৬:৪৭] ইয়াসীন :- ” আর যখন তাদেরকে বলা হয়, ‘আল্লাহ তোমাদেরকে যে রিয্ক দিয়েছেন তা থেকে তোমরা ব্যয় কর’, তখন কাফিররা মুমিনদেরকে বলে, ‘আমরা কি তাকে খাদ্য দান করব, আল্লাহ চাইলে যাকে খাদ্য দান করতেন? তোমরা তো স্পষ্ট পথভ্রষ্টতায় রয়েছ’।”
[৪৭:৩৮] মুহাম্মাদ :- ” তোমরাই তো তারা, তোমাদের আহবান করা হচ্ছে যে, তোমরা আল্লাহর পথে ব্যয় করবে। অথচ তোমাদের কেউ কেউ কার্পণ্য করছে। তবে যে কার্পণ্য করছে সে তো নিজের প্রতিই কার্পণ্য করছে। আর আল্লাহ অভাবমুক্ত এবং তোমরা অভাবগ্রস্ত। “
[৫৭:৭] আল হাদীদ :- “:আল্লাহ ও তাঁর রসুলের ওপর বিশ্বাস স্থাপন করো এবং আল্লাহ তোমাদেরকে যে অর্থবিত্তের অধিকারী করেছেন, তা থেকে অন্যের জন্যে ব্যয় করো। তোমাদের মধ্যে যারা বিশ্বাস করবে ও অন্যের জন্যে ব্যয় করবে, তাদের জন্যে রয়েছে মহাপুরস্কার। “
[৫৭:১০] আল হাদীদ :- ” মহাবিশ্বের সবকিছুর একক মালিক আল্লাহ। তা জানার পরও (হে বিশ্বাসীগণ!) তোমরা আল্লাহর পথে মুক্তহস্তে ব্যয় করো না কেন? তোমাদের মধ্যে যারা মক্কা বিজয়ের পূর্বে আল্লাহর পথে ব্যয় করেছ ও সংগ্রাম করেছ, তারা এবং পরবর্তীরা সমান নয়। যারা বিজয়ের পরে আল্লাহর পথে ব্যয় ও সংগ্রামে অংশ নিয়েছ, তাদের চেয়ে পূর্ববর্তীরা মর্যাদায় শ্রেষ্ঠ। তবে আল্লাহর পথে যারা ব্যয় ও সংগ্রাম করে, তাদের সবার জন্যেই আল্লাহ কল্যাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তোমরা যা করো আল্লাহ তা ভালো করেই জানেন। “
[৫৭:১১] আল হাদীদ :- ” এমন কে আছে যে, আল্লাহকে উত্তম করয দিবে ? তাহলে তিনি তার জন্য তা বহুগুণে বৃদ্ধি করে দিবেন এবং তার জন্য রয়েছে সম্মানজনক প্রতিদান। “
[৫৭:১৮] আল হাদীদ :- ” নিশ্চয় দানশীল পুরুষ ও দানশীল নারী এবং যারা আল্লাহকে উত্তম করয দেয়, তাদের জন্য বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়া হবে এবং তাদের জন্য রয়েছে সম্মানজনক প্রতিদান। “
[৬৩:১০] আল মুনাফিকূন :- ” আর আমি তোমাদেরকে যে রিযক দিয়েছি তা থেকে ব্যয় কর, তোমাদের কারো মৃত্যু আসার পূর্বে। কেননা তখন সে বলবে, হে আমার রব, যদি আপনি আমাকে আরো কিছু কাল পর্যন্ত অবকাশ দিতেন, তাহলে আমি দান-সদাকা করতাম। আর সৎ লোকদের অন্তর্ভুক্ত হতাম। “
[৬৪:১৭] আত তাগাবুন :- ” যদি তোমরা আল্লাহকে উত্তম ঋণ দাও, তিনি তা তোমাদের জন্য দ্বিগুন করে দিবেন এবং তোমাদের ক্ষমা করে দিবেন। আল্লাহ গুণগ্রাহী, পরম ধৈর্যশীল। “
বাংলাকে ভারতের অংশ ভাবা মানে বাংলার ইতিহাসকে শ্রদ্ধা না করা। বাংলার মানুষের স্বাধীন হইতে চাইবার হাজার বছরের ইচ্ছেকে অসম্মান করা। আমাদের অর্ধেকটা বাংলা ভারতের মধ্যে ঢুকে গেছে, কিছু করার নাই, সেটা হয়তো আর রিকভার্ড হবে না। কিন্তু আমাদের বাংলাদেশ ভারত থেকে সবসময়েই স্বাধীন থাকতে চেয়েছে, আমরা স্বাধীন থাকবোই।
দিল্লী বেইজড অর্থাৎ দিল্লি কেন্দ্রিক তৎকালীন সময়ে যে সাম্রাজ্য ছিল, সেটা একদম আগে শাসন করতো রাজপুত ডাইনেস্টি, এরপর দিল্লী সুলতানাত, এরপর মুঘল সাম্রাজ্য (মাঝে কিছুদিন শের শাহ), শেষ দিকে মারাঠীরা, এরপরে ব্রিটিশরা। আমাদের বাংলা সেই রাজা শশাঙ্ক-এর পর থেকে (৭ম শতাব্দী) পাল, সেন, পরে মুসলিম দ্বারা পরিচালিত ছিল। বারবার আমরা দিল্লীর শাসন থেকে নিজেদের স্বাধীন রাখার চেষ্টা করেছি। কেউ বাংলাকে “ভারত” বলতো না। বাংলা বাংলা-ই ছিল। বাংলাকে ভারতের মধ্যে ঢোকানোর কাজটা করেছে ব্রিটিশ, শাসনের সুবিধার্থে। মহাভারতে যেসব এলাকার কথা বলা, যেমন কুরুক্ষেত্র পাঞ্জাবের কাছে হরিয়ানাতে। তক্ষশীলা অঞ্চল পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডিতে। বৃন্দাবন, গোকুল, কাশী, এসব উত্তর প্রদেশে। আমি বিভিন্নভাবে খুঁজে মহাভারতের কোনো লোকেশনে বাংলাদেশের কোনও জায়গা ইনক্লুডেড ছিল, খুঁজে পেলাম না। যদি বহু আগে ভারতীয় সাম্রাজ্যের প্রান্তে আমরা দখলকৃত থাকিও, কিন্তু বারবারই আমাদের অঞ্চল স্বাধীন হতে চেয়েছে। ভারতের সাম্রাজ্যের অধীন হতে চায় নি।
🟥🟦আমরা বাংলাদেশীরা “ভারতীয় উপমহাদেশ”-এর অংশ না। দিল্লী বেইজড যে সাম্রাজ্য ছিল, সেটা একদম আগে শাসন করতো রাজপুত ডাইনেস্টি, এরপর দিল্লী সুলতানাত, এরপর মুঘল সাম্রাজ্য (মাঝে কিছুদিন শের শাহ), শেষ দিকে মারাঠীরা, এরপরে ব্রিটিশরা। আমাদের বাংলা সেই রাজা শশাঙ্ক-এর পর থেকে (৭ম শতাব্দী) পাল, সেন, পরে মুসলিম দ্বারা পরিচালিত ছিল। বারবার আমরা দিল্লীর শাসন থেকে নিজেদের স্বাধীন রাখার চেষ্টা করেছি। কেউ বাংলাকে “ভারত” বলতো না। বাংলা বাংলা-ই ছিল। বাংলাকে ভারতের মধ্যে ঢোকানোর কাজটা করেছে ব্রিটিশ, শাসনের সুবিধার্থে। মহাভারতে যেসব এলাকার কথা বলা, যেমন কুরুক্ষেত্র পাঞ্জাবের কাছে হরিয়ানাতে। তক্ষশীলা অঞ্চল পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডিতে। বৃন্দাবন, গোকুল, কাশী, এসব উত্তর প্রদেশে। আমি বিভিন্নভাবে খুঁজে মহাভারতের কোনো লোকেশনে বাংলাদেশের কোনও জায়গা ইনক্লুডেড ছিল, খুঁজে পেলাম না। যদি বহু আগে ভারতীয় সাম্রাজ্যের প্রান্তে আমরা দখলকৃত থাকিও, কিন্তু বারবারই আমাদের অঞ্চল স্বাধীন হতে চেয়েছে। ভারতের সাম্রাজ্যের অধীন হতে চায় নি।
বাংলাকে ভারতের অংশ ভাবা মানে বাংলার ইতিহাসকে শ্রদ্ধা না করা। বাংলার মানুষের স্বাধীন হইতে চাইবার হাজার বছরের ইচ্ছেকে অসম্মান করা। আমাদের অর্ধেকটা বাংলা ভারতের মধ্যে ঢুকে গেছে, কিছু করার নাই, সেটা হয়তো আর রিকভার্ড হবে না। কিন্তু আমাদের বাংলাদেশ ভারত থেকে সবসময়েই স্বাধীন থাকতে চেয়েছে, আমরা স্বাধীন থাকবোই।
আপনারা যারা #দক্ষিণ_এশিয়া কথাটা ব্যবহার করা শুরু করেন, এটাই গ্রহণযোগ্য উপায় আমাদের দেশের উপমহাদেশকে বর্ণনা বা পরিচিতি করার জন্য। নিজেদের “ভারতীয় উপমহাদেশ”-এর অংশ বলা মানে নিজের অজান্তে ভারত ও বাংলার পার্থক্যটাকে মুছে ভারতের আধিপত্যকে মেনে নেওয়া। তারা আমাদের প্রতিবেশী সাম্রাজ্য, কিন্তু তারা আর আমরা আলাদা। এই চিন্তা চেতনা তৈরি করা এবং উজ্জীবিত করা অনেক জরুরী, নিজেদের সম্মান রক্ষার জন্যই।
দাইয়ুস বা দাইউস (আরবি: دَيُّوث) হল আরবি-ধাতুমুল হতে আগত একটি পরিভাষা, যার দ্বারা এমন ব্যক্তিকে বোঝায়, যে তার আত্মীয় স্বজন বা দাম্পত্য সঙ্গীর আশালীন আচরণের ব্যাপারে উদাসীন বা সহনশীল।
আরও স্পষ্টভাবে বললে এর দ্বারা এমন পুরুষকে বোঝায়, যার মধ্যে তার পরিবারের নারী সদস্যদের প্রতি পিতৃসম ও তার স্ত্রীর প্রতি পৌরুষেয় নিরাপত্তা প্রদানের যে অহংবোধ (গাইরাহ অর্থাৎ প্রতিরক্ষামূলক ঈর্ষা) তাতে তার ঘাটতি থাকে।ইংরেজিতে শব্দটির বিভিন্নরকম প্রতিবর্ণীকরণ হয় এবং ইংরেজি ভাষায় এর পারিভাষিক শব্দ হল cuckold বা wittold (অসৎপতি)।
দাইয়ুস আরবী (دَيُّوث) শব্দ দাইয়্যুস শব্দের অর্থ হলো, কলুষিত ও কদর্য বিবেকসম্পন্ন, ব্যভিচারের দূত, নারী-পুরুষের অবৈধ মিলনের দূত। অর্থাৎ যে ব্যক্তি তার স্ত্রী ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের যিনা-ব্যভিচার ও অশ্লীল কাজ-কর্মকে ভাল মনে করে গ্রহণ করে অথবা প্রতিবাদ না করে চুপ থাকে।(আল- মাউসূ‘আতুল ফিক্বহিয়্যাহ আল-কুয়েতিয়্যাহ,২১/৯৬ পৃ.)।
দাইয়ুস সংজ্ঞা দিতে গিয়ে ইমাম যাহাবী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘দাইয়্যুস’ সেই ব্যক্তি যে তার স্ত্রীর ফাহেশা কাজ সম্পর্কে অবগত। কিন্তু তার প্রতি ভালোবাসার কারণে উক্ত ব্যপারে সে উদাসীন থাকে। অথবা তার উপর তার স্ত্রীর বৃহৎ ঋণ বা মোহরানার ভয়ে কিংবা ছোট ছেলেমেয়েদের কারণে সে স্ত্রীকে কিছুই বলে না এবং যার আত্মসম্মানবোধ বলতে কিছুই নেই।’(ইমাম যাহাবী, কিতাবুল কাবায়ের ১/৫০ পৃঃ)
ইবনু হাজার হাইথামি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন,قال العلماء : الديوث الذي لا غيرة له على أهل بيته ‘আলেমগণ বলেছেন, দাইয়ুস বলা হয়, যে নিজের পরিবারের অশ্লীলতার ব্যাপারে দায়িত্ববোধহীন বা আত্ম মর্যাদাহীন।’ (আযযাওয়াজির ২/৩৪৭)
মোটকথা দাইয়ুস বলতে বুঝায়,যে ব্যক্তি তার স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যদেরকে যিনা-ব্যভিচার,অন্যায়- অশ্লীল, বেহায়াপনা-বেলেল্লাপনা, অশালীন আচার- আচরণ এবং শাস্তিযোগ্য পাপাচারে লিপ্ত হওয়া থেকে বিরত রাখে না, বাধা প্রদান করে না, উপরন্ত সন্তুষ্টি প্রকাশ করে এবং বোবা শয়তানের ন্যায় বধির ও অন্ধের মত চোখ বুজে মৌন সম্মতি জ্ঞাপন করে। আর তাদের অবাধ বিচরণে ও তাদের হীন চরিতার্থ করণার্থে সার্বিকভাবে সহযোগিতার হস্তদ্বয় প্রসারিত করে বলেই তারা দাইয়ুস ।’ (মির‘আতুল মাফাতীহ, ৬/২৩৯৯; লিক্বাউল বাব আল-মাফতূহ, ২/৪৮; ইসলাম সাওয়াল ওয় জাওয়াব,ফৎওয়া নং-২৫১১০৪)।
‘দাইয়ুস -এর পরিচয় দিয়ে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মানব রাসূল (ﷺ) বলেন, اَلدَّيُّوْثُ الَّذِي يُقِرُّ فِي أَهْلِهِ الْخَبَثَ ‘দাইয়্যুস’ বলতে বুঝায় ঐ ব্যক্তিকে, যে তার পরিবারের অশ্লীলতা ও বেহায়াপনাকে মেনে নেয়।’(সুনানে নাসাঈ, হা/২৫৬২; মুসনাদে আহমাদ, হা/৫৩৭২, ৬১১৩)।
তিনি অন্য বর্ণনায় বলেন, الَّذِيْ لَا يُبَالِيْ مَنْ دَخَلَ عَلٰى أَهْلِهِ ‘দাইয়ুস বলতে বুঝায় ঐ ব্যক্তিকে, যে তার পরিবারের নিকট কে প্রবেশ করল (অর্থাৎ কে এলো আর গেল) এ ব্যাপারে কোন ভ্রক্ষেপ করে না। (বাইহাক্বী, হা/১০৮০০; সহীহ আত-তারগীব ওয়া তারহীব,হা/২০১৭, ২৩৬৭)।
সালিম এর পিতা আব্দুল্লাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন যে, রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, তিন ব্যক্তির প্রতি মহামহিয়ান আল্লাহ্ তা’আলা কিয়ামতের দিন দৃষ্টি দিবেন না (রহমতের দৃষ্টিতে দেখবেন না)।তারা হলেন- পিতা মাতার অবাধ্য (সন্তান), পুরুষের বেশধারী নারী এবং দাইয়ুস (নিজ স্ত্রী কন্যার পাপাচারে যে ঘৃণাবোধ করেনা।) আর তিন ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবেনা – পিতা মাতার অবাধ্য (সন্তান), মাদকাসক্ত ব্যক্তি (যে মদ্যপ তাওবা ছাড়া মৃত্যুবরণ করে) এবং দানকৃত বস্তুর খোঁটা দানকারী ব্যক্তি (দান করার পর যে দানের উল্লেখ করে গঞ্জনা দেয়। (নাসাঈ, যাকাত অনুচ্ছেদ ২৫৬২ মুসনাদে আহমাদ ২/১৩৪ সনদ সহীহ)
রাসূল (ﷺ) বলেছেন, তিন শ্রেণীর মানুষের প্রতি আল্লাহ তা‘আলা ক্বিয়ামত দিবসে রহমতের দৃষ্টিতে তাকিয়ে দেখবেন না। (১) পিতা-মাতার অবাধ্য সন্তান, (২) পুরুষের বেশধারী নারী এবং (৩) দাইয়ুস অর্থাৎ নিজ স্ত্রীর পাপাচারে যে ঘৃণাবোধ করে না…।’ (নাসাঈ হা/২৫৬৪; মুসনাদে আহমাদ, হা/৬১৮০; সনদ ছহীহ, সিলসিলা সহীহাহ, হা/৬৭৩ ও ৬৭৪)।
অন্যত্র তিনি বলেন, তিন শ্রেণীর মানুষ কখনোই জান্নাতে প্রবেশ করবে না। (১) দাইয়ুস , (২) পুরুষের বেশধারী নারী এবং (৩) মাদকাসক্ত ব্যক্তি। সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! দাইয়ুস কে? উত্তরে তিনি বললেন, ‘দাইয়্যুস’ বলতে বুঝায় ঐ ব্যক্তিকে যে তার পরিবারের নিকট কে প্রবেশ করল (অর্থাৎ কে এলো আর গেল) এ ব্যাপারে কোন ভ্রুক্ষেপ করে না।’ (বাইহাক্বী, হা/১০৮০০;সহীহ আত-তারগীব ওয়াত তারহীব, হা/২০১৭, ২৩৬৭)।
অন্যত্র তিনি বলেন, ‘তিন শ্রেণীর লোকের জন্য আল্লাহ তা‘আলা জান্নাত হারাম করে দিয়েছেন। (১) মাদকাসক্ত ব্যক্তি, (২) পিতা-মাতার অবাধ্য সন্তান এবং (৩) এমন দাইয়ূস যে ব্যক্তি তার পরিবারের অশ্লীলতা ও বেহায়াপনাকে মেনে নেয়।’(সুনানে নাসাঈ, হা/২৫৬২;মুসনাদে আহমাদ, হা/৫৩৭২, ৬১১৩ মিশকাত হা/৩৬৫৫; সিলসিলা সহীহাহ হা/৬৭৪)। উক্ত হাদীসের ব্যাখ্যায় মোল্লা আলী ক্বারী হানাফি রহ. বলেন, যার চুপ থাকার কারণে তার স্ত্রী-কন্যা, দাসী প্রভৃতি নিকটতম মহিলাদের মধ্যে ব্যভিচার, মদ্যপান ও ব্যভিচারমূলক কাজ-কর্ম স্থায়িত্ব ও ব্যাপকতা লাভ করে (মিরক্বাত,হা/৩৬৫৫)।
পরিশেষে প্রিয় পাঠক! বর্তমান সোশ্যাল মিডিয়ায়র দিকে লক্ষ্য করলে দেখা যায়, অনেক পুরুষ তারা নিজেদের স্ত্রী’র সুন্দর ছবি আপলোড করে সবাইকে দেখার জন্য অনলাইনে ছড়িয়ে দেয়। কেউবা ইউটিউবে বা টিকটক স্বামী স্ত্রী মিলে বিভিন্ন কন্টেন্ট আপলোড করে অর্থ উপার্জন করে। আবার অনেক মুসলিম পুরুষকে দেখা যায়,তারা তাদের স্ত্রী কন্যাকে হিজাব নিকাব পরিয়ে বাইরে নিয়ে যায়; কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে তাদের শরীরের গঠন বুঝা যায় যার জন্য পর পুরুষেরা তাদের স্ত্রী কন্যাদের দেখে কামুক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে। আবার অনেক পরহেজগার পিতা/অভিভাবক তার পরিবারের অনেক অশ্লীল কাজ দেখেও না দেখার ভান করে থাকেন! বা অনেকে ছোট-খাট ব্যাপার মনে করে এইগুলো কে উড়িয়ে দেন! যারা নিজেদের স্ত্রী কন্যাকে সাজিয়ে গুজিয়ে পর পুরুষের উপভোগের জন্য খোলা ময়দানে বা রাস্তা ঘাটে বেড়াতে পাঠায় বা পরিবারে বেহায়াপনার সুযোগ দেয় শরীয়তের দৃষ্টিতে সেসকল পুরুষ ‘দাইয়ুস ‘। আর দাইয়ুস জাহান্নামী এবং কবিরা গুনাহকারী।
মহান আল্লাহ বলেছেন, তোমরা নিজেরা জাহান্নাম থেকে আত্মরক্ষা কর এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনকে জাহান্নাম থেকে রক্ষা কর। যার ইন্দন হবে মানুষ ও পাথর; যার উপর নিয়োজিত রয়েছেন কঠোর হৃদয় সম্পন্ন ফিরিশতাগণ, তারা আল্লাহ যা নির্দেশ করেন তা বাস্তবায়নে অবাধ্যতা করে না, আর তাদের যা নির্দেশ প্রদান করা হয়, তা-ই আমল করে।”
—সূরা আত-তাহরীম,৬৬/৬)।
ইবনে উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ: তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, ‘‘প্রতিটি মানুষই দায়িত্বশীল, সুতরাং প্রত্যেকে অবশ্যই তার অধীনস্থদের দায়িত্বশীলতা বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবে। —-বুখারী ২৫৫৮,৫২০০, ৭১৩৮, মুসলিম ১৮২৯, তিরমিযী ১৭০৫, আবূ দাউদ ২৯২৮)
হাদীসে আরও এসেছে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “তোমরা তোমাদের সন্তানদেরকে সালাতের জন্য সাত বছর বয়সে পৌছলেই নির্দেশ দাও, আর তাদেরকে দশ বছর হলে এর জন্য দণ্ড দাও। আর তাদের শোয়ার জায়গা পৃথক করে দাও। [আবু দাউদ: ৪৯৫, মুসনাদে আহমাদ: ২/১৮০]
অনুরূপভাবে পরিবার পরিজনকে সালাতের সময়, সাওমের সময় হলে স্মরণ করিয়ে দেয়াও এর অন্তর্ভুক্ত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখনই বিতর পড়তেন তখনি আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহাকে ডাকতেন এবং বলতেন, “হে আয়েশা! দাঁড়াও এবং বিতর আদায় কর।”
–সহীহ মুসলিম, ৭৪৪, মুসনাদে আহমাদ: ৬/১৫২]
সাহাবায়ে কেরাম (রাঃ) জিজ্ঞেস করলেনঃ হে আল্লাহ্র রাসূল (সাঃ)! দাইয়ূস কে? উত্তরে রাসুলূল্লাহ (সাঃ) বললেন, الدَّيُّوثُ الَّذِي يُقِرُّ فِي أَهْلِهِ الْخَبَثَ “ঐ ব্যক্তিকে দাইয়ূস বলা হয় যে তার পরিবারের অশ্লীলতা ও কুকর্মকে মেনে নেয়।” —মুসনাদ আহমদ, নাসাঈ)
অর্থাৎ, যে ব্যক্তি তার পরিবারে আল্লাহ্র আদেশ-নিষেধ বাস্তবায়নের ব্যাপারে কোন তৎপরতা অবলম্বন করে না বরং উপেক্ষা করে চলে।’
“আপন স্ত্রী-সন্তানকে অশ্লীলতা ও ব্যভিচারের সুযোগ দেয়া” কবিরা গুনাহ।
উল্লেখ্য যে একটি পরিবারের কর্তা/ প্রধান অভিভাবক হতে পারে পিতা, বড় ভাই, স্বামী, পুত্র। এরা প্রত্যেকেই তার অধনস্থ কেউ যদি কোন অশ্লীলতা করে অথচ সে তাতে বাধা প্রধান না করে তাহলে উক্ত পাপের দায়ভার তাদের উপরও বর্তাবে।
মহান আল্লাহ আমাদেরকে সকল ভ্রান্তির ঊর্ধ্বে উঠে তাঁর সন্তুষ্টির পথে চলার তাওফীক দান করুন-আমীন! আল্লাহই সর্ব বিষয়ে মহাজ্ঞানী।
একজন ঈমানদার ব্যক্তি আল্লাহ তায়ালার উপর পুর্ণ আস্হা ও বিশ্বাস এবং সকল ক্ষমতার উৎস মহান আল্লাহ তায়ালা এমন বিশ্বাস পোষণ না করলে সে কখনো মুসলমানই হতে পারে না।মহাগ্রন্হ আলকোরানে বলা হয়েছে,”আসমান ও জমীনের মধ্যে যা কিছু রয়েছে এর মালিকানা ও সার্বভৌমত্ব আল্লাহর জন্য”।কিন্তু সেক্যুলার আইনে আল্লাহর মালিকানা ও সার্বভৌমত্ব অস্বীকার করা হয়।
সেক্যুলার আইনে মালিকানা ও সার্বভৌমত্ব শুধু জনগণের বলে স্বীকার করা হয়।ফলে সংখ্যাগরীষ্ঠ মুসলিম দেশের আদালত উক্ত অপরাধে একটা প্রতিষ্ঠিত প্রাচীন ইসলামী দলের নিবন্ধন বাতিল করে দিল।দেশটা মুসলিম হলেও এর বিচার ব্যবস্হা ও শাসন কাঠামো সেক্যুলার আইনে পরিচালিত হচ্ছে।এখন সংখ্যাগরীষ্ট মুসলমানেরা সকল ক্ষমতার উৎস মহান আল্লাহ তায়ালা এবং এর মালিকানা ও সার্বভৌমত্ব একমাত্র আল্লাহর জন্য।
আর এই মালিকানা ও সার্বভৌমত্ব আল্লাহর পক্ষে তার নেককার সৎ বান্দারা প্রয়োগ করবেন এবং এই বিশ্বাস রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রতিষ্ঠা করার জন্য লড়াই করতে হবে।প্রত্যেক মুসলমান যার পরিপুর্ণ ঈমান ও সবর তাওয়াক্কুল রয়েছে তারা উক্ত নাফরমানির বিরুদ্ধে কাজ করতে হবে।সেক্যুলারিজম আদর্শটা ইসলামের বিপরীত মতাদর্শ এবং একটা মুসলিম জাতির বিশ্বাস ও সংস্কৃতির সাথে সম্পুর্ন সাংঘর্ষিক। এজন্যই সেক্যুলার আইন ও শিক্ষা ব্যবস্হা মুসলমানদের আদর্শ হতে পারেনা।মুসলমানদের আরো সচেতন হতে হবে।
🟥🟦ফাঁসির আগের রাতে সায়্যিদ কুতুব রহঃ কে জেলখানার নিয়ম অনুযায়ী মৃত্যুর পূর্বে ঈমান নবায়ন ও #কালিমাশাহাদাত পড়ানোর জন্য জেলের ইমামকে পাঠানো হলো। জেলের ইমাম এসে আল্লামা সায়্যিদ কুতুব রহঃ কে কালিমার তালকিন দেয়ার চেষ্টা করতে লাগলেন। তাকে দেখে সায়্যিদ কুতুব জিজ্ঞাসা করলেন আপনি কি জন্য এখানে এসেছেন? ইমাম বললেন, আমি আপনাকে কালিমা পড়াতে এসেছি। মৃত্যুদন্ড কার্যকর করার আগে আসামীকে কালিমা পড়ানো আমার দায়িত্ব। সায়্যিদ কুতুব বললেন, এই দায়িত্ব আপনাকে কে দিয়েছে? ইমাম বললেন, সরকার দিয়েছে। সায়্যিদ কুতুব বললেন, এর বিনিময়ে কি আপনি বেতন পান? ইমাম বললেন, হ্যাঁ আমি সরকার থেকে বেতন-ভাতা পাই। তখন সায়্যিদ কুতুব রহঃ সেই ইমাম সাহেবকে জিজ্ঞাসা করলেন, আপনি কি জানেন কি কারণে আমাকে ফাঁসি দেয়া হচ্ছে? ইমাম বললেন, নাহ্ আমি বেশি কিছু জানি না। তবে আমাকে বলা হয়েছে যে একজন দুর্ধর্ষ আসামিকে আজ রাতে ফাঁসি দেওয়া হবে। সায়্যিদ কুতুব বললেন, আপনি কি জানেন,আপনি আমাকে যে কালিমা পড়াতে এসেছেন, সেই কালিমার ব্যাখ্যা লিখার প্রচার করার কারণে এবং তাতে জ্ঞানী সম্প্রদায় উদ্বুদ্ধ হওয়ার কারণেই আমাকে ফাঁসি দেয়া হচ্ছে। অথচ দেখুন কি আশ্চর্য! যে কালিমা পড়ানোর কারণে আপনি বেতন- ভাতা পান, সেই একই কালিমার ব্যাখ্যা মুসলিম উম্মাহকে জানানোর অপরাধেই আমাকেই ফাঁসি দেয়া হচ্ছে। সুতরাং বোঝা যাচ্ছে, আপনার কালিমার বুঝ আর আমার কালিমার বুঝ এক নয়। আমি দুঃখিত, আপনাকে আমার কোন প্রয়োজন নেই।” 🟥🟦উল্লেখ্য, যে সময় সৈয়দ কুতুবকে পবিত্র কোরআনের ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ ইত্যাদি জনসমক্ষে উপস্থাপন করার জন্য #ফাঁসি দেওয়া হয়, সে সময় মিশরের বিখ্যাত ক্বারী আব্দুল বাসেতকে #রাষ্ট্রীয়পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। দুজনেই মানুষের সামনে সুন্দর করে পবিত্র কোরআনকে উপস্থাপন করেছিল। কিন্তু দুজনের জন্যই রাষ্ট্রীয় পুরস্কার একটি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন ও বিপরীত মাত্রার। দুজনের মধ্যে কারোই দাড়ি ছিল না। 🟥🟦 কেন এমন হলো?? দুজনেই কোরআনের পাখি হওয়া সত্ত্বেও কেন একজনের ভাগ্যে জুটলো লাঞ্ছনা এবং অন্যজনের ভাগ্যে জুটলো পুরস্কার এবং গাড়ি-বাড়ি ইত্যাদি?? এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার জন্য বেশি দূর অগ্রসর হওয়ার প্রয়োজন নেই। শুধু একটু চিন্তা করে নিরবে নিজের বিবেককে প্রশ্ন করলেই বিষয়টি দিবালোকের মতো স্পষ্ট হয়ে যায়। 👉👉 কোরআনের অর্থ কিংবা ব্যাখ্যা আরবি ভাষা হওয়া সত্বেও খোদ আরব দেশের লোকেরাই বুঝেনা। তাই আরব দেশ থেকেই এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম এর সময় থেকেই কুরআনের তাফসীর করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ স্পষ্ট বলেছেন– “”আপনাকে আমি কোরআন এর তাফসীর বা ব্যাখ্যা শিখিয়ে দেব””। আর রাসূল সাঃ এর ইন্তেকালের সাথে সাথেই যখন কোরআনের ব্যাখ্যার প্রয়োজন হয়ে পড়ল অর্থাৎ যখন কোরআন বুঝতে মানুষের অসুবিধা হতে লাগল তখন সর্বপ্রথম কোরআনের তাফসির গ্রন্থ লিখেন ইবনে আব্বাস রাঃ। তাফসীর গ্রন্থটির নাম #তাফসীরেইবনেআব্বাস। (তাফসীর গ্রন্থটি বাংলাদেশেও অনুবাদ অবস্থায় ইসলামিক ফাউন্ডেশন থেকে পাওয়া যায়।) 👉👉 তাফসীর গ্রন্থ লিখার জন্য যে 15 টি বিশেষ জ্ঞানের দরকার পড়ে তার মধ্যে অন্যতম হলো চলতি সময়ে অর্থাৎ রানিং সিচুয়েশনে চলতে থাকা ঘটনাবলীর উপর ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ আর কোরআনের আদেশ ও নিষেধের প্রয়োগ ইত্যাদি কৌশল. এজন্যই যুগে যুগে তাফসির করার প্রয়োজন হয়ে পড়ে এবং পুরনো তাফসির গুলো বর্তমান যুগের জন্য এবং বর্তমান যুগের তাফসীর গুলো ভবিষ্যতের জন্য আংশিকভাবে অচল হতে থাকে। কারণ যুগ বদলানোর সাথে সাথে কুরআনের আয়াতের ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ এবং প্রয়োগ কৌশল বদল হতে থাকে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, পবিত্র কোরআনের লোহার ব্যবহার এবং যুদ্ধ সরঞ্জাম ইত্যাদি কথা উল্লেখ আছে। আগের দিনে এই যুদ্ধ সরঞ্জাম বলতে বর্ম, তোর বাড়ি বর্ষা ইত্যাদি বুঝানো হতো। কিন্তু বর্তমানে যদি এই ব্যাখ্যা করা হয় তাহলে কি চলবে?? বর্তমান যুদ্ধ সরঞ্জাম ট্যাঙ্ক, কামান, ফাইটার প্লেন মিসাইল ইত্যাদি। কিন্তু সবকিছু বানানো হয় লোহা বা লোহা জাতীয় পদার্থ দিয়ে। আর তাই লোহা বা হাদিদ নামে একটি সূরা অবতীর্ণ করা হয়েছে। এভাবে প্রত্যেকটি বিষয়ে নতুন করে ব্যাখ্যা বিশ্লেষণের প্রয়োজন পরে বিদায় পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেছেন এই কালামের ব্যাখ্যা লিখার জন্য যদি সাতটি সমুদ্র আরো নিয়ে আসা হয় কালী হিসাবে তবু তার ব্যাখ্যা লেখা শেষ হবে না। 👉👉 কোরআনের তেলাওয়াত মানুষের মনে সাময়িক আলোড়ন সৃষ্টি করলেও তা স্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারে না। কিন্তু কোরআনের ব্যাখ্যা মানুষের হৃদয় স্থায়ী প্রভাব ফেলে এবং মানুষের জীবনকে পরিবর্তন করে ফেলে। আর এজন্যই আল্লাহ কপি কোরআন নাজিল না করে বরং সাথে ব্যাখ্যাকারী নবী-রাসূল প্রেরণ করেছেন। কারী আব্দুল বাসেত সাহেবের তেলাওয়াত মানুষের মনে একটি সাময়িক এবং ক্ষণস্থায়ী আলোড়ন সৃষ্টি করে মাত্র। কিন্তু সাইদ কুতুবের লেখা তাফসির ও ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ মানুষের মনে স্থায়ী প্রভাব পড়ে এবং একটি কোরআনিক বিপ্লব ঘটিয়ে একটি কুরআনিক সমাজ উপহার দেওয়ার প্রেরণা যোগায়। আর এরি ফলশ্রুতিতে বাতিলের ও মিথ্যা শক্তির ভিত কেঁপে উঠে ফলে মিথ্যুক ও বাতিল মিলে সঠিক কোরআনের ব্যাখ্যাকারীদের ফাঁসি দিয়ে এবং কোরআন তেলাওয়াতকারীদের পুরস্কৃত করে জনগণের চোখে ধুলা দিবেন এবং জনগণের দৃষ্টিকে অন্যদিকে প্রবাহিত করবেন এটাই স্বাভাবিক। ওই সময় সাঈদ কুতুবকে ফাঁসি দেওয়ার ফলে এবং তার সাথে আরো কয়েকশো নেতাকর্মীকে ফাঁসি দেওয়ার ফলে জনমনে যে অসন্তু সৃষ্টি হয়েছিল, ঠিক তখনই কুরআনের আরেকজন লোককে পুরস্কৃত করে প্রমাণ করা প্রয়োজন হয়ে পড়েছিল যে, “আমরা তো কোরআনের পক্ষেই আছি, আর এই দেখো আমরা কোরআন তেলাওয়াতকারীকে পুরস্কার দিচ্ছি! আর মূর্খ জনগণ এক বাক্যে বাহ বাহ দিয়ে বলে উঠলো– ঠিইইইক হে!! কিন্তু তাতে কত বড় ক্ষতি হলো এবং এখনো এই জাতীয় লোকদেরকে হত্যার ফলে কত বড় ক্ষতি হচ্ছে তা একমাত্র বিদগ্ধ আর পবিত্র কোরআনের জ্ঞানে জ্ঞানী লোক ছাড়া কেউ জানে না। অবশ্যই আল্লাহ একদিন সবকিছু ফায়সালা করে দেবেন এবং সেই দিন বেশি দূরে নয়। দুনিয়ার আয়ু কমে আসছে। ধর্ম বিক্রি করে খাওয়ার এবং ধর্মহীন লোকের সংখ্যা ব্যাপকহারে বেড়ে যাচ্ছে। ধার্মিক লোকেরা এখন পালিয়ে বেড়ানো খরগোশ থানার মত। কোথাও একটু মাথা উঠালেই ধর ধর করে ছুটে আসে ঘৃণিত হায়নার দল।
শাসন, শোষণ ও ভাষণ নয় দুর্নীতি মুক্ত পরিবার চাই। স্মৃতি ঝলমল গ্রামবাংলার ইছামতির বিলের মাঝে। পানি টলমল নবগঙ্গা নদীর কাছে আমার অনেক ঋণ আছে। তাইতো বার বার ফিরে আসি পরিবার এবং তোমাদের কাছে। মানবিক কারণে পাশে এসে দাঁড়ায় স্বশরীরে না হলেও ভালোবাসার ফেরিওয়ালা হয়ে দূর পরবাস থেকে। ছবিটি ফেসবুক থেকে সংগৃহীত, এই ছবি যেন এক প্রতিচ্ছবি যা মনে করে দেয় ছোট বেলার দিনগুলোর স্মৃতি, বাধ্য করে আমাকে ফিরে আসতে দায়িত্ব, কর্ত্বব্যব্রতে এখনো সেই অতিতের স্নেহ, প্রেম, প্রিতি এবং ঋণের বোঝা ভরা এই বাংলার মানুষের কাছে। কতইনা ভালোবাসা ক্ষরণ হয় আমার এই ছোট্ট হৃদয়ে। এমন ভালোবাসা কী কারণে ঘৃণায় পরিনত হতে পারে? আমরা সমাজের অশিক্ষা, ঘুষ, দুর্নীতি, অন্যায়, অত্যাচার, প্রতারণা রোধে সব সময় কথা বলি, সংগ্রাম করি। যে সংগ্রাম শুরু হয় ঐক্যবদ্ধ হয়ে নিজ পরিবার, প্রিয়জন, বন্ধু থেকে যে প্রচারণা প্রতিবাদী করে তুলে অদম্য প্রতিরোধ সৃষ্টি করে। কিন্তু আমরা কখনো বলি না বা বলতেও চাই না যে আমাদের অনেকের পরিবারের মধ্যেই রয়েছে এই ধরনের মানুষ, তাই রক্তের বাঁধনকে উপেক্ষা করে এই সংগ্রাম নির্বাক থাকে। কিন্তু আমি যদি আমার নিজের পরিবারেরই পরিবর্তন করতে না পারি তবে এই বুলির অর্থ হবে অন্তসার শূণ্য মাত্র। সময় এসেছে সম্পর্কগুলো রক্তের শিরায় প্রবাহিত হলেও ডিজিটালের যুগে লাভ-ক্ষতির হিসাবের। “আমরা যদি না জাগি মা কেমনে সকাল হবে” সেই ছোট্ট বেলার মুখস্ত কবিতা যেন এই বৃদ্ধ বয়সেও দুর্বোধ্য লাগে। কারণ তা বাস্তবায়ন করতে পারিনি বলে।
ভালোমানুষ হিসাবে খারাপ মানুষের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করাটাও ভালো মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ বলে আমি মনে করি। সেক্ষেত্রে দুষ্টলোকের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হওয়া উচিত প্রথমে নিজেকে নিয়ে, নিজের পরিবারকে নিয়ে। তবেই না সমাজ এবং দেশের উন্নয়ন সম্ভব। আজ আমি এমন একটি পরিবারের বেদনার কথা তুলে ধরতে চাই। যে পরিবার নাম, যশ, অর্থে, সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে শত বর্ষধরে দেশে ও বিদেশে সুনামের সাথে পরিবারিক মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রেখে টিকে রয়েছে। কিন্তু দুঃখের বিষয় এই যে, ভাইবোন সম্পর্কের বঞ্চনাকারী ও অত্যাচারী এক সহোদর এই পরিবারের স্বচ্চল ফুলের বাগানকে কীটপতঙ্গের মত তিলে তিলে নিঃশেষ করে চলছে। এভাবে নিজ পরিবারের দূর্বল দিক উপস্থাপন করে বা কাউকে ইঙ্গিত করে লেখাটা যদিও নিজের কাছেও সমাচীন নয়। তবে আমি জানি এবং অনুভব করি প্রায় সকল পরিবারেই এমন কতিপয় ব্যক্তির কান্ডজ্ঞানহীন কর্মকাণ্ডে সে পরিবার কতটা বিষণ্নতা, কতটা অসহায়। যেন পূর্ণ চন্দ্রে লাগা গ্রহণ সব রুপালী জোৎস্না এক নিমিশেই হারিয়ে সব অন্ধকারে ঢেকে দেয়। যদি পরিবারের কেউ দরিদ্র না হয় তখন তারা মনে করে এটা প্রকাশ করলে পারিবারিক গুডউইল একেবারে নষ্ট হয়ে যাবে। এগুলো হয় পারিবারিক ভাবে বসে মিমাংসা করতে হবে নতুবা ভুলে যেতে হবে। পরিবারের গুডউইল ধ্বংস হয় এমন কাজও সঠিক নয়। যে ক্ষতি হয়েছে সেটা পুনরুদ্ধার করাও সম্ভব নয়। তাই গুডউইল নষ্ট করে আরও ক্ষতি ডেকে আনা কি উচিত? পরিবারে বা বংশে কেউ কেউ এমন থাকে। তাদেরকে পারিবারিকভাবে মোকাবেলা করাও একটা দক্ষতা ইত্যাদি ইত্যাদি।
আমি সব কিছু বিচার বিবেচনা করেই আজ সারা দেশের মানুষের কাছে আমার এই বার্তা তুলে ধরছি কারণ বাংলাকে সোনার বাংলা করতে হলে আমাদের মধ্যে পরিবর্তন আনতে হবে এবং নিজেকে বা নিজের পরিবারকে দিয়ে শুরু করতে হব। দুর্নীতি করে না এমন লোক শুধু বাংলাদেশ নয় সারা বিশ্বে খুঁজে পাওয়া যাবে না, তবে পরিমান বা তার মাত্রার ওপর নির্ভর করছে পরিবর্তনের। ছোট ভাই-বোনদের জন্য কিছু করে যদি কোনো বড় ভাই-বোন তা সুদ-আসলে তুলে নেয় এবং সারাক্ষণ কঠিন ভাবে মানসিক অশান্তিতে রাখে তখন ভালোবাসার সম্পর্ক ঘৃণায় রুপান্তরিত হয়। আমার এ লেখা পড়তেই মনে হবে আরে এ তো আমারই পরিচিত এক আপনজনের চরিত্রের একটি অংশ এবং আমি জানি এ বাংলাদেশের লাখো লাখো পরিবারের মনের কথা এবং যা আজ লাখো লাখো পরিবারের কাছে ঘৃণায় পরিনত হয়ে রয়েছে। আজ এই অপ্রিয় সত্যকে তুলে ধরতে এই লিখা তা হোল, অর্থনৈতিক ভাবে ঋণগ্রস্ত ছোট ভাই-বোনের উপর বড়দের জুলুমের পরিমান যখন সীমা লঙ্ঘন করে, এবং ছোটদের প্রতি অত্যাচার এবং অবিচার করতে শুরু করে, তখন ঘৃণা ছাড়া ছোটদের আর কিছু দেবার থাকে না। সে ক্ষেত্রে ব্যর্থ হয় ভালোবাসা এবং বিনাশ হয় সম্পর্কের । সম্পর্ক তখন আর ভাই-বোনের মত থাকে না, যার প্রমাণ আমার এই লেখা। যেহেতু করব বর্ণনা এমন একটি অপ্রিয় সত্য কথা যা সারা দেশের এক জলন্ত প্রতিচ্ছবি সেহেতু ধরে নেই এই পরিচিত আপনজন আজ সবার কাছে এখন একটি পুরাতন নাম মাত্র। যার ওপর ছিলো ভালো স্মৃতি বহু বছর আগে যখন সে বিয়ে করেনি। তার পর সে মনের অজান্তে হারিয়ে গেছে। সে কিছুই করেনি পরিবারের কারো জন্য। করেছে শুধু নিজেকে লোভি আর গড়েছে তার চারপাশে এক ব্যক্তিকেন্দ্রিক প্রাচীর যা অন্ধকারে বন্ধ করে রেখেছে তার মনুষ্যত্বকে, দিনের পর দিন আর বছরের পর বছর। সামান্যতম ত্রুটি-বিচ্যুতি বড় করে তুলে ধরে সবাইকে নিচু করে তুলে ধরতে কৃপণতা করে না সে।
এই ভদ্রলোকের এখন নিজের পরিবার হয়েছে এবং সে তাই নিয়ে ব্যস্ত। তার ছেলেকে বিদেশে এনে ছয় বছর তার সমস্ত দায়িত্ব নিয়ে তাকে শিক্ষিত করে কাজ এবং স্থায়ী নাগরিকত্ব দিয়ে এখানকার সমস্ত সুযোগ-সুবিধা করে দেওয়া সত্বেও সে বা তার পরিবার খুশি হয়নি। সে সবার সব কিছু ভোগ দখল করে আসছে এত বছর ধরে, তার পরও সে খুশি নয়। তার সব থাকতেও সে অন্ধের মত পরিবারের সকলের সম্পদ গ্রাস করে চলছে। আজ সে বাকি পরিবারের কাছে ঘৃণার পাত্র হয়েছে। কারণ সে শুধু নিতে শিখেছে, দিতে ভুলে গেছে। আজ এত বছর পর, প্রথম যখন তাকে বলা হয়েছে অন্যের সম্পদ থেকে সরে যেতে তখন সে হয়েছে পাগল। তার দীর্ঘদিন কারো সঙ্গে যোগাযোগ না থাকায় সে পড়ে আছে ১৯৮৫ সালের জগতে। আজ ২০১৮ সাল। সে মাঝখানের এত বছর সব থেকে বঞ্চিত শুধু ভোগদখল ছাড়া। সে শুধু নিয়েছে, দেয়নি কিছু। যার কারণে জং ধরেছে সম্পর্কের এত বেশি যে সেই ভালোবাসার সম্পর্ক এখন হয়েছে “গুড ফর নাথিং”। তাকে শ্রদ্ধা করার মত কিছু কি সে রেখে গেছে? যা দিয়েছিল তার দশ গুন নিয়ে গেছে জোর করে। কিভাবে সে আশা করে ভালোবাসা? বহু বছর ধরে ঘৃণা জমা হয়েছে হৃদয়ে তাই আগুন জ্বলছে শরীরে এখন, “ঠু লেট তা নেভানো”। আজ দুঃখের সাথে জানাতে বাধ্য হলাম সারা দেশের মানুষকে, এমন একটি কুৎসিত চরিত্রের মানুষের কথা। এ ধরণের কুৎসিত চরিত্রের মানুষ এখন বাংলার ঘরে ঘরে। দুর্নীতি, পরিবারকে ঠকানো, মিথ্যাকথা বলা এই গুলোকে কুৎসিত চরিত্রের মধ্যে ধরা হয়েছে।
যে অসৎ ও দুর্নীতিগ্রস্থ তাকে লজ্জ্বা দেওয়া যায় না। যে উলঙ্গ তাকে কি লজ্জ্বা দেবে? আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। সমাজে তুলে ধরতে মিডিয়াতে যেতে হবে কি? পরিবারের গুডউইল অবশ্যই নষ্ট হবে। তখন প্রশ্ন হবে বাবা মাকে নিয়ে। সবাই সফল পিতামাতা হিসেবে যে সম্মান করে তাতে দাগ পড়বে। তা ছাড়া মিডিয়া বিচার করতে পারে না। মিডিয়া মানুষকে ছোট বা বড় করতে পারে। তারচেয়ে বরং ভালো আইনের সাহায্য নেওয়া। পরিবারের সম্মানও কম ক্ষুন্ন হবে। এমন ভাবে যখন ভাবা হচ্ছে ঠিক সেই সময় সেই পরিচিত আপনজন শুধু ঋণের বোঝা ভারি করতে সবার বিরুদ্ধে কম্প্লেন এবং তার যে একটি বড় ক্ষমতা রয়েছে তা দেখানো এটাই ছলছে তার কাজ পরিবারের প্রতি। আজ পাগলের সাথে পাগলামির খেলা শুরু হয়েছে। যদিও ইচ্ছে করছে দানবের নয় মানবের সমাজে ফিরে যেতে। কিন্তু দানব শেষ না করলে এরকম সৈরাচারির জন্ম হতে থাকবে। আর বাড়তে থাকবে সমাজে এবং দেশে এদের সংখ্যা এত বেশি যে, শেষ পর্যন্ত খুঁজে পাওয়া কষ্টকর হবে মানবজাতিকে। এই ধরণের আপনজন রয়েছে দেশের সর্সত্রে, এখন প্রশ্ন কী ভাবে এদেরকে সৎ চরিত্রে ফিরে আনা সম্ভব? আদোও কি সম্ভব? পারবে কি এরা নতুন করে ভালোবাসা দেখিয়ে প্রমান করতে? পারবে যে তারা সমাজের ও পরিবারের সত্যিকার আপনজন? তাহলে তাকে বা তাদেরকে প্রমান করে দেখাতে হবে, যে অন্যায় তারা অতীতে এবং বর্তমান করছে, তারজন্য তাদেরকে অনুতপ্ত ও লজ্জিত হতে হবে, তবেই ক্ষমা, নইলে নয়। যে বা যারা পরিবারকে ভালোবাসেনা, সে বা তারা দেশের শত্রু তাদের থেকে দুরে থাকতে অনুরোধ করছি। বুঝতে নিশ্চয় সহজ হবে এখন কেন সুশিক্ষার জন্য লড়াই আমার? সুশিক্ষার ওপর লিখছি আজ থেকে বছর খানেক ধরে, তাই আজ তুলে ধরলাম এমন একটি পারিবারিক জলন্ত উদাহরণ।
এই সেই বর্ণচোরা মুখোশধারী মানুষ নামের দানবেরা যারা তাদের ক্ষমতার অপব্যবহার করে পুরো ফ্যামিলিকে ঠকিয়ে চলছে দীর্ঘ বহু বছর ধরে। কী করে তারা দাবী করে সবার ভালোবাসা? শ্রদ্ধা? তারা তো ভুলে গেছে এসব ভালো কথা। কারন কী? কারন ভালোবাসার মৃত্যু হয়েছে ৪০ বছর আগে। তাদের সব হয়েছে, তারা সব পেয়েছে। কিন্তু তারা তাদের ভালোবাসাকে কবর দিয়েছে। কিন্তু কেন? সে এখন লেগেছে পরিবারের বিভিন্ন ব্যক্তির চরিত্র নিয়ে কথা বলতে, সে কি ভুলে গেছে তার অতীত? তাকে যদি বোনেরা নারীনির্যাতন এবং চরিত্রহীনতার অপরাধে কোর্টে হাজির করে, ভেবেছে কি এর পরিনতি কি হবে? তার এই অধঃপতনের কারনে দেশে যেতে মন চাই না। এদের আমি ঘৃণা করি। জানিনে কত জন বাংলাদেশী এমনটি বেদনা নিয়ে বেঁচে আছে! আজ এত বছর পরে কলম ধরতে বাধ্য হয়েছি শিক্ষিত মানুষরুপী লোভী এক মানুষের অধঃপতনের কথা তুলে ধরার জন্য। আমি এখন এদেরকে নিয়ে গর্ব করতে ভুলে গেছি। একজন শিক্ষিত এবং ক্ষমতাবান ব্যক্তি যে শুধু নিজেকে নিয়ে ভাবে, এমন লোভি আপনজনকে কেউ চাই না। শিক্ষার আলোতে গড়া ভালোবাসাময় সাধারণ পরিবার চাই। ধ্বংস করতে চাই সুশিক্ষা এবং ভালোবাসা দিয়ে সেই মুখোশধারী ও লোভি আপনজনকে এবং একইসাথে ফিরে পেতে চাই অতীতের সেই আদর্শ ও সুখি পরিবারকে। সুশিক্ষা এবং মানবতার ধ্বংস নয়, ধ্বংস হোক তার নিজের মধ্যের কুশিক্ষা এবং সে ফিরে পাক তার মানবতা ও জয় হোক ভালোবাসার এমনটি কামনা করছি।
🟢🔴 আমি যখন আমার স্ত্রীকে চাকরি করতে নিষেধ করলাম এবং সেখান থেকে ফিরিয়ে আনলাম তখন আমার বাড়ির আত্মীয়-স্বজন এবং আমার শ্বশুরবাড়িসহ সকল আত্মীয়-স্বজন আমাকে খুব ভালোভাবে তিরস্কার করলেন এবং আমাকে ব্যাকডেটেড, নিচু মনের, মোল্লা ইত্যাদি বিভিন্ন বিশেষণে বিশেষিত করলেন। আমি আমার স্ত্রীর অরিজিনাল সার্টিফিকেটগুলো তখন কার মত ছিঁড়ে ফেলেছিলাম। যাতে করে তিনি আমার পরিবার এবং আমার শ্বশুর বাড়ির আত্মীয়স্বজনের প্ররোচনায় খুব সহজে সার্টিফিকেট নিয়ে কোন চাকরির জন্য উপস্থিত হতে না পারেন। আমার বাবা যার পর নাই আমার প্রতি না খুশ হয়েছিলেন এবং এখনো সম্ভবত তিনি সেই রাগ আমার প্রতি পোষণ করে চলেছেন (আল্লাহ তাদের সবাইকে ক্ষমা করুন)! মূলত আমি আমার স্ত্রীকে চাকরি থেকে বিরত রেখেছিলাম এই জন্য যে, মহিলারা চাকরি করলে কোনভাবেই সঠিক পর্দা ধরে রাখা সম্ভব নয় তা যত চেষ্টাই করুক না কেন। কেউ যদি বলে যে চাকরি করে সঠিক পর্দা ধরে রাখা সম্ভব তবে ওই ব্যক্তি হলো ওই নির্বোধের মতো যে নির্বোধ বলে থাকে, গোসল করেও শরীর না ভিজিয়ে থাকা যায়। যদিও কিছু কিছু ক্ষেত্রে নারীদের চাকরি করা ফরজ বলে আমি মনে করি যেমন নারীদের বিদ্যালয়গুলোতে এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে। আর বাংলাদেশের মেডিকেল গুলোতে ডাক্তারের সংখ্যা ৬০ থেকে ৮০ পার্সেন্ট নারী রাখা উচিত অর্ধেকসংখ্যক নারী এবং বাচ্চাদের চিকিৎসা দেওয়ার জন্য। একজন পুরুষ চাকরি করতে যাওয়ার সময় তার মাথায় যে সকল চিন্তা কাজ করে তা হল– ১//তিনি সকালে ঘুম থেকে উঠবেন এবং স্ত্রীর বানানো নাস্তা খেয়ে চাকরির জন্য কর্মস্থলে যাবেন। ২// কর্মস্থলের কাজ শেষ করে তিনি বাসায় ফিরে আসবেন, হয়তো রাস্তায় বাজার করে নিয়ে আসবেন। ৩// বাড়িতে এসে তিনি স্ত্রীর হাতের রান্না করা খাবার খেয়ে চা-কফি সিগারেট ইত্যাদি খেয়ে কিছুক্ষণ বিশ্রাম করবেন অথবা বিকেলের দিকে বাজারে বা রাস্তার মোড়ে চায়ের স্টলে বসে রাত আটটা নয়টা কিংবা দশটা পর্যন্ত আড্ডা মেরে ঘরে আসবেন। মূলত উপরের তিনটি রুটিন মাফিক কাজ একজন চাকরিজীবী পুরুষের বেশিরভাগ ক্ষেত্রে করে থাকেন। 🟢🔴কিন্তু একজন চাকরিজীবী নারীর জন্য তা আদৌ সম্ভব নয়!! সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠে একজন চাকরিজীবী নারী ঘুমুতে যাওয়ার পূর্ব পর্যন্ত যে কাজগুলি বাধ্যতামূলকভাবে করতে হয় তাহল– ((শতকরা ৯৫ জন চাকরিজীবী মহিলা তাদের সংসার টিকিয়ে রাখার স্বার্থে এই কাজগুলি করতে বাধ্য)) ১// সকালে ঘুম থেকে উঠেই একজন চাকরিজীবী মহিলা সর্বপ্রথম বিছানা গুছাতে হয় নিজের ও বাচ্চাদের । আর যদি ছোট বাচ্চা থাকে তাহলে তো কাজের কোন অন্ত নাই। বাচ্চাকে বুকের দুধ খাওয়ানোর অথবা ফিডার দিয়ে দুধ খাওয়ানোর কাজটি তাকেই করতে হয়। ২// একজন চাকরিজীবী মহিলা নিজের বাচ্চাদের এবং হাজবেন্ডের জন্য সকালের নাস্তা ও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দুপুরের খাবার একসাথে তৈরি করতে হয়। এবং এই কাজটিতে শতকরা ৯৫ শতাংশ পুরুষ স্ত্রীকে সাহায্য করে না প্রকৃতিগত কারণেই। কেননা মূলত রান্নাবান্নার কাজটি স্ত্রীরাই করে থাকেন। ৩// অতঃপর একজন চাকরিজীবী মহিলাকে খুব দ্রুত এবং নন স্টপ এই কাজগুলি করে হাজবেন্ড চাকরির ক্ষেত্রে যাওয়ার পূর্বেই তাকে রওনা হতে হয় কেননা একজন পুরুষের চেয়ে একজন মহিলার রাস্তায় এবং যানবাহনের বিলম্ব না বেশি। তাই একই দূরত্ব হলেও একজন মহিলাকে পুরুষের পূর্বেই বের হতে হয়। আর যদি বৃষ্টি বাদল কিংবা প্রাকৃতিক দুর্যোগ থাকে তবে তো আর কথাই নেই। কিন্তু চাকরি বাঁচাতে হলে তাকে চাকরির ক্ষেত্রে উপস্থিত হতেই হবে। ৪// একজন পুরুষ যেভাবে রিলাক্স মুডে চাকরি স্থলে উপস্থিত হয় তদ্রূপ রিলাক্স মোডে একজন মহিলা চাকরির স্থলে উপস্থিত হওয়া আদৌ সম্ভব নয়। কারণ সে ঘরে রেখে এসেছে হয়তো ছোট বাচ্চাদের অথবা রান্নাবান্না কিংবা অন্য কোন আত্মীয়-স্বজন ইত্যাদি। ৫// বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই চাকরিজীবী মহিলাদের নিজেদের বাজার বা পরিবারের বাজার নিজেদেরই করতে হয়। যেখানে একজন পুরুষ চাকরিজীবীর টার্গেট থাকে চাকরি শেষ করে ঘরে যাওয়ার পূর্বে চা স্টলে বসে বন্ধুবান্ধবদের সাথে আড্ডা মারবে সেখানে একজন মহিলা চাকরিজীবী টার্গেট থাকে দ্রুত ঘরে গিয়ে বাচ্চাদের দেখাশোনা ও তাদের খোঁজ খবর নেবে। ৬// একজন চাকরিজীবী মহিলা বিকেল বেলা কখনোই অবসর থাকতে পারেন না কেননা মূলত সে চাকরির স্থল থেকে ফিরতে ফিরতে বিকেল শেষ হয়ে যায় এবং বাসায় এসে তাকে আরো অনেক কাজ করতে হয় যেমন জামা কাপড় ধোঁয়া, গড় দৌড় পরিষ্কার করা এবং রাতের খাবার তৈরি করা। মূলত পুরুষদের এই সমস্ত কাজ করতে হয় না এবং করার মানসিকতা ও থাকেনা। ৭// যেখানে একজন চাকরিজীবী পুরুষ সন্ধ্যার পর বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দোকানে বা বিভিন্ন জায়গায় বসে আড্ডা দেয়, সেখানে একজন নারী চাকরিজীবী তাদের সন্তানদের লেখাপড়া করানো সহ বাচ্চাদের বিভিন্ন আবদার ও মর্জি জোগাতে ব্যস্ত থাকে। আর শত ইচ্ছা করলেও তারা এই সমস্ত দায়িত্ব গুলো এড়াতে পারে না কারণ এড়ানো সম্ভব নয়। ৮// মহিলাদের কিছু শারীরিক প্রতিবন্ধকতা এবং সমস্যা থাকে। মহিলারা ইচ্ছা করলেই পুরুষদের মত ঝুঁকিপূর্ণ এবং শক্তিমত্তার কাজগুলো করতে পারে না। তাই সব সময় তাদেরকে পুরুষদের শরণাপন্ন হতে হয়। কারণ প্রাকৃতিকতভাবেই আল্লাহ নারীদেরকে অর্ধেক শক্তি দিয়ে তৈরি করেছেন। মহিলাদের কিছু মেয়েলি রোগ ব্যাধি বা সমস্যা থাকে সব সময়। তাছাড়া মেয়েরা গর্ভবতী হয় এবং বাচ্চা বহন করতে হয় পেটে এবং কোলে। বাচ্চাদের বেশিরভাগ আব্দার মা’কে শুনতে হয় অথচ এই ঝামেলা বাবাকে বা পুরুষদের কখনোই পোহাতে হয় না। ৯// একজন পুরুষ ইচ্ছে করলে দৌড়ে অথবা বাসে ঝুলে ঝুলে তার চাকরি ক্ষেত্রে যেতে পারে কিন্তু একজন মহিলা তা পারে না। অথবা একজন পুরুষ তার কর্মক্ষেত্র থেকে রাতে কিংবা যেকোনো সময় ফিরতে পারে কিন্তু ইচ্ছে করলেই এবং শত স্বাধীনতা অথবা সিকিউরিটি থাকা সত্ত্বেও একজন মহিলা তা পারে না। মোটকথা রাস্তায় চলার ও চাকরি করার কিংবা শক্তি সামর্থের কাজ করার অপরচুনিটি সব সময় জন্মগত ও প্রাকৃতিকত ভাবে মহিলাদেরকে পুরুষদের অর্ধেক প্রদান করা হয়েছে, এবং এটা করা হয়েছে আমাদের সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর পক্ষ থেকে। এবং যিনি সৃষ্টি করেছেন তিনি মহিলাদের জন্য তাদের কর্মস্থল নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন #ঘর। আর এই ঘর ছেড়ে যখন মহিলারা বাইরে বেরিয়ে আসলো তখন তারা পুরুষদের দায়িত্ব কাঁদে নেওয়ার সাথে সাথে তাদের ঘরের দায়িত্ব গুলো তাদের কাঁধেই রয়ে গেল। তথাকথিত প্রগতিবাদীরা স্বাধীনতার কথা বলে তাদেরকে দুর্গতির মধ্যে ফেলে দিল। সত্যি কথা বলতে কি আমি আমার স্ত্রীকে সরকারি চাকরি পাওয়া সত্ত্বেও চাকরির করতে যেতে দেইনি আমার নিজের জন্যই। 🟥🟪কারণ 👉👉প্রথমত আমি চাইনা আল্লাহর হুকুম অমান্য করে আমার স্ত্রীকে বেপর্দায় চাকরি ক্ষেত্রে পাঠাতে। কেউ কেউ হয়তো বলবেন যে পর্দা করেও তো চাকরি করা সম্ভব।। মূলত এটি একটি হাস্যকর কথা ছাড়া আর কিছুই নয়। শরীর শুকনা রেখে গোসল করা যেমন সম্ভব নয় তদ্রুপ পর্দার মধ্যে থেকে চাকরি করাও সম্ভব নয়। পর্দা করে চাকরি করা সম্ভব এই জাতীয় প্রতারণামূলক কথা বলে নিজেকে সান্ত্বনা দেওয়া যায় আর মানুষের সাথে তর্ক করা যায় কিন্তু বাস্তবতা বহুদূর।। 👉👉আমি দিনশেষে কাছ থেকে ফিরে আমার স্ত্রীর বিষন্ন মুখ দেখতে এবং অবসন্ন দেহ দেখতে আমি প্রস্তুত নই। 👉👉সুগন্ধ মানুষের কাছে খুবই প্রিয় একটি বস্তু।প্রত্যেক হাজবেন্ড তার প্রিয়জনদের নিকট থেকে সু ব্যবহার এবং সুগন্ধ পেতে চায়। আমি চাইনা আমার স্ত্রীর শরীর থেকে ঘামের দুর্গন্ধ বেরিয়ে আসুক। 👉👉 হাজব্যান্ড ওয়াইফ চাকরি করে এই জাতীয় পরিবারের মধ্যে সুখ শান্তি খুব কমই থাকে। টাকা পয়সা থাকতে পারে কিন্তু সুখ থাকে না। সুখ থাকবে কি করে?? মানুষ তো আর মেশিন নয় যে নতুন একটা পার্টস লাগিয়ে দিলে সে আগের মতই চলবে। 👉👉 রাত দিন 24 ঘন্টা এভাবে সংসার সন্তান আর চাকরি নিয়ে টানাটানি করার দরুন একজন নারী শারীরিক স্বাস্থ্যের সাথে সাথে মানসিক স্বাস্থ্য হারিয়ে ফেলে ফলে মেজাজ হয়ে যায় খিটখিটে। আর এই জন্যই দেখা যায় যে চাকরিজীবী মহিলাদের হাজবেন্ড বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পরকীয়ায় লিপ্ত হয়। কারণ স্থির নিকট থেকে যেভাবে রেসপন্স পাওয়ার কথা ওইভাবে সে পায় না কারণ চাকরি করার ফলে তা সম্ভব নয়। তাই চাকরিজীবী মহিলাদের হাজবেন্ড বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পরকীয়ায় লিপ্ত হয়ে পরে। 👉👉 ইসলাম মহিলাদেরকে চাকরি করার এবং ব্যবসা-বাণিজ্য করার সুযোগ দিয়েছেন। কিন্তু মনে রাখতে হবে ইসলাম নারীদেরকে জামাতে নামাজ পড়ার সুযোগ দিয়েছে মসজিদে গিয়ে। ঠিক সেভাবেই নারীদেরকে আবার বলেছে যে মসজিদে নামাজ পড়ার চেয়ে ঘরের কোনে নামাজ পড়া সবচেয়ে বেশি নেকির কাজ। নারীর অবশ্যই চাকরি করবেন যেখানে নারীদের অবস্থান এবং নারী ছাড়া যাদের চলবে না। বিশেষ করে হাসপাতালগুলোতে ফিফটি পার্সেন্ট নারীর চিকিৎসা দিবেন নারীরাই তাই নারী ডাক্তারের প্রয়োজনীয়তা আছে ৭০ থেকে ৮০%। কেননা নারীদের সাথে সাথে বাচ্চাদের চিকিৎসা ও নারীরাই দেবেন এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু আমাদের দেশে যেভাবে নারীরা রাস্তাঘাটে কাজ করা থেকে শুরু করে পল্লী বিদ্যুতের পিলারে ওঠে লাইন লাগানোর কাজ করা ও শুরু করেছেন তাতে মনে হয় যে পুরুষদের আর কাজ করতেই হবে না। 😭🤣 সারা জীবন শুধু নারীরা সংগ্রাম করে যাবে সম অধিকারের জন্য অথচ ইসলাম তাদের যে অগ্রাধিকার দিয়েছে তা ভুলে গিয়ে তারা সম অধিকারের জন্য ব্যস্ত হয়ে ডাবল কাজ করার দায়িত্ব নিজেরাই নিজেদের কাঁধে নিয়েছেন। 👉👉 শহরের দিকে অথবা এখন গ্রামেগঞ্জেও নারীরা কর্মক্ষেত্রে চলে যাওয়ার দরুন বাচ্চাকাচ্চা মানুষ হচ্ছে অশিক্ষিত অর্ধশিক্ষিত ও আনকালচার্ড কাজের মহিলাদের হাতে। এবং সেই কাজের মহিলাদের নিকট থেকে বাচ্চা শিখছে আচার-আচরণ এবং কথা বলা। অথচ বাচ্চাদের প্রথম এবং সর্বোত্তম শিক্ষক হলো তার মা। মূলত আল্লাহর হুকুম লংঘন করে যারা যত বেশি উপরে উঠতে চায় মূলত তারা তত বেশি নিছে পতিত হয়।
আল্লাহ সকলকে ভাল রাখুন সুস্থ রাখুন এবং সঠিক জিনিসটি সঠিকভাবে বুঝার তৌফিক দান করুন আমিন।
সমাজে যেসব পাপের প্রচলন সবচেয়ে বেশী তন্মধ্যে গীবত অন্যতম। এই পাপটি নীরব ঘাতকের মতো। বান্দার অজান্তেই এটা তার নেকীর ভান্ডার নিঃশেষ করে দেয় এবং তাকে জাহান্নামের আগুনে নিক্ষেপ করে ছাড়ে। এটি চুরি-ডাকাতি, সূদ-ঘুষ, যিনা-ব্যভিচার ও মরা মানুষের পঁচা গোশত খাওয়ার চেয়েও মারাত্মক ও নিকৃষ্ট। কিন্তু অবাক করা ব্যাপার হ’ল এই জঘন্য পাপটি মানুষ হরহামেশাই করে থাকে। চায়ের আসর থেকে শুরু করে সোশাল মিডিয়া ও স্বাভাবিক আলাপচারিতায় এটা অনেকের স্বভাবসুলভ আচরণে পরিণত হয়ে গেছে। আরো আশ্চর্যের ব্যাপার হচ্ছে আল্লাহর ঘর মসজিদে বসেও অনেকে এই গর্হিত পাপ করতে কুণ্ঠিত হয় না। সমাজের পরিচিত নেককার বান্দাদের মধ্যেও খুব কম মানুষই গীবতের এই নোংরা পাপ থেকে বাঁচতে পারে। নবী-রাসূল ছাড়া পৃথিবীর কোন মানুষই দোষ-ত্রুটি ও ভুলের ঊর্ধ্বে নয়। কিন্তু ইসলাম সেই ত্রুটি-বিচ্যুতি নিয়ে আলাপ-আলোচনা করাকে হারাম ঘোষণা করেছে। এমনকি সেই দোষচর্চা শ্রবণ করাকেও নিষিদ্ধ করেছে।
🟥🟪গীবতের পরিচয়
‘গীবত’ (الغِيْبَةُ) আরবী শব্দ। যার আভিধানিক অর্থ হ’ল- পরনিন্দা করা, দোষচর্চা করা, কুৎসা রটনা, পেছনে সমালোচনা করা, দোষারোপ করা, কারো অনুপস্থিতিতে তার দোষগুলো অন্যের সামনে তুলে ধরা। [ ইবনু ফারেস, মু‘জামু মাক্বাঈসিল লুগাহ, ৪/৪০৩; ড. মুহাম্মদ ফজলুর রহমান, মু‘জামুল ওয়াফী, পৃ. ৭৪০। ]
গীবতের পারিভাষিক অর্থ রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর ভাষায় অত্যন্ত সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে। আবূ হুরায়রা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন :- ‘তোমরা কি জান গীবত কী? ছাহাবীগণ বললেন, ‘(এ ব্যাপারে) আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভাল জানেন’। তখন রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বললেন :- ‘‘(গীবত হচ্ছে) তোমার ভাইয়ের ব্যাপারে এমন কিছু বলা, যা সে অপসন্দ করে’। জিজ্ঞেস করা হ’ল- ‘আমি যা বলছি, তা যদি আমার ভাইয়ের মধ্যে থাকে, তাহ’লে আপনার অভিমত কি? তিনি বললেন :- ‘তুমি তার (দোষ-ত্রুটি) সম্পর্কে যা বলছ, সেটা যদি তার মধ্যে থাকে, তাহ’লে তুমি তার গীবত করলে। আর যদি সেই (ত্রুটি) তার মধ্যে না থাকে, তাহ’লে তুমি তার প্রতি অপবাদ আরোপ করলে’।[ মুসলিম হা/২৫৮৯; আবূদাঊদ হা/৪৮৭৪; তিরমিযী হা/১৯৩৪ ]
ইমাম মুহিউদ্দীন নববী (রহঃ) বলেন, ‘গীবত হচ্ছে মানুষের মধ্যে বিদ্যমান দোষ-ত্রুটি নিয়ে আলোচনা করা, যা সে অপসন্দ করে। চাই সেই দোষ-ত্রুটির সম্পর্ক তার দেহ-সৌষ্ঠব, দ্বীনদারিতা, দুনিয়া, মানসিকতা, আকৃতি, চরিত্র, ধন-সম্পদ, সন্তান-সন্ততি, পিতামাতা, স্ত্রী, চাকর-বাকর, পাগড়ি, পোষাক, চলাফেরা, ওঠা-বসা, আনন্দ-ফুর্তি, চরিত্রহীনতা, রূঢ়তা, প্রফুল্লতা-স্বেচ্ছাচারিতা বা অন্য যেকোন কিছুর সাথেই হোক না কেন। এসবের আলোচনা আপনি মুখে বলে, লিখে, আকার-ইঙ্গিতে, চোখের ইশারায়, হাত দিয়ে, মাথা দুলিয়ে বা অন্য যেকোন উপায়েই করুন না কেন, তা গীবত’। [ নববী, আল-আয্কার, পৃ. ৩৩৬।]
গীবতের কতিপয় পরিভাষা :
হাসান বাছরী (রহঃ) বলেন, ‘গীবতের তিনটি ধরন আছে। যার প্রত্যেকটি আল্লাহর কিতাব কুরআনে উল্লেখিত হয়েছে-
১. গীবত (পরনিন্দা) : গীবত হচ্ছে তোমার ভাইয়ের ব্যাপারে এমন কিছু দোষ-ত্রুটির কথা বলা, যা বাস্তবেই তার মাঝে বিদ্যমান আছে।
২. ইফ্ক (মিথ্যা রটনা) : তোমার কাছে কারো দোষ-ত্রুটির ব্যাপারে যে সংবাদ পৌঁছেছে, সেটা বলে বেড়ানো বা যাচাই না করে অন্যকে বলে দেওয়া। (যেমন- মা আয়েশা (রাঃ)-এর ব্যাপারে ঘটেছিল)।
৩. বুহতান (অপবাদ) : রাসূলের উক্তি তোমার ভাইয়ের ব্যাপারে এমন কিছু বলা, যা তার মাঝে নেই’। [ তাফসীরে কুরতুবী, ১৬/৩৩৫; মাওসূ‘আতুল আখলাক্ব, ২/৪০১]
তবে গীবতের আরো কিছু পরিভাষা আছে। যা পবিত্র কুরআন ও ছহীহ হাদীছে বর্ণিত হয়েছে। যেমন-
৪. নামীমাহ (চোগলখুরী) : পরস্পরের মাঝে ফাসাদ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে একজনের কথা অরেকজনকে বলা। এটাকে নামীমাহ বা চোগলখুরী বলা হয়। [ইবনে মানযূর, লিসানুল আরব ১২/৫৯২; ইবনুল আছীর, আন-নিহায়াহ ফী গারীবিল হাদীছ, ৫/২৫৬।] ইবনু হাজার (রহঃ) বলেন, ‘অনেকে ইখতিলাফ করেন যে, ‘গীবত’ ও ‘নামীমাহ’ কি একই জিনিস নাকি ভিন্ন কিছু? এ ব্যাপারে সঠিক কথা হ’ল উক্ত দুই পরিভাষার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। ‘নামীমাহ’ হ’ল ফাসাদ সৃষ্টি করার মানসিকতা নিয়ে একজনের অপসন্দনীয় কথা অন্যকে বলে দেওয়া, সেটা জেনে হোক বা না জেনে হোক। আর ‘গীবত’ হ’ল কারো অনুপস্থিতিতে তার দোষ-ত্রুটি বর্ণনা করা, যা সে অপসন্দ করে। এখানে সূক্ষ্ম পার্থক্য হ’ল- ‘নামীমাহ’-তে দ্বন্দ্ব বা অশান্তি সৃষ্টি করার হীন উদ্দেশ্য থাকে। কিন্তু ‘গীবতে’ সেই উদ্দেশ্য নাও থাকতে পারে’।[ফাৎহুল বারী ১০/৪৭৩।]
৬. হুমাযাহ ও লুমাযাহ : পবিত্র কুরআনের ‘সূরা হুমাযাহ’-তে এই দু’টি পরিভাষা ব্যবহার করা হয়েছে। ‘হুমাযাহ’ শব্দের অর্থ হ’ল ‘সম্মুখে নিন্দাকারী’। আর ‘লুমাযাহ’ শব্দের অর্থ হ’ল ‘পিছনে নিন্দাকারী’। আবুল ‘আলিয়াহ, হাসান বাছরী, রবী‘ বিন আনাস, মুজাহিদ, আত্বা প্রমুখ বিদ্বান বলেন:-، ‘হুমাযাহ’ হ’ল সেই ব্যক্তি, যে মানুষের মুখের উপর নিন্দা করে এবং দোষারোপ করে। আর ‘লুমাযাহ’ হ’ল সেই ব্যক্তি যে পিছনে তার অনুপস্থিতিতে নিন্দা করে’।[তাফসীরে কুরতুবী, ২০/১৮১।]
৭. শাত্ম : ‘শাত্ম’-এর অর্থ হ’ল- তিরস্কার করা, ভৎর্সনা করা, গালি দেওয়া, ব্যঙ্গ করা, কটূক্তি করা। অর্থাৎ সত্য কথার বিপরীতে কারো দোষ-ত্রুটি বর্ণনা করা, সেটা নিয়ে ঠাট্টা করা বা কটূক্তি করাকে ‘শাত্ম’ বলা হয়।[ আব্দুর রঊফ মুনাভী, আত-তাওক্বীফ, পৃ.২৫৪; নাযরাতুন নাঈম, ১১/৫১৬৩।]
সাধারণ মানুষকে নিয়ে কটূক্তি করলে সেটা মহাপাপ। কিন্তু রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-কে নিয়ে যদি কেউ কটূক্তি করে, তাহ’লে তাকে হত্যা করা অপরিহার্য। এ ব্যাপারে পৃথিবীর সকল মাযহাবের সকল আলেম একমত। রাসূলকে নিয়ে ব্যঙ্গকারীকে ‘শাতিমুর রাসূল’ বলা হয়। [এ ব্যাপারে ইমাম ইবনে তাইমিয়াহ রচিত ‘আছ-ছামিরুল মাসলূল ‘আলা শাতিমির রাসূল’ গ্রন্থে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।]
১. জিহবার গীবত : গীবতের সবচেয়ে বড় মাধ্যম হ’ল জিহবা। আলাপচারিতা, কথা-বার্তা ও বক্তৃতায় যবানের মাধ্যমে সবচেয়ে বেশী গীবত হয়। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন :- নিশ্চয়ই বান্দা কখনো কখনো এমন কথা বলে ফেলে, যার পরিণাম সে চিন্তা করে না। অথচ এ কথার মাধ্যমে সে জাহান্নামের গভীরে নিক্ষিপ্ত হবে, যার দূরত্ব পূর্ব-পশ্চিমের দূরত্বের সমপরিমাণ’।[ বুখারী হা/৬৪৭৭; মুসলিম হা/২৯৮৮।] অন্যত্র তিনি বলেন:- ” বান্দা কখনো আল্লাহর অসন্তুষ্টিমূলক এমন কথা বলে ফেলে, যার গুরুত্ব সে নিজেও উপলব্ধি করতে পারে না। অথচ এ কারণে সে জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে’।[বুখারী হা/৬৪৭৮; মিশকাত হা/৪৮১৩। ] আল্লাহর কিতাব ও রাসূলকে নিয়ে উপহাস করা, গীবত পরনিন্দা বা চোগলখুরি, গালি দিয়ে মুসলিমকে কষ্ট দেওয়াসহ প্রভৃতি কথার মাধ্যমে বান্দা গুরুতর পাপ করে ফেলে। তাই জিহবার হেফাযত অত্যন্ত যরূরী।[আব্দুল আযীয রাজেহী, তাওফীকুর রাবিবল মুন‘ইম ৮/৪২০]
২. অন্তরের গীবত : কুধারণা, হিংসা, অহংকার এবং কেউ গীবত করলে সেটা অন্তর দিয়ে মেনে নেওয়া বা তা সমর্থন করার মাধ্যমে অন্তরের গীবত হয়। ইবনে হাজার হায়তামী (রহঃ) বলেন, ‘অন্তরের গীবত হচ্ছে কারো ব্যাপারে মন্দ ধারণা পোষণ করা’।[হায়তামী, আয-যাওয়াজির আন ইক্বতিরাফিল কাবায়ের ২/২৮ ] ইমাম মাক্বদেসী (রহঃ) বলেন, بالمسلمين، ‘মুসলিমদের ব্যাপারে খারাপ ধারণা করার মাধ্যমে অন্তরের গীবত সংঘটিত হয়’। [নাজমুদ্দীন আল-মাক্বদেসী, মুখতাছার মিনহাজিল ক্বাছেদীন, পৃ.১৭২ ] ইমাম গাযালী বলেন, মুখের ভাষায় গীবত বা পরনিন্দা করার ন্যায় মনে মনে কুধারণা পোষণ করাও হারাম। অর্থাৎ ভাষার ব্যবহারে কারো গীবত করা যেমন হারাম, অনুরূপভাবে মনে মনে কাউকে খারাপ বলা বা খারাপ ধারণা করাও হারাম’। [ গাযালী, ইহ্য়াউ উলূমিদ্দীন, ৩/১৫০ ]
মহান আল্লাহ বলেন :- ‘হে বিশ্বাসীগণ! তোমরা অধিক ধারণা হ’তে বিরত থাক। নিশ্চয়ই কিছু কিছু ধারণা পাপ। আর তোমরা ছিদ্রান্বেষণ কর না এবং পরস্পরের পিছনে গীবত কর না’ (হুজুরাত ৪৯/১২)। ]
৩. ইশারা-ইঙ্গিতের গীবত : কখনো কখনো চোখ, হাত ও মাথার ইশারার মাধ্যমেও গীবত হয়ে থাকে। আয়েশা (রাঃ) বলেন:- ‘একজন খাটো মহিলা (আমাদের ঘরে) প্রবেশ করলেন। তখন রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বসেছিলেন। আমি আমার বৃদ্ধাঙ্গুলি দিয়ে রাসূল (ছাঃ)-এর দিকে এভাবে ইশারা করে বললাম, أَنَّهَا قَصِيرَةٌ ‘সে তো বেঁটে মহিলা’। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বললেন, ‘তুমি তো তার গীবত করে ফেললে’।[মুসনাদে আহামাদ হা/২৫৭০৮; ইবনু আবীদ্দুনইয়া, যাম্মুল গীবাত ওয়ান নামীমাহ, হা/৭০; পৃ.২৪, সনদ হাসান ]
অপর বর্ণনায় সেই আগন্তুক মহিলার পরিচয় দেওয়া হয়েছে। হুযাইফা (রাঃ) বলেন, আয়েশা (রাঃ) বলেছেন, আমি নবী করীম (ছাঃ)-কে বললাম, قَصِيرَةً، ‘ছাফিইয়াহ (রাঃ)-এর ব্যাপারে এতটুকুই বলা যথেষ্ট যে, তিনি এরূপ অর্থাৎ খাটো প্রকৃতির। তিনি বললেন,، ‘তুমি এমন একটি কথা বলেছ, যদি তা সমুদ্রে মিশিয়ে দেওয়া হয়, তবে সমুদ্রের পানির রং পাল্টে যাবে’। আয়েশা (রাঃ) বলেন :- ‘(আরেক দিন) আমি এক ব্যক্তিকে অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে নকল করলাম। তিনি বললেন, আমাকে এতো এতো সম্পদ দেওয়া হ’লেও আমি কারো অনুকরণ পসন্দ করবো না’।[আবূদাঊদ হা/ ৪৮৭৫; তিরমিযী হা/২৫০২, সনদ ছহীহ ]
ইবনু হাজার আসকালনী (রহঃ) বলেন, ‘আয়েশা (রাঃ) গীবত করার উদ্দেশ্যে ছাফিয়্যা (রাঃ)-এর দোষ বর্ণনা করেননি; বরং বৈশিষ্ট্য তুলে ধরে তার ব্যাপারে খবর দেওয়াই ছিল মূল উদ্দেশ্য। তথাপি সেটা গীবতের পর্যায়ভুক্ত ছিল’।[আসকালানী, ফাৎহুল বারী ১০/৪৬৯]
সুতরাং গীবতের প্রকাশ হচ্ছে সেই দোষ বর্ণনা দেওয়ার মতোই। সংকেত, অঙ্গভঙ্গি, চোখ টেপা, ইশারা-ইঙ্গিত এবং অপরকে হেয় করা বুঝায় এমন প্রত্যেক কিছুই গীবতের অন্তর্ভুক্ত। অপরদিকে গীবতকে সমর্থন দেওয়াও গীবত। কেননা গীবত শ্রবণকারীও গীবতের দায় এড়াতে পারবে না, যদি না সে অন্তর দিয়ে সেটা প্রত্যাখ্যান করে এবং মুখের ভাষায় সেটার প্রতিবাদ করে। [তাহানাওয়ী, কাশ্শাফু ইছত্বিলাহাতিল ফুনূন ওয়াল উলূম ২/১২৫৬ ]
৪. লেখার মাধ্যমে গীবত : মানুষের মনের ভাব ও মতামত প্রকাশের একটি বড় মাধ্যম হ’ল লেখা। ড. সাঈদ ইবনে ওয়াহফ আল-কাহত্বানী (রহঃ) বলেন, ‘গীবত শুধু মুখের ভাষার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বরং গীবতকারী যে কোন মাধ্যমে অপরের কুৎসা রটাতে পারেন। হ’তে পারে সেটা ইশারা-ইঙ্গিত, কাজ-কর্ম, অঙ্গ-ভঙ্গি, ভেংচানো, খোঁটা দেওয়া ও লেখালেখির মাধ্যমে অথবা যার নিন্দা করা হচ্ছে তিনি অপসন্দ করেন এমন যে কোন মাধ্যমে’। [কাহত্বানী, আফাতুল লিসান, পৃ. ৯।]
গীবতের ধরনসমূহ :
গীবত বলা হয় অপরের এমন সমালোচনা, যা শুনলে তার খারাপ লাগবে বা মন খারাপ হবে। এই সমালোচনা অন্যের দৈহিক ত্রুটি, বংশগত দোষ, চারিত্রিক ত্রুটি, কাজ-কর্ম, পোষাক-পরিচ্ছদ, ঘর-বাড়ি, গাড়ি-ঘোড়া সম্পর্কিত দোষ হ’লেও তা গীবত। গীবতের রকমভেদ সম্পর্কে বিভিন্ন গ্রন্থে বর্ণনা এসেছে। এখানে ইমাম নববী (রহঃ)-এর ‘আল-আযকার’, ইমাম গাযালী (রহঃ)-এর ‘ইহয়াউ উলূমিদ্দীন’ এবং ‘মাওসূ‘আতুল আখলাক্ব’ থেকে একত্রে এবং সংক্ষিপ্তাকারে গীবতের ধরনগুলো তুলে ধরা হ’ল।-
১. শারীরিক গঠন বা অবয়বের গীবত : যেমন তাচ্ছিল্য করে বলা হয়- কানা, খোঁড়া, ল্যাংড়া, লম্বু, খাটো, বাঁটু, কালা, হলদে, ধলা, অন্ধ, ট্যারা, টেকো মাথা, চোখে ছানি পড়া, ঠোঁট মোটা, কান ছোট, নাক বোঁচা, ঠসা প্রভৃতি। উদ্দিষ্ট ব্যক্তি যদি এগুলো অপসন্দ করেন, তবে সেটা গীবত হয়ে যাবে।
৩. বংশের গীবত : যেমন অবজ্ঞা করে বলা- অজাত, ছোটলোক, নিগ্রো, মুচি, চামার, মেথর, কাঠমিস্ত্রি, ভ্যানচালক, কামার, তাঁতি, পাঠান, বিহারী, বাঙ্গাল প্রভৃতি। বংশের দিকে বা পিতামাতার দিকে সম্বন্ধ করে অপসন্দনীয় যাই বলা হবে, সেটাই গীবত।
৪. পোষাক-পরিচ্ছদের গীবত : যেমন কারো পোষাক সম্পর্কে বলা, চওড়া আস্তিন, দীর্ঘ অাঁচল, নোংরা পোষাক পরিধানকারী, লম্বা আঁচলওয়ালী ইত্যাদি।
৫. পরোক্ষ গীবত : পরোক্ষ গীবত বলতে এমন পরনিন্দাকে বুঝায়, যা সরাসরি না বলে ভিন্ন আঙ্গিকে বলা হয়ে থাকে। নিমেণ তার কয়েকটি উদাহরণ দেওয়া হ’ল-
কোন ব্যক্তির প্রসঙ্গ বলতে বলতে বা শুনতে শুনতে বলা- ‘আল্লাহ তার নির্লজ্জতা থেকে পানাহ দিন’ অথবা ‘গোমরাহী থেকে পানাহ চাই’ ইত্যাদি বলা। মূলতঃ এভাবে বলে আলোচিত ব্যক্তির নির্লজ্জতা ও গোমরাহীর কথা উল্লেখ হয়ে থাকে।
‘কিছু লোক এই করে’ বা ‘কিছু মানুষ এই বলে’ বলা। এই ‘কিছু’ শব্দের মাধ্যমে সম্বোধিত ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট করে বুঝানো হয়, তাহ’লে সেটা গীবত।
‘অমুক পন্ডিত’, ‘অমুক ছাহেব’, ‘অমুক নেতা’ ইত্যাদি তাচ্ছিল্যের সাথে বলা। অর্থাৎ দোষ বা ত্রুটি বর্ণনার সময় সম্বোধিত ব্যক্তির নাম উল্লেখ না করলেও শ্রোতা বুঝে নিতে পারে কাকে উদ্দেশ্য করে এই কথাগুলো বলা হচ্ছে।
পরোক্ষ গীবতের এরকম আরো অনেক উদাহরণ আছে। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ এগুলোকে গীবত মনে করে না। অথচ এগুলোও সর্বনাশা গীবত।
গীবতের প্রকারভেদ
ণ্ঠ
ওলামায়ে কেরামের পরিভাষায় গীবত মূলতঃ তিন প্রকার।
১. হারাম গীবত : কারো অনুপস্থিতিতে তার দোষ-ত্রুটির বর্ণনা দেওয়া, যেটা সে পসন্দ করে না। এটা হারাম গীবত।
২. ওয়াজিব গীবত : মুসলিম সমাজকে বা ব্যক্তিকে সতর্ক ও সাবধান করার জন্য দোষ-ত্রুটি বর্ণনা করা ক্ষেত্রবিশেষে ওয়াজিব। যেমন- ইলমুল জারাহ ওয়াত তা‘দীলের ক্ষেত্রে যদি মুহাদ্দিছগণ রাবীদের দোষ-ত্রুটি বর্ণনা না করতেন, তাহ’লে ছহীহ-যঈফ, গ্রহণযোগ্য-অগ্রহণযোগ্য হাদীছসমূহের মান নির্ধারণ করা কখনোই সম্ভব হ’ত না। তাই এক্ষেত্রে দোষ বর্ণনা করা ওয়াজিব। অনুরূপভাবে বিবাহ-শাদীর ক্ষেত্রে যদি বর বা কনে সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়, তাহ’লে তাদের দোষ-ত্রুটি স্পষ্টভাবে বলে দেওয়া ওয়াজিব। কারণ দোষ বর্ণনা না করলে জিজ্ঞেসকারীকে ধোঁকা দেওয়া হবে। কোন ব্যক্তি যদি খিয়ানতকারী অসৎ লোকের সাথে ব্যবসা করতে চায়, সেই ব্যক্তিকে সতর্ক করার জন্য ঐ অসৎ লোকের দোষ বর্ণনা করা ওয়াজিব। কারণ সে না জেনে না বুঝে তার সাথে ব্যবসা করে ধোঁকায় পড়তে পারে। তাই তাকে সাবধান করা অপরিহার্য। এভাবে আরো কিছু ক্ষেত্র আছে, যেখানে দোষ বর্ণনা করা হারাম নয়; বরং তখন দোষ বর্ণনা করা অপরিহার্য হয়ে যায়।
৩. মুবাহ বা জায়েয গীবত : যদি নিন্দা করার পিছনে যুক্তিসঙ্গত বা শরী‘আত সম্মত কোন কারণ থাকে, তবে সেই গীবত করা মুবাহ বা জায়েয। যেমন- যুলুমের বিচার প্রাপ্তির জন্য শাসকের কাছে নালিশ করার সময় গীবত করা। কোন ব্যক্তি যদি মযলূম হয়ে বিচারকের কাছে গিয়ে বলে, ‘অমুক ব্যক্তি আমার টাকা আত্মসাৎ করেছে, আমার প্রতি যুলুম করেছে, আমার বাড়িতে চুরি করেছে ইত্যাদি। তবে এটা হারাম গীবতের অন্তর্ভুক্ত হবে না। অনুরূপভাবে আলেম বা মুফতীর কাছে কোন বিষয়ে ফৎওয়া নেওয়ার জন্য অন্যায়কারীর গীবত করা জায়েয। অবজ্ঞা করার উদ্দেশ্য না করে স্রেফ পরিচয় দেওয়ার জন্য কারো ত্রুটি বর্ণনা করা জায়েয। যেমন- কানা, কালো, খোড়া ইত্যাদি।
গীবতের বিধান
গীবত করার বিধান দুই ভাগে বিভক্ত। (১) গীবত করার বিধান। (২) গীবত শোনার বিধান।
১. গীবত করার বিধান :
গীবত একটি জঘন্য পাপ। গীবতের মাধ্যমে হাক্কুল ইবাদ বা বান্দার অধিকার ক্ষুণ্ণ হয়। মহান আল্লাহ বলেন:- ‘হে বিশ্বাসীগণ! তোমরা অধিক ধারণা হ’তে বিরত থাক। নিশ্চয়ই কিছু কিছু ধারণা পাপ। আর তোমরা ছিদ্রান্বেষণ কর না এবং পরস্পরের পিছনে গীবত কর না। তোমাদের কেউ কি তার মৃত ভাইয়ের গোশত খেতে পসন্দ করে? বস্ত্ততঃ তোমরা সেটি অপসন্দ করে থাক। তোমরা আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বাধিক তওবা কবুলকারী ও পরম দয়ালু’ (হুজুরাত ৪৯/১২)।
ইমাম হায়তামী বলেন, অত্র আয়াত ও অসংখ্য ছহীহ হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত যে, গীবত করা কবীরা গুনাহ’।[হায়তামী, আয-যাওয়াখের ‘আন ইক্বতিরাফিল কাবায়ের, পৃ. ৩৭১ ]
রাসূল (ছাঃ) বলেন:- ‘যে ব্যক্তি কোন মুসলমানের গীবতের বিনিময়ে এক গ্রাসও খাদ্য ভক্ষণ করবে, আল্লাহ তাকে সমপরিমাণ জাহানণামের আগুন ভক্ষণ করাবেন। আর যে ব্যক্তি কোন মুসলমানকে অপমান করার মাধ্যমে কোন কাপড় পরিধান করবে, আল্লাহ তাকে সমপরিমাণ জাহানণামের আগুন পরিধান করাবেন। আর যে ব্যক্তি কাকেও হেয় প্রতিপন্ন করে লোকদের নিকট নিজের বড়ত্ব যাহির করে এবং শ্রেষ্ঠত্ব দেখায়, ক্বিয়ামতের দিন আল্লাহ স্বয়ং ঐ ব্যক্তির শ্রুতি ও রিয়া প্রকাশ করে দেবার জন্য দন্ডায়মান হবেন’।[আবুদাঊদ হা/৪৮৮১; মিশকাত হা/৫০৪৭ ‘শিষ্টাচার সমূহ’ অধ্যায়; ছহীহাহ হা/৯৩৪।]
আমর ইবনুল আছ একদিন একটা মরা গাধার পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন। গাধাটির দিকে ইশারা করে তার সাথীদের বললেন:- ، ‘একজন মুসলিমের গোশত খাওয়া বা গীবত করার চেয়ে কোন মানুষের জন্য এই (মরা গাধার) গোশত খেয়ে পেট ভর্তি করা উত্তম’।[ছহীহুত তারগীব হা/২৮৩৮; সনদ ছহীহ।]
ইবনু হাজার আসক্বালানী (রহ.) বলেন, ‘অত্র হাদীছ এটা প্রমাণ করে যে, গীবত করা কবীরা গুনাহ’।[ফাৎহুল বারী ১০/৪৭০।]
গীবতকারীরা এই ঘৃণ্য পাপের কারণে সে পরকালেও ভয়াবহ শাস্তির সম্মুখীন হবে।[আবূদাঊদ হা/৪৮৭৮; মিশকাত হা/৫০৪৬; সনদ ছহীহ।]
সালাফে ছালেহীন এই পাপকে এত বেশী ভয় করতেন যে, পরনিন্দা করা তো দূরের কথা, যারা পরনিন্দা করে তাদেরকেও ভয় করতেন, যেন তাদের সাথে মিশে এই পাপে না জড়িয়ে পড়েন। আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারক (রহঃ) বলেছেন, ‘তুমি বাঘ থেকে যেভাবে পলায়ন কর, গীবতকারী থেকে সেভাবে পালিয়ে যাও’।[আর-রিসালাতুল কুশাইরিয়্যাহ ১/২৯২।]
২. গীবত শোনার বিধান :
গীবত করা যেমন মহাপাপ তেমনি খুশি মনে পরনিন্দা শোনাও পাপ। মহান আল্লাহ মুমিনদের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করে বলেন, ‘তারা যখন অসার বাক্য শ্রবণ করে তখন যেন তা উপেক্ষা করে’ (ক্বাছাছ ২৮/৫৫)।
ওলামায়ে কেরাম বলেন :- ، ‘গীবত শোনা এবং এর দিকে কান পেতে থাকা বৈধ নয়। গীবতকারী এবং গীবত শ্রবণকারী উভয়ই সমান পাপী’।[মাওসূ‘আতুল আখলাক্ব ২/৪০৭।]
আপডেট: ০১৩৭ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০১৯
ইমাম নববী (রহঃ) বলেন :- উপরে মানুষের দোষ-ত্রুটির বর্ণনা দেওয়া যেমন হারাম, ঠিক তেমনি সেটার নিন্দা শ্রবণ করা এবং তার স্বীকৃতি দেওয়াও হারাম’।[নববী, আল-আযকার, পৃ.২৯১।]
তিনি বলেন :- ، ‘গীবত শ্রবণকারীর কর্তব্য হ’ল নিন্দাকারীকে প্রতিহত করা এবং তাকে ধমক দেওয়া। যদি কথার মাধ্যমে বিরত না রাখতে পারে, তবে হাত দিয়ে বাধা দিবে। যদি হাত বা মুখ দিয়ে বাধা দিতে না পারে, তাহ’লে সেই মজলিস পরিত্যাগ করবে। আর বয়স্ক লোক, বাধা দেওয়ার অধিকার আছে এমন ব্যক্তি, গণ্য-মান্য লোকের গীবত শোনার ব্যাপারে আলোচিত পরিস্থিতির চেয়ে আরো সজাগ-সতর্ক থাকতে হবে’।[আল-আযকার, পৃ. ২৯৪।]
সালাফগণ গীবতের ব্যাপারে এতটাই কঠোর ছিলেন যে, কোন বৈঠকে কারো নিন্দা করা হ’লে সেই বৈঠকই পরিত্যাগ করতেন। ইবরাহীম ইবনে আদহাম (রহ.) দাওয়াতের মেহমান হয়ে এক খাবার মজলিসে হাযির হ’লেন। লোকজন বলল, ‘অমুক ব্যক্তি এখনো আসেনি’। একজন বলে উঠল, ‘সে একটু অলস প্রকৃতির লোক’। তখন ইবরাহীম (রহ.) বললেন, ‘যে বৈঠকে বসলে আমার মাধ্যমে কোন মুসলিম ভাইয়ের গীবত হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে, এমন মসলিসে উপস্থিত থাকা আমার জন্য সমীচীন নয়’। একথা বলে তিনি না খেয়েই সেখান থেকে উঠে চলে গেলেন।[সামারকান্দী, তাম্বীহুল গাফেলীন, পৃ. ১৬৬]য়
যেসব মানুষের গিবত করা যায়
প্রশ্ন: কোনো ব্যক্তি যদি এমন হয় যে ধর্মীয় ক্ষেত্রে মানুষ তাকে অনুসরণ করে, অথচ তার চিন্তাচেতনার মধ্যে ভ্রান্তি আছে, এমন ব্যক্তির অনিষ্টতা ও ভ্রান্তি বিষয়ে তুলে ধরা কি গিবত হবে?
উত্তর: কোনো ব্যক্তি যদি ধর্মীয় ক্ষেত্রে মানুষের কাছে অনুসরণীয় ব্যক্তি হয়, আর তার দৃষ্টিভঙ্গি ও চিন্তাচেতনা ভ্রান্ত হয়, তাহলে মানুষের সামনে তার ভ্রান্ত চিন্তা তুলে ধরা যাবে, যাতে মানুষ ওই ব্যক্তির বিভ্রান্তিপূর্ণ চিন্তাচেতনার শিকার হয়ে পথভ্রষ্ট না হয়। এটা শরিয়তের দৃষ্টিতে গিবত হবে না।
ইমাম নববী (রহ.) ‘রিয়াজুস সালেহিন’ কিতাবে এবং ইমাম গাজ্জালি (রহ.) ‘ইহইয়া’ কিতাবে লিখেছেন, ধর্মীয় উদ্দেশ্যে একজন মৃত বা জীবিত ব্যক্তির গিবত করা বৈধ, বিশেষত যখন এ ছাড়া বিকল্প কোনো পথ থাকে না।আর ছয় স্থানে এই বৈধতা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে চতুর্থ নম্বর হলো, কোনো ব্যক্তির অনিষ্ট থেকে মুসলমানদের হেফাজত করা এবং তাদের নসিহত করা।আর পঞ্চম নম্বর হলো, যদি সেই ব্যক্তি নিজেই নিজের বিদআত প্রকাশ করে, তাহলে শুধু ততটুকুই মানুষের সামনে বলা যাবে, যতটুকু ওই ব্যক্তি প্রকাশ করেছে। এর বেশি তার কোনো দোষত্রুটি নিয়ে আলোচনা করবে না।এ ছাড়া এ বিষয়ে প্রমাণ রয়েছে, মাওসুয়াহ ফিকহিয়া কুয়েতিয়্যাহর ৩১ নম্বর খণ্ডের ৩৩৫ ও ৩৩৬ পৃষ্ঠায়। আদুররুল মুখতারেও এ সম্পর্কিত প্রমাণ রয়েছে। (খণ্ড : ৯, পৃষ্ঠা-৫৮৬ ও ৫৮৬, মাকতাবায়ে জাকারিয়া, দেওবন্দ)
ফকিহ আবুল লাইস সমরকন্দি ‘তাম্বিহুল গাফিলিন’ কিতাবে লিখেছেন, গিবত চার ধরনের। এর মধ্যে একটি বৈধ মুবাহ তথা শরিয়ত কর্তৃক অনুমোদিত। আর তা হলো, যে ব্যক্তি নিজের ভ্রান্ত বিশ্বাসের কথা প্রকাশ্যে বলে অথবা বিদআতের সঙ্গে জড়িত। সুতরাং যদি ফাসেকের ব্যাপারে মানুষকে সতর্ক করার উদ্দেশ্যে কিছু বলে, তা গিবত তো হবেই না, বরং বক্তব্যদাতাকে বিশেষ সম্মান দান করবে। [ফতোয়া দেওয়ার তারিখ : ৭ এপ্রিল ২০১৯] (সংক্ষেপিত)
যে ছয়টি কারণে গিবত করা জায়েজ এক. জুলুম থেকে নিজে বাঁচতে, অন্যকে বাঁচাতে জালিমের ব্যাপারে এমন ব্যক্তির কাছে গিবত করতে পারবে, যে একে প্রতিহত করতে পারবে।
দুই. খারাপ কাজ বন্ধ করার জন্য সাহায্য চাইতে এমন ব্যক্তির কাছে গিবত করতে পারবে, যে তা বন্ধ করার ক্ষমতা রাখে।
তিন. কোনো বিষয় সম্পর্কে ইসলামী বিধান জানতে গিবত করে মূল বিষয় উপস্থাপন করা জায়েজ আছে। যেমন—এ কথা বলা যে অমুক ব্যক্তি আমাকে আঘাত করেছে, আমার জন্য কি তাকে আঘাত করা জায়েজ? ইত্যাদি।
চার. সাধারণ মুসলমানদের ধোঁকা ও প্রতারণা থেকে বাঁচাতে গিবত করা জায়েজ। যেমন—সাক্ষ্য সম্পর্কে, হাদিস ও ইতিহাস বর্ণনাকারী সম্পর্কে, লেখক, বক্তা প্রমুখ সম্পর্কে জনসমক্ষে বলা বৈধ, যাতে মানুষ তার ধোঁকা ও মিথ্যাচার থেকে বাঁচতে পারে।
পাঁচ. প্রকাশ্যে যদি কেউ গর্হিত কাজ করে, তাহলে তার অপকর্ম এমন ব্যক্তির কাছে বর্ণনা করা যায়, যারা এর দ্বারা বিভ্রান্ত হওয়া থেকে বাঁচতে পারে। যেমন—কেউ প্রকাশ্যে মদ খায়, তাহলে মানুষের সামনে তার সম্পর্কে বলা জায়েজ। যেন এমন খারাপ কাজ করতে ভবিষ্যতে কেউ সাহস না করে।
ছয়. কারো পরিচয় প্রকাশ করতে তার গিবত করা যায়, যদি সে এই নামে প্রসিদ্ধ হয়। যেমন—কেউ কানা। তার পরিচয় দেওয়া দরকার। কিন্তু কানা বললেই সবাই চিনে ফেলে। তখন কানা বলা বাহ্যিক দৃষ্টিতে গিবত হলেও এটা বলা বৈধ। এতে গিবতের গুনাহ হবে না। (তাফসিরে রুহুল মাআনি : ১৪/২৪২, সুরা : হুজরাত, আয়াত : ১২)
ইসলাম বিভাগে আপনিও লিখতে পারেন। লেখা ও প্রশ্ন পাঠাতে মেইল করুন: bn24.islam@gmail.com
বাংলাদেশ সময়: ২১৩৭ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০১৯ এমএমইউ