“তুরস্কের মসজিদগুলো কি রাজনীতির বার্তা ছড়াচ্ছে ?” এই শিরোনামে একটি রিপোর্ট করেছে CNN গত ২৫ অক্টোবর ২০১৯। রিপোর্টে বলা হয়েছে, সরকারি বেসরকারি সব ইস্যুতে যেভাবে মসজিদের সম্পৃক্ততা দেখা দিচ্ছে, এতে করে অদূর ভবিষ্যতে তুরস্কের রাষ্ট্রীয় পরিচয় (সেক্যুলারিজম) বিপন্ন হতে পারে!আসল বিষয়টা হল, সত্যিকার অর্থে তুরস্ক এখন মসজিদভিত্তিক সমাজব্যবস্থায় গড়ে ওঠছে। মানুষ কল্পনাতীতভাবে মসজিদ মুখি হচ্ছে। চলমান সিরিয়া অভিযানের সফলতায় মসজিদগুলো মুসল্লিদের কায়মনো প্রার্থনায় গুঞ্জরিত হয়ে উঠেছে। এসবের ভিডিও ভাইরাল হয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে। ফলে গাত্র দাহ্ শুরু হয়েছে তথাকথিত মানবতাবাদীদের মনে ও তাদের পদলেহী মোনাফিক মহলে । এর আগে ২০১৬ সালের অন্যায় সেনা অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধেও অসামান্য ভূমিকা ছিল তুরস্কের মসজিদগুলোর। মসজিদের মাইকে মানুষকে অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছিল। পশ্চিমা মদদপুষ্ট গাদ্দার সেনাবাহিনীর আগ্রাসন রুখে দেওয়ার শ্লোগান তুলেছিলেন মসজিদের ইমামরা। এসব কারণে তুরস্কের মসজিদগুলো নিয়ে বরাবরই সমালোচনায় লেলিয়ে থাকে পশ্চিমা মিডিয়াগুলো। গত বছর এরদোয়ানের হাতে নবনির্মিত তুরস্কের সবচেয়ে বড় কেমালিকা মসজিদ নিয়েও পশ্চিমা মিডিয়াগুলো সবচেয়ে বেশি সমালোচনা করেছে। তার সাথে সুর চড়িয়েছে বিরোধী সেক্যুলার রাজনৈতিক দল জেহেপে। তাদের অভিযোগ ছিল, জনগণের টাকা খরচ করে এত বড় মসজিদ নির্মাণের কোন প্রয়োজন ছিল না। প্রকাশ্যে এই অভিযোগ করা হলেও বাস্তবতা মোটেই এমন নয়। বরং মানুষের মসজিদমুখী মানসিকতাকেই তারা থামিয়ে দিতে চায়। দিন যত যাচ্ছে, সমাজ ও রাষ্ট্রে মসজিদগুলোর আবেদন ততই বাড়ছে। সেক্যুলারিজম কি তবে মাঠে মারা যাবে, এই প্রশ্ন তাদের ঘুম হারাম করে দিচ্ছে!সেক্যুলারিজমের বার্তা হল, সমাজ ও রাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করে ধর্মকে শুধুমাত্র ব্যক্তিজীবনে আবদ্ধ করে রাখা। অথচ ইসলাম শুধু ব্যক্তিজীবন নয়, বরং পরিবার থেকে সমাজ, রাষ্ট্র থেকে পররাষ্ট্র ব্যবস্থায়ও অনস্বীকার্যভাবে জড়িয়ে আছে। ইসলামের এই সার্বজনীনতাকেই প্রতিষ্ঠিত করতে চান এরদোয়ান। ধর্মকে ব্যক্তিজীবনে আবদ্ধ করে রাখা কারাগার থেকে উদ্ধার করে সর্বস্তরে এর প্রতিষ্ঠা নিশ্চিত করতে চান তিনি। আর এটাই একসময় কাল হয়েছিল তার জন্য। মনে আছে ১৯৯৮ সালের কথা? একটি কবিতা আবৃত্তির অপরাধে তাকে জেল খাটতে হয়েছিল, তার রাজনৈতিক অধিকার কেড়ে নেয়া হয়েছিল? কী ছিল সেই কবিতা?
“মসজিদ আমাদের ক্যান্টনমেন্ট,
মিনার আমাদের বেয়নেট,
গম্বুজ আমাদের হেলমেট,
মুমিনেরা আমাদের সেনাদল।”
আজ বিশ বছর পর এসে এরদোয়ান এই কবিতাকে কিছুটা হলেও বাস্তবে রূপ দিতে পেরেছেন। সত্যি এখন মিনারগুলো অনেকটাই বেয়নেটের ভূমিকা নিচ্ছে। গম্বুজগুলো হেলমেটে পরিণত হয়েছে। মসজিদগুলো হয়েছে ব্যারাক। আর মুমিনেরা সব এসেছে সেনাবাহিনীর দলে! নাসরুম মিনাল্লাহ ওয়া ফাতহুন কারীব! সিএনএনের লিংক
#কায়কোবাদ : আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম #মুসলিম_কবি আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি ছিলেন কায়কোবাদ। অজপাড়া গ্রামে পোস্টমাস্টারির চাকরি করেছেন জীবনভর, আর লিখেছেন কবিতা। এই কাব্যচর্চাই তাঁকে এনে দিয়েছে মহাকবির খ্যাতি। আজ ২১ জুলাই তাঁর মৃত্যুবার্ষিকী, ১৯৫১ সালের এ দিনে প্রায় ৯৪ বছর বয়সে তিনি ইন্তেকাল করেন।
কালের লিপিতে ‘মহাকবি কায়কোবাদ’ নামে তিনি উৎকীর্ণ হয়ে থাকলেও তাঁর পিতৃপ্রদত্ত নাম কাজেম আল-কোরায়েশি। ১৮৫৭ সালে, ঐতিহাসিক সিপাহি বিপ্লবের বছর বর্তমান ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জের আগলা-পূর্বপাড়া গ্রামে তাঁর জন্ম। পিতা শাহামতুল্লাহ আল-কোরায়েশি ছিলেন ব্যারিস্টার, ঢাকা জেলা জজকোর্টে আইন ব্যবসা করতেন। সেই সুবাদে কায়কোবাদের পড়াশোনা ঢাকাতেই হয়েছিল।
সেন্ট গ্রেগরি স্কুলে পড়াশোনা কালে পিতার মৃত্যু হয়, কায়কোবাদ স্কুলের বদলে তখন ভর্তি হন মাদরাসায়, ঢাকা মাদরাসা, যেটা বর্তমানে নজরুল কলেজে রূপান্তরিত হয়েছে। কিন্তু মাদরাসায় প্রবেশিকা পর্যন্ত পড়াশোনার পর পরীক্ষার আগ মুহূর্তে পোস্ট মাস্টারির চাকরি পেয়ে যান তিনি, পিতৃহীন পরিবারের ঘানি টানতে প্রবেশিকা পরীক্ষা আর দেওয়া হয়নি কায়কোবাদের। পোস্টমাস্টারির চাকরি নিয়ে ফিরে যান আপন গ্রামে। এবং অবসরগ্রহণ অবধি গ্রামেই থাকেন পোস্টমাস্টারির চাকরি নিয়ে। আর করেন কাব্যসাধনা।
অতি অল্পবয়সে কায়কোবাদের সাহিত্য-প্রতিভার স্ফুরণ ঘটে। মাত্র তেরো বছর বয়সে তাঁর প্রথম কাব্য বিরহবিলাপ (১৮৭০) প্রকাশিত হয়। তাঁর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে কুসুম কানন (১৮৭৩), অশ্রুমালা (১৮৯৫), মহাশ্মশান (১৯০৪), অমিয়ধারা (১৯২৩), মহরম শরীফ (১৯৩২), প্রেমের বাণী (১৯৭০), প্রেম-পারিজাত (১৯৭০), গওছ পাকের প্রেমের কুঞ্জ (১৯৭৯) প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। সম্প্রতি বাংলা একাডেমী কায়কোবাদ রচনাবলী (৪ খন্ড, ১৯৯৪-৯৭) প্রকাশ করেছে।
কায়কোবাদের মহাশ্মশান একটি বিখ্যাত মহাকাব্য। তৃতীয় পানিপথের যুদ্ধ অবলম্বনে রচিত এ কাব্যে জয়-পরাজয় অপেক্ষা ধ্বংসের ভয়াবহতা প্রকট হওয়ায় এর নাম হয়েছে ‘মহাশ্মশান’। এটি তাঁর শ্রেষ্ঠ রচনা এবং এর দ্বারাই মহাকবিরূপে খ্যাতি অর্জন করেন। কাব্যটি তিন খন্ডে বিভক্ত। প্রথম খন্ডে ঊনত্রিশ সর্গ, দ্বিতীয় খন্ডে চব্বিশ সর্গ, এবং তৃতীয় খন্ডে সাত সর্গ। মোট ষাট সর্গে প্রায় নয়শ’ পৃষ্ঠার এই মহাকাব্য বঙ্গাব্দ ১৩৩১ মুতাবেক খ্রিষ্টাব্দ ১৯০৪ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়; যদিও গ্রন্থাকারে প্রকাশ হতে আরও ক’বছর দেরি হয়েছিল। পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধযজ্ঞকে রূপায়িত করতে গিয়ে কবি বিশাল কাহিনি, ভয়াবহ সংঘর্ষ, গগনস্পর্শী দম্ভ, এবং মর্মভেদী বেদনাকে নানাভাবে চিত্রিত করেছেন এ মহাকাব্যে।
কায়কোবাদের গীতিকবিতায় প্রেম, প্রকৃতি, স্বদেশের প্রতি ভালোবাসা ও আধ্যাত্মিকতা প্রকাশ পেয়েছে।
তাঁর কাব্যসাধনার মূল উদ্দেশ্য ছিল পশ্চাৎপদ মুসলমান সম্প্রদায়কে তার অতীত ঐতিহ্য সম্পর্কে সচেতন করা এবং তা পুনরুদ্ধারে উদ্বুদ্ধ করা। তিনি ছিলেন সাম্প্রদায়িক সমন্বয়ে বিশ্বাসী, যার প্রকাশ ঘটেছে তাঁর বিভিন্ন রচনায়। তিনি হিন্দু-মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের ধর্মীয় বিষয় নিয়ে কাব্য রচনা করেছেন।
বাংলা মহাকাব্যের অস্তোন্মুখ এবং গীতিকবিতার স্বর্ণযুগে মহাকবি কায়কোবাদ মুসলিমদের গৌরবময় ইতিহাস থেকে কাহিনি নিয়ে ‘মহাশ্মশান’ মহাকাব্য রচনা করে যে দুঃসাহসিকতা দেখিয়েছেন তা তাঁকে বাংলা সাহিত্যের গৌরবময় আসনে স্থান করে দিয়েছে।
সেই গৌরবের প্রকাশে ১৯৩২ সালে কলকাতায় অনুষ্ঠিত বঙ্গীয় মুসলিম সাহিত্য সম্মেলনের মূল অধিবেশনে তিনি সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। বাংলা কাব্যসাহিত্যে অসাধারণ অবদানের জন্য নিখিল ভারত সাহিত্য সংঘ তাঁকে ‘কাব্যভূষণ’, ‘বিদ্যাভূষণ ও ‘সাহিত্যরত্ন’ (১৯২৫) উপাধিতে ভূষিত করে।
#প্রত্যন্ত_অঞ্চলে ভয়ংকর হয়ে উঠছে ‘#ধর্মান্তর ব্যবসা’
ডিসেম্বর ৩, ২০১৯দেশের উপজাতি-অধ্যুষিত ও দারিদ্র্য-পীড়িত প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতে খ্রিষ্ট ধর্মে ধর্মান্তরিত করার প্রবণতা ‘ভয়াবহ আকারে’ বেড়েই চলেছে। পশ্চিমা বিশ্বের অর্থায়নে পরিচালিত এনজিও ও খ্রিষ্টান মিশনারি সংস্থাগুলো সেবা ও উন্নত জীবনের প্রলোভনে উপজাতি ও দারিদ্র্য-পীড়িত হিন্দু মুসলিমসহ উপজাতীয় ধর্মে বিশ্বাসীদেরকে খ্রিষ্ট ধর্মে দীক্ষিত করে চলেছে। খ্রিষ্ট ধর্ম প্রচারে কোনো ধরনের বাধা-বিপত্তিকে তোয়াক্কা করছে না মিশনারিরা। বরং মুসলিম দাঈ কিংবা এ তৎপরতা সম্পর্কে সতর্ককারী স্থানীয় আলেমদেরকে নানা ধরনের চাপে রাখছে তারা। এমনকি প্রশাসনিক মাধ্যমেও এ সমস্ত দাঈকে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয় দাঈদের। ‘পার্বত্য চট্টগ্রামের চিত্র ভয়াবহ’ রাঙ্গামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি—তিনটি জেলা নিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের বিস্তৃতি। পার্বত্য চট্টগ্রামে সবচেয়ে আশঙ্কাজনকভাবে খ্রিষ্টান মিশনারিরা কাজ করছে। উপজাতিদের বড় একটি অংশ এখন খ্রিষ্ট ধর্মে দীক্ষিত হয়ে গেছে বলে জানাচ্ছেন অঞ্চলটিতে দাওয়াতি মেহনতের সঙ্গে জড়িত আলেম দাঈগণ। তাঁদের মধ্যে একজনের সঙ্গে কথা হয়েছিল ফাতেহ টুয়েন্টি ফোরের। নিরাপত্তা জনিত কারণে নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, ‘পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রায় প্রতিটি এলাকাই আমার ঘোরা হয়েছে। দাওয়াতি কাজে এই এলাকায় এত বার যাওয়া হয়েছে যে, অনেক এলাকা নিজের এলাকার মতোই আমার কাছে পরিচিত। দুঃখজনক হলো, আজ থেকে ২০-২২ বছর আগে এখানে ১ পার্সেন্টরও কম খ্রিষ্টান থাকলেও বর্তমানে খ্রিষ্টান মিশনারিদের তৎপরতার দরুণ এখানকার বড় একটি অংশ খ্রিষ্ট ধর্মে ধর্মান্তরিত হয়ে গেছে। তিনি বলেন, ‘ছোট-বড় প্রায় ১৪টি উপজাতীয় গোষ্ঠীর বসবাস এই অঞ্চলে। তাদের মধ্যে মধ্যে ছোট ছোট যে গোষ্ঠীগুলো, তাদের প্রায় সকলেই খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করে নিয়েছে। গহীন পাহাড়ের ভেতর তাদের বসবাস, কিন্তু আপনি যদি সেখানে যান আর তাদের জীবনমান দেখেন, তবে মনেই হবে না, আপনি বাংলাদেশে আছেন, মনে হবে ওয়েস্টার্ন কোনো কান্ট্রিতে এসেছেন। ‘খ্রিষ্টান মিশনারিরা তাদের শিক্ষাদীক্ষা থেকে শুরু করে রাস্তা-ঘাট সব কিছু করে দিচ্ছে। বিনিময়ে তাদেরকে খ্রিষ্টধর্মে দীক্ষিত করছে। কনভার্টেড এসব খ্রিষ্টানদের সঙ্গে কথা বললে আপনি চমকো যাবেন। এদের ভাব ও আচারে মনেই হবে না এরা বাংলাদেশ নামক কোনো রাষ্ট্রকে স্বীকার করে। তাদের এমনও এলাকা আছে যেখানে খ্রিষ্ট মিশনারিদের দ্বারা প্রুফ করা। সেখানে যেতে হলে বিশেষ বাহিনীর পারমিশন লাগে। আর নির্দিষ্ট লোক ব্যতীত সেখানে ঢোকার পারমিশনও পাওয়া যায় না। রাঙ্গামাটির বড়কল উপজেলায় আছে এমন একটি এলাকা। ‘বান্দরবানের মিরিঞ্জা নামক একটা এলাকা আছে, সেখানের উঁচু এক টিলায় মং সম্প্রদায়ের বসবাস। যাদের অধিকাংশই খ্রিষ্টান হয়ে গেছে। খ্রিষ্টান মিশনারিদের কল্যাণে উন্নত হয়েছে তাদের জীবনমান। মং সম্পদায়ের নেতাদেরকে ‘কারবারি’ বলা হয়। সেখানে একবার সফরে গেলে এক কারবারির সঙ্গে কথা হয়েছিল আমার। সে জানাল, ধর্ম যে কোনো গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার, এমনটা ধারণায়ও ছিল না তাদের। একসময় তারা মনে করত জন্মসূত্রে মুসলিম না হলে কেউ মুসলিম হতে পারত না। এই খ্রিষ্ট মিশনারিরা আসার আগে তাদের কেউ কেউ মুসলিম হতে চাইলে এমন কেউ ছিল না, যে তাকে মুসলিম বানাবে। স্থানীয় বাঙালি মুসলিম যারা ছিল, তারা তাদেরকে মুসলিম সমাজে দাখিল করতে অস্বীকৃতি জানাত। খ্রিষ্টান মিশনারিরা এসে এখন তাদের মনোভাব বদলে দিয়েছে। দলে দলে তাই তারা খ্রিষ্ট ধর্মে দীক্ষিত হচ্ছে। সেই সঙ্গে পাচ্ছে উন্নত জীবনমানের ব্যবস্থা।’ খ্রিষ্টান মিশনারিদের মুকাবেলায় এসব এলাকায় ওলামায়ে কেরামের দাওয়াতি কার্যক্রম কেমন জানতে চাইলে আলেম এ দাঈ বলেন, তাদের তুলনায় আমাদের কার্যক্রম প্রায় শূন্যের কোঠায়। তাছাড়া আমরা সীমিত পরিসরে যারা কাজ করছি, তারাও নানাভাবে বাধার সম্মুখীন হচ্ছি। খ্রিষ্টান মিশনারিদের কৌশলী তৎপরতা এবং তাদের পাহারাদার উপজাতীয় সন্ত্রাসী গ্রুপগুলোর হিংস্রতা নানাভাবে আমাদের বাধাগ্রস্ত করে। সেখানে নতুন করে কোনো মসজিদ-মাদরাসা স্থাপন করতে হলে ব্যাপক বেগ পেতে হয়। স্থাপন করলেও সেটা সেখানে মোতায়েনকৃত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ক্যাম্পের আশপাশে করতে হয়। পাহাড়ের ভেতরে করার কোনো সুযোগ নেই। খ্রিষ্টান মিশনারি ও তাদের নিরাপত্তা বিধায়ক উপজাতীয় সন্ত্রাসী গ্রুপগুলো বাধা দেবে। উত্তরাঞ্চলের দরিদ্র মুসলিমদেরকেও বানানো হচ্ছে খ্রিষ্টান শিক্ষাদীক্ষা এবং সুবিধা বঞ্চিত উত্তরাঞ্চলেও খ্রিষ্টান মিশনারিদের তৎপরতা ভয়াবহ। উত্তরাঞ্চলের বন্যা কবলিত ও দারিদ্রপীড়িত জেলা কুঁড়িগ্রামে ব্যাপকভাবে তারা ধর্মান্তরের কার্যক্রম চালাচ্ছে। ধর্মীয় শিক্ষার আলো থেকে দূরে থাকা স্থানীয় মুসলমানদের নানা কৌশলে খ্রিষ্টান বানানো হচ্ছে। খ্রিষ্টধর্মে দীক্ষিত হয়ে যাওয়া এসব মুসলমানের অনেকে বুঝতেই পারছেন না যে তাঁরা খ্রিষ্টান হয়ে গেছেন। স্থানীয় বেশ কয়েকজন দাঈ’র সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, খ্রিষ্টান মিশনারিরা স্থানীয় লোকদের মধ্যে কুরআন-হাদিসের বিভ্রান্তিকর ব্যাখ্যা সম্বলিত বিভিন্ন বই-পুস্তক বিতরণ করে। এবং এর মাধ্যমে মহানবি হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের ওপর হজরত ইসা আলায়হিস সালামের শ্রেষ্ঠত্ব দেখিয়ে তাঁর অনুসরণের দাওয়াত দেওয়া হয়। বলা হয়, বর্তমান যে ইসলাম, সেটার তুলনায় ‘ঈসায়ি ইসলাম’ শ্রেষ্ঠ। কারণ ঈসা আলায়হিস সালাম জীবিত নবি আর মহানবি হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম ‘মৃত’। তাই সকলের উচিত ঈসা নবির অনুসরণ করা। এরকম নানা খোঁড়া যুক্তি এবং অর্থ ও জীবনমানের উন্নতির প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মুসলমানদেরকে খ্রিষ্টান ধর্মে দীক্ষিত করা হয়। তবে খ্রিষ্টান হয়ে যাওয়া এসব লোককে বুঝতে দেওয়া হয় না যে তারা খ্রিষ্টান হয়ে গেছে। তাদেরকে বলা হয়, ভ্রান্ত ইসলাম থেকে সঠিক ইসলাম তথা ‘ঈসায়ি ইসলামের’ দিকে ফেরত আনা হয়েছে। তাই তারা এখন থেকে ‘ঈসায়ি মুসলিম’। কুঁড়িগ্রামে খ্রিষ্টান এসব মিশনারির মুকাবেলায় সাধারণ মানুষদের মধ্যে ইসলামের সঠিক বাণী পৌঁছে দিতে কাজ করা কয়েকজন স্থানীয় দাঈ’র সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলার চেষ্টা করা হয়েছিল ফাতেহ টোয়েন্টি ফোর থেকে। তাঁদের একজন উপরোক্ত তথ্যগুলো নিজের নাম গোপন করার শর্তে প্রদান করলেও অন্যান্য দাঈরা কথা বলতেই অপারগতা জানিয়েছেন। তাদের কথাবার্তায় ছিল ভয় এবং আতঙ্কের ছাপ। এ ছাড়া টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার বেশ কয়েকটি ইউনিয়নেও চলছে খ্রিষ্টান মিশনারিদের কার্যক্রম। সেখানকার দারিদ্র পীড়িত এবং সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের অসহায়ত্বকে পুঁজি করে সেবার আড়ালে ধর্মান্তরের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে খ্রিষ্টান মিশনারিরা। স্থানীয় মসজিদের ইমাম এবং কয়েকজন দাঈ’র সঙ্গেও মুঠোফোনে কথা বলার চেষ্টা করা হয়েছিল ফাতেহ টুয়েন্টি ফোর থেকে। কিন্তু নাম প্রকাশ করে বা বিস্তারিতভাবে কোনো তথ্য দিতে রাজি হননি কেউই। নাম গোপন রাখার শর্তে তাদের দুজন কেবল একটি ইউনিয়নের কথা বলেছেন। মধুপুরের শোলাকুড়ি ইউনিয়ন। এ ইউনিয়নে উপজাতিদের বসবাস রয়েছে। বেশ অনেক বছর ধরো খ্রিষ্টান মিশনারিরা সেবার আড়ালে ধর্মান্তকরণে কাজ করে আসছে। বিশ বছর আগেও যেখানে একজন মানুষও খ্রিষ্টান ছিল না, সেখানে এখন দলে দলে মানুষ খ্রিষ্টান ধর্মে দীক্ষা লাভ করেছে। তাঁরা বলছেন, ডাক্তার এড্রিক বেকার নামের যে একজন খ্রিষ্টান ডাক্তার ও তাঁর প্রতিষ্ঠিত ক্লিনিকের প্রতিবেদন ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’তে সম্প্রতি প্রচারিত হয়েছে, এবং মানবসেবার জন্য যিনি প্রশংসিত হচ্ছেন, তিনি মূলত খ্রিষ্টান মিশনারিরই লোক। তাঁর প্রতিষ্ঠিত কালিয়াকুরি ক্লিনিকটিও মিশনারির অর্থায়নে পরিচালিত। সেবার আড়ালে তাঁদের মূল উদ্দেশ্য দারিদ্রপীড়িত স্থানীয় মানুষদেরকে খ্রিষ্ট ধর্মে দীক্ষিত করা। স্থানীয় দাঈদের এমন আতঙ্কগ্রস্ততা এবং এ বিষয়ে কথা বলতে অপারগতা প্রকাশের কারণ জানতে চেয়ে কথা হয়েছিল এই অঙ্গনের সঙ্গে সম্পৃক্ত রাজধানীর কয়েকজন দাঈর সঙ্গে। তারা ফাতেহ টোয়েন্টি ফোরকে জানান, খ্রিষ্টান মিশনারিদের মুকাবেলায় বাংলাদেশে যারাই কাজ করছেন প্রত্যেকেই একটা চাপ ও হুমকির ভেতর দিয়ে যাচ্ছেন। কঠোর নজরদারির ভেতর রাখা হয়েছে তাদেরকে। এমনকি প্রত্যেকের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনও নজরদারির আওতায় রয়েছে। বিশেষ করে স্থানীয় দাঈদের ওপর এই নজরদারিটা বেশি। তাদের সঙ্গে কারা যোগাযোগ করছে, কীভাবে করছে, এসব কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।
#ভারতে হিন্দু ধর্মের একটি শাখা সম্প্রদায় আছে, যেখানে মেয়েদেকে পুরুষের ছেঁড়া জুতার চেয়েও নিকৃষ্ট মনে করা হয় । ভারতের দক্ষিণ রাজস্থানের ভিলওয়ারা এলাকায় এরা বসবাস করে। এখানেই আছে বাংকায়া মাতার মন্দির। এই মন্দিরে গেলেই দেখা যায় পুরুষের জুতো মুখে করে পান পান করছে মেয়েরা। এই মন্দিরে খুব সাধারণ দৃশ্য এটা। এখানে মেয়েরা এসে পুরুষের ছেঁড়া জুতা দিয়ে পানি খায়,ছেঁড়া জুতা মুখে কাঁমড়ে ধরে ও ছেঁড়া জুতা মাথায় নিয়ে পূঁজা করে অশুভ শক্তির হাত থেকে মুক্তি পাওয়ার আশায়। এখানে শুধু পুরুষের ছেঁড়া জুতাই লাগে । কারণ পুরুষ শক্তির প্রতীক। মুক্তির জন্যই তারা এমন সব রীতি মানেন যা প্রত্যক্ষ করাও #অত্যন্ত_অপ্রীতিকর । শুধু জুতো ধোয়া পানি খাওয়া ই শেষ নয়, তার আগে মাইলের পর মাইল পুরুষের সেই ছেঁড়া জুতা মাথায় নিয়ে হেঁটে মন্দিরে আসতে হয়। এর পরে প্রায় ২০০টি সিঁড়ি টপকে নামতে হয় মন্দির সংলগ্ন পুকুরে। এর পরে জুতো ধুয়ে এই ময়লা পানি পান করতে হয়। এখানেও শেষ নয়। এর পরে ফের একটি জুতা মুখে ও অন্য জুতা মাথায় করে নিয়ে বাড়ি ফিরতে। এসব তারা করে দাম্পত্য জীবনকে অশুভ শক্তির থেকে মুক্তি পাওয়ার আশায়।
আমাদের প্রিয় শহর #তিলোত্তমা_ঢাকা’কে নিয়ে কিছু #প্রবাদ আছে—রাতে মশা দিনে মাছি,এই নিয়ে ঢাকায় আছি।যাইহোক,প্রাইমারী স্কুল পর্যন্ত ঠিকানা লিখিতে জিলাঃ ঢাকা’ই লিখিতাম । যদিও মরহুম এরশাদ কাকুর কৃপায় ঢাকা পঞ্চ ভাগে বিভক্ত হইয়াছে। ফলে আমরাও ঢাকাকে ত্যাজ্য করিয়া গাজীপুর নিবাসী হইয়াছি । কিন্তু ঢাকা আমাদের ছাড়িবার পাত্র নহে । ঢাকার ধুলাবালি, ডাষ্টবিনের সুগন্ধ,কান ফাটানো গাড়ীর হর্ণ,হেলপারের চিৎকার,কুলিদের হাকডাক ও ভিক্ষুকদের সঙ্গীত শুনিতে প্রায় প্রতিদিনই হাজিরা দিতে হয় আমাদের ।আমরাতো অভ্যস্ত, বাইরের জেলার বন্ধুদের জন্য কিছু সচেতনমূলক দিক নির্দেশনা দেয়া কর্তব্য মনে করছি । তাই জেনে নিন ঢাকায় এলে কি করবেন ও কি করবেন না—–
১// ঢাকায় চলাফেরার সময় কখনো বাসে জানালার পাশে বা রিকশায় বসে মোবাইল টিপবেন না। পাখির মত ছোহ মেরে কখন কে নিয়ে যাবে, টের পাবেন আড়াই মিনিট পর।কারণ এই আড়াই মিনিট আপনি ঠাহর করতেও পারবেননা মোবাইলটা কোন দিকে গেল। ।পকেটে বেশি টাকা রাখবেন না । কারণ–“#মসজিদের_শহর আমাদেরই ঢাকা ।তবু আছে বহু ভয় যদি সাথে থাকে টাকা” ।।কারণ চোরা না শোনে ধর্মের কথা
২// রিকশাতে বসে কোলের ব্যাগ রাখবেন না। পায়ের নিচে রাখুন। পাশ থেকে মটরসাইকেল কিংবা গাড়িতে করে এসে হ্যাঁচকা টান মেরে ছিনিয়ে নিবে সাথে আপনাকেও ফেলে দিতে পারে।আরো একটা জিনিস ঘটতে পারে । আপনি হয়তো জানেন বাংলাদেশে নাম স্বর্বস্ব বহু রাজনৈতিক দল আছে যাদের ঢাকা শহরে ব্যানার ধরার মত লোকও নেই । তাদের শুধু টিভির টকশো ও খবরে দেখা যায় । আপনি ঢাকার রাস্তায় হয়তো হাটছেন । কিন্তু তারা আপনাকে কাছে পেয়ে তাদের দলের লোক বলে চালিয়ে দিতে পারে। কেননা তাদের মিছিলের বেশিরভাগ লোকই ভাড়াকরা । এরাও এক প্রকার ছিনতাইকারী । ভুলেও এদের পাল্লায় পড়বেন না । ৩// রাস্তার কিছু খাবেন না, কিছুই না একেবারেই না। দূরপাল্লার যাত্রা হলে বাড়ি থেকে খাবার নিয়ে আসুন অথবা প্যাকেটজাত কিছু খান। পাশের যাত্রী কিছু দিলে তা ভুল করেও খাবেন না। নতুন বোতল পানি কিনে দিলেও না । হয়তো যে পানি বা ডাব কিংবা অন্য যে কোন খাবার কিনলেন, তাতেই থাকতে পারে চেতনানাশক ঔষধ বা বিষ। ৪// ট্রেন ভ্রমণে দরজার পাশে, দুই বগির পাশে দাড়াবেন না। কিংবা যতোই ভালো লাগুক দরজায় দাঁড়িয়ে বিড়ি সিগারেট খাবেন না। ট্রেনের ছাদে চলাচল যতোই রোমান্টিক লাগুক, যে গ্যাং গুলো ছিনতাই করে, তারা খুবই নির্দয় এবং বেপরোয়া। অনেক যাত্রীর লাশ পাওয়া যায় সারাদেশের ট্রেন লাইনের আশেপাশে। বেশিরভাগই বেওয়ারিশ হিসেবে দাফনকরে ফেলা হয়। দুই তিন জন হলে রিস্ক নিতে পারেন । তবে একা থাকলে সিট ছেড়েই উঠবেন না । ৫// কপাল খারাপ হলে ছিনত্যাইয়ের শিকার হবেন। আপনার পকেটে দামী ফোন ,ঘড়ি,টাকা ইত্যাদি। এসবক্ষেত্রে ভালো হয় এসবের মায়া ত্যাগ করা। কারণ যারা ছিনতাইকারী তাদের বেশিরভাগই নেশাগ্রস্থ ও অত্যন্ত নিষ্ঠুর।আপনার জীবনের দাম পৃথিবীর যেকোনো দামী বস্তুর চেয়েও অনেক বেশি। সব দিয়ে সরে পড়ুন । পেছনেও তাকাবেন না । পুলিশের সাহায্যের প্রশ্নই আসেনা । ৬// বান্ধবী বা মেয়ে বন্ধুর সাথে রেস্টুরেন্ট বা পার্কে যাচ্ছেন। হঠাৎ দেখবেন আপনার চারপাশে একদল ছেলের আবির্ভাব। এরা কিন্তু একটা গ্যাং। দেখবেন আপনাদের নিয়ে নানান রকম আজে বাজে কথা বলছে, বাজে ইঙ্গিত দিচ্ছে। আসলে ওরা চাইছেই আপনাকে উত্তেজিত করে একটাঝামেলায় বাঁধাতে। আপনি মাথা গরম করে ঝামেলায় জড়ালেন। ওরা আপনাকে অপমান করেছে বলে আপনি পাল্টা কিছু বললেন বা করলেন।এতেই তারা পেয়ে গেলো সুযোগ। ওরা তখন বাইরে থেকে নেতা গোছের কাউকে ধরে আনবে।{সেটা কোন বদ পুলিশও হতে পারে} যিনি এসেই আপনাকে আপনার বান্ধবীর সামনেই নানান রকমভাবে জেরা করবে। তারপর বিচারে আপনাকেই দোষী বানিয়ে দেবে। অত:পর মিটমাট করার নাম করে আপনার কাছ থেকে জরিমানা বাবদ টাকা পয়সা কিংবা দামী ঘড়ি, ফোন অথবা ল্যাপটপটা রেখে দেবে। তাই এসব জায়গায় কথা বাড়ানো মানেই ঝামেলা ডেকে আনা। আর নির্জন জায়গা হলে এদের দেখা মাত্রই না শোনার ভান করে কেটে পড়ুন। ৭// ট্রেনে,বাসে,বা লঞ্চে ভোররাতে ঢাকা এসে পৌঁছেছেন।সাবধান, সাহস দেখিয়ে রাস্তায় নামতে যাবেন না। বাসস্টপে বা ট্রেন স্টেশনেই বা সদরঘাটে অপেক্ষা করুন। সকালে যখন রাস্তায় যথেস্ট মানুষ থাকবে তখন বের হোন। ৮// রেল স্টেশনে বা সদরঘাটে নিজে নিজে বয়ে নিয়ে যেতে পারেন না এমন বোঝা নিয়ে এসেছেন তো মরেছেন। মাথায় করে পৌঁছেব দেয়ার নামে আপনার কাছ থেকে চাদাবাজী মতো ৪০০-৫০০ টাকা খসিয়ে ছাড়বে কুলিরা।এরা ডাকাতে চেয়েও ভয়ঙ্কর। তাই সাবধানে থাকুন, । দরদাম করে তারপর কুলি ঠিক করুন। ৯// নিউমার্কেট বা নীলক্ষেতের মত জায়গায় কেনা কাটা করতে গেলে খুবই সাবধান। কৌতুহলের বশে কোনো কিছুর দাম জিজ্ঞেস করলেও এখানে আপনাকে পাল্টা দাম বলার জন্য জোরাজুরি করবে। মনে রাখবেন এখানে মেজাজ দেখিয়ে লাভ নাই, এখানকার দোকানীরা সংঘবদ্ধ হয়ে কাজ করে।এবং ৯০% ই ছিনতাইকরীর বাপ !!! ১০// বাসে উঠলে প্যান্টের পিছনের পকেটে মোবাইল, মানিব্যাগ এসব কিছু রাখা নিরাপদ না। দেখবেন ভিড়ের মাঝে বাসে ওঠতেছেন যে কেউ টান মেরে নিয়ে যেতে পারে টের ও পাবেন না। তাই সামনের পকেটে এসব জিনিস রাখুন। ১১// বাণিজ্যমেলা, চিড়িয়াখানা, চন্দ্রিমা উদ্যান কিংবা শিশুপার্কে গিয়ে দাম খুব ভালো করে না জেনে কিচ্ছু খাবেন না।তবে না খাওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ। দেখা যাবে একটা সিঙ্গাড়া কিংবা আধা প্লেট বিরিয়ানি খাইয়ে ৪০০-৫০০টাকার বিল ধরিয়ে দেবে আপনাকে। ১২// রাতে ঘোরাঘুরি না করাই ভালো। ছিনত্যাইকারী ধরলে তো কথাই নেই। এমনকি পুলিশ( কিছু বিপদগামী সকলেই নয়)ধরলে সবচেয়ে বেশি বিপদ । যতই নির্দোষ হন, পুলিশ যদি বুঝতে না চায়আর আপনাকে আটকে রাখার নিয়ত যদি থাকে, তাহলে আপনার কিছুই করার থাকবে না। ১৩// বাসস্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে আছেন, হঠাৎ একটা মাইক্রোবাস এসে থামলো আপনার সামনে। সেটা প্রাইভেট গাড়িও হতে পারে। আপনাকে চালক বলবে সে গ্যারেজে ফেরার পথে বাড়তি কিছু ‘ট্রিপ’ নিচ্ছে। খুব অল্প ভাড়ায় আপনাকে পৌছে দেবার কথা বলবে। আপনি উঠবেন না। মেয়ে হলেতো একেবারেই না। ১৪// রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছেন। হঠাৎ ভদ্রবেশি কেউ এসে(সে হতে পারে ছেলে বা মেয়ে বা বয়ষ্ক পুরুষ কিংবা মহিলা)আপনার ফোন চাইলো। বললো, উনার কোন একটা সমস্যার কথা, এক্ষুনি একটা ফোন দিতে হবে কাউকে। আপনি বিশ্বাস করে ফোনটা দিলেন, দেখবেন পরক্ষণেই হুট করে বাইকে উঠে হাওয়া।আপনি শুধু কুরবানীর গরুর মত চেয়ে থাকবেন!!১৫// সাথে সবসময় আইডি কার্ড রাখুন। বিপদে পড়লে খুব কাজে দেয়। হয়তো কোনো দূর্ঘটনা ঘটেছে, অজ্ঞান হয়ে পড়ে আছেন, তখন যারা উদ্ধার কাজে আসবে তারা আপনার পরিবার পরিজনকে জানাতে পারবে। ১৬// নতুন বিবাহিত হলে এবং স্ত্রীকে সাথে নিয়ে ঘুরতে এলে কাবিননামার ছবি মোবাইলে তুলে রাখুন।তবে ব্যাগে একটি ফটো কপিও রাখবেন ।করণ মোবাই চুরি বা ছিনতাই হতে কতক্ষণ? কাবিননা এই জন্য রাখবেন, যে কেউ চ্যালেঞ্জ করলে যেন দেখাতে পারেন।মনে রাখবেন পুলিশ ছিনতাইকরীর বন্ধু (!!) । (সব পুলিশ না) । কখন কোন কাজে লেগে যাবে বুঝতেওপারবেন না।১৭// মসজিদে ঢুকার সময় জুতা ছোট্ট ব্যাগে নিয়ে ঢুকুন । নামাজীর ব্যাগ,মোবাইল, ল্যাপটপ ইত্যাদি নেয়ার জন্য নামাজীর বেশে মসজিদে ছদ্ধবেশি চোর থাকে । মসজিদে ঢুকে লাইনের মাঝখানে নামাজ পড়ুন ।
১৮//ঢাকায় বহু কথিত পীরের মাজার আছে । এবং অর্ধের মাজারেই কোন মানুষের কবর নেই ।তবে সব মাজারগুলোই খারাপ লোক ও নেশাখোরদের আখঁড়া । কবর বা মাজারের ধারে কাছেও ঘেষবেন না ।
১৯//আর ঢাকায় আসার পূর্বে আপনার রাগ কে বাড়ীতে রেখে আসুন । ভুলেও কারো সাথে ঝগড়া লাগতে যাবেন না । ছিনতাই করার একটি পুরোনা কৌশল হলো যে কোন ছুতায় ছিনতাইকারীরা টার্গেটের সাথে ঝগড়া লেগে ছিনতাই করে পালিয়ে যায় ।
২০// ভিক্ষুকদের সহজে ভিক্ষা দিতে যাবেন না । ভিক্ষুক যদি অনেক থাকে তবে একেবারেই ভিক্ষা দিবেননা । এক জনকে দিলেই হলো । বাকীরা আপনার প্যান্ট খুলে নেবে । মনে রাখবেন ঢাকার ৯৯% ভিক্ষুকই প্রফেশনাল অথবা ভিকটিম। এই ভিক্ষার ১% ও ভিক্ষুকরা পায়না ।
সবচেয়ে বড় কথা, সবসময় সতর্ক থাকুন, চোখ কান খোলা রাখুন। ঢাকায় যেমন ভাল মানুষের অভাব নেই তদ্রুপ সারা দেশের সকল খারাপ লোকগুলোও এই ঢাকায় এসেই জড়ো হয়েছে । ঢাকায় টুপি দাড়ি ওয়ালা সত্যিকার পরহেজগার লোক যেমন আছে তদ্রুপ এই টুপি দাড়ি ওয়ালা #ধাড়িবাজ চিটার বাটপার,ঘুষখোর,সিন্ডিক্যাট ব্যবসায়ী, ভেজালারী হাজীের অভাব নেই । এই #শহরের_নাম_ঢাকা । এখানে মানুষ উপর দিয়ে ভাল দেখালেও তাদের আসল চরিত্র থাকে সব সময়ই ঢাকা। মনে রাখবেন,আপনার নিরাপত্তা আপনারই হাতে এই বিষয়ে আপনারা সতর্ক থাকবেন।সর্বাবস্থায় আল্লাহর উপর ভরসা রাখুন । কেননা আল্লাহর উপর ভরসা রাখলে যে কোন বিপদে যে কাউকে আল্লাহ আপনার সাহায্যকারী হিসাবে পাঠাবেন । ইনশাল্লাহ নিশ্চিত থাকুন ।——-#মরুচারী_মুসাফির
গল্পকার বলতেই আমার চোখে এক মিথ্যেবাদী রাখালের ছবি ভাসে। যে মানুষকে গল্পে ভুলিয়ে রাখে। তার গল্পে সত্য মিথ্যার মাঝামাঝি এক অন্যরকম ধোঁয়াশা তৈরী হয়। আমাদের দেশেও এমন এক গল্প বলার রাখাল জন্মেছিলেন। ১৩ নভেম্বর ১৯৪৮ এর সন্ধ্যায়।
বাবা ছিলেন পুলিশ অফিসার। মা সাধারণ বাঙালী গৃহিণী। বাবার পোস্টিংয়ের সঙ্গে সঙ্গে তার শৈশবও ঘুরে বেড়িয়েছে দেশের নানা জায়গায়। মুক্তিযুদ্ধে তার বাবা শহীদ হলেন। তিনি পড়ে গেলেন বাংলাদেশের এক বিপন্ন সময়ের মুখে। উনিশশো একাত্তর সাল কেটে যায় জীবন ও পরিবারের ভয়ে পলাতক।
স্বাধীনতার আগে বাবা বেঁচে থাকতেই লেখালেখি শুরু করেছিলেন। লেখা প্রকাশ পায় স্বাধীনতার পরে। ১৯৭২ এর সালে তার প্রকাশিত প্রথম এবং লিখিত দ্বিতীয় উপন্যাস ” নন্দিত নরকে ” প্রকাশিত হয়।
হুমায়ূন আহমেদের একেকটি দিন ছিল বাংলা সাহিত্যের একেকটা নতুন গল্পের বাঁক। তিনি একটি জনাকীর্ণ রাস্তায় হেটে গেছেন, সেও এক গল্প। বন্ধুর বাড়িতে দুপুরের খাবার খেয়েছেন সেও এক গল্প। তার গল্প আমাদেরই বাংলাদেশের গল্প। ঢাকার কোনো এক তস্য গলিতে মেসের খাটে শুয়ে থাকা ভবঘুরে যুবকের গল্প। কিংবা রাজকীয় প্রাসাদের বারান্দায় কফির মগ হাতে দোলনায় দুলতে থাকা রাজকন্যার গল্প।
তার গল্পের একটা পুরোধা অংশে দাঁড়িয়ে আছে বাঙালী মধ্যবিত্ত সমাজ। সাধারণ চাকুরিজীবি পিতা। পরিবারের দুঃখ- কষ্ট, সুখ- আহলাদ, পিতার সীমিত সাধ্য ও প্রেম- ভালবাসার বহুবিধ টানাপোড়ন। হুমায়ূন আহমেদ আমাদের জীবনকে দেখেছেন ওপর থেকে। অনেকটা খোদা তাআলার মত। ( এটা রুপক অর্থে বলা হয়েছে। ) আমরা জীবনের ভেতর খেই হারিয়ে ফেলছি বারবার। আবার কোনো অযাচিত সুখ আমাদের ভাসিয়ে দিচ্ছে। এসব গল্প যখন তার লেখার ছত্রে পেয়েছি, তখন নিজেরই জীবনের প্রতিবিম্বের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আমরা হতবাক হয়ে গেছি।
এই জীবনে তিনি লিখেছেন উপন্যাস, সায়েন্স ফিকশন অল্প কিছু কবিতা আর গান। কিছু ইতিহাস আশ্রিত সফল উপন্যাসও লিখেছেন। সফল লেখকের আত্মবিশ্বাস নিয়ে তিনি এসেছিলেন সিনেমার জগতে। সাফল্যের সঙ্গে নির্মাণ করে গেছেন বাংলাদেশের ইতিহাসের কিছু প্রথমশ্রেনীর সিনেমা। তিনি ছিলেন বাংলাভাষার অতীতকালের সর্বোচ্চ জনপ্রিয় লেখক। তার সময়ে কিংবা তার আগে পরেও তার সমান জনপ্রিয় কাউকে দেখা যায় না।
তার সঙ্গে তুলনা করা যায় বাংলা সাহিত্যের কেবল শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কেই। তবু শরৎ আজ জাদুঘরের ফসিল হতে চলেছেন। মৃত্যুর পর হুমায়ূন হয়ে উঠছেন আরো মুল্যবান। একসময় তাকে নিয়ে কেবল পক্ষপাতের রাজনীতিই চলেছে। একপক্ষ তাকে সস্তা বাজারী বলে উড়িয়ে দিতে চেয়েছেন। অপরপক্ষ সব ছেড়ে কেবল তাকেই আঁকড়ে ধরেছেন। এই দুই প্রান্তিক মতের বাইরে অধুনা তাকে নিয়ে ভাবতে হচ্ছে আসলেই হুমায়ূন এই প্রান্তিকতার বলি হবেন কিনা!
খোলা চোখে দেখলে পরিস্কার হয়ে যায়, বাংলাভাষার এই রাজপুত্র যতখানি মেধা নিয়ে জন্মেছিলেন, কিংবা যতটা সক্ষমতা তিনি দেখাতে পেরেছেন তা দিয়ে তিনিও খুব গাম্ভীর্যপূর্ণ লেখক হতে পারতেন। এটা তার জন্য অসম্ভব ছিল না। তবু কেন সারাজীবন একরকম খেলো বাতাবরণ ছড়িয়ে গেলেন, সে এক রহস্য! তার এই একান্ত নিজস্ব ভঙ্গিটাই বাংলা সাহিত্যের ক্ল্যাসিক স্টাইল হিসেবে দাঁড়িয়ে যাবে কিনা, এজন্য ইতিহাসের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে।
এক জীবনে তিনি সমালোচিতও হয়েছেন প্রচুর। জীবনের শেষ লগ্নে এসে সমালোচিত হয়েছেন সংসার, দ্বিতীয় বিবাহ ইত্যাদির কারণে। আমাদের বাংলাদেশের অনভ্যস্ত সমাজ খুব সহজে তার এই সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারেনি।
হিমু মিসির আলীর এই দুই বিপরীতমুখী রহস্যের জগত সৃষ্টির পিতা নিজেও সারাজীবন ধর্ম অধর্মের দ্বন্দ্বে দুলেছেন। নিজেকে কেবলই আড়াল করে গেছেন। এলেবেলের মত বিতর্কিত বই লিখেছেন। বলেছেন মৃত্যুর পরে মাটি হয়ে যাব, আবার তিনিই কেঁদে উঠেছেন করুণ আঁকুতির সুরে, রে যাদুধন! আমার মুখে কলমা তুলে দিও ” হিসেব নিকেশ শেষ হয়েছে একদিন। রাখালের গল্প বলা সাঙ্গ হয়। বাঘের মত মৃত্যু থাবা মেলে ছুটে আসে। ২০১২ সালের এইদিনে হাসপাতালের বদ্ধ কামরায় শুয়ে মারা যান। চান্নি পসর রাত দেখা হয়নি রাখালের। আমরা তার মঙ্গল কামনা করি।
টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার কাইলাকুড়ি স্বাস্থ্য পরিচর্যা কেন্দ্র নিয়ে বহুল প্রচারিত ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’তে একটি প্রতিবেদন প্রচারিত হয়েছে সম্প্রতি। ‘ইত্যাদি’র উপস্থাপক হানিফ সংকেত সরেজমিন প্রতিবেদন করেছেন স্বাস্থ্য পরিচর্যা কেন্দ্রটি নিয়ে।
প্রতিবেদনে দেখানো হয়, ক্লিনিকটির প্রতিষ্ঠাতা ডাক্তার এড্রিক বেকার নামক এক পশ্চিমা খ্রিষ্টান নাগরিক। তিনি নিজ দেশের আরামের জিন্দেগি ছেড়ে নিরেট মানবসেবার জন্য বাংলাদেশের সুবিধাবঞ্চিত প্রত্যন্ত এই এলাকায় স্থায়ীভাবে চলে এসেছিলেন। এবং ‘কেবলই’ সুবিধাবঞ্চিত মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে আমৃত্যু তিনি এ ক্লিনিকটি নিয়ে কাইলাকুড়িতেই পড়ে ছিলেন। এখানেই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন এবং স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটির দাওয়ায় তাঁর শেষ ইচ্ছানুযায়ী তাঁকে সমাহিত করা হয়েছে। মানবসেবার কারণে এলাকায় তিনি ‘ডাক্তার ভাই’ নামে পরিচিত ছিলেন।
ইত্যাদির ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ডাক্তার ভাই তাঁর মৃত্যুর পূর্বে বাংলাদেশের ডাক্তারদের কাছে আহ্বান জানিয়েছিলেন, বাংলাদেশি ডাক্তারদের কেউ যেন এই ক্লিনিকটির দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং সুবিধাবঞ্চিত এই উপজাতি এলাকার মানুষগুলোর ফ্রি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করেন। কিন্তু বাংলাদেশি ডাক্তারদের কেউই তাঁর এই আহ্বানে সাড়া দেননি, কিছুদিন পর ডাক্তার ভাইও মারা যান।
অবশেষে দুবছর পর তাঁর এই আহ্বানে সাড়া দিয়েছেন আমেরিকার খ্রিষ্টান তরুণ এক ডাক্তার দম্পতি। তাঁরা এড্রিকের মানবতাবাদী এই কাজে উদ্বুদ্ধ হয়ে ২০১৮ সালে ছোট ছোট চার শিশু সন্তান নিয়ে আমেরিকার বিলাস বহুল জীবন ছেড়ে প্রত্যন্ত এ গ্রামে চলে এসেছেন। এবং ‘নিঃস্বার্থভাবে’ আর্তমানবতার সেবায় নিজেদেরকে উৎসর্গ করেছেন।
হানিফ সংকেতের এই প্রতিবেদন ইত্যাদিতে প্রচারিত হবার পর এড্রিক বেকার ও তরুণ ডাক্তার দম্পতির মানবতা নিয়ে যেমন উচ্ছ্বসিত প্রশংসা হচ্ছে, তেম্নি এই মানবতাবাদের আড়ালে লুকিয়ে থাকা ধর্মান্তরবাদ নিয়েও হচ্ছে জোর সমালোচনা। একই সঙ্গে বাংলাদেশের বিশেষজ্ঞ ডাক্তাররাও এই প্রতিবেদনে দেশি ডাক্তারদের হেয় প্রতিপন্ন করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন।
ক্ষুব্ধ বাংলাদেশি ডাক্তারগণ
চিকিৎসা সংক্রান্ত অনলাইন পত্রিকা মেডি ভয়েস ডটকমের সম্পাদকীয়তে আজ (২ ডিসেম্বর) হানিফ সংকেতের ওই প্রতিবেদনের কড়া সমালোচনা করা হয়েছে। পেশাজীবী নেতা ডা. বাহারুল আলম সেই সম্পাদকীয়তে বলেন, তৎকালীন ভারতবর্ষে পাশ্চাত্যের আধিপত্য ও উপনিবেশিকতা পাকাপোক্ত করার জন্য ব্রিটিশরা দাতব্য বা মিশনারি প্রতিষ্ঠান স্থাপনে সুপরিকল্পিত অপকৌশলের আশ্রয় নেয়। উদ্দেশ্য- একটি সাদা চামড়ার পাশ্চাত্যের ব্রিটিশরা কত দয়ালু ও মহান সেটা প্রমাণ করা! বিপরীতে ভারতীয়রা কত কাঙ্গাল ও করুণা ভিক্ষা চাইতে ভালবাসে! যা প্রকারান্তরে ভারতের উপর ব্রিটিশদের আধিপত্য, শোষণ, নির্যাতনে সহায়ক শক্তি হিসাবে ভূমিকা রেখেছে এবং এখনও ভারতবর্ষে সেই উপনিবেশিকতার প্রভাব বজায় আছে। সেই প্রচারে ভূমিকা রেখেছে হানিফ সংকেত ও তার ইত্যাদি।
তিনি বলেন, হানিফ সংকেত ও তার ইত্যাদির প্রচারে যারা প্রশংসায় পঞ্চমুখ, তাদের দু’শ বছরের উপনিবেশিকতার ইতিহাস স্মরণে রাখা উচিত। শিক্ষা, সংস্কৃতি ও দাতব্যের অপকৌশলের আড়ালে আমাদের মনোজগতে ব্রিটিশ শাসন মেনে নেওয়ার মানসিকতা সৃষ্টি করেছিল। হানিফ সংকেতের ইত্যাদির প্রচার সে অপকৌশলের বিবর্তিত অধ্যায়।
এদিকে মেডি ভয়েসের অপর একটি মতামত কলামে ডা. আবদুর রব নামে একজন বিশেষজ্ঞ মেডিকেল অফিসার বলেছেন, ডা. এড্রিক বেকার বা তাঁর উত্তরসূরি আমেরিকান ডাক্তার দম্পতির এই মানবসেবা আলাদাভাবে বিশেষায়িত করার কিছু ছিল না। কারণ, এ দেশে অসংখ্য ডাক্তার এমন আছেন যারা নিজ এলাকায় নামমাত্র ভিজিটে অথবা একদম ফ্রিতে মানুষকে চিকিৎসা পরামর্শ দিচ্ছেন। ইত্যাদি অনুষ্ঠান সেসব ডাক্তারদের নিয়ে কোনো প্রতিবেদন করার আগ্রহ দেখায় না, আগ্রহ কেবল সাদা চামড়ার লোকজনের লৌকিক মানবসেবায়!
তিনি ক্ষোভ ঝেড়ে বলেন, সাদা চামড়ার লোকজন নামমাত্র চিকিৎসা সেবা দিয়ে ইত্যাদির কাছে তাঁরা হয়ে যায় হিরো, আর আমরা কালো চামড়ার লোকজন প্রত্যন্ত অঞ্চলে গিয়ে প্রতিদিন হাজারও রোগীকে নামমাত্র ফি’র বিনিময়ে চিকিৎসাপরামর্শ দিয়ে ‘কসাই’ই থেকে যাই।
ডা. আবদুর রব বলেন, পাইকগাছায় যে জায়গায় আমি বসি সেটা একটা ডায়াবেটিক সেন্টার। বাংলাদেশ ডায়াবেটিস সমিতির একটা অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান। এখানে প্রতি শুক্রবার বিএমএ’র কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক ডা. শহীদুল্লাহ বিনামূল্যে যে পরিমান ডায়াবেটিস আক্রান্ত রোগী দেখেন এবং প্রতি ইউনিয়নে ফ্রি ক্যাম্পের নামে যে পরিমান রোগী ওষুধসহ ফ্রি দেখেন, ডা. বেকার তার ভগ্নাংশ পরিমাণ রোগীও চোখে দেখেননি। কই, জনাব হানিফ সাহেব ডা. শহীদুল্লাহকে নিয়ে তো ইত্যাদিতে প্রচার করেননি? নাকি প্রচারের জন্য সাদা চামড়ার হতে হবে, খ্রিষ্টান মিশনারির লোক হতে হবে, সারা জীবন বিয়ে না করে থাকতে হবে আর সুদূর আমেরিকা থেকে ক্যাথলিক ধর্মীয় আবেগে খ্রিষ্টধর্ম প্রচারের উদ্দেশ্যে মানব সেবা করতে হবে?
মানবতাবাদী ডাক্তার নাকি ধর্মান্তরবাদী মিশনারি?
ডা. এড্রিক বেকার কি উপজাতি অধ্যুষিত এই অঞ্চলে কেবলই মানবতার তাগিদে জীবন পার করেছিলেন, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য আছে, জানতে চেয়ে ফাতেহ টুয়েন্টি ফোর থেকে কথা বলেছিলাম মধুপুরের স্থানীয় কয়েকজনের সাথে।
তাঁদের কেউই নামপ্রকাশ করে মিডিয়ায় এ ব্যাপারে কথা বলতে রাজি হননি। নাম-পরিচয় গোপন করার শর্তে প্রত্যেকেই জানিয়েছেন মধুপুরের শোলাকুড়ি ইউনিয়নে মূলত উপজাতিদের বসবাস। এখানে বেশ অনেক বছর ধরে খ্রিষ্টান মিশনারিরা সেবার আড়ালে ধর্মান্তকরণের কাজ করে আসছে। একসময় যেখানে একজন খ্রিষ্টানও ছিল না, সেখানে উপজাতিদের উল্লেখযোগ্য একটা অংশ এখন খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করেছে। ওই এলাকায় খ্রিষ্টান মিশনারিরা বেশ কয়েকটি স্কুল ও ক্লিনিক স্থাপন করেছে। এগুলো মিশনারিদের অর্থায়ন ও সরাসরি তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়। ডাক্তার বেকারের কালিয়াকুড়ি হাসপাতাল এগুলোরই একটি। তিনি মূলত খ্রিষ্টান মিশনারিদেরই লোক। উপজাতিদের মধ্যে খ্রিষ্টবাদ প্রচারের লক্ষ্যেই তিনি এ হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করেছেন। এবং সেবার আড়ালে মানুষকে এখান থেকে মূলত খ্রিষ্টধর্মের প্রতিই আকৃষ্ট করা হয়।
তাঁরা বলেন, ডাক্তার ভাইয়ের মৃত্যুর পর যে ডাক্তার দম্পতি এখানে এসেছেন, তাঁরাও খ্রিষ্টান মিশনারির লোক। ক্যাথলিক খ্রিশ্চিয়ান মিশনের তত্ত্বাবধানেই তাঁরা এখানে এসেছেন। এবং তাঁদের যাবতীয় ভরণ-পোষণের ব্যবস্থা মিশনারিই করে থাকে।
একই কথা বলছেন ডা. আবদুর রবও। তিনি বলেন, ডা. বেকারের প্রতিষ্ঠিত হাসপাতালটি একটি মিশনারি হাসপাতাল। এটা বিদেশি ডোনেশনে চলে। কিছু স্থানীয় দানও আছে। যারা এখানে কাজ করছেন একেবারে ফ্রি নয়, মিশন থেকে টাকা পান। ক্যাথলিক খ্রিশ্চিয়ান মিশন। এই মিশনের উদ্দেশ্য কী, (খ্রিষ্টবাদের প্রচার এবং মানুষকে ধর্মান্তরিত করা) তা কারও অজানা থাকার কথা না।
ডা. রব বলেন, বাংলাদেশের কিছু ডাক্তার এখানে একই সিস্টেমে কাজ করার আগ্রহ দেখিয়েছিলেন। স্বয়ং ডা. বেকার অপারগতা দেখিয়ে বলেছিলেন, দেশি ডাক্তার এলে মিশনের ফান্ডিংয়ে সমস্যা হবে। এইখানে কে কাজ করবে সেটা মিশনের ঠিক করে দেয়। এর পরেও গণস্বাস্থ্য মেডিকেলের দুই জন ডাক্তার প্রতি সপ্তাহে ফ্রি চিকিৎসা দেন সেখানে। ইত্যাদির রিপোর্টে অত্যন্ত চতুরতার সাথে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে সেটি এবং আমার মতো গ্রামে পড়ে থাকা ডাক্তারদেরকে স্রেফ অপমান করা হয়েছে। https://fateh24.com/%e0%a6%8f%e0%a6%a1%e0%a7%8d%e0%a6%b0%…/…
দেশের উপজাতি-অধ্যুষিত ও দারিদ্র্য-পীড়িত প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতে খ্রিষ্ট ধর্মে ধর্মান্তরিত করার প্রবণতা ‘ভয়াবহ আকারে’ বেড়েই চলেছে। পশ্চিমা বিশ্বের অর্থায়নে পরিচালিত এনজিও ও খ্রিষ্টান মিশনারি সংস্থাগুলো সেবা ও উন্নত জীবনের প্রলোভনে উপজাতি ও দারিদ্র্য-পীড়িত হিন্দু মুসলিমসহ উপজাতীয় ধর্মে বিশ্বাসীদেরকে খ্রিষ্ট ধর্মে দীক্ষিত করে চলেছে। খ্রিষ্ট ধর্ম প্রচারে কোনো ধরনের বাধা-বিপত্তিকে তোয়াক্কা করছে না মিশনারিরা। বরং মুসলিম দাঈ কিংবা এ তৎপরতা সম্পর্কে সতর্ককারী স্থানীয় আলেমদেরকে নানা ধরনের চাপে রাখছে তারা। এমনকি প্রশাসনিক মাধ্যমেও এ সমস্ত দাঈকে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয় দাঈদের।
‘পার্বত্য চট্টগ্রামের চিত্র ভয়াবহ’
রাঙ্গামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি—তিনটি জেলা নিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের বিস্তৃতি। পার্বত্য চট্টগ্রামে সবচেয়ে আশঙ্কাজনকভাবে খ্রিষ্টান মিশনারিরা কাজ করছে। উপজাতিদের বড় একটি অংশ এখন খ্রিষ্ট ধর্মে দীক্ষিত হয়ে গেছে বলে জানাচ্ছেন অঞ্চলটিতে দাওয়াতি মেহনতের সঙ্গে জড়িত আলেম দাঈগণ। তাঁদের মধ্যে একজনের সঙ্গে কথা হয়েছিল ফাতেহ টুয়েন্টি ফোরের। নিরাপত্তা জনিত কারণে নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, ‘পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রায় প্রতিটি এলাকাই আমার ঘোরা হয়েছে। দাওয়াতি কাজে এই এলাকায় এত বার যাওয়া হয়েছে যে, অনেক এলাকা নিজের এলাকার মতোই আমার কাছে পরিচিত। দুঃখজনক হলো, আজ থেকে ২০-২২ বছর আগে এখানে ১ পার্সেন্টরও কম খ্রিষ্টান থাকলেও বর্তমানে খ্রিষ্টান মিশনারিদের তৎপরতার দরুণ এখানকার বড় একটি অংশ খ্রিষ্ট ধর্মে ধর্মান্তরিত হয়ে গেছে।
তিনি বলেন, ‘ছোট-বড় প্রায় ১৪টি উপজাতীয় গোষ্ঠীর বসবাস এই অঞ্চলে। তাদের মধ্যে মধ্যে ছোট ছোট যে গোষ্ঠীগুলো, তাদের প্রায় সকলেই খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করে নিয়েছে। গহীন পাহাড়ের ভেতর তাদের বসবাস, কিন্তু আপনি যদি সেখানে যান আর তাদের জীবনমান দেখেন, তবে মনেই হবে না, আপনি বাংলাদেশে আছেন, মনে হবে ওয়েস্টার্ন কোনো কান্ট্রিতে এসেছেন।
‘খ্রিষ্টান মিশনারিরা তাদের শিক্ষাদীক্ষা থেকে শুরু করে রাস্তা-ঘাট সব কিছু করে দিচ্ছে। বিনিময়ে তাদেরকে খ্রিষ্টধর্মে দীক্ষিত করছে। কনভার্টেড এসব খ্রিষ্টানদের সঙ্গে কথা বললে আপনি চমকো যাবেন। এদের ভাব ও আচারে মনেই হবে না এরা বাংলাদেশ নামক কোনো রাষ্ট্রকে স্বীকার করে। তাদের এমনও এলাকা আছে যেখানে খ্রিষ্ট মিশনারিদের দ্বারা প্রুফ করা। সেখানে যেতে হলে বিশেষ বাহিনীর পারমিশন লাগে। আর নির্দিষ্ট লোক ব্যতীত সেখানে ঢোকার পারমিশনও পাওয়া যায় না। রাঙ্গামাটির বড়কল উপজেলায় আছে এমন একটি এলাকা।
‘বান্দরবানের মিরিঞ্জা নামক একটা এলাকা আছে, সেখানের উঁচু এক টিলায় মং সম্প্রদায়ের বসবাস। যাদের অধিকাংশই খ্রিষ্টান হয়ে গেছে। খ্রিষ্টান মিশনারিদের কল্যাণে উন্নত হয়েছে তাদের জীবনমান। মং সম্পদায়ের নেতাদেরকে ‘কারবারি’ বলা হয়। সেখানে একবার সফরে গেলে এক কারবারির সঙ্গে কথা হয়েছিল আমার। সে জানাল, ধর্ম যে কোনো গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার, এমনটা ধারণায়ও ছিল না তাদের। একসময় তারা মনে করত জন্মসূত্রে মুসলিম না হলে কেউ মুসলিম হতে পারত না। এই খ্রিষ্ট মিশনারিরা আসার আগে তাদের কেউ কেউ মুসলিম হতে চাইলে এমন কেউ ছিল না, যে তাকে মুসলিম বানাবে। স্থানীয় বাঙালি মুসলিম যারা ছিল, তারা তাদেরকে মুসলিম সমাজে দাখিল করতে অস্বীকৃতি জানাত। খ্রিষ্টান মিশনারিরা এসে এখন তাদের মনোভাব বদলে দিয়েছে। দলে দলে তাই তারা খ্রিষ্ট ধর্মে দীক্ষিত হচ্ছে। সেই সঙ্গে পাচ্ছে উন্নত জীবনমানের ব্যবস্থা।’
খ্রিষ্টান মিশনারিদের মুকাবেলায় এসব এলাকায় ওলামায়ে কেরামের দাওয়াতি কার্যক্রম কেমন জানতে চাইলে আলেম এ দাঈ বলেন, তাদের তুলনায় আমাদের কার্যক্রম প্রায় শূন্যের কোঠায়। তাছাড়া আমরা সীমিত পরিসরে যারা কাজ করছি, তারাও নানাভাবে বাধার সম্মুখীন হচ্ছি। খ্রিষ্টান মিশনারিদের কৌশলী তৎপরতা এবং তাদের পাহারাদার উপজাতীয় সন্ত্রাসী গ্রুপগুলোর হিংস্রতা নানাভাবে আমাদের বাধাগ্রস্ত করে। সেখানে নতুন করে কোনো মসজিদ-মাদরাসা স্থাপন করতে হলে ব্যাপক বেগ পেতে হয়। স্থাপন করলেও সেটা সেখানে মোতায়েনকৃত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ক্যাম্পের আশপাশে করতে হয়। পাহাড়ের ভেতরে করার কোনো সুযোগ নেই। খ্রিষ্টান মিশনারি ও তাদের নিরাপত্তা বিধায়ক উপজাতীয় সন্ত্রাসী গ্রুপগুলো বাধা দেবে।
উত্তরাঞ্চলের দরিদ্র মুসলিমদেরকেও বানানো হচ্ছে খ্রিষ্টান
শিক্ষাদীক্ষা এবং সুবিধা বঞ্চিত উত্তরাঞ্চলেও খ্রিষ্টান মিশনারিদের তৎপরতা ভয়াবহ। উত্তরাঞ্চলের বন্যা কবলিত ও দারিদ্রপীড়িত জেলা কুঁড়িগ্রামে ব্যাপকভাবে তারা ধর্মান্তরের কার্যক্রম চালাচ্ছে। ধর্মীয় শিক্ষার আলো থেকে দূরে থাকা স্থানীয় মুসলমানদের নানা কৌশলে খ্রিষ্টান বানানো হচ্ছে। খ্রিষ্টধর্মে দীক্ষিত হয়ে যাওয়া এসব মুসলমানের অনেকে বুঝতেই পারছেন না যে তাঁরা খ্রিষ্টান হয়ে গেছেন।
স্থানীয় বেশ কয়েকজন দাঈ’র সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, খ্রিষ্টান মিশনারিরা স্থানীয় লোকদের মধ্যে কুরআন-হাদিসের বিভ্রান্তিকর ব্যাখ্যা সম্বলিত বিভিন্ন বই-পুস্তক বিতরণ করে। এবং এর মাধ্যমে মহানবি হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের ওপর হজরত ইসা আলায়হিস সালামের শ্রেষ্ঠত্ব দেখিয়ে তাঁর অনুসরণের দাওয়াত দেওয়া হয়। বলা হয়, বর্তমান যে ইসলাম, সেটার তুলনায় ‘ঈসায়ি ইসলাম’ শ্রেষ্ঠ। কারণ ঈসা আলায়হিস সালাম জীবিত নবি আর মহানবি হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম ‘মৃত’। তাই সকলের উচিত ঈসা নবির অনুসরণ করা।
এরকম নানা খোঁড়া যুক্তি এবং অর্থ ও জীবনমানের উন্নতির প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মুসলমানদেরকে খ্রিষ্টান ধর্মে দীক্ষিত করা হয়। তবে খ্রিষ্টান হয়ে যাওয়া এসব লোককে বুঝতে দেওয়া হয় না যে তারা খ্রিষ্টান হয়ে গেছে। তাদেরকে বলা হয়, ভ্রান্ত ইসলাম থেকে সঠিক ইসলাম তথা ‘ঈসায়ি ইসলামের’ দিকে ফেরত আনা হয়েছে। তাই তারা এখন থেকে ‘ঈসায়ি মুসলিম’।
কুঁড়িগ্রামে খ্রিষ্টান এসব মিশনারির মুকাবেলায় সাধারণ মানুষদের মধ্যে ইসলামের সঠিক বাণী পৌঁছে দিতে কাজ করা কয়েকজন স্থানীয় দাঈ’র সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলার চেষ্টা করা হয়েছিল ফাতেহ টোয়েন্টি ফোর থেকে। তাঁদের একজন উপরোক্ত তথ্যগুলো নিজের নাম গোপন করার শর্তে প্রদান করলেও অন্যান্য দাঈরা কথা বলতেই অপারগতা জানিয়েছেন। তাদের কথাবার্তায় ছিল ভয় এবং আতঙ্কের ছাপ।
এ ছাড়া টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার বেশ কয়েকটি ইউনিয়নেও চলছে খ্রিষ্টান মিশনারিদের কার্যক্রম। সেখানকার দারিদ্র পীড়িত এবং সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের অসহায়ত্বকে পুঁজি করে সেবার আড়ালে ধর্মান্তরের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে খ্রিষ্টান মিশনারিরা। স্থানীয় মসজিদের ইমাম এবং কয়েকজন দাঈ’র সঙ্গেও মুঠোফোনে কথা বলার চেষ্টা করা হয়েছিল ফাতেহ টুয়েন্টি ফোর থেকে। কিন্তু নাম প্রকাশ করে বা বিস্তারিতভাবে কোনো তথ্য দিতে রাজি হননি কেউই। নাম গোপন রাখার শর্তে তাদের দুজন কেবল একটি ইউনিয়নের কথা বলেছেন। মধুপুরের শোলাকুড়ি ইউনিয়ন। এ ইউনিয়নে উপজাতিদের বসবাস রয়েছে। বেশ অনেক বছর ধরো খ্রিষ্টান মিশনারিরা সেবার আড়ালে ধর্মান্তকরণে কাজ করে আসছে। বিশ বছর আগেও যেখানে একজন মানুষও খ্রিষ্টান ছিল না, সেখানে এখন দলে দলে মানুষ খ্রিষ্টান ধর্মে দীক্ষা লাভ করেছে।
তাঁরা বলছেন, ডাক্তার এড্রিক বেকার নামের যে একজন খ্রিষ্টান ডাক্তার ও তাঁর প্রতিষ্ঠিত ক্লিনিকের প্রতিবেদন ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’তে সম্প্রতি প্রচারিত হয়েছে, এবং মানবসেবার জন্য যিনি প্রশংসিত হচ্ছেন, তিনি মূলত খ্রিষ্টান মিশনারিরই লোক। তাঁর প্রতিষ্ঠিত কালিয়াকুরি ক্লিনিকটিও মিশনারির অর্থায়নে পরিচালিত। সেবার আড়ালে তাঁদের মূল উদ্দেশ্য দারিদ্রপীড়িত স্থানীয় মানুষদেরকে খ্রিষ্ট ধর্মে দীক্ষিত করা।
স্থানীয় দাঈদের এমন আতঙ্কগ্রস্ততা এবং এ বিষয়ে কথা বলতে অপারগতা প্রকাশের কারণ জানতে চেয়ে কথা হয়েছিল এই অঙ্গনের সঙ্গে সম্পৃক্ত রাজধানীর কয়েকজন দাঈর সঙ্গে। তারা ফাতেহ টোয়েন্টি ফোরকে জানান, খ্রিষ্টান মিশনারিদের মুকাবেলায় বাংলাদেশে যারাই কাজ করছেন প্রত্যেকেই একটা চাপ ও হুমকির ভেতর দিয়ে যাচ্ছেন। কঠোর নজরদারির ভেতর রাখা হয়েছে তাদেরকে। এমনকি প্রত্যেকের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনও নজরদারির আওতায় রয়েছে। বিশেষ করে স্থানীয় দাঈদের ওপর এই নজরদারিটা বেশি। তাদের সঙ্গে কারা যোগাযোগ করছে, কীভাবে করছে, এসব কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।
দখলের মহোৎসব অব্যাহত আছে ।ক্রমবর্ধমান হারে কালীগঞ্জে শীতলক্ষ্যা নদী দখল-দূষণের শিকার হচ্ছে। পাশিপাশি নদী তীরবর্তী ভূমি, নদীর চর এবং নদী দখল করে গড়ে উঠা কল-কারখানার রাসায়নিক দ্রব্য ও বর্জ্যে নদীর পানি দূষিত হয়ে বিপজ্জনক মাত্রায় পৌঁছেছে। কালীগঞ্জ উপজেলার সীমান্ত ঘেঁষে প্রায় ১২ কিলোমিটার অংশ জুড়ে প্রবাহিত হচ্ছে শীতলক্ষ্যা নদী। এর মধ্যে প্রায় ১৫ একর রেকর্ডভুক্ত সিকস্তি (নদী তীরবর্তী ভূমি) এবং নদীর চর দখল করেছে চার কোম্পানি মিলে। এর বাহিরে আরো প্রায় ৮ একর নদী বরাট করেছে কোম্পানিগুলো। দখলদারদের মধ্যে রয়েছে, ভরসা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ লিঃ, প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ লিমিটেড এবং সেভেন রিং সিমেন্ট লিমিটেড। অপর দিকে নদী দখলে থাকার পরও রহস্যজনক কারণে তালিকায় নেই আবুল খায়ের গ্রুপ লিমিটেড এর নাম। স্থানীয়দের জীবনধারণসহ সামাজিক-অর্থনৈতিক উন্নয়নে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে শীতলক্ষ্যা। আজো শুধু শীতলক্ষ্যা নদীকে কেন্দ্র করেই অসংখ্য পরিবারের ভাগ্য নির্ধারণ হয়। মানবদেহে যেমন শিরা-ধমনির গুরুত্ব অসীম তেমনি জীববৈচিত্র্য টিকিয়ে রাখতেও নদীর গুরুত্ব অত্যধিক। অথচ দিনে দিনে নদীর বেশির ভাগ অংশই অসৎ লোকজন দখল-দূষণ করে যাচ্ছে। তবে বেশ কিছুদিন ধরে নদীরক্ষায় সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান তৎপর হয়েছে। আদালতের নির্দেশনা রয়েছে দখল-দূষণকারীদের কবল থেকে নদীকে রক্ষা করার জন্য। কিন্তু ‘দখলদারদের তালিকা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রতিবেদন প্রেরণ করে ‘ফাইল বন্ধ’ করাই যেন স্থানীয় প্রশাসনের সর্বোচচ দায়িত্ব! দখলারদের বিরুদ্ধে কোন ব্যাবস্থা নেওয়া যেন তাঁদের দায়িত্বের মধ্যেই পরে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের’। কারণ সরকারি হিসেবে শীতলক্ষ্যা নদীতে তিনটি প্রতিষ্ঠানের দখলের বিবরণী রয়েছে। তবু শীতলক্ষ্যা নদীকে দখল মুক্ত করার জন্য নেওয়া হচ্ছে না কোন পদক্ষেপ? যদিও শীতলক্ষ্যা সম্পর্কে কালীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে ‘রূপার মত স্বচ্ছ জলরাশিকে যে নদী ধারণ করে আছে তাই শীতলক্ষা। উৎসমুখ ব্রক্ষ্মপুত্র নদের দক্ষিন তীরস্থ কাপাসিয়া উপজেলার টোক নয়ন বাজারের নিকট খারসাদী (গার নদী) নামক স্থান এরপর একডালা হয়ে কালীগঞ্জের সীমানায় পড়েছে। কালীগঞ্জের পূর্ব দক্ষিণ সীমাত্ম শেষ করে মোক্তারপুর, জামালপুর, বাহাদুরসাদী, কালীগঞ্জ পৌরসভা, তুমুলিয়া ইউনিয়নের পার্শ্ব দিয়ে দক্ষিন প্রবাহিত হয়েছে। এক সময় এর প্রবাহ মধ্যগতির রূপে পরিগ্রহ করেছে। সূতী, বালু, চিলাই ইত্যাদি শীতলক্ষ্যার উপনদী। পূর্বে এই নদীতে প্রচুর মাছ পাওয়া গেলেও বর্তমানে কালীগঞ্জ এবং নরসিংদীর পলাশ উপজেলায় প্রচুর শিল্প কারখানা গড়ে উঠায় শিল্পবর্জের কারণে মাছ কম পাওয়া যায়’। সম্প্রতি শীতলক্ষ্যা নদীর দখলদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এক প্রতিবেদন পাঠিয়েছেন কালীগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (এসি-ল্যান্ড) মোহাম্মদ জুবের আলম। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পাঠানো ওই প্রতিবেদন উল্লেখ্য করা হয়েছে কালীগঞ্জ পৌরসভার মূলগাঁও মৌজায় ‘ভরসা গ্রুপ লিমিটেড’ অবৈধভাবে শীতলক্ষ্যা নদী দখল করে একটি এঙ্গেল হেড, সাতটি সেমি পাকা বিল্ডিং, তিনটি টিনসেড ঘড় এবং একটি ইটিপি প্লান্ট নির্মাণ করেছে। এছাড়া একই মৌজায় ‘প্রাণ-আরএফএল লিমিটেড’ একটি এঙ্গেল সেড, দুইটি সেমি পাকা বিল্ডিং, একটি পাকা বিল্ডিং এর অংশ বিশেষ এবং দুইটি টিন সেড বিল্ডিং নির্মাণ করেছে। এবং চরমিরপুর মৌজায় ‘সেভেন রিং সিমেন্ট লিমিটেডে’ একটি সেমি পাকা বিল্ডিং, চারটি বিল্ডিং নির্মাণ এবং নদীতে রয়েছে তাঁদের চারটি ক্রেন । কিন্তু প্রতিবেদনে দখলকৃত নদী এবং নদীর জমির পরিমাণ এবং পরিবেশ দূষণের বিষয়ে কোন তথ্য উল্লেখ নেই! এছাড়াও বালিগাঁও মৌজার আর.এস নকশার ২ নং সিটভুক্ত সরকারি ১ নং সহ বিভিন্ন খতিয়ানে থাকা সিকস্তি (নদী তীরবর্তী ভূমি) জমি ও নদী দখলের অভিযোগে বিভিন্ন সময়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে নদী দখলমুক্ত করার পাশাপাশি জরিমানা করা হয়ে থাকলেও রহস্যজনক কারণে ‘আবুল খায়ের গ্রুপ লিমিটেড’ এর নাম নেই নদী দখলদারদের তালিকায়।২০১৮ সালের ৩ মার্চে দিনে দুপুরে অবৈধ গজারী গাছের পাইলিং দিয়ে শীতলক্ষ্যা নদী দখলের অভিযোগ উঠেছিল আবুল খায়ের গ্রুপের বিরুদ্ধে। এরপর ওইদিনই সরকারী সম্পদ দখল ও অপব্যবহারের অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাথমিকভাবে তাদের কাজ বন্ধ করেছিলেন তৎকালীন কালীগঞ্জ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) সোহাগ হোসেন। এছাড়াও চলতি বছরের ১৭ জানুয়ারি নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে শীতলক্ষ্যা নদীর কালীগঞ্জ অংশে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে নদীর জমিতে স্থাপিত আবুল খায়ের গ্রুপের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করছিল বিআইডব্লিউটিএ। তবুও দখলদারের তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার হয়েছে ‘আবুল খায়ের গ্রুপ লিমিটেড’এর। সরেজমিন এবং তথ্য অধিকার আইন অনুযায়ী আবেদন করে পাওয়া নথিপত্র পর্যালোচনা করে জানা যায়, কালীগঞ্জ পৌরসভার বালিগাঁও মৌজার অনুমানিক প্রায ৮০ একর ‘ফসলি’ জমিতে গড়ে উঠেছে আবুল খায়ের গ্রুপ লিমিটেড এর কয়েকটি ফ্যাক্টরি। এর মধ্যে রয়েছে ১ নং খতিয়ানভুক্ত আর এস ২০৮৭ নং দাগে ৪৫ শতাংশ একটি হালটসহ প্রায় ৩ একর সিকস্তি জমি যা ‘সম্পূর্ণ সরকারী সম্পত্তি’ কিন্তু তাদের দখলে। এছাড়াও প্রায় আরো ১ একর নদী দখল করেও বরাট করেছে কোম্পানিটি।এছাড়া কোম্পানির নামে মাত্র ০৬ একর ০১৪৪ শতাংশ জমি নামজারি করে অফিসিয়াল সকল কার্যক্রম পরিচালনা করছে আবুল খায়ের গ্রুপ। সরকারকে রাজস্ব বঞ্চিত করার উদ্দেশেই তাদের সকল জমি নামজারি করছে না কোম্পানিটি। এছাড়াও সকল জমি কোম্পানিটির নিজস্ব না হওয়ায় এবং ফসলি, সরকারি ও নদীর জমি থাকায় নামজারি করাও আইন অনুযায়ী বৈধ নয় বলে জানান ভূমি সংশ্লিষ্টরা। অপরদিকে কালীগঞ্জ পৌরসভার মূলগাঁও মৌজায় অনুমানিক প্রায ১৫ একর ‘ফসলি’ জমিতে গড়ে উঠেছে ‘ভরসা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ লিঃ’।এর মধ্যে অবৈধভাবে শীতলক্ষ্যা নদীর প্রায় ৩ একর জমি দখল করে রেখেছে কোম্পানিটি। যার বেশিরভাগই ১ নং খতিয়ানভুক্ত সিকস্তি ভূমি হিসেবে রেকর্ড রয়েছে। এছাড়াও প্রায় ০১ একর নদী দখল করে বরাট করেছে কোম্পানিটি। ভরসা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ লিঃ আনুমানিক প্রায় ৩ একর জমি নামজারি করে অফিসিয়াল সকল কার্যক্রম পরিচালনা করছে। অন্যদিকে কালীগঞ্জ পৌরসভার চরমিরপুর মৌজায় অনুমানিক প্রায ৮০ একর ‘ফসলি’ জমিতে গড়ে উঠেছে ‘সেভেন রিংস সিমেন্ট’ ফ্যাক্টরি। কিন্তু কোম্পানির নামে মাত্র ২৭ একর ৪৭৭৮ শতাংশ জমি নামজারি করে সকল কার্যক্রম পরিচালনা করছে কোম্পানিটি। সেভেন রিং সিমেন্ট লিমিটেডে অবৈধভাবে শীতলক্ষ্যা নদীর জমি দখল করে রেখেছে প্রায় ৪ একর। যার বেশিরভাগই ‘সিকস্তি’ ভূমি হিসেবে রেকর্ড রয়েছে। এছাড়াও আরো প্রায় ২ একর নদী দখল করেও বরাট করেছে কোম্পানিটি এবং ‘খ’ তফসিল গেজেটভুক্ত প্রায় ৮ একর অর্পিত সম্পত্তি দখল করে রেখেছে ‘সেভেন রিং সিমেন্ট লিমিটেডে’।এবং সার্বক্ষণিক নদীতে জাহাজ রেখে নদীর মধ্যে জটলার সৃৃৃষ্টি করে রাখে সেভেন রিংস সিমেন্ট ফ্যাক্টরি। এতে করে নদী দিয়ে চলাচলকারী নৌযান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে বলে জানান স্থানীয়রা। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে ‘সেভেন রিংস সিমেন্ট’ ফ্যাক্টরি বিআইডব্লিউটি এর কাছ থেকে একটি নৌ-জেটির অনুমোদন নিয়ে শত শত জাহাজ লোড-অনলোড করছে নদী দখল করে। এছাড়াও ওই এলাকার পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা হচ্ছে না সিমেন্ট ফ্যাক্টরির প্রতিনিয়ত বায়ু দূষণ হচ্ছে কারণে।অপরদিকে ‘ক’ তফসিল গেজেটভুক্ত চরমিরপুর মৌজার অর্পিত সম্পত্তির (কেস নথি নং ১৪৮/৬৭ এবং ১৬১/৭৫) ২ একর ৬১ শতাংশ জমি লীজ দেওয়া হয়েছে কোম্পানিটির নামে। কিন্তু সর্বশেষ ১৪২৫ বাংলা সালে লীজ মানি পরিশোধ করা হলেও এখনো লিজ বহাল রয়েছে। এবং কালীগঞ্জ পৌরসভার মূলগাঁও মৌজায় অনুমানিক প্রায ৭০ একর ‘ফসলি’ জমিতে গড়ে উঠেছে ‘প্রাণ-আর.এফ.এল গ্রুপ’। কিন্তু কোম্পানিটির নামে মাত্র ১৯ একর ৫৮১১ শতাংশ জমি নামজারি করেই সকল কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।‘প্রাণ-আরএফএল লিমিটেড’ এর দখলে রয়েছে শীতলক্ষ্যা নদীর প্রায় ২ একর জমি। যার সবটুকুই ১ নং খতিয়ানভুক্ত ‘সিকস্তি’ ভূমি হিসেবে রেকর্ড রয়েছে এবং তাদের দখলে রয়েছে ৬১ শতাংশ গোপাট এবং শ্মশানের ৮ শতাংশ জমি। আরো প্রায় ২ একর এর বেশি নদী দখল করেও বরাট করেছে কোম্পানিটি। এছাড়াও ‘প্রাণ-আরএফএল লিমিটেড’ ‘খ’ তফসিল গেজেটভুক্ত প্রায় তিন একর অর্পিত সম্পত্তি দখলে করেছে। আর শ্মশানের ৮ শতাংশ জমি দখল করে তার পরিবর্তে অন্য স্থানে একটি শ্মশান করে দিয়েছে বলে জানা গেছে। এবং ‘ক’ তফসিল গেজেটভুক্ত মূলগাঁও মৌজার অর্পিত সম্পত্তি (কেস নথি নং ০৪/৮০) ০.৪৩ শতাংশ জমি লীজ দেওয়া হয়েছে কোম্পানিটির নামে। যা ১৪২৬ বাংলা সাল পর্যন্ত লীজ মানি পরিশোধ করা হয়েছে। সরকারি খাস জমি অবৈধভাবে দখলের অভিযোগে ২০১০ সালের ১১ নভেম্বর ‘প্রাণ-আর.এফ.এল গ্রুপ’ এর বিরুদ্ধে একটি উচ্ছেদ মামলা দায়ের করা হয়েছিল (উচ্ছেদ মামলা নং-২৩/২০১০) প্রশাসনের পক্ষ থেকে। এছাড়াও অবৈধভাবে ‘প্রাণ-আর.এফ.এল গ্রুপ’ এর দখলে থাকা ২ একর ৩৬ শতাংশ সরকারি খাস জমি ছাড়ার জন্য ২০১৫ সালের ৩০ নভেম্বর একটি নোটিশ পাঠিয়েছিল তৎকালীন কালীগঞ্জ উপজেলা সহাকারী কমিশনার (ভূমি) শারমিন আক্তার। অপরদিকে একই উপজেলার মোক্তারপুর ইউনিয়নের একুতা মৌজায় কোন নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই অনুমানিক প্রায় দু’শ বিঘা ‘ফসলি জমি’ বরাট করেছে। ইতিমধ্যে কোম্পানির নামে ৭৫ বিঘা ‘ফসলি জমি’ নামজারি করে বিশাল কর্মযজ্ঞ চলছে প্রাণ আরএফএল গ্রুপের ‘কালীগঞ্জ ইকোনমিক জোন লিমিটেড’ নামে ইকোনমিক পার্কে তৈরির জন্য।এর মধ্যে রয়েছে ১ নং খতিয়ানভুক্ত সরকারী সম্পত্তির আর এস ৫৪৯ এবং ৬৪৯ নং দাগে গোপাট এবং হালট ৫০ শতাংশ। এর বাইরেও ১ নং খতিয়ানভুক্ত বালুচরসহ আরো ০১ একর বিভিন্ন শ্রেণির জমি। এছাড়াও বিভিন্ন খতিয়ানভুক্ত আর.এস রেকর্ডীয় ৩ একর ১৭ শতাংশ ‘বালুচর’সহ আরো ২ একর নদী দখল করে ভরাট করেছে কোম্পানিটি।কালীগঞ্জ উপজেলার তৎকালী সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ সোহাগ হোসেন(১৭২৬৫) গত ১২ ফেবরুয়ারি ২০১৯ কালীগঞ্জ থেকে অবমুক্ত হন। অপর দিকে নামাজারী ও জমাভাগ নথি নং ৬১৯,৬২০,৬২১,৬২২,৬২৩/১৮-১৯ অনুমোদন করা হয়েছে ওই একই তারিখে ‘কালীগঞ্জ ইকোনমিক জোন লিমিটেড’ এর নামে ফসলি জমিতে। ‘যা সম্পূর্ণ আইন বহির্ভূত বলে ধারণা করা হচ্ছে’। উইকিপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী শীতলক্ষ্যা নদী বা লক্ষ্ম্যা নদী বাংলাদেশের উত্তর-কেন্দ্রীয় অঞ্চলের নরসিংদীর পলাশ উপজেলা, গাজীপুরের কালীগঞ্জ ও কাপাসিয়া উপজেলা, ঢাকা এবং নারায়ণগঞ্জ জেলার একটি নদী। নদীটির দৈর্ঘ্য ১০৮ কিলোমিটার, গড় প্রস্থ ২২৮ মিটার এবং নদীটির প্রকৃতি সর্পিলাকার। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড বা “পাউবো” কর্তৃক শীতলক্ষ্যা নদীর প্রদত্ত পরিচিতি নম্বর উত্তর-কেন্দ্রীয় অঞ্চলের নদী নং ৫৫। এই নদীটি ব্রহ্মপুত্র নদের একটি উপনদী। এর গতিপথের প্রাথমিক পর্যায়ে এটি দক্ষিণ পশ্চিমে এবং পরে নারায়ণগঞ্জের পূর্ব দিয়ে কালাগাছিয়ার কাছে ধলেশ্বরী নদীর সাথে মিশেছে। এর উপরিভাগের একটি অংশ কাপাসিয়ায় বানর নদী নামে পরিচিত। নদীটি প্রায় ১১ কিলোমিটার লম্বা এবং নারায়ণগঞ্জের নিকটে এর সর্বোচ্চ প্রস্থ প্রায় ৩০০ মিটার। এর সর্বোচ্চ প্রবাহ ঢাকার ডেমরার কাছে ২,৬০০ কিউসেক। সারা বছর ধরে এর নাব্যতা বজায় থাকে। কালীগঞ্জ উপজেলার সহকারী কমিশনার ভূমি (এসি-ল্যান্ড) মোহাম্মদ জুবের আলম বলেন, শীতলক্ষ্যা নদী দখলদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সম্প্রতি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে পরবর্তী নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এছাড়াও তিনি আরো জানান, সকল দখলদারদের বিরুদ্ধেই পর্যায়ক্রমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মুজিবুর রহমান হাওলাদার বলেন, যারা নদী দখল করেছে যে সকল প্রতিষ্ঠানকে ইতিমধ্যে আমরা বলেছি দলকৃতস্থান থেকে স্থাপনা সড়িয়ে ফেলেতে। নদী দখলদারদের তালিকা থেকে অনেকে বাদ পড়েছে. যারা বাদ পড়েছে তাদের তালিকা আবার প্রকাশিত হবে। দখলদারদের বিরুদ্ধে পর্যায়ক্রমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। ঢাকার তুরাগ নদকে ‘জীবন্ত সত্তা’ ঘোষণা করে দেশের সকল নদ-নদী, খাল-বিল ও জলাশয়কে রক্ষার জন্য জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনকে ‘আইনগত অভিভাবক’ ঘোষণা করে চলতি বছর ফেব্রুয়ারিতে বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি মো. আশরাফুল কামালের হাই কোর্ট বেঞ্চ থেকে আসা ওই ঐতিহাসিক রায়ে বলা হয়েছে, নদী রক্ষা কমিশন যাতে নদ-নদী, খাল-বিল ও জলাশয় রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা নিতে পারে, সেজন্য আইন সংশোধন করে সরকারকে ‘কঠিন শাস্তির’ ব্যবস্থা করতে হবে। রায়ের নির্দেশনায় বলা হয়-# দেশের প্রতিটি জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন পরিষদকে নিজের এলাকার নদ-নদী, খাল-বিল, জলাশয়ের অবৈধ দখলদারদের চিহ্নিত করে তাদের নামের তালিকা জনসম্মুখে ও পত্রিকায় প্রকাশ করতে হবে।# নদী বা জলাশয় দখলকারী বা অবৈধ স্থাপনা নির্মাণকারীরা ব্যাংক ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে ‘অযোগ্য’ বিবেচিত হবেন। ঋণ দেওয়ার সময় আবেদনকারীর বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ আছে কি না তা খতিয়ে দেখার যথাযথ ব্যবস্থা করবে বাংলাদেশ ব্যাংক।# জাতীয় বা স্থানীয়- কোনো ধরনের নির্বাচনে প্রার্থীর বিরুদ্ধে নদী দখলের অভিযোগ থাকলে তাকে নির্বাচনের অযোগ্য ঘোষণা করবে নির্বাচন কমিশন। সে ব্যপারে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে।# দেশের সকল সরকারি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রতি দুই মাসে কমপক্ষে এক ঘণ্টা ‘নদী রক্ষা, সুরক্ষা, দূষণ প্রতিরোধ’, নদ-নদীর প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে সচেতনতামূলক পাঠদানের ব্যবস্থা করতে হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় এ নির্দেশনা বাস্তবায়ন করবে।# দেশের সকল শিল্প কারখানার সকল শ্রমিক কর্মচারীর অংশগ্রহণে প্রতি দুই মাসে এক দিন এক ঘণ্টা সচেতনতামূলক সভা বা বৈঠক করতে হবে। শিল্প মন্ত্রণালয় এ নির্দেশনা বাস্তবায়ন করবে।# দেশের প্রতিটি ইউনিয়ন, উপজেলা, পৌরসভা, জেলা ও বিভাগে প্রতি তিন মাসে একবার নদী বিষয়ে দিনব্যাপী সভা-সমাবেশ, সেমিনার করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ নির্দেশনা বাস্তবায়ন করবে।https://www.gazipurkontho.com.bd/2019/09/28/%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a7%80%e0%a6%97%e0%a6%9e%e0%a7%8d%e0%a6%9c%e0%a7%87-%e0%a6%9a%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%95%e0%a7%8b%e0%a6%ae%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%b0/?fbclid=IwAR2Np4wG9jhswqosJwq6jOXQBUyHUbFmy0iwXkL-aLgtdZ4jWbfqIR2x2sE
এভাবেই চলে যাচ্ছে দেশের সেবা খাতগুলো বিদেশী #NGO দের দখলে । প্রথমে সেবা দিয়ে শুরু করেন তারা । প্রকৃত সেবা ও চিকিৎসা দিয়ে মন জয় করে নেয় জনগণের । তারপর সেবা ও চিকিৎসক সেজে আসেন তাদের ধর্মগুরু তথা ফাদাররা । এবং চিকিৎসা সেবা ও ঔষধের বিনিময়ে কিনে নেয় হাজার হাজার গরীব মুসলীমের ঈমান । অতঃপর বছরের বিভিন্ন সময় বিভিন্ন পত্রিকায় খবর ছাপা হয় অমুক জেলায় ৪ হাজার লোক খৃষ্টান হয়ে গেছে । তমুক জেলায় হাজার হাজার লোক খৃষ্ট দীক্ষা গ্রহণ করেছে । তখন আর কিছুই করার থাকেনা ।
খৃষ্টান বানাতে না পারলেও অত্যন্ত হিজবুত তওহীদ কিংবা কাদিয়ানী বানাবে । তাও বানতে না পারলে সুন্নী অথবা একজন পীর বানাবে । তারা খুব ভাল ভাবেই জানে চিকিৎসা এবং খাদ্য ও টাকা এই ৩ বস্তুর নিকট গরীব লোক মাথা নত করতে বাধ্য । তাই এনজিও গুলো এই তিন পথেই প্রবেশ করে ।
বিদেশী এনজিওরা সেবার নামে বাঙ্গালী ধরে খৃষ্টান বানানোর এই কাজগুলোকে জাতীয় পর্যায়ে প্রচার প্রসারের জন্য তারা ব্যবহার করেন ওদের নিকট বিক্রি হয়ে যাওয়া #হানিফ_সংকেত এর মত #চুপা_নাস্তিক_সেলিব্রেটিদের।