দক্ষিণ ভারতে নিয়ম ছিল যে হিন্দু ব্রাহ্মণ নারী ব্যতীত অন্য কোনো হিন্দু নারী তার স্তনকে ঢেকে রাখতে পারবে না। শুধুমাত্র ব্রাহ্মণ শ্রেণীর হিন্দু নারীরা তাদের স্তনকে এক টুকরো সাদা কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখতে পারতো, বাকি হিন্দু শ্রেণীর নারীদেরকে প্রকাশ্যে স্তন উন্মুক্ত করে রাখতে হতো। আবৃত করতে হলে দিতে হবে স্তনশুল্ক অর্থাৎ শুল্কের বিনিময়ে কিনে নিতে হবে আত্মমর্যাদা ! শুল্কের পরিমাণ নির্ভর করবে স্তনের আকারের উপর! যার স্তন যতবড় তার শুল্ক তত বেশী !
এই স্তনশুল্কের মোটা অংশ চলে যেত পদ্মনাভ মন্দিরে ! গিনেস বুকের তথ্য অনুযায়ী, এটি পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী মন্দির!
১৮০৩ সালে নাঙ্গেলী (Nangeli) নামক এক নিম্ন বর্ণের হিন্দু নারী তার স্তনকে আবৃত করে রাখে এবং “স্তন কর” দিতে অস্বীকৃতি জানায়। কিন্তু শুল্ক সংগ্রাহকের নজরে পড়ায় তারা শুল্ক দাবী করে ! অস্বীকৃত হয় নাঙ্গেলি ! শুল্ক সে দেবে না ! শুল্ক সংগ্রাহকরা অতিষ্ট করে তোলে নাঙ্গেলীকে! দিন দিন করের বোঝাও বাড়তে থাকে! অবশেষে কর দিতে রাজী হয় নাঙ্গেলি ! শুল্ক সংগ্রাহকরা তার থেকে স্তন কর চাইতে এলে , নাঙ্গেলী তাদের কিছুক্ষণ বসতে বলে। তারপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে কেটে ফেলে তার স্তন দুটি ! শুল্ক সংগ্রাহকের হাতে শুল্কস্বরূপ তুলে দেয় কলাপাতার আবরণে রক্ত মাখা স্তন! অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে নাঙ্গেলির মৃত্যু হয় !
দক্ষিণ ভারতে নারীদের স্তন আবৃত করার জন্য বহু সংগ্রাম করতে হয়েছে। হিন্দু পুরোহিতরা স্পষ্ট করে বলে দেয়- নিচু বর্ণের নারীদের শরীরের উপরের অংশ আবৃত করা ধর্ম-বিরোধী। বিষয়টি নিয়ে ১৮৫৯ সালে দক্ষিণ ভারতে একটি দাঙ্গা সংগঠিত হয়। এই দাঙ্গার উদ্দেশ্য ছিলো হিন্দু নারীদের শরীরের উপরের অংশ আবৃত করার অধিকার আদায় করা। এই দাঙ্গা “কাপড়ের দাঙ্গা” হিসেবে পরিচিত।
বাংলাদেশের আইন সভার সদস্য অর্থাৎ এমপি বুবলি ভাড়াটে লোক দিয়ে পরীক্ষার সংবাদ আন্তজার্তিক গনমাধ্যম দ্যা গার্ডিয়ান,বিবিসি, আরব বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী আরবি পত্রিকায় আল খালিজ সহ বিশ্বের প্রায় ডজন খানেক পত্রিকায় ছাপা হয়েছে । ফলে দেশের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুন্ন হয়েছে । আজ ইজিপশিয়ান এক ডাক্তার আমাকে পত্রিকার খবরটি দেখিয়ে জিজ্ঞেস করলো যে তোমার দেশে ডিগ্রী পাশ না করেই এই মেয়ে আইন সভার সদস্য হলো কি করে? আমি যখন বল্লাম যে আমাদের সংসদে থ্রি -ফোর পাশ করা এমপি ও আছে । তখন সে বল্ল তোমাদের দেশে কি শিক্ষিত লোক নেই । আমি শুধু বলেছি আছে
আপনি রাগ হয়ে বললেন, ” মর তুই “, ফেরেশতা বলল “আমিন”আপনি রাগ হয়ে বললেন,”তোর ভবিষ্যৎ অন্ধকার “,ফেরেশতা বলল “আমিন”আপনি রাগ হয়ে বললেন,”তোর মুখ দেখতে চাই না”,ফেরেশতা বলল “আমিন”আপনি রাগ হয়ে বললেন, ” জীবনে স্বামীর ভাত খাইতে পারবি না”,ফেরেশতা বলল “আমিন”আপনি রাগ হয়ে বললেন,”মরার সময় তো পানি পাবি না “,ফেরেশতা বলল “আমিন”আপনি রাগ হয়ে বললেন,” তুই তো ফেল নিশ্চিত “,ফেরেশতা বলল “আমিন”আপনি রাগ হয়ে বললেন,”আমার লাশ দেখবি “,ফেরেশতা বলল “আমিন”….আপনিই তো সেই মানুষ,যে সন্তানকে যে ভাবে ভালোবাসেন এর চেয়ে বেশি ভালো জীবনে বাসেন নি কাওকে,নিজেকেও না।আপনিই তো সেই মানুষ,যার চেয়ে আন্তরিক দু’য়া এই পৃথিবীততে কেউ করবে না তার জন্যে,সে নিজেও না।এমনিতেই মানুষের সব কথার শেষে ফেরেস্তা রা আমিন আমিন বলেন। আর সন্তানের জন্য বাবা মা’র মুখ থেকে বের হওয়া প্রতিটি শব্দ মারাত্মক শক্তিশালী মিসাইল একেক টা।আসুন এর মর্যাদা বুঝি,এর অপব্যবহার না করি। খুব কস্ট পাই অনেক বাবা মা’র ভাষা শুনে, অবাক হই,এদের কেও আল্লাহ্ সন্তান দেন। হ্যা,সন্তান অন্যায় করেছে,কিন্তু মা-বাবা হিসেবে এ ধরনের ভাষা ব্যবহার না করে আসুন বলি, “আল্লাহ তোমাকে হিদায়াত দিন,আমার জন্য চক্ষু শীতলকারি বানান।”অথবা বলতে পারেনআল্লাহ তোমাকে ওমর(রা) মত বানান।আল্লাহ তোমাকে আয়েশা(রা) মত বানান।আল্লাহ তোমাকে কাবা ঘরের ইমাম বানান।আল্লাহুম্মা আমীন!💗 রাগের সময়ও আমাদের কথা বলা অভিশাপ দেওয়া এগুলো আল্লাহ কবুল করেন। তাই যখনি বুঝবেন কোন কিছুতে রাগ উঠে যাচ্ছে মেজাজ এর টেম্পারেচার বাড়ছে, শয়তানের ওয়াসওয়াসা থেকে বাচার জন্য তখনিﺃﻋﻮﺫ ﺑﺎﺍﻟﻠﻪ ﻣﻦ ﺍﻟﺸﻴﻄﺎﻥ ﺍﻟﺮﺟﻴﻢ …..’আউজুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজিম’মনে মনে পড়তে থাকবেন দেখবেন নিজের প্রতি নিজের কন্ট্রোল চলে এসেছে ইনশা-আল্লাহ।📚📖📌 বাবা-মা যারা আছেন তারা এই বই গুলা পড়বেন অনেক কিছু শিখতে পারবেন ইনশাআল্লাহ। ১.প্যারেন্টিং -(আধুনিক যুগে আমার সন্তানকে কিভাবে মানুষ করবো)২.সন্তানের চরিত্র গঠনের পরিবার ও পরিবেশ৩.প্যারেন্টিং – (এন ইসলামিক আইডিলজ ফর চিল্ডেন)৪.সন্তান লালন-পালনে আর্দশ মায়ের ভূমিকা৫.সন্তান স্বপ্নের পরিচর্যা৬.আপনার সন্তান আপনার ভবিষ্যৎ৭.যখন তুমি মা (শুধু মা-বাবার ক্ষেত্রে না,আমরা যা-ই, যাকে ই বলি না কেন,আমাদের কথার শেষে ফেরেস্তারা আমিন বলেন,তাই কথা বলার সময় ভেবে বলা উচিত।)কপিকরা
আপনি রাগ হয়ে বললেন, ” মর তুই “, ফেরেশতা বলল “আমিন”আপনি রাগ হয়ে বললেন,”তোর ভবিষ্যৎ অন্ধকার “,ফেরেশতা বলল “আমিন”আপনি রাগ হয়ে বললেন,”তোর মুখ দেখতে চাই না”,ফেরেশতা বলল “আমিন”আপনি রাগ হয়ে বললেন, ” জীবনে স্বামীর ভাত খাইতে পারবি না”,ফেরেশতা বলল “আমিন”আপনি রাগ হয়ে বললেন,”মরার সময় তো পানি পাবি না “,ফেরেশতা বলল “আমিন”আপনি রাগ হয়ে বললেন,” তুই তো ফেল নিশ্চিত “,ফেরেশতা বলল “আমিন”আপনি রাগ হয়ে বললেন,”আমার লাশ দেখবি “,ফেরেশতা বলল “আমিন”….আপনিই তো সেই মানুষ,যে সন্তানকে যে ভাবে ভালোবাসেন এর চেয়ে বেশি ভালো জীবনে বাসেন নি কাওকে,নিজেকেও না।আপনিই তো সেই মানুষ,যার চেয়ে আন্তরিক দু’য়া এই পৃথিবীততে কেউ করবে না তার জন্যে,সে নিজেও না।এমনিতেই মানুষের সব কথার শেষে ফেরেস্তা রা আমিন আমিন বলেন। আর সন্তানের জন্য বাবা মা’র মুখ থেকে বের হওয়া প্রতিটি শব্দ মারাত্মক শক্তিশালী মিসাইল একেক টা।আসুন এর মর্যাদা বুঝি,এর অপব্যবহার না করি। খুব কস্ট পাই অনেক বাবা মা’র ভাষা শুনে, অবাক হই,এদের কেও আল্লাহ্ সন্তান দেন। হ্যা,সন্তান অন্যায় করেছে,কিন্তু মা-বাবা হিসেবে এ ধরনের ভাষা ব্যবহার না করে আসুন বলি, “আল্লাহ তোমাকে হিদায়াত দিন,আমার জন্য চক্ষু শীতলকারি বানান।”অথবা বলতে পারেনআল্লাহ তোমাকে ওমর(রা) মত বানান।আল্লাহ তোমাকে আয়েশা(রা) মত বানান।আল্লাহ তোমাকে কাবা ঘরের ইমাম বানান।আল্লাহুম্মা আমীন!💗 রাগের সময়ও আমাদের কথা বলা অভিশাপ দেওয়া এগুলো আল্লাহ কবুল করেন। তাই যখনি বুঝবেন কোন কিছুতে রাগ উঠে যাচ্ছে মেজাজ এর টেম্পারেচার বাড়ছে, শয়তানের ওয়াসওয়াসা থেকে বাচার জন্য তখনিﺃﻋﻮﺫ ﺑﺎﺍﻟﻠﻪ ﻣﻦ ﺍﻟﺸﻴﻄﺎﻥ ﺍﻟﺮﺟﻴﻢ …..’আউজুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজিম’মনে মনে পড়তে থাকবেন দেখবেন নিজের প্রতি নিজের কন্ট্রোল চলে এসেছে ইনশা-আল্লাহ।📚📖📌 বাবা-মা যারা আছেন তারা এই বই গুলা পড়বেন অনেক কিছু শিখতে পারবেন ইনশাআল্লাহ। ১.প্যারেন্টিং -(আধুনিক যুগে আমার সন্তানকে কিভাবে মানুষ করবো)২.সন্তানের চরিত্র গঠনের পরিবার ও পরিবেশ৩.প্যারেন্টিং – (এন ইসলামিক আইডিলজ ফর চিল্ডেন)৪.সন্তান লালন-পালনে আর্দশ মায়ের ভূমিকা৫.সন্তান স্বপ্নের পরিচর্যা৬.আপনার সন্তান আপনার ভবিষ্যৎ৭.যখন তুমি মা (শুধু মা-বাবার ক্ষেত্রে না,আমরা যা-ই, যাকে ই বলি না কেন,আমাদের কথার শেষে ফেরেস্তারা আমিন বলেন,তাই কথা বলার সময় ভেবে বলা উচিত।)
ভারতে থাকলে আমার জীবনে নোবেল পাওয়া হবে না : তসলিমা কিছুদিন আগেই এবছরের নোবেল পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে। অর্থনীতিতে নোবেল পেয়েছেন বাঙালি অর্থনীতিবিদ অভিজিত ব্যানার্জি। নোবেল বিজয়ী চতুর্থ বাঙালি তিনি। অভিজিত নোবেল বিজয়ের পর তসলিমা নাসরিনের একটি সোশ্যাল সাইটের স্ট্যাটাস নিয়ে সমালোচনা হয়েছিল। পরে তিনি নিজেই আরেকটি স্ট্যাটাসে স্বীকার করেছেন যে, আগের স্ট্যাটাসটা সকলের বোধগম্য নয়। উল্লেখ্য, অনেকেই মনে করেন তসলিমা একদিন নোবেল পাবেন। কিন্তু প্রখ্যাত এই লেখিকা নিজে কী ভাবছেন? ভারতে নির্বাসিতা এই লেখিকা আজ রবিবার দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজে লিখেছেন, ‘কাল দিল্লিতে এক প্রচণ্ড ধনী লোকের বাগানবাড়িতে গান শোনার এবং রাতের খাবার খাওয়ার নেমন্তন্ন ছিল। ধনী লোকদের সংগে আমার ওঠাবসা একদম নেই। আমার চারপাশে সব নিম্নবিত্ত এবং মধ্যবিত্ত।’তিনি বলেন, ‘আমন্ত্রিত সকলেই ভারতীয়। তাদের মধ্যে কেউ কেউ আমাকে নামে চেনেন, কেউ কেউ বই-টই পড়েছেন আমার বা আমার সম্পর্কে যে খবর টবর মাঝে মধ্যে বেরোয়; সেগুলো পড়েছেন। প্রায় সকলেই আমাকে নিয়ে উদবিগ্ন, তারা বুঝে পাচ্ছেন না, কেন আমি এই দেশের নাগরিক না হয়েও এই পোড়া দেশে পড়ে আছি!’ তসলিমা বলেন, ‘এখানে কাউকে বিশ্বাস করা যায় না, এখানের মানুষ টাকা ছাড়া আর কিচ্ছু বোঝে না, সহযোগিতা, সমমর্মিতা বলে কিছুরই অস্তিত্ব নেই, যুক্তি নেই, বোধ নেই, বিবেক নেই। আর ওখানের মানে ইউরোপের মানুষ মানুষকে সম্মান করে। ওখানে মানুষকে বিশ্বাস করা যায়। এদেশে থেকে দুদিন পর পর ভিসার সমস্যা নিয়ে কেন নিজেকে ভুগতে দিচ্ছি। জীবনটা খুব ছোট।’ তিনি বলেন, ‘আমার উচিত এই দু’র্নী’তিবাজ, ঠ’গবাজ, আর বিশ্বাস’ঘা’ত’কদের দেশ ছেড়ে চলে যাই, অন্য কোথাও অন্য কোনওখানে গিয়ে বিশুদ্ধ বাতাস নিই ফুস্ফুস ভ’রে। এখানে কোনও দ্রব্য বিশুদ্ধ নয়, জল বাতাস সব কিছুতে বি’ষ। আমি বলেছি, আমার বেড়ালকে ছেড়ে আমি তো কোথাও যেতে পারবো না। তারা আমার উত্তর শুনে বি’র’ক্তই হলেন।’ তসলিমা বলেন, ‘আর একজন বললেন, এই দেশে থাকলে আমার জীবনে নোবেল পাওয়া হবে না। নোবেল? আকাশ থেকে পড়লাম। নোবেল কেন পেতে যাবো আমি! এইসব প্রশ্নের সামনে আমি খুব অপ্রস্তুত বোধ করি। আমি সঠিক কোনও উত্তর খুঁজে পাই না।’ তিনি বলেন, ‘এরপর এমন প্রশ্ন করলে ভাবছি আমি তাদের কাছে জানতে চাইবো, তারা কেন এই দেশে থাকেন! তারা তো চাইলেই এই দেশের চেয়ে ভালো ভালো দেশে গিয়ে বাস করতে পারেন। তারাই বা বিষাক্ত বাতাস ফুসফুসে নিচ্ছেন কেন!’
পান-সুপারী-তামাক-বিড়ি সবই #জাহান্নামীর_খাদ্যঃপান হারাম হওয়ার কোরআন ও হাদীসের ৯টি দলীল । প্রত্যেক খাদ্যের মধ্যে দুটো গুণের কমপক্ষে একটি থাকে। গুণ দুটো হল (ক) #পুষ্টি_জোগান (খ) #ক্ষুধা_নিবারণ। কিন্তু পান ও সিগারেট পুষ্টিও যোগায়না ক্ষুধাও নেভায়না। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন জাহান্নামীদের খাদ্যের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেনঃ “জাহান্নামীদের এমন খাদ্য দেয় হবে যা তাদের পুষ্টি যোগাবেনা এবং ক্ষুধা নিবারণ করবেনা। সূরা গাশিয়াহ আয়াত ৭তাই আপনি যে কারণে পান বিড়ি-সিগারেট খাওয়া ছেড়ে দেবেন তা একটু আলোচনা করা যাক….. #পান_খাওয়া মানে পান পাতা চিবানো নয়। চুন, সুপারী, খয়ের, জর্দা ইত্যাদি দিয়ে পান পাতা চিবানোর নাম হল পান খাওয়া। আমার এ প্রবন্ধে পান খাওয়া বলতে প্রচলিত এ তরীকাকে বুঝানো হবে। প্রচলিত এ পদ্ধতিতে পান খাওয়ার ব্যাপক প্রচলন রয়েছে আমাদের এ উপমহাদেশে। এ ছাড়া বিশ্বের অন্য কোথাও এ ধরনের পান খাওয়ার ব্যাপকতা দেখা যায়না । যারা পান খেয়ে থাকেন তারা তিন ভাগে বিভক্ত। প্রথমতঃ যারা অত্যাধিক পান খেতে অভ্যস্ত পান ছাড়া একটি ঘন্টা কাটানো তাদের জন্য খুব মুশকিল হয়ে পড়ে। এদের মধ্যে শতকরা নিরানব্বই জনের বেশী পান,সুপারী, ও চুনের সাথে তামাক-জর্দা, খয়ের ইত্যাদি খেয়ে থাকেন। দ্বিতীয়তঃ যারা সাড়াদিন পান খেতে অভ্যস্ত নন তবে খাওয়ার পর একটু পান না খেলে চলেনা। এদের মধ্যে শতকরা প্রায় ৫০ ভাগ পানের সাথে তামাক-জর্দা ও খয়ের গ্রহণ করে থাকেন। তৃতীয়তঃ যারা পেশাদার পানখোর নন তবে কোন বিশেষ দাওয়াত বা অনুষ্ঠানে পান ট্রাই করে থাকেন। আর যারা একে বাড়ে পান দু চোখে দেখতে পারেননা তাদের আলোচনা না-ই করালাম। পান খাওয়া ঠিক কিনা? স্বাস্থ্য বিশারদদের দৃষ্টিতে পান খাওয়া কতটা মন্দ? শরীয়তের দৃষ্টিতে পান খাওয়ার বিধান কি? এ সব প্রশ্নের উত্তর খোজার চেষ্টা করা হবে। আমাদের দেশের সাধারণ শিক্ষিতদের তুলনায় ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষিত তথা আলেম সমাজে পান খাওয়ার প্রবণতা বেশী দেখা যায়। আমাদের দেশের আলেমগন পান খাওয়াকে জায়েয মনে করেন। কিন্তু আরব দেশের আলেমগন পান খাওয়াকে হারাম বলে ফতোয়া দিয়েছেন। এ কারণে সৌদী আরবে পান খাওয়া সরকারী ভাবেই নিষিদ্ধ। যা মানুষের স্বাস্থের জন্য ক্ষতিকর তা খাওয়া ইসলামী শরীয়ত অনুমোদন করেনা। বরং নিষেধ করে। যদিও পান পাতা স্বাস্থের জন্য ক্ষতিকর বলে এখনো প্রমাণিত হয়নি তবে চুন, সুপারী, খয়ের, জর্দা শরীর স্বাস্থের জন্য ক্ষতিকর। এ ব্যাপারে চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীদের কারো দ্বিমত নেই। যখন কোন রোগী ডাক্তারের কাছে যায় তখন ডাক্তার তাকে পান ত্যাগ করার পরামর্শ দেন। কোন ডাক্তার কাউকে পান খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বলে আজ পর্যন্ত শোনা যায়নি। চুন তো কোন খাদ্য তালিকায় পড়েনা। জর্দা; সে তো তামাক। সুপারী চিবানো স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। ক্যানসার সৃষ্টিতে সহায়তা করে। সমপ্রতি এক খবরে প্রকাশ মার্কিন গবেষকরা দীর্ঘদিন গবেষণার পর প্রমাণ করেছেন সর্বদা সুপারী চিবানোর ফলে মুখে ক্যানসার হতে পারে। যারা সুপারী খেয়ে থাকেন তাদের মুখে ক্যানসার হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশী – এই অংশটুকু প্রকাশিত (দৈনিক ইনকিলাব ৮ ই আগষ্ট ২০১৮) অবশ্য পানের রস দিয়ে ব্লাড ক্যানসারের প্রতিষেধক উদ্ভাবনের চেষ্টা করে যাচ্ছেন চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা। কিছুটা সফল ও হয়েছেন।(১) আল্লাহ রাব্বুল আলামীন ইরশাদ করেন ঃ “তিনি তোমাদের জন্য পবিত্র ও ভাল ( তাইয়েবাত) বস্তু হালাল করেন আর ক্ষতিকর- নোংড়া ( খাবায়িস) জিনিষ হারাম করেন। সূরা আরাফ আয়াত ১৫৭ সকল চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীরা বলেছেন পান খাওয়া স্বাস্থের জন্য ক্ষতিকর। ডাক্তার তার রোগীকে পান খেতে বারণ করেন। পান খাওয়ার মধ্যে কোন উপকারিতা থাকলেও থাকতে পারে তবে ক্ষতির দিকটা প্রবল। আল্লাহ তায়ালা মদ ও জুয়া হারাম করতে যেয়ে বলেন ঃ “তারা আপনাকে মদ ও জুয়া সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে। বলে দিন উভয়ের মধ্যে রয়েছে মহাপাপ। আর তার মধ্যে মানুষের জন্য উপকারিতাও আছে। তবে এগুলোর পাপ উপকারের চেয়ে বড়।” সূরা বাকারা আয়াত ২১৯ আল্লাহ তায়ালার এ বানী দ্বারা বুঝে আসে মদের মধ্যে উপকারিতা থাকা সত্বেও তা হারাম করেছেন। পানের মধ্যে উপকারিতা থাকলেও তার ক্ষতির দিকটা বড় কর দেখা হবে। ফিকাহর মূলনীতিও তাই বলে। (২) প্রত্যেক খাদ্যের মধ্যে দুটো গুণের কমপক্ষে একটি থাকে। গুণ দুটো হল (ক) পুষ্টি জোগান (খ) ক্ষুধা নিবারণ। কিন্তু পান পুষ্টিও যোগায়না ক্ষুধাও নেভায়না। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন জাহান্নামীদের খাদ্যের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন ঃ “ এটা তাদের পুষ্টি যোগাবেনা এবং ক্ষুধা নিবারণ করবেনা।” সূরা গাশিয়াহ আয়াত ৭ তাই গুণগত দিক দিয়ে পানকে জাহান্নামীদের খাদ্যের সাথে তুলনা করা যেতে পারে। এ আয়াতের আলোকে এমন খাদ্য গ্রহণ করা ঠিক নয় যা ক্ষুধা নিবারণ করেনা বা পুষ্টি যোগান দেয়না। (৩) পান দাঁত কে কলুষিত করে। আর ইসলামের নবী (সঃ) দাঁতকে সর্বদা পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি তার উম্মতকে মিছওয়াক করার আদেশ দিয়েছেন খূব গুরুত্ব সহকারে। আর বলেছেনঃ “এ মিছওয়াকের উদ্দেশ্য হল মুখের পরিচ্ছন্নতা ও আল্লাহর সন্তুষ্টি।” যিনি পান খেয়ে থাকেন তিনি শত চেষ্টা করেও দাঁতকে পরিচ্ছন্ন রাখতে পারেননা। তাই পান খাওয়ার মাধ্যমে ইসলামী শরীয়তে মিছওয়াকের যে উদ্দেশ্য রয়েছে তা মারত্নকভাবে ব্যহত হয়। (৪) চুন ছাড়া পান খাওয়ার কথা কল্পনা করা যায়না। আর চুন কোন খাদ্যের মধ্যে পড়েনা। চুন পিত্তথলিতে পাথর তৈরীতে সহায়তা করে। (৫) পানে সুপারী খাওয়া হয়। সুপারী নেশা উদ্রেক করে। যিনি সুপারী খেতে অভ্যস্ত নন তিনি সুপারী খাওয়ার সাথে সাথে কিছুটা বেহুঁশ হয়ে পড়েন। তাই সুপারী কোন উপকারী খাদ্য নয়। (৬) পান-খাদক ব্যক্তি তার প্রতিবেশীকে কষ্ট দিয়ে থাকেন। আপনি যদি পান খেতে অভ্যস্ত না হয়ে থাকেন আর আপনার বাসায় এমন একজন মেহমান আসে যিনি পান খেয়ে থাকেন তাহলে তার আচরণে আপনি বিরক্ত হবেন। দেখবেন আপনার পরিস্কার ঘরের এখানে সেখানে পানের চিপটি। বিছানার চাঁদর গুলোতে দাগ পড়ে গেছে। বেসীনগুলো এমন লালচে ময়লাযুক্ত হয়ে পড়েছে যা দেখলে আপনার অসহ্য লাগবে। এমনি ভাবে আপনি যদি এক পানখাদকের কাছে সালাত আদায় করতে দাঁড়ান তাহলে সত্যিই আপনার কষ্ট হবে তার মুখের দুর্গন্ধে। অনেকে বলেন পান খেলে মুখে দুর্গন্ধ হয়না বরং পান মুখের দুর্গন্ধ দূর করে। আমি বলি কথাটি ঠিক তবে তা দুটি অবস্থায়; যতক্ষণ পান খেতে থাকে ততক্ষণ দুর্গন্ধ হয়না আর যদি পার্শের ব্যক্তি অনুরূপ পানখোর হয়ে থাকেন তাহলে তিনি দুর্গন্ধ অনুভব করেননা। এ ছাড়া সর্বাবস্থায় পানখাদকের মুখ থেকে পান সুপারী, তামাক-মিশ্রিত দুর্গন্ধ বের হতে থাকে। আর প্রতিবেশী বা সহযাত্রীর কষ্ট হয় এমন কোন কাজ করা জায়েয নয়। (৭) অনেক পান খেতে অভ্যস্ত ব্যক্তিকে দেখেছি যে তারা পান খাওয়া সত্বেও দাঁত পরিস্কার রাখার ব্যাপারে অত্যাধিক যত্নবান থাকেন। বার বার মেছওয়াক ও ব্রাশ করেন। বিভিন্ন ধরণের টুথপেষ্ট ও টুথপাউডার ব্যবহার করেন। তবুও তারা দাঁতকে পানের দাগ থেকে মুক্ত রাখতে পারেননি। তাদের দাঁত কালো রং ধারণ করে বিশ্রি হয়ে গেছে। এখন আপনি ভেবে দেখতে পারেন যে, দাঁত ও মুখ এমন এক স্থান যা বার বার পরিস্কার করা হয় ও এ স্থানটা ময়লা আটকে রাখেনা তা সত্বেও দাঁত ও মুখ পান দ্বারা কিভাবে কলুষিত হয়ে থাকে। তাহলে পানের সংস্পর্ষে দেহের ঐ সকল ভিতরের অংশের অবস্থা কেমন হয়ে যায় যা পরিস্কার করা যায়না কখনো ? (৮) একটু বিবেক দিয়ে কল্পনা করুন যে, রাসূলে কারীম (সঃ) এর কাছে এক ব্যক্তি পান চিবাতে চিবাতে আসল। তিনি তার মুখের দিকে তাকালেন। দেখলেন তার মুখ ও জিহবা পানের রংয়ে লাল ও দাঁত গুলো কালো হয়ে গেছে। তখন তিনি তাকে কি বললেন ? তিনি কি বলবেনঃ খুব ভাল জিনিষ খাচ্ছো, তুমি আমাদেরও পান খেতে দাও ? না বলবেন, পান খেলে মুখ ও দাঁতের সৌন্দর্য যা আল্লাহ দান করেছেন তা নষ্ট হয়? এ প্রশ্নটা নিজের বিবেকের কাছে করুন। অতঃপর সিদ্ধান্ত নিন; পান খাবেন, না ত্যাগ করবেন। (৯) পান খেলে সম্পদের অপচয় হয়। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেনঃ “তোমরা খাবে ও পান করবে কিন্তু অপচয় করবেনা।” সূরা আরাফঃ ৩১ এ আয়াত দ্বারা বুঝে আসে মানুষ সাধারণত খাওয়া ও পান করার মধ্যে সম্পদের অপচয় করে থাকে। আর যা কিছু মুখে দিয়ে গলধকরণ করা যায় তা উপকারী হোক বা নাে হাক তা খাওয়া বা পান করার অনুমতি দেয়া হয়নি। যদি খাদ্যটা উপকারী না হয় তবে তার পিছনে সম্পদ ব্যয় করার নাম অপচয়। তাই পান খাওয়া একটি অপচয়। (১০) পান খাওয়া একটা অনর্থক কাজ। সকল অনর্থক কাজ পরিহার করা ইসলামের দাবী। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আল-কুরআনে মুমিনদের গুণাবলী আলোচনা করতে যেয়ে বলেছেনঃ “ যারা অনর্থক কাজ থেকে বিরত থাকে।” সূরা মুমিনুন ঃ ৩ রাসূলে কারীম সঃ বলেছেন “ যে সকল কথা ও কাজ মানূষের কোন উপকারে আসেনা তা পরিহার করা তার ইসলামের সৌন্দর্য।” মুসলিম তাই পান খাওয়ার মত অনর্থক কাজ সকল ঈমানদার ব্যক্তির পরিহার করা উচিত।
ক্লাসে #শিক্ষকদের পান জর্দা গুল খাওয়াও বারণঃ#দেশের যেকোন শিক্ষক শিক্ষার্থীদের সামনে পান-জর্দা-গুল খেলে অথবা ধুমপান করলে সরাসরি প্রমাণ সহ অভিযোগ করুন । উক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা নিবে মাউশি বা সংশ্লিষ্ট দপ্তর । মাদ্রাসা শিক্ষকও এর আন্তর্ভূক্ত ।প্রাথমিক,মধ্যমিক,, উচ্চ মধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের শ্রেণিকক্ষে এবং শিক্ষার্থীদের সামনে পান, জর্দা ও গুল গ্রহণ না করার এবং ধুমপান না করার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের বিদ্যালয়ের ভেতরে এবং বিদ্যালয়ের বাইরে শিক্ষার্থীদের সামনে ধূমপান না করারও নির্দেশনা দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। মাউশির পরিচালক (মাধ্যমিক) অধ্যাপক মো. আবদুল মান্নান স্বাক্ষরিত ‘ধূমপান ও তামাকজাতীয় দ্রব্য পরিহার সংক্রান্ত’ নির্দেশনা সব উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ ও প্রধান শিক্ষকদের পাঠানো হয়েছে।এতে বলা হয়, “কোনো কোনো শিক্ষক বিদ্যালয় কিংবা বিদ্যালয়ের বাইরে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে ধূমপান করেন, বিষয়টি শিক্ষকসুলভ আচরণ ও জনস্বাস্থ্যের পরিপন্থী।“এই মর্মে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের নির্দেশনা প্রদান করা যাচ্ছে যে, তারা বিদ্যালয়ের ভেতরে ধূমপান করবেন না এবং বিদ্যালয়ের বাইরে অন্তত শিক্ষার্থীদের সামনে ধূমপান থেকে বিরত থাকবেন।“কোনো কোনো শিক্ষক প্রচুর পরিমাণ পান, জর্দা ও গুল গ্রহণ করে ক্লাসরুমে যান কিংবা শিক্ষার্থীদের উপস্থিতে কথা বলেন, এতে শিক্ষার্থীদের ভেতর বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।“শিখন-শিখানো কার্যক্রম পরিচালনার সময় কিংবা শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে শিক্ষকদের পান, জর্দা ও গুল গ্রহণ না করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হল।”শিক্ষার্থীদের পুরস্কার হবে বই বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের পুরস্কার হিসেবে ক্রোকারিজ সামগ্রী না দিয়ে বই অথবা শিক্ষা সহায়ক উপকরণ দিতে উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধানদের নির্দেশনা দিয়েছে মাউশি। ‘প্রতিযোগিতায় পুরস্কার হিসেবে বই অথবা শিক্ষা উপকরণ প্রদান’ সংক্রান্ত নির্দেশনায় বলা হয়েছে, “লক্ষ করা যাচ্ছে যে, বিদ্যালয়গুলোর সহশিক্ষাক্রমিক কার্যক্রমের পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রতিযোগিদের মধ্যে পুরস্কার হিসেবে ক্রোকারিজ সামগ্রী দেওয়া হয়। “এ ধরনের পুরস্কার শিক্ষার্থীদের শিখন-শেখানো কার্যক্রমের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এ প্রেক্ষিতে গুণগত শিক্ষা অর্জনের লক্ষ্যে সকল অনুষ্ঠানে প্রতিযোগি শিক্ষার্থীদের মধ্যে পুরস্কার হিসেবে বয়স উপযোগী মানসম্মত বই অথবা শিক্ষা সহায়ক উপকরণ দেওয়ার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হল।” স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্যতালিকা দিতে হবে শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের শিক্ষার্থীদের সুস্বাস্থ্য গঠনের লক্ষ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টিবিজ্ঞান বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী তাদের জন্য খাদ্য তালিকা নির্ধারণ করা হয়েছে জানিয়ে সেই তালিকা শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের বিতরণ করতে উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধানদের নির্দেশনা দিয়েছে মাউশি।স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্যতালিকা সরবরাহ সংক্রান্ত নির্দেশনায় বলা হয়েছে, “উক্ত তালিকা অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্যাভ্যাস তৈরির লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠান প্রধানদের নির্দেশনা দেওয়া হল। তালিকাটি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে বিতরণ করতে হবে। “স্কুল গেটে এবং আশেপাশে ভ্যানগাড়িতে বা দোকানে যে সকল খাবার বিক্রি করা হয় তাদেরকেও তালিকা সম্পর্কে অবহিত করতে হবে এবং সময়ে সময়ে তদারকি করতে হবে।” স্বাস্থ্যসম্মত খাবার গ্রহণের বিষয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সচেতন করতে প্রতিষ্ঠান প্রধান ও শিক্ষকদের অভিভাবক সমাবেশ ও মতবিনিময় সভা করতেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
মানুষ ও পরিবেশেরজন্য ক্ষতিকর দ্রব্যের ব্যবসা নিয়ন্ত্রণের সরকারি উদ্যোগে স্বার্থের সংঘাত বাঞ্ছনীয় নয়তামাক এমন একটি পণ্য, যার ব্যবহারে ক্ষতি ছাড়া কোনো উপকার হয় না। তবু এ পণ্য বাজারে আছে এবং রমরমা ব্যবসা করছে। অর্থাৎ মানুষ পয়সা খরচ করে কিনছে। যারা ব্যবহার করে এবং যারা করে না, সবাই জানে এর ক্ষতির কথা। যখন একজন রিকশাওয়ালাকে দেখি সিগারেটে টান দিয়ে রিকশা চালাতে, কিংবা যখন দেখি একজন মহিলা ইট ভাঙার কাজ করছেন আর মুখ লাল করে জর্দা দিয়ে পান খাচ্ছেন, তখন খুব দুঃখ হয়। এসব পণ্য খুচরা কেনার জন্য খুব সস্তা, তাই খাদ্যের পরিবর্তে কয়েকবার তামাক পণ্য সেবন করে ফেলছেন। বাংলাদেশ বিশ্বে উচ্চ তামাক সেবনকারী দেশ, এখানে তামাক পণ্য খুব সস্তা বলেও ‘খ্যাতি’ আছে। বছরে ১ লাখ ৬২ হাজার মৃত্যু ঠেকাতে তামাক ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের জন্য আইন আছে। আন্তর্জাতিক আইন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন টোব্যাকো কন্ট্রোল, ২০০৩ (এফসিটিসি) অনুযায়ী আইন করে এর ব্যবহারের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হচ্ছে। বাংলাদেশ সরকার ঘোষণা দিয়েছে ২০৪০ সালে তামাকমুক্ত করবে নিজেকে। তামাকমুক্ত হতে হলে তামাকের ব্যবহার শূন্য হতে হবে এমন কথা নেই, প্রাপ্তবয়স্ক জনগণের ৫ শতাংশ ব্যবহারকারী হলেই তামাকমুক্ত দাবি করা যাবে। তামাক কোম্পানি প্রায় শত বছর ধরে মানুষের মধ্যে ধোঁয়া এবং নাকে নস্যি দেয়া বা মাড়িতে তামাক লাগানো ইত্যাদি পদ্ধতিতে এক ধরনের নেশা তৈরির ব্যবসা করে যাচ্ছে। বাংলাদেশের মতো দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোয় পান খাওয়ার যে সামাজিক সাংস্কৃতিক রীতি আছে, তার মধ্যেও জর্দা হয়ে ঢুকে আছে এ তামাক। সিগারেট খাওয়া ভদ্রলোকের বিষয় বানিয়ে ফেলেছে, শুধু একটু আদব-কায়দা মেনে মুরব্বিদের সামনে না খেলেই হলো। আর এখন? সিগারেট ক্ষতিকর—এটা যত প্রমাণ ও স্বীকৃত হচ্ছে, কোম্পানিগুলো নতুন তামাক পণ্য নিয়ে বাজার ছেয়ে ফেলছে; ই-সিগারেট; ভাপিং ইত্যাদি নামে। তারা দাবি করছে, তামাক নয় নিকোটিন দিয়ে ধোঁয়ার স্বাদ নিচ্ছে মানুষ। তামাক ছাড়তে হলে অন্য একটি পণ্য ব্যবহারের প্রয়োজন হয়। ‘ই-সিগারেট সেই প্রয়োজন মেটাবে’ এমন মিথ্যা ও খোঁড়া যুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। অবশ্য এরই মধ্যে বাংলাদেশসহ বিশ্বের অনেক দেশে এর বিরুদ্ধে মানুষ সচেতন হয়ে উঠেছে; ২৩টি দেশ ই-সিগারেট নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। বাংলাদেশও ঘোষণা দেবে বলে উচ্চপর্যায়ে কথাবার্তা হচ্ছে। তামাক সেবন ব্যক্তিবিশেষের খারাপ স্বভাব মনে হতে পারে। এতে কোম্পানির কী করার আছে। কিন্তু এটা জানা সত্ত্বেও যে তামাক সেবনের কারণে মানুষ রোগাক্রান্ত হচ্ছে, অকালে মৃত্যুবরণ করছে, তবু কোম্পানিগুলো এ পণ্যের ব্যবহার বাড়াতে নানা কৌশল অবলম্বন করে। তারা নিজেরাও ধূমপানের ক্ষতি নিয়ে কথা বলে, ধূমপান নিবৃত্তির জন্য নানা পদ্ধতির পরামর্শ দেয়, কিন্তু নতুন ক্রেতা বাড়ানোর জন্য উঠেপড়ে লেগে যায়। যারা এতদিন ব্যবহার করে রোগাক্রান্ত হয়েছে, তাদের রক্ষার কথা বলে নিজেদের ভালো প্রমাণ করতে চায়, অন্যদিকে ফ্রেশ ব্যবহারকারী হিসেবে নতুন প্রজন্মের দিকে হাত বাড়ায়। বর্তমানে এফসিটিসির আলোকে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন ২০০৫, সংশোধিত ২০১৩ অনুযায়ী তামাকজাত দ্রব্য নিয়ে কোনো প্রকার বিজ্ঞাপন, প্রচারণা করা যাবে না। সিগারেটের প্যাকেটের গায়ে, জর্দা-গুলের কৌটায় সচিত্র সতর্কবাণী ছাপতে হয়, এমনকি সিনেমা-নাটকেও সিগারেট-বিড়ি সেবন দেখানো যাবে না। যদি চরিত্র দাবি করে, তাহলে সেই দৃশ্যের ওপর ‘তামাক মৃত্যু ঘটায়’ কথাটি দৃশ্যমানভাবে লিখতে হবে। এ নিয়ে আইনের লঙ্ঘন নানাভাবে হচ্ছে। কিন্তু তামাক নিয়ন্ত্রণে নিয়োজিত সংগঠনগুলোও যথেষ্ট তত্পর রয়েছে এবং সেই লঙ্ঘন চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিচ্ছে। বিশ্বব্যাপী তামাকের ক্ষতি সম্পর্কে জানাজানি এত বেশি হচ্ছে যে কোম্পানি বুঝে ফেলেছে কেবল আইনের ফাঁক-ফোকর দিয়ে ঢুকে বা লঙ্ঘন করে ব্যবসা করে মুনাফার পাহাড় গড়তে পারবে না। কিন্তু ব্যবসা তাদের করতেই হবে। এবং বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশে, যেখানে মোট জনসংখ্যার ৫০ শতাংশেরও বেশি ২৫ বছরের নিচের বয়সের, সেখানে এত বড় বাজার তারা হাতছাড়া করতে পারে না। বাংলাদেশে ১৫ বছর বয়সের নিচে ছেলেমেয়েদের সংখ্যা ৩৪ শতাংশ এবং ১৫-৬৪ বছর বয়স পর্যন্ত কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর সংখ্যা ৬৫ শতাংশ, মাত্র ৫ শতাংশ ৬৫ বছরের বেশি বয়সের বৃদ্ধ মানুষ রয়েছে। তামাক কোম্পানি এ তথ্য মনোযোগ দিয়ে বিশ্লেষণ করে। তারা শুধু কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর দিকে হাত বাড়ায় না, তাদের চোখ গিয়ে পড়েছে ১৫ বছরের নিচে ৩৪ শতাংশের ওপরও। অথচ তামাক সেবনকারীদের পরিসংখ্যান যারা নেন, তারা ধরে নেন যে তামাক সেবন প্রাপ্তবয়স্কদের ব্যাপার। শিশু-কিশোররা এর সঙ্গে যুক্ত হয় না। তাই যেকোনো সরকারি বা আন্তর্জাতিক পরিসংখ্যান দেখবেন ১৫ বছরের ঊর্ধ্বে জনগোষ্ঠীর। সর্বশেষ গ্লোবাল অ্যাডাল্ট টোব্যাকো সার্ভে (জিএটিএস) ২০১৭ অনুযায়ী, দেশে ৩ কোটি ৭৮ লাখ (৩৫ দশমিক ৩ শতাংশ) মানুষ তামাক সেবন করে। অবশ্য এখন শিশু-কিশোরের (১২-১৫ বছর) মধ্যে তামাক সেবনের হার দেখা গেছে। এজন্য ভিন্ন একটি সমীক্ষা করা হয়েছে, Global Youth Tobacco Survey (GYTS) 2013 অনুযায়ী ৬ দশমিক ৯ শতাংশ শিশু-কিশোর রয়েছে (ছেলে ৯ দশমিক ২ শতাংশ, মেয়ে ২ দশমিক ৮ শতাংশ)। এ পরিসংখ্যান যথেষ্ট উদ্বেগের। যদিও প্রাপ্তবয়স্ক নারীদের মধ্যে ধূমপানের হার মাত্র শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ, অপ্রাপ্ত বয়স্ক মেয়েদের মধ্যে ২ দশমিক ৮ শতাংশ। অর্থাৎ তামাকের আগ্রাসন শুধু অপ্রাপ্তবয়স্কই খুঁজছে না, তারা মেয়েদের দিকেও হাত বাড়াচ্ছে। প্রশ্ন হচ্ছে, তামাক কোম্পানিগুলো এত অনায়াসে একটি দেশের জনগোষ্ঠীকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে, অথচ সরকার তা কি দেখছে না? নিশ্চয়ই দেখছে। কিন্তু তামাক ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের ব্যাপারে আইন থাকলেও তামাক কোম্পানির কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে আইনের ব্যবহার খুব সীমিত। সরকারের কাছে তামাক কোম্পানি দুধ দেয়া গাই-গরুর মতো, দুয়েকটা লাথি দিলেও সহ্য করতে হবে। তামাক কোম্পানির ব্যবসার কারণে সরকারের রাজস্ব আসে বছরে ২২ হাজার ৮১০ কোটি টাকা। কিন্তু তারা বলে না যে তামাকজনিত বিপুল স্বাস্থ্য ব্যয় হচ্ছে ৩০ হাজার ৫৭০ কোটি টাকা। কাজেই তামাক কোম্পানি রাজস্ব প্রদানের যে ধারণা তৈরি করে, তা একেবারে ভিত্তিহীন। তামাক কোম্পানি টিকে থাকার একটি বড় কারণ হচ্ছে, তারা সরাসরি সরকারের কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ করার সুযোগ পাচ্ছে, যা এফসিটিসির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এফসিটিসির ধারা ৫.৩ সরকারের ওপর একটি নির্দেশনার মতো, যেন তারা তামাক কোম্পানির কোনো প্রকার হস্তক্ষেপ/প্রণোদনা গ্রহণ না করে। বিভিন্ন দেশে তামাক কোম্পানির হস্তক্ষেপ এত বেশি সমস্যা সৃষ্টি করছিল যে, ২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এফসিটিসির তৃতীয় কনফারেন্স অব দ্য পার্টিজ (কপ-৩)-এ ধারা ৫.৩-এর একটি গাইডলাইনও তৈরি করা হয়। অবশ্য এতে তামাক কোম্পানি মোটেও তাদের কার্যকলাপ থেকে থেমে থাকেনি। সম্প্রতি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে তামাক কোম্পানির হস্তক্ষেপ নিয়ে SEATCA একটি গবেষণা প্রতিবেদন Global Tobacco Industry Interference Index 2019 প্রকাশিত হয়েছে। এ প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, ৩৩টি দেশ তামাক কোম্পানির হস্তক্ষেপ ঠেকাতে ৫.৩ ধারা ব্যবহার মেনে চলতে ব্যর্থ হয়েছে, পাঁচটি দেশ হস্তক্ষেপ ঠেকাতে পেরেছে। বেশকিছু দেশে তামাক কোম্পানি তাদের দেশের নীতিনির্ধারণে হস্তক্ষেপের সুযোগ পেয়েছে। কিছু কিছু দেশে তামাক কোম্পানি রাজনৈতিক চাঁদাও দিয়েছে। নয়টি দেশে তামাক কোম্পানির কাছ থেকে রাজনৈতিক চাঁদা নেয়া নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তামাক নিয়ন্ত্রণের আইনটি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সনদ ধরে হওয়ার কারণে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মূল দায়িত্ব থাকে আইন বাস্তবায়নের। কিন্তু তামাক কোম্পানি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ছাড়াও অন্যান্য মন্ত্রণালয়কে প্রভাবিত করার জন্য বিভিন্ন কার্যক্রম হাতে নেয়। তাদের করপোরেট সোস্যাল রেসপনসিবিলিটির (সিএসআর) মাধ্যমে তারা অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। তবে অর্থ ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় তামাক কোম্পানির কাছে খুব নড়বড়ে অবস্থায় থাকে। ট্যাক্সকেন্দ্রিক নানা সুবিধা তামাক কোম্পানি ভোগ করে। বিমানবন্দরে শুল্কমুক্ত সিগারেট আন্তর্জাতিক ভ্রমণকারীদের মাধ্যমে করা এক বড় ব্যবসা। শ্রীলংকা ছাড়া পৃথিবীর সব দেশেই এ সুযোগ দেয়া আছে। তামাক কোম্পানিতে সরকারের শেয়ার থাকা এবং কোম্পানির বোর্ডে সরকারের প্রতিনিধি থাকা কোম্পানির ক্ষতিকর ব্যবসা নিয়ন্ত্রণের সরকারি উদ্যোগের ক্ষেত্রে স্বার্থের সংঘাত হয়ে দাঁড়ায়। এ সমস্যা দেখা গেছে বাংলাদেশ, শ্রীলংকা ও পাকিস্তানের ক্ষেত্রে। বাংলাদেশে তামাকদ্রব্য ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ আইন রয়েছে, সরকারের ইচ্ছাও রয়েছে। কিন্তু আইন বাস্তবায়নে বেশকিছু দুর্বলতা আছে। সংশোধনীর প্রক্রিয়া চলছে। বেশকিছু নীতি প্রণয়নের চেষ্টা চলছে। বলা বাহুল্য, এখানে তামাক কোম্পানি সরাসরি প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্যভাবে বাধা সৃষ্টি করছে। SEATCA প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, নীতিনির্ধারণে তামাক কোম্পানির কৌশল হচ্ছে প্রক্রিয়ার গতি কমিয়ে দেয়া, বাধা সৃষ্টি করা ইত্যাদি। বিড়ির ওপর ট্যাক্স আরোপ করতে গিয়ে বাংলাদেশ বিড়ি শিল্প মালিক সমিতির হস্তক্ষেপে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে কর কমিয়ে আনতে হয়েছিল। ফলে এ সময় বিড়ির দাম বাড়েনি। ছবিযুক্ত স্বাস্থ্য সতর্কবাণী (পিএইচডব্লিউ) সিগারেট, বিড়ি, জর্দা-গুলের প্যাকেট ও কৌটায় দেয়া আইন বাস্তবায়নের একটি অন্যতম প্রধান কাজ। নিয়ম হচ্ছে, প্যাকেটের উপরের ৫০ শতাংশজুড়ে এ ছবি দৃশ্যমান থাকতে হবে। কিন্তু বাংলাদেশ সিগারেট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিসিএমএ) এ ছবি নিচের ৫০ শতাংশ ছেপে দেয়ার জন্য আইন মন্ত্রণালয়ের কাছে সাময়িক অনুমতি নিয়ে ছবিযুক্ত সতর্কবাণী দিয়েছে। এ নিয়ে উচ্চ আদালতে মামলা চলছে। এভাবে তারা ইচ্ছাকৃতভাবে দুই বছর দেরি করিয়ে দিল। ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো কোম্পানি বাংলাদেশ শ্রম কল্যাণ ফাউন্ডেশনকে (বিএলডব্লিউএফ) ৮ কোটি ৮২ লাখ টাকা অনুদান দিয়েছে। এটা তারা করেছে সেবামূলক কাজ হিসেবে (সিএসআর)। জাপান টোব্যাকো বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে ফরেন ডাইরেক্ট ইনভেস্টমেন্ট (এফডিআই) হিসেবে আকিজ গ্রুপের একটি অংশ ১ দশমিক ৪৭ বিলিয়ন ডলার দিয়ে কিনে নিয়ে। সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে, তামাক কোম্পানিতে বাংলাদেশ সরকারের নির্দিষ্ট শেয়ার আছে এবং সচিব পর্যায়ের ব্যক্তিরা বিএটিবির বোর্ডের সদস্য, যা তামাক নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে বড় ধরনের স্বার্থ-সংঘাত তৈরি করে। তবে আমরা আশা করছি, সরকার যেহেতু ২০৪০ সালের মধ্যে তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়বে বলে অঙ্গীকার করেছে, এসব অসংগতি দূর করেই এগিয়ে যাবে। আর মাত্র ২০ বছর হাতে আছে। আর আমাদের সামনে পড়ে আছে কোটি কোটি নতুন প্রজন্মের জীবন। জনস্বাস্থ্য রক্ষা করা এবং তরুণদের রক্ষার জন্য তামাক নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত জরুরি।
#তামাক খাদ্য নয়, অথচ মানুষ খাচ্ছেঃ সার্বিকভাবে তামাকদ্রব্য মূলতঃ একটি মাদকদ্রব্য।এটি সেবন মদের চেয়েও কয়েকগুণ ক্ষতিকর, এই সত্য প্রমাণে আর তর্ক করতে হয় না। জর্দা, গুল ও সাদাপাতা সরাসরি গ্রহণ করা হয় বলে এর স্বাস্থ্য ক্ষতির প্রভাব বিড়ি সিগারেটের চেয়েও অনেক বেশি । কিন্তু এই দ্রব্য সেবনের ক্ষতির দিক চোখে পড়ে না। জর্দা ও গুল ব্যবহার গ্রামের মানুষ এবং গরীব ও শ্রমিকদের মধ্যে বিশেষ করে দেখা যায়। তারা ক্ষুধার মধ্যে যেভাবে খায় তা স্বাস্থ্যের জন্যে মারাত্মক ক্ষতিকর। জর্দা, গুল ও সাদাপাতা গ্রহণ করার কারণে মুখের ক্যান্সার, কন্ঠনালীর ক্যান্সার, মুখের ও দাঁতের ক্যান্সার, মারীর ক্ষত, উচ্চরক্তচাপ ও খাদ্য নালীর ক্যান্সারসহ নারীদের প্রজনন স্বাস্থ্য ক্ষতি বিশেষ করে কম ওজনের শিশু জন্ম হওয়া এবং মৃত শিশু জন্ম দানের কারণ হিসেবে পাওয়া যায়।সিগারেট, বিড়ি, জর্দা, সাদাপাতা বা গুল তামাকজাত দ্রব্য বলেই স্বীকৃত এবং বাজারে অবাধে বিক্রি হচ্ছে। এর মধ্যে কোনটি ধোঁয়ার মাধ্যমে এবং কোনটি সরাসরি চিবিয়ে খাওয়া হচ্ছে, যাকে আমরা ধোঁয়াবিহীন বলে চিহ্নিত করি। যেটাই হোক না কেন, এই দ্রব্য মুখের মাধ্যমে অন্যান্য খাদ্য দ্রব্যের মতোই খাওয়া হয়। সিগারেট, বিড়ি ইতিমধ্যে সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছে এবং ক্ষতিকর বলে এর ব্যবহারে আইনী বাধ্যবাধকতা এসেছে। কিন্তু পানের সাথে জর্দা খাওয়া সামাজিক ভাবে খারাপ চোখে দেখে না। পরিবারের বড় ছোট একসাথে বসে পানের সাথে সুপারি, জর্দা, সাদাপাতাও সেবন করে। দাওয়াত অথবা যে কোন উৎসবে বিশেষ করে বিয়ের অনুষ্ঠানে পান, সুপারি জর্দার বিশেষ আয়োজন থাকে। দরিদ্ররা সময় মতো খাবার খাওয়া সম্ভব হয় না বলে, ক্ষুধা চেপে রাখার জন্য পান, জর্দা খেয়ে থাকে। জর্দা দিয়ে পান খেয়ে নিলে অনেকক্ষণ ভাত না খেয়ে থাকা যায়। অর্থাৎ এর সাথে খাওয়ার সম্পর্ক অনেক বেশি, সরাসরি যুক্ত।স্বাস্থ্যের কথা চিন্তা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার উদ্যোগে প্রথম চুক্তি Framework Convention on Tobacco Control (FCTC) প্রণীত হয়, এতে বাংলাদেশ স্বাক্ষর করে ২০০৩ সালে। তার পরিপ্রেক্ষিতে ২০০৫ সালে ধূমপান ও তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন ২০০৫ প্রণয়ন করা হয়। পরবর্তীতে কিছু সংশোধনী এনে ২০১৩ সালে ধোঁয়াবিহীন তামাক যেমন জর্দা, গুল, সাদাপাতা খৈনী সংঙ্গা অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তামাক খাদ্য নয়, কিন্তু তামাক ব্যবহারকে আমরা ‘খাওয়া’ বা ‘সেবন’ বলি। ধোঁয়বিহীন তামাক দ্রব্য জর্দা ও সাদাপাতার মুখের মাধ্যমে চিবিয়ে খেলেও এটা জীবনধারণ, পুষ্টি সাধন ও স্বাস্থ্য রক্ষা ব্যবহৃত হচ্ছে না। অথচ মানুষ খাচ্ছে এবং নানা ধরণের স্বাস্থ্য ঝুঁকির সম্মুখীন হচ্ছে। তামাক ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করতে হলে এই ধারণা বদলাতে হবে। তামাক খাদ্য নয়, বরং তামাক বিষের মতোই ক্ষতিকর। মানুষ বিষ খায় আত্মহত্যার জন্যে, আর তামাক আনন্দের জন্যে খায় কিন্তু বিষের মতোই মানুষকে নীরবে এবং ধীরে ধীরে হত্যা করতে থাকে। বাংলাদেশে খাদ্য উৎপাদন ও সরবরাহ নিশ্চিত করা একটা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমরা জানি যে খাদ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার জন্য অনেক উদ্যোগ নেয়া রয়েছে।খাদ্য নিরাপত্তাকে বরাবরই প্রধানতম অগ্রাধিকার ভিত্তিতে রেখেছে এবং উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য নানান ধরণের কীটনাশক ও রাসায়নিক সার প্রয়োগ কৃষি কাজে রয়েছে, যদি ৬০ দশকের এ প্রশ্ন আসে নি। অন্যদিকে শিল্পজাত, খাদ্যের ব্যবহার ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। এ ক্ষেত্রে বিভিন্ন কারখানায় খাদ্য তৈরীতে ব্যবহৃত কাঁচামাল ব্যবহার এবং প্যাকেজিং ব্যবস্থায় রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার বেড়েছে। মানুষের খাদ্য ব্যবস্থাপনা এ ধরণের অরাজকতা মানুষকে সুস্থভাবে বেঁচে থাকার অধিকার লংঘন হচ্ছে।দিনে দিনে স্বাস্থ্য হুমকির সম্মুখিন হচ্ছে। জাতিসংঘ বিশ্বব্যাপী নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল হেলথ রেগুলেশান ২০০৫ আইন পাশ করে। সরকার ও বেসরকারী প্রতিষ্ঠান নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করনের জন্য আন্দোলন গড়ে তোলে এরপর জাতীয় সংসদে ‘নিরাপদ খাদ্য আইন ২০১৩’ পাশ হয়। নিরাপদ খাদ্য আইন ২০১৩ (২০১৩ সনের ৪৩ নং আইন) এর সংজ্ঞা (৩) দেখি সেখানেও ‘খাদ্য’ “অর্থ চর্ব্য, চুষ্য, লেহ্য, পিয়। যেমন খাদ্য শস্য, ডাল, মৎস্য, মাংস, দুগ্ধ, ডিম ভোজ্য তেল, ফলমূল, শাকসবজি ইত্যাদি) বা পেয় যেমন- সাধারণ পানি, বায়ুবায়িত পানি, অঙ্গারিত পানি, এনার্জিড্রিংক, ইত্যাদি)-সহ সকল প্রকার প্রক্রিয়াজাত, আংশিক বা অপ্রক্রিয়াজাত আহার্য উৎপাদন এবং খাদ্য, প্রক্রিয়াকরণ বা প্রস্ততকরণে ব্যবহৃত উপকরণ বা কাঁচামাল ও যাহা মানবদেহের জন্য উপকারী আহার্য হিসাবে জীবন ধারণ, পুষ্টি সাধন ও স্বাস্থ্য-রক্ষা করিতে ব্যবহৃত হইয়া থাকে, উহার আন্তর্ভক্ত হইবে”। এবার আসি ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯ (২০০৯ সনের ২৬ নং আইন) প্রসঙ্গে। ভেজাল খাবার এর কথা আজকাল আমরা প্রায় শুনে আসছি। অর্থাৎ ভেজাল, নানা ধরণের রাসায়নিক পদার্থ মিশ্রণ খাবারে পাওয়া যাচ্ছে ।২০০৯ সালে বাংলাদেশে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন প্রণয়ন করা হয়। এখানে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ, ভোক্তা অধিকার বিরোধী কার্য প্রতিরোধ এর কথা বলা আছে। আইনের সজ্ঞা ২(৭) ‘খাদ্য পণ্য’ অর্থ মানুষ বা গবাদি পশু- পাখির জীবন ধারণ, পুষ্টি সাধন ও স্বাস্থ্য রক্ষার জন্য ফল-মূল এবং পাণীয়সহ অন্য যে কোন খাদ্য দ্রব্য। ধূমপান ও তামাকজাতদ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০০৫ আইনের সংজ্ঞায় ২(গ) ধারায় ”তামাক জাত দ্রব্য” অর্থ তামাক, তামাক পাতা বা উহার নির্যাস হইতে প্রস্তুত যে কোন দ্রব্য, যাহা চোষণ বা চিবানোর মাধ্যমে গ্রহণ করা যায় বা ধূমপানের মাধ্যমে শ্বাসের সহিত টানিয়া লওয়া যায় এবং বিড়ি, সিগারেট, চুরুট, গুল, জর্দা, খৈনী, সাদাপাতা, সিগারেট এবং হুক্কা বা পাইপের ব্যবহার্য মিশ্রণও (mixture) ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে। বিএসটিআই (বাংলাদেশ ষ্ট্যান্ডার্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন) এর খাদ্য দ্রব্যের তালিকায় তামাকে বাদ দেয়া হয়েছে। অর্থাৎ খাদ্যের মান সংক্রান্ত যতো আইন আছে তামাক তার তালিকাভুক্ত নয়। খাদ্য নামে আমাদের সামনে যা যা আছে সবগুলো কি জীবন ধারণ, পুষ্টি সাধন ও স্বাস্থ্য-রক্ষা কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে? এর মধ্যে অনেক খাদ্য ক্ষতিকর বলে বিবেচিত। কিন্তু সেগুলো সংজ্ঞায় খাদ্য বলে বিবেচিত। জর্দা, গুল ও সাদাপাতার বেলায় এই বিষয়ের সুরাহা করা প্রয়োজন। তামাক খাদ্য পণ্য হিসাবে বিবেচিত নয় অথচ তামাক পণ্য জর্দা, সাদাপাতা মানুষের মুখ দ্বারা চিবিয়ে খাদ্য নালীর মাধ্যমে পেটে প্রবেশ করছে। যা খাদ্য বলে বিবেচিত নয় তাও মানুষ খাচ্ছে কি ভাবে। এ পণ্য কোন আইনের সংজ্ঞায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে? এগুলো খাদ্যের আশে পাশেই বা থাকছে কিভাবে?
১. শাহাদাত ও শিরক হতে বিরত থাকাঃ
জান্নাতে প্রবেশের প্রথম উপায় হলো: শাহাদাত অর্থাৎ একথার সাক্ষ্য দেয়া
যে, আল্লাহ ছাড়া আর সত্য কোন ইলাহ নেই, যিনি একক, যার কোন শরীক নেই। আর
মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর বান্দা ও রাসূল।
সুতরাং যে ব্যক্তি ইসলামের এ সাক্ষ্য প্রদান করবে, এর যাবতীয় আরকান পালন
করবে, আর এক অদ্বিতীয় আল্লাহর ইবাদাত করবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।
‘‘যে ব্যক্তি এ কথার সাক্ষ্য দিবে যে, ‘এক অদ্বিতীয় আল্লাহ ছাড়া আর কোন
প্রকৃত ইলাহ নেই, তাঁর কোন শরীক নেই, আর মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়া সাল্লাম তাঁর বান্দা ও রাসূল, ঈসা আলাইহিস সালাম তাঁর বান্দা ও রাসূল
এবং আল্লাহর কালেমা যাকে তিনি মারিয়ামের নিকট প্রেরণ করেছেন এবং আল্লাহর
পক্ষ থেকে রূহ, আর জান্নাত সত্য, জাহান্নাম সত্য’। আল্লাহ তাকে জান্নাতে
প্রবেশ করাবেন, তার আমল যাই হোক না কেন’’। [বুখারী ও মুসলিম]
আল্লাহ
বলেন: ‘‘নিশ্চয়ই যারা বলে, আমাদের রব আল্লাহ, অতঃপর এ কথার উপর সুদৃঢ়
থাকে। তাদের কোন ভয় ভীতি নেই, তাদের কোন চিন্তা নেই। তারাই জান্নাতবাসী,
সেখানে তারা চিরকাল থাকবে। এ জান্নাত তারা তাদের কৃত কর্মের ফল স্বরূপ লাভ
করবে”। [সূরা আল আহক্বাফ: ১৩-১৪]
আয়াতে উল্লেখিত الاستقامة শব্দটির
অর্থ হল: আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করা। আর যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের
আনুগত্য করে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু
আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন:
‘‘জান্নাত পেতে আগ্রহী নয় এমন ব্যক্তি ছাড়া আমার সকল উম্মাতই জান্নাতে
প্রবেশ করবে। সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! কে এমন ব্যক্তি আছে যে
জান্নাতে যেতে অস্বীকৃতি জানায়? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
বললেন, যে ব্যক্তি আমার আনুগত্য করবে সে জান্নাতে যাবে, আর যে আমার
নাফরমানী করবে ও অবাধ্য হবে, সেই জান্নাতে যেতে অস্বীকার করে’’। [বুখারী ]
২. আসমাউল হুসনাঃ
আল্লাহর সুন্দর সুন্দর নামসমূহ মুখস্থ করা এবং এ নামগুলো সম্পর্কে জ্ঞান
অর্জন করা জান্নাতে প্রবেশের একটি উপায়। আবু হুরায়রা রাদি আল্লাহ আনহু
থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: ‘‘আল্লাহর
নিরানববইটি নাম আছে। যে ব্যক্তি এ নামগুলো গণনা করবে, সে ব্যক্তি জান্নাতে
প্রবেশ করবে’’। [বুখারী ও মুসলিম]
৩. আল কুর’আনঃ আল কুরআনের
অনুসারীগণ, যারা আল্লাহর আহল ও তাঁর খাস বান্দা, কুরআন তাদের জান্নাতে
প্রবেশের উপায় হবে। আবদুল্লাহ ইবন আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু নবী
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: ‘‘আলকুরআনের সঙ্গীকে বলা হবে: কুরআন পাঠ কর,
আর মর্যাদার উচ্চশিখরে আরোহণ কর। আর তেলাওয়াত করতে থাক। যেমন দুনিয়াতে
তেলাওয়াত করছিলে; কেননা তোমার মর্যাদা হলো কুরআনের শেষ আয়াত পর্যন্ত যা
তুমি পাঠ করবে’’। [তিরমিযী, আবু দাউদ, ইবনে মাযাহ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন,
আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন]
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে আরো প্রমাণিত রয়েছে যে, কতিপয় সূরা ও আয়াত জান্নাতে প্রবেশের মাধ্যম।
আবু উমামা থেকে বর্ণিত যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
বলেছেন: ‘‘যে ব্যক্তি প্রতি ফরয সালাতের পর আয়াতুল কুরসী পাঠ করবে,
মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে সে জান্নাতবাসী হবে’’। [নাসায়ী, তাবারানী, ইবনে
হিববান এটি বর্ণনা করেছেন ও আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন]
আনাস
রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
বলেন: ‘‘৩০ আয়াত বিশিষ্ট কুরআনের একটি সূরা, এর পাঠকের জন্য জান্নাতে না
নেয়া পর্যন্ত সুপারিশ করতেই থাকবে। সূরাটি হল তাবারাকা’’ (তথা সূরা মূলক)।
[তাবারানী এটি বর্ণনা করেছেন এবং আলবানী বিশুদ্ধ বলেছেন]
আনাস
রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি মাসজিদে কোবায় আনসার
সাহাবীদের ইমামতি করতেন। তিনি প্রতি রাকাতেই সূরা ইখলাস পাঠ করতেন। তখন
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে জিজ্ঞাসা করলেন: তুমি কোন
কারণে প্রতি রাকাতে এ সূরাটি পাঠ কর? উত্তরে সে সাহাবী বললেন, হে আল্লাহর
রাসূল! আমি এ সূরাটি খুব পছন্দ করি। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া
সাল্লাম তখন বললেন, এ সূরাটি পছন্দ করার কারণেই তুমি জান্নাতে প্রবেশ করবে।
[ইমাম বুখারী হাদীসটি সনদবিহীন বর্ণনা করেছেন। তিরমিযী ও আলবানী হাদীসটিকে
উত্তম ও সহীহ বলেছেন]
৪. ইলম অর্জনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহর
সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে ইলম অর্জন করে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতের পথকে
সহজ করে দেন। আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: ‘‘যে ব্যক্তি ইলম হাসিলের
উদ্দেশ্যে রাস্তায় বের হয়, এর বিনিময়ে আল্লাহ তার জন্য জান্নাতের পথ
সুগম করে দেন’’। [মুসলিম]
৫. আল্লাহ তা’লার যিক্র: আল্লাহর
তাসবীহ (স্তুতি), তাহলীল (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ) এবং তাকবীরের ফযীলত
সম্পর্কে আবদুল্লাহ ইবন মাসঊদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত আছে, তিনি
বলেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:
‘‘মেরাজের রাতে ইবরাহীম আলাইহিস্ সালামের সাথে আমার সাক্ষাৎ হলে তিনি
বললেন, হে মুহাম্মাদ! তোমার উম্মাতকে আমার সালাম বলো এবং তাদেরকে এ সংবাদ
দাও যে, জান্নাতের মাটি সুন্দর, পানি মিষ্টি, আর জান্নাত সমতল এবং এর
বৃক্ষরাজি সুবহানাল্লাহ, আলহামদুল্লিাহ, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আল্লাহু
আকবার’’। [তিরমিযী এটি রেওয়ায়েত করেছেন এবং আলবানী তাকে উত্তম বলেছেন]
৬. প্রতি সালাতের পর আল্লাহর যিক্র পাঠ:
জান্নাতে প্রবেশের উপায়সমূহের মধ্যে আরো একটি হল প্রতি সালাতের পর
আল্লাহর যিক্র পাঠ: আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, গরীব
মুহাজিরগণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট এসে বললেন. ধনী ও
বিত্তবান লোকেরা তো আল্লাহর নিকট সুউচ্চ মর্যাদা এবং নানাবিধ নেয়ামত লাভে
ধন্য হয়ে গেল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, কীভাবে? তারা
জবাব দিলেন যে, আমরা যেমন সালাত আদায় করি তারাও সালাত আদায় করে। আমরা
যেমন রোযা পালন করি তারাও রোযা পালন করে। কিন্তু তারা দান সদকা করে আমরা তা
করতে পারি না। তারা গোলাম আযাদ করে আমরা তা করি না। তখন রাসূল
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: আমি কি তোমাদেরকে এমন কিছু শিক্ষা
দেব, যার দ্বারা তোমরা তোমাদের অগ্রবর্তীদের সমকক্ষ হবে, আর তোমাদের
পরবর্তীদের চেয়ে অগ্রগামী হবে? আর তোমাদের চেয়ে উত্তম কেউ হবে না, সে
ব্যক্তি ছাড়া যে তোমাদের মতই এ কাজগুলো করবে। তারা বললেন, হে আল্লাহর
রাসূল! আমাদেরকে সে কাজ শিক্ষা দিন। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া
সাল্লাম বললেন, সালাতের পর ৩৩ বার সুবহানাল্লাহ, ৩৩ বার আল্লাহু আকবার, আর
৩৩ বার আলহামদুলিল্লাহ পাঠ করবে’’। [মুসলিম]
৭. অনুরূপভাবে অযুর পর কালিমায়ে শাহাদাত পাঠও জান্নাতে যাওয়ার উপায়। উকবাহ ইবন আমের বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, তোমাদের কেউ সুন্দর করে অযু করার পর যদি বলে: أشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له وأن محمدا عبده ورسوله তার জন্য জান্নাতের ৮টি দরজাই উন্মুক্ত করে দেয়া হবে, সে যে দরজা দিয়ে ইচ্ছা জান্নাতে প্রবেশ করবে। [মুসলিম]
৮. لا حول ولا قوة إلا بالله এ দো‘আ হল জান্নাতের ভান্ডার:
আবু মুসা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া
সাল্লাম বলেন: আমি কি তোমাকে জান্নাতের ভান্ডার সমূহের একটি ভান্ডার
সম্পর্কে অবহিত করব? আমি বললাম: হ্যাঁ, হে আল্লাহর রাসূল! তিনি বলেন, বলো:
لا حول ولا قوة إلا بالله অর্থ্যাৎ: ‘‘আল্লাহর আশ্রয় ও শক্তি ছাড়া আর
কারো কোন ক্ষমতা নাই’’। [বুখারী, মুসলিম]
৯. জান্নাত লাভের জন্য দো’আ করাঃ
আল্লাহর নিকট জান্নাত চেয়ে দো‘আ করলে জান্নাত তখন আমীন আমীন বলে সমর্থন
করে। আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়া সাল্লাম বলেন, যে ব্যাক্তি ৩ বার আল্লাহর নিকট জান্নাত চায়, জান্নাত
তখন বলে: হে আল্লাহ্! ঐ ব্যাক্তিকে জান্নাতে প্রবেশ করাও। পক্ষান্তরে যে
ব্যক্তি ৩ বার জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি চেয়ে দো‘আ করে, জাহান্নাম
বলে: হে আল্লাহ্ ঐ ব্যক্তিকে দোযখের আগুন থেকে মুক্তি দাও। [তিরমিযি,
নাসায়ী, ইবনু মাজাহ এটি বর্ণনা করেছেন, আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন]।
১০. গুনাহ মাফের প্রধান দো’আঃ
আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মাগফেরাত কামনার দো‘আকে
সাইয়্যেদুল্ ইসস্তিগফার বা গুনাহ মাফ চাওয়ার প্রধান দো‘আ বলে অভিহিত
করেছেন এবং জান্নাতে প্রবেশের কারণ বলে আখ্যায়িত করেছেন। সুতরাং প্রিয়
পাঠক! দো‘আটি মুখস্থ করুন এবং সকাল সন্ধ্যা পাঠ করুন।
শাদ্দাদ ইবন
আওস রাদিয়াল্লাহু আনহু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ননা
করেন তিনি বলেন, ইস্তেগফারের প্রধান দো‘আ হলো: اللهم أنت ربي لا إله
إلا أنت خلقتني وأنا عبدك وأنا على عهدك ووعدك ما استطعت، أعوذ بك من شر ما
صنعت، أبوء لك بنعمتك عليَّ وأبوء لك بذنبي فاغفر لي فإنه لا يغفر الذنوب
إلا أنت ‘আল্লাহুম্মা আনতা রাব্বি লা ইলাহা ইল্লা আনতা খালাকতানি ওয়া
আনা ’আবদিকা ওয়া আন্না ’আলা ’আহদিকা ওয়া ওয়া’দিকা মাস্তাতা’তু আবু’উ
লাকা বিনি’মাতিকা ওয়া আবু’উ লাকা বিযাম্বি, ফাগফিরলী ফা ইন্নাহু লা
ইয়াগফিরুযযুনুবা ইল্লা আনতা। আ’উযুবিকা মিন শাররী মা সানা’তু, আবু’উ লাকা
বিনি’মাতিকা ’আলাইয়া, ওয়া আবু লাকা বিযাম্বি ফাগফিরলী ফা ইন্নাহু লা
ইয়াগফিরুযযুনুবা ইল্লা আনতা।”(বুখারী)
‘‘হে আল্লাহ! তুমি আমার রব।
তুমি ছাড়া আর কোন সত্য মা’বুদ নাই। তুমি আমাকে সৃষ্টি করেছ, আমি তোমার
বান্দা। আমি তোমার ওয়াদা ও অঙ্গিকারের উপর সাধ্যানুযায়ী প্রতিষ্ঠিত। আমি
অনিষ্টকর যা কিছু করেছি তা থেকে তোমার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আমার
উপর তোমার যে নেয়ামত আছে তার স্বীকৃতি দিচ্ছি। তোমার নিকট আমার গুনাহের
স্বীকৃতি দিচ্ছি। সুতরাং তুমি আমাকে ক্ষমা করে দাও; কেননা তুমি ছাড়া আর
কেউ গুনাহ ক্ষমা করতে পারে না’’।
যে ব্যক্তি বিশ্বাসের সাথে দিনে এ
দো‘আ পাঠ করে, সন্ধ্যা হওয়ার পূর্বেই যদি তার মৃত্যু হয়, তাহলে সে
জান্নাতবাসী হবে। আর যে ব্যক্তি বিশ্বাসের সাথে রাতে পাঠ করে এবং সকাল
হওয়ার পূর্বেই মারা যায়, সে জান্নাতবাসী হয়’’। [বুখারী]
১১. সালাতের প্রতি যত্নবান হওয়াঃ
সালাত হলো দ্বীনের খূঁটি। আল্লাহ আমাদের উপর দিন রাতে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত
ফরয করেছেন। আল্লাহর নিকট প্রিয় ইবাদাত হলো তাঁর ফরয কাজসমূহ। যে ব্যক্তি
আল্লাহর নির্দেশ অনুযায়ী ফরয কাজসমূহ আদায় করে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।
ওবাদা ইবন সামেত রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূল
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “আল্লাহ বান্দাদের উপর পাঁচ
ওয়াক্ত সালাত ফরয করেছেন। সুতরাং যে ব্যক্তি সালাতসমূহের হকে কোন প্রকার
কমতি ও তাচ্ছিল্য না করে সঠিকভাবে সেগুলো আদায় করে, তার জন্য আল্লাহর এ
অঙ্গিকার যে, তিনি তাকে জান্নাত দান করবেন। আর যে এগুলোর ব্যাপারে কমতি ও
তাচ্ছিল্য করে তা আদায় করবে, তার প্রতি আল্লাহর কোন অঙ্গিকার নেই। তিনি
চাইলে তাকে শাস্তিও দিতে পারেন, আবার ক্ষমাও করতে পারেন’’। [হাদীসটি
মোয়াত্তায়ে মালিক, মুসনাদে আহমাদ, সুনানে আবু দাউদ, নাসায়ী ও ইবনে
মাজায় বর্ণিত হয়েছে। আর আলবানী একে সহীহ বলেছেন]।
আল্লাহর রাসূল
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ফজর ও আসরের দু’ ওয়াক্ত সালাতের পৃথক
মর্যাদা দিয়ে এগুলোর নাম দিয়েছেন ‘বারাদাইন’ অর্থাৎ দু’টি শীতল ওয়াক্তের
সালাত। আবু মূসা আশআ’রী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: অর্থাৎ ‘‘যে
ব্যক্তি শীতল ওয়াক্তের দুই সালাত (ফজর -আসর) আদায় করবে, সে জান্নাতে
প্রবেশ করবে’’। [বুখারী ও মুসলিম]
১২. কতিপয় সুন্নাত ও নিয়মিত
সালাত আছে যেগুলো দ্বারা ফরয সালাতগুলোর কমতি পূরণ করা হয় এবং এগুলোর
পুরস্কার স্বরূপ আল্লাহ আপনার জন্য জান্নাতে একটি ঘর নির্মাণ করেন। সুতরাং
সেগুলো আদায়ের ব্যাপারে যত্নবান হোন, তাহলে আল্লাহ আপনাকে হেফাযত করবেন।
উম্মে হাবীবা রাদি আল্লাহ আনহা থেকে বর্ণিত যে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছেন: ‘‘যে মুসলিম ব্যক্তিই ফরযের অতিরিক্ত
প্রতিদিন ১২ রাকাত সুন্নাত সালাত আল্লাহর জন্য আদায় করবে, আল্লাহ তার জন্য
জান্নাতের মধ্যে একটি ঘর নির্মাণ করবেন’’। [মুসলিম]
এ সুন্নাত
সালাতগুলোর বর্ণনা এভাবে এসেছে: ‘‘যোহরের পূর্বে ৪ রাকাআত, পরে ২ রাকাআত,
মাগরিবের পরে ২ রাকাআত, ইশার পর ২ রাকাআত এবং ফজরের পূর্বে ২ রাকাআত’’।
১৩. কোন ব্যক্তি যখন অযু করে, তখন তার জন্য ২ রাকাআত সালাত আদায় করা
সুন্নাত। এ সালাত যখন সে নিষ্ঠার সাথে ও একাগ্রচিত্তে আল্লাহর উদ্দেশ্যে
আদায় করে, তখন তার জন্য জান্নাত অপরিহার্য হয়ে যায়। উকবাহ ইবন আমের
রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া
সাল্লাম বলেছেন: ‘‘ যে ব্যক্তিই সুন্দর করে অযু করে উপস্থিত মন নিয়ে ও
একাগ্রচিত্তে দু’ রাকাআত সালাত আদায় করবে তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে
যাবে’’। [মুসলিম]
১৪. ইসলামের উত্তম দিকগুলোর প্রসারঃ দ্বীন
ইসলামের উত্তম দিকগুলোর মধ্যে রয়েছে: সালামের প্রসার করা, খাদ্য দান করা
এবং আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা। আর সত্যবাদীদের গুণাবলীর মধ্যে রয়েছে
তারা হল রাতের নফল সালাত আদায়কারী। তাদের সম্পর্কে আল্লাহ বলেন, ‘‘তারা
রাতের কম অংশই নিদ্রায় মগ্ন থাকে। আর শেষ রাতে তারা আল্লাহর নিকট ক্ষমা
প্রার্থনা করে’’। [সূরা আযযারিয়াত: ১৭-১৮]
যারা উপরোক্ত কাজগুলো
করবে, তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে। আবদুল্লাহ ইবন সালাম থেকে বর্ণিত, তিনি
বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘‘ হে মানব
সকল! সালামের প্রসার কর। খাদ্য দান কর। আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখ।
লোকেরা ঘুমিয়ে গেলে রাতে নফল সালাত আদায় কর। তাহলে শান্তির সাথে জান্নাতে
প্রবেশ করবে’’। [তিরমিযী, ইবনে মাজাহ ও আহমাদ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং
আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন]।
১৫. ফজরের সালাতসহ অন্যান্য সালাতের
উদ্দেশ্যে মাসজিদে গমন করার কারণে আল্লাহ তা’লা আপনার জন্য জান্নাতে
মেহমানদারীর ব্যবস্থা করবেন। আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে
বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: ‘‘যে ব্যক্তি সকাল
সন্ধ্যা মাসজিদে যায়, তার জন্য আল্লাহ সকাল বিকাল যখনই সে গমন করে
জান্নাতের মধ্যে মেহমানদারীর ব্যবস্থা করেন’’। [বুখারী ও মুসলিম]
১৬. সালাতের কাতারে ফাঁকা স্থান পূরণঃ
মুসল্লীদের মাঝে যে ফাঁক দেখা যায় তা আপনি পূরণ করলে আপনার জন্য জান্নাতে
একটি ঘর তৈরী করা হয়। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: ‘‘যে ব্যক্তি
সালাতের কাতারের ফাঁকা জায়গা পূরণ করলো, এর দরূন আল্লাহ তার মর্যাদা
বাড়িয়ে দেবেন এবং তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর নির্মাণ করবেন’’। [তাবারানী
হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং আলবানী একে সহীহ বলেছেন]।
১৭. মাসজিদ নির্মাণ:
আপনি যদি মাসজিদ নির্মাণ করেন অথবা মাসজিদ নির্মাণে সহযোগিতা করেন, তাহলে
আল্লাহ আপনার জন্য জান্নাতের মধ্যে একটি ঘর নির্মাণ করবেন। উসমান ইবন আফফান
রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া
সাল্লামকে বলতে শুনেছেন: ‘‘যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য মাসজিদ তৈরী করলো,
আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে অনুরূপ ঘর তৈরী করবেন’’। [বুখারী ও মুসলিম]
১৮. আযানের জবাবঃ
দিনরাতে পাঁচবার মুয়াযযিনের আযানের জবাব দেয়া জান্নাতে প্রবেশের আরো
একটি কারণ। উমার ইবন খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে,
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: ‘‘মুয়াযযিন যখন
আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার (২বার) বলে, তখন তার উত্তরে কেউ যদি অনুরূপ
বলে; অতঃপর মুয়াযযিন (أشهد أن لا إله إلا الله) বললে সে তার মতো (أشهد أن
لا إله إلا الله) বলে। মুয়াযযিন যখন (أشهد أن محمدا رسول الله) বলে, সেও
তাই বলে। তারপর (حي على الصلاة) বললে সে (لا حول ولا قوة إلا بالله) বলে
এবং (حي على الفلاح) বললেও সে (لا حول ولا قوة إلا بالله) বলে। তারপর
মুয়াযযিন আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার বললে সেও আল্লাহু আকবার আল্লাহু
আকবার বলে। এরপর মুয়াযযিন যখন বলে (لا إله إلا الله) তখন সেও (لا إله إلا
الله) আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সাথে বললে জান্নাতে প্রবেশ করবে’’। [মুসলিম]
১৯. আল্লাহর আদেশ পালন ও নিষেধের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকাঃ
প্রিয় পাঠক! আপনি যদি আল্লাহর আদেশ পালন ও নিষেধের উপর প্রতিষ্ঠিত থেকে
আল্লাহকে রব, ইসলামকে দ্বীন এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া
সাল্লামকে নবী হিসাবে মেনে নেন, তাহলে আপনার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হবে। আবু
সাইদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: ‘‘ হে আবু সাইদ! যে ব্যক্তি
আল্লাহকে রব, ইসলামকে দ্বীন এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া
সাল্লামকে নবী হিসাবে গ্রহণ করবে, তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হবে’’।
[মুসলিম]
২০. রোযাদারদের জন্য জান্নাতে একটি দরজা আছে যার নাম ‘রাইয়ান’, রোযাদার ছাড়া এ দরজা দিয়ে আর কেউ প্রবেশ করতে পারবে না।
সাহল ইবন সা’দ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: ‘‘জান্নাতের ভেতর ‘রাইয়ান’ নামে একটি দরজা আছে।
কিয়ামতের দিন এখান দিয়ে রোযাদারগণ ঢুকবে। তারা ছাড়া আর কেউ এ দরজা
দিয়ে প্রবেশাধিকার পাবে না। বলা হবে: কোথায় রোযাদারগণ? তখন তারা সেখান
দিয়ে ঢুকবে। তারা ছাড়া সেখান দিয়ে আর কেউ ঢুকবে না। তারা প্রবেশ করার পর
তা বন্ধ করে দেয়া হবে। তারপর আর কেউ ঢুকতে পারবে না’’। [বুখারী ও মুসলিম]
২১. পূণ্যময় হজ্জের প্রতিদান জান্নাতঃ
ইসলামের পঞ্চম রুকন হল আল্লাহর ঘরের হজ্জ করা। এ হজ্জের প্রতিদান হলো
জান্নাত। আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, রাসূল
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: ‘‘এক ওমরাহ থেকে আরেক ওমরাহ
মধ্যবর্তী সকল গুনাহের জন্য কাফ্ফারা স্বরূপ। আর পূণ্যময় হজ্জের প্রতিদান
জান্নাত ছাড়া আর কিছু নয়’’। [বুখারী ও মুসলিম]
২২. আল্লাহর পথে জিহাদঃ
যার মাধ্যমে আল্লাহ তা’লা দ্বীন ইসলামকে বুলন্দ এবং সুউচ্চ করেছেন তা হলো
আল্লাহর পথে জিহাদ। সুতরাং যে ব্যক্তি আল্লাহর বাণীকে বিজয়ী করার লক্ষ্যে
জিহাদ করে, তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যায়।
আবু হুরায়রা
রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত আছে যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়া সাল্লাম বলেন: ‘‘আল্লাহ ঐ ব্যক্তিকে জান্নাতে প্রবেশ করানোর দায়িত্ব
নিয়েছেন যে ব্যক্তি শুধুমাত্র আল্লাহর পথে জিহাদ করা এবং তাঁর কথাকে সত্য
বলে প্রমাণিত করার উদ্দেশ্যে ঘর থেকে বের হয়। অথবা তাকে জিহাদের সাওয়াব ও
গণীমত লাভে ধন্য করে গাজী হিসাবে ঘরে ফিরিয়ে আনেন’’। [বুখারী ও মুসলিম]
২৩. আল্লাহর পথে ব্যয়ঃ
আল্লাহ অধিকাংশ ক্ষেত্রে তাঁর মুত্তাকী বান্দাদেরকে এ বলে আখ্যায়িত
করেছেন যে, তারা আল্লাহর পথে ব্যয় করে। হুযাইফা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে
বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: ‘‘যে
ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে দান খয়রাত করে, এর দরূন তাকে
জান্নাতে দেয়া হবে’’। [আহমাদ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং আলবানী হাদীসটিকে
সহীহ বলেছেন]
২৪. কোন ব্যক্তিকে অর্থ ঋণ দিয়ে তাকে তা স্বচ্ছলতার সাথে আদায় করার সুযোগ করে দেয়াঃ
হুযাইফা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া
সাল্লাম বর্ণনা করেছেন: ‘‘এক ব্যক্তি মৃত্যুমুখে পতিত হওয়ার পর জান্নাতে
প্রবেশ করলো। তাকে জিজ্ঞাসা করা হলো: তুমি কি আমল করেছ? উত্তরে লোকটি বললো:
আমি মানুষের সাথে কেনাবেচা করতাম। বিপদগ্রস্ত দরিদ্রদেরকে ঋণ পরিশোধের
সময় দিতাম এবং কিছু টাকা পয়সা মাফ করে দিতাম। ফলে আল্লাহ তাকেও মাফ করে
দিয়েছেন’’। [মুসলিম]
২৫. লজ্জাস্থান ও জবানের হেফাযতঃ যে
ব্যক্তি তার দুই চোয়ালের মধ্যস্থিত অঙ্গ(জিহ্বা) এবং দুই উরুর মধ্যস্থিত
অঙ্গের(গোপনাঙ্গ) হেফাযত করবে, আল্লাহর রাসূল তার জন্য জান্নাতের নিশ্চয়তা
দিয়েছেন।(বুখারী)
লেখক : ইউসুফ ইবন মুহাম্মাদ আল ‘উয়াইয়েদ অনুবাদ : ড. মোহাম্মাদ মানজুরে ইলাহী