সাহারা_মরুভূমি: সোনালি বালির এক অপরূপ রাজ্য

#সাহারা_মরুভূমি: সোনালি বালির এক অপরূপ রাজ্য
পৃথিবীর সর্ববৃহৎ উষ্ণ মরুভূমি এবং আয়তনের দিক থেকে ৩য় বৃহত্তম #মরুভূমি। মরুভূমি বলতে সেই সব এলাকাকে বুঝায় যেখানে বৃষ্টিপাতের হার বছরে ১০ ইঞ্চির কম হয়ে থাকে। এই সংজ্ঞা অনুযায়ী আর্কটিক এবং এন্টার্কটিকা মরুভূমি হওয়ার শর্ত পূরণ করে। এই দুই মরুভূমির পরেই সাহারা মরুভূমির স্থান। তবে অনেক সময় সাহারা মরুভূমিকে ভুলবশত “পৃথিবীর সর্ববৃহৎ মরুভূমি” হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
‘সাহারা’ অর্থ কি?

সাহারা শব্দের উৎপত্তি ঘটেছে আঞ্চলিক আরবি শব্দ “শাহরা” থেকে যার অর্থ “মরুভূমি। “সাহারা” শব্দের আক্ষরিক অর্থ দাঁড়ায় “শ্রেষ্ঠ মরুভূমি”।
সাহারা মরুভূমি কোথায় অবস্থিত?

উত্তর আফ্রিকার বৃহদাংশ জুড়ে সাহারা মরুভূমির রাজত্ব। এই রাজত্বের পূর্বে লোহিত সাগর, উত্তরে মেডিটেরিয়ান সাগর এবং পশ্চিমে আছে আটলান্টিক সাগর। দক্ষিণে এই সীমানা ধরা হয়েছে সাহেল পর্যন্ত, এক গ্রীষ্মমণ্ডলীয় প্রায়-অনুর্বর শুষ্ক অঞ্চল। আলজেরিয়া, চাদ, মিশর, লিবিয়া, মালি, মৌরিতানিয়া, মরক্কো, নাইজার, পশ্চিম সাহারা, সুদান এবং তিউনিসিয়ার বেশ কিছু অঞ্চল জুড়ে সাহারা মরুভূমি। বালির রাজ্য হলেও সাহারা মরুভূমির অনেকগুলো অংশ রয়েছে যেখানে কিছু পর্বতমালা এবং তৃণভুমি আছে।
সাহারা মরুভূমি মূলত পাথুরে মালভূমি ও বালির সমুদ্র দিয়ে গঠিত। বালির সমুদ্র ঢাকা থাকে বালিয়াড়ি দিয়ে যার বেশিরভাগের উচ্চতা ১৮০ মিটারের বেশি হয়ে থাকে। বাতাস এবং হাল্কা বৃষ্টিপাতের কারণে বালিয়াড়ি, বালির সাগর, পাথুরে মালভূমি, শুষ্ক উপত্যকা, শুষ্ক হ্রদ ও নুড়ি প্রান্তরের সৃষ্টি হয়। এছাড়া বিচ্ছিন্ন ভাবে কিছু পর্বতমালা, কতগুলো আগ্নেয়গিরি, মরুভূমির বালির নীচ থেকে উঠে আসে। এদের মধ্যে এয়ার পর্বতমালা, আহাগার পর্বতমালা, সাহারান অ্যাটলাস, তিবেস্তি পর্বতমালা, আদ্রার দে ইফোরাস এবং রেড সি হিলস উল্লেখযোগ্য।

সাহারা মরু অঞ্চলের সবচেয়ে অনুর্বর মধ্য সাহারা। এই অঞ্চলে গাছপালাও খুব একটা নেই। ওয়াদিস এর মত মরুভূমির উত্তর এবং দক্ষিণ অংশ সহ উঁচু এলাকাগুলোতে মরূদ্যান, তৃণভূমি, ঝোপঝাড় এবং কিছু গাছপালার দেখা মেলে। মধ্য সাহারার এলাকাগুলোর মধ্যে তানেযরফ্ত, তেনেরে, লিবিয়ান মরুভূমি, পূর্বাঞ্চলের মরুভূমি, নুবিয়ান মরুভূমি এবং অন্যান্য এলাকাগুলো সাহারার সবচেয়ে শুষ্ক এলাকা এবং কখনও কখনও এসব এলাকায় বছরে কোন সময়েই বৃষ্টি হয় না!
সাহারা মরুভূমিকে কয়েকটি অঞ্চলে বিভক্ত করা যায়- পশ্চিম সাহারা, তিবেস্তি পর্বতমালা, এয়ার পর্বতমালা, তিনেরি মরুভূমি এবং লিবিয়ান মরুভূমি।
সাহারা মরুভূমির আয়তন

উত্তর আফ্রিকার ৩১% অংশ জুড়ে সাহারা মরুভূমি অবস্থিত। এর আয়তন ৯ মিলিয়ন বর্গকিলোমিটার বা ৩,৫০০,০০০ বর্গমাইল। আর যদি বছরে ২৫০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হওয়া এলাকাগুলোকে যোগ করা হয়, তাহলে সাহারার মোট আয়তন দাঁড়াবে ১১ মিলিয়ন বর্গকিলোমিটারে বা ৪,২০০,০০০ বর্গমাইলে। সাহারা মরুভূমির মোট আয়তন যুক্তরাষ্ট্রের আয়তনের প্রায় সমান।
সাহারা মরুভূমির পিছনের ইতিহাস

সাহারা মরুভূমি সবসময় কিন্তু মরুভূমি ছিল না। আইস এজ এর পর সাহারার চিত্র আজকের শূন্য এবং শুষ্ক মরুভূমিতে পরিণত হয়। তবে, প্রায় ১০,৫০০ বছর আগে আকস্মিক ভারি বৃষ্টিপাত এই মরুভূমিকে বাসযোগ্য মরু প্রান্তরে পরিণত করে। পরবর্তী ১০০ বছর নিয়মিত বৃষ্টিপাতের কারণে সাহারায় জনবসতি বৃদ্ধি পায় এবং ছাগল ও ভেড়ার মত পশুপালন শুরু হয়। কিন্তু প্রকৃতি আবার তার রুক্ষতায় ফিরে আসে। প্রায় ৭,৩০০ বছর আগে বৃষ্টিপাত কমতে শুরু করে এবং প্রায় ৫,৫০০ বছর আগে সাহারার জনবসতি পুনরায় নীলনদের উপত্যকায় ফিরে আসে।
সাহারা মরুভূমির তাপমাত্রা

সাহারা মরুভূমির আকাশ সাধারণত পরিষ্কার থাকে এবং সূর্যের স্থায়িত্ব কাল অত্যন্ত দীর্ঘ। মরুভূমির বেশিরভাগ অংশ বছরে ৩,৬০০ ঘণ্টা বা ৮২% এর বেশি সূর্যরশ্মি পেয়ে থাকে এবং পূর্বাঞ্চলে এর পরিমাণ ৪,০০০ ঘণ্টা বা ৯১% এর বেশি। সবচেয়ে বেশি উত্তাপের রেকর্ডের অধিকারী মিশরের উঁচু এলাকা (আসওয়ান ও লুক্সর) এবং নুবিয়ান মরুভূমি (ওয়াদি হালফা)।

সূর্যের অবিরত অবস্থান, কম গাছ-পালা, স্বল্প বৃষ্টিপাত এবং কম আর্দ্রতার ফলে সারা বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে উত্তপ্ত মরুভূমি এবং গ্রীষ্মে সবচেয়ে উত্তপ্ত এলাকা সাহার মরুভূমি। গ্রীষ্মে এই মরুভূমির প্রায় সব জায়গায় গড় তাপমাত্রা বেড়ে ৩৮ থেকে ৪০ ডিগ্রী সেলসিয়াস বা ১০০.৪ থেকে ১০৪.০ ডিগ্রী ফারেনহাইটে পৌঁছায়। সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড ছিল আলজেরিয়ান মরুভূমির বোউ বারনোস শহরের দখলে, ৪৭ ডিগ্রী সেলসিয়াস বা ১১৬.৬ ডিগ্রী ফারেনহাইট। ক্যালিফোর্নিয়ার ডেথ ভ্যালিকে প্রতিদ্বন্দ্বী রেখে এটিই এই পর্যন্ত পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি গড় তাপমাত্রা।

মরুভূমির বালুর তাপমাত্রা আরও বেশি! দিনের বেলা বালু প্রচণ্ড গরম থাকে। ৮০ ডিগ্রী সেলসিয়াস বা ১৭৬ ডিগ্রী ফারেনহাইটে উঠে যায় নিমেষেই! সুদানে বালুর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৮৩.৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস (১৮২.৩ ডিগ্রী ফারেনহাইট)।

বাতাসে কম আর্দ্রতা এবং আকাশে মেঘ স্বল্পতার কারণে মরুভূমিতে সাধারণত প্রতিদিন দিন ও রাতের তাপমাত্রার বিশাল পার্থক্য ঘটে। দিনে প্রচণ্ড গরম আর রাতে প্রচণ্ড ঠাণ্ডা কেবল প্রচলিত বিশ্বাস মাত্র। রাতের বেলা সাহারার দৈনিক গড় তাপমাত্রা সাধারণত ১৩ থেকে ২০ ডিগ্রী সেলসিয়াস অথবা ২৩.৪ থেকে ৩৬.০ ডিগ্রী ফারেনহাইট। কখনও কখনও তাপমাত্রা উপকূলীয় এলাকায় ১০ ডিগ্রী সেলসিয়াস বা ১৮ ডিগ্রী ফারেনহাইটের নিচে নামে, যেখানে আর্দ্রতার পরিমাণ বেশি।
সাহারা মরুভূমির জীব-বৈচিত্র্য

মরুভূমি হলেও সাহারার আছে মরু অঞ্চলের ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য ভিত্তিক বিচিত্র জীবজগৎ। বৃষ্টিপাতের ভিত্তিতে সাহারার বৃক্ষরাজি বিভক্ত তিনটি প্রধান এলাকায়- উত্তরাঞ্চল (মেডিটেরিয়ান), মধ্যাঞ্চল এবং দক্ষিণাঞ্চল। সাহারা মরুভূমিতে উদ্ভিদ জগতের প্রায় ২৮০০ প্রজাতির বৃক্ষের উপস্থিতি লক্ষণীয়। এই সংখ্যার প্রায় এক-চতুর্থাংশ সাহারার স্থানীয় উদ্ভিদ। মধ্য সাহারায় ৫০০ প্রজাতির গাছ রয়েছে যা এলাকার বিশালতার কাছে সামান্যই বটে। আকাসিয়া, খেজুর, সাকুলেন্ট, কাঁটাবন এবং ঘাসগুলো মরুভূমির শুষ্ক পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে নিয়েছে কয়েকটি বৈশিষ্ট্যের মাধ্যমে- শক্তিশালী বাতাসের হাত থেকে রক্ষা পেতে আকারে ছোট, শুষ্ক মৌসুমে পানি ধরে রাখার জন্য স্থূলকায় কাণ্ড, পানির সন্ধান করার জন্য মাটির নিচে প্রশস্ত মূল এবং ছোট মোটা পাতা অথবা কাঁটা যা আর্দ্রতা ধরে রাখে।
সাহারা মরুভূমির প্রাণীকুলও বেশ সমৃদ্ধ। সাহারায় বেশ কয়েক প্রজাতির শিয়ালের বাস। তাদের মধ্যে ফেনেক ফক্স, পেল ফক্স এবং রুপেলস ফক্স অন্যতম। এডেক্স নামক বিশাল এন্টিলোপের বাস সাহারা মরুভূমিতে এবং তারা পানি ছাড়া প্রায় এক বছর পর্যন্ত বাঁচে! দরকাস গাযেল নামক হরিণও অনেকদিন পর্যন্ত পানি ছাড়া বাঁচে এবং সাহারায় এই প্রজাতির হরিণ দেখতে পাওয়া যায়।
আলজেরিয়া, তোগো, নাইজার, মালি, বেনিন এবং বুরকিনা ফাসো অঞ্চলে সাহারান চিতার দেখা মেলে। তবে দুশ্চিন্তার বিষয় এই যে, বর্তমানে মাত্র ২৫০ টি পূর্ণবয়স্ক সাহারান চিতার অস্তিত্ব আছে। এপ্রিল থেকে অক্টোবর মাসের সূর্য এড়িয়ে চলা এই চিতাবাঘগুলো সাধারণত ফ্যাকাসে বর্ণের হয়। সাহারান চিতা ছাড়া অন্যান্য প্রজাতির চিতাগুলো চাদ, সুদান এবং নাইজারের পূর্বাঞ্চলে বাস করে। এছাড়া সাহারা মরুভূমিতে মনিটর লিজার্ড, হাইরেক্স, স্যান্ড ভাইপার, রেড-নেক অস্ট্রিচ, আফ্রিকান সিলভার বিল, ব্ল্যাক ফেইসড ফায়ারফিঞ্চ এবং কিছু সংখ্যক আফ্রিকান বুনো কুকুর বাস করে। মৌরিতানিয়া এবং এনেদি মালভূমিতে কিছু ছোট প্রজাতির কুমির বাস করে।
মরুভূমির আরেক স্থানীয় বাসিন্দা ডেথস্টকার বিছা। এরা প্রায় ১০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত লম্বা হয়। এই বিছার বিষে অনেক বেশি পরিমাণে এজিটক্সিন এবং সাইলাটক্সিন থাকে যা অত্যন্ত বিপদজনক; এক দংশনে স্বাস্থ্যকর পূর্ণবয়স্ক ব্যক্তির মৃত্যু ঘটতে পারে। সাহারান সিলভার অ্যান্ট সাহারা মরুভূমির উচ্চ তাপমাত্রা সহ্য করতে পারে এবং শিকারির কবল থেকে বাঁচার জন্য দিনে কেবল ১০ মিনিটের জন্য এরা আস্তানা থেকে বের হয়। সাধারণত পালিত পশু হিসেবে বিবেচ্য ড্রমেডেরি উট এবং ছাগলের দেখা মেলে সাহারা মরুভূমিতে। দ্রুত গতি এবং সহ্য ক্ষমতার জন্য এই দুই জাতের পশু যাযাবরদের কাছে জনপ্রিয়।
বর্তমান সাহারা

১০০ বছর আগের সাহারার তুলনায় বর্তমান সাহারা প্রায় ১০% বৃদ্ধি পেয়েছে বলে বিজ্ঞানীদের গবেষণায় পাওয়া গেছে। এর পেছনে বিশ্ব উষ্ণায়নের অবদান কিছুটা হলেও দায়ী।
একই সাথে খরা এবং বৃষ্টিপাতের হার অস্বাভাবিকভাবে কমে যাওয়ার কারণেও দিন দিন এই মরুভূমি বিশাল থেকে বিশালত্বর হতে চলেছে। এসব কারণের সাথে আরও যুক্ত হয়েছে প্রকৃতির মানবসৃষ্ট পরিবর্তন। যার ফলে, বিজ্ঞানীরা আশঙ্কা করছেন যে, সাহারার বৃদ্ধি বাড়বে বৈ কমবেনা!

প্রাচীন সপ্তমাশ্চার্য বিখ্যাত নগরী ব্যাবিলনের পতন হয়েছিল যেভাবে

প্রাচীন সপ্তমাশ্চার্য বিখ্যাত নগরী ব্যাবিলনের পতন হয়েছিল যেভাবে

ব্যাবিলন ছিল প্রাচীন মেসোপটেমিয়ার এক গুরুত্বপূর্ণ নগরী। ১৭৭০ থেকে ৩২০ খ্রিস্টপূর্বাব্দের সময়টিতে ব্যাবিলনই ছিল বিশ্বের সবচেয়ে বড় শহর। ২ লাখেরও বেশি জনসংখ্যার প্রথম নগরী বলেও মনে করা হয় ব্যাবিলনকে।
খ্রিস্টপূর্ব ৫ম শতকের দিকে ব্যাবিলন নগরীটি সুরক্ষিত ছিল বিশাল আকারের প্রাচীরের আড়ালে। পুরো নগরী বেষ্টন করে ছিল ২ স্তরের প্রাচীর, যেন প্রথম প্রাচীরের পতন ঘটলেও দ্বিতীয়টি দিয়ে শত্রু ঠেকানো যায়। গ্রিক ঐতিহাসিক হেরোডোটাসের মতে এ দেয়ালগুলো ছিল ৩০০ ফুট উঁচু, ৮০ ফুট চওড়া ও ৫৫ মাইল জুড়ে বিস্তৃত। অবশ্য বর্তমানকালের ঐতিহাসিকদের মতে হেরোডোটাস বাড়িয়ে বলেছিলেন।
তাদের মতে দেয়ালগুলো ছিলো ৯০ ফুট উঁচু ও ১০ মাইল লম্বা। এ দুই দেয়ালের মাঝে ছিল পরিখা, যা শত্রুপক্ষের জন্য শহরের ভেতরে প্রবেশ করাকে রীতিমতো অসম্ভব করে রেখেছিল। আরও ছিল ওয়াচ টাওয়ারগুলোতে সার্বক্ষণিক সশস্ত্র পাহারার ব্যবস্থা। এছাড়া ইউফ্রেটিস নদী শহরটির মাঝ দিয়ে প্রবাহিত ছিল। ফলে অবরুদ্ধ থাকাবস্থায় পানির সরবরাহ নিয়েও তাদের চিন্তার কিছু ছিল না।৫৩৯ খ্রিস্টপূর্বাব্দে পারস্যের রাজা ২য় সাইরাস, যিনি ‘সাইরাস দ্য গ্রেট’ নামেই বেশি পরিচিত। তিনি আক্রমণ করে বসেন ব্যাবিলনে। কিন্তু ব্যাবিলনের সৈন্যরা সাইরাসের এ আক্রমণকে পাত্তাই দেয়নি। তারা তখন ফসল কাটার উৎসবে ব্যস্ত ছিল। শহরের নিরাপত্তা নিয়ে আত্মতুষ্টিতে ভোগা ব্যাবিলনের সৈন্যদের কাছে সাইরাস যেন ছিলেন এক শিশু। কিন্তু চারদিকে প্রাচীর ঘেরা শহরের ভেতর বহমান ইউফ্রেটিস বা ফোরাত নদীর প্রবেশপথে গেট নির্মাণ করে রাখলেও এদিকে বাড়তি আর কোনো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রাখেনি তারা। শহরটির সৈন্যরা কখনও আশা করেনি, পানির নিচে কেউ সেই গেট ভেঙে তাদের শহরে আক্রমণ চালাবে। এছাড়া পানির নিচে কেউ এত দীর্ঘ সময় ধরে দম আটকে রাখতে পারবে বলেও মনে করেনি তারা। আর তাদের ঠিক সেই জায়গা দিয়েই আক্রমণ করলেন সাইরাস। নদীর আশপাশে বিভিন্ন খাল ও অন্যান্য জলাশয় খনন করে নদীর গতিপথ পরিবর্তনের ব্যবস্থা করলেন তিনি। ফলে নদীতে পানির স্তর নিচে নেমে যায়। তখনই দেখা মেলে গেটগুলোর। এরপর এক রাতে গোপনে তার সৈন্যরা সেখানের ফাঁকা জায়গা দিয়ে শহরে প্রবেশ করে এর মূল ফটকটি খুলে দেয়। এরপর মৌমাছির ঝাঁকের মতো শহরের ভেতরে ঢুকে পড়ে সাইরাসের বাহিনী। প্রকৃত অবস্থাটি ব্যাবিলনের সৈন্যদের বুঝতে বেশ কিছুক্ষণ সময় লেগেছিল। যখন বুঝল ততক্ষণে বেশ দেরি হয়ে গেছে। আর দিনরাত নাচগান ও মদের রাজ্যে ডুবে থাকায় তারা সেভাবে প্রতিরোধও গড়তে পারেনি। সাইরাস দ্য গ্রেটের সৈন্যদলের কাছে কচুকাটা হতে হয়েছিল তাদের।

রিবার(সুদের) প্রচলিত কয়েকটি রূপঃ

রিবার(সুদের) প্রচলিত কয়েকটি রূপঃ
রিবা (সুদ)প্রধানত দুই প্রকার : ১. রিবা নাসিয়্যাহ ২. রিবাল ফযল; একে রিবাল বাইও বলা হয়।
এখানে আমরা শুধু রিবা (সুদ) নাসিয়্যাহর প্রচলিত কয়েকটি রূপ নিয়ে আলোচনা করব।
রিবা (সুদ) নাসিয়্যাহর সংজ্ঞা:
ইমাম আবু বকর জাস্সাস রাহ. বলেন,
هو القرض المشروط فيه الأجل وزيادة مال على المستقرض.
এমন ঋণ যাতে মেয়াদ শর্ত করা হয় এবং গ্রহিতাকে অতিরিক্ত প্রদানের শর্ত করা হয়।
-আহকামুল কুরআন ১/৫৫৭
অর্থাৎ অতিরিক্ত প্রদানের শর্তে কাউকে মেয়াদি ঋণ দেওয়া। একে রিবাল করযও বলা হয়। রিবান নাসিয়্যাহ-এর আরেক প্রকার হল, রিবাদ দাইন।
রিবাদ দাইনের সংজ্ঞা : কারো থেকে কোনো পণ্যের বিক্রিলব্ধ বকেয়া-মূল্য পরিশোধের সময় হলে তখন অতিরিক্ত প্রদানের শর্তে মেয়াদ বাড়িয়ে নেওয়া। অর্থাৎ অতিরিক্ত মূল্য পরিশোধের শর্তে সময় বাড়িয়ে নেওয়া। জাহেলী যুগে রিবা নাসিয়্যাহর উভয় প্রকারের প্রচলন ছিল খুব বেশি।
আজও এই উভয় ধরনের রিবা নাসিয়্যাহ ব্যাংকিং জগতে এবং মার্চেন্টদের সমাজে বহুল প্রচলিত।
বাজারে বিভিন্ন পণ্য কিস্তিতে বিক্রি হয়। কিন্তু কিস্তি সময়মত দিতে না পারলে একটা নির্ধারিত হারে অতিরিক্ত দেওয়ার শর্ত করা হয়। এটা রিবাদ দাইনের অন্তর্ভুক্ত।
রিবা নাসিয়্যাহর প্রচলিত রূপ ও ক্ষেত্রসমূহ
রিবা নাসিয়্যাহকে রিবাল কুরআন, রিবাল করয ও রিবাদ দাইনও বলা হয়। প্রচলিত ব্যাংকিং সুদ এর জ্বলন্ত উদাহরণ, এছাড়াও আরো ক্ষেত্র আছে, নিম্নে একেকটি করে সবিস্তারে আলোকপাত করা হল:
১. সুদী ব্যাংক : ব্যাংকের সংজ্ঞাতেই আছে যে, ব্যাংক হল, অল্প সুদে ঋণ নেয়, আর বেশী সুদে ঋণ দেয়। সুদী ব্যাংকের কারেন্ট একাউন্ট ছাড়া সকল প্রকার একাউন্ট সুদী একাউন্ট। তাই সুদী ব্যাংকের সেভিং একাউন্ট এবং সকল ধরনের ফিক্সড ডিপোজিট সুদী। চাই তা উচঝ হোক বা ঋউজ হোক অথবা সাধারণ ফিক্সড ডিপোজিট হোক; সবই রিবা নাসিয়্যাহ একাউন্ট। অনেকে মনে করেন সরকারী হলে সেটা আর সুদী হয় না। অথচ এ ধারণা সম্পূর্ণ ভুল।
এছাড়া কারেন্ট একাউন্টেও ইদানিং সুদের মিশ্রণ দেওয়া হয়। এ ধরনের কারেন্ট একাউন্টকে SND কারেন্ট একাউন্ট বলে। এসকল একাউন্ট খোলাই সুদী চুক্তির গুনাহ। পরে সুদ গ্রহণ করলে তার গুনাহ ভিন্ন হবে।
সুদী ব্যাংকের সেভিং একাউন্ট খোলাটাই সুদী চুক্তির গুনাহ। তাই সুদ গ্রহণ না করলেও যে কোনো ধরনের সেভিং একাউন্ট করলে সুদী চুক্তির গুনাহ হবে।
২. ডি. পি. এস/ DPS ডিপোজিট পেনশন স্কীম : এটিও সম্পূর্ণ সুদী একাউন্ট।
৩. সুদী ব্যাংকের যে কোনো লোনই সুদী লোন। যেমন কার লোন, হোম লোন, হাউজ লোন, ইনভেস্টমেন্ট লোন, সিসি লোন, কৃষি লোন ইত্যাদি।
৪. প্রাইজবন্ড : সরকার প্রাইজবন্ড ছাড়ে। যা যে কোনো ব্যাংক থেকে ভাঙ্গানো যায়। একটা নির্ধারিত মেয়াদের পর লটারীর মাধ্যমে ড্র করা হয়। এরপর বিজয়ীদেরকে পুরস্কার দেওয়া হয়। এই পুরস্কারটাই রিবা নাসিয়্যাহ বা সুদ। প্রাইজবন্ড ক্রয়ের মাধ্যমে ব্যাংককে ঋণ প্রদান করা হচ্ছে। আর ব্যাংক প্রাইজ বা পুরস্কার দেয়ার নামে ক্রেতাকে সুদ দিচ্ছে।
৫. ক্রেডিট কার্ড : ক্রেডিট কার্ড মূলত এক প্রকার সুদভিত্তিক লোন কার্ড। কেননা এই কার্ডের চুক্তিপত্রেই লেখা রয়েছে যে, মিনিমাম ডিউ টাইমে/ডেটে বাকী পরিশোধ না করলে প্রতিদিন নির্দিষ্ট হারে সুদ দিতে হবে। যার ফলে অধিকাংশ ক্রেডিট কার্ড হোল্ডারই সুদের আওতায় পড়ে যান। এই সুদ রিবাদ দাইনের অন্তর্ভুক্ত, যা রিবা নাসিয়্যাহ। তাই সুদ থেকে বাঁচতে হলে অবশ্যই যথাসময়ে বাকী পরিশোধ করে দিতে হবে। তাহলে আর সুদী কারবার হবে না।
৬. ক্রেডিট কার্ড দ্বারা এটিএম থেকে টাকা উত্তোলন করলে যে চার্জ নেওয়া হয় তা সুস্পষ্ট সুদ। কেননা কার্ডের ফি তো নিচ্ছেই। এখন অতিরিক্তটা ঋণের বিনিময়ে হচ্ছে।
৭. বন্ড : সরকারী এবং বেসরকারী বন্ড। এগুলো সম্পূর্ণ রিবা নাসিয়্যাহ। সরকারী হওয়ার কারণে কিংবা নির্দিষ্ট কোনো বাণিজ্যিক প্রকল্প, কোনো কোম্পানী বা রাস্তা-ঘাট কিংবা ব্রীজ নির্মাণের জন্য ঋণ নেওয়া হচ্ছে এমন কথা উল্লেখ করার কারণে কেউ কেউ মনে করতে পারেন যে, এটা সুদী হবে না, কিন্তু এ ধারণা ভুল। স্টক এক্সচেঞ্জ বা বাংলাদেশ ব্যাংকসহ অন্য যে কোনো ব্যাংকে যে বন্ড ক্রয়-বিক্রয় হয় তাতে সুনির্দিষ্ট সুদের ঘোষণা দেওয়া থাকে। এ সকল বন্ডও সুদী বন্ড।
৮. স্টুডেন্ট লোন : বিভিন্ন ব্যাংক কর্তৃক স্টুডেন্ট লোন দিয়ে যা অতিরিক্ত নেওয়া হয় সেটাও সুদ। এটি ইন্টারেস্ট বা সার্ভিস চার্জ যে নামেই নেওয়া হোক না কেন।
৯. লটারী : রেডক্রিসেন্ট বা এজাতীয় সরকার অনুমোদিত কিছু প্রতিষ্ঠান দশটাকা বিশটাকা মূল্যের লটারী টিকেট ছাড়ে। এক লক্ষ, দুই লক্ষ টাকা, গাড়ি, মোটর সাইকেল ইত্যাদি পুরস্কারের প্রলোভন দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা নেয়া হয়।
এক্ষেত্রে পুরস্কার পায় কেবল দু’তিনজন। আর বাকিরা কিছুই পায় না। তাদের মূল টাকাই গচ্চা যায়। এধরনের লেনদেনকেই শরীয়তের ভাষায় ‘কিমার’ বলে। যা সম্পূর্ণ হারাম। আর এক্ষেত্রে সবাই তো অতিরিক্ত পাওয়ার উদ্দেশ্যেই দশ-বিশ টাকায় লটারি ক্রয় করে থাকে। যদিও কেউ পুরস্কার পায় আর কেউ পায়া না। তাই এতে সুদও বিদ্যমান।
১০. পোস্ট অফিসের সঞ্চয়পত্র : পোস্ট অফিসের মাধ্যমে সরকারীভাবে বিভিন্ন নামের সঞ্চয়পত্র স্কীম রয়েছে। এগুলোর প্রত্যেকটি সম্পূর্ণ সুদী, রিবা নাসিয়্যাহ-এর অন্তর্ভুক্ত।
১১. জমি বন্ধক : বাংলাদেশের প্রায় সকল এলাকায় বহুল প্রচলিত লেনদেন হল, জমি বন্ধক রীতি। জমির মালিক একটা মোটা অংকের টাকা নেয়। বিনিময়ে বন্ধক গ্রহীতা জমিটি ভোগ করে এবং মেয়াদান্তে মালিক পুরো টাকা ফেরত দিয়ে জমিটি বুঝে নেয়। এক্ষেত্রে ঋণ গ্রহিতার জন্য বন্ধকি জমি ভোগ করা রিবা নাসিয়্যাহর অন্তর্ভুক্ত, যা হারাম। কোনো কোনো এলাকায় এটাকে জমি কট দেওয়াও বলে। আবার কেউ জমি খায়খালাসি দেওয়া বলে। নাম যাই হোক লেনদেন এবং হুকুম একই।
১২. বাড়ি বন্ধক : জমি বন্ধকের মত ঢাকা শহরে বাড়ি বন্ধকের প্রথা চালু হয়েছে। তা হল, বাড়িওয়ালা নিজ প্রয়োজনে ৫ বা ১০ লক্ষ টাকা ঋণ নেয়। বিনিময়ে পাঁচ বছর বা দশ বছর ঋণদাতাকে তার ফ্ল্যাটে বিনা ভাড়ায় থাকার সুযোগ দেয়। পরবর্তীতে যখন ঋণ পরিশোধ করে দিবে তখন এই চুক্তি সমাপ্ত হবে। এই লেনদেনও সম্পূর্ণ সুদী ও রিবা নাসিয়্যাহর অন্তর্ভুক্ত। যা সুস্পষ্ট হারাম। কেননা ঋণের কারণেই এ সুবিধা পাচ্ছে।
১৩. বাড়ি ভাড়ার ক্ষেত্রে সিকিউরিটি বেশি দিলে ভাড়া কমিয়ে দেওয়া : বাড়ি বন্ধকের উপরোক্ত পদ্ধতি নাজায়েয হওয়ার কারণে অনেকে হীলা হিসাবে এ পদ্ধতি চালু করেছে। যেমন, কোনো বাড়িওয়ালার টাকার প্রয়োজন । যেখানে সাধারণ হিসেবে অগ্রিম নেয়ার কথা ২০ হাজার টাকা, কিন্তু এর স্থলে বাড়িওয়ালা পাঁচ লক্ষ টাকা সিকিউরিটি মানি দাবি করে এবং এর বিনিময়ে ভাড়া কমিয়ে দেয় (যেমন, সাধারণ হিসেবে ভাড়া যদি হয় ১০ হাজার টাকা এক্ষেত্রে ভাড়া হবে ১/২ হাজার টাকা)- এটাও হারাম। কেননা ৫ লক্ষ টাকা ঋণ দেওয়ার কারণেই মূলত তার থেকে ভাড়া কম নিচ্ছে। এই ঋণকে ছুতা হিসেবে সিকিউরিটি মানি বলা হয়েছে। মূলত সিকিউরিটি মানি তো সেটাই যা সচরাচর সবাই দিয়ে থাকে। যা দিলে ভাড়া কমানো হয় না। ভাড়া স্বাভাবিকই থাকে। নাম যাই দেওয়া হোক ফেরতযোগ্য ৫ লক্ষ টাকা ঋণ দেওয়ার কারণেই ১০ হাজার টাকার ভাড়া ১/২ হাজারে নেমে এসেছে।
ফাযালা বিন উবাইদ রা. বলেন, যেই ঋণ কোনো মুনাফা নিয়ে আসে তা রিবার প্রকারসমূহের একটি। -সুনানে বাইহাকী ৫/৩৫০
ইমাম মালেক রাহ. বর্ণনা করেন যে, আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. বলেন, যে ব্যক্তি কোনো বস্তু ঋণ দিবে সে যেন অতিরিক্ত কোনো কিছু শর্ত না করে। যদিও এক মুঠো ঘাস হোক না কেন। -মুআত্তা মালেক, হাদীস ২৫১৩
১৪. ঐচ্ছিক প্রভিডেন্ট ফান্ড : সরকারী বা বেসরকারী ঐচ্ছিক প্রভিডেন্ট ফান্ড সুদী ফান্ড। ঐচ্ছিক হওয়ার কারণে এতে টাকা জমা দেওয়ার অর্থ ঋণ দিয়ে পরবর্তীতে অতিরিক্ত নেওয়া। আর এটাই রিবা নাসিয়্যাহ। আর পুরো সরকারী প্রতিষ্ঠানের প্রভিডেন্ট ফান্ডের বাধ্যতামূলক যে অংশ এই ফান্ডে কেটে রাখা হয় এবং পরবর্তীতে এর সাথে অতিরিক্ত যে অংশ দেওয়া হয় তা সুদ নয়। তা নেওয়া জায়েয। তবে সরকারী প্রতিষ্ঠানে বাধ্যতামূলক কেটে রাখার পাশাপাশি ঐচ্ছিকও কিছু কাটানোর সুযোগ থাকে। এক্ষেত্রে বাধ্যতামূলকের অতিরিক্ত অংশ কাটানো সুদী চুক্তির অন্তর্ভুক্ত এবং এই অতিরিক্ত কর্তিত অংশের উপর উদ্বৃত্ত যা দিবে তা সুদ। তা নেওয়া বৈধ হবে না। তাই বাধ্যতামূলকের অতিরিক্ত উক্ত ফান্ডে জমা রাখাও জায়েয হবে না। কেননা ঐচ্ছিক অংশ রাখার অর্থই হল সুদী চুক্তিতে আবদ্ধ হওয়া। এছাড়া স্বায়ত্ত¡শাসিত প্রতিষ্ঠান এবং বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের প্রভিডেন্ট ফান্ডের সকল টাকা সুদী ব্যাংক বা বীমাতে রেখে বৃদ্ধি করা হয়। পরবর্তীতে সেটিই তাদেরকে দেওয়া হয়। তাই এসকল প্রতিষ্ঠানের ঐচ্ছিক ও বাধ্যতামূলক প্রভিডেন্ট ফান্ডে জমার অতিরিক্ত নেওয়া জায়েজ হবে না। কেননা সেগুলোও সুদের অন্তর্ভুক্ত।
১৫. লাভের হার নির্ধারণ না করে নির্দিষ্ট পরিমাণ মুনাফা প্রদানের শর্তে বিনিয়োগ করা: ব্যাংক ছাড়াও ব্যক্তি পর্যায়ে ব্যবসায়ীদেরকে ব্যবসার জন্য টাকা প্রদান করে লাভ হিসেবে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা দেওয়ার শর্ত করা হয় এটাও সম্পূর্ণ সুদী লেনদেন ও সুদী বিনিয়োগ। ব্যবসার জন্য দেওয়া আর লাভ দেওয়ার কথা হলেই অনেকে মনে করেন তা ইসলামী হয়ে যায়; সুদী থাকে না। অথচ ব্যবসার জন্য টাকা দিয়ে নির্ধারিত অংকের কিছু দেওয়ার চুক্তি বা শর্ত করাই সুদ ও রিবা নাসিয়্যাহ। এক্ষেত্রে হালালভাবে বিনিয়োগ করতে চাইলে ব্যবসার প্রকৃত লাভের শতকরা হার নির্ধারণ করতে হবে। সেক্ষেত্রে লাভ হলে নির্ধারিত অংশ অনুযায়ী ভাগ পাবে। আর লাভ না হলে পাবে না।
কিন্তু পূর্বোক্ত লেনদেনে লাভ হিসেবে নির্দিষ্ট কিছু দেওয়ার কথা হলে চুক্তি অনুযায়ী সে তা দিতে বাধ্য থাকে। লাভ হোক বা না হোক সর্বাবস্থায় তাকে তা দিতেই হয়। এটাই সুদ। তদ্রƒপ কোনো কিছু নির্দিষ্ট না করে এমনিতেই ব্যবসার জন্য কাউকে টাকা দেওয়া। এক্ষেত্রে কথা হয় যে, লাভ হিসেবে প্রতিমাসে কিছু কিছু দিবে। এটাও সুদী চুক্তি এবং রিবা নাসিয়্যাহর অন্তর্ভুক্ত।
১৬. জুয়েলারী দোকানে স্বর্ণ বন্ধক রেখে সুদের উপর লোন প্রদান করা হয়। তেমনিভাবে ব্রাক, আশা, গ্রামের মহাজন সুদের ভিত্তিতে লোকদেরকে লোন দিয়ে থাকে। এগুলো সবই রিবা নাসিয়্যাহ।
১৭. ফরম বিক্রির ছুতায় রিবা নাসিয়্যাহ : কোনো কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা সোসাইটি মানুষকে সুদবিহীন লোন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। কিন্তু তাদের নিয়ম হল, ঋণের পরিমাণ অনুযায়ী ফরম কিনতে বাধ্য করা হয় আর ঋণের হার অনুযায়ী ফরমের দাম কম-বেশি হয়। যেমন, দশ হাজার টাকা ঋণের জন্য পাঁচশত টাকার ফরম ক্রয় করতে হয়। আর বিশ হাজার টাকার জন্য এক হাজার টাকার ফরম ক্রয় করতে হয় । আর নির্ধারিত মেয়াদের ভেতর তা পরিশোধ না করলে পরে আবারও আরেকটি ফরম ক্রয় করে পূরণ করতে হয়। বাহ্যিকভাবে এটি ফরম ক্রয়-বিক্রয়। কিন্তু এর মাধ্যমেই সুদ অগ্রীম আদায় করে নেওয়া হচ্ছে। এজন্যই ঋণের পরিমাণ বাড়লে ফরমের মূল্যও বাড়তে থাকে। এটা হচ্ছে রিবা নাসিয়্যাহ গ্রহণের হীলা-বাহানা ও ছুতা অবলম্বন।
১৮. কিস্তি-বিক্রি : বাজারে ফ্রিজ, কম্পিউটার ইত্যাদি ইলেক্ট্রনিক্স সামগ্রী কিস্তিতে বিক্রি হয়। এই বিক্রির চুক্তিপত্রের মধ্যেই উল্লেখ থাকে সময়মত পরিশোধ করতে না পারলে একটা নির্দিষ্ট হারে সুদ বাড়বে। এটা রিবাদ দাইন ও রিবা নাসিয়্যাহর অন্তর্ভুক্ত। তাই এ ধরনের শর্ত সম্পূর্ণ নাজায়েয। আর বাধ্য হয়ে কেউ এধরনের শর্তে ক্রয় করলে নির্ধারিত মেয়াদের ভেতরই কিস্তি পরিশোধ করতে হবে। নতুবা সুদ দেওয়ার গুনাহ হবে। অতএব এ ধরনের ক্ষেত্রে সুদ থেকে বাঁচতে চাইলে যথাসময়ে মূল্য পরিশোধ করে দিতে হবে।
১৯. ইনস্টাবাই : Instabuy বিভিন্ন কোম্পানী ক্রেডিট কার্ড হোল্ডারকে বিনা সুদে এবং অতিরিক্ত মূল্য ছাড়া ২/৩ বা ১২ কিস্তিতে মূল্য পরিশোধের সুবিধা দিয়ে থাকে। এক্ষেত্রেও যথাসময়ে মূল্য পরিশোধ না করলে অতিরিক্ত সুদ দিতে হয়। এতে কারবারটি সুদী কারবারে পরিণত হয়ে যায়। তাই ইনস্টাবাই-এর সুবিধা গ্রহণ করলেও যথাসময়ে কিস্তি পরিশোধের প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে। অন্যথায় কারবার সুদী হয়ে যাবে। অর্থাৎ রিবাদ দাইনের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে।
আল্লাহ আমাদেরকে সকল প্রকার সুদ থেকে হেফাযত করুন, আমীন!

ইহুদী-নাসারার দালাল এরদোয়ান ???

ইহুদী নাসারার দালাল এরদোয়ান ???
পৃথিবীতে মানুষ আগমনের পূর্ব কথা।আজাজিল আল্লাহর অবধ্য হয়ে শয়তান উপাধী পেয়ে চিরস্হায়ী জাহান্নাম ক্রয় করে নিল।ইবলিশ আল্লাহকে বলল,আমি আপনার বান্দাদেরকে চারদিক থেকে ঘিরে ধরব এবং তাদের অনেকেই আপনি শোকরগুজার বান্দা হিসাবে পাবেন না।
শয়তানকে মানুষের প্রকাশ্য দুশমন বলে কুরআন মাজীদে ঘোষণা করা হয়েছে।
শয়তান দুই প্রকার।মানুষ শয়তান ও জ্বীন শয়তান।জ্বীন শয়তানকে আমরা দেখতে না পেলেও মানুষ শয়তানকে আমরা দেখে থাকি।আজকের আলোচ্য বিষয় মানুষ শয়তানকে নিয়ে।
ইতিহাসের পরতে পরতে মানুষ শয়তানের অপকর্মের পদচিন্হ আঁকা রয়েছে।
১৯২৪ সালে কামাল আতাতুর্ক তুরস্কের উসমানীয় খিলাফত বিলুপ্ত করে কুফরী দেশে ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে সে সময় বিচার বিভাগ থেকে আলেমদের বরখাস্ত করে। মাদ্রাসাসমূহের রেজিস্ট্রেশন বাতিল, আরবি হরফের পরিবর্তে ল্যাটিন হরফ চালু করে। আরবি লেখা ও পড়া নিষিদ্ধ করে। কোরআন শিক্ষা করা, শিক্ষাদান ও সংরক্ষণ দণ্ডনীয় অপরাধ বলে ঘোষণা করে। টুপি ও দাড়ি নিষিদ্ধ করে। টুপি মাথায় কাউকে দেখলে গ্রেফতারের নির্দেশ দেয়। স্কুলের বাচ্চাদেরকেও টুপির পরিবর্তে ইউরোপীয়দের মতো হ্যাট পড়তে বাধ্য করা হয়। কোনো এক স্কুলের বাচ্চাদের টুপি খুলে হ্যাট পড়তে দিলে বাচ্চারা তা ছুড়ে ফেললে আতাতুর্কের নির্দেশে সে স্কুলের সকল (৬০০-৭০০) শিশুকে স্কুলের পেছনে ঝর্ণার কাছে দাঁড় করিয়ে গুলি করে হত্যা করা হয়। ১৯৩২ সালে নামাজ পড়া, আযান ও আরবিতে খুতবা দেয়া নিষিদ্ধ করে। স্কুল, কলেজ, মসজিদ, মাদ্রাসা ও হাসপাতালসহ সর্বত্র আতাতুর্কের ছবি বা মূর্তি স্থাপনের নির্দেশ দেয়। ১৯৩৪ সালে মোস্তফা কামাল তার নাম পরিবর্তন করে ‘কামাল আতাতুর্ক’ রাখে (তুর্কী ভাষায় আতাতুর্ক শব্দের অর্থ ‘ত্রাণ কর্তা’) এবং তার নাম অন্য কারো জন্যে রাখা নিষিদ্ধ করে। মদকে হালাল বলে ঘোষণা করে এবং জাতীয় অর্থনীতির জন্যে মদের ব্যবসার প্রসার ঘটাতে ব্যাপকভাবে মদের লাইসেন্স প্রদান করে। গ্রিন সোসাইটি নামক একটি সামাজিক সংগঠন মদের ক্ষতিকর দিক ও কোরআনের দৃষ্টি ভঙ্গী তুলে ধরে একটি পুস্তিকা প্রকাশ করার কারণে সে সংগঠনটি নিষিদ্ধ করে ও তাদের সকল সদস্যকে আটক করে নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করে।
এ সময় বদিউজ্জামান সাঈদ নুরসী শান্তিপূর্ণ পন্থায় ইসলামের মর্মবাণী সকলের নিকট তুলে ধরার চেষ্টা করেন। নুরসী’র ধারণা ছিল যে যারা অজ্ঞতা হেতু ইসলামের বিরোধিতা করছে তাদের কাছে ইসলামে সঠিক বাণী পৌঁছাতে পারলেই তারা সঠিক পথে ফিরে আসবে। তারপরও তুরস্কে আতাতুর্কের সেক্যুলারিজমের বিরুদ্ধে প্রচণ্ড বিদ্রোহ দেখা দেয়। এতে আতাতুর্ক হাজার হাজার আলেম, ঈমাম, মুফতি ও ইসলামী ব্যক্তিত্বকে আটক করে সমুদ্রে পানিতে ডুবিয়ে ও ইস্তাম্বুলের লাইটপোস্টের সাথে ঝুলিয়ে হত্যা করে। অনেক আলেমকে বন্দি করে বিশেষ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়। অনেককে আবার কারাগারে অন্তরীণ রাখা হয়। নুরসী’র বিশেষ আবেদন ছিল যে তোমরা আমাদের শিশুদেরকে সঠিক শিক্ষা দিও। সাঈদ নুরসীকে কারাগারে অমানবিক নির্যাতন এর মধ্যদিয়েই মৃত্যূবরণ করতে হয়েছে।
১৯৪৯ সালে মিসরের স্বৈরশাসক জামাল আব্দুন নাসের তুরস্কের কামাল আতাতুর্কের পথ ধরে কুফরী রাষ্ট্র কায়েম করে ক্ষমতা পাকাপোক্ত করার জন্যে সে দেশের সর্বজন শ্রদ্ধেয় আলেমে দ্বীন ইখওয়ান আল মুসলিমুনের নেতা হাসানুল বান্নাসহ তাঁর হাজার হাজার অনুসারীকে হত্যা করে। ১৯৫৪ সালে ইখওয়ানের জনপ্রিয়তায় ভীত হয়ে জামাল আব্দুন নাসের ৫০ হাজার নেতা-কর্মীকে আটক করে। তার মধ্যে সাঈয়েদ কুতুবসহ ছয়জন কেন্দ্রীয় নেতা ছিলেন। জেলে হিংস্র হায়েনার দল কুকুর লেলিয়ে দিয়ে সাঈয়েদ কুতুবের সমস্ত শরীর ক্ষত-বিক্ষত করে। তাঁর শরীর আগুন দিয়ে ঝলসে দেয়। তাঁর মাথায় গরম পানি ঢালা হত আবার ঠাণ্ডা পানিতেও চুবানো হতো। তাঁকে অনাহারে দিনের পর দিন বসিয়ে রাখা হতো। সে সময় ইরাকের আলেমদের দাবির মুখে ও প্রেসিডেন্টের অনুরোধে নাসের সরকার ১৯৬৪ সালে তাঁকে মুক্তি দেয়। কিছু দিন পর নাসের সরকার আবারো ইখওয়ানের নেতা-কর্মীদের গ্রেফতারের জন্যে এক নাটক মঞ্চস্থ করে। এক গোয়েন্দা পুলিশের পকেটে ইখওয়ানের সদস্য ফরম রেখে নাসেরের জন সভায় যায় এবং নাসেরকে লক্ষ্য (ভ্রষ্ট) করে ১২ রাউন্ড গুলি ছোড়ে। এতে কেউ হতাহত না হলেও যে ব্যক্তি গুলি ছুঁড়েছিল তাকে ধরে নাসেরের নিকট নিয়ে এসে তার পকেট চেক করে ইখওয়ানের সদস্য ফরম পাওয়া যায়। প্রেসিডেন্টকে হত্যা চেষ্টার অজুহাতে ইখওয়ানের প্রায় ৪০ হাজার নেতা কর্মী গ্রেফতার ও দলটিকে নিষিদ্ধ করে। এ সময় সাঈয়েদ কুতুবের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয় যে, সে মিথ্যা নবুয়াতের দাবিদার। বিচারের নামে প্রহসনের নাটক মঞ্চস্থ করে ১৯৬৫ সালের ২১ ডিসেম্বর সাঈয়েদ কুতুব ও তাঁর সঙ্গী সাথীদের জিজ্ঞাসাবাদ শেষ করে। অভিযুক্তদের পক্ষে কোনো আইনজীবী বা আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেয়া হয়নি। কোনো পর্যবেক্ষক বা সাংবাদিককেও আদালতে ঢুকতে দেয়নি। এভাবে ১৯৬৬ সালের ১৮ মে পর্যন্ত এ বিচারের নাটক চলতে থাকে। ঐ বছরের ২১ আগস্ট বিচারক নাসেরের সাথে আলোচনা করে রায় ঘোষণা করে। সাঈয়েদ কুতুবসহ ৭ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। ঐ সময়ের মধ্যে সাঈয়েদ কুতুবের ছোট ভাই মোহাম্মদ কুতুব ও বোনসহ আত্মীয় স্বজন অনেককেই হত্যা এবং গ্রেপ্তার করা হয়।
কামাল পাশার তুরস্ক ও এরদোয়ানের আজকে তুরস্ক ইসলামের জন্য জন্য মিলিয়ে দেখুন।এরদোয়ানকে কাফির দুনিয়া সুলতান এরদোয়ান ভাবতে শুরু করেছে। তাঁর এই উত্থানকে কাফির দুনিয়া দেখছে চরম আতঙ্ক ও ভয়ের চোখে।
এরদোয়ানকে নিঃশেষ করতে সমস্ত কাফির দুনিয়া একাট্রা।তাই তারা লেবাশধারী নামকাওয়াস্তে মুসলমানদের ভাড়া করে এরদোয়ানের উপর লেলিয়ে দিয়েছে।তাঁর উপর অপবাদ দেয়া হচ্ছে ইহুদী,খ্রীষ্টানদের দালাল বলে।
আর যারা এরদোয়ানকে ইহুদী খ্রীষ্টানদের দালাল বলছে তাদের উপমা সেই ব্যক্তির মত যে ব্যক্তির আলোচনা পবিত্র কুরআনে বর্ণিত হয়েছে।
আল্লাহ তাআলা কোরআনের ৭ নং সূরা আ’রাফে বলেছেন, ‘তাদেরকে ঐ ব্যক্তির বৃত্তান্ত পড়ে শুনাও, যাকে আমি দিয়েছিলাম নিদর্শন। অতঃপর সে উহাকে বর্জন করে, পরে শয়তান তার পেছনে লাগে, আর সে বিপথগামীদের অন্তর্ভুক্ত হয়। আমি ইচ্ছা করলে এ দ্বারা তাকে উচ্চ মর্যাদা দান করতাম, কিন্তু সে দুনিয়ার প্রতি ঝুঁকে পড়ে ও তার প্রবৃত্তির অনুসরণ করে। তার অবস্থা কুকুরের ন্যায়, উহার ওপর তুমি বোঝা চাপালে সে হাঁপাতে থাকে এবং তুমি বোঝা না চাপালেও হাঁপায়। যে সম্প্রদায় আমার নিদর্শনকে প্রত্যাখ্যান করে তাদের অবস্থাও এই রূপ, তুমি বৃত্তান্ত বিবৃত কর যাতে তারা চিন্তা করে’ (আয়াত: ১৭৫-১৭৬)।

বর্ণিত আয়াত ‘বালআম ইবনে বাউরা’ সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে বলে যারা মত প্রকাশ করেছেন তারা বালআম এর কেচ্ছাটি প্রসঙ্গে বলেন, বালআম ছিল একজন বিজ্ঞ আলেম, সিদ্ধ পুরুষ এবং সাধক। সে আল্লাহর নিদর্শনাবলী ত্যাগ করে শয়তান ও এক নারীর প্ররোচনা ও অর্থের লোভে হজরত মূসা (আ.) এর মোকাবিলায় নিজের ক্ষমতা প্রদর্শন ও অসৎ উদ্দেশ্যাবলী চরিতার্থ করার জন্য প্রস্তুত হয়ে যায়। অবশেষে মূসা (আ.) এর কোনো ক্ষতিই করতে পারে না। বরং নিজের সর্বনাশ ডেকে আনে এবং মরদুদ ও চির অভিশপ্ত হয়। আল্লাহর নিদর্শনাবলীর যে জ্ঞান তাকে দেওয়া হয়েছিল, আল্লাহ চাইলে তা দ্বারা তাকে বহু উচ্চ মর্যাদার অধিকারী করতেন। আর তা তখনই সম্ভব হতো, যদি সে প্রদত্ত জ্ঞান অনুযায়ী চলত এবং আল্লাহপ্রদত্ত নিদর্শনাবলীর অনুসরণ করতে সক্ষম হতো। কিন্তু এমনটি হয়নি, কেননা সে আসমানী অবদান ও নিদর্শনাবলী হতে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে পার্থিব ভোগ বিলাসিতার দিকে ঝুঁকে পড়ে। সে রিফুর তাড়নায় আকৃষ্ট হয়ে শয়তানের অনুসরণ করতে থাকে এবং পথভ্রষ্ট বিপথগামীদের দলভুক্ত হয়ে পড়ে। তখন তার অবস্থা ছিল কুকুরের ন্যায়, যার জিভ বাইরের দিকে ঝুলছে এবং সে সার্বক্ষণিক হাঁপাচ্ছে। যার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে আয়াতের মাধ্যমে।মতিউর রহমান মাদানী এবং তার অনুচরদের চরিত্র বালাউম বাউরার ঘটনার সাথে মিলিয়ে দেখুন।এই কুকুর আর সেই কুকুরের মধ্যে কোন পার্থক্য পান কিনা?

মি’রাজে রাসুল (সাঃ) আল্লাহ তায়ালাকে দেখেছেন কি না???

মি’রাজে রাসুল (সাঃ) আল্লাহ তায়ালাকে দেখেছেন কি না???
রাসুল (সাঃ) বললেনঃ ‘’তিনি (আল্লাহ) নুর, তা আমি কিরুপে দেখবো?” মুসলিম ২৯১-(১৭৮)
রাসুল (সাঃ) মি’রাজে একে একে সাত আসমানের উপর ‘সিদরাতুল মুনতাহা’ পর্যন্ত ঊর্ধ্বগমন করেছিলেন। তিনি আল্লাহ তায়ালাকে দেখেননি। বরং তিনি জিবরীল (আঃ)-কে তাঁর নিজ আকৃতিতে দেখেছিলেন। সুরা নাজম-এর কয়েকটি আয়াত দিয়ে মি’রাজের রাত্রিতে আল্লাহকে দেখার দলীল হিসাবে উপস্থাপন করা সঠিক নয়।
দলীল নঃ ১
মাসরুক (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়িশাহ (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম, আম্মাজান! মুহাম্মাদ (সাঃ) কি তাঁর রবকে দেখেছিলেন? তিনি বললেন, তোমার কথায় আমার গায়ের পশম কাঁটা দিয়ে খাড়া হয়ে গেছে। তিনটি কথা সম্পর্কে তুমি কি জানো না যে তোমাকে এ তিনটি কথা বলবে সে মিথ্যাচারী।
যদি কেউ তোমাকে বলে যে, মুহাম্মাদ (সাঃ) তাঁর প্রতিপালককে দেখেছেন, তাহলে সে মিথ্যাচারী। তারপর তিনি পাঠ করলেন ‘তিনি দৃষ্টির অধিগম্য নন, কিন্তু দৃষ্টিশক্তি তাঁর অধিগত’ (আন’আম ৬/১০৩) ‘মানুষের এমন মর্যাদা নেই যে, আল্লাহ তাঁর সঙ্গে কথা বলবেন, ওয়াহীর মাধ্যম ব্যতীত অথবা পর্দার আড়াল ছাড়া’ (শূরা ৪২/৫১)
আর যে ব্যক্তি তোমাকে বলবে যে, আগামীকাল কী হবে, তা সে জানে, তাহলে সে মিথ্যাচারী। তারপর তিলাওয়াত করলেন ‘কেউ জানে না আগামীকাল সে কী অর্জন করবে’ (লুকমান ৩১/৩৪)
এবং তোমাকে যে বলবে, মুহাম্মাদ (সাঃ) কোন কথা গোপন রেখেছেন, তাহলেও সে মিথ্যাচারী। এরপর তিনি পাঠ করলেন ‘হে রাসুল! তোমার প্রতিপালকের নিকট হতে তোমার প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে, তা প্রচার কর’ (মায়িদাহ ৫/৬৭)। তবে হাঁ, রাসুল (সাঃ) জিবরীল (আঃ)-কে তাঁর নিজস্ব আকৃতিতে দু’বার দেখেছেন” বুখারী ৪৮৫৫
দলীল নঃ ২
মাসরুক (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়িশাহ (রাঃ)-কে আল্লাহর বানী ‘তারপর সে তাঁর নিকটবর্তী হল এবং অতি নিকটবর্তী হল, অবশেষে তাঁদের মধ্যে দুই ধনুকের ব্যবধান রইল অথবা আরও কম’ (নাজম ৫৩/৮-৯) সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম।
আয়িশাহ (রাঃ) বললেন, তিনি ছিলেন জিবরীল (আঃ)। জিবরীল (আঃ) সাধারনত মানুষের আকার নিয়ে রাসুল (সাঃ)-এর নিকট আসতেন। কিন্তু এবার তিনি নিকটে এসেছিলেন তাঁর আসল চেহারা নিয়ে। তখন তিনি আকাশের সম্পূর্ণ দিকচক্রবাল আবৃত করে ফেলেছিলেন’’ বুখারী ৩২৩৫; মুসলিম ২৯০-(…)
দলীল নঃ ৩
মাসরুক (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়িশাহ (রাঃ)-এর মাজলিশে হেলান দিয়ে বসেছিলাম। তখন তিনি বললেন, হে আবু আয়িশাহ! তিনটি কথা এমন, যে এর কোন একটি বলল, সে আল্লাহ সম্পর্কে ভীষণ অপবাদ দিল। আমি জিজ্ঞেস করলাম, সেগুলো কি? তিনি বললেন, যে এ কথা বলে যে, মুহাম্মাদ (সাঃ) তাঁর প্রতিপালককে দেখেছেন, সে আল্লাহর উপর ভীষণ অপবাদ দিল।
রাবী মাসরুক বলেন, আমি তো হেলান অবস্থায় ছিলাম, এবার সোজা হয়ে বসলাম। বললাম, হে উম্মুল মু’মিনীন! থামুন, আমাকে সময় দিন, ব্যস্ত হবেন না। আল্লাহ তায়ালা কি কুরআনে বলেন নাই ‘তিনি তো তাঁকে স্পষ্ট দিগন্তে দেখেছেন’ (তাকভীর ৮১/২৩) এবং ‘নিশ্চয়ই তিনি তাঁকে আরেকবার দেখেছিলেন’ (নাজম ৫৩/১৩)
আয়িশাহ (রাঃ) বললেন, আমিই এ উম্মাতের প্রথম ব্যক্তি, যে রাসুল (সাঃ)-কে এ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছিলাম। তিনি বলেছেন, তিনি তো ছিলেন জিবরীল (আঃ), আর কেবলমাত্র এ দু’বারই আমি তাঁকে তাঁর আসল আকৃতিতে দেখেছি। আমি তাঁকে আসমান থেকে অবতরন করতে দেখেছি। তাঁর বিরাট দেহ ঢেকে ফেলেছিল আসমান ও যমিনের মধ্যবর্তী সব স্থানটুকু।
আয়িশাহ (রাঃ) আরও বললেন, তুমি শোননি? আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, ‘তিনি (আল্লাহ) দৃষ্টির অধিগম্য নন, তবে দৃষ্টিশক্তি তাঁর অধিগত এবং তিনি সূক্ষ্মদর্শী ও সম্যক পরিজ্ঞাত’ (আন’আম ৬/১০৩)
এরুপে তুমি কি শোননি? আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, ‘মানুষের মধ্যে এমন মর্যাদা নেই যে, আল্লাহ তাঁর সাথে কথা বলবেন ওয়াহীর মাধ্যম ব্যাতিরেকে, অথবা পর্দার অন্তরাল ব্যাতিরেকে, অথবা এমন দুত প্রেরন ব্যাতিরেকে যে তাঁর অনুমতিক্রমে তিনি যা চান তা ব্যক্ত করেন, তিনি সমুন্নত, প্রজ্ঞাময়’ (শূরা ৪২/৫১)
আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, আর ঐ ব্যাক্তিও আল্লাহর উপর ভীষণ অপবাদ দেয়, যে এমন কথা বলে যে, রাসুল (সাঃ) আল্লাহর কিতাবের কোন কথা গোপন রেখেছেন। কেননা আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘হে রাসুল! আপনার প্রতিপালকের নিকট হতে যা অবতীর্ণ হয়েছে তা প্রচার করুন, যদি তা না করেন তবে আপনি তাঁর বার্তা প্রচারই করলেন না’ (মায়িদাহ ৫/৬৭)
আয়িশাহ (রাঃ) আরও বলেন, যে ব্যাক্তি এ কথা বলে যে, রাসুল (সাঃ) ওয়াহী ব্যাতিত আগামীকাল কি হবে তা অবহিত করতে পারেন, সেও আল্লাহর প্রতি ভীষণ অপবাদ দেয়। কেননা আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘বল- আসমান ও যমিনে আল্লাহ ব্যাতিত গায়েব সম্পর্কে কেউ জানে না’ (নামল ২৭/৬৫) মুসলিম ২৮৭-(১৭৭)
দলীল নঃ ৪
আয়িশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি মনে করবে যে, মুহাম্মাদ (সাঃ) তাঁর রবকে দেখেছেন, সে মহা ভুল করবে। বরং তিনি জিবরীল (আঃ)-কে আসল আকার ও চেহারায় দেখেছেন। তিনি আকাশের দিকচক্রবাল জুড়ে অবস্থান করছিলেন’’ বুখারী ৩২৩৪
পবিত্র কুরআনে উল্লেখিত মহান আল্লাহ তায়ালার বানীঃ ”অবশেষে তাঁদের মধ্যে দুই ধনুকের দূরত্ব রইল অথবা আরও কম, তখন আল্লাহ স্বীয় বান্দার প্রতি যা ওয়াহী করার ছিল, তা ওয়াহী করলেন’ নাজম ৫৩/৯-১০
অত্র আয়াতের তাফসীরে ইমাম বুখারী (রহঃ) তাঁর সহীহ বুখারীতে দুটি হাদীস নিয়ে এসেছেনঃ
দলীল নঃ ৫
আব্দুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। উল্লেখিত আয়াতের ব্যাখ্যা সম্পর্কে ইবন মাস’উদ (রাঃ) বলেন, রাসুল (সাঃ) জিবরীল (আঃ)-কে দেখেছেন। তাঁর ছয়শত ডানা ছিল’’ বুখারী ৪৮৫৬
দলীল নঃ ৬
শাইবানী (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলে আমি যিরর (রহঃ)-কে (উল্লেখিত) আল্লাহর বানীর ব্যাখ্যা জিজ্ঞেস করলে, তিনি বললেন, আমাকে আব্দুল্লাহ (রাঃ) বলেছেন, মুহাম্মাদ (সাঃ) জিবরীল (আঃ)-কে দেখেছেন। এ সময় তাঁর ছয়শত ডানা ছিল’’ বুখারী ৩২৩২, ৪৮৫৭; মুসলিম ২৮০-(১৭৪)
দলীল নঃ ৭
আব্দুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। ‘তিনি যা দেখেছেন, তাঁর অন্তকরন তা অস্বীকার করে নাই’ (নাজম ৫৩/১১) আয়াতটি তিলাওয়াত করলেন এবং এর ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে বললেন, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) জিবরীল (আঃ)-কে দেখেছিলেন। তাঁর ছয়শত ডানা আছে’’ মুসলিম ২৮১-(…)
দলীল নঃ ৮
আব্দুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। ‘তিনি তাঁর প্রতিপালকের মহান নিদর্শনাবলী দেখেছিলেন’ (নাজম ৫৩/১৮) তিলাওয়াত করলেন এবং ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে বললেন, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) জিবরীল (আঃ)-কে তাঁর নিজ আকৃতিতে দেখেছিলেন, তাঁর ছয়শত ডানা আছে’’ মুসলিম ২৮২-(…)
দলীল নঃ ৯
আবু হুরায়রাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। ‘নিশ্চয়ই তিনি তাকে আরেকবার দেখেছিলেন’ (নাজম ৫৩/১৩) আয়াতের ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে বলেছেন, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) জিবরীল (আঃ)-কে দেখেছিলেন’’ মুসলিম ২৮৩-(১৭৫)
সহীহ মুসলিমের এর ৭৮ ন; অধ্যায় ‘রাসুল (সাঃ)-এর বানীঃ ‘তা ছিল উজ্জ্বল জ্যোতি, আমি তা দেখেছি। অন্য বর্ণনায়ঃ ‘আমি উজ্জ্বল জ্যোতি দেখেছি’ এই অধ্যায়ে দু’টি হাদীস রয়েছেঃ
দলীল নঃ ১০
আবু যার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসুল (সাঃ)-কে জিজ্ঞেস করেছি, আপনি কি আপনার প্রতিপালককে দেখেছেন? রাসুল (সাঃ) বললেনঃ ‘’তিনি (আল্লাহ) নুর, তা আমি কিরুপে দেখবো?” মুসলিম ২৯১-(১৭৮)
দলীল নঃ ১১
আবদুল্লাহ ইবন শাকীক (রহঃ) বলেন, আমি আবু যার (রাঃ)-কে বললাম, যদি রাসুল (সাঃ)-এর দেখা পেতাম তবে তাঁকে অবশ্যই একটি কথা জিজ্ঞেস করতাম। আবু যার (রাঃ) বললেন, কি জিজ্ঞেস করতে? তিনি বলেন, আমি জিজ্ঞেস করতাম যে, আপনি কি আপনার প্রতিপালককে দেখেছেন? আবু যার (রাঃ) বললেন, এ কথা তো আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, তিনি বলেছেনঃ ‘আমি নুর দেখেছি’ মুসলিম ২৯২-(…)
দলীল নঃ ১২
আবু মুসা (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসুল (সাঃ) বলেনঃ ‘’তিনি (আল্লাহ) নুরের পর্দায় আচ্ছাদিত। যদি সে আবরন খুলে দেয়া হয়, তবে তাঁর নুরের আলোকচ্ছটা সৃষ্টিজগতের দৃশ্যমান সবকিছু ভস্ম করে দিবে’’ মুসলিম ২৯৩-(১৭৯)
শেষ কথাঃ উপরোক্ত দলীল-প্রমানের আলোকে সুস্পষ্টভাবে বলা যায় যে, ‘মি’রাজের রাত্রিতে রাসুল (সাঃ) আল্লাহকে দেখেছেন’ এই বক্তব্য সঠিক নয়। এছাড়াও সুরা নাজমের উল্লেখিত আয়াতসমুহের ব্যাখ্যা সম্পর্কে ইমাম তাবারী, ইমাম ইবন কাসীর, কুরতুবী, আবু হাইয়ান, ইমাম রাযী, ইবন হাজার আসকালানী, ইমাম নববী, ইমাম বুখারী, ইমাম মুসলিম, ইমাম তাইমিয়া, ইবনুল কাইয়িম প্রমুখ বিদ্বানগণ এই মতকেই প্রাধান্য দিয়েছেন যে, অত্র আয়াত সমুহে আল্লাহ তায়ালাকে দেখার কথা বলা হয়নি, বরং এখানে জিবরীল (আঃ)-কে নিজ আকৃতিতে দেখার কথা বলা হয়েছে।এছাড়া ‘তাফসীর মা’আরেফুল কুরআনে’ মুফতী মুহাম্মাদ শফিও এই মত সমর্থন করেছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেছেন মাওলানা আশরাফ আলী থানভীও এই তাফসীর অবলম্বন করেছেন। (আল্লাহ ভাল জানেন)
সুত্রঃ
১) তাফসীর, ইবন কাসীর।
২) তাফসীর, আবু বকর যাকারিয়া।
৩) তাফসীর, আহসানুল বায়ান, হাফিয সালাহুদ্দিন ইউসুফ।
৪) মা’আরেফুল কুরআন, মুফতী শফি।
৫) তাফহীমুল কুরআন, সাইয়েদ আবুল আলা মওদুদি।
৬) যাদুল মাআদ, ইবনুল কাইয়িম।

বাচ্চাদের মারধর করলে তাদের মানসিক বিকাশের অবনতি ঘটে

বাচ্চাদের মারধর করলে তাদের মানসিক বিকাশের অবনতি ঘটে
ন্তানকে মানুষ করা একটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং অবশ্যই কঠিন কর্তব্য। সবসময় মা বাবারা চান তাদের ছেলে মেয়ে জীবনে সবার থেকে বেশি উন্নতি করুক এবং তাদের বাচ্চা যেন সবার থেকে আগে থাকে। এই চাওয়াতে কোনো ভুল নেই। কিন্তু এই প্রতিযোগিতামূলক চিন্তা ভাবনার জন্য প্রায়শই বাচ্চারা ভুল করলে তাদের মারধর করা হয়।

একটি বাচ্চা কে বেল্ট দিয়ে মারা

এই ব্যবহারটি ভুল। অত্যাধিক বকা ঝকা বা মারধর কিন্তু বাচ্চাদের মানসিক বিকাশের প্রচন্ড অবনতি ঘটায়। আজ আমরা এই বাচ্চাদের বকা এবং তাদের মানষিক বিকাশের অবনতি নিয়েই আলোচনা করব।
শিশু মনের অবনতি

গত ১০-২০ বছরের মধ্যে অনেক গবেষণা করা হয়েছে শিশু মনোবিজ্ঞান নিয়ে। এই গবেষণা এবং পরীক্ষার ফল স্বরূপ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্যও জানা গিয়েছে। বাচ্চাদের মারধর করা কিন্তু তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের উপর প্রচন্ড চাপ ফেলে। এখনকার দিনের বাচ্চারা অনেক বুদ্ধিমান। তারা বাবা মায়ের হাতে মার খাওয়া একদমই ভালো চোখে নেয় না। বেশি শাসন তাদের বাবা মায়ের থেকে দুরে সরিয়ে দেয়।

বাচ্চারা ভুল করলে অবশ্যই মা বাবারা বাচ্চাদের ঠিক পথে নিয়ে আসবেন কিন্তু মারধর করে ঠিক পথে নিয়ে আসা একদম কাম্য না। তাদের ঠিক পথে নিয়ে আসতে হলে তাদের ভালো করে বোঝানো দরকার যে সে যেটা করছে কেন সেটা ঠিক পদ্ধতি কিনা।

আপনার সন্তানের সাথে কথা বলুন
বাচ্চাদের ভালো ভাবে বোঝান না মেরে

ভুল করলে তাদের মারধর না করে তাদের ভুল থেকেই শিক্ষা দেওয়া উচিত।বাচ্চাদের ভালো এবং খারাপের মধ্যে পার্থক্য শেখানো উচিত। তারপর তাদের নিজেকে নির্ণয় করতে দেওয়া উচিত যে তারা কোন পথ বেছে নিতে চায়। কিন্তু সবসময় যদি বাবা মায়ের ইচ্ছাগুলি বকাবকি করে চাপিয়ে দেওয়া হয় তাহলে বাচ্চারা নিজেদের নির্ণয় করার গুরুত্ব বুঝবে না।বাচ্চাদের নিজেদের নির্ণয় নেওয়া শেখানো উচিত। যাতে তারা ছোট জিনিসের নির্ণয় করে আস্তে আস্তে ভালো এবং খারাপের মধ্যে পার্থক্যটি বোঝে।
ব্রেনে প্রভাব

বাচ্চাদের ব্রেন পুরোপুরি বিকশিত নাহলেও তারা কিন্তু তাদের মা বাবার স্নেহ বুঝতে পারে। আজকালকার ব্যাস্ত জীবনে অনেকেই বাচ্চাদের একা ছেড়ে দিয়ে কাজে চলে যান। এইভাবে বাচ্চারা একাকিত্বে ভোগে। তার ফলে বাচ্চারা ক্ষিপ্ত এবং ঘ্যান ঘ্যানে হয়ে ওঠে।
একাকীত্ব

চাকরিতে কঠিন পরিশ্রমের পর বাড়ি আসার পর বাচ্চারা জেদ করলে তাদের খুব বকাঝকা করেন অভিভাবকরা। ছোট বাচ্চাদের সময় দেওয়া কিন্তু খুবই জরুরি। বাচ্চারা একাকিত্বে ভুগলে তাদের মধ্যে একটা ধারণা আসে যে তাদের মা বাবা তাদের সাথে নেই এবং তাদের সব কিছু একাই করতে হবে।

একটি শিশু একাকিত্বে ভুগছে

তারপর বাবা মা রা বাড়ি আসার পরও যদি তাদের মার খেতে হয় তাহলে তারা আরো একা হয়ে যায়। এই পরিস্থিতি যাতে না আসে সেইজন্য অবশ্যই প্রয়োজন যে বাবা মা রা যেন তাদের বাচ্চাদের সাথে যতটা পারা যায় সময় কাটায়।
আত্মবিশ্বাস হারায়

মা বাবারা অনেক সময় তাদের নৈরাশা তাদের বাচ্চাদের উপর চিৎকার করে বের করেন। এর ফলে কিন্তু বাচ্চাদের মানসিক বিকাশের অবনতি ঘটে এবং বাচ্চারা তাদের মা বাবাকে ভয় পেতে শুরু করে। বাচ্চারা নিজেদের আত্ববিশ্বাস এবং আস্থাও হারায়। তারা আস্তে আস্তে নিজেদের মধ্যেই গুটিয়ে যায়।

একটি শিশু একা বসে আছে

এই আচরণ তাদের মানষিক ভাবে দুর্বল করে তোলে এবং বড় হয়ে উঠলে তারা কারোর উপর বিশ্বাস করতে ব্যার্থ হয়।

বাচ্চারা কোনো ভুল করলে তাদের শাস্তি দেওয়া দরকার কিন্তু সেই শাস্তি কিন্তু কোনো দিনই মারধর হতে পারে না। তাদের ছোট কোনো শাস্তি যা নিজেদের ভুল ঠিক করে নিতে শেখাবে বা অন্যদের উপকার করার মতো কাজ দিতে হবে যাতে তারা নিজেদের ভুল থেকে শেখে। বাচ্চারা তাদের মা বাবার কাছ থেকেই শেখে তাই বাচ্চাদের কিছু বলার আগে অভিভাবকদের সেটা মেনে চলতে হবে এবং তারপর শান্তিতে ভালো করে বাচ্চাদের তাদের ভুলটি বোঝাতে হবে। এইভাবে আমরা বাচ্চাদের মানুষ করলে বাচ্চাদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস বাড়বে, তারা বাবা মাকে ভালোবাসতে এবং বিশ্বাস করতে শিখবে, ঠিক নির্ণয় করতে শিখবে এবং এইভাবে তাদের মানষিক বিকাশের উন্নতি ঘটবে।

মি-টু আন্দোলন আসলে কাদের জন্য ?

মি-টু আন্দোলন আসলে কাদের জন্য ?

গত কয়েক বছর একটা আন্দোলনের নাম শোনা যাচ্ছে, যার নাম ‘মি-টু’। হ্যাশট্যাগের মাধ্যমে এই আন্দোলনটি সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখা যায়। ‘মি-টু’ মানে ‘আমিও কোনভাবে যৌন হয়রানির শিকার হয়েছি’ এই অভিজ্ঞতা সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করা। মি-টু মুভমেন্টের সূচনাকারী হিসেবে ধরা হয় ‘তারানা বুরকি’ নামক এক মার্কিন কৃষ্ণাঙ্গ মহিলাকে। ছোট বেলা থেকেই এই মহিলাটি বিভিন্ন পুরুষের দ্বারা নির্যাতিত হয়ে আসছিলো। ‘তারানা বুরকি’ প্রথম এ আন্দোলনের ধারণা দেয় এবং একটি প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণ করে। সেই ধারাবাহিকতায় হলিউড অভিনেত্রী অ্যালিসা মিলানো ইহুদী প্রযোজক হার্ভে ওয়েনস্টেইনের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে সোস্যাল মিডিয়ায় ‘মি টু’হ্যাশট্যাগ দিয়ে আন্দোলনের সূত্রপাত করে। এরপর একে একে মুখ খুলতে থাকে হলিউডের অনেকে। এরপর থেকে স্যোশাল মিডিয়ায় অনেক হোমরা চোমরার নামে অনেক ঘটনা বের হয়ে আসতে থাকে। ফুটবলার ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডো, বলিউডের অমিতাভ বচ্চন কিংবা বাংলাদেশের নাট্যকার সেলিম আদ দ্বীনের নাম ও বের হয়। এই লিঙ্কে- https://bit.ly/2ShQpEf ঢুকলে প্রায় ২৫২ জন পশ্চিমা সেলিব্রেটির নাম পাবেন, যারা মিটু’র পর নারী যৌন হয়রানীর দায়ে অভিযুক্ত হয়েছে।

আন্তর্জাতিক রাজনীতির ক্লাস নেয়ার সময়, একটা কথা আপনাদের বলেছিলাম, কোন ঘটনা দেখলে আগে বুঝতে চেষ্টা করবেন,
-কে ঘটনা ঘটাচ্ছে এবং
-সে ঘটনার দ্বারা কার উপকার হচ্ছে ?
তাহলে মি-টু আন্দোলন কে করছে এবং তার দ্বারা কে উপকৃত হচ্ছে ?
আমি এখন পর্যন্ত এনালিস্ট ক্লাস নিয়েছি মাত্র ২টি, কিন্তু মি-টু আন্দোলন আসলে কারা ঘটাচ্ছে এবং কি উদ্দেশ্যে ঘটাচ্ছে, এটা যদি আপনাদের বুঝাতে চাই, তবে আমাকে এনালিস্ট ক্লাস ৫ বা ৬ এর দিকে যেতে হবে। তবে সংক্ষেপে যদি বলি, তবে বলতে হবে, ইহুদীরা ভর করেছে আমেরিকার উপর। তাই আমেরিকা নিজে হয়ে গেছে ইহুদীবাদী। এই ইহুদীবাদীদের নিজেদের মধ্যে আবার দ্বন্দ্ব আছে, গ্রুপ গ্রুপ আছে। মার্কিনীদের মধ্যে এই দুইভাগ ‘ডেমোক্র্যাট’ এবং ‘রিপাবলিকান’ দুইনামে ও দুই দলে চলে। সারা বিশ্বজুড়ে মার্কিনপন্থীরাও এই দুই নেটওয়ার্ক মেইনটেইন করে চলে। মি-টু আন্দোলনটা ছিলো বেসিক্যালি একটা রাজনৈতিক আন্দোলন, দুই দলের মধ্যে দ্বন্দ্ব, একদল অন্যদলকে ফাঁসানোর জন্য, এটা ছিলো তাদের রিয়েলফেস, আর আর্টিফিসিয়াল ফেস ছিলো ‘নারী নিপীড়ন’।

মি-টু’ আন্দোলন দিয়ে যেটা হবে, অনেক কথিত সেলিব্রেটির গোমর ফাঁস হবে। এটা একটা রাজনৈতিক বিষয়, যেহেতু আমি রাজনীতি করি না, সুতরাং এটা নিয়ে কথা বলারও আমার প্রয়োজন নেই। কিন্তু আমি কথা বলবো, তখন যখন কেউ কেউ মনে করবে, মিটু আন্দোলনের মাধ্যমে সমাজে একটা পরিবর্তন ঘটনো বা সমাজে নারী নির্যাতন কমানো সম্ভব, তখন।

আমার এ লেখার হেডিং ছিলো, “মি-টু আন্দোলন আসলে কাদের জন্য ?”
সে আলোচনা যদি করি, তবে বলতে হবে, জঙ্গল আর জনপদে কিন্তু এক আইন চলে না।
মিটু হচ্ছে জঙ্গলের আন্দোলন। মিটু, মাধ্যমে যারা নিপীড়নকারী ও অভিযোগকারী উভয় হলো পোষাক-আষাক ও চলাফেরায় বন-জঙ্গলের মত স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। হলিউড-বলিউড কিংবা বাংলাদেশের নাট্য-সিনেমা কিংবা মডেল পাড়ার আইন তো আমি-আপনি বুঝবো না। সানি লিওন কখন অভিনয় করলো আর কখন ধর্ষিত হইলো, এটা আমার আপনার পক্ষে অনুধাবন সম্ভব না, এটা সানি লিওন আর তার সমগোত্রীয়দের উপর ছেড়ে দেন।এবং তাদেরকেই মিটু আন্দোলন করতে বলেন, সাধারণ মানুষকে না।

এবার আসুন,
সাধারণ মেয়েরা মিটু মুভমেন্টের লেজ ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের যৌন নির্যাতনের অভিজ্ঞতা শেয়ার করলে সমাজ উপকৃত হবে কি না ?
এ প্রশ্নটা একটু ক্রিটিকাল। এর কয়েকটা উত্তর হতে পারে:

১) কোর্টে দেখেছিলাম, নারী নির্যাতন ট্রাইবুনালে সাধারণ মানুষ এমনকি সংশ্লিষ্ট উকিল ছাড়া অন্যদের ঢুকতে দেয় না। অনেক সময় বাদীনীকে বিচারক ভেতরে নিয়ে জবানবন্দি নেয়। এর পেছনে অনেক কারণ থাকতে পারে, তবে আমার মনে হয়েছে নারী নির্যাতনের ঘটনা প্রচারের একদিকে পজিটিভ দিকের সাথে সাতে নেগেটিভ দিকও আছে। এর মাধ্যমে অনেকের মনের ভেতরে গোপন আকাঙ্খা জাগ্রত হতে পারে এবং সুযোগ বুঝে কাজে লাগাতে পারে। মুভিতে ধর্ষণের ভিডিও ধর্ষণ হ্রাসের তুলনায় ধর্ষণ বৃদ্ধি করে বলে মনে হয়। এই সব অভিযোগ দাখিলের জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে গোপন সেল থাকুক, সেখান থেকে রাষ্ট্রীয়ভাবে অপরাধীর বিচার করা হোক, কিন্তু স্যোশাল মিডিয়ায় এসব উন্মুক্ত আলোচনার পজিটিভ থেকে নেগেটিভ ইমপ্যাক্ট বেশি।

২) পুরুষটা দোষী হলে তো ঠিক আছে। কিন্তু যদি মহিলাটি পুরুষটিকে ফাঁসানোর জন্য করে, তখন ? ফেসবুক ওপেন মাধ্যমে, তখন যেখা যাবে, অনেক মহিলা বিভিন্ন উদ্দেশ্য নিয়ে অসংখ্য পুরুষকে ফাঁসিয়ে দিচ্ছে। ঐ পুরুষটি এবং তার পরিবারবর্গকে তখন সমাজে নিগৃহিত হতে হবে, এর দায় কে নিবে ? আপনাদের মনে থাকার কথা, কিছুদিন আগে বাংলাদেশের সিআইএপন্থী ডা. জাফরুল্লাহ’র একটা ফোনালাপ ফাঁস হয়েছিলো। সেখানে ছাত্রীদের ব্যবহার করে প্রতিপক্ষে নারী নির্যাতন মামলা দেয়ার কথা বলেছিলো। (https://bit.ly/2AxcKq9)

৩) মিটু’তে সাধারণ মহিলাদের মধ্যে উস্কাচ্ছে নারীবাদীরা। এজন্য ফেসবুকে কিছু ফেইক্ আইডিকে তারা ব্যবহার করছে। এক্ষেত্রে বলতে হয়, ইহুদীবাদীরা নারীবাদ সৃষ্টি করেছে পুরুষ-মহিলার মধ্যে বিভেদ বাড়িয়ে সমাজে অরাজকতা সৃষ্টির জন্য। কাজী নজরুল ইসলাম বলেছিলেন, “বিশ্বে যা কিছু মহান সৃষ্টি চিরকল্যাণকর, অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর।” নারী ছাড়া যেমন পুরুষ নয়, তেমনি পুরুষ ছাড়া নারী নয়। কিন্তু সমাজের এই ভারসাম্য ইহুদীরা নষ্ট করে দিতে পুরুষের বিরুদ্ধে নারীদের উস্কে দেয়, বিভেদ সৃষ্টি করে। এতে সমাজে নারী-পুরুষের মধ্যে একটা হিংসাত্মক সম্পর্ক তৈরী হতে পারে। নারীর বিরুদ্ধে পুরুষ বিষেদগার হবে, পুরুষের বিরুদ্ধে নারী বিষেদগার করবে। যেহেতু নারী শারীরিকভাবে অপেক্ষকৃত দুর্বল, তাই এই হিংসা-হিংসীর আলটিমেট এফেক্ট পড়বে নারীর উপর, মানে সমাজে নারী নির্যাতন আরো বেড়ে যাবে।

৪) মিটু’র পরের ধাপ হলো ‘বৈবাহিক ধর্ষণ টার্মটি। দেখা যাবে, বিষয়টি স্বাভাবিক হওয়ার পর কোন কোন স্ত্রী তার স্বামীর বিরুদ্ধে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিবে, তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে স্বামী ইয়ে করেছে। ব্যস ইহুদীবাদীদের উদ্দেশ্য পাক্কা। অর্থাৎ তখন দুইজনের সম্মতি প্রধান (লিভটুগেদার) হয়ে যাবে, বিয়ে নামক কোন সামাজিক চূক্তি নয়।

এখন কথা হলো, মিটু না থাকলে সমাজে নারী নির্যাতন কমবে কিভাবে ?
আহহা ! মিটু দিয়ে যে সমাজে নারী নির্যাতন কমবে, এটা আপনি বিশ্বাস করলেন কেন?
আমি আমার লেখার মধ্যে কিন্তু বলেছি, জঙ্গলের নিয়ম আর জনপদের নিয়ম এক নয়। জঙ্গলে তারা মিটু চালু করেছে করুক, কিন্তু আমরা যারা স্বাভাবিক সমাজে বাস করি, তাদের জনপদের নিয়ম খুজতে হবে।
আর সেটা তো আছেই, যার যার ধর্মীয় নিয়ম অনুসরণ করুন, ধর্মীয় নিয়ম মেনে পোষাক পরিচ্ছদ পড়ুন। নারী-পুরুষ আলাদা বাস-ট্রেন-যাতায়াত ব্যবস্থা, শপিং সেন্টার, স্কুল-কলেজ ভার্সিটি এমনকি হাসপাতাল করে দিন। নারী-পুরুষকে সঠিক সময়ে বিয়ে দিন। মিডিয়ায় উলঙ্গপনা বন্ধ করুন। দেখুন নারী নির্যাতন শূণ্যের কোঠায় নেমে আসবে।

আমি জানি, এ কথা শুনে অনেকের মধ্যে ‘নারী স্বাধীনতার শ্লোগান দিয়ে চুলকানি হতে পারে, দয়া করে চুলকানি থামান দাদা । নিজের মুখে ভালো করে ছাই মাখুন। হলিউডের নারীরা তো কম স্বাধীনতা ভোগ করে না, তাহলে তারা কেন এত নির্যাতিত হচ্ছে ? কেন তাদের মিটুর আশ্রয় নিতে হচ্ছে ? তাই জঙ্গলে মিটু পালন করুন, জনপদে নয়।

বাংলাদেশ এর মানুষ কেনো পাকিস্তান কে সাপোর্ট করে…

আসুন জেনে নিই বাংলাদেশ এর মানুষ কেনো পাকিস্তান কে সাপোর্ট করে…
১৯৭১ সালে পাকিস্তানিরা বাংলাদেশ এর মানুষ কে মেরেছিলো এখন প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম বদলেছে ।আপনি এখন যদি কোন বাংলাদেশী মানুষকে প্রশ্ন করেন আপনি পাকিস্তান কে ভালবাসেন ? তখন সেই মানুষটির উত্তর আসবে না । সে আপনাকে উল্টো প্রশ্ন করবে কেন বলুনতো?? কিন্তু যখন তাকেই যখন প্রশ্ন করবেন আপনি ভারত বা পাকিস্তান কাকে ভালবাসেন, তখন বাংলার ৮০ ভাগ লোকের উত্তর আসবে পাকিস্তান….সুতরাং শুধুমাত্র ভারত নামটা আসলেই বাংলাদেশীরা পাকিস্তান কে সাপোর্ট করে এখন কথা হচ্ছে এমনটা কেনো …..
আসুন টপিক ধরতে চেষ্টা করি ।
= যুদ্ধ শেষে ২৭০০ কোটি টাকার অস্ত্র-সরঞ্জাম লুট করেছিলো ভারতীয় সেনাবাহিনী? ( অমৃতবাজার দৈনিক-১২ মে ১৯৭৪)
=৭৪ সালের চুক্তি সত্বেও ভারত তিন বিঘা
করিডোর হস্তান্তর করেনি বাংলাদেশকে !
= ভাই ৭৫ থেকে বাংলাদেশকে পানির নায্য
হিস্যা দেয়নি। পদ্মা শুকিয়ে আজ বাথরুমের টাংকি !
বছরে ২০০ কোটি টাকার ফসল উৎপাদন বন্ধ !
= ভাই, খড়া মৌসুমে তারা বাধ দিয়ে পানি আটকে
রাখে, আর ভরা মৌসুমে বাধ ছেড়ে দিয়ে বাংলাদেশকে
ভাসিয়ে দেয়!
= শুল্ক জটিলতা সৃষ্টিকরে প্রায় ২০ হাজার কোটি
টাকার বানিজ্য ঘাটতি তৈরী করেছে !
=প্রতিবাদের পরেও টিপাইমুখে বাধ দিচ্ছে!
সিলেটের জেলাগুলো মরুভূমি হয়ে যাবে !
= হিন্দি চ্যানেল প্রচার করতে ৩০০০থেকে
৪৫০০ কোটি টাকা ভারতকে দেয়া হয়। কিন্তু
বাংলাদেশী চ্যানেল ভারতে নট অ্যালাউড!
= ভাই, গত ৪৪ বছরে ৬১হাজার বাঙ্গালীকে
সীমান্তে হত্যা করেছে !!
=আমাদের বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবন! সেই
সুন্দরবনকে ধ্বংসের জন্য তারা উঠেপড়ে লেগেছে!
= আপনার গর্বের জায়গা ‘ক্রিকেট’ নিয়েও
ষড়যন্ত্র শুরু করেছে, কেমন ছোটলোক!
= আশ্চর্য ভাই, সাংস্কৃতিক আগ্রাসন, অভ্যন্তরীণ
রাজনীতিতে নির্লজ্জ হস্তক্ষেপ, মাথার উপর দাদাগিরি
সহ নানাভাবে বাংলাদেশ আজ ধর্ষিত ভারতের কাছে !
= এই যে আমাদের গর্বের সেনাবাহিনী, তাদেরকে
নিয়েও তারা কত ষড়যন্ত্র করছে, বিডিআর বিদ্রোহ
থেকে আরো কত কী!
= যুদ্ধ করেছে হাজার হাজার বাংলাদেশী মুক্তিযোদ্ধা কিন্তু আজও ভারতীয়রা বলে আসছে তারা ১৯৭১ সালে যুদ্ধ করেছে এবং বাংলাদেশ কে স্বাধীন করে দিয়েছে
= ভারত ৪২ বছর ধরে স্বাধীনতায় সহযোগিতার
নামে বাংলাদেশ শোষণ করছে !
=ফেলানিকে মনে হয় ভুলে গেছেন আপনারা??
=এই তো কয়দিন আগে বাংলাদেশী
জার্নালিস্টদের বলেছে…
”বাংলাদেশী পাসপোর্ট? নট এলাউড! কিউ কি আপ বাংলাদেশকা সিটিজেন হ্যায় !”
একরকম গলা ধাক্কাদিয়ে হোটেল থেকে বের করে
দিয়েছে আপনার বন্ধুরা!
= বাংলাদেশ মিয়ানমার এর মধ্যে রোহিঙ্গা টপিক নিয়ে ভারত সরাসরি মিয়ানমার কে সাপোর্ট করেছিলো
কিছু ছাগল আছে,ভারতের বিরুদ্ধে কিছু বললেই এরা রাজাকার আখ্যা দিয়ে পাকিস্তান চলে যেতে বলে,,ওরা ভুলে যায় যে,আমি সত্য কথা বলছি আর সে নিজেই ভারতের দালালী করছে,,ভারতের দালাল।
ভারত বিরোধিতা-ই হোক দেশপ্রেম
পরিশেষে বলতে চাই ভারত পাকিস্তান প্রশ্নে পাকিস্তানের প্রতি আমার পূর্ন সমর্থন রইল!

কিছু প্রশ্ন???

কিছু প্রশ্ন???

ফেসবুকে রহমতের কিছু ফেরেশতার আনাগোনা দেখছি যারা ওবায়দুল কাদেরকে নিয়ে যারা ট্রল করছে তাদেরকে অমানুষ, পশু আরও কতো কিছু বলে গালি দিচ্ছে! ঐসব মানুষরুপী ফেরেশতাদের উদ্দেশ্যে আমার কিছু প্রশ্ন৷
#আপনারা কি জানেন এই কদিন আগেও কেন্দ্রীয় কারাগার তার বুকে ধারন ক্ষমতার ১৮ গুণ বেশি কয়েদীদের জায়গা দিয়েছিলো?
#জানেন এই ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনের আগে-পরে কতো মাস ধরে লাখ লাখ মানুষ তাদের ঘরে ঘুমাতে পারেনি?
#কখনও কি আদালত চত্বরে গিয়ে দেখেছেন গাঁয়ের মাঠে হাল চাষ করে পা ফাঁটা মানুষগুলির নাশকতার মামলায় জামিন নিতে আসার দীর্ঘ লাইন?
#জানেন কি ক্ষিলগাঁয়ের ছাত্রদল নেতা জনির নিথর বুকে ১৯টা, এক দশ নয়, উনিশটা গুলির চিহ্ন দেখতে তার মায়ের কেমন লেগেছিলো ?
#খবর রাখেন ৭০ লাখ টাকায় বানানো ব্রীজে রডের বদলে বাঁশ দেয়ার প্রতিবাদ করায় মানিকগঞ্জের বৃদ্ধকে কিভাবে পেটানো হয়েছিলো?
#খবরের কাগজের শিরোনামের সেই খবরটা কি জানা আছে আপনার? যেদিন কোটা বিরোধী আন্দোলনের এক শিক্ষার্থীকে হাতুড়পেটা করা হয়েছিলো!
#হিসেব রেখেছেন ডেসটিনি ৪৫ লাখ গ্রাহকের টাকা কই গেলো? ডেসটিনির একেবারে কিছুই ছিলো না তা তো না৷ যা ছিলো সেগুলো গ্রাহকদের ভাগ করেও দেয়া হয়নি তাহলে ডেসটিনির টাকাগুলো কই?
#শেয়ার মার্কেটে কতো লাখ মানুষ নিঃস্ব হয়েছিলো তার হিসেব কি আছে?
#কখনও কি জানার চেষ্টা করেছেন গত ১০ বছরে ইলিয়াস আলী, চৌধুরী আলমের মতো প্রায় ৫ হাজার ৭শ পরিবারের মানুষগুলো কলিং বেলের শব্দ শুনলেই গুম হয়ে যাওয়া মানুষটা ফিরে এসেছে মনে করে কিনা?
#জানা উচিৎ যে দেশের হাজার হাজার কোটি টাকা গায়েব হয়ে যায় সেই দেশে ২ কোটি টাকা অনিয়মের মামলায় একজন ৭০/৮০ বছরের বৃদ্ধা মহিলাকে পরিত্যক্ত ঘরে আটকে রাখা হয়েছে ১ বছর ধরে৷ যিনি তিনবারের প্রধানমন্ত্রী, শেখ হাসিনার মতোই যাকে বাংলাদেশের ৪০ থেকে ৬০ ভাগ মানুষ জীবন দিয়ে ভালোবাসে৷
#শুনতে পান কি কক্সবাজারের একরামের সন্তানদের সেই বুক ফাটা আর্তনাদ? ” বাবা তুমি কানতেছো যে!”
#কেমন লাগবে আপনার মা বা বোনকে স্বামী-সন্তানদের বেঁধে সারা রাত কিছু কুকুর কামড়াতে থাকলে?
এভাবেই সূবর্নচরের চার সন্তানের মা থেকে সেই কারাগারে আটক হাজার-হাজার মানুষের অভিশপ্ত প্রতিপক্ষ হিসেবে রুপ নিয়েছে বর্তমান সরকার৷ বিপদ আরও আছে সামনে৷ বিশেষ করে কাদের- হাসান মাহমুদের মতো অতিকথক মিথ্যুকদের জন্যে সেটা প্রকট আকার ধারন করবে৷ জিল্লুর রহমান মারা যাবার পর একজন খারাপ বিএনপির কর্মীও কি বাজে উক্তি করেছিলো? কখনই না৷
কিন্তু এইযে মাত্র দুদিন আগে খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে যিনি নোংড়া ভাষায় বক্তব্য দিলেন তিনার অসুস্থার খবরে মানুষ ভদ্র মন্তব্য করবেন এটা কি আশা করা যায়? কে জানে খালেদা জিয়া পিজি থেকে বের হয়ে নিজের পছন্দের ইউনাইটেডে যেতে পারেনি যেই কাদের সাহেবের কারনে সেই কাদেরকে আল্লাহই বাধ্য করেছেন কিনা পিজি হাসপাতালে পড়ে থাকতে!!!
অতএব যারা ট্রলকারীদের তীব্র ভাষায় সমালোচনা করছেন তাদেরকে বলতে চাই মানবতা দেখালে নিরোপেক্ষভাবে দেখানে উচিৎ৷ আসুন কাদের সাহেবের সুস্থতা কামনা করি খালেদা জিয়ার চিকিৎসার ব্যবস্থা করি, মৃত্যুর পর গালি শুনতে না চাইলে জীবিত থাকতে ভালো কাজ করার অঙ্গিকার করি৷

-Md Elias Hossain (সাংবাদিক)

মিসরে ইখওয়ানের সম্প্রতি যে নয় তরুণকে ফাঁসিতে ঝুলানো হলো, এই তরুণ তাদের একজন।

মিসরে সম্প্রতি যে নয় তরুণকে ফাঁসিতে ঝুলানো হলো, এই তরুণ তাদের একজন।

ছেলের মৃতদেহ দেখে কাঁদছেন তার মা।
ফাঁসির আগে আদালতে এই তরুণদের দুয়েকজনের আকুতি এবং পরিবারের সাথে তাদের শেষ দেখার দৃশ্য দেখলে পাষাণেরও চোখ অশ্রুসিক্ত হয়।

এ নিয়ে মিসরে মোট ৪৫ জনকে বিচারের নামে ফাঁসিতে ঝুলানো হলো, যাদের অধিকাংশই তরুণ। সংবাদমাধ্যমের মতে, খুব শিগগির আরও ৫০ জনকে বিচারের নামে ফাঁসি দেবে স্বৈরাচার সিসির সরকার।

কিন্তু পশ্চিমা কিংবা মুসলিম বিশ্ব এ নিয়ে কিছু বলছে না। উল্টো আরব-ইউরোপ সম্মেলনের নামে সেখানে এখন জড়ো হয়েছেন নির্লজ্জ আরব ও ইউরোপীয় নেতারা।একটি অসৎ নেতৃত্বের ঘূর্ণিঝড়ে মুসলিম সভ্যতা, জ্ঞান ও সংস্কৃতির দেশ মিসর যেভাবে লন্ডভন্ড হয়ে যাচ্ছে, তা ইতিহাসের পাতায় কালো অধ্যায় হয়ে থাকবে।
©সংগৃহীত