🐂🐂 গরুর চামড়া শতভাগ হালাল খাদ্য। মূলত সকল হালাল প্রাণীর চামড়া শতভাগ হালাল। হালাল প্রাণীর ছয়টি বস্তু খাওয়া হারাম। ১/ মল বা পায়খানা। ২/ মুত্র বা পস্রাব। ৩/প্রবাহিত রক্ত (তবে কলিজা খাওয়া হালাল) ৪/লোম (কারণ ইহা অখাদ্য এবং ক্ষতিকর) ৫/প্রাণীদের ক্ষুর এবং পাখিদের নখ! এবং ৬/পাখি জাতীয় প্রাণীদের পালক। 👉👉👉অনেকে অবশ্য ফতোয়া দিয়ে থাকে যে প্রাণীদের অন্ডকোষ যৌনাঙ্গ মূত্রথলি ইত্যাদি খাওয়া হারাম 🤔❗ মূলতঃ এই জাতীয় কথার পেছনে তাদের কোন দলিল নেই বরং তারা তাদের ধারণা প্রসূত এবং মনগড়া কথা বলে থাকে কেবল কোরআন হাদিসে কোথাও নিষেধ নেই। তাই তাদের ফতোয়া পরিত্যক্ত। বরং চিকিৎসা বিজ্ঞান মতে অন্ডকোষ এবং যৌনাঙ্গ খেলে মানুষের বহুবিধে উপকার হয় এবং যৌন শক্তি বৃদ্ধি পায় আর পিত্তথলি খেলে মানুষের শরীরের ব্যথা বেদনা দূর হয়ে যায়। ((যারা এই সমস্ত ফতোয়া দিয়ে থাকে তারা কিন্তু ছোট ছোট প্রাণীর যৌনাঙ্গ পিত্ত সব খেয়ে ফেলে অথচ বড় প্রাণীদের বেলায় ফতোয়াবাজি করতে খুবই ওস্তাদ))! 🤔ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া এবং নাইজেরিয়া সহ বহু দেশে গরু,ছাগলের চামড়া প্রাণীজ আমিষের উৎস হিসেবে ব্যাপক উৎসাহের সাথে খাওয়া হয়। 🤔আরব দেশসমূহে গরু ছাগলের চামড়া গরু ছাগলের মাংসের চেয়ে অনেক বেশি দাম। 👉👉চামড়া কিভাবে প্রসেসিং করতে হবে তার সংক্ষিপ্ত কিছু বর্ণনা নিচে দেওয়া হল। চামড়া প্রথমে ১ বর্গফুট করে কেটে খাওয়ার সোডা দিয়ে ব্রাশ দিয়ে ঘষে যে দিকে লোম আছে সেদিক ভাল করে পরিস্কার করে নিতে হবে। লবন পানিতে ১৫ মিনিট ফুটাতে হবে, এর পর ধুয়ে পরিস্কার করে আবার পরিস্কার পানিতে ডুবিয়ে ১৫-২০ মিনিট ফুটিয়ে নামিয়ে ৩-৪ ঘন্টা রেখে দিতে হবে। এর পর নামিয়ে ভোতা ছুরি দিয়ে ঘসা দিলেই উপরের দিকের একটা লেয়ার লোম সহ উঠে আসবে ও একদম পরিস্কার হয়ে যাবে। এর চেয়েও সহজ পদ্ধতি হলোঃ চামড়াগুলো এক বর্গফুট করে কেটে নিবেন এবং বড় ডেকচিতে গরম পানিতে সিদ্ধ করবেন। তারপর একজনে ধরবেন অন্যজন শুধু ছুরি দিয়ে চেঁছে লোমগুলি উঠিয়ে ফেলবেন দেখবেন ধবধবে সাদা হয়ে গেছে। তারপর আপনি এগুলো ভালো করে ধুয়ে তাৎক্ষণিক রান্না করে খেতে পারেন অথবা শুকিয়ে সংরক্ষণ করতে পারেন কিংবা ফ্রিজে সংরক্ষণ করতে পারেন এবং অন্যান্য মাংসের মতই খেতে পারেন বহুদিন পর্যন্ত। এটি গরুর ভুড়ির মতোই অত্যন্ত সুস্বাদু এবং পুষ্টিকর আর চর্বি মুক্ত একটি অত্যন্ত উন্নত মানের পুষ্টিকর খাবার। সংরক্ষণ করা মাংস যেকোনো সময় ছোট টুকরা করে গোশতর মত ঝোল /ভুনা বা ফ্রাই করে খেতে পারবেন।
👉👉পরিস্কার করার পরে ৫-৬ মনের একটা গরুর চামড়া থেকে ২০/২৫ কেজি পরিস্কার করা খাওয়ার উপযোগী অংশ পাওয়া যায়। কম কথা নয়। আপনার পরিবারের অনেক দিনের পুষ্টির চাহিদা পূরণ করতে পারে এই একটি গরুর চামড়া।
🎤🎤আসুন এবার আমরা জেনে নেই গরুর চামড়ায় কতটুকু পুষ্টি আছে এবং কি পরিমান শক্তি মজুদ আছে আর আমরা আমাদের অজ্ঞতাবশত এই চামড়া ফেলে দিচ্ছি অথবা একেবারে নামমাত্র মূল্যে বিক্রি করছি।
প্রতি ১০০ গ্রাম গরুর চামড়ায়— ২২৫ কিলো ক্যালরি শক্তি থাকে। উপাদান হিসেবে এই ১০০ গ্রামে ৪৭ গ্রাম প্রোটিন, ৭ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট, মাত্র১ গ্রাম চর্বি, ০.০২ গ্রাম ফাইবার এবং ৪৫ গ্রাম পানি বা জলীয় অংশ থাকে। গরুর চামড়ার প্রোটিন সাধারণত জিলোটিন হিসেবে থাকে। জিলাটিন নামক পদার্থ আপনার এবং বিশেষ করে বাচ্চাদের হাড় ও ত্বক গঠনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। হাড়ের এবং ত্বকের বিভিন্ন রোগ ব্যাধি সাড়তে সাহায্য করে
গরু ছাগলের চামড়া একদিকে আমিষের চাহিদা পূরণ হবে,অপর দিকে চামড়া সিন্ডিকেটদের বিরুদ্ধে হবে নিরব প্রতিবাদ। আসুন আমরা চামড়া খাওয়ার প্রচলন করি এবং একটি অত্যন্ত পুষ্টিকর আমিষ এর অপচয় রোধ করি এবং চামড়া ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট ও খারাপ লোকদেরকে প্রতিহত করি। আমি নিজে এটি করে থাকি এবং কেউ যদি হাতে-কলমে চামড়া প্রসেসিং দেখতে চান তাহলে আমার সাথে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারেন ইনশাআল্লাহ খুব সহজে চামড়া প্রসেসিং করার প্রক্রিয়া আমি শিখিয়ে দেব। —— ইবনে মোশারফ
👉👉”তেহরিক-ই-খাকসার” যে ইসলাম বহির্ভূত সংগঠন পাকিস্তানের তৈরি হয়েছিল, বাংলাদেশে ইহাই #হিজবুত_তওহিদ।
👉👉১৯৩১ সালে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের উদ্দশ্য নিয়ে এনায়েত উল্লাহ খান মাশরেকী তেহরিক ই খাকসার নামে একটি সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলেন। ভারতকে ব্রিটিশ সাম্রাজ্য থেকে মুক্তির লক্ষ নিয়ে গড়া খাকসার নেতা মাশরেকী পরবর্তীতে একজন বিতর্কিত ধর্মীয়,বিপ্লবী এবং নৈরাজ্যবাদী হিসাবে চিহ্নিত হয়।
১৯৪৩ সালের ২০ জুলাই মোহাম্মআলী জিন্নাহর একটি হত্যা চেষ্টা করা হয়,উক্ত হত্যা চেষ্টায় খাকসারের দুই কর্মী রফিক এবং সাব্বির জড়িত থাকার বিষয়টি আচোচনায় আসে। ১৯৪৪ সালে ৪ নভেম্বর মোম্বাই হাইকোর্টের বিচারপতি ব্লেগডেন এক রায়ের মাধ্যমে জঙ্গী সংগঠন খাকসারকে নিষিদ্ধ করা হয়।
তারও পরে অর্থাৎ ১৯৫৮ সালে রিপাবলিক নেতা আবদুল জব্বার খান( যিনি জনপ্রীয় ডা: খান সাহেব নামে পরিচিত চিলেন) হত্যা কান্ড এবং রাষ্ট্রপতি আইযুব খান সরকারকে উৎখাতের চেষ্টা করার অভিযোগ আনয়ন করাহয়।
এনায়েত উল্লাহ খান মাশরেকী চরম আলেম ওলামা বিদ্বেষী ছিলেন তিনি বহু বই লিখেন যার মধ্যে উল্লখযোগ্য “মৌলভীকা গলত মাযহাব” “ইশারাত””তাজকিরাহ” ইত্যাদি। তিনি তাজকিরা বইটিতে বিভিন্ন ধর্মের দ্বন্দ এবং সকল ধর্মের একত্রি করনের বিষটি ব্যাপক আকারে প্রকাশ করেন। যেটি এখন বাংলাদেশের হিজবুত তওহিদ বলছে -“সকল ধর্মের মর্মকথা সবার উপরে মানবতা”। আল্লাহর মনোনীত দ্বীন হলো ইসলাম, ইসলামে মানবতা বিরোধী কোন কথা কোরআন সুন্নায় আছে বলে কারো জানা নেই। তবুও যারা আল্লাহর দ্বীনকে না মেনে মুর্তিপুজা করে তাদেরকে ইসলামের সাথে মিশিয়ে একত্রিত করেছেন হিজবুত তওহিদ, যেটি করেছিলো মাশরেকী।
বাংলাদেশের হিজবুত তওহিদের প্রতিষ্ঠাতা কুখ্যাত রাজাকার পাকিস্থানী খাকসার নেতা এনায়েত উল্লাহ মাশরেকির সার্নিধ্য লাভ করেন এবং সায়্যিদ আবু আলা আল মৌদুদীর কাছেরও লোক ছিলেন। তিনি মাশেকির লেখা পুস্তক গুলো আয়ত্ব করে তার আদলে বাংলাদেশেও বিভিন্ন বই লিখেন, মাশরেকির লেখা “মৌলভীকা গলদ মাযহাবের উপর ভিত্তি করে তিনি এ এসাল ইসলামই নয়, এসলাম শুদু নাম থাকবে,আকিাদ,নামে অনেক বই লিখেন”।
আলেম ওলামা বিদ্বেষী হিজবুত তওহিদের আরেকটি বই আছে”ধর্ম ব্যবসার ফাঁদে” হিজবুত তওহিদের কথিত এমাম চরম আলেম ওলামা বিদ্বেষী, তার একটি ভিডিওতে দেখা যায় সেখানে তিনি উগ্রকন্ঠে ওয়াজ ব্ন্ধ করার জন্য বলেন। এখানে একটু বলে রাখি, হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম লাকসাম নওয়াব ফয়জুম্নছা সরকারী কলেজে অধ্যযন কালে ছাত্রশিবিরের একজন সদস্য ছিলেন। লাকসাম কলেজ ছাত্রলীগের দুই কর্মী আহাদ এবং মিজান ছাত্রশিবিরে হাতে নির্মম ভাবে নিহত হয়।
বলতে গেলে তেহরিক ই খাকসার ও এনায়েত উল্লাহ খান মাশরেকি এবং হিজবুত তওহিদ ও রাজাকার বায়জিদ খান পন্নী একটি অপরটির কার্বন কপি। তবে খাকসারের সাথে হিজবুত তওহিদের একটি বিষয়ে অমিল পাওয় যায় আর সেটা হলো নারীদেরকে পুরুষের সাথে একত্রিত করা, হিজবুত তওহিদ নারীর পর্দা নিয়ে বিতর্কিত।
🤔🤔 শিক্ষানীতিতে অশনি সংকেত😡😡⁉️ 👉👉এখনি সোচ্চার হউন! নতুন শিক্ষানীতিতে দশম শ্রেণি পযর্ন্ত ধর্ম শিক্ষা বাদ দেওয়া হয়েছে, ঐচ্ছিকও রাখা হয়নি, যা আগে আবশ্যিক ছিল। আমাদের কোমলমতি শিশুদের ইসলাম বিদ্বেষী বানানোর আয়োজন চূড়ান্ত। এভাবে চলতে থাকলে আগামী ২০/৩০ বছর পর এক নাস্তিক্যবাদী প্রজন্ম গড়ে উঠবে। পাঠ্যবই থেকে ইসলামী মূল্যবোধ সংশ্লিষ্ট সকল গল্প-কবিতা বাদ দেওয়া হয়েছে। নিম্নে দেখুন-
পাঠ্যপুস্তকে বাংলা বই থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে :-
১. ক্লাস-২: ‘সবাই মিলে করি কাজ’ – শিরোনামে মুসলমানদের শেষ নবীর সংক্ষিপ্ত জীবন চরিত। ২. ক্লাস-৩: ‘খলিফা হযরত আবু বকর’ শিরোনামে একটি সংক্ষিপ্ত জীবন চরিত। ৩. ক্লাস-৪: খলিফা হযরত ওমর এর সংক্ষিপ্ত জীবন চরিত। ৪. ক্লাস-৫ : ‘বিদায় হজ্জ’ নামক শেষ নবীর সংক্ষিপ্ত জীবন চরিত। ৫. ক্লাস-৫: বাদ দেওয়া হয়েছে কাজী কাদের নেওয়াজের লিখিত ‘শিক্ষা গুরুর মর্যাদা’ নামক একটি কবিতা। যা বাদশাহ আলমগীর মহত্ব বর্ণনা উঠে এসেছে। এবং শিক্ষক ও ছাত্রের মধ্যে আদব কেমন হওয়া উচিত তা বর্ণনা করা হয়েছিলো। ৬. ক্লাস-৫ : শহীদ তিতুমীর নামক একটি জীবন চরিত। এ প্রবন্ধটিতে শহীদ তিতুমীরের ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ঘটনা উল্লেখ ছিলো। ৭. ক্লাস-৬ : ড. মুহম্মদ শহীদু্ল্লাহ লিখিত ‘সততার পুরুষ্কার’ নামক একটি ধর্মীয় শিক্ষনীয় ঘটনা। ৮. ক্লাস-৬ : মুসলিম দেশ ভ্রমণ কাহিনী- ‘নীলনদ আর পিরামিডের দেশ’। ৯. ক্লাস-৬ : মুসলিম সাহিত্যিক কায়কোবাদের লেখা ‘প্রার্থনা’ নামক কবিতাটি। ১০. ক্লাস-৭: বাদ দেয়া হয়েছে মরু ভাষ্কর নামক শেষ নবীর সংক্ষিপ্ত জীবন চরিত। ১১. ক্লাস-৮: বাদ দেওয়া হয়েছে ‘বাবুরের মহত্ত্ব’ নামক কবিতাটি। ১২. ক্লাস ৯-১০: সর্ব প্রথম বাদ দেওয়া হয়েছে মধ্যযুগের বাংলা কবি শাহ মুহম্মদ সগীরের লেখা ‘বন্দনা’ নামক ধর্মভিত্তিক কবিতাটি। ১৩. ক্লাস ৯-১০: এরপর বাদ দেওয়া হয়েছে মধ্যযুগের মুসলিম কবি ‘আলাওল’ এর ধর্মভিত্তিক ‘হামদ’ নামক কবিতাটি। ১৪. ক্লাস ৯-১০: বাদ দেওয়া হয়েছে মধ্যযুগের মুসলিম কবি আব্দুল হাকিমের লেখা বঙ্গবানী কবিতাটি। ১৫. ক্লাস ৯-১০: গোলাম মোস্তাফার লেখা জীবন বিনিময় কবিতাটি। কবিতাটিতে মোঘল বাদশাহ বাবর ও তারপুত্র হুমায়ুনকে নিয়ে লেখা। ১৬. ক্লাস ৯-১০: কাজী নজরুল ইসলামের লেখা বিখ্যাত ‘উমর ফারুক’ কবিতা।
পাঠ্যবইয়ে যা প্রবেশ করেছে-
১) ক্লাস-৫ : স্বঘোষিত নাস্তিক হুমায়ুন আজাদ লিখিত ‘বই’ নামক একটি কবিতা, যা মূলত মুসলমানদের ধর্মীয় গ্রন্থ কোরআন বিরোধী কবিতা। ২) ক্লাস-৬: প্রবেশ করানো হয়েছে ‘বাংলাদেশের হৃদয়’ নামক একটি কবিতা। যেখানে রয়েছে হিন্দুদের দেবী দূর্গার প্রশংসা। ৩) ক্লাস-৬: সংযুক্ত হয়েছে ‘লাল গরুটা’ নামক একটি ছোটগল্প। যা দিয়ে মুসলিম শিক্ষার্থীদের শেখানো হচ্ছে গরু হচ্ছে মায়ের মত, অর্থাৎ হিন্দুত্ববাদ। ৪) ক্লাস-৬: অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে ভারতের হিন্দুদের তীর্থস্থান রাচি’র ভ্রমণ কাহিনী। ৫) ক্লাস-৭: `লালু’ নামক গল্পে বাচ্চাদের শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে হিন্দুদের পাঠাবলীর নিয়ম কানুন। ৬) ক্লাস-৮: পড়ানো হচ্ছে হিন্দুদের ধর্মগ্রন্থ ‘রামায়ন’ এর সংক্ষিপ্তরূপ। ৭) ক্লাস ৯-১০: প্রবেশে করেছে ‘আমার সন্তান’ নামক একটি কবিতা। কবিতাটি হিন্দুদের ধর্মসম্পর্কিত ‘মঙ্গলকাব্যের অন্তর্ভূক্ত, যা দেবী অন্নপূর্ণার প্রশংসা ও তার কাছে প্রার্থনাসূচক কবিতা। ৮) ক্লাস ৯-১০: অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে ভারতের পর্যটন স্পট ‘পালমৌ’ এর ভ্রমণ কাহিনী। ৯) ক্লাস ৯-১০: পড়ানো হচ্ছে ‘সময় গেলে সাধন হবে না’ শিরোনামে বাউলদের বিকৃত যৌনাচার। ১০) ক্লাস ৯-১০: ‘সাকোটা দুলছে’ শিরোনামের কবিতা দিয়ে ৪৭ এর দেশভাগকে হেয় করা হচ্ছে, যা দিয়ে কৌশলে ‘দুই বাংলা এক করে দেওয়া’ অর্থাৎ বাংলাদেশকে ভারতের অন্তর্ভূক্ত হতে শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে। ১১) ক্লাস-৯-১০: প্রবেশ করেছে ‘সুখের লাগিয়া’ নামক একটি কবিতা, যা হিন্দুদের রাধা-কৃষ্ণের লীলাকৃর্তণ। (সংগৃহীত)
আসুন, ইসলাম ও মুসলিম মূল্যবোধ রক্ষায় সবাই একসাথে আওয়াজ তুলি- ইসলাম বিরোধী শিক্ষানীতি বাতিল কর, করতে হবে।
❤️💜💚প্রতিটি মানুষের বছরে কমপক্ষে ২/১ বার ভ্রমণ করা উচিত। আর তা যদি হয় পরিবার-পরিজনের সাথে তাহলে তা আরো ভালো। ❤️💜💚ভ্রমণ প্রায় ৯০% স্ট্রেস লেভেল কমিয়ে আনতে সাহায্য করে। শুধু তাই নয় ভ্রমনের ফলে হৃদরোগ এবং অন্যান্য বিভিন্ন ধরনের মানসিক রোগ গুলি দূর হয়।
👉👉👉ভ্রমণের সেরা #২৫টিটিপস যা একজন ভ্রমণকারীর ভ্রমণের পূর্বে অবশ্যই জানা উচিত। আজকে আমি আপনার সাথে ভ্রমনের এই ২৫টি টিপস নিয়ে আলোচনা করব। তার আগে আমি আপনাদেরকে বলবো যে আপনারা অবশ্যই আমাদের গাজীপুর এসে ঘুরে যাবেন। শীত গ্রীষ্ম বর্ষা সব সময় চলে গাজীপুরে প্রাকৃতির অপরূপ এবং বর্ণিল পরিবর্তন। আর বর্তমান সময়ের অর্থাৎ এই বর্ষাকালে আপনি গাজীপুরের বিভিন্ন অঞ্চলে বেড়াতে আসলে অতিরিক্ত হিসেবে পাবেন বর্ষার অপরূপ #সৌন্দর্য আর আনলিমিটেড বিভিন্ন #ফলফলাদি। তো চলুন শুরু করা যাক…
পুরোনো রেললাইন,গাজীপুর এলাকা
ভ্রমণ করতে কার না ভালো লাগে। সবারই ভালো লাগে তাই না? সময় পেলেই আমরা একদল মানুষ ছুটে যাই প্রকৃতির কাছে। প্রকৃতিও আমাদের কে সাআনন্দে গ্রহন করে নেয়।
ভ্রমণ সব সময় আমাদের নতুন কিছু শিখায়। নতুন ভাবে ভাবতে শিখায়। নতুন ভাবে চলতে শিখায়।
তবে, মাঝে মাঝে আমাদের ছোট খাটো কিছু ভুলের কারনে আনন্দের ভ্রমণ নিরআনন্দের রুপ নেয়।
সেই ছোট ছোট ভুল গুলো নিয়ে এবং আমার ১০ বছর এর ভ্রমণ অভিজ্ঞতা নিয়ে আজকের এই পোস্ট ভ্রমনের সেরা ২৫টি টিপস!
পরিচ্ছেদসমূহ লুকিয়ে রাখুন 1 মনস্থির করে সময় নিয়ে পরিকল্পনা করুন 2 ভ্রমণের লিস্ট তৈরি করুন 3 স্থানীয় ভাষার সাধারণ বাক্যাংশ গুলো জেনে রাখুন 4 একটি অতিরিক্ত ক্যামেরা ব্যাটারি নিতে ভুলবেন না (বা দুটি) 5 ভ্রমণ পোশাক এর প্রতি খেয়াল করুন 6 সর্বদা ভ্রমণ বীমা কিনুন 7 গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রের ফটোকপি করে রাখুন 8 অতিরিক্ত আন্ডারওয়্যার নিন 9 ব্যাকপ্যাক গুছিয়ে নিন 10 ইলেকট্রনিক্স, ঔষধ, টুথব্রাশ, এবং আপনারব্যাকপ্যাক এ অতিরিক্ত জুতা রাখুন 11 পাবলিক পরিবহনে চলার জন্য ভাড়া জেনে নিতে পারেন 12 প্লেনে হাইড্রেটেড থাকুন 13 হোটেল ঠিকানা এবং হোটেল এর ফোন নাম্বার আপনার ফোনে লিখে রাখুন 14 স্থানীয়দের জিজ্ঞাসা করুন 15 ফ্রি পাবলিক ওয়াইফাই থেকে সাবধান 16 ভ্রমণ এর আগে আপনার ব্যাংক এবং ক্রেডিট কার্ড কোম্পানি কে সতর্ক করে রাখুন 17 ভ্রমণের সময় সাথে বই রাখুন 18 মন খোলা রাখুন 19 ভ্রমণ এর সময় নির্ধারিত করে রাখবেন না 20 বাড়িতে আপনার কাউকে জানিয়ে রাখুন 21 আপনার ব্যক্তিগত আইটেম আলাদা করুন 22 বাজেটের বাহিরে আলাদা ব্যাকআপ বাজেট রাখুন 23 প্রয়োজনীয় ঔষধ সাথে রাখুন 24 অসুস্থ অবস্থায় ভ্রমণ না 25 প্রয়োজনীয় নাম্বার গুলো কাগজে লিখে রাখুন 👉মনস্থির করে সময় নিয়ে পরিকল্পনা করুন❗ প্রায়শই দেখা যায় তাড়াহুড়া করে ভ্রমণ এর পরিকল্পনা করা হয়। এটা ঠিক নয়। হাতে সময় নিয়ে মনস্থির করে পরিকল্পনা করুন।
ভাটিরা ইটাগড়ার তালগাছর, কালীগঞ্জ, গাজীপুরভাটিরা ইটাগড়ার তালগাছের মাঠের মাঝে দিয়ে যাওয়া একমাত্র, কালীগঞ্জ, গাজীপুর
মনে রাখবেন, তাড়াহুড়া করতে যেয়ে যেন, ভুল পরিকল্পনা না হয়ে যায়। বৃষ্টির সময় পাহাড়ে ভ্রমণ করা ঠিক নয়। এটা মাথায় রাখতে হবে।
👉ভ্রমণের লিস্ট তৈরি করুন❗ ভ্রমণের কমপক্ষে ৭ দিন পূর্বেই আপনার ভ্রমণের জন্য প্রয়োজনীয় লিস্ট তৈরি করুন। সম্ভব হলে তারও আগে থেকে লিস্ট তৈরি করা শুরু করুন।
ভ্রমণের সাথে কি কি নিবেন। সিজন অনুযায়ী শীতের পোশাক অথবা গ্রীষ্মের পোশাক কোন গুলো নিবেন আগে থেকে ঠিক করে রাখুন।
এছাড়া অন্যান্য আনুসাঙ্গিক জিনিস গুলোর একটা লিস্ট তৈরি করে ফেলতে পারেন। এ কাজে আপনার মোবাইল এর নোটপ্যাড এপ্স এর সহায়তা নিতে পারেন।
নাম্বার দিয়ে প্রয়োজনীয় জিনিস গুলোর একটা লিস্ট বানিয়ে ফেলুন। যেহেতু মোবাইল সব সময় আপনার সাথে থাকে, তাই আপনার প্রয়োজনীয় জিনিস এর কথা মনে আসার সাথে সাথে মোবাইলে লিখে ফেলতে পারবেন।
স্থানীয় ভাষার সাধারণ বাক্যাংশ গুলো জেনে রাখুন বাংলাদেশে ভ্রমণের জন্য বাংলাদেশীদের এই বিষটা খুব একটা দরকার হয় না। তবুও পাহাড়ি অঞ্চল যেমনঃ চট্রগ্রাম, সিলেট এ সব এলাকায় গেলে তাদের স্থানিয় ভাষা বুজা কিন্তু খুব কঠিন।
তাই তাদের সাথে কথা বলার জন্য প্রয়োজনীয় ছোট খাটো শব্দ গুলো জেনে রাখলে আপনার অনেক সুবিদা হবে।
এছাড়া বিদেশ ভ্রমনে গেলে তাদের ভাষা না বুজলেও আপনি যদি ছোট খাটো শব্দ গুলো জানেন যেমনঃ Hi, Hello, Please, Thank you and I’m sorry এগুলো দিয়ে অনেকটা চালিয়ে নিতে পারবেন।
একটি অতিরিক্ত ক্যামেরা ব্যাটারি নিতে ভুলবেন না (বা দুটি) ভ্রমণের সময় আমারা ভ্রমণের মুহূর্ত গুলো ছবি বা ভিডিও আকারে সংরক্ষণ করতে পছন্দ করি।
তাই ভ্রমণের সময় আপনার ক্যামেরার জন্য অবশ্যই সাথে করে ১ বা ২ টি অতিরিক্ত ব্যাটারি নিতে ভুলবেন না।
একটা ভুলের জন্য আপনার চমৎকার সেই সময়টা ফ্রেমবন্দি করতে পারবেন না। তখন আফসোস করবেন শুধু।
ভ্রমণ পোশাক এর প্রতি খেয়াল করুন ভ্রমণের সময় সিজন অনুযায়ী পোশাক নিতে ভুলবেন না কিন্তু। যে কথা একটু আগেই আমি বলেছি।
শীতের সময় ভারি কাপড় সাথে মোজা, চাদর আর, গরম এর সময় হালকা পাতলা কাপড় নিবেন।
👉সর্বদা ভ্রমণ বীমা কিনুন❗ এটা বাংলাদেশে কতটা জনপ্রিয় তা বলতে পারছি না। তবে এটা সকল ট্রাভেলার এর জন্য জরুরি।
সর্বদা যে কোন দেশে ভ্রমনে গেলে ভ্রমণ বীমা কিনার চেষ্টা করবেন। এটা আপনার মেডিক্যাল এর জন্য অনেক সহায়ক।
গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রের ফটোকপি করে রাখুন ভ্রমণের সময় আমাদের অনেক গুরুত্ব পূর্ণ কাগজপত্র সাথে নিতে হয়। যেমনঃ পাসপোর্ট, ভিসা, ভোটার আইডি ইত্যাদি।
এগুলোর ফটোকপি করে রাখুন। অনেক সময় ভ্রমনে থাকা কালীন আমরা বেখেয়ালি হয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রগুলো হারিয়ে ফেলতে পারি।
তাই, আপনার গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রের ফটোকপি করে রাখুন।
অতিরিক্ত আন্ডারওয়্যার নিন ভ্রমণের সময় সাথে করে অতিরিক্ত আন্ডারওয়্যার নিন। কারন, ভ্রমনে আমরা সব সময় ঘুরার উপরে থাকি।
সারাদিন ঘুরার ফলে আন্ডারওয়্যার ঘেমে দুর্গন্ধ বের হয়। পরের দিন যদি আবার আপনি এটা পড়ে বের হন তাহলে সেখান থেকে ব্যাকটেরিয়া হয়ে আপনার চুলকনি সহ অনেক রোগের জন্ম হতে পারে।
তাই ভ্রমনে অতিরিক্ত আন্ডারওয়্যার নিন।
👉👉ব্যাকপ্যাক গুছিয়ে নিন ভ্রমণের ১/২ দিন আগেই আপনার ব্যাকপ্যাক গুছিয়ে নিন। আপনি ভ্রমনে যা যা নিবেন সেটার যে লিস্ট করেছেন সে অনুযায়ী ব্যাকপ্যাক গুছিয়ে ফেলুন।
১/২ দিন হাতে রেখে ব্যাকপ্যাক গুছালে ভুল ক্রমে যেটা আপনি নিতে ভুলে গেছেন সেটা মনে পড়ে যাবে।
ইলেকট্রনিক্স, ঔষধ, টুথব্রাশ, এবং আপনার ব্যাকপ্যাক এ অতিরিক্ত জুতা রাখুন ভ্রমণের সময় কিছু গুরুত্বপূর্ণ আইটেম সবসময় আপনাকে বহন করতে হবে। আপনি যদি কোন সৈকতে ছুটিতে যান তাহলে কিন্তু আপনাকে সাথে করে সাঁতারের পোষাক নিতে হবে।
তেমনি ভাবে সমুদ্রের বিচে হাটা চলার জন্য আপনি সাথে করে অতিরিক্ত হালকা গঠনের জুতা সাথে নিতে পারেন।
পাবলিক পরিবহনে চলার জন্য ভাড়া জেনে নিতে পারেন ভ্রমণের সময় এক জায়গা থেকে আরেক জায়গা যাওয়ার জন্য অনেক সময় আমাদের পাবলিক পরিবহন ব্যাবহার করতে হয়।
তাই পাবলিক পরিবহনে উঠার আগে পাবলিক পরিবহনে চলার জন্য ভাড়া জেনে নিতে পারেন।
প্লেনে হাইড্রেটেড থাকুন একদেশ থেকে আরেক দেশে ভ্রমণের জন্য আমাদের প্লেনে করে যেতে হয়। প্লেনে লং জার্নির সময় যখন প্লেন অনেক উপরে থাকে যেমনঃ ৩০,০০০ ফিট ।
তখন প্লেনে হাইড্রেটেড থাকার চেষ্টা করুন।
হোটেল ঠিকানা এবং হোটেল এর ফোন নাম্বার আপনার ফোনে লিখে রাখুন ভ্রমণের সময় এরকম হয় যে, অনেক সময় আমি হোটেল এর নাম ভুলে যাই। তাই আমি হোটেল এর ঠিকানা এবং মোবাইল নাম্বার আমার মোবাইলে লিখে রাখি।
আমার মত এরকম আছেন কেউ?
স্থানীয়দের জিজ্ঞাসা করুন আমি প্রায়শই খাবারের জন্য কোন হোটেল ভালো বা স্থানীয় বিখ্যাত কি খাবার রয়েছে সেটা জানার জন্য স্থানীয়দের জিজ্ঞেস করি।
আপনারও এটা করে দেখতে পারেন।
ফ্রি পাবলিক ওয়াইফাই থেকে সাবধান ভ্রমণের সময় বা অন্য যে কোন সময় ফ্রি পাবলিক ওয়াইফাই ব্যাবহার করা থেকে বিরত থাকুন।
বিমানবন্দর গুলোতে অনেক সময় ফ্রি পাবলিক ওয়াইফাই পাওয়া যায়। আমি এগুলো থেকে সাবধান থাকার ব্যাপারে পরামর্শ দিব।
তবে, আপনার হোটেল বা অন্য কোথাও যদি ওয়াইফাইয়ে পাসওয়ার্ড দেয়া থাকে, তাহলে আপনি সেটা ব্যাবহার করতে পারেন।
ভ্রমণ এর আগে আপনার ব্যাংক এবং ক্রেডিট কার্ড কোম্পানি কে সতর্ক করে রাখুন আপনি যদি বিদেশে থাকাকালীন আপনার ক্রেডিট কার্ড কোম্পানী বা ব্যাঙ্ককে আপনার কার্ডে একটি হোল্ড রাখতে না চান তবে এটি একটি দুর্দান্ত অভ্যাস।
👉সব সময় সতর্ক থাকা ভালো।
ভ্রমণের সময় সাথে বই রাখুন ভ্রমণের সময় পড়ার জন্য সাথে আপনার পছন্দের বই রাখতে পারেন। অনেক সময় লং জার্নি করতে হয়। তখন আপনি বই পড়ে সময়টা কে ভালো করে উপভোগ করতে পারেন।
👉মন খোলা রাখুন ভ্রমণের সময় মন খোলা রাখুন। অন্যান্য কাস্টমস কে বিচার করবেন না। মনে রাখবেন আপনি একজন পরিদর্শক। শ্রদ্ধাশীল হওয়া শিখুন।
ভ্রমণ এর সময় নির্ধারিত করে রাখবেন না সময় নির্ধারণ করে ভ্রমণ করবেন না। বলা যায় না, অনির্ধারিত সময় গুলোও অনেক সময় নির্ধারিত সময় এর চেয়ে বেশি আনন্দময় হয়।
তাই সময় নির্ধারিণ এর ক্ষেত্রে এই বিষয়টা খেয়াল রাখুন।
💚❤️বাড়িতে আপনার কাউকে জানিয়ে রাখুন ভ্রমণ এর সময় বাড়িতে আপনার কাউকে জানিয়ে রাখুন। একাকী ভ্রমণ করার সময় এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বলাতো যায় না, কখন দুর্ঘটনা ঘটে যায়।
👉আপনার ব্যক্তিগত আইটেম আলাদা করুন একাকী ভ্রমণে গেলে ভিন্ন কথা। তবে, কয়কজন একসাথে ভ্রমণে গেলে আপনার ব্যক্তিগত আইটেম আলাদা করুন।
অন্যকে জানান আপনার পছন্দের খাবার ও অন্যান্য বিষয় সম্পর্কে।
বাজেটের বাহিরে আলাদা ব্যাকআপ বাজেট রাখুন ভ্রমণের জন্য এই বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ভ্রমণে অনেক সময় বেখেয়ালি থাকার কারনে ব্যাগ হারিয়ে ফেলি। আবার অনেক সময় চুরি বা ছিনতাই হয়ে যায়।
তাই আপনার ক্রেডিটকার্ড এবং অতিরিক্ত টাকা আপনার গোপন জায়গায় রেখে দিন।
প্রয়োজনের সময় এটা খুব কাজে দিবে।
যে কোন সমস্যায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তা নিন।
🤔🤔প্রয়োজনীয় ঔষধ সাথে রাখুন ভ্রমণের সময় আপনার প্রয়োজনীয় ঔষধ গুলো সাথে রাখুন। কারন, ভ্রমণে সব জায়গায় সব ঔষধ পাওয়া নাও যেতে পারে।
প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য কিছু ঔষধ সাথে রাখতে পারেন।
অসুস্থ অবস্থায় ভ্রমণ না অসুস্থ অবস্থায় ভ্রমণ করা থেকে বিরত থাকুন। মনে রাখবেন, ভ্রমণ আনন্দে জায়গা। তেমনি, ভ্রমণের জন্য শারীরিক এবং মানসিক শক্তির প্রয়োজন।
অসুস্থতা নিয়ে ভ্রমণে গিয়ে অসুস্থতা আরও বারিয়ে দিবেন না।
প্রয়োজনীয় নাম্বার গুলো কাগজে লিখে রাখুন ভ্রমণে গেলে মোবাইল থাকা সত্তেও আপনার প্রয়োজনীয় নাম্বার যেমনঃ বাসার নাম্বার, হাজবেন্ড, ওয়াইফ, বন্ধুর নাম্বার গুলো একটা কাগজে লিখে সাথে রাখুন।
বলাতো যায় না, আপনার মোবাইল টি যদি হারিয়ে যায় বা ছিনতাই হয়ে যায় তাহলে যাতে কাছের মানুষের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন।
তাই অবশ্যই প্রয়োজনীয় নাম্বার গুলো কাগজে লিখে রাখুন।
পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন দেশে গতকাল (শুক্রবার) মার্কিন বিরোধী বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে। ইরাক, বাহরাইন, ইয়েমেন, জর্দান ও ফিলিস্তিনে এ বিক্ষোভ হয়। তবে আরো কিছু দেশে বিক্ষোভ না হলেও এসব দেশের কর্মকর্তারা ও বিভিন্ন সংস্থার ব্যক্তিত্বরা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত কথিত শান্তি চুক্তি ‘ডিল অব দ্যা সেঞ্চুরি’র বিরোধিতা করেছেন। তারা বলেছেন, আমেরিকার এ পদক্ষেপ পশ্চিম এশিয়ায় সহিংসতা ও মার্কিন বিরোধী ঘৃণা বৃদ্ধির বড় কারণ।
যদিও গত এক দশকে এ অঞ্চলের দেশগুলোর জনমনে এবং প্রতিরোধ সংগঠনগুলোর মধ্যে মার্কিন বিরোধী চেতনা প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে। কিন্তু এ বছর দুটি কারণে জানুয়ারিতে এর মাত্রা বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রথমত ইরানের আইআরজিসি’র কুদস ব্রিগেডের প্রধান জেনারেল কাসেম সোলাইমানি হত্যা, দ্বিতীয়ত ইরাকের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন ও ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের ‘ডিল অব দ্যা সেঞ্চুরি’ পরিকল্পনা উত্থাপন।
আমেরিকা গত ৩ জানুয়ারি বাগদাদ বিমানবন্দরে ড্রোন হামলা চালিয়ে ইরানের জেনারেল সোলাইমানি এবং ইরাকের হাশদ আশ শাবির উপপ্রধান আবু মাহদি আল মোহান্দেস ও তাদের আরো আট সহযোগীকে শহীদ করে। এ ঘটনার পর থেকে ইরাকের জনগণ সেদেশ থেকে মার্কিন সেনা বহিষ্কারের দাবি জানিয়ে আসছে। ইরাকে গত শুক্রবার মার্কিন সেনা বহিষ্কারের দাবিতে মিলিয়ন ম্যান মার্চ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত ২৮ জানুয়ারি ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে কথিত শান্তি পরিকল্পনা ‘ডিল অব দ্যা সেঞ্চুরি’ উত্থাপন করেন। ট্রাম্পের এ বেআইনি পদক্ষেপের ফলে নতুন করে পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন দেশে মার্কিন বিরোধী বিক্ষোভ হয়েছে।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ট্রাম্পের এসব ভুল পদক্ষেপ এবং জনগণের প্রতিক্রিয়া থেকে বোঝা যায় তিনি আসলে এ অঞ্চলের বাস্তবতা উপলব্ধি করতে ব্যর্থ হয়েছেন। ট্রাম্পের ধারণা অধিকাংশ আরব দেশের সরকারগুলোর মত জনগণও আমেরিকার অনুগত হয়ে চলবে।
ট্রাম্পের ধারণা, অর্থের বিনিময়ে ও কিছু সুযোগ সুবিধা দিয়ে জনগণকে কেনা যাবে কিন্তু বিভিন্ন দেশে মার্কিন বিরোধী চলমান বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে বোঝা যায় এ অঞ্চলের জনগণ আমেরিকার প্রতি প্রচণ্ড ক্ষিপ্ত।
এছাড়া ওই দেশগুলোর নিরাপত্তা আমেরিকার ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় এটাও জনগণ মেনে নিতে পারছে না। কোনো কোনো সরকারের বিপরীতে জনগণ চায় নিজ দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বজায় রাখতে।
প্রকৃতপক্ষে, কাসেম সোলাইমানি হত্যা এবং ট্রাম্পের ঘোষিত ‘ডিল অব দ্যা সেঞ্চুরি’ প্রমাণিত হয়েছে আমেরিকা হচ্ছে পশ্চিম এশিয়ায় সন্ত্রাসবাদের প্রধান উৎস এবং সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে যারাই যুদ্ধ করছে তাদেরকেই হত্যা করছে আমেরিকা। কারণ এসব সন্ত্রাসীরা এ অঞ্চলে আমেরিকার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। দ্বিতীয় বিষয়টি হচ্ছ, এ অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠার কোনো ইচ্ছা আমেরিকার নেই বরং তারা ইসরাইলের মতো একটি আগ্রাসী শক্তিকে পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছে। এ কারণে পশ্চিম এশিয়ার জনগণ ক্রমেই আমেরিকার বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠছে।
শেখ মুজিব জানতেন না ৩ লক্ষকে ইংরেজীতে কিভাবে বলতে হয়। ১৯৭১ সালে যুদ্ধ চলেছিল ৮ মাস ২২দিন মানে ২৬২ দিন, শহীদ হয়েছে ৩০ লক্ষ। সুতরাং একদিনে শহীদ হয়েছে ৩০ লক্ষ ÷ ২৬২ = ১১,৪৫০ জন। তার মানে যুদ্ধে গড়ে দৈনিক ১১,৪৫০ জন করে শহীদ হয়েছে।
যুদ্ধের সময় দেশের জনসংখ্যা ছিলো সাত কোটি। তাহলে ৩০ লক্ষ লোক শহীদ হয় ৭ কোটি থেকে?? ৭০০০০০০০÷৩০০০০০ = ২৩.৩৩ তার মানে যুদ্ধে প্রতি ২৩ জনে ১ জন শহীদ হয়েছিলো🤔??
ইরাকে ১০ বছর ব্যাপী ইঙ্গ-মার্কিন হামলায় প্রায় ৭ লক্ষ মানুষ নিহত হয়েছিলো। আর তাতেই প্রায় গোটা ইরাক ধ্বংসস্তুপে পরিনত হয়েছিলো। বাংলাদেশে মাত্র ২৬২ দিনে ত্রিশ লক্ষ মানুষ শহীদ হয়েছিলো ☺।
গত বছর গাজায় পঞ্চাশ দিনের ইসরাইলি আগ্রাসনে সর্বমোট নিহত হয়েছে ২,৩০০ জন আর আমাদের মুক্তিযুদ্ধে দৈনিক নিহত হয়েছে ১১,৪৫০ জন করে😳 ।
ধরুন, এক একজন পাকি প্রতিদিন ঘুমানো সহ ১০ ঘন্টা নিজের কাজে ব্যায় করত বাকি ১৪ ঘণ্টা যুদ্ধ করত, তার মানে কি প্রতি ১৪ ঘন্টায় ১১,৪৫০ জন করে মারা গেছে🤔।
জীবন ও দেশের যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি নিয়ে ব্রিটিশ সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে শেখ মুজিব বলেছিলেন, “I lost three million peoples in the liberation period”. উনার সফর সঙ্গী ঠিক পিছনে উপস্থিত তৎকালীন পররাষ্ট্র সচিব ফারুক খান (সিলেট জেলায় বাড়ি-বর্তমানে জীবিত রয়েছেন) বলেছিলেন, স্যার, “৩ মিলিয়ন নয়-বলুন ৩ লক্ষ”☺😊।।
প্রত্যুত্তরে শেখ সাহেব বলেছিলেন, “৩ মিলিয়ন আর ৩ লক্ষ এর মধ্যে প্রার্থক্য কোথায়” ?
শেখ সাহেবের এই উদ্বৃতি শুনে উপস্থিত বাঙালি সকলের মাঝে মৃধু হাসির রোল বয়ে যায়। ব্রিটিশ সাংবাদিকগণ শেখ সাহেবের এই ব্যক্তিগত ভুল তথ্যকেই জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে সম্প্রচার করেন। যা আজও ভুল হিসেবে রয়ে গেল।
১//একবার এক বনী ইসরাইলী প্রস্টিটিউট নারী রাস্তায় এক পিপাসার্ত কুকুরকে পানি পান করিয়ে বাঁচিয়ে দেয়ার ফলে আল্লাহ খুশি হয়ে তাকে মাফ করে জান্নাতে দাখিল করেছে ।২// একবার এক তাহাজ্জুদ পড়নে ওয়ালী বনী ইসরাইলী মহিলা একটি বিড়ালকে বেঁধে রেখেছিল । ফলে বিড়ালটি খুদার্ত ও পিপাসার্ত অবস্থায় মারা যায় ।ফলে আল্লাহ অত্যন্ত রাগান্মিত হয়ে মহিলাকে জাহান্নামে দাখিল করেছেন ।উপরে হাদীস দুটো বোখারীর । আরো একট হাদীস হলো এক সাহাবী রাসুল সাঃ কে বল্লেন, পশু পাখির কষ্ট আমাকে কষ্ট দেয় । রাসুল সাঃ তাকে বল্লেন, এই দয়াদ্রতার বিনিময়ে তুমি আল্লাহর নিকট থেকে বদলা পাবে । মূলতঃ পশু পাখির প্রতি দয়া দেখানো একটি একটি উত্তম ইবাদত ।পশু প্রীতি নিয়ে এমন আরো শতশত হাদীস আছে ।ছবির ঘটনাটি গত বছরে ।রাস্তায় ১টা কুকুর এক্সিডেন্ট করে পরে আছে, মানুষ তাকিয়ে তাকিয়ে দেখছে।বাচ্চা কুকুরটির মা অনেক কান্নাকাটি করতেছে।তখন ২জন নারী বাচ্চা কুকুরটিকে কোলে করে সাইডে নিয়ে আসে।পরে কুকুরকে কোথায় জানি নিয়ে গেছে।এটি একটি ভাল ও হৃদয়বান লোকের কাজ । আল্লাহ এই নারীদ্বয়কে পূর্ণ হিদায়েতের আলো দান করুন ।—-#মরুচারী_মুসাফির
মাণ্ডায় পানির পাম্প এলাকার দুদু মিয়ার গলি ধরে পূর্ব দিকে ৩০ গজের মতো এগোলেই হাতের ডানে-বাঁয়ে বস্তির মতো ছয়-সাতটি ঘর। তবে ঘরগুলো সেমিপাকা। সাত্তার মিয়ার বাড়ি বললে সবাই চেনে। শুক্রবার ভোর সাড়ে ৫টা। ঘরগুলোর একটি থেকে কাঠের হুইলচেয়ারে বসে বের হয়ে এলেন এক যুবক। চেয়ারটি পেছন থেকে ঠেলছে এক কিশোর। যুবকের বয়স ২৮-৩০ বছর। কিশোরের ১২ থেকে ১৪। দুজনই প্রতিবন্ধী এবং ভিক্ষুক। যুবকের দুই পা সরু লাঠির মতো। কিশোরটি কুঁজো।কিশোরকে একটু দূরে ডেকে নিয়ে নাম-পরিচয় জানতে চাইলে সে জানায়, তার নাম আলতাফ, বাড়ি ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায়। যুবক তার আপন বড় ভাই, নাম মোক্তার। তাদের বাবা প্রয়াত আলী হোসেন। অভাবের সংসারে ভাইকে নিয়ে সে ভিক্ষা করে।এরপর কিশোরকে দূরে রেখে যুবকের কাছে তাঁর নাম-ঠিকানা জানতে চাইলে তিনি প্রথমে ঘাবড়ে যান। পরে জানান, তাঁর নাম মোক্তার হোসেন। কিশোরটি তাঁর ছোট ভাই, নাম আলতাফ। গ্রামের বাড়ি মাদারীপুরের কালকিনি এলাকায়। তাঁদের বাবার নাম সোলায়মান। তিনি আগে রিকশা চালাতেন, এখন অসুস্থ হয়ে বাড়িতেই থাকেন। মোক্তার আর আলতাফ মিলে ঢাকা থেকে টাকা পাঠায়। তাতে মা-বাবার সংসার কোনোমতে চলে। এই প্রতিবেদকের সঙ্গে ছিলেন কয়েকজন পুলিশ সদস্য। জিজ্ঞাসাবাদের মুখে শেষ পর্যন্ত দুজনই স্বীকার করে তারা ভাই নয়, আত্মীয়ও নয়। দিনভর ভিক্ষা করে যা আয় হয়, রাতে ঘরে ফিরে তা দুজন সমান ভাগ করে নেয়। তা দিয়েই চলে খাওয়া, ঘরভাড়া, পোশাক ও নিত্যদিনের হাতখরচ এবং সরদারের ‘সপ্তাহ’। জানা গেল, সাত্তার মিয়ার সাতটি সেমিপাকা ঘর ছাড়াও এই এলাকায় ৮০টির মতো ঘরে ভাড়াটে হিসেবে বসবাস করে হাজারের ওপরে ভিক্ষুক। ঘরগুলো বাঁশের চাটাই দিয়ে তৈরি থেকে শুরু করে তিনতলা পাকা ভবন পর্যন্ত। ভিক্ষুকদের প্রায় সবাই পঙ্গু। যারা পঙ্গু না, তারাও বয়স আর অসুস্থতার কারণে স্বাভাবিক অবস্থায় নেই। আর রয়েছে শিশু। তাদের কারো কারো অবস্থা এতটাই করুণ যে, হঠাৎ করে দেখে বোঝার উপায় নেই সে জীবিত না মৃত। এই ভিক্ষুকদের নিয়ে কয়েক দিন ধরে সরেজমিন অনুসন্ধান চালিয়ে পাওয়া গেছে নানা চাঞ্চল্যকর অজানা তথ্য। ভিক্ষুকদের একেকটি ঘর থেকে বের হয়ে আসা তথ্যচিত্রগুলো এমনই যে, কখনো শ্বাসরুদ্ধকর, কখনো বিস্ময়ে চোখ কপালে ওঠে, আবার কখনো চোখ ভিজে আসে। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা, আসাদুজ্জামান তপন ও মাসুদ রানা নামের দুই ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক এবং পুলিশের সহযোগিতা নিয়ে সরেজমিন অনুসন্ধানের মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছে এই প্রতিবেদনটি। পুলিশের অনুরোধে অনুসন্ধানের দিন-তারিখ গোপন রাখা হলো। কারণ, পুলিশের কোনো অভিযানের সঙ্গে থেকে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়নি। বরং প্রতিবেদন তৈরিতে সাংবাদিককে সহযোগিতার জন্যই পুলিশ সদস্য সঙ্গে ছিলেন। ছিলেন র্যাব-পুলিশের কয়েকজন সোর্সও। শনিবার, রাত দেড়টা। মাণ্ডায় রশিদ মিয়ার তিনতলা বাড়ি। নিচতলার একটি ঘরে বেশ কয়েকবার কড়া নাড়লে ভেতর থেকে দরজা খুলে দেন এক নারী। বয়স ৩০-৩৫ বছরের মতো। চোখে-মুখে রাজ্যের বিরক্তি। কিন্তু পুলিশ দেখে চুপ। ভেতরে ঢুকে দেখা যায়, বাসায় তিনটি ঘর। একটি ঘরে মহিলা তাঁর স্বামীকে নিয়ে ঘুমিয়ে ছিলেন। ঘরে মশারি টানানো খাট, আলনা, ছোট কাঠের আলমারির ওপর ১৪ ইঞ্চি রঙিন টেলিভিশন। মহিলা তাঁর নাম জানালেন আয়েশা আক্তার। তবে এলাকাবাসী তাঁকে হেলালের মা নামে চেনে। ততক্ষণে তাঁর স্বামীও ঘুম থেকে উঠে পুলিশ দেখে বাথরুমের ওপরে মালামাল রাখার জায়গায় গিয়ে লুকিয়ে পড়েছিলেন। তাঁকে সেখান থেকে টেনে নামানো হলো। তাঁর নাম সালাম। নিজেকে রিকশাচালক দাবি করলেও সঙ্গে থাকা পুলিশের সোর্স রফিক জানান, তিনি আসলে ভিক্ষুকদের সরদার। পাশের একটি ঘর বাইরে থেকে তালা দেওয়া। অন্ধকার। ভেতরে কারো চাপা গলার স্বর শুনতে পেয়ে পুলিশের আদেশে তালা খুলে দেন আয়েশা। ভেতরে গিয়ে আলো জ্বেলে দেখা যায়, মেঝেতে বসে আছেন পাঁচজন বৃদ্ধা। কারো বয়সই ৮০ বছরের নিচে হবে না। জীর্ণ শরীরে শতছিন্ন নোংরা পোশাক। ঘরের মধ্যেই মলমূত্র ত্যাগ করায় দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। আয়েশা জানান, এই বৃদ্ধারা তাঁর ভাড়াটে। মাথায় গণ্ডগোল আছে। রাতে পালিয়ে যেতে পারে আশঙ্কায় ঘর বাইরে থেকে তালা মেরে রাখা হয়। বৃদ্ধারা তাঁর স্বামীর নিয়ন্ত্রণে থেকে ভিক্ষা করেন।বৃদ্ধাদের মধ্যে একজন নিজেকে সম্ভবত শাহিদা নামে পরিচয় দিলেন। মুখে দাঁত নেই একটাও। অস্পষ্ট উচ্চারণের কারণে তাঁর কথা বোঝা কঠিন। বয়স ৯০-এর কম হবে না। বৃদ্ধা যা বললেন অনুমান করা যায়, তাঁর বাড়ি কোথায় মনে নেই। শুধু এটুকু মনে আছে, বাড়ি নদীতে ভেঙে গেছে। এখানে তাঁকে দিয়ে ভিক্ষা করানো হয়। কত টাকা পান, জানেন না। তবে তাঁর ধারণা, পরিমাণ কম হবে না। খুব ক্ষুধা লাগে, কিন্তু ঠিকমতো খাবার দেওয়া হয় না। খাবার চাইলে মারধর করা হয়। ছয়-সাত দিন পর গোসল করানো হয়। অসুস্থ হলে ওষুধ দেওয়া হয় না। এই প্রতিবেদকের সঙ্গে থাকা পুলিশের সোর্স রফিক ও আরেক বৃদ্ধা ভিক্ষুক জানান, সুস্থ থাকলে আয় কম হয়, পথচারীরা ভিক্ষা দিতে চায় না। তাই তাঁদের অসুস্থ করে রাখা হয়। খাবার দেওয়া হয় কম। রাতে ঘুমানোর জন্য বিছানা দেওয়া হয় না।এই ভিক্ষুকদের যে বাসায় আটকে রাখা হয়েছে, সেই বাসার ভাড়াটে আয়েশা ও তাঁর স্বামী সালাম এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তাঁদের বেশি খাবার দিলে মল-মূত্র দিয়ে ঘর নোংরা করে ফেলে। তাই কম খাবার দেওয়া হয়। রাত আড়াইটা। পাশের আরেক বাড়ি। এটি বুলু মিয়ার বাড়ি নামে পরিচিত। মেস বা ছাত্রাবাসের মতো সারিবদ্ধ ১২টি ঘর। প্রতিটি ঘর আলাদাভাবে ভাড়া দেওয়া। সবটাতেই ভিক্ষুকরা থাকে। একটি ঘরে পাওয়া যায় ভিক্ষুকদের সরদার হিসেবে পরিচিত মোক্তারকে। মোক্তারের ঘরের বাথরুম বাইরে থেকে সিটকিনি দেওয়া। সেটা খুলতেই সবার চোখ ছানাবড়া। টয়লেটের প্যানে কার্টনের কাগজ বিছিয়ে বিছানার মতো করে তার ওপর হাঁটুতে মাথা গুঁজে বসে আছেন এক অশীতিপর বৃদ্ধা। দেখে বোঝার উপায় নেই, তিনি জেগে আছেন না ঘুমিয়ে আছেন। এত লোকজনের উপস্থিতি টের পেয়েও সাড়া নেই বৃদ্ধার। তাঁর দৃষ্টি আকর্ষণ করে অনেক প্রশ্ন করা হয়। কিন্তু প্রতিটি প্রশ্নের জবাবেই বৃদ্ধা মাথা না তুলে শুধু একটা কথাই বলতে থাকেন, ‘বলব না, বলব না, ওরা মারবে।’ বৃদ্ধা তাঁর নাম-পরিচয় কিছুই বলতে পারেন না।মোক্তার আর তাঁর স্ত্রী জানান, এই বৃদ্ধাকে তাঁরা ২০ হাজার টাকা দিয়ে কিনে এনেছেন। বিক্রেতা তাঁকে পথে কুড়িয়ে পেয়েছিল। এখন বৃদ্ধাকে দিয়ে তাঁরা ভিক্ষা করান। অনুসন্ধান চালানো হয় দুদু মিয়ার গলি ও পাশের পুরনো গলির কমপক্ষে ১৫-১৬টি বাড়িতে। সবখানেই একই চিত্র। সবচেয়ে বেশি ভিক্ষুককে আটকে রাখা হয়েছে গলির বুলু মিয়া, সাজু মিয়া ও সদু মিয়ার বাড়িতে।সদু মিয়ার বাড়িতে গিয়ে কথা হয় ভিক্ষুক সুফিয়া বেগমের সঙ্গে। বয়স ষাটের কাছাকাছি। তাঁর পাশে বসা দুজন_শামসুন্নাহার, বয়স ত্রিশের মতো আর সুলতানা, কিশোরী বয়সী। সুফিয়া জানান, এরা তাঁর মেয়ে। তবে স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, ওরা কেউই বৃদ্ধার সন্তান না। জানা গেল, বাড়ির মালিক সদু মিয়া সাংবাদিক টের পেয়েই পালিয়ে গেছেন। সাজু মিয়ার বাড়ির একটি ঝুপড়িঘরে বিছানায় মৃতের মতো পড়ে থাকতে দেখা যায় এক বৃদ্ধাকে। জানা যায়, তাঁর নাম হামিদা বেগম। বয়স সত্তরের কাছাকাছি। তাঁর পাশে বসা আরেক মহিলা, নাম রহিমা। তাঁর ডান হাতের পাঁচটি আঙুলই কাটা। রহিমা বৃদ্ধাকে মা বলে পরিচয় দিতেই অনুসন্ধানে তা অসত্য প্রমাণিত হয়। জানা যায়, রহিমা নিজেই একজন ভিক্ষুক ব্যবসায়ী। হামিদাকে কিনে এনে তাঁকে দিয়ে ভিক্ষা করান তিনি। এ ব্যাপারে হামিদার সঙ্গে কথা বলতে গেলে রহিমা দৌড়ে পালিয়ে যান। পাঠিয়ে দেন বাড়ির মালিক সাজু-শ্যামলের মাকে। নাম জানতে চাইলে তিনি বললেন, সবাই তাঁকে শ্যামলের মা নামেই চেনে। তিনি বলেন, তাঁর ১০টি ঘর ভিক্ষুকদের ভাড়া দিয়েছেন। এদের কাছ থেকে তুলনামূলক বেশি ভাড়া পাওয়া যায়। ঝামেলা করলে বিদায় করাও সহজ। এই বাড়িতে আরো একটি ভিক্ষুক-পরিবার পাওয়া যায়। বৃদ্ধা সখিনা বিবি ঠিকমতো হাঁটাচলা করতে পারেন না। কথা বলতেও কষ্ট হয়। জানালেন, তাঁকে ঠিকমতো খাবার দেওয়া হয় না। খাবার চাইলে মারধর করা হয়। ক্রমে পঙ্গু হতে চলেছেন। চোখেও কম দেখেন। রানী বেগম (সলুর মা) নামে এক ভিক্ষুক জানালেন, তিনি ভিক্ষা পেশা ছেড়ে দিয়েছেন। এখন ভিক্ষুক কিনে এনে ব্যবসা করেন। তাঁকে সবাই সরদার বলে জানে। এই এলাকায় এ রকম সরদার আছেন ৫০ জনের মতো। তাঁরা ভিক্ষুক কিনে এনে নিজের কাছে আটকে রেখে ভিক্ষা করান। এদের কোনো মাসোহারা দিতে হয় না। শুধু খাবার আর রাতে থাকার জায়গা দিলেই চলে। আবার কিছু ভিক্ষুক তাঁরা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে পরিচালনা করেন কমিশনের ভিত্তিতে। বাড়িভাড়া, দেখভাল করা আর পুলিশ ধরে নিয়ে ভবঘুরে কেন্দ্রে পাঠালে ছাড়িয়ে আনার দায়িত্ব তাঁদের বা সরদারদের। এসব ভিক্ষুকের কাছ থেকে তারা সপ্তাহভিত্তিক টাকা পান। এই টাকাকে তাঁদের ভাষায় ‘সাপ্তা’ বলে। রানী বেগমের কাছ থেকে জানা গেল, মানসিক রোগে আক্রান্ত (বিশেষ করে প্রতিবন্ধী) সারা দেশের পথহারা বৃদ্ধ মহিলা আর শিশু-কিশোরদের ধরে আনার একটি চক্র আছে। এই চক্র ওই বৃদ্ধা ও শিশুদের ধরে এনে তাঁদের কাছে বিক্রি করে। দাম ২০ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত। যে শিশু বা বৃদ্ধা যত বেশি অসুস্থ, তার দাম তত বেশি। কেনার পর তাঁরা এদের নিজের কাছে রেখে ঠিকমতো খাবার বা চিকিৎসা না দিয়ে আরো অসুস্থ করে তোলেন। এভাবে তিন মাস থেকে এক বছর পর্যন্ত তাদের আটকে রাখা হয় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে। এভাবে শিশুদের অনেকে পঙ্গু হয়ে পড়ে। তবে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী কাউকে কেনা হয় না। ঢাকা থেকে সংগ্রহ করা বৃদ্ধা ও শিশুদের চট্টগ্রামে আর চট্টগ্রাম থেকে সংগ্রহ করা শিশু ও মহিলাদের ঢাকায় রাখা হয়। চট্টগ্রামেও এই ভিক্ষুক-ব্যবসায়ীদের একাধিক আস্তানা রয়েছে বলে রানী জানান। রানীর কথার সূত্র ধরে হজরত নামে স্থানীয় এক প্রতিবাদী যুবককে নিয়ে অনুসন্ধান চালানো হয় ওই এলাকায়। রাত সাড়ে ১০টার দিকে দুদু মিয়ার গলির (পুরনো গলি) বুলু মিয়ার বাড়িতেই এক বৃদ্ধাকে পাওয়া যায়। বুলু মিয়ার বাড়িতে ভাড়া থাকেন ভিক্ষুক-ব্যবসায়ী নাসিমা। নাসিমা শুধু সরদারই নন, এই চক্রের নেত্রী হিসেবেও পরিচিত। তাঁর ঘরের মেঝেতে নির্জীব হয়ে পড়ে আছেন এক বৃদ্ধা। শরীরের বিভিন্ন স্থানে নির্যাতনের চিহ্ন। সাংবাদিক দেখেই দৌড়ে গিয়ে ঘরের দরজা বন্ধ করে চিৎকার শুরু করেন নাসিমা। ডেকে আনেন এলাকার কয়েকজন ছিঁচকে সন্ত্রাসী ধরনের যুবককে। তারা এসে বাধা দেয় তথ্য সংগ্রহে। একপর্যায়ে যুবকরা হজরতকে ধরে মারধর শুরু করে। পরে এই প্রতিবেদক স্থানীয় কয়েকজনের সহযোগিতা নিয়ে হজরতকে উদ্ধার করে সেখান থেকে নিয়ে আসেন। হজরত পরে টেলিফোনে এই প্রতিবেদককে জানান, নাসিমা ছেলেধরা চক্রেরও নেত্রী। ওই রাতে মেঝেতে নির্যাতিতা যে বৃদ্ধ মহিলাকে দেখা গেছে, তাঁকে নাসিমা রাস্তা থেকে জোর করে ধরে এনেছে। সাংবাদিকদের সহযোগিতা করায় সোমবার রাতে আবারও নাসিমাসহ ওই সন্ত্রাসীরা বৃদ্ধাকে ধরে নিয়ে একটি ঘরে আটকে রাতভর মারধর করেছে। পুলিশকে জানালে খুন করা হবে বলে হুমকি দিয়ে সকালে তাঁকে ছাড়া হয়। বুলু মিয়ার বাড়ির দুই ঘরের ভাড়াটিয়া প্রতিবন্ধী ভিক্ষুক ফিরোজ মিয়া ও রকিবুল জানান, এখানে সরদারচক্র আছে। যারা নিজেরা চলাচল করতে পারে না, তারাই সরদারের নিয়ন্ত্রণে থাকে। তাঁদের জোর করে আটকে রেখে ভিক্ষা করানো হয়। তবে তাঁরা কোনো সরদারের নিয়ন্ত্রণে নেই বলে ফিরোজ ও রকিবুল জানান। রাজিয়া বেগম নামের এক বৃদ্ধা জানান, তিনি তাঁর নাম-পরিচয়-ঠিকানা কিছুই বলতে পারেন না। তাঁকে সুফিয়া নামে যে মহিলা আটকে রেখে ভিক্ষা করায়, সে তাঁকে রাজিয়া বলেই সবার কাছে পরিচয় দেয়। আর এতেই তিনি ধরে নিয়েছেন, তাঁর নাম রাজিয়া।রাজিয়ার এক পায়ের হাঁটুতে আর মাথার মাঝখানে দগদগে ঘা। মাথায় ক্ষতের চারপাশে চুল কেটে ফেলা হয়েছে, যাতে ঘা আরো স্পষ্ট হয়ে চোখে পড়ে। দেখেই বোঝা যায়, চিকিৎসা হয়নি। ‘চিকিৎসা করাচ্ছেন না কেন’ প্রশ্ন করলে রাজিয়া ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকেন। অনেকবার জিজ্ঞেস করার পর রাজিয়া জানান, তাঁকে ওষুধ দেওয়া দূরে থাক, ঠিকমতো খাবারই দেওয়া হয় না। ব্যথায় ঘুমাতে পারেন না। রাস্তায় বসে যখন ভিক্ষা করেন, তখন মাছি থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য মাথা ও পায়ের ঘা কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখার চেষ্টা করেন। কিন্তু সুফিয়া এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মারধর করে। পথচারীরা ঘা না দেখলে ভিক্ষা দেবে না বলে সুফিয়া তাঁকে জানিয়েছে। শুধু একটু খাবারের জন্যই তিনি সুফিয়ার কথা মেনে চলেন। কেউ জানতে চাইলে বলেন, সুফিয়া তাঁর মেয়ে। সুফিয়া অবশ্য তাঁকে মা বলেই ডাকে।দুদু মিয়ার গলির উল্টোদিকে গ্যারেজ গলিতে একটি তিনতলা ভবনের নিচতলা। নিচতলা না বলে মাটির তলা বলাই ভালো। কারণ, এই নিচতলার ধরনই অনেকটা আন্ডারগ্রাউন্ড ভবনের বেজমেন্ট রুমের মতো। রশিদ মিয়ার ঘরে যাওয়া হয় রাত সাড়ে ৩টার দিকে। বিছানায় চার মাস বয়সের এক শিশু কোলে নিয়ে শুয়ে ছিলেন রশিদ ও তাঁর স্ত্রী। খাটের নিচে পুরনো কার্পেট ও কাপড় চাপা দেওয়া অবস্থায় ঘুমন্ত পাওয়া গেল পাঁচ-ছয় বছরের দুই শিশুকে। রশিদ জানান, শিশু দুটি তাঁরই সন্তান। ‘সন্তান হলে ওদের এভাবে খাটের তলায় কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে কেন’ জানতে চাইলে রশিদ জানান, খাটে জায়গা না হওয়ায় ওদের নিচে শুতে দেওয়া হয়েছে। আর কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে মশা ও ইঁদুরের হাত থেকে রক্ষা করতে।এই ভিক্ষুক ব্যবসায়ীচক্রকে ঘিরে এলাকায় গড়ে উঠেছে একাধিক অপরাধচক্র। এ ধরনের কয়েকটি চক্রের দলনেতা হচ্ছেন দানব, ইয়ারু, নিয়ামত, সোহেল, জসিম, হায়দার, ভুট্টো, সুরুজ ও মাসুম। এঁদের কয়েকজন এলাকায় রিকশা গ্যারেজ মালিক হিসেবে পরিচিত। সোহেল, ভুট্টো ও হায়দার জানান, তাঁরা কোনো দল বা চক্রের নেতা নন। তাঁদের রিকশায় করে এখান থেকে পঙ্গু ভিক্ষুকদের প্রতিদিন ভোরে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় পেঁৗছে দেওয়া হয় এবং রাতে আবার নিয়ে আসা হয়। এর জন্য তাঁরা স্বাভাবিকের চেয়ে কিছু বেশি ভাড়া পান। এর বাইরে এই ভিক্ষুক বা এদের নেতাদের সঙ্গে তাঁদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। হেলপ ফর হিউম্যান নামে একটি বেসরকারি সংগঠন গত ফেব্রুয়ারি মাসে এই এলাকার ভিক্ষুকদের নিয়ে একটি জরিপ চালায়। সংস্থার নির্বাহী পরিচালক অ্যাডভোকেট নিগার সুলতানা জানান, মাণ্ডা এলাকায় ভিক্ষুকের সংখ্যা এক হাজারেরও বেশি। এরা মাঝেমধ্যে বাসা পরিবর্তন করলেও মাণ্ডা এলাকাতেই থাকে। এখানে এদের কমপক্ষে ৩০ জন দলনেতা বা নেত্রী আছেন, যাঁরা সরদার নামে পরিচিত। বস্তি, স্টেশন বা রাস্তাঘাট থেকে অসহায় বৃদ্ধা আর শিশুদের প্রলোভন দেখিয়ে বা জোর করে ধরে এনে তাদের দিয়ে ভিক্ষা করানো হচ্ছে। এটা এক ধরনের ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। চিকিৎসা না দিয়ে, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে অনাহারে রেখে কৌশলে এদের পঙ্গু বানানো হচ্ছে। তবে অবাক করার বিষয়, কারো বিরুদ্ধেই এদের কোনো অভিযোগ নেই। জোর করে ধরে আনার কথা এরা কেউ স্বীকারও করতে চায় না। এ ব্যাপারে পুলিশের আইজি হাসান মাহমুদ খন্দকার বলেন, ভিক্ষাবৃত্তি এমনিতেই আইনে নিষিদ্ধ। এর পরও মানবিক নানা কারণে অনেক সময় ভিক্ষুকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়ে ওঠে না। তবে কাউকে জোর করে আটকে রেখে ভিক্ষাবৃত্তিতে ব্যবহার করা বড় অপরাধ। মাণ্ডাসহ রাজধানীর অনেক এলাকাতেই ভিক্ষুকদের বসবাস আছে। তবে কারো বিরুদ্ধে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ না পাওয়ায় স্থানীয় থানা পুলিশের পক্ষে আইনগত ব্যবস্থাও নেওয়া সম্ভব হয়ে ওঠে না। তবে পুলিশ গোপনে খোঁজখবর নেওয়া শুরু করেছে বলে তিনি জানান।
কি বাংলাদেশ, আর কি ব্যাংকক ইংল্যান্ড- আমেরিকা। সারাবিশ্বেই ভিখারিদের এক অবস্থা। কখনো কি মনে প্রশ্ন জেগেছে, ভিক্ষুকের কোলের বাচ্চাটি সবসময় ঘুমিয়ে থাকে কেন?এর পিছনে রয়েছে, বীভৎস এক করুণ কাহিনী। এই চিত্র শুধুমাত্র কোনো একটি দেশের নয়। পৃথিবীর প্রায় সব দেশের কাহিনী প্রায় একইরকম । কিন্তু…………
রাস্তায় চলার পথে বা জ্যামে গাড়িতে বসে থাকার সময় অনেক ধরনের ভিক্ষুক দেখতে পান নিশ্চয়। শিশু থেকে বৃদ্ধ সব বয়সের ভিক্ষুকদের দেখতে পাবেন। তবে একটি ব্যাপার কি লক্ষ্য করেছেন? বিশ্বজুড়ে যেখানেই আপনি ভিক্ষুকের কোলে ছোট কোনো বাচ্চা দেখতে পাবেন, খেয়াল করলেই দেখবেন বাচ্চাটি ঘুমিয়ে আছে। কী বাংলাদেশ, আর কী ব্যাংকক, আমেরিকা। সারাবিশ্বেই ভিখারিদের এক অবস্থা। কখনো কি মনে প্রশ্ন জেগেছে, ভিক্ষুকের কোলের বাচ্চাটি সবসময় ঘুমিয়ে থাকে কেন? এর পিছনে রয়েছে, বীভৎস এক করুণ কাহিনী। এই চিত্র শুধুমাত্র কোনো একটি দেশের নয়। পৃথিবীর প্রায় সব দেশের কাহিনী প্রায় একইরকম।
রাস্তার মোড়ে মোড়ে থাকা প্রায় প্রতিটি ভিক্ষুককেই পরিচালনা করে সুসংগঠিত সন্ত্রাসী মাফিয়া বাহিনী। যারা ভিক্ষুকদের পিছনে কাজ করে। এই মাফিয়া গ্রুপগুলো সব ভিক্ষুকদেরকে নিজেদের জিম্মায় রাখে। প্রতিদিন সকালে নিজেদের দায়িত্বে রাস্তার মোড়ে মোড়ে এনে বসিয়ে দিয়ে যায়। আবার সন্ধ্যা হলে নিজেদের দায়িত্বেই তাদেরকে আখড়ায় ফিরিয়ে নেয়। এরপর ভিক্ষুকের সারাদিনের যা ‘আয়’ তার সবটুকুই চলে যায় ওই মাফিয়া গ্রুপের হাতে। ভিক্ষুকের কপালে জোটে শুধু এক বেলার খাবার।
খেয়াল করবেন, রাস্তার পাশে ছোট শিশু নিয়ে যারা ভিক্ষা করছে তাদের অধিকাংশেরই কোলে থাকা শিশুটি ঘুমে বিভোর। কোলে নেয়া মহিলাটির ভাঁজ করা পায়ে নাকমুখ গুঁজে চুপচাপ ঘুমাচ্ছে শিশুটি। আর রাস্তা দিয়ে চলাচলকারী পথচারীরা তাদেরকে টাকা দিয়ে সাহায্য করে যাচ্ছেন।
একটি শিশু সারাদিন চুপচাপ ঘুমিয়ে কাটায় কীভাবে? তাও আবার ব্যস্ত সড়কের পাশে হাজারো গাড়ির হর্ন এবং নানা রকম শব্দের মাঝে? এখানেই রয়েছে চমকে যাওয়ার মতো উত্তর। প্রতিদিন ভিক্ষা করতে আসার আগে কোলের ওই শিশুটিকে নেশাদ্রব্য খাইয়ে ঘুম পাড়ানো হয়। তারপর সারাদিন ধরে নির্বিঘ্নে ভিক্ষাবৃত্তি চলে।
এভাবে দিনের পর দিন নেশাদ্রব্য খাওয়ানোর ফলে কিছুদিন পরেই ওই শিশুটি মৃত্যুর মুখে ঢলে পড়ে। তারপর ওই শিশুটির স্থান দখল করে নেয় অন্য কোনো শিশু। ফলে আরো একটু ভালো করে খেয়াল করলে দেখবেন, কিছুদিন পরপরই তাদের কোলের শিশুটি বদলে যাচ্ছে। নতুন নতুন শিশু কোলে নিয়ে দিনের পর দিন একইভাবে চলছে ভিক্ষাবৃত্তি।
এখন নিশ্চয় মনে প্রশ্ন জাগছে, এরা এতো এতো শিশু পাচ্ছে কোথা থেকে? কীভাবেই বা ওই মাফিয়া গ্রুপগুলোর হাতে আসছে বাচ্চাগুলো? এদের অধিকাংশই চুরি করা শিশু অথবা টাকার অভাবে থাকা মাদকসেবী পরিবারের কাছ থেকে ভাড়া নেয়া।
দেশের প্রথম সারির দৈনিক প্রথম আলোতে এমন একটি ঘটনা উঠে এসেছিল। ৩০-১২-২০১০ তারিখে ‘শিশুদের পঙ্গু করে নামানো হচ্ছে ভিক্ষায়’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন ছাপায় পত্রিকাটি।
রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরে একটি প্রভাবশালী চক্র বিভিন্ন জায়গা থেকে শিশুদের ধরে নিয়ে গিয়ে পঙ্গু বা অচল করে দেয়। তারপর তাদেরকে ভিক্ষাবৃত্তিতে ভাড়া দেয়।
প্রতিবেদনে জানানো হয়, একটি অ্যালুমিনিয়ামের পাতিলের ভেতর টানা ছয় মাস আট-নয় বছরের এক শিশুকে জড়সড় করে আটকে রাখা হয়। সারাদিনে শুধু একবার সামান্য ভাত অথবা রুটি-পানি দেয়া হতো তাকে। এইভাবে দিনের পর দিন একটি পাতিলের ভিতর থাকতে থাকতে শিশুটি কঙ্কালসার হয়ে পড়ে। এরপর তাকে ভিক্ষাবৃত্তিতে ভাড়া দেয়া হয়।
এছাড়া অনেক শিশুকেই ধরে এনে কব্জি, পায়ের রগ, পুরুষাঙ্গ কেটে দিয়ে অথবা বুকে, ঘাড়ে, মাথায় আঘাত করে অচল বানিয়ে দেয়া হতো। তারপর তাকে দিয়ে চলতো ভিক্ষার ব্যবসা। সারা বিশ্বেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ এড়িয়ে অথবা তাদের সঙ্গে যোগসাজশ রেখেই এসব ব্যবসা চলে। তাই এদেরকে সামাজিকভাবে মোকাবেলা করতে হবে।
এখন থেকে কোলে শিশু নিয়ে থাকা কোনো ভিক্ষুককেই আর কখনো টাকা-পয়সা দান করবেন না। খাবার, পানি দিতে পারেন, কিন্তু টাকা-পয়সা কখনোই নয়। আপনার এই অভ্যাসে হয়তো বেঁচে যাবে কোনো একটি শিশুর প্রাণ।
আট-নয় বছরের এক শিশুকে জড়সড় করে আটকে রাখা হয়েছিল অ্যালুমিনিয়ামের পাতিলের ভেতর। টানা ছয় মাস। খাবার বলতে দিনে একবার সামান্য ভাত অথবা রুটি আর পানি। এতে দিনে দিনে শিশুটি হয়ে পড়ে কঙ্কালসার। এরপর তাকে ভাড়া দেওয়া হয় ভিক্ষাবৃত্তিতে।শিশুদের নিয়ে এমন ঘৃণ্য ব্যবসা জমিয়ে তুলছে একটি সন্ত্রাসী চক্র। তারা শুধু শিশুদের পাতিলের ভেতরই রাখছে না, কারও হাত কেটে দিচ্ছে, কারও পায়ের রগ কেটে পঙ্গু করছে। র্যাব কর্মকর্তারা গতকাল বুধবার এক বিশেষ অভিযান চালিয়ে এ চক্রের সদস্য শরিফুল ইসলাম ওরফে কোরবানকে গ্রেপ্তার করেন। গ্রেপ্তারের পর সাংবাদিকদের সামনে এসব অপকর্মের কথা স্বীকার করেন কোরবান।র্যাব কর্মকর্তারা জানান, পথেঘাটে এমন কঙ্কালসার শিশু দেখে হূদয়বান মানুষ সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিচ্ছেন, সাহায্য করছেন। কিন্তু তাঁরা জানেন না, সে অর্থ চলে যাচ্ছে সন্ত্রাসী চক্রের হাতে। ভয়ংকর এ সন্ত্রাসী চক্রের আস্তানাটি গড়ে উঠেছে রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরের আশ্রাফাবাদে।শিশুদের নিয়ে ব্যবসা ফাঁদার এই নিষ্ঠুর ও ঘৃণ্য চক্রের সঙ্গে জড়িত এক সদস্যকে গ্রেপ্তারের খবর জানাতে গতকাল দুপুরে নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে র্যাব। সংবাদ সম্মেলনে এ চক্রের সর্বশেষ শিকার শিশু নিয়ামুল ও তার দরিদ্র মাকে হাজির করা হয়। শিশুটি তার ওপর নির্যাতনের ভয়াবহ বিবরণ দেয়।সংবাদ সম্মেলনে র্যাবের আইন ও জনসংযোগ শাখার পরিচালক কমান্ডার এম সোহায়েল বলেন, একটি বেসরকারি টেলিভিশনের এক অনুষ্ঠানের সূত্র ধরে তাঁরা এ চক্রের সন্ধান পান। বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান এলিনা খান ও ব্ল্যাক ট্রুথ প্রডাকশনস সেন্টারের পরিচালক অভিনেত্রী রোকেয়া প্রাচী ওই অনুষ্ঠানের আয়োজক ছিলেন। তাঁরা অনুষ্ঠান করতে গিয়ে এ চক্রের হদিস পান। তাঁদের অনুষ্ঠানে ওই চক্রের হোতারা তাদের কর্মকাণ্ড তুলে ধরে। এরপর তথ্য-প্রমাণসহ অনুষ্ঠানের আয়োজকেরা বিষয়টি র্যাবকে জানান। গতকাল রাজধানীর উত্তরা এলাকার ১২ নম্বর সেক্টর থেকে কোরবানকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। সংবাদ সম্মেলনে টিভি অনুষ্ঠানের দুই আয়োজকও উপস্থিত ছিলেন।র্যাবের পরিচালক বলেন, কামরাঙ্গীরচরের এ চক্রের মূল হোতা ওমর ফারুক নামের এক সন্ত্রাসী। কামরাঙ্গীচরের আশ্রাফাবাদে তাঁর একটি ক্লাবঘর আছে। সেখানেই এসব অপকর্ম চলে। ওমর ফারুকের সঙ্গে আছে সালাউদ্দিন, এমরান, রাসেল, রনি, সাদ্দাম, কাওসারসহ কয়েকজন। এরা ওমর ফারুকের নির্দেশে ছিনতাই করে। আর পথে পথে ঘুরে বেড়ানো শিশুদের দেখলেই তাদের ধরে নিয়ে যায়। এরপর সেই শিশুকে ভিক্ষাবৃত্তির ‘উপযোগী’ করতে পঙ্গু করা হয়।র্যাব পরিচালক জানান, গ্রেপ্তার হওয়া কোরবান স্বীকার করেন যে চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের কাজ করে আসছে। এর মধ্যে ২০০৪ সালে শরীফ নামের এক বালককে তারা কামরাঙ্গীরচরের বেড়িবাঁধে নিয়ে হাতের কবজি কেটে পঙ্গু করে দেয়। এরপর তাকে দিয়ে ভিক্ষা করানো হয়। শরীফের বাড়ি কোথায়, তা তারা জানে না। তবে সে খুলনার আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলত। ২০০৬ সালে রাহাত নামের আরেক শিশুকে তারা পায়ের রগ কেটে দেয়। রাহাতের বাড়ি যশোরে। ২০০৮ সালে অজ্ঞাতনামা একটি শিশুকে তারা ছয় মাস একটি পাতিলের মধ্যে আটকে রাখে। পরে তাকে বিকলাঙ্গ করে ভিক্ষায় ভাড়া দেওয়া হয়। কোরবান জানান, এ চক্রের সর্বশেষ শিকার ছিল নিয়ামুল। দরিদ্র রিকশাচালক উমেদ আলীর ছেলে নিয়ামুলকে তারা এ বছরের ৬ সেপ্টেম্বর অপহরণ করে। এরপর ব্লেড দিয়ে তার পুরুষাঙ্গ কেটে ফেলে, গলা ও বুকে ছুরি দিয়ে আঘাত করে। কিন্তু একপর্যায়ে শিশুটি মারা গেছে বলে মনে করে তারা তাকে ফেলে দিয়ে চলে যায়।সংবাদ সম্মেলনে ব্ল্যাক ট্রুথ প্রডাকশনস সেন্টারের পরিচালক অভিনেত্রী রোকেয়া প্রাচী বলেন, টিভি অনুষ্ঠান করতে গিয়ে তাঁরা শিশুটির এ ভয়ংকর ঘটনার হদিস পান। তাঁরা জানতে পারেন, আহত শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে খবর পেয়ে চক্রের সদস্যরা নিজেরাই আসামি ও বাদী সেজে কামরাঙ্গীরচর থানায় একটি সাজানো মামলা করে। পরে নিজেরা আপস করেছে বলে সেই মামলা তুলে নেয়। কিন্তু শিশু নিয়ামুল হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর তার বাবা উমেদ আলী এ নিয়ে মামলা করতে গেলে থানা আর মামলা নেয়নি। পরে তাঁরা আদালতে যান। তিনি বলেন, ঘটনার এখানেই শেষ নয়। সন্ত্রাসী চক্রের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করার পর সন্ত্রাসীরা আরেকটি সাজানো মামলা করে শিশুটির পিতা ও তাঁর মামলার সাক্ষীদের আসামি করে। এ মামলায় তারা অভিযোগ করে, র্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া কোরবানকে অপহরণ করা হয়েছে। রাজধানীর কদমতলী থানার পুলিশ সেই মামলায় দুজনকে গ্রেপ্তারও করে। শিশুটির বাবা এখন এই সাজানো মামলার আসামি।হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান এলিনা খান অভিযোগ করেন, এ চক্রের সঙ্গে কদমতলী ও কামরাঙ্গীরচর থানার পুলিশের সখ্য আছে। তারা প্রকৃত নির্যাতনকারীর মামলা না নিলেও সাজানো মামলা নিয়ে আসামি গ্রেপ্তার করেছে। তাদের সঙ্গে বারবার যোগাযোগ করে আসামি ধরতে অনুরোধ করা হলেও তারা সহযোগিতা করেনি।গ্রেপ্তার হওয়া কোরবান সাংবাদিকদের জানান, এ সন্ত্রাসী চক্রের সদস্য আট-নয়জন। তাদের নেতা ওমর ফারুক। সবকিছু হয় তাঁরই নিয়ন্ত্রণে। দলের সবাই তাঁর কথামতো সবকিছু করে। কামরাঙ্গীরচরের আশ্রাফাবাদ নতুন গলিতে স্কুলের ডান পাশে ওমর ফারুকের ক্লাবঘর। ওমর ফারুক এলাকায় ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের কর্মী হিসেবে পরিচিত। তিনি দিনের বেলায় ঘুমান। সন্ধ্যার পর ক্লাবে এসে এলাকার বিচার-সালিসের নামে চাঁদাবাজি করেন। আর রাতের কারবারের হিসাবনিকাশ নেন। ভোরবেলা ঘুমাতে যান। কত শিশুকে নির্যাতন করে ভিক্ষাবৃত্তিতে নামানো হয়েছে, তার সঠিক হিসাব তিনি জানেন না। তবে সংবাদ সম্মেলনে ‘কয়েকটি ঘটনা মনে পড়ছে’ বলে উল্লিখিত ঘটনাগুলোর বিবরণ দেন।