দৈনিক সংগ্রাম সম্পাদককে পুলিশে সোপর্দ

মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল কাদের মোল্লাকে নিজেদের প্রতিবেদনে ‘শহীদ’ বলায় দৈনিক সংগ্রাম অফিস ভাঙচুর করে সম্পাদক আবুল আসাদকে পুলিশে সোপর্দ করেছে ‘মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ’ নামের একটি সংগঠন। হাতিরঝিল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) তমিজউদ্দিন জানান, দৈনিক সংগ্রাম সম্পাদক আবুল আসাদকে পুলিশ হেফাজতে আনা হয়েছে, তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এর আগে শুক্রবার বিকেল থেকে সংগ্রাম অফিস ঘেরাও করে বিক্ষোভ জানায় ‘মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ’র নেতাকর্মীরা। তখন পত্রিকার কয়েকটি কপিতে আগুন দেয়া হয়।

দৈনিক সংগ্রামে কর্মরত সাংবাদিকরা জানান: বাইরে বিক্ষোভের একপর্যায়ে তারা জোর করে অফিসের ভেতরে ঢুকে কক্ষগুলোতে ভাঙচুর চালায়। এরপর সম্পাদক আবুল আসাদকে তারা টেনে হিচড়ে নিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।

আমিনুল ইসলাম বলেন: যুদ্ধাপরাধী কাদের মোল্লাকে ‘শহীদ’ বলার মাধ্যমে তারা দেশের শহীদদের অবমাননা করেছে। দেশের সার্বভৌমত্বে আঘাত করেছে। আমরা চাই সরকারিভাবে পত্রিকাটি বন্ধ করে দেয়া হোক। আমরা পত্রিকার মেইন গেটে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছি। সংগ্রাম পত্রিকার সম্পাদক আবুল আসাদকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন বলেন, যুদ্ধাপরাধী কাদের মোল্লাকে শহীদ বলার মাধ্যমে তারা দেশের শহীদদের অবমাননা করেছে। দেশের সার্বভৌমত্বে আঘাত করেছে। আমরা চাই সরকারিভাবে পত্রিকাটি বন্ধ করে দেয়া হোক। আমরা পত্রিকার মেইন গেটে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছি। নির্বাচন কমিশন থেকে নিবন্ধন হারানো রাজনৈতিক সংগঠন জামায়াতের মুখপত্র হিসেবে পরিচিত এ জাতীয় দৈনিকে আজকের (শুক্রবার) প্রকাশিত পত্রিকার প্রথম পৃষ্ঠায় ‘শহীদ কাদের মোল্লার ৬ষ্ঠ শাহাদাত বার্ষিকী আজ’ শিরোনামে এক প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়: ‘‘আজ ১২ই ডিসেম্বর শহীদ কাদের মোল্লার ৬ষ্ঠ শাহাদাত বার্ষিকী। ২০১৩ সালের এই দিনে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল আবদুল কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকর করে সরকার। জাতিসংঘের মহাসচিব থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্ব, মানবাধিকার সংগঠনের অনুরোধ উপেক্ষা করেই ফাঁসি কার্যকর করা হয়।

মৃতদের জন্য নেক ও সওয়াব প্রেরণের ১৭টি হাদীস ভিত্তিক পন্থাঃ

মৃত ব্যক্তির নামে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যে কোন প্রকার খানাপিনার আয়োজন করা কুফরী ও হারাম । মৃতদের জন্য নেক ও সওয়াব প্রেরণের ১৭টি হাদীস ভিত্তিক পন্থাঃ
#মৃতের নাম এ কুরআন খানি , মিলাদ , আর লোকজন খাওয়ানো, আর চল্লিশা বা চৌঠা এইগুলি পালন করা আদৌ ইসলামসম্মত কি না ? বাবা-মা বা কোনও আত্মীয় স্বজন মারা যাওয়ার পর তার জন্য আমাদের কি কিকরনীয় রয়েছে? এমন কি কি কাজ আছে যা করলে মৃত ব্যক্তির নিকট নেকি পৌঁছাবে ? আসুন কোরআন ও সুন্নাহর আলোকে জেনে নয়া যাক…
সকল প্রশংসা আল্লাহর এবংদরুদ ও সালাম আল্লাহর রাসূল (সা) এর উপর। পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।

মানুষ মৃত্যুর পর সিওম, চেহলাম, ফাতেহা খানি ইত্যাদি করতে দেখা যায়। সিওম অর্থ মৃত্যুর ৩ দিন বা ৪ দিন পর দোয়ার অনুষ্ঠান করা।

প্রকৃত পক্ষে ইসলামের পূর্বযুগে মৃত ব্যক্তির জন্য এভাবে খানা পিনার ব্যবস্থা করার প্রচলন ছিল। ইবনে মাযাহ শরীফে সাহাবী জায়ীর ইবনে আব্দুল্লাহ বাজ্জালী (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদিসে মৃতের বাড়ীতে এ ধরনের খানা পিনার ব্যবস্থাকে অবৈধ ঘোষনা করা হয়েছে। মুসনাদে আহমাদে হযরত ওমর (রাঃ) মৃত্যুর পর এ ধরনের খানা পিনার আয়োজন করাকে ‘নিয়াহাত’ অর্থাৎ জাহেলিয়াত যুগের রসম বলে উল্লেখ করেছেন। “বুলগুল মারামে’ নামক গ্রন্থে ৪ মাযহাবের ইমামগণও একে ‘নিয়াহাত’ বলে উল্লেখ করেন।
ফতহুল কাদীর নামক কিতাবে উল্লেখ আছে , “নবীর তরিকায় এ কথা আদৌ নেই যে, মৃতের বাড়ীতে জামায়েত হয়ে কুরআনের কিছু অংশ পড়া ও খতম করা। কবরের পাশে হোক বা অন্য স্থানে হোক জমায়েত হওয়া বিদআত।”

হাদীসে বর্ণীত আমলগুলো ছাড়া মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে নামায পড়া, কুরআন তেলাওয়াত করা, যিকির-আযকার পড়া মৃত ব্যক্তির নামে চল্লিশা করা, প্রতি বছর মৃত্যু বার্ষিকী পালন করা ও মীলাদ শরীফ পাঠ করা সম্পুর্ণ বিদআত। এগুলোর পক্ষে কোন দলীল নাই। আজকাল আমাদের সমাজে হাফেজ ও কারীদেরকে ভাড়া করে এনে মৃত ব্যক্তির জন্য কুরআন খতম করানো হয়। এটাকে আমাদের দেশের পরিভাষায় সাবিনা পাঠ বলা হয়। অনেক সময় দুপক্ষের মাঝে দামাদামি করে হাদীয়া নির্ধারণ করা হয়ে থাকে। সর্ব যুগের সকল উলামা এব্যাপারে একমত যে, মৃত ব্যক্তির জন্য ভাড়া করা হাফেজ-কারী দিয়ে কুরআন খতম করানো হারাম। পূর্বযুগের কোন আলেম বা নির্ভরযোগ্য কোন ইমাম এব্যাপারে অনুমতি দেননি। পরবর্তীযুগের কিছু পেট পুঁজারী দুনিয়াদার আলেম অন্যায়ভাবে মানুষের অর্থ আত্মসাৎ করার জন্য এ পন্থাটি চালু করেছে। এটি একটি বেদআতী আমল যা, মৃত ব্যক্তির কোন কল্যাণে আসবে না। এর দ্বারা যে টাকা উপার্জন করা হয়, তাও সম্পুর্ণ হরাম ।

প্রকৃত পক্ষে উপমহাদেশের মুসলিম সম্প্রদায় ছিল সনাতন ধর্মের অনুসারী। সনাতন ধর্মের বহু রীতি নীতি আজো বৈশিষ্ঠগতভাবে ইসলামীয় রীতি নীতিতে ধারন করে নিয়েছে। তারই ফলশ্রুতিতে তাদের অনুকরনে এই ধরনের অনুষ্ঠানের আয়োজন দেখা যায়।
# “রাসুল সা: বলেন ‘যে ব্যক্তি যে জাতির অনুকরণ করবে, সে ব্যক্তি সেই জাতিরই একজন বলে গণ্য হবে’ ( আবূ দাঊদ হা/৪০৩১) ।”

মৃত ব্যক্তিদের নামে উপমহাদেশে যেসব অনুষ্ঠান চালু তার অধিকাংশই বিদআত ; হাদিস সম্মত কিছু বিষয় ছাড়া।
এখন আমাদের জেনে নিতে হবে যে, বাবা মা বা কোনও আত্মীয় স্বজন মারা যাওয়ার পর তার জন্য আমাদের কি করনীয়? এমন কি কি কাজ আছে যা করলে মৃত ব্যক্তির নিকট নেকি পৌঁছাবে ?
সহীহ হাদীছের দৃষ্টিতে মৃত ব্যাক্তির জন্য দু’প্রকার আমলের ছওয়াব অব্যাহত থাকে।

জীবিত থাকাবস্থায় কৃত আমল। যেমন আল্লাহর রাস্তায় কোন সম্পদ ওয়াক্ফ করে যাওয়া, সৎকাজে সম্পত্তি খরচ করার অসিয়ত করে যাওয়া, ছাদকায়ে জারিয়া করে যাওয়া, ইত্যাদি।
এমন আমল, যা মৃত ব্যক্তির জন্য জীবিত ব্যক্তিগণ করে থাকে। যেমন মৃত ব্যক্তির জন্য মুসলমানদের দু’আ ও আল্লাহর দরবারে তার জন্য মাগফেরাত কামনা করা, মৃত ব্যক্তির জন্য দান-ছাদকা করা, তার পক্ষ থেকে হজ্জ করা, রোজা রাখা ইত্যাদি।
প্রথম প্রকার আমলের বর্ণনাঃ
মৃত্যুর পর জীবিত অবস্থায় কৃত আমল দ্বারা উপকৃত হওয়ার দলীলঃ
# আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি নবী করীম (সাঃ) হতে বর্ণনা করেন যে, নবী (সাঃ) বলেন, “মানুষ যখন মারা যায়, তখন সমস্ত আমলের দরজা বন্ধ হয়ে যায়। তবে তিনটি আমলের দরজা বন্ধ হয়না। (১) ছাদকায়ে জারিয়া। (২) যদি এমন সন্তান রেখে যায়, যে পিতার জন্য আল্লাহর কাছে দু’আ করবে। (৩) যদি এমন দ্বীনি শিক্ষা রেখে যায়, যার দ্বারা মানুষ উপকৃত হয়। (সহীহ মুসলিম)

অত্র হাদীসের মাধ্যমে একথা জানা গেল যে, কোন মানুষ যদি জীবিত থাকা অবস্থায় ছাদকায়ে জারিয়া করে যায়, তাহলে উক্ত ছাদকা দ্বারা যতদিন মানুষ উপকৃত হবে, ততদিন পর্যন্ত ছাদকা কারীর আমল নামায় ছাওয়াবের একটা অংশ পৌঁতে থাকবে। এমনি ভাবে যদি কোন মুসলমান দ্বীনি কোন শিক্ষা রেখে যায় যেমন ইসলামী বই-পুস্তক রচনা করা, ছাত্রদেরকে দ্বীনি শিক্ষা প্রদান করা, ইসলামী লাইব্রেরী বা দ্বিনী প্রতিষ্ঠান নির্মান করা, নির্মানে অংশ গ্রহণ করা ইত্যাদি। অনুরূপভাবে যদি কেহ সৎ সন্তান রেখে যায় এবং সে সন্তান আল্লাহর কাছে পিতা-মাতার নাজাতের জন্য দু’আ করে, তাহলে সে দু’আর মাধ্যমে তারা উপকৃত হবে।

দ্বিতীয় প্রকার আমলের বর্ণনাঃ
এক্ষেত্রে আমরা কয়েকটি আমলের উল্লেখ করব যা দ্বারা মৃত ব্যক্তি উপকৃত হবে অথচ সে এসব আমল করে যায়নি, বা এসব আমলের কারণও ছিল না।

(১) মৃত ব্যক্তির জন্য মুসলমানদের দু‘আ এবং আল্লাহর নিকট তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা:
এব্যাপারে কুরআন ও হাদীসে অনেক দলীল রয়েছে। আল্লাহ তায়া‘লা বলেন:
• “তারা (মু’মিনগণ) বলে: “হে আমাদের পালনকর্তা আমাদেরকে এবং আমাদের পূর্বে যারা ঈমান এনেছে, তাদেরকে ক্ষমা করো। আর ঈমানদারদের বিরোদ্ধে আমাদের অন্তরে কোন বিদ্বেষ রেখো না।” (সূরা হাশরঃ ১০)

আল্লাহ তায়ালা মৃত বা জীবিত পিতা-মাতা ও মুমিদের জন্য দু‘আ করার পদ্ধতি শিক্ষা দিয়ে বলেনঃ
• “হে আমাদের প্রভু! রোজ কিয়ামতে আমাকে, আমার পিতা-মাতা ও সকল মুমিনকে ক্ষমা করে দিন।” (সুরা ইবরাহীমঃ৪১)

এছাড়া আল্লাহ রাব্বুল আলামীন পিতা-মাতার জন্য দূ‘আ করার বিশেষ নিয়ম শিক্ষা দিতে গিয়ে বলেনঃ
• “এবং তুমি বল, হে আমার প্রতিপালক! তাদের উভয়ের প্রতি রহম কর, যেমন তারা আমাকে শৈশবকালে লালন-পালন করেছেন।” (সূরা বানী ইসরাঈলঃ ২৪)

হাদীসে যে সমস্ত দলীল রয়েছে তা থেকে আবু দাউদ শরীফে বর্ণিত উসমান বিন আফফান (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত হাদীসটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

# উসমান (রাঃ) বলেন, নবী করীম (সাঃ) মৃত ব্যক্তিকে দাফন করার পর তার কবরের পার্শ্বে দাঁড়াতেন এবং বলতেন, “তোমরা তোমাদের ভায়ের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর এবং তার জন্য ঈমানের উপর অবিচলতা ও দৃঢ়তা কামনা কর, কেননা এখনই তাকে প্রশ্ন করা হবে।”

এছাড়া কবর যিয়ারতের ব্যাপারে যে সমস্ত দু‘আ হাদীসে এসেছে, তাতে একথারই প্রমাণ রয়েছে যে, মৃত ব্যক্তির জন্য দু‘আ করলে সে দু‘আর মাধ্যমে সে উপকৃত হবে।

মূলত: জানাযার নামায প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত মৃত ব্যক্তির জন্য দু‘আ স্বরূপ।

(২) মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে দান-ছাদকা করা:
এ ব্যাপারে বুখারী-মুসলিমে মুমিন জননী আয়েশা থেকে বর্ণিত হাদীসটি বিশেষ ভাবে প্রণিধানযোগ্য।
# আয়েশা (রাঃ) বলেনঃ“জনৈক ব্যক্তি রাসূল (সাঃ) এর কাছে এসে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমার মা হঠাৎ মৃত্যুবরণ করেছেন। তাই কোন অছিয়ত করতে পারেন নি। আমার ধারণা তিনি যদি কথা বলার সুযোগ পেতেন তাহলে দান-ছাদকা করতেন। আমি তাঁর পক্ষ থেকে ছাদকা করলে তিনি কি এর ছাওয়াব পাবেন? রাসূল (সাঃ) বললেন হ্যাঁ, অবশ্যই পাবেন।” (বুখারী ও মুসলিম)

উপরোক্ত সহীহ হাদীসটির মাধ্যমে আমরা একথাই জানতে পারলাম যে, মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে দান করলে তার ছাওয়াব মৃত ব্যক্তির নিকট পৌঁছবে এবং তা দ্বারা সে উপকৃত হবে।

(৩) মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে রোজা রাখা:
তবে এক্ষেত্রে মানতের রোজা এবং রামাযানের কাজা রোযা উদ্দেশ্য। তার পক্ষ থেকে নফল রোজা রাখার পক্ষে কোন দলীল নাই। মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে রোজা রাখা বৈধ হওয়ার দলীল হলো
# আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুল (সাঃ) বলেছেনঃ “যে ব্যক্তি মৃত্যু বরণ করল এমতাবস্থায় যে তার উপর রোজা ওয়াজিব ছিল। তবে তার পক্ষ থেকে তার ওয়ারিসগণ রোজা রাখবে।” (বুখারী ও মুসলিম)

(৪) হজ্জ বা উমরাহ করা:
মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে হজ্জ করলে তা আদায় হবে এবং মৃত ব্যক্তি উপকৃত হবে। ইবনে আববাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা হতে বর্ণিত হাদীসে এসেছে,

# জুহাইনা গোত্রের একজন মহিলা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে আগমণ করে বলল, হে আল্লাহর রাসুল, আমার মা হজ্জ করার মানত করেছিলেন কিন্তু তিনি হজ্জ সম্পাদন না করেই মারা গেছেন। এখন আমি কি তার পক্ষ থেকে হজ্জ আদায় করতে পারি? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘‘তুমি তোমার মায়ের পক্ষ থেকে হজ্জ কর। তোমার কি ধারণা যদি তোমার মার উপর ঋণ থাকতো তবে কি তুমি তা পরিশোধ করতে না ? সুতরাং আল্লাহর জন্য তা আদায় কর। কেননা আল্লাহর দাবী পরিশোধ করার অধিক উপযোগী’’ [সহীহ বুখারী: ১৮৫২]

তবে মা-বাবার পক্ষ থেকে যে লোক হজ্জ বা ওমরাহ করতে চায় তার জন্য শর্ত হলো সে আগে নিজের হজ্জ-ওমরাহ করতে হবে।

(৫) মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে কুরবানী করা:
মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে কুরবানী করলে তার ছাওয়াব দ্বারা তারা উপকৃত হবে। এ বিষয়ে হাদীসে এসেছে,

# আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন একটি শিংযুক্ত দুম্বা উপস্থিত করতে নির্দেশ দিলেন, যার পা কালো, চোখের চতুর্দিক কালো এবং পেট কালো। অতঃপর তা কুরবানীর জন্য আনা হলো। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহাকে বললেন, হে আয়েশা! ছুরি নিয়ে আস, তারপর বললেন, তুমি একটি পাথর নিয়ে তা দ্বারা এটাকে ধারালো কর। তিনি তাই করলেন। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছুরি হাতে নিয়ে দুম্বাটিকে শুইয়ে দিলেন। পশুটি যবেহ্ করার সময় বললেন, বিসমিল্লাহ, হে আল্লাহ তুমি এটি মুহাম্মাদ, তাঁর বংশধর এবং সকল উম্মাতে মুহাম্মাদীর পক্ষ থেকে কবুল কর”। এভাবে তিনি তা দ্বারা কুরবানী করলেন। [ সহীহ মুসলিম:৫২০৩]

(৬) ওসিয়ত পূর্ণ করা:
মা-বাবা শরীয়াহ সম্মত কোন ওসিয়ত করে গেলে তা পূর্ণ করা সন্তানদের উপর দায়িত্ব।

(৭) মৃতের বন্ধুদের সম্মান করা:
মা-বাবার বন্ধুদের সাথে ভাল ব্যবহার করা, সম্মান করা, তাদেরকে দেখতে যাওয়া,তাদেরকে হাদিয়া দেয়া। এ বিষয়ে হাদীসে উল্লেখ আছে,
# আব্দুল্লাহ ইবনে দীনার রাদিয়াল্লাহু আনহু আব্দুল্লাহ ইবনে উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন, একবার মক্কার পথে চলার সময় আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু এর এক বেদুঈন এর সাথে দেখা হলে তিনি তাকে সালাম দিলেন এবং তাকে সে গাধায় চড়ালেন যে গাধায় আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহুমা উপবিষ্ট ছিলেন এবং তাঁর (আব্দুল্লাহ) মাথায় যে পাগড়িটি পরা ছিলো তা তাকে প্রদান করলেন। আব্দুল্লাহ ইবান দীনার রাহেমাহুল্লাহ বললেন, তখন আমরা আব্দুল্লাহকে বললাম: আল্লাহ তোমার মঙ্গল করুক! এরা গ্রাম্য মানুষ: সামান্য কিছু পেলেই এরা সন্তুষ্ট হয়ে যায়-(এতসব করার কি প্রয়োজন ছিলো?) উত্তরে আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, তার পিতা, (আমার পিতা) উমার ইবনে খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু এর বন্ধু ছিলেন। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি “পুত্রের জন্য পিতার বন্ধু-বান্ধবের সাথে ভাল ব্যবহার করা সবচেয়ে বড় সওয়াবের কাজ’’ [সহীহ মুসলিম:৬৬৭৭]।

মৃতদের বন্ধুদের সাথে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আমলও আমাদেরকে উৎসাহিত করে। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত হাদীসে এসেছে,
# রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখনই কোন বকরী যবেহ করতেন, তখনই তিনি বলতেন, এর কিছু অংশ খাদীজার বান্ধবীদের নিকট পাঠিয়ে দাও [সহীহ মুসলিম: ৬৪৩১]

(৮) মা-বাবার আত্নীয়দের সাথে সম্পর্ক রাখা:
সন্তান তার মা-বাবার আত্নীয়দের সাথে সম্পর্ক বজায় রাখবে। আব্দুল্লাহ ইবনে উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
# ‘যে ব্যক্তি তার পিতার সাথে কবরে সুসম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করতে ভালবাসে, সে যেন পিতার মৃত্যুর পর তার ভাইদের সাথে সু-সম্পর্ক রাখে’ [সহীহ ইবন হিববান:৪৩২]

(৯) ঋণ পরিশোধ করা:
মা-বাবার কোন ঋণ থাকলে তা দ্রুত পরিশোধ করা সন্তানদের উপর বিশেষভাবে কর্তব্য। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঋণের পরিশোধ করার বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
# ‘‘মুমিন ব্যক্তির আত্মা তার ঋণের সাথে সম্পৃক্ত থেকে যায়; যতক্ষণ তা তা তার পক্ষ থেকে পরিশোধ করা হয়”। [সুনান ইবন মাজাহ:২৪১৩]

ঋণ পরিশোধ না করার কারণে জান্নাতের যাওয়ার পথ বন্ধ হয়ে যায়; এমনকি যদি আল্লাহর রাস্তায় শহীদও হয় । হাদীসে আরো এসেছে,
# যতক্ষণ পর্যন্ত বান্দার ঋণ পরিশোধ না করা হবে ততক্ষণ পর্যন্ত জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না। [নাসায়ী ৭/৩১৪; তাবরানী ফিল কাবীর ১৯/২৪৮; মুস্তাদরাকে হাকিম ২/২৯]

(১০) কাফফারা আদায় করা:
মা-বাবার কোন শপথের কাফফারা,ভুলকৃত হত্যাসহ কোন কাফফারা বাকী থাকলে সন্তান তা পূরণ করবে। আল-কুরআনে বলা হয়েছে,
• যে ব্যক্তি ভুলক্রমে কোন মুমিনকে হত্যা করবে, তাহলে একজন মুমিন দাসকে মুক্ত করতে হবে এবং দিয়াত (রক্ত পণ দিতে হবে) যা হস্তান্তর করা হবে তার পরিজনদের কাছে। তবে তারা যদি সদাকা (ক্ষমা) করে দেয় (তাহলে সেটা ভিন্ন কথা) [ সূরা আন-নিসা:৯২]

আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
# ‘‘ যে ব্যক্তি কসম খেয়ে শপথ করার পর তার থেকে উত্তম কিছু করলেও তার কাফফারা অদায় করবে’’ [সহীহ মুসলিম: ৪৩৬০] ।

এ বিধান জীবিত ও মৃত সবার ক্ষেত্রে সমভাবে প্রযোজ্য। দুনিয়ার বুকে কেউ অন্যায় করলে তার কাফফারা দিতে হবে। অনুরূপভাবে কেউ অন্যায় করে মারা গেলে তার পরিবার-পরিজন মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে কাফফারা প্রদান করবেন।

(১১) ক্ষমা প্রার্থনা করা:
মা-বাবার জন্য আল্লাহর নিকট বেশী বেশী ক্ষমা প্রার্থনা করা গুরুত্বপূর্ণ আমল। সন্তান মা-বাবার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করায় আল্লাহ তা‘আলা তাদের মর্যাদা বৃদ্ধি করে দেন। হাদীসে বলা হয়েছে,
# আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, মৃত্যুর পর কোন বান্দাহর মর্যাদা বৃদ্ধি করা হয়। তখন সে বলে হে আমার রব, আমি তো এতো মর্যাদার আমল করিনি, কীভাবে এ আমল আসলো ? তখন বলা হবে, তোমার সন্তান তোমার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করায় এ মর্যাদা তুমি পেয়েছো’’ [আল-আদাবুল মুফরাদ:৩৬]।

মা-বাবা দুনিয়া থেকে বিদায় নেয়ার পর তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করার বিষয়ে উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদীসে এসেছে,
# উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন এক মৃত ব্যক্তিকে দাফন করার পর তার কবরের পার্শ্বে দাঁড়ালেন এবং বললেন ‘‘তোমরা তোমাদের ভাইয়ের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর এবং তার জন্য ঈমানের উপর অবিচলতা ও দৃঢ়তা কামনা কর, কেননা এখনই তাকে প্রশ্ন করা হবে’’ [মুসনাদুল বাজ্জার :৪৪৫]।

তাই সুন্নাত হচ্ছে, মৃত ব্যক্তিকে কবরে দেয়ার পর তার কবরের পার্শ্বে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে তার জন্য প্রশ্নোত্তর সহজ করে দেয়া, প্রশ্নোত্তর দিতে সমর্থ হওয়ার জন্য দো‘আ করা।

(১২) মান্নত পূরণ করা:
মা-বাবা কোন মান্নত করে গেলে সন্তান তার পক্ষ থেকে পূরণ করবে। ইবন আববাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত হাদীসে এসেছে,
# কোন মহিলা রোজা রাখার মান্নত করেছিল, কিন্তু সে তা পূরণ করার পূর্বেই মৃত্যুবরণ করল। এরপর তার ভাই এ বিষয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট আসলে তিনি বলরেন, তার পক্ষ থেকে সিয়াম পালন কর। [সহীহ ইবন হিববান:২৮০]

(১৩) মা-বাবার ভাল কাজসমূহ জারী রাখা:
মা-বাবা যেসব ভাল কাজ অর্থাৎ মসজিদ তৈরী করা, মাদরাসা তৈরী করা, দীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তৈরীসহ যে কাজগুলো করে গিয়েছেন সন্তান হিসাবে তা যাতে অব্যাহত থাকে তার ব্যবস্থা করা। কেননা এসব ভাল কাজের সওয়াব তাদের আমলনামায় যুক্ত হতে থাকে। হাদীসে এসেছে,
# ‘‘ভাল কাজের পথপ্রদর্শনকারী এ কাজ সম্পাদনকারীর অনুরূপ সাওয়াব পাবে’’। [সুনান আততিরমীযি : ২৬৭০]

# যে ব্যক্তির ইসলামের ভাল কাজ শুরু করল, সে এ কাজ সম্পাদনকারীর অনুরূপ সাওয়াব পাবে। অথচ তাদেও সওয়াব থেকে কোন কমতি হবে না’’ [সহীহ মুসলিম:২৩৯৮]।

(১৪) কবর যিয়ারত করা:
সন্তান তার মা-বাবার কবর যিয়ারত করবে। এর মাধ্যমে সন্তান এবং মা-বাবা উভয়ই উপকৃত হবে। এ বিষয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
# আমি তোমাদেরকে কবর যিয়ারত করতে নিষেধ করেছিলাম,অত:পর মুহাম্মাদের মায়ের কবর যিয়ারতের অনুমতি দেয়া হয়েছে। এখন তোমরা কবর যিয়রাত কর, কেননা তা আখেরাতকে স্মরণ করিয়ে দেয় [সুনান তিরমীযি :১০৫৪]।

# যিয়রাত কর, কেননা তা আখেরাতকে স্মরণ করিয়ে দেয় [সুনান তিরমীযি :১০৫৪]।

কবর যিয়ারত কোন দিনকে নির্দিষ্ট করে করা যাবে না। কবর যিযারত করার সময় বলবে,
# কবরবাসী মুমিন-মুসলিম আপনাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক । নিশ্চয় আমরা আপনাদের সাথে মিলিত হবো। আমরা আল্লাহর কাছে আপনাদের এবং আমাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করছি। [সুনান ইবন মাজাহ :১৫৪৭]

বি.দ্র. নারীরা কবর যিয়ারত করবে না ।

(১৫) ওয়াদা করে গেলে তা বাস্তবায়ন করা:
মা-বাবা কারো সাথে কোন ভাল কাজের ওয়াদা করে গেলে বা এমন ওয়াদা যা তারা বেচে থাকলে করে যেতেন, সন্তান যথাসম্ভব তা বাস্তবায়নের চেষ্টা করবে। কুরআন মাজীদে বলা হয়েছে,
# আর তোমরা অঙ্গীকার পূর্ণ কর, নিশ্চয় অঙ্গীকার সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। [ সূরা বনী ইসরাঈল:৩৪]

(১৬) কোন গুনাহের কাজ করে গেলে তা বন্ধ করা:
মা-বাবা বেচে থাকতে কোন গুনাহের কাজের সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকলে তা বন্ধ করবে বা শরীয়াহ সম্মতভাবে সংশোধন করে দিবে। কেননা আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
# এবং যে মানুষকে গুনাহের দিকে আহবান করবে, এ কাজ সম্পাদনকারীর অনুরূপ গুনাহ তার আমলনামায় যুক্ত হতে থাকবে। অথচ তাদের গুনাহ থেকে কোন কমতি হবে না’’ [সহীহ মুসলিম:৬৯৮০]।

(১৭) মা-বাবার পক্ষ থেকে মাফ চাওয়া:
মা-বাবা বেচে থাকতে কারো সাথে খারাপ আচরণ করে থাকলে বা কারো উপর যুলুম করে থাকলে বা কাওকে কষ্ট দিয়ে থাকলে মা-বাবার পক্ষ থেকে তার কাছ থেকে মাফ মাফ চেয়ে নিবে অথবা ক্ষতি পূরণ দিয়ে দিবে। কেননা হাদীসে এসেছে,
# আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, তোমরা কি জান নিঃস্ব ব্যক্তি কে? সাহাবীগণ বললেন, আমাদের মধ্যে যার সম্পদ নাই সে হলো গরীব লোক। তখন তিনি বললেন, আমার উম্মতের মধ্যে সে হলো গরীব যে, কিয়ামতের দিন নামায, রোযা ও যাকাত নিয়ে আসবে অথচ সে অমুককে গালি দিয়েছে, অমুককে অপবাদ দিয়েছে, অন্যায়ভাবে লোকের মাল খেয়েছে, সে লোকের রক্ত প্রবাহিত করেছে এবং কাউকে প্রহার করেছে। কাজেই এসব নির্যাতিত ব্যক্তিদেরকে সেদিন তার নেক আমল নামা দিয়ে দেয়া হবে। এবং তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। [সুনান আততিরমিযি :২৪২৮]

সুতরাং এ ধরনের নিঃস্ব ব্যক্তিকে মুক্ত করার জন্য তার হকদারদের কাছ থেকে ক্ষমা চেয়ে নেয়া সন্তানের কর্তব্যের মধ্যে পড়ে।

আল্লাহ তা‘আলা আমাদেরকে মা বাবা এবং অন্যান্য মৃত স্বজনদের জন্য আমলগুলো করার তাওফীক দিন। আমীন

#অং_সান_সুকিঃ এক পতিত হওয়া শান্তির দূত?!!?

৯০ এর দশকে গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করে অং সান সু কি বিশ্ববাসীর মন জয় করে নিয়েছিলেন। নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছিলেন। কিন্তু ক্ষমতার রাজনীতি সু কির সেই গণতান্ত্রিক চেহারার আড়ালে যে আরেকটি নিষ্ঠুর চেহারা আছে তা প্রকাশ করে দিয়েছে।
২০১৭ সালে দেশটির রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা জনগণের উপর মিয়ানমার সামরিক বাহিনী নির্মম নির্যাতন আর তাদের দেশত্যাগে বাধ্য করতে যে অভিযান চালিয়েছে এর বিরুদ্ধে সু কি ছিলেন পুরোদস্তুর নিশ্চুপ। বিশ্বের তামাম নেতা, নোবেল বিজেতা, মানবাধিকার কর্মী, জাতিসংঘসহ বিশ্বের সমস্ত মানুষ এই গণহত্যার নিন্দা করলেও সু কি ছিলেন এই বিষয়ে নীরব। কখনও এ নিয়ে মুখ খুললেও শব্দচয়নে ছিলেন অতি সাবধানী অথবা ইঙ্গিতে সামরিক বাহিনীর কর্মকান্ডকে বৈধতা দেয়ার চেষ্টা করেছেন।
এতে অং সান সু কি বিশ্বজুড়ে হয়েছেন নিন্দিত এবং অপমানিত। সু কিকে দেয়া পুরস্কার অথবা সম্মাননা অনেক সংস্থা ফিরিয়ে নিয়েছে। দাবী উঠেছে তার নোবেল পুরস্কার ফিরিয়ে নেয়ার। কানাডা সু কিকে দেয়া তার দেশের সম্মানসূচক নাগরিকত্ব বাতিল করেছে।
এমনকি সাম্প্রতিক সময়ে তার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে (ICJ) গণহত্যার অভিযোগে মামলা দায়ের করেছে আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়া।
এভাবেই বিশ্বজুড়ে সমালোচনার শিকার হচ্ছেন একসময়ে শান্তি আর গণতন্ত্রের দূত বিবেচিত হওয়া এই নেত্রী। রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর উপর সংগঠিত গণহত্যার দায় তিনি এড়াতে পারছেন না তার একচোখা সংখ্যাগরিষ্ঠ তোষণ নীতির কারণে। ক্ষমতার রাজনীতি যে আসলেই অন্ধ-বধির তা একসময়ে অহিংস আন্দোলনে বিশ্বাসী অং সান সু কিকে দেখলেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে।’৯০ দশকের ‘দ্য লেডি’ খেতাব পাওয়া জনপ্রিয় নেত্রী অং সান সু কি। গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করে বিশ্ববাসীর মন জয় করা এক নারীর নাম। তার দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে নিঃশর্তে মেনে নিয়েছিলেন পরিবারবিহীন নির্জন, বন্দী জীবন। বাবা ছিলেন তৎকালীন বার্মার স্বাধীনতার অগ্রনায়ক। বাবার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে শুরু করেছিলেন তার দেশ মিয়ানমার তথা বার্মাকে সামরিক জেনারেলদের হাত থেকে গণতন্ত্রের ধারায় ফিরিয়ে আনার লড়াই। মহাত্না গান্ধী, নেলসন ম্যান্ডেলার অনুসারী এই নেত্রী গণতন্ত্রের লড়াইয়ে আপোষহীন থেকে অহিংস আন্দোলন চালিয়ে যান সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে। তাই ১৯৯১ সালে তাকে দেয়া হয় নোবেল শান্তি পুরস্কার।তবে শান্তি প্রতিষ্ঠায় তিনি কতটা সফল আর কতটা বিফল তা আজ প্রশ্নের উদ্রেক করে। রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর উপর মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অত্যাচার, তাদের নাগরিকত্ব কেড়ে নেয়া আর পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়ার পুরো ঘটনাচক্রে হয় তিনি নীরব থেকেছেন, নতুবা বিতর্কিত মতবাদের পক্ষ নিয়েছেন। এতেই হয়েছেন বিশ্বজুড়ে আলোচিত-সমালোচিত। সাম্প্রতিক সময়ে অনেকে তাকে দেয়া নোবেল শান্তি পুরস্কার কেড়ে নেয়ার দাবীও তুলেছেন।
অং সান সু কির জন্ম ১৯ জুন ১৯৪৫ সালে। বাবা অং সান ছিলেন তৎকালীন বার্মার স্বাধীনতার জনক। সু কি ছিলেন বাবা-মায়ের সবচেয়ে ছোট সন্তান। স্বাধীনতার মাত্র ছয় মাস আগে তার বাবা অং সান আততায়ীদের গুলিতে নিহত হন।বাবার মৃত্যুর পর ১৯৬০ সালে স্বাধীন বার্মার নতুন সরকার সু কির মা খিন কি-কে ভারত ও নেপালে বার্মার রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেয়। সু কি মায়ের সাথে চলে আসেন ভারত।
তিনি নয়া দিল্লির কনভেন্ট অব জিসাস এন্ড ম্যারি স্কুলে পড়ালেখা করেন। দিল্লি ইউনিভার্সিটির অধীন লেডি শ্রীরাম কলেজ থেকে ১৯৬৪ সালে স্নাতক ডিগ্রী লাভ করেন এবং পরে সেইন্ট হাগ’স কলেজ, অক্সফোর্ড থেকে ১৯৬৭ সালে লাভ করেন বিএ ডিগ্রী। ১৯৬৮ সালে শেষ করেন স্নাতকোত্তর।কর্মজীবনে প্রবেশ করে সু কি নিউ ইয়র্কের জাতিসংঘ সদর দপ্তরে তিন বছর কাজ করেন। তিনি জাতিসংঘের বাজেট বিষয়ক কর্মকান্ডে জড়িত ছিলেন।
১৯৭২ সালের ১ জানুয়ারি অং সান সু কি বিয়ে করেন ড. মাইকেল এরিসকে যিনি ছিলেন তিব্বতিয়ান সংস্কৃতি ও সাহিত্যের গবেষক এবং ভুটানে বসবাসরত। ১৯৭৩ সালে সু কির প্রথম সন্তান অ্যালেকজান্ডার এরিস জন্মগ্রহণ করে। ১৯৭৭ সালে লন্ডনে সু কি জন্ম দেন তার দ্বিতীয় সন্তান মাইককে।
১৯৮৫ থেকে ১৯৮৭ সাল পর্যন্ত তিনি লন্ডনে এম ফিল ডিগ্রী করার কাজে ব্যস্ত ছিলেন। লন্ডন ইউনিভার্সিটির অধীন স্কুল অব ওরিয়েন্টাল এন্ড আফ্রিকান স্টাডিজে তিনি বার্মিজ সাহিত্যের উপর গবেষণা করেছিলেন।১৯৮৮ সালে সু কির মা খিন কি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে মায়ের দেখাশোনা করতে সু কি মিয়ানমার তথা বার্মায় ফিরে আসেন। তখন মিয়ানমার প্রচন্ড রাজনৈতিক উথাল-পাথাল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল।
১৯৬২ সালে জেনারেল ইউ নে উইন সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করেন এবং তৎকালীন বার্মায় শুরু হয় সামরিক শাসন। তারপর থেকেই গণতন্ত্রের দাবীতে আন্দোলন চললেও ১৯৮৮ সালে হাজার হাজার ছাত্র, চাকরিজীবী, পেশাজীবী, জনতা, বৌদ্ধ সন্যাসী রাস্তায় নেমে গণতান্ত্রিক সংস্কারের দাবিতে একজোট হয়ে আন্দোলন গড়ে তোলেন। এই গণবিক্ষোভের মুখে সেই বছর আগস্টে নে উইন পদত্যাগ করে ক্ষমতা সামরিক জান্তার কাছে হস্তান্তর করেন। ৮-৮-৮৮ নামে সেই আন্দোলন আজও পরিচিত।সু কি মায়ের দেখাশোনা করতে দেশে ফিরলেও তিনি সেই আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে জড়িয়ে পড়েন। নে উইন পদত্যাগ করলেও পরবর্তী সামরিক সরকারের বিরুদ্ধে তিনি প্রকাশ্যে বক্তব্য দিতে শুরু করেন। তিনি বিভিন্ন জনসভায় জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার আর মানবাধিকার নিয়ে কড়া বক্তব্য রাখেন। এর ফলে শীঘ্রই তিনি সামরিক সরকারের রোষানলে পড়েন।
১৯৮৯ সালের জুলাই মাসে সামরিক সরকার সু কি কে গৃহবন্দী করে বহির্বিশ্বের সাথে তার সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। যদিও সামরিক জান্তা তাকে দেশত্যাগের শর্তে মুক্তির প্রস্তাব দেয়, তিনি সেই প্রস্তাবে রাজী না হয়ে বন্দীত্ব বেছে নেন।
১৯৯০ সালে সামরিক জান্তা একটি সাধারণ নির্বাচনের আয়োজন করলে সু কির দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্র্যাসি সেই নির্বাচনে অংশ নিয়ে ভূমিধ্বস বিজয় অর্জন করে। পার্লামেন্টের ৮০ শতাংশ সীট সু কির দলের দখলে চলে আসে। কিন্তু সরকার সেই নির্বাচনের ফল বাতিল করে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে অস্বীকৃতি জানায়। সু কি গৃহবন্দী থাকেন।
১৯৯১ সালে বন্দী থাকাবস্থায় তাকে নোবেল কমিটি শান্তিতে নোবেল পুরস্কারে ভুষিত করে।১৯৯৫ সালে সু কিকে মুক্তি দেয়া হয়। মুক্ত হয়ে তিনি ১৯৯৬ সালে এনএলডির কংগ্রেসে অংশগ্রহন করেন। ১৯৯৯ সালে তিনি একটি প্রতিনিধি কমিটি গঠন করে সেটিকে দেশটির বৈধ সরকার ঘোষণা দিলে ২০০০ সালে আবার তিনি গৃহবন্দী হন।
২০০২ সালে তিনি সাময়িক মুক্ত হলেও ২০০৩ সালে সরকার এনএলডি সমর্থকদের সঙ্গে সরকার সমর্থকদের সংঘর্ষ হলে তিনি আবার বন্দী হন। এবার তাকে গৃহবন্দীত্বের সাজা দেয়া হয় যা প্রতি বছর নবায়ন হতে থাকে।
২০০৯ সালে মুক্তির প্রাক্কালে তিনি আবার বন্দী হন। এবার তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তিনি তার বাড়িতে বহিরাগত প্রবেশ করতে দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক জন ইয়েত্তাও নাকি তার বাড়িতে দুই রাত থেকেছেন। এই অভিযোগে সু কিকে আঠারো মাসের সাজা দেয়া হয়। যদিও জাতিসংঘ এটাকে মিয়ানমারের আইনেই অবৈধ বলে ঘোষণা দেয়।
সু কি যাতে ২০১০ সালের সাধারণ নির্বাচনে অংশ নিতে না পারেন তার জন্য সামরিক জান্তা নতুন নির্বাচনীআইন পাশ করে। এতে বলা হয়, বিদেশী নাগরিককে বিয়ে করা বা বিদেশী নাগরিকত্ব আছে এমন সন্তান যাদের আছে তারা প্রেসিডেন্ট হতে পারবেন না। আবার আরেকটি আইন মতে, সাজাপ্রাপ্ত কেউ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না- যার দুটোই সু কির ক্ষেত্রে খাটে, কারণ তার স্বামী এবং সন্তানেরা বিদেশী নাগরিক।
এনএলডি এই আইনের অধীনে নিবন্ধন করতে রাজি হয়নি, তাই ২০১০ সালের নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি। ২০১১ সালে সু কি মুক্ত হন এবং দলটিকে ওই আইনের অধীনেই নিবন্ধন করতে রাজি হয়ে যান, যার মাধ্যমে ২০১২ সালে সু কি পার্লামেন্টের সদস্য হন।অনেক দশকের পর ২০১৫ সালে একটি মোটামুটি মুক্ত নির্বাচনের মাধ্যমে সু কির দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্র্যাসি মিয়ানমারের ক্ষমতায় আসে। সু কির বিদেশী সন্তান থাকার কারণে প্রেসিডেন্ট হতে পারেননি। তবে তিনি রাষ্ট্রটির নবসৃষ্ট পদ ‘স্টেট কাউন্সেলর’ এর দায়িত্ব পান। পদটিকে প্রধানমন্ত্রীর সমমর্যাদার হিসেবে মনে করা হয়।
রাজনৈতিক এই চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে সু কি মিয়ানমারের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছেন। যদিও এখনও সামরিক বাহিনীর হাতেই মূল ক্ষমতার সুতা। গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রনালয়গুলো এখনও সামরিক বাহিনীর অধীনে রয়েছে।
সূত্রঃ rora

অনাগত শিশুর লিঙ্গ পরীক্ষা বন্ধে আইনি নোটিশ



গর্ভবতী নারী ও অনাগত সন্তানের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পেটের শিশুদের লিঙ্গ পরিচয় জানার উদ্দেশ্যে পরীক্ষা ও লিঙ্গ পরিচয় প্রকাশে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

রোববার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান রেজিস্ট্রি ডাক যোগে এ নোটিশ পাঠান। স্বাস্থ্য সচিব, নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ও সমাজ কল্যাণ সচিবকে এ নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

তাদের তিনদিনের মধ্যে সব সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক, ক্লিনিক কর্তৃপক্ষকে পেটের শিশুদের লিঙ্গ পরিচয় জানার উদ্দেশ্যে লিঙ্গ পরীক্ষা করে পরিচয় প্রকাশ বন্ধ করতে নির্দেশনা জারি করতে বলা হয়েছে। অন্যথায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়।

আইনজীবী ইশরাত হাসান বলেন, আমাদের দেশে এখনও বেশির ভাগ মানুষের ছেলে সন্তানই কাম্য। কারণ, তারা মনে করেন ছেলেরা বংশের ধারক, তারা আয় করে, বেশি শক্তিশালী। এমন কী অনেক নারীও মনে করে ছেলে সন্তান তাদের ভবিষ্যতের সুরক্ষা দেবে।

এ অবস্থায় যদি পরীক্ষার মাধ্যমে পেটে থাকা সন্তানের লিঙ্গ পরিচয় জানা যায় এবং তা মা-বাবার কাঙ্ক্ষিত না হলে গর্ভবতী মায়ের শারীরিক ও মানসিক অবস্থার উপর প্রভাব ফেলে। মা যদি হতাশায় ভোগে তবে বাচ্চার brain developmentগঠন/বিকাশ ঠিকভাবে হয় না। চীন-ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পেটে থাকা সন্তানের লিঙ্গ পরিচয় প্রকাশের ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। বাংলাদেশে নারী ও শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পেটের শিশুদের লিঙ্গ পরিচয় প্রকাশ বন্ধ হওয়া জরুরি বলে মন্তব্য করেন এই আইনজীবী।

তিনি বলেন, গর্ভবতী মা ও শিশুর কল্যাণের জন্য বা অনাগত সন্তানের সুস্থতা জানতে তারা যেকোনো পরীক্ষা করতেই পারেন। কিন্তু শুধু পেটে থাকা সন্তান ছেলে না মেয়ে তা জানার উদ্দেশ্যে ডাক্তারি পরীক্ষা বা ডাক্তারি পরীক্ষার রিপোর্টে লিঙ্গ পরিচয় প্রকাশ কোনোভাবেই কাম্য নয়। এ কারণেই লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছি।

প্রসঙ্গঃ #পৃথিবীর_প্রথম_মসজিদ ।


#পৃথিবীর_প্রথম_সৃষ্টি_কলম‘ এর মত প্রথম তৈরীকৃত মসজিদ নিয়েও কিছু লোকের বিতর্কের শেষ নেই । নিচে প্রথম তৈরী মসজিদ সম্পর্কে অল্প কিছু মাত্র দলীল সহ আলোচনা করা হলো।
#আল্লাহ‘র নিকট থেকে এই ওহি করা হয়েছে যে, মসজিদগুলো আল্লাহ তায়ালাকে স্মরণ করার জন্য। অতএব তোমরা আল্লাহ তায়ালার সাথে আর কাইকে ডেকো না’ (সূরা জিন : ১৮)।
মসজিদ সম্পর্কিত পবিত্র কুরআনের বক্তব্য (আয়াত) সূরা বাকারা, সূরা আল-ইমরান, সূরা তাওবা, সূরা জিনসহ অনেক সূরাতে রয়েছে।
পৃথিবীর প্রথম মসজিদ সম্পর্কে সূরা আল-ইমরানের ৯৬ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে ‘নিশ্চয় মানব জাতির জন্য সর্বপ্রথম যে গৃহ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, তা তো মক্কায় অবস্থিত। উহা বরকতময় এবং বিশ্বজগতের জন্য পথপ্রদর্শক।’ পবিত্র কুরআনের এই বর্ণনা মতে, পৃথিবীর প্রথম মসজিদ হচ্ছে বায়তুল্লাহ বা মসজিদুল হারাম। এরপর দ্বিতীয় মসজিদ হচ্ছে মসজিদুল আকসা বা বায়তুল মোকাদ্দাস। তৃতীয়টি হচ্ছে মসজিদে কোবা এবং চতুর্থ মসজিদ ‘মসজিদে নববী’। পৃথিবীর প্রথম মসজিদ সম্পর্কে হজরত আবু যর রা: থেকে একটি হাদিস বর্ণিত রয়েছে। যে হাদিসে বলা হয়েছে, রাসূল সা:কে জিজ্ঞেস করা হলোÑ হে রাসূলুল্লাহ সা: পৃথিবীর বুকে প্রতিষ্ঠিত সর্বপ্রথম মসজিদ কোনটি? জবাবে রাসূলে করিম সা: বলেন, আল-মসজিদুল হারাম। অতঃপর জিজ্ঞেস করা হলো, তারপর কোনটি? তিনি বললেন, আল-মসজিদুল আকসা। এরপর তিনি (আবু যর) জিজ্ঞেস করলেন, এই দুটি মসজিদ প্রতিষ্ঠার মধ্যে সময়ের ব্যবধান কত দিনের? জবাবে রাসূলুল্লাহ সা: বলেন, ৪০ বছরের (মিশকাত)। অর্থাৎ নূহ আ:-এর প্লাবনের পর ইবরাহিম আ: তৈরি করেছিলেন বায়তুল্লাহ বা মসজিদুল হারাম, আর সুলায়মান আ: তৈরি করেছিলেন মসজিদুল আকসা। উভয় মসজিদই তৈরি করেছিলেন সর্বপ্রথম হজরত আদম আ:। আর ইবরাহিম আ: এবং সুলায়মান আ: নূহ নবীর প্লাবনের পর তা সংস্কার করেছিলেন মাত্র।
মসজিদ তৈরির ইতিহাসে হজরত মুহাম্মদ সা: প্রথম মসজিদ তৈরি করেছিলেন মদিনাতে; যার নাম মসজিদে কোবা। এরপর তিনি মদিনার কেন্দ্রস্থলে তৈরি করলেন মসজিদে নববী। আল্লাহর নির্দেশে মুহাম্মদ সা: যখন মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত করলেন, তখন তিনি ‘কোবা’ নামক পল্লীতে ১৪ দিন অবস্থান করেন এবং সেখানেই তিনি মসজিদুল কোবা প্রতিষ্ঠিত করেন। এই মসজিদ সম্পর্কে আল্লাহ ঘোষণা করেন, ‘প্রথম দিন থেকে যে মসজিদ তাকওয়ার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে; হে নবী তোমার জন্য সর্বাধিক উপযোগী সেটিই, যেখানে তুমি ইবাদতের জন্য দাঁড়াবে’ (সূরা তাওবা : ১০৮)।

#সুখ একটি #আপেক্ষিক জিনিস ।

অনেকেই আপেক্ষিক’কে অপেক্ষা বা প্রতিক্ষার কাছাকাছি শব্দ মনে করে ভাবে যে, সুখের জন্য অপেক্ষা করতে হয় । কিন্ত অপেক্ষা ও আপেক্ষিক সম্পূর্ণ আলাদা শব্দ । আর্কিমিডিসের আপেক্ষিক গুরুত্বের থিওরীটা পড়লেই পরিস্কার হয়ে যাবে বিষয়টা । যাই হোক, বিজ্ঞান টেনে এনে ব্যপারটি জটিল করতে চাইনা । মূলতঃ আপেক্ষিক একটি বিশেষণ পদ । যার সরল অর্থ অপেক্ষাকৃত বা পরস্পরের উপর নির্ভরশীল ।
সুখ একটি শতভাগ আপেক্ষিক জিনিস । আর সুখী হতে হলে আপেক্ষিকতা অর্থাৎ পরস্পর নির্ভরশীল হওয়া লাগবে । তার মানে আপনি একা কখনোই সুখী হতে পারবেন না । সুখী হতে কমপক্ষে অন্য একজন লাগবেই । বনের আশ্রয়ে আছে বলেই পশু পাখিরা সুখী । আর পশু পাখিরা আছে বলেই বন এত সুন্দর -সজীব ও আকর্ষনীয় । বন ও পশু-পাখিরা এখানে আপেক্ষিক । অর্থাৎ নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষা ও বিকাশে এ কে অন্যের উপর নির্ভরশীল । যারা একা একা সুখী হতে চায় তারা বোকার রাজ্যে আছে।
পৃথিবীর প্রায় ৮০০ কোটি মানুষের মধ্যে আপনাকে প্রতিদিন কোন কিছু পাওয়ার আশা ছাড়া ২ থেকে ১০ বার স্মরণ করে মাত্র ৮ জন লোক ।
আপনার দুঃখের কথা শুনে সমব্যাথী হয় মাত্র ১০% লোক, খুশি হয় ২০% লোক, বিরক্ত হয় ৭০% লোক।
আপনার সুখের কথা শুনে খুশি হয় ঐ ১০% লোক, হিংসা করে ৪০% লোক। নিজেরা সুখী নয় বলে আফসোস করে ৫০% লোক ।
আপনি আমি সারা জীবন চেষ্টা করেও শীর্ষ বিন্দুতে পৌছতে পারবোনা ।
কখনোই আপনি পুরো সুখী হতে পারবেন না। দুনিয়া সুখের স্থান নয় । সুখ একটি আপেক্ষিক বস্তু । উদাহরণঃ একজন ক্যাব চালক দুই ঘন্টা অপেক্ষার পর একজন যাত্রী পেলেন । সে নিউইয়র্ক থেকে ফিলাডেফিয়া যাবে ও আসবে(রাউন্ড ট্রিপ) । এই যাত্রী পেয়ে সে ব্যাপক সুখি হয়ে যখন গাড়ী চালিয়ে ফিলাডেলফিয়া পৌছলো,ঠিক তখনই যাত্রী গাড়ীর দরজা খুলে দৌড়ে পালিয়ে গেল । পয়সাতো দিলোইনা তার উপর ক্যাব চালকের লেটেষ্ট আইফোনটিও নিয়ে গেল ।
এই হলো দুনিয়াতে সুখের স্থায়িত্ব!!!
আপনার প্রিয় ক্রিকেট টিম অর্ধদিন খুব ভাল ফিল্ডিং করেছে বিপক্ষ দলের বিরুদ্ধে। ফলে বিপক্ষ দল মাত্র ১১০ রান করতে পেরেছে । অপনি খুব সুখী এই মুহূর্তে ।ডাবল KFC খেয়ে আবার খেলা দেখতে বসলেেন। কারণ আপনি নিশ্চিত, আপনার টিম এই ১১০ রান অতিক্রম করবে মাত্র ২০ ওভারে । কিন্তু মাত্র ১০ ওভারে ৭০ রান করে আপনার টিম অল আউট!! গত ছয় ঘন্টার সুখের মাশুল দিবেন আগামী ছয় মাস ধরে খেলোয়ারদের মুন্ডুপাত করে ।
এই হলো দুনিয়াতে সুখের স্থায়িত্ব!!!
পরিশেষে, ছোট বেলায় পড়া #কবি_কায়কোবাদে‘র “সুখ” নামক কবিতাটি উল্লেখ করেই আমার লেখার ইতি টানতে চাই ।

“সুখ সুখ” বলে তুমি, কেন কর হা-হুতাশ,
সুখ ত পাবে না কোথা, বৃথা সে সুখের আশ!
পথিক মরুভূ মাঝে খুঁজিয়া বেড়ায় জল,
জল ত মিলে না সেথা, মরীচিকা করে ছল!
তেমতি এ বিশ্ব মাঝে, সুখ ত পাবে না তুমি,
মরীচিকা প্রায় সুখ, – এ বিশ্ব যে মরুভূমি!
ধন রত্ন সুখৈশ্বর্য কিছুতেই সুখ নাই,
সুখ পর-উপকারে, তারি মাঝে খোঁজ ভাই!
‘আমিত্ব’কে বলি দিয়া স্বার্থ ত্যাগ কর যদি,
পরের হিতের জন্য ভাব যদি নিরবধি!
নিজ সুখ ভুলে গিয়ে ভাবিলে পরের কথা,
মুছালে পরের অশ্রু – ঘুচালে পরের ব্যথা!
আপনাকে বিলাইয়া দীনদুঃখীদের মাঝে,
বিদূরিলে পর দূঃখ সকালে বিকালে সাঁঝে!
তবেই পাইবে সুখ আত্মার ভিতরে তুমি,
যা রুপিবে – তাই পাবে, সংসার যে কর্মভূমি!

———#মরুচারী_মুসাফির

‘১০ বছরে জাতিসংঘ কর্মীদের ধর্ষণের শিকার ৬০ হাজার’


বিগত এক দশকে জাতিসংঘ কর্মীদের দ্বারা ৬০ হাজারেরও বেশি নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে দাবি করেছেন জাতিসংঘের কর্মকর্তা অ্যান্ড্রু ম্যাসেলিওড। গত বছর এ বিষয়ক একটি প্রতিবেদন ব্রিটিশ আন্তর্জাতিক ‍উন্নয়ন বিষয়কমন্ত্রী প্রিতি পাটেলের হাতে তুলে দিয়েছিলেন তিনি।

সেই প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বের সবচেয়ে বড় এই সংস্থায় প্রায় ৩ হাজার ৩০০ শিশু নিপীড়কও কর্মরত আছেন। তারা বিশ্বজুড়ে ঝুঁকিতে থাকা নারী ও শিশুদের ধর্ষণ করতেই দাতা সংস্থাগুলোতে চাকরি নেওয়ার চেষ্টা করেন। প্রায় ২০ বছর ধরে এমন তথ্য গোপন করে রাখা হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত তার সবার সামনে উন্মোচিত হলো।

এর আগেও ত্রাণকর্মীদের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছিল। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য সানকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অধ্যাপক ম্যাসেলিওড বলেন, জাতিসংঘের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগের মাত্রা ক্যাথলিক গির্জাগুলোর বিশালত্বের মতোই। এই শিক্ষাবিদ বলেন, ‘সারা বিশ্বে হাজার হাজার ত্রাণকর্মী কাজ করছেন যারা আদতে শিশু নিপীড়ক। আপনি যদি ইউনিসেফের টি-শার্ট পরা থাকেন, তবে কেউ আপনাকে জিজ্ঞাসা করবে না আপনার উদ্দেশ্য কি? ম্যাসেলিওড বলেন, ‘তখন আপনি যা খুশি করতে পারবেন। আর এ বিষয়টি সারা পৃথিবীতেই ঘটছে। এটা আসলে ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা। অনেক আগেই এটা বন্ধ করা উচিত ছিল।

জাতিসংঘের ত্রাণ বিভাগের কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন ম্যাসেলিওড। বলকান দেশগুলা, রুয়ান্ডা এবং পাকিস্তানে ছিলেন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। জাতিসংঘের জরুরি সমন্বয় কেন্দ্রের প্রধান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। বর্তমানে তিনি ত্রাণকর্মীদের ওপর কড়াকড়ি আরোপের জন্য প্রচারণা চালাচ্ছেন এবং তাদের মধ্যে নিপীড়কদের বিচারের আওতায় আনার চেষ্টা করছেন। তিনি চান, এই লড়াইয়ে যেন যুক্তরাজ্য নেতৃত্ব দেয়।

গত বছর জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্থনিও গুতেরেসের নিয়োগ দেওয়া তালিকার মধ্যে ৬০ হাজার শান্তিকর্মীর বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ এনেছেন ম্যাসেলিওড। আর বেসামরিক কর্মীরা ২০১৬ সালে ৩১১ জনকে নিপীড়ন করছেন। জাতিসংঘও স্বীকার করেছে তাদের প্রকাশিত তালিকার তুলনায় প্রকৃত সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ। যুদ্ধ এলাকার বাইরের ঘটনার প্রকৃত সংখ্যা তাদের কাছে নেই। অধ্যাপক ম্যাসেলিওডও বলেন, জাতিসংঘ কর্মীদের দ্বারা সংঘটিত ধর্ষণের প্রতি ১০টি ঘটনার মাত্র একটিই রেকর্ড করা হয়।

ম্যাসেলিওডের সরবরাহকৃত প্রমাণের ভিত্তিতে সাবেক মন্ত্রী প্রিতি পাটেল ডিএফআইডি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, তারা তথ্য গোপন করতে চেয়েছিল। তারা পাটেলকে বলেছিলেন যেন যৌন নিপীড়ন নিয়ে এমন বক্তব্য দেওয়া হয়, যেখানে মনে হবে শুধু জাতিসংঘের সেনারাই এর সঙ্গে জড়িত।

তিনি বলেন, এটা খুবই রূঢ় সত্য যে যুক্তরাজ্যের জনগণের ট্যাক্সের টাকা দিয়েই এই শিশু ধর্ষণের মতো অপরাধে অর্থায়ন করা হচ্ছে। তিনি বলেন, আমি জানি জাতিসংঘের উচ্চ পর্যায়ে এটা নিয়ে অনেক আলোচনা চলেছে। কিন্তু এটা নিয়ে অবশ্যই কিছু করতে হবে। এখনও কার্যকর কিছুই হয়নি। এই অধ্যাপক বলেন, আমরা এমন এক সমস্যা নিয়ে কথা বলছি, যার বিশালতা প্রায় ক্যাথলিক গির্জার সমান।

সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসনের সংসদীয় সহযোগী কনর বার্নস পূর্ব প্রকাশিত অক্সফামের যৌন কেলেঙ্কারির কথা তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, যা দেখা যাচ্ছে তা আসলে বরফ খণ্ডের ওপরের অংশ। আসলেই কী হচ্ছে তা তদন্ত করা দরকার। তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি একটি কৌশলগত ও সাংগঠনিকভাবে গোপন করার প্রক্রিয়া অনেক দিন ধরেই চলে আসছিলো।

পেনি মর্ডান্ট জাতিসংঘসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থায় এই যৌন নিপীড়ন বন্ধের অঙ্গীকার করেছেন। গত বছর সেপ্টেম্বরে থেরেসা মে বলেছিলেন, বিশ্বাস অর্জন করতে না পারলে তারা জাতিসংঘে অর্থায়ন বন্ধ করে দেবে। তবে পাটেলের আহ্বানে সাড়া দিয়ে এখন পর্যন্ত কোনও তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেনি তারা। ডিএফআইডি জানায়, এখনও কোনও তদন্ত শুরু হয়নি।

সূত্র: দ্য সান

আমেরিকার সাবেক রাষ্ট্রপতি আব্রাহাম লিংকন:-


প্রেসিডেন্ট হয়ে প্রথম যেদিন পার্লামেন্টে ভাষণ দিচ্ছিলেন তখন এক ভদ্রলোক দাঁড়িয়ে বললেন, লিংকন সাহেব, ভুলে যাবেন না, আপনার বাবা আমাদের পরিবারের জন্য জুতা তৈরি করে দিতেন। আর একজন মুচির ছেলেকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে অনেকেই মেনে নিতে পারেননি তখন।

একথা শোনার পরে সবাই চুপ হয়ে গেলেন কিন্তু লিংকন মোটেই বিচলিত হলেন না।
লিংকন লোকটির চোখে চোখ রেখে বললেন, আমি জানি স্যার, আমার বাবা আপনার কেন এখানে অনেকেই আছেন যাদের পরিবারের জন্য জুতা তৈরি করতেন।
এ জন্য আমি গর্বিত, বাবা ছিলেন জুতা তৈরির জন্য জিনিয়াস। সে কাজকে কখনো ছোট করে দেখতেন না,
বাবা ছিলেন জুতা তৈরির নিপুন কারিগর,আজ পর্যন্তও তার কোন কাজের সমালোচনা হয়নি, কারন তিনি কাজ করতেন শুধু গ্রহিতার সন্তুষ্টির জন্য নয়, নিজের সন্তুষ্টির জন্য।

আপনার যদি কোন অভিযোগ থাকে তাহলে বলুন আমি আপনাকে এক জোড়া জুতা তৈরি করে দেব। আমিও ভাল জুতা তৈরি করতে পারি।

একথা শোনার পর লোকটি লজ্জায় মাথা নিচু করে রইলেন, তখন লিংকন বললেন, কোন কাজকেই ছোট ভাববেন না।
কাজকে সম্মান করুন তা না হলে সারা জীবন অন্যের দয়ায় বাঁচতে হবে। একজন রুইমাছ দিয়ে খায়, তা দেখে হিংসা না করে পারলে আপনি ডাল দিয়ে ভাত খান।
তবুও ভাল কাজের প্রসংশা করুন আর মন্দ কাজ বর্জন করুন।

আমাদের সমাজে এমন অহংকারী মানুষের অভাব নেই।

হারিয়ে যাচ্ছে #গাজীপুরের ঐতিহ্য #মাটির_ঘর!!!


গাজীপুর সদর,কালীগঞ্জ,কালিয়াকৈর,শ্রীপুর,কাপাসিয়া উপজেলা ও টঙ্গী এলাকা সহ জেলার প্রতিটি উপজেলায় ব্যাপক হারে মাটির তৈরি ঘর ছিল।
এখন মাটির ঘর তেমন একটা চোখে পড়ে না।গাজীপুর সদর ও টঙ্গী এখন মেগাসিটি । অপরদিকে কালীগঞ্জ উপজেলার অর্ধেক ও পুবাইল এলাকা ঢাকা শহরের উপ-শহর ।
জেলার বিভিন্ন এলাকার লোকজনের সাথে কথা বলে জানা গেল যে, আধুনিকতার ছোঁয়ায় এখন মানুষের জীবনযাত্রার মান বেড়েছে।জেলার প্রায় সকল গ্রামে পৌঁছে গেছে বিদ্যুৎ।রাজধানীর নিকটে হওয়াতে গ্রামীণ অর্থনীতির গতি সচল হওয়ায় মাটির ঘরের পরিবর্তে তৈরি হচ্ছে পাকা ঘর। দুই এক বছর পর পর মাটির ঘর সংস্কারের ঝামেলা ও ব্যয়বহুল দিক পর্যবেক্ষণ করে মাটির ঘরের পরিবর্তে দালান-কোঠা বানাতে উৎসাহী হয়ে উঠেছেন এই অঞ্চলের মানুষ।তাছাড়া বর্তমানে একটি মাটি ঘর ভালভাবে বানাতে গেলে সমপর্যায়ের পাকা ঘরের দেড়গুণ পয়সা খরচ হয় ।তাই এখন মাটির ঘর তেমন একটা চোখে পড়ে না।
তবে এখনো গ্রামে অনেকেই বসবাসের জন্য মাটির ঘরই পছন্দ করেন। কারণ মাটির ঘর মজবুত এবং শীত ও গরমের প্রকোপ থেকে রক্ষাকারী ।
শুধু মানুষের বসত বাড়ী নয়, গাজীপুরের অনেক সরকারী স্থাপনাও মাটির তৈরী । এলাকা ঘুরে দেখা গেছে কালের সাক্ষী হিসাবে কালীগঞ্জ উপজেলার ব্রাহ্মনাগাঁও গ্রামে সরকারী প্রধান পোষ্ট অফিসটি এখনো মাটির ঘরেই বহাল তবিয়তে আছে ।
মাটির ঘরের প্রধান বৈশিষ্ঠ্য হলো , হাজার হাজার বছরেও মাটির ঘর পুরোনো হয়না । পক্ষান্তরে পাকা ঘর ৭০/৮০ বছরেই শেষ ।
মাটির ঘরের প্রধান শত্রু হলো বন্য আর ইদুর ।
শীত এবং গরম সব ঋতুর জন্যই আরামদায়ক হওয়ায় গ্রামের দরিদ্র মানুষের পাশাপাশি বিত্তবানরাও তৈরি করতেন মাটির ঘর তৈরী করতো ।
বিত্তবানদের বহু মাটির দোতলা ঘর এখনো গাজীপুরের বিভিন্ন স্থানে নজরে পড়ে ।বিশেষ করে কালীগঞ্জের উত্তর এলাকা ও কাপাসিয়ার দক্ষিণ এঁটেল ও ছোট পাথরযুক্ত লাল মাটির এলাকায় দু’তলা মাটির ঘর এখনো ১৫/২০ গ্রামে দেখা যায়।মোক্তারপুর,বড়গাঁও,ধনপুর,বডহরা,চাদপুর,,ঘাটকড়ি ,পাবুর রাওনাইট ইত্যাদি পাহাড়ী টিলা এলাকায় বহু মাটির ঘর এখনো বিদ্যমান ।এসব এলাকায় গ্রামের ধনী-গরিব নির্বিশেষে বেশিরভাগ মানুষের ঘরই ছিল মাটির তৈরী। তবে ইদানিং বহু লোক প্রবাসে থাকার ফলে নতুন করে এসব এলাকায় মাটির ঘর তৈরির ঝোঁক কমেছে। মাটির ঘরের ব্যয়বহুলতা পর্যবেক্ষণ করে স্থানীয় বাসিন্দারা মাটির ঘরের পরিবর্তে দালান-কোঠা বানাচ্ছে। তবে অনেক পরিবার এখনো মাটির ঘরে বসবাস করেন।

মূলতঃ এঁটেল মাটি দিয়ে মাটির ঘর তৈরি করা হয়। দুই আড়াই ফিট চওড়া দেয়াল এবং উঁচু দেয়ালের উপর শন/বেন্না/ টিন দিয়ে চৌচালা বা দোচালা, একতলা-দেড় তলা ও দোতলা ঘর তৈরি করা হয়।{উল্লেখ্য যে,কালীগঞ্জের ফুলদী গ্রামে আমার দাদা শশুরের বানানো ৫ কক্ষ বিশিষ্ঠ্য দোতলা মাটির ঘরটি এখনো বহাত তবিয়তে আছে। আমার শিক্ষক শশুর পুরো জীবনটাই এ ঘরে কাটিয়ে পরপাড়ে চলে গেছেন }
মোক্তারপুর ইউনিয়নের বড়গাঁও গ্রামের এক বৃদ্ধ বলেন, এক সময় গ্রামের বিত্তবানদেরও মাটির ঘরের দিকে ঝোঁক ছিল কিন্তু আধুনিকতার ছোঁয়ায় এখন গ্রামে গ্রামে মাটির ঘরের সংখ্যা আশঙ্কাজনকহারে কমে গেছে। অবস্থাসম্পন্নরা এখন মাটির ঘর ভেঙে ইট-সিমেন্টের দালান কোঠা তৈরি করছে। এবং গ্রামের একতৃতীয়াংশ লোক গাজীপুর বা ঢাকা শহরে স্থায়ী ভাবে চলে গেছে । শুধু ঈদে বাড়ীতে আসে ।
গ্রাম গুলোর মাটির ঘরের সংখ্যা কমে যাওয়ার কারণ হিসেবে স্থানীয়রা বলছেন যে, ৩/৪ বছর পর পর মাটির ঘরের সংস্কার এর ব্যয়ভার ও স্থায়ীত্বের বিষয়টি মানুষের কাছে দূর্ভাবনার কারণ হয়ে ওঠে।তাছাড়াও ইদুঁরের উপদ্রব একটি মূখ্য কারণ । এর ফলে গ্রামীণ পরিবেশে মাটির ঘর এখন অনেকটাই বিলুপ্তির পথে।

মাটির ঘরে যদি ছনের ছাউনি ব্যবহার করা হয় তবে আরাম বহুগুণ বেড়ে যায়। গরমের সময় ঠান্ডা এবং ঠান্ডার সময় নাতিশীতোষ্ণ থাকায় মাটির ঘর বসবাসের জন্য অত্যন্ত আরামদায়ক।অনেকের ভাষ্যমতে, গ্রামে পাকা ঘর করায় গরম থেকে রক্ষা পেতে বৈদ্যুতিক পাখা দরকার হয়।তাছাড়া গরমের দিনে যে পাকা ঘরে দিনের বলায় রোদ পড়ে সে ঘরে রাতে ফ্যান চালিয়েও থাকা যায়না । কিন্তু মাটির ঘরে পাখা না হলেও চলে বিশেষ করে লোড শেডিং এর জন্য খুবই উপযোগী


———#মরুচারী_মুসাফির

#সাভার_জাতীয়_স্মতি_সৌধ’র স্থাপত্য ও তাৎপর্যঃ


স্মৃতি রক্ষার জন্য ভাস্কার্য বা মূর্তি বানানো কবিরা গুনাহ । তাতে মৃত ব্যক্তির কল্যান তো হয় না বরং কবরে আযাব হয় । তবে সাভার স্মৃতি সৌধের মত স্থাপত্য বানানো দোষের কিছু নয় ।কেননা এই সৌধের ৭টি স্তম্ভ দিয়ে আন্দোলনের ৭টি স্তরকে বুঝানো হয়েছে । আসুন জেনে নেয়া যাক স্মৃতি সৌধের স্থাপত্য ও তাৎপর্যঃ——-
১৯৭১’র ২৬শে মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হয়। একই বছর ১৬ই ডিসেম্বর বিজয়ের মাধ্যমে এর পরিসমাপ্তি ঘটে। এই যুদ্ধে প্রায় ত্রিশ লক্ষ মানুষের প্রাণহানি হয়। এই সৃতিসৌধ বাংলাদেশের জনসাধারণের বীরত্বপূর্ণ লড়াইয়ের স্মরণে নিবেদিত এবং মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি জাতির শ্রদ্ধার উজ্জ্বল নিদর্শন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। সৃতিস্তম্ভ এবং এর প্রাঙ্গণের আয়তন ৩৪ হেক্টর (৮৪ একর)। এ ছাড়াও রয়েছে একে পরিবেষ্টনকারী আরও ১০ হেক্টর (২৪ একর) এলাকা নিয়ে বৃক্ষরাজি পরিপূর্ণ একটি সবুজ বলয়। এই সৃতিসৌধ সকল দেশ প্রেমিক নাগরিক এবং মুক্তিযোদ্ধাদের বিজয় ও সাফল্যের যুগলবন্দি রচনা করেছে। সাতটি ত্রিভুজ আকৃতি মিনারের শিখর দেশের মাধ্যমে বাংলাদেশের মুক্তি সংগ্রামের সাতটি পর্যায়ের প্রতিটি এক ভাবব্যঞ্জনাতে প্রবাহিত হচ্ছে। এই সাতটি পর্যায়ের প্রতিটি সূচিত হয় বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে। পরবর্তীতে চুয়ান্ন, ছাপান্ন, বাষট্টি, ছেষট্টি ও ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের মধ্যে দিয়ে অগ্রসর হয়ে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা সংগ্রামের চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হয়। মিনারটি ৪৫ মিটার (১৫০.০০ ফুট)উঁচু এবং জাতীয় শহীদ সৃতিসৌধ প্রাঙ্গণের গুরুত্বপূর্ণ একটি বিন্দুতে অবস্থিত। মিনার ঘিরে আছে কৃত্রিম হ্রদ এবং বাগান। সৃতিসৌধ চত্বরে আছে মাতৃভূমির জন্য আত্মোৎসর্গকারী অজ্ঞাতনামা শহীদের দশটি গণ সমাধি। সৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে আরও রয়েছে উন্মুক্ত মঞ্চ, অভ্যর্থনা কক্ষ, মসজিদ, হেলিপ্যাড, ক্যাফেটেরিয়া।

স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণের সর্বমোট আয়তন ৮৪ একর। স্মৃতিস্তম্ভ পরিবেষ্টন করে রয়েছে ২৪ একর এলাকাব্যাপী বৃক্ষরাজিশোভিত একটি সবুজ বলয়। স্মৃতিসৌধটির উচ্চতা ১৫০ ফুট। সৌধটি সাত জোড়া ত্রিভুজাকৃতির দেয়াল নিয়ে গঠিত। দেয়ালগুলো ছোট থেকে ক্রমশঃ বড়ক্রমে সাজানো হয়েছে। এই সাত জোড়া দেয়াল বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের সাতটি ধারাবাহিক পর্যায়কে নির্দেশ করে। ১৯৫২-র ভাষা আন্দোলন, ১৯৫৪ যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ১৯৫৬ শাসনতন্ত্র আন্দোলন, ১৯৬২ শিক্ষা আন্দোলন, ১৯৬৬ ছয় দফা আন্দোলন, ১৯৬৯ এর গণ-অভ্যূত্থান, ১৯৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ – এই সাতটি ঘটনাকে স্বাধীনতা আন্দোলনের পরিক্রমা হিসাবে বিবেচনা করে সৌধটি নির্মিত হয়েছে।

উল্লেখ্য যে, ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান ঢাকা শহর থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাশে নবীনগরে এই স্মৃতিসৌধের শিলান্যাস করেন। ১৯৭৮ খ্রিষ্টাব্দে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্মৃতিসৌধটি নির্মাণের উদ্যাগ গ্রহণ করেন এবং নক্‌শা আহবান করা হয়। ১৯৭৮-এর জুন মাসে প্রাপ্ত ৫৭টি নকশার মধ্যে সৈয়দ মাইনুল হোসেন প্রণীত নকশাটি গৃহীত হয়। ১৯৭৯ খ্রিষ্টাব্দে মূল স্মৃতিসৌধের নির্মাণ কাজ শুরু হয় এবং ১৯৮২ খ্রিষ্টাব্দে বিজয় দিবসের অল্প পূর্বে সমাপ্ত হয়।
(কিয়দাংশ উইকিপিডিয়া থেকে)
————#মরুচারী_মুসাফির