আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ।
নাহমাদুহু ওয়া নুসাল্লি আলা রাসূলিহীল কারীম।
আম্মা বাদ।
কালাল্লাহি তায়ালা ,
আউজুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজিম।
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
سبحان الذي اسرى بعبده ليلا من المسجد الحرام الى المسجد الاقصى الذي باركنا هو له لنوره لنور يهو من اياتنا،انه هو السميع البصير….
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ সুবাহানাহু তায়ালার কাছে জন্য যিনি আমাদেরকে আজকের এই দিন পর্যন্ত জীবিত রেখেছেন এবং আজকের এই আলোচনা করার তৌফিক দান করেছেন, এজন্য আবারও আমরা আল্লাহর শোকর আদায় করি, আলহামদুলিল্লাহ।
উপরোক্ত আয়াতটি সূরা বনী ইসরাইল অথবা ইসরা এর প্রথম আয়াত।
পবিত্র কোরআনে ইসরা বা ভ্রমণ সম্পর্কে এই একটি আয়াতই ব্যক্ত করা হয়েছে। এবং উর্ধা আকাশের কিছু বর্ণনা দেওয়া হয়েছে সূরা নুজমে।
সূরা বনী ইসরাঈলে প্রথম আয়াতে আল্লাহ বলেছেন–
“”তিনি পবিত্র (আল্লাহ) যিনি তার বান্দাকে রাত্রিভ্রমণ করিয়েছেন মসজিদুল হারাম থেকে মসজিদুল আকসা পর্যন্ত। যার আশপাশ আমি বরকতময় করেছি। যাতে আমি তাকে আমার নিদর্শনসমূহ দেখাতে পারি। নিশ্চয় তিনিই সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।’
এই হলো আয়াতের মোটামুটি বাংলা তর্জমা বা অনুবাদ।।
সূরা বনী ইসরাইলে শুধু মক্কা থেকে বায়তুল মুকাদ্দাস পর্যন্ত একরাত্রিতে ভ্রমণের কথা উল্লেখ আছে এবং আয়াতের শেষে বলে দেওয়া হয়েছে যে, তিনি তাঁকে এই জন্য ভ্রমণ করাচ্ছেন এই জন্য, যাতে তিনি আল্লাহর নিদর্শনসমূহ দেখাতে পারেন।।।
অতঃপর তিনি বায়তুল মুকাদ্দাস থেকে উর্ধ আকাশে গমন করেন এবং এই ব্যাপারে কমপক্ষে 25 জন জলিল ও কদর সাহাবীর বর্ণনা করা হাদিস উল্লেখ আছে বিভিন্ন হাদিস গ্রন্থে।
মেরাজ সংঘটিত হয়েছিল নবুওয়তের ১১তম বছরের ২৭ রজবে। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বয়স ৫১ বছর। মেরাজ হয়েছিল সশরীরে জাগ্রত অবস্থায়। মেরাজের বিবরণ পবিত্র কোরআনের সুরা নাজমে ও সুরা ইসরায় বিবৃত হয়েছে। হাদিসের কিতাব বোখারি , মুসলিম ও সিহাহ সিত্তাসহ অন্যান্য কিতাবে মেরাজের বিষয়টি নির্ভরযোগ্য বিশুদ্ধ সূত্রে বিস্তারিত বর্ণিত হয়েছে।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম সকালবেলা যখন বলা শুরু করলেন যে আমি গতরাতে বায়তুল মোকাদ্দাস গিয়েছি এবং সেখান থেকে আকাশের ভ্রমণ করে এসেছি তখন মক্কার কাফেররা ঠাট্টা বিদ্রুপ করা শুরু করলেন।
অতঃপর এই ব্যাপারে আল্লাহ আয়াত নাযিল করেন।
সূরা নাজমে ১ থেকে ১৮ নং আয়াতে আল্লাহ বলেন–
আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘শপথ নক্ষত্রের যখন তা বিলীন হয়। তোমাদের সাথী (মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বিপথগামী হননি এবং বিভ্রান্ত হননি। আর তিনি নিজে থেকে কোনো কথা বলেন না। (বরং তিনি যা বলেন) তা প্রদত্ত ওহি (ভিন্ন অন্য কিছু) নয়। তাকে শিখিয়েছেন মহাশক্তিধর (জিবরাইল আ.)। সে (জিবরাইল আ.) পাখাবিশিষ্ট, সে স্থিত হয়েছে দূর ঊর্ধ্বে। অতঃপর নিকটবর্তী হলো, পরে নির্দেশ করল। তারপর হলো দুই ধনুকের প্রান্তবর্তী বা আরও নিকট। পুনরায় তিনি ওহি করলেন তার বান্দার প্রতি যা তিনি ওহি করেছেন। ভুল করেনি অন্তর যা দেখেছে। তোমরা কি সন্দেহ করছ তাকে, যা তিনি দেখেছেন সে বিষয়ে। আর অবশ্যই দেখেছেন তিনি তাকে দ্বিতীয় অবতরণ স্থলে; সিদরাতুল মুনতাহার কাছে; তার নিকটেই জান্নাতুল মাওয়া। যখন ঢেকে গেল সিদরা যা ঢেকেছে; না দৃষ্টিভ্রম হয়েছে আর না তিনি বিভ্রান্ত হয়েছেন; অবশ্যই তিনি দেখেছেন তাঁর রবের বড় বড় নিদর্শনসমূহ।’
মেরাজ অর্থ ঊর্ধ্বগমন। মূলতঃ মেরাজ হলো, মহানবী মুহাম্মাদ সাঃ কর্তৃক সশরীরে ও সজ্ঞানে জাগ্রত অবস্থায় জিবরাইল আঃ ও মিকাল আঃ সাথে বিশেষ কুদরতি একপ্রকার বাহনের মাধ্যমে মসজিদে হারাম থেকে মসজিদে আকসা এবং সেখান থেকে বিশেষ এক প্রকার কুদরতি সিঁড়ির মাধ্যমে প্রথম আসমান থেকে একে একে সপ্তম আসমান এবং সিদরাতুল মুনতাহা পর্যন্ত গমন করেন।
👉👉এখানে বলে রাখা ভালো যে অনেকেই বলে থাকেন যে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম বোরাকের মাধ্যমে এবং “রফরফ” নামক বাহনের মাধ্যমে বিভিন্ন জায়গায় ভ্রমণ করেছেন।।
এবং “বোরকা” নামক প্রাণীটিকে চিত্রাহিত করা হয়েছে একজন সুন্দরী মহিলার মাথা বিশিষ্ট একটি পাখাওয়ালা ঘোড়া’র আকৃতি দিয়ে।
নাউজুবিল্লাহ।
এ জাতীয় বহু ছবি ও চিত্র এঁকে শিয়া এবং ইহুদীরা প্রচার করেছে এবং করছে ইসলামকে বিভ্রান্ত করার জন্য।
👉 মেরাজ সংক্রান্ত সকল হাদিস একত্রে বিশ্লেষণ করে প্রখ্যাত আলেম-উলামাদের সিদ্ধান্তও এটি যে, রাসুল সাঃ সে রাতে সিঁড়িতে করে আসমানে গিয়েছেন। বুরাকে করে নয়।
সর্বকালের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মুফাসসির ইমাম ইবন কাসির(র) তাঁর তাফসির গ্রন্থে সুরা বনী ইস্রাঈলের ১নং আয়াতের তাফসির] ইসরা-মিরাজ সংক্রান্ত বিভিন্ন হাদিস উল্লেখ করে শেষ অংশে উল্লেখ করেছেন যে, রাসুল সাঃ সে রাতে বুরাকে করে বাইতুল মুকাদ্দাসে গিয়েছেন। এরপর এক প্রকার মইতে বা সিঁড়িতে করে প্রথম আসমানে গিয়েছেন, এরপর অবশিষ্ট আসমানগুলোতে গিয়েছেন।

অর্থঃ “রাসুলুল্লাহ(ﷺ) যখন বাইতুল মুকাদ্দাসের কাজ শেষ করলেন তখন তাঁর জন্য মিরাজ (সিঁড়ি) আনা হল এবং এতে করে তিনি আসমানে গমন করেন। বুরাকে করে যাননি। যেমন কতিপয় মানুষ তা ধারণা করে থাকে। বরং বুরাক বাইতুল মুকাদ্দাসের দরজায় সাথে বাঁধা ছিল যেন তাতে করে তিনি আবার মক্কায় ফিরে আসতে পারেন।” [21]
এ সংক্রান্ত সকল হাদিসের আলোকে এটিই তাঁর অভিমত। তিনি তাঁর ‘আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন,
👉তাফসির মা’আরিফুল কুরআনেও সুরা বনী ইস্রাঈলের ১নং আয়াতের তাফসিরে ও ইবনে কাসিরের মতটিকেই সমর্থন করা হয়েছে। তাঁর বরাতে উল্লেখ করা হয়েছে যে রাসুল সাঃ মেরাজের রাতে সিঁড়িতে করে আসমানে গিয়েছেন , কোন রফরফ বা বোরাকে করে নয় ।
👉জালালুদ্দিন সুয়ুতী রহঃ বলেছেন,
“বিশুদ্ধ মত যা সহীহ হাদিস থেকে স্থিরকৃত হয়েছে, ঊর্ধ্বগমন মিরাজ বা সিঁড়ি জাতীয় এক ধরণের বস্তুর মাধ্যমে হয়েছিল, বোরাকের মাধ্যমে নয়।
আল্লাহর কি সিঁড়ির এত অভাব পড়েছে, বা বিভিন্ন যানবাহনের এত অভাব পড়েছে যে , রাসূলকে একটি মহিলা মার্কা পাখা ওয়ালা ঘোড়া দিয়ে আসমানে নিতে হবে?? মূলত এমন কোন বিষয় নেই যেখানে ইহুদিরা ইসলামকে বিকৃত করেনি!!
👉অনেকেই বলে থাকেন যে সেখানে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম আল্লাহর সাথে দেখা করেছেন। কিন্তু এই কথার কোন দলিল নাই। বরং হাদিসের দলিল অনুযায়ী এটি একটি মিথ্যা বানোয়াট কথা।।
বুখারী শরীফের মেরাজ অধ্যায়ে একটি হাদিসে স্পষ্ট বলে দেওয়া হয়েছে যে, আম্মাজান আয়েশা রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহা বলেন, যে ব্যক্তি বলবে যে রাসূলের সাথে আল্লাহ দেখা করেছেন সাক্ষাত করেছেন সে আল্লাহর প্রতি অপবাদ দিল।
(বুখারী শরীফের মেরাজ অধ্যায় হাদীসটি দেখে নেওয়া যেতে পারে)
রাসূল সাঃ কে উপরে নিয়ে যাওয়ার মূল কারণ হলো আল্লাহর নিদর্শনসমূহ স্বচক্ষে দেখানো যাতে তিনি উম্মতকে তার বিস্তারিত বর্ণনা দিতে পারেন!!
আর এ সমস্ত কথাগুলো বিভিন্ন হাদিস গ্রন্থের হাদিস সমূহে এভাবেই বর্ণনা করা আছে।
সূরা বনী ইসরায়েলে প্রথম আয়াত দিয়ে আল্লাহ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সালাম এর রাত্রিকালীন ভ্রমণের বর্ণনা দিয়েছেন। ইসরা অর্থ রাত্রিকালীন ভ্রমণ। রাসুলুল্লাহ সাঃ মেরাজ রাত্রিকালে হয়েছিল বলে এটিকে ইসরা বলা হয়।
বিশেষত বায়তুল্লাহ অর্থাৎ মসজিদুল হারাম থেকে বায়তুল মুকাদ্দাস পর্যন্ত সফরকে ইসরা বলা হয় ।
সূরা ইসরার অর্থাৎ বনি ইসরাইলের সেই আয়াতটি প্রথমেই বর্ণনা করা হয়েছে।
মেরাজের রাতে রাসুলুল্লাহ জান্নাত-জাহান্নাম দেখানো হয়েছে।
সেখানে রাসূল সাঃ কে বিভিন্ন অপরাধের শাস্তি দেখানো হয়।
এ রাতেই পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ ঘোষণা করা হয়।
এ রাতে আরো কিছু বিষয়ের সতর্কের তার ব্যাপারে বিভিন্ন হাদিসে এসেছে। যেমন–
👉আল্লাহকে ছাড়া কারও ইবাদত করবে না,
👉 পিতা-মাতার সঙ্গে সদ্ব্যবহার করবে,
👉নিকট স্বজনদের তাদের অধিকার দাও;
👉মিসকিনদের ও পথসন্তানদের (তাদের অধিকার দাও);
👉অপচয় করো না, অপচয়কারী শয়তানের ভাই,
👉কৃপণতা করো না,
👉সন্তানদের হত্যা করবে না,
👉 ব্যভিচারের নিকটেও যেও না,
👉 বিনা কারণে মানব হত্যা করো না,
👉 এতিমের সম্পদের কাছেও যেয়ো না,
👉 প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করো,
👉মাপে পূর্ণ দাও,
👉 ওইসবের অনুসরণ করো না যাতে তোমার জ্ঞান নেই,
👉 পৃথিবীতে অহংকার করে চলাফেরা না করা । এ সবই মন্দ, তোমার রবের কাছে অপছন্দ।
আর এই সমস্ত বিষয়গুলো সবিস্তারে বর্ণনা করা হয়েছে সূরা বনী ইসরাইলের 22 থেকে 44 নম্বর আয়াত সমূহে যা তাফসীর থেকে পড়ে নেওয়া যেতে পারে।
শবে মেরাজকে কেন্দ্র করে আমাদের সমাজে বেশ কিছু প্রচলনসহ বিশেষ নামাজ ও রোজা রাখার প্রথাও প্রচলিত রয়েছে। শবে মেরাজ উপলক্ষে কোনো নামাজ বা রোজার বিধান কি আসলেই ইসলামে রয়েছে? বলে?
অনেককে শবে মেরাজ উপলক্ষে বিশেষ নামাজ আদায়ের জন্য মসজিদে সমবেত হতে দেখা যায়। বহু নারীও সেই রাতে নামাজ আদায় করার পদ্ধতি কী জানতে চান। বহু মুসলমান এই রাত উপলক্ষে মেরাজের রোজা রাখতে চান বা রাখার বিধান জানতে চান। নামাজ আদায় করা ও রোজা রাখা অবশ্যই পুণ্যের কাজ। কিন্তু শবে মেরাজ উপলক্ষে বিশেষ কোনো নামাজ ও রোজার বিধান ইসলামি শরিয়তে নেই। এ ব্যাপারে আল্লামা ইবনে রজব হাম্বলি (রহ.) তৎপ্রণীত লাতায়েফ ও মাআরেফ গ্রন্থে বলেন, ‘রজব মাসের সঙ্গে সম্পর্কিত বিশেষ কোনো নামাজ নেই। রজব মাসের প্রথম জুমায় সালাতুর রাগায়েব প্রসঙ্গে যেসব হাদিস বর্ণিত হয়েছে সেগুলো ভিত্তিহীন, মিথ্যা ও বানোয়াট।’
অধিকাংশ আলেমের মতে, শবে মেরাজ উপলক্ষে নামাজ বিদআত। পরবর্তী যুগের আলেমগণের মধ্যে যারা এই মত ব্যক্ত করেছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন আবু ইসমাঈল আনসারি, আবু বকর সামআনি, আবুল ফযল ইবনে নাসির ও আবুল ফারায ইবনে জাওযি (রহ.)সহ আরও অনেক আলেম। শবে মিরাজ উপলক্ষে সুনির্দিষ্ট কোনো নামাজ আল্লাহর রাসুলের হাদিসের মাধ্যমে অথবা সাহাবিদের আমলের মাধ্যমে অথবা তাবেয়িদের আমলের মাধ্যমে সাব্যস্ত হয়নি। এ রাতের কোনো ইবাদত আল্লাহর রাসুলের কোনো হাদিসের মাধ্যমে সাব্যস্ত হয়নি। ভিন্ন কোনো নামাজ, বিশেষ কোনো নামাজ আদায় করার কোনো প্রয়োজন নেই। অন্যান্য রাতের মতোই এ রাতে নফল নামাজ, তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করতে পারেন। সেটা স্বাভাবিক নিয়ানুযায়ী আগে যেভাবে আদায় করতেন সেভাবেই আদায় করবেন।
অনেক মুসলিম ভাই ও বোনেরা শবে মেরাজ উপলক্ষে ১২ /২০/৪০/১০০ রাকাত পর্যন্ত নামাজ আদায় করেন। ইসলামি শরিয়তেও শবে মেরাজের নামাজ বলে কোন নামাজ নেই।
নফল নামাজ পড়া নেকীর কাজ, কিন্তু শবে মেরাজ উপলক্ষে নফল নামাজ আদায়ের কোনো ভিত্তি ও প্রমাণ ইসলামে নেই। কাজেই শবে মেরাজের নামে নফল নামাজ আদায় করা এবং এর ব্যবস্থা প্রণয়ন করা মানে ইসলামি শরিয়তে নিজের পক্ষ থেকে কিছু সংযোজন করা। আর এ ব্যাপারে আল্লাহর রাসুল বলেছেন, যে আমাদের ধর্মে এমন কিছু সংযুক্ত বা উদ্ভাবন করবে, যা তার শরিয়তের অংশ নয়, বরং তা প্রত্যাখ্যাত হবে। -সহিহ বোখারি।
আমাদের অনেক মুসলিম ভাই ও বোনেরা শবে বরাত ও শবে কদরের সঙ্গে মিলিয়ে শবে মেরাজেও নফল রোজা রেখে থাকেন। একটি কথা বিশেষভাবে উল্লেখ্যযোগ্য- নফল রোজা যখন ইচ্ছা তখন রাখা যায় কিন্তু কোনো উপলক্ষে নফল রোজা রাখতে হলে অবশ্যই আগে জেনে নিতে হবে, আমি বা আমরা যে উপলক্ষে নফল রোজা রাখছি শরিয়ত সেটাকে অনুমতি দিয়েছে কিনা।
শবে মেরাজ উপলক্ষে নফল রোজা রাখার কোনো বর্ণনা কোরআন-হাদিসের কোথাও নেই। আল্লাহর রাসুল ও তার অনুসারীরা এই দিনে বিশেষভাবে কোনো রোজা রেখেছেন এমনে কোনো বর্ণনা ইতিহাসে খুঁজে পাওয়া যায় না। তাই এই দিনে শবে মেরাজ উপলক্ষে রোজা রাখা কোনো ইবাদত হিসেবে গণ্য হবে না। সুতরাং শবে মেরাজ উপলক্ষে আলাদা বিশেষ নামাজ-রোজা আদায় করা থেকে বিরত থাকা উচিত
👉👉 এক কথায় বলতে গেলে সবে বেরাজ বা মেরাজের রাত্রিতে কিংবা দিনে কোন অতিরিক্ত আমল নেই। যদি অতিরিক্ত কিছু করা হয় তবে তা বেদআত বলি গণ্য হবে। এটা আমাদের মনে রাখতে হবে যে নফল এবাদতের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ এবাদত হল শেষ রাত্রিতে জেগে এবাদত করা কেননা ওই সময় আল্লাহ দোয়া কবুল করেন।
আর নফল রোজা গুলোর মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ রোজা হলো
১/ আরাফার দিনের রোজা।
২/ আশুরার দুই রোজা।
৩/ শাওয়াল মাসের ছয় রোজা।
অর্থাৎ বছরে এই নয়টি রোজা যে ব্যক্তি রাখবেন তার পূর্বের এক বছরের এবং পরের এক বছরের রোজা রাখার সওয়াব আল্লাহ আমলনামায় লিপিবদ্ধ করে দেবেন এবং পূর্বের এক বছরের ও পরের এক বছরের সকল গুনাহ আল্লাহ মাফ করে দেবেন ইনশাআল্লাহ।
তাছাড়া রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম মাঝেমধ্যেই বৃহস্পতিবার এবং সোমবারে রোজা রাখতেন।
তাছাড়া মাঝেমধ্যে রাসূল সাঃ প্রতি মাসের অর্থাৎ চন্দ্র মাসের ১৩-১৪ এবং ১৫ তারিখে তিনটি রোজা রাখতেন।
আর এই রোজাগুলো বিশুদ্ধ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত।
কিন্তু সবে মেরাজের কোন রোজার কথা কোথাও উল্লেখ নেই কিংবা কোন অতিরিক্ত আমল করার কথা উল্লেখ নেই।
অপরদিকে সবাই বরাত এর কোন আমল বা রোজার কথাও উল্লেখ নেই বরং যা আছে সব মিথ্যা ও বানোয়াট হাদিস দ্বারা সাব্যস্ত করা হয়েছে।।
আল্লাহ আমাদের সঠিক জিনিস সঠিকভাবে জেনে বিশুদ্ধভাবে আমল করার তৌফিক দান করুন।
আল্লাহ আমাদের শিরক বিদআত কুফর এবং নেফাক এর মত ভয়ংকর গুনাহ থেকে হেফাজত করুন।।
আল্লাহ আমাদের মৃত্যুর সময় উপস্থিত হওয়া পর্যন্ত সুস্থ সুন্দর থাকার ও নেক আমল করার তৌফিক দান করুন।
আর আল্লাহ আমাদের অবশ্যই মৃত্যু দান করুন ঈমানের সহিত, সুস্থ শরীরে, এবাদতরত অবস্থায় এবং প্রিয়জনদের মাঝে।
আর আমাদেরকে এবং কেয়ামত পর্যন্ত আমাদের বংশধরগণকে সঠিক ইসলামের উপর ইস্তেকামাত রাখুন।
ওমা তৌফিকি ইল্লা বিল্লাহ।
ও আখেরি জামানা অনিল হামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামিন।
সুবহানাকা আল্লাহুম্মা বিহামদিকা, আশহাদু আনল্লা ইলাহা ইল্লা আংতা আস্তাগ ফিরকা ওতুবূ ইলাইক।
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ।।।













