শেখ মুজিব জানতেন না ৩ লক্ষকে ইংরেজীতে কিভাবে বলতে হয়। ১৯৭১ সালে যুদ্ধ চলেছিল ৮ মাস ২২দিন মানে ২৬২ দিন, শহীদ হয়েছে ৩০ লক্ষ। সুতরাং একদিনে শহীদ হয়েছে ৩০ লক্ষ ÷ ২৬২ = ১১,৪৫০ জন। তার মানে যুদ্ধে গড়ে দৈনিক ১১,৪৫০ জন করে শহীদ হয়েছে।
যুদ্ধের সময় দেশের জনসংখ্যা ছিলো সাত কোটি। তাহলে ৩০ লক্ষ লোক শহীদ হয় ৭ কোটি থেকে?? ৭০০০০০০০÷৩০০০০০ = ২৩.৩৩ তার মানে যুদ্ধে প্রতি ২৩ জনে ১ জন শহীদ হয়েছিলো🤔??
ইরাকে ১০ বছর ব্যাপী ইঙ্গ-মার্কিন হামলায় প্রায় ৭ লক্ষ মানুষ নিহত হয়েছিলো। আর তাতেই প্রায় গোটা ইরাক ধ্বংসস্তুপে পরিনত হয়েছিলো। বাংলাদেশে মাত্র ২৬২ দিনে ত্রিশ লক্ষ মানুষ শহীদ হয়েছিলো ☺।
গত বছর গাজায় পঞ্চাশ দিনের ইসরাইলি আগ্রাসনে সর্বমোট নিহত হয়েছে ২,৩০০ জন আর আমাদের মুক্তিযুদ্ধে দৈনিক নিহত হয়েছে ১১,৪৫০ জন করে😳 ।
ধরুন, এক একজন পাকি প্রতিদিন ঘুমানো সহ ১০ ঘন্টা নিজের কাজে ব্যায় করত বাকি ১৪ ঘণ্টা যুদ্ধ করত, তার মানে কি প্রতি ১৪ ঘন্টায় ১১,৪৫০ জন করে মারা গেছে🤔।
জীবন ও দেশের যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি নিয়ে ব্রিটিশ সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে শেখ মুজিব বলেছিলেন, “I lost three million peoples in the liberation period”. উনার সফর সঙ্গী ঠিক পিছনে উপস্থিত তৎকালীন পররাষ্ট্র সচিব ফারুক খান (সিলেট জেলায় বাড়ি-বর্তমানে জীবিত রয়েছেন) বলেছিলেন, স্যার, “৩ মিলিয়ন নয়-বলুন ৩ লক্ষ”☺😊।।
প্রত্যুত্তরে শেখ সাহেব বলেছিলেন, “৩ মিলিয়ন আর ৩ লক্ষ এর মধ্যে প্রার্থক্য কোথায়” ?
শেখ সাহেবের এই উদ্বৃতি শুনে উপস্থিত বাঙালি সকলের মাঝে মৃধু হাসির রোল বয়ে যায়। ব্রিটিশ সাংবাদিকগণ শেখ সাহেবের এই ব্যক্তিগত ভুল তথ্যকেই জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে সম্প্রচার করেন। যা আজও ভুল হিসেবে রয়ে গেল।
১//একবার এক বনী ইসরাইলী প্রস্টিটিউট নারী রাস্তায় এক পিপাসার্ত কুকুরকে পানি পান করিয়ে বাঁচিয়ে দেয়ার ফলে আল্লাহ খুশি হয়ে তাকে মাফ করে জান্নাতে দাখিল করেছে ।২// একবার এক তাহাজ্জুদ পড়নে ওয়ালী বনী ইসরাইলী মহিলা একটি বিড়ালকে বেঁধে রেখেছিল । ফলে বিড়ালটি খুদার্ত ও পিপাসার্ত অবস্থায় মারা যায় ।ফলে আল্লাহ অত্যন্ত রাগান্মিত হয়ে মহিলাকে জাহান্নামে দাখিল করেছেন ।উপরে হাদীস দুটো বোখারীর । আরো একট হাদীস হলো এক সাহাবী রাসুল সাঃ কে বল্লেন, পশু পাখির কষ্ট আমাকে কষ্ট দেয় । রাসুল সাঃ তাকে বল্লেন, এই দয়াদ্রতার বিনিময়ে তুমি আল্লাহর নিকট থেকে বদলা পাবে । মূলতঃ পশু পাখির প্রতি দয়া দেখানো একটি একটি উত্তম ইবাদত ।পশু প্রীতি নিয়ে এমন আরো শতশত হাদীস আছে ।ছবির ঘটনাটি গত বছরে ।রাস্তায় ১টা কুকুর এক্সিডেন্ট করে পরে আছে, মানুষ তাকিয়ে তাকিয়ে দেখছে।বাচ্চা কুকুরটির মা অনেক কান্নাকাটি করতেছে।তখন ২জন নারী বাচ্চা কুকুরটিকে কোলে করে সাইডে নিয়ে আসে।পরে কুকুরকে কোথায় জানি নিয়ে গেছে।এটি একটি ভাল ও হৃদয়বান লোকের কাজ । আল্লাহ এই নারীদ্বয়কে পূর্ণ হিদায়েতের আলো দান করুন ।—-#মরুচারী_মুসাফির
মাণ্ডায় পানির পাম্প এলাকার দুদু মিয়ার গলি ধরে পূর্ব দিকে ৩০ গজের মতো এগোলেই হাতের ডানে-বাঁয়ে বস্তির মতো ছয়-সাতটি ঘর। তবে ঘরগুলো সেমিপাকা। সাত্তার মিয়ার বাড়ি বললে সবাই চেনে। শুক্রবার ভোর সাড়ে ৫টা। ঘরগুলোর একটি থেকে কাঠের হুইলচেয়ারে বসে বের হয়ে এলেন এক যুবক। চেয়ারটি পেছন থেকে ঠেলছে এক কিশোর। যুবকের বয়স ২৮-৩০ বছর। কিশোরের ১২ থেকে ১৪। দুজনই প্রতিবন্ধী এবং ভিক্ষুক। যুবকের দুই পা সরু লাঠির মতো। কিশোরটি কুঁজো।কিশোরকে একটু দূরে ডেকে নিয়ে নাম-পরিচয় জানতে চাইলে সে জানায়, তার নাম আলতাফ, বাড়ি ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায়। যুবক তার আপন বড় ভাই, নাম মোক্তার। তাদের বাবা প্রয়াত আলী হোসেন। অভাবের সংসারে ভাইকে নিয়ে সে ভিক্ষা করে।এরপর কিশোরকে দূরে রেখে যুবকের কাছে তাঁর নাম-ঠিকানা জানতে চাইলে তিনি প্রথমে ঘাবড়ে যান। পরে জানান, তাঁর নাম মোক্তার হোসেন। কিশোরটি তাঁর ছোট ভাই, নাম আলতাফ। গ্রামের বাড়ি মাদারীপুরের কালকিনি এলাকায়। তাঁদের বাবার নাম সোলায়মান। তিনি আগে রিকশা চালাতেন, এখন অসুস্থ হয়ে বাড়িতেই থাকেন। মোক্তার আর আলতাফ মিলে ঢাকা থেকে টাকা পাঠায়। তাতে মা-বাবার সংসার কোনোমতে চলে। এই প্রতিবেদকের সঙ্গে ছিলেন কয়েকজন পুলিশ সদস্য। জিজ্ঞাসাবাদের মুখে শেষ পর্যন্ত দুজনই স্বীকার করে তারা ভাই নয়, আত্মীয়ও নয়। দিনভর ভিক্ষা করে যা আয় হয়, রাতে ঘরে ফিরে তা দুজন সমান ভাগ করে নেয়। তা দিয়েই চলে খাওয়া, ঘরভাড়া, পোশাক ও নিত্যদিনের হাতখরচ এবং সরদারের ‘সপ্তাহ’। জানা গেল, সাত্তার মিয়ার সাতটি সেমিপাকা ঘর ছাড়াও এই এলাকায় ৮০টির মতো ঘরে ভাড়াটে হিসেবে বসবাস করে হাজারের ওপরে ভিক্ষুক। ঘরগুলো বাঁশের চাটাই দিয়ে তৈরি থেকে শুরু করে তিনতলা পাকা ভবন পর্যন্ত। ভিক্ষুকদের প্রায় সবাই পঙ্গু। যারা পঙ্গু না, তারাও বয়স আর অসুস্থতার কারণে স্বাভাবিক অবস্থায় নেই। আর রয়েছে শিশু। তাদের কারো কারো অবস্থা এতটাই করুণ যে, হঠাৎ করে দেখে বোঝার উপায় নেই সে জীবিত না মৃত। এই ভিক্ষুকদের নিয়ে কয়েক দিন ধরে সরেজমিন অনুসন্ধান চালিয়ে পাওয়া গেছে নানা চাঞ্চল্যকর অজানা তথ্য। ভিক্ষুকদের একেকটি ঘর থেকে বের হয়ে আসা তথ্যচিত্রগুলো এমনই যে, কখনো শ্বাসরুদ্ধকর, কখনো বিস্ময়ে চোখ কপালে ওঠে, আবার কখনো চোখ ভিজে আসে। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা, আসাদুজ্জামান তপন ও মাসুদ রানা নামের দুই ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক এবং পুলিশের সহযোগিতা নিয়ে সরেজমিন অনুসন্ধানের মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছে এই প্রতিবেদনটি। পুলিশের অনুরোধে অনুসন্ধানের দিন-তারিখ গোপন রাখা হলো। কারণ, পুলিশের কোনো অভিযানের সঙ্গে থেকে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়নি। বরং প্রতিবেদন তৈরিতে সাংবাদিককে সহযোগিতার জন্যই পুলিশ সদস্য সঙ্গে ছিলেন। ছিলেন র্যাব-পুলিশের কয়েকজন সোর্সও। শনিবার, রাত দেড়টা। মাণ্ডায় রশিদ মিয়ার তিনতলা বাড়ি। নিচতলার একটি ঘরে বেশ কয়েকবার কড়া নাড়লে ভেতর থেকে দরজা খুলে দেন এক নারী। বয়স ৩০-৩৫ বছরের মতো। চোখে-মুখে রাজ্যের বিরক্তি। কিন্তু পুলিশ দেখে চুপ। ভেতরে ঢুকে দেখা যায়, বাসায় তিনটি ঘর। একটি ঘরে মহিলা তাঁর স্বামীকে নিয়ে ঘুমিয়ে ছিলেন। ঘরে মশারি টানানো খাট, আলনা, ছোট কাঠের আলমারির ওপর ১৪ ইঞ্চি রঙিন টেলিভিশন। মহিলা তাঁর নাম জানালেন আয়েশা আক্তার। তবে এলাকাবাসী তাঁকে হেলালের মা নামে চেনে। ততক্ষণে তাঁর স্বামীও ঘুম থেকে উঠে পুলিশ দেখে বাথরুমের ওপরে মালামাল রাখার জায়গায় গিয়ে লুকিয়ে পড়েছিলেন। তাঁকে সেখান থেকে টেনে নামানো হলো। তাঁর নাম সালাম। নিজেকে রিকশাচালক দাবি করলেও সঙ্গে থাকা পুলিশের সোর্স রফিক জানান, তিনি আসলে ভিক্ষুকদের সরদার। পাশের একটি ঘর বাইরে থেকে তালা দেওয়া। অন্ধকার। ভেতরে কারো চাপা গলার স্বর শুনতে পেয়ে পুলিশের আদেশে তালা খুলে দেন আয়েশা। ভেতরে গিয়ে আলো জ্বেলে দেখা যায়, মেঝেতে বসে আছেন পাঁচজন বৃদ্ধা। কারো বয়সই ৮০ বছরের নিচে হবে না। জীর্ণ শরীরে শতছিন্ন নোংরা পোশাক। ঘরের মধ্যেই মলমূত্র ত্যাগ করায় দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। আয়েশা জানান, এই বৃদ্ধারা তাঁর ভাড়াটে। মাথায় গণ্ডগোল আছে। রাতে পালিয়ে যেতে পারে আশঙ্কায় ঘর বাইরে থেকে তালা মেরে রাখা হয়। বৃদ্ধারা তাঁর স্বামীর নিয়ন্ত্রণে থেকে ভিক্ষা করেন।বৃদ্ধাদের মধ্যে একজন নিজেকে সম্ভবত শাহিদা নামে পরিচয় দিলেন। মুখে দাঁত নেই একটাও। অস্পষ্ট উচ্চারণের কারণে তাঁর কথা বোঝা কঠিন। বয়স ৯০-এর কম হবে না। বৃদ্ধা যা বললেন অনুমান করা যায়, তাঁর বাড়ি কোথায় মনে নেই। শুধু এটুকু মনে আছে, বাড়ি নদীতে ভেঙে গেছে। এখানে তাঁকে দিয়ে ভিক্ষা করানো হয়। কত টাকা পান, জানেন না। তবে তাঁর ধারণা, পরিমাণ কম হবে না। খুব ক্ষুধা লাগে, কিন্তু ঠিকমতো খাবার দেওয়া হয় না। খাবার চাইলে মারধর করা হয়। ছয়-সাত দিন পর গোসল করানো হয়। অসুস্থ হলে ওষুধ দেওয়া হয় না। এই প্রতিবেদকের সঙ্গে থাকা পুলিশের সোর্স রফিক ও আরেক বৃদ্ধা ভিক্ষুক জানান, সুস্থ থাকলে আয় কম হয়, পথচারীরা ভিক্ষা দিতে চায় না। তাই তাঁদের অসুস্থ করে রাখা হয়। খাবার দেওয়া হয় কম। রাতে ঘুমানোর জন্য বিছানা দেওয়া হয় না।এই ভিক্ষুকদের যে বাসায় আটকে রাখা হয়েছে, সেই বাসার ভাড়াটে আয়েশা ও তাঁর স্বামী সালাম এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তাঁদের বেশি খাবার দিলে মল-মূত্র দিয়ে ঘর নোংরা করে ফেলে। তাই কম খাবার দেওয়া হয়। রাত আড়াইটা। পাশের আরেক বাড়ি। এটি বুলু মিয়ার বাড়ি নামে পরিচিত। মেস বা ছাত্রাবাসের মতো সারিবদ্ধ ১২টি ঘর। প্রতিটি ঘর আলাদাভাবে ভাড়া দেওয়া। সবটাতেই ভিক্ষুকরা থাকে। একটি ঘরে পাওয়া যায় ভিক্ষুকদের সরদার হিসেবে পরিচিত মোক্তারকে। মোক্তারের ঘরের বাথরুম বাইরে থেকে সিটকিনি দেওয়া। সেটা খুলতেই সবার চোখ ছানাবড়া। টয়লেটের প্যানে কার্টনের কাগজ বিছিয়ে বিছানার মতো করে তার ওপর হাঁটুতে মাথা গুঁজে বসে আছেন এক অশীতিপর বৃদ্ধা। দেখে বোঝার উপায় নেই, তিনি জেগে আছেন না ঘুমিয়ে আছেন। এত লোকজনের উপস্থিতি টের পেয়েও সাড়া নেই বৃদ্ধার। তাঁর দৃষ্টি আকর্ষণ করে অনেক প্রশ্ন করা হয়। কিন্তু প্রতিটি প্রশ্নের জবাবেই বৃদ্ধা মাথা না তুলে শুধু একটা কথাই বলতে থাকেন, ‘বলব না, বলব না, ওরা মারবে।’ বৃদ্ধা তাঁর নাম-পরিচয় কিছুই বলতে পারেন না।মোক্তার আর তাঁর স্ত্রী জানান, এই বৃদ্ধাকে তাঁরা ২০ হাজার টাকা দিয়ে কিনে এনেছেন। বিক্রেতা তাঁকে পথে কুড়িয়ে পেয়েছিল। এখন বৃদ্ধাকে দিয়ে তাঁরা ভিক্ষা করান। অনুসন্ধান চালানো হয় দুদু মিয়ার গলি ও পাশের পুরনো গলির কমপক্ষে ১৫-১৬টি বাড়িতে। সবখানেই একই চিত্র। সবচেয়ে বেশি ভিক্ষুককে আটকে রাখা হয়েছে গলির বুলু মিয়া, সাজু মিয়া ও সদু মিয়ার বাড়িতে।সদু মিয়ার বাড়িতে গিয়ে কথা হয় ভিক্ষুক সুফিয়া বেগমের সঙ্গে। বয়স ষাটের কাছাকাছি। তাঁর পাশে বসা দুজন_শামসুন্নাহার, বয়স ত্রিশের মতো আর সুলতানা, কিশোরী বয়সী। সুফিয়া জানান, এরা তাঁর মেয়ে। তবে স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, ওরা কেউই বৃদ্ধার সন্তান না। জানা গেল, বাড়ির মালিক সদু মিয়া সাংবাদিক টের পেয়েই পালিয়ে গেছেন। সাজু মিয়ার বাড়ির একটি ঝুপড়িঘরে বিছানায় মৃতের মতো পড়ে থাকতে দেখা যায় এক বৃদ্ধাকে। জানা যায়, তাঁর নাম হামিদা বেগম। বয়স সত্তরের কাছাকাছি। তাঁর পাশে বসা আরেক মহিলা, নাম রহিমা। তাঁর ডান হাতের পাঁচটি আঙুলই কাটা। রহিমা বৃদ্ধাকে মা বলে পরিচয় দিতেই অনুসন্ধানে তা অসত্য প্রমাণিত হয়। জানা যায়, রহিমা নিজেই একজন ভিক্ষুক ব্যবসায়ী। হামিদাকে কিনে এনে তাঁকে দিয়ে ভিক্ষা করান তিনি। এ ব্যাপারে হামিদার সঙ্গে কথা বলতে গেলে রহিমা দৌড়ে পালিয়ে যান। পাঠিয়ে দেন বাড়ির মালিক সাজু-শ্যামলের মাকে। নাম জানতে চাইলে তিনি বললেন, সবাই তাঁকে শ্যামলের মা নামেই চেনে। তিনি বলেন, তাঁর ১০টি ঘর ভিক্ষুকদের ভাড়া দিয়েছেন। এদের কাছ থেকে তুলনামূলক বেশি ভাড়া পাওয়া যায়। ঝামেলা করলে বিদায় করাও সহজ। এই বাড়িতে আরো একটি ভিক্ষুক-পরিবার পাওয়া যায়। বৃদ্ধা সখিনা বিবি ঠিকমতো হাঁটাচলা করতে পারেন না। কথা বলতেও কষ্ট হয়। জানালেন, তাঁকে ঠিকমতো খাবার দেওয়া হয় না। খাবার চাইলে মারধর করা হয়। ক্রমে পঙ্গু হতে চলেছেন। চোখেও কম দেখেন। রানী বেগম (সলুর মা) নামে এক ভিক্ষুক জানালেন, তিনি ভিক্ষা পেশা ছেড়ে দিয়েছেন। এখন ভিক্ষুক কিনে এনে ব্যবসা করেন। তাঁকে সবাই সরদার বলে জানে। এই এলাকায় এ রকম সরদার আছেন ৫০ জনের মতো। তাঁরা ভিক্ষুক কিনে এনে নিজের কাছে আটকে রেখে ভিক্ষা করান। এদের কোনো মাসোহারা দিতে হয় না। শুধু খাবার আর রাতে থাকার জায়গা দিলেই চলে। আবার কিছু ভিক্ষুক তাঁরা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে পরিচালনা করেন কমিশনের ভিত্তিতে। বাড়িভাড়া, দেখভাল করা আর পুলিশ ধরে নিয়ে ভবঘুরে কেন্দ্রে পাঠালে ছাড়িয়ে আনার দায়িত্ব তাঁদের বা সরদারদের। এসব ভিক্ষুকের কাছ থেকে তারা সপ্তাহভিত্তিক টাকা পান। এই টাকাকে তাঁদের ভাষায় ‘সাপ্তা’ বলে। রানী বেগমের কাছ থেকে জানা গেল, মানসিক রোগে আক্রান্ত (বিশেষ করে প্রতিবন্ধী) সারা দেশের পথহারা বৃদ্ধ মহিলা আর শিশু-কিশোরদের ধরে আনার একটি চক্র আছে। এই চক্র ওই বৃদ্ধা ও শিশুদের ধরে এনে তাঁদের কাছে বিক্রি করে। দাম ২০ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত। যে শিশু বা বৃদ্ধা যত বেশি অসুস্থ, তার দাম তত বেশি। কেনার পর তাঁরা এদের নিজের কাছে রেখে ঠিকমতো খাবার বা চিকিৎসা না দিয়ে আরো অসুস্থ করে তোলেন। এভাবে তিন মাস থেকে এক বছর পর্যন্ত তাদের আটকে রাখা হয় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে। এভাবে শিশুদের অনেকে পঙ্গু হয়ে পড়ে। তবে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী কাউকে কেনা হয় না। ঢাকা থেকে সংগ্রহ করা বৃদ্ধা ও শিশুদের চট্টগ্রামে আর চট্টগ্রাম থেকে সংগ্রহ করা শিশু ও মহিলাদের ঢাকায় রাখা হয়। চট্টগ্রামেও এই ভিক্ষুক-ব্যবসায়ীদের একাধিক আস্তানা রয়েছে বলে রানী জানান। রানীর কথার সূত্র ধরে হজরত নামে স্থানীয় এক প্রতিবাদী যুবককে নিয়ে অনুসন্ধান চালানো হয় ওই এলাকায়। রাত সাড়ে ১০টার দিকে দুদু মিয়ার গলির (পুরনো গলি) বুলু মিয়ার বাড়িতেই এক বৃদ্ধাকে পাওয়া যায়। বুলু মিয়ার বাড়িতে ভাড়া থাকেন ভিক্ষুক-ব্যবসায়ী নাসিমা। নাসিমা শুধু সরদারই নন, এই চক্রের নেত্রী হিসেবেও পরিচিত। তাঁর ঘরের মেঝেতে নির্জীব হয়ে পড়ে আছেন এক বৃদ্ধা। শরীরের বিভিন্ন স্থানে নির্যাতনের চিহ্ন। সাংবাদিক দেখেই দৌড়ে গিয়ে ঘরের দরজা বন্ধ করে চিৎকার শুরু করেন নাসিমা। ডেকে আনেন এলাকার কয়েকজন ছিঁচকে সন্ত্রাসী ধরনের যুবককে। তারা এসে বাধা দেয় তথ্য সংগ্রহে। একপর্যায়ে যুবকরা হজরতকে ধরে মারধর শুরু করে। পরে এই প্রতিবেদক স্থানীয় কয়েকজনের সহযোগিতা নিয়ে হজরতকে উদ্ধার করে সেখান থেকে নিয়ে আসেন। হজরত পরে টেলিফোনে এই প্রতিবেদককে জানান, নাসিমা ছেলেধরা চক্রেরও নেত্রী। ওই রাতে মেঝেতে নির্যাতিতা যে বৃদ্ধ মহিলাকে দেখা গেছে, তাঁকে নাসিমা রাস্তা থেকে জোর করে ধরে এনেছে। সাংবাদিকদের সহযোগিতা করায় সোমবার রাতে আবারও নাসিমাসহ ওই সন্ত্রাসীরা বৃদ্ধাকে ধরে নিয়ে একটি ঘরে আটকে রাতভর মারধর করেছে। পুলিশকে জানালে খুন করা হবে বলে হুমকি দিয়ে সকালে তাঁকে ছাড়া হয়। বুলু মিয়ার বাড়ির দুই ঘরের ভাড়াটিয়া প্রতিবন্ধী ভিক্ষুক ফিরোজ মিয়া ও রকিবুল জানান, এখানে সরদারচক্র আছে। যারা নিজেরা চলাচল করতে পারে না, তারাই সরদারের নিয়ন্ত্রণে থাকে। তাঁদের জোর করে আটকে রেখে ভিক্ষা করানো হয়। তবে তাঁরা কোনো সরদারের নিয়ন্ত্রণে নেই বলে ফিরোজ ও রকিবুল জানান। রাজিয়া বেগম নামের এক বৃদ্ধা জানান, তিনি তাঁর নাম-পরিচয়-ঠিকানা কিছুই বলতে পারেন না। তাঁকে সুফিয়া নামে যে মহিলা আটকে রেখে ভিক্ষা করায়, সে তাঁকে রাজিয়া বলেই সবার কাছে পরিচয় দেয়। আর এতেই তিনি ধরে নিয়েছেন, তাঁর নাম রাজিয়া।রাজিয়ার এক পায়ের হাঁটুতে আর মাথার মাঝখানে দগদগে ঘা। মাথায় ক্ষতের চারপাশে চুল কেটে ফেলা হয়েছে, যাতে ঘা আরো স্পষ্ট হয়ে চোখে পড়ে। দেখেই বোঝা যায়, চিকিৎসা হয়নি। ‘চিকিৎসা করাচ্ছেন না কেন’ প্রশ্ন করলে রাজিয়া ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকেন। অনেকবার জিজ্ঞেস করার পর রাজিয়া জানান, তাঁকে ওষুধ দেওয়া দূরে থাক, ঠিকমতো খাবারই দেওয়া হয় না। ব্যথায় ঘুমাতে পারেন না। রাস্তায় বসে যখন ভিক্ষা করেন, তখন মাছি থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য মাথা ও পায়ের ঘা কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখার চেষ্টা করেন। কিন্তু সুফিয়া এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মারধর করে। পথচারীরা ঘা না দেখলে ভিক্ষা দেবে না বলে সুফিয়া তাঁকে জানিয়েছে। শুধু একটু খাবারের জন্যই তিনি সুফিয়ার কথা মেনে চলেন। কেউ জানতে চাইলে বলেন, সুফিয়া তাঁর মেয়ে। সুফিয়া অবশ্য তাঁকে মা বলেই ডাকে।দুদু মিয়ার গলির উল্টোদিকে গ্যারেজ গলিতে একটি তিনতলা ভবনের নিচতলা। নিচতলা না বলে মাটির তলা বলাই ভালো। কারণ, এই নিচতলার ধরনই অনেকটা আন্ডারগ্রাউন্ড ভবনের বেজমেন্ট রুমের মতো। রশিদ মিয়ার ঘরে যাওয়া হয় রাত সাড়ে ৩টার দিকে। বিছানায় চার মাস বয়সের এক শিশু কোলে নিয়ে শুয়ে ছিলেন রশিদ ও তাঁর স্ত্রী। খাটের নিচে পুরনো কার্পেট ও কাপড় চাপা দেওয়া অবস্থায় ঘুমন্ত পাওয়া গেল পাঁচ-ছয় বছরের দুই শিশুকে। রশিদ জানান, শিশু দুটি তাঁরই সন্তান। ‘সন্তান হলে ওদের এভাবে খাটের তলায় কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে কেন’ জানতে চাইলে রশিদ জানান, খাটে জায়গা না হওয়ায় ওদের নিচে শুতে দেওয়া হয়েছে। আর কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে মশা ও ইঁদুরের হাত থেকে রক্ষা করতে।এই ভিক্ষুক ব্যবসায়ীচক্রকে ঘিরে এলাকায় গড়ে উঠেছে একাধিক অপরাধচক্র। এ ধরনের কয়েকটি চক্রের দলনেতা হচ্ছেন দানব, ইয়ারু, নিয়ামত, সোহেল, জসিম, হায়দার, ভুট্টো, সুরুজ ও মাসুম। এঁদের কয়েকজন এলাকায় রিকশা গ্যারেজ মালিক হিসেবে পরিচিত। সোহেল, ভুট্টো ও হায়দার জানান, তাঁরা কোনো দল বা চক্রের নেতা নন। তাঁদের রিকশায় করে এখান থেকে পঙ্গু ভিক্ষুকদের প্রতিদিন ভোরে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় পেঁৗছে দেওয়া হয় এবং রাতে আবার নিয়ে আসা হয়। এর জন্য তাঁরা স্বাভাবিকের চেয়ে কিছু বেশি ভাড়া পান। এর বাইরে এই ভিক্ষুক বা এদের নেতাদের সঙ্গে তাঁদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। হেলপ ফর হিউম্যান নামে একটি বেসরকারি সংগঠন গত ফেব্রুয়ারি মাসে এই এলাকার ভিক্ষুকদের নিয়ে একটি জরিপ চালায়। সংস্থার নির্বাহী পরিচালক অ্যাডভোকেট নিগার সুলতানা জানান, মাণ্ডা এলাকায় ভিক্ষুকের সংখ্যা এক হাজারেরও বেশি। এরা মাঝেমধ্যে বাসা পরিবর্তন করলেও মাণ্ডা এলাকাতেই থাকে। এখানে এদের কমপক্ষে ৩০ জন দলনেতা বা নেত্রী আছেন, যাঁরা সরদার নামে পরিচিত। বস্তি, স্টেশন বা রাস্তাঘাট থেকে অসহায় বৃদ্ধা আর শিশুদের প্রলোভন দেখিয়ে বা জোর করে ধরে এনে তাদের দিয়ে ভিক্ষা করানো হচ্ছে। এটা এক ধরনের ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। চিকিৎসা না দিয়ে, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে অনাহারে রেখে কৌশলে এদের পঙ্গু বানানো হচ্ছে। তবে অবাক করার বিষয়, কারো বিরুদ্ধেই এদের কোনো অভিযোগ নেই। জোর করে ধরে আনার কথা এরা কেউ স্বীকারও করতে চায় না। এ ব্যাপারে পুলিশের আইজি হাসান মাহমুদ খন্দকার বলেন, ভিক্ষাবৃত্তি এমনিতেই আইনে নিষিদ্ধ। এর পরও মানবিক নানা কারণে অনেক সময় ভিক্ষুকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়ে ওঠে না। তবে কাউকে জোর করে আটকে রেখে ভিক্ষাবৃত্তিতে ব্যবহার করা বড় অপরাধ। মাণ্ডাসহ রাজধানীর অনেক এলাকাতেই ভিক্ষুকদের বসবাস আছে। তবে কারো বিরুদ্ধে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ না পাওয়ায় স্থানীয় থানা পুলিশের পক্ষে আইনগত ব্যবস্থাও নেওয়া সম্ভব হয়ে ওঠে না। তবে পুলিশ গোপনে খোঁজখবর নেওয়া শুরু করেছে বলে তিনি জানান।
কি বাংলাদেশ, আর কি ব্যাংকক ইংল্যান্ড- আমেরিকা। সারাবিশ্বেই ভিখারিদের এক অবস্থা। কখনো কি মনে প্রশ্ন জেগেছে, ভিক্ষুকের কোলের বাচ্চাটি সবসময় ঘুমিয়ে থাকে কেন?এর পিছনে রয়েছে, বীভৎস এক করুণ কাহিনী। এই চিত্র শুধুমাত্র কোনো একটি দেশের নয়। পৃথিবীর প্রায় সব দেশের কাহিনী প্রায় একইরকম । কিন্তু…………
রাস্তায় চলার পথে বা জ্যামে গাড়িতে বসে থাকার সময় অনেক ধরনের ভিক্ষুক দেখতে পান নিশ্চয়। শিশু থেকে বৃদ্ধ সব বয়সের ভিক্ষুকদের দেখতে পাবেন। তবে একটি ব্যাপার কি লক্ষ্য করেছেন? বিশ্বজুড়ে যেখানেই আপনি ভিক্ষুকের কোলে ছোট কোনো বাচ্চা দেখতে পাবেন, খেয়াল করলেই দেখবেন বাচ্চাটি ঘুমিয়ে আছে। কী বাংলাদেশ, আর কী ব্যাংকক, আমেরিকা। সারাবিশ্বেই ভিখারিদের এক অবস্থা। কখনো কি মনে প্রশ্ন জেগেছে, ভিক্ষুকের কোলের বাচ্চাটি সবসময় ঘুমিয়ে থাকে কেন? এর পিছনে রয়েছে, বীভৎস এক করুণ কাহিনী। এই চিত্র শুধুমাত্র কোনো একটি দেশের নয়। পৃথিবীর প্রায় সব দেশের কাহিনী প্রায় একইরকম।
রাস্তার মোড়ে মোড়ে থাকা প্রায় প্রতিটি ভিক্ষুককেই পরিচালনা করে সুসংগঠিত সন্ত্রাসী মাফিয়া বাহিনী। যারা ভিক্ষুকদের পিছনে কাজ করে। এই মাফিয়া গ্রুপগুলো সব ভিক্ষুকদেরকে নিজেদের জিম্মায় রাখে। প্রতিদিন সকালে নিজেদের দায়িত্বে রাস্তার মোড়ে মোড়ে এনে বসিয়ে দিয়ে যায়। আবার সন্ধ্যা হলে নিজেদের দায়িত্বেই তাদেরকে আখড়ায় ফিরিয়ে নেয়। এরপর ভিক্ষুকের সারাদিনের যা ‘আয়’ তার সবটুকুই চলে যায় ওই মাফিয়া গ্রুপের হাতে। ভিক্ষুকের কপালে জোটে শুধু এক বেলার খাবার।
খেয়াল করবেন, রাস্তার পাশে ছোট শিশু নিয়ে যারা ভিক্ষা করছে তাদের অধিকাংশেরই কোলে থাকা শিশুটি ঘুমে বিভোর। কোলে নেয়া মহিলাটির ভাঁজ করা পায়ে নাকমুখ গুঁজে চুপচাপ ঘুমাচ্ছে শিশুটি। আর রাস্তা দিয়ে চলাচলকারী পথচারীরা তাদেরকে টাকা দিয়ে সাহায্য করে যাচ্ছেন।
একটি শিশু সারাদিন চুপচাপ ঘুমিয়ে কাটায় কীভাবে? তাও আবার ব্যস্ত সড়কের পাশে হাজারো গাড়ির হর্ন এবং নানা রকম শব্দের মাঝে? এখানেই রয়েছে চমকে যাওয়ার মতো উত্তর। প্রতিদিন ভিক্ষা করতে আসার আগে কোলের ওই শিশুটিকে নেশাদ্রব্য খাইয়ে ঘুম পাড়ানো হয়। তারপর সারাদিন ধরে নির্বিঘ্নে ভিক্ষাবৃত্তি চলে।
এভাবে দিনের পর দিন নেশাদ্রব্য খাওয়ানোর ফলে কিছুদিন পরেই ওই শিশুটি মৃত্যুর মুখে ঢলে পড়ে। তারপর ওই শিশুটির স্থান দখল করে নেয় অন্য কোনো শিশু। ফলে আরো একটু ভালো করে খেয়াল করলে দেখবেন, কিছুদিন পরপরই তাদের কোলের শিশুটি বদলে যাচ্ছে। নতুন নতুন শিশু কোলে নিয়ে দিনের পর দিন একইভাবে চলছে ভিক্ষাবৃত্তি।
এখন নিশ্চয় মনে প্রশ্ন জাগছে, এরা এতো এতো শিশু পাচ্ছে কোথা থেকে? কীভাবেই বা ওই মাফিয়া গ্রুপগুলোর হাতে আসছে বাচ্চাগুলো? এদের অধিকাংশই চুরি করা শিশু অথবা টাকার অভাবে থাকা মাদকসেবী পরিবারের কাছ থেকে ভাড়া নেয়া।
দেশের প্রথম সারির দৈনিক প্রথম আলোতে এমন একটি ঘটনা উঠে এসেছিল। ৩০-১২-২০১০ তারিখে ‘শিশুদের পঙ্গু করে নামানো হচ্ছে ভিক্ষায়’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন ছাপায় পত্রিকাটি।
রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরে একটি প্রভাবশালী চক্র বিভিন্ন জায়গা থেকে শিশুদের ধরে নিয়ে গিয়ে পঙ্গু বা অচল করে দেয়। তারপর তাদেরকে ভিক্ষাবৃত্তিতে ভাড়া দেয়।
প্রতিবেদনে জানানো হয়, একটি অ্যালুমিনিয়ামের পাতিলের ভেতর টানা ছয় মাস আট-নয় বছরের এক শিশুকে জড়সড় করে আটকে রাখা হয়। সারাদিনে শুধু একবার সামান্য ভাত অথবা রুটি-পানি দেয়া হতো তাকে। এইভাবে দিনের পর দিন একটি পাতিলের ভিতর থাকতে থাকতে শিশুটি কঙ্কালসার হয়ে পড়ে। এরপর তাকে ভিক্ষাবৃত্তিতে ভাড়া দেয়া হয়।
এছাড়া অনেক শিশুকেই ধরে এনে কব্জি, পায়ের রগ, পুরুষাঙ্গ কেটে দিয়ে অথবা বুকে, ঘাড়ে, মাথায় আঘাত করে অচল বানিয়ে দেয়া হতো। তারপর তাকে দিয়ে চলতো ভিক্ষার ব্যবসা। সারা বিশ্বেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ এড়িয়ে অথবা তাদের সঙ্গে যোগসাজশ রেখেই এসব ব্যবসা চলে। তাই এদেরকে সামাজিকভাবে মোকাবেলা করতে হবে।
এখন থেকে কোলে শিশু নিয়ে থাকা কোনো ভিক্ষুককেই আর কখনো টাকা-পয়সা দান করবেন না। খাবার, পানি দিতে পারেন, কিন্তু টাকা-পয়সা কখনোই নয়। আপনার এই অভ্যাসে হয়তো বেঁচে যাবে কোনো একটি শিশুর প্রাণ।
আট-নয় বছরের এক শিশুকে জড়সড় করে আটকে রাখা হয়েছিল অ্যালুমিনিয়ামের পাতিলের ভেতর। টানা ছয় মাস। খাবার বলতে দিনে একবার সামান্য ভাত অথবা রুটি আর পানি। এতে দিনে দিনে শিশুটি হয়ে পড়ে কঙ্কালসার। এরপর তাকে ভাড়া দেওয়া হয় ভিক্ষাবৃত্তিতে।শিশুদের নিয়ে এমন ঘৃণ্য ব্যবসা জমিয়ে তুলছে একটি সন্ত্রাসী চক্র। তারা শুধু শিশুদের পাতিলের ভেতরই রাখছে না, কারও হাত কেটে দিচ্ছে, কারও পায়ের রগ কেটে পঙ্গু করছে। র্যাব কর্মকর্তারা গতকাল বুধবার এক বিশেষ অভিযান চালিয়ে এ চক্রের সদস্য শরিফুল ইসলাম ওরফে কোরবানকে গ্রেপ্তার করেন। গ্রেপ্তারের পর সাংবাদিকদের সামনে এসব অপকর্মের কথা স্বীকার করেন কোরবান।র্যাব কর্মকর্তারা জানান, পথেঘাটে এমন কঙ্কালসার শিশু দেখে হূদয়বান মানুষ সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিচ্ছেন, সাহায্য করছেন। কিন্তু তাঁরা জানেন না, সে অর্থ চলে যাচ্ছে সন্ত্রাসী চক্রের হাতে। ভয়ংকর এ সন্ত্রাসী চক্রের আস্তানাটি গড়ে উঠেছে রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরের আশ্রাফাবাদে।শিশুদের নিয়ে ব্যবসা ফাঁদার এই নিষ্ঠুর ও ঘৃণ্য চক্রের সঙ্গে জড়িত এক সদস্যকে গ্রেপ্তারের খবর জানাতে গতকাল দুপুরে নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে র্যাব। সংবাদ সম্মেলনে এ চক্রের সর্বশেষ শিকার শিশু নিয়ামুল ও তার দরিদ্র মাকে হাজির করা হয়। শিশুটি তার ওপর নির্যাতনের ভয়াবহ বিবরণ দেয়।সংবাদ সম্মেলনে র্যাবের আইন ও জনসংযোগ শাখার পরিচালক কমান্ডার এম সোহায়েল বলেন, একটি বেসরকারি টেলিভিশনের এক অনুষ্ঠানের সূত্র ধরে তাঁরা এ চক্রের সন্ধান পান। বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান এলিনা খান ও ব্ল্যাক ট্রুথ প্রডাকশনস সেন্টারের পরিচালক অভিনেত্রী রোকেয়া প্রাচী ওই অনুষ্ঠানের আয়োজক ছিলেন। তাঁরা অনুষ্ঠান করতে গিয়ে এ চক্রের হদিস পান। তাঁদের অনুষ্ঠানে ওই চক্রের হোতারা তাদের কর্মকাণ্ড তুলে ধরে। এরপর তথ্য-প্রমাণসহ অনুষ্ঠানের আয়োজকেরা বিষয়টি র্যাবকে জানান। গতকাল রাজধানীর উত্তরা এলাকার ১২ নম্বর সেক্টর থেকে কোরবানকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। সংবাদ সম্মেলনে টিভি অনুষ্ঠানের দুই আয়োজকও উপস্থিত ছিলেন।র্যাবের পরিচালক বলেন, কামরাঙ্গীরচরের এ চক্রের মূল হোতা ওমর ফারুক নামের এক সন্ত্রাসী। কামরাঙ্গীচরের আশ্রাফাবাদে তাঁর একটি ক্লাবঘর আছে। সেখানেই এসব অপকর্ম চলে। ওমর ফারুকের সঙ্গে আছে সালাউদ্দিন, এমরান, রাসেল, রনি, সাদ্দাম, কাওসারসহ কয়েকজন। এরা ওমর ফারুকের নির্দেশে ছিনতাই করে। আর পথে পথে ঘুরে বেড়ানো শিশুদের দেখলেই তাদের ধরে নিয়ে যায়। এরপর সেই শিশুকে ভিক্ষাবৃত্তির ‘উপযোগী’ করতে পঙ্গু করা হয়।র্যাব পরিচালক জানান, গ্রেপ্তার হওয়া কোরবান স্বীকার করেন যে চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের কাজ করে আসছে। এর মধ্যে ২০০৪ সালে শরীফ নামের এক বালককে তারা কামরাঙ্গীরচরের বেড়িবাঁধে নিয়ে হাতের কবজি কেটে পঙ্গু করে দেয়। এরপর তাকে দিয়ে ভিক্ষা করানো হয়। শরীফের বাড়ি কোথায়, তা তারা জানে না। তবে সে খুলনার আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলত। ২০০৬ সালে রাহাত নামের আরেক শিশুকে তারা পায়ের রগ কেটে দেয়। রাহাতের বাড়ি যশোরে। ২০০৮ সালে অজ্ঞাতনামা একটি শিশুকে তারা ছয় মাস একটি পাতিলের মধ্যে আটকে রাখে। পরে তাকে বিকলাঙ্গ করে ভিক্ষায় ভাড়া দেওয়া হয়। কোরবান জানান, এ চক্রের সর্বশেষ শিকার ছিল নিয়ামুল। দরিদ্র রিকশাচালক উমেদ আলীর ছেলে নিয়ামুলকে তারা এ বছরের ৬ সেপ্টেম্বর অপহরণ করে। এরপর ব্লেড দিয়ে তার পুরুষাঙ্গ কেটে ফেলে, গলা ও বুকে ছুরি দিয়ে আঘাত করে। কিন্তু একপর্যায়ে শিশুটি মারা গেছে বলে মনে করে তারা তাকে ফেলে দিয়ে চলে যায়।সংবাদ সম্মেলনে ব্ল্যাক ট্রুথ প্রডাকশনস সেন্টারের পরিচালক অভিনেত্রী রোকেয়া প্রাচী বলেন, টিভি অনুষ্ঠান করতে গিয়ে তাঁরা শিশুটির এ ভয়ংকর ঘটনার হদিস পান। তাঁরা জানতে পারেন, আহত শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে খবর পেয়ে চক্রের সদস্যরা নিজেরাই আসামি ও বাদী সেজে কামরাঙ্গীরচর থানায় একটি সাজানো মামলা করে। পরে নিজেরা আপস করেছে বলে সেই মামলা তুলে নেয়। কিন্তু শিশু নিয়ামুল হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর তার বাবা উমেদ আলী এ নিয়ে মামলা করতে গেলে থানা আর মামলা নেয়নি। পরে তাঁরা আদালতে যান। তিনি বলেন, ঘটনার এখানেই শেষ নয়। সন্ত্রাসী চক্রের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করার পর সন্ত্রাসীরা আরেকটি সাজানো মামলা করে শিশুটির পিতা ও তাঁর মামলার সাক্ষীদের আসামি করে। এ মামলায় তারা অভিযোগ করে, র্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া কোরবানকে অপহরণ করা হয়েছে। রাজধানীর কদমতলী থানার পুলিশ সেই মামলায় দুজনকে গ্রেপ্তারও করে। শিশুটির বাবা এখন এই সাজানো মামলার আসামি।হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান এলিনা খান অভিযোগ করেন, এ চক্রের সঙ্গে কদমতলী ও কামরাঙ্গীরচর থানার পুলিশের সখ্য আছে। তারা প্রকৃত নির্যাতনকারীর মামলা না নিলেও সাজানো মামলা নিয়ে আসামি গ্রেপ্তার করেছে। তাদের সঙ্গে বারবার যোগাযোগ করে আসামি ধরতে অনুরোধ করা হলেও তারা সহযোগিতা করেনি।গ্রেপ্তার হওয়া কোরবান সাংবাদিকদের জানান, এ সন্ত্রাসী চক্রের সদস্য আট-নয়জন। তাদের নেতা ওমর ফারুক। সবকিছু হয় তাঁরই নিয়ন্ত্রণে। দলের সবাই তাঁর কথামতো সবকিছু করে। কামরাঙ্গীরচরের আশ্রাফাবাদ নতুন গলিতে স্কুলের ডান পাশে ওমর ফারুকের ক্লাবঘর। ওমর ফারুক এলাকায় ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের কর্মী হিসেবে পরিচিত। তিনি দিনের বেলায় ঘুমান। সন্ধ্যার পর ক্লাবে এসে এলাকার বিচার-সালিসের নামে চাঁদাবাজি করেন। আর রাতের কারবারের হিসাবনিকাশ নেন। ভোরবেলা ঘুমাতে যান। কত শিশুকে নির্যাতন করে ভিক্ষাবৃত্তিতে নামানো হয়েছে, তার সঠিক হিসাব তিনি জানেন না। তবে সংবাদ সম্মেলনে ‘কয়েকটি ঘটনা মনে পড়ছে’ বলে উল্লিখিত ঘটনাগুলোর বিবরণ দেন।
এটি পবিত্র কুরআনের ৪৭ তম সূরা, এর আয়াত অর্থাৎ বাক্য সংখ্যা ৩৮ এবং এর রূকু তথা অনুচ্ছেদ সংখ্যা ৪। সূরা মুহাম্মদ মদীনায় অবতীর্ণ হয়েছে। #নামকরণঃ এই সূরাটির ২ নং আয়াতের وَآمَنُوا بِمَا نُزِّلَ عَلَى مُحَمَّدٍ বাক্যাংশ থেকে مُحَمَّدٍ অংশটি অনুসারে এই সূরার নামটি গৃহীত হয়েছে; অর্থাৎ, যে সূরার মধ্যে محمد (‘মুহাম্মদ’) শব্দটি আছে এটি সেই সূরা।তাছাড়া সূরাটির অপর একটি নাম ‘কিতাল’। ২০ নম্বর আয়াতে উল্লেখিত শব্দ হতে এই নামটি নেয়া হয়। তাছাড়া সূরাটিতে মোটামুটিভাবে ‘কিতাল’ সম্পর্কিত বিস্তারিত আলোচনা এসেছে। #নাযিল_হওয়ার_সময়_ও_স্থানঃসূরার বিষয়বস্তু সাক্ষ দেয় যে, সূরাটি হিজরতের পরে এমন এক সময় মদীনায় নাযিল হয়েছিল যখন যুদ্ধ করার নির্দেশ হয়েছিল বটে কিছু কার্যত যুদ্ধ তখনও শুরু হয়নি ।যে সময় এ সূরাটি নাযিল হয়েছিল সে সময়ের পরিস্থিতি ছিল এই যে, বিশেষ করে পবিত্র মক্কা নগরীতে এবং সাধারণভাবে গোটা আরব ভূমির সর্বত্র #মুসলমানদেরকে_জুলুম_নির্যাতনের_লক্ষ্যস্থল_বানানো_হচ্ছিলো এবং তাদের জীবন অত্যন্ত দূর্বিসহ করে দেয়া হয়েছিলো। মুসলমানগণ সমস্ত অঞ্চল থেকে এসে মদীনার নিরাপদ আশ্রয়ে জড়ো হয়েছিল। কিন্তু কুরাইশ গোত্রের কাফেররা এখানেও তাদেরকে শান্তিতে থাকতে দিতে প্রস্তুত ছিল না। মদীনার ক্ষুদ্র জনপদটি চারদিক থেকেই কাফেরদের দ্বারা অবরুদ্ধ হয়েছিল। তারা এটিকে নিশ্চিহ্ন করে ফেলার জন্য বদ্ধপরিকর ছিল। এ পরিস্থিতিতে মুসলমানদের জন্য মাত্র দুটি পথই খোলা ছিল। হয় তারা দ্বীনে হকের দাওয়াত ও তাবলীগের কাজই শুধু নয় বরং আনুগত্য ও অনুসরণ পরিত্যাগ করে জাহেলিয়াতের কাছে আত্মসমর্পণ করবে। নয়তো জীবন বাজি রেখে প্রাণপণে লড়াই করবে এবং চিরদিনের জন্য এ বিষয়ের ফায়সালা করে দেবে যে, আরবের মাটিতে ইসলাম থাকবে না জাহেলিয়াত থাকবে। এ ক্ষেত্রে আল্লাহ তা’আলা মুসলমানদেরকে দৃঢ় সংকল্পের পথ দেখিয়েছেন যেটি ঈমানদারদের একমাত্র পথ। তিনি সূরা হজ্জে (আয়াত ৩৯) প্রথমে তাদেরকে যুদ্ধের অনুমতি দিয়েছেন এবং পরে সূরা বাকারায় (আয়াত ১৯০) যুদ্ধের নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু সে সময় সবাই জানতো যে, এ পরিস্থিতিতে যুদ্ধের অর্থ কী? মদীনায় ঈমানদারদের একটা ক্ষুদ্র দল ছিল যার যুদ্ধ করার মত পুরো এক হাজার যোদ্ধা সংগ্রহ করার সামর্থও ছিল না। অথচ তাদেরকেই তরবারি নিয়ে সমগ্র আরবের জাহেলিয়াতের সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হওয়ার জন্য বলা হচ্ছে। তাছাড়া যে জনপদে আশ্রয়হীন ও সহায় সম্বলহীন শত শত মুহাজির এখনো পুরোপুরি পুনর্বাসিত হতে পারেনি, আরবের অধিবাসীরা চারদিক থেকে আর্থিক বয়কটের মাধ্যমে যার মেরুদণ্ড ভেঙ্গে দিয়েছিল এবং অভুক্ত থেকে যুদ্ধের প্রয়োজনীয় সাজ-সরঞ্জাম সংগ্রহ করাও যার পক্ষে কঠিন ছিল এখন তাকেই লড়াই করার নির্দেশ দেয়া হচ্ছে। #শান_এ_নযূলঃএহেন পরিস্থিতিতে সূরাটি নাযিল করা হয়েছিল । ঈমানদারদেরকে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত করা । এবং এ বিষয়ে প্রাথমিক পথনির্দেশনা দেয়াই এর আলোচ্য ও বক্তব্য । এ দিকটি বিচার করে এর নাম “সূরা কিতাল”ও রাখা হয়েছে । এতে ধারাবাহিকভাবে নিম্নোক্ত বিষয়বস্তু উল্লেখ করা হয়েছে ।#প্রথম’ই বলা হয়েছে যে, এখন দুটি দলের মধ্যে মোকাবিলা হচ্ছে । এ দুটি দলের মধ্যে একটি দলের অবস্থান এই যে, তারা সত্যকে মেনে নিতে অস্বীকার করেছে এবং আল্লাহর পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে । কিন্তু অপর দলটির অবস্থান হলো, আল্লাহ তা’আলার পক্ষ থকে তাঁর বান্দা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর যে সত্য নাযিল হয়েছিল তা তারা মেনে নিয়েছে । এখণ আল্লাহ তা’আলার সুস্পষ্ট সিদ্ধান্ত হলো, প্রথমোক্ত দলটির সমস্ত চেষ্টা-সাধনা ও কাজ-কর্ম তিনি নিষ্ফল করে দিয়েছেন এবং শেষোক্ত দলটির অবস্থা সংশোধন করে দিয়েছেন ।#দ্বিতীয়ত মুসলমানদের সামরিক বিষয়ে প্রাথমিক নির্দেশনা দেয়া হয়েছে । তাদেরকে আল্লাহর সাহায্য ও দিকনির্দেশনার নিশ্চয়তা দেয়া হয়েছে । আল্লাহর পথে কুরবানী পেশ করার জন্য তাদেরকে সর্বোত্তম প্রতিদানের আশ্বাস দেয়া হয়েছে । তাদের এ বলে সান্ত্বনা দেয়া হয়েছে যে, ন্যায় ও সত্যের পথে তাদের প্রচেষ্টা বৃথা যাবে না । বরং দুনিয়া ও আখেরাত উভয় জায়গাতেই তারা ক্রমান্বয়ে এর অধিক ভাল ফল লাভ করবে ।#তৃতীয়তঃ কাফেরদের সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, তারা আল্লাহর সাহায্য ও দিকনির্দেশনা থেকে বঞ্চিত । ঈমানদারদের বিরুদ্ধে তাদের কোন প্রচেষ্টাই কার্যকর হবে না । তারা দুনিয়া ও আখেরাত উভয় ক্ষেত্রেই অত্যন্ত খারাপ পরিণামের সুম্মুখীন হবে । তারা আল্লাহর নবীকে মক্কা থেকে বের করে দিয়ে মনে করেছিলো, যে, তারা বড় রকমের সফলতা লাভ করেছে । অথচ এ কাজ করে তারা প্রকৃতপক্ষে নিজেরা নিজেদের জন্য বড় রকমের ধ্বংস ডেকে এনেছে ।#চতুর্থত #মুনাফিকদের উদ্দেশ্য করে কথা বলা হয়েছে । যুদ্ধের নির্দেশ আসার পূর্বে এসব মুনাফিক নিজেদেরকে বড় মুসলমান বলে জাহির করতো । কিন্তু এ নির্দেশ আসার পরে তারা ঘাবড়ে গিয়ে নিজেদের নিরাপত্তা ও কল্যাণ চিন্তায় কাফেরদের সাথে ষড়যন্ত্র করতে শুরু করেছিল যাতে তারা নিজেদেরকে যুদ্ধের বিপদ থেকে রক্ষা করতে পারে । তাদেরকে স্পষ্টভাবে সাবধান করে দেয়া হয়েছে যে, যারা আল্লাহ এবং তাঁর দীনের সাথে মুনাফিকীর আচরণ করে তাদেরকে কোন আমলই আল্লাহর কাছে গৃহীত হয় না । এখানে যে মৌলিক প্রশ্নে ঈমানের দাবীদার প্রতিটি ব্যক্তির পরীক্ষা হচ্ছে তা হলো, সে ন্যায় ও সত্যের সাথে আছে না বাতিলের সাথে আছে? তার সমবেদনা ও সহানুভূতি মুসলমান ও ইসলামের প্রতি না কাফের ও কুফরীর প্রতি । সে নিজের ব্যক্তি সত্তা ও স্বার্থকেই বেশি ভালবাসে না কি যে ন্যায় ও সত্যের প্রতি ঈমান আনার দাবী সে করে তাকেই বেশি ভালবাসে?এ পরীক্ষায় যে ব্যক্তি মেকী প্রমাণিত হবে আল্লাহর কাছে তার নামায, রোযা এবং যাকাত কোন প্রতিদান লাভের উপযুক্ত বিবেচিত হওয়া তো দূরের কথা সে আদৌ ঈমানদারই নয় । #পঞ্চমত মুসলমানদের উপদেশ দেয়া হয়েছে যে, তারা যেন নিজেদের সংখ্যাল্পতা ও সহায় সম্বলহীনতা এবং কাফেরদের সংখ্যাধিক্য ও সহায় সম্বলের প্রাচুর্য দেখে সাহস না হারায় এবং তাদের সাছে সন্ধির প্রস্তাব দিয়ে নিজেদের দুর্বলতা প্রকাশ না করে । এতে ইসলাম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে তাদের দুঃসাহস আরো বেড়ে যাবে । বরং তারা যেন আল্লাহর ওপর নির্ভর করে বাতিলকে রুখে দাঁড়ায় এবং কুফরের এ অগ্রাসী শক্তির সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হয় । আল্লাহ মুসলমানদের সাথে আছেন । তারাই বিজয়ী হবে এবং তাদের সাথে সংঘাতে কুফরী শক্তি চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যাবে ।#ষষ্টতঃ সর্বশেষে মুসলমানদেরকে আল্লাহর পথে অর্থ ব্যয় করার আহবান জানানো হয়েছে । যদিও সে সময় মুসলমানদের আর্থিক অবস্থা অত্যন্ত নাজুক ছিল । কিন্তু সামনে প্রশ্ন ছিল এই যে, আরবে ইসলাম এবং মুসলমানরা টিকে থাকবে কি থাকবে না । এ প্রশ্নের গুরুত্ব ও নাজুকতার দাবী ছিল এই যে, মুসলমানরা নিজেদেরকে এবং নিজেদের দীনকে কুফরের আধিপত্যের হাত থেকে রক্ষা করার এবং আল্লাহর দীনের বিজয়ী করার জন্য তাদের জীবন কুরবানী করবে এবং যুদ্ধ প্রস্তুতিতে নিজেদের সমস্ত সহায় সম্পদ যথা সম্ভব অকৃপণভাবে কাজে লাগাবে । সুতরাং মুসলমানদের উদ্দেশ্য করে বলা হয়েছে যে, এ মুহুর্তে যে ব্যক্তি কৃপণতা দেখাবে সে প্রকৃতপক্ষে আল্লাহর কোন ক্ষতিই করতে পারবে না , বরং নিজেদের ধ্বংসের মধ্যে নিক্ষেপ করবে । আল্লাহ মানুষের মুখাপেক্ষী নন । কোন একটি দল বা গোষ্ঠী যদি তার দীনের জন্য কুরবানী পেশ করতে টালবাহানা করে তাহলে আল্লাহ তাদের অপসারণ করে অপর কোন দল বা গোষ্ঠীকে তাদের স্থলাভিষিক্ত করবেন । তথ্যসূত্রঃ ডিজিটাল আল কোরআন, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ/বাংলা উইকিপিডিয়া
আমরা যখন দেখি জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহার করে একজন জনসংখ্যা কমলো! বিধর্মীরা তখন দেখে দেশে একজন ঈমানদার কমলো! . আমরা যখন দেখি সমিতির টাকায় পাশের বাড়ির শিরিন আন্টি স্বাবলম্বী হচ্ছে; ওরা তখন দেখে শিরিন আন্টি আল্লাহর দেয়া সুদের বিধান অমান্য করছে! . আমরা যখন দেখি সহশিক্ষার মাধ্যমে নারীরা সমান তালে চলছে; ওরা দেখে দলে দলে জাহান্নামী হওয়ার দৃশ্য! . গ্রামের কঁচিকাঁচাগুলো কিন্ডার গার্টেনে ইংরেজী শিখছে দেখে আমরা যখন খুশি হই; ওরা তখন কুরআন শিখা থেকে বঞ্চিত হওয়ার দৃশ্য দেখে মিটমিটিয়ে হাসে! . দেশের ছেলের স্কলারশিপে বিদেশ যাওয়াকে যখন আমরা দেশের সুনাম ভাবি; একজন ব্রিলিয়ান্ট ছিনিয়ে নেয়ার খুশিতে ওরা তখন হাততালি দেয়! . আমরা যখন দেখি আমাদের ছেলে-মেয়েরা উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হচ্ছে; ওরা তখন দেখে আমরা ইসলামী শিক্ষা হতে দূরে সরে যাচ্ছি! . আমরা যখন দেখি অনলাইন থেকে কুরআন-হাদীস আর ইসলাম শিখছি; ওরা তখন দেখে দশ কেজি দুধে এক ফোটা নাপাকীর শক্তি! . আমাদের নারীদের ক্ষমতায় আমরা যখন গর্ববোধ করি; তখন ওরা আমাদের পুরুষদের কাপুরুষত্ব ফিল করে! . আমরা দেখি রাত ১২টার পর থেকে নেট খরচ কম; ওরা দেখে ছেলের ফজরটা মাইর গেলো! . আমরা দেখি ওরা ডেটা বান্ডিল সস্তায় বিক্রি করছে; আর ওরা দেখে অল্পদামে মূল্যবান সময় বিক্রি করছি আমরা! . আমরা অবুঝ; ওদের রাজনীতির “র” ও বুঝলাম না এখনো।
আমরা আজ দুনিয়া পেয়ে মগ্ন। অথচ দুনিয়া থেকে আখেরাত উত্তম। কবে বুঝবো আমরা, এই দুনিয়া ধোকা ছাড়া কিছুই নাহ। হে আল্লাহ সবাই কে বুঝার ক্ষমতা দাও
এখন”জীবনের শেষ বয়সে আজ আমি সন্তানদের থেকে বিতাড়িত। নিঃস্ব স্বজনহীন একাকী জীবনে বৃদ্ধাশ্রমই আমার ঠিকানা। এসবের জন্য আমিই দায়ী। কারণ জীবনে আমি আমার বাবা-মার সাথে যা আচরণ করেছি এখন শেষ বয়সে আমার সন্তানদের কাছে থেকে তার বদলা পাচ্ছি।নয়তো এমন হওয়ার কথা নয়। শেষ জীবনে আমার সন্তানদের কাছ থেকে অবহেলা, অবজ্ঞা সর্বশেষ ঘরছাড়া হয়ে আজ আমি তা উপলব্ধি করতে পেরেছি’। জীবনের বাস্তব উপলব্দি থেকে এমনটাই বলছিলেন বৃদ্ধাশ্রমে থাকা ৭০ বছরের এক প্রবীণ।জীবনের ফেলে আসা স্মৃতি মনে করে বুক চেপে ধরে হাউমাউ করে তিনি কাঁদছিলেন। বললেন, ‘কথাগুলো কারো কাছে কোনোদিন বলিনি। কিন্তু এখন আর পারছি না। অন্তত তোমাদের শিক্ষার জন্য আজ বলব।শোন, আমার এমন পরিণতির জন্য আমিই দায়ী। সবই আমার দোষ। জীবনে আমি যদি আমার বাবা-মায়ের সাথে ভালো আচরণ করতাম তবে আজ হয়তো আমাকে স্বজনবিহীন হয়ে বৃদ্ধাশ্রমে আসতে হতো না। সন্তানদের কাছে অপমাণিত হতে হতো না।সবই আমার কপাল। সবই আমার কর্মের ফল। যা আজ আমার সন্তানদের কাছ থেকে আমি ফেরত পাচ্ছি’। এরপর একটু শান্ত হয়ে বললেন, ‘এখন যদি বাবা-মা বেঁচে থাকতেন তবে তাদের পায়ে পড়ে ক্ষমা চেয়ে নিতাম। তাতে অন্তত আমার অন্তরের জ¦ালা কিছুটা হলেও কমত। কিন্ত তা তো আর সম্ভব না। আমি বুঝতে পারছি এভাবেই মানসিক যন্ত্রণার পুড়ে আমাকে শেষ পর্যন্ত বিদায় নিতে হবে’।তার জীবন সর্ম্পকে জানতে চাইলে তিনি বলতে শুরু করলেন অতীতের কথা। জানালেন ছোট থেকেই অত্যন্ত মেধাবী ছিলেন তিনি। কৃষক পরিবার হওয়ায় অর্থকষ্ট লেগেই থাকত সংসারে। ভাই বোনদের মধ্যে অত্যন্ত মেধাবী ও লেখাপড়ার প্রতি প্রবল ইচ্ছা থাকায় স্থানীয় পাঠশালায় ভর্তি করে দেন তার পিতা। প্রতিটি পরীক্ষায় ফলাফলও ভালো করেন। পড়াশোনা শেষ করে সরকারি উচ্চ পদে চাকরিতে যোগ দেন, বিয়ে করেন। এরপর থেকে কারণে-অকারণে বাবা-মায়ের সাথে খারাপ ব্যবহার করেছেন।
নিজের টাকা পয়সা থাকার পরও তাদের অর্থকষ্টে রেখেছেন। একপর্যায়ে বাধ্য হয়ে বাবা-মা গ্রামে চলে যান। এরপর অভিমানে তারা তার সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। মারা যাওয়ার আগ পর্যন্ত পিতা-মাতার সাথে তার যোগাযোগ বন্ধ ছিল। তিনি বলেন, ‘আজ আমি তাদের জায়গায়। এ বয়সে তাদের চেয়েও করুণ অবস্থায় আছি। আমার তিন সন্তানের সবাই ভালো চাকরি করছে। রাজধানীতে বাড়ির মালিক আমি। অথচ আমার টাকায় করা বাড়ি থেকে আজ আমি বিতাড়িত।
সন্তানদের কেউই আমার খোঁজ নেয় না। যে দিন বের করে দেয় সেদিন অনেক কেঁদেছি। তাদের বললাম, আমি না হয় বারান্দায় থাকব তবুও আমাকে বের করে দিওনা। কিন্তু তারা শুনল না। আমার কারণে নাকি তাদের সমস্যা হয়, ঘর নোংরা হয়, কথাগুলো বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। এরপর চোখ মুছতে মুছতে বললেন, এখন বুঝিÑ এসবই আমার বাবা মায়ের অভিশাপ। আমি যদি আমার পিতা-মাতার প্রতি অবিচার না করতাম তাহলে আমার সন্তানরা আমার সাথে এমন করত না। আমি সব সময় দোয়া করি আমার সন্তানরা যেন কখনোই বৃদ্ধ না হয়, তাহলে তারা এত কষ্ট সহ্য করতে পারবে না’।তার জীবন সর্ম্পকে জানতে চাইলে তিনি বলতে শুরু করলেন অতীতের কথা। জানালেন ছোট থেকেই অত্যন্ত মেধাবী ছিলেন তিনি। কৃষক পরিবার হওয়ায় অর্থকষ্ট লেগেই থাকত সংসারে। ভাই বোনদের মধ্যে অত্যন্ত মেধাবী ও লেখাপড়ার প্রতি প্রবল ইচ্ছা থাকায় স্থানীয় পাঠশালায় ভর্তি করে দেন তার পিতা। প্রতিটি পরীক্ষায় ফলাফলও ভালো করেন। পড়াশোনা শেষ করে সরকারি উচ্চ পদে চাকরিতে যোগ দেন, বিয়ে করেন। এরপর থেকে কারণে-অকারণে বাবা-মায়ের সাথে খারাপ ব্যবহার করেছেন।
নিজের টাকা পয়সা থাকার পরও তাদের অর্থকষ্টে রেখেছেন। একপর্যায়ে বাধ্য হয়ে বাবা-মা গ্রামে চলে যান। এরপর অভিমানে তারা তার সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। মারা যাওয়ার আগ পর্যন্ত পিতা-মাতার সাথে তার যোগাযোগ বন্ধ ছিল। তিনি বলেন, ‘আজ আমি তাদের জায়গায়। এ বয়সে তাদের চেয়েও করুণ অবস্থায় আছি। আমার তিন সন্তানের সবাই ভালো চাকরি করছে। রাজধানীতে বাড়ির মালিক আমি। অথচ আমার টাকায় করা বাড়ি থেকে আজ আমি বিতাড়িত।
সন্তানদের কেউই আমার খোঁজ নেয় না। যে দিন বের করে দেয় সেদিন অনেক কেঁদেছি। তাদের বললাম, আমি না হয় বারান্দায় থাকব তবুও আমাকে বের করে দিওনা। কিন্তু তারা শুনল না। আমার কারণে নাকি তাদের সমস্যা হয়, ঘর নোংরা হয়, কথাগুলো বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। এরপর চোখ মুছতে মুছতে বললেন, এখন বুঝিÑ এসবই আমার বাবা মায়ের অভিশাপ। আমি যদি আমার পিতা-মাতার প্রতি অবিচার না করতাম তাহলে আমার সন্তানরা আমার সাথে এমন করত না। আমি সব সময় দোয়া করি আমার সন্তানরা যেন কখনোই বৃদ্ধ না হয়, তাহলে তারা এত কষ্ট সহ্য করতে পারবে না’।
কন্যা সন্তানের বাবারা দীর্ঘায়ুর অধিকারী হয়ে থাকেন। শুধু তাই নয়, যে বাবার যত বেশি কন্যা সন্তান, তিনি তত বেশি বছর বাঁচেন বলে এক গবেষণার ফলাফলে উঠে এসেছে। পোল্যান্ডের জাজিলোলোনিয়ান বিশ্ববিদ্যালয় এই গবেষণা চালায়। গবেষণার তথ্য মতে, যাদের ছেলে সন্তান আছে সেসব পিতাদের ওপর কোনো ধরনের প্রভাব ফেলেনি। তবে যাদের কন্যা রয়েছে তারা দীর্ঘায়ু হয়েছেন। কারণ হিসেবে বলা হয়, মেয়েরা বাবার জন্য বেশি আনন্দ নিয়ে আসে যা বাবার আয়ু বাড়িয়ে দেয়। প্রতিটি কন্যা সন্তানের জন্য ৭৪ সপ্তাহ বা ৫১৮ দিন বা প্রায় দুই বছর বেশি বাঁচেন। বাচ্চা জন্মানোর সময় পিতার স্বাস্থ্য এবং শরীর কীভাবে প্রভাবিত হয় তা নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে এই তথ্য পাওয়া গেছে। চার হাজার ৩১০ জনেরও বেশি লোকের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়, যার মধ্যে দুই হাজার ১৭৭ জন মা ও দুই হাজার ১৬৩ জন বাবা ছিলেন। অন্য এক গবেষণায় দেখা গেছে, যাদের সন্তান নেই তাদের থেকে যাদের সন্তান রয়েছে সেই দম্পতি বেশি দিন বাঁচেন।এবার জেনে নিন রাসুল সাঃ ও ইসলাম কি বলে কন্য সম্পর্কেঃকৃতপক্ষে সন্তান-সন্ততি (ছেলে-মেয়ে উভয়েই) আল্লাহ তায়ালার নেয়ামত ও শ্রেষ্ঠ উপহার। ইসলাম উভয়কেই আলাদা সম্মান ও মর্যাদা দিয়েছে। কাউকে কারও থেকে ছোট করা হয়নি কিংবা অবজ্ঞার চোখে দেখা হয়নি। কন্যা সন্তানের মাধ্যমে আল্লাহ পরিবারে সুখ ও বরকত দান করেন। হাদিসে এমন কথা উল্লেখ হয়েছে। কিন্তু আমাদের সমাজে এখনো অনেক পরিবারে কন্যা সন্তান জন্ম নিলে ইতিবাচক চোখে দেখা হয় না। অনেকে আবার মেয়ে সন্তানের মায়ের ওপর নাখোশও হন। বিভিন্ন কায়দায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন। কন্যা সন্তান হলে অপছন্দ করা, তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা এবং তাদের লালন-পালনের দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন না করা, ইসলামপূর্ব বর্বর জাহেলি যুগের কুপ্রথা। এমন কাজে আল্লাহ তাআলা ভীষণ অসন্তুষ্ট হন। আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেন, ‘যখন তাদের কাউকে কন্যা সন্তানের সুসংবাদ দেওয়া হয়, তখন তার মুখ অন্ধকার হয়ে যায় এবং অসহ্য মনস্তাপে ক্লিষ্ট হতে থাকে। তাকে শোনানো সুসংবাদের দুঃখে সে লোকদের কাছ থেকে মুখ লুকিয়ে থাকে। সে ভাবে, অপমান সহ্য করে তাকে থাকতে দেবে নাকি তাকে মাটির নিচে পুতে ফেলবে। শুনে রাখো, তাদের ফয়সালা খুবই নিকৃষ্ট।’ (সুরা আন-নাহল, আয়াত : ৫৮-৫৯) রাসুল (সা.) মেয়েদের অনেক বেশি ভালোবাসতেন। মেয়েরা ছিল তার আদরের দুলালী। আজীবন তিনি কন্যাদের ভালোবেসেছেন এবং কন্যা সন্তান প্রতিপালনে অন্যদের উদ্বুদ্ধ করেছেন। কন্যা সন্তান লালন-পালনে অনেক উৎসাহ দিয়েছেন। আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে নবী (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি দু’টি কন্যাকে তারা সাবালিকা হওয়া পর্যন্ত লালন-পালন করবে, কিয়ামতের দিন আমি এবং সে এ দু’টি আঙ্গুলের মতো পাশাপাশি আসবো (অতঃপর তিনি তার আঙ্গুলগুলি মিলিত করে দেখালেন)’। (মুসলিম, হাদিস নং: ২৬৩১, তিরমিজি, হাদিস নং: ১৯১৪, মুসনাদ আহমদ, হাদিস নং: ১২০৮৯, ইবনু আবি শাইবা, হাদিস নং: ২৫৯৪৮) হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলনে, রাসুল (সা.) ইরশাদ করনে, ‘যার ঘরে কন্যা সন্তান জন্মগ্রহণ করলো, অতঃপর সে ওই কন্যাকে কষ্ট দেয়নি, মেয়ের ওউপর অসন্তুষ্টও হয়নি এবং পুত্র সন্তানকে তার ওপর প্রধান্য দেয়নি, তাহলে ওই কন্যার কারণে আল্লাহ তাআলা তাকে জান্নাতে প্রবশে করাবেন।’ (মুসনাদ আহমদ, হাদিস নং: ১/২২৩) হযরত আবদুল্লাহ উমর (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘ওই নারী বরকতময়ী ও সৌভাগ্যবান, যার প্রথম সন্তান মেয়ে হয়। কেননা, (সন্তানদানের নেয়ামত বর্ণনা করার ক্ষেত্রে) আল্লাহ তায়ালা মেয়েকে আগে উল্লেখ করে বলেন, তিনি যাকে ইচ্ছা কন্যা সন্তান দান করেন, আর যাকে ইচ্ছা পুত্র সন্তান দান করেন।’ (কানযুল উম্মাল ১৬:৬১১) আয়েশা (রা.) বলেন, ‘আমার কাছে এক নারী এলো। তার সঙ্গে তার দুই মেয়ে। আমার কাছে সে কিছু প্রার্থনা করলো। সে আমার কাছে একটি খেজুর ছাড়া কিছুই দেখতে পেলো না। আমি তাকে সেটি দিয়ে দিলাম। সে তা গ্রহণ করললো এবং তা দুই টুকরো করে তার দুই মেয়ের মাঝে ভাগ করে দিলো। তা থেকে সে নিজে কিছুই খেলোল না। তারপর নারীটি ও তার মেয়ে দু’টি উঠে পড়লো এবং চলে গেলো। ইত্যবসরে আমার কাছে নবী (সা.) এলেন। আমি তার কাছে ওই নারীর কথা বললাম। নবী (সা.) বললেন, ‘যাকে কন্যা দিয়ে কোনো কিছুর মাধ্যমে পরীক্ষা করা হয় আর সে তাদের প্রতি যথাযথ আচরণ করে, তবে তা তার জন্য আগুন থেকে রক্ষাকারী হবে।’ (মুসলিম, হাদিস নং : ৬৮৬২; মুসনাদ আহমদ, হাদিস নং : ২৪৬১৬) প্রসঙ্গত কন্যা সন্তান প্রতিপালনে শুধু পিতাকেই নয়; ভাইকেও উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। বোনের কথাও বলা হয়েছে হাদিসে। যারা মনে করেন, মেয়ে বা বোনের পেছনে টাকা খরচ করলে ভবিষ্যতের তার কোনো প্রাপ্তি নেই, তারা মূলত ভুলের মধ্যে আছেন। আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, ‘কারও যদি তিনটি মেয়ে কিংবা বোন থাকে অথবা দু’টি মেয়ে বা বোন থাকে, আর সে তাদের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করে এবং তাদের সঙ্গে সদাচার করে, তবে সে অবশ্যই জান্নাতে প্রবেশ করবে।’ (মুসনাদ আহমদ, হাদিস নং : ১১৪০৪; আদাবুল মুফরাদ লিল-বুখারি: ৭৯) কন্যা সন্তান প্রতিপালনে যেন বৈষম্য না করা হয় এবং বস্তুবাদী ব্যক্তিরা যেন হীনমন্যতায় না ভোগেন, তাই তাদের কন্যা প্রতিপালনে ধৈর্য ধরার উপদেশ দেওয়া হয়েছে। শোনানো হয়েছে পরকালে বিশাল প্রাপ্তির সংবাদ। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, ‘যার তিনটি কন্যাসন্তান থাকবে এবং সে তাদের কষ্ট-যাতনায় ধৈর্য ধরবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। (মুহাম্মদ ইবন ইউনূসের বর্ণনায় এ হাদীসে অতিরিক্ত অংশ হিসেবে এসেছে) একব্যক্তি প্রশ্ন করলো, হে আল্লাহর রাসুল, যদি দু’জন হয়? উত্তরে তিনি বললেন, দু’জন হলেও। লোকটি আবার প্রশ্ন করলো, যদি একজন হয় হে আল্লাহর রাসুল? তিনি বললেন, একজন হলেও।’ (বাইহাকি, শুয়াবুল ঈমান : ৮৩১১) আউফ বিন মালেক আশজায়ি (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তির তিনটি মেয়ে রয়েছে, যাদের ওপর সে অর্থ খরচ করে বিয়ে দেওয়া অথবা মৃত্যু পর্যন্ত, তবে তারা তার জন্য আগুন থেকে মুক্তির কারণ হবে। তখন এক নারী বললেন, হে আল্লাহর রাসুল, আর দুই মেয়ে হলে? তিনি বললেন, দুই মেয়ে হলেও।’ (বাইহাকি, শুয়াবুল ঈমান, হাদিস নং : ৮৩১৩) আল্লাহর উপহার ভেবে এবং বাস্তবিক ভালোবেসে যারা কন্যা সন্তানদের প্রতিপালন করবে, সার্বিক তত্ত্বাবধান করবে, আল্লাহ তাআয়া তাদের উত্তম প্রতিদান দেবেন। আর যারা অবজ্ঞা করবে ও তাদের লালন-পালনে অবহেলা করবে, আল্লাহ তাআলা তাদের শাস্তি দেবেন। তাই কন্যা সন্তানকে হৃদয় উজাড় করে ভালোবাসা উচিত। সেজন্য আল্লাহ আমাদের তাওফিক দান করুন।