#সুখ একটি #আপেক্ষিক জিনিস ।

অনেকেই আপেক্ষিক’কে অপেক্ষা বা প্রতিক্ষার কাছাকাছি শব্দ মনে করে ভাবে যে, সুখের জন্য অপেক্ষা করতে হয় । কিন্ত অপেক্ষা ও আপেক্ষিক সম্পূর্ণ আলাদা শব্দ । আর্কিমিডিসের আপেক্ষিক গুরুত্বের থিওরীটা পড়লেই পরিস্কার হয়ে যাবে বিষয়টা । যাই হোক, বিজ্ঞান টেনে এনে ব্যপারটি জটিল করতে চাইনা । মূলতঃ আপেক্ষিক একটি বিশেষণ পদ । যার সরল অর্থ অপেক্ষাকৃত বা পরস্পরের উপর নির্ভরশীল ।
সুখ একটি শতভাগ আপেক্ষিক জিনিস । আর সুখী হতে হলে আপেক্ষিকতা অর্থাৎ পরস্পর নির্ভরশীল হওয়া লাগবে । তার মানে আপনি একা কখনোই সুখী হতে পারবেন না । সুখী হতে কমপক্ষে অন্য একজন লাগবেই । বনের আশ্রয়ে আছে বলেই পশু পাখিরা সুখী । আর পশু পাখিরা আছে বলেই বন এত সুন্দর -সজীব ও আকর্ষনীয় । বন ও পশু-পাখিরা এখানে আপেক্ষিক । অর্থাৎ নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষা ও বিকাশে এ কে অন্যের উপর নির্ভরশীল । যারা একা একা সুখী হতে চায় তারা বোকার রাজ্যে আছে।
পৃথিবীর প্রায় ৮০০ কোটি মানুষের মধ্যে আপনাকে প্রতিদিন কোন কিছু পাওয়ার আশা ছাড়া ২ থেকে ১০ বার স্মরণ করে মাত্র ৮ জন লোক ।
আপনার দুঃখের কথা শুনে সমব্যাথী হয় মাত্র ১০% লোক, খুশি হয় ২০% লোক, বিরক্ত হয় ৭০% লোক।
আপনার সুখের কথা শুনে খুশি হয় ঐ ১০% লোক, হিংসা করে ৪০% লোক। নিজেরা সুখী নয় বলে আফসোস করে ৫০% লোক ।
আপনি আমি সারা জীবন চেষ্টা করেও শীর্ষ বিন্দুতে পৌছতে পারবোনা ।
কখনোই আপনি পুরো সুখী হতে পারবেন না। দুনিয়া সুখের স্থান নয় । সুখ একটি আপেক্ষিক বস্তু । উদাহরণঃ একজন ক্যাব চালক দুই ঘন্টা অপেক্ষার পর একজন যাত্রী পেলেন । সে নিউইয়র্ক থেকে ফিলাডেফিয়া যাবে ও আসবে(রাউন্ড ট্রিপ) । এই যাত্রী পেয়ে সে ব্যাপক সুখি হয়ে যখন গাড়ী চালিয়ে ফিলাডেলফিয়া পৌছলো,ঠিক তখনই যাত্রী গাড়ীর দরজা খুলে দৌড়ে পালিয়ে গেল । পয়সাতো দিলোইনা তার উপর ক্যাব চালকের লেটেষ্ট আইফোনটিও নিয়ে গেল ।
এই হলো দুনিয়াতে সুখের স্থায়িত্ব!!!
আপনার প্রিয় ক্রিকেট টিম অর্ধদিন খুব ভাল ফিল্ডিং করেছে বিপক্ষ দলের বিরুদ্ধে। ফলে বিপক্ষ দল মাত্র ১১০ রান করতে পেরেছে । অপনি খুব সুখী এই মুহূর্তে ।ডাবল KFC খেয়ে আবার খেলা দেখতে বসলেেন। কারণ আপনি নিশ্চিত, আপনার টিম এই ১১০ রান অতিক্রম করবে মাত্র ২০ ওভারে । কিন্তু মাত্র ১০ ওভারে ৭০ রান করে আপনার টিম অল আউট!! গত ছয় ঘন্টার সুখের মাশুল দিবেন আগামী ছয় মাস ধরে খেলোয়ারদের মুন্ডুপাত করে ।
এই হলো দুনিয়াতে সুখের স্থায়িত্ব!!!
পরিশেষে, ছোট বেলায় পড়া #কবি_কায়কোবাদে‘র “সুখ” নামক কবিতাটি উল্লেখ করেই আমার লেখার ইতি টানতে চাই ।

“সুখ সুখ” বলে তুমি, কেন কর হা-হুতাশ,
সুখ ত পাবে না কোথা, বৃথা সে সুখের আশ!
পথিক মরুভূ মাঝে খুঁজিয়া বেড়ায় জল,
জল ত মিলে না সেথা, মরীচিকা করে ছল!
তেমতি এ বিশ্ব মাঝে, সুখ ত পাবে না তুমি,
মরীচিকা প্রায় সুখ, – এ বিশ্ব যে মরুভূমি!
ধন রত্ন সুখৈশ্বর্য কিছুতেই সুখ নাই,
সুখ পর-উপকারে, তারি মাঝে খোঁজ ভাই!
‘আমিত্ব’কে বলি দিয়া স্বার্থ ত্যাগ কর যদি,
পরের হিতের জন্য ভাব যদি নিরবধি!
নিজ সুখ ভুলে গিয়ে ভাবিলে পরের কথা,
মুছালে পরের অশ্রু – ঘুচালে পরের ব্যথা!
আপনাকে বিলাইয়া দীনদুঃখীদের মাঝে,
বিদূরিলে পর দূঃখ সকালে বিকালে সাঁঝে!
তবেই পাইবে সুখ আত্মার ভিতরে তুমি,
যা রুপিবে – তাই পাবে, সংসার যে কর্মভূমি!

———#মরুচারী_মুসাফির

‘১০ বছরে জাতিসংঘ কর্মীদের ধর্ষণের শিকার ৬০ হাজার’


বিগত এক দশকে জাতিসংঘ কর্মীদের দ্বারা ৬০ হাজারেরও বেশি নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে দাবি করেছেন জাতিসংঘের কর্মকর্তা অ্যান্ড্রু ম্যাসেলিওড। গত বছর এ বিষয়ক একটি প্রতিবেদন ব্রিটিশ আন্তর্জাতিক ‍উন্নয়ন বিষয়কমন্ত্রী প্রিতি পাটেলের হাতে তুলে দিয়েছিলেন তিনি।

সেই প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বের সবচেয়ে বড় এই সংস্থায় প্রায় ৩ হাজার ৩০০ শিশু নিপীড়কও কর্মরত আছেন। তারা বিশ্বজুড়ে ঝুঁকিতে থাকা নারী ও শিশুদের ধর্ষণ করতেই দাতা সংস্থাগুলোতে চাকরি নেওয়ার চেষ্টা করেন। প্রায় ২০ বছর ধরে এমন তথ্য গোপন করে রাখা হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত তার সবার সামনে উন্মোচিত হলো।

এর আগেও ত্রাণকর্মীদের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছিল। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য সানকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অধ্যাপক ম্যাসেলিওড বলেন, জাতিসংঘের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগের মাত্রা ক্যাথলিক গির্জাগুলোর বিশালত্বের মতোই। এই শিক্ষাবিদ বলেন, ‘সারা বিশ্বে হাজার হাজার ত্রাণকর্মী কাজ করছেন যারা আদতে শিশু নিপীড়ক। আপনি যদি ইউনিসেফের টি-শার্ট পরা থাকেন, তবে কেউ আপনাকে জিজ্ঞাসা করবে না আপনার উদ্দেশ্য কি? ম্যাসেলিওড বলেন, ‘তখন আপনি যা খুশি করতে পারবেন। আর এ বিষয়টি সারা পৃথিবীতেই ঘটছে। এটা আসলে ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা। অনেক আগেই এটা বন্ধ করা উচিত ছিল।

জাতিসংঘের ত্রাণ বিভাগের কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন ম্যাসেলিওড। বলকান দেশগুলা, রুয়ান্ডা এবং পাকিস্তানে ছিলেন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। জাতিসংঘের জরুরি সমন্বয় কেন্দ্রের প্রধান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। বর্তমানে তিনি ত্রাণকর্মীদের ওপর কড়াকড়ি আরোপের জন্য প্রচারণা চালাচ্ছেন এবং তাদের মধ্যে নিপীড়কদের বিচারের আওতায় আনার চেষ্টা করছেন। তিনি চান, এই লড়াইয়ে যেন যুক্তরাজ্য নেতৃত্ব দেয়।

গত বছর জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্থনিও গুতেরেসের নিয়োগ দেওয়া তালিকার মধ্যে ৬০ হাজার শান্তিকর্মীর বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ এনেছেন ম্যাসেলিওড। আর বেসামরিক কর্মীরা ২০১৬ সালে ৩১১ জনকে নিপীড়ন করছেন। জাতিসংঘও স্বীকার করেছে তাদের প্রকাশিত তালিকার তুলনায় প্রকৃত সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ। যুদ্ধ এলাকার বাইরের ঘটনার প্রকৃত সংখ্যা তাদের কাছে নেই। অধ্যাপক ম্যাসেলিওডও বলেন, জাতিসংঘ কর্মীদের দ্বারা সংঘটিত ধর্ষণের প্রতি ১০টি ঘটনার মাত্র একটিই রেকর্ড করা হয়।

ম্যাসেলিওডের সরবরাহকৃত প্রমাণের ভিত্তিতে সাবেক মন্ত্রী প্রিতি পাটেল ডিএফআইডি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, তারা তথ্য গোপন করতে চেয়েছিল। তারা পাটেলকে বলেছিলেন যেন যৌন নিপীড়ন নিয়ে এমন বক্তব্য দেওয়া হয়, যেখানে মনে হবে শুধু জাতিসংঘের সেনারাই এর সঙ্গে জড়িত।

তিনি বলেন, এটা খুবই রূঢ় সত্য যে যুক্তরাজ্যের জনগণের ট্যাক্সের টাকা দিয়েই এই শিশু ধর্ষণের মতো অপরাধে অর্থায়ন করা হচ্ছে। তিনি বলেন, আমি জানি জাতিসংঘের উচ্চ পর্যায়ে এটা নিয়ে অনেক আলোচনা চলেছে। কিন্তু এটা নিয়ে অবশ্যই কিছু করতে হবে। এখনও কার্যকর কিছুই হয়নি। এই অধ্যাপক বলেন, আমরা এমন এক সমস্যা নিয়ে কথা বলছি, যার বিশালতা প্রায় ক্যাথলিক গির্জার সমান।

সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসনের সংসদীয় সহযোগী কনর বার্নস পূর্ব প্রকাশিত অক্সফামের যৌন কেলেঙ্কারির কথা তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, যা দেখা যাচ্ছে তা আসলে বরফ খণ্ডের ওপরের অংশ। আসলেই কী হচ্ছে তা তদন্ত করা দরকার। তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি একটি কৌশলগত ও সাংগঠনিকভাবে গোপন করার প্রক্রিয়া অনেক দিন ধরেই চলে আসছিলো।

পেনি মর্ডান্ট জাতিসংঘসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থায় এই যৌন নিপীড়ন বন্ধের অঙ্গীকার করেছেন। গত বছর সেপ্টেম্বরে থেরেসা মে বলেছিলেন, বিশ্বাস অর্জন করতে না পারলে তারা জাতিসংঘে অর্থায়ন বন্ধ করে দেবে। তবে পাটেলের আহ্বানে সাড়া দিয়ে এখন পর্যন্ত কোনও তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেনি তারা। ডিএফআইডি জানায়, এখনও কোনও তদন্ত শুরু হয়নি।

সূত্র: দ্য সান

আমেরিকার সাবেক রাষ্ট্রপতি আব্রাহাম লিংকন:-


প্রেসিডেন্ট হয়ে প্রথম যেদিন পার্লামেন্টে ভাষণ দিচ্ছিলেন তখন এক ভদ্রলোক দাঁড়িয়ে বললেন, লিংকন সাহেব, ভুলে যাবেন না, আপনার বাবা আমাদের পরিবারের জন্য জুতা তৈরি করে দিতেন। আর একজন মুচির ছেলেকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে অনেকেই মেনে নিতে পারেননি তখন।

একথা শোনার পরে সবাই চুপ হয়ে গেলেন কিন্তু লিংকন মোটেই বিচলিত হলেন না।
লিংকন লোকটির চোখে চোখ রেখে বললেন, আমি জানি স্যার, আমার বাবা আপনার কেন এখানে অনেকেই আছেন যাদের পরিবারের জন্য জুতা তৈরি করতেন।
এ জন্য আমি গর্বিত, বাবা ছিলেন জুতা তৈরির জন্য জিনিয়াস। সে কাজকে কখনো ছোট করে দেখতেন না,
বাবা ছিলেন জুতা তৈরির নিপুন কারিগর,আজ পর্যন্তও তার কোন কাজের সমালোচনা হয়নি, কারন তিনি কাজ করতেন শুধু গ্রহিতার সন্তুষ্টির জন্য নয়, নিজের সন্তুষ্টির জন্য।

আপনার যদি কোন অভিযোগ থাকে তাহলে বলুন আমি আপনাকে এক জোড়া জুতা তৈরি করে দেব। আমিও ভাল জুতা তৈরি করতে পারি।

একথা শোনার পর লোকটি লজ্জায় মাথা নিচু করে রইলেন, তখন লিংকন বললেন, কোন কাজকেই ছোট ভাববেন না।
কাজকে সম্মান করুন তা না হলে সারা জীবন অন্যের দয়ায় বাঁচতে হবে। একজন রুইমাছ দিয়ে খায়, তা দেখে হিংসা না করে পারলে আপনি ডাল দিয়ে ভাত খান।
তবুও ভাল কাজের প্রসংশা করুন আর মন্দ কাজ বর্জন করুন।

আমাদের সমাজে এমন অহংকারী মানুষের অভাব নেই।

হারিয়ে যাচ্ছে #গাজীপুরের ঐতিহ্য #মাটির_ঘর!!!


গাজীপুর সদর,কালীগঞ্জ,কালিয়াকৈর,শ্রীপুর,কাপাসিয়া উপজেলা ও টঙ্গী এলাকা সহ জেলার প্রতিটি উপজেলায় ব্যাপক হারে মাটির তৈরি ঘর ছিল।
এখন মাটির ঘর তেমন একটা চোখে পড়ে না।গাজীপুর সদর ও টঙ্গী এখন মেগাসিটি । অপরদিকে কালীগঞ্জ উপজেলার অর্ধেক ও পুবাইল এলাকা ঢাকা শহরের উপ-শহর ।
জেলার বিভিন্ন এলাকার লোকজনের সাথে কথা বলে জানা গেল যে, আধুনিকতার ছোঁয়ায় এখন মানুষের জীবনযাত্রার মান বেড়েছে।জেলার প্রায় সকল গ্রামে পৌঁছে গেছে বিদ্যুৎ।রাজধানীর নিকটে হওয়াতে গ্রামীণ অর্থনীতির গতি সচল হওয়ায় মাটির ঘরের পরিবর্তে তৈরি হচ্ছে পাকা ঘর। দুই এক বছর পর পর মাটির ঘর সংস্কারের ঝামেলা ও ব্যয়বহুল দিক পর্যবেক্ষণ করে মাটির ঘরের পরিবর্তে দালান-কোঠা বানাতে উৎসাহী হয়ে উঠেছেন এই অঞ্চলের মানুষ।তাছাড়া বর্তমানে একটি মাটি ঘর ভালভাবে বানাতে গেলে সমপর্যায়ের পাকা ঘরের দেড়গুণ পয়সা খরচ হয় ।তাই এখন মাটির ঘর তেমন একটা চোখে পড়ে না।
তবে এখনো গ্রামে অনেকেই বসবাসের জন্য মাটির ঘরই পছন্দ করেন। কারণ মাটির ঘর মজবুত এবং শীত ও গরমের প্রকোপ থেকে রক্ষাকারী ।
শুধু মানুষের বসত বাড়ী নয়, গাজীপুরের অনেক সরকারী স্থাপনাও মাটির তৈরী । এলাকা ঘুরে দেখা গেছে কালের সাক্ষী হিসাবে কালীগঞ্জ উপজেলার ব্রাহ্মনাগাঁও গ্রামে সরকারী প্রধান পোষ্ট অফিসটি এখনো মাটির ঘরেই বহাল তবিয়তে আছে ।
মাটির ঘরের প্রধান বৈশিষ্ঠ্য হলো , হাজার হাজার বছরেও মাটির ঘর পুরোনো হয়না । পক্ষান্তরে পাকা ঘর ৭০/৮০ বছরেই শেষ ।
মাটির ঘরের প্রধান শত্রু হলো বন্য আর ইদুর ।
শীত এবং গরম সব ঋতুর জন্যই আরামদায়ক হওয়ায় গ্রামের দরিদ্র মানুষের পাশাপাশি বিত্তবানরাও তৈরি করতেন মাটির ঘর তৈরী করতো ।
বিত্তবানদের বহু মাটির দোতলা ঘর এখনো গাজীপুরের বিভিন্ন স্থানে নজরে পড়ে ।বিশেষ করে কালীগঞ্জের উত্তর এলাকা ও কাপাসিয়ার দক্ষিণ এঁটেল ও ছোট পাথরযুক্ত লাল মাটির এলাকায় দু’তলা মাটির ঘর এখনো ১৫/২০ গ্রামে দেখা যায়।মোক্তারপুর,বড়গাঁও,ধনপুর,বডহরা,চাদপুর,,ঘাটকড়ি ,পাবুর রাওনাইট ইত্যাদি পাহাড়ী টিলা এলাকায় বহু মাটির ঘর এখনো বিদ্যমান ।এসব এলাকায় গ্রামের ধনী-গরিব নির্বিশেষে বেশিরভাগ মানুষের ঘরই ছিল মাটির তৈরী। তবে ইদানিং বহু লোক প্রবাসে থাকার ফলে নতুন করে এসব এলাকায় মাটির ঘর তৈরির ঝোঁক কমেছে। মাটির ঘরের ব্যয়বহুলতা পর্যবেক্ষণ করে স্থানীয় বাসিন্দারা মাটির ঘরের পরিবর্তে দালান-কোঠা বানাচ্ছে। তবে অনেক পরিবার এখনো মাটির ঘরে বসবাস করেন।

মূলতঃ এঁটেল মাটি দিয়ে মাটির ঘর তৈরি করা হয়। দুই আড়াই ফিট চওড়া দেয়াল এবং উঁচু দেয়ালের উপর শন/বেন্না/ টিন দিয়ে চৌচালা বা দোচালা, একতলা-দেড় তলা ও দোতলা ঘর তৈরি করা হয়।{উল্লেখ্য যে,কালীগঞ্জের ফুলদী গ্রামে আমার দাদা শশুরের বানানো ৫ কক্ষ বিশিষ্ঠ্য দোতলা মাটির ঘরটি এখনো বহাত তবিয়তে আছে। আমার শিক্ষক শশুর পুরো জীবনটাই এ ঘরে কাটিয়ে পরপাড়ে চলে গেছেন }
মোক্তারপুর ইউনিয়নের বড়গাঁও গ্রামের এক বৃদ্ধ বলেন, এক সময় গ্রামের বিত্তবানদেরও মাটির ঘরের দিকে ঝোঁক ছিল কিন্তু আধুনিকতার ছোঁয়ায় এখন গ্রামে গ্রামে মাটির ঘরের সংখ্যা আশঙ্কাজনকহারে কমে গেছে। অবস্থাসম্পন্নরা এখন মাটির ঘর ভেঙে ইট-সিমেন্টের দালান কোঠা তৈরি করছে। এবং গ্রামের একতৃতীয়াংশ লোক গাজীপুর বা ঢাকা শহরে স্থায়ী ভাবে চলে গেছে । শুধু ঈদে বাড়ীতে আসে ।
গ্রাম গুলোর মাটির ঘরের সংখ্যা কমে যাওয়ার কারণ হিসেবে স্থানীয়রা বলছেন যে, ৩/৪ বছর পর পর মাটির ঘরের সংস্কার এর ব্যয়ভার ও স্থায়ীত্বের বিষয়টি মানুষের কাছে দূর্ভাবনার কারণ হয়ে ওঠে।তাছাড়াও ইদুঁরের উপদ্রব একটি মূখ্য কারণ । এর ফলে গ্রামীণ পরিবেশে মাটির ঘর এখন অনেকটাই বিলুপ্তির পথে।

মাটির ঘরে যদি ছনের ছাউনি ব্যবহার করা হয় তবে আরাম বহুগুণ বেড়ে যায়। গরমের সময় ঠান্ডা এবং ঠান্ডার সময় নাতিশীতোষ্ণ থাকায় মাটির ঘর বসবাসের জন্য অত্যন্ত আরামদায়ক।অনেকের ভাষ্যমতে, গ্রামে পাকা ঘর করায় গরম থেকে রক্ষা পেতে বৈদ্যুতিক পাখা দরকার হয়।তাছাড়া গরমের দিনে যে পাকা ঘরে দিনের বলায় রোদ পড়ে সে ঘরে রাতে ফ্যান চালিয়েও থাকা যায়না । কিন্তু মাটির ঘরে পাখা না হলেও চলে বিশেষ করে লোড শেডিং এর জন্য খুবই উপযোগী


———#মরুচারী_মুসাফির

#সাভার_জাতীয়_স্মতি_সৌধ’র স্থাপত্য ও তাৎপর্যঃ


স্মৃতি রক্ষার জন্য ভাস্কার্য বা মূর্তি বানানো কবিরা গুনাহ । তাতে মৃত ব্যক্তির কল্যান তো হয় না বরং কবরে আযাব হয় । তবে সাভার স্মৃতি সৌধের মত স্থাপত্য বানানো দোষের কিছু নয় ।কেননা এই সৌধের ৭টি স্তম্ভ দিয়ে আন্দোলনের ৭টি স্তরকে বুঝানো হয়েছে । আসুন জেনে নেয়া যাক স্মৃতি সৌধের স্থাপত্য ও তাৎপর্যঃ——-
১৯৭১’র ২৬শে মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হয়। একই বছর ১৬ই ডিসেম্বর বিজয়ের মাধ্যমে এর পরিসমাপ্তি ঘটে। এই যুদ্ধে প্রায় ত্রিশ লক্ষ মানুষের প্রাণহানি হয়। এই সৃতিসৌধ বাংলাদেশের জনসাধারণের বীরত্বপূর্ণ লড়াইয়ের স্মরণে নিবেদিত এবং মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি জাতির শ্রদ্ধার উজ্জ্বল নিদর্শন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। সৃতিস্তম্ভ এবং এর প্রাঙ্গণের আয়তন ৩৪ হেক্টর (৮৪ একর)। এ ছাড়াও রয়েছে একে পরিবেষ্টনকারী আরও ১০ হেক্টর (২৪ একর) এলাকা নিয়ে বৃক্ষরাজি পরিপূর্ণ একটি সবুজ বলয়। এই সৃতিসৌধ সকল দেশ প্রেমিক নাগরিক এবং মুক্তিযোদ্ধাদের বিজয় ও সাফল্যের যুগলবন্দি রচনা করেছে। সাতটি ত্রিভুজ আকৃতি মিনারের শিখর দেশের মাধ্যমে বাংলাদেশের মুক্তি সংগ্রামের সাতটি পর্যায়ের প্রতিটি এক ভাবব্যঞ্জনাতে প্রবাহিত হচ্ছে। এই সাতটি পর্যায়ের প্রতিটি সূচিত হয় বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে। পরবর্তীতে চুয়ান্ন, ছাপান্ন, বাষট্টি, ছেষট্টি ও ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের মধ্যে দিয়ে অগ্রসর হয়ে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা সংগ্রামের চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হয়। মিনারটি ৪৫ মিটার (১৫০.০০ ফুট)উঁচু এবং জাতীয় শহীদ সৃতিসৌধ প্রাঙ্গণের গুরুত্বপূর্ণ একটি বিন্দুতে অবস্থিত। মিনার ঘিরে আছে কৃত্রিম হ্রদ এবং বাগান। সৃতিসৌধ চত্বরে আছে মাতৃভূমির জন্য আত্মোৎসর্গকারী অজ্ঞাতনামা শহীদের দশটি গণ সমাধি। সৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে আরও রয়েছে উন্মুক্ত মঞ্চ, অভ্যর্থনা কক্ষ, মসজিদ, হেলিপ্যাড, ক্যাফেটেরিয়া।

স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণের সর্বমোট আয়তন ৮৪ একর। স্মৃতিস্তম্ভ পরিবেষ্টন করে রয়েছে ২৪ একর এলাকাব্যাপী বৃক্ষরাজিশোভিত একটি সবুজ বলয়। স্মৃতিসৌধটির উচ্চতা ১৫০ ফুট। সৌধটি সাত জোড়া ত্রিভুজাকৃতির দেয়াল নিয়ে গঠিত। দেয়ালগুলো ছোট থেকে ক্রমশঃ বড়ক্রমে সাজানো হয়েছে। এই সাত জোড়া দেয়াল বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের সাতটি ধারাবাহিক পর্যায়কে নির্দেশ করে। ১৯৫২-র ভাষা আন্দোলন, ১৯৫৪ যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ১৯৫৬ শাসনতন্ত্র আন্দোলন, ১৯৬২ শিক্ষা আন্দোলন, ১৯৬৬ ছয় দফা আন্দোলন, ১৯৬৯ এর গণ-অভ্যূত্থান, ১৯৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ – এই সাতটি ঘটনাকে স্বাধীনতা আন্দোলনের পরিক্রমা হিসাবে বিবেচনা করে সৌধটি নির্মিত হয়েছে।

উল্লেখ্য যে, ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান ঢাকা শহর থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাশে নবীনগরে এই স্মৃতিসৌধের শিলান্যাস করেন। ১৯৭৮ খ্রিষ্টাব্দে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্মৃতিসৌধটি নির্মাণের উদ্যাগ গ্রহণ করেন এবং নক্‌শা আহবান করা হয়। ১৯৭৮-এর জুন মাসে প্রাপ্ত ৫৭টি নকশার মধ্যে সৈয়দ মাইনুল হোসেন প্রণীত নকশাটি গৃহীত হয়। ১৯৭৯ খ্রিষ্টাব্দে মূল স্মৃতিসৌধের নির্মাণ কাজ শুরু হয় এবং ১৯৮২ খ্রিষ্টাব্দে বিজয় দিবসের অল্প পূর্বে সমাপ্ত হয়।
(কিয়দাংশ উইকিপিডিয়া থেকে)
————#মরুচারী_মুসাফির

#দুধরাজ_সাপ কি সত্যই দুধ খায়?


সাপ যে কখনো দুধ খায়না অথবা সাপের খাদ্য যে দুধ বা কোন তরল নয় তা নিয়ে গতকাল একটু আলোকপাত করেছিলাম । কিন্তু কমেন্টস এ দেখলাম বহু লোক না কি সাপকে দুধ খেতে দেখেছে । তারপর অনেক ক্ষণ চিন্তা করলাম এই বিজ্ঞানের যুগেও মানুষ প্রমাণ ছাড়া এত অবলীলায় মিথ্যা বলে কি ভাবে? কেউ মিথ্যার কাছাকাছি গিয়ে বলেছেন সাপকে তিনি গোয়ালঘরে দেখেছেন । সাপ হয়তো গোয়াল ঘরে গিয়েছে কিছু খেতে । বাঘ সিংহকে যেমন ঘাস খেতে দিলে কখনোই খাবেনা ।গরুকে যেমন মাংস দিলে মরে গলেও খাবেনা । তদ্রুপ সাপকে দুধ দিলে সে কখনোই খাবেনা । আপনারা দয়াকরে ১০০ বছর আগের রুপ কথার গল্প বাদ দিন । আজ এখনি একটি বিষহীন সাপ ধরে আনুন বা সাপুড়ের নিকট থেকে কিনে এনে ঐ সাপকে দুধ খাইয়ে সেই বিডিও আমাদের দেখান । মানুষকে বিভ্রান্ত ও মিসগাইড করবেন না দয়াকরে । অনেক সময় গাভীর বাছুর হওয়ার পর ২/৩ মাস গাভীর বাট বা ওলানে দাঁতের কাটা দাগ দেখা যায় । এই দাঁতের দাগ বাছুরের নতুন দাঁতের কামড়ের দাগ । বাছুরের দাঁত উঠার সময় নতুন দাঁতগুলো থাকে চোখা ও ধাঁড়ালো । দুধ খাওয়ার সময় ঐ দাঁত লেগে কেটে যায় । আর মানুষ মনে করে সাপে দুধ খায় । এই বানোয়াট গল্প সাপুড়েদের বানানো । তারা তাবিজ বিক্রির জন্য এই গল্প বলে গ্রামের সরলমনা অশিক্ষিত মানুষকে প্রতারিত করে । অশিক্ষিতদের কথা কি বলবো?উচ্চ শিক্ষিত মানুষও এই কথা বিশ্বাস করে । আমি শিক্ষকতা করার সময় আমার এক এম এ পাশ কলিগ আমার সাথে চ্যালেঞ্জ করে বহুদূর গিয়ে হেরে গিয়েছিল । আমরা তাঁর গ্রামে এক সাপুড়েকে ধরলাম । সে বলছিল দুধরাজ সাপে না কি গরুর পায়ে প্যাঁচ দিয়ে দুধ খেয়ে চলে যায় । তাবিজ দিলে দুধ খেতে পারেনা । তাই সবাই তাবিজ কিনে নিচ্ছিলো । আমি সাপুড়েকে বল্লাম যে, চাচা আপনার হাতের সাপটি কি দুধ খায় । সাপুড়ে বল্ল আজ সকালে ও এক কেজি দুধ খাওয়ায়ে নিয়ে এসেছে । অথচ সাপটির ওজন ও এক কেজি হবেনা । আমি চ্যালেঞ্জ করলাম এবং বল্লাম যে, সাপ যে দুধ খায় তা দেখাতে হবে । নয়তো আপনাকে বেঁধে রাখবো । সাপুড়ে শেষ পর্যন্ত স্বীকার করলো যে সাপ কখনো দুধ খায়না । তার সাপকে সে ব্যাঙ খাওয়ায় । উল্লেখ্য যে আমি বিজ্ঞানের ছাত্র ছিলাম। প্রাণী বিজ্ঞান পড়ে জেনেছি কোন্ প্রাণীা কি খায় ।সত্য না জেনে ভুল তথ্য দেয়া একটি মহাপাপ । ——#মরুচারী_মুসাফির ।

সাপে কি সত্যিই দুধ খায় ??


আসুন জেনে নেই সাপ সম্পর্কিত আমাদের গ্রাম শহরে প্রচলিত
৮টি বানোয়াট কথা ।
“দুধ কলা কলা দিয়ে সাপ পোষা হয়”। এমন কথা প্রায়ই শোনা যায়। এটি একটি ভুল ও কথার কথা। আসল কথা হলো #সাপ দুধ খায় না। সাপ শীতল রক্তের প্রাণি, মাংসাশী এবং স্তন্যপায়ী নয়। ফলে সাপের পক্ষে দুধ হজম করা সম্ভব নয়। সাপ নিয়ে এমন অনেক ভুল ধারনা আছে। আসুন জেনে নেই সাপ নিয়ে প্রচলিত ৮টি বানোয়াট কথা।

১//সাপে দুধ খায়ঃ এটি মিথ্যা ধারণা। মনে রাখবেন, সাপ হলো শীতল রক্তের প্রাণী, মাংসভোজী এবং স্তন্যপায়ী নয়। তারা ডিম পাড়ে । ডিম পাড়ে এমন প্রাণি কখনোই দুধ খায়না । ফলে সাপের পক্ষে দুধ হজম করা অসম্ভব। দুধ সাপের পক্ষে অত্যন্ত ক্ষতিকর।
জোর করে কেউ সাপকে দুধ খাওয়ালে সাপ মারাও যেতে পারে। যে সব সাপকে দুধ খেতে দেখেন, তারা মূলতঃ সাপুড়েদের সাপ। হিন্দুদের নাগ পঞ্চমীর আগে কিছু সাপকে এক নাগাড়ে মাসখানেক পানি ও কোন প্রকার খাদ্য না-খাইয়ে রাখা হয়। তার পরে মুখের সামনে দুধ ধরা হয়। বাধ্য হয়েই অত্যন্ত খুদার্ত ও পীপাসার্ত সাপেরা সেই দুধ কিছুটা খেয়ে নেয়।
২// বীণ শুনে সাপে নাচেঃ একেবারে ভুল ও মিথ্যা কথা। জেনে রাখুন, সাপের কান নেই। এমন কি দৃষ্টিশক্তিও প্রখর নয়। যারা বীণ বাজান, তাঁরা সেটি সাপের মুখে সামনে দোলাতে থাকেন। সাপও চোখের সামনে দুলুনি দেখে মাথা দোলাতে থাকে এই ভেবে যে, কোনও শত্রু এল বলে।

৩// দাঁড়াশ সাপের লেজে বিষ রয়েছেঃ দাঁড়াশ নির্বিষ সাপ।কামড়ালে ও মানুষে োন ক্ষতি হয়না। লেজ তো দূর কথা, এর বিষদাঁতই নেই। মূলত ইঁদুর এবং ছোট পাখি ধরে খায়। এবং তার থেকেও বড় কথা, ছোটখাটো বিষাক্ত সাপ এরা খেয়ে নেয়।বেশির ভাগই তাই গাছে থাকে ।

৪// সাপ মানুষকে দৌড়ায় বা তাড়া করেঃ
মনে রাখবেন, সাপ মানুষের শত্রু নয়। বরং উল্টোটাই সত্যি। সাপের সামনে পড়ে গেলে যদি দৌড়ে পালাতে যান বা বেশি লাফালাফি করেন, তা হলে সাপ আত্মরক্ষার্থে তেড়ে আসতে পারে। চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকুন। দেখবেন, সাপ ভয়ে আপনাকে পাশ কাটিয়ে চলে যাচ্ছে। ভাল মানকে শয়তান পর্যন্ত ভয় পায় ।

৫// সাপ না কি তার শত্রুকে চিনে রাখেঃ
এটা অবশ্যই সম্ভব। কিন্তু তা হতে হবে কোনও সস্তার সিনেমা বা অতি খাস্তা বাংলা ভারতীয় সিরিয়াল। সাপের স্মৃতিশক্তি বা বুদ্ধি নেই। তারা শুধু এটুকু জানে, বাঁচতে গেলে খেতে হয়, খেতে গেলে হত্যা করতে হয়। নিজের শক্তি সম্পর্কে তার ধারণা রয়েছে। নিজের আকার সম্পর্কে সাপ ওয়াকিবহাল। আর রয়েছে যৌনতার স্বাভাবিক প্রবৃত্তি। যা অন্য প্রাণিদেরও আছে ।

৬// সাপ বুড়ো হলে গোঁফ-দাড়ি গজায়ঃ
সাপের গায়ে লোম আসবে কোত্থেকে? পাগল হলে মানুষ এমন কথা বলে । এর বেশি কিছু বলার প্রয়োজন নেই।

৭// সাপ বিষ ছুড়ে মারেঃ
এই বাংলাদেশে তো বটেই, সারা দুনিয়াতে এমন সাপ পাবেন না । তবে আফ্রিকা এবং দক্ষিণ ও উত্তর আমেরিকার কিছু অংশে এক জাের স্পিটিং কোবরা পাওয়া যায় যারা বিষ ছুড়ে শিকারকে ঘায়েল করে।অন্য কারণে নয় ।

৮// সাপে সাপে শঙ্খ লাগেঃ
শঙ্খ লাগা বস্তুটি কি? কেউ বলেন সাপের খেলা, কেউ বলেন বৃষ্টি নামবে, । ‘মায়া’ই বটে। যেটাকে সাপের শঙ্খ লাগা ভেবে কপালে হাত ঠেকান, সেটা আসলে সাপের যৌনসঙ্গম।
এমন আরো কিছু ভূয়া ধারণা হয়তো আপনাদের এলাকায় প্রলিত আছে । থাকলে কমেন্টস করুন ।
——#মরুচারী_মুসাফির ।

ছাগল পায়ের খরগোস ! ! ! !


সাপে দুধ খাওয়ার মতই একটি বানোয়াট কথা ! ! !
সারা দুনিয়ার #প্রাণী_বিজ্ঞানীরা হাজার হাজার বছর ধরে সাপকে দুধ খেতে দেখলোনা আর আমার দেশের কিছু লোক স্বপ্নে দেখে বলে যাচ্ছে সাপ না কি দুধ খায় ।আমার দেশের হুজুগে বাঙ্গালী এটাও বলে বেড়ায় যে, #খরগোস না কি দুই প্রকার । এক প্রকারের খরগোসের পা না কি #ছাগলের_মত এবং সেটি খাওয়া হালাল ।অন্য প্রকারের খরগোসের পা না কি বিড়ালের মত এবং সেটি খাওয়া হারাম । সমস্ত দুনিয়া খুঁজে ছাগলের মত পা বিশিষ্ট কোন খরগোস পেলনা তাবৎ দুনিয়ার প্রাণী বিজ্ঞানীরা । ছাগলের পা ওয়ালা খরগোসের গল্প যে কোন্ ছাগলে বানিয়েছে তা আজও অজানা । তবে কিছু মূর্খ আলেম কিন্তু আজও এই #ফতোয়া বলে বেড়াচ্ছে যে ছাগল পায়ের খরগোস হালাল ও বিড়াল পায়ের খরগো হারাম । আমি এমন কয়েকজন আলেমকে ধরেছিলাম । তারা শেষ পর্যন্ত স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছে যে তারা কখনোই ছাগল পায়ের খরগোস দেখেনি তবে হুজুরের কাছে না কি শুনেছে । এই হলো আমাদের অবস্থা । দলীল নেই, প্রমাণ নেই, অথচ সাক্ষী দিয়ে বেড়াচ্ছি ।
——#মরুচারী_মুসাফির ।

#সাপ নিয়ে যত #ভুল_ধারণা।

এই উদ্দীপনাটি পড়ার পর আপনার মনে সাপ নিয়ে যত কুসংস্কার আছে, আশা করি দূর হয়ে যাবে ইনআশাল্লাহ।সাপ সম্পর্কে প্রাচীনকাল থেকেই আমাদের দেশে প্রচলিত কিছু ভুল ধারণা রয়েছে। এ ধারণাগুলো এতটাই বাস্তবতার নিরিখে তুলে ধরা হয় যে, তা মানুষের মনে একেবারে গেঁথে গেছে। বিশেষ করে দেশীয় সিনেমা ও কিংবদন্তিগুলোতে। যেমন……….★ সাপ মানেই বিষধর!সাপ মানেই বিষধর নয়। পৃথিবীতে প্রায় ২৫০০ থেকে ৩০০০ প্রজাতির সাপ রয়েছে। তার মধ্যে মাত্র ৫০০ প্রজাতির সাপ বিষধর।আমাদের দেশে প্রায় ১০০ প্রজাতির সাপ থাকলেও বিষধর সাপ রয়েছে মাত্র ২০ প্রজাতির। বিষধর সাপ ও নির্বিষ সাপের মধ্যকার পার্থক্য সাধারণ মানুষ সাপের কামড়ের দুর্ঘটনা থেকে করতে পারে। বিষধর সাপের কামড় হলে দুটি দাঁতের দাগ কিছুটা দূরত্বে থাকবে। অন্যদিকে নির্বিষ সাপের কামড় হলে বেশ কয়েকটি দাঁতের কামড়ের দাগ থাকবে। বিষধর সাপের কামড়ে দুর্ঘটনা ৫০ ভাগেরও কম।★ সাপের মাথায় মণি আছে!সাপের মাথায় মণি আছে বলে গ্রামগঞ্জে, চলচ্চিত্রে যে গল্প প্রচলিত আছে তা ভিত্তিহীন। সাপের মাথায় কোনো মণি নেই বা মণি থাকার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তিও নেই। সাপ তার জীবদ্দশায় প্রথম দিকে ঘন ঘন এবং পরবর্তী সময়ে নির্দিষ্ট সময় পর পর খোলস বদলায়। এই খোলস সারা শরীর থেকে খুলে গেলেও মাথার দিকে কিছুটা আটকে থাকে এবং আস্তে আস্তে সেটা শুকিয়ে শক্ত হয়ে খাড়া অবস্থায় রূপ নেয়। এই খোলসে চাঁদনি রাতের আলো কিংবা যে কোনো আলো পড়লে চকচক করে ওঠে। এটা থেকেই সাপের মাথায় মণির ধারণার সৃষ্টি হয়েছে।★ সাপ দুধ খায়!সাপ কখনোই দুধ খায় না। সাপের মুখের গঠন দুধ খাওয়ার উপযোগী নয়। এটি একেবারেই মানুষের তৈরি ভুল ধারণা ও অপপ্রচার। সাপ নানা প্রকার পোকামাকড় ও ইঁদুর খেয়ে ফসল সুরক্ষায় ভূমিকা রাখে। কোনো কোনো সাপ শুধু সাপই খায়, যেমন- রাজগোখরা। সাপ গরুর বাটকে শুধু খাবার মনে করে টানে, এতে গরুর বাটে কিছু চির-চিরাক হয়, আর মানুষ এই ঘটনা উপলব্ধি করতে পারলে মনে করে সাপে গরুর দুধ পান করছে বুঝি। আসলে এটা মানুষের অজ্ঞতা।★ সাপ নিজের বিষ নিজে শোষণ করে!সাপ নিজের বিষ শোষণ করার কোনো প্রশ্নই আসে না। এ ধারণার জন্ম দিয়েছে সাপুড়েরা। আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোতে লোকজনের অজ্ঞানতার সুযোগে একচেটিয়া ব্যবসা গড়ে তুলেছে তারা। এদেরকে ওঝা বলা হয়। সাপে কাটা রোগীর জন্য মানুষ তাদের ডেকে আনে এবং এসব ওঝারা এমন ভাব দেখায়, যেন যে সাপে কামড় দিয়েছে সে সাপটিকে এনেই বিষ শোষণ করাবে। এজন্য আসার সময় অনেক দিনের ক্ষুধার্থ সাপ রোগীর বাড়ির কাছাকাছি কোনো ঝোপে ছেড়ে দিয়ে আসে। (সাপ মাসের পর মাস না খেয়ে বাঁচতে পারে, তবে দুর্বল হয়ে পড়ে) এরপর রোগীর বাড়িতে এসে কিছুক্ষণ বিড়বিড় করে মন্ত্র উচ্চারণ করে এবং বলে, সাপ বাড়ির কাছে এসে গেছে। এমন ভাব দেখায়, যেন খুঁজে বেড়াচ্ছে এবং একসময় ঝোপে হাত দিয়ে সাপ বের করে নিয়ে আসে। মানুষ সাপুড়ের এই বাহাদুরিতে মুগ্ধ হয়।★ সাপের পা যে দেখবে সে রাজা হবে!আসলে সাপের কোনো পা নেই। সুতরাং রাজা হওয়ারও কোনো সুযোগ নেই। এটি অপকথন ছাড়া আর কিছুই নয়। সাপের পা দেখার জন্য কিছু অবুঝ লোক কিংবা কোনো শিশু ঝোপঝাড়ে যেতে পারে। এতে সাপে কামড়ানোর আশংকা বেড়ে যেতে পারে।★ তন্ত্রমন্ত্র!ওঝার তন্ত্রমন্ত্র বলে যে কথন রয়েছে, তা ভিত্তিহীন। ওঝা সাপ ধরার জন্য যে ক্ষমতা দেখায় বা সাপের বিষ নামানোর জন্য যে ভাবভঙ্গি করে, তা তন্ত্রমন্ত্রভিত্তিক নয়। ওঝা সাপ ধরার ব্যাপারে যে বিশেষজ্ঞ, এতে কোনো সন্দেহ নেই। সে বিড়বিড় করে ঠিকই, তবে লোক দেখানো। আসলে এরা বংশপরম্পরায় সাপ ধরার কৌশল রপ্ত করে।★ বাঁশির সুরের তালে তালে সাপ দোলে, ও সাপ জিহ্বা বের করে শোনে!সাপ কানে শোনতে পায় না, ও জিহ্বা শোনার জন্যে উপযোগী নয় তাইবাঁশির কোনো সুরই সাপ শোনে না। সাপুড়েরা বাঁশি বাজানোর তালে তালে মাঝে মধ্যে মাটিতে আঘাত করায় কম্পনের ফলে সাপের অনুভূতি সজাগ থাকে। এবং যেধরণের বাঁশির আওয়াজ মোটা ও কম্পন বেশী, সেই সুরের কম্পিত আওয়াজে সাপের মস্তিষ্ক এ তড়িৎ চৌম্বকত্ব আঘাত করে ফলে সাপ কি করবে বুঝে উঠতে পারে না, বিধায় সাপ চুখের সামনে যা ঘুরতে দেখে তার সাথে সাথে সাপ এদিক-ওদিক ঘোরে। এছাড়া সাপকে অনেক কৌশলে দোলানোর ভঙ্গি দিয়ে সাপুড়ে এক আবহ তৈরি করে মানুষকে মুগ্ধ করে। যে সাপ নিয়ে তারা খেলা দেখায় তার সবই প্রায় বিষধর। এতে দর্শকের কাছে সাপুড়েরা বাঁশির বিষয়টিকে আরও বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে পারে। প্রকৃতপক্ষে এসব সাপের বিষদাঁত ভেঙে ফেলায় এরা বিষ প্রয়োগ ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে, তাই এটা সম্ভব হয়।★ সাপ ও বেজির যুদ্ধে বেজি পাতা বা জড়ীকৃত কোন গাছের সাহায্য সে বিষক্রিয়া নষ্ট করে!সাপ ও বেজির সম্পর্ক ভালো নয়। কারণ বেজি সাপ খায়, বিশেষ করে সাপের বাচ্চা।বেজি প্রধানত প্রচুর ইঁদুর ও পোকামাকড় খায়। সাপের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণেও এর জুড়ি নেই। সাপ যখন প্রথমে মাথা তুলে বেজিকে আক্রমণ করে, তখন বেজি ক্ষিপ্রতার সঙ্গে সাপকে আক্রমণ করে। সাপ যতবার কামড় দিয়ে বিষ ঢালে, তা বেশীরভাগ বেজির খাড়া লোমের ওপর গিয়ে পড়ে। এবং বেজি কৌশলে চট করে ঝোপে লুকিয়ে সামান্য বিশ্রাম নিয়ে আবার ফিরে আসে। ইতিমধ্যে সাপ মাথা নামায় এবং বেজি এসেই সাপের মাথা কামড়ে ধরে। বেজির ঝোপে ঢোকার কারণে মানুষ মনে করে সে এক প্রকার পাতা কামড়ের স্থানে ছুঁইয়ে আসে, যে পাতা সাপের বিষ থেকে বেজিকে বাঁচায়। আসলে এর কোনো সত্যতা নেই। আর মূল বিষয় হল সাধারণ মানুষ জানে না যে, সাপের বিষ বেজির শরীরের মধ্যে অ্যান্টিভেনম (ঔষধ) তৈরি হয় বিধায় সাপের বিষপক্রিয়া বেজির শরীরে অকার্যকর।কিন্তু অ্যান্টিভেনম কী তা বুঝতে হলে লক্ষ্য করুন……বিশ্বব্যাপী প্রতি বছর লক্ষাধিক মানুষ মারা যায় শুধু বিষাক্ত সাপের কামড়ে। সাপের বিষ শরীরে প্রবেশ করলে এর চিকিৎসার বিজ্ঞানসম্মত ঔষধ একটিই -অ্যান্টিভেনম। যা মূলত সাপের বিষ থেকেই তৈরি করা হয়। প্রথমে একটি পাত্রে বা টিউবে অভিজ্ঞদের দ্বারা সাপের বিষ সংগ্রহ করানো হয়। বিষ সংগ্রহ করাকে বলা হয় Milking তবে এটি মোটেও নিরাপদ কাজ নয় ! সাপের মুখের দুইপাশে চাপ দিয়ে সাপকে হাঁ করানো হয়। তারপর, টিউব নিয়ে বিষদাঁতের সাথে লাগানো হয়। দাঁতে চাপ পড়লে সাপের কাছে অটোমেটিক রেসপন্স চলে যায় ও দাঁত থেকে বিষ বের হয়ে টিউবে জমা হতে থাকে।পরবর্তীতে সাপের বিষকে লঘুকরণ করে সাপের বিষের তীব্রতা কমানো হয়। এরপর সেই দূর্বল বিষ হোস্ট অ্যানিমেলের শরীরে প্রবেশ করানো হয়। সাধারণত ঘোড়া, খরগোশ, বা ভেড়াকেই হোস্ট অ্যানিমেল করা হয় (যদিও বেজির রক্তে অ্যান্টিভেনম তৈরি হয় তবে তা বেজির শুধু তার নিজের জন্যেই কার্যকরি, তার থেকে অ্যান্টিভেনম ঔষধ তৈরি করা যাবে না)উক্ত বিষ তেমন তীব্র না হওয়ায় প্রানীটি মারা যায় না। কোন প্রাণীর শরীরে বিষ প্রবেশ করা হলে প্রাকৃতিকভাবেই সেই প্রাণীর শরীরের প্রতিরোধ ব্যবস্থা ( Immune System ) সক্রিয় হয়ে ওঠে।বিষকে মোকাবেলা করার জন্য শরীর প্রচুর পরিমানে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়। যেহেতু হোস্ট অ্যানিমেলের শরীরে প্রবেশ করানো বিষ খুব দূর্বল তাই অ্যান্টিবডিগুলো সহজেই জয়লাভ করে এবং হোস্ট প্রাণীটির রক্তে অব্যবহৃত অ্যান্টিবডিগুলো থেকে যায়। তাই তখন হোস্ট প্রাণীটির শরীর থেকে রক্ত সংগ্রহ করা হয় এবং সেই রক্তকে বিশ্লেষণ ও বিশুদ্ধ করে তা থেকে শেষ পর্যন্ত প্রয়োজনীয় অ্যান্টিবডিগুলো সংগ্রহ করা হয়। এই অ্যান্টিবডি দিয়েই তৈরি হয় সাপের বিষের প্রতিষেধক অ্যান্টিভেনম। সাপের বিষে আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে এই অ্যান্টিভেনম প্রবেশ করানো হয়।১৮৯০ সালের দিকে প্রথম অ্যান্টিভেনম আবিষ্কৃত হয়। বিখ্যাত বিজ্ঞানী লুই পাস্তুরের ছাত্র Albert Calmette এটি আবিষ্কার করেন। অ্যান্টিভেনম আবিষ্কারের সময় তিনি ইন্দোচীনে বসবাস করছিলেন। সেই সময় এক বন্যার কারণে বিষাক্ত কোবরা সাপ একটি গ্রামে আশ্রয় নেয় আর কমপক্ষে ৪০ জন গ্রামবাসী সাপের কামড়ে অসুস্থ হয়। এদের মাঝে কয়েকজন মৃত্যুবরণ করেন। সেই সময় ভ্যাক্সিনেশন প্রক্রিয়া আবিষ্কৃত হয়েছিল আর Albert Calmette সেই প্রযুক্তি থেকে অনুপ্রেরিত হয়ে সাপের বিষের প্রতিষেধক আবিষ্কার করার জন্য গবেষণা শুরু করেন।ডক্টরস উইদআউট বর্ডারস ’ নামের একটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠণের মতে আগামী বছরের মধ্যেই সাপের বিষের যে প্রতিষেধক রয়েছে তা শেষ হয়ে যাবে। এমনকি প্রস্তুতকারকেরা এর উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছেন এবং বর্তমান প্রতিষেধকগুলোরও মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে যাচ্ছে।তবে সম্প্রতি বাংলাদেশে Incepta Pharmaceuticals সাপের বিষের প্রতিষেধক হিসেবে Antivenom নামে ইঞ্জেকশন আবিষ্কার করেছে যা সত্যি প্রশংসনীয়।★ সাপ প্রতিশোধপরায়ণ!সাপ ইঁদুরকে কামড় দিয়ে তাকে খাওয়ার জন্য খুঁজতে থাকে। ইঁদুর সাপের কামড়ে আশপাশেই অবশ হয়ে পড়ে থাকে। সাপ ইঁদুরটি খুঁজে বের করে খায়। এ দৃশ্য দেখে মানুষ অনুমান করে নিয়েছে, সাপকে কেউ ব্যথা দিলে সে কামড়াবেই। এটা পুরোপুরি সত্য নয়।★ সাপুড়েদের মৃত্যু সাপের হাতে!অসাবধানতায় সাপুড়ের সাপের কামড়ে মৃত্যু ঘটতে পারে। সাপুড়েরা জানে, সাপের বিষদাঁত ভেঙে দিলে আর কোনো ভয় নেই। কিন্তু এটা জানে না যে, বিষদাঁত ভাঙলেও আবার তা গজায়।উপসংহারেঃ বিষধর সাপের কামড়ের একমাত্র চিকিৎসা antevenom (প্রতিবিষ) ইনজেকশন অর্থাৎ ডাক্তারি চিকিৎসা। সাপে কাটা রোগীকে যত দ্রুত সম্ভব নিকটস্থ হাসপাতাল বা ক্লিনিকে নিতে হবে। সব মেডিকেল সেন্টারে ধহঃবাবহড়স থাকা বাঞ্ছনীয়।লেখক : প্রফেসর ও সাবেক চেয়ারম্যান, প্রাণিবিদ্যা বিভাগঢাকা বিশ্ববিদ্যাল

#প্রয়োজনীয় টুকিটাকি ১০০টি টিপস;


১। অনেকদিন বন্ধ থাকা বা অব্যবহৃত ঘর খুললে একটা ভ্যাপসা গন্ধ বের হয়। দু-তিনটে দেশলাই কাঠি জ্বালালে দু-তিন মিনিটের মধ্যে ঘর থেকে গন্ধ চলে যাবে।
২। চিনির পাত্রের মধ্যে দু-চারটি লবঙ্গ দিয়ে রাখলে পিঁপড়ে ঢুকবে না।
৩। চশমা ঝকঝকে পরিষ্কার রাখতে হলে এক ফোঁটা ভিনিগার দিয়ে কাঁচ পালিশ করুন।
৪। কাঠের আসবাবপত্র ঠাণ্ডা চা-পাতা ফোটানো জল দিয়ে পালিশ করুন। ঝকঝকে হয়ে উঠবে।
৫। ফ্রিজের গায়ে দাগ ধরে গেলে স্পঞ্জে টুথপেস্ট লাগিয়ে ঘষুন। দাগ উঠে যাবে।
৬। ফ্লানেলের টুকরো গ্লিসারিনে ভিজিয়ে দাগধরা জানালার কাঁচে ঘষুন। কাঁচ ঝকঝক করবে। কাঠ বা স্টিলের টেবিলে ঘষুন। সেখানকার দাগ উঠবে।
৭। জানালা, দরজার কাঁচ ঝকঝকে করে তুলতে মিহি চক গুঁড়োর সঙ্গে জল আর স্পিরিট অথবা কেরোসিন মিশিয়ে কিছুক্ষণ কাঁচের ওপর মাখিয়ে রাখুন। শুকিয়ে গেলে খবরের কাগজ দিয়ে মুছে নিন।
৮। ডিটারজেন্টের সঙ্গে একটা লেবুর রস ও এক চামচ ফিনাইল মিশিয়ে বাথরুমের টাইলস ঘষে দেখুন, কেমন ঝকঝক করে।
৯। হাতব্যাগের ধাতব অংশগুলিতে ন্যাচারাল কালারের নেলপালিশের এক প্রস্থ প্রলেপ দিয়ে রাখুন। সহজে বিবর্ণ হবে না।
১০। ছোট্ট একটুকরো ফ্লানেল বা কম্বলের কাপড়ে পাতিলেবুর রস মাখিয়ে চামড়ার ব্যাগ বা স্যুটকেশে ঘষলে। চামড়ার ঔজ্বল্ল্য বাড়বে।
১১। ঘরে চড়ুই পাখি বাসা বাঁধতে চায়। যদি চড়ুই পাখি তাড়াতে চান তাহলে ঘরের দরজা জানালা বন্ধ করে দু-চার টুকরো কর্পূর জ্বালিয়ে দিন। আর ঘরমুখো হবে না।
১২। গ্যাসস্টোভের বার্নারে ময়লা ঢুকে গেলে বাড়িতে পরিষ্কার করার সহজ উপায় হল অ্যালুমিনিয়াম স্টিল বা লোহার বালতিতে ফুটন্ত জল ঢেলে তাতে দু টেবিল চামচ ড্রেনেক্স (Drainex) পাউডার গুলে বার্নার দুটি তার মধ্যে দু ঘণ্টা ডুবিয়ে রাখুন। জলে ঝাঁপিয়ে ঝাঁপিয়ে ধুয়ে নিন।
১৩। গরম পোশাক বা সিল্কের পোশাক ধোওয়ার পর যদি ইউক্যালিপটাস তেল মেশানো জলে ডুবিয়ে নেন তাহলে পোকায় কাটার ভয় থাকবে না। পোশাকের ঔজ্বল্ল্য বাড়বে। এক বালতি জলে তেলের পরিমাণ হবে দু-টেবিল চামচ।
১৪। উলের পোশাক ধোওয়ার পর এক বালতি জলে আধ চামচ গ্লিসারিন দিয়ে তাতে ডুবিয়ে নিন। পোশাকের নরম ভাব বজায় থাকবে।
১৫। বাচ্চাদের জামাকাপড় বা কাঁথায় যদি তার বমির দুর্গন্ধ থেকে যায়, তবে কাচার পর জলে আধ চামচ বেকিং সোডা মিশিয়ে তাতে জামাকাপড় ডুবিয়ে নেবেন। দুর্গন্ধ দূর হবে।
১৬। ইস্ত্রি করার সময় কাপড়ে যে জল ছেটান তাতে কয়েক ফোঁটা পারফিউম ফেলে দিন। ইস্ত্রি হওয়া গোটা কাপড়টি সুগন্ধ ধরে রাখবে।
১৭। সুগন্ধির শিশি সবসময় তুলো বা কাপড়ে জড়িয়ে রাখবেন। তাতে সুগন্ধি ঢের বেশি দিন টিকবে।
১৮। ফ্লাক্সের ভেতরে অংশ ভালভাবে ধুতে হলে ফ্লাক্সে গরম জল ভর্তি করুন। তাতে কয়েক টুকরো কাগজ ফেলে দিন। ঘণ্টাখানেক পর ভাল করে ঝাঁকিয়ে নিয়ে জল ফেলে দিন। ভেতরের যাবতীয় নোংরা পরিষ্কার হয়ে যাবে।
১৯। অনেক সময় ভ্যাকুয়াম ফ্লাক্স দীর্ঘ ব্যবহারের জন্য দুর্গন্ধ হয়। একটি ডিমের খোলা ভেঙে ফ্লাক্সের মধ্যে ফেলুন।
২০। কিছু কিছু অলংকারের তীক্ষ্ণ বা ধারালো প্রান্তের খোঁচায় পোশাক ছিঁড়ে যায় বা সুতো উঠে যায়। সেইসব ধারালো অংশে ন্যাচারাল নেলপালিশ লাগিয়ে দিন। খোঁচা লাগবে না।
২১। কাঠের ওপর বাচ্চারা আঁকিবুঁকি কাটলে তা তুলতে সিগারেটের ছাই খুব ভাল। সিগারেটের ছাই পাতলা কাপড়ে নিয়ে ঘষে ঘষে তোলা যাবে। একই কাজ হবে কেরোসিন দিয়ে।
২২। সিল্কের শাড়ি বা পোশাকে মাড় দিতে হলে, মাড়ের সঙ্গে একটু পাতলা আঠা গুলে নেবেন। পোশাক শুকিয়ে খটখটে করে ইস্ত্রি করবেন। সিল্ক ঝকঝক করবে।
২৩। পঞ্চাশ গ্রাম সাবুদানা জলে ফুটিয়ে স্বচ্ছ করে ছেঁকে নিন। ঠাণ্ডা করে তাতে দু-টেবিল চামচ সাদা ভিনিগার মেশান। এবার এই মিশ্রণটি একটি খালি স্প্রে বটলে ভরে রাখুন। এই তরল ছিটিয়ে ছিটিয়ে ইস্ত্রি করলে তা মাড়ের কাজ করবে। পোশাক নিভাঁজ হবে।
২৪। হেয়ার ড্রায়ার দিয়ে বর্ষার জুতো, ছোটখাটো জামাকাপড় শুকিয়ে নেওয়া যায়।
২৫। বাচ্চাকে স্নান করানোর আগে নীচে তোয়ালে পেতে নেবেন। বাচ্চা হড়কে যাবে না। বসেও আরাম পাবে।
২৬। স্টিলের বাসন থেকে কোম্পানির নাম লেখা স্টিকারটি তোলা এক ঝামেলা। পাত্রের স্টিকার লাগানো অংশের উল্টোপিঠটা তাতিয়ে নিন। স্টিকার এবার সহজে উঠে আসবে।
২৭। নতুন কেনা জিনিসপত্রের ওপর থেকে দামের লেবেল তুলতে খোঁচাখুঁচি করবেন না। লেবেলের ওপর একটু সেলোটেপ চেপে দিন। তারপর সেলোটেপের এক প্রান্ত ধরে টানলে লেবেলটি উঠে যাবে।
২৮। দেওয়ালে পেরেক গাঁথার আগে পেরেকগুলো যদি ফুটন্ত গরম জলে ডুবিয়ে নেন তাহলে হাতুড়ি মারার সময় দেওয়ালের প্লাস্টার খসবে না।
২৯। শক্ত করে মুখ বন্ধ একটি ছোট্ট শিশিতে কর্পূর পুরে যন্ত্রপাতির বাক্সে রেখে দিন। যন্ত্রপাতিতে মরচে পড়বে না।
৩০। বেশ কিছুদিনের জন্য কোথাও বেড়াতে যাচ্ছেন ফ্রিজ খালি করে? ডিফ্রস্ট করে তা রেখে গেলেন। কিন্তু এসে দেখলেন দুর্গন্ধ হয়ে গেছে। দুর্গন্ধ দূর করবার জন্য যাওয়ার আগে ফ্রিজে পাতি লেবু রেখে দিন। দুর্গন্ধ হবে না।
৩১। ফ্রিজের বদগন্ধ দূর করতে সর্ষেগুঁড়ো ব্যবহার করতে পারেন। একটা প্লেটে কিছুটা সর্ষেগুঁড়ো ঢেলে তাতে একটু জল দিয়ে রাতভর ফ্রিজে রাখুন এবং ফ্রিজ খোলাই রাখুন। পরের দিন সকালে দেখবেন সব গন্ধ উধাও।
৩২। ব্যবহারের পর তেল বা পানীয়র টেট্রাপ্যাক ফেলে দেবেন না। কেটে ডিপ ফ্রিজে আইস ট্রেতে পেতে দিন। মাছ মাংসের প্যাকেট আটকে যাবে না।
৩৩। প্রেসার কুকারের গ্যাসকেট মাঝে মাঝে ফ্রিজে পুরে রাখবেন। দীর্ঘদিন টিকবে।
৩৪। টর্চের ফেলে দেওয়া ব্যাটারি কিন্তু কোয়ার্টিজ ঘড়িতে এবং রেডিওতে আরও মাস খানেক চলবে।
৩৫। বাড়িতে আঠা ফুরিয়ে গেছে। খামে স্ট্যাম্প লাগাবেন। ন্যাচারাল কালার নেলপালিশ ব্যবহার করুন।
৩৬। সেলোটেপের মুখ খুঁজে পাচ্ছেন না? মিনিট দশেক ফ্রিজে ঢুকিয়ে রেখে দিন। সেলোটেপের রিলটা খুলে আসবে।
৩৭। খামের ওপর ঠিকানা লিখে একটু মোমবাতি ঘষে দেবেন। জল পড়ে কালি থেবড়ে ঠিকানা অস্পষ্ট হয়ে যাবে না।
৩৮। টেবিল বা ক্যাবিনেটের ড্রয়ার অনেক সময় আটকে যায়। স্বচ্ছন্দে খোলা বা বন্ধ করা যায় না। ড্রয়ারের ধারে মোম ঘষে রাখুন। সহজে আটকাবে না।
৩৯। ব্যবহারের পর বাইসাইকেলের টায়ার ভিজে কাপড় দিয়ে মুছে রাখুন। সহজে কাটবে না।
৪০। নখের কোন ভেঙে গেছে। কিন্তু এমারি বোর্ড নেই। একটা দেশলাই কাঠি নিয়ে বারুদের দিকটা ভাঙা জায়গায় ঘষুন। নিমেষে নখ সমান হয়ে যাবে।
৪১। নেলপালিশ শুকিয়ে জমে গেলে ইউক্যালিপটাস তেল দিন। গলে নরম হবে। তবে নেলপালিশ ফ্রিজে রাখলে সহজে শুকোবে না।
৪২। এক লিটার জলে দু’চার চামচ ডিটারজেণ্ট গুলে ঝাঁকিয়ে দিন। এবার স্প্রেগান বা পিচকিরিতে ভরে ঘরের আনাচে কানাচে যেখান আরশোলার উপদ্রব বেশি সেসব জায়গায় স্প্রে করে দিন। আরশোলা মরবে।
৪৩। মোমবাতি জ্বালানোর আগে যদি বার্নিশ লিগিয়ে নিতে পারেন তো সাশ্রয় হবে। সহজে মোম গলবে না।
৪৪। ক্যাণ্ডেল হোল্ডারে মোমবাতি বসানোর আগে একটু তেল মাখিয়ে নেবেন। ফুরিয়ে গেলে জমা মোম তুলতে অসুবিধে হবে না।
৪৫। বোতলের ছিপি খুব শক্ত হয়ে আটকে গেলে, একটা রুমাল গরম জলে ভিজিয়ে নিংড়ে বোতলের ছিপির নীচে জড়িয়ে রাখুন। কিছুক্ষণ পরে ছিপিটি আলগা হয়ে আসবে।
৪৬। যাদের সিলিণ্ডার ক্যারিয়ার নেই তারা থার্মোকলের টুকরোর ওপর গ্যাস সিলিণ্ডার রাখুন। গ্যাস সিলিণ্ডারেও যেমন মরচে পড়বে না, মেঝেও মরচের দাগ থেকে রেহাই পাবে।
৪৭। গ্যাস ওভেন-এ রান্নার সময় কিছু উপচে পড়ে গেলে নুন ছিটিয়ে দিন। ওভেন ঠাণ্ডা হয়ে গেলে পোড়া জিনিসগুলো ভিজে স্পঞ্জ দিয়ে ভালভাবে মুছে দিন।
৪৮। রাতের দিকে বেসিনের পাইপের মুখে মাঝে মাঝে আধ কাপ মত ভিনিগার ঢেলে দেবেন। সকালে দু’মগ জল ঢেলে দিলেই বেসিনের পাইপ পরিষ্কার থাকবে।
৪৯। সিঙ্কের মুখ বন্ধ হয়ে গেলে নুন ফুটিয়ে সিঙ্কের মুখে ঢেলে দিন। পরিষ্কার হয়ে যাবে।
৫০। বালতি বা ড্রাম ফুটো হয়ে গেলে ঐ জায়গা পরিষ্কার করে শুকিয়ে নিয়ে ধুনো গুঁড়ো করে নারকোল তেল এবং সিঁদুর মিশিয়ে মিশ্রণটি লাগান, ফুটো বন্ধ হয়ে যাবে।
৫১। আস্ত ধনেতে পোকা ধরেছে বলে ফেলে দেবেন না। ঘণ্টা খানেক ভিজিয়ে রেখে মাটিতে ছড়িয়ে দিন। ধনে পাতার চাষ হবে আপনার বাগানে।
৫২। দই যদি নষ্ট হয়ে যায় তো ফেলে দেবেন না। বাড়িতে কারি পাতার গাছ থাকলে তার গোড়ায় মাটিতে দিন। এতে পাতার তেজ ও সুগন্ধ দুই-ই বাড়বে।
৫৩। অ্যাকোরিয়ামের জল ফেলে দেবেন না। গাছের গোড়ায় দিন। সার হিসেবে চমৎকার।
৫৪। কাজুবাদাম ব্যবহারের সময় খোসাটা ফেলে দেওয়া হয়। ঐ ফেলে দেওয়া খোসাই গোলাপ গাছের সেরা সার।
৫৫। ব্যবহৃত চা-পাতা ফেলে না দিয়ে ভাল করে রোদে শুকিয়ে নিন। এইভাবে ঐ চা’পাতা ধুনোর বদলে ব্যবহার করুন। শুকনো চা’পাতা পোড়ানো ধোঁয়ায় ঘরের সমস্ত মশা, মাছি পালিয়ে যাবে।
৫৬। মশা তাড়াবার একটা সহজ উপায় হল, কয়েক টুকরো কর্পূর আধকাপ জলে ভিজিয়ে খাটের নীচে রেখে দিন। তারপর নিশ্চিন্তে ঘুমান।
৫৭। কয়লা বা কাঠ-কয়লার আগুনে নিমপাতা পড়লে যে ধোঁয়া হবে তাতে সবংশে মশা পালাবে।
৫৮। লোডশেডিঙের সময় যদি হ্যারিকেন বা কাঁচ ঢাকা বাতিদান জ্বালান তবে তার ওপর দু-একটা ব্যবহৃত মশা মারার রিপেলেন্ট রেখে দেবেন। আলোর সঙ্গে সঙ্গে মশা তাড়ানোর কাজও হবে।
৫৯। প্রতিদিন নিশিন্দা ও নিমপাতার গুঁড়ো ধুনোর সঙ্গে ব্যবহার করলে মশার হাত থেকে রেহাই পাওয়া যায়।
৬০। ঘরের মধ্যে মশার উৎপাত কমাতে চাইলে, ঘরের বৈদ্যুতিক আলোটি হলুদ সেলোফেনে জড়িয়ে দিন। ফলে হলুদ আলো হবে। দেখবেন মশা কমে গেছে, কারণ মশা হলুদ আলো থেকে দূরে থাকতে চায়।
৬১। মাছি তাড়াতে পুদিনা পাতা ব্যবহার করুন। ছোট গ্লাসে একটু জল নিয়ে তাতে ৫/৬ গাছি পুদিনা রেখে দিন খাবার টেবিলে। ৩ দিন অন্তর জল বদলে দেবেন। জল অনুকূল হলে কিছুদিনের মধ্যে পুদিনা চারাও গজিয়ে যাবে গ্লাসে।
৬২। নিমপাতা ভেজানো বা সেদ্ধ জলে ঘর মুছুন। পোকা-মাকড়ের উপদ্রব কমবে। নিমপাতা তোশক বা গদির তলায় রাখুন পোকামাকড় হবে না।
৬৩। অনেক সময় ঘরে বা রান্নাঘরে সাপ ঢুকে যায়। কিছুটা রসুন বেটে কাপড়ে বেঁধে ঘরের কোণে রেখে দিলে ঘরের ভিতর সাপ ঢুকবে না।
৬৪। নিমপাতা পচা সার গাছে পোকা লাগতে দেয় না।
৬৫। বাচ্চাদের ঘরে মাছি, পিঁপড়ে হয়। যদি নুন ছিটিয়ে ঘর মোছা যায়, পিঁপড়ে মাছি কম হবে।
৬৬। আটা, ময়দা, ডাল পোকার হাত থেকে বাঁচতে হলে একমুঠো নিমপাতা শুকিয়ে উপরে ছড়িয়ে দিন, পোকা হবে না।
৬৭। সোনার গয়না দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার করলে ঔজ্জ্বল্য হারিয়ে যায়। ব্যবহার করার পর সিঁদুর মাখিয়ে রাখবেন। চকচক করবে। কুমড়োর রস দিয়েও গয়না পরিষ্কার করা যায়।
৬৮। বিয়ে বাড়িতে বা পার্টিতে যেদিন যাবেন, সোনার গয়নাগুলো কাঁচা হলুদ থেঁতো করে বা হলুদ গুঁড়ো জলে গুলে এক ঘণ্টা ভিজিয়ে ভাল করে মুছে নেবেন। উজ্জ্বলতা বাড়বে।
৬৯। আপনার সোনা-রূপোর গয়না টুথপেস্ট দিয়ে ঘষে নিন। জল দেওয়ার দরকার নেই। শুকনো কাপড়ে পেস্ট মুছে ফেলুন। দেখুন ঝকমকিয়ে উঠবে আপনার গয়না।
৭০। রূপোর জিনিস জলের সঙ্গে নুন আর রিঠা দিয়ে মিনিট পনেরো ফোটালে রূপোর স্বাভাবিক রং ফিরে আসে।
৭১। পাথরের গয়না টুথপেস্ট ঘষে পরিষ্কার করুন। নতুনের মত ঝলমল করবে।
৭২। পেতলের বাসন ঝকঝক করে তুলতে ক’ফোঁটা সেলাই মেশিনের তেলে হলুদ গুঁড়ো মেশান। ঐ তেলে ঘষে তুলুন বাসন। দেখবেন নতুনের মত দেখাচ্ছে।
৭৩। ব্রাসোর সঙ্গে সামান্য পাতিলেবুর রস মিশিয়ে ঘসুণ, কাঁসার জিনিস সোনার মতো ঝকঝক করবে।
৭৪। হলুদ গুঁড়োর সঙ্গে কয়েক ফোঁটা সরষের তেল দিয়ে পেতলের বাসন ঘষলে চকচক করবে।
৭৫। রূপোর বাসন, কাঁটা-চামচ বা গয়নাটি তেঁতুল গোলা জলে ফুটিয়ে নিন। ঘষা-মাজা করতে হবে না। ফোটালেই ঝকঝক করবে।
৭৬। এনামেলের বাসন থেকে দাগ তুলতে নুন আর ভিনিগারের মিশ্রণ ব্যবহার করুন।
৭৭। বোন চায়নার বাসনে দাগ ধরে গেলে নেলপালিশ রিমুভার ব্যবহার করতে পারেন। দাগ উঠে যাবে।
৭৮। চাল ধোয়া জলে স্টীল ও কাঁচের বাসন কিছুক্ষণ ডুবিয়ে রেখে তারপর ধুয়ে নিলে বাসনগুলো ঝকঝক করবে।
৭৯। পিতলের বা কাঁসার বাসন দীর্ঘদিন ব্যবহার না করার ফলে দাগ ধরে যায়। মাথার চুল ও সরষের তেল সহযোগে মাজুন, দেখবেন ঝকঝক হয়ে উঠবে।
৮০। রান্না পুড়ে পাত্রের তলায় এঁটে গেছে। পাত্রটিকে নুনজলে ভর্তি করুন। তারপর আঁচে বসান। জল ফুটতে শুরু করলেই পোড়া অংশ আলগা হয়ে উঠে যাবে।
৮১। রান্নার সময় হাতে হলুদেড় দাগ হলে, আলুর খোসা ছাড়িয়ে হাতে ঘষে, হাত ধুয়ে নিলে আর হলুদের দাগ থাকবে না।
৮২। টিন থেকে মরচে তুলতে হলে আলু কেটে বাসন ধোয়ার গুঁড়োয় ডুবিয়ে সেটা দিয়ে ঘষলেই মরচে উঠে যাবে।
৮৩। মরচের দাগ তুলতে হলে ১ কাপ চাল ২ লিটার জলে ফুটিয়ে সারারাত রাখতে হবে। পরের দিন সকালে জলটা ছেঁকে নিয়ে সেই জলে মরচে ধরা জায়গাটা ধুলে ফেলতে হবে। যদি এক দফায় না হয়, আবার একই নিয়মে ধুতে হবে।
৮৪। কফির যদি স্বাদ আরো বাড়াতে চান তাহলে সামান্য টেবিল-সল্ট মিশিয়ে নিন।
৮৫। তুলসীপাতা শুকিয়ে গুঁড়ো করে রাখুন। চা তৈরীর সময় দু-চিমটি লিকারে দিয়ে দেবেন। আরো ভাল স্বাদ আসবে। নানা রোগও আটকাবে।
৮৬। বাড়িতে ঘি তৈরি করার জন্য দুধের সরটা বাটিতে ১/২ চামচ টক দই দিয়ে তার উপর রাখতে হবে। সরটা এমনভাবে রাখতে হবে যাতে পুরো দইটা ঢেকে যায়। এই ভাবে দই এর সাথে সর জমলে সর জমা যে গন্ধ হয় সেটা হবে না।
৮৭। এক টুকরো সন্ধক লবণ ঘি এর শিশির মধ্যে রেখে দিন। এতে ঘি বেশি দিন টাটকা থাকবে, স্বাদেরও পরিবর্তন হবে না।
৮৮। ঘিয়ের গন্ধ বজায় রাখতে হলে ঘি রাখার শিশিতে এক টুকরো আখের গুড় রেখে দিন।
৮৯। ভোজ্য তেলে ৮/১০ টা আস্ত গোলমরিচ ফেলে দিন। তেল দীর্ঘদিন অব্যবহৃত হলেও ভাল থাকবে।
৯০। দই পাতবার সময় দুধের সঙ্গে ১ চামচ কর্ণফ্লাওয়ার গুলে দেবেন। দই অনেক বেশি ঘন হবে।
৯১। গরু বা মোষের দুধ ঠিক সময় মতো গরম না করলে দুধ কেটে যাবার ভয় থাকে। দুধের মধ্যে দু-ফোঁটা সরষের তেল দিয়ে রাখলে দুধ যখনই ফোটান হোক না কেন দুধ কাটবে না।
৯২। দীর্ঘদিন বাইরে পড়ে আছে দুধ। ভয় হচ্ছে আঁচে বসালেই কেটে যাবে। আঁচে বসানোর আগে দুধে ১ চিমটি সোভা-বাই-কার্ব মিশিয়ে নিন। দুধ কাটবে না।
৯৩। দুধ পড়ে গেলে বা দুধ থেকে পোড়া গন্ধ দূর করতে হলে তাতে পান পাতা ফেলে কিছুক্ষণ ফুটিয়ে নিন। পোড়া গন্ধ কেটে যাবে।
৯৪। পিঠে, পাটিসাপ্টা, মালপো প্রভৃতি তৈরি করার সময় গোলায় একটু আটা মিশিয়ে দিলে পিঠে ঠিকভাবে তৈরি হয়।
৯৫। চালের গুঁড়োর পিঠে করলে সাধারণত শক্ত হয়। পিঠে করার আগে যদি চালের গুঁড়োতে কিছুটা খই মাখিয়ে নেওয়া হয় তবে পিঠে নরম হয় এবং খেতেও ভাল লাগে।
৯৬। কেক, পুডিঙের ওপর বাদাম, কাজু বা কিশমিশ সাজিয়ে দেবার আগে, ধুয়ে কিছুক্ষণ ভিজিয়ে রাখলে পড়ে খসে যাবার ভয় থাকে না।
৯৭। কাস্টার্ড তৈরীর সময় কাপ প্রতি দুধে দু-তিন চামচ মিল্ক পাউডার গুলে নেন তবে চমৎকার আস্বাদ আসবে। তৈরীর পর মোটা চিনির দানা যদি ছড়িয়ে দেন, কাস্টার্ডে সর পড়বে না।
৯৮। ছানা কাটানোর জন্য লেবুর রসের বদলে ফুটন্ত দুধে ১ চামচ দই ফেলে দিন। ছানা নরম হবে।
৯৯। বিস্কুটের টিনে এক টুকরো ব্লটিং পেপার রেখে দিন। বিস্কুট মিইয়ে যাবে না।
১০০। পোড়ামাটির জিনিসপত্র পরিষ্কার রাখতে হলে ওগুলোর ওপর ন্যাচারাল রঙের নেলপালিশ লাগিয়ে দিন। রং অক্ষত থাকবে আর নোংরা হবে না।