গরুর কান্না করা প্রসঙ্গে। কোরবানির গরু নাকি আসলেই কাঁদে। গরুর চোখ দিয়ে পানি বের হয় কেন?

🤔🤔 কুরবানীর পশু কাঁদে কেন ⁉️
👉👉 আমার দেশে কুরবানীর পশুকে নিয়ে কিছু আবেগী এবং বানানো কথাবার্তা প্রচলিত আছে । ছোটবেলা থেকে বড়দের মুখেই শুনি আসছি, কুরবানির গরু নাকি জবাই হবে বলে কান্না করে, কিংবা সে সারারাত আল্লাহর জিকির করে। কোরবানি করার আগের রাতে সে স্বপ্নে ছুরি দেখে, বা ফেরেশতারা তাকে ছুরি দেখায়।কোরবানির আগের রাত্রে ফেরেশতারা নাকি গরুকে জবাইয়ের সংবাদ জানায় ইত্যাদি এমন আরো বহু আজব কথাবার্তা বিভিন্ন এলাকার মধ্যে প্রচলিত আছে।
শুধু আমাদের দেশে নয় এমন মিথ বা গাল গল্প পৃথিবীর সব দেশের ছড়িয়ে আছে। আমাদের দেশে যেরকম কোরবানির আগের রাতে গরুর কান্নার ঘটনা ঘটে, তেমনি উন্নত বিশ্বে যেখানে মাংস বিক্রির জন্য গরুকে আধুনিক যন্ত্রপাতিসমৃদ্ধ কসাইখানায় জবাই ও কাটাকুটি করা হয়, সেখানেও প্রায় একই গল্প প্রচলিত আছে। কসাইখানা বা স্লটারহাউজে নেয়ার আগে সেখানকার গরুও নাকি চোখের পানি ফেলে।
👉👉 ফেরেস্তা কর্তৃক গরুকে মৃত্যুর এই সংবাদ জানিয়ে দেয়া বা কোরবানির আগের রাতে গরু কেন কাঁদে তার কোন ইসলামিক দলিল রয়েছে কিনা এ বিষয়ে দেশের বিভিন্ন বিখ্যাত আলেমদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল।(বিশেষ করে কামাল উদ্দিন জাফরী কাজী মহাম্মদ ইব্রাহিম সহ যারা অনেক বিজ্ঞ আলেম আছেন) উত্তরে তাঁরা বলেছেন যে তাঁরা নিজেও এ ধরণের গল্পের কথা শুনেছেন, তবে
কোরআন-হাদীসে এমন কোন ঘটনার উল্লেখ নেই। এসব মূলতঃ লোকমুখে প্রচলিত কাহিনী যার কোন দালিলীক সত্যতা নেই।
ফেরেশতাগণ যদি সত্যিই কোরবানির গরুকে আগের রাতে মৃত্যু সংবাদ জানিয়ে থাকেন তাহলে কুরআন-হাদীসে সেই ঘটনার অবশ্যই উল্লেখ থাকত।
তাছাড়া,যেহেতু মানুষ গরুর কথা বুঝতে পারে না, তাই গরুর নিকট থেকে এই বিষয়ে কোন তথ্য জানার কোন সম্ভাবনাও নেই।
হতে পারে কোন এক সময় কোন এক কল্পনা বিলাসী এবং গল্প বানানোতে পটু দুষ্টু লোক কোন বুজুর্গের নাম ভাঙ্গিয়ে এই গল্প চালিয়ে দিয়েছিল যা শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে লোকমুখেই চলে আসছে।
😆😆 কোরবানি বা জবাইয়ের পূর্বে বুঝতে পেরে মনের দুঃখে গরু কাঁদে, এই ধারণাটা কিছুটা হাস্যকর।
গরু যদি মানুষের সকল কথা বুঝতে পারতো তাহলে কি সে আর ‘গরু’ থাকতো? তাকে দিয়ে হাল চাষ করা যেত না। সে প্রতিবাদ করতে এবং পালিয়ে যেত । হয়তো জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মানুষের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দুই একটা আসনে জিতে সংসদে বসতো। অথচ কসাইরা বলে, চোখের সামনে অন্য গরুকে জবাই হতে দেখেও গরু কসাইয়ের আদর উপভোগ করে, জিহবা দিয়ে হাত চেটে দেয়। যদি সত্যিই বুঝতে পারতো তাহলে নিশ্চয়ই শিং দিয়ে গুতিয়ে কসাইয়ের দফারফা করে দিতো। কিংবা মরার আগে দুই চার দশ জনকে আহত বা নিহত করে তারপরে মারা যেত।
মনে মনে বলতো যে আমরা তো মরবোই, অতএব আরো দুই-চারটাকে সাথে নিয়ে যাই।
তাছাড়া গরুরা যদি ঘুনাক্ষরেও জানতে পারতো, হিন্দুরা তাদের পূজা করে এবং তাদেরকে খোদা মনে করে। তাহলে গরুদের অবস্থা কি হতো ⁉️ তাহলে গরু মানুষের কাঁধে সওয়ার হয়ে বেড়াতো।
👆👆উপরের এই কথোপকথন কাল্পনিক হলেও কোরবানির আগের রাতে গরুর কান্নার সাথে আমরা সবাই মোটামুটি পরিচিত। ফেরেশতা কর্তৃক জবাইয়ের খবর জানিয়ে দেয়ার এই ঘটনাও হয়তো শুনে থাকবে। কিন্তু গরু কি আসলেই কাঁদে?
গরু কেন কাঁদে?
এ ব্যাপারে পশুপ্রেমী এবং মাংশপ্রেমী দুই দল লোকের কাছ থেকে বিপরীতমুখী বক্তব্য পাওয়া যায়।।
এই প্রসঙ্গে পশুপ্রেমী এবং গোশতপ্রেমীরা তাদের নিজ নিজ ধারণা চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে। পশুপ্রেমীদের একাংশের ধারণা – নিরীহ শান্ত এই প্রাণীটি ঠিক বুঝতে পারে আর এজন্যই কাঁদে।
অন্যদিকে, মাংশপ্রেমীরা জোর গলায় বলে, গরুর এইসব অনুভূতিই নেই, সুতরাং গরু মনের দুঃখে কাঁদে এসব বোগাস ও ফিলতু কথা।
মূলত এই সমস্ত কথার কোন ভিত্তি নেই। সবই হলো কিছু মানুষের অনুমান এবং কল্পনা প্রসূত কথাবার্তা।
বিভিন্ন পশু পাখিদের অনুভূতি এবং স্মৃতিশক্তি খুবই ক্ষীণ। তারা চোখের সামনে বিপদ দেখলে শুধু ভয় পায় এবং খুব অল্প সময়ের মধ্যে তা ভুলে যায়।
👉👉 তাহলে গরু কাঁদে কেন ⁉️
গরুর প্রতি মানুষের , বিশেষ করে গরুর ব্যাপারী ও কসাইদের আচরণ কুরবানির আগে একেকটা গরু কঠিন প্রতিকূল অবস্থার মধ্য দিয়ে যায়। নানা রকম শারীরিক কষ্ট গরুদের সহ্য করতে হয়। তাছাড়া নতুন পরিবেশ, নতুন মানুষ, হাট বাজারের ভিড় ইত্যাদি কারণে সে ভয় পায়। ভয় পেয়ে কখনো মারমুখী হয়ে যায় এবং পালিয়ে যেতে চেষ্টা করে।
কসাইখানায় যাওয়ার আগেও একই ঘটনা ঘটে। এই শারীরিক কষ্ট সহ্য করতে না পেরে গরু কাঁদে। এর সাথে জবাইয়ের কোন সম্পর্ক নেই। অন্য সময়ও কষ্ট পেয়ে গরু কাঁদতে পারে। যেমন নিঃসঙ্গতা। একটা জিনিস লক্ষ্য করে দেখবেন সাথের গরু কিংবা বাছুর হারানোর শোকে গরু বিকট শব্দ করে হাম্বা হাম্বা স্বরে ডাকে। তখন শব্দ করার শক্তির চাপে চোখ থেকে পানি বের হতে পারে।
👉👉 প্রাণীদের উপর বিভিন্ন গবেষণা চালানো কিছু বিজ্ঞানীরা অবশ্য বলছেন, গরু অনুভূতিহীন নয়। গরু এবং অন্যান্য প্রাণীদের নিয়ে নানা গবেষণা শেষে তারা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন যে, গরুর নিজস্ব কিছু অনুভূতি রয়েছে। গরুও আনন্দিত হয়, ব্যথিত হয় কষ্ট পায়।
তাহলে কি গরু সত্যিই মনের দুঃখে কাঁদে?
এ বিষয়ে বিজ্ঞানীরা বলেন, মানুষ ছাড়া প্রাণীজগতে আর একমাত্র একটি প্রাণীই রয়েছে যারা মনের দুঃখে অশ্রুপাত করে। সেই প্রাণীটি কিন্তু শিম্পাঞ্জি, গরিলা বা মানুষের সাথে সাদৃশ্য রয়েছে এমন কোন প্রাণী নয়। এই প্রাণীটি হলো স্থলের সবচেয়ে বড় শরীরের অধিকারী হাতি।
👉👉 তারপরও কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যায়, কোরবানির আগের রাতে কিংবা কসাইখানায় যে গরুগুলোকে নিয়ে যাওয়া হয় সেই গরু কাঁদে কেন ?

মূলত গরুর চোখে কিছু রোগ হয়ে থাকে যার কারণে গরুর চোখ দিয়ে অনবরত পানি ঝরতে থাকে। বিশেষ করে অনেক গরুর চোখের নেত্রনালী ব্লক হয়ে গেলে গরুর চোখ দিয়ে অনবরত পানি ঝরতে থাকে। যে পানিগুলো নেত্রনালী দিয়ে নাকের ভেতর দিয়ে গলায় চলে যাওয়ার কথা সেই পানিগুলো ব্লক হয়ে যাওয়ার জন্য গড়িয়ে পড়তে থাকে। একে অনেকে গরুর কান্না বলে মনে করলেও এটি মূলকত একটি অসুখ। ভাল চিকিৎসায় এই কান্না নামক পানি বের হওয়া বন্ধ হতে পারে। কোরবানি বা কসাইখানায় যাওয়ার অনেক আগেই গরুর চোখে এই সমস্যা হতে পারে।
গরু গুলোকে নতুন পরিবেশ নেওয়া হয়, প্রচন্ড ধুলাবালি ও ধোঁয়া ইত্যাদির মধ্যে দিয়ে নেওয়া হয়, যে পরিবেশের সাথে গরু কোনদিন ছিল না। ফলে ধুলাবালি ও ধোঁয়ার প্রভাবে গুরুর চোখ দিয়ে পানি পড়তে পারে।

🤔🤔 আমাদের দেশের প্রেক্ষিতে কোরবানি হাটে গরুর চোখে এমন পানি দেখে মনে করবেন না তারা কোরবানি হয়ে যাবে বলে কান্না করছে।।
বরং তাদের চোখের পানির পেছনে আমাদের দেশের নির্দয় অসভ্য বর্বর গরুর ব্যাপারীদের নির্মমতা জড়িয়ে আছে৷
এরা গরুগুলো শহরে আসে বিভিন্ন দূরের জেলা থেকে৷ ট্রাকের মাঝে এদের গাদাগাদি করে রাখে৷ তার উপর এমন আছে প্রখর রোদ, দাঁড়িয়ে থাকার ক্লান্তি এবং অসহনীয় ঝাঁকা-ঝাকি৷
অনেক সময় চোখ দিয়ে পানি পড়তে থাকা গরুটার চোখে খেয়াল করলে দেখবেন দাগ আছে৷ গরু চাষি বা ব্যাপারীরা এসব গরুর চোখে কাঁচা মরিচ লাগিয়ে দেয়৷ যাতে করে এরা ঝিমিয়ে না পড়ে৷ এরপর এদের চোখ দিয়ে অনবরত পানি পড়তে থাকে৷ এরা তো বোবা জীব কিছু বলতে পারে না৷ কিন্তু আমরা তো মানুষ কেন এসব অবলা প্রাণীদের কষ্ট দিচ্ছি৷
আপনি আমি পাপি বান্দা আমাদের দোয়া কবুল হোক না হোক৷ এ অবলা জীবের বদ দোয়া ঠিকই শোনেন আল্লাহ৷
কোরবানি বা জবাইয়ের সংবাদে গরু কাঁদে না, বরং শারীরিক কষ্টের কারণে কাঁদতে পারে। তাই আমাদের উচিত কোরবানির আগের রাতে ফেরেশতা কতৃক জবাইয়ের সংবাদের যে বানোয়াট কাহিনী প্রচলিত আছে, তা প্রচার না করা এবং
গরু ও বিভিন্ন প্রাণীকে যথাসম্ভব কম কষ্ট দেয়া।

অন্ডকোষ খাওয়া প্রসঙ্গেঃ কুরবানীর পশুর কিংবা যে কোন হালাল প্রাণীর অন্ডকোষ খাওয়া জায়েজ ও নাজায়েজ বিষয়ে আলোচনা

👉👉শানে নুজুল বা প্রেক্ষাপটঃ
হালাল পশু পাখির অন্ডকোষ হালাল কিনা এমন এক প্রশ্নের জবাবে শায়েখ আহমদুল্লাহ বলেছিলেন, “আপনার রুচি হলে খেতে পারেন, সমস্যা নাই” ব্যাস, এতটুকুই। কয়েক বছর আগের ভিডিও কাটিং এটি।
কিন্তু হঠাৎ করে এই বছর তাদের হালাল-হারামের চেতনা জাগ্রত হয়ে গেল । তাদের মাঝারি কবর পূজারী ও কিছু দেওবন্দী মোল্লা আহমদ উল্লাহর কাছে দেশের সমস্ত কুরবানীর গরুর অণ্ডকোষ পাঠানোর ব্যবস্থা করল তাদের চামচা চেলা ও মুরিদের মাধ্যমে।

😅😅আহমদ উল্লাহর কাছে পাঠানো অন্ডকোষ এই বলে ফেরত দেয়া হয়েছে যে, বিদআতিদের জবেহ করা কোন কিছু শায়েখ খান না। মাশাআল্লাহ
যেমন বোলিং তেমন ব্যাটিং। এক্কেবারে ছক্কা।

👉👉মাজারের বেদিতে উৎসর্গ করা পশুর মাংস যাদের কাছে হালাল তাদের কাছেই আবার পশুর অন্ডকোষ হারাম! অথচ মাজার পূজারী ও পীর পূজারী এবং আকাবির পূজারী ও মুরুব্বী পূজারী এই সমস্ত লোকেরাই আবার মাছ , হাঁস ,মোরগ সহ সবকিছুর অন্ডকোষ পেলে মজা করে খান। কখনো প্রশ্ন করতে দেখি নাই, মাছ ও মোরগেরটা ফেলে দেয়া হয় কি!
👉👉 শুধু তাই নয় বরং আমি এই পীর ও মাজার পূজারী এবং কওমি দেওবন্দীদের তাবিজের কিতাবে দেখেছি তারা নিজেরা যৌন শক্তি বৃদ্ধি করার জন্য মোরগের অন্ডকোষ শুকিয়ে গুড়া করে মধু দিয়ে খাওয়ার জন্য বলে থাকে।।
শুধু তাই নয় এমনকি নাপাক এবং হারাম প্রানী ও কুকুরের লিঙ্গ কেটে তা কোমরে ঝুলিয়ে রাখার কথা ও লেখা আছে বেদাতিদের সবচেয়ে বড় কিতাব #বেহেস্তি_জেওর এর মধ্যে!
কওমি দেওবন্দীদের তাবিজের কিতাবের মধ্যে স্পষ্ট লেখা আছে পুরুষ চড়ুই পাখির মাংস অন্ডকোষ সহ ঘি দিয়ে ভেজে ও ভুনা করে খাওয়ার কথা।।
এভাবে কওমি দেওবন্দী এবং কবর পূজারী ও পীর পূজারীদের শত শত বইয়ে বিভিন্ন প্রাণীদের ও পাখিদের অন্ডকোষ খাওয়ার কথা উল্লেখ আছে।
👉👉 এখন প্রশ্ন হল, কে খেলো বা কে খেলো না তা বড় কথা নয়। কোরআন হাদিসে এর নিষিদ্ধ আছে কিনা তা হলো বড় কথা।
পবিত্র কোরআনে যেখানে দালাল পশু খাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে সেখানে শুধু প্রবাহিত রক্ত নিষিদ্ধ এই কথাটা বলা হয়েছে। কোরআনের অন্যান্য আয়াতে বলা হয়েছে যে সকল প্রকার উত্তম খাদ্য তোমাদের জন্য হালাল করা হয়েছে।
উত্তম খাদ্য হলো ওই সকল খাদ্য যে সকল খাদ্য মানুষের ক্ষতি করে না বরং উপকার করে থাকে।
পৃথিবীর মধ্যে ক্ষতিকর এবং অনুত্তম খাদ্যের মধ্যে একটি হল জর্দা, সুপারি ,পান, সিগারেট, খয়ের চুন, গুল ইত্যাদি। আল্লাহ এই ক্ষতিকর খাদ্যগুলিকে হারাম করেছেন অথচ এই সমস্ত মোল্লারা দেদারসে খাচ্ছে।
👉👉 আমি আমার এলাকায় গিয়ে বললাম, ঘোড়া খাওয়া হালাল। ওমনি কয়েকজন প্রশ্ন করল এবং জানতে চাইলো সত্যিই এটাক কোরআন হাদিসে হালাল আছে কিনা। এমনকি কয়েকজন আলেম এসেও আমাকে জিজ্ঞাসা করল, এবং তারা সবাই হানাফী মাযহাবের আলেম। তারা আমাকে বলল যে আমরা তো জানি ঘোড়া🐎 হারাম। কিন্তু তুমি হালাল বাড়াতে অনেকে বিভ্রান্ত হচ্ছে। আমি তখন বললাম যে আপনারা বিভ্রান্ত করছেন কেন? আর একটি হালাল প্রাণী কি হারাম বানাচ্ছেন কেন? বরং হানাফী মাযহাবের সবচেয়ে বড় দলিলের কিতাব হেদায়া এর মধ্যে স্পষ্ট লেখা আছে ঘোড়া খাওয়া হালাল।
ইসলামী শরীয়তে শুধুমাত্র গৃহপালিত গাধা খাওয়া হারাম। গাধা আর ঘোড়া এক নয়। যেমন বাইন মাছ আর সাপ এক নয়। তখন তারা কেউ আর কোন প্রশ্ন করেনি। ‌
আমি একজন আলহামদুলিল্লাহ আলেমের সন্তান এবং আমার বাবা চাচারা অনেকেই বড় বড় আলেম। হলে অন্যান্য ছোটখাটো আলেমরা আমাকে বেশি ঘাটতে আসেন না, যদিও আমি মাদ্রাসা থেকে সনদপ্রাপ্ত কোন আলেম নই। কেননা তাদের দৃষ্টিতে আলেম হলো ঐ ব্যক্তি যে ব্যক্তি নকল করে হোক চুরি করে হোক বা দুর্নীতি করে হোক মাদ্রাসা থেকে সার্টিফিকেট নিয়েছে। এবং দুর্নীতি করুক বলাৎকার করুক আর যাই করুক মাথায় টুপি আছে মুখে দাড়ি আছে আর গায়ে একটা লম্বা জামা আছে।
আমাদের দেশের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে এরাই হলো আলেম।। আপনি যদি শত পড়াশোনা করেন, এবং কোরআনের আগাগোড়া মুখস্থ থাকে অর্থসহ। এবং প্রকৃত হাদিস গ্রন্থ থেকে ও তাফসীর থেকে কথা বলতে পারেন, তথাপিও আপনি আলেম হবেন না কেননা আপনার মাদ্রাসা থেকে সার্টিফিকেট নাই এবং লম্বা জামা ও টুপি নাই।

👉👉যাইহোক, যে কথা বলছিলাম–
পবিত্র কুরআনে শুধু প্রবাহিত রক্ত খাওয়া হারাম করা হয়েছে। কিন্তু জমাট রক্ত অর্থাৎ যা স্থায়ী জমাট বাধা আছে অর্থাৎ কলিজা ও যকৃত (মেটে কলিজা) এটিকে হালাল করা হয়েছে।
এই সকল বেদাতীরা অন্ডকোষ খাওয়ার ব্যাপারে কোন প্রকার কোরআন হাদিসের দলিল দেখাতে পারেনা। এমনকি একটি দুর্বল জাল হাদিস ও তাদের কাছে নাই যেখানে লেখা আছে অন্ডকোষ খাওয়া নিষিদ্ধ।
তারা একটি “আসার” দলিল হিসেবে প্রচার করে থাকে।
অথচ পৃথিবীর সবচেয়ে বড় কোরআন হাদিস রিচার্জ সেন্টার সৌদি আরব সহ পৃথিবীর কোন দেশের আলেমদের কাছে এই “আসার” টি গ্রহণযোগ্য নয় বরং প্রক্ষিপ্ত।
পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে সকল প্রকার ক্ষতিকর বস্তু তোমাদের জন্য হারাম করা হয়েছে।
সেই হিসাবে সমস্ত পৃথিবীর আলেম-ওলামা মুফতি মোহাদ্দিস সবাই মিলে কোরআনের এই আয়াতের তাফসীর করেছেন যে,
যেহেতু ক্ষতিকর বস্তু হারাম করা হয়েছে তাই হালাল পশুদের মধ্যে ক্ষতিকর বস্তু তারা খুঁজে বের করেছেন এবং তার একটি লিস্ট বা ফর্দ তারা প্রদান করেছেন।
আর এই হালাল প্রাণীর ক্ষতিকর অর্থাৎ হারাম বস্তুগুলো হল
১//প্রবাহিত রক্ত, ২// পশু পাখির মল এবং মুত্র।
৩//পশুদের শিং এবং খুড়া। ৪// পশুদের লোম।
৫// পাখিদের ঠোঁট এবং নখ। ৬// পাখিদের পালক।।
উপরের ছয়টি বস্তু হারাম-পবিত্র কোরআন দ্বারা তা প্রমাণিত। কেননা এই ছয়টি বস্তু হলো ক্ষতিকর বস্তু আর ক্ষতিকর বস্তুকে পবিত্র কোরান হারাম ঘোষণা করেছে।
আল্লাহ সবাইকে ইসলামের শরীয়তের সঠিক জিনিসগুলো ভালোভাবে বুঝার তৌফিক দান করুন এবং নিজস্ব কোন মন গড়া ব্যাখ্যা করা থেকে সকল মুসলিমদেরকে হেফাজত করুন আমীন ইয়া রাব্বাল আলামিন।।

বয়কট একটা থ্রেট বা হুমকি। তবে শত্রুর সবকিছু বয়কট করতে হয় না।

শত্রুর সবকিছু বয়কট করতে হয়না। এবং এটাই রাসূল সাঃ এর শিক্ষা। একবার এক যুদ্ধে বেশকিছু ইহুদী শিক্ষিত শত্রু না সৈন্য ধরা পড়ল এবং তারা আটক হল। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম ছিলেন বিদ্যোৎসাহী। তিনি তিনি ইহুদি আটক সৈন্যদের শর্ত দিলেন যে যদি প্রতিজন ইহুদি 10 জন করে মুসলিমকে লেখাপড়া শিক্ষা দিতে পারে তবে তারা মুক্তি পেয়ে যাবে। এবং যে যত তাড়াতাড়ি শিক্ষা দিবে তত তাড়াতাড়ি মুক্তি পাবে। ইহুদিরা এই অফার পেয়ে খুব দ্রুত এই কাজে অগ্রসর হলো এবং প্রতিজন দশজন করে মুসলিমকে লেখা ও পড়া শিখিয়ে তারা মুক্ত হয়ে গেল এবং পরবর্তীতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম এর এই সুন্দর পদ্ধতি এবং জ্ঞানের প্রতি আগ্রহ আর মুসলিমদের সুন্দর আচরণ দেখে তারা মুসলিম হয়ে গিয়েছিল।।
👉👉শত্রুর একটা ধারালো তরবারি যদি আপনার হাতে আসে, আপনার উচিত সেটা তার বিরুদ্ধেই কাজে লাগানো!আপনি যতদিন পর্যন্ত পুরোপুরি স্বনির্ভর না হবেন, ততোদিন এটাই হবে উত্তম সিদ্ধান্ত।
তাদের ফেসবুক google ইত্যাদি আমাদের যোগাযোগের এবং দিন প্রচারের কাজে লাগানো উচিত। তারা অবশ্যই চাচ্ছে এবং আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছে যাতে করে আমরা এই গুগল কিংবা ফেসবুক ইত্যাদি ব্যবহার করে কোনভাবেই কোন উপকৃত হতে না পারি।। কিন্তু ভূ-প্রাকৃতিক অবস্থা এবং ইথার সিস্টেম আল্লাহ এমনভাবে তৈরি করেছে যে তারা শত চেষ্টা করেও এবং কোনোভাবেই আমাদেরকে বাদ দিতে পারছে না।। যদি বাদ দিতে পারত তাহলে বহু আগেই তারা আমাদেরকে অন্ধকারে নিক্ষেপ করে রাখত।।
আল্লাহ অনেক সময় কাফেরদের নিকট থেকেও ইসলামের খেদমত নিয়ে থাকেন।।
👉👉যেমন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম এর ব্যাপারে এবং ইসলামের ব্যাপারে রাসূল সাল্লাল্লাহু ওয়া সাল্লামের দাদা এবং রাসূলের বংশধরের মনে এমন গোত্র প্রীতি সৃষ্টি করে দিয়েছিলেন যে তারা সার্বক্ষণিকভাবে রাসূলকে নিরাপত্তা দিতে বাধ্য হত যদিও তারা কাফের ছিল।।
👉👉 ফেরাউনের চেয়ে নিকৃষ্ট কাফের আসমানের নিচে জমিনের উপরে আর কেউ ছিল না। অথচ আল্লাহর এক শক্তিশালী রাসূল মুসা আলাইহি ওয়াসাল্লামের লালন পালন এবং তাকে সেনাপ্রধান বানানোর ও বিভিন্নভাবে প্রশিক্ষিত করে দেওয়া ব্যাপারে তৎকালীন সবচেয়ে শক্তিশালী ফেরাউনের খেদমত নেওয়া হয়েছিল।।
👉👉 ফেরাউনের পূর্ববর্তী সম্প্রদায় ছিল ইসলামের প্রতি আরো বিদ্বেষী। কিন্তু ইউসুফ আলাইহিস সালামকে আল্লাহ তাদের নিকট লালন পালন করিয়েছেন এবং এভাবেই ইসলামের খেদমত নিয়েছেন কাফেরদের নিকট থেকে।।।
👉👉 আল্লাহ পবিত্র কুরআনে দুইবার বলেছেন যে, আমি যদি একদলকে দিয়ে আরেক দলের উপর হুমকি সৃষ্টি করে না রাখতাম এবং একদলকে দিয়ে আরেকদলকে দমিয়ে না রাখতাম তাহলে পৃথিবীতে কত কিছুই না ঘটে যেত।।
আপনি একটা বিষয় চিন্তা করে দেখুন যে সমস্ত পৃথিবীর মাত্র দুইটা বলয়ে বিভক্ত। একটি হল কমিউনিজম আর অন্যটি হলো ক্যাপিটালিজম। অর্থাৎ একটি হলো সমাজতন্ত্র আরেকটি হলো গণতন্ত্র।
রুশপন্থী দেশগুলো যেমন আমেরিকা পন্থী কোন দেশকে এবং তাদের শাসন ব্যবস্থাকে দুই চোখে দেখতে পারেনা ঠিক তদ্রূপ আমেরিকা পন্থী দেশগুলোর রুশপন্থী দেশগুলোকে দুই চোখে দেখতে পারেনা।
বিভিন্ন অজুহাতে তারা সব সময় ঝগড়া লেগেই থাকে এবং ঝগড়ারত দুইটি বাহিনীকে দুই দিক থেকে তারা সাপোর্ট দিতে থাকে।
যেমন বর্তমান ২০২৩ সাল থেকে ২০২৪ সাল চলছে। এরই মধ্যে শুধুমাত্র রাশিয়া আর ইউরিন ইস্যুতে সমস্ত পৃথিবীর দুই দলে বিভক্ত হয়ে আছে।।
এভাবে পৃথিবীর ভারসাম্য রক্ষা করার জন্য আল্লাহ এই কাফেরদের মধ্যে দুটো দল সবসময় সৃষ্টি করে রাখেন ফলে মুসলিমরা নিরাপদ থাকে।
কিন্তু এই মুসলিমরা যদি শুধু একটু চিন্তা-ভাবনা করে চলতে পারতো এবং তারা যদি নিজেদের মধ্যে শত শত দল সৃষ্টি না করতো তাহলে মুসলিমদেরকে কেউ কোনদিন প্রধানত করে রাখতে পারতো না।।
মুসলিমদের উপর যত বিপদ আসে সব আল্লাহর কোরআন অনুযায়ী তাদের দুই হাতে কামাই করা।।
অবশ্যই আল্লাহু আলম ‌।।
আল্লাহ সবকিছু জানেন এবং দেখেন।।

ব্যাংক লকার সম্পর্কে জানে না অনেকেই , ব্যাংক লকার নিয়ে কিছু কথাঃ।                                দুই দিন আগে ইসলামী ব্যাংকের কোন একটি শাখা থেকে একজন মহিলা অভিযোগ করল যে, সে গিয়ে তার ভাড়া নেওয়া ব্যাংকের লকার’টি খোলা দেখতে পায়। (খবরটি পত্রিকা থেকে নিয়ে এই আর্টিকেলের শেষে দিয়ে দেওয়া হল)এবং মহিলার অভিযোগ, এখান থেকে তিনশত ভরি সোনার মধ্যে দেড় শত ভরি সোনা গায়েব হয়ে গেছে।। অথচ লকারের আইন ও আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী লকারের কোন ডুপ্লিকেট চাবি থাকেনা । যে সকল কোম্পানি লকার বানায় তারাই নিরাপত্তার খাতিরে কোন ডুপ্লিকেট চাবি তৈরি করে না এবং এদের লকগুলো অত্যন্ত নিরাপদ এবং জটিল করে তৈরি করা হয়। দুইটি চাবি দিয়ে এই লকার খুলতে হয়। একটি থাকে ব্যাংকের কাছে এবং একটি থাকে গ্রাহকের কাছে। যেকোনো একটি চাবি দিয়ে লকার খোলা যাবে না। আর প্রতিটা ব্যাংকের লকার ম্যানেজমেন্ট এর নিয়ম কানুন পুরোপুরিভাবে বাংলাদেশ ব্যাংক এর আদেশ অনুযায়ী চালাতে হয়।।উল্লেখ্য যে, পৃথিবীর কোন দেশেই ব্যাংকের লকারের ভেতর কোন সিসিটিভি থাকে না। বাইরে থাকে।লকার সার্ভিস নিয়ে আমাদের পরিস্কার ধারনা নাই অনেকেরই।আপনি বা (এবং) আপনার লকারের Legal অন্য কোন অংশীদার ব্যাঙ্কে গিয়ে লকারের নাম্বারটি বললে ব্যাঙ্কের অফিসার আপনাকে লকারের লগবুকে সই করতে বলবেন এবং ব্যাঙ্কে রক্ষিত সাক্ষর ও ছবি দেখে আপনাকে সনাক্ত করে আপনাকে লকার কক্ষে নিয়ে যাবেন। সেখানে আপনার লকারে এসে আপনার চাবিটি ও ব্যাঙ্কে রক্ষিত ঐ লকারেরই অন্য একটি চাবি পরপর লাগিয়ে ঘুরালেই আপনার লকারটি খুলে যাবে। লকারের বৈশিষ্টই হচ্ছে, দুটি চাবি না লাগালে লকারটি খুলবে না। লকারের বাইরে পাশাপাশি দুটি চাবির দুটি স্বতন্ত্র keyhole থাকে। এবার ব্যাঙ্কের অফিসার তাঁর চাবিটি ঘুরিয়ে খুলে বের করে নিয়ে চলে যাবেন। আপনি তখন লকার কক্ষে একা থাকবেন এবং লকারের কাজটি নিভৃতে সমাপ্ত করে চাবি লাগিয়ে চাবি বের করে সঙ্গে নিয়ে কক্ষ পরিত্যাগ করে অফিসারকে জানিয়ে চলে যাবেন। আপনার চাবি লাগিয়ে বের করার সঙ্গে সঙ্গে লকারের দুটি তালাই লেগে যাবে।

তাছাড়া বর্তমানে মোবাইল ফোনের যুগ আসার পর,কোনও গ্রাহক প্রতিবার লকার খোলার সঙ্গে সঙ্গে ব্যাংকের পক্ষ থেকে গ্রাহকের মোবাইলে ইমেল এবং এসএমএস পৌঁছে যাবে। এই পদ্ধতির প্রধান কারণই হল, জালিয়াতি আটকানো। অর্থাৎ ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট থেকে যদি টাকা উত্তোলন করা হয় অথবা কোন কিছু খরিদ করা হয় ডেবিট কার্ড দিয়ে অথবা যে কোন ভাবে একাউন্ট এ যদি টাকা ডিপোজিট করা হয় বা উত্তোলন করা হয়, সেখানে যেমন গ্রাহকের নিকট সাথে সাথে এসএমএস ও ইমেইল পৌঁছে যায় তদ্রূপ লকারের ক্ষেত্রেও একই।
তাছাড়া ব্যাংক এর নিয়ম অনুসারে নির্দিষ্ট কিছু বা কয়েক বছরের জন্য কোন গ্রাহককে লকার ভাড়া দিতে পারে। যদি লকার ভাড়া বার্ষিক ৫০০০ টাকা হয়, তা হলে গ্রাহকের কাছ থেকে মোট নির্দিষ্ট বছরগুলো হিসাব করে অগ্রিম টাকা নিয়ে নেবে।। অতিরিক্ত কোন টাকা ব্যাংক নিতে পারবে না। অবশ্য রক্ষণাবেক্ষণের চার্জ আলাদা হিসেবে গণ্য হবে।
📘📕 লকার বরাবর অথবা লকারের সামনে যে কোন সিসিটিভি বা ক্যামেরা রাখা নিষেধ। কেননা তাতে গ্রাহকের প্রাইভেসি নষ্ট হয়।
কিন্তু লকারের বাইরে ক্যামেরা লাগানো থাকে।
তাছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংক এর নিয়ম অনুযায়ী বর্তমানেআরেকটি নিয়ম বাধ্যতামূলক করেছে।
তা হল, লকা রূমে কারা আসছে, কারা যাচ্ছেন, সেই সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে ধরে রাখতে হবে ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে কমপক্ষে ছয় মাসের জন্য। এই ফুটেজ ৬ মাস পর্যন্ত সংরক্ষিত রাখার ব্যবস্থা রাখতে হবে । যাতে কোনওরকম জালিয়াতি, চুরি-ডাকাতির ঘটনা ঘটলে পুলিশ সেই ফুটেজ দেখে তদন্ত করতে পারে।

📘📕ইসলামী শরীয়াহ ব্যাংক গুলোতে লকার সেবা “আল আমানাহ” নীতিতে দিয়ে থাকেন।
এখানে গ্রাহক কি রাখেন সেই ব্যাপারে ডিক্লারেশান থাকেনা। ডিক্লারেশান থাকে কোন ইলিগাল জিনিস রাখবেনা এতটুকু। তাই গ্রাহক কত ভরি জিনিস রাখল অথবা কত টাকা রাখল সেটা একান্তই গ্রাহক জানেন। তাই ব্যাংক এই ক্ষেত্রে লায়াবল থাকে না।

ব্যাংকের লকারের এলাকায় সিসি ক্যামেরা থাকেনা। কারন গ্রাহক কি জিনিস রাখবে সেটা গ্রাহকের একান্তই নিজের বিষয়। তার ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা এবং তার সম্পদের সুরক্ষার জন্য এই ব্যবস্থা।

লকারের দুইটি চাবি থাকে। একটি গ্রাহকের কাছে আরেকটি ম্যানেজারের/কাস্টডিয়ানের কাছে। দুই চাবি একত্রে দেয়া ব্যতীত লকার খোলা পসিবল না।

কোন কোন ক্ষেত্রে এটা চেম্বার আকারে থাকে সেক্ষেত্রে মুল দরজার কাস্টডিয়ান থাকেন। আর ভেতরের লকারের চাবি গ্রাহকের কাছে থাকে।

তাই কোনভাবেই গ্রাহকের সম্পদ ব্যাংকের ফ্রড করার সুযোগ নাই যদি গ্রাহক নিজের সম্পদের ব্যাপারে সচেতন থাকেন।

কোন গ্রাহক তার লকারের চাবি লক করল না। তাহলে সেখানে ফ্রড হলে দায় গ্রাহকের ই বেশি। আর কি আছে সেই ডিক্লারেশান দেয়া না থাকার কারনে কি রেখেছে সেটা ১০০ ভরি নাকি ১০০০ ভরি সেটা ব্যাংকের জানার কথা ও না।

এই লেখা এই কারনে লিখলাম আমাদের কোন ঘটনায় আমরা নিজেরা যদি ক্লিয়ার না থাকি তাহলে লোকজনকে জবাব দিতে পারব না।
কেউ এইভাবে যদি প্রশ্ন করেন “আমাদের অমুক শাখায় নাকি এত ভরি সোনা মেরে দিছে” তাহলে সেটা পত্রিকার ভাষা হয়ে যায়।
গ্রাহক তার অবহেলাকে ব্যাংকের উপর চাপাতে চাইতে পারে অথবা আরো ঘটনা থাকতে পারে।
প্রিভিয়াস হিস্টোরি বলে গ্রাহক কোর্টে গিয়ে ক্ষমা চাইতে হয়েছে এরকম মামলা করে।
তাই নিজেদের দিক থেকে পরিস্কার থাকা জরুরী।।

📘📕ব্যাঙ্কের লকার (Bank Locker) ভাড়া নিতে আপনাকে খুঁটিনাটি অনেক বিষয় জানতে হবে। খরচ-সহ খুঁটিনাটি নিয়ম জানা না থাকলে আপনার ব্যাংক লকার ব্যবহার না করাই উচিত।
ব্যাঙ্কিং খাতে প্রায় প্রতিদিনই নিত্যনতুন বদল আসে। এবার লকারের ক্ষেত্রে নতুন নিয়মও কার্যকর করা হয়েছে। সম্প্রতি ব্যাঙ্কের লকারের নিয়মে পরিবর্তন হয়েছে। জেনে নেওয়া যাক।

মূল্যবান সম্পদ, গয়না, টাকাপয়সা নিরাপদে রাখার জন্য অনেকেই ব্যাঙ্কের লকার ব্যবহার করেন। ব্যাংকের লকারের ক্ষেত্রে বেশকিছু নিয়ম চালু য়য়েছে। এই নতুন নিয়মের উদ্দেশ্যই হল, গ্রাহকদের মূল্যবান সম্পদ যেমন , গয়না, টাকাপয়সা যেন চুরি বা ডাকাতি না হয়ে যায় সেজন্য মানুষ নিরাপত্তার জন্য ব্যাংকের লকার ব্যবহার করে।
📘📕 বাংলাদেশের রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংকের ৫৪টি শাখায় লকার সেবা রয়েছে। ব্যাংকটির ছোট লকারের বার্ষিক চার্জ ২ হাজার টাকা। মাঝারি ও বড় লকারের চার্জ যথাক্রমে ২ হাজার ৫০০ ও ৩ হাজার টাকা। রাষ্ট্রায়ত্ত অন্য ব্যাংকগুলোও প্রায় একই চার্জে গ্রাহকদের লকার সেবা দিচ্ছে।

📘📕 চট্টগ্রাম চকবাজারের ইসলামী ব্যাংকের একটি শাখার ব্যাংকের লকার থেকে গায়েব হওয়া স্বর্ণের খবরটি নিম্নরূপ —

গতকাল সরেজমিনে ইসলামী ব্যাংকের চকবাজার শাখাটিতে গিয়ে দেখা গেছে, সকাল থেকেই স্বাভাবিক দিনের থেকে আমানতকারীদের ভিড় কিছুটা বেশি ছিল। তবে বেশি ভিড় দেখা যায় লকারে গচ্ছিত রাখা গ্রাহকদের। এসব গ্রাহকরা ব্যাংক কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে লকারে ঢুকছেন। আমানত নিরাপদ আছে কিনা যাচাই করে আবার চলে যাচ্ছেন তারা। অনেকে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলছেন। গ্রাহকদের সবার চেহারায় ছিল আতঙ্কের ছাপ। তারা প্রশ্ন তুলেছেন ব্যাংকের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে।

নগরীর চন্দনপুরা থেকে ব্যাংকে এসেছেন তসলিমা খানম ও জয়নাল আবেদীন দম্পতি। ২২ বছর ধরে ইসলামী ব্যাংকের লকার ব্যবহার করছেন তারা। তসলিমা আমাদের সময়কে বলেন, লকারে আমাদের স্বর্ণালঙ্কার ছিল। খবর শোনার পরে খোঁজ নিতে এসেছি। কিছুটা আতঙ্কে ছিলাম। লকারে গিয়ে দেখেছি সব অক্ষত আছে। কিছু স্বর্ণ বাড়ি নিয়ে যাচ্ছি। বাকিগুলো লকারে রেখে এসেছি। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ আশ্বস্ত করেছে কোনো সমস্যা হবে না।

গনি বেকারি মোড়ের আসাবিক এলাকা থেকে ছুটে এসেছেন আরেক আমানতকারী রাকিবুল ইসলাম। বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করেন তিনি। লকার যাচাই করে সবকিছু অক্ষত পেয়েছেন রাকিবুল। জানতে চাইলে তিনি বলেন, এমনিতে দেশের ব্যাংক ব্যবস্থার পরিস্থিতি তেমন ভালো না। চুরির বিষয়টি শুনে শঙ্কিত হয়ে ছুটে আসলাম। তবে আলহামদুলিল্লাহ, সব ঠিকঠাক আছে।

ব্যাংকের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আরেক গ্রাহক সৈয়দ মাসরুফ সালেহীন বলেন, ব্যাংক থেকে দেড়শ ভরি স্বর্ণ গায়েব হয়ে গেল, অথচ কর্তৃপক্ষ টেরই পেল না! শাখাটিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল অরক্ষিত নতুবা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ছিলেন দায়িত্বহীন। তাই এমনটা হয়েছে। মানুষ নিরাপত্তার জন্য নিজের কষ্টার্জিত মূল্যবান জিনিসপত্র ব্যাংকে আমানত রাখে। কিন্তু সেই আমানতের খেয়ানত হলে মানুষ যাবে কোথায়? এমন হলে মানুষ ব্যাংকে আমানত রাখতে ১০ বার চিন্তা করবে।

ব্যাংক কর্মকর্তারাই সরিয়েছেন স্বর্ণ!

নগরীর চকবাজার এলাকার ইসলামী ব্যাংক থেকে গত ২৯ মে লকার খুলে ১৫০ ভরি স্বর্ণ গায়েবের বিষয়টি বুঝতে পারেন স্বর্ণের মালিক রোকেয়া বারী। এরপর গত শনিবার রাত থেকে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। ভুক্তভোগীর দাবি, ব্যাংক কর্মকর্তা, কর্মচারীরাই এসব স্বর্ণ সরিয়েছেন। গায়েব হওয়া স্বর্ণালঙ্কারের মধ্যে রয়েছে ৪০ পিস হাতের চুরি (বড় সাইজ); যার ওজন ৬০ ভরি। গলা ও কানের অলঙ্কার; যার ওজন ২৫ ভরি। ১০ ভরি ওজনের একটি গলার সেট, ২৮ ভরি ওজনের ৭টি গলার চেইন। ১৫ ভরি ওজনের ৪টি আংটি ও ৩০ জোড়া কানের দুল; যার ওজন ১১ ভরি বলে জানা গেছে।

ভুক্তভোগী রোকেয়া বারী জানান, গত ১৭ বছর ধরে চকবাজারের ইসলামী ব্যাংকের একটি লকার ব্যবহার করছেন তিনি। তাদের পরিবারের সবার স্বর্ণালঙ্কার ছিল ওই লকারে। সেখানে প্রায় ১৬১ ভরি স্বর্ণ ছিল, তার মধ্যে ১৪৯ ভরি স্বর্ণালংকার গায়েব হয়েছে।

স্বর্ণের মালিক বলেন, গত ২৯ মে দুপুরে তিনি কিছু স্বর্ণালঙ্কার লকার থেকে আনতে যান। এ সময় লকারের দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে লকার খুলে দেন। চাবি দিয়ে লকার রুমের দরজা খোলার পর দেখতে পাই আগে থেকে আমার বরাদ্দকৃত লকারটি খোলা। পরে বিষয়টি ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ও চকবাজার থানায় অবহিত করি। থানার ওসি ব্যাংকে গিয়ে দেখতে পান লকারে মাত্র ১০-১১ ভরি স্বর্ণালঙ্কার আছে।

ব্যাংকের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে রোকেয়া বারী বলেন, নিরাপত্তার জন্য আমরা ব্যাংকে এসব স্বর্ণ রেখেছি। আজকে এত বছর কিছু হয়নি এখন হঠাৎ করে স্বর্ণগুলো উধাও হয়ে গেল। ব্যাংকেই যদি নিরাপদ না হয় আমরা কোথায় যাব? আমি আমার স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার বা ক্ষতিপূরণ দাবি করছি। এ ঘটনায় আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলে আগামীকাল (আজ সোমবার) আদালতে মামলা করার কথা জানান তিনি। স্বর্ণ চুরির বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গে না জানানো প্রসঙ্গে রোকেয়া বারী বলেন, ব্যাংক কর্তৃপক্ষ আমাদের কাছে কয়েকদিন সময় চেয়েছিল। তাই কাউকে বলিনি।

অস্বীকার ব্যাংক কর্তৃপক্ষের : স্বর্ণালঙ্কার গায়েবের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন ব্যাংকটির চকবাজার শাখার প্রধান এএম শফিকুল মাওলা চৌধুরী। তিনি আমাদের সময়কে বলেন, এখান থেকে চুরি কিংবা ডাকাতি হওয়ার সুযোগ নেই। তবুও ভুক্তভোগী গ্রাহক যেহেতু অভিযোগ করেছেন, আমরা বিষয়টি আমলে নিয়েছি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তিন সদস্যের অভ্যন্তরীণভাবে তদন্ত কমিটিও করা হয়েছে।

দেড়শ ভরি স্বর্ণ খুইয়ে পাবেন দুই লাখ টাকা!

ইসলামী ব্যাংকে ছোট, মাঝারি ও বড় তিন ধরনের লকার রয়েছে। ভুক্তভোগী রাবেয়ার মাঝারি আকারের লকার ছিল। যদি ব্যাংক থেকে স্বর্ণ গায়েবের বিষয়টি সত্যি হয়, তাহলে তিনি দুই লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ পাবেন। এ বিষয়ে শাখাটির প্রধান এম শফিকুল মাওলা চৌধুরী বলেন, আমরা তদন্ত করছি। গ্রাহকের দাবি অনুযায়ী ১৫০ ভরি স্বর্ণ গায়েবের বিষয়টি সত্যি হলে বেরিয়ে আসবে। তবে লকার থেকে কোনো ধরনের চুরি কিংবা ডাকাতি ঘটনা ঘটে থাকলে ভুক্তভোগী গ্রাহকের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী ইন্স্যুরেন্স কাভারেজ পেয়ে থাকেন। এ ক্ষেত্রে ছোট লকারের জন্য ১ লাখ টাকা, মাঝারি লকারের জন্য ২ লাখ টাকা ও বড় লকারের জন্য তিন লাখ টাকা পাবেন গ্রাহক। অর্থাৎ দেড় কোটি টাকার বেশি স্বর্ণ খুইয়ে ভুক্তভোগী রোকেয়া পাবেন মাত্র দুই লাখ টাকা।

লকারে থাকা জিনিসপত্রের রেকর্ড রাখে না ব্যাংক, চাবি থাকে একটি ব্যাংকিং লেনদেনের সিস্টেমে যে কোনো আমানতের রেকর্ড রাখে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। তবে লকারে রাখা জিনিসপত্রের রেকর্ড কিংবা তালিকা নেওয়া হয় না গ্রাহক থেকে। বছরে নির্দিষ্ট পরিমাণ চার্জ দিয়ে লকার ভাড়া নেন গ্রাহকরা।

শাখাটির প্রধান এম শফিকুল মাওলা চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী, একজন গ্রাহক লকারের কী রাখছেন এবং কতটুকু রাখছেন, সে ব্যাপারে কোনো রেকর্ড রাখা হয় না। শুধু আগ্নেয়াস্ত্র ও দাহ্য পদার্থ না রাখার ব্যাপারে একটি লিখিত নেওয়া হয়। আমরা মূলত লকারে গ্রাহকের আমানতের নিরাপত্তার কাজ করে থাকি। এমনকি লকারের ভেতরে রাখা হয় না কোনো সিসি ক্যামেরা।

মালিক ছাড়া লকার খোলা অসম্ভব জানিয়ে তিনি বলেন, ব্যাংকে কোনো গ্রাহক আসলে লকারের দায়িত্বরত ইনচার্জ দালালিক কার্যক্রম সম্পন্ন করে লকারে ভেতরে ঢোকার অনুমতি দিয়ে থাকে। দায়িত্বরত ইনচার্জ মাস্টার কি (চাবি) দিয়ে লকার কার্যালয় ওপেন করেন। তবে লকারের ভেতর ইনচার্জ প্রবেশ করেন না। ব্যাংকের নিয়মানুযায়ী লকারের একটি মাত্র চাবি থাকে, যেটা গ্রাহকের কাছে সংরক্ষিত। ওই চাবি দিয়ে গ্রাহক লকার খুলে। চাবিটির কপিও বানানো যাবে না। হেড অফিসের নিজস্ব সরঞ্জাম দিয়ে চাবিটি তৈরি করা। তাই নির্দিষ্ট গ্রাহক ছাড়া লকারটি কেউ খুলতে পারবে না। ওদিনের ঘটনায় লকারটি ভাঙা ছিল না, স্বাভাবিকই ছিল। লকারটি মূলত চাবি দিয়ে খোলা হয়েছে। যদিও লকারের মালিকের দাবি তিনি খোলেননি। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। তদন্তে মূল ঘটনা বেরিয়ে আসবে।

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (চকবাজার জোন) সহকারী কমিশনার নূরে আল মাহমুদ আমাদের সময়কে বলেন, ব্যাংকের গ্রাহক এক নারীর মৌখিক অভিযোগ পেয়ে তাৎক্ষণিক পুলিশ ব্যাংকে যায়। সেখানে লকার খোলা অবস্থায় এবং ভেতরে কিছু স্বর্ণালঙ্কার পাওয়া যায়। গ্রাহকের অভিযোগ প্রায় ১৫০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার মিসিং হয়েছে। যেহেতু চুরির বিষয় তাই মামলা করতে বলেছি। কিন্তু তারা করেনি। শুনেছি তারা আদালতে মামলা করবে।

শ্রেষ্ঠ নবী!একজন নবীর উপর আরেকজন নবীকে শ্রেষ্ঠত্ব দেওয়া প্রসঙ্গেঃ।

রাসূল সাঃ বলেন, তোমরা আমাকে মুসা আঃ এর উপর শ্রেষ্ঠত্ব দিও না। -বোখারী

রাসুল সাঃ কি শ্রেষ্ঠ নবী? নাকি সকল নবীগণ সমান মর্যাদার অধিকার? এই প্রসঙ্গে কোরআন হাদিসের যেমন কিছু বিপরীতমুখী বক্তব্য রয়েছে তদ্রূপ ইসলামী স্কলারদের মধ্যেও এ বিষয়ে মতভেদ ও কিয়াস অর্থাৎ যুক্তি রয়েছে। কুরআনের বক্তব্য যদি বিপরীতমুখী হয় তাহলে শানে নজুল দিয়ে অর্থাৎ প্রেক্ষাপট দিয়ে তা বিচার করলেই খুব সহজে হিসাব মিলে যাবে। আর হাদিসের বক্তব্যগুলোও তদ্রূপ প্রেক্ষাপট পর্যালোচনা করলেই সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া সম্ভব।।

আমি এই প্রসঙ্গে আজকে আমার নিজস্ব স্টাডি থেকে কিছু আলোচনা করতে চেষ্টা করব ইনশাআল্লাহ। কেননা এই বিষয়টি নিয়ে কমবেশি কিছু বিতর্ক রয়েই গেছে।

কোরআনের কিছু আয়াত ও কিছু হাদিস আলোচনা করলে আমরা দেখতে পাই,পবিত্র কোরআনে শুধু রাসুল সাঃ কে ই শ্রেষ্ঠ নবী বলা হয়নি বরং আল্লাহর তরফ থেকে সকল নবী রাসূলকে শ্রেষ্ঠ বলা হয়েছে সমভাবে।

বরং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে শেষ নবী বলা হয়েছে পবিত্র কুরআনে। আর নবীদের ব্যাপারে আকিদা-বিশ্বাস এবং তাদের প্রতি সম্মান ভালোবাসার বিষয়ে পবিত্র কুরআনের সূরা বাকারার শেষ আয়াতের পূর্বের আয়াতে স্পষ্ট বলে দেওয়া হয়েছে–امن الرسول بما انزل اليه من ربه والمؤمن كل امن بالله وملائكته وكتبه ورسوله…………. রসূল বিশ্বাস রাখেন ঐ সমস্ত বিষয় সম্পর্কে যা তাঁর পালনকর্তার পক্ষ থেকে তাঁর কাছে অবতীর্ণ হয়েছে এবং মুসলমানরাও সবাই বিশ্বাস রাখে আল্লাহর প্রতি, তাঁর ফেরেশতাদের প্রতি, তাঁর গ্রন্থসমুহের প্রতি এবং তাঁর পয়গম্বরগণের প্রতি। তারা বলে ***আমরা তাঁর পয়গম্বরদের মধ্যে কোন তারতম্য করিনা***। তারা বলে, আমরা শুনেছি এবং কবুল করেছি। আমরা তোমার ক্ষমা চাই, হে আমাদের পালনকর্তা। তোমারই দিকে প্রত্যাবর্তন করতে হবে।– বাকারা, আয়াত ২৮৫।

উক্ত আয়াতে স্পষ্ট বলে দেওয়া হয়েছে যে, মোমেনদের বৈশিষ্ট্য হল, তারা বলে যে- “আমরা পয়গম্বরদের মধ্যে কোনরকম তারতম্য করি না”। অর্থাৎ কে বড়, কে ছোট , কে মর্যাদাশীল কে মর্যাদায় কম এই সমস্ত পার্থক্য করা কোন ঈমানদারের জন্য জায়েজ নেই বরং হারাম এবং ইসলাম থেকে বের হয়ে যাওয়ার একটি রাস্তা।

সূরা আল আহযাব এর ৪০ নাম্বার আয়াতে আল্লাহ বলেন مكانه محمد ابا احد من رجالكم ولكن رسول الله وخاتم النبي،…………….মুহাম্মাদ (সাঃ) তোমাদের মধ্যেকার কোন পুরুষের পিতা নয়, কিন্তু তিনি আল্লাহর রাসূল এবং শেষ নবী। আল্লাহ সর্ববিষয়ে সর্বজ্ঞাতা। ।

কোরআনের কোন আয়াতের মধ্যেই রাসূল সাল্লাল্লাহু ওয়া সাল্লামকে শ্রেষ্ঠ অথবা সর্বশ্রেষ্ঠ রাসুল বলা হয়নি বরং বলা হয়েছে তিনি রাসূলদের মধ্যে একজন এবং তিনি সর্বশেষ রাসূল। অতএব সর্বশেষ রাসূলকে অনুসরণ করা ফরজ হলো পৃথিবীর সর্বশেষ অবস্থানরত অর্থাৎ সেই রাসূলের পর থেকে আগত সকল জ্বীন এবং মানুষের জন্য।

মোট কথা, একজন নবী পৃথিবীতে আগমনের পর সকল মানুষ এবং জিন জাতির জন্য সেই নবী অথবা রাসুল কে অনুসরণ করা ফরজ হয়ে যায়। আরেকজন নবী আসার পূর্ব পর্যন্ত সবাই পূর্ববর্তী এবং সর্বশেষ নাযিল হওয়া কিতাব ও নবীকে অনুসরণ করবেন যতক্ষণ পর্যন্ত না অন্য আরেকজন নবীর আগমন হবে।

কিন্তু যেহেতু রাসূল সাল্লাল্লাহু ওয়া সাল্লাম এর পর আর কোন নবী পৃথিবীতে আসবেন না এবং তা সূরা আহযাবের ৪০ নাম্বার আয়াত দ্বারা আল্লাহ নবুয়তের দরজা খতম বা শিলমোহর করে দিয়েছেন । অতএব, কেয়ামত পর্যন্ত পৃথিবীতে অবস্থানরত এবং আগমন করা সকল জিন এবং মানুষের জন্য অনুসরণীয় এবং অনুকরণীয় হলো আল্লাহর শেষ কিতাব কোরআন এবং শেষ নবী মোহাম্মদ সঃ।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সালাম এর শ্রেষ্ঠত্বের কথা তিরমিজি শরীফের এবং মেশকাত শরীফের একটি হাদিসের মধ্যে এসেছে। হাদীসটি হল—-আব্বাস রাঃ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন – রাসূলুল্লাহ সাঃ মিম্বারে উঠে বললেন, আমি কে? তখন সাহাবীগণ বললেন, আপনি আল্লাহর রাসূল। তখন রাসূল সাঃ বললেন, আমি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল মুত্তালিব। আল্লাহ সৃষ্টি জীব সৃষ্টি করে আমাকে তাদের ভালোদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। অতঃপর মানুষকে দু’ভাগে ভাগ করেছেন, তথা আরব ও আজম, অর্থাৎ আরব ও আনারব এবং আমাকে শ্রেষ্ঠ ভাগের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। অতঃপর তাদেরকে বিভিন্ন গোত্রে বিভক্ত করেছেন এবং আমাকে শ্রেষ্ঠ গোত্রে স্থান দিয়েছেন। অতঃপর তাদেরকে বিভিন্ন বাড়িতে পৃথক করেছেন এবং আমাকে শ্রেষ্ঠ বাড়িতে স্থান দিয়েছেন। অতএব আমি তাদের মধ্যে বাড়ির দিক দিয়েও শ্রেষ্ঠ এবং ব্যক্তির দিক দিয়েও শ্রেষ্ঠ।

উপরোক্ত হাদিসটি দিয়ে প্রমাণিত হয় যে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম গোত্র এবং মানুষের দিক থেকে শ্রেষ্ঠ। আর তাছাড়া প্রত্যেক নবী-রাসূলকে আল্লাহ তৎকালীন সময় সর্বশ্রেষ্ঠ গোত্র বা সম্প্রদায়ের মধ্যে থেকেই নির্বাচন করেছেন। কেননা অপরিচিত বা অখ্যাত কোন গোত্র বা সম্প্রদায়ের লোক থেকে নবী-রাসুল নির্বাচিত হলে তাদেরকে মানুষ মেনে নেয় না এবং গণ্য করে না।

আর আপনি যদি লক্ষ্য করে দেখেন তাহলে দেখতে পাবেন প্রত্যেক নবী রাসুলগণ ওই সময়ের এবং ওই এলাকার সর্বশ্রেষ্ঠ গোত্র ও পরিবার থেকে জন্ম নিয়েছেন। শুধুমাত্র মূসা আলাইহি ওয়াসাল্লাম অখ্যাত পরিবারে জন্ম নিয়েছেন কিন্তু মুসা আলাইহি ওয়াসাল্লামের গোত্র ছিল বনি ইসরাইল অর্থাৎ নবীর বংশ অর্থাৎ শ্রেষ্ঠ বংশ। এবং আল্লাহ তাকে ওই সময়ের পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ এবং সবচেয়ে শক্তিশালী রাজবংশ ফেরাউনের ঘরে লালন পালন করার ব্যবস্থা করেছেন। আর এটার মধ্যে একটি হেকমত যে, মানুষ যাতে বলতে না পারে যে তুমি নিম্ন গোত্র নিম্ন বংশ থেকে উঠে এসেছো অতএব তোমাকে মেনে নেওয়া যায় না। কেননা এটা মানুষের একটি সহজাত প্রবৃত্তি।

আর এই দিকগুলি হিসাব করতে গেলে সকল নবীরাই শ্রেষ্ঠ এবং সবাই শ্রেষ্ঠ গোত্র বা শ্রেষ্ঠ সম্প্রদায়ের মধ্যে জন্মগ্রহণ করেছেন অথবা লালিত-পালিত হয়েছেন।

📕📕পবিত্র কোরআনের সূরা আল ইমরানের ১১০ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে যে, তোমরাই শ্রেষ্ঠ উম্মাত, তোমাদেরকে মানুষদের জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে। তোমরা মানুষদেরকে সৎ কাজের আদেশ করবে, অসৎ কাজ থেকে বাঁধা প্রদান করবে এবং আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস করবে। যদি আহলে কিতাবরা ঈমান আনতো, তাহলে তা তাদের জন্য কল্যাণকর হ’ত”। অর্থাৎ ইহুদি ও খ্রিষ্টানের এই শ্রেষ্ঠ উম্মাতের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যেত। তাদের মধ্যে কিছু মুসলিন এবং অধিকাংশই ফাসেক’। মোহাম্মদ সাঃ এর উম্মতকে এখানে শ্রেষ্ঠ উম্মত বলা হয়েছে। এবং এই আয়াতের মাধ্যমে এটা প্রমাণ হয় যে, যদি উম্মত শ্রেষ্ঠ হয় তাহলে নবীও শ্রেষ্ঠ হবেন এটাই স্বাভাবিক।

📘📘মুসলিম শরীফের একটি হাদিসের মধ্যে এসেছে, এবং এই হাদিসটি সবচেয়ে বড় সংকলন গ্রন্থ মেশকাত শরীফের মধ্যেও সংকলন করা হয়েছে–, ঈসা আঃ যখন আসমান থেকে অবতরণ করবেন, তখন ইমাম মাহদী আঃ  তাঁকে ইমামতি করতে বলবেন। কিন্তু তিনি এই উম্মতের সম্মানে ইমামতি করাবেন না। বরং ঈসা আলাইহিস সালাম বলবেন যে আপনি ইমামতি করুন অতঃপর ইমাম মাহদী ইমামতি করবেন! এদিক থেকে ও উম্মতে মোহাম্মদীর ও মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম এর শ্রেষ্ঠত্ব উপলব্ধি করা যায়। নবীগণ নিজেদের সাহাবাগণের ইমামতিতে নামাজ পড়েছেন এবং রাসুল সা নিজেও আবু বকর রাঃ এর ইমামতিতে নামাজ পড়েছেন।

📘📘মুসনাদে আহমদ এবং তিরমিজি শরীফের  একটি হাদিসের এসেছে– মহান আল্লাহ ইসমাইল আঃ এর সন্তানদের মধ্যে থেকে বনী কিনানাকে নির্বাচন করেছেন এবং বনী কিনানার মধ্যে থেকে কুরাইশকে নির্বাচন করেছেন এবং কুরাইশের মধ্যে থেকে বনী হাশেমকে নির্বাচন করেছেন আর আমাকে নির্বাচন করেছেন বনী হাশেম থেকে। আর ইতিহাস থেকে জানা যায় যে বংশপরম্পরায়  এই গোত্রগুলো সেই প্রাচীনকাল থেকেই শ্রেষ্ঠ ছিল।

📘📘যৌক্তিক ক্ষেত্রে দেখতে গেলে এটা সহজেই বুঝা যায় যে, সর্বশেষ আগত বক্তা মূলতঃ অন্যান্যদের থেকে আলাদা ও শ্রেষ্ঠ হয়ে থাকেন। বক্তব্যের দিক থেকে কোরআন হলো আল্লাহর দেওয়া সর্বশেষ বক্তব্য মানুষের জন্য। আর এই কোরআনকে বর্ণনা করানো হয়েছে নবী মুহাম্মদ সাঃ এর মাধ্যমে।

সকল আসমানী কিতাবের মধ্যে কোরআন সর্বশ্রেষ্ঠ কিতাব। কোরআন যে মাসে অবতীর্ণ হয়েছে সে রমজান মাসটি সর্বশ্রেষ্ঠ মাস। কোরআন যে রাতে অবতীর্ণ হয়েছে সে কদরের রাত সর্বশ্রেষ্ঠ রাত। যেই স্থানে অবতীর্ণ হয়েছে তা সর্বশ্রেষ্ঠ জায়গা। যিনি আল্লাহর নিকট থেকে এই কিতাব নিয়ে আসতেন সেই জিব্রিল আঃ ফেরেশতাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী। আর এত সব শেষ রক্তের মধ্যে যে নবীর উপর কোরআন নাজিল হয়েছে, তিনি অবশ্যই সর্বশ্রেষ্ঠ রাসূল হবেন এটাই অধিকতর  যুক্তিসঙ্গত।

এটা অবশ্যই ঠিক যে, মুহাম্মাদ সাঃ এর নবুঅত অন্যান্য রাসূলদের নবুঅতের চেয়ে বৈশিষ্ট্যগতভাবে অনেক মহান। কেননা, মহান আল্লাহ রাসুলুল্লাহ সাঃ এর নবুঅতের দ্বারা অন্য সকল নবীর নবুঅত ও দ্বীনকে মানসূখ বা রহিত করে দিয়েছেন। অন্য দিকে আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মাদ সাঃ এর নবুঅত অন্য কোনও নবীর নবুঅত দ্বারা মানসুখ হবেনা কেননা তিনি কুরআনের বর্ণনা অনুযায়ী শেষ নবী। এই দিক দিয়ে তিনি অন্যান্য নবীর চেয়ে আলাদা বৈশিষ্ট্যের অধিকারী। অন্য নবীদের আঃ গণের  নবুঅত ছিল নির্দিষ্ট গোত্রের জন্য এবং রাসূল সাঃ এর নবুঅত সারা পৃথিবীর সকল মানুষের জন্য। আর যিনি এই নবুঅতের অধিকারী তিনি অবশ্যই অন্য সকল নবীদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ।

📕 📕যদিও অনেক বক্তা তাদের বক্তৃতায় ও অনেক লেখক তাদের বই-পুস্তকে লিখে থাকে, সকল নবীকে যে জ্ঞান এবং যে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম কে একাই সকল জ্ঞান ও ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এই কথাটা আদৌ ঠিক নয়। সোলাইমান আঃ জীবজন্তুর ভাষা বোঝার এবং বাতাসকে নিয়ন্ত্রণ করার মোজেজা বা ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল। যা রাসূল সাঃ কে দেওয়া হয়নি। দাউদ আলাইহিস সালামকে লোহার ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দেওয়া হয়েছিল। তিনি লোহা ধরলেই কাদার মতো নরম হয়ে যেত এবং তা দিয়ে তিনি সবকিছু তৈরি করতে পারবেন। ঈসা আলাইহিস সালামকে মরা মানুষ জীবিত করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল। আল্লাহর হুকুমে তিনি মৃতকে জীবিত করতে পারতেন। এটাই প্রমাণিত যে সকল নবীকে সকল বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্ব দেওয়া হয়নি।

📘📕 তবে মুসলিম শরীফের এই হাদিসটি থেকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সালাম এর শ্রেষ্ঠত্ব ও নেতৃত্বের প্রমাণ পাওয়া যায়। তিনি সাঃ  বলেন, “আমি নিজকে রাসূলদের জামাতের মধ্যে পেলাম।  ইতিমধ্যে নামাজের সময় হয়ে গেলে আমি তাদের ইমামতি করলাম। আর এই ঘটনা ঘটেছিল মেরাজের রাত্রে বাইতুল মাকদাসে।  আর এটা এজন্য ও হয়ে থাকতে পারে যে, সেখানে নবী সাল্লাল্লাহু ওয়া সাল্লাম ছিলেন কেবলমাত্র জীবিত আর সকল নবী-রাসূলগণ রুহ এর জগত থেকে এসেছিলেন।  আর যৌক্তিকভাবে বলতে গেলে যিনি বর্তমানে জীবিত আছেন এবং পৃথিবীতে অবস্থান করছেন ইমামতি করার অধিকার তার বেশি।

📘📕 বুখারী ও মুসলিমের বর্ণনা অনুযায়ী রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম হাশরের দিন অর্থাৎ বিচার দিবসে সাফায়াতে কুবরা বা সবচেয়ে বড় সুপারিশকারী হবেন সকল মানুষের জন্য। এটি একটি লম্বা হাদিস। —— তিনি সাঃ মানুষকে এই বিপদজনক অবস্থা হতে মুক্ত করার জন্য আল্লাহর আরশের নীচে সিজদাবনত হবেন। আল্লাহর প্রশংসা ও গুণকীর্তন করবেন। তখন আল্লাহ তাঁকে সেজদা থেকে উঠে দোয়া করার অনুমতি দিবেন। তিনি তখন সমগ্র মানুষের হিসাব-নিকাশের জন্যে আল্লাহর কাছে সুপারিশ করবেন। আল্লাহ তাঁর দোআ এবং সুপারিশ কবুল করবেন। এটিই হল “মাক্বামে মাহমূদ” বা সুমহান মর্যাদা যা আল্লাহ তাঁকে দান করেছেন। এই দোয়াটি আমরা অনেক সময় আযানের দোয়ার সাথে পড়ে থাকি

রক্তচূড়া, গুলমোহর, নাকি কৃষ্ণচূড়া!!

🌳🌳চারদিকে টকটকে লাল হয়ে ফুটে আছে #রক্তচূড়া ফুল।
হিন্দুরা এটাকে তাদের দেবতার সাথে মিলিয়ে কৃষ্ণচূড়া হিসাবে ডাকে। আমি এক হিন্দু মাস্টারকে, জিজ্ঞাসা করেছিলাম যে, এটাকে হিন্দুরা কেন #কৃষ্ণচূড়া ডাকে। তখন তিনি আমাকে বললেন, হিন্দুদের দেবতা এক কৃষ্ণ তাদের দেবী রাঁধা’কে ভালবাসত। তো তাদের দেবী রাঁধা যখন নদীতে গোসল করার জন্য যেত, তখন কৃষ্ণ গোপনে এই গাছের মধ্যে উঠে সেই অশ্লীল দৃশ্য দেখত। তো একদিন চারদিকে কৃষ্ণকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। রাধা তখন নদীতে গোসল করছিল মেয়েদের সাথে। আর কৃষ্ণ সেখানে বসে বসে মেয়েদের গোসল করার সেই অশ্লীল দৃশ্য অবলোকন করছিল। সবাই বলতে লাগল কৃষ্ণ কোথায় কৃষ্ণ কোথায় কারণ কৃষ্ণকে পাওয়া যাচ্ছিল না।
একজন দেখে ফেলল এবং বলল কৃষ্ণ হল গাছের চূড়ায়।
সেই থেকে এই গাছের নাম হয়ে গেল কৃষ্ণচূড়া।
এটা হল এই কৃষ্ণচূড়ার রাতের নাম হওয়ার আসল রহস্য এবং হিন্দুদের কাছে এই কৃষ্ণচূড়া গাছ এই জন্য খুবই প্রিয়।
এটা হলো ঐ শিক্ষকের বর্ণনা তবে আরো বিভিন্ন প্রকার বর্ণনা পাওয়া যায়। কোনটি সত্য কোনটি মিথ্যা তা বলা বড়ই দুষ্কর। তবে সবগুলি যে মিথ্যা এটা শতভাগ নিশ্চিত, কেননা এই বৃক্ষ ভারতবর্ষের নয় বরং এটির আদি জন্মস্থান আফ্রিকার #মাদাগাস্কারে।

মুসলিম যারা জানে, সবাই এটিকে #রক্তচূড়া গাছ হিসেবে জানে।
সে যাই হোক, গাছ তো গাছই। গাছ সকলের জন্য আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন। এবং গাছ সৌন্দর্য এবং প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা করে এবং গাছ মানুষের উপকার করে থাকে। আমাদের কাজ হলো গাছের যত্ন করে প্রাকৃতির ভারসাম্য রক্ষা করা এবং বিনা কারণে গাছ নষ্ট না করা আর যতটুকু সম্ভব গাছ লাগানো। তাছাড়া শেষ নবী রাসূল সাঃ বলেছেন যে আগামীকাল কেয়ামত হয়ে যাবে তথাপিও একটি গাছ লাগাও।
রাসূল সাল্লাল্লাহু সালাম আরো বলেছেন গাছ তো দূরের কথা বিনা কারণে গাছের একটি পাতাও ছেড়ো না। কেননা গাছের পাতা গুলো তাঁর স্রষ্টার অর্থাৎ আল্লাহ পাকের জিকির করে।
তবে প্রয়োজন হলে গাছটি কাটতে পারো কিন্তু বিনা কারণে গাছের পাতা ছিঁড়তে নিষেধ করা হয়েছে।

🌳🌳 এবার আসুন জেনে নেয়া যাক এই রক্তচূড়া অথবা কৃষ্ণচূড়া গাছের সম্পর্কে কিছু তথ্য।
অত্যন্ত দৃষ্টি নন্দন এবং প্রচন্ড গরম ও বিশ্বের মধ্যে ফুটে থেকে মানুষের মনোরঞ্জন করা এই ফুলটির প্রকৃত নাম হলো, #গুলমোহর, তাছাড়া রক্তচূড়া, কৃষ্ণচূড়া ইত্যাদি নামেও ডাকা হয় আমাদের ভারতীয় উপমহাদেশে।
ইংরেজি নাম হল রয়্যাল পৈন্সিয়ানা, ফ্ল্যাম্বোয়ান্ট, ফ্লেম ট্রি, পিকক ফালুয়ার । তাছাড়া পৃথিবীর সকল উদ্ভিদ এবং প্রাণীর শ্রেণীবিন্যাস করার জন্য এবং তাদের দিয়ে গবেষণা করার জন্য বিজ্ঞানীরা প্রত্যেকটি উদ্ভিদ এবং প্রাণীর সব দেশে একই নামে চেনার জন্য একটি কমন নাম দিয়ে থাকেন আর সাথে গিয়ে বৈজ্ঞানিক নাম বলা হয়। আর পৃথিবীর সকল উদ্ভিদ এবং প্রাণীর বৈজ্ঞানিক নাম বিপদ অর্থাৎ দুইটি পদ বিশিষ্ট। এই গুলমোহর বা রক্তচূড়ার বৈজ্ঞানিক নাম “ডেলোনিক্স রেজিয়া”!

🌳🌳 আমাদের এই প্রাকৃতিক গ্রীষ্মের খরতাপে যখন প্রখর রৌদ্রে পুড়তে থাকে, ঠিক তখনই প্রকৃতিকে রাঙিয়ে দিতে, মানুষের মনে রং লাগাতে ও নতুন আশা জাগাতে নিজের সবটুকু রং ছড়িয়ে আনন্দ দিতে শুরু করে এই গুলমোহর বা রক্তচড়া ফুল। পত্রের প্রচন্ড খরতাপের পর ধরণী ফিরে পায় প্রাণ। বসন্ত মূলত বসন্ত এবং গ্রীষ্ম এই দুইটি ঋতু রঙিন করে রাখে এই রক্তচড়া ফুল। গ্রীষ্মের নীল আকাশের পটে দিগন্তে যেন আগুন জ্বলে ওঠে এই কৃষ্ণচূড়া ও পলাশ ফুলের আভায়। বনের ধারে ও রাস্তার আশেপাশে কিংবা মানুষের বাড়ির আঙিনায় টকটকে লাল এই ফুল অনেকের মনে অনেক প্রকার স্মৃতি হয়ে জেগে থাকে আজীবন। কারো কাছে বিপ্লবের স্মৃতি, কারো কাছে ভালোবাসার স্মৃতি হিসেবে।
শুধুমাত্র আনন্দানুভূতির সঙ্গেই নয়, বরং এই ফুলটি জড়িয়ে গেছে আমাদের স্বাভাবিক জীবনাচার ও চেতনার সাথে। সাহিত্য গদ্য কবিতায় তো আছেই প্রত্যেকটি মানুষের হৃদয়ে বিভিন্নভাবে জড়িয়ে আছে এই ফুলের স্মৃতি। রক্তচড়া ফুলটিকে কেউ এখন আর বিদেশি ফুল মনে করে না বরং এটি আমাদের দেশের পরিবেশ প্রকৃতি এবং সংস্কৃতির সাথে পুরোপুরি ভাবে মিশে গেছে।।
বৃহৎ আকৃতির এই ফুলগাছটি বর্তমানে আমাদের দেশে সব জায়গায় পাওয়া যায় এবং যেকোনো নার্সারিতে এর চারা 5 থেকে 10 টাকায় পাওয়া যায়। তাছাড়া বীজ পড়ে এমনিতেই জন্মে থাকে অনেক জায়গায়। মূলত এটির আদি নিবাস কিন্তু সুদূর আফ্রিকা মহাদেশের মাদাগাস্কার দ্বীপ রাষ্ট্রে।
গুলমোহর বা রক্তচূড়া মাদাগাস্কারের শুষ্ক পত্রপতনশীল বৃক্ষের জঙ্গলে পাওয়া যায়।
আনুমানিক ১৮২৪ খ্রিস্টাব্দে সেখান থেকে প্রথম মরিশাস, পরে ইংল্যান্ড এবং অবশেষে মূলত ইংরেজদের দ্বারাই দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এটির বিস্তার ঘটে। বর্তমানে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, নেপাল, শ্রীলংকা,ভারত, মালদ্বীপ, মিয়ানমার হংকং, তাইওয়ান, দক্ষিণ চীন, ক্যারাবিয়ান অঞ্চল, আফ্রিকা, সহ বিশ্বের অনেক দেশেই এটি জন্মায়।
উত্তর গোলার্ধের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রক্তচূড়া শুধু মাত্র দক্ষিণ ফ্লোরিডা, দক্ষিণ পশ্চিম ফ্লোরিডা, টেক্সাসের রিও গ্রান্ড উপত্যকায় পাওয়া যায়।
🌳🌳ডেলোনিক্স রেজিয়া হল এই কৃষ্ণচূড়া বা রক্তচড়ার সাইন্টিফিক নেম বা বৈজ্ঞানিক নাম।আসলে ড্যালোনিক্স একটি গ্রিক শব্দ, যার অর্থ হল – দৃশ্যমান থাবার বা চোখের সামনে থাকার মতো।
সম্ভবত এই ফুলের পাপড়ির বৈশিষ্ট্যেই নামটি অর্থবহ। ‘রিজিয়া’ অর্থ রাজকীয়। নামের এ অংশে রক্তচূড়া’র ঐশ্বর্য বা আভিজাত্য।

এই কৃষ্ণচূড়া বা রক্তচড়ার গাছটি মাঝারি আকৃতির শাখা-প্রশাখাবিশিষ্ট ছাতা কৃতির । বিজ্ঞানের বাসায় এটি পর্ণমোচী জাতীয় উদ্ভিদ।
রক্তচূড়া গাছ উচ্চতায় ৭ থেকে ১২,১৩ মিটার বা ৪৫ থেকে ৫০ ফুট পর্যন্ত উঁচু হতে দেখা যায়।
শাখা প্রশাখায় এটি অনেক দূর পর্যন্ত ছড়ায়। শাখা প্রশাখার অগ্রভাগ নিম্নমুখি এবং নরম প্রকৃতির ও অল্প বাতাসেই অনেক সময় ভেঙে যেতে দেখা যায়। ঝড়ে এ বৃক্ষের বেশ ক্ষতি হয় সবচেয়ে বেশি। ঝড় বৃষ্টিতে অন্যান্য গাছের ডাল একটিও না ভাঙলে এই রক্তচড়া গাছের ডাল দুই একটি ভাঙবেই।।
এ গাছের কান্ডের রং কিছুটা ধুসর বর্ণের হয়ে থাকে। এই গাছের ফুলের রং ও পাতার সৌন্দর্য শুধু মানুষের মনকে আকৃষ্ট করে এমন নয় এটি সৌন্দর্য বর্ধনের পাশাপাশি এই গাছ উষ্ণ আবহাওয়া অঞ্চলে ছায়া দিতে বিশেষভাবে উপযুক্ত।
আর এজন্যই মরুভূমির দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাস্তাঘাট গুলোতে এবং বাড়ির আঙিনার আশেপাশে ব্যাপক হারে এই রক্তচূড়া গাছ লাগাতে দেখা যায়। রক্তচূড়ার জন্মানোর জন্য উষ্ণ বা প্রায়-উষ্ণ আবহাওয়ার দরকার। এই বৃক্ষ শুষ্ক ও লবণাক্ত অবস্থা সহ্য করতে পারে। তাই এটি এখন বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ও বর্তমান পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর শহর দুবাইয়ের প্রধান বৃক্ষ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে এবং ব্যাপক সমাদর পেয়েছে।

শুধু ফুল নয়, পাতার সৌন্দর্যেও এই গুলমোহর বা রক্তচড়া অনন্য। এর পাতার কচি ও সবুজ রঙ এবং সূক্ষ্ম কারুকর্ম বিন্যাস খুবই আকর্ষণীয়। পৃথিবীর সব দেশের বাচ্চাদের খেলাধুলার একটি মুখ্য উপাদান এই গাছের পাতা ও ফুল। আমি Mahabubur Rahman নিজেও ছোটবেলায় এই গাছের পাতা ছিড়ে মুখের মধ্যে বোলাতাম এবং সুড়সুড়ি এক অনুভূতি সৃষ্টি হতো। মনে হলে এখনো হাসি পায়।
এ গাছে পাতা নিবিড় ভাবে বিন্যস্ত নেই, অর্থাৎ আম পাতা জাম পাতা যেভাবে নিবিড়ভাবে একটার সাথে আরেকটা লেগে থাকে তেমন নয়,তবু রৌদ্র প্রতিরোধে সক্ষম এই গাছের পাতা।
রক্তচূড়া জটিল পত্রবিশিষ্ট এবং উজ্জ্বল সবুজ। বিজ্ঞানের বর্ণনায়, পাতা দ্বিপক্ষল, ৩০-৬০ সে মি পর্যন্ত লম্বা, ২০-৪০ টি উপপত্র বিশিষ্ট।
পাতাগুলো ক্ষুদ্র বা ছোট, ১ সেন্টিমিটার পর্যন্ত লম্বা হতে দেখা যায়। আমাদের কালীগঞ্জ – গাজীপুর । এ ও পুরো দেশে শীত গ্রীষ্মে কৃষ্ণচূড়ার পাতা ঝরে যায় অনেকটাই। আর আমাদের দেশে এটি ফেব্রিক এর নিয়ম। কিন্তু পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন সময় এটির পাতা ঝরে এবং ফুল ফোটে। পৃথিবীর সব দেশে একই সময়ে এটি ফুল ফোটে না এবং পাতাও ঝরে না।
মূলত গাছটি পত্রপতনশীল বৃক্ষের অন্তর্ভুক্ত।
যখন ফুলফুটে তখন খুবই অল্প পাতা থাকে এবং, প্রায় পত্রহীন গাছে গাছে বড় বড় থোকায় থোকায় ভরে যায় রক্তের মত রং টকটকে লাল রক্তচূড়া ফুল। তখন এই লাল ফুল গুলোর মাঝে অল্প সবুজ পাতাগুলো একেবারে দেখাই যায় না। লাল ফুলের মাঝে পাতাগুলো মিলিয়ে যায়। অতি শুষ্ক অঞ্চলে গ্রীষ্মকালে কৃষ্ণচূড়ার পাতা ঝরে গেলেও, নাতিষীতোষ্ণ অঞ্চলে এটি বলতে গেলে চিরহরিৎ অর্থাৎ চিরসবুজ।

এখন গ্রীষ্মকাল চলছে। আমি এখন সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই শহরতলীর একটি কৃষ্ণচূড়া বা রক্তচড়া গাছের নিচে বসে এই প্রবন্ধ লিখছি।
এই গাছটিতে এখন প্রচুর ফুল এবং প্রচুর পাতা দেখা যাচ্ছে। দুবাই শহরে এখন প্রায় বৃষ্টিপাত হয় আর তাছাড়া তারা গাছের প্রচুর যত্ন নিয়ে থাকে। ফলো গাছগু প্রায়ই সবুজ থাকে। গ্রীষ্মের আকাশের নিচে প্রচণ্ড তাপ ও রুক্ষতায় এই গুলমোহর গাছের আশ্চর্য দৃষ্টিনন্দন লাল প্রস্ফুটনের কোন তুলনা হয় না । এই গাছের পাতা ও ফুলের সৌন্দর্য যে কোন পথিককে একবার হলেও তার দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করার আহ্বান জানায়।।
অনেক সময় পাতাহীন শাখায় মুকুল ধরার অল্প দিনের মধ্যেই সারা গাছ ফুলে ফুলে ভরে যায়। এত উজ্জ্বল রঙ, এত অক্লান্ত প্রস্ফুটন তরুরাজ্যে বেশ দুর্লভ ই বলা চলে।
কৃষ্ণচূড়া ফুলের রং সাধারনত উজ্জ্বল লাল। কিন্তু কৃষ্ণচূড়ার প্রজাতিভেদে ফুল কখন লাল, কখন কমলা বা কখন হলুদ হয়ে থাকে। … দক্ষিণ এশিয়াতে সাধারণত বসন্ত কালে কৃষ্ণচূড়া ফুল ফোটে এবং তার রেশ চলতে থাকে বর্ষার শেষ পর্যন্ত। কিন্তু পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে রক্তচূড়ার ফুল ফোটার সময় বিভিন্ন।
উদ্ভিদ বিজ্ঞানের তথ্য মতে, রক্তচূড়ার প্রস্ফুটিত ফুলের ব্যাস ২ থেকে ৩ ইঞ্চি। বৃতির বহিরাংশ সবুজ। ভেতরের অংশ রক্তিম। বৃত্যাংশের সংখ্যা ৫টি। কৃষ্ণচূড়ার ফুলগুলো ৫টি পাপড়িযুক্ত। ৫ পাপড়ির একটি বড় ও তাতে হলুদ বা সাদা দাগ। পাপড়ি প্রায় ৮ সেন্টিমিটারের মতো লম্বা হয়ে থাকে। ভেতরে একটি হলুদ গর্ভকেশরকে ঘিরে থাকে ১০টি গাঢ় লাল পুংকেশর।

🌳🌳সত্যিকারের সৌন্দর্য কৃষ্ণচূড়ার ফুলের কাছে গেলে কিছুটা হলেও উপলব্ধি করা সম্ভব। কে জানত যে দেখতে লাল লাল কৃষ্ণচূড়ার পাপড়ির উপরেও প্রকৃতি পরম মমতায় কি সুন্দর নকশা করে রেখেছে! এক অলস বিকেলে হয়তো কোনো পথিক তুলে নেবে, দেখবে, মুগ্ধ হবে – এই তার পরম তৃপ্তি, এই সামান্য মুদ্ধতার জন্য প্রকৃতির কত না অসামান্য আয়োজন! … কৃষ্ণচূড়ার ফুল ফোটার আগে কলি দেখতে মোহরের মতো দেখায় তাই হিন্দিতে এই ফুলকে বলা হয় গুলমোহর।

🌳🌳 উদ্ভিদ বিজ্ঞানের ক্লাসিফিকেশন অনুযায়ী কৃষ্ণচূড়া বা রক্তচূড়া শিম জাতীয় উদ্ভিদের গোত্রভুক্ত, তাই ফলের সঙ্গে চ্যাপ্টা শিমের সাদৃশ্য স্পষ্ট। অবশ্য ফলগুলি আকারে শিমের চেয়ে বহুগুণ বড়, ৪০-৬০ সে মি লম্বা এবং ৫ সে মি চওড়া। কৃষ্ণচূড়ার কচি ফলগুলি সবুজ, তাই পাতার ভিড়ে সহজে দেখা যায় না। শীতের হাওয়ায় পাতা ঝরে গেলেই ফল চোখে পড়ে। পাকা ফল গাঢ় ধূসর ও কাষ্ঠকঠিন। প্রতিটি ফলে প্রায় ১৫-৫০টি ২ সে মি লম্বা বাদামী রঙের বীজ থাকে। নিষ্পত্র রক্তচূড়ার শাখায় যখন ফল ছাড়া আর কিছুই থাকে না তখন তাকে সৌন্দর্যহীন দেখায়। বসন্ত শেষে রক্তচূড়ার দিন ফেরে, একে একে ফিরে আসে পাতার সবুজ, প্রস্ফুটনের বহুবর্ণ দীপ্তি, নিঃশব্দে ঝরে পড়ে বিবর্ণ কালো রঙের লম্বা লম্বা ফলগুলি। রক্তচূড়া আবার দৃষ্টিনন্দন হয়ে ওঠে।
এই এই গুলমোহর বা কৃষ্ণচূড়া ফুল নিয়ে কোন এক কবি লিখেছেন–
“গুলমোহরের ফুল ঝরে যায়
বনে বনে শাখায় শাখায়।
কেন যায় কেন যায়
বাহারের মন ভেঙ্গে যায়”

🌳🌳অর্থনৈতিক দিক থেকে এ গাছ তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয়। তবে এ গাছ দ্রুত বর্ধনশীল হওয়ায় জ্বালানী কাঠ হিসেবেই অধিক ব্যবহূত হয়। এছাড়াও ছায়াপ্রদানকারী গাছ হিসেবে ও শোভাবর্ধনকারী গাছ হিসেবে এর বহুল ব্যবহার রয়েছে। এর বীজ থেকে প্রাপ্ত আঠা ওষুধ শিল্পে বাইন্ডার রূপে ব্যবহার করা হয়। ফল থেকে নানাপ্রকার শৌখিন দ্রব্য প্রস্তুত হয়। বীজ গয়না শিল্পে ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

🌳🌳এই রক্তচূড়া’কে নিয়ে অনেকে অনেক গান কবিতা লিখেছেন। যেমন একটি গানে আছে–
রক্তচূড়ার ডালে ডালে
দোয়েল কোয়েল ডাকে।
কেউ যেন কয় চল চলে যাই
অন্য কোন বাঁকে।
পাখির মত দূর অজানায়
হারিয়ে যাওয়ার কাল গুনি, কাল গুনি…..
কোথাও যেন হারিয়ে যাবার ডাক শুনি……।

তাছাড়া এই বৃক্ষের ফুলকে নিয়ে অনেক গান রচিত হয়েছে। এর মধ্যে একটি হলো ভারতের বিখ্যাত গায়ক মান্না দে’র—
এই সেই কৃষ্ণচূড়া, যার তলে দাঁড়িয়ে হাতে হাত….
এবং আরো একটি গান হল—
রক্তজবা হাসে ..
পদ্ম-শাপলা হাসে,
পলাশের রং লাগে কৃষ্ণচূড়ার গায়
সাড়িবাঁধে সুখ পাখি
আমি শুধু বসে থাকি…..

আবার অনেকেই হিন্দু দেবতা শ্রীকৃষ্ণের চুল বাধার ধরনের মত এই গাছের ফুলের ধরন মনে করে থাকে আর এই জন্য এই গাছটির নাম রেখেছে কৃষ্ণচূড়া!!! অথবা সেখান থেকেই হয়ত হিন্দু ধর্মের লোকেরা কৃষ্ণচূড়া নামকরন করে থাকতে পারেন।
যদিও যে যুগে কৃষ্ণের অস্তিত্ব ছিল, সেই যুগে কিন্তু মাদাগাস্কার থেকে কৃষ্ণচূড়া ভারতীয় উপমহাদেশে এসে পৌঁছয়েইনি ।
কারণ ১৮২৪ খ্রিস্টাব্দের পূর্বে কৃষ্ণচূড়া বিশ্ববিজয় শুরু হয়নি। এটি ভারতীয় উপমহাদেশে নিয়ে এসেছে ইংরেজরা, তাও ইংল্যান্ড থেকে। যদিও হিন্দুদের ৩৩ কোটি দেবদেবীর কোন দেবতার পুজোতেই কিন্তু কৃষ্ণচূড়া ফুলের ব্যবহার হয় বলে জানা নেই কারণ ফুলটির আদিনিবাস যে ভারতবর্ষ নয় তা ইতিমধ্যে প্রমাণিত এবং সকলেই জানে।। অতএব এই কৃষ্ণের সাথে পরবর্তী সময়ে এই কৃষ্ণচূড়ার নাম মিলিয়ে রাখাটা কেউ হয়তো তাদের ইচ্ছেমতো করে থাকতে পারে।।
যখন কৃষ্ণ ছিলেন তখন এই গাছের অস্তিত্ব আমাদের অজানা ছিল। সুতরাং কৃষ্ণের সাথে এই গাছের কোন যোগসূত্র থাকার কথা না। পরে একসময় ভারতে এই গাছ এসে পৌঁছালো ইংরেজদের হাত ধরে। দাঁত ভাঙা নাম ডেলোনিক্স রেজিয়াকে ভারতীয়রা নামকরণ করা হলো কৃষ্ণচূড়া এবং রক্তচড়া অথবা গুলমোহর ।

ধন্যবাদ সবাইকে। আল্লাহর অশেষ রহমতে সকলেই ভাল থাকবেন। বেশি করে গাছ লাগান এবং পরিবেশ সংরক্ষণ এগিয়ে আসুন। দুর্ভিত্তরা গাছ কেটে কেটে আমাদের দেশকে গাছ শূন্য করে ফেলেছে। যে কোন গাছ লাগান বিশেষ করে দেশি ফলস এবং ঔষধি গাছগুলো।
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ।
mahabuburrahman1720@gmail.com

জন্ডিস চিকিৎসায় “মালাপরা”

👉👉 ভাটিরা গ্রামের আহাম্মদ মিয়ার (ছদ্মনাম) ৬ বছরের শিশু পুত্র তানভীর, মুখে রুচি নেই,দিন দিন শক্তিহীন এবং নির্জীভ হয়ে যাচ্ছে। ব্যস ডাক্তারকে দেখানো ছাড়া এবং ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়াই ধরে নেওয়া হল জন্ডিস হয়েছে।
ফুফুর পরামর্শে কোন পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই কিশোর মা বাচ্চা তানভীরকে নিয়ে গেলেন আমাদের কালীগঞ্জ – গাজীপুর । এর জাঙ্গালিয়া গ্রামের জনৈক কথিত কবিরাজ মহিলার কাছে।
একেবারে অব্যর্থ এবং বহু পরীক্ষিত জন্ডিস চিকিৎসার নামে তিনি শুকনো চিকন গাছের ডালের “#মালা_পড়া” দিলেন শিশুটির মাথার উপর। একই সাথে দিলেন পাশের কথিত মাযারের এক বোতল “পড়া পানি” ।

এ পানি একুশ দিন পান করবে আর গোসল করাবে।সাথে কিছু ঝাড়-ফুঁকও দিলেন। দিলেন কাইতান নামক একপ্রকার কালো সুতা পড়া।
এ চিকিৎসা বাবদ মহিলা ১০১ টাকা ফি নিলেন।
অজ্ঞ সমাজে জনশ্রুতি রয়েছে মাথার উপরে দেয়া পড়া মালাটি আস্তে আস্তে বড় হয়ে শরীর বেয়ে পা হয়ে নেমে যাবে, আর সাথে সাথে এই মালা শরীরের সকল জন্ডিস বের করে নিয়ে আসবে ,আর জন্ডিস ভাল হয়ে যাবে। এমন বিশ্বাস নিয়েই বিজ্ঞানের যুগে গ্রামে-গঞ্জে অহরহ এখনো এমন অপচিকিৎসা চোখে পড়ে।

👉👉চিকিৎসা বিজ্ঞান মতে জন্ডিস একটি লিভার অর্থাৎ কলিজার রোগ।
জন্ডিসের আক্রান্ত রোগীর মূলতঃ লিভার সেল নষ্ট হওয়ায় রক্তে পিত্তরস ছড়িয়ে পড়ে। যার ফলে সাধারণতঃ ক্ষুধামন্দা,শারীরিক দূর্বলতা সহ প্রস্রাবের রং হলুদ,চোখের সাদা অংশ হলুদ রং প্রকাশ পেয়ে থাকে। এ অবস্থায় রোগীকে হাসপাতালে কিংবা সরকারি অনুমোদিত চিকিৎসকের কাছে নেয়া উত্তম। জন্ডিস সন্দেহ হলে চিকিৎসকের পরামর্শে কিছু পরীক্ষার প্রয়োজন হতে পারে।
এ ব্যাপারে ল্যাব টেকনিশিয়ানগণ বলেন, জন্ডিস সন্দেহ হলে একজন চিকিৎসকের কাছে (ন্যুনতম এমবিবিএস) গেলে তিনি প্রয়োজনীয় কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা দিয়ে থাকেন।
যেমন সহজ কথায় রক্তে জন্ডিসের পরিমাণ জানতে #সিরামবিলিরুবিন” ছাড়াও #হেপাটাইটিসবি এর পরীক্ষা(এইচ বি এস-এজি), প্রস্রাবের রুটিন পরীক্ষার প্রয়োজন হয়ে থাকে।
এসব ছাড়াও আনুষাঙ্গিক আরো কিছু পরীক্ষাও লাগতে পারে। এমনও দেখা গেছে আদৌ জন্ডিস হয়নি,অথচ রোগীকে তথাকথিত মালা পড়া,পানি পড়া,নানা গাছ-গাছড়ার ছাল খায়ানো হয়ে থাকে।
পরবর্তীতে দেখা গেলো তার কোন জন্ডিস হয়নি। অনেক কবিরাজ চুন-পানি দ্বারা জন্ডিসের রোগীর হাত ধুয়ে হলুদ পানি বের করে জন্ডিস বের করার দাবী করে থাকে এবং এর বিনিময়ে অনেক টাকা পয়সা নিয়ে থাকে। আর জন্ডিসে আক্রান্ত রোগী আস্তে আস্তে অবনতি হতে থাকে।
এতে অনেক ক্ষেত্রেই ভূল ধারণা জন্মে রোগীর অভিভাবকদের মনে।
মূলত জন্ডিস রোগ ধরা পড়া অর্থাৎ নির্ণয় করার পর এই রোগের চিকিৎিসায় তেমন ঔষধের প্রয়োজন হয়না। তবে শরীর যদি অনেক দুর্বল হয়ে যায় কিংবা অন্যান্য রোগ সাথে আসে তাহলে ঐ সমস্ত রোগের ঔষধ দিতে হয় এবং কিছু পথ দেওয়া হয় রোগীকে শারীরিক দুর্বলতা কাটিয়ে উঠার জন্য।
তেমন কোন ঔষধ নেই।
পরিপূর্ণ বিশ্রামই এ রোগের মূল চিকিৎসা। এমনকি গল্প গুজব করা মোবাইল চ্যাটিং করা কিংবা বই পুস্তক পড়াও নিষেধ করেন ডাক্তারগণ।
আর এভাবে বিশ্রাম নেওয়া এবং বিশুদ্ধ পানি পান করা ও অর্গানিক ও ফ্রেশ খাবার গ্রহণ করার পর,২/ ৩ সপ্তাহ এর মধ্যে এমনিতেই রক্তে বিলিরুবিনের মাত্রা কমে যাবে, এবং রোগী সুস্থ হয়ে যাবে।
অজ্ঞ ও ভূল বিশ্বাসে এ রোগের চিকিৎসায় তথাকথিত মালা পড়া,পানি পড়া সবই অপচিকিৎসা।
মূলত জন্ডিসের রুবিকে তথাকথিত এই কবিরাজ গুলো যে মালা দেয়, এই মালা একজন যেকোনো সুস্থ মানুষকে দিলেও একই ভাবে মাথা থেকে পায়ের কাজ দিয়ে বের হয়ে আসবে। এই মালা মূলত কিছু গাছের কাঁচা ডাল দিয়ে গাথা হয় এবং কায়দা করে কিছু গিরা দেওয়া হয়, যাতে আস্তে আস্তে শুকিয়ে গেলে মালাটা বড় হতে থাকে। এখানে বিরাট এক ফাঁকিবাজীর ব্যাপার রয়েছে।

দাওয়াত খেয়ে খাবারের দোষ ত্রুটি বর্ণনা করা

🍲🍲 অনেক সময় লক্ষ্য করলে দেখা যায়, মানুষ দাওয়াত কিংবা কোনো অনুষ্ঠানে খাবারের ভালো-মন্দ, স্বাদ-বিস্বাদ ইত্যাদি বিচার করে থাকে। কিছু খাবারকে তারা উত্তম বলে, আবার অনেক সময় ভালো হয়নি বলে অনীহা প্রকাশ করে, নাক সিটকায় ও বিভিন্ন মন্তব্য করে।
🍲🍲 আমাদের দেশে এমন বহু লোক আছে যারা বিভিন্ন বাড়িতে দাওয়াত খেয়ে এসে খাবারের দোষ ত্রুটি বর্ণনা করতে থাকে। মূলত যারা দাওয়াত খেয়ে এসে খাবারের দোষ ত্রুটি বর্ণনা করে তারা হলো পৃথিবীতে অন্যতম খারাপ লোক গুলোর মধ্যে একটি দল। প্রথমতঃ খাবারের দোষ ত্রুটি অন্বেষণ করা এবং তা বর্ণনা করা ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।
দ্বিতীয়তঃ যে ব্যক্তি দাওয়াত করে খাবারের আয়োজন করে তারা কখনোই চায়না দাওয়াতি মেহমানদেরকে কোন প্রকার ত্রুটিযুক্ত, স্বাদহীন খাবার পরিবেশন করতে।।
🍲🍲 আমি ব্যক্তিগতভাবে আমার আত্মীয়-স্বজন এবং পরিচিত বন্ধুবান্ধব অনেককেই দেখেছি তারা বিভিন্ন বাড়িতে দাওয়াত খেয়ে এসে সেই খাবারের দোষ ত্রুটি ইত্যাদি নিজেরা এবং অন্যান্য লোকদের কাছে বর্ণনা করেন। কখনো তারা এমনও বলতে শুনেছি, “ভালো খাবারের আয়োজন করতে না পারলে মানুষকে দাওয়াত দেওয়ার কি দরকার ছিল”।
অথবা কখনো তারা খাবার স্বাদহীন হওয়ার জন্য , অর্থাৎ নিজের রুচিসম্মত না হওয়ার জন্য বাবুর্চি কে দোষারোপ করে থাকে।
মাংস সিদ্ধ হয়নি, অথবা অতিরিক্ত ঝাল দেওয়া হয়েছে, কিংবা লবণ বেশি দেওয়া হয়েছে। অথবা মাংস গুলি ভালো না বরং চর্বিযুক্ত। এমন বিভিন্ন দোষ ত্রুটি বের করে তারা বর্ণনা করে।
👉 মূলতঃ যিনি দাওয়াত করে খাবারের আয়োজন করেন তিনি কখনোই চান না দাওয়াতি মেহমানদেরকে কোন প্রকার খারাপ বা বাজে খাবার পরিবেশন করতে। তাছাড়া আমাদের দেশে বিশেষ করে বিয়ে শাদি ইত্যাদি অনুষ্ঠানে একজন অভিভাবক বহু কষ্ট করে এবং বহুদিনের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করে তিনি একটি মোটামুটি খাবারের আয়োজন করেন আত্মীয়-স্বজন বন্ধু-বান্ধব ও গ্রামের লোককে দাওয়াত করে। এরমধ্যে আমাদের দেশের অনেক লোক ধার কর্য এমনকি সুদে টাকা নিয়ে পর্যন্ত মেহমানদারীর আয়োজন করেন এমন বহু প্রমাণ প্রত্যেক গ্রামে প্রত্যেক মহল্লায় আছে। অনেকে সামর্থ্য না থাকা সত্ত্বেও মান সম্মান রক্ষার জন্য কিংবা মেয়ের শ্বশুর বাড়ির আবদার রক্ষার জন্য হলেও জমি বন্ধক দিয়ে পর্যন্ত খাবারের আয়োজন করতে দেখা যায়।
এখানে, যিনি এত কষ্ট করে এবং এত ত্যাগ স্বীকার করে , খাবারের আয়োজন করলেন আপনার জন্য তিনি কি আপনাকে খারাপ খাবার উপহার দেওয়ার জন্য করেছেন?? দয়া করে আপনি একটু নিজের অবস্থান থেকে বিষয়গুলো বিবেচনা করুন।
👉 দাওয়াতি মেহমানের খাবারের ব্যাপারে দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন একজন বাবুর্চি বা পাকসী। বিশ্বাস করুন আর নাই করুন যিনি খাদ্য তৈরি করেন তিনি কখনোই খাবার রান্না করা খারাপ হোক এটি কিছুতেই চাইবেন না। যদি তিনি একেবারে কাঁচা পাকসী ও হয়ে থাকেন, তথাপিও চাইবেন না যে, তার রান্না করা খাবার খারাপ হোক।
নিজের উপর কোন প্রকার দুর্নাম কেউ নিতে চাইবে না।

অপরদিকে বাবুর্চি বা আকসি যদি প্রফেশনাল হয় অর্থাৎ কোন ডেকোরেশন কোম্পানির হয়, তাহলে তো তাকে দিয়ে আপনি কিছুতেই খারাপ খাবার বানাতে পারবেন না। এবং তাকে ঘুষ দিয়েও আপনি খারাপ খাবার তৈরি করাতে পারবেন না । কেননা খাবার বানানো তার পেশা এবং খাবার যদি কোন প্রকারের খারাপ হয় তাহলে তার বদনাম হয়ে যাবে। এবং তার ভবিষ্যৎ পেশার উপর এক বিরাট হুমকিস্বরূপ টা দেখা দেবে। কোনভাবেই একজন পেশাদার বাবুর্চি তার নিজের পেশার উপর এমন ঝুঁকি নেবেন না।
তবে হ্যাঁ, কোন প্রকারে অথবা অসাবধানতাবশত খাবার খারাপ হয়ে গেলে সেটি ভিন্ন কথা। এবং সে ক্ষেত্রেও কোনোভাবেই কোন ভদ্রলোক খাবারের দোষ ত্রুটি খুঁজে বেড়ায় না এবং বর্ণনা করে না।।

🍲🍲 খাবারের দোষ ত্রুটি তালাশ করা এবং তা বর্ণনা করা যেমন সামাজিকভাবে একটি বদভ্যাস তদ্রূপ ইসলামের রয়েছে এর সুন্দর ও যুক্তিপূর্ণ সমাধান।
বিশ্বনবী রাসূলুল্লাহ সাঃ নিকট থেকে আমাদের জন্য রয়েছে রয়েছে সুস্পষ্ট নীতি ও সুন্নাত ।
হাদিসে এসেছে-
👉আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কখনো কোনো খাবারকে খারাপ বলেননি। তাঁর নীতি ছিলো, কোনো খাবার জিনিস পছন্দ হলে তা তিনি খেয়ে নিতেন আর অপছন্দ হলে তা খাওয়া থেকে বিরত থাকতেন।—হাদিসটি মুসলিমে এসেছে।

👉আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে অন্য বর্ণনায় এসেছে, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে কখনো কোনো খাবার জিনিসকে খারাপ বলতে দেখিনি। তার নীতি ছিল, কোনো খাবার পছন্দ হলে তিনি খেতেন। আর তা খেতে আগ্রহ না হলে তা তিনি খেতেন না।—মুসলিম!
আর উপরোক্ত আলোচনা এবং সামাজিক ও ইসলামিক রীতির ভিত্তিতে কোনো মুমিন ব্যক্তির উচিত নয় যে, কোনো খাবারের ব্যাপারে ভালো-মন্দ দোষারোপ করা। আর তা করলে খাবারের সুন্নাতের পরিপন্থী কাজ হিসেবে বিচেচিত হয়।

তাছাড়া যে খাবার মাত্র ছয় ঘন্টার মধ্যে হজম হয়ে তা টয়লেটে নিক্ষেপের উপযুক্ত হয়ে যায়, এই ক্ষণস্থায়ী জিনিসকে নিয়ে যারা বেহুদা বা অনর্থক মন্তব্য করে তারা আদৌ কোন ভদ্রলোক নয়।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে খাবারের ব্যাপারে হাদিসে ঘোষিত খাবারের দোষ-গুণ বর্ণনায় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নীতি অনুযায়ী আমল করার তাওফিক দান করুন।
আমিন। ইয়া রাব্বাল আলামিন।
ইয়া হাইয়্যু ইয়া কাইয়ুমু বিরাহমাতিকা আস্তাগিস।
—— Mahabubur Rahman
mahabuburrahman1720@gmail.com

ফেরেশতাগণ কিভাবে আকাশে ঘুরে বেড়ায়।

না|স্তিক এক্টিভিস্ট আসাদ নুর সম্প্রতি ইসলামের বিরুদ্ধে এই অভিযোগটি করেছেন।
.
■ অভিযোগঃ
পাখি বা বিমান যেটিই আকাশে উড়ুক তাদের ডানা প্রয়োজন হয় বায়ুমণ্ডলের জন্য। বায়ু ব্যতিত ডানার প্রয়োজন নেই। মহাশুন্যে কোনো বায়ু নেই, অথচ ইসলাম দাবি করে ফেরেশতাদের অনেক সংখ্যক ডানা রয়েছে, এমনকি ফেরেশতা জিব্রাঈলের(আ.) নাকি ৬০০ ডানা রয়েছে। এই ডানার আবশ্যকতা কী, যেখানে মহাশুন্যে কোনো বায়ু নেই?
.
■ জবাবঃ
ইসলামে ফেরেশতাদেরকে বস্তুজগতের অন্যান্য সাধারণ প্রাণীদের ন্যায় কিছু বলে দাবি করা হয়নি। বরং ইসলামী ধারণা অনুযায়ী ফেরেশতারা নুর বা জ্যোতির তৈরি।
.
আয়েশা(রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ(ﷺ) বলেছেন, “ফিরিশতাদেরকে জ্যোতি থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে। জিন জাতিকে সৃষ্টি করা হয়েছে অগ্নিশিখা হতে। আর আদমকে সৃষ্টি করা হয়েছে সেই বস্তু থেকে, যা তোমাদেরকে বর্ণনা করা হয়েছে। [অর্থাৎ মাটি থেকে]।” [মুসলিম ২৯৯৬, আহমাদ ২৪৬৬৮, ২৪৮২৬; রিয়াদুস সালেহীন ১৮৫৫]
.
পাখি বা কিংবা বিমান এই সব কিছুর ডানা অবশ্যই বায়ুমণ্ডলের জন্য প্রয়োজন হয়। কিন্তু যেই জিনিস জ্যোতি বা আলোর তৈরি, অবশ্যই তার ডানার সঙ্গে বায়ুমণ্ডলের কোনো সম্পর্ক থাকবে না। কেননা বায়ু হচ্ছে এক প্রকারের পদার্থ, কিন্তু আলো কোনো পদার্থ নয় বরং শক্তি। আলোর তৈরি কোনো কিছু বায়ুমণ্ডলের উপর নির্ভর করে উড়তে হবে, এই চিন্তাধারাই ভুল। এই ভুল চিন্তাধারার উপর ভিত্তি করে ইসলামবিরোধীরা অভিযোগ করে।
.
ফেরেশতারা বস্তুজগতের প্রাণীগুলোর ন্যায় কোনো প্রাণী নয়। আলো দ্বারা সৃষ্টি এই বিশেষ জীব মানুষের আকৃতি সহ বিভিন্ন রূপ ধারণ করতে পারে। নবী-রাসুলরা আল্লাহর সাহায্যে তাঁদের দেখতে পেতেন, সাধারণ মানুষের তাঁদের দেখার ক্ষমতা নেই। ফেরেশতাদের আসল আকৃতি সাধারণ মানুষের কল্পনার অতীত। ইসলামের দাবিমতে ফেরেশতারা এমনই ব্যতিক্রমী এক প্রকারের জীব। ইসলামবিরোধীরা ফেরেশতাদের ডানার সঙ্গে আমাদের চেনা-জানা ধরণের বিভিন্ন জিনিস যেমনঃ বিমান, পাখি ইত্যাদির ডানার বা উড়বার তুলনা দিয়ে কুরআন-হাদিস থেকে ‘বৈজ্ঞানিক ভুল’ বের করার চেষ্টা করে। কিন্তু তাদের এই প্রয়াস সঠিক নয় কেননা ফেরেশতাদের ডানা আমাদের জ্ঞাত বস্তুগুলোর ডানার মতো কিছু নয়। প্রখ্যাত ইসলামী বিদ্বান শায়খ মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল উসাইমিন(র.) উল্লেখ করেছেন,
.
“[ফেরেশতাদের] এই ডানাসমূহের প্রকৃতি আমাদের জানা নেই। আর এটি মহান আল্লাহর সিফাতের ক্ষেত্রে যা বলা হয়েছে এর অনুরূপ। আমরা এই সিফাতসমূহের অর্থ জানি। কিন্তু সিফাতের প্রকৃতি বা ধরণ আমাদের জানা নেই। যেমন, মহান আল্লাহর চেহারা রয়েছে। আমরা জানি চেহারা অর্থ কী। কিন্তু এর ধরণ কি আমরা জানি? জানি না। কারণ আপনার থেকে যা অদৃশ্য অবস্থায় আছে [যার ধরণ অনুধাবন আপনার সাধ্যের বাইরে], আল্লাহ সে ব্যাপারে শুধু অর্থ উল্লেখ করে সেটি বর্ণনা করেছেন। আর এর ধরণ আপনি অনুধাবন করতে পারবেন না। কেননা এটি আপনার থেকে অদৃশ্য আছে এবং এর সাথে তুলনীয় কিছু নেই। কোনো একটি জিনিসকে জানা যায় একে দেখার দ্বারা অথবা এর সমজাতীয় কোনো কিছুকে দেখার দ্বারা। অথবা এর ব্যাপারে সঠিক তথ্যের দ্বারা।” [তাফসির ইবন উসাইমিন, সুরা ফাতিরের ১ নং আয়াতের তাফসির থেকে।]
.
অনেক সময় বিভিন্ন স্থানে মানুষের মুখ ও পাখির ডানার মতো আকৃতি সহকারে ফেরেশতাদের বিভিন্ন ছবি অংকন করা হয়। ইসলামবিরোধীরা সেসব ছবি দেখিয়েও ইসলামকে বিদ্রুপ করার চেষ্টা করে। কিন্তু এসব ছবির সাথে ইসলামের ফেরেশতার কোনো সম্পর্ক নেই। এই ছবিগুলোর উৎস মূলত খ্রিষ্টানদের বিভিন্ন গির্জার মধ্যে থাকা ফেরেশতাদের ছবি-মূর্তি। ইসলামবিরোধীরা খ্রিষ্টীয় উৎস থেকে আসা ছবি দেখিয়ে ইসলামকে কটাক্ষ করার অপচেষ্টা চালায়। আমরা ইতিমধ্যেই আলোচনা করেছি আলোর তৈরি ফেরেশতাদের আসল আকৃতি আমাদের চেনা জানা বস্তুগুলোর মতো নয়।

মিথ্যা, সত্যের কাপড়-চোপড় নিয়ে পালিয়ে গেছে। সত্য তাই লোকলজ্জায় কুয়োর ভেতর আশ্রয় নিয়েছে।

👉👉 মিথ্যা এখন সত্যের পোশাক পরই সমাজে ঘুরে বেড়াচ্ছে আর সত্য লজ্জায় অন্ধ কুয়ায় আশ্রয় নিয়েছে।
আমরা সব কিছু জেনে বুঝে ও মিথ্যার মায়ায় আসক্ত হই। নিচের চমৎকার গল্পটি পড়ুন আর ভাবুন…

👉👉নিন্মের ছবিটি নগ্ন।
এটি Jean Leon Gerome নামক একজন চিত্রকরের পেইন্টিং। ১৮৯৬ সালে আঁকা এই ছবিটা ঊনিশ শতকের একটি লোক কথাকে ভিত্তি করে আঁকা হয়েছিলো। যার শিরোনাম ছিলো-
“The truth is coming out of the well.”

👉👉গল্পটা ছিল এরকম –
একবার সত্য এবং মিথ্যা পরস্পরের সঙ্গে দেখা করলো কিছু বিষয়ে মীমাংসার তাগিদে। হাঁটতে হাঁটতে তারা চলে গেলো একটা কুয়োর পাশে।

মিথ্যা বললো, দেখো, কী পরিষ্কার জল। চলো আমরা দুজনে মিলে এখানে গোসল করে নেই ।

বলাবাহুল্য সত্য বিশ্বাস করেনি মিথ্যার কথা। নিজে পরখ করে দেখলো। যখন দেখলো কুয়োর জল সত্যিই পরিষ্কার তখন মিথ্যার প্রস্তাবে রাজী হলো।

দুজনে পোশাক ছেড়ে নেমে পড়লো কুয়োর মধ্যে। গোসল করার মাঝখানে মিথ্যা কুয়ো থেকে উঠে এসে সত্যের পোশাক পরে পালিয়ে গেলো।

খানিকক্ষণ অপেক্ষা করার পর মিথ্যাকে ফিরতে না দেখে সত্য উঠে এলো কুয়ো থেকে। না, মিথ্যা তো কোথাও নেই, পোশাকও নেই। রাগে অন্ধ হয়ে সত্য বের হলো মিথ্যাকে খুঁজতে, কিন্তু নগ্ন সত্যকে দেখে ছিঃ ছিঃ ধিক্কার করলো সভ্য মানুষেরা। এমন কী তেড়েও এলো অনেকে। অসভ্য, বর্বর, ইতর, সমাজবিরোধী, রাজাকার ইত্যাদি বলে গালাগালি শুরু করল অনেকেই। কেউ কেউ নেতৃত্ব দিয়ে সত্যের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করে দিল। কেউ কেউ ফাঁসি চাই ফাঁসি চাই বলে মিছিল করা শুরু করল।

সত্য অনেক চেষ্টা সত্ত্বেও তাদের বোঝাতে না পেরে, নিজের সম্মান রক্ষার্থে, রাগে দুঃখে অপমানে ফের কুয়োয় নেমে গেলো।

তারপর থেকে সত্যকে আর কখনও কেউ দেখেনি।
এখন দুনিয়াতে সত্যের পোশাক পড়ে ঘুরে বেড়াতে
যাকে দেখেছে সে আসলে সত্যের পোশাক পরা মিথ্যা!
সে এখন সব জায়গায় বিরাজ করছে।
অফিসে-আদালতে, রাজনীতিতে-ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে!
সংসারে সর্বত্র এখন মিথ্যার অবাধ বিচরণ আর সে সব সময় সত্যের পোশাক পড়েই চলাফেরা করে।