হুমায়ূন আহমেদ : এক মিথ্যেবাদী রাখালের গল্প

গল্পকার বলতেই আমার চোখে এক মিথ্যেবাদী রাখালের ছবি ভাসে। যে মানুষকে গল্পে ভুলিয়ে রাখে। তার গল্পে সত্য মিথ্যার মাঝামাঝি এক অন্যরকম ধোঁয়াশা তৈরী হয়। আমাদের দেশেও এমন এক গল্প বলার রাখাল জন্মেছিলেন। ১৩ নভেম্বর ১৯৪৮ এর সন্ধ্যায়।

বাবা ছিলেন পুলিশ অফিসার। মা সাধারণ বাঙালী গৃহিণী। বাবার পোস্টিংয়ের সঙ্গে সঙ্গে তার শৈশবও ঘুরে বেড়িয়েছে দেশের নানা জায়গায়। মুক্তিযুদ্ধে তার বাবা শহীদ হলেন। তিনি পড়ে গেলেন বাংলাদেশের এক বিপন্ন সময়ের মুখে। উনিশশো একাত্তর সাল কেটে যায় জীবন ও পরিবারের ভয়ে পলাতক।

স্বাধীনতার আগে বাবা বেঁচে থাকতেই লেখালেখি শুরু করেছিলেন। লেখা প্রকাশ পায় স্বাধীনতার পরে। ১৯৭২ এর সালে তার প্রকাশিত প্রথম এবং লিখিত দ্বিতীয় উপন্যাস ” নন্দিত নরকে ” প্রকাশিত হয়।

হুমায়ূন আহমেদের একেকটি দিন ছিল বাংলা সাহিত্যের একেকটা নতুন গল্পের বাঁক। তিনি একটি জনাকীর্ণ রাস্তায় হেটে গেছেন, সেও এক গল্প। বন্ধুর বাড়িতে দুপুরের খাবার খেয়েছেন সেও এক গল্প। তার গল্প আমাদেরই বাংলাদেশের গল্প। ঢাকার কোনো এক তস্য গলিতে মেসের খাটে শুয়ে থাকা ভবঘুরে যুবকের গল্প। কিংবা রাজকীয় প্রাসাদের বারান্দায় কফির মগ হাতে দোলনায় দুলতে থাকা রাজকন্যার গল্প।

তার গল্পের একটা পুরোধা অংশে দাঁড়িয়ে আছে বাঙালী মধ্যবিত্ত সমাজ। সাধারণ চাকুরিজীবি পিতা। পরিবারের দুঃখ- কষ্ট, সুখ- আহলাদ, পিতার সীমিত সাধ্য ও প্রেম- ভালবাসার বহুবিধ টানাপোড়ন। হুমায়ূন আহমেদ আমাদের জীবনকে দেখেছেন ওপর থেকে। অনেকটা খোদা তাআলার মত। ( এটা রুপক অর্থে বলা হয়েছে। ) আমরা জীবনের ভেতর খেই হারিয়ে ফেলছি বারবার। আবার কোনো অযাচিত সুখ আমাদের ভাসিয়ে দিচ্ছে। এসব গল্প যখন তার লেখার ছত্রে পেয়েছি, তখন নিজেরই জীবনের প্রতিবিম্বের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আমরা হতবাক হয়ে গেছি।

এই জীবনে তিনি লিখেছেন উপন্যাস, সায়েন্স ফিকশন অল্প কিছু কবিতা আর গান। কিছু ইতিহাস আশ্রিত সফল উপন্যাসও লিখেছেন। সফল লেখকের আত্মবিশ্বাস নিয়ে তিনি এসেছিলেন সিনেমার জগতে। সাফল্যের সঙ্গে নির্মাণ করে গেছেন বাংলাদেশের ইতিহাসের কিছু প্রথমশ্রেনীর সিনেমা। তিনি ছিলেন বাংলাভাষার অতীতকালের সর্বোচ্চ জনপ্রিয় লেখক। তার সময়ে কিংবা তার আগে পরেও তার সমান জনপ্রিয় কাউকে দেখা যায় না।

তার সঙ্গে তুলনা করা যায় বাংলা সাহিত্যের কেবল শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কেই। তবু শরৎ আজ জাদুঘরের ফসিল হতে চলেছেন। মৃত্যুর পর হুমায়ূন হয়ে উঠছেন আরো মুল্যবান। একসময় তাকে নিয়ে কেবল পক্ষপাতের রাজনীতিই চলেছে। একপক্ষ তাকে সস্তা বাজারী বলে উড়িয়ে দিতে চেয়েছেন। অপরপক্ষ সব ছেড়ে কেবল তাকেই আঁকড়ে ধরেছেন। এই দুই প্রান্তিক মতের বাইরে অধুনা তাকে নিয়ে ভাবতে হচ্ছে আসলেই হুমায়ূন এই প্রান্তিকতার বলি হবেন কিনা!

খোলা চোখে দেখলে পরিস্কার হয়ে যায়, বাংলাভাষার এই রাজপুত্র যতখানি মেধা নিয়ে জন্মেছিলেন, কিংবা যতটা সক্ষমতা তিনি দেখাতে পেরেছেন তা দিয়ে তিনিও খুব গাম্ভীর্যপূর্ণ লেখক হতে পারতেন। এটা তার জন্য অসম্ভব ছিল না। তবু কেন সারাজীবন একরকম খেলো বাতাবরণ ছড়িয়ে গেলেন, সে এক রহস্য! তার এই একান্ত নিজস্ব ভঙ্গিটাই বাংলা সাহিত্যের ক্ল্যাসিক স্টাইল হিসেবে দাঁড়িয়ে যাবে কিনা, এজন্য ইতিহাসের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে।

এক জীবনে তিনি সমালোচিতও হয়েছেন প্রচুর। জীবনের শেষ লগ্নে এসে সমালোচিত হয়েছেন সংসার, দ্বিতীয় বিবাহ ইত্যাদির কারণে। আমাদের বাংলাদেশের অনভ্যস্ত সমাজ খুব সহজে তার এই সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারেনি।

হিমু মিসির আলীর এই দুই বিপরীতমুখী রহস্যের জগত সৃষ্টির পিতা নিজেও সারাজীবন ধর্ম অধর্মের দ্বন্দ্বে দুলেছেন। নিজেকে কেবলই আড়াল করে গেছেন। এলেবেলের মত বিতর্কিত বই লিখেছেন। বলেছেন মৃত্যুর পরে মাটি হয়ে যাব, আবার তিনিই কেঁদে উঠেছেন করুণ আঁকুতির সুরে, রে যাদুধন! আমার মুখে কলমা তুলে দিও ” হিসেব নিকেশ শেষ হয়েছে একদিন। রাখালের গল্প বলা সাঙ্গ হয়। বাঘের মত মৃত্যু থাবা মেলে ছুটে আসে। ২০১২ সালের এইদিনে  হাসপাতালের বদ্ধ কামরায় শুয়ে মারা যান। চান্নি পসর রাত দেখা হয়নি রাখালের। আমরা তার মঙ্গল কামনা করি।

#এড্রিক_বেকার : মানবতাবাদী ডাক্তার নাকি ধর্মান্তরবাদী মিশনারি?


টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার কাইলাকুড়ি স্বাস্থ্য পরিচর্যা কেন্দ্র নিয়ে বহুল প্রচারিত ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’তে একটি প্রতিবেদন প্রচারিত হয়েছে সম্প্রতি। ‘ইত্যাদি’র উপস্থাপক হানিফ সংকেত সরেজমিন প্রতিবেদন করেছেন স্বাস্থ্য পরিচর্যা কেন্দ্রটি নিয়ে।

প্রতিবেদনে দেখানো হয়, ক্লিনিকটির প্রতিষ্ঠাতা ডাক্তার এড্রিক বেকার নামক এক পশ্চিমা খ্রিষ্টান নাগরিক। তিনি নিজ দেশের আরামের জিন্দেগি ছেড়ে নিরেট মানবসেবার জন্য বাংলাদেশের সুবিধাবঞ্চিত প্রত্যন্ত এই এলাকায় স্থায়ীভাবে চলে এসেছিলেন। এবং ‘কেবলই’ সুবিধাবঞ্চিত মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে আমৃত্যু তিনি এ ক্লিনিকটি নিয়ে কাইলাকুড়িতেই পড়ে ছিলেন। এখানেই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন এবং স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটির দাওয়ায় তাঁর শেষ ইচ্ছানুযায়ী তাঁকে সমাহিত করা হয়েছে। মানবসেবার কারণে এলাকায় তিনি ‘ডাক্তার ভাই’ নামে পরিচিত ছিলেন।

ইত্যাদির ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ডাক্তার ভাই তাঁর মৃত্যুর পূর্বে বাংলাদেশের ডাক্তারদের কাছে আহ্বান জানিয়েছিলেন, বাংলাদেশি ডাক্তারদের কেউ যেন এই ক্লিনিকটির দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং সুবিধাবঞ্চিত এই উপজাতি এলাকার মানুষগুলোর ফ্রি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করেন। কিন্তু বাংলাদেশি ডাক্তারদের কেউই তাঁর এই আহ্বানে সাড়া দেননি, কিছুদিন পর ডাক্তার ভাইও মারা যান।

অবশেষে দুবছর পর তাঁর এই আহ্বানে সাড়া দিয়েছেন আমেরিকার খ্রিষ্টান তরুণ এক ডাক্তার দম্পতি। তাঁরা এড্রিকের মানবতাবাদী এই কাজে উদ্বুদ্ধ হয়ে ২০১৮ সালে ছোট ছোট চার শিশু সন্তান নিয়ে আমেরিকার বিলাস বহুল জীবন ছেড়ে প্রত্যন্ত এ গ্রামে চলে এসেছেন। এবং ‘নিঃস্বার্থভাবে’ আর্তমানবতার সেবায় নিজেদেরকে উৎসর্গ করেছেন।

হানিফ সংকেতের এই প্রতিবেদন ইত্যাদিতে প্রচারিত হবার পর এড্রিক বেকার ও তরুণ ডাক্তার দম্পতির মানবতা নিয়ে যেমন উচ্ছ্বসিত প্রশংসা হচ্ছে, তেম্নি এই মানবতাবাদের আড়ালে লুকিয়ে থাকা ধর্মান্তরবাদ নিয়েও হচ্ছে জোর সমালোচনা। একই সঙ্গে বাংলাদেশের বিশেষজ্ঞ ডাক্তাররাও এই প্রতিবেদনে দেশি ডাক্তারদের হেয় প্রতিপন্ন করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন।

ক্ষুব্ধ বাংলাদেশি ডাক্তারগণ

চিকিৎসা সংক্রান্ত অনলাইন পত্রিকা মেডি ভয়েস ডটকমের সম্পাদকীয়তে আজ (২ ডিসেম্বর) হানিফ সংকেতের ওই প্রতিবেদনের কড়া সমালোচনা করা হয়েছে। পেশাজীবী নেতা ডা. বাহারুল আলম সেই সম্পাদকীয়তে বলেন, তৎকালীন ভারতবর্ষে পাশ্চাত্যের আধিপত্য ও উপনিবেশিকতা পাকাপোক্ত করার জন্য ব্রিটিশরা দাতব্য বা মিশনারি প্রতিষ্ঠান স্থাপনে সুপরিকল্পিত অপকৌশলের আশ্রয় নেয়। উদ্দেশ্য- একটি সাদা চামড়ার পাশ্চাত্যের ব্রিটিশরা কত দয়ালু ও মহান সেটা প্রমাণ করা! বিপরীতে ভারতীয়রা কত কাঙ্গাল ও করুণা ভিক্ষা চাইতে ভালবাসে! যা প্রকারান্তরে ভারতের উপর ব্রিটিশদের আধিপত্য, শোষণ, নির্যাতনে সহায়ক শক্তি হিসাবে ভূমিকা রেখেছে এবং এখনও ভারতবর্ষে সেই উপনিবেশিকতার প্রভাব বজায় আছে। সেই প্রচারে ভূমিকা রেখেছে হানিফ সংকেত ও তার ইত্যাদি।

তিনি বলেন, হানিফ সংকেত ও তার ইত্যাদির প্রচারে যারা প্রশংসায় পঞ্চমুখ, তাদের দু’শ বছরের উপনিবেশিকতার ইতিহাস স্মরণে রাখা উচিত। শিক্ষা, সংস্কৃতি ও দাতব্যের অপকৌশলের আড়ালে আমাদের মনোজগতে ব্রিটিশ শাসন মেনে নেওয়ার মানসিকতা সৃষ্টি করেছিল। হানিফ সংকেতের ইত্যাদির প্রচার সে অপকৌশলের বিবর্তিত অধ্যায়।

এদিকে মেডি ভয়েসের অপর একটি মতামত কলামে ডা. আবদুর রব নামে একজন বিশেষজ্ঞ মেডিকেল অফিসার বলেছেন, ডা. এড্রিক বেকার বা তাঁর উত্তরসূরি আমেরিকান ডাক্তার দম্পতির এই মানবসেবা আলাদাভাবে বিশেষায়িত করার কিছু ছিল না। কারণ, এ দেশে অসংখ্য ডাক্তার এমন আছেন যারা নিজ এলাকায় নামমাত্র ভিজিটে অথবা একদম ফ্রিতে মানুষকে চিকিৎসা পরামর্শ দিচ্ছেন। ইত্যাদি অনুষ্ঠান সেসব ডাক্তারদের নিয়ে কোনো প্রতিবেদন করার আগ্রহ দেখায় না, আগ্রহ কেবল সাদা চামড়ার লোকজনের লৌকিক মানবসেবায়!

তিনি ক্ষোভ ঝেড়ে বলেন, সাদা চামড়ার লোকজন নামমাত্র চিকিৎসা সেবা দিয়ে ইত্যাদির কাছে তাঁরা হয়ে যায় হিরো, আর আমরা কালো চামড়ার লোকজন প্রত্যন্ত অঞ্চলে গিয়ে প্রতিদিন হাজারও রোগীকে নামমাত্র ফি’র বিনিময়ে চিকিৎসাপরামর্শ দিয়ে ‘কসাই’ই থেকে যাই।

ডা. আবদুর রব বলেন, পাইকগাছায় যে জায়গায় আমি বসি সেটা একটা ডায়াবেটিক সেন্টার। বাংলাদেশ ডায়াবেটিস সমিতির একটা অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান। এখানে প্রতি শুক্রবার বিএমএ’র কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক ডা. শহীদুল্লাহ বিনামূল্যে যে পরিমান ডায়াবেটিস আক্রান্ত রোগী দেখেন এবং প্রতি ইউনিয়নে ফ্রি ক্যাম্পের নামে যে পরিমান রোগী ওষুধসহ ফ্রি দেখেন, ডা. বেকার তার ভগ্নাংশ পরিমাণ রোগীও চোখে দেখেননি। কই, জনাব হানিফ সাহেব ডা. শহীদুল্লাহকে নিয়ে তো ইত্যাদিতে প্রচার করেননি? নাকি প্রচারের জন্য সাদা চামড়ার হতে হবে, খ্রিষ্টান মিশনারির লোক হতে হবে, সারা জীবন বিয়ে না করে থাকতে হবে আর সুদূর আমেরিকা থেকে ক্যাথলিক ধর্মীয় আবেগে খ্রিষ্টধর্ম প্রচারের উদ্দেশ্যে মানব সেবা করতে হবে?

মানবতাবাদী ডাক্তার নাকি ধর্মান্তরবাদী মিশনারি?

ডা. এড্রিক বেকার কি উপজাতি অধ্যুষিত এই অঞ্চলে কেবলই মানবতার তাগিদে জীবন পার করেছিলেন, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য আছে, জানতে চেয়ে ফাতেহ টুয়েন্টি ফোর থেকে কথা বলেছিলাম মধুপুরের স্থানীয় কয়েকজনের সাথে।

তাঁদের কেউই নামপ্রকাশ করে মিডিয়ায় এ ব্যাপারে কথা বলতে রাজি হননি। নাম-পরিচয় গোপন করার শর্তে প্রত্যেকেই জানিয়েছেন মধুপুরের শোলাকুড়ি ইউনিয়নে মূলত উপজাতিদের বসবাস। এখানে বেশ অনেক বছর ধরে খ্রিষ্টান মিশনারিরা সেবার আড়ালে ধর্মান্তকরণের কাজ করে আসছে। একসময় যেখানে একজন খ্রিষ্টানও ছিল না, সেখানে উপজাতিদের উল্লেখযোগ্য একটা অংশ এখন খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করেছে। ওই এলাকায় খ্রিষ্টান মিশনারিরা বেশ কয়েকটি স্কুল ও ক্লিনিক স্থাপন করেছে। এগুলো মিশনারিদের অর্থায়ন ও সরাসরি তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়। ডাক্তার বেকারের কালিয়াকুড়ি হাসপাতাল এগুলোরই একটি। তিনি মূলত খ্রিষ্টান মিশনারিদেরই লোক। উপজাতিদের মধ্যে খ্রিষ্টবাদ প্রচারের লক্ষ্যেই তিনি এ হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করেছেন। এবং সেবার আড়ালে মানুষকে এখান থেকে মূলত খ্রিষ্টধর্মের প্রতিই আকৃষ্ট করা হয়।

তাঁরা বলেন, ডাক্তার ভাইয়ের মৃত্যুর পর যে ডাক্তার দম্পতি এখানে এসেছেন, তাঁরাও খ্রিষ্টান মিশনারির লোক। ক্যাথলিক খ্রিশ্চিয়ান মিশনের তত্ত্বাবধানেই তাঁরা এখানে এসেছেন। এবং তাঁদের যাবতীয় ভরণ-পোষণের ব্যবস্থা মিশনারিই করে থাকে।

একই কথা বলছেন ডা. আবদুর রবও। তিনি বলেন, ডা. বেকারের প্রতিষ্ঠিত হাসপাতালটি একটি মিশনারি হাসপাতাল। এটা বিদেশি ডোনেশনে চলে। কিছু স্থানীয় দানও আছে। যারা এখানে কাজ করছেন একেবারে ফ্রি নয়, মিশন থেকে টাকা পান। ক্যাথলিক খ্রিশ্চিয়ান মিশন। এই মিশনের উদ্দেশ্য কী, (খ্রিষ্টবাদের প্রচার এবং মানুষকে ধর্মান্তরিত করা) তা কারও অজানা থাকার কথা না।

ডা. রব বলেন, বাংলাদেশের কিছু ডাক্তার এখানে একই সিস্টেমে কাজ করার আগ্রহ দেখিয়েছিলেন। স্বয়ং ডা. বেকার অপারগতা দেখিয়ে বলেছিলেন, দেশি ডাক্তার এলে মিশনের ফান্ডিংয়ে সমস্যা হবে। এইখানে কে কাজ করবে সেটা মিশনের ঠিক করে দেয়। এর পরেও গণস্বাস্থ্য মেডিকেলের দুই জন ডাক্তার প্রতি সপ্তাহে ফ্রি চিকিৎসা দেন সেখানে। ইত্যাদির রিপোর্টে অত্যন্ত চতুরতার সাথে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে সেটি এবং আমার মতো গ্রামে পড়ে থাকা ডাক্তারদেরকে স্রেফ অপমান করা হয়েছে।
https://fateh24.com/%e0%a6%8f%e0%a6%a1%e0%a7%8d%e0%a6%b0%…/…

প্রত্যন্ত অঞ্চলে ভয়ংকর হয়ে উঠছে ‘ধর্মান্তর ব্যবসা’


দেশের উপজাতি-অধ্যুষিত ও দারিদ্র্য-পীড়িত প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতে খ্রিষ্ট ধর্মে ধর্মান্তরিত করার প্রবণতা ‘ভয়াবহ আকারে’ বেড়েই চলেছে। পশ্চিমা বিশ্বের অর্থায়নে পরিচালিত এনজিও ও খ্রিষ্টান মিশনারি সংস্থাগুলো সেবা ও উন্নত জীবনের প্রলোভনে উপজাতি ও দারিদ্র্য-পীড়িত হিন্দু মুসলিমসহ উপজাতীয় ধর্মে বিশ্বাসীদেরকে খ্রিষ্ট ধর্মে দীক্ষিত করে চলেছে। খ্রিষ্ট ধর্ম প্রচারে কোনো ধরনের বাধা-বিপত্তিকে তোয়াক্কা করছে না মিশনারিরা। বরং মুসলিম দাঈ কিংবা এ তৎপরতা সম্পর্কে সতর্ককারী স্থানীয় আলেমদেরকে নানা ধরনের চাপে রাখছে তারা। এমনকি প্রশাসনিক মাধ্যমেও এ সমস্ত দাঈকে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয় দাঈদের।

‘পার্বত্য চট্টগ্রামের চিত্র ভয়াবহ’

রাঙ্গামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি—তিনটি জেলা নিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের বিস্তৃতি। পার্বত্য চট্টগ্রামে সবচেয়ে আশঙ্কাজনকভাবে খ্রিষ্টান মিশনারিরা কাজ করছে। উপজাতিদের বড় একটি অংশ এখন খ্রিষ্ট ধর্মে দীক্ষিত হয়ে গেছে বলে জানাচ্ছেন অঞ্চলটিতে দাওয়াতি মেহনতের সঙ্গে জড়িত আলেম দাঈগণ। তাঁদের মধ্যে একজনের সঙ্গে কথা হয়েছিল ফাতেহ টুয়েন্টি ফোরের। নিরাপত্তা জনিত কারণে নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, ‘পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রায় প্রতিটি এলাকাই আমার ঘোরা হয়েছে। দাওয়াতি কাজে এই এলাকায় এত বার যাওয়া হয়েছে যে, অনেক এলাকা নিজের এলাকার মতোই আমার কাছে পরিচিত। দুঃখজনক হলো, আজ থেকে ২০-২২ বছর আগে এখানে ১ পার্সেন্টরও কম খ্রিষ্টান থাকলেও বর্তমানে খ্রিষ্টান মিশনারিদের তৎপরতার দরুণ এখানকার বড় একটি অংশ খ্রিষ্ট ধর্মে ধর্মান্তরিত হয়ে গেছে।

তিনি বলেন, ‘ছোট-বড় প্রায় ১৪টি উপজাতীয় গোষ্ঠীর বসবাস এই অঞ্চলে। তাদের মধ্যে মধ্যে ছোট ছোট যে গোষ্ঠীগুলো, তাদের প্রায় সকলেই খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করে নিয়েছে। গহীন পাহাড়ের ভেতর তাদের বসবাস, কিন্তু আপনি যদি সেখানে যান আর তাদের জীবনমান দেখেন, তবে মনেই হবে না, আপনি বাংলাদেশে আছেন, মনে হবে ওয়েস্টার্ন কোনো কান্ট্রিতে এসেছেন।

‘খ্রিষ্টান মিশনারিরা তাদের শিক্ষাদীক্ষা থেকে শুরু করে রাস্তা-ঘাট সব কিছু করে দিচ্ছে। বিনিময়ে তাদেরকে খ্রিষ্টধর্মে দীক্ষিত করছে। কনভার্টেড এসব খ্রিষ্টানদের সঙ্গে কথা বললে আপনি চমকো যাবেন। এদের ভাব ও আচারে মনেই হবে না এরা বাংলাদেশ নামক কোনো রাষ্ট্রকে স্বীকার করে। তাদের এমনও এলাকা আছে যেখানে খ্রিষ্ট মিশনারিদের দ্বারা প্রুফ করা। সেখানে যেতে হলে বিশেষ বাহিনীর পারমিশন লাগে। আর নির্দিষ্ট লোক ব্যতীত সেখানে ঢোকার পারমিশনও পাওয়া যায় না। রাঙ্গামাটির বড়কল উপজেলায় আছে এমন একটি এলাকা।

‘বান্দরবানের মিরিঞ্জা নামক একটা এলাকা আছে, সেখানের উঁচু এক টিলায় মং সম্প্রদায়ের বসবাস। যাদের অধিকাংশই খ্রিষ্টান হয়ে গেছে। খ্রিষ্টান মিশনারিদের কল্যাণে উন্নত হয়েছে তাদের জীবনমান। মং সম্পদায়ের নেতাদেরকে ‘কারবারি’ বলা হয়। সেখানে একবার সফরে গেলে এক কারবারির সঙ্গে কথা হয়েছিল আমার। সে জানাল, ধর্ম যে কোনো গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার, এমনটা ধারণায়ও ছিল না তাদের। একসময় তারা মনে করত জন্মসূত্রে মুসলিম না হলে কেউ মুসলিম হতে পারত না। এই খ্রিষ্ট মিশনারিরা আসার আগে তাদের কেউ কেউ মুসলিম হতে চাইলে এমন কেউ ছিল না, যে তাকে মুসলিম বানাবে। স্থানীয় বাঙালি মুসলিম যারা ছিল, তারা তাদেরকে মুসলিম সমাজে দাখিল করতে অস্বীকৃতি জানাত। খ্রিষ্টান মিশনারিরা এসে এখন তাদের মনোভাব বদলে দিয়েছে। দলে দলে তাই তারা খ্রিষ্ট ধর্মে দীক্ষিত হচ্ছে। সেই সঙ্গে পাচ্ছে উন্নত জীবনমানের ব্যবস্থা।’

খ্রিষ্টান মিশনারিদের মুকাবেলায় এসব এলাকায় ওলামায়ে কেরামের দাওয়াতি কার্যক্রম কেমন জানতে চাইলে আলেম এ দাঈ বলেন, তাদের তুলনায় আমাদের কার্যক্রম প্রায় শূন্যের কোঠায়। তাছাড়া আমরা সীমিত পরিসরে যারা কাজ করছি, তারাও নানাভাবে বাধার সম্মুখীন হচ্ছি। খ্রিষ্টান মিশনারিদের কৌশলী তৎপরতা এবং তাদের পাহারাদার উপজাতীয় সন্ত্রাসী গ্রুপগুলোর হিংস্রতা নানাভাবে আমাদের বাধাগ্রস্ত করে। সেখানে নতুন করে কোনো মসজিদ-মাদরাসা স্থাপন করতে হলে ব্যাপক বেগ পেতে হয়। স্থাপন করলেও সেটা সেখানে মোতায়েনকৃত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ক্যাম্পের আশপাশে করতে হয়। পাহাড়ের ভেতরে করার কোনো সুযোগ নেই। খ্রিষ্টান মিশনারি ও তাদের নিরাপত্তা বিধায়ক উপজাতীয় সন্ত্রাসী গ্রুপগুলো বাধা দেবে।

উত্তরাঞ্চলের দরিদ্র মুসলিমদেরকেও বানানো হচ্ছে খ্রিষ্টান

শিক্ষাদীক্ষা এবং সুবিধা বঞ্চিত উত্তরাঞ্চলেও খ্রিষ্টান মিশনারিদের তৎপরতা ভয়াবহ। উত্তরাঞ্চলের বন্যা কবলিত ও দারিদ্রপীড়িত জেলা কুঁড়িগ্রামে ব্যাপকভাবে তারা ধর্মান্তরের কার্যক্রম চালাচ্ছে। ধর্মীয় শিক্ষার আলো থেকে দূরে থাকা স্থানীয় মুসলমানদের নানা কৌশলে খ্রিষ্টান বানানো হচ্ছে। খ্রিষ্টধর্মে দীক্ষিত হয়ে যাওয়া এসব মুসলমানের অনেকে বুঝতেই পারছেন না যে তাঁরা খ্রিষ্টান হয়ে গেছেন।

স্থানীয় বেশ কয়েকজন দাঈ’র সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, খ্রিষ্টান মিশনারিরা স্থানীয় লোকদের মধ্যে কুরআন-হাদিসের বিভ্রান্তিকর ব্যাখ্যা সম্বলিত বিভিন্ন বই-পুস্তক বিতরণ করে। এবং এর মাধ্যমে মহানবি হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের ওপর হজরত ইসা আলায়হিস সালামের শ্রেষ্ঠত্ব দেখিয়ে তাঁর অনুসরণের দাওয়াত দেওয়া হয়। বলা হয়, বর্তমান যে ইসলাম, সেটার তুলনায় ‘ঈসায়ি ইসলাম’ শ্রেষ্ঠ। কারণ ঈসা আলায়হিস সালাম জীবিত নবি আর মহানবি হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম ‘মৃত’। তাই সকলের উচিত ঈসা নবির অনুসরণ করা।

এরকম নানা খোঁড়া যুক্তি এবং অর্থ ও জীবনমানের উন্নতির প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মুসলমানদেরকে খ্রিষ্টান ধর্মে দীক্ষিত করা হয়। তবে খ্রিষ্টান হয়ে যাওয়া এসব লোককে বুঝতে দেওয়া হয় না যে তারা খ্রিষ্টান হয়ে গেছে। তাদেরকে বলা হয়, ভ্রান্ত ইসলাম থেকে সঠিক ইসলাম তথা ‘ঈসায়ি ইসলামের’ দিকে ফেরত আনা হয়েছে। তাই তারা এখন থেকে ‘ঈসায়ি মুসলিম’।

কুঁড়িগ্রামে খ্রিষ্টান এসব মিশনারির মুকাবেলায় সাধারণ মানুষদের মধ্যে ইসলামের সঠিক বাণী পৌঁছে দিতে কাজ করা কয়েকজন স্থানীয় দাঈ’র সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলার চেষ্টা করা হয়েছিল ফাতেহ টোয়েন্টি ফোর থেকে। তাঁদের একজন উপরোক্ত তথ্যগুলো নিজের নাম গোপন করার শর্তে প্রদান করলেও অন্যান্য দাঈরা কথা বলতেই অপারগতা জানিয়েছেন। তাদের কথাবার্তায় ছিল ভয় এবং আতঙ্কের ছাপ।

এ ছাড়া টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার বেশ কয়েকটি ইউনিয়নেও চলছে খ্রিষ্টান মিশনারিদের কার্যক্রম। সেখানকার দারিদ্র পীড়িত এবং সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের অসহায়ত্বকে পুঁজি করে সেবার আড়ালে ধর্মান্তরের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে খ্রিষ্টান মিশনারিরা। স্থানীয় মসজিদের ইমাম এবং কয়েকজন দাঈ’র সঙ্গেও মুঠোফোনে কথা বলার চেষ্টা করা হয়েছিল ফাতেহ টুয়েন্টি ফোর থেকে। কিন্তু নাম প্রকাশ করে বা বিস্তারিতভাবে কোনো তথ্য দিতে রাজি হননি কেউই। নাম গোপন রাখার শর্তে তাদের দুজন কেবল একটি ইউনিয়নের কথা বলেছেন। মধুপুরের শোলাকুড়ি ইউনিয়ন। এ ইউনিয়নে উপজাতিদের বসবাস রয়েছে। বেশ অনেক বছর ধরো খ্রিষ্টান মিশনারিরা সেবার আড়ালে ধর্মান্তকরণে কাজ করে আসছে। বিশ বছর আগেও যেখানে একজন মানুষও খ্রিষ্টান ছিল না, সেখানে এখন দলে দলে মানুষ খ্রিষ্টান ধর্মে দীক্ষা লাভ করেছে।

তাঁরা বলছেন, ডাক্তার এড্রিক বেকার নামের যে একজন খ্রিষ্টান ডাক্তার ও তাঁর প্রতিষ্ঠিত ক্লিনিকের প্রতিবেদন ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’তে সম্প্রতি প্রচারিত হয়েছে, এবং মানবসেবার জন্য যিনি প্রশংসিত হচ্ছেন, তিনি মূলত খ্রিষ্টান মিশনারিরই লোক। তাঁর প্রতিষ্ঠিত কালিয়াকুরি ক্লিনিকটিও মিশনারির অর্থায়নে পরিচালিত। সেবার আড়ালে তাঁদের মূল উদ্দেশ্য দারিদ্রপীড়িত স্থানীয় মানুষদেরকে খ্রিষ্ট ধর্মে দীক্ষিত করা।

স্থানীয় দাঈদের এমন আতঙ্কগ্রস্ততা এবং এ বিষয়ে কথা বলতে অপারগতা প্রকাশের কারণ জানতে চেয়ে কথা হয়েছিল এই অঙ্গনের সঙ্গে সম্পৃক্ত রাজধানীর কয়েকজন দাঈর সঙ্গে। তারা ফাতেহ টোয়েন্টি ফোরকে জানান, খ্রিষ্টান মিশনারিদের মুকাবেলায় বাংলাদেশে যারাই কাজ করছেন প্রত্যেকেই একটা চাপ ও হুমকির ভেতর দিয়ে যাচ্ছেন। কঠোর নজরদারির ভেতর রাখা হয়েছে তাদেরকে। এমনকি প্রত্যেকের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনও নজরদারির আওতায় রয়েছে। বিশেষ করে স্থানীয় দাঈদের ওপর এই নজরদারিটা বেশি। তাদের সঙ্গে কারা যোগাযোগ করছে, কীভাবে করছে, এসব কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।

গাজীপুরের কালীগঞ্জে চার কোম্পানির দখলে ‘শীতলক্ষ্যার ১৫ একর জমি’, উদ্ধারের দায়িত্ব নিচ্ছে না কেউ !

দখলের মহোৎসব অব্যাহত আছে ।ক্রমবর্ধমান হারে কালীগঞ্জে শীতলক্ষ্যা নদী দখল-দূষণের শিকার হচ্ছে। পাশিপাশি নদী তীরবর্তী ভূমি, নদীর চর এবং নদী দখল করে গড়ে উঠা কল-কারখানার রাসায়নিক দ্রব্য ও বর্জ্যে নদীর পানি দূষিত হয়ে বিপজ্জনক মাত্রায় পৌঁছেছে।
কালীগঞ্জ উপজেলার সীমান্ত ঘেঁষে প্রায় ১২ কিলোমিটার অংশ জুড়ে প্রবাহিত হচ্ছে শীতলক্ষ্যা নদী। এর মধ্যে প্রায় ১৫ একর রেকর্ডভুক্ত সিকস্তি (নদী তীরবর্তী ভূমি) এবং নদীর চর দখল করেছে চার কোম্পানি মিলে। এর বাহিরে আরো প্রায় ৮ একর নদী বরাট করেছে কোম্পানিগুলো।
দখলদারদের মধ্যে রয়েছে, ভরসা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ লিঃ, প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ লিমিটেড এবং সেভেন রিং সিমেন্ট লিমিটেড। অপর দিকে নদী দখলে থাকার পরও রহস্যজনক কারণে তালিকায় নেই আবুল খায়ের গ্রুপ লিমিটেড এর নাম।
স্থানীয়দের জীবনধারণসহ সামাজিক-অর্থনৈতিক উন্নয়নে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে শীতলক্ষ্যা। আজো শুধু শীতলক্ষ্যা নদীকে কেন্দ্র করেই অসংখ্য পরিবারের ভাগ্য নির্ধারণ হয়। মানবদেহে যেমন শিরা-ধমনির গুরুত্ব অসীম তেমনি জীববৈচিত্র্য টিকিয়ে রাখতেও নদীর গুরুত্ব অত্যধিক। অথচ দিনে দিনে নদীর বেশির ভাগ অংশই অসৎ লোকজন দখল-দূষণ করে যাচ্ছে। তবে বেশ কিছুদিন ধরে নদীরক্ষায় সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান তৎপর হয়েছে। আদালতের নির্দেশনা রয়েছে দখল-দূষণকারীদের কবল থেকে নদীকে রক্ষা করার জন্য।
কিন্তু ‘দখলদারদের তালিকা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রতিবেদন প্রেরণ করে ‘ফাইল বন্ধ’ করাই যেন স্থানীয় প্রশাসনের সর্বোচচ দায়িত্ব! দখলারদের বিরুদ্ধে কোন ব্যাবস্থা নেওয়া যেন তাঁদের দায়িত্বের মধ্যেই পরে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের’।
কারণ সরকারি হিসেবে শীতলক্ষ্যা নদীতে তিনটি প্রতিষ্ঠানের দখলের বিবরণী রয়েছে। তবু শীতলক্ষ্যা নদীকে দখল মুক্ত করার জন্য নেওয়া হচ্ছে না কোন পদক্ষেপ?
যদিও শীতলক্ষ্যা সম্পর্কে কালীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে ‘রূপার মত স্বচ্ছ জলরাশিকে যে নদী ধারণ করে আছে তাই শীতলক্ষা। উৎসমুখ ব্রক্ষ্মপুত্র নদের দক্ষিন তীরস্থ কাপাসিয়া উপজেলার টোক নয়ন বাজারের নিকট খারসাদী (গার নদী) নামক স্থান এরপর একডালা হয়ে কালীগঞ্জের সীমানায় পড়েছে। কালীগঞ্জের পূর্ব দক্ষিণ সীমাত্ম শেষ করে মোক্তারপুর, জামালপুর, বাহাদুরসাদী, কালীগঞ্জ পৌরসভা, তুমুলিয়া ইউনিয়নের পার্শ্ব দিয়ে দক্ষিন প্রবাহিত হয়েছে। এক সময় এর প্রবাহ মধ্যগতির রূপে পরিগ্রহ করেছে। সূতী, বালু, চিলাই ইত্যাদি শীতলক্ষ্যার উপনদী। পূর্বে এই নদীতে প্রচুর মাছ পাওয়া গেলেও বর্তমানে কালীগঞ্জ এবং নরসিংদীর পলাশ উপজেলায় প্রচুর শিল্প কারখানা গড়ে উঠায় শিল্পবর্জের কারণে মাছ কম পাওয়া যায়’।
সম্প্রতি শীতলক্ষ্যা নদীর দখলদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এক প্রতিবেদন পাঠিয়েছেন কালীগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (এসি-ল্যান্ড) মোহাম্মদ জুবের আলম।
জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পাঠানো ওই প্রতিবেদন উল্লেখ্য করা হয়েছে কালীগঞ্জ পৌরসভার মূলগাঁও মৌজায় ‘ভরসা গ্রুপ লিমিটেড’ অবৈধভাবে শীতলক্ষ্যা নদী দখল করে একটি এঙ্গেল হেড, সাতটি সেমি পাকা বিল্ডিং, তিনটি টিনসেড ঘড় এবং একটি ইটিপি প্লান্ট নির্মাণ করেছে।
এছাড়া একই মৌজায় ‘প্রাণ-আরএফএল লিমিটেড’ একটি এঙ্গেল সেড, দুইটি সেমি পাকা বিল্ডিং, একটি পাকা বিল্ডিং এর অংশ বিশেষ এবং দুইটি টিন সেড বিল্ডিং নির্মাণ করেছে।
এবং চরমিরপুর মৌজায় ‘সেভেন রিং সিমেন্ট লিমিটেডে’ একটি সেমি পাকা বিল্ডিং, চারটি বিল্ডিং নির্মাণ এবং নদীতে রয়েছে তাঁদের চারটি ক্রেন ।
কিন্তু প্রতিবেদনে দখলকৃত নদী এবং নদীর জমির পরিমাণ এবং পরিবেশ দূষণের বিষয়ে কোন তথ্য উল্লেখ নেই!
এছাড়াও বালিগাঁও মৌজার আর.এস নকশার ২ নং সিটভুক্ত সরকারি ১ নং সহ বিভিন্ন খতিয়ানে থাকা সিকস্তি (নদী তীরবর্তী ভূমি) জমি ও নদী দখলের অভিযোগে বিভিন্ন সময়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে নদী দখলমুক্ত করার পাশাপাশি জরিমানা করা হয়ে থাকলেও রহস্যজনক কারণে ‘আবুল খায়ের গ্রুপ লিমিটেড’ এর নাম নেই নদী দখলদারদের তালিকায়।২০১৮ সালের ৩ মার্চে দিনে দুপুরে অবৈধ গজারী গাছের পাইলিং দিয়ে শীতলক্ষ্যা নদী দখলের অভিযোগ উঠেছিল আবুল খায়ের গ্রুপের বিরুদ্ধে। এরপর ওইদিনই সরকারী সম্পদ দখল ও অপব্যবহারের অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাথমিকভাবে তাদের কাজ বন্ধ করেছিলেন তৎকালীন কালীগঞ্জ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) সোহাগ হোসেন।
এছাড়াও চলতি বছরের ১৭ জানুয়ারি নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে শীতলক্ষ্যা নদীর কালীগঞ্জ অংশে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে নদীর জমিতে স্থাপিত আবুল খায়ের গ্রুপের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করছিল বিআইডব্লিউটিএ। তবুও দখলদারের তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার হয়েছে ‘আবুল খায়ের গ্রুপ লিমিটেড’এর।
সরেজমিন এবং তথ্য অধিকার আইন অনুযায়ী আবেদন করে পাওয়া নথিপত্র পর্যালোচনা করে জানা যায়, কালীগঞ্জ পৌরসভার বালিগাঁও মৌজার অনুমানিক প্রায ৮০ একর ‘ফসলি’ জমিতে গড়ে উঠেছে আবুল খায়ের গ্রুপ লিমিটেড এর কয়েকটি ফ্যাক্টরি। এর মধ্যে রয়েছে ১ নং খতিয়ানভুক্ত আর এস ২০৮৭ নং দাগে ৪৫ শতাংশ একটি হালটসহ প্রায় ৩ একর সিকস্তি জমি যা ‘সম্পূর্ণ সরকারী সম্পত্তি’ কিন্তু তাদের দখলে। এছাড়াও প্রায় আরো ১ একর নদী দখল করেও বরাট করেছে কোম্পানিটি।এছাড়া কোম্পানির নামে মাত্র ০৬ একর ০১৪৪ শতাংশ জমি নামজারি করে অফিসিয়াল সকল কার্যক্রম পরিচালনা করছে আবুল খায়ের গ্রুপ। সরকারকে রাজস্ব বঞ্চিত করার উদ্দেশেই তাদের সকল জমি নামজারি করছে না কোম্পানিটি। এছাড়াও সকল জমি কোম্পানিটির নিজস্ব না হওয়ায় এবং ফসলি, সরকারি ও নদীর জমি থাকায় নামজারি করাও আইন অনুযায়ী বৈধ নয় বলে জানান ভূমি সংশ্লিষ্টরা।
অপরদিকে কালীগঞ্জ পৌরসভার মূলগাঁও মৌজায় অনুমানিক প্রায ১৫ একর ‘ফসলি’ জমিতে গড়ে উঠেছে ‘ভরসা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ লিঃ’।এর মধ্যে অবৈধভাবে শীতলক্ষ্যা নদীর প্রায় ৩ একর জমি দখল করে রেখেছে কোম্পানিটি। যার বেশিরভাগই ১ নং খতিয়ানভুক্ত সিকস্তি ভূমি হিসেবে রেকর্ড রয়েছে। এছাড়াও প্রায় ০১ একর নদী দখল করে বরাট করেছে কোম্পানিটি। ভরসা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ লিঃ আনুমানিক প্রায় ৩ একর জমি নামজারি করে অফিসিয়াল সকল কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
অন্যদিকে কালীগঞ্জ পৌরসভার চরমিরপুর মৌজায় অনুমানিক প্রায ৮০ একর ‘ফসলি’ জমিতে গড়ে উঠেছে ‘সেভেন রিংস সিমেন্ট’ ফ্যাক্টরি। কিন্তু কোম্পানির নামে মাত্র ২৭ একর ৪৭৭৮ শতাংশ জমি নামজারি করে সকল কার্যক্রম পরিচালনা করছে কোম্পানিটি।
সেভেন রিং সিমেন্ট লিমিটেডে অবৈধভাবে শীতলক্ষ্যা নদীর জমি দখল করে রেখেছে প্রায় ৪ একর। যার বেশিরভাগই ‘সিকস্তি’ ভূমি হিসেবে রেকর্ড রয়েছে।
এছাড়াও আরো প্রায় ২ একর নদী দখল করেও বরাট করেছে কোম্পানিটি এবং ‘খ’ তফসিল গেজেটভুক্ত প্রায় ৮ একর অর্পিত সম্পত্তি দখল করে রেখেছে ‘সেভেন রিং সিমেন্ট লিমিটেডে’।এবং সার্বক্ষণিক নদীতে জাহাজ রেখে নদীর মধ্যে জটলার সৃৃৃষ্টি করে রাখে সেভেন রিংস সিমেন্ট ফ্যাক্টরি। এতে করে নদী দিয়ে চলাচলকারী নৌযান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে বলে জানান স্থানীয়রা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে ‘সেভেন রিংস সিমেন্ট’ ফ্যাক্টরি বিআইডব্লিউটি এর কাছ থেকে একটি নৌ-জেটির অনুমোদন নিয়ে শত শত জাহাজ লোড-অনলোড করছে নদী দখল করে।
এছাড়াও ওই এলাকার পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা হচ্ছে না সিমেন্ট ফ্যাক্টরির প্রতিনিয়ত বায়ু দূষণ হচ্ছে কারণে।অপরদিকে ‘ক’ তফসিল গেজেটভুক্ত চরমিরপুর মৌজার অর্পিত সম্পত্তির (কেস নথি নং ১৪৮/৬৭ এবং ১৬১/৭৫) ২ একর ৬১ শতাংশ জমি লীজ দেওয়া হয়েছে কোম্পানিটির নামে। কিন্তু সর্বশেষ ১৪২৫ বাংলা সালে লীজ মানি পরিশোধ করা হলেও এখনো লিজ বহাল রয়েছে।
এবং কালীগঞ্জ পৌরসভার মূলগাঁও মৌজায় অনুমানিক প্রায ৭০ একর ‘ফসলি’ জমিতে গড়ে উঠেছে ‘প্রাণ-আর.এফ.এল গ্রুপ’। কিন্তু কোম্পানিটির নামে মাত্র ১৯ একর ৫৮১১ শতাংশ জমি নামজারি করেই সকল কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।‘প্রাণ-আরএফএল লিমিটেড’ এর দখলে রয়েছে শীতলক্ষ্যা নদীর প্রায় ২ একর জমি। যার সবটুকুই ১ নং খতিয়ানভুক্ত ‘সিকস্তি’ ভূমি হিসেবে রেকর্ড রয়েছে এবং তাদের দখলে রয়েছে ৬১ শতাংশ গোপাট এবং শ্মশানের ৮ শতাংশ জমি। আরো প্রায় ২ একর এর বেশি নদী দখল করেও বরাট করেছে কোম্পানিটি।
এছাড়াও ‘প্রাণ-আরএফএল লিমিটেড’ ‘খ’ তফসিল গেজেটভুক্ত প্রায় তিন একর অর্পিত সম্পত্তি দখলে করেছে।
আর শ্মশানের ৮ শতাংশ জমি দখল করে তার পরিবর্তে অন্য স্থানে একটি শ্মশান করে দিয়েছে বলে জানা গেছে।
এবং ‘ক’ তফসিল গেজেটভুক্ত মূলগাঁও মৌজার অর্পিত সম্পত্তি (কেস নথি নং ০৪/৮০) ০.৪৩ শতাংশ জমি লীজ দেওয়া হয়েছে কোম্পানিটির নামে। যা ১৪২৬ বাংলা সাল পর্যন্ত লীজ মানি পরিশোধ করা হয়েছে।
সরকারি খাস জমি অবৈধভাবে দখলের অভিযোগে ২০১০ সালের ১১ নভেম্বর ‘প্রাণ-আর.এফ.এল গ্রুপ’ এর বিরুদ্ধে একটি উচ্ছেদ মামলা দায়ের করা হয়েছিল (উচ্ছেদ মামলা নং-২৩/২০১০) প্রশাসনের পক্ষ থেকে।
এছাড়াও অবৈধভাবে ‘প্রাণ-আর.এফ.এল গ্রুপ’ এর দখলে থাকা ২ একর ৩৬ শতাংশ সরকারি খাস জমি ছাড়ার জন্য ২০১৫ সালের ৩০ নভেম্বর একটি নোটিশ পাঠিয়েছিল তৎকালীন কালীগঞ্জ উপজেলা সহাকারী কমিশনার (ভূমি) শারমিন আক্তার।
অপরদিকে একই উপজেলার মোক্তারপুর ইউনিয়নের একুতা মৌজায় কোন নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই অনুমানিক প্রায় দু’শ বিঘা ‘ফসলি জমি’ বরাট করেছে। ইতিমধ্যে কোম্পানির নামে ৭৫ বিঘা ‘ফসলি জমি’ নামজারি করে বিশাল কর্মযজ্ঞ চলছে প্রাণ আরএফএল গ্রুপের ‘কালীগঞ্জ ইকোনমিক জোন লিমিটেড’ নামে ইকোনমিক পার্কে তৈরির জন্য।এর মধ্যে রয়েছে ১ নং খতিয়ানভুক্ত সরকারী সম্পত্তির আর এস ৫৪৯ এবং ৬৪৯ নং দাগে গোপাট এবং হালট ৫০ শতাংশ। এর বাইরেও ১ নং খতিয়ানভুক্ত বালুচরসহ আরো ০১ একর বিভিন্ন শ্রেণির জমি।
এছাড়াও বিভিন্ন খতিয়ানভুক্ত আর.এস রেকর্ডীয় ৩ একর ১৭ শতাংশ ‘বালুচর’সহ আরো ২ একর নদী দখল করে ভরাট করেছে কোম্পানিটি।কালীগঞ্জ উপজেলার তৎকালী সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ সোহাগ হোসেন(১৭২৬৫) গত ১২ ফেবরুয়ারি ২০১৯ কালীগঞ্জ থেকে অবমুক্ত হন। অপর দিকে নামাজারী ও জমাভাগ নথি নং ৬১৯,৬২০,৬২১,৬২২,৬২৩/১৮-১৯ অনুমোদন করা হয়েছে ওই একই তারিখে ‘কালীগঞ্জ ইকোনমিক জোন লিমিটেড’ এর নামে ফসলি জমিতে। ‘যা সম্পূর্ণ আইন বহির্ভূত বলে ধারণা করা হচ্ছে’।
উইকিপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী শীতলক্ষ্যা নদী বা লক্ষ্ম্যা নদী বাংলাদেশের উত্তর-কেন্দ্রীয় অঞ্চলের নরসিংদীর পলাশ উপজেলা, গাজীপুরের কালীগঞ্জ ও কাপাসিয়া উপজেলা, ঢাকা এবং নারায়ণগঞ্জ জেলার একটি নদী। নদীটির দৈর্ঘ্য ১০৮ কিলোমিটার, গড় প্রস্থ ২২৮ মিটার এবং নদীটির প্রকৃতি সর্পিলাকার। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড বা “পাউবো” কর্তৃক শীতলক্ষ্যা নদীর প্রদত্ত পরিচিতি নম্বর উত্তর-কেন্দ্রীয় অঞ্চলের নদী নং ৫৫।
এই নদীটি ব্রহ্মপুত্র নদের একটি উপনদী। এর গতিপথের প্রাথমিক পর্যায়ে এটি দক্ষিণ পশ্চিমে এবং পরে নারায়ণগঞ্জের পূর্ব দিয়ে কালাগাছিয়ার কাছে ধলেশ্বরী নদীর সাথে মিশেছে। এর উপরিভাগের একটি অংশ কাপাসিয়ায় বানর নদী নামে পরিচিত। নদীটি প্রায় ১১ কিলোমিটার লম্বা এবং নারায়ণগঞ্জের নিকটে এর সর্বোচ্চ প্রস্থ প্রায় ৩০০ মিটার। এর সর্বোচ্চ প্রবাহ ঢাকার ডেমরার কাছে ২,৬০০ কিউসেক। সারা বছর ধরে এর নাব্যতা বজায় থাকে।
কালীগঞ্জ উপজেলার সহকারী কমিশনার ভূমি (এসি-ল্যান্ড) মোহাম্মদ জুবের আলম বলেন, শীতলক্ষ্যা নদী দখলদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সম্প্রতি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে পরবর্তী নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এছাড়াও তিনি আরো জানান, সকল দখলদারদের বিরুদ্ধেই পর্যায়ক্রমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মুজিবুর রহমান হাওলাদার বলেন, যারা নদী দখল করেছে যে সকল প্রতিষ্ঠানকে ইতিমধ্যে আমরা বলেছি দলকৃতস্থান থেকে স্থাপনা সড়িয়ে ফেলেতে। নদী দখলদারদের তালিকা থেকে অনেকে বাদ পড়েছে. যারা বাদ পড়েছে তাদের তালিকা আবার প্রকাশিত হবে।
দখলদারদের বিরুদ্ধে পর্যায়ক্রমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
ঢাকার তুরাগ নদকে ‘জীবন্ত সত্তা’ ঘোষণা করে দেশের সকল নদ-নদী, খাল-বিল ও জলাশয়কে রক্ষার জন্য জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনকে ‘আইনগত অভিভাবক’ ঘোষণা করে চলতি বছর ফেব্রুয়ারিতে বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি মো. আশরাফুল কামালের হাই কোর্ট বেঞ্চ থেকে আসা ওই ঐতিহাসিক রায়ে বলা হয়েছে, নদী রক্ষা কমিশন যাতে নদ-নদী, খাল-বিল ও জলাশয় রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা নিতে পারে, সেজন্য আইন সংশোধন করে সরকারকে ‘কঠিন শাস্তির’ ব্যবস্থা করতে হবে।
রায়ের নির্দেশনায় বলা হয়-# দেশের প্রতিটি জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন পরিষদকে নিজের এলাকার নদ-নদী, খাল-বিল, জলাশয়ের অবৈধ দখলদারদের চিহ্নিত করে তাদের নামের তালিকা জনসম্মুখে ও পত্রিকায় প্রকাশ করতে হবে।# নদী বা জলাশয় দখলকারী বা অবৈধ স্থাপনা নির্মাণকারীরা ব্যাংক ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে ‘অযোগ্য’ বিবেচিত হবেন। ঋণ দেওয়ার সময় আবেদনকারীর বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ আছে কি না তা খতিয়ে দেখার যথাযথ ব্যবস্থা করবে বাংলাদেশ ব্যাংক।# জাতীয় বা স্থানীয়- কোনো ধরনের নির্বাচনে প্রার্থীর বিরুদ্ধে নদী দখলের অভিযোগ থাকলে তাকে নির্বাচনের অযোগ্য ঘোষণা করবে নির্বাচন কমিশন। সে ব্যপারে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে।# দেশের সকল সরকারি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রতি দুই মাসে কমপক্ষে এক ঘণ্টা ‘নদী রক্ষা, সুরক্ষা, দূষণ প্রতিরোধ’, নদ-নদীর প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে সচেতনতামূলক পাঠদানের ব্যবস্থা করতে হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় এ নির্দেশনা বাস্তবায়ন করবে।# দেশের সকল শিল্প কারখানার সকল শ্রমিক কর্মচারীর অংশগ্রহণে প্রতি দুই মাসে এক দিন এক ঘণ্টা সচেতনতামূলক সভা বা বৈঠক করতে হবে। শিল্প মন্ত্রণালয় এ নির্দেশনা বাস্তবায়ন করবে।# দেশের প্রতিটি ইউনিয়ন, উপজেলা, পৌরসভা, জেলা ও বিভাগে প্রতি তিন মাসে একবার নদী বিষয়ে দিনব্যাপী সভা-সমাবেশ, সেমিনার করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ নির্দেশনা বাস্তবায়ন করবে।https://www.gazipurkontho.com.bd/2019/09/28/%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a7%80%e0%a6%97%e0%a6%9e%e0%a7%8d%e0%a6%9c%e0%a7%87-%e0%a6%9a%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%95%e0%a7%8b%e0%a6%ae%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%b0/?fbclid=IwAR2Np4wG9jhswqosJwq6jOXQBUyHUbFmy0iwXkL-aLgtdZ4jWbfqIR2x2sE

সেবার নামে চলছে খৃষ্টান বানানোর প্রক্রিয়াঃ

এভাবেই চলে যাচ্ছে দেশের সেবা খাতগুলো বিদেশী #NGO দের দখলে । প্রথমে সেবা দিয়ে শুরু করেন তারা । প্রকৃত সেবা ও চিকিৎসা দিয়ে মন জয় করে নেয় জনগণের । তারপর সেবা ও চিকিৎসক সেজে আসেন তাদের ধর্মগুরু তথা ফাদাররা । এবং চিকিৎসা সেবা ও ঔষধের বিনিময়ে কিনে নেয় হাজার হাজার গরীব মুসলীমের ঈমান । অতঃপর বছরের বিভিন্ন সময় বিভিন্ন পত্রিকায় খবর ছাপা হয় অমুক জেলায় ৪ হাজার লোক খৃষ্টান হয়ে গেছে । তমুক জেলায় হাজার হাজার লোক খৃষ্ট দীক্ষা গ্রহণ করেছে । তখন আর কিছুই করার থাকেনা ।

খৃষ্টান বানাতে না পারলেও অত্যন্ত হিজবুত তওহীদ কিংবা কাদিয়ানী বানাবে । তাও বানতে না পারলে সুন্নী অথবা একজন পীর বানাবে । তারা খুব ভাল ভাবেই জানে চিকিৎসা এবং খাদ্য ও টাকা এই ৩ বস্তুর নিকট গরীব লোক মাথা নত করতে বাধ্য । তাই এনজিও গুলো এই তিন পথেই প্রবেশ করে ।

বিদেশী এনজিওরা সেবার নামে বাঙ্গালী ধরে খৃষ্টান বানানোর এই কাজগুলোকে জাতীয় পর্যায়ে প্রচার প্রসারের জন্য তারা ব্যবহার করেন ওদের নিকট বিক্রি হয়ে যাওয়া #হানিফ_সংকেত এর মত #চুপা_নাস্তিক_সেলিব্রেটিদের।

ডাঃ এড্রিক বেকারের” মূল লক্ষ্য ছিল খৃষ্টীয় মতবাদ প্রচার

তারা সেবা নিয়ে আসে, খৃষ্টান বানিয়ে চলে যায় ।”ডাঃ এড্রিক বেকারের” মূল লক্ষ্য ছিল খৃষ্টীয় মতবাদ প্রচার। স্বাস্থ্য সেবা প্রতীক মাত্র ।ইত্যাদিতে প্রচারকৃত ডাঃ এড্রিক বেকারের টাঙ্গাইল মধুপুর বনে কাইলাকুড়ি স্বাস্থ্য পরিচর্চা কেন্দ্র (ক্রিস্টিয়ান মিশনারি হসপিটাল ) প্রতিবেদন নিয়ে মিডিয়া সরগরম। বাংলাদেশী ডাক্তারদের আবারো ভিলেন বানিয়ে সাদা চামড়ার বিদেশীর প্রশংসায় পঞ্চমুখ হচ্ছে সবাই।যার আড়ালে এই সত্য অপ্রকাশিত থেকে যাচ্ছে যে ডাঃ এড্রিক বেকারের প্রতিষ্ঠিত হাসপাতাল ক্রিশ্চিয়ান মিশনারীর মাধ্যমে পরিচালিত হাসপাতাল । যে মিশনারীর মুল লক্ষ্য হল ধর্মান্তরিত করে খৃস্টান বানানো । সেখানে সেবার মাধ্যমে স্থানীয় উপজাতিদের মধ্যে খ্রিস্টান ধর্মের প্রচার লক্ষণীয়।ডাঃ এড্রিক বেকার যে এলাকায় কাজ করত তা ছিল উপজাতি অধ্যুষিত এলাকা। আর মিশনারী চার্চগুলো এসব এলাকাতেই বেশি দেখা যায়। যাদের কাজই হল ধর্মান্তকরন করা।যে হাসপাতাল সে চালাত প্যারামেডিকেল দিয়ে। এমিবিএস ডাক্তারগন স্বেচ্ছায় সেখানে কাজ করতে চেয়েও তার অনুমতি পেতনা।https://tinyurl.com/uc29obuজানি ,অনেকেই বিশ্বাস করতে চাইবেননা। কিন্তু বাস্তবতা কারো অবিশ্বাসের ধার ধারেনা। সত্য, চিরকাল সত্যই।আপনারা খেয়াল করে দেখবেন খৃস্টান মিশনারীগুলো জনবহুল এলাকায় থাকেনা। থাকে রিমোট এরিয়াতে, শহর থেকে দূরে। বিশেষ করে উপজাতি অধ্যুষিত এলাকা কিংবা দারিদ্রপ্রবন এলাকা। কারন বিভিন্নভাবে সাহায্যের নাম দিয়ে তাদের ক্রিস্টান বানানো সহজ।যার কিছু প্রমান আপনাদের দিচ্ছি-১.১৫৯৯ খৃস্টাব্দে তাদের প্রথম অনুপ্রবেশ ঘটেছিল এ দেশের মাটিতে। সে সময় জেসুইট সম্প্রদায়ভুক্ত পর্তুগীজ খৃস্টাব্দে মিশনারি দের একটি দল যশোর জেলায় আসে।১৬৭৯ খৃ, এর ৪ নভেম্বর গোয়ার অগাস্টিন সম্প্রদায়ের জনৈক সেন্ট(সন্যাসী) তার একটি পত্রে লিখে যে,”যশোরে ২ জন পর্তুগীজ সেন্টের হাতে ৪০০ জন দেশীয় খ্রিষ্টান হয়েছে!!”২. স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২০ বছরে পাবর্ত্যাঞ্চলে ১২ হাজার উপজাতীয় পরিবার খ্রিস্টান হয়েছে।৩. উত্তরাঞ্চলের ১৫ লাখ উপজাতির মধ্যে ছয় লাখেরও বেশি এরই মধ্যে ধর্মান্তরিত হয়েছে।৪. রোমের ভ্যাটিকান থেকে ১৯৯০ সালের ৯ জুন রাজশাহীকে ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের ‘ষষ্ঠ ধর্মপ্রদেশ’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। সেই থেকে এ অঞ্চলে উপজাতিদের ধর্মান্তরের কাজ আরো জোরদার হয়। https://tinyurl.com/twqyru5

এবার আসুন হাসপাতালের আড়ালে তারা কি করে তা জেনে নেই-

১. পার্বতীপুরের ল্যাম্ব হাসপাতালের কথা প্রায় সবাই জানেন। কিন্তু সবাই জানেনা’ হাসপাতালের সেবার আড়ালে সেখানে ধর্মান্তকরনের নীরবে দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। রোগীদের কুরআনের আয়াত পড়িয়ে ও বাইবেলের বিভিন্ন কোটেশন পড়িয়ে খ্রিস্টধর্মের দাওয়াত দেয়। এভাবে অনেক মানুষ খ্রিস্টধর্মে দীক্ষিত হচ্ছে। বিস্তারিত জানতে পড়ুন- http://archive.is/fzFA4#selection-1513.0-1513.954 , https://www.alkawsar.com/bn/article/1051/

২. দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে হাসপাতাল ও মাতৃসদন প্রতিষ্ঠা করে কুষ্ঠ রোগ সহ জটিল ব্যাধির চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচার চালিয়ে আসছে একটি মাত্র লক্ষ্যকে সামনে রেখে, তা হলো এ দেশে খ্রিষ্ট ধর্ম, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রচার ও প্রসার। এই সব হাসপাতাল হলো মূলতঃ মানুষ ধরার ফাঁদ ও ষড়যন্ত্রের নীল কুঠি।

৩. যশোর জেলায় ফাতেমা হাসপাতাল নামে একটি মিশনারি হাসপাতাল আছে। নাম মুসলমানের হলেও হাসপাতাল কিন্তু খৃস্টান মিশনারীর। https://tinyurl.com/vd5lwvhযে হাসপাতালের ফেজবুক পেজে সুন্দর করে তাদের লক্ষ্য ও উদ্ধেশ্য লেখা আছে এভাবে “ দিনে দিনে বড় হয়ে এখনও এই হাসপাতাল যশোরের বুকে লক্ষ লক্ষ মানুষকে চিকিৎসা সেবা দিয়ে খ্রীষ্টের প্রেম মানুষের মাঝে বিলিয়ে দিচ্ছে”। http://archive.is/3uAMS#selection-609.182-609.307৪.

চার্চ অব বাংলাদেশ নামে একটি খ্রিষ্টান মৌলবাদী এন,জি, ও সংস্থা ১৯৬৫ সালে কক্সবাজারের মালুমঘাটে খ্রিষ্টান মেমোরিয়াল হাসপাতাল স্থাপন করে। ১৯৬৪ খ্রিষ্টাব্দে অত্র এলাকায় যেখানে এক জন খ্রিষ্টানও ছিলনা সেখানে বর্তমানে দশ হাজার বয়স্ক নাগরিক খ্রিষ্টান হয়েছে এবং তাদের পরিবার সহ এই সংখ্যা বর্তমানে ৪০ হাজারে উন্নীত হয়েছে। (দৈনিক সংগ্রাম, ২৪অক্টোবর, ১৯৯২)।অতএব যারা ডাঃ এড্রিক বেকার কথিত মানবসেবা নিয়ে গদগদ হচ্ছেন তারা বোকার দুনিয়ায় বাস করছে। স্বার্থ ব্যতিত কোন মিশনারী বাংলার যমীনে কাজ করছেনা।ডাঃ এড্রিক বেকার যা করেছে তা তার ধর্মের প্রতি আবেগ, ভালোবাসা আর টান থেকেই করেছে। সে তার খৃস্টীয় মতবাদকে ছড়িয়ে দিতে কাজ করছে, এই দেশের মানুষের প্রতি ভালোবাসার টানে নয়।এবার বুঝলে বুঝপাতা,না বুঝলে তেজপাতা।শুধু আফসোস এতটুকুই যে ২০০ বছর বৃটিশ গুতা গেয়েও বাংগালীর হুশ হয়নি!!! আজো সাদা চামড়া দেখলেই হুশ হারিয়ে ফেলে!!!

Collected: Dr. Muhammad Talha Back

প্রসঙ্গঃ কর্পোরেটোক্রেসি

সম্ভবত এ বছরের গোড়ার দিকে একটি আর্টিক্যাল পড়েছিলাম সোহল রানা নামক এক ভদ্রলোক বুক রিভিউ করতে গিয়ে জন পার্কিন্সের লিখা Confessions of an Economic Hit Man (এক অর্থনৈতিক ঘাতকের স্বীকারোক্তি)বই এর সমালোচায় তিনি দরুন কিছু তথ্য তুলে ধরেছিলেন। আমি ওনার পুরো লিখাটা ব্লগে তুলে রেখেছিলাম । আজ আবার মে করিয়ে দেয়াতে Wardpress এ রি-পোষ্ট করলাম ।

তার আগে পাঠক বন্ধুদের জেনে নেয়া দরকার কর্পোরেটোক্রেসি জিনিসটা কি? কর্পোরেটোক্রেসি আসলে পূজিবাদী বা কর্পোরেটদের স্বার্থ। ২০১৭ সালে অক্সফাম বলছে, পৃথিবীর ৩৬০ কোটি লোকের সমান সম্পদ রয়েছে মাত্র শীর্ষ ৮ ধনী ব্যক্তির হাতে। সত্যিই বলতে গরীব লোকদের সম্পদ গুটি কয়েক ধনীদের হাতে তুলে দেয়ার নামই হচ্ছে কর্পোরেটোক্রেসি। কর্পোরেটোক্রেসির অনেক ধাপ আছে। ১৬ থেকে ১৯ শতাব্দী পর্যন্ত ইউরোপে যে কালোদের দিয়ে দাসপ্রথা চালু ছিলো- বর্তমান কর্পোরেটোক্রেসি হচ্ছে সেই দাসপ্রথার আধুনিক রূপ। আর একটু সহজ ভাষায় এভাবে বলা যায়, পৃথিবীর প্রায় সকল লোককে ঐ গুটি কয়েক কর্পোরেট মালিকের দাস বানানোর নামই হচ্ছে কর্পোরেটোক্রেসি। জনাব সোহেল রানার লিখাটা এখন পড়ুন তাহলে…….

বুক রিভিউ

যুক্তরাষ্ট্রের সাম্রাজ্যবাদ কায়েমের করুণ কাহিনী যুক্তরাষ্ট্র যেভাবে সাম্রাজ্যবাদ কায়েম করেছে সেই করুণ কাহিনী নিয়ে জন পার্কিন্সের বই Confessions of an Economic Hit Man (এক অর্থনৈতিক ঘাতকের স্বীকারোক্তি)। রিভিউ লিখেছেন- সোহেল রানাবইটির বিষয়বস্তু ‘কর্পোরেটোক্রেসি’। লেখক বলতে চেয়েছেন, বর্তমান বিশ্ব সাম্রাজ্যের ভিত্তিই হচ্ছে এই ‘কর্পোরেটোক্রেসি’। কেবল লেখক বলতে চেয়েছেন এই কারনে নয়, এটি এখন প্রতিষ্ঠিত সত্য। কীভাবে? পরাশক্তিগুলো বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দুর্বল অথচ খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ ও ভূরাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রে তার সাম্রাজ্যবাদী স্বার্থ কায়েম করতে ধারাবাহিক কিছু কর্মপ্রক্রিয়া নিয়ে এগোয়। প্রথমত নির্ভর করা হয় অর্থনৈতিক ঘাতকের উপর। এতে ব্যর্থ হলে প্ল্যান-বি। লেখক এই দ্বিতীয় ধাপে শৃগালের (সিআইএ) উপর ভরসা করাকে বুঝিয়েছেন। ১৯৫৩ সালে ইরানের মোসাদ্দেক সরকারকে উৎখাত ও আশির দশকে পানামার ওমর তোরিজের মৃত্যুর পেছনে আছে শৃগাল। প্লান-বি ব্যর্থ হলে প্লান-সি বা চূড়ান্ত পদক্ষেপ। সরাসরি সামরিক আক্রমণ। আমরা প্ল্যান-সি কার্যকর হতে দেখেছি ইরাকের সাদ্দামকে উৎখাত আর পানামার লৌহমানব ম্যানুয়েল নরিয়েগাকে তুলে নিয়ে এসে ৪০ বছরের কারাদন্ড দেওয়ার ঘটনায়।
কর্পোরেটোক্রেসির মত জঘন্যতম পথ কেবল যে যুক্তরাষ্ট্রই অনুসরণ করছে ব্যাপারটা সেরকম নয়। চীন, বেলজিয়াম, ফ্রান্স, জাপান আর রাশিয়াও একইপথে হাঁটছে। এই সময়ে এসে আফ্রো-এশিয়া ও দক্ষিণ আমেরিকায় চীন যে ধরনের কর্পোরেটোক্রেসি প্র্যাকটিস করছে, তা অন্য যেকোন রাষ্ট্রের তুলনায় ভয়ংকরতম। লেখক জন পার্কিন্স একজন অর্থনীতিবিদ যিনি কাজ করেছেন মেইন নামের একটি কনসালটিং ফার্মে। তার কাজ ছিল অর্থনৈতিক প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই করা। এই ধরনের কোম্পানিগুলো কাজ করে থাকে মূলত সেই সব দেশে যেখানে রয়েছে বিপুল খনিজ সম্পদ কিংবা গুরুত্বপূর্ণ কোন স্থাপনা। তেল সমৃদ্ধ দেশগুলোই তাদের মূল টার্গেট। জন পার্কিন্স টার্গেট দেশগুলোর নেতাদের কাছে বড় বড় প্রজেক্ট নেওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরতেন। বোঝাতে চাইতেন অমুক প্রকল্প হাতে নেওয়া হলে জিডিপি হবে ১৭/১৮%। পার্কিংন্সের এই মূল্যায়ণ ছিল অতিরিক্ত। বাস্তবে যা ৫,৬, বা ৭ র্পাসেন্ট। এ কারনে গোপনে তাদের বলা হতো অর্থনৈতিক ঘাতক যাদের কাজই ছিল উন্নয়নের মূলা দেখিয়ে ভিনদেশের অর্থ কৌশলে হাতিয়ে নেওয়া। কোম্পানি থেকে নির্দেশনা ছিল প্রকল্পের সম্ভাব্য ফলাফল বাড়িয়ে দেখাতে হবে যাতে সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্র বিপুল ঋণ গ্রহণে উদ্ধুদ্ধ হয়। তারপর বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এই প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের দায়িত্ব পেতো মেইনের মত মার্কিন বহুজাতিক বাণিজ্য সংস্থাগুলো। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ করা অর্থ ফিরে যেতো যুক্তরাষ্ট্রেই, অন্যদিকে ঋণগ্রহণকারী দেশগুলো ঋণের ভারে জর্জরিত হতো বা হচ্ছে। এর বাইরেও টার্গেট রাষ্ট্র থেকে বিপুল অর্থ পাচার হতো যুক্তরাষ্ট্রে যেমনটা এখন সৌদি আরব থেকে হচ্ছে। কিন্তু ঋণ যারা পরিশোধ করতে পারতনা বা পারছেনা তাদের পরিণতি কী? লেখক বলছেন-
“ঋণের অর্থ হাতে না পেলেও ঋণগ্রহীতা দেশকে সুদে-আসলে পরিশোধ করতে হয়। যখন একজন অর্থনৈতিক ঘাতক পুরোপুরিভাবে সফল হন তখন ঋণের অংক বিশাল আকার ধারণ করে। তখন কয়েক বছরের মধ্যেই ঋণগ্রহীতা দেশটি ঋণখেলাপীতে পরিণত হতে বাধ্য হয়। যখনই এই ঘটনা ঘটে তখনই আমরা মাফিয়ার মত ঋণখেলাপী দেশটির টুঁটি চেপে ধরে আমাদের স্বার্থ হাসিল করি। এগুলোর মধ্যে রয়েছে জাতিসংঘে আমাদের প্রস্তাবের পক্ষে ভোট প্রদান, ঋণখেলাপী দেশে আমাদের সামরিক ঘাঁটি স্থাপন, আমাদের বাণিজ্যিক সংস্থাগুলোর হাতে ঋণখেলাপী দেশের প্রাকৃতিক সম্পদকে তুলে দেওয়া অথবা ঋণখেলাপী দেশের উপর দিয়ে অবাধে আমাদের যাতায়াতের অধিকার অর্জন করা। তারপরেও ঋণখেলাপী দেশটি আমাদের কাছে ঋণীই থাকে। সেই সাথে আমাদের বিশ্ব সাম্রাজ্যে আরেকটি দেশ সংযুক্ত হয়। ”
যুক্তরাষ্ট্র কর্পোরেটোক্রেসিতে সম্ভবত সবচেয়ে বেশি সফলতা দেখিয়েছে সৌদি আরবে। এর শুরু ১৯৭৩ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের পর। সে সময় ইসরায়েলকে সহায়তার দায়ে পশ্চিমের বিরুদ্ধে তেল অবরোধ দিয়েছিল সৌদি নেতৃত্বাধীন সাতটি আরব-অনারব দেশ। এই অবরোধ যুক্তরাষ্ট্রকে বাধ্য করেছিল শাটল কূটনীতির মাধ্যমে আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের সমাপ্তি টানতে। তখন থেকেই তেলসমৃদ্ধ সৌদি আরবের প্রতি দুর্বলতা বাড়ে যুক্তরাষ্ট্রের। কারন তেল অবরোধে ব্যারেল প্রতি কয়েকগুণ দাম বাড়ায় প্রচুর পেট্রোডলার জমেছিল সৌদি কোষাগারে। কর্পোরেটোক্রেসির নেতাগণ কীভাবে সেই অর্থ আমেরিকায় নিয়ে আসা যায় তাঁর পরিকল্পনা করতে থাকে। সৌদি ভবিষ্যতে তেল অবরোধ দেবেনা-এমন নিশ্চয়তা চাইল যুক্তরাষ্ট্র, বিনিময়ে রাজনৈতিক ও সামরিক সহযোগিতার প্রস্তাব দেওয়া হলো বাদশাহ ফয়সালকে। এই সহযোগিতা সউদ পরিবারের শাসন দীর্ঘায়িত করবে- এই ভেবে মেনে নেওয়া হলো যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব। এরপর যা হলো- সৌদিতে মার্কিন কোম্পানিগুলো এলো,বিশাল বিশাল উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নেওয়া হলো। সৌদি অবকাঠামো উন্নত হলো, সেই সাথে পেট্রোডলার পাচার হতে থাকলো আমেরিকায়! কিন্তু সৌদি মডেল কাজ করেনি ইরাকে। সাদ্দাম রাজি হননি। এর প্রতিশোধ প্রথম দফায় ১৯৯১ সালে এবং সবশেষ ২০০৩ সালে সাদ্দামকে উৎখাত করে নেওয়া হয়। লেখক বইটিতে উল্লেখ করেছেন-
“যদি সাদ্দাম হোসেন সউদ পরিবারের মত একই ভূমিকা পালন করতে রাজি হতেন তাহলে ইরাকে তার শাসন দীর্ঘায়িত হতো। তখন তিনি তার পছন্দসই মিসাইল ও গণবিধ্বংসী অস্ত্রগুলোকে নির্মাণ করতে পারতেন। তার বিশ্বস্ত আনুগত্যের পুরস্কার স্বরূপ যুক্তরাষ্ট্র তাকে এসব মারণাস্ত্র তৈরির কারখানা উপহার দিতো। এমন কি মার্কিন বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলীরা এসব কারখানাকে উন্নয়ন করার ও সচল করে রাখার দায়িত্ব পেতো। সেই সাথে ইরাককে একটি আধুনিক দেশরূপে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হতো। অবশ্য সবই হতো ইরাকের পেট্রো ডলারের বিনিময়ে। এক কথায় সৌদি আরবের মতো ইরাকও হতো যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সোনার ডিম পাড়া রাজহাঁস। “
মেইনে কাজ করার সুবাদে লেখককে পানামা, ইকুয়েডরসহ বিভিন্ন দেশ সফর করতে হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অবাধ্য হওয়া বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধানদের পরিণতি ফুটে এসেছে তার বর্ণনায়। ইন্দোনেশিয়া, ভেনেজুয়েলা, ইকুয়েডর, পেরু, চিলি, আফগানিস্তান, ইরাক, ইরানসহ বিভিন্ন দেশে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ প্রতিষ্ঠার নানা চেষ্টার তথ্য আছে বইটিতে। জানা যাবে খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ না হয়েও পানামা কেন যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষোভের আগুনে পুড়েছিল? মূল বইটি পড়ার সুযোগ হয়নি। অনুবাদ পড়েছি দেবাশিস চক্রবর্তীর। অনুবাদ তুলনামূলক ভালই হয়েছে।
অন্যের অর্থনীতি ধ্বংস করে নিজেদের অর্থনীতি শক্তিশালী করার এই ঘৃণ্য আয়োজনে যুক্ত থাকায় লেখক একটা সময় পর অনুতপ্ত হয়েছিলেন। সেই অনুতাপ থেকেই তার মেয়ের পরামর্শে বইটি লেখা।
শেষ করবো এক সন্ধ্যায় ওয়াল স্ট্রীটে এক আফগান ভিখারীর সাথে লেখকের কথোপকথন দিয়ে—সে(আফগান) প্রশ্ন করলো, ‘আপনি কি সৈনিক ছিলেন?’
আমি হাসলাম। ‘না, আমি একজন অর্থনৈতিক পরামর্শদাতা।’ তাকে পরিসংখ্যান বোঝাই কাগজটি দেখিয়ে বললাম, ‘এগুলো আমার অস্ত্র’।
সে কাগজটিতে চোখ বুলিয়ে হেসে ফেলল, ‘আমি পড়তে পারিনা’।
আমি বললাম, “প্রতিদিন ক্ষুধার কারণে ২৪ হাজার লোক মৃত্যুবরণ করে- এই কথাটিই এই কাগজে লেখা রয়েছে। ”
সে হাল্কা সুরে শীষ দিলো। এরপর কতক্ষণ চিন্তা করে দীর্ঘনিঃশ্বাস ফেলল। তারপর বলল, “আমার পরিণতিও হয়তোবা তাই হতো। কান্দাহারের কাছের একটি গ্রামে আমার একটি ডালিমের খামার ছিল। রাশিয়ানরা এলো। মুজাহেদিনরা গাছের আড়ালে ও পানির নালায় লুকালো। তুমুল গেরিলা যুদ্ধ ঘটল। আমার খামার একেবারে ধ্বংস হয়ে গেলো।”
আমি জিজ্ঞেস করলাম, ‘এরপর আপনি কাজ কী করতেন?’ সে আমার হাতের কাগজটির দিকে তাকিয়ে পাল্ট প্রশ্ন করলো, “ওটাতে কি ভিক্ষুকদের কথা লেখা রয়েছে? আমি ওদের একজন ছিলাম। ”এরপর সে কতক্ষণ চিন্তায় ডুবে রইল। তারপর বলল, “আমার সন্তান দুনিয়া ছেড়ে চলে গেলো। আমি পপির চাষ শুরু করলাম।”
আমি অবাক হয়ে প্রশ্ন করলাম, ‘আফিম’?
সে কাঁধ ঝাঁকালো- “কোন গাছ নেই। পানি নেই এক ফোঁটা।

তাই পরিবারকে বাঁচিয়ে রাখতে একমাত্র উপায় এটা।”

নামাজে_হাত_বাঁধার বিষয়ে

#নামাজে_হাত_বাঁধার বিষয়ে ইমাম তিরমীজি রহঃ বলেন রাসুল, সাঃ এর সহাবীগণ, তাবেয়ীগণ এবং পরবর্তী সকল আহলে ইলমদের কর্মধারা অর্থাৎ অব্যাহত আমল এই যে, তারা নামাজে ডান হাত বাম হাতের উপর রাখাকে নামাজের একটি নিয়ম মনে করতেন । তাদের কেউ কেউ নাভীর উপরে এবং কেউ কেউ নাভীর নিচে হাত রাখাকে উত্তম মনে করতেন এবং উভয় পদ্ধতিই তাদের নিকট বৈধ ছিল ।


জামে তিরমিজি ২/৩৩ । হাদীস নং ২ত২ এর তাফসীর ।
শয়তানের কাজ হলো মানুষকে ফরজ ইবাদত থেকে ফিরিয়ে এনে নফল আর মুস্তাহাব ইবাদতে মশগুল করে দেয়া । যেমন চরমোই জিকির , কওমী খারেজীদর কোরআন খতম , তাবলীগীদের চিল্লা কাশি,আহলে হাদীসীদের আমিন বলা,বুকে হাত বাঁধা,ফাঁক করে দাড়ানো ইত্যাদি নানান ইখতেলাফি বিষয় নিয়ে অহেতুক বাড়াবাড়ি করা ।অথচ পরিবার ও সমাজে নিয়মিত শত শত ফরজ ভঙ্গ হচ্ছে ।সমাজে হিজাব নাই ,হালাল ব্যবসা নাই,দুর্নীতিমুক্ত কোন খাত নাই , মিথ্যামুক্ত নেতা নাই, ভেজালমুক্ত খাদ্য নাই ।অথচ সম্মিলনের ওয়াজে চোখে ঘুম নাই, মসজিদের কোন কমতি নাই, নামাজির বালাই নাই, হাজি সাহেবদের অভাব নাই ।

#তাতছে_বিশ্ব_গলছে_বরফ! #এভারেস্টের হিমবাহ সরতেই উন্মুক্ত বহু অভিযাত্রীর দেহ!

#তাতছে_বিশ্ব_গলছে_বরফ! #এভারেস্টের হিমবাহ সরতেই উন্মুক্ত বহু অভিযাত্রীর দেহ!১৯৯২ সাল আজ পর্যন্ত থেকে ৪৮০০ অভিযাত্রী গিয়েছে এভারেষ্ট এর সর্বোচ্চ শৃঙ্গে । সরকারী হিসাব মতে এ পর্যন্ত তিন শতাধিক অভিযাত্রী ফ্রস্ট বাইটে {Frost bite–শীত দংশন বা তুষারস্পর্শে দেহের অসাড়তা) আক্রান্ত হয়ে হিমালয়ের বরফের রাজ্যে চাপা পড়ে আছে । কেউ কেউ ৫০ বছর ধরে মরে পড়ে আছে সেখানে ।নেপাল প্রশাসন সূত্রের খবর, এই বছর অসংখ্য নিখোঁজ অভিযাত্রীর দেহ উন্মুক্ত হয়েছে বিশ্বের সর্বোচ্চ চুড়ো এভারেস্টের যাত্রাপথে। সৌজন্য, বিশ্ব উষ্ণায়ন।সরকারি তথ্য বলছে, সেই ১৯২২ সাল থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত শতাধিক অভিযাত্রীর দেহ থেকে গিয়েছে এভারেস্টের বুকে। কালের হিসেবে তারা চাপা পড়ে গিয়েছে বরফে, হারিয়ে গিয়েছে হিমবাহের অতলে। কিন্তু বিশ্ব জুড়ে উষ্ণতা এত অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে, যে গলে যাচ্ছে এভারেস্টের অনেক বরফ। আর বরফ সরতেই বেরিয়ে আসছে সেই আরোহীদের চাপা পড়া দেহ! অবিকৃত! তুষারের দেশে যে সবই অবিনশ্বর!
নেপাল মাউন্টেনিয়ারিং অ্যাসোসিয়েশনের প্রাক্তন সভাপতি আং শেরিং শেরপা বলেন, “২০০৮ সালে এক বার এমন হয়েছিল। ১৯৭০ সালে চাপা পড়া সাত জন ব্রিটিশ অভিযাত্রীর দেহ একসঙ্গে বেরিয়ে এসেছিল। সেগুলো নামানো হয়। কিন্তু তার পর থেকে আর কখনও এত দেহ দেখা যায়নি। এই বছর অস্বাভাবিক রকম গলেছে বরফ। এটা সারা পৃথিবীর জন্য খুবই খারাপ বার্তা। আমরা উদ্বিগ্ন।”বস্তুত, মেরুপ্রদেশ থেকে শুরু করে হিমালয়– বরফ সর্বত্রই গলতে শুরু করেছে কয়েক বছর ধরেই। এর নানা কুফল প্রায়ই সামনে আসে। কিন্তু এ নিয়ে বিশ্ব জুড়ে যতটা প্রচার ও সচেতনতা গৃহীত হওয়া উচিত, তার প্রায় কিছুই হয় না। সেই কারণেই বছর-বছর গলতে গলতে, এই বার যেন মাত্রা ছাড়িয়েছে এভারেস্ট।এভারেস্টে ওঠার পথে অন্যতম বিপজ্জনক জায়গা হল খুম্বু আইসফল। একশো বছর ধরে এই আইনফলেই মারা গিয়েছেন বহু পর্বতারোহী। ২০১৪ সালে এখানে বড় তুষারধস নামায় মারা যান ১৩ জন অভিজ্ঞ শেরপাও। সেই খুম্বুতেই বরফ গলে বেরিয়ে আসছে সব থেকে বেশি মৃতদেহ— গত কয়েক বছরে এমনটাই অভিজ্ঞতা পর্বতারোহীদের।নেপালের পর্বত আরোহণ আয়োজক সংস্থাগুলির তরফে জানানো হয়েছে, বিষয়টি খুবই দুঃখজনক হলেও, অত উচ্চতা থেকে দেহ নামিয়ে আনা খুবই পরিশ্রমসাধ্য ও খরচসাপেক্ষ। তার উপর অনেক সময়েই দেহের মালিকানা নিতে চান না কেউ। তখন তার দায় সংস্থাকে নিতে হয়, সৎকারের ব্যবস্থা করতে হয়। সে কারণ বেশির ভাগ দেহই শ্রদ্ধা জানিয়ে পাহাড়ের কোলেই ফেলে আসা হয় বলে জানালেন অভিজ্ঞ শেরপারা।
১৯৫৩ সালে প্রথম এডমন্ড হিলারি এবং শেরপা তেনজিং নোরগে এভারেস্টের চুড়ো স্পর্শ করেন। তথ্য বলছে, তার পর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় পাঁচ হাজার পর্বতারোহী নিরাপদে এভারেস্ট সামিট করে ফিরে এসেছেন। কিন্তু অনেকেই আবার পারেননি ফিরতে। পাশাপাশি, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এভারেস্টের ফিচারও পাল্টে গেছে। ২০১৫ সালের ভূমিকম্প যেমন নষ্ট করে দেয় সামিটের নীচের ‘হিলারি স্টেপ’ নামের একটি জায়গা। ওই একই বছরের এক গবেষণায় দেখা যায় হিমালয়ের বরফ প্রবল গতিতে গলতে শুরু করেছে। আগামী ১০০ বছরের মাথায় ৭০-৯৯ শতাংশ হিমবাহ গলে যাবে বলে আশঙ্কা করা হয়েছে।কিন্তু ভবিষ্যতের কথা তো পরে, অতীতের প্রায় একশো বছর ধরে হিমালয়ের তুষারেরাজ্যে সমাহিত পর্বতারোহীদের মৃতদেহ বেরিয়ে আসায় সমস্যায় পড়েছেন নেপালের পর্বতারোহী সংস্থাগুলো।
তথ্য বলছে, এভারেস্ট অভিযানে এ পর্যন্ত মৃত ৩০০ জনের মধ্যে বেশির ভাগেরই দেহ বরফের তলায় চাপা পড়ে যাওয়ার তাঁদের খুঁজে পাওয়া যায়নি এত দিন। কিন্তু উষ্ণায়ণ বদলে দিয়েছে এই চিত্র। গত কয়েক বছর ধরে সারা পৃথিবীর সঙ্গে বাড়ছে হিমালয়ের তাপমাত্রাও। গলছে এভারেস্টের বিভিন্ন হিমবাহ। তার ফলেই এত দিন ধরে বরফে চাপা পড়ে থাকা পর্বতারোহীদের মৃতদেহ বেরিয়ে আসছে অনেক বেশি সংখ্যায়।নেপাল ন্যাশনাল মাউন্টেন গাইড অ্যাসোসিয়শনের তরফে সবিত কুঁয়ার জানিয়েছেন, ‘‘বিষয়টি খুবই চিন্তার। পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা আছে আমাদের। কোনও কোনও ক্ষেত্রে আমরা মৃতদেহ নামিয়ে আনছি। কখনও আবার শুধুই প্রার্থনা করে পাথর আর বরফ দিয়ে মৃতদেহগুলি চাপা দিয়ে দিচ্ছি।’’এ বিষয়ে আং শেরিং বলছেন, ‘‘কিছু দিন আগেই একটি মৃতদেহ বেরিয়ে এসেছিল পর্বতশৃঙ্গের প্রায় কাছে, আট হাজার ৭০০ মিটার উচ্চতায়। মৃতদেহটি ঠান্ডায় তো জমাট বেঁধে গিয়েছিলই সেই সঙ্গে তার ওজন হয়ে গিয়েছিল প্রায় ১৫০ কেজি। ওই দুর্গম জায়গা থেকে মৃতদেহটি নীচে নামিয়ে আনতে বেশ কষ্টই হয়েছিল আমাদের। সব সময় তা সম্ভব হয় না।’’

ইফা ডিজির ১০ বছরে ৯শ’ কোটি টাকার গড়মিল

ইফা ডিজি শামীম মো. আফজাল হলো জিন্সের প্যান্টের মতো।

জিন্সের প্যান্ট ধোয়ার পর একবার চিপা দিলে মনে হয় সব পানি বের হয়ে গেছে। কিন্তু না। আবার কড়া করে চিপা দিলে আরো কিছু পানি বের হয়। কিছুক্ষণ পর দুইজন দুইদিকে ধরে আরো কড়া চিপা দিলে আরো পানি বের হয়। মৌলানা সাহেব চোরামিকর্মে ধরা খেয়ে বত্রিশ কোটি টাকা ফেরত দিয়েছেন। দ্বিতীয় চিপা দেয়ার পর আরো ৪২ কোটি টাকা ফেরত দিলেন। কোন সন্দেহ নাই এবার আরেকটা ডলা দিলে উনার পাঞ্জাবীর ভেতরের বুকপকেট থেকে আরো কয়েক কোটি টাকা বের হবে। বঙ্গবন্দুর আদর্শের একজন খাঁটি সৈনিক।

গত ১০ বছরে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ১৩৪টি খাতে প্রায় ৯০০ কোটি টাকার অনিয়ম হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান মহাপরিচালক (ডিজি) সামীম মোহাম্মদ আফজালের মেয়াদকালে (প্রায় ১০ বছর) এসব অনিয়মের ঘটনা ঘটে বলে সিভিল অডিট অধিদপ্তরের বিশেষ নিরীক্ষা দলের প্রাথমিক অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে এমন খবর জানিয়েছে যুগান্তর। 

খবরে জানানো হয়, ৯০০ কোটি টাকার মধ্যে সরকারের সরাসরি ক্ষতি হয়েছে ৩৭২ কোটি ৬৯ লাখ ৬৪ হাজার ৫৩৭ টাকা। এছাড়াও বিধিবহির্ভূতভাবে ৫১৮ কোটি ৬০ লাখ ৬৯ হাজার ৭৯৮ টাকা খরচ করা হয়েছে। চলতি বছরের ৯ জুলাই থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত চালানো অনুসন্ধানে এমন তথ্য পায় সিভিল অডিট অধিদপ্তরের বিশেষ নিরীক্ষা দল। 

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের (ইফা) বর্তমান মহাপরিচালক (ডিজি) সামীম মোহাম্মদ আফজালের মেয়াদকালে (প্রায় ১০ বছর) এসব অনিয়মের ঘটনা ঘটে। ইফার কাছে এসব অনিয়ম সম্পর্কে জানতে চেয়েছে নিরীক্ষা দল। 

সূত্র জানায়, গত ১০ বছরে বিধিবহির্ভূত নিয়োগ ও পদোন্নতি, প্রকল্পের অব্যয়িত অর্থ ফেরত না দিয়ে বিদ্যমান আইন লঙ্ঘন, কেনাকাটায় অনিয়ম, অনুমোদন ছাড়া পেনশন ফান্ডে টাকা স্থানান্তরসহ ইফার বিভিন্ন কার্যক্রমে নানা অপকর্মের অভিযোগ ওঠে। এসব নানা গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার প্রেক্ষিতে ইফার যাবতীয় আয়-ব্যয়ের হিসাব পর্যালোচনা করতে চলতি বছরের ৮ জুলাই পাঁচ সদস্যের একটি বিশেষ নিরীক্ষা দল গঠন করে সিভিল অডিট অধিদপ্তর।

আরো জানা গেছে, বিশেষ অডিট টিমের অনুসন্ধানে ইফার বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির তথ্য-উপাত্ত উঠে এসেছে- এমন বিষয়টি আঁচ করতে পেরে সম্প্রতি তড়িঘড়ি করে কয়েক দফায় মসজিদভিত্তিক গণশিক্ষা প্রকল্পের অব্যয়িত ৭৪ কোটি টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেয়া হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে প্রকল্প পরিচালক ফারুক আহম্মেদ জানান, তিনি দু-তিন মাস হল প্রকল্পে যোগ দিয়েছেন। আগের কর্মকর্তারা কী কারণে অব্যয়িত অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দেননি তা বোধগম্য নয়। তবে তিনি এ ব্যাপারে সচেতন। নিয়ম মেনে আরো টাকা জমা দেয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

২০০৯ সাল থেকে ইফার ডিজির দায়িত্ব পালন করে আসছেন বিচার বিভাগের কর্মকর্তা সামীম মোহাম্মদ আফজাল। এ সময়ে দুই দফায় তাকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয়া হয়। উল্লিখিত অনিয়মের বিষয়ে মন্তব্য নিতে মঙ্গলবার ও বুধবার ইফার ডিজির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। এর মধ্যে মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টা থেকে বিকাল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত ইফার প্রধান কার্যালয়ে সশরীরে উপস্থিত থেকেও তাকে পাওয়া যায়নি। তার দপ্তর থেকে বলা হয়, ‘তিনি (ডিজি) খুব সকালে এসেছিলেন। কখন আসবেন তা জানা নেই।’ 

এরপর একই দিন সন্ধ্যায় সামীম মোহাম্মদ আফজালের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দেয়া হলেও তিনি ফোন ধরেননি। এমনকি একই নম্বরে প্রতিবেদকের পরিচয় উল্লেখ করে কথা বলতে চেয়ে এসএমএস পাঠানো হলেও কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

এ ছাড়া গতকাল ৬ নভেম্বর, বুধবার বিকালে তার মোবাইল ফোনে ফের একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ধরেননি। এরপর সন্ধ্যায় একই নম্বরে আগের দিনের মতো প্রতিবেদকের পরিচয় দিয়ে বিশেষ নিরীক্ষার ব্যাপারে মন্তব্য চেয়ে এসএমএস করা হয়। রাতে এ প্রতিবেদনটি লেখা পর্যন্ত তিনি এসএমএসের জবাব দেননি।

তবে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পর থেকে সাংবাদিকদের এড়িয়ে চলছেন ইফার ডিজি। এ ব্যাপারে ডিজির নিকটাত্মীয় বলে পরিচিত এবং তার (ডিজি) দপ্তরের কর্মচারী মুনিম সিকদার বুধবার বিকাল ৫টার দিকে টেলিফোনে বলেন, ‘উনি কোনো সাংবাদিকের সঙ্গে কথা বলেন না।’

তবে ইফার আয়-ব্যয়ের ওপর পরিচালিত সরকারের বিশেষ নিরীক্ষার ব্যাপারে ইফার সচিব কাজী নুরুল ইসলাম মঙ্গলবার বলেন, ‘অডিট অধিদপ্তরের ৫ সদস্যের একটি বিশেষ টিম গত ১০ বছরের নিয়োগসহ নানা অনিয়ম ও আয়-ব্যয়ের হিসাব অনুসন্ধান করছে। তারা ইতিমধ্যে ১৩৪টি ক্ষেত্রে অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয় চিহ্নিত করে সেই বিষয়ে ইফার জবাব চেয়েছেন।’

তিনি আরো বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে প্রায় হাজার কোটি টাকা অনিয়মের কথা বলা হয়েছে। আমাদের জবাব পাওয়ার পর তারা প্রতিবেদন চূড়ান্ত করবেন। সেখানে এই অনিয়ম ও দুর্নীতির অঙ্ক কমবেশি হতে পারে। আমরা এসব বিষয়ে কাজ করছি।’

সরকারের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চলমান দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের অনুসন্ধানে সন্দেহভাজন দুর্নীতিবাজদের তালিকায় রয়েছে ইফার ডিজি সামীম মোহাম্মদ আফজালের নাম। প্রাথমিক তদন্তেতার নামে-বেনামে অঢেল সম্পদের তথ্য পেয়েছে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো।

এরপর তার ব্যাংক হিসাব তলব করে বাংলাদেশ ব্যাংক। সামীম মোহাম্মদ আফজাল, পিতা : মৃত আবদুর রশিদ, মাতা : মৃত আমেনা খাতুন, জাতীয় পরিচয়পত্র নং : ১৯৫৭২৬৯৫০৪২৭৮ ৪৫৩১, জন্মতারিখ ৩১/১২/১৯৫৭, পাসপোর্ট নং : বিজি ০০০৯৭৬০-এর ব্যাংক হিসাব এবং অ্যাকাউন্ট খোলার তারিখ থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত বিস্তারিত বিবরণ চেয়ে সব কটি তফসিলি ব্যাংক ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে চিঠি পাঠায় বাংলাদেশ ব্যাংক।

সাবেক বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা সামীম মোহাম্মদ আফজাল ১১ বছর ধরে ইসলামিক ফাউন্ডেশন মহাপরিচালক হিসেবে কর্মরত। গত জুনে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে ধর্ম মন্ত্রণালয় ডিজিকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিলে তার অনিয়মের বিষয়টি আলোচনায় আসে।

ওই শোকজ নোটিশে অনিয়মের অভিযোগের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানানো হয়। পরে অবশ্য ইফা বোর্ড কিছুটা নমনীয় হয় এবং ডিজির কিছু ক্ষমতা কমিয়ে তার চুক্তির মেয়াদ পর্যন্ত দায়িত্বে রাখার সিদ্ধান্ত নেয়।

মহা হিসাব নিরীক্ষকের কার্যালয় সূত্র জানায়, ইফা ডিজির অনিয়মের বিষয় সামনে আসার পরই গত জুলাই মাসে বিশেষ নিরীক্ষা কার্যক্রমে হাত দেয়া হয়।

অডিট অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক এসএম নিয়ামুল পারভেজের নেতৃত্বে এই টিমের অন্য সদস্যরা হলেন : অডিট অ্যান্ড অ্যাকাউন্স অফিসার মো. রফিকুল ইসলাম, মো. শফিকুল ইসলাম, অডিটর মো. মফিজুল ইসলাম ও মো. ইমাম হোসেন।

এই অডিট টিম এক মাসের নিরীক্ষায় ইফার বিভিন্ন প্রকল্পসহ ব্যয়ের অনেক খাতেই অনিয়ম ধরা পড়ে। ১৮৬ পৃষ্ঠার প্রাথমিক নিরীক্ষা প্রতিবেদনে ১৩৪টি খাতে অনিয়মের চিত্র এসেছে।

অনিয়ম পাওয়া গেছে যেসব খাতে : বিশেষ নিরীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়, সরকারের সরাসরি আর্থিক ক্ষতি হয়েছে এমন খাতগুলোর মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য হল : আর্থিক বছরের শেষদিনে প্রকল্পের অব্যয়িত অর্থ স্থানান্তরের উদ্দেশ্যে ৬৪ জেলায় অর্থ ছাড় করা হয় ৩১ কোটি ৯৯ লাখ ১৫ হাজার ২২০ টাকা; যা অনিয়ম। আর্থিক বছর শেষে প্রকল্পের অব্যয়িত অর্থ সরকারি কোষাগারে না দেয়ায় ক্ষতি ১৭ কোটি ৯৩ লাখ ৩৬ হাজার ৫৭৩ টাকা।
গণশিক্ষা কেন্দ্রের জন্য পাঠ্যবই মুদ্রণে প্রকৃত মূল্যের চেয়ে ২০ কোটি ৯৮ লাখ ১৬ হাজার ৪৮৭ টাকা এবং কোরআনুল কারিম মুদ্রণে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে অতিরিক্ত মূল্যে কার্যাদেশ দেয়ায় ১২ কোটি ৩৫ লাখ ৮১ হাজার ৪১৭ টাকা ক্ষতি হয়েছে। কার্যাদেশের পরিমাণের চেয়ে কম কোরআন শরিফ নেয়ায় ক্ষতি হয়েছে ৩ কোটি ৩২ লাখ ৮২ হাজার ৬০০ টাকা। বোগদাদিয়া কায়দায় ক্ষতি এক কোটি টাকা। জিওবির বরাদ্দের অব্যয়িত টাকা জমা না দেয়ায় ২২ কোটি ৯ লাখ ২৭ হাজার ৫০৯ টাকা ও সিপিটিইউর ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন ছাড়াই বিজ্ঞাপন প্রতিষ্ঠানকে ১৬ কোটি ৩০ লাখ ১০০ টাকা দেয়া হয়।

এছাড়া অব্যয়িত পুঞ্জীভূত টাকা সরকারি কোষাগারে জমা না দেয়ায় ক্ষতি ৯৯ কোটি এক লাখ ৬ হাজার ৭৪৪ টাকা। প্রকল্পের অব্যয়িত টাকা ইফার স্থায়ী ফান্ডে আমানত করায় সরকারের ক্ষতি ৪৬ কোটি ৩৩ লাখ ৭ হাজার ৫৬৩ টাকা, বিধিবহির্ভূত ৪৭ জনকে প্রথম শ্রেণির পদে নিয়োগ দেয়ায় ক্ষতি ১৩ কোটি ১৭ লাখ ৯৯ হাজার ৩৬০ টাকা। একইভাবে আরো ১৬৭ জন কর্মচারী নিয়োগ দেয়ায় ক্ষতি প্রায় ৮ কোটি টাকা।

দৈনিকভিত্তিক কর্মচারীদের রাজস্ব পদে স্কেলভিত্তিক নিয়োগ দেয়ায় ৩ কোটি ৮৩ লাখ ৫০ হাজার ৯৯৮ টাকার ক্ষতি হয়েছে এবং দারুল আরকাম মাদ্রাসার শিক্ষক নিয়োগ না দিয়ে বরাদ্দের টাকা রেখে দেয়ায় সরকারের ক্ষতি হয়েছে প্রায় ৪৫ কোটি টাকা।

নিরীক্ষা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বিভিন্ন খাতে নিয়মবহির্ভূতভাবে ৫১৮ কোটি টাকা তছরুপ করা হয়েছে। এসব খাতের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল- বাজেট বরাদ্দের অতিরিক্ত ১৩৭ কোটি ৬৬ লাখ ২০ হাজার ৮৫৭ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়াই ইফার পেনশন ফান্ডে ১৪১ কোটি ২৭ লাখ ৭৮ হাজার ৩৮ টাকা স্থানান্তর করা হয়েছে। অন্য একটি খাতে স্থানান্তর করা হয়েছে প্রায় আড়াই কোটি টাকা।

ডিপিপিতে বরাদ্দের চেয়ে জেলা অফিসগুলোতে অতিরিক্ত অর্থ ছাড় করা হয়েছে ১৪ কোটি ৯৬ লাখ ৬০ হাজার টাকা। ডিপিপির অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করা হয়েছে ২৬ কোটি ১৪ লাখ ৫ হাজার টাকা। আর্থিক ক্ষমতার অতিরিক্ত প্রেসের কাঁচামাল কেনা হয়েছে ৪৫ কোটি ১৩ লাখ ৭৭ হাজার ১৮৬ টাকা, বিধি লঙ্ঘন করে দৈনিকভিত্তিক কর্মচারীদের বেতন দেয়া হয়েছে দেড় কোটি টাকা।

ইফার নিজস্ব ডিজিটাল প্রেস থাকার পরও বাইরের প্রেস থেকে প্রয়োজনীয় পুস্তকাদি ছাপানোয় ৩৬ কোটি ৫৬ লাখ ৯১ হাজার ৬৮৬ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। জঙ্গিবাদবিরোধী প্রচারণার অব্যয়িত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেয়া হয়নি এক কোটি ৩৭ লাখ টাকা। সিডি ভ্যাটের অব্যয়িত দেড় কোটি টাকাও জমা দেয়া হয়নি। বায়তুল মোকাররমের দোকান ভাড়ার ২ কোটি ৬১ লাখ ৫৯ হাজার টাকা অনাদায়ী রয়েছে।

অনুমোদন ছাড়া ৩ কর্মকর্তাকে নিয়োগ ও পদোন্নতি দেয়ায় পরিশোধ করতে হয়েছে এক কোটি ৮৪ লাখ টাকা। বোর্ডের অনুমোদন ছাড়াই বিভিন্ন খাতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পরিশোধ করা হয়েছে প্রায় ১৩ কোটি টাকা।

অগ্রিম পরিশোধ করা প্রায় দেড় কোটি টাকা সমন্বয় করা হয়নি। এ ছাড়া ক্রয়সীমার বাইরে খরচ করা হয়েছে প্রায় আড়াই কোটি টাকা। প্রাধিকারবহির্ভূত একটি ব্যাংকে রাখা হয়েছে ২৯ কোটি ৪৩ লাখ ১৬ হাজার ৭৯৯ টাকা।

বিধিবহির্ভূতভাবে একটি প্রকল্পের ফিল্ড সুপারভাইজারদের বেতন-ভাতাদি দেয়া হয়েছে সাড়ে ১১ কোটি টাকা। আর অনুশীলন ও ড্রয়িং খাতা মুদ্রণ বাবদ অব্যয়িত প্রায় ৬ কোটি টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেয়া হয়নি।