আপনারা কি তুরস্কের নাম শুনেছেন? এই দেশে আমেরিকার একটা পোষ্য কুকুর ছিলো, সেই কুকুরের নাম ছিলো কামাল আতাতুর্ক পাশা। সেই কামাল তুরুস্কে কি করেছিলো জানেন? সেটার বিবরন নিচে দেওয়া হলো—
১/কামাল পাশা নারীদের হিজাব বন্দ করেছিলো ।
২/বোরকা বন্দ করেছিলো।
৩/যুবকদের দাঁড়ি রাখা বন্দ করেছিলো ।
৪/ মসজিদে মাইক দিয়ে প্রকাশ্য আযান বন্দ করেছিলো।
৫/ আরবী ভাষা নিষিদ্ধ করেছিলো।
৬/ কেন্দ্রীয় সুফিয়া মসজিদকে গীর্জায় রুপান্তর করেছিলো ।
৭/ সকল মাদ্রাসা শিক্ষা বন্দ করেছিলো।
৮/ নতুন করে একটি মসজিদ মাদ্রাসাও তৈরি করেনি।
৯/অসংখ্য পতিতালয় প্রতিষ্ঠা করেছিলো।
১০/ অসংখ্য মদের বার ও নাইট ক্লাব চালু করেছিলো ।
এই নাস্তিক কামাল পাশার শাষনামলে কিন্তু আহলে হাদীসরাও দাওয়াতি কাজ করতো,
পাশাপাশি এরদোয়ানের ইসলামিক পার্টির কর্মীরাও দাওয়াতি কাজ করতো।
ফলস্রুতিতে এরদোয়ান রাষ্ট্র ক্ষমতায় পৌছে পর্যায়ক্রমে যেসব কাজগুলো
রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রতিষ্ঠা করেছে,সেই কাজগুলোর বিবরনও নিচে দেওয়া হলো—–
১/এরদোয়ান নারীদের হিজাব চালু করেছে।
২/বোরকা পড়া চালু করেছে।
৩/যুবকদের দাঁড়ি রাখা চালু করেছে।
৪/ মসজিদে মাইক দিয়ে প্রকাশ্য আযান দেওয়া চালু করেছে।
এখন নিরেপক্ষ দৃষ্টিতে পাঠকদের কাছে কয়েকটা প্রশ্ন করতে চাই।
আহলে হাদিসরাওতো তুরুস্কে ছিলো, এখনও তারা আক্কীদার বয়ান করতেছে, সেখানকার শায়েখরা কিছু কর্তে পেরেছে কি ?????
১/তারা পেরেছে কি নারীদের হিজাব পড়া ফিরিয়ে দিতে??
২/তারা পেরেছে কি বোরকা চালু করে দিতে?
৩/যুবকদের দাঁড়ি রাখার অধিকার ফিরিয়ে দিতে পেরেছে কি?
৪/ পেরেছে কি মসজিদে মাইক দিয়ে আযান চালু করতে?
৫/ পেরেছে কি নিষিদ্ধ আরবী ভাষা চালু করতে?
৬/ পেরেছে কি বন্দ করে দেওয়া সুফিয়া মসজিদকে পূনরায় চালু করে দিতে???
৭/ পেরেছে কি বন্দ হওয়া মাদ্রাসাগুলো চালু করতে?
৮/ পেরেছে কি অন্তত একটি মসজিদ তৈরি করতে?
৯/ পেরেছে কি পতিতাদের গ্রেফতার করতে?
শুধু পেরেছে কিভাবে যালিমদের পা চেটে জীবন পার করা যায়। শুধু পেরেছে নাস্তিক কামালের প্রস্রাব পায়খানা খেয়ে এরদোয়ানের বিরুধীতা করে যেতে। এরা পৃথিবীর যেখানেই আছে, সেখানেই ইসলামী আন্দোলনের বিরুদ্ধে ফতোয়াবাজি করে যালিমদেরকে খুশি করে চলে। এরা যালিম কামাল পাশাকে সমর্থন করেছিলো, এরা যালিম সিসিকে সমর্থন করেছে, এরা আওয়ামীলীগকে আনুগত্য করার কথা বলেছে।
এরা নিজেরা সহী আক্কীদার কথা বলে ধোকা দিয়ে মানুষদেরকে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায়
পৌছার প্রয়াস থেকে দূরে রাখতে, এবং যালিমদের গোলাম বানাতে বদ্ধপরিকর। আল্লাহ এসব মুসলীম নামধারী কতিপয় মুনাফিক শায়েখদের কবল থেকে যাতে সকলের ঈমান হেফাজত করেন আমীন।
রচনা:, – মো: নজরুল ইসলাম আমীনী। লেখক,কবি,গীতিকার, সুরকার ও শিল্পী।
আপনি কি #হতাশায় ভুগছেন ? আপনার দুইপাশে মরুভুমি আর মাঝখানে সাগর দেখছেন ? অবশেষে হিন্দু #সাধু_সন্যাসীদের দালাল দ্বারা নির্ধারিত কিছু পথভ্রষ্ট ডাক্তারের পরামর্শে হিন্দু যোগীদের মত যোগ ব্যায়ামের নামে কুফরী পদ্ধতির মাধ্যমে মনের প্রশান্তি ফিরিয়ে আনতে চাচ্ছেন? (যেটাকে তারা নাম দিয়েছে #ইয়োগা বা #মেডিটেশন) । বলদের ওলান থেকে ৫ লিটার দুধ বের করা যেমন অসম্ভব , ওসব দ্বারা দেহ মনের প্রশান্তি এর চেয়েও অসম্ভব ! জীবনটাকে সরল অঙ্কের মত জটিল বানাবেন না । শরীর ঝাড়া দিয়ে উঠুন, দাড়ান, অজু করে নামাজে দাড়িয়ে দীর্ঘ সেজদাহ করে আপনার মালিককে সমস্যাগুলো বলুন । জীবনে র পথ সুগম করার জন্য সার্টিফিকেটের তেমন কোন প্রয়োজন নেই । প্রয়োজন কেবল শিক্ষার । তাই পড়াশোনা অব্যাহত রাখুন । আর আপনার মালিকের উপর ভরসা রাখুন ভরসা করার মত । কারণ একমাত্র তিনিই বান্দার ফরিয়াদ শোনেন ।
বল্টুর কুমীরের রচনা ও আহলে হাদীসি শায়খের হানাফী তত্ত্ব । #বল্টুকে একবার তার শিক্ষক কুমীরের রচনা লিখতে দিলেন । বল্টু অনেক চিন্তা করে রচনা লিখা শুরু করলো ….. #কুমীরের_রচনা
কুমীর একটি উভচর সরীসৃপ প্রাণী । কুমীরের চারটি পা,দুইটি গোল গোল চোখ,একটি
মুখ ও লম্বা একটি লেজ আছে ।কুমীরের বুক ও পেট সাদা বর্ণের আর পুরো শরীরটা খাঁজ কাটা, খাঁজ কাটা, খাঁজ কাটা………..। খাঁজ কাটা, খাঁজ কাটা, খাঁজ কাটা………..। খাঁজ কাটা, খাঁজ কাটা, খাঁজ কাটা ………..। —এভাবে তিন পৃষ্টা ।।
শিক্ষক দেখে তো আক্কের গুড়ুম ! চিন্তা করলো হারামীটাকে সোজা করতে হবে ।
তাই পরের দিন রচনা লিখতে দেয়া হলো “আমাদের গ্রাম” । বল্টু রচনা লিখতে শুর
করলো,,,,, #আমাদের_গ্রাম
আমাদের গ্রামের নাম রসুলপুর । আমাদের গ্রামটি সুজলা সুফলা ।এই গ্রামের পাশ
দিয়ে একটি ছোট্ট নদী বয়ে গেছে । নদীতে অনেক মাছ থাকে । কিন্তু বর্ষাকাল
এলেই জোয়ারের সাথে নদীতে কিছু কুমীর চলে আসে ।কুমীর একটি উভচর সরীসৃপ
প্রাণী । কুমীরের চারটি পা,দুইটি গোল গোল চোখ,একটি মুখ ও লম্বা একটি লেজ
আছে ।কুমীরের বুক ও পেট সাদা বর্ণের হলেও পুরো শরীরটা খাঁজ কাটা, খাঁজ কাটা, খাঁজ কাটা………..। খাঁজ কাটা, খাঁজ কাটা, খাঁজ কাটা………..। খাঁজ কাটা, খাঁজ কাটা, খাঁজ কাটা ………..। —এভাবে তিন পৃষ্টা ।
এবারও শিক্ষক দেখে তো মাথা খারাপ হওয়ার দশা ! চিন্তা করলো হারামজাদাকে
সাইজ করতে হবে । তাই তার পরের দিন রচনা লিখতে দেয়া হলো “সিরাউদ্দৌলা” ।
শিক্ষক এবার মনে মনে চিন্তা করলো এইবার দেখি কোথা যাও চান্দু ।ঐতিহাসিক
রচনা লিখতে দিয়েছি ।দেখি কিভাবে কুমীর নিয়ে আসো । বল্টু রচনা লিখতে শুর করলো,,,,, #সিরাজউদ্দৌলা_রচনা
নবাব সিরাজউদ্দৌলা একজন ভাল শাষক ছিলেন । তিনি তার নানা আলিবর্দি খাঁন এর
নিকট থেকে রাজত্ব পেয়েছিলেন । আলিবর্দি খাঁন তাকে চোখ কান খোলা রেখে রাজ্য
পরিচালনা করতে বলেছিলেন । কিন্তু নানার মৃত্যুর পর নবাব সিরাজউদ্দৌলা
সবকিছু ভুলে অসৎ চরিত্রের মীর জাফরকে সেনাপতি বানিয়ে খাল কেঁটে কুমীর নিয়ে
আসলেন ।মূলতঃ কুমীর একটি উভচর সরীসৃপ প্রাণী । কুমীরের চারটি পা,দুইটি গোল
গোল চোখ,একটি মুখ ও লম্বা একটি লেজ আছে ।কুমীরের বুক ও পেট সাদা বর্ণের
হলেও পুরো শরীরটা খাঁজ কাটা, খাঁজ কাটা, খাঁজ কাটা………..। খাঁজ কাটা, খাঁজ কাটা, খাঁজ কাটা………..। খাঁজ কাটা, খাঁজ কাটা, খাঁজ কাটা ………..। —এভাবে তিন পৃষ্টা । এবারও শিক্ষক এই রচনা দেখে মাথা ঘুরে মুর্ছা গেলেন । শিক্ষকের মুর্ছা দশা থেকে সুস্থ্য হতে কত দিন লেগেছিল তা জানা নেই । তবে আমাদের #আহলে_হাদীসী
কিছু শায়খ মাদানীদের অবস্থা বল্টুর মতই মারাত্মক । গত প্রায় ১২ বছর ধরে
দেখছি যে তথা কথিত কিছু আহলে হাদীসী শায়খ সাবজেক্ট এবং উপলক্ষ যাই হোকনা ,৫
মিনিট কোরআন হাদীসর কথা বলে বল্টুর মত পুরো তিন ঘন্টা জুড়ে হানাফী
মাজহাবের কুৎসা ও হানাফী আলেমদের গীবৎ করেই যাচ্ছে । বল্টু আর এসব শায়খ
মাদানীর মাঝে তফাৎ হলো – বল্টু কেবল ঐ কুমীরের রচনাটাই জানে তাই ঘুরিয়ে
ফিরিয়ে সকল রচনাতেই সে কুমীরকে টেনে আনে । তদ্রুপ আহলে হাদীসী শায়খ
মাদানীরা বল্টুর মত একটা বিষয়ই জানে । আর তা হলো মাজহাব গুলোর কুৎসা আর
হক্কানী আলেমদের নামে গীবৎ ও মিথ্যাচার । আর এই বল্টুদের চরিত্র নিয়ে যতদিন তারা ময়দানে দাওয়াতী কাজ করবে ততদিন কেবল মুসলীম সমাজে ভাঙ্গনই সৃষ্টি হবে । মুসলীম #ঐক্যের প্রচেষ্টা একটি ফরজ ইবাদত । #ভাঙ্গন তৈরী করা শয়তান ও মোনাফিকের কাজ ।
তাই আমরা আহলে হাদীসী শায়খ মাদানীদের বলতে চাই দয়াকরে বল্টু চরিত্র পরিহার
করে ঐক্য গড়তে সচেষ্ট হোন । আর আপনাদের গালীবাজ অনুসারীগুলোকে থামান ।
ঈদের সালাত সুন্নত বা মতভেদে ওয়াজিব(ফরজে কেফায়া) একটি ইবাদত। আর এর তাকবীর সংখ্যা নিয়ে দলাদলি,হানাহানি,হিসা- বিদ্বেষ,ঘৃনার অন্ত নেই। এজাতীয় তৎপরতা বা মনোভাব হারাম এবং কখনই ইসলাম এসব সমর্থন করে না ।তাই এ বিষয়ে সতর্ক থাকা প্রত্যেক মু’মিনের অবশ্য কর্তব্য ৷ইবাদতে সন্দেহ-সংশয় সৃষ্টি করার ফলে সমাজে ইবাদত বিমুখতা বৃদ্ধি পায় ।যারা ইবাদতে সন্দেহ তৈরী করার চেষ্টা করে, সে সকল শায়খ/মাদানী থেকে দূরে থাকা সকলের উচিৎ ৷কেননা,আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’য়ালার নির্দেশ হলোঃ‘এমন ব্যক্তির আনুগত্য কর না যার মনকে আমি আমার স্মরণ থেকে অমনোযোগী করে দিয়েছি, যে তার প্রবৃত্তির অনুসরণ করে এবং যার কাজ হলো বাড়াবাড়ি ও সীমা লঙ্ঘন করা।’ (সূরা কাহ্ফ : ২৮)
প্রসঙ্গঃ #ঈদের_নামাজের_তাকবীর_সংখ্যা ।ঈদের সালাত সুন্নত বা মতভেদে ওয়াজিব(ফরজে কেফায়া) একটি ইবাদত।আর এর তাকবীর সংখ্যা নিয়ে দলাদলি,হানাহানি,হিসা- বিদ্বেষ,ঘৃনার অন্ত নেই। এ জাতীয় তৎপরতা বা মনোভাব হারাম এবং কখনই ইসলাম এসব সমর্থন করে না ।তাই এ বিষয়ে সতর্ক থাকা প্রত্যেক মু’মিনের অবশ্য কর্তব্য ৷ইবাদতে সন্দেহ-সংশয় সৃষ্টি করার ফলে সমাজে ইবাদত বিমুখতা বৃদ্ধি পায় ।যারা ইবাদতে সন্দেহ তৈরী করার চেষ্টা করে, সে সকল শায়খ/মাদানী থেকে দূরে থাকা সকলের উচিৎ ৷কেননা,আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’য়ালার নির্দেশ হলোঃ‘এমন ব্যক্তির আনুগত্য কর না যার মনকে আমি আমার স্মরণ থেকে অমনোযোগী করে দিয়েছি, #যে_তার_প্রবৃত্তির_অনুসরণ_করে_এবং_যার_কাজ_হলো_বাড়াবাড়ি_ও_সীমা_লঙ্ঘন_করা।’ (সূরা কাহ্ফ : ২৮) #বার_তাকবিরের_ঈদের_নামাজের হাদীসতো শুনেছেন । কেননা যারা ১২ তাকবিরের কথা বলে তারা ৬ তাকবিরের হাদীসগুলো বেমালুম চেপে যায় বা অস্বীকার করে । #ছয়_তাকবীরের_কয়েকটি_হাদীস নিন্মে প্রদত্ত হলো ।তার মানে এই নয় যে, ১২ তাকবিরের হাদীস গুলো সঠিক নয় । বরং১২ তাকবিরের হাদীস গুলোর উপরও আপনি চোখবুঝে আমল করতে পারেন । ইসলাম একটি সরল ও সকলের জন্য সহনীয় ফেক্সীবল জীবন বিধান । এটি যাষ্ট কোন ধর্ম নয় । এটি একটি টোটাল জীবন বিধান । حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ، وَابْنُ أَبِي زِيَادٍ، الْمَعْنَى قَرِيبٌ قَالاَ حَدَّثَنَا زَيْدٌ، يَعْنِي ابْنَ حُبَابٍ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ ثَوْبَانَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ مَكْحُولٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي أَبُو عَائِشَةَ، جَلِيسٌ لأَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ سَعِيدَ بْنَ الْعَاصِ، سَأَلَ أَبَا مُوسَى الأَشْعَرِيَّ وَحُذَيْفَةَ بْنَ الْيَمَانِ كَيْفَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُكَبِّرُ فِي الأَضْحَى وَالْفِطْرِ فَقَالَ أَبُو مُوسَى كَانَ يُكَبِّرُ أَرْبَعًا تَكْبِيرَهُ عَلَى الْجَنَائِزِ . فَقَالَ حُذَيْفَةُ صَدَقَ . فَقَالَ أَبُو مُوسَى كَذَلِكَ كُنْتُ أُكَبِّرُ فِي الْبَصْرَةِ حَيْثُ كُنْتُ عَلَيْهِمْ . وَقَالَ أَبُو عَائِشَةَ وَأَنَا حَاضِرٌ سَعِيدَ بْنَ الْعَاصِ(رَوَاه ابُوْ دَاود فِىْ بَابِ بَابُ التَّكْبِيرِ فِي الْعِيدَيْنِ) হযরত সাঈদ ইবনুল আস রহ. হযরত আবু মুসা আশআরী ও হযরত হুজাইফা রা.কে জিজ্ঞেস করলেন যে, রাসূলুল্লাহ স. দুই ঈদের নামাযে কতবার তাকবীর দিতেন? জবাবে হযরত আবু মুসা আশআরী রা. বললেন: জানাযার তাকবীরের মতো ৪ বার তাকবীর দিতেন। তখন হুজাইফা রা. বললেন: আবু মুসা সত্য বলেছেন। আবু মুসা রা. আরও বললেন: আমি বসরা থাকাবস্থায় এভাবেই তাকবীর বলতাম। বর্ণনাকারী আবু আয়েশা রহ. বলেন: আমি সাঈদ ইবনুল আস-এর নিকটে উপস্থিত ছিলাম। (আবু দাউদ: ১১৫৩) হাদীসটির স্তর: হাসান। যায়েদ ইবনুল হুবাব এবং সাবিত বিন সাওবান ব্যতীত এ হাদীসের রাবীগণ সবাই-ই বুখারী-মুসলিমের রাবী। আর যায়েদ ইবনুল হুবাব صدوق “সত্যনিষ্ঠ”। (তাকরীব: ২৩২৬) সাবিত বিন সাওবান ثقةٌ “নির্ভরযোগ্য”। (তাকরীব: ৯০৭) শায়খ শুআইব আরনাউত মুসনাদে আহমাদের তাহকীকে এ হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। (মুসনাদে আহমাদ: ১৯৭৩৪ নম্বর হাদীসের আলোচনায়) শায়খ আলবানীও হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। (সহীহ-জঈফ আবু দাউদ: ১১৫৩) এ হাদীসে হযরত আবু মুসা আশআরী রা. ঈদের নামাযে চার-চার তাকবীরের কথা বলেছেন। এর ব্যাখ্যা হযরত ইবনে মাসউদের হদীসে বর্ণনা করা হয়েছে যে, প্রথম রাকাতে কিরাতের পূর্বে চার তাকবীর বলবে; যার মধ্যে তাকবীরে তাহরিমা একটি এবং ঈদের অতিরিক্ত তাকবীর তিনটি। আর দ্বিতীয় রাকাতে কিরাতের পরে চার তাকবীর বলবে; যার মধ্যে রুকুর তাকবীর একটি আর অতিরিক্ত তাকবীর তিনটি। অতএব, ঈদের নামাযের অতিরিক্ত তাকবীর সর্বমোট ছয়টি প্রমাণিত হলো। (আব্দুর রযযাক: ৫৬৮৭) عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ وَيَحْيَى بْنُ عُثْمَانَ قَدْ حَدَّثَانَا ، قَالَا : ثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ عَنْ يَحْيَى بْنِ حَمْزَةَ قَالَ : حَدَّثَنِي الْوَضِينُ بْنُ عَطَاءٍ أَنَّ الْقَاسِمَ ، أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ حَدَّثَهُ ، قَالَ : حَدَّثَنِي بَعْضُ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ صَلَّى بِنَا ، النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمَ عِيدٍ ، فَكَبَّرَ أَرْبَعًا ، وَأَرْبَعًا ، ثُمَّ أَقْبَلَ عَلَيْنَا بِوَجْهِهِ حِينَ انْصَرَفَ ، قَالَ : لَا تَنْسَوْا ، كَتَكْبِيرِ الْجَنَائِزِ ، وَأَشَارَ بِأَصَابِعِهِ ، وَقَبَضَ إبْهَامَهُ – فَهَذَا حَدِيثٌ حَسَنُ الْإِسْنَادِ وَعَبْدُ اللهِ بْنُ يُوسُفَ , وَيَحْيَى بْنُ حَمْزَةَ , وَالْوَضِينُ وَالْقَاسِمُ كُلُّهُمْ أَهْلُ رِوَايَةٍ , مَعْرُوفُونَ بِصِحَّةِ الرِّوَايَةِ হযরত কাসেম বিন আব্দুর রহমান রহ. বলেন: রসূলুল্লাহ স.-এর কোন এক সাহাবা আমাকে হাদীস বর্ণনা করেছেন যে, রসূলুল্লাহ স. আমাদেরকে ঈদের দিনে নামায পড়ালেন। তাতে ৪বার অতঃপর ৪বার তাকবীর বললেন। নামায শেষে আমাদের দিকে ফিরে বৃদ্ধাঙ্গুল বন্ধ করে হাতের অপর ৪ আঙ্গুল দ্বারা ইশারা করে বললেন: তোমরা ভুলে যেও না, এটা জানাযার তাকবীরের মতো। (ত্বহাবী : ৭২৭৩ পৃষ্ঠা: ৪০০) হাদীসটির স্তর: হাসান। ইমাম ত্বহাবী রহ. বলেন: এ হাদীসের সনদ হাসান। এ হাদীসের রাবীদের মধ্যে আলী বিন আব্দুর রহমান صدوق “সত্যনিষ্ঠ”। (তাকরীব: ৫৩৪৭) ইয়াহইয়া বিন উসমানের ব্যাপারে ইমাম জাহাবী বলেন: حافظ أخبارى له ما ينكر “হাফেজ, ঐতিহাসিক। তবে তাঁর কিছু মুনকার বর্ণনাও রয়েছে”। (আল কাশেফ: ৬২১৭) আব্দুল্লাহ বিন ইউসুফ বুখারীর রাবী। ইয়াহইয়া বিন হামযা বুখারী-মুসলিমের রাবী। ওয়াযিন বিন আতার ব্যাপারে ইমাম জাহাবী বলেন, ثقة ، و بعضهم ضعفه “তিনি নির্ভরযোগ্য, তবে কেউ কেউ তাঁকে জঈফ বলেছেন”। (আল কাশেফ: ৬০৫০) আবু আব্দুর রহমান صدوق “সত্যনিষ্ঠ”। (আল কাশেফ: ৪৫১৭) ফায়দা : ঈদের নামাযের তাকবীরের ব্যাপারে রসূলুল্লাহ স. থেকে বর্ণিত শুধু হাসান হাদীস দ্বারা এ কারণে দলীল গ্রহণ করতে হলো যে, এ ব্যাপারে স্পষ্ট কোন সহীহ মারফু’ হাদীস নেই। ইমাম আহমাদ রহ. বলেন: لَيْسَ فِي تَكْبِيرِ الْعِيدَيْنِ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَدِيثٌ صَحِيحٌ، “ঈদের নামাযের তাকবীরের ব্যাপারে রসূলুল্লাহ স. থেকে বর্ণিত কোন সহীহ হাদীস নেই”। (নাসবুর রায়াহ: ঈদের নামায অধ্যায়) তবে সাহাবা ও তাবিঈগণের মন্তব্য এবং আমল থেকে আমরা দলীল গ্রহণ করে থাকি। ঈদের তাকবীরের ব্যাপারে বিশিষ্ট সাহাবায়ে কিরামের আমল عَنْ مَعْمَرٍ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ عَلْقَمَةَ، وَالْأَسْوَدِ بْنِ يَزِيدَ قَالَ: كَانَ ابْنُ مَسْعُودٍ جَالِسًا وَعِنْدَهُ حُذَيْفَةُ وَأَبُو مُوسَى الْأَشْعَرِيُّ، فَسَأَلَهُمَا سَعِيدُ بْنُ الْعَاصِ عَنِ التَّكْبِيرِ فِي الصَّلَاةِ يَوْمَ الْفِطْرِ وَالْأَضْحَى فَجَعَلَ هَذَا يَقُولُ: سَلْ هَذَا، وَهَذَا يَقُولُ: سَلْ هَذَا، فَقَالَ لَهُ حُذَيْفَةُ: سَلْ هَذَا لِعَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ فَسَأَلَهُ، فَقَالَ ابْنُ مَسْعُودٍ: يُكَبِّرُ أَرْبَعًا ثُمَّ يَقْرَأُ، ثُمَّ يُكَبِّرُ فَيَرْكَعُ، ثُمَّ يَقُومُ فِي الثَّانِيَةِ فَيَقْرَأُ، ثُمَّ يُكَبِّرُ أَرْبَعًا بَعْدَ الْقِرَاءَةِহযরত আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ রা. বসেছিলেন। তাঁর কাছে হযরত হুজাইফা ও আবু মুসা আশআরী রা. উপস্থিত ছিলেন। সাঈদ ইবনুল আছ তাঁদের দু’জনকে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহাতে নামাযের তাকবীর সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন। তখন তাঁদের একজন অপরজনের নিকটে জিজ্ঞেস করার কথা বলতেছিলেন যে, তাঁর কাছে জিজ্ঞেস কর। আবার অপরজন বলেন, তাকে জিজ্ঞেস কর। পরে হযরত হুজাইফা বললেন: এ বিষয়টি আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ রা.কে জিজ্ঞেস করুন। তিনি হযরত ইবনে মাসউদ রা.কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন: ৪ বার তাকবীর দিয়ে কুরআন পাঠ করে তাকবীর বলে রুকু করবে। অতঃপর দ্বিতীয় রাকাতে কুরআন পড়ে ৪ বার তাকবীর বলবে। (মুসান্নাফে আব্দুর রাযযাক: ৫৬৮৭) হাদীসটির স্তর: সহীহ, মাউকুফ। এ হাদীসের রাবীগণ সবাই-ই বুখারী-মুসলিমের রাবী। হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানী রহ. বলেন: رَوَاهُ عبد الرَّزَّاق عَن ابْن مَسْعُود بِإِسْنَاد “আব্দুর রযযাক ইবনে মাসউদ থেকে সহীহ সনদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন”। (আদদিরায়াহ: হাদীস নম্বর- ২৮৬) এ হাদীস থেকে প্রমাণিত হয় যে, ঈদের নামাযের অতিরিক্ত তাকবীর ছয়টি। حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بن عَبْدِ اللَّهِ الْحَضْرَمِيُّ، حَدَّثَنَا مَسْرُوقُ بن الْمَرْزُبَانِ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي زَائِدَةَ، عَنْ أَشْعَثَ، عَنْ كُرْدُوسٍ، قَالَ: أَرْسَلَ الْوَلِيدُ إِلَى عَبْدِ اللَّهِ بن مَسْعُودٍ، وَحُذَيْفَةَ، وَأَبِي مَسْعُودٍ، وَأَبِي مُوسَى الأَشْعَرِيِّ بَعْدَ الْعَتَمَةِ، فَقَالَ: إِنَّ هَذَا عِيدُ الْمُسْلِمِينَ فَكَيْفَ الصَّلاةُ؟ فَقَالُوا: سَلْ أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ فَسَأَلَهُ، فَقَالَ:”يَقُومُ فَيُكَبِّرُ أَرْبَعًا، ثُمَّ يَقْرَأُ بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ، وَسُورَةٍ مِنَ الْمُفَصَّلِ، ثُمَّ يُكَبِّرُ، وَيَرْكَعُ فَتِلْكَ خَمْسٌ، ثُمَّ يَقُومُ فَيَقْرَأُ بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ، وَسُورَةٍ مِنَ الْمُفَصَّلِ، ثُمَّ يُكَبِّرُ أَرْبَعًا يَرْكَعُ فِي آخِرِهِنَّ فَتِلْكَ تِسْعٌ فِي الْعِيدَيْنِ”، فَمَا أَنْكَرَهُ وَاحِدٌ مِنْهُمْ. কুরদুস বিন আব্বাস রহ. বলেন: হযরত ওয়ালিদ ইশার নামাযের পরে আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ, হুজাইফা, আবু মাসউদ এবং হযরত আবু মুসা আশআরী রা.-এর নিকটে লোক পাঠালেন। প্রেরিত দূত তাঁদের নিকটে গিয়ে বললো: এটা মুসলমানদের ঈদ। আপনারা বলে দিন যে, নামাযের পদ্ধতি কেমন হবে? তাঁরা সবাই বললেন: হযরত আবু আব্দুর রহমান অর্থাৎ, আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ রা.কে জিজ্ঞেস করুন। জবাবে হযরত ইবনে মাসউদ বলেন: ঈদের নামাযের জন্য দাঁড়িয়ে ৪ বার তাকবীর বলে সূরা ফাতিহা ও মুফাছছল থেকে অপর একটি সূরা পড়বে এবং পুনরায় তাকবীর বলে রুকু করবে। এ হলো মোট ৫টি তাকবীর। এরপর দাঁড়িয়ে সূরা ফাতিহা ও মুফাছ্ছল থেকে অপর একটি সূরা পড়বে। অতঃপর ৪ বার তাকবীর বলবে যার শেষ তাকবীরে রুকু করবে। এ হলো সর্বমোট ৯টি তাকবীর। তিনি এ কথা বলার পরে তাদের কেউই এর প্রতিবাদ করেননি। (তবারানী কাবীর: ৯৪০০) হাদীসটির স্তর: সহীহ, মাউকুফ। আল্লামা হাইসামী বলেন: رَوَاهُ الطَّبَرَانِيُّ فِي الْكَبِيرِ وَرِجَالُهُ مُوَثَّقُونَ “তবারানী তাঁর মু’জামে কাবীরে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং এ হাদীসের বর্ণনাকারীগণ সবাই-ই নির্ভরযোগ্য”। (মাজমাউয যাওয়ায়েদ: ৩২৪৭) হযরত ইবনে হাযাম এ হাদীসটির সনদকে উঁচু মানের সহীহ বলেছেন। (মুহাল্লা: ঈদের নামায অধ্যায়) সারসংক্ষেপ : হযরত ইবনে মাসউদ রা.-এর বর্ণনা অনুযায়ী প্রথম রাকাতে কিরাতের পূর্বে চার তাকবীর বলতে হবে যার মধ্যে তাকবীরে তাহরিমা একটি এবং ঈদের অতিরিক্ত তাকবীর তিনটি। আর দ্বিতীয় রাকাতে কিরাতের পরে চার তাকবীর বলবে যার মধ্যে রুকুর তাকবীর একটি আর অতিরিক্ত তাকবীর তিনটি। অতএব, ঈদের নামাযের অতিরিক্ত তাকবীর সর্বমোট ছয়টি প্রমাণিত হলো। #হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. বলেছেন,التكبير في العيدين اربعا كالصلاة على الميت. رواه الطبراني في الكبير وقال الهيثمي: رجاله ثقات. অর্থ: জানাযার নামাযের মতো দুই ঈদে (প্রতি রাকাতে) চার তাকবীর হবে। তাবারানী র. এটি উদ্ধৃত করেছেন। (হা. ৯৫২২) হায়ছামী র. বলেছেন, এর বর্ণনাকারীগন সকলে বিশ্বস্ত। (মাজমাউয যাওয়ায়েদ, ২/৩৬৮) #মাসরূক বলেন,كان عبد الله يعلمنا التكبير في العيدين تسع تكبيرات خمس في الاولى واربع في الآخرة ويوالى بين القراءتين . أخرجه ابن أبي شيبة – وإسناده حسن. অর্থ: আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. আমাদেরকে দুই ঈদের তাকবীর শেখাতেন, মোট নয় তাকবীর। প্রথম রাকাতে পাঁচ ও দ্বিতীয় রাকাতে চার। উভয় রাকাতের কেরাত একাধারে পড়বে। ইবনে আবী শায়বা এটি উদ্ধৃত করেছেন। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা, হাদীস নং ৫৭৪৬)। এটির সনদ হাসান। #কুরদুস ইবনে আব্বাস বলেন,لما كان ليلة العيد أرسل الوليد بن عقبة إلى ابن مسعود وأبي مسعود وحذيفة والأشعري فقال لهم إن العيد غدا فكيف التكبير فقال عبد الله يقوم فيكبر أربع تكبيرات ويقرأ بفاتحة الكتاب وسورة من المفصل ليس من طوالها ولا من قصارها ثم يركع ثم يقوم فيقرأ فإذا فرغ من القراءة كبر أربع تكبيرات ثم يركع بالرابعة. أخرجه ابن أبي شيبة عن هشيم عن أشعث عن كردوس عنه (٥٧٥٤)অর্থ: ওয়ালীদ ইবনে উকবা ঈদের রাতে ইবনে মাসউদ রা., আবূ মাসউদ রা., হুযায়ফা রা. ও আবূ মূসা আশআরী রা. এর কাছে লোক পাঠিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, আগামী কাল তো ঈদ, তাকবীর কিভাবে দিতে হবে? হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. বললেন, নামাযে দাঁড়িয়ে চার তাকবীর দেবে, পরে সূরা ফাতিহা এবং মুফাসসাল থেকে এমন একটি সূরা পড়বে যা বড়ও নয়, ছোটও নয়। এরপর রুকু করবে। পরে (রাকাত শেষ করে) পুনরায় দাঁড়াবে। এবং কেরাত পাঠ করবে। কেরাত পাঠ শেষ হলে চারটি তাকবীর দেবে এবং চতুর্থ তাকবীর বলে রুকুতে যাবে। মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা, হাদীস নং ৫৭৫৪; ইমাম মুহাম্মদ র. এর কিতাবুল আসার, পৃ,২০৫; কিতাবুল হুজ্জাহ , পৃ ৮৫; তাবারানী, আলমুজামুল কাবীর, (দ্র, মাজমাউয যাওয়ায়েদ, ২/৩৬৭) হায়ছামী বলেছেন, এর বর্ণনাকারীগন বিশ্বস্ত; তাহাবী শরীফ ১খ, ৩১৯পৃ,। তাহাবীর সনদে ইবনে কাছীর র. স্বীয় তাফসীর গ্রন্থে। ইবনে কাছীর বলেছেন, সনদটি সহীহ। (৩খ, ৫৬৪পৃ) #আব্দুর রাযযাক রহ. ইবনে জুরায়জ থেকে বর্ণনা করেছেন:ان يوسف بن ماهك أخبرني ان ابن الزبير كان لا يكبر إلا اربعا في كل ركعة سواء ، يكبرهن في كل ركعتين ، سمعنا ذلك منه. المصنف ٣/٢٩١ (٥٦٧٦) অর্থ: ইউসুফ ইবনে মাহাক র. আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, আব্দুল্লাহ ইবনে যুবায়ের রা. প্রত্যেক রাকাতে চার তাকবীরই বলতেন, এর বেশী বলতেন না। এভাবে উভয় রাকাতেই তিনি তাকবীর বলতেন। আমরা তার কাছ থেকেই এটা শুনেছি। মুসান্নাফে আব্দুর রাযযাক, হাদীস নং ৫৬৭৬। এই হাদীসের সনদ সহীহ। #ইবরাহীম নাখায়ী বলেছেন যে,انكم معاشر اصحاب رسول الله صلى الله عليه و سلم متى تختلفون على الناس يختلفون من بعدكم ومتى تجتمعون على أمر يجتمع الناس عليه فانظروا أمرا تجتمعون عليه فكانما أيقظهم فقالوا نعم ما رأيت يا أمير المؤمنين فأشر علينا فقال عمر رضي الله عنه بل أشيروا انتم على فانما انا بشر مثلكم فتراجعوا الأمر بينهم فأجمعوا أمرهم على ان يجعلوا التكبير على الجنائز مثل التكبير في الأضحى والفطر اربع تكبيرات فأجمع أمرهم على ذلك . (الطحاوي – باب التكبير على الجنائز كم هو) صـ ١/٣١٩ অর্থাৎ আপনারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবী। আপনাদের দ্বিমত পরবর্তীদের উপর প্রভাব ফেলবে। আর আপনাদের ঐকমত্যের ফলে অন্যরাও একমত থাকবে। সুতরাং ভেবে চিন্তে আপনারা একটি বিষয়ে একমত হোন। এ কথায় তিনি যেন তাঁদের জাগিয়ে তুললেন। তারা বললেন, হাঁ, আপনি ঠিকই বলেছেন, হে আমীরুল মুমিনীন। তবে এ বিষয়ে আপনি আপনার মতামত বলুন। তিনি বললেন, আপনারাই বরং আমাকে পরামর্শ দিন। কারণ, আমি তো আপনাদের মতোই একজন মানুষ। পরে তাঁরা মত বিনিময় করে এ বিষয়ে মতৈক্যে পৌঁছলেন যে, যেভাবে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহায় চার তাকবীর হয়ে থাকে, তেমনি জানাযার নামাযেও চার তাকবীর হবে। (তাহাবী শরীফ, ১খ, ৩১৯পৃ) এ হাদীস গুলোতে হযরত আবু মুসা আশআরী এবং হযরত আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ রা.-এর মতো প্রবীণ মুজতাহিদ সাহাবার সিদ্ধান্ত ঘোষিত হয়েছে যারা সর্বদা রসূলুল্লাহ স.-এর সঙ্গে ঈদের নামায আদায় করেছেন। অতএব, নির্দ্বিধায় বলা যেতে পারে যে, রসূলুল্লাহ স.-এর আমল ছিলো অতিরিক্ত ছয় তাকবীরের সাথে ঈদের নামায পড়া। উপকারীতাঃ অতিরিক্ত ছয় তাকবীরে ঈদের নামায পড়ার দলীল হিসেবে হাসান সনদে বর্ণিত রসূলুল্লাহ স.-এর আমল ও তাঁর বাণী, (আবু দাউদ: ১১৫৩, ত্বহাবী: ৭২৭৩) সহীহ সনদে বর্ণিত জলীলুল কদর সাহাবায়ে কিরামের আমল ও মন্তব্য (আব্দুর রযযাক: ৫৬৮৭ ও ৫৬৮৯, তবারানী: ৯৪০০ এবং ইবনে আবী শাইবা: ৫৭৫৬ ও ৫৭৬০) এবং সহীহ সনদে বর্ণিত বিশিষ্ট তাবিঈদের আমল ও মন্তব্য (ইবনে আবী শাইবা: ৫৭৬১, ৫৭৬৫ ও ৫৭৭৪)-এর ভিত্তিতে আমরা অতিরিক্ত ৬ তাকবীরের সাথে ঈদের নামায আদায় করে থাকি এবং এটাকে উত্তম বলে বিশ্বাস করি। এর বিপরীতে ১২ তাকবীরে ঈদের নামায আদায় করার কথাও হাদীসে বর্ণিত আছে। তন্মধ্যে তিরমিজী শরীফে বর্ণিত ৫৩৬ নম্বর হাদীসকে ইমাম তিরমিজী রহ. এ অধ্যায়ের সর্বাধিক সহীহ হাদীস বলে উল্লেখ করেছেন। অথচ উক্ত হাদীসটি জঈফ। কারণ, এ হাদীসের সনদের কাসীর বিন আব্দুল্লাহ নামক একজন বর্ণনাকারী রয়েছেন। তাঁর ব্যাপারে ইমাম আহমাদ রহ. বলেন: منكر الحديث “তাঁর হাদীস অগ্রহণযোগ্য”। ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন: ضعيف الحديث “তাঁর হাদীস জঈফ”। আবু দাউদ বলেন: كان أحد الكذابين “তিনি মিথ্যাবাদীদের একজন”। ইমাম দারাকুতনী বলেন: متروك الحديث “তাঁর হাদীস পরিত্যাক্ত”। (তাহজীবুত তাহজীব ও তাহজীবুল কামাল থেকে সংগৃহীত)। ইবনে হাজার আসকালানী বলেন: ضعيف أفرط من نسبه إلى الكذب “তিনি জঈফ, যারা তাঁকে মিথ্যার দিকে সম্বোধন করেছে তারা বাড়াবাড়ি করেছে”। (তাকরীব: ৬৩০৮)। সুতরাং এমন রাবীর বর্ণিত হাদীস কীভাবে সর্বাধিক সহীহ হয়? এ হাদীসের ব্যাপারে ইমাম তিরমিজী রহ. নিজে তাঁর ইলালুল কুবরায় বলেন: ইমাম বুখারী রহ.কে জিজ্ঞেস করলে তিনি এটাকে জঈফ বলেছেন। (আল ইলালুল কুবরা: ঈদের নামাযের তাকবীর অধ্যায়) ইমাম দারাকুতনী রহ. এটাকে মুজতরাব বলেছেন। (ইলালুদ দারাকুতনী: ৩৪৫৮) ১২ তাকবীরে ঈদের নামায পড়ার হাদীস আরও বর্ণিত আছে আবু দাউদ: ১১৪৯ ও ১১৫০ নম্বরে। এ দু’টি হাদীসের বর্ণনায় রয়েছে আব্দুল্লাহ বিন লাহিআহ। তিনি যদিও মুসলিমের রাবী; কিন্তু তাঁর গ্রহণযোগ্যতার বিষয়ে মুহাদ্দিসগণের আপত্তি রয়েছে। ইমাম ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন: كان ضعيفا لا يحتج بحديثه “তিনি জঈফ, তার হাদীস দলীলযোগ্য নয়”। ইমাম নাসাঈ রহ. বলেন: ليس بثقة “তিনি নির্ভরযোগ্য নন”। ইবনে আবী হাতিম বলেন: سألت أبى وأبا زرعة عن الإفريقى و ابن لهيعة: أيهما أحب إليك ؟ فقالا: جميعا ضعيفان “আমি আমার পিতা আবু হাতিম এবং আবু যুরআকে জিজ্ঞেস করলাম: আব্দুল্লাহ বিন লাহিআহ এবং আফরিকী এ দুজনের মধ্যে আপনার নিকটে কে প্রিয়? তিনি বললেন: দুজনই জঈফ”। (তাহজীবুল কামাল ও তাহজীবুত তাহজীব থেকে সংগৃহীত) ইমাম জাহাবী বলেন: قلت: العمل على تضعيف حديثه “তাঁর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হলো তাঁর হাদীসকে জঈফ গণনা করা”। (আল কাশেফ: ২৯৩৪) অবশ্য আব্দুল্লাহ বিন মুবারক ও আব্দুল্লাহ বিন ওয়াহহাব রহ. ইবনে লাহিআ থেকে যা বর্ণনা করেন তা অন্যদের বর্ণনার চেয়ে তুলনামূলক বেশী গ্রহণযোগ্য। কিন্তু উক্ত বর্ণনায় হযরত আব্দুল্লাহ বিন লাহিআ নিঃসঙ্গ হওয়ায় সে প্রাধান্যের দিকটিও দুর্বল হয়ে গেছে। হাকেম এবং ইমাম জাহাবী রহ. বলেন: تفرد به ابن لهيعة “হাদীসটি আব্দুল্লাহ বিন লাহিআ একাই বর্ণনা করেছেন”। (মুসতাদরাকে হাকেম: ১১০৮ নম্বর হাদীস ও ইমাম জাহাবীর তালখীছে) ১২ তাকবীরে ঈদের নামায পড়ার হাদীস আরও বর্ণিত আছে আবু দাউদ: ১১৫১ ও ১১৫২ নম্বর হাদীসে। এ দু’টি হাদীসের বর্ণনায় রয়েছে আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান তায়েফী। অধিকাংশ মুহাদ্দিস তাঁর বর্ণনা গ্রহণ করেছেন। কিন্তু তাঁর ব্যাপারে কিছু মুহাদ্দিসীনে কিরামের আপত্তি রয়েছে। عن ابن معين : ضعيف “হযরত ইয়াহইয়া বিন মাঈন রহ. বলেন: তিনি জঈফ”। আবু হাতিম বলেন: ليس بقوى ، لين الحديث “তিনি শক্তিশালী নন, হাদীস বর্ণনার ক্ষেত্রে নরম”। ইমাম নাসাঈ বলেন: ليس بذاك القوى و يكتب حديثه “তিনি তেমন মজবুত নন। তবে তাঁর হাদীস লেখার যোগ্য”। উপরোক্ত তথ্যের দ্বারা ইবনে লাহিআ বা আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান তায়েফী রহ. বর্ণিত হাদীসকে অগ্রহণযোগ্য বলা আমার উদ্দেশ্য নয়; বরং এটা দেখানো উদ্দেশ্য যে, ইবনে লাহিআ ও আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান তায়েফীর মাধ্যমে বর্ণিত ১২ তাকবীরে ঈদের নামায পড়ার হাদীসের তুলনায় পূর্ববর্ণিত ৬ তাকবীরে ঈদের নামায পড়ার হাদীস তুলনামূলক বেশী শক্তিশালী। এ কারণে অনেকেই ৬ তাকবীরে ঈদের নামায পড়ার আমলকে উত্তম মনে করে থাকেন । তবে ১২ তাকবীরে ঈদের নামায পড়ার আমল ও শতভাগ বৈধ। ১২ তাকবীরে ঈদের নামায পড়ার হাদীসগুলোও সহীহ সনদে বর্ণিত । আসুন আমরা দলাদলি ছেড়ে এক হই,নেক হই , ঐক্যবদ্ধ হয়ে ইসলামের রজ্জুকে একত্র ধারণ করি । ফতোয়ার রেষারেষী ভুলে যাই ।আল্লাহ আমাদের তার খাঁটি গোলাম হিসাবে কবুল করুন ।আমিন । ছুম্মা আমিন ।।
প্রসঙ্গঃ #ঈদের_নামাজের_তাকবীর_সংখ্যা ঈদের সালাত সুন্নত বা মতভেদে ওয়াজিব(ফরজে কেফায়া) একটি ইবাদত। আর এর তাকবীর সংখ্যা নিয়ে দলাদলি,হানাহানি,হিসা- বিদ্বেষ,ঘৃনার অন্ত নেই। এজাতীয় তৎপরতা বা মনোভাব হারাম এবং কখনই ইসলাম এসব সমর্থন করে না ।তাই এ বিষয়ে সতর্ক থাকা প্রত্যেক মু’মিনের অবশ্য কর্তব্য ৷ইবাদতে সন্দেহ-সংশয় সৃষ্টি করার ফলে সমাজে ইবাদত বিমুখতা বৃদ্ধি পায় ।যারা ইবাদতে সন্দেহ তৈরী করার চেষ্টা করে, সে সকল শায়খ/মাদানী থেকে দূরে থাকা সকলের উচিৎ ৷কেননা,আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’য়ালার নির্দেশ হলোঃ‘এমন ব্যক্তির আনুগত্য কর না যার মনকে আমি আমার স্মরণ থেকে অমনোযোগী করে দিয়েছি, যে তার প্রবৃত্তির অনুসরণ করে এবং যার কাজ হলো বাড়াবাড়ি ও সীমা লঙ্ঘন করা।’ (সূরা কাহ্ফ : ২৮)
ইসলাম ধর্মে, রাসুল হলেন আল্লাহ্ প্রেরিত বার্তাবাহী ব্যক্তিত্ব।
রাসূল বলতে তাদেরকেই বোঝানো হয় যারা আল্লাহ্র কাছ থেকে কিতাব বা পুস্তক
প্রাপ্ত হয়েছেন।
হাদিসসহ অন্যান্য ইসলামী বইয়ে এক লক্ষ চব্বিশ হাজার মতান্তরে দুই লক্ষ
চব্বিশ হাজার নবীর কথা বলা হয়েছে। এদের মাঝে সকলে কিতাব প্রাপ্ত হয়নি।
যারা কিতাব প্রাপ্ত হয়েছেন তারাই শুধু রাসূলের খেতাব পেয়েছেন।
অর্থাৎ সকল রাসূলই নবী কিন্তু সকল নবী রাসূল নয়। কোরআন অনুযায়ী,
আল্লাহ্ মানবজাতির নিকট বহু নবী রাসুল (আনবিয়া, একবচন নাবী) প্রেরণ
করেছেন।
সব নবী-রাসুলের কোনো না কোনো পেশা ছিল, তাঁরা অন্যের ওপর নির্ভরশীল হতেন
না। বরং স্বীয় হস্তে অর্জিত জিনিস ভক্ষণ করাকে পছন্দ করতেন। মহানবী
(সা.)-কে প্রশ্ন করা হয়েছিল, কোন ধরনের উপার্জন উত্তম ও শ্রেষ্ঠ?
তিনি প্রত্যুত্তরে বলেন, ব্যক্তির নিজ হাতে কাজ করা এবং সৎ ব্যবসা।
(সুয়ুতি আদদুররুল মানসুর, খণ্ড ৬, পৃষ্ঠা ২২০) রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,
‘হালাল রুজি অর্জন করা ফরজের পর একটি ফরজ।’ (সহিহ বুখারি ও মুসলিম)
ঈসা (আ.) এক ব্যক্তিকে অসময়ে ইবাদাতখানায় দেখে প্রশ্ন করলেন, তুমি এখানে
বসে ইবাদত করছ, তোমার রিজিকের ব্যবস্থা কে করে? লোকটি বলল, আমার ভাই আমার
রিজিকের ব্যবস্থা করে।
ঈসা (আ.) তাকে বলেন, সে তোমার চেয়ে অনেক উত্তম। (হেদায়াতুল মুরশিদিন)।
কবির ভাষায়, ‘নবীর শিক্ষা কোরো না ভিক্ষা, মেহনত করো সবে।’ নবী-রাসুলরা
হলেন পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মানব। তাঁরা স্বহস্তে অর্জিত সম্পদে জীবিকা নির্বাহ
করতেন।
আদম (আ.) ছিলেন একজন কৃষক। তিনি চাষাবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। তাঁর
ছেলেদের পেশাও ছিল চাষাবাদ। তা ছাড়া তিনি তাঁতের কাজও করতেন।
কারো কারো মতে, তাঁর পুত্র হাবিল পশু পালন করতেন। কৃষিকাজের যন্ত্রপাতির
নাম আল্লাহ তাআলা তাঁকে শিক্ষা দিয়েছেন। যেমন—আল্লাহর বাণী, ‘আর আল্লাহ
আদমকে সব নামের জ্ঞান দান করেছেন।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ৩১)
শিস (আ.)ও কৃষক ছিলেন। তাঁর পৌত্র মাহলাইল সর্বপ্রথম গাছ কেটে জ্বালানি
কাজে ব্যবহার করেন। তিনি শহর, নগর ও বড় বড় কিল্লা তৈরি করেছেন। তিনি বাবেল
শহর প্রতিষ্ঠা করেছেন। (ইবনে কাসির)
ইদরিস (আ.)-এর পেশা ছিল কাপড় সেলাই করা। কাপড় সেলাই করে যে অর্থ উপার্জন
করতেন, তা দিয়ে তিনি জীবিকা নির্বাহ করতেন। ইদরিস শব্দটি দিরাসা শব্দ থেকে
নির্গত।
তিনি বেশি পরিমাণে সহিফা পাঠ করতেন বলে তাঁকে ইদরিস বলা হয়। পড়াশোনার
প্রথা তাঁর সময় থেকে চালু হয়। একদল পণ্ডিত মনে করেন, হিকমত ও
জ্যোতির্বিদ্যার জন্ম ইদরিস (আ.)-এর সময়ই হয়েছিল।
নুহ (আ.) ছিলেন কাঠমিস্ত্রি। আল্লাহ তাআলা তাঁকে নৌকা তৈরির কলাকৌশল
শিক্ষা দিয়েছিলেন এবং আল্লাহর নির্দেশে তিনি নৌকা তৈরি করেছিলেন।
আল্লাহর বাণী—‘আর তুমি আমার তত্ত্বাবধানে ও আমার ওহি অনুযায়ী নৌকা
নির্মাণ করো।’ (সুরা : হুদ, আয়াত : ৩৭) তিনি ৩০০ হাত দীর্ঘ, ৫০ হাত প্রস্থ,
৩০ হাত উচ্চতাসম্পন্ন একটি বিশাল নৌকা তৈরি করেন।
হুদ (আ.)-এর জীবনী পাঠান্তে জানা যায় যে তাঁর পেশা ছিল ব্যবসা ও পশু পালন। ব্যবসা ও পশু পালন করে তিনি জীবিকা নির্বাহ করতেন।
সালেহ (আ.)-এর পেশাও ছিল ব্যবসা ও পশু পালন।
লুত (আ.)-এর সম্প্রদায়ের লোকেরা চাষাবাদের সঙ্গে জড়িত ছিল। এতে
প্রতীয়মান হয় যে তিনিও জীবিকা নির্বাহের ব্যবস্থা করতেন চাষাবাদের মাধ্যমে।
ইবরাহিম (আ.)-এর জীবনী পাঠান্তে জানা যায় যে তিনি জীবিকা নির্বাহের জন্য কখনো ব্যবসা, আবার কখনো পশু পালন করতেন।
ইসমাইল (আ.) পশু শিকার করতেন। তিনি ও তাঁর পিতা উভয়ই ছিলেন রাজমিস্ত্রি। পিতা-পুত্র মিলে আল্লাহর ঘর তৈরি করেছিলেন।
ইয়াকুব (আ.)-এর পেশা ছিল ব্যবসা, কৃষিকাজ করা ও পশু পালন।
ইউসুফ (আ.) রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বেতন হিসেবে রাষ্ট্রীয়
অর্থ গ্রহণ করতেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘হে আমার রব! আপনি আমাকে রাষ্ট্রক্ষমতা দান
করেছেন।’ (সুরা : ইউসুফ, আয়াত : ১০১)
শোয়াইব (আ.)-এর পেশা ছিল পশু পালন ও দুধ বিক্রি। পশু পালন ও দুধ বিক্রি
করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। তাঁর কন্যারা চারণভূমিতে পশু চরাতেন।
দাউদ (আ.) ছিলেন রাজা ও নবী। সহিহ বুখারির ব্যবসা অধ্যায়ে রয়েছে যে দাউদ
(আ.) নিজ হাতে উপার্জন করে খেতেন। তিনি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেছেন, হে
আল্লাহ! এমন একটি উপায় আমার জন্য বের করে দিন, যেন আমি নিজ হাতে উপার্জন
করতে পারি।
অতঃপর তাঁর দোয়া কবুল হয় এবং আল্লাহ তাআলা তাঁকে লোহা দ্বারা বর্ম ও
অস্ত্রশস্ত্র তৈরি করার কৌশল শিক্ষা দেন। শক্ত ও কঠিন লোহা স্পর্শ করলে তা
নরম হয়ে যেত। যুদ্ধাস্ত্র, লৌহ বর্ম ও দেহবস্ত্র প্রস্তুত করা ছিল তাঁর
পেশা। এগুলো বিক্রি করে তিনি জীবিকা নির্বাহ করতেন।
সোলায়মান (আ.) ছিলেন সমগ্র পৃথিবীর শাসক ও নবী। তিনি তাঁর পিতা থেকে
অঢেল ধন-সম্পদের মালিক হয়েছিলেন। তিনি নিজেও অঢেল সম্পদের মালিক ছিলেন।
ভিন্ন পেশা গ্রহণ করার চেয়ে নিজ সম্পদ রক্ষা ও তদারকি করাই ছিল তাঁর
প্রদান দায়িত্ব। মানব-দানব, পশু-পাখি, বাতাস ইত্যাদির ওপর তাঁর কর্তৃত্ব
ছিল। তাঁর সাথি ঈসা ইবনে বরখিয়া চোখের পলক ফেলার আগে বিলকিসের সিংহাসন
সোলায়মান (আ.)-এর সামনে এনে হাজির করেন।
মুসা (আ.) ছিলেন একজন রাখাল। তিনি শ্বশুরালয়ে মাদায়েনে পশু চরাতেন।
সিনাই পর্বতের পাদদেশে বিরাট চারণভূমি মাদায়েনের অন্তর্ভুক্ত ছিল। লোকজন
সেখানে পশু চরাত। তাদের মধ্যে একজন ছিলেন মুসা (আ.)। আট বছর তিনি স্বীয়
শ্বশুর শোয়াইব (আ.)-এর পশু চরিয়েছেন।
হারুন (আ.)-এর পেশাও ছিল পশু পালন। পশু পালন করে তিনি জীবিকা নির্বাহ করতেন।
ইলিয়াস (আ.)-এর পেশাও ছিল ব্যবসা ও পশু পালন।
আইউব (আ.)-এর পেশা ছিল গবাদি পশু পালন। তাঁর প্রথম পরীক্ষাটি ছিল গবাদি
পশুর ওপর। ডাকাতরা তাঁর পশুগুলো লুট করে নিয়ে গিয়েছিল। (আনওয়ারে আম্বিয়া,
ই. ফা. বাংলাদেশ)
ইউনুস (আ.)-এর গোত্রের পেশা ছিল চাষাবাদ। সুতরাং কারো কারো মতে, তাঁর পেশাও ছিল চাষাবাদ।
জাকারিয়া (আ.) ছিলেন কাঠমিস্ত্রি। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত আছে যে
মহানবী (সা.) বলেছেন, জাকারিয়া (আ.) কাঠমিস্ত্রির কাজ করতেন। তাই তাঁর
শত্রুরা তাঁর করাত দিয়েই তাঁকে দ্বিখণ্ডিত করে। (সহিহ বুখারি)
ইয়াহইয়া (আ.) প্রসঙ্গে বর্ণিত আছে যে তিনি জীবনের একটি সময় জঙ্গলে ও
জনহীন স্থানে কাটিয়েছিলেন। আহার হিসেবে তিনি বৃক্ষের লতাপাতা ভক্ষণ করতেন।
(আনওয়ারে আম্বিয়া)
জুলকিফল (আ.)-এর পেশা ছিল পশু পালন।
ইয়াসা (আ.)-এর পেশা ছিল ব্যবসা ও পশু পালন।
ঈসা (আ.) ও মরিয়ম (আ.)-এর আবাসস্থল প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন,
‘আমি তাদের উভয়কে এক উচ্চ ভূমি প্রদান করেছিলাম, যা সুজলা ও বাসযোগ্য ছিল।’
(সুরা : আল মুমিনুন, আয়াত : ৫০)
এই উচ্চ ভূমি হলো ফিলিস্তিন। তিনি ফিলিস্তিনে উৎপন্ন ফলমূল খেয়ে বড়
হয়েছেন। তিনি ঘুরে ঘুরে অলিতে-গলিতে দ্বিনের দাওয়াতি কাজ করতেন। যেখানে রাত
হতো, সেখানে খেয়ে না খেয়ে নিদ্রা যেতেন। তাঁর নির্দিষ্ট কোনো পেশা ছিল না।
মহানবী (সা.) ছিলেন একজন সফল ও সৎ ব্যবসায়ী। তিনি ইরশাদ করেছেন, ‘সৎ ও
আমানতদার ব্যবসায়ীদের হাশর হবে নবী, সিদ্দিক ও শহীদদের সঙ্গে।’ (আদ্দুররুল
মানসুর, ষষ্ঠ খণ্ড, পৃষ্ঠা ২২০) তিনি গৃহের কাজ নিজ হাতে করতেন। বকরির দুধ
দোহন করতেন।
নিজের জুতা ও কাপড় সেলাই ও ধোলাই করতেন, গৃহ ঝাড়ু দিতেন। মসজিদে নববী
নির্মাণকালে শ্রমিকের মতো কাজ করেছেন। খন্দকের যুদ্ধে মাটি কেটেছেন। বাজার
থেকে প্রয়োজনীয় দ্রব্য ক্রয় করতেন।
তিনি ইরশাদ করেন, ‘বর্শার ছায়ার নিচে আমার রিজিক নির্ধারণ করা হয়েছে—তথা
গণিমতের মাল হলো আমার রিজিক।’ (কুরতুবি, ১৩তম খণ্ড, পৃষ্ঠা ১২)
নবী-রাসুলদের চিরন্তন বৈশিষ্ট্য এই যে বৈষয়িক ধন-সম্পদের প্রতি তাঁদের
কোনো আকর্ষণ ছিল না। তাঁরা কখনো ধন-সম্পদ সঞ্চয় করতেন না এবং সঞ্চয় করা
পছন্দও করতেন না।
তথাপি যেহেতু তাঁরা মানুষ ছিলেন, সেহেতু বৈষয়িক প্রয়োজনে যতটুকু জীবিকা
নির্বাহের জন্য প্রয়োজন, ততটুকু সম্পদ অর্জনে বিভিন্ন পেশা গ্রহণ করেছেন।
সদা-সর্বদা নিজেদের কষ্টার্জিত সম্পদ থেকে ভক্ষণ করা পছন্দ করতেন।
মানুষদের থেকে কখনো তাঁরা নজর-নেওয়াজ, এমনকি বেতনও গ্রহণ করতেন না। বরং
যথাসম্ভব নিজেদের উপার্জন থেকে গরিব ও দুস্থদের সাহায্য করতেন। সব
নবী-রাসুল ছাগল চরাতেন।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘এমন কোনো নবী নেই, যিনি ছাগল চরাননি।’ জনৈক
সাহাবি প্রশ্ন করেন, হে আল্লাহর রাসুল! আপনিও কি ছাগল চরিয়েছেন?
প্রত্যুত্তরে রাসুল (সা.) বলেন, ‘হ্যাঁ, আমিও মক্কায় অর্থের বিনিময়ে ছাগল
চরিয়েছি।’
বলা বাহুল্য যে মহানবী (সা.)-এর সাহাবিরা অনেকেই ব্যবসা করতেন। বিশেষ করে মুহাজিররা ছিলেন ব্যবসায়ী আর আনসাররা ছিলেন কৃষক।
জীবন বাঁচাতে রক্ত অপরিহার্য৷ দেশে কিছু স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন রক্ত সংগ্রহ
ও বিতরণ করে৷ অনেকে রক্ত উচ্চমূল্যে বিক্রিও করে ৷ কোথা থেকে আসে এই রক্ত?
জানান সন্ধানীর ঢাকা মেডিকেল কলেজ শাখার সাধারণ সম্পাদক ইহসানুল করিম
তানজিম৷
১৯৭৭ সালে ঢাকা মেডিকেলের কিছু ছাত্র এটা শুরু করেন৷ এঁদের মধ্যে মোশারফ
হোসেন মিশু ও আব্দুল কাইয়ুম স্যার উল্লেখযোগ্য৷ তাঁদেরই একজন সহপাঠী
টিফিনের টাকা ‘কালেকশন’ শুরু করেন৷ পরে ভাবেন, আর কী করা যায়? তখন রক্তদান ও
মরনোত্তর চক্ষুদানের কার্যক্রম নিয়ে তাঁরা ‘সন্ধানী’ প্রতিষ্ঠা করেন৷ ১৯৮৪
সালে কেন্দ্রীয় সন্ধানী গঠন হয়৷ পরবর্তীতে এটা সারাদেশে সরকারি ও বেসরকারি
মেডিকেল কলেজে ছড়িয়ে পড়ে৷
আমাদের একটা ‘পুল’ আছে৷ এই পুলে মেডিকেলের বাইরেও অনেকে আছেন৷ মেডিকেলের
হিসাবটা যদি বলি, তাহলে প্রতিটি মেডিকেলে অন্তত ৫০০ জন আছেন৷ এই হিসেবে
শুধু মেডিকেলের শিক্ষার্থীই আছেন ৪ থেকে ৫ হাজার৷ এর বাইরে প্রতিটি
মেডিকেলে সন্ধানী বাইরে থেকে ‘ব্লাড’ সংগ্রহ করে৷ সেই পুলেও প্রতিটি
মেডিকেলে অন্তত ৩ থেকে ৪শ’ জন মানুষ আছেন৷
আমি যখন মেডিকেলে ভর্তি হই, তখন একদিন আমি আমার মায়ের সঙ্গে কথা
বলছিলাম৷ তিনি বলছিলেন, একজন গ্রামের মহিলার মেয়ে নাকি অসুস্থ৷ তার
সার্জারির জন্য রক্ত দরকার৷ কিন্তু তিনি তো গ্রামের অশিক্ষিত মানুষ৷ তাই
কোথায় রক্ত পাবেন? আমাদের দেশে তো তখনো এমনসচেতনা সৃষ্টি হয়নি যে, মানুষ
স্বেচ্ছায় এসে রক্ত দেবে৷ এর জন্য তো একটা মিডিয়ার প্রয়োজন৷ আমি দেখলাম,
সন্ধানী সেই কাজটাই করছে৷ তখন আমি সন্ধানীর সঙ্গে যুক্ত হলাম৷ আমাদের দেশে
তো অনেক মানুষ নিজের ব্লাড গ্রুপও জানেন না৷ সন্ধানী এই কাজটি করে যাচ্ছে৷
অনুপ্রেরণা অবশ্যই আমাদের প্রতিষ্ঠাতারা৷ মোশারফ হোসেন, আব্দুল কাইয়ুম
স্যারসহ অনেকেই৷ তাঁরা ঢাকা মেডিকেলের ছাত্র ছিলেন৷ এছাড়া ডা. দীপু মনি আপা
ছিলেন৷ তিনি ঢাকা মেডিকেলের সেক্রেটারি ও সভাপতি ছিলেন৷ স্বাস্থ্য
অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল কালাম আজাদ৷ তিনি সন্ধানীর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি
ছিলেন৷ এছাড়া সিনিয়ররা যাঁরা ছিলেন, তাঁদের জীবনে সন্ধানীর এই অভিজ্ঞতা
কাজে লেগেছে৷ মানুষের সেবা করার অনুপ্রেরণা তাঁরাই মূলত আমাদের যোগান
দিয়েছেন৷
সন্ধানী ছাড়া স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের মধ্যে পুলিশ ব্লাড ব্যাংক আছে, বাঁধন
আছে – এটা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে৷ এছাড়া রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি আছে৷ আবার
যারা টাকার বিনিময়ে রক্ত সংগ্রহ করতে চায়, তাদের মধ্যে কোয়ান্টাম আছে৷
ঢাকার মধ্যে ছোট-খাট অনেক সংগঠন আছে৷ আমার ধারণা, মোট ৩৫টি সংগঠন আছে৷
আসলে মানুষ বিভিন্ন সংগঠনকে নানাভাবে দেখে৷ যেমন ধরুন বাঁধন বা সন্ধানী৷
এটা তো ছাত্ররাই করে৷ ছাত্রদের তো ন্যায়-নীতির ভিত্তিতে করা ছাড়া আর কী
উপায় আছে? এর বাইরে যে সংগঠনগুলো আছে, তারা আসলে নীতি অনুযায়ী করছে কিনা,
সেটা বলা মুশকিল৷ তারা নীতির কথা বলছে, কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে টাকা-পয়সা
নেওয়ার অভিযোগও পাওয়া যাচ্ছে৷ যেখানে এক ব্যাগ রক্তের দাম সব খরচ মিলিয়ে
৪০০ টাকার বেশি হওয়ার কথা নয়, সেখানে তারা এক ব্যাগ রক্তের জন্য ৩ থেকে ৪
হাজার টাকাও নিচ্ছে৷ এমনকি যেসব রক্ত পাওয়া কঠিন, যেমন নেগেটিভ রক্ত,
সেগুলোর জন্য ৬ হাজার টাকা পর্যন্তও নিচ্ছে তারা৷ এগুলো দেখতে তো দৃষ্টিকটু
লাগেই৷
আমরা তো স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন৷ আমাদের কাছ থেকে কেউ যদি রক্ত নিতে চান,
তাহলে আমরা তাকে জিজ্ঞাসা করি, আপনার চেনা কেউ রক্ত দেওয়ার মতো আছে কি? যদি
থাকেন তাহলে আমরা তার কাছ থেকে এক ব্যাগ রক্ত নেই, আর তাদের এক ব্যাগ রক্ত
দেই৷ এখানে আমরা শুধু ব্যাগের দাম ও স্ক্রিনিং খরচের টাকাটা রাখি৷
এমন সংগঠন বলতে গেলে নেই৷ তবে যাঁরা একেবারেই দরিদ্র, আমরা সন্ধানীর
পক্ষ থেকে তাঁদের বিনামূল্যে রক্ত সরবরাহকরে থাকি৷ আসলে একেবারে বিনামূল্যে
রক্ত সরবরাহ করাটা কঠিন৷ কারণ আমাদের প্যাথলজি বিভাগে পরীক্ষার জন্য টাকা
দিতে হয়৷ আবার ব্যাগটাও কিনতে হয়৷ একটা ব্যাগ কিনতে দেড় থেকে দুইশ’ টাকা
লাগে৷ পাশাপাশি রক্ত সংরক্ষণের জন্য ফ্রিজেরও প্রয়োজন হয়৷
সবচেয়ে বড় সমস্যা মানুষের সচেতনতার অভাব৷ অনেক মানুষই মনে করে, রক্ত
দিলে শরীরের ক্ষতি হয়৷ আবার দেখা যায়, যাঁর রক্ত দরকার তিনি একজন স্বজনকে
নিয়ে এসেছেন৷ যদিও তাঁদের রক্তের গ্রুপের কোনো মিল নেই৷ তাহলে তিনি কীভাবে
রক্ত দেবেন? এগুলো অনেকেই বুঝতে পারেন না৷ এ কারণে বর্তমানে দেশে রক্ত
চাহিদা ৭ লাখ ব্যাগের মতো৷ এর মধ্যে সরবরাহ করা যায় মাত্র অর্ধেকের মতো৷
একজন মানুষ চারমাস পরপর রক্ত দিতে পারে৷ কিন্তু কেউ তো নিজে এসে রক্ত দেন
না৷ শিক্ষিত বা অশিক্ষিত – যেই হোক না কেন – কেউই আসেন না৷ এটার প্রয়োজনটা
নিজের পরিবারে হলে তবে তাঁরা বুঝতে পারেন৷ আসলে মানুষ এ সম্পর্কে খুব কমই
জানে৷
রক্ত দিলে উপকার হোক আর না হোক, অপকার যে হয় না, সেটা নিশ্চিত করে বলা
যায়৷ আমাদের ‘মোটো’ হলো, রক্ত দিলে উপকার না হোক, কিন্তু ক্ষতি হবে না৷
আপনার শরীরের রক্ত কণিকার মধ্যে রেড সেল বা লাল রক্ত কণিকার মেয়াদ ১২০দিন৷
এরপর সেটা এমনিই নষ্ট হয়ে যায়৷ ফলে ১২০ দিন পরপর আপনি রক্ত দিলে আপনার রক্ত
যেমন কমে না, আপনার কোনো ক্ষতিও হয় না৷ আসলে রক্ত দিলে শারীরিক বা
দৈহিকভাবে আপনার ক্ষতি হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই৷
বরং কেউ যদি চার মাস পরপর রক্ত দেন, তাহলে স্ক্রিনিং-এর সময় তিনি বুঝতে
পারেন, তার কোনো ছোঁয়াচে রোগ আছে কিনা৷ তখন তিনি রোগ নির্ণয় করেচিকিৎসা
করাতে পারেন৷ অর্থাৎ এক্ষেত্রে রোগ দেহে সম্পূর্ণভাবে ছড়িয়ে পড়ার অনেক
আগে৷ আর এরজন্য আপনার কোনো খরচও করতে হচ্ছে না৷ যে সংগঠন আপনার রক্ত
নিচ্ছে, তারাই কিন্তু স্ক্রিনিংয়ের পর আপনাকে বলে দিচ্ছে আপনার কী কী ধরনের
রোগ আছে৷ এছাড়া এতে করে মানবিকতা, নৈতিকতা বা মূল্যবোধও যে বৃদ্ধি পায়, তা
বলাই বাহুল্য৷
আগেই বলছিলাম, মানুষের সচেতনতার অভাবের কথা৷ দেখুন, আমরা তো ছাত্র৷
আমাদের ব্যক্তিগত জীবনের বড় একটা সময় বিশ্ববিদ্যালয়ে কাটে৷ সমস্যা হয়, যখন
পরীক্ষা চলে৷ সেসময় যদি একজন ফোন করে বলেন, তাঁর রক্তের খুব দরকার, তখন
আমরা সংকটে পড়ে যাই৷ এ ধরনের কিছু বিপত্তিতে আমাদের পড়তে হয়৷ তবে আমার মনে
হয়, এগুলো সব দূর হয়ে যাবে যদি মানুষের সচেতনতা বাড়ে৷
প্রতিদিনের কোনো হিসেব আমাদের কাছে নেই৷ কেউ এটা করেনি৷ তবে সর্বশেষ
২০১৭ সালে একটা হিসাব হয়েছিল৷ সেখানে দেখা গেছে, প্রতি বছর সাত লাখ ব্যাগ
রক্তের প্রয়োজন হয় বাংলাদেশে৷ এর মধ্যে আমরা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো প্রায়
অর্ধেকের মতো, অর্থাৎ ৪৫ ভাগ রক্ত সরবরাহ করতে পারি৷ এর বাইরে পরিবার বা
স্বজনের কাছ থেকেও রক্ত আসে৷ সবমিলিয়ে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ ভাগ রক্ত সরবরাহ
করা যায়৷ তবে বাংলাদেশে অনেক সময়ই ‘সেফ ব্লাড’ সংগ্রহ করা হয়ে ওঠে না৷ অনেক
সংগঠনের সঙ্গে তো মাদকাসক্তরাও সম্পৃক্ত৷ তারা টাকার বিনিময়ে রক্ত দেয়৷ রোগী এটা বুঝতে পারেন না৷ এর কোনো স্ক্রিনিংও হয় না৷ ফলে এতে রোগীর ক্ষতি হয়৷ আমার জানা মতে, বর্তমানে প্রায় ১০ ভাগ রক্ত এই মাদকাসক্ত বা এ ধরনের ডোনারদের কাছ থেকেই আসছে৷
#ইতিহাসে সিপাহী বিদ্রোহ, ১৩ হাজার #আলেমের ফাঁসি আবদুল্লাহ তামিম: ইংরেজ বেনিয়াদের ভারত উপমহাদেশ থেকে তাড়ানোকে কেন্দ্র করে উনিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে যে তুমুল সংগ্রাম ফেনিয়ে ওঠে তার চূড়ান্ত পরিণতি আসে অন্তত ১৩ হাজার আলেমের ফাঁসির মধ্য দিয়ে। মোঘলদের শেষ সম্রাট বাহাদুর শাহ জাফর পরিণত হন রাজনীতির শোপিসে । শাহ ওলীউল্লাহ ও সাইয়েদ আহম শহিদ (রহ)-এর ত্যাগ-তিতিক্ষার যে ইতিহাস এর পূর্বে রচিত হয়েছে, যদিও সেটাই হলো এই ক্ষেত্রে ইংরেজ মূল ভীতির কারণ । কিন্তু ১৮৫৭ সাতান্ন সিপাহি বিদ্রোহের পর একদিকে আলেমগণ এবং অন্যদিকে ইংরেজ উভয়েই খোলাখুলি শত্রুতায় জড়িয়ে পড়েন । #সিপাহী_বিদ্রোহোর সূচনা যেভাবে ১৮৫৭ সালের বিদ্রোহকে ইংরেজরা সিপাহী বিদ্রোহ বলে চালিয়ে দেবার চেষ্টা করেছে। যদিও এটা কেবল সিপাহী বিদ্রোহ ছিলো না, সর্বস্তরের জনগণেরও বিদ্রোহ ছিলো । ভারতে ইংরেজের শাসনের বিরুদ্ধে ধূমায়িত আক্রোশের এটাই ছিলো প্রথম বিস্ফোরণ। এ বিদ্রোহে মুসলমানের সাথে হিন্দু সমাজের বিরাট অংশও যোগ দেয়। কেবল বাংলার হিন্দুরাই একমাত্র ইংরেজের পক্ষালম্বন করে বিশেষ কৃপা পাবার আশায় । সিপাহীদের বিদ্রোহের সবচেয়ে বড় কারণ ছিলো কার্তুজে শুয়োরের চর্বি ব্যবহার সম্পর্কিত গুজব। কেননা, কার্তুজ তাদের ছিঁড়তে হতো দাঁত দিয়ে । ফলে মুসলমান-হিন্দু সকল সিপাহী ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে স্বাভাবিকভাবে । ১৮৫৭ সালের ২ জানুয়ারী দমদম থেকে শুরু হয় এবং ফেব্রুয়ারীতে কোলকাতা থেকে ১৬ মাইল দূরে বারাকপুর সেনানিবাসে মংগল পাণ্ডে নামক এক হিন্দু সৈনিক এক ইংরেজ সার্জেন্ট মেজরের ওপর গুলী চালিয়ে এই বিদ্রোহের উদ্বোধন করে। তারপর মিরাঠে অবস্থিত সবচে’ বড় সেনানিবাসে বিদ্রোহের আগুন জ্বলে ওঠে। বিদ্রোহী সৈন্যরা দিল্লীর দিকে মার্চ করতে শুরু করে, যেখানে ছিলেন ক্ষমতাহীন শেষ মোঘল বাদশাহ বাহাদুর শাহ জাফর। (উলামায়ে হিন্দ কা শানদার মাযী, খ. ৪, পৃ. ২৫০) ভারতের থানভবনে আলেমদের মোর্চা সেনা বিদ্রোহের কারণে চতুর্দিকে আইন-শৃংখলার চরম অবনতি দেখা দিলে এবং ইংরেজ শাসকরাও ভীতি ও আতংকের মধ্যে অবস্থান করতে তখন সাহারানপুরের ইংরেজ কালেকটর মি. স্প্যাংকির একটি চক্রান্তমূলক পদক্ষেপ নেন। বিনা দোষে তিনি থানাভবনের প্রভাবশালী রইসের ছোট ভাই কাজী আবদুর রহীম ও তার দলবলকে সাজানো মামলায় ইংরেজ সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী ঘোষণা করে তড়িঘড়ি ফাঁসিকাষ্ঠে ঝুলায়। এ ঘটনায় থানাভবন, নান্নুতা ও চারদিকের থানাগুলোর জনতা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। তাছাড়া এসব এলাকার সকল প্রতিষ্ঠিত ও মশহুর আলেমের মুরব্বী হাজী ইমদাদুল্লাহ মুহাজির মক্কীর বাসস্থানও ছিল এখানে। শহীদ কাজী আবদুর রহীমের বড় ভাই কাজী ইনায়েত আলী খান এসময় জনগণের বিক্ষোভের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন। পরিস্থিতিতে করণীয় সম্পর্কে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার জন্য ওলামায়ে কেরাম জরুরী বৈঠকে বসেন । কাসেম নানুতবী এলেন নানুতা থেকে এবং মওলানা মুহাম্মদ ইয়াকুব সাহারানপুর থেকে । রহমতুল্লাহ কিরানভীকে দিল্লীর সঠিক অবস্থা জানার জন্য সেখানে পাঠানো হয়েছিল। তিনি ফিরে এসে বৃদ্ধ বাদশাহ ও তার শাহজাদাদের অনভিজ্ঞতার রিপোর্ট পেশ করেন। প্রথম বৈঠকে সাইয়েদ আহমদ শহীদ প্রবর্তিত এ যাবত যে সংস্কারমূলক ও রাজনৈতিক দলীয় ব্যবস্থাপনা চলে আসছিল তাকে একটি রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনার রূপ দেবার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় । হযরত হাজী ইমদাদুল্লাহ সাহেবকে এই রাষ্ট্র ব্যবস্থার ‘আমীর’ নির্বাচন করা হলো। মওলানা মুহাম্মদ কাসেম, মওলানা রশীদ আহমদ, হাফেজ যামেন, মওলানা মুহাম্মদ মুনীরের ন্যায় নেতৃবৃন্দকে সেনাবাহিনী, প্রতিরক্ষা, আইন-শৃংখলা ও বিচার বিভাগ ইত্যাদি পরিচালনার দায়িত্বে নিযুক্ত করা হয়।৩ এই সংগে বাদশাহর একান্ত সহচর নওয়াব শের আলী মুরাদাবাদীকে বাদশাহর কাছে পাঠানো হলো যথাযথভাবে আইন-শৃংখলা প্রতিষ্ঠিত রাখার এবং তাদের সাথে সহযোগিতা করার বার্তা দিয়ে। (সাওয়ানেহে কাসেমী, খণ্ড ২, পৃ. ১০৫) মওলানা মানাযির আহসান গীলানী লিখেছেন, ‘বাদশাহকে শামেলীর ওপর আক্রমণ পরিচালনা করতে উদ্বুদ্ধ করার জন্য শের আলী সাহেবকে বাদশাহর কাছে পাঠানো হয়েছিল।’ কারণ ইতিপূর্বে বাদশাহর ইনকিলাবী ফৌজকে নেতৃত্ব দান করে শাহী জুলুস সহকারে ১২ মে দিল্লী শহর পরিভ্রমণ করেছিলেন। বড় বড় বাজার খোলার ব্যবস্থা করেছিল এবং জনগনকে শান্তি ও নিরাপত্তা দানের ওয়াদা করেছিলেন। কাজেই শামেলীতে ওলামা গ্রুপ যেভাবে মোর্চা গঠন করে হাজী ইমদাদুল্লাহর নেতৃত্বে স্বাধীনতার ঝাণ্ডা উঁচু করেছিলেন তার ফলে দিল্লী থেকে বাদশাহর নেতৃত্বে ইনকিলাবী ফৌজ এদিকে আক্রমণ পরিচালনা করলে দিল্লী থেকে নিয়ে এই পুরো এলাকাটাই ইংরেজ দখল ও শাসনমুক্ত হয়ে যেতে পারে। (মওলানা মুহাম্দ কাসেমের জীবন কথা, খ. ২, পৃ. ১৩৭) আলেমেদের দিল্লি যাত্রা নানা আলোচনা ও পর্যালোচনার পরে হাজী সাহেবের হাতে সকল আলেম জিহাদের বাইআত গ্রহণ করেন। অর্থাৎ প্রথমে হাজী সাহেবকে আমির করা হয়েছিল এলাকার শাসন পরিচালনা করার জন্য। এবার তার হাতে বাইআত করলেন জানমাল কুরবানী করার জন্য। প্রশ্ন ওঠে তাদের গঠিত বাহিনী যাবে কোনদিকে? দিল্লীর দিকে মার্চ করাই ছিল স্বাভাবিক। কাজেই দীন ও স্বদেশভূমির এই প্রাণ উৎসর্গকারী দল জীবন বাজি রেখে একটি সুসংগঠিত শক্তির সাথে মোকাবিলা করার জন্য নিজেদের বাড়িঘর ছেড়ে বের হয়ে পড়েন। প্রথমে তারা শামেলী হয়ে দিল্লী যাবার জন্য এগিয়ে যান। ধ্বনি ওঠে, দিল্লী চলো। (সাওয়ানেহে কাসেমী, খ. ২, পৃ. ১২৯) তেরো হাজার আলেম ফাঁসি হলো যেভাবে ইংরেজের ভাষায় থানাভবন এই আলেম নেতৃবর্গ ইংরেজের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করার ক্ষেত্রে এমন কোনো অপরাধ নেই যা করেনি। তারা থানাভবনে শের আলীর বাগানে হামলা করে ইংরেজ সেনাদলকে পরাজিত করছে, তাদের কমান্ডারকে হত্যা করছে, তোপ ছিনিয়ে নিয়েছে, তারপর শামেলিতে আক্রমণ করে সেনাবাহিনীকে পরাজিত করেছে, সরকারি ইমারত ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছে, নিজেদের স্বাধীন সরকার প্রতিষ্ঠিত করেছে ইত্যাদি। সুতরাং ইংরেজরা চাইছিলো আলেমদের হাতির পদতলে পিষে মারতে বা সাগর পাড়ে দেশান্তর করতে । যদিও এই সমস্ত বিদ্রোহাত্মক কর্মকাণ্ড সত্ত্বেও কতিপয় আলেমের প্রাণে বেঁচে যাওয়াটা ছিলো অনেকটা অলৌকিক ব্যাপার । অবশ্য পরে তাদের কেউ কেউ গ্রেফতার হয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে মামলাও হয়েছে। সময় তাদের অনুকূল ছিল না। ইংরেজরাও তাদের শত্রুকে চিনতে ভুল করেনি। ফলে সারা দেশে প্রায় তেরো হাজার আলেমকে ফাঁসিকাষ্ঠে ঝুলানো হয়। এডওয়ার্ড টমাস দিল্লী শহরের হৃদয়বিদারক ঘটনাবলীর বিস্তারিত বিবরণ দিয়ে লিখেছেন, একমাত্র দিল্লী শহরে পাঁচশো শ্রেষ্ঠ আলেমকে শুলবিদ্ধ করা হয়েছিল। জল্লাদদের বাধ্য করা হতো যাতে তারা বেশি সময় পর্যন্ত লাশ শূলের ওপর টাঙিয়ে রাখে। ময়দানে প্রতিষ্ঠিত শূলদণ্ডগুলো থেকে বারবার লাশ নামানো হচ্ছিল। আর তা দেখে সাম্রাজ্যবাদী শাসক ইংরেজদের কলিজা ঠাণ্ডা হচ্ছিলো। [সাওয়ানেহে উমরী, মওলানা মুহাম্মদ কাসেম, লেখক মওলানা মুহাম্মদ ইয়াকুব] সন্দেহ নেই সিপাহী বিদ্রোহ ছিলো একটি উপলক্ষ মাত্র। আসলে শাহ ওলীউল্লাহর নতুন ও বিপ্লবী ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী সমগ্র উপমহাদেশে ইসলামী পুনরুজ্জীবনের যে কার্যক্রম শুরু হয় এবং যাতে নেতৃত্ব দেন তার সুযোগ্য পুত্র শাহ আবদুল আজিজ মুহাদ্দিস দেহলবী। তারই সূত্র ধরে সারা ভারতে আলেম সমাজের মধ্যে ইসলামী জ্ঞান চর্চা বৃদ্ধি পায়। ইসলামকে তারা উনিশ শতকের ভারতবর্ষের জাতি-বর্ণ নির্বিশেষ সকল মানুষের জন্য রাজতন্ত্রের পরিবর্তে একটি পরামর্শভিত্তিক যথার্থ সামাজিক ও অর্থনৈতিক ইনসাফপূর্ণ নিয়ম হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করার প্রচেষ্টা চালাচ্ছিলেন। আর ধীরে ধীরে তারা সফলকাম হচ্ছিলেন। আজ গোটা ভারতবর্ষ জুড়ে তাদেরই দাওয়াতের দীপ্ত দেখা যায়।
কোন এক মহাসাগরের গভীরে নির্মিত এক সুরম্য প্রাসাদের অভ্যন্তরে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে…. .
বিশাল চারকোণা টেবিলের চতুর্দিকে উৎসুক মুখগুলো চেয়ে আছে টেবিলের অপর
প্রান্তে। কালো আলখেল্লা পরে আসনে উপবিষ্ট হল শয়তান সর্দার। বাৎসরিক
রিপোর্ট গ্রহণের দিন আজ…. বিভিন্ন বিভাগে দায়িত্বরত ডেপুটি শয়তানরা
তাদের রিপোর্ট পেশ করতে এসেছে। রিপোর্ট গ্রহণ শুরু হল। . শয়তান সর্দার: ডেপুটি ওয়াহদা, আপনার রিপোর্ট পেশ করুন। . ডেপুটি ওয়াহদা: মহামান্য শয়তান, আমার টিম গত এক বছরে ১৩ হাজার তরুণ তরুণীকে সালাহ হতে বিরত রেখেছে। . শয়তান সর্দার: মারহাবা! তোমরা কি কি কৌশল অবলম্বন করেছ? .
ডেপুটি শয়তান: আমাদের বেশ কিছু নতুন কৌশল সফল হয়েছে, আরো কিছু
পরীক্ষামূলক পর্যায়ে আছে। আমরা প্রথম যে কৌশল অবলম্বন করেছি, তা হল,
আধুনিকমনা তরুণদের নিকট, সালাহ, মেডিটেশন, যোগব্যায়াম প্রভৃতিকে সমতুল্য
হিসেবে তুলে ধরেছি। এরপর সালাহর তুলনায় বাকি দুইটিকে চটকদার মোড়কে
উপস্থাপন করেছি। ব্যাস!! আধুনিকমনা হতে গিয়ে….. (ক্রুর হাসি হাসল)….
হেহেহে! আর বুইড়াগুলারে বুঝিয়েছি, সালাহ পড়লে হার্টের অসুখ ভাল হয়,
ব্লাড প্রেসার লো হয়, ফলে তারা সৃষ্টিকর্তাকে খুশি করার পরিবর্তে হার্টের
অসুখ ভাল হওয়ার জন্য সালাহ পড়েছে। এই বছর নতুন স্ট্রাটেজী ছিল এই দুইটি।
আর পরীক্ষামূলক পর্যায়ে আপাতত, আমিন আস্তে বলা, জোরে বলা, রাফাইদিন করা না
করা নিয়ে গ্যাঞ্জাম লাগানোর চেষ্টায় আছি, এতে সাধারণ মুসল্লীরা মসজিদ
বিমুখ হবে বলে আশা করছি। আর আগের “প্যান্ট নষ্ট” থিওরী এখনও চালু আছে। . শয়তান সর্দার: হুম, ভাল কাজ দেখিয়েছ। ডেপুটি ইছনানা, তোমার কি অবস্থা? . ডেপুটি ইছনানা: মহামান্য শয়তান, গত ১০ বছরের মধ্যে সর্বাধিক ব্যভিচারের রেকর্ড গড়েছি আমরা। . শয়তান সর্দার: নতুন কোন কৌশল? .
ডেপুটি ইছনানা: এই বছরে সবচেয়ে কার্যকরী কৌশল ছিল, বিভিন্ন প্রাইভেট
বিশ্ববিদ্যালয় হতে বাধ্যতামূলকভাবে ছাত্র ছাত্রীদেরকে দুই মাসের জন্য
স্টাডি ট্যুরের ব্যাবস্থা করা। যেখানে মূলত, নদীর চর, পাহাড়ী এলাকা,
বনাঞ্চলে “প্রকৃতির সাথে একাত্মতা” ক্যাম্পেইনের নামে ক্যাম্পিং করানো।
তরুণ প্রজন্ম হতে ব্যাপক সাড়া পাওয়া গেছে! . শয়তান সর্দার: Excellent!!!! আর কেউ নতুন কিছু উদ্ভাবন করেছ? . (ডেপুটি আরবাআ হাত তুলল) . শয়তান সর্দার: বল। .
ডেপুটি আরবাআ: আমরা কিছু দাঁড়িওয়ালা রোমিও আর হিজাবী জুলিয়েট সৃষ্টি
করে ইসলামের বাহ্যিকতার বিরুদ্ধে মানুষের অন্তরে ঘৃণার সৃষ্টি করতে সক্ষম
হয়েছি। . শয়তান সর্দার: Great! এই প্রকল্প নিয়ে আমরা অবশ্য অনেক
আগে থেকেই কাজ করছিলাম…….(একটু থেমে), তা আমাদের নতুন ডেপুটি, ডেপুটি
জাদীদ…. তার কি অবস্থা? আপনার রিপোর্ট কি? . (এক কোণায় নিভৃতচারে বসে থাকা ছোটখাট ডেপুটি জাদীদ কাঁচুমাচু হয়ে বলল…..) . ডেপুটি জাদীদ: আমার টিম যথাসাধ্য চেষ্টা করে এক তরুণকে বিপথগামী করেছে। .
(পুরো কনফারেন্স রুমে হাসির হুল্লোড় উঠল…. ‘মাত্র একজনকে?’, ‘হাহাহ!
এটা তো আমার বা হাতের কড়ে আঙুলের কাজ’, ‘এই রিপোর্ট নিয়ে কনফারেন্সে
এসেছে! হাহ!’) . শয়তান সর্দার হাত তুলতেই গুঞ্জন থেমে গেল। . শয়তান সর্দার: বিস্তারিত বল, শুনি। .
ডেপুটি জাদীদ: ছেলেটি ছিল সাধারণ আর দশটি তরুণের মতই। হঠাৎ সে তার
বন্ধুবান্ধবদের কাছ থেকে ইসলামের আহবান পেয়ে বেশ জোরেশোরে ইসলামের কাজ
করতে থাকে। আমরা বিভিন্ন সুন্দরী তরুণীর অফার নিয়ে, ভাল চাকরির অফার নিয়ে
বেশ কয়েকবার চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু কোনমতেই তাকে টলানো যাচ্ছিলনা।
ফেইসবুকেও সে ছিল রীতিমত সেলেব্রেটি। তার পোস্টগুলোতে শত শত লাইক পড়ত।
একদিন একটি হিজাবওয়ালা মেয়ে তাকে ইনবক্সে প্রশ্ন করে ইসলামী দলগুলোর
মধ্যে বিভক্তির কারণ জানতে চায়। সেও সোৎসাহে উত্তর দেয়। মেয়েটি সন্তুষ্ট
হয়ে তার পরের সব পোস্টে লাইক দিতে থাকে। আমরাও পেয়ে গেলাম সুযোগ। তার
অন্তরে এ ধারণা দিতে থাকলাম যে, মেয়েটি তাকে খুব পছন্দ করে। এরপর থেকে সে
প্রতিদিন মেয়েটির লাইক পাওয়ার জন্যই পোস্ট দিতে থাকে। প্রতিটি
নোটিফিকেশনে সে অধীর আগ্রহে মেয়েটির নাম খুঁজত। এরই মাঝে মেয়েটি ইনবক্সে
আরও বেশ কিছু বিষয় জানতে চায়। সেও তা জানায়। হঠাৎ একদিন মেয়েটি জানায়,
সে তাকে পছন্দ করে ফেলেছে, কিন্তু সে বিবাহিতা, সে তার ভুল বুঝতে পেরেছে
এবং সে চায় ছেলেটি যেন তাকে ব্লক করে দেয়। ছেলেটি ব্যাপারটিকে
স্বাভাবিকভাবেই নেয়, তবে সে মেয়েটিকে ব্লক করেনা। পরে মেয়েটি নিজেই তাকে
ব্লক করে দেয়। এরপর থেকেই আমাদের পরিকল্পনা শুরু। কিছুদিন পর ছেলেটি,
মেয়েটির নাম লিখে সার্চ দেয়, কিন্তু পায়না। এরপর সে অন্য একটি একাউন্ট
খুলে সার্চ দেয়, তাও পায়না। প্রতিদিন সে তাকে খুঁজে, কিন্ত পায়না।
প্রতিটা নোটিফিকেশনে সে খুঁজে মেয়েটিকে, তার অন্তরে আশা, মেয়েটি হয়ত
অন্য কোন নাম নিয়ে আসবে….. কিন্তু না, সে আর আসেনা…. এভাবে পোস্ট,
শেয়ার লাইক এসব ছেলেটির কাছে উদ্দেশ্যহীন মনে হতে থাকে। আমরা তার অন্তরে
প্ররোচনা দিলাম, তুমি তো মুনাফিকি করছ, ভাব দেখাচ্ছ ইসলামিক, অথচ পোস্ট
দিচ্ছ একটা মেয়ের জন্য! সে লজ্জা পেতে থাকে, এই লজ্জা তাকে হতাশার দিকে
নিয়ে যায়, আর এই হতাশার বৃত্ত তাকে তার স্রষ্টার প্রতি হতাশ করে দিয়েছে।
সে লজ্জায় স্রষ্টার মুখোমুখি হয়না, সে ভাবছে সে শেষ হয়ে গেছে, সে ভাবছে
আমি নিজেই যে লজ্জার কাজ করেছি, আবার কোন মুখে মানুষকে ইসলামের দিকে ডাকব?
আস্তে আস্তে সে নিজেকে গুটিয়ে নেয়, অন্যান্যদের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন
করে দেয়। আর এখন সে, হতাশা আর যন্ত্রণায়, ড্রাগস নেয়া শুরু করেছে, বেশ
কয়েকবার আত্মহত্যার চেষ্টাও করেছে… . শয়তান সর্দার: তুমি খুব
সূক্ষ্ণ চাল চেলেছ। মূলত আজকের কনফারেন্সের সবচেয়ে সফল ব্যক্তি আসলে
তুমিই। অন্যরা সবাই, কাউকে না কাউকে পাপী বানিয়েছে, কিন্তু এরা মাফ চাইলে,
ফিরে আসলে আল্লাহ এদের সবাইকে মাফ করে দিবে। আর তুমি আল্লাহর একজন প্রিয়
বান্দাকেই গাফিল করেছ, আর আল্লাহর দিকে তার ফিরে আসার পথ চিরতরের জন্য বন্ধ
করে দিয়েছ যা তাকে জাহান্নামের দিকে নিয়ে যাবে…. মূলত এটাই আমাদের
উদ্দেশ্য, এবং তুমি অত্যন্ত সফলতার সাথে তা করেছ। অন্য কেউই চূড়ান্তভাবে
জাহান্নামে নেয়ার উদ্দেশ্য অর্জন করতে পারেনি, আর তাই এ বছরের শ্রেষ্ঠ
পুরস্কার তুমিই অর্জন করতে যাচ্ছ!
হে মুসলিমেরা, অবশ্যই আমরা প্রত্যেকে জিজ্ঞাসিত হবে আমাদের এই ছোট বোনটিকে রক্ষা করার বিষয়ে। আজকে আমাদের শক্তিশালী বাহু গুলো মুসলিমদের রক্ষায় ব্যার্থ হয়েছে বলেই এই কমজোড় ভাইটি তার বোনের জীবন রক্ষায় নিজের কোমল হাত প্রসারিত করতে বাধ্য হয়েছে।
কেবলমাত্র মুসলিম নামধারী হয়ে জান্নাত
লাভের অলীক স্বপ্ন থেকে বেড়িয়ে আসুন, মুসলিম হওয়ার অর্থ সপ্তাহে একবার
জুম্মার নামাজে যাওয়া কিংবা কেবলে ৫ ওয়াক্ত সালাত, দাড়ি-টুপি পরিধান করার
করার মাঝেই সীমাবদ্ধ নয়, যখন কিনা রাসূল সাঃ বলে গিয়েছেন মুসলিমরা হচ্ছে
একটি দেহের মত যখন দেহের কোন একটি অংশ ব্যাথা পায় তখন পুরো দেহই সে ব্যাথা
অনুভব করে।