ব্লগে বা অন্য কোথাও আপনার লেখা আরও ভালো করতে ৭টি কলাকৌশলঃ

#ব্লগে বা অন্য কোথাও আপনার লেখা আরও ভালো করতে ৭টি কলাকৌশলঃ
লেখালেখি। এই কাজটা হয়তো আপনাকে প্রতিদিনই করতে হয়। কিন্তু আপনি কি চান আপনার লেখা যেন আর দশজনের থেকে আলাদা করে চেনা যায়?

ভালো লেখক হওয়ার কলাকৌশল মানলেই যে আপনি পুরস্কার জয়ী সাহিত্যিক বনে যাবেন তা নয়। কিন্তু আপনি যদি একজন ভালো লেখক হতে চান, পেশাদারদের কিছু পরামর্শ মেনে চলা ভালো।

লেইন গ্রিন একজন ‘ভাষা গুরু।’ নামকরা সাময়িকী দ্য ইকনোমিস্টের সাবেক আর্টস এডিটর এবং কলামিস্ট। ভালো লেখার জন্য তার সাতটি পরামর্শ:

১. শুরুতেই মনোযোগ কাড়ুন
যে বিষয়টি আপনি যুক্তি দিয়ে তুলে ধরতে চাইছেন বা যে গল্পটি আপনি বলতে চাইছেন, সেটি ভুলে যান। শুরু করুন এমন কোন একটা বিষয় বা উদাহারণ দিয়ে, যাতে আপনি আপনি পাঠকের মনোযোগটা প্রথমেই কেড়ে নিতে পারেন।

গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মারকোয়েযের ‘ওয়ান হানড্রেড ইয়ার্স অব সলিচিউডে’র শুরুর লাইনটার কথাই মনে করা যাক।

“বহু বছর পরে, যখন সে ফায়ারিং স্কোয়াডের মুখোমুখি হলো……

কে ফায়ারিং স্কোয়াডের মুখে? কেন? একটা লেখার শুরুতেই পাঠকের মনোযোগ কেড়ে নেয়ার জন্য এর চেয়ে শক্তিশালী লাইন আর কী হতে পারে?

২. ছোট ছোট বাক্যে লিখুন
ছোট বাক্যে লেখার মানে এই নয় যে আপনি আপনার লেখার গুরুত্ব কমিয়ে ফেলছেন। ‘সহজ কথা যায় না লেখা সহজে।’ কিন্তু সহজ ছোট বাক্যে লেখাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

এটা কেবল স্টাইলের ব্যাপার নয়, মানুষের স্মৃতি আসলে কিভাবে কাজ করে, তার সম্পর্ক আছে এর সঙ্গে।

একটি দীর্ঘ বাক্য বোঝা এবং মনে রাখার জন্য কিন্তু যথেষ্ট মনোযোগ দেয়ার দরকার হবে। এটা বেশ কঠিন।
পাঠককে কোন লেখার ব্যাকরণ বুঝে পাঠোদ্ধারের জন্য এত বেশি চেষ্টার মধ্যে না ফেলাটাই উচিৎ। লেখক হিসেবে আপনার চেষ্টা হবে বরং আপনি যা বলতে চান সেটার দিকেই তার মনোযোগ আকর্ষণ করা।

৩. একই সঙ্গে দীর্ঘ বাক্যও ব্যবহার করুন
সেই প্রবাদটা নিশ্চয়ই মনে আছে। কোন কিছুই বেশি করা ঠিক নয়। সব কিছুতেই মাত্রা মেনে চলা ভালো।

কাজেই আপনার লেখার বেশিরভাগ বাক্য ছোট হওয়া ভালো, কিন্তু পুরো লেখাটাই যদি কেবল ছোট বাক্যে লেখেন, সেটি পড়তে খুব একঘেঁয়ে হয়ে উঠতে পারে। সেটা নিশ্চয়ই আপনি চান না।
৪. সুনির্দিষ্ট শব্দ ব্যবহার করুন
ছোট বাক্যে লেখা ছাড়াও কোন শব্দ ব্যবহার করছেন সেটাও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে যেসব বিষয় আপনি ইন্দ্রিয় দিয়ে অনুভব করেন- যেমন কোন গন্ধ, স্বাদ বা আপনার পা দিয়ে স্পর্শ করছেন এমন কিছু, সেসবের বর্ণনার ক্ষেত্রে একেবারে সুনির্দিষ্ট শব্দ চয়ন খুবই দরকার। পাঠকের মনে যেন আপনি সঠিক ছবিটি ফুটিয়ে তুলতে পারেন।

যে দৃশ্যকল্প আপনি তৈরি করতে চান, এবং যে ভাষায় আপনি সেটি করতে চান, তারা যেন পরস্পরের উপযোগী হয়। যাতে আপনার বক্তব্য সুস্পষ্ট এবং স্মরণীয় হয়ে উঠে।
৫. বিমূর্ত শব্দ ব্যবহার পরিহার করুন
এগুলো আসলে প্রাণহীন ভুতুড়ে শব্দ। বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, গবেষক, রাজনীতিক, আমলারা এ জাতীয় গুরুগম্ভীর ভারিক্কি শব্দ প্রচুর ব্যবহার করেন। তাদের আড়ষ্ট গদ্য এসব শব্দে ভারাক্রান্ত থাকে। সহজে কল্পনা করা যায় এমন কোন কিছু বা শব্দ দিয়ে দিয়ে আপনার লেখার বিষয়টি ফুটিয়ে তুলুন।

৬. নিজের লেখা নিজেকে পড়ে শোনান
লেখা শেষ করার পর সেটি সম্পাদনা-পুনর্লিখন যেমন জরুরী, তেমনি জরুরী সেটি নিজেই নিজেকে পড়ে শোনানো। এই কাজটি করলে দেখতে পাবেন আপনার লেখায় কোথায় অসঙ্গতি আছে, কোথায় পরিমার্জন দরকার। কোথায় লেখাটির ছন্দপতন ঘটেছে সেটিও আপনার নজরে আসবে।
৭. সমাপ্তি টানবেন যেভাবে

লেখার সমাপ্তি টানুন এমন কোন শব্দ বা বাক্যে, যাতে সেটা পাঠকের মনে একটা শক্ত ছাপ রাখতে পারে। আপনার লেখার এই শেষ শব্দগুলোই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কাজেই সেই শব্দগুলো খুব ভেবে-চিন্তে ব্যবহার করুন।
সংগ্সরহ ও ম্পানায়–
#মরুচারী_মুসাফির

ডাঃ_জাকির নায়েক একজন সংশয়বাদীর ফিরে আসার গল্প তার নিজের মুখ থেকেই শুনুন ।

#ডাঃ_জাকির_নায়েক একজন #সংশয়বাদীর ফিরে আসার গল্প তার নিজের মুখ থেকেই শুনুন ।
ডা. যাকির নায়েক আমার প্রিয় সব ইসলামি ব্যক্তিত্বের মাঝে সবচে প্রিয়। এর অন্যতম কারণ তার ‘কুরআন ও আধুনিক বিজ্ঞান: সামঞ্জস্যপূর্ণ না অসামঞ্জস্যপূর্ণ’ লেকচারটি শুনে ইসলামের দিকে আমি প্রথমবারের মতো অনুরক্ত হই। মুসলিম পরিবারে জন্মেও কীভাবে সংশয়ী হলাম সে আরেক গল্প। আগ্রহীরা ‘সমকালীন প্রকাশনী’ থেকে প্রকাশিত ‘প্রত্যাবর্তন’ বই থেকে দেখে নিতে পারেন।

তো যা বলছিলাম, ২০১৬ সালে ‘পিস টিভি’ আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধের বহু আগ থেকেই আমাদের দেশের বেশ কিছু মানুষ তার উপর ক্ষ্যাপা। এদের মাঝে দুএকজন সম্মানিত ‘আলিমও ছিলেন। কিন্তু লোকজন যে তাকে আসলে ভুল বুঝেছে তা নিয়ে মুহাম্মাদ ইসহাক খান ‘ডা. জাকির নায়েক ও আমরা’ নামে একটা পুস্তিকা লিখেছিলেন। এটা আমিও স্বীকার করি তিনি দা‘ঈ পরিমণ্ডলে নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখলেই ভালো করতেন। কোনো বিষয়ে ফাতওয়া দেওয়া ঠিক হয়নি তার। কিন্তু লোকজন তাকে নিয়ে অন্যায্যভাবে যে বাড়াবাড়ি করেছে সেটা আমাকে খুব কষ্ট দিয়েছে।

‘হলি আর্টিজেন’-এ নৃশংস সন্ত্রাসী হামলার কিছুদিন আগে বেশ কজন ‘আলিম পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় ‘ইসলাম বিরোধী বক্তব্য প্রচারের’ অভিযোগে পিস টিভি বন্ধের দাবি জানান। (দৈনিক সমকাল, ১৫ ডিসেম্বর, ২০১৫) সম্মানিত এসব ‘আলিমগণ যাদের সূত্রে এমন খবর পেয়েছেন তা বিশ্বাস করার আগে সূরা হুজুরাতের ষষ্ঠ আয়াতটা একটিবার যদি স্মরণ করতেন:

কী বলেছেন আল্লাহ এ আয়াতে?

আল্লাহ বলেছেন, ﴾এই যে বিশ্বাসীরা, কোনো পাপাচারী ব্যক্তি যদি কোনো খবর নিয়ে আসে, যাচাই করো। নয়তো অজান্তে অন্যদের উপর অবিচার করে বসবে। পরে তা নিয়ে আফসোস করবে।﴿

পৃথিবীর পুবে-পশ্চিমে বেশুমার দীনভোলা মানুষকে যিনি দীনের পথে ফিরিয়ে আনলেন, যে চ্যানেলটির মাধ্যমে আমার মতো হাজারে হাজারে সংশয়বাদী নতুন করে বিশ্বাসী হয়ে উঠল, সে চ্যানেলটি বন্ধ করার ইন্ধন দেওয়াতে কি আজ আফসোস হচ্ছে না?

এত বড় অন্যায়টা হলো শুধু একটি ভুলের কারণে: খবরের সত্যতা যাচাই না করার ফলে।

যে প্রসঙ্গে আয়াতটি অবতীর্ণ হয়েছিল সেটা জানলে গোটা বিষয়টা ১-এর নামতার মতো সহজ হয়ে যাবে।

নবিজি ﷺ ওয়ালিদ বিন ‘উকবাকে বানু মুস্তালিকের লোকজনের কাছ থেকে যাকাত তোলার জন্য পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু কোনো এক কারণে সাহাবি ওয়ালিদ রা. বানু মুস্তালিক পৌঁছার আগেই তাদের মতিগতি সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা পেলেন। নবিজিকে এসে জানালেন তারা যাকাত তো দিতে চাচ্ছেই না, উল্টো তাকে হত্যা করতে এগিয়ে আসছিল।

খবরটা শুনে নবিজি ﷺ ভীষণ রেগে গেলেন। কিন্তু আমাদের মতো তাড়াহুড়ো করে কিছু একটা করে না বসে খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-কে পাঠালেন। যদি ঘটনা আসলেই তেমন হয় তাহলে তো লড়াই করতে হবে। আর না হলে তো ভালোই।

খালিদ বিন ওয়ালিদ সেখানে পৌঁছাতে পৌঁছাতে রাত হয়ে যায়। একজন গুপ্তচরকে পাঠালেন পরিস্থিতি কতটা খারাপ তা জানতে। সে এসে খবর দিল ঘটনা মোটেও এমন কিছু নয়। খবরের সত্যতা যাচাইের কারণে সেদিন এক বড় ধরনের অবিচার থেকে বেঁচে গিয়েছিল মুসলিম উম্মাহ।

খবরের সত্যমিথ্যা যাচাই না করে নবিজি যদি সেদিন লড়াইয়ের ঘোষণা দিতেন, কী বিপর্যয়কর একটা দিন হতো বলুন তো! এক মুসলিম হত্যা করত আরেক মুসলিমকে—অথচ পুরোটাই সম্পূর্ণ ভুল ধারণার কারণে। ভুল তথ্যের কারণে।

সাহাবি ওয়ালিদ বিন ‘উকবা কি ফাসিক ছিলেন? তাফসীর ইবনু কাসীরে বলা হচ্ছে ফাসিক মানে যে লোক বড় ধরনের কোনো অপরাধ করে। বড় ধরনের কোনো অপরাধীকে আল্লাহর রাসূল যাকাতের অর্থ তুলতে পাঠাবেন তা বিশ্বাসযোগ্য নয় বলে অভিমত দিয়েছেন তাফসীরকারীরা। তা হলে এ আয়াতে ‘ফাসিক’ শব্দটা কেন উল্লেখ করলেন?

এর উত্তর আছে মা‘আরিফুল-কুরআনে।

মুফতি শাফি উসমানি—আল্লাহ তাকে কৃপা করুন—বলছেন, আয়াতটি আসলে ফাসিকের খবর অগ্রহণীয় হওয়া সম্পর্কে একটি সামগ্রিক নীতি বর্ণনা করছে। একজন সৎ ও নির্ভরযোগ্য ব্যক্তির খবরে ইঙ্গিতের ভিত্তিতে সন্দেহ হওয়ার কারণে যেখানে তদন্ত না করে ব্যবস্থা নেওয়া হলো না, সেখানে একজন ফাসিকের কাছে থেকে কোনো তথ্য পেলে তা অবশ্যই যাচাই করতে হবে। (মা‘আরেফুল কোরআন, পৃ ১১০)

এমন স্পর্শকাতর খবর যাচাই না করলে আমরা অজান্তে ভালো মানুষগুলোর উপর অবিচার করে বসব, পরে আফসোস করে নিজে নিজের হাত কামড়াব।

ইসলাম সম্পর্কে এজন্য যার তার কথা আমি বিশ্বাস করি না। এমনকি দলিল ভিত্তিক কথা বললেও। কারণ কি, দলিল তো শী‘আরাও দেয়, খারিজিরাও দেয়; আহমদি-বেরলভি-কাদিয়ানি—কে দলিল দেয় না? ইসলাম বিদ্বেষী লোকটাও দীনের বিরুদ্ধে কথা বলে ‘কুরআন-হাদীস’-এর দলিল দিয়ে। দলিল বা প্রমাণ অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু তার চেও অধিক অধিক গুরুত্বপূর্ণ কথাটা কে বলছে সেটা। ইবনু সিরীনের কথাটা এ প্রসঙ্গে প্রণিধানযোগ্য:

“এ বর্ণনাগুলোই দীন। তাই কার কাছ থেকে দীন নিচ্ছ দেখে নাও।” (আল-কিফাায়াহ ফী ‘ইলমুর-রিওয়াায়াহ, ১৬২)

বর্তমান সময়ে এটা যে কত বেশি গুরুত্বপূর্ণ সেটা বোধ করি আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

স্বভাবতই আপনার মনে এখন প্রশ্ন জাগছে, এই যে এতক্ষণ ধরে এই লোকটার বগরবগর শুনছি, সে কে?

খুবই প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন। আসলে যারা সক্রিয়ভাবে পড়েন, তারা পড়তে পড়তে শব্দ-বাক্যের মাঝে হারিয়ে যান না। তারা চিন্তাভাবনা করে পড়েন। প্রশ্ন করেন, উত্তর খোঁজেন, একমত হন অথবা দ্বিমত।

যা হোক, সংক্ষেপে বলি ইসলাম নিয়ে আমার প্রথম সিরিয়াস পড়াশোনা ড. বিলাল ফিলিপ্সের মস্তিষ্কজাত ইসলামি অনলাইন ইউনিভার্সিটির ফ্রি ডিপ্লোমা কোর্সগুলো দিয়ে। এই কোর্স ‘আকীদার বিষয়টা তো ধুয়ে মুছে সাফ করে দিয়েছেই, প্রথাগত আলাভোলা যে ইসলামকে আমরা চিনি, সেটার পর্দা সরিয়ে চিনিয়েছে আদি ও বিশুদ্ধ ইসলামকে।

আচ্ছা এই বিলাল ফিলিপসটা কে?

আপনার মতো পাঠকই দরকার। উনি মাদীনা ইউনিভার্সিটি গ্রাজুয়েট। এক্সরসিজম ট্র্যাডিশনের উপর উনার পিএইচডি করা আছে। তিনি একসময় কমিউনিস্ট ছিলেন, পরে ইসলাম বরণ করেছেন।

ইসলাম নিয়ে দ্বিতীয় দফায় কোমর বেঁধে পড়াশোনা করেছি মিশকাহ ইউনিভার্সিটিতে। আড়াই বছর ধরে বৃত্তি নিয়ে ইসলামের বুনিয়াদি অনেক কোর্স শেষ করেছি সেখানে। আপাতত আরবি ভাষায় নিজের সাবলীলতা বাড়ানোর জন্য পড়াশোনা স্থগিত আছে।

আচ্ছা, মিশকাহ ইউনিভার্সিটি কারা চালায়?

মিশকার মূল চিন্তক মিশরি শাইখ ড. সালাহ সাওঈ। তিনি আল-আযহার ইউনিভার্সিটির উসূলুল-ফিক়্হ অনুষদ থেকে পিএইচডি সম্পন্ন করেছেন। ইউনিভার্সিটিটির অনলাইন ও অফলাইন কার্যক্রম পরিচালিত হয় আমেরিকার ফ্লোরিডা থেকে।

আমেরিকা=মডারেট—এমন চিন্তার কিছু ভাই অনলাইনে পাবেন। তাদের সেই কথায় চিলের পিছে ছোটার আগে উপরোক্ত আয়াত ও এর ব্যাখ্যা দ্রষ্টব্য।

তো যা বলছিলাম, যাচাই না করে এই অস্থির সময়ে কোনো কিছু শেয়ার করবেন না। তাড়াহুড়ো করে কিছু করে ফেলে একটা তৃপ্তি পাওয়া যায়, কিন্তু সেটা আখেরে ফল বয়ে আনে না। আল্লাহর রাসূল বলেছেন, «সংযম আল্লাহর তরফ থেকে। আর তাড়াহুড়ার প্রবণতা শয়তানের কাছ থেকে।» তাবি‘ কাতাদার সূত্রে হাদীসটি ইবনু কাসীর উল্লেখ করেছেন।

চোখ-কান খোলা রাখুন। ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক, জাতীয়, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে যে যা-ই বলুক, যাচাই করুন। খতিয়ে দেখুন। নির্ভরযোগ্য কয়েকটি উৎস থেকে মিলিয়ে দেখুন। পেছনের কলকাঠি যে নাড়ে তার পরিচয় খুঁজে বের করুন।

একটা আপাত সত্য খবর না ছড়ালে কোনো ক্ষতি হবে না। কিন্তু ভুল খবর ছড়ালে ভয়াবহ বিপর্যয় হলে তার দায়ভার কে নেবে?

আত্মসমালোচনা

সাধের নির্বাচন থেকে আর কিছু হোক না হোক ৩২টি লাশ উপহার পেয়েছি।
ইলেকশন থেকে আর কিছু হোক না হোক ৩২জন মায়ের বুক খালি করতে পেরেছি।
জাতি হিসেবে আমরা এতোটাই গর্বিত যে মতাধিকার প্রয়োগেও আমাদের লাশের বহর গুণতে হয়।
হয়তো বলবেন, ওটা বিএনিপ; লাশ হয়েছে বেশ হয়েছে।
হয়তো বলবেন, ওটা তো আওয়ামীলীগ; লাশ হয়েছে খুব হয়েছে।
বলতেই পারেন, সেটা আপনার বাকস্বাধীনতার ব্যাপার।
তবে একজন অমুসলিমকেও অন্যায়ভাবে লাশ করা কিন্তু অন্যায়।
একটি প্রাণীকেও অন্যায়ভাবে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়া অন্যায়।
তবে কি বিএনপি বলে কিংবা আওয়ামীলীগ বলে একজন মুসলিমকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়াটা ন্যায় হয়ে যাবে !
আপনার বাড়িতে অগ্নিকাণ্ড হলে বিএনপির ছেলেটাই তো বালতি হাতে ছুটে যায়।
আপনার বাড়িতে ডাকাতি হলে আওয়ামীলীগের ছেলেটাই তো জোর আওয়াজে বেরিয়ে আসে।
আপনার মৃত্যু হলে বিএনপির ছেলেটাই তো মাথায় টুপি এঁটে আপনার জানাযার মিছিলে নত শিরে হেঁটে চলবে।
আপনার সমাধি পরে আওয়ামীলীগের ছেলেটাই তো ব্যথিত হৃদয়ে মুঠি ভরে মাটি দিবে।
আপনার এসব জীবন ঘনিষ্ঠ কর্মগুলোতে এগিয়ে আসবে না কোনো খালেদা জিয়া কিংবা কোনো শেখ হাসি না।
এগিয়ে আসবে কোনো সজিব জয় কিংবা কোনো তারেক জিয়া।
যাদের একটি কমান্ডে আপনি হামলে পড়তে পারেন আপনার প্রতিবেশী আওয়ামীলীগ কিংবা বিএনপি ছেলেটার উপর।
আপনার আচরণে মনে হচ্ছে, গোরস্তানগুলোও আওয়ামীলীগ বিএনপি শিরোনামে ডিভাইডেড হয়ে যাওয়াটা শ্রেয় !
তবে কি এ কথাই চির সত্য হয়ে বেঁচে থাকবে অনন্তকাল ?
‘চলমান রাজনীতিতে সৎ অসৎ আর ন্যায় অন্যায় খুঁজে লাভ নেই। এর মূল ভীতটাই রচিত হয়েছে গলদ উপাদান দ্বারা।’

সুহৃদ ! আপনাকেই বলছি। আমরা কি পারি না আমাদের ভিতরের লালিত সুস্থ বিবেকবোধটাকে জাগিয়ে তুলতে ?
আমরা কি পারি না বিরাজমান রাজনীতির কুৎসিত রূপটাকে বদলে দিতে ?
আমরা কি পারি না প্রতিহিংসামূলক রাজনীতির আমূল পরিবর্তন ঘটাতে ?
রাজনীতির এ কদাকার চরিত্রের আশু পরিবর্তন প্রয়োজন।
নতুবা অচিরেই সুস্থ বিবেকগুলো রফিক আজাদের মত করে বলে উঠবে সুস্থ রাজনীতি দে হারামজাদা ! তা না হলে মানচিত্র খাবো।

কি হবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর? :ইলিয়াছ হোসাইন

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলাম এমন একটি রাজনৈতিক দল যেটিকে তুলনা করা যেতে পারে ১০ কেজি দুধে এক ফোঁটা মুত্রের সাথে !

একফোঁটা গরুর মুত্র যেমন পুরো বালতির দুধ নষ্ট করে দেয় তেমনি ৭১’র রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত জামায়াতকে চির জীবনের জন্য কলঙ্কিত করেছে ! যে কারনে আমি মনে করিনা জামায়াতে ইসলাম কখনও বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় যেতে পারবে !

কেন পারবে না ?

সেটার কারন তারা রাজাকার ছিলো, এটা না !

পাকিস্তান আমলে যদি আমার জন্ম হতো আমিও স্বাধীনতার বিরোধিতা করতাম ! আশ্চর্য হবার কিছু নাই, পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়িরা দীর্ঘদিন স্বাধীনতা চাচ্ছে, আমরা এটা মানবো ?

তো দুই পাকিস্তানকে যারা আলাদা হতে দিতে চায়নি তারাইতো দেশ প্রেমিক । তার উপর ভৌগলিকভাবে ভারতের মতো হায়েনা আমাদেরকে যেভাবে ঘিরে রেখেছে, বাঘের ভয়ে সিংহের খাঁচায় আসাটা যে ঠিক হবে না সেটা জামায়াত নেতারা ঠিকই জানতেন । যে কারনেই জামায়াত নেতাদের ফাঁসি দিয়ে ভারত প্রতিশোধটা নিলো !

অনেকে বলবেন পাকিস্তান আমাদের শোষণ করেছে, বৈষম্য ছিলো, আমাদের চাকরি দেয়নি, আরও কতো কি! আচ্ছা বৈষম্যতো এখনও আছে ! আওয়ামিলীগ না করলে চাকরি হয় না, মামলার জামিন হয়না, ভার্সিটির হলে সিট পায় না, থানায় গিয়ে মামলা করা যায় না, আরও ভয়ংকর একটা তথ্য শুনবেন ? গত ২০১৩ সালের পর থেকে কোন মাদ্রাসার শিক্ষার্থীকে পুলিশ বা সেনাবাহিনীতে চাকরি দেয়া হচ্ছে না ! তারা কি এ দেশের মানুষ না?

কিন্তু আপনি দেখেন স্বাধীনতা যুদ্ধে হাজার-হাজার বাঙালী সেনাবাহিনী, পুলিশ অংশ নিয়েছে ! বৈষম্য থাকলেও পাকিস্তানীরাই তাদের চাকরি দিয়েছিলো ! অথচ, এখন কি বিএনপি করে এমন কেউ পুলিশে চাকরি পাবে ? ৭০ এর নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভোটের অধিকারের জন্য স্বাধীন হয়েছি, এখন কি সেই অধিকার আছে ?

আর মা-বোনদের ধর্ষণ ? যুদ্ধ শুরু হবার আগে পাকিস্তানীরা কোন বাঙালীকে ধর্ষণ করেছে, এমন অভিযোগ আছে ? যুদ্ধে অনেক কিছুই হয় ! জাপানের মতো ভদ্র জাতিও ২য় বিশ্বযুদ্ধের সময় হাজার হাজার চীনা নারীদের ধর্ষণ করেছিলো !

কিন্তু এখন ? বাংলাদেশেতো যুদ্ধ হচ্ছে না, তবুও এমন কোন দিন আছে যেদিন ধর্ষণ হচ্ছে না ? সরকারি দল করলে সেই ধর্ষকের বিচারও হচ্ছে না !

তার মানে অত্যাচার-নির্যাতন, বৈষম্য আগের চেয়ে এখন আরও বেশি হয় ! কিন্তু আমি যদি এখন আমার এলাকার স্বাধীনতা চাই তাহলে কি আমার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহী মামলা হবে না ?

সে কারনেই আমি মনে করি জামায়াতের সিদ্ধান্ত সঠিক ছিলো । গোলাম আজমরা ভাষা আন্দোলন করেছে কিন্তু স্বাধীনতা চায়নি । কিন্তু যখন পাকিস্তানীরা খুন-ধর্ষণ শুরু করলো তখন জামায়াতের উচিত ছিলো প্রকাশ্যে ঘোষনা দিয়ে পাকিস্তানের পক্ষ ত্যাগ করা, আর সেটা না করাতেই জামায়াত আজীবন ঘৃনীতই থাকবে ?!

যদিও জামায়াতের নেতাদের যে কারন দেখিয়ে ফাঁসি হয়েছে সেটার সুষ্ঠু বিচার হলে ভবিষ্যতে এই বিচার প্রক্রিয়ায় জড়িত সবারই একদিন ফাঁসি হবে !

কারন, তাদের ফাঁসি দেয়ার জন্যে রাষ্ট্রোদ্রোহিতার অভিযোগই যথেষ্ট ছিলো ! কিন্তু রাজনৈতিক কারনে খুন-ধর্ষণ এসব অভিযোগ এনে যে মিথ্যা নাটক সাজানো হয়েছে, নিজামীর বিরুদ্ধে সাক্ষী দেয়া ব্যক্তির ভিডিও এবং আল্লামা সাঈদীর সাক্ষী সুখ রঞ্জন বালীই তার প্রমান !

আমার প্রতিবেশী মরহুম আওয়াল মৌলুভিসহ ছোটবেলা থেকে যাদের জামায়াত করতে দেখেছি তারা এলাকার সবচেয়ে ভদ্র, সম্মানিত মানুষ, তারা কাউকে ধর্ষণ করতে পারে না । ওয়ান ইলেভেনে সব দলের দূর্নীতিবাজেরা অভিযুক্ত হয়েছে, জামায়াতের কোন দূর্ণীতি পায়নি ! ভার্সিটির সবচেয়ে ভদ্র ছেলেগুলো শিবিরি করে, আজ পর্যন্ত শিবিরের কোন ছেলেকে শুনেছেন ধর্ষণ বা টেন্ডারবাজি করতে ? জামায়াতের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠাগুলো দেশের মানুষের আস্থার শীর্ষে ! জামায়াতই বাংলাদেশের একমাত্র গনতান্ত্রিক দল যেখানে হুট করে এসে নেতা হওয়া যায় না, তারাই নিজের পকেটের টাকা খরচ করে রাজনীতি করে !

এতকিছুর পরও ৭১’র কলঙ্ক মুছবার নয় যে কারনে হতে পারে এ বছরই রাজনৈতিক মৃত্যু হবে জামায়াত নামক দলটির !

তবে, আমার দাবি এ প্রজন্মের শিবিরের উচিৎ জামায়াত বাদ দিয়ে অন্য কোন প্লাটফর্মে দাড়িয়ে তাদের আদর্শকে সমুন্নত রাখা, কারন আদর্শ কখনও মরে না

ইমামের ফাতিহা/কিরআত পড়ার সময়ে মুক্তাদীর জন্য চুপ হয়ে যাওয়া ওয়াজিবঃ—

#ইমামের পিছনে #মুক্তাদীর_ফাতিহা_পড়ার_হুকুম হলো„ফজরের স্বালাতের ইকামতাবস্থায় সুন্নত পড়ার মতোনঃ—

👉ইমামের ফাতিহা/কিরআত পড়ার সময়ে মুক্তাদীর জন্য চুপ হয়ে যাওয়া ওয়াজিবঃ—

حَدَّثَنَا يُوسُفُ بْنُ مُوسَى الْقَطَّانُ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ سُلَيْمَانَ التَّيْمِيِّ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَبِي غَلاَّبٍ، عَنْ حِطَّانَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الرَّقَاشِيِّ، عَنْ أَبِي مُوسَى الأَشْعَرِيِّ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ “‏ إِذَا قَرَأَ الإِمَامُ فَأَنْصِتُوا فَإِذَا كَانَ عِنْدَ الْقَعْدَةِ فَلْيَكُنْ أَوَّلَ ذِكْرِ أَحَدِكُمُ التَّشَهُّدُ ‏”‏ ‏.‏

আবূ মূসা আল-আশআরী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ:

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন ইমামের কিরাআত পাঠের সময় তোমরা নীরব থাকবে। তিনি তাশাহুদ পাঠের জন্য বসলে তোমাদের যে কোন মুসল্লির প্রথম যিকির যেন হয় তাশাহুদ।[৮৪৫]
ফুটনোটঃ
[৮৪৫] মুসলিম ৪০৪, ৮৩০, ১০৬৪, ১১৭২, ১১৭৩, ১২৮০; আবূ দাঊদ ৯৭২, আহমাদ ১৯০১০, ১৯০৫৮, ১৯১৩০, ১৯১৬৬; দারিমী ১৩১২, মাজাহ ৯০১। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: মিশকাত ২৬৩।

সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস নং ৮৪৭
হাদিসের মান: সহিহ হাদিস
Source: আল হাদিস অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ, IRD

👉জেহরী স্বালাতে ইমামের পিছনে মুক্তাদীর ফাতিহা/কিরআত পড়া মাকরূহে তাহরিমীঃ—

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَهِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنِ ابْنِ أُكَيْمَةَ، قَالَ سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ، يَقُولُ صَلَّى النَّبِيُّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ بِأَصْحَابِهِ صَلاَةً نَظُنُّ أَنَّهَا الصُّبْحُ فَقَالَ ‏”‏ هَلْ قَرَأَ مِنْكُمْ مِنْ أَحَدٍ ‏”‏ ‏.‏ قَالَ رَجُلٌ أَنَا ‏.‏ قَالَ ‏”‏ إِنِّي أَقُولُ مَا لِي أُنَازَعُ الْقُرْآنَ ‏”‏ ‏.‏

আবূ হুরায়রাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ:

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর সাহাবীদের নিয়ে সালাত পড়লেন, আমাদের মতে তা ছিল ফজরের সালাত। সালাত শেষে তিনি বলেন, তোমাদের কেউ কি কিরাআত পড়েছে? এক ব্যক্তি বললো, আমি পড়েছি। তিনি বলেন, তাই তো (মনে মনে) বলছিলাম আমার কুরআন পাঠে বিঘ্ন ঘটছে কেন! [৮৪৬]
ফুটনোটঃ
[৮৪৬] সহীহ। তাখরীজ আলবানী: মিশকাত ৮৫৫, সহীহ, আবী দাউদ ৭৮১।

সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস নং ৮৪৮
হাদিসের মান: সহিহ হাদিস
Source: আল হাদিস অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ, IRD

حَدَّثَنَا جَمِيلُ بْنُ الْحَسَنِ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الأَعْلَى، حَدَّثَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنِ ابْنِ أُكَيْمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ صَلَّى بِنَا رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ فَذَكَرَ نَحْوَهُ وَزَادَ فِيهِ قَالَ فَسَكَتُوا بَعْدُ فِيمَا جَهَرَ فِيهِ الإِمَامُ ‏.

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ:

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের নিয়ে সালাত পড়লেন…উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ। এই বর্ণনায় আরো আছেঃ যে সলাতে ইমাম সশব্দে কিরাআত পড়েন, তখন থেকে সেই সলাতে তারা কিরাআত পাঠ ত্যাগ করেন।[৮৪৭]
ফুটনোটঃ
[৮৪৭] তিরমিযী ৩১২, নাসায়ী ৯১৯, আবূ দাঊদ ৮২৬, আহমাদ ৭২২৮, ৭৭৬০, ৭৭৭৪, ৭৯৪৭, ৯৯৪৫; মুওয়াত্ত্বা মালিক ১৯৪। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ।

সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস নং ৮৪৯
হাদিসের মান: সহিহ হাদিস
Source: আল হাদিস অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ, IRD

★আশ্চার্যের কথা হলোঃ সাহাবীরা রাসুলুল্লাহর সঃ পিছনে কিরআত পাঠ ত্যাগ করলেও নামধারী আহলে হাদীসরা আমলটি তো করেই না,বরং অন্য কেউ আমলটি করলেও তাকে কাফের পর্যন্ত বানিয়ে দেয় ৷৷

👉সির্রী স্বালাতের ক্ষেত্রে রাসুলুল্লাহর সঃ নির্দেশনা হলোঃ—

عبد الرزاق عن الثوري عن موسى بن أبي عائشة عن عبد الله بن شداد بن الهاد الليثي قال صلىالنبي صلى الله عليه و سلم الظهر أوالعصر فجعل رجل يقرأ خلف النبي صلى الله عليه و سلم ورجل ينهاه فلما صلى قال يا رسول الله كنت أقرأ وكان هذا ينهاني فقال له رسول الله صلى الله عليه و سلم من كان له إمام فإن قراءة الإمام له قراءة
অর্থ, হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে শাদ্দাদ রাঃ থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, একদা রাসূল সাঃ যোহর অথবা আছরের নামায পড়তেছিলেন, এক ব্যক্তি রাসূল সাঃ এর পেছনে কিরাত পড়া শুরু করলো। অন্য জন বাধা দিলো। যখন রাসূল সাঃ নামায শেষ করলেন তখন সে ব্যক্তি বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ সাঃ আমি আপনার পিছনে কিরাত পড়তে ছিলাম। আর এই লোক আমাকে বাধা দিয়েছে। তখন রাসূল সাঃ বললেন, যে ব্যক্তির ইমাম থাকবে ইমামের কিরাত হলো সে ব্যক্তির কিরাত।

(মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাকঃ ২/১৩৬ হাদীস নং ২৭৯৭)

হাদীসটির স্তর : সহীহ, মারফু’। এ হাদীসের রাবীগণ সবাই-ই বুখারী-মুসলিমের রাবী এবং প্রসিদ্ধ ইমাম।

★উপরের হাদীসগুলো থেকে স্পষ্ট বুঝা যাচ্ছে যে,
ইমামের পিছনে মুক্তাদীর ফাতিহা/কিরআত পড়ার কোনো প্রয়োজন নাই,,বরং #চুপ/নীরব থাকার ওয়াজিবটি মানতে জিহ্বার সাহায্য নিয়ে ফাতিহা/কিরআত পড়া হারাম ৷৷

★ইবনে তাইমিয়া র. লিখেন ;
والامر باستماع قرأة الامام والانصات له مذكور في القرآن وفي السنة الصحيحة وهو اجماع الامة فيما زاد علي الفاتحة، وهو قول جماهير السلف من الصحابة وغيرهم في الفاتحة وغيرها.
‘ইমামের কেরাত চুপ করে শোনার বিধান কুরআন ও সহিহ হাদীস দ্বারা প্রমানিত। জামাতের নামাযে মুক্তাদি সূরা মিলাবেনা, এ ব্যাপারে সবাই একমত। আর সাহাবায়ে কেরাম ও সংখ্যা গরিষ্ঠ উলামার মতে সূরা ফাতেহাও পড়বে না । (তানাওইডল ইবাদাত পৃ:৫৫)

👉তবে,জিহ্বার সাহায্য না নিয়ে #অন্তরে_অন্তরে ফাতিহা পড়া জায়েজঃ—
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ ابْنُ عُلَيَّةَ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، عَنِ الْعَلاَءِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَعْقُوبَ، أَنَّ أَبَا السَّائِبِ، أَخْبَرَهُ أَنَّهُ، سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ، يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ “‏ مَنْ صَلَّى صَلاَةً لَمْ يَقْرَأْ فِيهَا بِأُمِّ الْقُرْآنِ فَهِيَ خِدَاجٌ غَيْرُ تَمَامٍ ‏”‏ ‏.‏ فَقُلْتُ يَا أَبَا هُرَيْرَةَ فَإِنِّي أَكُونُ أَحْيَانًا وَرَاءَ الإِمَامِ ‏.‏ فَغَمَزَ ذِرَاعِي وَقَالَ يَا فَارِسِيُّ اقْرَأْ بِهَا فِي نَفْسِكَ ‏.‏

আবূস সায়িব, আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ:

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, যে ব্যক্তি কোন সালাত পড়লো এবং তাতে উম্মুল কুরআন (সূরা ফাতিহা) পড়েনি তার সালাত অসম্পুর্ন।

আবূস সাইব (রাঃ) বলেন, আমি বললাম, হে আবূ হুরায়রা! আমি কখনো কখনো ইমামের সাথে সালাত পড়ি। তিনি আমার বাহুতে খোঁচা দিয়ে বলেন, হে ফারিসী! তুমি তা অন্তরে অন্তরে পড়ো। [৮৩৬]
ফুটনোটঃ
[৮৩৬] মুসলিম ৩৯৫, তিরমিযী ২৯৫৩, নাসায়ী ৯০৯, আবূ দাঊদ ৮১৯-২১, আহমাদ ৭২৪৯, ৭৭৭৭, ৭৮৪১, ৯২৪৫, ৯৫৮৪, ৯৬১৬, ৯৮৪২, ৯৯৪৬; মুওয়াত্ত্বা মালিক ১৮৯। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: সহীহ আবী দাউদ ৭৭৯।

সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস নং ৮৩৮
হাদিসের মান: সহিহ হাদিস
Source: আল হাদিস অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ, IRD

★👉উপরের আবু হুরায়রার রাঃ #অন্তরে_অন্তরে পড়ার(মওকুফ হাদীস) ফতোয়াটি ছাড়া “ইমামের পিছনে মুক্তাদীর” ফাতিহা পাঠের আর কোনোই সহীহ বা মারফু স্তরের হাদীস নাই ৷৷

★সহীহ বুখারীর হাদীসে “ইমামের পিছনে মুক্তাদীর” কথা নাই ৷
ইমাম বুখারীর উসতাদ ইমাম আহমাদ বিন হাম্বাল রহ. হাদীসটি সম্পর্কে বলেনঃ—

وَأَمَّا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ فَقَالَ مَعْنَى قَوْلِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ‏”‏ لاَ صَلاَةَ لِمَنْ لَمْ يَقْرَأْ بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ إِذَا كَانَ وَحْدَهُ

“যে ব্যক্তি সূরা ফাতিহা পড়লো না তার নামায হলো না” রসূলুল্লাহ স.-এর এ হাদীসটি একাকী নামায আদায়কারীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। (তিরমিজী: ৩১২,৩১৩)

حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ مُوسَى الأَنْصَارِيُّ، حَدَّثَنَا مَعْنٌ، حَدَّثَنَا مَالِكٌ، عَنْ أَبِي نُعَيْمٍ، وَهْبِ بْنِ كَيْسَانَ أَنَّهُ سَمِعَ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ، يَقُولُ مَنْ صَلَّى رَكْعَةً لَمْ يَقْرَأْ فِيهَا بِأُمِّ الْقُرْآنِ فَلَمْ يُصَلِّ إِلاَّ أَنْ يَكُونَ وَرَاءَ الإِمَامِ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ ‏.‏

আবূ নু’আইম ওয়াহ্‌ব ইবনু কাইসান (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ:

তিনি জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ)-কে বলতে শুনেছেনঃ যে ব্যক্তি নামায আদায় করল অথচ তাতে সূরা ফাতিহা পাঠ করল না, সে নামাযই আদায় করেনি। হ্যাঁ ইমামের পিছনে হলে ভিন্ন কথা, সেক্ষেত্রে ফাতিহা পাঠের দরকার নাই।

সহীহ্। মাওফূফ ইরওয়া-(২/২৩৭)।

জামে’ আত-তিরমিজি, হাদিস নং ৩১৩
হাদিসের মান: সহিহ হাদিস
Source: আল হাদিস অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ, IRD

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، وَيَحْيَى بْنُ أَيُّوبَ، وَقُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، وَابْنُ حُجْرٍ قَالَ يَحْيَى بْنُ يَحْيَى: أَخْبَرَنَا، وَقَالَ الْآخَرُونَ: حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ وَهُوَ ابْنُ جَعْفَرٍ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ خُصَيْفَةَ، عَنِ ابْنِ قُسَيْطٍ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، أَنَّهُ أَخْبَرَهُ أَنَّهُ سَأَلَ زَيْدَ بْنَ ثَابِتٍ عَنِ الْقِرَاءَةِ مَعَ الْإِمَامِ، فَقَالَ: لَا، قِرَاءَةَ مَعَ الْإِمَامِ فِي شَيْءٍ، ( رَوَاه مُسْلِمٌ فِىْ بَابِ سُجُودٍ التِّلَاوَةِ)

হযরত যায়েদ বিন সাবিত রা.কে ইমামের সাথে কুরআন পাঠের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন: ইমামের সঙ্গে কোথাও কোন কুরআন পাঠ নেই।

সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ১১৮৫

حَدَّثَنَا أَبُو الأَحْوَصِ عَنْ مَنْصُورٍ عَنْ أَبِي وَائِلٍ قَالَ جَاءَ رَجُلٌ إلَى عَبْدِ اللهِ فَقَالَ : أَقْرَأُ خَلْفَ الإِمَامِ ؟ فَقَالَ لَهُ عَبْدُ اللهِ : إنَّ فِي الصَّلاَةِ شُغْلاً ، وَسَيَكْفِيك ذَاكَ الإِمَامُ.

হযরত আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ রা.-এর নিকটে এক ব্যক্তি এসে জিজ্ঞেস করলো: আমি কি ইমামের পেছনে কুরআন পড়ব? উত্তরে আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ রা. তাকে বললেন: নিশ্চয় নামাযের মধ্যে নির্ধারিত কর্ম সম্পাদনের বিষয় রয়েছে। আর এক্ষেত্রে ইমামই তোমার জন্য যথেষ্ট। (ইবনে আবী শাইবা: ৩৮০১, ত্বহাবী: ১৩০৭)

হাদীসটির স্তর : সহীহ, মাউকুফ। এ হাদীসের রাবীগণ সবাই-ই বুখারী-মুসলিমের প্রসিদ্ধ রাবী।

ধর্মনিরপেক্ষতাই কি ধর্মহীনতা?

ধর্মনিরপেক্ষতাই কি ধর্মহীনতা

ধর্মনিরপেক্ষতাই কি ধর্মহীনতা

ফরাসী সোস্যালজিস্ট গুস্তাভ লি বন তার Arab Civilization গ্রন্থে লিখেছেন,

“The tolerance of Muhammad towards the Jews and Christians was truly grand; the founders of other religions that appeared before him, Judaism and Christianity in particular, did not prescribe such goodwill. His caliphs followed the same policy, and his tolerance has been acknowledged by skeptics and believers alike when they study the history of the Arabs in depth.”

ইতিহাসবিদ থমাস আরনোল্ড তার Invitation to Islam গ্রন্থে লিখেছেন,

“We never heard of a report of any planned attempt to compel non-Muslim minorities to accept Islam, or any organized persecution aimed at uprooting the Christian religion. If any of the caliphs had chosen any of these policies, they would have overwhelmed Christianity with the same ease.”

থমাস আরনোল্ড একই গ্রন্থের ১৮৩ পাতায় লিখেছেন, উসমানী খিলাফার সময় ইতালিতে এমন অমুসলিমের সংখ্যা প্রচুর ছিল যারা উসমানী খিলাফার অধিনে চলে আসতে চাইতো। তারা সেই স্বাধিনতা আর ধর্মীয় সহিষ্ণুতা অর্জন করতে চাইতো যা উসমানী খিলাফতের অধীনে খ্রিষ্টানরা ভোগ করতো। যেই স্বাধীনতা ও সহিষ্ণুতা তারা তথাকথিত খৃষ্টানদের চালিত “সেকুলার” রাষ্ট্রে কল্পনাও করতে পারতোনা। তিনি আরো উল্লেখ করেন ১৫ শতাব্দীর শেষের দিকে অসংখ্য ইহুদী, সেকুলারদের নির্যাতন থেকে বাঁচতে স্পেন থেকে পালিয়ে উসমানী খিলাফায় আশ্রয় গ্রহণ করে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে।

ইসলামি রাষ্ট্রে অমুসলিমদের অধিকার নিয়ে লিখতে চাইলে দিস্তার পর দিস্তা খরচ হবে। তাই এখানে দুই একজন ওরিয়েন্টালিস্ট এর বক্তব্য উল্লেখ করলাম যাতে তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষতার ধ্বজাধারীদের বন্ধ চোখটা খোলা যায়।

ধর্মনিরপেক্ষতা আর ধর্মীয় স্বাধীনতা দুটোকে এক করে দেখার ফলেই দেশে এখন বেকুবের বাম্পার ফলন হয়েছে। কেউ যদি বলে আমি লিঙ্গ নিরপেক্ষ, তাহলে যেমন সেটা একটা প্রশ্নবোধক চিহ্ন দাঁড় করিয়ে দেয়, তেমনি ধর্ম নিরপেক্ষ শব্দটাও একই কনফিউশানে ফেলে দেয়। যদি ধর্মনিরপেক্ষতা দিয়ে ধর্মীয় স্বাধীনতা বোঝানো হয়, তবে ইসলাম হল শ্রেষ্ঠ ধর্মীয় স্বাধীনতাদানকারী জীবন বিধান। অন্যের ধর্মকে সম্মান দিতে, তাকে ধর্মীয় আচারের স্বাধীনতা দিতে নিজের ধর্ম জলাঞ্জলি দিতে হবে, এমন ইডিয়টিক আইডিয়া মানুষের মাথায় কি করে আসে আমি জানিনা। সেকুলার সমাজে ধর্মীয় স্বাধীনতার দৌড় আমাদের ঢের জানা আছে। ওটা মধুর বোতলে মদের মতই।

তাই ধর্মীয় স্বাধীনতাকে ধর্ম নিরপেক্ষতা নাম দিয়ে ধর্মহীনতার চর্চা করতে চাওয়া আর নিজেকে লিঙ্গনিরপেক্ষ দাবি করে লিঙ্গহীন হয়ে পড়া একই কথা। ইসলাম ছাড়া সত্যিকার ধর্মীয় স্বাধীনতা লাভ করা কোন সিস্টেমেই সম্ভব নয়। ইতিহাস পড়ুন। ইসলাম নিয়ে পড়ুন। মাথায় গোবরের বদলে মগজ লোড করুন। এরপর রিস্টার্ট দিন।