ব্রিটিশ শাসনের ভয়াবহ কয়েকটি নৃশংসতা

ব্রিটিশ শাসনের ভয়াবহ কয়েকটি নৃশংসতা
১৯৪৫ সালের দুর্ভিক্ষের সময় ভারতের একটি এলাকায় হাড্ডিসার কয়েক শিশু (ফাইল ফটো)
একটা সময় বিশ্বের বড় একটি অংশ ছিল ব্রিটিশ শাসনের অধীনে। সারা বিশ্বে বেশির ভাগ এলাকা দাপিয়ে বেড়িয়েছে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের সৈন্যরা। তাদের শাসন ও ঔপনিবেশিকতা নিয়ে মিশ্র ধারণা পোষণ করেন ব্রিটিশ নাগরিকেরা।
সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইউগভের একটি জরিপে দেখা গেছে অনেক ব্রিটিশ জনগণ তাদের সাম্রাজ্য ও ঔপনিবেশিক অতীত নিয়ে গর্বিত, আবার অনেকে রয়েছে ভিন্নমত। শতকরা ৪৪ ভাগ ব্রিটিশ তাদের ঔপনিবেশিক অতীত নিয়ে গর্বিত আর শতকরা ২১ ভাগ এ নিয়ে অনুতপ্ত। এ ছাড়া বাকি ২৩ ভাগ কোনো পক্ষেই অবস্থান নেয়নি। একই জরিপের শতকরা ৪৩ ভাগ ব্রিটিশ নাগরিক তাদের সাম্রাজ্যের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছে আর শতকরা ১৯ ভাগ ব্রিটিশ সাম্রাজ্য বিষয়ে খুশি নয় বলে জানান।
১৯২২ সালে বিশ্বের মোট জনসংখ্যার পাঁচ ভাগের এক ভাগ ছিল ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের অধীন, আর আয়তনে সারা বিশ্বের মোট স্থলভাগের চার ভাগের এক ভাগ। অনেকেই বলেন, ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের অধীনে থাকা এলাকাগুলোয় সে সময় ব্যাপক অর্থনৈতিক উন্নয়ন হয়েছে। অন্য দিকে সমালোচকেরা বিভিন্ন জায়গায় সংঘটিত গণহত্যা, দুর্ভিক্ষ, নির্যাতনকেন্দ্রগুলোসহ বিভিন্ন সমস্যার কথা উল্লেখ করেন এই সাম্রাজ্যের দুর্বলতা হিসেবে। সে সময় ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে সংঘটিত হয়েছে এ রকম কিছু নৃশংসতার বর্ণনা তুলে ধরা হলোÑ 
১. দক্ষিণ আফ্রিকার বোয়ার বন্দিশিবির
১৮৯৯-১৯০২ সময়কালে দক্ষিণ আফ্রিকায় সংঘটিত দ্বিতীয় বোয়ার যুদ্ধ। যুদ্ধে জয়ের পর বোয়ার জনগোষ্ঠীর প্রায় এক ষষ্ঠাংশ লোককে বন্দী করে ব্রিটিশেরা, যাদের বেশির ভাগই ছিল নারী ও শিশু। বন্দিশিবিরে ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত বন্দী, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে রোগের প্রাদুর্ভাব আর খাদ্য সঙ্কটের কারণে তাদের বড় একটি মারা যায়। প্রায় এক লাখ সাত হাজার বোয়ার লোককে বন্দী করা হয়, যাদের মধ্যে ২৮ হাজার মৃত্যুবরণ করে। এসব বন্দিশিবিরে বোয়ার ছাড়া অন্যান্য জনগোষ্ঠীর কালো আফ্রিকান লোক ছিল অনেক। তাদের মধ্যেও প্রচুর লোক একই পরিণতি বরণ করে।
২. জালিয়ানওয়ালা বাগের গণহত্যা
১৯১৯ সালে ১৩ এপ্রিল নববর্ষের দিনে সংঘটিত হয় ভারতীয় উপমহাদেশের ভয়াবহতম গণহত্যা। সে দিন ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসকদের অন্যায্য আইনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করে ভারতের পাঞ্জাব প্রদেশের অমৃতসরের সাধারণ মানুষ। একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীদের দেয়ালঘেরা জালিয়ানওয়ালা উদ্যানের ভেতরে অবরুদ্ধ করে রাখে ব্রিটিশ সৈন্যরা। এরপর ব্রিগেডিয়ার রেজিনাল্ড ডায়েরের নির্দেশে অবরুদ্ধ জনতার ওপর নির্বিচারে গুলি চালায় ভারতীয় ব্রিটিশ সৈন্যরা। সাথে থাকা গুলি শেষ না হওয়া পর্যন্ত একটানা হত্যাকাণ্ড চালায় সেনারা। কয়েক মিনিটে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে কয়েক শ’ বিক্ষোভকারী। সরকারি হিসেবে নিহতের সংখ্যা ৩৭৯ জন বলা হলেও প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়ে অনেক বেশি ছিল। ওই ঘটনায় আহত হয় আরো অন্তত ১১০০ জন।
ব্রিটিশ জনগণ এই হত্যাকাণ্ডের হোতা ব্রিগেডিয়ার ডায়েরকে ‘হিরো’ হিসেবে ঘোষণা দেয়, তারা পুরস্কার হিসেবে তাকে ২৬ হাজার ইউরো প্রদান করে।
৩. কেনিয়ার মোও মোও বিদ্রোহ
১৯৫১-৬০ সাল পর্যন্ত ব্রিটিশশাসিত কেনিয়া শাসকদের বিরুদ্ধে এ বিদ্রোহ সংঘটিত হয়। পরাজিত কিকুয়ু উপজাতীয় সৈন্যদের বিভিন্ন ক্যাম্পে বন্দী করে রাখে ব্রিটিশেরা। বন্দী সৈন্যদের ধারাবাহিকভাবে শারীরিক ও যৌন নির্যাতন করা হয়। অনেকেরই ভাগ্যে লেখা হয় মৃত্যু। ইতিহাসবিদ ডেভিড এন্ডারসনের মতে, এই বিদ্রোহে ব্রিটিশ সৈন্যদের হাতে ২০ হাজার লোক নিহত হয়েছে। তবে আরেক ইতিহাসবিদ ক্যারোলিন এলকিন্সের মতে নিহতের সংখ্যা এক লাখের বেশি হবে।
৪. ভারতের দুর্ভিক্ষ 
ব্রিটিশ শাসনামলে ভারতীয় উপমহাদেশে অনাহারে দুই কোটির বেশি লোক নিহত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সে সময় শাসকগোষ্ঠী হাজার হাজার টন গম ব্রিটেনে রফতানি করার কারণে এই দুর্ভিক্ষের সৃষ্টি হয়েছে।
১৯৪৩ সালে ৪০ লাখ ভারতীয় অনাহারে মৃত্যুবরণ করেছিল। প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিল ব্রিটিশ সৈন্যদের জন্য এবং গ্রিসসহ বিভিন্ন দেশে ভারত থেকে খাদ্য নেয়ার কার্যক্রম শুরু করেন। যার ফলে বাংলায় শুরু হয় ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ। বাংলার ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ সেই দুর্ভিক্ষ সম্পর্কে চার্চিল বলেছিলেন, ‘আমি ভারতীয়দের ঘৃণা করি। তার বিশ্রি ধর্মের এক বিশ্রি জনগোষ্ঠী। খরগোশের মতো সন্তান জন্ম দিয়ে এই দুর্ভিক্ষ তারাই ডেকে এনেছে।’

‘তারা কি কুরআন নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করেনা?’- আল মুমিনুনঃ ৬৮

তাদাব্বুর’ একটি আরবি শব্দ যার অর্থ ‘গভীর চিন্তা’, ‘গভীর ভাবনা’। কুরআনে সরাসরি এই শব্দটা এসেছে৷ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া’তায়ালা কুরআনের ব্যাপারে ‘তাদাব্বুর’ তথা গভীর চিন্তা-ভাবনা করার কথা বেশ কয়েক জায়গায় বলেছেন।

‘তারা কি কুরআন নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করেনা?’- আল মুমিনুনঃ ৬৮

‘আমি তোমার প্রতি নাযিল করেছি এক বরকতময় কিতাব যাতে তারা এর আয়াতসমূহ নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা-ভাবনা করতে পারে, এবং যাতে বুদ্ধিমানগণ উপদেশ গ্রহণ করতে পারে’- সূরা ছ্বোয়াদঃ ২৯

‘তারা কি কুরআন নিয়ে গভীর চিন্তা-ভাবনা করেনা? এটা যদি আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো কাছ থেকে নাযিল হতো, তাহলে তারা এতে অনেক বৈপরীত্য দেখতে পেতো’- আন নিসাঃ ৮২

‘তারা কি কুরআন নিয়ে গভীর চিন্তা-ভাবনা করেনা? নাকি তাদের অন্তর তালাবদ্ধ?’- সূরা মুহাম্মাদঃ ২৪

কুরআনকে গভীরভাবে বুঝতে না পারলে, উপলব্ধি করতে না পারলে কুরআনের শিক্ষাগুলোকে জীবনে বাস্তবায়ন করা যায় না। কেমন দেখায় যে দয়াময় আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া’তায়ালা আমার সাথে কথা বলছেন, অথচ তার কথার কিছুই আমি বুঝতে পারছিনা। বোঝার চেষ্টা করছিনা!! খুবই খারাপ লাগার কথা না?

কুরআনের তাদাব্বুর মানেই হলো কুরআন নিয়ে ভাবা। কুরআন নিয়ে চিন্তা করা। আমাদের জীবনে আমরা হয়তো অনেকবার কুরআন পড়েছি এবং ইন শা আল্লাহ ভবিষ্যতেও পড়বো। এখন, কুরআন পড়তে গিয়ে কুরআনের কোন ব্যাপারটা আমাকে একেবারে ভিতর থেকে নাড়া দিয়ে গেছে? কুরআনের কোন আয়াতটা পড়ে মনে হয়েছে- ‘আরেহ! এই আয়াত তো মনে হয় আমার জন্য এক্ষুণি নাযিল হয়েছে। আমি তো এই সমাধানই চাচ্ছিলাম। আমি তো এই কথাগুলোই ভাবছিলাম’।

হয়নি এরকম কখনো? যদি হয়ে থাকে তাহলে সেই সূরা, সেই আয়াত নিয়ে আপনার অভিজ্ঞতা, ভালোবাসা, ভালোলাগা আমাদের সাথে শেয়ার করুন। আপনার সেই অভিজ্ঞতা হয়তো অন্য অনেককেও কুরআন নিয়ে গভীরভাবে ভাবতে সহায়ক হবে, ইন শা আল্লাহ।

এখানে কুরআনের শব্দ বিশ্লেষণ আসতে পারে। আসতে পারে বাক্য বিন্যাসের ব্যাপার, ভাষার অলঙ্কারিক দিকগুলোও আলোচনায় নিতে আসতে পারেন। মোদ্দাকথা, কুরআন সম্পর্কিত আপনার জীবন ঝুলিতে যতো অভিজ্ঞতা আছে, তার সবটা শেয়ার করার জন্যই আমাদের- তাদাব্বুরে কুরআন।

এই রামাদান হোক আমাদের জীবনের শ্রেষ্ঠ রামাদান। এই রামাদানে কুরআনের সাথে তৈরি হোক আমাদের এক অন্যরকম সম্পর্ক। আমরা কুরআনকে ভালোবাসবো তাদাব্বুরের সাথে।

ঢাকার প্রত্যেকটা মসজিদে এসি অথচ ফুটপাতে অসংখ্য অভুক্ত বনী আদম

ঢাকার প্রত্যেকটা মসজিদে এসি অথচ ফুটপাতে অসংখ্য অভুক্ত বনী আদম । এটা কোন মুসলীম জনবসতির চিত্র হতে পারেনা । বাইরে অভুক্ত বনি আদম রেখে ভেতরে নামাজ কতটুকু কবুল হবে তা কবুলিয়াতের মালিক আমাদের রব ই বলতে পারেন । তবে তিনি এমন কোন বিধান নাজিল করেন নি । এ দায় সমাজপতিদের আর কিছুটাতো অবশ্যই আমার ও আপনার………..ঢাকার প্রত্যেকটা মসজিদে এসি অথচ ফুটপাতে অসংখ্য অভুক্ত বনী আদম
ঢাকার প্রায় প্রত্যেকটা মসজিদে এসি, ফ্লোরে দামী মারভেল পাথর। অথচ ফুটপাতে অসংখ্য বনী আদম অভুক্ত, বস্ত্রহীন। এর জন্য দায়ী এই শহরের পেশাদার ইমাম শ্রেণি।
এরা বেছে বেছে মসজিদে দান-সদকা বিষয়ক হাদিস শুনায়, আর মুসল্লিদের বলে মসজিদে দান করতে। এমনকি সরকারি মসজিদগুলিতেও টাকা তোলা হয় পাবলিকের কাছ থেকে। মসজিদ কমিটি ইমাম নিয়োগ দেয়ার সময় খেয়াল করে ইমাম টাকা সংগ্রহ করতে পটু কিনা।
আল্লাহ সুরা সফে বলেছেন, নিজে যে কাজ কর না, তা অন্যকে করতে বলো না, অধিকাংশ ইমাম এই আয়াতের উল্টাটা করে, নিজে কখনো দান করে না, পাবলিকরে বলে দান করতে। আমি কদাচিৎ দেখেছি কোনো মসজিদের ইমাম সেই মসজিদে দান করেছে, আপনি দেখেছেন কাউকে? পাবলিকের সেন্টিমেন্টটাই এরা চেঞ্জ করে ফেলেছে। পাবলিক ৫০০ টাকা দান করলে ৪৯৯ টাকা করে মসজিদে, ১ টাকা দেয় মসজিদের সামনে দাঁড়ানো ভিক্ষুককে। অথচ হওযার কথা ছিল উল্টোটা।
ইমামদের এই ভূমিকার কারণ কি? কারণ সহজ, মসজিদের ফান্ড বাড়লে তাদের বেতনও বাড়বে। তারা মসজিদে পেশাদার ইমাম। কে ফুটপাতে থাকল, কে ল্যাংটা থাকল সেটা তাদের দেখার বিষয় না।
আপনি যদি জরিপ করেন, দেখবেন মসজিদের দানের শতকরা ৯০ টাকা হচ্ছে অবৈধ রোজগারের টাকা, ঘুষখোর বা দুর্নীতিবাজদের টাকা। এরা দান করে রাতে ভালোমত ঘুমানোর জন্য। সকালে ৫ লাখ ঘুষ খেয়ে এশার নামাজে মসজিদে ৫০ হাজার দান করে মনের খুতখুতানি দূর করার জন্য। ইমাম নিজেও জানে, এই টাকা ঘুষের টাকা, তবু জোরেসোরে আলহামদুলিল্লাহ বলে। এইসব অবৈধ রোজগারের টাকায় ইমামের বেতন বাড়ে, ইমাম তাই মনের ভুলেও জুমার খুতবায় ঘুষের বিরুদ্ধে হাদিস শুনায় না।
“আপনি যা খাবেন, আপনার চরিত্রে তার প্রভাব পড়বে।” you eat junk food, you behave junky. এটা স্বতসিদ্ধ। এর বাস্তব দৃষ্টান্ত বাংলাদেশের এইসব ইমামরা। এদের রিযিক হালাল না, তাই এদের চরিত্রে মোসাহেবি স্বভাব বিদ্যমান। এরা কথা বলে বিলাইর মত মিউ মিউ করে। কারো বিরুদ্ধে না যায় এমন কোনো টপিক নিয়ে আসে জুমার খুতবায়। দেখেন না রাজনৈতিক নেতারা তাদের দাঁড়া করিয়ে মিম্বারে বসে থাকে।
চেতিয়েন না, কড়া কথা বললাম। কাউকে না কাউকে তো বলতেই হবে। আমিই না হয় বললাম। তবে হা, সব ইমাম এরকম না, ব্যতিক্রম আছেন। কিন্তু তাদের সংখ্যা এত কম যে হাতের কড়ে গোনা যায়। দুঃখটা এখানে।
আমার সাথে ইমামদের জমি-জমার ক্যাচাল নাই। আমি নিজেই পার্টটাইম ইমামতি করেছি নানা জায়গায়। আমার বাবাও মসজিদের ইমাম, খতিব, তবে পেশাজীবী না। ৩০ বছরের অধিক সে বিনা টাকায় ইমামতি করেন। নিজেই মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা। এ কারণে কথা বলার সময় মোসাহেবি করা লাগে না তার।
আরবি শব্দ ইমাম মানে হল নেতা, লিডার। লিডার কথা বলবে সিংহের মত, বিড়ালের মত মিউ মিউ করে না। সিংহ কখন মিউ মিউ করে জানেন?যখন সে বিড়ালের মত ছানাভাত বা উচ্ছিস্ট খায় তখন। যে যা খাবে তার চরিত্রে তার প্রভাব পড়বেই পড়বে।

সামাজিক ডারউইনিজম ও বিবর্তনবাদ

গাঁজাখোরী #বিবর্তনবাদের সাথে #সামাজিক_ডারউইনিজম অনুসারে যারা দূর্বল, অসহায়, দরিদ্র, অসুস্থ্য, পঙ্গু, বিকলাঙ্গ ও পশ্চাদপদ তাদেরকে কোন প্রকার দয়া প্রদর্শন না করে ধ্বংস করে দিতে হবে । আর এই থিউরীর উপর ভিত্তি করে ১৯৪৪ সালে জার্মানিতে হিটলার এক মানবতা বিধ্বংসী প্রজেক্ট চালু করে । সে প্রথমে পঙ্গু ও বিকলাঙ্গের একটি সেইফ হাউজে জমা করে এবং তাদের মেরে ফেলে । সে একাজটি তার শত্রু ইহুদীদের দিয়ে শুরু করে । আর উন্নত একটি মানব প্রজাতি বানানোর জন্য সে দেশের সব সেরা সুন্দরী ও মেধাবী নারীদের একটি এলাকায় জড়ো করে । এবং উন্নত প্রজাতির মেধাবী সন্তান জন্মানোর জন্য স্বাস্থ্যবান মেধাবী ও তরুণ আর্মি আফিসাররা ওখানে নিয়মিত আসাযাওয়া করতে থাকে ।

আসল কথা হলো #জুমাতুল_বিদা বলে ইসলামে কিছু নেই ।

আসল কথা হলো #জুমাতুল_বিদা বলে ইসলামে কিছু নেই ।।
#মাহে_রমজানের শেষ জুমার দিন ‘জুমাতুল বিদা’ নামে পরিচিত। এদিন রমজান মাসের শেষ জুমা হিসেবে ‘আল কুদস দিবস’ও পালিত হওয়ায় এর গুরুত্ব, তাৎপর্য ও মাহাত্ম্য অপরিসীম। সাপ্তাহিক জুমার নামাজ মুসলমানদের বৃহত্তর জামাতে অনুষ্ঠিত হয়। রমজান মাসের জুমাবার আরও বেশি গুরুত্ব বহন করে। এক মাসের সিয়াম সাধনা শেষে মুসলিম মনে ঈদুল ফিতরের যে আনন্দ আসে তারই বার্তা জানান দেয় জুমাতুল বিদা।
প্রতি সপ্তাহের জুমা দিবসে মুসলিম মনে এক নয়া জাগরণ সৃষ্টি হয়। ইসলামে জুমাতুল বিদা’র সরাসরি গুরুত্ববহনকারী কোনো বক্তব্য না পাওয়া গেলেও একে কেন্দ্র করে মানুষের হৃদয়ে আনন্দ বয়ে যায়। কোনো কোনো মানুষের ধারণা, জুমাতুল বিদা’র বিশেষ ফজিলত রয়েছে। তারা এ জুমাকে খুব গুরুত্ব দেয় এবং একে শরিয়ত-নির্দেশিত ফজিলতপূর্ণ দিবস-রজনীর অন্তর্ভুক্ত মনে করে। ফলে এ জুমা আদায়ের জন্য পারতপক্ষে এলাকার সবচেয়ে বড় মসজিদে গমন করে। সাথে সাথে এ জুমায় মুসল্লির সমাগমও বেশি হয়। কিন্তু শরিয়তে ‘জুমাতুল বিদা’ বলে আলাদা ফজিলতের কিছু নেই। এটি একটি নব আবিষ্কৃত পরিভাষা। এর কোনো বিশেষ ফজিলত কুরআন-হাদিসে পাওয়া যায় না। বরং এটি রমজানের অন্যান্য জুমার মতই ফজিলত রাখে; বাড়তি কোনো ফজিলত এ সম্পর্কে প্রমাণিত নয়।
এ কথা ঠিক যে, জুমার দিন একটি ফজিলতপূর্ণ দিবস। সাথে সাথে রমজানের জুমার দিন হিসেবে তার গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়। তাই বলে ‘হাজ্জাতুল বিদা’-এর সাথে মিল রেখে ‘জুমাতুল বিদা’ নামকরণ এবং এর বাড়তি প্রচার-প্রচারণার কোনো ভিত্তি নেই। ঐ দিবস-রজনীকেই আমরা ফজিলতের দিবস-রজনী মনে করবো, কুরআন-হাদিসে যার বিশেষ কোনো ফজিলত বর্ণিত হয়েছে। সাথে সাথে কিছু মানুষের মাঝে রমজানের শেষ জুমাকেন্দ্রিক আরেকটি মনগড়া আমলেরও প্রচলন রয়েছে। তা হলো, এদিন নাকি বিশেষ পদ্ধতিতে চার রাকাত নামাজ আদায় করলে তা সারা জীবনের কাজা নামাজের কাফফারা হবে! এ বর্ণনা ও আমল সবই জাল ও বাতিল। আল্লামা শাওকানী (রাহ.) তার জাল হাদীস বিষয়ক রচনা ‘আলফাওয়াইদুল মাজমুআহ’তে রমজানের শেষ জুমার নামাজ বিষয়ে আরেকটি জাল বর্ণনা উল্লেখ করেছেন- ‘এদিন যে ব্যক্তি সারা দিন-রাতে পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজ (গুরুত্বের সাথে) আদায় করবে, এর দ্বারা তার সারা বছরের ছুটে যাওয়া নামাজের কাজা আদায় হয়ে যাবে।’ এটি উল্লেখ করার পর তিনি বলেন- ‘প্রশ্নাতীতভাবে এটি একটি জাল বর্ণনা।’

বাংলাদেশে রমজান মাসের শেষ জুমাকে জুমাতুল বিদা হিসেবে পালন ও অভিহিত করা হয়। জুমাতুল বিদা দ্বারা রমজানের শেষ জুমা বোঝানো হয়। কোনো কোনো মানুষের ধারণা, এর বিশেষ ফজিলত রয়েছে। তারা এ জুমাকে খুব গুরুত্ব দেয় এবং একে শরিয়ত নির্দেশিত ফজিলতপূর্ণ দিবস-রজনীর অন্তর্ভুক্ত মনে করে। ফলে তারা এ জুমা আদায়ের জন্য পারতপক্ষে এলাকার সবচেয়ে বড় মসজিদে গমন করে। সেই সঙ্গে এ জুমায় মুসল্লির সমাগমও বেশি হয়।
কিন্তু ইসলামি শরিয়তে জুমাতুল বিদা বলে আলাদা ফজিলতের কিছু নেই। এটি একটি নব আবিষ্কৃত পরিভাষা। এর কোনো বিশেষ ফজিলত কোরআন-হাদিসে পাওয়া যায় না। নবী করিম (সা.), সাহাবায়ে কেরাম কেউ এর আমল করেননি। বরং এটি রমজানের অন্যান্য জুমার মতোই ফজিলত রাখে; এর বাড়তি কোনো ফজিলত প্রমাণিত নয়।
অনেকে এ দিনে বিশেষভাবে দোয়া করেন। কেউ কেউ মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করেন। অনেকে আবার এ দিন উপলক্ষে বিশেষ কিছু নামাজ পড়েন, ইফতার আয়োজনও করেন। পত্র-পত্রিকা ও অনলাইন ও টেলিভিশনে নিউজ আসে, ‘যথাযোগ্য মর্যাদা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মাধ্যমে সারাদেশে জুমাতুল বিদা পালিত হয়েছে।’ এসব ভুল ও বিদআত।

তবে হ্যাঁ, জুমার দিন একটি ফজিলতপূর্ণ দিবস। ইসলামে আলাদাভাবে শুক্রবারের বিভিন্ন ফজিলতের কথা বর্ণিত হয়েছে। কিন্তু জুমাতুল বিদার কোনো কথা বলা নেই।

যেমন হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, সাহাবি হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাদের সঙ্গে একদিন শুক্রবারের ফজিলত ও বৈশিষ্ট্য নিয়ে আলোচনা করছিলেন। তখন তিনি বলেছিলেন, জুমার দিনে এমন একটি সময় আছে, সেই সময়টায় যদি কোনো মুসলিম নামাজ আদায়রত অবস্থায় থাকে এবং আল্লাহতায়ালার কাছে কিছু চায়, আল্লাহতায়ালা অবশ্যই তার সে চাহিদা বা দোয়া কবুল করবেন এবং এরপর রাসুলুল্লাহ (সা.) তার হাত দিয়ে ইশারা করে সময়টির সংক্ষিপ্ততার ইঙ্গিত দেন। -সহিহ বোখারি

ইসলামি স্কলাররা ওই সময় সম্পর্কে নির্দিষ্ট করে কিছু বলেননি। কোনো কোনো বর্ণনায় বলা হয়েছে, ‘ইমামের মিম্বরে বসার সময় থেকে নামাজ শেষ করা পর্যন্ত সময়টিই সেই বিশেষ মুহূর্ত।’ -সহিহ মুসলিম

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে সালাম (রা.) বর্ণনা করেন, শুক্রবার আসরের পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত দোয়া কবুল হয়। বিখ্যাত সিরাতগ্রন্থ যাদুল মায়াদে বর্ণিত আছে, জুমার দিন আসরের নামাজ আদায়ের পর দোয়া কবুল হয়। জুমার দিনের বিশেষ সেই মুহূর্ত সম্পর্কে বিভিন্ন বর্ণনায় বলা হয়েছে, জুমার নামাজে সূরা ফাতিহার পর আমিন বলার সময়, আসর থেকে মাগরিব পর্যন্ত সময়, মুয়াজ্জিন আজান দেওয়ার সময়, জুমার দিন সূর্য ঢলে পড়ার সময়, ইমাম খুতবা দেওয়ার জন্য মিম্বরে দাঁড়ানোর সময়। উভয় খুতবার মধ্যবর্তী সময় ও জুমার দিন ফজরের আজানের সময়। সুতরাং শুক্রবারের আলাদা গুরুত্বের কথা স্বীকৃত, কিন্তু জুমাতুল বিদার কোনো আলাদা ফজিলতের কথা কোথাও বলা হয়নি। এটাকে ইসলামি স্কলাররা সমর্থন করেন না। সুতরাং জুমাতুল বিদা বলে নতুন কিছু রসম-রেওয়াজ পালন করা থেকে সবার বিরত থাকা কর্তব্য।

একাত্তরের ঘাতক ও যু্ধাপরাধী প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের মালিক মেজর জেনারেল (অব) আমজাদ খান চৌধুরী

প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রধান নির্বাহী মেজর জেনারেল আমজাদ খান চৌধুরী (অব) ছিলেন কুখ্যাত যুদ্ধাপরাধী, বাঙালি বংশোদ্ভূত পাকিস্তানী সেনা কর্মকর্তা ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় রংপুর ক্যান্টনমেন্টে বিএম-২৩ বিগ্রেডে মেজর আমজাদ খান চৌধুরীর অধীনে বাঙালি সেনা-মুক্তিযোদ্ধা-সাধারণ মানুষ হত্যার ঘটনা ঘটে। তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে সামরিক সমরেও অংশ নেন। রংপুরে অবস্থানকালে তিনি হত্যা, ধর্ষণ এবংহিন্দুদের ঘর-বাড়ি লুটপাটে মদদ দেন।
স্বাধীনতা পরবর্তীতে পাকিস্তানে আটকে পড়া সাড়ে ৪ লাখ বাঙালির সাথে দেশে ফিরে ‘মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানে আটকে পড়া সেনা কর্মকর্তা’ হিসেবে নিজেকে পরিচয় দিয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে যোগদান করেন আমজাদ খান চৌধুরী। জেনারেল শফিউল্লাহ ও জিয়ার সহযোগিতায় তিনি সেনাবাহিনীতে পদোন্নতি পেয়ে মেজর জেনারেল পর্যন্ত হয়েছেন। ১৯৮১ সালে বগুড়া ক্যান্টনমেন্টের জমি অধিগ্রহণের টাকা চুরির অভিযোগে সেনাবাহিনী থেকে বাধ্যতামূলক অবসর পেয়ে ব্যবসায় নামেন তিনি।
আমজাদ খান চৌধুরীর মৃত্যুর পর তার যুদ্ধাপরাধী পরিচয়কে আড়াল করে তার ব্যবসায়ী পরিচয় সামনে রেখে গণমাধ্যমে তার মৃত্যুর খবর পরিবেশন করা হয়। এমনকি রাষ্ট্রীয় পর্যায় থেকে শোক প্রকাশও করা হয়।
আমজাদ খান ছিলেন কাদিয়ানী সম্প্রদায়ের সদস্য। কিন্তু মৃত্যুর পর তাকে মুসলিম হিসেবে গণমাধ্যমে পরিচয় দেওয়া হয়। মুসলিম হিসেবে পরিচয় দেওয়ার নেপথ্যে কারণ খুঁজতে গিয়ে দেখা যায় আমজাদ খান চৌধুরী সন্দেহাতীতভাবে একজন যুদ্ধাপরাধী।
যুদ্ধাপরাধী আমজাদ খান চৌধুরীর জন্ম ১৯৩৯ সালের ১০ নভেম্বর। তার পিতা মুসলিম লীগপন্থি রাজনীতিতে বিশ্বাসী আলী কাশেম খান চৌধুরী ও মাতা আমাতুর রহমান।
ঢাকার বকশিবাজারের আহমাদিয়াদের (কাদিয়ানী) সেন্টারের পাশে নবকুমার ইনস্টিউটে তার শিক্ষাজীবন শুরু হয়। ১৯৫৬ সালে তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগদান করেন। পরবর্তীতে অস্ট্রেলিয়ান স্টাফ কলেজ থেকে গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করেন।
আজমাদ খানের নির্দেশে রংপুরে বাঙালি সেনা হত্যা:
১৯৭১ সালে ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীরা বাঙালিদের উপর গণহত্যা শুরু করলে ২৬ মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। এর ৪ দিনের মাথায় ৩০ মার্চ রংপুর বিগ্রেড হেডকোয়ার্টারে যাওয়ার পথে ৩য় বেঙ্গল ব্যাটালিয়ানের সিরাজ এবং তার ১০-১২ জন প্রহরীর মধ্যে একজন ছাড়া বাকিদের হত্যা করা হয়। এসময় রংপুর বিগ্রেডের গুরুত্বপূর্ণ বিগ্রেড মেজর পদে আসীন ছিলেন মেজর আমজাদ খান চৌধুরী।
কর্নেল শাফায়াত জামিলের লেখায় যুদ্ধাপরাধী মেজর আমজাদ খান চৌধুরী:
বাঙালি সেনা হত্যায় আমজাদ খান চৌধুরীর সংশ্লিষ্টতার ঘটনা কর্নেল শাফায়াত জামিল বীরবিক্রম তাঁর ‘একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ, রক্তাক্ত মধ্য আগস্ট এবং ষড়যন্ত্রময় নভেম্বর’ বইয়ের ৫০ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেন। জামিল লিখেছেন, ‘৩০ মার্চ ৩য় বেঙ্গল ব্যাটেলিয়ানের সিরাজকে রংপুর হেডকোয়ার্টারে একটি কনফারেন্সে যোগ দেয়ার জন্য পাঠানো হয়। তাঁর সঙ্গে ১০-১২ জন প্রহরী ছিল। পাকিস্তানিরা পথে তাঁদের বন্দি করে সেই রাতেই নির্মমভাবে হত্যা করে। দলটির মাত্র একজন সদস্য দৈবক্রমে বেঁচে যায়। পরে সে ৩য় বেঙ্গলের সাথে মিলিত হতে পেরেছিল। উল্লেখ্য তখন রংপুর বিগ্রেডের গুরুত্বপূর্ণ বিগ্রেড মেজর পদে আসীন ছিলেন মেজর আমজাদ খান চৌধুরী। আজমাদ খান চৌধুরীর নির্দেশেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটে।’
মেজর আমজাদ খানের নেতৃত্বে পাকিস্তানি সেনারা মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে সামরিক যুদ্ধে লিপ্ত হয়। তার বাংলাদেশ ছেড়ে পাকিস্তান যাওয়া ও বাংলাদেশে ফেরার ব্যাপারে দুটি ভাষ্য পাওয়া যায়। একটি ভাষ্যমতে, ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর সাথে আমজাদ খানও মিত্রবাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করেন। পরে যুদ্ধবন্দী হিসেবে তাকে ভারতে নিয়ে আটকে রাখা হয়। ১৯৭২ সালের ২ আগস্ট ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ঐতিহাসিক সিমলা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ১৯৭২ সালে ৪ আগস্ট চুক্তি কার্যকর হলে চুক্তির শর্তানুসারে ভারত বিনা বিচারে সকল যুদ্ধবন্দীদের পাকিস্তানে ফেরত পাঠায়। আমজাদ খানও তাদের সাথে পাকিস্তান চলে যান।
আরেকটি ভাষ্যমতে, আমজাদ খান চৌধুরী অক্টোবর-নভেম্বরের দিকে পাকিস্তানে বদলি হয়ে গিয়েছিলেন। পরে পাকিস্তানে আটকে পড়া সাড়ে চার লাখ বাঙালির সাথে দেশে ফিরে আসেন এবং দেশে ফিরে নিজেকে ‘মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানে আটকে পড়া সেনা কর্মকর্তা’ পরিচয় দিয়ে জেনারেল শফিউল্লাহ ও জিয়ার সহযোগিতায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে যোগদান করেন।
বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে আমজাদ খান চৌধুরী:
স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতেও বিতর্কিত ভূমিকা রয়েছে তার। শাফায়াত জামিল-এর বরাতে জানা যায়, ‘তিনি (আমজাদ খান) ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট কুমিল্লার বিগ্রেড কমান্ডার ছিলেন এবং তাঁরই নিয়োজিত সেনাদল বঙ্গবন্ধুর বাসভবনের পাহারার দায়িত্বে ছিলেন। রহস্যজনক ভাবে আক্রমণকারীদের প্রতিরোধে এরা সেদিন ব্যর্থ হয়। পরবর্তীতে সব সম্ভবের দেশে তিনি মেজর পদে উন্নীত হয়েছিলেন।’
১৯৮১ সালে বগুড়া ক্যান্টনমেন্টের জমি অধিগ্রহণের টাকা চুরির অভিযোগে সেনাবাহিনী থেকে তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়। অবসরের পর ১৯৮১ সালে সেই চুরির টাকায় গড়ে তোলেন রংপুর ফাউন্ড্রি লিমিটেড (আর এফ এল)। ১৯৮৫ সালে গড়ে তোলেন এগ্রিকালচার মার্কেটিং কোম্পানি যার ব্র্যান্ড নাম প্রাণ।
একাত্তরের কুখ্যাত এই যুদ্ধাপরাধী ও বাঙালি সেনা হত্যাকারী হলেও ঢাকার সামরিক কবরস্থানে আমজাদ খান চৌধুরীকে কবর দেওয়া হয়।

একদিন গোলাম ছিলাম রে……..

একদিন গোলাম ছিলাম রে……..

ব্রিটেনের দস্যু রানীর সাথে ছবি তুলেছে ১০ দেশের ক্রিকেট দলের প্রধান।
৯টি দেশ (ইংল্যান্ড নিজে বাদে) : বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলংকা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, দক্ষিণ আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া, পাকিস্তান, নিউজিল্যান্ড এবং আফগানিস্তান কিন্তু এক সময় জলদস্যু শাসিত ব্রিটিশ উপনিবেশের অংশ ছিলো। জলদস্যু ব্রিটিশরা খুব অহংসকার করে বলতো- The sun never sets on the British Empire. অর্থ-ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের সূর্য কখনো অস্ত যায় না।” জলদস্যু জাত ব্রিটিশরা যখন দেখলো তাদের সম্রাজ্যবাদের পতন আসন্ন, তখন তারা “কমনওয়েলথ” নামক সংস্থা বানিয়ে রাখলো- যাদের দেখলে সব সময় মনে হবে- এই দেশগুলো এক সময় ব্রিটিশ গোলাম ছিলো।

সেই ব্রিটিশ সম্রাজ্যবাদীদের বানানো খেলা হইলো- ক্রিকেট।
মালিক খেলা চালু করে গোলামদের ডাক দিছে খেলতে।
আর গোলামরা খেলতে পেরে কত খুশি হইছে।
মালিকও গোলামদের সাথে ছবি তুলে খুশি।
হাসতে হাসতে বলে- তোরা সারাদিন থাকবি খেলা নিয়ে, আর আমার নাতিরা শিখবে যুদ্ধ,
আফগানিস্তানে গিয়ে বোম্বিং করে মজা নিবে।

আমি জানি, এসব বললে- কেউ কেউ বলবে-
সব কিছুর মধ্যে আপনি রাজনীতি আর ষড়যন্ত্র টেনে আনেন।
আমি তাদের বলবো- ভাই সমস্যা কি জানেন ?
মূল সমস্যা হইলো আমাদের ইজ্জত নাই,
আর তার থেকেও বড় সমস্যা হইলো, আমদের যে ইজ্জত নাই, এটাও আমরা বুঝি না।
আজকে পৃথিবীতে সুপার পাওয়ার হইছে আমেরিকা।
এই ব্যাটা ভালো হোক আর মন্দ হোক, সে কিন্তু ইজ্জত কি এটা বুঝে।
এই আমেরিকা (ইউএসএ) কিন্তু এক সময় ব্রিটিশ উপনিবেশের অংশ ছিলো।
সে বহু কষ্ট করে যুদ্ধ করে সেখান থেকে বের হইছে।
কিন্তু সে কিছুতেই এটা স্বীকার করতে চায় না, যে সে এক সময় ব্রিটিশ গোলাম ছিলো।
এই জন্য এই ব্যাটা ব্রিটিশ বানানো ক্রিকেট খেলতে আসে নাই।
ব্রিটিশ বানানো কমনওয়েলথও যোগ দেয় নাই।
ব্রিটিশরা কোন নিয়ম চালু করলে সেখানে লাফ দিয়ে নামে নাই।
ব্রিটিশরা বাম দিয়ে গাড়ি চালায়, সে চালায় ডান দিয়ে।
ব্রিটিশরা লাইটের সুইচ অন করে উপর থেকে নিচে, আর সে করে নিচ থেকে উপরে।
যদিও ধর্মে দুই দেশ খ্রিস্টান, কিন্তু ব্রিটিশ নিয়ম মানলে আবার ‘এক সময় ব্রিটিশদের গোলাম ছিল’ এটা মনে করতে হয় কি না, এজন্য তারা ব্রিটিশদের বানানো নিয়ম মানে নাই, আবার অনেক ক্ষেত্রে বেশি জরুরী হলো মডিফাই করে ব্যবহার করছে, তবুও ডাইরেক্ট মানে না। এটা হইলো আসল ই্জ্জত। আর ইজ্জত বজায় রাখার জন্য আজকে আমেরিকানরা সুপার পাওয়ার হইতে পারছে।

মুসলমানরা যখন এক সময় সারা বিশ্ব শাসন করতো, তখন এই পলিসি কিন্তু মুসলমানদের মধ্যেও ছিলো।
তারা অমুসলিমদের কোন নিয়ম-কানুন মানতো না। নিজস্ব পলিসিতে চলতো।
খলিফা উমরের জীবনীতে পরেছিলাম- বায়তুল মোকাদ্দাস বিজয়ের পর তিনি যখন চাবি আনতে গিয়েছিলেন,
তখন তিনি চামড়ার তৈরী খাবারের দস্ত থেকে রুটির টুকরা তুলে খাচ্ছিলেন, যা ইসলামের একটি নিয়ম।
তখন অনেকে বলেছিলো- এখানে অনেক খ্রিস্টান রাজা বাদশাহ আছে, তাদের সামনে দস্ত খানা থেকে খাবার তুলে না খেলে কি হয় না।?
তখন তিনি খুব রাগান্বিত হয়ে জোরে বলেছিলেন- এসব আহাম্মকের জন্য কি, আমি আমার ইসলামীক নিয়ম-নীতি ছেড়ে দিবো ?

আমরা দেশকে ভালোবাসি, জাতিকে নিয়ে অনেক বড় বড় স্বপ্ন দেখি।
আমরা চিন্তা করি বিভিন্ন শত্রুর অধীনে থেকে দেশের যে ক্ষতি হয়েছে একটা সময় হয়ত সেটার পরিবর্তন হবে।
কিন্তু সেই পরিবর্তন হওয়ার জন্য আগে প্রয়োজন আমাদের মন-মগজের পরিবর্তন করা।
যারা সম্রাজ্যবাদী তারা তো মন-মগজে আমাদের গোলাম বানিয়ে রেখেছে।
যতদিন আমরা আমাদের মন-মগজ ও বিশ্বাসকে তাদের গোলামির কাতার থেকে বের না করতে পারবো, ততদিন আমরা আসলেই স্বাধীন হবো না এবং স্বতন্ত্র জাতি হিসেবে আত্মপ্রকাশও করতে পারবো না- এটাই আগে আমাদের বুঝতে হবে।

তারাবীহ নামাজ ২০ রাকাত সহীহ হওয়ার কিছু দলীল

#তারাবীহ নামাজ ২০ রাকাত সহীহ হওয়ার কিছু দলীল । তবে থেকে ৬৩ রাকাত পর্যন্ত পড়তে পারেন ।
حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، قَالَ: أَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ عُثْمَانَ، عَنِ الْحَكَمِ، عَنْ مِقْسَمٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يُصَلِّي فِي رَمَضَانَ عِشْرِينَ رَكْعَةً وَالْوِتْرَ
হযরত ইবনে আব্বাস রা. বলেন: রসূলুল্লাহ স. রমাযান মাসে ২০ রাকাত নামায পড়তেন এবং বিতির পড়তেন।{মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা-৫/২২৫, হাদীস নং- ৭৬৯২, মুসনাদে আব্দ বিন হুমাইদ-২১৮, আল মুজামুল কাবীর, হাদীস নং-১২১০২, মাজমাউজ যাওয়ায়েদ, হাদীস নং-১৭২, সুনানে বায়হাকী কুবরা, হাদীস নং-৪৩৯১}
এই হাদীসের সকলেই বুখারী-মুসলিমের মশহুর রাবী,শুধুমাত্র ইব্রাহিম বিন উসমান ব্যতিত ৷
আর,ইব্রাহিম বিন উসমান থেকে বর্ণিত তিরমিযী ১০২৬নং হাদীসকে শায়েখ আলবানী সহীহ বলেছেন ৷৷
২ ﻋﻦ ﺟﺎﺑﺮ ﺑﻦ ﻋﺒﺪ ﺍﻟﻠﻪ ﻗﺎﻝ ﺧﺮﺝ ﺍﻟﻨﺒﻰ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﺫﺍﺕ ﻟﻴﻠﺔ ﻓﻰ ﺭﻣﻀﺎﻥ ﻓﺼﻠﻰ ﺍﻟﻨﺎﺱ ﺍﺭﺑﻌﺔ ﻭﻋﺸﺮﻭﻥ ﺭﻛﻌﺔ ﻭﺍﻭﺗﺮ ﺑﺜﻼﺛﺔ হযরত জাবের রাঃ বলেনঃ রমজান মাসের এক রাতে রাসূল সাঃ বাহিরে তাশরীফ নিয়ে এলেন। আর সাহাবায়ে কেরামকে ২৪ রাকাত [৪ রাকাত ঈশার, আর ২০ রাকাত তারাবীহের] নামায পড়ালেন। আর তিন রাকাত বিতির পড়ালেন। [তারীখে জুরজান-২৭} যেহেতু কথিত আহলে হাদীস ভাইদের কাছে দলীল শুধু কুরআন ও সহীহ হাদীস। তথা আল্লাহ ও রাসূল সাঃ এর কথা। কোন ব্যক্তির মতামত তাদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। আর এ দু’টি হাদীসকে আল্লাহ এবং রাসূল সাঃ না সহীহ বলেছেন, না জঈফ বলেছেন। তাই গায়রে মুকাল্লিদরা এ দু’টি হাদীসকে না সহীহ বলতে পারবে, না জঈফ বলতে পারবে। এবার দেখার বিষয় হল, উম্মতের ঐক্যমত্বের আমল এর উপর আছে কি নেই? যদি দেখা যায় যে, উম্মতের আমল এর উপরই। তাহলে আমল হিসেবে গ্রহণযোগ্য হওয়ার দ্বারা উক্ত হাদীস সহীহ হয়ে যায়। ওমর রাঃ এর আদেশ ৩ ﻋﻦ ﻳﺤﻴﻰ ﺑﻦ ﺳﻌﻴﺪ ﺍﻥ ﻋﻤﺮ ﺑﻦ ﺍﻟﺨﻄﺎﺏ ﺍﻣﺮ ﺭﺟﻼ ﻳﺼﻠﻰ ﺑﻬﻢ ﻋﺸﺮﻳﻦ ﺭﻛﻌﺔ হযরত ইয়াহইয়া বিন সাঈদ থেকে বর্ণিত। নিশ্চয় ওমর বিন খাত্তাব রাঃ এক ব্যক্তিকে বিশ রাকাত পড়ার হুকুম দিলেন। {মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা-৫/২২৩} হযরত ওমর রাঃ এর শাসনামল ৪ ﻭﺭﻭﻯ ﻣﺎﻟﻚ ﻣﻦ ﻃﺮﻳﻖ ﻳﺰﻳﺪ ﺑﻦ ﺧﺼﻴﻔﺔ ﻋﻦ ﺍﻟﺴﺎﺋﺐ ﺑﻦ ﻳﺰﻳﺪ ﻋﺸﺮﻳﻦ ﺭﻛﻌﺔ হযরত সায়েব বলেনঃ হযরত ওমর রাঃ এর সময়কালে বিশ রাকাত তারাবীহ ছিল। {ফাতহুল বারী-৪/৪৩৬} যার সনদ বুখারীতে দুই স্থানে আছে। ৫ ﻋﻦ ﺍﻟﺴﺎﺋﺐ ﺑﻦ ﻳﺰﻳﺪ ، ﻗﺎﻝ : ﻛﻨﺎ ﻧﻘﻮﻡ ﻓﻲ ﺯﻣﺎﻥ ﻋُﻤَﺮ ﺑﻦ ﺍﻟﺨﻄﺎﺏ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﺑﻌﺸﺮﻳﻦ ﺭﻛﻌﺔ ﻭﺍﻟﻮﺗﺮ হযরত সায়েব বিন ইয়াজিদ রাঃ বলেনঃ আমরা হযরত ওমর রাঃ এর শাসনামলে বিশ রাকাত তারাবীহ ও বিতির পড়তাম। {সুনানে সুগরা লিল বায়হাকী, হাদীস নং-৮৩৩, মারিফাতুস সুনান ওয়াল আসার, হাদীস নং-১৪৪৩} ইমাম নববী রহঃ, সুবকী রহঃ [শরহুল মিনহাজ], মোল্লা আলী কারী রহঃ [শরহুল মুয়াত্তা] ও সুয়ুতী রহঃ এ বর্ণনাকে সহীহ বলেছেন। ৬ ﻣﺤﻤﺪ ﺑﻦ ﻛﻌﺐ ﺍﻟﻘﺮﻇﻰ ﻛﺎﻥ ﺍﻟﻨﺎﺱ ﻳﺼﻠﻮﻥ ﻓﻰ ﺯﻣﺎﻥ ﻋﻤﺮ ﺑﻦ ﺍﻟﺨﻄﺎﺏ ﻓﻰ ﺭﻣﻀﺎﻥ ﻋﺸﺮﻳﻦ ﺭﻛﻌﺔ ﻭﻳﻮﺗﺮﻭﻥ ﺑﺜﻼﺙ মুহাম্মদ বিন কাব কুরজী বলেনঃ ওমর ফারুক রাঃ এর শাসনামলে লোকেরা রমজান মাসে বিশ রাকাত তারাবীহ ও তিন রাকাত বিতির পড়তো। [মুসাান্নাফ ইবনে আবী শাইবা-৫/২২৩] ৭ ﻋﻦ ﻳﺰﻳﺪ ﺑﻦ ﺭﻭﻣﺎﻥ ، ﺃﻧﻪ ﻗﺎﻝ : ‏« ﻛﺎﻥ ﺍﻟﻨﺎﺱ ﻳﻘﻮﻣﻮﻥ ﻓﻲ ﺯﻣﺎﻥ ﻋﻤﺮ ﺑﻦ ﺍﻟﺨﻄﺎﺏ ﻓﻲ ﺭﻣﻀﺎﻥ ﺑﺜﻼﺙ ﻭﻋﺸﺮﻳﻦ ﺭﻛﻌﺔ » হযরত ইয়াজিদ বিন রূমান বলেনঃ লোকেরা হযরত ওমর রাঃ এর শাসনামলে বিশ রাকাত তারাবীহ এবং তিন রাকাত বিতির রমজান মাসে আদায় করতো। {মারিফাতুস সুনান ওয়াল আসার, হাদীস নং-১৪৪৩, মুয়াত্তা মালিক, হাদীস নং-৩৮০, সুনানে বায়হাকী কুবরা, হাদীস নং-৪৩৯৪} ৮ ﻋﻦ ﺍﻟﺤﺴﻦ ﺍﻥ ﻋﻤﺮ ﺑﻦ ﺍﻟﺨﻄﺎﺏ ﺟﻤﻊ ﺍﻟﻨﺎﺱ ﻋﻠﻰ ﺍﺑﻰ ﺑﻦ ﻛﻌﺐ ﻓﻜﺎﻥ ﻳﺼﻠﻰ ﺑﻬﻢ ﻋﺸﺮﻳﻦ ﺭﻛﻌﺔ হযরত হাসান রাঃ থেকে বর্ণিত। হযরত ওমর রাঃ লোকদেরকে হযরত উবায় বিন কাব রাঃ এর কাছে একত্র করে দিলেন। আর তিনি লোকদের বিশ রাকাত তারাবীহ পড়াতেন। {সুনানে আবু দাউদ-১/২০২, সিয়ারু আলামিন নুবালা-১/৪০০} ৯ ﻋﻦ ﺍﺑﻰ ﺑﻦ ﻛﻌﺐ ﺍﻥ ﻋﻤﺮ ﺑﻦ ﺍﻟﺨﻄﺎﺏ ﺍﻣﺮﻩ ﺍﻥ ﻳﺼﻠﻰ ﺑﺎﻟﻴﻞ ﻓﻰ ﺭﻣﻀﺎﻥ ﻓﺼﻠﻰ ﺑﻬﻢ ﻋﺸﺮﻳﻦ ﺭﻛﻌﺔ হযরত উবায় বিন কাব রাঃ বলেনঃ হযরত ওমর রাঃ আমাকে এই মর্মে আদেশ দিলেন যে, আমি যেন লোকদেরকে তারাবীহ পড়াই। তখন বিশ রাকাত পড়া হতো। {কানযুল উম্মাল-৮/২৬৪}

আমাজন_অরণ্যঃ আমাজন জঙ্গল নামেও পরিচিত

My Site

#আমাজন_অরণ্যঃ আমাজন জঙ্গল নামেও পরিচিত যা দক্ষিণ আমেরিকার আমাজন নদী বিধৌত অঞ্চলে অবস্থিত বিশাল বনভূমি। ৭০ লক্ষ বর্গকিলোমিটার অববাহিকা পরিবেষ্টিত এই অরন্যের প্রায় ৫৫ লক্ষ বর্গ কিলোমিটার এলাকাটি মূলত আর্দ্র জলবায়ু দ্বারা প্রভাবিত। ৯ টি দেশ জুড়ে এই অরণ্য বিস্তৃত। আমাজন অরণ্য ৬০% রয়েছে ব্রাজিলে, ১৩% রয়েছে পেরুতে এবং বাকি অংশ রয়েছে কলম্বিয়া, ভেনেজুয়েলা, ইকুয়েডর, বলিভিয়া, গায়ানা, সুরিনাম এবং ফরাসি গায়ানা। পৃথিবী জুড়ে যে রেইনফরেস্ট তার অর্ধেক টাই এই অরণ্য নিজেই। নানা রকম প্রজাতির বাসস্থান হিসেবে সমৃদ্ধ এই আমাজন।এই বনে প্রায় ৩৯০ বিলিয়ন বৃক্ষ রয়েছে যেগুলো প্রায় ১৬০০০ প্রজাতিতে বিভক্ত।

সাহারা_মরুভূমি: সোনালি বালির এক অপরূপ রাজ্য

#সাহারা_মরুভূমি: সোনালি বালির এক অপরূপ রাজ্য
পৃথিবীর সর্ববৃহৎ উষ্ণ মরুভূমি এবং আয়তনের দিক থেকে ৩য় বৃহত্তম #মরুভূমি। মরুভূমি বলতে সেই সব এলাকাকে বুঝায় যেখানে বৃষ্টিপাতের হার বছরে ১০ ইঞ্চির কম হয়ে থাকে। এই সংজ্ঞা অনুযায়ী আর্কটিক এবং এন্টার্কটিকা মরুভূমি হওয়ার শর্ত পূরণ করে। এই দুই মরুভূমির পরেই সাহারা মরুভূমির স্থান। তবে অনেক সময় সাহারা মরুভূমিকে ভুলবশত “পৃথিবীর সর্ববৃহৎ মরুভূমি” হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
‘সাহারা’ অর্থ কি?

সাহারা শব্দের উৎপত্তি ঘটেছে আঞ্চলিক আরবি শব্দ “শাহরা” থেকে যার অর্থ “মরুভূমি। “সাহারা” শব্দের আক্ষরিক অর্থ দাঁড়ায় “শ্রেষ্ঠ মরুভূমি”।
সাহারা মরুভূমি কোথায় অবস্থিত?

উত্তর আফ্রিকার বৃহদাংশ জুড়ে সাহারা মরুভূমির রাজত্ব। এই রাজত্বের পূর্বে লোহিত সাগর, উত্তরে মেডিটেরিয়ান সাগর এবং পশ্চিমে আছে আটলান্টিক সাগর। দক্ষিণে এই সীমানা ধরা হয়েছে সাহেল পর্যন্ত, এক গ্রীষ্মমণ্ডলীয় প্রায়-অনুর্বর শুষ্ক অঞ্চল। আলজেরিয়া, চাদ, মিশর, লিবিয়া, মালি, মৌরিতানিয়া, মরক্কো, নাইজার, পশ্চিম সাহারা, সুদান এবং তিউনিসিয়ার বেশ কিছু অঞ্চল জুড়ে সাহারা মরুভূমি। বালির রাজ্য হলেও সাহারা মরুভূমির অনেকগুলো অংশ রয়েছে যেখানে কিছু পর্বতমালা এবং তৃণভুমি আছে।
সাহারা মরুভূমি মূলত পাথুরে মালভূমি ও বালির সমুদ্র দিয়ে গঠিত। বালির সমুদ্র ঢাকা থাকে বালিয়াড়ি দিয়ে যার বেশিরভাগের উচ্চতা ১৮০ মিটারের বেশি হয়ে থাকে। বাতাস এবং হাল্কা বৃষ্টিপাতের কারণে বালিয়াড়ি, বালির সাগর, পাথুরে মালভূমি, শুষ্ক উপত্যকা, শুষ্ক হ্রদ ও নুড়ি প্রান্তরের সৃষ্টি হয়। এছাড়া বিচ্ছিন্ন ভাবে কিছু পর্বতমালা, কতগুলো আগ্নেয়গিরি, মরুভূমির বালির নীচ থেকে উঠে আসে। এদের মধ্যে এয়ার পর্বতমালা, আহাগার পর্বতমালা, সাহারান অ্যাটলাস, তিবেস্তি পর্বতমালা, আদ্রার দে ইফোরাস এবং রেড সি হিলস উল্লেখযোগ্য।

সাহারা মরু অঞ্চলের সবচেয়ে অনুর্বর মধ্য সাহারা। এই অঞ্চলে গাছপালাও খুব একটা নেই। ওয়াদিস এর মত মরুভূমির উত্তর এবং দক্ষিণ অংশ সহ উঁচু এলাকাগুলোতে মরূদ্যান, তৃণভূমি, ঝোপঝাড় এবং কিছু গাছপালার দেখা মেলে। মধ্য সাহারার এলাকাগুলোর মধ্যে তানেযরফ্ত, তেনেরে, লিবিয়ান মরুভূমি, পূর্বাঞ্চলের মরুভূমি, নুবিয়ান মরুভূমি এবং অন্যান্য এলাকাগুলো সাহারার সবচেয়ে শুষ্ক এলাকা এবং কখনও কখনও এসব এলাকায় বছরে কোন সময়েই বৃষ্টি হয় না!
সাহারা মরুভূমিকে কয়েকটি অঞ্চলে বিভক্ত করা যায়- পশ্চিম সাহারা, তিবেস্তি পর্বতমালা, এয়ার পর্বতমালা, তিনেরি মরুভূমি এবং লিবিয়ান মরুভূমি।
সাহারা মরুভূমির আয়তন

উত্তর আফ্রিকার ৩১% অংশ জুড়ে সাহারা মরুভূমি অবস্থিত। এর আয়তন ৯ মিলিয়ন বর্গকিলোমিটার বা ৩,৫০০,০০০ বর্গমাইল। আর যদি বছরে ২৫০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হওয়া এলাকাগুলোকে যোগ করা হয়, তাহলে সাহারার মোট আয়তন দাঁড়াবে ১১ মিলিয়ন বর্গকিলোমিটারে বা ৪,২০০,০০০ বর্গমাইলে। সাহারা মরুভূমির মোট আয়তন যুক্তরাষ্ট্রের আয়তনের প্রায় সমান।
সাহারা মরুভূমির পিছনের ইতিহাস

সাহারা মরুভূমি সবসময় কিন্তু মরুভূমি ছিল না। আইস এজ এর পর সাহারার চিত্র আজকের শূন্য এবং শুষ্ক মরুভূমিতে পরিণত হয়। তবে, প্রায় ১০,৫০০ বছর আগে আকস্মিক ভারি বৃষ্টিপাত এই মরুভূমিকে বাসযোগ্য মরু প্রান্তরে পরিণত করে। পরবর্তী ১০০ বছর নিয়মিত বৃষ্টিপাতের কারণে সাহারায় জনবসতি বৃদ্ধি পায় এবং ছাগল ও ভেড়ার মত পশুপালন শুরু হয়। কিন্তু প্রকৃতি আবার তার রুক্ষতায় ফিরে আসে। প্রায় ৭,৩০০ বছর আগে বৃষ্টিপাত কমতে শুরু করে এবং প্রায় ৫,৫০০ বছর আগে সাহারার জনবসতি পুনরায় নীলনদের উপত্যকায় ফিরে আসে।
সাহারা মরুভূমির তাপমাত্রা

সাহারা মরুভূমির আকাশ সাধারণত পরিষ্কার থাকে এবং সূর্যের স্থায়িত্ব কাল অত্যন্ত দীর্ঘ। মরুভূমির বেশিরভাগ অংশ বছরে ৩,৬০০ ঘণ্টা বা ৮২% এর বেশি সূর্যরশ্মি পেয়ে থাকে এবং পূর্বাঞ্চলে এর পরিমাণ ৪,০০০ ঘণ্টা বা ৯১% এর বেশি। সবচেয়ে বেশি উত্তাপের রেকর্ডের অধিকারী মিশরের উঁচু এলাকা (আসওয়ান ও লুক্সর) এবং নুবিয়ান মরুভূমি (ওয়াদি হালফা)।

সূর্যের অবিরত অবস্থান, কম গাছ-পালা, স্বল্প বৃষ্টিপাত এবং কম আর্দ্রতার ফলে সারা বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে উত্তপ্ত মরুভূমি এবং গ্রীষ্মে সবচেয়ে উত্তপ্ত এলাকা সাহার মরুভূমি। গ্রীষ্মে এই মরুভূমির প্রায় সব জায়গায় গড় তাপমাত্রা বেড়ে ৩৮ থেকে ৪০ ডিগ্রী সেলসিয়াস বা ১০০.৪ থেকে ১০৪.০ ডিগ্রী ফারেনহাইটে পৌঁছায়। সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড ছিল আলজেরিয়ান মরুভূমির বোউ বারনোস শহরের দখলে, ৪৭ ডিগ্রী সেলসিয়াস বা ১১৬.৬ ডিগ্রী ফারেনহাইট। ক্যালিফোর্নিয়ার ডেথ ভ্যালিকে প্রতিদ্বন্দ্বী রেখে এটিই এই পর্যন্ত পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি গড় তাপমাত্রা।

মরুভূমির বালুর তাপমাত্রা আরও বেশি! দিনের বেলা বালু প্রচণ্ড গরম থাকে। ৮০ ডিগ্রী সেলসিয়াস বা ১৭৬ ডিগ্রী ফারেনহাইটে উঠে যায় নিমেষেই! সুদানে বালুর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৮৩.৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস (১৮২.৩ ডিগ্রী ফারেনহাইট)।

বাতাসে কম আর্দ্রতা এবং আকাশে মেঘ স্বল্পতার কারণে মরুভূমিতে সাধারণত প্রতিদিন দিন ও রাতের তাপমাত্রার বিশাল পার্থক্য ঘটে। দিনে প্রচণ্ড গরম আর রাতে প্রচণ্ড ঠাণ্ডা কেবল প্রচলিত বিশ্বাস মাত্র। রাতের বেলা সাহারার দৈনিক গড় তাপমাত্রা সাধারণত ১৩ থেকে ২০ ডিগ্রী সেলসিয়াস অথবা ২৩.৪ থেকে ৩৬.০ ডিগ্রী ফারেনহাইট। কখনও কখনও তাপমাত্রা উপকূলীয় এলাকায় ১০ ডিগ্রী সেলসিয়াস বা ১৮ ডিগ্রী ফারেনহাইটের নিচে নামে, যেখানে আর্দ্রতার পরিমাণ বেশি।
সাহারা মরুভূমির জীব-বৈচিত্র্য

মরুভূমি হলেও সাহারার আছে মরু অঞ্চলের ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য ভিত্তিক বিচিত্র জীবজগৎ। বৃষ্টিপাতের ভিত্তিতে সাহারার বৃক্ষরাজি বিভক্ত তিনটি প্রধান এলাকায়- উত্তরাঞ্চল (মেডিটেরিয়ান), মধ্যাঞ্চল এবং দক্ষিণাঞ্চল। সাহারা মরুভূমিতে উদ্ভিদ জগতের প্রায় ২৮০০ প্রজাতির বৃক্ষের উপস্থিতি লক্ষণীয়। এই সংখ্যার প্রায় এক-চতুর্থাংশ সাহারার স্থানীয় উদ্ভিদ। মধ্য সাহারায় ৫০০ প্রজাতির গাছ রয়েছে যা এলাকার বিশালতার কাছে সামান্যই বটে। আকাসিয়া, খেজুর, সাকুলেন্ট, কাঁটাবন এবং ঘাসগুলো মরুভূমির শুষ্ক পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে নিয়েছে কয়েকটি বৈশিষ্ট্যের মাধ্যমে- শক্তিশালী বাতাসের হাত থেকে রক্ষা পেতে আকারে ছোট, শুষ্ক মৌসুমে পানি ধরে রাখার জন্য স্থূলকায় কাণ্ড, পানির সন্ধান করার জন্য মাটির নিচে প্রশস্ত মূল এবং ছোট মোটা পাতা অথবা কাঁটা যা আর্দ্রতা ধরে রাখে।
সাহারা মরুভূমির প্রাণীকুলও বেশ সমৃদ্ধ। সাহারায় বেশ কয়েক প্রজাতির শিয়ালের বাস। তাদের মধ্যে ফেনেক ফক্স, পেল ফক্স এবং রুপেলস ফক্স অন্যতম। এডেক্স নামক বিশাল এন্টিলোপের বাস সাহারা মরুভূমিতে এবং তারা পানি ছাড়া প্রায় এক বছর পর্যন্ত বাঁচে! দরকাস গাযেল নামক হরিণও অনেকদিন পর্যন্ত পানি ছাড়া বাঁচে এবং সাহারায় এই প্রজাতির হরিণ দেখতে পাওয়া যায়।
আলজেরিয়া, তোগো, নাইজার, মালি, বেনিন এবং বুরকিনা ফাসো অঞ্চলে সাহারান চিতার দেখা মেলে। তবে দুশ্চিন্তার বিষয় এই যে, বর্তমানে মাত্র ২৫০ টি পূর্ণবয়স্ক সাহারান চিতার অস্তিত্ব আছে। এপ্রিল থেকে অক্টোবর মাসের সূর্য এড়িয়ে চলা এই চিতাবাঘগুলো সাধারণত ফ্যাকাসে বর্ণের হয়। সাহারান চিতা ছাড়া অন্যান্য প্রজাতির চিতাগুলো চাদ, সুদান এবং নাইজারের পূর্বাঞ্চলে বাস করে। এছাড়া সাহারা মরুভূমিতে মনিটর লিজার্ড, হাইরেক্স, স্যান্ড ভাইপার, রেড-নেক অস্ট্রিচ, আফ্রিকান সিলভার বিল, ব্ল্যাক ফেইসড ফায়ারফিঞ্চ এবং কিছু সংখ্যক আফ্রিকান বুনো কুকুর বাস করে। মৌরিতানিয়া এবং এনেদি মালভূমিতে কিছু ছোট প্রজাতির কুমির বাস করে।
মরুভূমির আরেক স্থানীয় বাসিন্দা ডেথস্টকার বিছা। এরা প্রায় ১০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত লম্বা হয়। এই বিছার বিষে অনেক বেশি পরিমাণে এজিটক্সিন এবং সাইলাটক্সিন থাকে যা অত্যন্ত বিপদজনক; এক দংশনে স্বাস্থ্যকর পূর্ণবয়স্ক ব্যক্তির মৃত্যু ঘটতে পারে। সাহারান সিলভার অ্যান্ট সাহারা মরুভূমির উচ্চ তাপমাত্রা সহ্য করতে পারে এবং শিকারির কবল থেকে বাঁচার জন্য দিনে কেবল ১০ মিনিটের জন্য এরা আস্তানা থেকে বের হয়। সাধারণত পালিত পশু হিসেবে বিবেচ্য ড্রমেডেরি উট এবং ছাগলের দেখা মেলে সাহারা মরুভূমিতে। দ্রুত গতি এবং সহ্য ক্ষমতার জন্য এই দুই জাতের পশু যাযাবরদের কাছে জনপ্রিয়।
বর্তমান সাহারা

১০০ বছর আগের সাহারার তুলনায় বর্তমান সাহারা প্রায় ১০% বৃদ্ধি পেয়েছে বলে বিজ্ঞানীদের গবেষণায় পাওয়া গেছে। এর পেছনে বিশ্ব উষ্ণায়নের অবদান কিছুটা হলেও দায়ী।
একই সাথে খরা এবং বৃষ্টিপাতের হার অস্বাভাবিকভাবে কমে যাওয়ার কারণেও দিন দিন এই মরুভূমি বিশাল থেকে বিশালত্বর হতে চলেছে। এসব কারণের সাথে আরও যুক্ত হয়েছে প্রকৃতির মানবসৃষ্ট পরিবর্তন। যার ফলে, বিজ্ঞানীরা আশঙ্কা করছেন যে, সাহারার বৃদ্ধি বাড়বে বৈ কমবেনা!