হাসনাহেনা ফুলের গন্ধে কি আসলেই সাপ চলে আসেঃ

👉👉আমাদের গ্রাম শহরে সর্বত্র প্রচলিত আছে যে হাসনাহেনা ফুলের গন্ধে সাপ চলে আসে।
তাই বিশেষ করে গ্রামে গঞ্জে অনেককেই বলতে শোনা যায় যে হাসনাহেনা ফুলের গাছ লাগিও না কারণ তাতে সাপেরা চলে আসবে।

👉🏿👉🏿 প্রত্যেক বিজ্ঞানের ছাত্র এই রহস্য খুব ভালো করে জানে, বিশেষ করে যারা পড়াশোনা করে পাস করেছে।
সাপ #হাসনাহেনা ফুলের গন্ধ নিতে আসে না!
তাছাড়া হাসনাহেনা ফুলের গন্ধ সাপের কোন কাজেও আসে না বা বুঝতেও পারে না।
হাসনাহেনা ফুল একই সাথে অত্যন্ত অধিক সংখ্যক ফুটে থাকে। এই ফুলের মধু পান করার জন্য ব্যাপক হারে পোকামাকড় এবং প্রজাপতি ও মৌমাছিরা চলে আসে ।
আর সাপের প্রধান খাদ্য হলো পোকামাকড় ,ফরিং,মথ, প্রজাপতি,মাছ, ইত্যাদি।
আর এই জন্যই হাসনাহেনা ফুল গাছের কাছাকাছি সাপের আনাগোনা লক্ষ্য করা যায়।

🔴🔴এখানে আরো একটি সত্য প্রকাশ করা জরুরী যে অনেক মানুষ এমনকি বিশ্ববিদ্যালয় পাস করা শিক্ষিত মানুষ পর্যন্ত মনে করে থাকে সাপ দুধ খায়। কিন্তু এটাই সত্য যে সাপ দুধ পান করে না কেননা সাপ স্তন্যপায়ী প্রাণী নয়। আর স্তন্যপায়ী প্রাণী ছাড়া অন্য প্রাণীরা দুধ খায় না কারণ তারা দুধের সাথে পরিচিত নয়। সাপ খাওয়ার সাথে সাথে অথবা সাপকে জোরপূর্ব দুধ খাওয়ালে সে মারা যায়।
কারণ সাপ একটি মাংসভোজী প্রাণী । আরো একদল চিন্তা ভাবনা বর্জিত মানুষ আছে আছে, যারা মনে করে সাপ গরুর দুধ খায়। অথচ জীবনে কেউ কোনদিন সাপ কে গরুর দুধ খেতে দেখে নি শুধু তাবিজ বিক্রেতা সাপুড়েদের কথায় বিশ্বাস করে অনেকেই তর্ক করে থাকে।

প্রান্তিকতায় অবস্থানকারী এই জাতির গন্তব্য কোথায় ⁉️

🟣🔴এরা অর্থাৎ এই ছবিতে যাদের দেখতে পাচ্ছেন তারা হলো একদল হানাফি-মাজহাবের একটি শাখা কওমী-দেওবন্দী, তাবলীগী-হেফাজতী গ্রুপের পথভ্রষ্ট। অপরদিকে আছে মাদখালি আহলে হাদিস গুষ্টির অন্য একদল পথভ্রষ্ট ‌ । আর আলেম নামক এই সমস্ত অসভ্য বর্বর গুলোর কাজ হল ইসলামের সুন্নত মুস্তাহাব সহ বিভিন্ন ছোটখাট এবং তুচ্ছ বিষয় নিয়ে নিজেদের পাণ্ডিত্য জাহির করা এবং বাহাস মুনাজারা করে গালাগালি, ঝগড়া-বিবাদ, গীবত-সেকায়েত ইত্যাদির মাধ্যমে নিজেদের আমল নষ্ট করা এবং জাতিকে বিভ্রান্ত করা।
🟥🟪এই নালায়েক ইতর প্রকৃতির লোক গুলো সব সময় এবং সর্বক্ষণ দেখি শুধু অন্য দল আলেমের পেছনে আর বিভিন্ন মাসয়ালা মাসায়েল এর পেছনে যার সাথে ইসলামের তেমন কোনো সাংঘর্ষিক বা সম্পর্ক নেই তা নিয়ে মেতে থাকে আর একদল অন্য দলকে বিভিন্নভাবে গালাগালি করতে থাকে।
এই যদি হয় তথাকথিত জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান আলেমদের অবস্থা তবে আলেমদের অনুসারী এবং সাধারণ মুসলিমের অবস্থা কি হতে পারে তা সহজেই অনুমেয়।
আল্লাহ আমাদেরকে যাদের মধ্যে একটু বিবেক দিয়েছেন আমরা দেখতে পাচ্ছি এই সমস্ত আলেমদের পেছনে পেছনে ঘুরে আমাদের দেশের সাধারণ মুসলিম জনসাধারণ শত শত দলে বিভক্ত হয়ে তাদের মতোই অন্যকে গালাগালি করে যাচ্ছে।
এখন আমাদেরকে বাধ্য হয়ে এই সমস্ত ইতর-প্রকৃতির আলেমের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হচ্ছে।
নতুবা আমাদের যেকোনো এক পক্ষ নিয়ে আরেক পক্ষকে গালাগালি করতে হচ্ছে।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম আমাদেরকে শিক্ষা দিয়েছেন মধ্যপন্থা অবলম্বন করার জন্য ‌।
অথচ এই সমস্ত অসভ্য জাহেল আলেম নামক বর্বরগুলো বিভিন্ন প্রান্তিকতায় অবস্থান করে একদল আরেকদলকে অমুসলিম, কাফের, জাহান্নামী, পথভ্রষ্ট ইত্যাদি বিভিন্ন ফতোয়া দিয়ে শুধু যে নিজেরা জাহেল হচ্ছে বা জালিমদের কাতারে দাঁড়াচ্ছে তাই নয়, বরং পুরো জাতিকে তারা দলে দলে বিভক্ত করে দিচ্ছে।
এরা চারটি দল চার প্রান্তিকতায় অবস্থান করে নিজেদের পাণ্ডিত্য জাহির করছে।
👉👉১// একদিকে আছে হানাফী মাযহাবের কওমী-দেওবন্দী-হেফাজতি-তাবলীগী গ্রুপ! এদের কাজ হল বিভিন্ন বই-পুস্তক ঘেটে তা থেকে ছোটখাটো সূত্র সংগ্রহ করে এবং বই-পুস্তকের উল্টাপাল্টা ব্যাখ্যা করে এবং সেই অনুযায়ী বই পুস্তক লিখে আহলে হাদিস সালাফি গোষ্ঠীকে পথভ্রষ্ট এবং অমুসলিম প্রমাণিত করা! এই কওমি দেওবন্দী গুষ্টির দৃষ্টিতে আলিয়া মাদ্রাসাগুলো পায়খানা সমতুল্য এবং আলিয়া মাদ্রাসায় পড়ার চেয়ে খ্রিস্টানদের মিশনারি স্কুলে পড়া অনেক ভালো।

👉👉২// অপর প্রান্তে আছে সহি আকিদার সাইনবোর্ডধারী সালাফি নামক মাদখালি আহলে হাদিস গোষ্ঠী। এরাও ঠিক হানাফী মাযহাবের এই গ্রুপের সাথে পাল্লা দিয়ে বিভিন্ন ফতোয়াবাজি করে খুবই তুচ্ছ ও ছোটখাটো মত বিরোধ গুলো নিয়ে হানাফী মাযহাবকে যেকোন ভাবে ভ্রান্ত বাতি জাহান্নামী ও অমুসলিম বানানোর প্রক্রিয়ায় সদা ব্যস্ত থাকে। এরা আবার সমস্ত দুনিয়া জুড়ে ১৬৪ দলে বিভক্ত এবং বাংলাদেশে আছে এদের ১৯ টিরও বেশি দল।
👉👉৩// হানাফী মাযহাবের আরো একটি গ্রুপ হল সুন্নি নামধারী কবর পূজারী মাজার পূজারী আর পীর পূজারী গোষ্ঠী। এদের কাজ হল কওমি-দেওবন্দী-তাবলীগী-হেফাজতি গ্রুপকে ওহাবী নাম দিয়ে কাফের ফতোয়া দেওয়া। এদের ফতোয়ায় কওমি মাদ্রাসায় যারা পড়াশোনা করে সবাই কাফের এবং তাদের গুরু মাওলানা আহমদ শফি সবচেয়ে বড় কাফের। এবং মাদখালি-সালাফী-আহলে-হাদিস গুষ্টিকে লা-মাযহাবি নাম দিয়ে কাফের ফতোয়া দেওয়া। এই সুন্নি গ্রুপের দৃষ্টিতে মক্কা-মদিনার শায়খ সহ আহলে হাদিস গ্রুপের এবং কওমি দেওবন্দী গ্রুপের সবাই কাফের এবং সবাই জাহান্নামী।
এদের দৃষ্টিতে কওমি দেওবন্দী মাদ্রাসাগুলো কাফের বানানোর সবচেয়ে বড় কারখানা। কওমি মাদ্রাসায় যে ব্যক্তি ঢুকবে সে কাফের হয়ে বেরিয়ে আসবে।
👉👉৪// চতুর্থ নাম্বার অর্থাৎ চতুর্থ প্রান্তে আছে দক্ষিণবঙ্গের কীর্তনখোলা নদীর পাড়ে ধর্মীয় ব্যবসা এর পসওয়ারা সাজিয়ে বসে থাকা চরমোনাই পীর এবং তার দলবল।
এরাও মাযহাব অনুযায়ী হানাফী মাযহাবের লোক। এবং ১২৬ তরিকার এজেন্ডা বাস্তবায়নকারী।
এরা হলো সবচেয়ে বড় সুবিধাবাদী ধর্ম ব্যবসায়ী। এরা একদিকে গণতন্ত্রের এজেন্ট হয়ে ভোটকে তারা জিহাদ ফতোয়া দিয়ে থাকে, অন্যদিকে তারা আলিয়া মাদ্রাসায় পড়াশোনা করার পক্ষে দলিল পেশ করে থাকে, অপরদিকে কওমি মাদ্রাসার পক্ষেও দলিল পেশ করে থাকে। মোটকথা চারদিকে হাত বাড়িয়ে যা যা ধরা যায় তাই ধরে আছে পীর ব্যবসাকে টিকিয়ে রাখার জন্য।
এভাবে আমাদের এই ছোট্ট ভূখণ্ডে কালেমা লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বিশ্বাসি এবং কুরআন ও হাদিসে বিশ্বাসী এই চারটি দল চারটি প্রান্তে অবস্থান করে একদল আরেকদলকে বিভিন্নভাবে অপমান অপদস্থ করে গালাগালি করে নিজেরা যেমন পথভ্রষ্ট হয়েছে তদ্রূপ অন্যদেরও পথভ্রষ্ট করছে।
বাংলাদেশের ৯০% সাধারণ মুসলিম এই চার প্রান্তিকতায় অবস্থান করা দলের কোন না কোন গ্রুপের অন্তর্ভুক্ত।
এদের কথা শুনলে আপনার মনে হবে অর্থাৎ আপনি যে দলেরই কথা শোনেন আপনার মনে হবে শুধু ওই দলটা সঠিক পথে আছে আর বাকি সবাই জাহান্নামী।
কিন্তু আল্লাহর অশেষ রহমত এরই মাঝে কিছু মধ্যপন্থী আলেম এখনো পর্যন্ত পবিত্র কোরআন এবং হাদিস গ্রন্থ হাতে নিয়ে মানুষকে ঐক্যের জন্য দেখে যাচ্ছেন এবং সকল প্রান্তিকতা পরিহার করে কোরআন এবং হাদিসকে আঁকড়ে ধরার জন্য আহ্বান জানাচ্ছেন।
আলহামদুলিল্লাহ এদের সংখ্যা এখনো মোটামুটি পর্যায়ে ভালো অবস্থায় আছে।
আর অবশ্যই কিছু বুদ্ধিমান লোক তাদের কথা শুনছে কারণ রাসূল সাল্লাল্লাহু সাল্লাম বলছেন মধ্যপন্থা অবলম্বন করার জন্য এবং সকল প্রান্তিকতা পরিহার করার জন্য।

আল্লাহ আমাদের সকলকে পবিত্র কোরান এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম এর সুন্নাহকে সহিহ শুদ্ধ করে জেনে বুঝে আমল করার তৌফিক দান করুন এবং সকল প্রান্তিকতা পরিহার করে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সালাম এর নির্দেশ অনুযায়ী মধ্যপন্থা অবলম্বন করে আমল করার তৌফিক দান করুন।
আল্লাহ এই সমস্ত লোকগুলোকে হেদায়েত দান করুন এবং যদি তারা হেদায়েত প্রাপ্ত না হয় তাহলে তাদেরকে ধ্বংস করুন। আমরা অবশ্যই চাই তারা এক হয়ে এক হয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়ে জাতিকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে এবং তারা জাতিকে বিভ্রান্ত এবং বিভক্ত করবে না।
জাতির এই ক্রান্তিলগ্নে অর্থাৎ চারদিকে ইসলামের শত্রুরা যেখানে তৎপর সেখানে আলেম সমাজ সতধা বিভক্ত।
একদিকে চলছে
👉🏿কাদিয়ানী নামক কা ফে রদের তৎপরতা
👉🏿অপরদিকে চলছে হিজবুত তাওহীদ নামক অপর এক কাফের সংগঠনের কর্মচঞ্চল্যতা।
👉🏿তাছাড়া আছে তাহলে কোরআন নামক অপর এক হাদিস অস্বীকারকারী কা ফে র সম্প্রদায়।
👉🏿 আর ইসলামবিদ্বেষী নাস্তিক মুরতাদ সম্প্রদায় তো সারাক্ষণ সেই পূর্ব থেকেই ইসলামের বিরুদ্ধে তৎপর।
👉🏿 উত্তরবঙ্গে লালমনিরহাট সহ বিভিন্ন দরিদ্র এলাকায় চলছে মুসলিমদের খ্রিস্টান বানানোর মিশন।

যেখানে সকল মুসলিম এবং কোরআন হাদিস অনুসারী গ্রুপগুলো একতাবদ্ধ হয়ে ইসলামের বিরুদ্ধে এই সমস্ত শত্রুদের মোকাবেলা করার কথা ছিল সেখানে তারা বিভিন্ন গ্রুপে এবং শত শত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দলে বিভক্ত হয়ে একদল আরেকদলকে কাফের মোশরেক ইত্যাদি ফতোয়া দিয়ে নিজেরা যেমন ধ্বংসের অতল গহবরে পতিত হচ্ছে তদ্রুপ তাদের অনুসারীদের নিয়ে যাচ্ছে।
রাসূল সাল্লাল্লাহু ওয়া সাল্লাম বলেছেন যে কেয়ামত নিকটবর্তী হলে আলেমগণ জাহান্নামের দরজায় দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে জনগণকে আহবান করবে।
আমরা এখন সেই জিনিস দেখতে পাচ্ছি।
আল্লাহ এই জাতিকে সঠিক বুঝ দান করুন এবং আমাদের সকল প্রকার পথভ্রষ্টতা আর পথভ্রষ্টকারী আলেম সম্প্রদায় থেকে হেফাজত করুন আমীন ইয়া রাব্বাল আলামিন। ইয়া হাইয়ু ইয়া কাইয়ুমু বিরাহমাতিকা আস্তাগফিজ।

মানুষের সাতটি গুণ আল্লাহ অত্যন্ত পছন্দ করেনঃ

♥️💙💜 ঈমানদার বান্দার সাতটি গুণ আল্লাহর নিকট অত্যন্ত প্রিয়। আর এই গুণগুলি অর্জন করা এবং অর্জনের চেষ্টা করা প্রত্যেক ঈমানদারের জন্য খুবই জরুরী।
👉👉যে ৭টি গুণ আল্লাহতায়ালা পছন্দ করেনঃ—

সৎকর্মশীল ও মানুষের কল্যাণে নিবেদিতপ্রাণ মানুষদের আল্লাহতায়ালা পছন্দ করেন। এ ছাড়া মানুষের বিভিন্ন গুণাবলি, চারিত্রিক সৌন্দর্য ও মানবিক আচরণকর্ম রয়েছে, বান্দাদের মধ্যে তিনি সেসব গুণাবলি দেখতে ভালোবাসেন।

আল্লাহ পবিত্র কুরআনে বলেছেন–

♥️💙১. তাওবা (অনুতপ্ত হৃদয় ক্ষমা ভিক্ষা)­ ‘আল্লাহ তাদের ভালোবাসেন, যারা তাঁর দিকেই (অনুতাপ ভরা হৃদয়ে) প্রতিনিয়ত ফিরে আসে। (সূরা আল বাকারাহ্, ২২২)

♥️💜২. তাহারাত (পাক ও পবিত্র থাকা)­ ‘আল্লাহ তাদেরই ভালোবাসেন, যাঁরা নিজেদের পাক-পবিত্র রাখে। (সূরা আল বাকারাহ্, ­২২২)

🟣🔴৩. তাকওয়া (পরহেজ্গার যারা প্রতিনিয়ত আল্লাহকে স্মরণ করে চলে)­ ‘আল্লাহ তাঁদেরই ভালোবাসেন, যাঁরা ইনসাফ-পসন্দ ও সংযমশীল। (সূরা আত্ তাওবা ৯­৪)

🟠🟢৪. ইহসান (আল্লাহকে স্মরণ করে মানুষ বা জীবজগতের প্রতি দয়া ও করুণা)­ ‘আল্লাহ তাঁদেরই ভালোবাসেন, যারা ভালো কাজে নিয়ত থাকে। (সূরা আল ইমরান, ­১৩৪)

💜💙৫. তাওয়াক্কুল (আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস ও নির্ভরতা)­ ‘আল্লাহ তাদেরই ভালোবাসেন, যারা তাঁর ওপর আস্থা রাখে ও নির্ভর করে। (সূরা আল ইমরান, ­১৫৯)

⚫🟠৬. (ক) আদ্ল (ন্যায়বিচার)­ ‘আল্লাহ তাদেরই ভালোবাসেন, যারা সর্বদা ন্যায়বিচার করে।’ (সূরা মায়েদা, ৪২)

(খ) আল্লাহ তাদের ভালোবাসেন, যারা সুবিচারকারী। (সূরা হুজুরাত,­৯)

🤎💜৭. সবর (ধৈর্য্য)­ ‘আল্লাহ তাঁদেরই ভালোবাসেন, যারা দৃঢ়চিত্ত এবং ধৈর্য্যশীল (আস্-সাবিরিন)। (সূরা আল ইমরান ৩­১৪৬)

‘আল্লাহরই উপর আমরা তাওয়াক্কুল করি। হে আমাদের রব! আমাদের ও আমাদের কওমের মধ্যে যথার্থ ফয়সালা করে দিন। আর আপনি শ্রেষ্ঠ ফয়সালাকারী।’ (সূরা আল আরাফ ৭: ৮৯)

কারো খারাপটা না দেখে বরং ভালোটা দেখুনঃ

♥️💜আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ।

🔴🔴আজকাল কোনো খারাপ কাজের সমালোচনা করলে অথবা চোখে আঙ্গুল দিয়ে কোন খারাপ কাজ দেখিয়ে দিলে অনেককেই ফতোয়াবাজি করতে দেখা যায় এবং বলতে শোনা যায় যে, #মানুষেরখারাপটানাদেখেবরংভালোটাদেখুন।
এ সমস্ত ভাইদের কথা শুনে মনে হয় তারা আল্লাহর নিকট থেকে ফরমান নিয়ে এসেছে এই জাতীয় ফতোয়াবাজি করার জন্য।
👉👉🏿অথচ আল্লাহ পবিত্র কুরআনে বহু জায়গায় বলেছেন- “তোমরা এই শ্রেষ্ঠ জাতি আর তোমাদের সৃষ্টি করা হয়েছে এই জন্য যে তোমরা সৎ কাজের আদেশ করবে এবং অসৎ কাজ থেকে মানুষকে বিরত রাখবে”।
এভাবে আল্লাহ পবিত্র কুরআনের পাঁচ স্থানে সৎ কাজের আদেশ এবং অসৎ কাজের নিষেধ করার জন্য সরাসরি আদেশ করেছেন মানুষকে আর বিভিন্ন জায়গায় পরোক্ষভাবে আরো বহুবার মানুষকে অসৎ কাজ না করার জন্য এবং অসৎ কাজ থেকে মানুষকে বিরত রাখার জন্য আদেশ করেছেন।
যেখানে আল্লাহ নিজেই অসৎ কাজগুলো থেকে মানুষকে নিষেধ করেছেন এবং পবিত্র কোরআন দ্বারা অসৎ কাজগুলো বলে বলে চিহ্নিত করে দিয়েছেন সেখানে একজন মানুষ কিভাবে বলতে পারে এবং একজন দ্বীনের দায়ী হিসেবে কিভাবে বলতে পারে যে মানুষের শুধু ভালো দিকটা দেখেন এবং খারাপ দিক দেখবেন না??
অত্যন্ত দুঃখ লাগে এবং কষ্ট করে বলতে হয় যে এই সমস্ত লোকদের জ্ঞানের গভীরতা দেখে আফসোস করা ছাড়া আর কিছুই থাকেনা। বরং তারা যদি চুপ থাকতেন তাহলেই বেশি ভালো হতো কেননা যে বিষয়ে আমার কোন জ্ঞান বা ধারণা নেই সেই বিষয়ে কথা বলা আমার মোটেও উচিত নয় এবং আল্লাহ সরাসরি নিষেধ করেছেন।
আল্লাহ এবং আল্লাহর রাসূলের (সাঃ) উক্তি হলো “যা তোমরা জানো না এবং করো না তা তোমরা অন্যকে বলো না”।
মানুষের খারাপ দিকগুলো না দেখে বরং ভালো দিকগুলো দেখা এবং খারাপ দিক সম্পর্কে নিশ্চুপ নীরব থাকা সরাসরি কুফরি।
এবং হয়তো আপনারা বলতে পারেন আপনি কুফরি ফতোয়া কিভাবে দিচ্ছেন??
সম্মানিত ভাই আমার, আমি কুফুরি ফতোয়া দিচ্ছি না বরং আল্লাহ নিজেই ফতোয়া দিচ্ছেন।
আল্লাহ পবিত্র কুরআনের বিভিন্ন জায়গায় বলেছেন যে যারা আল্লাহর কিতাবকে কাটছাট করে প্রচার করে তারা হলো ঈমানহারা ইহুদীদের মত ‌। এভাবে আল্লাহ বহু জায়গায় প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে আল্লাহর কিতাবকে কাটছাট না করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং ইহুদিদের আর খ্রিস্টানদের অনুসরণ না করার কথা বলেছেন ‌
👉👉 আল্লাহর রাসূল সাঃ অবশ্যই ব্যক্তির খারাপ দিকটা না দেখে শুধু ভালো দিকটি দেখার কথা বলেছেন শুধু এক স্থানে এক জায়গায় একজনের ক্ষেত্রে।
আর তা হল প্রত্যেকের স্ত্রীদের ক্ষেত্রে। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম বলেছেন “তোমাদের কারো স্ত্রীদের ব্যাপারে যদি কোন বিষয়ে খারাপ লাগে অথবা ভুল কিছু দেখতে পাও তাহলে তা না দেখে বরং তার আরো অনেক ভালো দিক আছে তা দেখো”।
আপনি এক জায়গার ফতোয়া অন্য জায়গায় এনে জোড়া তাড়ি দিয়ে আল্লাহর কিতাবকে কাটপাট করার মত কুফরি করার দুঃসাহস দেখাতে পারেন না।

👉🏿👉🏿 যারা বলেন যে শুধুমাত্র ব্যক্তির ভালো দিকগুলো দেখো এবং খারাপ দিক দেখনা আমি তাদেরকে তাদের নিজেদের দিকে দৃষ্টি দিতে বলব।
আপনারা পবিত্র কোরআনের ব্যাপারে এবং আল্লাহর আদেশের ব্যাপারে এমন বে খবর অথচ নিজেরা কি কখনো এমন কাজ করেন??
আপনি সরকারের কোন কাজ অপছন্দ হলে সরাসরি তার প্রতিবাদ করেন এবং সরকার পরিবর্তনের জন্য আন্দোলন করেন। অথচ প্রত্যেক সরকারের অবশ্যই কিছু না কিছু ভালো দিক রয়েছে।
আপনি সরকারের ঐ সকল ভালো দিকগুলো না দেখে, খারাপ দিকগুলো দেখে চিৎকার চেঁচামেচি কেন করছেন এবং রাস্তায় নেমে মিছিল মিটিং করে কেন সরকার পরিবর্তনের আন্দোলন করছেন??
আপনার তো শুধু সরকারের ভালো দিকগুলো দেখার কথা ছিল কারণ আপনি এই ফতোয়ায় বিশ্বাসী 🤔!

আল্লাহ পবিত্র কোরআনে বলেছেন যে আমি মানুষের উপর কোন জুলুম করি না বরং মানুষ নিজেরই নিজেদের উপর জুলুম করে থাকে।
আল্লাহ বিধান দিয়েছেন সৎ কাজের আদেশ করার জন্য এবং অসৎ কাজ থেকে নিজে বিরত থেকে অন্যকে বিরত রাখার জন্য। কিন্তু আপনি ওই কাজটি কঠিন বলে এবং লোকের কথা শুনতে হবে অথবা অন্য কেউ আপনাকে ভালো জানবে না বলে অথবা আপনার কাছে হাদিয়া-তোহফা আসবে না বলে, কিংবা আপনার চাকরি ইমামতি অথবা মুয়াজ্জেন এর চাকরি চলে যাবে বলে আপনি শুধু ভালো দিকগুলো দেখার কথা বলছেন আর খারাপ দিকগুলো সন্তরণে এড়িয়ে যাচ্ছেন!!!
অবশ্য আপনাকে দোষ দিয়ে লাভ নেই বরং আমার দেশের শতকরা ৯৫%থেকে ৯৮% ইমাম মুয়াজ্জিন আল্লাহর কোরআনের আয়াতকে কাটছাট করে এই জাতীয় ফতোয়া দিয়ে তাদের চাকরি
টিকিয়ে রেখেছেন😧😆।

🟥🟪আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু ইসলাম যেখানে বলেছেন স্ত্রীদের খারাপ দিক না দেখে শুধু ভালো দিকগুলো দেখার জন্য সেখানে আপনি স্ত্রীদের একটু পান থেকে চুন খসলেই তাকে ছাড় দেন না অথচ সমাজের বড় বড় খারাপ কাজ হয়ে যাচ্ছে আর সেখানে আপনার একটু সামাজিকভাবে অসুবিধা হবে বলে অথবা চাকরি চলে যাবে বলে আপনি ফরজ কাজ করা থেকে বিরত থাকছেন আর তার খারাপ কাজগুলো না দেখে ভালো কাজগুলো দেখার পরামর্শ দিচ্ছেন😦🤔❗
অথচ আল্লাহর রাসূল সাঃ বলেছেন যে তুমি যদি কোন ব্যক্তিকে খারাপ কাজ করতে দেখো তবে তাকে হাত দিয়ে প্রতিরোধ করো আর যদি তা তোমার পক্ষে সম্ভব না হয় তাহলে তুমি কথা বলে অথবা লিখে তার প্রতিবাদ করো, কিন্তু যদি তাও সম্ভব না হয় তাহলে অন্তর দিয়ে ঘৃণা করতে থাকো আর চিন্তা করতে থাকো কিভাবে এবং কাকে কাকে নিয়ে এই কাজ প্রতিরোধ করা যায়।
আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু ওয়া সাল্লাম অন্য একটি হাদিসে এটাও বলেছেন যে খারাপ কাজগুলো দেখে ন্যূনতম পক্ষে কার যদি রাগে গোসসায় ভ্রু কুঞ্চিত না হয় তাহলে ওই ব্যক্তির মৃত্যু হবে মুনাফিকের মৃত্যু।

⚫⚫অথচ আপনি দিব্যি ব্যক্তির খারাপ কাজ গুলো না দেখে ভালো কাজগুলো দেখার পরামর্শ এবং ফতোয়া দিয়ে বেড়াচ্ছেন। লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ।
যারা প্রকাশ্য কবিরা গুনায় লিপ্ত আছে তাদের প্রতিবাদ করতে হবে প্রকাশ্যে। উপস্থিতিতে এবং অনুপস্থিতিতে।
এবং এটি হলো জায়েজ গীবতগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি।
🟠🟢উল্লেখ্য যে সকল প্রকার গীবত হারাম নয় বরং ছয় প্রকারের গীবত বলা ফরজ এবং সাত প্রকারের গীবত বলা জায়েজ। আর এই ফরজ এবং জায়েজ গীবত গুলো আমাদের পবিত্র কোরআন এবং হাদিস অধ্যয়ন করে সঠিক জেনে নিয়ে সঠিক পন্থা অবলম্বন করে করতে হবে এবং খুব সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে কারণ গীবত একটি ভয়ানক জিনিস।
হারাম গীবতগুলোর অন্যতম হলো অহেতুক কাউকে ছোট করার জন্য কিংবা খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে কারো ব্যক্তিগত ভুলগুলি বের করে সমাজের মধ্যে বলে বেড়ানো।
কিন্তু যারা প্রকাশ্য কবিরা গুনাহে লিপ্ত আছে এবং ইসলাম ধ্বংসের কাজে নিয়োজিত আছে তাদের কে সামনাসামনি বলতে হবে এবং তা যদি বিরত না হয় তবে অপ্রকাশ্যে বলতে হবে এবং তাদের জন্য দরকার পড়লে সম্মিলিতভাবে আন্দোলন করে তা প্রতিহত করতে হবে।
রাসূল সাল্লাল্লাহু ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “”অত্যাচারী এবং জালিমের বিরুদ্ধে সত্য কথা বলাই হলো সবচেয়ে বড় জে হা দ ‌””!
অন্য একটি হাদিসে রাসূল সাল্লাল্লাহু ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “অত্যাচারী শাসকের বিরুদ্ধে সত্য কথা বলা হলো বড় জি হা দ” ।
👉🏿👉🏿মানুষ অত্যাচার করছে অন্য মানুষের উপর, মানুষ অত্যাচার করছে ইসলামের উপর, মানুষ অত্যাচার করছে ইসলামী আইন এবং বিধানের উপর, অথচ আপনি নীরব থেকে বলে যাচ্ছেন যে “মানুষের ভালো দিকগুলো দেখো এবং খারাপ দিকগুলো সম্পর্কে নিশ্চুপ থাকো” 🤓❗
আপনার এই জাতীয় কাজের প্রশংসা করতে হয় বটে!

আপনার ছেলে বা ভাইকে কেউ অত্যাচার করলে আপনি কি চুপ থাকেন এবং সেই অত্যাচারীর ভালো দিকগুলো দেখে তার এই অত্যাচারের জন্য নীরব থাকেন??
কেউ আপনার সম্পদ এবং অধিকার ছিনিয়ে নিলে আপনি কি নীরব থাকেন এটা ভেবে যে এই সিনিয়র নেওয়া ব্যক্তিটির তো অনেক ভালো দিক আছে ❗
অবশ্যই থাকেন না এবং গ্রাম শুদ্ধ লোক নিয়ে আপনি তার প্রতিবাদ করতে চেষ্টা করেন এবং করে যান আর কোন কিছুই যদি না পারেন তাহলে শুধু অভিশাপ দিতে থাকেন।
অথচ আল্লাহর বিধানের উপর কেউ যখন নির্লজ্জভাবে পরিবর্তন করার চেষ্টা করে, এবং উল্টাপাল্টা ফতোয়া দিয়ে ইসলামকে ধ্বংস করে এবং বিভিন্ন ইসলাম বিরোধী কাজ করে ইসলামকে কলুষিত করে এবং ইসলামের বিধানগুলোকে বিকৃত করে তখন আপনি ফতোয়া দিয়ে বলেন যে, #লোকেরভালোদিকগুলোদেখো। 👉👉 এখানে আমি বলতে বাধ্য হচ্ছি যে আমার দেশের একটি দাওয়াতী দল যারা দলবদ্ধভাবে মানুষকে দিনের পথে ডাকার দাবি করে থাকেন এবং নিজ এলাকা ছেড়ে দিয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে মানুষকে দ্বীনের দাওয়াত দিতে থাকেন তাদের সূত্র হলো “মানুষের খারাপ দিক না দেখে ভালো দিক দেখো” 😆। তারা নিজের এলাকা ছেড়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ে মানুষকে দাওয়াত দেওয়ার জন্য। অথচ তার এলাকায় জঘন্য সব শিরক-বেদআত এবং কুফরী কর্ম হচ্ছে এমনকি নিজের পরিবার আত্মীয়-স্বজন অনেকেই নামাজ না পড়া, হারাম খাওয়া, বেপর্দায় থাকা সহ বহুবিধ কবিরা গুনায় জড়িত। অথচ তিনি এই মহান বাণী- “”মানুষের খারাপ দিক না দেখে শুধু ভালো দিকটা দেখো”” এর অনুসরণ করে মসজিদে মসজিদে ঘুরে বেড়াচ্ছেন, ঘুমিয়ে সময় কাটাচ্ছেন, আর জান্নাতের #হুরপরী নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে যৌন সঙ্গম করার স্বপ্নে বিভোর হচ্ছেন।
অথচ তার ঘরে একা একা ঘুমিয়ে সময় পার করছে তার জন্য নির্ধারিত হুর (তার স্ত্রী) যা আল্লাহ তাকে দুনিয়াতে দান করেছেন এবং ইনশাল্লাহ আখেরাতেও দান করতে পারেন। তারা বাস্তব হুরকে বাদ দিয়ে এবং এই জলজ্যান্ত হুরকে সাথে করে জান্নাতে নিয়ে যাওয়ার চিন্তা বাদ দিয়ে আল্লাহ হুর দিবেন সেই স্বপ্নে বিভোর হয়ে হুরের লোভে মসজিদে মসজিদে ঘুরে বেড়াচ্ছেন সৎ কাজের আদেশ এবং অসৎ কাজের নিষেধ বাদ দিয়ে। অথচ ঘরে রেখে যাওয়া বাস্তব হুর অর্থাৎ তার স্ত্রী হলেন সৃষ্টির সেরা মানুষ।
কিন্তু আল্লাহ হুরকে সৃষ্টির সেরা বলেননি। ভোর হলো মুমিন বান্দার জন্য অতিরিক্ত উপহার।
আর যে #হুর’কে আপনি ঘরে রেখে গেলেন সে আপনার বিরহে একা একা সময় পার করছে, একা একা ঘুমিয়ে কাটাচ্ছে, আর সময় পার করার জন্য পাড়া-প্রতিবেশীর সাথে ফালতু গল্পগুজব আর গীবত করে বেড়াচ্ছেন বাকি সময় টেলিভিশনে ইন্ডিয়ান সিরিয়াল দেখছেন।
সম্মানিত ভাই সকল, কিছু সত্য এবং বাস্তব কথা বললাম যা বলার তৌফিক আল্লাহ আমাকে দিয়েছেন।
যদি এখানে কিছু ভুল ত্রুটি হয়ে থাকে তা সম্পূর্ণ আমার ভুল এবং তা আমার উপর বর্তাবে এবং আমি তার জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। আর এখানে আমি যা শুদ্ধ বলেছি (এবং আমি আশা করি সবগুলো কথা আমি শুদ্ধ বলেছি এবং কোরআন হাদিস থেকে বলেছি) তার সম্পূর্ণ কৃতিত্ব আল্লাহ সুবহানুতায়ালার, কারণ আল্লার সাহায্য ছাড়া কেউ সৎ কাজ করতে এবং অসৎ কাজ থেকে বিরত থাকতে পারে না।
আল্লাহ আমাদের সৎ কাজ করার এবং অসৎ কাজ থেকে বিরত থাকার তৌফিক দান করুন।
আমিন ইয়া রব্বানা আলামিন।
ইয়া হাইয়্যু ইয়া কাইয়ুমু বিরাহমাতিকা আস্তাগিস।

দাড়ি রাখার বিধান এবং বর্তমান প্রেক্ষাপটঃ


💜💙 বিখ্যাত হাদিস শাস্ত্র বিশারদ এবং মুসলিম শরীফের ব্যাখ্যাকারী ইমাম নববী , ইমাম রাফি , ইমাম কাজী ইয়াজ এমনকি বর্তমান যুগের আল্লামা ইউসুফ কারজাভী সহ বেশিরভাগ অর্থাৎ 90 ভাগেরও বেশি আরব আলেমদের মতে দাড়ি রাখা #সুন্নতে_মুআক্কাদা। ওয়াজিব নয়।
আর এই মত অনুসরণ করেই দেখা যায় যে আর ব দেশের শতকরা ৯৮ থেকে ৯৮% লোক দাড়ি রাখে না। অথবা যারা রাখে তারা খুবই ছোট করে রাখেন।
ইরাক ইরান মিশর সহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের এমনকি হানাফী মাযহাবের আলেম ও অনুসারীগণ ও দাড়ি রাখেন না এবং ওই সমস্ত দেশে মাত্র এক থেকে দুই পার্সেন্ট লোকে দাড়ি রাখে বাকি ৯৮ থেকে 99 শতাংশ লোক দাড়ি রাখেন না।
অনেক আরব আলেমদের মতামত হলো দাড়ি দূর থেকে দেখা যায় এতোটুকু লম্বা রাখলেই যথেষ্ট অর্থাৎ এক ইঞ্চি বা এক সেন্টিমিটার পরিমাণ রাখলেই হবে। এবং তাতেই সুন্নত আদায় হয়ে যাবে ।
আরব আলেমদের মতে সুন্নত তরফ করলে গুনাহ হয় না বরং নেকি থেকে বঞ্চিত হয় তাই তারা দাড়ি রাখা কে সুন্নত এবং দাড়ি না রাখাকে গুনাহের কাজ মনে করে না। এবং তারা এটা বলে যে দাড়ি রাখলে অবশ্যই সওয়াব হবে কিন্তু দাড়ি না রাখলে গুনাহ হবে না।

� বিখ্যাত হাদিস শাস্ত্র বিশারদ এবং মুসলিম শরীফের ব্যাখ্যাকারী ইমাম নববী , ইমাম রাফি , ইমাম কাজী ইয়াজ এমনকি বর্তমান যুগের আল্লামা ইউসুফ কারজাভী সহ বেশিরভাগ অর্থাৎ 90 ভাগেরও বেশি আরব আলেমদের মতে দাড়ি রাখা #সুন্নতে_মুআক্কাদা। ওয়াজিব নয়।
আর এই মত অনুসরণ করেই দেখা যায় যে আর ব দেশের শতকরা ৯৮ থেকে ৯৮% লোক দাড়ি রাখে না। অথবা যারা রাখে তারা খুবই ছোট করে রাখেন।
ইরাক ইরান মিশর সহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের এমনকি হানাফী মাযহাবের আলেম ও অনুসারীগণ ও দাড়ি রাখেন না এবং ওই সমস্ত দেশে মাত্র এক থেকে দুই পার্সেন্ট লোকে দাড়ি রাখে বাকি ৯৮ থেকে 99 শতাংশ লোক দাড়ি রাখেন না।
অনেক আরব আলেমদের মতামত হলো দাড়ি দূর থেকে দেখা যায় এতোটুকু লম্বা রাখলেই যথেষ্ট অর্থাৎ এক ইঞ্চি বা এক সেন্টিমিটার পরিমাণ রাখলেই হবে। এবং তাতেই সুন্নত আদায় হয়ে যাবে ।
আরব আলেমদের মতে সুন্নত তরফ করলে গুনাহ হয় না বরং নেকি থেকে বঞ্চিত হয় তাই তারা দাড়ি রাখা কে সুন্নত এবং দাড়ি না রাখাকে গুনাহের কাজ মনে করে না। এবং তারা এটা বলে যে দাড়ি রাখলে অবশ্যই সওয়াব হবে কিন্তু দাড়ি না রাখলে গুনাহ হবে না।

♥️💜 দাড়ি রাখার বিষয়ে ভারতীয় উপমহাদেশের হানাফী সহ সকল আলেমদের মতামত হল দাড়ি রাখা ওয়াজিব এবং কমপক্ষে এক মুষ্টি দাড়ি রাখতে হবে। ভারতীয় উপমহাদেশের বেশিরভাগ আলেমদের মতে দাঁড়ি এক মুষ্টির নিচে রাখলে ওয়াজিব আদায় হবে না এমন সুন্নত ও আদায় হবে না।

💙♥️দাড়ি বিষয়ে ভারতীয় উপমহাদেশের অন্যতম রাজনৈতিক ইসলামী সংগঠন জামায়াতে ইসলামীর সাংগঠনিক মতামত হলো– দাড়ি রাখা ওয়াজিব। ওয়াজিব তরক করা কবীরা গোনাহ।
এবং দাড়ি রাখার ব্যাপারে এই সংগঠন তাদের নেতাকর্মী শুভাকাঙ্ক্ষী এবং জনগণকে উদ্বুদ্ধ করে থাকেন।
💜💙দাড়ি বিষয়ে আমি আরবের বেশিরভাগ আলেম এবং আল্লামা ইউসুফ কারজাভী রহঃ এর মতামতকে সমর্থন করি। এটি আমার জ্ঞানগত অধিকার। যেহেতু দাড়ি রাখার ব্যাপারে সরাসরি কোরআনে নির্দেশ জারি করা হয়নি। তবে আমাদের রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম কে প্রত্যেক বিষয়ে অনুসরণ করার চেষ্টা করা উচিত।
আপনি অবশ্যই দ্বিমত পোষণ করতে পারেন এবং আমি আপনার মতকে সম্মান করি।
তবে আমি ইসলামকে সহজভাবে উপস্থাপন করাকে পছন্দ করি। আমি নিজে দাড়ি রাখি আলহামদুলিল্লাহ এবং প্রত্যেক মুসলিম দাড়ি রাখুক এটা আমি পছন্দ করি। বিভিন্ন হেকমত বা কৌশল অবলম্বন করে কিংবা অন্য কোন কারণে যারা দাড়ি রাখা থেকে বিরত রয়েছেন আমি আশা করি এবং দোয়া করি তারা যেন এই সমস্যা শেষ হয়ে যাওয়ার সাথে সাথে দাড়ি রাখা শুরু করে দেন। বা কৌশল অবলম্বন এর প্রয়োজন শেষ হলেই যেন দাড়ি রাখা শুরু করেন। কেননা দাড়ি ওয়াজিব হওয়ার ব্যাপারে আলেমদের সত্য মতামত রয়েছে যদিও কোরআনের নির্দেশ নেই।
অবশ্য আমার দেশের একশ্রেণীর অতি উৎসাহী এবং অতি কথা বলা আলেম তাদের অভ্যাস হল যারা একটু অগ্রসরমান আছে তাদেরকে ফতোয়ায়ে জর্জরিত করা আর যারা একেবারে পিছিয়ে পড়ে আছে তাদেরকে হুজুর করা।
😭😭উদাহরণ দিতে গিয়ে বলতে হয়, গ্রামের বা এলাকার যে ছেলেটি ছোট ছোট দাড়ি রেখেছে আপনি বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখবেন এলাকার দাড়িওয়ালা হুজুর কিংবা মসজিদের ইমাম সাহেব বা মতয়াল্লী ওই ছেলের ব্যাপারে মন্তব্য করে যাচ্ছে এবং সুযোগ পেলেই তাকে নসিহত করছে দাড়ি লম্বা রাখার জন্য এবং ছোট দাড়ি রাখা ঠিক নয় ইত্যাদি ফতোয়াবাজি।
🥹পক্ষান্তরে যে লোকটি মোটেও দাড়ি রাখে না এবং দেখা গেছে কি ওই লোকটি মসজিদ কমিটির সভাপতি কিংবা সেক্রেটারি অথবা এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি অথচ তিনি দাড়ি রাখেন না। আর ওই দাড়ি না রাখার জন্য ক্ষমতাধর লোকটির ব্যাপারে কিছুই বলেন না। ফতোয়াবাজি করতে আসেন যে ছোট ছোট দাড়ি রেখেছে অথবা শখ করে দাঁড়িয়ে রেখেছে তাদের সাথে।
🤔🤔অবশ্য আমার দেশের লোকের স্বভাব এমনই।
যারা নামাজ পড়ে তাদের পেছনে লেগে থাকবে অথবা ফতোয়াবাজি করবে যে, তোমার নামাজ হয় না, এভাবে নামাজ পড়লে হবে না। রউফুল ইয়াদাইন করতে হবে। আরেক দল বলবে যে, রউফুল ইয়াদাই না করলে নামাজ হবেই না। ইত্যাদি ফতোয়াবাজি বিভিন্ন দিক থেকে শুধুমাত্র নামাজীর উপর বর্ষিত হতে থাকে মুষলধারে।

আমাদের সমাজে আরো এক প্রকার লোক আছে যারা ইসলামের বিধিবিধান সম্পর্কে হাস্য তামাশা করে ইসলামের বিধানগুলোকে তামাশার বস্তুতে পরিণত করে। এটা এক প্রকার কুফরি।
দাড়ি রাখতে বললে যারা ইসলামের #সুন্নাত কিংবা #ওয়াজিব বিধান দাড়িকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দাড়ির সাথে তুলনা করে বা শিখ’দের দাড়ির সাথে তুলনা করে তারা ইসলাম সম্পর্কে সর্বোচ্চ পর্যায়ের মূর্খ যাদেরকে আরবিতে বলা হয় আজাহিলে মুআক্কদুন।
একবার ইরানের অর্থাৎ পারস্য দেশে একজন সাহাবী পারস্যের রাজ দরবারে উপস্থিত হওয়ার পর রাজ দরবারের লোকেরা তাকে দাড়ি কেটে ফেলার জন্য অনুরোধ করব। সাহাবী তখন মন্তব্য করলেন- ” আমি কি এই মূর্খদের জন্য আমার রাসুলের সুন্নাতকে ছেড়ে দিবো “।
এই হাদিস দ্বারা প্রমাণিত হয় যে দাড়ি রাখাটা হল সুন্নত কারণ তিনি সেখানে মন্তব্য করতে গিয়ে #রাসূলের_সুন্নত কথাটি উল্লেখ করেছেন।
অবশেষে বলা যায় যে, দাড়ি রাখা অবশ্যই একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত। এবং প্রত্যেক মুসলিমের উচিত গুরুত্বপূর্ণ হোক কিংবা ছোটখাটো হোক যতটুকু সম্ভব সুন্নতের ইত্তেবা করা।
কারণ যে যত বেশি সুন্নতের ইত্তেবা করবে কেয়ামতের দিন বা হাশরে সে ততো বেশি রাসূল সাল্লাল্লাহু সালামের নিকটবর্তী থাকবেন।
তবে এটা উচিত নয় যে দাড়ি নিয়ে ফতোয়াবাজি করে বিভেদ সৃষ্টি করা এবং কাউকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা কিংবা কাফের পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়া। কারণ কে জাহান্নামি আর কে কাফের তা আল্লাহ সুবাহানাতালা খুব ভালো করে জানেন।

যারা ছোট ছোট দাড়ি রাখে তাদের বিরুদ্ধে ফতোয়াবাজি না করে উচিত তাদেরকে উৎসাহ প্রদান করা এবং যতোটুকু রেখেছে তাতে খুশি হওয়া এবং এভাবে বলা যে ভবিষ্যতে ইনশাল্লাহ আরো বড় হবে। এবং এই জাতীয় মন্তব্যে আশা করি কোন প্রকার আশাহত কিংবা মানুষের মনের মধ্যে বিদ্বেষ সৃষ্টি হবে না। দ্বীন ইসলামকে কঠিনভাবে উপস্থাপন করা মোটেও ঠিক না বিশেষ করে যে সকল বিষয়ে পবিত্র কুরআনে সরাসরি নির্দেশ নেই ওই সমস্ত বিষয়গুলি নিয়ে বেশি বাড়াবাড়ি করা মোটেও উচিত নয়।
দাড়ি রাখার ব্যাপারে অত্যন্ত মধ্যপন্থা অবলম্বন করা উচিত যাতে করে দাড়িগুলো মেনটেনেন্স করা অর্থাৎ রক্ষণাবেক্ষণ করা সহজ হয় এবং দেখতে সুন্দর দেখা যায়। দাড়িকে সবসময় সুন্দর করে ডেকোরেশন করে চিরুনি করে রাখা উচিত। অনেকেই দাড়িকে উস্কো এবং জঙ্গলের মত করে রাখেন তাতে ওই লোকের সৌন্দর্য হানির পাশাপাশি ইসলামের সৌন্দর্য বিনষ্ট হয়। কারণ দাড়ি রাখা একটি ইসলামের চিহ্ন ও বটে।
অনেকেই আছে বহু লম্বা দাড়ি রাখেন এবং দেখা যায় তারা প্রস্রাব পায়খানা করতে গেলে প্রস্রাবের ছিটা দাড়ির মধ্যে চলে আসে এবং এত লম্বা রাখে যে দাড়ি টয়লেটের কমোড পর্যন্ত পৌঁছে যায়।
এই জাতীয় দাড়ি রাখা অত্যন্ত গর্হিত এবং সুন্নত বিরোধী। কেননা কতটুকু দাড়ি রাখা সুন্নত তা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম রেখে দেখিয়ে দিয়ে গেছেন।
রাসূল সাল্লাল্লাহু ওয়া সাল্লাম এর দাড়ি ছিল সর্বোচ্চ সিনা মোবারক পর্যন্ত অর্থাৎ বুকের নিচে রাসূল সাল্লাল্লাহু সালামের দাড়ি নামেনি।
অতি লম্বা দাড়ি রাখতে গেলে তা রক্ষণাবেক্ষণ করা যেমন অসুবিধা তদ্রূপ কাজকর্ম, যুদ্ধ, যে হা দ ইত্যাদি করতে গেলেও ব্যাপক সমস্যার সৃষ্টি হয়। ফলে দাড়ি সুবিধার চেয়ে সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
যারা লম্বা অর্থাৎ অতি লম্বা দাড়ি রাখেন তারা নিজেদের পক্ষে সাফাই গাইতে গিয়ে বুখারী শরীফের ওই হাদিস বলেন যে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম বলেছেন দাড়ি লম্বা করো এবং মোছ খাটো করো।
এবং তারা এটাও বলে যে এখানে দাড়ি কতটুকু লম্বা রাখতে হবে বলা হয়নি বরং বলছে দাড়ি ছেড়ে দাও তাই আমরা দাড়ি ছেড়ে দিয়েছি।
এই সমস্ত ভদ্রলোককে যদি আপনি তার চুলগুলো ছোট ছোট দেখে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সালাম এর হাদিস বর্ণনা করে বলেন যে তিনি তো সবসময় কাজ পর্যন্ত লম্বা চুল রেখেছেন আপনি রাখেন না কেন?
তখনই একটা সমস্যার সৃষ্টি হয়ে যাবে।
হয়তো তোর কাপড় কি বাড়াবাড়ি কিংবা শেষ পর্যন্ত আপনাকে কাফের কিংবা ইহুদি বানিয়ে দিতে পারে।
তাই এই জাতীয় ছোটখাটো ব্যাপারে বাড়াবাড়ির পর্যায়ে না গিয়ে সুন্দর এবং সাবলীল ভাষায় মানুষের সাথে কথা বলা উচিত এবং যেকোনো কাজকে অর্থাৎ বিশেষ করে দ্বীনের কাজকে মানুষের সামনে কঠিন ভাবে উপস্থাপন করা দ্বীন ইসলামের জন্য ক্ষতিকর।
আল্লাহ আমাদের বুঝার তৌফিক দান করুন এবং যতটুকু সম্ভব ততটুকুই এবং সর্বোচ্চ পর্যায়ের চেষ্টা করা উচিত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সালাম এর সুন্নতের ইত্তেবা করা।
ওমা তৌফিকি ইল্লাবিল্লাহ।
ইবনে মোশারফ

মানুষের যে ৭টি গুণ আল্লাহ পছন্দ করেন

♥️💙💜 ঈমানদার বান্দার সাতটি গুণ আল্লাহর নিকট অত্যন্ত প্রিয়। আর এই গুণগুলি অর্জন করা এবং অর্জনের চেষ্টা করা প্রত্যেক ঈমানদারের জন্য খুবই জরুরী।
👉👉যে ৭টি গুণ আল্লাহতায়ালা পছন্দ করেনঃ—

সৎকর্মশীল ও মানুষের কল্যাণে নিবেদিতপ্রাণ মানুষদের আল্লাহতায়ালা পছন্দ করেন। এ ছাড়া মানুষের বিভিন্ন গুণাবলি, চারিত্রিক সৌন্দর্য ও মানবিক আচরণকর্ম রয়েছে, বান্দাদের মধ্যে তিনি সেসব গুণাবলি দেখতে ভালোবাসেন।

আল্লাহ পবিত্র কুরআনে বলেছেন–

♥️💙১. তাওবা (অনুতপ্ত হৃদয় ক্ষমা ভিক্ষা)­ ‘আল্লাহ তাদের ভালোবাসেন, যারা তাঁর দিকেই (অনুতাপ ভরা হৃদয়ে) প্রতিনিয়ত ফিরে আসে। (সূরা আল বাকারাহ্, ২২২)

♥️💜২. তাহারাত (পাক ও পবিত্র থাকা)­ ‘আল্লাহ তাদেরই ভালোবাসেন, যাঁরা নিজেদের পাক-পবিত্র রাখে। (সূরা আল বাকারাহ্, ­২২২)

🟣🔴৩. তাকওয়া (পরহেজ্গার যারা প্রতিনিয়ত আল্লাহকে স্মরণ করে চলে)­ ‘আল্লাহ তাঁদেরই ভালোবাসেন, যাঁরা ইনসাফ-পসন্দ ও সংযমশীল। (সূরা আত্ তাওবা ৯­৪)

🟠🟢৪. ইহসান (আল্লাহকে স্মরণ করে মানুষ বা জীবজগতের প্রতি দয়া ও করুণা)­ ‘আল্লাহ তাঁদেরই ভালোবাসেন, যারা ভালো কাজে নিয়ত থাকে। (সূরা আল ইমরান, ­১৩৪)

💜💙৫. তাওয়াক্কুল (আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস ও নির্ভরতা)­ ‘আল্লাহ তাদেরই ভালোবাসেন, যারা তাঁর ওপর আস্থা রাখে ও নির্ভর করে। (সূরা আল ইমরান, ­১৫৯)

⚫🟠৬. (ক) আদ্ল (ন্যায়বিচার)­ ‘আল্লাহ তাদেরই ভালোবাসেন, যারা সর্বদা ন্যায়বিচার করে।’ (সূরা মায়েদা, ৪২)

(খ) আল্লাহ তাদের ভালোবাসেন, যারা সুবিচারকারী। (সূরা হুজুরাত,­৯)

🤎💜৭. সবর (ধৈর্য্য)­ ‘আল্লাহ তাঁদেরই ভালোবাসেন, যারা দৃঢ়চিত্ত এবং ধৈর্য্যশীল (আস্-সাবিরিন)। (সূরা আল ইমরান ৩­১৪৬)

‘আল্লাহরই উপর আমরা তাওয়াক্কুল করি। হে আমাদের রব! আমাদের ও আমাদের কওমের মধ্যে যথার্থ ফয়সালা করে দিন। আর আপনি শ্রেষ্ঠ ফয়সালাকারী।’ (সূরা আল আরাফ ৭: ৮৯)

মার্সিডিস বেঞ্জ। যে নাম উদ্ভাবক বাবাকে অতিক্রম করে গেছে।

♥️💜বাবার নাম BENZ এবং কন্যার নাম MERCEDES. কন্যা আর বাবার নাম মিলে হয়েছে Mercedes Benz. একটি নাম, একটি প্রোডাক্ট, একটি ইতিহাস।
এই মহিলাকে কেউই মূলত চেনেননা? মানুষ ওনাকে চেনার মত কোন কাজ করেননি কিংবা কোন অবদানও রাখেননি কোন ক্ষেত্রে। তারপরও আমরা প্রায়ই উনার নাম শুনি। এমনকি বাংলাদেশের কিছু গানের মধ্যে পর্যন্ত এই মহিলার নাম চলে এসেছে।
যেমন ৯০ দশকের বিখ্যাত ব্যান্ড সংগীত #ডিফারেন্টটাচ এর একটি প্রতিবাদী গানে এসেছে– “বঙ্গভবন যাইতে নেতা মার্সিডিস চালায়”! এই এই সৌভাগ্যবতী ভদ্রমহিলার পরিশ্রমী বাবা কার্ল ১৮৮৬ সালে #কম্বাসটনইন্জিন উদ্ভাবন করেন।
এরও তিন বছর পর মার্সিডিস জন্ম গ্রহণ করেন।
অতঃপর ডিমলারের সাথে পৃথিবীর অন্যতম পরিচিত গাড়ী বানানো শুরু হয়।

মার্সিডিস বেঞ্জ এর একটি বিলাসবহুল গাড়ি।

উনার বাবা #কার্ল_বেন্জ। যিনি গাড়ীর নাম রাখেন তার কন্যার নামে। এই হলেন সেই কন্যা #মারসেডিজ। কিছু না করেও সবার পরিচিত এক নাম।

♥️♥️মূলত প্রত্যেক বাবাই তার কন্যা বা সন্তানদের জন্য এবং তাদের ঊর্ধ্বে তুলে রাখার জন্য সারাটা জীবন চেষ্টা তদবির করে যান কিন্তু কয়জন সন্তান তার বাবা-মাকে ঊর্ধ্বে তোলার জন্য চেষ্টা করেন ⁉️
ইবনে মোশারফ

আল্লাহ আসমান এবং জমিন ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন।

🌐🌐ভূমন্ডল এবং নভোমন্ডল তথা সকল আসমান এবং জমিন সমূহ কে আল্লাহ পাক ৬ দিনে সৃষ্টি করেছেন।
এই বিষয়টি কুরআনে আল্লাহ ৭ বার বলেছেন।
১//সূরা আল আরাফ-৫৪,
২//সূরা ইউনুস-৩,
৩//সূরা হুদ-৭,
৪//সূরা আল ফুরকান-৫৯,
৫//সাজদাহ-৪,
৬//ক্বাফ-৩৮ এবং
৭//হাদিদ-৪,
পবিত্র কোরআনে মোট এই ৭টি স্থানে ৬ দিনে পৃথিবী সৃষ্টির কথা বলা হয়েছে।

👉👉”নিশ্চয় তোমাদের প্রতিপালক আল্লাহ। তিনি নভোমণ্ডল ও ভূমণ্ডলকে ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর আরশের ওপর অধিষ্ঠিত হয়েছেন। তিনি পরিয়ে দেন রাতের উপর দিনকে এমতাবস্থায় যে, দিন দৌড়ে রাতের পেছনে আসে। তিনি সৃষ্টি করেছেন সূর্য, চন্দ্র ও নক্ষত্র দৌড় স্বীয় আদেশের অনুগামী। শুনে রেখো, তাঁরই কাজ সৃষ্টি করা এবং আদেশ দান করা। আল্লাহ, বরকতময় যিনি বিশ্বজগতের প্রতিপালক
(সূরা আরাফ-৫৪)।

👉👉”নিশ্চয়ই তোমাদের পালনকর্তা আল্লাহ যিনি তৈরি করেছেন আসমান ও জমিনকে ছয় দিনে, অতঃপর তিনি আরশের ওপর অধিষ্ঠিত হয়েছেন। তিনি কার্য পরিচালনা করেন। কেউ সুপারিশ করতে পারবে না তবে তাঁর অনুমতি ছাড়া ইনিই আল্লাহ তোমাদের পালনকর্তা। অতএব, তোমরা তাঁরই ইবাদত করো। তোমরা কি কিছুই চিন্তা করো না’
(সূরা ইউনুস-৩)

👉👉”তিনিই আসমান ও জমিন ছয় দিনে তৈরি করেছেন, তাঁর আরশ ছিল পানির উপরে, তিনি তোমাদের পরীক্ষা করতে চান যে, তোমাদের মধ্যে কে সবচেয়ে ভালো কাজ করে। আর যদি আপনি তাদেরকে বলেন যে, ‘নিশ্চয় তোমাদেরকে মৃত্যুর পরে জীবিত উঠানো হবে, তখন কাফেররা অবশ্য বলে, এটা তো স্পষ্ট জাদু’
(সূরা হুদ-৭)!

👉👉”তিনি নভোমণ্ডল, ভূমণ্ডল ও এতদুভয়ের অন্তর্বর্তী সবকিছু ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর আরশে সমাসীন হয়েছেন। তিনি পরম দয়াময়। তাঁর সম্পর্কে যিনি অবগত, তাকে জিজ্ঞেস করো’
(সূরা ফুরকান-৫৯)।

👉👉”আল্লাহ যিনি নভোমণ্ডল, ভূমণ্ডল ও এতদুভয়ের মধ্যবর্তী সব কিছু ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তিনি আরশে বিরাজমান হয়েছেন। তিনি ছাড়া তোমাদের কোনো অভিভাবক ও সুপারিশকারী নেই। এর পরও কি তোমরা বুঝবে না’ (সূরা সাজদা-৪)?

👉👉”আমি নভোমণ্ডল, ভূমণ্ডল ও এতদুভয়ের মধ্যবর্তী সব কিছু ছয় দিনে সৃষ্টি করেছি এবং আমাকে কোনোরূপ ক্লান্তি স্পর্শ করে না’।
(সূরা ক্বাফ-৩৮)।

👉👉”তিনি নভোমণ্ডল ও ভূমণ্ডল সৃষ্টি করেছেন ছয় দিনে, অতঃপর আরশের ওপর সমাসীন হয়েছেন। তিনি জানেন যা ভূমিতে প্রবেশ করে ও যা ভূমি থেকে নির্গত হয় এবং যা আকাশ থেকে বর্ষিত হয় ও যা আকাশে উত্থিত হয়। তিনি তোমাদের সাথে আছেন তোমরা যেখানেই থাকো। তোমরা যা করো, আল্লাহ তা দেখেন”
(সূরা হাদিদ-৪)।

🟪🟥সূরা ফুসসিলাতের এই চারটি (৯-১২) আয়াতের দিন সংখ্যা নিয়ে অনেকে সংশয়ে পড়েন। মূলত এখানে শেষ দুই প্রথম দুইয়ের ভেতর ধরলে সমস্যা থাকে না এবং এটিই সঠিক ব্যাখ্যা।
👉👉বলুন, তোমরা কি সে সত্তাকে অস্বীকার করো যিনি পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন #দুইদিনে এবং তোমরা কি তাঁর সমকক্ষ স্থীর করো? তিনি তো সমগ্র বিশ্বের পালনকর্তা। তিনি পৃথিবীতে উপরিভাগে অটল পর্বতমালা স্থাপন করেছেন, তাতে কল্যাণ নিহিত রেখেছেন এবং চার দিনের মধ্যে তাতে তার খাদ্যের ব্যবস্থা করেছেন- পূর্ণ হলো জিজ্ঞাসুদের জন্য। অতঃপর তিনি আকাশের দিকে মনোযোগ দিলেন যা ছিল ধূম্রকুঞ্জ, অতঃপর তিনি তাকে ও পৃথিবীকে বললেন, তোমরা উভয়ে আসো ইচ্ছায় অথবা অনিচ্ছায়। তারা বলল, আমরা স্বেচ্ছায় আসলাম। অতঃপর তিনি আকাশমণ্ডলীকে দুই দিনে সপ্ত আকাশ করে দিলেন এবং প্রত্যেক আকাশে তার আদেশ প্রেরণ করলেন। আমি নিকটবর্তী আকাশকে প্রদীপমালা দ্বারা সুশোভিত ও সংরক্ষিত করেছি। এটি পরাক্রমশালী সর্বজ্ঞ আল্লাহর ব্যবস্থাপনা।’

🟠⚫এটি অনস্বীকার্য যে, কোনো কিছু সৃষ্টির জন্য আল্লাহ পাকের ছয় দিন কেন এক লহমার সময় নেয়ারও প্রয়োজন নেই। তিনি না সময়ের মুহতাজ না পরিকল্পনার মুখাপেক্ষী। তার স্বভাব হলো, তিনি বলেন তো সাথে সাথে হয়ে যায়। অনেক মুফাসসির বলেছেন- তিনি ‘কুন’ শব্দ দ্বারা হুকুম করারও দরকার পড়ে না।
তবু তিনি ছয় দিন কেন নিয়েছেন?
কোরআন ব্যাখ্যাকারও এর দুটি সম্ভাব্য জবাব দাঁড় করিয়েছেন। প্রখ্যাত তাফসীরবিদ সাইদ ইবনে জুবায়ের রাঃ এ প্রশ্নের উত্তরে বলেন, ‘আল্লাহ তায়ালার মহাশক্তি নিঃসন্দেহে এক নিমেষে সব কিছু সৃষ্টি করতে পারে; কিন্তু মানুষকে বিশ্বব্যবস্থা পরিচালনায় ধারাবাহিকতা ও কর্মপক্বতা শিক্ষা দেয়ার উদ্দেশ্যেই এতে ৬ দিন ব্যয় করা হয়েছে (তাফসিরে মাজহারি)।

কেউ কেউ বলেছেন, এটি করেছেন তাঁর ফেরেশতাদের দেখানোর জন্য। হতে পারে পৃথিবী সৃষ্টির আগেই আল্লাহপাক ফেরেশতাদের সৃষ্টি করেছেন। তাই পৃথিবীর ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে সম্যক ধারণা দিতে তিনি ধীরতা অবলম্বন করেছেন। এটি যেন তাদের উপলব্ধি হয় যে, তাদের মালিকের ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব কত বিশাল ও ব্যাপক।
আবার কারো কারো ব্যাখ্যা হলো- আল্লাহ ইচ্ছা করে সময় নিয়েছেন তাঁর প্রিয় বান্দাদের তাঁর একটি মহত্তম গুণ প্রকাশ করতে। তা হলো দ্রুত করার সুযোগ থাকলেও মহান আল্লাহ, খোদ স্রষ্টা নিজেই পরিকল্পনার কৌশলটা এভয়েড করেননি। কোথায় সাগর হবে, কোথায় পাহাড়, কোথায় মানুষের বসতি, কোথায় প্রাণীদের অভয়ারণ্য এসব নিজে ধীরে সুস্থে ধারাবাহিকতা রক্ষা করে তবেই সাজিয়েছেন।
ত্বরা প্রবণতা আল্লাহর পছন্দনীয় নয়।
মানুষের কোনো বিষয়ে দ্রুততার বিষয়ে আল্লাহ সমালোচনা করেছেন, যেমন আল্লাহ বলেন– ‘
“মানুষ যেভাবে কল্যাণ কামনা করে, সেভাবেই অকল্যাণ কামনা করে। মানুষ তো খুবই দ্রুততাপ্রিয়’ (সূরা ইসরা-১১)।

ফাজালা ইবনে উবাইদ রাঃ থেকে বর্ণিত-
তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সা: বসে ছিলেন। এমন সময় একজন লোক এলো এবং নামাজ আদায় করল। এরপর সে বলল, হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা করে দিন, আমার প্রতি দয়া করুন। রাসূলুল্লাহ সা: বললেন, ‘হে নামাজী! তুমি তাড়াহুড়ো করলে। নামাজ শেষে যখন তুমি বসবে, তখন তুমি আল্লাহর উপযুক্ত হামদ এবং আমার প্রতি দরুদ পাঠ করবে। অতঃপর তুমি দোয়া করবে’
(সুনানে তিরমিজি-৩৪৭৬)।
আল্লাহর সৃষ্টি কুশলতা প্রসঙ্গে রাসূল সা: বলেছেন, ‘আল্লাহ তাঁর সৃষ্টিকর্মটি আরম্ভ করেছিলেন রোববারে আর শেষ করেছিলেন সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ দিন জুমাবারে। সৃষ্টি শেষের আনন্দ প্রকাশের জন্যই হতে পারে জুমার দিন বিশ্বাসীদের কাছে পবিত্র একটি সওয়াবের ও উৎসবের দিন।
তাফসিরে আহসানুল বয়ানে সূরা আরাফের ৭ : ৫৪ ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে- এই ছয় দিন হলো
রোববার, সোমবার, মঙ্গলবার, বুধবার, বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার। শনিবার দিন সম্পর্কে বলা হয় যে- এ দিনে কোনো কিছু সৃষ্টি করা হয়নি। অবশ্য এই সমস্ত তাফসীর কারকদের ব্যাখ্যা বরং সঠিক বিষয়টি আল্লাহু আলম।
শুধু সৃষ্টি করেই আল্লাহ ক্ষান্ত হননি, উপরন্তু প্রত্যেকটি সৃষ্টিকে তিনি প্রতিপালন ও রক্ষণাবেক্ষণও করে চলেছেন। সব সৃষ্টির ওপর তিনি পূর্ণ নিয়ন্ত্রণও রেখেছেন। ফলে গোটা সৃষ্টিকুল অবিরাম সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালিত হচ্ছে, কোথাও কোনো প্রকার বিশৃঙ্খলা নেই। আসমান, জমিন ও তদস্থিত সব কিছু তাঁর হুকুম মেনে চলছে। এবং আল্লাহ যা কিছু সৃষ্টি করেছেন তা বস্তু হোক কিংবা প্রাণী হোক তা কোন কিছুর মধ্যে তিনি কোন প্রকার খুত বা দোষ ত্রুটি রাখেননি।
এ প্রসঙ্গে আল্লাহ সূরা মুলুক এ বলেন–
“”পুণ্যময় তিনি যার হাতে রাজত্ব এবং তিনি সবকিছুর উপর সর্বশক্তিমান। তিনি সৃষ্টি করেছেন জীবন এবং মৃত্যুকে যাতে মানুষকে তিনি পরীক্ষা করেন কে মানুষের মধ্যে আমলের দিক দিয়ে শ্রেষ্ঠতর এবং তিনি অত্যন্ত পরাক্রমশালী এবং ক্ষমাশীলও বটে। তিনি স্তরে সাতটি আকাশ সৃষ্টি করেছেন এবং তুমি করুণাময় আল্লাহ তায়ালার সৃষ্টিতে কোন প্রকার তফাৎ বা খুৎ দেখতে পাবে না। তুমি বারবার দৃষ্টি ফিরাও সেখানে কি কোন ফাটল বা ভাঙাচোরা দেখতে পাও? অতঃপর তুমি বারবার তাকাও; কিন্তু তোমার দৃষ্টি ব্যর্থ এবং ক্লান্ত পরিশ্রান্ত হয়ে তোমার দিকে ফিরে আসবে। তুমি আল্লাহর সৃষ্টির মধ্যে কোন প্রকার ভুল-ত্রুটি দেখতে পাবে না””- সুরা মুলক-১-৪!

👉👉তিনি আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছেন যথাযথভাবে। তিনি রাতকে দিবস দ্বারা আচ্ছাদিত করেন এবং দিবসকে রাত দ্বারা আচ্ছাদিত করেন এবং তিনি সূর্য ও চন্দ্রকে কাজে নিযুক্ত করেছেন প্রত্যেকেই বিচরণ করে নির্দিষ্ট সময়কাল পর্যন্ত। জেনে রাখুন, তিনি পরাক্রমশালী, ক্ষমাশীল’
(সূরা জুমার-৫)।
👉👉তারা কি আল্লাহর দ্বীনের পরিবর্তে অন্য দ্বীন তালাশ করছে? আসমান ও জমিনে যা কিছু রয়েছে স্বেচ্ছায় হোক বা অনিচ্ছায় হোক, তাঁরই অনুগত হবে এবং তাঁর দিকেই ফিরে যাবে’
(সূরা আলে ইমরান-৮৩)
👉👉 আল্লাহ সুবাহানাহু তায়ালা প্রত্যেক বস্তুকে যেমন নিখুঁত করে সৃষ্টি করেছেন এবং ঠিক তদ্রূপ তিনি সকল বস্তু পরিমিত অর্থাৎ যতটুকু যেখানে দরকার ততটুকু সৃষ্টি করেছেন। অতিরিক্ত সৃষ্টি করেননি এবং কম করেও সৃষ্টি করেননি। তিনি জানেন কোথায় কতটুকু অর্থাৎ কি পরিমান কোন জিনিসের প্রয়োজন। তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেয়ে বরফ গলে যাওয়ার জন্য পৃথিবীর ক্লাইমেট চেঞ্জ হয়ে যাচ্ছে। অপরদিকে মানুষ পাহাড় কেটে স্থাপনা নির্মাণের জন্য ভূমিকম্প সহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা দিচ্ছে। অথচ আল্লাহ প্রত্যেকটি বস্তুকে যথাস্থানে পরিমিতভাবে সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহ বলেন —“আমি প্রত্যেক বস্তুকে পরিমিত রূপে সৃষ্টি করেছি আমার কাজ তো এক মুহূর্তে চোখের পলকের মত”!
সূরা কামার-৪৯-৫০।
👉👉 আল্লাহ এই ভূমন্ডল এবং নভোমন্ডল কে শুধু সৃষ্টি করে ছেড়ে দেননি বরং পৃথিবীরসহ বিভিন্ন জায়গায় হিসাব রাখার জন্য আল্লাহ বিভিন্ন স্থানে গ্রহ এবং উপগ্রহ সৃষ্টি করে রেখেছেন।
পৃথিবীতে চাঁদ এবং সূর্যকে তিনি আলো এবং তাপ দেওয়ার পাশাপাশি মানুষের হিসাব রাখার জন্য সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহ বলেন–“চাঁদ এবং সূর্য হিসাব মতো চলে” ।সূরা আর রহমান- ৫!
অর্থাৎ এই আয়াতের দ্বারা আল্লাহ বুঝাতে চেয়েছেন যে আমি সূর্য এবং চন্দ্রকে হিসাব মত চলা নির্দেশ দিয়েছি যাতে করে তোমরা সূর্য এবং চাঁদের সাহায্যে হিসাব রাখতে পারো আর এজন্যই সমস্ত পৃথিবীতে দুইটি বর্ষ প্রচলিত আছে একটি হচ্ছে #সৌরবর্ষ বা গ্যাগ্রিয়ান সাল! আর অপরটি হল #চন্দ্রবর্ষ বা হিজরী সাল!

সুবহান আল্লাহ। আল্লাহ কত নিখুঁত পরিকল্পনাকারী আর কত সুন্দর সৃষ্টিকর্তা। তিনি সবকিছু সৃষ্টি করেছেন কোন প্রকার মডেল ছাড়া নিজ পরিকল্পনা অনুযায়ী এবং অত্যন্ত নিখুঁতভাবে।
আল্লাহ আমাদেরকে সকল কিছু সঠিকভাবে বুঝার মেনে চলার আর তার শুকর করার তৌফিক দান করুন আমিন।

বিদায় প্রেতাত্মা রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ।

১৭৫৭ সালে অপরিনামদর্শী সিরাজউদ্দৌলার পতনের আগ পর্যন্ত সুবা বাংলা ছিল গোটা দুনিয়ার মধ্যে ঐশ্বর্যশালী একটি দেশ। তখনকার অনেক ইউরোপিয়রা বলেছেন, বাংলার মানুষের প্লেটে কম করেও তিন ধরনের পদ বা খাবার থাকত। ঘি, মাখন খাওয়া তাদের জন্য সাধারণ বিষয় ছিল। তাদের গায়ে যে পোষাক ছিল তা ইউরোপিয়ানদের কাছে ভাবনারও অতীত। বাংলার পন্য নিয়ে বাংলার বণিকরা তখন পূর্বদেশ মানে ইন্দোনেশিয়া পর্যন্ত পৌছে যেতো।

নবাবের পতনের পর তিন দফা নতুন নবাব প্রতিস্থাপনের পর মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলমের কাছ থেকে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলা, বিহার ও ওড়িশার খাজনা উঠানোর বিষয়টি মাত্র লাখ দেড়েক রূপিতে কিনে নেন রবার্ট ক্লাইভ। এরপর রবার্ট ক্লাইভ হিসাব করে দেখান, দেড় লাখ রূপি দেবার পরও কোম্পানির প্রায় ১৬ লাখ রূপি। বাস্তবে সেটি কোটি রূপিতে ছাড়িয়ে যায়।

তো, এরপর থেকে ফসলে, পন্য উদ্বৃত্ত একটি জনপদ স্রেফ শশ্মান হয়ে যায়। সব থেকে বেশি সংকটে পড়ে ঢাকা। একটা বাণিজ্যিক শহর গোরস্তানে পরিণত হয় ব্রিটিশ অত্যাচারে। কোম্পানির হাতে রাজস্ব উত্তোলনের দায়িত্ব থাকায় কৃষক ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মাত্রাতিরিক্ত রাজস্ব উত্তোলন শুরু হয়। বাংলা ১১৭৬ সাল আর ১৭৭০ ইংরেজি। সিরাজের পতনের মাত্র ১৩ বছরের মাথায় ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ দেখা যায়। সোনার বাংলা গোরস্থানে পরিণত হয়। এই দুর্ভিক্ষে ১ কোটি লোক মারা যায়। এটা দুনিয়ার নিকৃষ্টতম দুর্ভিক্ষ। দুর্ভিক্ষের কারণ ফসল উৎপাদন কম নয়, দুর্ভিক্ষের কারণ সে বছর মাত্রাতিরিক্ত খাজনা আদায়। যে বছর দুর্ভিক্ষ হলো তার আগের বছর আদায়কৃত রাজস্ব ছিল দেড় কোটি রূপি। আর যে বছর দুর্ভিক্ষ হলো সে বছর আগের বছরের তুলনায় ৫ লাখ ২২ হাজার রূপি বেশি আদায় হয়েছিল।

ঢাকার মসলিনের কদর ছিল আকাশ ছোঁয়া। ব্রিটেন থেকে কোম্পানি কলের তৈরি কাপড় আনলেও সেটা এখানে চলত না। তারপর তারা আমাদের তাঁতীতের হাতের আঙ্গুল পর্যন্ত কেটে দেয় যাতে তারা মসলিন বুনতে না পারে।

গোটা মুঘল আমলে সুবা বাংলা ১৯টি, পরে ৩৪টি ছোট ছোট নবাব ও রাজাদের অধীনে শাসন হয়েছে। সেই শাসনের বেশিরভাগ সময় মুঘল শাসনের বিষয়টি অনেক আলগা ছিল। বাংলা মুঘল শাসনের অধীনে ছিল ২৩০ বছর। এই ২৩০ বছরে বাংলায় দুর্ভিক্ষ হয়নি। ১৭৬৪ সালে বক্সারের যুদ্ধে মীর কাশিম হেরে যাবার পর দ্বিতীয় শাহ আলমের কাছ থেকে বাংলা, বিহার ও ওড়িশার দেওয়ানী কিনে নেয় কোম্পানি। এরপর মাত্র ৬ বছরের মাথায় ১৭৭০ সালে বা বাংলা ১১৭৬ সনে দুর্ভিক্ষ হয় যাতে মারা যায় ১ কোটি মানুষ। এটা নির্মম, ভয়াবহ উপনিবেশিক শোষনের ফল।

কোম্পানির শাসন ও ব্রিটেনের শাসনের মধ্যে কত লোককে তারা জোরপূর্ব দাস বানিয়েছে সেই হিসাব নতুন করে আমাদের নেয়া দরকার।
১৯৪৩ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষ সময়ের দিকে যে দুর্ভিক্ষ হয় তাতে বাংলার ৩০ লক্ষ লোক না খেয়ে মারা যায়। এই দুর্ভিক্ষ কিন্তু ফসল উৎপাদন কম হয়েছিল সে কারণে না,বরং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় বাংলা থেকে সব খাদ্য শস্য ব্রিটেনে নিয়ে মজুদ করা হচ্ছিল। যুদ্ধে যেখানে মাত্র ৪০ হাজার ব্রিটিশ সৈন্য লড়ছিল সেখানে ভারতীয় সৈন্য ছিল প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার। ভারতীয়রা মরেছেও যুদ্ধের ময়দানে অকাতরে।

দুর্ভিক্ষের অশনি সংকেত বেজে উঠার আগে বিষয়টি তৎকালীন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী চার্চিলকে জানানো হয়েছিল, তখন রাজা ছিলেন ষষ্ট জর্জ, মানে দ্বিতীয় এলিজাবেথের বাবা। চার্চিল নিকৃষ্ট উত্তর দিয়েছিল।
একটা সোনার দেশকে মৃতপুরি বানালো যে ব্রিটেন, ব্রিটেন উপনিবেশবাদ, তারই প্রতিকী চিহ্ন বহন করতেন রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ।
দ্বিতীয় এলিজাবেথ মারা গেছেন। পরিণত বয়সেই মারা গেছেন। যে কোনো মৃত্যুই বেদনাদায়ক। কিন্তু রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথের মৃত্যুতে পূর্ববঙ্গের মানুষের শোকটা তার রক্তের সাথে বেঈমানি। বাহাদুর শাহ পার্ক নামে ঢাকায় একটা পার্ক আছে। ওখানে ১৮৫৭ সালে ভারতের প্রথম স্বাধীনতাকার্মী বিপ্লবীদের লাশ গাছে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল।সিরাজউদ্দৌলার লাশ শহরে টেনে হিঁচড়ে নেয়া হয়েছিল।

আমি ইতিহাসের ছাত্র। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক ডকুমেন্ট নাড়াচাড়া করলে অপ্রকৃস্থ হয়ে যাই। ব্রিটিশ শোষণ থেকে মুক্তির জন্য অকাতরে জীবন দিয়েছেন তরুন যুব শ্রমিক কৃষক। সেই বিপ্লবীদের বড় অংশ বাংলাদেশের। আমাদের পূর্বপুরুষ তাদের জীবন বাজি রেখে,ভয়াবহ ইন্টারোগেশনের সামনে দাঁড়িয়ে স্বাধীনতার জন্য লড়াই করেছে। আর আমরা আজ সেই ঔপনিবেশিক শোষনের চিহ্নের জন্য কাঁদছি। কী ভয়াবহ! কি বিশ্বাসঘাতকতা।

আন্দামানের জেলগুলোতে থাকা আমাদের বিপ্লবীদের দীর্ঘশ্বাস বাংলাদেশের আকাশে মেঘ হয়ে আসুক। এই কেতাদুরস্ত ফ্যাশনাবেল প্রজন্ম তার রক্ত দিয়ে পান করুক স্কচ।
বিদায় প্রেতাত্মা রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ।

মরিয়ম ফুল এবং কিছু ভ্রান্ত ধারণাঃ

মরুভূমিতে ফুটে থাকা একটি তাজা মরিয়ম ফুল।

💜ইসলাম হলো স্বভাব ধর্ম। ইসলাম এমন এক জীবন ব্যবস্থা যা মানুষের মেজাজ মর্জির সঙ্গে শতভাগ সামঞ্জস্যপূর্ণ। ইসলাম তার অনুসারীদেরকে এমন কোনো কিছু করতে বলে না, যা তার মানবিয় প্রকৃতির বিরুদ্ধে যায়।
সম্পূর্ণ কোরান এবং রাসূলের (সা.) হাদিস ভাণ্ডার খুঁজে ইসলামের এমন একটি বিধান কেউ দেখাতে পারবে না, যা মানব প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ইসলাম কখনো আমাদেরকে তা করতে বলে না যা করার ক্ষমতা মানুষ হিসেবে আমাদের নেই। কিংবা যা করলে নিজেদের ব্যক্তিত্ব, টাকা-পয়সা, সামাজিক জীবন সবকিছুকে বিলিয়ে দিতে হয়।

মানব জাতির সব কল্যাণময় কর্মকাণ্ড সম্পর্কে ইসলামি শরীয়তে বর্ণিত হয়েছে। মানব জাতির সাধ্যের বাইরে কোনো বিষয়কে চাপিয়ে দেয়া হয়নি। পবিত্র কোরআনুল কারিমে স্পষ্ট করে বলে দিয়েছেন সূরা বাকারার ২৮৬ নং আয়াতে—-
“‘আল্লাহ কাউকে তার সাধ্যাতীত কোনো কাজের ভার দেন না”!
তাই নিষিদ্ধ, গর্হিত ও শিরক বা বিদাৎ হয় অর্থাৎ ধর্মীয় এবং সামাজিক আর শারীরিক ক্ষতি হয় এমন সব পদ্ধতি ব্যতীত বৈধ পদ্ধতিতে চিকিৎসা গ্রহণ করায় কোনো বাধা-নিষেধ নেই।
সুতরাং ডাক্তারি পরামর্শের ভিত্তিতে চিকিৎসা হিসেবে ‘মরিয়ম ফুল’ ব্যবহার করা যাবে। কিন্তু এর ধর্মীয় বিশেষ কোনো তাৎপর্যে বিশ্বাস করা যাবে না । মরিয়ম ফুলের ধর্মীয় কোন তাৎপর্য নেই এবং এটা নবী রাসূলগণ এবং সাহাবায়ে কেরাম ব্যবহার করেছেন এমন কোন প্রমাণ কোথাও পাওয়া যায় না। উদ্ভিদ হিসেবে এর কিছু গুনাগুন তো অবশ্যই থাকতে পারে কারণ সকল উদ্ভিদের মধ্যে কিছু না কিছু গুণাগুণ বিদ্যমান।
উদ্ভিদ বিজ্ঞান নিয়ে যারা গবেষণা করেন অর্থাৎ চিকিৎসা বিজ্ঞানীগণ এবং উদ্ভিদ বিজ্ঞানীগণ এই ব্যাপারে হয়তো বিস্তারিত বলতে পারবেন যে এই গাছের মধ্যে কি কি উপাদান বিদ্যমান এবং কি কি ক্ষতি বা উপকারিতা রয়েছে।

শুকিয়ে যাওয়া একটি মরিয়ম ফুল।

👉এবার ‘মরিয়ম ফুল’ সম্পর্কে জেনে নেয়া যাক্ঃ

‘মরিয়ম ফুল’ সম্পর্কে সমাজে অনেক ভ্রান্ত বিশ্বাস চালু আছে। অনেকে হজ্ব করতে গিয়ে এই ফুল কিনে নিয়ে আসেন এবং এর পানি দ্বারা উপকার গ্রহণ করে থাকেন। যদিও অদ্যবধি পর্যন্ত মরিয়ম ফুলের অনেকে মনে করেন, মরিয়ম ফুলের পাপড়ি ভিজিয়ে পানি পান করলে প্রসবকালীন ব্যথা লাঘব হয় এবং সহজে প্রসব হয়। আবার কারো কারো বিশ্বাস, এই ফুল শুঁকেই নাকি মারইয়াম (আ.) গর্ভে সন্তান লাভ করেছিলেন। (নাউজুবিল্লাহ)!
এই বিশ্বাস সরাসরি পবিত্র কোরআন বিরোধী একটি কুফরী বিশ্বাস! কেউ এমন বিশ্বাস করলে তার ঈমান থাকবে না!

আবার কোনো কোনো ব্যবসায়ী এবং বাজার ও ফুটপাতের ঔষধ বিক্রেতারা এটিকে ‘প্রফেটিক মেডিসিন’ তথা নবী (সা.) নির্দেশিত ঔষধ হিসেবেও প্রচার করে থাকেন।
👉চলুন জেনে নেয়া যাক এ ব্যাপারে ইসলাম কী বলে?

ইসলামি শরীয়তে এর কোনো ভিত্তি নেই।
কোরআন ও হাদিস দ্বারা এর কোনো গুরুত্ব ও তাৎপর্য প্রমাণিত নয়।
উপরোল্লিখিত কথাবার্তা পুরোপুরিই আজগুবি, সামাজিক কুসংস্কার মাত্র।
তবে হ্যাঁ, ভেষজ উদ্ভিদীয় চিকিৎসা হিসেবে এটি ব্যবহার করা যায়। এটি শারীরিক চিকিৎসার বিষয়, যা ওহির ওপর নির্ভর করে না। বরং পরীক্ষা ও অভিজ্ঞতার মাধ্যমে জানা যায়। সুতরাং ঔষধি গাছ হিসেবে চিকিৎসার জন্য এই ফুল থেকে উপকার গ্রহণ করা যাবে। কিন্তু এর ধর্মীয় বিশেষ কোনো ‘ফজিলত’ বা তাৎপর্য আছে বলে বিশ্বাস করা যাবে না।

মরিয়ম ফুল পরিচিতি:

মরিয়ম ফুল জন্মে মরু অঞ্চলে। মধ্যপ্রাচ্য ও সাহারার বিস্তীর্ণ মরু অঞ্চলে বছরের পর বছর শুকনো গাছ মাটি আঁকড়ে থাকে। এর বৈজ্ঞানিক নাম Anastatica hierochuntica। মরুভূমির অসহনীয় গরমের মধ্যে থাকা শুকনো এই গাছ ক্রমে নির্জীব পাথরের মতো হয়ে পড়ে। কখনো বৃষ্টির পরশ পেলে জীবন ফিরে পায় এবং এর বংশবিস্তার ঘটে। এই গাছের ফুলে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, পটাসিয়াম, দস্তা এবং লোহা। বিশেষত, ক্যালসিয়াম এবং ম্যাগনেসিয়াম একসঙ্গে পেশি সংকোচন নিয়ন্ত্রণ করে। এর কোনো নেতিবাচক পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া নেই।

উক্ত বিষয়ে মাও. মো. আসাদুজ্জামান (ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বাংলাদেশ, বসুন্ধরা, ঢাকা। হাদিস বিভাগ, ২য় বর্ষ।) এর প্রশ্নোত্তরটি হুবুহু তুলে ধরা হলো-

🔵মরিয়ম ফুলের পাপড়ি ভিজিয়ে রেখে সেই ফুলের পানি পান করলে প্রসব বেদনা উঠে, সহজে নরমাল ডেলিভারী হয়, এ ধরনের কথা প্রচলিত আছে। এসব কথার কোনো ভিত্তি নেই।
উক্ত কথাটি কোরআন ও হাদিস দ্বারা প্রমাণিত নয়। কারণ এটি একটি শারিরীক চিকিৎসার বিষয়, যা ওহীর ওপর নির্ভর করে না।
বরং পরীক্ষা ও অভিজ্ঞতার মাধ্যমে জানা সম্ভব। আর রাসূলে করিম (সা.)-কে যেহেতু প্রেরণ করার মুল উদ্দেশ্য মানুষকে জান্নাতী পথের সন্ধান দেয়া, যা জ্ঞান ও চিন্তার মাধ্যমে অবগত হওয়া সহজ ছিল না।

🔴 আর রাসূলে করিম (সা.)-কে যেহেতু প্রেরণ করার মুল উদ্দেশ্য মানুষকে জান্নাতী পথের সন্ধান দেয়া, যা জ্ঞান ও চিন্তার মাধ্যমে অবগত হওয়া সহজ ছিল না। অর্থাৎ শুধু ওহীর মাধ্যমেই সম্ভব।
তাই শরীয়তের মুল লক্ষ্যকে সামনে রেখে প্রয়োজনীয় কিছু চিকিৎসার পদ্ধতি বর্ণনা করার সঙ্গে সঙ্গে জায়েজ পদ্ধতিতে সর্বপ্রকার রোগের চিকিৎসা গ্রহন করার ওপর উৎসাহ প্রদান করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে রাসূল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘প্রত্যেক রোগের ওষুধ রয়েছে। যখন তা ব্যবহার করা হয়, আল্লাহ তায়ালার ইচ্ছায় রোগ থেকে প্ররিত্রান লাভ করা যায়।’ -মুসলিম , হাদিস নম্বর: ২২০৪!

🟢 জাবের (রা.) বলেন, আমি রাসূল (সা.) এর নিকট বসা ছিলাম এমন সময় একদল গ্রাম্য লোক এসে জিজ্ঞাসা করল, ইয়া রাসূলুর্লাহ ! আমরা কি চিকিৎসা গ্রহন করতে পারি? উত্তরে তিনি বললেন, অবশ্যই হে আল্লাহ বান্দারা! তোমরা চিকিৎসা গ্রহন কর।
-আবু দাউদ ,হাদিস নম্বর: ৩৮৫৫!

অতএব, যদি কোনো বিজ্ঞ ডাক্তার স্বীয় অভিজ্ঞতার আলোকে জায়েয পদ্বতিতে কোনো রোগের চিকিৎসা সর্ম্পকে পরামর্শ দিয়ে থাকেন, তাহলে তা গ্রহন করাই শ্রেয়। -যাদুল মাআদ: ১/১০,২৪।

প্রাকৃতিতে সরিয়ে ছিটিয়ে থাকা আল্লাহর অশেষ নেয়ামত অনেক গাছ ফুল পাতা লতা অনেক কিছুতে ব্যাপক উপকার রয়েছে।
মূলত ঔষধ সংগ্রহ করার তিনটি উৎস রয়েছে।
১/বোটানিক্যাল সোর্স বা উদ্ভিদ উৎস।
২/জুলুজিক্যাল সোর্স বা প্রাণিজ উৎস
৩/কেমিক্যাল সোর্স বা খনিজ উৎস।

এর মধ্যে প্রায় ৯০% ঔষধ সংগ্রহ করা হয় উদ্ভিদ জাত বিভিন্ন উৎস থেকে তাছাড়া মানুষ ও বিভিন্ন প্রাণীর খাদ্যের ও বেঁচে থাকার সকল উৎস উদ্ভিদ থেকেই এসে থাকে মূলতঃ।

অতএব, অনুরূপ যে কোনো গাছ, পাতা, ফুল ইত্যাদি অভিজ্ঞ ব্যক্তির পরামর্শে ব্যবহার করা যেতে পারে।