ঈদের সালাত সুন্নত বা মতভেদে ওয়াজিব(ফরজে কেফায়া) একটি ইবাদত।
আর এর তাকবীর সংখ্যা নিয়ে দলাদলি,হানাহানি,হিসা- বিদ্বেষ,ঘৃনার অন্ত নেই। এজাতীয় তৎপরতা বা মনোভাব হারাম এবং কখনই ইসলাম এসব সমর্থন করে না ।তাই এ বিষয়ে সতর্ক থাকা প্রত্যেক মু’মিনের অবশ্য কর্তব্য ৷ইবাদতে সন্দেহ-সংশয় সৃষ্টি করার ফলে সমাজে ইবাদত বিমুখতা বৃদ্ধি পায় ।যারা ইবাদতে সন্দেহ তৈরী করার চেষ্টা করে, সে সকল শায়খ/মাদানী থেকে দূরে থাকা সকলের উচিৎ ৷কেননা,আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’য়ালার নির্দেশ হলোঃ‘এমন ব্যক্তির আনুগত্য কর না যার মনকে আমি আমার স্মরণ থেকে অমনোযোগী করে দিয়েছি, যে তার প্রবৃত্তির অনুসরণ করে এবং যার কাজ হলো বাড়াবাড়ি ও সীমা লঙ্ঘন করা।’ (সূরা কাহ্ফ : ২৮)
প্রসঙ্গঃ #ঈদের_নামাজের_তাকবীর_সংখ্যা ।ঈদের সালাত সুন্নত বা মতভেদে ওয়াজিব(ফরজে কেফায়া) একটি ইবাদত।আর এর তাকবীর সংখ্যা নিয়ে দলাদলি,হানাহানি,হিসা- বিদ্বেষ,ঘৃনার অন্ত নেই। এ জাতীয় তৎপরতা বা মনোভাব হারাম এবং কখনই ইসলাম এসব সমর্থন করে না ।তাই এ বিষয়ে সতর্ক থাকা প্রত্যেক মু’মিনের অবশ্য কর্তব্য ৷ইবাদতে সন্দেহ-সংশয় সৃষ্টি করার ফলে সমাজে ইবাদত বিমুখতা বৃদ্ধি পায় ।যারা ইবাদতে সন্দেহ তৈরী করার চেষ্টা করে, সে সকল শায়খ/মাদানী থেকে দূরে থাকা সকলের উচিৎ ৷কেননা,আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’য়ালার নির্দেশ হলোঃ‘এমন ব্যক্তির আনুগত্য কর না যার মনকে আমি আমার স্মরণ থেকে অমনোযোগী করে দিয়েছি, #যে_তার_প্রবৃত্তির_অনুসরণ_করে_এবং_যার_কাজ_হলো_বাড়াবাড়ি_ও_সীমা_লঙ্ঘন_করা।’ (সূরা কাহ্ফ : ২৮)
#বার_তাকবিরের_ঈদের_নামাজের হাদীসতো শুনেছেন । কেননা যারা ১২ তাকবিরের কথা বলে তারা ৬ তাকবিরের হাদীসগুলো বেমালুম চেপে যায় বা অস্বীকার করে ।
#ছয়_তাকবীরের_কয়েকটি_হাদীস নিন্মে প্রদত্ত হলো ।তার মানে এই নয় যে, ১২ তাকবিরের হাদীস গুলো সঠিক নয় । বরং১২ তাকবিরের হাদীস গুলোর উপরও আপনি চোখবুঝে আমল করতে পারেন । ইসলাম একটি সরল ও সকলের জন্য সহনীয় ফেক্সীবল জীবন বিধান । এটি যাষ্ট কোন ধর্ম নয় । এটি একটি টোটাল জীবন বিধান ।
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ، وَابْنُ أَبِي زِيَادٍ، الْمَعْنَى قَرِيبٌ قَالاَ حَدَّثَنَا زَيْدٌ، يَعْنِي ابْنَ حُبَابٍ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ ثَوْبَانَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ مَكْحُولٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي أَبُو عَائِشَةَ، جَلِيسٌ لأَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ سَعِيدَ بْنَ الْعَاصِ، سَأَلَ أَبَا مُوسَى الأَشْعَرِيَّ وَحُذَيْفَةَ بْنَ الْيَمَانِ كَيْفَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُكَبِّرُ فِي الأَضْحَى وَالْفِطْرِ فَقَالَ أَبُو مُوسَى كَانَ يُكَبِّرُ أَرْبَعًا تَكْبِيرَهُ عَلَى الْجَنَائِزِ . فَقَالَ حُذَيْفَةُ صَدَقَ . فَقَالَ أَبُو مُوسَى كَذَلِكَ كُنْتُ أُكَبِّرُ فِي الْبَصْرَةِ حَيْثُ كُنْتُ عَلَيْهِمْ . وَقَالَ أَبُو عَائِشَةَ وَأَنَا حَاضِرٌ سَعِيدَ بْنَ الْعَاصِ(رَوَاه ابُوْ دَاود فِىْ بَابِ بَابُ التَّكْبِيرِ فِي الْعِيدَيْنِ)
হযরত সাঈদ ইবনুল আস রহ. হযরত আবু মুসা আশআরী ও হযরত হুজাইফা রা.কে জিজ্ঞেস করলেন যে, রাসূলুল্লাহ স. দুই ঈদের নামাযে কতবার তাকবীর দিতেন? জবাবে হযরত আবু মুসা আশআরী রা. বললেন: জানাযার তাকবীরের মতো ৪ বার তাকবীর দিতেন। তখন হুজাইফা রা. বললেন: আবু মুসা সত্য বলেছেন। আবু মুসা রা. আরও বললেন: আমি বসরা থাকাবস্থায় এভাবেই তাকবীর বলতাম। বর্ণনাকারী আবু আয়েশা রহ. বলেন: আমি সাঈদ ইবনুল আস-এর নিকটে উপস্থিত ছিলাম। (আবু দাউদ: ১১৫৩)
হাদীসটির স্তর: হাসান। যায়েদ ইবনুল হুবাব এবং সাবিত বিন সাওবান ব্যতীত এ হাদীসের রাবীগণ সবাই-ই বুখারী-মুসলিমের রাবী। আর যায়েদ ইবনুল হুবাব صدوق “সত্যনিষ্ঠ”। (তাকরীব: ২৩২৬) সাবিত বিন সাওবান ثقةٌ “নির্ভরযোগ্য”। (তাকরীব: ৯০৭) শায়খ শুআইব আরনাউত মুসনাদে আহমাদের তাহকীকে এ হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। (মুসনাদে আহমাদ: ১৯৭৩৪ নম্বর হাদীসের আলোচনায়) শায়খ আলবানীও হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। (সহীহ-জঈফ আবু দাউদ: ১১৫৩)
এ হাদীসে হযরত আবু মুসা আশআরী রা. ঈদের নামাযে চার-চার তাকবীরের কথা বলেছেন। এর ব্যাখ্যা হযরত ইবনে মাসউদের হদীসে বর্ণনা করা হয়েছে যে, প্রথম রাকাতে কিরাতের পূর্বে চার তাকবীর বলবে; যার মধ্যে তাকবীরে তাহরিমা একটি এবং ঈদের অতিরিক্ত তাকবীর তিনটি। আর দ্বিতীয় রাকাতে কিরাতের পরে চার তাকবীর বলবে; যার মধ্যে রুকুর তাকবীর একটি আর অতিরিক্ত তাকবীর তিনটি। অতএব, ঈদের নামাযের অতিরিক্ত তাকবীর সর্বমোট ছয়টি প্রমাণিত হলো। (আব্দুর রযযাক: ৫৬৮৭)
عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ وَيَحْيَى بْنُ عُثْمَانَ قَدْ حَدَّثَانَا ، قَالَا : ثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ عَنْ يَحْيَى بْنِ حَمْزَةَ قَالَ : حَدَّثَنِي الْوَضِينُ بْنُ عَطَاءٍ أَنَّ الْقَاسِمَ ، أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ حَدَّثَهُ ، قَالَ : حَدَّثَنِي بَعْضُ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ صَلَّى بِنَا ، النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمَ عِيدٍ ، فَكَبَّرَ أَرْبَعًا ، وَأَرْبَعًا ، ثُمَّ أَقْبَلَ عَلَيْنَا بِوَجْهِهِ حِينَ انْصَرَفَ ، قَالَ : لَا تَنْسَوْا ، كَتَكْبِيرِ الْجَنَائِزِ ، وَأَشَارَ بِأَصَابِعِهِ ، وَقَبَضَ إبْهَامَهُ – فَهَذَا حَدِيثٌ حَسَنُ الْإِسْنَادِ وَعَبْدُ اللهِ بْنُ يُوسُفَ , وَيَحْيَى بْنُ حَمْزَةَ , وَالْوَضِينُ وَالْقَاسِمُ كُلُّهُمْ أَهْلُ رِوَايَةٍ , مَعْرُوفُونَ بِصِحَّةِ الرِّوَايَةِ
হযরত কাসেম বিন আব্দুর রহমান রহ. বলেন: রসূলুল্লাহ স.-এর কোন এক সাহাবা আমাকে হাদীস বর্ণনা করেছেন যে, রসূলুল্লাহ স. আমাদেরকে ঈদের দিনে নামায পড়ালেন। তাতে ৪বার অতঃপর ৪বার তাকবীর বললেন। নামায শেষে আমাদের দিকে ফিরে বৃদ্ধাঙ্গুল বন্ধ করে হাতের অপর ৪ আঙ্গুল দ্বারা ইশারা করে বললেন: তোমরা ভুলে যেও না, এটা জানাযার তাকবীরের মতো। (ত্বহাবী : ৭২৭৩ পৃষ্ঠা: ৪০০)
হাদীসটির স্তর: হাসান। ইমাম ত্বহাবী রহ. বলেন: এ হাদীসের সনদ হাসান। এ হাদীসের রাবীদের মধ্যে আলী বিন আব্দুর রহমান صدوق “সত্যনিষ্ঠ”। (তাকরীব: ৫৩৪৭) ইয়াহইয়া বিন উসমানের ব্যাপারে ইমাম জাহাবী বলেন: حافظ أخبارى له ما ينكر “হাফেজ, ঐতিহাসিক। তবে তাঁর কিছু মুনকার বর্ণনাও রয়েছে”। (আল কাশেফ: ৬২১৭) আব্দুল্লাহ বিন ইউসুফ বুখারীর রাবী। ইয়াহইয়া বিন হামযা বুখারী-মুসলিমের রাবী। ওয়াযিন বিন আতার ব্যাপারে ইমাম জাহাবী বলেন, ثقة ، و بعضهم ضعفه “তিনি নির্ভরযোগ্য, তবে কেউ কেউ তাঁকে জঈফ বলেছেন”। (আল কাশেফ: ৬০৫০) আবু আব্দুর রহমান صدوق “সত্যনিষ্ঠ”। (আল কাশেফ: ৪৫১৭)
ফায়দা : ঈদের নামাযের তাকবীরের ব্যাপারে রসূলুল্লাহ স. থেকে বর্ণিত শুধু হাসান হাদীস দ্বারা এ কারণে দলীল গ্রহণ করতে হলো যে, এ ব্যাপারে স্পষ্ট কোন সহীহ মারফু’ হাদীস নেই। ইমাম আহমাদ রহ. বলেন: لَيْسَ فِي تَكْبِيرِ الْعِيدَيْنِ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَدِيثٌ صَحِيحٌ، “ঈদের নামাযের তাকবীরের ব্যাপারে রসূলুল্লাহ স. থেকে বর্ণিত কোন সহীহ হাদীস নেই”। (নাসবুর রায়াহ: ঈদের নামায অধ্যায়) তবে সাহাবা ও তাবিঈগণের মন্তব্য এবং আমল থেকে আমরা দলীল গ্রহণ করে থাকি।
ঈদের তাকবীরের ব্যাপারে বিশিষ্ট সাহাবায়ে কিরামের আমল
عَنْ مَعْمَرٍ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ عَلْقَمَةَ، وَالْأَسْوَدِ بْنِ يَزِيدَ قَالَ: كَانَ ابْنُ مَسْعُودٍ جَالِسًا وَعِنْدَهُ حُذَيْفَةُ وَأَبُو مُوسَى الْأَشْعَرِيُّ، فَسَأَلَهُمَا سَعِيدُ بْنُ الْعَاصِ عَنِ التَّكْبِيرِ فِي الصَّلَاةِ يَوْمَ الْفِطْرِ وَالْأَضْحَى فَجَعَلَ هَذَا يَقُولُ: سَلْ هَذَا، وَهَذَا يَقُولُ: سَلْ هَذَا، فَقَالَ لَهُ حُذَيْفَةُ: سَلْ هَذَا لِعَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ فَسَأَلَهُ، فَقَالَ ابْنُ مَسْعُودٍ: يُكَبِّرُ أَرْبَعًا ثُمَّ يَقْرَأُ، ثُمَّ يُكَبِّرُ فَيَرْكَعُ، ثُمَّ يَقُومُ فِي الثَّانِيَةِ فَيَقْرَأُ، ثُمَّ يُكَبِّرُ أَرْبَعًا بَعْدَ الْقِرَاءَةِহযরত আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ রা. বসেছিলেন। তাঁর কাছে হযরত হুজাইফা ও আবু মুসা আশআরী রা. উপস্থিত ছিলেন। সাঈদ ইবনুল আছ তাঁদের দু’জনকে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহাতে নামাযের তাকবীর সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন। তখন তাঁদের একজন অপরজনের নিকটে জিজ্ঞেস করার কথা বলতেছিলেন যে, তাঁর কাছে জিজ্ঞেস কর। আবার অপরজন বলেন, তাকে জিজ্ঞেস কর। পরে হযরত হুজাইফা বললেন: এ বিষয়টি আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ রা.কে জিজ্ঞেস করুন। তিনি হযরত ইবনে মাসউদ রা.কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন: ৪ বার তাকবীর দিয়ে কুরআন পাঠ করে তাকবীর বলে রুকু করবে। অতঃপর দ্বিতীয় রাকাতে কুরআন পড়ে ৪ বার তাকবীর বলবে। (মুসান্নাফে আব্দুর রাযযাক: ৫৬৮৭)
হাদীসটির স্তর: সহীহ, মাউকুফ। এ হাদীসের রাবীগণ সবাই-ই বুখারী-মুসলিমের রাবী। হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানী রহ. বলেন: رَوَاهُ عبد الرَّزَّاق عَن ابْن مَسْعُود بِإِسْنَاد “আব্দুর রযযাক ইবনে মাসউদ থেকে সহীহ সনদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন”। (আদদিরায়াহ: হাদীস নম্বর- ২৮৬)
এ হাদীস থেকে প্রমাণিত হয় যে, ঈদের নামাযের অতিরিক্ত তাকবীর ছয়টি।
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بن عَبْدِ اللَّهِ الْحَضْرَمِيُّ، حَدَّثَنَا مَسْرُوقُ بن الْمَرْزُبَانِ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي زَائِدَةَ، عَنْ أَشْعَثَ، عَنْ كُرْدُوسٍ، قَالَ: أَرْسَلَ الْوَلِيدُ إِلَى عَبْدِ اللَّهِ بن مَسْعُودٍ، وَحُذَيْفَةَ، وَأَبِي مَسْعُودٍ، وَأَبِي مُوسَى الأَشْعَرِيِّ بَعْدَ الْعَتَمَةِ، فَقَالَ: إِنَّ هَذَا عِيدُ الْمُسْلِمِينَ فَكَيْفَ الصَّلاةُ؟ فَقَالُوا: سَلْ أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ فَسَأَلَهُ، فَقَالَ:”يَقُومُ فَيُكَبِّرُ أَرْبَعًا، ثُمَّ يَقْرَأُ بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ، وَسُورَةٍ مِنَ الْمُفَصَّلِ، ثُمَّ يُكَبِّرُ، وَيَرْكَعُ فَتِلْكَ خَمْسٌ، ثُمَّ يَقُومُ فَيَقْرَأُ بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ، وَسُورَةٍ مِنَ الْمُفَصَّلِ، ثُمَّ يُكَبِّرُ أَرْبَعًا يَرْكَعُ فِي آخِرِهِنَّ فَتِلْكَ تِسْعٌ فِي الْعِيدَيْنِ”، فَمَا أَنْكَرَهُ وَاحِدٌ مِنْهُمْ.
কুরদুস বিন আব্বাস রহ. বলেন: হযরত ওয়ালিদ ইশার নামাযের পরে আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ, হুজাইফা, আবু মাসউদ এবং হযরত আবু মুসা আশআরী রা.-এর নিকটে লোক পাঠালেন। প্রেরিত দূত তাঁদের নিকটে গিয়ে বললো: এটা মুসলমানদের ঈদ। আপনারা বলে দিন যে, নামাযের পদ্ধতি কেমন হবে? তাঁরা সবাই বললেন: হযরত আবু আব্দুর রহমান অর্থাৎ, আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ রা.কে জিজ্ঞেস করুন। জবাবে হযরত ইবনে মাসউদ বলেন: ঈদের নামাযের জন্য দাঁড়িয়ে ৪ বার তাকবীর বলে সূরা ফাতিহা ও মুফাছছল থেকে অপর একটি সূরা পড়বে এবং পুনরায় তাকবীর বলে রুকু করবে। এ হলো মোট ৫টি তাকবীর। এরপর দাঁড়িয়ে সূরা ফাতিহা ও মুফাছ্ছল থেকে অপর একটি সূরা পড়বে। অতঃপর ৪ বার তাকবীর বলবে যার শেষ তাকবীরে রুকু করবে। এ হলো সর্বমোট ৯টি তাকবীর। তিনি এ কথা বলার পরে তাদের কেউই এর প্রতিবাদ করেননি। (তবারানী কাবীর: ৯৪০০)
হাদীসটির স্তর: সহীহ, মাউকুফ। আল্লামা হাইসামী বলেন: رَوَاهُ الطَّبَرَانِيُّ فِي الْكَبِيرِ وَرِجَالُهُ مُوَثَّقُونَ “তবারানী তাঁর মু’জামে কাবীরে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং এ হাদীসের বর্ণনাকারীগণ সবাই-ই নির্ভরযোগ্য”। (মাজমাউয যাওয়ায়েদ: ৩২৪৭) হযরত ইবনে হাযাম এ হাদীসটির সনদকে উঁচু মানের সহীহ বলেছেন। (মুহাল্লা: ঈদের নামায অধ্যায়)
সারসংক্ষেপ : হযরত ইবনে মাসউদ রা.-এর বর্ণনা অনুযায়ী প্রথম রাকাতে কিরাতের পূর্বে চার তাকবীর বলতে হবে যার মধ্যে তাকবীরে তাহরিমা একটি এবং ঈদের অতিরিক্ত তাকবীর তিনটি। আর দ্বিতীয় রাকাতে কিরাতের পরে চার তাকবীর বলবে যার মধ্যে রুকুর তাকবীর একটি আর অতিরিক্ত তাকবীর তিনটি। অতএব, ঈদের নামাযের অতিরিক্ত তাকবীর সর্বমোট ছয়টি প্রমাণিত হলো।
#হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. বলেছেন,التكبير في العيدين اربعا كالصلاة على الميت. رواه الطبراني في الكبير وقال الهيثمي: رجاله ثقات.
অর্থ: জানাযার নামাযের মতো দুই ঈদে (প্রতি রাকাতে) চার তাকবীর হবে। তাবারানী র. এটি উদ্ধৃত করেছেন। (হা. ৯৫২২) হায়ছামী র. বলেছেন, এর বর্ণনাকারীগন সকলে বিশ্বস্ত। (মাজমাউয যাওয়ায়েদ, ২/৩৬৮)
#মাসরূক বলেন,كان عبد الله يعلمنا التكبير في العيدين تسع تكبيرات خمس في الاولى واربع في الآخرة ويوالى بين القراءتين . أخرجه ابن أبي شيبة – وإسناده حسن.
অর্থ: আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. আমাদেরকে দুই ঈদের তাকবীর শেখাতেন, মোট নয় তাকবীর। প্রথম রাকাতে পাঁচ ও দ্বিতীয় রাকাতে চার। উভয় রাকাতের কেরাত একাধারে পড়বে। ইবনে আবী শায়বা এটি উদ্ধৃত করেছেন। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা, হাদীস নং ৫৭৪৬)। এটির সনদ হাসান।
#কুরদুস ইবনে আব্বাস বলেন,لما كان ليلة العيد أرسل الوليد بن عقبة إلى ابن مسعود وأبي مسعود وحذيفة والأشعري فقال لهم إن العيد غدا فكيف التكبير فقال عبد الله يقوم فيكبر أربع تكبيرات ويقرأ بفاتحة الكتاب وسورة من المفصل ليس من طوالها ولا من قصارها ثم يركع ثم يقوم فيقرأ فإذا فرغ من القراءة كبر أربع تكبيرات ثم يركع بالرابعة. أخرجه ابن أبي شيبة عن هشيم عن أشعث عن كردوس عنه (٥٧٥٤)অর্থ: ওয়ালীদ ইবনে উকবা ঈদের রাতে ইবনে মাসউদ রা., আবূ মাসউদ রা., হুযায়ফা রা. ও আবূ মূসা আশআরী রা. এর কাছে লোক পাঠিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, আগামী কাল তো ঈদ, তাকবীর কিভাবে দিতে হবে? হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. বললেন, নামাযে দাঁড়িয়ে চার তাকবীর দেবে, পরে সূরা ফাতিহা এবং মুফাসসাল থেকে এমন একটি সূরা পড়বে যা বড়ও নয়, ছোটও নয়। এরপর রুকু করবে। পরে (রাকাত শেষ করে) পুনরায় দাঁড়াবে। এবং কেরাত পাঠ করবে। কেরাত পাঠ শেষ হলে চারটি তাকবীর দেবে এবং চতুর্থ তাকবীর বলে রুকুতে যাবে। মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা, হাদীস নং ৫৭৫৪; ইমাম মুহাম্মদ র. এর কিতাবুল আসার, পৃ,২০৫; কিতাবুল হুজ্জাহ , পৃ ৮৫; তাবারানী, আলমুজামুল কাবীর, (দ্র, মাজমাউয যাওয়ায়েদ, ২/৩৬৭) হায়ছামী বলেছেন, এর বর্ণনাকারীগন বিশ্বস্ত; তাহাবী শরীফ ১খ, ৩১৯পৃ,। তাহাবীর সনদে ইবনে কাছীর র. স্বীয় তাফসীর গ্রন্থে। ইবনে কাছীর বলেছেন, সনদটি সহীহ। (৩খ, ৫৬৪পৃ)
#আব্দুর রাযযাক রহ. ইবনে জুরায়জ থেকে বর্ণনা করেছেন:ان يوسف بن ماهك أخبرني ان ابن الزبير كان لا يكبر إلا اربعا في كل ركعة سواء ، يكبرهن في كل ركعتين ، سمعنا ذلك منه. المصنف ٣/٢٩١ (٥٦٧٦)
অর্থ: ইউসুফ ইবনে মাহাক র. আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, আব্দুল্লাহ ইবনে যুবায়ের রা. প্রত্যেক রাকাতে চার তাকবীরই বলতেন, এর বেশী বলতেন না। এভাবে উভয় রাকাতেই তিনি তাকবীর বলতেন। আমরা তার কাছ থেকেই এটা শুনেছি। মুসান্নাফে আব্দুর রাযযাক, হাদীস নং ৫৬৭৬। এই হাদীসের সনদ সহীহ।
#ইবরাহীম নাখায়ী বলেছেন যে,انكم معاشر اصحاب رسول الله صلى الله عليه و سلم متى تختلفون على الناس يختلفون من بعدكم ومتى تجتمعون على أمر يجتمع الناس عليه فانظروا أمرا تجتمعون عليه فكانما أيقظهم فقالوا نعم ما رأيت يا أمير المؤمنين فأشر علينا فقال عمر رضي الله عنه بل أشيروا انتم على فانما انا بشر مثلكم فتراجعوا الأمر بينهم فأجمعوا أمرهم على ان يجعلوا التكبير على الجنائز مثل التكبير في الأضحى والفطر اربع تكبيرات فأجمع أمرهم على ذلك . (الطحاوي – باب التكبير على الجنائز كم هو) صـ ١/٣١٩
অর্থাৎ আপনারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবী। আপনাদের দ্বিমত পরবর্তীদের উপর প্রভাব ফেলবে। আর আপনাদের ঐকমত্যের ফলে অন্যরাও একমত থাকবে। সুতরাং ভেবে চিন্তে আপনারা একটি বিষয়ে একমত হোন। এ কথায় তিনি যেন তাঁদের জাগিয়ে তুললেন। তারা বললেন, হাঁ, আপনি ঠিকই বলেছেন, হে আমীরুল মুমিনীন। তবে এ বিষয়ে আপনি আপনার মতামত বলুন। তিনি বললেন, আপনারাই বরং আমাকে পরামর্শ দিন। কারণ, আমি তো আপনাদের মতোই একজন মানুষ। পরে তাঁরা মত বিনিময় করে এ বিষয়ে মতৈক্যে পৌঁছলেন যে, যেভাবে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহায় চার তাকবীর হয়ে থাকে, তেমনি জানাযার নামাযেও চার তাকবীর হবে। (তাহাবী শরীফ, ১খ, ৩১৯পৃ)
এ হাদীস গুলোতে হযরত আবু মুসা আশআরী এবং হযরত আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ রা.-এর মতো প্রবীণ মুজতাহিদ সাহাবার সিদ্ধান্ত ঘোষিত হয়েছে যারা সর্বদা রসূলুল্লাহ স.-এর সঙ্গে ঈদের নামায আদায় করেছেন। অতএব, নির্দ্বিধায় বলা যেতে পারে যে, রসূলুল্লাহ স.-এর আমল ছিলো অতিরিক্ত ছয় তাকবীরের সাথে ঈদের নামায পড়া।
উপকারীতাঃ অতিরিক্ত ছয় তাকবীরে ঈদের নামায পড়ার দলীল হিসেবে হাসান সনদে বর্ণিত রসূলুল্লাহ স.-এর আমল ও তাঁর বাণী, (আবু দাউদ: ১১৫৩, ত্বহাবী: ৭২৭৩) সহীহ সনদে বর্ণিত জলীলুল কদর সাহাবায়ে কিরামের আমল ও মন্তব্য (আব্দুর রযযাক: ৫৬৮৭ ও ৫৬৮৯, তবারানী: ৯৪০০ এবং ইবনে আবী শাইবা: ৫৭৫৬ ও ৫৭৬০) এবং সহীহ সনদে বর্ণিত বিশিষ্ট তাবিঈদের আমল ও মন্তব্য (ইবনে আবী শাইবা: ৫৭৬১, ৫৭৬৫ ও ৫৭৭৪)-এর ভিত্তিতে আমরা অতিরিক্ত ৬ তাকবীরের সাথে ঈদের নামায আদায় করে থাকি এবং এটাকে উত্তম বলে বিশ্বাস করি।
এর বিপরীতে ১২ তাকবীরে ঈদের নামায আদায় করার কথাও হাদীসে বর্ণিত আছে। তন্মধ্যে তিরমিজী শরীফে বর্ণিত ৫৩৬ নম্বর হাদীসকে ইমাম তিরমিজী রহ. এ অধ্যায়ের সর্বাধিক সহীহ হাদীস বলে উল্লেখ করেছেন। অথচ উক্ত হাদীসটি জঈফ। কারণ, এ হাদীসের সনদের কাসীর বিন আব্দুল্লাহ নামক একজন বর্ণনাকারী রয়েছেন। তাঁর ব্যাপারে ইমাম আহমাদ রহ. বলেন: منكر الحديث “তাঁর হাদীস অগ্রহণযোগ্য”। ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন: ضعيف الحديث “তাঁর হাদীস জঈফ”। আবু দাউদ বলেন: كان أحد الكذابين “তিনি মিথ্যাবাদীদের একজন”। ইমাম দারাকুতনী বলেন: متروك الحديث “তাঁর হাদীস পরিত্যাক্ত”। (তাহজীবুত তাহজীব ও তাহজীবুল কামাল থেকে সংগৃহীত)। ইবনে হাজার আসকালানী বলেন: ضعيف أفرط من نسبه إلى الكذب “তিনি জঈফ, যারা তাঁকে মিথ্যার দিকে সম্বোধন করেছে তারা বাড়াবাড়ি করেছে”। (তাকরীব: ৬৩০৮)। সুতরাং এমন রাবীর বর্ণিত হাদীস কীভাবে সর্বাধিক সহীহ হয়? এ হাদীসের ব্যাপারে ইমাম তিরমিজী রহ. নিজে তাঁর ইলালুল কুবরায় বলেন: ইমাম বুখারী রহ.কে জিজ্ঞেস করলে তিনি এটাকে জঈফ বলেছেন। (আল ইলালুল কুবরা: ঈদের নামাযের তাকবীর অধ্যায়) ইমাম দারাকুতনী রহ. এটাকে মুজতরাব বলেছেন। (ইলালুদ দারাকুতনী: ৩৪৫৮)
১২ তাকবীরে ঈদের নামায পড়ার হাদীস আরও বর্ণিত আছে আবু দাউদ: ১১৪৯ ও ১১৫০ নম্বরে। এ দু’টি হাদীসের বর্ণনায় রয়েছে আব্দুল্লাহ বিন লাহিআহ। তিনি যদিও মুসলিমের রাবী; কিন্তু তাঁর গ্রহণযোগ্যতার বিষয়ে মুহাদ্দিসগণের আপত্তি রয়েছে। ইমাম ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন: كان ضعيفا لا يحتج بحديثه “তিনি জঈফ, তার হাদীস দলীলযোগ্য নয়”। ইমাম নাসাঈ রহ. বলেন: ليس بثقة “তিনি নির্ভরযোগ্য নন”। ইবনে আবী হাতিম বলেন: سألت أبى وأبا زرعة عن الإفريقى و ابن لهيعة: أيهما أحب إليك ؟ فقالا: جميعا ضعيفان “আমি আমার পিতা আবু হাতিম এবং আবু যুরআকে জিজ্ঞেস করলাম: আব্দুল্লাহ বিন লাহিআহ এবং আফরিকী এ দুজনের মধ্যে আপনার নিকটে কে প্রিয়? তিনি বললেন: দুজনই জঈফ”। (তাহজীবুল কামাল ও তাহজীবুত তাহজীব থেকে সংগৃহীত) ইমাম জাহাবী বলেন: قلت: العمل على تضعيف حديثه “তাঁর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হলো তাঁর হাদীসকে জঈফ গণনা করা”। (আল কাশেফ: ২৯৩৪) অবশ্য আব্দুল্লাহ বিন মুবারক ও আব্দুল্লাহ বিন ওয়াহহাব রহ. ইবনে লাহিআ থেকে যা বর্ণনা করেন তা অন্যদের বর্ণনার চেয়ে তুলনামূলক বেশী গ্রহণযোগ্য। কিন্তু উক্ত বর্ণনায় হযরত আব্দুল্লাহ বিন লাহিআ নিঃসঙ্গ হওয়ায় সে প্রাধান্যের দিকটিও দুর্বল হয়ে গেছে। হাকেম এবং ইমাম জাহাবী রহ. বলেন: تفرد به ابن لهيعة “হাদীসটি আব্দুল্লাহ বিন লাহিআ একাই বর্ণনা করেছেন”। (মুসতাদরাকে হাকেম: ১১০৮ নম্বর হাদীস ও ইমাম জাহাবীর তালখীছে)
১২ তাকবীরে ঈদের নামায পড়ার হাদীস আরও বর্ণিত আছে আবু দাউদ: ১১৫১ ও ১১৫২ নম্বর হাদীসে। এ দু’টি হাদীসের বর্ণনায় রয়েছে আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান তায়েফী। অধিকাংশ মুহাদ্দিস তাঁর বর্ণনা গ্রহণ করেছেন। কিন্তু তাঁর ব্যাপারে কিছু মুহাদ্দিসীনে কিরামের আপত্তি রয়েছে। عن ابن معين : ضعيف “হযরত ইয়াহইয়া বিন মাঈন রহ. বলেন: তিনি জঈফ”। আবু হাতিম বলেন: ليس بقوى ، لين الحديث “তিনি শক্তিশালী নন, হাদীস বর্ণনার ক্ষেত্রে নরম”। ইমাম নাসাঈ বলেন: ليس بذاك القوى و يكتب حديثه “তিনি তেমন মজবুত নন। তবে তাঁর হাদীস লেখার যোগ্য”।
উপরোক্ত তথ্যের দ্বারা ইবনে লাহিআ বা আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান তায়েফী রহ. বর্ণিত হাদীসকে অগ্রহণযোগ্য বলা আমার উদ্দেশ্য নয়; বরং এটা দেখানো উদ্দেশ্য যে, ইবনে লাহিআ ও আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান তায়েফীর মাধ্যমে বর্ণিত ১২ তাকবীরে ঈদের নামায পড়ার হাদীসের তুলনায় পূর্ববর্ণিত ৬ তাকবীরে ঈদের নামায পড়ার হাদীস তুলনামূলক বেশী শক্তিশালী। এ কারণে অনেকেই ৬ তাকবীরে ঈদের নামায পড়ার আমলকে উত্তম মনে করে থাকেন । তবে ১২ তাকবীরে ঈদের নামায পড়ার আমল ও শতভাগ বৈধ। ১২ তাকবীরে ঈদের নামায পড়ার হাদীসগুলোও সহীহ সনদে বর্ণিত । আসুন আমরা দলাদলি ছেড়ে এক হই,নেক হই , ঐক্যবদ্ধ হয়ে ইসলামের রজ্জুকে একত্র ধারণ করি । ফতোয়ার রেষারেষী ভুলে যাই ।আল্লাহ আমাদের তার খাঁটি গোলাম হিসাবে কবুল করুন ।আমিন । ছুম্মা আমিন ।।
প্রসঙ্গঃ #ঈদের_নামাজের_তাকবীর_সংখ্যা
ঈদের সালাত সুন্নত বা মতভেদে ওয়াজিব(ফরজে কেফায়া) একটি ইবাদত।
আর এর তাকবীর সংখ্যা নিয়ে দলাদলি,হানাহানি,হিসা- বিদ্বেষ,ঘৃনার অন্ত নেই। এজাতীয় তৎপরতা বা মনোভাব হারাম এবং কখনই ইসলাম এসব সমর্থন করে না ।তাই এ বিষয়ে সতর্ক থাকা প্রত্যেক মু’মিনের অবশ্য কর্তব্য ৷ইবাদতে সন্দেহ-সংশয় সৃষ্টি করার ফলে সমাজে ইবাদত বিমুখতা বৃদ্ধি পায় ।যারা ইবাদতে সন্দেহ তৈরী করার চেষ্টা করে, সে সকল শায়খ/মাদানী থেকে দূরে থাকা সকলের উচিৎ ৷কেননা,আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’য়ালার নির্দেশ হলোঃ‘এমন ব্যক্তির আনুগত্য কর না যার মনকে আমি আমার স্মরণ থেকে অমনোযোগী করে দিয়েছি, যে তার প্রবৃত্তির অনুসরণ করে এবং যার কাজ হলো বাড়াবাড়ি ও সীমা লঙ্ঘন করা।’ (সূরা কাহ্ফ : ২৮)









