এটি পবিত্র কুরআনের ৪৭ তম সূরা, এর আয়াত অর্থাৎ বাক্য সংখ্যা ৩৮ এবং এর রূকু তথা অনুচ্ছেদ সংখ্যা ৪। সূরা মুহাম্মদ মদীনায় অবতীর্ণ হয়েছে।
#নামকরণঃ এই সূরাটির ২ নং আয়াতের وَآمَنُوا بِمَا نُزِّلَ عَلَى مُحَمَّدٍ বাক্যাংশ থেকে مُحَمَّدٍ অংশটি অনুসারে এই সূরার নামটি গৃহীত হয়েছে; অর্থাৎ, যে সূরার মধ্যে محمد (‘মুহাম্মদ’) শব্দটি আছে এটি সেই সূরা।তাছাড়া সূরাটির অপর একটি নাম ‘কিতাল’। ২০ নম্বর আয়াতে উল্লেখিত শব্দ হতে এই নামটি নেয়া হয়। তাছাড়া সূরাটিতে মোটামুটিভাবে ‘কিতাল’ সম্পর্কিত বিস্তারিত আলোচনা এসেছে।
#নাযিল_হওয়ার_সময়_ও_স্থানঃসূরার বিষয়বস্তু সাক্ষ দেয় যে, সূরাটি হিজরতের পরে এমন এক সময় মদীনায় নাযিল হয়েছিল যখন যুদ্ধ করার নির্দেশ হয়েছিল বটে কিছু কার্যত যুদ্ধ তখনও শুরু হয়নি ।যে সময় এ সূরাটি নাযিল হয়েছিল সে সময়ের পরিস্থিতি ছিল এই যে, বিশেষ করে পবিত্র মক্কা নগরীতে এবং সাধারণভাবে গোটা আরব ভূমির সর্বত্র #মুসলমানদেরকে_জুলুম_নির্যাতনের_লক্ষ্যস্থল_বানানো_হচ্ছিলো এবং তাদের জীবন অত্যন্ত দূর্বিসহ করে দেয়া হয়েছিলো। মুসলমানগণ সমস্ত অঞ্চল থেকে এসে মদীনার নিরাপদ আশ্রয়ে জড়ো হয়েছিল। কিন্তু কুরাইশ গোত্রের কাফেররা এখানেও তাদেরকে শান্তিতে থাকতে দিতে প্রস্তুত ছিল না। মদীনার ক্ষুদ্র জনপদটি চারদিক থেকেই কাফেরদের দ্বারা অবরুদ্ধ হয়েছিল। তারা এটিকে নিশ্চিহ্ন করে ফেলার জন্য বদ্ধপরিকর ছিল। এ পরিস্থিতিতে মুসলমানদের জন্য মাত্র দুটি পথই খোলা ছিল। হয় তারা দ্বীনে হকের দাওয়াত ও তাবলীগের কাজই শুধু নয় বরং আনুগত্য ও অনুসরণ পরিত্যাগ করে জাহেলিয়াতের কাছে আত্মসমর্পণ করবে। নয়তো জীবন বাজি রেখে প্রাণপণে লড়াই করবে এবং চিরদিনের জন্য এ বিষয়ের ফায়সালা করে দেবে যে, আরবের মাটিতে ইসলাম থাকবে না জাহেলিয়াত থাকবে। এ ক্ষেত্রে আল্লাহ তা’আলা মুসলমানদেরকে দৃঢ় সংকল্পের পথ দেখিয়েছেন যেটি ঈমানদারদের একমাত্র পথ। তিনি সূরা হজ্জে (আয়াত ৩৯) প্রথমে তাদেরকে যুদ্ধের অনুমতি দিয়েছেন এবং পরে সূরা বাকারায় (আয়াত ১৯০) যুদ্ধের নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু সে সময় সবাই জানতো যে, এ পরিস্থিতিতে যুদ্ধের অর্থ কী? মদীনায় ঈমানদারদের একটা ক্ষুদ্র দল ছিল যার যুদ্ধ করার মত পুরো এক হাজার যোদ্ধা সংগ্রহ করার সামর্থও ছিল না। অথচ তাদেরকেই তরবারি নিয়ে সমগ্র আরবের জাহেলিয়াতের সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হওয়ার জন্য বলা হচ্ছে। তাছাড়া যে জনপদে আশ্রয়হীন ও সহায় সম্বলহীন শত শত মুহাজির এখনো পুরোপুরি পুনর্বাসিত হতে পারেনি, আরবের অধিবাসীরা চারদিক থেকে আর্থিক বয়কটের মাধ্যমে যার মেরুদণ্ড ভেঙ্গে দিয়েছিল এবং অভুক্ত থেকে যুদ্ধের প্রয়োজনীয় সাজ-সরঞ্জাম সংগ্রহ করাও যার পক্ষে কঠিন ছিল এখন তাকেই লড়াই করার নির্দেশ দেয়া হচ্ছে।
#শান_এ_নযূলঃএহেন পরিস্থিতিতে সূরাটি নাযিল করা হয়েছিল । ঈমানদারদেরকে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত করা । এবং এ বিষয়ে প্রাথমিক পথনির্দেশনা দেয়াই এর আলোচ্য ও বক্তব্য । এ দিকটি বিচার করে এর নাম “সূরা কিতাল”ও রাখা হয়েছে । এতে ধারাবাহিকভাবে নিম্নোক্ত বিষয়বস্তু উল্লেখ করা হয়েছে ।#প্রথম’ই বলা হয়েছে যে, এখন দুটি দলের মধ্যে মোকাবিলা হচ্ছে । এ দুটি দলের মধ্যে একটি দলের অবস্থান এই যে, তারা সত্যকে মেনে নিতে অস্বীকার করেছে এবং আল্লাহর পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে । কিন্তু অপর দলটির অবস্থান হলো, আল্লাহ তা’আলার পক্ষ থকে তাঁর বান্দা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর যে সত্য নাযিল হয়েছিল তা তারা মেনে নিয়েছে । এখণ আল্লাহ তা’আলার সুস্পষ্ট সিদ্ধান্ত হলো, প্রথমোক্ত দলটির সমস্ত চেষ্টা-সাধনা ও কাজ-কর্ম তিনি নিষ্ফল করে দিয়েছেন এবং শেষোক্ত দলটির অবস্থা সংশোধন করে দিয়েছেন ।#দ্বিতীয়ত মুসলমানদের সামরিক বিষয়ে প্রাথমিক নির্দেশনা দেয়া হয়েছে । তাদেরকে আল্লাহর সাহায্য ও দিকনির্দেশনার নিশ্চয়তা দেয়া হয়েছে । আল্লাহর পথে কুরবানী পেশ করার জন্য তাদেরকে সর্বোত্তম প্রতিদানের আশ্বাস দেয়া হয়েছে । তাদের এ বলে সান্ত্বনা দেয়া হয়েছে যে, ন্যায় ও সত্যের পথে তাদের প্রচেষ্টা বৃথা যাবে না । বরং দুনিয়া ও আখেরাত উভয় জায়গাতেই তারা ক্রমান্বয়ে এর অধিক ভাল ফল লাভ করবে ।#তৃতীয়তঃ কাফেরদের সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, তারা আল্লাহর সাহায্য ও দিকনির্দেশনা থেকে বঞ্চিত । ঈমানদারদের বিরুদ্ধে তাদের কোন প্রচেষ্টাই কার্যকর হবে না । তারা দুনিয়া ও আখেরাত উভয় ক্ষেত্রেই অত্যন্ত খারাপ পরিণামের সুম্মুখীন হবে । তারা আল্লাহর নবীকে মক্কা থেকে বের করে দিয়ে মনে করেছিলো, যে, তারা বড় রকমের সফলতা লাভ করেছে । অথচ এ কাজ করে তারা প্রকৃতপক্ষে নিজেরা নিজেদের জন্য বড় রকমের ধ্বংস ডেকে এনেছে ।#চতুর্থত #মুনাফিকদের উদ্দেশ্য করে কথা বলা হয়েছে । যুদ্ধের নির্দেশ আসার পূর্বে এসব মুনাফিক নিজেদেরকে বড় মুসলমান বলে জাহির করতো । কিন্তু এ নির্দেশ আসার পরে তারা ঘাবড়ে গিয়ে নিজেদের নিরাপত্তা ও কল্যাণ চিন্তায় কাফেরদের সাথে ষড়যন্ত্র করতে শুরু করেছিল যাতে তারা নিজেদেরকে যুদ্ধের বিপদ থেকে রক্ষা করতে পারে । তাদেরকে স্পষ্টভাবে সাবধান করে দেয়া হয়েছে যে, যারা আল্লাহ এবং তাঁর দীনের সাথে মুনাফিকীর আচরণ করে তাদেরকে কোন আমলই আল্লাহর কাছে গৃহীত হয় না । এখানে যে মৌলিক প্রশ্নে ঈমানের দাবীদার প্রতিটি ব্যক্তির পরীক্ষা হচ্ছে তা হলো, সে ন্যায় ও সত্যের সাথে আছে না বাতিলের সাথে আছে? তার সমবেদনা ও সহানুভূতি মুসলমান ও ইসলামের প্রতি না কাফের ও কুফরীর প্রতি । সে নিজের ব্যক্তি সত্তা ও স্বার্থকেই বেশি ভালবাসে না কি যে ন্যায় ও সত্যের প্রতি ঈমান আনার দাবী সে করে তাকেই বেশি ভালবাসে?এ পরীক্ষায় যে ব্যক্তি মেকী প্রমাণিত হবে আল্লাহর কাছে তার নামায, রোযা এবং যাকাত কোন প্রতিদান লাভের উপযুক্ত বিবেচিত হওয়া তো দূরের কথা সে আদৌ ঈমানদারই নয় ।
#পঞ্চমত মুসলমানদের উপদেশ দেয়া হয়েছে যে, তারা যেন নিজেদের সংখ্যাল্পতা ও সহায় সম্বলহীনতা এবং কাফেরদের সংখ্যাধিক্য ও সহায় সম্বলের প্রাচুর্য দেখে সাহস না হারায় এবং তাদের সাছে সন্ধির প্রস্তাব দিয়ে নিজেদের দুর্বলতা প্রকাশ না করে । এতে ইসলাম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে তাদের দুঃসাহস আরো বেড়ে যাবে । বরং তারা যেন আল্লাহর ওপর নির্ভর করে বাতিলকে রুখে দাঁড়ায় এবং কুফরের এ অগ্রাসী শক্তির সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হয় । আল্লাহ মুসলমানদের সাথে আছেন । তারাই বিজয়ী হবে এবং তাদের সাথে সংঘাতে কুফরী শক্তি চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যাবে ।#ষষ্টতঃ সর্বশেষে মুসলমানদেরকে আল্লাহর পথে অর্থ ব্যয় করার আহবান জানানো হয়েছে । যদিও সে সময় মুসলমানদের আর্থিক অবস্থা অত্যন্ত নাজুক ছিল । কিন্তু সামনে প্রশ্ন ছিল এই যে, আরবে ইসলাম এবং মুসলমানরা টিকে থাকবে কি থাকবে না । এ প্রশ্নের গুরুত্ব ও নাজুকতার দাবী ছিল এই যে, মুসলমানরা নিজেদেরকে এবং নিজেদের দীনকে কুফরের আধিপত্যের হাত থেকে রক্ষা করার এবং আল্লাহর দীনের বিজয়ী করার জন্য তাদের জীবন কুরবানী করবে এবং যুদ্ধ প্রস্তুতিতে নিজেদের সমস্ত সহায় সম্পদ যথা সম্ভব অকৃপণভাবে কাজে লাগাবে । সুতরাং মুসলমানদের উদ্দেশ্য করে বলা হয়েছে যে, এ মুহুর্তে যে ব্যক্তি কৃপণতা দেখাবে সে প্রকৃতপক্ষে আল্লাহর কোন ক্ষতিই করতে পারবে না , বরং নিজেদের ধ্বংসের মধ্যে নিক্ষেপ করবে । আল্লাহ মানুষের মুখাপেক্ষী নন । কোন একটি দল বা গোষ্ঠী যদি তার দীনের জন্য কুরবানী পেশ করতে টালবাহানা করে তাহলে আল্লাহ তাদের অপসারণ করে অপর কোন দল বা গোষ্ঠীকে তাদের স্থলাভিষিক্ত করবেন ।
তথ্যসূত্রঃ ডিজিটাল আল কোরআন, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ/বাংলা উইকিপিডিয়া
কর্পোরেটোক্রেসি শাসন ব্যবস্থায় কেমন হবে আমাদের আগামীর জীবন ব্যবস্থা ?”
“একজন শ্রমিকের বেতন হবে সীমিত। তখন বাসাভাড়া, গাড়িভাড়া আর ভাত-ডালের খরচ এত আকাশচুম্বি হবে যে, একজনের ইনকামে সংসার চলবে না। এত প্রতি পরিবারের বাবার পাশাপাশি, মা, ভাই-বোন সবাই বিদেশী কর্পোরেটদের শ্রমিক বা দাস হয়ে যাবে। কমমূল্যে নারী শ্রমিক পাওয়ার জন্য নারীবাদ, নারী ক্ষমতায়নের বা বাল্যবিয়ে বন্ধের ব্যাপক শ্লোগান লক্ষ্য করা যাবে।
তখন দেশে পর্যটন শিল্পের ব্যাপক বিস্তার ঘটবে। কিছু কিছু পর্যটন এলাকা আন্তর্জাতিক মানের হবে। এছাড়া দেশে হবে প্রচুর ভাইভ স্টার, সেভেন স্টার হোটেল, যেখানে বিদেশীরা এসে অবস্থান করতে পারবে। ঐ সময় বাংলাদেশে এসকর্ট সার্ভিস বা পতিতাবৃত্তি খুব এভেইলএবল হবে। যেহেতু বাংলাদেশের উৎপাদন খাত পুরোপুরি বিদেশীদের হাতে থাকবে, তাই বাড়তি ইনকামের জন্য ঘরের পুরুষদের কিছুই করার থাকবে না। তখন ঘরে বাড়তি কিছু খরচ দরকার হলেই ঘরের নারীরা এসকোর্টে গিয়ে পরপুরুষের সাথে কিছু সময় কাটিয়ে আসবে এবং ঘরের বাড়তি খরচের প্রয়োজন মেটাবে।https://bangla.dhakatribune.com/bangladesh/2020/01/15/19087/%E0%A6%9F%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A6%BE-%E0%A6%B6%E0%A7%8B%E0%A6%A7-%E0%A6%95%E0%A6%B0%E0%A6%A4%E0%A7%87-%E0%A6%A8%E0%A6%BE-%E0%A6%AA%E0%A7%87%E0%A6%B0%E0%A7%87-%E0%A6%AE%E0%A7%87%E0%A7%9F%E0%A7%87%E0%A6%95%E0%A7%87-%E0%A6%A7%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%B7%E0%A6%A3%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%85%E0%A6%A8%E0%A7%81%E0%A6%AE%E0%A6%A4%E0%A6%BF-%E0%A6%A6%E0%A6%BF%E0%A6%B2%E0%A7%8B-%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E0%A6%BE?fbclid=IwAR3LYITr7_jcgpdy2V8rQclq2RnjDxEh9JsDyFivXO8rsSkr0Vy34TgPe64
#ইহুদীদের_মাস্টারপ্ল্যান
আমরা যখন দেখি জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহার করে একজন জনসংখ্যা কমলো!
বিধর্মীরা তখন দেখে দেশে একজন ঈমানদার কমলো!
.
আমরা যখন দেখি সমিতির টাকায় পাশের বাড়ির শিরিন আন্টি স্বাবলম্বী হচ্ছে;
ওরা তখন দেখে শিরিন আন্টি আল্লাহর দেয়া সুদের বিধান অমান্য করছে!
.
আমরা যখন দেখি সহশিক্ষার মাধ্যমে নারীরা সমান তালে চলছে;
ওরা দেখে দলে দলে জাহান্নামী হওয়ার দৃশ্য!
.
গ্রামের কঁচিকাঁচাগুলো কিন্ডার গার্টেনে ইংরেজী শিখছে দেখে আমরা যখন খুশি হই;
ওরা তখন কুরআন শিখা থেকে বঞ্চিত হওয়ার দৃশ্য দেখে মিটমিটিয়ে হাসে!
.
দেশের ছেলের স্কলারশিপে বিদেশ যাওয়াকে যখন আমরা দেশের সুনাম ভাবি;
একজন ব্রিলিয়ান্ট ছিনিয়ে নেয়ার খুশিতে ওরা তখন হাততালি দেয়!
.
আমরা যখন দেখি আমাদের ছেলে-মেয়েরা উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হচ্ছে;
ওরা তখন দেখে আমরা ইসলামী শিক্ষা হতে দূরে সরে যাচ্ছি!
.
আমরা যখন দেখি অনলাইন থেকে কুরআন-হাদীস আর ইসলাম শিখছি;
ওরা তখন দেখে দশ কেজি দুধে এক ফোটা নাপাকীর শক্তি!
.
আমাদের নারীদের ক্ষমতায় আমরা যখন গর্ববোধ করি;
তখন ওরা আমাদের পুরুষদের কাপুরুষত্ব ফিল করে!
.
আমরা দেখি রাত ১২টার পর থেকে নেট খরচ কম;
ওরা দেখে ছেলের ফজরটা মাইর গেলো!
.
আমরা দেখি ওরা ডেটা বান্ডিল সস্তায় বিক্রি করছে;
আর ওরা দেখে অল্পদামে মূল্যবান সময় বিক্রি করছি আমরা!
.
আমরা অবুঝ; ওদের রাজনীতির “র” ও বুঝলাম না এখনো।
আমরা আজ দুনিয়া পেয়ে মগ্ন। অথচ দুনিয়া থেকে আখেরাত উত্তম।
কবে বুঝবো আমরা, এই দুনিয়া ধোকা ছাড়া কিছুই নাহ।
হে আল্লাহ সবাই কে বুঝার ক্ষমতা দাও
#বৃদ্ধাশ্রমে এক ৭০ বয়সী বৃদ্ধার কান্না..”বাবা-মার’ সাথে যা করেছি তার বদলা পাচ্ছি
এখন”জীবনের শেষ বয়সে আজ আমি সন্তানদের থেকে বিতাড়িত। নিঃস্ব স্বজনহীন একাকী জীবনে বৃদ্ধাশ্রমই আমার ঠিকানা। এসবের জন্য আমিই দায়ী। কারণ জীবনে আমি আমার বাবা-মার সাথে যা আচরণ করেছি এখন শেষ বয়সে আমার সন্তানদের কাছে থেকে তার বদলা পাচ্ছি।নয়তো এমন হওয়ার কথা নয়। শেষ জীবনে আমার সন্তানদের কাছ থেকে অবহেলা, অবজ্ঞা সর্বশেষ ঘরছাড়া হয়ে আজ আমি তা উপলব্ধি করতে পেরেছি’। জীবনের বাস্তব উপলব্দি থেকে এমনটাই বলছিলেন বৃদ্ধাশ্রমে থাকা ৭০ বছরের এক প্রবীণ।জীবনের ফেলে আসা স্মৃতি মনে করে বুক চেপে ধরে হাউমাউ করে তিনি কাঁদছিলেন। বললেন, ‘কথাগুলো কারো কাছে কোনোদিন বলিনি। কিন্তু এখন আর পারছি না। অন্তত তোমাদের শিক্ষার জন্য আজ বলব।শোন, আমার এমন পরিণতির জন্য আমিই দায়ী। সবই আমার দোষ। জীবনে আমি যদি আমার বাবা-মায়ের সাথে ভালো আচরণ করতাম তবে আজ হয়তো আমাকে স্বজনবিহীন হয়ে বৃদ্ধাশ্রমে আসতে হতো না। সন্তানদের কাছে অপমাণিত হতে হতো না।সবই আমার কপাল। সবই আমার কর্মের ফল। যা আজ আমার সন্তানদের কাছ থেকে আমি ফেরত পাচ্ছি’। এরপর একটু শান্ত হয়ে বললেন, ‘এখন যদি বাবা-মা বেঁচে থাকতেন তবে তাদের পায়ে পড়ে ক্ষমা চেয়ে নিতাম।
তাতে অন্তত আমার অন্তরের জ¦ালা কিছুটা হলেও কমত। কিন্ত তা তো আর সম্ভব না। আমি বুঝতে পারছি এভাবেই মানসিক যন্ত্রণার পুড়ে আমাকে শেষ পর্যন্ত বিদায় নিতে হবে’।তার জীবন সর্ম্পকে জানতে চাইলে তিনি বলতে শুরু করলেন অতীতের কথা। জানালেন ছোট থেকেই অত্যন্ত মেধাবী ছিলেন তিনি। কৃষক পরিবার হওয়ায় অর্থকষ্ট লেগেই থাকত সংসারে। ভাই বোনদের মধ্যে অত্যন্ত মেধাবী ও লেখাপড়ার প্রতি প্রবল ইচ্ছা থাকায় স্থানীয় পাঠশালায় ভর্তি করে দেন তার পিতা।
প্রতিটি পরীক্ষায় ফলাফলও ভালো করেন। পড়াশোনা শেষ করে সরকারি উচ্চ পদে চাকরিতে যোগ দেন, বিয়ে করেন। এরপর থেকে কারণে-অকারণে বাবা-মায়ের সাথে খারাপ ব্যবহার করেছেন।
নিজের টাকা পয়সা থাকার পরও তাদের অর্থকষ্টে রেখেছেন। একপর্যায়ে বাধ্য হয়ে বাবা-মা গ্রামে চলে যান। এরপর অভিমানে তারা তার সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। মারা যাওয়ার আগ পর্যন্ত পিতা-মাতার সাথে তার যোগাযোগ বন্ধ ছিল।
তিনি বলেন, ‘আজ আমি তাদের জায়গায়। এ বয়সে তাদের চেয়েও করুণ অবস্থায় আছি। আমার তিন সন্তানের সবাই ভালো চাকরি করছে। রাজধানীতে বাড়ির মালিক আমি। অথচ আমার টাকায় করা বাড়ি থেকে আজ আমি বিতাড়িত।
সন্তানদের কেউই আমার খোঁজ নেয় না। যে দিন বের করে দেয় সেদিন অনেক কেঁদেছি। তাদের বললাম, আমি না হয় বারান্দায় থাকব তবুও আমাকে বের করে দিওনা। কিন্তু তারা শুনল না।
আমার কারণে নাকি তাদের সমস্যা হয়, ঘর নোংরা হয়, কথাগুলো বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। এরপর চোখ মুছতে মুছতে বললেন, এখন বুঝিÑ এসবই আমার বাবা মায়ের অভিশাপ।
আমি যদি আমার পিতা-মাতার প্রতি অবিচার না করতাম তাহলে আমার সন্তানরা আমার সাথে এমন করত না। আমি সব সময় দোয়া করি আমার সন্তানরা যেন কখনোই বৃদ্ধ না হয়, তাহলে তারা এত কষ্ট সহ্য করতে পারবে না’।তার জীবন সর্ম্পকে জানতে চাইলে তিনি বলতে শুরু করলেন অতীতের কথা। জানালেন ছোট থেকেই অত্যন্ত মেধাবী ছিলেন তিনি। কৃষক পরিবার হওয়ায় অর্থকষ্ট লেগেই থাকত সংসারে। ভাই বোনদের মধ্যে অত্যন্ত মেধাবী ও লেখাপড়ার প্রতি প্রবল ইচ্ছা থাকায় স্থানীয় পাঠশালায় ভর্তি করে দেন তার পিতা।
প্রতিটি পরীক্ষায় ফলাফলও ভালো করেন। পড়াশোনা শেষ করে সরকারি উচ্চ পদে চাকরিতে যোগ দেন, বিয়ে করেন। এরপর থেকে কারণে-অকারণে বাবা-মায়ের সাথে খারাপ ব্যবহার করেছেন।
নিজের টাকা পয়সা থাকার পরও তাদের অর্থকষ্টে রেখেছেন। একপর্যায়ে বাধ্য হয়ে বাবা-মা গ্রামে চলে যান। এরপর অভিমানে তারা তার সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। মারা যাওয়ার আগ পর্যন্ত পিতা-মাতার সাথে তার যোগাযোগ বন্ধ ছিল।
তিনি বলেন, ‘আজ আমি তাদের জায়গায়। এ বয়সে তাদের চেয়েও করুণ অবস্থায় আছি। আমার তিন সন্তানের সবাই ভালো চাকরি করছে। রাজধানীতে বাড়ির মালিক আমি। অথচ আমার টাকায় করা বাড়ি থেকে আজ আমি বিতাড়িত।
সন্তানদের কেউই আমার খোঁজ নেয় না। যে দিন বের করে দেয় সেদিন অনেক কেঁদেছি। তাদের বললাম, আমি না হয় বারান্দায় থাকব তবুও আমাকে বের করে দিওনা। কিন্তু তারা শুনল না।
আমার কারণে নাকি তাদের সমস্যা হয়, ঘর নোংরা হয়, কথাগুলো বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। এরপর চোখ মুছতে মুছতে বললেন, এখন বুঝিÑ এসবই আমার বাবা মায়ের অভিশাপ।
আমি যদি আমার পিতা-মাতার প্রতি অবিচার না করতাম তাহলে আমার সন্তানরা আমার সাথে এমন করত না। আমি সব সময় দোয়া করি আমার সন্তানরা যেন কখনোই বৃদ্ধ না হয়, তাহলে তারা এত কষ্ট সহ্য করতে পারবে না’।
কন্যা সন্তানের বাবারা দীর্ঘায়ুর অধিকারী হয়ে থাকেন।
কন্যা সন্তানের বাবারা দীর্ঘায়ুর অধিকারী হয়ে থাকেন। শুধু তাই নয়, যে বাবার যত বেশি কন্যা সন্তান, তিনি তত বেশি বছর বাঁচেন বলে এক গবেষণার ফলাফলে উঠে এসেছে। পোল্যান্ডের জাজিলোলোনিয়ান বিশ্ববিদ্যালয় এই গবেষণা চালায়।
গবেষণার তথ্য মতে, যাদের ছেলে সন্তান আছে সেসব পিতাদের ওপর কোনো ধরনের প্রভাব ফেলেনি। তবে যাদের কন্যা রয়েছে তারা দীর্ঘায়ু হয়েছেন। কারণ হিসেবে বলা হয়, মেয়েরা বাবার জন্য বেশি আনন্দ নিয়ে আসে যা বাবার আয়ু বাড়িয়ে দেয়। প্রতিটি কন্যা সন্তানের জন্য ৭৪ সপ্তাহ বা ৫১৮ দিন বা প্রায় দুই বছর বেশি বাঁচেন।
বাচ্চা জন্মানোর সময় পিতার স্বাস্থ্য এবং শরীর কীভাবে প্রভাবিত হয় তা নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে এই তথ্য পাওয়া গেছে। চার হাজার ৩১০ জনেরও বেশি লোকের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়, যার মধ্যে দুই হাজার ১৭৭ জন মা ও দুই হাজার ১৬৩ জন বাবা ছিলেন।
অন্য এক গবেষণায় দেখা গেছে, যাদের সন্তান নেই তাদের থেকে যাদের সন্তান রয়েছে সেই দম্পতি বেশি দিন বাঁচেন।এবার জেনে নিন রাসুল সাঃ ও ইসলাম কি বলে কন্য সম্পর্কেঃকৃতপক্ষে সন্তান-সন্ততি (ছেলে-মেয়ে উভয়েই) আল্লাহ তায়ালার নেয়ামত ও শ্রেষ্ঠ উপহার। ইসলাম উভয়কেই আলাদা সম্মান ও মর্যাদা দিয়েছে। কাউকে কারও থেকে ছোট করা হয়নি কিংবা অবজ্ঞার চোখে দেখা হয়নি।
কন্যা সন্তানের মাধ্যমে আল্লাহ পরিবারে সুখ ও বরকত দান করেন। হাদিসে এমন কথা উল্লেখ হয়েছে। কিন্তু আমাদের সমাজে এখনো অনেক পরিবারে কন্যা সন্তান জন্ম নিলে ইতিবাচক চোখে দেখা হয় না। অনেকে আবার মেয়ে সন্তানের মায়ের ওপর নাখোশও হন। বিভিন্ন কায়দায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
কন্যা সন্তান হলে অপছন্দ করা, তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা এবং তাদের লালন-পালনের দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন না করা, ইসলামপূর্ব বর্বর জাহেলি যুগের কুপ্রথা। এমন কাজে আল্লাহ তাআলা ভীষণ অসন্তুষ্ট হন।
আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেন, ‘যখন তাদের কাউকে কন্যা সন্তানের সুসংবাদ দেওয়া হয়, তখন তার মুখ অন্ধকার হয়ে যায় এবং অসহ্য মনস্তাপে ক্লিষ্ট হতে থাকে। তাকে শোনানো সুসংবাদের দুঃখে সে লোকদের কাছ থেকে মুখ লুকিয়ে থাকে। সে ভাবে, অপমান সহ্য করে তাকে থাকতে দেবে নাকি তাকে মাটির নিচে পুতে ফেলবে। শুনে রাখো, তাদের ফয়সালা খুবই নিকৃষ্ট।’ (সুরা আন-নাহল, আয়াত : ৫৮-৫৯)
রাসুল (সা.) মেয়েদের অনেক বেশি ভালোবাসতেন। মেয়েরা ছিল তার আদরের দুলালী। আজীবন তিনি কন্যাদের ভালোবেসেছেন এবং কন্যা সন্তান প্রতিপালনে অন্যদের উদ্বুদ্ধ করেছেন। কন্যা সন্তান লালন-পালনে অনেক উৎসাহ দিয়েছেন।
আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে নবী (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি দু’টি কন্যাকে তারা সাবালিকা হওয়া পর্যন্ত লালন-পালন করবে, কিয়ামতের দিন আমি এবং সে এ দু’টি আঙ্গুলের মতো পাশাপাশি আসবো (অতঃপর তিনি তার আঙ্গুলগুলি মিলিত করে দেখালেন)’। (মুসলিম, হাদিস নং: ২৬৩১, তিরমিজি, হাদিস নং: ১৯১৪, মুসনাদ আহমদ, হাদিস নং: ১২০৮৯, ইবনু আবি শাইবা, হাদিস নং: ২৫৯৪৮)
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলনে, রাসুল (সা.) ইরশাদ করনে, ‘যার ঘরে কন্যা সন্তান জন্মগ্রহণ করলো, অতঃপর সে ওই কন্যাকে কষ্ট দেয়নি, মেয়ের ওউপর অসন্তুষ্টও হয়নি এবং পুত্র সন্তানকে তার ওপর প্রধান্য দেয়নি, তাহলে ওই কন্যার কারণে আল্লাহ তাআলা তাকে জান্নাতে প্রবশে করাবেন।’ (মুসনাদ আহমদ, হাদিস নং: ১/২২৩)
হযরত আবদুল্লাহ উমর (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘ওই নারী বরকতময়ী ও সৌভাগ্যবান, যার প্রথম সন্তান মেয়ে হয়। কেননা, (সন্তানদানের নেয়ামত বর্ণনা করার ক্ষেত্রে) আল্লাহ তায়ালা মেয়েকে আগে উল্লেখ করে বলেন, তিনি যাকে ইচ্ছা কন্যা সন্তান দান করেন, আর যাকে ইচ্ছা পুত্র সন্তান দান করেন।’ (কানযুল উম্মাল ১৬:৬১১)
আয়েশা (রা.) বলেন, ‘আমার কাছে এক নারী এলো। তার সঙ্গে তার দুই মেয়ে। আমার কাছে সে কিছু প্রার্থনা করলো। সে আমার কাছে একটি খেজুর ছাড়া কিছুই দেখতে পেলো না। আমি তাকে সেটি দিয়ে দিলাম। সে তা গ্রহণ করললো এবং তা দুই টুকরো করে তার দুই মেয়ের মাঝে ভাগ করে দিলো। তা থেকে সে নিজে কিছুই খেলোল না। তারপর নারীটি ও তার মেয়ে দু’টি উঠে পড়লো এবং চলে গেলো। ইত্যবসরে আমার কাছে নবী (সা.) এলেন। আমি তার কাছে ওই নারীর কথা বললাম। নবী (সা.) বললেন, ‘যাকে কন্যা দিয়ে কোনো কিছুর মাধ্যমে পরীক্ষা করা হয় আর সে তাদের প্রতি যথাযথ আচরণ করে, তবে তা তার জন্য আগুন থেকে রক্ষাকারী হবে।’ (মুসলিম, হাদিস নং : ৬৮৬২; মুসনাদ আহমদ, হাদিস নং : ২৪৬১৬)
প্রসঙ্গত কন্যা সন্তান প্রতিপালনে শুধু পিতাকেই নয়; ভাইকেও উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। বোনের কথাও বলা হয়েছে হাদিসে। যারা মনে করেন, মেয়ে বা বোনের পেছনে টাকা খরচ করলে ভবিষ্যতের তার কোনো প্রাপ্তি নেই, তারা মূলত ভুলের মধ্যে আছেন।
আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, ‘কারও যদি তিনটি মেয়ে কিংবা বোন থাকে অথবা দু’টি মেয়ে বা বোন থাকে, আর সে তাদের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করে এবং তাদের সঙ্গে সদাচার করে, তবে সে অবশ্যই জান্নাতে প্রবেশ করবে।’ (মুসনাদ আহমদ, হাদিস নং : ১১৪০৪; আদাবুল মুফরাদ লিল-বুখারি: ৭৯)
কন্যা সন্তান প্রতিপালনে যেন বৈষম্য না করা হয় এবং বস্তুবাদী ব্যক্তিরা যেন হীনমন্যতায় না ভোগেন, তাই তাদের কন্যা প্রতিপালনে ধৈর্য ধরার উপদেশ দেওয়া হয়েছে। শোনানো হয়েছে পরকালে বিশাল প্রাপ্তির সংবাদ।
আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, ‘যার তিনটি কন্যাসন্তান থাকবে এবং সে তাদের কষ্ট-যাতনায় ধৈর্য ধরবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। (মুহাম্মদ ইবন ইউনূসের বর্ণনায় এ হাদীসে অতিরিক্ত অংশ হিসেবে এসেছে) একব্যক্তি প্রশ্ন করলো, হে আল্লাহর রাসুল, যদি দু’জন হয়? উত্তরে তিনি বললেন, দু’জন হলেও। লোকটি আবার প্রশ্ন করলো, যদি একজন হয় হে আল্লাহর রাসুল? তিনি বললেন, একজন হলেও।’ (বাইহাকি, শুয়াবুল ঈমান : ৮৩১১)
আউফ বিন মালেক আশজায়ি (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তির তিনটি মেয়ে রয়েছে, যাদের ওপর সে অর্থ খরচ করে বিয়ে দেওয়া অথবা মৃত্যু পর্যন্ত, তবে তারা তার জন্য আগুন থেকে মুক্তির কারণ হবে। তখন এক নারী বললেন, হে আল্লাহর রাসুল, আর দুই মেয়ে হলে? তিনি বললেন, দুই মেয়ে হলেও।’ (বাইহাকি, শুয়াবুল ঈমান, হাদিস নং : ৮৩১৩)
আল্লাহর উপহার ভেবে এবং বাস্তবিক ভালোবেসে যারা কন্যা সন্তানদের প্রতিপালন করবে, সার্বিক তত্ত্বাবধান করবে, আল্লাহ তাআয়া তাদের উত্তম প্রতিদান দেবেন। আর যারা অবজ্ঞা করবে ও তাদের লালন-পালনে অবহেলা করবে, আল্লাহ তাআলা তাদের শাস্তি দেবেন। তাই কন্যা সন্তানকে হৃদয় উজাড় করে ভালোবাসা উচিত। সেজন্য আল্লাহ আমাদের তাওফিক দান করুন।
প্রসঙ্গঃ #শোকর বা #কৃতজ্ঞতা
আমরা যেভাবে আল্লাহ্র নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করবমূল লেখক : শায়েখ সালিহ আল-মুনাজ্জিদ | রহমান রহীম আল্লাহ্ তায়ালার নামে-প্রশ্ন:আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা আমাদেরকে অসংখ্য নেয়ামত দিয়ে ধন্য করেছেন। আমাদের প্রতি তাঁর এই সকল নেয়ামতের শুকরিয়া আদায়ের সর্বোত্তম উপায় কী?
উত্তর:প্রথমত : ধন্যবাদ বা কৃতজ্ঞতা জানানোর উদ্দেশ্য হলো কারও উপকার এবং সদয় আচরণের প্রতিদান স্বরূপ তার প্রশংসা করা এবং তার প্রতিও সদয় আচরণ করা। মানুষের ধন্যবাদ এবং প্রশংসা পাওয়ার সবচেয়ে যোগ্য সত্ত্বা হলেন আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয় তা‘আলা। কারণ জাগতিক এবং আধ্যাত্মিক উভয় ক্ষেত্রেই তিনি আমাদেরকে অসংখ্য অনুগ্রহের মাধ্যমে ধন্য করছেন। এইসব নেয়ামতের জন্য তিনি আমাদেরকে তার প্রশংসা করার এবং সেগুলোকে অস্বীকার না করার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন (অর্থের ব্যাখ্যা): “অতএব, তোমরা আমাকে স্মরণ করো, আমি তোমাদেরকে স্মরণ করব। আর আমার শোকর আদায় করো, আমার সাথে কুফরী কোরো না।” [আল-বাকারা; ২ : ১৫২]
দ্বিতীয়ত: যারা আল্লাহ্র এই নির্দেশের আনুগত্য করেছেন এবং তাঁর যোগ্য শোকরকারী বান্দা বলে বিবেচিত হওয়া পর্যন্ত তাঁর প্রশংসা করেছেন গেছেন, তারা হলেন নবী এবং রাসূলগণ (‘আলাইহিমুস সালাম)।আল্লাহ্ তা‘আলা বলেন (অর্থের ব্যাখ্যা) : “নিশ্চয়, ইবরাহীম ছিলেন (একাই) এক উম্মত (একটি জাতির জীবন্ত প্রতীক), আল্লাহ্র একান্ত অনুগত, ও একনিষ্ঠ। তিনি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না। তিনি ছিলেন তার রবের নেয়ামতের শোকরকারী। তিনি তাকে বাছাই করেছেন এবং তাকে সঠিক পথে পরিচালিত করেছিলেন।” [সূরা নাহল; ১৬ : ১২০-১২১]
“সে তাদের বংশধর, যাদেরকে আমি নূহের সাথে আরোহণ করিয়েছিলাম, নিশ্চয় তিনি ছিলেন কৃতজ্ঞ বান্দা।” [ সূরা বনী ইসরাইল; ১৭ : ৩]
তৃতীয়ত: আল্লাহ্ তা‘আলা কুরআনে আমাদের প্রতি তাঁর কিছু নেয়ামতের কথা উল্লেখ করেছেন এবং সেসব জন্য আমাদেরকে শুকরিয়া আদায় করার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি আমাদেরকে এ কথাও স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন যে, খুব অল্প কিছু মানুষই তাঁর নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করে থাকে। আল্লাহ্ তা‘আলা বলেন (অর্থের ব্যাখ্যা) :
১) “হে মু’মিনগণ! আমি তোমাদেরকে যে হালাল রিযিক দিয়েছি তা থেকে আহার করো এবং আল্লাহ্র জন্য শোকর করো যদি তোমরা তাঁরই ইবাদত করো।” [সূরা বাকারা; ২ : ১৭২]
২) “আর অবশ্যই আমি তো তোমাদেরকে যমীনে প্রতিষ্ঠিত করেছি এবং তাতে তোমাদের জন্য রেখেছি জীবনোপকরণ। তোমরা খুব কমই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে থাকো।” [সূরা আরাফ; ৭ : ১০]
৩) “আর তাঁর নির্দেশনসমূহের মধ্যে রয়েছে, তিনি [বৃষ্টির] সুসংবাদ বহনকারী হিসেবে বাতাস প্রেরণ করেন এবং যাতে তিনি তোমাদেরকে তাঁর রহমত আস্বাদন করাতে পারেন এবং যাতে তাঁর নির্দেশে নৌযানগুলো চলাচল করে, আর যাতে তোমরা তাঁর অনুগ্রহ থেকে কিছু সন্ধান করতে পারো। আর যাতে তোমরা কৃতজ্ঞ হও।” [সূরা রুম; ৩০ : ৪৬]
৪) আল্লাহ্ তা‘আলা কুরআনে যেসব আধ্যাত্মিক নেয়ামতের উল্লেখ করেছেন সেগুলো হলো (অর্থের ব্যাখ্যা): “হে মু’মিনগণ! যখন তোমরা সালাতে দণ্ডায়মান হতে চাও, তখন তোমাদের মুখ এবং কনুই পর্যন্ত হাত ধৌত করো, মাথা মাসেহ করো এবং টাখনু পর্যন্ত পা (ধৌত করো)। আর যদি তোমরা অপবিত্র থাকো, তবে ভালোভাবে পবিত্র হও। আর যদি অসুস্থ হও কিংবা সফরে থাকো অথবা যদি তোমাদের কেউ পায়খানা থেকে আসে অথবা তোমরা যদি স্ত্রী সহবাস করো অতঃপর পানি না পাও, তবে পবিত্র মাটি দ্বারা তায়াম্মুম করো। সুতরাং তোমাদের মুখ ও হাত তা দ্বারা মাসেহ করো। আল্লাহ্ তোমাদের উপর কোন সমস্যা সৃষ্টি করতে চান না। বরং তিনি তোমাদের পবিত্র করতে চান এবং তোমাদের উপর তাঁর নেয়ামত পূর্ণ করতে চান, যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো।” [সূরা মায়েদা; ৫ : ৬]
রয়েছে আরও অনেক অফুরন্ত নেয়ামত। আমরা এখানে সেগুলো থেকে মাত্র কয়েকটা উল্লেখ করলাম। বলাই বাহুল্য যে, আল্লাহ্র সমস্ত নেয়ামতের তালিকা করা অসম্ভব। এই মর্মে আল্লাহ্ তা‘আলা বলেন (অর্থের ব্যাখ্যা): “আর তোমরা যা চেয়েছ, তার প্রত্যেকটি থেকে তিনি তোমাদেরকে দিয়েছেন এবং যদি তোমরা আল্লাহ্র নেয়ামতের গণনা করো, তবে তার সংখ্যা নিরূপণ করতে পারবে না। নিশ্চয় মানুষ অতিমাত্রায় যালিম, ও অকৃতজ্ঞ।” [সূরা ইবরাহীম; ১৪ : ৩৪]
আমরা আল্লাহ্র নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করলে তিনি আমাদের ত্রুটিবিচ্যুতিকে ক্ষমা করে দেবেন এবং আমাদের প্রতি করুনা করবেন। এই মর্মে তিনি বলেন (অর্থের ব্যাখ্যা): “আর যদি তোমরা আল্লাহ্র নেয়মত গণনা করো, তবে তার ইয়ত্তা পাবে না। নিশ্চয় আল্লাহ্ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।” [সূরা নাহল; ১৬ : ১৮]
আল্লাহ্ না চাইলে, কেউ তাঁর প্রশংসা করতে পারে না। তাই মুসলিমরা সর্বদাই আল্লাহ্র কাছে সাহায্য চেয়ে প্রার্থনা করে, যেন তিনি তাদেরকে তাঁর নেয়ামতের শুকরিয়া করার সামর্থ্য দান করেন। একারণেই বিশুদ্ধ হাদীসে আল্লাহ্র প্রশংসা করার জন্য তাঁর সাহায্য চেয়ে দো‘আ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মু‘আয ইবনু জাবাল (রা) বর্ণনা করেন যে, আল্লাহ্র রাসুল (সা) তার হাত ধরে বললেন: “হে মু‘আয! আল্লাহ্র কসম, তোমাকে আমি ভালবাসি, আল্লাহ্র কসম, আমি তোমাকে ভালোবাসি।” তারপর তিনি বললেন, “হে মু‘আয! আমি তোমাকে উপদেশ দিচ্ছি যে, প্রত্যেক সালাতের শেষে তুমি বলতে ভুলে যাবে না : হে আল্লাহ্! তোমাকে উত্তমরূপে স্মরণ করার, তোমার শুকরিয়া করার এবং তোমার ইবাদত করার জন্য আমাকে সাহায্য করো।” [আবু দাউদ (১৫২২) এবং নাসা‘ঈ কর্তৃক সংকলিত; সহীহ আবি দাউদে আল-আলবানি হাদীসটি সহীহ বলে মত দিয়েছেন]
আল্লাহ্র নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করলে, আমরা তাঁর পক্ষ থেকে আরও বেশী নেয়ামত প্রাপ্ত হবো। এই মর্মে আল্লাহ্ তা‘আলা বলেন (অর্থের ব্যাখ্যা): “আর যখন তোমাদের রব ঘোষণা দিলেন, ‘যদি তোমরা শুকরিয়া আদায় করো, তবে আমি অবশ্যই তোমাদের বাড়িয়ে দেবো, আর যদি তোমরা অকৃতজ্ঞ হও, নিশ্চয় আমার আযাব বড় কঠিন।” [ইবরাহীম; ১৪:৭]
চতুর্থত: মানুষ কীভাবে তার প্রতিপালকের দেওয়া নেয়ামতরাজির শুকরিয়া আদায় করবে? আল্লাহ্র শুকরিয়া আদায়ের ক্ষেত্রে সবগুলো নির্ধারিত শর্তসমূহ পূর্ণ করা অপরিহার্য। যেমন : অন্তরের শুকরিয়া, জিহ্বার শুকরিয়া এবং অন্য সকল শারীরিক ক্ষমতার শুকরিয়া।ইবনুল কাইয়্যিম (র) বলেন: “অন্তরের শুকরিয়া হলো আত্মসমর্পণ এবং বিনম্রতায়; জিহ্বার শুকরিয়া হলো প্রশংসা এবং স্বীকারোক্তিতে; আর শারীরিক ক্ষমতার শুকরিয়া হলো আনুগত্য এবং বশ্যতায়।” [মাদারিজ আল-সালিকীন (২/২৪৬)]
উল্লিখিত বিষয়গুলোর বিশ্লেষণ:১) অন্তরের শুকরিয়া: এর অর্থ হলো, আল্লাহ্ তাঁর বান্দার প্রতি যে অনুগ্রহ করেছেন, অন্তর সেই অনুগ্রহসমূহকে পূর্ণ গুরুত্বের সাথে উপলব্ধি করে এবং দ্বিধাহীন চিত্তে স্বীকার করে যে, কেবল আল্লাহ্ই তাকে এইসব অনুগ্রহ দান করেছেন যার কোনো শরীক বা অংশীদার নেই। আল্লাহ্ তায়ালা বলেন (অর্থের ব্যাখ্যা): “আর তোমাদের কাছে যেসব নেয়ামত আছে তা আল্লাহ্র পক্ষ থেকে।” [আন-নাহল; ১৬ : ৫৩]
আমরা সমস্ত নেয়ামত যে আল্লাহ্র পক্ষ থেকে পাই, তা স্বীকার করা কেবল মুস্তাহাব (উৎসাহিত) নয়; বরং তা ফরয (বাধ্যতামূলক)। এইসব নেয়ামত আল্লাহ্ ছাড়া অন্য কারও পক্ষ থেকে এসেছে বলে বিশ্বাস করলে তা হবে কুফরী।
শায়েখ আব্দুর রাহ্মান আস-সা‘দি (রা:) বলেছেন: “মানুষকে পরিপূর্ণভাবে স্বীকার করতে হবে যে, সমস্ত নেয়ামতরাজি আল্লাহ্র পক্ষ থেকে। তবেই সে পরিপূর্ণভাবে তাওহীদ-কে অর্জন করবে। যে কেউ মুখে বা অন্তরে আল্লাহ্র নেয়ামতসমূহকে অস্বীকার করবে, সে একজন কাফির এবং ইসলামের সাথে তার কোনো সম্পর্ক নেই।যে দৃঢ়ভাবে অন্তরে বিশ্বাস করে যে, সকল নেয়ামত শুধুমাত্র আল্লাহ্র পক্ষ থেকে, আবার কখনও কখনও সেগুলোকে আল্লাহ্র পক্ষ থেকে, কখনও নিজের কর্ম বা অন্যের প্রচেষ্টার ফসল মনে করে – যেমনটি অনেক মানুষের মুখে শোনা যায় – তাহলে তাকে তাওবা করতে হবে এবং সমস্ত নেয়ামতসমূহ তার সৃষ্টিকর্তা ছাড়া অন্য কারও পক্ষ থেকে বলে মনে করবে না এবং সে অবশ্যই নিজেকে দিয়ে তা (তাওবা) করাবে। কারণ আল্লাহ্র নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করে, ঈমান এবং তাওহীদ অর্জন করা যায় না।ঈমানের মূলকথাই হলো আল্লাহ্র শুকরিয়া আদায় করা যা তিনটি স্তম্ভের উপর প্রতিষ্ঠিত : বান্দার প্রতি আল্লাহ্র সমস্ত নেয়ামতকে অন্তরে স্বীকার করা এবং সেগুলো সম্পর্কে আলোচনা করা; আল্লাহ্র শুকরিয়া আদায় করা; এবং এই শুকরিয়াকে কাজে লাগিয়ে একমাত্র আল্লাহ্র ইবাদত এবং আনুগত্য করা যিনি সমস্ত নেয়ামতের যোগানদাতা।” [আল-কাওল আস্-সাদীদ ফী মাকাসিদুত তাওহীদ (পৃষ্ঠা ১৪০)]
যারা তাঁর নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করে না, তারা কোন ধরণের মানুষ, সে সম্পর্কে আল্লাহ্ তা‘আলা বলেন (অর্থের ব্যাখ্যা): “তারা আল্লাহ্র নেয়ামত চেনে, তারপরও তা অস্বীকার করে, আর তাদের অধিকাংশই কাফির।” [সূরা নাহল; ১৬ : ৮৩]
ইবনু কাসির (রা:) বলেছেন: “তারা তো নিজেরাই জানে যে, একমাত্র আল্লাহ্ তা‘আলাই হচ্ছেন নিয়ামতরাজি দানকারী। কিন্তু এটা জানা সত্ত্বেও তারা এগুলো অস্বীকার করছে এবং তারা অন্যদের ইবাদত করছে। এমনকি তারা মনে করছে যে, সাহায্যকারী অমুক, আহার্যদাতা অমুক।” [তাফসীর ইবনু কাসির (৪/৫৯২)]
২) মুখের শুকরিয়া: এর অর্থ হলো, সমস্ত নেয়ামত রাজি শুধুমাত্র আল্লাহ্র পক্ষ থেকে – একথা অন্তরে বিশ্বাস করার পর, তা মৌখিকভাবে স্বীকার করা এবং নিজের জিহ্বাকে সর্বদায় আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা’র প্রশংসায় নিয়োজিত রাখা। তাঁর বান্দা মুহাম্মাদের (সা) প্রতি তাঁর নেয়ামতের কথা উল্লেখ করে আল্লাহ্ তা‘আলা বলেন: “তিনি তোমাকে পেয়েছেন নিঃস্ব। অতঃপর তিনি সমৃদ্ধ করেছেন।” [সূরা আদ-দুহা; ৯৩ : ৮]
আল্লাহ্র এই নেয়ামতের জন্য রাসূলকে কী করতে হবে, তা আল্লাহ্ তা‘আলা মনে করিয়ে দিয়ে বলেন: “আর তোমার রবের অনুগ্রহ তুমি বর্ণনা করো।” [সূরা আদ-দুহা; ৯৩ : ১১]
উল্লিখিত আয়াতের ব্যাখ্যা ইবনু কাসির (রা:) বলেছেন: “যখন আপনি নিঃস্ব এবং অভাবগ্রস্থ ছিলেন, আল্লাহ্ তখন আপনাকে সমৃদ্ধ এবং অভাবমুক্ত করেছেন করেছেন : তাই আপনার প্রতি অনুগ্রহের কথা ঘোষণা করুন।” [তাফসীর ইবনু কাসির (৮/৪২৭)]
আনাস ইবনু মালিক থেকে বর্ণিত। আল্লাহ্র রাসূল (সা:) বলেছেন : “আল্লাহ্ সেই ব্যক্তির প্রতি খুশি হন, যে কোনো খাবার খাওয়ার পরে তাঁর প্রশংসা করে অথবা যে কোনো পান করার পরে তাঁর প্রশংসা করে।” [সহীহ্ মুসলিম (২৭৩৪)]
আবুল ‘আব্বাস আল-কুরতুবি (রা:) বলেছেন: উল্লিখিত হাসীসে প্রশংসা বলতে শুকরিয়া আদায় করাকে বোঝানো হয়েছে। আমরা দেখেছি যে, প্রশংসার মাধ্যমে শুকরিয়া হতে পারে কিন্তু শুকরিয়ার মাধ্যমে প্রশংসা নাও হতে পারে। নেয়ামত সংখ্যায় যত ক্ষুদ্রই হোক না কেন, তার জন্য শুকরিয়া আদায় করাই হলো আল্লাহ্ তা‘আলা’র সন্তুষ্টি অর্জনের সর্বোত্তম উপায় যা জান্নাতের অধিবাসীদের সবচেয়ে মহান বৈশিষ্ট্য। যখন জান্নাতীরা বলবে, “আপনি আমাদেরকে এমন কিছু দিয়েছেন যা সৃষ্টির মধ্যে অন্য কাউকে দেননি,” তখন আল্লাহ্ তাদের উদ্দেশে বলবেন : “আমি কি তোমাদেরকে তার চেয়েও অধিক উত্তম কিছু দেবো না?” তারা বলবে “সেটা কী? আপনি কি আমাদের মুখমণ্ডলগুলোকে উজ্জ্বল করেননি এবং আমাদেরকে জান্নাতে প্রবেশ করাননি এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তি রক্ষা করেননি? তিনি বলবেন, “তোমাদের প্রতি আমি সন্তুষ্ট হয়ে গেলাম এবং এরপর আর কখনোও তোমাদের প্রতি রাগান্বিত হবো না।” “এই বিরাট সম্মান অর্জনের উপায় হলো শুররিয়া আদায় করা। কারণ নেয়ামতের শুকরিয়া আদায়ের মাধ্যমে শুধুমাত্র আল্লাহ্কেই ওই নেয়ামতের সৃষ্টিকর্তা হিসেবে স্বীকার করা হয়। যিনি নেয়ামতসমূহকে সম্মান ও অনুগ্রহস্বরূপ তাঁর বান্দার নিকট পৌঁছে দেন। যে বান্দা নিঃস্ব এবং অসহায় এবং যে অনুগ্রহ ছাড়া চলতে পারে না। কাজেই শুকরিয়া আদায় করাটা আল্লাহ্র হক্ব এবং আমাদের প্রতি তাঁর অনুগ্রহের স্বীকৃতি। এই স্বীকৃতি দেওয়া বান্দার অত্যাবশ্যক কর্তব্য। একারণেই আল্লাহ্ তাঁর শুকরিয়া আদায়ের পুরস্কারকে এত সম্মানজনক করেছেন।” [আল-মুফহিম লিমা আশকালা মিন তালখীস কিতাব মুসলিম (৭/৬০,৬১)]
এ কারনে সালাদের কেউ কেউ বলেছেন: কেউ কোনো নেয়ামতের কথা গোপন করলে সে ওই নেয়ামতকে অস্বীকার করল, আর কোনো নেয়ামতের কথা প্রকাশ করলে সে ওই ওটার জন্য শুকরিয়া আদায় করলো।
এ কথার মন্তব্যে ইবনুল কায়্যিম (রা:) বলেছেন: “আল্লাহ্ যখন কোনো ব্যক্তির প্রতি অনুগ্রহ করেন, তিনি ওই বান্দার উপর সেই অনুগ্রহের প্রভাব দেখতে ভালোবাসেন।” [মাদারিজি আল সালেকিন (২/২৪৬)]
উমার ইবনু আব্দুল আযীয (রা:) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন : (আল্লাহ্র) নেয়ামতের কথা পরস্পরকে স্মরণ করিয়ে দাও। কারণ সেগুলো আলোচনা করাও হলো শুকরিয়া আদায় করা।
৩) শারীরিক ক্ষমতার শুকরিয়া: এর অর্থ হলো শারীরিক ক্ষমতাকে আল্লাহ্র আনুগত্যের জন্য ব্যবহার করা এবং সেগুলোকে সবধরণের পাপাচার এবং আল্লাহ্র বিরুদ্ধাচরণ থেকে দূরে সরিয়ে রাখা যেসব কাজ আল্লাহ্ নিষিদ্ধ করেছেন।
আল্লাহ্ তা‘আলা বলেন (অর্থের ব্যাখ্যা): “হে দাউদ পরিবার, তোমরা কৃতজ্ঞতাস্বরূপ ‘আমল করে যাও।” [সূরা সাবা; ৩৪ : ১৩]
আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত: “আল্লাহ্র রাসুল (সা) যখন সালাত আদায় করতেন, তিনি এত দীর্ঘ সময় ধরে দাঁড়িয়ে থাকতেন যে, তাঁর পা দুটো ফুলে যেতো। ‘আয়েশা (রা) বললেন : হে আল্লাহ্র রাসুল! আপনি এমনটি করছেন যখন আল্লাহ্ আপনার অতীত ও ভবিষ্যতের গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দিয়েছেন? তিনি বললেন : “হে আয়েশা! আমি কি শোকর গুজারি বান্দা হবো না?” [আল-বুখারি (৪৫৫৭) এবং মুসলিম (২৮২০)]
ইবনু বাত্তল (রা) বলেছেন: আত-তাবারি বলেছেন: এব্যাপারে বিশুদ্ধ মত হলো, শুকরিয়ার মাধ্যমে প্রমাণিত হয় যে, ওই নেয়ামত আল্লাহ্ ছাড়া অন্য কারও পক্ষ থেকে নয় এবং কাজের (শুকরিয়ার) মধ্য দিয়েই তার প্রমাণ এবং যেহেতু শুকরিয়া আদায় করা হয়েছে তাই সেটা প্রমাণিত। তবে প্রমাণিত হওয়ার পর ব্যক্তির কাজকর্ম যদি ভিন্নরূপ দেখা যায়, তাহলে সে নিজেকে শোকরকারী বলার যোগ্য নয়। একে মৌখিক শুকরিয়া বলা যেতে পারে। একথা যে সত্য, তার প্রমাণ হলো আল্লাহ্ তা‘আলা’র বাণী (অর্থের ব্যাখ্যা) : “হে দাউদ পরিবার, তোমরা কৃতজ্ঞতাস্বরূপ ‘আমল করে যাও।” [সূরা সাবা; ৩৪ : ১৩]। এটি জানা কথা যে, আল্লাহ্ যখন তাদের প্রতি তাঁর নেয়ামতের জন্য শুকরিয়া আদায় করতে বলেছিলেন, তখন তিনি তাদেরকে শুধু মুখেই ওকথা স্বীকার করার জন্য আদেশ করেননি। কারণ তাদের প্রতি নেয়ামতসমূহ আল্লাহ্র দেওয়া একথা তারা অস্বীকার করেনি। বরং তিনি তাদেরকে আনুগত্যপূর্ণ আচরণের মাধ্যমে তাঁর নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করার হুকুম দিয়েছিলেন। ঠিক এ কারণেই, রাতে সালাত আদায় করার সময় যখন রাসূলের (সা) পা দুটো ফুলে যেতো, তখন তিনি বলতেন: আমি কি শোকর গুজারি বান্দা হবো না? [শাহ্র সহীহ্ আল-বুখারি (১০/১৮৩,১৮৪)]
আবু হারুন বলেন : হঠাৎ আবু হাজিমের সাথে আমার দেখা হলো। আমি বললাম : আল্লাহ্ আপনার উপর দয়া করুন, চোখের শুকরিয়া কী? তিনি বললেন : আপনি তাদের (দু’চোখ) মাধ্যমে ভালো কিছু দেখলে তা প্রকাশ করুন। আর তাদের মাধ্যমে মন্দ কিছু দেখলে তা গোপন করুন। আমি বললাম : কানের শুকরিয়া কী? তিনি বললেন : আপনি তাদের (দুই কান) মাধ্যমে ভালো কিছু শুনলে তা মনে রাখুন। আর তাদের মাধ্যমে মন্দ কিছু শুনলে তা ভুলে যান। ইবনু রাজাব আল হানবালি (রা:) বলেন: শুকরিয়া দুই ধরনের হয়ে থাকে। একটি হলো ফরয (বাধ্যতামূলক)। অর্থাৎ ফরয কাজগুলো সম্পাদন করা এবং নিষিদ্ধ কাজগুলো বর্জন করা। এমনটি করা অত্যাবশ্যক এবং শুকরিয়া আদায়ের জন্য এমনটি করাই যথেষ্ট। একারণেই একজন সালাফের মতে: শুকরিয়া হলো পাপ কাজ ত্যাগ করা। সালাফদের আরেকজন বলেছেন: শুকরিয়া হলো কোনো নিয়ামত ব্যবহার করে তাঁর (আল্লাহ্র) বিরুদ্ধাচরণ না করা।
আবু হাজিম আল-যাহিদ সবধরনের শারীরিক ক্ষমতার শুকরিয়া সম্পর্কে উল্লেখ করেছেন : এগুলোকে (শারীরিক ক্ষমতাগুলোকে) পাপ থেকে বাঁচিয়ে রাখা এবং এগুলোর ব্যবহার করে আল্লাহ্র প্রতি আনুগত্য করতে কাউকে সাহায্য করা। অতঃপর তিনি বলেন: যে ব্যক্তি তার জিহ্বা দিয়ে শুকরিয়া করে কিন্তু বাকি শারীরিক ক্ষমতা দিয়ে করে না, তার অবস্থা ওই লোকের মতো, যার একটা আলখাল্লা আছে কিন্তু সে তা গায়ে না দিয়ে, হাতে ধরে নিয়ে বেড়ায়। ফলে শীতে, গরমে , তুষারে বা বৃষ্টিতে ওই আলখাল্লা তার কোনো উপকারেই আসে না।
দ্বিতীয় প্রকার শুকরিয়া হলো মুস্তাহাব। কোনো ব্যক্তি এই কাজগুলো ফরজ ইবাদত করার পর এবং নিষিদ্ধ বিষয়সমূহ পরিত্যাগ করার পর, অতিরিক্ত বা নফল ইবাদত হিসেবে করে থাকে। শুকরিয়া আদায়ের এই স্তরটি তাদের, যারা সৎকর্মে অগ্রগামী এবং আল্লাহ্ তা‘আলা’র অধিক নৈকট্যলাভকারী। [জামি‘উল ‘উলুম ও’য়াল হুকাম (পৃষ্ঠা ২৪৫, ২৪৬)]
সারকথা:আল্লাহ্র নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করতে চাইলে, আপনাকে অবশ্যই অন্তরে স্বীকার করতে হবে যে, সমস্ত অনুগ্রহ এবং নেয়ামতের যোগানদাতা হলেন শুধুমাত্র আল্লাহ্। এই আন্তরিক স্বীকারোক্তির ফলে আপনি আল্লাহ্কে শ্রদ্ধা এবং ভক্তির সাথে ভালবাসতে পারবেন। আপনি মুখ দিয়ে স্বীকার করবেন, তিনিই হলেন একমাত্র অনুগ্রহকারী। অতএব, ঘুম থেকে জেগে উঠেই আপনি তার প্রশংসা করবেন। কারণ তিনি আপনাকে নতুন জীবন দান করেছেন। পানাহার করার পরে তাঁর প্রশংসা করবেন। কারণ তিনি অনুগ্রহ করে আপনাকে খাইয়েছেন এবং পান করিয়েছেন। আর এভাবে প্রতিটি অনুগ্রহের জন্য তাঁর শুকরিয়া আদায় করবেন।আপনি শারীরিক ক্ষমতার মাধ্যমে শুকরিয়া আদায় করবেন। চোখ দিয়ে মন্দ কিছু দেখবেন না। কান দিয়ে গান বাজনার মতো খারাপ কিছু শুনবেন না। পায়ে হেঁটে নিষিদ্ধ স্থানে যাবেন না। হাত দিয়ে কোনো পাপ কাজ করবেন না। যেমন : কোনো নিষিদ্ধ প্রেমপত্র বা নিষিদ্ধ চুক্তি লিখবেন না। শারীরিক ক্ষমতা দ্বারা শুকরিয়া করার মধ্যে রয়েছে কোরআন পড়া, জ্ঞান বাড়ে এমন বই পড়া , উপকারী ও প্রয়োজনীয় জিনিস শোনা । এছাড়া অন্য সকল ক্ষমতা বিভিন্ন ইবাদাত এবং আনুগত্যের কাজে ব্যবহার করা উচিত। মনে রাখবেন, আল্লাহ্র নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করতে পারাটাও তাঁর পক্ষ থেকে আরেকটি নেয়ামত এবং এজন্যও শুকরিয়া আদায় করতে হবে। ফলে শোকরকারী যতই আল্লাহ্র শুকরিয়া আদায় করে, ততই আল্লাহ্র নেয়ামত উপভোগ করে অনুগ্রহপ্রাপ্ত হয়।
আমরা দো‘আ করি আল্লাহ্ যেন আপনাকে আমাকে এবং সর্বোপরি সবাইকে তা-ই করার তাওফীক দান করেন যা তিনি ভালোবাসেন এবং পছন্দ করেন।
#অষ্ট্রেলিয়ায়_উট_হত্যা ও দি ঘ্যান রুট প্রসঙ্গঃ
আফগান থেকে উটগুলো নিজের ইচ্ছায় আসে নাই , নিজের ইচ্ছায় মরছেও না…#দি_ঘ্যান হচ্ছে অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেইড-ডারউইন রুটে চলাচলকারী একটি ট্রেন , এই রুটটি দৈর্ঘ্যে ২৯৭৯ কিলোমিটার , যা অস্ট্রেলিয়ার দীর্ঘতম এবং পৃথিবীর অন্যতম দীর্ঘ ট্রেন রুটগুলোর একটি।
অস্ট্রেলিয়ার উত্তর-দক্ষিনে যোগাযোগকারী এই ট্রেন সার্ভিস চালু হয় ১৯২৯ সালে। এর রুট ও ট্র্যাক সময়ের সাথে সাথে পরিবর্তিত হয়েছে। মহাদেশটি একটি দেশ হয়ে উঠার ক্ষেত্রে, দেশটির অর্থনীতিতে এর অবদান অসামান্য।
“দি ঘ্যান” হচ্ছে “দি আফগান এক্সপ্রেস” এর সংক্ষিপ্ত রূপ। হ্যাঁ , আফগান মানে আফগানিস্তান! অস্ট্রেলিয়া দেশটি আসলে একটি মহাদেশ , আকারে বিরাট বড় (আয়তনে পৃথিবীর ষষ্ঠ বৃহত্তম দেশ)।
সেই যুগে ইউরোপীয়রা দূর দূরান্তে যোগাযোগের জন্যে ঘোড়া ব্যাবহার করতো। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার ভূপ্রকৃতির শুষ্কতা কুখ্যাত।
একারণে , দূর-দূরান্তে যোগাযোগের জন্যে অস্ট্রেলিয়ায় ঘোড়া ব্যাবহার করা সম্ভব ছিল না। ফলে উপনিবেশ স্থাপনকারী ইউরোপীয়রা বিকল্পের সন্ধান করতে বাধ্য হয়।
১৮৩৮ সালে ঔপনিবেশিক ইউরোপীয়রা আফগানিস্তান থেকে ১৮ জন উটের চালক নিয়ে আসে।
অস্ট্রেলিয়ার ভূপ্রকৃতির সাথে পরিচিত হওয়ার পর তারা উট আনা যেতে পারে মতামত দিলে , ১৮৪০ সালে উট আনা হয়। প্রথম উটটির নাম ছিল, “হ্যারি”।
পরীক্ষামূলক অভিযানে হ্যারি সন্তোষজনক সার্ভিস দেয়। সেই শুরু , এর পরে বৃটিশ ভারতে উট বিক্রেতা বড় ব্যবসায়ী জর্জ জেমস ল্যানডেলসকে অস্ট্রেলিয়ায় উট সরবরাহ ও উটের চালক নিয়োগের জন্যে বিশেষভাবে নিয়োগ দেয়া হয়।
উটের প্রবর্তন অস্ট্রেলিয়ায় যোগাযোগের ক্ষেত্রে বিপ্লব ঘটিয়ে ফেলে। ১৯৩০ সাল পর্যন্ত দলে দলে উটের চালক আনা হয়।
তারা “আফগান” হিসেবে পরিচিত হলেও , এসেছিলেন বর্তমান সময়ের আফগানিস্তান , পাকিস্থান ও ইরান থেকে । এথনিসিটিতে তারা পশতুন, বালুচ ও সিন্ধী।
এই উটের সুবাদে অস্ট্রেলিয়ার উত্তর ও দক্ষিন অঞ্চলে যোগাযোগের আপাতত অসম্ভব রুট চালু হতে পেরেছিল। পরে , এক পর্যায়ে সেই রুট মাথায় নিয়ে ট্রেন চালু করা হয়।
একারণেই এতো গুরুত্বপূর্ণ ট্রেন রুটটির নাম হয়ে যায় , দি আফগান এক্সপ্রেস ।পরে তা নাম সংক্ষিপ্ত করে “দি ঘ্যান” ডাকা হয়। এখনও এই ট্রেনের লোগোতে উটের ছবি ব্যাবহৃত হচ্ছে।
যোগাযোগের জন্যে ভীনদেশ থেকে এসে অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও , যন্ত্রযান প্রবর্তিত হওয়ায় এক সময় উটগুলো বেকার হয়ে যায়।
অল্প কিছু উট এখনও ট্যুরিস্টদের চড়ার জন্যে ব্যাবহৃত হচ্ছে , মানুষের সেবা যত্ন পাচ্ছে। বাকীগুলো অনাথ হয়ে ওয়াইল্ড ক্যামেল হিসেবে বাস করছে।
এরা পরিত্যাক্ত হওয়ার পর অবাধে বংশ বিস্তার করেছে , সংখ্যায় বেড়েছে। মরুভূমির প্রাণী উট নাকি শুষ্ক দেশ অস্ট্রেলিয়ার পানি খেয়ে কমিয়ে ফেলছে।
এ কারণে সরকারি সিদ্ধান্তে আগামীকাল থেকে এক কর্মসূচি শুরু হচ্ছে , হেলিকপ্টার থেকে গুলি করে দশ হাজার উট হত্যা করা হবে।
এক শত ষাট বছর আগে হ্যারির অস্ট্রেলিয়ায় আসা দিয়ে শুরু , তারপর তার স্বজাতিরা অস্ট্রেলিয়া গড়ে তুলতে অর্থনীতির লাইফ লাইন যোগাযোগ ব্যাবস্থায় বিপ্লব ঘটিয়েছিল ।
বছরের পর বছর তারা দেশটির জন্যে বংশ পরস্পরায় শ্রম দিয়ে গেছে। এক সময় প্রয়োজন ফুরালে পরিত্যাক্ত করা হয়েছিল ।
আজ আপদ বিবেচনায় গুলি করে মারা হবে। নিজের ইচ্ছায় আসে নাই , নিজের ইচ্ছায় মরছেও না…
মাত্র এক কাপ আদা-চায়ের আনেক গুণ ।
এক কাপ আদা-চায়ের কদর অনেকের কাছেই রয়েছে। কিন্তু জানেন কি, এই কাপ কাপ আদা-চায়ে কী কী গুণ? স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলেন, চায়ের সঙ্গে যদি আদা যুক্ত হয়, তাহলে এর উপকারিতা বাড়ে কয়েক গুণ। কারণ আদায় রয়েছে জীবাণুরোধী উপাদান, যা রোগ-জীবাণু ঠেকায়। জ্বর জ্বর ভাব, গলাব্যথা ও মাথাব্যথা দূর করতে সাহায্য করে আদা-চা।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, আদাতে প্রচুর ভিটামিন সি, ম্যাগনেশিয়াম ও অন্যান্য খনিজ থাকে বলে শরীরের জন্য উপকারী। চলুন, জেনে আসি আদা-চায়ের কিছু গুণের কথা:
১. মোশন সিকনেস বা গতিজনিত অসুস্থতার জন্য উপকারী হতে পারে এক কাপ আদা-চা। ভ্রমণের আগে আপনি যদি এক কাপ আদা-চা খেয়ে নেন, তাহলে মোশন সিকনেসের কারণে বমি বমি ভাব কমে যাবে। এ ছাড়া মাথাব্যথা কমাতে দারুণ কার্যকর এই চা।
২. অনেক সময় খাওয়ার কারণে পেটে অস্বস্তি বা খারাপ লাগতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে এক কাপ গরম আদা-চা খেয়ে নিন। সঙ্গে সঙ্গে উপকার পাবেন। খাবার দ্রুত হজমেও সাহায্য হবে।
৩. হজমপ্রক্রিয়া উন্নত করে আদা সরাসরি হজমের সমস্যা দূর করতে সহায়তা করে।
৪. আদা-চা অবসাদ দূর করে শরীর ও মনে চাঙা ভাব আনে।
৫. মাত্র এক কাপ আদা-চা মানসিক চাপ ও অস্থিরতা কমিয়ে দিতে পারে।
৬. কফ বা খুসখুসে কাশি উপশমে আদা-চায়ে আছে প্রাকৃতিক নিরাময় উপাদান।
৭. খাবারে অরুচি দূর করতে সাহায্য করে। হজমে সহায়ক এনজাইমগুলো নিঃসরণ ঘটিয়ে খাদ্য পরিপাকেও সহায়তা করে আদা।
৮. আদায় উচ্চমাত্রায় অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট রয়েছে। তাই এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।
৯. আদাতে ভিটামিন, খনিজ ও অ্যামিনো অ্যাসিড রয়েছে। এটি রক্ত সঞ্চালন-প্রক্রিয়া উন্নত করে হৃদযন্ত্রকে সুস্থ রাখে। পাশাপাশি আদার রস ধমনিতে চর্বি জমতে বাধা দেয়। ফলে প্রতিদিন আদা-চা পান করলে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি অনেকটাই কমবে।
১০. অম্লতার বিরুদ্ধে খুব ভালো লড়তে পারে আদা-চা।
এ তথ্য #নিউজ_উইক এর।
অন্য একটি স্বাস্থ্য #জার্নাল জানাচ্ছে এভাবে–
আদার চা পানের আটটি সুফল
বাঙালির প্রাত্যহিক জীবনে আদা একটি অন্যতম অপরিহার্য উপাদান। প্রায় সব রান্নাতেই আমরা কম-বেশি আদা ব্যবহার করি। আর সাধারণ সর্দি-কাশি, ঠান্ডায় ঘরোয়া চিকিত্সা হিসেবে আদার ব্যবহার সুপ্রাচীন কাল থেকেই চলে আসছে।
আদার রস মিশ্রিত রং চা আমরা অনেকেই পান করি। কিন্তু এর গুণাগুণ জানি কজনে? গতকাল শনিবার টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে আদার চা পানের আটটি সুফল উল্লেখ করা হয়েছে।
বিতৃষ্ণা ও বমি ভাব দূর করে
কোথাও বেড়াতে যাওয়ার আগে এ কাপ আদা চা পান করে নিতে পারেন। এতে করে যাত্রার গতির ফলে শরীরে যে বিবমিষা ও বমি বমি ভাব তৈরি হয়, তা দূর হবে।
পাকস্থলীর কর্মক্ষমতা বাড়ায়
আদা চা খাবার হজম করে পাকস্থলীর পরিপাক-প্রক্রিয়া উন্নত করতে সহায়তা করে। প্রয়োজনের অতিরিক্ত খাবার খেয়ে পেট ফুলিয়ে ফেলেছেন? চিন্তা নেই। চটপট এক কাপ আদা চা পান করুন। স্বস্তি পাবেন।
শরীরের প্রদাহ কমায়
আদাতে ভিটামিন সি, ম্যাগনেশিয়ামসহ মানবদেহের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অনেকগুলো খনিজ উপাদান উচ্চমাত্রায় রয়েছে। এগুলো একই সঙ্গে ব্যথানাশক হিসেবেও কাজ করে। তাই পেশি ও জয়েন্টের ব্যথা কমানোর জন্য এটি একটি উত্কৃষ্ট ঘরোয়া উপাদান। আদার চা পানের পাশাপাশি ব্যথা কমাতে এটি জয়েন্টে লাগাতেও পারেন।
শ্বাসতন্ত্রের রোগ মোকাবিলা করে
সাধারণ ঠান্ডা, সর্দি-কাশি নিরাময়ে আদা যে অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা রাখে তা কম বেশি সবারই জানা। অ্যালার্জিজনিত কারণে শ্বাসতন্ত্রের সমস্যা বোধ করলে, আদার চা পানে সুফল পেতে পারেন।
রক্ত সঞ্চালন বাড়ায়
আদাতে ভিটামিন, খনিজ ও অ্যামাইনো অ্যাসিড রয়েছে। এটি রক্ত সঞ্চালন-প্রক্রিয়া উন্নত করে হূত্যন্ত্রকে সুস্থ রাখে। পাশাপাশি আদার রস ধমনিতে চর্বি জমতে বাধা দেয়। ফলে প্রতিদিন আদা চা পান করলে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি অনেকটাই কমবে।
ঋতুচক্রের ফলে সৃষ্ট প্রদাহ লাঘব করে
যেসব নারী ঋতুচক্রের সময় শারীরিক যন্ত্রণায় ভোগেন, আদা তাঁদের জন্য অত্যন্ত উপকারী একটি উপাদান। আদা মিশ্রিত গরম চায়ে তোয়ালে ভিজিয়ে নিংড়ে নিন। এরপর তলপেটে সেঁকা দিন। এটি আপনার ব্যথা কমাবে এবং আপনার মাংসপেশিকে আরাম দেবে। এর পাশাপাশি মধু মিশিয়ে এক কাপ আদা চা পান করলে আরও ভালো ফল পাবেন।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়
আদাতে উচ্চমাত্রায় অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট রয়েছে। তাই এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।
মানসিক চাপ কমায়
আদার তীব্র নির্যাস মানসিক চাপ ও উত্তেজনা হ্রাস করতে সহায়তা করে।
নির্লজ্জ প্রাণী আর, বর্বর ইতরদের প্রশ্নের কিছু নমুনা তো এমন…!!!

” #সোমালিয়া থেকে প্রশ্ন আসে,
“আমাদের যদি সেহরী বা ইফতার খাবার জন্য কোন কিছু না থাকে তবে কি আমাদের রোজা হবে???”
#ফিলিস্তিন থেকে প্রশ্ন আসে,
“আমি মোহাম্মদ, গাজা থেকে বলছি, আমার বয়স হচ্ছে ১১। আমার প্রশ্ন হল, শায়খ মিসাইলের বিস্ফোরনের কারনে আমার মুখের ভিতর ঢুকে যাওয়া ময়লা এবং পাথরের কারনে আমার রোজা কি ভেঙে যাবে?”
#সিরিয়া থেকে প্রশ্ন আসে,
“কেমিক্যাল অস্ত্রের আক্রমনে কি রোজা ভেঙে যাবে?”
নির্লজ্জ প্রাণী আর, বর্বর ইতরদের প্রশ্নের কিছু নমুনা তো এমন…!!!
@তারাবীর নামাজ ৮ রাকায়াত নাকি ২০ রাকায়াত?@হাত নাভির নিচে বাঁধবো নাকি বুকে?@শবে বরাতে রুটি হালুয়া খাওয়া যাবে?@আমিন জোরে বলবো নাকি আস্তে?@ওরা ওরশ করে কি করেনা? @ওরা ওহাবী না সুন্নী??@নবী মাটির তৈরি না নুরের তৈরি না কি তামার তৈরী??@ওরা কিয়াম করে কি করেনা??@ঈদের নামাজ ৬ তাকবিরে না কি ১২ তাকবিরে ।
জ্বীন শয়তান ও মানুষ শয়তানদের শিখিয়ে দেয়া আরো এমন হাজারো প্রশ্ন ।
বর্তমানের ইহুদীরা কি সেই নবী ইয়াকুব আঃ এর বংশধর বনী ইসরাইল?

বর্তমানের #ইহুদীরা কি সেই নবী #ইয়াকুব_আঃ এর বংশধর #বনী_ইসরাইল?বর্তমানের ইহুদিরা আর পবিত্র কুর’আন ও বাইবেলে বর্ণিত ইহুদিরা একই বংশদ্ভূত নয়। আমরা জানি যে হযরত ইব্রাহিমের (আ) দুইটি ছেলে ছিল, একজন হযরত ইসমাইল (আ) ও অন্যজন হযরত ইসহাক (আ)।
দুই জনেই আল্লাহ সুবহানাহুওয়া তা’য়ালার প্রেরিত নবী ছিলেন। দারুন মজার! পিতা ও পুত্রদ্বয়, একই পরিবারের তিনজনই আল্লাহর প্রেরিত নবী! কথার শেষ এখানেই না, হযরত ইসহাকের (আ) ছেলে হযরত ইয়াকুবও (আ) আল্লাহর একজন নবী।
আরও মজার হল, হযরত ইয়াকুবের ছেলে হযরত ইউসুফও (আ) নবী!! মাত্র তিন জেনারেশনের মধ্যে ৫ জন নবী!!হযরত ইয়াকুবের (আ) বার জন পুত্র ছিল। ইয়াকুবের (আ) অন্য নাম ইসরাইল।.এই বারোজন পুত্র থেকে বারটি গোত্রের সূচনা হয়। সেই গোত্রগুলোকেই আল্লাহ সুবহানাহুওয়া তা’য়ালার অশেষ কুদরতে হযরত মুসা (আ) মিসর থেকে লোহিত সাগর পার হয়ে সিনাই উপত্যাকায় নিয়ে আসেন।পরে তারা ফিলিস্তিনে প্রতিষ্ঠিত হয়। বুঝতেই পারছেন যে বনী ইসরাইল হল হযরত ইব্রাহিমের (আ) বংশধর। ৭৪০ খৃষ্টাব্দের আগে ইহুদিদের বড় একটা অংশই ছিল এই বংশধরের মধ্যে।
কিন্তু বর্তমানের বেশিরভাগ ইহুদিই (> ৯৩%) ইহুদি হযরত ইব্রাহিমের (আ) বংশধর না! তাদের সাথে মধ্যপ্রাচ্যেরও কোন সম্পর্ক নেই!! তাদের পূর্বপুরুষদেরও কেউ কোন কালেই মধ্যপ্রাচ্যে ছিল না! তাদের সাথে মধ্যপ্রাচ্যের কারোরই রক্তের কোন সম্পর্ক নেই!!.তিন ধরণের ইহুদি বর্তমানে আছে,১. আশকেনাজি (Ashkenazi Jews): ইহুদি বর্তমান ইহুদিদের ৯৩% ই এরা, এদের পূর্বপুরুষরা খাজারিয়া অঞ্চলে বসবাস করতো, এরা ককেশাস অঞ্চলের লোক, মধ্যেপ্রাচ্যের নয়!.২. সেফারডিম ইহুদি (Sephardic Jews): স্পেনের ইহুদিরা, যারা খৃষ্টাব্দ ৭৩ সালে রোমানসৈন্য কতৃক Temple of Solomon ভেঙ্গে দেয়ার ফলে স্পেন ও গ্রীসে অভিবাসী হয়।.৩. মিজরাহিম ইহুদি (Mizrahi Jews): একইভাবে, তারাও আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের ইহুদি, যারা ৭৩ খৃষ্টাব্দে রোমানসৈন্য কর্তৃক Temple of Solomon ভেঙ্গে দেয়ার ফলে আরব, ইরান, ইরাক, উত্তর আফ্রিকায় অভিবাসী হয়, যাদের পূর্বের ইহুদিদের সাথে সত্যিকারের রক্তের সম্পর্ক আছে!.৭০০ খৃষ্টাব্দের পর সারা পৃথিবীতে তিনটি সুপারপাওয়ার সাম্রাজ্য ছিল।১. রোমান এম্পায়ার: খৃষ্টানদের,২. মুসলিম খিলাফত: মুসলিমদের ও৩. খাজার সাম্রাজ্য : Pagan বা প্রকৃতি পূজকদের, এই খাজাররা খুবই শক্তিশালী ছিল, তাদের প্রতিরোধের কারণে মুসলিমরা ইউরোপে যেতে পারেনি, নতুবা ইউরোপ হয়তো আজ মুসলিমদের দখলে থাকতো!!.খাজার সাম্রাজ্যের প্রধান যে তাকে বলা হত কাগান (Kagan)। সে চিন্তা করে দেখলো যে তারা ছাড়া অন্য যে দুটি সুপার পাওয়ার সাম্রাজ্য আছে তারা ঐশ্বরিক ধর্মের অনুসারী অথচ আমরা এত শক্তিশালী হয়ে প্রকৃতির পূজা করে বেড়ায়!!
তারপর সে সিদ্ধান্ত নিলেন যে তারাও একটি ঐশ্বরিক ধর্মের অনুসারী হবে!! সে চিন্তা করে দেখলো যে যদি তারা খৃষ্টান ধর্ম গ্রহণ করে তবে তারা রোমান চার্চের অধীনে থাকতে হবে! আর যদি ইসলাম গ্রহণ করে তবে খলিফার অধীনে থাকতে হবে।
সুতরাং সে সিদ্ধান্ত নিলে যে সে এবং তার প্রজারা সবাই একযোগে ইহুদি ধর্ম গ্রহণ করবে!! সে সারা রাজ্য এই ঘোষণা দেয়ার পর সারা রাজ্যের অধিবাসীরা একত্রে ইহুদি ধর্ম গ্রহণ করে।ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ধর্মের পরিবর্তনের উদহারণ এটি!! পুরো রাজ্য একযোগে ইহুদি হয়ে যায়!! এরা সবাই ককেশাস অঞ্চলের, বর্তমানে এটা প্রাক্তন সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে।.কাজেই বুঝতেই পারছেন তাদের পূর্বপুরুদের মধ্যপ্রাচ্যের সাথে কোনই সম্পর্ক নেই! যখন রাশিয়ানরা ১৩০০ শতকে খাজার সাম্রাজ্যকে ভেঙ্গে টুকরো টুকরো করে দখল করে নিল তখন খাজারের ইহুদিরা পশ্চিমের দিকে রওনা দিল। তাদের বেশিরভাগই গেল রাশিয়া ও পোল্যান্ডে।
তারপর তারা আস্তে আস্তে জার্মানীতে ছড়িয়ে পড়লো। জার্মানীতে যখন তারা গেল তখন তাদের বলা হত আশকেনাজি (ইউরোপের ইহুদি (জার্মান শব্দ))!! এই ইহুদিরাই পরবর্তীতে সমগ্র ইউরোপে ও পরে যুক্তরাষ্ট্রে ছড়িয়ে পড়ে!!
আর্থার কোস্টলার (Arthur Koestler), তিনি নিজেই একজন আশকেনাজি ইহুদি, তিনি এই সংক্রান্ত গবেষণা করেন এবং এর উপর একটা বই লেখেন। বইটির নাম ‘The Thirteenth Tribe’। আসল ইহুদিরা বনী ইসরাইলের ১২ টি গোত্রের, বর্তমান ইহুদিরা মধ্যপ্রাচ্য নয় বরং ককেশাস (ইউরোপ) থেকে এসেছে বলে তিনি উপহাস করে বলেছেন ১৩তম গোত্র!.শুধু আর্থার কোস্টলার নয় ইসরাইলের অনেক ইহুদি ইতিহাসবিদ স্বীকার করেন যে তাদের পূর্বপূরুষগণ ককেশাস অঞ্চলের, খাজার সম্রাজ্যের, ফিলিস্তিনের নয়!!




