সাপ যে কখনো দুধ খায়না অথবা সাপের খাদ্য যে দুধ বা কোন তরল নয় তা নিয়ে গতকাল একটু আলোকপাত করেছিলাম । কিন্তু কমেন্টস এ দেখলাম বহু লোক না কি সাপকে দুধ খেতে দেখেছে । তারপর অনেক ক্ষণ চিন্তা করলাম এই বিজ্ঞানের যুগেও মানুষ প্রমাণ ছাড়া এত অবলীলায় মিথ্যা বলে কি ভাবে? কেউ মিথ্যার কাছাকাছি গিয়ে বলেছেন সাপকে তিনি গোয়ালঘরে দেখেছেন । সাপ হয়তো গোয়াল ঘরে গিয়েছে কিছু খেতে । বাঘ সিংহকে যেমন ঘাস খেতে দিলে কখনোই খাবেনা ।গরুকে যেমন মাংস দিলে মরে গলেও খাবেনা । তদ্রুপ সাপকে দুধ দিলে সে কখনোই খাবেনা । আপনারা দয়াকরে ১০০ বছর আগের রুপ কথার গল্প বাদ দিন । আজ এখনি একটি বিষহীন সাপ ধরে আনুন বা সাপুড়ের নিকট থেকে কিনে এনে ঐ সাপকে দুধ খাইয়ে সেই বিডিও আমাদের দেখান । মানুষকে বিভ্রান্ত ও মিসগাইড করবেন না দয়াকরে । অনেক সময় গাভীর বাছুর হওয়ার পর ২/৩ মাস গাভীর বাট বা ওলানে দাঁতের কাটা দাগ দেখা যায় । এই দাঁতের দাগ বাছুরের নতুন দাঁতের কামড়ের দাগ । বাছুরের দাঁত উঠার সময় নতুন দাঁতগুলো থাকে চোখা ও ধাঁড়ালো । দুধ খাওয়ার সময় ঐ দাঁত লেগে কেটে যায় । আর মানুষ মনে করে সাপে দুধ খায় । এই বানোয়াট গল্প সাপুড়েদের বানানো । তারা তাবিজ বিক্রির জন্য এই গল্প বলে গ্রামের সরলমনা অশিক্ষিত মানুষকে প্রতারিত করে । অশিক্ষিতদের কথা কি বলবো?উচ্চ শিক্ষিত মানুষও এই কথা বিশ্বাস করে । আমি শিক্ষকতা করার সময় আমার এক এম এ পাশ কলিগ আমার সাথে চ্যালেঞ্জ করে বহুদূর গিয়ে হেরে গিয়েছিল । আমরা তাঁর গ্রামে এক সাপুড়েকে ধরলাম । সে বলছিল দুধরাজ সাপে না কি গরুর পায়ে প্যাঁচ দিয়ে দুধ খেয়ে চলে যায় । তাবিজ দিলে দুধ খেতে পারেনা । তাই সবাই তাবিজ কিনে নিচ্ছিলো । আমি সাপুড়েকে বল্লাম যে, চাচা আপনার হাতের সাপটি কি দুধ খায় । সাপুড়ে বল্ল আজ সকালে ও এক কেজি দুধ খাওয়ায়ে নিয়ে এসেছে । অথচ সাপটির ওজন ও এক কেজি হবেনা । আমি চ্যালেঞ্জ করলাম এবং বল্লাম যে, সাপ যে দুধ খায় তা দেখাতে হবে । নয়তো আপনাকে বেঁধে রাখবো । সাপুড়ে শেষ পর্যন্ত স্বীকার করলো যে সাপ কখনো দুধ খায়না । তার সাপকে সে ব্যাঙ খাওয়ায় । উল্লেখ্য যে আমি বিজ্ঞানের ছাত্র ছিলাম। প্রাণী বিজ্ঞান পড়ে জেনেছি কোন্ প্রাণীা কি খায় ।সত্য না জেনে ভুল তথ্য দেয়া একটি মহাপাপ । ——#মরুচারী_মুসাফির ।
আসুন জেনে নেই সাপ সম্পর্কিত আমাদের গ্রাম শহরে প্রচলিত ৮টি বানোয়াট কথা । “দুধ কলা কলা দিয়ে সাপ পোষা হয়”। এমন কথা প্রায়ই শোনা যায়। এটি একটি ভুল ও কথার কথা। আসল কথা হলো #সাপ দুধ খায় না। সাপ শীতল রক্তের প্রাণি, মাংসাশী এবং স্তন্যপায়ী নয়। ফলে সাপের পক্ষে দুধ হজম করা সম্ভব নয়। সাপ নিয়ে এমন অনেক ভুল ধারনা আছে। আসুন জেনে নেই সাপ নিয়ে প্রচলিত ৮টি বানোয়াট কথা।
১//সাপে দুধ খায়ঃ এটি মিথ্যা ধারণা। মনে রাখবেন, সাপ হলো শীতল রক্তের প্রাণী, মাংসভোজী এবং স্তন্যপায়ী নয়। তারা ডিম পাড়ে । ডিম পাড়ে এমন প্রাণি কখনোই দুধ খায়না । ফলে সাপের পক্ষে দুধ হজম করা অসম্ভব। দুধ সাপের পক্ষে অত্যন্ত ক্ষতিকর। জোর করে কেউ সাপকে দুধ খাওয়ালে সাপ মারাও যেতে পারে। যে সব সাপকে দুধ খেতে দেখেন, তারা মূলতঃ সাপুড়েদের সাপ। হিন্দুদের নাগ পঞ্চমীর আগে কিছু সাপকে এক নাগাড়ে মাসখানেক পানি ও কোন প্রকার খাদ্য না-খাইয়ে রাখা হয়। তার পরে মুখের সামনে দুধ ধরা হয়। বাধ্য হয়েই অত্যন্ত খুদার্ত ও পীপাসার্ত সাপেরা সেই দুধ কিছুটা খেয়ে নেয়। ২// বীণ শুনে সাপে নাচেঃ একেবারে ভুল ও মিথ্যা কথা। জেনে রাখুন, সাপের কান নেই। এমন কি দৃষ্টিশক্তিও প্রখর নয়। যারা বীণ বাজান, তাঁরা সেটি সাপের মুখে সামনে দোলাতে থাকেন। সাপও চোখের সামনে দুলুনি দেখে মাথা দোলাতে থাকে এই ভেবে যে, কোনও শত্রু এল বলে।
৩// দাঁড়াশ সাপের লেজে বিষ রয়েছেঃ দাঁড়াশ নির্বিষ সাপ।কামড়ালে ও মানুষে োন ক্ষতি হয়না। লেজ তো দূর কথা, এর বিষদাঁতই নেই। মূলত ইঁদুর এবং ছোট পাখি ধরে খায়। এবং তার থেকেও বড় কথা, ছোটখাটো বিষাক্ত সাপ এরা খেয়ে নেয়।বেশির ভাগই তাই গাছে থাকে ।
৪// সাপ মানুষকে দৌড়ায় বা তাড়া করেঃ মনে রাখবেন, সাপ মানুষের শত্রু নয়। বরং উল্টোটাই সত্যি। সাপের সামনে পড়ে গেলে যদি দৌড়ে পালাতে যান বা বেশি লাফালাফি করেন, তা হলে সাপ আত্মরক্ষার্থে তেড়ে আসতে পারে। চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকুন। দেখবেন, সাপ ভয়ে আপনাকে পাশ কাটিয়ে চলে যাচ্ছে। ভাল মানকে শয়তান পর্যন্ত ভয় পায় ।
৫// সাপ না কি তার শত্রুকে চিনে রাখেঃ এটা অবশ্যই সম্ভব। কিন্তু তা হতে হবে কোনও সস্তার সিনেমা বা অতি খাস্তা বাংলা ভারতীয় সিরিয়াল। সাপের স্মৃতিশক্তি বা বুদ্ধি নেই। তারা শুধু এটুকু জানে, বাঁচতে গেলে খেতে হয়, খেতে গেলে হত্যা করতে হয়। নিজের শক্তি সম্পর্কে তার ধারণা রয়েছে। নিজের আকার সম্পর্কে সাপ ওয়াকিবহাল। আর রয়েছে যৌনতার স্বাভাবিক প্রবৃত্তি। যা অন্য প্রাণিদেরও আছে ।
৬// সাপ বুড়ো হলে গোঁফ-দাড়ি গজায়ঃ সাপের গায়ে লোম আসবে কোত্থেকে? পাগল হলে মানুষ এমন কথা বলে । এর বেশি কিছু বলার প্রয়োজন নেই।
৭// সাপ বিষ ছুড়ে মারেঃ এই বাংলাদেশে তো বটেই, সারা দুনিয়াতে এমন সাপ পাবেন না । তবে আফ্রিকা এবং দক্ষিণ ও উত্তর আমেরিকার কিছু অংশে এক জাের স্পিটিং কোবরা পাওয়া যায় যারা বিষ ছুড়ে শিকারকে ঘায়েল করে।অন্য কারণে নয় ।
৮// সাপে সাপে শঙ্খ লাগেঃ শঙ্খ লাগা বস্তুটি কি? কেউ বলেন সাপের খেলা, কেউ বলেন বৃষ্টি নামবে, । ‘মায়া’ই বটে। যেটাকে সাপের শঙ্খ লাগা ভেবে কপালে হাত ঠেকান, সেটা আসলে সাপের যৌনসঙ্গম। এমন আরো কিছু ভূয়া ধারণা হয়তো আপনাদের এলাকায় প্রলিত আছে । থাকলে কমেন্টস করুন । ——#মরুচারী_মুসাফির ।
সাপে দুধ খাওয়ার মতই একটি বানোয়াট কথা ! ! ! সারা দুনিয়ার #প্রাণী_বিজ্ঞানীরা হাজার হাজার বছর ধরে সাপকে দুধ খেতে দেখলোনা আর আমার দেশের কিছু লোক স্বপ্নে দেখে বলে যাচ্ছে সাপ না কি দুধ খায় ।আমার দেশের হুজুগে বাঙ্গালী এটাও বলে বেড়ায় যে, #খরগোস না কি দুই প্রকার । এক প্রকারের খরগোসের পা না কি #ছাগলের_মত এবং সেটি খাওয়া হালাল ।অন্য প্রকারের খরগোসের পা না কি বিড়ালের মত এবং সেটি খাওয়া হারাম । সমস্ত দুনিয়া খুঁজে ছাগলের মত পা বিশিষ্ট কোন খরগোস পেলনা তাবৎ দুনিয়ার প্রাণী বিজ্ঞানীরা । ছাগলের পা ওয়ালা খরগোসের গল্প যে কোন্ ছাগলে বানিয়েছে তা আজও অজানা । তবে কিছু মূর্খ আলেম কিন্তু আজও এই #ফতোয়া বলে বেড়াচ্ছে যে ছাগল পায়ের খরগোস হালাল ও বিড়াল পায়ের খরগো হারাম । আমি এমন কয়েকজন আলেমকে ধরেছিলাম । তারা শেষ পর্যন্ত স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছে যে তারা কখনোই ছাগল পায়ের খরগোস দেখেনি তবে হুজুরের কাছে না কি শুনেছে । এই হলো আমাদের অবস্থা । দলীল নেই, প্রমাণ নেই, অথচ সাক্ষী দিয়ে বেড়াচ্ছি । ——#মরুচারী_মুসাফির ।
এই উদ্দীপনাটি পড়ার পর আপনার মনে সাপ নিয়ে যত কুসংস্কার আছে, আশা করি দূর হয়ে যাবে ইনআশাল্লাহ।সাপ সম্পর্কে প্রাচীনকাল থেকেই আমাদের দেশে প্রচলিত কিছু ভুল ধারণা রয়েছে। এ ধারণাগুলো এতটাই বাস্তবতার নিরিখে তুলে ধরা হয় যে, তা মানুষের মনে একেবারে গেঁথে গেছে। বিশেষ করে দেশীয় সিনেমা ও কিংবদন্তিগুলোতে। যেমন……….★ সাপ মানেই বিষধর!সাপ মানেই বিষধর নয়। পৃথিবীতে প্রায় ২৫০০ থেকে ৩০০০ প্রজাতির সাপ রয়েছে। তার মধ্যে মাত্র ৫০০ প্রজাতির সাপ বিষধর।আমাদের দেশে প্রায় ১০০ প্রজাতির সাপ থাকলেও বিষধর সাপ রয়েছে মাত্র ২০ প্রজাতির। বিষধর সাপ ও নির্বিষ সাপের মধ্যকার পার্থক্য সাধারণ মানুষ সাপের কামড়ের দুর্ঘটনা থেকে করতে পারে। বিষধর সাপের কামড় হলে দুটি দাঁতের দাগ কিছুটা দূরত্বে থাকবে। অন্যদিকে নির্বিষ সাপের কামড় হলে বেশ কয়েকটি দাঁতের কামড়ের দাগ থাকবে। বিষধর সাপের কামড়ে দুর্ঘটনা ৫০ ভাগেরও কম।★ সাপের মাথায় মণি আছে!সাপের মাথায় মণি আছে বলে গ্রামগঞ্জে, চলচ্চিত্রে যে গল্প প্রচলিত আছে তা ভিত্তিহীন। সাপের মাথায় কোনো মণি নেই বা মণি থাকার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তিও নেই। সাপ তার জীবদ্দশায় প্রথম দিকে ঘন ঘন এবং পরবর্তী সময়ে নির্দিষ্ট সময় পর পর খোলস বদলায়। এই খোলস সারা শরীর থেকে খুলে গেলেও মাথার দিকে কিছুটা আটকে থাকে এবং আস্তে আস্তে সেটা শুকিয়ে শক্ত হয়ে খাড়া অবস্থায় রূপ নেয়। এই খোলসে চাঁদনি রাতের আলো কিংবা যে কোনো আলো পড়লে চকচক করে ওঠে। এটা থেকেই সাপের মাথায় মণির ধারণার সৃষ্টি হয়েছে।★ সাপ দুধ খায়!সাপ কখনোই দুধ খায় না। সাপের মুখের গঠন দুধ খাওয়ার উপযোগী নয়। এটি একেবারেই মানুষের তৈরি ভুল ধারণা ও অপপ্রচার। সাপ নানা প্রকার পোকামাকড় ও ইঁদুর খেয়ে ফসল সুরক্ষায় ভূমিকা রাখে। কোনো কোনো সাপ শুধু সাপই খায়, যেমন- রাজগোখরা। সাপ গরুর বাটকে শুধু খাবার মনে করে টানে, এতে গরুর বাটে কিছু চির-চিরাক হয়, আর মানুষ এই ঘটনা উপলব্ধি করতে পারলে মনে করে সাপে গরুর দুধ পান করছে বুঝি। আসলে এটা মানুষের অজ্ঞতা।★ সাপ নিজের বিষ নিজে শোষণ করে!সাপ নিজের বিষ শোষণ করার কোনো প্রশ্নই আসে না। এ ধারণার জন্ম দিয়েছে সাপুড়েরা। আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোতে লোকজনের অজ্ঞানতার সুযোগে একচেটিয়া ব্যবসা গড়ে তুলেছে তারা। এদেরকে ওঝা বলা হয়। সাপে কাটা রোগীর জন্য মানুষ তাদের ডেকে আনে এবং এসব ওঝারা এমন ভাব দেখায়, যেন যে সাপে কামড় দিয়েছে সে সাপটিকে এনেই বিষ শোষণ করাবে। এজন্য আসার সময় অনেক দিনের ক্ষুধার্থ সাপ রোগীর বাড়ির কাছাকাছি কোনো ঝোপে ছেড়ে দিয়ে আসে। (সাপ মাসের পর মাস না খেয়ে বাঁচতে পারে, তবে দুর্বল হয়ে পড়ে) এরপর রোগীর বাড়িতে এসে কিছুক্ষণ বিড়বিড় করে মন্ত্র উচ্চারণ করে এবং বলে, সাপ বাড়ির কাছে এসে গেছে। এমন ভাব দেখায়, যেন খুঁজে বেড়াচ্ছে এবং একসময় ঝোপে হাত দিয়ে সাপ বের করে নিয়ে আসে। মানুষ সাপুড়ের এই বাহাদুরিতে মুগ্ধ হয়।★ সাপের পা যে দেখবে সে রাজা হবে!আসলে সাপের কোনো পা নেই। সুতরাং রাজা হওয়ারও কোনো সুযোগ নেই। এটি অপকথন ছাড়া আর কিছুই নয়। সাপের পা দেখার জন্য কিছু অবুঝ লোক কিংবা কোনো শিশু ঝোপঝাড়ে যেতে পারে। এতে সাপে কামড়ানোর আশংকা বেড়ে যেতে পারে।★ তন্ত্রমন্ত্র!ওঝার তন্ত্রমন্ত্র বলে যে কথন রয়েছে, তা ভিত্তিহীন। ওঝা সাপ ধরার জন্য যে ক্ষমতা দেখায় বা সাপের বিষ নামানোর জন্য যে ভাবভঙ্গি করে, তা তন্ত্রমন্ত্রভিত্তিক নয়। ওঝা সাপ ধরার ব্যাপারে যে বিশেষজ্ঞ, এতে কোনো সন্দেহ নেই। সে বিড়বিড় করে ঠিকই, তবে লোক দেখানো। আসলে এরা বংশপরম্পরায় সাপ ধরার কৌশল রপ্ত করে।★ বাঁশির সুরের তালে তালে সাপ দোলে, ও সাপ জিহ্বা বের করে শোনে!সাপ কানে শোনতে পায় না, ও জিহ্বা শোনার জন্যে উপযোগী নয় তাইবাঁশির কোনো সুরই সাপ শোনে না। সাপুড়েরা বাঁশি বাজানোর তালে তালে মাঝে মধ্যে মাটিতে আঘাত করায় কম্পনের ফলে সাপের অনুভূতি সজাগ থাকে। এবং যেধরণের বাঁশির আওয়াজ মোটা ও কম্পন বেশী, সেই সুরের কম্পিত আওয়াজে সাপের মস্তিষ্ক এ তড়িৎ চৌম্বকত্ব আঘাত করে ফলে সাপ কি করবে বুঝে উঠতে পারে না, বিধায় সাপ চুখের সামনে যা ঘুরতে দেখে তার সাথে সাথে সাপ এদিক-ওদিক ঘোরে। এছাড়া সাপকে অনেক কৌশলে দোলানোর ভঙ্গি দিয়ে সাপুড়ে এক আবহ তৈরি করে মানুষকে মুগ্ধ করে। যে সাপ নিয়ে তারা খেলা দেখায় তার সবই প্রায় বিষধর। এতে দর্শকের কাছে সাপুড়েরা বাঁশির বিষয়টিকে আরও বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে পারে। প্রকৃতপক্ষে এসব সাপের বিষদাঁত ভেঙে ফেলায় এরা বিষ প্রয়োগ ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে, তাই এটা সম্ভব হয়।★ সাপ ও বেজির যুদ্ধে বেজি পাতা বা জড়ীকৃত কোন গাছের সাহায্য সে বিষক্রিয়া নষ্ট করে!সাপ ও বেজির সম্পর্ক ভালো নয়। কারণ বেজি সাপ খায়, বিশেষ করে সাপের বাচ্চা।বেজি প্রধানত প্রচুর ইঁদুর ও পোকামাকড় খায়। সাপের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণেও এর জুড়ি নেই। সাপ যখন প্রথমে মাথা তুলে বেজিকে আক্রমণ করে, তখন বেজি ক্ষিপ্রতার সঙ্গে সাপকে আক্রমণ করে। সাপ যতবার কামড় দিয়ে বিষ ঢালে, তা বেশীরভাগ বেজির খাড়া লোমের ওপর গিয়ে পড়ে। এবং বেজি কৌশলে চট করে ঝোপে লুকিয়ে সামান্য বিশ্রাম নিয়ে আবার ফিরে আসে। ইতিমধ্যে সাপ মাথা নামায় এবং বেজি এসেই সাপের মাথা কামড়ে ধরে। বেজির ঝোপে ঢোকার কারণে মানুষ মনে করে সে এক প্রকার পাতা কামড়ের স্থানে ছুঁইয়ে আসে, যে পাতা সাপের বিষ থেকে বেজিকে বাঁচায়। আসলে এর কোনো সত্যতা নেই। আর মূল বিষয় হল সাধারণ মানুষ জানে না যে, সাপের বিষ বেজির শরীরের মধ্যে অ্যান্টিভেনম (ঔষধ) তৈরি হয় বিধায় সাপের বিষপক্রিয়া বেজির শরীরে অকার্যকর।কিন্তু অ্যান্টিভেনম কী তা বুঝতে হলে লক্ষ্য করুন……বিশ্বব্যাপী প্রতি বছর লক্ষাধিক মানুষ মারা যায় শুধু বিষাক্ত সাপের কামড়ে। সাপের বিষ শরীরে প্রবেশ করলে এর চিকিৎসার বিজ্ঞানসম্মত ঔষধ একটিই -অ্যান্টিভেনম। যা মূলত সাপের বিষ থেকেই তৈরি করা হয়। প্রথমে একটি পাত্রে বা টিউবে অভিজ্ঞদের দ্বারা সাপের বিষ সংগ্রহ করানো হয়। বিষ সংগ্রহ করাকে বলা হয় Milking তবে এটি মোটেও নিরাপদ কাজ নয় ! সাপের মুখের দুইপাশে চাপ দিয়ে সাপকে হাঁ করানো হয়। তারপর, টিউব নিয়ে বিষদাঁতের সাথে লাগানো হয়। দাঁতে চাপ পড়লে সাপের কাছে অটোমেটিক রেসপন্স চলে যায় ও দাঁত থেকে বিষ বের হয়ে টিউবে জমা হতে থাকে।পরবর্তীতে সাপের বিষকে লঘুকরণ করে সাপের বিষের তীব্রতা কমানো হয়। এরপর সেই দূর্বল বিষ হোস্ট অ্যানিমেলের শরীরে প্রবেশ করানো হয়। সাধারণত ঘোড়া, খরগোশ, বা ভেড়াকেই হোস্ট অ্যানিমেল করা হয় (যদিও বেজির রক্তে অ্যান্টিভেনম তৈরি হয় তবে তা বেজির শুধু তার নিজের জন্যেই কার্যকরি, তার থেকে অ্যান্টিভেনম ঔষধ তৈরি করা যাবে না)উক্ত বিষ তেমন তীব্র না হওয়ায় প্রানীটি মারা যায় না। কোন প্রাণীর শরীরে বিষ প্রবেশ করা হলে প্রাকৃতিকভাবেই সেই প্রাণীর শরীরের প্রতিরোধ ব্যবস্থা ( Immune System ) সক্রিয় হয়ে ওঠে।বিষকে মোকাবেলা করার জন্য শরীর প্রচুর পরিমানে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়। যেহেতু হোস্ট অ্যানিমেলের শরীরে প্রবেশ করানো বিষ খুব দূর্বল তাই অ্যান্টিবডিগুলো সহজেই জয়লাভ করে এবং হোস্ট প্রাণীটির রক্তে অব্যবহৃত অ্যান্টিবডিগুলো থেকে যায়। তাই তখন হোস্ট প্রাণীটির শরীর থেকে রক্ত সংগ্রহ করা হয় এবং সেই রক্তকে বিশ্লেষণ ও বিশুদ্ধ করে তা থেকে শেষ পর্যন্ত প্রয়োজনীয় অ্যান্টিবডিগুলো সংগ্রহ করা হয়। এই অ্যান্টিবডি দিয়েই তৈরি হয় সাপের বিষের প্রতিষেধক অ্যান্টিভেনম। সাপের বিষে আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে এই অ্যান্টিভেনম প্রবেশ করানো হয়।১৮৯০ সালের দিকে প্রথম অ্যান্টিভেনম আবিষ্কৃত হয়। বিখ্যাত বিজ্ঞানী লুই পাস্তুরের ছাত্র Albert Calmette এটি আবিষ্কার করেন। অ্যান্টিভেনম আবিষ্কারের সময় তিনি ইন্দোচীনে বসবাস করছিলেন। সেই সময় এক বন্যার কারণে বিষাক্ত কোবরা সাপ একটি গ্রামে আশ্রয় নেয় আর কমপক্ষে ৪০ জন গ্রামবাসী সাপের কামড়ে অসুস্থ হয়। এদের মাঝে কয়েকজন মৃত্যুবরণ করেন। সেই সময় ভ্যাক্সিনেশন প্রক্রিয়া আবিষ্কৃত হয়েছিল আর Albert Calmette সেই প্রযুক্তি থেকে অনুপ্রেরিত হয়ে সাপের বিষের প্রতিষেধক আবিষ্কার করার জন্য গবেষণা শুরু করেন।ডক্টরস উইদআউট বর্ডারস ’ নামের একটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠণের মতে আগামী বছরের মধ্যেই সাপের বিষের যে প্রতিষেধক রয়েছে তা শেষ হয়ে যাবে। এমনকি প্রস্তুতকারকেরা এর উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছেন এবং বর্তমান প্রতিষেধকগুলোরও মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে যাচ্ছে।তবে সম্প্রতি বাংলাদেশে Incepta Pharmaceuticals সাপের বিষের প্রতিষেধক হিসেবে Antivenom নামে ইঞ্জেকশন আবিষ্কার করেছে যা সত্যি প্রশংসনীয়।★ সাপ প্রতিশোধপরায়ণ!সাপ ইঁদুরকে কামড় দিয়ে তাকে খাওয়ার জন্য খুঁজতে থাকে। ইঁদুর সাপের কামড়ে আশপাশেই অবশ হয়ে পড়ে থাকে। সাপ ইঁদুরটি খুঁজে বের করে খায়। এ দৃশ্য দেখে মানুষ অনুমান করে নিয়েছে, সাপকে কেউ ব্যথা দিলে সে কামড়াবেই। এটা পুরোপুরি সত্য নয়।★ সাপুড়েদের মৃত্যু সাপের হাতে!অসাবধানতায় সাপুড়ের সাপের কামড়ে মৃত্যু ঘটতে পারে। সাপুড়েরা জানে, সাপের বিষদাঁত ভেঙে দিলে আর কোনো ভয় নেই। কিন্তু এটা জানে না যে, বিষদাঁত ভাঙলেও আবার তা গজায়।উপসংহারেঃ বিষধর সাপের কামড়ের একমাত্র চিকিৎসা antevenom (প্রতিবিষ) ইনজেকশন অর্থাৎ ডাক্তারি চিকিৎসা। সাপে কাটা রোগীকে যত দ্রুত সম্ভব নিকটস্থ হাসপাতাল বা ক্লিনিকে নিতে হবে। সব মেডিকেল সেন্টারে ধহঃবাবহড়স থাকা বাঞ্ছনীয়।লেখক : প্রফেসর ও সাবেক চেয়ারম্যান, প্রাণিবিদ্যা বিভাগঢাকা বিশ্ববিদ্যাল
১। অনেকদিন বন্ধ থাকা বা অব্যবহৃত ঘর খুললে একটা ভ্যাপসা গন্ধ বের হয়। দু-তিনটে দেশলাই কাঠি জ্বালালে দু-তিন মিনিটের মধ্যে ঘর থেকে গন্ধ চলে যাবে। ২। চিনির পাত্রের মধ্যে দু-চারটি লবঙ্গ দিয়ে রাখলে পিঁপড়ে ঢুকবে না। ৩। চশমা ঝকঝকে পরিষ্কার রাখতে হলে এক ফোঁটা ভিনিগার দিয়ে কাঁচ পালিশ করুন। ৪। কাঠের আসবাবপত্র ঠাণ্ডা চা-পাতা ফোটানো জল দিয়ে পালিশ করুন। ঝকঝকে হয়ে উঠবে। ৫। ফ্রিজের গায়ে দাগ ধরে গেলে স্পঞ্জে টুথপেস্ট লাগিয়ে ঘষুন। দাগ উঠে যাবে। ৬। ফ্লানেলের টুকরো গ্লিসারিনে ভিজিয়ে দাগধরা জানালার কাঁচে ঘষুন। কাঁচ ঝকঝক করবে। কাঠ বা স্টিলের টেবিলে ঘষুন। সেখানকার দাগ উঠবে। ৭। জানালা, দরজার কাঁচ ঝকঝকে করে তুলতে মিহি চক গুঁড়োর সঙ্গে জল আর স্পিরিট অথবা কেরোসিন মিশিয়ে কিছুক্ষণ কাঁচের ওপর মাখিয়ে রাখুন। শুকিয়ে গেলে খবরের কাগজ দিয়ে মুছে নিন। ৮। ডিটারজেন্টের সঙ্গে একটা লেবুর রস ও এক চামচ ফিনাইল মিশিয়ে বাথরুমের টাইলস ঘষে দেখুন, কেমন ঝকঝক করে। ৯। হাতব্যাগের ধাতব অংশগুলিতে ন্যাচারাল কালারের নেলপালিশের এক প্রস্থ প্রলেপ দিয়ে রাখুন। সহজে বিবর্ণ হবে না। ১০। ছোট্ট একটুকরো ফ্লানেল বা কম্বলের কাপড়ে পাতিলেবুর রস মাখিয়ে চামড়ার ব্যাগ বা স্যুটকেশে ঘষলে। চামড়ার ঔজ্বল্ল্য বাড়বে। ১১। ঘরে চড়ুই পাখি বাসা বাঁধতে চায়। যদি চড়ুই পাখি তাড়াতে চান তাহলে ঘরের দরজা জানালা বন্ধ করে দু-চার টুকরো কর্পূর জ্বালিয়ে দিন। আর ঘরমুখো হবে না। ১২। গ্যাসস্টোভের বার্নারে ময়লা ঢুকে গেলে বাড়িতে পরিষ্কার করার সহজ উপায় হল অ্যালুমিনিয়াম স্টিল বা লোহার বালতিতে ফুটন্ত জল ঢেলে তাতে দু টেবিল চামচ ড্রেনেক্স (Drainex) পাউডার গুলে বার্নার দুটি তার মধ্যে দু ঘণ্টা ডুবিয়ে রাখুন। জলে ঝাঁপিয়ে ঝাঁপিয়ে ধুয়ে নিন। ১৩। গরম পোশাক বা সিল্কের পোশাক ধোওয়ার পর যদি ইউক্যালিপটাস তেল মেশানো জলে ডুবিয়ে নেন তাহলে পোকায় কাটার ভয় থাকবে না। পোশাকের ঔজ্বল্ল্য বাড়বে। এক বালতি জলে তেলের পরিমাণ হবে দু-টেবিল চামচ। ১৪। উলের পোশাক ধোওয়ার পর এক বালতি জলে আধ চামচ গ্লিসারিন দিয়ে তাতে ডুবিয়ে নিন। পোশাকের নরম ভাব বজায় থাকবে। ১৫। বাচ্চাদের জামাকাপড় বা কাঁথায় যদি তার বমির দুর্গন্ধ থেকে যায়, তবে কাচার পর জলে আধ চামচ বেকিং সোডা মিশিয়ে তাতে জামাকাপড় ডুবিয়ে নেবেন। দুর্গন্ধ দূর হবে। ১৬। ইস্ত্রি করার সময় কাপড়ে যে জল ছেটান তাতে কয়েক ফোঁটা পারফিউম ফেলে দিন। ইস্ত্রি হওয়া গোটা কাপড়টি সুগন্ধ ধরে রাখবে। ১৭। সুগন্ধির শিশি সবসময় তুলো বা কাপড়ে জড়িয়ে রাখবেন। তাতে সুগন্ধি ঢের বেশি দিন টিকবে। ১৮। ফ্লাক্সের ভেতরে অংশ ভালভাবে ধুতে হলে ফ্লাক্সে গরম জল ভর্তি করুন। তাতে কয়েক টুকরো কাগজ ফেলে দিন। ঘণ্টাখানেক পর ভাল করে ঝাঁকিয়ে নিয়ে জল ফেলে দিন। ভেতরের যাবতীয় নোংরা পরিষ্কার হয়ে যাবে। ১৯। অনেক সময় ভ্যাকুয়াম ফ্লাক্স দীর্ঘ ব্যবহারের জন্য দুর্গন্ধ হয়। একটি ডিমের খোলা ভেঙে ফ্লাক্সের মধ্যে ফেলুন। ২০। কিছু কিছু অলংকারের তীক্ষ্ণ বা ধারালো প্রান্তের খোঁচায় পোশাক ছিঁড়ে যায় বা সুতো উঠে যায়। সেইসব ধারালো অংশে ন্যাচারাল নেলপালিশ লাগিয়ে দিন। খোঁচা লাগবে না। ২১। কাঠের ওপর বাচ্চারা আঁকিবুঁকি কাটলে তা তুলতে সিগারেটের ছাই খুব ভাল। সিগারেটের ছাই পাতলা কাপড়ে নিয়ে ঘষে ঘষে তোলা যাবে। একই কাজ হবে কেরোসিন দিয়ে। ২২। সিল্কের শাড়ি বা পোশাকে মাড় দিতে হলে, মাড়ের সঙ্গে একটু পাতলা আঠা গুলে নেবেন। পোশাক শুকিয়ে খটখটে করে ইস্ত্রি করবেন। সিল্ক ঝকঝক করবে। ২৩। পঞ্চাশ গ্রাম সাবুদানা জলে ফুটিয়ে স্বচ্ছ করে ছেঁকে নিন। ঠাণ্ডা করে তাতে দু-টেবিল চামচ সাদা ভিনিগার মেশান। এবার এই মিশ্রণটি একটি খালি স্প্রে বটলে ভরে রাখুন। এই তরল ছিটিয়ে ছিটিয়ে ইস্ত্রি করলে তা মাড়ের কাজ করবে। পোশাক নিভাঁজ হবে। ২৪। হেয়ার ড্রায়ার দিয়ে বর্ষার জুতো, ছোটখাটো জামাকাপড় শুকিয়ে নেওয়া যায়। ২৫। বাচ্চাকে স্নান করানোর আগে নীচে তোয়ালে পেতে নেবেন। বাচ্চা হড়কে যাবে না। বসেও আরাম পাবে। ২৬। স্টিলের বাসন থেকে কোম্পানির নাম লেখা স্টিকারটি তোলা এক ঝামেলা। পাত্রের স্টিকার লাগানো অংশের উল্টোপিঠটা তাতিয়ে নিন। স্টিকার এবার সহজে উঠে আসবে। ২৭। নতুন কেনা জিনিসপত্রের ওপর থেকে দামের লেবেল তুলতে খোঁচাখুঁচি করবেন না। লেবেলের ওপর একটু সেলোটেপ চেপে দিন। তারপর সেলোটেপের এক প্রান্ত ধরে টানলে লেবেলটি উঠে যাবে। ২৮। দেওয়ালে পেরেক গাঁথার আগে পেরেকগুলো যদি ফুটন্ত গরম জলে ডুবিয়ে নেন তাহলে হাতুড়ি মারার সময় দেওয়ালের প্লাস্টার খসবে না। ২৯। শক্ত করে মুখ বন্ধ একটি ছোট্ট শিশিতে কর্পূর পুরে যন্ত্রপাতির বাক্সে রেখে দিন। যন্ত্রপাতিতে মরচে পড়বে না। ৩০। বেশ কিছুদিনের জন্য কোথাও বেড়াতে যাচ্ছেন ফ্রিজ খালি করে? ডিফ্রস্ট করে তা রেখে গেলেন। কিন্তু এসে দেখলেন দুর্গন্ধ হয়ে গেছে। দুর্গন্ধ দূর করবার জন্য যাওয়ার আগে ফ্রিজে পাতি লেবু রেখে দিন। দুর্গন্ধ হবে না। ৩১। ফ্রিজের বদগন্ধ দূর করতে সর্ষেগুঁড়ো ব্যবহার করতে পারেন। একটা প্লেটে কিছুটা সর্ষেগুঁড়ো ঢেলে তাতে একটু জল দিয়ে রাতভর ফ্রিজে রাখুন এবং ফ্রিজ খোলাই রাখুন। পরের দিন সকালে দেখবেন সব গন্ধ উধাও। ৩২। ব্যবহারের পর তেল বা পানীয়র টেট্রাপ্যাক ফেলে দেবেন না। কেটে ডিপ ফ্রিজে আইস ট্রেতে পেতে দিন। মাছ মাংসের প্যাকেট আটকে যাবে না। ৩৩। প্রেসার কুকারের গ্যাসকেট মাঝে মাঝে ফ্রিজে পুরে রাখবেন। দীর্ঘদিন টিকবে। ৩৪। টর্চের ফেলে দেওয়া ব্যাটারি কিন্তু কোয়ার্টিজ ঘড়িতে এবং রেডিওতে আরও মাস খানেক চলবে। ৩৫। বাড়িতে আঠা ফুরিয়ে গেছে। খামে স্ট্যাম্প লাগাবেন। ন্যাচারাল কালার নেলপালিশ ব্যবহার করুন। ৩৬। সেলোটেপের মুখ খুঁজে পাচ্ছেন না? মিনিট দশেক ফ্রিজে ঢুকিয়ে রেখে দিন। সেলোটেপের রিলটা খুলে আসবে। ৩৭। খামের ওপর ঠিকানা লিখে একটু মোমবাতি ঘষে দেবেন। জল পড়ে কালি থেবড়ে ঠিকানা অস্পষ্ট হয়ে যাবে না। ৩৮। টেবিল বা ক্যাবিনেটের ড্রয়ার অনেক সময় আটকে যায়। স্বচ্ছন্দে খোলা বা বন্ধ করা যায় না। ড্রয়ারের ধারে মোম ঘষে রাখুন। সহজে আটকাবে না। ৩৯। ব্যবহারের পর বাইসাইকেলের টায়ার ভিজে কাপড় দিয়ে মুছে রাখুন। সহজে কাটবে না। ৪০। নখের কোন ভেঙে গেছে। কিন্তু এমারি বোর্ড নেই। একটা দেশলাই কাঠি নিয়ে বারুদের দিকটা ভাঙা জায়গায় ঘষুন। নিমেষে নখ সমান হয়ে যাবে। ৪১। নেলপালিশ শুকিয়ে জমে গেলে ইউক্যালিপটাস তেল দিন। গলে নরম হবে। তবে নেলপালিশ ফ্রিজে রাখলে সহজে শুকোবে না। ৪২। এক লিটার জলে দু’চার চামচ ডিটারজেণ্ট গুলে ঝাঁকিয়ে দিন। এবার স্প্রেগান বা পিচকিরিতে ভরে ঘরের আনাচে কানাচে যেখান আরশোলার উপদ্রব বেশি সেসব জায়গায় স্প্রে করে দিন। আরশোলা মরবে। ৪৩। মোমবাতি জ্বালানোর আগে যদি বার্নিশ লিগিয়ে নিতে পারেন তো সাশ্রয় হবে। সহজে মোম গলবে না। ৪৪। ক্যাণ্ডেল হোল্ডারে মোমবাতি বসানোর আগে একটু তেল মাখিয়ে নেবেন। ফুরিয়ে গেলে জমা মোম তুলতে অসুবিধে হবে না। ৪৫। বোতলের ছিপি খুব শক্ত হয়ে আটকে গেলে, একটা রুমাল গরম জলে ভিজিয়ে নিংড়ে বোতলের ছিপির নীচে জড়িয়ে রাখুন। কিছুক্ষণ পরে ছিপিটি আলগা হয়ে আসবে। ৪৬। যাদের সিলিণ্ডার ক্যারিয়ার নেই তারা থার্মোকলের টুকরোর ওপর গ্যাস সিলিণ্ডার রাখুন। গ্যাস সিলিণ্ডারেও যেমন মরচে পড়বে না, মেঝেও মরচের দাগ থেকে রেহাই পাবে। ৪৭। গ্যাস ওভেন-এ রান্নার সময় কিছু উপচে পড়ে গেলে নুন ছিটিয়ে দিন। ওভেন ঠাণ্ডা হয়ে গেলে পোড়া জিনিসগুলো ভিজে স্পঞ্জ দিয়ে ভালভাবে মুছে দিন। ৪৮। রাতের দিকে বেসিনের পাইপের মুখে মাঝে মাঝে আধ কাপ মত ভিনিগার ঢেলে দেবেন। সকালে দু’মগ জল ঢেলে দিলেই বেসিনের পাইপ পরিষ্কার থাকবে। ৪৯। সিঙ্কের মুখ বন্ধ হয়ে গেলে নুন ফুটিয়ে সিঙ্কের মুখে ঢেলে দিন। পরিষ্কার হয়ে যাবে। ৫০। বালতি বা ড্রাম ফুটো হয়ে গেলে ঐ জায়গা পরিষ্কার করে শুকিয়ে নিয়ে ধুনো গুঁড়ো করে নারকোল তেল এবং সিঁদুর মিশিয়ে মিশ্রণটি লাগান, ফুটো বন্ধ হয়ে যাবে। ৫১। আস্ত ধনেতে পোকা ধরেছে বলে ফেলে দেবেন না। ঘণ্টা খানেক ভিজিয়ে রেখে মাটিতে ছড়িয়ে দিন। ধনে পাতার চাষ হবে আপনার বাগানে। ৫২। দই যদি নষ্ট হয়ে যায় তো ফেলে দেবেন না। বাড়িতে কারি পাতার গাছ থাকলে তার গোড়ায় মাটিতে দিন। এতে পাতার তেজ ও সুগন্ধ দুই-ই বাড়বে। ৫৩। অ্যাকোরিয়ামের জল ফেলে দেবেন না। গাছের গোড়ায় দিন। সার হিসেবে চমৎকার। ৫৪। কাজুবাদাম ব্যবহারের সময় খোসাটা ফেলে দেওয়া হয়। ঐ ফেলে দেওয়া খোসাই গোলাপ গাছের সেরা সার। ৫৫। ব্যবহৃত চা-পাতা ফেলে না দিয়ে ভাল করে রোদে শুকিয়ে নিন। এইভাবে ঐ চা’পাতা ধুনোর বদলে ব্যবহার করুন। শুকনো চা’পাতা পোড়ানো ধোঁয়ায় ঘরের সমস্ত মশা, মাছি পালিয়ে যাবে। ৫৬। মশা তাড়াবার একটা সহজ উপায় হল, কয়েক টুকরো কর্পূর আধকাপ জলে ভিজিয়ে খাটের নীচে রেখে দিন। তারপর নিশ্চিন্তে ঘুমান। ৫৭। কয়লা বা কাঠ-কয়লার আগুনে নিমপাতা পড়লে যে ধোঁয়া হবে তাতে সবংশে মশা পালাবে। ৫৮। লোডশেডিঙের সময় যদি হ্যারিকেন বা কাঁচ ঢাকা বাতিদান জ্বালান তবে তার ওপর দু-একটা ব্যবহৃত মশা মারার রিপেলেন্ট রেখে দেবেন। আলোর সঙ্গে সঙ্গে মশা তাড়ানোর কাজও হবে। ৫৯। প্রতিদিন নিশিন্দা ও নিমপাতার গুঁড়ো ধুনোর সঙ্গে ব্যবহার করলে মশার হাত থেকে রেহাই পাওয়া যায়। ৬০। ঘরের মধ্যে মশার উৎপাত কমাতে চাইলে, ঘরের বৈদ্যুতিক আলোটি হলুদ সেলোফেনে জড়িয়ে দিন। ফলে হলুদ আলো হবে। দেখবেন মশা কমে গেছে, কারণ মশা হলুদ আলো থেকে দূরে থাকতে চায়। ৬১। মাছি তাড়াতে পুদিনা পাতা ব্যবহার করুন। ছোট গ্লাসে একটু জল নিয়ে তাতে ৫/৬ গাছি পুদিনা রেখে দিন খাবার টেবিলে। ৩ দিন অন্তর জল বদলে দেবেন। জল অনুকূল হলে কিছুদিনের মধ্যে পুদিনা চারাও গজিয়ে যাবে গ্লাসে। ৬২। নিমপাতা ভেজানো বা সেদ্ধ জলে ঘর মুছুন। পোকা-মাকড়ের উপদ্রব কমবে। নিমপাতা তোশক বা গদির তলায় রাখুন পোকামাকড় হবে না। ৬৩। অনেক সময় ঘরে বা রান্নাঘরে সাপ ঢুকে যায়। কিছুটা রসুন বেটে কাপড়ে বেঁধে ঘরের কোণে রেখে দিলে ঘরের ভিতর সাপ ঢুকবে না। ৬৪। নিমপাতা পচা সার গাছে পোকা লাগতে দেয় না। ৬৫। বাচ্চাদের ঘরে মাছি, পিঁপড়ে হয়। যদি নুন ছিটিয়ে ঘর মোছা যায়, পিঁপড়ে মাছি কম হবে। ৬৬। আটা, ময়দা, ডাল পোকার হাত থেকে বাঁচতে হলে একমুঠো নিমপাতা শুকিয়ে উপরে ছড়িয়ে দিন, পোকা হবে না। ৬৭। সোনার গয়না দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার করলে ঔজ্জ্বল্য হারিয়ে যায়। ব্যবহার করার পর সিঁদুর মাখিয়ে রাখবেন। চকচক করবে। কুমড়োর রস দিয়েও গয়না পরিষ্কার করা যায়। ৬৮। বিয়ে বাড়িতে বা পার্টিতে যেদিন যাবেন, সোনার গয়নাগুলো কাঁচা হলুদ থেঁতো করে বা হলুদ গুঁড়ো জলে গুলে এক ঘণ্টা ভিজিয়ে ভাল করে মুছে নেবেন। উজ্জ্বলতা বাড়বে। ৬৯। আপনার সোনা-রূপোর গয়না টুথপেস্ট দিয়ে ঘষে নিন। জল দেওয়ার দরকার নেই। শুকনো কাপড়ে পেস্ট মুছে ফেলুন। দেখুন ঝকমকিয়ে উঠবে আপনার গয়না। ৭০। রূপোর জিনিস জলের সঙ্গে নুন আর রিঠা দিয়ে মিনিট পনেরো ফোটালে রূপোর স্বাভাবিক রং ফিরে আসে। ৭১। পাথরের গয়না টুথপেস্ট ঘষে পরিষ্কার করুন। নতুনের মত ঝলমল করবে। ৭২। পেতলের বাসন ঝকঝক করে তুলতে ক’ফোঁটা সেলাই মেশিনের তেলে হলুদ গুঁড়ো মেশান। ঐ তেলে ঘষে তুলুন বাসন। দেখবেন নতুনের মত দেখাচ্ছে। ৭৩। ব্রাসোর সঙ্গে সামান্য পাতিলেবুর রস মিশিয়ে ঘসুণ, কাঁসার জিনিস সোনার মতো ঝকঝক করবে। ৭৪। হলুদ গুঁড়োর সঙ্গে কয়েক ফোঁটা সরষের তেল দিয়ে পেতলের বাসন ঘষলে চকচক করবে। ৭৫। রূপোর বাসন, কাঁটা-চামচ বা গয়নাটি তেঁতুল গোলা জলে ফুটিয়ে নিন। ঘষা-মাজা করতে হবে না। ফোটালেই ঝকঝক করবে। ৭৬। এনামেলের বাসন থেকে দাগ তুলতে নুন আর ভিনিগারের মিশ্রণ ব্যবহার করুন। ৭৭। বোন চায়নার বাসনে দাগ ধরে গেলে নেলপালিশ রিমুভার ব্যবহার করতে পারেন। দাগ উঠে যাবে। ৭৮। চাল ধোয়া জলে স্টীল ও কাঁচের বাসন কিছুক্ষণ ডুবিয়ে রেখে তারপর ধুয়ে নিলে বাসনগুলো ঝকঝক করবে। ৭৯। পিতলের বা কাঁসার বাসন দীর্ঘদিন ব্যবহার না করার ফলে দাগ ধরে যায়। মাথার চুল ও সরষের তেল সহযোগে মাজুন, দেখবেন ঝকঝক হয়ে উঠবে। ৮০। রান্না পুড়ে পাত্রের তলায় এঁটে গেছে। পাত্রটিকে নুনজলে ভর্তি করুন। তারপর আঁচে বসান। জল ফুটতে শুরু করলেই পোড়া অংশ আলগা হয়ে উঠে যাবে। ৮১। রান্নার সময় হাতে হলুদেড় দাগ হলে, আলুর খোসা ছাড়িয়ে হাতে ঘষে, হাত ধুয়ে নিলে আর হলুদের দাগ থাকবে না। ৮২। টিন থেকে মরচে তুলতে হলে আলু কেটে বাসন ধোয়ার গুঁড়োয় ডুবিয়ে সেটা দিয়ে ঘষলেই মরচে উঠে যাবে। ৮৩। মরচের দাগ তুলতে হলে ১ কাপ চাল ২ লিটার জলে ফুটিয়ে সারারাত রাখতে হবে। পরের দিন সকালে জলটা ছেঁকে নিয়ে সেই জলে মরচে ধরা জায়গাটা ধুলে ফেলতে হবে। যদি এক দফায় না হয়, আবার একই নিয়মে ধুতে হবে। ৮৪। কফির যদি স্বাদ আরো বাড়াতে চান তাহলে সামান্য টেবিল-সল্ট মিশিয়ে নিন। ৮৫। তুলসীপাতা শুকিয়ে গুঁড়ো করে রাখুন। চা তৈরীর সময় দু-চিমটি লিকারে দিয়ে দেবেন। আরো ভাল স্বাদ আসবে। নানা রোগও আটকাবে। ৮৬। বাড়িতে ঘি তৈরি করার জন্য দুধের সরটা বাটিতে ১/২ চামচ টক দই দিয়ে তার উপর রাখতে হবে। সরটা এমনভাবে রাখতে হবে যাতে পুরো দইটা ঢেকে যায়। এই ভাবে দই এর সাথে সর জমলে সর জমা যে গন্ধ হয় সেটা হবে না। ৮৭। এক টুকরো সন্ধক লবণ ঘি এর শিশির মধ্যে রেখে দিন। এতে ঘি বেশি দিন টাটকা থাকবে, স্বাদেরও পরিবর্তন হবে না। ৮৮। ঘিয়ের গন্ধ বজায় রাখতে হলে ঘি রাখার শিশিতে এক টুকরো আখের গুড় রেখে দিন। ৮৯। ভোজ্য তেলে ৮/১০ টা আস্ত গোলমরিচ ফেলে দিন। তেল দীর্ঘদিন অব্যবহৃত হলেও ভাল থাকবে। ৯০। দই পাতবার সময় দুধের সঙ্গে ১ চামচ কর্ণফ্লাওয়ার গুলে দেবেন। দই অনেক বেশি ঘন হবে। ৯১। গরু বা মোষের দুধ ঠিক সময় মতো গরম না করলে দুধ কেটে যাবার ভয় থাকে। দুধের মধ্যে দু-ফোঁটা সরষের তেল দিয়ে রাখলে দুধ যখনই ফোটান হোক না কেন দুধ কাটবে না। ৯২। দীর্ঘদিন বাইরে পড়ে আছে দুধ। ভয় হচ্ছে আঁচে বসালেই কেটে যাবে। আঁচে বসানোর আগে দুধে ১ চিমটি সোভা-বাই-কার্ব মিশিয়ে নিন। দুধ কাটবে না। ৯৩। দুধ পড়ে গেলে বা দুধ থেকে পোড়া গন্ধ দূর করতে হলে তাতে পান পাতা ফেলে কিছুক্ষণ ফুটিয়ে নিন। পোড়া গন্ধ কেটে যাবে। ৯৪। পিঠে, পাটিসাপ্টা, মালপো প্রভৃতি তৈরি করার সময় গোলায় একটু আটা মিশিয়ে দিলে পিঠে ঠিকভাবে তৈরি হয়। ৯৫। চালের গুঁড়োর পিঠে করলে সাধারণত শক্ত হয়। পিঠে করার আগে যদি চালের গুঁড়োতে কিছুটা খই মাখিয়ে নেওয়া হয় তবে পিঠে নরম হয় এবং খেতেও ভাল লাগে। ৯৬। কেক, পুডিঙের ওপর বাদাম, কাজু বা কিশমিশ সাজিয়ে দেবার আগে, ধুয়ে কিছুক্ষণ ভিজিয়ে রাখলে পড়ে খসে যাবার ভয় থাকে না। ৯৭। কাস্টার্ড তৈরীর সময় কাপ প্রতি দুধে দু-তিন চামচ মিল্ক পাউডার গুলে নেন তবে চমৎকার আস্বাদ আসবে। তৈরীর পর মোটা চিনির দানা যদি ছড়িয়ে দেন, কাস্টার্ডে সর পড়বে না। ৯৮। ছানা কাটানোর জন্য লেবুর রসের বদলে ফুটন্ত দুধে ১ চামচ দই ফেলে দিন। ছানা নরম হবে। ৯৯। বিস্কুটের টিনে এক টুকরো ব্লটিং পেপার রেখে দিন। বিস্কুট মিইয়ে যাবে না। ১০০। পোড়ামাটির জিনিসপত্র পরিষ্কার রাখতে হলে ওগুলোর ওপর ন্যাচারাল রঙের নেলপালিশ লাগিয়ে দিন। রং অক্ষত থাকবে আর নোংরা হবে না।
আমেরিকার বোস্টনে ১৯৮৬ সালে একটি অদ্ভুত পরীক্ষা করা হয় ৷ এক ফাঁসির আসামীকে ফাঁসির সাজা শোনানো হলো ৷ কতিপয় বিজ্ঞানী সে আসামীর উপর একটি পরীক্ষা করার প্রস্তাব করলেন । কয়েদীকে শোনানো হলো ফাঁসির বদলে তোমাকে বিষাক্ত কোবরা সাপ দংশন করিয়ে হত্যা করা হবে। কয়েদীকে চেয়ারে বসিয়ে তার হাত-পা বেঁধে দেয়া হলো, তারপর তার চোখে পট্টি বেঁধে বিষাক্ত কোবরা সাপ না এনে তার বদলে দুটি সেফ্টি পিন ফুটানো হলো। ফলে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই কয়েদির মৃত্যু হলো ৷ পোস্টমর্টেম রিপোর্টে দেখা গেল সাপের বিষ রয়েছে তার শরীরের মধ্যে। প্রশ্ন হলো এই বিষ কোথা থেকে এলো, যা ঐ কয়েদীর প্রাণ কেড়ে নিল। বলা হয় সেই বিষ তার নিজের শরীর থেকেই উৎপত্তি হয়েছিল।আমাদের সংকল্প থেকে positive এবং negative এনার্জির সৃষ্টি হয়। আর সে এনার্জি আমাদের শরীরে হরমোনের উৎপত্তি করে ৷ 75% রোগের মূল কারণ হলো আমাদের negative চিন্তাধারা। মানুষ নিজের চিন্তাধারা থেকে ভস্মাসূর হয়ে নিজ প্রজাতিকে বিনাশ করছে। আপনার চিন্তাধারা সর্বদা positive রাখুন এবং খুশী থাকুন। ২৫ বছর বয়স পর্যন্ত আমরা ভাবি যে ‘‘মানুষ কি মনে করবে!” ৫০ বছর আমরা ভয় পাই ‘মানুষ কি ভাববেন!‘ ৫০ বছর পরে আমরা বুঝতে পারি ‘’কেউ আমার কথা চিন্তাই করেনি৷‘’ কিন্তু তখন তেমন কিছু করার থাকে না! তাই ইচ্ছেশক্তিকে কখনোই থামতে দেয়া যাবে না। কে কি বলে তা নিয়ে না ভেবে নিজের পজিটিভ চিন্তাগুলো নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। তাহলেই সফলতা ধরা দিবে। https://www.gonzagabulletin.com/opinion/a-cruel-and-unusual-punishment/article_52f85998-8367-11e5-9840-6370eca85f07.html?fbclid=IwAR2k432srPqGVnnRTsdNZ1RNV3AIcp6PEiQP3Yx-ySDvmoD6vVDPXPLzQto
পরিচিতিঃ বাংলাদেশের ইসলামী রাজনীতির আকাশে মুফতী ফজলুল হক আমিনী নামটি চিরকাল নক্ষত্রের ন্যায় জ্বলজ্বল করবে। তার রাজনীতিতে কোন খাদ ছিল না। খাদ ছিল না তার ইসলামের প্রতি ভালবাসাতেও। এই কিংবদন্তি আলেম রাজনীতিবিদ ১৯৪৫ সালের ১৫ই নভেম্বর বিবাড়ীয়া জেলার আমীনপুর গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত ও দ্বীনদার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। শিক্ষাজীবনঃ বিবাড়ীয়া জামেয়া ইউনুসিয়ায় প্রাথমিক শিক্ষা শেষে তিনি মুন্সিগঞ্জ জেলাধীন বিক্রমপুরের মোস্তফাগঞ্জ মাদরাসায় তিন বছর পড়াশুনা করেন। তারপর ১৯৬১ সালে রাজধানী ঢাকার ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জামেয়া কোরআনিয়া আরাবিয়া লালবাগ মাদরাসায় চলে আসেন। এখানে তিনি হযরত মাওলানা শামছুল হক ফরিদপুরী রাহ. ও হযরত হাফেজ্জী হুজুর রাহ., কিংবদন্তী মুহাদ্দিস হযরত মাওলানা হেদায়েতুল্লাহ রাহ., শায়খুল হাদীস হযরত মাওলানা আজিজুল হক রাহ., আরেফ বিল্লাহ মাওলানা সালাহ উদ্দীন রাহ. এবং হযরত মাওলানা আব্দুল মজীদ ঢাকুবী রহ. -এর বিশেষ তত্ত্বাবধানে দাওরায়ে হাদীসের সনদ লাভ করেন। ১৯৬৯ সালে আল্লামা ইউসুফ বিন্নুরী রহ. এর কাছে হাদীস পড়ার উদ্দেশ্যে পাকিস্তান করাচী নিউ টাউন মাদরাসায় ভর্তি হন। সেখানে তিনি উলুমুল হাদীসের উপর পাঠ গ্রহণ করে দেশে ফিরে আসেন। কর্মজীবনঃ কর্মজীবন শুরু হয় ১৯৭০ সালে। প্রথমে মাদরাসা-ই- নূরিয়া কামরাঙ্গীরচরে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। ওই বছরই তিনি হজরত হাফেজ্জী হুজুর রাহ.-এর কন্যার সাথে বৈবাহিক বন্ধনে আবদ্ধ হন। ১৯৭২ সালে মাত্র নয় মাসে তিনি কুরআন শরীফ হেফয করেন। এ সময় তিনি ঢাকার আলু বাজারে একটি মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেন। একই সাথে আলু বাজার মসজিদের খতীবের দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ১৯৭৫ সালে তিনি জামেয়া কুরআনিয়া আরাবিয়া লালবাগ মাদরাসার শিক্ষক ও সহকারী মুফতী নিযুক্ত হন। ১৯৮৪ সালে তিনি লালবাগ জামেয়ার ভাইস প্রিন্সিপাল ও প্রধান মুফতীর দয়িত্ব পান। ১৯৮৭ সালে হযরত হাফেজ্জী হুজুর রাহ.-এর ইন্তেকালের পর থেকে তিনি লালবাগ জামেয়ার প্রিন্সিপাল ও শায়খুল হাদীসের দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৩ সালে পান বড়কাটারা হোসাইনিয়া আশরাফুল উলুম মাদরাসার প্রিন্সিপাল ও মুতাওয়াল্লির দায়িত্ব। ইন্তেকালের আগ পর্যন্তই এই দুইটি মাদরাসার প্রিন্সিপালের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। পাশাপাশি ঢাকার কাকরাইল, দাউদকান্দির গৌরীপুরসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বহু মাদরাসার প্রধান অভিভাবকের দায়িত্ব পালন করেছেন। মুফতী আমিনী রহ. একজন প্রজ্ঞাবান বড় আলেম ছিলেন। ঐতিহ্যবাহী দুটি বড় মাদরাসার প্রিন্সিপাল ও শায়খুল হাদীস ছিলেন। ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান হিসেবে সরব একজন ইসলামী রাজনীতিক ছিলেন। তার পরিচয় এতটুকুর মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। গত দুই যুগ ধরে তিনি ছিলেন এদেশের ধর্মপ্রাণ-দেশপ্রেমিক মানুষ ও সর্বস্তরের আলেম সমাজের একজন প্রধান প্রতিনিধি। তিনি তাদের ভাই ছিলেন। তিনি তাদের দুঃখ ও দ্রোহের কণ্ঠ ছিলেন। তিনি তাদের বন্ধু, নেতা ও অভিভাবক ছিলেন। সঙ্কটকালে তার গমগমা কণ্ঠ আর হাতের আঙুলের দিকে তাকিয়ে থাকতেন তারা। আহা! এত সুন্দর করে জনসভা ও মাহফিলগুলোতে ইসলামের অতীত গৌরব, বীরত্ব, আশাব্যঞ্জকতা, উদ্দীপনা, আল্লাহনির্ভরতা আর সাহসের পঙক্তিমালা তিনি উচ্চারণ করতেন যে মুহূর্তের মধ্যেই লাখো মানুষের ছায়াচ্ছন্ন, চিন্তাক্লিষ্ট চেহারায় প্রত্যয় ও আশ্বাসের রোদ হেসে উঠত। তিনি তার বক্তব্যে পবিত্র কুরআন ও হাদীসের ব্যাখ্যা পেশ করতেন। আশির দশকের শুরু পর্যন্ত তিনি ছিলেন অতি মনোযোগী ও নীরবতাবাদী একজন মেধাবী আলেম-শিক্ষক। তার শিক্ষক ও অভিভাবক হযরত হাফেজ্জী হুজুর রাহ. তাকে রাজনীতিতে নামালেন। ইসলামী হুকুমত প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে সেই যে নামলেন তিনি, আর সরে গেলেন না। তিনি যখন গেলেন তখন কোটি মানুষকে রাস্তায় রেখে একদমই তিনি চলে গেলেন। রাজনীতিতে পদার্পণঃ নব্বই দশকের শুরুতে ভারতের উত্তর প্রদেশে বাবরি মসজিদ ধ্বংস করা হলে এই দেশে লংমার্চের ডাক দেয়া হয়। সেই লংমার্চ আন্দোলনের দ্বিতীয় শীর্ষ নেতা ও প্রধান নির্বাহী ছিলেন মুফতী আমিনী রহ.। তার শিক্ষক শায়খুল হাসীস আল্লামা আজিজুল হক রহ. ছিলেন এ লংমার্চের আহ্বায়ক ও অভিভাবক। মুফতী আমিনী ছিলেন এর কার্যনির্বাহী প্রধান ও সমন্বয়কারী। ১৯৯৪ সালে তসলিমা নাসরিন পবিত্র কুরআন পরিবর্তনের ডাক দিলে তিনি ময়দানে ঝাঁপিয়ে পড়েন। সারা দেশে ছুটে বেড়িয়ে আন্দোলন সংগঠিত করেন। হরতাল পালন করেন। সেই মুরতাদ তসলিমা দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়। ২০০১ সালে সব রকম ফতোয়া নিষিদ্ধ করার একটি রায় উচ্চ আদালত থেকে ঘোষিত হলে তিনি বিচারপতিকে মুরতাদ ঘোষণা করে ঝুঁকিপূর্ণ ও ঘটনাবহুল এক আন্দোলনে নেমে পড়েন। তখন চার মাসের জন্য তিনি কারাগারে নিক্ষিপ্ত হন। বর্তমান সরকার ঘোষিত শিক্ষানীতি ও নারীনীতি নিয়ে তিনি সোচ্চার প্রতিবাদ করেন। নারীনীতির মধ্যে উত্তরাধিকারসহ সবপর্যায়ে নারীর সম-অধিকারের কুরআনবিরোধী ধারা বাতিলের জন্য দেশবাসীর প্রতি আন্দোলনের ডাক দেন। এক পর্যায়ে সম্পূর্ণ নিজস্ব উদ্যোগে বহু প্রতিকূলতা ও প্রশাসনিক প্রতিরোধের মুখে ২০১১ সালের ৪ এপ্রিল দেশব্যাপি সফল হরতাল পালন করেন। এর ঠিক ছয়দিন পর তার ছোট ছেলেকে গুম করে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু তাকে কোনোভাবেই নমনীয় করা যায়নি। পরবর্তী সময়ে সেই ছেলেকে ছেড়ে দেওয়া হয় এবং তাকে গৃহবন্দি করে রাখা হয়। প্রতিটি আন্দোলনেই তিনি ছিলেন মূল আহ্বায়ক এবং আগাগোড়া অনমনীয় ও দৃঢ়পদ। সারাদেশের শীর্ষ আলেমরা প্রতিটি আন্দোলনে তার সঙ্গে ও পাশে থেকে তাকে সহযোগিতা করেন। প্রতিবাদ, আন্দোলন, সংগ্রামে ধর্মপ্রাণ মানুষের আস্থা ও আশ্বাসের মিনারে পরিণত হন তিনি। আন্দোলন-সংগ্রামে প্রবীণত্ব ও নেতৃত্বের চূড়ান্ত পর্যায়ে তিনি সব সময় সর্বোচ্চ আসনে সমাসীন ছিলেন না। কিন্তু কার্যনির্বাহী দায়িত্ব তাকেই আঞ্জাম দিতে হয়েছে সব সময়। তার সময়কালে প্রায় সময়ই তিনি তার গুরুজনদের প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ স্নেহ ও পৃষ্ঠপোষকতা পেয়ে এসেছেন। খতিব উবায়দুল হক রাহ., বি-বাড়িয়ার বড়হুজুর মাওলানা সিরাজুল ইসলাম রাহ., শায়খুল হাদীস আল্লামা আজিজুল হক রাহ. ও আল্লামা শাহ আহমদ শফীর মতো বটবৃক্ষরা সব সময় তাকে স্নেহ-ছায়া বিলিয়ে এসেছেন। বড়দের সঙ্গে তিনি এভাবেই শ্রদ্ধা ও আস্থার সম্পর্ক বজায় রাখতেন। চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যঃ মুফতী আমিনী রহ. মেধাবী ও সংগ্রামী একজন আলেম ছিলেন। রাজনৈতিক অঙ্গনে বিচরণের কারণে তার আচরণে কখনো কখনো একটা আটপৌড়ে ও গাম্ভীর্যহীন ভাব বিরাজ করত। খোলামেলা ভাষায় বক্তব্য দিতেন। প্রাণ খুলে মিশতেন। জোরের সঙ্গে কখনো বিরক্তি প্রকাশ করতেন। কখনো বয়ানের মধ্যেও হেসে উঠতেন। যা দেখলে অনেক সময় তাকে গভীর মনের ও চিন্তার মানুষ বলে মনে হতো না। একটা বিভ্রম তৈরি হতো। কিন্তু বাস্তবতা এ রকম ছিল না। যারা জানেন তারা জানেন যে, তিনি কেবল হাদীসের দরসের প্রস্তুতির জন্য নয়, বরাবর অধ্যয়ন পাগল একজন মানুষ ছিলেন। গভীর অধ্যয়ন ও পাঠনিমগ্নতায় তিনি অনেক সময়ই বিভোর থাকতেন। মাঝে মাঝেই ইসলামী জ্ঞান, দর্শন, ফিকহ ও চিন্তাধারা বিষয়ে নতুন প্রকাশিত আরবি-উর্দু-ফার্সির বহু কিতাব কার্টন ধরে ধরে তিনি কিনে আনতেন। ইসলাম বিষয়ে আলোচিত নতুন প্রকাশিত কোনো গ্রন্থ তার অপঠিত থাকত না। লালবাগ মাদরাসার বিশাল লাইব্রেরির প্রাচীন শত শত কিতাবের কোনো কোনো পৃষ্ঠায় কাঠপেন্সিলে তার নোট ও পর্যবেক্ষণ আঁকা আছে। তার অন্তরে আচরণে আধ্যাত্মিকতার একটি স্বচ্ছ ঝর্ণা প্রবাহিত থাকতো। বেশিরভাগ সময়ই তার বক্তব্যে থাকতো আকাবিরে দ্বীন ও আসলাফে উম্মতের চোখভেজা বর্ণনা। বছরের প্রায় প্রতি রাতে তিনি ঘণ্টার পর ঘণ্টা কেঁদে-কেটে দুআ করতেন। এ দুআ কখনও মাদরাসায় তার রুম বন্ধ করে করতেন, কখনও ছাত্রদের ডেকে এনে দফতরে সম্মিলিতভাবে করতেন। দুআয় সময় দুই হাত ঊর্ধ্বে তুলে ধরে হাউমাউ করে কাঁদতে থাকতেন। সে কান্না সহজে শেষ হতো না। লালবাগ মাদরাসায় প্রতি বৃহস্পতিবার শেষ রাতে তিনি একটি সম্মিলিত দুআর আয়োজন করতেন। রাত ৩টার আগেই সারা মাদরাসার ছাত্ররা উঠে এসে শাহী মসজিদের বারান্দায় তাহাজ্জুদ পড়ত। তেলাওয়াত করত। ফজরের আযানের আধা ঘণ্টা আগে তিনি সবার মুখোমুখি দাঁড়াতেন। এরপর সবাইকে নিয়ে দু’হাত আল্লাহর দরবারে তুলে ধরতেন। সামনে ছাত্ররা বসা। উল্টোদিকে একা তিনি দাঁড়ানো। মসজিদের বাতিগুলো থাকত নেভানো। রাজনীতির ময়দানে হুঙ্কার দেয়া মুফতি আমিনী সেই অন্ধকার শেষ রাতে আল্লাহর দরবারে হাত তুলে অসহায়ের মতো, ভিক্ষুকের মতো, দণ্ডপ্রাপ্ত আসামীর মতো চিৎকার করে কাঁদতে থাকতেন। ইন্তেকালঃ আওয়ামী দুঃশাসনের অন্যতম হুমকি এই নিরপরাধ মানুষটি দীর্ঘ বিশ মাস ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের নজরবন্দীতে গৃহরুদ্ধ হয়ে থাকেন। এই সময়ে চিকিৎসার উপরেও সরকারী খড়গ ঝুলে থাকে। সারাজীবন জনতার ময়দান দাপিয়ে বেড়ানো এই মহান নেতাকে এভাবেই মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়া হয়। ২০১২ সালের ১২ ডিসেম্বর শুরু হবার কিছুক্ষণ পর তিনি এই নশ্বর পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়ে মহান আল্লাহ তায়ালার দিকে যাত্রা করেন। সারাদেশের মানুষ ও প্রকৃতির মাঝেও সেদিন শোকের ছায়া নেমে আসে। পরদিন লক্ষ লক্ষ মানুষ জাতীয় ঈদগাহে তার জানাযায় অংশগ্রহণ করেন। এমন অভূতপূর্ব ভালবাসার নিদর্শনের জুড়ি মেলা ভার হবে বহুদিন। জানাযা শেষে এই মহান আলেমকে তাঁর প্রিয় শিক্ষাঙ্গন লালবাগ জামিয়া সংলগ্ন কবরস্থানে সমাহিত করা হয়।
১১ সেপ্টেম্বর, ১৯৩১।জাবালে আখজার, #লিবিয়া।শত বাধা-বিপত্তির মাঝেও মুজাহিদরা লিবিয়ার এই শহরটি ইতালীয়দের হাত থেকে মুক্ত রেখেছিল। এখানে ছিলো মুজাহিদদের শাসনব্যবস্থা। শরিয়াহ কোর্ট, সমঝোতা কোর্ট ও অর্থবিভাগ এই সব মিলিয়ে ছিলো জাবালে আখজারের প্রশাসনিক ব্যবস্থা। এখান থেকেই আগ্রাসী ইতালীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে লিবিয়ার সানুসি মুজাহিদগণ যুদ্ধ পরিচালনা করতেন। মুজাহিদদের উপর বিপদের পাহাড় ভেঙ্গে পড়লেও তারা জাবালে আখজারের অবস্থানস্থল থেকে চুল পরিমাণ নড়তেন না। সানুসি মুজাহিদ বাহিনীর সেনাপতি ছিলেন সত্তরোর্ধ একজন বৃদ্ধ। যুদ্ধ করতে করতে হাতে পায়ের হাড়গোড় ভেঙ্গে গিয়েছে। তবুও এই বার্ধক্য তাকে কওমের কল্যাণে জিহাদ থেকে নিবৃত করতে পারেনি। তিনি প্রতিবছর নিজ অবস্থানস্থল থেকে বের হয়ে আশেপাশের সেনা ছাউনি পরিদর্শন করতেন। মুজাহিদদের সার্বিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে যুদ্ধের পরিকল্পনা গ্রহণ করতেন। রীতিমতো এবারও শতাধিক সেনা নিয়ে জাবালে আখজার থেকে মুজাহিদদের অন্যান্য সেনা ছাউনির উদ্দেশ্যে পথ ধরেন। কি মনে করে তিনি ফিরে আসেন এবং ৪০ জন সেনাকে রেখে ৬০ জনকে নিয়ে আবার রওনা হন। #জাবালে_আখজারে মুজাহিদদের যাতায়াত পথে একটি উপত্যকা পড়ে। খুবই দুর্গম। উপত্যকা জুড়ে রয়েছে ঘন ঝোপঝাড়ের জঙ্গল। বিকল্পহীন একমাত্র পথ হওয়ায় এই পথই বেছে নিতে হয়। সেখানে একরাত অবস্থান করেন। ইতালীয়দের গুপ্তচর তখন চতুর্দিকে ওৎপেতে ছিলো। এরই মধ্যে তারা মুজাহিদদের অবস্থান টের পেয়ে যায়। তৎক্ষনাত তারা উপত্যকাটি ঘিরে ফেলে। মুজাহিদরা কোনকিছু বুঝার পূর্বেই অবরূদ্ধ হয়ে যান। এই বিপদ সংকুল সময়ে সেই সাহসী বৃদ্ধ সেনাপতি জীবন কিংবা শাহাদাতের পথ বেছে নেন। তিনি সাথীদের নিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। যখন তারা বের হয়ে ঘোড়া নিয়ে ছুটে যাচ্ছিলেন তখন ইতালীয় বাহিনী একযোগে গুলি নিক্ষেপ করা শুরু করে। ইতিমধ্যে তার বহু সৈন্য শাহাদাতের পেয়ালায় চুমুক দিয়ে জান্নাতে পাড়ি জমায়। তিনি ঘোড়া নিয়ে যেদিকেই ছুটে যাচ্ছিলেন সেদিকেই ইতালীয় বাহিনী অবরোধ করে রেখেছিল। তাদের ছোড়া গুলিতে তার ঘোড়া আহত হয়ে পড়ে যায় এবং তিনিও ঘোড়া থেকে নিচে পড়ে হাতে প্রচন্ড ব্যথা পান। আহত হাত দিয়ে তাদের প্রতিরোধের চেষ্টা করেন। কিন্তু সক্ষম হননি। সাথে সাথেই তাকে বন্দি করতে ইতালীয় সৈন্যরা ছুটে আসে । তারা তাকে চিনত না। কিন্তু উপস্থিত এক গাদ্দার তার পরিচয় বলে দিলে তারা তাকে সনাক্ত করে। এই বৃদ্ধই হচ্ছে তাদের ত্রাশ মরু সিংহ উমর আল-মুখতার। ইতালীয়দের যমদূত। যে দীর্ঘ ২০ বছর ইতালীয়দের যুদ্ধের ময়দানে কঠিনভাবে নাকানি চুবানি খাওয়াচ্ছিলেন। হাজারবার বন্দি ও মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছিলেন। আজ সেই সিংহ তাদের খাচায় বন্দি। এই সিংহের জন্ম হয় ১৮৬২ (মতান্তরে ১৮৫৮) সালে। পৃথিবীব্যাপি ঔপনিবেশিক শাসন তখন দুর্বার গতিতে এগিয়ে চলছে। এক শক্তির স্থলে অন্যশক্তির প্রত্যাবর্তনে বিশ্ব ক্ষমতার আসন ঘুরপাক খাচ্ছিলো। এদিকে এককালে ইউরোপকে নাস্তানাবুদ করা ইস্তাম্বুলের সালতানাত ই উসমানিয়্যাহ যৌবণের সব জৌলুশ হারিয়ে বয়সের ভারে নুইয়ে পড়েছে। এমন সময়েই উসমানীয় খিলাফতের অধীনস্ত লিবিয়ার পূর্বাঞ্চলের একটি ছোট শহরে এক সম্ভ্রান্ত ও দ্বীনি পরিবারে উমর মুখতারের জন্ম হয়। পরিবারটি ছিলো উন্নত চরিত্র, অনুপম আদর্শ ও উত্তম গুণাবলির মূর্তপ্রতীক। ১৬ বছর বয়স হতেই উমর মুখতারের বাবা হজ করতে গিয়ে মারা গেলে, বাবার ইচ্ছানুযায়ী স্থানীয় সানুসি শায়খ শরিফ আল গারিয়ানি তাকে নিজের তত্ত্বাবধানে নিয়ে আসেন। এরপর তাকে উত্তম মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার নিমিত্তে সানুসি খানকাহর কুরআনিয়া মাদ্রাসায় পড়তে দেওয়া হয়। এখান থেকেই কুরআনে হিফজ সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে উচ্চতর ইলম অর্জনের জন্য সানুসিদের দ্বারা নিয়ন্ত্রীত স্থানীয় প্রসিদ্ধ প্রতিষ্ঠান জাগবুবি মাদ্রাসায় ভর্তি হন। এই সময়ই ধীরে ধীরে তিনি এমন একটি জীবনে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে— রাতে মাত্র ৩ ঘণ্টা ঘুমাতেন। রাতের শেষ ভাগে উঠে প্রভুর সান্নিধ্যে সালাতে দাঁড়াতেন। ফজরের পূর্বের বাকি সময়টুকু কাটিয়ে দিতেন কুরআন তিলাওয়াতে। প্রতি সাতদিনে একবার সম্পূর্ণ কুরআন পড়ে শেষ করতেন। পরবর্তীতে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত শত বাধা-বিপত্তির মাঝেও এই অভ্যাস তিনি ত্যাগ করেননি। তিনি ছিলেন সানুসি আন্দোলনের এক অনুগত ও একনিষ্ঠ অনুসারী। তখন উত্তর আফ্রিকায় এই আন্দোলনের যথেষ্ট প্রভাব ছিলো। বিশেষ করে লিবিয়া, সুদান, মরক্কো প্রভৃতি দেশগুলোতে। এই আন্দোলনের যাত্রা শুরু হয় ১৮৩৭ সালে মক্কায় শায়খ মুহাম্মাদ বিন আলি আস-সানুসির মাধ্যমে। সানুসি আন্দোলন মূলত সালাফি ও সূফির মাঝামাঝি একটি ধর্মীয় আন্দোলন ছিল। উমর মুখতার এদের হাতে গড়া এক মুজাহিদ ছিলেন। বীরত্ব ও সাহসিকতার মতো অনুপম গুণে উমর মুখতারের যৌবন মৌবন ছিল সুশোভিত। একবার ১৮৯৪ সালে এক কাফেলার সাথে সুদান যাওয়ার পথে একটি ঘটনায় তার সাহসিকতার পরিচয় পাওয়া যায়। পথে মরুভূমির একটি সরু রাস্তায় সবসময় একটি হিংস্র সিংহ অপেক্ষা করে থাকে। পথ থেকে সিংহটিকে সরানোর জন্য প্রত্যেক কাফেলাই একটা করে উট দিয়ে থাকে। রীতিমতো এবারও এই সংকীর্ণ পথ রোধ করে সে সিংহটি। কাফেলার সবাই আতংকিত হয়ে ছুটোছুটি করতে থাকে। কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়ে সকলেই। সবাই মিলে পূর্বের মতো ঠিক করলো যে, সিংহটিকে একটি উট দেয়া হবে; যাতে উটটি নিয়ে সে তাদের পথ ছেড়ে চলে যায়। এই অবস্থায় তিনি সকলের চেয়ে ভিন্ন অবস্থান নেন। তিনি তার শট গানটি নিয়ে ঘোড়ার উপর চড়ে বসলেন এবং সিংহটির দিকে এগিয়ে গেলেন। সবার চোখ কপালে উঠে গেল, কিছুক্ষণ পর তিনি সিংহটির মাথা নিয়ে ফিরে এলেন! তার সাহসিকতায় মুগ্ধ হয়ে লোকেরা তাকে উপাধি দেয় “সিয়েরানিকার সিংহ”। তার চরিত্র গঠনে সাহস এবং ধর্মীয় মূল্যবোধের ভূমিকা ছিল সবচেয়ে বেশি। তরুণ বয়সেই তিনি বেশ বিচক্ষণ ও পরিপক্ক হয়ে ওঠেন। ফলে সানুসি প্রধান শায়খ মুহাম্মাদ আল মাহদি তাকে উবাইদ নামক একটি গো্ত্রের নিকটে আল-কুসুর খানকা্র দায়িত্বে নিযুক্ত করেন। তিনি তার দাওয়াহ ও বুদ্ধিমত্তার ফলে গোত্রটিকে সঠিকভাবে পরিচালনা করতে সক্ষম হন। গোত্রের নানা সমস্যা সমাধানে তার ডাক পড়তো। লোকেরা তার কথা খুব মনোযোগ দিয়ে শুনতো এবং গ্রামের অভ্যন্তরীণ সমস্যাই হোক কিংবা ধর্মীয়, তার পরামর্শ সবাই সন্তুষ্টচিত্তে মেনে নিতো। তার শিষ্টাচার ছিল সুবিদিত। তার ভাষার প্রাঞ্জলতা সহজেই সবার মনোযোগ কেড়ে নিতো। তার বয়স যখন চল্লিশের কোঠা অতিক্রম করছে, তখনই পৃথিবীজুড়ে সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলোর ঔপনিবেশিকতার রোগ মাথা চাড়া দিয়ে উঠে। একের পর এক দেশ যখন ইউরোপিয়ানদের হাতে দখল হচ্ছিল। তখন আফ্রিকার চাদে ফরাসি বাহিনি তাদের যুলুমের রাজত্ব প্রতিষ্ঠা করে। সানুসি আন্দোলন চাদে ঔপনিবেশিকদের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তুলে। কারণ তারা এই অঞ্চলে আধিপত্য বিস্তার করতে চেয়েছিল। ফরাসিদের বিরুদ্ধে জিহাদের জন্য যেকজন দক্ষ কমান্ডার নির্বাচন করা হয় উমর মুখতার ছিলেন এদের অন্যতম একজন। সানুসি প্রধান শায়খ মুহাম্মাদ আল মাহদির নির্দেশে চাদে সানুসি আন্দোলনের মুজাহিদদের নিয়ে দখলদার ফরাসি বাহিনীর বিরুদ্ধে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েন। বিচক্ষণ নেতৃত্ব ও দূরদর্শিতা দিয়ে তিনি বীরদর্পে ফরাসি বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে থাকেন। সানুসি শায়খ তার ব্যপারে মন্তব্য করেন, যদি আমাদের কাছে উমর মুখতারের মতো ১০ জন থাকতো তাহলে ফ্রেঞ্চদের বিরুদ্ধে যথেষ্ট হতো। দুবছর যুদ্ধ শেষে সানুসি প্রধান শায়খ তাকে আল-কুসুর খানকায় ফিরে যাবার নির্দেশ দেন। কিন্তু বেশিদিন অবস্থান করা হয়নি। সানুসি মুজাহিদ বাহিনী ও ব্রিটিশ বাহিনীর মধ্যে লিবিয়া-মিশরের সীমান্তবর্তী অঞ্চল আল-বারদি, মাসাইদ ও সালুমে এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ শুরু হয়ে যায়। তিনি ছুটে যান সেদিকে। ১৯০৮ সালের এই লড়াইয়ে তিনি জীবনবাজি রেখে লড়াই করেন। এসময় তার অবদানের স্বীকৃতি অনুযায়ী উসমানীয় খলিফার পক্ষ থেকে প্রশংসাপত্র অর্জন করেন। তার নাম ছড়িয়ে পড়ে চতুর্দিকে। যুদ্ধশেষে উসমানীয়দের উপর ব্রিটেনের চাপে সালুম অঞ্চল সংযুক্ত হয় মিশরের সাথে। তিনি আবার ফিরে আসেন আল-কুসুর খানকায়। কিছুদিন পর ১৯১১ সালের দিকে ইউরোপিয়ানদের দৃষ্টিতে অনুন্নত জাতিগুলোকে নিজেদের উপনিবেশে পরিণত করার এই প্রতিযোগিতায় ইতালিও যোগ দেয়। উত্তর আফ্রিকায় তারা অভিযান শুরু করে। কিন্তু লিবিয়া দখলের যাত্রাপথেই পঞ্চাশ বছর বয়স্ক এই মানুষটি তাদের সামনে পাহাড়ের মত বাধা হয়ে দাঁড়ান। প্রথমে উসমানীয় সৈন্যরা প্রতিরোধ গড়ে তুলেন। উসমানীয়দের সাথে যোগ দেয় সানুসি সৈন্যরা। তিনি খবর পেয়ে আল-আবিদ গোত্রের সক্ষম পুরুষদের জিহাদে উদ্বুদ্ধ করে তাদের নিয়ে যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েন। এক বছর ধরে চলমান এ যুদ্ধে ইতালিয়ানদের বিশাল বাহিনী তুলনামূলকভাবে অনেক কমসংখ্যক বেদুইন আরব এবং তুর্কি যোদ্ধাদের অল্পস্বল্প অস্ত্রশস্ত্রের কাছে বারবার নাস্তানাবুদ হতে থাকে। এক বছর পরেও সমুদ্র উপকূলের অল্প কিছু স্থান ছাড়া লিবিয়ার বিশাল এলাকায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে ব্যর্থ হওয়ায় ইতালিয়ানরা অটোমান সাম্রাজ্যের সাথে চুক্তি করে। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, ইতালিয়ানরা লিবিয়ার বাইরের কিছু এলাকা এবং দ্বীপের দখল ছেড়ে দেয়, বিনিময়ে অটোমান সৈন্যরা লিবিয়া ছেড়ে চলে যায়। অটোমানরা চলে যাওয়ার পর অধিকাংশ মুজাহিদরা জিহাদের আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। এমনকি সানুসি প্রধাণ শাইখ ইদ্রিস সানুসিও। প্রথমে যুদ্ধ করলেও কিছুদিন পর তিনিও বিভিন্ন সমঝোতা ও ব্রিটিশদের সাথে বন্ধুত্ব গড়ে তুলেন। তিনি সমঝোতা করে বারকার কতৃত্ব নিজ হাতে নেন। এসব চুক্তিতে পরবর্তীতে কোন লাভ হয়নি। ১৯২০ সালে ইতালীতে ক্ষমতায় আসে ফ্যাসিস্ট মুসোলিনি। সে এসেই সকল চুক্তি বাতিল করে দেয়। নতুন করে তারা অভিযান শুরু করে। লিবিয়ায় ইতালীয় সৈন্যের সংখ্যা দিগুণ বৃদ্ধি পায়। চতুর্দিকে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ১৯২৩ সাল।ততদিনে সানুসি আন্দোলনের প্রধান শায়খ ও বুজুর্গগণ আশাহত হয়ে মিশর হিজরত করে চলে যান। মিশর থেকে সানুসি শায়খদের দ্বারা লিবিয়ায় থাকা মুজাহিদদের গোপন পথ দিয়ে খাদ্য ও অস্ত্র সরঞ্জাম পাঠানো হতো। তিনি মিশর সফরে যান। সাথে ছিলেন আলী পাশা উবায়দি। কিছুদিন থাকার পর লিবিয়ায় মুজাহিদদের ঘাটি বারকায় ফিরে আসার উদ্দেশ্যে মিশর থেকে রওয়ানা হন, তখন সানুসি আন্দোলনের শায়খ ও বুজুর্গ ব্যক্তিগণ তার সাথে সাক্ষাৎ করে। তারা তার দৃড় সংকল্পের প্রশংসা করে বলেন, “আপনি এখন বয়সের ভারে ন্যুব্জ। এখন আপনার জন্য নিরবিচ্ছিন্ন বিশ্রাম প্রয়োজন। এটাই এখন খুব জরুরি। বারকায় জিহাদের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য আমরা আপনি ছাড়া অন্য কাউকে দায়িত্ব দিতে পারি”। একথা শুনে তিনি ক্রুদ্ধকন্ঠে জবাব দেন, যারাই আমাকে একথা বলছে ,তারা মোটেও আমার কল্যাণকামী নয়। তিনি দখলদার ইতালীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে যে জিহাদ চালিয়ে যাচ্ছেন, তা তিনি ফরজে আইন মনে করতেন। এজন্য জিহাদের প্রতিটি কাজ ও পদক্ষেপে তিনি ছিলেন একনিষ্ঠ। তিনি প্রায়ই বলতেন, হে আল্লাহ এ পবিত্র ও মোবারক রাস্তায় আমার মরণ দাও। উমর মুখতার জিহাদের ভূমি লিবিয়া ছেড়ে কখনোই যেতে চাইতেন না। তাকে হিজরত করে মক্কায় হজ করার জন্য বলা হলে তিনি তা এ বলে প্রত্যাখ্যান করেন, “শাহাদাৎ আসার আগ পর্যন্ত আমি এ ভূমি ত্যাগ করবো না। ইমান ও আক্বিদা এবং মুসলিম ভূমি হেফাজতের জন্য জিহাদের সাওয়াবের চেয়ে হজের সাওয়াব বেশি হতে পারে না”। তিনি বলেন, প্রত্যেক মুসলিমের জন্য জিহাদ ফরজ। জিহাদ ছাড়া মুক্তি আসতে পারে না। এজন্যই উমর মুখতার কখনো যুদ্ধ স্থগিত কিংবা হিজরত করে চলে যাবার চিন্তা ভুল করেও করতেন না। মিশর থেকে মুজাহিদদের জন্য সরঞ্জাম নিয়ে ফিরে এসে যুদ্ধের নেতৃত্ব দিতে থাকেন। একের পর এক যুদ্ধ সংগঠিত হয়। প্রথমেই টানা তিনটা যুদ্ধ হয়। প্রথম দুটি হয় ১৯২৩ সালে বিরে বিলাল ও বারকায়। বিরে বিলাল যুদ্ধে মুজাহিদরা কামান্ডার আব্দুল্লাহ সুদানির নেতৃত্বে জয়লাভ করেন। এই যুদ্ধের চারদিন পর সংগঠিত হয় বারকাহর যুদ্ধ। এই যুদ্ধেও মুজাহিদগণ জয়লাভ করেন। এই বিজয়গুলো সত্ত্বেও মুজাহিদদের সীমাবদ্ধতার কারণে ইতালিয়রা কয়েকটি গ্রাম দখল করে নেয়। তৃতীয় যুদ্ধটি হয় বিরে আলগাবিতে। একদিন সকালে মুজাহিদদের নিয়ে উমর মুখতার আলোচনা করছিলেন ঠিক তখনই ইতালি বাহিনী সাতটি গাড়ি নিয়ে উপস্থীত হয়। মুজাহিদদের সংখ্যা ছিলো মাত্র পঞ্চাশ জন। ইতালিয়ান বাহিনী এসেই গাড়িসহ সুবিধামতো পজিশন নিয়ে মুজাহিদদের উপর আক্রমণ শুরু করে। উমর মুখতার, আলি পাশা উবায়দি ও তার সাথীরা তৎক্ষনাত বন্দুক নিয়ে গুলি শুরু করেন। দুদিক থেকেই আক্রমণ চলতে থাকে। কিছুক্ষণ পরেই তাদের কিছু সৈন্যের লাশ ফেলে পরাজয় বরণ করে পালিয়ে যায়। তাকে কোনভাবেই দমাতে পারছে না ইতালীয়রা। সংঘর্ষ এড়াতে ইতালিয়ানরা তাকে উচ্চ পদ এবং সম্পদের লোভ দেখায়। বিনিময়ে তাকে আত্মসমর্পণ করে তাদের আনুগত্য মেনে নেয়ার প্রস্তাব দেয়া হয়। এর জবাবে তিনি তার বিখ্যাত উক্তিটি করেন, “আমি কোন মজাদার খাবার নই যে, কেউ চাইলেই আমাকে গিলে ফেলবে। তারা আমার আদর্শ-বিশ্বাসকে টলাতে যতই অপচেষ্টা করুক, আল্লাহ তাদের পরাজিত করেই ছাড়বেন।” তারা হাল ছেড়ে দিয়ে ফিরে যায়। দখলদার ইতালিয়ান বাহিনী এটা খুব ভালো করেই জানতো, উমর মুখতারকে কোনভাবে কোনঠাষা করতে পারলেই লিবিয়ার যুদ্ধে বিজয় তাদের জন্য শুধু সময়ের ব্যপার। কারণ তিনি ছিলেন লিবিয়ার জিহাদের হৃদপিণ্ড। উমর মুখতার ইতালিয়ানদের দূর্বল জায়গাগুলো খুঁজে বের করে তাতে আঘাত হানতে শুরু করেন। যারা ভেবেছিল, মুসলিম দেশগুলো দখল করতে কোন বেগই পেতে হবে না, তারা এবার প্রচণ্ড ধাক্কা খেল। জালু মরুভূমি থেকে আসা আবু কারায়্যিম নামের আরেকজন সাহসী মানুষকেও তিনি এই লড়াইয়ে পাশে পেয়েছিলেন। তার বয়স হয়েছিল নব্বই বছর! কিন্তু ক্ষুধা আর বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে তার বাহিনীর অনেকের মৃত্যু ঘটে। ইতালিয়ানরা একের পর এক গ্রাম লুট করে জ্বালিয়ে দিতে থাকে। নারী, শিশু আর বৃদ্ধদেরও তারা ছাড় দেয়নি। কনসেনট্রেশন ক্যাম্পগুলোতে বন্দির সংখ্যা দিন দিন বাড়তে থাকে। তারা গোত্রের মানুষের উপর হামলা করতে থাকে, যাতে তার মুজাহিদদের সাহায্য ও সহযোগিতা থেকে হাত গুটিয়ে নেয়। ১৯২৪ ও ২৫ সালে বেশ কটি খন্ড যুদ্ধ সংগঠিত হয়। এসময় মুজাহিদরা জাবালে আখজারে তাদের সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধি করে তোলেন। বারকায় ইতালীয় বাহিনীর নেতৃত্বের পরিবর্তন আসে। ত্রিপলি থেকে জেনারেল গ্রাজিয়ানি আগমন করে। তারা মুজাহিদদের সাথে একের পর এক যুদ্ধে জড়িয়ে যায়। ১৯২৭ সালে সানুসি জিহাদি আন্দোলনের প্রধাণ পৃষ্টপোষক সায়্যিদ রেজা মাহদি আস সানুসি চক্রান্তের ফাঁদে পড়ে গ্রেফতার হয়ে যান। ফলে বারকা, আল হামরা, বারকা আল বাইদা এলাকাগুলো ধিরে ধিরে মুজাহিদদের হাতছাড়া হয়ে যায়। ১৯২৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইতালীয় বাহিনী এক বিশাল সৈন্যবহর নিয়ে জাবালে আখজারে দিকে আসে। গ্রাজিয়ানি ছিলো এর নেতৃত্বে। এই বাহিনীর সাথে মুজাহিদদের এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ সংগঠিত হয়। যা ধারাবাহিক পাঁচদিন পর্যন্ত স্থায়ী হয়। এতে ইতালীয় বাহিনী অত্যন্ত সোচনীয়ভাবে পরাজয় বরণ করে। রণক্ষেত্রে তারা অনেক অস্ত্র, গোলাবারুদ, গাড়ি ও রসদপত্র রেখে প্রাণ নিয়ে কোনরকম পালাতে সমর্থ হয়। ১৯৩০ সালের অক্টোবরে মুজাহিদদের সাথে ইতালীয়দের একটি বিরাট যুদ্ধ সংগঠিত হয়। যুদ্ধ শেষে ইতালীয়রা উমর মুখতারের চশমা খুঁজে পায়। এতে তাদের আত্নবিশ্বাস দৃড় হয়। জেনারেল গ্রাজিয়ানি বলে, আজ আমরা উমর মুখতারের চশমা পেতে সক্ষম হয়েছি, কাল তার মাথা আনতে সক্ষম হবো। ১৯৩১ সালে জুন মাসে কয়েকটি যুদ্ধ হয়, এতে মুজাহিদরা পরাজিত হয়। ফলস্বরূপ ইতালীয়রা কয়েকটি গ্রাম দখল করে নেয়। এর কয়েকমাস পরেই উমর মুখতার আল-জুরাইব উপত্যকার পাদদেশে বন্দি হয়ে যান। সাথে তার মুজাহিদ বাহিনী শহীদ হয়ে যায়। ফলস্বরূপ লিবিয়ার প্রতিরোধ আন্দোলন অনেকটা শিথিল হয়ে যায়।-বন্দি করার পর তাকে জাবালে আখজার থেকে সমুদ্রপথে বেনগাজি নিয়ে আসা হয়। বন্দি উমরকে সশস্ত্র সৈনিকদের কড়া প্রহরায় গোলাবারুদসমৃদ্ধ প্রিজনভ্যানে তাকে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। কারাগারে তাকে অন্যসকল বন্দি থেলে আলদা করে বিশেষ একটি সেলে রাখা হয়। তার মধ্যে কোন হতাশা নেই, ভয় নেই, যেনো এর জন্যই তিনি অপেক্ষা করছিলেন। সাহসিকতা এবং অকুতোভয় মানসিকতার কারণে শত্রুরাও তাকে শ্রদ্ধার দৃষ্টিতে দেখতো। যে অফিসার জেনারেল গ্রাজিয়ানি তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিলো সে বলে, “তাকে যখন আমার অফিসে হাজির করা হয়, তাকে অন্য সব মরুযোদ্ধাদের মতোই ভেবেছিলাম। তার হাত ছিলো শিকলবদ্ধ। অবিরাম যুদ্ধ করতে করতে তার শরীরের অনেক হাড়গোড়ই ভেঙ্গে গিয়েছিল। একারণে তার হাঁটতেও খুব কষ্ট হচ্ছিলো। কিন্তু এত কিছুর পরও তাকে কোন সাধারণ সৈনিকের মত লাগছিলো না। তিনি সোজা হয়ে দাঁড়ালেন এবং ধীর শান্ত কণ্ঠে প্রশ্নের জবাব দিচ্ছিলেন। তার চেহারায় সূর্যের মত দ্যুতি আমার মনে কাঁপন ধরিয়ে দিয়েছিল। কথোপকথনের শেষ ভাগে আমার ঠোঁট কাঁপতে শুরু করে। আমি তাড়াতাড়ি জেরা শেষ করে তাকে পরের দিন কোর্টে হাজির করার নির্দেশ দিই।” তিনি ছিলেন একজন কিংবদন্তী। তার দেশের শাসকরা যখন ইতালিয়ানদের কাছে আত্মসমর্পণ করে দেশ ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছিলো, তিনি তার ছিলেন দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। সানুসী আন্দোলনের অনেক আলিমরা একটা সময় পর্যন্ত যুদ্ধ করলেও এক সময় এসে তাদের কেউবা সামান্য সুযোগ সুবিধার বিনিময়ে আপোষ করে ফেলে। কেউ হিজরত করে মিশর পাড়ি জমায়। এমনকি বিপদের সময় তারা তার পাশে এসে দাঁড়ায়নি। বরং তারা ইতালিয়ানদের হাতে মুসলিম ভূমিকে ছেড়ে দিয়েছিল। তাদের সম্পর্কে উমর মুখতার বলেন, “তাদেরকে আল্লাহ এমন অন্তর দান করেননি, যে অন্তর দিয়ে তারা মুসলিম জাতির আর্তচিতকার শুনতে পাবেন। আল্লাহ আমাকে সেই অন্তর দান করেছেন।” তিনি আল্লাহর কুরআন হাতে তুলে নেন এবং আল্লাহর কাছে ওয়াদা করেন যে, প্রয়োজন হলে তিনি একাই জালিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাবেন, যতক্ষণ বিজয় কিংবা শাহাদাতের যে কোনো একটি লাভ না করেন। তার জীবনের শেষ বিশ বছরে তিনি এক হাজারেরও বেশি যুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। ইতালিয়ান জেনারেলরা তাকে শেষ বারের মত নতি স্বীকার করার প্রস্তাব দেয়, কিন্তু তার জবাব ছিল, “যতক্ষণ না পর্যন্ত তোমরা এই দেশ ত্যাগ করবে অথবা আমি আমার দেহ ত্যাগ করবো, ততক্ষণ আমি লড়াই চালিয়ে যাবো। মানুষের অন্তরের গোপন কথাও যার অগোচরে নয় তার শপথ, যদি এই মূহুর্তে আমার দুই হাত বাঁধা না থাকতো আমি খালি হাতেই তোমাদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়তাম… …।” কথা শেষ হওয়ার আগেই জেনারেলরা সাজানো ট্রাইব্যুনালে তার মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করে। এমনকি বিচার শুরু হওয়ার আগে থেকেই কোর্টের বাইরে ফাঁসির দড়ি প্রস্তুত রাখা হয়েছিল! ১৯৩১ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর জনসম্মুখে তার ফাঁসি কার্যকর করা হয়। আল্লাহ যেন জান্নাতে তার মর্যাদা বৃদ্ধি করে দেন। তার রেখে যাওয়া আদর্শ কিয়ামত পর্যন্ত বেঁচে থাকবে। তিনি নিজের রক্ত দিয়ে বিজয়ের গল্প লিখে গিয়েছেন, তিনি কিংবদন্তীদের কিংবদন্তী এবং যারা অবমাননাকর সময়ে মর্যাদা নিয়ে বাঁচতে চায় তাদের জন্য একজন অনুসরণীয় ব্যক্তিত্ব।তথ্যসূত্র: উমর মুখতার, আলী সাল্লাবি।(ইতিহাস কথন) থেকে । নোটঃ মরুসিংহ খ্যাত ওমর মোখতারের প্রতি ভালবাসাটা একটু বেশি ই । কেননা তার বিচরণ ভূমি আমি নিজ চোখে দেখে এসেছি । ঐ মরুময় পাহাড় ও উপত্যকাগুলো কত যে ভয়ানক ও ডিফিকাল্ট তা চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন ।উল্লেখ্য যে আমি প্রায় তিন বছর লিবিয়ার সাহারা ডেজার্ট দাবড়ে বেড়িয়েছি । আমরা এমন একটি কোম্পানিতে চাকরি করেছি যারা লিবিয়ায় তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান করতো । বিভিন্ন স্থাপনার খনন কাজে মাটির নিচ থেকে ঢাল তরবারী ও বর্শা পাওয়া যেতো । লিবিয়ার প্রত্নতাত্বিক বিভাগের একটি টিম আমাদের সাথে থাকতো । ——–#মরুচারী_মুসাফফির
#পলাশীর_যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে তিনিই একমাত্র শাসক যিনি ইংরেজদের বিরুদ্ধাচারণ করার সাহস দেখিয়েছিলেন, তিনি হলেন নবাব মীর কাসিম। বিলাসিতার পথে না গিয়ে নিজের সবটুকু দেশের স্বাধীনতার জন্য বাজি রেখে স্বাধীনতাকামীদের জন্য স্মরণীয় অনুপ্রেরণা হয়ে আছেন তিনি। চলুন জানা যাক, তার সংগ্রামী জীবন নিয়ে কিছু কথা।১৭৫৭ সালে পলাশীর ঐতিহাসিক যুদ্ধে নবাব সিরাজ-উদ-দৌলাকে পরাজিত ও হত্যা করার পর বিশ্বাসঘাতক মীর জাফর বাংলার নবাবীর মসনদে বসেন। তার বিলাসিতা ও ভোগসর্বস্ব প্রকৃতির কারণে অল্প দিনের মধ্যে বাংলায় অরাজকতা ও অসন্তুষ্টি মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। এই ভোগের খেলায় তার সাথে যোগ হয় তার পুত্র মিরন। দেশের প্রতি কোনো নজর না থাকা এই দুই পিতা-পুত্রকে নিয়ে মহাবিপাকে পড়া ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী সরকার প্রথমে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে মিরনকে হত্যা করে। আর তারপর দেশের বেহাল অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্যে মীর জাফরকে অপসারণ করে তার স্থানে তার জামাতা মীর কাসিমকে ক্ষমতায় বসায়। সময়টি ১৭৬০ সাল। ইরাকের নাজাফের অভিজাত বংশীয় মীর রাযী খানের পুত্র মীর কাসিম। পুরো নাম মীর মুহাম্মদ কাসিম আলি খান। মীর জাফরের কন্যা ফাতিমা বেগমকে স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন তিনি। নবাব হিসেবে তার যোগ্যতার কোনো অভাব ছিলো না। তিনি ছিলেন স্বাধীনচেতা ও দেশপ্রেমিক। শ্বশুরের মতো কাপুরুষ ও মেরুদন্ডহীন ছিলেন না। দেশপ্রেমের ক্ষেত্রে তার কোনো দৈন্য তো ছিলোই না, বরং এই গুণটির যথেষ্ট আধিক্য ছিলো।মীর জাফর আর তার দুর্বৃত্ত পুত্র মিরনের দুঃশাসন ও দুর্নীতির ফলে শাসনব্যবস্থায় অরাজকতা ও অর্থনীতিতে দেউলিয়াপনা দেশকে পেয়ে বসেছিলো। কৃষকরা ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত হতে থাকে, বকেয়া বেতনের দাবিতে সেনাবাহিনীর মধ্যে একের পর এক বিপ্লব ঘটতে থাকে। এই অবস্থায় দেশটাকে দেখতে পেয়ে শিউরে ওঠেন নবনিযুক্ত নবাব মীর কাসিম। অবিলম্বে তিনি এমন সব ব্যবস্থা গ্রহণ করেন যাতে কিছুদিনের মধ্যেই দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থার প্রভূত উন্নয়ন সাধিত হয়। তার গৃহীত নীতি ছিলো বেশ কঠোর। ফলে বেশ কিছু লোক, বিশেষ করে সুবিধাবাদী কিছু লোক বেশ অসুবিধায় পড়েন। মীর কাসিম দেশের অর্থনীতিকে মোটামুটি সুষ্ঠু ভিত্তির উপর স্থাপন করে সামরিক শক্তি বৃদ্ধির কাজে আত্মনিয়োগ করেন। তিনি সৈনিকদের বকেয়া বেতন পরিশোধ করেন এবং নিয়মিত বেতন পাবার ব্যবস্থা করে তাদের সঠিক শিক্ষাদানের ব্যবস্থা করেন।নবাব সিরাজ-উদ-দৌলার সাথে ইংরেজদের বিরোধের কারণগুলোর মধ্যে একটি বড় কারণ ছিলো ইংরেজদের দেয়া শুল্ক নিয়ে। ১৭১৭ সালে ফররুখশিয়ারের আমলে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী বছরে মাত্র তিন হাজার রুপি প্রদানের শর্তে সমগ্র বাংলায় শুল্কমুক্ত বাণিজ্যের অধিকার তৈরি করে নেয়। শর্তমতে শুধু ইংরেজরা শুল্কমুক্ত বাণিজ্য করবে, বাঁকি সব স্থানীয় বণিককে আয়ের ৪০% হারে শুল্ক দিতে হবে। এই ব্যবস্থাকে রাজকীয় ‘দস্তক’ ব্যবস্থা বলা হতো। সিরাজ তাদের স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন, নবাব মুর্শিদকুলী খান ইংরেজদের বাণিজ্যের ক্ষেত্রে যে নিয়ম-নীতি নির্ধারণ করে দিয়েছিলেন, সেসব মেনেই তাদের এ দেশে বাণিজ্য করতে হবে। নইলে এ দেশে বাণিজ্যের আশা তাদের ছাড়তে হবে। ইংরেজরা তা মানতে রাজি ছিলো না। উৎকোচ, উপহার, পেশকশ ইত্যাদি দিয়ে নবাবকে হাতে রাখার পাঁয়তারা করে আর অল্প শুল্ক প্রদান করে তারা এই দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থের হানি করে। এই বিরোধের জের ধরেই নবাব সিরাজ শুধু রাজ্য নয়, প্রাণও হারান।নবাব মীর কাসিম সিংহাসনে বসে দেশের অর্থনীতির ভিত্তি মজবুত করতে গিয়ে দেখেন, ইংরেজরা সরকারকে ফাঁকি দিয়ে বিনা শুল্কে অথবা অতি সামান্য শুল্ক প্রদানের মাধ্যমে এদেশে বাণিজ্য করে যাচ্ছে। ব্যাপারটার শুধু সেখানেই শেষ নয়। নবাব লক্ষ্য করেন , ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী তো শুল্কের সব ফায়দা লুটছেই, সেই সাথে ইংল্যান্ড থেকে আসা সাধারণ ব্যবসায়ীরাও শুধু ইংরেজ বলে কোম্পানীর ভোগকৃত সুবিধাসমূহ ভোগ করে যাচ্ছে। নবাব মীর কাসিম এই দস্তক প্রথার পূর্ণ বিরোধিতা করেন। এ ব্যাপারে কোম্পানীর সাথে আলোচনায় বসে বলেন, ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী ব্যবসার সাথে যেসব সুবিধা ভোগ করছে, তা তিনি মেনে নেবেন। কিন্তু কোম্পানীর সদস্য ব্যাতিরেকে ইংল্যান্ডের অন্য ব্যবসায়ীদের নিয়মমতো শুল্ক দিয়েই ব্যবসা করতে হবে। কিন্তু ইংরেজদের দাবি ছিলো, সকল ইংরেজ বণিককে একই রকম সুবিধা দিতে হবে। সঙ্গত কারনেই নবাব তাতে সম্মত হতে পারলেন না। ব্যবসায় একচেটিয়া অধিকার লাভের আশাতেই ইংরেজরা পুরো একটা সাম্রাজ্যের মূলোৎপাটন করে বসেছিলো। এমন স্বাধীনচেতা মনোভাব তারা কখনোই আশা করেনি। তারা সকল ইংরেজ বণিকের জন্যই শুল্কমুক্ত বাণিজ্যের ধারা বজায় রাখতে চায়। ইংরেজদের সাথে মীমাংসায় ব্যর্থ হয়ে মীর কাসিম রেগে গিয়ে দেশে সকল প্রকার বণিকের শুল্ক প্রদানের ব্যবস্থা রহিত করেন। শুধু নিরীহ বণিকেরাই শুল্ক দেবে, আর ইংরেজরা সব বিনা শুল্কে এদেশে বাণিজ্য করবে, এমনটা তিনি মেনে নিতে চাননি। ক্ষমতায় বসার অনতিকাল পরেই নবাব মীর কাসিম রাজধানী মুর্শিদাবাদ থেকে বিহারের মুঙ্গেরে স্থানান্তরিত করেছিলেন। সেখানে তিনি নিজের একটি স্বতন্ত্র সেনাবাহিনীও গড়ে তোলেন। ইংরেজদের প্রভাবমুক্ত হবার বাসনা তার গোড়া থেকেই ছিলো। ইংরেজদের সাথে শুল্ক নিয়ে বিরোধের জের ধরে মীর কাসিমের জন্য একাধিক সশস্ত্র সংগ্রাম অবধারিত হয়ে পড়ে। বিশ্বাসঘাতক মীর জাফরও ইংরেজদের পক্ষ নিয়ে নিজ জামাতার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে যোগ দেন। যুদ্ধটা শুরু করে প্রথমে ইংরেজরাই। যুদ্ধ শুরু হয় আজিমাবাদ-পাটনায়। ইংরেজরা অতর্কিত আক্রমণ করে পাটনা দখল করে নেয়। এরপরের যুদ্ধ হয় কাটোয়ায়। নবাব মীর কাসিম প্রতিটি যুদ্ধেই তার বিভিন্ন সেনাপতির অধীনে সৈন্য প্রেরণ করতেন। সেনাপতিদের মধ্যে সমন্বয়ের অভাবে এবং ব্যক্তিগত অহংকার ও হিংসার কারণে যে যুদ্ধে মীর কাসিমের জয় নিশ্চিত ছিলো, তাতে তিনি পরাজয় বরণ করেন। সেই যুদ্ধেই তার সর্বনাশের সুচনা হয়। এরপরের যুদ্ধ হয় সুতি নামক স্থানে। এই যুদ্ধেও মীর কাসিম নিজে না গিয়ে সেনাপতিদের পাঠান এবং সেনাপতিদের মতানৈক্যের কারণে নবাবের বিশাল বাহিনী ইংরেজদের ক্ষুদ্র সেনাদলের কাছে পরাজিত হয়। সুতির যুদ্ধে পরাজিত হয়ে মীর কাসিম তার পরিবার-পরিজন ও ধন-সম্পদ নিরাপত্তার জন্য দুর্ভেদ্য রোটাস দুর্গে পাঠান। তিনি রাজমহলের কাছে উদয়নালা নামক একটি অতি সুরক্ষিত স্থানে তার বিরাট সৈন্যদল নিয়ে ঘাঁটি স্থাপন করেন। স্থানটি খুবই দুর্ভেদ্য বলে বিবেচিত হওয়ায় তার সৈন্যরা ঘাঁটি প্রহরার কোনো ব্যবস্থাই করলো না। এই ঘাঁটি সংলগ্ন এক বিশাল জলাভূমির অপর তীরেই মীর জাফরকে সাথে নিয়ে ইংরেজরা শিবির স্থাপন করেছিলো। জলাভূমি অতিক্রম করার একটি গোপন পথের সন্ধান পেয়ে ইংরেজদল একরাতে আক্রমণ করে মির কাসিমের অপ্রস্তুত বাহিনীকে শোচনীয়ভাবে পরাজিত করে। অধিকাংশ সৈন্য বিনা যুদ্ধে নিহত হয় এবং বিপুল পরিমাণ অস্ত্রশস্ত্র ইংরেজদের হস্তগত হয়। মীর কাসিম কী করে রক্ষা পেয়েছিলেন, তার সঠিক বর্ণনা পাওয়া যায় না, তবে তিনি পালিয়ে যেতে সমর্থ হয়েছিলেন।একের পর এক যুদ্ধে হেরে যাওয়ায় মীর কাসিম বেশ নিরাশ হয়ে পড়েন। উদয়নালার যুদ্ধে পরাজয়ের পর মীর কাসিম পাটনার দিকে অগ্রসর হন। পথে খবর পান ইংরেজরা তার মুঙ্গের দুর্গ দখল করে নিয়েছে। পরিস্থিতি সহ্যসীমার বাইরে গেলে মীর কাসিম তার কাছে বন্দী থাকা সব ইংরেজকে হত্যা করেন। একমাত্র ইংরেজ ডাক্তার ফুলারটন পালিয়ে ইংরেজ শিবিরে আশ্রয় নেন। এরপর নবাব অযোধ্যার নবাব সুজা-উদ-দৌলার কাছে সাহায্য চান। সুজা-উদ-দৌলা আর মুঘল সম্রাট ২য় শাহ আলম এর মিলিত বাহিনী নিয়ে মীর কাসিম ইংরেজদের সাথে যুদ্ধে অবতীর্ণ হন। প্রথমে পাটনায়, পরবর্তীতে ১৭৬৪ সালে বক্সারের যুদ্ধে তিনি শোচনীয়ভাবে পরাজিত হন। শাহ আলম ও সুজা-উদ-দৌলার মধ্যে অন্তর্দ্বন্দের কারণে এই জোট ভেঙে পড়ে। শাহ আলম যুদ্ধের এক পর্যায়ে ইংরেজদের সাথে যোগ দেন। তিনজন মরিয়া হয়ে ওঠা মিত্রের মধ্যে মৌলিক সমন্বয়ের অভাবেই এই জোট ব্যর্থ হয়। বিভিন্ন সূত্রমতে, ঐতিহাসিক বক্সারের যুদ্ধে এই তিন শাসকের মিলিত বাহিনীর ৪০,০০০ সেনা ইংরেজদের মাত্র ১০,০০০ সেনার কাছে পরাজিত হয়।মীর কাসিমকে কোণঠাসা করে ইংরেজরা পুনরায় মীর জাফরকে ক্ষমতায় বসায়। পরাজিত মীর কাসিমের ধন-সম্পদ সব সুজা-উদ-দৌলা লুটে নেন এবং তাকে একটি খোঁড়া হাতির পিঠে চাপিয়ে নির্বাসিত করেন। দুর্দশাগ্রস্ত নবাব প্রথমে রোহিলাখন্ড, তারপর এলাহাবাদ, গোহাদ, যোধপুর হয়ে দিল্লীর নিকটে আবাস গাড়েন। একেবারে অজ্ঞাতসারে এবং অতি দারিদ্রের মধ্যে তার মৃত্যু হয়। তার ছেড়ে যাওয়া সম্পত্তির মধ্যে ছিলো শুধু দুটো শাল, যেগুলো বিক্রি করে তার সৎকারের খরচ যোগাড় করা হয়। এই দেশপ্রেমিকের জীবনপ্রদীপ নেভার সাথে সাথে উপমহাদেশ থেকে ইংরেজবিরোধী শেষ শিখাটিও নিভে যায়।বক্সারের যুদ্ধের সাফল্য ইংরেজদের জন্য পলাশীর যুদ্ধের সাফল্যের চেয়েও বড় ছিলো। তারা আরও বেশি শক্তপোক্ত হয়ে উপমহাদেশে ক্ষমতার পরিধি বিস্তার করতে থাকে। স্পৃহা, সামর্থ্য বা দূরদর্শিতা কোনোটারই অভাব ছিলো না নবাব মীর কাসিমের। হয়তো তার বিধিই বাম ছিলো। দেশকে বিদেশী শোষণ থেকে মুক্ত করার স্বপ্নদ্রষ্টা তাই নিজেই একদিন আড়ালে, পথশয্যায় হারিয়ে গেলেন। তবে ইতিহাসে তিনি আজও স্বাধীনতার এক অনন্য স্বপ্নদ্রষ্টা।#rora থেকে
আমেরিকার বোস্টনে ১৯৮৬ সালে একটি অদ্ভুত পরীক্ষা করা হয় ৷ এক ফাঁসির আসামীকে ফাঁসির সাজা শোনানো হলো ৷ কতিপয় বিজ্ঞানী সে আসামীর উপর একটি পরীক্ষা করার প্রস্তাব করলেন । কয়েদীকে শোনানো হলো ফাঁসির বদলে তোমাকে বিষাক্ত কোবরা সাপ দংশন করিয়ে হত্যা করা হবে। কয়েদীকে চেয়ারে বসিয়ে তার হাত-পা বেঁধে দেয়া হলো, তারপর তার চোখে পট্টি বেঁধে বিষাক্ত কোবরা সাপ না এনে তার বদলে দুটি সেফ্টি পিন ফুটানো হলো। ফলে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই কয়েদির মৃত্যু হলো ৷ পোস্টমর্টেম রিপোর্টে দেখা গেল সাপের বিষ রয়েছে তার শরীরের মধ্যে। প্রশ্ন হলো এই বিষ কোথা থেকে এলো, যা ঐ কয়েদীর প্রাণ কেড়ে নিল। বলা হয় সেই বিষ তার নিজের শরীর থেকেই উৎপত্তি হয়েছিল।আমাদের সংকল্প থেকে positive এবং negative এনার্জির সৃষ্টি হয়। আর সে এনার্জি আমাদের শরীরে হরমোনের উৎপত্তি করে ৷ 75% রোগের মূল কারণ হলো আমাদের negative চিন্তাধারা। মানুষ নিজের চিন্তাধারা থেকে ভস্মাসূর হয়ে নিজ প্রজাতিকে বিনাশ করছে। আপনার চিন্তাধারা সর্বদা positive রাখুন এবং খুশী থাকুন। ২৫ বছর বয়স পর্যন্ত আমরা ভাবি যে ‘‘মানুষ কি মনে করবে!” ৫০ বছর আমরা ভয় পাই ‘মানুষ কি ভাববেন!‘ ৫০ বছর পরে আমরা বুঝতে পারি ‘’কেউ আমার কথা চিন্তাই করেনি৷‘’ কিন্তু তখন তেমন কিছু করার থাকে না! তাই ইচ্ছেশক্তিকে কখনোই থামতে দেয়া যাবে না। কে কি বলে তা নিয়ে না ভেবে নিজের পজিটিভ চিন্তাগুলো নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। তাহলেই সফলতা ধরা দিবে।