♥️💙💜 ঈমানদার বান্দার সাতটি গুণ আল্লাহর নিকট অত্যন্ত প্রিয়। আর এই গুণগুলি অর্জন করা এবং অর্জনের চেষ্টা করা প্রত্যেক ঈমানদারের জন্য খুবই জরুরী। 👉👉যে ৭টি গুণ আল্লাহতায়ালা পছন্দ করেনঃ—
সৎকর্মশীল ও মানুষের কল্যাণে নিবেদিতপ্রাণ মানুষদের আল্লাহতায়ালা পছন্দ করেন। এ ছাড়া মানুষের বিভিন্ন গুণাবলি, চারিত্রিক সৌন্দর্য ও মানবিক আচরণকর্ম রয়েছে, বান্দাদের মধ্যে তিনি সেসব গুণাবলি দেখতে ভালোবাসেন।
আল্লাহ পবিত্র কুরআনে বলেছেন–
♥️💙১. তাওবা (অনুতপ্ত হৃদয় ক্ষমা ভিক্ষা) ‘আল্লাহ তাদের ভালোবাসেন, যারা তাঁর দিকেই (অনুতাপ ভরা হৃদয়ে) প্রতিনিয়ত ফিরে আসে। (সূরা আল বাকারাহ্, ২২২)
♥️💜২. তাহারাত (পাক ও পবিত্র থাকা) ‘আল্লাহ তাদেরই ভালোবাসেন, যাঁরা নিজেদের পাক-পবিত্র রাখে। (সূরা আল বাকারাহ্, ২২২)
🟣🔴৩. তাকওয়া (পরহেজ্গার যারা প্রতিনিয়ত আল্লাহকে স্মরণ করে চলে) ‘আল্লাহ তাঁদেরই ভালোবাসেন, যাঁরা ইনসাফ-পসন্দ ও সংযমশীল। (সূরা আত্ তাওবা ৯৪)
🟠🟢৪. ইহসান (আল্লাহকে স্মরণ করে মানুষ বা জীবজগতের প্রতি দয়া ও করুণা) ‘আল্লাহ তাঁদেরই ভালোবাসেন, যারা ভালো কাজে নিয়ত থাকে। (সূরা আল ইমরান, ১৩৪)
💜💙৫. তাওয়াক্কুল (আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস ও নির্ভরতা) ‘আল্লাহ তাদেরই ভালোবাসেন, যারা তাঁর ওপর আস্থা রাখে ও নির্ভর করে। (সূরা আল ইমরান, ১৫৯)
(খ) আল্লাহ তাদের ভালোবাসেন, যারা সুবিচারকারী। (সূরা হুজুরাত,৯)
🤎💜৭. সবর (ধৈর্য্য) ‘আল্লাহ তাঁদেরই ভালোবাসেন, যারা দৃঢ়চিত্ত এবং ধৈর্য্যশীল (আস্-সাবিরিন)। (সূরা আল ইমরান ৩১৪৬)
‘আল্লাহরই উপর আমরা তাওয়াক্কুল করি। হে আমাদের রব! আমাদের ও আমাদের কওমের মধ্যে যথার্থ ফয়সালা করে দিন। আর আপনি শ্রেষ্ঠ ফয়সালাকারী।’ (সূরা আল আরাফ ৭: ৮৯)
♥️💜বাবার নাম BENZ এবং কন্যার নাম MERCEDES. কন্যা আর বাবার নাম মিলে হয়েছে Mercedes Benz. একটি নাম, একটি প্রোডাক্ট, একটি ইতিহাস। এই মহিলাকে কেউই মূলত চেনেননা? মানুষ ওনাকে চেনার মত কোন কাজ করেননি কিংবা কোন অবদানও রাখেননি কোন ক্ষেত্রে। তারপরও আমরা প্রায়ই উনার নাম শুনি। এমনকি বাংলাদেশের কিছু গানের মধ্যে পর্যন্ত এই মহিলার নাম চলে এসেছে। যেমন ৯০ দশকের বিখ্যাত ব্যান্ড সংগীত #ডিফারেন্টটাচ এর একটি প্রতিবাদী গানে এসেছে– “বঙ্গভবন যাইতে নেতা মার্সিডিস চালায়”! এই এই সৌভাগ্যবতী ভদ্রমহিলার পরিশ্রমী বাবা কার্ল ১৮৮৬ সালে #কম্বাসটনইন্জিন উদ্ভাবন করেন। এরও তিন বছর পর মার্সিডিস জন্ম গ্রহণ করেন। অতঃপর ডিমলারের সাথে পৃথিবীর অন্যতম পরিচিত গাড়ী বানানো শুরু হয়।
মার্সিডিস বেঞ্জ এর একটি বিলাসবহুল গাড়ি।
উনার বাবা #কার্ল_বেন্জ। যিনি গাড়ীর নাম রাখেন তার কন্যার নামে। এই হলেন সেই কন্যা #মারসেডিজ। কিছু না করেও সবার পরিচিত এক নাম।
♥️♥️মূলত প্রত্যেক বাবাই তার কন্যা বা সন্তানদের জন্য এবং তাদের ঊর্ধ্বে তুলে রাখার জন্য সারাটা জীবন চেষ্টা তদবির করে যান কিন্তু কয়জন সন্তান তার বাবা-মাকে ঊর্ধ্বে তোলার জন্য চেষ্টা করেন ⁉️ ইবনে মোশারফ
🌐🌐ভূমন্ডল এবং নভোমন্ডল তথা সকল আসমান এবং জমিন সমূহ কে আল্লাহ পাক ৬ দিনে সৃষ্টি করেছেন। এই বিষয়টি কুরআনে আল্লাহ ৭ বার বলেছেন। ১//সূরা আল আরাফ-৫৪, ২//সূরা ইউনুস-৩, ৩//সূরা হুদ-৭, ৪//সূরা আল ফুরকান-৫৯, ৫//সাজদাহ-৪, ৬//ক্বাফ-৩৮ এবং ৭//হাদিদ-৪, পবিত্র কোরআনে মোট এই ৭টি স্থানে ৬ দিনে পৃথিবী সৃষ্টির কথা বলা হয়েছে।
👉👉”নিশ্চয় তোমাদের প্রতিপালক আল্লাহ। তিনি নভোমণ্ডল ও ভূমণ্ডলকে ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর আরশের ওপর অধিষ্ঠিত হয়েছেন। তিনি পরিয়ে দেন রাতের উপর দিনকে এমতাবস্থায় যে, দিন দৌড়ে রাতের পেছনে আসে। তিনি সৃষ্টি করেছেন সূর্য, চন্দ্র ও নক্ষত্র দৌড় স্বীয় আদেশের অনুগামী। শুনে রেখো, তাঁরই কাজ সৃষ্টি করা এবং আদেশ দান করা। আল্লাহ, বরকতময় যিনি বিশ্বজগতের প্রতিপালক (সূরা আরাফ-৫৪)।
👉👉”নিশ্চয়ই তোমাদের পালনকর্তা আল্লাহ যিনি তৈরি করেছেন আসমান ও জমিনকে ছয় দিনে, অতঃপর তিনি আরশের ওপর অধিষ্ঠিত হয়েছেন। তিনি কার্য পরিচালনা করেন। কেউ সুপারিশ করতে পারবে না তবে তাঁর অনুমতি ছাড়া ইনিই আল্লাহ তোমাদের পালনকর্তা। অতএব, তোমরা তাঁরই ইবাদত করো। তোমরা কি কিছুই চিন্তা করো না’ (সূরা ইউনুস-৩)
👉👉”তিনিই আসমান ও জমিন ছয় দিনে তৈরি করেছেন, তাঁর আরশ ছিল পানির উপরে, তিনি তোমাদের পরীক্ষা করতে চান যে, তোমাদের মধ্যে কে সবচেয়ে ভালো কাজ করে। আর যদি আপনি তাদেরকে বলেন যে, ‘নিশ্চয় তোমাদেরকে মৃত্যুর পরে জীবিত উঠানো হবে, তখন কাফেররা অবশ্য বলে, এটা তো স্পষ্ট জাদু’ (সূরা হুদ-৭)! ‘ 👉👉”তিনি নভোমণ্ডল, ভূমণ্ডল ও এতদুভয়ের অন্তর্বর্তী সবকিছু ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর আরশে সমাসীন হয়েছেন। তিনি পরম দয়াময়। তাঁর সম্পর্কে যিনি অবগত, তাকে জিজ্ঞেস করো’ (সূরা ফুরকান-৫৯)।
👉👉”আল্লাহ যিনি নভোমণ্ডল, ভূমণ্ডল ও এতদুভয়ের মধ্যবর্তী সব কিছু ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তিনি আরশে বিরাজমান হয়েছেন। তিনি ছাড়া তোমাদের কোনো অভিভাবক ও সুপারিশকারী নেই। এর পরও কি তোমরা বুঝবে না’ (সূরা সাজদা-৪)?
👉👉”আমি নভোমণ্ডল, ভূমণ্ডল ও এতদুভয়ের মধ্যবর্তী সব কিছু ছয় দিনে সৃষ্টি করেছি এবং আমাকে কোনোরূপ ক্লান্তি স্পর্শ করে না’। (সূরা ক্বাফ-৩৮)।
👉👉”তিনি নভোমণ্ডল ও ভূমণ্ডল সৃষ্টি করেছেন ছয় দিনে, অতঃপর আরশের ওপর সমাসীন হয়েছেন। তিনি জানেন যা ভূমিতে প্রবেশ করে ও যা ভূমি থেকে নির্গত হয় এবং যা আকাশ থেকে বর্ষিত হয় ও যা আকাশে উত্থিত হয়। তিনি তোমাদের সাথে আছেন তোমরা যেখানেই থাকো। তোমরা যা করো, আল্লাহ তা দেখেন” (সূরা হাদিদ-৪)।
🟪🟥সূরা ফুসসিলাতের এই চারটি (৯-১২) আয়াতের দিন সংখ্যা নিয়ে অনেকে সংশয়ে পড়েন। মূলত এখানে শেষ দুই প্রথম দুইয়ের ভেতর ধরলে সমস্যা থাকে না এবং এটিই সঠিক ব্যাখ্যা। 👉👉বলুন, তোমরা কি সে সত্তাকে অস্বীকার করো যিনি পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন #দুইদিনে এবং তোমরা কি তাঁর সমকক্ষ স্থীর করো? তিনি তো সমগ্র বিশ্বের পালনকর্তা। তিনি পৃথিবীতে উপরিভাগে অটল পর্বতমালা স্থাপন করেছেন, তাতে কল্যাণ নিহিত রেখেছেন এবং চার দিনের মধ্যে তাতে তার খাদ্যের ব্যবস্থা করেছেন- পূর্ণ হলো জিজ্ঞাসুদের জন্য। অতঃপর তিনি আকাশের দিকে মনোযোগ দিলেন যা ছিল ধূম্রকুঞ্জ, অতঃপর তিনি তাকে ও পৃথিবীকে বললেন, তোমরা উভয়ে আসো ইচ্ছায় অথবা অনিচ্ছায়। তারা বলল, আমরা স্বেচ্ছায় আসলাম। অতঃপর তিনি আকাশমণ্ডলীকে দুই দিনে সপ্ত আকাশ করে দিলেন এবং প্রত্যেক আকাশে তার আদেশ প্রেরণ করলেন। আমি নিকটবর্তী আকাশকে প্রদীপমালা দ্বারা সুশোভিত ও সংরক্ষিত করেছি। এটি পরাক্রমশালী সর্বজ্ঞ আল্লাহর ব্যবস্থাপনা।’
🟠⚫এটি অনস্বীকার্য যে, কোনো কিছু সৃষ্টির জন্য আল্লাহ পাকের ছয় দিন কেন এক লহমার সময় নেয়ারও প্রয়োজন নেই। তিনি না সময়ের মুহতাজ না পরিকল্পনার মুখাপেক্ষী। তার স্বভাব হলো, তিনি বলেন তো সাথে সাথে হয়ে যায়। অনেক মুফাসসির বলেছেন- তিনি ‘কুন’ শব্দ দ্বারা হুকুম করারও দরকার পড়ে না। তবু তিনি ছয় দিন কেন নিয়েছেন? কোরআন ব্যাখ্যাকারও এর দুটি সম্ভাব্য জবাব দাঁড় করিয়েছেন। প্রখ্যাত তাফসীরবিদ সাইদ ইবনে জুবায়ের রাঃ এ প্রশ্নের উত্তরে বলেন, ‘আল্লাহ তায়ালার মহাশক্তি নিঃসন্দেহে এক নিমেষে সব কিছু সৃষ্টি করতে পারে; কিন্তু মানুষকে বিশ্বব্যবস্থা পরিচালনায় ধারাবাহিকতা ও কর্মপক্বতা শিক্ষা দেয়ার উদ্দেশ্যেই এতে ৬ দিন ব্যয় করা হয়েছে (তাফসিরে মাজহারি)।
কেউ কেউ বলেছেন, এটি করেছেন তাঁর ফেরেশতাদের দেখানোর জন্য। হতে পারে পৃথিবী সৃষ্টির আগেই আল্লাহপাক ফেরেশতাদের সৃষ্টি করেছেন। তাই পৃথিবীর ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে সম্যক ধারণা দিতে তিনি ধীরতা অবলম্বন করেছেন। এটি যেন তাদের উপলব্ধি হয় যে, তাদের মালিকের ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব কত বিশাল ও ব্যাপক। আবার কারো কারো ব্যাখ্যা হলো- আল্লাহ ইচ্ছা করে সময় নিয়েছেন তাঁর প্রিয় বান্দাদের তাঁর একটি মহত্তম গুণ প্রকাশ করতে। তা হলো দ্রুত করার সুযোগ থাকলেও মহান আল্লাহ, খোদ স্রষ্টা নিজেই পরিকল্পনার কৌশলটা এভয়েড করেননি। কোথায় সাগর হবে, কোথায় পাহাড়, কোথায় মানুষের বসতি, কোথায় প্রাণীদের অভয়ারণ্য এসব নিজে ধীরে সুস্থে ধারাবাহিকতা রক্ষা করে তবেই সাজিয়েছেন। ত্বরা প্রবণতা আল্লাহর পছন্দনীয় নয়। মানুষের কোনো বিষয়ে দ্রুততার বিষয়ে আল্লাহ সমালোচনা করেছেন, যেমন আল্লাহ বলেন– ‘ “মানুষ যেভাবে কল্যাণ কামনা করে, সেভাবেই অকল্যাণ কামনা করে। মানুষ তো খুবই দ্রুততাপ্রিয়’ (সূরা ইসরা-১১)।
ফাজালা ইবনে উবাইদ রাঃ থেকে বর্ণিত- তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সা: বসে ছিলেন। এমন সময় একজন লোক এলো এবং নামাজ আদায় করল। এরপর সে বলল, হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা করে দিন, আমার প্রতি দয়া করুন। রাসূলুল্লাহ সা: বললেন, ‘হে নামাজী! তুমি তাড়াহুড়ো করলে। নামাজ শেষে যখন তুমি বসবে, তখন তুমি আল্লাহর উপযুক্ত হামদ এবং আমার প্রতি দরুদ পাঠ করবে। অতঃপর তুমি দোয়া করবে’ (সুনানে তিরমিজি-৩৪৭৬)। আল্লাহর সৃষ্টি কুশলতা প্রসঙ্গে রাসূল সা: বলেছেন, ‘আল্লাহ তাঁর সৃষ্টিকর্মটি আরম্ভ করেছিলেন রোববারে আর শেষ করেছিলেন সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ দিন জুমাবারে। সৃষ্টি শেষের আনন্দ প্রকাশের জন্যই হতে পারে জুমার দিন বিশ্বাসীদের কাছে পবিত্র একটি সওয়াবের ও উৎসবের দিন। তাফসিরে আহসানুল বয়ানে সূরা আরাফের ৭ : ৫৪ ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে- এই ছয় দিন হলো রোববার, সোমবার, মঙ্গলবার, বুধবার, বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার। শনিবার দিন সম্পর্কে বলা হয় যে- এ দিনে কোনো কিছু সৃষ্টি করা হয়নি। অবশ্য এই সমস্ত তাফসীর কারকদের ব্যাখ্যা বরং সঠিক বিষয়টি আল্লাহু আলম। শুধু সৃষ্টি করেই আল্লাহ ক্ষান্ত হননি, উপরন্তু প্রত্যেকটি সৃষ্টিকে তিনি প্রতিপালন ও রক্ষণাবেক্ষণও করে চলেছেন। সব সৃষ্টির ওপর তিনি পূর্ণ নিয়ন্ত্রণও রেখেছেন। ফলে গোটা সৃষ্টিকুল অবিরাম সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালিত হচ্ছে, কোথাও কোনো প্রকার বিশৃঙ্খলা নেই। আসমান, জমিন ও তদস্থিত সব কিছু তাঁর হুকুম মেনে চলছে। এবং আল্লাহ যা কিছু সৃষ্টি করেছেন তা বস্তু হোক কিংবা প্রাণী হোক তা কোন কিছুর মধ্যে তিনি কোন প্রকার খুত বা দোষ ত্রুটি রাখেননি। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ সূরা মুলুক এ বলেন– “”পুণ্যময় তিনি যার হাতে রাজত্ব এবং তিনি সবকিছুর উপর সর্বশক্তিমান। তিনি সৃষ্টি করেছেন জীবন এবং মৃত্যুকে যাতে মানুষকে তিনি পরীক্ষা করেন কে মানুষের মধ্যে আমলের দিক দিয়ে শ্রেষ্ঠতর এবং তিনি অত্যন্ত পরাক্রমশালী এবং ক্ষমাশীলও বটে। তিনি স্তরে সাতটি আকাশ সৃষ্টি করেছেন এবং তুমি করুণাময় আল্লাহ তায়ালার সৃষ্টিতে কোন প্রকার তফাৎ বা খুৎ দেখতে পাবে না। তুমি বারবার দৃষ্টি ফিরাও সেখানে কি কোন ফাটল বা ভাঙাচোরা দেখতে পাও? অতঃপর তুমি বারবার তাকাও; কিন্তু তোমার দৃষ্টি ব্যর্থ এবং ক্লান্ত পরিশ্রান্ত হয়ে তোমার দিকে ফিরে আসবে। তুমি আল্লাহর সৃষ্টির মধ্যে কোন প্রকার ভুল-ত্রুটি দেখতে পাবে না””- সুরা মুলক-১-৪!
👉👉তিনি আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছেন যথাযথভাবে। তিনি রাতকে দিবস দ্বারা আচ্ছাদিত করেন এবং দিবসকে রাত দ্বারা আচ্ছাদিত করেন এবং তিনি সূর্য ও চন্দ্রকে কাজে নিযুক্ত করেছেন প্রত্যেকেই বিচরণ করে নির্দিষ্ট সময়কাল পর্যন্ত। জেনে রাখুন, তিনি পরাক্রমশালী, ক্ষমাশীল’ (সূরা জুমার-৫)। 👉👉তারা কি আল্লাহর দ্বীনের পরিবর্তে অন্য দ্বীন তালাশ করছে? আসমান ও জমিনে যা কিছু রয়েছে স্বেচ্ছায় হোক বা অনিচ্ছায় হোক, তাঁরই অনুগত হবে এবং তাঁর দিকেই ফিরে যাবে’ (সূরা আলে ইমরান-৮৩) 👉👉 আল্লাহ সুবাহানাহু তায়ালা প্রত্যেক বস্তুকে যেমন নিখুঁত করে সৃষ্টি করেছেন এবং ঠিক তদ্রূপ তিনি সকল বস্তু পরিমিত অর্থাৎ যতটুকু যেখানে দরকার ততটুকু সৃষ্টি করেছেন। অতিরিক্ত সৃষ্টি করেননি এবং কম করেও সৃষ্টি করেননি। তিনি জানেন কোথায় কতটুকু অর্থাৎ কি পরিমান কোন জিনিসের প্রয়োজন। তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেয়ে বরফ গলে যাওয়ার জন্য পৃথিবীর ক্লাইমেট চেঞ্জ হয়ে যাচ্ছে। অপরদিকে মানুষ পাহাড় কেটে স্থাপনা নির্মাণের জন্য ভূমিকম্প সহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা দিচ্ছে। অথচ আল্লাহ প্রত্যেকটি বস্তুকে যথাস্থানে পরিমিতভাবে সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহ বলেন —“আমি প্রত্যেক বস্তুকে পরিমিত রূপে সৃষ্টি করেছি আমার কাজ তো এক মুহূর্তে চোখের পলকের মত”! সূরা কামার-৪৯-৫০। 👉👉 আল্লাহ এই ভূমন্ডল এবং নভোমন্ডল কে শুধু সৃষ্টি করে ছেড়ে দেননি বরং পৃথিবীরসহ বিভিন্ন জায়গায় হিসাব রাখার জন্য আল্লাহ বিভিন্ন স্থানে গ্রহ এবং উপগ্রহ সৃষ্টি করে রেখেছেন। পৃথিবীতে চাঁদ এবং সূর্যকে তিনি আলো এবং তাপ দেওয়ার পাশাপাশি মানুষের হিসাব রাখার জন্য সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহ বলেন–“চাঁদ এবং সূর্য হিসাব মতো চলে” ।সূরা আর রহমান- ৫! অর্থাৎ এই আয়াতের দ্বারা আল্লাহ বুঝাতে চেয়েছেন যে আমি সূর্য এবং চন্দ্রকে হিসাব মত চলা নির্দেশ দিয়েছি যাতে করে তোমরা সূর্য এবং চাঁদের সাহায্যে হিসাব রাখতে পারো আর এজন্যই সমস্ত পৃথিবীতে দুইটি বর্ষ প্রচলিত আছে একটি হচ্ছে #সৌরবর্ষ বা গ্যাগ্রিয়ান সাল! আর অপরটি হল #চন্দ্রবর্ষ বা হিজরী সাল!
সুবহান আল্লাহ। আল্লাহ কত নিখুঁত পরিকল্পনাকারী আর কত সুন্দর সৃষ্টিকর্তা। তিনি সবকিছু সৃষ্টি করেছেন কোন প্রকার মডেল ছাড়া নিজ পরিকল্পনা অনুযায়ী এবং অত্যন্ত নিখুঁতভাবে। আল্লাহ আমাদেরকে সকল কিছু সঠিকভাবে বুঝার মেনে চলার আর তার শুকর করার তৌফিক দান করুন আমিন।
১৭৫৭ সালে অপরিনামদর্শী সিরাজউদ্দৌলার পতনের আগ পর্যন্ত সুবা বাংলা ছিল গোটা দুনিয়ার মধ্যে ঐশ্বর্যশালী একটি দেশ। তখনকার অনেক ইউরোপিয়রা বলেছেন, বাংলার মানুষের প্লেটে কম করেও তিন ধরনের পদ বা খাবার থাকত। ঘি, মাখন খাওয়া তাদের জন্য সাধারণ বিষয় ছিল। তাদের গায়ে যে পোষাক ছিল তা ইউরোপিয়ানদের কাছে ভাবনারও অতীত। বাংলার পন্য নিয়ে বাংলার বণিকরা তখন পূর্বদেশ মানে ইন্দোনেশিয়া পর্যন্ত পৌছে যেতো।
নবাবের পতনের পর তিন দফা নতুন নবাব প্রতিস্থাপনের পর মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলমের কাছ থেকে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলা, বিহার ও ওড়িশার খাজনা উঠানোর বিষয়টি মাত্র লাখ দেড়েক রূপিতে কিনে নেন রবার্ট ক্লাইভ। এরপর রবার্ট ক্লাইভ হিসাব করে দেখান, দেড় লাখ রূপি দেবার পরও কোম্পানির প্রায় ১৬ লাখ রূপি। বাস্তবে সেটি কোটি রূপিতে ছাড়িয়ে যায়।
তো, এরপর থেকে ফসলে, পন্য উদ্বৃত্ত একটি জনপদ স্রেফ শশ্মান হয়ে যায়। সব থেকে বেশি সংকটে পড়ে ঢাকা। একটা বাণিজ্যিক শহর গোরস্তানে পরিণত হয় ব্রিটিশ অত্যাচারে। কোম্পানির হাতে রাজস্ব উত্তোলনের দায়িত্ব থাকায় কৃষক ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মাত্রাতিরিক্ত রাজস্ব উত্তোলন শুরু হয়। বাংলা ১১৭৬ সাল আর ১৭৭০ ইংরেজি। সিরাজের পতনের মাত্র ১৩ বছরের মাথায় ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ দেখা যায়। সোনার বাংলা গোরস্থানে পরিণত হয়। এই দুর্ভিক্ষে ১ কোটি লোক মারা যায়। এটা দুনিয়ার নিকৃষ্টতম দুর্ভিক্ষ। দুর্ভিক্ষের কারণ ফসল উৎপাদন কম নয়, দুর্ভিক্ষের কারণ সে বছর মাত্রাতিরিক্ত খাজনা আদায়। যে বছর দুর্ভিক্ষ হলো তার আগের বছর আদায়কৃত রাজস্ব ছিল দেড় কোটি রূপি। আর যে বছর দুর্ভিক্ষ হলো সে বছর আগের বছরের তুলনায় ৫ লাখ ২২ হাজার রূপি বেশি আদায় হয়েছিল।
ঢাকার মসলিনের কদর ছিল আকাশ ছোঁয়া। ব্রিটেন থেকে কোম্পানি কলের তৈরি কাপড় আনলেও সেটা এখানে চলত না। তারপর তারা আমাদের তাঁতীতের হাতের আঙ্গুল পর্যন্ত কেটে দেয় যাতে তারা মসলিন বুনতে না পারে।
গোটা মুঘল আমলে সুবা বাংলা ১৯টি, পরে ৩৪টি ছোট ছোট নবাব ও রাজাদের অধীনে শাসন হয়েছে। সেই শাসনের বেশিরভাগ সময় মুঘল শাসনের বিষয়টি অনেক আলগা ছিল। বাংলা মুঘল শাসনের অধীনে ছিল ২৩০ বছর। এই ২৩০ বছরে বাংলায় দুর্ভিক্ষ হয়নি। ১৭৬৪ সালে বক্সারের যুদ্ধে মীর কাশিম হেরে যাবার পর দ্বিতীয় শাহ আলমের কাছ থেকে বাংলা, বিহার ও ওড়িশার দেওয়ানী কিনে নেয় কোম্পানি। এরপর মাত্র ৬ বছরের মাথায় ১৭৭০ সালে বা বাংলা ১১৭৬ সনে দুর্ভিক্ষ হয় যাতে মারা যায় ১ কোটি মানুষ। এটা নির্মম, ভয়াবহ উপনিবেশিক শোষনের ফল।
কোম্পানির শাসন ও ব্রিটেনের শাসনের মধ্যে কত লোককে তারা জোরপূর্ব দাস বানিয়েছে সেই হিসাব নতুন করে আমাদের নেয়া দরকার। ১৯৪৩ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষ সময়ের দিকে যে দুর্ভিক্ষ হয় তাতে বাংলার ৩০ লক্ষ লোক না খেয়ে মারা যায়। এই দুর্ভিক্ষ কিন্তু ফসল উৎপাদন কম হয়েছিল সে কারণে না,বরং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় বাংলা থেকে সব খাদ্য শস্য ব্রিটেনে নিয়ে মজুদ করা হচ্ছিল। যুদ্ধে যেখানে মাত্র ৪০ হাজার ব্রিটিশ সৈন্য লড়ছিল সেখানে ভারতীয় সৈন্য ছিল প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার। ভারতীয়রা মরেছেও যুদ্ধের ময়দানে অকাতরে।
দুর্ভিক্ষের অশনি সংকেত বেজে উঠার আগে বিষয়টি তৎকালীন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী চার্চিলকে জানানো হয়েছিল, তখন রাজা ছিলেন ষষ্ট জর্জ, মানে দ্বিতীয় এলিজাবেথের বাবা। চার্চিল নিকৃষ্ট উত্তর দিয়েছিল। একটা সোনার দেশকে মৃতপুরি বানালো যে ব্রিটেন, ব্রিটেন উপনিবেশবাদ, তারই প্রতিকী চিহ্ন বহন করতেন রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ। দ্বিতীয় এলিজাবেথ মারা গেছেন। পরিণত বয়সেই মারা গেছেন। যে কোনো মৃত্যুই বেদনাদায়ক। কিন্তু রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথের মৃত্যুতে পূর্ববঙ্গের মানুষের শোকটা তার রক্তের সাথে বেঈমানি। বাহাদুর শাহ পার্ক নামে ঢাকায় একটা পার্ক আছে। ওখানে ১৮৫৭ সালে ভারতের প্রথম স্বাধীনতাকার্মী বিপ্লবীদের লাশ গাছে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল।সিরাজউদ্দৌলার লাশ শহরে টেনে হিঁচড়ে নেয়া হয়েছিল।
আমি ইতিহাসের ছাত্র। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক ডকুমেন্ট নাড়াচাড়া করলে অপ্রকৃস্থ হয়ে যাই। ব্রিটিশ শোষণ থেকে মুক্তির জন্য অকাতরে জীবন দিয়েছেন তরুন যুব শ্রমিক কৃষক। সেই বিপ্লবীদের বড় অংশ বাংলাদেশের। আমাদের পূর্বপুরুষ তাদের জীবন বাজি রেখে,ভয়াবহ ইন্টারোগেশনের সামনে দাঁড়িয়ে স্বাধীনতার জন্য লড়াই করেছে। আর আমরা আজ সেই ঔপনিবেশিক শোষনের চিহ্নের জন্য কাঁদছি। কী ভয়াবহ! কি বিশ্বাসঘাতকতা।
আন্দামানের জেলগুলোতে থাকা আমাদের বিপ্লবীদের দীর্ঘশ্বাস বাংলাদেশের আকাশে মেঘ হয়ে আসুক। এই কেতাদুরস্ত ফ্যাশনাবেল প্রজন্ম তার রক্ত দিয়ে পান করুক স্কচ। বিদায় প্রেতাত্মা রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ।
💜ইসলাম হলো স্বভাব ধর্ম। ইসলাম এমন এক জীবন ব্যবস্থা যা মানুষের মেজাজ মর্জির সঙ্গে শতভাগ সামঞ্জস্যপূর্ণ। ইসলাম তার অনুসারীদেরকে এমন কোনো কিছু করতে বলে না, যা তার মানবিয় প্রকৃতির বিরুদ্ধে যায়। সম্পূর্ণ কোরান এবং রাসূলের (সা.) হাদিস ভাণ্ডার খুঁজে ইসলামের এমন একটি বিধান কেউ দেখাতে পারবে না, যা মানব প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ইসলাম কখনো আমাদেরকে তা করতে বলে না যা করার ক্ষমতা মানুষ হিসেবে আমাদের নেই। কিংবা যা করলে নিজেদের ব্যক্তিত্ব, টাকা-পয়সা, সামাজিক জীবন সবকিছুকে বিলিয়ে দিতে হয়।
মানব জাতির সব কল্যাণময় কর্মকাণ্ড সম্পর্কে ইসলামি শরীয়তে বর্ণিত হয়েছে। মানব জাতির সাধ্যের বাইরে কোনো বিষয়কে চাপিয়ে দেয়া হয়নি। পবিত্র কোরআনুল কারিমে স্পষ্ট করে বলে দিয়েছেন সূরা বাকারার ২৮৬ নং আয়াতে—- “‘আল্লাহ কাউকে তার সাধ্যাতীত কোনো কাজের ভার দেন না”! তাই নিষিদ্ধ, গর্হিত ও শিরক বা বিদাৎ হয় অর্থাৎ ধর্মীয় এবং সামাজিক আর শারীরিক ক্ষতি হয় এমন সব পদ্ধতি ব্যতীত বৈধ পদ্ধতিতে চিকিৎসা গ্রহণ করায় কোনো বাধা-নিষেধ নেই। সুতরাং ডাক্তারি পরামর্শের ভিত্তিতে চিকিৎসা হিসেবে ‘মরিয়ম ফুল’ ব্যবহার করা যাবে। কিন্তু এর ধর্মীয় বিশেষ কোনো তাৎপর্যে বিশ্বাস করা যাবে না । মরিয়ম ফুলের ধর্মীয় কোন তাৎপর্য নেই এবং এটা নবী রাসূলগণ এবং সাহাবায়ে কেরাম ব্যবহার করেছেন এমন কোন প্রমাণ কোথাও পাওয়া যায় না। উদ্ভিদ হিসেবে এর কিছু গুনাগুন তো অবশ্যই থাকতে পারে কারণ সকল উদ্ভিদের মধ্যে কিছু না কিছু গুণাগুণ বিদ্যমান। উদ্ভিদ বিজ্ঞান নিয়ে যারা গবেষণা করেন অর্থাৎ চিকিৎসা বিজ্ঞানীগণ এবং উদ্ভিদ বিজ্ঞানীগণ এই ব্যাপারে হয়তো বিস্তারিত বলতে পারবেন যে এই গাছের মধ্যে কি কি উপাদান বিদ্যমান এবং কি কি ক্ষতি বা উপকারিতা রয়েছে।
শুকিয়ে যাওয়া একটি মরিয়ম ফুল।
👉এবার ‘মরিয়ম ফুল’ সম্পর্কে জেনে নেয়া যাক্ঃ
‘মরিয়ম ফুল’ সম্পর্কে সমাজে অনেক ভ্রান্ত বিশ্বাস চালু আছে। অনেকে হজ্ব করতে গিয়ে এই ফুল কিনে নিয়ে আসেন এবং এর পানি দ্বারা উপকার গ্রহণ করে থাকেন। যদিও অদ্যবধি পর্যন্ত মরিয়ম ফুলের অনেকে মনে করেন, মরিয়ম ফুলের পাপড়ি ভিজিয়ে পানি পান করলে প্রসবকালীন ব্যথা লাঘব হয় এবং সহজে প্রসব হয়। আবার কারো কারো বিশ্বাস, এই ফুল শুঁকেই নাকি মারইয়াম (আ.) গর্ভে সন্তান লাভ করেছিলেন। (নাউজুবিল্লাহ)! এই বিশ্বাস সরাসরি পবিত্র কোরআন বিরোধী একটি কুফরী বিশ্বাস! কেউ এমন বিশ্বাস করলে তার ঈমান থাকবে না!
আবার কোনো কোনো ব্যবসায়ী এবং বাজার ও ফুটপাতের ঔষধ বিক্রেতারা এটিকে ‘প্রফেটিক মেডিসিন’ তথা নবী (সা.) নির্দেশিত ঔষধ হিসেবেও প্রচার করে থাকেন। 👉চলুন জেনে নেয়া যাক এ ব্যাপারে ইসলাম কী বলে?
ইসলামি শরীয়তে এর কোনো ভিত্তি নেই। কোরআন ও হাদিস দ্বারা এর কোনো গুরুত্ব ও তাৎপর্য প্রমাণিত নয়। উপরোল্লিখিত কথাবার্তা পুরোপুরিই আজগুবি, সামাজিক কুসংস্কার মাত্র। তবে হ্যাঁ, ভেষজ উদ্ভিদীয় চিকিৎসা হিসেবে এটি ব্যবহার করা যায়। এটি শারীরিক চিকিৎসার বিষয়, যা ওহির ওপর নির্ভর করে না। বরং পরীক্ষা ও অভিজ্ঞতার মাধ্যমে জানা যায়। সুতরাং ঔষধি গাছ হিসেবে চিকিৎসার জন্য এই ফুল থেকে উপকার গ্রহণ করা যাবে। কিন্তু এর ধর্মীয় বিশেষ কোনো ‘ফজিলত’ বা তাৎপর্য আছে বলে বিশ্বাস করা যাবে না।
মরিয়ম ফুল পরিচিতি:
মরিয়ম ফুল জন্মে মরু অঞ্চলে। মধ্যপ্রাচ্য ও সাহারার বিস্তীর্ণ মরু অঞ্চলে বছরের পর বছর শুকনো গাছ মাটি আঁকড়ে থাকে। এর বৈজ্ঞানিক নাম Anastatica hierochuntica। মরুভূমির অসহনীয় গরমের মধ্যে থাকা শুকনো এই গাছ ক্রমে নির্জীব পাথরের মতো হয়ে পড়ে। কখনো বৃষ্টির পরশ পেলে জীবন ফিরে পায় এবং এর বংশবিস্তার ঘটে। এই গাছের ফুলে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, পটাসিয়াম, দস্তা এবং লোহা। বিশেষত, ক্যালসিয়াম এবং ম্যাগনেসিয়াম একসঙ্গে পেশি সংকোচন নিয়ন্ত্রণ করে। এর কোনো নেতিবাচক পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া নেই।
উক্ত বিষয়ে মাও. মো. আসাদুজ্জামান (ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বাংলাদেশ, বসুন্ধরা, ঢাকা। হাদিস বিভাগ, ২য় বর্ষ।) এর প্রশ্নোত্তরটি হুবুহু তুলে ধরা হলো-
🔵মরিয়ম ফুলের পাপড়ি ভিজিয়ে রেখে সেই ফুলের পানি পান করলে প্রসব বেদনা উঠে, সহজে নরমাল ডেলিভারী হয়, এ ধরনের কথা প্রচলিত আছে। এসব কথার কোনো ভিত্তি নেই। উক্ত কথাটি কোরআন ও হাদিস দ্বারা প্রমাণিত নয়। কারণ এটি একটি শারিরীক চিকিৎসার বিষয়, যা ওহীর ওপর নির্ভর করে না। বরং পরীক্ষা ও অভিজ্ঞতার মাধ্যমে জানা সম্ভব। আর রাসূলে করিম (সা.)-কে যেহেতু প্রেরণ করার মুল উদ্দেশ্য মানুষকে জান্নাতী পথের সন্ধান দেয়া, যা জ্ঞান ও চিন্তার মাধ্যমে অবগত হওয়া সহজ ছিল না।
🔴 আর রাসূলে করিম (সা.)-কে যেহেতু প্রেরণ করার মুল উদ্দেশ্য মানুষকে জান্নাতী পথের সন্ধান দেয়া, যা জ্ঞান ও চিন্তার মাধ্যমে অবগত হওয়া সহজ ছিল না। অর্থাৎ শুধু ওহীর মাধ্যমেই সম্ভব। তাই শরীয়তের মুল লক্ষ্যকে সামনে রেখে প্রয়োজনীয় কিছু চিকিৎসার পদ্ধতি বর্ণনা করার সঙ্গে সঙ্গে জায়েজ পদ্ধতিতে সর্বপ্রকার রোগের চিকিৎসা গ্রহন করার ওপর উৎসাহ প্রদান করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে রাসূল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘প্রত্যেক রোগের ওষুধ রয়েছে। যখন তা ব্যবহার করা হয়, আল্লাহ তায়ালার ইচ্ছায় রোগ থেকে প্ররিত্রান লাভ করা যায়।’ -মুসলিম , হাদিস নম্বর: ২২০৪!
🟢 জাবের (রা.) বলেন, আমি রাসূল (সা.) এর নিকট বসা ছিলাম এমন সময় একদল গ্রাম্য লোক এসে জিজ্ঞাসা করল, ইয়া রাসূলুর্লাহ ! আমরা কি চিকিৎসা গ্রহন করতে পারি? উত্তরে তিনি বললেন, অবশ্যই হে আল্লাহ বান্দারা! তোমরা চিকিৎসা গ্রহন কর। -আবু দাউদ ,হাদিস নম্বর: ৩৮৫৫!
প্রাকৃতিতে সরিয়ে ছিটিয়ে থাকা আল্লাহর অশেষ নেয়ামত অনেক গাছ ফুল পাতা লতা অনেক কিছুতে ব্যাপক উপকার রয়েছে। মূলত ঔষধ সংগ্রহ করার তিনটি উৎস রয়েছে। ১/বোটানিক্যাল সোর্স বা উদ্ভিদ উৎস। ২/জুলুজিক্যাল সোর্স বা প্রাণিজ উৎস ৩/কেমিক্যাল সোর্স বা খনিজ উৎস।
এর মধ্যে প্রায় ৯০% ঔষধ সংগ্রহ করা হয় উদ্ভিদ জাত বিভিন্ন উৎস থেকে তাছাড়া মানুষ ও বিভিন্ন প্রাণীর খাদ্যের ও বেঁচে থাকার সকল উৎস উদ্ভিদ থেকেই এসে থাকে মূলতঃ।
অতএব, অনুরূপ যে কোনো গাছ, পাতা, ফুল ইত্যাদি অভিজ্ঞ ব্যক্তির পরামর্শে ব্যবহার করা যেতে পারে।
🐂🐂 গরুর চামড়া শতভাগ হালাল খাদ্য। মূলত সকল হালাল প্রাণীর চামড়া শতভাগ হালাল। হালাল প্রাণীর ছয়টি বস্তু খাওয়া হারাম। ১/ মল বা পায়খানা। ২/ মুত্র বা পস্রাব। ৩/প্রবাহিত রক্ত (তবে কলিজা খাওয়া হালাল) ৪/লোম (কারণ ইহা অখাদ্য এবং ক্ষতিকর) ৫/প্রাণীদের ক্ষুর এবং পাখিদের নখ! এবং ৬/পাখি জাতীয় প্রাণীদের পালক। 👉👉👉অনেকে অবশ্য ফতোয়া দিয়ে থাকে যে প্রাণীদের অন্ডকোষ যৌনাঙ্গ মূত্রথলি ইত্যাদি খাওয়া হারাম 🤔❗ মূলতঃ এই জাতীয় কথার পেছনে তাদের কোন দলিল নেই বরং তারা তাদের ধারণা প্রসূত এবং মনগড়া কথা বলে থাকে কেবল কোরআন হাদিসে কোথাও নিষেধ নেই। তাই তাদের ফতোয়া পরিত্যক্ত। বরং চিকিৎসা বিজ্ঞান মতে অন্ডকোষ এবং যৌনাঙ্গ খেলে মানুষের বহুবিধে উপকার হয় এবং যৌন শক্তি বৃদ্ধি পায় আর পিত্তথলি খেলে মানুষের শরীরের ব্যথা বেদনা দূর হয়ে যায়। ((যারা এই সমস্ত ফতোয়া দিয়ে থাকে তারা কিন্তু ছোট ছোট প্রাণীর যৌনাঙ্গ পিত্ত সব খেয়ে ফেলে অথচ বড় প্রাণীদের বেলায় ফতোয়াবাজি করতে খুবই ওস্তাদ))! 🤔ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া এবং নাইজেরিয়া সহ বহু দেশে গরু,ছাগলের চামড়া প্রাণীজ আমিষের উৎস হিসেবে ব্যাপক উৎসাহের সাথে খাওয়া হয়। 🤔আরব দেশসমূহে গরু ছাগলের চামড়া গরু ছাগলের মাংসের চেয়ে অনেক বেশি দাম। 👉👉চামড়া কিভাবে প্রসেসিং করতে হবে তার সংক্ষিপ্ত কিছু বর্ণনা নিচে দেওয়া হল। চামড়া প্রথমে ১ বর্গফুট করে কেটে খাওয়ার সোডা দিয়ে ব্রাশ দিয়ে ঘষে যে দিকে লোম আছে সেদিক ভাল করে পরিস্কার করে নিতে হবে। লবন পানিতে ১৫ মিনিট ফুটাতে হবে, এর পর ধুয়ে পরিস্কার করে আবার পরিস্কার পানিতে ডুবিয়ে ১৫-২০ মিনিট ফুটিয়ে নামিয়ে ৩-৪ ঘন্টা রেখে দিতে হবে। এর পর নামিয়ে ভোতা ছুরি দিয়ে ঘসা দিলেই উপরের দিকের একটা লেয়ার লোম সহ উঠে আসবে ও একদম পরিস্কার হয়ে যাবে। এর চেয়েও সহজ পদ্ধতি হলোঃ চামড়াগুলো এক বর্গফুট করে কেটে নিবেন এবং বড় ডেকচিতে গরম পানিতে সিদ্ধ করবেন। তারপর একজনে ধরবেন অন্যজন শুধু ছুরি দিয়ে চেঁছে লোমগুলি উঠিয়ে ফেলবেন দেখবেন ধবধবে সাদা হয়ে গেছে। তারপর আপনি এগুলো ভালো করে ধুয়ে তাৎক্ষণিক রান্না করে খেতে পারেন অথবা শুকিয়ে সংরক্ষণ করতে পারেন কিংবা ফ্রিজে সংরক্ষণ করতে পারেন এবং অন্যান্য মাংসের মতই খেতে পারেন বহুদিন পর্যন্ত। এটি গরুর ভুড়ির মতোই অত্যন্ত সুস্বাদু এবং পুষ্টিকর আর চর্বি মুক্ত একটি অত্যন্ত উন্নত মানের পুষ্টিকর খাবার। সংরক্ষণ করা মাংস যেকোনো সময় ছোট টুকরা করে গোশতর মত ঝোল /ভুনা বা ফ্রাই করে খেতে পারবেন।
👉👉পরিস্কার করার পরে ৫-৬ মনের একটা গরুর চামড়া থেকে ২০/২৫ কেজি পরিস্কার করা খাওয়ার উপযোগী অংশ পাওয়া যায়। কম কথা নয়। আপনার পরিবারের অনেক দিনের পুষ্টির চাহিদা পূরণ করতে পারে এই একটি গরুর চামড়া।
🎤🎤আসুন এবার আমরা জেনে নেই গরুর চামড়ায় কতটুকু পুষ্টি আছে এবং কি পরিমান শক্তি মজুদ আছে আর আমরা আমাদের অজ্ঞতাবশত এই চামড়া ফেলে দিচ্ছি অথবা একেবারে নামমাত্র মূল্যে বিক্রি করছি।
প্রতি ১০০ গ্রাম গরুর চামড়ায়— ২২৫ কিলো ক্যালরি শক্তি থাকে। উপাদান হিসেবে এই ১০০ গ্রামে ৪৭ গ্রাম প্রোটিন, ৭ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট, মাত্র১ গ্রাম চর্বি, ০.০২ গ্রাম ফাইবার এবং ৪৫ গ্রাম পানি বা জলীয় অংশ থাকে। গরুর চামড়ার প্রোটিন সাধারণত জিলোটিন হিসেবে থাকে। জিলাটিন নামক পদার্থ আপনার এবং বিশেষ করে বাচ্চাদের হাড় ও ত্বক গঠনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। হাড়ের এবং ত্বকের বিভিন্ন রোগ ব্যাধি সাড়তে সাহায্য করে
গরু ছাগলের চামড়া একদিকে আমিষের চাহিদা পূরণ হবে,অপর দিকে চামড়া সিন্ডিকেটদের বিরুদ্ধে হবে নিরব প্রতিবাদ। আসুন আমরা চামড়া খাওয়ার প্রচলন করি এবং একটি অত্যন্ত পুষ্টিকর আমিষ এর অপচয় রোধ করি এবং চামড়া ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট ও খারাপ লোকদেরকে প্রতিহত করি। আমি নিজে এটি করে থাকি এবং কেউ যদি হাতে-কলমে চামড়া প্রসেসিং দেখতে চান তাহলে আমার সাথে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারেন ইনশাআল্লাহ খুব সহজে চামড়া প্রসেসিং করার প্রক্রিয়া আমি শিখিয়ে দেব। —— ইবনে মোশারফ
👉👉”তেহরিক-ই-খাকসার” যে ইসলাম বহির্ভূত সংগঠন পাকিস্তানের তৈরি হয়েছিল, বাংলাদেশে ইহাই #হিজবুত_তওহিদ।
👉👉১৯৩১ সালে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের উদ্দশ্য নিয়ে এনায়েত উল্লাহ খান মাশরেকী তেহরিক ই খাকসার নামে একটি সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলেন। ভারতকে ব্রিটিশ সাম্রাজ্য থেকে মুক্তির লক্ষ নিয়ে গড়া খাকসার নেতা মাশরেকী পরবর্তীতে একজন বিতর্কিত ধর্মীয়,বিপ্লবী এবং নৈরাজ্যবাদী হিসাবে চিহ্নিত হয়।
১৯৪৩ সালের ২০ জুলাই মোহাম্মআলী জিন্নাহর একটি হত্যা চেষ্টা করা হয়,উক্ত হত্যা চেষ্টায় খাকসারের দুই কর্মী রফিক এবং সাব্বির জড়িত থাকার বিষয়টি আচোচনায় আসে। ১৯৪৪ সালে ৪ নভেম্বর মোম্বাই হাইকোর্টের বিচারপতি ব্লেগডেন এক রায়ের মাধ্যমে জঙ্গী সংগঠন খাকসারকে নিষিদ্ধ করা হয়।
তারও পরে অর্থাৎ ১৯৫৮ সালে রিপাবলিক নেতা আবদুল জব্বার খান( যিনি জনপ্রীয় ডা: খান সাহেব নামে পরিচিত চিলেন) হত্যা কান্ড এবং রাষ্ট্রপতি আইযুব খান সরকারকে উৎখাতের চেষ্টা করার অভিযোগ আনয়ন করাহয়।
এনায়েত উল্লাহ খান মাশরেকী চরম আলেম ওলামা বিদ্বেষী ছিলেন তিনি বহু বই লিখেন যার মধ্যে উল্লখযোগ্য “মৌলভীকা গলত মাযহাব” “ইশারাত””তাজকিরাহ” ইত্যাদি। তিনি তাজকিরা বইটিতে বিভিন্ন ধর্মের দ্বন্দ এবং সকল ধর্মের একত্রি করনের বিষটি ব্যাপক আকারে প্রকাশ করেন। যেটি এখন বাংলাদেশের হিজবুত তওহিদ বলছে -“সকল ধর্মের মর্মকথা সবার উপরে মানবতা”। আল্লাহর মনোনীত দ্বীন হলো ইসলাম, ইসলামে মানবতা বিরোধী কোন কথা কোরআন সুন্নায় আছে বলে কারো জানা নেই। তবুও যারা আল্লাহর দ্বীনকে না মেনে মুর্তিপুজা করে তাদেরকে ইসলামের সাথে মিশিয়ে একত্রিত করেছেন হিজবুত তওহিদ, যেটি করেছিলো মাশরেকী।
বাংলাদেশের হিজবুত তওহিদের প্রতিষ্ঠাতা কুখ্যাত রাজাকার পাকিস্থানী খাকসার নেতা এনায়েত উল্লাহ মাশরেকির সার্নিধ্য লাভ করেন এবং সায়্যিদ আবু আলা আল মৌদুদীর কাছেরও লোক ছিলেন। তিনি মাশেকির লেখা পুস্তক গুলো আয়ত্ব করে তার আদলে বাংলাদেশেও বিভিন্ন বই লিখেন, মাশরেকির লেখা “মৌলভীকা গলদ মাযহাবের উপর ভিত্তি করে তিনি এ এসাল ইসলামই নয়, এসলাম শুদু নাম থাকবে,আকিাদ,নামে অনেক বই লিখেন”।
আলেম ওলামা বিদ্বেষী হিজবুত তওহিদের আরেকটি বই আছে”ধর্ম ব্যবসার ফাঁদে” হিজবুত তওহিদের কথিত এমাম চরম আলেম ওলামা বিদ্বেষী, তার একটি ভিডিওতে দেখা যায় সেখানে তিনি উগ্রকন্ঠে ওয়াজ ব্ন্ধ করার জন্য বলেন। এখানে একটু বলে রাখি, হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম লাকসাম নওয়াব ফয়জুম্নছা সরকারী কলেজে অধ্যযন কালে ছাত্রশিবিরের একজন সদস্য ছিলেন। লাকসাম কলেজ ছাত্রলীগের দুই কর্মী আহাদ এবং মিজান ছাত্রশিবিরে হাতে নির্মম ভাবে নিহত হয়।
বলতে গেলে তেহরিক ই খাকসার ও এনায়েত উল্লাহ খান মাশরেকি এবং হিজবুত তওহিদ ও রাজাকার বায়জিদ খান পন্নী একটি অপরটির কার্বন কপি। তবে খাকসারের সাথে হিজবুত তওহিদের একটি বিষয়ে অমিল পাওয় যায় আর সেটা হলো নারীদেরকে পুরুষের সাথে একত্রিত করা, হিজবুত তওহিদ নারীর পর্দা নিয়ে বিতর্কিত।
🤔🤔 শিক্ষানীতিতে অশনি সংকেত😡😡⁉️ 👉👉এখনি সোচ্চার হউন! নতুন শিক্ষানীতিতে দশম শ্রেণি পযর্ন্ত ধর্ম শিক্ষা বাদ দেওয়া হয়েছে, ঐচ্ছিকও রাখা হয়নি, যা আগে আবশ্যিক ছিল। আমাদের কোমলমতি শিশুদের ইসলাম বিদ্বেষী বানানোর আয়োজন চূড়ান্ত। এভাবে চলতে থাকলে আগামী ২০/৩০ বছর পর এক নাস্তিক্যবাদী প্রজন্ম গড়ে উঠবে। পাঠ্যবই থেকে ইসলামী মূল্যবোধ সংশ্লিষ্ট সকল গল্প-কবিতা বাদ দেওয়া হয়েছে। নিম্নে দেখুন-
পাঠ্যপুস্তকে বাংলা বই থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে :-
১. ক্লাস-২: ‘সবাই মিলে করি কাজ’ – শিরোনামে মুসলমানদের শেষ নবীর সংক্ষিপ্ত জীবন চরিত। ২. ক্লাস-৩: ‘খলিফা হযরত আবু বকর’ শিরোনামে একটি সংক্ষিপ্ত জীবন চরিত। ৩. ক্লাস-৪: খলিফা হযরত ওমর এর সংক্ষিপ্ত জীবন চরিত। ৪. ক্লাস-৫ : ‘বিদায় হজ্জ’ নামক শেষ নবীর সংক্ষিপ্ত জীবন চরিত। ৫. ক্লাস-৫: বাদ দেওয়া হয়েছে কাজী কাদের নেওয়াজের লিখিত ‘শিক্ষা গুরুর মর্যাদা’ নামক একটি কবিতা। যা বাদশাহ আলমগীর মহত্ব বর্ণনা উঠে এসেছে। এবং শিক্ষক ও ছাত্রের মধ্যে আদব কেমন হওয়া উচিত তা বর্ণনা করা হয়েছিলো। ৬. ক্লাস-৫ : শহীদ তিতুমীর নামক একটি জীবন চরিত। এ প্রবন্ধটিতে শহীদ তিতুমীরের ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ঘটনা উল্লেখ ছিলো। ৭. ক্লাস-৬ : ড. মুহম্মদ শহীদু্ল্লাহ লিখিত ‘সততার পুরুষ্কার’ নামক একটি ধর্মীয় শিক্ষনীয় ঘটনা। ৮. ক্লাস-৬ : মুসলিম দেশ ভ্রমণ কাহিনী- ‘নীলনদ আর পিরামিডের দেশ’। ৯. ক্লাস-৬ : মুসলিম সাহিত্যিক কায়কোবাদের লেখা ‘প্রার্থনা’ নামক কবিতাটি। ১০. ক্লাস-৭: বাদ দেয়া হয়েছে মরু ভাষ্কর নামক শেষ নবীর সংক্ষিপ্ত জীবন চরিত। ১১. ক্লাস-৮: বাদ দেওয়া হয়েছে ‘বাবুরের মহত্ত্ব’ নামক কবিতাটি। ১২. ক্লাস ৯-১০: সর্ব প্রথম বাদ দেওয়া হয়েছে মধ্যযুগের বাংলা কবি শাহ মুহম্মদ সগীরের লেখা ‘বন্দনা’ নামক ধর্মভিত্তিক কবিতাটি। ১৩. ক্লাস ৯-১০: এরপর বাদ দেওয়া হয়েছে মধ্যযুগের মুসলিম কবি ‘আলাওল’ এর ধর্মভিত্তিক ‘হামদ’ নামক কবিতাটি। ১৪. ক্লাস ৯-১০: বাদ দেওয়া হয়েছে মধ্যযুগের মুসলিম কবি আব্দুল হাকিমের লেখা বঙ্গবানী কবিতাটি। ১৫. ক্লাস ৯-১০: গোলাম মোস্তাফার লেখা জীবন বিনিময় কবিতাটি। কবিতাটিতে মোঘল বাদশাহ বাবর ও তারপুত্র হুমায়ুনকে নিয়ে লেখা। ১৬. ক্লাস ৯-১০: কাজী নজরুল ইসলামের লেখা বিখ্যাত ‘উমর ফারুক’ কবিতা।
পাঠ্যবইয়ে যা প্রবেশ করেছে-
১) ক্লাস-৫ : স্বঘোষিত নাস্তিক হুমায়ুন আজাদ লিখিত ‘বই’ নামক একটি কবিতা, যা মূলত মুসলমানদের ধর্মীয় গ্রন্থ কোরআন বিরোধী কবিতা। ২) ক্লাস-৬: প্রবেশ করানো হয়েছে ‘বাংলাদেশের হৃদয়’ নামক একটি কবিতা। যেখানে রয়েছে হিন্দুদের দেবী দূর্গার প্রশংসা। ৩) ক্লাস-৬: সংযুক্ত হয়েছে ‘লাল গরুটা’ নামক একটি ছোটগল্প। যা দিয়ে মুসলিম শিক্ষার্থীদের শেখানো হচ্ছে গরু হচ্ছে মায়ের মত, অর্থাৎ হিন্দুত্ববাদ। ৪) ক্লাস-৬: অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে ভারতের হিন্দুদের তীর্থস্থান রাচি’র ভ্রমণ কাহিনী। ৫) ক্লাস-৭: `লালু’ নামক গল্পে বাচ্চাদের শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে হিন্দুদের পাঠাবলীর নিয়ম কানুন। ৬) ক্লাস-৮: পড়ানো হচ্ছে হিন্দুদের ধর্মগ্রন্থ ‘রামায়ন’ এর সংক্ষিপ্তরূপ। ৭) ক্লাস ৯-১০: প্রবেশে করেছে ‘আমার সন্তান’ নামক একটি কবিতা। কবিতাটি হিন্দুদের ধর্মসম্পর্কিত ‘মঙ্গলকাব্যের অন্তর্ভূক্ত, যা দেবী অন্নপূর্ণার প্রশংসা ও তার কাছে প্রার্থনাসূচক কবিতা। ৮) ক্লাস ৯-১০: অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে ভারতের পর্যটন স্পট ‘পালমৌ’ এর ভ্রমণ কাহিনী। ৯) ক্লাস ৯-১০: পড়ানো হচ্ছে ‘সময় গেলে সাধন হবে না’ শিরোনামে বাউলদের বিকৃত যৌনাচার। ১০) ক্লাস ৯-১০: ‘সাকোটা দুলছে’ শিরোনামের কবিতা দিয়ে ৪৭ এর দেশভাগকে হেয় করা হচ্ছে, যা দিয়ে কৌশলে ‘দুই বাংলা এক করে দেওয়া’ অর্থাৎ বাংলাদেশকে ভারতের অন্তর্ভূক্ত হতে শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে। ১১) ক্লাস-৯-১০: প্রবেশ করেছে ‘সুখের লাগিয়া’ নামক একটি কবিতা, যা হিন্দুদের রাধা-কৃষ্ণের লীলাকৃর্তণ। (সংগৃহীত)
আসুন, ইসলাম ও মুসলিম মূল্যবোধ রক্ষায় সবাই একসাথে আওয়াজ তুলি- ইসলাম বিরোধী শিক্ষানীতি বাতিল কর, করতে হবে।
❤️💜💚প্রতিটি মানুষের বছরে কমপক্ষে ২/১ বার ভ্রমণ করা উচিত। আর তা যদি হয় পরিবার-পরিজনের সাথে তাহলে তা আরো ভালো। ❤️💜💚ভ্রমণ প্রায় ৯০% স্ট্রেস লেভেল কমিয়ে আনতে সাহায্য করে। শুধু তাই নয় ভ্রমনের ফলে হৃদরোগ এবং অন্যান্য বিভিন্ন ধরনের মানসিক রোগ গুলি দূর হয়।
👉👉👉ভ্রমণের সেরা #২৫টিটিপস যা একজন ভ্রমণকারীর ভ্রমণের পূর্বে অবশ্যই জানা উচিত। আজকে আমি আপনার সাথে ভ্রমনের এই ২৫টি টিপস নিয়ে আলোচনা করব। তার আগে আমি আপনাদেরকে বলবো যে আপনারা অবশ্যই আমাদের গাজীপুর এসে ঘুরে যাবেন। শীত গ্রীষ্ম বর্ষা সব সময় চলে গাজীপুরে প্রাকৃতির অপরূপ এবং বর্ণিল পরিবর্তন। আর বর্তমান সময়ের অর্থাৎ এই বর্ষাকালে আপনি গাজীপুরের বিভিন্ন অঞ্চলে বেড়াতে আসলে অতিরিক্ত হিসেবে পাবেন বর্ষার অপরূপ #সৌন্দর্য আর আনলিমিটেড বিভিন্ন #ফলফলাদি। তো চলুন শুরু করা যাক…
পুরোনো রেললাইন,গাজীপুর এলাকা
ভ্রমণ করতে কার না ভালো লাগে। সবারই ভালো লাগে তাই না? সময় পেলেই আমরা একদল মানুষ ছুটে যাই প্রকৃতির কাছে। প্রকৃতিও আমাদের কে সাআনন্দে গ্রহন করে নেয়।
ভ্রমণ সব সময় আমাদের নতুন কিছু শিখায়। নতুন ভাবে ভাবতে শিখায়। নতুন ভাবে চলতে শিখায়।
তবে, মাঝে মাঝে আমাদের ছোট খাটো কিছু ভুলের কারনে আনন্দের ভ্রমণ নিরআনন্দের রুপ নেয়।
সেই ছোট ছোট ভুল গুলো নিয়ে এবং আমার ১০ বছর এর ভ্রমণ অভিজ্ঞতা নিয়ে আজকের এই পোস্ট ভ্রমনের সেরা ২৫টি টিপস!
পরিচ্ছেদসমূহ লুকিয়ে রাখুন 1 মনস্থির করে সময় নিয়ে পরিকল্পনা করুন 2 ভ্রমণের লিস্ট তৈরি করুন 3 স্থানীয় ভাষার সাধারণ বাক্যাংশ গুলো জেনে রাখুন 4 একটি অতিরিক্ত ক্যামেরা ব্যাটারি নিতে ভুলবেন না (বা দুটি) 5 ভ্রমণ পোশাক এর প্রতি খেয়াল করুন 6 সর্বদা ভ্রমণ বীমা কিনুন 7 গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রের ফটোকপি করে রাখুন 8 অতিরিক্ত আন্ডারওয়্যার নিন 9 ব্যাকপ্যাক গুছিয়ে নিন 10 ইলেকট্রনিক্স, ঔষধ, টুথব্রাশ, এবং আপনারব্যাকপ্যাক এ অতিরিক্ত জুতা রাখুন 11 পাবলিক পরিবহনে চলার জন্য ভাড়া জেনে নিতে পারেন 12 প্লেনে হাইড্রেটেড থাকুন 13 হোটেল ঠিকানা এবং হোটেল এর ফোন নাম্বার আপনার ফোনে লিখে রাখুন 14 স্থানীয়দের জিজ্ঞাসা করুন 15 ফ্রি পাবলিক ওয়াইফাই থেকে সাবধান 16 ভ্রমণ এর আগে আপনার ব্যাংক এবং ক্রেডিট কার্ড কোম্পানি কে সতর্ক করে রাখুন 17 ভ্রমণের সময় সাথে বই রাখুন 18 মন খোলা রাখুন 19 ভ্রমণ এর সময় নির্ধারিত করে রাখবেন না 20 বাড়িতে আপনার কাউকে জানিয়ে রাখুন 21 আপনার ব্যক্তিগত আইটেম আলাদা করুন 22 বাজেটের বাহিরে আলাদা ব্যাকআপ বাজেট রাখুন 23 প্রয়োজনীয় ঔষধ সাথে রাখুন 24 অসুস্থ অবস্থায় ভ্রমণ না 25 প্রয়োজনীয় নাম্বার গুলো কাগজে লিখে রাখুন 👉মনস্থির করে সময় নিয়ে পরিকল্পনা করুন❗ প্রায়শই দেখা যায় তাড়াহুড়া করে ভ্রমণ এর পরিকল্পনা করা হয়। এটা ঠিক নয়। হাতে সময় নিয়ে মনস্থির করে পরিকল্পনা করুন।
ভাটিরা ইটাগড়ার তালগাছর, কালীগঞ্জ, গাজীপুরভাটিরা ইটাগড়ার তালগাছের মাঠের মাঝে দিয়ে যাওয়া একমাত্র, কালীগঞ্জ, গাজীপুর
মনে রাখবেন, তাড়াহুড়া করতে যেয়ে যেন, ভুল পরিকল্পনা না হয়ে যায়। বৃষ্টির সময় পাহাড়ে ভ্রমণ করা ঠিক নয়। এটা মাথায় রাখতে হবে।
👉ভ্রমণের লিস্ট তৈরি করুন❗ ভ্রমণের কমপক্ষে ৭ দিন পূর্বেই আপনার ভ্রমণের জন্য প্রয়োজনীয় লিস্ট তৈরি করুন। সম্ভব হলে তারও আগে থেকে লিস্ট তৈরি করা শুরু করুন।
ভ্রমণের সাথে কি কি নিবেন। সিজন অনুযায়ী শীতের পোশাক অথবা গ্রীষ্মের পোশাক কোন গুলো নিবেন আগে থেকে ঠিক করে রাখুন।
এছাড়া অন্যান্য আনুসাঙ্গিক জিনিস গুলোর একটা লিস্ট তৈরি করে ফেলতে পারেন। এ কাজে আপনার মোবাইল এর নোটপ্যাড এপ্স এর সহায়তা নিতে পারেন।
নাম্বার দিয়ে প্রয়োজনীয় জিনিস গুলোর একটা লিস্ট বানিয়ে ফেলুন। যেহেতু মোবাইল সব সময় আপনার সাথে থাকে, তাই আপনার প্রয়োজনীয় জিনিস এর কথা মনে আসার সাথে সাথে মোবাইলে লিখে ফেলতে পারবেন।
স্থানীয় ভাষার সাধারণ বাক্যাংশ গুলো জেনে রাখুন বাংলাদেশে ভ্রমণের জন্য বাংলাদেশীদের এই বিষটা খুব একটা দরকার হয় না। তবুও পাহাড়ি অঞ্চল যেমনঃ চট্রগ্রাম, সিলেট এ সব এলাকায় গেলে তাদের স্থানিয় ভাষা বুজা কিন্তু খুব কঠিন।
তাই তাদের সাথে কথা বলার জন্য প্রয়োজনীয় ছোট খাটো শব্দ গুলো জেনে রাখলে আপনার অনেক সুবিদা হবে।
এছাড়া বিদেশ ভ্রমনে গেলে তাদের ভাষা না বুজলেও আপনি যদি ছোট খাটো শব্দ গুলো জানেন যেমনঃ Hi, Hello, Please, Thank you and I’m sorry এগুলো দিয়ে অনেকটা চালিয়ে নিতে পারবেন।
একটি অতিরিক্ত ক্যামেরা ব্যাটারি নিতে ভুলবেন না (বা দুটি) ভ্রমণের সময় আমারা ভ্রমণের মুহূর্ত গুলো ছবি বা ভিডিও আকারে সংরক্ষণ করতে পছন্দ করি।
তাই ভ্রমণের সময় আপনার ক্যামেরার জন্য অবশ্যই সাথে করে ১ বা ২ টি অতিরিক্ত ব্যাটারি নিতে ভুলবেন না।
একটা ভুলের জন্য আপনার চমৎকার সেই সময়টা ফ্রেমবন্দি করতে পারবেন না। তখন আফসোস করবেন শুধু।
ভ্রমণ পোশাক এর প্রতি খেয়াল করুন ভ্রমণের সময় সিজন অনুযায়ী পোশাক নিতে ভুলবেন না কিন্তু। যে কথা একটু আগেই আমি বলেছি।
শীতের সময় ভারি কাপড় সাথে মোজা, চাদর আর, গরম এর সময় হালকা পাতলা কাপড় নিবেন।
👉সর্বদা ভ্রমণ বীমা কিনুন❗ এটা বাংলাদেশে কতটা জনপ্রিয় তা বলতে পারছি না। তবে এটা সকল ট্রাভেলার এর জন্য জরুরি।
সর্বদা যে কোন দেশে ভ্রমনে গেলে ভ্রমণ বীমা কিনার চেষ্টা করবেন। এটা আপনার মেডিক্যাল এর জন্য অনেক সহায়ক।
গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রের ফটোকপি করে রাখুন ভ্রমণের সময় আমাদের অনেক গুরুত্ব পূর্ণ কাগজপত্র সাথে নিতে হয়। যেমনঃ পাসপোর্ট, ভিসা, ভোটার আইডি ইত্যাদি।
এগুলোর ফটোকপি করে রাখুন। অনেক সময় ভ্রমনে থাকা কালীন আমরা বেখেয়ালি হয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রগুলো হারিয়ে ফেলতে পারি।
তাই, আপনার গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রের ফটোকপি করে রাখুন।
অতিরিক্ত আন্ডারওয়্যার নিন ভ্রমণের সময় সাথে করে অতিরিক্ত আন্ডারওয়্যার নিন। কারন, ভ্রমনে আমরা সব সময় ঘুরার উপরে থাকি।
সারাদিন ঘুরার ফলে আন্ডারওয়্যার ঘেমে দুর্গন্ধ বের হয়। পরের দিন যদি আবার আপনি এটা পড়ে বের হন তাহলে সেখান থেকে ব্যাকটেরিয়া হয়ে আপনার চুলকনি সহ অনেক রোগের জন্ম হতে পারে।
তাই ভ্রমনে অতিরিক্ত আন্ডারওয়্যার নিন।
👉👉ব্যাকপ্যাক গুছিয়ে নিন ভ্রমণের ১/২ দিন আগেই আপনার ব্যাকপ্যাক গুছিয়ে নিন। আপনি ভ্রমনে যা যা নিবেন সেটার যে লিস্ট করেছেন সে অনুযায়ী ব্যাকপ্যাক গুছিয়ে ফেলুন।
১/২ দিন হাতে রেখে ব্যাকপ্যাক গুছালে ভুল ক্রমে যেটা আপনি নিতে ভুলে গেছেন সেটা মনে পড়ে যাবে।
ইলেকট্রনিক্স, ঔষধ, টুথব্রাশ, এবং আপনার ব্যাকপ্যাক এ অতিরিক্ত জুতা রাখুন ভ্রমণের সময় কিছু গুরুত্বপূর্ণ আইটেম সবসময় আপনাকে বহন করতে হবে। আপনি যদি কোন সৈকতে ছুটিতে যান তাহলে কিন্তু আপনাকে সাথে করে সাঁতারের পোষাক নিতে হবে।
তেমনি ভাবে সমুদ্রের বিচে হাটা চলার জন্য আপনি সাথে করে অতিরিক্ত হালকা গঠনের জুতা সাথে নিতে পারেন।
পাবলিক পরিবহনে চলার জন্য ভাড়া জেনে নিতে পারেন ভ্রমণের সময় এক জায়গা থেকে আরেক জায়গা যাওয়ার জন্য অনেক সময় আমাদের পাবলিক পরিবহন ব্যাবহার করতে হয়।
তাই পাবলিক পরিবহনে উঠার আগে পাবলিক পরিবহনে চলার জন্য ভাড়া জেনে নিতে পারেন।
প্লেনে হাইড্রেটেড থাকুন একদেশ থেকে আরেক দেশে ভ্রমণের জন্য আমাদের প্লেনে করে যেতে হয়। প্লেনে লং জার্নির সময় যখন প্লেন অনেক উপরে থাকে যেমনঃ ৩০,০০০ ফিট ।
তখন প্লেনে হাইড্রেটেড থাকার চেষ্টা করুন।
হোটেল ঠিকানা এবং হোটেল এর ফোন নাম্বার আপনার ফোনে লিখে রাখুন ভ্রমণের সময় এরকম হয় যে, অনেক সময় আমি হোটেল এর নাম ভুলে যাই। তাই আমি হোটেল এর ঠিকানা এবং মোবাইল নাম্বার আমার মোবাইলে লিখে রাখি।
আমার মত এরকম আছেন কেউ?
স্থানীয়দের জিজ্ঞাসা করুন আমি প্রায়শই খাবারের জন্য কোন হোটেল ভালো বা স্থানীয় বিখ্যাত কি খাবার রয়েছে সেটা জানার জন্য স্থানীয়দের জিজ্ঞেস করি।
আপনারও এটা করে দেখতে পারেন।
ফ্রি পাবলিক ওয়াইফাই থেকে সাবধান ভ্রমণের সময় বা অন্য যে কোন সময় ফ্রি পাবলিক ওয়াইফাই ব্যাবহার করা থেকে বিরত থাকুন।
বিমানবন্দর গুলোতে অনেক সময় ফ্রি পাবলিক ওয়াইফাই পাওয়া যায়। আমি এগুলো থেকে সাবধান থাকার ব্যাপারে পরামর্শ দিব।
তবে, আপনার হোটেল বা অন্য কোথাও যদি ওয়াইফাইয়ে পাসওয়ার্ড দেয়া থাকে, তাহলে আপনি সেটা ব্যাবহার করতে পারেন।
ভ্রমণ এর আগে আপনার ব্যাংক এবং ক্রেডিট কার্ড কোম্পানি কে সতর্ক করে রাখুন আপনি যদি বিদেশে থাকাকালীন আপনার ক্রেডিট কার্ড কোম্পানী বা ব্যাঙ্ককে আপনার কার্ডে একটি হোল্ড রাখতে না চান তবে এটি একটি দুর্দান্ত অভ্যাস।
👉সব সময় সতর্ক থাকা ভালো।
ভ্রমণের সময় সাথে বই রাখুন ভ্রমণের সময় পড়ার জন্য সাথে আপনার পছন্দের বই রাখতে পারেন। অনেক সময় লং জার্নি করতে হয়। তখন আপনি বই পড়ে সময়টা কে ভালো করে উপভোগ করতে পারেন।
👉মন খোলা রাখুন ভ্রমণের সময় মন খোলা রাখুন। অন্যান্য কাস্টমস কে বিচার করবেন না। মনে রাখবেন আপনি একজন পরিদর্শক। শ্রদ্ধাশীল হওয়া শিখুন।
ভ্রমণ এর সময় নির্ধারিত করে রাখবেন না সময় নির্ধারণ করে ভ্রমণ করবেন না। বলা যায় না, অনির্ধারিত সময় গুলোও অনেক সময় নির্ধারিত সময় এর চেয়ে বেশি আনন্দময় হয়।
তাই সময় নির্ধারিণ এর ক্ষেত্রে এই বিষয়টা খেয়াল রাখুন।
💚❤️বাড়িতে আপনার কাউকে জানিয়ে রাখুন ভ্রমণ এর সময় বাড়িতে আপনার কাউকে জানিয়ে রাখুন। একাকী ভ্রমণ করার সময় এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বলাতো যায় না, কখন দুর্ঘটনা ঘটে যায়।
👉আপনার ব্যক্তিগত আইটেম আলাদা করুন একাকী ভ্রমণে গেলে ভিন্ন কথা। তবে, কয়কজন একসাথে ভ্রমণে গেলে আপনার ব্যক্তিগত আইটেম আলাদা করুন।
অন্যকে জানান আপনার পছন্দের খাবার ও অন্যান্য বিষয় সম্পর্কে।
বাজেটের বাহিরে আলাদা ব্যাকআপ বাজেট রাখুন ভ্রমণের জন্য এই বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ভ্রমণে অনেক সময় বেখেয়ালি থাকার কারনে ব্যাগ হারিয়ে ফেলি। আবার অনেক সময় চুরি বা ছিনতাই হয়ে যায়।
তাই আপনার ক্রেডিটকার্ড এবং অতিরিক্ত টাকা আপনার গোপন জায়গায় রেখে দিন।
প্রয়োজনের সময় এটা খুব কাজে দিবে।
যে কোন সমস্যায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তা নিন।
🤔🤔প্রয়োজনীয় ঔষধ সাথে রাখুন ভ্রমণের সময় আপনার প্রয়োজনীয় ঔষধ গুলো সাথে রাখুন। কারন, ভ্রমণে সব জায়গায় সব ঔষধ পাওয়া নাও যেতে পারে।
প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য কিছু ঔষধ সাথে রাখতে পারেন।
অসুস্থ অবস্থায় ভ্রমণ না অসুস্থ অবস্থায় ভ্রমণ করা থেকে বিরত থাকুন। মনে রাখবেন, ভ্রমণ আনন্দে জায়গা। তেমনি, ভ্রমণের জন্য শারীরিক এবং মানসিক শক্তির প্রয়োজন।
অসুস্থতা নিয়ে ভ্রমণে গিয়ে অসুস্থতা আরও বারিয়ে দিবেন না।
প্রয়োজনীয় নাম্বার গুলো কাগজে লিখে রাখুন ভ্রমণে গেলে মোবাইল থাকা সত্তেও আপনার প্রয়োজনীয় নাম্বার যেমনঃ বাসার নাম্বার, হাজবেন্ড, ওয়াইফ, বন্ধুর নাম্বার গুলো একটা কাগজে লিখে সাথে রাখুন।
বলাতো যায় না, আপনার মোবাইল টি যদি হারিয়ে যায় বা ছিনতাই হয়ে যায় তাহলে যাতে কাছের মানুষের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন।
তাই অবশ্যই প্রয়োজনীয় নাম্বার গুলো কাগজে লিখে রাখুন।
পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন দেশে গতকাল (শুক্রবার) মার্কিন বিরোধী বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে। ইরাক, বাহরাইন, ইয়েমেন, জর্দান ও ফিলিস্তিনে এ বিক্ষোভ হয়। তবে আরো কিছু দেশে বিক্ষোভ না হলেও এসব দেশের কর্মকর্তারা ও বিভিন্ন সংস্থার ব্যক্তিত্বরা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত কথিত শান্তি চুক্তি ‘ডিল অব দ্যা সেঞ্চুরি’র বিরোধিতা করেছেন। তারা বলেছেন, আমেরিকার এ পদক্ষেপ পশ্চিম এশিয়ায় সহিংসতা ও মার্কিন বিরোধী ঘৃণা বৃদ্ধির বড় কারণ।
যদিও গত এক দশকে এ অঞ্চলের দেশগুলোর জনমনে এবং প্রতিরোধ সংগঠনগুলোর মধ্যে মার্কিন বিরোধী চেতনা প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে। কিন্তু এ বছর দুটি কারণে জানুয়ারিতে এর মাত্রা বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রথমত ইরানের আইআরজিসি’র কুদস ব্রিগেডের প্রধান জেনারেল কাসেম সোলাইমানি হত্যা, দ্বিতীয়ত ইরাকের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন ও ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের ‘ডিল অব দ্যা সেঞ্চুরি’ পরিকল্পনা উত্থাপন।
আমেরিকা গত ৩ জানুয়ারি বাগদাদ বিমানবন্দরে ড্রোন হামলা চালিয়ে ইরানের জেনারেল সোলাইমানি এবং ইরাকের হাশদ আশ শাবির উপপ্রধান আবু মাহদি আল মোহান্দেস ও তাদের আরো আট সহযোগীকে শহীদ করে। এ ঘটনার পর থেকে ইরাকের জনগণ সেদেশ থেকে মার্কিন সেনা বহিষ্কারের দাবি জানিয়ে আসছে। ইরাকে গত শুক্রবার মার্কিন সেনা বহিষ্কারের দাবিতে মিলিয়ন ম্যান মার্চ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত ২৮ জানুয়ারি ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে কথিত শান্তি পরিকল্পনা ‘ডিল অব দ্যা সেঞ্চুরি’ উত্থাপন করেন। ট্রাম্পের এ বেআইনি পদক্ষেপের ফলে নতুন করে পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন দেশে মার্কিন বিরোধী বিক্ষোভ হয়েছে।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ট্রাম্পের এসব ভুল পদক্ষেপ এবং জনগণের প্রতিক্রিয়া থেকে বোঝা যায় তিনি আসলে এ অঞ্চলের বাস্তবতা উপলব্ধি করতে ব্যর্থ হয়েছেন। ট্রাম্পের ধারণা অধিকাংশ আরব দেশের সরকারগুলোর মত জনগণও আমেরিকার অনুগত হয়ে চলবে।
ট্রাম্পের ধারণা, অর্থের বিনিময়ে ও কিছু সুযোগ সুবিধা দিয়ে জনগণকে কেনা যাবে কিন্তু বিভিন্ন দেশে মার্কিন বিরোধী চলমান বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে বোঝা যায় এ অঞ্চলের জনগণ আমেরিকার প্রতি প্রচণ্ড ক্ষিপ্ত।
এছাড়া ওই দেশগুলোর নিরাপত্তা আমেরিকার ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় এটাও জনগণ মেনে নিতে পারছে না। কোনো কোনো সরকারের বিপরীতে জনগণ চায় নিজ দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বজায় রাখতে।
প্রকৃতপক্ষে, কাসেম সোলাইমানি হত্যা এবং ট্রাম্পের ঘোষিত ‘ডিল অব দ্যা সেঞ্চুরি’ প্রমাণিত হয়েছে আমেরিকা হচ্ছে পশ্চিম এশিয়ায় সন্ত্রাসবাদের প্রধান উৎস এবং সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে যারাই যুদ্ধ করছে তাদেরকেই হত্যা করছে আমেরিকা। কারণ এসব সন্ত্রাসীরা এ অঞ্চলে আমেরিকার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। দ্বিতীয় বিষয়টি হচ্ছ, এ অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠার কোনো ইচ্ছা আমেরিকার নেই বরং তারা ইসরাইলের মতো একটি আগ্রাসী শক্তিকে পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছে। এ কারণে পশ্চিম এশিয়ার জনগণ ক্রমেই আমেরিকার বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠছে।