ইরাকের সাদ্দাম হোসেন যখন কুয়েত দখল করে নিয়েছিল

১৯৯০ সালের ২ আগস্ট। ইরাকের প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেন প্রতিবেশি কুয়েতে হাজার হাজার সৈন্য পাঠিয়ে দেশটি দখল করে নিলেন।

কুয়েতের মানুষ হতভম্ব। চারিদিকে বিভ্রান্তি। কুয়েতের সরকারি রেডিও তখনও চালু। সেখান থেকে বাইরের দুনিয়ার সাহায্য চেয়ে আবেদন জানানো হলো।

সামি আল-আলাউইর বয়স তখন মাত্র বিশ বছর। তার বাবা তাকে ঘুম থেকে ডেকে তুললেন।

“আমার বাবা আমাকে যা বললেন, তা শুনে আমি অবাক। তিনি আমাকে বললেন, সামি, ওঠো, তাড়াতাড়ি প্রস্তুত হও। স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে যোগ দাও। সেনা সদর দফতরে যাও, দেখো কীভাবে সাহায্য করতে পারো।”

সামি তাড়াতাড়ি বাইরে এসে তার গাড়িতে উঠলেন। কিন্তু কুয়েত সিটির যে অংশে তিনি থাকেন, সেটা ততক্ষণে ইরাকি বাহিনীর দখলে চলে গেছে।

“পুরোপুরি যুদ্ধসাজে সজ্জিত সৈন্যরা ততক্ষণে রাস্তা দখল করে নিয়েছে। আমি ভেবেছিলাম এরা হয়তো কুয়েতি সেনা। একজন সৈন্য আমার দিকে বন্দুক তাক করলো। তখন আমি গাড়ি থেকে বেরিয়ে এলাম। সৈন্যটি আমার গালে একটা চড় মারলো।”

“আমাকে সে বলছিল, তুমি কি আমাকে গাড়ি চাপা দিয়ে মেরে ফেলার চেষ্টা করছো? আমি বললাম, ভাই, আমি মাত্র ঘুম থেকে উঠেছি। কী হচ্ছে দেশে?”

“আসলে ও ছিল একজন ইরাকি সৈন্য। সে বুঝতে পারলো, আমি আসলে নার্ভাস। আমাকে সে বললো, তোমার গাড়িতে উঠে এক্ষুনি এখান থেকে ভাগো। নইলে আমি তোমাকে হত্যা করবো।”

ইরাক এবং কুয়েতের মধ্যে বহু বছর ধরে সীমান্ত নিয়ে বিরোধ চলছিল। দুটি দেশই তেল রফতানির ওপর নির্ভরশীল। ইরাকের অভিযোগ ছিল, কুয়েত অতিরিক্ত তেল উৎপাদন করে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে ধস নামাচ্ছে।

দুদেশের সম্পর্কে আরও সমস্যা তৈরি করে ১৪০০ কোটি ডলারের এক ঋণ। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের সময় ইরাক এই অর্থ ধার করেছিল কুয়েতের কাছ থেকে।

কিন্তু বহু বছরের যুদ্ধে বিপর্যস্ত ইরাক এই ঋণ শোধ করতে পারছিল না। সাদ্দাম হোসেন চাইছিলেন, কুয়েত এই ঋণ মওকুফ করুক। কিন্তু কুয়েত তাতে অস্বীকৃতি জানায়। এরপর পরিস্থিতি মারাত্মক দিকে মোড় নিল।

এক রাতের মধ্যেই ইরাকি সৈন্যরা কুয়েতে অভিযান চালিয়ে সরকারকে উৎখাত করলো। ইরাকি সেনাবাহিনীর হাজার হাজার সৈন্য ট্যাংক নিয়ে সীমান্ত অতিক্রম করে রাজধানী কুয়েত সিটিতে পৌঁছে গেল।

তখন কুয়েতের মোট জনসংখ্যা মাত্র ২১ লাখ। বেশিরভাগ বিদেশি সাথে সাথেই কুয়েত ছেড়ে চলে গেলেন। আর কুয়েতের নাগরিকদেরও দুই-তৃতীয়াংশ হয় দেশ ছেড়ে পালালেন, বা বিদেশে আটকে পড়লেন।

যারা কুয়েতে রয়ে গেলেন, তারা নানাভাবে ইরাকি দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করলেন।

সামি এবং তার বাবা বেসামরিক মানুষ থেকে রাতারাতি হয়ে গেলেন প্রতিরোধ যোদ্ধা। তারা অস্ত্র এবং গোলাবারুদ সংগ্রহ শুরু করলেন, যোগ দিলেন প্রতিরোধ বাহিনীতে।

“আগষ্ট মাসে আমাদের জন্য সবচেয়ে জরুরী ছিল নিজেদের জন্য একটা জায়গা খুঁজে বের করা – যেখান থেকে আমরা আমাদের কাজ চালিয়ে যেতে পারি, আমাদের অস্ত্রশস্ত্র লুকিয়ে রাখতে পারি। ইরাকিরা তখনো আমাদের দেশ ঠিকমত জানে না, চেনে না। অন্তত আমাদের মতো অত ভালোভাবে নয়। কাজেই আমরা যত পারি অস্ত্র সংগ্রহ করলাম, তারপর আত্মগোপনে চলে গেলাম।”

ইরাকিরা কুয়েতে তাদের নিয়ন্ত্রণ যত কঠোর করে আনতে থাকলো, প্রতিরোধ যুদ্ধ তত বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠলো।

অক্টোবর মাসে সামি এবং তার চাচা ধরা পড়লেন। তাদেরকে ইরাকের বসরা নগরীর এক জেলখানায় নিয়ে যাওয়া হলো। পথে তাদের এক জায়গায় থামানো হলো।

“আমাদের পিঠমোড়া করে হ্যান্ডকাফ পরানো হলো। তারপর বাস থেকে নামিয়ে লাইন বেঁধে দাঁড় করানো হলো। সৈন্যরা তাদের বন্দুকে গুলি ভরছিল, আমরা তার শব্দ পাচ্ছিলাম। এরপর গুলি চালানোর শব্দ পেলাম। তখন আমার মনে হলো, আমার সামনের জনকে বোধহয় গুলি করা হয়েছে, এরপর হয়তো আমার পালা।”

“আমি অপেক্ষা করছিলাম কখন একটা বুলেট এসে আমাকে আঘাত করবে, তারপর আমি মাটিতে লুটিয়ে পড়বো। কিন্তু কয়েক মিনিট পরেই শুনলাম ইরাকিরা হাসাহাসি করছে। ওরা আসলে ভান করছিল যে আমাদের ওরা গুলি করে মারছে। কিন্তু এরপর ওরা আমাদের আবার বাসে তুললো।”

১৯৯০ সালে ডিসেম্বরের শেষে সামিকে মুক্তি দেয়া হলো। কিন্তু ছাড়া পেয়েই আবার কুয়েতে ফিরে প্রতিরোধ সংগ্রামে যোগ দিলেন তিনি। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ইরাক বিরোধী এক সামরিক জোটে যোগ দিয়েছে। তাদের লক্ষ্য ইরাকের দখল থেকে কুয়েতকে মুক্ত করা।

১৭ জানুয়ারি, ১৯৯১। শুরু হলো ‘অপারেশন ডেজার্ট স্টর্ম।’

আন্তর্জাতিক জোট বাহিনী কুয়েতে ঢুকলো ২৪শে ফেব্রুয়ারি। তখন ভোর পাঁচটা, চারিদিকে গোলাগুলি, বিস্ফোরণের শব্দ।

সামির মনে হলো কুয়েত এবার মুক্ত হতে চলেছে, নিজের দেশ এবার তারা ফিরে পাবেন।

“এক একটা বিস্ফোরণের শব্দ শুনে আমরা একে অপরকে জড়িয়ে ধরছিলাম খুশিতে। আমাদের লক্ষ্য সফল হতে চলেছে।”

কিন্তু না, এরমধ্যেই ঘটে গেল অন্যরকম এক ঘটনা, যা হিসেবের মধ্যে ছিল না।

সামির বাবা হাদি আল-আলাউই একটি প্রতিরোধ সেলের নেতৃত্বে ছিলেন। এর নাম ছিল ‘মাসিলা সেল।’

কুয়েত সিটির দক্ষিণে এক বাড়িতে ছিল এই সেলটির ঘাঁটি। আন্তর্জাতিক জোট বাহিনী তখনো কুয়েত সিটিতে পৌঁছেনি। ইরাকি বাহিনী তখন এ্ই জায়গায় এসে বাড়ি বাড়ি তল্লাশি শুরু করলো।

বাড়ির ভেতরে তখন সামি এবং তার বাবা। তাদের সঙ্গে ছিল আরও ১৭ জন তরুণ। ইরাকি সৈন্যরা যখন দরোজায়, তখন তাদের বাধা দিতে এক তরুণ গুলি ছুঁড়লো। ইরাকি সৈন্যরা পাল্টা গুলি ছুঁড়লো।

কিন্তু দুপক্ষের এই গোলাগুলি ব্যাপক লড়াইয়ে রূপ নিল। ইরাকীরা আরও সৈন্য নিয়ে আসলো। ট্যাংক নিয়ে এলো।

“খুবই ভীতিকর অবস্থা। অস্ত্রশস্ত্রের দিক দিয়ে ওরা সুবিধেজনক অবস্থায় ছিল। যখন ওরা ট্যাংক নিয়ে আসলো, পরিস্থিতি বদলে গেল। তখন তখন আমার মনে হলো, এর মোকাবেলা করা আমাদের কাজ নয়।”

সময় যত গড়াতে লাগলো, কুয়েতি প্রতিরোধ বাহিনীর বিপরীতে ইরাকি সেনাদের সংখ্যা বাড়তে থাকলো। সামির বাবা, যিনি প্রতিরোধ বাহিনীর নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন, তিনি বুঝতে পারলেন, তাদের পরাজয় এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। তাদের সবাই হয়তো ধরা পড়বেন, তাদেরকে হত্যা করা হবে। সামির জন্য একটি ছিল এক বেদনাদায়ক অভিজ্ঞতা।

“আমার বাবা আমার খুব প্রিয় ছিলেন। আমি তাকে শ্রদ্ধা করতাম। কাজেই তিনি যখন বুঝতে পারলেন যে এটাই শেষ, তখন তিনি একটা কঠিন সিদ্ধান্ত নিলেন।”

“আমার বাবা যেন বলছেন, এখানে আমিই সবচেয়ে বয়োজ্যেষ্ঠ এবং সবকিছুর জন্য আমিই দায়ী। কাজেই আমিই আগে মরবো।”

“তিনি বাড়ির ছাদে উঠলেন। একটা গোলা এসে আঘাত করলো। আমি বাবাকে ডাকলাম। বাবা উত্তর দিলেন, আমি ঠিক আছি। এবার দ্বিতীয় একটি গোলা এসে পড়লো। আমি আবার বাবাকে ডাকলাম। কিন্তু এবার তিনি কোন উত্তর দিলেন না। উপরে গিয়ে দেখার সাহসও আমার ছিল না। পুরো বাড়ি তখন অরক্ষিত। আমার মনে হলো বাবা আর নেই।”

“ঠিক ঐ মূহুর্তে আমার অনুভূতি, আমার সাহসিকতা, আমার সবকিছু যেন উবে গেল। আমি তখন একটা জিনিসই চাইছিলাম। আমি ঘর থেকে বেরুতে চাইছিলাম।”

“আমি জীবিত অবস্থায় এখান থেকে বেরুতে চাই। আমি জামাল আর তালালকে নিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে আসলাম। আমরা পাশের বাড়িতে গিয়ে ঢুকলাম।”

ইরাকী বাহিনী এই বাড়িতেও ঢুকবে, এটা জেনে সামি এবং তার এক বন্ধু একটা ছোট কুঠুরিতে গিয়ে লুকিয়ে থাকলেন।

“সেখানে আমরা কিছু কম্বল এবং শাল পেলাম। বেশ ঠান্ডা ছিল তখন। আমরা সেগুলো গায়ে জড়ালাম। আমি এবং জামাল সন্ধ্যা ছটা পর্যন্ত সেখানেই ছিলাম। এরপর আমরা শুনলাম ইরাকীরা সেখানে আসছে। একজন ইরাকী সেনা বললো, আমি এখানে একটা ঘর দেখতে পাচ্ছি। এটা দেখা দরকার” ছবির কপিরাইট Getty Images Image caption আত্মসমর্পনের জন্য সাদা পতাকা হাতে এগিয়ে যাচ্ছে ইরাকি সৈন্যরা

“এই সৈন্যটি এসে তার লাইটার জ্বালালো। আমাদের সেলটা ছিল দুই মিটার বাই দুই মিটার। ভেতরে কি আছে, সেটা তার না দেখতে পাওয়ার কথা নয়। আমার মনে হলো, সে নিশ্চয়ই আমাকে দেখতে পাচ্ছে। আমি কোরানের একটা আয়াত পড়তে শুরু করলাম মনে মনে।”

ইরাকি সেনাটি কিছুক্ষণ সেখানে দাঁড়িয়ে থেকে তার সাথের অফিসারকে বললো, “মনে হয় এখানে কিছু নেই!”

“আমার মনে হচ্ছিল, লোকটা হয়তো ভালো লোক ছিল। আমাদের অনুকম্পা করছে।”

“কিন্তু একটু পরেই এই সৈন্য তার তার অফিসারকে বললো, এই বাড়িটাকে একটা গ্রেনেড ছুঁড়ে শত্রুমুক্ত করা দরকার। কিন্তু ঠিক তখন বাইরে থেকে একটা অফিসারের ডাক শোনা গেল। তখন ভেতরের অফিসারটা বললো, বাদ দাও, বাদ দাও।”

২৪ শে ফেব্রুয়ারি কুয়েত সিটির উপকন্ঠে সেই লড়াই চলেছিল দশ ঘন্টা ধরে।

সামির বাবা এবং ঐ প্রতিরোধ সেলের আরও দুজন লড়াইয়ে নিহত হয়। যে নয়জন ইরাকি সেনাদের হাতে ধরা পড়ে, তাদের মৃতদেহ কাছাকাছি ফেলে রাখা হয়।

সামি এবং অপর সাতজন বেঁচে যান।

“মঙ্গলবার সকালে আমাদের দেশ মুক্ত এবং স্বাধীন হলো। মানুষ খুশিতে উল্লাস করছিল। কুয়েত তার স্বাধীনতা ফিরে পেয়েছে।”

“কিন্তু যে মূহুর্তের জন্য আমি এতদিন অপেক্ষা করেছি, যখন সেই মূহুর্ত এলো, আমি সেটা উদযাপন করতে পারলাম না। আমি হাসপাতালগুলোর মর্গে মর্গে ঘুরছিলাম। আমার বন্ধুদের খুঁজছিলাম।”

“এখনো আমার নাকে ট্যাংকের, বারুদের গন্ধ পাই। আমি সেই ঘরটার গন্ধ পাই। যখন আমি একা থাকি, এই পুরো ঘটনার স্মৃতি ফিরে ফিরে আসে। এটা যেন একটা উল্কির মতো আঁকা হয়ে আছে আমার মনে।”

শেষ পর্যন্ত এই যুদ্ধে ইরাক পরাস্ত হয়েছিল। কুয়েত মুক্ত হয়েছিল ইরাকী দখলদারিত্ব থেকে।

তবে কুয়েত যতদিন ইরাকের দখলে ছিল, তখন এক হাজারের মতো কুয়েতি নাগরিক লড়াইয়ে নিহত হয়। ৬০০ জনের মতো গুম হয়। ইরাকেরও হাজার হাজার সৈন্য এই যুদ্ধে নিহত হয়।

সম্পর্কিত বিষয়

এই প্রতিবেদন শেয়ার করুন শেয়ারিং সম্পর্কে

শুরুতে ফিরে যান

শীর্ষ খবর

তরল দুধে অ্যান্টিবায়োটিক বিতর্ক, সরেজমিনে বিবিসি সিরাজগঞ্জ জেলার অনেক গ্রামে মানুষের প্রধান জীবিকা গরুর দুধ বিক্রি। তরল দুধে অ্যান্টিবায়োটিক আর ভারী ধাতুর উপস্থিতি নিয়ে বিতর্ক সেখানে কী প্রভাব ফেলছে, তা দেখতে গিয়েছিলেন বিবিসি বাংলার সংবাদদাতা। ২ অগাস্ট ২০১৯ শিশুর ডেঙ্গু হয়েছে কিনা কিভাবে বুঝবেন, করণীয় কী ২ অগাস্ট ২০১৯ ‘পর্ন তারকা সানি লিওনকে পেতে ফোন করছে আমাকে’ ২ অগাস্ট ২০১৯

চিঠিপত্র ও মতামত

এডিটার্স মেইলবক্স: কাটা মাথার গুজব কেন থামছে না? ডেঙ্গু আতঙ্কে মানুষ শিশু নির্যাতক আপন ঘরেরই লোক, কাছের লোক

সবচেয়ে বেশি পড়া হয়েছে

মুসলমানদের উপর মিডিয়ার আগ্রাসনঃ

মুসলমানদের উপর মিডিয়ার আগ্রাসনঃ
শারীরিকভাবে আমরা যতই নিজেদের স্বাধীন দাবি করি না কেন আমরা মানসিকভাবে অনেক আগেই পরাধীন হয়ে গেছি । হয়ত পশ্চিমারা ইরাক, আফগানিস্তান এর মত আমাদের দশে আগ্রাসন চালায়নি সত্য কিন্তু তাদের মিডিয়া আগ্রাসন অনেক আগেই আমাদের চিন্তা ধারাকে তাদের অধীন করে ফেলেছে।
অবস্থাটা এমন দাঁড়িয়েছে যে আমরা চিন্তা ধারার দিক দিয়ে তাদের দাসে পরিণত হয়েছি। তারা আমাদের যা বুঝায় আমার তাই বুঝি । আমাদের সবচেয়ে বিশ্বস্ত খবর সংস্থা হচ্ছে BBC কিংবা CNN কিংবা পশ্চিমাপন্থি এদেশীয় মিডিয়াগুলি । যদি আপনি কোন কিছু বানিয়ে লিখেন আর সাথে নিচে লিখে দেন এই জিনিসটা অমুক সালে বিবিসির একটা ডকুমেন্টারিতে দেখানো হয়েছিল তাহলে মানুষ কোন সন্দেহ ছাড়াই বিশ্বাস করে নিবে । আর আমাদের এই অতিশয় বিশ্বস্ততাকে পুঁজি করেই পশ্চিমারা আমাদের বোকা বানাচ্ছে ।
আসলে পশ্চিমাদের এই ধরনের কাজ-কর্মের শুরু আজ থকে প্রায় ১০০০ বছর পূর্বেই । তখন ইউরোপ ছিল এক কথায় মুসলিমদের শাসনের অন্তর্গত , সেই সুযোগে মানুষ দলে দলে ইসলামে প্রবেশ শুরু করে । দেখা গেল অধিকাংশ মানুষই মুসলিম হয়ে যাচ্ছে । এই ব্যাপারটা উদ্বিগ্ন করে তুলে পশ্চিমা খ্রিস্টানদের, তখন তারা বিভিন্নভাবে এটাকে বন্ধ করতে চেষ্টা করে । তাদের প্রথম পদক্ষেপ ছিল কুরআনের ভুল অনুবাদ করা, রাসুল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নামের বিকৃতি করা , ইসলামকে খৃস্টান ধর্ম থেকে উৎপন্ন এবং ভ্রষ্ট বলে প্রচার করা, রাসুল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও ইসলামকে নিয়ে বিভিন্ন ব্যঙ্গাত্মক চিত্র আকা । এইটা নিয়ে Wikipedia তেও একটা article আছে যেটার নাম হচ্ছে Medieval Christian views on Muhammad।
যাই হোক কে জানে তাদের এই অপপ্রচারে বিভ্রান্ত হয়ে কত মানুষ হেদায়েতের আলো থেকে বঞ্চিত হয়েছেন!! এখন প্রশ্ন হচ্ছে আমরা কি তাদের এই অপপ্রচার এবং কুট কৌশল থেকে নিজেদের বাচাতে পারছি? যুগের পরিবর্তনের সাথে তারা তাদের পদ্ধতিতেই এনেছে পরিবর্তন । তারা প্রথমে ২ টা নিউজ দেয় ইসলামের প্রশংসা করে আর এভাবেই প্রথমে আমাদের বিশ্বস্ততাকে কিনে নেয় তার পর শুরু করে তাদের আসল কৌশল ।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে তাহলে আমারা কাদেরকে বিশ্বাস করব? আমাদের মুসলিমদের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা । এখনো বিশ্বের কোটি কোটি মুসলমান মিলেও একটা বিশ্বাসযোগ্য আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা তৈরী করতে পারেনি !!

ইসকন নামের সংগঠন

ইসকন এর গুরু ফিলিস্তিনে ইহুদীদের উপাসনালয় “পশ্চিম দেওয়াল”(West Wall) এ ভক্তি জানাচ্ছে। ছবিটি বেশ পুরাতন হলেও ইহুদীদের প্রতি তাদের আনুগত্য পরিষ্কার। কারণ ইহুদীদের কল্যাণেই তাদের জন্ম। এই ব্যাপারে ডিজিএফআইয়ের সাবেক প্রধান লে.(অব) আবু রূশদ উল্লেখ করেন,

” ইসকন নামে এক সংগঠন কাজ করছে। এর সদর দফতর নদীয়া জেলার পাশে মায়াপুরে। মূলত এটা ইহুদীদের একটি সংগঠন বলে জানা গেছে। এই সংগঠনের প্রধান কাজ হচ্ছে বাংলাদেশে উস্কানীমূলক ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করা যার উদ্দেশ্য হচ্ছে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সৃষ্টি ।”

— বাংলাদেশে ‘র’ আগ্রাসী গুপ্তচরাবৃত্তির স্বরূপ সন্ধান, পৃষ্ঠা ১৭৩-১৭৪।

একজন চৌকস গোয়েন্দা কর্মকর্তা যখন এমন ভয়ংকর তথ্য দেন। তখন আমাদের মত সাধারণ মানুষের আতংকিত হওয়া কি অস্বাভাবিক কিছু!! ইসকন মূলত হিন্দুধর্মের বৈষ্ণব ভাবধারা প্রচার করে থাকে। যদিও তাদের অবস্থা মাকাল ফলের মত। শ্রী চৈতন্যকে বৈষ্ণব ভাবধারার প্রবর্তক হিসেবে ধরা হয়। শ্রী চৈতন্যকে তৎকালীন স্বাধীন বাংলার সুলতান আলাউদ্দিন হোসেন শাহ বৈষ্ণব ধর্ম প্রচারের ব্যাপারে কোনরূপ বাঁধা প্রদান করেননি। এমনকি বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলের কাজিদেরকে( বিচারক) জানিয়ে দেন শ্রী চৈতন্যকে যেন বাঁধা প্রদান না করা হয়। সেই ভাবধারাকে পুঁজি করে ‘অভয়চরণারবিন্দ ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদ’ নামক এক ব্যক্তি নিউইয়র্ক শহরে ইসকন প্রতিষ্ঠা করেন। বিভিন্ন গোয়েন্দা তথ্যের মাধ্যমে জানা যায় যে, স্বামী প্রভুপাদ আমেরিকা ও ইহুদীবাদী গোয়েন্দাদের সাহায্যে ইসকন তৈরী করে। যার মূল উদ্দেশ্য হিন্দুদেরকে মূল ধর্ম বিশ্বাস থেকে সরিয়ে নেওয়া। সাথে অন্যান্য ধর্মের লোকদের সাথে হিন্দুদের দূরত্ব তৈরী করা এবং তৃণমূল থেকে রাষ্ট্রীয় উচ্চ পর্যায় পর্যন্ত গোপন তথ্য আমেরিকা ও ইহুদীবাদীদের হাতে তুলে দেওয়া। ইসকন তাইই করে যাচ্ছে। তারা তাদের উগ্রতা মানুষের মাঝে স্লো-পয়জনের মত ঢুকিয়ে দিচ্ছে। যা সহজেই মানুষ বুঝতে পারছে না। তারা ভারত থেকে শুরু করে বাংলাদেশ পর্যন্ত শক্তিশালী নেটওয়ার্ক তৈরি করেছে। তবে বেশীরভাগ সাধারণ হিন্দুরা তাদেরকে এখন পর্যন্ত গ্রহণ করতে পারেনি। একটা উল্লেখযোগ্য দিক হল তারা প্রথমে নারীদেরকে তাদের দিকে আকৃষ্ট করার চেষ্টা করে। কারণ নারীরা তাদের ভক্ত হয়ে গেলে ঘরের অন্যদেরও সহজেই নিজেদের দিকে বাগিয়ে আনা সম্ভব হয় যাবে। ধর্মের নামে তারা মূলত ইহুদী গোয়েন্দাদেরকে সাহায্য করে যাচ্ছে। কিন্তু আমরা তা অনেকেই জানিও না বুঝিও না। বুদ্ধিজীবীরা তাদের কৌশলকে বুদ্ধিবৃত্তিক সন্ত্রাস বলে থাকেন। এছাড়াও তাদের সন্ত্রাসীবাদের অনেক প্রমাণ পাওয়া যায় বাংলাদেশ-ভারত জুড়ে। আমাদের সকলকে সাবধান হওয়া উচিত। তাদেরকে জেএমবি, হুজি ইত্যাদির মত নিষিদ্ধ করা উচিত। বিশেষকরে হিন্দু ভাই-বোনদেরকে সাবধান হওয়া উচিত। তারা নিজের অজান্তেই বিকৃত ধর্মমত গ্রহণ করে সন্ত্রাসবাদী ইহুদীদের কব্জায় চলে যাচ্ছেন। কিন্তু তারা নিজেরা বুঝতেই পারছেন না।

হিন্দু জমিদারদের চরম বৈষম্যমূলক আচরণ মুসলমানদের জিন্নাহর দ্বিজাতি তত্ত্বের প্রতি আস্থাশীল করে তুলেছিল

হিন্দু জমিদারদের চরম বৈষম্যমূলক আচরণ মুসলমানদের জিন্নাহর দ্বিজাতি তত্ত্বের প্রতি আস্থাশীল করে তুলেছিল

“তারাগুনিয়ার জমিদার রামনারায়ন বাবু , পুড়ার কৃষ্ন দেব , নগড় পুড়ার গৌরদেব চৌধূরী , তাদের জমিদারী এলাকায় ৫টি নোটিশ জারি করলেন ।

(১) দাড়ির উপর আড়াই টাকা ফি (২) কাঁচা মসজিদ নির্মাণের উপর পাঁচশত টাকা ও পাকা মসজিদ নির্মাণের উপর এক সহস্র টাকা ফি (৩) আরবী নাম রাখলে পঞ্চাশ টাকা ফি (৪) গোহত্যা করলে দক্ষিণ হস্ত কাটিয়া দেয়া হইবে (৫) তিতুমীরকে নিজ বাড়ীতে স্থান দিলে ভিটা হতে উচ্ছেদ করা হবে ।” (গোলাম আহমদ মর্তুজার “ইতিহাসের ইতিহাস” বইয়ে এবং আব্দুল মওদুদের “ওহাবী আন্দেলন” , আব্দুল গফুর সিদ্দিকীর “শহীদ তিতুমীর”)

আওয়ামিলীগের শুরু হতে আওয়ামি রাজনীতির সাথে সম্পর্কযুক্ত জনাব আবুল মনসুর আহমদের “আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর” বইয়ের ১ম খন্ডের (৫ম সংস্করণ) ১৪ পৃষ্ঠা লিখেছেন , “আরেকটা ব্যাপার আমাকে খুবই পীড়া দিত । জমিদাররা হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে সব প্রজার কাছ থনেই কালীপূজার মাথট (এক ধরনের কর) আদায় করিতেন । এটা খাজনার সাথে আদায় করা হইত । খাজনার মতই বাধ্যতামূলক ছিল ।

তিতুমীরের আন্দোলন হয় ১৮৩১ সালে । সেই সময় হিসাব করলে বাংলাপিডিয়ার তথ্য মতে এক টাকায় চাল পাওয়া যেত ২৫- ৩০ কেজি। তাহলে আড়াই টাকায় প্রায় ৬৫ কেজির মত। এতএব এই পরিমান কর দিয়ে দাড়ি রাখা প্রায় অসম্ভবই ছিল।

১৯০১ থেকে ১৯৪০ সাল পর্যন্ত চালের মূল্য মোটামুটি টাকায় ১০-১২ কেজিতে বিদ্যমান ছিল। (সুত্র বাংলাপিডিয়া)

এবার আপনিই বলুন, মুসলামান দাড়ি কিভাবে রাখে ? আড়াই টাকা মানে প্রায় প্রায় ৬৫ কেজির মত চালের সমমান। যা তৎকালীন একজন উচ্চ মধ্যবিত্তের জন্যও কষ্টকর ছিল। উপর বিলেতে গিয়ে ইংরেজী কালচার শিক্ষা, দাড়ি ছাড়লে বৃটিশ রাজের বা হিন্দু জমিদারদের চাকরী। তার উপর বাধ্যতামূলক হিন্দুদের পূজার জন্য কর দেওয়া।

মজার বিষয় হল আমাদের অসাম্প্রদায়িক খ্যাত জমিদার রবীন্দ্রনাথও পূজা বাবদ মুসলিম প্রজা থেকে কর আদায় করতেন। এবং তার করের পরিমান অন্য জমিদার থেকে প্রায় দ্বিগুন ছিল।

ইসকন কি ? কে তাদের চালায় ? বাংলাদেশে কি তাদের উদ্দেশ্য ?

প্রথমেই বলতে হয়- ইসকন কিন্তু হিন্দুদের কোন সংগঠন নয়, হিন্দুবেশধারী ইহুদীদের একটি সংগঠন। আবু রুশদের লেখা—“বাংলাদেশের গোয়েন্দা সংস্থার সাবেক প্রধানদের কথা- বাংলাদেশে ‘র’ বইয়ে লেখা আছে-
“‘ইসকন নামে একটি সংগঠন বাংলাদেশে কাজ করছে। এর সদর দফতর নদীয়া জেলার পাশে মায়াপুরে। মূলতঃ এটা ইহুদীদের একটি সংগঠন বলে জানা গেছে। এই সংগঠনের প্রধান কাজ হচ্ছে বাংলাদেশে উস্কানিমূলক ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করা, যার উদ্দেশ্য হচ্ছে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সৃষ্টি।”. (বই- বাংলাদেশের গোয়েন্দা সংস্থার সাবেক প্রধানদের কথা- বাংলাদেশে ‘র’ পৃষ্ঠা:১৭১)

আপনাদের জেনে রাখা দরকার, ইসকনের সৃষ্টি কিন্তু ভারতে নয় আমেরিকার নিউইয়র্কে। মাত্র ৫০ বছর আগে, ১৯৬৬ সালে। সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতার নাম ‘অভয়চরণারবিন্দ ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদ’। অবাক হওয়ার মত বিষয়, এ ব্যক্তি ভারতে কোন হিন্দু শিক্ষালয়ে লেখাপড়া করেনি, লেখাপড়া করেছে খ্রিস্টানদের চার্চে। পেশায় সে ছিলো ফার্মাসিউটিকাল ব্যবসায়ী, কিন্তু হঠাৎ করেই তার মাথায় কেন হিন্দু ধর্মের নতুন সংস্করণের ভুত চাপলো, কিংবা কোন শিক্ষাবলে চাপলো তা সত্যিই চিন্তার বিষয়। স্বামী প্রভুপাদ নতুন ধরনের হিন্দু সংগঠন চালু করতেই প্রথমেই তাতে বাধা দিয়েছিলো মূল ধারার সনাতন হিন্দুরা। অধিকাংশ হিন্দুই তার বিরুদ্ধচারণ শুরু করে। কিন্তু সেই সময় স্বামী প্রভুপাদের পাশে এসে দাড়ায় জে. স্টিলসন জুডা, হারভে কক্স, ল্যারি শিন ও টমাস হপকিন্স-এর মত চিহ্নিত ইহুদী-খ্রিস্টান এজেন্টরা।
(https://goo.gl/vf9wyi)।

ইসকন একটি উগ্র সাম্প্রদায়িক সংগঠন। এ সংগঠনটির বেসিক কনসেপ্ট মধ্যযুগের চৈতন্য’র থেকে আগত। চৈতন্য’র অনতম থিউরী হচ্ছে- “নির্যবন করো আজি সকল ভুবন”। যার অর্থ- সারা পৃথিবীকে যবন মানে মুসলমান মুক্ত করো।

উল্লেখ্য- এ সংগঠনটি হিন্দুদের অধিকাংশ বেসিক কনসেপ্ট স্বীকার করে না। তারা হিন্দুদের উপর সম্পূর্ণ নিজস্ব কনসেপ্ট চাপিয়ে দেয়। এদের চেনার সহজ উপায়- এরা সব সময় ইউরোপীয় সাদা চামড়াদের সামনে নিয়ে আসে। সংগঠনটি মুলত এনজিও টাইপ। এরা নিম্নবর্ণের হিন্দুদের দলে ভিড়িয়ে দল ভারি করে। এ কারণে তাদের আস্তানাগুলো হয় নিম্নবর্ণের হিন্দুদের আস্তানার পাশে। যেমন ঢাকা শহরে স্বামীবাগ মন্দিরের পাশে ইসকন মন্দির হওয়ার কারণ, স্বামীবাগে রয়েছে বিশাল মেথর পট্টি। এই মেথর পট্টির নিচুবর্ণের হিন্দুদের নিয়ে তারা দল ভারি করে। সিলেটেও ইসকনদের প্রভাব বেশি। কারণ চা শ্রমিকদের একটি বিরাট অংশ নিচু বর্ণের হিন্দু। এদেরকে দলে নিয়ে সহজে কাজ করে তারা।

বর্তমানে ইসকন চালায় ডাইরেক্ট ইহুদীরা। ইসকনের মূল নীতিনির্ধারকদের প্রায় অর্ধেক হচ্ছে ইহুদী। এটি আমার কোন দাবি নয়, এক ইসকন নেতারই দাবি।
(http://goo.gl/xS3sfH)

বাংলাদেশে ইসকন কি চায় ও কি করে ??
স্বাভাবিকভাবে ইসকনের কর্মকাণ্ড শুধু নাচ মনে হলেও আদৌ তা নয়। ইসকনের কয়েকটি কাজ নিম্নরূপ-

১) বাংলাদেশে সনাতন মন্দিরগুলো দখল করা এবং সনাতনদের মেরে পিটিয়ে তাড়িয়ে দেয়া। যেমন স্বামীবাগের মন্দিরটি আগে সনাতনদের ছিলো, পরে ইসকনরা কেড়ে আগেরদের ভাগিয়ে দেয়। এছাড়া পঞ্চগড়েও সনাতনদের পিটিয়ে এলাকাছাড়া করে ইসকনরা। ঠাকুরগাও-এ সনাতন হিন্দুকে হত্যা করে মন্দির দখল করে ইসকন। এছাড়া অতিসম্প্রতি সিলেটের জগন্নাথপুরে সনাতনদের রথযাত্রায় হামলা চালিয়েছে ইসকন নেতা মিণ্টু ধর। (খবরের সূত্র-http://goo.gl/XwkLvm,http://goo.gl/7hegYE)

২) বাংলাদেশের মসজিদগুলোতে সাম্প্রদায়িক হামলা করা। কিছুদিন আগে ঢাকাস্থ স্বামীবাগে মসজিদের তারাবীর নামাজ বন্ধ করে দিয়েছিলো ইসকন। নামজের সময় ইসকনের গান-বাজনা বন্ধ রাখতে বলায় তারা পুলিশ ডেকে এনে তারাবীর উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। পরে বিষয়টি নিয়ে সংঘর্ষ হয়। এবার হলো সিলেটে।

৩) বাংলাদেশে বিভিন্ন সাম্প্রদায়িক সংগঠন তৈরী করে, উগ্রহিন্দুত্ববাদের বিস্তৃতি ঘটানো। যেমন- জাতীয় হিন্দু মহাজোট, জাগো হিন্দু, বেদান্ত, ইত্যাদি। বর্তমান অনলাইন জগতে যে ধর্ম অবমাননা তার ৯০% করে ইসকন সদস্যরা।

৪) বাংলাদেশে সম্প্রতিক সময়ে চাকুরীতে প্রচুর হিন্দু প্রবেশের অন্যতম কারণ-ইসকন হিন্দুদের প্রবেশ করানোর জন্য প্রচুর ইনভেস্ট করে।

৫) সিলেটে রাগীব রাবেয়া মেডিকলে কলেজের ইস্যুর পেছনে রয়েছে ইসকন। ইসকন আড়াল থেকে পুরো ঘটনা পরিচালনা করে এবং পঙ্কজগুপ্তকে ফের লেলিয়ে দেয়। এখন পঙ্কজগুপ্ত জমি পাওয়ার পর সেই জমি নিজেদের দখলে নিতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে বিচারবিভাগে ইসকনের প্রভাব মারাত্মক বৃদ্ধি পাওয়ার অন্যতম কারণ খোদ প্রধানবিচারপতিও একজন ইসকন সদস্য। (http://goo.gl/g3w0KK)

সবার শেষ কথা হচ্ছে- বাংলাদেশে যদি এখনই ইসকনকে নিষিদ্ধ না করা হয়, তবে বাংলাদেশের জন্য বড় ধরনের বিপদ অপেক্ষা করছে, যেই বিপদে বাংলাদেশে স্বাধীনতা হারালেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।

হাদিসে এসেছে ইসলামে দল হবে ৭৩ টা

হাদিসে এসেছে ইসলামে দল হবে ৭৩ টা
আর আহলে হাদীস একাই ১৬৮ টারও বেশী দলে ভাগ হয়ে গেছে! তাহলে বুঝা যায় বর্তমানের আহলে হাদীস সম্পূর্ন ভুয়া দল
———————————————–
১।
নবজাত শিশুর যেমন প্রথমেই কোন নাম থাকে না, কিছু দিন পর তার একটা নাম রাখা হয়, পছন্দ না হলে প্রয়োজনে তাও আবার পরিবর্তন করা হয়, অনুরুপভাবে ভারতবর্ষে নবজন্মা গাইরে মুক্বাল্লিদ নামক বিদ্‌য়া’ত ও ভয়াবহ ফিৎনাটিরও প্রাথমিক পর্যায়ে কোন নাম ছিল না। তাদের ভ্রান্ত তৎপরতা লক্ষ্য করে জনগণ যখন তাদেরকে “ ওহ্‌হাবী ” বা “ লা-মায্‌হাবী ” বলতে থাকে তখন তারা নিজেদেরকে “ মুহাম্মদী ” বলে ঘোষণা করে এবং পর্যায়ক্রমে সুবিধামত “ মুয়াহ্‌হিদ ” “ গাইরে মুক্বাল্লিদ ” “ আহ্‌লে হাদীস ” ইত্যাদি নাম বরাদ্দ করতে থাকে। সউদী আরবে তেল, পেট্রোলের পয়সা জমজমাট হওয়ার মুরাদে আরবীদেরকে ধোঁকা দিয়ে পেট পালার ব্যবস্থা হিসেবে বর্তমানে তারাই “ সালাফী ” নামে আত্নপ্রকাশ করেছে।

২।
এ ব্যাপারে গাইরে মুক্বাল্লিদ্‌দেরই অন্যতম ব্যক্তি মৌলভী মুহাম্মাদ শাহজাহানপুরীর উক্তি ইতিপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া তাদের অনেকেরই বই-পুস্তকে এর অসংখ্য প্রমাণ রয়েছে। তন্মধ্য হতে গাইরে মুক্বাল্লিদ আলিম মৌলভী আসলাম জিরাজপুরী তার বিশিষ্ট রচনা “ নাওয়াদিরাতে ” লিখেন,

“ প্রথমত এ জামাত নিজেদের বিশেষ কোন নাম রাখেনি। মাও: ইসমাইল শহীদ (রহ.) এর শাহাদাতের পর প্রতিপক্ষের লোকেরা যখন দুর্নাম করা জন্য তাদেরকে ওহ্হাবী বলতে শুরু করে, তখন তারা নিজেরদেকে “ মুহাম্মাদী ” বলতে থাকে, অত:পর এ নামটি পরিহার করে “ আহলে হাদীস ” উপাধি চয়ন করে যা আজ পর্যন্ত বলবৎ রয়েছে। ”

এই গ্রুপের আরো যত নাম আছে তা নিম্নে দেওয়া হল !
(1) Makhamahs,
(2) Najdaatis,
(3) Thu’aalabahs,
(4) Ajaaridahs,
(5) Zariqahs,
(6) Abaadhiyyas
(7) Safriyyas
(8) Ash-Sharaahs
(9) Khamariyyas,
(10) Huooriyyas
(11) Shyaybiyyas
(12) Ibaathiyyas,
(13) Shamraakhiyyas,
(14) Salaydiyyahs,
(15) Sirriyyahs,
(16) Azriyyahs,
(17) Ajradiyyahs,
(18) Shakkiyyas,
(19) Fadhaliyyahs,
(20) Bayhasiyyahs,
(21) Atwiyyahs,
(22) Fadeekiyyahs,
(23) Jadiyyahs,
(24) Ibadi Salafis,
(25) Nafusa Salafis,
(26) Hinawis Salafis,
(27) Ghaffiri Salafis,
(28) Mzabi Salafis,
(29) Jerba Salafis,
(30) Modernist or Neo Salafis
(31) Madkhali, or Super Salafis,
(32) Conventional or Najdi or Wahhabi Salafis,
(33) Jihadi Salafis,
(34) Qutubi Salafis,
(35) Laskar Jihad Salafis (followers of Ja’far Umar Talib),
(36) Al-Bani Salafis,
(37) Academic Salafis,
(38) GSPC Algerian Salafis,
(39) Murji Salafis,
(40) Talafi Salafis,
(41) Ma’ribi Salafis,
(42) Hizbi Salafis,
(43) Khariji Salafis,
(44) Takfiri Salafis,
(45) Nasibi Salafis,
(46) Ghloovi Salafis,
(47) Qawmi Salafis,
(48) Taqleedi Salafis,
(49) Asabi Salafis,
(50) Nation of Islam Salafis,
(51) Ahle Hadith Salafis,
(52) Deo Bandi Salafis,
(53) Nadwatul Ulema Salafis,
(54) Ilyasi Salafis or Tabhlighee Salafis,
(55) Jamiat Ulema-e-Islam Salafis,
(56) Jamiat-e-Ulema Hind Salafis,
(57) Millat-e-Islamia Salafis,
(58) Israri Salafis or Tanzeem-e-Islami Salafis,
(59) Islahi Salafis, (followers of Amin Islahi 1904-97)
(60) Ikhwan-ul-Muslimeen Salafis,
(61) Jamaah Islamiya Salafis,
(62) Darul Islam Salafis
(63) Jam’iya al-Salafiya al-Mujahida Salafis
(64) Islamic Salvation Front Salafis
(65) Maududi Salafis or Jamat-e-Islami Salafis,
(66) Ansar As-Sunnah Salafis,
(67) Tehrik-e-Taaliban Salafis,
(68) Zaakiri Salafis (followers of Zakir Naik),
(69) Jama’t-ud-Dawa Salafis,
(70) Lashkar-e-Taiba Salafis,
(71) Nabhani Salafis or Hizb ut-Tahreer Salafis,
(72) Jamiyya Salafis,
(73) Invitation to Paradise Salafis
(74) Hussami Salafis (Followers of Aqil Hussami),
(75) Ta’meer-e-Millat Salafis,
(76) Tafweedi Salafis,
(77) Sahwi Salafis, etc.
(78) Islamist Salafis,
(79) Tauseefi Salafis (followers of Tauseefur Rahman)
(80) Pathless Salafis (Non Arabs living in Saudi Arabia)
(81) Athari Salafis,
(82) Jamat-ul-Muslimeen Salafis,
(83) Guraba-e-Ahle-Hadith Salafis,
(84) Thanaiyah Salafis,
(85) Al-Maqdisi Salafis,
(86) At-Tawheed wal Jihad Salafis,
(87) Al-Wala’ wal Bara Salafis,
(88) Mean Green Salafis,
(89) Almost Salafis,
(90) Yemeni Salafis,
(91) Kung Fu Salafis,
(92) Bidda Salafis,
(93) Red Beard Salafis,
(94) Blood Salafis,
(95) Maxican Salafis,
(96) Jordanian Salafis,
(97) Canadian True blue Salafis,
(98) Sipah-e-Sahabah Salafis,
(99) Lashkar-e-Jhangvi Salafis,
(100) Harakat-e-Inqilab-e-Islami Salafis,
(101) Harakat-ul-Ansar Salafis,
(102) Hizb-ul-Mujahideen Salafis,
(103) Counterfeit Salafis,
(104) Al-Shabab Salafis,
(105) Jund Ansar Allah Salafis,
(106) Jaysh Al-Islam Salafis,
(107) Jaysh Al-Umma Salafis,
(108) Nour Salafis,
(109) Freedom and Justice Salafis,
(110) Deobandi Army of Islam Salafis,
(111) International Islamic Front Salafis,
(112) Freedom and Justice Salafis,
(113) Student Islamic Movement of India (SIMI) Salafis,
(114) Jamiat-ul-Hekma Salafis,
(115) Al-Ehsan Salafis,
(116) Al-Sururi Salafis, (followers of Al-Sururi)
(117) Islamic Heritage Restoration Salafis,
(118) Islah Salafis,
(119) Al-Ahdi Salafis (followers of Faysl Al-Ahdi)
(120) Muqbil Salafis, (followers of Muqbil Al-Wadi)
(121) Independent Yemeni Salafis,
(122) Kuwaiti Islamists Salafis,
(123) Purists Indonesian Salafis,
(124) Partai Keadilan Sejahtera (PKS), Salafis,
(125) Darul Islam Salafis,
(126) Jemaah Islamia Salafis,
(127) Strict Indonesian Salafis,
(128) Wahda Islamiyya Salafis,
(129) Mohammadiyah Salafis,
(130) Persatuan Islam (Persis) Salafis,
(131) Al-Irsyad Salafis,
(132) Dewan Dakwah Islam Indonesia (DDII) Salafis,
(133) Mutamar al-Alam al-Islami Salafis,
(134) Rabithah al-Alam al-Islami Salafis,
(135) LIPIA Salafis,
(136) Pesantren Salafis,
(137) Nida Salafis (followers of Abu Nida)
(138) FKASWJ (Forum Komunikasi ASWJ) Salafis
(139) Al-Sofwa Salafis,
(140) At-Turots Salafis,
(141) IREF Indian Salafis,
(142) Kumpula Muhahidin Malaysia (KMM) Salafis,
(143) Parti Se-Islam Malaysia (PAS) Salafis,
(144) Brotherhood of Inner Power (Al-Maunah) Salafis,
(145) Darul Islam Nusantara Salafis,
(146) ABIM Malaysian Salafis,
(147) Al-Arqam Salafis,
(148) Reformasi Salafis,
(149) Islamic Algerian Salafis,
(150) Sayyafi Salafis (followers of Abu Sayyaf),
(151) Moro Islamic Liberation Front Salafis,
(152) Australian Salafis,
(153) Al-Muhajiroun Salafis,
(154) UK Saved Sect Salalfis
(155) UK Al-Ghuraba Salafis,
(156) Takfiri Algerian Salafis,
(157) Jam’iyyah Ihyaa Turaath Al-Islami Salafis,
(158) Jam’iyyah Ihyaa Minhaj as-Sunnah Salafis,
(159) Salafi Publications (OASIS) Salafis,
(160) Tajik Salafis,
(161) Al-Ansar Tabhlighee Salafis,
(162) Jamiatul Ansar Salafis,
(163) Harakatul Mujahideen Salafis,
(164) Harakatul Jihad al-Islami (Huji) Salafis, etc

(নাওয়াদিরাতঃ পৃ: ৩৪২)

প্রমান সরূপ ডা: জাকির নায়েকের একটি বয়ান দেওয়া হলো !
https://www.youtube.com/watch?v=YBTryvPmVYk

একই দলের বিচিত্র নাম ভ্রষ্টতারই পরিচায়ক

১।
একটু লক্ষ্য করলেই বুঝা যাবে যে, গাইরে মুক্বাল্লিদ্‌দের নিজেদেরই অনুভূতি নেই যে তারা কি? কখনো তারা নিজেদেরকে “ মুহাম্মাদী ” বলে কখনো “ মুয়াহ্‌হিদ ” কখনো “ গাইরে মুক্বাল্লিদ ” কখনো “ লা-মায্‌হাবী ” কখনো “ আহলে হাদীস ” আবার কখনো “ আসারী ” আবার কখনো “ সালাফী ” ইত্যাদি। যে দলটি নিজের নাম নিয়েই আজ পর্যন্ত সংশয়ে নিপতিত (!) তারাই জানে তাদের ধর্ম ও দ্বীন নিয়ে কেমন সংশয় ও সন্দেহে আপতিত। আর যে ধর্ম ও মতবাদে এত সংশয় ও সন্দেহের অবকাশ রয়েছে তা গ্রহণ করা নিঃসংশয় নিঃসন্দেহযুক্ত তথা হক্ব হওয়ার নিশ্চয়তা কোথায় ?

২।
সম্মানিত পাঠকবর্গ নিশ্চয়ই অবগত আছেন যে, নির্বাচনের সময় কোন কোন চরিত্রহীনা মহিলা তার প্রকৃত নাম, স্বামীর নাম ও বোরকা পরিবর্তন করে বিভিন্ন পরিচয়ে পালাক্রমে ভোট প্রদান করে থাকে। কিন্তু সময়-সুযোগে গণধোলাই আর কিছু উত্তম মাধ্যম দিলে তার মূল পরিচয় বেরিয়ে আসে। অনুরূপ ভাবে, গাইরে মুক্বাল্লিদরাও সুবিধামত বিভিন্ন সময়ে, বিভিন্ন নামে, বিভিন্ন পরিচয়ে আত্নপ্রকাশ করে থাকে। তাই, আহ্‌লে হকের পক্ষ থেকে সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলেই তাদের আসল রূপ ও মূল উদ্দেশ্য বেরিয়ে আসবে।

সাবধান ভ্রান্ত কথিত আহলে হাদিস ফেতনা


সাপ সম্পূর্কে বিস্তারিত জানুন!!!!


বীন বাজালে সিনেমায় সাপ নাচে। বাস্তবে নাচে না। সাপের কান নাই। শোনার জন্য ঘনঘন জিহ্বা বের করতে হয়।
সাপ আপনাকে আক্রমণ করবে না। আপনি যদি শব্দ করে হাঁটেন, সে বুঝতে পারে। সাপের বুকের তলায় খোলসের রঙ আলাদা। সেখানে বিশেষ স্নায়ুতন্তু থাকে। মাটির কম্পন বুঝতে পারে। আপনি কতদুরে আছেন, আপনি সাইজে কতবড়, সে বুঝতে পারে। পালিয়ে যায়।

বেলি, হাস্নাহেনার গন্ধে কখনো সাপ আসে না। কেউকেউ জীবদ্দশায় বেলি, হাস্নাহেনা গন্ধরাজের তলায় সাপ দেখেছেন হয়তো। মনে রাখবেন, সাপের ঘ্রাণশক্তি খুবই দূর্বল। সে গন্ধ পায় না।
সুগন্ধি ফুলে পোকামাকড় আকৃষ্ট হয় বেশি। পোকা খেতে ব্যাঙ আসে। ব্যাঙ খেতে মাঝেমাঝে সাপ আসতে পারে। খাবার পর মানুষের মত সাপও ক্লান্ত হয়। মানুষ খাবারের পর যেমন আয়েশ করে ঘুমায় তেমনই সাপও বেলি-হাস্নাহেনার তলায় ঘুমুতে পারে। তবে এসব গাছ যদি বাড়ির ভেতর থাকে তবে সাপ কম আসে। কারণ মানুষের উপস্থিতি তারা ভয় পায়। তবে বাড়ির সাইডে, ঝোপঝাড়ে এমন গাছ থাকলে সাপ আসা স্বাভাবিক।

একটা সাপকে মারলে তার জোড়া সঙ্গী কখনোই আপনাকে খুঁজে দংশন করতে আসবে না। সাপের স্মৃতিশক্তি খুবই দূর্বল। কিন্তু একটা সাপ মারার পর আরেকটা সাপ প্রায়ই একই স্থানে দেখা যায়, কারণ কী?
সিম্পল। মেটিং এর সময় তাদের পার্টনার আশেপাশে থাকতেই পারে কিংবা আশেপাশে গর্ত থাকলে তার বাচ্চাকাচ্চা কিংবা আরো সাপ উঠে আসতেই পারে। সে প্রতিশোধ নিতে আসেনি বরং ভুল করে গর্ত থেকে চলে এসেছে।

ছোট সাপের বিষ নাই। কথাটা ভুল। সাপের বাচ্চাও সাপ। কেঁচোর সমান একটা কেউটের কামড়ে আমার চোখের সামনে এক রোগীকে টানা ২৪ ঘণ্টা জীবনের সাথে ফাইট করতে হয়েছে। আইসিইউতে আমরা তিন ডাক্তার তার পাশে ২৪ ঘন্টা লড়েছিলাম। আর্টিফিশিয়াল ভেন্তিলেশন থেকে শুরু করে একাধিকবার অ্যান্টি-ভেনম দিয়েছি। সে সুস্থ হয়ে বাড়িতে গেছে। যাবার আগে আমাদের গালিগালাজ করে গেছে। আমরা নাকি তাকে অনেক দামী ঔষদুহ দিয়েছি। সে জানে না, একডোজ অ্যান্টিভেনমের দাম ১০ হাজার তাকা লোকতার দোষ নেই। সে ছিল জেলে। দিনে হয়তো এক দেড়শ টাকা তার ইনকাম।
তবে জেলেদের সাপ বেশি কাটে।
এরা বর্ষায় রাতে আইলে দিয়ে নদী বা নালায় মাঝ ধরে। সাপ শুকনো ভেবে সেখানে থাকে। কামড় দেয়।

সিনেমা বলে, সাপ দুধ খায়। গরুর দুধ খেতে গোলাঘরে হানা দেয়। ভুল কথা। এসব সাপ পোকামাকড় খায়। কালো রঙ্গের দাড়াশ সাপ দেখি, এরা আমাদের উপকার করে। ফসল বাঁচায়। এদের না মারা উত্তম।

সাপে কাটলে ব্লেড দিয়ে কেটে দিলে বিষ বের হয়ে যায়। কথাটা ভুল। ভুলেও এই কাজ করবেন না। ব্লেড দিয়ে কাটলেন তো বিষকে রক্তের সাথে নিজহাতে মিশিয়ে দিলেন।

দশন করা সাপকে উল্টোকামড় দিলে বিষ ফেরত চলে যায় সাপের ভেতরে। কথাটা ভুল। পায়ে কাটলে বিষ সেখানে। আপনার মুখের দাঁতে তো বিষ নাই। কীভাবে ফেরত দিবেন?
সাপের বিষ তার দাঁতে থাকে না। সে যখন কামড় দেয় তার মুখের পেশিগুলো টানটান হয়ে যায়। দাঁতের কাছেই ঠাকে বিষধর। সেখান থেকে বিষ দাঁত বেয়ে আপনার শরীরে প্রবেশ করে।

শক্ত করে বাঁধলে বিষ ছড়াতে পারে না এমন ধারনা ভুলে যান। আপনি নিজেও নিশ্চিত না সাপটা বিষধর ছিল কি না, তাহলে শক্ত করে বাঁধবেন কেন? ফুটবলের অ্যাংলেট পায়ে দিলে যেমন আটসাট হয়ে থাকে এমন ভাবে গামছা বা শার্ট বা শাড়ি দিয়ে দংশনের কিছু উপরে পেঁচিয়ে নিন। বাঁধন অবশ্যই ঢিলা রাখবেন। দুট আঙ্গুল ঢোকে এমনভাবে ঢিলা করবেন। আবার খুব ঢিলাও না। ২০ মিনিট পরপর খুলে আবার লাগাতে পারেন। ভুলেও লোহার তার, সুতলি, কারেন্টের তার বা অন্য সরু জিনিস দিয়ে বাঁধবেন না। বাঁধলে রক্তপ্রবাহ বন্ধ হয়ে হাতে-পায়ে পঁচন শুরু হবে। চিরতরে হাত বা পা খোয়ানোর সম্ভাবনা প্রবল। হয়ট আপনাকে বিষধর সাপ কাটেই নি অথচ আপনি ভয়ে গিট্টু দিয়ে হাত পা পঁচিয়ে পঙ্গু হয়ে গেলেন। কেমন হবে?

সাপ কাটলে কিন্তু আংটি, চুড়ি, ব্রেসলেট খুলে ফেলবেন। কিছু সাপের বিষে আপনার আঙ্গুল, হাত বা পা ফুলে যেতে পারে। আংটি বা চুড়ি থাকলে রক্তপ্রবাহ বন্ধ হয়ে পঁচন ঘটতে পারে।

সাপ কখন দংশন করে?

১। যদি ভুলে আপনার মুখোমুখি হয় সে পালাতে চেষ্টা করে। কিন্তু সে নিজে ভয় পেলে হিংস্র হয়। সব প্রাণিই এমন। মুরগীরও মাঝেমাঝে মানুষকে ঠোকর দেয়। সামনে সাপ পড়লে তাকে চলে যেতে দিন।

২। বর্ষাকাল মানেই হাসপাতালে সাপে কাটা রোগী। বর্ষায় গর্তে পানি উঠে যায়। ফলে সাপ ডাঙ্গায়, শুকনো জায়গায় উঠে আসে। সেটা ক্ষেতের আইল, রাস্তা কিংবা আপনার ঘরের তোশকের তলা, বালিশের তলা, আলনার ভেতর, কাঠের স্তুপ যেকোন জায়গাতেই আসতে পারে।

৩। অন্ধকারে সাপের শরীরে পা পড়লে। জঙ্গলায় ভুলে তার শরীরে পা পড়লে কামড় দেয়।

৪। ইদুরের গর্তে সাপ থাকলে সেখানে পা রাখলে বা বসে থাকলে কামড় দিতে পারে। বাচ্চা ছেলেরা মাঝেমাঝে বসে গর্তের মুখে প্রস্রাব করে। সন্তানকে শিক্ষা দিন। এই কাজ যেন না করে।

সব সাপ বিষাক্ত?
বাংলাদেশে ৮০ ধরণের সাপ আছে। মাত্র ২৭ তা বিষাক্ত।
আপনার চোখের সামনে নিয়মিত যাদের ঘোরাফেরা দেখেন, তারা বিষাক্ত নয়। পানির সাপ অধিকাংশই বিষাক্ত নয়। তবে সামুদ্রিক সাপ সবাই বিষাক্ত।

যদি চেনেন তবে বলি গোখরা, কালকেউটে, শঙ্খচূড়, চন্দ্রবোড়া বিষাক্ত।

সাপে কাটলে বুঝবেন কীভাবে?

দংশন করেছে এমন মনে হবার পর যদি সরাসরি সাপ দেখেন, তাহলে ভাবতে পারেন সে আপনাকে দংশন করেছে।

একবার এক ছেলে হাসপাতালে আসল। মাটির ঘরে অন্ধকারে হেলান দিয়ে ছিল। পীঠে সাপ কেটেছে। সারাদিন হাসপাতালে আমাদের অবজারভেশনে ছিল। রাতে রিলিজের আগে খবর আসল, যেখানে হেলান দিয়ে ছিল, সেখানে কে যেন তারকাটা পুতে রেখেছিল। পীঠে লেগে তারকাটা দেয়ালে ঢুকে যায়। খোচা লাগাকে সাপে কাটা ভেবে সে হাসপাতালে আসে। ২৪ ঘণ্টা ভয়ের অভিজ্ঞতা নিয়ে ঘরে ফেরে সুস্থ অবস্থায়।

বিষাক্ত সাপে কাটলে বোঝা বেশ সহজ।

১। শিকারি পশুর মত সাপের দুটো দাঁত বড় থাকে। বাঁকানো। দংশন করলে গভীর ক্ষত হয়। দুঁটো দাঁতের অস্তিত্ব থাকলে ধরে নিতে পারেন, আপনাকে বিষাক্ত সাপ দংশন করেছে।
২। যদি অনেকগুলো দাঁত থাকে, সেখানে মাংস তুলে নিলেও ভেবে নিতে পারেন এটা ছাগলের মত। অনেক দাঁত কিন্তু বিষদাঁত নাই। আপনার কিছু হবে না।

৩। সাপের বিষ কয়েক ধরণের। সবচেয়ে বেশি মৃত্যু ঘটে নিউরোটক্সিন রিলিজ করা সাপের কামড়ে। এক্ষেত্রে ঝিমঝিম লাগবে। চোখে ঝাঁপসা দেখবে। চোখের উপরের পাতা নেমে চোখ অংশিক বন্ধ হয়ে যাবে। মাথা ঝুলে যাবে। জিহ্বা ও শ্বাসনালী ফুলে যাবে। শ্বাস নিতে পারবে না। মুখে লালা ঝরবে। দাঁড়িয়ে থাকতে পারবে না। বমি করতে পারে।

আরো নানাবিধ লক্ষণ আছে।
চন্দ্রবোড়া কামড় দিলে লোহিত রক্তকনিকা ভেঙ্গে যায়। ফলে রক্তবমি, রক্তপায়খানা হতে পারে। কামরের জায়গায় রক্ত ঝরতে পারে। ফুলে যেতে পারে, লাল হতে পারে। ফোস্কা পড়তে পারে। কালোও হতে পারে।
কিছু সাপের কামরে হার্ট অ্যাটাক হয়ে মারাও যেতে পারে।

সাপে কামড়ে সিনেমায় গড়াগড়ি দেখেন, বিষের কারণে চেঁচামেচি দেখেন। এগুলো অভিনয়। সাপ্র বিষ নিয়ে একটা প্রবাদ আছে, কেমন ব্যাথা বুঝিবে সে কীসে কভু আশীবিষে দংশেনি যারে… এইসব ভুলে যান। সাপে কাটা মানুষ খুব স্বাভাবিক থাকে শুরুতে। কোন ব্যাথা নাও থাকতে পারে। এমনকী মৃত্যু ঘতার আগ মুহুর্ত পর্যন্ত কোন ব্যাথা নাও বুঝতে পারে।

চিকিৎসা?
একদম ঘাবড়াবেন না। বেশি ঘাবড়ালেই বিষ বেশি ছড়াবে।
সাপেকাটা জায়গা ধুয়ে ফেলুন সাবান দিয়ে।
কাটবেন না ব্লেডে।
চুষে রক্ত বের করবেন, এমন চিন্তা ভুলে যান।
যেখানে কামড়াবে সেখানকার নাড়াচাড়া বন্ধ। হাতে কামড়ালে হাত নাড়ালে বিষ দ্রুত ছড়িয়ে যায়। হাত একদম নাড়াবেন না। পায়ে কামড়ালে হাঁটবেন না।
সাপেকাটা স্থানে ভুলেও অ্যাসিড ঢালবেন না। মরিচের গুড়ো দিবেন না। কার্বলিক অ্যাসিডে ঝলসাবেন না। কোন ফলের বীজ, সর্পরাজ তেল, গুটি, আটি, বড়ি, তাবিজ কিছুই লাগাবেন না।

সাপটাকে পারলে চিনে রাখুন। ডাক্তারকে বললে চিকিৎসা পেতে সুবিধা হবে। তবে ধরে যাবেন না। পারলে মেরে ফেলুন। জীবিত ধরে ওঝার কাছে যাবেন, এমন চিন্তা থাকলেও ঝেড়ে ফেলুন। ওঝা সাপের বিষ নামাতে পারে না। ওঝারা অনেক রোগী ভালো করে। যেগুলো আসলেই বিষাক্ত সাপের কামড় ছিল না। বিষ্কাত হলে এরা রোগী রেফার করে। আমরা হাসপাতালে অনেক পাই যারা একেভবারে শেষ মুহুর্তে আসে। ওঝার কাছে গিয়ে জীবন খুইয়ে ফেলার পরিস্থিতি তৈরি করে আসে।

বিষাক্ত সাপে কাটলে আপনি বাঁচতে পারেন একটামাত্র পথন অনুসরণ করলে। সেটা হল- দুনিয়ার কারো মতামত নিবেন না। সরাসরি হাসপাতাল যাবেন।

সাপে কাটলে এক সেকেন্ড সময় নষ্ট না করে সরকারি বড় হাসপাতালে যান। শঙ্খচূড় বাদে সব সাপেরই বিষের অ্যান্টিভেনম আছে। ২৪ ঘন্টার মধ্যেই চিকিৎসা শেষে ফিরে আসবেন।

যদি বুঝে ফেলেন, সাপতা বিষধর নয়, তাহলে কী করবেন?

তবুও হাসপাতালে যাবেন। ভর্তি হয়ে প্রয়োজনে বিছানায় ২৪ ঘন্টা বসে থাকবেন। তবুও হাসপাতালে যাবেন।

কার্বলিক অ্যাসিডে সাপ পালায়?

সাপের ঘ্রাণ শক্তিই এত দূর্বল যে ফুলের গন্ধেও আসে না, তাহলে কার্বলিকে সাপ পালাবে কে বলল আপনাকে?
এসব সেইফটি এককালে প্রচলিত ছিল। এখন ব্যর্থ টোটকা।

বাড়িতে খড়ের গাদা, লাকড়ির স্তুপ থাকলে আপনার মা বা স্ত্রীকে সতর্ক করে দিন। খড় বা লাকড়ি নেবার আগে সেখানে লাঠি দিয়ে কিছুক্ষণ শব্দ করুন। সাপ থাকলে চলে যাবে।
রাতে বিছানা এমনকী বালিশের তলাও চেক করবেন। আলনার ভেতরে থাকতে পারে। শব্দ করে কাপড় নিতে যাবেন।

বাড়ির আশেপাশে ঝোপঝাড় থাকলে কেটে ফেলুন। ঈদুরের গর্ত থাকলে ভরাট করে ফেলুন।
অনেকেই বলেন, মরিচপড়া দিয়ে ইদুরের গর্তের মুখে ধরলে সাপ চলে যায়। এ ব্যাপারে আমার জানা নাই। অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দিতে পারেন।

বর্ষাকাল এসেছে। এখন সাপ আপনার বাড়িতে-ঘরে আশ্রয় নিতে আসতেই পারে। সাবধান থাকুন। অন্যদের সতর্ক করে রাখুন। গ্রামের আপন মানুষদের (বাবা-মা, বউ-বাচ্চা-বন্ধু) সাপের ব্যাপারে বিস্তারিত জানিয়ে রাখুন।
সতর্ক থাকবেন-ভয় পাবেন না-অবহেলা করবেন না।

ফিলিস্তিন মুক্তি আন্দোলন হামাসের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস..

ফিলিস্তিন মুক্তি আন্দোলন হামাসের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস..


হামাস শব্দটির অর্থ আশা, বা উদ্দীপনা। এটি মূলত حركة المقاومة الاسلامية হারাকাত আল-মুকাওয়ামা আল-ইসলামিয়া, “ইসলামী প্রতিরোধ আন্দোলন” এর একটি আদ্যক্ষর। ইজ্জদ্দীন আল কাসাম নামে হামাসের একটি সামরিক শাখাও রয়েছে। 
গাজা এবং পশ্চিম তীরে ইসলামি এই প্রতিরোধ আন্দোলন এর প্রকাশ্য আত্মপ্রকাশ ঘটে ১৯৮৭ সালে, প্রথম ইন্তিফাদা’র মাধ্যমে। হামাস এর প্রতিষ্ঠাতা হলেন শেখ আহমেদ ইয়াসিন, যিনি মূলত ছিলেন তৎকালীন ইখওয়ানুল মুসলিমীনের ফিলিস্তিন শাখার নেতা। ইয়াসিন ছিলেন পঙ্গু কিন্তু তবুও যুবক বয়স থেকেই তিনি ছিলেন গাজার নেতা। ১৯৭৮ সালে ৪৯ বছর বয়সী শেখ আহমেদ ইয়াসিন ফিলিস্তিনিদের সাহায্যের জন্য আল মুজাম্মা আল ইসলামি নামে একটি ইসলামি সংগঠন গড়ে তুলতে অধিকৃত ইসরায়েলী কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেন৷ ইসরায়েল তা মন্জুর করে, কেননা ইজরাইলের লক্ষ্য ছিল গাজায় জাতীয়তাবাদী আন্দোলন ফিলিস্তিনি মুক্তি সংস্থা পিএলও এর গুরুত্ব হ্রাস করা। কিন্তু ইজরাইলের সেই প্রচেষ্টা বুমেরাং হয়ে যায় । খুব সহসাই তারা বুঝতে পারে শেখ আহমেদ ইয়াসিন ঝানু মাল এবং পাক্কা মুসলমান। ইজরাইলের মাথায় তাল রেখে কায়দামত ঠিকই হামাসকে দাঁড় করিয়ে ফেলেছে। ১৯৮৮ সালে গৃহীত হয় “হামাস চার্টার” যার লক্ষ্য হলো অধিকৃত ফিলিস্তিন থেকে দখলদারিত্বের অবসান ঘটানো।

একনজরে গাজাঃ

গাজা ভূখণ্ড (আরবি: قطاع غزة ক্বিত্বা` গ়াজ়্‌জ়া, হিব্রু ভাষায়: רצועת עזה রেৎসু’আৎ ‘আজ়্‌জ়া) ভূমধ্যসাগরের তীরে অবস্থিত একটি ভূখণ্ড। এর ৩২০ কিলোমিটার এলাকায় রয়েছে চারটি শহর, আটটি ফিলিস্তিনী শরনার্থী শিবির আর এগারোটি গ্রাম। 
মাত্র ৩৬০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এক চিলতে এলাকা গাজার জনসংখ্যা প্রায় আঠারো লক্ষ, যেখানে প্রতি বর্গ কিলোমিটারে প্রায় ৫০০০ মানুষ বাস করে। (আমাদের ঢাকা শহরের আয়তনও কিন্তু ৩৬০ বর্গকিলোমিটার !) মিশরের সাথে ১১ কিঃমিঃ, ইসরায়েলের সাথে ৫২ কিঃমিঃ সীমানা আর সামনে রয়েছে অবারিত ভূমধ্যসাগর, যেটিও ইসরায়েলী নৌবাহিনী দ্বারা অবরুদ্ধ। এছাড়া, গাজার প্রায় ১৮ লক্ষ মানুষের মধ্যে প্রায় ১০ লক্ষ মানুষই জাতিসংঘের তালিকাভুক্ত উদ্বাস্তু। এমন একটি ভূখন্ডে প্রায় আট বছরব্যাপী অবরোধের মধ্যে থেকেও সরকার পরিচালনা করছে হামাস।গাজা ভূখণ্ডের পশ্চিমে রয়েছে ভূমধ্যসাগর, দক্ষিণ-পশ্চিমে রয়েছে মিশর, এবং উত্তরে, পূর্বে, ও দক্ষিণ-পূর্বে রয়েছে ইসরায়েল। যদিও জাতিসংঘে এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে গাজা ভূখণ্ডের স্বাধীনতা পুরোপুরি স্বীকৃত নয়, এই অঞ্চলটি ইতমধ্যে ফিলিস্তিনী হামাস সরকারের শাসনে পড়ে। গাজা ভূখণ্ডের পূর্ব সীমান্ত ইসরায়েলের দখলে, এবং সাইনাই মরুভূমিস্থ দক্ষিণ সীমান্ত মিশরের দখলে রয়েছে। ১৯৪৮ সাল হতে ১৯৬৭ পর্যন্ত পুরো ভূখণ্ড মিশরের দখলে ছিল।

সংগঠন হিসাবে হামাসঃ

সংগঠন হিসেবে হামাস মূলত তিনটি শাখার সমষ্টিঃ রাজনৈতিক শাখা, সমাজকল্যাণমূলক শাখা এবং সামরিক শাখা। মজলিশে শূরা হামাসের প্রতিনিধিদের মিলনস্থল, যার মাধ্যমে হামাস সমগ্র ফিলিস্তিনে তার কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। তবে হামাসের নীতিনির্ধারণী পরিষদ হলো পনেরো সদস্যের “পলিটিক্যাল ব্যুরো”। বর্তমানে হামাসের প্রধাণ হলেন খালেদ মিশাল; আর গাজা অঞ্চলে প্রধাণমন্ত্রী হিসেবে রয়েছেন ডঃ ইসমাইল হানিয়া।

হামাসের সামাজিক কর্মকাণ্ড

হামাসের শত্রু ইসরায়েলি বিশেষজ্ঞদের গবেষণায়ই উঠে এসেছে, হামাসের কার্যক্রমের ৯০% হলো সামাজিক, শিক্ষা বিস্তার, সংস্কৃতি ও জনকল্যাণমূলক কাজ, এবং এই সামাজিক কাজের মধ্যে দাতব্য চিকিৎসা, মসজিদ স্থাপন, স্কুল ও শিশুশিক্ষা অর্থায়ন, খেলাধূলার জন্য ক্লাব প্রতিষ্ঠা অন্যতম। শত অবরোধের মধ্যেও বার্ষিক ৭০-৯০ মিলিয়ন ডলারের একটি বাজেট দিতে সক্ষম হয় হামাস, যার প্রায় ৮৫% অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয় সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কাজে। প্রতিরক্ষা এবং সামরিক খাতে বরাদ্দ যায় মাত্র ১৫% (রেফারেন্সঃ কিংডম অফ গড (২০০৭), লেখক রুভন পাস)।

সবসময় ঘর ভাঙ্গা অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ায় হামাস। ইসরায়েলী বিমান হামলা কোন ঘর বিদ্ধস্ত হলে ১৫মিনিটের মধ্যেই সরকারী সেবাদানকারী মানুষেরা (উদ্ধারকর্মী, অ্যাম্বুলেন্স এবং পুলিশ) চলে আসেন তাদের সাহায্যার্থে। এছাড়া ইসরাইলী আগ্রাসনে শহীদ হওয়া ফিলিস্তিনীদের পরিবারের ভরণ পোষণের জন্য এককালীন ও নিয়মিত অর্থ সাহায্য দিয়ে থাকে হামাস (যার পরিমান ৫০০ থেকে ৫০০০ ডলার হয়ে থাকে)। এছাড়া ধ্বংস হয়ে যাওয়া বাড়ি ঘর, স্কুল বা মসজিদ পুনঃনির্মাণে সহায়তা দিয়ে থাকে হামাস। যদিও হামাস মূলত একটি ইসলামী আন্দোলন হিসেবে কাজ করে, কিন্তু জোরপূর্বক কাউকে ইসলামী অনুশাসন মানতে বাধ্য করবার কোন নজির এখানে নেই। হামাস সরকারের দাওয়াহ মন্ত্রনালয়ের অধীনে ‘ফাদিলা’ বা ‘Virtue Committee’ নামে কিছু নাগরিক কমিটি আছে, যারা বিভিন্নভাবে জনসাধারণকে ইসলামী অনুশাসন মেনে চলতে আহবান জানায়, অনুরোধ করে। কিন্তু স্কুলছাত্রীদের জোর করে হিজাব পরানোর একটি উদ্যোগ হামাস সরকারের শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের তৎপরতায় বন্ধ করা হয়। এছাড়াও জোর করে নিজেদের এলাকায় আঞ্চলিকভাবে শরীয়াহ আইন কায়েম করার প্রচেষ্টাকেও নস্যাৎ করে দেয় হামাস।

শিক্ষাঃ

টানা আট বছর অবরোধ এবং নানা ঝড়ঝাপটা সহ্য করেও গাজা উপত্যকায় শিক্ষার আলো জ্বালিয়ে রেখেছে হামাস। ২০১২ সালের হিসাব মতে, গাজা উপত্যকায় শিক্ষার হার প্রায় ৯৯%। সেখানে পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। এছাড়া প্রায় চার লক্ষাধিক ছাত্রছাত্রীর জন্য ৬৮৩ টি স্কুল রয়েছে যার মধ্যে ৩৮৩ টি স্কুল সরকার অর্থাৎ হামাস পরিচালনা করে।

স্বাস্থ্য সেবাঃ

স্বাস্থ্যসেবায় হামাস নিজেকে নিয়ে গিয়েছে এক অনন্য অবস্থানে। অব্যাহত অবরোধে থাকবার কারণে খাদ্যের মান কমে যাওয়ায় গাজা উপত্যকায় ফিলিস্তিনিদের মধ্যে শৈশবকালীন অপুষ্টির হার মারাত্নক হারে বেশি। এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে ইসরায়েলী আগ্রাসনে আহত মানুষজনের চিকিৎসা প্রয়োজন তো রয়েছেই। হামাস পরিচালিত হাসপাতালে কম খরচে বা বিনা খরচে সুচিকিৎসা দেয়া হয়। মৃত্যু উপত্যকা গাজায় বর্তমান জন্মহার প্রায় ৪%। এছাড়াও শিশুদের জন্য অসংখ্য নার্সারি, কিন্ডারগার্টেন স্কুল বা মক্তব প্রতিষ্ঠা করেছে হামাস যার মাধ্যমে তাদের এক বেলা খাবারও সরবরাহ করা হয়। বিভিন্ন দাতব্য সংস্থা বা দাতা দেশ থেকে আসা সাহায্য ও আর্থিক অনুদান ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রেও যথেষ্ট দক্ষতা ও স্বচ্ছতার পরিচয় দিয়েছে হামাস; অপরপক্ষে ফাতাহ গোষ্ঠী এই দিকে আকন্ঠ দুর্নীতিতে নিমজ্জ। হামাসের এই সামাজিক কার্যক্রমের জনপ্রয়তা শুধু গাজা স্ট্রিপেই নয়, বরং ফাতাহ শাসিত পশ্চিম তীর এমনকি আশেপাশের অন্যান্য মুসলিম দেশগুলোতেও অনেক বেশি জনপ্রিয়।

মিডিয়াঃ
২০০৬ সাল থেকে হামাস চালু করেছে স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেল ‘আল আকসা টিভি’। হামাসের মিডিয়া গুরু ফাতহি হাম্মাদের মিডিয়া হাউজ ‘আর-রিবাত কমিউনিকেশন্স’ এর নেতৃত্বে আরও রয়েছে নিজস্ব রেডিও স্টেশন ‘ভয়েস অফ আল আকসা’ এবং সংবাদ পত্রিকা ‘দ্য মেসেজ’। অনলাইন জগতে টুইটার এবং ফেসবুকসহ অন্যান্য সামাজিক গণমাধ্যমগুলোতে রয়েছে হামাসের সরব উপস্থিতি। এছাড়া লন্ডন থেকে আল ফাতিহ নামে শিশু-কিশোরদের জন্যেও একটি পাক্ষিক পত্রিকা নিয়মিত বের করা হয়।ৎ

সামরিক শাখাঃ
হামাসের সামরিক শাখা ইজ্জদ্দিন আল ক্কাসাম ব্রিগেড যাকে সংক্ষেপে আল ক্কাসাম ব্রিগেড বলা হয়। এটি ১৯৯১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়, এবং তখন থেকেই ইসরায়েলকে সামরিকভাবে তটস্থ করে রেখেছে তারা। সীমিত সাধ্যের মধ্যেও লিমিটেড টেকনোলজী আর অর্থায়নে ক্কাসাম রকেট দিয়েই ইসরায়েলি বিলিয়ন ডলার ব্যয়ের আয়রন ডোম অ্যান্টিমিসাইল সিস্টেমকে চ্যালেঞ্জ করেছে। ইসরায়েলের প্যাট্রিয়ট মিসাইল এবং এফ-১৬ এর মোকাবেলায় ক্কাসাম ব্রিগেডের ব্যবহার করা অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে স্বল্প মাত্রার আল বানা, আল বাতার এবং আল ইয়াসিন রকেট, এছাড়াও ট্যাংক বিধ্বংসী গোলাসহ কিছু হালকা যুদ্ধাস্ত্র। সম্প্রতি ভূমধ্যসাগরের তলদেশ দিয়ে ইসরায়েলে পৌছে এক দুঃসাহসিক কমান্ডো অভিযানের চেষ্টা চালায় হামাস যোদ্ধারা। ইরানের পর মুসলিম দেশ হিসেবে সাফল্যজনকভাবে ড্রোন তৈরি করতেও সক্ষম হয়েছে হামাস, যা তেলাবিবের আকাশ পর্যন্ত পৌছে গিয়েছে। তবে হামাস যোদ্ধারা গ্রাউন্ড কমব্যাটে যথেষ্ট প্রশিক্ষিত। প্রবাসী হামাস নেতা খালিদ মিশালকে হত্যার একাধিক প্রচেষ্টা চালিয়েছিলো ইসরায়েলী গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ এবং সিনবেথ, তবে হামাসের অপারেটিভদের সাহস এবং দৃঢ়তায় তারা সফল হতে পারে নি।

দ্বীন প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে সীমাহীন আত্নত্যাগ, সততা – দক্ষতা ও নিপীড়িত মানুষের মধ্যে থেকে তাদের পাশে দাড়ানোর পাশাপাশি তাদের জন্য আমরণ লড়াইয়ের অদম্য মানসিকতাই হামাসকে দাঁড় করিয়েছে এক অনন্য অবস্থানে; শুধু ফিলিস্তিনীদের হৃদয়ে নয় বরং সারা বিশ্বের মজলুম সংগ্রামী মানুষের মধ্যে। আসুন আমরা ফিলিস্তিনের মর্দে মুজাহিদ হামাসের ভাইদের জন্য আল্লাহর দরবারে দুহাত তুলি।

খারাপ দেশের তালিকার শীর্ষে বাংলাদেশ

শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার আদায় ও চর্চায় বিশ্বের সবচেয়ে খারাপ দেশের তালিকার শীর্ষে বাংলাদেশ। এই তালিকায় বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয়। বাংলাদেশের ওপরে রয়েছে আলজেরিয়া।

বিশ্বের শ্রম অধিকার পরিস্থিতি নিয়ে ব্রাসেলসভিত্তিক ‘‘বৈশ্বিক শ্রম অধিকার সূচক : শ্রমিকদের জন্য সবচেয়ে খারাপ দেশ’ শীর্ষক ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড ইউনিয়ন কনফেডারেশন (আইটিইউসি) এর বার্ষিক প্রতিবেদনে এ তালিকা প্রকাশ করা হয়। মোট ১৪৫টি দেশের শ্রম অধিকার পরিস্থিতি মূল্যায়নের পর আইটিইউসি এই প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

খারাপ দেশের তালিকায় থাকা বাংলাদেশ ও আলজেরিয়া ছাড়া অন্য দেশগুলো হলো- যথাক্রমে-ব্রাজিল, কলম্বিয়া, গুয়াতেমালা, কাজাখস্তান, ফিলিপাইন, সৌদি আরব, তুরস্ক এবং জিম্বাবুয়ে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ছয়টি বিষয়ে ১ থেকে ৫ ও তদূর্ধ্ব রেটিংয়ের ভিত্তিতে এই শ্রম অধিকার সূচক তৈরি করা হয়েছে। বিশেষ করে শ্রম অধিকারের স্বীকৃতি নেই এমন দেশগুলোকে রাখা হয়েছে ৫ বা তদূর্ধ্ব রেটিংয়ের তালিকায়। রেটিং ৪-এর মধ্যে থাকা দেশগুলোতেও পরিকল্পিতভাবে অধিকার লঙ্ঘন হয়। ৩ রেটিংপ্রাপ্ত দেশগুলোয় অধিকার লঙ্ঘন নিয়মিতভাবে। ২ রেটিং পাওয়া দেশগুলোয় অধিকার লঙ্ঘনের পুনরাবৃত্তি হয়।

তবে রেটিং ১ পাওয়া দেশগুলোয় বিক্ষিপ্তভাবে অধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটে। এ ক্ষেত্রে সমন্বিতভাবে সবচেয়ে বেশি শ্রম অধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটে মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকায়। এর পরে যথাক্রমে রয়েছে এশিয়া প্যাসিফিক, আফ্রিকা, আমেরিকা ও ইউরোপের নাম। সূচকে শ্রম অধিকারের কোনো স্বীকৃতি নেই এমন ৩৪টি দেশের মধ্যে রেটিং ৫-এর মধ্যে আছে বাংলাদেশ। যা বিবেচনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশে শ্রমিকদের ওপর নৃশংসতা, গণছাঁটাই ও ইউনিয়ন নেতাদের গ্রেফতারের বিষয়টিকে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। তালিকার শীর্ষ ১০-এ না থাকলেও একই রেটিং পেয়েছে শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনামও।

শ্রমিকরা সবচেয়ে বেশি হত্যার শিকার হয়েছে কলম্বিয়াতে। আইটিইউসি বলছে, ২০১৮ সালে শুধু কলম্বিয়াতেই অন্তত ৩৪ জন ট্রেড ইউনিয়ন সদস্যকে হত্যা করা হয়েছে। এ ছাড়া ট্রেড ইউনিয়ন সদস্যরা হত্যার শিকার হয়েছেন বাংলাদেশ, ব্রাজিল, কলম্বিয়া, গুয়াতেমালা, হন্ডুরাস, ইতালি, পাকিস্তান, ফিলিপাইন, তুরস্ক ও জিম্বাবুয়েতেও। হিংস্রতার শিকার হয়েছেন মোট ৫২টি দেশের শ্রমিকরা। অনেক দেশে কেড়ে নেওয়া হয়েছে শ্রমিকদের কর্মবিরতির অধিকার।

বাংলাদেশ খারাপ শীর্ষে থাকার অন্যতম কারণ গণগ্রেফতার, শ্রমিকদের ওপর নৃশংসতা, গণছাঁটাই। বাংলাদেশে শ্রমিকদের কর্মবিরতি কঠোর হাতে দমন করা হয়েছে, তেমনি দেওয়া হয়েছে শাস্তি। বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকরা প্রায়ই কর্মবিরতি ও আন্দোলনে নামেন। কিন্তু এর বিরুদ্ধে নৃশংসভাবে পুলিশ শক্তিপ্রয়োগ করেছে। যদিও গত বছর শ্রম অধিকারের ক্ষেত্রে অনেক দেশ আগের চেয়ে উন্নতি করেছে।

এর মধ্যে রয়েছে মরিশাস, মেক্সিকো, পাকিস্তান। ইউরোপেও শ্রম অধিকার পরিস্থিতি ভালো নয়। সেখানকার অন্তত ২৫ শতাংশ দেশে নানা কারণে শ্রমিকদের গ্রেফতার ও আটক করা হয়েছে। বিশেষ করে ইতালি ও তুরস্কে হত্যার শিকার হয়েছেন ট্রেড ইউনিয়ন নেতারা।

প্রসঙ্গঃইন্টারনেট আসক্তির কারণ,লক্ষণ ও প্রতিকারের কিছু বাস্তব উপায় ।

একযুগ আগেও #কম্পিউটার নিয়ে যারা বেশির ভাগ সময় কাটাতেন তাঁরা ছিলেন প্রধানত তথ্য প্রযুক্তির লোক কিংবা চাকরীজীবি এবং সেই সময়টুকুর জন্য তাদেরকে বেতন-ভাতা দেওয়া হত। ইন্টারনেটের ব্যাপক জনপ্রিয়তার কারণে আজ বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ কম্পিউটার ও #মোবাইল বা #স্মার্টফোন নিয়ে বেশির ভাগ সময় কাটায় এবং সেই সময়টুকুর জন্য নিজেরাই মুল্য পরিশোধ করে। কমপিউটার মোবাইল ও ইন্টারনেট আজ আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। ইন্টারনেটে কী আছে – সে প্রশ্নের উত্তরের চেয়ে কী নাই – তার উত্তর দেওয়া অনেক সহজ। ইন্টারনেটকে সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষা করা এখন প্রায় অসম্ভব। সংবাদ, তথ্য, যোগাযোগ, কেনাকাটা, ব্যবসা-বানিজ্য, সোশ্যাল নেটওয়ার্ক, বিনোদন ইত্যাদি অনেক কিছুর জন্য মানুষ এখন ইন্টারনেটের উপর নির্ভরশীল। কিন্তু কেউ যদি ইন্টারনেটের উপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল হয়ে পড়ে, ইন্টারনেটের কারণে যদি কারো স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বিঘ্নিত হয় এবং সিগারেট, মদ ও ড্রাগের মত ইন্টারনেটের প্রতি যদি কেউ আসক্ত হয়ে পড়ে তখনই সমস্যা।
ইন্টারনেট আসক্তির ব্যাপারটা প্রথমবারের মত #মনোবিজ্ঞানীদের নজরে আসে ১৯৯৭ সালে Cincinnati Case-এর মাধ্যমে। Sandra Hacker নামে একজন মহিলা তাঁর তিনটি শিশু সন্তানকে অবহেলা করে ও নির্জন কামরায় আবদ্ধ রেখে দৈনিক ১২ ঘন্টারও বেশি সময় ইন্টারনেটে অতিবাহিত করতেন। এই মহিলাকে পর্যবেক্ষণ করে মনোবিজ্ঞানীদের অনেকেই সম্মত হলেন যে সিগারেট, মদ ও ড্রাগের মত ইন্টারনেটেরও compulsive ক্ষমতা আছে অর্থাৎ যা একটি পর্যায়ে এসে মানুষ ইচ্ছার বিরুদ্ধেও ব্যবহার করতে বাধ্য হয়। সেই ধারণা থেকেই ‘Internet Addiction’ কথাটির সৃষ্টি। সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে ইন্টারনেটেরও পরিবর্তন হচ্ছে। আসছে নতুন নতুন ফিচার, ফাংশন, কনসেপ্ট। সেই সাথে দিনদিন বাড়ছে ইন্টারনেট ব্যবহাকারী। জরিপে দেখা গেছে যে ৫-১০% ব্যবহাকারী ইন্টারনেট আসক্ত। এর সংখ্যা যে দিনদিন বাড়ছে তাতে কোন সন্দেহ নেই। এক কথায় ইন্টারনেট আসক্তিকে প্রকাশ করা বেশ কঠিন ব্যাপার। ইন্টারনেটকে কেন্দ্র করে মানুষের যে ব্যাপক কৌতুহল, সার্বক্ষণিক চিন্তা, অদমনীয় ইচ্ছা, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া এবং অসংযত আচরণবোধ এসব কিছুকেই ইন্টারনেট আসক্তি বলা যায়।
ইন্টারনেট আসক্তির প্রধান কারণগুলো হল :১। কৌতুহল ও উৎসাহ – ইন্টারনেটে নতুন ব্যবহারকারীদের অনেকেই ব্যাপক উৎসাহের সাথে প্রায় সব লিঙ্কে ক্লিক করে দেখে সেখানে কী আছে। সাইট থেকে সাইটে ঘুরে ঘুরে নিত্য নতুন তথ্য-বিনোদনের আবিষ্কারে মোহগ্রস্ত হয়ে পড়ে। এভাবে অনলাইনে ঘন্টার পর ঘন্টা কাটিয়ে দেয়।
২। তথ্য নিয়ে হিমশিম খাওয়া – ইন্টারনেট এখন সব বয়সের ও সব পেশার লোকের জন্য এক বিশাল তথ্য ভান্ডার। পেশার কারণেই হোক বা সখের কারণেই হোক নতুন নতুন তথ্য সংগ্রহের নেশা একজন মানুষকে এমনভাবে পেয়ে বসে যে সে বেশিরভাগ সময় ক্রমাগত ওয়েব পেজ হাতড়িয়ে পার করে দেয়। আর এভাবেই সে নিজের অজান্তেই সব কিছু থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে।
৩। সাইবার সেক্সুয়েল আসক্তি – এ ক্ষেত্রে একজন মানুষের মধ্যে ইন্টারনেটে প্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য নির্ধারিত চ্যাট রুম এবং সাইবার পর্ণের প্রতি আকর্ষণ বিশেষভাবে বেড়ে যায়। তার চিন্তা-ভাবনায় স্থান করে নেয় এ ধরনের নগ্ন ও বিকৃত রুচির সাইটগুলো। সাধারণত প্রথমদিকে কৌতুহল থাকলেও বেশিরভাগ লোকই পরবর্তীতে এগুলোতে আর আকর্ষণ বোধ করে না। এসবের প্রতি কারো কৌতুহল ও আকর্ষণ যদি স্থায়ীরুপ লাভ করে তখনই সমস্যা।
৪। কম্পিউটার আসক্তি – এ ক্ষেত্রে একজন ব্যক্তির কম্পিউটার গেম, কম্পিউটার প্রোগ্রাম, কম্পিউটার সেটিং প্রভৃতির প্রতি আকর্ষণ আর নির্ভরতা এমন পর্যায়ে চলে আসে যে সারাক্ষণ সে ওগুলো নিয়েই সময় কাটাতে পছন্দ করে। দিনে একাধিকবার ডেস্কটপের ব্যাকগ্রাউন্ড, স্ক্রীন সেভার ইত্যাদি পরিবর্তন করছে, একই গেম বারবার দিনের পর দিন খেলার পরও বিরক্ত হচ্ছে না, প্রয়োজন থাক আর না থাক নতুন নতুন প্রোগ্রাম ইনস্টল/আনইনস্টল করছে। এধরনের লোক relax হয়ে বসে থাকতে পারে না, কমপিউটার নিয়ে কিছু একটা করতে হবেই।
৫। ভার্চুয়াল বন্ধুবান্ধব – ইন্টারনেটের সুবাধে দুর-দুরান্ত, দেশ-বিদেশের মানুষের মধ্যে সৃষ্টি হচ্ছে বন্ধুত্ব, প্রেম, ভালোবাসা। ব্লগ, ফোরাম, চার্টরুম, ফেইসবুক, টুইটার ইত্যাদিতে একজনের সাথে আরেকজনের পরিচয় হচ্ছে, বন্ধুত্ব হচ্ছে। সে কারণে ইমেইল, অনলাইন চাটিং, ফেসবুকে বন্ধুর তালিকা দিনদিন বড় হচ্ছে। সুতরাং যতই দিন যাচ্ছে ভার্চুয়াল বন্ধুবান্ধবদের সিডিউল দিতে অনলাইনে সময়ের পরিমানও বাড়ছে। আবার অনেকেই আছেন ডেটিং/ফ্রেন্ডশীপ সাইটের নিয়মিত ভিজিটর বা সদস্য, যারা জীবনসঙ্গী, যৌনসঙ্গী, প্রেমিক-প্রেমিকার সন্ধানে বেশিরভাগ সময় ইন্টারনেট হাতড়িয়ে পার করে দেয়।
৬। বিকল্প বিনোদন – ইন্টারনেটকে অনেকে বিকল্প বিনোদন হিসেবে বেছে নিয়েছে। গান, ভিডিও ক্লিপ, মুভি, নাটক, গেম, টিভি, ভিডিও, লাইভ খেলাধুলা ইত্যাদি অনেক কিছু এখন ইন্টারনেটে উপভোগ করা যায়। অনেকে এগুলোর প্রতি এত বেশি আসক্ত হয়ে পড়ে যে জীবনের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কাজকে অবহেলা করতে শুরু করে। নতুন নতুন গান, ভিডিও, মুভি সংগ্রহের জন্য দিনরাত ইন্টারনেট হাতিয়ে বেড়াচ্ছে। যত পায় আরও চায় – এভাবে প্রতিদিন ঘন্টার পর ঘন্টা অনলাইনে ব্যয় করছে যা একসময় আসক্তির পর্যায়ে চলে আসে।
ইন্টারনেট আসক্তি মাদকাসক্তির চেয়ে ভয়াবহঃইন্টারনেটের যেমন উপকারিতা রয়েছে, তেমনি রয়েছে অপকারিতা। ইন্টারনেট, ফেসবুক – এসবের বেশি ব্যবহার বিভিন্ন মানসিক সমস্যা তৈরি করছে। ইন্টারনেট বহু ধরনের মানসিক সমস্যা তৈরি করছে ।মাদকাসক্তি যেমন ভয়াবহ, ইন্টারনেট, ফেসবুক, তেমন ভয়াবহ। আমরা যেমন মাদকাসক্তিকে একটি মানসিক রোগ হিসেবে চিন্তা করি বা বলি, সেরকমভাবে FAD বা ফেসবুক এডিকশন ডিজঅর্ডার, IAD- ইন্টারনেট এডিকশন ডিজঅর্ডার, এগুলো সমভাবে তরুণ সমাজকে ধ্বংস করছে।আমার যে সন্তান খুব সুন্দর পড়ালেখা করত, সে কিন্তু আজকাল আর পড়ালেখা করে না। সারাক্ষণ মোবাইল টিপছে। ফেসবুক টিপছে। আপনার যে সন্তান ক্লাসে খুব ভালো ফলাফল করত, মা- বাবার সঙ্গে সুন্দর ব্যবহার করত, সমাজের সঙ্গে বন্ধনটাকে দৃঢ় করেছিল, একসঙ্গে হৈ হৈ করে চলত, এক সঙ্গে সব বিকাশ হতো, এখন সেটি করছে না।ডাক্তারগণ বলেন,কোন মানুষ যখন মানুষের সঙ্গে মিশে চলে তখন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেকগুণ বাড়ে। বই পড়ত, গান শুনত, নাটক করত, বিতর্ক প্রতিযোগিতা করত, খেলাধুলা সব করত। কি না ছিল? এগুলো কিন্তু নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এতে আসক্তি বাড়ছে। এটি মাদকাশক্তির চেয়েও শক্তিশালী।
তরুণ সমাজ তাদের মূল্যবান সময় অপচয় করছে ফেসবুক, হোয়াটস অ্যাপ ও ইউটিউবের মতো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে। কেউ যদি এগুলোতে অতিমাত্রায় নির্ভরশীল হয়ে পড়ে এবং এ কারণে যদি তার স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বিঘ্নিত হয়, তখনই বাধে সমস্যা।
এর ফলে ভুক্তভোগীর পাশাপাশি সমস্যায় পড়তে হয় বন্ধু, পরিবার ও সমাজকে। অতিরিক্ত ইন্টারনেট ব্যবহার অনেকটা মাদকাসক্তির মতো। এতে করে স্থূলতা দেখা দেয়া, ঘুম কমে যাওয়া, সৃজনশীল চিন্তাভাবনায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হওয়া, মানসিক অস্থিরতা সৃষ্টি হওয়াসহ নানা সমস্যা দেখা দেয়। বাংলা সাহিত্যের একজন লেখক বলেছেন, ‘বিজ্ঞান মানুষকে দিয়েছে বেগ, কিন্তু কেড়ে নিয়েছে আবেগ।’
আজকাল বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে আড্ডায় বসলে দেখা যায়, যে যার মতো স্মার্টফোন নিয়ে ব্যস্ত। বাস বা ট্রেনে চলার সময় অনেককেই দেখা যায় ফেসবুকিং বা ব্রাউজিং করে দীর্ঘ সময় পার করতে। অথচ এই দীর্ঘ সময়ে একটা ভালো বই পড়া যেতে পারে।বর্তমান বাংলাদেশ ও ভারত সহ পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই ফেসবুক সাংবাদিকতা বেড়ে যাচ্ছে। ভুল তথ্য দিয়ে মানুষকে হয়রান করা হচ্ছে। অনেকে বিভিন্ন নামে-বেনামে ফেসবুক ফেক আইডি খুলছে এবং খারাপ ও মিথ্যা তথ্য দিচ্ছে ও শেয়ার করছে। এসব বিষয়ে আমাদের সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।
ইন্টারনেট আসক্তি কাদের হয়ঃআজ থেকে দশ-বারো বছর আগে কম্পিউটার নিয়ে যারা বেশির ভাগ সময় কাটাতেন তারা ছিলেন প্রধানত তথ্যপ্রযুক্তির লোক এবং সেই সময়টুকুর জন্য তাদেরকে বেতন-ভাতা দেওয়া হতো। ইন্টারনেটের ব্যাপক জনপ্রিয়তার কারণে আজ বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ কম্পিউটার নিয়ে বেশির ভাগ সময় কাটায় এবং সেই সময়টুকুর জন্য নিজেরাই মূল্য পরিশোধ করে। কম্পিউটার ও ইন্টারনেট আজ আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। সংবাদ, তথ্য, যোগাযোগ, কেনাকাটা, ব্যবসা-বাণিজ্য, সোশ্যাল নেটওয়ার্ক, বিনোদন ইত্যাদি অনেক কিছুর জন্য মানুষ এখন ইন্টারনেটের উপর নির্ভরশীল। কিন্তু কেউ যদি ইন্টারনেটের উপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল হয়ে পড়ে, ইন্টারনেটের কারণে যদি কারো স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বিঘ্নিত হয় এবং সিগারেট, মদ ও ড্রাগের মতো ইন্টারনেটের প্রতি যদি কেউ আসক্ত হয়ে পড়ে তখনই সমস্যা। এক কথায় ইন্টারনেট আসক্তিকে রোধ করা বেশ কঠিন ব্যাপার। ইন্টারনেটকে কেন্দ্র করে মানুষের যে ব্যাপক কৌতূহল, সার্বক্ষণিক চিন্তা, অদমনীয় ইচ্ছা, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া এবং অসংযত আচরণবোধ এসব কিছুকেই ইন্টারনেট আসক্তি বলা যায়।
যাদের ইন্টারনেটে আসক্ত হওয়ার আশঙ্কা বেশি
>> যারা আগে থেকেই অন্য কোনো কারণে উদ্বেগে রয়েছেন।
>> যারা বিষণ্নতায় বা একাকিত্বে ভুগছেন।
>> যারা ড্রাগ, অ্যালকোহল, জুয়াখেলা এবং বিকৃত মানসিকতায় আসক্ত।
>> টিনএজার, যারা রোমাঞ্চপ্রিয় ও সব কিছুতে অতি উত্সাহী।
>> শারীরিকভাবে যারা অলস ও ঘরকুনো।
>> যারা কোনো কিছুকেই হালকাভাবে নিতে পারে না, সব কিছুতেই সিরিয়াস।
>> বাস্তব জীবনে যাদের বন্ধু-বান্ধব খুবই কম ও বিপদ-আপদে সাহায্য করার মতো কেউ নেই।
>> যারা অসামাজিক, লাজুক এবং মানুষের সাথে মিশতে ভয় পায়।
>> যারা বাস্তব জীবনের সমস্যাকে এড়িয়ে চলতে চায়।
#ইন্টারনেট_আসক্তিতে_বেড়ে_যায়শা_রীরিক_সমস্যাঃপ্রযুক্তির ব্যবহার জীবকে যেমন সহজ করেছে, তেমনি প্রযুক্তির আসক্তি ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রযুক্তির অপব্যবহারের কারণে ঘটছে বিভিন্ন বিপত্তি।
বিশেষ করে প্রযুক্তির অপব্যবহারের কারণে শরীর ও মনে বিভিন্ন ধরনের পরিবর্তন হচ্ছে। ঘুমের অনিয়ম, মেজাজ বিগড়ে থাকা, ঘন ঘন মাথা ব্যথাও শরীরে ব্যথা বেড়ে যাওয়াসহ বিভিন্ন ধরনের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে আজকাল অনেককে।ইন্টারনেট প্রযুক্তির অপব্যবহারের কারণে আপনার শরীর ও মনের বহু ধরনের ক্ষতি হতে পারে—ইন্টারনেট আসক্তরা বেশি একা থাকতে পছন্দ করেন। তারা কাউকে সময় দিতে চান না। আসক্তিকালে তাদের আচরণে বিভিন্ন পরিবর্তন দেখা দেয়।
ফেসবুক, ইমেইল, ইমু, ইউচেট, হটস্পটসহ বিভিন্ন প্রযুক্তি এখন মানুষের দোরগোড়ায়। এসবের আসক্তির কারণে মেজাজ সব সময় চড়ে থাকে,অল্পতে ক্ষেপে যায়, সম্পর্কের অবনতি ঘটে ।আসক্তির কারণে বন্ধু, আত্মীয়-স্বজনকে এড়িয়ে চলে। প্রযুক্তির অধিক ব্যবহার মানুষের আসক্তিতে পরিণত হয়। ফলে কাইকে সময় দেয়া এ সময় বিরক্তিকর ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়।।
ইন্টারনেটে আসক্তির কারণে অনেক সময় আপনার প্রিয় কাজটিও অনেক বিরক্তির কারণ হয়ে যেতে পারে। যারা ইন্টারনেট ব্যবহার করেন, তা যেন নেশায় পরিণত না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।অধিক সময় একটানা বসে অনেকে ইন্টারনেট ব্যবহার ওজন বাড়িয়ে দেবে এতে কোনো সন্দেহ নেই।টানা নেট ব্যবহার মাথা ব্যথার একটি কারণ । কম্পিউটার ও মোবাইলের আলো চোখের জন্য যেমন ক্ষতিকর তেমনি মাথা ব্যথা হওয়া খুব স্বাভাবিক।কম্পিউটারের আলো চোখের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ। একটানা অধিক সময় কম্পিউটারের সামনে বসে থাকলে চোখের সমস্যা হবে।#ইন্টারনেট_আসক্তিতে_তরুণ_প্রজন্মঅনেকে বলেন যে, মাদকের পরিবর্তিত সংস্করণ হচ্ছে ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো বা ইন্টারনেটে অকারণে অতিমাত্রায় আসক্তি। হাতের অন্ধকারে আলোকিত পৃথিবী দেখা, ঘুম ঘুম চোখে রঙিন দুনিয়ায় প্রবেশ ইত্যাদি তারুণ্যকে ক্রমেই ফেসবুক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বা ইন্টারনেট আসক্তির দিকে নিয়ে যাচ্ছে। মনোবিজ্ঞানী ও গবেষকরা বলছেন যে, একান্ত ব্যক্তিগত আবেগ-অনুভূতি যারা শেয়ার করেন এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বন্ধুদের সমবেদনা দিয়ে থাকেন এ ব্যাপারে উভয়ই অতিমাত্রায় ফেসবুক বা যোগাযোগ মাধ্যমে আসক্ত। বলা হচ্ছে, সপ্তাহে ৩৮ ঘণ্টার বা এর বেশি যারা সামাজিক মাধ্যমে ডুবে থাকেন তাদের আসক্তি বলা যায়। মাদক ছাড়া যেমন অনেকে থাকতে পারেন না, সেরূপ ইন্টারনেট বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ছাড়া থাকতে পারেন না! নেট সমস্যা বা কিছু সময়ের জন্য এ সব মাধ্যম বন্ধ থাকলে হতাশায় রি-অ্যাকশন দিয়ে পোস্ট দেন তাদের মোটা দাগে আসক্ত বলা যায়! যে সব ফেসবুক ব্যবহারকারী একাকিত্বে ভোগেন তারাই ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে বেশি স্ট্যাটাস দেন। প্রেম বা অন্য ক্ষেত্রে ব্যর্থতার বহিঃপ্রকাশ ঘটে বা যারা অযথা ফেসবুক তর্কে লিপ্ত হয় বা প্রশ্ন ছুড়ে উত্তর আশা করে তারাও ফেসবুকে অতিমাত্রায় আসক্ত। দেখা যায় খেলা বা কিছুকে কেন্দ্র করে ব্যক্তিগত চরিত্র হননে লিপ্ত থাকে, পারস্পরিক মতামতে অসহিষ্ণু বা অযথা ইস্যু তৈরি করে পারস্পরিক বা অন্যের পক্ষ-বিপক্ষ নিয়ে (যেখানে নিজের লাভ লোকসান নেই) গালিগালাজ বা চরিত্রহননের চেষ্টা করে থাকে অনেকে। ফেসবুকে অতিমাত্রায় আসক্ত হলে ‘কাজ নেই তো খই ভাজ’ অবস্থা সৃষ্টি হয়। এটা আমাদের দেশে অতিমাত্রায় হচ্ছে এবং ক্রমেই নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাচ্ছে। এ অবস্থা কিন্তু উন্নত বিশ্বে (যেমন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ কান্ট্রিতে) বেশি নেই। কুরুচিপূর্ণ এ অবস্থা বাংলাদেশ এবং ভারতে বেশি। এটা ইন্টারনেটের অপব্যবহার বলা যেতে পারে। এর মধ্য দিয়ে আমরা পারস্পরিক একটা অসহিষ্ণু স্টুডেন্ট কমিউনিটি তৈরি করছি। যারা আগামীতে দেশকে নেতৃত্ব দেবে, সমাজকে নেতৃত্ব দেবে। সে জায়গায় তারা নেতৃত্ব দিতে পারবে না, কারণ তারা সামাজিকভাবে অসুস্থ। এমন কমিউনিটি কখনো একটা বৃহৎ কমিউনিটিকে লিড দিতে পারে না। ফুটবল বিশ্বকাপেও দেখলাম এ অসহিষ্ণুতা!
যারা আসক্ত তাদের যে সব শারীরিক সমস্যা হয় বলে চিকিৎসকরা বলে থাকেন তা হলো- পিঠে ব্যথা, মাথাব্যথা, মেরুদণ্ড সমস্যা, ওজনে ভারসাম্য নষ্ট, ঘুমের ব্যাঘাত, চোখে ব্যথা বা কম দেখা ইত্যাদি। ইন্টারনেটের ব্যাপক জনপ্রিয়তার কারণে আজ বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ কম্পিউটার নিয়ে বেশির ভাগ সময় কাটায় এবং সেই সময়টুকুর জন্য নিজেরাই মূল্য পরিশোধ করে। কম্পিউটার ও ইন্টারনেট আজ আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। সংবাদ, তথ্য, যোগাযোগ, কেনাকাটা, ব্যবসা-বাণিজ্য, সোশ্যাল নেটওয়ার্ক, বিনোদন ইত্যাদি অনেক কিছুর জন্য মানুষ এখন ইন্টারনেটের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু কেউ যদি ইন্টারনেটের ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। ইন্টারনেটের প্রতি আসক্তি আজকের যুগের একটি অত্যন্ত জটিল সমস্যা ও অভিশাপ। অন্যান্য নেশার মতোই এটি একটি সর্বনাশা নেশা, যা ব্যক্তির সামাজিক, পারিবারিক ও পেশাগত জীবনকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করে। ইন্টারনেট ছাড়া থাকতে না পারা, বাদ দিতে গেলে দুশ্চিন্তা, বিষণ্ণতা ও অন্যান্য সমস্যা আসা। মাত্রাতিরিক্ত ইন্টারনেট ব্যবহারের মাধ্যমে স্বাভাবিক, পারিবারিক, সামাজিক ও পেশাগত জীবনকে ব্যাহত করা। এতে করে শারীরিক প্রতিক্রিয়ায় দেখা যায় ঘাড় ও কোমরব্যথা, মাথাব্যথা এবং চোখে অস্বাভাবিক চাপজনিত সমস্যা হচ্ছে। মানসিক প্রতিক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে- অনিদ্রা, অতিরিক্ত টেনশন বোধ, বিষণ্ণতা, যৌন সমস্যা, অপরাধপ্রবণতা, মনোযোগ কমে যাওয়া।
সন্তানকে শান্ত রাখতে মুঠোফোনসহ নানা যন্ত্রপাতি তাদের হাতে তুলে দেন ব্যস্ত বাবা-মায়েরা। এ থেকে সন্তানের মধ্যে প্রযুক্তি উপভোগ করার অভ্যাস জন্মায়। অনেক সময় নিরাপত্তাহীনতার অজুহাতে সন্তানকে সব সময় ঘরে বন্দি রাখতে চান। নিজের চোখের সামনে দেখতে চান। সে ক্ষেত্রে তাদের হাতে মুঠোফোন-ল্যাপটপ তুলে দিয়ে আপাত স্বস্তি অনুভব করেন, যা শিশু-কিশোরদের যন্ত্রের প্রতি আসক্ত করে ফেলে। বাবা-মা নিজেরাও সারা দিন ইন্টারনেট নির্ভর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মগ্ন থাকেন। সন্তানরা এতে উৎসাহিত হয়। কখনো কখনো কিছু বিজ্ঞাপনের ভাষা ও উপাদান শিশুদের প্রযুক্তি বা গেমের প্রতি আসক্ত করে তুলতে পারে। অতিরিক্ত ইন্টারনেট আসক্তি মানসিক রোগের সৃষ্টি করে। আক্রান্ত শিশুরা খিটখিটে মেজাজের হয়, মিথ্যে কথা বলে এবং সবার সঙ্গে অহেতুক তর্কে লিপ্ত হয়। এ ছাড়া স্কুলের রেজাল্ট দিন দিন খারাপ হতে থাকে। শিশুকে আত্মকেন্দ্রিক, অসহনশীল ও অসামাজিক করে। শিশুর বুদ্ধির বিকাশে বাধা দিয়ে সৃষ্টিশীলতা নষ্ট করে দেয়, শিশুর শারীরিক খেলাধুলার সময় কেড়ে নেয়। এতে শিশুরা শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে, শিশু শারীরিক পরিশ্রম কমিয়ে দেয়।
শিশুদের ফেসবুকের আসক্তি কমাতে অভিভাবকরা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। সন্তানকে অবশ্যই সময় দিতে হবে। সন্তান কখন কি করছে, কোথায় যাচ্ছে, কার সঙ্গে চলছে সে বিষয়ে খোঁজ নিতে হবে। সপ্তাহে অন্তত একদিন তাকে বাইরে বেড়াতে নিয়ে যান। শিশুকে গুণগত সময় দিন। মা-বাবা নিজেরাও যদি প্রযুক্তির প্রতি আসক্ত থাকেন, তবে সবার আগে নিজের আসক্তি দূর করুন। ফেসবুকের আসক্তি কমাতে স্কুলে স্কুলে সচেতনতা-প্রচার শুরু করলে এখনকার তরুণ প্রজন্মকে ওই কুপ্রভাব থেকে রক্ষা করা যাবে। স্কুলগুলোতে কর্মশালার আয়োজন করা যেতে পারে। কর্মশালায় ইন্টারনেট ও সোশ্যাল মিডিয়ার কুফল নিয়ে আলোচনা, পাঠচক্র করা যেতে পারে। ইন্টারনেটের কুফল থেকে সন্তানদের বাঁচাতে বিকল্প হিসেবে খেলাধুলা বা পরিবারের সদস্যদের সময় দেয়া একান্ত প্রয়োজন। প্রতিদিন বিকেলে পড়া শেষে তাকে খেলাধুলার সময় দিতে হবে। শিশুদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলুন। সব কিছু খোলামেলা আলোচনা করুন। তাহলে অনেক সমস্যাই সমাধান হয়ে যাবে। শিশুদের জন্মদিন কিংবা বিশেষ দিনে শিশুদের বই উপহার দিন। তাকে আস্তে আস্তে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। বই পড়লে একে তো জ্ঞান বাড়বে অন্যদিকে ফেসবুকের আসক্তি কমবে। সম্ভব হলে শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন মোবাইল। শিশুদের হাতে মোবাইল না দেয়া গেলেই ভালো। ১৮ বছরের নিচের সন্তানের ইন্টারনেটের যাবতীয় পাসওয়ার্ড জানুন। তবে লুকিয়ে নয়, তাকে জানিয়েই তার নিরাপত্তার জন্য পাসওয়ার্ডটি আপনার জানা দরকার; এটি বুঝিয়ে বলুন। বাসার ডেস্কটপ কম্পিউটারটি প্রকাশ্য স্থানে (কমন এরিয়া) রাখুন। শিশু যাতে আপনার সামনে মুঠোফোন, ট্যাব, ল্যাপটপ ইত্যাদি ব্যবহার করে, সেদিকে গুরুত্ব দিন। নিরাপত্তামূলক অনেক সফটওয়্যার আছে। সেগুলো ব্যবহার করুন, যাতে আপনার বাসার সংযোগ থেকে কোনো নিষিদ্ধ ওয়েবসাইটে প্রবেশ করা না যায়।
#ইন্টারনেট_আসক্তির_আরো_প্রতিকারঃইন্টারনেট আসক্তি থেকে রেহাই দিতে তরুণদের সমাজকল্যাণমূলক কার্যক্রমে অংশগ্রহণে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। খেলাধুলা ও চিত্তবিনোদনের ব্যবস্থা করতে হবে। এছাড়া অভিভাবকরা সন্তানদের কাছে ইন্টারনেটের ভালো ও ক্ষতিকর দুটি দিক নিয়ে আলোচনা করতে পারেন।
শুধু অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল দিয়ে নিজেদের দায়িত্ব শেষ না করে সন্তানদের সময় দিতে হবে। এতে তরুণ-তরুণীরা সচেতন হবে। সমাজ, পরিবার, ব্যক্তি তথা সবার সচেতনতাই পারে এ ধরনের সমস্যা থেকে আমাদের মুক্তি দিতে। তাছাড়া নিন্মোক্ত বিষয়গুলোও সাথে যুক্ত করতে হবে —–
>>চিত্ত বিনোদনের অন্য উপায়গুলোর মাঝে নিজেকে পরিব্যাপ্ত করা।
>>পরিবারের সাথে দায়িত্বশীল ব্যক্তি হিসেবে আরও বেশি সময় দেওয়া।
>> নিজের প্রকৃত দুঃখ-কষ্ট-সমস্যাগুলোকে চিহ্নিত করা এবং তা দূর করার জন্য সচেষ্ট হওয়া।
>> নিজের সমস্যাগুলো নিজের মাঝে গুটিয়ে না রেখে আত্মীয়স্বজন আর বন্ধুবান্ধবের সাথে আলোচনা করা।
>> ইন্টারনেট প্রযুক্তিকে নিজের সহায়ক কাজেই একমাত্র ব্যবহার করা, নির্ভরতা যেন পারিবারিক বা সামাজিক গণ্ডিকে অতিক্রম না করে।
>> ড্রাগ, অ্যালকোহল বা অন্য কোনো মানসিক সমস্যা থাকলে তার চিকিত্সা করা।
>> বাস্তব জীবনে বেশি মানুষের সাথে ভালো সম্পর্ক গড়ে তোলা। তখন ইন্টারনেটের সাথে সম্পর্ক কম থাকলেও চলবে।
>> অসামাজিক, লাজুক বা ঘরকুনো স্বভাব থাকলে তা পরিবর্তন করা।
>> প্রয়োজনে মানসিক বিশেষজ্ঞের দ্বারস্থ হয়ে চিকিত্সা নেওয়া।
>> ধাপে ধাপে ইন্টারনেট ব্যবহারের সময় ও গুরুত্ব কমিয়ে আনা।#ইন্টারনেট_আসক্তি_দূর_করার_৭টি_বাস্তব_কার্যকর_উপায়—আপনি এককভাবে বা পরিবারের সহযোগিতা নিয়ে ইন্টারনেট আসক্তি দূর করার চেষ্টা করতে পারেন। তবে যেভাবেই চেষ্টা করুন না কেন, আসক্তি ভয়ানক পর্যায়ে পৌঁছানোর আগেই চেষ্টা করুন, এবং সুনির্দিষ্ট সেইসব বিষয়ে চিকিৎসা নিন যেসব বিষয়ে আপনার সত্যি চিকিৎসা প্রয়োজন। যদি আপনি নিজের ব্যাপারে সন্দিহান থাকেন এবং সমস্যা সমাধানে নিজেকে ব্যর্থ মনে করেন, তবে অবশ্যই অভিজ্ঞদের পরামর্শ নিন।১. অনলাইন কর্মীরা একটি ভার্চুয়াল সাহায্যকারী খুঁজে নিন
অনলাইন সাহায্যকারী ইন্টারনেটে আপনার ব্যয় করা সময় কমিয়ে আনতে সাহায্য করবে। এতে আপনার স্ক্রিন টাইম কমবে, যা আপনার আসক্তির মাত্রা কমিয়ে আনবে। এই পদ্ধতি কোনো সমাধান দিবে না সত্য, কিন্তু অনলাইন কর্মীদের কর্মহীন অবস্থায় ইন্টারনেট আসক্তির মাত্রা কমিয়ে আনতে সাহায্য করবে। অনলাইন সাহায্যকারী আপনার ইন্টারনেট ব্যবহারকে একটা বাস্তবসম্মত কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসবে, যা আপনার ইন্টারনেট আসক্তির মাত্রা উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে দিবে।২. ইন্টারনেট ব্যবহারের মাত্রা নির্ধারণ করুন
ইন্টারনেট আসক্তি দূর করতে কম্পিউটার এবং ইন্টারনেট ব্যবহারের সময়সীমা নির্ধারণ করুন। দৈনন্দিন ইন্টারনেট ব্যবহারের মাত্রা নির্ভর করে আপনার নির্ধারিত সীমানা মান্য করার উপর।নির্ধারণ করুন এখন থেকে আপনি দিনে কতক্ষণ ইন্টারনেট ব্যবহার করবেন, কেন ব্যবহার করবেন, কী কী কাজ ব্যবহার করবেন? এসব কিছু আগে নির্ধারণ করুন। তারপর কাজে নেমে পড়ুন। পরিকল্পনা করার পর কোনোক্রমেই পরিকল্পিত সীমারেখা অতিক্রম করবেন না। তাহলে খুব দ্রুতই আপনার ইন্টারনেট আসক্তির মাত্রা কমে আসবে।৩. পরিবার এবং বন্ধুদের কাছে টেনে নিন
ইন্টারনেট আসক্তি নিশ্চয়ই আপনাকে পরিবার এবং বন্ধু থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছে? সুতরাং ইন্টারনেট আসক্তি কমাতে ইন্টারনেটকে দূরে ঠেলে পরিবার ও বন্ধুকে কাছে টেনে নিন। আপনার ইন্টারনেট ব্যবহারের ব্যাপারে খোঁজখবর নিলে অভিভাবকদের সঠিক তথ্য দিন। নিজের ইন্টারনেট ব্যবহারের সময়সীমা নিয়ে পরিবারের কাছে দায়বদ্ধ থাকুন। দৈনন্দিন ইন্টারনেট ব্যবহারের নির্ধারিত সময়সীমা পার করার পর সম্পূর্ণভাবে পরিবার এবং বন্ধুবান্ধবকে সময় দিন। এরপর থেকে আর কখনোই ইন্টারনেট ব্যবহার নিয়ে পরিবারের সাথে মিথ্যাচার করবেন না। মনে রাখবেন এই মিথ্যাচার নিজের সাথে প্রবঞ্চনার শামিল।৪. অন্যদের কম্পিউটার ব্যবহারের অনুমতি দিন
আপনি নিশ্চয়ই এতদিন নিজের কম্পিউটার কাউকে ব্যবহার করতে দেননি! কম্পিউটারের সকল পাসওয়ার্ড গোপন রেখেছেন। এবার নিজের ইন্টারনেট আসক্তি দূর করতে অন্যদের কম্পিউটার ব্যবহারের সুযোগ দিন, এমনকি কম্পিউটারের সকল পাসওয়ার্ড তাদের দিন।যখনই আপনি পরিবার বা আপনার সাথে থাকা মানুষদের আপনাকে সহযোগিতা করতে আগ্রহী করে তুলতে পারবেন তখনই আপনার কম্পিউটারের সকল পাসওয়ার্ড তাঁদের হাতে দিয়ে দিন। এবং এমনকি তাদের পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করার অনুমতি দিন। আপনার ইন্টারনেট মোডেম বা রাউটার, সবকিছুর নিয়ন্ত্রণ পরিবারের অন্যদের হাতে দিয়ে দিন।
একমাত্র আত্মবিশ্বাসীদের জন্যই আমি এই কাজগুলো করার পরামর্শ দিতে চাই। আত্ম উৎশৃংখল অবস্থাকে নিয়ন্ত্রণে আনতে এটি অত্যন্ত কার্যকরী উপায়। একবার অন্যের হাতে কম্পিউটারের নিয়ন্ত্রণ দিলে আপনি চাইলেই ইন্টারনেটে প্রবেশ করতে পারবেন না, যা ধীরে ধীরে আপনার ইন্টারনেট আসক্তির মাত্রা কমিয়ে আনবে।৫. আপনার রুটিন পরিবর্তন করুন
ইন্টারনেট আসক্তি কমিয়ে আনার আরেকটি মোক্ষম উপায় হলো দৈনন্দিন রুটিন পরিবর্তন করা। আপনার যদি প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে ইমেইল চেক করার অভ্যাস থাকে, বা কর্মক্ষেত্র থেকে ফিরেই ইন্টারনেটে বসার জন্য ব্যাকুল হয়ে থাকেন, তবে শুরুতে এটি পরিবর্তন করার চেষ্টা করুন। ইমেইল চেক করে নয়, আপনার প্রতিটি সকাল শুরু হোক অন্য কিছু দিয়ে।
দিনের শুরুতেই কম্পিউটারের কাছে না গেলে এটি ব্যবহারের আসক্তি থেকে কিছুটা হলেও মুক্তি পাওয়া সম্ভব। প্রতিদিন সকালের প্রয়োজনীয় কাজ করুন। নিজের পরিবারকে পর্যাপ্ত সময় দিন। এরপর ইন্টারনেট ব্যবহারের কিছুটা সময় বের করুন। এক কথয় ইন্টারনেটের চেয়ে বাস্তব জীবনের মানুষগুলোকে বেশি গুরুত্ব দিন।৬. বিনোদনমূলক উদ্দেশ্যে কম্পিউটার ব্যবহার বন্ধ করুন
যেহেতু আপনি ইন্টারনেট আসক্ত তাই এই আসক্তি দূর করতে আপনাকে বিশেষ কিছু করতে হবে। ব্যবসায়িক বা পেশাদারী কাজের বাইরে বিনোদনমূলক কোনো কাজে কম্পিউটার ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন। কম্পিউটার ব্যবহার করে বিনোদিত হওয়ার ছেলেমানুষী আবেগ পরিহার করার চেষ্টা করুন। অন্তত কয়েক মাসের জন্য কম্পিউটার গেম, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার থেকে দূরে থাকুন।ইন্টারনেটের অলিগলিতে খোঁজ করা বিনোদন বাস্তব জীবনে খুঁজে নিন। সম্পূর্ণভাবে ইন্টারনেট জগত থেকে বের হয়ে রক্ত মাংসের মানুষের সাথে বাস্তব জীবনের আনন্দ উপভোগ করুন।৭. অগ্রগতি পরিমাপ করুন
ইন্টারনেট আসক্তি দূর করতে প্রচেষ্টা শুরু করার পর থেকে ক্ষণে ক্ষণে নিজেকে স্মরণ করিয়ে দিন আপনি ইন্টারনেট আসক্তি দূর করতে চেষ্টা করছেন। ধাপে ধাপে নিজের অনলাইনে ব্যবহৃত সময়ের চেয়ে বাস্তব জীবনে ব্যবহৃত সময়ের পরিমাণ বাড়িয়ে তুলুন। তুলনামূলকভাবে অনলাইনে পূর্বের তুলনায় কতটা সময় দিচ্ছেন তা পর্যালোচনা করুন। চেষ্টা করুন সপ্তাহে সর্বোচ্চ ৮ থেকে ১০ ঘন্টা ইন্টারনেট ব্যবহার করতে এবং পর্যায়ক্রমে আরো কমিয়ে আনতে।আপাতদৃষ্টিতে বিচার করলে, এই পরামর্শগুলো পড়ে আপনার মনে হতে পারে আমি আপনাকে কর্মহীন হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছি। না, মোটেও তা নয়। আপনি যদি ইন্টারনেট আসক্তি দূর করতে এখনই প্রচেষ্টা শুরু না করেন তবে অদূর ভবিষ্যতে জীবনে অনেক বড় বিপর্যয় নেমে আসবে, যা আপনার শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যহানি ঘটাবে, ব্যক্তি ও পারিবারিক জীবনে অসুখী করে তুলবে।
সুতরাং আসক্তি দূর করতেই হবে। আর এই কাজে শুরুতে আপনাকে একটু বেশি ত্যাগ স্বীকার করতেই হবে।ধন্যবাদ । সকলেই #ইনশাআল্লাহ ভাল থাকুন ।রচনা,সংগ্রহ ও সম্পাদনায়–#মরুচারী_মুসাফির