
🤔🤔 কুরবানীর পশু কাঁদে কেন ⁉️
👉👉 আমার দেশে কুরবানীর পশুকে নিয়ে কিছু আবেগী এবং বানানো কথাবার্তা প্রচলিত আছে । ছোটবেলা থেকে বড়দের মুখেই শুনি আসছি, কুরবানির গরু নাকি জবাই হবে বলে কান্না করে, কিংবা সে সারারাত আল্লাহর জিকির করে। কোরবানি করার আগের রাতে সে স্বপ্নে ছুরি দেখে, বা ফেরেশতারা তাকে ছুরি দেখায়।কোরবানির আগের রাত্রে ফেরেশতারা নাকি গরুকে জবাইয়ের সংবাদ জানায় ইত্যাদি এমন আরো বহু আজব কথাবার্তা বিভিন্ন এলাকার মধ্যে প্রচলিত আছে।
শুধু আমাদের দেশে নয় এমন মিথ বা গাল গল্প পৃথিবীর সব দেশের ছড়িয়ে আছে। আমাদের দেশে যেরকম কোরবানির আগের রাতে গরুর কান্নার ঘটনা ঘটে, তেমনি উন্নত বিশ্বে যেখানে মাংস বিক্রির জন্য গরুকে আধুনিক যন্ত্রপাতিসমৃদ্ধ কসাইখানায় জবাই ও কাটাকুটি করা হয়, সেখানেও প্রায় একই গল্প প্রচলিত আছে। কসাইখানা বা স্লটারহাউজে নেয়ার আগে সেখানকার গরুও নাকি চোখের পানি ফেলে।
👉👉 ফেরেস্তা কর্তৃক গরুকে মৃত্যুর এই সংবাদ জানিয়ে দেয়া বা কোরবানির আগের রাতে গরু কেন কাঁদে তার কোন ইসলামিক দলিল রয়েছে কিনা এ বিষয়ে দেশের বিভিন্ন বিখ্যাত আলেমদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল।(বিশেষ করে কামাল উদ্দিন জাফরী কাজী মহাম্মদ ইব্রাহিম সহ যারা অনেক বিজ্ঞ আলেম আছেন) উত্তরে তাঁরা বলেছেন যে তাঁরা নিজেও এ ধরণের গল্পের কথা শুনেছেন, তবে
কোরআন-হাদীসে এমন কোন ঘটনার উল্লেখ নেই। এসব মূলতঃ লোকমুখে প্রচলিত কাহিনী যার কোন দালিলীক সত্যতা নেই।
ফেরেশতাগণ যদি সত্যিই কোরবানির গরুকে আগের রাতে মৃত্যু সংবাদ জানিয়ে থাকেন তাহলে কুরআন-হাদীসে সেই ঘটনার অবশ্যই উল্লেখ থাকত।
তাছাড়া,যেহেতু মানুষ গরুর কথা বুঝতে পারে না, তাই গরুর নিকট থেকে এই বিষয়ে কোন তথ্য জানার কোন সম্ভাবনাও নেই।
হতে পারে কোন এক সময় কোন এক কল্পনা বিলাসী এবং গল্প বানানোতে পটু দুষ্টু লোক কোন বুজুর্গের নাম ভাঙ্গিয়ে এই গল্প চালিয়ে দিয়েছিল যা শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে লোকমুখেই চলে আসছে।
😆😆 কোরবানি বা জবাইয়ের পূর্বে বুঝতে পেরে মনের দুঃখে গরু কাঁদে, এই ধারণাটা কিছুটা হাস্যকর।
গরু যদি মানুষের সকল কথা বুঝতে পারতো তাহলে কি সে আর ‘গরু’ থাকতো? তাকে দিয়ে হাল চাষ করা যেত না। সে প্রতিবাদ করতে এবং পালিয়ে যেত । হয়তো জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মানুষের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দুই একটা আসনে জিতে সংসদে বসতো। অথচ কসাইরা বলে, চোখের সামনে অন্য গরুকে জবাই হতে দেখেও গরু কসাইয়ের আদর উপভোগ করে, জিহবা দিয়ে হাত চেটে দেয়। যদি সত্যিই বুঝতে পারতো তাহলে নিশ্চয়ই শিং দিয়ে গুতিয়ে কসাইয়ের দফারফা করে দিতো। কিংবা মরার আগে দুই চার দশ জনকে আহত বা নিহত করে তারপরে মারা যেত।
মনে মনে বলতো যে আমরা তো মরবোই, অতএব আরো দুই-চারটাকে সাথে নিয়ে যাই।
তাছাড়া গরুরা যদি ঘুনাক্ষরেও জানতে পারতো, হিন্দুরা তাদের পূজা করে এবং তাদেরকে খোদা মনে করে। তাহলে গরুদের অবস্থা কি হতো ⁉️ তাহলে গরু মানুষের কাঁধে সওয়ার হয়ে বেড়াতো।
👆👆উপরের এই কথোপকথন কাল্পনিক হলেও কোরবানির আগের রাতে গরুর কান্নার সাথে আমরা সবাই মোটামুটি পরিচিত। ফেরেশতা কর্তৃক জবাইয়ের খবর জানিয়ে দেয়ার এই ঘটনাও হয়তো শুনে থাকবে। কিন্তু গরু কি আসলেই কাঁদে?
গরু কেন কাঁদে?
এ ব্যাপারে পশুপ্রেমী এবং মাংশপ্রেমী দুই দল লোকের কাছ থেকে বিপরীতমুখী বক্তব্য পাওয়া যায়।।
এই প্রসঙ্গে পশুপ্রেমী এবং গোশতপ্রেমীরা তাদের নিজ নিজ ধারণা চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে। পশুপ্রেমীদের একাংশের ধারণা – নিরীহ শান্ত এই প্রাণীটি ঠিক বুঝতে পারে আর এজন্যই কাঁদে।
অন্যদিকে, মাংশপ্রেমীরা জোর গলায় বলে, গরুর এইসব অনুভূতিই নেই, সুতরাং গরু মনের দুঃখে কাঁদে এসব বোগাস ও ফিলতু কথা।
মূলত এই সমস্ত কথার কোন ভিত্তি নেই। সবই হলো কিছু মানুষের অনুমান এবং কল্পনা প্রসূত কথাবার্তা।
বিভিন্ন পশু পাখিদের অনুভূতি এবং স্মৃতিশক্তি খুবই ক্ষীণ। তারা চোখের সামনে বিপদ দেখলে শুধু ভয় পায় এবং খুব অল্প সময়ের মধ্যে তা ভুলে যায়।
👉👉 তাহলে গরু কাঁদে কেন ⁉️
গরুর প্রতি মানুষের , বিশেষ করে গরুর ব্যাপারী ও কসাইদের আচরণ কুরবানির আগে একেকটা গরু কঠিন প্রতিকূল অবস্থার মধ্য দিয়ে যায়। নানা রকম শারীরিক কষ্ট গরুদের সহ্য করতে হয়। তাছাড়া নতুন পরিবেশ, নতুন মানুষ, হাট বাজারের ভিড় ইত্যাদি কারণে সে ভয় পায়। ভয় পেয়ে কখনো মারমুখী হয়ে যায় এবং পালিয়ে যেতে চেষ্টা করে।
কসাইখানায় যাওয়ার আগেও একই ঘটনা ঘটে। এই শারীরিক কষ্ট সহ্য করতে না পেরে গরু কাঁদে। এর সাথে জবাইয়ের কোন সম্পর্ক নেই। অন্য সময়ও কষ্ট পেয়ে গরু কাঁদতে পারে। যেমন নিঃসঙ্গতা। একটা জিনিস লক্ষ্য করে দেখবেন সাথের গরু কিংবা বাছুর হারানোর শোকে গরু বিকট শব্দ করে হাম্বা হাম্বা স্বরে ডাকে। তখন শব্দ করার শক্তির চাপে চোখ থেকে পানি বের হতে পারে।
👉👉 প্রাণীদের উপর বিভিন্ন গবেষণা চালানো কিছু বিজ্ঞানীরা অবশ্য বলছেন, গরু অনুভূতিহীন নয়। গরু এবং অন্যান্য প্রাণীদের নিয়ে নানা গবেষণা শেষে তারা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন যে, গরুর নিজস্ব কিছু অনুভূতি রয়েছে। গরুও আনন্দিত হয়, ব্যথিত হয় কষ্ট পায়।
তাহলে কি গরু সত্যিই মনের দুঃখে কাঁদে?
এ বিষয়ে বিজ্ঞানীরা বলেন, মানুষ ছাড়া প্রাণীজগতে আর একমাত্র একটি প্রাণীই রয়েছে যারা মনের দুঃখে অশ্রুপাত করে। সেই প্রাণীটি কিন্তু শিম্পাঞ্জি, গরিলা বা মানুষের সাথে সাদৃশ্য রয়েছে এমন কোন প্রাণী নয়। এই প্রাণীটি হলো স্থলের সবচেয়ে বড় শরীরের অধিকারী হাতি।
👉👉 তারপরও কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যায়, কোরবানির আগের রাতে কিংবা কসাইখানায় যে গরুগুলোকে নিয়ে যাওয়া হয় সেই গরু কাঁদে কেন ?
মূলত গরুর চোখে কিছু রোগ হয়ে থাকে যার কারণে গরুর চোখ দিয়ে অনবরত পানি ঝরতে থাকে। বিশেষ করে অনেক গরুর চোখের নেত্রনালী ব্লক হয়ে গেলে গরুর চোখ দিয়ে অনবরত পানি ঝরতে থাকে। যে পানিগুলো নেত্রনালী দিয়ে নাকের ভেতর দিয়ে গলায় চলে যাওয়ার কথা সেই পানিগুলো ব্লক হয়ে যাওয়ার জন্য গড়িয়ে পড়তে থাকে। একে অনেকে গরুর কান্না বলে মনে করলেও এটি মূলকত একটি অসুখ। ভাল চিকিৎসায় এই কান্না নামক পানি বের হওয়া বন্ধ হতে পারে। কোরবানি বা কসাইখানায় যাওয়ার অনেক আগেই গরুর চোখে এই সমস্যা হতে পারে।
গরু গুলোকে নতুন পরিবেশ নেওয়া হয়, প্রচন্ড ধুলাবালি ও ধোঁয়া ইত্যাদির মধ্যে দিয়ে নেওয়া হয়, যে পরিবেশের সাথে গরু কোনদিন ছিল না। ফলে ধুলাবালি ও ধোঁয়ার প্রভাবে গুরুর চোখ দিয়ে পানি পড়তে পারে।
🤔🤔 আমাদের দেশের প্রেক্ষিতে কোরবানি হাটে গরুর চোখে এমন পানি দেখে মনে করবেন না তারা কোরবানি হয়ে যাবে বলে কান্না করছে।।
বরং তাদের চোখের পানির পেছনে আমাদের দেশের নির্দয় অসভ্য বর্বর গরুর ব্যাপারীদের নির্মমতা জড়িয়ে আছে৷
এরা গরুগুলো শহরে আসে বিভিন্ন দূরের জেলা থেকে৷ ট্রাকের মাঝে এদের গাদাগাদি করে রাখে৷ তার উপর এমন আছে প্রখর রোদ, দাঁড়িয়ে থাকার ক্লান্তি এবং অসহনীয় ঝাঁকা-ঝাকি৷
অনেক সময় চোখ দিয়ে পানি পড়তে থাকা গরুটার চোখে খেয়াল করলে দেখবেন দাগ আছে৷ গরু চাষি বা ব্যাপারীরা এসব গরুর চোখে কাঁচা মরিচ লাগিয়ে দেয়৷ যাতে করে এরা ঝিমিয়ে না পড়ে৷ এরপর এদের চোখ দিয়ে অনবরত পানি পড়তে থাকে৷ এরা তো বোবা জীব কিছু বলতে পারে না৷ কিন্তু আমরা তো মানুষ কেন এসব অবলা প্রাণীদের কষ্ট দিচ্ছি৷
আপনি আমি পাপি বান্দা আমাদের দোয়া কবুল হোক না হোক৷ এ অবলা জীবের বদ দোয়া ঠিকই শোনেন আল্লাহ৷
কোরবানি বা জবাইয়ের সংবাদে গরু কাঁদে না, বরং শারীরিক কষ্টের কারণে কাঁদতে পারে। তাই আমাদের উচিত কোরবানির আগের রাতে ফেরেশতা কতৃক জবাইয়ের সংবাদের যে বানোয়াট কাহিনী প্রচলিত আছে, তা প্রচার না করা এবং
গরু ও বিভিন্ন প্রাণীকে যথাসম্ভব কম কষ্ট দেয়া।












