কাবিল ও হাবিলের করুণ কাহিনী


কাবিল ও হাবিল নামে দুই ভাইয়ের ঘটনা ইসলামের ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইসলামের ইতিহাস অনুসারে কাবিল ও হাবিলের মাধ্যমেই প্রথম কুরবানি শুরু হয়।[1] তাদের মধ্য থেকেই পৃথিবীতে প্রথম মৃত্যুর ঘটনা ঘটে এবং তাদের মাধ্যমেই মৃতদেহ কবর দেবার নিয়ম চালু হয়।[2] জুমার নামাজের আগে কিংবা কুরবানির ঈদের নামাজের আগে বিশেষ আলোচনায় কুরবানির ইতিহাস সম্বন্ধে আলোকপাত করতে গিয়ে ইমাম সাহেবরা প্রায় সময়ই কাবিল ও হাবিলের ঘটনার উল্লেখ করেন। খ্রিস্টধর্মে তাদেরকে কেইন ও এবেল নামে ডাকা হয়।[3] কাবিল ও হাবিলের ঘটনা সম্বন্ধে আলোচনা করতে গেলে উল্লেখ করতে হবে তাদের পিতা হযরত আদম (আ:) ও মাতা বিবি হাওয়া (আ:) এর কথা।

হযরত আদম (আ:) ও বিবি হাওয়া (আ:) উভয়ে জান্নাতের সুসজ্জিত বাগানে বসবাস করছিলেন। কিন্তু তাদের পিছু লাগলো ‘ইবলিস’ নামে এক পাপিষ্ঠ শয়তান। ইবলিস চাইলো তারা যেন সুখের জান্নাতে থাকতে না পারে। যতটা না সুখের জান্নাত থেকে বিতাড়িত করার ইচ্ছে ছিল ইবলিসের, তারচেয়েও বেশি ইচ্ছে ছিল তারা যেন আল্লাহর দেয়া আদেশ অমান্য করে তাঁকে নাখোশ করে। আদম (আ:) ও হাওয়া (আ:)-কে আল্লাহ একটি বিশেষ গাছের ফল খাওয়ার ব্যাপারে নিষেধ করেছিলেন। ইবলিস বেছে বেছে ঐ বিশেষ ফলটিকেই টার্গেট করলো। দুজনকে প্ররোচিত করে ভুলিয়ে-ভালিয়ে ঐ গাছের ফল খাইয়ে দিলো। আদম (আ:) ও হাওয়া (আ:) দৃশ্যত পাপ করে বসলেন। জান্নাতে পাপের স্থান নেই, তাই শাস্তিস্বরূপ আল্লাহ তাদেরকে পৃথিবীতে পাঠিয়ে দিলেন। বলা হলো, পৃথিবীতে ভালো কাজ করে নিজেদের মার্জনা করতে পারলে তারা আবারো জান্নাতে ফিরে যেতে পারবেন।


কিন্তু অশান্তি তারপরও রয়ে গেল, কারণ পৃথিবীতেও অস্তিত্ব বিরাজমান সেই পাপিষ্ঠ শয়তান ইবলিসের। ইবলিস শয়তান তার শেষ চাওয়া হিসেবে আল্লাহর কাছ থেকে বিশেষ কয়েকটি ক্ষমতা চেয়ে নিয়েছিল। অভিশপ্ত হবার আগে ইবলিস আল্লাহর অনেক ইবাদত করেছিল। এই ইবাদতের প্রতিদানস্বরূপ আল্লাহ তাকে তার চাহিদা অনুসারে এই ক্ষমতাগুলো প্রদান করেছিলেন। প্রাপ্ত ক্ষমতাগুলোর মধ্যে একটি হলো, যেকোনো সময় বিশ্বের যেকোনো স্থানে সে অবস্থান করতে পারবে।[4] সে হিসেবে আদম-হাওয়ার পৃথিবীতে চলে আসা তার জন্য তেমন কঠিন কিছু নয়।

যা-ই হোক, পৃথিবীতে আগমনের পর হযরত আদম (আ:) ও বিবি হাওয়া (আ:) এর সন্তান জন্ম হতে লাগলো। ধীরে ধীরে মানুষ বাড়তে লাগলো পৃথিবীতে। কিন্তু এখানে দৃশ্যত একটি সীমাবদ্ধতা থেকে গেল। আদম (আ:) ও হাওয়া (আ:) যেহেতু পৃথিবীর প্রথম মানব-মানবী, তাই তাদের পরের প্রজন্মে যত সন্তানের জন্ম হবে তারা সকলেই হবে ভাই-বোন। ইসলামী নিয়ম অনুসারে, ভাই বোনের মাঝে কখনো বিয়ে হয় না। সে হিসেবে এটিই হতো পৃথিবীর শেষ মানব প্রজন্ম। এরপর মানবজাতি বিলুপ্ত হয়ে যেতো। কিন্তু এখানে তো পুরো মানবজাতির অস্তিত্বের প্রশ্ন, তাই বিশেষ একটি ব্যবস্থার মাধ্যমে এর সমাধান করা হলো।

বিবি হাওয়ার গর্ভে তখন সন্তান জন্ম নিতো জোড়ায় জোড়ায়। প্রতি জোড়ায় একজন ছেলে আর একজন মেয়ে জন্ম হতো। একই জোড়ার ছেলে ও মেয়েরা পরস্পর বিয়ে করতে পারবে না। বিয়ে করতে হলে ভিন্ন জোড়ার কাউকে করতে হবে। কাবিল ও হাবিল ছিল ভিন্ন জোড়ার, তাই তাদের ব্যাপারটি স্বাভাবিক নিয়মেই সমাধান হয়ে যায়। একজন আরেকজনের জোড়ার মেয়েকে বিয়ে করবে।

কিন্তু এখানে একটি সমস্যা দেখা দেয়। হাবিলের জোড়ার মেয়েটি তেমন সুন্দরী ছিল না। সেই তুলনায় কাবিলের জোড়ার মেয়েটি ছিল অনেক বেশি সুন্দরী। নিয়ম অনুসারে হাবিল অধিক সুন্দরী মেয়েটিকে পায় আর কাবিল পায় কম সুন্দরী মেয়েটিকে। কিন্তু কাবিল বেঁকে বসে, সে হাবিলের জোড়ার মেয়েটিকে বিয়ে করবে না। যেভাবেই হোক, নিজের জোড়ার সুন্দরী মেয়েটিকেই বিয়ে করবে।

এমতাবস্থায় পিতা হযরত আদম (আ:) একটি মীমাংসা করলেন। তাদের দুজনকে আল্লাহর নামে কুরবানি দিতে বললেন। যার কুরবানি আল্লাহ গ্রহণ করবেন, তার ইচ্ছাই জয়ী হবে। কার কুরবানি গৃহীত হলো আর কার কুরবানি গৃহীত হলো না, তা কীভাবে বোঝা যায়? তখনকার কুরবানি এখনকার কুরবানির মতো ছিল না। সে সময়ে কোনো জিনিস কুরবানি দিলে আসমান থেকে আগুন এসে ঐ জিনিসকে পুড়িয়ে দিতো। কুরবানির বস্তুকে ভূমি থেকে উপরে কোনো স্থানে উপস্থাপন করা হতো, আকাশ থেকে আগুন এসে যদি বস্তুকে পুড়িয়ে দিতো, তাহলে বোঝা যেতো আল্লাহ কর্তৃক কুরবানী গৃহীত হয়েছে।

পিতা আদম (আ:) এর দেওয়া মীমাংসা অনুসারে তারা উভয়েই কুরবানির বস্তু উপস্থাপন করলো আল্লাহর কাছে। হাবিল একটি সুস্থ ও মোটাতাজা দুম্বা উৎসর্গ করলো আর কাবিল তার কিছু সবজি ও শস্য উৎসর্গ করলো। তখন সবজি ও শস্যও কুরবানির জন্য উৎসর্গ করা যেতো। কোনো কোনো উৎস থেকে জানা যায়, হাবিল উৎসর্গ করেছিল উৎকৃষ্ট মানের দুম্বা আর কাবিলের শস্য ছিল নিকৃষ্ট মানের।[5], [6] আল্লাহ হাবিলের কুরবানিকেই কবুল করলেন। উপর থেকে আগুন দিয়ে দুম্বাটিকে পুড়িয়ে নিলেন, কিন্তু কাবিলের শস্যকে কিছুই করলেন না। সে হিসেবে বিয়ের নিয়ম আগের মতোই রইলো, হাবিল বিয়ে করবে কাবিলের জোড়ায় জন্ম নেয়া মেয়েটিকে।

কিন্তু কাবিল এই অপমান সহ্য করতে পারলো না। সে ভাবলো, হাবিলের জন্য তার কুরবানি আল্লাহ গ্রহণ করেননি। কুরবানিতে প্রত্যাখ্যাত হওয়াতে এবং স্ত্রী হিসেবে কাঙ্ক্ষিত মেয়েকে না পাওয়াতে সে অত্যন্ত ক্রোধান্বিত হয়ে গেল। ক্রোধের বশে হাবিলকে সে বললো, তোর ইচ্ছা কোনোভাবেই আমি পূরণ হতে দেবো না। প্রয়োজনে তোকে হত্যা করবো, যেন তুই আমার জোড়ার মেয়েটিকে বিয়ে করতে না পারিস।[7] কোনো কোনো উৎস থেকে জানা যায়, তাকে এমন সর্বনাশা ভাবনার উস্কানি দিয়েছিল সেই পাপিষ্ঠ ইবলিস শয়তান।[8]

কাবিলের এমন আচরণে হাবিল অনেক সুন্দর উত্তর দিয়েছিল। সে বলেছিল, আল্লাহ তাদের কুরবানিই কবুল করেন যার উদ্দেশ্য সৎ।[9] আর তুমি আমাকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে আমার গায়ে আঘাত করলেও, আমি তোমাকে কিছু করবো না। কারণ আমি আমার প্রতিপালককে ভয় করি।[10] কিন্তু এই কথায় কাবিলের উদ্দেশ্যের কোনো পরিবর্তন হলো না। ক্রোধের বশবর্তী হয়ে সে হত্যা করলো তার আপন ভাইকে।[11]

এরপরই কাবিলের মন গলে যায় এবং অনুভব করে, আহারে, কত বড় ভুল করে ফেললো সে! নিজের ভাইকে নিজ হাতে মেরে ফেললো, এর চেয়ে বড় ধৃষ্টতা আর কী হতে পারে! ভেতরে ভেতরে সে অনেক অনুতপ্ত হলো এবং নিজের অপকর্ম কীভাবে ঢাকবে, তা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়লো। তখনো মৃতদেহ সৎকারের ব্যাপারে কোনো নিয়ম তৈরি হয়নি, কারণ এর আগে কোনো মানুষের মৃত্যু ঘটেনি। মৃত দেহটিকে নিয়ে কী করবে এ নিয়ে যখন সে চিন্তায় মগ্ন তখন দেখলো, একটি কাক তার ঠোঁট দিয়ে ঠুকরে ঠুকরে একটি গর্ত করলো। তারপর সেই গর্তে একটি মৃত কাককে টেনে এনে কবর দিয়ে দিলো।[12] এটি দেখে কাবিল ভাবলো, তাকেও হয়তো এভাবে কবর দিতে বলা হচ্ছে। তাই একটি গর্ত করে সে তার ভাইকে কবর দিয়ে দিলো। ইসলামের ইতিহাস অনুসারে এটিই ছিল মানবজাতির প্রথম কবর। কোনো কোনো উৎস থেকে জানা যায়, কাক দুটি ছিল ফেরেশতা এবং এদেরকে আল্লাহই পাঠিয়েছিলেন, যেন এদের দেখে কাবিল শিখতে পারে।[13]

অনেকে দাবি করে থাকেন, হাবিলের কবর এখনো দেখা যায় এবং এটি সিরিয়ার দামেস্কে অবস্থিত।[14] দামেস্কের উত্তরে একটি স্থান আছে, যা মাকতালে হাবিল বা হাবিলের হত্যাস্থল নামে পরিচিত। এ প্রসঙ্গে হাফিজ ইবনে আসাকির একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করেন তার একটি বইয়ে। তিনি উল্লেখ করেন, আহমদ ইবনে কাসির একবার রাসুল (সা:)-কে স্বপ্নে দেখেছিলেন। রাসুলের (সা:) পাশে হাবিলও ছিল। এক প্রশ্নের জবাবে হাবিল তখন কসম করে বললো, এটিই আমার হত্যাস্থল। তখন রাসুল (সা:) হাবিলের দাবিকে সত্য বলে সমর্থন করলেন।[15] তবে এটি শুধুই স্বপ্ন বলে ধর্মীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপারে একে গ্রহণযোগ্য বলে ধরা হয় না।

কুরআন শরীফে তাদের সম্পর্কে বিস্তারিত বলা নেই। এমনকি তাদের দুজনের নামও উল্লেখ নেই। শুধু ‘আদমের দুই পুত্র’ নামে তাদের কথা উল্লেখ আছে। তবে তৌরাত গ্রন্থ ও কিছু হাদিসে তাদের ঘটনার বিস্তারিত বলা আছে।[16] ইবনে কাসিরের লেখা ‘আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া’তে এই ঘটনার সুন্দর বিবরণ লিপিবদ্ধ আছে।

ইসলামের দৃষ্টিকোণে কাবিল ও হাবিলের ঘটনার তাৎপর্য অনেক। কাবিল ও হাবিলের ঘটনা উল্লেখের পরপরই কুরআনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি আয়াত আছে। সেখানে উল্লেখ আছে,

কেউ কাউকে হত্যা করলে সে যেন সমস্ত মানবজাতিকেই হত্যা করলো, আর কেউ কারো প্রাণ রক্ষা করলে সে যেন সমস্ত মানবজাতিকেই রক্ষা করলো।[17]

এ প্রসঙ্গে একটি হাদিস আছে। রাসুল (সা:) বলেছেন,


পৃথিবীতে যখনই অন্যায়ভাবে কোনো হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়, তখন পাপের একটি অংশ অবশ্যই আদমের প্রথম পুত্র কাবিলের উপর পড়ে। কেননা সে-ই প্রথম ব্যক্তি, যে অন্যায় হত্যাকাণ্ডের সূচনা করে।[18]

তথ্যসূত্র ও নোট

[1] আল কুরআন, সূরা মায়িদা, আয়াত ২৭। সংস্কৃতি হিসেবে কোরবানির প্রচলন শুরু হয় হযরত ইব্রাহীম (আ:) এর সময় থেকে, কিন্তু প্রথম কোরবানির ঘটনা ঘটে হযরত আদম (আ:) এর সময়কালে কাবিল ও হাবিলের মাধ্যমে।
[2] আল কুরআন, সূরা মায়িদা, আয়াত ৩১।
[3] Holy Bible, Genesis 4
[4] আল কুরআন, সূরা হিজর, আয়াত ৩৬-৩৮।
[5] আল-কোরআনে বর্ণিত পঁচিশজন নবী ও রাসুলের জীবনী, মুফতী মুহাম্মদ শফী, সোলেমানিয়া বুক হাউস, ২০১২, পৃষ্ঠা ৬৫
[6] আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ১ম খণ্ড (বাংলা অনুবাদ), হাফিজ ইবনে কাসীর, ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, জুন ২০০৭, পৃষ্ঠা ২১৭
[7] আল কুরআন, সূরা মায়িদা, আয়াত ২৭।
[8] কোরআনের গল্প, বন্দে আলী মিয়া, আহমদ পাবলিশিং হাউস, ২০১৪, পৃষ্ঠা ১৫
[9] আল কুরআন, সূরা মায়িদা, আয়াত ২৭।
[10] আল কুরআন, সূরা মায়িদা, আয়াত ২৮।
[11] আল কুরআন, সূরা মায়িদা, আয়াত ৩০।
[12] আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ১ম খণ্ড (বাংলা অনুবাদ), হাফিজ ইবনে কাসীর, ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, জুন ২০০৭
[13] আল কুরআন, সূরা মায়িদা, আয়াত ৩১।
[14] islamiclandmarks.com/syria/tomb-of-habil
[15] আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ১ম খণ্ড (বাংলা অনুবাদ), হাফিজ ইবনে কাসীর, ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, জুন ২০০৭, পৃষ্ঠা ২১৯
[16] আল-কোরআনে বর্ণিত পঁচিশজন নবী ও রাসুলের জীবনী, মুফতী মুহাম্মদ শফী, সোলেমানিয়া বুক হাউস, ২০১২, পৃষ্ঠা ৬৬
[17] আল কুরআন, সূরা মায়িদা, আয়াত ৩২।
[18] আল বিদায়া ওয়ান নিয়াহা সূত্রে মুসনাদে আহমদ

ধূমপান করা (اَلتَّدْخِيْنُ)

ধূমপান করা (اَلتَّدْخِيْنُ)
(মুফতী শায়খ মুহাম্মাদ বিন ছালেহ আল-উসাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ)

প্রশ্নঃ সম্মানিত শায়খের কাছে আমার জিজ্ঞাসা যে- ধূমপান ও হুক্কা টানা সম্পর্কে ইসলামী বিধান কী? এ ব্যাপারে কুরআন ও হাদীস থেকে কোন দলীল-প্রমাণ আছে কি?

উত্তরঃ ধূমপান করা হারাম। অনুরূপভাবে হুক্কা টানাও হারাম। ধূমপান হারাম হওয়ার দলীল সমূহ নিম্নে বর্ণনা করা হলোঃ- ১. মহান আল্লাহ্ বলেন,
وَلاَ تَقْتُلُوْا أَنْفُسَكُمْ إِنَّ اللهَ كَانَ بِكُمْ رَحِيْمًا (النساء: ২৯)
অর্থাঃ “তোমরা তোমাদের নাফসকে হত্যা করোনা। নিঃসন্দেহে আল্লাহ্ তা’আলা তোমাদের প্রতি দয়ালু” (সূরা নিসাঃ ২৯)। ২. আল্লাহ্ তা’আলা আরো বলেন,
وَلاَ تُلْقُوْا بِِأَيْدِيْكُمْ إِِلَى التَّهْلُكَةِ (البقرة: ১৯৫)
অর্থাৎ “তোমরা নিজ হাতে নিজেকে ধ্বংসে পতিত করোনা”(সূরা বাক্বারাহ, ১৯৫)। চিকিৎসাশাস্ত্র প্রমাণ করেছে যে, ধূমপান একটি ক্ষতিকর বস্তু। আর যে সকল বস্তু স্বাস্থ্যের জন্যে ক্ষতিকর, ইসলামী বিধান তাকে হারাম করেছে। যেমন আল্লাহ্ তা‘আলা বলেন,
{وَلاَ تُؤْتُوْا السُّفَهَاءَ أَمْوَالَكُمُ الَّتِي جَعَلَ اللهُ لَكُمْ قِِيَامًا} (النساء:৫)
অর্থাৎ “তোমরা তোমাদের সম্পদ নির্বোধদেরকে প্রদান করোনা। যে সম্পদকে আল্লাহ্ পাক তোমাদের জীবন-যাত্রার অবলম্বন করেছেন”(সূরা নিসাঃ ৫)।

উপরোক্ত আয়াতে ধূমপায়ী নির্বোধদেরকে আমাদের সম্পদ থেকে প্রদান করতে নিষেধ করা হয়েছে। কেননা তারা সম্পদের অপচয় করবে, আর বিপর্যয় সৃষ্টি করবে। তাহলে নিঃসন্দেহে বলা যেতে পারে যে, হুক্কা টানায় ও ধূমপানে সম্পদের অপচয় হয়। আর অত্র আয়াত অপচয়, অপব্যয় ও বিপর্যয় সৃষ্টি না করার প্রমাণ বহন করে। এছাড়াও রাসূলুল্লা-হ (ছাল্লাল্লা-হু আলাইহি অ-সাল্লাম) সম্পদ বিনষ্ট করতে নিষেধ করেছেন। ধূমপানে সম্পদের অপচয় ও অপব্যয় হয়। আর এ অপব্যয়ই হচ্ছে সম্পদ বিনষ্ট করা। রাসূলুল্লা-হ (ছাল্লাল্লা-হু আলাইহি অ-সাল্লাম) বলেছেন, “لاَضَرَرَ وَلاَضِِرَارَ”
অর্থা “তোমরা নিজেদের ক্ষতিসাধন করোনা এবং অপরের ক্ষতি সাধনও করোনা”। ধূমপান এমনই এক বিষয় যা গ্রহণের কারণে নিজের ক্ষতির সাথে সাথেই পার্শ্ববর্তী মানুষের কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এছাড়া ধূমপায়ী ধূমপানের মাধ্যমে সম্পদ হারিয়ে নিজেকে ধ্বংসের পথে নিয়ে যায় এবং নিঃস্ব অবস্থায় দুনিয়াতে বসবাস করে। অতএব যে নিজেকে ধূমপানে অভ্যস্ত করলো, সে ধনবান থেকে নিঃস্বে পরিণত হলো। (মুফতী শায়খ মুহাম্মাদ বিন ছালেহ আল-উসাইমীন রাহিঃ)
ধূমপানের অপকারিতা সম্পর্কে
আমরা যা জানি

১- ধূমপান একটি অপবিত্র, দুর্গন্ধময় ও ক্ষতিকারক বস্তু।

২- ধূমপান ক্যান্সার, যক্ষ্মা প্রভৃতির মত ধ্বংসাÍক রোগ সৃষ্টির অন্যতম কারণ।
৩- ধূমপায়ী স্বয়ং নিজের নাফসকে ধ্বংস করে দেয়।

৪- ধূমপান নিজের ক্ষতির সাথে-সাথে পার্শ্ববর্তী লোকেরও কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

৫- ধূমপান করার অর্থই হচ্ছে নেশাদার বা হারাম জিনিষ খেয়ে মহান আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নাফরমানী করা, ইচ্ছাকৃতভাবে নিজের নাফসকে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হতে সহযোগিতা করা আর অর্থের অপচয় করা। এ সমস্ত কাজের প্রত্যেকটাই শয়তানী কাজের অন্তর্ভুক্ত।

৬- ধূমপানকারী নিজে প্রকাশ্যভাবে গোনাহ করে থাকে আর সে এ গুনাহের কাজের বিস্তার ঘটিয়ে থাকে। সেহেতু ধূমপানের গোনাহ বড় ধরনের গোনাহ। অতএব ধূমপানকারীকে অতিশীঘ্রই তাওবা করা উচিত।

৭- ধূমপানকারী সম্পদ ধ্বংসকারী , যাকে আল্লাহ্ মোটেই পছন্দ করেন না।

৮- ধূমপান মানুষের হৃদযন্ত্রকে অকেজো করে ফেলে। আর শরীরের শক্তিকে দুর্বল করে দেয়।

৯- এর দ্বারা দাঁতগুলো হলুদ হয়ে যায়, ঠোঁট দুটি কালো হয়ে যায়, চেহারার লাবন্য নষ্ট হয়ে যায়, দৃষ্টিশক্তি কমে যায় আর স্নায়ু দুর্বলতা দেখা দেয় ইত্যাদি।

১০-এর দ্বারা কফ, কাশি এবং বক্ষব্যাধির সৃষ্টি হয়।

১১-এর কারণে যক্ষ্মা ও হৃদ রোগ হয়। হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যুও ঘটে।

১২-খাবারে রুচি নষ্ট করে ফেলে আর হজমে ব্যাঘাত ঘটায়।
১৩-এর দ্বারা রক্ত চলাচল বাধাপ্রাপ্ত হয় আর হৃদযন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যাবলীতে গোলযোগ দেখা দেয়।
১৪-সুরুচিশীল লোকদের নিকট ধূমপান একটি অপবিত্র ও ঘৃণিত বস্তু বলে গণ্য।

১৫-ধূমপান একটি নেশাদার বস্তু যা পরিষ্কার হারাম।
১৬-ধূমপান একটা দুর্গন্ধময় বস্তু। যারা সিগারেট খায়না তারা এর দ্বারা খুবই কষ্ট পায়,

অপরদিকে সম্মানিত ফেরেশতাকুলও খুবই কষ্ট পান।
১৭- এটা দ্বীন-দুনিয়া ও আখেরাতের জন্য বড় ক্ষতিকর।
১৮- বর্তমান বড় বড় দেশগুলি কঠোরভাবে ধূমপান বিরোধী অভিযান চালাচ্ছে। সিগারেটের মোড়কে লেখা হচ্ছেঃ ‘ধূমপানে বিষপান’, ‘ধূমপান স্বাস্থের জন্য ক্ষতিকর’ ইত্যাদি।

২০- এর ফলে অর্থনৈতিক সংকট দেখা দেয়।
২১-ধূমপানের বিজ্ঞাপন যেন বলে,‘আপনার ফুলদানী হোক ছাইদানী’।
২২-ধূমপানের বিজ্ঞাপন স্বাস্থ্য ও সম্পদ নষ্টের বিজ্ঞাপন।
২৩-ধূমপান ইসলামী শরী‘য়াত ও সুস্থ বিবেকের দৃষ্টিতে হারাম। অতএব ধূমপানকারীর সংগ বর্জন করুন আর মহান আল্লাহর নিকট তাওবা করুন।

২৪-ধূমপান করার আগে ভেবে দেখুন- এটা হারাম না হালাল? উপকারী না ধ্বংসকারী? পবিত্র না অপবিত্র? চিন্তা করলে অবশ্যই জানতে পারবেন যে, এটা হারাম, ক্ষতিকর এবং অপবিত্র ।

২৫-বাহ্যিকভাবে ধূমপানের মাধ্যমে সমাজের লোকদেরকে ক্ষতিগ্র¯ত হওয়ার দিকে নিমন্ত্রণ জানানো হয়।

২৬-মোট কথা ‘একজন ধূমপায়ী’ তার ছেলে-মেয়ে, স্ত্রী, পিতা-মাতা, আত্মীয়-স্বজন এবং

সুশীল সমাজের নিকট-সর্বোপরি মহান আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নিকট অর্থ অপচয়কারী,
বদ অভ্যাসের দাস ও হারাম খোর হিসাবে পরিচিত।

২৭-বাস্তবতার আলোকে আমরা যেটা দেখতে পাই সেটা হলোঃ ক্ষেতে খামারে, মাঠে-ময়দানে বিভিন্ন স্থানে রক্ষিত বিভিন্ন ধরনের শাক-সবজি ও ফসলাদি যা গরু-ছাগল, ভেড়া-মহিষ, হাস-মুর্গী নষ্ট করে, বা খেয়ে ফেলে- যার ফলে চাষী ভাইয়েরা ঐ সমস্ত জানোয়ারের ক্ষয় ক্ষতির হাত থেকে তাদের ফসলাদিকে রক্ষা করার জন্য মাঠের ক্ষেত এবং বাড়িতে খামারে রাখা ফসলাদি ঘিরে রাখার ব্যবস্থা করে থাকে। এখানে লক্ষণীয় যে, পান ও বিড়ি-সিগারেটের তামাক এমনই অপবিত্র ও ক্ষতিকারক বস্তু- যার ফলে কোন জীব জানোয়ার ও পশু-পাখী পর্যন্ত তা খায় না। ফলে বাংলাদেশের বৃহত্তর রংপুরে মাঠের হাজার হাজার বিঘা তামাকের ক্ষেত ও বাড়ির খামারে রক্ষিত তামাক ঘিরে রাখার কোন প্রয়োজন হয়না। অপরদিকে সৃষ্টির সেরা মানুষ ঐ হারাম ও অপবিত্র জিনিস খেয়ে নিজে অর্থনৈতিক ও, শারীরিক দিক দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে আর সর্বোপরি ধর্মীয় অনুভূতিকে ধংস করছে। এর পরেও ওহে ধূমপায়ী ভাই! আপনি কি বিষয়টা একটু ভেবে দেখবেন না?

২৮-ধূমপায়ী ভাইদের মধ্য হতে অনেকেরই ধারণা যে, টয়লেটে বসে সিগারেট টানলে তাতে পায়খানা ভাল ক্লিয়ার হয়। এটা সম্পূর্ণ ভুল ধারণা তথা বদ অভ্যাস মাত্র। আর এটা নিঃসন্দেহে শয়তানী কাজ ছাড়া আর কিছুই নয়। বাস্তবতার আলোকে দেখা যায় যে, একজন ধূমপায়ী সিগারেট জ্বালিয়ে টয়লেটে ঢুকার পর কমপক্ষে ১০মিনিট যাবৎ টয়লেটের কাজ ও সিগারেট টানার কাজ শেষ করে যখন বের হয়ে আসল- তখন ঘটনা ক্রমে অন্য একজন অধূমপায়ী ব্যক্তি প্রয়োজন মিটাতে ঐ টয়লেটে ঢুকেই বিকট দুর্গন্ধের মোকাবিলা করে টয়লেটের কাজ সমাধা করতে হিমসিম খেয়ে যায়। কেননা চার দেয়াল বেষ্টিত ছোট্ট টয়লেটে তখন একদিকে সিগারেটের বিষাক্ত ধুয়া অপরদিকে টয়লেটের দুর্গন্ধ একত্রিত হয়ে বিকট দুর্গন্ধময় গ্যাসে ভরে রয়েছে। ফলে টয়লেটের দুর্গন্ধ চাপা পড়ে গিয়ে এখন শুধু সিগারেটের বিষাক্ত গ্যাসই ঐ অধূমপায়ী ব্যক্তির কাছে অনুভূত হচ্ছে। যার ফলে টয়লেটের কাজ সমাধা করতে সে এখন বড় বিপদে পড়েছে। এক্ষণে বিশেষ করে ধূমপায়ী সূধী মহলের নিকট প্রশ্ন যে, ঐ টয়লেটে আপনার ধূমপান করার কারণে ঐ দূর্গন্ধময় বিষাক্ত গ্যাসের ভিতর কমপক্ষে ১০মিনিট সময় আপনি কেমন করে বসে থাকেন? শ্বাস প্রশ্বাসের মাধ্যমে ঐ বিষাক্ত গ্যাস অবশ্যই আপনার শরীরের ভিতর প্রবেশ করে- যা আপনার শরীরের জন্য কতটুকু কল্যাণকর একটু ভেবে দেখবেন কি?

২৯-ক্ষেতে-খামারে, মাঠে-ময়দানে, অফিসে-আদালতে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে, মিল-কল কারখানায় – তথা সকল প্রকার কর্মস্থলে কর্মরত ভাইদের মধ্যহতে অনেকেই ধারণা করেন যে, ক্লান্তি -শ্রান্তি ও দুঃশ্চিন্তা দূর করার জন্য ধূমপান বড় উপকারী। মাঝে মাঝে একটু ধূমপান করে নিলে ক্লান্তি-শ্রান্তি ও দুঃশ্চিন্তা দূর হয়, ফলে কর্মের তৎপরতা বা গতি বৃদ্ধি পায়। ধূমপায়ীদের এই যুক্তি অগ্রহণযোগ্য। কেননা বাস্তবতার আলোকে ধূমপানের মাধ্যমে যদিও সাময়িক কিছুটা উপকার অনুভূত হয় ধরে নেওয়া যায়- তবে বিচক্ষণতার দ্বারা যাচাই বাছাই করে দেখতে হবে যে, এই ধূমপানের দ্বারা উপকার বা লাভের পরিমাণ কতটুকু আর ক্ষতির পরিমাণ বা কতটুকু? বলা যেতে পারে যে, ধূমপানের দ্বারা যদি ১ আনা পরিমাণ উপকার বা লাভ হয়- তাহলে বাকী ১৫ আনাই ক্ষতি সাধিত হয়। তাহলে এখন আপনি আপনার সুস্থ বিবেকের কাছে প্রশ্ন করুন যে, আপনি কি ১ আনা লাভ করতে যেয়ে ১৫ আনাই ক্ষতি স্বীকার করবেন। আর এজন্যেই মদের ব্যাপারে আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন যে, ‘‘মদের ভিতর মানুষের জন্য সামান্য পরিমাণ উপকার আছে- তবে ক্ষতির পরিমাণ অনেকগুণ বেশী’’। আর এজন্যেই আল্লাহ তা‘আলা মদ পান করা মানুষের জন্য হারাম করে দিয়েছেন।

এখন কথা হলো- কর্মের মাঝে ক্লান্তি-শ্রান্তি ও দুশ্চিন্তা দূর করার জন্য ইসলামী বিধান মুতাবিক ‘মিসওয়াক’ করা, ‘উয’ করা বা ‘উযূ করে দু‘রাক‘আত নামায পড়া’, গরম দুধ ও চা পান করা বা কিছু নাশতা করা- ইত্যাদি মাধ্যমগুলি গ্রহণ করা যেতে পারে। তাই বলে তো ক্লান্তি-শ্রান্তি ও দুশ্চিন্তা দুর করার অজুহাতে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল প্রদর্শিত হালাল পদ্ধতিগুলি বাদ দিয়ে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নিষেধকৃত হারাম বস্তুগুলি খাওয়া, এটা কেমন ধরণের ঘৃণিত ও পাপের কাজ? একবার ভেবে দেখুনতো। প্রকাশ থাকে যে, পানের সাথে যে সম¯ত জর্দা, বা কাঁচা তামাক খাওয়া হয়, এমনিভাবে যে সমস্ত গুল ব্যবহার করা হয় মোটকথা যার দ্বারা নেশা হয় এ ধরণের সমস্ত জিনিস খাওয়া বা ব্যবহার করা হারাম। কেননা বাস্তবে দেখা গেছে যে, একজন পানে তামাক খাওয়ায় অভ্যস্ত- কিন্তু ঘটনা ক্রমে যদি সে তামাকের পরিমাণ একটু বেশী মুখে দিয়ে ফেলে তাহলে অবশ্যই সে মাথাঘুরে পড়ে যাবে। অপরদিকে একজন অনভ্যস্ত ব্যক্তি সে তো পানের তামাক কিছুটা মুখে দিয়ে চিবাতেই সঙ্গে সঙ্গে মাথা ঘুরে পড়ে যেয়ে কঠিন বিপদের সম্মুখীন হবে। অতএব এগুলির সবই খাওয়া ও ব্যবহার করা হারাম। এখন বলা যেতে পারে যে, বিড়ি সিগারেটের তামাক যেটা বিশেষ প্রক্রিয়ায় আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে তার বিষাক্ত ধূয়া টানা হয়, আর পানের তামাক যা শুকনা তামাক, যাকে কাঁচা পানের সাথে চিবিয়ে তার বিষাক্ত স্বাদ গ্রহণ করা হয়, এদু‘টি পদ্ধতির মাঝে কোনই পার্থক্য নেই, এ যেন একই টাকার এপিঠ ওপিঠ। অতএব সিগারেট ও হুক্কা টানা এবং পানের তামাক, জর্দা ও গুল খাওয়া ও ব্যবহার করা ইসলামী শরী‘য়াতে সবই হারাম। কেননা জনাব রাসূলুল্লা-হ (ছাল্লাল্লা-হু আলাইহি অ-সাল্লাম) বলেছেন”كُلُّ مُسْكِرٍٍ خَمْرٌ وَ كُلُّ مُسْكِِرٍ حَرَامٌ ” (مسلم)
অর্থঃ‘‘প্রত্যেক নিশাদার বস্তুই হলো মদ, আর প্রত্যেক নিশাদার বস্তুই হলো হারাম”(মুসলিম)। “مَا أَسْكَرَ كَثِيْرُهُ فَقَلِيْلُهُ حَرامٌ ” (أحْمَدُ)তিনি আরো বলেছেন, ‘‘যে বস্তুর বেশী পরিমাণ নেশা সৃষ্টি করে তার কম পরিমাণও হারাম” (আহমাদ)।

৩০-প্রকাশ থাকে যে, বেশ কয়েকটি হাদীছের আলোকে এটাই প্রমাণিত যে, ইসলামী শরীয়াত যে সমস্ত বস্তু খেতে, পান করতে এবং ব্যবহার করতে নিষেধ করেছে- সেই সমস্ত বস্তুর মূল্য গ্রহণ করা এবং সেই সমস্ত বস্তু দিয়ে ব্যবসা করাও হারাম। এ হিসাবে বিড়ি, সিগারেট এবং পানের তামাক ও জর্দা এ জাতীয় বস্তু বিক্রয় করাও হারামের ভিতর গণ্য। অতএব সাবধান!
৩১-কিছুদিন আগে বাংলাদেশের স্বাস্ত ’মন্ত্রী ডঃ মুশাররাফ হুসাইন বাংলাদেশের সংসদ অধিবেশনে ধূমপানের অপকারিতা ও তার ক্ষতিকর বিষয়গুলি বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করেন। পরিশেষে সর্বসম্মতিক্রমে সরকারীভাবে রাস্তা-ঘাটে হাটে-বাজারে, বিভিন্ন প্রকার যানবাহনে এবং সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে তথা বিভিন্ন সমাবেশে ও লোকালয়ে ধূমপান করা এবং ধূমপানের সামগ্রী অর্থাৎ বিড়ি সিগারেট ইত্যাদি বিক্রয় করা নিষিদ্ধ ও দণ্ডনীয় অপরাধ হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে ধূমপায়ীদের এবং বিড়ি সিগারেট বিক্রেতাদের শাস্তির জন্য জেল ও জরিমানার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

পরিশেষে ধূমপানকারী ভাইদের নিকট আকুল আবেদন এই যে, আপনি একজন মুসলমান, যে কোন মুহূর্তে আপনার মৃত্যুঘন্টা বেজে উঠতে পারে, আর মৃত্যুর পরে আপনার সারাটি জীবনের সকল প্রকার কর্মকাণ্ডের হিসাব মহান আল্লাহর দরবারে দিতে হবে। আর আপনি যেহেতু পরিষ্কারভাবে জানতে পারলেন যে, ধূমপান ক্ষতিকর এবং হারাম, তাই আপনার কর্তব্য হলোঃ

১. আল্লাহর উদ্দেশ্যে ধূমপানকে ঘৃণা করা।
২.এটি বর্জনের দৃঢ় সংকল্প করা।
৩. সিগারেটের পরিবর্তে দাঁতন-মিসওয়াক অথবা অন্য কোন হালাল ও পবিত্র দ্রব্য ব্যবহার করা।
৪. ধূমপায়ীদের সমাবেশে না যাওয়া।
অতএব আপনি চিরতরে ধূমপান বর্জন করার জন্যে সর্বশক্তিমান মহান আল্লাহ্র নিকট সাহায্য চান, আর প্রার্থনা করুন- হে আল্লাহ্! ধূমপানের প্রতি আমাদের অন্তরে ঘৃণা সৃষ্টি করে দিন এবং এ থেকে বাঁচার তাওফিক দিন- আমীন।

গনতন্ত্র_হারাম_স্লোগান_দাতাদের_মুখে চুন কালি দিলেন #জাকির_নায়েক

#গনতন্ত্র_হারাম_স্লোগান_দাতাদের_মুখে চুন কালি দিলেন #জাকির_নায়েক ⚘⚠
#আল্লাহর_জমিনে_ফিতনা_সৃষ্টিকারী কতাকথিত আহলে হাদিস, মুসলিম বেসে দ্বীন প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে বাধা দিতে গণতন্ত্র, ভোট দেয়া হারাম বলে ফতোয়াবাজি করে – যুব সমাজকে দ্বীন প্রতিষ্ঠার আন্দোলন হতে বিমুখ করতে! তাদের ইসলাম বিদ্বেষী এই নুংরা ফতোয়াবাজি জোরদার করতে – #প্রকাশ্য_এবং_ছুপা কথিত আহলে হাদীস জড়ো হয়ে, নানা কৌশলে ডঃ জাকির নায়েক কে ধোকা দিয়ে,বাংলাদেশী মুসলমাদের মাথা ধোলাই দেয়ার জন্য #জালিম_সরকারের মদদে বাংলা PeaceTV দখল করেছিলো – প্রধান কর্তা বানিয়েছিলো ভারতীয় নাগরিক মতি হিন্দুস্তানীকে! যে মতি হিন্দুস্তানীর ফতোয়ায় যুব সমাজের একাংশ আজ বিভ্রান্ত ! তাই আজ তারাও গায় গণতন্ত্র হারামের গান – যে জাকির নায়েকের পক্ষপাত দেখিয়ে গুছায়েছিলো তাদের দল – সেই জাকির নায়েক আজ গাইতেছেন – #গণতান্ত্রিক_পদ্ধতিতে_নির্বাচিত তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগানের প্রশংসার গান !
$সহির_নামে ওদের মাথায় গিছ গিছ করে রাজতন্ত্র আর ধর্মনিরপেক্ষতার ধ্যান!
প্রেসিডেন্ট এরদোগান #ইরানি_শিয়া রাষ্ট্রের সহযুগিতায় মীমাংসা করেছিলেন কাতার সৌদির বিবাধ!
যে ইসরাইল – এরদোগান আর ইরান কে ভাবে প্রতিপক্ষ সেই ইসরাইলকে- সৌদি রাজতন্ত্র ভাবে ঘনিষ্ট বন্ধু ! যাদের দখলে রয়েছে আজ পবিত্র মক্কা,মদিনা⚠
আল্লাহ” ভীরু নেতৃত্বের অভাবে, পুড়েছে মুসলমানের কপাল l
রক্ষা করো হে মালিক, ধ্বংস করো মুলিম বেশে আছে যত দাজ্জাল l আমিন
🌻👇 #ডঃ_জাকির_নায়েক_তুমি_কার_কে_তুমার ?
https://m.facebook.com/story.php
👇 🍀 টিভির কবলে-ছুবল!
জাকিরকে ফাঁদে জড়াতে জালিম বুবুই #দরবেশকে দিয়ে করেছিলো ১০ মিলিয়ন ডলার দান!
https://m.facebook.com/story.php

আসুন আমরা জেনে নেই মদীনার বাইরে জন্ম গ্রহণ করা আলেম এবং ইমামগণের কিছু বৃত্তান্ত ।

অনেককেই বার বার বলতে শুনি মদীনার আলেম সঠিক আর মদীনার বাইরের আলেম ঠিকনা । তবে সত্য কথা হল সাহাবা কেরাম ও তাবেয়েঈগণের পর মদীনায় তেমন উল্লেখযোগ্য আলেম আজো জন্ম গ্রহণ করেন নি ।আসুন আমরা জেনে নেই মদীনার বাইরে জন্ম গ্রহণ করা আলেম এবং ইমামগণের কিছু বৃত্তান্ত ।মাত্র ২%আলেম মদীনায় জন্মেছেন । বাকী ৯৮ % ইসলামী স্কলারই জন্মেছেন মদীনার তথা আবরবের বাইরে । নিচে মাত্র ২৫ জনের বৃত্তান্ত দিলাম । বাকিটুকু নিজেই বিচার করে নিন ।আরো জানার জন্য পড়ুন ইসলামী বিশ্বকোষ । ইসলামী ফাউন্ডেশন থেকে প্রকাশিত ।
০১/ ইমাম বুখারীঃ ১৯৪ হিজরীতে (৮১০ খ্রিস্টাব্দ) খোরাসানের বুখারা বর্তমানে উজবেকিস্তানে জন্মগ্রহণ করেন।
০২/ইমাম মুসলীমঃ ৮১৯ সনে খুরাসানের অন্তর্গত নায়সাবুরে বর্তমানে ইরানে জন্মগ্রহণ করেন ।
০৩/ ইমাম তিরমিজিঃ ২০৯ হিজরি মোতাবেক ৮২৪ খ্রিস্টাব্দে বর্তমান উজবেকিস্তানের জিহুন নদীর বেলাভূমিতে অবস্থিত বিখ্যাত শহর তিরমিজের ‘বুগ’ নামক পল্লীতে জন্মগ্রহণ করেন
০৪/ ইমাম আবু দাঊদঃ২০২ হিজরী মোতাবেক ৮১৭ খ্রিষ্টাব্দে কান্দাহার ও চিশতের নিকটবর্তী সিজিস্তানে জন্ম গ্রহণ করেন।
০৫/ ইমাম নাসাঈঃ তিনি খোরাসান বর্তমান উজবেকিস্তানের -এর অধিবাসী ও ৯১৫-১৬-এ মৃত্যুবরণ করেন।
০৬/ ইবনে মাজাহঃ তিনি ২০৯ হিজরী মোতাবেক ৮২৪ খ্রিষ্টাব্দে ইরাকের প্রসিদ্ধ শহর কাযভীনে জন্মগ্রহণ করেন ও ২৭৫ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন।
০৭/ইমাম তাহাবীঃ ইমাম আবূ জা’ফর আহমদ তাহাবী (রহ:)মিসরের ‘তাহা’ নামক জনপদের অধিবাসী হিসেবে তিনি ‘তাহাবী’ নামে পরিচিত।
০৮/ ইমাম আল-গাজ্জালিঃ ইমাম আল-গাজ্জালির ১০৫৮ সালে ইরানের খোরাসানের তুশ নগরীতে জন্মগ্রহণ এবং মৃত্যুবরণ করেন।
০৯/আবু জাফর মুহাম্মদ ইবনে জারির আল তাবারিঃ ৮৩৯ –খ্রিষ্টাব্দ বর্তমান ইরানের অন্তর্গত মাজানদারানের তাবারিস্তানে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৯২৩ খ্রিষ্টাব্দে ওফাত হয় ।
১০ / ইবনে তাইমিয়াঃ ইবনে তাইমিয়া রাহিমাহুল্লাহর জন্ম হয়েছিলো দামেস্কের হাররান প্রদেশে, আর মৃত্যু হয়েছিলো দামেস্কে।
১১/ইমাম আয-যাহাবিঃআয-যাহাবী ৫ অক্টোবর ১২৭৪ সালে দামেস্কে জন্মগ্রহণ করেন,১৩৪৮ সালে এই মহান ইমাম মৃত্যুবরণ করেন।
১২/ইবনে কাসীরঃ ইবনে কাসীরের প্রকৃত নাম ইসমাইল,আবুল ফিদা তার ডাকনাম একং ইমামুদ্দিন।তিনি সিরিয়ার বসরান মাজদল নামক স্থানে ৭০০ হিজরী সালে জন্মগ্রহণ করেন।
১৩/ নাসির উদ্দিন আলবানিঃ নাসির উদ্দিন আলবানি রহঃ ১৩৩৩ হিজরী মোতাবেক ১৯১৪ খৃষ্টাব্দে আলবেনিয়ার রাজধানী স্কোডার (Shkodër-বর্তমান নাম তিরানা) এ জন্ম গ্রহণ করেন।
১৪/ ইমাম নববীঃ ইমাম নববী রহঃ দামেস্কের অধীন “নওবি” গ্রামে মুহররম ৫, ৬৩১ হিজরী জন্ম গ্রহণ করেন।মাত্র ৪৫ বছর জীবিত ছিলেন।মৃত্যু: রজব, ৬৭৬ হিজরী।
১৫/ইবনে হাজার আসক্বালানীঃ ইবনে হাজার আসক্বালানী রহঃ এর আসল নাম হলো আহমদ বিন আলী বিন মুহাম্মদ। আবুল ফজল হলো তাঁর উপনাম। শিহাবুদ্দীন হলো তাঁর উপাধি। এছাড়া তিনি হাফেজ উপাধিতেও ভূষিত হয়েছেন। তাঁর পরিবার মূলত তিউনিসিয়ার অন্তর্গত কাবেস এলাকার অধিবাসী ছিল। পরবর্তীতে তারা ফিলিস্তিনের অন্তর্গত আসক্বালান নামক এলাকায় বসতি গড়ে। তার পরিবার আসক্বালানের অধিবাসী ছিল বলে তাকে আসক্বালানী (আসক্বালান সংশ্লিষ্ট)বলা হয়, যদিও তাঁর জন্ম মিশরে।
১৬/ ইমাম আবু হানিফাঃ ইমাম আবু হানিফা ৬৯৯ হিজরীতে ইমাম আবু হানিফা ইরাকের কুফা নগরীতে জন্মগ্রহণ করেন ।
৭৬৭ সালে আবু হানিফা কারাগারে মৃত্যুবরণ করেন।ইমাম শাফি-রঃ মতে: যে ব্যক্তি ফেকাহর জ্ঞান অর্জন করতে চায়, সে যেন ইমাম আবু হানিফা এবং তার ছাত্রদের সান্নিধ্য লাভ করে। কারণ ফেকাহর ব্যাপারে সকলেই আবু হানিফা-র মুখাপেক্ষী।
১৭/ইমাম আহমদ বিন হাম্বলঃ ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল আশ্ শায়বানী আল-মারুযী (রহ:)-এর জন্ম ১৬৪ হিজরী মোতাবেক ৭৮০ সালে বাগদাদ নগরীতে এবং বেসালও সেখানেই ২৪১ হিজরী/৮৫৫ সালে।
১৯/ইমাম শাফেয়ীঃ ইমাম শাফেয়ী (রহ:)মিসরের আসকালনা প্রদেশের গাযাহ নামক স্থানে ১৫০ হিজরী সনে জন্মগ্রহণ করেন।
২০/ইমাম মালেকঃ ইমাম মালেক ইবনে আনাস (রা:) ৯৫ হিজরী মোতাবেক ৭১৫ খৃষ্টাব্দে মদীনা মোনাওয়ারায় জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৭৯ হিজরী/৭৯৫ খৃষ্টাব্দ সালে সেখানেই বেসালপ্রাপ্ত হন।
২১/ ইমাম জালাল উদ্দীন সুয়ূতীঃইমাম হাফেয সুয়ুতী রাহিমাহুল্লাহর জন্ম ১ লা রজব, ৮৪৯ হিজরীতে মিশরের ‘আস্য়ুত্ব’ শহরে।৯১১ হিজরীতে এ যুগশ্রেষ্ঠ জ্ঞানী ও গুণী ইমামের ইনতিক্বাল হয়েছে।
২২/ মুহাম্মাদ শফী উসমানীঃমুফতী মুহাম্মাদ শফী (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) ১৩১৪ হিজরী সনের শা’বান মাসের ২১ তারিখে (২৫ জানুয়ারি ১৮৯৭ খ্রিষ্টাব্দ) অভিভক্ত ভারতে জন্মগ্রহণ করেন ।এই আলেমে দ্বীন ও মনীষী ১৩৯৬ হিজরী সনের শাওয়াল মাসের ১০ তারিখে ইন্তেকাল করেন।
২৩/ সাইয়েদ কুতুবঃসাইয়েদ কুতুব শহীদ রহঃ ১৯০৬ সালের ৯ অক্টোবর মিসরের উসইউত জিলার মুশা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন ।সাইয়েদ কুতুব ছিলেন মিসরের প্রখ্যাত আলেম ও সাহিত্যকদের অন্যতম। ছোটদের জন্যে আকর্ষণীয় ভাষায় নবীদের কাহিনী লিখে তার সাহিত্যক জীবনের সূচনা। পরবর্তীকালে ‘আশওয়াক’ (কাটা) নামে ইসলামী ভাবধারাপুষ্ট একখানা উপন্যাস রচনা করেন।ফি যিলালিল কুরআন (কুরআনের ছায়াতলে) – কুরআনের তাফসীরটি একটি বিখ্যাত ও বহুল পঠিত তাফসীর ।ইসলামী সমাজ বিপ্লবের ধারা (মা’আলিম ফিত তারিক্ব);গ্রন্থ রচনার জন্য জালিম শাষক তাঁকে ফাঁসী দিয়ে শহীদ করে ।
২৪/ সাইয়েদ আবুল আ’লা মওদুদীঃ মাওলানা মওদুদী, বা শাইখ সাইয়েদ আবুল আ’লা মওদুদী নামেও পরিচিত, ছিলেন।তিনি আওরঙ্গাবাদ (বর্তমানে মহারাষ্ট্রের মধ্যে), হায়দারাবাদ, ভারত এ জন্ম নেন ।আল্লামা মওদূদী একজন মুসলিম গবেষক, সাংবাদিক, রাজনৈতিক নেতা ও বিংশ শতাব্দীর একজন গুরুত্বপূর্ণ ইসলামী চিন্তাবিদ ও দার্শনিক।তিনি ছিলেন ২০ শতাব্দীর সবচেয়ে প্রভাবশালী মুসলিম স্কলারদের মধ্যে একজন। তিনি ইতিহাসের দ্বিতীয় এবং সর্বশেষ ব্যক্তি যাহার গায়েবানা জানাজার নামাজ পবিত্র কাবাতে পড়া হয়।ইমাম ইবনে তাইমিয়ার পর তিনি (মওদুদী) দ্বিতীয় চিন্তাবিদ যিনি আধুনিক বিশ্বে ইসলামী রাজনৈতিক চিন্তাধারা-কে প্রভাবিত করেছেন।তিনি তাফহীমুল কুরআন – তাফসির সহ শতাধিক ইসলামী ও গবেষনা গ্রন্থ রচনা করেন । কিদীয়ানীদের বিরুদ্বে কাফের ফতোয়ার ভিত্তিতে তাঁকে জালিম শাষক ফাঁসিক হুকুম দেয় ও পরে জনরোষে রহিত করে মুক্তি দেয়।
২৫/ভারতের ডাঃ জাকির নায়েক তো একজন জীবন্ত কিংবদন্তী । ওনার কথাতো সবারই জানা ।
ধন্যবাদ ।।
——–মরুচারী মুসাফির ।।

গোটা এশিয়ায় ঘুষ লেনদেনের শীর্ষে ভারত !ভারতের পরেই দ্বিতীয় পর্যায়ে রয়েছে ইন্দোনেশিয়ার ও বাংলাদেশের নাম ।

দুর্নীতির ফলে কোনো দেশের রাজস্ব আদায় কমে যায়। ফলে উন্নয়ন কর্মকা- বাধাগ্রস্ত হয়। কর ফাঁকি দেওয়ায়, যারা কর দিচ্ছেন তাদের উপর চাপ সৃষ্টি হয়। ফলে দেশের নাগরিকগণ কর দিতে নিরুৎসাহিত হন।
বিশ্বের উন্নত ও উন্নয়নশীল সব ধরনের দেশেই ঘুষ লেনদেন হচ্ছে। এটি পরিমাপ করা কঠিন হলেও সাম্প্রতিক এক হিসেবে দেখা গেছে গড়ে বছরে প্রায় দেড় থেকে দুই ট্রিলিয়ন ডলার ঘুষ লেনদেন হচ্ছে। এ পরিমাণ অর্থ বিশ্ব জিডিপির ২ ভাগের সমান। তবে আর্থ-সামাজিক ক্ষতির পরিমাণ আরো অনেক বেশি। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ‘দুর্নীতি: খরচ ও নির্মূলের কৌশল’ শিরোনামের প্রতিবেদনে এসব তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে নির্দিষ্ট করে কোনো দেশের দুর্নীতি কিংবা ঘুষের হিসাব উল্লেখ নেই। মূলত বিভিন্ন সময়ে করা অর্থনীতিবিদ ও দুর্নীতি বিরোধী সংস্থাগুলোর প্রতিবেদনের আলোকে অর্থনীতির উপর দুর্নীতির বিরূপ প্রভাব ও পরিস্থিতি উত্তরণের বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে, দুর্নীতি মোট দেশজ উৎপাদনকে (প্রবৃদ্ধি) বাধাগ্রস্ত করে। অর্থনৈতিক ও সামাজিক খরচও বেড়ে যায়। স্বচ্ছতা, প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা এবং নেতৃত্ব উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি। আইএমএফের প্রধান ক্রিস্টিন ল্যাগার্দ উল্লেখ করেন দুর্নীতির প্রত্যক্ষ অর্থনৈতিক ব্যয়ের কথা সবার জানা। কিন্তু এর পরোক্ষ খেসারত অনেক বেশি। এটা প্রবৃদ্ধিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে ও আয় বৈষম্য সৃষ্টি করছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, দুর্নীতি অর্থনৈতিক উন্নয়নকে নানাভাবে বাধাগ্রস্ত করছে। প্রথমত: দুর্নীতির ফলে কোনো দেশের রাজস্ব আদায় কমে যায়। ফলে উন্নয়ন কর্মকা- বাধাগ্রস্ত হয়। কর ফাঁকি দেওয়ায়, যারা কর দিচ্ছেন তাদের উপর চাপ সৃষ্টি হয়। ফলে দেশের নাগরিকগণ কর দিতে নিরুৎসাহিত হন। দ্বিতীয়ত: রাষ্ট্রীয় কেনাকাটায় দুর্নীতি হলে সেটি সরকারি ব্যয়ের গুণগত মান নষ্ট করে। তৃতীয়ত: রাজস্ব আদায় কম হলে কোনো দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক হতে ধার করার পরিমাণ বাড়াতে হয়। এর ফলে সেই দেশের মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে যায়। পাশাপাশি দুর্নীতির প্রভাবে আর্থিক খাতের উপর চাপ সৃষ্টি হয়। সর্বশেষ দুর্নীতির ফলে অর্থ বাজারে সাধারণের অর্থ প্রপ্তির সুবিধা কমে যায়। ফলে উৎপাদনশীল খাতে ব্যয় বৃদ্ধি পায়। দুর্নীতির ফলে আর্থিক ক্ষতি ছাড়াও সামাজিক এবং পরিবেশগত খরচও বেড়ে যায়। প্রতিবেদনে দুর্নীতি নির্মূলে কোনো দেশের প্রতি সরাসরি পরামর্শ দেওয়া হয়নি। তবে বিভিন্ন সামগ্রিক বিবেচনায় কিছু সুপারিশে উল্লেখ করা হয়েছে, দুর্নীতিবিরোধী লড়াইয়ের কৌশলে স্বচ্ছতা, স্পষ্ট আইনি রূপরেখা থাকা প্রয়োজন। সেইসঙ্গে প্রয়োজন গণমাধ্যমের স্বাধীনতা।
বিপদে ১০০০ ডলার খরচের সামর্থ্য নেই দুই-তৃতীয়াংশ মার্কিনির
আমেরিকা বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতি এবং একক সুপারপাওয়ার। তবে বেশিরভাগ আমেররিকানের আর্থিক অবস্থাই অত্যন্ত শোচনীয়। নতুন এক জরিপে দেখা যাচ্ছে, জরুরি প্রয়োজনের সময় ১ হাজার ডলার বা ৮০ হাজার টাকার যোগান দেয়ার সামর্থ্য নেই ­
এপি প্রকাশিত এক জরিপে এই বিস্ময়কর তথ্য পাওয়া গেছে। এপি এবং এনওআরসি সেন্টার জরিপটি পরিচালনা করেছে। জরিপে দেখা যায়, আর্থিক এই দুরাবস্থা আমেরিকার সব শ্রেণির লোকদের। দেশটির ৭৫ ভাগ পরিবারের বার্ষিক আয় ৫০,০০০ ডলার (প্রায় ৪০ লাখ টাকা) হলেও বিপদাপদে ১ হাজার ডলার খরচ করার সামর্থ্য তাদের নেই।
তবে যেসব পরিবারের আয় ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ ডলার তাদের এই দুরাবস্থা ৬৭ ভাগ কম।
এমনকি দেশটির সবচেয়ে ধনী ২০ ভাগ, যাদের বার্ষিক আয় ১ লাখ ডলারের বেশি, তদেরও ৩৮ ভাগ বলেছেন যে বিপদাপদে ১ হাজার ডলার যোগান দেয়া তাদের জন্য কঠিন। যেমন হ্যারি স্প্যাঙ্গলের কথাই ধরুন। নিউ জার্সির ৬৬ বছর বয়সী সাবেক এই ইলেকট্রিসিয়ান ভাবতেন তার চাকরি কখনো যাবে না এবং তিনি যা পাও খরচ কর নীতিতে চলতেন।
কিন্তু আমেরিকায় মন্দা শুরু হলে তিনি বেকার হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, ১ হাজার ডলারের জরুরি প্রয়োজন হলে তিনি বন্ধু-বান্ধবদের কাছ থেকে ধার নিতেন।
তবে এসব সত্ত্বেও গড়পড়তা আমেরিকানদের দিন খারাপ যায় না। তারা প্রাত্যহিক ব্যয় ভালোভাবেই সামাল দেন।
বেশিরভাগ আমেরিকান বলেছেন, বেকার হলে কিংবা চিকিৎসার জন্য ১ হাজার ডলার প্রয়োজন হলে তারা হাতের নগদ অর্থ থেকে সেটা মেটাবেন। এক তৃতীয়াংশ আমেরিকান বলেছেন, তারা ব্যাংক থেকে ঋণ নেবেন কিংবা বন্ধুদের কাছ থেকে ধার করবেন অথবা ক্রেডিট কার্ডের ওপর নির্ভর করবেন।
১৩ ভাগ বলেছেন, তারা অন্যান্য বিল পরিশোধ হয়তো বন্ধ রাখবেন আর ১১ ভাগ বলেছেন, তারা ওই বিল আদৌ পরিশোধই করবেন না।
এই জরিপে দেখা যাচ্ছে, বেশিরভাগ আমেরিকানের ১ হাজার ডলার জমা বা সঞ্চয় নেই।
[সূত্র : বিবিসি]

গোটা এশিয়ায় ঘুষ লেনদেনের শীর্ষে ভারত !ভারতের পরেই দ্বিতীয় পর্যায়ে রয়েছে ইন্দোনেশিয়ার ও বাংলাদেশের নাম ।
তাছাড়া ভারতীয়রা দুনিয়ার যেখানেই থাকুক , ঘুষ লেনদেনের একটা ক্ষেত্র তারা তৈরী করেই ফেলবে । লজ্জার পরিবর্তে ঘুষ খাওয়াকে ভারতীয়রা স্মার্টনেস মনে করে ।
“ঘুষ দেয়া-নেয়া আমাদের সংস্কৃতির এক অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠেছে। দুর্নীতির সবচেয়ে প্রকট অংশ ঘুষ। বিশ্বের সব দেশেই কমবেশি ঘুষ লেনদেনের ঘটনা ঘটে । কাজ পাওয়ার জন্য বা অপরাধ থেকে বেঁচে যেতে ঘুষ দেয়া-নেয়ার ঘটনা হরহামেশাই ঘটছে। তবে ঘুষের লেনদেনের এমন ঘটনাগুলো আড়ালেই থেকে যায় বেশিরভাগ ক্ষেত্রে
তবে এবার একটি আন্তর্জাতিক সমীক্ষার রিপোর্টে জানা গেলো, ঘুষ দেয়া-নেয়ার কর্মকান্ডে গোটা এশিয়ায় সবার ওপরে অবস্থান করছে আমাদের প্রতিবেশি দেশ ভারত। সমীক্ষার ফলাফল বলছে, প্রতি ১০ জন নাগরিকের ৭ জনকেই কোনো না কোনো কারণে ঘুষ দিতে হয় ভারতে ।
অন্যদিকে এই দুর্নীতির পরিমাণ সবথেকে কম জাপানে। জাপানে দুর্নীতির পরিমাণ সবচেয়ে কম। সেখানে ঘুষ চাওয়ার প্রবণতাও কম। সমীক্ষা বলছে, জাপানে মাত্র ০ দশমিক ২ ভাগ মানুষকে বিভিন্ন পরিষেবা পেতে ঘুষ দিতে হয়।
আন্তর্জাতিক দুর্নীতি পর্যবেক্ষক সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের সাম্প্রতিক এক গবেষণায় জানানো হয়েছে, সম্প্রতি ১৬টি এশীয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশের মধ্যে ঘুষ লেনদেনের প্রবণতা নিয়ে এই সমীক্ষা চালায় তারা।
সমীক্ষার তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে ঘুষ চাওয়ার প্রবণতা সবচেয়ে বেশি ভারতে। জন্ম থেকে মৃত্যু, স্কুল বা হাসপাতালে ভর্তি, সরকারি দপ্তর, পুলিশ বা আদালতে কোনো কাজ করাতে গেলে ঘুষ দিতেই হয়।
সমীক্ষার রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতে সবচেয়ে বেশি ঘুষ দিতে হয় স্বাস্থ্যক্ষেত্রে। এর পরেই শিক্ষাক্ষেত্র। স্বাস্থ্যক্ষেত্রে ৫৯ ভাগ এবং শিক্ষাক্ষেত্রে ৫৮ ভাগ মানুষকে ঘুষ দিতে হচ্ছে।
সমীক্ষার রিপোর্টে ভারতের পরেই দ্বিতীয় পর্যায়ে রয়েছে ইন্দোনেশিয়ার ও বাংলাদেশের নাম । সেখানে গড়ে ৬৫ ভাগ মানুষের ঘুষ দেওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে।
পরের তালিকায় এসেছে মালয়েশিয়ার নাম। ঘুষ লেনদেনের পরিমান সেখানে ৫৯ শতাংশ। পর্যায়ক্রমে ভিয়েতনাম ৫৬ শতাংশ, সাউথ কোরিয়া ৫০ শতাংশ।
পরের তালিকায় রয়েছে থাইল্যান্ড। সেখানে ৪১ শতাংশ মানুষ ঘুষের লেনদেন করেন। চতুর্থ তালিকায় রয়েছে, কম্বোডিয়া, পাকিস্তান ও মিয়ানমারের নাম। এই তিনটি দেশে গড়ে ৪০ শতাংশ মানুষকে ঘুষ লেনেদেনের সাথে যুক্ত থাকার কথা বলা হয়েছে সমীক্ষার রিপোর্টে ।
পঞ্চম তালিকায় এসেছে চীনের নাম । সেখানে মাত্র ২৬ শতাংশ ঘুষ লেন দেনের ঘটনা ঘটে। সমীক্ষায় জানানো হয়েছে চীনে ৭৩ ভাগ মানুষ মনে করেন ঘুষের ঘটনা সেদেশে কমতে শুরু করেছে।

আগের দিনে বিয়ে মানেই ছিল আনন্দ । আর বর্তমানে বিয়ে মানেই হলো আতঙ্ক

আগের দিনে বিয়ে মানেই ছিল আনন্দ । আর বর্তমানে বিয়ে মানেই হলো আতঙ্ক । আগের দিনে বিয়ের দাওয়াত পেলে মানুষের মন ভরে যেতো , আর বর্তমানে ব্লাড প্রেসার বেড়ে যায় । কারণ আজকাল বিয়ে বাড়ী মানেই হলো হাইজ্যাকারের বাড়ী । বিয়ে বাড়ীতে প্যান্ডেলের গেটেই এখন টেবিল চেয়ার নিয়ে নিঃর্লজ্জের মত উপহারের জন্য বসে থাকে আর এতিমের মত তাকিয়ে থাকে দাওয়াতী মেহমানের হাতের দিকে । । মনে হয় রেস্টুরেন্টের ক্যাশ কাউন্টার । রেস্টুরেন্টের বাকী খাওয়া গেলেও এই বিয়ে বাড়ীর অভিনব রেস্টুরেন্টে বাকী খাওয়ার সুযোগ নেই । রক্ত বিক্রি করে হলেও/ ছেলের স্কুলের বেতন না দিয়ে হলেও/ ঔষধ না কিনে হলেও আপনাকে এখানে নগদ Pay করতে হবে । মানুষের দৃষ্টভঙ্গী এত নিচে নেমেছে যে আজকাল বহু মানুষ বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজন করে উপহার তথা টাকা পাওয়ার আশায় ।অনেকেতো আগেই হিসাব করে- কত টাকা খরচ হবে আর কত টাকার উপহার আসবে । ইদানিং না্কি কুলখানিতে টাকা নেয়া হয় ।
যাইহোক, বিয়েতে আমরা খামে ভরে টাকা দিয়ে আসি অনিচ্ছা সত্বেও । অথচ বিয়েটা হয় পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী এবং প্রয়োজনীয় টাকা হাতে নিয়েই শরু করে । বিয়েতে টাকা না দিলেও নিকৃষ্ট সমালোচনা ছাড়া কিছু করতে পারবেনা ।
পক্ষান্তরে, রোগ-ব্যধী বিনা নোটিশেই চলে আসে এবং আমরা হাসপাতালে বা বাড়ীতে রোগী দেখতে যাই । আমি মধ্যপ্রাচ্যে দেখেছি আরবরা বিয়েতে কিছু না দিলেও রোগীকে তারা কিছু না কিছু দেবেই । এটা সুন্নত এবং রোগী তাতে শান্তি পায় ফলে তার রোগ দ্রুত ভাল হতে সাহায্য করে । আমরা কি রোগীকে খামে ভরে টাকা দিয়ে আসতে পারিনা ?
চলুন আমরা ভাল কিছুর প্রচলন করি । আসুন আমরা নতুন করে এই পদ্ধতি শুরু করি । আসুন আমরাই প্রথম শুরু করি । দায় সারার জন্য কলা- রুটি আর ফরমালিনযুক্ত আপেল- কমলা না নিয়ে আমরা খামে ভরে রোগীক ৫০০/১০০০ টাকা দিতে পারি । তাতে সওয়াব যেমন হবে তেমনি মিটে যাবে রোগীর আর্থিক সমস্যা ।

মাওলানা ফরিদ উদ্দিন মাসউদ

শাহবাগ বললে যে নামটি অবধারিতভাবে সামনে চলে আসে, সেটিহল মাওলানা ফরীদ উদ্দিন মাসঊদ। ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ফোন করলাম তাঁকে। সবেমাত্র ইন্ডিয়া থেকে বাইপাস সার্জারি করিয়ে এসেছেন। বেশি কথা বলা ডাক্তারের নিষেধ। তবুও কথা বললেন। শুরু করলাম এভাবে—

-আপনি শাহবাগ আন্দোলনের সাথে একাত্মতা জানিয়েছিলেন। তার মানে তারা সঠিক ছিল? যা করছিল ঠিকই করছিল?

মাওলানা মাসঊদ : আমি যখন শাহবাগ আন্দোলনের সাথে একাত্মতা জানিয়েছিলাম, তখন তাদেরকে সঠিকই মনে করেছিলাম এবং এখনো তা-ই মনে করি।

রশীদ জামীল : যখন এবং ছিল, তার মানে পরে তারা আর সঠিক ছিল না বা আপনার কাছে সঠিক মনে হয়নি। যদি তা-ই হয়, তাহলে প্রতিবাদ করলেন না তো?

মাওলানা মাসঊদ : প্রতিবাদ করলাম না…কথাটা সঠিক নয়। যখন শাহবাগের সাথে অ্যান্টি ইসলাম কিছু নাস্তিকের সম্পৃক্ততার কথা প্রকাশিত হয়েছে, তখন আমি প্রতিবাদ করেছি। এখনো আমার প্রতিবাদের অনেক ভিডিও ক্লিপ ইউটিউবে সার্চ করলে পাবেন।

রশীদ জামীল : কিন্তু তখন শাহবাগের পক্ষে আপনার নেওয়া অবস্থানের ব্যাপারটি যেভাবে ফলাও করে প্রকাশ করেছিলেন, প্রতিবাদের ব্যাপারটি তো সেভাবে প্রচার করলেন না।

মাওলানা মাসঊদ : দেখুন মাওলানা, কোনোটাই আমি ফলাও করে প্রচার করিনি। আমি যখন শাহবাগে গিয়েছিলাম, তখন সেই ব্যাপারটিকে জামায়াত-শিবিরের লোকজন ব্যাপকভাবে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে আমার কওমি আলেম-ওলামার সরল আবেগটাকে আমার বিরুদ্ধে টেনে নিতে চেষ্টা করেছে এবং অনেকাংশে সফলও হয়েছে। কিন্তু নাস্তিকতার বিরুদ্ধে আমার বক্তব্য বা অবস্থানের ব্যাপার কেউ সেভাবে সামনে নিয়ে আসেনি।

রশীদ জামীল : আপনি শাহবাগ গেলেন, শাপলায় গেলেন না কেন? যে চেতনা থেকে শাহবাগ গিয়েছিলেন বলে আপনার দাবি, সেই একই চেতনা থেকেই তো উচিত ছিল শাপলায় যাওয়া এবং আলেম-ওলামার সাথে একাত্মতা জানানো।

মাওলানা মাসঊদ : আমি শাপলায় কীভাবে যাব। সেই রাস্তা তো আমার জন্য বন্ধ করে রাখা হয়েছিল।

রশীদ জামীল : কারা বন্ধ করে রাখল? কীভাবে করল?

মাওলানা মাসঊদ : আমি কারও নাম নিতে চাই না। হেফাজতের ইসলামের ভেতরের কিছু মানুষ চাননি আমি আল্লামা শাহ আহমদ শফী দামাত বারাকাতুহুমুল আলিয়ার কাছে যাই। সবসময় তাঁরা একটি প্রতিবন্ধকতার দেয়াল খাড়া করে রেখেছেন।

রশীদ জামীল : আপনি তখন আল্লামা আহমদ শফীকে চিঠি লিখেছিলেন। সেই চিঠিতে আপনি তাঁকে অনুরোধ জানিয়েছিলেন আন্দোলন প্রত্যাহার করে নিতে। কেন করেছিলেন? আর কিছু বলার থাকলে সরাসরি চট্টগ্রাম চলে যেতে পারতেন। হুজুরের সাথে ফেইস টু ফেইস হয়ে কথা বলতে পারতেন—যেটুকু আপনার বলার ছিল।

মাওলানা মাসঊদ : আমি আন্দোলন প্রত্যাহারের জন্য অনুরোধ জানাইনি। আমি অনুরোধ জানিয়েছিলাম দাবিগুলোর সাথে আরেকটি দাবি যুক্ত করে নিতে। সেটি হলো জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করা। আর আমি হুজুরের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেছি। আমাকে হুজুরের সাথে কথা বলতে দেওয়া হয়নি। বার বার ফোন করার পরও আমাকে জানানো হয়েছে ‘হুজুর অসুস্থ। কথা বলতে পারবেন না’।

রশীদ জামীল : আমি জানি না কথাটি সত্যি কি না। এক সাক্ষাৎকারে আপনি বলেছিলেন, ‘শাহবাগে গিয়ে আমি আমার জীবনের সবচে বড় নেক কাজ করেছি’। কথাটি যদি একটু ব্যাখ্যা করতেন?

মাওলানা মাসঊদ : কথাটি আমি ঠিক কীভাবে বলেছিলাম আমার মনে নেই। তবে এটুকু মনে আছে যে, এমন একটি কথা আমি বলেছিলাম। কথাটির ব্যাখ্যা হলো, আমি আজীবন মওদুদিবাদের বিরোধিতা করে আসছি। এই মিশন নিয়ে আমি কাজ করছি সারাজীবন। এই কাজটি আমি পেয়েছি আমার আকাবির-আসলাফ তথা ওলামায়ে দেওবন্দের কাছ থেকে। আপনি জানেন, মওদুদিয়্যতের সাথে আমাদের মূল বিরোধটা হলো আকাইদ সংক্রান্ত। ইসমতে আম্বিয়া এবং আদালতে সাহাবা সংক্রান্ত। মওদুদিরা আম্বিয়া আলাইহিমুস সালামকে ‘মাসুম আনিল খাতা’ মানে না। সাহাবায়ে কেরামকে সমালোচনার ঊর্ধ্বে স্বীকার করে না। আর ইসমতে আম্বিয়া এবং আদালতে সাহাবা অস্বীকারকারীদের বিরোধিতা করাকে আমি একটি নেক কাজ এবং শ্রেষ্ঠ ইবাদত মনে করি। শাহবাগের জমায়েতকে আমার কাছে একটি সুবর্ণ সুযোগ মনে হয়েছিল। আমার কাছে মনে হয়েছিল সাহাবার দুশমনদের বিরুদ্ধে এটি একটি শক্ত অবস্থান। এই সুযোগকে কাজে লাগানো যেতে পারে। এই নেক নিয়তেই আমি সেখানে গিয়েছিলাম।

রশীদ জামীল : কিন্তু এই নেক কাজটি করতে আপনি এমন জায়গায় চলে গেলেন, যেখানে নাচ-গান-বাজনা এবং ছেলেমেয়েদের বেপর্দা সহাবস্থান ছিল। কীভাবে ব্যাখ্যা করবেন?

মাওলানা মাসঊদ : ……………………

রশীদ জামীল : একটি টেলিভিশন টকশোতে আপনি বলেছিলেন, ‘আমি ইস্তেখারা করে শাহবাগে গিয়েছিলাম’। ইস্তেখারাটির কি একটু ব্যাখ্যা করবেন?

মাওলানা মাসঊদ : ………………………
.
বিস্তারিত, বহুবচন, পৃষ্ঠা-৩১৫
বিশ্বাসের বহুবচন প্রকাশ করছে কালান্তর
পাওয়া যাবে ১৩ মে ২০১৮ থেকে, সারাদেশে।
(বহুবচনে সকল লভ্যাংশ শাপলায় ক্ষতিগ্রস্ত অসহায়দের জন্য উৎসর্গিত)

বাংলাদেশে সমকামিতার উত্থান , প্রতিরোধের এখনি সময় ।


সমকামিতা বলতে বোঝায়, সমলিঙ্গের ব্যক্তির প্রতি স্নেহ বা প্রণয়ঘটিত এক ধরণের যৌন প্রবণতা। এ প্রবণতা কি ব্যধি না সুস্থ মানসিকাতর যৌন আকাক্সক্ষা? বিষয়টি বিতর্কের। তবে সমকামিতা যে কোনো ধর্মেই নিষিদ্ধ। ধর্মে কোনো কিছু নিষিদ্ধের একটি কারণ হচ্ছে তা সমাজের জন্য ক্ষতিকর। ধর্ম কোনো ক্ষতিকর বিষয়কে সমাজের জন্য অনুমতি দেয় না।
পশ্চিমা বিশ্বে সমকামিতার বৈধতা নিয়ে আন্দোলন চললেও এবার তা শুরু হয়েছে বাংলাদেশেও। সমকামীদের একটি গ্রুপ এই প্রথম সমকামী নারী কমিক চরিত্র তৈরি করেছে। গ্রুপটি বলছে, সমকামিতার ব্যাপারে লোকজনকে সচেতন করতেই তাদের এই উদ্যোগ।
তাদের শ্লোগান কমিক স্ট্রিপের এই কার্টুন চরিত্রটির মধ্য দিয়ে সারা দেশে ভালোবাসার স্বাধীনতার বার্তা পৌঁছে যাবে। তারা বলছেন, কে কাকে ভালোবাসবে এই সিদ্ধান্ত ও স্বাধীনতা তার নিজের। বাংলাদেশে সমকামিতা অপরাধ হিসেবে বিবেচিত। এ জন্যে সমকামী নারী ও পুরষকে গোপনে তাদের জীবন যাপন করতে হয়!
সমকামিতার বৈধতার চ্যালেঞ্জ নিয়ে মাঠেও নেমেছে সমকামীরা। ২০১৪ সালের বাংলা নববর্ষে প্রথম সমকামীরা র‌্যালি বের করে। সম্প্রতি সমকামীদের সম্মেলনও হয়ে গেল। দিন যেতে যেতে সমকামিদের আন্দোলন আরও তীব্র হবে। বিষয়টি নিয়ে ভাবতে হচ্ছে সুশীল সমাজকে।
ইসলামে সমকামিতাকে ব্যভিচারের চেয়েও ভয়ঙ্কর ঘোষণা করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা হযরত লুত আ. এর কালের লোকদের শুধুমাত্র এই কারণেই সমূলে ধ্বংস করে দিয়েছিলেন যে, তারা সমকামী ছিল।
কোরআনে সমকামীদের শাস্তির ঘটনাটি বর্ণিত হয়েছে এভাবে “আর তাঁর কওমের লোকেরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে তার (গৃহ) পানে ছুটে আসতে লাগল। পূর্ব থেকেই তারা কু-কর্মে তৎপর ছিল। লুত আ. বললেন-হে আমার কওম! আমার কন্যারা রয়েছে, এরা তোমাদের জন্য অধিক পবিত্রতমা। সুতরাং তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং অতিথিদের ব্যাপারে আমাকে লজ্জিত করো না, তোমাদের মধ্যে কি কোন ভাল মানুষ নেই।
তারা বলল, তুমি তো জানই, তোমার কন্যাদের নিয়ে আমাদের কোন আগ্রহ নেই। আর আমরা কি চাই, তাও তুমি অবশ্যই জান।
লূত আ. বললেন-হায়, তোমাদের বিরুদ্ধে যদি আমার শক্তি থাকত অথবা আমি কোন সুদৃঢ় আশ্রয় গ্রহণ করতে সক্ষম হতাম।
মেহমান ফেরেশতারা বললেন, হে লূত! আমরা তোমাদের পালনকর্তার পক্ষ হতে প্রেরিত ফেরেশতা। এরা কখনো তোমার দিকে পৌঁছাতে পারবে না। ব্যস তুমি কিছুটা রাত থাকতে থাকতে নিজের লোকজন নিয়ে বাইরে চলে যাও। আর তোমাদের কেউ যেন পিছনে ফিরে না তাকায়। কিন্তু তোমার স্ত্রী নিশ্চয় তার উপরও তা আপতিত হবে, যা ওদের উপর আপতিত হবে। ভোর বেলাই তাদের প্রতিশ্রুতির সময়, ভোর কি খুব নিকটে নয়?
অবশেষে যখন আমার হুকুম এসে পৌঁছাল, তখন আমি উক্ত জনপদকে উপরকে নিচে করে দিলাম এবং তার উপর স্তরে স্তরে কাঁকর পাথর বর্ষণ করলাম। {সূরা হুদ-৭৮-৮২}
সমকামিতার কারণে হযরত লুতের উম্মতদের ধ্বংস করার বর্ণনা আল্লাহ তায়ালা এভাবেই কোরআনে এনেছেন। ব্যভিচারের কারণে আল্লাহ তায়ালা কোনো জনপদকে ধ্বংস করে দিয়েছেন এমন ঘটনা কোরআনের কোথাও উল্লেখ নেই। এতে স্পষ্ট হয় ব্যভিচারের চেয়েও সমকামিতা আল্লাহর নিকট সবচেয়ে বড় অপরাধ।
হাদিসে সমকামিতাকে জ্বেনার সমতুল্য বলে আখ্যায়িত করে কঠিন শাস্তির কথা বর্ণিত হয়েছ। হযরত আবু মুসা আশআরী রা. থেকে বর্ণিত। রাসুল সা. বলেছেন, যে পুরুষ পুরুষের সাথে নোংরা কাজে লিপ্ত হয়, উভয়ে ব্যভিচারকারী হিসেবে সাব্যস্ত হবে। তেমনি যে নারী আরেক নারীর সঙ্গে কুকর্মে লিপ্ত হয় উভয়ে ব্যভিচারকারী হিসেবে সাব্যস্ত হবে। (শুয়াবুল ঈমান)
হযরত ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত। রাসুল সা. ইরশাদ করেছেন, লুত আ. এর কওমের মত কুকর্মে লিপ্ত উভয়কে হত্যা করে ফেল। (মুসনাদে আহমাদ, সুনানে ইবনে মাজাহ,সুনানে আবু দাউদ)
“ইবনে আব্বাস বলেন, রাসুল (স) বলেছেন, তোমরা যদি কাউকে পাও যে লুতের সম্প্রদায় যা করত তা করছে, তবে হত্যা কর যে করছে তাঁকে আর যাকে করা হচ্ছে তাকেও।” (আবু দাউদ ৩৮:৪৪৪৭)
“জাবির (রা) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা) বলেছেন, আমি আমার উম্মতের জন্য সবচেয়ে বেশি যে জিনিসটা আশঙ্কা করি সেটা হল লুতের উম্মত যা করত সেটা যদি কেউ করেৃ ” (তিরমিজি)
কোরআন হাদিসে এভাবেই সমকামকে কঠিন অপরাধ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। শুধু অপরাধ নয়, সমকামিতার কারণে ভয়াবহ শাস্তিও নেমে আসার হুমকি দেওয়া হয়। শাস্তি যখন আসবে শুধুমাত্র সমকামীদের ওপর নয়, ভাল মন্দ সবার ওপরেই আসবে।

ফেইসবুকের বিভিন্ন funny এ্যাপ কেড়ে নিচ্ছে মুসলিমদের ঈমান!

আমার wife কেমন হবে, আমার gf কেমন
হবে,আমার কয়টি বাচ্চা হবে, ২০ বছর পর আমি
দেখতে কেমন হব, বলে যারা বিভিন্ন পোষ্ট
করছেন তারা নিজের অজান্তেই নিজের ঈমান
হারিয়ে ফেলেছেন!

ভাই আপনারা কি আমার এই কথায় আশ্চর্য হচ্ছেন?
এতে আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই যেটা সত্য সেটাই
বললাম..

আপনি ফেইসবুকের যেসব এ্যাপ ইউজ করে
নিজের ভবিষ্যৎ জেনে নিচ্ছেন তা আপনার নিজের
অজান্তেই আপনাকে মুশরিক বানিয়ে ফেলেছে!
বানিয়ে ফেলছে আপনাকে কাফির ! বের করে
দিচ্ছে আপনাকে মুসলিম মিল্লাত থেকে!
তওবা করে ফিরে আসুন..

ভাই আপনারা হয়তো ফান করার জন্যই পোষ্ট গুলি
করছেন কিন্তুু এটা এমন এক বিষয় নিয়ে ফান করা
হচ্ছে যা আপনার ঈমান ধ্বংস করে দিচ্ছে!

আপনি যে এপের আশ্রয় নিয়ে নিজের ভবিষ্যৎ
জানলেন তাকে ইসলামী পরিভাষায় গায়িব বলা হয় বা
ভবিষ্যৎ বক্তা বা গনকের কথা বিশ্বাস করাকে বুঝায়!

মনে রাখতে হবে পৃথিবীর কোন এ্যাপ গনক শুধু
নয় পৃথিবীতে যত নবী রাসুল এসেছিলেন তারা
কেউই গায়িব বা ভবিষ্যৎ জানতেন না! অথচ আপনি
বিশ্বাস করছেন একটি এ্যাপ আপনার ভবিষ্যৎ জানে!
আস্তাগফিরুল্লাহ!
আল্লাহ বলেনঃ
ﻗُﻞ ﻟَّﺎ ﻳَﻌْﻠَﻢُ ﻣَﻦ ﻓِﻰ ﭐﻟﺴَّﻤَٰﻮَٰﺕِ ﻭَﭐﻟْﺄَﺭْﺽِ ﭐﻟْﻐَﻴْﺐَ ﺇِﻟَّﺎ ﭐﻟﻠَّﻪُ ﻭَﻣَﺎ
ﻳَﺸْﻌُﺮُﻭﻥَ ﺃَﻳَّﺎﻥَ ﻳُﺒْﻌَﺜُﻮﻥَ
বলুন, আল্লাহ ব্যতীত নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলে
কেউ গায়বের খবর জানে না এবং তারা জানে না যে,
তারা কখন পুনরুজ্জীবিত হবে।
সূরা আন নম্ল ( ﺍﻟﻨّﻤﻞ ), আয়াত: ৬৫

উপরের আয়াতটি ভালভাবে দেখুন যেখানে
পৃথিবীর কেউই গায়িব জানেনা একমাত্র আল্লাহ ছাড়া
সেখানে আপনি একটি এ্যাপকে গায়িব জানে বলে
বিশ্বাস করছেন! যেটা সরাসরি আল্লাহর সাথে শরিক
করা..

রাসুল ﷺ বলেনঃ যে ব্যাক্তি কোন
ভবিষ্যৎ বক্তা তথা গনক এ্যাপ পীর জ্বীনের কথা
বিশ্বাস করে সে আমার উপর নাযিলকৃত কোরআন
হাদিস অস্বীকার করল!
বলুনতো, যে ব্যাক্তি কোরআন হাদিস অস্বীকার
করে সে কি মুসলিম হতে পারে??
অবশ্যই না!
ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻲ ﻫُﺮَﻳْﺮَﺓَ ﻭَﺍﻟْﺤَﺴَﻦِ ﻋَﻦ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲِّ ﷺ
ﻗَﺎﻝَ ﻣَﻦْ ﺃَﺗَﻰ ﻛَﺎﻫِﻨًﺎ ﺃَﻭْ ﻋَﺮَّﺍﻓًﺎ ﻓَﺼَﺪَّﻗَﻪُ ﺑِﻤَﺎ ﻳَﻘُﻮﻝُ ﻓَﻘَﺪْ ﻛَﻔَﺮَ
ﺑِﻤَﺎ ﺃُﻧْﺰِﻝَ ﻋَﻠَﻰ ﻣُﺤَﻤَّﺪٍ ﷺ
আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘যে ব্যক্তি কোন ভবিষ্যৎ
বক্তার নিকট উপস্থিত হয়ে সে যা বলে তা সত্য
মনে (বিশ্বাস) করল, সে ব্যক্তি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপর অবতীর্ণ (কুরআনের
হাদিস ) অস্বীকার করল।’’
গ্রন্থঃ হাদীস সম্ভার
অধ্যায়ঃ ২২/ নিষিদ্ধ কার্যাবলী
হাদিস নম্বরঃ ২০৫৩
আহমাদ ৯৫৩৬, হাকেম ১৫, সহীহুল জামে’ ৫৯৩৯,
ইবনু মাজাহ ৬৩৯, তিরমিজি ১৩৫ ইফাঃ
হাদিসের মানঃ সহিহ
অভিশপ্ত শয়তান আপনাদের কোথায় নিয়ে যাচ্ছে তা
কি একটুও ভাববেন না??
রাসুল ﷺ আরো বলেন,যে ব্যাক্তি
কোন ভবিষ্যৎ বক্তার কথা বিশ্বাস করে তার চল্লিশ
দিনের সালাত কবুল হবেনা!
ﻭَﻋَﻦْ ﺻَﻔِﻴَّﺔَ ﺑِﻨﺖِ ﺃَﺑِﻲ ﻋُﺒَﻴﺪٍ ﻋَﻦ ﺑَﻌﺾِ ﺃَﺯﻭَﺍﺝِ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲِّ
ﷺ ﻭَﺭَﺿِﻲَ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻨﻬَﺎ ﻋَﻦِ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲِّ
ﷺ ﻗَﺎﻝَ ﻣَﻦْ ﺃَﺗَﻰ ﻋَﺮَّﺍﻓﺎً ﻓَﺴَﺄَﻟَﻪُ ﻋَﻦْ ﺷَﻲْﺀٍ
ﻟَﻢْ ﺗُﻘْﺒَﻞْ ﻟَﻪُ ﺻَﻼَﺓٌ ﺃَﺭْﺑَﻌِﻴﻦَ ﻟَﻴﻠَﺔ ﺭﻭﺍﻩ ﻣﺴﻠﻢ
স্বাফিয়্যাহ বিনতে আবূ উবাইদ নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লাম এর কোন স্ত্রী (হাফসাহ রাযিয়াল্লাহু
আনহা) হতে বর্ণনা করেছেন, নাবী সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি গণকের
নিকট এসে কোন (গায়বী) বিষয়ে প্রশ্ন করে,
তার চল্লিশ দিনের নামায কবুল করা হয় না।’
গ্রন্থঃ সহীহ মুসলিম (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ৪০/ সালাম ( ﻛﺘﺎﺏ ﺍﻟﺴﻼﻡ )
হাদিস নম্বরঃ ৫৬২৭
হে আমার মুসলিম ভাইয়েরা শয়তানের ফাঁদে পড়ে
কেন এভাবে নিজের ঈমান বিসর্জন দিচ্ছেন? ?
একটু ফান করতে গিয়ে শয়তান আপনাকে কাফির
মুশরিকে পরিনত করছে অথচ আপনি টেরও
পাচ্ছেন না!
কবে ফিরবে আপনাদের হুশ??

অর্থ ছাড়া সৌদির আর কিছুই নেই: ট্রাম্প

সৌদি আরবকে নিয়ে ফের উপহাস করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, সৌদি আরবের অর্থ ছাড়া আর কিছুই নেই।

ফক্স নিউজ’কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে সৌদি আরবের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন ট্রাম্প। এবং এটাকে তিনি নিজের জন্য গর্ব হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

গত বছরও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছিলেন, তাদের সেনা-সমর্থন ছাড়া সৌদি রাজা সালমান দুই সপ্তাহও ক্ষমতায় থাকতে পারবেন না। মার্কিন সরকারই সৌদি আরবকে রক্ষা করছে বলে তিনি জানিয়েছিলেন।

এছাড়াও ফক্স নিউজের উপস্থাপক ওই সাক্ষাৎকারের এক পর্যায়ে ইরানের আকাশসীমায় অত্যাধুনিক মার্কিন ড্রোন ধ্বংস, ইরানিদের মাধ্যমে তেল ট্যাংকার আটক এবং হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন করেন।

এ সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তারা যেসব তেল ট্যাংকার আটক করেছে সেগুলো আমাদের নয় এবং হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা ইস্যুতে বলব ভূ-রাজনৈতিক দিক থেকে হরমুজ প্রণালী আমাদের জন্য খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ নয়।

ট্রাম্প দাবি করেন, হরমুজ প্রণালী দিয়ে তাদের জাহাজ খুব একটা চলাচল করে না। পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার স্লোগান তুলে আমেরিকা ইরানবিরোধী জোট গঠনে ব্যর্থ হওয়ার পর ট্রাম্প এসব কথা বললেন।

ইত্তেফাক/এসআর