#ইমামের পিছনে #মুক্তাদীর_ফাতিহা_পড়ার_হুকুম হলো„ফজরের স্বালাতের ইকামতাবস্থায় সুন্নত পড়ার মতোনঃ—
👉ইমামের ফাতিহা/কিরআত পড়ার সময়ে মুক্তাদীর জন্য চুপ হয়ে যাওয়া ওয়াজিবঃ—
حَدَّثَنَا يُوسُفُ بْنُ مُوسَى الْقَطَّانُ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ
سُلَيْمَانَ التَّيْمِيِّ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَبِي غَلاَّبٍ، عَنْ
حِطَّانَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الرَّقَاشِيِّ، عَنْ أَبِي مُوسَى
الأَشْعَرِيِّ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ “
إِذَا قَرَأَ الإِمَامُ فَأَنْصِتُوا فَإِذَا كَانَ عِنْدَ الْقَعْدَةِ
فَلْيَكُنْ أَوَّلَ ذِكْرِ أَحَدِكُمُ التَّشَهُّدُ ” .
আবূ মূসা আল-আশআরী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ:
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন ইমামের
কিরাআত পাঠের সময় তোমরা নীরব থাকবে। তিনি তাশাহুদ পাঠের জন্য বসলে তোমাদের
যে কোন মুসল্লির প্রথম যিকির যেন হয় তাশাহুদ।[৮৪৫]
ফুটনোটঃ
[৮৪৫]
মুসলিম ৪০৪, ৮৩০, ১০৬৪, ১১৭২, ১১৭৩, ১২৮০; আবূ দাঊদ ৯৭২, আহমাদ ১৯০১০,
১৯০৫৮, ১৯১৩০, ১৯১৬৬; দারিমী ১৩১২, মাজাহ ৯০১। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ।
তাখরীজ আলবানী: মিশকাত ২৬৩।
সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস নং ৮৪৭
হাদিসের মান: সহিহ হাদিস
Source: আল হাদিস অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ, IRD
👉জেহরী স্বালাতে ইমামের পিছনে মুক্তাদীর ফাতিহা/কিরআত পড়া মাকরূহে তাহরিমীঃ—
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَهِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ،
قَالاَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنِ
ابْنِ أُكَيْمَةَ، قَالَ سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ، يَقُولُ صَلَّى
النَّبِيُّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ بِأَصْحَابِهِ صَلاَةً نَظُنُّ أَنَّهَا
الصُّبْحُ فَقَالَ ” هَلْ قَرَأَ مِنْكُمْ مِنْ أَحَدٍ ” . قَالَ
رَجُلٌ أَنَا . قَالَ ” إِنِّي أَقُولُ مَا لِي أُنَازَعُ الْقُرْآنَ
” .
আবূ হুরায়রাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ:
নবী
(সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর সাহাবীদের নিয়ে সালাত পড়লেন,
আমাদের মতে তা ছিল ফজরের সালাত। সালাত শেষে তিনি বলেন, তোমাদের কেউ কি
কিরাআত পড়েছে? এক ব্যক্তি বললো, আমি পড়েছি। তিনি বলেন, তাই তো (মনে মনে)
বলছিলাম আমার কুরআন পাঠে বিঘ্ন ঘটছে কেন! [৮৪৬]
ফুটনোটঃ
[৮৪৬] সহীহ। তাখরীজ আলবানী: মিশকাত ৮৫৫, সহীহ, আবী দাউদ ৭৮১।
সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস নং ৮৪৮
হাদিসের মান: সহিহ হাদিস
Source: আল হাদিস অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ, IRD
حَدَّثَنَا جَمِيلُ بْنُ الْحَسَنِ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الأَعْلَى،
حَدَّثَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنِ ابْنِ أُكَيْمَةَ، عَنْ
أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ صَلَّى بِنَا رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه
وسلم ـ فَذَكَرَ نَحْوَهُ وَزَادَ فِيهِ قَالَ فَسَكَتُوا بَعْدُ فِيمَا
جَهَرَ فِيهِ الإِمَامُ .
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ:
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের নিয়ে
সালাত পড়লেন…উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ। এই বর্ণনায় আরো আছেঃ যে সলাতে ইমাম
সশব্দে কিরাআত পড়েন, তখন থেকে সেই সলাতে তারা কিরাআত পাঠ ত্যাগ
করেন।[৮৪৭]
ফুটনোটঃ
[৮৪৭] তিরমিযী ৩১২, নাসায়ী ৯১৯, আবূ দাঊদ ৮২৬,
আহমাদ ৭২২৮, ৭৭৬০, ৭৭৭৪, ৭৯৪৭, ৯৯৪৫; মুওয়াত্ত্বা মালিক ১৯৪। তাহক্বীক্ব
আলবানী: সহীহ।
সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস নং ৮৪৯
হাদিসের মান: সহিহ হাদিস
Source: আল হাদিস অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ, IRD
★আশ্চার্যের কথা হলোঃ সাহাবীরা রাসুলুল্লাহর সঃ পিছনে কিরআত পাঠ ত্যাগ
করলেও নামধারী আহলে হাদীসরা আমলটি তো করেই না,বরং অন্য কেউ আমলটি করলেও
তাকে কাফের পর্যন্ত বানিয়ে দেয় ৷৷
👉সির্রী স্বালাতের ক্ষেত্রে রাসুলুল্লাহর সঃ নির্দেশনা হলোঃ—
عبد الرزاق عن الثوري عن موسى بن أبي عائشة عن عبد الله بن شداد بن الهاد
الليثي قال صلىالنبي صلى الله عليه و سلم الظهر أوالعصر فجعل رجل يقرأ خلف
النبي صلى الله عليه و سلم ورجل ينهاه فلما صلى قال يا رسول الله كنت أقرأ
وكان هذا ينهاني فقال له رسول الله صلى الله عليه و سلم من كان له إمام فإن
قراءة الإمام له قراءة
অর্থ, হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে শাদ্দাদ রাঃ থেকে
বর্ণিতঃ তিনি বলেন, একদা রাসূল সাঃ যোহর অথবা আছরের নামায পড়তেছিলেন, এক
ব্যক্তি রাসূল সাঃ এর পেছনে কিরাত পড়া শুরু করলো। অন্য জন বাধা দিলো। যখন
রাসূল সাঃ নামায শেষ করলেন তখন সে ব্যক্তি বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ সাঃ আমি
আপনার পিছনে কিরাত পড়তে ছিলাম। আর এই লোক আমাকে বাধা দিয়েছে। তখন রাসূল সাঃ
বললেন, যে ব্যক্তির ইমাম থাকবে ইমামের কিরাত হলো সে ব্যক্তির কিরাত।
(মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাকঃ ২/১৩৬ হাদীস নং ২৭৯৭)
হাদীসটির স্তর : সহীহ, মারফু’। এ হাদীসের রাবীগণ সবাই-ই বুখারী-মুসলিমের রাবী এবং প্রসিদ্ধ ইমাম।
★উপরের হাদীসগুলো থেকে স্পষ্ট বুঝা যাচ্ছে যে,
ইমামের পিছনে মুক্তাদীর ফাতিহা/কিরআত পড়ার কোনো প্রয়োজন নাই,,বরং #চুপ/নীরব থাকার ওয়াজিবটি মানতে জিহ্বার সাহায্য নিয়ে ফাতিহা/কিরআত পড়া হারাম ৷৷
★ইবনে তাইমিয়া র. লিখেন ;
والامر باستماع قرأة الامام والانصات له مذكور في القرآن وفي السنة
الصحيحة وهو اجماع الامة فيما زاد علي الفاتحة، وهو قول جماهير السلف من
الصحابة وغيرهم في الفاتحة وغيرها.
‘ইমামের কেরাত চুপ করে শোনার বিধান
কুরআন ও সহিহ হাদীস দ্বারা প্রমানিত। জামাতের নামাযে মুক্তাদি সূরা
মিলাবেনা, এ ব্যাপারে সবাই একমত। আর সাহাবায়ে কেরাম ও সংখ্যা গরিষ্ঠ উলামার
মতে সূরা ফাতেহাও পড়বে না । (তানাওইডল ইবাদাত পৃ:৫৫)
👉তবে,জিহ্বার সাহায্য না নিয়ে #অন্তরে_অন্তরে ফাতিহা পড়া জায়েজঃ—
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ
ابْنُ عُلَيَّةَ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، عَنِ الْعَلاَءِ بْنِ عَبْدِ
الرَّحْمَنِ بْنِ يَعْقُوبَ، أَنَّ أَبَا السَّائِبِ، أَخْبَرَهُ أَنَّهُ،
سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ، يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه
وسلم ـ “ مَنْ صَلَّى صَلاَةً لَمْ يَقْرَأْ فِيهَا بِأُمِّ الْقُرْآنِ
فَهِيَ خِدَاجٌ غَيْرُ تَمَامٍ ” . فَقُلْتُ يَا أَبَا هُرَيْرَةَ
فَإِنِّي أَكُونُ أَحْيَانًا وَرَاءَ الإِمَامِ . فَغَمَزَ ذِرَاعِي
وَقَالَ يَا فَارِسِيُّ اقْرَأْ بِهَا فِي نَفْسِكَ .
আবূস সায়িব, আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ:
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, যে ব্যক্তি কোন
সালাত পড়লো এবং তাতে উম্মুল কুরআন (সূরা ফাতিহা) পড়েনি তার সালাত
অসম্পুর্ন।
আবূস সাইব (রাঃ) বলেন, আমি বললাম, হে আবূ হুরায়রা! আমি
কখনো কখনো ইমামের সাথে সালাত পড়ি। তিনি আমার বাহুতে খোঁচা দিয়ে বলেন, হে
ফারিসী! তুমি তা অন্তরে অন্তরে পড়ো। [৮৩৬]
ফুটনোটঃ
[৮৩৬] মুসলিম
৩৯৫, তিরমিযী ২৯৫৩, নাসায়ী ৯০৯, আবূ দাঊদ ৮১৯-২১, আহমাদ ৭২৪৯, ৭৭৭৭, ৭৮৪১,
৯২৪৫, ৯৫৮৪, ৯৬১৬, ৯৮৪২, ৯৯৪৬; মুওয়াত্ত্বা মালিক ১৮৯। তাহক্বীক্ব আলবানী:
সহীহ। তাখরীজ আলবানী: সহীহ আবী দাউদ ৭৭৯।
সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস নং ৮৩৮
হাদিসের মান: সহিহ হাদিস
Source: আল হাদিস অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ, IRD
★👉উপরের
আবু হুরায়রার রাঃ #অন্তরে_অন্তরে পড়ার(মওকুফ হাদীস) ফতোয়াটি ছাড়া
“ইমামের পিছনে মুক্তাদীর” ফাতিহা পাঠের আর কোনোই সহীহ বা মারফু স্তরের
হাদীস নাই ৷৷
★সহীহ বুখারীর হাদীসে “ইমামের পিছনে মুক্তাদীর” কথা নাই ৷
ইমাম বুখারীর উসতাদ ইমাম আহমাদ বিন হাম্বাল রহ. হাদীসটি সম্পর্কে বলেনঃ—
وَأَمَّا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ فَقَالَ مَعْنَى قَوْلِ النَّبِيِّ صلى
الله عليه وسلم ” لاَ صَلاَةَ لِمَنْ لَمْ يَقْرَأْ بِفَاتِحَةِ
الْكِتَابِ إِذَا كَانَ وَحْدَهُ
“যে ব্যক্তি সূরা ফাতিহা পড়লো না
তার নামায হলো না” রসূলুল্লাহ স.-এর এ হাদীসটি একাকী নামায আদায়কারীর
ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। (তিরমিজী: ৩১২,৩১৩)
حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ
مُوسَى الأَنْصَارِيُّ، حَدَّثَنَا مَعْنٌ، حَدَّثَنَا مَالِكٌ، عَنْ أَبِي
نُعَيْمٍ، وَهْبِ بْنِ كَيْسَانَ أَنَّهُ سَمِعَ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ
اللَّهِ، يَقُولُ مَنْ صَلَّى رَكْعَةً لَمْ يَقْرَأْ فِيهَا بِأُمِّ
الْقُرْآنِ فَلَمْ يُصَلِّ إِلاَّ أَنْ يَكُونَ وَرَاءَ الإِمَامِ .
قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .
আবূ নু’আইম ওয়াহ্ব ইবনু কাইসান (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ:
তিনি জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ)-কে বলতে শুনেছেনঃ যে ব্যক্তি নামায আদায়
করল অথচ তাতে সূরা ফাতিহা পাঠ করল না, সে নামাযই আদায় করেনি। হ্যাঁ ইমামের
পিছনে হলে ভিন্ন কথা, সেক্ষেত্রে ফাতিহা পাঠের দরকার নাই।
সহীহ্। মাওফূফ ইরওয়া-(২/২৩৭)।
জামে’ আত-তিরমিজি, হাদিস নং ৩১৩
হাদিসের মান: সহিহ হাদিস
Source: আল হাদিস অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ, IRD
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، وَيَحْيَى بْنُ أَيُّوبَ، وَقُتَيْبَةُ
بْنُ سَعِيدٍ، وَابْنُ حُجْرٍ قَالَ يَحْيَى بْنُ يَحْيَى: أَخْبَرَنَا،
وَقَالَ الْآخَرُونَ: حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ وَهُوَ ابْنُ جَعْفَرٍ، عَنْ
يَزِيدَ بْنِ خُصَيْفَةَ، عَنِ ابْنِ قُسَيْطٍ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ
يَسَارٍ، أَنَّهُ أَخْبَرَهُ أَنَّهُ سَأَلَ زَيْدَ بْنَ ثَابِتٍ عَنِ
الْقِرَاءَةِ مَعَ الْإِمَامِ، فَقَالَ: لَا، قِرَاءَةَ مَعَ الْإِمَامِ
فِي شَيْءٍ، ( رَوَاه مُسْلِمٌ فِىْ بَابِ سُجُودٍ التِّلَاوَةِ)
হযরত যায়েদ বিন সাবিত রা.কে ইমামের সাথে কুরআন পাঠের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন: ইমামের সঙ্গে কোথাও কোন কুরআন পাঠ নেই।
সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ১১৮৫
حَدَّثَنَا أَبُو الأَحْوَصِ عَنْ مَنْصُورٍ عَنْ أَبِي وَائِلٍ قَالَ
جَاءَ رَجُلٌ إلَى عَبْدِ اللهِ فَقَالَ : أَقْرَأُ خَلْفَ الإِمَامِ ؟
فَقَالَ لَهُ عَبْدُ اللهِ : إنَّ فِي الصَّلاَةِ شُغْلاً ، وَسَيَكْفِيك
ذَاكَ الإِمَامُ.
হযরত আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ রা.-এর নিকটে এক
ব্যক্তি এসে জিজ্ঞেস করলো: আমি কি ইমামের পেছনে কুরআন পড়ব? উত্তরে
আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ রা. তাকে বললেন: নিশ্চয় নামাযের মধ্যে নির্ধারিত কর্ম
সম্পাদনের বিষয় রয়েছে। আর এক্ষেত্রে ইমামই তোমার জন্য যথেষ্ট। (ইবনে আবী
শাইবা: ৩৮০১, ত্বহাবী: ১৩০৭)
হাদীসটির স্তর : সহীহ, মাউকুফ। এ হাদীসের রাবীগণ সবাই-ই বুখারী-মুসলিমের প্রসিদ্ধ রাবী।