কে এই মোহাম্মদ মুরসি?

মু্ক্তির দাবিতে আয়োজিত এক বিক্ষোভে মুরসির ছবি হাতে কান্নারত এই নারীর ছবিটি বিশ্বব্যাপী আলোড়ন তোলে। ছবি: সংগৃহীত

মিশরের সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসি মারা গেছেন।

স্থানীয় সময় ১৭, জুন সোমবার দেশটির একটি আদালতে শুনানি চলাকালে বক্তব্য দেওয়ার সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মারা যান মুরসি।

মিশরের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের বরাত দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী গণমাধ্যম আল-জাজিরার খবরে বলা হয়, আদালতে শুনানির সময় মুরসি দীর্ঘ বক্তব্য দিচ্ছিলেন মুরসি। প্রায় ২০ মিনিট বক্তব্য দেওয়ার পর এজলাস কক্ষেই হঠাৎ তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। এ সময় মুরসিকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মুরসিকে মৃত ঘোষণা করে।

৬৭ বছর বয়সী মুরসি গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে করা একটি মামলায় হাজিরা দিচ্ছিলেন। ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের অভিযোগ এনে ওই মামলাটি করা হয়েছিল। এর আগে, নির্বাচনে ভুল তথ্য দেওয়ার অভিযোগে করা অপর একটি মামলায় মুরসিকে সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

মুরসি দেশটির রাজনৈতিক দল মুসলিম ব্রাদারহুডের নেতা এবং মিশরের ইতিহাসে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রথম প্রেসিডেন্ট। ২০১২ সালে অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছিলেন তিনি।

ফিলিস্তিনের ন্যায়সংগত আন্দোলনের পক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন মুরসি। ছবিতে আল আকসা মসজিদের সামনে মুরসির ছবিতে চুমু দিচ্ছে এক ফিলিস্তিনি কিশোর।

কে এই মুরসি?

মুরসির পুরো নাম  মোহাম্মদ মুরসি ইসা আল-আইয়াত। তিনি ১৯৫১ সালের ২০ আগস্ট মিশরের শারক্বিয়া প্রদেশে জন্মগ্রহণ করেন।

১৯৭৫ সালে কায়রো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৭৫ সালে প্রকৌশল বিষয়ে স্নাতক ও ১৯৭৮ সালে একই বিষয়ে সাতকোত্তর ডিগ্রী লাভ করে ওই বছরই উচ্চ শিক্ষার্থে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যান মুরসি।

১৯৮২ সালে ইউনিভার্সিটি অফ সাউথ ক্যালিফোর্নিয়াতে  মোহাম্মদ মুরসির প্রকৌশল বিষয়ে ডক্টরেট ডিগ্রী লাভ করেন এবং তিনি ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি, নর্থরিজে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেন।

পরবর্তী সময়ে ১৯৮৫ সালে মুরসি শারকিয়া প্রদেশের জাগাজিগ বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেওয়ার উদ্দেশ্যে ক্যালিফোর্নিয়ার অধ্যাপনার চাকরি ছেড়ে মিশরে চলে আসেন।

২০০০ সালে  মোহাম্মদ মুরসি প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সাংগঠনিক ভাবে তিনি মুসলিম ব্রাদারহুডের সদস্য হলেও হোসনি মুবারাকের শাসনামলে মুসলিম ব্রাদারহুড মিশরের প্রত্যক্ষ রাজনীতিতে নিষিদ্ধ ছিল। তাই তিনি সতন্ত্রভাবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। সাংসদ হিসেবে ২০০৫ সাল পর্যন্ত মিশরের সংসদে বহাল ছিলেন মুরসি। এ সময়ে তিনি মুসলিম ব্রাদারহুডের একজন নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিত্বে পরিণত হন।

ভালবাসা দাবিয়ে রাখা যায়না ।

২০১১ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি গণবিক্ষোভের মুখে হোসনি মোবারকের পতন হয়। এরইমধ্যে মুসলিম ব্রাদারহুডের রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকায় দলটির প্রত্যক্ষ সমর্থনে ‘মুসলিম ব্রাদারহুড ফ্রিডম অ্যান্ড জাস্টিস পার্টি’ (এফজেপি) নামে নতুন রাজনৈতিক দল গঠিত হলে মুরসি তার চেয়ারম্যান নিযুক্ত হন। ২০১২ সালে মে ও জুনে দুই পর্বের নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিপুল জনসমর্থনে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন মুরসি। এ সময় মুসলিম ব্রাদারহুড ও এফজেপি আনুষ্ঠানিকভাবে  মোহাম্মদ মুরসিকে ‘মিশরের সর্বস্তরের মানুষের রাষ্ট্রপতি’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

তবে ক্ষমতাগ্রহণ করেই দীর্ঘ সামরিক শাসনের যাতাকলে ক্ষয়িষ্ণু মিশরকে পতনের হাত থেকে রক্ষার জন্য দ্রুত কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেননি মুরসি।

সমালোচক ও নাস্তিক্য মানসিকতার বিরোধীদের ভাষ্য ছিল, মুরসি না কি দেশের অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সঙ্কট মোকাবেলায় ব্যর্থ হয়েছিলেন। একইসঙ্গে তিনি দেশের স্বার্থের চেয়েও মুসলিম ব্রাদারহুডের ইসলামপন্থি কর্মসূচিকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছিলেন।

ক্ষমতা গ্রহণের মাত্র এক বছরের মধ্যেই মুরসি সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে নামে মিশরের জনগণ। এরই সুযোগ নিয়ে মুরসির বিরুদ্ধে ওই গণবিক্ষোভ ও অভ্যুত্থানে সমর্থন দেয় সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইসরায়েলের মতো আঞ্চলিক শক্তিগুলো। সরকারিভাবে বিবৃতি দিয়ে মুরসি সমর্থকদের ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে আখ্যায়িত করে সৌদি আরব।

এ সুযোগে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন নিয়ে ২০১৩ সালের ৩ জুলাই দেশটির তৎকালীন সেনাপ্রধান আবদেল ফাত্তাহ আল সিসি মুরসিকে ক্ষমতাচ্যুত করে ও বন্দি করে।

বাস্তবতা এই যে, প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর নির্যাতিত ফিলিস্তিনিদের পাশে দাঁড়ান মুরসি। দখলদার ইসরায়েল অবরুদ্ধ গাজাবাসীর জন্য মিশরের সীমান্ত খুলে দিয়ে জেরুজালেম ও আল আকসা মসজিদের ওপর ফিলিস্তিনিদের নিয়ন্ত্রণের পক্ষে অবস্থান নেন তিনি। একইসঙ্গে তিনি ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টাও করেন। তার এ দুটি পদক্ষেপই কাল হয়ে দাঁড়ায়। মুরসিকে ক্ষমতাচ্যুত করতে আদাজল খেয়ে মাঠে নামে সৌদি আরব, আরব আমিরাত ও ইসরায়েল। অভিযোগ রয়েছে মুরসির বিরুদ্ধে জনবিক্ষোভ উস্কে দেওয়ার জন্য এই তিনটি দেশ বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করেছিল।

২০১৩ সালের ৩০ জুন মিশরজুড়ে রাস্তায় রাস্তায় মুরসির সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এ সুযোগে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন নিয়ে ২০১৩ সালের ৩ জুলাই দেশটির তৎকালীন সেনাপ্রধান আবদেল ফাত্তাহ আল সিসি মুরসিকে ক্ষমতাচ্যুত করে ও বন্দি করে।

ব্যক্তি জীবনে মোহাম্মদ মুরসি তার চাচাতো বোন নাজলা মাহমুদকে বিয়ে করেন। এ দম্পতির পাঁচ সন্তানের মধ্যে দুই জন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ করেন এবং জন্মসূত্রে তারা মার্কিন নাগরিক।

sin, tan, sec ত্রিকোণমিতির এই নামগুলো কোত্থেকে এল

সাইন, ট্যান, সেক-তোমাদের মধ্যে ত্রিকোণমিতির সামান্য জ্ঞান যাদের আছে, তারা সবাই এই নামগুলো চেন। কিন্তু এই নামগুলো কোত্থেকে এল, সেটা কি জানো?  কদিন আগে একটা দারুণ বই পড়ছিলাম ‘Great moments in mathematics before 1650’। সেখানে খুব সুন্দর করে sin এর গল্পটা বলা ছিল। উইকিপিডিয়া ঘেঁটে আরও কিছু শিখলাম। ভাবলাম যা জেনেছি, তোমাদের সাথে ভাগ করে নিই। সে জন্যেই এই লেখা। চলো আগে নামগুলোর আভিধানিক অর্থ জেনে নিই। এই আভিধানিক অর্থ আমি আগেও জানতাম, কিন্তু সেই জানাটাই আসলে আমাকে আরও দ্বিধায় ফেলে দিয়েছিল!

sine (সংক্ষেপে আমরা লিখি sin)শব্দটা এসেছে ল্যাটিন sinus থেকে, যার মানে হলো গর্ত বা গহ্বর ! নাকের গহ্বরে প্রদাহ হলে তাকে sinusitis বলে, তখন প্রচণ্ড মাথাব্যথা হয়। তোমরা হয়তো তার কথা শুনেও থাকতে পার। tangent(যাকে সংক্ষেপে আমরা লিখি tan)মানে হলো স্পর্শক। তোমরা জানো কোন একটা সরলরেখা যখন কোন বৃত্তকে একটা মাত্র বিন্দুতে ছুঁয়ে যায়, সেই রেখাটিকে বলে স্পর্শক রেখা। tangent শব্দটা এসেছে ল্যাটিন tangere থেকে যার মানে স্পর্শ করা। secant শব্দটার অর্থ হলো ছেদক। একটা সরলরেখা যখন বৃত্তের একপাশ দিয়ে ঢুকে অন্যদিক দিয়ে ফুঁড়ে বেরিয়ে যায়, অর্থাৎ দুটো বিন্দুকে ছেদ করে বেরিয়ে যায় তাকে বলে ঐ বৃত্তের ছেদক। এই নামটা এসেছে ল্যাটিন secare শব্দটি থেকে যার মানে হলো কেটে ফেলা, ছেদ করা। co-sine বা cos, co-tangent বা cot এবং co-secant বা cosec (একে সংক্ষেপে csc-ও লেখা হয়) – এই নামগুলো আসলে sin ,tan আর  sec থেকেই এসেছে। cosine হলো sine এর সাথী, cotangentহলো tangent এর সাথী এবং cosec হলো sec এর সাথী। সাথী কী জিনিস সেটাতে একটু পরে আসছি। তার আগে নামগুলোর অর্থের দিকে আবার তাকাও। স্পর্শক আর ছেদক নাহয় গণিতের ব্যাপার , এর সাথে tan আর sec কোনভাবে মিলতেও পারে, কিন্তু গর্ত? এর সাথে sin এর সম্পর্ক কী? মজার ব্যাপার হলো- সম্পর্ক আসলেই নেই। এটা একটা ভুল অনুবাদের ফসল!! একটা দারুণ ব্যাপার কী জানো- আমরা আমাদের চারপাশে যা কিছু দেখি তার সবকিছুই যে একেবারে সঠিক নিয়ম মেনেই এসেছে তা কিন্তু না। কিছু অদ্ভুত সুন্দর ‘ভুল’ হয় বলেই আমাদের পৃথিবীটা অনেক বেশি বৈচিত্রময়। যাহোক, এই পর্যায়ে পুরনো ব্যাপারগুলো আরেকবার ঝালিয়ে নেয়া যাক। একটা সমকোণী ত্রিভুজের বাহুগুলো থেকে দুটো দুটো করে নিয়ে মোট ছয়রকম অনুপাত পাওয়া সম্ভব। এই অনুপাতগুলোর সংজ্ঞা দেয়া হয়েছে এভাবে-

অতিভুজ হলো সবচেয়ে বড় বাহুটা। যেমন ছবিতে AC হলো অতিভুজ।

লম্ব আর ভূমি কোনটা হবে এটা বাচ্চাদেরকে অনেক সময়ই ঠিকমতো শেখানো হয় না। অনেকেই মনেই ভুল ধারণা থাকে যে মাটি বরাবর অর্থাৎ অনুভূমিকভাবে যে বাহুটা শুয়ে আছে সেটাই সবসময় ভূমি আর তার উপর লম্বা যে দাঁড়িয়ে আছে, সেই হলো লম্ব। কিন্তু মূল ব্যাপারটা এমন না। আসলে অন্যদুটো বাহুর যেকোন একটা লম্ব আর আরেকটাকে ভূমি ধরা যেতে পারে। কোনটাকে আমরা ভূমি বলব সেটা নির্ভর করবে কোন কোণটিকে নিয়ে আমরা কাজ করছি সেটার উপর। সমকোণ তো সবসময়ই  -এটা নিয়ে এখানে আসলে ভাবার কিছু নেই। বাকি যে সূক্ষকোণ দুটো রইল তাদেরকে নিয়েই আমাদের যত চিন্তা। এখানে  এখানে ∠BAC এবং ∠BCA হলো এমন দুটো কোণ। প্রথমে আমরা ∠BAC এর কথা চিন্তা করি। দেখ এই কোণটি AC এবং AB এই দুটো বাহু মিলে তৈরি। AC তো অতিভুজ। এখন এই AC এর সাথে আর যে বাহুটি রয়েছে সেটিই হবে ‘ভূমি’ অর্থাৎ এখানে AB হলো ভূমি। নিখুঁত করে বললে বলা যায় ভূমি হলো ‘কোণ সংলগ্ন বাহু’। এক্ষেত্রে লম্ব হবে BC (আর কে হবে বলো, আর কেউ কি বাকি আছে??)। লম্বকে তাই বলা যায় ‘কোণের বিপরীত বাহু’। তাহলে

এখন যদি আমরা অন্য কোণটি অর্থাৎ ∠BCA এর কথা ভাবি, তখন আমরা দেখব ভূমি হয়ে গেছে BC এবং লম্ব হয়ে গেছে  এর বিপরীত বাহু AB । এইবার

এবারে লক্ষ কর, cos BAC এর মান যা, sin BCA এর মানও তা। আবার sin BAC এর মান যা, cos BCA এর মানও তা। একই সমকোণী ত্রিভুজে থাকা এমন সূক্ষ্মকোণদুটোকে বলে পরস্পরের পূরক কোণ (complementary angle)। এমন একটা কোণের সাইন অন্য কোণের কোসাইনের সমান। সাথী অর্থাৎ co ব্যাপারটা আসলে এখান থেকেই এসেছে। সুতরাং অনুমান করতে পার- এভাবে একটা কোণের সেকান্ট হবে অন্য কোণটির কোসেক্যান্ট এর সমান এবং একটা কোণের ট্যানজেন্ট হবে অন্য কোণটির কোট্যানজেন্ট এর সমান।

আবার ফিরে যাই মূল প্রসঙ্গে- সাইন যদি লম্ব আর অতিভুজের অনুপাত হয়, সেখানে গর্ত কোত্থেকে এল? সেক্যান্ট মানে যদি ছেদকই হবে তার সাথে অতিভুজ আর ভূমির অনুপাতের সম্পর্ক কী?  ট্যানজেন্ট দিয়ে বোঝায়  লম্ব আর ভূমির অনুপাত, তার সাথে স্পর্শকের সম্পর্ক কোথায়?

এই চিন্তাগুলোর জন্ম হয়েছিল গ্রীসে, আর আদরে আদরে বেড়ে উঠেছিল হয়েছিল আমাদের এই উপমহাদেশে। এখন থেকে প্রায় দেড় হাজার বছর আগে আর্যভট (৪৭৬-৫৫০ খ্রিস্টাব্দ) তার ‘সূর্যসিদ্ধান্ত’ বইটির মধ্যে লিখে গেছেন এই বিষয়গুলোর কথা। তার ধারণা বুঝতে গেলে আমাদেরকে এমন একটা বৃত্তের দিকে তাকাতে হবে, যার ব্যাসার্ধ ১ একক।  ছবিতে আমরা এমন একটা বৃত্ত এঁকেছি । এখানে OB=OD=বৃত্তের ব্যাসার্ধ= ১ একক। AB হলো BB’ জ্যা-এর অর্ধেক। একে বলা হয় অর্ধ-জ্যা। CC’ এই বৃত্তের একটা ছেদক। এর একটা অংশ হলো OC । এখানে ছেদক বা ছেদকের দৈর্ঘ্য বলতে আমরা OC অংশটুকুকেই বুঝব। আর স্পর্শক বলতে বুঝব CD । এবারে আমরা পুরনো সংজ্ঞাগুলোর দিকে আবার তাকাব। কোণ COD কে আমরা θ নাম দিলাম। তাহলে ΔCOD থেকে আমরা দেখি

যাক বাবা, এতক্ষণ পরে আমরা দেখাতে পেরেছি, সেক্যান্ট আসলেই ছেদকের মান বের করে। এখন tangent –ও আমাদের হতাশ করবে না!

আর বাকি রইল sin । সাইনকে আর্যভট আসলে অর্ধ-জ্যা বলে ডাকতেন। কেন্দ্রে বিভিন্ন রকম কোণের জন্য অর্ধ-জ্যা এর মান কেমন হবে তার একটা বিশাল লিস্টি তিনি বানিয়েছিলেন। যাহোক, ΔBOA থেকে আমরা sinθ এর মান বের করি।

sin  যে অর্ধ-জ্যাকে প্রকাশ করে এটা জেনেও আসলে স্বস্তি হয় না। অর্ধ-জ্যা এর সাথে ‘গর্ত’ ব্যাপারটা কিভাবে মিলল? এখানে আসলে অনুবাদকদের কারসাজি। আর্যভট অর্ধ-জ্যাকে কখনও কখনও ‘জ্যা-অর্ধ’ আবার কখনও কখনও শুধু ‘জ্যা’ লিখতেন। আরব অনুবাদকেরা ভারতবর্ষের গণিতের কাজগুলো যখন সংস্কৃত থেকে আরবিতে অনুবাদ করছিলেন, তারা দেখলেন আরবিতে ‘জ্যা’ এর কোন প্রতিশব্দ নেই। তারা উচ্চারণের সাথে মিল রেখে এটার নাম দিলেন ‘যিবা’(জ্যা → যিঅ্যা → যিবা) । তোমরা হয়তো জানতেও পারো, আরবিতে যখন মানুষ লেখে , অনেক সময়ই তারা আকার-ওকার না দিয়ে অর্থাৎ যের, যবর, পেশ ব্যবহার না করেই লিখে ফেলে। ফলে তারা লিখল ‘য্ ব্’ । পরবর্তী প্রজন্মের লেখকেরা যখন এই ‘য্ ব্’ শব্দটা দেখলেন, তারা আর বুঝতে পারলেন না যে এটা হলো ‘যিবা’। তারা দেখলেন য আর ব এর সাথে আকার –ইকার বসিয়ে সুন্দর একটা আরবি শব্দ হয় ‘যাইব্’ যার মানে হলো খাদ বা গর্ত। এরপর ল্যাটিন ভাষার অনুবাদকেরা যখন অনুবাদ করলেন , তারা ল্যাটিন ভাষায় গর্তের প্রতিশব্দ হিসাবে এর নাম রাখলেন sinus , তার থেকেই পরবর্তীতে এল sine. এভাবেই আর্যভটের সেই অর্ধ-জ্যা অর্ধদুনিয়া ঘুরে হয়ে গেল গর্ত! কী অদ্ভুত!

এসব জেনে লাভ কী??এই প্রশ্নটার মুখোমুখি আমাকে প্রায়ই হতে হয়। এই যে এসব নাম-টাম কোত্থকে এল, কে নাম দিল-এইসব জেনে লাভটা কী? তার চেয়ে শুধু এগুলো কিভাবে কাজ করে এইটা জানলেই কি হয় না? নাহ! চোখের দেখা দেখেই লাভ-ক্ষতির হিসেবটা আসলে করে ফেলা যায় না। যা কিছু শুধুই যুক্তির, শুধুই প্রয়োজনের, তা দিয়ে ভালবাসা ব্যাপারটাকে বোঝা যায় না! যে মানুষটা শুধুই তার প্রয়োজনের সময় তোমাকে স্মরণ করে, সে তোমাকে ভালবাসে কিনা তুমি বুঝবে না! ধরো তোমার পাশের বন্ধুটার সাথে তোমার এমন সম্পর্ক- তুই আমাকে এই নোটটা দিবি, আমি তোকে ঐটা দেব। এমন প্রয়োজনের সম্পর্ক থেকে তোমাদের বন্ধুত্ব কতখানি তীব্র, এটা বোঝা যাবে না। কিন্তু ধরো, একদিন বন্ধুটা চুপচাপ বসে আছে, তুমি পাশে গিয়ে শান্ত ভঙ্গিতে জিজ্ঞেস করলে- ‘তোর কি মন খারাপ’? এই ‘অপ্রয়োজনীয়’ কথাটুকুর মধ্যে অনেক বেশি গভীরতা আছে, ভালবাসা আছে! এবং তুমি প্রায়ই দেখবে একটা তুচ্ছ অপ্রয়োজনীয় কথা কিংবা কাজ থেকে তৈরি হওয়া বন্ধুত্বটুকু, ভালবাসাটুকু সারাজীবনে তোমাকে যা কিছু দেবে, হাজার হাজার প্রয়োজনীয় কথাও সেটা পারবে না! জ্ঞানের ব্যাপারটাও ঠিক তাই। গণিত এর একটা ছোট্ট ‘অপ্রয়োজনীয়’ গল্প তোমার মধ্যে যদি ভালবাসার একটা একটা ছোট্ট বীজ বুনে দেয়- সে যে একদিন মহীরূহ হয়ে উঠবে না, কে বলতে পারে! আমরা মানুষ- যুক্তি দিয়ে যা বুঝি তাকে যখন আবেগ দিয়ে অনুভব করি , সেই জ্ঞানটা আমাদেরকে অনেক বেশি মানসিক শক্তি যোগায়, এগিয়ে নিয়ে যায় আরও অনেক অনেক দূর!

ইসরাইলকে সহায়তা করার জন্য আমার বন্ধু সিসি’কে ধন্যবাদ: নেতানিয়াহু

ইহুদিবাদী অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলকে সহায়তা করায় মিশরের প্রেসিডেন্ট আব্দেল ফাত্তাহ আল সিসি’কে ধন্যবাদ জানিয়েছেন ইহুদিবাদী ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। শুক্রবার (২৪ মে) নিজের ফেরিফাইড টুইটারে এ কথা লিখেছেন নেতানিয়াহু।

নেতানিয়াহু বলেন, ইসরাইলে অগ্নিনির্বাপণের জন্য দুটি হেলিকপ্টার পাঠানোয় আমার বন্ধু সিসি’কে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। উল্লেখ্য, গতকাল ইহুদিবাদী ইসরাইলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। অগ্নিনির্বাপণে সহায়তা স্বরূপ মিশর থেকে দুটি হেলিকপ্টার পাঠানো হয়।

মুরসি’র মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেনি সৌদি!

মিশরে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত একমাত্র প্রেসিডেন্ট মুহাম্মাদ মুরসি ইন্তেকাল করেছেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রাজিউন।

৬৭ বছর বয়সী মুহাম্মাদ মুরসি আজ সোমবার (১৭ জুন) দেশটির আদালতে ইন্তেকাল করেন। আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম আলজাজিরা ও মিডল ইস্ট মনিটর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন কাতার, তুরস্ক সহ ভিবিন্ন রাষ্ট্র। বিশ্বের ভিবিন্ন ইসলামিক ও গনতান্ত্রাতিক দল ও দলের নেতারা।

কিন্তু ইসলামী রাষ্ট্র হিসেবে মুরসির মৃত্যুতে কোনো প্রকার শোক বার্তা বিবৃতি প্রকাশ করেনি সৌদি আরব। এখন পর্যন্ত সৌদি থেকে শোক বার্তা বা বৃবিতি প্রকাশ করা হয় নি।

প্রেসিডেন্ট মুরসীর ইন্তেকালে শোক জানালেন কাতারের আমীর!

আরিফ মুসতাহসান মিশরের সাবেক নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসীর ইন্তেকালে শোক জানিয়েছেন কাতারের আমীর শেখ তামিম বিন হামাদ আলে ছানি। সোমবার (১৭ জুন) নিজের ফেরিফাইড টুইটার একাউন্টে তিনি এ শোকবার্তা প্রকাশ করেন।

কাতারের আমির উক্ত টুইটে বলেছেন, মিশরের সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসীর হঠাৎ মৃত্যুর খবর পেয়ে খুব দুঃখ পেয়েছি। তাঁর পরিবার ও মিশরবাসীর জন্য সমবেদনা জানাই। নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর জন্য এবং তাঁর নিকট সবাইকে ফিরে যেতে হবে।

৬৭ বছর বয়সী মুহাম্মাদ মুরসী গতকাল সোমবার (১৭ জুন) দেশটির আদালতে বক্তৃতারত অবস্থায় ইন্তেকাল করেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রাজিউন। মিশরে স্বৈরশাসক হোসনি মোবারকের পতন হলে প্রথমবারের মতো গণতান্ত্রিকভাবে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন মুহাম্মাদ মুরসী।

ক্ষমতা গ্রহণের এক বছরের মাথায় ২০১৩ সালে, তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইহুদিবাদী ইসরাইলের দোষর আবদেল ফাত্তাহ আল সিসির নেতৃত্বে এক রক্তক্ষয়ী সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে অবৈধভাবে মুহাম্মাদ মুরসীকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়। ক্ষমতাচ্যুত করার পর মুরসীকে কারাবন্দি করে পশ্চিমাদের সমর্থন পাওয়া সিসির সরকার।

এরপর রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তিসহ তথাকথিত বিভিন্ন অভিযোগে বিচারের মুখোমুখি করা হয় তাকে। কয়েকটি মামলায় মুরসীকে ৪৮ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়। গত ৬ মে মুহাম্মদ মুরসীর পরিবার জানায়, তাকে বর্তমানে নির্জন কারাবাসে রাখা হয়েছে। এটা তাকে বন্দিদশার শর্ত-বিরোধী।

ইচ্ছাকৃতভাবেই এমনটা করা হচ্ছে। মুরসীর পরিবার আরও জানায়, কারাগারে সাবেক প্রেসিডেন্টের ঠিকমতো চিকিৎসা হচ্ছে না এবং সেখানে তাকে বারবার হত্যা করার হুমকি দেয়া হচ্ছে। এমনকি হুমকির বিষয়টি আদালতকে জানানো হলেও এ ব্যাপারে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না।

মুহাম্মাদ মুরসীর পরিবারের পক্ষ থেকে প্রকাশিত বিবৃতিতে কারাগারে তার দুরবস্থার জন্য প্রেসিডেন্ট আব্দেল ফাত্তাহ আস-সিসি সরকারকে সরাসরি দায়ী করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, মিশিরের সাবেক প্রেসিডেন্টকে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে এবং তার সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের সাক্ষাৎ করতে না দিয়ে আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার মারাত্মকভাবে লঙ্ঘন করা হচ্ছে।

এছাড়া, চলতি বছরের মার্চ মাসে প্রেসিডেন্ট মুহাম্মাদ মুরসী চিকিৎসার অভাবে কারাগারে মৃত্যুবরণ করতে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছ ব্রিটেনের সংসদীয় কমিটি। ব্রিটিশ দৈনিক ‘দ্য টাইমস’ কয়েকজন সংসদ সদস্য ও আইনজীবীর বরাত দিয়ে লিখে, মুহাম্মাদ মুরসী বিভিন্ন ধরণের রোগে ভুগছেন।

ডায়াবেটিস, ব্লাড প্রেশার ও লিভার সমস্যায় ভুগলেও তার সঠিক চিকিৎসা হচ্ছে না। তাকে মিশরের রাজধানী কায়রোর একটি জেলখানার নির্জন সেলে রাখা হয়েছে। খারাপ আচরণ এবং চিকিৎসার অভাবে মুরসীর জীবন এখন হুমকির মুখে রয়েছে।

মুরসির মৃত্যু; বর্তামন প্রেসিডেন্ট সিসিকে দায়ী করে যা বললেন এরদোগান!

মিশরের সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসির মৃত্যুর পর দেশটির বর্তমান প্রেসিডেন্ট আবদুল ফাত্তাহ আস-সিসি ও ইউরোপীয় দেশগুলোর সমালোচনা করেছেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগান।

তিনি বলেছেন, মিশরের বর্তমান প্রেসিডেন্ট সিসি জনগণের ভোটে নির্বাচিত মোহাম্মদ মুরসিকে ক্ষমতাচ্যুত করে জোরপূর্বক ক্ষমতা দখল করেছেন ও গণতন্ত্রকে পদদলিত করেছেন এবং ক্ষমতায় এসে ৫০ জনকে ফাঁসি দিয়েছেন।

এরদোগান বলেন, মুরসি গণতান্ত্রিক উপায়ে ৫২ শতাংশ ভোট পেয়ে মিশরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন কিন্তু দেশটির সামরিক বাহিনী এই বাস্তবতা মেনে নেয়নি এবং তারা মুরসিকে ক্ষমতাচ্যুত করার সব ক্ষেত্র সৃষ্টি করেছিল।

তুর্কি প্রেসিডেন্ট ইউরোপীয় ইউনিয়নের সমালোচনা করে বলেন, সিসি ক্ষমতায় আসার পর মিশরীয়দের ফাঁসি দিলেও ইউরোপীয় ইউনিয়ন এ বিষয়ে নীরব থেকেছে এমনকি মিশরে আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ইউরোপীয় দেশগুলো অংশ নিয়েছে যখন সেখানে ফাঁসির ঘটনা ঘটছিল।

এরদোগান বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন তুরস্ককে ফাঁসির আদেশ বাতিলের জন্য বারবার আহ্বান জানাচ্ছে কিন্তু মিশরে তারা আন্তর্জাতিক সম্মেলনে এমন সময় অংশ নিয়েছে যখন সে দেশের নাগরিকদেরকে ফাঁসি দেয়া হচ্ছিল।

আর এ থেকে প্রমাণিত হয় ইউরোপ মানবাধিকার বিষয়ে দ্বিমুখী আচরণ করছে। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট বলেন, মিশরের সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসি তার হাজার হাজার বিপ্লবী সমর্থককে নিয়ে গত-

পাঁচ বছর ধরে কারাগারে ছিলেন কিন্তু পাশ্চাত্যের কেউ তার পক্ষে কথা বলেনি। মোহাম্মদ মুরসি গতকাল মিশরের আদালতে বিচার চলাকালীন সময়ে মারা যান। গত ৭ মে তিনি আদালতে বলেছিলেন তার জীবন হুমকির মুখে।

AB sign” এর নেপথ্যে কি এবং কারা!?

AB sign” এর নেপথ্যে কি এবং কারা!?এই নৃত্যভঙ্গিটি খুব জনপ্রিয়তা লাভ করেছে সারা বিশ্বেই। কিন্তু অনেকেই হয়তো জানেনা এই চিহ্নের মানেটা কি। এর পেছনে একটি অন্ধকার অতীত রয়েছে। এটিকে ড্যাব(DAB) সাইন বলা হয়। এর পূর্ণরূপ Devils are bright. যার অর্থ অনেকটা এররকম দাড়ায়-“শয়তানেরা চির উজ্জল”(নাউজুবিল্লাহ)এটা সাতানিজম বা শয়তানের পূঁজা কে প্রমোট করে । জঘন্যতম শিরকের একটি এটি। কারণ এই চিহ্ন দ্বারা শয়তানকে সিজদাহ করা বোঝানো হয়। এটা আল্লাহ্‌-তায়ালাকে সিজদাহ করার বিপরীত। বর্তমানে তারকা খেলোয়াড়দের থেকে শুরু করে অনেকেই এই চিহ্নের অনুকরণ করছে। এটাকে মূর্খ মুসলীমরা “এপ্রিল ফুল” এর মত ফান হিসেবে দেখছে। কিন্তু এই কালো ফান আপনার জাহান্নামে যাওয়ার কারণ হতে পারে! এটি ইলুমিনাতি(Illuminati) বা শয়তানের পূঁজারিদের দ্বারা মুসলিমদের ঈমান আকিদা ক্ষতিগ্রস্ত করার জন্য ছড়ানো ।অনেক স্বনামধন্য তারকাদেরই এই দলের অন্তর্গত বলে ধরা হয়। একটাই অনুরোধ,না জেনে বুঝে কিছু অনুকরণ করতে যাবেন না। শেষে ক্ষতিটা হয়তো আপনারই হবে।

প্রিয় নেতাকে হারিয়ে মিশরর জুড়ে আজ শুধুই কান্না ।

শ্রদ্ধা ,ভালবাসাও দোয়া এমন জিনিস যা সমস্ত টাকা-পয়সা ও দুনিয়ার বিনিয়মেও পাওয়া যায়না । অথচ এই লোকটা মানুষের দুই পয়সার উপকার করার সময়টুকুও পায়নি ।জালিমের কারাগারে দীর্ঘদিন বন্দি থাকা বিশ্ব ইসলামী আন্দোলনের প্রাণ পুরুষ হাফেজ ড.মুসরি সবাইকে ছেড়ে চলে গেছেন, মিশরের ইতিহাসে তিনিই ছিলেন জনগনের ভোটে নির্বাচিত সরকার,
কিন্তু দুর্ভাগ্য এক বছরের মাথায় ইসরাইলের মদদে লোভী সেনাপ্রধান সিইসি সড়যন্ত্র করে ইসরাইলী শাসন চালু করার জন্য এবং ইহুদীদের এজেন্ট বাস্তবায়ন করার জন্য প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুসরি কে ক্ষমতাতুচ্ছ করে, প্রতিবাদে আন্দোলন কারীদের নির্বিচারে গুলি করে হত্যা করে ব্রাদারহুডের হাজার হাজার নেতাকর্মী,
মিথ্যা মামললায় ফাঁসি দিয়ে হত্যা করা হয় শত শত নেতাকর্মীদের, শুধু বন্দি রাখা হয় ব্রাদারহুড প্রধান মুসরিকে, ব্রাদারহুডের দাবি এটি একটি হত্যা কান্ড,মুসরির মৃত্যুতে মিশরর জুড়ে শুধুই কান্না।
মুরসীকে হত্যা করা হয়েছে : মুসলিম ব্রাদারহুড


প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসীর মৃত্যুকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে অভিহিত করেছে তার সংগঠন ইখওয়ানুল মুসলিমিন বা মুসলিম ব্রাদারহুড।সোমবার (১৭ জুন) মুসলিম ব্রাদারহুডের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, মুহাম্মাদ মুরসীকে ক্রমান্বয়ে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। গ্রেফতার ও পরবর্তীতে জিজ্ঞাসাবাদ শুরুর পর মুরসীর শারীরিক অবস্থা খারাপ হতে থাকে এবং এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার মিশরের আদালতের মধ্যে তিনি ইন্তেকাল করেন।
উল্লেখ্য, মুহাম্মাদ মুরসী ইসলামী সংগঠন মুসলিম ব্রাদারহুডের প্রথম সারির নেতা ছিলেন। ২০১২ সালে ব্রাদারহুডের প্রার্থী হিসেবে তিনি জনগণের ভোটের মাধ্যমে মিসরের প্রথম নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
ক্ষমতা গ্রহণের এক বছরের মাথায় ২০১৩ সালে, তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইহুদিবাদী ইসরাইলের দোষর আবদেল ফাত্তাহ আল সিসির নেতৃত্বে এক রক্তক্ষয়ী সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে অবৈধভাবে মুহাম্মাদ মুরসীকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়।
ক্ষমতাচ্যুত করার পর মুরসীকে কারাবন্দি করে পশ্চিমাদের সমর্থন পাওয়া সিসির সরকার। এরপর রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তিসহ তথাকথিত বিভিন্ন অভিযোগে বিচারের মুখোমুখি করা হয় তাকে।
মৃত্যুর আগ থেকেই বিভিন্ন মহল থেকে জানানো হয়েছিল কারাগারে মুরসির শারীরিক অবস্থা মোটেও ভালো নয়, কারাগারে তার মৃত্যুও হতে পারে। ডায়াবেটিস আক্রান্ত মুরসীকে পর্যাপ্ত চিকিৎসা সেবা দেয়া হচ্ছে না বলে পরিবারের সদস্যদের পক্ষ থেকেও দাবি করা হয়েছিল।
ব্রিটিশ রাজনীতিক ও আইনজীবীদের একটি প্যানেল এক বিবৃতিতে জানিয়েছিল, দীর্ঘদিন ধরে অবহেলার ফলে মুরসীর শারীরিক অবস্থা যে পর্যায়ে পৌঁছেছে, তাতে তিনি অকালে মারা যেতে পারেন। তবে এসব বক্তব্যকে মোটেও গুরুত্ব দেয়নি মিশরের বর্তমান সরকার।

পীস টিভি বাংলায় আহলে হাদীসের এক চেটিয়াতে বাংলাদেশের কি লাভ ও ক্ষতি !


পীস টিভি ইংলিশ ও উর্দু খুব নাম করেছে। কারণ এখানে জাকির নায়েক ছিল সর্বসের্বা। তিনি প্রোগ্রাম সাজাতেন, স্পীকার সিলেক্ট করতেন এবং কন্টেন্ট বলে দিতেন। আমি দেখেছি এমন কি তিনি বক্তার এপ্রোচ কেমন হবে তাও ঠিক করে দিতেন।
তিনি বাংলা টিভি করেছিলেন বাংলাভাষীদের ভালোবাসতেন বলে। বাংলা যখন সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন তখন শায়খ আবু আব্দুর রহমান নুরুল ইসলাম, ও শায়খ আব্দুল মতিন নামে পশ্চিম বংগের দুইজন শায়খ তার সাহায্যে এগিয়ে আসেন। যারা এই জগতে সম্পূর্ণ আনাড়ি ছিলেন। ডঃ জাকির স্পীকার নিয়োগের ক্ষেত্রে ছিলেন খুবই ইনক্লুসিভ। উর্দুতে সালাফি, হানাফি, দেওবন্দী ও জামায়াতে ইসলামী সবাইকে নিয়েছেন। ইংরেজিতে তো আরো উদার তিনি। কিন্তু বাংলাতে এই নুরুল ইসলাম সাহেবের কারণে বাংলাদেশ থেকে তিনি আহলে হাদীসদের কেই বাছাই করেন প্রথম পর্যায়ে। মাত্র ৫ জন ছিলেন হানাফী, তবে তাদের ৪ মাদানী বা রিয়াদী হওয়ায় তারাও বলা যায় একই ধাঁচের ছিলো।
পরে তিনি আহলে হাদীসীদের একচেটিয়া দখলের ভয়ংকর অবস্থা আঁচ করতে পারেন ও নুরুল ইসলামকে সরিয়ে দেন । কিন্তু ইতিমধ্যে আহলে হাদীসীদের একগুয়েমী ও ইলমের স্বল্পতার দরুন দরুন বাংলা ভাষাভাষী মানুষের নিকট পিচটিভি প্রশ্নের মুখোমুখী হয় ।অথচ আহলে হাদীসী আলেমদের এই নিকৃষ্ট চালাকী ডাঃ জাকির নায়েক যখন বুঝলেন তখন আহলে হাদীসীরা পিচটিভি বাংলাকে ধ্বংসের শেষ প্রান্তে নিয়ে গিয়েছিল ।

আমি দেখেছি এমন কি তিনি বক্তার এপ্রোচ কেমন হবে তাও ঠিক করে দিতেন। তার পছন্দ করা বলিউডের সেরা প্রডিউসার ইজহার ফরিদী ও বোম্বের সিনে জগতের সেরা মেইক আপ ম্যান, সেরা ক্যামেরা ম্যান ও বাছাই করা টিভি ব্যাকগ্রাউন্ডার দিয়ে তিনি টিভি চালাতেন। খরচ করতেন, রাত দিন কাজ করতেন, এবং আর্টিস্ট ও কলাকৌশলিদের কাছে রাখতেন। তিনি বাংলা টিভি করেছিলেন বাংলাভাষীদের ভালোবাসতেন বলে। আমার জানা মতে কোটি কোটি টাকার ইনভেস্ট তিনি এখানে যখন প্রথম করেন, তখন অনেকেই এটা পছন্দ করেননি। কারণ ছিলো দুটো। তিনি বাংলা জানতেন না। ও বাংলা ভাষার তেমন ভালো লোক পাচ্ছিলেন না। বাংলা যখন সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন তখন শায়খ আবু আব্দুর রহমান নুরুল ইসলাম, ও শায়খ আব্দুল মতিন নামে পশ্চিম বংগের দুইজন শায়খ তার সাহায্যে এগিয়ে আসেন। যারা এই জগতে সম্পূর্ণ আনাড়ি ছিলেন। ডঃ জাকির স্পীকার নিয়োগের ক্ষেত্রে ছিলেন খুবই ইনক্লুসিভ। উর্দুতে সালাফি, হানাফি, দেওবন্দী ও জামায়াতী সবাইকে নিয়েছেন। ইংরেজিতে তো আরো উদার তিনি। কিন্তু বাংলাতে এই নুরুল ইসলাম সাহেবের কারণে বাংলাদেশ থেকে তিনি আহলে হাদীসদের কেই চয়েস করেন প্রথম পর্যায়ে। মাত্র ৫ জন ছিলেন হানাফী, তবে তাদের ৪ মাদানী বা রিয়াদী হওয়ায় তারাও বলা যায় একই ধাঁচের ছিলো। পরে তিনি ভয়ংকর অবস্থা আঁচ করতে পারেন। ও নুরুল ইসলামকে সরিয়ে দেন। এর পর থেকে বাংলাদেশের বেশ কিছু প্রিয় মুখ এখানে আগমন করে। কিন্তু এরই মধ্যে উগ্র পন্থী আহলে হাদীসদের দিয়ে যে ড্যামেজ তিনি বাংলাদেশে করে ফেলেছিলেন তা থেকে আর ফিরতে পারেননি। আর আজ পর্যন্ত তার যে বিপদ তিনি মাড়িয়ে চলছেন, তা বাংলাদেশ কেন্দ্রিকই। বাংলাদেশের এই উগ্রপন্থী ও শায়খ আব্দুর রহমান মার্কা তথা মাদখালী গ্রুপের কট্টোর পন্থী তথাকথিত শায়খরা বা মাদানীরা যে ক্ষতি গুলো করেছেন তা আমার বিবেচনায় ২টিঃ ১। হানাফী মাযহাব কোনদিন আহলে সুন্নাত ওইয়াল জামায়াতের বাইরে কিছুই ছিলোনা। ইবনে তাইমিয়্যার মত কট্টোরপন্থী হাদীস অনুসারী ইমাম ও ইমাম আবূ হানীফা কে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের বাইরে মনে করেন নি। কিন্তু যেহেতু মদীনা বিশ্ববিদ্যালয়ের আপামোর ধ্যান ধারণা হলো হানাফী মাযহাব আমলের ক্ষেত্রে দূর্বলতম, এমন কি তাদের অধিকাংশ শিক্ষক মুরুব্বিদের দৃষ্টিতে আবু হানীফা ছিলেন ‘মুরজিয়াতুল ফুক্বাহা” দের একজন, কাজেই বাংলাদেশে তারা ঐ চেতনা ছড়ানোতে ব্যপৃত হয়ে যান এই মাদানী শায়খরা। তারা টিভির আলোচনায়, মাহফিলের মাইক্রোফনের চিৎকারে ও সুরের ভংগিমায়, কিংবা সেমিনার সেম্পোজিয়ামে হানাফী মাযাহাবের মাসআলা গুলো নিয়ে মারাত্মক সমালোচনায় লিপ্ত হয়ে পড়ে। আমি গুণে গুণে দেখিছি ৪০ থেকে ৪৫ টা মাসআলা আছে, যে গুলো ঐ আহলে হাদীস ভায়েরা গত ১০ বছরে সারা দেশে কপচায়েছে। এই মাসআলা গুলো প্রায়ই ছিলো সুন্নাহ ও নফল ক্যাটাগরীর, কিন্তু তারা এইটাকে মূল ধর্মের রং দিয়ে এই গুলো না মানলে সহীহ আক্বীদার হবে না বলে ফতোয়া দিয়ে বেড়ায়েছে। এতে সমাজের সর্বস্তরে হেনেছে মারাত্মক আঘাত। ঘরে ঘরে মানুষ কনফিউজড হয়েছে। তাদের সারা জীবনের করা আমল সব বাতিল, ভুল, কিংবা বিদআহ হিসেবে দেখানো হয়েছে। দেশের আলিম সমাজকেও বিব্রত হতে হয় সর্ব ক্ষেত্রে। তারাও রোষে উঠে নানান কর্ণারে। ফলে একটা কৃত্রিম মাযহাবী যুদ্ধ তৈরী হয়ে যায়। আমি এ দৃশ্য গুলো দেখেছি আর হা পিত্যেস করেছি, এই সব আলেমদের দৃষ্টির সীমাবদ্ধতা দেখে। নামাযে হাত উঁচু করতে হবে তা সুন্নাত। কিন্তু তা কয়বার এই নিয়ে আছে বিস্তর মতভেদ। এই আলিমরা বুঝাতে চাইলো হানাফী মাযহাবের একবার হাত উঁচু করা এটা ঠিক না, তাই এরা সহীহ আক্বীদার না। নামাযে হাত কথায় বাঁধতে হবে এ ব্যাপারে একটাও সহীহ হাদীস নেই। গলা, বুকে, নাভীর নিচে বা ছেড়ে দেয়া সব রীতিতেই এটা চলে আসছে ইসলামে। কোন ঝামেলা হয়নি। পীস টিভির এই শায়খরা বুকের উপর বাঁধাতে যেয়ে গোটা বাংগালীর হাত গুলো ভেংগে ফেলার মত করে দিলেন। সূরা ফাতিহার পড়ার পর আমীন বলা শুধু সুন্নাত না নৈতিক ভাবে প্রণোদিত। এটা আস্তে বা জোরে সবটাই বলে ইসলাম চলে আসছে হাজার বছর। কিন্তু পীস টিভির এই সব ভায়েরা বুঝাতে চাইলেন মসজিদ ও “আহলে হাদীস মসজিদ” বানানো যাবে শুধু জোরে আমীন বলার সুযোগ নিতে। লক্ষ মসজিদের বাংলাদেশে একটা হানাফী মসজিদ নামে মসজিদ নেই, অথচ এরা কয়েক ডজন মসজিদ বানায়েছে “আহলে হাদীস মসজিদ” নাম দিয়ে। এইভাবে কয়েকটি মাত্র মাসআলা নিয়ে তারা হানাফী আলিম সমাজকে কুপমুন্ডক বানায়েছে, আর সাধারণ মুসলমানদের ভুলকারী বানায়েছে। এতে সমাজে সত্যিই বিশৃংখলা দেখা দেয়। শায়খ আকরামুজ্জামান নামক এক মাদানীর মুফতি আহমাদ শফীকে মুর্খ বলার মতো দম্ভোক্তি আমরা দেখেছি। আমার কাছে এদের এই ছোট খাটো ব্যাপার নিয়ে সমাজকে বিভক্ত করা টা কে ইসলামি দাওয়ার ক্ষেত্রে খুব বেমানান মনে হয়েছে।

ভারতে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে মুসলিমদের ওপর অত্যাচার

রবিবার উত্তর পূর্ব ভারতের প্রত্যন্ত অঞ্চল মধ্য বিহারের বেগুসরাই জেলার বাসিন্দা মুসলিম হকার কাসিম বাইকে করে আশপাশের গ্রামগুলোতে ডিটারজেন্ট পাউডারের প্যাকেট বিক্রি করতে বেরিয়েছিলেন। এ সময় এক ব্যক্তি তার নাম জিজ্ঞেস করে।  কাসিম নাম বলার সাথে সাথে তাকে অশ্রাব্য ভাষায় আমাকে গালি দেয়া হয়। তারপর জিজ্ঞেস করে, তুমি কি করছ এখানে? তোমার তো পাকিস্তানে থাকা উচিত।

ফাইল নিউজ

এরপর কিছু বুঝে ওঠার আগেই পিস্তল বের করে কাসিমকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। গুলি কাসিমের পিঠে লাগে। সে আবার গুলি ছুড়তে গেলে কাসিম তাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়ে সেখান থেকে পালিয়ে আসি।

এ ঘটনা যখন ঘটে তখন একজন পথচারী তা ভিডিও করেন। তারপর ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়ে।

কাসিম বলেন, লোকটি যখন পিস্তল নিয়ে তার উপর হামলা চালায় তখন গ্রামবাসীদের কেউই তাকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসেনি। ঘটনার পর তিনি ক্ষতস্থানে একটি কাপড় পেঁচিয়ে ও শরীর থেকে রক্ত বের হতে থাকা অবস্থায় স্থানীয় থানায় যান। পুলিশ তার অবস্থা গুরুতর দেখে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করে।

মুসলমান নাম বলার সাথে সাথে কাসিমের গুলি খাওয়ার ঘটনায় দেশের বহু লোক দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

ভারতের সমাজ বিজ্ঞানী শচীন্দ্র নারায়ণ বলেন, এ ধরনের ঘটনা হচ্ছে মাসব্যাপী নির্বাচনের সময় আগ্রাসী নির্বাচনী প্রচারণার পরিণতি। শুধু রাজনৈতিক লাভ পাবার জন্য অন্য সম্প্রদায় সম্পর্কে বিদ্বেষমূলক মন্তব্য বৃদ্ধি পেয়েছে।

স্থানীয় সিনিয়র পুলিশ কর্মকর্তা নীরাজ কুমার সিং বুধবার বেগুসরাইতে সাংবাদিকদের বলেন, আমরা মামলা নিয়েছি। পলাতক হামলাকারীকে গ্রেফতার করতে অভিযান চলছে।

এদিকে শনিবার রাতে নয়াদিল্লীর কাছে অর্থনৈতিক ও কারিগরি কেন্দ্র গুরুগ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ বরকত আলম তারাবি নামাজ শেষে স্থানীয় মসজিদ থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। এ সময় একদল হামলাকারী সেখানে হাজির হয়।

দি হিন্দু সংবাদপত্রকে মোহাম্মদ আলম বলেন, তারা আমাকে টুপি পরার ব্যাপারে হুঁশিয়ার করে দিল। বলল, আর টুপি পরা চলবে না। মাথা থেকে ওটা খুলে ফেল। আমি টুপি খুলতে অস্বীকার করায় তারা আমাকে মারধর করল, তারপর টুপি খুলে নিল। তারপর বলল, জয় শ্রী রাম বল। আমি বলতে রাজি না হওয়ায় আমাকে শূকরের মাংস খাওয়ানোর হুমকি দিয়ে চলে গেল।

এছাড়া, ভারতের মধ্য প্রদেশে গো রক্ষকরা গরুর মাংস বহন করার সন্দেহে তিনজন মুসলমানকে একটি গাছের সাথে বেঁধে প্রচন্ড মারধর করে। ২২ মে এ দুঃখজনক ঘটনা ঘটলেও ২ দিন পর এ ঘটনার একটি ভিডিও সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর তা জানা যায়। পুলিশ ঐ তিন মুসলিমকেই গ্রেফতার করেছে এ যুক্তিতে যে মধ্য প্রদেশে গরুর মাংস রাখা, বহন করা বা বিক্রি করা আইনগত ভাবে নিষিদ্ধ। নির্যাতনকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশ কিছুই করেনি। 

ছাত্রনেতা কানহাইয়া এ জন্য কিছু রাজনীতিককে দায়ী করে বলেন, নেতারা ও তাদের বোড়েরা রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের জন্য ঘৃণা ছড়ান। তারাই এ ধরনের ঘটনার জন্য দায়ী।

বিশেষজ্ঞরা এ সব ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুতর হিসেবে দেখছেন ও দ্রুত ব্যবস্থা নিতে সরকারের প্রতি আহবান জানিয়েছেন। দিল্লি ভিত্তিক রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ অজয় ঝা বলেন, এবার প্রধানমন্ত্রী মোদি পূর্ণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছেন। তাকে এখন প্রমাণ করতে হবে যে এক ভারত, এক জাতি শুধু স্লোগান নয়। তাকে এটা বাস্তবেও প্রমাণ করতে হবে।

১৫ জুন ২০১৯ পর্যন্ত মাথাপিছু ঋণ ৬৭ হাজার টাকা

মাথাপিছু ঋণ ৬৭ হাজার টাকা। বরাদ্দের দ্বিগুণেরও বেশি মাথাপিছু ঋণ ।প্রস্তাবিত বাজেটে তৃতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ ঋণের সুদ পরিশোধে । দেশে ঋণের বোঝা বাড়ছে। আজ যে শিশুটি জন্ম নেবে, তার মাথায় ৬৭ হাজার ২৩৩ টাকা ঋণের দায় চাপবে। কারণ বর্তমানে দেশের প্রতিটি নাগরিকের মাথাপিছু এ পরিমাণ ঋণ রয়েছে। গত ১ বছরে যা বেড়েছে প্রায় ৭ হাজার ২৩৩ টাকা।
আগামী ১ বছরে তা আরও ৫ হাজার ৫৪৭ টাকা বাড়বে। ফলে ওই সময়ে মাথাপিছু ঋণের স্থিতি দাঁড়াবে ৭২ হাজার টাকা। এ কারণে ২০১৯-২০ অর্থবছরেও প্রস্তাবিত বাজেটে ঋণের সুদ পরিশোধে তৃতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ রেখেছে সরকার। অন্যদিকে প্রস্তাবিত বাজেটে মানুষের মাথাপিছু বরাদ্দ ৩২ হাজার ৩৫৫ টাকা।
এ হিসাবে ঋণ মাথাপিছু বরাদ্দের দ্বিগুণেরও বেশি। ঋণ অর্থনীতিবিদরা বলছেন, কর আদায় করতে না পারায় সরকারকে বেশি ঋণের আশ্রয় নিতে হচ্ছে। আর এ অবস্থা চলতে থাকলে আগামী ৪ থেকে ৫ বছরের মধ্যে ভয়াবহ অবস্থা সৃষ্টি হবে।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, প্রতি বছর দেশীয় উৎস থেকে সরকার যে হারে ঋণ নিচ্ছে, তা অর্থনীতির ব্যবস্থাপনার জন্য ইতিবাচক নয়। কারণ সুদের হার বেড়েছে, যা বিনিয়োগকে বাধাগ্রস্ত করে।
তিনি বলেন, প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশে কর আদায়ের হার অত্যন্ত কম। বর্তমানে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) তুলনায় কর আদায় ১০ শতাংশের কম। অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে হলে জিডিপির তুলনায় করের অন্তত ১৫ থেকে ১৬ শতাংশ থাকা উচিত।
তিনি বলেন, করের হার বাড়াতে পারলে ঋণ কমবে না। তিনি আরও বলেন, ঋণ নিয়ে বাজেট ঘাটতি মেটানো ভালো পদক্ষেপ নয়। এতে আর্থিক খাতের শৃঙ্খলা নষ্ট নয়।
অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে পাওয়া তথ্য অনুসারে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ ঋণের পরিমাণ ১০ লাখ ৮৭ হাজার ১৬৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে বেসরকারি খাতে ঋণ ৯ লাখ ৭০ হাজার ৩৪৮ কোটি এবং সরকারি ও রাষ্ট্রায়ত্ত মিলিয়ে ১ লাখ ১৬ হাজার ৮১৪ কোটি টাকা। এছাড়াও এ পরিমাণ ঋণ জিডিপির ৩৫ শতাংশের বেশি।
অন্যদিকে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ তথ্য অনুসারে বর্তমানে দেশের জনসংখ্যা ১৬ কোটি ১৭ লাখ। এ হিসাবে প্রতিটি নাগরিকের মাথাপিছু ঋণ ৬৭ হাজার টাকা। আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ৬০ হাজার টাকা। এ হিসাবে ১ বছরে বেড়েছে ৭ হাজার ২৩৩ টাকা।
এরপর আগামী অর্থবছরে আরও ১ লাখ ৩৮ হাজার ২১২ কোটি টাকা ঋণ নিতে যাচ্ছে সরকার। এর মধ্যে বিদেশি ঋণ ৬৩ হাজার ৮৪৮ কোটি টাকা, বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ঋণ ৪৭ হাজার ৩৬৪ কোটি টাকা এবং সঞ্চয়পত্রের মাধ্যমে ২৭ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেয়া হবে। ফলে ঋণের স্থিতি আরও ৮ হাজার ৫৪৭ টাকা বাড়বে।
এ ঋণ অত্যন্ত ব্যয়বহুল। কারণ সঞ্চয়পত্রের মাধ্যমে যে ঋণ নেয়া হয়, তার বিপরীতে সরকারকে বছরে ১০ শতাংশের বেশি সুদ গুনতে হচ্ছে। এ কারণে ২০১৯-২০ অর্থবছরে ঋণ পরিশোধে ৫৭ হাজার ৬৩ কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছে সরকার। যা দুটি পদ্মা সেতুর নির্মাণ ব্যয়ের সমান। এক্ষেত্রে ঋণ না কমলে এ টাকা বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয় করা যেত।
এ ব্যাপারে মির্জ্জা আজিজ আরও বলেন, আমাদের অভ্যন্তরীণ ঋণ অনেক ব্যয়বহুল। সেই ঋণের একটা মোটা অংশ যদি হয় সঞ্চয়পত্র, তাহলে তা আরও ব্যয়বহুল। সরকার ব্যয়বহুল ঋণ বেশি নিচ্ছে, এর অর্থই হচ্ছে স্বাস্থ্য ও শিক্ষার মতো অগ্রাধিকার খাতগুলোয় সরকার প্রয়োজন অনুযায়ী বরাদ্দ রাখতে পারছে না।
বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, দেশে বর্তমানে যে ঋণ নেয়া হচ্ছে, তার ৬০ শতাংশই অভ্যন্তরীণ উৎসের ওপর। এতে আগামী ৪ থেকে ৫ বছরের মধ্যে দায় পরিশোধের ক্ষেত্রে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হবে। তিনি বলেন, ঋণ নির্ভরতা কমানোর জন্য রাজস্ব আয় বাড়াতে হবে। এক্ষেত্রে রাজস্ব খাতে বিভিন্ন সংস্কার জরুরি।
পলিসি রিসার্চ ইন্সটিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর মনে করেন, সরকার ঠিকমতো ঋণ ব্যবস্থাপনা করতে পারছে না বলেই এর দায় নিতে হচ্ছে জনগণকে। তুলনামূলকভাবে বিদেশি ঋণ অনেক সাশ্রয়ী। কিন্তু সরকার সহজ পথ হিসেবে বেছে নেয় বেশি সুদের অভ্যন্তরীণ উৎসকে। এতে আর্থিক খাতে চাপ বেড়ে যায়।
অন্যদিকে মুদ্রা পরিস্থিতি ইতিবাচক অবস্থায় নেই। ব্যাংকের আমানতের চেয়ে জনগণের হাতে টাকা বেশি। বর্তমানে দেশে মুদ্রার পরিমাণ ১১ লাখ ৬০ হাজার ৫৭২ কোটি টাকা। এর মধ্যে মেয়াদি আমানত ৯ লাখ ৮ হাজার ১৯৮ কোটি টাকা, তলবি আমানত ১ লাখ ৬ হাজার ৪১০ কোটি টাকা ও ব্যাংকের বাইরে মানুষের হাতের টাকার পরিমাণ ১ লাখ ৪৫ হাজার ৯৬৩ কোটি টাকা।

একদিন গোলাম ছিলাম রে……..

একদিন গোলাম ছিলাম রে……..

ব্রিটেনের দস্যু রানীর সাথে ছবি তুলেছে ১০ দেশের ক্রিকেট দলের প্রধান।
৯টি দেশ (ইংল্যান্ড নিজে বাদে) : বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলংকা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, দক্ষিণ আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া, পাকিস্তান, নিউজিল্যান্ড এবং আফগানিস্তান কিন্তু এক সময় জলদস্যু শাসিত ব্রিটিশ উপনিবেশের অংশ ছিলো। জলদস্যু ব্রিটিশরা খুব অহংসকার করে বলতো- The sun never sets on the British Empire. অর্থ-ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের সূর্য কখনো অস্ত যায় না।” জলদস্যু জাত ব্রিটিশরা যখন দেখলো তাদের সম্রাজ্যবাদের পতন আসন্ন, তখন তারা “কমনওয়েলথ” নামক সংস্থা বানিয়ে রাখলো- যাদের দেখলে সব সময় মনে হবে- এই দেশগুলো এক সময় ব্রিটিশ গোলাম ছিলো।

সেই ব্রিটিশ সম্রাজ্যবাদীদের বানানো খেলা হইলো- ক্রিকেট।
মালিক খেলা চালু করে গোলামদের ডাক দিছে খেলতে।
আর গোলামরা খেলতে পেরে কত খুশি হইছে।
মালিকও গোলামদের সাথে ছবি তুলে খুশি।
হাসতে হাসতে বলে- তোরা সারাদিন থাকবি খেলা নিয়ে, আর আমার নাতিরা শিখবে যুদ্ধ,
আফগানিস্তানে গিয়ে বোম্বিং করে মজা নিবে।

আমি জানি, এসব বললে- কেউ কেউ বলবে-
সব কিছুর মধ্যে আপনি রাজনীতি আর ষড়যন্ত্র টেনে আনেন।
আমি তাদের বলবো- ভাই সমস্যা কি জানেন ?
মূল সমস্যা হইলো আমাদের ইজ্জত নাই,
আর তার থেকেও বড় সমস্যা হইলো, আমদের যে ইজ্জত নাই, এটাও আমরা বুঝি না।
আজকে পৃথিবীতে সুপার পাওয়ার হইছে আমেরিকা।
এই ব্যাটা ভালো হোক আর মন্দ হোক, সে কিন্তু ইজ্জত কি এটা বুঝে।
এই আমেরিকা (ইউএসএ) কিন্তু এক সময় ব্রিটিশ উপনিবেশের অংশ ছিলো।
সে বহু কষ্ট করে যুদ্ধ করে সেখান থেকে বের হইছে।
কিন্তু সে কিছুতেই এটা স্বীকার করতে চায় না, যে সে এক সময় ব্রিটিশ গোলাম ছিলো।
এই জন্য এই ব্যাটা ব্রিটিশ বানানো ক্রিকেট খেলতে আসে নাই।
ব্রিটিশ বানানো কমনওয়েলথও যোগ দেয় নাই।
ব্রিটিশরা কোন নিয়ম চালু করলে সেখানে লাফ দিয়ে নামে নাই।
ব্রিটিশরা বাম দিয়ে গাড়ি চালায়, সে চালায় ডান দিয়ে।
ব্রিটিশরা লাইটের সুইচ অন করে উপর থেকে নিচে, আর সে করে নিচ থেকে উপরে।
যদিও ধর্মে দুই দেশ খ্রিস্টান, কিন্তু ব্রিটিশ নিয়ম মানলে আবার ‘এক সময় ব্রিটিশদের গোলাম ছিল’ এটা মনে করতে হয় কি না, এজন্য তারা ব্রিটিশদের বানানো নিয়ম মানে নাই, আবার অনেক ক্ষেত্রে বেশি জরুরী হলো মডিফাই করে ব্যবহার করছে, তবুও ডাইরেক্ট মানে না। এটা হইলো আসল ই্জ্জত। আর ইজ্জত বজায় রাখার জন্য আজকে আমেরিকানরা সুপার পাওয়ার হইতে পারছে।

মুসলমানরা যখন এক সময় সারা বিশ্ব শাসন করতো, তখন এই পলিসি কিন্তু মুসলমানদের মধ্যেও ছিলো।
তারা অমুসলিমদের কোন নিয়ম-কানুন মানতো না। নিজস্ব পলিসিতে চলতো।
খলিফা উমরের জীবনীতে পরেছিলাম- বায়তুল মোকাদ্দাস বিজয়ের পর তিনি যখন চাবি আনতে গিয়েছিলেন,
তখন তিনি চামড়ার তৈরী খাবারের দস্ত থেকে রুটির টুকরা তুলে খাচ্ছিলেন, যা ইসলামের একটি নিয়ম।
তখন অনেকে বলেছিলো- এখানে অনেক খ্রিস্টান রাজা বাদশাহ আছে, তাদের সামনে দস্ত খানা থেকে খাবার তুলে না খেলে কি হয় না।?
তখন তিনি খুব রাগান্বিত হয়ে জোরে বলেছিলেন- এসব আহাম্মকের জন্য কি, আমি আমার ইসলামীক নিয়ম-নীতি ছেড়ে দিবো ?

আমরা দেশকে ভালোবাসি, জাতিকে নিয়ে অনেক বড় বড় স্বপ্ন দেখি।
আমরা চিন্তা করি বিভিন্ন শত্রুর অধীনে থেকে দেশের যে ক্ষতি হয়েছে একটা সময় হয়ত সেটার পরিবর্তন হবে।
কিন্তু সেই পরিবর্তন হওয়ার জন্য আগে প্রয়োজন আমাদের মন-মগজের পরিবর্তন করা।
যারা সম্রাজ্যবাদী তারা তো মন-মগজে আমাদের গোলাম বানিয়ে রেখেছে।
যতদিন আমরা আমাদের মন-মগজ ও বিশ্বাসকে তাদের গোলামির কাতার থেকে বের না করতে পারবো, ততদিন আমরা আসলেই স্বাধীন হবো না এবং স্বতন্ত্র জাতি হিসেবে আত্মপ্রকাশও করতে পারবো না- এটাই আগে আমাদের বুঝতে হবে।