খারাপ আলেমদের সমস্যাঃ

“খারাপ আলেমদের সমস্যা হলো, তারা সত্যে গ্রহণ করানোর জন্যে বাড়াবাড়ি করে, এবং প্রতিপক্ষকে ঘৃণা ও অসম্মানের চোখে দেখে। এর ফলে প্রতিপক্ষও পাল্টা যুক্তি দিতে প্রস্তুত হয়, এবং অসত্যের পক্ষে আরো শক্ত যুক্তি প্রদান করার চেষ্টা করে। যে বিষয়ে তাকে অভিযুক্ত করা হয়, সে তা আরো বেশি শক্ত করে ধারন করে।

অথচ, আলেমরা যদি সুন্দরভাবে ও দায়াশিল হয়ে একান্ত গোপনে প্রতিপক্ষকে নসিহত করে বুঝাতো, এবং ঘৃণা ও বিদ্বেষ পরিহার করতো, তাহলে আলেমরা সফল হতো।”

– ইমাম গাজালি।…

বিশ্বাস করুন আর নাই করুন , এই মহাজ্ঞানী ইমাম গাজালী রাহেঃ কে ও অধুনা গঁজিয়ে উঠা এক দল আলেম/শায়খ/মাদানী ও তার অন্ধু অনুসারীরা বেদাতী এমন কি আরো খারাপ আক্ষা দিতেও একটুও ভয় করেনা । অথচ তারাও মতভেদের দিক থেকে ১৬৪ দলে বিভক্ত এবং এক দল অন্য দলকে কাফের ফতোয়াও দেয়

রং ফর্সা করার মূল্য কীভাবে দিচ্ছেন লাখ লাখ নারী;

আপনি কতটা সচেতন (উৎস: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা)”বিয়ের দিন আমাকে দেখতে সত্যিই খুব খারাপ লাগছিল। এতো খারাপ আর কখনো লাগেনি,” আবেগময় কণ্ঠে একথা বললেন শিরোমা পেরেইরা। এটি তার আসল নাম নয়। সামাজিক কারণে এই প্রতিবেদনে তার নাম বদলে দেওয়া হয়েছে।
শ্রীলঙ্কায় রাজধানী কলম্বোর কাছেই থাকেন ৩১ বছর বয়সী শিরোমা। গত বছর বিয়ের আগে তিনি তার ত্বকের রঙ ফর্সা করতে চেয়েছিলেন। তার মতো দক্ষিণ এশিয়ায় আরো অনেক নারীই তাদের গায়ের রঙ উজ্জ্বল করতে আগ্রহী।
“বিয়ের দু’মাস আগে আমি একটি সেলুনে গিয়েছিলাম। রঙ ফর্সা করার জন্যে তারা তখন আমাকে একটি ক্রিম দিয়েছিল। দু’সপ্তাহ ব্যবহার করার পর দেখলাম আমার মুখ জ্বলে গেছে,” বলেন তিনি।
“আমি ত্বক ফর্সা করতে চেয়েছিলাম কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেটা পুড়ে গেল।”
শিরোমার যখন তার বিয়ের কেনাকাটা এবং অনুষ্ঠানে কারা কারা অতিথি হয়ে আসবেন সেদিকে নজর দেওয়ার কথা ছিল তখন তিনি ব্যস্ত হয়ে পড়লেন তার ত্বকের চিকিৎসায়। এর পেছনে অনেক অর্থও খরচ হলো তার।
“আমার মুখে প্রথমে শাদা রঙের ছোপ ছোপ দেখা গেল যা পরে কালো দাগে পরিণত হলো।”
সেলুন থেকে তাকে রং ফর্সাকারী যে ক্রিম দেওয়া হয়েছিল সেটি কর্তৃপক্ষের অনুমোদিত কোন প্রসাধনী সামগ্রী ছিল না। এই ক্রিম অবৈধভাবে আমদানি করে কালো বাজারে বিক্রি করা হচ্ছিল।
এক বছর ধরে চিকিৎসার পর পেরেইরার গলায় এখনো সেই কালো দাগ রয়ে গেছে। এরকম আরো কিছু অভিযোগ পাওয়ার পর শ্রীলংকার কর্তৃপক্ষ এখন অনুমোদন নেই এরকম রং ফর্সাকারী ক্রিম বিক্রির বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেছে।কিন্তু এই সমস্যা শুধু শ্রীলঙ্কারই সমস্যা নয়। এশিয়া এবং আফ্রিকাতে লাখ লাখ মানুষ, যাদের বেশিরভাগই নারী, গায়ের রং ফর্সা করার জন্যে এমন কিছু ব্যবহার করেন যা শেষ পর্যন্ত তাদের জন্যে ক্ষতিকর হয়ে দাঁড়ায়।বাজার
সারা বিশ্বে গায়ের রং ফর্সা করার এই বাজারের আকার ২০১৭ সালে ছিল প্রায় ৪৮০ কোটি ডলার। ধারণা করা হচ্ছে, ২০২৭ সালের মধ্যে এই বাজার দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়াবে ৮৯০ কোটি ডলারে।
এর চাহিদা মূলত এশিয়া ও আফ্রিকার মধ্যবিত্ত পরিবারে।
রং ফর্সাকারী এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে সাবান, ক্রিম, ব্রাশ, ট্যাবলেট। এমনকি ইঞ্জেকশনও রয়েছে। মানব দেহে মেলানিন পিগমেন্টের উৎপাদন কমিয়ে দেয় এই ইঞ্জেকশন এবং এগুলো অনেক জনপ্রিয়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এক হিসেবে দেখা গেছে, আফ্রিকাতে প্রতি ১০ জন নারীর চারজন রং ফর্সাকারী পণ্য ব্যবহার করে থাকেন।
সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় নাইজেরিয়াতে। সেখানে ৭৭% নারী ত্বকের রং উজ্জ্বল করার জন্যে নানা ধরনের প্রসাধনী ব্যবহার করে থাকেন। তার পরেই রয়েছে টোগো, ৫৯% এবং দক্ষিণ আফ্রিকা ৩৫%।
এশিয়ায় ৬১% ভারতীয় নারী এবং চীনে ৪০% নারী এসব ব্যবহার করেন।গবেষণায় দেখা গেছে, এসব জিনিসের প্রতি ভোক্তাদের চাহিদাও বাড়ছে। একই সাথে এসব মোকাবেলা করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
গত বছর ঘানাতে কর্তৃপক্ষ গর্ভবতী নারীদেরকে সতর্ক করে দিয়েছিল রং ফর্সাকারী ট্যাবলেট না খাওয়ার জন্যে। কারণ এসব ট্যাবলেটে পাওয়া গেছে এন্টিঅক্সিডেন্ট গ্লুটাথিওন।
গর্ভবতী নারীরা মনে করেন তারা যদি এই ট্যাবলেট খান তাহলে তাদের গর্ভে থাকা সন্তানের গায়ের রং ফর্সা হবে।
এধরনের পণ্য মোকাবেলার জন্যে দক্ষিণ আফ্রিকাতে আছে কঠোর কঠোর আইন। গাম্বিয়া, আইভরি কোস্ট এবং রোয়ান্ডাতে রং ফর্সাকারী যেসব পণ্যে হাইড্রোকুইনোন আছে সেগুলো নিষিদ্ধ করেছে।
শরীরে মেলানিনের (বাদামী কিম্বা কালো পিগমেন্ট, যার কারণে ত্বকের রঙ নির্ধারিত হয়) উৎপাদন কমিয়ে দেয় হাইড্রোকুইনোন। একই সাথে এটি স্থায়ীভাবে ত্বকের ক্ষতিও করতে পারে।চিকিৎসা
ব্রিটিশ স্কিন ফাউন্ডেশন বলছে, “চর্ম চিকিৎসকদের সার্বক্ষণিক তত্ত্বাবধানে হাইড্রোকুইনোন আছে এরকম পণ্য নিরাপদে ব্যবহার করা যেতে পারে। ত্বকের যেসব স্থানে কালো দাগ পড়ে গেছে সেগুলো এর মাধ্যমে চিকিৎসা করা যায় এবং তাতে ভালো ফল পাওয়াও সম্ভব।”
“রং ফর্সাকারী ক্রিমের কোনো কোনোটি হয়তো সহায়ক। কিন্তু সেটা একজন ত্বক বিজ্ঞানীর পরামর্শে ও তত্ত্বাবধানে ব্যবহার করতে হবে। অন্যথায় সেগুলো বিপদজনক হয়ে উঠতে পারে,” বলেন ব্রিটিশ স্কিন ফাউন্ডেশনের একজন মুখপাত্র এন্টন আলেকজানড্রফ।কার্যকারিতা
তবে ব্রিটিশ স্কিন ফাউন্ডেশন বলছে, “পুরো ত্বক ফর্সা করার নিরাপদ কোন উপায় নেই।”
“দোকানে যেসব ক্রিম বিক্রি হয় সেগুলো যে আসলেই গায়ের রং ফর্সা করে এমন প্রমাণ নেই। এর উল্টো ফলও হতে পারে। এই ক্রিম আপনার ত্বককে অস্বাভাবিক রকমের শাদা অথবা আরো কালোও করে দিতে পারে। এর ফলে নষ্ট হয়ে যেতে পারে ত্বকের স্বাভাবিক গুণাবলীও,” সতর্ক করে দিয়েছেন আলেকজানড্রফ।
তবে ম্যালাসমার মতো কিছু কিছু সমস্যার চিকিৎসার জন্যে চিকিৎসকরা রং ফর্সাকারী পণ্য প্রেসক্রাইব করে থাকেন।
বয়স হলে শরীরে এরকম সমস্যা দেখা দেওয়া খুবই সাধারণ বিষয়। এতে ত্বকে বাদামী কিম্বা ধূসর রঙের দাগ তৈরি হয়। বিশেষ করে মুখে। নারীদের দেহে এরকম হওয়ার হার বেশি। বিশেষ করে গর্ভধারণের সময়।
“একজন চর্ম চিকিৎসকের মাধ্যমে ত্বকের রং ফিরিয়ে আনা সম্ভব। তবে সেজন্যে অনুমোদিত কিছু ক্রিম আছে যা ডাক্তারদের পরামর্শে ব্যবহার করা যেতে পারে,” বলেন আলেকজানড্রফ।পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া
কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা গেছে নারীরা চিকিৎসকদের পরামর্শ ও নজরদারি ছাড়াই এসব রং ফর্সাকারী কসমেটিক ব্যবহার করতে শুরু করে দেন। কিন্তু এসব প্রসাধনীর গুরুতর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া থাকতে পারে। যেমন:
ত্বকে চুলকানি
প্রদাহ
জ্বালাপোড়া
ফুলে যাওয়া
ফুসকুড়ি পড়া
মার্কারি
কিছু কিছু পণ্য যেগুলো দ্রুত রং ফর্সা করার দাবি করে সেগুলোতে নানা রকমের ক্ষতিকর উপাদানও থাকতে পারে।
“যেসব পণ্যে মার্কারি আছে সেগুলো স্বাস্থ্যের জন্যে ক্ষতিকর,” বলছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।কিন্তু তারপরেও মার্কারি আছে এরকম পণ্য চীন, লেবানন. মেক্সিকো, পাকিস্তান, ফিলিপিন, থাইল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদিত হচ্ছে।
শরীরে মেলানিন গঠনের প্রক্রিয়াকে শ্লথ করে দেয় এই হাইড্রোকুইনোন।
যেসব পণ্যে মার্কারি আছে সেগুলোর বিক্রি ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং আফ্রিকার বহু দেশে নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ফিলিপিন এবং আরো কয়েকটি দেশ অল্প পরিমাণে মার্কারি আছে যেসব পণ্যে সেগুলো বিক্রির অনুমোদন দিয়ে থাকে।স্বাস্থ্য
“মার্কারি হচ্ছে বিষ,” বলেন আলেকজানড্রফ। তিনি বলেন, এর ফলে নানা রকমের স্বাস্থ্য সমস্যা তৈরি হতে পারে।
মার্কারি আছে যেসব সাবান ও ক্রিমে সেগুলো ব্যবহার করলে যেসব ক্ষতি হতে পারে:
কিডনির ক্ষতি
ত্বকে ফুসকুড়ি হওয়া, রং বদলে যাওয়া, কালশিটে দাগ পড়া
ব্যাকটেরিয়া ও ফাংগাল সংক্রমণ প্রতিরোধের ক্ষমতা কমে যাওয়া
উদ্বেগ উৎকণ্ঠা, বিষণ্ণতা, মানসিক অস্থিরতা থেকে বৈকল্য
স্নায়ু-জনিত সমস্যা

বরগুনায় গোপনে যেভাবে চলে হরিণের মাংসের ব্যবসা ।

পাঁচ মন হরিণের মাংস, দুটো হরিণের খুলি, আর চামড়া শনিবার উদ্ধার হয়েছে বরগুনা থেকে।
হরিণ খুব একটা বড় প্রাণী নয়, তাই পাঁচ মন মাংসের জন্য সংখ্যায় দুটো নয় বরং আরও অনেক বেশি হরিণ মারা হয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বরগুনার পাথরঘাটার পদ্মা-বনফুল গ্রামের একটি খালে ট্রলারে করে এসব মাংস নিয়ে যাওয়া হচ্ছিলো বলে জানিয়েছেন পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হানিফ সিকদার।
শিকারিদের কাউকে ধরা সম্ভব হয়নি।
যেভাবে কাজ করে চোরা শিকারীরা
সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগরের একজন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি বলেন কীভাবে এই চোরা শিকার করা হয়।
তবে তিনি তার নাম প্রকাশ করতে চাননি। টেলিফোনে তিনি বলছিলেন তার যেখানে বাড়ি সেই গ্রামের সাথেই লাগোয়া নদী।
সেই নদীর ওপারেই সুন্দরবনের গহীন জঙ্গল।
তিনি বলছিলেন, “মাছ ধরার পার্মিট-পাস নিয়ে এখান থেকে অনেকেই জঙ্গলে যায়। তবে হরিণ শিকারিরা রাতের বেলায় গোপনে ঢোকে।”
নাইলনের দড়ির এক ধরনের ফাঁদ ব্যবহার করেন তারা।
সেই ফাঁদের বর্ণনা দিয়ে বলছিলেন, “হরিণের নিয়মিত যাতায়াতের পথে এগুলো পাতা হয়। যাতায়াতের সময় হরিণগুলো আটকে যায়। এক রাতে পেতে আসা হয়। পরের রাতে গিয়ে আবার দেখা হয়।”
অনেক সময় একবারেই হরিণগুলো গলায় ফাঁস লেগে মারা পরে। আবার অনেক সময় পায়ে বেধে আটকে থাকে। এই ফাঁদের পদ্ধতির নামই স্থানীয়ভাবে ফাঁসি দিয়ে হরিণ মারা।
স্থানীয় বাজারে কিছুটা রাখঢাক রেখে হরিণের মাংস বিক্রি হয় বলে জানান তিনি।
কিন্তু তাদের চোখ থাকে আরও দুরে সুদূর ঢাকা শহর পর্যন্ত। ছয় থেকে সাতশো টাকা কেজি দরে হরিণের মাংস অগ্রিম অর্ডারও নেয় শিকারীরা।
কোথায় এর নেটওয়ার্ক?
মোঃ জাহিদুল কবির বন অধিদপ্তরের বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ অঞ্চলের বন সংরক্ষক।
তিনি বলছেন, মূলত চিত্রা হরিণই শিকার করা হয়। এই প্রজাতির হরিণই বাংলাদেশে সবচাইতে বেশি আছে।
হরিণের মাংস মূলত সুন্দরবন সংলগ্ন জেলা খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, পিরোজপুর এসব জেলা থেকে অথবা এই জেলার উপর দিয়ে আসে বলে জানালেন তিনি। নোয়াখালীর হাতিয়া ও নিঝুম দ্বীপে সরকারিভাবে হরিণ ছাড়া হয়েছে।
তাদের সংখ্যাও বেড়েছে। নোয়াখালী থেকেও হরিণের মাংসের নেটওয়ার্ক তৈরি হয়েছে। নৌ ও স্থলপথ দুভাবেই এটি বড় শহরে যায়।
কি পরিমাণে হরিণ মারা পরছে?
তিনি বলছেন, সরকারি হিসেবে ৮০ হাজার থেকে এক লাখ হরিণ আছে সুন্দরবনে।
ওয়াইল্ড লাইফ ট্রাস্ট অব বাংলাদেশ (বর্তমানে ওয়াইল্ড টিম) নামের একটি বেসরকারি সংস্থা ২০১১ সালে একটি জরিপ চালিয়েছিল।তখন তাদের হিসেবে দেখা গেছে বছরে ১১ হাজারের বেশি হরিণ নিধন হচ্ছে। কিন্তু এর পর নতুন করে কোনও জরিপ হয়নি।
তবে এই হিসেব মানতে রাজি নন বন অধিদপ্তরের এই কর্মকর্তা।
তিনি বলছেন, “এভাবে হরিণ মারা হলে এতদিন সুন্দরবনে হরিণ থাকতো না। সব শেষ হয়ে যেতো।”
তিনি জানিয়েছেন ২০১৮ সালে শুধু সুন্দরবনের ভেতর থেকে প্রায় ৫০০ কেজির মতো হরিণের মাংস জব্দ করা হয়েছে।
মামলার রেকর্ডের ভিত্তিতে এই তথ্য দিয়েছেন তিনি।
আনুমানিক দুশো হরিণ এভাবে মারা পরে বলে তিনি বলছেন। কিন্তু পাঁচটি জেলা থেকে আসে এর সরবরাহ।
সবগুলো জেলা মিলিয়ে মাংসের পরিমাণ কত হবে সেই হিসেব পাওয়া যায়নি।
একজন স্বেচ্ছাসেবক যা বলছেন
বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের সাথে যুক্ত বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানের একজন স্বেচ্ছাসেবক বলছেন, “উৎসবের সময় হরিণ শিকার বেড়ে যায়। যেমন আসছে ঈদকে কেন্দ্র করে অনেক অর্ডার বাড়বে। আর সেগুলো বেশিরভাগই যাবে ঢাকার মানুষের ফ্রিজে। তবে স্থানীয় অনেক মানুষের বাড়িতেও পাওয়া যাবে।”
তিনি বলছেন এই পুরো ব্যবসার সাথে জড়িত স্থানীয় প্রভাবশালীরা যাদের ভয়ে তিনিও নিজের নিরাপত্তার জন্য নাম প্রকাশ করতে চাইলেন না।
তিনি বলছেন, “আগে বন্দুক ব্যবহার করা শিকারি বেশি ছিল। এখন সেটা আর সেভাবে সম্ভব হচ্ছে না।”
হরিণের মাংস খাওয়া আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ
বাংলাদেশে আপনি হরিণের মাংস খাওয়ার জন্য অথবা শুধু ফ্রিজে রাখার জন্যেই জেলে যেতে পারেন অথবা বড় অংকের জরিমানা গুনতে হতে পারে আপনাকে।
বন সংরক্ষক মোঃ জাহিদুল কবির বলছেন, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনের ধারা ছয় অনুযায়ী শিকারি, বিক্রেতা ও ক্রেতা সবাইকে শাস্তি দেয়া সম্ভব।
তিনি বলছেন, লাইসেন্স ও পার্মিট প্রাপ্ত ব্যক্তি ব্যতীত অন্য কারো কাছ থেকে কোন বন্য প্রাণী, বন্যপ্রাণীর অংশ, অথবা তা থেকে উৎপন্ন দ্রব্য ক্রয়, বিক্রয়, আমদানি-রপ্তানি করেন, আর যদি অপরাধ প্রমাণিত হয় তাহলে সর্বোচ্চ এক বছরের, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা হতে পারে।
একই অপরাধের পুনরাবৃত্তি ঘটলে তিন বছরের সাজা। অথবা সর্বোচ্চ দুই লক্ষ টাকা জরিমানা।
এই কর্মকর্তা বলছেন, বাংলাদেশে হরিণ পালতে গেলেও সরকারি লাইসেন্স নিতে হয়।

দেশের ডিটারজেন্ট পাউডা বা গুড়ো সাবানে ক্যান্সার সৃষ্টিকারী উপাদান পাওয়া গেছে এক গবেষণায় । এখনি সাবধান হোন ।

বাংলাদেশে প্রচলিত প্রায় সব ব্র্যান্ডের ডিটারজেন্টে এমন কিছু উপাদান শনাক্ত হয়েছে যার সংস্পর্শে ত্বকের এলার্জি, চর্মরোগ, কিডনির রোগ এমনকি জেনেটিক মিউটেশনের মতো সমস্যা হতে পারে।

এছাড়া এই ডিটারজেন্ট যদি পানিতে মিশে যায় – তাহলে তা সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির সঙ্গে বিক্রিয়া করে। তখন এর রাসায়নিক গঠন ভেঙে তৈরি হতে পারে ক্যান্সার সৃষ্টিকারী মারাত্মক উপাদানও।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মো. নাহিন মোস্তফা নিলয়ের গবেষণায় এসব তথ্য উঠে আসে।

২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর থেকে এই গবেষণার কাজ শুরু করেন তিনি। গত মাসে গবেষণার পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে (ইউজিসি) জমা দেন তিনি।

গবেষণা কাজের জন্য তিনি বাজার থেকে জনপ্রিয় ও বহুল-ব্যবহৃত প্রায় ১০টি ব্র্যান্ডের ডিটারজেন্ট পাউডার নিয়ে পরীক্ষা চালান।

সেখানে তিনি দেখতে পান যে বেশিরভাগ ডিটারজেন্টেই রয়েছে ক্ষতিকর ফ্লুরোসেন্ট হোয়াইটেনিং এজেন্ট। যেটা টিনোপোল নামেও পরিচিত। এটি মূলত কাপড়কে সাদা করতে ও উজ্জ্বলতা বাড়াতে ব্যবহৃত হয়।

বাংলাদেশের বাজারে যেসব ডিটারজেন্ট বিক্রি হচ্ছে, সেগুলোর বেশিরভাগে এই উপাদানটির পরিমাণ আদর্শ মাত্রার চাইতে অনেক বেশি বলে জানান মি. নিলয়।।

মূলত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আশেপাশের বিভিন্ন জলাশয়ের পানির মান পরীক্ষা করতে গিয়ে ফ্লুরোসেন্ট হোয়াইটেনিং এজেন্টের সন্ধান পান তিনি।

সেই থেকেই তিনি গবেষণা শুরু করেন। পরে ইউজিসির একটি প্রকল্পে কাজ করতে গিয়ে তিনি পদ্মা নদীর হার্ডিঞ্জ ব্রিজের কাছের পানির নমুনায় এই এজেন্ট শনাক্ত করেন।

তার ধারণা, দেশের অন্যান্য নদীতেও এই উপাদান পাওয়া যেতে পারে। কারণ বাংলাদেশের বাসাবাড়ি ও শিল্পকারখানায় কাপড় ধোয়ার এই রাসায়নিক-যুক্ত পানি সরাসরি নদীনালা ও জলাশয়ে ফেলা হয়।

এই রাসায়নিক পদার্থ এতটাই ক্ষতিকর যে পানি শোধনাগারেও তা সম্পূর্ণরূপে দূর করা যায় না।

যুক্তরাষ্ট্রের একটি সর্বাধুনিক ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্টও পানি থেকে পুরোপুরি ফ্লুরোসেন্ট হোয়াইটেনিং এজেন্ট পরিশোধন করতে পারেনি বলে জানান মি. নিলয়।

অর্থাৎ এই উপাদানটি একবার পানিতে মিশে গেলে, ওই পানি আর শতভাগ পরিশোধন করা সম্ভব না।

বরং পানি শোধনের জন্য যে রাসায়নিক ব্যবহৃত হয়, উল্টো সেটার সঙ্গে বিক্রিয়ার ফলেও বাই-প্রোডাক্ট হিসেবে ক্যান্সার সৃষ্টিকারী পদার্থ তৈরি হতে পারে বলে মি. নিলয় উল্লেখ করেন।

তবে কোন কোন ব্র্যান্ডের ডিটারজেন্টের ওপর তিনি পরীক্ষা চালিয়েছেন সেগুলোর নাম তিনি প্রকাশ করেননি।

মি. নিলয়ের প্রত্যাশা, তার এই গবেষণা মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে কাজে আসবে।

এছাড়া ডিটারজেন্ট উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানসমূহ তাদের পণ্যে ক্ষতিকর কেমিক্যালগুলো সহনীয় মাত্রায় ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ হবে বলেও তিনি আশা করেন।

গবেষণাকাজে তিনি পানির ক্ষতিকর উপাদানের মাত্রা পরিমাপে ব্যবহার করেছেন সর্বাধুনিক এক পদ্ধতি ।

ইউজিসির অধীনে গবেষণাটির তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে কাজ করেছেন পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. শফি মুহাম্মদ তারেক। তার মতে এই গবেষণা সামাজিক সচেতনতা বাড়াতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে।

সারা বিশ্বে এখনও কতো সিংহ বেঁচে আছে: ৯টি তথ্য

সিংহকে বলা হয় রাজকীয় বন্যপ্রাণী অর্থাৎ বনের রাজা। কিন্তু এই প্রাণীটিই এখন বিপন্ন প্রজাতির তালিকায়। এর দুটো প্রজাতি এখনও টিকে আছে- আফ্রিকান সিংহ ও এশীয় সিংহ।

মানুষের কাছে ক্যারিশম্যাটিক প্রাণী হিসেবে পরিচিত এই সিংহ যা অত্যন্ত তেজস্বী, ক্ষিপ্র এবং অসাধারণ সুন্দর।

একারণে বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন পণ্যের ব্র্যান্ডিং ও বিজ্ঞাপনে অহরহই এই প্রাণীটির ব্যবহার চোখে পড়ে।

এখানে সিংহ সম্পর্কে ৯টি তথ্য তুলে ধরা হলো:

১. সিংহের গর্জন পাঁচ মাইল দূর থেকেও শোনা যায়

বিড়াল প্রজাতির যত প্রাণী আছে তার মধ্যে সিংহের গর্জনই সবচেয়ে বেশি জোরালো। এই গর্জন এতোই তীব্র যে এটি ১১৪ ডেসিবল হতে পারে এবং শোনা যেতে পারে পাঁচ মাইল দূর থেকেও।

সিংহের গর্জন এতো তীব্র হওয়ার পেছনে কারণ এই প্রাণীটির স্বরযন্ত্রের আকার। বেশিরভাগ প্রাণীর ভোকাল কর্ড সাধারণত ত্রিভুজাকৃতির। কিন্তু সিংহের ভোকাল কর্ড চতুর্ভুজ আকারের। এছাড়াও এটি চেপটা।

একারণে তারা বাতাসের উপর খুব সহজেই অনেক বেশি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারে।

এর অর্থ হলো অল্প চেষ্টাতেই শক্তিশালী গর্জন।

২. পুরুষ সিংহ দিনে ৪০ কেজির বেশি মাংস খেতে পারে
বন্যপ্রাণীর ওপর চালানো এক গবেষণায় দেখা গেছে, বেঁচে থাকতে হলে একটি নারী সিংহের দিনে গড়ে পাঁচ কেজি এবং পুরুষ সিংহের সাত কেজি মাংসের দরকার হয়।
গবেষণায় আরো দেখা গেছে একদিনে এই প্রাণীটি যত মাংস ভক্ষণ করে তার পরিমাণ আট থেকে নয় কেজি।
তবে তারা এর চেয়েও অনেক বেশি মাংস খেতে পারে। দেখা গেছে একটি সিংহী এক দিনে ২৫ কেজি এবং একটি সিংহ এক বসাতেই ৪০ কেজিরও বেশি মাংস খেতে পারে।৩. ঘণ্টায় ৫০ মাইল গতিতে দৌড়াতে পারে
বন্যপ্রাণীদের মধ্যে দ্বিতীয় দ্রুততম প্রাণী এই সিংহ যা কিনা ঘণ্টায় ৫০ মাইল গতিতে দৌড়াতে পারে।
সিংহীর (বেশিরভাগ শিকার এই প্রাণীটিই করে থাকে) হৃৎপিণ্ডের ওজন তার দেহের ওজনের তুলনায় মাত্র শূন্য দশমিক ৫৭ শতাংশ। ফলে তার মানসিক শক্তি বা স্ট্যামিনা এখানে মূল বিষয় নয়।
বরং এই দ্রুত গতির কারণ হচ্ছে শুধুমাত্র স্বল্প দূরত্বের জন্য। আর একারণে কোন শিকারের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ার আগে তাকে খুব কাছ থেকে আক্রমণ শুরু করতে হয়।৪. কেশর থেকে জানা যায় বয়স
পুরুষ সিংহ চেনার সবচেয়ে সহজ ও কার্যকর উপায় হচ্ছে এর কেশর। এর রঙ যত গাঢ় প্রাণীটির বয়সও ততই বেশি।
এ থেকে আরো বোঝা যায় যে পুরুষ সিংহ থেকে প্রচুর টেস্টোসটেরন হরমোন নির্গত হয়। ফলে এর শক্তিও হয় বেশি।
একারণে কালো কেশরের পুরুষ সিংহ প্রচুর সংখ্যক নারী সিংহকে আকৃষ্ট করতে পারে।৫. একমাত্র বিড়াল যার লেজের প্রান্তে পশমের গোছা
বিড়াল প্রজাতির যত প্রাণী আছে তার মধ্যে সিংহ-ই একমাত্র প্রাণী যার লেজের একেবারে শেষ প্রান্তে পশমের গোছা আছে।
অন্যান্য প্রাণীর সাথে এটি যোগাযোগের একটি হাতিয়ার। তার পালে আরো যেসব সদস্য থাকে এই গোছার মাধ্যমে সে তাদেরকে বার্তা দিয়ে থাকে।
লেজের এই গোছার মাধ্যমে সে অন্যান্যদের দিক নির্দেশনা দেয়, আদেশ দেয় এবং তার ভালোবাসার কথাও প্রকাশ করে থাকে।৬. সবচেয়ে বৃদ্ধ সিংহের বয়স ২৯ বছর
সিংহের গড় আয়ু ১৩ বছর। কিন্তু যদি তারা কোন খাঁচায় থাকে, যখন বেঁচে থাকার জন্যে তাদেরকে শক্তি ও শিকারের ক্ষমতার উপর নির্ভর করতে হয় না, তখন তারা এরচেয়েও বেশি সময় বেঁচে থাকতে পারে।
এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি বয়সী সিংহের কথা রেকর্ড করা হয়েছে তার বয়স ছিল ২৯ বছর।৭. রাতের দৃষ্টিশক্তি মানুষের চাইতে ৬ গুণ বেশি
দিনের বেলায় একটি সিংহের যে দৃষ্টিশক্তি তার সাথে মানুষের দৃষ্টিশক্তির খুব বেশি পার্থক্য নেই।
সিংহের রেটিনায় কম ‘কোন সেল’ থাকার কারণে তারা কম রঙ দেখতে পায়। কিন্তু রাতের বেলায় এই প্রাণীটির দৃষ্টিশক্তি পুরোপুরি বদলে যায়।
সিংহের চোখে আছে প্রচুর ফটো-রিসেপ্টর সেল – যা চোখে আলো প্রবেশ করা মাত্রই সেটা গ্রহণ করে। তারপর রেটিনার পেছনে যে রিফ্লেকটিভ মেমব্রেন আছে সেখানে ওই আলো প্রতিফলিত হয়ে গিয়ে পড়ে আলো-সংবেদনশীল কোষে।
সিংহের চোখে আছে শাদা স্ট্রিপ যা থেকে চোখের মণিতে যতো বেশি সম্ভব আলো প্রতিফলিত হয়।
এসব কিছুর অর্থ হলো : দেখার জন্যে মানুষের চোখে যত আলোর প্রয়োজন হয় তার ছ’ভাগের এক ভাগ আলোতেই সিংহ দেখতে পায়। ৮. এক মাইল দূর থেকেও শিকারের আওয়াজ শুনতে পায়
সিংহের শ্রবণশক্তি অত্যন্ত তীব্র। এর কান এমনভাবে তৈরি যাতে যেদিক থেকে শব্দ আসে সেদিকে তার কান ঘুরিয়ে দিতে পারে।
তার এই স্পর্শকাতর শ্রবণশক্তি কারণে সহজেই যে শিকারকে শনাক্ত করতে পারে। এমনকি ঘন ঝোপের পেছনেও যখন কোন প্রাণী নিজেকে আড়াল করে রাখে, কিম্বা এক মাইল দূরেও থাকে, সিংহ ঠিকই বুঝতে পারে তার খাদ্যটি এখন কোথায় আছে।৯. সারা বিশ্বে আছে ২০,০০০ সিংহ
আফ্রিকায় সিংহের সংখ্যা নাটকীয়ভাবে কমছে। বলা হচ্ছে, গত তিন প্রজন্মে এই প্রাণীটির সংখ্যা সেখানে ৪০% হ্রাস পেয়েছে।
এর পেছনে কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে সিংহের বসতি ধ্বংস করা, খাবার কমে যাওয়া। সিংহ শিকারও একটি বড় কারণ।
তবে অনুমান করা হয় যে ২০,০০০ থেকে ৩৯,০০০ সিংহ এখনও সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে।

লোমহর্ষক যেসব নির্যাতনের শিকার হচ্ছে কাশ্মীরি নারীরা।

লোমহর্ষক যেসব নির্যাতনের শিকার হচ্ছে কাশ্মীরি নারীরা।
সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা
ইন্টারনেটে কাশ্মীরি মেয়ে ও ‘ম্যারি কাশ্মীরি গার্ল’ সার্চ করে বিশ্ব কাঁপালেন আপনারা। ভাগ্যিস, গুগল ছিল! নইলে জানাই যেত না আপনাদের এমন সৌন্দর্যবোধের কথা। লিখছেন জিনাত রেহেনা ইসলাম

সত্যি আপনারা পারেনও বটে! কাশ্মীরি আপেল ও কাশ্মীরি মেয়েদের কী সুন্দর এক সুতায় বেঁধে দিলেন। বুঝিয়ে দিলেন, দুই-ই মিষ্টি ও সুন্দর। আন্তর্জালে কাশ্মীরি মেয়ে ও ‘ম্যারি কাশ্মীরি গার্ল’ সার্চ করে বিশ্ব কাঁপালেন আপনারা। ভাগ্যিস, গুগল ছিল! নইলে জানাই যেত না আপনাদের এমন গভীর সৌন্দর্যবোধের কথা। কাশ্মীরে ৩৭০ অনুচ্ছেদ বিলোপ প্রসঙ্গে দেশ উত্তাল। আর এর মধ্যেই আপনাদের মনে হলো, দেশ-কাল চুলোয় যাক। কাশ্মীরের মেয়েরা তো এ বার হাতের নাগালে চলে এল!

আপনারা কেউ ১০০ শতাংশ সাক্ষর রাজ্যের বাসিন্দা, কারও আবার শিক্ষা-সংস্কৃতির অহঙ্কারে মাটিতে পা পড়ে না! সেই জন্যই বুঝি আপনাদের দেখার চোখও এত সুন্দর! তবে কী জানেন, যে মেয়েদের জন্য আপনারা এত উতলা হয়ে উঠেছেন, তাদের কোমরে বন্দুকের বাটের দাগটা বোধহয় আপনাদের চোখে পড়েনি, না? পিঠে ভারী মেটাল বেল্টের কালশিটেও আপনাদের চোখ এড়িয়ে গিয়েছে। কিন্তু মুখে নেকড়ের আঁচড়ের মতো সেই দগদগে ক্ষতটাও কী করে চোখ এড়িয়ে গেল?

আসুন, আপনাদের পরিচয় করিয়ে দিই আরও কয়েকজন কাশ্মীরি মেয়ের সঙ্গে। ওই মহিলাকে দেখছেন? খেতে কাজ করতে গিয়েছিলেন। এখন সেখানেই বিবস্ত্র অবস্থায় পড়ে আছেন। বাড়িতে রয়েছে ওঁর পাঁচ বিবাহযোগ্য কন্যা। বেচারা এই অপমান সইতে পারলেন না। হাসপাতালে যাওয়ার পথেই মারা গেলেন! আচ্ছা, আপনি কি কারও গোঙানি শুনতে পাচ্ছেন?

ওই দেখুন, আর এক কাশ্মীরি মেয়ে! বুটের আঘাত আর অত্যাচারে রক্তক্ষরণ বন্ধ হচ্ছিল না। ওঁর পেটে ১০টি সেলাই পড়েছে। ওই যে, আর এক মেয়ে হেঁটে যাচ্ছেন। বন্দুকের নলের আঘাতে জরায়ুতে গভীর ক্ষত। এখন পচতে শুরু হয়েছে। প্রাণে বাঁচতে গেলে জরায়ু কেটে বাদ দিতে হবে। এই মহিলা কোনো দিন মা হতে পারবেন না।

দূরের ওই গ্রাম দু’টি দেখতে পাচ্ছেন? কুনান ও পোশপোরা। সেখান থেকেই এক রাতে ৩২ জন মেয়ে উধাও হয়ে যান। দৃষ্টিহীন বৃদ্ধ বাবা কাঁদছেন! পাগলের মতো স্বামী খুঁজছেন। সন্তানদের কান্না থামানো যাচ্ছে না। কী অপরূপ দৃশ্য, তাই না? ওই যে, আর এক কাশ্মীরি ছিন্নভিন্ন দেহ পড়ে রয়েছে। তাকে করাত দিয়ে কাটা হয়েছে। ত্রেহগামের সরকারি বিদ্যালয়ের গবেষণাগারের সহকারীর কপালে আর কী-ই বা জুটত? আর ক্রালখুদের অর্চনা কিংবা শিক্ষা বিভাগের সেই নারী অধিকর্তা? পরিবারের সকলের সামনেই চলে অত্যাচার এবং শেষতক হত্যা!

গুরিহাকার সেই মেয়ের কথা মনে আছে? ভরা পরিবারে শ্বশুর ও ননদের সঙ্গে বসেছিলেন তিনি। সকাল তখন ৯টা। বাচ্চাকে দুধ খাওয়াচ্ছিলেন। ঠিকই তখনই ভারী বুট রাস্তা থেকে উঠে এল একেবারে ঘরে। বন্দুকের নল গিয়ে ঠেকল বাচ্চার বুকে। মাকে নির্দেশ মতো উঠে যেতে হল। কিছুক্ষণ পরে শোনা গেল চিৎকার। পুলওয়ামার আহারবল জলপ্রপাতে কান পাতলে এখনও হয়তো সেই চিৎকার শোনা যাবে। কাশ্মীরি মেয়েরা সুন্দরী! শুনে দেখবেন এক বার, তাঁদের আতর্নাদও কেমন মিষ্টি!

মবিনা গনি বিয়ের পরে শ্বশুরবাড়িই পৌঁছতে পারলেন না। পথেই মবিনা আর তাঁর মাসির উপর হয়ে গেল অত্যাচার। ২৪ বছরের হাসিনা ক্ষতবিক্ষত দেহ নিয়ে হাসপাতালে পৌঁছলেন। হাত-পা-মুখ ছিঁড়েখুঁড়ে একাকার। জেলা হাসপাতালে হিহামা গ্রামের সেদিন সাত মেয়ে হাজির। বিয়ের আসর ভেঙে গিয়েছে। নববধূ-সহ সবার শরীরে ক্ষত। বিহোটায় এক মেয়েকে ছাড়াতে ২০ জন মেয়ে চার-পাঁচ ঘণ্টা আটক থাকলেন। বাকিটা ইতিহাস।

সাইদপোরা গ্রামের ১০ থেকে ৬০ বছরের মেয়েরাও জানতেন না, কখন কে অর্ডার হাতে নিয়ে এসে বলবে, ‘সার্চ ইউ’। তার পরে মধ্যরাতে এসে ছিঁড়ে ফেলবে কাপড়। ঘরের কোনায় দাঁড়িয়ে দেখবে আর এক ছোট্ট মেয়ে। সেও জানবে, এক দিন এমনি করেই সার্চ অর্ডার আসবে তারও।

দরজা খুলেই তৈরি হতে হবে তল্লাশির জন্য। আয়াতের মতো মুখস্থ হয়ে যাবে সেই দু’টি বাক্য—‘আই হ্যাভ অর্ডার। আই হ্যাভ টু সার্চ ইউ।’ প্রতিবাদী বৃদ্ধার বুকে লাথি মেরে উল্টে ফেলা হবে। বেঁধে ফেলা হবে তার মুখ। তার পরে সেই ভবিতব্য। 
লেখক : শিক্ষিকা, রঘুনাথগঞ্জ হাইস্কুল

বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী: কমছে নাকি বাড়ছে?

বিবিসি বাংলা, ঢাকা ২২ জুলাই ২০১৯বাংলাদেশে সংখ্যালঘু অধিকার আন্দোলনের একজন নেত্রী প্রিয়া সাহা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সেদেশের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে ধর্মীয় সংখ্যালঘু নির্যাতন বিষয়ে যেসব বক্তব্য তুলে ধরেছেন, তা নিয়ে বাংলাদেশে এখনো আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইছে।
বিশেষ করে প্রিয়া সাহা ৩ কোটি ৭০ লাখ সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর নিখোঁজের যে তথ্য দিয়েছেন তা নিয়ে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রী, রাজনীতিক এমনকি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যেও নানারকম প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।
কিন্তু বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সংখ্যাগত চিত্রটা আসলে কেমন? আর প্রিয়া সাহার বক্তব্য কতটা বাস্তবসম্মত?
ব্রিটিশ আমলের পূর্ববঙ্গ, পাকিস্তান আমলের পূর্ব পাকিস্তান আর বর্তমান বাংলাদেশে বিভিন্ন সময়ে জনসংখ্যার একটা হিসাব পাওয়া যায় বিভিন্ন সময়ে হওয়া আদমশুমারিতে।
এসব তথ্য বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোতে রক্ষিত আছে।
সেখানে আদমশুমারির তথ্য ঘেঁটে দেখা যায়, ৪৭ এর ভারত ভাগের পর থেকে এ পর্যন্ত তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান আর এখনকার বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জনসংখ্যা কখনোই দেড় কোটি ছাড়ায়নি।
১৯৫১ সালের আদমশুমারিতে দেখা যায়, সেসময় পূর্ব পাকিস্তানে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর সংখ্যা ছিলো ৯৭ লাখ ৬ হাজার।
১৯৬১ সালের আদমশুমারিতে এ সংখ্যা ৯৯ লাখ ৫০ হাজার।
বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর ১৯৭৪ সালে এ সংখ্যা হয় ১ কোটি চার লাখ ৩৯ হাজার।
আর সর্বশেষ ২০১১ সালের আদমশুমারিতে এই সংখ্যা ১ কোটি ৩৮ লাখ।
অর্থাৎ এই ভূখন্ডে ধর্মীয় সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর সংখ্যা কখনোই ৩ কোটি ৭০ লাখ বা এর অর্ধেকও ছিলো না।নিখোঁজ নিয়ে প্রিয়া সাহার ব্যাখ্যা
ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে প্রিয়া সাহা যে বক্তব্য দিয়েছিলেন, রোববার রাতে ইউটিউবে আপলোড করা এক ভিডিওতে অবশ্য সে বিষয়ে নিজের ব্যাখ্যা তুলে ধরেন প্রিয়া সাহা।
তাতে ৩ কোটি ৭০ লাখ ধর্মীয় সংখ্যালঘু নিখোঁজ হওয়ার পরিসংখ্যানের ব্যাখ্যা দেন তিনি।
তিনি বলেন, “২০০১ সালের পরিসংখ্যানে সংখ্যালঘুদের উপর একটা চ্যাপ্টার রয়েছে। সেনসাস (আদমশুমারি) অনুসারে দেশভাগের সময় বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সংখ্যা ছিলো মোট জনসংখ্যার ২৯.৭ শতাংশ। এখন তা কমে ৯.৭ শতাংশ।”
প্রিয়া সাহা বলছেন, “সংখ্যালঘুদের শতকরা ভাগ যদি এখনো একই রকম থাকতো তাহলে বর্তমানে তাদের সংখ্যা ৩ কোটি ৭০ লাখের বেশি হতো। সেটাই আমি বলতে চেয়েছি।”
তাহলে নিখোঁজ মানুষগুলো কোথায় গেছে? এমন প্রশ্নের অবশ্য সুনির্দিষ্ট কোন উত্তর দেননি প্রিয়া সাহা।আদমশুমারিতে অবশ্য সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর সংখ্যা কমে যাওয়ার কোন তথ্য পাওয়া যায় না।
ভারত-ভাগের পর ১৯৫১ সালে ৯৭ লাখ ৬ হাজার থেকে ২০১১ সালে এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১ কোটি ৩৮ লাখে।কিন্তু মোট জনসংখ্যায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের আনুপাতিক হার অবশ্য কমেছে।
তবে এই কমে যাওয়ার পরিসংখ্যান শুধু পাকিস্তান আমলে কিংবা বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের পরই যে দেখা যাচ্ছে তেমন নয়।
বরং ব্রিটিশ আমলেও এই অঞ্চলে সংখ্যালঘুদের আনুপাতিক হার কমে যাওয়ার প্রবণতা দেখা যায়।
সেসময় শুমারিতে অবশ্য মূলত: হিন্দুদের সংখ্যাই দেয়া হয়েছে।ব্রিটিশ ও পাকিস্তান আমলের পরিসংখ্যান
১৯১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী, সেসময় পূর্ব বাংলায় হিন্দু জনগোষ্ঠীর আনুপাতিক হার ছিলো ৩১ শতাংশ।
১৯৪১ সালে ২৮ শতাংশ। অর্থাৎ ২০ বছরে হিন্দু জনগোষ্ঠীর আনুপাতিক হার কমেছে ৩ শতাংশ।
তবে এরপরই হিন্দু জনগোষ্ঠীর আনুপাতিক হার দ্রুত গতিতে আরো কমতে থাকে।
১৯৪১ থেকে ১৯৭৪ এই ৩৩ বছরে হিন্দু জনগোষ্ঠীর আনুপাতিক হার কমে যায় প্রায় ১৫ শতাংশ।
১৯৪৭ এর ভারত-ভাগ, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গাসহ বিভিন্ন কারণে সেসময় অবশ্য পূর্ব বাংলা থেকে হিন্দু জনগোষ্ঠীর অনেকেই ভারতে চলে গিয়েছিলেন।
একইভাবে ভারত থেকেও অনেক মুসলমান পূর্ব পাকিস্তানে এসেছিলেন। আবার বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়ও অনেক হিন্দু দেশান্তরি হয়েছিলেন।স্বাধীনতার পরের চিত্র
বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর মোট জনসংখ্যায় সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর কমে যাওয়ার হারে আবারো ধীরগতি দেখা যায়।
১৯৭৪ সালের প্রথম আদমশুমারিতে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর হার ছিলো ১৪.৬ শতাংশ।
২০১১ সালে সেটি কমে আসে ৯.৬ শতাংশে।
অর্থাৎ বাংলাদেশ আমলে ৩৭ বছরে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর হার কমেছে ৫ শতাংশ।
আদমশুমারিতে অবশ্য সবসময়ই মুসলিম জনগোষ্ঠীর মোট সংখ্যা এবং আনুপাতিক হার দুটোই বেড়েছে।
কিন্তু বাংলাদেশ আমলে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর হার ৫ শতাংশ কমে যাওয়া কতটা অস্বাভাবিক?
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পপুলেশন সায়েন্সেস বিভাগের চেয়ারপার্সন মোহাম্মদ মইনুল ইসলাম অবশ্য একে অস্বাভাবিক মনে করেন না।
তিনি বলছেন, বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের হার কমলেও আকার কিন্তু কমছে না, বরং বাড়ছে।
কিন্তু আনুপাতিক হার কেন কমছে এমন প্রশ্নে তিনি বলছেন, “সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর সঙ্গে যদি মুসলিম সম্প্রদায়ের তুলনা করি তাহলে দেখা যাবে মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে জন্মহার কিংবা সন্তান বেশি নেবার প্রবণতা বেশি। এটা বিশ্বজুড়ে আন্তর্জাতিক গবেষণাতেও দেখা গেছে যে মুসলমানদের মধ্যে জন্মহার বেশি। বাংলাদেশেও আমরা ছোট আকারে বিভিন্ন গবেষণায় এটা দেখেছি।”
তিনি বলছেন, একদিকে মুসলিম জনসংখ্যা অনেক বেশি। অন্যদিকে তাদের মধ্যে জন্মহারও বেশি। ফলে তাদের আকার যেমন দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে, তেমনি মোট জনসংখ্যায় আনুপাতিক হারেও এটা বৃদ্ধি পাচ্ছে। অন্যদিকে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের আকার বাড়লেও আনুপাতিক হার কমছে।

লোমহর্ষক যেসব নির্যাতনের শিকার হচ্ছে কাশ্মীরি নারীরা।

লোমহর্ষক যেসব নির্যাতনের শিকার হচ্ছে কাশ্মীরি নারীরা।
সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা
ইন্টারনেটে কাশ্মীরি মেয়ে ও ‘ম্যারি কাশ্মীরি গার্ল’ সার্চ করে বিশ্ব কাঁপালেন আপনারা। ভাগ্যিস, গুগল ছিল! নইলে জানাই যেত না আপনাদের এমন সৌন্দর্যবোধের কথা। লিখছেন জিনাত রেহেনা ইসলাম

সত্যি আপনারা পারেনও বটে! কাশ্মীরি আপেল ও কাশ্মীরি মেয়েদের কী সুন্দর এক সুতায় বেঁধে দিলেন। বুঝিয়ে দিলেন, দুই-ই মিষ্টি ও সুন্দর। আন্তর্জালে কাশ্মীরি মেয়ে ও ‘ম্যারি কাশ্মীরি গার্ল’ সার্চ করে বিশ্ব কাঁপালেন আপনারা। ভাগ্যিস, গুগল ছিল! নইলে জানাই যেত না আপনাদের এমন গভীর সৌন্দর্যবোধের কথা। কাশ্মীরে ৩৭০ অনুচ্ছেদ বিলোপ প্রসঙ্গে দেশ উত্তাল। আর এর মধ্যেই আপনাদের মনে হলো, দেশ-কাল চুলোয় যাক। কাশ্মীরের মেয়েরা তো এ বার হাতের নাগালে চলে এল!

আপনারা কেউ ১০০ শতাংশ সাক্ষর রাজ্যের বাসিন্দা, কারও আবার শিক্ষা-সংস্কৃতির অহঙ্কারে মাটিতে পা পড়ে না! সেই জন্যই বুঝি আপনাদের দেখার চোখও এত সুন্দর! তবে কী জানেন, যে মেয়েদের জন্য আপনারা এত উতলা হয়ে উঠেছেন, তাদের কোমরে বন্দুকের বাটের দাগটা বোধহয় আপনাদের চোখে পড়েনি, না? পিঠে ভারী মেটাল বেল্টের কালশিটেও আপনাদের চোখ এড়িয়ে গিয়েছে। কিন্তু মুখে নেকড়ের আঁচড়ের মতো সেই দগদগে ক্ষতটাও কী করে চোখ এড়িয়ে গেল?

আসুন, আপনাদের পরিচয় করিয়ে দিই আরও কয়েকজন কাশ্মীরি মেয়ের সঙ্গে। ওই মহিলাকে দেখছেন? খেতে কাজ করতে গিয়েছিলেন। এখন সেখানেই বিবস্ত্র অবস্থায় পড়ে আছেন। বাড়িতে রয়েছে ওঁর পাঁচ বিবাহযোগ্য কন্যা। বেচারা এই অপমান সইতে পারলেন না। হাসপাতালে যাওয়ার পথেই মারা গেলেন! আচ্ছা, আপনি কি কারও গোঙানি শুনতে পাচ্ছেন?

ওই দেখুন, আর এক কাশ্মীরি মেয়ে! বুটের আঘাত আর অত্যাচারে রক্তক্ষরণ বন্ধ হচ্ছিল না। ওঁর পেটে ১০টি সেলাই পড়েছে। ওই যে, আর এক মেয়ে হেঁটে যাচ্ছেন। বন্দুকের নলের আঘাতে জরায়ুতে গভীর ক্ষত। এখন পচতে শুরু হয়েছে। প্রাণে বাঁচতে গেলে জরায়ু কেটে বাদ দিতে হবে। এই মহিলা কোনো দিন মা হতে পারবেন না।

দূরের ওই গ্রাম দু’টি দেখতে পাচ্ছেন? কুনান ও পোশপোরা। সেখান থেকেই এক রাতে ৩২ জন মেয়ে উধাও হয়ে যান। দৃষ্টিহীন বৃদ্ধ বাবা কাঁদছেন! পাগলের মতো স্বামী খুঁজছেন। সন্তানদের কান্না থামানো যাচ্ছে না। কী অপরূপ দৃশ্য, তাই না? ওই যে, আর এক কাশ্মীরি ছিন্নভিন্ন দেহ পড়ে রয়েছে। তাকে করাত দিয়ে কাটা হয়েছে। ত্রেহগামের সরকারি বিদ্যালয়ের গবেষণাগারের সহকারীর কপালে আর কী-ই বা জুটত? আর ক্রালখুদের অর্চনা কিংবা শিক্ষা বিভাগের সেই নারী অধিকর্তা? পরিবারের সকলের সামনেই চলে অত্যাচার এবং শেষতক হত্যা!

গুরিহাকার সেই মেয়ের কথা মনে আছে? ভরা পরিবারে শ্বশুর ও ননদের সঙ্গে বসেছিলেন তিনি। সকাল তখন ৯টা। বাচ্চাকে দুধ খাওয়াচ্ছিলেন। ঠিকই তখনই ভারী বুট রাস্তা থেকে উঠে এল একেবারে ঘরে। বন্দুকের নল গিয়ে ঠেকল বাচ্চার বুকে। মাকে নির্দেশ মতো উঠে যেতে হল। কিছুক্ষণ পরে শোনা গেল চিৎকার। পুলওয়ামার আহারবল জলপ্রপাতে কান পাতলে এখনও হয়তো সেই চিৎকার শোনা যাবে। কাশ্মীরি মেয়েরা সুন্দরী! শুনে দেখবেন এক বার, তাঁদের আতর্নাদও কেমন মিষ্টি!

মবিনা গনি বিয়ের পরে শ্বশুরবাড়িই পৌঁছতে পারলেন না। পথেই মবিনা আর তাঁর মাসির উপর হয়ে গেল অত্যাচার। ২৪ বছরের হাসিনা ক্ষতবিক্ষত দেহ নিয়ে হাসপাতালে পৌঁছলেন। হাত-পা-মুখ ছিঁড়েখুঁড়ে একাকার। জেলা হাসপাতালে হিহামা গ্রামের সেদিন সাত মেয়ে হাজির। বিয়ের আসর ভেঙে গিয়েছে। নববধূ-সহ সবার শরীরে ক্ষত। বিহোটায় এক মেয়েকে ছাড়াতে ২০ জন মেয়ে চার-পাঁচ ঘণ্টা আটক থাকলেন। বাকিটা ইতিহাস।

সাইদপোরা গ্রামের ১০ থেকে ৬০ বছরের মেয়েরাও জানতেন না, কখন কে অর্ডার হাতে নিয়ে এসে বলবে, ‘সার্চ ইউ’। তার পরে মধ্যরাতে এসে ছিঁড়ে ফেলবে কাপড়। ঘরের কোনায় দাঁড়িয়ে দেখবে আর এক ছোট্ট মেয়ে। সেও জানবে, এক দিন এমনি করেই সার্চ অর্ডার আসবে তারও।

দরজা খুলেই তৈরি হতে হবে তল্লাশির জন্য। আয়াতের মতো মুখস্থ হয়ে যাবে সেই দু’টি বাক্য—‘আই হ্যাভ অর্ডার। আই হ্যাভ টু সার্চ ইউ।’ প্রতিবাদী বৃদ্ধার বুকে লাথি মেরে উল্টে ফেলা হবে। বেঁধে ফেলা হবে তার মুখ। তার পরে সেই ভবিতব্য। 
লেখক : শিক্ষিকা, রঘুনাথগঞ্জ হাইস্কুল

আল্লাহর রসূল (সাঃ) কি ক্বিতালের (সশস্ত্র যুদ্ধের) মাধ্যমে দ্বীন কায়েম করেছেন না অন্য কোন পদ্ধতি গ্রহণ করেছেন? আল্লাহর রসূল (সাঃ) এর পদ্ধতি একটু বুঝিয়ে বলুন।



উত্তরঃ আল্লাহর রসূল (সাঃ) এর দ্বীন কায়েমের পদ্ধতি সম্পর্কে জানার আগে আমাদের জানা দরকার আল্লাহর রসূল (সাঃ) এর আগমনের উদ্দেশ্য কি ছিল?
আল্লাহ তাকে কোন দায়িত্ব দিয়ে দুনিয়ায় পাঠিয়েছিলেন? তার আগমনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে আল্লাহ তা’আলা কুরআন মাজিদে একাধিক বার বলেছেন:

هُوَ الَّذى أَرسَلَ رَسولَهُ بِالهُدىٰ وَدينِ الحَقِّ لِيُظهِرَهُ عَلَى الدّينِ كُلِّهِ

অর্থঃ তিনিই তাঁর রসূল (সাঃ) কে সত্য দ্বীন (ইসলাম) ও হিদায়াত সহকারে প্রেরণ করেছেন যাতে তিনি এ দ্বীনকে (ইসলাম) সকল দ্বীনের উপর বিজয়ী করতে পারেন।

(সূরা ফাতাহ ঃ ২৮, তাওবাহ্ ঃ ৩৩, সফ ঃ ৯)

অর্থাৎ আল্লাহর রসূল (সাঃ) এর আগমনের উদ্দেশ্য ছিল এ দ্বীনকে প্রচলিত সকল জীবন ব্যবস্থার উপর প্রতিষ্ঠিত করা। দ্বীন কায়েমের জন্যই আল্লাহ তাঁর রসূল (সাঃ) কে দুনিয়ায় পাঠিয়েছিলেন। এবার বিবেচ্য বিষয় হলাে, কোন পদ্ধতিতে দ্বীন কায়েম করার জন্য আল্লাহ তার রসূল (সাঃ) কে দুনিয়ায় প্রেরণ করেছিলেন। তাঁকে কি কোন নির্দিষ্ট পদ্ধতি দেওয়া হয়েছিল, নাকি ইচ্ছেমত যে কোন পদ্ধতিতে দ্বীন কায়েম করতে সুযােগ দেয়া হয়েছিল? আল্লাহ তা’আলা তাঁর রসূল (সাঃ) কে শুধু দ্বীন কায়েম করার দায়িত্ব দেননি, পাশাপাশি দ্বীন কায়েম করার পদ্ধতিও বলে দিয়েছেন।

এ পদ্ধতি সম্পর্কে আল্লাহ তা’আলা বলেন:

وَقٰتِلوهُم حَتّىٰ لا تَكونَ فِتنَةٌ وَيَكونَ الدّينُ كُلُّهُ لِلَّهِ ۚ

অর্থঃ তােমরা কিতাল চালিয়ে যাও যতক্ষণ না ফিতনা ফাসাদ নির্মূল হয়ে যায় এবং আল্লাহর হুকুমগুলাে প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায়। (সূরা আনফাল ৮ ঃ ৩৯)

আল্লাহর হুকুমগুলাের অর্থ হলাে আল্লাহর বিধান সমূহ বা আল্লাহর দেয়া দ্বীন। আয়াত অনুযায়ী এ দ্বীন প্রতিষ্ঠার পদ্ধতি হলাে কিতাল বা সশস্ত্র যুদ্ধ। আবার কেবল এ পদ্ধতিতেই দ্বীন কায়েম করতে হবে সে বাধ্যবাধকতাও অন্য আয়াতে বলা হয়েছে।

كُتِبَ عَلَيكُمُ القِتالُ وَهُوَ كُرهٌ لَكُم

অর্থঃ তােমাদের জন্য কিতালকে ফরয করে দেয়া হয়েছে। যদিও তােমাদের নিকট তা অপছন্দনীয়। (সূরা বাকারাহ ২ ঃ ২১৬)

বুঝাই যাচ্ছে দ্বীন কায়েমের পদ্ধতি আল্লাহ তা’আলা নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন। স্বয়ং রসূল (সাঃ) কেও ইচ্ছেমত কোন পদ্ধতি গ্রহণ করার অধিকার দেয়া হয় নি। এ তাে গেল আল্লাহর নির্দেশ। আল্লাহর রসূল (সাঃ) নিজে দ্বীন কায়েম করার পদ্ধতি সম্পর্কে বলেছেন-

عن جابر إبن سمرة عن النبی صلی الله علیه وسلم انه قال لن یبرح ھذا الدین قایٕما یقاتل علیه عصابة من المسلمین حتی تقوم الساعة

অর্থঃ জাবির ইবনে সামুরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ সাল্লালাহু বলেছেন, এ দ্বীন চিরদিন কায়েম থাকবে এবং মুসলমানদের ছােট্ট একটি জামায়াত কিয়ামাত পর্যন্ত দ্বীন কায়েমের জন্য ক্বিতাল চালিয়ে যাবে।

অন্য একটি হাদিসে বলা হয়েছে

بعثت بین یدی الساعة بالسیف وجعل رزق تحت ظل رمحی

অর্থঃ আমাকে কিয়ামাত পর্যন্ত সকল যুগের জন্য তরবারি দিয়ে প্রেরণ করা হয়েছে। আর আমার রিযিক (গণিমতের পন্তায়) বল্লমের ছায়ার নিচে রেখে দেয়া হয়েছে।

অর্থাৎ কিয়ামাত পর্যন্ত এ দ্বীন প্রতিষ্ঠা করার যে পদ্ধতি তা হলাে সশস্ত্র জিহাদের পদ্ধতি, আর আমাকে সে পদ্ধতি দিয়ে প্রেরণ করা হয়েছে। এছাড়া আল্লাহর রসূল (সাঃ) নিজেই দাবী করেছেন আমি তরবারী ওয়ালা নবী, আমি যুদ্ধ ওয়ালা নবী। অর্থাৎ আল্লাহর নবী (সাঃ) এর হাদিস থেকেও বুঝা যায় কিয়ামাত পর্যন্ত এ দ্বীন প্রতিষ্ঠা করার একটি পদ্ধতি দেয়া হয়েছে তা হলাে ক্বিতাল। এবার আমরা দেখব, আল্লাহর রসূল (সাঃ) নিজে কিভাবে দ্বীন কায়েম করেছেন। তিনি কি আল্লাহর দেয়া পদ্ধতি অনুযায়ী দ্বীন কায়েম করেছেন, না নিজস্ব কোন পদ্ধতি অবলম্বন করেছিলেন।

আমরা রসূলুল্লাহ (সাঃ) এর জীবনকে দুই ভাগে ভাগ করে থাকি। মাক্কী জীবন আর মাদিনার জীবন, মাক্কী জীবনীতে আমরা দেখতে পাই আল্লাহর রসূল (সাঃ) আক্বিদার দাওয়াত দিয়ে কিছু সংখ্যক সাহাবী তৈরী করেছেন। সে দাওয়াত ছিল তাওহীদের দাওয়াত। সে সময় মানুষ ছিল বিভিন্ন শিরকে লিপ্ত, তারা বিভিন্ন দেবদেবীর পূজা করত, এমন কোন অনাচার ছিলনা তারা করত না। যাকে এককথায় বলে জাহেলিয়াতের যুগ। সে জাহেলী যুগের মানুষদের আক্বিদা পরিশুদ্ধি করার পদক্ষেপ নেন। ১৩ বছর কার্যক্রম চালানাের পর বিভিন্ন চক্রের কারণে আল্লাহর নির্দেশে সাহাবীদের নিয়ে তিনি মদীনায় হিজরত করেন। হিজরতের অল্পদিনের মাথায় ক্বিতালের অনুমতি পেলেন, সূরা হজ্জের ৩৯ নং আয়াতের মাধ্যমে। অনুমতি পাওয়ার অল্পদিন পরেই তিনি একের পর এক যুদ্ধাভিযান শুরু করেন। হিজরতের ১০ মাসের মধ্যেই ২য় হিজরী ১১ সফর ‘ওয়াদ্দান’ অভিযানের মাধ্যমে এ অভিযান সমূহের সূচনা ঘটে। এভাবে মাদানী জীবনে ১০ বছরে আল্লাহর রসূল (সাঃ) নিজে ২৭ টি যুদ্ধের নেতৃত্ব দেন, এবং সাহাবীদের দ্বারা অভিযান প্রেরণ করেন ৭৮টি। ১০ বছরের ১২০ মাসে মােট যুদ্ধাভিযান সংগঠিত হয় ১০৫টি। অর্থাৎ গড়ে প্রতি মাসে একটি করে যুদ্ধ সংগঠিত হয়।

প্রতি মাসে একটি করে যুদ্ধ করা চাট্টি খানি কথা নয়। পৃথিবীর ইতিহাসে বহুযুদ্ধার নাম শােনা যায়, কিন্তু ১০ বছরে কেন সারা জীবনেও ১০৫ টি যুদ্ধ করতে পেরেছিলেন এমন কোন যুদ্ধার নাম শােনা যায় না। যুদ্ধ করা অত্যন্ত কঠিন একটি কাজ। কোন যুদ্ধ হয়ত ৪/৫ দিনে শেষ হয়ে যায়, কিন্তু এর আয়ােজনে লাগে দীর্ঘ একটি সময়। প্রথমে লাগে কর্মী বা সৈনিক রিক্রুট করা, তাদের যুদ্ধের জন্য মানসিকভাবে উদ্বুদ্ধ করা। যুদ্ধের মতাে কঠিন কাজে মানুষকে সহজে উদ্বুদ্ধ করা যায় না। কেননা এর সাথে জড়িত রয়েছে জীবনের ঝুঁকি। যে কাজের জন্য জীবন পর্যন্ত ত্যাগ করতে হবে, তা মানুষ হাজারবার এর লাভ-ক্ষতি ভেবে দেখে তারপর সিদ্ধান্ত নেয়। এরপর রিক্রুটকৃত সৈন্যদের প্রশিক্ষণ দিতে হবে।

প্রশিক্ষণ দু’ একদিনে সম্ভব হয় না, দীর্ঘ সময় লাগে। এরপর অস্ত্র-শস্ত্র কিনতে হয়, বা তৈরী করতে হয়। এর জন্য অর্থ সংগ্রহ করতে হয়। আর প্রতি যুগেই সমরাস্ত্রের মূল্য অন্যান্য নিত্য প্রয়ােজনীয় দ্রব্যের চেয়ে বেশী ছিল। তাই এর জন্য প্রচুর পরিমানে অর্থ সংগ্রহ করতে হয়। এরপর লাগে সৈনিকদের বিশেষ পােষাক, যানবাহন, রসদ ও গােলাবারুদ। এসব সংগ্রহের পর শত্রুদের এলাকায় গােয়েন্দা পাঠিয়ে তাদের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করতে হয়। সে অনুযায়ী যুদ্ধের পরিকল্পনা প্রণয়ন, বাহিনী গঠন এরপর শত্রু এলাকায় যেতে হয়। এরপরেই সংগঠিত হয় যুদ্ধ। এই যুদ্ধ সংগঠিত হওয়ার আগে এতসব আয়ােজন করতে হয়।

রসূলুল্লাহ সাঃ এমন যুদ্ধের আয়ােজন প্রতি মাসে একটি করে করতেন। চিন্তা করে দেখুন, যুদ্ধ করার সময়টুকু বাদে, বাকী সময়টুকু তার সে যুদ্ধের আনুষাঙ্গিক প্রস্তুতিতে কেটেছে। এভাবে ১০৫ টি যুদ্ধের পেছনে আল্লাহর রসূল (সঃ) এর মাদিনা জীবনের সিংহভাগ সময় ব্যয় হয়েছে। তাহলে বলা যায়, আল্লাহর রসূলের মাদানী জীবন ছিল ক্বিতালের জীবন বা যুদ্ধের জীবন। এভাবে মাদানী জীবনে কৃিতালের মাধ্যমে দ্বীন কায়েম করে আল্লাহর নির্দেশের বাস্তবায়ন করেন। অর্থাৎ আল্লাহর রসূল (সঃ) এর মাদানী জীবন ছিল কিতাল বাস্তবায়নের জীবন।

অনেকে বলে থাকেন, আল্লাহর রসূল (সাঃ) সে সময় বিভিন্ন পরিস্থিতির কারণে যুদ্ধ করতে বাধ্য হয়েছিলেন। তার উপর যুদ্ধ পরিস্থিতি চাপিয়ে দেয়া হয়েছিল। এ ধরণের ধারণা চরম আক্বিদা পরিপন্থি। আল্লাহর রসূল (সাঃ) কোন পরিস্থিতির স্বীকার হয়ে বা বাধ্য হয়ে যুদ্ধ করেছেন এ কথা বললে কুরআন ও হাদীসকে অস্বীকার করার নামান্তর হবে।

কেননা কুরআনের দিকে তাকালে আমরা দেখতে পাই, আল্লাহ তার রসূল (সাঃ) কে নির্দেশ দিচ্ছেন-

يٰأَيُّهَا النَّبِىُّ حَرِّضِ المُؤمِنينَ عَلَى القِتالِ

অর্থঃ হে নবী আপনি মুমিনদের ক্বিতালের (সশস্ত্ৰযুদ্ধ) পথে উদ্বুদ্ধ করুন। (সূরা আনফাল ৮ ঃ ৬৫)

আবার আল্লাহ তা’আলা মুসলিম দাবীদার প্রত্যেককে ক্বিতালের প্রশিক্ষণ বা প্রস্তুতি নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। (সূরা আনফাল ৮ ঃ ৬০)

আল্লাহ তায়ালা আবার ফিতনা-ফাসাদ নির্মূল ও দ্বীন কায়েম করার জন্য ক্বিতাল চালিয়ে যাওয়া প্রত্যেক মুসলমানের জন্য বাধ্যতামূলক করেছেন। (সূরা আনফাল ৮ ঃ ৩৯)

যুদ্ধে উদ্বুদ্ধকরণ, প্রশিক্ষণ গ্রহণ ও যুদ্ধের মাধ্যমে দ্বীন কায়েম করার পরও আল্লাহর রসূল (সাঃ) সে পথ বাদ দিয়ে অন্য কোন পথ বেছে নেবেন এমন কথা কিভাবে বলা যায়?

যুদ্ধের নির্দেশ থাকলেও তার যুদ্ধ করার কোন ইচ্ছে ছিল না বরং বাধ্য হয়ে যুদ্ধ করেছেন, রসূলুল্লাহ (সাঃ) এর প্রতি এমন ধারণা করা কি সঙ্গত হবে! বরং একথা বলাই ঠিক হবে না যে, কোন পরিস্থিতি বা চাপিয়ে দেয়ার কারণে নয় আল্লাহ তা’আলা নির্দেশ দিয়েছেন বলে রসূলুল্লাহ (সাঃ) ক্বিতালের মাধ্যমে দ্বীন কায়েম করেছিলেন।

এতাে গেল মাদিনা জীবনের কথা, আবার ফিরে আসি মাক্কী জীবনে।

মাক্কী জীবনে আল্লাহর রসূল (সাঃ) যাদের তাওহীদের দাওয়াত দিয়ে আক্বিদা পরিশুদ্ধি করলেন তার মূল উদ্দেশ্য কি ছিল? আক্বিদা পরিশুদ্ধি ঘটানােই কি রসূলুল্লাহ (সাঃ) এর মূল উদ্দেশ্য ছিল, না অন্য কোন উদ্দেশ্য পূরণের জন্য জরুরী ছিল এটি?

একটি উদাহরণের মাধ্যমে আমরা এটা বুঝার চেষ্টা করতে পারি। ধরা যাক, কিছু লােক একটি রাজনৈতিক দল গঠণ করল।

দলটি গঠণ করার আগে তার লক্ষ্য-উদ্দেশ্য নির্ণয় করবে। লক্ষ্য-উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য একটি পদ্ধতি বা কর্মসূচি প্রণয়ন করবে। এরপর যাদের দ্বারা এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে সেই কর্মীদের তৈরী করার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। তাদের T.C, T.S, সেমিনার, সিম্পােজিয়াম বিভিন্ন ধরনের উদ্বুদ্ধকরণ কার্যক্রমের মাধ্যমে উত্তম কর্মসূচি বাস্তবায়নের যােগ্য কর্মী হিসেবে গড়ে তােলা হবে।

তদ্রুপ আল্লাহর রসূল (সাঃ) এর মিশন বা লক্ষ্য ছিল দ্বীন কায়েম করা। আর দ্বীন কায়েম করার কর্মসূচি বা পদ্ধতি ছিল ক্বিতাল। এ কর্মসুচি বাস্তবায়ন করার জন্য যে কর্মী দরকার ছিল আল্লাহর রসূল (সাঃ) মাক্কী জীবনে সে কর্মী তৈরীর কাজ শুরু করেন। যে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য দ্বীন কায়েম করা, এ কাজে প্রয়ােজনে জীবন দেয়া, সে আল্লাহর প্রতি যদি যথাযথ ঈমানই না থাকে তবে সকল চেষ্টা ব্যর্থ হয়ে যাবে। তাই আল্লাহর রসূল (সাঃ) প্রথমে তাঁর কর্মীদের ঈমান তথা তাওহীদের দাওয়াত দেন।

এ তাওহীদের জন্য প্রয়ােজনে যে কোন জুলুম/নির্যাতন সহ্য করার এমন কি জীবন দেয়ারও শিক্ষা দেন। ঈমান নিয়ে বেঁচে থাকার জন্য কোন বাঁধা প্রতিবন্ধকতা মানা যাবে না, ইসলামের ব্যাপারে কারাে সাথে কোন আপােষ নেই, এমনই একটা আপােষহীন, কঠিন মানসিকতায় সাহাবীদের গড়ে তােলেন। এ কঠিন মানসিকতা হলাে ক্বিতালের উপযােগী মানসিকতা, যুদ্ধের উপযােগী মানসিকতা। মক্কার সাহাবীরা একটি সম্পূর্ন বৈরী পরিবেশে থেকেও সকল বৈরিতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহী তথা যুদ্ধংদেহী মানসিকতায় গড়ে উঠেছিলেন বলে, মাক্কী জীবনীতেই তারা যুদ্ধের অনুমতি চাইতেন। বিভিন্ন সময়ে সাহাবীরা রসূলুল্লাহ (সাঃ) এর কাছে এসে বলতেন হে আল্লাহর রসূল! এত জুলুম নির্যাতন সহ্য হয় না, আমরা তাে যুদ্ধ করতে জানি, তরবারী ধরার অনুমতি দিন, জুলুম নির্যাতনের জবাব দিয়ে দিই। আল্লাহর রসূল (সাঃ) তাদের বলতেন, ধৈর্য্য ধর আল্লাহ তা’আলা আমাকে এখনাে যুদ্ধর অনুমতি দেননি।

আল্লাহর রসূল (সাঃ) এর কথায় ভবিষ্যতের ঈঙ্গিত পাওয়া যায়।

আল্লাহ এখনাে আমাকে যুদ্ধের অনুমতি দেননি অর্থাৎ ভবিষ্যতে দিবেন, সে পর্যন্ত ধৈর্য্যের সাথে অপেক্ষা কর। যে অনুমতি হিজরতের পর পাওয়া যায়।

আল্লাহর রসূল (সাঃ) মদীনায় ক্বিতালের কর্মসূচী যেসব কর্মীদের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করেন, তাদের মানসিকভাবে যােগ্য করে গড়ে তােলেন মাক্কী জীবনেই। অর্থাৎ মদীনায় যে লক্ষ্য উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করা হয় তার প্রধানতম প্রস্তুতি (কর্মী তৈরী) শুরু হয় মাক্কী জীবনেই।

এক কথায় মাক্কী জীবন হল ক্বিতালের প্রস্তুতির জীবন আর মাদিনা জীবন ক্বিতাল বাস্তবায়নের জীবন।

ধরা যাক, আপনি কোন ব্যক্তিকে বাজারে মাছ কেনার দায়িত্ব দিয়ে পাঠালেন। ঐ ব্যক্তি দায়িত্ব পাওয়ার পর কি করবে? সেকি তার দায়িত্ব পালনের প্রস্তুতি আগে নেবে না। দায়িত্ব পালন করার পর প্রস্তুতি নেবে? নিশ্চয়ই আগে পস্তুতি নেবে। ঐ লোক বাজারে যাওয়ার জন্য জামা কাপড় পড়বে, টাকা পয়সা সাথে নেবে, বাজারে আসা যাওয়ার বাহন সাইকেল বা রিক্সা সংগ্রহ করবে। এরপর বাজারে গিয়ে মাছ কিনবে বা তার দায়িত্ব পালন করবে। মাছ কিনার পরে সে টাকা নিতে বাড়ি আসবেনা। বাজারে আসার পর বাজারে আসার বাহন ঠিক করবেনা, বরং আগেই বাহন ঠিক করে সেই বাহনে চড়ে বাজারে আসবে। তদ্রুপ আল্লাহ তাঁর রসূল (সাঃ) কে দায়িত্ব দিয়েছেন দ্বীন কায়েম করার। দায়িত্ব বুঝে পাওয়ার পর আল্লাহর রসূল (সাঃ) সে দায়িত্ব পালনের প্রয়ােজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করেন। এর মূল প্রস্তুতি মাক্কী জীবনে গ্রহণ করেন। এবং হিজরতের সময় ক্বিতাল করার জন্য সাথে তরবারীটা আনতে ভুলেননি। এরপর মদীনায় গিয়ে বাকী প্রস্তুতি গ্রহণ করে তাঁর দায়িত্ব বাস্তবায়ন করেন। এক কথায় রসূলুল্লাহ (সাঃ) এর গােটা জীবন ছিল দ্বীন কায়েমের জন্য ক্বিতালের জীবন। উল্লেখিত পদ্ধতি ছিল আল্লাহর রসূল (সাঃ) এর দ্বীন কায়েমের পদ্ধতি।

ইরাক-ইরান যুদ্ধ: মধ্যপ্রাচ্যের ৮ বছরের নৃশংস যে লড়াইতে কেউ জেতেনি

ইরাক-ইরান যুদ্ধ শুরু হয় ১৯৮০ সালে। সেপ্টেম্বরের একদিনে সাদ্দাম হোসেন ইরানে সৈন্য পাঠালেন। তারপর সেই লড়াই বিংশ শতাব্দীর দীর্ঘতম যুদ্ধগুলোর একটিতে রূপ নেয়।

যুদ্ধের তৃতীয় সপ্তাহে বড় ধরণের সাফল্য পেয়ে যায় ইরাক। ইরানের গুরুত্বপূর্ণ বন্দর খোররামশা দখল করে নেয় ইরাক।

“প্রথম ক’সপ্তাহে ইরাকিরা কোনো প্রতিরোধের মুখেই পড়েনি। তারা ইরানের অনেক জায়গা দখল করে নেয়। ইরাকের সবাই তখন ভেবেছিল সাদ্দাম হোসেন যুদ্ধে জিতে গেছেন। সাদ্দাম হোসেন টিভিতে একদিন বললেন, ছয় দিনে তিনি যুদ্ধ শেষ করে দেবেন। কিন্তু তিনি ভুল ছিলেন।”

যুদ্ধের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বিবিসিকে বলছিলেন, ইরাকি চিকিৎসক ও কবি আহমেদ আল-মুশতাত যাকে যুদ্ধের শেষ দিকে বাধ্য হয়ে সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে হয়েছিল। দক্ষিণে বসরা এবং পরে উত্তর আল-হাফজার রণাঙ্গনে পাঠানো হয়েছিল তাকে।

১৯৮০ সালে যখন যুদ্ধ শুরু হয় আহমেদ আল-মুশতাতের বয়স ছিল ১৮। বাগদাদে তিনি তখন একজন মেডিকেল ছাত্র ছিলেন।

আট বছর পর যখন ইরান-ইরাক যুদ্ধ যখন শেষ হয়েছিল তিনি তখন ২৬ বছরের যুবক।

“আমি মেডিকেল স্কুল শেষ করলাম । এক বছর হাসপাতালে কাজ করলাম। তারপর চলে গেলাম যুদ্ধে।”

তিনি ধরেই নিয়েছিলেন, একটা সময় যুদ্ধে না গিয়ে উপায় থাকবে না।

“ঐ সময় শুধু আমি নই – প্রতিটি ইরাকির জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত যুদ্ধ দ্বারা প্রভাবিত হতো। টিভি খুললেই যুদ্ধের খবর । হঠাৎ একদিন শুনলেন আপনার প্রতিবেশীর ছেলে রণাঙ্গনে মারা গেছে। আমি আমার অনেক বন্ধুকে হারিয়েছি। পরিবারের অনেক সদস্য হারিয়েছি। জঘন্য সময় ছিল সেটা।”

‘”আমি লেখালেখি করতাম। কিন্তু যুদ্ধের বিরুদ্ধে কিছু লেখা সম্ভবই ছিলনা। নিরাপত্তা গোয়েন্দারা সর্বক্ষণ সবার ওপর কড়া নজর রাখতো।”

জবরদস্তি করে রণাঙ্গনে

যুদ্ধ শুরুর সাত বছর পর আহমেদ চিঠি পেলেন তাকে সেনাবাহিনীর মেডিকেল ইউনিটে যোগ দিতে হবে।

“এরকম একটি চিঠি একদিন আসবে আমি ধরেই নিয়েছিলাম, কিন্তু আমি চাইনি তা আসুক। কারণ ঐ সময় রণাঙ্গনে গিয়ে মৃত্যুর সম্ভাবনা ছিল ৯০ ভাগ। কিন্তু নিয়তি অস্বীকার করার কোনো উপায় ছিল না, কারণ আপনি ঐ নির্দেশ অবজ্ঞা করতে পারতেন না। পালানোর কোনো উপায় ছিলনা। পালালেই আপনাকে ধরা পড়তে হবে, আপনাকে না পেলেও আপনার পরিবারকে তারা রেহাই দেবেনা।

খুঁজে না পেলে কি হতে পারতো?

“সোজা মেরে ফেলতো। আত্মরক্ষার, আত্মপক্ষ সমর্থনের কোনো সুযোগই ছিলনা।”

১৯৮৭ সাল নাগাদ যুদ্ধে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছিল। কোনো পক্ষই বলতে পারছিল না তারাই সুবিধাজনক অবস্থায় রয়েছে। লাখ লাখ মানুষ তার মধ্যে মারা গেছে। প্রতিদিনই মারা যাচ্ছিল।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের চেহারা

এত সৈন্য মারা গিয়েছিল যে এক পর্যায়ে দুটি দেশই জোর করে তরুণ যুবকদের ধরে সামান্য প্রশিক্ষণ দিয়ে রণাঙ্গনে পাঠিয়ে দিচ্ছিল।

যুদ্ধের চেহারা নিয়েছিল অনেকটা প্রথম বিশ্বযুদ্ধের মতো – কাঁটাতার, মাইন আর ট্রেঞ্চে ভরা রণাঙ্গন। সব সময় মাস্টার্ড গ্যাস হামলার ভয়।

বসরার মরুতে ৫০ হাজার মৃতদেহ

ইরাকের তেল সমৃদ্ধ বসরার দখল নিয়ে লড়াইতে ১০ হাজার ইরাকির মৃত্যু হয়। অন্যদিকে ১২৫ ডিগ্রি তাপমাত্রার মরুতে ৫০ হাজার ইরানির মৃতদেহ পচছিল।

ইরাকিদের শক্ত অবস্থানের ওপর ইরানি তরুণ স্বেচ্ছাসেবী যোদ্ধারা ঢেউয়ের মতো একের পর এক হামলা চালিয়েছিল।

আয়াতোল্লাহ খোমেনির ডাকে শহীদ হওয়ার উন্মাদনা নিয়ে ইরাকি মেশিনগান উপেক্ষা করে মাইন-ভর্তি এলাকা পেরিয়ে দলে দলে তারা ইরাকি অবস্থানের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়তে শুরু করে।

আহমেদ তখন বসরার কাছেই একটি ইরাকি ব্রিগেডের সাথে ছিলেন।

“আমাকে বসরার কাছে আমরা নামে একটি জায়গায় একটি ব্রিগেডের সাথে যুক্ত করা হলো। সে বছর যুদ্ধে তখন তুঙ্গে। আমি যখন প্রথমবার আমার ইউনিটের কাছে যাচ্ছিলাম, গোলার শব্দ ততই জোরালো হচ্ছিল। সেইসাথে আমার হৃৎপিণ্ডের গতিও বাড়ছিল।”

ইউনিটে মোট আটজন পুরুষ নার্স ছিল, ইরাকের বিভিন্ন জায়গা থেকে আসা। উত্তরের কুর্দি এলাকা থেকে কুর্দি, সুন্নি, শিয়া।

“সবই আমার খেয়াল রাখছিল, কারণ আমার কোনো সামরিক অভিজ্ঞতাই ছিলনা। সুতরাং তারা আমাকে শেখাতো কীভাবে মাইনফিল্ড এড়িয়ে চলতে হবে, কিভাবে বোমা থেকে বাঁচতে হবে। রাসায়নিক অস্ত্রের হামলা কিভাবে বুঝতে হবে, কী করতে হবে। খুব ভালো ছিল তারা।”

“ঐ দিনগুলোর কথা আমি সবসময় মনে পড়ে। অনেক সময় স্বপ্নেও দেখি।”

১৯৮৮ সাল নাগাদ দুই দেশই ক্লান্ত হয়ে পড়লো। শেষের দিকে যুদ্ধ ইরাকের উত্তরের সীমান্তে জোরদার হলো। আহমেদের ব্যাটালিয়ানকে সেখানে পাঠানো হলো। যদিও ইরান তখন জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি মেনে নিতে রাজী হয়েছিল, তারপরও উত্তর সীমান্তে প্রচণ্ড যুদ্ধ চলছিলো।।

“তিন দিনে আমরা প্রায় দেড় হাজার সৈন্য হারাই। রক্তে ভেজা আহত সৈন্যরা যন্ত্রণায় চিৎকার করতো। ভয়ানক দৃশ্য সব। আমরা যতটুকু পারতাম করতাম। এখনও সেই বারুদ মেশানো ধোঁয়ার গন্ধ পাই আমি।”

প্রাণে বাঁচতে সৈন্যদের আকুতি

যুদ্ধ হচ্ছিল হালাপজা শহরের কাছে ছোটো একটি পাহাড়ের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে। ইরানী বাহিনীর হামলার মুখে তিনদিন পর ইরাকি বাহিনীকে পিছু হটতে হয়েছিল।

এরপর ব্রিগেড কমান্ডার আহমেদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনেন, তিনি সৈন্যদের লড়াই থেকে পালাতে সাহায্য করেছেন – কারণ অল্প জখম সৈন্যদের তিনি ফিল্ড হাসপাতালে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন।

“তিনি আমাকে বললেন, তোমার জন্যই আমরা এই লড়াইতে হেরে গেলাম। আমি অবশ্য বুঝতে পারছিলাম তিনি কারো ওপর দোষ চাপানোর চেষ্টা করছিলেন।”

আহমেদ ভয় পেয়েছিলেন, তাকে হয়ত কোর্ট মার্শালের মুখোমুখি হতে হবে। কিন্ত অন্য ক’জন অফিসারের হস্তক্ষেপে তিনি রক্ষা পান।

কিন্তু কমান্ডারের অভিযোগ কি সত্যি ছিল? তিনি কি সত্যিই রণাঙ্গন থেকে সরতে সৈন্যদের সাহায্য করেছিলেন?

এই প্রশ্নে একটু মৃদু হেসে আহমেদ বলেন, “আমি সবাইকে রক্ষা করতে চাইছিলাম। তারা আমার চোখের দিকে এমনভাবে তাকাতো যেন বলতো ‘প্লিজ আমাকে আর যুদ্ধ করতে পাঠিও না।’ আমি এখনও অনেক সৈন্যের নাম মনে করতে পারি। আমি মনে করতে পারি তারা আমার প্রতি কতটা কৃতজ্ঞ ছিল। তাদের জীবন বেঁচেছিল ।

কম-বেশি ১০ লাখ ইরাকির মৃত্যু হয়েছিল আট বছর ধরে চলা ঐ যুদ্ধে।

যদিও এই যুদ্ধ নিয়ে বাইরের বিশ্বে তত বেশি কথা হয়নি, কিন্তু আহমেদের মতো ঐ যুদ্ধের অভিজ্ঞতা যাদের হয়েছে, যারা যুদ্ধ করেছে এবং বেঁচে গেছে, তারা কখনো ভোলেননা।

“এখনো বহু সৈন্যর মুখ আমার মনে আছে। লড়াইতে যাওয়ার আগে তারা বিদায় জানিয়ে যেত। তারাও বুঝতো, আমিও জানতাম তারা হয়তো ফিরবে না। আমি সব মুখগুলো মনে করতে পারি।

১৯৮৮ সালের ২০ অগাস্ট ইরাক-ইরান যুদ্ধ শেষ হয়। দু’বছর পর ইরাক আরেকটি যুদ্ধ শুরু করে, কুয়েতে সৈন্য পাঠিয়ে।

আহমেদ অবশ্য সেই যুদ্ধে যাননি। ১৯৯৪ সালে তিনি ইরাক ছেড়ে যান। এখনও তিনি ডাক্তার। একইসাথে তিনি একজন কবি। কবিতার বই প্রকাশিত হয়েছে তার। —–সংগৃহীত ।