আমরা অলস ও বাকপটু এবং পরচর্চাকারী

লিখার প্রথমেই ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি । কারণ এ লিখা অনেকের পছন্দ নাও হতে পারে । সময়ের অভাবে লিখা হয়না । আজ কছুটা সময় পেলাম ।যাইহোক—-
বলতে লজ্জা নেই যে আসলেই জাতি হিসেবে আমরা অলস ও বাকপটু এবং পরচর্চাকারী।আমরা চামচামি আর চাকর হিসেবেই থাকতে বেশি পছন্দ করি।আমাদের অহংকার বেশি তাই আজ আমাদের এই অবস্থা।এই দেশে মসজিদ কমিটি ও স্কুল কমিটি তৈরী নিয়ে রাজনৈতিক মারামারি হয়, মন্ত্রী হস্তক্ষেপ করে মক্তব কিটিতে ।এ দেশে স্কুলের ছাত্ররাও পড়াশোনা রেখে ছাত্র রাজনীতির নামে গ্যাং গঠন করে, এ দেশে ব্যবসায় করতে গেলে চাঁদাবাজির মুখোমুখি হতে হয় কম বেশি সবাইকে, রাজনীতি মানেই হলো এদেশে ক্ষমতার লড়াই,। এ দেশে সুন্দরী প্রতিযোগিতার নামে নষ্টামিতে কোটি টাকার বিনিয়োগ হয় কিন্তু দেশীয় বিশ্ব বিদ্যালয়ের গবেষনায় কোন বরাদ্দ নেই। এই দেশের ছেলেরা চায়নার বানানো রোবোটকে চায়নার ডিবাইস দিয়ে মুডিফাই করে বানিয়ে পথে পথে ঘুরে। এ দেশের ছেলেরা ভূয়া সোফিয়া প্লাষ্টক ডলদের পিছে কোটা টাকা খরচ করে ।,এ দেশে চীনের অগ্রগতির কথা বলে এমন কিছু আশা করা শুধুই আকাশ কুসুম ভাবনা বলে অনকেই ধারণা করেন।
আমাদের দেশে গনতন্ত্র নাই আছে পরিবার তান্ত্রিক রাজনীতি, যতদিন পরিবার তন্ত্র চলবে ততদিন এই দূর অবস্থা থাকবে ।বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে তো পরিবার তান্ত্রিক রাজনৈতিক সরকার তার লাভের জন্যে জনগনের সুবিধায় নিজের রাজস্বে অর্থায়ন করছে! তারা দেশের ছেলে/মেয়ে কি করলো লেখাপড়া করলো নাকি বেকার থাকলো তাতে তার কোন কিচ্ছু আসে যায় না। লেখাপড়ায় নতুন নতুন বেহুদা সব ফালতু নিয়ম বের করবে আর নাহীদ মিয়া বছর শেষে বলবে পাশের হার আগের তুলনায় অনেকাংশে বেশি ! নাহিদরা কেউ কখনো বলে না আজ দেশে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা কমছে। বেকারের এই দেশে ঘূষে সব হয় । লেখাপড়ায় কিছুই হয়না ।
বাংলাদের মানুষ লেখা পড়া শেষ করে চাকরী পায় না, বেকারের ভার বছর বছর বেড়েই চলছে।লেখা পড়া করে বেকার থাকা বড় কষ্টকর , যারা লেখা পড়া শেষ করে বসে আছে তাহারা ক্ষেতে খামারে কাজ করে না, করতেও পারে না। কারণ প্রেস্টিজ বলে কথা । আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সনদধারী বানায় কিন্তু কর্মঠ বানয়না ।
ইদানিং কিছু মূর্খসুলভ অদ্ভুত কথা শুনছি বড় বড় নেতা নেত্রীর মুখে ।তারা আমাদেরকে সস্তায় ইন্টারনেট,ফেসবুক,মেসেঞ্জার দিয়েছে এই জন্য যে ,এতেই না কি আমাদের তরুণ তরুণীরা স্বাবলম্বী হবে ! কি তামাশামূলক কথা ।
অথচ দ্বিতীয় মাদক এই ইন্টারনেট। একটা ছাত্র দিনে যদি আট থেকে দশ ঘণ্টা মোবাইল নিয়ে বসে থাকে তবে সে ভবিষ্যতে সমাজকে কি দিবে?
পরিকল্পিত কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে যেমন সমস্যা রয়েছে তেমন সমস্যা আমাদের মন মগজেও।উপযুক্ত ও প্রয়োজনীয় শিক্ষা পেলে কেউ কখনও বেকার থাকেনা।শিক্ষা মানুষের দেহ মন ও আত্মার বিকাশে সহায়তা করে। কিন্তু আমাদের শিক্ষা ও শিক্ষা ব্যবস্থার মধ্যেই গলদ।স্বার্থনীতি, স্বজনপ্রীতি, অপ রাজনীতি, অসততা, ধর্মীয় কুপমন্ডুকতা , ধর্মীয় গোড়ামী যা আসলে কোন ধর্মই নয় তা আমাদের শিক্ষাকে কুশিক্ষায় পরিণত করছে।ভিন্ন ভিন্ন ধারার শিক্ষা পদ্ধতি ও ঐ সকল পদ্ধতিতে ফালতু সব উর্দূ ফার্সীর সমন্ময়ে সম্পূর্ণ বাজে কিছু সিলেবাস শিক্ষার ১২টা বাজিয়েছে । উন্নতি করতে হলে এগুলোর পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করতে হবে।উন্নয়নের জন্য উন্নত মানসিকতার প্রয়োজন যা আমাদের শিক্ষায় নেই।প্রকৃত কোরআন হাদীস দিয়ে ধর্মীয় শিক্ষা সংস্কার করা জরুরী ।পীর ব্যবসাটা মাসিক ও জাতীয় উন্নতির প্রধান অন্তরায় ।মূর্খ পীরেরা এদেশে শিক্ষকের ভূমিকা পালন করে পুরো জতিকে ধর্মীয় ও অর্থনৈতিক দিক দিয়ে দেউলিয়া বানিয়েছে । তাছাড়া শিক্ষক নিয়োগে সবচেয়ে বেশি অনিয়ম যে দেশে সেদেশের শিক্ষার্থীদের উপযুক্ত শিক্ষা ও নৈতিক শিক্ষা পাওয়ার সুযোগ কোথায়?
আমরা কোন কিছু বদলাতে পারিনি। বৃটিশরা এদেশ শাসন করেছে ১৯০ বছর। তারা নিজেরা এদেশে নীল/ চামড়া বা খাজনা আদাইয়ের ব্যবসা করেছে।তারা শোষন করে বা চুরি করে এদেশ থেকে সব নিয়ে বৃটেন আজ ধনী রাষ্ট্র।অথচ ও দেশে তিন মাসের খাদ্য শস্যও উৎপন্ন হয়না । তাছাড়া বৃটেনের আবহাওয়া অত্যন্ত খারাপ । সেই বৃটিশরা এদেশের মানুষকে কৌশলে চাকর বানিয়েছে চাকুরী দিয়ে। আর চাকুরীর পদগুলো ছিল মানুষকে শাসন করবার এক একটি দন্ড। মানুষ চাকরী করলেই নির্ভেজাল লাইফ ফ্লো করা যায় এটা বৃটিশরা খুব ভালভাবে আমাদের মন মগজে ঢুকিয়ে দিয়ে গেছে। ফলে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা ঠিক সেইভাবে চাকরীনির্ভর ভাবে গড়ে উঠেছে।যাকে বলে কেরাণী তৈরীর শিক্ষা ব্যবস্থা।অথচ ভারী শিল্পগুলো সব তাদের দেশে । বৃটিশদের তৈরী প্রশাসন ব্যবস্থায় কেউ রাজা আর কেউ প্রজা হয়ে আমরা চলছি। এ প্রথা বিলুপ্তির কেউ চেষ্টা করে না বা পারে না। এখন যে শিক্ষায়ই আমরা পেয়ে থাকি না কেন,টার্গেট থাকে চাকরি করা ।
চাকরী করাই আমাদের মূল টার্গেট । ব্যাবসা বা উৎপাদন আমরা পছন্দ করিনা ।সমাজে কিছু লোক থাকে যরা খোঁচাতে ভালবাসে।শিক্ষিত ছেলের বাবা মাকে সেই সব লোকেরা এসে বলে- ছেলের তাহলে চাকরি বাকরি হলো না! বাবা মায়ের ও তখন মন খারাপ হয়ে যায়।কিচ্ছু করার নাই ।এভাবেই চলছে ।
আমার দেশের লোক যদি পড়াশুনা করে চাকরি না পায় তাহলে কাজও করতে লজ্জা । এই হলো শিক্ষিত লোকের অবস্তা । অথচ অস্ট্রেলিয়া নিউজিল্যান্ড ও আমেরিকার মত দেশের উচ্চ শিক্ষিত লোকেরা গরু ছাগল মুরগী ভেড়া পালন করে সারা দুনিয়া জুড়ে মাংস বেঁচে ধনী হচ্ছে । আর আমরা সার্টিফিকেতে উম দিচ্ছি কবে তা ফুঁটে বাচ্চা মানে চাকরী বের হবে ।
তাছাড়া গ্রাম-গঞ্জের কলেজে অনার্স মাষ্টার খুলে উচ্চ শিক্ষার ২৫টা বাজিয়েছে ।৭-৮ বছর অনার্স, মাষ্টার্স পড়ে দুটো নামেমাত্র সার্টিফিকেট ছাড়া আর কিছুই অর্জিত হয় না। জীবন থেকে ঝরে যায় অনেক অনেক সময়, অপচয় হয় অর্থ, মেধা ও শ্রমের। তার উপর বর্তমানে কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে কোন গবেষণা কর্ম হয়না।এসব কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় শুধু বেকার বানানোর কারখানা নয়।বরং বলতে গেলে শিক্ষক/ছাত্র অপরাজনীতির কারখানা বলাই শ্রেয়।
এই সার্টিফিকেট নিয়ে না পায় চাকুরী না করে অন্য কোন কাজ। হতাশা ও দুশ্চিন্তায় কেউ নেতা বনে যায় । কেউ নেশার তরী বায় আবার কেউ প্রেমে ডুবে যায় ।জীবন এলোমেলো হয়ে যায় ।
এসব শিক্ষিত বেকার দেশ, জাতি, সমাজ, ও পরিবারের বোঝা।
আরো একটি শয়তানী চিন্তা প্রায় সকলের মনে কাজ করে । তা হলো সরকারি বা ভাল চাকরি না করলে মেয়ের বাপ মেয়ে দিবে না।
বি সি এস না দিলে সমাজ তোমাকে দাম দিবে না।
তবে এখন কাজের কাজ হবে যদি একাদশ শ্রেণির পর শিক্ষা কার্যক্রম সংকুচিত করা হয় কমপক্ষে ২০ বছরের জন্য । আর ট্রেড কোর্স গুলো সহজ লভ্য করা উচিত । চাকরীর(চাকরের) নীতি থেকে সরে ব্যবসা(মালিক) নীতি গ্রহন করা ও মানসিকতা তৈরী করা উচিত।
কেননা সকলের উচ্চ শিক্ষা অর্জনের প্রয়োজন নেই । তবে এটা ঠিক যে সকলেরই একটা জিনিসের প্রয়োজন । আর তা হলো টাকা । আদর্শ জাতি তৈরীর শর্ত হলো সুশিক্ষা । উচ্চ শিক্ষা নয় । চাকরীর বাজার না থাকা সত্ত্বেও উচ্চ শিক্ষার অফুরন্ত দার উন্মূক্ত রাখলে আর কিছু না হলেও একটি উচ্চ শিক্ষিত নাস্তিক সম্প্রদায় তৈরা হবে যারা নব নব তত্ত্ব দিয়ে সমাজ ও রাষ্ট্রে বিশৃঙ্খলা তৈরী করবে । করণ অসল্য মস্তিস্ক শয়তানের কারখানা ।

১২ বছর তাদের দেশে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি কার্যক্রম বন্ধ

চীন অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার জন্য প্রায় ১২ বছর তাদের দেশে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি কার্যক্রম বন্ধ রেখেছিলো। চীন সরকারের বক্তব্য ছিল-
এত ছেলেমেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে কি করবে???
কোথায় চাকরি পাবে???
কেই বা চাকরী দিবে???
এত হাজার হাজার বেকারকে চাকরী দেয়ার মত প্রতিষ্ঠান চীনে নেই। এই সময়টায় চীন ছাত্রছাত্রীদের আধুনিক প্রশিক্ষন দিয়েছিল নানা ধরণের ট্রেড কোর্সে। স্বল্প মেয়াদী ট্রেড কোর্স শিখে চীনের ছেলেমেয়েরা স্বাবলম্বী হয়ে গেলো। প্রতিটি বাড়ি গড়ে উঠল একটা করে ছোট ছোট কারখানায়। পরিবারের সবাই সেখানে কাজ করে। বড় ফ্যাক্টরী করার আলাদা খরচ নেই। ফলে পণ্যের উৎপাদন খরচ কমে গেলো। বর্তমানে যে কোন পণ্য স্বস্তায় উৎপাদন করার সক্ষমতায় তাদের ধারে কাছে কেউ নেই। পৃথিবীর প্রতিটি অঞ্চলে চাইনিজ পণ্যের প্রসার বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে তারা বিশ্ব বাণিজ্যের এক অপ্রতিরোধ্য পরাশক্তি। উপযুক্ত মুল্য দিলে তারা এমন জিনিস বানিয়ে দেবে যার গ্যারান্টি আপনি চাইলে ১০০ বছরও দিতে পারবেন।
বাংলাদেশে সিমফোনি, ওয়ালটনসহ বহু প্রতিষ্ঠান এই চায়নার বদৌলতেই কিছু করে খাচ্ছে।
অপর দিকে বাংলাদেশে প্রতিনিয়ত গড়ে উঠছে বেকার বানানোর কারখানা। এর আধুনিক নাম বিশ্ববিদ্যালয়। প্রতি বছরই দুই একটা নতুন বিশ্ববিদ্যালয় তৈরী হচ্ছে আর বের হচ্ছে কয়েক হাজার বেকার। দল বেঁধে পড়ানো হচ্ছে বিবিএ, এমবিএ অথবা চিরচরিত সেই ডাক্তারি অথবা ইঞ্জিনিয়ানিং। এত বেকারের ভীড়ে চাকরী বাংলাদেশে একটি সোনার হরিণ। কোম্পানীরাও এটা বুঝে। ফলে এই দেশের শিক্ষিত ছেলেরা প্রত্যাশা অনুযায়ী-
বেতন পায় না,
চাকরী পায় না
আর পেলেও সহ্য করতে হয় মালিক অথবা বসের নানাবিদ অদ্ভুত পরীক্ষা ও অপেশাদার আচরণ ।
অবশ্য, দীর্ঘদিন বিভিন্ন জাতির শোষণের যাতাকলে পিষ্ট হয়ে আমাদের জাতির জীবনে প্রবেশ করেছে ভৃত্যগিরির মানসিকতা। আমরা মনে করি স্যুট, টাই পড়ে কোন কাজ করতে পারলেই বুঝি সেখানেই জাতির সফলতা। এটা আসলে একটি অপ্রকাশ্য দৈন্যতা, যা কেউ স্বীকার করছেন না। এই দেশের অর্থনীতির জন্য সামনে খুব ভয়াবহ দিন অপেক্ষা করছে।
তাই, বাংলাদেশের উচিত চীনের মত একটা পদক্ষেপ নেয়া। চাকরী করে দেশের উন্নতি হয় না, আমাদের উদ্যোক্তা প্রয়োজন। তাই শিক্ষা ব্যবস্থার আমুল পরিবর্তন প্রয়োজন, গুরুত্ব দেয়া উচিত কর্মমুখী শিক্ষায়। সরকার একটু সচেতন হলেই খুব অল্প কয়েক বছরের মধ্যেই আমরা এই দেশের চেহারা পালটে দিতে পারি!!

ফেইসবুকের বিভিন্ন funny এ্যাপ কেড়ে নিচ্ছে মুসলিমদের ঈমান!

ফেইসবুকের বিভিন্ন funny এ্যাপ কেড়ে নিচ্ছে
মুসলিমদের ঈমান!

আমার wife কেমন হবে, আমার gf কেমন
হবে,আমার কয়টি বাচ্চা হবে, ২০ বছর পর আমি
দেখতে কেমন হব, বলে যারা বিভিন্ন পোষ্ট
করছেন তারা নিজের অজান্তেই নিজের ঈমান
হারিয়ে ফেলেছেন!

ভাই আপনারা কি আমার এই কথায় আশ্চর্য হচ্ছেন?
এতে আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই যেটা সত্য সেটাই
বললাম..

আপনি ফেইসবুকের যেসব এ্যাপ ইউজ করে
নিজের ভবিষ্যৎ জেনে নিচ্ছেন তা আপনার নিজের
অজান্তেই আপনাকে মুশরিক বানিয়ে ফেলেছে!
বানিয়ে ফেলছে আপনাকে কাফির ! বের করে
দিচ্ছে আপনাকে মুসলিম মিল্লাত থেকে!
তওবা করে ফিরে আসুন..

ভাই আপনারা হয়তো ফান করার জন্যই পোষ্ট গুলি
করছেন কিন্তুু এটা এমন এক বিষয় নিয়ে ফান করা
হচ্ছে যা আপনার ঈমান ধ্বংস করে দিচ্ছে!

আপনি যে এপের আশ্রয় নিয়ে নিজের ভবিষ্যৎ
জানলেন তাকে ইসলামী পরিভাষায় গায়িব বলা হয় বা
ভবিষ্যৎ বক্তা বা গনকের কথা বিশ্বাস করাকে বুঝায়!

মনে রাখতে হবে পৃথিবীর কোন এ্যাপ গনক শুধু
নয় পৃথিবীতে যত নবী রাসুল এসেছিলেন তারা
কেউই গায়িব বা ভবিষ্যৎ জানতেন না! অথচ আপনি
বিশ্বাস করছেন একটি এ্যাপ আপনার ভবিষ্যৎ জানে!
আস্তাগফিরুল্লাহ!
আল্লাহ বলেনঃ
ﻗُﻞ ﻟَّﺎ ﻳَﻌْﻠَﻢُ ﻣَﻦ ﻓِﻰ ﭐﻟﺴَّﻤَٰﻮَٰﺕِ ﻭَﭐﻟْﺄَﺭْﺽِ ﭐﻟْﻐَﻴْﺐَ ﺇِﻟَّﺎ ﭐﻟﻠَّﻪُ ﻭَﻣَﺎ
ﻳَﺸْﻌُﺮُﻭﻥَ ﺃَﻳَّﺎﻥَ ﻳُﺒْﻌَﺜُﻮﻥَ
বলুন, আল্লাহ ব্যতীত নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলে
কেউ গায়বের খবর জানে না এবং তারা জানে না যে,
তারা কখন পুনরুজ্জীবিত হবে।
সূরা আন নম্ল ( ﺍﻟﻨّﻤﻞ ), আয়াত: ৬৫

উপরের আয়াতটি ভালভাবে দেখুন যেখানে
পৃথিবীর কেউই গায়িব জানেনা একমাত্র আল্লাহ ছাড়া
সেখানে আপনি একটি এ্যাপকে গায়িব জানে বলে
বিশ্বাস করছেন! যেটা সরাসরি আল্লাহর সাথে শরিক
করা..

রাসুল ﷺ বলেনঃ যে ব্যাক্তি কোন
ভবিষ্যৎ বক্তা তথা গনক এ্যাপ পীর জ্বীনের কথা
বিশ্বাস করে সে আমার উপর নাযিলকৃত কোরআন
হাদিস অস্বীকার করল!
বলুনতো, যে ব্যাক্তি কোরআন হাদিস অস্বীকার
করে সে কি মুসলিম হতে পারে??
অবশ্যই না!
ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻲ ﻫُﺮَﻳْﺮَﺓَ ﻭَﺍﻟْﺤَﺴَﻦِ ﻋَﻦ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲِّ ﷺ
ﻗَﺎﻝَ ﻣَﻦْ ﺃَﺗَﻰ ﻛَﺎﻫِﻨًﺎ ﺃَﻭْ ﻋَﺮَّﺍﻓًﺎ ﻓَﺼَﺪَّﻗَﻪُ ﺑِﻤَﺎ ﻳَﻘُﻮﻝُ ﻓَﻘَﺪْ ﻛَﻔَﺮَ
ﺑِﻤَﺎ ﺃُﻧْﺰِﻝَ ﻋَﻠَﻰ ﻣُﺤَﻤَّﺪٍ ﷺ
আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘যে ব্যক্তি কোন ভবিষ্যৎ
বক্তার নিকট উপস্থিত হয়ে সে যা বলে তা সত্য
মনে (বিশ্বাস) করল, সে ব্যক্তি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপর অবতীর্ণ (কুরআনের
হাদিস ) অস্বীকার করল।’’
গ্রন্থঃ হাদীস সম্ভার
অধ্যায়ঃ ২২/ নিষিদ্ধ কার্যাবলী
হাদিস নম্বরঃ ২০৫৩
আহমাদ ৯৫৩৬, হাকেম ১৫, সহীহুল জামে’ ৫৯৩৯,
ইবনু মাজাহ ৬৩৯, তিরমিজি ১৩৫ ইফাঃ
হাদিসের মানঃ সহিহ
অভিশপ্ত শয়তান আপনাদের কোথায় নিয়ে যাচ্ছে তা
কি একটুও ভাববেন না??
রাসুল ﷺ আরো বলেন,যে ব্যাক্তি
কোন ভবিষ্যৎ বক্তার কথা বিশ্বাস করে তার চল্লিশ
দিনের সালাত কবুল হবেনা!
ﻭَﻋَﻦْ ﺻَﻔِﻴَّﺔَ ﺑِﻨﺖِ ﺃَﺑِﻲ ﻋُﺒَﻴﺪٍ ﻋَﻦ ﺑَﻌﺾِ ﺃَﺯﻭَﺍﺝِ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲِّ
ﷺ ﻭَﺭَﺿِﻲَ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻨﻬَﺎ ﻋَﻦِ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲِّ
ﷺ ﻗَﺎﻝَ ﻣَﻦْ ﺃَﺗَﻰ ﻋَﺮَّﺍﻓﺎً ﻓَﺴَﺄَﻟَﻪُ ﻋَﻦْ ﺷَﻲْﺀٍ
ﻟَﻢْ ﺗُﻘْﺒَﻞْ ﻟَﻪُ ﺻَﻼَﺓٌ ﺃَﺭْﺑَﻌِﻴﻦَ ﻟَﻴﻠَﺔ ﺭﻭﺍﻩ ﻣﺴﻠﻢ
স্বাফিয়্যাহ বিনতে আবূ উবাইদ নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লাম এর কোন স্ত্রী (হাফসাহ রাযিয়াল্লাহু
আনহা) হতে বর্ণনা করেছেন, নাবী সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি গণকের
নিকট এসে কোন (গায়বী) বিষয়ে প্রশ্ন করে,
তার চল্লিশ দিনের নামায কবুল করা হয় না।’
গ্রন্থঃ সহীহ মুসলিম (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ৪০/ সালাম ( ﻛﺘﺎﺏ ﺍﻟﺴﻼﻡ )
হাদিস নম্বরঃ ৫৬২৭
হে আমার মুসলিম ভাইয়েরা শয়তানের ফাঁদে পড়ে
কেন এভাবে নিজের ঈমান বিসর্জন দিচ্ছেন? ?
একটু ফান করতে গিয়ে শয়তান আপনাকে কাফির
মুশরিকে পরিনত করছে অথচ আপনি টেরও
পাচ্ছেন না!
কবে ফিরবে আপনাদের হুশ??

টাই বা গলাবন্ধনীর উৎপত্তি – নেপথ্যের ইতিহাস

>>>টাই বা গলাবন্ধনীর উৎপত্তি – নেপথ্যের ইতিহাস
((মূর্খতা থেকে বাঁচার জন্য ও মূর্খদের থেকে নিজেকে আলাদা করার জন্য নিচের লিখাটা ধৈর্য ধরে পড়ুন))
>>> গলাবন্ধনী বা টাই আজকাল খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি জিনিস। ফরমাল পোশাক আর ফ্যাশনের নামে গলাবন্ধনী ব্যবহার না করলে যেন হবেই না ব্যাপারটা এমন। শব্দটাও খুবই গুরুগম্ভীর। ছোটবেলায় একবার বাবা বলেছিলেন, একজন গ্র্যাজুয়েটের নিদর্শন হল এই গলাবন্ধনী। কারো গলায় যদি দেখতে পাও গলাবন্ধনী আটা রয়েছে, ধরে নিতে হবে সে একজন গ্র্যাজুয়েট, স্নাতক সম্পন্ন করেছে। তুমিও যেদিন স্নাতক সম্পন্ন করবে, সেদিন থেকে গলাবন্ধনী পড়া শুরু করতে পারবে।

সেই চিন্তা মাথায় নিয়েই বড় হয়েছি, স্নাতক এখনো শেষ হয়নি, মেডিক্যালের ছাত্র হিসেবে আরো পাঁচ বছর অপেক্ষা করা চাই আমার। (যদিও মাঝে মাঝে পড়ে ফেলি) গুরুগম্ভীর এক শব্দ বারবার উচ্চারণ করছি, ব্যাপারটা দৃষ্টিকটু ও উচ্চারণকটু। এবার থেকে “টাই” উল্লেখ করব বাকি লেখায়।

যা বলছিলাম, ফ্যাশনের নামে টাই খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারো কি কখনো মনে হয়েছে, কীভাবে আমরা এই টাই এর সাথে পরিচিত হলাম। একটুকরো একটা কাপড়, গলায় বেঁধে গলা আটকে দিলেই হয়ে গেল, অনেক উপকারীও বটে, সবথেকে বড় কথা হল, দেখতেও খারাপ লাগছে না, স্ট্যান্ডার্ড মনে হচ্ছে। দেখতে খুবই স্ট্যান্ডার্ড মনে হওয়াটাই ছিল টাই এর উৎপত্তিস্থল। এভাবেই আসলে কালের পরিক্রমায় টাই চলে আসে আমাদের সামনে।

সপ্তদশ শতাব্দীতে ফ্রান্সের মাটিতে ৩০ বছর ধরে যে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ (১৬১৮-১৬৪৮) চলছিল, তখন হঠাৎ করেই শোভা পেতে দেখা যায় সৈনিকদের গলায় এক টুকরো কাপড়। টাইগুলোর উৎপত্তি সম্পর্কে গবেষকদের তাই ধারণা। তখনকার সময়ে একদেশ অন্যদেশ থেকে সৈনিক ভাড়া করে নিতো, তাদের হয়ে যুদ্ধ লড়ে দেয়ার জন্য। রাজা ত্রয়োদশ লুই ও তার পক্ষের সৈনিক সংখ্যা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে, ক্রোয়েশিয়ান কিছু সৈনিক ভাড়া করে নিয়ে আসে। ক্রোয়েশিয়ান সেই যোদ্ধাদের সকলের গলায় এক টুকরো করে কাপড় শোভা পেতে দেখা যায়। তাদের সৈনিক সাজ পোশাকে জ্যাকেট পরতে হতো, সেই জ্যাকেটকে গলা পর্যন্ত আটকিয়ে রাখতেই তারা কাপড়ের টুকরো গলায় বেঁধে রাখতো, দেখতেও ভাল লাগতো।

রাজা ত্রয়োদশ লুই সৈনিকদের গলায় এমন টুকরো কাপড় দেখে মোহিত হয়ে যান। তার কাছে এতটাই ভাল লেগে যায় যে, রাজকীয় সভাগুলোয় সকল সভাসদদের জন্য গলায় টুকরো কাপড় বেঁধে আসার আইন জারি করেন। আর যেহেতু, ক্রোয়েশিয়ানদের থেকে এমনটা শুরু হয়েছে, তাদের সম্মানে এর নাম দেন “La Cravate”।

গলাবন্ধনীর আরো পুরনো এক গল্প পাওয়া যায় চৈনিক সভ্যতায়। ২১০ খ্রিস্টপূর্বাব্দের দিকে চীনের সম্রাট ছিলেন শিহ্ হুয়াং তি। সম্রাট শিহ্ হুয়াং তি এর সময়কালীন যে সকল সৈনিকের টেরাকোটা শিল্প বর্তমানে পাওয়া গেছে, তা থেকে জানা যায় যে, প্রত্যেক সৈনিকের গলায় সিল্কের তৈরি এক টুকরো কাপড় পেঁচানো থাকতো।

খ্রিষ্টপূর্ব ১১৩ এ রোমান সাম্রাজ্যেও পাওয়া যায় এক নিদর্শন। রোমান সাম্রাজ্যে, চাকর আলাদা করে চিহ্নিত করে রাখার কাজে তাদের গলায় একটুকরো কাপড় পেঁচিয়ে বেঁধে রাখা হতো, মালিকেরা নিজের নিজের চাকরকে আলাদা করতে পারতেন তখন এই পেঁচানো কাপড় দেখে। কোন রোমান সৈন্যকে যদি টাইম ট্র্যাভেল করে বর্তমানে নিয়ে এসে, বলা হয় টাই পড়তে, তাহলে সে নিশ্চয় যারপরনাই অপমানিত বোধ করবে। কারণ তৎকালীন সময়ে সেটাই ছিল রীতি। তবে এখনও এ ধরণের টাই রয়েছে কিন্তু, একে বলা হয় Bolo Tie, মাঝে মাঝে জনি ডেপকে এমন টাই পড়তে দেখা যায়। টেক্সাসের আরিজোনায় এ টাই অফিসিয়াল পোশাকের সাথে পড়ার নিয়ম রয়েছে।

যতগল্পই থাকুক না কেন, টাই এর ফ্যাশন আমাদের সাথে পরিচিত করিয়ে দিয়েছিল ক্রোয়েশিয়ান সৈনিকেরাই, তারাই এই টাই পরিধানকে ফ্যাশনে পরিণত করেছিল তাদের ইউনিফর্মের অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে।

গত দু’শ বছরে টাই পরিধানে পরিবর্তন এসেছে অনেকবার। ক্রোয়েশিয়ান সৈনিকেরা যে টাই পরিধান করতো, তার সামান্যই বর্তমানে রয়েছে, টাই পরিধানের আইডিয়া টা ছাড়া পুরো ফ্যাশনেই চলে এসেছে আমূল পরিবর্তন। সবথেকে বড় পরিবর্তনটি এসেছে ১৯২০ এর দশকে। টাই ই মনে হয় একমাত্র ফ্যাশনের বস্তু, যেটা গত দু’শ বছর ধরে টিকে রয়েছে। অন্য যতসব ফ্যাশন পোষাকজগতে এসেছে, সবই প্রতি দশকে পরিবর্তিত হয়ে পুরনো হয়ে গেছে। বর্তমানে আমরা যে টাই ব্যবহার করি, সেটি মূলত গত শতাব্দীতেই উৎপত্তি ঘটে।

গত শতাব্দীতে এই টাই পুরুষদের সাজপোষাকের প্রধান বস্তুতে পরিণত হয়। ১৯২০ সালের দিকে এই টাইয়ের বিবর্তনে চলে আসে আমূল পরিবর্তন, তাও আবার ভুলক্রমে। ইতিহাসে অনেকগুলো মজার ভুল রয়েছে, যেগুলো আমাদের জন্য বিপদের পরিবর্তে নিয়ে এসেছে বিপ্লব। নিউইয়র্কে একজন টাই মেকার ছিলেন, নাম হল জেসি ল্যাংসডর্ফ। তিনি একদিন একটা টাই তৈরির কাজ করছিলেন। ভুল করে টাই এর কাপড়টি মাঝখান দিয়ে তিনি কেঁটে ফেলেন। তিনি দেখেন যে, প্রতিবার এইভাবে যদি কেঁটে রেখে দেন, তাহলে টাই পড়ে আবার সেটা খুলে ফেলা যায়। আগেকালের টাইগুলো ছিল ফিক্সড, একবার বানিয়ে ফেললে শুধু ঐ একই স্টাইলে বারবার পড়তে হতো, আবার খুলে রেখে দিতে হতো। কিন্তু বর্তমানে আমরা যে টাই ব্যবহার করি সেটাই তৈরি হয় জেসি ল্যাংসডর্ফ এর হাত ধরে। পরা শেষে, গিঁট খুলে ফেলা যায়, পছন্দানুযায়ী গিঁট পরিবর্তন করা যায়। গিঁট যখন নিজের ইচ্ছামতো দেয়া যাচ্ছে, তখুনি মানুষের কাছে চলে এলো অবাধ স্বাধীনতা। ফলে আস্তে আস্তে নতুন নতুন অনেক গিঁট তৈরি হতে শুরু করলো।

গত শতাব্দীর পুরো সময় জুড়েই টাই এর বিবর্তন হয়েছে। তবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়টুকু ছাড়া। যুদ্ধের দশকে মানুষ জীবন নিয়ে শঙ্কিত ছিল, তাই টাই এর উল্লেখযোগ্য কোনরকম পরিবর্তন আসেনি। বর্তমানে অনেক ধরণের টাই পাওয়া যায়। দৈর্ঘ্যভেদে, কাপড়ের নমনীয়তা, আকার-আকৃতি ইত্যাদি ভেদে। পুরুষদের নিজস্ব স্টাইলকে প্রকাশ করার জন্যই এত ব্যতিক্রমী টাই পাওয়া যায় আজকাল। তবে স্ট্যান্ডার্ড টাই এর প্রস্থ হবে ৩.২৫-৩.৫ ইঞ্চি। তবে গত কয়েকবছরে আমাদের চোখের সামনেই টাইয়ের ফ্যাশনে একটা পরিবর্তন এসেছে, হয়তো সবার কাছে আগের বড় প্রস্থের টাইগুলো বর্তমানে দৃষ্টিকটু লাগতে পারে। আজকাল সবাই অল্প প্রস্থের (২.৭৫-৩ ইঞ্চি) টাই ই পরিধান করে থাকে।

টাই পরিধানের পেছনে হাজার বছরের পুরনো আরো একটি গল্প প্রচলিত রয়েছে। গলায় এক টুকরো কাপড় বেঁধে দেয়াকেই যদি, টাই বলে মানা হয়, তাহলে সেই গল্পটিও সমর্থযোগ্য। ঠান্ডা-সর্দিতে বাঁচতে, গলায় এক টুকরো কাপড় পেঁচিয়ে রাখাটা হাজারো বছরের বেশি সময় ধরে চলে আসছে। কিন্তু ফ্যাশন হিসেবে আসে সেই ৩০বছরের ফরাসী যুদ্ধ থেকেই।

Ascot Tie বর্তমানের আধুনিক টাই থেকে খানিকটা ব্যতিক্রম। দেখতে খুবই সুন্দর লাগে, পড়তেও বেশ আরামদায়ক, আমার ব্যক্তিগত পছন্দ। এই টাইগুলো উনিশ শতকেই প্রচলন হয়, ইংল্যান্ডে। তৎকালীন সময়ে বিখ্যাত ঘোড়দৌড় হতো, নাম ছিল “The Royal Asoct”; সেখান থেকেই এই টাইয়ের নামের উৎপত্তি। Tailcoat Jacket এর সাথে বেশি মানায় এই Ascot Tie গুলো। আজকাল অতবেশি একটা দেখা না গেলেও, বিয়ের রিসেপশনগুলোতে হরহামেশাই দেখা যায়।

টাই অনেক গুরুত্বপূর্ণ এক সাজপোশাক আমাদের জন্য। কোন ফর্মাল পোশাকে, পুরুষ হিসেবে আমরা হয়তো রঙিন কিছু পরিধান করিনা, সেটা শোভা দেয় না আমাদের। সবসময় কালো কিংবা প্রুশিয়ান ব্লু ব্যবহার করে থাকি, সাদা শার্টের সাথে কাল স্যুট, আমাদের সার্বজননীন সাজ। কাল জুতো, কাল প্যান্ট। এতকিছু সঙ্গে রঙ বয়ে নিয়ে আসার একমাত্র উপায় হল এই আমাদের টাই। আমাদের একমাত্র সুযোগ। তবে কেউ কেউ মনে করেন, টাই আমাদের শার্টের বোতামকে ঢেকে রাখছে। তবে টাই প্রধানত আমাদের গলায় শার্টকে এঁটে রাখে, গলাকে উষ্ণ রাখে।

প্রতি বছরের ১৮ই অক্টোবর ক্রোয়েশিয়ায়, টোকিও, সিডনী, ডাবলিনের মত বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য শহরে আন্তর্জাতিক টাই উৎসব পালিত হয়।

তথ্যসূত্র

1. https://en.wikipedia.org/wiki/Necktie
2. https://www.bows-n-ties.com/history-of-ties/
3. https://www.gentlemansgazette.com/evolution-neckwear-tie-cravat-scarf/
4. http://www.tie-a-tie.net/the-evolution-of-the-necktie/
5. http://www.todayifoundout.com/wp-content/uploads/2013/03/soldier-tie.jpg
6. https://www.theguardian.com/notesandqueries/query/0,5753,-26841,00.html

7. https://roar.media/bangla/main/history/the-evolution-of-the-necktie/
8. http://bdstudy24.com/টাই-এর-ইতিহাস-এবং-টাই-পরার/

নারীদের প্রতি অমানবিক ৬টি বর্বরতার ইতিহাস

নারীদের প্রতি অমানবিক ৬টি বর্বরতার ইতিহাস যার একটিও মুসলীমদের দ্বারা সংগঠিত হয়নি…
জকের দিনে পত্রপত্রিকা খুললে কিংবা টেলিভিশনের অন করলে যে বিষয়টি সবচেয়ে বেশি পীড়া দেয়, তা হলো নারীদের প্রতি সহিংসতা। সারা বিশ্বেই চলছে একই অবস্থা; কোথাও কম, কোথাও বেশি- পার্থক্য কেবল এখানেই। তবে নারীদের সাথে এমন সহিংস আচরণের শুরু হয়েছে অনেক আদিকাল থেকেই। প্রাচীন রোম, গ্রীস, মিশরের মতো সভ্যতাগুলোতে এর প্রমাণ খুব সহজেই খুঁজে পাওয়া সম্ভব।

প্রাচীন বিশ্বে নারীদের প্রতি সহিংসতার তেমনি ৬টি দুঃখজনক ইতিহাস নিয়ে সাজানো হয়েছে আজকের লেখা।

১) সদ্যোজাত কন্যাসন্তানের দুর্ভাগ্য
প্রাচীন এথেন্সে যদি কোনো কন্যাসন্তান জন্ম নিতো, তাহলে প্রায় সময়ই তাকে বন-জঙ্গলে ফেলে রেখে আসতো পাষাণ বাবা, উদ্দেশ্য সেখানেই যেন অনাহারে কিংবা বন্যপশুর আক্রমণে মারা যায় নিষ্পাপ মেয়েটি। তখনকার দিনের খুবই সাধারণ ঘটনা ছিলো এটি। এই চর্চার তারা নাম দিয়েছিলো শিশুকে ‘প্রকাশিত করা’! এক গ্রীক লেখকের লেখনি থেকে জানা যায়, “পুত্রসন্তানের জন্ম হলে নিজেরা গরীব হলেও যেকোনো বাবা-মা তাকে বড় করে তুলতে চাইতো। অন্যদিকে কন্যাসন্তানের জন্ম হলে ধনী পরিবারের সদস্যরা পর্যন্ত তাদেরকে ‘প্রকাশ করে’ দিত।”

এমন ঘটনা রোমেও ছিলো বেশ সাধারণ, বিশেষত দরিদ্র সমাজে। প্রাচীন নথিপত্র ঘেঁটে দরিদ্র এক রোমান লোকের চিঠি পাওয়া গিয়েছে, যিনি তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে চিঠিতে লিখেছেন, “একটি কন্যাসন্তান বোঝা ছাড়া আর কিছুই নয়, আর আমাদের অত টাকাও নেই। যদি তুমি মেয়ের জন্ম দাও, তাহলে আমাদের তাকে মেরে ফেলতে হবে।”

এমনকি প্রাচীন মিশরে, যেখানে নারীরা অন্যান্য অনেক সভ্যতার তুলনায় পুরুষের কাছাকাছি সুযোগ-সুবিধা ভোগ করত, প্রায় সময়ই সদ্যোজাত কন্যাসন্তানকে রেখে আসা হতো মৃত্যুর আকাঙ্ক্ষায়। একবার তৎকালের এক ব্যক্তি তার স্ত্রীকে লিখেছিলো, “যদি আমি ফিরে আসার আগেই তোমার সন্তানের জন্ম হয়ে যায়, তাহলে ছেলে হলে তাকে বাঁচিয়ে রেখ, আর মেয়ে হলে তাকে ‘প্রকাশিত করে’ দিও।”

২) ঋতুমতী নারী অস্পৃশ্য
রোমান দার্শনিক প্লিনি দ্য এল্ডার লিখেছেন, “এমতাবস্থায় একজন নারীর আগমনে দুধও টক হয়ে যাবে”। ঋতুমতী নারী যার দিকে তাকাবে, সে-ই মারা যাবে বলে মতবাদ ব্যক্ত করেছিলেন তিনি। এমনকি তিনি বলেছিলেন, “এক ঝাঁক মৌমাছির দিকেও যদি সে তাকায়, তাহলে তারাও সাথে সাথেই মারা যাবে।”

প্রাচীন মিশরে ঋতুচক্র চলাকালে নারীরা আলাদা একটি স্থানে গিয়ে থাকতো, যেখানে কোনো পুরুষের প্রবেশাধিকার ছিলো না। এমন কুসংস্কার অন্যান্য আরো সভ্যতাতেও প্রচলিত ছিলো। ইহুদীরা তো এ সময় একজন নারীকে স্পর্শও করতো না। তারা মনে করতো, এ সময় যে জিনিসেই নারীর শরীরের ছোঁয়া লাগবে, সেটাই অপবিত্র হয়ে যাবে। হাওয়াইয়ে ঋতুমতী নারীদের জন্য আলাদা করে রাখা ঘরে যদি কোনো পুরুষ প্রবেশ করতো, তবে তার মৃত্যুর পরোয়ানা পর্যন্ত জারির সম্ভাবনা ছিলো!

পাপুয়া নিউগিনির লোকেরা তো ছিলো আরো এক কাঠি সরেস। তারা মনে করতো, কোনো পুরুষ যদি কোনো ঋতুমতী নারীকে স্পর্শ করে, তাহলে তার রক্ত কালো হয়ে যাবে, বুদ্ধিনাশ হবে এবং সর্বোপরি ধীরে ধীরে সে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাবে!

৩) সতীত্ব হারানো ছিলো মৃত্যু পরোয়ানার নামান্তর
প্রাচীন এথেন্সে যদি কোনো বাবা জানতে পারতেন যে তার মেয়ে অবিবাহিতা অবস্থায় অন্য কোনো পুরুষের শয্যাসঙ্গী হয়েছে, তাহলে তিনি তাকে দাসী হিসেবে বিক্রি করে দিতে পারতেন।

স্ত্রীর সতীত্বের ব্যাপারে সামোয়ার অধিবাসীরা নিজেরা যেমন নিশ্চিত হতে চাইতেন, তেমনি তারা আর সবাইকেও সেই ব্যাপারে জানাতে চাইতেন। সেখানকার কোনো বিয়ের সময় গোত্রপতি সবার সামনেই আঙুল দিয়ে নববধূর হাইমেন ছিড়ে দেখাতেন এটা প্রমাণ করতে যে, মেয়েটি পবিত্র!

প্রাচীন রোমে দেবী ভেস্টার কোনো পূজারিণী যদি ৩০ বছর বয়সের আগে কুমারীত্ব হারাতেন, তাহলে তাকে জীবন্ত পুঁতে ফেলা হতো।

৪) নববধূর অপহরণ
ব্যাপারটা বেশ অদ্ভুত শোনালেও এটাই সত্যি যে, ইতিহাসে নববধূকে অপহরণের ঘটনার বহু নজিরই রয়েছে। গত শতকের চল্লিশের দশক পর্যন্ত চীনে নববধূকে অপহরণ করা হয়েছে। জাপানে এমনটা সর্বশেষ ঘটেছিলো ১৯৫৯ সালে। আঠারো শতকে আয়ারল্যান্ডে অন্যতম দুশ্চিন্তার বিষয় ছিলো এই অপহরণের বিষয়টি।

রোমের ইতিহাসের সাথেও ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে নববধূ অপহরণের কালিমা। তাদের কিংবদন্তীর সূচনাই হয়েছে বলা যায় রোমান পুরুষরা স্যাবাইন (ইতালির এক গোত্র) নারীদের অপহরণের মধ্য দিয়ে। গল্পে আছে, রমুলাস নারীদের বলছেন, অপহৃত হওয়ায় তাদের গর্ববোধ করা উচিত। কারণ তারা সম্মানজনক বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হতে যাচ্ছেন।

৫) সন্তান হত্যায় বাধ্য করা
নাড়িছেঁড়া ধন সন্তানকে একজন মা কতটা ভালোবাসেন, সেটা আর নতুন করে না বললেও চলে। প্রতিনিয়ত এর নিদর্শন আমরা আমাদের চোখের সামনেই দেখে চলেছি। কোনো কোনো ভালোবাসা আবার কালোত্তীর্ণ হয়ে চিরস্থায়ী জায়গা করে নিয়েছে ইতিহাসের বুকে।

এর বিপরীতের কথাও অবশ্য জানা যায় ইতিহাস ঘেঁটে। তবে সেগুলো যে জন্মদাত্রী মা স্বেচ্ছায় করতেন না সেটা না বললেও চলে। জন্মের পর শিশু দুর্বল হলে তাকে মেরে ফেলার চল ছিলো স্পার্টায়। শুধু স্পার্টার কথাই বা বলা হচ্ছে কেন? এমন অমানবিক রীতি এককালে প্রচলিত ছিলো বিশ্বের আরো অনেক দেশেই।

সন্তান যদি জন্মগত ত্রুটি নিয়ে পৃথিবীতে আসতো, তাহলে সবাই এটাই চাইতো যেন মা তার সন্তানকে হত্যা করে ফেলে। এমনকি রোমে তো এটা আইন হিসেবেই চালু ছিলো, যেখানে উল্লেখ করা ছিলো- “ভয়ঙ্করভাবে বিকৃতি নিয়ে জন্ম নেয়া শিশুকে যত দ্রুত সম্ভব হত্যা করতে হবে।” মায়ের হাতে তখন ২টি পথ খোলা থাকতো- হয় নিজ হাতে গলা টিপে সন্তানকে হত্যা করতে হবে, নতুবা সন্তানকে পরিত্যাগ করতে হবে। তৎকালে এ ঘটনা অহরহ ঘটতো। এভাবে ঠিক কতজন শিশু মারা গিয়েছিলো তার সঠিক সংখ্যা জানা না গেলেও ইতিহাসবিদগণ ধারণা করেন, প্রতি চারজন রোমান শিশুর একজনই এক বছর বয়সের আগে এ প্রথার কারণে পৃথিবী থেকে বিদায় নিতো!

শুধুমাত্র এই বর্বরতাকে কেন্দ্র করে ইতিহাসে অনেক স্থানই নারকীয় হত্যাযজ্ঞের সাক্ষী হয়ে আছে। ইসরায়েলের এক শহরের পয়ঃনিষ্কাষণ প্রণালীতে এ প্রথার বলি হিসেবে শতাধিক শিশুর দেহাবশেষ খুঁজে পাওয়া গিয়েছিলো।

৬) বাক-স্বাধীনতা হরণ
প্রাচীন গ্রীস ও রোমে বাড়িতে কোনো পুরুষ অতিথি আসলে তাদের সামনে গিয়ে কথা বলা কিংবা তাদের সাথে বসা নারীদের জন্য একপ্রকার নিষিদ্ধই ছিলো বলা যায়। এটা করা হতো এই আশঙ্কায় যে, নারীদের উপস্থিতি না আবার পুরুষদের বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়!

এককালে ডেনমার্কে যদি কোনো নারী অবাধ্য হয়ে কাউকে গালাগালি করতো কিংবা কোনোভাবে রাগ প্রকাশ করতো, তাহলে তার অবস্থা হতো খুবই করুণ। তাকে ‘বদমেজাজির ভায়োলিন’ নামক একটি যন্ত্রের সাহায্যে শাস্তি দেয়া হতো। কাঠের তৈরি এ জিনিসটি দেখতে ছিলো অনেকটা ভায়োলিনের মতো। এজন্যই এমন নামকরণ। এখানে সেই নারীর দু’হাত আর মুখ আটকে দেয়া হতো। এরপর তাকে পুরো নগরী ঘুরিয়ে বেড়ানো হতো। প্রকাশ্যে রাগ দেখানোয় রাস্তার জনগণ তাকে তখন দুয়ো দিতে থাকতো।

ইংরেজ নারীদের অবস্থা হতো আরো খারাপ। তারা প্রকাশ্যে বদমেজাজ দেখালে একধরনের ধাতব মুখোশ পরানো হতো, যেটার মুখের দিকে কাটার মতো অংশ এবং একটি ঘণ্টা লাগানো থাকতো। ঘণ্টার শব্দ শুনে আশেপাশের লোকজন জড়ো হতে থাকতো আর সেই মহিলাকে নিয়ে সবাই মজা করতো।

তথ্যসূত্রঃ
https://roar.media/bangla/main/history/6-inhuman-tortures-on-women-from-history/

বিশ্বের দশটি দুর্ধর্ষ গোয়েন্দা সংস্থা

বিশ্বের দশটি দুর্ধর্ষ গোয়েন্দা সংস্থা —
বর্তমানে কোন দেশের গোয়েন্দা সংস্থা সব থেকে দুর্ধর্ষ? ইন্টারনেটের বিভিন্ন সার্চ ইঞ্জিনে বিশ্বের গোয়েন্দা সংস্থা নিয়ে সার্চ করলে বিগত পাঁচ বছরের যেসব তালিকা পাওয়া যায় সেগুলোর অধিকাংশই করেছে কয়েকটি অখ্যাত ও ভুঁইফোড় সংস্থা। এছাড়া ভিডিও শেয়ারিংয়ের ওয়েবসাইট ইউটিউবে রয়েছে অসংখ্য প্রামাণ্যচিত্র যেগুলোতে বস্তুনিষ্ঠ তথ্য না পাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

তবে ফরেন পলিসি, এবিসি নিউ পয়েন্ট, এক্সপার্ট সিকিউরিটি টিপস, দি মেশ নিউজ, জি নিউজ এবং স্টোরি পিক নামক প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে করা কয়েকটি তালিকা পাওয়া যায়, যেখানে উপস্থাপিত তথ্য-উপাত্তে বেশ মিল রয়েছে। এসব সূত্রের তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে বর্তমান সময়ের বিশ্বের সব থেকে দুর্ধর্ষ দশ গোয়েন্দা সংস্থার এই তালিকাটি তৈরি করা হয়েছে।

১// MOSSAD মোসাদ
বর্তমান বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মধ্যে সব থেকে দুর্ধর্ষ গোয়েন্দা সংস্থার নাম মোসাদ (MOSSAD)। মোসাদ ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থা যা দেশটির প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে সরাসরি পরিচালিত হয়ে থাকে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী সংস্থাটির প্রধান। পৃথিবীর সব জায়গাতে যেকোনো পরিস্থিতিতে অপারেশন চালানোর সক্ষমতা রাখে ইসরাইল সরকারের এই বিশেষ এলিট বাহিনী।

মোসাদ প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৪৯ সালের ১৩ ডিসেম্বর। সংস্থাটির বর্তমান প্রধানের নাম ইয়োসি কোহেন। তিনি গত বছর নিযুক্ত হয়েছেন।এই সংস্থার সদস্য রয়েছে হাজারের উপরে। গঠনের পর থেকে এখন পর্যন্ত অসংখ্য দুর্ধর্ষ অভিযান পরিচালনা করেছে এই মোসাদ।

মোসাদ সাধারণভাবে বৈদেশিক গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স পরিচালনা, গুপ্তহত্যা, বৈদেশিক নীতি-নির্ধারণে সহায়তা, কাউন্টার টেররিজম, নিজস্ব লোক সংগ্রহ ও নেটওয়ার্ক তৈরি, বিদেশি কূটনীতিকদের ওপর নজরদারি, শত্রু এজেন্টদের সন্ধান, সাইবার ওয়ারফেয়ার পরিচালনা, নতুন প্রযুক্তি সংগ্রহ, ক্ল্যান্ডেস্টাইন অপারেশন পরিচালনা, ড্রোন আক্রমণ, গুপ্ত কারাগার পরিচালনা, বিশ্বের বড় বড় করপোরেশনের নীতিনির্ধারণের চেষ্টা, ইন্ডাস্ট্রিয়াল স্পিওনাজ ইত্যাদি কাজ করে থাকে।

মোসাদের এই কাজের বাজেটও কারও জানা নেই। মোসাদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী এমএসএস, এফএসবি, এমআইএসআইআরআই, হিজবুল্লাহ এবং হামাস।

ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের বিখ্যাত অপারেশনগুলো হচ্ছে- ১৯৬০ সালে আর্জেন্টিনায় আইখম্যান হান্ট, ১৯৬৫ সালে হেবাররত চুকারস হত্যা, ১৯৬৩-৬৬ সালের অপারেশন ডায়মন্ড, ১৯৭২ সালের মিউনিখ অলিম্পিকে হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ, ১৯৯০ সালের অপারেশন জেরাল্ড বুল কিলিং, ১৯৯২ সালের আতেফ বেইসো হত্যাকাণ্ড, ২০১০ সালের মোহাম্মদ আল মাবহু হত্যাকাণ্ড।

১৯৬০ সালে খবর পাওয়া যায় যে, নাৎসি নেতা এডলফ ইকম্যান আর্জেন্টিনাতে পালিয়ে রয়েছে। মাত্র পাঁচজন সদস্য নিয়ে মোসাদ এই নাৎসি নেতাকে আর্জেন্টিনা থেকে ইসরাইলে ফিরিয়ে এনে সর্বোচ্চ শাস্তি কার্যকর করে। প্রতিটি মহাদেশেই মোসাদের এরকম অভিযান পরিচালনার ইতিহাস রয়েছে। ইসরায়েলের স্বার্থ রক্ষায় ‘যেকোনো’ কিছু করতে প্রস্তুত থাকে সংস্থাটি। মোসাদের গোয়েন্দা সাফল্য বেশ সুপরিচিত এবং জনপ্রিয়।

মোসাদের সব থেকে শক্তিশালী দিক হচ্ছে এদের প্রযুক্তি এবং মেধা। গোয়েন্দা প্রযুক্তি উৎপাদন, গোয়েন্দা অস্ত্র-শস্ত্র তৈরিতেও বিশ্বের এক নম্বর এই গোয়েন্দা সংস্থাটি। ১৯৬৭ সালের যুদ্ধে মোসাদের ব্যবহৃত মিগ-২১ বিমানের কারণে মাত্র ছয় দিনে আরবদের সাথে জয়লাভ করতে ভুমিকা রাখে।

তবে মোসাদের কার্যক্রম নিয়েও নানা সমালোচনা আছে। জাতিসংঘে সংস্থাটির ভূমিকা নিয়ে বার বার আলোচনা হয়েছে। মোসাদ গুপ্তহত্যায়ও বিশেষ পারদর্শী। তারা বিভিন্ন সময়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গুপ্তহত্যা ঘটিয়েছে এবং এসব ঘটনা প্রমানিত হওয়ার পরও তাদের পক্ষ থেকে কোন দোষ স্বীকার করা হয়নি।

জনশ্রুতি রয়েছে পিএলও এর জনপ্রিয় নেতা ইয়াসির আরাফাত হত্যার পিছনে মোসাদের হাত ছিল। এটি জানা যায় যে এই নেতাকে বিষ প্রয়োগ করে হত্যা করে মোসাদ।

২// CIA সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি বা সিআইএ
সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি পৃথিবীর সর্ববৃহৎ এবং অন্যতম তুখোর গোয়েন্দা সংস্থা যা সিআইএ (CIA) নামে বেশি পরিচিত। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকারের আওতাধীন একটি বেসামরিক গোয়েন্দা সংস্থা। এটি একটি স্বাধীন সংস্থা, যার দায়িত্ব যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং উচ্চপদস্থ নীতিনির্ধারকদের কাছে গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করা।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন সময়ে গঠিত অফিস অফ স্ট্র্যাটেজিক সার্ভিসেস (OSS)-এর উত্তরসূরী হিসেবে সিআইএর জন্ম। এর কাজ ছিলো যুক্তরাষ্ট্র সামরিক বাহিনীর বিভিন্ন শাখা-প্রশাখার মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান করা। ১৯৪৭ সালে অনুমোদিত হওয়া ন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট বা জাতীয় নিরাপত্তা আইনের মাধ্যমে সিআইএ গঠন করা হয়।

সিআইএর প্রাথমিক কাজ হচ্ছে বিদেশি সরকার, সংস্থা ও ব্যক্তিদের সম্বন্ধে তথ্য সংগ্রহ করা এবং তা জাতীয় নীতিনির্ধারকদের কাছে তা সরবরাহ ও পরামর্শ প্রদান করা। সিআইএ এবং এর দায়বদ্ধতা ২০০৪ সালে উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত হয়েছে।

২০০৪ সালের ডিসেম্বরের পূর্বে সিআইএ ছিলো যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান গোয়েন্দা সংস্থা। এটি শুধু নিজের কর্মকাণ্ডই নয়, বরং অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কর্মকাণ্ডও দেখাশোনা করতো। কিন্তু ২০০৪ সালে অনুমোদিত ইন্টেলিজেন্স রিফর্ম অ্যান্ড টেররিজম প্রিভেনশন অ্যাক্ট, ২০০৪ দ্বারা তা পরিবর্তিত হয়। সিআইএ প্রেসিডেন্টের অনুরোধে গোপন কার্যক্রমেও অংশ নেয়। এর পাশাপাশি আধাসামরিক অপারেশন এবং অন্য দেশে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের অপারেশন পরিচালিত হয়ে থাকে বিশেষ কার্যক্রম বিভাগের মাধ্যমে।

সিআইএ পৃথিবীর সব ধরনের ডিভাইসে একসেস নিতে পারে। বিশেষ সার্চ ইঞ্জিনের সাহায্যে অনলাইন-অফলাইনের সব ধরনের তথ্য তারা পেতে পারেন। সিআইএর মতো গোয়েন্দা সংস্থাকে ফাঁকি দেয়ার জন্য সন্ত্রাসীরা ডেটা এনক্রিপশন পদ্ধতির আশ্রয় নেয়।

এর সদর দফতর ভার্জিনিয়ার ল্যাংলের জর্জ বুশ সেন্টার ফর ইন্টেলিজেন্সে। বর্তমান পরিচালক মাইক পম্পেও। সংস্থাটির দুর্নীতি এবং অব্যবস্থাপনার কারণে ৯/১১ এর বিমান হামলা প্রতিরোধে যুক্তরাষ্ট্র ব্যর্থ হয়। আফগানিস্থানে ১০ লাখ সোভিয়েত সৈন্যের আগমন সম্পর্ক কোনো তথ্য তারা পায়নি এবং ইরাকে সাদ্দাম হোসেন সরকারের ব্যাপক বিধ্বংসী অস্ত্র থাকার অভিযোগ প্রমাণ করতে পারেনি।

সিআইএর সব থেকে নেতিবাচক দিক হচ্ছে এদের বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী হিটম্যান (ভাড়াটে দক্ষ খুনী) নিয়োগের অভিযোগ রয়েছে। যার মাধ্যমে তারা পলিটিক্যাল কিলিং করে থাকে।

৩// MI6 এমআইসিক্স
জেমস বন্ড সিরিজের মুভিগুলো বেশ জনপ্রিয়। এজেন্ট ০০৭ যিনি ব্রিটিশ ইন্টেলিজেন্ট এজেন্সি এমআইসিক্সের (MI6) দুর্ধর্ষ স্পাই থাকেন। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তিনি বিভিন্ন কর্মকাণ্ড সম্পন্ন করে থাকেন। জেমস বন্ড মুভির মতো হয়তো বাস্তবে স্পাইরা কাজ করেন না। কিন্তু বাস্তবে এমআইসিক্স কাজ করে।

এমআইসিক্স ব্রিটিশ মিলিটারির ইন্টেলিজেন্স এর একটি বিশেষায়িত শাখা। সংস্থাটির অফিসিয়াল নাম সিক্রেট ইন্টেলিজেন্স সার্ভিস (এসআইএস)। ১৯০৯ সালের অক্টোবরে সিক্রেট সার্ভিস ব্যুরো নামে এটি গঠিত হয়। ওই সময়ে ব্যুরো নেভাল ও আর্মি সেকশন নামে দু’টি বিভাগে কাজ করত। নেভাল বিভাগের কাজ ছিল অন্য দেশে গোয়েন্দাগিরি। অন্যদিকে আর্মি বিভাগের কাজ ছিল অভ্যন্তরীণ সন্ত্রাস দমন। পরে নেভাল বিভাগের নাম দেয়া হয় এমআই সিক্স আর আর্মি বিভাগের নাম দেয়া হয় এমআই ফাইভ।

এসআইএসের সদর দপ্তর লন্ডনের এসআইএস বিল্ডিং। বর্তমান এসআইএস প্রধান এলেক্স ইয়ংগার। ১৯১১ সালে সিক্রেট সার্ভিস ব্যুরোর নাম পরিবর্তন করে সিক্রেট ইন্টেলিজেন্স সার্ভিস করা হয়। এমআই সিক্সের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে প্রতিদ্বন্দ্বী দেশে হামলা ও হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততার। এ জন্য সংস্থাটি ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ, যুক্তরাষ্ট্রের সিআইএ’র সহযোগিতা নিয়েছে আবার কখনো সহযোগিতা করেছে। বিভিন্ন ইস্যুতে এ তিনটি সংস্থা একসাথেই কাজ করেছে বলে জানা যায়।

এশিয়া টাইমস পত্রিকায় সাংবাদিক রিচার্ড এম বানেটের এমআই সিক্সের হত্যাকাণ্ডের সংক্ষিপ্ত তালিকা সম্পর্কিত একটি প্রতিবেদন ২০০৩ সালের জুন মাসে প্রকাশ করে। ১৯৭০ সালের প্রথম দিকে মোসাদের হিট স্কোয়াড কিডনের প্রধান রাফায়েল ইতান ইংল্যান্ডের হারফোর্ডে সফরের পর ব্রিটেনের নিরাপত্তা পলিসির বড় পরিবর্তন আসে। এই সফরের কিছু দিন পর লন্ডনে ফিলিস্তিন মুক্তি আন্দোলনের দুই নেতাকে হত্যা করা হয়।

হত্যাকাণ্ডের সাথে এমআই সিক্স ও মোসাদের সম্পৃক্ততা ছিল। ১৯৮৮ সালে তিনজন আইরিশ রিপাবলিকান আর্মিকে জিব্রালটারে হত্যা করে ইউকে স্পেশাল ফোর্সেস। এর সাথেও মোসাদের সম্পৃক্ততা ছিল।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয় ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার মোসাদের কাছে তার দেশের নাগরিকদের জন্য হুমকি এমন লোকদের একটি তালিকা দিয়েছিল। মিসরের জনপ্রিয় প্রেসিডেন্ট জামাল আবদুল নাসেরকে হত্যার পরিকল্পনায় সমর্থন দিয়েছিল এমআইসিক্স। নার্ভ গ্যাস প্রয়োগে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেছিল এই সংস্থা। অবশ্য ১৯৭০ সালে তিনি হার্ট অ্যাটাকে মারা যান।

১৯৬০ সালে হত্যার পরিকল্পনা করে কঙ্গোর প্রধানমন্ত্রী জাতীয়তাবাদী নেতা প্যাটরিক লুমামবাকে। ১৯৬১ সালে তিনি নিহত হন। অফিসিয়ালি তাকে হত্যার অনুমতি দেয় হাওয়ার্ড স্মিথ নামের এক কর্মকর্তা। পরে এই কর্মকর্তাকে এমআই ফাইভের প্রধান বানানো হয়। ১

৯৭২ সালে জন ওয়াইম্যান আয়ারল্যান্ডের রাজনৈতিক নেতাদের বোমা হামলা করে হত্যার একটি পরিকল্পনা গ্রহণ করে। ওয়াইম্যান আইরিশ রিপাবলিকান আর্মি নেতা লিটলজনসকে এ সংক্রান্ত একটি তালিকা দেয়। তালিকায় স্যামুয়েস কস্টেলো, সিন কারল্যান্ড ও সিন মাইকেল স্টাইফেনের নাম ছিল।

উল্লেখ্য যে বর্তমানে বিশ্বের সব থেকে চৌকষ ও দুর্ধর্ষ কমান্ডো বাহিনী হচ্ছে যুক্তরাজ্যের দি স্পেশাল এয়ার সার্ভিস (এসএএস)

৪// FSB এমএসএস
চীনের গোয়েন্দা সংস্থা গওজিয়া অ্যাংকেন বু অথবা মিনিস্ট্রি অব স্টেট সিকিউরিটি। এটি বিশ্বজুড়ে এমএসএস (MAS) নামে পরিচিত।

চীনা এমএসএসের অনেক কিছুই সাধারণ মানুষের অজানা। আর এর কর্মী সংখ্যা পৃথিবীর সব গোয়েন্দা সংস্থার তুলনায় সবচেয়ে বেশি বলে ধারণা করা হয়।

২০০৫ সালের এক প্রতিবেদনে জানা যায়, শুধু অস্ট্রেলিয়াতেই এমএসএস এর এক হাজার ইনফর্মার রয়েছে। এমএসএসের সদর দফতর চীনের রাজধানী বেইজিংএ অবস্থিত। এর জবাবদিহিতা স্টেট কাউন্সিল অব চায়নার কাছে। এমএসএসের সংস্থা প্রধান চেন ওয়েনকিং।

এর মূল দায়িত্ব হচ্ছে বৈদেশিক গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স পরিচালনা, গুপ্তহত্যা, বর্ডার সার্ভেইল্যান্স, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, কাউন্টার টেররিজম, নিজস্ব লোক সংগ্রহ ও নেটওয়ার্ক তৈরি, বিদেশি কূটনীতিকদের ওপর নজরদারি, শত্রু এজেন্টদের সন্ধান, কাউন্টার রেভিউল্যুশনারি কার্যক্রম দমন, সাইবার ওয়ারফেয়ার পরিচালনা, নতুন প্রযুক্তি সংগ্রহ, বিশ্বের বড় করপোরেশনগুলোর নীতিনির্ধারণের চেষ্টা, ইন্ডাস্ট্রিয়াল স্পিওনাজ।

এমএসএসের প্রধান বিচরণ এলাকা ম্যাকাও, হংকং, তাইওয়ান, নেদারল্যান্ডস, অস্ট্রেলিয়া, পশ্চিম ইউরোপ, রাশিয়া, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, জাপান, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, দক্ষিণ আমেরিকা, উত্তর ও পশ্চিম আফ্রিকা ও সারা দুনিয়ার চাইনিজ বংশোদ্ভূত জনগণ।

এমএসএসের অনেক নামকরা এজেন্ট রয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছেন ল্যারি উ তাইচিন, ক্যাট্রিনা লেউং, পিটার লি, চি মাক, কো সুয়েন মো। ১৯৯৬ সালে এফ-১৫, বি-৫২সহ বহু সামরিক প্রযুক্তি পাচারের অভিযোগে ডং ফ্যাং চ্যু নামে বোয়িং কোম্পানির এক ইঞ্জিনিয়ার ধরা পড়েন।

ধারণা করা হয়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউকে, কানাডা, ইউরোপ, ভারত, জাপানে আন-অফিশিয়াল কাভারে যেমন ব্যবসায়ী, সাংবাদিক, খেলোয়াড়, ব্যাংকার, শিক্ষক, রাজনীতিবিদ হিসেবে কমপক্ষে ১২০ জন করে এমএসএস কর্মী অবস্থান করছেন।

পৃথিবীর অন্যসব গোয়েন্দা সংস্থাকেই এমএসএস তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করে।

৫// FSB এফএসবি
রাশিয়া এফএসবির মূল নাম ফেডারেলনায়া সুলঝবা বেজপাসনোস্তি রাশিস্কয় ফেডেরাটসি। সংক্ষেপে এটি এফএসবি (FSB) নামে পরিচিত। এটি স্থাপিত হয় ১৯৯৫ সালের ৩ এপ্রিল। তবে এত অল্প বয়স দিয়ে এফএসবির কার্যকারিতার প্রভাব ও ভয়াবহতার কথা মোটেও অনুমান করা যাবে না। অনুমান করতে হবে এর পূর্বসূরি সংস্থার কথা মাথায় রেখে।

রাশিয়ার বর্তমান গোয়েন্দা সংস্থা এফএসবির পূর্বসূরি ছিল দুনিয়া কাঁপানো গোয়েন্দা সংস্থা কেজিবি। আর কেজিবিরও আগে এর নাম ছিল চেকা। এফএসবির কর্মী সংখ্যা আনুমানিক লক্ষাধিক। এফএসবির সদর দফতর রাশিয়ার মস্কো শহরের ল্যুবিয়াঙ্কা স্কোয়ারে। এর জবাবদিহিতা করতে হয় প্রেসিডেন্ট রাশিয়ান ফেডারেশন।

এফএসবির সংস্থা প্রধান আলেকজান্ডার বর্টনিকভ। এফএসবির সাহায্যকারী সংস্থার নাম গ্রু। এফএসবির মোট ১০টি বিভাগ রয়েছে। এফএসবির মূল দায়িত্ব বৈদেশিক গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স পরিচালনা, গুপ্তহত্যা, বর্ডার সার্ভেইল্যান্স, রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ, কাউন্টার টেররিজম, নিজস্ব লোক সংগ্রহ ও নেটওয়ার্ক তৈরি, বিদেশি কূটনীতিকদের ওপর নজরদারি।

এফএসবির নামকরা এজেন্টের নাম আন্না চ্যাপম্যান। সারা বিশ্বে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে এফএসবির গোয়েন্দারা যারা নিয়মিত এফএসবিকে গোপন তথ্য সরবরাহ করে যাচ্ছে। এফএসবির সর্বমোট কর্মকর্তার সংখ্যা এবং এদের জন্য বরাদ্দকৃত বাজেটের পরিমাণ এদের নিজস্ব কৌশল হিসেবে গোপন রাখা হয়।

৬// BND বিএনডি
জার্মানির বৈদেশিক গোয়েন্দা সংস্থার নাম জার্মান ভাষায় বুন্দেসন্যাচরিচটেনডিয়েনস্ট বা বিএনডি (BND)। ইংরেজিতে ফেডারেল ইনটেলিজেন্স সার্ভিস। জার্মান চ্যান্সেলরের অফিস থেকে সংস্থাটি সরাসরি নিয়ন্ত্রিত হয় এবং চ্যান্সেলরের কাছে জবাবদিহি করে। এটা ইউরোপের অন্যতম শক্তিশালী গোয়েন্দা সংস্থা।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জার্মানি নতুন করে দেশের পুনর্গঠনের কাজ শুরু করে। এ সময় তাদের নিরাপত্তাব্যবস্থা একেবারে ঢেলে সাজাতে হয়। তখন তারা অনুভব করে, নিরাপত্তার জন্য তাদের গোয়েন্দা তথ্যের অভাব রয়েছে। সেই প্রয়োজন থেকেই তারা একটি বৈদেশিক গোয়েন্দা সংস্থা নির্মাণ শুরু করে। ১৯৫৬ সালের ১ এপ্রিল বিএনডি প্রতিষ্ঠিত হয়। মেজর জেনারেল রেইনহার্ডরের নেতৃত্বে সংস্থাটি নির্মিত হয়েছিল। শুরুতে এটা যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর সহযোগী হিসেবে কাজ করে।

এই সংস্থাটি জার্মানিতে ও বিশ্বের যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকে। বিএনডি আন্তর্জাতিক সন্ত্রাস, মাদক সন্ত্রাস, প্রযুক্তির অবৈধ পাচার, অস্ত্র পাচার, সংঘবদ্ধ সন্ত্রাস সম্পর্কে গোপন তথ্য সংগ্রহ করে। বিএনডি আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা সংস্থা হলেও তারা মিলিটারি ও সিভিল ইনটেলিজেন্সের তথ্য সংগ্রহ করে।

বার্লিনে অবস্থিত সংস্থাটির প্রধান কার্যালয়ে চার হাজার কর্মী একসঙ্গে কাজ করে। বিশাল এই কার্যালয়টি প্রায় ৩৫টি ফুটবল মাঠের সমান। বিএনডি বৈদেশিক গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, কাউন্টার ইনটেলিজেন্স পরিচালনা, বিভিন্ন দেশে গোয়েন্দা কার্যক্রম পরিচালনা করা, কাউন্টার টেররিজম, নিজস্ব লোক সংগ্রহ ও নেটওয়ার্ক তৈরিতে কাজ করে।

এ ছাড়া রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারকদের বৈদেশিক নীতিনির্ধারণে সহায়তা, বিভিন্ন সংস্থা ও ব্যক্তি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ প্রভৃতি বিষয়ে কাজ করে। এক কথায় বহির্বিশ্বে জার্মান স্বার্থের পক্ষে যা কিছু করার প্রয়োজন তারা সেটাই করে। বিদেশে জার্মান স্বার্থের প্রতি হুমকির ব্যাপারে তারা সরকারকে আগাম সতর্ক করার হাতিয়ার হিসেবে কাজ করে।

টেলিফোনে আড়ি পাতা ও ইলেকট্রনিক পর্যবেক্ষণের মাধ্যমেও তারা কাজ করে। তারা আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ বিস্তার, প্রযুক্তির সব ধরনের অবৈধ হস্তান্তর, সংঘবদ্ধ অপরাধ, অস্ত্র ও মাদক পাচার, মানি লন্ডারিং, অবৈধ অভিবাসন ও তথ্যযুদ্ধের মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ করে।

তারা বৈদেশিক গুপ্তচরবৃত্তিতে জার্মানির একমাত্র গোয়েন্দা সংস্থা হওয়ায় সামরিক ও বেসামরিক উভয় ধরনের গুপ্তচরবৃত্তিতেই নিয়োজিত থাকে।

৭// ISI আইএসআই
বিশ্বের সব থেকে বিতর্কিত গোয়েন্দা সংস্থার নাম পাকিস্তানের আইএসআই (ISI)। বিতর্কের দিক থেকে এই গোয়েন্দা সংস্থা বিশ্বের প্রথম। ‘সরকারের ভিতরে সরকার’ পাকিস্তানের মাটিতে এই নামে বহুল পরিচিত ও সবচেয়ে ক্ষমতাধর সংস্থাটির নাম আইএসআই।

১৯৪৮ এর মাঝামাঝি সময়ে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে কর্মরত অস্ট্রোলীয় বংশদ্ভূত ব্রিটিশ আর্মি অফিসার ও পাকিস্তান সেনা বাহিনীর ডেপুটি চিফ অব স্টাফ মেজর জেনারেল রবার্ট চাওথামের পরামর্শে ও তত্বাবধানে আইএসআই তৈরি হয়।

প্রাথমিকভাবে এর কাজ তিন বাহিনীর প্রাপ্ত তথ্য যাচাই বাছাই করে সমন্নয় সাধন করা হলেও ১৯৫০ সাল থেকে একে আদালা করে শুধুমাত্র পাকিস্তান রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, স্বার্থ রক্ষা ও অখন্ডতা বজায় রাখার দায়িত্ব দেয়া হয়।

দেশে-বিদেশে সংস্থাটির সম্ভাব্য সদস্য সংখ্যা ২৫ হাজারের বেশি এবং এর মধ্যে অনেক তথ্য প্রদানকারীও রয়েছে। এই সংস্থার প্রধান কাজ পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় স্বার্থ ও অখন্ডতা রক্ষা করা।

যে সকল ব্যক্তি, গোষ্ঠী, প্রতিষ্ঠান, বৈদেশিক গোয়েন্দাসংস্থা রাষ্ট্রের স্বার্থের বিরুদ্ধে যারা কাজ করে তাদের উপর নজরদারি করা ও প্রয়োজনে কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স পরিচালনা করা। বিদেশে গোয়েন্দা কার্যক্রম পরিচালনা করা।

ভারতের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য যুদ্ধে কৌশলগত ভাবে নিজেদের অগ্রবর্তী রাখার উদ্দেশ্যে প্রতিবেশী সব দেশকে প্রভাবিত করা। সরকার ও সেনা বাহিনীকে বাইরে ও ভিতর থেকে নিয়ন্ত্রণ করা। সরকারের বৈদেশিক নীতি নির্ধারণ করা।

তিনজন ডেপুটি ডাইরেক্টর জেনারেলের অধীনে তিনটি কোর বিষয়ের জন্য ৭ টি বিভাগ কাজ করে। ইন্টার সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্স এর সব কাজ মুলত ৭টি ডাইরেক্টরেটে দ্বারা পরিচালিত হয়।

আইএসআই কর্মীরা সাধারণত সেনাবাহিনীর এসএসজি, নৌ বাহিনীর ও বিমান বাহিনী থেকে আসে। তবে নিচু স্তরের কর্মীদের অনেক সমইয় প্যারা মিলিটারি ও পুলিশ বাহিনী থেকেও নেয়া হয়।

সংস্থাটির মূল প্রতিদ্বন্দ্বি র এবং মোসাদ। বিখ্যাত মিশন গুলো হচ্ছে- সোভিয়েত বিরোধী আফগান যুদ্ধ, কার্গিল যুদ্ধ, ওয়ার অন টেরর ওয়াজিরিস্তান, বালুচিস্তান এ আকবর বুগাতি হত্যা।

৮// RAW রিসার্চ এন্ড এনালাইসিস উইং ‘র’
আলোচিত এই গোয়েন্দা সংস্থাটির প্রতিষ্ঠাসাল ২১ সেপ্টেম্বর ১৯৬৮ সাল। নয়াদিল্লী হচ্ছে র’য়ের (RAW) কেন্দ্রবিন্দু। আনীল দশমনা এজেন্সির নির্বাহী প্রধান। র এর প্রধান এজেন্সি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। র ভারতের বৈদেশিক গোয়েন্দা সংস্থা।

১৯৬৮ সালের ২১ সেপ্টেম্বর প্রাক্তন বৃটিশ ইন্টেলিজেন্স অফিসার ও আইবি র ডেপুটি ডাইরেক্টর আর.এন.কাও র নেতৃত্বে ভারতে প্রতিষ্ঠা লাভ করে Research and Analysis Wing।

এর প্রধান কাজ হল বিদেশি গোপন গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, কাউন্টার টেরোরিজম এবং গোপন অপারেশন চালানো। পার্শবর্তী দেশসমুহ যাদের সাথে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা জড়িত তাদের রাজনৈতিক ও সামরিক কার্যকলাপ পর্যবেক্ষনের মাধ্যমে ওই সব দেশের বৈদেশিক নীতি নির্ধারনে ভুমিকা রাখাও র এর অন্যতম কাজ।

র বিদেশি সরকার, ব্যাবসায়ী, ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ এবং বিশ্লেষণ করে থাকে এবং সে অনুযায়ী ভারতীয় নীতিনির্ধারকদের পরামর্শ দিয়ে থাকে। এশিয়াসহ বিশ্বের অনেক দেশে র এর এজেন্ট রয়েছে। সবচেয়ে মজার তথ্য হচ্ছে র তাদের যাবতীয় গোয়েন্দা প্রযুক্তি ও অস্ত্র-শস্ত্রের জন্য মোসাদের সহযোগিতা পেয়ে থাকে।

৯// DGSE ডিজিএসই
ডিজিএসই (DGSE) ফ্রান্সের বৈদেশিক গোয়েন্দা সংস্থা। প্রতিষ্ঠিত হয় ২ এপ্রিল ১৯৮২। ডিজিএসই ফ্রান্সের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে চলে।

বিভিন্ন দেশে রাজনৈতিক প্রভাব এবং কাউন্টার ইন্টেলিজেন্ট অপারেশনে ডিজিএসই ডিজিএসআই নামক আরেকটি সংস্থার সাথে একসাথে কাজ করে। এর প্রধান কাজ হল বাইরের দেশের বিভিন্ন সূত্র থেকে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং তা মিলিটারি এবং নীতিনির্ধারকদের কে সরবরাহ করা।

ডিজিএসইতে কাজ করেন প্রায় ৫ হাজারের বেশি কর্মকর্তা। এর সদর দফতর প্যারিসে।

১০. অস্ট্রেলিয়ার এএসআইএস
এএসআইএস (ASIS) অস্ট্রেলিয়ার সরকারি গোয়েন্দা সংস্থা যার কাজ হল গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করা, কাউন্টাল ইন্টেলিজেন্স কার্যক্রম এবং বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সাথে সহায়তা মূলক কাজ করা।

প্রতিষ্ঠত হয় ১৩ মে ১৯৫২। প্রধান কার্যালয় ক্যানবেরাতে।বর্তমান ডিরেক্টর নিক ওয়ার্নার। এই সংস্থাটি ২০ বছর পর্যন্ত গোপন ছিল এমনকি অস্ট্রেলিয়ার সরকারও এই এজেন্সি সম্পর্কে জানতো না। এর প্রধান কাজ হল এশিয়া এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকার গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ।

এই কাজের জন্যে বিভিন্ন দেশে এজেন্ট নিয়োগ দিয়ে রেখেছে ASIS। এর অন্যতম প্রধান কাজ হল অন্যান্য গোয়েন্দাসংস্থা গুলোর সাথে একসাথে কাজ করে অস্ট্রেলিয়ার অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বাইরের যেকোনো হুমকি থেকে দেশের জনগনকে সুরক্ষা দেয়া।

কলমের ক্যাপে ছোট ছিদ্র থাকে কেনো জানেন?

কলমের ক্যাপে ছোট ছিদ্র থাকে কেনো জানেন?
হয়তো এই ছোট্ট ছিদ্রটি নিয়ে মনে তেমন কোনো প্রশ্ন জাগেনি কখনও?
আমরা হয়তো অনেকেই খেয়াল করেছি কলমের ক্যাপে ছোট্ট একটি ছিদ্র থাকে। কলমের ক্যাপে ছোট ছিদ্র থাকে কেনো তা কী আপনি জানেন? না জানলে আজ জেনে নিন।
এক সময় ছিলো যখন কালির কলম ব্যবহার করা হতো। কিন্তু এখন বলপয়েন্ট কলম ব্যবহারের অভ্যাস আমাদের সকলের। একইভাবে হয়তো আমরা অভ্যস্ত কলমের ক্যাপের ছোট্ট ছিদ্রটি দেখেও। তাই হয়তো এই ছোট্ট ছিদ্রটি নিয়ে মনে তেমন কোনো প্রশ্ন জাগেনি কখনও। এবার অন্তত একটু ভেবে দেখুন তো কলমের ক্যাপের মাথায় ছোট ছিদ্র দেওয়া থাকে কেনো?

ছিদ্রটি থাকে এই জন্য যেনো মুখে নিয়ে কামড়ানোর ফলে ক্যাপের ভিতরে যাওয়া থুতু বের হয়ে আসতে পারে? নাকি কোম্পানি কিছু টাকা সাশ্রয় করে বলে ছ্রিদ্র রেখেছে? তবে কোনোটিই না! আসলে এই ছিদ্রটির গুরুত্ব আরো অনেক বেশি এবং তাত্পর্যপূর্ণ যা আপনাকে অবাক করবে।

বলা হচ্ছে, দুর্ঘটনাবশত অনেকেই কলমের ক্যাপ গিলে ফেলার কারণে এই ছিদ্রটি দেওয়া! অসাবধানতায় কলমের ক্যাপ গিলে ফেললে ক্যাপটির ছোট্ট এই ছিদ্র দিয়ে বাতাস প্রবাহ অব্যাহত থাকবে, বাতাস প্রবাহ অব্যাহত থাকায় হঠাৎ শ্বাসরোধ হওয়া থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে। বিশেষ করে ছোট বাচ্চারা কিছু পেলেই সেটি মুখে দিয়ে ফেলে, বাচ্চাদের নিরাপত্তার জন্যই নাকি এই ছিদ্রটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ।

তবে এই ব্যাপারটি হালকা করে নেওয়ার কিছু নেই। কারণ হলো দুর্ঘটনাবশত কলমের ক্যাপ গিলে ফেলায় শ্বাসরোধ হয়ে প্রতিবছর বহু লোক মারা যায়। শুধুমাত্র যুক্তরাষ্ট্রেই প্রতিবছর প্রায় একশ লোকের মৃত্যু ঘটে এই বলপয়েন্ট ক্যাপ গিলে ফেলায় শ্বাসরোধ হওয়ার কারণে!

অবাক হয়ে আনমনে এখন আপনি যদি কলমের ক্যাপ মুখে নিয়ে কামড়ানো শুরু করে দেন, তাহলে অবশ্যই আপনি এই বদঅভ্যাসটি যতো দ্রুত সম্ভব ত্যাগ করুন! তা না হলে বিপদে আপনিও পড়তে পারেন।

হেলমেট না থাকলে তিন মাসের জন্য লাইসেন্স বাতিল

#হেলমেট না থাকলে তিন মাসের জন্য লাইসেন্স বাতিল ।মটরযান অধ্যাদেশ ১৯৮৩ আইনের পরিবর্তন…। নিন্মে ০১ সেপ্টেম্বর ২০১৯ থেকে সংশোধিত মোটরযান আইনঃ ও মটরযান অধ্যাদেশ ১৯৮৩ দেয়া হলো ।১লা সেপ্টেম্বর ২০১৯ থেকে চালু হচ্ছে সংশোধিত মোটরযান আইনঃ
সংশোধিত মোটর ভেহিক্যালস আইন কার্যকরী হচ্ছে আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে। এই আইনুনাযায়ী ট্র্যাফিক বিধি লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে আর্থিক জরিমানার পরিমাণ কয়েকগুণ বেশি গুণতে হবে। আইনের ৬৩ ধারায় যে সমস্ত পরিবর্তনগুলি নিয়ে আসা হয়েছে, দেখে নেওয়া যাক এক নজরেঃ-
১. সংশোধিত আইন অনুযায়ী, কোনো জরুরি পরিষেবাপ্রদানকারী গাড়িকে রাস্তা ছাড়তে ব্যর্থ হলে জরিমানার পরিমাণ বাড়িয়ে করা হয়েছে ১০ হাজার টাকা। আগে এই জরিমানার পরিমাণ ছিল ২ হাজার টাকা।
২. যোগ্যতা হারানো কোনো চালক গাড়ি চালালেও ১০ হাজার টাকার জরিমানা হতে পারে।
৩. মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালালে ১০ হাজার টাকার জরিমানা হতে পারে।
৪. কানে মোবাইল ফোনে কথা বলার সময় গাড়ি চালালে জরিমানার পরিমাণ ৫ হাজার টাকা। আগে এ ক্ষেত্রে জরিমানা করা হতো এক হাজার টাকা।
৫. ক্রসিংয়ে লাল সিগন্যাল না মেনে গাড়ি চালালে জরিমানা ৩ হাজার টাকা। আগে যা ছিল ৫০০ টাকা।
৬. গাড়ির গতির ঊর্ধ্বসীমা না মানলে জরিমানা ১-২ হাজার টাকা। আগে এই জরিমানা ছিল ৪০০ টাকা।
৭. কোনো নাবালক গাড়ি চালালে জরিমানার পরিমাণও বেড়েছে। এ ক্ষেত্রে গাড়ির মালিকের জরিমানা ধার্য হয়েছে ২৫ হাজার টাকা।
৮. ড্রাইভিং লাইসেন্স সঙ্গে না রেখে গাড়ি চালালে জরিমানা ৫ হাজার টাকা।
৯. বিমার কাগজের প্রত্যায়িত কপি গাড়িতে না রেখে রাস্তায় বের হলে জরিমানা ২ হাজার টাকা।
১০. সিট বেল্ট না বেঁধে গাড়ি চালালে জরিমানা এক হাজার টাকা।
১১. গাড়িতে ওভার লোডিং করলে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা।
১২. দু’চাকার গাড়ি (মোটর বাইক, স্কুটি) আরোহী হেলমেট না পরলে জরিমানা বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক হাজার টাকা।
১৩. কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অমান্য করলে ন্যূনতম জরিমানা ২ হাজার টাকা।
১৪. অন্য দিকে লাইসেন্স নীতি না মানলে সর্বোচ্চ জরিমানা এক লক্ষ টাকা পর্যন্ত। একই সঙ্গে হতে পারে তিন বছরের কারাবাস।
প্রসঙ্গত, দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ বাড়িয়ে করা হয়েছে ৫ লক্ষ টাকা।
১৯৮৩ অধ্যাদেশ ট্রাফিক আইন অমান্য করার শাস্তি ও জরিমানার সংক্ষিপ্ত বিবরণ
ধারা-১৩৭: মোতাবেক যদি কোন ব্যক্তি ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালায়, গাড়িতে মেটালিক নাম্বার প্লেট ব্যবহার করে, ট্যাক্স টোকেনের মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়, নাম্বার প্লেট অস্পষ্ট, বাম্পার দ্বারা নাম্বার প্লেট আবৃত থাকে এবং রং পার্কিং করে; তাহলে উক্ত দ্বারা মোতাবেক ড্রাইভার বা মালিকের ২০০/-টাকা জরিমানা হবে।
ধারা-১৩৯: এ ধারায় বলা হয়েছে যে, কোন গাড়িতে হাইড্রোলিক হর্ণ সংযোজিত পাওয়া গেল-উক্ত দ্বারা মোতাবেক ১০০/-টাকা জরিমানা করা হবে।
ধারা-১৪০: এ ধারায় বলা হয়েছে যে, নিষিদ্ধ স্থানে হর্ণ বাজাইলে, ট্রাফিক নির্দেশাবলী অমান্য করিলে, বাঁধা সৃষ্টি ও তথ্য প্রদানে অস্বীকৃতি জানাইলে, ট্রাফিক সংকেত অমান্য করিলে, ওয়ান-ওয়ে অমান্য করিলে, নিষিদ্ধ ইউটার্ণ করিলে, নিষিদ্ধ সময়ে যানবাহন চলাচল করিলে-উক্ত দ্বারা মোতাবেক ২৫০/-টাকা জরিমানা করা হবে।
ধারা-১৪২: এ ধারায় বলা হয়েছে আইনানুগ সর্ব্বোচ্চ গতিসীমা লংগন করিলে-জরিমানা হবে ৩০০/-টাকা মাত্র।
ধারা-১৪৬: এ ধারায় বলা হয়েছে যে, দূর্ঘটনা সংক্রান্ত অপরাধ করিলে-জরিমানা হবে ৫০০/-টাকা মাত্র।
ধারা-১৪৯: এ ধারায় বলা হয়েছে যে, যানবাহনের হেড লাইট, ব্যাক লাইট, ইন্ডিকেটর, ব্রেক লাইট, লুকিং গ্লাস, রিয়ার মিরর (পেছনে দেখার আয়না), ওয়াইপার না থাকিলে বা ক্রটিযুক্ত থাকিলে, যানবাহলে আনসেইফ লোডিং থাকিলে, মটর সাইকেলে ২ জনের অধিক আরহন করিলে, চালকের পাশে বা ছাদে অতিরিক্ত যাত্রী বহন করিলে, হেলমেট ব্যবহার না করিলে-জরিমানা হবে ৩০০/-টাকা মাত্র।
ধারা-১৫০: যে সকল যানবাহন হইতে স্বাস্থের জন্য ক্ষতিকর এমন ধোয়া বাহির হইলে-জরিমানা হবে ২০০/-টাকা মাত্র।
ধারা-১৫১: অস্বচ্ছ, রঙ্গীন, কালো গ্লাস ব্যবহার করিলে, ট্রিনটেড পেপার ব্যবহার করিলে, ফিটনেস সার্টিফিকেটের সহিত গাড়ির রংয়ের মিল না থাকিলে, গাড়ির টায়ার পরিবর্তন করিলে, সরকার নির্ধারিত রং ব্যতিত অন্যকোন রং ব্যবহার করিলে, বিআরটিএর অনুমতি ছাড়া গাড়ির রং পরিবর্তন করিলে ও মালিকানা পরিবর্তন না করিলে-জরিমানা হবে ১,২৫০/-টাকা মাত্র।
ধারা-১৫২: এ ধারায় বলা হয়েছে যে, রেজিষ্ট্রেশন সার্টিফিকেট, ফিটনেস সার্টিফিকেট, রুট পারমিট (যে সকল যানবাহনের ক্ষেত্রে প্রযোজন্য) না থাকিলে, ফিটনেস সার্টিফিকেট অথবা রুট পারমিটের মেয়াদ শেষ হইলে, রুট পারমিটের শর্ত অমান্য করিলে, সিএনজি চালিত অটোরিকসা, ট্যাক্সিক্যাব এর চালক গন্তব্যস্থলে যাত্রী বহনে অস্বীকার করিলে, অনটেষ্ট, এপ্লাইড রেজিষ্টেশন (এ এফ আর), ড্রাইবার ব্যতিত আট আসন বিশিষ্ট গাড়ির রুট পারটিম না থাকিলে, গ্যারেজ নাম্বার দিয়ে গাড়ি চালাইলে-এ ধরণের প্রতিটি অপরাধের জন্য পৃথক পৃথক ভাবে ৭০০/-টাকা মাত্র জরিমানা করার বিধান আছে এবং হয়ে থাকে।
ধারা-১৫৩: এ ধারায় বলা হয়েছে যে, লাইসেন্স ব্যতিত কিংবা প্রবিধান লংঘণ পূর্বক গাড়িতে এজেন্ট বা ক্যানভাসার নিয়োজিত থাকিলে-জরিমানা হবে ১৫০/-টাকা মাত্র।
ধারা-১৫৪: যানবাহনের ওজন, মালসহ ওজন, নির্ধারিত ওজনের চেয়ে অতিরিক্ত থাকিলে-জরিমানা হবে ৫০০/-টাকা মাত্র।
ধারা-১৫৫: এ ধারায় বলা হয়েছে যে, ইন্সুরেন্স সার্টিফিকেট না থাকিলে, ইন্সুরেন্স সার্টিফিকেটে মেয়াদ শেষ হইলে-জরিমানা হবে ৫০০/-টাকা মাত্র।
ধারা-১৫৬: মটরযান কিংবা আইনানুগ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতিত সংশ্লিষ্ট মটরগাড়ি চালাইয়া বাহিলে নিয়া গেলে-জরিমানা হবে ৫০০/-টাকা মাত্র।
ধারা-১৫৭: এ ধারায় বলা হয়েছে যে, গাড়ি দাঁড় করাইয়া অন্যান্য যানবাহন চলাচলে বাঁধা সৃষ্টি করিলে, নষ্ট গাড়ি মেরামত করত: অন্য যানবাহন চলাচলে বাঁধা সৃষ্টি করিলে, যাত্রী উঠানামা করাইয়া রাস্তায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করিলে, রং পার্কিং করিয়া রাস্তায়/ফুটপাতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করিলে-জরিমানা হবে ২৫০/-টাকা মাত্র।
ধারা-১৫৮: এ ধারায় বলা হয়েছে যে, গাড়ির স্পীড গভর্ণর সীল না থাকিলে, সিএনজি চালিত অটোরিকসা এবং ট্যাক্সিক্যাবের মিটার সেলের উপর অন্যায় হস্তক্ষেপ করিলে অর্থাৎ ঘষামাঝা ও টেম্পারিং করিলে-জরিমানা হবে ২৫০/-টাকা মাত্র।
তাছাড়া লেন অমান্য অথবা লালবাতির সংকেত অমান্য করিলে ৫০০/-টাকা জরিমানা ছাড়াও ধারা-১৩৭, ১৩৯, ১৫০ ব্যাতিত অন্যান্য সকল ধারা মোতাবেক দায়িত্বপালনকারী হলুদ জ্যাকেট পরিদেয় সার্জেন্টগণ (সেয়েরা ইকো, চেকপোষ্ট এবং ইনফোসমেন্ট পেট্রোল কারে দায়িত্ব পালনকারী সার্জেন্ট) কর্তৃক দায়েরকৃত মামলার ক্ষেত্রে জরিমানার পরিমাণ উপরে বর্ণিত ধারায় প্রত্যেকটিতে দ্বিগুনহারে বৃদ্ধি পাবে।

গাউসুল আজম হলেন একমাত্র আল্লাহ

যারা #আব্দুল_কাদের_জিলানি রহঃ কে বা অন্য কোন শায়খ- বুজুর্গকে গাউসুল আজম বলে অথবা মনে করে তারা শতভাগ মোশরেক । এই মোশরেকরা হলো জাহান্নামের কুকুর ।
#গাউসুল_আজম কোন মানুষ হতে পারনা
গাউসুল আজম হলেন একমাত্র আল্লাহ । গাউস অর্থ সাহায্যকারী এবং আযম অর্থ সবচেয়ে বড় । গাউসুল আজম অর্থ সবচেয়ে বড় সাহায্যকারী । আল্লাহই হলেন সবচেয়ে বড় সাহায্যকারী । আব্দুল কাদের জিলানি ছিলেন আল্লাহর একজন দাস মাত্র । আব্দুল কাদের জিলানি এখন মরে গেছেন এবং তিনি এখন নিজেরই বিন্দুমাত্র উপকার করতে সক্ষম নন । তাঁর লাশও মাটিতে মিশে গেছে । আব্দুল কাদের জিলানি হাদিসের বড় মাপের ওস্তাদ ছিলেন । কিন্ত রাসুল সাঃ এর একজন সবচেয়ে ছোট মাপের #সাহাবা রাঃ এর ঘোড়ার নাকে লেগে থাকা বালু কণার সমতুল্যও নয় । এটাই একজন মুমীনের ঈমান । সাহাবা রাঃ গণ কেউ কিছু ভুল করা সত্ত্বেও সবাই ইনশাল্লাহ জান্নাতী । এটা আল্লাহ তাঁর কোরআনে ঘোষনা করেছেন । মুসলীমদের জন্য ফরজ হলো আব্দুল কাদের জিলানির মাজারটি ভেঙ্গে মাটির সাথে মিশিয়ে ফেলা । এটা একটি মূর্তি যার পূঁজা করা হচ্ছে ।

আফগানিস্থান থেকে আমেরিকার সৈন্য প্রত্যাহার ও কিছু কথা ।

১৮ বছরের আফগান যুদ্ধের গ্লানি আমেরিকার : অবশেষে তালিবানের কাছে বাধ্য হলো সৈন্য প্রত্যাহারে

আমেরিকার সাম্রাজ্যবাদি অহমিকা চূর্ণ হতে যাচ্ছে আফগানিস্তানে। “স্বাধীনতাকামী” তালেবানের সাথে বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া নয়দিনব্যাপী আলোচনার ২য় দিনে গত শুক্রবার আফগানিস্তান থেকে সৈন্য সরিয়ে নিতে সম্মত হয়েছে আমেরিকা। সরিয়ে নেয়ার প্রক্রিয়া কেমন হবে শুধু সে বিষয়েই আলোচনা হবে সামনের দিনগুলোতে।

বুধবার আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, আমরা ১৮ বছর হলো আফগানিস্তানে যুদ্ধ করছি। এটা আমাদেরকে হাস্যকর বানিয়ে দিয়েছে।

আমেরিকা গত বছর প্রায় আটবার বৈঠক করেছে তালেবানের সাথে। এই বৈঠকগুলোতে আফগানিস্তান থেকে বিদেশি সৈন্য প্রত্যাহার, যুদ্ধ বিরতি, আন্ত–আফগান শান্তি আলোচনা, ভবিষ্যতে বৈশ্বিক “সন্ত্রাসের” জন্য আফগানিস্তান আবার পূর্বের মত “লঞ্চ প্যাড” হবে কি না ইত্যাদি বিষয় নিয়ে দুই পক্ষ আলোচনা করেছে।

সেপ্টেম্বরে আফগানিস্তানে সাধারণ নির্বাচন। আর ২০২০ সালে আমেরিকায় নির্বাচন। এর পূর্বেই “সম্মানের” সাথে আফগানিস্তান থেকে সরে পড়তে চায় সুপার পাওয়ার আমেরিকা।

তবে আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট আশরাফ গানি সম্ভবত ভিন্ন কিছুর ইঙ্গিত দিলেন। তিনি নাকি তালেবান–মার্কিন চুক্তিতে “সম্মতি” দেওয়ার পূর্বে পূর্ণ আলোচনা আগে বিস্তারিত পড়ে দেখবেন। আফগান টেলিভিশনে দেওয়া সাক্ষাতকারে তিনি বলেন, আমেরিকা যদি দ্রুত পাঁচমাসের মধ্যেই তার সৈন্য প্রত্যাহার করে নেয় তবু সেটা আফগানিস্তানের পরিস্থিতির উপর বিশেষ প্রভাব পড়বে। আমেরিকা–তালেবান চুক্তি তার প্রত্যাশা মত না হলে তিনি তা মেনে নিবেন না এবং তিনি মার্কিন সৈন্যর উপর বিশেষ নির্ভরশীল নন সম্ভবত এরকম কিছু বলতে চেয়েছেন।

আশরাফ গাণি সরকারকে আমেরিকার “দোলানো পুতুল” মনে করে তালিবান। তাই বহু চেষ্টা সত্বেও আফগানিস্তানের বর্তমান সরকারের সাথে কোনো আলোচনায় বসাতে তালেবানকে রাজি করাতে পারেনি আমেরিকা। আশরাফ গাণির প্রশাসনকে আফগানিস্তানের জনগণ বিশ্বাসঘাতক মনে করে। আমেরিকা পরবর্তী আফগানে তাদের পরিণতি কি হতে পারে তা নিয়ে শঙ্কিত আশরাফ গাণি।

(সূত্র : দ্য ডন)