👉👉 আপাতদৃষ্টিতে মাতৃভূমি বলতে কোন ব্যক্তির মায়ের দেশকে বুঝায়। যেমন: কোন ব্যক্তির জাতিগোষ্ঠী সংশ্লিষ্ট স্থানে অবস্থান বা অভিবাসিত হয়ে যে দেশে ভূমিষ্ঠ বা জন্মগ্রহণ করবে, তা-ই তার মাতৃভূমি হিসাবে চিহ্নিত করা হয়ে থাকে। কিন্তু বাংলাদেশ ও ভারত ছাড়া পৃথিবীর কোন দেশে মাতৃভূমি বলে না বরং পিতৃভূমি বলে।
👉👉আপনি কি আপনার মায়ের ভূমিতে থাকেন যে, মাতৃভূমি বলেন?? আপনার বাবা কি ঘরজামাই থাকে??? বরং আপনি যদি আপনার পিতার জমিতে থাকেন তাহলে আপনি পিতৃভূমিতে থাকেন। মূলতঃ মাতৃভূমি কথাটি মূর্তিপূজারী মুশরিকদের কথা। কোন মুসলিম মাতৃভূমি বলতেই পারেনা। মুশরিকরা দেশ ও মাটিকে মা বলে। নাউজুবিল্লাহ। এই জন্য তারা দেশকে মাতৃভূমি বলে। একমাত্র হিন্দুরা ছাড়া দেশকে মাতৃভূমি কেউ বলে না এবং পৃথিবীর কোন জাতের লোকেরা বলে না। হিন্দুদের দেখাদেখি বাংলাদেশ ও ইন্ডিয়ার মুসলিমরা ও দেশকে মাতৃভূমি বলে, নাউজুবিল্লাহ। যা সরাসরি শিরক। ইউরোপা আমেরিকা সহ পৃথিবীর সব দেশের লোকেরা দেশকে পিতৃভূমি বলে। প্রত্যেক দেশের সেনাবাহিনীর মূলমন্ত্র হল- “We will fight to protect our Fatherland”. এই মাতৃভূমি বলার নিকৃষ্ট পৌত্তলিক প্রথা শুধুমাত্র বাংলাদেশ ও ভারতে।
✅✅রাশিয়াকে “দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পিতৃভূমি” হিসাবে উল্লেখ করা হয় কারণ এটি যুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল এবং নাৎসি জার্মানির বিরুদ্ধে মিত্রবাহিনীর বিজয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিল।
✅✅সাধারনত ভারতের মত মাত্র কিছু দেশের দেশ কে মাতৃভূমি বলে অভিহিত করে । হঠাৎ যারা দেশকে মা হিসেবে মনে করে। জার্মান ভাষার দেশগুলো নিজেদের দেশ কে পিতৃভূমি বা Vaterland বলে থাকে । 👉👉স্বাভাবিকভাবে মাতৃভূমি এবং পিতৃভূমির মধ্যে পার্থক্য হল– “মাতৃভূমি” এবং “পিতৃভূমি” দুটি পরিপক্ক বাংলা শব্দ। এদের পার্থক্য হলো:
মাতৃভূমি: এই শব্দটি বাংলায় “মাতৃভূমি” বা “মাতৃদেশ” অর্থে ব্যবহার করা হয়। এটি কাউকে তার জন্মভূমির সন্তান হিসেবে পরিচিত করার জন্য ব্যবহৃত হয়। এটি কোনো দেশ, অঞ্চল, বা এলাকা হতে পারে, যেখানে একজন ব্যক্তির মা বা জন্মমাতা জন্ম নিয়েছেন। মাতৃভূমি তার সংস্কার, সাংস্কৃতিক পরিচয়, ভাষা, ধর্ম, ঐতিহ্য ইত্যাদির সঙ্গে বিশেষ সংবদ্ধতা অনুভব করা স্বাভাবিক হয়। পিতৃভূমি: এই শব্দটি বাংলায় “পিতৃদেশ” অর্থে ব্যবহার করা হয়। এটি কাউকে তার পিতৃবৃন্দের সন্তান হিসেবে পরিচিত করার জন্য ব্যবহৃত হয়। এটি অন্যভাবে যে দেশ বা অঞ্চল তার প্রাজ্ঞাৎ জন্ম নিয়েছে তা অর্থ করতেও পারে। পিতৃভূমি তার বাবা বা জন্মপিতা সম্পর্কে মনোনিবেশ করার সাথে সাথে সম্পর্কিত সংস্কার, ভাষা, ধর্ম, ঐতিহ্য ইত্যাদি সম্পর্কে সাম্প্রতিক সংবদ্ধতা অনুভব করার মাধ্যমে একজন ব্যক্তির স্বতন্ত্র প্রকৃতি হতে পারে। এই দুটি শব্দ সাধারণভাবে একজন ব্যক্তির সন্তান হিসেবে তার জন্মভূমি এবং জন্মপিতার দেশ বা অঞ্চল বা তাদের সংস্কার এবং সংস্কৃতির মধ্যে পার্থক্য বোঝানোর জন্য ব্যবহৃত
✅✅ বাংলাদেশ ভারত ও নেপালে যেখানে মাতৃভূমি বলা হয় সেখানে রাশিয়া ইউরোপ আমেরিকাতে বলা হয় পিতৃভূমি।
👉👉মাতৃভূমি না জন্মভূমি — কোনটি বলা বা ব্যবহার করা বেশি যুক্তিযুক্ত? জন্মভূমি বলতে নিজে যে দেশে জন্মেছি সেই দেশকে বোঝায় অর্থাৎ স্বদেশ। দেশকে মা হিসেবে কল্পনায় মাতৃভূমি ব্যবহার করা হয়, কিন্তু এটা আমাদের মুসলিম সংস্কৃতির মধ্যে পড়ে না বরং একা পত্তলিক বা মুশরিকি সংস্কৃতি । এইটা মনে হয় মাতৃভূমির ভাবগত বা ব্যবহৃত অর্থ। আক্ষরিক দিক বিবেচনা করলে মায়ের দেশ হয়ে যায়। মূলত এটি হিন্দু কালচার থেকে এসেছে। হিন্দুদের মা কালী মা সরস্বতী মা দুর্গা ইত্যাদি দেব-দেবীর কাছে তাদের অর্থ-সম্পদ ও জায়গা জমি চায়, এবং তারা মনে করে যে এই সমস্ত মাটির তৈরি দেব-দেবীরা তাদেরকে ধন-সম্পদ দিয়ে থাকে।। আর সেজন্যই আমাদের দেশে ও ভারতের হিন্দুরা দেশকে মায়ের ভূমি বা মাতৃভূমি বলে।
যদি মা এবং সন্তান একদদেশীয়ই হন তবে যে অর্থেই ব্যবহার করুক একই দেশ বোঝায় কিন্তু যদি মা ভিন্নদেশীয় হন তবে অর্থ ভিন্ন হতে পারে। শব্দ সবসময় ব্যবহারের ক্ষেত্রবিশেষের উপরই নির্ভর করে। তাই কোন অর্থে ব্যবহৃত হবে তার উপরেই যুক্তিযুক্ততা নির্ভর করে। তবে আপাতদৃষ্টিতে দুটো সমার্থক।
📘📕 পবিত্র কোরআনে নামাজের আয়াত আছে ৮২ টি, এবং জে,হা,দে,র আয়াত আছে ৪৮৪টি। উভয় আল্লাহর পক্ষে হতে ফরজ করে হয়েছে ! 📘📕 জেহাদে অংশ গ্রহণ করার ৫০টির মত পন্থা রয়েছে। 👉👉অথচ এক শ্রেণির আলেম মোনাফিক ও আল্লাহর কিতাব গোপন কারী আলেম নামক কুলাঙ্গার আছে, যারা শুধু নামাজের আলোচনা করে। জে হা দের আলোচনা গোপন করে, এবং অতি সাবধানতার সাথে কৌশলে এড়িয়ে যায়। তারা জিলাপি ও পকেট ভারি করেতে রমজান মাসে ক্বদরের আলোচনা করে। কিন্তু ঐ রমজান মাসেই যে বদর সংগঠিত হয়েছিল তা তারা মনে হয় জানেই না।তারা বদরের আলোচনা এড়িয়ে যায়। তাদের মাহফিলে বাঁধা নেই , বরং তাগুতের গুষ্টিরা মাহফিলে উপস্থিত হয়ে সাধুবাদ জানায়। ঘুষ ,সূদ ও চুরির পয়সা থেকেই লাখ লাখ টাকা ডোনেট করে। এই সকল ওরে বাটপার ও কথিত শায়খ মাদানির কপাল চুম্বন করে বরকত হাসিল করতে চেষ্টা করে। আর বলে, এটাই ইসলাম, আর এরাই তো খাঁটি মুসলিম !!
আর যারা নামাজের আলোচনা করে পাশাপাশি জেহাদের আলোচনা ও করে, তাদের মাহফিলে বাঁধা আসে !
👉👉ইয়াবা কি⁉️ কেন খায়⁉️ খেলে কি কি ক্ষতি হয়⁉️ 👉👉ইয়াবা- মাদকটির মূল উপাদান মেথঅ্যামফিটামিন। একসময় যা সর্দি ও নাক বন্ধ হয়ে যাওয়ার ওষুধ হিসেবে ব্যবহূত হতো কোনো কোনো দেশে। ব্যবহার করা হতো ওজন কমানোর চিকিৎসায়ও। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে ক্লান্তি দূর করতে ও সজাগ থাকতে সেনাদের মধ্যে জনপ্রিয় ছিল মেথঅ্যামফিটামিন। পরবর্তী সময়ে সাধারণ মানুষ বিশেষত শিক্ষার্থী, দীর্ঘযাত্রার গাড়িচালক ও দৌড়বিদেরা এটি ব্যবহার শুরু করেন।
👉কোথা থেকে এলো এই ইয়াবা? ধীরে ধীরে এর কুফল বা দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতিকর প্রতিক্রিয়া উদঘাটিত হতে থাকায় বিশ্বব্যাপী এর ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়। তবে বিশ্বের কয়েকটি দেশে এর উৎপাদন চলতেই থাকে। মেথঅ্যামফিটামিনের সঙ্গে ক্যাফেইন মিশিয়ে ব্যবহূত হতে থাকে মাদকদ্রব্য হিসেবে। থাইল্যান্ডে এই মাদকটির উৎপাদন হয় সবচেয়ে বেশি। ছড়িয়ে পড়ে পার্শ্ববর্তী অন্যান্য দেশে। গাঁজা, ফেনসিডিল, হেরোইন, পেথেডিনের পথ ধরে বাংলাদেশেও এখন সহজলভ্য হয়ে উঠেছে মাদকটি। অনেকে একে বলে ‘ক্রেজি মেডিসিন’ বা পাগলা ওষুধ। অনেকের কাছে তা নাজি স্পিড বা শুধু স্পিড। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে বাংলাদেশের অনেক এলাকায় এর লেনদেন হয় ‘বাবা’ নামে। হালের মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের কাছে এ মাদকটি সমধিক পরিচিত ‘ইয়াবা’ নামেই। ইয়াবা একটি থাই শব্দ।
নিশ্চিতভাবে জানা না গেলেও ধরা হয়, ১৯৯৭ সালে বাংলাদেশে ইয়াবার আবির্ভাব ঘটে। পরবর্তী সময়ে ২০০০ সাল থেকে সীমান্তপথে থাইল্যান্ড ও মিয়ানমার থেকে চোরাচালান হয়ে তা দেশে অনুপ্রবেশ করতে থাকে। প্রথম দিকে উচ্চমূল্যের কারণে ইয়াবার প্রচলন সীমাবদ্ধ ছিল শুধু উচ্চবিত্ত ব্যক্তিদের মধ্যেই। পরে প্রচণ্ড উত্তেজক ও নেশাকারক এ ট্যাবলেটটির উপকরণ চোরাইপথে এনে দেশের ভেতরেই তা তৈরি করা শুরু হয়। দাম কিছুটা কমতে থাকে। ফলে উচ্চবিত্তের গণ্ডি ছাড়িয়ে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত যুবক-যুবতীদের মধ্যেও ইয়াবার বিস্তার ঘটে।
👉👉ইয়াবার প্রতি আকর্ষণের কারণটা কি? তরুণ-তরুণীদের কাছে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে মূল উপাদানের সঙ্গে মেশানো হয় আঙুর, কমলা বা ভ্যানিলার ফ্লেভার; সবুজ বা লাল-কমলা রং। ইয়াবা নামের ছোট্ট এ ট্যাবলেটটি দেখতে অনেকটা ক্যান্ডির মতো, স্বাদেও তেমনই। ফলে আসক্ত ব্যক্তিরা এর প্রচণ্ড ক্ষতিকর প্রভাবটুকু প্রথমে বুঝতে পারে না। একই কারণে এটি পরিবহন করা ও লুকিয়ে রাখাও সহজ।
অধিকাংশ মাদকসেবী ট্যাবলেটটি মুখেই গ্রহণ করে। অনেকে অ্যালুমিনিয়াম ফয়েলের ওপর রাখা ট্যাবলেটের অপর প্রান্তে তাপ দিয়ে একে গলিয়ে ফেলে। এরপর সেখান থেকে যে বাষ্প বের হয়, তা নিঃশ্বাসের সঙ্গে গ্রহণ করে। আবার ট্যাবলেটটি গুঁড়ো করে, পানিতে মিশিয়ে সিরিঞ্জের মাধ্যমে শিরাপথে সরাসরি রক্তেও ঢুকিয়ে দেয় অনেকে।
👉👉ইয়াবা কিভাবে কাজ করে ? ইয়াবার আনন্দ আর উত্তেজনা আসক্ত ব্যক্তিদের সাময়িকভাবে ভুলিয়ে দেয় জীবনের সব যন্ত্রণা। তারা বাস করে স্বপ্নের এক জগতে। ইয়াবার প্রচণ্ড উত্তেজক ক্ষমতা আছে বলে যৌন-উত্তেজক হিসেবে অনেকে ব্যবহার করে এটি। ক্ষুধা কমিয়ে দেয় বলে স্লিম হওয়ার ওষুধ হিসেবে অনেকে শুরু করে ইয়াবা সেবন। ঘুম কমিয়ে দেয়, সারা রাতের পার্টির আগে ক্লান্তিহীন উপভোগ নিশ্চিত করতে অনেকের পছন্দ ইয়াবা।কিন্তু এই সাময়িক আনন্দের ট্যাবলেটটি যে তাদের ধ্বংসের পথে নিয়ে যাচ্ছে, তা টের পাওয়ারও অবকাশ সে সময় তাদের থাকে না। প্রথমে কম ডোজে এ ট্যাবলেট কাজ করলেও ধীরে ধীরে ডোজ বাড়াতে হয়। আগে যে পরিমাণ ইয়াবা আনন্দ এনে দিত, পরে তাতে আর হয় না। বাড়তে থাকে ট্যাবলেটের পরিমাণ, ক্ষণস্থায়ী আনন্দের পর বাড়তে থাকে ক্ষতিকর নানা উপসর্গও।
👉👉ইয়াবার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কি কি? রাত কাটে নির্ঘুম, ইয়াবা প্রতিক্রিয়ায় টানা সাত থেকে ১০ দিনও জেগে থাকতে বাধ্য হয় অনেকে। শরীর নিস্তেজ হয়ে পড়তে থাকে, মেজাজ হয় খিটখিটে, গলা-মুখ শুকিয়ে আসতে থাকে অনবরত। প্রচণ্ড ঘাম আর গরমের অসহ্য অনুভূতি বাড়তে থাকে। বাড়ে নাড়ির গতি, রক্তচাপ, দেহের তাপমাত্রা আর শ্বাস-প্রশ্বাসের গতি। দীর্ঘদিনের আসক্ত ব্যক্তিরা উচ্চরক্তচাপের রোগীই হয়ে পড়ে। মস্তিষ্কের ভেতরকার ছোট রক্তনালিগুলো ক্ষয় হতে থাকে, এগুলো ছিঁড়ে অনেকের রক্তক্ষরণ শুরু হয়। স্মৃতিশক্তি কমে যায়, মানসিক নানা রোগের উপসর্গ দেখা দেয়। মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায়, অহেতুক রাগারাগি, ভাঙচুরের প্রবণতা বাড়ে। পড়াশোনা, কর্মক্ষেত্র বা পারিবারিক জীবনে বিরূপ প্রভাব পড়ে। সব ক্ষেত্রে ব্যর্থতা বা পিছিয়ে পড়তে থাকায় আসক্ত ব্যক্তিরা বিষণ্নতায় আক্রান্ত হয়।
কারও কারও মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা দেখা দেয়। দৃষ্টিবিভ্রম, শ্রুতিবিভ্রম আর অস্বাভাবিক সন্দেহ প্রভৃতি উপসর্গ থেকে একসময় সিজোফ্রেনিয়ার মতো জটিল মানসিক ব্যাধিও দেখা দেয়। বেশি পরিমাণে নেওয়া ইয়াবা শারীরবৃত্তীয় স্বাভাবিক কার্যক্রমের ব্যত্যয় ঘটিয়ে রোগীর মৃত্যু পর্যন্ত ডেকে আনতে পারে। আর যারা সিরিঞ্জের মাধ্যমে দেহে ইয়াবা প্রবেশ করায়, তারা হেপাটাইটিস বি, সি ও এইডসের মতো মারাত্মক রক্তবাহিত রোগের জীবাণু দ্বারা সংক্রমিত হতে পারে। নেশা ছাড়তে চাইলেও ছাড়া যায় না কেন?
ইয়াবার পরিমাণ বাড়ানোর পাশাপাশি আসক্ত ব্যক্তিরা এর ওপর শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। একবার ইয়াবা নেওয়ার কয়েক ঘণ্টা বা নির্দিষ্ট সময় পর আবার না নিলে শরীরে ও মনে নানা উপসর্গ দেখা দেয়, ফলে বাধ্য হয়ে আসক্ত ব্যক্তিরা আবার ফিরে যায় নেশার জগতে।
👉👉ইয়াবার হাত থেকে মুক্তি পেতে চাইলে করনীয় কি? তবে হ্যাঁ, যারা আবার ফিরে পেতে চায় স্বাভাবিক সুস্থ জীবন, তাদের নিরাশ হওয়ার কিছু নেই। এমন নয় যে, আসক্ত ব্যক্তিরা আর কখনোই স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে পারবে না। এ জন্য প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা। মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শে বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসা পদ্ধতি আসক্ত ব্যক্তিদের আশার আলো দেখাচ্ছে, তারা ফিরে যেতে পারছে মাদকমুক্ত জীবনধারায়। ওষুধ, সাইকোথেরাপি ও অন্যান্য উপায়ে মাদকাসক্ত ব্যক্তিকে স্বাভাবিক ও সুস্থ জীবনযাপন পদ্ধতিতে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হয়, পরিবর্তন করার চেষ্টা করা হয় তার আগের পারিপার্শ্বিক পরিবেশ, যা তাকে মাদকাসক্ত হতে উদ্বুদ্ধ করেছিল।এতে মানসিক রোগ চিকিৎসক ও মনোবিজ্ঞানীর যেমন ভূমিকা রয়েছে, তেমনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে পরিবার, স্বজন আর প্রকৃত ভালো বন্ধুরও। একজন নেশাসক্ত ব্যক্তি সবার সম্মিলিত সহযোগিতায়ই আবার ফিরে পেতে পারে মাদকমুক্ত সুস্থ জীবন।
👉👉ইয়াবা প্রতিরোধে আমাদের করণীয় কি? তবে ইয়াবার আগ্রাসন থেকে দেশের যুবসমাজকে রক্ষা করতে প্রয়োজন সামগ্রিক প্রতিরোধ। পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে যেসব পথে দেশে ইয়াবা ঢুকছে, সেসব জায়গায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও তৎপর হতে হবে। দেশের ভেতর ইয়াবার উৎপাদন ও সরবরাহ বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। মাদক ব্যবসায়ী ধরা পড়লে তাঁর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। ইয়াবার কুফল সম্পর্কে সবাইকে বিশেষত উঠতি বয়সী তরুণ-তরুণীদের সচেতন করতে হবে।
🤲🤲 দোয়া করার সময় #আকাশের দিকে তাকানো সুন্নতঃ 🤲🤲কঠিন ও ভয়াবহ বিপদ এবং কষ্টের সময় আকাশের দিকে তাকিয়ে মহান রবের কাছে নিজেদের কষ্টের কথা বলা রাসূল সঃ এর আদর্শ। আর তাতে বিপদ থেকে মুক্ত হওয়া যায়। নবি সাঃ এমন আমল করতেন এবং ছোট্ট একটি দোয়া পড়তেন। আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোনো ভয়াবহ বিপদে পড়লে আকাশের দিকে নিজ মাথা তুলে বলতেন-
سُبْحَانَ اللَّهِ الْعَظِيم ‘মহান আল্লাহ খুবই পবিত্র’। এবং যখন তিনি আকুতি সহকারে দোয়া করতেন তখন বলতেন- يَا حَىُّ يَا قَيُّومُ
‘হে চিরঞ্জীব, হে চিরস্থায়ী।’ (তিরমিজি ৩৪৩৬)
🤲🤲 অত্যাচারির জুলুম থেকে বাঁচার জন্য আকাশের দিকে তাকিয়ে দোয়া করতে হয়ঃ “”উম্মে সালমা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. যখনই আমার ঘর হতে বের হতেন, আকাশের দিকে মাথা উঠিয়ে বলতেন- “”হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট বিপথগামী হওয়া ও করা থেকে, অত্যাচার করা ও অত্যাচারিত হওয়া থেকে, অজ্ঞতা প্রকাশ করা ও অজ্ঞতা প্রকাশের পাত্র হওয়া থেকে আশ্রয় চাই””! –আবু দাউদ, ইবনু মাজাহ, মিশকাত!। 🤲🤲বাসা-বাড়ি থেকে বের হয়েই রাসুলুল্লাহ সাঃ আকাশের দিকে তাকিয়ে পড়তেন বাসা বা ঘর থেকে বের হওয়ার দোয়া: “”বিসমিল্লাহি তাওয়াক্কালতু আ’লাল্লাহি, লা-হাওলা ওয়া লা- কুউওয়াতা ইল্লা বিল্লাহি। অর্থাৎ- আমি আল্লাহর নামে বের হচ্ছি, আল্লাহর ওপর ভরসা করছি। আল্লাহ ব্যতিত কোনো অভিভাবক ও শক্তি নেই। —তিরমিজি, আবু দাউদ!!! 🤲🤲আকাশের দিকে তাকিয়ে নিজের কষ্টগুলো আল্লাহর কাছে বলা সুন্নত!
মুসলিম : ২৫৩১ “ফা ইন্না মা আল উসরি ইউসরা” নিশ্চয়ই কষ্টের সাথে স্বস্তি আছে।
🤲🤲অজু করার পর আকাশের দিকে তাকিয়ে দোয়াঃ অজু করার পর কালেমায়ে শাহাদাত পাঠ করা মুস্তাহাব। কেননা, রাসুলুল্লাহ সাঃ বলেছেন,
ما مِن مُسلمٍ يتَوضَّأُ فيُحسِنُ الوضوءَ ثمَّ يقولُ أشهدُ أن لا إلهَ إلَّا اللهُ وأشهدُ أنَّ محمَّدًا عبدُه ورَسولُه إلَّا فُتِحتْ لهُ ثمانيةُ أبوابِ الجنَّةِ يدخُلُ مِن أيِّها شاءَ
যে কোন মুসলিম ব্যাক্তি উত্তমরূপে অজু করার পর বলে (কালিমা শাহাদাত) ‘আমি সাক্ষ্য দেই যে, আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নাই, তাঁর কোন শারীক নাই, তিনি একক এবং আমি আরো সাক্ষ্য দেই যে, মুহাম্মাদ ﷺ তাঁর বান্দা ও রাসূল’; তার জন্য জান্নাতের আটটি দরজা খুলে দেয়া হবে। সে যে কোন দরজা দিয়ে ইচ্ছা তাতে প্রবেশ করবে। (মুসলিম ২৩৪ ইবনু মাজাহ ৪৭০)
অন্য এক বর্ণনায় এসেছে, مَنْ تَوَضَّأَ فَأَحْسَنَ الْوُضُوءَ، ثُمَّ رَفَعَ نَظَرَهُ إِلَى السَّمَاءِ
যে ব্যক্তি উত্তমরূপে অজু করে আকাশের দিকে তাকিয়ে বলবে…। মুসনাদে আহমাদ ১২১!!
তাই সম্ভব হলে এর উপর আমল করা ভালো। না করলেও অসুবিধা নেই। তাছাড়া আকাশের দিক মানে উপরের দিক। সুতরাং উপরের তাকিয়ে পড়লেই হবে। এক্ষেত্রে আকাশ দেখা যাওয়া জরুরি নয়। শাহাদাত আঙ্গুল উঁচিয়ে ধরাও জরুরি নয়।
🤔🤔তবে আজুর পর আকাশের দিকে তাকিয়ে দোয়া করার হাদিসে অনেক আলেম জাল বা মুনকার বলেছেন– “বর্ণনাটি মুনকার। ‘আকাশের দিকে তাকানো’ অংশটুকু ছহীহ হাদীছের বিরোধী। তাই বেশ সংখ্যক হাদিস শাস্ত্র বিশারদ বলেন, ‘এই অতিরিক্ত অংশটুকু অস্বীকৃত। কারণ ইবনু আম আবী উক্বাইল এককভাবে বর্ণনা করেছে। সে অপরিচিত’।
📘📕আদব ও বিশ্বাসের সহিত দোয়া করবে। দোয়ার কিছু আদব
১। দোয়াকারীকে আল্লাহর রুবুবিয়্যত, উলুহিয়্যত ও আসমা-সিফাতের প্রতি একত্ববাদী হতে হবে। আল্লাহ তাআলা কর্তৃক দোয়া কবুল করার শর্ত হচ্ছে- বান্দা কর্তৃক আল্লাহর আহ্বানে সাড়া দিয়ে নেক কাজ করা ও গুনাহ পরিত্যাগ করা। আল্লাহ তাআলা বলেন: “আর আমার বান্দাগণ যখন আমার সম্পর্কে আপনাকে জিজ্ঞেস করে, (তখন বলে দিন যে) নিশ্চয় আমি অতি নিকটে। আহ্বানকারী যখন আমাকে আহ্বান করে আমি তার আহ্বানে সাড়া দেই।”[সূরা বাক্বারা, আয়াত: ১৮৬]
২। একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর কাছে দোয়া করা। আল্লাহ তাআলা বলেন: আর “তাদেরকে কেবল এ নির্দেশই প্রদান করা হয়েছিল যে, তারা যেন আল্লাহ্র ইবাদত করে তাঁরই জন্য দ্বীনকে একনিষ্ঠ করে।”[সূরা বাইয়্যেনা, আয়াত: ০৫] দোয়া হচ্ছে- ইবাদত; যেমনটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন। তাই ইখলাস দোয়া কবুলের শর্ত।
৩। আল্লাহ্র সুন্দর নাম ও গুণাবলী দিয়ে তাঁকে ডাকা। আল্লাহ্ তাআলা বলেন: “আর আল্লাহ্র জন্যই রয়েছে সুন্দর সুন্দর নাম। অতএব তোমরা তাঁকে সেসব নামেই ডাক; আর যারা তাঁর নাম বিকৃত করে তাদেরকে বর্জন কর।”[সূরা আরাফ, আয়াত: ১৮০]
৪। দোয়া করার পূর্বে আল্লাহর যথোপযুক্ত প্রশংসা করা। সুনানে তিরমিযিতে (৩৪৭৬) ফাযালা বিন উবায়দ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উপবিষ্ট ছিলেন। এমন সময় এক ব্যক্তি এসে নামায আদায় করল, এরপর দু’আ করল: ‘হে আল্লাহ! তুমি আমাকে মাফ করে দাও, তুমি আমাকে রহম কর’। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: হে নামাযী! তুমি বেশ তাড়াহুড়া করে ফেললে। তুমি নামায আদায় করে যখন বসবে তখন আগে আল্লাহর যথোপযুক্ত প্রশংসা করবে, আমার ওপর দরুদ পড়বে। এরপর আল্লাহর কাছে দু’আ করবে।” অপর এক রেওয়ায়েতে এসেছে (৩৪৭৭) “যখন তোমাদের কেউ নামায শেষ করবে তখন আল্লাহর প্রশংসা ও স্তুতি শুরু করবে। এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর দরুদ পড়বে। অতঃপর যা ইচ্ছা দোয়া করবে” বর্ণনাকারী বলেন: এরপর অপর এক লোক নামায আদায় করল। সে ব্যক্তি আল্লাহর প্রশংসা করল, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর দরুদ পড়ল। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: “ওহে নামাযী! দোয়া কর, আল্লাহ তোমার দোয়া কবুল করবেন”[আলবানী সহিহুত তিরমিযি গ্রন্থে (২৭৬৫), (২৭৬৭) হাদিসটিকে সহিহ আখ্যায়িত করেছেন]
৫। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর দরুদ পড়া। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর দরুদ না পড়া পর্যন্ত যে কোন দোয়া আটকে থাকে”[আল-মুজাম আল-আওসাত (১/২২০), আলবানী ‘সহিহুল জামে’ গ্রন্থে (৪৩৯৯) হাদিসটিকে সহিহ আখ্যায়িত করেছেন]
৬। কিবলামুখী হয়ে দোয়া করা। সহিহ মুসলিমে (১৭৬৩) উমর বিন খাত্তাব (রাঃ) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেন: বদর যুদ্ধের দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মুশরিকদের দিকে তাকালেন; তাদের সংখ্যা ছিল এক হাজার। আর তাঁর সাথীবর্গের সংখ্যা ছিল তিনশত উনিশ। তখন তিনি কিবলামুখী হয়ে হাত প্রসারিত করলেন, তারপর তাঁর রবকে ডাকতে শুরু করলেন: ‘হে আল্লাহ! আপনি আমাকে যে ওয়াদা দিয়েছেন সেটা বাস্তবায়ন করে দিন। হে আল্লাহ! আপনি আমাকে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন সেটা দান করুন। হে আল্লাহ! আপনি যদি মুসলমানদের এ দলটিকে ধ্বংস করে দেন তাহলে পৃথিবীতে আপনার ইবাদত হবে না’। এভাবে দুই হাত প্রসারিত করে কিবলামুখী হয়ে তাঁর রবকে ডাকতে থাকলেন; এমনকি এক পর্যায়ে তাঁর কাঁধ থেকে চাদরটি পড়ে গেল…।
ইমাম নববী (রহঃ) ‘শারহু মুসলিম’ গ্রন্থে বলেন: এ হাদিসে দোয়াকালে কিবলামুখী হওয়া ও দুই হাত তুলে দোয়া করা মুস্তাহাব হওয়ার পক্ষে প্রমাণ রয়েছে।
৭। দুই হাত তোলা। সুনানে আবু দাউদ গ্রন্থে (১৪৮৮) সালমান (রাঃ) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “নিশ্চয় আপনাদের সুমহান রব হচ্ছেন লজ্জাশীল ও মহান দাতা। বান্দা যখন তাঁর কাছে দু’হাত তোলে তখন তিনি সে হাতদ্বয় শূন্য ফিরিয়ে দিতে লজ্জাবোধ করেন।”[সহিহ আবু দাউদ গ্রন্থে (১৩২০) আলবানী হাদিসটিকে সহিহ আখ্যায়িত করেছেন]
হাতের তালু থাকবে আকাশের দিকে; যেভাবে একজন নতজানু দরিদ্র সাহায্যপ্রার্থী কিছু পাওয়ার আশায় হাত পাতে। সুনানে আবু দাউদ গ্রন্থে (১৪৮৬) মালেক বিন ইয়াসার (রাঃ) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: “যখন তোমরা আল্লাহর কাছে কোন কিছু চাইবে তখন হাতের তালু দিয়ে চাইবে; হাতের পিঠ দিয়ে নয়”[আলবানী সহিহ আবু দাউদ গ্রন্থে (১৩১৮) হাদিসটিকে সহিহ আখ্যায়িত করেছেন]
হাত তোলার সময় দুই হাত কি মিলিয়ে রাখবে; না কি দুই হাতের মাঝে ফাঁক রাখবে?
শাইখ উছাইমীন (রহঃ) তাঁর ‘আল-শারহুল মুমতি’ গ্রন্থে (৪/২৫) উল্লেখ করেছেন যে, হাত দুইটি মিলিয়ে রাখবে। তাঁর ভাষায়: “দুই হাতের মাঝখানে ফাঁক রাখা ও এক হাত থেকে অন্য হাত দূরে রাখা সম্পর্কে আমি কোন দলিল পাইনি; না হাদিসে; আর না আলেমগণের বাণীতে।” [সমাপ্ত]
৮। আল্লাহর প্রতি এ একীন রাখা যে, আল্লাহ দোয়া কবুল করবেন এবং মনোযোগ দিয়ে দোয়া করা। দলিল হচ্ছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী: “তোমরা দোয়া কবুল হওয়ার একীন নিয়ে দোয়া কর। জেনে রাখ, আল্লাহ তাআলা অবহেলাকারী ও অমনোযোগী অন্তরের দোয়া কবুল করেন না।”[সুনানে তিরমিযি (৩৪৭৯), শাইখ আলবানী ‘সহিহুত তিরমিযি’ গ্রন্থে (২৭৬৬) হাদিসটিকে ‘হাসান’ বলেছেন]
৯। বারবার চাওয়া। বান্দা আল্লাহর কাছে দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণকর যা ইচ্ছা তা চাইবে, কাকুতি-মিনতি করবে, তবে দোয়ার ফলাফল প্রাপ্তিতে তাড়াহুড়া করবে না। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: “বান্দার দোয়া ততক্ষণ পর্যন্ত কবুল করা হয় যতক্ষণ পর্যন্ত না বান্দা কোন পাপ নিয়ে কিংবা আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা নিয়ে দোয়া করে। বান্দার দোয়া ততক্ষণ পর্যন্ত কবুল করা হয় যতক্ষণ পর্যন্ত না বান্দা ফলাফল প্রাপ্তিতে তাড়াহুড়া না করে। জিজ্ঞেস করা হল: ইয়া রাসূলুল্লাহ! তাড়াহুড়া বলতে কী বুঝাচ্ছেন? তিনি বললেন: বলে যে, আমি দোয়া করেছি, আমি দোয়া করেছি; কিন্তু আমার দোয়া কবুল হতে দেখিনি। তখন সে ব্যক্তি উদ্যম হারিয়ে ফেলে এবং দোয়া ছেড়ে দেয়।[সহিহ বুখারী (৬৩৪০) ও সহহি মুসলিম (২৭৩৫)]
১০। দৃঢ়তার সাথে দোয়া করা। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “তোমাদের কেউ যেন অবশ্যই এভাবে না বলে যে, হে আল্লাহ! আপনি যদি চান আমাকে ক্ষমা করুন। হে আল্লাহ! আপনি যদি চান আমাকে দয়া করুন। কেননা নিশ্চয় আল্লাহর ওপর জবরদস্তি করার কেউ নেই।[সহিহ বুখারী (৬৩৩৯) ও সহিহ মুসলিম(২৬৭৯)]
১১। অনুনয়-বিনয়, আশা ও ভয় প্রকাশ করা। আল্লাহ তাআলা বলেন: “তোমরা বিনীতভাবে ও গোপনে তোমাদের রবকে ডাক”[সূরা আরাফ, আয়াত: ৫৫] তিনি আরও বলেন: “তারা সৎকাজে প্রতিযোগিতা করত, আর তারা আমাদেরকে ডাকত আগ্রহ ও ভীতির সাথে এবং তারা ছিল আমাদের নিকট ভীত-অবনত।”[সূরা আম্বিয়া, আয়াত: ৯০] তিনি আরও বলেন: “আর আপনি আপনার রবকে নিজ মনে স্মরণ করুন সবিনয়ে, ভীতচিত্তে ও অনুচ্চস্বরে, সকালে ও সন্ধ্যায়।”[সূরা আরাফ, আয়াত: ২০৫]
১২। তিনবার করে দোয়া করা। সহিহ বুখারী (২৪০) ও সহিহ মুসলিমে (১৭৯৪) আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেন: “একবার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বায়তুল্লাহ্র কাছে নামায আদায় করছিলেন। সেখানে আবূ জেহেল ও তার সঙ্গীরা বসা ছিল। গতদিন উট জবাই করা হয়েছিল। এমন সময় আবু জেহেল বলে উঠল, ‘তোমাদের মধ্যে কে অমুক গোত্রের উটনীর নাড়ীভুঁড়ি এনে মুহাম্মদ যখন সিজদা করবে তখন তার পিঠের উপর রাখতে পারবে?’ তখন কওমের সবচেয়ে নিকৃষ্ট লোকটি দ্রুত গিয়ে উটনীর নাড়ীভুঁড়ি নিয়ে এল এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সিজদায় গেলেন তখন এগুলো তাঁর দুই কাঁধের মাঝখানে রেখে দিল। বর্ণনাকারী বলেন: তারা নিজেরা হাসতে থাকল; হাসতে হাসতে একে অন্যের ওপর হেলে পড়ল। আমি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখছিলাম। হায়! আমার যদি প্রতিরোধ করার ক্ষমতা থাকত তাহলে আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পিঠ থেকে এগুলো ফেলে দিতাম। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সিজদায় পড়ে থাকলেন; মাথা উঠালেন না। এক পর্যায়ে এক লোক গিয়ে ফাতিমা (রাঃ) কে খবর দিল। খবর শুনে তিনি ছুটে এলেন। সে সময় ফাতেমা (রাঃ) ছিলেন ছোট বালিকা। তিনি এসে উটের নাড়ীভুঁড়ি তাঁর পিঠ থেকে ফেলে দিলেন। এরপর লোকদের দিকে মুখ করে তাদেরকে গালমন্দ করলেন। অতঃপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তাঁর নামায শেষ করলেন তখন তিনি কণ্ঠস্বর উঁচু করলেন এবং তাদের বিরুদ্ধে বদ দোয়া করলেন। – তিনি যখন দোয়া করতেন তখন তিনবার করতেন এবং যখন প্রার্থনা করতেন তখন তিনবার করতেন- এরপর বললেন: ইয়া আল্লাহ্! আপনি কুরাইশকে ধ্বংস করুন। এভাবে তিনবার বললেন। তারা যখন তাঁর কণ্ঠস্বর শুনতে পেল তাদের হাসি মিলিয়ে গেল এবং তারা তাঁর বদ দোয়াকে ভয় পেল। এরপর তিনি বললেনঃ ইয়া আল্লাহ্! আবূ জেহেল ইবনে হিশাম, ‘উতবা ইবনে রাবী’আ, শায়বা ইবনে রবী’আ, ওয়ালীদ ইবনে ‘উকবা, উমাইয়্যা ইবনে খালাফ ও ‘উকবা ইবনে আবু মু’আইতকে ধ্বংস করুন। (রাবী বলেন, তিনি সপ্তম ব্যক্তির নামও বলেছিলেন কিন্তু আমি স্মরণ রাখতে পারিনি।) সেই সত্তার কসম! যিনি মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সত্যসহ প্রেরণ করেছেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যাদের নাম উচ্চারণ করেছিলেন, আমি বদর যুদ্ধের দিন তাদেরকে নিহত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেছি। পরবর্তীতে তাদেরকে টেনেহিঁচড়ে বদরের কূপের মধ্যে ফেলে দেয়া হয়।”
১৩। ভাল খাবার ও ভাল পোশাক গ্রহণ করা (ভাল হতে হলে হালাল হওয়া জরুরী)। সহিহ মুসলিমে (১০১৫) আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি্ ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “হে লোকসকল! নিশ্চয় আল্লাহ ভাল। তিনি ভাল নয় এমন কিছু গ্রহণ করেন না। তিনি রাসূলদেরকে যে নির্দেশ দিয়েছেন একই নির্দেশ মুমিনদের প্রতিও জারী করেছেন। তিনি বলেন: “হে রাসূলগণ! আপনারা ভাল খাবার গ্রহণ করুন এবং নেক আমল করুন। নিশ্চয় আপনারা যা কিছু আমল করেন সে সম্পর্কে আমি সম্যক অবগত”[সূরা মুমিনূন, আয়াত: ৫১] তিনি আরও বলেন: “হে ঈমানদারেরা! তোমাদেরকে যেসব ভাল রিজিক দিয়েছি সেগুলো থেকে খাও।”[সূরা বাক্বারা, আয়াত: ১৭২] এরপর তিনি উল্লেখ করেন যে, জনৈক ব্যক্তি লম্বা সফর করে উস্কখুস্ক চুল নিয়ে ধুলিমলিন অবস্থায় দুই হাত আকাশের দিকে তুলে দোয়া করে: ইয়া রব্ব, ইয়া রব্ব! অথচ তার খাদ্য হারাম, তার পানীয় হারাম, তার পোশাক হারাম, সে পরিপুষ্ট হয়েছে হারাম খেয়ে তাহলে তার দোয়া কিভাবে কবুল হবে?” ইবনে রজব (রহঃ) বলেন: “হালাল খাওয়া, হালাল পান করা, হালাল পরিধান করা ও হালাল খেয়ে পরিপুষ্ট হওয়া দোয়া কবুল হওয়ার আবশ্যকীয় শর্ত।
📘📕 জিকির তথা দোয়া আস্তে আস্তে ও গোপনে দোয়া করা সুন্নত। জিকির ও দোয়ায় উচ্চ শব্দ না করা সুন্নত। আল্লাহ তাআলা বলেন: “তোমরা বিনীতভাবে ও গোপনে তোমাদের রবকে ডাক”!—সূরা আরাফ, আয়াত: ৫৫। অথচ আজকাল পীরেরা শুধু উচ্চ শব্দে নয় বরং জামায়াতের সহিত লাফালাফি করে ও জাকির করে।। আল্লাহ তাআলা যাকারিয়া আঃ এর প্রশংসা করে বলেন: “যখন তিনি তার রবকে ডেকেছিলেন নিভৃতে”–সূরা মারিয়াম, আয়াত: ০৩!!
👉👉আল্লাহ তায়ালা পৃথিবীর সব মানুষকে বিভিন্ন শ্রেণিবিন্যাসে সৃষ্টি করেছেন। কাউকে করেছেন ধনবান-শক্তিশালী, আবার কাউকে করেছেন দরিদ্র-অসহায়। শক্তি ও ক্ষমতার প্রশ্নে সবার অবস্থান সমান নয়। দুনিয়ার পরিচালনা পদ্ধতি সঠিকভাবে অবিরত রাখতে এভাবে স্তর নির্ধারণ করেছেন। হাতের আঙ্গুলগুলো যদি সমান করে রাখা হতো তাহলে যেমন এই হাত দিয়ে কোন কিছু ধরা যেত না এবং কোন কাজ করা যেত না বরং হাত হয়ে যেত কাঁটা চামচের মত, ঠিক তদ্রুপ যদি সকল মানুষকে একই আকৃতি একই শক্তি একই মেধা ও একই রকম যোগ্যতা ও ধনসম্পদ দিয়ে সৃষ্টি করা হতো তাহলে দুনিয়ার স্থবির হয়ে যেত। আল্লাহ সৃষ্টির সংখ্যা পরিমাপ ও পরিমাণ নির্ধারণের সঙ্গে সঙ্গে ক্ষমতাবান-ক্ষমতাহীন, নির্বিশেষে সবার প্রতি ইনসাফ ও সম্প্রীতি রক্ষার আদেশ করেছেন। জুলুমসহ সব ধরনের অনাচার বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন। সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ক্ষমতাবান কর্তৃক অসহায়দের ওপর অযাচিত জুলুমের চিত্র অহরহ ঘটতে দেখা যায়। উঁচু শ্রেণি কর্তৃক সহায়হীন শ্রেণির ওপর দমন-পীড়ন যেন প্রতিষ্ঠিত কোনো নীতির অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অথচ আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনে অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় সর্বপ্রকার জুলুমকে নিষিদ্ধ করেছেন। নবী করিম (সা.) হাদিস শরিফের অসংখ্য স্থানে জালিমের ইহকালীন ও পরকালীন নানাবিধ শাস্তির কথা ব্যক্ত করেছেন।
👉👉 অত্যাচার তথা জুলুমের ব্যাপারে কোরআন-হাদিসের সতর্কবাণীঃ 👉আল্লাহ তায়ালা বলেন, “অভিযোগ তো তাদের বিরুদ্ধে, যারা মানুষের ওপর জুলুম করে ও পৃথিবীতে অন্যায়ভাবে বিদ্রোহ করে বেড়ায়। এরূপ লোকদের জন্য আছে যন্ত্রণাময় শাস্তি।” –সুরা শূরা : ৪২।
👉অন্যত্র বর্ণিত হয়েছে, “তুমি যদি সেই সময় দেখ তবে বড় ভয়াল দৃশ্য দেখতে পাবে! যখন (অত্যাচারী রাজা-বাদশা ও আমির লোকেরা অর্থাৎ জালেম সম্প্রদায়েরা মৃত্যু যন্ত্রণায় আক্রান্ত হবে এবং ফেরেশতারা তাদের হাত বাড়িয়ে বলতে থাকবে নিজেদের প্রাণ বের কর; আর এখন থেকে তোমাদের লাঞ্ছনাকর শাস্তি দেওয়া হবে।’ সুরা আনআম : ৯৩!
👉 হাদিসে কুদসিতে নবী করিম সা. বলেছেন, “আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, হে আমার বান্দা! আমি নিজের জন্য জুলুম হারাম ঘোষণা করেছি এবং তোমাদের পরস্পরের মাঝেও। ফলে তোমরা জুলুম কর না।’ -মুসলিম : ২৫৭৭ ।
👉অন্য হাদিসে আছে, ‘জুলুম তিন প্রকার। ১// যেটা আল্লাহ তায়ালা কখনও ক্ষমা করেন না। যেমন : শিরক। ২,// যেটা আল্লাহ তায়ালা চাইলে ক্ষমা করতে পারেন। যেমন : আল্লাহর কোনো হক লঙ্ঘন। ৩// যেটার ক্ষমা বান্দার ক্ষমার ওপর নির্ভরশীল। যেমন : মানুষ পরস্পর একে অন্যের ওপর জুলুম করেছে। মজলুম ক্ষমা না করা পর্যন্ত আল্লাহ তায়ালা ক্ষমা করবেন না।’ –মুসনাদে বাজ্জার : ৩৪৩৯!
👉👉রাসুলুল্লাহ সা. আরও বলেছেন, “তোমরা জুলুম করা থেকে বেঁচে থাক। কারণ, জুলুম কেয়ামতের দিন অন্ধকারে পরিণত হবে।’ –মুসলিম : ৬৭৪১।
🤔🤔দুনিয়াতে জালিমের শাস্তিঃ
👉স্বাভাবিকভাবে আল্লাহ তায়ালা জালিমদের তাদের জুলুম-অন্যায় এবং সমাজে জুলুমের খারাপ প্রতিক্রিয়ার কারণে দ্রুত শাস্তি দেওয়ার ওয়াদা করেছেন। নবী করিম সা.বলেছেন, ‘আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা ও জুলুম করার শাস্তি সবচেয়ে দ্রুত পতিত হয়।’ -বায়হাকি : ২০৩৬৪!!
👉🤔অন্য হাদিসে আছে, “আল্লাহ তায়ালা জালিমকে অবকাশ দেন ! এরপর জালিম জুলুম থেকে ফিরে না এলে তাকে এমনভাবে শাস্তি দেন যে, জালিম সে শাস্তি থেকে পলায়ন করতে পারে না।’ —বোখারি : ৪৬৮৬। এ কথা বলে নবী (সা.) কোরআনের এই আয়াত তেলাওয়াত করলেন, ‘যেসব জনপদ জুলুমে লিপ্ত হয়, তোমার প্রতিপালক যখন তাদের ধরেন, তখন তার ধরা এমনই হয়ে থাকে। বাস্তবিকই তার ধরা অতি মর্মন্তুদ, অতি কঠিন।’ –সুরা হুদ : ১০২।
👉👉আল্লাহ তায়ালা জালিমকে দুনিয়াতেই লাঞ্ছিত করেন। জীবনের তিক্ত স্বাদ আস্বাদন করান। 👉দুনিয়াতে জালিমের জীবন থেকে কল্যাণ ও নেয়ামত ছিনিয়ে নেন। 👉 জালিম এবং জালিমের সহযোগীরা ও সমর্থকেরা কখনোই দুনিয়াতে নিশ্চিন্ত জীবন যাপন করতে পারেনা বরং দুশ্চিন্তা তাদেরকে সবসময় আচ্ছন্ন করে রাখে। ((বাংলায় একটা প্রবাদ আছে না; “চোরের মন পুলিশ পুলিশ”)) জালিমদের জীবন থেকে উত্তম চিন্তাভাবনা, নেক কাজের আগ্রহ এবং স্পৃহা আর হেদায়েত ছিনিয়ে নেওয়া হয়। হলে তারা মানসিক বিকারগ্রস্তের মত আর উদভ্রান্তের মতো দিগ্বিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে ঘুরতে থাকে। কোন কিছু না পাওয়ার চেয়ে পেয়ে হারানোর বেদনা অনেক অনেক বেশি। অত্যাচারীরা অত্যাচার ও জুলুম করে যত সম্পদ আহরণ করে তা একসময় দুনিয়াতে রেখেই প্রচন্ড আফসোস নিয়ে দুনিয়া থেকে চলে যায় অথবা বিভিন্নভাবে তাদেরকে দুনিয়ার মানুষেরাই এই সম্পদ থেকে বঞ্চিত করে ফেলে। দুই দিন আগে দেখতে পেয়েছেন একটি উপজেলার সমান জমি কিনে ফেলা এবং বাংলাদেশের সবচেয়ে ক্ষমতাধর পুলিশ অফিসার বেনজির আহমদ মানুষের উপর অত্যাচার জুলুম নির্যাতনের ফলে আজকে একটি জংলি খেঁকশিয়াল এর মত এখানে সেখানে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। লিবিয়ার প্রেসিডেন্ট গাদ্দাফি দীর্ঘ প্রায় ৪০ বছর দেশের জনগণের উপর এত বেশি অত্যাচার করেছে যে কোন বর্ণনায় তা প্রকাশ করা সম্ভব নয়। অবশেষে আল্লাহর নির্ধারিত সময় উপস্থিত হলো। একদল অনভিজ্ঞ বন্দুকধারী গুলি করে হত্যা করে মাটিতে শুয়ে রেখেছিল এবং জনগণ তার মুখে থু তু নিক্ষেপ করছিল এবং লা থি মারছিল। অবশেষে এই ছেলেরা তাকে মরুভূমিতে এক অজানা স্থানে মাটি চাপা দিয়ে এসেছে।। গাদ্দাফিকে নির্বংশ করে ফেলা হয়েছে। ছেলের মধ্যে পাঁচ ছেলেকে নিকৃষ্টভাবে হত্যা করা হয়েছে। তার সমর্থকদের দুনিয়া থেকে বিদায় করে দেওয়া হয়েছে বেশিরভাগ।। ঠিক আরেক জালিম অসভ্য বর্বর ছিল প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম। সাদ্দাম একমাত্র তার নিজস্ব কমিউনিস্ট পার্টি ছাড়া আর বাকি সবাইকে ব্যাপক জুলুম করেছিল। সুন্নি কুর্দি সম্প্রদায়ের লোকদেরকে এসে এক মুহূর্তের জন্য শান্তি দেয়নি। শিয়াদেরকে সে তাড়িয়ে বেড়িয়েছে। আর ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদেরকে পাখির মতো হত্যা করত। অবশেষে আল্লাহ নির্ধারিত সময় উপস্থিত হলো। তার ১০০০ টন ওজনের সবচেয়ে বড় মূর্তিটি সে স্থাপন করেছিল ইরাকের গ্র্যান্ড মসজিদের সামনে। সেই মূর্তির গলায় ট্রেন লাগিয়ে ভূপতিত করা হয়েছিল এবং দেশ থেকে হাজার হাজার সাদ্দামের মূর্তি ধ্বংস করা হয়েছিল। আর সাদ্দাম কে নিকৃষ্ট অবস্থায় ঈদের দিনে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। আর বাকিদের কথা বাদ দিলাম।
বর্ণিত হয়েছে, ‘অতঃপর ঘটল এই যে, তারা যখন নিদ্রিত ছিল, তোমার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে সেই বাগানে হানা দিল এক উপদ্রব, ফলে বাগানটি ভোরবেলা হয়ে গেল কাঁটা ক্ষেতের মতো। তারা বলল, নিশ্চয়ই আমরা জালিম ছিলাম।’ —সুরা কলম : ১৯-২৯।
ইহকালীন জীবনে জালিমদের শাস্তিস্বরূপ আল্লাহ তায়ালা জুলুমের কিসাস বিধান রেখেছেন। বলেছেন, ‘আমি তাদের জন্য বিধান রেখেছিলাম, প্রাণের বদলে প্রাণ, চোখের বদলে চোখ, নাকের বদলে নাক, কানের বদলে কান ও দাঁতের বদলে দাঁত। আর জখমেও (অনুরূপ) বদলা নেওয়া হবে। যারা আল্লাহর নাজিলকৃত বিধানুসারে বিচার করে না, তারা জালিম।’ (সুরা মায়িদা : ৪৫)।
জালিমদের আল্লাহ তায়ালা সঠিক পথের হেদায়েত দান করেন না। বরং দুনিয়ার জীবনে গোমরাহ করে রাখেন। বলা হয়েছে, ‘যারা ঈমান এনেছে আল্লাহ তাদের এ সুদৃঢ় কথার ওপর স্থিতি দান করেন, দুনিয়ার জীবনেও এবং আখেরাতেও। আর আল্লাহ জালিমদের কারণে বিভ্রান্ত।’ (সুরা ইবরাহিম : ২৭)।
তবে প্রজ্ঞাগত নীতির কারণে আল্লাহ তায়ালা কখনও কখনও জালিমদের অবকাশ দেন। তৎক্ষণাৎ শাস্তি দেন না। এই অবকাশ দানের একটি রহস্য হলো, ধীরে ধীরে জালিমকে কঠিনভাবে শাস্তি দেওয়ার জন্য ছাড় দেওয়া। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘প্রকৃতপক্ষে আমি তাদের অবকাশ দিই শুধু এ কারণে, যাতে তারা পাপাচারে আরও অগ্রগামী হয় এবং (পরিশেষে) তাদের জন্য আছে এমন শাস্তি, যা তাদের লাঞ্ছিত করে ছাড়বে।’ (সুরা আলে ইমরান : ১৭৮)।
👉👉আজাবের উদাহরণ
মিশর সম্রাট বিখ্যাত কাফের ফেরাউন পৃথিবীতে ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছিল। হজরত মুসা (আ.) এর জামানায় মুসলমানদের ওপর চালিয়েছিল বর্বরোচিত জুলুম-অত্যাচার। তার ওপর নিপতিত ধ্বংসশীল আজাবের কথা বর্ণিত হয়েছে, ‘সুতরাং আমি তাকে ও তার সৈন্যদের ধৃত করে সাগরে নিক্ষেপ করলাম। এবার দেখ জালিমদের পরিণতি কী হয়েছে।’ –সুরা কাসাস : ৪০।
আরেক বিখ্যাত জুলুমবাজ কাফের সম্প্রদায় হলো সামুদ গোত্র। তারা হজরত সালেহ (আ.) এর দাওয়াত অমান্য করে ঈমান গ্রহণে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল। জুলুমের বিস্তার ঘটিয়েছিল। তাদের শাস্তি হয়েছিল এভাবে, ‘আর যারা জুলুমের পথ অবলম্বন করেছিল, তাদের আঘাত হানল মহাগর্জন। ফলে তারা তাদের ঘরবাড়িতে এভাবে অধঃমুখে পড়ে থাকল।’ —সুরা হুদ : ৬৭।
👉👉জালিমের জন্য বদদোয়া জুলুমের শিকার ব্যক্তির দোয়া কখনও বিফলে যায় না। মজলুম কাফেরের দোয়াও আল্লাহ কবুল করেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা মজলুমের বদদোয়াকে ভয় কর। যদিও সে কাফের হয়। কারণ, মজলুমের দোয়া ও আল্লাহর মাঝে কোনো প্রতিবন্ধকতা নেই।’ –আহমাদ।
দোয়ার ফলে আল্লাহ তায়ালা জালিমের বিপক্ষে মজলুমের হয়ে প্রতিশোধ গ্রহণ করেন। আসমানে মজলুমের দোয়ার অনেক দাম। নবী (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, আমার ইজ্জতের কসম, দেরিতে হলেও আমি মজলুমকে অবশ্যই সাহায্য করব।’ –ইবনে হিব্বান : ৮৭৪! মজলুমের দোয়ার ভেতর মুখাপেক্ষী ভগ্ন হৃদয়, লাঞ্ছিত অন্তরের অনুনয় থাকে। ফলে আল্লাহ তায়ালা একান্ত সাহায্যকারী হয়ে তার দোয়া কবুল করে থাকেন। আল্লাহ তায়ালা সবাইকে জুলুম থেকে হেফাজত করুন। আমিন!
🌲🌳সম্প্রতি জানা গেছে, দীর্ঘ সময় শুষ্ক আবহাওয়ার পর বৃষ্টির পরমুহূর্তে সৃষ্ট ঘ্রাণ বিভিন্ন কারণে মানুষের স্নায়ুতে ভালো লাগার অনুভূতি তৈরি করে।
এই ভালো লাগার পেছনে রাসায়নিক বিক্রিয়াঘটিত বেশকিছু কারণ রয়েছে।
ব্যাকটেরিয়া, গাছপালা বা বিদ্যুৎ চমকানো- সবকিছুই বৃষ্টির সময়কার ভেজা মাটি ও নির্মল বাতাসের মনোরম সৌরভের অনুভূতি তৈরি করার পেছনে ভূমিকা রাখে। ইংরেজিতে ‘পেট্রিকোর’ নামের এই সুঘ্রাণের উৎসের সন্ধানে বহুদিন ধরেই গবেষণা চালাচ্ছেন বৈজ্ঞানিকরা।
ভেজা মাটি ১৯৬০ সালে দুজন অস্ট্রেলীয় গবেষক প্রথম এই নামকরণ করেন। বৃষ্টি যখন প্রথম শুষ্ক মাটি স্পর্শ করে তখন আমরা যে উষ্ণ, সোঁদা গন্ধ পাই তা ব্যাকটেরিয়ার কারণে সৃষ্টি হয় বলে জানান তারা।
যুক্তরাজ্যের জন ইনস সেন্টারের আণবিক জীবাণুবিজ্ঞান বিষয়ের অধ্যাপক মার্ক বাটনার বলেন, “মাটিতে এই ব্যাকটেরিয়া প্রচুর পরিমাণে আছে।”
বিবিসিকে তিনি বলেন, “আপনি যখন মাটির সোঁদা গন্ধ পান তখন আসলে বিশেষ একধরনের ব্যাকটেরিয়ার তৈরি করা অণু গন্ধ পান আপনি।”
জিওসমিন নামের ওই অণু স্ট্রেপটোমাইস দিয়ে তৈরি হয়, যা সাধারণত উর্বর মাটিতে উপস্থিত থাকে।
বৃষ্টির পানির ফোঁটা মাটি স্পর্শ করলে মাটিতে উপস্থিত জিওসমিন বায়ুতে ছড়িয়ে পড়ে এবং বৃষ্টির পর আরো অনেকাংশে বৃদ্ধি পায়।
অধ্যাপক বাটনার বলেন, “অনেক প্রাণীই এই গন্ধের বিষয়ে সংবেদনশীল হলেও মানুষ এ সম্পর্কে অতিরিক্ত অনুভূতিশীল।”
এই গন্ধকে ‘পেট্রিকোর’ নাম দেয়া দুজন গবেষক ইসাবেল বেয়ার আর আর.জি. থমাস ১৯৬০ সালে জানতে পারেন যে সেসময় ভারতের উত্তর প্রদেশে এই ঘ্রাণ আহরণ করে সুগন্ধি হিসেবে বিক্রি করা হতো ‘মাটি কা আত্তর’ নামে।
বর্তমানে সুগন্ধি তৈরির কাঁচামাল হিসেবে জিওসমিনের ব্যবহার বাড়ছে।
তবে জিওসমিনের গন্ধ ভালবাসলেও, অনেকেই কিন্তু এর স্বাদ অপছন্দ করেন।
মানুষের জন্য এটি ক্ষতিকর না হলেও পানিতে বা ওয়াইনে সামান্য পরিমাণ জিওসমিনের উপস্থিতিও সহ্য করতে পারেন না অনেকেই।
ডেনমার্কের আলবর্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জেপ্পে নিয়েলসেন বলেন, “স্বাভাবিকভাবে প্রকৃতিতে যে মাত্রায় পাওয়া যায়, সেই পরিমাণ জিওসমিন মানুষের জন্য ক্ষতিকর না হলেও মানুষ কেন এর স্বাদ পছন্দ করে না সেসম্পর্কে এখনো কিছু জানি না আমরা।”
পেট্রিকোর: পরিভাষা নেচার জার্নালে প্রকাশিত হওয়া বৈজ্ঞানিক ইসাবেল জয় বেয়ার ও রিচার্ড থমাসের ১৯৬৪ সালের প্রবন্ধ ‘ন্যাচার অব আর্গিলেশাস ওডর’ এ প্রথমবার এই শব্দটি ব্যবহৃত হয়।
গ্রিক শব্দ ‘পেত্রোস’ ও ‘ইকোর’ থেকে উদ্ভূত হয়েছে এই শব্দ। পেত্রোস অর্থ ‘পাথর’ আর ইকোর অর্থ ‘ঈশ্বরের শিরায় প্রবাহিত তরল।’
গাছ বিভিন্ন গবেষণার বরাত দিয়ে অধ্যাপক নিয়েলসেন বলেন, “জিওসমিন তারপিনের সাথেও সম্পৃক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অনেক গাছে উদ্ধৃত সুঘ্রাণের উৎস তারপিন।”
যুক্তরাজ্যের রয়্যাল বোটানি গার্ডেনসের গবেষণা প্রধান ফিলিপ স্টিভেনসনের মতে বৃষ্টির কারণে এসব সুবাস প্রকৃতিতে ছড়িয়ে পড়ে।
“গাছে উপস্থিত যেসব রাসায়নিক সুগন্ধ তৈরি করে সেগুলো অনেকসময় পাতার মধ্যে তৈরি হয় এবং বৃষ্টির কারণে এগুলো ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার ফলে বায়ুতে নির্গত হয়।”
নিয়েলসেন বলেন, “শুকনা ভেষজ গুড়া করলে যেমন তার ঘ্রাণ বৃদ্ধি পায়, তেমনি দীর্ঘ শুষ্ক মৌসুমের পর বৃষ্টি হলে গাছের শুকিয়ে যাওয়া অংশগুলো থেকে নতুনভাবে সুবাস তৈরি হয়।”
অতিরিক্ত শুষ্কতার ফলে গাছের অভ্যন্তরীণ রাসায়নিক প্রক্রিয়ার গতি ধীর হয়ে পড়ে। বৃষ্টির সময় গাছ নতুন সজীবতা পায় এবং রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে প্রকৃতিতে সুঘ্রাণ ছড়ায়।
বজ্রপাত বৃষ্টির সময় সুঘ্রাণ তৈরির পেছনে বজ্রপাতেরও ভূমিকা রয়েছে। বিদ্যুৎ চমকানোর কারণে বায়ুমণ্ডলে বৈদ্যুতিক আবেশ তৈরি হওয়ায় প্রকৃতিতে ওজোন গ্যাসের একধরনের গন্ধ প্রতীয়মান হয়।
মিসিসিপি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ম্যারিবেথ স্টোলযেনবার্গ বলেন, “বিদ্যুৎ চমকানোর পাশাপাশি ঝড় এবং বিশেষত বৃষ্টির কারণে বাতাস পরিষ্কার হয়। যার ফলে বৃষ্টি পরবর্তী সুঘ্রাণও সহজে ছড়িয়ে পড়ে।”
📘📕palindrome #প্যালিনড্রোম বা #দ্বিমুখী_শব্দ কি এবং কোথায়, কিভাবে ব্যবহার হয় ⁉️ 📘📕 palindrome #প্যালিনড্রোম অর্থাৎ কোন বাক্যকে সামনে থেকে এবং পিছন থেকে সমান। মানে,উভয় দিক থেকে পড়লে একই উচ্চারণ হয়। এক কথায় প্যালিনড্রোম হচ্ছে এমন কিছু শব্দ, বাক্য বা সংখ্যা যাদেরকে ডান থেকে বামে অথবা বাম থেকে ডানে যেভাবেই সাজানো হোক না কেন তা একই থাকবে। যেমন চাচা, বাবা, মামা Rise to vote sir. Nayan, EYE ইত্যাদি।
মোটকথা, ইংরেজি #Palindrome হল এমন কিছু বিশেষ শব্দ আর সংখ্যা যার আরম্ভ বা শেষ দুদিক থেকেই পড়লে শব্দের উচ্চারণ আর অর্থের কোন বদল হয় না; বা সংখ্যার মান একই থাকে (সংখ্যার ক্ষেত্রে)। মূল গ্রীক শব্দ প্যালিনড্রোমাস অর্থ: Running back again থেকে ইংরেজি প্যালিনড্রোম শব্দটি এসেছে। বাংলা ভাষায় একে দ্বিমুখী শব্দ বা সংখ্যা বলা যায়। এধরনের দ্বিমুখী শব্দ বা বাক্য সাজাতে যারা দক্ষ তাঁদের ‘পেলিনড্রোমিস্ট’ বলা হয়। প্যালিনড্রোমিক লেখা প্রাচীন ‘কিরাতার্জুনীয়’ কাব্যের বহু অনুচ্ছেদে দেখা যায় সংস্কৃত ভাষায়। এমনই একটি অনুচ্ছেদ হল- “সারস নয়না ঘন অঘ নারচিত রতার কলিক হর সার রসাসার রসাহর কলিকর তারত চিরনাঘ অনঘ নায়ন সরসা।
📘📕প্যালিড্রোমের আবিষ্কারঃ অনেক ভাষাবিদ পন্ডিত মনে করেন Palindrome গত শতাব্দীর আবিস্কার। কিন্তু অবাক লাগলেও সত্যি এটাই যে, Palindrome নতুন কিছু নয়। প্রায় দেড় হাজার বছর পূর্বে পবিত্র কুরআনেও Palindrome এর ব্যাবহার পাওয়া যায়। আর পবিত্র কোরআন যেহেতু পূর্ববর্তী আসমানী কিতাবসমূহের সর্বশেষ ভার্সন ও নির্যাস তাই গবেষণায় দেখা গেছে, Palindrome এর ব্যাবহার দেড় হাজার বছরের চেয়েও পুরনো। এর উদ্ভাবনের বর্তমান দাবিদার Herculaneum. Herculaneum এর দেয়াল লিখায় একদল গবেষক প্রথম প্রাচীন Palindrome খুঁজে পায়। গবেষকগণ এটির নাম দেন “Sator square”. ল্যাটিন ভাষায় লিখিত এই Palindrome টি ছিলো “Sator Arepo Tenet Opera Rotas”
মজার ব্যাপার হচ্ছে লিখাগুলো যেমন ডান থেকে বায়ে পড়া যায়, ঠিক তেমনি জাপানি ও চায়না ভাষার মতো উপর থেকে নিচে শব্দ গুলো একই ভাবে পড়া সম্ভব!
Palindrome শব্দে একটি ল্যাটিন ধাঁধা এমন– “In girum imus nocte et consumimur igni” অর্থঃ আমরা রাতে ঘুরে বেড়াই, আলো দেখলে মারা যাই।।
👉👉বাংলা ভাষায়, কবিতায়, সাহিত্যে, গদ্যে বিভিন্ন স্থানে প্যালিনড্রোম এর ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়।। সিমার মাসি বল খেলব ,বই চাইব, ঘুরবে রঘু, নাম লেখালেম না বিকল্প কবি, তুমি কি মিতু ? মার কথা থাক রমা, কীর্তন মঞ্চ পরে পঞ্চম নর্তকী, কাক কাঁদে কাঁক কা চেনা সে ছেলে বলেছে সে নাচে তাল বনে নেব লতা চার সের চা ঠাকুরদাদার কুঠা খা সমস্ত রুটি রুস্তম সখা না না কেনা না। না বললে লব না ওর মা আজ আমারও বিরহে রাধা নয়ন ধারা হেরবি থাক রবি কবির কথা মামাতো মামা, কাকা তো কাকা, রবীন দা দানবীর। এমন আরো বহু বের করা যাবে তবে,বাংলায় প্যালিনড্রোমিক শব্দ অনেক থাকলেও প্যালিনড্রোমিক বাক্য খুব বিরল। কারণ বাংলায় যুক্তবর্ণ ও যুক্তাক্ষরের ব্যবহার প্রচুর। প্যালিনড্রোমিক শব্দের মধ্যে বহুশ্রুত দুই অক্ষরের শব্দ হল- বাবা, দাদা, মামা, কাকা, চাচা, নানা, লালা, চিঁচিঁ, হিহি, জুজু ইত্যাদি।
তিন অক্ষরের প্যালিনড্রোমিক শব্দের সংখ্যা অপেক্ষাকৃত বেশি, যেমন- মরম, মলম, দরদ, জলজ, যমজ, তফাত, মধ্যম, বাহবা, চামচা, সন্ন্যাস, সন্ত্রাস, সরেস, সমাস, সহিস, নতুন, নরুন, নরেন, নন্দন, নবীন, কালিকা ইত্যাদি। একটু বড় প্যালিনড্রোমিক শব্দ হল বনমানব, নবজীবন। প্যালিনড্রোমিক নামও বাংলায় আছে বেশ কিছু – মহিম, নরেন, নটেন, কনক, কটক ইত্যাদি। তবে রমাকান্ত কামার ছাড়াও সুবললাল বসু, সদানন দাস, রায়মনি ময়রা, হারান রাহা, নিধুরাম রাধুনি, দেবী দে ইত্যাদি পদবিসহ প্যালিনড্রোমিক নাম বিরল হলেও বাস্তবে থাকা অসম্ভব নয়।
বাংলায় অর্থপূর্ণ প্যালিনড্রোমিক বাক্য গঠন করা বেশ কষ্টসাধ্য। তবুও সরল কিছু শব্দ সহযোগে ছোট ছোটো প্যালিনড্রোমিক বাক্য গঠন করা যায়। বই চাইব, তুমি কি মিতু, বিকল্প কবি, ঘুরবে রঘু, সীমার মাসী, ইভার ভাই, নাম লেখালেম না ইত্যাদি হলো প্রচলিত প্যালিনড্রোমিক ছোট্টো বাক্য।
বাংলায় উভমুখীসম শব্দ তৈরিতে অন্যতম শরৎচন্দ্র পণ্ডিত। তিনি ‘বিদুষক’ পত্রিকায় বহু প্যালিনড্রোম তৈরি ও প্রচার করেছেন। কাক কাঁদে কাক কাঁ; চেনা সে ছেলে বলেছে সে নাচে; তাল বনে নেব লতা; মার কথা থাক রমা; রমা তো মামা তোমার; চার সের চা; বেনে তেল সলতে নেবে; ক্ষীর রস সর রক্ষী; কেবল ভুল বকে; দাস কোথা থাকো সদা? নিমাই খসে সেখ ইমানি; থাক রবি কবির কথা, বিরহে রাধা নয়ন ধারা হেরবি – ইত্যাদি হল তার সৃষ্ট প্যালিনড্রোম। তার সৃষ্ট ‘কীর্তন মঞ্চ পরে পঞ্চম নর্তকী’-কে বাংলাভাষায় সর্বাধিক জটিল ও সর্বাধিক শব্দ সমন্বিত প্যালিনড্রোম বলে মনে করা হয়।
👉👉বাংলায় প্যালিনড্রোম নাম , যেমন নিধুরাম রাধুনি, সুবল লাল বসু, রমা কান্ত কামার, সদানন দাস, রায়মণি ময়রা, হারান রাহা ইলু দলুই, সুবর্ণা বসু, সদাই দাস 👉👉 তাছাড়াও বাংলা ভাষায় আছে বহু প্যালিনড্রোম শব্দ। যেমন— মরম, মলম, দরদ, জলজ, বনমানব, নবজীবন, সহিস, কালিকা, সরেস, তফাত, বাহবা, সন্ন্যাস, সন্ত্রাস, নরুন, তখত, কনক, নয়্ন, সরস, নিড়ানি, খামোখা, কালিকা, হুবহু, ইহাই, বলিব। 👉👉বাংলাভাষায় সব থেকে বড় প্যালিনড্রোম হল :- চেনা সে ছেলে বলেছে সে নাচে !
🤔🤔আশ্চর্যের ব্যাপার এই যে খ্রীষ্টধর্ম অনুযায়ী পৃথিবীর প্রথম শব্দ ছিল প্যালিনড্রোম! আদম আঃ প্রথম হাওয়া আঃ কে Introduce করেছিল এই বলে! !! MADAM IN EDEN I’M ADAM !
📘📕 গণিত শাস্ত্রেও ব্যাপক হারে পেলিনড্রোম এর ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়। নিম্নে গণিত শাস্ত্রে ব্যবহৃত কিছু ফেলি রুমের ব্যবহার দেখানো হল–
আশ্চর্যের বিষয় হল গণিতে প্যালিনড্রোমিক সংখ্যার অভাব নেই। সাধারণভাবে যে কেউ হাজার হাজার প্যালিনড্রোমিক সংখ্যা তৈরি করতে পারবে, যেমন ১১, ২২, ১২১, ২৩২, ২৪৪২, ১২৩২১ ইত্যাদি। তবে সহজ অ্যালগোরিদম পদ্ধতিতে (নির্দেশমত সুনির্দিষ্ট ধাপে) যে কোনও অ-প্যালিনড্রোমিক সংখ্যাকে প্যালিনড্রোমিক সংখ্যায় পরিণত করা যায়। যেমন ধরা যাক, একটি সংখ্যা হল ৫৭ (দুই, তিন, চার বা তার বেশি অঙ্কের সংখ্যা ধরা যেতে পারে)। এবার সংখ্যাটিকে উল্টে দেওয়া হল। তাহলে সংখ্যাটি হল ৭৫। এবার এই দুটি সংখ্যা যোগ করা হল। তাহলে এবার সংখ্যাটি হল (৫৭+৭৫)=১৩২। একেও উল্টে দেওয়া হল। তাহলে সংখ্যাটি হল ২৩১। আবার এই দুটো সংখ্যা যোগ করা হল। যোগফল হল (১৩২+২৩১)=৩৬৩। এটি একটি প্যালিনড্রোমিক সংখ্যা। তিন অঙ্কের সংখ্যা নিয়ে দেখা যাক। ধরা যাক সংখ্যাটি ২৫৫। একই নিয়মে ২৫৫+৫৫২=৮০৭, ৮০৭+৭০৮=১৫১৫, ১৫১৫+৫১৫১=৬৬৬৬। তিন ধাপেই পাওয়া গেল প্যালিনড্রোমিক সংখ্যা। এভাবেই যে কোনও সংখ্যাকেই এই নিয়মে পর পর যোগ করে গেলে একসময় প্যালিনড্রোমিক সংখ্যা চলে আসবে। তবে এ যাবৎ সবচেয়ে দেরিতে যে সংখ্যাটির প্যালিনড্রোম তৈরি করা গেছে এই নিয়মে তা হল ১,১৮৬,০৬০,৩০৭,৮৯১,৯২৯,৯৯০ । ২৬১ ধাপের পর এটি প্যালিনড্রোমে পরিণত হয়। পাশাপাশি অঙ্কে প্যালিনড্রোমিক-মজার দৃষ্টান্তও প্রচুর। যেমন- ৯ সংখ্যাটির প্যালিনড্রোম জাদু। ৯-এর সব গুণিতককে (যেমন ০,৯,১৮,২৭,…. ৯০) পর পর পাশাপাশি লিখলে তা কিন্তু লম্বা একটা প্যালিনড্রোমিক সংখ্যা হয়ে যাবে। সংখ্যাটি হল- ০৯১৮২৭৩৬৪৫৫৪৬৩৭২৮১৯০ । আবার ১ সংখ্যাটিরও আছে প্যালিনড্রোমিক ম্যাজিক। ১ দিয়ে তৈরি সমসংখ্যক অঙ্কের দুটি সংখ্যার গুণফল সবসময় প্যালিনড্রোমিক হবে। যেমন- ১১x১১=১২১, ১১১x১১১=১২৩২১, ১১১১x১১১১=১২৩৪৩২১, ১১১১১x১১১১১=১২৩৪৫৪৩২১ ইত্যাদি। আবার প্যালিনড্রোমিক গুণফলগুলোর মধ্যে একটা সামঞ্জস্যও লক্ষণীয়। দুই অঙ্কের সংখ্যার গুণফলের মাঝের সংখ্যা ২, তিন অঙ্কের সংখ্যার গুণফলের মাঝের সংখ্যা ৩, চার অঙ্কের সংখ্যার গুণফলের মাঝের সংখ্যা ৪ ইত্যাদি। প্যালিনড্রম নয় এমন একটিই সংখ্যা পাওয়া গেছে যার ঘনফল হল একটি প্যালিনড্রোমিক সংখ্যা। সংখ্যাটি হল ২২০১। অনেক সংখ্যা আছে যেগুলোর বর্গ হল প্যালিনড্রোম। যেমন- ১১-এর বর্গ ১২১, ২২-এর বর্গ ৪৮৪, ২৬-এর বর্গ ৬৭৬, ১০১-এর বর্গ ১০২০১, ১২১-এর বর্গ ১৪৬৪১ ইত্যাদি। একইভাবে ৭, ১১, ১০১ ও ১১১ সংখ্যাগুলির ঘনফল (Cube) যথাক্রমে ৩৪৩, ১৩৩১, ১০৩০৩০১ ও ১৩৬৭৬৩১ হল প্যালিনড্রোম। চতুর্থ পাওয়ারের প্যালিনড্রোমিক সংখ্যাও আছে, যেমন ১৪৬৪১, ১০৪০৬০৪০১, ১০০৪০০৬০০৪০০১ ইত্যাদি। কিন্তু পাঁচ পাওয়ারের প্যালিনড্রোমিক সংখ্যা এখনও পাওয়া যায়নি। বেশ কিছু মৌলিক সংখ্যা আছে যেগুলো প্যালিনড্রোম। তিন অঙ্কের সংখ্যার মধ্যে রয়েছে ১৫টি সংখ্যা, যেমন ১০১, ১৩১, ১৫১, ১৮১, ১৯১, ৩১৩, ৩৫৩, ৩৭৩, ৩৮৩, ৭২৭, ৭৫৭, ৭৮৭, ৭৯৭, ৯১৯, ৯২৯। আবার পাঁচ অঙ্কের সংখ্যার মধ্যে রয়েছে ৯৩টি মৌলিক সংখ্যা। সাত অঙ্কের সংখ্যার মধ্যে রয়েছে ৬৬৮টি। দুটি ক্রমিক সংখ্যার গুণফলের ক্ষেত্রে প্যালিনড্রোম সংখ্যা তৈরি হয় পাঁচটি ক্ষেত্রে। যেমন ১৬x১৭=২৭২, ৭৭x৭৮=৬০০৬, ৫৩৮x৫৩৯=২৮৯৯৮২, ১৬২১x১৬২২=২৬২৯২৬২, ২৪৫৭x২৪৫৮=৬০৩৯৩০৬। তিনটি ক্রমিক সংখ্যার গুণফলের ক্ষেত্রে প্যালিনড্রোম হয় মাত্র একটি ক্ষেত্রে, ৭৭x৭৮x৭৯=৪৭৪৪৭৪ । আবার প্যালিনড্রোমে বিন্যস্ত দুটি সংখ্যার গুণফল হয় প্যালিনড্রোমে বিন্যস্ত অপর দুটি সংখ্যার গুণফল- এমন মজাদার সংখ্যাও নেহাত কম নেই। দু’চারটে নমুনা দেওয়া যাক- ১৪৪x৪৪১=২৫২x২৫২, ১২২৪x৪২২১=২১৪২x২৪১২, ১৩৩৪৪x৪৪৩৩১=২৩৩৫২x২৫৩৩২ ইত্যাদি। গত শতাব্দীর একমাত্র প্যালিনড্রোমিক বছর ছিল ১৯৯১ সাল। একবিংশ শতাব্দীতে ফেলে আসা ২০০২ সালটিই হল একমাত্র প্যালিনড্রোমিক সাল। আর পরের শতাব্দীতে ২১১২ হবে প্যালিনড্রোমিক বছর। আবার দিন, মাস ও সাল ধরে আট সংখ্যার তারিখ খুঁজে দেখলে বর্তমান শতাব্দীতে কুড়িটি প্যালিনড্রোমিক তারিখ পাওয়া যাবে, যেমন প্রথমটি ছিল ১০.০২.২০০১। তারপর চলে গেছে ২০.০২.২০০২, ১১.০২.২০১১, ২১.০২.২০১২, ১২.০২.২০২১ ও ২২.০২.২০২২। আর আসতে বাকি আছে ১৩.০২.২০৩১, ২৩.০২.২০৩২, ১৪.০২.২০৪১, ২৪.০২.২০৪২, ১৫.০২.২০৫১, ২৫.০২.২০৫২, ১৬.০২.২০৬১, ২৬.০২.২০৬২, ১৭.০২.২০৭১, ২৭.০২.২০৭২, ১৮.০২.২০৮১, ২৮.০২.২০৮২, ১৯.০২.২০৯১ এবং ২৯.০২.২০৯২। সুতরাং বলা যায় এই শতাব্দি হল আট সংখ্যার তারিখের ভিত্তিতে প্যালিনড্রোম সমৃদ্ধ। বিগত সহস্রাব্দে শেষ যে আট সংখ্যার তারিখটি আমরা প্যালিনড্রোম হিসেবে পেয়েছি তা দ্বাদশ শতাব্দীতে – ২৯.১১.১১৯২।
📘📕 বাংলা ভাষায় পেলিনড্রম চর্চাঃ বাংলাতে প্যালিনড্রোম নিয়ে একটি বই চোখে পড়ে এবং বইটি লিখেছেন ফরিদ-উদ্দিন নামে একজন। ‘কথা-থাক’ নামের বইটি পুরোটা প্যালিনড্রোম কবিতা/ অণুকাব্য নিয়ে সাজানো। এই ফরিদ উদ্দিন সম্পর্কে তেমন কিছু জানা যায় নাই তবে তিনি #বুয়েটে কোন এক ডিপার্টমেন্টে চাকরি করেন।।
📘📕 ইংরেজি ভাষায় প্যালিনড্রোম এর ব্যবহারঃ ইংরেজি ভাষায় Palindrome এর সবচাইতে ছোট্ট এবং সহজ উদাহরন গুলো হচ্ছে MOM. DAD. ডিকশনারিতে খুঁজলে তিন অক্ষরের এমন অনেক শব্দই আমরা খুঁজে পাবো । তাছাড়া ইংরেজি ভাষায় সবচেয়ে বেশি যে প্যালিনড্রোম ব্যবহার হয় তা হল- MADAM, RACECAR. তাছাড়া, TACOCAT ,এখানে Taco এবং cat আলাদা শব্দ হলেও তারা পরপর বসে তৈরী করেছে । তাছাড়া A man, a plane, a canal, Panama ইত্যাদি বাক্য হিসেবে দেখা যায়। “Was it a cat i saw?” “No ‘X’ in Nixon” এই জাতীয় বাক্যগুলো অনেক সময় চোখের সামনে আমরা দেখতে পাই। কিছু কিছু ইচ্ছে করে বানানো হয় আবার কিছু কিছু এমনিতেই হয়ে যায়। তাছাড়া কমন ভাবে কারো সামনে নিজেকে পরিচয় দিতে একটু ইয়ার্কি করি আপনি বলতেই পারেন– “Madam, I’m Adam”‼️
ইংরেজি ভাষায় কিছু শব্দগত Palindrome এর উদাহরহণ হচ্ছে redivider, noon,, civic, radar, level, rotor, kayak, reviver, racecar, redder, refer.
ইংরেজিতে কয়েকটি বাক্যগত Palindrome হল এমন- “Rats live on no evil star” “Live on time, emit no evil” “Step on no pets”
পবিত্র কোরআন এবং হাদিসের ভাষ্য অনুযায়ী শহীদ সর্বমোট ১৩ প্রকার।
👉👉পবিত্র কোরআন এবং বিশুদ্ধ হাদিসের ভাষ্য অনুযায়ী শহীদ ১৩ প্রকার। 👉👉শহীদ কোন স্বাভাবিক শব্দ নয় বরং এটি একটি উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন মাকাম বা স্থান। একজন শহীদের জন্য আল্লাহর নিকট জান্নাত ছাড়া আর কিছুই নেই।
🍀🌺শহীদের শ্রেনী বিভাগঃ শহীদ ইসলামীক দৃষ্টিতে খুবই মর্যাদাবান ও তাৎপর্যপূর্ণ একটি শব্দ। এটি ইসলামের নিজস্ব পরিভাষা। শহীদ মৃত্যুবরণ করার সাথে সাথেই জান্নাতের নেয়ামত ভোগ করতে থাকে। শহীদ কোন সামাজিক বা রাজনৈতিক পরিভাষা নয়। আল্লাহর রাস্তায় জিহাদরত অবস্থায় যারা শহীদ হন তাদের বলা হয় শহীদ। এটা হল সত্যিকার শহীদ। রাসূল সাঃ কতিপয় ব্যক্তিকে হুকুমের দিক থেকে শহীদ বলেছেন। প্রকৃত শহীদ নয় বরং শহীদের কাছাকাছি মর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তি।
🍀❤️ বিশুদ্ধ হাদিস গ্রন্থ সমূহে ১৩ প্রকার পরিপূর্ণ ঈমানদার লোককে শহীদ এর মাকাম বাসস্থান প্রদান করা হবে। প্রথম ও সবচেয়ে মর্যাদা পূর্ণ শহীদগণ হলেন যারা দ্বীন ইসলামের জন্য এবং ইসলামী রাষ্ট্র রক্ষার জন্য জীবন দিয়ে থাকেন। তাছাড়া আরো ১২ প্রকারের লোক কে শহীদ বলা হয়েছে। 👉👉তবে যারা দিন ইসলামের মর্যাদা রক্ষা করতে গিয়ে শহীদ হয়েছেন তাদের মর্যাদা, সম্মান ,এবং নেয়ামত থাকবে সবার ঊর্ধ্বে।
১২ প্রকার শহীদের মাকাম প্রাপ্তগণ হলেন–
১//যিনি জীবন রক্ষার্থে নিহত হন সে সহীদ। ২//যে ব্যক্তি তার বৈধ সম্পদ রক্ষার্থে নিহত হয়, সেও শহীদ।। ৩//কেউ যদি তার পরিবার পরিজন রক্ষা করতে গিয়ে নিহত হয় তিনিও শহীদ। ৪//কোন ব্যক্তি পেটের পিড়ায় যেমন কলেরা, আমাশয়, ইত্যাদি রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করে, সেও শহীদ। ৫//কোন ঈমানদার ঘুমন্ত বা শয্যাশায়ী অবস্থায় মৃত্যুবরণ করলে সেও শহীদ। ৬//ঈমানদার ব্যক্তি আগুনে পুড়ে নিহত হলে সে ও শহীদ। ৭//ধ্বংসাবশেষ অর্থাৎ ভূমিকম্প বা বিল্ডিং পাহাড় ইত্যাদি ধ্বস হলে তার নিচে চাপা পড়ে মৃত্যুবরণ করা ব্যক্তি ও শহীদ। ৮//কেউ যদি পানিতে নিমজ্জিত হয়ে অথবা নৌকায় ইত্যাদি ডুবে মারা যায় তাহলেও সেই ঈমানদার সহিত বলে গণ্য হবেন। ৯// কোন মোমেনা নারী যদি সন্তান প্রসব করতে গিয়ে মৃত্যুবরণ করেন তাহলেও তাকে শহীদ হিসাবে গণ্য করা হবে। ১০//যে কোন প্রকার মহামারীতে যেমন বসন্ত, করো না ভাইরাস, প্লেগ ইত্যাদি মহামারীতে মৃত্যুবরণ করলে শহীদের কাতারে স্থান দেওয়া হবে। ১১// কোন ঈমানদার যদি মজলুম অবস্থায় নিহত হয় , অর্থাৎ তাকে বিনা কারণে বা অজুহাত সৃষ্টি করে অত্যাচারের মাধ্যমে হত্যা করা হয়েছে তিনিও শহীদ হিসাবে গণ্য হবেন। ১২// যে ব্যক্তি তার প্রাপ্য অধিকার চাইতে গিয়ে জালিম সম্প্রদায় কর্তৃক নিহত হন তিনিও শহীদ হিসেবে গণ্য হবেন। 👉👉 নিম্নে হাদিসের দলিল সহ কারা কারা শহীদ তাদের কথা উল্লেখ করা হলো– ❤️❤️জাবের বিন আতীক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূল (সা:) ইরশাদ করেছেন – আল্লাহর পথে মৃত্যুবরণ করা ছাড়াও সাত প্রকার শহীদ রয়েছে। ১-মহামারীতে মৃত্যুবরণকারী শহীদ। ২-পানিতে নিমজ্জিত শহীদ। ৩-শয্যাশায়ী অবস্থায় মৃত শহীদ। ৪-পেটের রোগ মৃত্যুবরণকারী শহীদ। ৫-আগ্নিদগ্ধ ব্যক্তি শহীদ। ৬-যে ব্যক্তি ধ্বংসাবশেষের নিচে পড়ে মারা যায় সেও শহীদ। ৭-সন্তান প্রসব করতে মারা যাওয়া নারীও শহীদ। –মুয়াত্তা মালিক, হাদিস নং-৫৫৪, ৮০২, আল মু’জামুল কাবীর, হাদিস নং-১৭৮০, সহীহ কুনুজু সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ, হাদিস নং-২৩!!
❤️❤️রাসূলুল্লাহ সা. বলেন , যে ঈমানদার (১) তার দ্বীনের জন্য নিহত হ’ল, সে শহীদ (২) যে তার জীবন রক্ষার্থে নিহত হয়, সে শহীদ (৩) যে ব্যক্তি তার সম্পদ রক্ষার্থে নিহত হয়, সে শহীদ (৪) যে ব্যক্তি তার পরিবার রক্ষার্থে নিহত হয়, সে শহীদ। —মুসলিম, মিশকাত হা/৩৮১১, ছহীহুল জামে‘ হা/৬৪৪৯। ❤️❤️ অন্য একটি হাদিসে এসেছে– ১// যে ব্যক্তি মহামারীতে মারা যায়, সে ব্যক্তি শহীদ, ২// যে ব্যক্তি পেটের পীড়ায় (কলেরা, ডায়রিয়া) মারা যায়, সে শহীদ, ৩// যে ব্যক্তি পানিতে ডুবে মারা যায়, সে শহীদ’। ৪// যে ব্যক্তি মযলূম অবস্থায় নিহত হয়, সে ব্যক্তি শহীদ’। (আহমাদ, ছহীহুল জামে‘ হা/৬৪৪৭।) ৫// যে ব্যক্তি তার ন্যায্য অধিকার রক্ষায় নিহত হয়, সে ব্যক্তি শহীদ’। –আবু ইয়া‘লা হা/৬৭৭৫; সনদ হাসান!
👉👉উল্লেখ্য যে, ঐ সকল মুমিন ব্যক্তি আখেরাতে শহীদের নেকী পাবেন। যদিও দুনিয়াতে তাদের গোসল ও জানাযা করা হবে। তবে যারা সম্মুখ সমরে সরাসরি দ্বীন ইসলামের শত্রুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে ময়দানে নিহত হয় তাদের গোসল ও জানাজার প্রয়োজন নেই। দিলেও কোন সমস্যা নেই।।
🍀❤️শহীদগণ তিন শ্রেণীর: 👉👉প্রথমতঃ যারা দুনিয়া ও আখেরাতে শহীদ। তাঁরা হলেন, অস্বীকারকারী এবং ইসলামবিদ্বেষী ও তাদের দোসরদের সঙ্গে যুদ্ধে নিহত মুমিন ব্যক্তিগণ। 👉👉দ্বিতীয়তঃ আখেরাতে শহীদ। তাঁরা হলেন উপরে বর্ণিত ১২ প্রকার অবস্থায় নিহত হওয়া ব্যক্তিগণ। 👉👉 তৃতীয়তঃ দুনিয়াতে শহীদ কিন্তু আখেরাতে নয়ঃ তারা হলো : 🤔যুদ্ধের ময়দানে গণীমতের মাল আত্মসাৎকারী। 🤔 যুদ্ধের ময়দান থেকে পলাতক অবস্থায় নিহত ব্যক্তি’। 🤔 নিজের মর্যাদা বা সম্মান প্রতিষ্ঠায় নিহত ব্যক্তি। 🤔 নিজেকে বীর হিসাবে প্রচার করার জন্য যুদ্ধ অবস্থায় নিহত ব্যক্তি। —-ফিক্বহুস সুন্নাহ ৩/৯১। 👉👉 মোটকথা প্রকৃত শহীদের অবস্থাটা একমাত্র আল্লাহ ভালো জানেন কেননা মানুষের মনের খবর একমাত্র আল্লাহ ছাড়া আর কেউ জানে না।। অতএব নিয়ত যদি বিশুদ্ধ থাকে তাহলে সে ব্যক্তি ঘুমন্ত অবস্থায় মারা গেলেও আল্লাহর নিকট শহীদ হিসেবে গণ্য হবেন।।
👉👉উপরোল্লেখিত ঘটনায় মৃত্যুবরণকারীদের জন্য চিৎকার চেঁচামেচি, হাহুতাশ বা আফসোস না করে আল্লাহ তাআলার দরবারে শহীদী মর্যাদা দানের জন্য দোয়া করা প্রত্যেক ঈমানদার মুসলিমের কর্তব্য। জন্য প্রতিটি মুমিনের উচিত আল্লাহর রাস্তায় শহীদ হওয়ার আকাক্সক্ষা লালন করা এবং সে অনুযায়ী কাজ করে যাওয়া। আমরা যদি সাহাবিদের জীবনের দিকে তাকাই তাহলে দেখা যাবে, তারা সব সময় শহাদাতের মৃত্যু কামনা করতেন। ওমর রা: আল্লাহর কাছে দোয়া করতেন যে, হে আল্লাহ আমাকে শাহাদাতের মৃত্যু নসিব করুন এবং রাসূলের শহর মদিনায় আমার মৃত্যু দিন। –সহিহ বুখারির, ১৮৯০।। আমরা জানি যে, ওমর রা: এক আততায়ীর হাতে শহীদ হয়েছেন। আর মদিনাতে রাসূল সা:-এর কবরের পাশেই হজরত ওমর রা: এর কবর। সুতরাং তাঁর দোয়া আল্লাহ কবুল করেছেন। 🤔🤔 এতক্ষণ আমরা শহীদদের ক্লাসিফিকেশন বা শ্রেণীবিন্যাস সম্পর্কে অবগত হলাম। এখন আমরা শহীদ হওয়ার ব্যাপারে দুই একটি খুঁটিনাটি বিষয় জেনে নেই, যাতে আমরা শহীদ হওয়ার ব্যাপারে ধোকায় না পড়ে যাই। আল্লাহর রাস্তায় থাকা অবস্থায় সংগ্রাম করতে গিয়ে যে মারা যায় তাকেই ইসলাম শহীদ বলে ঘোষণা করেছে। তবে সে ক্ষেত্রে একটি শর্ত রয়েছে সেটি হচ্ছে, দুনিয়ার কোনো লোভে পড়ে বা দুনিয়ার কোনো স্বার্থের জন্য যদি কেউ আল্লাহর পথে মৃত্যুবরণ করে তবে সে শহীদ হিসেবে গণ্য হবে না। কারণ অনেক হাদিসে বলা হয়েছে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ অনেক শহীদকে জাহান্নামে ফেলে দেবেন। আল্লাহ বলবেন, তুমি তো দুনিয়াতে এ জন্য জিহাদ করেছিলে যে, মানুষ তোমাকে বীর বা সাহসী বলবে। বাহবা পাওয়ার জন্য তুমি লড়াই করে নিহত হয়েছে। এরপর মানুষ তোমাকে বীর বলেছে। তাই তোমার প্রতিদান দুনিয়াতেই শেষ হয়েছে। আমার কাছে তোমার কোনো প্রতিদান গচ্ছিত নেই। সুতরাং তুমি জাহান্নামে যাও।
দুনিয়ায় আল্লাহর দ্বীনকে বাস্তবায়ন করতে গিয়ে বা বিজয়ী করতে গিয়ে কাফেরদের বিরুদ্ধে অথবা তাদের দোসরদের ও ইসলামবিদ্বেষীদের বিরুদ্ধে সংগ্রামে যেসব মোমিন ব্যক্তি নিহত হয় তাদেরকে শহীদ বলা হয়। সহিহ বুখারির ৩১২৬ নং হাদিস থেকে আমরা জানতে পারি’ একবার সাহাবায়ে কেরাম রাসূল সা: কে জিজ্ঞাসা করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! কারা আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করছে এটা আমরা কিভাবে বুঝব। এর উত্তরে রাসূলুল্লাহ সা: বললেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর বিধান বাস্তবায়নের জন্য সংগ্রাম করে যাচ্ছে সেই ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় আছে।
👉👉এখন প্রশ্ন হলো, যারা আল্লাহর রাস্তায় সরাসরি লড়াই করে মারা গেছেন তাঁরা বাদে অন্য কেউ শহীদ হিসেবে গণ্য হবে কি না এ প্রসঙ্গে আল্লামা ইবনে হাজার আসকলানী রহ: বলেছেন, শহীদ মূলতঃ দুই প্রকার। ১// যারা আল্লাহর রাস্তায় নিহত হয়েছেন। ২// যারা দুনিয়াতে আল্লাহর রাস্তায় নিহত হয়নি। কিন্তু পরকালে শহীদের মর্যাদা লাভে ধন্য হবেন। (যাদের বর্ণনা এই আর্টিকেলে উপরে ১২ প্রকার দেওয়া হয়েছে)। এখানে প্রথম প্রকার হলো প্রকৃত শহীদ। এদেরকে আল্লাহ পাক মৃত বলতে নিষেধ করেছেন। আল্লাহ বলেছেন, “”যারা আল্লাহর রাস্তায় নিহত হয় তাদের তোমরা মৃত বলো না। তারা জীবিত কিন্তু মানুষ তা বুঝতে পারে না। –সূরা বাকারা : ১৫৪! প্রথম প্রকারের শহীদদের ব্যাপারে পবিত্র কুরআনে আরো এসেছে– “তারা রবের পক্ষ থেকে রিজিকপ্রাপ্ত”। প্রকৃত শহীদদের মর্যাদা আল্লাহর দরবারে এত বেশি যে, নিহত হওয়ার পর তাদের গোসল দেয়ার প্রয়োজন নেই। তারা রক্ত মাখা শরীর নিয়ে রক্ত ঝরা অবস্থায় বিচার দিবসে আল্লাহর সামনে হাজির হবেন। কুরআনে এসেছে, সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ মর্যাদা হলো নবীদের, এরপর সিদ্দিকীন, এরপরেই শহীদদের মর্যাদা। –সূরা নিসা : ৬৯!!
👉👉 রাসূল সা: একবার সাহাবিদের জিজ্ঞাস করলেন, তোমরা কি জানো কারা শহীদ? উত্তরে তারা বললেন, যারা আল্লাহর রাস্তায় নিহত হয়েছেন তাঁরা। তখন রাসূল সা: বললেন, এ রকম হলে তো আমার উম্মতের মধ্যে শহীদের সংখ্যা একেবারে কমে যাবে। সাহাবিরা বললেন, তাহলে আর কারা শহীদ? রাসূল সা: বললেন, আল্লাহর রাস্তায় যারা নিহত হন তারা তো শহীদ বটেই পাশাপাশি আরো কিছু মানুষ শহীদের মর্যাদা পাবেন। (তাঁদের কথা অর্থাৎ এই শহীদদের কথা এই আর্টিকেলের প্রথমেই বর্ণনা করা হয়েছে)
🤔🤔 মানুষ মেরে উল্লাস করে কিংবা মিথ্যা বিবৃতি দিয়ে আল্লাহর খাতা থেকে যেমন কারো শহীদ হওয়া ঠেকানো যাবে না আল্লাহর শাস্তি থেকে ও বাঁচার কোন সম্ভাবনা নাই। সুনানে নাসাঈর ৪০৯৩ নং হাদিস বর্ণিত হয়েছে, অন্যায়ভাবে যদি কাউকে হত্যা করা হয় সে শহীদের মর্যাদা লাভ করবে। অপরদিকে যে ব্যক্তি হত্যা করেছে, এবং যে ব্যক্তি হত্যার আদেশ দিয়েছে, এবং যে ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গ হত্যা করার জন্য সুপারিশ করেছে কিংবা খুশি হয়েছে তাদের সবাইকে একই সাথে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে এবং নিহত ব্যক্তির সকল গুনাহ সবার উপর চাপিয়ে দেওয়া হবে , বন্টন করে নয় বরং আলাদা আলাদাভাবে পরিপূর্ণরূপে।।
👉👉রাসুলুল্লাহ সাঃ এর হাদিসের আলোকে নিকৃষ্ট ও ঘৃণিত শাসকের ৪ বৈশিষ্ট্য:
নিম্নে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বিশুদ্ধ হাদিসের আলোকে এমন চারটি বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করা হলো যেগুলো একজন শাসকের মধ্যে বিদ্যমান থাকলে সে একদিকে যেমন দেশের সাধারণ মানুষের নিকট নিকৃষ্ট শাসক ও ঘৃণার পাত্রে পরিণত হয় অন্যদিকে সে আল্লাহর নিকটও লাঞ্ছিত-অপদস্ত এবং অভিশাপ যোগ্য বলে বিবেচিত হয়। এমনকি জাহান্নামেরও হকদার হয়ে যায়।সেগুলো হলো:
👉👉১// যে শাসককে জনগণ ঘৃণা করে ও তার প্রতি অভিশাপ দেয় এবং সেও তাই করে:
প্রখ্যাত সাহাবি আওফ ইবনে মালিক আশজাঈ রা. হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি যে,
“তোমাদের সর্বোত্তম শাসক হচ্ছে তারা, যারা তোমাদেরকে ভালোবাসে ও তোমরাও তাদেরকে ভালোবাসো এবং তোমরা তাদের জন্য দুআ কর ও তারাও তোমাদের জন্য দুআ করে।
আর তোমাদের নিকৃষ্ট শাসক হচ্ছে তারা, যাদেরকে তোমরা ঘৃণা কর, তোমাদেরকেও তারা ঘৃণা করে এবং তোমরা তাদেরকে অভিশাপ দাও ও তারাও তোমাদেরকে অভিশাপ দেয়।
সাহাবিগণ বললেন, হে আল্লাহর রসুল, এ সময় আমরা কি তাদেরকে প্রতিহত করবো না? তিনি বললেন, না, যে যাবত তারা তোমাদের মধ্যে সালাত কায়েম রাখবে। তবে যার উপর কোন শাসক নিয়োগ করা হবে আর সে তাকে আল্লাহর কোন নাফরমানি করতে দেখবে তখন ঐ শাসক যতক্ষণ আল্লাহর নাফরমানিতে থাকবে ততক্ষণ তাকে ঘৃণা করতে থাকবে কিন্তু আনুগত্যের হাত গুটিয়ে নেবে না।”
এ হাদিসের একজন বর্ণনাকারী ইবনে জাবের রাহ. বলেন, বর্ণনাকারী জুরাইক যখন এ হাদিস আমার কাছে বর্ণনা করছিলেন তখন তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, হে আবু মিকদাম, আল্লাহর কসম দিয়ে বলছি, সত্যিই কি আপনি মুসলিম ইবনে কারাজাকে বর্ণনা করতে শুনেছেন যে, আওফ ইবনে মালিক রা. রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট থেকে হুবহু এ রকম বলতে শুনেছেন?
বর্ণনাকারী বলেন, তখন তিনি তার দু হাঁটুর উপর ভর করে কিবলা মুখী হয়ে বসে পড়লেন এবং বললেন, সেই আল্লাহর কসম করে বলছি, যিনি ছাড়া সত্য কোন উপাস্য নেই আমি অবশ্যই মুসলিম ইবনে কারাজাকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, আমি আওফ রা. কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, আমি রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি।” [সহীহ মুসলিম (হাদীস একাডেমী), অধ্যায়: ৩৪। প্রশাসন ও নেতৃত্ব, পরিচ্ছেদ: ১৭. উত্তম শাসক ও নিকৃষ্ট শাসক। ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিস নাম্বার: ৪৬৫২, ইসলামিক সেন্টার হাদিস নাম্বার: ৪৬৫৪]
👉👉২// যে শাসককে জনগণ অপছন্দ করে:
আবু উমামা রা. হতে বর্ণনা আছে, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
“তিন ব্যক্তির নামাজ তাদের কানের নিচে অতিক্রম করে না (অর্থাৎ আল্লাহর নিকট কবুল হয় না)। তারা হলো: ক. যে দাস তার মালিক থেকে পালিয়ে যায় যে পর্যন্ত সে তার নিকট ফিরে না আসে। খ. যে মহিলা এমন অবস্থায় রাত অতিবাহিত করে যে তার স্বামী তার উপর রাগান্বিত ছিল। গ. এবং যে ইমামকে তার কওমের লোকেরা অপছন্দ করে।”
আলেমগণ এর ব্যাখ্যায় বলেন, এখানে ইমাম দ্বারা উদ্দেশ্য অত্যাচারী-অনাচারী ও পাপিষ্ঠ শাসক। অর্থাৎ এরাই সর্ব প্রথম উক্ত হাদিসের অন্তর্ভুক্ত হবে। তারপর অন্তর্ভুক্ত হবে নামাজের ইমামগণ। [islamweb]
👉👉৩// যে শাসক জনগণের সাথে নির্দয় আচরণ করে:
উম্মুল মুমিনিন আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,
“হে আল্লাহ, যে আমার উম্মতের বিষয়ে দায়িত্ব ও কর্তৃত্ব লাভ করে এবং তাদের প্রতি কঠিন আচরণ করে তুমি তার প্রতি কঠিন আচরণ করো আর যে আমার উম্মতের বিষয়ে দায়িত্ব ও কর্তৃত্ব লাভ করে এবং তাদের প্রতি নম্র ও সদয় আচরণ করে তুমি তার প্রতি নম্র ও সদয় আচরণ করো।” [সহীহ মুসলিম (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) , ৩৪/ রাষ্ট্রক্ষমতা ও প্রশাসন, পরিচ্ছেদ: ৫. ন্যায়পরায়ণ শাসকের ফজিলত ও জালেম শাসকের শাস্তি। শাসিতদের প্রতি নম্রতা অবলম্বন ও কঠোরতা বর্জন]
👉👉৪//যে শাসক জনগণের সাথে প্রতারণা ও বিশ্বাসঘাতকতা করে:
মাকেল ইবনে ইয়াসার রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে এ কথা বলতে শুনেছি যে,
“আল্লাহ তাআলা যে বান্দাকে জনগণের দায়িত্ব (নেতৃত্ব-কর্তৃত্ব) দিয়েছেন কিন্তু যদি তাদের সাথে প্রতারণা ও খেয়ানত করে এবং এ অবস্থায় যদি তার মৃত্যু হয় তবে আল্লাহ তাআলা তার জন্য জান্নাত হারাম করে দিবেন।” সহীহ মুসলিম (ইসলামিক ফাউন্ডেশন), অধ্যায়: ১/ কিতাবুল ঈমান, পরিচ্ছেদ: ৬২.
জনগণের সঙ্গে খিয়ানত কারী শাসক জাহান্নামের যোগ্য] আল্লাহ তাআলা আমাদের শাসকদেরকে হেদায়েত করুন অথবা তাদের থেকে জাতিকে মুক্তি দান করুন। আমিন।
একান্নবর্তী পরিবার বলা হয় ওই সকল পরিবারকে যারা এক সাথে বসবাস করে এবং একই পরিবারভুক্ত হয়ে খাওয়া খাদ্য গ্রহণ করে। অর্থাৎ একই পাতিলের অন্ন ভক্ষণ (ভাত খায়) করে। শিক্ষিত হোক কিংবা অশিক্ষিত হোক যৌথ পরিবার ইসলামস্বীকৃত নয়। যৌথ পরিবার বা একান্নবর্তী পরিবার বাঙালি সংস্কৃতির একটি উপাদান। আর বাঙালি সংস্কৃতি মানে হল হিন্দু সংস্কৃতি। বাঙালি বলতে হিন্দুদের বুঝানো হয়। আর এজন্যই আমাদের জাতিসত্তার বা জাতীয়তা পাসপোর্ট সহ অন্যান্য সব জায়গায় হল #বাংলাদেশি! অথচ কলকাতার লোকদের জাতীয়তা হলো বাঙালি। যে কথা এখানে প্রনিধানযোগ্য তা হলো যৌথ পরিবার আদৌ ইসলামের সমর্থন করেনা বরং যৌথ পরিবার হলো একটি কবিরা গুনাহের উৎপাদন ক্ষেত্র। যৌথ পরিবারের সকল সদস্য ও কবীরা গুনাহে লিপ্ত এবং কন্টিনিউ। বাঙালি সংস্কৃতি তথা হিন্দু সংস্কৃতির একটি কমন কথা হল “ভাবি হলো মায়ের মত”। আর আমাদের রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সালাম এর কথা হল, “ভাবি হল সাপের মত”! অর্থাৎ দেবর ভাবির সাথে দেখা করা অন্যান্য পুরুষ-মহিলা দেখা করার চেয়ে অনেক বেশী গুনাহের কাজ কারণ এখানে গুনাহ হওয়ার সম্ভাবনা অন্যান্য জায়গার চেয়ে বেশি। হিন্দু সমাজে বাবা-মা দেবর ভাবি সবাই একত্রে থাকবে এটাই হলো তাদের নিয়ম। দেবর শব্দটির অর্থ হলো দ্বিতীয় বর। বা দ্বিতীয় স্বামী। দ্বি-বর শব্দ থেকে দেবর শব্দটি এসেছে। হিন্দু ধর্মগ্রন্থগুলোতে দেখা যায় একজন স্ত্রী পাঁচ ভাই মিলে বিয়ে করেছে এমন ঘটনা আছে। তাই হিন্দু সমাজে একান্নবর্তী পরিবার একটি ধর্মীয় পরিবার হিসেবে গণ্য। কিন্তু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম বলেছেন, সন্তান যখন দশ বছর বয়স পূর্ণ হয়ে যায় তখন তার বিছানা আলাদা করে দাও। সন্তান যখন যৌবনপ্রাপ্ত হয়ে যায় তখন ছেলে হোক মেয়ে হোক তাকে বিয়ে দিয়ে দাও এবং তার ঘর আলাদা করে দাও। অন্য একটি হাদিসের মধ্যে এসেছে তার ঘর খাবার-দাবার সবকিছু আলাদা করে দিতে হবে এবং বিবাহিত ছেলের আয় ব্যয় সবকিছু তার নিজের বলে গণ্য হবে, বাবা-মা যদি নিডি অভাবগ্রস্ত হয় তবে সে বাবা-মাকে অবশ্যই খাওয়াবে পড়াবে আর যদি ছোট ভাই বোন থাকে তবে তার জাকাতের পয়সা দিয়ে অথবা সাহায্য করতে পারবে এবং এতে তার পূর্ণ সওয়াব হবে। অর্থাৎ এই হাদিস দিয়ে প্রমাণ হলো বাবা মাকে ফ্রি এবং অবশ্যই খাওয়াতে হবে আর ভাই বোনদের কে খাওয়ানো ফরজ নয় তবে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তাদের যাকাত এবং সাদাকার পয়সা দেওয়া যাবে। কিন্তু কিছুতেই রাসূল সাল্লাল্লাহু ওয়া সাল্লাম একান্নবর্তী পরিবার কে কখনোই সমর্থন করেননি এবং বারবার তার বিরোধিতা করেছেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে আমাদের সমাজের মধ্যে এমনকি আলেম-ওলামা সমাজের মধ্যে পর্যন্ত এই জঘন্য হিন্দুয়ানী প্রথা বিদ্যমান রয়েছে। আমি এমন অনেক আলেম ফ্যামিলি সম্পর্কে জানি যে ফ্যামিলিতে আলেম বাবা-মায়ের উপস্থিতিতে সকল ভাই বোন ভাইয়ের বউ বোনের হাসবেন্ড সবাই দেখা সাক্ষাৎ করে। এটাকে খুবই স্বাভাবিক ধরে নিয়েছে। যদি এরইমধ্যে ইসলাম সম্পর্কে কেউ জ্ঞান আহরণ করে প্রতিবাদ করে তাহলে তাকে সমাজচ্যুত, পরিবার ভাঙ্গনকারী ইত্যাদি হিসাবে চিহ্নিত করা হয়। এটা খুবই একটি নির্লজ্জ এবং বেহায়াপনা ব্যাপার। ভাবি এবং দেবরেরা সাথে বসে গল্প করছে এক বিছানায় বসে খাচ্ছে তাতে কোন বিকার নেই কারো। অথচ অব্যাহতভাবে কবিরা গুনাহ হয়ে যাচ্ছে যার জন্য জাহান্নাম অবধারিত। একান্নবর্তী পরিবার মূলত একটি জাহান্নামী পরিবার। আল্লাহ এই জাহান্নাম থেকে মুসলমানদের রক্ষা করুন আমিন।