ক এনজিও’র প্রতিষ্ঠাতা ফজলে হাসান আবেদকে ব্রিটিশ রাজ পরিবার থেকে থেকে দেয়া হয়েছে নাইটহুড উপাধি। নাইটহুড উপাধির কারণে ফজলে হাসান আবেদকে ডাকা হয়- ‘স্যার ফজলে হাসান আবেদ’ বলে। ইতিহাস বলে, ব্রিটিশ সম্রাজ্যবাদের সূচনা হয়েছিলো জলদস্যুর মাধ্যমে। ব্রিটিশ সম্রাজ্যে যে যত বড় জলদস্যু, সে তত বড় ‘স্যার’।
এগুলো হলো- ইতিহাস কুখ্যাত সব ব্রিটিশ জলদস্যুর নাম। এদের কাজ ছিলো জাহাজে আক্রমণ করে লুটপাট করা এবং সেই সম্পদ ব্রিটিশ রানীর হাতে তুলে দেয়া।
সময় পাল্টেছে, লুটপাটের ধরনও পাল্টেছে। আগে জলদস্যু বাহিনী খুলে ডাকাতি করা হতো, এখন এনজিও বানিয়ে লুটপাট করা হচ্ছে। আমি দেখেছি, অনেক বুদ্ধিজীবি বাংলাদেশে সক্রিয় এনজিওগুলোকে তুলনা করেছে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সাথে। ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি যেমন নীল চাষের মাধ্যমে বাংলার জনগণের রক্ত চুষে খেতো, এখনও বাংলাদেশের এনজিওগুলো বাংলাদেশের জনগণকে চুষে খাচ্ছে। তবে তাদের গন্তব্য ঠিক আছে। উভয় সম্পদ চুষে পাঠাচ্ছে ব্রিটিশ সম্রাজ্যবাদের কাছে।
ফজলে হাসান আবেদ এর নামের পরে লেখা হয় KCMG । লেখার সিস্টেম: Sir Fazle Hasan Abed KCMG। KCMG কোন পুরুষ্কার নয়, একটি চাকুরী। বিদেশী রাষ্ট্রতে ব্রিটেনের স্বার্থ রক্ষার্থে যে সব ব্যক্তিকে ব্রিটিশ সম্রাজ্যবাদের পক্ষ থেকে নিয়োগ দেয়া হয় তাদের KCMG বলে। (http://www.brac.net/governing-body)
সাম্প্রতিক সময়ে কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ‘ব্র্যাক এনজিও’র ব্যাপক ও সন্দেহজনক উৎসাহ লক্ষ্য করা গেছে। কিন্তু কেন এই উৎসাহ ? এর পেছনে ফজলে হাসান আবেদের কি এজেন্ডা থাকতে পারে ??
গত আগস্টে মায়ানামারের রাখাইনে রোহিঙ্গা গণহত্যা শুরু হওয়ার পর রুশ গোয়েন্দারা এক রিপোর্টে দাবি করেছিলো, “রাখাইনে অস্থিতিশীলতার মুলে রয়েছে আমেরিকান ধনকুবের ইহুদী তেল ব্যবসায়ী জর্জ সরোসের তেল ও গ্যাস ব্যবসা।” (http://bit.ly/2jaK3Kl) জর্জ সরোস বঙ্গোপোসাগরের এ অংশে তেল ও গ্যাস সম্পদের ব্যাপারে প্রচুর উৎসাহি এবং সেই স্বার্থেই সে ঘটনাগুলোর পেছনে কাজ করছে।
মজার ব্যাপার হচ্ছে, এই আমেরিকান ধনকুবের ইহুদী তেল ব্যাবসায়ী জর্জ সরোসের খুব ঘনিষ্ট জনের নাম হচ্ছে ফজলে হাসান আবেদ ও ড. ইউনুস। ২০০৬ সালে ইহুদী তেল ব্যবসায়ী জর্জ সরোস বাংলাদেশের শাহবাগে এক অনুষ্ঠানে এসেছিলো। সেই অনুষ্ঠানের স্টেজে জর্জ সরোসের একপাশে বলেছিলো ফজলে হাসান আবেদ আর একপাশে বসেছিলো ড. ইউনুস (http://bit.ly/2oLaRDL)। আরো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হচ্ছে ইউনুসের গ্রামীনফোনের গুরুত্বপূর্ণ শেয়ারহোল্ডার হচ্ছে এই জর্জ সরোস (http://bit.ly/2wJSXmT)। ২০১৩ সালে জর্জ সরোসের ওপেন সোসাইটি ফাউন্ডেশন থেকে ফজলে হাসান আবেদকে পুরষ্কারে ভূষিত করা হয়।(http://bit.ly/2BMrWCk)
অতি সম্প্রতি পাকিস্তান তার দেশে ব্র্যাক এনজিওকে নিষিদ্ধ করেছে (http://bit.ly/2CDyd08)। এর কিছুদিন পর ফের ঘোষণা দিয়ে নিষিদ্ধ করে জর্জ সরোসের সমস্ত এনজিওকে। (http://reut.rs/2D23DhJ)
শুরুতেই বলেছি, এনজিওগুলোকে অনেকে তুলনা করে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সাথে। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি কিন্তু শুরুতে এ অঞ্চলে ব্যবসা করার নাম দিয়ে এসেছিলো, তারা ভারতবর্ষের ক্ষমতা দখলের কথা মুখেও আনেনি। কিন্তু ধীরে ধীরে তারা সক্রিয় হয়ে উঠে এবং অনুমতি পাওয়ার ১৫৭ বছর পর তারা এ অঞ্চলের ক্ষমতা হাতে নিয়ে নেয়।
বর্তমানে বাংলাদেশে ব্র্যাকের কার্যক্রম আপাতত নিরীহ ঠাওর হলেও সে আগামীতে আদৌ নিরীহ কিনা কিংবা ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির মত বাংলাদেশের ক্ষমতা হাতে নেয়ার চেষ্টা করবে কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ আছে। ব্রাকের সহযোগী ইউনুস কিন্তু একবার ক্ষমতা হাতানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছে। ফজলে হাসান আবেদের কার্যক্রম যথেষ্ট সন্দেহজনক, অন্তত তার ঘনিষ্ট সহযোগী জর্জ সরোসের কার্যক্রমের উপর ভিত্তি করে তা অনায়াসে বলা যায়। ব্র্যাক শুধু বাংলাদেশে নয়, সারা বিশ্বের সবচেয়ে বড় এনজিও। ব্র্যাকের কর্মকর্তা-চাকুরের সংখ্যা লক্ষ লক্ষ। এরা প্রশিক্ষিত ও সুসংগঠিত। এই সুসংগঠিত ও প্রতিশিক্ষত শক্তিকে কাজে লাগিয়ে তারা যদি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পনির মত বড় কোন পল্টি মারে, তখন সেটা বাংলাদেশের মানুষ ও সরকার সামলাতে পারবে তো ? জর্জ সরোসের চোখ পড়ায় রোহিঙ্গারা এলাকা ছাড়া হয়েছে, বাংলাদেশীদেরও যেন রোহিঙ্গাদের মত অবস্থা না হয়, সে জন্য আগে থেকেই চিন্তা করা জরুরী।
জানাযার নামাযে সূরা ফাতিহা পড়া ফরয হওয়া তো অনেক দুরের বিষয় রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনো জানাযার নামাযে সূরা ফাতিহা পড়ার নির্দেশ দিয়েছেন এ মর্মে কোনো সহীহ হাদীস মূলত নেই। এ প্রসঙ্গে হাফেয ইবনুল কায়্যিম রাহঃ-এর একটি উক্তি উল্লেখ করা যায়, যাকে আমাদের আহাফি(আহলে হাদীস ফির্কার) বন্ধুরাও নিজেদের অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব বলে দাবি করে থাকেন। তিনি বলেছেন:ويذكر عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه أمر أن يقرأ على الجنازة بفاتحة الكتاب ولا يصح إسنادهঅর্থ: নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-থেকে উল্লেখ করা হয় যে, তিনি জানাযার নামাযে সূরা ফাতিহা পড়ার নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু এর সনদ সহীহ নয়। -যাদুল মা‘আদ ১/৪৮৬মূলত জানাযার নামায সাহাবায়ে কেরাম মৌখিক বর্ণনার পরিবর্তে প্রায়োগিক পদ্ধতিতেই নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বেশি হাসিল করেছেন। পরবর্তীতে তা‘আমুল এবং তাওয়ারুছের মাধ্যমে তাবেয়ীগণ সাহাবা রাঃ থেকে তা হাসিল করেছেন। আর সাহাবা-তাবেয়ীগণ এবং খাইরুল কুরূনের ব্যাপক কর্মধারা সামনে রাখলে বুঝা যায় যে, তাঁদের অধিকাংশই জানাযার নামাযে সূরা ফাতিহা পড়তেন না। তবে কেউ ইচ্ছে করলে পড়তে পারবে । একটি সহীহ হাদীস মতে সূরা ফাতিহা পড়া সুন্নত। ইবাদতের মধ্যে শুধু নামাজ পড়ার জন্যই অজু করা ফরজ । অজু ছাড়া জানাজা হয়না । সে হিসাবে যানাজা হলো নামাজ । আবার নমাজের শর্ত হলো রুকু-সিজদা । যানাজায় রুকু -সিজদা নেই ও নরীর উপস্থিতি নেই। সেই হিসাবে জানাজা হলো মৃতের জন্য দোয়া । এখানে ইখতেলাফ বিদ্যমান । নিচে সাহাবীদের তারপর তাবেয়ীদের কিছু আছার উল্লেখ করা হলো–। (১) খলীফায়ে রাশেদ হযরত আলী ইবনে আবী তালিব রা.-এর আমল قال ابن أبي شيبة : حدثنا محمد بن فضيل عن العلاء بن المسيب عن أبيه عن علي أنه كان إذا صلى على ميت يبدأ يحمد الله ويصلى على النبي صلى الله عليه وسلم ثم يقول : اللهم اغفر لأحيائنا و أمواتنا وألف بين قلوبنا وأصلح ذات بيننا واجعل قلوبنا على قلوب خيارنا . অর্থ: হযরত আলী রা. থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি যখন কোনো মায়্যেতের জানাযার নামায পড়তেন তখন প্রথমে আল্লাহর প্রশংসা করতেন তারপর নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উপর দরূদ পড়তেন অতপর এই বলে দুআ করতেন : اللهم اغفر لأحيائنا وأمواتنا وألف بين قلوبنا وأصلح ذات بيننا واجعل قلوبنا على قلوب خيارنا. -মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস ১১৪৯৪ এই বর্ণনার রাবীগণ সকলেই নির্ভরযোগ্য। এই আছর দ্বারা সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হল যে, হযরত আলী রা. জানাযার নামাযে সূরা ফাতিহা পড়তেন না। (২) হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রা.-এর আমল مالك عن نافع أن عبد الله بن عمر كان لا يقرأ في الصلاة على الجنازة অর্থ: নাফে রাহ. বলেন, আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রা. জানাযার নামাযে (কুরআন) পড়তেন না। -মুয়াত্তা মালিক, হাদীস ৫২৩; মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস ১১৫২২ এই আছরটিও বিশুদ্ধতম সনদে বর্ণিত। এখানেও স্পষ্টভাবে বলা হল, হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রা. জানাযার নামাযে কুরআন পড়তেন না। (৩) হযরত আবু হুরায়রা রা.-এর আমল এবং তালীম ما لك عن سعيد بن أبي سعيد المقبري عن أبيه أنه سأل أبا هريرة كيف تصلي على الجنازة؟ فقال أبو هريرة أنا لعمر الله أخبرك أتبعها من أهلها فإذا وضعت كبرت وحمدت الله وصليت على نبيه ثم أقول اللهم إنه عبدك وابن عبدك وابن أمتك كان يشهد أن لا إله إلا الله وأن محمدا عبدك ورسولك وأنت أعلم به اللهم إن كان محسنا فزد في إحسانه وان كان مسيئا فتجاوز عن سيئاته اللهم لا تحرمنا أجره ولا تفتـنا بعده. অর্থ: আবু সাঈদ মাকবুরী থেকে বর্ণিত, তিনি হযরত আবু হুরায়রা রা.-কে জিজ্ঞাসা করলেন, আপনি কীভাবে জানাযার নামায পড়েন? আবু হুরাইরা রা. বললেন, আল্লাহর কসম অবশ্যই আমি তোমাকে বলব। আমি মায়্যেতের (ঘর থেকে) পরিবারের সাথে আসি। অতপর যখন মায়্যেতকে রাখা হয় আমি তাকবীর দেই এবং আল্লাহর প্রশংসা করি। তারপর নবীর উপর দরূদ পড়ি। অতপর এই দুআ করি… اللهم। -মুয়াত্তা মালেক, হাদীস ৫২১; মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক ৬৪২৫; মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস ১১৪৯৫ এই আছরেরও সকল বর্ণনাকারী নির্ভরযোগ্য। এখান থেকেও বোঝা গেল, হযরত আবু হুরায়রা রা. জানাযার নামাযে কুরআন পড়তেন না। (৪) উবাদা ইবনে ছামিত রা.-এর ফরমান عن أبي هريرة أنه سأل عبادة بن الصامت عن الصلاة على الميت فقال أنا والله أخبرك تبدأ فتكبر ثم تصلي على النبي صلى الله عليه وسلم، وتقول اللهم إن عبدك فلانا كان لا يشرك بك شيئا، أنت أعلم به، إن كان محسنا فزد في إحسانه وإن كان مسيئا فتجاوز عنه، اللهم لا تحرمنا أجره ولا تضلنا بعده. অর্থ: হযরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত যে, তিনি উবাদা ইবনে ছামিত রা.-কে জানাযার নামায সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন, তিনি বললেন, আল্লাহর কসম! অবশ্যই আমি তোমাকে বলব, তুমি সর্বপ্রথম তাকবীর দিয়ে নামায শুরু করবে। অতপর নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উপর দরূদ পড়বে এবং এই দুআ পড়বে … اللهم -সুনানে কুবরা বায়হাকী ৪/৪০ উল্লেখ্য : জানাযার নামাযে ফাতিহা পাঠ প্রমাণ করার জন্য গাইরে মুকাল্লিদ বন্ধুগণ হযরত উবাদা ইবনে ছামিত রা.-এর সূত্রে বর্ণিত এ প্রসিদ্ধ হাদীস উদ্ধৃত করে থাকেন- لا صلاة لمن لم يقرأ بفاتحة الكتاب. ‘যে ফাতিহাতুল কিতাব পড়েনি তার নামায নেই।’-সহীহ বুখারী, হাদীস ৭৫৬ অথচ উপরোক্ত বর্ণনায় পাওয়া গেল যে, স্বয়ং উবাদা ইবনুস সামিত রা.-ই জানাযার নামায ফাতিহা ছাড়া পড়ার নিয়ম জানতেন ও মানতেন। সাহাবী আবু হুরায়রা রা.-এর প্রশ্নের উত্তরে তিনি এই নিয়মেরই উল্লেখ করেছেন। আবু হুরায়রা রা.-ও এ নিয়ম জানতেন ও মানতেন। ইতিপূর্বে তাঁর বিবরণও উল্লেখিত হয়েছে। আবু হুরায়রা রা. থেকেও সহীহ মুসলিমে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এ হাদীস বর্ণিত হয়েছে- لا صلاة إلا بقراءة (কুরআন) পড়া ছাড়া নামায নেই। -সহীহ মুসলিম, হাদীস ৩৯৬ এর পরিষ্কার অর্থ এই যে, তাঁরা ‘সালাতুল জানাযা’কে এই হাদীসের বিধানের অন্তর্ভুক্ত মনে করেন না। বরং এ পর্যন্ত উল্লেখিত বড় বড় মনীষী সাহাবীর কর্ম ও সিদ্ধান্ত এবং মুসলিম জাহানের বড় বড় কেন্দ্রগুলোর প্রতিষ্ঠিত কর্মধারাও একথাই প্রমাণ করে যে, ‘সালাতুল জানাযা’ উপরোক্ত হাদীসের নির্দেশনার আওতাভুক্ত নয়। সুতরাং এ হাদীসকে সালাতুল জানাযার ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা শুধু দলীলহীন প্রয়োগ নয়; দলীলবিরোধী প্রয়োগ বটে। সালাতুল জানাযার হাকীকত হচ্ছে এটি দুআ। মাইয়েতের জন্য দুআ। একারণে দুআর ভূমিকা হিসেবে ‘ছানা’ (আল্লাহর প্রশংসা) ও ‘সালাত’ (দরূদ) পাঠ করা হয়। ইমাম মালিক রাহ. বলেছেন- إنما هو الدعاء ‘এ তো দুআ’-আল মুদাওওয়ানা ১ : ২৫১ আর সালাতুল জানাযা যে সাধারাণ সালাতের মতো নয় এ তো বলাই বাহুল্য। এতে রুকু-সিজদা নেই, কা’দা-তাশাহহুদ নেই। সুতরাং একে সাধারণ সালাতের মধ্যে কীভাবে শামিল করা যায়? এ প্রসঙ্গে বিখ্যাত তাবেয়ী আবুল আলিয়া রাহ.-এর একটি বাণী মনোযোগের দাবিদার। আবুল মিনহাল বলেন- سَأَلْتُ أَبَا الْعَالِيَةِ عَنِ الْقِرَاءَةِ فِي الصَّلَاةِ عَلَى الْجِنَازَةِ بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ فَقَالَ: “مَا كُنْتُ أَحْسَبُ أَنَّ فَاتِحَةَ الْكِتَابِ تُقْرَأُ إِلَّا فِي صَلَاةٍ فِيهَا رُكُوعٌ وَسُجُودٌ” আমি আবুল আলিয়া রাহ.-কে সালাতুল জানাযায় ফাতিহা পড়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি (আশ্চর্য হয়ে) বললেন, আমার তো ধারণাও ছিল না যে, ফাতিহাতুল কিতাব রুকু-সিজদা বিশিষ্ট সালাত ছাড়া অন্য কোনো সালাতে পড়া হবে?! -আলমুসান্নাফ, ইবনে আবী শাইবা ১১৫২৪ আবুল আলিয়া রাহ. প্রথম সারির তাবেয়ীগণের অন্তর্ভুক্ত। বিশুদ্ধ মত অনুসারে ৯৩ হিজরীতে তাঁর ইন্তিকাল। (তাহযীবুল কামাল ও তাহযীবুত তাহযীব) বিখ্যাত হানাফী ফকীহ আল্লামা কাসানী রাহ. (মৃত্যু ৫৮৭ হি.) এ বাস্তবতা এভাবে বর্ণনা করেছেন- وَقَوْلُهُ عَلَيْهِ السَّلَامُ “لَا صَلَاةَ إلَّا بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ” وَلَا صَلَاةَ إلَّا بِقِرَاءَةٍ لَا يَتَنَاوَلُ صَلَاةَ الْجِنَازَةِ؛ لِأَنَّهَا لَيْسَتْ بِصَلَاةٍ حَقِيقَةً إنَّمَا هِيَ دُعَاءٌ وَاسْتِغْفَارٌ لِلْمَيِّتِ، أَلَا تَرَى أَنَّهُ لَيْسَ فِيهَا الْأَرْكَانُ الَّتِي تَتَرَكَّبُ مِنْهَا الصَّلَاةُ مِنْ الرُّكُوعِ وَالسُّجُودِ إلَّا أَنَّهَا تُسَمَّى صَلَاةً لِمَا فِيهَا مِنْ الدُّعَاءِ، وَاشْتِرَاطُ الطَّهَارَةِ، وَاسْتِقْبَالُ الْقِبْلَةِ فِيهَا لَا يَدُلُّ عَلَى كَوْنِهَا صَلَاةً حَقِيقِيَّةً كَسَجْدَةِ التِّلَاوَةِ؛ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী ‘লা সালাতা ইল্লা বিফাতিহাতিল কিতাব’ ও‘লা সালাতা ইল্লা বি কিরাআ’ সালাতুল জানাযাকে শামিল করে না। কারণ মূলত তা ‘সালাত’ নয়। মাইয়েতের জন্য দুআ ও ইস্তিগফার। লক্ষ করুন, যে সকল ‘রোকন’ দ্বারা সালাত যেমন রুকু-সিজদা, তা-ই তো এতে নেই। একে ‘সালাত’ বলা হয় কারণ তা দুআ। আর পবিত্রতা ও কিবলামুখী হওয়া জরুরি হওয়ার দ্বারা তা হাকীকী সালাত হওয়া প্রমাণ হয় না। কারণ ওগুলো তো তিলাওয়াতের সিজদাতেও জরুরি। -বাদায়েউস সানায়ে ১ : ৩১৪ উপরের আলোচনায় আমরা বেশ কয়েকজন সাহাবীর আছার উল্লেখ করলাম যারা জানাযার নামাযে সূরা ফাতিহা পড়তেন না। এটিই ছিল সাহাবা-যুগের সাধারণ আমল। এ প্রসঙ্গে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা.-এর একটি বক্তব্য সম্পর্কেও কিছু আলোচনা করা দরকার, যা গায়রে মুকাল্লিদ বন্ধুরা তাদের ‘দলীল’ হিসেবে উল্লেখ করে থাকেন। আছরটি এই- عَنْ طَلْحَةَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَوْفٍ، قَالَ: صَلَّيْتُ خَلْفَ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا عَلَى جَنَازَةٍ فَقَرَأَ بِفَاتِحَةِ الكِتَابِ قَالَ: لِيَعْلَمُوا أَنَّهَا سُنَّةٌ ত্বলহা ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আওফ রাহ. বলেন- আমি ইবনে আব্বাস রা.-এর পেছনে জানাযার নামায আদায় করেছি। নামাযে তিনি সূরা ফাতিহা পড়েছেন। (নামায শেষে) বলেছেন, (আমি ফাতিহা পড়েছি) যাতে লোকেরা জানতে পারে যে, এটা সুন্নাহ। -সহীহ বুখারী, হাদীস ১৩৩৫ এ প্রসঙ্গে প্রথম কথা এই যে, স্বয়ং আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. থেকে ফাতিহা ছাড়া সালাতুল জানাযার নিয়ম বর্ণিত হয়েছে। তাবেয়ী আবু হামযা রাহ. বলেন- قلت له : كيف أصلي في الكعبة؟ আমি তাঁকে (ইবনে আব্বাস রা.- কে) জিজ্ঞাসা করলাম, কা‘বার ভিতরে নামায কীভাবে পড়ব? তিনি উত্তরে বললেন- كما تصلي في الجنازة تسبح وتكبر ولا تركع ولا تسجد ثم عند أركان البيت سبح وكبر وتضرع واستغفر، ولا تركع ولا تسجد যেভাবে সালাতুল জানাযা পড়; তাসবীহ পড়বে, তাকবীর দিবে, তবে রুকু-সিজদা করবে না। এরপর বাইতের রোকনগুলোর কাছে তাসবীহ করবে, তাকবীর দিবে, রোনাযারি করবে ও ইস্তিগফার করবে। তবে রুকু করবে না ও সিজদা করবে না। -ফতহুল বারী শরহু সহীহিল বুখারী ৩ : ৪৬৯ এ বর্ণনার সনদ সহীহ। লক্ষ্য করুন, আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. কুরআন তিলাওয়াতের উল্লেখ করেননি। এখানে মনে রাখতে হবে যে, ইবনে আব্বাস রা. কা‘বার ভিতরে নামায পড়াকে মাকরূহ মনে করতেন। তিনি মনে করতেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে কা‘বার ভিতরে নামায পড়া বিষয়ে যে বর্ণনাগুলো আছে তাতে ‘সালাত’ অর্থ দুআ, নামায নয়। দ্বিতীয় কথা এই যে, ইতিপূর্বে উল্লেখিত সহীহ রেওয়ায়েতসমূহ থেকে জানা যায় যে, জানাযার নামাযে আল্লাহর হামদ-ছানা ও দুআ করা কর্তব্য। তবে এর জন্য কোনো দুআ-কালাম নির্ধারিত করে দেওয়া হয়নি। সুতরাং কেউ যদি সূরা ফাতিহার দ্বারা আল্লাহর হামদ ও দুআ করেন একে বিদআত বলার সুযোগ নেই। সাহাবায়ে কেরামের কারো কারো থেকে বর্ণিত ফাতিহা-পাঠের এ ব্যাখ্যাও হতে পারে। তাহলে সালাফের যুগ থেকে চলে আসা মুসলিম জাহানের সাধারণ কর্ম-ধারা ও বড় বড় মনীষী সাহাবীর কর্ম ও সিদ্ধান্তের সাথে তাদের কর্মের কোনো সংঘাত থাকে না। ইমাম তাহাবী রাহ. বলেছেন- لعل قراءة من قرأ الفاتحة من الصحابة كان على وجه الدعاء لا على وجه التلاوة. সাহাবায়ে কেরামের মধ্যে কেউ কেউ যে ফাতিহা পাঠ করেছেন বলে পাওয়া যায় সম্ভবত সেটি ছিল দুআ হিসেবে, কুরআন তিলাওয়াত হিসেবে নয়। -উমদাতুল ক্বারী ৮/১৪১ আল্লামা ইবনে বাত্তাল রাহ. বলেন- وَمِمَّنْ كَانَ لَا يقْرَأ فِي الصَّلَاة على الْجِنَازَة وينكر: عمر بن الْخطاب وَعلي بن أبي طَالب وَابْن عمر وَأَبُو هُرَيْرَة، وَمن التَّابِعين: عَطاء وطاووس وَسَعِيد بن الْمسيب وَابْن سِيرِين وَسَعِيد بن جُبَير وَالشعْبِيّ وَالْحكم، وَقَالَ ابْن الْمُنْذر: وَبِه قَالَ مُجَاهِد وَحَمَّاد وَالثَّوْري، وَقَالَ مَالك: قِرَاءَة الْفَاتِحَة لَيست مَعْمُولا بهَا فِي بلدنا فِي صَلَاة الْجِنَازَة، যাঁরা জানাযায় ফাতিহা পড়তেন না, বরং ইনকার করতেন, তাঁদের কয়েকজন হলেন- ওমর ইবনুল খাত্তাব, আলী ইবনে আবি তালিব, ইবনে ওমর, আবু হুরাইরা রা.। আর তাবেঈগণের মাঝে তাঁদের কয়েকজন হলেন- আত্বা, তা‘উস, সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব, ইবনে সিরীন, সাঈদ ইবনে জুবায়ের, শা‘বী, হাকাম রহ. প্রমুখ। ইবনুল মুনযির রাহ. বলেছেন, একই মত পোষণ করেছেন মুজাহিদ, হাম্মাদ ও সুফইয়ান ছাওরী রাহ.। ইমাম মালেক রাহ. বলেছেন, জানাযায় ফাতিহা পড়ার ওপর আমাদের শহরে (মদীনা) আমল করা হয় না। (উমদাতুল কারী, ৮ : ১৩৯) এমনকি প্রায় প্রত্যেক ইসলামী শহরের বড় বড় তাবেয়ী মনীষীও জানাযার নামাযে সূরা ফাতিহা পড়ার প্রবক্তা ছিলেন না। (১) মদীনা মুনাওয়ারার বিখ্যাত তাবেয়ী প্রসিদ্ধ মুহাদ্দিস ও ফকীহ সালেম ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রা.-কে জিজ্ঞাসা করা হল, জানাযার নামাযে কি (কুরআন) পড়া আছে? তিনি বললেন, ‘জানাযার নামাযে (কুরআন) পড়া নেই।’ -মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা ১১৫৩২ (২) মক্কা মুকাররমার বিখ্যাত তাবেয়ী প্রায় দুশো সাহাবীর সাহচর্যধন্য মুহাদ্দিস আতা ইবনে আবী রাবাহ রাহ. জানাযার নামাযে কুরআন পড়ার বিষয়টিকে অস্বীকার করতেন। -মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা ১১৫২৯ (৩) কুফা নগরীর বিখ্যাত তাবেয়ী প্রায় পাঁচশ সাহাবীর সাক্ষাতধন্য প্রসিদ্ধ হাদীস বিশারদ ইমাম আমের ইবনে শারাহীল আশশা‘বী রাহ. বলেন, ‘জানাযার নামাযে (কুরআন) পড়া নেই’। -মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা ১১৫২৮ শা‘বী রাহ. আরো বলেন, ‘জানাযার নামাযের প্রথম তাকবীরে আল্লাহর প্রশংসা করবে, দ্বিতীয় তাকবীরের পরে দরূদ পড়বে, তৃতীয় তাকবীরের পরে মৃত ব্যক্তির জন্য দুআ করবে, চতুর্থ তাকবীর দিয়ে সালাম ফিরাবে’। -মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক ৬৪৩৪; মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা ১১৪৯৬ কুফা-নগরীর আরেক তাবেয়ী ইমাম ইবরাহীম নাখায়ী রাহ. থেকেও এ নিয়ম বর্ণিত হয়েছে- قَالَ مُحَمَّدٌ وَأَخْبَرَنَا سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ، عَنْ أَبِي هَاشِمٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ النَّخَعِيِّ، قَالَ: الْأُولَى: الثَّنَاءُ عَلَى اللَّهِ، وَالثَّانِيَةُ: صَلَاةٌ عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَالثَّالِثَةُ: دُعَاءٌ لِلْمَيِّتِ، وَالرَّابِعَةُ: سَلَامٌ تُسَلِّمُ. قَالَ مُحَمَّدٌ: وَبِهِ نَأْخُذُ. وَهُوَ قَوْلُ أَبِي حَنِيفَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ. ইমাম মুহাম্মাদ রাহ. সুফইয়ান ছাওরী হতে, তিনি আবু হাশেম হতে, তিনি ইব্রাহীম নাখাঈ রাহ. হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, প্রথম: আল্লাহ তা‘আলার প্রশংসা করা (ছানা পড়া)। দ্বিতীয়: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাআহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর দরূদ পড়া। তৃতীয়: মায়্যেতের জন্য দু‘আ করা। চতুর্থ: সালাম (ফিরিয়ে শেষ করা)। ইমাম মুহাম্মাদ রাহ. বলেন, আমরা এটাই গ্রহণ করি। আর এটাই ইমাম আবু হানীফা রাহ.-এর মত। (ইমাম মুহাম্মাদ রাহ., আল-আছার, ২৩৮) (৪) বসরা নগরীর বিখ্যাত তাবেয়ী প্রসিদ্ধ মুহাদ্দিস মুহাম্মাদ ইবনে সীরীন রাহ. জানাযার নামাযে (কুরআন) পড়তেন না। -মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা ১১৫২৩; মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক ৬৪৩২ (৫) ইয়ামানের বিখ্যাত তাবেয়ী প্রসিদ্ধ মুহাদ্দিস ও ফকীহ তাউস রাহ.-ও জানাযার নামাযে (কুরআন) পড়ার বিষয়টিকে অস্বীকার করতেন। -মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা ১১৫২৯ উল্লেখ্য, ইসলামী উলূমের দুই মারকায মাদীনা মুনাওয়ারা এবং কুফা নগরীতে জানাযার নামাযে কুরআন পড়ার কোনো প্রচলন ছিল না। মাদীনাবাসীর আমল ইমাম মালিক রাহ. বলেন, ليس ذلك بمعمول به ببلدنا إنما هو الدعاء، أدركت أهل بلدنا على ذلك. অর্থ: জানাযার নামাযে (কুরআন) পড়ার কোনো প্রচলন আমাদের এ শহরে (মাদীনায়) নেই। জানাযা হল দুআ করা। আমি আমার শহরের অধিবাসীদের এর উপরেই পেয়েছি। -আল মুদাওয়ানাতুল কুবরা ১/১৬৭ কুফাবাসীর আমল ইমাম তিরমিযী রাহ. বলেন, وقال بعض أهل العلم : لا يقرأ في الصلاة على الجنازة إنما هو الثناء على الله والصلاة على نبيه صلى الله عليه وسلم والدعاء للميت وهو قول الثوري وغير واحد من أهل الكوفة. অর্থ: আর কতক আহলে ইলম বলেন : ‘জানাযার নামাযে (কুরআন) পড়া হবে না এ তো শুধু আল্লাহর প্রশংসা, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর দরূদ এবং মাইয়েতের জন্য দুআ। এটা সুফিয়ান ছাওরী রাহ. এবং কুফার একাধিক মনীষীর কওল-অভিমত। -জামে তিরমিযী ১০১১ নং হাদীসের অধীনে উপরের আলোচনায় আমরা বেশ কয়েকজন সাহাবী ও তাবেয়ীর আছর উল্লেখ করলাম যারা কেউই জানাযার নামাযে সূরা ফাতিহা পড়ার প্রবক্তা নন। সেই সাথে এটাও জানতে পারলাম যে, ইসলামের দুই কেন্দ্রভ‚মি মদীনা মুনাওয়ারা এবং কুফা নগরীতে জানাযার নামাযে সূরা ফাতিহা পড়ার কোনো প্রচলন ছিল না। এতদসত্তে¡ও আমাদের গাইরে মুকাল্লিদ বন্ধুদের এই কথা বলা যে, ‘সূরা ফাতিহা ছাড়া জানাযার নামায হয় না’- বাড়াবাড়ি ছাড়া আর কিছু নয়। এটা ঠিক যে, ইবনে আব্বাস রা.সহ দু’একজন সাহাবী জানাযার নামাযে সূরা ফাতিহা পড়েছেন। কিন্তু ‘সূরা ফাতিহা না পড়লে জানাযার নামায হয় না’ এমন কোনো ফাতোয়া তাঁরা দিয়েছেন বলে আমাদের জানা নেই। ঐ বন্ধুদের ব্যাপারে আমাদের অনুযোগ এটিই যে, তাঁরা সাহাবা-যুগ থেকে চলে আসা একাধিক পদ্ধতি সম্বলিত বিষয়গুলোতে একটি পদ্ধতিকে গ্রহণ করেন এবং অন্য পদ্ধতিকে বাতিল, ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেন। অথচ জানাযার নামাযে সূরা ফাতিহা না পড়ার নিয়ম খাইরুল কুরূন তথা সাহাবা-তাবেয়ীযুগে ব্যাপকভাবে চর্চিত ও অনুসৃত ছিল। মদীনা মুনাওয়ারা এবং কুফা নগরীতে সূরা ফাতিহা পড়ার কোনো প্রচলনই ছিল না। এতে বোঝা যায় জানাযার নামাযে সূরা ফাতিহা না পড়ার নিয়মটিই অধিক শক্তিশালী।
একদিন একটি কুকুর (প্রচন্ড পিপাসায় অস্থিরভাবে) চারদিকে ঘুরছিল। কুকুরটির পিপাসায় মরে যাবার উপক্রম হয়েছিল। এমন সময় বনী ইসরাইলের এক ব্যাভিচারীনী নারী তাকে দেখতে পেল। সে নিজের মোজা খুলে কুয়া থেকে পানি তুলে কুকুরটিকে পান করালো এবং এ জন্যে তাকে ক্ষমা করে দেয়া হলো ( সহীহ মুসলিম)। ইবনে উমার রাঃহতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাঃবলেছেন, ‘‘এক মহিলাকে একটি বিড়ালের জন্য শাস্তি দেওয়া হয়েছে। সে তাকে বেঁধে রেখেছিল এবং অবশেষে সে মারা গিয়েছিল, পরিণতিতে মহিলা তারই কারণে জাহান্নামে প্রবেশ করল। সে যখন তাকে বেঁধে রেখেছিল, তখন তাকে আহার ও পানি দিত না এবং তাকে ছেড়েও দিত না যে, সে কীট-পতঙ্গ ধরে খাবে।’’ [সহীহুল বুখারী ২৩৬৫, ৩৩১৮, ৩৪৮২,মুসলিম ২২৪২, ]মুহাম্মাদ ইবনু রাফি ও আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ)থেকে বর্ণিত যে, নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)বলেছেনঃ এক ব্যক্তি তার নিজের প্রতি যুলম করেছে। এরপর মৃত্যুমুখে পতিত হয়ে সে তার সন্তানদেরকে অসিয়্যাত করল এবং বলল, আমি মরে যাওয়ার পর তোমরা আমাকে আগুনে পূড়িয়ে ছাইকে উত্তমরুপে পিষবে। তারপর আমাকে সমুদ্রের মাঝে বায়ুতে উড়িয়েদিবে। আল্লাহর কসম! আল্লাহ যদি আমাকে পান, তবে অবশ্যই তিনিআমাকে এমন শাস্তি দিবেন, যা তিনি আর কাউকে দেননি।রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেনঃ সন্তানগণতার সাথে অনুরুপ আচরণ করল। এরপর আল্লাহ তা’আলা মাটিকেবললেন, তুমি তার যে ছাই গ্রাস করেছ তা একত্রিত করে দাও। ফলেসে সোজা দাড়িয়ে গেল। এ সময় আল্লাহ তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, একাজ করার ব্যাপারে কিসে তোমাকে অনুপ্রাণিত করেছে? উত্তরেসে বলল, আপনার ভয়ে। তারপর এ কথার বিনিময়ে আল্লাহ তাকেক্ষমা করে দেন। অপর এক সুত্রে আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত।রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ কোন একস্ত্রীলোক বিড়ালের কারণে জাহান্নামে প্রবেশ করেছে। সেবিড়ালটি বেঁধে রেখেছিল; কিন্তু তাকে কোন খাদ্য প্রদান করেনিএবং জমি থেকে কীট পতঙ্গ খাবার জন্য তাকে ছেড়েও দেয়নি।এমনিভাবে বিড়ালটি মরে যায়।.যুহরী (রহঃ) বলেন, উপরোক্ত হাদীস দুটো এ জন্যই বয়ান করাহয়েছে, যেন মানুষ আমল বর্জন করে আল্লাহর উপর নির্ভর করে বসেনা থাকে এবং যেন মানুষ আল্লাহর অনুগ্রহ থেকে নিরাশ না হয়েযায়। (সহিহ মুসলিম৬৭২৮) জনৈক ব্যক্তি একটি রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিল। পথিমধ্যে তার খুব তৃষ্ণা লাগল। এমনি অবস্থায় সে একটি (অগভীর) কূয়া দেখতে পেল। লোকটি তাতে নেমে পানি পান করে বেরিয়ে এসে দেখল, একটি কুকুর পিপাসায় অস্থির হয়ে জিহ্বা বের করছে এবং ভিজামাটি চাটছে। লোকটি ভাবল, আমি যেমন পিপাসার্ত হয়েছিলাম, তেমনি এ কুকুরটিও পিপাসায় কাতরাচ্ছে। তাই সে কুয়ায় নেমে তার মোজায় পানি ভরে নিজের মুখ দিয়ে ধরে কুয়া থেকে উঠে এল। তারপর সে কুকুরটিকে পানি পান করিয়ে তাকে তৃপ্ত করল। এতে আল্লাহ তার প্রতি দয়া প্রদর্শন করলেন এবং তার গুনাহসমূহ মাফ করে দিলেন। (সহীহ বুখারী, সহীহ মুসলিম) রাসূল(সাঃ) বলেন, ‘আমি জান্নাতে একজন পুরুষকে খুশিতে গড়াগড়ি খেতে দেখেছি, কারণ সে চলার পথের একটা গাছ কেটে ফেলেছিল যা মুসলিমদের কষ্ট দিত।’ একবার একজন মানুষ হাটছিল। পথিমধ্যে সে গাছের একটা কাটা দেখতে পেল। লোকটা মনে মনে বলল, ‘আমি এই কাটাটা সরিয়ে ফেলব,হতে পারে এটা কোন মুমিন ব্যক্তিকে কষ্ট দিতে পারে।’ শুধু এই ভাল কাজটির কারণে আল্লাহ তাঁকে জান্নাতে প্রবেশ করালেন। উহুদ যুদ্ধের দিন। মুসলিমরা মারাত্নকভাবে বিপর্যস্ত। মুসলিমরা উহুদ পাহাড়ে আশ্রয় নেয়ার চেষ্টা করছে। রাসূল(সাঃ) এতোটাই আহত, ক্লান্ত ও বিপর্যস্ত ছিলেন যে উনার পক্ষে পাহাড়ে উঠা সম্ভব হচ্ছিল না। তালহা ইবনে উবাইদা(রাঃ) এটা দেখতে পেলেন, এবং রাসূল(সাঃ) কে কাঁধে তুলে নিলেন। রাসূল(সাঃ) যখন তালহা(রাঃ) এর কাঁধে পা দিলেন, তিনি বললেন, ‘তালহা নিজের জন্য জান্নাত ওয়াজিব করে নিল।’ এখানে পাঁচটি আলাদা ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে, পাঁচজন আলাদা লোক সম্পর্কে, যেগুলো পাঁচটি আলাদা সময়ে হয়েছিল। কিন্তু পাঁচটি ঘটনার একটা কমন থিম রয়েছে। সেটা হচ্ছে- জান্নাতে যাবার উপায় সবসময়ই আমাদের কাছে যেরকম মনে হয় তা নাও হতে পারে। একইভাবে যেসব কাজগুলো মানুষকে জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচাবে তা যে খুব বড় কিছু হবে এমন ও কথা নেই। সেই পতিতা মেয়ে কি স্বপ্নেও ভাবতে পেরেছিল যে শুধু একটা কুকুরকে পানি পান করানোর কারণে তার সকল গুনাহ মাফ হবে? যে লোকটা পথ থেকে কাঁটা সরিয়েছিল সেও হয়তো ভুলেও ভাবেনি যে এই কাজের কারণেও ঐ দিনটা তার সবচেয়ে খুশীর দিন হবে, কারণ ঐ দিনেই তার গুনাহ মাফ করে দেয়া হয়েছিল। সে হয়তো এই দিনটা সম্পর্কে ভুলেও গিয়েছিল, কিন্তু আল্লাহর কাছে এই কাজটা অনেক বড় ছিল যার কারণে তার গুনাহ মাফ করে দেয়া হয়েছিল। তালহা(রাঃ) ও হয়তো কখনো ভাবেননি শুধু রাসূল(সাঃ) কে কাঁধে তুলে নেয়ার কারণেই আল্লাহ তাকে জান্নতে প্রবেশ করাবেন। তাই অনেক সময়ই এমন হয় যে, আমাদের চোখে যে কাজগুলি খুব ছোট সে কাজগুলির কারণেই আমাদের গুনাহ মাফ হয়ে যায়। এটা তখনই হয় যখন আল্লাহ আমাদের কাজের মাঝে ‘Sincerity’ লক্ষ্য করেন। কিয়ামতের দিন একজন লোকের ভালো ও খারাপ কাজের হিসাব নেয়া হবে। একপাশে ভালো কাজ আর আরেকপাশে খারাপ। তার খারাপ কাজগুলো এতোই যে সেগুলোর জন্য বইয়ের উপর বই স্তূপ হয়ে যাবে। দিগন্তের যেখানেই তাকানো যাবে সেখানেই তার এই খারাপ আমলনামার কিতাব দেখা যাবে। আকাশের নীচে যত গুনাহ করা যায়, তার সবই এই লোকটা করেছে। ৯৯ টা কিতাব খোলা হবে, যেগুলোর প্রত্যেকটার আকার এতোটাই বড় হবে, যতদূর দুচোখ যায় তা দেখা যাবে । এই কাজগুলো মীযানের একপাশে রাখা হবে। পাপের ভারে তা একেবারে নীচে নেমে আসবে। আল্লাহ তাঁকে জিজ্ঞেস করবেন, ‘তোমার কি কোন অজুহাত আছে?’ লোকটা জবাব দিবে, ‘না! আমার কোনই অজুহাত নেই।’আল্লাহতায়ালা জিজ্ঞেস করবেন, ‘তোমার কি এমন কোন ভাল কাজ আছে যা আমি অপরপাশে যোগ করিনি?’ লোকটি জবাব দিবে, ‘না! আমি নিজেকে জানি(আমি জানি আমি আসলে কি করেছি)’ এই মুহূর্তে এটা পরিষ্কার হয়ে যাবে যে লোকটা জাহান্নামে যাচ্ছে। আল্লাহতায়ালা তখন বলবেন, ‘আমি হচ্ছি সবচেয়ে ন্যায় বিচারক। একটা ভালো কাজ আছে যেটা তুমি ভুলে গেছ।’ তখন একটা ছোট্ট বই, অনেকটা ছোট্ট কার্ডের মত আনা হবে, যেটার মাঝে এই বাক্য লিখা থাকবে- ‘আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লালাহ ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান রাসূলুল্লাহ।’ লোকটা বলবে, ‘এই ছোট্ট বই, অপরপাশের পাহাড়সম গুনাহ মোকাবেলায় কি আর করতে পারবে?’ আল্লাহ তখন বলবেন, ‘এটা অবশ্যই অপরপাশে রাখতে হবে, কারণ আমি হচ্ছি সর্বশ্রেষ্ঠ ন্যায়বিচারক।’ তাই ফেরেশতারা এই ছোট্ট বইটা ডানপাশে রাখবে আর তখন ডানপাশের স্কেলটা একদম নীচে নেমে আসবে আর অপরপাশের গুনাহসমূহ একদম আকাশে উড়ে যাবে। আর তাই লোকটাকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে। রাসূল(সাঃ) বললেন, ‘আল্লাহতায়ালার নাম থেকে কোন কিছুই অধিক ভারী নয়।’ তার মানে কি এই যে, আমরা আমাদের জীবনে যত ইচ্ছা খারাপ কাজ করব আর শুধু শাহাদাহর কারনে আমাদের গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে? এর উত্তর দিয়েছেন ইমাম ইবনে তাইয়িমাহ (রহঃ) তাঁর বই ‘মিনহাজুস সুন্নাহ ওয়ান নববী’তে । তিনি বলেন, ‘কারণ এই লোকটা ‘লা ইলাহা ইল্লালাহ’ অনেক একাগ্রতার সাথে বলেছিল, তাই তাঁর গুনাহ মাফ করা হয়েছিল। আমরা জানি কিয়ামতের দিন এমন অনেক মুসলিম থাকবে যারা অনেক কবীরা গুনাহ করেছে আর তারা ‘লা ইলাহা ইল্লালাহ’ ও বলেছে কিন্তু তাদের গুনাহ মাফ করা হবে না, বরং তাদের জাহান্নামে প্রবেশ করানো হবে।’ তাহলে কি এখানে কন্ট্রাডিকশন রয়েছে। না! বরং পূর্বোক্ত লোক ‘লা ইলাহা ইল্লালাহ’ তাঁর অন্তর দিয়ে বলেছিলে আর এতে অনেক ‘Sincerity’ ছিল। আর এই কারণেই ভালো কাজটি আমলনামায় এতো ভারী ছিল। ইবনে তাইয়িমাহ(রহঃ) আরো বলেন, ‘যখন সেই পতিতা কুকুরটাকে পানি পান করিয়েছিল তখন শুধু এই পানি পান করানোর কারণেই তাঁর সকল গুনাহ মাফ করা হয়নি। সব পতিতা যদি কুকুরকে পানি পান করায় তাহলে কি তাদের গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে? কখনোই না! বরং এই মহিলার গুনাহ মাফ করা হয়েছিল কারণ তাঁর হৃদয়ে আল্লাহর প্রতি অটুট বিশ্বাস ছিল, আর সে তাঁর কাজে ছিল অসম্ভব ‘sincere’। ইসলামে কখনোই বাহ্যিকতা দেখে আমল বিচার করা হয় না, বরং তা বিচার করা হয় অন্তরের একাগ্রতা দিয়ে। শায়খ মুহাম্মাদ মুখতার আল শানকিতি কে কমবেশী সবাই চিনেন। তিনি খুব বিখ্যাত। তিনি শুক্র-শনিবারে মসজিদুল নববীতে দরস দেন। Ustadh Ali hammuda একটি ঘটনা বর্ণনা করেছেন একজন তালীবুল ইলমের জবান থেকে। ঐ ছাত্র বলেছেন, ‘হে লোকসকল! তোমরা বিশ্বাস করবে না, আমি গত হাজ্জের মওসুমে কি দেখেছি! তখন আকাশে গনগণে সূর্য ছিল। আমি একজন লোককে দেখলাম যিনি রাস্তার একপাশে দাঁড়িয়ে মানুষকে অরেঞ্জ জুস দিচ্ছিলেন। তাঁর মুখ চাদর দিয়ে ঢাকা ছিল। তাঁকে কেউই চিনতে পারছিল না। আমি তাঁর চোখ দেখে বুঝতে পারলাম, আমি আগে কোথাও এই চোখ দুটি দেখেছি। আমি তাঁর কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করলাম, ‘শায়খ মুহাম্মদ! এটা কি আপনি?’ লোকটা মুখ ঘুরিয়ে নিল। আমি আবার এসে বললাম, ‘শায়খ মুহাম্মাদ আল শানিকিতি! এটা কি আপনি?’ তিনি তাঁর মুখের চাদর সরিয়ে ফেললেন। আর দেখা গেল এটা তিনিই। তখন শায়খ বললেন, ‘Oh my son! আমরা জানি না, আমাদের কোন ভাল কাজ আমাদের বাঁচাবে!’ তিনি কিন্তু বললেনি, ‘আমার ইউটিউব ভিডিও আছে, যেটার হাজার হাজার লাইক আছে, সেটাও আমাকে বাঁচাবে। তিনি এটাও বলেননি, ‘আমার ক্লাসে হাজার হাজার মানুষ উপস্থিত হয়, হয়তো এটাই আমার জন্য যথেষ্ট হবে।’ বরং আশা করেছেন, হয়তো এই ছোট্ট অরেঞ্জ জুসটাই তাঁকে বাঁচাবে যদি আল্লাহ তাঁর মাঝে ‘Sincerity’ দেখতে পান। ‘ সবশেষে আরেকটা ঘটনা উল্লেখ করছিঃআবু মুসা আল আশআরী(রহঃ) তাঁর মৃত্যুশয্যায় ছেলেকে বলেন, ‘Oh my son! সবসময় একজন লোক ও তাঁর পাউরুটির গল্পটা মনে রাখবে।’ গল্পটা এমন ছিলঃ একজন লোক ৭০ বছর টানা আল্লাহর ইবাদত করেছিলেন। তিনি সপ্তাহে একদিন বের হতেন, খাবার-পানীয় জোগাড় করতেন তারপর আবার ফিরে যেতেন। তো একবার তিনি খাবারের জন্য বের হলেন আর রাস্তার ধারে এক সুন্দরী মহিলাকে দেখতে পেলেন। শয়তান তাঁকে ওয়াসওয়াসা দিল। লোকটা মহিলার সাথে যোগাযোগ করল। আর এভাবে সে ৭ রাত মহিলার সাথে একটানা জিনায় লিপ্ত হয়ে পড়ল। ৭ দিন পর যখন লোকটার মন থেকে পাপের মেঘ দূর হয়ে পড়ল, লোকটা বুঝতে পারল সে কত বড় খারাপ কাজ করেছে। সে মহিলার ঘর থেকে বের হয়ে গেল। আর প্রতি পদক্ষেপেই সে সিজদা দিতে থাকল। সে এভাবে হাঁটতে হাঁটতে একটি দোকানে গেল আর সেখানে ১২ জন যুবক ছিল। লোকটা সেখানে বসে পড়ল। এই ১২ জন যুবক প্রতিদিন এখানে বসত আর একজন পরহেজগার লোক তাদের খাবার পাঠাত। লোকটা তাদের ১২ টা পাউরুটি পাঠাত। ঘটনাক্রমে তাদের মাঝে আরেকজন যুক্ত হওয়ায় তারা ১৩ জন হয়ে গিয়েছিল। তাই রুটি বন্টনের সময় পূর্বোক্ত লোক না জেনে রুটি নেয়াতে একটা রুটি শর্ট পরে গেল। তাই একজন লোক রুটি পেল না। আর সে রুটিদানকারী লোকটাকে বলল, ‘আপনি কখনোই এমন করেননি।’লোকটা উত্তর দিল, ‘তুমি কি বলতে চাচ্ছ?’-‘আপনি আমাকে আজ রুটি দেননি।’-‘আমি ১২ টা রুটি দিয়েছি। তাই কেউ দুটো রুটি নিয়েছে কিনা জিজ্ঞেস করে দেখ।’দেখা গেল কেউই দুটি রুটি নেয়নি। তাই রুটিদানকারী লোকটি বলল, ‘তুমি আসলে আমাকে দোষ দিতে চাচ্ছ যে, আমি তোমার রুটি রেখে দিয়েছি। আমি আর কখনোই তোমাকে রুটি দিব না।’যে ব্যক্তি যিনা করে সেখানে উপস্থিত ছিল, সে এসব দেখতে পাচ্ছিল। আর তাঁর রুটিটার খুব প্রয়োজন ছিল। তারপরেও সে এগিয়ে গিয়ে যে রুটিটা পায়নি তাঁকে তা দিয়ে দিল আর সেখান থেকে চলে গেল। পরের দিন তাঁকে মৃত পাওয়া গেল। তাঁকে আল্লাহর সামনে উপস্থিত করা হলো। আর মীযান এনে তাঁর ভালো ও খারাপ কাজ মাপা হলো। তাঁর ৭০ বছরের ইবাদত একপাশে আর ৭ রাতের জিনাহ অপরপাশে রাখা হলো। আর ৭ রাতের জিনাই বেশী ভারী হলো। তারমানে কি লোকটা জাহান্নামে যাবে? আর তখন আরেকটা ভালো কাজ যুক্ত করা হলো। আর সেটা হচ্ছে সে মুহূর্তটা যখন সে রুটিটা দিয়ে দিয়েছিল তাঁর যথাযোগ্য প্রাপককে। শুধু এর কারণেই ভালো আমলসমূহ ভারী হয়ে একেবারে নীচে নেমে এল। ৭০ বছরের ইবাদত তাঁকে বাঁচাতে পারেনি বরং এক মুহূর্তের ‘Sincerity’ তাঁকে বাঁচিয়েছিল। কিয়ামতের দিন আমাদের জন্য অনেক সারপ্রাইজ থাকবে। আমরা হয়তো দেখব আমাদের অনেক ভালো কাজ মীযানের পাল্লায় তেমন ভারীই হচ্ছে না, কিন্তু ছোট ছোট কিছু ভালো কাজ অনেক ভারী হচ্ছে। আজীবন ধর্মীয় লেবাস পড়ে বড়াই করা লোকটার ভাগ্যে হয়তো জাহান্নাম জুটবে, অথচ সবার চোখে পাপী ও ঘৃণ্য লোকটা তাঁর এক মুহূর্তের ‘Sincerity’ এর মাধ্যমে আদায় করে নিয়েছে জান্নাত। তাই ছোট ছোট ভালো কাজ বা ছোট আমলগুলোর প্রতিও বড় আমলের মতই সমান যত্নবান হওয়া উচিৎ । বলা তো যায়না, বিচারের মাঠে কোন কাজের কেমন ওজন হবে? আল্লাহ চাইলে আমাদের পার্থিব জীবনের এক মুহূর্তের ছোট্ট কোনো ভালো কাজের বিনিময়েও জান্নাত দিতে পারেন ।
ঢাকার শিশু-মাতৃস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটটি (ICMH) সরকার, বিভিন্ন এনজিও এর অনুদান এবং প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব আয় দিয়ে চলে। ইনস্টিটিউটটি স্বায়ত্তশাসন অধিকারও ভোগ করে। সম্প্রতি তারা ‘হিউম্যান মিল্ক ব্যাংক’ চালু করেছে। যাদের সন্তান মারা গেছে বা সন্তানকে খাওয়ানোর পরও যেসব মায়েদের বুকের দুধ অতিরিক্ত আছে তারা চাইলে সেই মিল্ক ব্যাংকে তা দান করতে পারবে। আর যাদের প্রয়োজন তারা সেখান থেকে তা নিতে পারবে। দেশে এই ধরনের বিষয় এটাই প্রথম। জ্ঞাত তথ্যানুসারে মুসলিম বিশ্বের কোথাও এ ধরনের কোনও মিল্কব্যাংক নেই। ওআইসি এর ইসলামি ধর্মীয় বিধান বিষয়ক বোর্ড ‘মাজমাউল ফিকহিল ইসলামী’ (International Islamic jurist of OIC) মিল্ক ব্যাংককে হারাম ঘোষণা করেছে। ইসলামি শরীয়াতের অন্যতম ভিত্তি হচ্ছে আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করা। মিল্ক ব্যাংক এই পদ্ধতিকে ধ্বংস করবে। বহু অজানা দুধ ভাই বোন হবে। যাদের মধ্যে বিয়ে হারাম। অথচ অজ্ঞাতেই বহু হারাম বিবাহ হওয়ার আশঙ্কা থাকবে। ফলত তাঁরা ঐক্যমতের ভিত্তিতে মিল্ক ব্যাংককে হারাম বলেছেন। ১। মিল্ক ব্যাংকে দুধ দান করা।২। মিল্ক ব্যাংক থেকে দুধ পান করানো।৩। মিল্ক ব্যাংক স্থাপন। এই সবকটিই হারাম। আল্লাহ কোরআনে স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘তোমাদের জন্য নিষিদ্ধ (বিয়ের জন্য)… তোমাদের দুধ মাতা, দুধ বোন।’ – সূরা নিসা ২৩ আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘রক্তের সম্পর্কের ভিত্তিতে যেসব স্বজনেরা (বিয়ের জন্য) হারাম তদ্রূপ দুধপানের সম্পর্কের ভিত্তিতেও তারা হারাম।’ (বুখারী, মুসলিম) এর উপরই উম্মতের ইজমা। সুতরাং মিল্কব্যাংক গড়ে তোলার মত অনৈসলামিক, ঈমান বিধ্বংসী কোনও প্রজেক্ট মেনে নেওয়া যায় না৷ গণমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে ‘বেসরকারি অনুদানে’ এবং ইন্সটিটিউটের নিজস্ব উদ্যোগে এই মিল্ক ব্যাংক গড়ে তোলা হয়েছে। এখন কেবল আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন বাকি। সেই ‘বেসরকারি অনুদানের’ উৎসটা তারা জানায় নি। সেই উৎসটা জানা গেলে আরেকটু খোলাসা হওয়া যেত এই আপাত ‘মহৎকর্মের’ আড়ালে ইসলামী বিধানের বিরুদ্ধে এতবড়ো পদক্ষেপ ঠিক কাদের সহায়তায় শুরু। অবশ্যই এর বিরুদ্ধে আমাদের দাঁড়াতে হবে। এর বিরুদ্ধে নিজের ঈমানী তাগিদেই আমাদের আওয়াজ তুলতে হবে। ইসলামি বিধানের এইরকম অপনোদনের শুরু বাংলাদেশে থেকে হতে দেওয়া যায় না। আমার সবিনয় আর্জি, সরকার যেন অবিলম্বে এই ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করে। কালবিলম্ব না করেই এটা বন্ধ করতে হবে। প্রয়োজনে ভবিষ্যতে এই ধরনের পদক্ষেপ রুখতে আইন প্রণয়ন করতে হবে। কোন এনজিও এই অর্থায়ন করেছে তাও জাতির কাছে খোলাসা করতে হবে। ওআইসির ফিকহি বোর্ড এটাকে নিষিদ্ধ করার পরও এ ধরনের উদ্যোগ সন্দেহজনক। ইন্সটিটিউট কর্তৃপক্ষকেও ‘মহৎ’ হওয়ার আড়ালে এই ধরনের হীন কীর্তির জন্য ক্ষমা চাইতে হবে।কপিড বাই#মরুচারী_মুসাফির
সাহাবী আবু সাঈদ খুদরী রাঃ বলেন যে, রাসুল সাঃ ইরশাদ করেছেন, শেষ যামানায় আমার উম্মতের মধ্যে হতে পূর্বের কোন দেশ( আরব থেকে পূর্বে ভারত) থেকে একটি জামাত দ্বীনের তাবলীগের নামে বের হবে, তারা কোরআন পাঠ করবে, তাদের কোরআন পাঠ তোমাদের কোরআন পাঠের তুলনায় খুবই সুন্দর হবে। কোরআনের প্রতি বাহ্যত তাদের ভক্তি শ্রদ্ধা ও আন্তরিকতা দেখে মনে হবে যেন ওরা কোরআনের জন্য এবং কোরআনও ওদের জন্য। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে ওরা কোরআনের প্রতিটি আয়াতের ওপরে ঈমান রাখবে না এবং কোরআনের সবগুলো নির্দেশের উপর আমল করবে না। এই জামাতের অধিকাংশ লোক হবে অশিক্ষিত ও মূর্খ। যেমন – কোরআন ও হাদিসের জ্ঞানে হবে মূর্খ তেমন সাধারন জ্ঞানেও হবে মূর্খ। এই জামাতে যদি কোন শিক্ষিত লোক যোগদান করে তাহলে তার আচরন ও স্বভাব হয়ে যাবে জামাতে যোগদানকারী অন্যান্য মূর্খদের মত। মূর্খরা যেমন মূর্খদের আনুগত্য করবে তেমনি শিক্ষিত লোকটিও মূর্খদেরই আনুগত্য করবে। এই জামাতের বয়ান ও বক্তৃতায় থাকবে কেবল ফযিলাতের বয়ান। বিভিন্ন আমলের সর্বোচ্চ ফযিলাতের প্রমান বিহীন বর্ণনাই হবে তাদের বয়ানের বিষয়বস্তু। হে মুসলমানগন! ঐ জামাতের লোকদের নামায, রোযা অন্যান্য আমল এতই সুন্দর হবে যে, তোমরা তোমাদের নামায, রোযা ও আমল সমূহকে তাদের তুলনায় তুচ্ছ মনে করবে। এই জামাতের লোকেরা সাধারন মানুষকে কোরআনের পথে তথা দ্বীনের পথে চলার নামে ডাকবে, কিন্তু চলবে তারা তাদের তৈরী করা পথে। সত্য পথে ডাকলেও তারা কোরআনের পথে চলবে না। তাদের ওয়াজ ও বয়ান হবে মধুর মত, ব্যবহার হবে চিনির মত সুস্বাদু, তাদের ভাষা হবে সকল মিষ্টির চাইতে মিষ্টি। তাদের পোশাক পরিচ্ছদ ধরন-ধারন হবে খুবই আকর্ষনীয়, যেমন সুন্দর হরিণ তার দিকে মানুষের মন আকৃষ্ট করে। হরিণ শিকারী সুবর্ণ হরিণ দেখে হরিনের পেছনে যেমন ছুটতে থাকে তেমন সাধারন মানুষ তাদের মিষ্ট ব্যবহার, আমলের প্রদর্শনী ও সুমধুর কথা শুনে তাদের জামাতের দিকে ছুটতে থাকবে। তাদের অন্তর হবে বাঘের মত হিংস্র। বাঘের অন্তরে যেমন কোন পশুর চিৎকারে মমতা প্রবেশ করে না, তেমন কোরআন ও হাদিসের বানী যতই মধুর হোক তাদের অন্তরে প্রবেশ করবে না। তাদের কথাবার্তা আমল আচরন, বয়ান যেগুলি তারা তাদের জন্য নির্ধারন করে নিয়েছে, তার-ভিতরকার কোরআন সুন্নার বিরোধী আমলগুলি বর্জন করে কোরআন সুন্নাহ মোতাবেক আমল করার জন্য যতবার কেউ কোরআন ও সুন্নাহ প্রদর্শন করুক বাঘের অন্তরে যেমন মমতা প্রবেশ করেনা তেমন তাদের অন্তরে কোরআন সুন্নাহর মমতা প্রবেশ করবে না। তাদের জামাতে প্রবেশ করার পর তাদের মিষ্টি ব্যবহারে মানুষ হবে মুগ্ধ, কিন্তু ঐ মনমুগ্ধ ব্যবহারের পেছনে জীবন ধংসকারী আর্সেনিকের মত ঈমান বিনষ্টকারী, ইসলামী মূল্যবোধ বিনষ্টকারী মারাত্মক বিষ বিরাজমান থাকবে। তাদের প্রশিক্ষন ধীরে ধীরে মানুষের অন্তর হতে আল্লাহপাক ও রসূল সাঃ এর আনুগত্যের প্রেরনা শেষ করে দিবে এবং জামাতের আমীরদের আনুগত্যের প্রতি মরনপন আকৃষ্ট করবে। আমীরগন দেখতে হবে খঁটি পরহেজগার দ্বীনদার ব্যক্তিদের মত, কিন্তু অন্তর হবে শয়তানের মত, কোরআন সুন্নাহর প্রতি বিদ্রোহী। আমীরগন যা করে যাচ্ছে তার মধ্যে কোরআন সুন্নাহ বিরোধী কোন কাজ কখনও কেউ ধরিয়ে দিলে কোনক্রমেই তা পরিবর্তন করতে প্রস্তুত হবে না। অর্থাৎ কোরআন হাদীস উপস্থাপন করার পর তারা কোরআন হাদীস দেখেও কোরআন হাদিস বর্জন করে মুরুব্বীদের কথা মানবে। কোরআন হাদিসের প্রতি তাদের অনীহা এতই তীব্র হবে যে, তারা অর্থসহ অর্থাৎ বুঝে কোরআন- হাদিস কখনই পড়বে না, পড়ানোও যাবে না বলে মন্তব্য করবে। (কারও ওয়াজ শুনবেনা তাদের দল ব্যতিত অন্য কারও বই পড়বেনা)। এই জামাতটি ইসলামের তাবলীগ করার কথা যতই বলুক কোরআন যত সুন্দরই পাঠ করুক, নামায রোযা যতই সুন্দর হোক, আমল যতই চমৎকার হোক, মূলতঃ ঐ জামাতটি ইসলাম বহির্ভূত হবে। (নবী ও সাহাবীদের ব্যাপারে ভুল আক্বিদার জন্য)। সাহাবাগণ {রাঃ} জিজ্ঞাসা করলেন, ইয়া রসূলুল্লাহ সাঃ, ঐ দলটি চিনার সহজ উপায় কি হবে? তা দয়া করে আমাদিগকে জানিয়ে দিন। তখন সাঃ বললেন, ইসলামের নামে এই ইসলাম বহির্ভূত জামাতটি চিনবার সহজ উপায় হল – (১) তারা যখন তালীমে বসবে, গোল হয়ে বসবে। (২) অল্প সময়ের মধ্যে এই জামাতের লোকদের সংখ্যা খুব বেশী হবে। (৩) এই জামাতের আমীর ও মুরুব্বীদের মাথা ন্যাড়া হবে। তারা মাথা কামিয়ে ফেলবে, এবং তা সুন্নত নামে চালিয়ে দিবে যদিও তা সুন্নত নয়। তীর ছুড়লে ঐ তীর আর কখনও ধনুকের দিকে যেমন ফিরে আসে না, তেমনই যারা এই জামাতে যোগদান করবে তারা কখনও আর সঠিক দ্বীনের দিকে ফিরে আসবে না। অর্থাৎ, এই জামাতকে সঠিক দ্বীনের পথে ফিরিয়ে আনার জন্য কোরআন হাদিস যত দেখান হোক, যত চেষ্টাই করা হোক না কেন দলটি সঠিক দ্বীনের পথে ফিরে আসবে না। এদের সাথে তোমাদের যেখানেই সাক্ষাত হোক, সংগ্রাম হবে তোমাদের অনিবার্য। এই সংগ্রাম যদি কখনও যুদ্ধে পরিণত হয় তাহলে তা থেকেও পিছ পা হবে না। এই সংগ্রামে বা যুদ্ধে যারা মৃত্যবরন করবে, তাদেরকে যে পুরস্কার আল্লাহপাক দান করবেন তা অন্য কোন নেক কাজে দান করবেন না। সুবহানাল্লাহ। প্রমানঃ (১) বুখারী আরবী দিল্লীঃ ২য় ভঃ পৃঃ ১১২৮, (২) বুখারী আরবী দিল্লীঃ ২য় ভঃ পৃঃ ১০২৪, ( ৩) মুয়াত্তা ইমাম মালেক, আরবী ১ম ভঃ পৃঃ ১৩৮, ( ৪) আবু দাউদ, আব্বী দিল্লী ২য় ভঃ পৃঃ।
তাদের কিছু কুফরী আক্বীদা উল্লেখ করা হলো – “মালফুযাত’এর ৪৩ পৃষ্ঠার ৪২ নম্বর মালফুযে, ‘নবুওয়ত’ ও ‘মাওলানা ইলিয়াছ’ নামক কিতাবের ৩০-৩২ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে যে, “মুসলমান দু’প্রকার-একদল প্রচলিত তাবলীগের জন্য হিজরত করবে, দ্বিতীয় দল নুছরত বা সাহায্য করবে, এ দু’দলই মুসলমান। অর্থাৎ যারা প্রচলিত তাবলীগও করবে না আর তাবলীগকারীদেরকে সাহায্যও করবে না, তারা মুসলমান নয়।” নাউযুবিল্লাহ! (তাবলীগ গোটা উম্মতের গুরু দায়িত্ব লেখক- মাওলানা ইসমাইল হোসেন দেওবন্দী পৃষ্ঠা ১৭৪, দাওয়াতে তাবলীগ কি ও কেন? লেখক- মাওলানা ওবায়দুল হক পৃষ্ঠা ২১, হযরতজীর কয়েকটি স্মরণীয় বয়ান ২য় খ- পৃষ্ঠা ১১) #তাবলীগ_জামায়াতের সমর্থনপুষ্ট প্রায় কিতাবেই একথা লেখা আছে যে, নবী আলাইহিমুস সালামগণ কোনো কোনো ক্ষেত্রে ভুল করেছিলেন। যেমন – হযরত আদম আলাইহিস সালাম তিনি গন্দম খেয়ে ভুল করেছিলেন ও হযরত ইউনুস আলাইহিস সালাম তিনি দাওয়াত না দিয়ে ভুল করেছিলেন ইত্যাদি ইত্যাদি। নাউযুবিল্লাহ! (মালফুযাতে শায়খুল হাদীস) পৃষ্ঠা ২৩১, তাবলীগ গোটা উম্মতের গুরু দায়িত্ব লেখক- মাওলানা ইসমাইল হোসেন দেওবন্দী পৃষ্ঠা ৬১) #ইউনুস_আলাইহিস_সালাম উনার সম্পর্কে প্রচলিত তাবলীগ জামায়াতের লোকদের আক্বীদা হলো যে, “দাওয়াত বন্ধ করার কারণে আল্লাহ পাক তিনি হযরত ইউনুস আলাইহিস সালাম উনাকে গযবে ফেলিলেন।” “হযরত ইউনুস আলাইহিস সালাম তিনি মাছের পেটে ৪০ দিন আবদ্ধ থাকিয়া নিজ ত্রুটি স্বীকার করিয়া তওবা করিবার কারণে বিপদ হইতে উদ্ধার পাইলেন।” নাউযুবিল্লাহ! (তাবলীগ গোটা উম্মতের গুরু দায়িত্ব লেখক- মাওলানা ইসমাইল হোসেন দেওবন্দী পৃষ্ঠা ৬২ ও ৮৯) #প্রচলিত_তাবলীগ_জামায়াতের লোকেরা আরও বলে থাকে যে, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি গারে হেরায় চিল্লা দেয়ার উসীলাই কুরআন ও নুবুওওয়াত প্রাপ্ত হয়েছেন। যেমন এ প্রসঙ্গে তাদের কিতাবে বিবৃত হয়েছে- “হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ৪০ দিন পর্যন্ত ‘গারে হেরা’ পর্বতে থাকিয়া আল্লাহর ধ্যান ও যিকিরে চিল্লা দিলেন, যাহার ফলে তিনিও কুরআন ও নুবুওওয়াত প্রাপ্ত হইলেন।” নাউযুবিল্লাহ! (তাবলীগ গোটা উম্মতের গুরু দায়িত্ব লেখক- মাওলানা ইসমাইল হোসেন দেওবন্দী পৃষ্ঠা ৮৯) #মাওলানা_ইসমাইল হোসেন দেওবন্দী লিখিত ‘তাবলীগ গোটা উম্মতের গুরু দায়িত্ব’ নামক কিতাবের ৯৩ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে যে, “লক্ষাধিক সাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের মধ্যে অধিকাংশই মূর্খ ছিলেন।” নাউযুবিল্লাহ! (শরীয়তের দৃষ্টিতে তাবলীগী নেছাব লেখক – মাওলানা জাকারিয়া সাহেব পৃষ্ঠা ১৩, তাবলীগী জামায়াতের প্রধানের তর্ক ও ইচ্ছা পৃষ্ঠা ৮) #প্রচলিত_তাবলীগ জামায়াতের লোকেরা বলে থাকে যে, হিদায়েতের ক্ষেত্রে মূর্খরাই সমধিক উপযুক্ত। যেক্ষেত্রে নবীগণ এবং আলেমরা ফেল করে, সেখানেও মূর্খরা কৃতিত্ব দেখায়। নাউযুবিল্লাহ! এ প্রসঙ্গে মাওলানা ইসমাইল হোসেন দেওবন্দী লিখিত ‘তাবলীগ গোটা উম্মতের গুরু দায়িত্ব’ নামক কিতাবের ১১৬ পৃষ্ঠায় একথা লেখা আছে যে, “অনেক স্থলে নবীগণ পর্যন্ত হিদায়েতে বিরাট সঙ্কটে ও বিপদে পড়িয়াছিলেন, তাই অনেক স্থলে বিরাট আলেমও ফেল পড়িতেছে। কিন্তু মূর্খগণ তথায় দ্বীন জয় করিতেছে।” নাউযুবিল্লাহ! এ ধরনের আরও বহু কুফরী বক্তব্য ও আক্বীদা তাদের কিতাবে রয়েছে।
হিজাব পরায় ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী বহিষ্কার 19 সেপ্টেম্বর, 2013 ·
স্টাফ রিপোর্টার : শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হিজাব পরা কিংবা ড্রেস কোডের অতিরিক্ত পোশাক পরার কারণে পরীক্ষায় নম্বর কম পাওয়া, জামার হাতা কাটাসহ ক্লাসে অপমানিত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে অনেক ছাত্রীর সাথে। কিন্তু এবার কেবল হিজাব পরার কারণেই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার হতে হয়েছে এক ছাত্রীকে। বহিষ্কৃত ওই ছাত্রী হলেন, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ছাত্রী হাফসা ইসলাম। হিজাব পরার কারণে ওই ছাত্রীকে বহিষ্কার করেছে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষ। গত ১২ সেপ্টেম্বর হিজাব পরায় ড্রেসকোডভঙ্গের অভিযোগে তাকে বহিষ্কার করা হয়। এর আগে গত ২২ জানুয়ারি ড্রেস কোড ও নিরাপত্তার অজুহাতে ক্যাম্পাসে ছাত্রীদের হিজাব পরা নিষিদ্ধ করে বিশ্ববিদ্যালয়টি।
ঘৌরি সাম্রাজ্য থেকে নরেন্দ্র মোদী পর্যন্ত ঘোরি কিংডম!!
1 = 1193 মোহাম্মদ ঘোরি 2 = 1206 কুতুবুদ্দিন আইবাক 3 = 1210 বাকি শাহ 4 = 1211 5 = 1236 রকিনউদ্দিন ফিরোজ শাহ 6 = 1236 রাজা সুলতান 7 = 1240 মোজাদ্দিন বাহরাম শাহ 8 = 1242 আল-দীন মাসউদ শাহ 9 = 1246 নাসিরুদ্দিন মাহমুদ 10 = 1266 গিয়াসউদ্দিন বালবিন 11 = 1286 ………. 12 = 1287 মসজিদের কাবাদন 13 = 1290 শামসুদ্দিন কামার্স মহান সাম্রাজ্যের সমাপ্তি (সরকার থেকে -97 বছর প্রায় দূরে।)
* সাম্রাজ্যের সাম্রাজ্য *
1 = 1290 জালালউদ্দিন ফিরোজ খিলজি 2 = 1292 ineশিক ধর্ম 4 = 1316 শাহাবুদ্দিন ওমর শাহ 5 = 1316 কুতুবুদ্দীন মোবারক শাহ 6 = 1320 নাসিরুদ্দিন খুসরো শাহ খলজি সাম্রাজ্যের সমাপ্তি (সরকারী -30 বছর প্রায়)
* তুঘলক সাম্রাজ্য *
1 = 1320 গিয়াসউদ্দিন তুঘলক (প্রথম) 2 = 1325 মোহাম্মদ ইবনে তুঘলক (দ্বিতীয়) 3 = 1351 ফিরোজ শাহ তুঘলক 4 = 1388 গিয়াসউদ্দিন তুঘলক (দ্বিতীয়) 5 = 1389 আবু বকর শাহ 6 = 1389 মোহাম্মদ তুঘলক (সোম) 7 = 1394 ………. (আমি) 8 = 1394 নাসিরুদ্দিন শাহ (দ্বিতীয়) 9 = 1395 নুসরত শাহ 10 = 1399 নাসিরুদ্দিন মোহাম্মদ শাহ (দ্বিতীয়) 11 = 1413 সরকার তুঘলক সাম্রাজ্যের সমাপ্তি (সরকার -94 বছর প্রায় দূরে।)
* সা Saeedদ রাজবংশ *
1 = 1414 খেজুর খান 2 = 1421 মুইজউদ্দিন মোবারক শাহ (দ্বিতীয়) 3 = 1434 মুহাম্মদ শাহ (চতুর্থ) 4 = 1445 আল্লাহ আলম শাহ সা’দ রাজ্যের সমাপ্তি (সরকারী -৩ 37 বছর প্রায়)
“পাহাড়ের উপর দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটিকে দেখে হয়তো আপনার মনেই হতো না যে স্বাভাবিকের বাহিরে কিছু দেখা যাচ্ছে তার মাঝে, যদি না তার দাঁড়িয়ে থাকাটা এতটা স্থির আর একাকী না হতো। গোড়ার দিকের বর্ণনাগুলোতে এমনভাবে তার কথা বলা হয়েছে যে মনের মাঝে নিশ্চিত কোনো চিত্র আপনি কল্পনা করতেই পারবেন না। তিনি দেখতে এত লম্বাও না, আবার খাটোও না। এত চিকনও না, মোটাও না। এখানে ওখানে মাঝে মাঝে তার সুদর্শন গঠন নিয়ে দুয়েকটা কথা চোখে পড়ে, আর সেগুলো বেশ প্রীতিকর আর আশ্চর্যেরও বটে।
মনে হতে পারত, এই পাহাড়চূড়ায় ধ্যান করতে আসা একটা মানুষ হয়ত রুক্ষসূক্ষ্ম হবেন, কিন্তু না, লালচে ফরসা মানুষটিকে দেখে আপনাকে অবাকই হতে হবে। যখন হাঁটছেন তখন একটু ঝুঁকে পড়ে হাঁটছেন, যেন কোথায় যাবার তাড়া। যখন কারো সাথে কথা বলেন, পুরো ঘাড় ঘুরিয়ে কথা বলেন। তার গড়ন দেখেই আপনি বুঝে যাবেন, সম্ভ্রান্ত এক ঘরে তার জন্ম।
হ্যাঁ, চল্লিশ বছর বয়স তার, আর আট দশজন মক্কাবাসীর মতোই হয়ত চলছেন, এতিম অনাথ থেকে বড় হয়ে এখন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী, সুখের একটা সংসার আছে তার। সবার শ্রদ্ধা আর সম্মানের পাত্র। কিন্তু কেন যেন তার পোশাক পরিচ্ছদ, এমনকি পায়ের জুতোখানা দেখেও বোঝার উপায় নেই তিনি যে এত ধনী মানুষ।
খুব কাছ থেকে যদি খেয়াল করে থাকত কেউ, হয়ত দেখা যেত একটা অস্থিরতা আর একই সাথে দৃঢ়তা কাজ করছে তার মাঝে, তার ঠোঁটদুটো একটুখানি ফাঁক করা, যেন আঁধারের মাঝে ফিসফিস করে বলে উঠবেন কিছু একটা, কিন্তু বলছেন না। এ বয়সে এসে তিনি সবকিছু পেয়েছেন, তবুও কীসের তাড়না তার? কী খুঁজছেন তিনি? নিজের মনের এক ফোঁটা শান্তি বুঝি? কিন্তু তিনি কি শান্তিতে নেই? তাহলে কি আরো বড় কিছু খুঁজছেন? খুব, খুব বড় কিছুর একরত্তি আভাস? ওহ, তাঁর নাম? মুহাম্মাদ (সা)।
একটা ব্যাপার আমরা নিশ্চিত- মুহাম্মাদ (সা) এর নিজের ভাষ্য মতেই, ৬১০ সালের সেই রাত্তিরে তিনি এমন কিছুর মুখোমুখি হয়েছিলেন, এমন কিছু অনুভব করেছিলেন যার জন্য তিনি আদৌ প্রস্তুত ছিলেন না। একটুও না।”
বইয়ের শুরুটা যদি বাংলায় বলতে হয়, তবে ভাবানুবাদটা এরকম। হয়ত শিরোনাম পড়ে ভাবছেন, একজন ইহুদী লিখছেন ইসলাম ধর্মের শেষ নবী মুহাম্মাদ (সা) এর জীবনী? মুসলিমদের মাঝে প্রচলিত ইহুদীবিদ্বেষের কারণে আপনার মনে হতেই পারে, নিশ্চয়ই উলটোপালটা বদনাম করে রেখেছে। কিন্তু অবাক করা বিষয়, আসলেই বইটিতে হযরত মুহাম্মাদ (সা)-কে নিয়ে কোনো খারাপ কিছু নেই। বরং এমনটাও হতে পারে, কিছু কিছু অধ্যায় আর কিছু কিছু ঘটনা পড়ে আপনার চোখের কোণে জমে উঠলো কয়েক ফোঁটা অশ্রু- তিনি এতটাই সুন্দর করে লিখেছেন ‘দ্য ফার্স্ট মুসলিম’ বইটি।
লেখকের নামই তো বলা হলো না। নাম তার লেজলি হ্যাজেল্টন। মহিলার বয়স এখন চলছে ৭৩, জন্ম তার ইহুদী পরিবারে। পরিচয়ের দিক থেকে ইহুদী হলেও বিশ্বাসের দিক থেকে তিনি অ্যাগনস্টিক, বাংলায় যাকে কিনা বলে অজ্ঞেয়বাদী, অর্থাৎ তিনি ঈশ্বরে বিশ্বাস না করলেও অবিশ্বাসও করেন না, কোন ধর্ম সঠিক সে বিষয়েও তিনি সিদ্ধান্তে আসতে পারেননি।
বিখ্যাত টাইম পত্রিকার রিপোর্টার হিসেবে তিনি জেরুজালেমে কাটিয়েছেন ১৯৬৬-৭৯ সাল পর্যন্ত। অবশ্য তিনি বেড়ে উঠেছেন ইংল্যান্ডে। এরপর ১৯৯২ সাল পর্যন্ত তিনি নিউ ইয়র্কে শহরে কাটান। তার লেখনি ছাপা হতো নিউ ইয়র্ক টাইমসেও। সিয়াটলে গিয়েছিলেন পাইলটের লাইসেন্স নিতে, কিন্তু পরে মার্কিন নাগরিকত্ব নিয়ে নেন। তার বইগুলো ধর্ম নিয়ে হলেও, তিনি কিন্তু আসলে পেশায় একজন সাইকোলজিস্ট, মনস্তত্ত্ববিদ। সাইকোলজির উপর দু’খানা ডিগ্রি তার, একটি ম্যানচেস্টার ইউনিভার্সিটি থেকে, আরেকটি জেরুজালেমের হিব্রু ইউনিভার্সিটি থেকে।
আদতে ‘স্কলার’ বলতে যা বোঝায়, তিনি তা নন, নিজেই স্বীকার করেন তিনি। একজন বহিরাগত হিসেবে তিনি পরধর্মগুলো জানতে চান। এজন্যই তিনি ইসলাম নিয়ে জানা শুরু করেন। কুরআন পড়া শুরু করেন। আরবিও শিখে নেন, আরও ভালোভাবে বোঝার জন্য কয়েকটি অনুবাদ সাথে রাখেন। আর তাফসির গ্রন্থগুলো তো আছেই। কুরআন পড়তে গিয়ে তার মনে হয়েছিল, এ শৈল্পিক গ্রন্থটি আসলে যতটা না রিডিং পড়ে যাবার, তার থেকে বেশি শোনার জন্য, সুললিত কন্ঠে কুরআনের বাণীগুলো যেন রন্ধ্রে রন্ধ্রে শিহরণ জাগায়। এ নিয়ে টেড টক-ও দিয়েছেন তিনি।
পেশাগত জীবনে তাকে রিপোর্ট করতে হতো ধর্ম আর রাজনীতির মিলনবিন্দু নিয়ে। সেই থেকে ধর্মের প্রতি তার আগ্রহ, তুলনামূলক ধর্মতত্ত্ব বলে যাকে। ইহুদী হবার কারণে, তাওরাত বা বাইবেল সংক্রান্ত জিনিসগুলো আগে থেকেই তার জানা ছিল। তাই যখন ইসলামকে জানতে শুরু করলেন তখন মোটেও অচেনা লাগেনি তার। কিন্ত অচেনা লেগেছিল ২৩ বছর ধরে ইসলামের বাণী প্রচার করে যাওয়া মুহাম্মাদ (সা)-কে। কারণ পশ্চিমা বিশ্বের মানুষ হিসেবে এতদিন যে তথাকথিত বর্বর ধর্মের কথা তিনি জেনে এসেছিলেন, সে ধর্মের নবীর জীবনে যে এত অসাধারণ সব ঘটনা আছে কে জানতো?
হ্যাঁ, মুসলিম বিশ্বের মানুষেরা হয়তো জানে। কিন্তু যে অঞ্চলগুলো মুসলিমপ্রধান নয়, তাদের জানবার কথা না। তাই তিনি অচেনা থেকে যে মুহাম্মাদ (সা)-কে জানলেন, অজানা পথে পাড়ি জমালেন, নতুন ধর্মকে জানবার জন্য- সেটাই পশ্চিমা বিশ্বের ইসলামভীতিসম্পন্ন মানুষদের জন্য উপস্থাপন করতে চাইলেন। ইসলাম যে কোনো বর্বর ধর্ম নয়, নবী মুহাম্মাদ (সা)-কে নিয়ে যে অপপ্রচারগুলো প্রচলিত সেগুলো যে মিথ্যে, সেটাই তিনি জানাতে চাইলেন। শুরু করলেন লেখা, ‘দ্য ফার্স্ট মুসলিম’।
বইয়ের নাম তিনি নিয়েছিলেন পবিত্র কুরআনের ৩৯:১২ আয়াত থেকে, “বল, (হে মুহাম্মাদ,) আমাকে আদেশ করা হয়েছে প্রথম মুসলিম হতে।” সেই থেকে বইয়ের নাম প্রথম মুসলিম, অর্থাৎ মুহাম্মাদ (সা)।
বইয়ের শুরু পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়ানো মুহাম্মাদ (সা) এর চিন্তাভাবাপন্ন অবস্থা থেকে, সে রাত্রেই তিনি নবুয়ত পান। একজন অমুসলিম হিসেবে লেজলিকে নাড়া দেয় সে রাতের ঘটনা- কেন মুহাম্মাদ (সা) প্রথমে বিশ্বাস করতে পারেননি? কেন মনে করেছিলেন, ওহী নিয়ে আসা সত্ত্বা আসলে ফেরেশতা নন? কেন তার মনে ছিল ভয়? কেন সন্দেহ? এতই ভয় পেয়েছিলেন তিনি যে তার জ্বর চলে এসেছিল, আর খাদিজা (রা) তাকে কম্বল দিয়ে জড়িয়ে ধরেন, তাকে সান্ত্বনা দেন।
এ ঘটনার পরপরই লেজলি চলে যান ফ্ল্যাশব্যাকে পেছনের দিকে, মুহাম্মাদ (সা) এর জন্ম আর সে সময়ের কাহিনীগুলো। বাবাহারা শিশুর বেড়ে ওঠার অধ্যায়গুলো পড়তে গেলে মন ভারাক্রান্ত হয়ে ওঠে। এ বইটি লিখতে গিয়ে তিনি এমন একটি ধারা ব্যবহার করেছেন, যেটি এর আগে কেউ করেননি। তিনি বুঝতে চেষ্টা করেছেন, কোন মুহূর্তে মুহাম্মাদ (সা) ঠিক কেমন অনুভব করে থাকতে পারেন। চল্লিশ বছর পর্যন্ত নির্ভেজাল জীবন কাটিয়ে দেয়া একটি মানুষ কি জানতেন যে পরের ২৩ বছরে তিনি হবেন আরবভূমির নেতা? আক্রান্ত নির্যাতিত মানুষগুলো ইসলাম নামের ধর্মটির জন্য মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে চেষ্টা করছিল মক্কার অলিতে গলিতে, তিনি কি তখন জানতেন ১৪০০ বছর পর সেটি হবে প্রায় দেড় বিলিয়ন মানুষের ধর্ম? এ উত্তরগুলো খোঁজার চেষ্টা করেছেন লেজলি হ্যাজেল্টন।
অস্বীকার করবার উপায় নেই, এই অনুভূতিগুলো ধারণা করতে গিয়ে, আন্দাজ করতে গিয়ে সময়ে অসময়ে ভুলও করেছেন তিনি। তিনি যে স্কলার মনে করেন না নিজেকে, সেটা তো আগেই বলা হয়েছে। তাই অনেক সময়ই হয়ত তার লেখনিতে স্থান পেয়েছে কিছু জাল বর্ণনা, কিংবা দুর্বল কাহিনী। কিন্তু একজন বহিরাগত হিসেবে মুহাম্মাদ (সা)-কে জানতে তিনি যে পরিশ্রম করেছেন গোড়া থেকে সেটা প্রসংশার দাবিদার। বইটি হয়ত কোনো প্রামাণ্য সীরাত গ্রন্থ নয়, কিন্তু অমুসলিমদের ইসলামভীতি দূর করবার জন্য প্রথম বই হিসেবে খুবই যোগ্য।
জন্মসূত্রে লেজলি ইহুদী। আর ইহুদীদের নিয়ে সীরাত গ্রন্থগুলোতে রয়েছে নানা কাহিনী, নানা রক্তপাতও। বিশেষ করে সবচেয়ে আলোচিত কুরাইজা গণহত্যা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে হয়ত তার ইহুদী পরিচয়ের দাগ রেখে গেছেন, কিন্তু একইসাথে ঘটনাটি দেখানোর চেষ্টা করেছেন মুহাম্মাদ (সা) এবং মুসলিম দৃষ্টিকোণ থেকেও। তিনি কী লিখেছেন এগুলো নিয়ে সেটা না হয় বইটি পড়ার সময়টার জন্য তুলে রাখা হোক।
একে একে তিনি ব্যাখ্যা করতে চেষ্টা করেছেন, কেন আসলে ইসলাম বর্বর ধর্ম নয়, বরং সহিংসতার নির্দেশগুলো আসলে নির্দিষ্ট সময়ের গণ্ডীর বাহিরের জন্য ছিল না। বইটি পড়তে গিয়ে চেনা জানা ঘটনাগুলোও আপনার কাছে নতুন করে জানছেন মনে হবে। নবী হিসেবে তার জীবনী নিয়ে অনেক অনেক বই লেখা হয়েছে, অমুসলিমদের হাতেও লেখা হয়েছে বটে। কিন্তু, একজন অসহায় অনাথ শিশু থেকে অবিসংবাদিত নেতা হবার গল্পটা যে মানুষকে ঘিরে, সেই মনুষ্যত্বের কাহিনী হয়ত এভাবে জোর দিয়ে লেখা হয়নি আগে। এর বেশি কিছু বলা হয়ত ঠিক হবে না, বাকিটুকু না হয় বইটা পড়েই আপনি অনুভব করুন পাঠক হিসেবে!
প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটির ধর্মতত্ত্ব গবেষক প্রফেসর এমেরিটাস কর্নেল ওয়েস্ট বইটি নিয়ে বলেন, “অসাধারণ সুন্দরভাবে লেখা, ফার্স্ট মুসলিম বইটি ইসলামের শেষ নবীকে যেন পরিপূর্ণ দৃষ্টিতে দেখতে চেষ্টা করে, অতুলনীয় একজন মানুষের মনুষ্যত্বকে তুলে ধরে।”
নিউ ইয়র্ক টাইমসের রিভিউ বলছে, “মুহাম্মাদ (সা) এর কাহিনী আপনার পরিচিত হলেও বইটি পড়তে গিয়ে যেন নতুন রূপে ধরা দেয়। বইটিকে সেদিক দিয়ে আমরা সার্থক বলতে পারি, জীবনীকে জীবন্তভাবে ফুটিয়ে আনতে পেরেছেন লেজলি।”
লেজলির ভাষায়, মুহাম্মাদ (সা) এর জীবনী এতটাই অসাধারণ, যে এর সমান্তরালে ইতিহাসে আর কারো জীবনী নেই, এই মানুষটির জীবনটাকেই তিনি কথার জাদুতে উঠিয়ে আনবার চেষ্টা করেছেন। কতটা সার্থক হয়েছেন, সেটা বিচার করবেন পাঠকরাই। কষ্টিপাথরের যাচাইয়ে নিখাদ প্রামাণ্য গ্রন্থ যদি আপনি চান, তবে বইটি হয়তো আপনার জন্য নয়। কিন্তু সেই যে পাঠ্যবইতে আমরা পড়েছিলাম মানুষ মুহাম্মাদ (সা) এর কথা, তাকে নিয়ে যদি গভীরে জানতে চান, তবে বইটি আপনার প্রিয় হয়ে উঠবে।
সবশেষে বইটি কেমন ভাষায় লেখা সেটার আরেকটি উদাহরণ, ঠিক যেভাবে শেষ হয়ে যায় বইটি-
“বুধবার ভোরের আলো ফুটবার আগেই ঘুম ভেঙে যায় আইশার (রা), ঘুম ভাঙার কারণ আর কিছুই না, পাশের মসজিদের উঠোন থেকে মাটিকাটার আওয়াজের প্রতিধ্বনি। মুহাম্মাদ (স) এর ইন্তেকালের পর তিনি হাফসার সাথে থাকছেন। গভীর শোকে হয়তো তিনি উঠে গেলেন না শব্দটা কীসের জন্য হচ্ছে দেখতে। যদি যেতেন, তবে তিনি আবিষ্কার করতেন, শব্দটা আসলে পাথুরে জমিতে শাবলের আঘাতের। কোদাল শাবল নিয়ে আলী আর তার সঙ্গীরা কবর খুঁড়ছেন, মুহাম্মাদ (সা) এর কবর।
মুহাম্মাদ (সা) একবার বলেছিলেন, নবীরা যেখানে মারা যায় সেখানেই তাদের কবর হওয়া উচিত। তাই তারা সেখানেই কবর খুঁড়ছিলেন যেখানে তিনি মারা গিয়েছেন। ঠিক যে ঘরে থাকতেন আইশা, ঠিক যে বিছানায় আইশার কোলে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি, এখানেই হয়ত তার শেষ ইচ্ছে ছিল সমাহিত হবার। যথেষ্ট গভীর হবার পর তারা কাফনের কাপড়ে মোড়ানো দেহটিকে শুইয়ে দিলেন মক্কার দিকে মুখ করে, যেন প্রার্থনারত তিনি। এরপরই দ্রুত মাটি দিয়ে ঢেকে ফেলা হলো, আর তার উপর এক খণ্ড পাথর।
কোনো বিশাল হৈ চৈ না, বড় মিছিল না, কান্নার শোরগোল না- ভোরবেলায় সমাহিত হলেন মুহাম্মাদ (সা), একদম নীরবেই। ঠিক যেভাবে নীরবে তিনি এসেছিলেন এক এতিম পরিবারে, ভোরের আলো ফুটবার সাথে সাথে সেভাবেই বিদায় নিলেন নিঃশব্দে। কবরে প্রবেশ করলেন এক অসাধারণ কিন্ত সামান্য মানুষ হিসেবে, কোনো রাজনৈতিক আক্রোশ কিংবা ক্ষমতার হানাহানি তাকে স্পর্শ করবে না আর। ঠিক যে শান্তিটা তার প্রয়োজন ছিল, সেটাই তিনি পেলেন। একদম জীবনের বেলা শেষে- এতটুকু বিশ্রাম।”
#হিটলারের সহযোগী #আইখম্যান এর #ইহুদী বিদ্বেষের একটি মাত্র ঘটনার মাধ্যমেই জর্মানদের ইহুদীদের প্রতি ঘৃনার প্রকাশ স্পষ্ট হয়ে উঠে । আর এই ঘৃনা জন্মনোর পেছনে কারণ হলো হাজার বছর ধরে ইহুদী কর্তৃক চালিয়ে যাওয়া কূট চালের প্রতি প্রতিশোধের বহিঃপ্রাশ । ঘটনাটি হলো—-হিটলারের সহযোগী ছিলেন #আইখম্যান।তিনি ছিলেন গ্যাস চেম্বারে ডুকিয়ে ইহুদীদের হত্যা করার রুপকার। দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধে হিটলারের পরাজয় হলে তিনি ব্রাজিলে পালিয়ে যান এবং ছদ্মবেশে একটি কৃষি ফার্মে কাজ করেন। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি, অনেক বছর পর তিনি ধরা পড়েন ইহুদীদের হাতে। ইহুদীরা তার প্রতি খুব রেগে ছিল।তাকে হত্যা করার সব প্রস্তুতি শেষ করল । মৃত্যুর পুর্বে তার শেষ ইচ্ছার কথা জানতে চাওয়া হলে তিনি মৃত্যুর পুর্বে ইহুদী ধর্ম গ্রহন করার কথা বলেন। তার এমন ইচ্ছার কথা শুনে উপস্থিত সবাই হেসে দিল। বলল, বাছাধন, তুমি মনে করেছ, ইহুদী ধর্ম গ্রহন করলেই ইহুদীরা তোমায় মাফ করে দেবে! তা হবে না। মরতে তোমায় হবেই। কয়েকজন কৌতুহলী জিজ্ঞাসা করলো, আচ্ছা তোমার এই ইচ্ছা কেন হলো? বল তো আমাদের?আইখম্যান নির্ভিকার চিত্তে বললো, ” তোমরা যে আমায় ছাড়বে না, এটা আমি নিশ্চিত। তাই মারা যাওয়ার আগে দেখে যেতে চাই,অত্যন্ত আরেকটা ইহুদী মারা গেল।” ইহুদীদের প্রতি কতটুকু ঘৃনা থাকলে মৃত্যুর আগেও আরেকটি ইহুদীর মৃত্যু দেখতে চায়!!!