
অনেকেই আপেক্ষিক’কে অপেক্ষা বা প্রতিক্ষার কাছাকাছি শব্দ মনে করে ভাবে যে, সুখের জন্য অপেক্ষা করতে হয় । কিন্ত অপেক্ষা ও আপেক্ষিক সম্পূর্ণ আলাদা শব্দ । আর্কিমিডিসের আপেক্ষিক গুরুত্বের থিওরীটা পড়লেই পরিস্কার হয়ে যাবে বিষয়টা । যাই হোক, বিজ্ঞান টেনে এনে ব্যপারটি জটিল করতে চাইনা । মূলতঃ আপেক্ষিক একটি বিশেষণ পদ । যার সরল অর্থ অপেক্ষাকৃত বা পরস্পরের উপর নির্ভরশীল ।
সুখ একটি শতভাগ আপেক্ষিক জিনিস । আর সুখী হতে হলে আপেক্ষিকতা অর্থাৎ পরস্পর নির্ভরশীল হওয়া লাগবে । তার মানে আপনি একা কখনোই সুখী হতে পারবেন না । সুখী হতে কমপক্ষে অন্য একজন লাগবেই । বনের আশ্রয়ে আছে বলেই পশু পাখিরা সুখী । আর পশু পাখিরা আছে বলেই বন এত সুন্দর -সজীব ও আকর্ষনীয় । বন ও পশু-পাখিরা এখানে আপেক্ষিক । অর্থাৎ নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষা ও বিকাশে এ কে অন্যের উপর নির্ভরশীল । যারা একা একা সুখী হতে চায় তারা বোকার রাজ্যে আছে।
পৃথিবীর প্রায় ৮০০ কোটি মানুষের মধ্যে আপনাকে প্রতিদিন কোন কিছু পাওয়ার আশা ছাড়া ২ থেকে ১০ বার স্মরণ করে মাত্র ৮ জন লোক ।
আপনার দুঃখের কথা শুনে সমব্যাথী হয় মাত্র ১০% লোক, খুশি হয় ২০% লোক, বিরক্ত হয় ৭০% লোক।
আপনার সুখের কথা শুনে খুশি হয় ঐ ১০% লোক, হিংসা করে ৪০% লোক। নিজেরা সুখী নয় বলে আফসোস করে ৫০% লোক ।
আপনি আমি সারা জীবন চেষ্টা করেও শীর্ষ বিন্দুতে পৌছতে পারবোনা ।
কখনোই আপনি পুরো সুখী হতে পারবেন না। দুনিয়া সুখের স্থান নয় । সুখ একটি আপেক্ষিক বস্তু । উদাহরণঃ একজন ক্যাব চালক দুই ঘন্টা অপেক্ষার পর একজন যাত্রী পেলেন । সে নিউইয়র্ক থেকে ফিলাডেফিয়া যাবে ও আসবে(রাউন্ড ট্রিপ) । এই যাত্রী পেয়ে সে ব্যাপক সুখি হয়ে যখন গাড়ী চালিয়ে ফিলাডেলফিয়া পৌছলো,ঠিক তখনই যাত্রী গাড়ীর দরজা খুলে দৌড়ে পালিয়ে গেল । পয়সাতো দিলোইনা তার উপর ক্যাব চালকের লেটেষ্ট আইফোনটিও নিয়ে গেল ।
এই হলো দুনিয়াতে সুখের স্থায়িত্ব!!!
আপনার প্রিয় ক্রিকেট টিম অর্ধদিন খুব ভাল ফিল্ডিং করেছে বিপক্ষ দলের বিরুদ্ধে। ফলে বিপক্ষ দল মাত্র ১১০ রান করতে পেরেছে । অপনি খুব সুখী এই মুহূর্তে ।ডাবল KFC খেয়ে আবার খেলা দেখতে বসলেেন। কারণ আপনি নিশ্চিত, আপনার টিম এই ১১০ রান অতিক্রম করবে মাত্র ২০ ওভারে । কিন্তু মাত্র ১০ ওভারে ৭০ রান করে আপনার টিম অল আউট!! গত ছয় ঘন্টার সুখের মাশুল দিবেন আগামী ছয় মাস ধরে খেলোয়ারদের মুন্ডুপাত করে ।
এই হলো দুনিয়াতে সুখের স্থায়িত্ব!!!
পরিশেষে, ছোট বেলায় পড়া #কবি_কায়কোবাদে‘র “সুখ” নামক কবিতাটি উল্লেখ করেই আমার লেখার ইতি টানতে চাই ।
“সুখ সুখ” বলে তুমি, কেন কর হা-হুতাশ,
সুখ ত পাবে না কোথা, বৃথা সে সুখের আশ!
পথিক মরুভূ মাঝে খুঁজিয়া বেড়ায় জল,
জল ত মিলে না সেথা, মরীচিকা করে ছল!
তেমতি এ বিশ্ব মাঝে, সুখ ত পাবে না তুমি,
মরীচিকা প্রায় সুখ, – এ বিশ্ব যে মরুভূমি!
ধন রত্ন সুখৈশ্বর্য কিছুতেই সুখ নাই,
সুখ পর-উপকারে, তারি মাঝে খোঁজ ভাই!
‘আমিত্ব’কে বলি দিয়া স্বার্থ ত্যাগ কর যদি,
পরের হিতের জন্য ভাব যদি নিরবধি!
নিজ সুখ ভুলে গিয়ে ভাবিলে পরের কথা,
মুছালে পরের অশ্রু – ঘুচালে পরের ব্যথা!
আপনাকে বিলাইয়া দীনদুঃখীদের মাঝে,
বিদূরিলে পর দূঃখ সকালে বিকালে সাঁঝে!
তবেই পাইবে সুখ আত্মার ভিতরে তুমি,
যা রুপিবে – তাই পাবে, সংসার যে কর্মভূমি!
———#মরুচারী_মুসাফির











