মুক্তমনা আর সস্তা শরীরের শহর ছিল পম্পেইঃ

৭৯খ্রিস্টাব্দ, আগস্ট মাস। ইটালির ক্যাম্পানিয়া অঞ্চল।.শহরটা ছিল আজকের দিনের নেইপলস-এর কাছাকাছি। ষষ্ঠ এবং সপ্তম শতাব্দীর মাঝামাঝি সূচনা এই চোখধাধানো নাগরিক সভ্যতাটার। একাধারে ব্যবসা, সংস্কৃতি আর বিনোদনের কেন্দ্র।অ্যাম্পফিথিয়েটার, জিমনেইসিয়াম [আদি অর্থ দ্রষ্টব্য], বন্দর আর তৎকালীন প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের শহর।.তবে এসব ছাপিয়ে উঠে আসে আরেকটা পরিচয়। প্রায় ২০,০০০ অধিবাসীর এই শহরটাতে সময়ের গতি যেন অন্য সব জায়গার চাইতে একটু বেশীই। সব সময় আবেগ, উত্তেজনা আর রোমাঞ্চের উচু তাঁরে বাধা যেন এই জায়গাটা। তারুণ্যের, আনন্দের আর যৌবনের বাধভাঙ্গা উল্লাসের এক কেন্দ্র। নিজেকে হারিয়ে যাওয়ার পর নিজেকে খুঁজে পেয়ে আবার হারিয়ে ফেলার জন্যই যেন এই শহরটা তৈরি। এই শহর মুক্তমনা আর সস্তা শরীরের। এই শহর পতিতাদের, এই শহর পতিতদের। এই শহর সমকামের, শিশুকামের, অযাচারের আর অবাধ যৌনাচারের। মদ, মাংশ আর মাৎসর্যের যতোসব আনন্দ আপনি চিন্তা করতে পারবেন আর যা কিছু চিন্তা করতে পারবেন না, সেই সবকিছু খুজে পাবার শহর হল এই পম্পেই।শুধু চাঁদের বুকে কালিমার মতো একটা উপদ্রবের মতো হল দিগন্ত আড়াল করে থাকা ভিসুভিয়াস পর্বত। প্রায় ১৫ বছর আগে এই ভিসুভিয়াসের উৎপাতেই নেইপলস উপসাগরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। ভূমিকম্পের কারণে পম্পেইর ও অনেক ক্ষতি হয়েছিল। তবে পম্পেই আর পম্পেই এর চেতনাকে কোন ভূমিকম্প হারাতে পারবে না। কই কতো ক্ষয়ক্ষতি হওয়া সত্ত্বেও পম্পেই কি ঘুরে দাঁড়ায় নি? আবার কি গড়ে তোলেনি পুরনোর ধ্বংসাবশেষ থেকে নতুন করে? বরং আগের চেয়েও আর আকর্ষণীয় হয়ে, আরো মনোমুগ্ধকর রূপে সেজে পম্পেই উঠে দাঁড়িয়েছে। মেতে উঠেছে আনন্দ আর উচ্ছাসে। গড়ে তুলেছে প্রতিটি গলিতে গলিতে স্বাধীন নারী আর সুশীল কামুকের প্রিয় সেই উপাসনালয়, মুক্তমনা পুরুষ আর মুক্ত শরীরের আলোকিত গণিকাদের পবিত্র আশ্রয়।.আর শুধু এখানেই থেমে থাকা কেন- সত্যিকারের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী পম্পেই স্বাধীনতাকে নারীদেহে আটকে রাখে নি। কেন পুরুষের জন্য পুরুষ, নারীর জন্য নারী, নারী ও পুরুষের জন্য শিশু আর পিতা ও মাতার দেহের জন্য সন্তানের দেহও ক্ষনিকের আনন্দের জন্য উন্মুক্ত হবে না? পম্পেইর স্বাধীনতা, মুক্তদেহ আর মুক্তমনের চেতনায় কোন দ্বিমুখীতা নেই। সব উন্মুক্ত। সব জায়েজ। আনন্দ, বিনোদন আর উত্তেজনা এই শহরের দেবতাবৃন্দ।.পম্পেই ঘুমায় না, পম্পেই জেগে থাকে। পম্পেই ভয় পায় না। পম্পেই আগামী নিয়ে দুশ্চিন্তা করে না, বর্তমান নিয়ে মেতে থাকে। কই গত কয়েক মাস ধরেই তো ভিসুভিয়াস কি কি জানি গাইগুই করছে – হঠাৎ হঠাৎ মধ্যরাতে গর্জে উঠে অস্তিত্ব জানান দিচ্ছে, মাঝে মধ্যেই হালকা ভূমিকম্প হচ্ছে – পম্পেই কি তাতে ভয় পেয়েছে? কেন গত প্রায় এক সপ্তাহ ধরে তো প্রায় পুরো দিনই থেমে থেমে ভূমিকম্প হল, গত চার দিন ধরে ভিসুভিয়াসের উপরটা ধোঁয়া দিয়েই ঢেকে আছে বলা যায়। পম্পেই কি ভয় পেয়েছে? ভিসুভিয়াস কি ভেবেছে পম্পেই ভয় পাবে? পম্পেই চিন্তা করবে? এক পর্বতের হম্বিতম্বিতে পম্পেই থামবে?.হাহ! ভিসুভিয়াসের গর্জন চাপা পরে গেছে মদ আর মাংশের চিৎকারে। পম্পেই আগ্নেয়গিরির ধোঁয়া ছাপিয়ে উঠেছে মুক্তমন আর সস্তা শরীরের আনন্দে। কে হারাবে পম্পেই কে? এই প্রযুক্তিকে? এই উন্নতিকে? এই নিশ্চিন্ত বিশ্বাসকে? পম্পেই কোনদিন হারবে না। হার মানবে না…
তাই না?———
প্রচন্ড শক্তিতে প্রতি সেকেন্ডে পনের লক্ষ টন গলিত পাথর, গুড়ো হয়ে যাওয়া আকরিক আর তরল আগুন ছুড়ে দেয়া হয়েছিল মাটী থেকে প্রায় ২১ মাইল উচুতে।নিঃসরিত হয়েছিল হিরোশিমায় ফেলা পারমাণবিক বোমার চাইতে এক লক্ষ গুন বেশী তাপ শক্তি। প্রথম বিস্ফোরণের সময় তাপমাত্রা পৌঁছে গিয়েছিল ৩০০ ডিগ্রী সেলসিয়াসে যা এক সেকেন্ডের ভগ্নাংশের মধ্যে কেড়ে নিয়েছিল হাজারো মানুষের জীবন। আনন্দ-উচ্ছাসে মত্ত হাজারো মানুষ শুধু প্রচন্ড তাপের কারণে সৃষ্ট হওয়া থার্মাল শকে, তীব্র খিচুনিতে, অনিয়ন্ত্রিতভাবে শরীর বেঁকে যাবার মত সময়টুকু পেয়েছিল। সেকেন্ডের ভগ্নাংশের মধ্যেই প্রকট মৃত্যুযন্ত্রণা অনুভব করার মতো সময়টুকু পেয়েছিল। তারপর আলোকিত গণিকা আর মুক্তমনা সুশীলতার কামুকরা আর তাদের শরীরগুলো চাপা পরে গিয়েছিল ২১ ফিট গভীর আগ্নেয় ছাইয়ের নিচে।.আল্লাহু আকবার !“তিনিই জীবিত করেন এবং মৃত্যু দেন। যখন তিনি কোন কাজের আদেশ করেন, তখন একথাই বলেন, হয়ে যাও”-তা হয়ে যায়।“ [গাফির, ৪৮]
“তিনিই নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের উদ্ভাবক। যখন তিনি কোন কার্য সম্পাদনের সিন্ধান্ত নেন, তখন সেটিকে শুধু একথাই বলেন, “হয়ে যাও” আর তৎক্ষণাৎ তা হয়ে যায়। [আল বাকা’রা ১১৭]..——–
কওমে লূতকে মানা করা হয়েছিল, সাবধান করা হয়েছিল, কিন্তু তারা তাচ্ছিল্য করে বলেছিল-
“তাঁর [লূত আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম-এর] সম্প্রদায় এ ছাড়া কোন উত্তর দিল না যে, বের করে দাও এদেরকে শহর থেকে। এরা খুব পবিত্র থাকতে চায়!” [আল আরাফ- ৮২]
হুদ আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম ‘আদ জাতিকে সতর্ক করেছিলেন কিন্তু তারা উদ্ধত হয়ে বলেছিল-
“… তারা (‘আদ) পৃথিবীতে অযথা অহংকার করল এবং বলল, আমাদের অপেক্ষা অধিক শক্তিধর কে?”[ফুসিলাত ১৫]
আল্লাহ-র আযাবের আগমনের নিদর্শন দেখেও তারা নিশ্চিন্ত হয়ে বলেছিল –
“(অতঃপর) তারা যখন শাস্তিকে মেঘরূপে তাদের উপত্যকা অভিমুখী দেখল, তখন বলল, এ তো মেঘ, আমাদেরকে বৃষ্টি দেবে। বরং এটা সেই বস্তু, যা তোমরা তাড়াতাড়ি চেয়েছিলে। এটা বায়ু এতে রয়েছে মর্মন্তুদ শাস্তি। [আল আহকাফ, ২৪-২৫]”..সা’মূদকে তিন দিন সময়ের কথা জানিয়ে দিয়েছিলেন সালিহ আলাইহিস সালাতু ওয়াসসালাম, কিন্তু তারা তাঁকে এবং বিশ্বাসীদেরকে বিদ্রূপ করেছিল। তৃতীয় দিনে রাস্তায় নেমে এসেছিল উৎসব করতে, মেতে ঊঠেছিল নাচে গানে উচ্ছ্বাসে, আর বাড়ি ফিরতে ফিরতে নিজেরা বলাবলি করছিল কোথায় সেই শাস্তি?.কোথায় গেল সালিহ [আঃ] আর তাঁর রাব্ব-এর প্রতিশ্রুতি ! আর তারপর সালিহ [আঃ]-এর রাব্ব এবং তাঁদের রাব্ব, এবং সমগ্র সৃষ্টির রাব্ব – মালিকুল মূলক’ আল্লাহ্‌ আযযাওয়াজাল তাদের প্রতি প্রেরণ করেছিলেন সেই জিনিষ যার ব্যাপারে তারা প্রশ্ন করেছিল। সেই প্রতিশ্রুতি যা নিয়ে তারা সন্দেহ পোষণ করেছিল। সেই শাস্তি যা তারা সহস্র সতর্কবাণীর পরও উপেক্ষা করেছিল –.“আর ভয়ঙ্কর গর্জন পাপিষ্ঠদের পাকড়াও করল, ফলে ভোর হতে না হতেই তারা নিজ নিজ গৃহসমূহে উপুর হয়ে পড়ে রইল।যেন তাঁরা কোনদিনই সেখানে ছিল না। জেনে রাখ, নিশ্চয় সামুদ জাতি তাদের পালনকর্তার প্রতি অস্বীকার করেছিল…[হুদ ৬৭-৬৮].
আর রাহমাতুললীল আলামীন মুহাম্মাদ ﷺ তাঁর উম্মাহকে জানিয়েছিলেন তাঁর ﷺ রাব্ব যা নাযিল করেছিলেন তাঁর প্রতি। তিনি ﷺ জানিয়েছিলেন কি ঘটেছিল পূর্ববর্তী জাতিদের। ঘন মেঘ দেখে তিনি ﷺ আল্লাহ-র আযাবের ভয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়তেন, কারণ পূর্ববর্তী জাতির প্রতি আল্লাহ্‌ আযযাওয়াজাল মেঘের মাধ্যমে আযাব প্রেরণ করেছিলেন। তিনি সতর্ক করেছিলেন, তিনি জানিয়েছিলেন কি ঘটবে যখন পূর্ববর্তী এই জাতিদের অনুসরণ শুরু করবে। আর আজ উম্মাতে মুহাম্মাদী নামধারীরা আল্লাহ্‌ আযযা ওয়াজালের নিদর্শন দেখেও নির্বিকার থাকে। ফেইসবুকে চেক ইন মারে আর সেলফি আপলোড করে। আল্লাহ-র আযাবের ব্যাপারে গাফেল হয়ে তাঁর নিদর্শন নিয়ে রসিকতা করে।.”(৯৭) এখনও কি এই জনপদের অধিবাসীরা এ ব্যাপারে নিশ্চিন্ত যে, আমার আযাব তাদের উপর রাতের বেলায় এসে পড়বে অথচ তখন তারা থাকবে ঘুমে অচেতন।
(৯৮) আর এই জনপদের অধিবাসীরা কি নিশ্চিন্ত হয়ে পড়েছে যে, তাদের উপর আমার আযাব দিনের বেলাতে এসে পড়বে অথচ তারা তখন থাকবে খেলা-ধুলায় মত্ত।
(৯৯) তারা কি আল্লাহর পাকড়াওয়ের ব্যাপারে নিশ্চিন্ত হয়ে গেছে? বস্তুতঃ আল্লাহর পাকড়াও থেকে তারাই নিশ্চিন্ত হতে পারে, যাদের ধ্বংস ঘনিয়ে আসে।”[সুরা আল ‘আরাফ]..—–
মাঝে মাঝে চোখ বন্ধ করে আর রাহমান – এর রাহমাতের ব্যপ্তি চিন্তা করার ব্যর্থ চেস্টা করি। মাতৃগর্ভ থেকে কবর পর্যন্ত যতো নিয়্যামাত ভোগ করি সেগুলো না, আমাকে সব চাইতে অবাক করে এই সত্যটা যে এই সেলফি তোলা, রসিকতা করা, চেক-ইন মারা, যিনা থেকে শুরু করে সমকামীতাকে মেনে নেওয়া, আল্লাহ-র কালামকে শ্রাগ করে ঝেড়ে ফেলে দেয়ার চেস্টা করা, ঐতিহ্য আর সংস্কৃতির নামে পৌত্তলিকতায় মেতে ওঠা, “চেতনা” আর প্রজন্মের” এই পশুর চাইতেও নিকৃষ্ট বান্দাগুলোর জন্যও আল্লাহ্‌ আর রাযযাক, রিযক দেন। গাফুরুর রাহীম ক্ষমা করেন।.সামূদ, গোমোরাহ, পম্পেই এর অধিবাসীরা ভুলে ছিল। ‘আদ, সামূদ উপহাস করেছিল। এই ভুলে থাকা এই উপহাস, হাসিঠাট্টা, অন্ধ বিশ্বাস যে সাজানো গোছানো চেনা জীবনটা এক মুহূর্তের মধ্যে উল্টে যাবে না – আল্লাহ-র আযাব, আল্লাহ-র পাকড়াও এর ব্যাপারে এই নিশ্চিন্ত হয়ে যাওয়া কারো কোন কাজে আসে নি। আমাদের ও আসবে না।.“তারা কি আল্লাহর পাকড়াওয়ের ব্যাপারে নিশ্চিন্ত হয়ে গেছে? বস্তুতঃ আল্লাহর পাকড়াও থেকে তারাই নিশ্চিন্ত হতে পারে, যাদের ধ্বংস ঘনিয়ে আসে।”.“তারা জোর শপথ করে বলত, তাদের কাছে কোন সতর্ককারী আগমন করলে তারা অন্য যে কোন সম্প্রদায় অপেক্ষা অধিকতর সৎপথে চলবে। অতঃপর যখন তাদের কাছে সতর্ককারী আগমন করল, তখন ঔদ্ধত্যের কারণে এবং কুচক্রের কারণে তাদের ঘৃণাই কেবল বেড়ে গেল।পৃথিবীতে কুচক্র কুচক্রীদেরকেই ঘিরে ধরে। তবে তারা [কি] পূর্ববর্তীদের দশা ছাড়া আর কোন পরিণাম আশা করছে? অতএব আপনি আল্লাহর বিধানে পরিবর্তন পাবেন না এবং আল্লাহর রীতি-নীতিতে কোন রকম বিচ্যুতিও পাবেন না। [ফাতির ৪২-৪৩]

এরা ইসলামকে আর কত বিকৃত করতে চায় ?

হিন্দুদের কাফির বলা যাবেনা’: সাইয়্যেদ আরশাদ মাদানি।মরহুম হোসাইন আহমদ মাদানি (রঃ)-এর সুযোগ্য সন্তান “জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ”-এর প্রেসিডেন্ট এবং “দারুল উলূম দেওবন্দ, ভারত”-এর সিনিয়র আকাবির সাইয়্যেদ আরশাদ মাদানি সাহেব উপরোক্ত উক্তিটি করেছেন। যদিও ইতিপূর্বে “দারুল উলূম দেওবন্দ”-এর আরো একাধিক আকাবির একইরকমের উক্তি করেছিলেন।সম্মানিত শাইখের উল্লেখিত বক্তব্যের বিষয়ে ভারতবর্ষের সচেতন মুসলমানদের স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন থাকতে পারে যে, যেখানে ইসলামের চরম দুশমনদের আতঙ্ক, ইসলামের কালজয়ী কলম সৈনিক, বিশ্ব ইসলামী আন্দোলনের প্রসিদ্ধ একজন পুরোধা এবং বিগত শতাব্দীর ইসলামী রেনেসাঁর অগ্রপতিক “সাইয়্যেদ আবুল আ’লা মাওদুদী (রঃ) এবং বর্তমান শতাব্দীর অপ্রতিরুদ্ধ ইসলামী ব্যক্তিত্ব ডা: জাকির নায়েক (দাঃ বাঃ)”-কে “দারুল উলূম দেওবন্দ”-এর অতীত ও বর্তমানের প্রসিদ্ধ আকাবিরগণ প্রকাশ্য জন সমাবেশে বারবার কাফির বলে ফতোয়া দিয়েছেন ও দিয়ে যাচ্ছেন, অথচ মূর্তি পুজক হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কেনো কাফির বলা যাবেনা?
তাহলে কি ভারতবর্ষের হিন্দুরা-১- “সকল সমস্যার সমাধানকারী জীবন বিধান হিসেবে আল-ক্বোরআনকে গ্রহণ করে নিয়েছে?
২- সর্বশেষ নবী ও একমাত্র আদর্শ নেতা হিসেবে মুহাম্মদ (সঃ) কে মেনে নিয়েছে?
৩- অন্যান্য দেব দেবীর পুজা অর্চনা বাদ দিয়ে ‘মহান আল্লাহ’-কে নিজেদের একমাত্র রব তথা যাবতীয় প্রয়োজন পূরণকারী হিসেবে গ্রহণ করেছে নিয়েছে এবং দেওবন্দের আকাবির ও শাইখদের সাথে তারা একই মসজিদে নিয়মিত সালাত আদায় করতেছে?
৪- যারা ‘মহান আল্লাহ’-র সাথে নিজেদের পচ্ছন্দসই অন্যান্য দেব-দেবী ও বিভিন্ন মূর্তির পুজা করে তাদেরকে মুশরীক বলে। আমার প্রশ্ন হলো; তাহলে কি হিন্দুরা মুশরীক নহে?
৫- যারা যেকোনোভাবে আল্লাহর সাথে শরীক সাব্যস্ত করে তারা কি মুশরীক নহে?
৬- মুশরীকদেরকে কি কাফির বলা যাবেনা?
৭- মুশরীকরা কি কাফির থেকেও উত্তম অথবা ভারতীয় হিন্দুরা প্রকৃতি ও নীতিগতভাবে মুশরীক নহে?
বাংলাদেশে বসবাসকারী কংগ্রেস পন্থী মোহতারাম আকাবির মহোদয়গণের (যারা ভারতের মাদানি পরিবারের পূতিগন্ধময় আদর্শ বাংলাদেশে অহরহ প্রচার করে বেড়াচ্ছেন) কাছ থেকে আমার উল্লেখিত প্রশ্নগুলোর সঠিক ও নির্ভরযোগ্য জবাব পাওয়ার আশা করছি।

যাদুকরের জ্বিন হাজির করার পদ্ধতি

যাদুকর ও শয়তানের মধ্যে চুক্তি

সাধারণত যাদুকর এবং শয়তান এই কথার উপর ঐক্যবদ্ধ হয় যে, যাদুকর কতক শিরকভুক্ত কাজ করবে অথবা প্রকাশ্য কুফুরি কাজ করবে। এর পরিবর্তে শয়তান যাদুকরের সেবায় নিয়োজিত হবে বা অন্য কাউকে তার অধীন করে দিবে যে তার সেবা করবে। আর চুক্তিটি হয়ে থাকে সাধারণত যাদুকর এবং জ্বিন শয়তানের গোত্র প্রধানের সাথে । সুতরাং থাকে। আর সেই জ্বিন অথবা শয়তান গোপনীয় তথ্য যাদুকরকে প্রদান করে, দুজনের মাঝে শক্রতা সৃষ্টি বা উভয়ের মাঝে মুহাব্বাত সৃষ্টি করিয়ে দিয়ে থাকে বা স্বামী-স্ত্রীর মাঝে বিচ্ছেদ ঘটায়। অনুরূপ আরো অনেক কিছু সম্পাদন করিয়ে থাকে যা বিস্তারিত বর্ণনা করা হবে ইনশাআল্লাহ ষষ্ঠ অধ্যায়ে। এভাবে যাদুকর জ্বিন ও শয়তানকে তার অধীনে নিয়ে খারাপ কাজ করে থাকে। অতঃপুর যদি জ্বিন কখনও আনুগত্য না করে তবে যাদুকর তাবিজের মাধ্যমে সে নেতা জিনের নৈকট্য লাভ করে এবং তার গুণ কীর্তন ও তার নিকট ফরিয়াদ করে তার (গোত্রের প্রধান জিনের) কাছে অভিযোগ করে এবং আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা না করে তার কাছেই সাহায্য চায়। অতঃপর সেই জ্বিন সরদার সেই সাধারণ জিনকে শাস্তি প্রদান করে এবং যাদুকরের আনুগত্যে বাধ্য করে।

এভাবে যাদুকর আর তার অনুগত জ্বিনের মাঝে বৈরী সম্পর্ক এবং শক্ৰতা ও সৃষ্টি হয়, আর এই জ্বিন যাদুকরকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে বিন্দুমাত্রও দ্বিধাবোধ করে না এমনকি তার সন্তান ও ধন-সম্পদে ব্যাপক ক্ষতিসাধন করে থাকে এবং যাদুকরকেও অনেক কষ্ট দিয়ে থাকে। যেমনঃ স্থায়ীভাবে মাথা ব্যথা, ঘুম না আসা, রাতে ভয় পাওয়া ইত্যাদি। আর যাদুকরের সাধারণত সন্তানও জন্ম লাভ করে না। কেননা জ্বিন মাতৃগর্ভে শিশুকে মেরে ফেলে। আর এই বিষয় যাদুকরদের নিকট প্রসিদ্ধ। এমনকি যাদুকর সন্তানের আশায় যাদু করা থেকে বিরত থাকে। এক্ষেত্রে আমার একটি স্মরণীয় ঘটনা উল্লেখ করছিঃ

আমি এক যাদুতে আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসা করছিলাম। যখন আমি তার উপর কুরআন পড়ছিলাম তখন যাদুর হুকুমপ্রাপ্ত জ্বিন সেই মহিলা রোগীর মুখের দ্বারা বলতে লাগল আমি এই মহিলার ভিতর থেকে বের হব না। আমি জিজ্ঞাসা করলাম কেন? তখন সে বলল যাদুকর আমাকে মেরে ফেলবে। আমি বললাম তুই এমন স্থানে চলে যা যেখানে যাদুকর পৌছতে পারবে না। উত্তরে জ্বিনটি বললঃ যাদুকর আমাকে খোজার জন্যে অন্য জ্বিন প্রেরণ করবে। তখন আমি বললাম তুই সত্য ও নিষ্ঠার সাথে তাওবা করে শিখিয়ে দিব যা তোমাকে কাফের জিনের অনিষ্ট থেকে রক্ষা করবে। তখন সে বললঃ “আমি মুসলমান কখনও হব না; বরং আমি সব সময় খ্রিস্টান থাকব। আমি বললামঃ ধৰ্মগ্রহণে কোন বাধ্য করা নেই; কিন্তু তুই এখন এই মহিলা থেকে বের হয়ে যা। সে বলল কখনও না। আমি বললাম এখন আমি তোর উপর কুরআন পড়ব যে পর্যন্ত তুই জ্বলে না যাবি। এরপর আমি ওকে অনেক মারলাম। যার ফলে সে কাদতে লাগল এবং বলতে লাগল যে, যাচ্ছি এখুনি যাচ্ছি।

অবশেষে আল-হামদুলিল্লাহ সেই জ্বিন মহিলা থেকে বের হয়ে চলে গেল। আল্লাহ সব কিছু থেকে পবিত্র ও মহান এটা সত্য যে, যাদুকর যত বেশি কুফুরী করবে জ্বিন তার আনুগত্য ততবেশি করবে। আর তা না হলে আনুগত্য করে না।

যাদুকর কিভাবে জিন হাজির করে?

জিন হাজির করার অনেক প্রকার রয়েছে। আর প্রত্যেক প্রকারেই স্পষ্ট শিরক বা কুফরী জড়িত রয়েছে। সেগুলির কতিপয় উল্লেখ করা হবে ইনশাআল্লাহ। নিম্নে আটটি পন্থা ও প্রত্যেক পন্থায় শিরকের কি ধরণ কিছু সংক্ষিপ্তাকারে বর্ণনা করা হবে। পরিপূর্ণ বর্ণনা দেয়া হবে না। যাতে কেউ তা শিখে ব্যবহার না করতে পারে। যার কারণে তার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বিলুপ্ত করে উল্লেখ করা হবে। আর এগুলি এজন্যেই বর্ণনা হলো, কেননা কোন কোন মুসলমান কুরআনী চিকিৎসা ও যাদুর সাহায্যে চিকিৎসার পার্থক্য করতে পারে না। অথচ প্রথমটি হলো ঈমানী চিকিৎসা আর দ্বিতীয়টি হলো শয়তানী চিকিৎসা।

আর বিষয়টি আরো জটিল হয়ে যায় যখন চতুর যাদুকর স্বীয় কুফরী যাদু মন্ত্রকে চুপে চুপে পড়ে; আর যখন এর মাঝে কোন আয়াত হয় তখন তা রুগীকে স্বজোরে পড়ে শুনায় যাতে সে মনে করে তাকে কুরআন দ্বারা চিকিৎসা করা হচ্ছে; কিন্তু প্রকৃতপক্ষে ব্যাপারটি তা নয়। এজন্যে রুগী যাদুকরের প্রত্যেক কথা বিশ্বাস করে মানা শুরু করে। সুতরাং এখানে এই পন্থাগুলো বর্ণনার এটিই উদ্দেশ্য যাতে মুসলমানগণ ভ্ৰষ্টতা হতে রক্ষা পায় এবং উক্ত ভন্ড অপরাধীদেরকে চিনতে পারে।

যাদুকরের জিন হাজির করার পদ্ধতি – প্রথম পদ্ধতিঃ শপথ করা

যাদুকর একটি অন্ধকার ঘরে প্রবেশ করে আগুন জ্বালায় । আগুনে তার উদ্দেশ্য মত এক ধরণের ধূপ দেয়। সে যদি পরস্পর বিভেদ সৃষ্টি বা শক্ৰতা-হিংসা বা এমন কিছু ইচ্ছা পোষণ করে তবে আগুনে সে দূর্গন্ধযুক্ত ধূপ নিক্ষেপ করে। আর যদি পরস্পর মুহাব্বত সৃষ্টি বা স্ত্রীর প্রতি স্বামীকে আকৃষ্ট করা বা অন্য যাদু নষ্ট করার ইচ্ছা হয় তবে সে আগুনে সুগন্ধযুক্ত ধূপ মিশ্রণ করে। তারপর যাদুকর নির্ধারিত শিরকী মন্ত্র পড়তে থাকে। যাতে সে জ্বিনদের সরদারের দোহায় বা শপথ দেয়, তার মহত্বের দোহায় দিয়ে চায়; এমন কি তার মন্ত্রে আরো বিভিন্ন ধরণের শিরক অন্তর্ভুক্ত থাকে যেমনঃ বড় জিনের সম্মান ও বড়ত্বের বর্ণনা, তার নিকট ফরিয়াদ ও সাহায্য প্রার্থনা ইত্যাদি।

শর্ত হলো এমতাবস্থায় যাদুকরকে নাপাক থাকতে হবে বা নাপাক কাপড় পরে থাকতে হবে ইত্যাদি ইত্যাদি।

তার কুফী মন্ত্র পাঠ শেষ হওয়া মাত্রই কুকুর বা অজগর বা অন্য কোন আকৃতিতে ভূত-প্রেতের আবির্ভাব ঘটে। অতঃপর যাদুকর যা তার ইচ্ছা তাকে নির্দেশ করে। আবার কখনও তার সামনে কোন কিছুই প্রকাশ পায় না। তবে সে তার একটি শব্দ শুনে। আবার কখনও কোন কিছুই শুনে না, তবে উদ্দিষ্ট ব্যক্তির কোন চিহ্নতে যাদুর গিরা লাগায়। যেমনঃ তার চুলে বা তার কাপড়ের টুকরাই যাতে তার গায়ের গন্ধ থাকে ইত্যাদি। এরপর সে যা ইচ্ছা সে অনুযায়ী জিনকে হুকুম করে ।

উক্ত পদ্ধতি হতে নিম্নোক্ত বিষয়গুলি ফুটে ওঠেঃ

১। জিন অন্ধকার কক্ষ পছন্দ করে।

২। জিন ধূপের গন্ধ গ্রহণ করে, যাতে আল্লাহর নাম না নেয়া হয়।

৩। এ পদ্ধতিতে স্পষ্ট শিরক হলো, জিনের দোহায় বা শপথ ও তাদের নিকট ফরিয়াদ ও সাহায্য প্রার্থনা করা।

৪ । জিন নাপাকী পছন্দ করে এবং শয়তান নাপাকের নিকটতম হয়ে থাকে।

দ্বিতীয় পদ্ধতিঃ যবাই করা

যাদুকর একটি পাখি বা জন্তু বা মুরগি বা কবুতর বা অন্য কিছু জিনের আবদার অনুযায়ী হাজির করে। সাধারণত যা কাল রঙের হয়ে থাকে। কেননা জিন কাল রং পছন্দ করে। তারপর আল্লাহর নাম না নিয়ে তা যবাই করে। অতঃপর কখনও সে রক্ত রুগীকে মাখায়। কখনও এরূপ না করে পরিত্যাক্ত গৃহে বা কূপে বা মরুভূমিতে নিক্ষেপ করে। যেগুলিতে সাধারণত জিন বসবাস করে থাকে। নিক্ষেপের সময় আল্লাহর নাম নেয় না। এরপর স্বীয় ঘরে ফিরে এসে শিরকী মন্ত্র পড়ে। তারপর জিনকে যা ইচ্ছা হুকুম করে ।

উক্ত পদ্ধতির বিশ্লেষণঃ এ পদ্ধতিতে দু’ভাবে শিরক হয়ে থাকে।

প্রথমতঃ জিনের উদ্দেশ্যে যবাই করা। যা পূর্ব ও পরবর্তী সকল ইমামের ঐক্যমতে হারাম; বরং তা হলো শিরক। কেননা আল্লাহ ব্যতীত কারো নামে যবাই করা কোন মুসলমানের জন্য খাওয়া জায়েয নয়। আর যবাই করা তো বহুদূরের ব্যাপার তা সত্বেও কোন কোন অজ্ঞরা প্রত্যেক যুগে প্রত্যেক স্থানে এ ধরণের জঘন্য কাজ করে থাকে।

এক্ষেত্রে ইয়াহইয়া বিন ইয়াহইয়া বলেনঃ ওয়াহাব আমাকে বলেনঃ কোন এক খলিফা একটি ঝর্ণা কাটায়। যখন সে তা প্রবাহিত করাতে চায়। সে জিনের জন্য সেখানে যবাই করে, যাতে তারা তার পানি ভূ-গর্ভে না নামিয়ে দেয়। অতঃপর তা লোকদেরকে খাওয়ায় । এ খবর ইবনে শিহাব আয যুহরীকে পৌছিলে তিনি বলেনঃ সে তা যবাই করেছে তার উদ্দেশ্যে, যার উদেশ্য যবাই করা হালাল নয়; আবার তা লোকদেরকে আহার করিয়েছে যা তাদের জন্য হালাল নয়; বরং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিষেধ করেছেন ঐ জিনিস খেতে যা জিনের উদ্দেশ্যে যবাই করা হয় ইত্যাদি। (আহকামুল মারজানঃ ৭৮)

সহীহ মুসলিমে বর্ণিত আলী বিন আবু তালেব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) তার বর্ণনায় বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ “যে ব্যক্তি আল্লাহ ব্যতীত অন্যের নামে যবাই করল আল্লাহ তার প্রতি লা’নত করুন।”

দ্বিতীয়তঃ শিরকী মন্ত্ৰঃ আর তা হলো, ঐ সমস্ত শিরকী কালাম যা জিন হাজির করার সময় সে উপস্থাপন করে থাকে, যা স্পষ্ট শিরক। যেমনঃ শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যা (রাহেমাহুল্লাহ) তার কিতাবের অনেক স্থানে উল্লেখ করেন। (আল ইবানা ফী উমুমির রিসালা)

তৃতীয় পদ্ধতিঃ নিকৃষ্টতম পদ্ধতি

এটি অতি নিকৃষ্টতম পদ্ধতি। এতে শয়তানের এক বড় দল অংশ নেয় ও যাদুকরের খেদমত করে এবং তার হুকুম বাস্তবায়ন করে। কেননা যাদুকর এতে সর্ববৃহৎ কুফরী ও কঠিনভাবে নাস্তিকের পরিচয় দেয়।

পদ্ধতির বিশ্লেষণঃ যাদুকর (আল্লাহর লা’নত হোক) জুতা পায়ে কুরআন মাজীদ পদদলিত করে তা নিয়ে পায়খানায় প্রবেশ করে। অতঃপর পায়খানায় কুফরী কালাম পড়ে একটি কক্ষে ফিরে আসে এবং জিনকে যা ইচ্ছা হুকুম করে। জিন দ্রুত তখন তার অনুসরণ করে ও হুকুম পালন করে থাকে। আর জিন তা করে থাকে শুধুমাত্র যাদুকরের মহান আল্লাহর সাথে কুফরী করার জন্য। এভাবে সে শয়তানের ভাইয়ে পরিণত হয় এবং স্পষ্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যায়। যার ফলে তার প্রতি আল্লাহর লা’নত বর্ষিত হয়।

এ পদ্ধতির যাদুকরের সাথে বেশ কিছু কবীরা গুনায় পতিত হওয়ার শর্তারোপ করা হয়। যেমনঃ যা কিছু উল্লেখ হয়েছে তা ছাড়াও হারাম কাজ সমূহে পতিত হওয়া, সমকামিতা, ব্যাভিচার, ধর্মকে গালি দেয়া ইত্যাদি। এসবগুলি করে থাকে শয়তানের সন্তুষ্টি অর্জনের জন্যে ।

চতুর্থ পদ্ধতিঃ অপবিত্রতার পদ্ধতি

এ পদ্ধতিতে মালাউন যাদুকর কুরআনের সূরা ঋতুস্রাবের (হায়েজের) রক্ত দ্বারা বা অন্য কোন অপবিত্র কিছু দ্বারা লিখে; তারপর শিরকী মন্ত্র পড়ে, যার ফলে জিন হাজির হয়। এরপর তার যা ইচ্ছা তাকে হুকুম করে।

এ পদ্ধতি যে স্পষ্ট কুফরী তাতে কোন সন্দেহ নেই। কেননা কোন সূরা এবং কোন আয়াতকে উপহাস করা আল্লাহর সাথে কুফরী। আর যেখানে তা অপবিত্র জিনিস দ্বারা লিখা হয়, আল্লাহর নিকট আমরা এ অবমাননা হতে আশ্রয় প্রার্থনা করি এবং তার নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাদের অন্তরে ঈমানকে সুদৃঢ় করেন ও ইসলামের উপর মৃত্যুদান করেন ও নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সাথে হাশর করেন। (আমিন)

পঞ্চম পদ্ধতিঃ উল্টাকরণ পদ্ধতি

মালাউন যাদুকর এ পদ্ধতিতে কুরআনের সূরাকে উল্টা অক্ষরে লিখে থাকে। অর্থাৎ শেষ হতে প্রথম, অতঃপর শিরকী কালাম বা মন্ত্র পড়ে, যার ফলে জিন হাজির হয় ও তাকে তার হুকুম প্রদান করে।

এ পদ্ধতিও তাতে শিরক ও কুফর থাকার কারণে হারাম।

ষষ্ঠ পদ্ধতিঃ জ্যোতিষ পদ্ধতি

এ পদ্ধতিকে পর্যবেক্ষণ পদ্ধতিও বলা হয়। কেননা যাদুকর নির্ধারিত এক তারকা উদয়ের উপেক্ষায় থাকে। অতঃপর সে তাকে সম্বোধন করে যাদু মন্ত্র পড়তে থাকে। তারপর অন্যান্য শিরকী ও কুফরী কালাম পড়তে থাকে। যা আল্লাহ ব্যতীত কেউ জানে না। তারপর সে এমনভাবে নড়া-চড়া করে যাতে সে ধারণা পোষণ করায় যে, সে উক্ত তারকার আধ্যাত্মিকতার ভিত্তিতে তা করছে; কিন্তু প্রকৃতপক্ষে সে আল্লাহ ব্যতীত তারকার ইবাদত করছে। যদিও এ জ্যোতিষী বুঝতে পারেনা যে, তার এ কর্ম আল্লাহ ব্যতীত অন্যের ইবাদত ও অন্যের মহত্ব প্রকাশ হয়। এরপর শয়তানরা তার নির্দেশে সাড়া দেয়; আর সে মনে করে যে, এ তারকায় তাকে এসবে সাহায্য করে। অথচ উক্ত তারকার এ সম্পর্কে কিছুই অবগতি নেই।

যাদুকররা মনে করে থাকে যে, এ যাদু আর খুলবে না যে পর্যন্ত দ্বিতীয়বার প্রকাশ না পাবে। (এ বিশ্বাস একান্তই যাদুকরদের; কিন্তু কুরআনের চিকিৎসা দ্বারা এ যাদু আল্লাহর ফজলে নষ্ট করা যায়।) আর সত্যই কোন কোন তারকা বছরে মাত্র একবারই প্রকাশ পায়। সুতরাং যাদুকররা তার প্রকাশের অপেক্ষায় থাকে ও পরে সে তারকার নিকট ফরিয়াদ ও সাহায্য কামনা করে মন্ত্র পড়তে থাকে যাতে তাদের যাদু খুলে দেয়।

নিঃসন্দেহে এ পদ্ধতিও আল্লাহ ব্যতীত অন্যের নিকট সাহায্য প্রার্থনা ও তার বড়ত্বের প্রকাশের জন্য শিরক ও কুফুরী।

সপ্তম পদ্ধতিঃ পাঞ্জা পদ্ধতি

এ পদ্ধতিতে যাদুকর ছোট এমন একটি বালককে হাজির করে যে, এখনও প্রাপ্ত বয়সে পৌছেনি। আর সে যেন বিনা ওযু হয় তারপর সে বালকের বাম পাঞ্জা ধরে তার হাতে এরূপ চতুর্ভূজ অংকন করে।

অতঃপর এই চতুর্ভূজের পার্শ্বে শিরকী যাদুমন্ত্র লিখে। আর এ যাদুমন্ত্র সে তার চার কর্ণারে লিখে থাকে। অতঃপর বালকের হাতের তালুতে চতুর্ভূজের মধ্যখানে কিছু তৈল, একটি নীল ফুল বা কিছু তৈল ও নীল কালি রাখে । এরপর আবার অন্য এক মন্ত্র লিখে একক অক্ষর দ্বারা এক লম্বা কাগজে, তারপর সে কাগজ বালকটির চেহারার উপর ছাতার আকৃতিতে রাখে। তার উপর পরিয়ে দেয় একটি টুপী যাতে তা ঠিক থাকে। তারপর বালকটিকে মোটা কাপড় দ্বারা পুরোপুরি আবৃত করে ফেলে। এমতাবস্থায় বালকটি তার তালুর দিকে তাকাতে থাকে; কিন্তু ভিতরে অন্ধকার হওয়ার কারণে কিছু দেখতে পায় না। এরপর মালাউন যাদুকর কঠিন প্রকৃতির কুফরী পাঠ করতে থাকে। তারপর বালকটি হঠাৎ করে আলো দেখতে পায় ও দেখে যে তার হাতের তালুতে একটি ছবি নড়া-চড়া করছে। অতঃপর যাদুকর বালককে জিজ্ঞাসা করে কি দেখছ? বালক জবাব দেয় আমি আমার সামনে এক ব্যক্তির ছবি দেখছি।

যাদুকর বলেঃ তাকে বলঃ তোমাকে যাদুকর বা পীর সাহেব এই এই বিষয়ে বলছে। এরপর ছবিটি হুকুম অনুযায়ী নড়া-চড়া করতে থাকে। এ পদ্ধতি তারা সাধারণত হারানো বস্তু খোজার জন্য ব্যবহার করে থাকে।

নিঃসন্দেহে এ পদ্ধতিও শিৱক, কুফর ও অবোধগম্য তন্ত্ৰ-মন্ত্রে ভরা।

অষ্টম পদ্ধতিঃ চিহ্ন গ্রহণ পদ্ধতি

এ পদ্ধতিতে যাদুকর রুগীর নিকট হতে তার কোন চিহ্ন তলব করে। যেমনঃ রুমাল, পাগড়ী, জামা বা এমন কোন ব্যবহৃত জিনিস যাতে রুগীর গায়ের গন্ধ পাওয়া যায়। তারপর সে রুমালের এক পাশ্বে গিরা দেয়। এরপর চার আঙ্গুল পরিমাণ পর খুব শক্ত করে রুমালটি ধারণ করে সূরা কাউসার বা অন্য যে কোন ছোট একটি সূরা স্বজোরে পড়ে চুপি চুপি শিরকী মন্ত্র পড়ে। তারপর জিনকে ডাকতে থাকে ও বলতে থাকেঃ যদি তার রোগ জিনের কারণে হয়ে থাকে তবে সে রুমাল (বা কাপড়) টি ছোট করে দাও। যদি তার রোগ বদনজরের কারণে হয় তবে তা লম্বা করে দাও । আর যদি সাধারণ ডাক্তারী কোন রোগ হয় তবে আপন অবস্থায় ছেড়ে দাও। এরপর সেটি পুনরায় পরিমাপ করে যদি তা চার আঙ্গুলের চেয়ে লম্বা পায় বলেঃ তুমি হিংসুকের বদনজরে আক্রান্ত হয়েছো। যদি তা ছোট পায় তবে বলে যে, তুমি জিনের আসরে পতিত হয়েছ। আর যদি অনুরূপ পায় আঙ্গুলই থাকে তবে বলেঃ তোমার নিকট কিছু নেই। তুমি ডাক্তারের নিকট যাও।

এই পদ্ধতির বিশ্লেষণঃ

১। রুগীর মধ্যে সংশয় সৃষ্টি করে দেয়া, জোরে কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে যে, সে কুরআনের দ্বারা তার চিকিৎসা করছে অথচ সে তখনই চুপে চুপে মন্ত্র পড়ে থাকে।

২। জিনের নিকট ফরিয়াদ ও সাহায্য কামনা এবং তাদেরকে আহবান করা ও তাদের নিকট প্রার্থনা করা। অথচ এগুলি শিরক।

৩ । জিনদের মাঝে অনেক মিথ্যা পাওয়া যায়। অতএব আপনি কিভাবে বুঝবেন যে, এ ব্যাপারে এই জিনের কথা সত্য না মিথ্যা। আমরা কোন কোন যাদুকরের কথা ও কাজকে কখনও কখনও পরীক্ষা করেছি, তাতে দেখা গেছে, সে কখনও সত্য বলেছে; কিন্তু অধিকাংশই মিথ্যা। এমনও হয়েছে যে, আমাদের নিকট কোন রুগী এসে বলেছে, তাকে যাদুকর বলেছেঃ তোমাকে বদ নজর লেগেছে। অথচ যখন তার উপর কুরআন তেলাওয়াত করা হয়েছে তখন জিন কথা বলে উঠেছে। তা আসলে বদনজর নয়। এমন অনেক অনেক ধরণের পদ্ধতি আরো রয়েছে যা আমরা জানি না।

যাদুকর চেনার উপায় ও আলামত

কোন চিকিৎসক বা কবিরাজের মধ্যে এ সমস্ত লক্ষণ বা আলামতের কোন একটিও পাওয়া গেলে নিঃসন্দেহে বুঝা যাবে যে সে যাদুকর। আলামতগুলি নিম্নরূপঃ

১। রুগীর নাম ও মায়ের নাম জিজ্ঞেস করা।

২। রোগীর কোন চিহ্ন গ্রহণ করা। যেমনঃ কাপড়, টুপী, রুমাল ইত্যাদি।

৩। যবাই করার জন্য কোন নির্দিষ্ট জীব-জন্তু চাওয়া, এবং তা আল্লাহর নামে যবাই না করা। কখনও তার রক্ত ব্যথার স্থানে মাখান বা বিরান ঘর বা জায়গায় তা নিক্ষেপ করা।

৪। রহস্যময় মায়াজাল বা মন্ত্র লিখা।

৫ । অস্পষ্ট তন্ত্ৰ-মন্ত্র ও মায়াজাল পাঠ করা।

৬। রোগীকে চতুর্ভূজ নক্সা বানিয়ে দেয়া, যাতে থাকে অক্ষর বা নম্বর।

৭। রোগীকে এক নির্ধারিত সময় এক কক্ষে (যাতে আলো প্রবেশ করে না।) লোকদের অন্তরালে থাকার নির্দেশ দেয়া।

৮ । রোগীকে এক নির্ধারিত সময় পর্যন্ত যা সাধারণত ৪০ দিন হয়ে থাকে পানি স্পর্শ করতে নিষেধ করা। এ লক্ষণ দ্বারা বুঝা যাবে যে, যাদুকর যে জিন ব্যবহার করে সে খ্রিস্টান।

৯ । রোগীকে কোন জিনিস পুতে রাখতে দেয়া।

১০ । রোগীকে কিছু পাতা দিয়ে তা জ্বালিয়ে তা থেকে ধোয়া গ্রহণ করতে বলা ।

১১ । অস্পষ্ট কালাম বা কথা দ্বারা তাবীয বানিয়ে দেয়া ।

১২। রোগীর নিজেই নাম, ঠিকানা ও সেই সমস্যা বলে দেয়া।

১৩। ছিন্ন-ছিন্ন অক্ষর লিখে রোগীকে নক্সা বা তবিয বানিয়ে দেয়া । বা কোন সাদা পাথরে লিখে দেয়া ও তা ধুয়ে পানি পান করতে বলা ।

আপনি যদি এসব লক্ষণ জেনে বুঝতে পারেন যে, সে যাদুকর তবে আপনি অবশ্যই তার নিকট যাওয়া থেকে সতর্ক হয়ে যাবেন নচেৎ আপনার প্রতি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী প্রযোজ্য হয়ে যাবেঃ

(من أتى كا هنا فصدقه بما يقول فقد كفر بما أنزل على محمد)

অর্থাৎ “যে ব্যক্তি গণকের নিকট এসে সে যা বলল তা বিশ্বাস করল, সে অবশ্যই মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রতি যা অবতীর্ণ করা হয়েছে তা অস্বীকার করল।” (হাসান সনদে বাজ্জার বর্ণনা করেন এবং আহমদ ও হাকেম বর্ণনা করেন, আলবানী সহীহ বলেছেন )

সূত্রঃ যাদুকর ও জ্যোতিষীর গলায় ধারালো তরবারি গ্রন্থ থেকে

আসুন জেনে নেই যাদু কিভাবে করা হয়

যাদুকরেরা যাদু কিভাবে করে?
যাদুকরের শাস্তি হলো গর্দান উড়িয়ে দেওয়া।
যাদুকরকে সনাক্ত করা গেলে তাকে বাধ্য করতে হবে যেন সে যে যাদু করেছে সেটা নষ্ট করে ফেলে। তাকে বলা হবে: তুমি যে তদবির (যাদু) করেছ সেটা নষ্ট কর নতুবা তোমার গর্দান যাবে। সে যাদুর তদবিরটি ধ্বংস করে ফেলার পর মুসলিম শাসক তাকে হত্যা করার নির্দেশ দিবেন। কারণ বিশুদ্ধ মতানুযায়ী, যাদুকরকে তওবার আহবান জানানো ছাড়া হত্যা করা হবে। যেমনটি করেছেন- উমর (রাঃ)। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেন:
“যাদুকরের শাস্তি হচ্ছে তরবারির আঘাতে তার গর্দান ফেলে দেয়া।”
যখন হাফসা (রাঃ) জানতে পারলেন যে, তাঁর এক বাঁদি যাদু করে তখন তাকে হত্যা করা হয়।
যাদুটোনা থেকে নিরাময়ের উপায় সম্পর্কে জানতে পড়ুনঃ
https://islamqa.info/bn/12918

যাদুকরেরা বিভিন্ন মন্ত্র, সংখ্যা, দুর্বোধ্য লেখা, কখনোবা কুরানের আয়াতের অংশ দিয়ে শয়তান কাফের জিনদের সাথে যোগাযোগ করে। ঐ দুর্বোধ্য লেখাগুলোতে মারাত্মক রকমের শিরকি ও কুফুরী কথাবার্তা লেখা থাকে, আর মানুষ শিরক কুফর করে জাহান্নামে যাওয়ার উপযুক্ত হলে শয়তান জিনেরা খুশি হয়। কারণ, শয়তান জিনেরা ইবলিসের অনুসারী, আর ইবলিস ও তার অনুসারীদের সাথে আদম (আঃ) ও তার সন্তানদের চিরদিনের শত্রুতা, যেইদিন থেকে আদম (আঃ) কে সেজদা করতে অবাধ্য হয়ে ইবলিস কাফের ও চির অভিশপ্ত হয়েছে। তাই, শিরক ও কুফর করে কোন মানুষ কাফের হয়ে গেলে, ইবলিস ও তার অনুসারীরা তাকে সাহায্য করে, এই সাহায্যের একটা অংশ হচ্ছে “যাদু”, যা আসলে জিনেরা বিভিন্ন কাজ করে মানুষের উপর প্রভাব বিস্তার করে।

ছবি পরিচিতিঃ
পোস্টের ছবিটা আসলে স্বামী-স্ত্রীর মাঝে বিচ্ছেদ সৃষ্টি করার জন্য “যাদুর তাবীজ” এর ছবি, যা একজন রোগীকে রুকিয়া (শরীয়ত সম্মত ঝাড়ফুক) করার সময় জিন স্বীকার করে “যাদুর তাবীজ” কোথায় রাখা আছে বলে দেয়।

বক্স ১ – কুরানের একটা আয়াতের কিছু অংশ নেওয়া হয়েছেঃ
“অতঃপর আমি কেয়ামত পর্যন্ত তাদের মধ্যে পারস্পরিক শত্রুতা ও বিদ্বেষ সঞ্চারিত করে দিয়েছি”।
সুরা আল-মায়েদাঃ ১৪।

বক্স ২ – যাদের উপর যাদু করা হয়েছে তাদের নাম

বাকি আকাউকিগুলো আসলে বিভিন্ন মন্ত্র ও নাম্বার যার মাধ্যমে জিনদের সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে। আউযুবিল্লাহ, এর মাঝে শিরক ও কুফর রয়েছে।

এইজন্য, যাদু যে করে, যাদু যে করায় – উভয়েই কাফের ও মুর্তাদ হয়ে যায়। যাদুকরের শাস্তি হচ্ছে তাকে হত্যা করে ফেলা।
http://ansarus-sunnah.blogspot.com/2014/06/blog-post_5.html
===============================================
যাদুকরের শাস্তি হলো গর্দান উড়িয়ে দেওয়া।
যাদুকরকে সনাক্ত করা গেলে তাকে বাধ্য করতে হবে যেন সে যে যাদু করেছে সেটা নষ্ট করে ফেলে। তাকে বলা হবে: তুমি যে তদবির (যাদু) করেছ সেটা নষ্ট কর নতুবা তোমার গর্দান যাবে। সে যাদুর তদবিরটি ধ্বংস করে ফেলার পর মুসলিম শাসক তাকে হত্যা করার নির্দেশ দিবেন। কারণ বিশুদ্ধ মতানুযায়ী, যাদুকরকে তওবার আহবান জানানো ছাড়া হত্যা করা হবে। যেমনটি করেছেন- উমর (রাঃ)। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেন:
“যাদুকরের শাস্তি হচ্ছে তরবারির আঘাতে তার গর্দান ফেলে দেয়া।”
যখন হাফসা (রাঃ) জানতে পারলেন যে, তাঁর এক বাঁদি যাদু করে তখন তাকে হত্যা করা হয়।
যাদুটোনা থেকে নিরাময়ের উপায় সম্পর্কে জানতে পড়ুনঃ
https://islamqa.info/bn/12918
=======================================
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য।

যাদুটোনায় আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসার বিভিন্ন পদ্ধতি রয়েছে:

এক: যাদুকর কিভাবে যাদু করেছে সেটা আগে জানতে হবে। উদাহরণতঃ যদি জানা যায় যে, যাদুকর কিছু চুল নির্দিষ্ট কোন স্থানে অথবা চিরুনির মধ্যে অথবা অন্য কোন স্থানে রেখে দিয়েছে। যদি স্থানটি জানা যায় তাহলে সে জিনিসটি পুড়িয়ে ফেলে ধ্বংস করে ফেলতে হবে যাতে যাদুর কার্যকারিতা নষ্ট হয়ে যায়, যাদুকর যা করতে চেয়েছে সেটা বাতিল হয়ে যায়।

দুই: যদি যাদুকরকে শনাক্ত করা যায় তাহলে তাকে বাধ্য করতে হবে যেন সে যে যাদু করেছে সেটা নষ্ট করে ফেলে। তাকে বলা হবে: তুমি যে তদবির করেছ সেটা নষ্ট কর নতুবা তোমার গর্দান যাবে। সে যাদুর তদবিরটি ধ্বংস করে ফেলার পর মুসলিম শাসক তাকে হত্যা করার নির্দেশ দিবেন। কারণ বিশুদ্ধ মতানুযায়ী, যাদুকরকে তওবার আহ্বান জানানো ছাড়া হত্যা করা হবে। যেমনটি করেছেন- উমর (রাঃ)। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেন: “যাদুকরের শাস্তি হচ্ছে তরবারির আঘাতে তার গর্দান ফেলে দেয়া।” যখন হাফসা (রাঃ) জানতে পারলেন যে, তাঁর এক বাঁদি যাদু করে তখন তাকে হত্যা করা হয়।

তিন: যাদু নষ্ট করার ক্ষেত্রে ঝাড়ফুঁকের বড় ধরনের প্রভাব রয়েছে: এর পদ্ধতি হচ্ছে- যাদুতে আক্রান্ত রোগীর উপর অথবা কোন একটি পাত্রে আয়াতুল কুরসি অথবা সূরা আরাফ, সূরা ইউনুস, সূরা ত্বহা এর যাদু বিষয়ক আয়াতগুলো পড়বে। এগুলোর সাথে সূরা কাফিরুন, সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক ও সূরা নাস পড়বে এবং রোগীর জন্য দোয়া করবে। বিশেষতঃ যে দুআটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে সাব্যস্ত হয়েছে:

“আল্লাহুম্মা, রাব্বান নাস! আযহিবিল বা’স। ওয়াশফি, আনতাশ শাফি। লা শিফাআ ইল্লা শিফাউক। শিফাআন লা য়ুগাদিরু সাকামা।”

(অর্থ- হে আল্লাহ! হে মানুষের প্রতিপালক! আপনি কষ্ট দূর করে দিন ও আরোগ্য দান করুন। (যেহেতু) আপনিই রোগ আরোগ্যকারী। আপনার আরোগ্য দান হচ্ছে প্রকৃত আরোগ্য দান। আপনি এমনভাবে রোগ নিরাময় করে দিন যেন তা রোগকে নির্মূল করে দেয়।)

জিব্রাইল (আঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে যে দোয়া পড়ে ঝাড়ফুঁক করেছেন সেটাও পড়া যেতে পারে। সে দুআটি হচ্ছে- “বিসমিল্লাহি আরক্বিক মিন কুল্লি শাইয়িন য়ুযিক। ওয়া মিন শাররি কুল্লি নাফসিন আও আইনিন হাসিদিন; আল্লাহু ইয়াশফিক। বিসমিল্লাহি আরক্বিক।”

(অর্থ- আল্লাহর নামে আমি আপনাকে ঝাড়ফুঁক করছি। সকল কষ্টদায়ক বিষয় থেকে। প্রত্যেক আত্মা ও ঈর্ষাপরায়ণ চক্ষুর অনিষ্ট থেকে। আল্লাহ আপনাকে আরোগ্য করুন। আল্লাহর নামে আমি আপনাকে ঝাড়ফুঁক করছি।)

এই দোয়াটি তিনবার পড়ে ফুঁ দিবেন। সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক ও সূরা নাস তিনবার পড়ে ফুঁ দিবেন।

আমরা যে দোয়াগুলো উল্লেখ করলাম এ দোয়াগুলো পড়ে পানিতে ফুঁ দিতে হবে। এরপর পানি দিয়ে প্রয়োজনমত একবার বা একাধিক বার গোসল করবে। তাহলে আল্লাহর ইচ্ছায় রোগী আরোগ্য লাভ করবে। আলেমগণ এ আমলগুলোর কথা উল্লেখ করেছেন। শাইখ আব্দুর রহমান বিন হাসান (রহঃ) ‘ফাতহুল মাজিদ শারহু কিতাবিত তাওহিদ’ গ্রন্থের ‘নাশরা অধ্যায়ে’ এ বিষয়গুলো ও আরো কিছু বিষয় উল্লেখ করেছেন।

চার: সাতটি কাঁচা বরই পাতা সংগ্রহ করে পাতাগুলো গুড়া করবে। এরপর গুড়াগুলো পানিতে মিশিয়ে সে পানিতে উল্লেখিত আয়াত ও দোয়াগুলো পড়ে ফুঁ দিবে। পানি দিয়ে গোসল করবে। যদি কোন পুরুষকে স্ত্রী-সহবাস থেকে অক্ষম করে রাখা হয় সেক্ষেত্রেও এ আমলটি উপকারী।

যাদুগ্রস্ত রোগী ও স্ত্রী সহবাসে অক্ষম করে দেয়া ব্যক্তির চিকিৎসার জন্য বরই পাতার পানিতে যে আয়াত ও দোয়াগুলো পড়তে হবে সেগুলো নিম্নরূপ:

১- সূরা ফাতিহা পড়া।

২- আয়াতুল কুরসি তথা সূরা বাকারার ২৫৫ নং আয়াত পড়া।

اَللّٰهُ لَآ اِلٰهَ اِلَّا ھُوَ ۚ اَلْـحَيُّ الْقَيُّوْمُ لَا تَاْخُذُهٗ سِـنَةٌ وَّلَا نَوْمٌ ۭ لَهٗ مَا فِي السَّمٰوٰتِ وَمَا فِي الْاَرْضِ ۭ مَنْ ذَا الَّذِيْ يَشْفَعُ عِنْدَهٗٓ اِلَّا بِاِذْنِهٖ ۭ يَعْلَمُ مَا بَيْنَ اَيْدِيْهِمْ وَمَا خَلْفَھُمْ ۚ وَلَا يُحِيْطُوْنَ بِشَيْءٍ مِّنْ عِلْمِهٖٓ اِلَّا بِمَا شَاۗءَ ۚ وَسِعَ كُرْسِـيُّهُ السَّمٰوٰتِ وَالْاَرْضَ ۚ وَلَا يَـــــُٔـــوْدُهٗ حِفْظُهُمَا ۚ وَھُوَ الْعَلِيُّ الْعَظِيْمُ

(আয়াতটির অর্থ হচ্ছে-“আল্লাহ্; তিনি ছাড়া সত্য কোনো উপাস্য নেই। তিনি চিরঞ্জীব, সর্বসত্তার ধারক। তাঁকে তন্দ্রাও স্পর্শ করতে পারে না, নিদ্রাও নয়। আসমানসমূহে যা কিছু রয়েছে ও জমিনে যা কিছু রয়েছে সবই তাঁর। কে সে, যে তাঁর অনুমতি ব্যতীত তাঁর কাছে সুপারিশ করবে? তাদের সামনে ও পিছনে যা কিছু আছে সে সবকিছু তিনি জানেন। আর যা তিনি ইচ্ছে করেন তা ছাড়া তাঁর জ্ঞানের কোনো কিছুকেই তারা পরিবেষ্টন করতে পারে না। তাঁর ‘কুরসী’ আকাশসমূহ ও পৃথিবীকে পরিব্যাপ্ত করে আছে; আর এ দুটোর রক্ষণাবেক্ষণ তাঁর জন্য বোঝা হয় না। তিনি সুউচ্চ সুমহান।)
৩- সূরা আরাফের যাদু বিষয়ক আয়াতগুলো পড়া। সে আয়াতগুলো হচ্ছে-

قَالَ إِنْ كُنْتَ جِئْتَ بِآيَةٍ فَأْتِ بِهَا إِنْ كُنْتَ مِنَ الصَّادِقِينَ (106) فَأَلْقَى عَصَاهُ فَإِذَا هِيَ ثُعْبَانٌ مُبِينٌ (107) وَنَزَعَ يَدَهُ فَإِذَا هِيَ بَيْضَاءُ لِلنَّاظِرِينَ (108) قَالَ الْمَلَأُ مِنْ قَوْمِ فِرْعَوْنَ إِنَّ هَذَا لَسَاحِرٌ عَلِيمٌ (109) يُرِيدُ أَنْ يُخْرِجَكُمْ مِنْ أَرْضِكُمْ فَمَاذَا تَأْمُرُونَ (110) قَالُوا أَرْجِهْ وَأَخَاهُ وَأَرْسِلْ فِي الْمَدَائِنِ حَاشِرِينَ (111) يَأْتُوكَ بِكُلِّ سَاحِرٍ عَلِيمٍ (112) وَجَاءَ السَّحَرَةُ فِرْعَوْنَ قَالُوا إِنَّ لَنَا لَأَجْرًا إِنْ كُنَّا نَحْنُ الْغَالِبِينَ (113) قَالَ نَعَمْ وَإِنَّكُمْ لَمِنَ الْمُقَرَّبِينَ (114) قَالُوا يَا مُوسَى إِمَّا أَنْ تُلْقِيَ وَإِمَّا أَنْ نَكُونَ نَحْنُ الْمُلْقِينَ (115) قَالَ أَلْقُوا فَلَمَّا أَلْقَوْا سَحَرُوا أَعْيُنَ النَّاسِ وَاسْتَرْهَبُوهُمْ وَجَاءُوا بِسِحْرٍ عَظِيمٍ (116) وَأَوْحَيْنَا إِلَى مُوسَى أَنْ أَلْقِ عَصَاكَ فَإِذَا هِيَ تَلْقَفُ مَا يَأْفِكُونَ (117) فَوَقَعَ الْحَقُّ وَبَطَلَ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ (118) فَغُلِبُوا هُنَالِكَ وَانْقَلَبُوا صَاغِرِينَ (119) وَأُلْقِيَ السَّحَرَةُ سَاجِدِينَ (120) قَالُوا آمَنَّا بِرَبِّ الْعَالَمِينَ (121) رَبِّ مُوسَى وَهَارُونَ (122)

(অর্থ- সে বলল, তুমি যদি কোন নিদর্শন নিয়ে এসে থাক, তাহলে তা পেশ কর যদি তুমি সত্যবাদী হয়ে থাক। তখন তিনি নিজের লাঠিখানা নিক্ষেপ করলেন এবং তৎক্ষণাৎ তা জলজ্যান্ত এক অজগরে রূপান্তরিত হয়ে গেল। আর বের করলেন নিজের হাত এবং তা সঙ্গে সঙ্গে দর্শকদের চোখে ধবধবে উজ্জ্বল দেখাতে লাগল। ফেরাউনের সাঙ্গ-পাঙ্গরা বলতে লাগল, নিশ্চয় লোকটি বিজ্ঞ-যাদুকর। সে তোমাদেরকে তোমাদের দেশ থেকে বের করে দিতে চায়। এ ব্যাপারে তোমাদের মতামত কি? তারা বলল, আপনি তাকে ও তার ভাইকে অবকাশ দান করুন এবং শহরে বন্দরে সংগ্রাহক পাঠিয়ে দিন। যাতে তারা পরাকাষ্ঠাসম্পন্ন বিজ্ঞ যাদুকরদের এনে সমবেত করে। বস্তুতঃ যাদুকররা এসে ফেরাউনের কাছে উপস্থিত হল। তারা বলল, আমাদের জন্যে কি কোন পারিশ্রমিক নির্ধারিত আছে, যদি আমরা জয়লাভ করি? সে বলল, হ্যাঁ এবং অবশ্যই তোমরা আমার নিকটবর্তী লোক হয়ে যাবে। তারা বলল, হে মূসা! হয় তুমি নিক্ষেপ কর অথবা আমরা নিক্ষেপ করছি। তিনি বললেন, তোমরাই নিক্ষেপ কর। যখন তারা বান নিক্ষেপ করল তখন লোকদের চোখগুলো যাদুগ্রস্ত হয়ে গেল, মানুষকে ভীত-সন্ত্রস্ত করে তুলল এবং মহাযাদু প্রদর্শন করল। তারপর আমি ওহীযোগে মূসাকে বললাম, এবার নিক্ষেপ কর তোমার লাঠিখানা। অতএব সঙ্গে সঙ্গে তা সে সমুদয়কে গিলতে লাগল, যা তারা যাদুর বলে বানিয়েছিল। এভাবে সত্য প্রকাশ হয়ে গেল এবং ভুল প্রতিপন্ন হয়ে গেল যা কিছু তারা করেছিল। সুতরাং তারা সেখানেই পরাজিত হয়ে গেল এবং অতীব লাঞ্ছিত হল। এবং যাদুকররা সেজদায় পড়ে গেল। বলল, আমরা ঈমান আনছি মহা বিশ্বের প্রতিপালকের প্রতি। যিনি মূসা ও হারুনের প্রতিপালক।)[সূরা আরাফ, আয়াত: ১০৬-১২২]

৪- সূরা ইউনুসের যাদুবিষয়ক আয়াতগুলো পড়া। সেগুলো হচ্ছে-

وَقَالَ فِرْعَوْنُ ائْتُونِي بِكُلِّ سَاحِرٍ عَلِيمٍ (79) فَلَمَّا جَاءَ السَّحَرَةُ قَالَ لَهُمْ مُوسَى أَلْقُوا مَا أَنْتُمْ مُلْقُونَ (80) فَلَمَّا أَلْقَوْا قَالَ مُوسَى مَا جِئْتُمْ بِهِ السِّحْرُ إِنَّ اللَّهَ سَيُبْطِلُهُ إِنَّ اللَّهَ لَا يُصْلِحُ عَمَلَ الْمُفْسِدِينَ (81) وَيُحِقُّ اللَّهُ الْحَقَّ بِكَلِمَاتِهِ وَلَوْ كَرِهَ الْمُجْرِمُونَ

(অর্থ- আর ফেরাউন বলল, আমার কাছে নিয়ে এস সুদক্ষ যাদুকরদিগকে। তারপর যখন যাদুকররা এল, মূসা তাদেরকে বললেন: নিক্ষেপ কর, তোমরা যা কিছু নিক্ষেপ করে থাক। অতঃপর যখন তারা নিক্ষেপ করল, মূসা বললেন, যা কিছু তোমরা এনেছ তা সবই যাদু-এবার আল্লাহ এসব ভণ্ডুল করে দিচ্ছেন। নিঃসন্দেহে আল্লাহ দুস্কর্মীদের কর্মকে সুষ্ঠুতা দান করেন না। আল্লাহ সত্যকে সত্যে পরিণত করেন স্বীয় নির্দেশে যদিও পাপীদের তা মনঃপুত নয়।)[সূরা ইউনুস, আয়াত: ৭৯-৮২]

৫- সূরা ত্বহা এর আয়াতগুলো পড়া। সেগুলো হচ্ছে-

قَالُوا يَا مُوسَى إِمَّا أَنْ تُلْقِيَ وَإِمَّا أَنْ نَكُونَ أَوَّلَ مَنْ أَلْقَى (65) قَالَ بَلْ أَلْقُوا فَإِذَا حِبَالُهُمْ وَعِصِيُّهُمْ يُخَيَّلُ إِلَيْهِ مِنْ سِحْرِهِمْ أَنَّهَا تَسْعَى (66) فَأَوْجَسَ فِي نَفْسِهِ خِيفَةً مُوسَى (67) قُلْنَا لَا تَخَفْ إِنَّكَ أَنْتَ الْأَعْلَى (68) وَأَلْقِ مَا فِي يَمِينِكَ تَلْقَفْ مَا صَنَعُوا إِنَّمَا صَنَعُوا كَيْدُ سَاحِرٍ وَلَا يُفْلِحُ السَّاحِرُ حَيْثُ أَتَى (69)

(অর্থ-তারা বললঃ হে মূসা, হয় তুমি নিক্ষেপ কর, না হয় আমরা প্রথমে নিক্ষেপ করি। মূসা বললেনঃ বরং তোমরাই নিক্ষেপ কর। তাদের যাদুর প্রভাবে হঠাৎ তাঁর মনে হল, যেন তাদের রশিগুলো ও লাঠিগুলো ছুটাছুটি করছে। অতঃপর মূসা মনে মনে কিছুটা ভীতি অনুভব করলেন। আমি বললামঃ ভয় করো না, তুমি বিজয়ী হবে। তোমার ডান হাতে যা আছে তুমি তা নিক্ষেপ কর। এটা তারা করেছে যা কিছু সেগুলোকে গ্রাস করে ফেলবে। তারা যা করেছে তা তো কেবল যাদুকরের কলাকৌশল। যাদুকর যেখানেই থাকুক, সফল হবে না।)[সূরা ত্বহা, আয়াত: ৬৫-৬৯]

৬- সূরা কাফিরুন পড়া।

৭- সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক ও সূরা নাস ৩ বার করে পড়া।

৮- কিছু দোয়া দরুদ পড়া। যেমন-

“আল্লাহুম্মা, রাব্বান নাস! আযহিবিল বা’স। ওয়াশফি, আনতাশ শাফি। লা শিফাআ ইল্লা শিফাউক। শিফাআন লা য়ুগাদিরু সাকামা।” [৩ বার]
এর সাথে যদি এ দোয়াটিও পড়াও ভাল “বিসমিল্লাহি আরক্বিক মিন কুল্লি শাইয়িন য়ুযিক। ওয়া মিন শাররি কুল্লি নাফসিন আও আইনিন হাসিদিন; আল্লাহু ইয়াশফিক। বিসমিল্লাহি আরক্বিক।”[৩ বার]

পূর্বোক্ত আয়াত ও দোয়াগুলো যদি সরাসরি যাদুতে আক্রান্ত ব্যক্তির উপরে পড়ে তার মাথা ও বুকে ফুঁক দেয় তাহলে আল্লাহর ইচ্ছায় নিরাময় হবে।

[শাইখ আব্দুল্লাহ বিন বাযের বিবিধ ফতোয়া ও প্রবন্ধ সংকলন সমগ্র (৮/১৪৪)]
যাদু কেউ ভালো কাজে করে না। মানুষকে বশ করানো কিংবা মানুষের মাঝে বিচ্ছেদ ঘটানো উভয়ই যাদু- যাহা সুস্পষ্ট কুফর।
যাদুকরের শাস্তি হলো গর্দান উড়িয়ে দেওয়া।
যাদুকরকে সনাক্ত করা গেলে তাকে বাধ্য করতে হবে যেন সে যে যাদু করেছে সেটা নষ্ট করে ফেলে। তাকে বলা হবে: তুমি যে তদবির (যাদু) করেছ সেটা নষ্ট কর নতুবা তোমার গর্দান যাবে। সে যাদুর তদবিরটি ধ্বংস করে ফেলার পর মুসলিম শাসক তাকে হত্যা করার নির্দেশ দিবেন। কারণ বিশুদ্ধ মতানুযায়ী, যাদুকরকে তওবার আহবান জানানো ছাড়া হত্যা করা হবে। যেমনটি করেছেন- উমর (রাঃ)।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেন:
“যাদুকরের শাস্তি হচ্ছে তরবারির আঘাতে তার গর্দান ফেলে দেয়া।”
যখন হাফসা (রাঃ) জানতে পারলেন যে, তাঁর এক বাঁদি যাদু করে তখন তাকে হত্যা করা হয়।
আঁকা-উঁকি গুলো আসলে বিভিন্ন মন্ত্র ও নাম্বার যার মাধ্যমে জিনদের সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে। আউযুবিল্লাহ, এর মাঝে শিরক ও কুফর রয়েছে।
এইজন্য, যাদু যে করে, যাদু যে করায় – উভয়েই কাফের ও মুর্তাদ হয়ে যায়।
যাদুকরের শাস্তি হচ্ছে তাকে হত্যা করে ফেলা।

বাংলাদেশের হিন্দুরা কেন দেশত্যাগ করে?

লেখাটি শুরু করা যাক সুকৃতি রঞ্জন বিশ্বাসের একটি ফেসবুক পোস্ট দিয়ে। তিনি পশ্চিমবঙ্গের অধিবাসী ও দলিত অধিকার আন্দোলনের একজন এক্টিভিস্ট। তিনি উদ্বাস্তু সংগঠন ‘জয়েন্ট অ্যাকশন কমিটি ফর বাঙালি রিফিউজিস’ এর সর্বভারতীয় সভাপতি এবং দেশান্তরিত উদ্বাস্তু মানুষের জন্য দীর্ঘ সময়কাল ধরে লড়াই করছেন।

তিনি সম্প্রতি বাংলাদেশ ঘুরে এসে পর্যবেক্ষণ করেন এবং তার Fact Finding Report অনুযায়ী লেখেন “দেশ ত্যাগ করে এসে সহানুভূতি কুড়োতে বা দেশত্যাগ করার কাজটি জাস্টিফাই করতে অধিকাংশ মানুষ মুসলিম অত্যাচারের গল্প ফাঁদেন।“

সুকৃতি রঞ্জন বিশ্বাস লেখেনঃ

“ভবিষ্যতের কথা ভেবে বা আশঙ্কায় হিন্দুরা বাংলাদেশ ত্যাগ করে ভারতে আসেন — এটাই সত্য। ঘর জ্বালিয়ে দেওয়ায়, কোপ খেয়ে বা ধর্ষিত হয়ে হিন্দুরা বাংলাদেশ ত্যাগ করেন, এটা স্বাভাবিক ঘটনা নয়, হলে ব্যতিক্রম। তবে হিন্দুদের এই ভয়টা অনেকটাই ভূতের ভয়ের মতো, অবাস্তব। তবে দেশ ত্যাগ করে এসে সহানুভূতি কুড়োতে বা দেশত্যাগ করার কাজটি জাস্টিফাই করতে অধিকাংশ মানুষ মুসলিম অত্যাচারের গল্প ফাঁদেন। ওদেশে প্রিন্সিপাল হিসাবে কাজ করে, অধ্যাপক, শিক্ষক বা চাকুরী জীবন শেষে মোটা অংকের টাকা গ্যাটে বেঁধে ভারতে পাচার করে, ভারতে বসে মুসলিম অত্যাচারের গল্প করেন, এটাই স্বাভাবিক চিত্র। ১৯৭১ সাল থেকে আজ পর্যন্ত যা চলছে, তা এই।

বাংলাদেশের মানুষ ও সরকার সে দেশের হিন্দুদের এই চরিত্র জানে ও সহ্য করে। হিন্দুরা সংখ্যার অনুপাতে সে দেশে বেশি চাকরি করেন, অধিকাংশ শিক্ষিত ও বর্ণহিন্দুরা দেশ ছাড়ার পরও এই অবস্থা, তাই প্রশাসনের তেমন কোনো পক্ষপাত বলা যায় না। কাগজে দেখলাম বার্মায় কয়েক হাজার রোহিঙ্গার সাথে ৮৬ জন হিন্দুকেও খুন করা হয়েছে। ১৯৭১ সালের পর থেকে বাংলাদেশে ১৬ জন হিন্দুকে খুন করার তথ্য কেউ দিতে পারবেন? ভারতে কিন্তু এই সময়কালে ১৬০০০ মুসলমানকে এবং আরো বেশি দলিতকে খুন করার তথ্য আছে।“

[ফেসবুক পোস্ট লিঙ্কঃ http://bit.ly/sukriti1 এবং আর্কাইভ লিঙ্কঃ https://archive.is/9nDCc]

এখানে তিনি ১৬ জন হিন্দু খুন হয়নি বলতে বুঝিয়েছেন ধর্মীয় কারণে বা ধর্মীয় বিদ্বেষের কারণে খুন হয়নি।

এবার আসা যাক, সুকৃতি রঞ্জন বিশ্বাস মহাশয়ের আরেকটি ফেসবুকে পোস্ট সম্পর্কে। এখানে তিনি স্পষ্ট করে লিখেছেন যে “বাংলাদেশের অধিকাংশ হিন্দু হল মুসলিম বিদ্বেষী।“

সুকৃতি রঞ্জন বিশ্বাস লেখেনঃ

“আমি মাস খানেক আগে বাংলাদেশ থেকে এসেছি। দেড় মাস ছিলাম ওখানে। ঢাকা, যশোর, খুলনা — নানা জায়গা এবং বিভিন্ন ধরনের মানুষের সাথে মিশেছি, কথা বলেছি।

হিন্দু- মুসলমান প্রশ্নে দেশটি ভারত থেকে অনেকটা প্রগতিশীল অবস্থানে এখন। সামাজিক ক্ষেত্রে এবং রাষ্ট্রীয় ক্ষেত্র — উভয় দিকে তাঁরা এগিয়ে আছে ও আরও দ্রুত এগোচ্ছে।

অধিকাংশ মুসলমানের মধ্যে হিন্দু বিদ্বেষ কম, নেই বললেই চলে । আবার উলটো দিকে — অধিকাংশ হিন্দু, বিশেষ করে নিম্নবর্ণীও নমদের মধ্যকার বেশিরভাগ মানুষ মুসলমান বিদ্বেষী । আরও সঠিকভাবে বললে বলতে হয় নমদের মধ্যকার শিক্ষিত অংশ — যাদের পরিবারের একাংশ ইতিমধ্যে ভারতে চলে এসেছেন। তাদের দ্বারা বাকি অংশ প্রভাবিত হছেন।

রাষ্ট্রীয় ক্ষেত্রে — চাকরি ও প্রশাসনে তাঁরা উল্লেখ যোগ্য সংখ্যায় আছেন। নিশ্চিতভাবে জনসংখ্যার হারের থেকে বেশি এবং যথেষ্ট সংখ্যায় উচ্চ পদেও আছেন। রাষ্ট্র বিরূপ হলে এটা সম্ভব হতো না।

গণ্ডগোল ও নির্যাতন হয় না, এমন নয়, কিন্তু মুসলমান দুষ্কৃতির তুলনায় সেখানে হিন্দুদের পাশে দাঁড়ানো মুসলমানের সংখ্যা অনেক বেশি । আশানুরূপ না হলেও প্রশাসন অনেকটাই নিরপেক্ষ।

ব্যবসা -বানিজ্য হিন্দুরা ভালই করে। তবে রাজনীতিতে তাদের প্রতিনিধিত্ব কম। একটা রক্ষাকবজ দরকার, সে দাবিও সেখানে উঠেছে। মনে হয় সেখানে হিন্দুদের রাজনৈতিক কৌশলেও ভুল আছে। একটা দলের প্রতি অন্ধ আনুগত্য তাদের গুরুত্বহীন করেছে।

আমার বলার এই যে, সমস্যা থাকলেও তা মোটেই দেশ ত্যাগ করার মত নয় । ভারত সরকার কূটনৈতিক পদ ক্ষেপ নিয়ে এই সমস্যা টুকু মেটাতে পারে।

আমি যখন বাংলাদেশে ছিলাম, তখন বি জে পি-র বর্তমান সভাপতি মিঃ ঘোষ ওখানে গিয়েছিলেন। আমি কিছু ওখানকার হিন্দু নেতাদের তাঁর সাথে যোগাযোগের তোড়জোড় দেখেছি এবং শুনেছি। অনেক কথা তাদের বলতে শুনেছি, একটি সংগঠন তৈরি হয়েছে বলে জানি। তাদের কথা এবং ক্রিয়াকাণ্ড আমার কাছে ভাল লাগেনি। এখন আবার রাহুল বাবু গেলেন। কলকাতায় বাংলাদেশের হিন্দুদের উপর নির্যাতন নিয়ে সেমিনার হচ্ছে বিশেষ বিশেষ বক্তাদের নিয়ে। ফেসবুকেও আর এস এস-এর বাংলাদেশের লোকজনের প্রতিক্রিয়া দেখছি।

শুনছি পশ্চিমবঙ্গ নাকি বি জে পি-র পরবর্তী টার্গেট। সেটার জন্য বাংলাদেশে একটা সাম্প্রদায়িক গণ্ডগোল এখানে তাদের জন্য সুশীতল হাওয়া এনে দিতে পারে। তাই সবাইকে একটু সাবধান থাকলে ভাল হয়।“

[ফেসবুক পোস্ট লিঙ্কঃ http://bit.ly/sukriti2 এবং আর্কাইভ লিঙ্কঃ https://archive.is/1B2cg ]

এবার দেখা যাক সুকৃতি রঞ্জন বিশ্বাস মহাশয়ের ব্লগ “Sukriti Ranjan Biswas’ diary” থেকে “ঢাকায় হিন্দুরা” শীর্ষক একটি পোস্ট, তিনি লেখেনঃ

“ঢাকায় এসে উত্তরায় ছিলাম।এক জামাই-মেয়ে থাকে। জামাই উকিল, ভাইঝি ল‘ এ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকোত্তর। বিচারকের চাকরির জন্য লিখিত পরীক্ষায় পাশ করেছে এবং আত্মবিশ্বাসের সাথে বললো — চাকরি পেয়ে যাবে। তাদের কর্মজীবন, সামাজিক জীবন — এসবের মধ্যে হিন্দু বলে সমস্যা হয় কিনা জানতে চাই। তারা বললো — কোনো সমস্যা নেই, নিজের দেশে আছে, ভালো আছে। বিল্ডিংয়ে ১০টা ফ্লাট, ৩ টি হিন্দু পরিবার থাকে। ভাইঝি সারাদিন একা থাকে, কোনো দুশ্চিন্তা হয় না বলে জানালো। কলকাতায় একই বিল্ডিংয়ে বাস করা অনেক দূরের ব্যাপার, হিন্দু পাড়া/এলাকায় কোনো মুসলমানকে কেউ বাড়ি ভাড়া দেবে না।

আরেক মেয়ে- জামাই থাকে যাত্রাবাড়ী, এখন সেখানেই আছি। জামাই কলেজে পড়ায়, ভাইঝি হাইস্কুলে। নাতি পড়ে ইঞ্জিনীয়ারিং। বললাম, পাড়ায় আর কতঘর হিন্দু আছে? বললো, নেই, কাউকে তেমন জানে না। নাতিটা প্রাথমিক থেকে এই অঞ্চলে, আছে, পড়েছে। ওর দুই যমজ বোনও ১১/১২ ক্লাসে পড়ে। ওরা ৫ জন হিন্দু হিসাবে কোনো সমস্যা জানে না। ভালো থাকে, ভালো আছে।“

[ব্লগ পোস্ট লিঙ্কঃ http://bit.ly/sukriti3 এবং আর্কাইভ লিঙ্কঃ http://archive.is/zeM18 ]

সুকৃতি রঞ্জন বিশ্বাস মহাশয়ের লেখা থেকে স্পষ্ট যে হিন্দুরা সেখানে ভালো আছে এবং সেখানে তাদের ধর্মীয় কারণে কোন সমস্যায় পড়তে হয় না ।

এবার দেখা যাক সুকৃতি রঞ্জন বিশ্বাস মহাশয়ের ব্লগ “Sukriti Ranjan Biswas’ diary” থেকে আরেকটি ব্লগ পোস্ট “পূর্ব বঙ্গের হিন্দুরা কেন দেশত্যাগ করেন (শেষ কিস্তি)” শীর্ষক একটি পোস্ট এর খানিকটা চুম্বক অংশ, তিনি লেখেনঃ

“আবুল মনসুর আহমদের (সচেতন রাজনীতিক বলে তথাগতবাবু তার বইয়ে পরিচয় উনার পরিচয় দিয়েছেন) কিছু লেখা তথাগতবাবু উদ্ধৃত করেছেন, ” এটা ঐতিহাসিক সত্য যে, পূর্ববাংলায় অন্যান্য স্থানের তুলনায় সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা খুবই কম হইয়াছিল — একরূপ হয় নাই বলিলেও চলে। কিন্তু একটু তলাইয়া দেখিলেই বোঝা যাইবে যে, পূর্ব বাংলার হিন্দুদের মধ্যে বাস্তুত্যাগের হিড়িক পড়িয়াছিল। সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার ভয়ে নয়, অন্য কারণে। পাকিস্তানের রাষ্ট্রনায়ক ও মুসলিম লীগ নেতৃবৃন্দের অন্তঃসারশূন্য ‘ ইসলামী রাষ্ট্র ‘ ও শরিয়তি শাসনের ভয়ে হিন্দুরা সত্যিই ঘাবড়ে গিয়েছিলো। জানের ভয়ে নয়, মানের ভয়ে। ধর্ম ও কালচার হারাইবার ভয়ে। অর্ধ শতাব্দী ধরিয়া যে হিন্দুরা দেশের আজাদীর জন্য জান-মাল কোরবাণী করিয়াছে স্বাধীন হবার পরে তারাই নিজেদের ধর্ম ও কৃষ্টি-সংস্কৃতি লইয়া সসম্মানে দেশে বাস করিতে পারিবে না, এটা মনের দিক হইতে তাদের জন্য দুঃসহ।……… পাকিস্তানের রাষ্ট্রনায়কেরা শুধুমাত্র দাঙ্গা হাঙ্গামাহীন শান্তি স্থাপন করিয়াই মনে করিয়াছিলেন তাহাদের কর্তব্য শেষ হইলো “।

অর্থাৎ তথাগতবাবু বাংলাদেশের হিন্দুদের চরিত্রের দুর্বলতা এবং দেশত্যাগের মূল কারণ জানেন। তা তিনি প্রকাশ করেছেন এবং তাদের ভয় দেখিয়েছেন, আতংকিত ও সন্ত্রস্ত করার চেষ্টা করেছেন। অর্থাৎ ঘুরিয়ে দেশত্যাগে উৎসাহ দিয়েছেন। তারা এই ভয়ঙ্কর খেলায় মেতেছেন পশ্চিমবঙ্গের রাজ ক্ষমতা দখলের স্বপ্ন নিয়ে। এজন্য তারা যে মরীয়া, সে কথা ঘোষণা করে চলেছেন। তারা হয়তো ভাবছেন বাংলাদেশে দাঙ্গা হাঙ্গামা সৃষ্টি হলে এবং উদ্বাস্তু স্রোত এপার বাংলায় তাদের পক্ষে সমর্থনের ঢেউ বয়ে আনতে পারে।“

[ব্লগ পোস্ট লিঙ্কঃ http://bit.ly/sukriti4 এবং আর্কাইভ লিঙ্কঃ http://archive.is/5QfYT ]

এখানে তথাগতবাবু হলেন তথাগত রায়, একজন উগ্র হিন্দুত্ববাদী ও বিজেপি নেতা। এখানে তিনি তথাগত রায় এর লেখা “যা ছিল আমার দেশ” নামে নানা অসত্য ও অর্ধসত্য মুলক বই এর কথা বলছেন।

অবশ্য তথাগত রায় তার বইয়ে স্বীকার করেছেন যে, বর্তমানকালে সে দেশের হিন্দুদের দেশত্যাগের কারন ‘মনস্তাত্তিক’। এ বই-য়ের বিকৃত তথ্য ও ব্যাখ্যার বিরোধীতা করে সুকৃতি রঞ্জন বিশ্বাস মহাশয় একটি পুস্তিকা লিখেছেন- ‘বঙ্গভঙ্গ- দেশত্যাগ-দাঙ্গা’।

লেখাটি পড়লে স্পষ্ট বোঝা যায় যে পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতা দখলের জন্য একটি রাজনৈতিক দল বাংলাদেশের হিন্দুদের ভয় দেখায়, আতংকিত ও সন্ত্রস্ত করার চেষ্টা করে এবং দেশত্যাগে উৎসাহ দেয়।

এবার আসা যাক শ্রী হিরণ্ময় বন্দ্যোপাধ্যায়ের আত্মজীবনী ধাঁচের একটি বই থেকে নেয়া চুম্বক অংশ সম্পর্কে, যিনি ১৯৪৭ সালের পর পশ্চিমবঙ্গের একটি জেলার জেলা প্রশাসক হিসেবে শরণার্থীদের পূনর্বাসনে কাজ করেছেন এবং সেই অভিজ্ঞতা থেকেই ‘উদ্বাস্তু’শিরোনামে বিশাল এক বই লিখে ফেলেছেন। শ্রী হিরণ্ময় বন্দ্যোপাধ্যায় লেখেনঃ

”পুর্ব অঞ্চলে কিন্তু স্বাধীনতার পর, যখন দেশ বিভাগ হয়ে গেল, অবস্থা ভিন্ন রূপ নিল। এখানে দাঙ্গা-হাঙ্গামা বাধল না। বরং পুর্ব হতে যেখানে দাঙ্গার জের চলছিল তা স্বাধীনতা ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে থেমে গেল। কলিকাতার অবস্থা এই প্রসঙ্গে বিশেষ উল্লেখযোগ্য। স্বাধীনতা ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে সেখানে দীর্ঘ এক বৎসরব্যাপী দাঙ্গার ওপর উভয় সম্প্রদায় যবনিকা টেনে দিয়েছিল। তাই একসময়ে মনে হয়েছিল পুর্বাঞ্চলে দেশবিভাগ হওয়া সত্ত্বেও হয়ত শান্তি অক্ষুন্ন থাকবে। অন্তত প্ৰথম দিকে আপাতদৃষ্টিতে শান্তি অক্ষুন্নই ছিল। তাই যদি হয় তবে এত মানুষ পুর্ব পাকিস্তান ত্যাগ করে চলে আসে। কেন? এই প্রশ্ন সেদিন আমার মনে উদয় হয়েছিল। নিজের দেশ ছেড়ে স্বেচ্ছায় এত কষ্ট বরণ করবার কোন সঙ্গত কারণ আছে কি ? .

আমি গিয়েছিলাম প্রশাসনিক কাজে আলিপুরদুয়ারে। সেটি জেলার পুর্বপ্রাস্তে অবস্থিত। যে ভদ্রলোক সঙ্গে এসেছিলেন তাকে জিজ্ঞাসা না করে পারলাম না- এরা দেশত্যাগ করে এমনভাবে চলে আসছেন কেন তার খবর নিয়েছেন কি ?

তিনি বললেন,- নিয়েছি বৈকি? তবে তার উত্তরটা আমি আর দিই কেন? এদের মুখেই শুনুন না। এই বলে নিকটে উপবিষ্ট একটি ভদ্রলোকের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিলেন। তিনি নিজের যে পরিচয় দিলেন, তা হতে জানা গেল, তিনি ছিলেন বগুড়া জেলার গ্রামাঞ্চলের এক ডাক্তার। বর্ধিষ্ণু পরিবার, প্ৰজাবিলি জমি আর খাস জমি কিছু ছিল। সব ছেড়ে দিয়ে সম্প্রতি চলে এসেছেন।

আমার সঙ্গী তাকে উদ্দেশ করে বললেন,-দেখুন, এই ভদ্রলোক জানতে চান, দেশে তো কোন গোলমাল নেই, তবু কেন আপনারা দেশ ছেড়ে চলে এলেন?… তিনি যে কাহিনী বললেন তা সংক্ষেপে এই দাড়ায়। বাড়ীতে মোটা চালের অভাব না হলেও এরা সরু চাল বাজার হতে বরাবর কিনে খেতেন। এই সূত্রেই স্বাধীনতার পরের একদিনের তিক্ত ঘটনার কথা বললেন।

সেদিন পুরাতন পরিচিত মুদির দোকানে গিয়ে এক বস্তা চাল কিনলেন। পাওনা মিটিয়ে দিয়ে উঠতে যাবেন, এমন সময় প্রতিবেশী কালু মিঞা এসে হাজির। তিনি একজন স্থানীয় মোক্তার। তিনিও মুদির দোকানে এসেছেন সরু চালের খোজে। দুৰ্ভাগ্যক্ৰমে দোকানে তখন এক বস্তা মাত্ৰ মিহি চাল ছিল এবং তা ইতিমধ্যেই বিলি হয়ে গেছে। তিনি নাকি তখন তাই শুনে মুদিকে বললেনঃ

–তাই নাকি ? তাহলে ওই বস্তাটাই আমাকে দাও।

ভদ্রলোক তখন প্ৰতিবাদ করে বললেন, তিনি যেহেতু বস্তাটা আগেই কিনে ফেলেছেন, এমন কি দামও মিটিয়ে দিয়েছেন, কাজেই সেটা কি করে হয় ? কিন্তু তাতে কোন ফল হলো না। হুঙ্কার দিয়ে কালু মিঞা নাকি বললেনঃ

আলবৎ হয়। একি হিন্দুস্থান পেয়েছ? বলে জোর করেই বস্তাটা কেড়ে নিয়ে চলে গেলেন।

এই কাহিনী বলতে বলতে, মনে হল, ভদ্রলোকের উত্তেজনা যেন আরও বেড়ে চলেছে। তার মনের দুঃখের আবেগে তিনি আরও কিছু কথা বলে চললেন যা আমাদের বর্তমান আলোচনায় খুব প্রাসঙ্গিক হবে, তাই যতদূর স্মরণ হয় তার নিজের মুখেই সেটা বলতে চেষ্টা করব। তিনি বলতে শুরু করলেনঃ

–এমনকি আর করেছে বলুন, মারধোর তো করে নি। তবে কি জানেন, আমার চামড়া একটু পাতলা তাই সেদিন মনে ভারি আঘাত লেগেছিল। তবু দেশের ভিটেমাটি ত্যাগ করতে মায়া হল। তাই তখনও রয়ে গেলাম! ভদ্রলোক থামলেন না, আরও বলে চললেনঃ

–কিছুদিন পরে এক সন্ধ্যাবেল বাড়ীর বার হতে জোর গলায় ডাক শুনলাম। –কর্তা, বাড়ী আছ। হে ?
ভাবলাম কে বুঝি চেনাজানা মাতব্বর মুসলমান প্রতিবেশী এসেছে। বাইরে গিয়ে দেখি, আমারই বহু কালের এক পুরাতন প্ৰজা এসে হাজির। এক গাল হেসে বললঃ

–কর্তা, ইংরেজ চলে গেছে, দেশ স্বাধীন হয়েছে, আমাদের পাকিস্তান হয়েছে। তাই দোস্তানি করতে এলাম।

তার এই উঁচু সুরে কথা আর গায়ে-পড়া ভাব দেখে আমার মনে মনে বেশ রাগ হল। আগে দেখা হলে এরাই দশ হাত দূর থেকে “অন্তত দশবার সেলাম ঠুকত। কিন্তু এখন যে পাকিস্তান। কাজেই মুখে খুশির ভান করে বললাম,

-তা বেশ।

সে তখন বলল,-তা বাইরে দাড়িয়ে কেন কর্তা, ভিতরে চলো। এই বলে বাড়ীখানা যেন তারই সম্পত্তি এমন ভাব দেখিয়ে একরকম আমাকে টেনে নিয়ে ভিতরে চলল। বৈঠকখানায় নয়, একেবারে অন্দরে শোবার ঘরে। দিব্যি আরাম করে বিছানায় বসে আমাকে একরকম জোর করে পাশে বসিয়ে বললঃ

-কর্তা, এখন পাকিস্তান হয়ে গেছে। মনে রেখ, আমরা আর ছোট নই। ভুলে যেও না, এখন থেকে সমানে সমান আমাদের সঙ্গে মিতালি করতে হবে।

কাহিনী বলা এখানে শেষ হয়ে গেল। এর পর ভদ্রলোক একটু থেমে রীতিমত উত্তেজিত হয়ে, আমাদের দিকে চোখ রাঙিয়ে বললেনঃ

–কি মশাই, এরপরেও কি পাকিস্তানে থাকতে বলেন?”

[শ্রী হিরণ্ময় বন্দ্যোপাধ্যায়, উদ্ধাস্তু, সাহিত্য সংসদ, ১৯৬০, পৃ. ১১-১৫]

উপরোক্ত বর্ণনা থেকে পরিষ্কার যে যারা পূর্ব পাকিস্তান ত্যাগ করে আসছিল তারা পাকিস্তান হবার পর সংখ্যাগুরু মুসলিম সম্প্রদায়ের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন হেতু এখন তাদের সেখানে আগের মত মান-ইজ্জৎ নিয়ে বাস করা সম্ভব নয়, এই তাদের ধারণা হয়েছে। পূর্বের পরিবেশে সমাজে যে সম্মান পেতে তারা অভ্যস্ত, সেটা তারা এখন পায় না ।

পূর্ববঙ্গ তথা বাংলাদেশ থেকে আসা উচ্চ বর্ণের হিন্দুদের উত্তরাধিকারদের অনেকেই হয়তো ভুলে গেছেন যে প্রায় ২০০ বছরের পরাধীনতার সময়ে তাদের সমাজের একটা বিরাট প্রভাবশালী একটা অংশ শাসক ইংরেজের সহযোগী ছিলেন শুরু থেকে। পূর্ববঙ্গের মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষের ওপর জমিদারির মাধ্যমে যে শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার, নিপীড়ন ও বেইজ্জতি তারা চালিয়েছেন সেটার সম্মিলিত ক্ষোভ পুঞ্জীভূত হয়ে জমা হয়ে ছিল তখন। সেই সব অত্যাচারের প্রতিক্রিয়া যে বিভিন্ন উপায়ে হতে পারে সেটা যারা উপলব্ধি করেছেন, তারা যে নিজ দায়িত্বে দেশান্তরী হয়েছেন সেটা বলার অপেক্ষা রাখেনা।

এবার আসা যাক আরেকটি লেখাতে, এই লেখাটি পূর্ব পাকিস্তানের সাবেক সচিব পি এ নাজির এর স্মৃতিচারণ মূলক বই থেকে নেয়া। তিনি পাকিস্তান আমলে এসডিও হিসেবে সরকারী চাকুরীতে জয়েন করে নাটোরে পোস্টিং পান। তার অভিজ্ঞতায় উঠে আসে শিক্ষিত হিন্দুদের দেশত্যাগের চিত্র। ঘটনা ১৯৫৬ সালের শেষ ভাগ।

পি এ নাজির সাহেব লেখেনঃ

”মহকুমার কার্যভার গ্রহণ করার পর সরকারী কাজের বাইরে প্রথম যে কাজ করব ঠিক করলাম তা হলো মহকুমা শহরের সবকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন। আছেই মাত্র তিনটি হাইস্কুল। একটি অতি সম্প্রতি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে- জিন্নাহ স্কুল। দ্বিতীয়টি মহারাজা স্কুল এবং তৃতীয়টি বালিকা স্কুল। জিন্নাহ স্কুল কাছারির কাছেই। একদিন গেলাম সেখানে। প্রধান শিক্ষক বেশ মার্জিত শিক্ষাবিদ। স্কুলের পরিবেশ দেখে মনে হলো শিক্ষকমন্ডলী দায়িত্ব-সচেতন।

পরদিন গেলাম মহারাজা স্কুলে। প্রধান শিক্ষক বেশ ভারিক্কি কিসিমের লোক, একটু যেন লা-পরওয়া গোছেরও। ক্লাস রুমগুলো ঘুরে ঘুরে দেখলাম। ছেলেদের দু’একটা প্রশ্নও করলাম। খুব মামুলি ধরনের যেমন- নাম কি, বাড়ী কোথায়, বাপ কী করেন? ইত্যাদি। দেখলাম শিক্ষকদের মধ্যে একমাত্র আরবী শিক্ষকই মুসলমান, বাকী সবাই হিন্দু।

সবিস্ময়ে একটা জিনিস লক্ষ্য করলাম, সামনে বেঞ্চ খালি থাকা সত্ত্বেও সেখানে মুসলমান ছাত্রদের বসতে দেয়া হয়নি। যে গুটিকয়েক মুসলমান ছাত্র স্কুলে আছে তাদের স্থান চতুর্থ ও পঞ্চম সারিতে। প্রতিটি ক্লাসে একই অবস্থা।

বৃথা সময় নষ্ট করতে চাইলাম না। ক্লাস রুম থেকে সরাসরি চলে এলাম শিক্ষকদের কমন রুমে। কয়েকটি বইয়ের আলমারী। আলমারীগুলোর মাথার উপর দেওয়ালে টাঙ্গান রয়েছে বেশ কতগুলো লাইফ-সাইজ রঙিন ছবি। এতে ছিলো রামকৃষ্ণ, বিবেকানন্দ, গান্ধী, সুভাস এবং মহারাজা। হেড মাস্টার সাহেবকে জিজ্ঞেস করলাম, ‘কায়েদে আজমের ছবি কোথায়? জবাব পেলাম, ‘ওটা আমাদের স্কুলে নেই।’ শুধু মাথাটায় নয়, সত্যি বলতে কি, সারা শরীরে উষ্ণ রক্ত বহু আগে থেকেই সঞ্চালিত হচ্ছিল অত্যন্ত দ্রুত গতিতে। কিন্তু সর্বশেষ প্রশ্নের জবাব শুনে রক্তের সে গতি আরো বহু গুণ বেড়ে গেল। বুঝতে পারলাম আর এখানে থাকা নিরাপদ হবে না। কি থেকে কি ঘটে যায় কে জানে! চলে এলাম।

কিন্তু আসার সময় হেড মাস্টার সাহেবকে সংযত অথচ দৃঢ় কণ্ঠে আমলাতান্ত্রিক কায়দায় বললাম, ‘আমি পরশু আবার আপনার স্কুলে আসব। বাবায়ে কওমের অর্থাৎ আমাদের সবার বাবার ছবিটা এই রুমে দেখতে চাই এবং কাল থেকে কওমী ঝান্ডা সমবেত জাতীয় সঙ্গীতের সাথে উত্তোলন করতে হবে।পরদিন আমাকে একটু অবাক করে দিয়েই মহারাজা স্কুলের হেড মাস্টার সাহেব আমার বাংলোয় এলেন। কাল তাকে বলে এসেছিলাম যে, পরশু আমি তার স্কুলে যাবো। তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে আমাকে সেই দাওয়াত দিতে এসেছেন। তার এই আচরণ আমার খুব ভালো লাগলো।

পরদিন নির্দিষ্ট সময়ে স্কুলে গেলাম। স্কুল মাঠে ১৯৪৭ সালের পর এই প্রথমবারের মতো জাতীয় পতাকা উড়ছে। আমাকে ছেলেরা অভ্যর্থনা করল ‘ব্রতচারী’ গান শুনিয়ে। শিক্ষক কমন রুমে এলাম। দেখলাম, কায়েদে আজমের ছোট্ট মানের ছবির ফ্রেমটা খুব উচুতে স্থাপন করে একটা রুমাল দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে এবং একটা রশি লাগিয়ে রুমালটা টানার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আমাকে পর্দা উন্মোচন করার জন্য অনুরোধ করা হলো। আমি রশি টানলাম। সবাই করতালিতে কামরাটা মুখর করে তুললো। ফ্রেমের মধ্যে ছবিটা পোস্ট কার্ড সাইজের।

এবার বক্তৃতার পালা। কিছু বলতে হবে। বললাম, ‘যে গতিতে আপনারা অগ্রযাত্রা শুরু করেছেন। তাতে আমি খুব খুশী হয়েছি। মনে হলো তারাও খুব বেশী খুশি হয়েছে এসডিওকে খুশী দেখে। কিন্তু তারা এটা মোটেও আচ করতে পারেনি যে, এই ব্যাটা এসডিও কাল আবার স্কুল বসার সময় সশরীরে এসে হাজির হবেন।

পরদিন সকাল ঠিক দশটায় গিয়ে মহারাজা স্কুলে উপস্থিত হলাম। স্কুলের ত্রি-সীমানার কোথাও জাতীয় পতাকার নাম নিশানা পাওয়া গেল না। এতে অবশ্য আমি অবাক হলাম না। শিক্ষকদের কমন রুমে গিয়ে ঢুকলাম। ‘কায়েদে আজম’ উধাও। এটাও অপ্রত্যাশিত ছিল না আমার কাছে। জিজ্ঞেস করলাম হেড মাস্টার সাহেবকে, ‘ছবিটা কোথায় গেল? কোন উত্তর পেলাম না। কারো মুখে রা নেই। সবাই হতচকিত ও বিহবল হয়ে পড়েছে। এরকম একটা ঘটনা বাস্তবে ঘটতে পারে এটা যেন তারা কল্পনাও করতে পারেননি।

এই নীরবতা ভঙ্গ করে আমার এক নতুন আর্দালী এক পানের দোকানদারের হাত ধরে প্রায় টেনে হেচড়ে আমার সামনে হাজির করলো। ব্যাপার কি? জানতে চাইলাম। সে যা বলল তা হলো কাল যে ছবিটা এখানে টাঙ্গানো হয়েছিল সে ছবিটা এই ব্যাটা দোকানদার ওর দোকানে টাঙ্গিয়ে রেখেছে আজ। কত বড় সাহস! পান দোকানদার কাচুমাচু হয়ে যা বলল তা হলো, এতে ওর কোন অপরাধ নেই। এই ছবিটার প্রকৃত মালিক সেই। স্কুল কর্তৃপক্ষ কাল কিছুক্ষণের জন্য এই ছবিটা তার কাছ থেকে ভাড়া করেছিলো। কাজ শেষে কালই আবার তারা ছবিটা তাকে ফেরত দিয়েছে। এমনভাবে এদের হাটে হাড়ি ভাংঙ্গবে এরা ভাবতেও পারেননি।

একজন শিক্ষক (হেডমাস্টার নন) বিনীত কণ্ঠে বললেন, ‘স্যার’ যদি অভয় দেন তো একটা কথা বলবো। আমি তার দিকে তাকিয়ে বললাম, নির্ভয়ে বলুন। তিনি বললেন, স্যার আপনি যা চাচ্ছেন তার সাথে যদি আমরা একমত না হই তবে কি আমরা বিনা ঝামেলায় পদত্যাগ করতে পারবো?

জবাবে শান্ত কণ্ঠে বললাম, নিশ্চয়ই পারবেন, খুশী মনে পারবেন। কোন ঝামেলাও হবে না। এবার হেড মাস্টার মরিয়া হয়ে মুখ খুললেন, স্যার, এই স্কুলের গভর্নিং বোর্ডের প্রেসিডেন্ট কলকাতাবাসী মহারাজা, এসডিও নন। বললাম, সে আমি খুব ভাল করেই জানি। এসডিও হিসেবে আমি জানি আমাকে কি করতে হবে এবং আমি আমার দায়িত্ব সম্পর্কে খুবই সচেতন।

হেড মাস্টার সাহেব আর কিছু বললো না। আমি পায়চারি করতে করতে হেড মাস্টার সাহেবকে জিজ্ঞেস করলাম, ‘এ স্কুলটির এ্যাফিলিয়েশন কি কলকাতার সঙ্গে না ঢাকার সঙ্গে?’ উত্তর পেলাম না। হেড মাস্টার সাহেবের চেহারা আরো গম্ভীর হলো।হঠাৎ কাচের আলমারীর ভিতর একটা বইয়ের উপর নজর পড়ল। The Calcutta University Calender 1956 বইটা দেখতে চাইলাম। একজন শিক্ষক নীরবে বইটা আমার হাতে তুলে দিলেন। পাতা উল্টাতে উল্টাতে কাঙ্খিত জায়গা পেয়ে গেলাম। নাটোর মহারাজা হাইস্কুল কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের এ্যাফিলিয়েশন প্রাপ্ত। আগের বছর এই স্কুলের কত জন ছাত্র পাস করেছে তারও একটা হিসাব এতে আছে।

আমার মনে নানা ধরনের সন্দেহ উকি ঝুকি দিলেও সত্য বলতে কি, আমি এতোটা ভাবতে পারিনি। ইট ইজ টু মাচ! এই স্কুল সম্পর্কে যা সিদ্ধান্ত নেবার তা নিয়ে ফেলেছি তৎক্ষণাৎ, নিজের অজান্তেই। চুপচাপ চলে এলাম নিজের বাংলোয়। সরকারী স্কুলের একজন অবসরপ্রাপ্ত হেড মাস্টার নাটোরের কানাইখালিতে থাকতেন। তাকে রেক্টর নিয়োগ করে মহারাজা স্কুলে পাঠালাম পরদিন।

এদিকে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রাজশাহী থেকে আমার কাছে এক বার্তা পাঠালেন। তাতে তিনি জানালেন যে, কলকাতায় বসবাসকারী মহারাজা প্রাদেশিক গভর্নর এ কে ফজলুল হক সাহেবের ঘনিষ্ঠ বন্ধু মহারাজা অভিযোগ করেছেন, এক ছোকরা এসডিও তার স্কুলটাকে নষ্ট করে দিচ্ছে। সুতরাং হক সাহেব যেন ত্বরিত ব্যবস্থা নেন।

ওই দিন বিকেলে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট স্বয়ং নাটোরে তাশরিফ আনলেন। সোজা নিয়ে গেলাম তাকে মহারাজা স্কুলে।… জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সাহেব তার সদর দফতরে ফিরে গিয়ে মহারাজা স্কুল সম্পর্কে কি রিপোর্ট দিয়েছিলেন জানি না। তবে সেদিন স্কুল থেকে ফেরার পথে তিনি আমাকে সবিস্ময়ে বলেছিলেন, ‘এটা কি করে সম্ভব হলো- যে স্কুলটি এই দেশে অবস্থিত, স্কুলের পাঠ্য বইগুলো এখানকার টেক্সট বুক বোর্ড কর্তৃক অনুমোদিত অথচ ছেলেরা পরীক্ষা দেয় কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় সিলেবাস অনুসারে। তাকে এ তথ্যও দিয়েছিলাম যে কটি মুসলমান ছেলে দশম শ্রেণীর পর্যন্ত পড়ে তারা হয় প্রাইভেটে পরীক্ষা দেয় নতুবা পাশের দিঘাপতিয়া স্কুলের ছাত্র হিসেবে ঢাকা বোর্ডের পরীক্ষায় অংশ নেয়। এ স্কুল থেকে যারা মেট্রিক পরীক্ষা দেয় তারা সবাই হিন্দু ছাত্র এবং পরীক্ষা দেয় কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় সিলেবাস অনুসারে।

যা হোক, মহারাজা স্কুলের কীর্তিমান হেড মাস্টার এবং তার চার জন সহকর্মী শিক্ষক হঠাৎ একদিন লাপাত্তা হয়ে গেলেন। খোজ খবর নিয়ে জানা গেল, তারা সীমান্তের ওপারে চলে গেছেন।”

(উৎসঃ পি এ নাজির,স্মৃতির পাতা থেকে, নতুন সফর প্রকাশনী, ১৯৯৩ পৃষ্ঠা ১০-১৫)

উপরোক্ত বর্ণনা থেকে স্পষ্ট যে কোন অত্যাচার নয় বরং নিজেদের মুসলিম বিদ্বেষ ও একপেশে হিন্দুয়ানী বজায় রাখতে ওই পাচজন হিন্দু শিক্ষক দেশ ত্যাগ করে ভারতে আসেন।

লেখাটা শেষ করা যাক সুকৃতি রঞ্জন বিশ্বাস মহাশয়ের আরেকটি ফেসবুক পোস্ট দিয়ে, তিনি লেখেনঃ

“ বাংলাদেশে Amar বাড়ি যেখানে, দুটি গ্রাম পরের গ্রামের আমার পরিচিত একজন বাংলাদেশ থেকে দেশত্যাগের কারণ নিয়ে আমার লেখায় মন্তব্য লিখলেন, ” বাস্তবে কি তাই?”

আমি তাকে লিখি “সমীরণ, তোমার বংশের কেউ মুসলমানের হাতে খুন হয়েছে, চড় খেয়েছে, চোখ রাঙানি? উত্তর না। তোমার বংশের কতজন দেশ ছেড়েছেন। আগে লেখাপড়া জানা সবাই। তোমার পরিবারের অর্ধেক এপারে। মুসলমানের গুতোয় দেশত্যাগ হলে আধাআধি এমন হয় না। আসলে তোমরাও আসতে চাও শুধু সুযোগ ও সুবিধা হলে তবে আসবে, না হলে থাকবে। ওদেশের প্রায় সবাই এমনি।”

এবার সে জবাবে লিখলেন, ” দাদা, আমরা বা আমার বংশের কেউই মুসলমানের নিকট অপমানিত হয়ে ভারতে আসে নাই বা যায় নাই। আমাদের নিজ সুবিধার জন্য ভারতবর্ষে নিজ ইচ্ছায় আগমন ও প্রস্থান করি”।

সাবেক যশোর জেলার মাগুরা মহকুমা থেকে নড়াইল, অভয়নগর, মনিরামপুর, কেশবপুর হয়ে খুলনা জেলার দক্ষিণাঞ্চল ডুমুরিয়া, বৈঠঘাটা, তালা, দাকোপ, রামপাল থানা বা উপজেলা হিন্দু অধ্যুষিত অঞ্চল। একটা অর্ধচন্দ্রের মতো এলাকা যার বিস্তৃতি ১০০ কিলোমিটারের বেশি হবে। এই অঞ্চলে কোনোদিন বা কোনোকালে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বলতে যা বোঝায়, তা হয় নি। কিন্তু এখানকার বহু মানুষ দেশত্যাগ করেছেন।

এই অঞ্চল জুড়ে এখন এমপিরা হলেন– বীরেন শিকদার (মন্ত্রী), রণজিৎ বাবু, স্বপন ভট্টাচায্য, Narayan চন্দ (মন্ত্রী), poncha non biswas প্রমুখ।

কেউ কেউ তত্ত্ব হাজির করছেন যে, দুই পক্ষ সবল নয়, তাই দাঙ্গা নেই। তবে কেন হিন্দু অধ্যুষিত এলাকায় দাঙ্গা হলো না? আমি বলি– এসব ব্যাখ্যা ওতো সরল নয়।

যারা দেশত্যাগের কারণ সম্পর্কে এখনো আমার মতামতের ব্যাপারে সংশয়ে আছেন, তাদের জন্য ২০০/৫০০ পরিবার সম্পর্কে নাম ঠিকানা উল্লেখ করে ও তাদের দেশত্যাগের কারণ উল্লেখ করে আমি লিখতে পারি। সেটা উচিত হবে না বলে লিখছি না।

[ফেসবুক পোস্ট লিঙ্কঃ http://bit.ly/sukriti5 এবং আর্কাইভ লিঙ্কঃ https://archive.is/afHOj ]

শহীদ আদনান মেন্দারিস (রহ)

#আযান দেওয়ার অনুমতি দেওয়ায় ১৯৬০ সালে এভাবেই বীরদর্পে ফাঁসির রশিতে ঝুলেছিলেন তুরস্কের ৯ম প্রেসিডেন্ট(১৯৫০-১৯৬০) শহীদ আদনান মেন্দারিস (রহ)…… ।
আল্লাহ তার সর্বোত্তম প্রতিদান দিন । ওনার শাহাদাৎকে আল্লাহ কবুল করুন । আমিন ।
কুখ্যাত নাস্তিক #মোস্তফা_কামাল_পাশা যাকে #কামাল_আতাতুর্ক‌ ও বলা হতো সেই কামাল ও তার দলের তুলনায় আদনান মেন্দেরেস ঐতিহ্যবাহী জীবনপদ্ধতি এবং ইসলাম চর্চার প্রতি সহনশীল ছিলেন। ১৯৫০ সালের নির্বাচনের সময় তিনি আরবি ভাষায় আজান দেয়ার অনুমতি প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। ইতিপূর্বে তুরস্কে আরবিতে আজান নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। তিনি ইতিপূর্বে বন্ধ করা কয়েক হাজার মসজিদ পুনরায় চালু করেন। এজন্য রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা তাকে দোষারোপ করে।
মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোয়াইট ডি. আইজেনহাওয়ারের সাথে তুরস্কের রাষ্ট্রপতি জালাল বায়ার ও প্রধানমন্ত্রী আদনান মেন্দেরেস, ডিসেম্বর ১৯৫৯
পূর্বসূরিদের চেয়ে আদনান মেন্দেরেস মুসলিম রাষ্ট্রসমূহের সাথে সম্পর্ক উন্নয়নে তৎপর ছিলেন। তার অর্থনৈতিক নীতির কারণে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কাছে তিনি জনপ্রিয় হয়েছিলেন।

কুখ্যাত মোস্তফা কামাল পাশার অপমানজনক ও নিকৃষ্ট মৃত্যুর বেশ কিছু বছর পর ১৯৯০ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর তার ২৯তম মৃত্যুবার্ষিকীতে তুরস্কের সংসদ তাঁকে #মরণোত্তর_নির্দোষ ঘোষণা করে। তাঁর কবর স্থানান্তর করে ইস্তানবুলে তার নামে একটি কবরে দাফন করা হয়। এই মহান ব্যক্তির সাথে ফাঁসিতে মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত ফাতিন রুশতু জোরলু ও হাসান পোলাতকানকেও মরণোত্তর নির্দোষ ঘোষনা করা হয়। #আইদিনের_আদনান_মেন্দেরেস_বিশ্ববিদ্যালয় এবং #ইজমিরের_আদনান_মেন্দেরেস_বিমানবন্দর তার সম্মানে নামকরণ করা হয়েছে। তার নামে দুইটি উচ্চ বিদ্যালয়ও রয়েছে। এছাড়াও তুরস্কে তার নামে বিভিন্ন স্থান, সড়ক রয়েছে।

প্রথম সারীর ১৮ জন ইসলামবিদ্বেষী নাস্তিক এর লিস্ট।

বাংলার বিখ্যাত প্রথম সারীর ১৮ জন ইসলাম বিদ্বেষী নাস্তিকএর তালিকা যারা এই বাংলাদেশে নাস্তিকতার জন্ম দিয়ে পবিত্র দিন ইসলামের বিরোধিতা করে গেছে ও করছে ।

কুখ্যাত বাউল নাস্তিক লালন শাহঃ

১// বাউল লালন শাহঃ সুবিধাবাদী সেক্যুলার। কোন ধর্ম পালন করতো না। জীবনে যতবার গাঁজা টেনেছে ততবার ভাত খেয়েছে কিনা সন্দেহ। দেশের সকল নাস্তিক লালন বলতে অজ্ঞান। লালনের অনুসারিরা লালনের জন্মদিনে গাঁজা খাওয়ার উৎসব করে থাকে। লালন এমন এক পৃথিবীর স্বপ্ন দেখতো যেখানে ধর্ম বলে কিছু থাকবে না, হিন্দু-মুসলিম-খ্রিষ্টান এরকম কোন ধর্মীয় পরিচয় মানুষের থাকবে না।

নাস্তিক আরজ আলী মাতব্বর

২// আরজ আলী মাতব্বর: অতি সাধারন অশিক্ষিত এক কৃষক হয়েও সে বাংলার নাস্তিক সমাজের মধ্যমনি। ইসলামী জ্ঞানের স্বল্পতা থাকার দরুন না বুঝেই ইসলাম ধর্ম নিয়ে অনেক অভিযোগ উত্থাপন করেছিল। কুরআন-হাদীসের ভূল ধরতে গিয়ে সে কেবল তার নের সীমাবদ্ধতাকেই তুলে ধরতে পেরেছে।তবুও শুধুমাত্র ইসলাম বিরোধীতা করার কারনে নাস্তিকরা তাকে নিজেদের ধর্মগুরু বানিয়ে নিয়েছে।

৩// আহমেদ শরীফ: নতুন প্রজন্মের অনেকেই এই নাস্তিকের নাম জানে না। তার একটা বিখ্যাত উক্তি-“পুরুষদের যদি সততা দরকার না হয় তবে নারীদের সতীত্বের কেন দরকার? নারীরাও যেভাবে খুশি যৌনাঙ্গ বিলাতে পারবে।” স্বঘোষিত নাস্তিক তার ইচ্ছা মেনে মৃত্যূর পর তার জানাজা এবং কবর কোনটাই হয়নি।

৪// হুমায়ুন আজাদ: বাংলা সাহিত্যের অশ্লীল ও কুরুচিপুর্ণ লেখার জনক। সারাজীবন ধর্মের প্রতি বিষোদগার করে গেলেও মৃত্যূর পর ধর্ম মেনে ঠিকই তার জানাজা ও কবর দেয়া হয়েছে, সে এটাই চেয়েছিল কারন মুখে নাস্তিকতার বড় বড় বুলি আওড়ালেও মৃত্যূ পরবর্তী জীবন নিয়ে সম্ভবত সে ভীত ছিল। মেয়ে মৌলি আজাদের ভাষায়-মাত্রাতিরিক্ত সেক্সের প্রাধান্য থাকতো বাবার উপন্যাসে। তাই মাঝে মধ্যে বিরক্তই হতাম হুমায়ুন আজাদের কুখ্যাত কিছু উক্তি-এক একটি উর্বশীকে আমি মেপে মেপে দেখি।মাঝারী স্তন আমার পছন্দ, সরু মাংসল উরু আমার পছন্দ চোখের সামনে আমার মেয়ে বড় হচ্ছে। কিন্তু সামাজিক নিয়মের বেড়াজালে আমারহাত-পা বাঁধা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেয়েদের চুইংগামের মতো চাবাতে ইচ্ছে করে।

কুখ্যাত নাস্তিক কবি শামসুর রহমান

৫// কবি শামসুর রহমান: শামসুর রহমানের একটি কুখ্যাত উক্তি- আযানের ধ্বনি বেশ্যার খদ্দের ডাকার ধ্বনির মত মনে হয় নাউজুবিল্লাহ। এই একটা উক্তিই প্রমান করে শামসুর রহমান কি পরিমাণ ইসলাম বিদ্বেষী ছিল। তাকে একবার প্রশ্ন করা হয়েছিল- আপনি কি চান আপনার কবর হোক আপনার খালার কবরের পাশে? নাস্তিকটা জবাব দিয়েছিল-আমি তো আমার কবর হোক এটাই চাই না।

নাস্তিক ডাঃ তসলিমা নাসরিন

৬// তসলিমা নাসরিন: তাকে চেনে না এমন লোক খুব কমই আছে। তার একটি বিখ্যাত উক্তি-পুরুষরা যেমন গরম লাগলে খালি গায়ে ঘুরে বেড়ায় নারীরাও তেমনি খালিগায়ে ঘুরে বেড়াবে, তাদের স্তন সবাই দেখবে লেখক ইমদালুল হক মিলন, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, রুদ্র মুহম্মদ, সৈয়দ শামসুল হক, মিনার মাহমুদ সহ আরো অসংখ্য পুরুষ বৈধ/অবৈধভাবে তাকে ভোগ করেছে বলে তসলিমা তার আত্মজীবনিতে অভিযোগ করেছে!! সে কি মাপের ইসলামবিদ্বেষী সেটা নিশ্চয়ই কাউকে বুঝিয়ে বলতে হবে না। সে নিজেকে নাস্তিক দাবী করলেও খেয়াল করলে দেখবেন তার যত ক্ষোভ, যত ঘৃণা সব কিছুই ঝাড়ে কেবল ইসলাম ধর্মের উপর। সনাতন ধর্ম কিংবা খ্রিস্ট ধর্ম অথবা ইহুদীদের নিয়ে তার কোন মাথাব্যথা তেমন চোখে পড়ে না।

ইসলাম অবমাননাকারী কুখ্যাত নাস্তিক আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী

৭// আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীঃ তাকে তো সবাই চেনেন। বেশি কিছু বলার নাই। আলোচিত কিছু উক্তি-ধর্ম তামাক ও মদের মত একটি নেশা। মোল্লাদের কোন কাজ নেই তাই তারা ঘন ঘন মসজিদ তৈরি করেছে।টাকা ইনকামের জন্য আব্দুল্লাহর পুত্র মোহাম্মদ হজ্জের প্রবর্তন করেছিল। সভা-সমাবেশের শুরুতে কুরআন তেলাওয়াত বন্ধ করা দরকার।

স্বঘোষীত নাস্তিক জাফর ইকবাল

৮// জাফর ইকবাল: বাংলাদেশের নাস্তিকতা প্রচারের মিশন দিয়ে আমেরিকার একটি বিশেষ সংস্থা তাকে বাংলাদেশে পাঠিয়েছে বলে ধারনা করা হয়। তরুন সমাজকে নাস্তিক হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। নিজে মুক্তিযুদ্ধ না করলেও জাফর এখন মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিক্রি করে পেট চালায়। জাফরের দাবী সে পাকিস্তানের দোষর রাজাকারদের ঘৃণা করে,কিন্তু আশ্চর্য হলেও সত্য ৭১ সালে পাকিস্তানকে সর্বপ্রকার সমর্থন ও সামরিক সাহায্য দেয়া রাষ্ট্র আমেরিকার ব্যাপারে তার কোন চুলকানিই নেই। জাফর নিজে আমেরিকায় চাকরী করতো, এখন সে তার ছেলে-মেয়েদেরকেও আমেরিকা পাঠিয়েছে পড়াশোনা করার জন্য।

নাস্তিক লেখক আনিসুল হকঃ

৯// লেখক আনিসুল হকঃ সেক্যূলারপন্থী লেখক আনিসুল হক নাস্তিকপন্থী পত্রিকা প্রথম আলোর সহকারী সম্পাদক। ১৯৯১ সালে সে কুরআনের একটি সূরাকে ব্যঙ্গ করে প্যারোডি সূরা রচনা করে, বছরখানেক আগে তার ঐ লেখা পুনঃপ্রকাশিত হলে দেশ উত্তাল হয়ে ওঠে। সেক্যুলারপন্থী আনিসুল হক ভয় পেয়ে নিঃশর্ত ক্ষমা চায়। এরপর সে আরো কৌশলী হয়ে যায়, সরাসরি ইসলাম অবমাননা না করে এখন সে তার নাটক-সিনেমা ও পত্রিকা দ্বারা ইসলাম বিরোধী তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।

নাস্তিক সুলতানা কামাল চক্রবতী

১০// সুলতানা কামাল: জন্মসূত্রে মুসলমান হলেও বিয়ে করেছে শ্রী সুপ্রিয় চক্রবর্তী নামে এক হিন্দুকে।কপালে সবসময় একটা ট্রেডমার্ক টিপ থাকে। সংবিধান থেকে বিসমিল্লাহ ও রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম তুলে দেয়ার জন্য বহু বছর ধরে চেষ্টা করে যাচ্ছে এই কুখ্যাত সেক্যুলার। ইসলাম বিদ্বেষী নাস্তিকদের প্রতি সে প্রকাশ্য সমর্থন দিয়ে থাকে। আসিফ মহিউদ্দিন নামক উগ্র নাস্তিককে ইসলাম অবমাননার অভিযোগে যখন ডিবি পুলিশ গ্রেফতার করেছিল তখন সে আসিফকে ছাড়ানোর চেষ্টা করেছিল। সারারাত থানায় অবস্থান করে নাস্তিক আসিফকে নৈতিক সমর্থন দিয়েছিল।

ইসলাম বিদ্বেষী নাস্তিক প্রবীর ঘোষ

১১// প্রবীর ঘোষ: বর্তমান সময়ের একজন খাটি নাস্তিক। কলকাতার নাস্তিকদের মধ্যে সে সবচেয়ে জনপ্রিয়। সকল ধর্মের বিরোধী প্রবীর ঘোষ ধর্মমুক্ত একটি বিশ্ব চায়। তার অসংখ্য,ভক্ত-সমর্থক রয়েছে।

জাতীয় অধ্যাপক খ্যাত জাতীয় নাস্তিক নাস্তিক কবির চৌধুরী গজবতুল্লাহ

১২// কবির চৌধুরী (গজবতুল্লাহ): চরমপন্থী এই নাস্তিক একবার বলেছিল- তোমরা আমার মরণের সময় মোহাম্মদের জ্বালাও-পুড়াও ঐ কালেমা শুনাবে না, বরং রবীন্দ্রনাথের একটি সংগীত আমাকে শুনাবে এই উগ্র নাস্তিক মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী ছিল এবং ৭১ সালে পাক সরকারের বিশ্বস্ত অনুচর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছে। কিন্তু নাস্তিক হওয়ার কারনে আজ তার সাত খুন মাফ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাধারীরা আজ তাকে মাথায় তুলে নাচে।সংবিধানে ’বিসমিল্লাহ’ রাখার ব্যাপারেও কবির চৌধুরী আপত্তি তুলেছিলো। আজ সে মালিক ফিসিস্তার তত্ত্বাবধান আছে ।

নাস্তিক সৈয়দ শামসুল হক ওরফে কাউয়া শামসুল ।

১৩// সৈয়দ শামসুল হক: এটা আরেক উগ্র সেক্যুলার। অন্যান্য নাস্তিকের মত এটাও ছিল নোংরামিতে সিদ্ধহস্ত। তার একটা কবিতা হল এরকম-যখন দু’স্তন মেলে ডেকে নিলে বুকের ওপরে স্বর্গের জঘন খুলে দেখালে যে দীপ্তির প্রকাশ মুহুর্তেই ঘুচে গেল তৃষিতের অপেক্ষার ত্রাশ আরেকটা কবিতা এরকম- শত বাধা সত্ত্বেও থামতে পারে না কামুক পুরুষ দুজনের দেহ ছিড়ে বের হয় দুধ-পূর্ণিমাআর তা নেমে আসে স্তনের চুড়ায় যাদের সাহিত্যের ভাষা এমন নোংরা তারা সেক্যুলার/নাস্তিক হবে এটাই স্বাভাবিক। এরা যদি নিজেকে মুসলমান দাবী করতো তাহলে সেটাই বরং আশ্চর্য্যের ব্যাপার হত।

ইতিহাস পন্ডিত ও ইসলাম বিদ্বেষী নাস্তিক মুনতাসির মামুন

১৪// মুনতাসির মামুন: এই স্বঘোষিত নাস্তিক একবার বলেছিল-সভা-সমাবেশে বিসমিল্লাহ বলা বা কুরআন পড়ার দরকার নেই। সংবিধানে বিসমিল্লাহ থাকা আমাদের জন্য অপমান সরূপ। আমরা তো সংবিধানে আল্লাহর নাম অথবা বিছমিল্লাহ থাকবে সেজন্য দেশ স্বাধীন করিনি। ধর্ম যেমন ভন্ডামী তেমনি মৌলবাদিদের সব ভন্ডামী । বঙ্গ ভবনের দেয়ালে কুরান শরীফের আয়াত লেখা এটা একটা চরম ভন্ডামী মুনতাসির মামুনের দূঃসাহসী আরেকটা মন্তব্য-এদেশে এক জন মুসলমানও যত দিন থাকবে ততদিন পর্যন্ত আমাদের সংগ্রাম চলবেই চলবে

নাস্তিক ব্লগার রাজীব ওরফে গাঁজাখোর (থাবা বাবা) ।

১৫// ব্লগার রাজীব (থাবা বাবা): এই নাস্তিক নবীজী উনাকে হযরত মহাউন্মাদ কিংবা মোহাম্মক (মহা+আহাম্মক) নামে ডাকতো (নাউজুবিল্লাহ)। হাদীসকে চটি গ্রন্থ এবং কুরআনকে সে কৌতুকের বই বলে আখ্যায়িত করতো। বিভিন্ন সময়ে আল্লাহ, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার সাহাবীদেরকে নিয়ে চটি গল্প লিখে “ধর্মকারী” নামক ব্লগে প্রকাশ করতো। কুরআনের বিভিন্ন আয়াতের উদ্বৃতি দিয়ে সেগুলোর নিজের মনগড়া ব্যাখ্যা দিয়ে ঠাট্টা ও হাসি-তামাশা করতো। তার এসব কার্যকলাপ তাকে এদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে কুখ্যাত ইসলাম বিদ্বেষী নাস্তিকের মর্যাদা দিয়েছে। তার বেশিরভাগ লেখাই প্রকাশযোগ্য নয়। তার কার্যকলাপে অতিষ্ঠ হয়ে অবশেষে ৫ জন ধর্মপ্রাণ মুসলিম এই মুরতাদকে হত্যা করে জাহান্নামের টিকিট ধরিয়ে দেয়। তার মৃত্যুর পর সরকার এবং শাহবাগের অন্যান্য নাস্তিকরা তাকে দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধের প্রথম শহীদ হিসেবে আখ্যায়িত করে!!

নাস্তিক আসিফ মহিউদ্দিন:

১৬// আসিফ মহিউদ্দিন: বর্তমান সময়ের আরেক কুখ্যাত নাস্তিক। অন্যান্য নাস্তিকের মত এটাও চরিত্রহীন ও লম্পট। ওর নাম লিখে ইন্টারনেটে সার্চ দিলেই মদের বোতল হাতে মাতলামি করা অবস্থায় একটা ছবি খুঁজে পাবেন। ইসলাম অবমাননার দিক দিয়ে থাবা বাবার পরেই তার অবস্থান। তার ইসলামবিদ্বেষী কার্যকলাপে খুশী হয়ে জার্মান সরকার তাকে ঐদেশের ভিসা উপহার দিয়েছে। বর্তমানে সে জার্মানী থেকে ফেসবুক ও ব্লগে ইসলাম বিদ্বেষী লেখালেখি করে থাকে। আসিফের দাবি আল্লাহ নিজেই নাস্তিক, অতএব নাস্তিক হওয়াটা দোষের কিছু না। আসিফ মহিউদ্দিন পবিত্র কুরআনকে“আহাম্মোকোপিডিয়া” বলে থাকে। সে কুরআনের আয়াতকে বিকৃত করে “আউজুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির নাস্তিকানির নাজিম” বলে এবং মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার কল্পিত ছবি তার ব্লগে প্রকাশ করে।

নাস্তিক ফরহাদ মজহার

১৭// ফরহাদ মজহার: এই লিস্টে উনার নাম দেখে অনেকেই চমকে গেছেন!! তাইনা?? আওয়ামীলীগ-বিরোধী অবস্থান নেয়ার কারনে অনেকে তার আসল পরিচয় জানে না। এক সময় সে ছিল একজন কুখ্যাত ইসলামবিদ্বেষী নাস্তিক, বর্তমানে তার ভূমিকা বেশ রহস্যজনক। সে এখন আর আগের মত নাস্তিকতা প্রচার করে বেড়ায় না, বরং ইসলামপন্থীদের পক্ষাবলম্বন করে কলাম লেখে-বিবৃতি দেয়। কিন্তু সেটা যতটা না আদর্শগত কারনে তারচেয়ে বেশি রাজনৈতিক কারনে। {{সে এখনো নাস্তিক আছে নাকি তওবা করে মুসলমান হয়েছে তা নিশ্চিত হওয়া যায় নি।তওবা করেছে কিনা জানিনা }} নব্বইয়ের দশকে “এবাদত নামা” নামে একটি ইসলাম বিদ্বেষী কাব্যগ্রন্থ লিখে সে বেশ বিতর্কিত হয়েছিল। কয়েকটা লাইন উল্লেখ করছি: বিবি খাদিজার নামে আমি এই পদ্যটি লিখি, বিসমিল্লাহ কহিব না, শুধু খাদিজার নাম নেবো। নবীজীর নাম? উহু, তার নামও নেবোনা মালিক শুধু খাদিজার নাম- দুনিয়ায় আমি সব নাম ভুলে যাব তোমাকেও ভুলে যাবো, ভুলে যাবে নবীকে আমার। তার আরেকটা কবিতা আরো মারাত্মক-দুনিয়া রেজিস্ট্রি কর,তিলেক হিম্মত নাই আধা ছটাকের নাই তেজ সাত আসমানে প্রভু খোদাতা’লা হয়ে বসে আছ মুখে খালি কহ শুনি দুনিয়ার তুমিই মালিক অথচ মালিক অন্যে, অন্যে কহিতেছে তারা খোদা মালিক এ জমিনের -প্রত্যেকেই তোমার শরিক তোমার শরিক নাই এই কথা তবে কি বোগাস? এদের দলিল যদি মিথ্যা হয় যাও আদালতে উকিল ধরিয়া করো দুনিয়া রেজিস্ট্রি নিজ নামে

শফিক রেহমান বাংলার জিন্দা নাস্তিকদের মধ্যে অন্যতম ।

১৮// শফিক রেহমান: বাংলাদেশে “ভ্যালেন্টাইন ডে” নামক বিজাতীয় সংস্কৃতির প্রবর্তক। ১৯৯৩ সালে এই নাস্তিক সর্বপ্রথম তার পত্রিকা যায়যায়দিন এর মাধ্যমে এদেশে ভালবাসা দিবস এর প্রচলন ঘটায়। শফিক রেহমানকে বাংলাদেশের চটি সাহিত্যের জনক বলা হয়। অশ্লীলতার দিক দিয়ে হুমায়ুন আজাদও উনার কাছে নস্যি। শফিক “মৌচাকে ঢিল” নামক একটি সেমি-চটি ম্যাগাজিনের সম্পাদক। এছাড়া বাংলাদেশে লিভ টুগেদার ছড়িয়ে দেয়ার পেছনে সবচেয়ে বেশি অবদান শফিক রেহমানের। তার বিরুদ্ধে সমকামীতার অভিযোগও রয়েছে।

১৯// কবি দাউদ হায়দারঃ বাংলাদেশে স্বাধীন হওয়ার পর মাথাচাড়া দিয়ে জেগে উঠা স্বঘোষিত নাস্তিকদের অন্যতম সে। তার কবিতাগুলো অশ্লীলতা ও গালাগালীতে ঠাসা ।তার “জন্মই আমার আজন্ম পাপ”বইয়ের একটি কবিতার কয়েটি লাইন এমন–“শালা শুয়োরের বাচ্চা ….. কোথায় যাও হে…. আমরাই পাপীরে হারামজাদা…”। অন্য এক জায়গায় আলেমদের উদ্দেশ্য করে লিখেছে–“মাথায় টুপি, মুখে দাড়ি….. আননে কি রুপের বাহার…….এক্ষনি পশ্রাবে ভরে দেব মুখ” ।
সে কালো সূর্যের কালো জ্যোৎসায় কালো বন্যায়’ নামে একটি কবিতা লিখেছিল। ঐ কবিতাতে সে নবী মোহাম্মদ (সাঃ), যিশুখ্রীষ্ট এবং গৌতম বুদ্ধ সম্পর্কিত অবমাননাকর উক্তি ছিল যা সাধারণ মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছিল। তখন বাংলাদেশে তৌহিদবাদী মানুষ এর বিরুদ্ধে প্রচণ্ড প্রতিবাদ শুরু করে। ঢাকার এক কলেজ-শিক্ষক ঢাকার একটি আদালতে এই ঘটনায় দাউদ হায়দারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছিলেন। তৎকালীন বঙ্গবন্ধুর সরকার নাস্তিকটাকে ১৯৭৩ সালে নিরাপত্তামূলক কাস্টডিতে নেয়া হয়। ১৯৭৪ এর ২০ মে সন্ধ্যায় তাঁকে জেল থেকে মুক্তি দেওয়া হয় এবং ২১শে মে সকালে বাংলাদেশ বিমানের একটা রেগুলার ফ্লাইটে করে তাকে কলকাতায় পাঠানো হয়। ওই ফ্লাইটে সে ছাড়া আর কোনো যাত্রী ছিল না। তার কাছে সে সময় ছিল মাত্র ৬০ পয়সা এবং কাঁধে ঝোলানো একটা ছোট ব্যাগ । তার ভাষায় -“আমার কোন উপায় ছিল না। মৌলবাদীরা আমাকে মেরেই ফেলত ।মুজিব সরকারও আমার মৃত্যু কামনা করছিল”।
এই দুনিয়ার কোথাও নাস্তিকদের জন্য নিরাপদ নয় । মালিকহীন লাওয়ারিশ কুকুর হয়ে পথে ঘাটে অথবা পতিতালয়ে তাদের পাওয়া যায়।

তাই ব্লগ ও ফেসবুকে অপপ্রচারের খপ্পরে পড়ে অথবা কৌতূহলবশত আরজ আলী মাতুববর কিংবা হাল আমলের নাস্তিককুল শিরোমণি ক্রিস্টোফার হিচেন্স, রিচার্ড ডকিন্সদের বইপত্র নাড়া-চাড়া করতে গিয়ে শিক্ষার্থী তরুণরা যেন বিভ্রান্তির শিকার না হয়, সে ব্যাপারে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। সেই সাথে নাস্তিক্যবাদী ও মুখোশধারী কবি-সাহিত্যিকদের নষ্ট সাহিত্য অধ্যয়ন থেকে বিরত থাকতে হবে। আর অভিভাবকদেরও দায়িত্ব হবে কোনোরূপ শিথিলতা না দেখিয়ে তাদের সন্তানদের শৈশব থেকেই ইসলামী চেতনায় সমুন্নত করা। যেন জীবনের উষালগ্নে তারা কোনরূপ বিভ্রান্তিতে নিমজ্জিত না হয়। আল্লাহ আমাদেরকে এই নাস্তিকদের ষড়যন্ত্রকে রুখে দেয়ার তাওফিক দান করুন এবং এদের কূটচাল থেকে এ দেশের মুসলিম সমাজকে হেফাজত করুন। আমিন!

বাংলাদেশ ও NRC — ভয়ঙ্কর গেম প্ল্যান।

ধর্মীয় বিভেদ ভুলে যদি আসাম , পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের বাঙালিরা এক না হতে পারে , তবে তাদের চূড়ান্ত পরিণতি হবে রোহিঙ্গাদের মতো
NRC’র মাধ্যমে অমিত শাহ এদের যা প্ল্যান, তাতে এই হিটলারের ইহুদি বিতাড়নের মতো বাঙালি বিতাড়নের সামগ্রিক প্রভাব শুধু আসাম ও পশ্চিমবঙ্গে নয়, বাংলাদেশেও পড়তে বাধ্য। দেখা যাক, কীভাবে সে প্রভাব পড়তে পারে, এবং তার সুদূরপ্রসারী ফল কী।
ন্যাশনাল রেজিস্টার অফ সিটিজেন্স নামে যে প্রক্রিয়া বিজেপি ও আর এস এস সরকার চালু করেছে, তাতে এখনই আসামে কুড়ি লক্ষ মানুষকে নাগরিকত্ব থেকে উৎখাত করা হয়েছে। এই নাগরিক বা বহুকালের পুরোনো বাসিন্দাদের এক বিশাল সংখ্যক হলো বাঙালি। শুধু মুসলমান বাঙালি নয়, হিন্দু বাঙালিও অসংখ্য আছে।
এরা রাতারাতি রাষ্ট্রহীন হয়ে পড়লো। অর্থাৎ , এরা ভারতেও থাকতে পারবে না আইনসম্মত ভাবে , এবং অন্য কোনো দেশও তাদের নাগরিক হিসেবে গ্রহণ করবেনা। অন্য কোনো দেশ বলতে এখানে বাংলাদেশের কথাই বলবো , কারণ , বাঙালিরা গৃহচ্যুত , দেশচ্যুত হয়ে আর কোথায় বা যাবে? বাংলাদেশে বা পশ্চিমবঙ্গেই শেষ আশ্রয় খুঁজবে।
বাংলাদেশ ১৯৯১ সালে দু লক্ষ রোহিঙ্গ্যা শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়েছিলো। মানবিক কারণে এসাইলাম। তাদের সন্তানসন্ততি জন্মে এখন এই কুড়ি বছরে প্রতি বছর গড়পড়তা তিরিশ হাজার শিশুর জন্ম — এই সব মিলিয়ে তারা হয়ে দাঁড়িয়েছে আট লক্ষ। মোটামুটি হিসেবে। কমবেশিও হতে পারে।
এখন তাহলে বাংলাদেশ আট লক্ষ মানুষের বোঝা বইছে। এবারে সম্প্রতি বার্মা শাসকদের গণহত্যা এড়াতে এগারো লক্ষ রোহিঙ্গ্যা আবার বাংলাদেশে আশ্রয় পেয়েছে। কারণ, ভারতের হিন্দু সাম্প্রদায়িক সরকার মুসলমান শরণার্থীদের আশ্রয় দিতে অস্বীকার করেছে।
তাহলে বাংলাদেশে এখন তার নিজের বিশাল জনসংখ্যা বিস্ফোরণের পরেও আরো কুড়ি লক্ষ উদ্বাস্তু। তাদের খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, কর্ম। পরিবেশের ওপর তার যে ভয়ংকর ফল, তা আর বললাম না, কারণ আমাদের দেশে পরিবেশ সংকট এখনো বেশির ভাগ লোক বোঝেই না।
এখন আসামের এই কুড়ি লক্ষ NRC-বিতাড়িত বাঙালির এক বিরাট অংশই যাবে বাংলাদেশে — প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে। লুকিয়ে যাবে , প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে যাবে , শিশুর প্রাণ বাঁচাতে মা , বাবা যাবে। ঠিক যেমন মেক্সিকো বা গুয়াতেমালা , হন্ডুরাস থেকে প্রাণ বাঁচাতে গরিব মানুষ এসে পৌঁছতে চেষ্টা করছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে, এবং হিটলারের অত্যাচারের মতো ট্রাম্পের অত্যাচারের শিকার হচ্ছে।
জানেন তো , ট্রাম্প সরকার পালিয়ে আসা পরিচয়হীন এইসব পরিবারকে আলাদা করে দিয়ে শিশুদের জেলখানার মতো খাঁচায় বন্দি করে রেখেছে। যদি না জানেন, তো একটু গুগল করে নিন। এমন ঘটনা আমেরিকার ইতিহাসে আগে দু একবার হয়েছে বটে , কিন্তু সাম্প্রতিককালে কখনো হয়নি।
এই জেলের অর্থনৈতিক পৃষ্ঠপোষক হলো ওয়েলস ফার্গো এবং আরো কয়েকটি কর্পোরেশন। এছাড়া , প্রাইভেট প্রিজন বা বেসরকারি জেলখানা তৈরী করে রেখেছে মার্কিন সরকারের বদান্যতায় জিও এবং CCA নামে কর্পোরেশন — যারা তাদের শেয়ার স্টক মার্কেট কেনাবেচা করে।
এবারে আসামের এই সব বিতাড়িত গরিব বাঙালিদের জন্যে অমিত শাহ এবং বিজেপি সরকার নতুন জেলখানা তৈরী করছে। এই ডিটেনশন সেন্টারের মডেল ওই জিও বা CCA’র আদলেই হবে — এমন মনে করা হচ্ছে। কারণ , বিজেপির এখনকার সমস্ত অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রক্রিয়া হিটলার এবং ট্রাম্পের আদলেই হয়ে চলেছে। কাশ্মীর থেকে কামাখ্যা — কোনো ব্যতিক্রম নেই।

এই জেলখানার খাঁচা থেকে নিজেদের বাঁচাতে লক্ষ লক্ষ গরিব মানুষ বাংলাদেশে গিয়ে হাজির হবে — বেশিরভাগই অবৈধভাবে। বাংলাদেশ তাদের নিয়ে কী করবে , তা আমি জানিনা। তবে , এখনো পর্যন্ত বাংলাদেশ তার প্রায় পঞ্চাশ বছরের ইতিহাসে উদ্বাস্তু ও শরণার্থীদের ওপর ফ্যাসিস্ট নির্যাতন চালায়নি। কিন্তু ভবিষ্যতে যে সন্ত্রাস — রাষ্ট্রীয় অথবা সামাজিক ব্যাকল্যাশ — শুরু হবেনা, তার গ্যারান্টি কেউ দিতে পারে কি?
পশ্চিমবঙ্গেও অমিত শাহ, মোদী, বিজেপি ও আর এস এস NRC চালু করবে , এমন কথা বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ বলেছেন। তার রাজনৈতিক ফায়দা আছে। এটাও হিটলার ও ট্রাম্প মডেল। ঘৃণা , বিদ্বেষ ও বিভেদের রাজনীতি — যা সংখ্যাগরিষ্ঠের ভোট পাবার জন্যে ম্যানুফ্যাকচারিং কনসেন্ট। গণসম্মতি উৎপাদন। এই মডেলে পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক ক্ষমতায় আসার রাস্তা আগামী এক কিংবা দুবছরের মধ্যে বিজেপির জন্যে পরিষ্কার।
বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে এখন অনেকটাই মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে , এবং ভারত ডুবে যাচ্ছে। যা আগে কখনো কল্পনাও করা যায়নি — ভারতীয় মুদ্রা এবং বাংলাদেশী মুদ্রা আন্তর্জাতিক বাজারে প্রায় এখন সমমূল্য। সুতরাং , বাংলাদেশকে নানাভাবে চাপের মধ্যে রাখাও এই রাজনীতির একটা বিউটিফুল গেম প্ল্যান।
পশ্চিমবঙ্গ , বাংলাদেশ এবং আসাম-উত্তরপূর্বাঞ্চলের বাঙালি যদি এই ফ্যাসিস্ট শাসকদের বিরুদ্ধে জোট বাঁধতে না পারে, তাহলে তাদের বাঁচার আর কোনো আশা নেই। কপিড

শরৎচন্দ্র_চট্টোপাধ্যায় ১৯২৬ সালে

#শরৎচন্দ্র_চট্টোপাধ্যায় ১৯২৬ সালে বাঙলা প্রাদেশিক সম্মেলনে ‘বর্তমান হিন্দু-মুসলমান সমস্যা’ শিরোনামে একটি ভাষণ দেন। পরে হিন্দু সংঘ পত্রিকায় ১৯ শে আশ্বিন ১৯৩৩ সালে চাপা হয়। কিছুটা অংশ তুলে দিলাম আপনাদের জন্য।“……সেকালে বড় বড় মুসলিম পাণ্ডাদের কেহ-বা হইয়াছিলেন তাঁহার (মহাত্মা গান্ধির) দক্ষিণ হস্ত, কেহ-বা বাম হস্ত, কেহ-বা চক্ষু-কর্ণ, কেহ-বা আর কিছু,—হায়রে! এত বড় তামাশার ব্যাপার কি আর কোথাও অনুষ্ঠিত হইয়াছে!হিন্দুস্থান হিন্দুর দেশ। হিন্দু-মুসলমান-মিলন একটা গালভরা শব্দ। বস্তুতঃ, মুসলমান যদি কখনও বলে—হিন্দুর সহিত মিলন করিতে চাই, সে যে ছলনা ছাড়া আর কি হইতে পারে, ভাবিয়া পাওয়া কঠিন। একদিন মুসলমান লুণ্ঠনের জন্যই ভারতে প্রবেশ করিয়াছিল, রাজ্য প্রতিষ্ঠা করিবার জন্য আসে নাই। সেদিন কেবল লুঠ করিয়াই ক্ষান্ত হয় নাই, মন্দির ধ্বংস করিয়াছে, প্রতিমা চূর্ণ করিয়াছে, নারীর সতীত্ব হানি করিয়াছে, বস্তুতঃ অপরের ধর্ম ও মনুষ্যত্বের উপরে যতখানি আঘাত ও অপমান করা যায়, কোথাও কোন সঙ্কোচ মানে নাই।”

হাসান তুরাবির ভাবনায় ইসলামী রাষ্ট্রব্যবস্থা

সুদানের ইসলামী আন্দোলনের অন্যতম নেতা ড. হাসান তুরাবির এই সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন ব্রিটিশ স্কলার ও সাংবাদিক জিয়াউদ্দীন সরদার। ব্রিটিশ টেলিভিশন চ্যানেল ফোর-এর সিরিজ প্রোগ্রাম ‘ইসলামিক কনভারসেশনস’-এ ২০১২ সালে এটি প্রচারিত হয়। এই সাক্ষাৎকারে ‘ইসলামী রাষ্ট্রব্যবস্থা নিয়ে ড. তুরাবি তাঁর আন্ডারস্ট্যান্ডিং খোলামেলাভাবে তুলে ধরেছেন। ইসলামী রাষ্ট্র কী? কীভাবে এটি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব? নাগরিক জীবনে এর প্রভাব কী? ইসলামী রাষ্ট্রে ভিন্ন মতাদর্শের অবস্থান কী হবে? – এ ধরনের সমকালীন যুগজিজ্ঞাসার জবাব এতে পাওয়া যাবে। সিএসসিএস-এর পাঠকদের জন্যে অনুবাদ করেছেন জোবায়ের আল মাহমুদ।

জিয়াউদ্দীন সরদার: ইসলামী রাষ্ট্র মানে কী?

হাসান তুরাবি: মুসলিম রাষ্ট্র মানে মুসলিম আধিপত্যশীল রাষ্ট্র। তবে ইসলামী রাষ্ট্র মানে – যে রাষ্ট্রে ইসলামী নীতি-আদর্শকে কেবল ব্যক্তিজীবনে নয়, বরং প্রকাশ্য জনপরিমণ্ডলে চর্চা করা হয়।

জিয়াউদ্দীন সরদার: এ কথার মানে কী?

হাসান তুরাবি: এর মানে হচ্ছে – যেখানে রাজনীতি, অর্থনীতি, আন্তর্জাতিক সম্পর্কসহ সবকিছুই হবে ইসলাম দ্বারা অনুপ্রাণিত। যেহেতু ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা।

জিয়াউদ্দীন সরদার: তারমানে আপনি কি মোল্লা শাসিত কোনো রাষ্ট্রের কথা বলতে চাচ্ছেন?

হাসান তুরাবি: না। খ্রিষ্টানদের বেলায় রাষ্ট্র পরিচালিত হতো তাদের ধর্মীয় যাজকদের মাধ্যমে। কারণ খ্রিষ্টান যাজকরা মনে করত, স্রষ্টা রাষ্ট্রীয় ব্যাপারে সরাসরি হস্তক্ষেপ করেন না। ফলে তারা নিজেদেরকে স্রষ্টার খাস প্রতিনিধি মনে করত এবং সবসময় গণমানুষের জীবনে হস্তক্ষেপ করত। যদিও খ্রিষ্টান ধর্মের সাথে রাজনীতির তেমন বিদ্বেষ ছিল না, বিদ্বেষ ছিল ধর্মীয় যাজকদের সাথে বিপ্লবীদের। এর বিপরীতে, ইসলামে কোনো মোল্লাতন্ত্র নেই। এখানে প্রত্যেক মানুষ সরাসরি আল্লাহর সাথে সম্পর্ক তৈরি করতে পারে। সুতরাং মোল্লারা নয়, বরং ইসলামী রাষ্ট্র পরিচালনা করবে বিশ্বাসী মানুষেরা।

জিয়াউদ্দীন সরদার: এই সিদ্ধান্ত কে দেবে? মোল্লারা?

হাসান তুরাবি: না। মুসলিমরাই ইসলামী রাষ্ট্রের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিবে। মোল্লারা হলেন আধুনিক সেক্যুলার রাষ্ট্রে আইনজীবীদের মতো কিংবা অর্থনীতি বিষয়ক পরামর্শদাতাদের মতো। তারা কেবল তাদের মতামত, ফতোয়া বা পরামর্শ দিতে পারেন। সমাজই নির্ধারণ করবে – কার মতামত গ্রহণ করা হবে এবং কারটা গ্রহণ করা হবে না।

জিয়াউদ্দীন সরদার: আপনার মডেলটা কি ইরান কিংবা কোনো মোল্লা শাসিত রাষ্ট্রের চেয়ে আলাদা?

হাসান তুরাবি: আপনি জানেন, ইরানী শিয়ারা বিশেষ একটা ক্ষুদ্র গোষ্ঠী। সেখানে ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠানগুলো খুবই ক্ষমতাশীল। বিভিন্ন মুসলিম রাষ্ট্রে বিজ্ঞ আলেমরা থাকেন, তারা রাষ্ট্রকে পরামর্শ দেন। রাষ্ট্র চাইলে যে কোনো একজন স্কলারের মত গ্রহণ করতে পারে এবং অন্য স্কলারের মত বর্জন করতে পারে।

ইসলামী রাষ্ট্র ও জাতিরাষ্ট্র

জিয়াউদ্দীন সরদার: আচ্ছা, জাতিরাষ্ট্রের সাথে কি ইসলামের বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গির কোনো বিরোধ আছে?

হাসান তুরাবি: এটা নির্ভর করছে জাতিরাষ্ট্র বলতে আপনি কী বোঝাচ্ছেন, তার ওপর। জাতিরাষ্ট্র বলতে আপনি যদি অন্ধভাবে একটা ভৌগোলিক সীমানায় আবদ্ধ থাকতে চান, অন্যদের প্রবেশাধিকার বা সমঅধিকার না দেন, আপনার সীমানার বাইরে যেসব জাতি আছে তাদেরকে এলিয়েন বা শত্রু মনে করেন, কিংবা অন্যায়ভাবে আপনার জাতিকে সমর্থন করেন – তাহলে ইসলাম অবশ্যই এমন জাতিরাষ্ট্র ধারণার বিরুদ্ধে। আমরা জাতীয়তাবাদে বিশ্বাস করি না। তবে এটা শুধু এ জন্যে নয় যে, আমরা মুসলিম; বরং আফ্রিকান হওয়াটাও এর অন্যতম কারণ। আফ্রিকায় আমাদের প্রতিবেশীদের সাথে জাতীয় ও সাংস্কৃতিক প্রতিবন্ধকতা নেই বললেই চলে।

ইসলাম ও খ্রিষ্টধর্মসহ সকল ধর্মই প্রতিবেশীর সাথে চমৎকার ও ঘনিষ্ট সম্পর্ক রাখার কথা বলে। তাই আমাদের আশপাশের সব প্রতিবেশীকে নিয়ে আমরা আঞ্চলিক ঐক্য গড়ে তোলার চেষ্টা করবো। যদি শক্তিশালী ইউরোপীয় দেশগুলো একটা কমিউনিটি হিসাবে কাছাকাছি আসতে পারে, তাহলে দরিদ্র দেশ হিসাবে আফ্রিকানদের মধ্যে একটা আঞ্চলিক সংস্থা ও কমিউনিটি গড়ে তোলা অতীতের যে কোনো সময়ের তুলনায় আরো বেশি প্রয়োজন।

আমাদের দেশে যে কেউ আসতে চাইলে তাকে স্বাগতম। এক্ষেত্রে তারা মুসলিম নাকি অমুসলিম – তা বিবেচনা করা হবে না। তারা ইচ্ছা করলে এখানে থাকতে পারবে, নাগরিক হতে পারবে এবং পূর্ণ অধিকার লাভ করবে। আমাদের মানবিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এসব সীমানা সংক্রান্ত ব্যাপারগুলো মোটেও চূড়ান্ত কোনো বাধা নয়।

জিয়াউদ্দীন সরদার: অন্যান্য মুসলিম দেশের যারা আপনাকে অনুসরণ করতে চায়, তাদের জন্যে আপনার বক্তব্য কী?

হাসান তুরাবি: আসলে ঐতিহাসিক ও অর্থনৈতিকভাবে সুদান একটা দুর্বল দেশ। তৎসত্বে সুদান ইসলামী নীতি-আদর্শকে সামনে রেখে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। সামাজিক মূল্যবোধের সাথে সরকারের সমন্বয় করার চেষ্টা করছে। আমি মনে করি, সকল মুসলমানেরই এভাবেই কাজ করা উচিত।

মুসলিম দেশগুলোতে আমরা কখনোই একটি প্রতিনিধিত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠা করতে পারবো না, যদি আমরা প্রকৃত অর্থেই একটি ইসলামি সরকারব্যবস্থা গড়ে তুলতে না পারি। আমরা কখনোই একটি ইসলামী অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারবো না, যদি সকল মুসলমান ধর্ম দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে দেশের উন্নয়নের জন্যে কাজ না করে। শুধু উন্নয়ন নয়, বরং টেকসই উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক সাম্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠাও করতে হবে। এ সকল কাজ করতে হবে ইসলাম দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে।

প্রত্যেক মুসলিম দেশের প্রতি আমার পরামর্শ হলো, জনগণের বিরুদ্ধে না গিয়ে শান্তিপূর্ণ ও ধৈর্যের সাথে প্রত্যেকটা কাজ বাস্তবায়ন করতে হবে। ইসলাম এমনটাই বলেছে। জনগণের ওপর স্বৈরতন্ত্র বা আমদানী করা কোনো ব্যবস্থা জোর করে চাপিয়ে দেয়া যাবে না।

নাগরিক স্বাধীনতা

জিয়াউদ্দীন সরদার: আপনার ইসলামী রাষ্ট্রে নাগরিকরা কেমন স্বাধীনতা ভোগ করবে? বিশেষ করে সেক্যুলার জীবনযাপনের ক্ষেত্রে?

হাসান তুরাবি: আমি মনে করি, জীবনের এমন কোনো অংশ নেই যা ধর্মের বাইরে। মানুষ যদি স্রষ্টায় বিশ্বাসী হয় – হোক সে মুসলিম কিংবা খ্রিষ্টান – তাহলে তাকে বিশ্বাস করতে হবে যে, স্রষ্টা সবকিছুর ওপর ক্ষমতাবান। স্রষ্টার ক্ষমতা কেবল গির্জা বা মসজিদে সীমাবদ্ধ নয়। সুতরাং আপনি যদি স্রষ্টাকে বিশ্বাস করতে না চান, তাহলে আপনি সম্পূর্ণ স্বাধীন। এতে স্রষ্টার কোনো ক্ষতি নেই।

ইসলাম আমাদের শিক্ষা দেয়, ধর্ম হলো সামগ্রিক জীবনব্যবস্থার নাম – হোক সেটা ইহুদী বা খ্রিষ্টান ধর্ম। স্রষ্টা আপনার জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে আধ্যাত্মিক দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। আপনি অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির কথা বলুন কিংবা রাজনৈতিক ক্ষমতার কথা বলুন – সবকিছুই স্রষ্টাপ্রদত্ত দিকনির্দেশনার আওতাভুক্ত। ক্ষমতা পেয়েছেন বলে আপনি স্বৈরাচারী হয়ে যাবেন, এটা ইসলামের শিক্ষা নয়। জনগণকে ভালোভাবে পরিচালনা করা ইসলামে ইবাদাততুল্য কাজ। আমাদের জীবনের সবকিছু স্রষ্টার কাছে নিবেদন করতে হয়। এটা আসলে ইহুদী ও খ্রিষ্টান ধর্মেরও শিক্ষা। ইসলাম কখনো বলে না যে, এটা কেবল মোহাম্মদ (সা) এর বার্তা। ইসলাম বলে এটা ইব্রাহিম (আ), মুসা (আ), ঈসা (আ) এবং মোহাম্মদ (সা) সহ সকল নবী-রাসূলের বার্তা।

ইসলামী রাষ্ট্র কি সর্বাত্মকবাদী রাষ্ট্রব্যবস্থা?

জিয়াউদ্দীন সরদার: আপনি কি সবকিছু রাষ্ট্রের অধীনে কেন্দ্রীভূত করার পক্ষে?

হাসান তুরাবি: কখনো না। রাষ্ট্রের চেয়ে সমাজ অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। এটা কোনো সর্বাত্মকবাদী রাষ্ট্র নয়। অধিকাংশ ধর্মীয় মূল্যবোধই আইনের অধীন নয়। পুলিশ বা বিচারিক ক্ষমতা প্রয়োগ করে এসব মূল্যবোধ সৃষ্টি করা যায় না। আসলে ভালো একটি সমাজে রাষ্ট্র বা সরকার খুব সামান্যই এদিক-সেদিক করতে পারে।

জিয়াউদ্দীন সরদার: ইসলামী রাষ্ট্রের যে মডেল আপনি দিয়েছেন, সেখানে গণতন্ত্রের স্থান কোথায়?

হাসান তুরাবি: পশ্চিমা গণতন্ত্রের চেয়েও এ রাষ্ট্র অনেক বেশি গণতান্ত্রিক…।

জিয়াউদ্দীন সরদার: মুক্তবাজার?

হাসান তুরাবি: এখানে মুক্তবাজার অর্থনীতি থাকবে, তবে পশ্চিমা বাজার থেকে অনেক বেশি সাম্য ও ন্যায়ের ভিত্তিতে। আপাতদৃষ্টিতে কিছুটা সমাজতন্ত্রের মতো শোনালেও রাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ থাকবে খুবই সামান্য। আসলে সমাজ যত স্বনির্ভর হয় রাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ তত কমে যায়।

জিয়াউদ্দীন সরদার: আপনার সরকারের সাথে অন্য যে কোনো রক্ষণশীল সরকারের পার্থক্য কোথায়?

হাসান তুরাবি: রক্ষণশীল গোষ্ঠী আসলে তাদের প্রথাগত ঐতিহ্যকে ধরে রাখার চেষ্টা করে। অথচ ইসলাম একটি যুগোপযোগী ধর্ম। এখানে স্থান-কালের প্রথাগত কোনো কাঠামোয় আবদ্ধ হবার সুযোগ নেই। এখন আমরা হয়তো ঐতিহ্যের ভিত্তিতে ইসলামের প্রতিনিধিত্ব করি, কিন্তু ইসলাম আমাদের জীবনকে প্রতিনিয়ত নবায়ন করার শিক্ষা দেয়। যেসব ঐতিহ্যগত প্রথা ইসলামী মূল্যবোধের বিপরীত, মুসলিমরা তা থেকে দূরে থাকে। ইসলামের মূল্যবোধগুলো সবসময় একই থাকবে, কিন্তু আমাদের বিভিন্ন প্রথা ও কাজের পদ্ধতি যুগের পরিবর্তনে পরিবর্তিত হবে। আমরা রক্ষণশীল নই; বরং অন্যদের চেয়ে বেশি উদার।

জিয়াউদ্দীন সরদার: তাহলে বর্তমান সময়ের ইসলামী রাষ্ট্রগুলো কেনো এত কর্তৃত্ব ও সর্বাত্মকবাদী?

হাসান তুরাবি: এরা কেউ আসলে ইসলামিক নয়। তারা বরং সাম্রাজ্যবাদী ঐতিহ্যের প্রতিনিধিত্ব করছে। যখন কেউ এই ধরনের সাম্রাজ্যবাদী ক্ষমতার ভিত্তিতে শাসন করে, তখন সে পুরোপুরি সর্বাত্মকবাদী ও স্বৈরাচারী হয়ে ওঠে। এমনকি জাতীয়তাবাদী সরকারও একনায়কতন্ত্র এবং স্বৈরাচারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়। আসলে তারা কেউই ইসলাম অনুযায়ী শাসনকার্য পরিচালনা করছে না। কেননা, ইসলাম মানে হলো – যে কেউই ক্ষমতায় যাক না কেনো, সে আসলে চূড়ান্ত ক্ষমতার মালিক নয়। ফলে সে আল্লাহর কাছে সমস্ত ক্ষমতা সমর্পণ করে। সুতরাং যদি কেউ ক্ষমতায় গিয়ে কর্তৃত্ববাদী হয়ে ওঠে, তাহলে সেটা মূলত ইসলামী শাসন নয়।

জিয়াউদ্দীন সরদার: আপনার ইসলামী রাষ্ট্র কি একদলীয় রাষ্ট্র হবে?

হাসান তুরাবি: দেখুন, পশ্চিমা সমাজেও নানা ধরনের দল থাকার তেমন কোনো গুরুত্ব এখন আর নেই। একসময় তাদের দেশে পুঁজিবাদীরা এক ধরনের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে চাইত, আবার সমাজতন্ত্রীরা অন্য ধরনের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে চাইত। কিন্তু এখন ইংল্যান্ড বা ‌আমেরিকায় সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী কোনো দল নেই। মোটাদাগে দুটি গ্রুপ কেবল ক্ষমতা নিয়ে প্রতিযোগিতা করছে। গণতন্ত্র মানে কেবল দল গঠন নয়…।

জিয়াউদ্দীন সরদার: আপনি কি বিভিন্ন মতাদর্শের দলকে আপনার রাষ্ট্রে অনুমোদন দিবেন? যেমন- মার্কসিস্ট, কমিউনিস্ট কিংবা ক্যাপিটালিস্ট?

হাসান তুরাবি: আমি মনে করি, রাজনৈতিক দল দ্বারা সমাজের কোনো উন্নয়ন হয় না। বিভিন্নজন বিভিন্ন মতাবলম্বী হতে পারে, কিন্তু কেউ কোনো পক্ষপাত করতে পারবে না। যেমন থাইল্যান্ডে আপনি এ ধরনের কোনো রাজনৈতিক দল পাবেন না।

অমুসলিমদের অধিকার

জিয়াউদ্দীন সরদার: আপনার ইসলামী রাষ্ট্রে অমুসলিমদের অবস্থা কী হবে?

হাসান তুরাবি: ইসলামে এটা কোনো জটিল ব্যাপার নয়। প্রতিষ্ঠার প্রথমদিন থেকেই ইসলাম সবাইকে নিয়ে ভিন্ন ধরনের এক পদ্ধতি চালু করেছে। স্বয়ং রাসূল (স)-ই মুসলিম এবং ইহুদীদের নিয়ে মদিনা রাষ্ট্র গঠন করেছেন এবং সবাইকে নিয়ে সংবিধান রচনা করেছেন। সেখানে ধর্মীয় বিশ্বাস ও সংস্কৃতির সম্পূর্ণ স্বাধীনতা ছিল। এমনকি প্রত্যেক ধর্মীয় গোষ্ঠীর স্ব স্ব বিচার ব্যবস্থারও স্বীকৃতি ছিল।

জিয়াউদ্দীন সরদার: আপনার ইসলামী রাষ্ট্রে কি ক্ষুদ্র গোষ্ঠীগুলোর অধিকার সংরক্ষিত থাকবে?

হাসান তুরাবি: অবশ্যই, এটা আমি গ্যারান্টি দিতে পারি; যেহেতু আমি মুসলিম। দুর্ভাগ্যজনক ব্যাপার হলো – ইউরোপ আজ সেক্যুলার হয়েছে বটে; তবে তারা কখনো মুসলিমদের অধিকারের নিশ্চয়তা দিতে পারেনি। ইংল্যান্ড বা ফ্রান্সে আপনি শুক্রবারে কোনো ছুটি পাবেন না; কিন্তু ইসলামী রাষ্ট্রে অমুসলিমরা রবিবারে এবং মুসলিমরা শুক্রবারে ছুটি পাবে। এমনকি জার্মান, ইংল্যান্ড বা আমেরিকায় আপনি আপনার ব্যক্তিগত আইনেরও কোনো স্বীকৃতি পাবেন না। সেখানে ব্যক্তিগত আইন খ্রিষ্টান ঐতিহ্যের আলোকে গঠিত। কার্যত মুসলিমরা তাদের ধর্মীয় ব্যক্তিগত আইন মানতে বাধ্য হয়।

আমাদের রাষ্ট্রে এমনটা হবে না। এখানে অমুসলিমরা তাদের ব্যক্তিগত আইন চর্চা করতে পারবে। কেননা, ব্যক্তিগত আইন হচ্ছে ব্যক্তিজীবনেরই একটি অংশ; সম্পূর্ণ স্বাধীনতা লাভের উপায়। যেমন, মানুষের বিশ্বাস বা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ব্যক্তিগত আইনের অধীন। সুদানে যে কেউ যে কোনো ধরনের ধর্মীয় বিশ্বাস বা আচার-অনুষ্ঠান গ্রহণ করতে পারবে; হোক সে পৌত্তলিক বা অন্য কোনো ধর্মের অনুসারী। এমন স্বাধীনতা আপনি পশ্চিমা বিশ্বেও পাবেন না। ফ্রান্সে যদি কোনো তরুণী হিজাব পরতে চায়, আপনি নিশ্চয় জানেন তার কী অবস্থা হবে…! তারা বলবে – হিজাব আমাদের সংস্কৃতি বিরোধী, তাই এটা পরতে দেয়া যাবে না। অথচ সুদানে একজন অমুসলিমকে পূর্ণ ধর্মীয় স্বাধীনতা দেয়া হয়।

জিয়াউদ্দীন সরদার: কোনো অমুসলিম কি আপনার রাষ্ট্রে ক্ষমতায় আসতে পারবে?

হাসান তুরাবি: যে কোনো সরকারী অফিসে অমুসলিমরা কাজ করতে পারে – এতে ইসলামের কোনো বাধা নেই। যেহেতু কোনো দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ লোক তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করে; সেহেতু মুসলিমরা তাদের জন্যে একজন মুসলিম প্রতিনিধি নির্বাচন করবে – এটাই স্বাভাবিক ব্যাপার।

ইসলামী রাষ্ট্রের বিভিন্ন মডেল হতে পারে কি?

জিয়াউদ্দীন সরদার: আপনার ইসলামী রাষ্ট্র কি ‘একমাত্র ইসলামী রাষ্ট্র’, নাকি অন্যতম ‘একটি ইসলামী রাষ্ট্র’?

হাসান তুরাবি: আমি মনে করি, এটি ‘একমাত্র ইসলামী রাষ্ট্র’ নয়। ভবিষ্যতে যে কোনো দেশ হয়তো আমাদের সাথে যুক্ত হয়ে একটি বড় ইসলামী রাষ্ট্র তৈরি করবে। কেননা সকল মুসলিমই উম্মাহর অংশ। আমি খুব আনন্দিত হবো, যদি ভবিষ্যতে সমগ্র উম্মাহ একত্রিত হয় এবং তাদের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বিষয়াদি পরস্পরের সাথে বিনিময় করে। আসলে আমি এমন একটি সময়ের অপেক্ষা করছি – যখন দেশ-কাল, ধর্ম-বর্ণ-গোত্র নির্বিশেষে সকল মানবজাতি একে অপরের নিকটবর্তী হয়ে যাবে। আমার চূড়ান্ত ইচ্ছা, একটি বিশ্ব-মানবরাষ্ট্র গঠন করা – যেখানে মুসলিম ও অমুসলিম সবাই সমানভাবে বসবাস করবে, প্রত্যেকে তাদের মূল্যবোধের প্রতিনিধিত্ব করবে এবং পরস্পর মূল্যবোধ বিনিময় করবে।

জিয়াউদ্দীন সরদার: অন্যান্য মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর মতো এটা কি একটি কর্তৃত্ববাদী রাষ্ট্রে পরিণত হবে না?

হাসান তুরাবি: না, কখনোই না। মুসলিম রাষ্ট্র কখনো কর্তৃত্ববাদী রাষ্ট্র হতে পারে না। কেননা, মুসলিমদের সকল কর্তৃত্ব একমাত্র আল্লাহর কাছে সমর্পণ করতে হয়। এটাই প্রকৃতপক্ষে ইসলামের আক্ষরিক অর্থ। সুতরাং ইসলামী রাষ্ট্রে কেউ কারো ওপর একতরফাভাবে কর্তৃত্ববাদী হবার সুযোগ নেই।

সুদানে ইসলামী রাষ্ট্রব্যবস্থার প্রেক্ষাপট ও চ্যালেঞ্জসমূহ

জিয়াউদ্দীন সরদার: তাহলে সুদানে কেনো এখন সেনা-স্বৈরতন্ত্র শাসনে চলছে?

হাসান তুরাবি: তারা প্রতিজ্ঞা করেছে যে, এ বছর সম্পূর্ণ সুদানে নির্বাচন দিবে এবং আগামী বছর জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে – যেখানে জনগণ স্বাধীন ও স্বচ্ছভাবে ক্ষমতা ও সংসদ নির্বাচন করবে।

জিয়াউদ্দীন সরদার: সুদানকে ইসলামী রাষ্ট্রে পরিণত করা জরুরি হলো কেনো?

হাসান তুরাবি: ইতিহাস থেকে আমরা শিক্ষা পেয়েছি। এ দেশে ছয়টা অস্থিতিশীল সরকার শাসন করেছে। কিন্তু দেশের ভাগ্য পরিবর্তন হয়নি। সমাজতন্ত্র, পুঁজিবাদ, গণতন্ত্র, সামরিক একনায়কতন্ত্র – সকল ব্যবস্থাই এখানে প্রয়োগ করা হয়েছে; কেউ দেশের জন্যে কিছু করতে পারেনি। না পেরেছে গৃহযুদ্ধ নিরসন করতে, না পেরেছে গোত্রীয় সমস্যার সমাধান করতে এবং না হয়েছে দেশের উন্নয়ন। কৃষিতে বিশ্বের অন্যতম সম্ভাবনাময় দেশ হয়েও মানুষকে না খেয়ে থাকতে হয়েছে। এর কারণ হলো, আমাদের পরিকল্পিত অর্থনৈতিক বণ্টন না হওয়া।

এ দেশে কোনো প্রকৃত স্বাধীনতা ছিলো না। গণতন্ত্রের নামে ক্ষমতা কেবল দুই পরিবারের দুইজন ব্যক্তির হাতে কুক্ষিগত করে রাখা হয়েছিলো। যার ফলে স্বাধীনতার কোনো স্বাদ পাওয়া, সামাজিক শান্তি বা অর্থনৈতিক উন্নয়নের সুফল পাওয়া ছিল অসম্ভব ব্যাপার। পাশ্চাত্যের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থাগুলো আমরা পরীক্ষা করে দেখেছি। কিন্তু আমরা কিছুই পাইনি। অতএব, ইতিহাস আমাদের শিখিয়েছে – আমাদেরকে আসলে আমাদের প্রকৃত মূল্যবোধ ও ঐতিহ্যে ফিরে যেতে হবে।

জিয়াউদ্দীন সরদার: ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে কীভাবে গৃহযুদ্ধ নিরসন করা সম্ভব?

হাসান তুরাবি: প্রথমত আমরা প্রত্যেকটা প্রদেশ নিয়ে ফেডারেশন পদ্ধতি চালু করব – যা সুদান আগে কখনো পায়নি। এটি ইসলামের প্রাথমিক যুগে স্বয়ং রাসূল (সা) প্রতিষ্ঠা করেছেন – যেখানে ইহুদীদের বিভিন্ন গোত্র তাদের স্বকীয়তা বজায় রেখে চলত, আবার মুসলিমদেরও একাধিক কমিউনিটি ছিল। প্রাথমিকভাবে আমরা এই পদ্ধতিটা অনুসরণ করব। দ্বিতীয়ত, ব্রিটিশদের মতো আমরা শরীয়াহকে সুদানের জাতীয় আইন বানিয়ে ফেলব না। আপাতত আমরা কেবল দক্ষিণ সুদানে শরীয়াহ প্রয়োগ করব। কারণ দক্ষিণ সুদানে প্রায় প্রায় ৯৮ শতাংশ মুসলমানের বসবাস। যদিও তাদের কেউ কেউ খ্রিষ্টান বা পৌত্তলিকদের চেয়েও বেশি খ্রিষ্টান বা পৌত্তলিক। সেক্ষেত্রে তারা শরীয়াহকে গ্রহণ বা বর্জনের সুযোগ পাবে। এর আগে অন্য কোনো আইনের ক্ষেত্রে সুদান এমন সুযোগ পায়নি; এটি সুদানের জন্যে সম্পূর্ণ নতুন।

নারী অধিকার ও শাস্তি আইন

জিয়াউদ্দীন সরদার: যখনি আমরা শরীয়াহর কথা বলি, তখন দুটি বিষয় চলে আসে – নারী অধিকার ও শাস্তি আইন। শরীয়াহ কি নারীদের নিগৃহীত করে না? অন্যদিকে, শাস্তি প্রদানের ক্ষেত্রে শরীয়াহ কি খুব নিষ্ঠুর নয়?

হাসান তুরাবি: ইংল্যান্ড বা আমেরিকায় কি অপরাধের শাস্তি হয় না? আপনি সাধারণভাবে বিবেচনা করলে দেখবেন, সেখানকার আর্মি এবং পুলিশ সার্বক্ষণিক দেশের বিভিন্ন স্থানে অস্ত্র নিয়ে ঘুরাঘুরি করছে এবং তাদের দ্বারা অনেক মানুষই নিহত হচ্ছে। পশ্চিমা বিশ্বের অপরাধের চিত্র বিবেচনা করলে দেখবেন, তারা অপরাধ মোকাবেলায় সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। তাদের দেশে অপরাধ ক্রমান্বয়ে বেড়েই চলছে। পুলিশ ও চোরের হাতে প্রচুর মানুষ নিহত হচ্ছে। এমনকি তারা নিজেরা নিজেদের হত্যা করছে। কিন্তু সুদানে গত ছয় মাসে মাত্র দুটি ঘটনায় চুরির সর্বোচ্চ শাস্তি হয়েছে। এই তো গেল একটা দিক।

অন্যদিকে, এ দেশের নারীরা আগের চেয়ে অনেক বেশি স্বাধীনতা ভোগ করছে। এটা পশ্চিমা নারী স্বাধীনতার আন্দোলনের ফলে হয়নি; হয়েছে ইসলামী আন্দোলনের ফলে। এ দেশে নারীরা মসজিদে যাবার অধিকার ফিরে পাচ্ছে। আগে তাদের সে অনুমতি ছিল না। এখন নারীরা সামনে আসছে এবং তাদের রাজনৈতিক অধিকার পাচ্ছে। তারা এখন সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী হতে পারছে, কেউ রাষ্ট্রদূত হচ্ছে, কেউ বিচারক হচ্ছে।

জিয়াউদ্দীন সরদার: তাহলে নারীরা কি পশ্চিমা ফ্যাশনের পোশাক পরে রাতের বেলা রাস্তায় হাঁটতে পারবে?

হাসান তুরাবি: কোনো ধরনের পোশাকের ব্যাপারে আমাদের আইনগত কোনো বাধা নেই। মুসলিমরা ভালো পোশাকের ব্যাপারে নৈতিক পরামর্শ দেয়; কিন্তু আইন চাপিয়ে দেয় না। খ্রিস্টান সিস্টার উপাসনালয়ে যেমন খ্রিষ্টান ধর্মের আদর্শ পোশাক পরে, আমরাও তাদের মতোই একটা পোশাকের কথা বলি। তারপরেও কোনো মুসলিম নারী যদি ঠিকভাবে পোশাক না পরে, আমরা তাকে জোর করতে পারি না। কারণ তার কোনো আইনগত বাধ্যবাধকতা নেই। পোশাক এখানে আইনের দ্বারা নির্ধারিত হয় না, হয় নৈতিকতার ভিত্তিতে।

ইসলামী ও সেক্যুলার মূল্যবোধের দ্বন্দ্ব

জিয়াউদ্দীন সরদার: ভবিষ্যতে ইসলামী মূল্যবোধের সাথে সেক্যুলার মূল্যবোধের কোনো দ্বন্দ্ব হবে বলে কি আপনি মনে করেন?

হাসান তুরাবি: হ্যাঁ, কিছু পার্থক্য তো থাকবেই। আমি মনে করি, মানবজাতির মধ্যে সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য থাকা উচিত। গণতন্ত্র মানুষকে ভিন্ন ভিন্ন মত গ্রহণের স্বাধীনতা দেয়। মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে তার মত প্রকাশ করবে, পরস্পর মত বিনিময় করবে। পশ্চিমারা যেমন তাদের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক, ধর্মীয় ও অন্যান্য ব্যবস্থাকে একমাত্র স্ট্যান্ডার্ড হিসেবে বাদবাকি বিশ্বের উপর চাপিয়ে দেয়, আমরা তেমনটা করতে পারি না। মানবজাতির জন্যে এটা মোটেও গণতান্ত্রিক কোনো পদ্ধতি নয়। মুসলিম, ইহুদী, খ্রিষ্টান, পৌত্তলিক নির্বিশেষে সবাইকে তাদের মূল্যবোধ প্রকাশ এবং তাদের মূল্যবোধের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ দেয়া উচিত। আমরা যে কারো সাথে ভ্রাতৃত্বপূর্ণ উপায়ে আলোচনা করতে প্রস্তুত।