ভালো লেখক হওয়ার সাত মন্ত্র

লেখালেখি। এই কাজটা হয়তো আপনাকে প্রতিদিনই করতে হয়। কিন্তু আপনি কি চান আপনার লেখা যেন আর দশজনের থেকে আলাদা করে চেনা যায়?

ভালো লেখক হওয়ার কলাকৌশল মানলেই যে আপনি পুরস্কার জয়ী সাহিত্যিক বনে যাবেন তা নয়। কিন্তু আপনি যদি একজন ভালো লেখক হতে চান, পেশাদারদের কিছু পরামর্শ মেনে চলা ভালো।

লেইন গ্রিন একজন ‘ভাষা গুরু।’ নামকরা সাময়িকী দ্য ইকনোমিস্টের সাবেক আর্টস এডিটর এবং কলামিস্ট। ভালো লেখার জন্য তার সাতটি পরামর্শ:

১. শুরুতেই মনোযোগ কাড়ুন

যে বিষয়টি আপনি যুক্তি দিয়ে তুলে ধরতে চাইছেন বা যে গল্পটি আপনি বলতে চাইছেন, সেটি ভুলে যান। শুরু করুন এমন কোন একটা বিষয় বা উদাহারণ দিয়ে, যাতে আপনি আপনি পাঠকের মনোযোগটা প্রথমেই কেড়ে নিতে পারেন।

গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মারকোয়েযের ‘ওয়ান হানড্রেড ইয়ার্স অব সলিচিউডে’র শুরুর লাইনটার কথাই মনে করা যাক।

কে ফায়ারিং স্কোয়াডের মুখে? কেন? একটা লেখার শুরুতেই পাঠকের মনোযোগ কেড়ে নেয়ার জন্য এর চেয়ে শক্তিশালী লাইন আর কী হতে পারে?

২. ছোট ছোট বাক্যে লিখুন

ছোট বাক্যে লেখার মানে এই নয় যে আপনি আপনার লেখার গুরুত্ব কমিয়ে ফেলছেন। ‘সহজ কথা যায় না লেখা সহজে।’ কিন্তু সহজ ছোট বাক্যে লেখাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

এটা কেবল স্টাইলের ব্যাপার নয়, মানুষের স্মৃতি আসলে কীভাবে কাজ করে, তার সম্পর্ক আছে এর সঙ্গে।

একটি দীর্ঘ বাক্য বোঝা এবং মনে রাখার জন্য কিন্তু যথেষ্ট মনোযোগ দেয়ার দরকার হবে। এটা বেশ কঠিন।

পাঠককে কোনো লেখার ব্যাকরণ বুঝে পাঠোদ্ধারের জন্য এত বেশি চেষ্টার মধ্যে না ফেলাটাই উচিত। লেখক হিসেবে আপনার চেষ্টা হবে বরং আপনি যা বলতে চান সেটার দিকেই তার মনোযোগ আকর্ষণ করা।

৩. একই সঙ্গে দীর্ঘ বাক্যও ব্যবহার করুন

সেই প্রবাদটা নিশ্চয়ই মনে আছে। কোনো কিছুই বেশি করা ঠিক নয়। সব কিছুতেই মাত্রা মেনে চলা ভালো।

কাজেই আপনার লেখার বেশিরভাগ বাক্য ছোট হওয়া ভালো, কিন্তু পুরো লেখাটাই যদি কেবল ছোট বাক্যে লেখেন, সেটি পড়তে খুব একঘেঁয়ে হয়ে উঠতে পারে। সেটা নিশ্চয়ই আপনি চান না।

৪. সুনির্দিষ্ট শব্দ ব্যবহার করুন

ছোট বাক্যে লেখা ছাড়াও কোন শব্দ ব্যবহার করছেন সেটাও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে যেসব বিষয় আপনি ইন্দ্রিয় দিয়ে অনুভব করেন- যেমন কোনো গন্ধ, স্বাদ বা আপনার পা দিয়ে স্পর্শ করছেন এমন কিছু, সেসবের বর্ণনার ক্ষেত্রে একেবারে সুনির্দিষ্ট শব্দ চয়ন খুবই দরকার। পাঠকের মনে যেন আপনি সঠিক ছবিটি ফুটিয়ে তুলতে পারেন।

যে দৃশ্যকল্প আপনি তৈরি করতে চান, এবং যে ভাষায় আপনি সেটি করতে চান, তারা যেন পরস্পরের উপযোগী হয়। যাতে আপনার বক্তব্য সুস্পষ্ট এবং স্মরণীয় হয়ে উঠে।

৫. বিমূর্ত শব্দ ব্যবহার পরিহার করুন

এগুলো আসলে প্রাণহীন ভুতুড়ে শব্দ। বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, গবেষক, রাজনীতিক, আমলারা এ জাতীয় গুরুগম্ভীর ভারিক্কি শব্দ প্রচুর ব্যবহার করেন। তাদের আড়ষ্ট গদ্য এসব শব্দে ভারাক্রান্ত থাকে। সহজে কল্পনা করা যায় এমন কোনো কিছু বা শব্দ দিয়ে দিয়ে আপনার লেখার বিষয়টি ফুটিয়ে তুলুন।

৬. নিজের লেখা নিজেকে পড়ে শোনান

লেখা শেষ করার পর সেটি সম্পাদনা-পুনর্লিখন যেমন জরুরি, তেমনি জরুরি সেটি নিজেই নিজেকে পড়ে শোনানো। এই কাজটি করলে দেখতে পাবেন আপনার লেখায় কোথায় অসঙ্গতি আছে, কোথায় পরিমার্জন দরকার। কোথায় লেখাটির ছন্দপতন ঘটেছে সেটিও আপনার নজরে আসবে।

৭. সমাপ্তি টানবেন যেভাবে

লেখার সমাপ্তি টানুন এমন কোনো শব্দ বা বাক্যে, যাতে সেটা পাঠকের মনে একটা শক্ত ছাপ রাখতে পারে। আপনার লেখার এই শেষ শব্দগুলোই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কাজেই সেই শব্দগুলো খুব ভেবে-চিন্তে ব্যবহার করুন। সূত্র: বিবিসি বাংলা

যুগের প্রবর্তক ও প্রেরণার বাতিঘর #মাওলানা_মুহিউদ্দীন_খানের বর্ণিল কর্মময় জীবনঃ

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিত এমন আলেমের সংখ্যা বাংলাদেশে নিতান্তই কম। হাতেগোনা এমন আলেমদের একজন ছিলেন হযরত মাওলানা মুহিউদ্দীন খান। গত ২৫ জুন তিনি চলে গেছেন আমাদের ছেড়ে না ফেরার দেশে। তাঁর ব্যক্তিত্বের বিভা ও খেদমতের গণ্ডি অনেক বিস্তৃত। নানামুখী খেদমতের কারণে তিনি ছিলেন দেশ-বিদেশে পরিচিত। তবে আমি মনে করি তাঁর সব পরিচয় ছাপিয়ে শীর্ষ পরিচিতিটি হলো আলেম #সাংবাদিক_ও_সম্পাদক। সাংবাদিকতা ও সম্পাদনা দুটি শব্দের সঙ্গে যখন আলেমদের কোনো পরিচয়ই ছিল না তখন আলেম সাংবাদিক ও সম্পাদক হিসেবে সর্বপ্রথমে তাঁর নাম ওঠে আসতো। আল্লামা শামছুল হক ফরিদপুরী রহ.-এর পরে এদেশে ইসলামী পঠন-পাঠন সামগ্রীর যোগানদানে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা মাওলানা খানের। ইসলামী ‘পঠন-পাঠন’ সামগ্রী কথাটি তাঁর মুখ থেকেই প্রথমে শুনি। এদেশের মুসলমানদের দ্বীন শেখার কোনো উপকরণ যখন ছিল না, মকছুদুল মুমিনীন আর নেয়ামুল কোরআন যখন ছিল প্রধান অবলম্বন সেই যুগে মাওলানা খান বিশুদ্ধ আকিদার পাঠযোগ্য উপকরণ যোগানে নিরলস শ্রম দিয়েছেন।এক কথায় বলা যায়, তিনি একটি যুগের প্রবর্তক। সেই ষাট ও সত্তরের দশকে যখন আলেমদের লেখালেখির চর্চা তো দূরের কথা বাংলা লেখা ও চর্চাকে অপরাধ মনে করতো সে যুগে একজন খান অবিরত সংগ্রাম করেছেন চলমান স্রোতের বিরুদ্ধে। একজীবনের সংগ্রাম ও সাধনার কাঙ্ক্ষিত ফল তিনি পেয়েছেন। কণ্টকাকীর্ণ, অমসৃণ যে পথে তিনি যাত্রা করেছিলেন পরবর্তী সময়ে এসে তাঁর সঙ্গে অভিযাত্রী হয়েছেন আরও অনেকেই। মাঝপথে যোগ দেয়া কারো কারো কাজের গতি হয়ত আরও বিস্তৃত ও ব্যাপক। কিন্তু একটি নতুন যুগের প্রবর্তক হিসেবে চিরদিন অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবেন মাওলানা মুহিউদ্দীন খান রহ.।দেশ-বিদেশে, ইসলামী-সাধারণ সব অঙ্গনে ইসলামী পত্রিকার কথা বললেই ওঠে আসে মাসিক মদীনার নাম। মাওলানা খানের আর কোনো পরিচয় যদি নাও থাকতো তবুও একমাত্র মাসিক মদীনার সম্পাদক হিসেবেই তিনি অনেক বরেণ্য ও সমাদৃত হতেন। ইসলামিক অঙ্গন থেকে আজ অর্ধশতাধিক নিয়মিত-অনিয়মিত সাময়িকী ও ম্যাগাজিন বের হচ্ছে। টাকা থাকলে যে কেউ আজ সম্পাদক হয়ে পত্রিকা বের করতে পারছেন। কিন্তু মাওলানা খান যখন মাসিক মদীনার জন্ম দেন তখন বিষয়টি এতোটা সহজ ছিল না। তাঁকে অনেক বেশি সংগ্রাম ও সাধনা করতে হয়েছে মাসিক মদীনাকে প্রতিষ্ঠিত করতে গিয়ে। তিনি যে যোগ্যতা ও মেধার অধিকারী, ইচ্ছে করলে অনেক আরামের জীবনযাপন করতে পারতেন চাকরগিরি করে। অর্থের পেছনে ছুটলেও আজ তাঁর অঢেল সম্পদ থাকতো। কিন্তু দেশ ও জাতির জন্য একটি নতুন যুগের এবং নতুন ধারার সূচনা করতে গিয়ে শত প্রতিকূলতা সত্ত্বেও তিনি নিজের জীবনের পুরোটা ব্যয় করেছেন একটি দ্বীনি ম্যাগাজিন প্রতিষ্ঠা ও প্রচারে। বাহ্যত মনে হতে পারে তিনি একটি মাত্র মাসিক পত্রিকার জন্যই জীবনের সবটুকু বিলিয়ে দিলেন। কিন্তু মূলত শুধু মাসিক মদীনা নয়, সারা দেশ থেকে আজ ইসলামী ধারার যত পত্র-পত্রিকা, সাময়িকী ও বই-পুস্তক বের হচ্ছে আমি মনে করি এর পেছনে মাওলানা মুহিউদ্দীন খানের পরোক্ষ ভূমিকা আছে। আজকে ইসলামী অঙ্গনে যারাই একটু-আধটু লিখছেন সবাই কোনো না কোনোভাবে মাওলানা খানের দ্বারা প্রেরণা পেয়েছেন।Babor (1)মাওলানা খান শুধু যে নিজেই লিখেছেন এবং পাঠযোগ্য ইসলামী উপকরণ যোগান দিয়েছেন তাই নয়, তিনি নিজ হাতে গড়েছেন অসংখ্য মানুষ। আজকে ইসলামী ধারায় যাদের কলম সরব রয়েছে তাদের অনেককেই মাওলানা খান পৃষ্ঠপোষকতা দিয়েছেন, হাতে-কলমে শিখিয়েছেন। লেখালেখি চর্চা ও বিকাশে ক্ষেত্রে তরুণদের উন্নতির জন্য বরাবরই তাঁকে ভাবতে দেখেছি। যে কয়বার তাঁর সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে তাঁর ভেতরে একটি জ্বলন অনুভব করেছি। যার মধ্যে মেধার স্ফূরণ দেখেছেন তাকেই কাজে লাগাতে চেয়েছেন। জীবনের শেষ দিকে এসে তিনি নিজে কাজ করার চেয়ে করানোর প্রতি বেশি মনোযোগ দিয়েছেন। তাঁর আবাদ করা অঙ্গনটি পুরোপুরি আবাদ হোক, এ অঙ্গনের বিচরণটা আরও মসৃণ হোক এটাই তিনি চেয়েছেন জীবনভর। শারীরিকভাবে অনেকটা দুর্বল হয়ে পড়ার পরও শেষ বয়সে তিনি কলম হাতছাড়া করেননি।মহীরুহতুল্য এই মনীষী চলে যাওয়ায় যে শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে তা সহজে পূরণ হওয়ার নয়। একজীবনে মাওলানা খান রহ. নিজেকে উজার করে দেশ, জাতি ও উম্মাহকে দিয়ে গেছেন। বিনিময়ে আমরা তাঁকে কিছুই দিতে পারিনি। ‘অকৃতজ্ঞ’ এই জাতির কাছে মুহিউদ্দীন খানদের মতো মহামনীষীদের পাওয়ার তেমন কিছু নেই। কারণ তাঁরা জীবনভর কাজ করেন যার সন্তুষ্টির জন্য সেটাই তাদের কাছে মূখ্য। পার্থিক খ্যাতি, বাজারি স্বীকৃতি আর করপোরেট প্রচার-প্রচারণায় তাঁরা অপাঙক্তেয়। কলমের ময়দানে যে সংগ্রাম জীবনভর করে গেছেন মাওলানা খান তা কবুল হলে আর কোনোকিছুই তাঁর দরকার নেই। দুআ করি, আল্লাহ তাঁর জীবনের খেদমতগুলো কবুল করে নিন। তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণ করে পরবর্তী প্রজন্মকে চলার তাওফিক দিন।
মাওলানা মুহিউদ্দীন খানের বর্ণিল কর্মময় জীবনঃ
মাওলানা মুহিউদ্দীন খান, জন্ম ৭ বৈশাখ ১৩৪২ বাংলা, ময়মনসিংহের মাতুলালয়ে। ইসলামি সাহিত্য সাংবাদিকতা জগতে তিনি জীবন্ত কিংবদন্তি। বাংলা ভাষায় সিরাত চর্চা প্রবর্তন, মাআরেফুল কুরআনের অনুবাদ, ইসলামের মৌলিক বিষয়গুলো দুষ্প্রাপ্য ও উচ্চাঙ্গের কিতাবাদি সহজ- সরল, সাবলীল ভাষায় সবার বোধগম্য করে প্রকাশ করে তিনি আমাদের কাছে দূর আকাশের দীপিত তারকা। এছাড়া বংলাদেশের ইসলামি রাজনীতি, তাহজিব তামাদ্দুনের তিনি ছিলেন পুরোধা। জাতীর এক মহান রাহবার।মাওলানা মহিউদ্দীন খান গোটা পৃথিবীর দু’একজন বিরল সম্মানের অধিকারী মুসলিম মনীষাদের অন্যতম। যার প্রতিটি কথা হয় গ্রন্থিত। জীবনের প্রতিটি দিক একেক ইতিহাস।প্রতিটি বক্তৃতা সংকলিত। রচিত পুস্তক হয় চিরন্তন সাহিত্য। চিন্তার প্রতিটি ক্ষণহয়ে উঠে দিব্যদৃষ্টির বার্তা। উপলব্দি ও মূল্যায়ন হয় ইতিহাসের আক্ষরিক পথ নির্দশন।আধুনিক বিশ্বের চিন্তা, গবেষনা, ইসলামি জাগরণ আর কর্ম সাধনার অন্যতম পুরুষ। যার লেখা গ্রন্থ ইউরোপের শ্রেষ্ট বিদ্যাপিঠ ক্যামবিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্য। বাংলাদেশে তিনিই কেবল ‘খানায়ে কাবা’র তেতরে প্রবেশ করে নামাজ পড়ার সৌভাগ্য লাভ করেছেন। তিনি কেবল একজন ব্যক্তি নন, তিনি বহুমুখী কর্মতৎপর একটি সফল প্রতিষ্ঠান । আসুন এক নজরে বিশ্বব্যাপী তার বিশাল কর্মযজ্ঞ জীবন সর্ম্পকে জেনে নেই।১. ইসলামী একাডেমী প্রতিষ্ঠা : পাকিস্তান আমলেই তিনি ঢাকাতে ইসলামী একাডেমী প্রতিষ্ঠা করেন । সরকার যা পরবর্তিতে অধিগ্রহণ করে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা লাভের পর যা পরবর্তিতে বঙ্গবন্ধু ইসলামী ফাউন্ডেশন নামে রপান্তরিত করেন।
২. আধুনিক বাংলা ইসলামি সাহিত্যের নির্মাতা : আধুনিক বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে ইসলাম চর্চার পথিকৃৎ তিনি৷ তাকে অনুসরণ করে এবং তার পৃষ্ঠপোষকতার মধ্য দিয়ে এদেশে অসংখ্য লেখক অনুবাদক ও গবেষক তৈরি হয়েছেন৷
৩. মাসিক মদীনা : বাংলাদেশের সম্ভ্রান্ত এমন কোন মুসলিম পরিবার পাওয়া যাবে না যাদের ঘরে মাসিক মদীনার একটি কপি পৌঁছেনি। ষাটের দশকের প্রথম দিকে ১৯৬১ সালে তার প্রতিষ্ঠিত মাসিক মদীনা পত্রিকা এদেশের সবচেয়ে বহুল প্রচারিত জনপ্রিয় বাংলা পত্রিকা। দেশে বিদেশে যার পাঠক সংখ্যা কয়েক লক্ষ ছাড়িয়ে গেছে। বাংলা ভাষায় ইসলামী পত্রিকার নতুন এই ধারার পথপ্রদর্শক তিনি। তার অমর কীর্তি মাসিক মদীনার অনুকরণে অনেকগুলো ইসলামী ম্যাগাজিন এদেশে পরবর্তিতে চালু হয়ছে৷
৪. সাপ্তাহিক মুসলিম জাহান : উম্মাহর চিন্তা ও বাঙালি মুসলমানের সুখ দুঃখের কথা ফুটিয়ে তুলতে তিনি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন সাপ্তাহিক মুসলিম জাহান। এটাও বাংলা ভাষা ও সাংবাদিকতায় প্রথম কোন ইসলামি ধারার সাপ্তাহিক। তার স্বপ্ন ছিল দৈনিক মুসলিম জাহান তৈরির । সামাজিক বৈরি পরিবেশ ও রাজনৈতিক হিংস্রতার ফলে দৈনিক মুসলিম জাহান প্রতিষ্টা না করতে পারলেও সাপ্তাহিক মুসলিম জাহানের মাধ্যমে যে কর্মী বাহিনী ও কলম সৈনিক তিনি তৈরি করেছিলেন তারাই পরবর্তিতে জাতীয় দৈনিক ও মিডিয়াতে এখন সাব এডিটরসহ সাংবাদিকতায় অনেক বড়ো অবস্হানে কাজ করছেন।
৫. মদীনা পাবলিকেশন্স : তার অমর কীর্তি ঐতিহ্যবাহী মদীনা পাবলিকেশন্স । মকসুদুল মুমিন আর নেয়ামুল কোরআনের অশুদ্ধ পাঠ চর্চা থেকে তিনি এই প্রতিষ্টানের মাধ্যমে বাঙ্গালী মুসলমানকে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন বিশ্ব সাহিত্যের ইসলামি বিশাল ভান্ডারের সাথে। শুধু ইসলামি বইকে বট তলা থেকে আধুনিক করনই করেন নি বরং আজ থেকে অর্ধ শতাব্দি আগে এমন মান ও শৈল্পকতার সাথে ইসলামী বইয়ের সমাহার নিয়ে একটি কাশনীর যাত্রা করলেন তখন বাম পাড়াতেও এমন মান সম্পন্ন প্রকাশনা চোখে পড়েনি। মদীনা প্রাবলিকেশন্স এর পথ ধরে পরবর্তিতে শতশত ইসলামী প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান তৈরী হয়েছে৷ বাংলা বাজারে ইসলামি টাওয়ার আজ মাথা উচু করে দাড়িয়ে আছে বিশাল ইসলামি বই বাজার নিয়ে। এর পেছনে যে মানুষটি শক্তি সাহস ও প্রেরণা হিসাবে কাজ করেছেন তিনি মাওলানা মহিউদ্দীন খান। মদীনা পাবলিকেশন্স শুধু বাংলা একাডেমী ২১শে বই মেলাতে নয় কলিকতা ও সৌদি বইমেলাতে অংশ গ্রহন করে আমাদের মুখোজ্জল করেছে ।
৬. রাবাতে আল আলম ইসলামী : বিশ্বের বরেণ্য ইসলামি স্কলার ও পন্ডিতদের আন্তজাতিক এই প্রতিষ্টানের তিনি বাংলাদেশের প্রথম সদস্য। দীর্ঘদিন রাবেতার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিশ্ব সংস্হার নির্বাহী পর্ষদের দায়িত্ব পালন করেছেন । ফলে আরব বিশ্ব ও বিশ্বের বড়ো বড়ো পণ্ডিতদের সাথে তার কাজ করার সুযোগ হয়েছে । রাবেতার মাধ্যমে এদেশে অসংখ্য মসজিদ মাদরাসা দাতব্য চিকিৎসালয় তিনি তৈরি করেছেন।
৭. বিনামুল্যে কোরআন বিতরণ : সংক্ষিপ্ত মারিফুল কোরআনের অনুবাদ ও সৌদি বাদশা ফাহাদ বিন আব্দুল আজিজের সৌজন্য ও মাওলানা মহিউদ্দীন খানের তত্বাবধানে বাংলাভাষাভাষি মানুষদের জন্য কোটি কপি মারিফুল কোরআন তরজমা ও কোরআন শরিফ বিনামুল্যে কয়েকযুগব্যাপী বিতরণ তার এক অসমান্য মকবুল একটি খেদমত।
৯. মদীনা ইউনিভার্সিটির স্কলার : বিশ্বখ্যত মদীনা ইউনিভার্সিটির একজন সম্মানিত স্কলার ও ভিজিটিং প্রফেসার মাওলানা মহিউদ্দীন খান। তার সত্যায়ন ও সুপারিশে অগণিত বাংলাদেশি যুবক মেধাবী শিক্ষার্থী আল আজহার কিংবা মদীনা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো আন্তর্জাতিক শিক্ষা প্রতিষ্টানে শিক্ষার সুযোগ পেয়েছে৷ যা বাংলাদেশের শিক্ষা খাতে এক অসামান্য অবদান তৈরি করেছে।
১০. অনুবাদ : বিশ্বসাহিত্যের ইসলামি গ্রন্হকে বাংলা অনুবাদের এই মহান কাজটি তিনিই প্রথম শুরু করেন । দার্শনিক ইমাম গাজ্জালী, ইবনে তাইমিয়া সহ বিশ্বের বড় বড় মুসলিম লেখককে তিনিই প্রথম পরিচয় করিয়ে দেন বাঙ্গালী মুসলমানদের সাথে। এহিয়ায়ে উলুমদ্দীন, কিমিয়য়ে সাদত, মুর্শিদুল আমিন, বার্নাবাসের বাইবেলের মতো গ্রন্হ তিনি অনুবাদ ও প্রকাশ করেছেন। মুফতি শফি রহ তাফসিরে মারিফুল কোরআনের মতো বিশাল গ্রন্থ ১০ খন্ডে তিনি অনুবাদ করেছেন এককভাবে। এছাড়া অসংখ্য আরবী উর্দু ফার্সি ইংরেজি গ্রন্হ তিনি অনুবাদ করেছেন ।
১১. মৌলিক রচনা : অর্ধশতের উপরে তিনি মৌলিক গ্রন্হ রচনা করেছন। তার অসামান্য আত্মজীবনী গ্রন্হ জীবনের খেলাঘর বাংলা সাহিত্যে বহুল পাঠিক একটি ক্লাসিকেল গ্রন্হ । স্বপ্নযুগে রাসুল সাঃ তার লিখিত একটি জনপ্রিয় গ্রন্হ। রওজা শরিফের ইতিকথা গ্রাম বাংলায় বহুল পাঠিত একটি গ্রন্থ।ছাড়া তার লিখিত শতাধিক গ্রন্হ বাংলা ভাষার পাঠকরের মধ্যে ব্যপক জনপ্রিয় ।
১২. নওমুসলিম পূর্ণাবাসন কেন্দ্র : গরীব, অসহায় অসংখ্য নওমুসলিমকে তার প্রতিষ্টিত এই সংস্হার মাধ্যমে পুনর্বাসন করেছেন। খিস্টান মিশনারির বিকল্প দাওয়াতের কাজে অমুসলিমদের মাঝে প্রতিষ্টানটি ব্যাপক সফলতা তৈরি করে। বাংলাদেশ নওমুসলিম পূর্ণাবাসন আইডিয়াটি তিনিই প্রথম তৈরি করেন।
১৩. সীরাত চর্চার পথিকৃৎ: বাংলা ভাষায় সিরাত চর্চার পথিকৃত মাওলানা মূহিঊদ্দীন খান । মাসিক মদীনা, মুসলিম জাহান এর সীরাতুন্নবী সংখ্যাবিশাল কলরবে ঈদ সংখ্যার মতো প্রকাশ করার আইডিয়ার জনক তিনি । তিনি মদীনা পাবলিকেশন্স এর মাধ্যমে অসংখ্য সীরাত গ্রন্হ প্রকাশ করেছেন। রাসুলে পাক সাঃ এর সিরাত চর্চায় বাংলা ভাষায় কেন বিশ্ব সিরাত সাহিত্যের তিনি প্রাণ পুরুষ।
১৬. জাতীয় সিরাত কমিটি : তার মহান কার্যক্রমের অন্যতম জাতীয় সিরাত কমিটি । এর মাধ্যমে জাতীয়ভাবে সীরাত চর্চা । সীরাত সম্মেলন ।জাতীয় সীরাত স্মারক এপর্যন্ত ৬খন্ডে প্রকাশিত হয়েছে। যা বাংলা সাহিত্যের এক বিশাল অবদান তৈরি করেছে। তিনি জাতীয় সিরাত কমিটির চেয়ারম্যান।
১৭. সিরাত স্বর্ণ পদক : তার অসমান্য অবদানের একটি সিরাত স্বর্ণ পদক। সীরাত চর্চাকে উৎসাহিত করতে এবং যারা সিরাত চর্চা ও সীরাত সাহিত্য অবদান রেখেছনে এরকম অসংখ্য মনীষাকে তিনি মুল্যায়িত করেছেন এই পদক প্রদান করে । খতিব উবায়দুল হক রহ আল্লামা আহমদ শফি সহ অনেক বিখ্যাত জনরা এপদকে ভূষিত হয়েছেন।
১৮. আগ্রাসন প্রতিরোধ কমিটি : মাওলানা মহিউদ্দীন খান দেশ মাতৃকার এক জাগ্রত সিপাহসালার । তিনি এই আলোচিত সংগঠনটির মাধ্যমে সামজ্রবাদী আগ্রাসনের বিরোদ্ধ তিনি প্রতিরোধ ও প্রতিবাদ করেছেন আজীবন। তার নেতৃত্বে এই অরাজনৈতিক সংগঠনের মাধ্যমে দেশের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, ডানপন্থী বিদ্ধুজীবি লেখকদের একটি প্লাটফর্ম তৈরি করেছেন।
১৯. আনসার নগর কমপ্লেক্স : খান সাহেবের পিতা হাকীম আনসার উদ্দীন খানের নামে ময়মনশাহীর গফরগাঁও আনসার নগর এক সুবিশাল শিক্ষা কার্যক্রমের যাত্রা করেছেন। এতিমখানা, মাদরাসা, মহিলা মাদরাসা, ইসলামিক স্কুল, সেবা ট্রাস্ট, হাসপাতাল, মসজিদ, গন পাঠাগার, সহ বহুমুখী কাংযক্রম তার অমর কৃর্তি।
২১. সমকালীন জিজ্ঞাসার জবাব : তিনি চলন্ত এক বিশ্বকোষ। মাসিক মদীনাকে ঘিরে তিনি যে প্রশ্নোত্তর বিভাগ চালু করেছিলেন তা, খান সাহেবর এক অমর জ্ঞান ভান্ডার। প্রতি মাসে শতাধিক প্রশ্ন উত্তর নিয়ে এই বিশাল আযোজন ছিল মদীনা পত্রিকার মূল আর্কষন। এককভাবে বাগত ৭০ বছর যাবৎ কয়েক লক্ষ প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন। মহাকাশ, বিজ্ঞান, ফেকাহ, কোরআন, হাদীস, মনীষা,বিভিন্ন সভ্যতা, এমন কোন বিষয় নেই যার উত্তর তিনি দেন নি। “সমকালিন জিজ্ঞাসা” জবাব নামে যা শতাধিক খন্ডে প্রকাশিত হয়েছে। যা বিশ্ব ইতিহাসে একক এক বিশ্বকোষ বা জ্ঞান ভান্ডারের মর্যাদা লাভ করেছে।
২১. রাবেতা আল আদবঃ বিশ্ব ইসলামি সাহিত্য পরিষদের তিনি অন্যতম প্রতিষ্টা। সৌদি আরবের রিযাদ কেন্দ্রীক আন্তজর্তিক এই সাহিত্য সংগঠনটির মাধ্যমে পুরো পৃথিবীতে সাহিত্য চর্চার ইসলামিক ধারার নব যুগের সূচনা কর বিশ্ব দরবারে অমর হয়ে আছেন। রাবেতা আল আদবের মাধ্যমে কিনি পৃথিবীর সবকটি মুসলিম দেশ সফর করেছেন। প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যে বহুদেশ ভ্রমন করে তিনি বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে বিশ্ব্যব্যাপি মানব সভ্যতার নির্মান ও বিকাশ সম্পর্কে বহু গ্রন্থ লিখেছেন।
২২. ইসলামী পত্রিকা পরিষদ : বাংলাদেশের সকল ইসলামী পত্রিকার সমন্নয়ে ইসলামী পত্রিকা পরিষদ গঠন তার অমর কৃর্তি। জাতীয় লেখক সম্মেলন, লেখক পুরস্কার তার অমরকৃর্তি।
২৩. টিপাই মূখ লংমার্চ : নদী আগ্রাসন প্রতিরোধ কমিটি গঠন করে তিনিই প্রথম ভারতীয় নদী আগ্রাসন ও টিপাইমূখ বাধের বিরোদ্ধে তিনি গর্জেউঠেছিলেন। তার নেতৃত্ত লাখো জজনতার টিপাইমূখ বাধ বিরোধী টিপাইমূখ অভিমূখে লংসার্চ মুহিউদ্দীন খানের জীবনের ঐতিহাসিক নেতৃত্বের সফলতা।
২৪. বাংলাদেশ সবোর্চ্চ উলামা পরিষদ : বায়লাদেশের সব মত পথের আলেমদের নিয়ে সবোর্চ্চ উলামা পররিশদ গঠন খান সাহেবের অনন্য ব্যক্তিত্বের আরেকটি মাইল ফলক। দেওবন্দি, ছরছিনা, ফুলতুলি, বায়তুশ শরফ সহ নানান মতের উলামাদের নিয়ে ইসলাম বিরোধি যে কোন বাজে তিনি প্রতিবাদ করেছেন। এবং আজীবন উলামাদের ঐক্য ও মুসলিম বিশ্বের ঐক্যের পক্ষে কাজ করেছেন। কার দরবার সব মত পথের আলেমরা আশ্রিত হবার শেষ ঠিকানা।
২৫. মাসিক মদীনার মাধ্যমে তিনি যে লেখক কাফেলাকে এদেশে এক বিনি সুতার মালায় গেথে ছিলেন, তারাই মূলত এদেশের তাহযিব তমদ্দুন সংরক্ষন বিকাশ ও লালনে অসামান্য অবদান রেখেছেন। প্রেন্সিপাল ইব্রাহিম খা, কবি ফররুখ আহমদ,কবি বন্দে আলী মা, নুর মোহাম্মদ আজমি, দেওয়ান আব্দুল হামিদ, অধ্যাপক আবু তালিব, সৈয়দ আব্দুস সুলতান, সৈয়দ আশরাফুল হক আকিক, এজেড শামছুল আলেম সিএসপি, আব্দুল খালেক জোয়ারদার, জহুরী, কবি মুজ্জাম্মেল হক, ইতিহাস গবেষক সৈয়দ আব্দুল্লাহ, কবি আব্দুল হালিম খা,অধ্যাপক আবুল হোসেন মল্লিক, সৈয়দ মোস্তফা কামাল, ড আফম খালেদ হুসেন, মাওলানা জুনাইদ বাবুনগরী, মাওলানা আবু তাহের মিসবাহ, উবায়দুর রহমান খান নদভী, মাওলানা লিয়াকত আলী প্রমূখের এই কাফেলা তিনি মদীনা পত্রিকার মাধ্যমে তৈরি করেছিলেন। কিংবদন্তির কলম সৈনিকের এক কাফেলা।তাদের অনেকেই আজ নেই। তবে তাদের কর্ম আলো ছড়াচ্ছে চারদিকে। মুহিউদ্দীন খান সাহেব হুজুর আমাদের দেখা বিশ্ব মনীষাদের শেষ সলতে।
আজ ১৯ রমজান ২৫ জুন ২০১৬ ইংরেজি ইফতারেরর পূর্বক্ষণে সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটে তিনি ইন্তেকাল করেন।

একবার আমাদের ওখানে একটি মাদ্রাসা উদ্ভোধনের জন্য প্রধান অতিথী হয়ে এসেছিলেন তিন ।তিনি ছিলেন খুবই বাস্তববাদী ।ওনার সামনে মাদ্রাসার বাচ্চাদের পাগড়ী পড়িয়ে নিয়ে আসায় তিনি খুবই অসন্তুষ্ট হয়ে বলেছিলেন “এই বাচ্চাদের পাগড়ী পড়িয়ে বন্দী করেছেন কেন?এ ভুল করবেননা । ওদের এখন খেলার বয়স” কেবল ঐ একবারই ওনাকে খেদমত করার তৌফিক হয়েছিলো আমার । আমার ইসলামী জ্ঞানের যে অল্প পরিসরের একটি ছোট্ট ভান্ডার আছে, তার শুরুটা হয়েছিল ওনার প্রতিষ্ঠিত মদীনা পাবলিকেশন্সের বই পুস্তক দিয়েই । যদিও আমি ওনার সকল কথায় একমত নই তথাপিও তার প্রজ্ঞার কাছে আমার মত লক্ষ কোটি বাঙ্গালী মুসলীম ঋণী ।জান্নাতে ওনার উচ্চ মাকাম কামনা করছি । আমিন।উপরের লিখাটা বিভিন্ন মাধ্যম থেকে সংগৃহীত ও আমার দ্বারা কিয়দাংশ সম্পাদিত । — #মরুচারী_মুসাফির

গরীব একটি দেশে ক্রিকেটারদের বেতন এতো বেশি হওয়া সত্ত্বেও আবার আন্দোলন!!!

বাংলাদেশের মতো গরীব একটি দেশে ক্রিকেটারদের বেতন এতো বেশি হওয়া সত্ত্বেও আবার আন্দোলন!
এ প্লাস ক্যাটাগরি- ৪,০০,০০০/- চার লক্ষ টাকা।
এ ক্যাটাগরি- ৩,০০,০০০/- তিন লক্ষ টাকা।
বি ক্যাটাগরি- ২,০০,০০০/- দুই লক্ষ টাকা।
সি ক্যাটাগরি- ১,৫০,০০০/- দেড় লক্ষ টাকা।
ডি ক্যাটাগরি- ১,০০,০০০/- এক লক্ষ টাকা।
যেখানে…
বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি বেতন পান- ১,২০,০০০/-
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বেতন পান – ১,১৫,০০০/-
এত কিছুর পরও আপনাদের দাবী, ভাই কি বলবো লজ্জা জনক!!!

কৃষকদের দিকে তাকান ধানের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায়, না খেয়ে থাকছে হাজার হাজার কৃষি পরিবার।

গ্রামের মানুষদের জীবন যাত্রার মান ২% এরও নিচে।

বেকারত্বের হার এদেশে ৬৪%

আর আপনারা প্রতিমাসে গুনছেন লক্ষ লক্ষ টাকা। এছাড়া অন্যান্য ইনকাম তো আছেই।
এরপরও বেতন নিয়ে দাবী…!

পৃথিবীর ২৬টি রাজতন্ত্র দেশ

{{{উল্লেখ্য যে গণতন্ত্র একটি ত্বগুত । কিন্তু রাজতন্ত্র একটি সহীহ আকীদার খেলাফত পদ্ধতি । এই রাজতন্ত্র যে মানবেনা সে ঈমান ভঙ্গকারী ফুজ্জার হবে। সে অনন্ত কাল জাহান্নামে জ্বলবে ।}}}
১।সৌদী আরব
২।ভুটান
৩।যুক্তরাজ্য
৪।সোয়াজিল্যান্ড
৫। লেসোথো
৬।মরক্কো
৭।ব্রুনেই
৮।কম্বোডিয়া
৯। কুয়েত
১০।থাইল্যান্ড
১১। সংযুক্ত আরব আমীরশাহী
১২।মালয়েশিয়া [এখানে প্রধানমন্ত্রী ভোটে নির্বাচিত হয়]
১৩। জরডন
১৪।ওমান
১৫।কাতার
১৬। বাহরিন
১৭ এন্ডরা
১৮।বেলজিয়াম
১৯।ডেনমারক
২০। স্পেন
২১। লিতচেন্সটাইন
২২। লুক্সেম্বারগ
২৩।মোনাকো
২৪। নরওয়ে
২৫। নেদারল্যান্ড
২৬। টোঙগা

মিত্র বাহিনীর যেসব নিষ্ঠুরতার কথা জানে না অনেকেই


দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ইতিহাস নির্ভর কোনো বই পড়তে গেলে কিংবা কোনো সিনেমা-ডকুমেন্টরি দেখতে গেলে সবসময় একটা চিত্র দেখা যায়। অক্ষ শক্তির নেতৃত্বে থাকা জার্মানি, ইতালি ও জাপানের কারণে নৈরাজ্য সৃষ্টি হয়েছে দুনিয়ায়, কষ্টে আছে সাধারণ জনগণ। এরপরই অত্যাধুনিক নানা কৌশল নিয়ে, নিজেদের জীবন বাজি রেখে তাদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে সোভিয়েত ইউনিয়ন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যের মতো আরো দেশ নিয়ে গঠিত মিত্র বাহিনী।

শেষপর্যন্ত বিজয় যে মিত্র বাহিনীরই হয়েছিলো, তা তো আজ সবারই জানা। কিন্তু বইপত্রে, সিনেমায় তাদেরকে যেভাবে মানবজাতির উদ্ধারকারী, খুব ভালো এক চরিত্র হিসেবে উপস্থাপন করা হয়, তা কি আসলেই ততটা ভালো ছিলো? অবশ্যই না!


বলা হয়ে থাকে, যুদ্ধ আমাদের মনের ভেতরে বাস করা সুপ্ত পশুর সবচেয়ে কদর্য রুপকে প্রকাশিত করে দেয়। এ কদর্য রুপ যেমন অক্ষ শক্তির দেশগুলো প্রকাশ করেছিলো, তেমনি পিছিয়ে ছিলো না মিত্র বাহিনীর দেশগুলোও। পার্থক্য হলো, আজকের ইতিহাস আমাদের কেবল অক্ষ শক্তির নির্মমতার কাহিনীগুলোই শোনায়, মিত্র বাহিনীর না। আজ তাই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে মিত্র বাহিনীর কিছু নৃশংসতার ইতিহাস তুলে ধরা হলো এ লেখার মাধ্যমে, যা হয়তো অনেকের কাছেই অজানা।

১) জাপানে সাধারণ জনগণের উপর লাগাতার বোমাবর্ষণ

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কথা উঠলে প্রথমেই অল্প যে ক’টি ঘটনার কথা সকলের মনে আসে, হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে পারমাণবিক বোমা হামলা সেগুলোর মাঝে শীর্ষস্থানীয়। এর পেছনে আমেরিকান সরকারের যুক্তি ছিলো, কোনোভাবেই আত্মসমর্পণে রাজি না হওয়া জাপানীদের বশে আনতে এর বিকল্প কোনো পথ খোলা ছিলো না তাদের সামনে। এ ঘটনার মধ্য দিয়ে স্থলভাগে বেশ দীর্ঘকালীন যুদ্ধ ও ভবিষ্যতে অগণিত জানমালের ক্ষতি হওয়া থেকে বেঁচে গিয়েছিলো বিশ্ব- এমনটাই বলে থাকেন আমেরিকার হর্তাকর্তারা।

পারমাণবিক এই বোমা হামলার অনেক আগে থেকেই নিয়মিতভাবে বিভিন্ন যুদ্ধবিমান থেকে জাপানে বোমাবর্ষণ করে যাচ্ছিলো আমেরিকা। অগণিত সাধারণ মানুষের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে শত্রুকে হতোদ্যম করে তোলাটাই ছিলো এই বোমাবর্ষণের মূল কারণ। এসব হামলার পেছনের কারিগর ছিলেন জেনারেল কার্টিস লিমে। জাপানের সাধারণ জনগণকে এভাবে মেরে ফেলার মতো বিষয়গুলো তার মনে বিন্দুমাত্র দাগ কাটে নি। বরং তিনি মনে করতেন, পুরোপুরিভাবে নিশ্চিহ্ন হওয়ার আগপর্যন্ত বুঝি জাপানীরা কোনোভাবেই মাথা নত করবে না। এজন্যই নিয়মিত বোমা হামলার বাইরে তিনি জাপানের বড় শহরগুলোতে আরো ব্যাপক মাত্রায় হামলা চালানোর পরিকল্পনা করলেন।

১৯৪৫ সালের ৯ মার্চ, জেনারেল লিমের নির্দেশে জাপানের দিকে উড়ে গেলো যুক্তরাষ্ট্রের বোমারু বিমানের বহর, উদ্দেশ্য টোকিওতে হামলা চালানো। তবে সেদিনের বোমা হামলাটি ছিলো অন্যান্য যেকোনো দিনের চেয়ে আলাদা। সেদিন নিক্ষেপ করা হয়েছিলো নাপাল্ম সিলিন্ডার ও পেট্রোলিয়াম জেলী। প্রায় চল্লিশ বর্গ কিলোমিটার পরিমাণ জায়গা জ্বলে-পুড়ে ছাড়খার হয়ে গিয়েছিলো সেদিন। পুড়ে যাওয়া মানুষগুলো একজনের উপর আরেকজন পড়ে ছিলো, সে এক ভয়াবহ দৃশ্য। আনুমানিক এক লক্ষ সাধারণ জাপানী নাগরিক সেদিন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নীতি নির্ধারকদের সিদ্ধান্তের জন্য প্রাণ হারিয়েছিলো।

২) সোভিয়েত সেনাবাহিনী কর্তৃক গণধর্ষণ

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে মিত্র বাহিনীর সদস্য হিসেবে সোভিয়েত ইউনিয়নের ভূমিকা ছিলো উল্লেখযোগ্য। অ্যাডলফ হিটলারের নাৎসি বাহিনীকে সফলতার সাথে মোকাবেলা করা এবং পাশাপাশি তাদের অগ্রযাত্রা ঠেকিয়ে বিভিন্ন এলাকা জার্মানদের দখলমুক্ত করে গর্জন করতে করতেই এগোচ্ছিলো দেশটির সেনাবাহিনী। তবে সমস্যা বাধলো অন্য জায়গায়। ক্রমাগত এই যুদ্ধবিগ্রহ আর রক্তপাত দেশটির সেনাদের মানবিকতাবোধ ধীরে ধীরে লোপ পাইয়ে দিচ্ছিলো। পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে স্ত্রীর সাথে না থাকতে পারার মতো বিষয়টিও তাদেরকে বেশ হতাশ করে তুলেছিলো। এ হতাশা কাটাতে তাদের কেউ কেউ বিজিত এলাকায় লুটতরাজের সাথে জড়িয়ে পড়ছিলো। সবচেয়ে ঘৃণ্য ব্যাপার হলো, তারা গণহারে ধর্ষণ করছিলো শত্রুপক্ষের নারীদের। উপরমহল থেকেও এমন ন্যাক্কারজনক কাজকে সমর্থন করা হচ্ছিলো এই যুক্তিতে যে, এভাবে ধর্ষণ চালিয়ে গেলে শত্রুপক্ষের মনোবল আস্তে আস্তে দুর্বল হতে বাধ্য।

নাৎসি বাহিনীর হাত থেকে ইউরোপকে মুক্ত করে তারা আসলে অনেক বড় কিছু করে ফেলেছে, এজন্য তারা যা খুশি সেটাই করতে পারে- এমন মনোভাব সোভিয়েত সেনাদেরকে এসব কাজে আরো প্ররোচিত করছিলো। তাদের হাতে ধর্ষিত নারীদের তালিকায় শুধু জার্মান নারীরাই ছিলো না। পোল্যান্ডেও বিভিন্ন ক্যাম্প দখলমুক্ত করার পর সেখানকার নারীদের উপর নিজেদের পশুবৃত্তিকে চরিতার্থ করছিলো তারা।

৩) মার্কিন সেনারা যখন সংগ্রহ করছিলো জাপানীদের খুলি

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে যুদ্ধবন্দীদের সাথে জাপানীরা কতটা নিষ্ঠুরতা প্রদর্শন করেছিলো, সেই ইতিহাস কম-বেশি অনেকেরই জানা। এর সবচেয়ে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে আছে ইউনিট ৭৩১। সেখানে বন্দী মানুষগুলোর উপর জাপানী সেনাদের অত্যাচারের বর্ণনা শুনলে অবাক হয়ে যেতে হয়।

একজন রোগাক্রান্ত বন্দীকে আরেকজন নিরোগ বন্দীর সংস্পর্শে রেখে দেখা হতো রোগ কতটা দ্রুত ছড়াতে পারে। নারী বন্দীদেরকে সেখানকার প্রহরীরা রুটিনমাফিক ধর্ষণ করতো। ওদিকে চিকিৎসকেরা গ্যাস চেম্বার, খাবার, পানীয় ইত্যাদির মাধ্যমে বন্দীদের মাঝে নানা রোগের জীবাণু ছড়িয়ে দিতো। তাদের কোনো অঙ্গ কেটে দেয়া হতো রক্তক্ষরণ নিয়ে গবেষণার জন্য। প্রথম ডিভিশনে বিউবোনিক প্লেগ, কলেরা, অ্যানথ্রাক্স, টাইফয়েড, যক্ষার মতো ব্যাকটেরিয়াঘটিত রোগ নিয়ে গবেষণা করা হতো। রোগগুলোর জীবাণু আগে এই বন্দীদের দেহেই প্রবেশ করানো হতো। যৌনরোগ নিয়ে গবেষণার জন্য বন্দী নারী-পুরুষদের বন্দুকের মুখে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনে বাধ্য করা হতো। পাশাপাশি ফ্রস্টবাইট, নতুন নতুন অস্ত্র আর বিষ্ফোরকের পরীক্ষাও করা হতো বন্দীদের উপর।

সবসময় কেবল জাপান কিংবা জার্মানীতে যুদ্ধবন্দীদের সাথে খারাপ আচরণের কথা উঠে আসলেও মার্কিন সেনারাও কিন্তু কম যায় নি। হয়তো তাদের নিষ্ঠুরতার মাত্রা অক্ষ শক্তির দেশগুলোর মতো হয় নি, তবে তাদের কাজগুলো সম্পর্কে জানলে সেটাকেও কম নৃশংস বলে মনে হবে না।

জাপানী যুদ্ধবন্দীদের মৃতদেহ ছিলো মার্কিন সেনাদের খেলার সামগ্রী। মৃতদেহগুলোকে বিকৃত করে এক অদ্ভুত আনন্দ পেত তারা, পাশাপাশি মৃতদেহ থেকে বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ কেটে নিতো ট্রফি হিসেবে। এরপর আরো একধাপ এগিয়ে অনেকে আবার সেই কাটা অংশ পাঠিয়ে দিতো জাপানে, খোদ দুর্ভাগা মানুষটির বাড়িতেই! তাদের সবচেয়ে প্রিয় অংশ ছিলো কান, কারণ সেটা সহজেই কাটা যায়।

সবচেয়ে নিন্দনীয় ছিলো খুলি নিয়ে মজা করার বিষয়টি, যেমনটা এ ছবিতে দেখা যাচ্ছে। এ উদ্দেশ্যে তারা দুটি পথ অবলম্বন করতো- হয় খুলিকে সিদ্ধ করে চামড়া-মাংস ছাড়িয়ে নিতো, নাহয় সেটাকে ফেলে রাখতো কিছুদিন, যাতে করে পোকামাকড় খেয়ে মাংস থেকে হাড়কে আলাদা করে ফেলে।

৪) সোভিয়েত ভিন্ন মতাবলম্বীদের দুর্দশা

১৯৪৫ সালের কথা। সেই বছরের ৪-১১ ফেব্রুয়ারি সোভিয়েত ইউনিয়নের লিভ্যাডিয়া প্যালেসে অনুষ্ঠিত হয় ইয়াল্টা কনফারেন্স, যা ক্রিমিয়া কনফারেন্স নামেও অনেকের কাছে পরিচিত। যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে ইউরোপের নানা বিষয় কীভাবে পরিচালিত হবে, সে সম্পর্কে আলোচনা করাই ছিলো এ কনফারেন্সের মূল উদ্দেশ্য। এখানে গৃহিত বিভিন্ন সিদ্ধান্তের মাঝে একটি ছিলো যুদ্ধ শেষে এক মিত্র দেশে আটকা পড়া কিংবা বন্দী থাকা অপর মিত্র দেশের অধিবাসীদেরকে তাদের দেশে ফেরত পাঠানো হবে।

যুদ্ধ শেষে দেখা যায়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে লাখ লাখ ভিন্ন মতাবলম্বী সোভিয়েত নাগরিক রয়েছে, যারা স্বদেশে ফিরে যেতে অনিচ্ছুক। শুরুতে তাদেরকে ফেরত পাঠাতে ধরপাকড়ের আশ্রয় নিয়েছিলো মার্কিন কর্তৃপক্ষ। তখন কেউ কেউ আত্মহত্যার পথ পর্যন্ত বেছে নেয়। এমন পরিস্থিতি এড়াতে এবার ছলনার আশ্রয় নেয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তারা লোকগুলোকে জানাতে থাকে, তাদেরকে অন্য আরেক জায়গায় পাঠানো হচ্ছে। এভাবে মিথ্যা বলে তাদেরকে আসলে সোভিয়েত ইউনিয়নেই ফেরত পাঠানো হয়েছিলো।

ভিন্ন মতাবলম্বীদের শেষ পরিণতি হয়েছিলো বেশ মর্মান্তিক। দেশ ত্যাগ সহ বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগে তাদের অনেকের মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়। বাকিদেরকে পাঠিয়ে দেয়া হয় বিভিন্ন লেবার ক্যাম্পে, যেখানে আমৃত্যু কাজ করে যেতে হয়েছে মানুষগুলোকে।

৫) জার্মানির নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর দুর্ভাগ্য

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর পাল্টে গিয়েছিলো বিশ্বের অনেক সমীকরণই। তেমনই এক সমীকরণের অংশ ছিলো জার্মানির বিভিন্ন নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠীর সদস্যরা। মিত্র বাহিনীর দেশগুলো সিদ্ধান্ত নিয়েছিলো ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা এ মানুষগুলোকে জার্মানিতে পাঠাতে হবে, সোজা আঙুলে ঘি না উঠলে দরকারে আঙুল বাঁকা করে হলেও এমনটা করার ব্যাপারে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলো তারা। সমস্যা হলো, এসব মানুষের সংখ্যা কয়েক হাজার কিংবা কয়েক লাখ ছিলো না। প্রায় এক থেকে দেড় কোটি জার্মান নৃতাত্ত্বিক জনগণ বাস করতো মিত্র বাহিনীর বিভিন্ন সদস্য দেশগুলোতে। তাদের অনেকের জন্মও হয়েছিলো সেখানেই।

পাশ্চাত্যের অনেক বইয়েই এদের ব্যাপারে উল্লেখ নেই। বাধ্যতামূলক এ অভিবাসনের সময় প্রাণ হারায় প্রায় পাঁচ লাখের মতো মানুষ। জার্মানিতে গিয়ে তাদের দুর্ভাগ্য যেন নতুন মাত্রা পেলো। থাকার জায়গার অভাবে তাদের ঠাই মিললো বিভিন্ন পরিত্যক্ত কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্পে, তাদেরকে লাগানো হতে থাকলো বিভিন্ন শ্রমসাধ্য কাজকর্মে। বিপুল এ জনগোষ্ঠীর অধিকাংশ ছিল নারী, বৃদ্ধ ও কিশোর-কিশোরী, যুদ্ধে অংশ নেয়া যাদের পক্ষে সম্ভব ছিলো না। এভাবেই মিত্র বাহিনীর আক্রোশের শিকার হয়েছিলো অগণিত নিরপরাধ মানুষ।


৬) স্টালিনের জ্বালাও-পোড়াও নীতি

যদি শত্রুপক্ষ কোনো এলাকা দখল করে নিতে যেত, তাহলে নাৎসি বাহিনী সেই এলাকার সকল খাদ্যশস্যে আগুন লাগিয়ে দিতো, যত পারতো স্থাপনা ধ্বংস করতো এবং ক্ষতি করতো সেখানকার যোগাযোগ ব্যবস্থার। এর পেছনে তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিলো যেন প্রতিপক্ষ আর এগোতে না পারে। তবে হিটলারের এমন নীতি পছন্দ হয় নি নাৎসি বাহিনীর অনেক কর্মকর্তারই। সেজন্য তাদের অনেকেই এর প্রতিবাদ করেছিলেন। তাদের যুক্তি ছিলো, ভবিষ্যতে হয়তো এ স্থানটি তারা আবার দখল করতেও পারেন, তখন জায়গাটিতে ধ্বংসের পরিমাণ কম হলে সংস্কার কাজ সহজ হবে।

এমন ধ্বংসাত্মক মানসিকতা কেবল নাৎসি বাহিনীর মাঝেই ছিলো- এমনটা ভাবলে আপনি ভুল করবেন। কারণ মিত্র বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ সদস্য সোভিয়েত ইউনিয়নের নেতা জোসেফ স্টালিনও একই নীতি অনুসরণ করতেন। সেনাবাহিনীর উপর তার কঠোর নিয়ন্ত্রণ ছিলো। ফলে তার নির্দেশ অমান্য করার দুঃসাহস সৈন্যরা দেখাতো না। কেবলমাত্র উচ্ছেদকরণের জন্যই সোভিয়েতদের আলাদা একটি ব্যাটালিয়ন ছিলো। জার্মানদের বিভিন্ন স্থাপনা ধ্বংস করা, ফসল নষ্ট করা, শহর জ্বালিয়ে দেয়ার মতো কাজই ছিলো তাদের মূল উদ্দেশ্য।

স্টালিনের এ নীতির অন্যতম বড় শিকার হয়েছিলো ইউক্রেন। সেখানে যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছিলো জার্মানি ও সোভিয়েত ইউনিয়ন। উভয়পক্ষই চেয়েছিলো জ্বালাও-পোড়াও নীতির মাধ্যমে প্রতিপক্ষের অগ্রযাত্রাকে যেভাবেই হোক থামাতে। এজন্য তারা যেন প্রতিযোগিতা দিয়ে নেমেছিলো বিভিন্ন স্থাপনা আর খাদ্যশস্য ধ্বংসে। যুদ্ধ শেষে দেখা যায়, ইউক্রেনের স্থাপনার এক বিরাট অংশই মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

কাবিল ও হাবিলের করুণ কাহিনী


কাবিল ও হাবিল নামে দুই ভাইয়ের ঘটনা ইসলামের ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইসলামের ইতিহাস অনুসারে কাবিল ও হাবিলের মাধ্যমেই প্রথম কুরবানি শুরু হয়।[1] তাদের মধ্য থেকেই পৃথিবীতে প্রথম মৃত্যুর ঘটনা ঘটে এবং তাদের মাধ্যমেই মৃতদেহ কবর দেবার নিয়ম চালু হয়।[2] জুমার নামাজের আগে কিংবা কুরবানির ঈদের নামাজের আগে বিশেষ আলোচনায় কুরবানির ইতিহাস সম্বন্ধে আলোকপাত করতে গিয়ে ইমাম সাহেবরা প্রায় সময়ই কাবিল ও হাবিলের ঘটনার উল্লেখ করেন। খ্রিস্টধর্মে তাদেরকে কেইন ও এবেল নামে ডাকা হয়।[3] কাবিল ও হাবিলের ঘটনা সম্বন্ধে আলোচনা করতে গেলে উল্লেখ করতে হবে তাদের পিতা হযরত আদম (আ:) ও মাতা বিবি হাওয়া (আ:) এর কথা।

হযরত আদম (আ:) ও বিবি হাওয়া (আ:) উভয়ে জান্নাতের সুসজ্জিত বাগানে বসবাস করছিলেন। কিন্তু তাদের পিছু লাগলো ‘ইবলিস’ নামে এক পাপিষ্ঠ শয়তান। ইবলিস চাইলো তারা যেন সুখের জান্নাতে থাকতে না পারে। যতটা না সুখের জান্নাত থেকে বিতাড়িত করার ইচ্ছে ছিল ইবলিসের, তারচেয়েও বেশি ইচ্ছে ছিল তারা যেন আল্লাহর দেয়া আদেশ অমান্য করে তাঁকে নাখোশ করে। আদম (আ:) ও হাওয়া (আ:)-কে আল্লাহ একটি বিশেষ গাছের ফল খাওয়ার ব্যাপারে নিষেধ করেছিলেন। ইবলিস বেছে বেছে ঐ বিশেষ ফলটিকেই টার্গেট করলো। দুজনকে প্ররোচিত করে ভুলিয়ে-ভালিয়ে ঐ গাছের ফল খাইয়ে দিলো। আদম (আ:) ও হাওয়া (আ:) দৃশ্যত পাপ করে বসলেন। জান্নাতে পাপের স্থান নেই, তাই শাস্তিস্বরূপ আল্লাহ তাদেরকে পৃথিবীতে পাঠিয়ে দিলেন। বলা হলো, পৃথিবীতে ভালো কাজ করে নিজেদের মার্জনা করতে পারলে তারা আবারো জান্নাতে ফিরে যেতে পারবেন।


কিন্তু অশান্তি তারপরও রয়ে গেল, কারণ পৃথিবীতেও অস্তিত্ব বিরাজমান সেই পাপিষ্ঠ শয়তান ইবলিসের। ইবলিস শয়তান তার শেষ চাওয়া হিসেবে আল্লাহর কাছ থেকে বিশেষ কয়েকটি ক্ষমতা চেয়ে নিয়েছিল। অভিশপ্ত হবার আগে ইবলিস আল্লাহর অনেক ইবাদত করেছিল। এই ইবাদতের প্রতিদানস্বরূপ আল্লাহ তাকে তার চাহিদা অনুসারে এই ক্ষমতাগুলো প্রদান করেছিলেন। প্রাপ্ত ক্ষমতাগুলোর মধ্যে একটি হলো, যেকোনো সময় বিশ্বের যেকোনো স্থানে সে অবস্থান করতে পারবে।[4] সে হিসেবে আদম-হাওয়ার পৃথিবীতে চলে আসা তার জন্য তেমন কঠিন কিছু নয়।

যা-ই হোক, পৃথিবীতে আগমনের পর হযরত আদম (আ:) ও বিবি হাওয়া (আ:) এর সন্তান জন্ম হতে লাগলো। ধীরে ধীরে মানুষ বাড়তে লাগলো পৃথিবীতে। কিন্তু এখানে দৃশ্যত একটি সীমাবদ্ধতা থেকে গেল। আদম (আ:) ও হাওয়া (আ:) যেহেতু পৃথিবীর প্রথম মানব-মানবী, তাই তাদের পরের প্রজন্মে যত সন্তানের জন্ম হবে তারা সকলেই হবে ভাই-বোন। ইসলামী নিয়ম অনুসারে, ভাই বোনের মাঝে কখনো বিয়ে হয় না। সে হিসেবে এটিই হতো পৃথিবীর শেষ মানব প্রজন্ম। এরপর মানবজাতি বিলুপ্ত হয়ে যেতো। কিন্তু এখানে তো পুরো মানবজাতির অস্তিত্বের প্রশ্ন, তাই বিশেষ একটি ব্যবস্থার মাধ্যমে এর সমাধান করা হলো।

বিবি হাওয়ার গর্ভে তখন সন্তান জন্ম নিতো জোড়ায় জোড়ায়। প্রতি জোড়ায় একজন ছেলে আর একজন মেয়ে জন্ম হতো। একই জোড়ার ছেলে ও মেয়েরা পরস্পর বিয়ে করতে পারবে না। বিয়ে করতে হলে ভিন্ন জোড়ার কাউকে করতে হবে। কাবিল ও হাবিল ছিল ভিন্ন জোড়ার, তাই তাদের ব্যাপারটি স্বাভাবিক নিয়মেই সমাধান হয়ে যায়। একজন আরেকজনের জোড়ার মেয়েকে বিয়ে করবে।

কিন্তু এখানে একটি সমস্যা দেখা দেয়। হাবিলের জোড়ার মেয়েটি তেমন সুন্দরী ছিল না। সেই তুলনায় কাবিলের জোড়ার মেয়েটি ছিল অনেক বেশি সুন্দরী। নিয়ম অনুসারে হাবিল অধিক সুন্দরী মেয়েটিকে পায় আর কাবিল পায় কম সুন্দরী মেয়েটিকে। কিন্তু কাবিল বেঁকে বসে, সে হাবিলের জোড়ার মেয়েটিকে বিয়ে করবে না। যেভাবেই হোক, নিজের জোড়ার সুন্দরী মেয়েটিকেই বিয়ে করবে।

এমতাবস্থায় পিতা হযরত আদম (আ:) একটি মীমাংসা করলেন। তাদের দুজনকে আল্লাহর নামে কুরবানি দিতে বললেন। যার কুরবানি আল্লাহ গ্রহণ করবেন, তার ইচ্ছাই জয়ী হবে। কার কুরবানি গৃহীত হলো আর কার কুরবানি গৃহীত হলো না, তা কীভাবে বোঝা যায়? তখনকার কুরবানি এখনকার কুরবানির মতো ছিল না। সে সময়ে কোনো জিনিস কুরবানি দিলে আসমান থেকে আগুন এসে ঐ জিনিসকে পুড়িয়ে দিতো। কুরবানির বস্তুকে ভূমি থেকে উপরে কোনো স্থানে উপস্থাপন করা হতো, আকাশ থেকে আগুন এসে যদি বস্তুকে পুড়িয়ে দিতো, তাহলে বোঝা যেতো আল্লাহ কর্তৃক কুরবানী গৃহীত হয়েছে।

পিতা আদম (আ:) এর দেওয়া মীমাংসা অনুসারে তারা উভয়েই কুরবানির বস্তু উপস্থাপন করলো আল্লাহর কাছে। হাবিল একটি সুস্থ ও মোটাতাজা দুম্বা উৎসর্গ করলো আর কাবিল তার কিছু সবজি ও শস্য উৎসর্গ করলো। তখন সবজি ও শস্যও কুরবানির জন্য উৎসর্গ করা যেতো। কোনো কোনো উৎস থেকে জানা যায়, হাবিল উৎসর্গ করেছিল উৎকৃষ্ট মানের দুম্বা আর কাবিলের শস্য ছিল নিকৃষ্ট মানের।[5], [6] আল্লাহ হাবিলের কুরবানিকেই কবুল করলেন। উপর থেকে আগুন দিয়ে দুম্বাটিকে পুড়িয়ে নিলেন, কিন্তু কাবিলের শস্যকে কিছুই করলেন না। সে হিসেবে বিয়ের নিয়ম আগের মতোই রইলো, হাবিল বিয়ে করবে কাবিলের জোড়ায় জন্ম নেয়া মেয়েটিকে।

কিন্তু কাবিল এই অপমান সহ্য করতে পারলো না। সে ভাবলো, হাবিলের জন্য তার কুরবানি আল্লাহ গ্রহণ করেননি। কুরবানিতে প্রত্যাখ্যাত হওয়াতে এবং স্ত্রী হিসেবে কাঙ্ক্ষিত মেয়েকে না পাওয়াতে সে অত্যন্ত ক্রোধান্বিত হয়ে গেল। ক্রোধের বশে হাবিলকে সে বললো, তোর ইচ্ছা কোনোভাবেই আমি পূরণ হতে দেবো না। প্রয়োজনে তোকে হত্যা করবো, যেন তুই আমার জোড়ার মেয়েটিকে বিয়ে করতে না পারিস।[7] কোনো কোনো উৎস থেকে জানা যায়, তাকে এমন সর্বনাশা ভাবনার উস্কানি দিয়েছিল সেই পাপিষ্ঠ ইবলিস শয়তান।[8]

কাবিলের এমন আচরণে হাবিল অনেক সুন্দর উত্তর দিয়েছিল। সে বলেছিল, আল্লাহ তাদের কুরবানিই কবুল করেন যার উদ্দেশ্য সৎ।[9] আর তুমি আমাকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে আমার গায়ে আঘাত করলেও, আমি তোমাকে কিছু করবো না। কারণ আমি আমার প্রতিপালককে ভয় করি।[10] কিন্তু এই কথায় কাবিলের উদ্দেশ্যের কোনো পরিবর্তন হলো না। ক্রোধের বশবর্তী হয়ে সে হত্যা করলো তার আপন ভাইকে।[11]

এরপরই কাবিলের মন গলে যায় এবং অনুভব করে, আহারে, কত বড় ভুল করে ফেললো সে! নিজের ভাইকে নিজ হাতে মেরে ফেললো, এর চেয়ে বড় ধৃষ্টতা আর কী হতে পারে! ভেতরে ভেতরে সে অনেক অনুতপ্ত হলো এবং নিজের অপকর্ম কীভাবে ঢাকবে, তা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়লো। তখনো মৃতদেহ সৎকারের ব্যাপারে কোনো নিয়ম তৈরি হয়নি, কারণ এর আগে কোনো মানুষের মৃত্যু ঘটেনি। মৃত দেহটিকে নিয়ে কী করবে এ নিয়ে যখন সে চিন্তায় মগ্ন তখন দেখলো, একটি কাক তার ঠোঁট দিয়ে ঠুকরে ঠুকরে একটি গর্ত করলো। তারপর সেই গর্তে একটি মৃত কাককে টেনে এনে কবর দিয়ে দিলো।[12] এটি দেখে কাবিল ভাবলো, তাকেও হয়তো এভাবে কবর দিতে বলা হচ্ছে। তাই একটি গর্ত করে সে তার ভাইকে কবর দিয়ে দিলো। ইসলামের ইতিহাস অনুসারে এটিই ছিল মানবজাতির প্রথম কবর। কোনো কোনো উৎস থেকে জানা যায়, কাক দুটি ছিল ফেরেশতা এবং এদেরকে আল্লাহই পাঠিয়েছিলেন, যেন এদের দেখে কাবিল শিখতে পারে।[13]

অনেকে দাবি করে থাকেন, হাবিলের কবর এখনো দেখা যায় এবং এটি সিরিয়ার দামেস্কে অবস্থিত।[14] দামেস্কের উত্তরে একটি স্থান আছে, যা মাকতালে হাবিল বা হাবিলের হত্যাস্থল নামে পরিচিত। এ প্রসঙ্গে হাফিজ ইবনে আসাকির একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করেন তার একটি বইয়ে। তিনি উল্লেখ করেন, আহমদ ইবনে কাসির একবার রাসুল (সা:)-কে স্বপ্নে দেখেছিলেন। রাসুলের (সা:) পাশে হাবিলও ছিল। এক প্রশ্নের জবাবে হাবিল তখন কসম করে বললো, এটিই আমার হত্যাস্থল। তখন রাসুল (সা:) হাবিলের দাবিকে সত্য বলে সমর্থন করলেন।[15] তবে এটি শুধুই স্বপ্ন বলে ধর্মীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপারে একে গ্রহণযোগ্য বলে ধরা হয় না।

কুরআন শরীফে তাদের সম্পর্কে বিস্তারিত বলা নেই। এমনকি তাদের দুজনের নামও উল্লেখ নেই। শুধু ‘আদমের দুই পুত্র’ নামে তাদের কথা উল্লেখ আছে। তবে তৌরাত গ্রন্থ ও কিছু হাদিসে তাদের ঘটনার বিস্তারিত বলা আছে।[16] ইবনে কাসিরের লেখা ‘আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া’তে এই ঘটনার সুন্দর বিবরণ লিপিবদ্ধ আছে।

ইসলামের দৃষ্টিকোণে কাবিল ও হাবিলের ঘটনার তাৎপর্য অনেক। কাবিল ও হাবিলের ঘটনা উল্লেখের পরপরই কুরআনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি আয়াত আছে। সেখানে উল্লেখ আছে,

কেউ কাউকে হত্যা করলে সে যেন সমস্ত মানবজাতিকেই হত্যা করলো, আর কেউ কারো প্রাণ রক্ষা করলে সে যেন সমস্ত মানবজাতিকেই রক্ষা করলো।[17]

এ প্রসঙ্গে একটি হাদিস আছে। রাসুল (সা:) বলেছেন,


পৃথিবীতে যখনই অন্যায়ভাবে কোনো হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়, তখন পাপের একটি অংশ অবশ্যই আদমের প্রথম পুত্র কাবিলের উপর পড়ে। কেননা সে-ই প্রথম ব্যক্তি, যে অন্যায় হত্যাকাণ্ডের সূচনা করে।[18]

তথ্যসূত্র ও নোট

[1] আল কুরআন, সূরা মায়িদা, আয়াত ২৭। সংস্কৃতি হিসেবে কোরবানির প্রচলন শুরু হয় হযরত ইব্রাহীম (আ:) এর সময় থেকে, কিন্তু প্রথম কোরবানির ঘটনা ঘটে হযরত আদম (আ:) এর সময়কালে কাবিল ও হাবিলের মাধ্যমে।
[2] আল কুরআন, সূরা মায়িদা, আয়াত ৩১।
[3] Holy Bible, Genesis 4
[4] আল কুরআন, সূরা হিজর, আয়াত ৩৬-৩৮।
[5] আল-কোরআনে বর্ণিত পঁচিশজন নবী ও রাসুলের জীবনী, মুফতী মুহাম্মদ শফী, সোলেমানিয়া বুক হাউস, ২০১২, পৃষ্ঠা ৬৫
[6] আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ১ম খণ্ড (বাংলা অনুবাদ), হাফিজ ইবনে কাসীর, ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, জুন ২০০৭, পৃষ্ঠা ২১৭
[7] আল কুরআন, সূরা মায়িদা, আয়াত ২৭।
[8] কোরআনের গল্প, বন্দে আলী মিয়া, আহমদ পাবলিশিং হাউস, ২০১৪, পৃষ্ঠা ১৫
[9] আল কুরআন, সূরা মায়িদা, আয়াত ২৭।
[10] আল কুরআন, সূরা মায়িদা, আয়াত ২৮।
[11] আল কুরআন, সূরা মায়িদা, আয়াত ৩০।
[12] আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ১ম খণ্ড (বাংলা অনুবাদ), হাফিজ ইবনে কাসীর, ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, জুন ২০০৭
[13] আল কুরআন, সূরা মায়িদা, আয়াত ৩১।
[14] islamiclandmarks.com/syria/tomb-of-habil
[15] আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ১ম খণ্ড (বাংলা অনুবাদ), হাফিজ ইবনে কাসীর, ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, জুন ২০০৭, পৃষ্ঠা ২১৯
[16] আল-কোরআনে বর্ণিত পঁচিশজন নবী ও রাসুলের জীবনী, মুফতী মুহাম্মদ শফী, সোলেমানিয়া বুক হাউস, ২০১২, পৃষ্ঠা ৬৬
[17] আল কুরআন, সূরা মায়িদা, আয়াত ৩২।
[18] আল বিদায়া ওয়ান নিয়াহা সূত্রে মুসনাদে আহমদ

ধূমপান করা (اَلتَّدْخِيْنُ)

ধূমপান করা (اَلتَّدْخِيْنُ)
(মুফতী শায়খ মুহাম্মাদ বিন ছালেহ আল-উসাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ)

প্রশ্নঃ সম্মানিত শায়খের কাছে আমার জিজ্ঞাসা যে- ধূমপান ও হুক্কা টানা সম্পর্কে ইসলামী বিধান কী? এ ব্যাপারে কুরআন ও হাদীস থেকে কোন দলীল-প্রমাণ আছে কি?

উত্তরঃ ধূমপান করা হারাম। অনুরূপভাবে হুক্কা টানাও হারাম। ধূমপান হারাম হওয়ার দলীল সমূহ নিম্নে বর্ণনা করা হলোঃ- ১. মহান আল্লাহ্ বলেন,
وَلاَ تَقْتُلُوْا أَنْفُسَكُمْ إِنَّ اللهَ كَانَ بِكُمْ رَحِيْمًا (النساء: ২৯)
অর্থাঃ “তোমরা তোমাদের নাফসকে হত্যা করোনা। নিঃসন্দেহে আল্লাহ্ তা’আলা তোমাদের প্রতি দয়ালু” (সূরা নিসাঃ ২৯)। ২. আল্লাহ্ তা’আলা আরো বলেন,
وَلاَ تُلْقُوْا بِِأَيْدِيْكُمْ إِِلَى التَّهْلُكَةِ (البقرة: ১৯৫)
অর্থাৎ “তোমরা নিজ হাতে নিজেকে ধ্বংসে পতিত করোনা”(সূরা বাক্বারাহ, ১৯৫)। চিকিৎসাশাস্ত্র প্রমাণ করেছে যে, ধূমপান একটি ক্ষতিকর বস্তু। আর যে সকল বস্তু স্বাস্থ্যের জন্যে ক্ষতিকর, ইসলামী বিধান তাকে হারাম করেছে। যেমন আল্লাহ্ তা‘আলা বলেন,
{وَلاَ تُؤْتُوْا السُّفَهَاءَ أَمْوَالَكُمُ الَّتِي جَعَلَ اللهُ لَكُمْ قِِيَامًا} (النساء:৫)
অর্থাৎ “তোমরা তোমাদের সম্পদ নির্বোধদেরকে প্রদান করোনা। যে সম্পদকে আল্লাহ্ পাক তোমাদের জীবন-যাত্রার অবলম্বন করেছেন”(সূরা নিসাঃ ৫)।

উপরোক্ত আয়াতে ধূমপায়ী নির্বোধদেরকে আমাদের সম্পদ থেকে প্রদান করতে নিষেধ করা হয়েছে। কেননা তারা সম্পদের অপচয় করবে, আর বিপর্যয় সৃষ্টি করবে। তাহলে নিঃসন্দেহে বলা যেতে পারে যে, হুক্কা টানায় ও ধূমপানে সম্পদের অপচয় হয়। আর অত্র আয়াত অপচয়, অপব্যয় ও বিপর্যয় সৃষ্টি না করার প্রমাণ বহন করে। এছাড়াও রাসূলুল্লা-হ (ছাল্লাল্লা-হু আলাইহি অ-সাল্লাম) সম্পদ বিনষ্ট করতে নিষেধ করেছেন। ধূমপানে সম্পদের অপচয় ও অপব্যয় হয়। আর এ অপব্যয়ই হচ্ছে সম্পদ বিনষ্ট করা। রাসূলুল্লা-হ (ছাল্লাল্লা-হু আলাইহি অ-সাল্লাম) বলেছেন, “لاَضَرَرَ وَلاَضِِرَارَ”
অর্থা “তোমরা নিজেদের ক্ষতিসাধন করোনা এবং অপরের ক্ষতি সাধনও করোনা”। ধূমপান এমনই এক বিষয় যা গ্রহণের কারণে নিজের ক্ষতির সাথে সাথেই পার্শ্ববর্তী মানুষের কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এছাড়া ধূমপায়ী ধূমপানের মাধ্যমে সম্পদ হারিয়ে নিজেকে ধ্বংসের পথে নিয়ে যায় এবং নিঃস্ব অবস্থায় দুনিয়াতে বসবাস করে। অতএব যে নিজেকে ধূমপানে অভ্যস্ত করলো, সে ধনবান থেকে নিঃস্বে পরিণত হলো। (মুফতী শায়খ মুহাম্মাদ বিন ছালেহ আল-উসাইমীন রাহিঃ)
ধূমপানের অপকারিতা সম্পর্কে
আমরা যা জানি

১- ধূমপান একটি অপবিত্র, দুর্গন্ধময় ও ক্ষতিকারক বস্তু।

২- ধূমপান ক্যান্সার, যক্ষ্মা প্রভৃতির মত ধ্বংসাÍক রোগ সৃষ্টির অন্যতম কারণ।
৩- ধূমপায়ী স্বয়ং নিজের নাফসকে ধ্বংস করে দেয়।

৪- ধূমপান নিজের ক্ষতির সাথে-সাথে পার্শ্ববর্তী লোকেরও কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

৫- ধূমপান করার অর্থই হচ্ছে নেশাদার বা হারাম জিনিষ খেয়ে মহান আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নাফরমানী করা, ইচ্ছাকৃতভাবে নিজের নাফসকে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হতে সহযোগিতা করা আর অর্থের অপচয় করা। এ সমস্ত কাজের প্রত্যেকটাই শয়তানী কাজের অন্তর্ভুক্ত।

৬- ধূমপানকারী নিজে প্রকাশ্যভাবে গোনাহ করে থাকে আর সে এ গুনাহের কাজের বিস্তার ঘটিয়ে থাকে। সেহেতু ধূমপানের গোনাহ বড় ধরনের গোনাহ। অতএব ধূমপানকারীকে অতিশীঘ্রই তাওবা করা উচিত।

৭- ধূমপানকারী সম্পদ ধ্বংসকারী , যাকে আল্লাহ্ মোটেই পছন্দ করেন না।

৮- ধূমপান মানুষের হৃদযন্ত্রকে অকেজো করে ফেলে। আর শরীরের শক্তিকে দুর্বল করে দেয়।

৯- এর দ্বারা দাঁতগুলো হলুদ হয়ে যায়, ঠোঁট দুটি কালো হয়ে যায়, চেহারার লাবন্য নষ্ট হয়ে যায়, দৃষ্টিশক্তি কমে যায় আর স্নায়ু দুর্বলতা দেখা দেয় ইত্যাদি।

১০-এর দ্বারা কফ, কাশি এবং বক্ষব্যাধির সৃষ্টি হয়।

১১-এর কারণে যক্ষ্মা ও হৃদ রোগ হয়। হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যুও ঘটে।

১২-খাবারে রুচি নষ্ট করে ফেলে আর হজমে ব্যাঘাত ঘটায়।
১৩-এর দ্বারা রক্ত চলাচল বাধাপ্রাপ্ত হয় আর হৃদযন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যাবলীতে গোলযোগ দেখা দেয়।
১৪-সুরুচিশীল লোকদের নিকট ধূমপান একটি অপবিত্র ও ঘৃণিত বস্তু বলে গণ্য।

১৫-ধূমপান একটি নেশাদার বস্তু যা পরিষ্কার হারাম।
১৬-ধূমপান একটা দুর্গন্ধময় বস্তু। যারা সিগারেট খায়না তারা এর দ্বারা খুবই কষ্ট পায়,

অপরদিকে সম্মানিত ফেরেশতাকুলও খুবই কষ্ট পান।
১৭- এটা দ্বীন-দুনিয়া ও আখেরাতের জন্য বড় ক্ষতিকর।
১৮- বর্তমান বড় বড় দেশগুলি কঠোরভাবে ধূমপান বিরোধী অভিযান চালাচ্ছে। সিগারেটের মোড়কে লেখা হচ্ছেঃ ‘ধূমপানে বিষপান’, ‘ধূমপান স্বাস্থের জন্য ক্ষতিকর’ ইত্যাদি।

২০- এর ফলে অর্থনৈতিক সংকট দেখা দেয়।
২১-ধূমপানের বিজ্ঞাপন যেন বলে,‘আপনার ফুলদানী হোক ছাইদানী’।
২২-ধূমপানের বিজ্ঞাপন স্বাস্থ্য ও সম্পদ নষ্টের বিজ্ঞাপন।
২৩-ধূমপান ইসলামী শরী‘য়াত ও সুস্থ বিবেকের দৃষ্টিতে হারাম। অতএব ধূমপানকারীর সংগ বর্জন করুন আর মহান আল্লাহর নিকট তাওবা করুন।

২৪-ধূমপান করার আগে ভেবে দেখুন- এটা হারাম না হালাল? উপকারী না ধ্বংসকারী? পবিত্র না অপবিত্র? চিন্তা করলে অবশ্যই জানতে পারবেন যে, এটা হারাম, ক্ষতিকর এবং অপবিত্র ।

২৫-বাহ্যিকভাবে ধূমপানের মাধ্যমে সমাজের লোকদেরকে ক্ষতিগ্র¯ত হওয়ার দিকে নিমন্ত্রণ জানানো হয়।

২৬-মোট কথা ‘একজন ধূমপায়ী’ তার ছেলে-মেয়ে, স্ত্রী, পিতা-মাতা, আত্মীয়-স্বজন এবং

সুশীল সমাজের নিকট-সর্বোপরি মহান আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নিকট অর্থ অপচয়কারী,
বদ অভ্যাসের দাস ও হারাম খোর হিসাবে পরিচিত।

২৭-বাস্তবতার আলোকে আমরা যেটা দেখতে পাই সেটা হলোঃ ক্ষেতে খামারে, মাঠে-ময়দানে বিভিন্ন স্থানে রক্ষিত বিভিন্ন ধরনের শাক-সবজি ও ফসলাদি যা গরু-ছাগল, ভেড়া-মহিষ, হাস-মুর্গী নষ্ট করে, বা খেয়ে ফেলে- যার ফলে চাষী ভাইয়েরা ঐ সমস্ত জানোয়ারের ক্ষয় ক্ষতির হাত থেকে তাদের ফসলাদিকে রক্ষা করার জন্য মাঠের ক্ষেত এবং বাড়িতে খামারে রাখা ফসলাদি ঘিরে রাখার ব্যবস্থা করে থাকে। এখানে লক্ষণীয় যে, পান ও বিড়ি-সিগারেটের তামাক এমনই অপবিত্র ও ক্ষতিকারক বস্তু- যার ফলে কোন জীব জানোয়ার ও পশু-পাখী পর্যন্ত তা খায় না। ফলে বাংলাদেশের বৃহত্তর রংপুরে মাঠের হাজার হাজার বিঘা তামাকের ক্ষেত ও বাড়ির খামারে রক্ষিত তামাক ঘিরে রাখার কোন প্রয়োজন হয়না। অপরদিকে সৃষ্টির সেরা মানুষ ঐ হারাম ও অপবিত্র জিনিস খেয়ে নিজে অর্থনৈতিক ও, শারীরিক দিক দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে আর সর্বোপরি ধর্মীয় অনুভূতিকে ধংস করছে। এর পরেও ওহে ধূমপায়ী ভাই! আপনি কি বিষয়টা একটু ভেবে দেখবেন না?

২৮-ধূমপায়ী ভাইদের মধ্য হতে অনেকেরই ধারণা যে, টয়লেটে বসে সিগারেট টানলে তাতে পায়খানা ভাল ক্লিয়ার হয়। এটা সম্পূর্ণ ভুল ধারণা তথা বদ অভ্যাস মাত্র। আর এটা নিঃসন্দেহে শয়তানী কাজ ছাড়া আর কিছুই নয়। বাস্তবতার আলোকে দেখা যায় যে, একজন ধূমপায়ী সিগারেট জ্বালিয়ে টয়লেটে ঢুকার পর কমপক্ষে ১০মিনিট যাবৎ টয়লেটের কাজ ও সিগারেট টানার কাজ শেষ করে যখন বের হয়ে আসল- তখন ঘটনা ক্রমে অন্য একজন অধূমপায়ী ব্যক্তি প্রয়োজন মিটাতে ঐ টয়লেটে ঢুকেই বিকট দুর্গন্ধের মোকাবিলা করে টয়লেটের কাজ সমাধা করতে হিমসিম খেয়ে যায়। কেননা চার দেয়াল বেষ্টিত ছোট্ট টয়লেটে তখন একদিকে সিগারেটের বিষাক্ত ধুয়া অপরদিকে টয়লেটের দুর্গন্ধ একত্রিত হয়ে বিকট দুর্গন্ধময় গ্যাসে ভরে রয়েছে। ফলে টয়লেটের দুর্গন্ধ চাপা পড়ে গিয়ে এখন শুধু সিগারেটের বিষাক্ত গ্যাসই ঐ অধূমপায়ী ব্যক্তির কাছে অনুভূত হচ্ছে। যার ফলে টয়লেটের কাজ সমাধা করতে সে এখন বড় বিপদে পড়েছে। এক্ষণে বিশেষ করে ধূমপায়ী সূধী মহলের নিকট প্রশ্ন যে, ঐ টয়লেটে আপনার ধূমপান করার কারণে ঐ দূর্গন্ধময় বিষাক্ত গ্যাসের ভিতর কমপক্ষে ১০মিনিট সময় আপনি কেমন করে বসে থাকেন? শ্বাস প্রশ্বাসের মাধ্যমে ঐ বিষাক্ত গ্যাস অবশ্যই আপনার শরীরের ভিতর প্রবেশ করে- যা আপনার শরীরের জন্য কতটুকু কল্যাণকর একটু ভেবে দেখবেন কি?

২৯-ক্ষেতে-খামারে, মাঠে-ময়দানে, অফিসে-আদালতে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে, মিল-কল কারখানায় – তথা সকল প্রকার কর্মস্থলে কর্মরত ভাইদের মধ্যহতে অনেকেই ধারণা করেন যে, ক্লান্তি -শ্রান্তি ও দুঃশ্চিন্তা দূর করার জন্য ধূমপান বড় উপকারী। মাঝে মাঝে একটু ধূমপান করে নিলে ক্লান্তি-শ্রান্তি ও দুঃশ্চিন্তা দূর হয়, ফলে কর্মের তৎপরতা বা গতি বৃদ্ধি পায়। ধূমপায়ীদের এই যুক্তি অগ্রহণযোগ্য। কেননা বাস্তবতার আলোকে ধূমপানের মাধ্যমে যদিও সাময়িক কিছুটা উপকার অনুভূত হয় ধরে নেওয়া যায়- তবে বিচক্ষণতার দ্বারা যাচাই বাছাই করে দেখতে হবে যে, এই ধূমপানের দ্বারা উপকার বা লাভের পরিমাণ কতটুকু আর ক্ষতির পরিমাণ বা কতটুকু? বলা যেতে পারে যে, ধূমপানের দ্বারা যদি ১ আনা পরিমাণ উপকার বা লাভ হয়- তাহলে বাকী ১৫ আনাই ক্ষতি সাধিত হয়। তাহলে এখন আপনি আপনার সুস্থ বিবেকের কাছে প্রশ্ন করুন যে, আপনি কি ১ আনা লাভ করতে যেয়ে ১৫ আনাই ক্ষতি স্বীকার করবেন। আর এজন্যেই মদের ব্যাপারে আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন যে, ‘‘মদের ভিতর মানুষের জন্য সামান্য পরিমাণ উপকার আছে- তবে ক্ষতির পরিমাণ অনেকগুণ বেশী’’। আর এজন্যেই আল্লাহ তা‘আলা মদ পান করা মানুষের জন্য হারাম করে দিয়েছেন।

এখন কথা হলো- কর্মের মাঝে ক্লান্তি-শ্রান্তি ও দুশ্চিন্তা দূর করার জন্য ইসলামী বিধান মুতাবিক ‘মিসওয়াক’ করা, ‘উয’ করা বা ‘উযূ করে দু‘রাক‘আত নামায পড়া’, গরম দুধ ও চা পান করা বা কিছু নাশতা করা- ইত্যাদি মাধ্যমগুলি গ্রহণ করা যেতে পারে। তাই বলে তো ক্লান্তি-শ্রান্তি ও দুশ্চিন্তা দুর করার অজুহাতে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল প্রদর্শিত হালাল পদ্ধতিগুলি বাদ দিয়ে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নিষেধকৃত হারাম বস্তুগুলি খাওয়া, এটা কেমন ধরণের ঘৃণিত ও পাপের কাজ? একবার ভেবে দেখুনতো। প্রকাশ থাকে যে, পানের সাথে যে সম¯ত জর্দা, বা কাঁচা তামাক খাওয়া হয়, এমনিভাবে যে সমস্ত গুল ব্যবহার করা হয় মোটকথা যার দ্বারা নেশা হয় এ ধরণের সমস্ত জিনিস খাওয়া বা ব্যবহার করা হারাম। কেননা বাস্তবে দেখা গেছে যে, একজন পানে তামাক খাওয়ায় অভ্যস্ত- কিন্তু ঘটনা ক্রমে যদি সে তামাকের পরিমাণ একটু বেশী মুখে দিয়ে ফেলে তাহলে অবশ্যই সে মাথাঘুরে পড়ে যাবে। অপরদিকে একজন অনভ্যস্ত ব্যক্তি সে তো পানের তামাক কিছুটা মুখে দিয়ে চিবাতেই সঙ্গে সঙ্গে মাথা ঘুরে পড়ে যেয়ে কঠিন বিপদের সম্মুখীন হবে। অতএব এগুলির সবই খাওয়া ও ব্যবহার করা হারাম। এখন বলা যেতে পারে যে, বিড়ি সিগারেটের তামাক যেটা বিশেষ প্রক্রিয়ায় আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে তার বিষাক্ত ধূয়া টানা হয়, আর পানের তামাক যা শুকনা তামাক, যাকে কাঁচা পানের সাথে চিবিয়ে তার বিষাক্ত স্বাদ গ্রহণ করা হয়, এদু‘টি পদ্ধতির মাঝে কোনই পার্থক্য নেই, এ যেন একই টাকার এপিঠ ওপিঠ। অতএব সিগারেট ও হুক্কা টানা এবং পানের তামাক, জর্দা ও গুল খাওয়া ও ব্যবহার করা ইসলামী শরী‘য়াতে সবই হারাম। কেননা জনাব রাসূলুল্লা-হ (ছাল্লাল্লা-হু আলাইহি অ-সাল্লাম) বলেছেন”كُلُّ مُسْكِرٍٍ خَمْرٌ وَ كُلُّ مُسْكِِرٍ حَرَامٌ ” (مسلم)
অর্থঃ‘‘প্রত্যেক নিশাদার বস্তুই হলো মদ, আর প্রত্যেক নিশাদার বস্তুই হলো হারাম”(মুসলিম)। “مَا أَسْكَرَ كَثِيْرُهُ فَقَلِيْلُهُ حَرامٌ ” (أحْمَدُ)তিনি আরো বলেছেন, ‘‘যে বস্তুর বেশী পরিমাণ নেশা সৃষ্টি করে তার কম পরিমাণও হারাম” (আহমাদ)।

৩০-প্রকাশ থাকে যে, বেশ কয়েকটি হাদীছের আলোকে এটাই প্রমাণিত যে, ইসলামী শরীয়াত যে সমস্ত বস্তু খেতে, পান করতে এবং ব্যবহার করতে নিষেধ করেছে- সেই সমস্ত বস্তুর মূল্য গ্রহণ করা এবং সেই সমস্ত বস্তু দিয়ে ব্যবসা করাও হারাম। এ হিসাবে বিড়ি, সিগারেট এবং পানের তামাক ও জর্দা এ জাতীয় বস্তু বিক্রয় করাও হারামের ভিতর গণ্য। অতএব সাবধান!
৩১-কিছুদিন আগে বাংলাদেশের স্বাস্ত ’মন্ত্রী ডঃ মুশাররাফ হুসাইন বাংলাদেশের সংসদ অধিবেশনে ধূমপানের অপকারিতা ও তার ক্ষতিকর বিষয়গুলি বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করেন। পরিশেষে সর্বসম্মতিক্রমে সরকারীভাবে রাস্তা-ঘাটে হাটে-বাজারে, বিভিন্ন প্রকার যানবাহনে এবং সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে তথা বিভিন্ন সমাবেশে ও লোকালয়ে ধূমপান করা এবং ধূমপানের সামগ্রী অর্থাৎ বিড়ি সিগারেট ইত্যাদি বিক্রয় করা নিষিদ্ধ ও দণ্ডনীয় অপরাধ হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে ধূমপায়ীদের এবং বিড়ি সিগারেট বিক্রেতাদের শাস্তির জন্য জেল ও জরিমানার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

পরিশেষে ধূমপানকারী ভাইদের নিকট আকুল আবেদন এই যে, আপনি একজন মুসলমান, যে কোন মুহূর্তে আপনার মৃত্যুঘন্টা বেজে উঠতে পারে, আর মৃত্যুর পরে আপনার সারাটি জীবনের সকল প্রকার কর্মকাণ্ডের হিসাব মহান আল্লাহর দরবারে দিতে হবে। আর আপনি যেহেতু পরিষ্কারভাবে জানতে পারলেন যে, ধূমপান ক্ষতিকর এবং হারাম, তাই আপনার কর্তব্য হলোঃ

১. আল্লাহর উদ্দেশ্যে ধূমপানকে ঘৃণা করা।
২.এটি বর্জনের দৃঢ় সংকল্প করা।
৩. সিগারেটের পরিবর্তে দাঁতন-মিসওয়াক অথবা অন্য কোন হালাল ও পবিত্র দ্রব্য ব্যবহার করা।
৪. ধূমপায়ীদের সমাবেশে না যাওয়া।
অতএব আপনি চিরতরে ধূমপান বর্জন করার জন্যে সর্বশক্তিমান মহান আল্লাহ্র নিকট সাহায্য চান, আর প্রার্থনা করুন- হে আল্লাহ্! ধূমপানের প্রতি আমাদের অন্তরে ঘৃণা সৃষ্টি করে দিন এবং এ থেকে বাঁচার তাওফিক দিন- আমীন।

গনতন্ত্র_হারাম_স্লোগান_দাতাদের_মুখে চুন কালি দিলেন #জাকির_নায়েক

#গনতন্ত্র_হারাম_স্লোগান_দাতাদের_মুখে চুন কালি দিলেন #জাকির_নায়েক ⚘⚠
#আল্লাহর_জমিনে_ফিতনা_সৃষ্টিকারী কতাকথিত আহলে হাদিস, মুসলিম বেসে দ্বীন প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে বাধা দিতে গণতন্ত্র, ভোট দেয়া হারাম বলে ফতোয়াবাজি করে – যুব সমাজকে দ্বীন প্রতিষ্ঠার আন্দোলন হতে বিমুখ করতে! তাদের ইসলাম বিদ্বেষী এই নুংরা ফতোয়াবাজি জোরদার করতে – #প্রকাশ্য_এবং_ছুপা কথিত আহলে হাদীস জড়ো হয়ে, নানা কৌশলে ডঃ জাকির নায়েক কে ধোকা দিয়ে,বাংলাদেশী মুসলমাদের মাথা ধোলাই দেয়ার জন্য #জালিম_সরকারের মদদে বাংলা PeaceTV দখল করেছিলো – প্রধান কর্তা বানিয়েছিলো ভারতীয় নাগরিক মতি হিন্দুস্তানীকে! যে মতি হিন্দুস্তানীর ফতোয়ায় যুব সমাজের একাংশ আজ বিভ্রান্ত ! তাই আজ তারাও গায় গণতন্ত্র হারামের গান – যে জাকির নায়েকের পক্ষপাত দেখিয়ে গুছায়েছিলো তাদের দল – সেই জাকির নায়েক আজ গাইতেছেন – #গণতান্ত্রিক_পদ্ধতিতে_নির্বাচিত তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগানের প্রশংসার গান !
$সহির_নামে ওদের মাথায় গিছ গিছ করে রাজতন্ত্র আর ধর্মনিরপেক্ষতার ধ্যান!
প্রেসিডেন্ট এরদোগান #ইরানি_শিয়া রাষ্ট্রের সহযুগিতায় মীমাংসা করেছিলেন কাতার সৌদির বিবাধ!
যে ইসরাইল – এরদোগান আর ইরান কে ভাবে প্রতিপক্ষ সেই ইসরাইলকে- সৌদি রাজতন্ত্র ভাবে ঘনিষ্ট বন্ধু ! যাদের দখলে রয়েছে আজ পবিত্র মক্কা,মদিনা⚠
আল্লাহ” ভীরু নেতৃত্বের অভাবে, পুড়েছে মুসলমানের কপাল l
রক্ষা করো হে মালিক, ধ্বংস করো মুলিম বেশে আছে যত দাজ্জাল l আমিন
🌻👇 #ডঃ_জাকির_নায়েক_তুমি_কার_কে_তুমার ?
https://m.facebook.com/story.php
👇 🍀 টিভির কবলে-ছুবল!
জাকিরকে ফাঁদে জড়াতে জালিম বুবুই #দরবেশকে দিয়ে করেছিলো ১০ মিলিয়ন ডলার দান!
https://m.facebook.com/story.php

আসুন আমরা জেনে নেই মদীনার বাইরে জন্ম গ্রহণ করা আলেম এবং ইমামগণের কিছু বৃত্তান্ত ।

অনেককেই বার বার বলতে শুনি মদীনার আলেম সঠিক আর মদীনার বাইরের আলেম ঠিকনা । তবে সত্য কথা হল সাহাবা কেরাম ও তাবেয়েঈগণের পর মদীনায় তেমন উল্লেখযোগ্য আলেম আজো জন্ম গ্রহণ করেন নি ।আসুন আমরা জেনে নেই মদীনার বাইরে জন্ম গ্রহণ করা আলেম এবং ইমামগণের কিছু বৃত্তান্ত ।মাত্র ২%আলেম মদীনায় জন্মেছেন । বাকী ৯৮ % ইসলামী স্কলারই জন্মেছেন মদীনার তথা আবরবের বাইরে । নিচে মাত্র ২৫ জনের বৃত্তান্ত দিলাম । বাকিটুকু নিজেই বিচার করে নিন ।আরো জানার জন্য পড়ুন ইসলামী বিশ্বকোষ । ইসলামী ফাউন্ডেশন থেকে প্রকাশিত ।
০১/ ইমাম বুখারীঃ ১৯৪ হিজরীতে (৮১০ খ্রিস্টাব্দ) খোরাসানের বুখারা বর্তমানে উজবেকিস্তানে জন্মগ্রহণ করেন।
০২/ইমাম মুসলীমঃ ৮১৯ সনে খুরাসানের অন্তর্গত নায়সাবুরে বর্তমানে ইরানে জন্মগ্রহণ করেন ।
০৩/ ইমাম তিরমিজিঃ ২০৯ হিজরি মোতাবেক ৮২৪ খ্রিস্টাব্দে বর্তমান উজবেকিস্তানের জিহুন নদীর বেলাভূমিতে অবস্থিত বিখ্যাত শহর তিরমিজের ‘বুগ’ নামক পল্লীতে জন্মগ্রহণ করেন
০৪/ ইমাম আবু দাঊদঃ২০২ হিজরী মোতাবেক ৮১৭ খ্রিষ্টাব্দে কান্দাহার ও চিশতের নিকটবর্তী সিজিস্তানে জন্ম গ্রহণ করেন।
০৫/ ইমাম নাসাঈঃ তিনি খোরাসান বর্তমান উজবেকিস্তানের -এর অধিবাসী ও ৯১৫-১৬-এ মৃত্যুবরণ করেন।
০৬/ ইবনে মাজাহঃ তিনি ২০৯ হিজরী মোতাবেক ৮২৪ খ্রিষ্টাব্দে ইরাকের প্রসিদ্ধ শহর কাযভীনে জন্মগ্রহণ করেন ও ২৭৫ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন।
০৭/ইমাম তাহাবীঃ ইমাম আবূ জা’ফর আহমদ তাহাবী (রহ:)মিসরের ‘তাহা’ নামক জনপদের অধিবাসী হিসেবে তিনি ‘তাহাবী’ নামে পরিচিত।
০৮/ ইমাম আল-গাজ্জালিঃ ইমাম আল-গাজ্জালির ১০৫৮ সালে ইরানের খোরাসানের তুশ নগরীতে জন্মগ্রহণ এবং মৃত্যুবরণ করেন।
০৯/আবু জাফর মুহাম্মদ ইবনে জারির আল তাবারিঃ ৮৩৯ –খ্রিষ্টাব্দ বর্তমান ইরানের অন্তর্গত মাজানদারানের তাবারিস্তানে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৯২৩ খ্রিষ্টাব্দে ওফাত হয় ।
১০ / ইবনে তাইমিয়াঃ ইবনে তাইমিয়া রাহিমাহুল্লাহর জন্ম হয়েছিলো দামেস্কের হাররান প্রদেশে, আর মৃত্যু হয়েছিলো দামেস্কে।
১১/ইমাম আয-যাহাবিঃআয-যাহাবী ৫ অক্টোবর ১২৭৪ সালে দামেস্কে জন্মগ্রহণ করেন,১৩৪৮ সালে এই মহান ইমাম মৃত্যুবরণ করেন।
১২/ইবনে কাসীরঃ ইবনে কাসীরের প্রকৃত নাম ইসমাইল,আবুল ফিদা তার ডাকনাম একং ইমামুদ্দিন।তিনি সিরিয়ার বসরান মাজদল নামক স্থানে ৭০০ হিজরী সালে জন্মগ্রহণ করেন।
১৩/ নাসির উদ্দিন আলবানিঃ নাসির উদ্দিন আলবানি রহঃ ১৩৩৩ হিজরী মোতাবেক ১৯১৪ খৃষ্টাব্দে আলবেনিয়ার রাজধানী স্কোডার (Shkodër-বর্তমান নাম তিরানা) এ জন্ম গ্রহণ করেন।
১৪/ ইমাম নববীঃ ইমাম নববী রহঃ দামেস্কের অধীন “নওবি” গ্রামে মুহররম ৫, ৬৩১ হিজরী জন্ম গ্রহণ করেন।মাত্র ৪৫ বছর জীবিত ছিলেন।মৃত্যু: রজব, ৬৭৬ হিজরী।
১৫/ইবনে হাজার আসক্বালানীঃ ইবনে হাজার আসক্বালানী রহঃ এর আসল নাম হলো আহমদ বিন আলী বিন মুহাম্মদ। আবুল ফজল হলো তাঁর উপনাম। শিহাবুদ্দীন হলো তাঁর উপাধি। এছাড়া তিনি হাফেজ উপাধিতেও ভূষিত হয়েছেন। তাঁর পরিবার মূলত তিউনিসিয়ার অন্তর্গত কাবেস এলাকার অধিবাসী ছিল। পরবর্তীতে তারা ফিলিস্তিনের অন্তর্গত আসক্বালান নামক এলাকায় বসতি গড়ে। তার পরিবার আসক্বালানের অধিবাসী ছিল বলে তাকে আসক্বালানী (আসক্বালান সংশ্লিষ্ট)বলা হয়, যদিও তাঁর জন্ম মিশরে।
১৬/ ইমাম আবু হানিফাঃ ইমাম আবু হানিফা ৬৯৯ হিজরীতে ইমাম আবু হানিফা ইরাকের কুফা নগরীতে জন্মগ্রহণ করেন ।
৭৬৭ সালে আবু হানিফা কারাগারে মৃত্যুবরণ করেন।ইমাম শাফি-রঃ মতে: যে ব্যক্তি ফেকাহর জ্ঞান অর্জন করতে চায়, সে যেন ইমাম আবু হানিফা এবং তার ছাত্রদের সান্নিধ্য লাভ করে। কারণ ফেকাহর ব্যাপারে সকলেই আবু হানিফা-র মুখাপেক্ষী।
১৭/ইমাম আহমদ বিন হাম্বলঃ ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল আশ্ শায়বানী আল-মারুযী (রহ:)-এর জন্ম ১৬৪ হিজরী মোতাবেক ৭৮০ সালে বাগদাদ নগরীতে এবং বেসালও সেখানেই ২৪১ হিজরী/৮৫৫ সালে।
১৯/ইমাম শাফেয়ীঃ ইমাম শাফেয়ী (রহ:)মিসরের আসকালনা প্রদেশের গাযাহ নামক স্থানে ১৫০ হিজরী সনে জন্মগ্রহণ করেন।
২০/ইমাম মালেকঃ ইমাম মালেক ইবনে আনাস (রা:) ৯৫ হিজরী মোতাবেক ৭১৫ খৃষ্টাব্দে মদীনা মোনাওয়ারায় জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৭৯ হিজরী/৭৯৫ খৃষ্টাব্দ সালে সেখানেই বেসালপ্রাপ্ত হন।
২১/ ইমাম জালাল উদ্দীন সুয়ূতীঃইমাম হাফেয সুয়ুতী রাহিমাহুল্লাহর জন্ম ১ লা রজব, ৮৪৯ হিজরীতে মিশরের ‘আস্য়ুত্ব’ শহরে।৯১১ হিজরীতে এ যুগশ্রেষ্ঠ জ্ঞানী ও গুণী ইমামের ইনতিক্বাল হয়েছে।
২২/ মুহাম্মাদ শফী উসমানীঃমুফতী মুহাম্মাদ শফী (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) ১৩১৪ হিজরী সনের শা’বান মাসের ২১ তারিখে (২৫ জানুয়ারি ১৮৯৭ খ্রিষ্টাব্দ) অভিভক্ত ভারতে জন্মগ্রহণ করেন ।এই আলেমে দ্বীন ও মনীষী ১৩৯৬ হিজরী সনের শাওয়াল মাসের ১০ তারিখে ইন্তেকাল করেন।
২৩/ সাইয়েদ কুতুবঃসাইয়েদ কুতুব শহীদ রহঃ ১৯০৬ সালের ৯ অক্টোবর মিসরের উসইউত জিলার মুশা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন ।সাইয়েদ কুতুব ছিলেন মিসরের প্রখ্যাত আলেম ও সাহিত্যকদের অন্যতম। ছোটদের জন্যে আকর্ষণীয় ভাষায় নবীদের কাহিনী লিখে তার সাহিত্যক জীবনের সূচনা। পরবর্তীকালে ‘আশওয়াক’ (কাটা) নামে ইসলামী ভাবধারাপুষ্ট একখানা উপন্যাস রচনা করেন।ফি যিলালিল কুরআন (কুরআনের ছায়াতলে) – কুরআনের তাফসীরটি একটি বিখ্যাত ও বহুল পঠিত তাফসীর ।ইসলামী সমাজ বিপ্লবের ধারা (মা’আলিম ফিত তারিক্ব);গ্রন্থ রচনার জন্য জালিম শাষক তাঁকে ফাঁসী দিয়ে শহীদ করে ।
২৪/ সাইয়েদ আবুল আ’লা মওদুদীঃ মাওলানা মওদুদী, বা শাইখ সাইয়েদ আবুল আ’লা মওদুদী নামেও পরিচিত, ছিলেন।তিনি আওরঙ্গাবাদ (বর্তমানে মহারাষ্ট্রের মধ্যে), হায়দারাবাদ, ভারত এ জন্ম নেন ।আল্লামা মওদূদী একজন মুসলিম গবেষক, সাংবাদিক, রাজনৈতিক নেতা ও বিংশ শতাব্দীর একজন গুরুত্বপূর্ণ ইসলামী চিন্তাবিদ ও দার্শনিক।তিনি ছিলেন ২০ শতাব্দীর সবচেয়ে প্রভাবশালী মুসলিম স্কলারদের মধ্যে একজন। তিনি ইতিহাসের দ্বিতীয় এবং সর্বশেষ ব্যক্তি যাহার গায়েবানা জানাজার নামাজ পবিত্র কাবাতে পড়া হয়।ইমাম ইবনে তাইমিয়ার পর তিনি (মওদুদী) দ্বিতীয় চিন্তাবিদ যিনি আধুনিক বিশ্বে ইসলামী রাজনৈতিক চিন্তাধারা-কে প্রভাবিত করেছেন।তিনি তাফহীমুল কুরআন – তাফসির সহ শতাধিক ইসলামী ও গবেষনা গ্রন্থ রচনা করেন । কিদীয়ানীদের বিরুদ্বে কাফের ফতোয়ার ভিত্তিতে তাঁকে জালিম শাষক ফাঁসিক হুকুম দেয় ও পরে জনরোষে রহিত করে মুক্তি দেয়।
২৫/ভারতের ডাঃ জাকির নায়েক তো একজন জীবন্ত কিংবদন্তী । ওনার কথাতো সবারই জানা ।
ধন্যবাদ ।।
——–মরুচারী মুসাফির ।।

গোটা এশিয়ায় ঘুষ লেনদেনের শীর্ষে ভারত !ভারতের পরেই দ্বিতীয় পর্যায়ে রয়েছে ইন্দোনেশিয়ার ও বাংলাদেশের নাম ।

দুর্নীতির ফলে কোনো দেশের রাজস্ব আদায় কমে যায়। ফলে উন্নয়ন কর্মকা- বাধাগ্রস্ত হয়। কর ফাঁকি দেওয়ায়, যারা কর দিচ্ছেন তাদের উপর চাপ সৃষ্টি হয়। ফলে দেশের নাগরিকগণ কর দিতে নিরুৎসাহিত হন।
বিশ্বের উন্নত ও উন্নয়নশীল সব ধরনের দেশেই ঘুষ লেনদেন হচ্ছে। এটি পরিমাপ করা কঠিন হলেও সাম্প্রতিক এক হিসেবে দেখা গেছে গড়ে বছরে প্রায় দেড় থেকে দুই ট্রিলিয়ন ডলার ঘুষ লেনদেন হচ্ছে। এ পরিমাণ অর্থ বিশ্ব জিডিপির ২ ভাগের সমান। তবে আর্থ-সামাজিক ক্ষতির পরিমাণ আরো অনেক বেশি। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ‘দুর্নীতি: খরচ ও নির্মূলের কৌশল’ শিরোনামের প্রতিবেদনে এসব তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে নির্দিষ্ট করে কোনো দেশের দুর্নীতি কিংবা ঘুষের হিসাব উল্লেখ নেই। মূলত বিভিন্ন সময়ে করা অর্থনীতিবিদ ও দুর্নীতি বিরোধী সংস্থাগুলোর প্রতিবেদনের আলোকে অর্থনীতির উপর দুর্নীতির বিরূপ প্রভাব ও পরিস্থিতি উত্তরণের বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে, দুর্নীতি মোট দেশজ উৎপাদনকে (প্রবৃদ্ধি) বাধাগ্রস্ত করে। অর্থনৈতিক ও সামাজিক খরচও বেড়ে যায়। স্বচ্ছতা, প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা এবং নেতৃত্ব উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি। আইএমএফের প্রধান ক্রিস্টিন ল্যাগার্দ উল্লেখ করেন দুর্নীতির প্রত্যক্ষ অর্থনৈতিক ব্যয়ের কথা সবার জানা। কিন্তু এর পরোক্ষ খেসারত অনেক বেশি। এটা প্রবৃদ্ধিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে ও আয় বৈষম্য সৃষ্টি করছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, দুর্নীতি অর্থনৈতিক উন্নয়নকে নানাভাবে বাধাগ্রস্ত করছে। প্রথমত: দুর্নীতির ফলে কোনো দেশের রাজস্ব আদায় কমে যায়। ফলে উন্নয়ন কর্মকা- বাধাগ্রস্ত হয়। কর ফাঁকি দেওয়ায়, যারা কর দিচ্ছেন তাদের উপর চাপ সৃষ্টি হয়। ফলে দেশের নাগরিকগণ কর দিতে নিরুৎসাহিত হন। দ্বিতীয়ত: রাষ্ট্রীয় কেনাকাটায় দুর্নীতি হলে সেটি সরকারি ব্যয়ের গুণগত মান নষ্ট করে। তৃতীয়ত: রাজস্ব আদায় কম হলে কোনো দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক হতে ধার করার পরিমাণ বাড়াতে হয়। এর ফলে সেই দেশের মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে যায়। পাশাপাশি দুর্নীতির প্রভাবে আর্থিক খাতের উপর চাপ সৃষ্টি হয়। সর্বশেষ দুর্নীতির ফলে অর্থ বাজারে সাধারণের অর্থ প্রপ্তির সুবিধা কমে যায়। ফলে উৎপাদনশীল খাতে ব্যয় বৃদ্ধি পায়। দুর্নীতির ফলে আর্থিক ক্ষতি ছাড়াও সামাজিক এবং পরিবেশগত খরচও বেড়ে যায়। প্রতিবেদনে দুর্নীতি নির্মূলে কোনো দেশের প্রতি সরাসরি পরামর্শ দেওয়া হয়নি। তবে বিভিন্ন সামগ্রিক বিবেচনায় কিছু সুপারিশে উল্লেখ করা হয়েছে, দুর্নীতিবিরোধী লড়াইয়ের কৌশলে স্বচ্ছতা, স্পষ্ট আইনি রূপরেখা থাকা প্রয়োজন। সেইসঙ্গে প্রয়োজন গণমাধ্যমের স্বাধীনতা।
বিপদে ১০০০ ডলার খরচের সামর্থ্য নেই দুই-তৃতীয়াংশ মার্কিনির
আমেরিকা বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতি এবং একক সুপারপাওয়ার। তবে বেশিরভাগ আমেররিকানের আর্থিক অবস্থাই অত্যন্ত শোচনীয়। নতুন এক জরিপে দেখা যাচ্ছে, জরুরি প্রয়োজনের সময় ১ হাজার ডলার বা ৮০ হাজার টাকার যোগান দেয়ার সামর্থ্য নেই ­
এপি প্রকাশিত এক জরিপে এই বিস্ময়কর তথ্য পাওয়া গেছে। এপি এবং এনওআরসি সেন্টার জরিপটি পরিচালনা করেছে। জরিপে দেখা যায়, আর্থিক এই দুরাবস্থা আমেরিকার সব শ্রেণির লোকদের। দেশটির ৭৫ ভাগ পরিবারের বার্ষিক আয় ৫০,০০০ ডলার (প্রায় ৪০ লাখ টাকা) হলেও বিপদাপদে ১ হাজার ডলার খরচ করার সামর্থ্য তাদের নেই।
তবে যেসব পরিবারের আয় ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ ডলার তাদের এই দুরাবস্থা ৬৭ ভাগ কম।
এমনকি দেশটির সবচেয়ে ধনী ২০ ভাগ, যাদের বার্ষিক আয় ১ লাখ ডলারের বেশি, তদেরও ৩৮ ভাগ বলেছেন যে বিপদাপদে ১ হাজার ডলার যোগান দেয়া তাদের জন্য কঠিন। যেমন হ্যারি স্প্যাঙ্গলের কথাই ধরুন। নিউ জার্সির ৬৬ বছর বয়সী সাবেক এই ইলেকট্রিসিয়ান ভাবতেন তার চাকরি কখনো যাবে না এবং তিনি যা পাও খরচ কর নীতিতে চলতেন।
কিন্তু আমেরিকায় মন্দা শুরু হলে তিনি বেকার হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, ১ হাজার ডলারের জরুরি প্রয়োজন হলে তিনি বন্ধু-বান্ধবদের কাছ থেকে ধার নিতেন।
তবে এসব সত্ত্বেও গড়পড়তা আমেরিকানদের দিন খারাপ যায় না। তারা প্রাত্যহিক ব্যয় ভালোভাবেই সামাল দেন।
বেশিরভাগ আমেরিকান বলেছেন, বেকার হলে কিংবা চিকিৎসার জন্য ১ হাজার ডলার প্রয়োজন হলে তারা হাতের নগদ অর্থ থেকে সেটা মেটাবেন। এক তৃতীয়াংশ আমেরিকান বলেছেন, তারা ব্যাংক থেকে ঋণ নেবেন কিংবা বন্ধুদের কাছ থেকে ধার করবেন অথবা ক্রেডিট কার্ডের ওপর নির্ভর করবেন।
১৩ ভাগ বলেছেন, তারা অন্যান্য বিল পরিশোধ হয়তো বন্ধ রাখবেন আর ১১ ভাগ বলেছেন, তারা ওই বিল আদৌ পরিশোধই করবেন না।
এই জরিপে দেখা যাচ্ছে, বেশিরভাগ আমেরিকানের ১ হাজার ডলার জমা বা সঞ্চয় নেই।
[সূত্র : বিবিসি]

গোটা এশিয়ায় ঘুষ লেনদেনের শীর্ষে ভারত !ভারতের পরেই দ্বিতীয় পর্যায়ে রয়েছে ইন্দোনেশিয়ার ও বাংলাদেশের নাম ।
তাছাড়া ভারতীয়রা দুনিয়ার যেখানেই থাকুক , ঘুষ লেনদেনের একটা ক্ষেত্র তারা তৈরী করেই ফেলবে । লজ্জার পরিবর্তে ঘুষ খাওয়াকে ভারতীয়রা স্মার্টনেস মনে করে ।
“ঘুষ দেয়া-নেয়া আমাদের সংস্কৃতির এক অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠেছে। দুর্নীতির সবচেয়ে প্রকট অংশ ঘুষ। বিশ্বের সব দেশেই কমবেশি ঘুষ লেনদেনের ঘটনা ঘটে । কাজ পাওয়ার জন্য বা অপরাধ থেকে বেঁচে যেতে ঘুষ দেয়া-নেয়ার ঘটনা হরহামেশাই ঘটছে। তবে ঘুষের লেনদেনের এমন ঘটনাগুলো আড়ালেই থেকে যায় বেশিরভাগ ক্ষেত্রে
তবে এবার একটি আন্তর্জাতিক সমীক্ষার রিপোর্টে জানা গেলো, ঘুষ দেয়া-নেয়ার কর্মকান্ডে গোটা এশিয়ায় সবার ওপরে অবস্থান করছে আমাদের প্রতিবেশি দেশ ভারত। সমীক্ষার ফলাফল বলছে, প্রতি ১০ জন নাগরিকের ৭ জনকেই কোনো না কোনো কারণে ঘুষ দিতে হয় ভারতে ।
অন্যদিকে এই দুর্নীতির পরিমাণ সবথেকে কম জাপানে। জাপানে দুর্নীতির পরিমাণ সবচেয়ে কম। সেখানে ঘুষ চাওয়ার প্রবণতাও কম। সমীক্ষা বলছে, জাপানে মাত্র ০ দশমিক ২ ভাগ মানুষকে বিভিন্ন পরিষেবা পেতে ঘুষ দিতে হয়।
আন্তর্জাতিক দুর্নীতি পর্যবেক্ষক সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের সাম্প্রতিক এক গবেষণায় জানানো হয়েছে, সম্প্রতি ১৬টি এশীয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশের মধ্যে ঘুষ লেনদেনের প্রবণতা নিয়ে এই সমীক্ষা চালায় তারা।
সমীক্ষার তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে ঘুষ চাওয়ার প্রবণতা সবচেয়ে বেশি ভারতে। জন্ম থেকে মৃত্যু, স্কুল বা হাসপাতালে ভর্তি, সরকারি দপ্তর, পুলিশ বা আদালতে কোনো কাজ করাতে গেলে ঘুষ দিতেই হয়।
সমীক্ষার রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতে সবচেয়ে বেশি ঘুষ দিতে হয় স্বাস্থ্যক্ষেত্রে। এর পরেই শিক্ষাক্ষেত্র। স্বাস্থ্যক্ষেত্রে ৫৯ ভাগ এবং শিক্ষাক্ষেত্রে ৫৮ ভাগ মানুষকে ঘুষ দিতে হচ্ছে।
সমীক্ষার রিপোর্টে ভারতের পরেই দ্বিতীয় পর্যায়ে রয়েছে ইন্দোনেশিয়ার ও বাংলাদেশের নাম । সেখানে গড়ে ৬৫ ভাগ মানুষের ঘুষ দেওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে।
পরের তালিকায় এসেছে মালয়েশিয়ার নাম। ঘুষ লেনদেনের পরিমান সেখানে ৫৯ শতাংশ। পর্যায়ক্রমে ভিয়েতনাম ৫৬ শতাংশ, সাউথ কোরিয়া ৫০ শতাংশ।
পরের তালিকায় রয়েছে থাইল্যান্ড। সেখানে ৪১ শতাংশ মানুষ ঘুষের লেনদেন করেন। চতুর্থ তালিকায় রয়েছে, কম্বোডিয়া, পাকিস্তান ও মিয়ানমারের নাম। এই তিনটি দেশে গড়ে ৪০ শতাংশ মানুষকে ঘুষ লেনেদেনের সাথে যুক্ত থাকার কথা বলা হয়েছে সমীক্ষার রিপোর্টে ।
পঞ্চম তালিকায় এসেছে চীনের নাম । সেখানে মাত্র ২৬ শতাংশ ঘুষ লেন দেনের ঘটনা ঘটে। সমীক্ষায় জানানো হয়েছে চীনে ৭৩ ভাগ মানুষ মনে করেন ঘুষের ঘটনা সেদেশে কমতে শুরু করেছে।