#ইতিবাচক হতে চেষ্টা করুন #Be_Positive

আমেরিকার বোস্টনে ১৯৮৬ সালে একটি অদ্ভুত পরীক্ষা
করা হয় ৷ এক ফাঁসির আসামীকে ফাঁসির সাজা শোনানো
হলো ৷ কতিপয় বিজ্ঞানী সে আসামীর উপর একটি
পরীক্ষা করার প্রস্তাব করলেন । কয়েদীকে শোনানো
হলো ফাঁসির বদলে তোমাকে বিষাক্ত কোবরা সাপ
দংশন করিয়ে হত্যা করা হবে।
কয়েদীকে চেয়ারে বসিয়ে তার হাত-পা বেঁধে দেয়া
হলো, তারপর তার চোখে পট্টি বেঁধে বিষাক্ত কোবরা
সাপ না এনে তার বদলে দুটি সেফ্টি পিন ফুটানো হলো।
ফলে কয়েক
সেকেন্ডের মধ্যেই কয়েদির মৃত্যু হলো ৷ পোস্টমর্টেম
রিপোর্টে দেখা গেল সাপের বিষ রয়েছে তার শরীরের
মধ্যে। প্রশ্ন হলো এই বিষ কোথা থেকে এলো, যা ঐ
কয়েদীর প্রাণ কেড়ে নিল।
বলা হয় সেই বিষ তার নিজের শরীর থেকেই উৎপত্তি
হয়েছিল।আমাদের সংকল্প থেকে positive এবং negative
এনার্জির সৃষ্টি হয়। আর সে এনার্জি আমাদের শরীরে
হরমোনের উৎপত্তি করে ৷ 75% রোগের মূল কারণ হলো
আমাদের negative চিন্তাধারা। মানুষ নিজের
চিন্তাধারা থেকে ভস্মাসূর হয়ে নিজ প্রজাতিকে
বিনাশ করছে। আপনার চিন্তাধারা সর্বদা positive রাখুন
এবং খুশী থাকুন।
২৫ বছর বয়স পর্যন্ত আমরা ভাবি যে ‘‘মানুষ কি মনে করবে!”
৫০ বছর আমরা ভয় পাই ‘মানুষ কি ভাববেন!‘ ৫০ বছর পরে
আমরা বুঝতে পারি ‘’কেউ আমার কথা চিন্তাই
করেনি৷‘’ কিন্তু তখন তেমন কিছু করার থাকে না!
তাই ইচ্ছেশক্তিকে কখনোই থামতে দেয়া যাবে না। কে
কি বলে তা নিয়ে না ভেবে নিজের পজিটিভ
চিন্তাগুলো নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।
তাহলেই সফলতা ধরা দিবে। https://www.gonzagabulletin.com/opinion/a-cruel-and-unusual-punishment/article_52f85998-8367-11e5-9840-6370eca85f07.html?fbclid=IwAR2k432srPqGVnnRTsdNZ1RNV3AIcp6PEiQP3Yx-ySDvmoD6vVDPXPLzQto

ফজলুল হক আমিনী : কিংবদন্তি রাজনীতিবিদ আলেম


পরিচিতিঃ বাংলাদেশের ইসলামী রাজনীতির আকাশে মুফতী ফজলুল হক আমিনী নামটি চিরকাল নক্ষত্রের ন্যায় জ্বলজ্বল করবে। তার রাজনীতিতে কোন খাদ ছিল না। খাদ ছিল না তার ইসলামের প্রতি ভালবাসাতেও। এই কিংবদন্তি আলেম রাজনীতিবিদ ১৯৪৫ সালের ১৫ই নভেম্বর বিবাড়ীয়া জেলার আমীনপুর গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত ও দ্বীনদার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
শিক্ষাজীবনঃ বিবাড়ীয়া জামেয়া ইউনুসিয়ায় প্রাথমিক শিক্ষা শেষে তিনি মুন্সিগঞ্জ জেলাধীন বিক্রমপুরের মোস্তফাগঞ্জ মাদরাসায় তিন বছর পড়াশুনা করেন। তারপর ১৯৬১ সালে রাজধানী ঢাকার ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জামেয়া কোরআনিয়া আরাবিয়া লালবাগ মাদরাসায় চলে আসেন। এখানে তিনি হযরত মাওলানা শামছুল হক ফরিদপুরী রাহ. ও হযরত হাফেজ্জী হুজুর রাহ., কিংবদন্তী মুহাদ্দিস হযরত মাওলানা হেদায়েতুল্লাহ রাহ., শায়খুল হাদীস হযরত মাওলানা আজিজুল হক রাহ., আরেফ বিল্লাহ মাওলানা সালাহ উদ্দীন রাহ. এবং হযরত মাওলানা আব্দুল মজীদ ঢাকুবী রহ. -এর বিশেষ তত্ত্বাবধানে দাওরায়ে হাদীসের সনদ লাভ করেন। ১৯৬৯ সালে আল্লামা ইউসুফ বিন্নুরী রহ. এর কাছে হাদীস পড়ার উদ্দেশ্যে পাকিস্তান করাচী নিউ টাউন মাদরাসায় ভর্তি হন। সেখানে তিনি উলুমুল হাদীসের উপর পাঠ গ্রহণ করে দেশে ফিরে আসেন।
কর্মজীবনঃ কর্মজীবন শুরু হয় ১৯৭০ সালে। প্রথমে মাদরাসা-ই- নূরিয়া কামরাঙ্গীরচরে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। ওই বছরই তিনি হজরত হাফেজ্জী হুজুর রাহ.-এর কন্যার সাথে বৈবাহিক বন্ধনে আবদ্ধ হন। ১৯৭২ সালে মাত্র নয় মাসে তিনি কুরআন শরীফ হেফয করেন। এ সময় তিনি ঢাকার আলু বাজারে একটি মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেন। একই সাথে আলু বাজার মসজিদের খতীবের দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ১৯৭৫ সালে তিনি জামেয়া কুরআনিয়া আরাবিয়া লালবাগ মাদরাসার শিক্ষক ও সহকারী মুফতী নিযুক্ত হন। ১৯৮৪ সালে তিনি লালবাগ জামেয়ার ভাইস প্রিন্সিপাল ও প্রধান মুফতীর দয়িত্ব পান।
১৯৮৭ সালে হযরত হাফেজ্জী হুজুর রাহ.-এর ইন্তেকালের পর থেকে তিনি লালবাগ জামেয়ার প্রিন্সিপাল ও শায়খুল হাদীসের দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৩ সালে পান বড়কাটারা হোসাইনিয়া আশরাফুল উলুম মাদরাসার প্রিন্সিপাল ও মুতাওয়াল্লির দায়িত্ব। ইন্তেকালের আগ পর্যন্তই এই দুইটি মাদরাসার প্রিন্সিপালের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। পাশাপাশি ঢাকার কাকরাইল, দাউদকান্দির গৌরীপুরসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বহু মাদরাসার প্রধান অভিভাবকের দায়িত্ব পালন করেছেন।
মুফতী আমিনী রহ. একজন প্রজ্ঞাবান বড় আলেম ছিলেন। ঐতিহ্যবাহী দুটি বড় মাদরাসার প্রিন্সিপাল ও শায়খুল হাদীস ছিলেন। ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান হিসেবে সরব একজন ইসলামী রাজনীতিক ছিলেন। তার পরিচয় এতটুকুর মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না।
গত দুই যুগ ধরে তিনি ছিলেন এদেশের ধর্মপ্রাণ-দেশপ্রেমিক মানুষ ও সর্বস্তরের আলেম সমাজের একজন প্রধান প্রতিনিধি। তিনি তাদের ভাই ছিলেন। তিনি তাদের দুঃখ ও দ্রোহের কণ্ঠ ছিলেন। তিনি তাদের বন্ধু, নেতা ও অভিভাবক ছিলেন। সঙ্কটকালে তার গমগমা কণ্ঠ আর হাতের আঙুলের দিকে তাকিয়ে থাকতেন তারা। আহা! এত সুন্দর করে জনসভা ও মাহফিলগুলোতে ইসলামের অতীত গৌরব, বীরত্ব, আশাব্যঞ্জকতা, উদ্দীপনা, আল্লাহনির্ভরতা আর সাহসের পঙক্তিমালা তিনি উচ্চারণ করতেন যে মুহূর্তের মধ্যেই লাখো মানুষের ছায়াচ্ছন্ন, চিন্তাক্লিষ্ট চেহারায় প্রত্যয় ও আশ্বাসের রোদ হেসে উঠত। তিনি তার বক্তব্যে পবিত্র কুরআন ও হাদীসের ব্যাখ্যা পেশ করতেন।
আশির দশকের শুরু পর্যন্ত তিনি ছিলেন অতি মনোযোগী ও নীরবতাবাদী একজন মেধাবী আলেম-শিক্ষক। তার শিক্ষক ও অভিভাবক হযরত হাফেজ্জী হুজুর রাহ. তাকে রাজনীতিতে নামালেন। ইসলামী হুকুমত প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে সেই যে নামলেন তিনি, আর সরে গেলেন না। তিনি যখন গেলেন তখন কোটি মানুষকে রাস্তায় রেখে একদমই তিনি চলে গেলেন।
রাজনীতিতে পদার্পণঃ নব্বই দশকের শুরুতে ভারতের উত্তর প্রদেশে বাবরি মসজিদ ধ্বংস করা হলে এই দেশে লংমার্চের ডাক দেয়া হয়। সেই লংমার্চ আন্দোলনের দ্বিতীয় শীর্ষ নেতা ও প্রধান নির্বাহী ছিলেন মুফতী আমিনী রহ.। তার শিক্ষক শায়খুল হাসীস আল্লামা আজিজুল হক রহ. ছিলেন এ লংমার্চের আহ্বায়ক ও অভিভাবক। মুফতী আমিনী ছিলেন এর কার্যনির্বাহী প্রধান ও সমন্বয়কারী।
১৯৯৪ সালে তসলিমা নাসরিন পবিত্র কুরআন পরিবর্তনের ডাক দিলে তিনি ময়দানে ঝাঁপিয়ে পড়েন। সারা দেশে ছুটে বেড়িয়ে আন্দোলন সংগঠিত করেন। হরতাল পালন করেন। সেই মুরতাদ তসলিমা দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়।
২০০১ সালে সব রকম ফতোয়া নিষিদ্ধ করার একটি রায় উচ্চ আদালত থেকে ঘোষিত হলে তিনি বিচারপতিকে মুরতাদ ঘোষণা করে ঝুঁকিপূর্ণ ও ঘটনাবহুল এক আন্দোলনে নেমে পড়েন। তখন চার মাসের জন্য তিনি কারাগারে নিক্ষিপ্ত হন। বর্তমান সরকার ঘোষিত শিক্ষানীতি ও নারীনীতি নিয়ে তিনি সোচ্চার প্রতিবাদ করেন। নারীনীতির মধ্যে উত্তরাধিকারসহ সবপর্যায়ে নারীর সম-অধিকারের কুরআনবিরোধী ধারা বাতিলের জন্য দেশবাসীর প্রতি আন্দোলনের ডাক দেন। এক পর্যায়ে সম্পূর্ণ নিজস্ব উদ্যোগে বহু প্রতিকূলতা ও প্রশাসনিক প্রতিরোধের মুখে ২০১১ সালের ৪ এপ্রিল দেশব্যাপি সফল হরতাল পালন করেন।
এর ঠিক ছয়দিন পর তার ছোট ছেলেকে গুম করে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু তাকে কোনোভাবেই নমনীয় করা যায়নি। পরবর্তী সময়ে সেই ছেলেকে ছেড়ে দেওয়া হয় এবং তাকে গৃহবন্দি করে রাখা হয়। প্রতিটি আন্দোলনেই তিনি ছিলেন মূল আহ্বায়ক এবং আগাগোড়া অনমনীয় ও দৃঢ়পদ। সারাদেশের শীর্ষ আলেমরা প্রতিটি আন্দোলনে তার সঙ্গে ও পাশে থেকে তাকে সহযোগিতা করেন। প্রতিবাদ, আন্দোলন, সংগ্রামে ধর্মপ্রাণ মানুষের আস্থা ও আশ্বাসের মিনারে পরিণত হন তিনি।
আন্দোলন-সংগ্রামে প্রবীণত্ব ও নেতৃত্বের চূড়ান্ত পর্যায়ে তিনি সব সময় সর্বোচ্চ আসনে সমাসীন ছিলেন না। কিন্তু কার্যনির্বাহী দায়িত্ব তাকেই আঞ্জাম দিতে হয়েছে সব সময়। তার সময়কালে প্রায় সময়ই তিনি তার গুরুজনদের প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ স্নেহ ও পৃষ্ঠপোষকতা পেয়ে এসেছেন। খতিব উবায়দুল হক রাহ., বি-বাড়িয়ার বড়হুজুর মাওলানা সিরাজুল ইসলাম রাহ., শায়খুল হাদীস আল্লামা আজিজুল হক রাহ. ও আল্লামা শাহ আহমদ শফীর মতো বটবৃক্ষরা সব সময় তাকে স্নেহ-ছায়া বিলিয়ে এসেছেন। বড়দের সঙ্গে তিনি এভাবেই শ্রদ্ধা ও আস্থার সম্পর্ক বজায় রাখতেন।
চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যঃ মুফতী আমিনী রহ. মেধাবী ও সংগ্রামী একজন আলেম ছিলেন। রাজনৈতিক অঙ্গনে বিচরণের কারণে তার আচরণে কখনো কখনো একটা আটপৌড়ে ও গাম্ভীর্যহীন ভাব বিরাজ করত। খোলামেলা ভাষায় বক্তব্য দিতেন। প্রাণ খুলে মিশতেন। জোরের সঙ্গে কখনো বিরক্তি প্রকাশ করতেন। কখনো বয়ানের মধ্যেও হেসে উঠতেন। যা দেখলে অনেক সময় তাকে গভীর মনের ও চিন্তার মানুষ বলে মনে হতো না। একটা বিভ্রম তৈরি হতো। কিন্তু বাস্তবতা এ রকম ছিল না।
যারা জানেন তারা জানেন যে, তিনি কেবল হাদীসের দরসের প্রস্তুতির জন্য নয়, বরাবর অধ্যয়ন পাগল একজন মানুষ ছিলেন। গভীর অধ্যয়ন ও পাঠনিমগ্নতায় তিনি অনেক সময়ই বিভোর থাকতেন। মাঝে মাঝেই ইসলামী জ্ঞান, দর্শন, ফিকহ ও চিন্তাধারা বিষয়ে নতুন প্রকাশিত আরবি-উর্দু-ফার্সির বহু কিতাব কার্টন ধরে ধরে তিনি কিনে আনতেন। ইসলাম বিষয়ে আলোচিত নতুন প্রকাশিত কোনো গ্রন্থ তার অপঠিত থাকত না। লালবাগ মাদরাসার বিশাল লাইব্রেরির প্রাচীন শত শত কিতাবের কোনো কোনো পৃষ্ঠায় কাঠপেন্সিলে তার নোট ও পর্যবেক্ষণ আঁকা আছে। তার অন্তরে আচরণে আধ্যাত্মিকতার একটি স্বচ্ছ ঝর্ণা প্রবাহিত থাকতো। বেশিরভাগ সময়ই তার বক্তব্যে থাকতো আকাবিরে দ্বীন ও আসলাফে উম্মতের চোখভেজা বর্ণনা।
বছরের প্রায় প্রতি রাতে তিনি ঘণ্টার পর ঘণ্টা কেঁদে-কেটে দুআ করতেন। এ দুআ কখনও মাদরাসায় তার রুম বন্ধ করে করতেন, কখনও ছাত্রদের ডেকে এনে দফতরে সম্মিলিতভাবে করতেন। দুআয় সময় দুই হাত ঊর্ধ্বে তুলে ধরে হাউমাউ করে কাঁদতে থাকতেন। সে কান্না সহজে শেষ হতো না। লালবাগ মাদরাসায় প্রতি বৃহস্পতিবার শেষ রাতে তিনি একটি সম্মিলিত দুআর আয়োজন করতেন।
রাত ৩টার আগেই সারা মাদরাসার ছাত্ররা উঠে এসে শাহী মসজিদের বারান্দায় তাহাজ্জুদ পড়ত। তেলাওয়াত করত। ফজরের আযানের আধা ঘণ্টা আগে তিনি সবার মুখোমুখি দাঁড়াতেন। এরপর সবাইকে নিয়ে দু’হাত আল্লাহর দরবারে তুলে ধরতেন। সামনে ছাত্ররা বসা। উল্টোদিকে একা তিনি দাঁড়ানো। মসজিদের বাতিগুলো থাকত নেভানো। রাজনীতির ময়দানে হুঙ্কার দেয়া মুফতি আমিনী সেই অন্ধকার শেষ রাতে আল্লাহর দরবারে হাত তুলে অসহায়ের মতো, ভিক্ষুকের মতো, দণ্ডপ্রাপ্ত আসামীর মতো চিৎকার করে কাঁদতে থাকতেন।
ইন্তেকালঃ আওয়ামী দুঃশাসনের অন্যতম হুমকি এই নিরপরাধ মানুষটি দীর্ঘ বিশ মাস ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের নজরবন্দীতে গৃহরুদ্ধ হয়ে থাকেন। এই সময়ে চিকিৎসার উপরেও সরকারী খড়গ ঝুলে থাকে। সারাজীবন জনতার ময়দান দাপিয়ে বেড়ানো এই মহান নেতাকে এভাবেই মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়া হয়। ২০১২ সালের ১২ ডিসেম্বর শুরু হবার কিছুক্ষণ পর তিনি এই নশ্বর পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়ে মহান আল্লাহ তায়ালার দিকে যাত্রা করেন। সারাদেশের মানুষ ও প্রকৃতির মাঝেও সেদিন শোকের ছায়া নেমে আসে। পরদিন লক্ষ লক্ষ মানুষ জাতীয় ঈদগাহে তার জানাযায় অংশগ্রহণ করেন। এমন অভূতপূর্ব ভালবাসার নিদর্শনের জুড়ি মেলা ভার হবে বহুদিন। জানাযা শেষে এই মহান আলেমকে তাঁর প্রিয় শিক্ষাঙ্গন লালবাগ জামিয়া সংলগ্ন কবরস্থানে সমাহিত করা হয়।

#মরুসিংহ #Lion_of_the_Desert

১১ সেপ্টেম্বর, ১৯৩১।জাবালে আখজার, #লিবিয়া।শত বাধা-বিপত্তির মাঝেও মুজাহিদরা লিবিয়ার এই শহরটি ইতালীয়দের হাত থেকে মুক্ত রেখেছিল। এখানে ছিলো মুজাহিদদের শাসনব্যবস্থা। শরিয়াহ কোর্ট, সমঝোতা কোর্ট ও অর্থবিভাগ এই সব মিলিয়ে ছিলো জাবালে আখজারের প্রশাসনিক ব্যবস্থা। এখান থেকেই আগ্রাসী ইতালীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে লিবিয়ার সানুসি মুজাহিদগণ যুদ্ধ পরিচালনা করতেন। মুজাহিদদের উপর বিপদের পাহাড় ভেঙ্গে পড়লেও তারা জাবালে আখজারের অবস্থানস্থল থেকে চুল পরিমাণ নড়তেন না। সানুসি মুজাহিদ বাহিনীর সেনাপতি ছিলেন সত্তরোর্ধ একজন বৃদ্ধ। যুদ্ধ করতে করতে হাতে পায়ের হাড়গোড় ভেঙ্গে গিয়েছে। তবুও এই বার্ধক্য তাকে কওমের কল্যাণে জিহাদ থেকে নিবৃত করতে পারেনি।
তিনি প্রতিবছর নিজ অবস্থানস্থল থেকে বের হয়ে আশেপাশের সেনা ছাউনি পরিদর্শন করতেন। মুজাহিদদের সার্বিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে যুদ্ধের পরিকল্পনা গ্রহণ করতেন। রীতিমতো এবারও শতাধিক সেনা নিয়ে জাবালে আখজার থেকে মুজাহিদদের অন্যান্য সেনা ছাউনির উদ্দেশ্যে পথ ধরেন। কি মনে করে তিনি ফিরে আসেন এবং ৪০ জন সেনাকে রেখে ৬০ জনকে নিয়ে আবার রওনা হন।
#জাবালে_আখজারে মুজাহিদদের যাতায়াত পথে একটি উপত্যকা পড়ে। খুবই দুর্গম। উপত্যকা জুড়ে রয়েছে ঘন ঝোপঝাড়ের জঙ্গল। বিকল্পহীন একমাত্র পথ হওয়ায় এই পথই বেছে নিতে হয়। সেখানে একরাত অবস্থান করেন। ইতালীয়দের গুপ্তচর তখন চতুর্দিকে ওৎপেতে ছিলো। এরই মধ্যে তারা মুজাহিদদের অবস্থান টের পেয়ে যায়। তৎক্ষনাত তারা উপত্যকাটি ঘিরে ফেলে। মুজাহিদরা কোনকিছু বুঝার পূর্বেই অবরূদ্ধ হয়ে যান। এই বিপদ সংকুল সময়ে সেই সাহসী বৃদ্ধ সেনাপতি জীবন কিংবা শাহাদাতের পথ বেছে নেন। তিনি সাথীদের নিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। যখন তারা বের হয়ে ঘোড়া নিয়ে ছুটে যাচ্ছিলেন তখন ইতালীয় বাহিনী একযোগে গুলি নিক্ষেপ করা শুরু করে। ইতিমধ্যে তার বহু সৈন্য শাহাদাতের পেয়ালায় চুমুক দিয়ে জান্নাতে পাড়ি জমায়।
তিনি ঘোড়া নিয়ে যেদিকেই ছুটে যাচ্ছিলেন সেদিকেই ইতালীয় বাহিনী অবরোধ করে রেখেছিল। তাদের ছোড়া গুলিতে তার ঘোড়া আহত হয়ে পড়ে যায় এবং তিনিও ঘোড়া থেকে নিচে পড়ে হাতে প্রচন্ড ব্যথা পান। আহত হাত দিয়ে তাদের প্রতিরোধের চেষ্টা করেন। কিন্তু সক্ষম হননি। সাথে সাথেই তাকে বন্দি করতে ইতালীয় সৈন্যরা ছুটে আসে । তারা তাকে চিনত না। কিন্তু উপস্থিত এক গাদ্দার তার পরিচয় বলে দিলে তারা তাকে সনাক্ত করে। এই বৃদ্ধই হচ্ছে তাদের ত্রাশ মরু সিংহ উমর আল-মুখতার। ইতালীয়দের যমদূত। যে দীর্ঘ ২০ বছর ইতালীয়দের যুদ্ধের ময়দানে কঠিনভাবে নাকানি চুবানি খাওয়াচ্ছিলেন। হাজারবার বন্দি ও মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছিলেন। আজ সেই সিংহ তাদের খাচায় বন্দি।
এই সিংহের জন্ম হয় ১৮৬২ (মতান্তরে ১৮৫৮) সালে। পৃথিবীব্যাপি ঔপনিবেশিক শাসন তখন দুর্বার গতিতে এগিয়ে চলছে। এক শক্তির স্থলে অন্যশক্তির প্রত্যাবর্তনে বিশ্ব ক্ষমতার আসন ঘুরপাক খাচ্ছিলো। এদিকে এককালে ইউরোপকে নাস্তানাবুদ করা ইস্তাম্বুলের সালতানাত ই উসমানিয়্যাহ যৌবণের সব জৌলুশ হারিয়ে বয়সের ভারে নুইয়ে পড়েছে। এমন সময়েই উসমানীয় খিলাফতের অধীনস্ত লিবিয়ার পূর্বাঞ্চলের একটি ছোট শহরে এক সম্ভ্রান্ত ও দ্বীনি পরিবারে উমর মুখতারের জন্ম হয়। পরিবারটি ছিলো উন্নত চরিত্র, অনুপম আদর্শ ও উত্তম গুণাবলির মূর্তপ্রতীক। ১৬ বছর বয়স হতেই উমর মুখতারের বাবা হজ করতে গিয়ে মারা গেলে, বাবার ইচ্ছানুযায়ী স্থানীয় সানুসি শায়খ শরিফ আল গারিয়ানি তাকে নিজের তত্ত্বাবধানে নিয়ে আসেন।
এরপর তাকে উত্তম মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার নিমিত্তে সানুসি খানকাহর কুরআনিয়া মাদ্রাসায় পড়তে দেওয়া হয়। এখান থেকেই কুরআনে হিফজ সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে উচ্চতর ইলম অর্জনের জন্য সানুসিদের দ্বারা নিয়ন্ত্রীত স্থানীয় প্রসিদ্ধ প্রতিষ্ঠান জাগবুবি মাদ্রাসায় ভর্তি হন। এই সময়ই ধীরে ধীরে তিনি এমন একটি জীবনে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে— রাতে মাত্র ৩ ঘণ্টা ঘুমাতেন। রাতের শেষ ভাগে উঠে প্রভুর সান্নিধ্যে সালাতে দাঁড়াতেন। ফজরের পূর্বের বাকি সময়টুকু কাটিয়ে দিতেন কুরআন তিলাওয়াতে। প্রতি সাতদিনে একবার সম্পূর্ণ কুরআন পড়ে শেষ করতেন। পরবর্তীতে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত শত বাধা-বিপত্তির মাঝেও এই অভ্যাস তিনি ত্যাগ করেননি।
তিনি ছিলেন সানুসি আন্দোলনের এক অনুগত ও একনিষ্ঠ অনুসারী। তখন উত্তর আফ্রিকায় এই আন্দোলনের যথেষ্ট প্রভাব ছিলো। বিশেষ করে লিবিয়া, সুদান, মরক্কো প্রভৃতি দেশগুলোতে। এই আন্দোলনের যাত্রা শুরু হয় ১৮৩৭ সালে মক্কায় শায়খ মুহাম্মাদ বিন আলি আস-সানুসির মাধ্যমে। সানুসি আন্দোলন মূলত সালাফি ও সূফির মাঝামাঝি একটি ধর্মীয় আন্দোলন ছিল। উমর মুখতার এদের হাতে গড়া এক মুজাহিদ ছিলেন।
বীরত্ব ও সাহসিকতার মতো অনুপম গুণে উমর মুখতারের যৌবন মৌবন ছিল সুশোভিত। একবার ১৮৯৪ সালে এক কাফেলার সাথে সুদান যাওয়ার পথে একটি ঘটনায় তার সাহসিকতার পরিচয় পাওয়া যায়।
পথে মরুভূমির একটি সরু রাস্তায় সবসময় একটি হিংস্র সিংহ অপেক্ষা করে থাকে। পথ থেকে সিংহটিকে সরানোর জন্য প্রত্যেক কাফেলাই একটা করে উট দিয়ে থাকে। রীতিমতো এবারও এই সংকীর্ণ পথ রোধ করে সে সিংহটি। কাফেলার সবাই আতংকিত হয়ে ছুটোছুটি করতে থাকে। কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়ে সকলেই। সবাই মিলে পূর্বের মতো ঠিক করলো যে, সিংহটিকে একটি উট দেয়া হবে; যাতে উটটি নিয়ে সে তাদের পথ ছেড়ে চলে যায়। এই অবস্থায় তিনি সকলের চেয়ে ভিন্ন অবস্থান নেন। তিনি তার শট গানটি নিয়ে ঘোড়ার উপর চড়ে বসলেন এবং সিংহটির দিকে এগিয়ে গেলেন। সবার চোখ কপালে উঠে গেল, কিছুক্ষণ পর তিনি সিংহটির মাথা নিয়ে ফিরে এলেন! তার সাহসিকতায় মুগ্ধ হয়ে লোকেরা তাকে উপাধি দেয় “সিয়েরানিকার সিংহ”।
তার চরিত্র গঠনে সাহস এবং ধর্মীয় মূল্যবোধের ভূমিকা ছিল সবচেয়ে বেশি। তরুণ বয়সেই তিনি বেশ বিচক্ষণ ও পরিপক্ক হয়ে ওঠেন। ফলে সানুসি প্রধান শায়খ মুহাম্মাদ আল মাহদি তাকে উবাইদ নামক একটি গো্ত্রের নিকটে আল-কুসুর খানকা্র দায়িত্বে নিযুক্ত করেন। তিনি তার দাওয়াহ ও বুদ্ধিমত্তার ফলে গোত্রটিকে সঠিকভাবে পরিচালনা করতে সক্ষম হন। গোত্রের নানা সমস্যা সমাধানে তার ডাক পড়তো। লোকেরা তার কথা খুব মনোযোগ দিয়ে শুনতো এবং গ্রামের অভ্যন্তরীণ সমস্যাই হোক কিংবা ধর্মীয়, তার পরামর্শ সবাই সন্তুষ্টচিত্তে মেনে নিতো। তার শিষ্টাচার ছিল সুবিদিত। তার ভাষার প্রাঞ্জলতা সহজেই সবার মনোযোগ কেড়ে নিতো।
তার বয়স যখন চল্লিশের কোঠা অতিক্রম করছে, তখনই পৃথিবীজুড়ে সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলোর ঔপনিবেশিকতার রোগ মাথা চাড়া দিয়ে উঠে। একের পর এক দেশ যখন ইউরোপিয়ানদের হাতে দখল হচ্ছিল। তখন আফ্রিকার চাদে ফরাসি বাহিনি তাদের যুলুমের রাজত্ব প্রতিষ্ঠা করে। সানুসি আন্দোলন চাদে ঔপনিবেশিকদের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তুলে। কারণ তারা এই অঞ্চলে আধিপত্য বিস্তার করতে চেয়েছিল। ফরাসিদের বিরুদ্ধে জিহাদের জন্য যেকজন দক্ষ কমান্ডার নির্বাচন করা হয় উমর মুখতার ছিলেন এদের অন্যতম একজন।
সানুসি প্রধান শায়খ মুহাম্মাদ আল মাহদির নির্দেশে চাদে সানুসি আন্দোলনের মুজাহিদদের নিয়ে দখলদার ফরাসি বাহিনীর বিরুদ্ধে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েন। বিচক্ষণ নেতৃত্ব ও দূরদর্শিতা দিয়ে তিনি বীরদর্পে ফরাসি বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে থাকেন। সানুসি শায়খ তার ব্যপারে মন্তব্য করেন, যদি আমাদের কাছে উমর মুখতারের মতো ১০ জন থাকতো তাহলে ফ্রেঞ্চদের বিরুদ্ধে যথেষ্ট হতো।
দুবছর যুদ্ধ শেষে সানুসি প্রধান শায়খ তাকে আল-কুসুর খানকায় ফিরে যাবার নির্দেশ দেন। কিন্তু বেশিদিন অবস্থান করা হয়নি। সানুসি মুজাহিদ বাহিনী ও ব্রিটিশ বাহিনীর মধ্যে লিবিয়া-মিশরের সীমান্তবর্তী অঞ্চল আল-বারদি, মাসাইদ ও সালুমে এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ শুরু হয়ে যায়। তিনি ছুটে যান সেদিকে। ১৯০৮ সালের এই লড়াইয়ে তিনি জীবনবাজি রেখে লড়াই করেন। এসময় তার অবদানের স্বীকৃতি অনুযায়ী উসমানীয় খলিফার পক্ষ থেকে প্রশংসাপত্র অর্জন করেন। তার নাম ছড়িয়ে পড়ে চতুর্দিকে। যুদ্ধশেষে উসমানীয়দের উপর ব্রিটেনের চাপে সালুম অঞ্চল সংযুক্ত হয় মিশরের সাথে। তিনি আবার ফিরে আসেন আল-কুসুর খানকায়।
কিছুদিন পর ১৯১১ সালের দিকে ইউরোপিয়ানদের দৃষ্টিতে অনুন্নত জাতিগুলোকে নিজেদের উপনিবেশে পরিণত করার এই প্রতিযোগিতায় ইতালিও যোগ দেয়। উত্তর আফ্রিকায় তারা অভিযান শুরু করে। কিন্তু লিবিয়া দখলের যাত্রাপথেই পঞ্চাশ বছর বয়স্ক এই মানুষটি তাদের সামনে পাহাড়ের মত বাধা হয়ে দাঁড়ান। প্রথমে উসমানীয় সৈন্যরা প্রতিরোধ গড়ে তুলেন। উসমানীয়দের সাথে যোগ দেয় সানুসি সৈন্যরা। তিনি খবর পেয়ে আল-আবিদ গোত্রের সক্ষম পুরুষদের জিহাদে উদ্বুদ্ধ করে তাদের নিয়ে যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েন।
এক বছর ধরে চলমান এ যুদ্ধে ইতালিয়ানদের বিশাল বাহিনী তুলনামূলকভাবে অনেক কমসংখ্যক বেদুইন আরব এবং তুর্কি যোদ্ধাদের অল্পস্বল্প অস্ত্রশস্ত্রের কাছে বারবার নাস্তানাবুদ হতে থাকে। এক বছর পরেও সমুদ্র উপকূলের অল্প কিছু স্থান ছাড়া লিবিয়ার বিশাল এলাকায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে ব্যর্থ হওয়ায় ইতালিয়ানরা অটোমান সাম্রাজ্যের সাথে চুক্তি করে। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, ইতালিয়ানরা লিবিয়ার বাইরের কিছু এলাকা এবং দ্বীপের দখল ছেড়ে দেয়, বিনিময়ে অটোমান সৈন্যরা লিবিয়া ছেড়ে চলে যায়। অটোমানরা চলে যাওয়ার পর অধিকাংশ মুজাহিদরা জিহাদের আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। এমনকি সানুসি প্রধাণ শাইখ ইদ্রিস সানুসিও। প্রথমে যুদ্ধ করলেও কিছুদিন পর তিনিও বিভিন্ন সমঝোতা ও ব্রিটিশদের সাথে বন্ধুত্ব গড়ে তুলেন। তিনি সমঝোতা করে বারকার কতৃত্ব নিজ হাতে নেন।
এসব চুক্তিতে পরবর্তীতে কোন লাভ হয়নি। ১৯২০ সালে ইতালীতে ক্ষমতায় আসে ফ্যাসিস্ট মুসোলিনি। সে এসেই সকল চুক্তি বাতিল করে দেয়। নতুন করে তারা অভিযান শুরু করে। লিবিয়ায় ইতালীয় সৈন্যের সংখ্যা দিগুণ বৃদ্ধি পায়। চতুর্দিকে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
১৯২৩ সাল।ততদিনে সানুসি আন্দোলনের প্রধান শায়খ ও বুজুর্গগণ আশাহত হয়ে মিশর হিজরত করে চলে যান। মিশর থেকে সানুসি শায়খদের দ্বারা লিবিয়ায় থাকা মুজাহিদদের গোপন পথ দিয়ে খাদ্য ও অস্ত্র সরঞ্জাম পাঠানো হতো। তিনি মিশর সফরে যান। সাথে ছিলেন আলী পাশা উবায়দি। কিছুদিন থাকার পর লিবিয়ায় মুজাহিদদের ঘাটি বারকায় ফিরে আসার উদ্দেশ্যে মিশর থেকে রওয়ানা হন, তখন সানুসি আন্দোলনের শায়খ ও বুজুর্গ ব্যক্তিগণ তার সাথে সাক্ষাৎ করে। তারা তার দৃড় সংকল্পের প্রশংসা করে বলেন, “আপনি এখন বয়সের ভারে ন্যুব্জ। এখন আপনার জন্য নিরবিচ্ছিন্ন বিশ্রাম প্রয়োজন। এটাই এখন খুব জরুরি। বারকায় জিহাদের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য আমরা আপনি ছাড়া অন্য কাউকে দায়িত্ব দিতে পারি”।
একথা শুনে তিনি ক্রুদ্ধকন্ঠে জবাব দেন, যারাই আমাকে একথা বলছে ,তারা মোটেও আমার কল্যাণকামী নয়। তিনি দখলদার ইতালীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে যে জিহাদ চালিয়ে যাচ্ছেন, তা তিনি ফরজে আইন মনে করতেন। এজন্য জিহাদের প্রতিটি কাজ ও পদক্ষেপে তিনি ছিলেন একনিষ্ঠ। তিনি প্রায়ই বলতেন, হে আল্লাহ এ পবিত্র ও মোবারক রাস্তায় আমার মরণ দাও। উমর মুখতার জিহাদের ভূমি লিবিয়া ছেড়ে কখনোই যেতে চাইতেন না। তাকে হিজরত করে মক্কায় হজ করার জন্য বলা হলে তিনি তা এ বলে প্রত্যাখ্যান করেন, “শাহাদাৎ আসার আগ পর্যন্ত আমি এ ভূমি ত্যাগ করবো না। ইমান ও আক্বিদা এবং মুসলিম ভূমি হেফাজতের জন্য জিহাদের সাওয়াবের চেয়ে হজের সাওয়াব বেশি হতে পারে না”। তিনি বলেন, প্রত্যেক মুসলিমের জন্য জিহাদ ফরজ। জিহাদ ছাড়া মুক্তি আসতে পারে না। এজন্যই উমর মুখতার কখনো যুদ্ধ স্থগিত কিংবা হিজরত করে চলে যাবার চিন্তা ভুল করেও করতেন না।
মিশর থেকে মুজাহিদদের জন্য সরঞ্জাম নিয়ে ফিরে এসে যুদ্ধের নেতৃত্ব দিতে থাকেন। একের পর এক যুদ্ধ সংগঠিত হয়। প্রথমেই টানা তিনটা যুদ্ধ হয়। প্রথম দুটি হয় ১৯২৩ সালে বিরে বিলাল ও বারকায়। বিরে বিলাল যুদ্ধে মুজাহিদরা কামান্ডার আব্দুল্লাহ সুদানির নেতৃত্বে জয়লাভ করেন। এই যুদ্ধের চারদিন পর সংগঠিত হয় বারকাহর যুদ্ধ। এই যুদ্ধেও মুজাহিদগণ জয়লাভ করেন। এই বিজয়গুলো সত্ত্বেও মুজাহিদদের সীমাবদ্ধতার কারণে ইতালিয়রা কয়েকটি গ্রাম দখল করে নেয়।
তৃতীয় যুদ্ধটি হয় বিরে আলগাবিতে। একদিন সকালে মুজাহিদদের নিয়ে উমর মুখতার আলোচনা করছিলেন ঠিক তখনই ইতালি বাহিনী সাতটি গাড়ি নিয়ে উপস্থীত হয়। মুজাহিদদের সংখ্যা ছিলো মাত্র পঞ্চাশ জন। ইতালিয়ান বাহিনী এসেই গাড়িসহ সুবিধামতো পজিশন নিয়ে মুজাহিদদের উপর আক্রমণ শুরু করে। উমর মুখতার, আলি পাশা উবায়দি ও তার সাথীরা তৎক্ষনাত বন্দুক নিয়ে গুলি শুরু করেন। দুদিক থেকেই আক্রমণ চলতে থাকে। কিছুক্ষণ পরেই তাদের কিছু সৈন্যের লাশ ফেলে পরাজয় বরণ করে পালিয়ে যায়।
তাকে কোনভাবেই দমাতে পারছে না ইতালীয়রা। সংঘর্ষ এড়াতে ইতালিয়ানরা তাকে উচ্চ পদ এবং সম্পদের লোভ দেখায়। বিনিময়ে তাকে আত্মসমর্পণ করে তাদের আনুগত্য মেনে নেয়ার প্রস্তাব দেয়া হয়। এর জবাবে তিনি তার বিখ্যাত উক্তিটি করেন, “আমি কোন মজাদার খাবার নই যে, কেউ চাইলেই আমাকে গিলে ফেলবে। তারা আমার আদর্শ-বিশ্বাসকে টলাতে যতই অপচেষ্টা করুক, আল্লাহ তাদের পরাজিত করেই ছাড়বেন।” তারা হাল ছেড়ে দিয়ে ফিরে যায়। দখলদার ইতালিয়ান বাহিনী এটা খুব ভালো করেই জানতো, উমর মুখতারকে কোনভাবে কোনঠাষা করতে পারলেই লিবিয়ার যুদ্ধে বিজয় তাদের জন্য শুধু সময়ের ব্যপার। কারণ তিনি ছিলেন লিবিয়ার জিহাদের হৃদপিণ্ড।
উমর মুখতার ইতালিয়ানদের দূর্বল জায়গাগুলো খুঁজে বের করে তাতে আঘাত হানতে শুরু করেন। যারা ভেবেছিল, মুসলিম দেশগুলো দখল করতে কোন বেগই পেতে হবে না, তারা এবার প্রচণ্ড ধাক্কা খেল। জালু মরুভূমি থেকে আসা আবু কারায়্যিম নামের আরেকজন সাহসী মানুষকেও তিনি এই লড়াইয়ে পাশে পেয়েছিলেন। তার বয়স হয়েছিল নব্বই বছর! কিন্তু ক্ষুধা আর বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে তার বাহিনীর অনেকের মৃত্যু ঘটে।
ইতালিয়ানরা একের পর এক গ্রাম লুট করে জ্বালিয়ে দিতে থাকে। নারী, শিশু আর বৃদ্ধদেরও তারা ছাড় দেয়নি। কনসেনট্রেশন ক্যাম্পগুলোতে বন্দির সংখ্যা দিন দিন বাড়তে থাকে। তারা গোত্রের মানুষের উপর হামলা করতে থাকে, যাতে তার মুজাহিদদের সাহায্য ও সহযোগিতা থেকে হাত গুটিয়ে নেয়।
১৯২৪ ও ২৫ সালে বেশ কটি খন্ড যুদ্ধ সংগঠিত হয়। এসময় মুজাহিদরা জাবালে আখজারে তাদের সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধি করে তোলেন। বারকায় ইতালীয় বাহিনীর নেতৃত্বের পরিবর্তন আসে। ত্রিপলি থেকে জেনারেল গ্রাজিয়ানি আগমন করে। তারা মুজাহিদদের সাথে একের পর এক যুদ্ধে জড়িয়ে যায়। ১৯২৭ সালে সানুসি জিহাদি আন্দোলনের প্রধাণ পৃষ্টপোষক সায়্যিদ রেজা মাহদি আস সানুসি চক্রান্তের ফাঁদে পড়ে গ্রেফতার হয়ে যান। ফলে বারকা, আল হামরা, বারকা আল বাইদা এলাকাগুলো ধিরে ধিরে মুজাহিদদের হাতছাড়া হয়ে যায়।
১৯২৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইতালীয় বাহিনী এক বিশাল সৈন্যবহর নিয়ে জাবালে আখজারে দিকে আসে। গ্রাজিয়ানি ছিলো এর নেতৃত্বে। এই বাহিনীর সাথে মুজাহিদদের এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ সংগঠিত হয়। যা ধারাবাহিক পাঁচদিন পর্যন্ত স্থায়ী হয়। এতে ইতালীয় বাহিনী অত্যন্ত সোচনীয়ভাবে পরাজয় বরণ করে। রণক্ষেত্রে তারা অনেক অস্ত্র, গোলাবারুদ, গাড়ি ও রসদপত্র রেখে প্রাণ নিয়ে কোনরকম পালাতে সমর্থ হয়।
১৯৩০ সালের অক্টোবরে মুজাহিদদের সাথে ইতালীয়দের একটি বিরাট যুদ্ধ সংগঠিত হয়। যুদ্ধ শেষে ইতালীয়রা উমর মুখতারের চশমা খুঁজে পায়। এতে তাদের আত্নবিশ্বাস দৃড় হয়। জেনারেল গ্রাজিয়ানি বলে, আজ আমরা উমর মুখতারের চশমা পেতে সক্ষম হয়েছি, কাল তার মাথা আনতে সক্ষম হবো। ১৯৩১ সালে জুন মাসে কয়েকটি যুদ্ধ হয়, এতে মুজাহিদরা পরাজিত হয়। ফলস্বরূপ ইতালীয়রা কয়েকটি গ্রাম দখল করে নেয়। এর কয়েকমাস পরেই উমর মুখতার আল-জুরাইব উপত্যকার পাদদেশে বন্দি হয়ে যান। সাথে তার মুজাহিদ বাহিনী শহীদ হয়ে যায়। ফলস্বরূপ লিবিয়ার প্রতিরোধ আন্দোলন অনেকটা শিথিল হয়ে যায়।-বন্দি করার পর তাকে জাবালে আখজার থেকে সমুদ্রপথে বেনগাজি নিয়ে আসা হয়। বন্দি উমরকে সশস্ত্র সৈনিকদের কড়া প্রহরায় গোলাবারুদসমৃদ্ধ প্রিজনভ্যানে তাকে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। কারাগারে তাকে অন্যসকল বন্দি থেলে আলদা করে বিশেষ একটি সেলে রাখা হয়। তার মধ্যে কোন হতাশা নেই, ভয় নেই, যেনো এর জন্যই তিনি অপেক্ষা করছিলেন।
সাহসিকতা এবং অকুতোভয় মানসিকতার কারণে শত্রুরাও তাকে শ্রদ্ধার দৃষ্টিতে দেখতো। যে অফিসার জেনারেল গ্রাজিয়ানি তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিলো সে বলে, “তাকে যখন আমার অফিসে হাজির করা হয়, তাকে অন্য সব মরুযোদ্ধাদের মতোই ভেবেছিলাম। তার হাত ছিলো শিকলবদ্ধ। অবিরাম যুদ্ধ করতে করতে তার শরীরের অনেক হাড়গোড়ই ভেঙ্গে গিয়েছিল। একারণে তার হাঁটতেও খুব কষ্ট হচ্ছিলো। কিন্তু এত কিছুর পরও তাকে কোন সাধারণ সৈনিকের মত লাগছিলো না। তিনি সোজা হয়ে দাঁড়ালেন এবং ধীর শান্ত কণ্ঠে প্রশ্নের জবাব দিচ্ছিলেন। তার চেহারায় সূর্যের মত দ্যুতি আমার মনে কাঁপন ধরিয়ে দিয়েছিল। কথোপকথনের শেষ ভাগে আমার ঠোঁট কাঁপতে শুরু করে। আমি তাড়াতাড়ি জেরা শেষ করে তাকে পরের দিন কোর্টে হাজির করার নির্দেশ দিই।”
তিনি ছিলেন একজন কিংবদন্তী। তার দেশের শাসকরা যখন ইতালিয়ানদের কাছে আত্মসমর্পণ করে দেশ ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছিলো, তিনি তার ছিলেন দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। সানুসী আন্দোলনের অনেক আলিমরা একটা সময় পর্যন্ত যুদ্ধ করলেও এক সময় এসে তাদের কেউবা সামান্য সুযোগ সুবিধার বিনিময়ে আপোষ করে ফেলে। কেউ হিজরত করে মিশর পাড়ি জমায়। এমনকি বিপদের সময় তারা তার পাশে এসে দাঁড়ায়নি। বরং তারা ইতালিয়ানদের হাতে মুসলিম ভূমিকে ছেড়ে দিয়েছিল।
তাদের সম্পর্কে উমর মুখতার বলেন, “তাদেরকে আল্লাহ এমন অন্তর দান করেননি, যে অন্তর দিয়ে তারা মুসলিম জাতির আর্তচিতকার শুনতে পাবেন। আল্লাহ আমাকে সেই অন্তর দান করেছেন।” তিনি আল্লাহর কুরআন হাতে তুলে নেন এবং আল্লাহর কাছে ওয়াদা করেন যে, প্রয়োজন হলে তিনি একাই জালিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাবেন, যতক্ষণ বিজয় কিংবা শাহাদাতের যে কোনো একটি লাভ না করেন। তার জীবনের শেষ বিশ বছরে তিনি এক হাজারেরও বেশি যুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।
ইতালিয়ান জেনারেলরা তাকে শেষ বারের মত নতি স্বীকার করার প্রস্তাব দেয়, কিন্তু তার জবাব ছিল, “যতক্ষণ না পর্যন্ত তোমরা এই দেশ ত্যাগ করবে অথবা আমি আমার দেহ ত্যাগ করবো, ততক্ষণ আমি লড়াই চালিয়ে যাবো। মানুষের অন্তরের গোপন কথাও যার অগোচরে নয় তার শপথ, যদি এই মূহুর্তে আমার দুই হাত বাঁধা না থাকতো আমি খালি হাতেই তোমাদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়তাম… …।” কথা শেষ হওয়ার আগেই জেনারেলরা সাজানো ট্রাইব্যুনালে তার মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করে।
এমনকি বিচার শুরু হওয়ার আগে থেকেই কোর্টের বাইরে ফাঁসির দড়ি প্রস্তুত রাখা হয়েছিল! ১৯৩১ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর জনসম্মুখে তার ফাঁসি কার্যকর করা হয়। আল্লাহ যেন জান্নাতে তার মর্যাদা বৃদ্ধি করে দেন। তার রেখে যাওয়া আদর্শ কিয়ামত পর্যন্ত বেঁচে থাকবে। তিনি নিজের রক্ত দিয়ে বিজয়ের গল্প লিখে গিয়েছেন, তিনি কিংবদন্তীদের কিংবদন্তী এবং যারা অবমাননাকর সময়ে মর্যাদা নিয়ে বাঁচতে চায় তাদের জন্য একজন অনুসরণীয় ব্যক্তিত্ব।তথ্যসূত্র: উমর মুখতার, আলী সাল্লাবি।(ইতিহাস কথন) থেকে ।
নোটঃ মরুসিংহ খ্যাত ওমর মোখতারের প্রতি ভালবাসাটা একটু বেশি ই । কেননা তার বিচরণ ভূমি আমি নিজ চোখে দেখে এসেছি । ঐ মরুময় পাহাড় ও উপত্যকাগুলো কত যে ভয়ানক ও ডিফিকাল্ট তা চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন ।উল্লেখ্য যে আমি প্রায় তিন বছর লিবিয়ার সাহারা ডেজার্ট দাবড়ে বেড়িয়েছি । আমরা এমন একটি কোম্পানিতে চাকরি করেছি যারা লিবিয়ায় তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান করতো । বিভিন্ন স্থাপনার খনন কাজে মাটির নিচ থেকে ঢাল তরবারী ও বর্শা পাওয়া যেতো । লিবিয়ার প্রত্নতাত্বিক বিভাগের একটি টিম আমাদের সাথে থাকতো । ——–#মরুচারী_মুসাফফির

#মীর_কাসিমঃ(মীর জাফরের জামাতা) ইতিহাসের বাঁকে হারানো এক বীরের উপাখ্যান ।

#পলাশীর_যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে তিনিই একমাত্র শাসক যিনি ইংরেজদের বিরুদ্ধাচারণ করার সাহস দেখিয়েছিলেন, তিনি হলেন নবাব মীর কাসিম। বিলাসিতার পথে না গিয়ে নিজের সবটুকু দেশের স্বাধীনতার জন্য বাজি রেখে স্বাধীনতাকামীদের জন্য স্মরণীয় অনুপ্রেরণা হয়ে আছেন তিনি। চলুন জানা যাক, তার সংগ্রামী জীবন নিয়ে কিছু কথা।১৭৫৭ সালে পলাশীর ঐতিহাসিক যুদ্ধে নবাব সিরাজ-উদ-দৌলাকে পরাজিত ও হত্যা করার পর বিশ্বাসঘাতক মীর জাফর বাংলার নবাবীর মসনদে বসেন। তার বিলাসিতা ও ভোগসর্বস্ব প্রকৃতির কারণে অল্প দিনের মধ্যে বাংলায় অরাজকতা ও অসন্তুষ্টি মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। এই ভোগের খেলায় তার সাথে যোগ হয় তার পুত্র মিরন। দেশের প্রতি কোনো নজর না থাকা এই দুই পিতা-পুত্রকে নিয়ে মহাবিপাকে পড়া ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী সরকার প্রথমে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে মিরনকে হত্যা করে। আর তারপর দেশের বেহাল অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্যে মীর জাফরকে অপসারণ করে তার স্থানে তার জামাতা মীর কাসিমকে ক্ষমতায় বসায়। সময়টি ১৭৬০ সাল।
ইরাকের নাজাফের অভিজাত বংশীয় মীর রাযী খানের পুত্র মীর কাসিম। পুরো নাম মীর মুহাম্মদ কাসিম আলি খান। মীর জাফরের কন্যা ফাতিমা বেগমকে স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন তিনি। নবাব হিসেবে তার যোগ্যতার কোনো অভাব ছিলো না। তিনি ছিলেন স্বাধীনচেতা ও দেশপ্রেমিক। শ্বশুরের মতো কাপুরুষ ও মেরুদন্ডহীন ছিলেন না। দেশপ্রেমের ক্ষেত্রে তার কোনো দৈন্য তো ছিলোই না, বরং এই গুণটির যথেষ্ট আধিক্য ছিলো।মীর জাফর আর তার দুর্বৃত্ত পুত্র মিরনের দুঃশাসন ও দুর্নীতির ফলে শাসনব্যবস্থায় অরাজকতা ও অর্থনীতিতে দেউলিয়াপনা দেশকে পেয়ে বসেছিলো। কৃষকরা ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত হতে থাকে, বকেয়া বেতনের দাবিতে সেনাবাহিনীর মধ্যে একের পর এক বিপ্লব ঘটতে থাকে। এই অবস্থায় দেশটাকে দেখতে পেয়ে শিউরে ওঠেন নবনিযুক্ত নবাব মীর কাসিম। অবিলম্বে তিনি এমন সব ব্যবস্থা গ্রহণ করেন যাতে কিছুদিনের মধ্যেই দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থার প্রভূত উন্নয়ন সাধিত হয়। তার গৃহীত নীতি ছিলো বেশ কঠোর। ফলে বেশ কিছু লোক, বিশেষ করে সুবিধাবাদী কিছু লোক বেশ অসুবিধায় পড়েন। মীর কাসিম দেশের অর্থনীতিকে মোটামুটি সুষ্ঠু ভিত্তির উপর স্থাপন করে সামরিক শক্তি বৃদ্ধির কাজে আত্মনিয়োগ করেন। তিনি সৈনিকদের বকেয়া বেতন পরিশোধ করেন এবং নিয়মিত বেতন পাবার ব্যবস্থা করে তাদের সঠিক শিক্ষাদানের ব্যবস্থা করেন।নবাব সিরাজ-উদ-দৌলার সাথে ইংরেজদের বিরোধের কারণগুলোর মধ্যে একটি বড় কারণ ছিলো ইংরেজদের দেয়া শুল্ক নিয়ে। ১৭১৭ সালে ফররুখশিয়ারের আমলে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী বছরে মাত্র তিন হাজার রুপি প্রদানের শর্তে সমগ্র বাংলায় শুল্কমুক্ত বাণিজ্যের অধিকার তৈরি করে নেয়। শর্তমতে শুধু ইংরেজরা শুল্কমুক্ত বাণিজ্য করবে, বাঁকি সব স্থানীয় বণিককে আয়ের ৪০% হারে শুল্ক দিতে হবে। এই ব্যবস্থাকে রাজকীয় ‘দস্তক’ ব্যবস্থা বলা হতো।
সিরাজ তাদের স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন, নবাব মুর্শিদকুলী খান ইংরেজদের বাণিজ্যের ক্ষেত্রে যে নিয়ম-নীতি নির্ধারণ করে দিয়েছিলেন, সেসব মেনেই তাদের এ দেশে বাণিজ্য করতে হবে। নইলে এ দেশে বাণিজ্যের আশা তাদের ছাড়তে হবে। ইংরেজরা তা মানতে রাজি ছিলো না। উৎকোচ, উপহার, পেশকশ ইত্যাদি দিয়ে নবাবকে হাতে রাখার পাঁয়তারা করে আর অল্প শুল্ক প্রদান করে তারা এই দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থের হানি করে। এই বিরোধের জের ধরেই নবাব সিরাজ শুধু রাজ্য নয়, প্রাণও হারান।নবাব মীর কাসিম সিংহাসনে বসে দেশের অর্থনীতির ভিত্তি মজবুত করতে গিয়ে দেখেন, ইংরেজরা সরকারকে ফাঁকি দিয়ে বিনা শুল্কে অথবা অতি সামান্য শুল্ক প্রদানের মাধ্যমে এদেশে বাণিজ্য করে যাচ্ছে। ব্যাপারটার শুধু সেখানেই শেষ নয়। নবাব লক্ষ্য করেন , ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী তো শুল্কের সব ফায়দা লুটছেই, সেই সাথে ইংল্যান্ড থেকে আসা সাধারণ ব্যবসায়ীরাও শুধু ইংরেজ বলে কোম্পানীর ভোগকৃত সুবিধাসমূহ ভোগ করে যাচ্ছে।
নবাব মীর কাসিম এই দস্তক প্রথার পূর্ণ বিরোধিতা করেন। এ ব্যাপারে কোম্পানীর সাথে আলোচনায় বসে বলেন, ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী ব্যবসার সাথে যেসব সুবিধা ভোগ করছে, তা তিনি মেনে নেবেন। কিন্তু কোম্পানীর সদস্য ব্যাতিরেকে ইংল্যান্ডের অন্য ব্যবসায়ীদের নিয়মমতো শুল্ক দিয়েই ব্যবসা করতে হবে। কিন্তু ইংরেজদের দাবি ছিলো, সকল ইংরেজ বণিককে একই রকম সুবিধা দিতে হবে।
সঙ্গত কারনেই নবাব তাতে সম্মত হতে পারলেন না। ব্যবসায় একচেটিয়া অধিকার লাভের আশাতেই ইংরেজরা পুরো একটা সাম্রাজ্যের মূলোৎপাটন করে বসেছিলো। এমন স্বাধীনচেতা মনোভাব তারা কখনোই আশা করেনি। তারা সকল ইংরেজ বণিকের জন্যই শুল্কমুক্ত বাণিজ্যের ধারা বজায় রাখতে চায়। ইংরেজদের সাথে মীমাংসায় ব্যর্থ হয়ে মীর কাসিম রেগে গিয়ে দেশে সকল প্রকার বণিকের শুল্ক প্রদানের ব্যবস্থা রহিত করেন। শুধু নিরীহ বণিকেরাই শুল্ক দেবে, আর ইংরেজরা সব বিনা শুল্কে এদেশে বাণিজ্য করবে, এমনটা তিনি মেনে নিতে চাননি।
ক্ষমতায় বসার অনতিকাল পরেই নবাব মীর কাসিম রাজধানী মুর্শিদাবাদ থেকে বিহারের মুঙ্গেরে স্থানান্তরিত করেছিলেন। সেখানে তিনি নিজের একটি স্বতন্ত্র সেনাবাহিনীও গড়ে তোলেন। ইংরেজদের প্রভাবমুক্ত হবার বাসনা তার গোড়া থেকেই ছিলো। ইংরেজদের সাথে শুল্ক নিয়ে বিরোধের জের ধরে মীর কাসিমের জন্য একাধিক সশস্ত্র সংগ্রাম অবধারিত হয়ে পড়ে। বিশ্বাসঘাতক মীর জাফরও ইংরেজদের পক্ষ নিয়ে নিজ জামাতার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে যোগ দেন।
যুদ্ধটা শুরু করে প্রথমে ইংরেজরাই। যুদ্ধ শুরু হয় আজিমাবাদ-পাটনায়। ইংরেজরা অতর্কিত আক্রমণ করে পাটনা দখল করে নেয়। এরপরের যুদ্ধ হয় কাটোয়ায়। নবাব মীর কাসিম প্রতিটি যুদ্ধেই তার বিভিন্ন সেনাপতির অধীনে সৈন্য প্রেরণ করতেন। সেনাপতিদের মধ্যে সমন্বয়ের অভাবে এবং ব্যক্তিগত অহংকার ও হিংসার কারণে যে যুদ্ধে মীর কাসিমের জয় নিশ্চিত ছিলো, তাতে তিনি পরাজয় বরণ করেন। সেই যুদ্ধেই তার সর্বনাশের সুচনা হয়।
এরপরের যুদ্ধ হয় সুতি নামক স্থানে। এই যুদ্ধেও মীর কাসিম নিজে না গিয়ে সেনাপতিদের পাঠান এবং সেনাপতিদের মতানৈক্যের কারণে নবাবের বিশাল বাহিনী ইংরেজদের ক্ষুদ্র সেনাদলের কাছে পরাজিত হয়। সুতির যুদ্ধে পরাজিত হয়ে মীর কাসিম তার পরিবার-পরিজন ও ধন-সম্পদ নিরাপত্তার জন্য দুর্ভেদ্য রোটাস দুর্গে পাঠান। তিনি রাজমহলের কাছে উদয়নালা নামক একটি অতি সুরক্ষিত স্থানে তার বিরাট সৈন্যদল নিয়ে ঘাঁটি স্থাপন করেন। স্থানটি খুবই দুর্ভেদ্য বলে বিবেচিত হওয়ায় তার সৈন্যরা ঘাঁটি প্রহরার কোনো ব্যবস্থাই করলো না।
এই ঘাঁটি সংলগ্ন এক বিশাল জলাভূমির অপর তীরেই মীর জাফরকে সাথে নিয়ে ইংরেজরা শিবির স্থাপন করেছিলো। জলাভূমি অতিক্রম করার একটি গোপন পথের সন্ধান পেয়ে ইংরেজদল একরাতে আক্রমণ করে মির কাসিমের অপ্রস্তুত বাহিনীকে শোচনীয়ভাবে পরাজিত করে। অধিকাংশ সৈন্য বিনা যুদ্ধে নিহত হয় এবং বিপুল পরিমাণ অস্ত্রশস্ত্র ইংরেজদের হস্তগত হয়। মীর কাসিম কী করে রক্ষা পেয়েছিলেন, তার সঠিক বর্ণনা পাওয়া যায় না, তবে তিনি পালিয়ে যেতে সমর্থ হয়েছিলেন।একের পর এক যুদ্ধে হেরে যাওয়ায় মীর কাসিম বেশ নিরাশ হয়ে পড়েন। উদয়নালার যুদ্ধে পরাজয়ের পর মীর কাসিম পাটনার দিকে অগ্রসর হন। পথে খবর পান ইংরেজরা তার মুঙ্গের দুর্গ দখল করে নিয়েছে। পরিস্থিতি সহ্যসীমার বাইরে গেলে মীর কাসিম তার কাছে বন্দী থাকা সব ইংরেজকে হত্যা করেন। একমাত্র ইংরেজ ডাক্তার ফুলারটন পালিয়ে ইংরেজ শিবিরে আশ্রয় নেন।
এরপর নবাব অযোধ্যার নবাব সুজা-উদ-দৌলার কাছে সাহায্য চান। সুজা-উদ-দৌলা আর মুঘল সম্রাট ২য় শাহ আলম এর মিলিত বাহিনী নিয়ে মীর কাসিম ইংরেজদের সাথে যুদ্ধে অবতীর্ণ হন। প্রথমে পাটনায়, পরবর্তীতে ১৭৬৪ সালে বক্সারের যুদ্ধে তিনি শোচনীয়ভাবে পরাজিত হন। শাহ আলম ও সুজা-উদ-দৌলার মধ্যে অন্তর্দ্বন্দের কারণে এই জোট ভেঙে পড়ে। শাহ আলম যুদ্ধের এক পর্যায়ে ইংরেজদের সাথে যোগ দেন। তিনজন মরিয়া হয়ে ওঠা মিত্রের মধ্যে মৌলিক সমন্বয়ের অভাবেই এই জোট ব্যর্থ হয়। বিভিন্ন সূত্রমতে, ঐতিহাসিক বক্সারের যুদ্ধে এই তিন শাসকের মিলিত বাহিনীর ৪০,০০০ সেনা ইংরেজদের মাত্র ১০,০০০ সেনার কাছে পরাজিত হয়।মীর কাসিমকে কোণঠাসা করে ইংরেজরা পুনরায় মীর জাফরকে ক্ষমতায় বসায়। পরাজিত মীর কাসিমের ধন-সম্পদ সব সুজা-উদ-দৌলা লুটে নেন এবং তাকে একটি খোঁড়া হাতির পিঠে চাপিয়ে নির্বাসিত করেন। দুর্দশাগ্রস্ত নবাব প্রথমে রোহিলাখন্ড, তারপর এলাহাবাদ, গোহাদ, যোধপুর হয়ে দিল্লীর নিকটে আবাস গাড়েন। একেবারে অজ্ঞাতসারে এবং অতি দারিদ্রের মধ্যে তার মৃত্যু হয়। তার ছেড়ে যাওয়া সম্পত্তির মধ্যে ছিলো শুধু দুটো শাল, যেগুলো বিক্রি করে তার সৎকারের খরচ যোগাড় করা হয়। এই দেশপ্রেমিকের জীবনপ্রদীপ নেভার সাথে সাথে উপমহাদেশ থেকে ইংরেজবিরোধী শেষ শিখাটিও নিভে যায়।বক্সারের যুদ্ধের সাফল্য ইংরেজদের জন্য পলাশীর যুদ্ধের সাফল্যের চেয়েও বড় ছিলো। তারা আরও বেশি শক্তপোক্ত হয়ে উপমহাদেশে ক্ষমতার পরিধি বিস্তার করতে থাকে। স্পৃহা, সামর্থ্য বা দূরদর্শিতা কোনোটারই অভাব ছিলো না নবাব মীর কাসিমের। হয়তো তার বিধিই বাম ছিলো। দেশকে বিদেশী শোষণ থেকে মুক্ত করার স্বপ্নদ্রষ্টা তাই নিজেই একদিন আড়ালে, পথশয্যায় হারিয়ে গেলেন। তবে ইতিহাসে তিনি আজও স্বাধীনতার এক অনন্য স্বপ্নদ্রষ্টা।#rora থেকে

#ইতিবাচক হতে চেষ্টা করুন #Be_Positive

আমেরিকার বোস্টনে ১৯৮৬ সালে একটি অদ্ভুত পরীক্ষা
করা হয় ৷ এক ফাঁসির আসামীকে ফাঁসির সাজা শোনানো
হলো ৷ কতিপয় বিজ্ঞানী সে আসামীর উপর একটি
পরীক্ষা করার প্রস্তাব করলেন । কয়েদীকে শোনানো
হলো ফাঁসির বদলে তোমাকে বিষাক্ত কোবরা সাপ
দংশন করিয়ে হত্যা করা হবে।
কয়েদীকে চেয়ারে বসিয়ে তার হাত-পা বেঁধে দেয়া
হলো, তারপর তার চোখে পট্টি বেঁধে বিষাক্ত কোবরা
সাপ না এনে তার বদলে দুটি সেফ্টি পিন ফুটানো হলো।
ফলে কয়েক
সেকেন্ডের মধ্যেই কয়েদির মৃত্যু হলো ৷ পোস্টমর্টেম
রিপোর্টে দেখা গেল সাপের বিষ রয়েছে তার শরীরের
মধ্যে। প্রশ্ন হলো এই বিষ কোথা থেকে এলো, যা ঐ
কয়েদীর প্রাণ কেড়ে নিল।
বলা হয় সেই বিষ তার নিজের শরীর থেকেই উৎপত্তি
হয়েছিল।আমাদের সংকল্প থেকে positive এবং negative
এনার্জির সৃষ্টি হয়। আর সে এনার্জি আমাদের শরীরে
হরমোনের উৎপত্তি করে ৷ 75% রোগের মূল কারণ হলো
আমাদের negative চিন্তাধারা। মানুষ নিজের
চিন্তাধারা থেকে ভস্মাসূর হয়ে নিজ প্রজাতিকে
বিনাশ করছে। আপনার চিন্তাধারা সর্বদা positive রাখুন
এবং খুশী থাকুন।
২৫ বছর বয়স পর্যন্ত আমরা ভাবি যে ‘‘মানুষ কি মনে করবে!”
৫০ বছর আমরা ভয় পাই ‘মানুষ কি ভাববেন!‘ ৫০ বছর পরে
আমরা বুঝতে পারি ‘’কেউ আমার কথা চিন্তাই
করেনি৷‘’ কিন্তু তখন তেমন কিছু করার থাকে না!
তাই ইচ্ছেশক্তিকে কখনোই থামতে দেয়া যাবে না। কে
কি বলে তা নিয়ে না ভেবে নিজের পজিটিভ
চিন্তাগুলো নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।
তাহলেই সফলতা ধরা দিবে।

তুরস্কের মসজিদগুলো কি রাজনীতির বার্তা ছড়াচ্ছে ?

“তুরস্কের মসজিদগুলো কি রাজনীতির বার্তা ছড়াচ্ছে ?” এই শিরোনামে একটি রিপোর্ট করেছে CNN গত ২৫ অক্টোবর ২০১৯। রিপোর্টে বলা হয়েছে, সরকারি বেসরকারি সব ইস্যুতে যেভাবে মসজিদের সম্পৃক্ততা দেখা দিচ্ছে, এতে করে অদূর ভবিষ্যতে তুরস্কের রাষ্ট্রীয় পরিচয় (সেক্যুলারিজম) বিপন্ন হতে পারে!আসল বিষয়টা হল, সত্যিকার অর্থে তুরস্ক এখন মসজিদভিত্তিক সমাজব্যবস্থায় গড়ে ওঠছে। মানুষ কল্পনাতীতভাবে মসজিদ মুখি হচ্ছে। চলমান সিরিয়া অভিযানের সফলতায় মসজিদগুলো মুসল্লিদের কায়মনো প্রার্থনায় গুঞ্জরিত হয়ে উঠেছে। এসবের ভিডিও ভাইরাল হয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে। ফলে গাত্র দাহ্ শুরু হয়েছে তথাকথিত মানবতাবাদীদের মনে ও তাদের পদলেহী মোনাফিক মহলে ।
এর আগে ২০১৬ সালের অন্যায় সেনা অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধেও অসামান্য ভূমিকা ছিল তুরস্কের মসজিদগুলোর। মসজিদের মাইকে মানুষকে অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছিল। পশ্চিমা মদদপুষ্ট গাদ্দার সেনাবাহিনীর আগ্রাসন রুখে দেওয়ার শ্লোগান তুলেছিলেন মসজিদের ইমামরা। এসব কারণে তুরস্কের মসজিদগুলো নিয়ে বরাবরই সমালোচনায় লেলিয়ে থাকে পশ্চিমা মিডিয়াগুলো। গত বছর এরদোয়ানের হাতে নবনির্মিত তুরস্কের সবচেয়ে বড় কেমালিকা মসজিদ নিয়েও পশ্চিমা মিডিয়াগুলো সবচেয়ে বেশি সমালোচনা করেছে। তার সাথে সুর চড়িয়েছে বিরোধী সেক্যুলার রাজনৈতিক দল জেহেপে। তাদের অভিযোগ ছিল, জনগণের টাকা খরচ করে এত বড় মসজিদ নির্মাণের কোন প্রয়োজন ছিল না। প্রকাশ্যে এই অভিযোগ করা হলেও বাস্তবতা মোটেই এমন নয়। বরং মানুষের মসজিদমুখী মানসিকতাকেই তারা থামিয়ে দিতে চায়। দিন যত যাচ্ছে, সমাজ ও রাষ্ট্রে মসজিদগুলোর আবেদন ততই বাড়ছে। সেক্যুলারিজম কি তবে মাঠে মারা যাবে, এই প্রশ্ন তাদের ঘুম হারাম করে দিচ্ছে!সেক্যুলারিজমের বার্তা হল, সমাজ ও রাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করে ধর্মকে শুধুমাত্র ব্যক্তিজীবনে আবদ্ধ করে রাখা। অথচ ইসলাম শুধু ব্যক্তিজীবন নয়, বরং পরিবার থেকে সমাজ, রাষ্ট্র থেকে পররাষ্ট্র ব্যবস্থায়ও অনস্বীকার্যভাবে জড়িয়ে আছে। ইসলামের এই সার্বজনীনতাকেই প্রতিষ্ঠিত করতে চান এরদোয়ান। ধর্মকে ব্যক্তিজীবনে আবদ্ধ করে রাখা কারাগার থেকে উদ্ধার করে সর্বস্তরে এর প্রতিষ্ঠা নিশ্চিত করতে চান তিনি। আর এটাই একসময় কাল হয়েছিল তার জন্য। মনে আছে ১৯৯৮ সালের কথা? একটি কবিতা আবৃত্তির অপরাধে তাকে জেল খাটতে হয়েছিল, তার রাজনৈতিক অধিকার কেড়ে নেয়া হয়েছিল? কী ছিল সেই কবিতা?

“মসজিদ আমাদের ক্যান্টনমেন্ট,

মিনার আমাদের বেয়নেট,

গম্বুজ আমাদের হেলমেট,

মুমিনেরা আমাদের সেনাদল।”

আজ বিশ বছর পর এসে এরদোয়ান এই কবিতাকে কিছুটা হলেও বাস্তবে রূপ দিতে পেরেছেন। সত্যি এখন মিনারগুলো অনেকটাই বেয়নেটের ভূমিকা নিচ্ছে। গম্বুজগুলো হেলমেটে পরিণত হয়েছে। মসজিদগুলো হয়েছে ব্যারাক। আর মুমিনেরা সব এসেছে সেনাবাহিনীর দলে!
নাসরুম মিনাল্লাহ ওয়া ফাতহুন কারীব!
সিএনএনের লিংক

:https://www.cnn.com/…/article/turkey-new-ottoman…/index.html

#কায়কোবাদ : আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম #মুসলিম_কবি

#কায়কোবাদ : আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম #মুসলিম_কবি
আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি ছিলেন কায়কোবাদ। অজপাড়া গ্রামে পোস্টমাস্টারির চাকরি করেছেন জীবনভর, আর লিখেছেন কবিতা। এই কাব্যচর্চাই তাঁকে এনে দিয়েছে মহাকবির খ্যাতি। আজ ২১ জুলাই তাঁর মৃত্যুবার্ষিকী, ১৯৫১ সালের এ দিনে প্রায় ৯৪ বছর বয়সে তিনি ইন্তেকাল করেন।

কালের লিপিতে ‘মহাকবি কায়কোবাদ’ নামে তিনি উৎকীর্ণ হয়ে থাকলেও তাঁর পিতৃপ্রদত্ত নাম কাজেম আল-কোরায়েশি। ১৮৫৭ সালে, ঐতিহাসিক সিপাহি বিপ্লবের বছর বর্তমান ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জের আগলা-পূর্বপাড়া গ্রামে তাঁর জন্ম। পিতা শাহামতুল্লাহ আল-কোরায়েশি ছিলেন ব্যারিস্টার, ঢাকা জেলা জজকোর্টে আইন ব্যবসা করতেন। সেই সুবাদে কায়কোবাদের পড়াশোনা ঢাকাতেই হয়েছিল।

সেন্ট গ্রেগরি স্কুলে পড়াশোনা কালে পিতার মৃত্যু হয়, কায়কোবাদ স্কুলের বদলে তখন ভর্তি হন মাদরাসায়, ঢাকা মাদরাসা, যেটা বর্তমানে নজরুল কলেজে রূপান্তরিত হয়েছে। কিন্তু মাদরাসায় প্রবেশিকা পর্যন্ত পড়াশোনার পর পরীক্ষার আগ মুহূর্তে পোস্ট মাস্টারির চাকরি পেয়ে যান তিনি, পিতৃহীন পরিবারের ঘানি টানতে প্রবেশিকা পরীক্ষা আর দেওয়া হয়নি কায়কোবাদের। পোস্টমাস্টারির চাকরি নিয়ে ফিরে যান আপন গ্রামে। এবং অবসরগ্রহণ অবধি গ্রামেই থাকেন পোস্টমাস্টারির চাকরি নিয়ে। আর করেন কাব্যসাধনা।

অতি অল্পবয়সে কায়কোবাদের সাহিত্য-প্রতিভার স্ফুরণ ঘটে। মাত্র তেরো বছর বয়সে তাঁর প্রথম কাব্য বিরহবিলাপ (১৮৭০) প্রকাশিত হয়। তাঁর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে কুসুম কানন (১৮৭৩), অশ্রুমালা (১৮৯৫), মহাশ্মশান (১৯০৪), অমিয়ধারা (১৯২৩), মহরম শরীফ (১৯৩২), প্রেমের বাণী (১৯৭০), প্রেম-পারিজাত (১৯৭০), গওছ পাকের প্রেমের কুঞ্জ (১৯৭৯) প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। সম্প্রতি বাংলা একাডেমী কায়কোবাদ রচনাবলী (৪ খন্ড, ১৯৯৪-৯৭) প্রকাশ করেছে।

কায়কোবাদের মহাশ্মশান একটি বিখ্যাত মহাকাব্য। তৃতীয় পানিপথের যুদ্ধ অবলম্বনে রচিত এ কাব্যে জয়-পরাজয় অপেক্ষা ধ্বংসের ভয়াবহতা প্রকট হওয়ায় এর নাম হয়েছে ‘মহাশ্মশান’। এটি তাঁর শ্রেষ্ঠ রচনা এবং এর দ্বারাই মহাকবিরূপে খ্যাতি অর্জন করেন। কাব্যটি তিন খন্ডে বিভক্ত। প্রথম খন্ডে ঊনত্রিশ সর্গ, দ্বিতীয় খন্ডে চব্বিশ সর্গ, এবং তৃতীয় খন্ডে সাত সর্গ। মোট ষাট সর্গে প্রায় নয়শ’ পৃষ্ঠার এই মহাকাব্য বঙ্গাব্দ ১৩৩১ মুতাবেক খ্রিষ্টাব্দ ১৯০৪ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়; যদিও গ্রন্থাকারে প্রকাশ হতে আরও ক’বছর দেরি হয়েছিল। পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধযজ্ঞকে রূপায়িত করতে গিয়ে কবি বিশাল কাহিনি, ভয়াবহ সংঘর্ষ, গগনস্পর্শী দম্ভ, এবং মর্মভেদী বেদনাকে নানাভাবে চিত্রিত করেছেন এ মহাকাব্যে।

কায়কোবাদের গীতিকবিতায় প্রেম, প্রকৃতি, স্বদেশের প্রতি ভালোবাসা ও আধ্যাত্মিকতা প্রকাশ পেয়েছে।

তাঁর কাব্যসাধনার মূল উদ্দেশ্য ছিল পশ্চাৎপদ মুসলমান সম্প্রদায়কে তার অতীত ঐতিহ্য সম্পর্কে সচেতন করা এবং তা পুনরুদ্ধারে উদ্বুদ্ধ করা। তিনি ছিলেন সাম্প্রদায়িক সমন্বয়ে বিশ্বাসী, যার প্রকাশ ঘটেছে তাঁর বিভিন্ন রচনায়। তিনি হিন্দু-মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের ধর্মীয় বিষয় নিয়ে কাব্য রচনা করেছেন।

বাংলা মহাকাব্যের অস্তোন্মুখ এবং গীতিকবিতার স্বর্ণযুগে মহাকবি কায়কোবাদ মুসলিমদের গৌরবময় ইতিহাস থেকে কাহিনি নিয়ে ‘মহাশ্মশান’ মহাকাব্য রচনা করে যে দুঃসাহসিকতা দেখিয়েছেন তা তাঁকে বাংলা সাহিত্যের গৌরবময় আসনে স্থান করে দিয়েছে।

সেই গৌরবের প্রকাশে ১৯৩২ সালে কলকাতায় অনুষ্ঠিত বঙ্গীয় মুসলিম সাহিত্য সম্মেলনের মূল অধিবেশনে তিনি সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। বাংলা কাব্যসাহিত্যে অসাধারণ অবদানের জন্য নিখিল ভারত সাহিত্য সংঘ তাঁকে ‘কাব্যভূষণ’, ‘বিদ্যাভূষণ ও ‘সাহিত্যরত্ন’ (১৯২৫) উপাধিতে ভূষিত করে।

প্রত্যন্ত_অঞ্চলে ভয়ংকর হয়ে উঠছে ‘#ধর্মান্তর ব্যবসা’

#প্রত্যন্ত_অঞ্চলে ভয়ংকর হয়ে উঠছে ‘#ধর্মান্তর ব্যবসা’

ডিসেম্বর ৩, ২০১৯দেশের উপজাতি-অধ্যুষিত ও দারিদ্র্য-পীড়িত প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতে খ্রিষ্ট ধর্মে ধর্মান্তরিত করার প্রবণতা ‘ভয়াবহ আকারে’ বেড়েই চলেছে। পশ্চিমা বিশ্বের অর্থায়নে পরিচালিত এনজিও ও খ্রিষ্টান মিশনারি সংস্থাগুলো সেবা ও উন্নত জীবনের প্রলোভনে উপজাতি ও দারিদ্র্য-পীড়িত হিন্দু মুসলিমসহ উপজাতীয় ধর্মে বিশ্বাসীদেরকে খ্রিষ্ট ধর্মে দীক্ষিত করে চলেছে। খ্রিষ্ট ধর্ম প্রচারে কোনো ধরনের বাধা-বিপত্তিকে তোয়াক্কা করছে না মিশনারিরা। বরং মুসলিম দাঈ কিংবা এ তৎপরতা সম্পর্কে সতর্ককারী স্থানীয় আলেমদেরকে নানা ধরনের চাপে রাখছে তারা। এমনকি প্রশাসনিক মাধ্যমেও এ সমস্ত দাঈকে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয় দাঈদের।
‘পার্বত্য চট্টগ্রামের চিত্র ভয়াবহ’
রাঙ্গামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি—তিনটি জেলা নিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের বিস্তৃতি। পার্বত্য চট্টগ্রামে সবচেয়ে আশঙ্কাজনকভাবে খ্রিষ্টান মিশনারিরা কাজ করছে। উপজাতিদের বড় একটি অংশ এখন খ্রিষ্ট ধর্মে দীক্ষিত হয়ে গেছে বলে জানাচ্ছেন অঞ্চলটিতে দাওয়াতি মেহনতের সঙ্গে জড়িত আলেম দাঈগণ। তাঁদের মধ্যে একজনের সঙ্গে কথা হয়েছিল ফাতেহ টুয়েন্টি ফোরের। নিরাপত্তা জনিত কারণে নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, ‘পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রায় প্রতিটি এলাকাই আমার ঘোরা হয়েছে। দাওয়াতি কাজে এই এলাকায় এত বার যাওয়া হয়েছে যে, অনেক এলাকা নিজের এলাকার মতোই আমার কাছে পরিচিত। দুঃখজনক হলো, আজ থেকে ২০-২২ বছর আগে এখানে ১ পার্সেন্টরও কম খ্রিষ্টান থাকলেও বর্তমানে খ্রিষ্টান মিশনারিদের তৎপরতার দরুণ এখানকার বড় একটি অংশ খ্রিষ্ট ধর্মে ধর্মান্তরিত হয়ে গেছে।
তিনি বলেন, ‘ছোট-বড় প্রায় ১৪টি উপজাতীয় গোষ্ঠীর বসবাস এই অঞ্চলে। তাদের মধ্যে মধ্যে ছোট ছোট যে গোষ্ঠীগুলো, তাদের প্রায় সকলেই খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করে নিয়েছে। গহীন পাহাড়ের ভেতর তাদের বসবাস, কিন্তু আপনি যদি সেখানে যান আর তাদের জীবনমান দেখেন, তবে মনেই হবে না, আপনি বাংলাদেশে আছেন, মনে হবে ওয়েস্টার্ন কোনো কান্ট্রিতে এসেছেন।
‘খ্রিষ্টান মিশনারিরা তাদের শিক্ষাদীক্ষা থেকে শুরু করে রাস্তা-ঘাট সব কিছু করে দিচ্ছে। বিনিময়ে তাদেরকে খ্রিষ্টধর্মে দীক্ষিত করছে। কনভার্টেড এসব খ্রিষ্টানদের সঙ্গে কথা বললে আপনি চমকো যাবেন। এদের ভাব ও আচারে মনেই হবে না এরা বাংলাদেশ নামক কোনো রাষ্ট্রকে স্বীকার করে। তাদের এমনও এলাকা আছে যেখানে খ্রিষ্ট মিশনারিদের দ্বারা প্রুফ করা। সেখানে যেতে হলে বিশেষ বাহিনীর পারমিশন লাগে। আর নির্দিষ্ট লোক ব্যতীত সেখানে ঢোকার পারমিশনও পাওয়া যায় না। রাঙ্গামাটির বড়কল উপজেলায় আছে এমন একটি এলাকা।
‘বান্দরবানের মিরিঞ্জা নামক একটা এলাকা আছে, সেখানের উঁচু এক টিলায় মং সম্প্রদায়ের বসবাস। যাদের অধিকাংশই খ্রিষ্টান হয়ে গেছে। খ্রিষ্টান মিশনারিদের কল্যাণে উন্নত হয়েছে তাদের জীবনমান। মং সম্পদায়ের নেতাদেরকে ‘কারবারি’ বলা হয়। সেখানে একবার সফরে গেলে এক কারবারির সঙ্গে কথা হয়েছিল আমার। সে জানাল, ধর্ম যে কোনো গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার, এমনটা ধারণায়ও ছিল না তাদের। একসময় তারা মনে করত জন্মসূত্রে মুসলিম না হলে কেউ মুসলিম হতে পারত না। এই খ্রিষ্ট মিশনারিরা আসার আগে তাদের কেউ কেউ মুসলিম হতে চাইলে এমন কেউ ছিল না, যে তাকে মুসলিম বানাবে। স্থানীয় বাঙালি মুসলিম যারা ছিল, তারা তাদেরকে মুসলিম সমাজে দাখিল করতে অস্বীকৃতি জানাত। খ্রিষ্টান মিশনারিরা এসে এখন তাদের মনোভাব বদলে দিয়েছে। দলে দলে তাই তারা খ্রিষ্ট ধর্মে দীক্ষিত হচ্ছে। সেই সঙ্গে পাচ্ছে উন্নত জীবনমানের ব্যবস্থা।’
খ্রিষ্টান মিশনারিদের মুকাবেলায় এসব এলাকায় ওলামায়ে কেরামের দাওয়াতি কার্যক্রম কেমন জানতে চাইলে আলেম এ দাঈ বলেন, তাদের তুলনায় আমাদের কার্যক্রম প্রায় শূন্যের কোঠায়। তাছাড়া আমরা সীমিত পরিসরে যারা কাজ করছি, তারাও নানাভাবে বাধার সম্মুখীন হচ্ছি। খ্রিষ্টান মিশনারিদের কৌশলী তৎপরতা এবং তাদের পাহারাদার উপজাতীয় সন্ত্রাসী গ্রুপগুলোর হিংস্রতা নানাভাবে আমাদের বাধাগ্রস্ত করে। সেখানে নতুন করে কোনো মসজিদ-মাদরাসা স্থাপন করতে হলে ব্যাপক বেগ পেতে হয়। স্থাপন করলেও সেটা সেখানে মোতায়েনকৃত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ক্যাম্পের আশপাশে করতে হয়। পাহাড়ের ভেতরে করার কোনো সুযোগ নেই। খ্রিষ্টান মিশনারি ও তাদের নিরাপত্তা বিধায়ক উপজাতীয় সন্ত্রাসী গ্রুপগুলো বাধা দেবে।
উত্তরাঞ্চলের দরিদ্র মুসলিমদেরকেও বানানো হচ্ছে খ্রিষ্টান
শিক্ষাদীক্ষা এবং সুবিধা বঞ্চিত উত্তরাঞ্চলেও খ্রিষ্টান মিশনারিদের তৎপরতা ভয়াবহ। উত্তরাঞ্চলের বন্যা কবলিত ও দারিদ্রপীড়িত জেলা কুঁড়িগ্রামে ব্যাপকভাবে তারা ধর্মান্তরের কার্যক্রম চালাচ্ছে। ধর্মীয় শিক্ষার আলো থেকে দূরে থাকা স্থানীয় মুসলমানদের নানা কৌশলে খ্রিষ্টান বানানো হচ্ছে। খ্রিষ্টধর্মে দীক্ষিত হয়ে যাওয়া এসব মুসলমানের অনেকে বুঝতেই পারছেন না যে তাঁরা খ্রিষ্টান হয়ে গেছেন।
স্থানীয় বেশ কয়েকজন দাঈ’র সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, খ্রিষ্টান মিশনারিরা স্থানীয় লোকদের মধ্যে কুরআন-হাদিসের বিভ্রান্তিকর ব্যাখ্যা সম্বলিত বিভিন্ন বই-পুস্তক বিতরণ করে। এবং এর মাধ্যমে মহানবি হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের ওপর হজরত ইসা আলায়হিস সালামের শ্রেষ্ঠত্ব দেখিয়ে তাঁর অনুসরণের দাওয়াত দেওয়া হয়। বলা হয়, বর্তমান যে ইসলাম, সেটার তুলনায় ‘ঈসায়ি ইসলাম’ শ্রেষ্ঠ। কারণ ঈসা আলায়হিস সালাম জীবিত নবি আর মহানবি হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম ‘মৃত’। তাই সকলের উচিত ঈসা নবির অনুসরণ করা।
এরকম নানা খোঁড়া যুক্তি এবং অর্থ ও জীবনমানের উন্নতির প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মুসলমানদেরকে খ্রিষ্টান ধর্মে দীক্ষিত করা হয়। তবে খ্রিষ্টান হয়ে যাওয়া এসব লোককে বুঝতে দেওয়া হয় না যে তারা খ্রিষ্টান হয়ে গেছে। তাদেরকে বলা হয়, ভ্রান্ত ইসলাম থেকে সঠিক ইসলাম তথা ‘ঈসায়ি ইসলামের’ দিকে ফেরত আনা হয়েছে। তাই তারা এখন থেকে ‘ঈসায়ি মুসলিম’।
কুঁড়িগ্রামে খ্রিষ্টান এসব মিশনারির মুকাবেলায় সাধারণ মানুষদের মধ্যে ইসলামের সঠিক বাণী পৌঁছে দিতে কাজ করা কয়েকজন স্থানীয় দাঈ’র সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলার চেষ্টা করা হয়েছিল ফাতেহ টোয়েন্টি ফোর থেকে। তাঁদের একজন উপরোক্ত তথ্যগুলো নিজের নাম গোপন করার শর্তে প্রদান করলেও অন্যান্য দাঈরা কথা বলতেই অপারগতা জানিয়েছেন। তাদের কথাবার্তায় ছিল ভয় এবং আতঙ্কের ছাপ।
এ ছাড়া টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার বেশ কয়েকটি ইউনিয়নেও চলছে খ্রিষ্টান মিশনারিদের কার্যক্রম। সেখানকার দারিদ্র পীড়িত এবং সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের অসহায়ত্বকে পুঁজি করে সেবার আড়ালে ধর্মান্তরের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে খ্রিষ্টান মিশনারিরা। স্থানীয় মসজিদের ইমাম এবং কয়েকজন দাঈ’র সঙ্গেও মুঠোফোনে কথা বলার চেষ্টা করা হয়েছিল ফাতেহ টুয়েন্টি ফোর থেকে। কিন্তু নাম প্রকাশ করে বা বিস্তারিতভাবে কোনো তথ্য দিতে রাজি হননি কেউই। নাম গোপন রাখার শর্তে তাদের দুজন কেবল একটি ইউনিয়নের কথা বলেছেন। মধুপুরের শোলাকুড়ি ইউনিয়ন। এ ইউনিয়নে উপজাতিদের বসবাস রয়েছে। বেশ অনেক বছর ধরো খ্রিষ্টান মিশনারিরা সেবার আড়ালে ধর্মান্তকরণে কাজ করে আসছে। বিশ বছর আগেও যেখানে একজন মানুষও খ্রিষ্টান ছিল না, সেখানে এখন দলে দলে মানুষ খ্রিষ্টান ধর্মে দীক্ষা লাভ করেছে।
তাঁরা বলছেন, ডাক্তার এড্রিক বেকার নামের যে একজন খ্রিষ্টান ডাক্তার ও তাঁর প্রতিষ্ঠিত ক্লিনিকের প্রতিবেদন ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’তে সম্প্রতি প্রচারিত হয়েছে, এবং মানবসেবার জন্য যিনি প্রশংসিত হচ্ছেন, তিনি মূলত খ্রিষ্টান মিশনারিরই লোক। তাঁর প্রতিষ্ঠিত কালিয়াকুরি ক্লিনিকটিও মিশনারির অর্থায়নে পরিচালিত। সেবার আড়ালে তাঁদের মূল উদ্দেশ্য দারিদ্রপীড়িত স্থানীয় মানুষদেরকে খ্রিষ্ট ধর্মে দীক্ষিত করা।
স্থানীয় দাঈদের এমন আতঙ্কগ্রস্ততা এবং এ বিষয়ে কথা বলতে অপারগতা প্রকাশের কারণ জানতে চেয়ে কথা হয়েছিল এই অঙ্গনের সঙ্গে সম্পৃক্ত রাজধানীর কয়েকজন দাঈর সঙ্গে। তারা ফাতেহ টোয়েন্টি ফোরকে জানান, খ্রিষ্টান মিশনারিদের মুকাবেলায় বাংলাদেশে যারাই কাজ করছেন প্রত্যেকেই একটা চাপ ও হুমকির ভেতর দিয়ে যাচ্ছেন। কঠোর নজরদারির ভেতর রাখা হয়েছে তাদেরকে। এমনকি প্রত্যেকের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনও নজরদারির আওতায় রয়েছে। বিশেষ করে স্থানীয় দাঈদের ওপর এই নজরদারিটা বেশি। তাদের সঙ্গে কারা যোগাযোগ করছে, কীভাবে করছে, এসব কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।

ভারতে মেয়েদেকে পুরুষের ছেঁড়া জুতার চেয়েও নিকৃষ্ট মনে করা হয়

#ভারতে হিন্দু ধর্মের একটি শাখা সম্প্রদায় আছে, যেখানে মেয়েদেকে পুরুষের ছেঁড়া জুতার চেয়েও নিকৃষ্ট মনে করা হয় । ভারতের দক্ষিণ রাজস্থানের ভিলওয়ারা এলাকায় এরা বসবাস করে। এখানেই আছে বাংকায়া মাতার মন্দির। এই মন্দিরে গেলেই দেখা যায় পুরুষের জুতো মুখে করে পান পান করছে মেয়েরা। এই মন্দিরে খুব সাধারণ দৃশ্য এটা। এখানে মেয়েরা এসে পুরুষের ছেঁড়া জুতা দিয়ে পানি খায়,ছেঁড়া জুতা মুখে কাঁমড়ে ধরে ও ছেঁড়া জুতা মাথায় নিয়ে পূঁজা করে অশুভ শক্তির হাত থেকে মুক্তি পাওয়ার আশায়। এখানে শুধু পুরুষের ছেঁড়া জুতাই লাগে । কারণ পুরুষ শক্তির প্রতীক। মুক্তির জন্যই তারা এমন সব রীতি মানেন যা প্রত্যক্ষ করাও #অত্যন্ত_অপ্রীতিকর ।
শুধু জুতো ধোয়া পানি খাওয়া ই শেষ নয়, তার আগে মাইলের পর মাইল পুরুষের সেই ছেঁড়া জুতা মাথায় নিয়ে হেঁটে মন্দিরে আসতে হয়। এর পরে প্রায় ২০০টি সিঁড়ি টপকে নামতে হয় মন্দির সংলগ্ন পুকুরে। এর পরে জুতো ধুয়ে এই ময়লা পানি পান করতে হয়। এখানেও শেষ নয়। এর পরে ফের একটি জুতা মুখে ও অন্য জুতা মাথায় করে নিয়ে বাড়ি ফিরতে। এসব তারা করে দাম্পত্য জীবনকে অশুভ শক্তির থেকে মুক্তি পাওয়ার আশায়।

ঢাকা’কে নিয়ে কিছু সতর্কতা

আমাদের প্রিয় শহর #তিলোত্তমা_ঢাকা’কে নিয়ে কিছু #প্রবাদ আছে—রাতে মশা দিনে মাছি,এই নিয়ে ঢাকায় আছি।যাইহোক,প্রাইমারী স্কুল পর্যন্ত ঠিকানা লিখিতে জিলাঃ ঢাকা’ই লিখিতাম । যদিও মরহুম এরশাদ কাকুর কৃপায় ঢাকা পঞ্চ ভাগে বিভক্ত হইয়াছে। ফলে আমরাও ঢাকাকে ত্যাজ্য করিয়া গাজীপুর নিবাসী হইয়াছি । কিন্তু ঢাকা আমাদের ছাড়িবার পাত্র নহে । ঢাকার ধুলাবালি, ডাষ্টবিনের সুগন্ধ,কান ফাটানো গাড়ীর হর্ণ,হেলপারের চিৎকার,কুলিদের হাকডাক ও ভিক্ষুকদের সঙ্গীত শুনিতে প্রায় প্রতিদিনই হাজিরা দিতে হয় আমাদের ।আমরাতো অভ্যস্ত, বাইরের জেলার বন্ধুদের জন্য কিছু সচেতনমূলক দিক নির্দেশনা দেয়া কর্তব্য মনে করছি । তাই জেনে নিন ঢাকায় এলে কি করবেন ও কি করবেন না—–

১// ঢাকায় চলাফেরার সময় কখনো বাসে জানালার পাশে বা রিকশায় বসে মোবাইল টিপবেন না। পাখির মত ছোহ মেরে কখন কে নিয়ে যাবে, টের পাবেন আড়াই মিনিট পর।কারণ এই আড়াই মিনিট আপনি ঠাহর করতেও পারবেননা মোবাইলটা কোন দিকে গেল। ।পকেটে বেশি টাকা রাখবেন না । কারণ–“#মসজিদের_শহর আমাদেরই ঢাকা ।তবু আছে বহু ভয় যদি সাথে থাকে টাকা” ।।কারণ চোরা না শোনে ধর্মের কথা

২// রিকশাতে বসে কোলের ব্যাগ রাখবেন না। পায়ের নিচে রাখুন। পাশ থেকে মটরসাইকেল কিংবা গাড়িতে করে এসে হ্যাঁচকা টান মেরে ছিনিয়ে নিবে সাথে আপনাকেও ফেলে দিতে পারে।আরো একটা জিনিস ঘটতে পারে । আপনি হয়তো জানেন বাংলাদেশে নাম স্বর্বস্ব বহু রাজনৈতিক দল আছে যাদের ঢাকা শহরে ব্যানার ধরার মত লোকও নেই । তাদের শুধু টিভির টকশো ও খবরে দেখা যায় । আপনি ঢাকার রাস্তায় হয়তো হাটছেন । কিন্তু তারা আপনাকে কাছে পেয়ে তাদের দলের লোক বলে চালিয়ে দিতে পারে। কেননা তাদের মিছিলের বেশিরভাগ লোকই ভাড়াকরা । এরাও এক প্রকার ছিনতাইকারী । ভুলেও এদের পাল্লায় পড়বেন না ।
৩// রাস্তার কিছু খাবেন না, কিছুই না একেবারেই না। দূরপাল্লার যাত্রা হলে বাড়ি থেকে খাবার নিয়ে আসুন অথবা প্যাকেটজাত কিছু খান। পাশের যাত্রী কিছু দিলে তা ভুল করেও খাবেন না। নতুন বোতল পানি কিনে দিলেও না । হয়তো যে পানি বা ডাব কিংবা অন্য যে কোন খাবার কিনলেন, তাতেই থাকতে পারে চেতনানাশক ঔষধ বা বিষ।
৪// ট্রেন ভ্রমণে দরজার পাশে, দুই বগির পাশে দাড়াবেন না। কিংবা যতোই ভালো লাগুক দরজায় দাঁড়িয়ে বিড়ি সিগারেট খাবেন না। ট্রেনের ছাদে চলাচল যতোই রোমান্টিক লাগুক, যে গ্যাং গুলো ছিনতাই করে, তারা খুবই নির্দয় এবং বেপরোয়া। অনেক যাত্রীর লাশ পাওয়া যায় সারাদেশের ট্রেন লাইনের আশেপাশে। বেশিরভাগই বেওয়ারিশ হিসেবে দাফনকরে ফেলা হয়। দুই তিন জন হলে রিস্ক নিতে পারেন । তবে একা থাকলে সিট ছেড়েই উঠবেন না ।
৫// কপাল খারাপ হলে ছিনত্যাইয়ের শিকার হবেন। আপনার পকেটে দামী ফোন ,ঘড়ি,টাকা ইত্যাদি। এসবক্ষেত্রে ভালো হয় এসবের মায়া ত্যাগ করা। কারণ যারা ছিনতাইকারী তাদের বেশিরভাগই নেশাগ্রস্থ ও অত্যন্ত নিষ্ঠুর।আপনার জীবনের দাম পৃথিবীর যেকোনো দামী বস্তুর চেয়েও অনেক বেশি। সব দিয়ে সরে পড়ুন । পেছনেও তাকাবেন না । পুলিশের সাহায্যের প্রশ্নই আসেনা ।
৬// বান্ধবী বা মেয়ে বন্ধুর সাথে রেস্টুরেন্ট বা পার্কে যাচ্ছেন। হঠাৎ দেখবেন আপনার চারপাশে একদল ছেলের আবির্ভাব। এরা কিন্তু একটা গ্যাং। দেখবেন আপনাদের নিয়ে নানান রকম আজে বাজে কথা বলছে, বাজে ইঙ্গিত দিচ্ছে। আসলে ওরা চাইছেই আপনাকে উত্তেজিত করে একটাঝামেলায় বাঁধাতে। আপনি মাথা গরম করে ঝামেলায় জড়ালেন। ওরা আপনাকে অপমান করেছে বলে আপনি পাল্টা কিছু বললেন বা করলেন।এতেই তারা পেয়ে গেলো সুযোগ। ওরা তখন বাইরে থেকে নেতা গোছের কাউকে ধরে আনবে।{সেটা কোন বদ পুলিশও হতে পারে} যিনি এসেই আপনাকে আপনার বান্ধবীর সামনেই নানান রকমভাবে জেরা করবে। তারপর বিচারে আপনাকেই দোষী বানিয়ে দেবে। অত:পর মিটমাট করার নাম করে আপনার কাছ থেকে জরিমানা বাবদ টাকা পয়সা কিংবা দামী ঘড়ি, ফোন অথবা ল্যাপটপটা রেখে দেবে। তাই এসব জায়গায় কথা বাড়ানো মানেই ঝামেলা ডেকে আনা। আর নির্জন জায়গা হলে এদের দেখা মাত্রই না শোনার ভান করে কেটে পড়ুন।
৭// ট্রেনে,বাসে,বা লঞ্চে ভোররাতে ঢাকা এসে পৌঁছেছেন।সাবধান, সাহস দেখিয়ে রাস্তায় নামতে যাবেন না। বাসস্টপে বা ট্রেন স্টেশনেই বা সদরঘাটে অপেক্ষা করুন। সকালে যখন রাস্তায় যথেস্ট মানুষ থাকবে তখন বের হোন।
৮// রেল স্টেশনে বা সদরঘাটে নিজে নিজে বয়ে নিয়ে যেতে পারেন না এমন বোঝা নিয়ে এসেছেন তো মরেছেন। মাথায় করে পৌঁছেব দেয়ার নামে আপনার কাছ থেকে চাদাবাজী মতো ৪০০-৫০০ টাকা খসিয়ে ছাড়বে কুলিরা।এরা ডাকাতে চেয়েও ভয়ঙ্কর। তাই সাবধানে থাকুন, । দরদাম করে তারপর কুলি ঠিক করুন।
৯// নিউমার্কেট বা নীলক্ষেতের মত জায়গায় কেনা কাটা করতে গেলে খুবই সাবধান। কৌতুহলের বশে কোনো কিছুর দাম জিজ্ঞেস করলেও এখানে আপনাকে পাল্টা দাম বলার জন্য জোরাজুরি করবে। মনে রাখবেন এখানে মেজাজ দেখিয়ে লাভ নাই, এখানকার দোকানীরা সংঘবদ্ধ হয়ে কাজ করে।এবং ৯০% ই ছিনতাইকরীর বাপ !!!
১০// বাসে উঠলে প্যান্টের পিছনের পকেটে মোবাইল, মানিব্যাগ এসব কিছু রাখা নিরাপদ না। দেখবেন ভিড়ের মাঝে বাসে ওঠতেছেন যে কেউ টান মেরে নিয়ে যেতে পারে টের ও পাবেন না। তাই সামনের পকেটে এসব জিনিস রাখুন।
১১// বাণিজ্যমেলা, চিড়িয়াখানা, চন্দ্রিমা উদ্যান কিংবা শিশুপার্কে গিয়ে দাম খুব ভালো করে না জেনে কিচ্ছু খাবেন না।তবে না খাওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ। দেখা যাবে একটা সিঙ্গাড়া কিংবা আধা প্লেট বিরিয়ানি খাইয়ে ৪০০-৫০০টাকার বিল ধরিয়ে দেবে আপনাকে।
১২// রাতে ঘোরাঘুরি না করাই ভালো। ছিনত্যাইকারী ধরলে তো কথাই নেই। এমনকি ‌পুলিশ( কিছু বিপদগামী সক‌লেই নয়)ধরলে সবচেয়ে বেশি বিপদ । যতই নির্দোষ হন, পুলিশ যদি বুঝতে না চায়আর আপনাকে আটকে রাখার নিয়ত যদি থাকে, তাহলে আপনার কিছুই করার থাকবে না।
১৩// বাসস্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে আছেন, হঠাৎ একটা মাইক্রোবাস এসে থামলো আপনার সামনে। সেটা প্রাইভেট গাড়িও হতে পারে। আপনাকে চালক বলবে সে গ্যারেজে ফেরার পথে বাড়তি কিছু ‘ট্রিপ’ নিচ্ছে। খুব অল্প ভাড়ায় আপনাকে পৌছে দেবার কথা বলবে। আপনি উঠবেন না। মেয়ে হলেতো একেবারেই না।
১৪// রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছেন। হঠাৎ ভদ্রবেশি কেউ এসে(সে হতে পারে ছেলে বা মেয়ে বা বয়ষ্ক পুরুষ কিংবা মহিলা)আপনার ফোন চাইলো। বললো, উনার কোন একটা সমস্যার কথা, এক্ষুনি একটা ফোন দিতে হবে কাউকে। আপনি বিশ্বাস করে ফোনটা দিলেন, দেখবেন পরক্ষণেই হুট করে বাইকে উঠে হাওয়া।আপনি শুধু কুরবানীর গরুর মত চেয়ে থাকবেন!!১৫// সাথে সবসময় আইডি কার্ড রাখুন। বিপদে পড়লে খুব কাজে দেয়। হয়তো কোনো দূর্ঘটনা ঘটেছে, অজ্ঞান হয়ে পড়ে আছেন, তখন যারা উদ্ধার কাজে আসবে তারা আপনার পরিবার পরিজনকে জানাতে পারবে।
১৬// নতুন বিবাহিত হলে এবং স্ত্রীকে সাথে নিয়ে ঘুরতে এলে কাবিননামার ছবি মোবাইলে তুলে রাখুন।তবে ব্যাগে একটি ফটো কপিও রাখবেন ।করণ মোবাই চুরি বা ছিনতাই হতে কতক্ষণ? কাবিননা এই জন্য রাখবেন, যে কেউ চ্যালেঞ্জ করলে যেন দেখাতে পারেন।মনে রাখবেন পুলিশ ছিনতাইকরীর বন্ধু (!!) । (সব পুলিশ না) । কখন কোন কাজে লেগে যাবে বুঝতেওপারবেন না।১৭// মসজিদে ঢুকার সময় জুতা ছোট্ট ব্যাগে নিয়ে ঢুকুন । নামাজীর ব্যাগ,মোবাইল, ল্যাপটপ ইত্যাদি নেয়ার জন্য নামাজীর বেশে মসজিদে ছদ্ধবেশি চোর থাকে । মসজিদে ঢুকে লাইনের মাঝখানে নামাজ পড়ুন ।

১৮//ঢাকায় বহু কথিত পীরের মাজার আছে । এবং অর্ধের মাজারেই কোন মানুষের কবর নেই ।তবে সব মাজারগুলোই খারাপ লোক ও নেশাখোরদের আখঁড়া । কবর বা মাজারের ধারে কাছেও ঘেষবেন না ।

১৯//আর ঢাকায় আসার পূর্বে আপনার রাগ কে বাড়ীতে রেখে আসুন । ভুলেও কারো সাথে ঝগড়া লাগতে যাবেন না । ছিনতাই করার একটি পুরোনা কৌশল হলো যে কোন ছুতায় ছিনতাইকারীরা টার্গেটের সাথে ঝগড়া লেগে ছিনতাই করে পালিয়ে যায় ।

২০// ভিক্ষুকদের সহজে ভিক্ষা দিতে যাবেন না । ভিক্ষুক যদি অনেক থাকে তবে একেবারেই ভিক্ষা দিবেননা । এক জনকে দিলেই হলো । বাকীরা আপনার প্যান্ট খুলে নেবে । মনে রাখবেন ঢাকার ৯৯% ভিক্ষুকই প্রফেশনাল অথবা ভিকটিম। এই ভিক্ষার ১% ও ভিক্ষুকরা পায়না ।

সবচেয়ে বড় কথা, সবসময় সতর্ক থাকুন, চোখ কান খোলা রাখুন। ঢাকায় যেমন ভাল মানুষের অভাব নেই তদ্রুপ সারা দেশের সকল খারাপ লোকগুলোও এই ঢাকায় এসেই জড়ো হয়েছে । ঢাকায় টুপি দাড়ি ওয়ালা সত্যিকার পরহেজগার লোক যেমন আছে তদ্রুপ এই টুপি দাড়ি ওয়ালা #ধাড়িবাজ চিটার বাটপার,ঘুষখোর,সিন্ডিক্যাট ব্যবসায়ী, ভেজালারী হাজীের অভাব নেই । এই #শহরের_নাম_ঢাকা । এখানে মানুষ উপর দিয়ে ভাল দেখালেও তাদের আসল চরিত্র থাকে সব সময়ই ঢাকা।
মনে রাখবেন,আপনার নিরাপত্তা আপনারই হাতে এই বিষয়ে আপনারা সতর্ক থাকবেন।সর্বাবস্থায় আল্লাহর উপর ভরসা রাখুন । কেননা আল্লাহর উপর ভরসা রাখলে যে কোন বিপদে যে কাউকে আল্লাহ আপনার সাহায্যকারী হিসাবে পাঠাবেন । ইনশাল্লাহ নিশ্চিত থাকুন ।——-#মরুচারী_মুসাফির