হিযবুত তাওহীদ : ঈমান বিধ্বংসী এক ফিরকা

১৯৯৫ সালে হোমিও ডাক্তার খ্যাত বায়াজীদ খান পন্নী নামক জনৈক ব্যক্তির দ্বারা টাঙ্গাইল করটিয়ায় হিযবুত তাওহীদ প্রতিষ্ঠা লাভ করে।
এটি নামধারী একটি ইসলামিক দল হলেও মূলত এটি ইসলাম ধ্বংস করার গোপন ষড়যন্ত্র।

খুব অল্প সময়ে উদ্ভট সব থিউরী দিয়ে বেশ কিছু ভক্ত যুগিয়ে ফেলে পন্নী। ইসলামের মৌলিক বিধানাবলীর নতুন সব অপব্যাখ্যা করে পুরো দ্বীনটাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে রাখার দুষ্কর্ম সে আমরণ করে যায়।

● তাদের দাবী হলো যে ধর্মটি ইসলাম বলে প্রচলিত আমাদের সমাজে এটা আসল ইসলাম নয়। বরং অন্যন্য ধর্মের মত একটি ধর্ম শুধু।

হেযবুত তওহীদের অন্যতম দাবী হচ্ছে-
৬০/৭০ হিজরীর পর থেকে ১৩০০ হিজরির পর পুরো ইসলাম ধর্মটি বিকৃত হয়ে গিয়েছে এবং সমস্ত মুসলমান কাফের এবং মুশরিক হয়ে গিয়েছে। সুতরাং প্রচলিত ইসলামটি আসল ইসলাম নয় বরং আল্লাহর প্রেরিত ইসলামের বিপরিত এটা।

● টুপি, দাড়ী, পাগড়ি, জুব্বা এগুলোর সাথে ইসলামের কোনো সম্পর্ক নেই বলে জোর দাবী তুলেছে তারা। অথচ বিধর্মীদের মত দাড়ীতে স্টাইল করা তারা রুচিসম্মত কাজ মনে করে থাকে।

● তাদের দাবী হলো “হেযবুত তওহীদ’ই হলো আল্লাহর পাঠানো আসল দ্বীনুল হক। তাদের এমামুযযামান খ্যাত বায়াজীদ খান পন্নীকে নাকি আল্লাহ পাক মো’জেজার মাধ্যমে বলেছেন যে, “হেযবুত তওহীদ” – এ দলটি দিয়ে পুরো বিশ্বে সহীহ ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হবে।

এজন্য তারা ঘোষণা দিয়ে তাদের বইয়ের মধ্যে লিখেছে-
“যারা হেযবুত তওহীদ করবে তাদের জন্য নিশ্চিত জান্নাত। এনকি যদি কেউ হেযবুত তওহীদে থাকাবস্থায় মৃত্যুবরণ করে তাহলে সে দুই শহিদের মর্যাদা পাবে। আর যারা পন্নী সাহেবের মোজেজা বিশ্বাস করবে না তারা মোনাফেক। তাদের কোনো মুক্তি নাই, তারা জাহান্নামী।” [লা-হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ।]

অবশেষে ১৬ ই জানুয়ারী ২০১২ ইং সনে তার মৃত্যু হয়। কিন্তু এতদিনে তার ভ্রান্ত দলের কর্মী হাজার ছাড়িয়ে যায়। বর্তমানে তাদের কথিত এমাম হলো নারীলোভী সেলিম।

বায়জীদ খান পন্নীর এ নতুন ফেরকা হেযবুত তাওহীদ ভ্রান্ত হবার ফিরিস্তি অনেক দীর্ঘ।
এই ভ্রান্তবাদী ইসলাম ধ্বংসকারী দল থেকে সবাইকে দূরে থাকার অনুরোধ করছি।

এই ভান্তবাদী মানুষের ঈমান ধ্বংসকারী এই হিজবুত তাওহীদ কে আইনের আওতায় আনে কঠিন শাস্তি দেয়ার দাবি করছি। সামাজিকভাবে সকল মুসলমানকে সতর্ক করার অনুরোধ জানাচ্ছি।

ব্রিটিশ পতাকা ছুঁড়ে সর্বপ্রথম লালকেল্লায় তিরঙ্গা উত্তোলনকারী শাহনাওয়াজ কে মনে রাখেনি কেউ

লালকেল্লার শিয়রে পতপত করে উড়তে থাকা “তিরঙ্গা” দেশের গৌরবের প্রতীক। ১৯৪৭ সালের আগে ঐ স্থানে বৃটিশ পতাকা উড়তো। কিন্তু জানেন কি? ব্রিটিশ পতাকা ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে, সর্বপ্রথম ঐ লালকেল্লায় তিরঙ্গা উত্তোলন করেছিলেন কোন ভাগ্যবান?

তিনি হলেন মহান স্বাধীনতা সংগ্রামী, বিশিষ্ট জননেতা, দেশের বীর সন্তান, আজাদ হিন্দ মেজর, নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বোসের নয়নমণি “জেনারেল শাহনওয়াজ খান।” ইনি ছিলেন বর্তমান জনপ্রিয় বলিউড বাদশা শাহরুখ খান এর দাদু। যার জন্ম, ২৪ জানুয়ারি ১৯১৪, আর মৃত্যু ৯ ডিসেম্বর ১৯৮৩।

দেশের জন্য যারা নিজের সর্বস্ব ত্যাগ করেছিলেন, জেনারেল শাহনেওয়াজ
তাঁদের অন্যতম। তিনি দারুণ বক্তৃতা দিতে পারতেন। লালকেল্লায় প্রতিদিন
সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত “লাইট-এন্ড সাউন্ড শো”-তে নেতাজী-র সঙ্গে সঙ্গে, শাহনেওয়াজ খান এর কন্ঠে বক্তৃতা শোনা যেত।

তিনি ছিলেন অবিভক্ত ভারতের বাসিন্দা, পার্টিশন এর সময়, পাকিস্তানে গোটা পরিবারকে ছেড়ে, একাই ভারতে চলে এসেছিলেন, পাকাপাকি ভাবে। কারণ তাঁর পরিবার চেয়েছিল পাকিস্তানে থাকতে, কিন্তু তিনি চাননি। স্বাধীনতা পরবর্তীতে উত্তর প্রদেশের “মেরঠ” থেকে নির্বাচনে চারবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন, প্রতিবার বিজয়ী হন। এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভায় জায়গা করে নিয়েছিলেন।

১৯৬৫ সালের ভারত -পাকিস্তান যুদ্ধ, শাহনওয়াজ খান এর কাছে এক মর্মান্তিক ঘটনা হিসাবে চিহ্নিত। তিনি নিজে ছিলেন ভারতের মন্ত্রী, এবং তাঁর পূত্র কর্নেল মেহমুদ আলী ছিলেন, পাকিস্তান সেনাদলের গুরুত্বপূর্ণ অফিসার। সেই সময় বেশকিছু অতি দেশভক্ত মানুষ, তাঁর পদত্যাগ দাবি করেছিলেন। কিন্তু লাল বাহাদুর শাস্ত্রী তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে, সম্পূর্ণ সমর্থন করেছিলেন। মেহমুদ এই যুদ্ধে নিহত হন, এবং দেশভক্তির প্রমাণ হিসাবে নিজের সন্তানের শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে তিনি পাকিস্তানে পর্যন্ত যাননি।

তিনি বলেছিলেন, “দেশের শক্রু, আমার শক্রু, সেটা পূত্র হোক অথবা পিতা।” প্রতি বছর ২৪ এ জানুয়ারি আসে এবং চলে যায়। আমরা জানতেই পারিনা, এই মহান মানুষটি এই দিনেই জন্মেছিলেন। মহান মানুষটিকে শ্রদ্ধা জানানোর মতো সৌভাগ্য আমাদের হয়ে ওঠেনি।

#কোরআন ও #হাদীস থেকে #জান্নাতের সঠিক বর্ননা ।

#কোরআন ও #হাদীস থেকে #জান্নাতের সঠিক বর্ননা ।(অনেকেই জান্নাতের বিবরণ দিতে গিয়ে অতিরঞ্জিত বা বাড়াবারি করে ফেলে আবার অনেকে জাল হাদীস রচনা করে বয়ান করে)জান্নাত (আরবি: جنّة‎‎) হল ইসলামিক পরিভাষা অনুযায়ী, পার্থিব জীবনে যে সকল মুসলিম আল্লাহর আদেশ নিষেধ মেনে চলবে এবং পরকালীন হিসাবে যার পাপের চেয়ে পুণ্যের পাল্লা ভারী হবে ও আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ করবে তাদের জন্য আল্লাহ যে সকল স্বর্গ প্রস্তুত রেখেছেন। এটি একটি আরবি শব্দ, যার শাব্দিক অর্থ হল “বাগান” বা “উদ্যান”| প্রচলিত বাংলা ভাষায় একে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বেহেশত বলা হয়ে থাকে । জান্নাতের প্রশস্ততাকোরআনে কারিমে বর্ণিত জান্নাতের বিশেষত্বগুলো হচ্ছে- ‘এর নেয়ামত, সুশীতল ছায়া, আপ্যায়ন, পানীয়, সঙ্গী-সাথী, পোশাক-পরিচ্ছদ, পরিবেশকগণ, সুউচ্চ বহুতলবিশিষ্ট প্রাসাদ, বাগান ও ঝরণা, সব ইচ্ছাপূরণ, জান্নাতিদের প্রতি অভিবাদন ও মোবারকবাদ এবং সবকিছুর ওপরে আল্লাহর সন্তুষ্টি। কোরআনে কারিমে জান্নাতকে বিভিন্নভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। সেসব সংজ্ঞায় বলা হয়েছে-উত্তম আবাস (সূরা আলে ইমরান: ১৪), আল্লাহর রহমতের আশ্রয় (সূরা আলে ইমরান: ১০৭), সম্মান ও মর্যাদার জায়গা (সূরা আন নিসা: ৩১), নিয়ামতে পরিপূর্ণ জান্নাত (সূরা আল মায়িদা: ৬৫), শান্তির আবাস (সূরা আল আনআম: ১২৭), শান্তির ভুবন (সূরা ইউনুস: ২৫), ক্ষমা এবং বিরাট প্রতিদান (সূরা হুদ: ১১), শুভ পরিণাম (সূরা আর রা’দ: ২৯), বাগান ও নির্ঝরিণী (সূরা আল হিজর: ৪৫), বড় ভালো আবাস (সূরা আন নাহল: ৩০), বিরাট প্রতিদান (সূরা বনি ইসরাইল: ৯), ভালো প্রতিদান (সূরা আল কাহফ: ২), ভালো প্রতিদান (সূরা আল কাহফ: ৮৮), সম্মানজনক জীবিকা (সূরা আল হজ: ৫০), নিয়ামতে পরিপূর্ণ জান্নাত (সূরা আল হজ: ৫৬), উৎকৃষ্টতর জিনিস (সূরা আল ফোরকান: ১০), চমৎকার আশ্রয় এবং আবাস (সূরা আল ফোরকান: ৭৬), মাগফিরাত ও সম্মানজনক রিজিক (সূরা সাবা: ৪), মাগফিরাত ও বড় পুরস্কার (সূরা আল ফাতির: ৭), মাগফিরাত ও মর্যাদাপূর্ণ প্রতিদানে (সূরা ইয়াসিন: ১১), নৈকট্যের মর্যাদা ও উত্তম প্রতিদান (সূরা আস সোয়াদ: ২৫), নৈকট্যের মর্যাদা ও শুভ পরিণাম (সূরা আস সোয়াদ: ৪০), যেমন উত্তম তেমনি চিরস্থায়ী (সূরা আশ শূরা: ৩৬), উত্তম প্রতিদান (সূরা আন নাজম: ৩১), সর্বোত্তম প্রতিদান (সূরা আল হাদিদ: ১১), সর্বোত্তম প্রতিদান (সূরা আল হাদিদ: ১৮), পুরস্কার ও ‘নূর’ (সূরা আল হাদিদ: ১৯), বিরাট প্রতিদান (সূরা আত তাগাবুন: ১৫), বিরাট পুরস্কার (সূরা আল মুলক: ১২), নিয়ামত ভরা জান্নাত (সূলা আল কলম: ৩৪), প্রতিদান ও যথেষ্ট পুরস্কার (সূরা আন নাবা: ৩৬), অফুরন্ত পুরস্কার (সূরা আল ইনশিকাক: ২৫), এমন পুরস্কার যা কোনোদিন শেষ হবে না (সূরা আত ত্বীন: ৬)।
১// #জান্নাতের_প্রশস্ততা সম্পর্কে কুরআনুল কারীমে আল্লাহ্‌ তা’আলা বলেন,“ তোমরা দ্রুত অগ্রসর হও তোমাদের প্রতিপালকের ক্ষমার দিকে ও সেই জান্নাতের দিকে যার বিস্তৃতি হচ্ছে আসমানসমূহ ও যমীনের সমান, যা মুত্তাকীদের জন্য তৈরী করা হয়েছে। (সূরা আল ইমরান- ১৩৩) ”জান্নাত দেখার পরই সঠিকভাবে বোঝা যাবে যে জান্নাত কত বিশাল এবং তার নেয়ামত কত অসংখ্য। আল্লাহ্‌ তা’আলা বলেন,“ তুমি যখন দেখবে তখন দেখতে পাবে ভোগ বিলাসের নানান সামগ্রী আর এক বিশাল রাজ্য। (সূরাহ আদ্‌-দাহ্‌রঃ ২০জান্নাতে শত স্তর আছে আর প্রত্যেক স্তরের মাঝে এত দূরত্ব আছে যতটা দূরত্ব আছে আকাশ ও যমিনের মাঝে। রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘জান্নাতে শত স্তর আছে। প্রত্যেক স্তরের মাঝে দূরত্ব হল আকাশ ও যমীনের দূরত্বের সমান। আর ফেরদাউস তার মধ্যে সর্বোচ্চ স্তরে আছে। আর সেখান থেকেই জান্নাতের চারটি ঝর্ণা প্রবাহমান। এর উপরে রয়েছে আরশ। তোমরা আল্লাহ্‌র নিকট জান্নাতের জন্য দু’আ করলে জান্নাতুল ফেরদাউসের জন্য দু’আ করবে’। (তিরমিজী- কিতাবুল জান্নাহ)
জান্নাতে একটি বৃক্ষের ছায়া এত লম্বা হবে যে কোন অশ্বারোহী ঐ ছায়ায় শত বছর পর্যন্ত চলতে পারবে। রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘জান্নাতে এমন একটি বৃক্ষ আছে যার ছায়ায় কোন আরোহী শত বছর পর্যন্ত চলতে পারবে। আর তোমরা ইচ্ছা করলে তিলাওয়াত করতে পার ‘এবং দীর্ঘ ছায়া”। আর জান্নাতে তোমাদের কারও একটি ধনুকের পরিমাণ জায়গাও ঐ জায়গা অপেক্ষা উত্তম যেখানে সূর্য উদিত হয় আর সূর্য অস্তমিত হয় (অর্থাৎ পৃথিবীর চেয়ে)”। (সহীহ বুখারী, হাদীস সংখ্যা- ৩২৫২, ৩২৫৩)
সর্বশেষ জান্নাতে প্রবেশকারীকে এ দুনিয়ার চেয়ে দশগুণ বড় জান্নাত দান করা হবে। রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন’, জাহান্নামে থেকে সবশেষে বের হয়ে আসা ব্যক্তিকে আমি চিনি। সে হামাগুড়ি দিয়ে জাহান্নাম থেকে বের হয়ে আসবে। তাকে বলা হবে, “যাও জান্নাতে প্রবেশ কর”। নবী সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “সে গিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করবে। সে দেখবে, লোকেরা স্ব স্ব স্থান অধিকার করে আছে। অতঃপর তাকে বলা হবে, “আচ্ছা সে যুগের (জাহান্নামের শাস্তি) কথা তোমার স্মরণ আছে কি?” সে বলবে, “হ্যাঁ, মনে আছে”। তাকে বলা হবে, “তুমি কি পরিমাণ জায়গা চাও তা ইচ্ছা কর”। সে ইচ্ছা করবে। তখন তাকে বলা হবে, “তুমি যে পরিমাণ ইচ্ছা করেছো তা এবং দুনিয়ার দশগুণ জায়গা তোমাকে দেয়া হল”। একথা শুনে সে বলবে, “আপনি আমার সাথে ঠাট্টা করছেন? অথচ আপনি হলেন সর্ব শক্তিমান”। বর্ণনাকারী ইবনে মাসঊদ রাযিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু বলেন, “এ সময় আমি রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামকে এমনভাবে হাসতে দেখেছি যে, তাঁর মাড়ির দাঁত পর্যন্ত প্রকাশ হয়ে পড়েছে’। (সহীহ মুসলিম – কিতাবুল ঈমান)
জান্নাতে সর্বশেষ ব্যক্তি প্রবেশ করার পরও অনেক জায়গা বাকী থাকবে যা পূর্ণ করার জন্য আল্লাহ্‌ তা’আলা নতুন জীব সৃষ্টি করবেন। রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন’, জান্নাতে যতটুকু স্থান আল্লাহ্‌ চাইবেন ততটুকু স্থান খালি থেকে যাবে। অতঃপর আল্লাহ্‌ তাঁর ইচ্ছা অনুযায়ী অন্য এক জীব সৃষ্টি করবেন’। (সহীহ মুসলিম – কিতাবুল জান্নাহ)
২// #জান্নাতের_অট্টালিকাসমূহকুরআন মাজীদে আল্লাহ্‌ তা’আলা বলেন,“মু’মিন পুরুষ আর মু’মিন নারীর জন্য আল্লাহ্‌ অঙ্গীকার করেছেন জান্নাতের যার নিম্নদেশ দিয়ে ঝর্ণাধারা প্রবাহিত, তাতে তারা চিরদিন থাকবে, আর জান্নাতে চিরস্থায়ী উত্তম বাসগৃহের; আর সবচেয়ে বড় (যা তারা লাভ করবে তা) হল আল্লাহ্‌র সন্তুষ্টি। এটাই হল বিরাট সাফল্য। (সূরা তওবা ”
জান্নাতের অট্টালিকাসমূহ সোনা-রূপার ইট দিয়ে নির্মিত হবে। সহীহ হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, আবু হুরাইরাহ রাযিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, “আমি জিজ্ঞেস করলাম, “ইয়া রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম! সৃষ্টিকে কী দিয়ে সৃষ্টি করা হয়েছে?” রাসূলুল্লাহ্‌ সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “পানি দিয়ে”। আমি জিজ্ঞেস করলাম, “জান্নাত কী দিয়ে নির্মিত?” তিনি বললেন, “একটি ইট রৌপ্যের এবং আরেকটি ইট স্বর্ণের। তার গাঁথুনি হল সুগন্ধিযুক্ত মেশক আম্বর। তার কংকর মোতি ও ইয়াকুতের। তার মাটি জাফরানের। যে ব্যক্তি সেখানে প্রবেশ করবে সে জীবন উপভোগ করবে, তার কোন কষ্ট হবে না। চিরকাল জীবিত থাকবে, মৃত্যু হবে না। জান্নাতীদের কাপড় কখনো পুরানো হবে না। আর তাদের যৌবন কখনো বিনষ্ট হবে না”। (তিরমিজী- কিতাবুল জান্নাহ)
জান্নাতের কোন কোন অট্টালিকায় স্বর্ণের বাগান থাকবে। আবার কোন কোনটিতে রূপার বাগান থাকবে। রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন’, দুইটি জান্নাত এমন রয়েছে যে, এর যাবতীয় পাত্রসমূহ ও তার মধ্যে যা কিছু আছে সবই রৌপ্য নির্মিত। আবার দুইটি জান্নাত এমন আছে যে এর সমস্ত আসবাবপত্র এবং এর মধ্যে যা কিছু আছে সবই স্বর্ণ নির্মিত। জান্নাতে আদনের অধিবাসীদের মধ্যে এবং তাদের প্রতিপালককে দর্শনের মধ্যে কেবল তাঁর বড়ত্ব ও মহানত্বের চাদরখানা ব্যতীত আর কোন আড়াল থাকবে না’। (সহীহ মুসলিম – কিতাবুল ঈমান)
জান্নাতের অট্টালিকাসমূহে সাদা মোতির নির্মিত বড় বড় সুন্দর গম্বুজ নির্মাণ করা হয়েছে। আনাস বিন মালেক রাযিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু থেকে মেরাজের হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন’, অতঃপর আমাকে জান্নাতে নিয়ে যাওয়া হল, যাতে সাদা মোতির নির্মিত গম্বুজ আছে। আর তার মাটি হল মেশক আম্বরের’। (সহীহ মুসলিম – কিতাবুল ঈমান)৩// #জান্নাতের_তাঁবুসমূহজান্নাতীদের প্রত্যেকের অট্টালিকায় তাঁবু থাকবে যেখানে হুরেরা অবস্থান করবে। আল্লাহ্‌ তা’আলা বলেন,“ তাঁবুতে সুরক্ষিত থাকবে সুলোচনা সুন্দরীরা। (আর রাহমান – ৭২) ”জান্নাতের তাঁবু ষাট মাইল প্রশস্ত হবে। রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন’, জান্নাতের মধ্যে ফাঁপা মোতির একটি তাঁবু থাকবে। এর প্রশস্ততা হবে ষাট মাইল। এর প্রতি কোণে থাকবে হুর-বালা। এদের এক কোণের জন অপর কোণের জনকে দেখতে পাবে না। ঈমানদার লোকেরা তাদের কাছে যাবে। এতে থাকবে দু’টি বাগান, যার সকল পাত্র এবং ভেতরের সকল বস্তু হবে রূপার তৈরি’। (সহীহ বুখারী, হাদিস সংখ্যা- ৪৮৭৯)৪// #জান্নাতের_বৃক্ষসমূহজান্নাতের বৃক্ষসমূহ কাঁটা বিহীন হবে ও তাদের ছায়া অনেক লম্বা হবে। আল্লাহ্‌ তা’আলা বলেন,“ আর ডানদিকের দল, কত ভাগ্যবান ডানদিকের দল! তারা থাকবে কাঁটা বিহীন বরই গাছগুলোর মাঝে। কলা গাছের মাঝে যাতে আছে থরে থরে সাজানো কলা, বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে ছায়া, অবিরাম প্রবাহমান পানির ধারে, আর পর্যাপ্ত ফলমূল পরিবেষ্টিত হয়ে। (সূরাহ আল-ওয়াক্বি’আহঃ ২৭-৩২)]”জান্নাতের বৃক্ষসমূহ সর্বদা শস্য-শ্যামল থাকবে। আল্লাহ্‌ তা’আলা বলেন,“ ঘন সবুজ এ বাগান দু’টি। (সূরা আর রাহমান ৬৪)”জান্নাতের বৃক্ষসমূহের শাখাগুলো লম্বা ও ঘন হবে। আল্লাহ্‌ তা’আলা বলেন,“ দু’টোই শাখা পল্লবে ভরপুর। (সূরা আর রাহমান ৪৮)”’রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, জান্নাতের প্রতিটি বৃক্ষের মূল হবে স্বর্ণের’। (তিরমিজী- কিতাবুল জান্নাহ)
৫// #জান্নাতের_ফলসমূহ
কুরআনুল কারীমে আল্লাহ্‌ তা’আলা বলেন,“ তাতে আছে ফলমূল, আর খেজুর আর ডালিম । (সূরা আর-রহমান – ৬৮)”জান্নাতের প্রত্যেক জান্নাতীর পছন্দমত সর্ব প্রকার ফলমূল মজুদ থাকবে। আল্লাহ্‌ তা’আলা বলেন,“মুত্তাকীরা থাকবে ছায়া আর ঝর্ণাধারার মাঝে, আর তাদের জন্য থাকবে ফলমূল-যেটি তাদের মন চাইবে। (তাদেরকে বলা হবে) তোমরা তৃপ্তির সাথে খাও আর পান কর, তোমরা যে কাজ করেছিলে তার পুরস্কারস্বরূপ। সৎকর্মশীলদের আমি এভাবেই প্রতিফল দিয়ে থাকি। (সূরাহ আল-মুরসালাতঃ ৪১-৪৪)”জান্নাতের ফল সর্বদা জান্নাতীদের নাগালের মধ্যে থাকবে। আল্লাহ্‌ তা’আলা বলেন,“ জান্নাতের বৃক্ষরাজির ছায়া তাদের উপর থাকবে, আর ফলের গুচ্ছ একেবারে তাদের নাগালের মধ্যে রাখা হবে। (আদ-দাহর ১৪)”জান্নাতের ফলের ছড়া অনেক বড় হবে। আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু থেকে সূর্য গ্রহণের সলাত সম্পর্কে বর্ণিত হাদীসে এসেছে যে, সাহাবাগণ রাসূলুল্লাহ্‌ সল্লাল্লাহু ‘আলায়হি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞেস করল, “ইয়া রাসূলুল্লাহ্‌ সল্লাল্লাহু ‘আলায়হি ওয়া সাল্লাম! আমরা আপনাকে দেখলাম, আপনি এ স্থানে দাঁড়িয়ে কোন কিছু হাত বাড়িয়ে নিতে যাচ্ছেন। আবার একটু পরে দেখলাম হাত ফিরিয়ে নিলেন”। রাসূলুল্লাহ্‌ সল্লাল্লাহু ‘আলায়হি ওয়া সাল্লাম বললেন, “আমি জান্নাত দেখতে পেলাম। অতএব জান্নাতে থেকে ফলের একটা ছড়া নিতে যাচ্ছিলাম। যদি তা নিয়ে নিতাম তবে তোমরা তা পৃথিবী কায়েম থাকা পর্যন্ত খেতে পারতে”। (সহীহ মুসলিম)
৬// #জান্নাতের_নদীসমূহজান্নাতের নদীসমূহের পানির রং ও স্বাদ সর্বদা একই রকমের থাকবে। কুরআনুল কারীমে আল্লাহ্‌ তা’আলা বলেন,“ মুত্তাক্বীদেরকে যে জান্নাতের ও’য়াদা দেয়া হয়েছে তার উপমা হলঃ তাতে আছে নির্মল পানির ঝর্ণা, আর আছে দুধের নদী যার স্বাদ অপরিবর্তনীয়, আছে পানকারীদের জন্য সুস্বাদু মদের নদী আর পরিশোধিত মধুর নদী। (সূরাহ মুহাম্মদঃ ১৫) ”
আবু হুরাইরাহ রাযিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “সাইহান, জাইহান, ফোরাত ও নীল জান্নাতের নদী”। (সহীহ মুসলিম- কিতাবুল জান্নাত)
হাকীম বিন মোয়াবিয়া তার পিতা থেকে তিনি নবী সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, “জান্নাতে পানির সাগর, মধুর সাগর, দুধের সাগর ও শরাবের সাগর রয়েছে। এগুলো থেকে পরে আরো নহরের শাখা-প্রশাখা বের হবে”। (তিরমিজী)
আবু সাঈদ খুদরী রাযিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “আল্লাহ্‌ স্বীয় দয়ায় যাকে খুশি তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন এবং জাহান্নামীদেরকে জাহান্নামে প্রবেশ করাবেন। (অতঃপর দীর্ঘদিন পর বলবেন) দেখ যে ব্যক্তির অন্তরে বিন্দু পরিমাণ ঈমান আছে তাকে জাহান্নাম থেকে বের কর। তখন তারা এমন অবস্থায় বের হবে যে তাদের শরীর কয়লার ন্যায় জ্বলে গেছে। তখন তাদেরকে হায়াত বা হায়া নামক নদীতে নিক্ষেপ করা হবে। তখন তারা এমনভাবে সজীব হয়ে উঠবে, যেমন বন্যার আবর্জনার মাঝে চারাগাছ সজীব হয়ে উঠে। তোমরা কি কখনো দেখনি যে কেমন হলুদ রং বিশিষ্ট হয়ে ওঠে”। (সহীহ মুসলিম- কিতাবুল ঈমান)কাওসার নদী
আনাস ইবনু মালিক রাযিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু সূত্রে নবী সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, “আমি জান্নাতে ভ্রমণ করছিলাম, এমন সময় এক নহরের কাছে এলে দেখি যে তার দু’ধারে ফাঁপা মুক্তার গম্বুজ রয়েছে। আমি বললাম, “হে জিব্‌রীল! এটা কী?” তিনি বললেন, “এটা ঐ কাউসার যা আপনার প্রতিপালক আপনাকে দান করেছেন”। তার ঘ্রাণে অথবা মাটিতে ছিল উত্তম মানের মিশ্‌ক এর সুগন্ধি”। (সহীহ বুখারী, হাদীস সংখ্যা-৬৫৮১)
আবদুল্লাহ বিন ওমর রাযিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “কাওসার জান্নাতের একটি নদী। যার উভয় তীর স্বর্ণ নির্মিত। তার পানি ইয়াকুত ও মোতির উপর প্রবাহমান। তার মাটি মেশকের চেয়েও বেশি সুগন্ধময়। তার পানি মধুর চেয়ে অধিক মিষ্টি এবং বরফের চেয়ে অধিক সাদা”। (তিরমিজী)
আনাস বিন মালেক রাযিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, কাওছার কি? তিনি বললেন, “এটি একটি নদী, যা আল্লাহ্‌ তা’আলা আমাকে জান্নাতে দান করবেন। তা দুধ অপেক্ষা সাদা এবং মধু থেকেও সুমিষ্ট। এর মাঝে রয়েছে বহু পাখি। এগুলোর গর্দান হবে উটের গর্দানের মত”। উমর রাযিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু বললেন, “এগুলো তো খুব মোটা-তাজা হবে”। রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “এগুলোর আহারকারী আরো সুখী হবে”। (তিরমিজী- কিতাবুল জান্নাহ
৭// #জান্নাতের_ঝর্ণাসমূহকুরআনুল কারীমে আল্লাহ্‌ তা’আলা বলেন,“ তাদের সামনে ঘুরে ঘুরে রুপার পাত্র পরিবেশন করা হবে আর সাদা পাথরের পানপাত্র। সেই সাদা পাথরও হবে রুপার তৈরি। তারা এগুলোকে যথাযথ পরিমাণে ভর্তি করবে। তাদেরকে পান করানোর জন্য এমন পাত্র পরিবেশন করা হবে যাতে আদার মিশ্রণ থাকবে। সেখানে আছে একটা ঝর্ণা, যার নাম সালসাবীল। (সূরাহ আদ্‌-দাহ্‌রঃ ১৫-১৮)”মহান আল্লাহ্‌ বলেন,“ অপরদিকে) নেক্‌কার লোকেরা এমন পানপাত্র থেকে পান করবে যাতে কর্পুরের সংমিশ্রণ থাকবে। আল্লাহ্‌র বান্দারা একটি ঝর্ণা থেকে পান করবে। তারা এই ঝর্ণাকে (তাদের) ইচ্ছেমত প্রবাহিত করবে। (সূরাহ আদ্‌-দাহ্‌রঃ ৫-৬)”সর্বশক্তিমান আল্লাহ্‌ বলেন,“ পুণ্যবান লোকেরা থাকবে অফুরন্ত নি’মাতের মাঝে। উচ্চ আসনে বসে তারা (চারদিকের সবকিছু) দেখতে থাকবে। তুমি তাদের মুখে আরাম আয়েশের উজ্জ্বলতা দেখতে পাবে। তাদেরকে পান করানো হবে সীল-আঁটা উৎকৃষ্ট পানীয়। তার সীল হবে মিশ্‌কের, প্রতিযোগীরা এ বিষয়েই প্রতিযোগিতা করুক। তাতে মেশানো থাকবে ‘তাসনীম, ওটা একটা ঝর্ণা, যা থেকে (আল্লাহ্‌র) নৈকট্যপ্রাপ্তরা পান করবে। (সূরাহ আল-মুতাফ্‌ফিফীনঃ ২২-২৮)
আল্লাহ্‌ তা’আলা বলেন,“ তাদের জন্য আছে নির্ধারিত রিয্‌ক- ফলমূল; আরা তারা হবে সম্মানিত। (তারা থাকবে) নি’য়ামাতের ভরা জান্নাতে উচ্চাসনে মুখোমুখী হয়ে তাদের কাছে চক্রাকারে পরিবেশন করা হবে স্বচ্ছ প্রবাহিত ঝর্ণার সুরাপূর্ণ পাত্র। নির্মল পানীয়, পানকারীদের জন্য সুপেয়, সুস্বাদু। নেই তাতে দেহের জন্য ক্ষতিকর কোন কিছু, আরা তারা তাতে মাতালও হবে না। (সূরাহ আস্‌-সা-ফ্‌ফাতঃ ৪১-৪৭) ”আল্লাহ্‌ তা’আলা বলেন,“ দু’টো বাগানেই আছে অবিরাম ও প্রচুর পরিমাণে উৎক্ষিপ্তমান দু’টো ঝর্ণাধারা। অতএব (হে জ্বিন ও মানুষ!) তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কোন কোন নি’মাতকে অস্বীকার করবে? (সূরাহ আর্‌-রহমানঃ ৬৬-৬৭)”এছাড়া জান্নাতের ঝর্ণা সম্পর্কে কুরআনে বর্ণিত হয়েছে যে,“ সেখানে থাকবে প্রবাহমান ঝর্ণা (সূরাহ আল-গাশিয়াহঃ ১২)”মহান আল্লাহ্‌ বলেন,“ নিশ্চয়ই মুত্তাকীরা থাকবে নিরাপদ স্থানে, বাগান আর ঝর্ণার মাঝে (সূরাহ আদ্‌-দুখানঃ ৫১-৫২)”মহান আল্লাহ্‌ বলেন,“ মুত্তাকীরা থাকবে ছায়া আর ঝর্ণাধারার মাঝে, আর তাদের জন্য থাকবে ফলমূল-যেটি তাদের মন চাইবে। (সূরাহ আল-মুরসালাতঃ ৪১-৪২)৮// #জান্নাতীদের_গুণাবলীঃ জান্নাতীরা ষাট হাত লম্বা হবেঃআবু হুরাইরাহ রাযিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “জান্নাতে প্রবেশকারী প্রত্যেক ব্যক্তি আদম আলাইহিস সলাতু ওয়াস সালামের ন্যায় ষাট হাত লম্বা হবে। (প্রথমে মানুষ ষাট হাত ছিল) পরবর্তীতে তারা খাট হতে লাগল, শেষে বর্তমান অবস্থায় এসে পৌঁছেছে”। (সহীহ মুসলিম)জান্নাতীদের চেহারা ও বয়সঃমোয়াজ বিন জাবাল রাযিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “জান্নাতীরা জান্নাতে প্রবেশের সময় তাদের চেহারায় কোন দাড়ি-গোঁফ থাকবে না। চক্ষুদ্বয় লাজুক হবে। বয়স হবে ত্রিশ থেকে তেত্রিশ এর মাঝামাঝি”। (তিরমিজী)
জান্নাতীদের খাবার হজম প্রক্রিয়াঃজাবের বিন আবদুল্লাহ রাযিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “জান্নাতীরা পানাহার করবে কিন্তু থুথু ফেলবে না এবং পায়খানা-প্রস্রাবও করবে না। নাকে পানি আসবেনা”। সাহাবাগণ আরয করলেন, “তাহলে তাদের খাবার কোথায় যাবে?” তিনি উত্তরে বললেন, “ঢেকুর ও ঘামের মাধ্যমে তা হজম হবে। জান্নাতীরা এমনভাবে আল্লাহ্‌র প্রশংসা ও তাসবীহ্‌ পাঠ করবে যেমন তারা শ্বাস গ্রহণ করে”। (সহীহ মুসলিম)
৯// #জান্নাতীদের_খাবার_ও_পানীয়রাসূলুল্লাহ্‌ সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর গোলাম সাওবান রাযিয়াল্লাহু তা’আলা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট দাঁড়িয়ে ছিলাম। ইতোমধ্যে ইহুদীদের পাদ্রীদের মধ্য থেকে একজন পাদ্রী আসল এবং জিজ্ঞেস করল, “যে দিন আকাশ ও যমিন প্রথম পরিবর্তন করা হবে তখন মানুষ কোথায় থাকবে?” রাসূলুল্লাহ্‌ সল্লল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “পুলসেরাতের নিকটবর্তী এক অন্ধকার স্থানে”। অতঃপর ইহুদী আলেম জিজ্ঞেস করল, “সর্ব প্রথম কে পুলসিরাত পার হবে?” তিনি বললেন, “গরীব মুহাজিরগণ (মক্কা থেকে মদীনার হিযরতকারী)”। ঐ ইহুদী পাদ্রী আবার জিজ্ঞেস করল, “জান্নাতীরা জান্নাতে প্রবেশ করার পর সর্ব প্রথম তাদেরকে কী খাবার পরিবেশন করা হবে?” রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “মাছের কলিজা”। ইহুদী জিজ্ঞেস করল, “এর পর কী পরিবেশন করা হবে?” রাসূলুল্লাহ সল্লল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “এরপর জান্নাতীদের জন্য জান্নাতে পালিত গরুর গোশত পরিবেশন করা হবে”। এরপর ইহুদী জিজ্ঞেস করল, “খাওয়ার পর পানীয় কী কী পরিবেশন করা হবে?” রাসূলুল্লাহ সল্লল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “সালসাবীল নামক ঝর্ণার পানি”। ইহুদী পাদ্রী বলল, “তুমি সত্য বলেছ…”। (সহীহ মুসলিম- কিতাবুল হায়েজ)
এ পৃথিবী হবে জান্নাতীদের রুটিআবু সাঈদ খুদরী রাযিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ্‌ সল্লল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেনঃ কিয়ামতের দিন এ পৃথিবী একটি রুটির ন্যায় হবে। আল্লাহ্‌ স্বীয় হস্তে তা এমনভাবে উলট পালট করবেন যেমন তোমাদের কেউ সফররত অবস্থায় তার রুটিকে উলট পালট কর। আর ঐ রুটি দিয়ে জান্নাতীদেরকে মেহমানদারী করা হবে”। (সহীহ মুসলিম)
সকাল সন্ধ্যায় জান্নাতীদের খাবার পরিবেশন করা হবেকুরআনুল কারীমে আল্লাহ্‌ তা’আলা বলেন,“ এবং সকাল সন্ধ্যায় তাদের জন্য রিযিকের ব্যবস্থা থাকবে। (সূরাহ মারইয়ামঃ ৬)”জান্নাতের শরাব পান করার পর কোন প্রকার মাতলামি ভাব দেখা দিবে না। (সূরাহ আস্‌-সা-ফ্‌ফাতঃ ৪১-৪৭) জান্নাতীদেরকে এমন শরাব পান করানো হবে যার মধ্যে আদার স্বাদ থাকবে। (সূরাহ আদ্‌-দাহ্‌রঃ ১৫-১৮) জান্নাতীদের পানের জন্য সুস্বাদু পানি, সুমিষ্ট দুধ, সুস্বাদু শরাব, পরিষ্কার স্বচ্ছ মধুর নদীও জান্নাতে বিদ্যমান থাকবে। (সূরাহ মুহাম্মদঃ ১৫) জান্নাতীদের মেহমানদারীর জন্য অন্যান্য ফল ব্যতীত খেজুর, আঙ্গুর, আনার, বরই, আনজীর ইত্যাদি ফলও থাকবে। (সূরাহ আর-রহমানঃ ৬৮)[, (সূরাহ আল-ওয়াক্বি’আহঃ ২৭-৩২) জান্নাতীদের সেবায় ‘শারাবান ত্বাহুরা’ (পবিত্র পরিচ্ছন্ন পানীয়) পেশ করা হবে। (সূরাহ আদ্‌-দাহ্‌রঃ ২১) উটের গর্দানের মত পাখির গোশত জান্নাতীদের পরিবেশন করা হবে। (তিরমিজী- কিতাবুল জান্নাহ
১০// #জান্নাতের_সুসংবাদ_প্রাপ্ত_ব্যক্তি#আবু_বকর ও ওমর রাযিয়াল্লাহু তা’আলা আনহুআলী ইবনে আবু তালিব রাযিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি একদা রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে ছিলাম। হঠাৎ করে আবু বকর ও ওমর রাযিয়াল্লাহু তা’আলা আনহুও চলে আসলেন। রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “তারা উভয়ে বৃদ্ধ বয়সে মৃত্যুবরণকারী মুসলমানদের সর্দার হবে – তারা পূর্ববর্তী উম্মতের লোক হোক আর পরবর্তী উম্মতের। তবে নবী ও রাসূলগণ ব্যতীত। হে আলী! তুমি এ সংবাদ তাদেরকে দিও না”। (তিরমিজী- আবওয়াবুল মানাকেব)
#হাসান_হুসাইন রাযিয়াল্লাহু তা’আলা আনহুআবু সাঈদ খুদরী রাযিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সল্লল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “হাসান ও হুসাইন রাযিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু জান্নাতী যুবকদের সর্দার হবে”। (তিরমিজী- আবওয়াবুল মানাকেব)
#আশারা_বাশ্‌শারারাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম দশজনকে দুনিয়াতেই তাদের জান্নাতী হওয়ার সুসংবাদ দিয়েছেন। তাদেরকে আশারা মুবাশ্‌শারা বলা হয়। আবদুর রহমান বিন আওফ রাযিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “আবু বকর জান্নাতী, ওমর জান্নাতী, ওসমান জান্নাতী, আলী জান্নাতী, তালহা জান্নাতী, যুবাইর জান্নাতী, আবদুর রহমান আওফ জান্নাতী, সা’দ বিন আবূ ওক্কাস জান্নাতী, সাঈদ বিন যুবাইর জান্নাতী, আবু ওবাইদা ইবনুল জার রাহ জান্নাতী”। (তিরমিজী- আবওয়াবুল মানাকেব)
#খাদীজা রাযিয়াল্লাহু তা’আলা আনহাআয়েশা রাযিয়াল্লাহু তা’আলা আনহা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, “রাসূলুল্লাহ্‌ সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম খাদিজা রাযিয়াল্লাহু তা’আলা আনহাকে জান্নাতে একটি ঘরের সুসংবাদ দিয়েছেন”। (সহীহ মুসলিম)
#উম্মে_সুলাইম ও বেলাল রাযিয়াল্লাহু তা’আলা আনহুজাবের বিন আবদুল্লাহ রাযিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, “রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ আমাকে জান্নাত দেখানো হল, আমি আবু তালহা রাযিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু এর স্ত্রীকে (উম্মে সুলাইম) সেখানে দেখতে পেলাম। অতঃপর আমি সামনে অগ্রসর হয়ে কোন মানুষের চলার আওয়াজ পেলাম। হঠাৎ দেখলাম বেলাল রাযিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু কে”। (সহীহ মুসলিম)
#তালহা রাযিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু
যুবায়ের রাযিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, “উহুদের যুদ্ধের দিন রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম দুই জোড়া কাপড় পরিধান করে ছিলেন। তিনি একটি পাথরের উপর আরোহণ করতে ছিলেন কিন্তু তিনি তাতে চড়তে পারছিলেন না। তখন তিনি তালহা রাযিয়াল্লাহু তা’আলা আনহুকে তাঁর নিচে বসালেন এবং তার ওপর আরোহণ করে তিনি তাতে চড়লেন। যুবায়ের বলেন, এসময় আমি নাবী সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি তিনি বলেনঃ তালহার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে গেছে”। (তিরমিজী- আবওয়াবুল মানাকেব)
#আবদুল্লাহ_বিন_সালাম রাযিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু
সা’দ রাযিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, “আমি রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামকে কোন জীবিত ব্যক্তির ব্যাপারে একথা বলতে শুনি নাই যে সে জান্নাতী, তবে শুধু আবদুল্লাহ বিন সালামকে একথা বলেছেন”। (সহীহ মুসলিম) ১১// #জান্নাতের_দরজাসমূহ
বাব আস-সালাহ বাব আল-জিহাদ বাব আস-সাদাকাহ বাব আর-রাইয়ান বাব আল-হাজ্জ বাব আল-কাদিমিন আল-গায়িধ বাব আল-ইমান বাব আয-যিকির১২ #কুরআনে_বর্ণিত_জান্নাতের_নামসমূহ ফিরদাউস – জান্নাতের সর্বচ্চো বাগান (আল-কাহফ আল-মু’মিনূন দারুস সালাম – শান্তির নীড় (ইউনুস, আল আনআম) জান্নাতুল মাওয়া –বসবাসের জান্নাত (আন-নাজম[ দারুল খুলদ – চিরস্থায়ী বাগান (আল-ফুরকান জান্নাতুল আদন – অনন্ত সুখের বাগান (আত-তাওবাহ্‌: 72,আর-রাদ[১০]) জান্নাতুল আখিরাহ – আখেরাতের আলয়(আল-আনকাবূত) জান্নাতুন নাঈম –নেয়ামত পূর্ণ কানন/বাগান (সূরা আল-মায়িদাহ ইউনুস,,[১৩] al-Ḥajj দারুল মুকামাহ – বাড়ি (ফাতির) জান্নাত–সবচেয়ে সাধারণভাবে ব্যবহৃত কুরআন ও হাদীসে শব্দ(আল-বাকারা,[১৬] আল ইমরান আল -মায়িদা) আল-হুসনা আল-গুফরা

মাদখালী দলের জন্মের ব্যাপারে শায়খ বাকর আবু যায়েদের ভবিষ্যদ্বাণী

ডঃ রাবী ইবন হাদী আলমাদখালী যখন তার দল তৈরির প্রথম পদক্ষেপ নিচ্ছিলেন, তখন সাইয়েদ কুতুবের বিরুদ্ধে এক বই লিখেন। এই বই টা কেমন হলো তা জানতে চিঠি লেখেন সাঊদী আরবের সেরা আলিমদের সংস্থা “হাইয়াতু কিবারিল উলামা” এর প্রখ্যাত শায়খ ডঃ বকর আবু যায়দের কাছে।

তিনি ওই পান্ডুলিপি পড়ে খুব কষ্ট পান। সেই কষ্টের কথা গুলো তিনি তার এই চিঠিতে লিখে দেন। এই চিঠিকে “আল খিতাব আয যাহাবী” বা সোনালী চিঠি বলে সবাই চেনে।

মাদখালীর এই সব বই উম্মাতের কি ক্ষতি করবে তার একটা ভবিষ্যদ্বাণী তিনি এখানে করে গিয়েছিলেন।

আপনারা যারা মুতিউর রহমান মাদানী ও তার বশংবদের কথা শুনে অভ্যস্ত চিঠির আয়নায় তাদের চেহারা টা একটু দেখুন, অনেক কিছু বুঝতে পারবেন।

চিঠিটার আরবী ভার্সনটা নিচের লিংক্স এ ক্লিক করলে পেয়ে যাবেনঃ

“সম্মানিত ভাই শায়খ রাবী’ বিন হাদী আলমাদখালী
আসসালামু আলাইকুম ওয়রাহমাতুল্লাহ ওয়াবারাকাতুহু

পরবার্তা, এতদস্ংগে পাঠানো “আদওয়া ইসলামিয়্যাহ আলা আক্বীদাতি সাইয়েদ ক্বুতুব ওয়া ফিকরিহি” শীরোনামের বইটা পড়ে দেখার আশা আপনি করছেন। জানতে চেয়েছেন এতে আমার কোন মন্তব্য আছে কিনা। আমি জানতে চাচ্ছি, আমার মন্তব্য পেয়ে কি এই প্রজেক্টটাকে বন্ধ করে গুটিয়ে নেয়া হবে? কিংবা এই সবের বর্ণনা করা বাদ দেয়া হবে? নাকি এর আলোকে বইটা সংশোধন করে বইটা প্রকাশ ও প্রচার করবেন? অথবা এই কিতাব কি আপনার আখেরাতের জন্য একটা সঞ্চয় মনে করবেন? কিংবা দুনিয়াতে আল্লাহর বান্দাহদের জ্ঞানের চোখ এতে খুলবে?

যাহোক, আপনার বই সম্পর্কে আমি আমার মন্তব্য বলছিঃ

১। আমি বইয়ের প্রথম পৃষ্ঠায় সূচিপত্র দেখেছি, এতে যে শীরোনাম গুলো পেলাম তা সাইয়েদ ক্বুতুবের (র) ব্যাপারে এইভাবে বলা হয়েছেঃ (কুফর, নাস্তিকতা ও যিন্দিকতা মূলক বক্তব্য, তার সর্বেশ্বরবাদের বক্তব্য, তার “কুরআন সৃষ্ট হওয়ার” অভিমত, আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো আইন প্রনয়নের অধিকার থাকা বৈধ হওয়া, আল্লাহ তাআলার সিফাতের ব্যপারে তার বাড়াবাড়ি, মুতাওয়াতির হাদীস গ্রহন করা যাবেনা বলে তার মত, আক্বীদায় যেসব বিষয়ে দৃঢ়তার প্রয়োজন সে সব বিষয়ে সন্দেহবাদিতা, সমাজকে কাফির বলা ইত্যাদি)

এমন সব শীরোনাম ব্যবহার করা হয়েছে যা মুমিনদের রোমকূপ খাড়া দিয়ে ওঠে। আফসোস হচ্ছে সারা দুনিয়ার‍ ঐসব আলিমদের জন্য, যারা সাইয়েদ কুতুবের এত বড় ঈমান বিধ্বংশী বিষয়গুলোতে সতর্ক হননি… অথচ সূর্যের আলো ছড়িয়ে পড়ার মত সাইয়েদ কুতুবের কিতাব সারা দুনিয়ার ছড়িয়ে পড়েছে। এতো সর্বজন গ্রাহ্যতার সাথে আপনার পাওয়া ভুলের সামঞ্জস্য আমি মিলাতে পারছিনা। অথচ সাধারণ মুসলিমগণ এই বই সমূহ থেকে উপকৃত হয়েছে। এমনকি আপনিও কিছু কিছু লেখনীতে তার থেকে উপকৃত হয়েছেন। এই ক্ষেত্রে আমি আপনার দেয়া শীরোনামের সাথে বইয়ে লেখা বিষয়বস্তু মিলিয়ে দেখেছি। দেখলাম আপনি যা বলেছেন, বাস্তব তা নয়। শেষে বুঝেছি, আপনার দেয়া শীরোনামগুলো মূলতঃ সাধারণ মানুষের মনোযোগ সাইয়েদের ভুলের প্রতি আকর্ষণ করার জন্য উত্তেজনা ছড়াবার লক্ষ্যেই প্রণীত। আমি আপনার জন্য, আপনাদের জন্য এবং প্রতিটি মুসলিম নাগরিকের জন্য এই ধরণের পাপ ও একদেশদর্শিতাকে অপছন্দ করি। আর এটা নির্লজ্জ প্রতারণা যে, আপনি একজন মানুষের ভালো দিক গুলোকেও তার শত্রু ও অপছন্দকারীদের হাতে খারাপ ভাবে তুলে ধরছেন।

২- আমি দেখলাম, বইটাতেঃ
একাডেমিক গবেষণার মূলনীতি মেনে চলা হয়নি। জ্ঞানগত নিরপেক্ষতা বজায় রাখা হয়নি। সমালোচনা সাহিত্যের প্রয়োগ ও পদ্ধতি অনুসৃত হয়নি। কোন বক্তব্য উদ্ধৃতির ক্ষেত্রে আমানত রক্ষা হয়নি। বাস্তবতা ও সত্য হযম করার মানসিকতা এখানে দেখানো হয়নি।
এছাড়াও আপনার লেখায় ডায়লগের আদব রক্ষা পায়নি। উন্নততর লেখনী কিংবা সাবলীল উপস্থাপনার সাথে আপনার বই এর সামান্যতম সম্পর্কও নেই।

প্রমান নিনঃ
প্রথমতঃ আপনি জেনে শুনে সাইয়দের ” ফী যিলালুল কুরআন” ও “ইসলাম ও সামাজিক সুবিচার” বইদ্বয়ের পুরনো প্রকাশনা থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন, যেমন আপনার বইএর পৃষ্ঠা ২৯, আপনি জানেন এই বই গুলোর পরবর্তি সংস্করণ ছিলো। এ ক্ষেত্রে আপনার সমালোচনার মূলনীতি ও জ্ঞানের আমানাত রক্ষা করা উচিত ছিলো। এ ক্ষেত্রে প্রতিটি বইয়ের সর্বশেষ সংস্করণে লেখার টেক্সটকেই মূল ধরতে হয়। কারণ পরে যে পরিবর্তন আনা হয়, তা আগের সংস্করণের বক্তব্যকে রহিত করে দেয়। আর এই প্রাথমিক জ্ঞানটা, আল্লাহ চাইলে, আপনার অজানা থাকার কথা নয়। কিন্তু হয়ত আপনার যে ছাত্র এইসব তথ্যগুলো আপনার কাছে এনে দিয়েছে, সে আসলে ভুল করেছে এবং সে এটা বুঝেনি। এই সব ব্যপার যে ঘটে তা জ্ঞানীদের কাছে অজানা নয়।

যেমন ধরুনঃ ইমাম ইবনুল কায়্যিম এর কিতাব “ আল-রূহ”, কেও কেও এই ব্যাপারে অভিমত রেখেছেন এটা তার প্রথম জীবনের কিতাব। অনুরূপ ভাবে “ইসলাম ও সামাজিক সুবিচার” ও সাইয়েদ কুতুবের ইসলামের বিষয়ে প্রথম দিককার লেখা। আল্লাহুল মুসতাআন।

দ্বিতীয়তঃ আমার রোমকূপ খাড়া হয়েছে যখন দেখেছি আপনি বইয়ের সূচিপত্রে লিখেছেন, “সাইয়েদ কুতুব আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো আইন প্রনয়ন বৈধ বলেন”।
আমি তক্ষুনি তার বক্তব্যের দিকে দ্রুত পাতা উল্টালাম, দেখলাম তার বই “ইসলামে সামাজিক সুবিচার” এর কয়েক লাইনের একটা উদ্ধৃতি। অথচ তার বক্তব্য মোটেই এই ধরণের উত্তেজনা সৃষ্টিকারী অর্থ দেয়না। ধরে নেই তার বক্তব্যে কিছু দূর্বোধ্য বাক্য বা অনির্দিষ্ট কিছু বাক্য আছে, সেইটাকে কিভাবে আপনি কুফরি হবার বক্তব্যে পরিণত করবেন? এর দ্বারা আপনি সাইয়েদ কুতুব যে সত্যের উপর ভিত্তি করে আপন জীবন বানিয়েছেন, তার কলমকে আল্লাহর সার্বভৌমত্যের এবং আইন প্রনয়নের তাওহীদের দিকে দাওয়াতের জন্য ব্যবহার করেছেন, মানব রচিত আইনকে অগ্রাহ্য করে এই ধরণের আইন রচয়িতাদের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছেন – তাকে আপনি ভেঙে চুরমার করে দিয়েছেন। আল্লাহ অবশ্যই ইন্সাফ পছন্দ করেন, অথচ আপনাকে এ ক্ষেত্রে ইন্সাফের বিপরীতে দখতে পেয়েছি।

তৃতীয়তঃ এই ধরণের আরেক উত্তেজনাকর শীরোনাম হলোঃ “সাইয়েদ কুতুব সর্বেশ্বরবাদের পক্ষে মত দিয়েছেন”। আসলে সাইয়েদ সূরা হাদীদ ও সূরা ইখলাস এর তাফসীর করতে যেয়ে নিজস্ব পদ্ধতিতে কিছু রহস্যপূর্ণ কথার মালা গেঁথেছেন। যা থেকে তিনি সর্বেশ্বরবাদে বিশ্বাসী এমন কথা বলা হয়।

তবে আপনি খুব ভালো করেছেন সূরা বাক্বারায় সাইয়েদের সর্বেশ্বরবাদ সম্পর্ক স্পষ্ট বিরোধিতা উল্লেখ করেছেন। সেখানে তিনি বলেছেনঃ “এখানেই ইসলামের সঠিক সন্দর্শন সর্বেশ্বরবাদি দর্শনকে তিরোহিত করে দেয়”। আমি আরো বলি, তার বই “মুক্বাওয়ামাত তাসওয়ূরুল ইসলামি” গ্রন্থে সাইয়েদ সর্বেশ্বরবাদিতার জোরালো বিরোধিতা করে বিস্তারিত জওয়াব দিয়েছেন। এই জন্য বলি, আল্লাহ সাইয়েদ কুতুবের রহস্যপূর্ণ এমন কথা ক্ষমা করে দিন যা বক্তব্যের মারপ্যাঁচে তিনি হয়ত কিছু একটা বুঝাতে চেয়েছেন। তবে সর্বেশ্বরবাদিতা ভুলের ব্যাপারে স্পষ্ট বক্তব্য থাকলে এই ধরণের হেঁয়ালি কথার টানাটানি করতে হবে কেন? আমি আশা করবো তাড়াতাড়ি আপনি সাইয়েদকে কাফির বানানো বক্তব্য প্রত্যাহার করুন, মনে রাখবেন, আমি আপনাদের কল্যানকামী।

চতূর্থতঃ এখানে আমি আপনার সদয় অবগতির জন্য স্পষ্ট করে বলতে চাই, আপনি যে শীরোনাম দিয়েছেনঃ “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহুর ব্যখ্যায় সাইয়দে কুতুব অন্যন্য উলামায়ে কিরাম ও ভাষা তাত্ত্বিকদের বিপরীতে গেছেন, এবং তার কাছে রুবুবিয়্যাত ও উলুহিয়্যাতের বিষয় স্পষ্ট হয় নি”………

প্রিয়ভাজন, আপনাকে বলি, আপনি প্রমান ছাড়াই সাইয়েদের তাওহীদ ও তাওহীদ সংক্রান্ত বিষয়াবলীর আলোচনা, এবং তাওহীদের সম্পূরক ঐ সব বিষয়, যা তার সারা জীবনে প্রমান করে গেছেন- তা ভেঙে দিয়ে শেষ করেছেন।

সাইয়েদ বলেছেন, “তাওহীদের কালিমার দাবী হলো, আইন ও আইন প্রণয়নের ব্যাপারে আল্লাহর একত্ববাদের স্বীকৃতি দেয়া” তার এই একটা কথা ই আপনার সমস্ত কথা অন্তসার শুন্য করে দেয়। এই ব্যাপারে সাইয়েদ (র) অনেক বেশি গুরুত্বারোপ করেছেন। কারণ তিনি দেখেছেন আল্লাহর আইনের বিপরীতে দাঁড়িয়েছে বিচারালয় বা অন্যান্য আইনী সংস্থা। আল্লাহর আইন বাতিল করার মত ধৃষ্টতাও তারা দেখাচ্ছে। বরং তারা আল্লাহর আইনের পরিবর্তে মানব রচিত আইনকে হালাল সাব্যস্ত করতে উঠে পড়ে লেগেছে। আর সত্যি বলতে কি, ১৩৪২ হিজরীর আগে মুসলিম জাতির সুদীর্ঘ পথ পরিক্রমায় এমন মারাত্মক ধৃষ্টতা আর দেখানো হয়নি।

পঞ্চমতঃ আপনি সূচিপত্রের আরেকটা শীরোনাম দিয়েছেনঃ “সাইয়েদ বলেছেন, “কুরআন সৃষ্ট”। তিনি নাকি বলেছেনঃ “আল্লাহর কথা মানে হলো আল্লাহর ইচ্ছা”…… আমি যখন আপনার বই এর মূল পৃষ্ঠায় গেলাম, পড়ে একটা অক্ষরও পেলামনা যাতে বুঝা যায় সাইয়েদ (র) এই শব্দ “কুরআন সৃষ্ট” টা স্পষ্ট ব্যবহার করেছেন। কিভাবে এত সহজে আপনি তাকে এই ধরণের কুফরি কথার তোহমাত দিতে পারলেন? আমি শেষে যা দেখলাম তা হলো, তার লেখার স্টাইলে এই ধরণের একটু ইংগিত পাওয়া যায়। যেমন সাইয়েদ কুতুব বলেছেনঃ “কিন্তু তারা (কাফিররা) এই সব অক্ষর সমূহ (হুরুফে মুকাত্তাআত) দিয়ে কুরআনের মত রচনা করতে পারেনা। কারণ কুরআন হলো আল্লাহ কৃত, মানুষকৃত নয়”…… এই “কৃত” শব্দটা, সন্দেহ নেই, একটা ভুল প্রয়োগ, কিন্তু এই শব্দের কারণেই কি আমরা বলতে পারবো সাইয়েদ এই শব্দ দিয়ে ঐ “কুরআন সৃষ্ট” এমন কুফরী কথা বলেছেন? না, আমি ঐ প্রকার অর্থে নিশ্চিত হতে পারিনা…… আপনার এই কথা শায়খ আব্দুল খালেক্ব উদ্বায়মাহ (র) এর “দিরাসাত ফী উসলূবিল ক্বুরআন” নামক বিশ্বকোষের ভূমিকায় এই ধরণের একটা কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে। এই গ্রন্থটা আলইমাম ইউনিভার্সিটি প্রকাশ করে ধন্যবাদার্হ হয়েছেন। তিনিও এই শব্দ ব্যবহার করেছেন, এই ধরণের শব্দ প্রয়োগের কারণে কি আমরা সবাইকে বলবো “আপনি কুরআন সৃষ্ট” আক্বীদাহ পোষণ করেছেন? না, কক্ষনোই না। আমি আপনার গবেষণায় এই “অব্জেক্টিভিটি”এর দিকে দৃষ্টি দিতে পরামর্শ দেব। এই উদাহরণ ই এ ব্যাপারে যথেষ্ঠ, মনে রাখবেন, গবেষণায় এটা খুবই জরুরি।

আমার আরো কিছু বক্তব্য আছে, যা নিচে বর্ণনা করা হচ্ছেঃ
১। কিতাবটার মুসাবিদা হাতে লেখায় ১৬১ পৃষ্ঠা হয়েছে। কিন্তু দেখলাম এর হাতের লেখার ধরণ বিভিন্ন। সাধারণতঃ যা হয়, তার ব্যতিক্রম মনে হচ্ছে। মনে হচ্ছে এর একটা পৃষ্ঠাও আপনার লেখা না। অবশ্য হতে পারে আপনার হাতের লেখা পরিবর্তন হয়ে গিয়েছে, অথবা আমারই মতিভ্রম হয়েছে। অথবা হতে পারে সাইয়েদ কুতুব (র) এর বই গুলোকে কিছু ছাত্রের উপর ভাগ করে দেয়া হয়েছিলো, তারাই আপনার তত্বাবধানে সেই সব কিতাব থেকে তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করেছে, অথবা আপনার ডিক্টেশান নিয়ে তারা লিখেছে। এই জন্য আমার কাছে এটা আপনার লেখা প্রমান করা কষ্ট হচ্ছে। অবশ্য আপনি ফ্রন্ট পেইজে লিখেছেন এই বই আপনার লেখা, কাজেই আমি মেনে নিচ্ছি এটা আপনার লিখিত বই।

২। হাতের লেখা বিভিন্নতা সত্বেও বইয়ের প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত এইটাই স্রোতধারা বহমান, তা হলো এর ভেতর থেকে আমরা অনুভব করি এক উত্তেজিত মন, সেখানে ভরা অনিরুদ্ধ ক্ষোভ, ও এমন আক্রমন যা লেখকের বক্তব্যকে সংকুচিত করে বড় বড় ভুল বের করার চেষ্টা করা হয়েছে। যেখানে সংশয়ের স্থান, বা অনুক্ত বক্তব্যকে বানানো হয় যেন সংশয়াতীত ভাবে বলা এমন কোন কথা, যাতে কোন দ্বিমতের সুযোগ নেই…… এটা “নিরপেক্ষতা” নামক সমালোচনা সাহিত্যের স্বতঃসিদ্ধ পদ্ধতির বরখেলাপ।

৩। সাইয়েদের লেখার স্টাইলের সাথে এই বই যে কেও তুলনা করলে দেখতে পাবে কত নিম্ন মানের আপনার লেখা। সাইয়েদের লেখার মান কত উঁচু। আপনার পাঠানো এই বই যদি মেনে নেই আপনারই, তা হলে বলবো এটা একজন প্রি-ইউনিভার্সিটি ছাত্রের মানে হতে পারে। একজন বিশ্বমানের সার্টিফিকেটধারীর জন্য এ লেখা মানায় না। সাইয়েদের সমালোচককে সাহিত্য রুচির দিক দিয়ে, ভাষার অলংকার ও বর্ণনা শৈলীতে এবং সুন্দরতম উপাস্থাপনার ঢংঙে অন্ততঃ তার পাশে যাবার যোগ্যতা থাকতে হবে। তা না হলে কলম ভেঙে ফেলা উচিৎ।

৪। আপনার লেখার মধ্যে অযাচিত উত্তেজনার আধিক্য আছে যেমন, তেমনই দেখা যায় “সমালোচনার বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির” উপর আপনার ভীতি……… এইজন্য “ডায়লগের” আদব রক্ষা পায়নি।

৫। এই বই এর প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত আক্রমন, জলাতংকের সংক্রমন, এবং ভাষার ব্যবহারে মারাত্মক কাঠিণ্য। কেন এটা………?

৬। আপনার এই কিতাব বের হলে নতুন একটা “দলের” উদ্ভব হবে, যার যুবক সদস্যদের মন ভরা থাকবে চিন্তার ভ্রষ্টতা দিয়ে। যারা কথায় কথায় এটা ওটা হারাম বলবে, যে কোন জিনিষের খামাখা বিরোধিতা করবে। কথায় কথায় তাদের উক্তি হবে এটা বেদআত, ঐটা বেদআতী, এটা পথভ্রষ্টতা, ঐটা পথভ্রষ্ট …………

যারা তাদের বক্তব্য প্রমানের জন্য যথেষ্ঠ দলীলের পরোয়া করবেনা। “নিজেরা বেশি দ্বীনদার” এই অহংকার ও দাম্ভিকতা তাদের দিলে জন্ম নেবে। এদের কাজ দেখে মনে হবে এদের একেক জন যেন এই সব করে তাদের ঘাড়ের বোঝা ঝেড়ে ফেলতে চাচ্ছে। এরা একেকজন যেন সমগ্র উম্মাতকে গর্ত থেকে ঊঠানোর ত্রাতা হয়ে এসেছে। পবিত্র শারীয়াতের সম্মান বাঁচাতে অন্যদেরকে তারা মনে করবে জাত্যাভিমানহীন বা তাক্বওয়াহীন। এটা তাদের বাস্তব বিবর্জন, বরং এটা আসলেই ধ্বংশ, যদিও এটাকে মনে করা হবে উঁচু ব্যালকনী দেয়া বিল্ডিং বিনির্মান, কিন্তু আসলে এটা ভেঙে ফেলা, এর পরে মাতাল ঝড়ের কোন এক সোপানে একসময় ঠান্ডা হয়ে নিঃশেষ হয়ে যাওয়া।

এই ৬টা বৈশিষ্ট্য দিয়ে সাজানো বইটা আসলেই সুখপাঠ্য নয়। আপনারই আকাংক্ষা আমি বইটা পড়ি। তবে বইটা পড়ে এটাই আমার কাছে মনে হয়েছে। জওয়াব দিতে দেরি হওয়ায় আমি দুঃখিত, কারণ ইতিপূর্বে এই লোকের (সাইয়েদ কুতুবের) কোন লেখা যত্ন সহকারে পড়া আমার হয়নি। যদিও মানুষ সেগুলো পড়ে।
আপনার লেখার ভয়াবহতা আমাকে তার প্রায় বই গুলো কয়েক মর্তবা পড়তে আগ্রহী করেছে। আমি তার গ্রন্থে অনেক কল্যান পেয়েছি, দীপ্যমান ঈমান পেয়েছি, উজ্জ্বল হক্ব পেয়েছি, বুঝতে পেরেছি ইসলামের শত্রুদের মারাত্মক পরিকল্পনাসমূহ ফাঁস করে দেয়া ব্যাখ্যা।

যদিও তার বক্তব্যের মাঝে, এবং কিছু বাক্যের মাঝে কিছু ভুল পেয়েছি। মনে হয়েছে যদি তিনি এগুলো না উচ্চারণ করতেন! অবশ্য এর অনেক গুলোর ব্যাপারে তিনি অন্যত্র স্পষ্ট করে উল্লেখ করেছেন তাতে আগের কথা অপনেয় হয়ে যায়। মনে রাখতে হবে কোন ব্যাক্তির পরিপূর্ণতা সহজ বিষয় নয়। আর তিনি একজন সাহিত্যিক ও সাহিত্য সমালোচক ছিলেন। এরপর তিনি কুরআন কারীম, হাদীস শরীফ ও সীরাতুন্নাবী (সা) অধ্যায়নের মাধ্যমে ইসলামের খিদমাতের দিকে মুখ ফেরান। ফলে তার যুগের বিভিন্ন বিষয়ে তাকে অবস্থান নিতে হয়, এবং আল্লাহর পথে তার অবস্থানে তিনি অনড় ছিলেন।

একসময় তার আগের লেখা বিষয়গুলো প্রকাশ করা হয়। এক সময়ে এমনকি তাকে এমন কিছু লিখতে বলা হয় যাতে মাফ চাওয়া বুঝায়। তিনি তখন তার সেই প্রসিদ্ধ বক্তব্য প্রদান করেনঃ যে অঙ্গুলি আমি শাহাদাত উচ্চারণের জন্য উঁচু করি, তা দিয়ে আমি এমন একটা শব্দও লিখতে পারবোনা, যা সেই শাহাদাতেরই বিপরীতে দাঁড়ায়”……

আমাদের সবার উচিৎ তার মাগফিরাতের জন্য দুয়া করা, তার জ্ঞান থেকে উপকৃত হওয়া, এবং তার যে সব ভুল আমাদের কাছে প্রমানিত হয়েছে তা পরিস্কার করা। তার করা ভুল যেন তার জ্ঞান থেকে উপকার বঞ্চিত না করে আমাদের। এই ভুলের কারণে তার বইগুলোকে আমাদের ত্যাগ করতে বাধ্য না করা হয়।

আল্লাহ আপনাকে হিফাযাত করুন, আপনি তার অবস্থা আমাদের অতীত হওয়া সালাফদের অবস্থার মত মনে করুন। যেমন আবু ইসমাঈল আলহারাওয়ী, এবং আব্দুল কাদির জিলানী। শায়খুল ইসলাম ইবন তায়মিয়্যাহ কিভাবে তাদের পক্ষ নিয়ে কথা বলেছেন, অথচ কত মারাত্মক ভুল তাদের ছিলো। শায়খুল ইসলাম তাদের পক্ষপাতিত্ব করেছেন, কারণ এই দুইজনের মূল কাজ ছিলো ইসলাম ও সুন্নাহকে সাহায্য করা। আপনি আলহারাওয়ীর (র) “মানাযিল আল সাই রীন” বইটা দেখুন। দেখবেন সেখানে এমন কিছু রোমকূপ শিউরে দেয়া কথা আছে যা মেনে নেয়া সম্ভব নয়। এতদসত্বেও ইবনুল কায়্যিম (র) এই বই এর ব্যাখ্যা গ্রন্থ “মাদারিজুস সালেকীন” এ তার পক্ষ থেকে কত কাকুতি করে মাফ চেয়েছেন, এবং তাকে এ ব্যাপারে অপরাধী বানাননি। আমি এই ব্যাপারে আমার বইয়ে “তাসনীফ আন নাস বায়না আল যান্ন ওয়াল ইয়াক্বীন” (ধারণা ও বিশ্বাসের মাঝে মানুষকে শ্রেনীবদ্ধ করা) যতটুকু পেরেছি, মূলনীতি আলোচনা করেছি।

সবশেষে সম্মানিত ভাই, আপনাকে উপদেশ দিচ্ছি, “আদওয়া ইসলামিয়্যাহ” নামের এই বইটা প্রকাশ করা থেকে নিবৃত্ত হোন। আসলে এটা প্রকাশ ও প্রচার করা বৈধও না। কারণ এতে আছে মারাত্মক আক্রমন। এর দ্বারা আপনি উম্মাতের যুবকদের উলামাদের ভুল খোঁজার জন্য, তাদের কেটে ছিড়ে ফেলার জন্য, তাদের অপমান করার জন্য, এবং তাদের মর্যাদাকে ভূলণ্ঠিত করার জন্য জঘন্যভাবে প্রশিক্ষিত করে তুলবেন।

আল্লাহ আপনাকে বরকত দিন, আপনাকে যদি কঠিন কথা কষ্ট দিয়ে থাকি মাফ করবেন, এটা করেছি কারণ এ বইতে আমি মারত্মক আক্রমন দেখতে পেয়েছি, আমার স্নেহ গ্রহন করুন, আপনার বইয়ের ব্যাপারে আমার মত জানার জন্য বারবার আগ্রহ প্রকাশ কারণে আমার কলম দিয়ে এই কথা গুলো বের হলো।

আল্লাহ আমাদের সকল পদক্ষেপ সোজা করে দিন।

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ ওয়া বারাকুতুহু

http://www.nationalkuwait.com/forum/index.php…

যে বইটা সালাফিয়্যাতকে মাদখালী গ্রুপে রূপান্তরিত করেছে

যে বইটা সালাফিয়্যাতকে মাদখালী গ্রুপে রূপান্তরিত করেছে
—————————————————————————

১৯৯৫ সালের দিকে মদীনাতে বড় ধরণের একটা পরিবর্তন আসে। ঐ সময় মদীনা বিশ্যবিদ্যালয়ে ডঃ শায়খ রবী বিন হাদী আলমাদখালীকে অনেক বড় পজিশান দেয়া হয়। এবং তার মাধ্যমে সালফিয়্যাতের একটা নির্দিষ্ট মাযহাব বা চৈন্তিক দল প্রতিষ্ঠার সব পথ পরিস্কার করা হয়।

আমরাও বুঝতেছিলাম ব্যাপারটা। মদীনা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশী ছাত্র নিতে মূলত ৪টা স্রোত ব্যবহার করা হতো। জামায়াতে ইসলামি বাংলাদেশ। এদের দ্বায়িত্বে ছিলো মাওলানা ইউসুফ রাহিমাহুল্লাহ। আহলে হাদীস। এদের দায়িত্বে ছিলেন দুই গ্রুপ। ডঃ আব্দুল বারী রাহিমাহুল্লাহ ছিলেন একটার মুরুব্বি। আরেকটার মুরুব্বি ডঃ গালিবরা। গালিবরা বললাম, কারণ গালিব সাহেব তখন মদীনা বিশ্ববিদ্যালয়ে অতো স্থান করতে পারেননি, ফলে আব্দুল মতীন সালাফী ও ঢাকার মুহাম্মাদীয়া আরাবিয়্যাহ তখন এই ট্রেন্ড দেখা শুনা করত। আরকেটা স্রোত ছিলো দেওবন্দীদের।

বিশ্ববিদ্যালয়ে কোন দলের আলাদা কোন শক্তি ছিলোনা। কিন্তু ১৯৯৩-১৯৯৫ পর্যন্ত দেখলাম তড়িৎ গতিতে ডঃ আব্দুল বারীর গ্রুপ দূর্বল হয়ে সালাফীদের এমন একদল ছাত্রদের ঐখানে নেয়া হয়, যারা নিজদের যেন মদীনা বিশ্ববিদ্যালয়কে নিজেদের সম্পদ মনে করতে লাগলেন। জামাআত, দেওবন্দীদেরকে খুব কোণঠাসা করা শুরু করলেন। এবং তারপরে ১৯৯৫ সনে সেখানে এক আন্তর্জাতিক সেমিনার আয়োজিত হয়, যার মূল লক্ষ্য ছিলো এই সময়ের “খাওয়ারিজ” সনাক্ত করণ।

এই সেমিনারের মধ্যমণি ছিলেন ডঃ রবী বিন হাদী আলমাদখালী। তিনি তার দীর্ঘ প্রবন্ধে প্রমান করেন এই যুগের খাওয়ারিজ হলো হাসানুল বান্না, সাইয়েদ কুতুব, মাওলানা মাওদূদী, ইলিয়াস কান্দেহলভী সহ যারা গত শতাব্দীতে ইসলামী রিভাইভালের জন্য কাজ করেছেন তারা সবাই।

তার প্রবন্ধ পরে বই হিসেবে বের হয়।
এই বইটার নাম দেনঃ منهج الأنبياء في الدعوة إلى الله فيه الحكمة والعدل অর্থাৎ দাওয়াত ইলাল্লাহের ব্যপারে নবীগণের কর্মপদ্ধতি, এতে আছে হিকমাহ এবং ইনসাফ। এই গ্রন্থে তিনি দেখিয়েছেন মাওলানা মাওদূদী ইসলামের একজন বিভ্রান্ত দলের প্রতিষ্ঠাতা, দেখিয়েছেন সাইয়েদ কুতুব কতো বড় বিভ্রান্ত।

তিনি তার গ্রন্থের দ্বিতীয় প্রকাশনার ভূমিকায় স্পষ্ট ভাবে এই সব দলের লোকদের কে জাহান্নামের দরোযার দিকে আহবান কারী হিসেবে চিহ্নিত করেন, এবং এদেরকে “মানুষের দেহে শয়তান” বলে মহানবীর (সা) দেখানো একদল বিভ্রান্ত উম্মাতের ই সাক্ষাত গ্রুপ মনে করেন। সেখানে তিনি সালাফিদের ছাড়া আর বাকী দলগুলোকে বিভ্রান্ত বলে উল্লেখ করেন। পৃষ্ঠা ৬।

তিনি এই বইটাতে নবীগণের দাওয়াতী কর্মপদ্ধতির কথাকে তুলে ধরেছেন খুব সহজ ভাষায়। বুঝাতে চেয়েছেন তাদের একমাত্র কাজ ছিলো তাওহীদের প্রতিষ্ঠা করা। নূহ, ইব্রাহীম, ইউসুফ ও মূসা (আলাইহিমুসসালাম) এর কর্মপদ্ধতি তিনি এনেছেন। এরপরে আলোচনা করেছেন আমাদের নবী (সা) এর মাক্কী জীবনে তাওহীদের দাওয়াত ও মাদানী জীবনে তাওহীদের গুরুত্বারোপের মাত্রা। দুঃখ হলো তিনি দাউদ ও সুলাইমান (আঃ) কথা আনেন ই নি।

এরপরে তিনি আলোচনা করেছেন “ইত্তিজাহাতুদ দুআহ” বা দাঈ ইলাল্লাহগণের ট্রেন্ড বা আচরণসমূহ। সেখানে তিনি পৃথিবীর ইসলামের জন্য কাজ করা দলগুলোকে তিন ভাগে ভাগ করেছেন। পৃষ্ঠা ১৩৮-১৩৯

একঃ সালাফিয়্যাতের চিন্তাধারার আলোকে চলা দল।

দুইঃ সূফীধারায় চলা দল। নাম না ধরলেও শায়খ আসলাম ও শায়খ তাকীউদ্দীন হেলালীর সমালোচনাকৃত দল বলাতে যে কেও বুঝতে পারে তিনি তাবলীগকে বুঝিয়েছেন।

তিনঃ যারা ইসলামি রাজনীতি নিয়ে কাজ করে এমন দল। এই সব দলের গুরু হিসেবে তিনি মাওলানা মাওদূদীকে দেখিয়েছেন।
তিনি প্রমান করেছেন সালাফি দল ছাড়া আর বাকী দুই ধরণের দল ইসলাম থেকে দূরে সরে গেছে।

তিনি তার আলোচনায় মাওদূদীর উপর অনেক লম্বা চ্যাপ্টার উৎসর্গ করেছেন। যার সার সংক্ষেপ মূলত ১৪১ পৃষ্ঠায় বলেছেন। তন্মধ্যে প্রধান সমালোচনা হলোঃ

১। তিনি তার আন্দোলন নবী রাসূল গণের মতই শুরু করেননি। তাওহীদের আলোচনা তার আন্দোলনের কিছুই না। অথচ তার দেশ শিরকে ভরা।

২। তার আন্দোলনে বিশাল অংশ জুড়েই হলো রাজনীতি। ক্ষমতা দখল, অন্যের হাত থেকে ক্ষমতা গ্রহন ইত্যাদি। এই পয়েন্টে তিনি আলোচনা করে গেছেন বইটির বিশাল অংশ জুড়ে। এর পরে তিনি আলোচনা করেছেন ইখওয়ান নিয়ে। সাইয়েদ কুতুব, আব্দুল কাদের আওদাহ প্রমুখের আলোচনা স্থান পেয়েছে বড় পরিসরে।

তার এই বই বাজারে আসার পর হৈ চৈ পড়ে যায়। অধিকাংশ উলামা তার লেখা পড়ে থমকে যান। এইভাবে এই সব আন্দোলনকারীকে ইসলাম বহির্ভুত দল হিসেবে আগে কেও চিহ্নিত করেনি। তিনিই প্রথম যিনি এদেরকে বিভ্রান্ত বলে আখ্যা দেন। এর পরেই শুরু হয় চারটা বড়বড় পরিবর্তনঃ

১। এদের চিন্তা চেতনাকেই সাঊদী সরকার প্রমোট করা শুরু করেন। এবং মদীনা বিশ্ববিদ্যালয়ে পাশ করা নানা দেশের ছেলেদের মধ্যে যারা মাদখালী সাহেবের মতের সাথে মিল দেন, তাদের দাঈ ইলাল্লাহর চাকুরি দিইয়ে বিভিন্ন দেশে পাঠান। তাদের আরামে বসে দাওয়াতী কাজের মূল কাজ হয়ে দাঁড়ায় মাদখালী মাযহাব প্রমোট করা।

২। এদের একান্ত লক্ষ হয়ে দাঁড়ায় ইসলামি আন্দোলন নামের যত দল আছে তাদেরকে বিভ্রান্ত প্রমানে উঠে পড়ে লেগে যাওয়া। ফলে যুবকদের বিশাল দল এই সব আন্দোলন থেকে ছিটকে পড়ে সালাফিদের দলে যোগদান করে।

৩। দেশে দেশে এর আগে আহলে হাদীস বা আনসারুস সুন্নাহ ইত্যাকার নামের যে দল গুলো ছিলো তাদের মধ্যে ফাটল ধরানো হয়। কারণ তারা মূলত আহলে হাদীস বা সালাফি ভাবধারার মানুষ হলেও ইসলামি আন্দোলন গুলোর সাথে অংগাংগী হয়ে কাজ করতো। বাংলাদেশের উত্তরবংগে একচেটিয়া আহলে হাদীস থাকা সত্ত্বেও তারা জামায়াতে ইসলামিকে সমর্থন করতো। কিন্তু এই মাদখালীদের উত্থানের পর তারা জামায়াত থেকে নিজেদের গুটিয়ে নিয়ে নিজেদের মাঝেও ফাটল তৈরি করে। মুজাফফর ও মুফতি আব্দুর রাযযাকের গন্ডোগোল তারই অংশ।

৪। যেহেতু মাদখালীদের সরকারই প্রমোট করে, সেহেতু এই গ্রুপের লোকেরা যেখানে গেছে সেখানে সরকারের সাথে থেকে সরকার বিরোধী ইসলাম পন্থীদের শেষ করার পেছনে কাজ করে যাচ্ছে। “সরকার” বলতে এরা মনে করে “যে যে দেশে রাজনৈতিক শক্তি নিয়ে জেঁকে আছে”। মজার ব্যপার হলো এরা মূরসী সরকারকে উৎখাতের চিন্তাও করে এই কারণে যে, মুরসী ছিলেন প্রতিষ্ঠিত সরকার বিরোধী, ও ইখওয়ানের লোক।

এই দলের উত্থানের পর ইসলাম ও মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ক্ষতি হয়েছে, যে তারা ইসলামি আন্দোলনের বড় বড় নেতেদের হত্যা করা “কোন গুনাহ না” ধারণাটা স্বস্ব সরকারের অন্তরে সহীহ আক্বীদার আকরে ঢুকিয়ে দিয়েছে। ফলে আব্দুল কাদের মোল্লার নাক বেয়ে চলা রক্তের নদী ওদের মনে আনন্দের প্রবাহ বাড়িয়েছে, মীর কাসিম, মাওলানা মুতিউর রহমান নিজামি ও আলী আহসানদের কেটে যাওয়া গলা দেখে তাদের মুখ বিজয়ের সাফল্যে স্নিগ্ধ কোমল হয়েছে। রাবেয়া স্কয়ারের রক্ত ওদের বিচলিত করেনা। কারাগারে প্রফেসর গোলাম আজমের লাশ তাদের মাথায় ঘুমের পশরা বিলায়। সারা দুনিয়ার ইসলামি আন্দোলনের নেতা কর্মীরাই হয়ে ওঠে এদের পরম শত্রু, আর দরবেশ বাবারা হয় তাদের “হাফিযাহুল্লাহ” নামক সহীহ হাদীসের দুয়ার পাত্র হবার একান্ত ভাগ্যবান মানুষ।

হলিউডের মুভির মূল থিম হলো ‘Devil Worshipper’ অর্থাৎ ‘শয়তারপূজারী ধর্মের’ প্রচারনা চালানো। শয়তান পূজারী ধর্মে মানুষকে আকৃষ্ট করাই সেই মুভির প্রধান লক্ষ্য! আর দ্বিতীয় লক্ষ্য আমার মত কম ঈমানের মুসলিমদের কনফিউজড করে দেওয়া।
.

যাইহোক, মূল বক্তব্যে আসি। ‘Devil Worshipper’ এর ভক্তরা মনে করে থাকে, আল্লাহ ইবলিস শয়তানের সাথে ন্যায়বিচার করেন নি। তার শুধুমাত্র একটা ভুলের কারণেই আল্লাহ তাকে কোন সুযোগ না দিয়েই শয়তান হতে বাধ্য করেছে। অথচ মানুষকে হাজারবার ক্ষমা করে দেওয়া হচ্ছে। তাকে কোন সুযোগ না দিয়েই শয়তান হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।
.
আমি জানি না, শয়তানপূজারীর অনুসারীরা সূরা সাদ পড়েছিল কি না! সূরা সাদ পড়লেই বুঝতে পারবেন, আল্লাহ তাকে ফিরে আসার সুযোগ দিয়েছিল কিনা।

আমি জানি না, শয়তানপূজারীর অনুসারীরা সূরা সাদ পড়েছিল কি না! সূরা সাদ পড়লেই বুঝতে পারবেন, আল্লাহ তাকে ফিরে আসার সুযোগ দিয়েছিল কিনা।
.
সবচেয়ে মজার কথা কি জানেন ? আমাদের মধ্যকার সবচেয়ে বুঝদার এবং প্রাকটিসিং মুসলিমের চেয়েও ইবলিস শয়তানের ঈমানের পারদ অনেক বেশি। বলতে দ্বিধা নেই, এমনকি কাবা শরীফের ইমামের চেয়েও ইবলিস শয়তানের ঈমান অনেক বেশি ছিল। ইবলিস শয়তান আল্লাহর আরসের বিশেষ ফেরেশতাদের সঙ্গে থাকার সুযোগ পেয়েছিল। এমনকি সে আল্লাহর সঙ্গে কথাও বলেছিল। অতএব আল্লাহর প্রতি ইবলিসের বিশ্বাস এবং আপনার আমার বিশ্বাসের পারদ কখনোই এক হবে না। বরঞ্জ ইবলিসই বেশি ঈমানদার ছিল। কিন্তু সেই ঈমানদার হবার পরও আল্লাহর আদেশকে অমান্য করতে কার্পন্য করেনি।
.
মনে রাখবেন, একজন মা তার স্বামীর হত্যাকারীকে হয়তো ক্ষমা করতে পারেন। কিন্তু একজন মা অবাধ্য সন্তানকে কখনোই ক্ষমা করতে পারেন না। কারণ, সেই সন্তানই কেবল জানে তার মায়ের ত্যাগের পরিমান কতটুকু। তেমনি আল্লাহর আরশে আশ্রয়প্রাপ্তরাই কেবল জানে, আল্লাহর ক্ষমতা কত্তো বিশাল। কিন্তু তারপরও সে আল্লাহর আদেশকে অমান্য করেছিল। সে অহংকার করে বলেছিল, আমি আগুনের সৃষ্টি। অতএব আল্লাহ কখনোই অবিবেচক নন।
.
শয়তান পূজারীরা মনে করে, একসময় আল্লাহ এবং ইবলিস শয়তানের মধ্যকার যুদ্ধ হবে। সেই যুদ্ধে তারা শয়তানের পক্ষ অবলম্বন করবে। আর সবচেয়ে মজার বিষয়, আমাদের বাংলাদেশেও ইবলিসের পক্ষের কতক সৈনিক তৈরী হয়ে যাচ্ছে !
.
‘Devil Worshipper’ এর উপর হলিউডে ইতোমধ্যে কয়েক ডজন মুভি তৈরী করা হয়েছে। আমাদের তরুনদের সেসব মুভি দেখে মাথা খারাপ করার টাইম থাকলেও কুরআন পড়ে মাথা ঠিক করার টাইম নাই। ভাবখানা এমন, কুরআন তো বুড়ো বয়সে পড়ার জন্য। তরুন বয়স শুধু মুভি,মাস্তি আর হ্যাংআউটের টাইম !


.

কে এই মোহাম্মদ মুরসি?

মু্ক্তির দাবিতে আয়োজিত এক বিক্ষোভে মুরসির ছবি হাতে কান্নারত এই নারীর ছবিটি বিশ্বব্যাপী আলোড়ন তোলে। ছবি: সংগৃহীত

মিশরের সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসি মারা গেছেন।

স্থানীয় সময় ১৭, জুন সোমবার দেশটির একটি আদালতে শুনানি চলাকালে বক্তব্য দেওয়ার সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মারা যান মুরসি।

মিশরের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের বরাত দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী গণমাধ্যম আল-জাজিরার খবরে বলা হয়, আদালতে শুনানির সময় মুরসি দীর্ঘ বক্তব্য দিচ্ছিলেন মুরসি। প্রায় ২০ মিনিট বক্তব্য দেওয়ার পর এজলাস কক্ষেই হঠাৎ তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। এ সময় মুরসিকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মুরসিকে মৃত ঘোষণা করে।

৬৭ বছর বয়সী মুরসি গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে করা একটি মামলায় হাজিরা দিচ্ছিলেন। ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের অভিযোগ এনে ওই মামলাটি করা হয়েছিল। এর আগে, নির্বাচনে ভুল তথ্য দেওয়ার অভিযোগে করা অপর একটি মামলায় মুরসিকে সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

মুরসি দেশটির রাজনৈতিক দল মুসলিম ব্রাদারহুডের নেতা এবং মিশরের ইতিহাসে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রথম প্রেসিডেন্ট। ২০১২ সালে অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছিলেন তিনি।

ফিলিস্তিনের ন্যায়সংগত আন্দোলনের পক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন মুরসি। ছবিতে আল আকসা মসজিদের সামনে মুরসির ছবিতে চুমু দিচ্ছে এক ফিলিস্তিনি কিশোর।

কে এই মুরসি?

মুরসির পুরো নাম  মোহাম্মদ মুরসি ইসা আল-আইয়াত। তিনি ১৯৫১ সালের ২০ আগস্ট মিশরের শারক্বিয়া প্রদেশে জন্মগ্রহণ করেন।

১৯৭৫ সালে কায়রো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৭৫ সালে প্রকৌশল বিষয়ে স্নাতক ও ১৯৭৮ সালে একই বিষয়ে সাতকোত্তর ডিগ্রী লাভ করে ওই বছরই উচ্চ শিক্ষার্থে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যান মুরসি।

১৯৮২ সালে ইউনিভার্সিটি অফ সাউথ ক্যালিফোর্নিয়াতে  মোহাম্মদ মুরসির প্রকৌশল বিষয়ে ডক্টরেট ডিগ্রী লাভ করেন এবং তিনি ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি, নর্থরিজে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেন।

পরবর্তী সময়ে ১৯৮৫ সালে মুরসি শারকিয়া প্রদেশের জাগাজিগ বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেওয়ার উদ্দেশ্যে ক্যালিফোর্নিয়ার অধ্যাপনার চাকরি ছেড়ে মিশরে চলে আসেন।

২০০০ সালে  মোহাম্মদ মুরসি প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সাংগঠনিক ভাবে তিনি মুসলিম ব্রাদারহুডের সদস্য হলেও হোসনি মুবারাকের শাসনামলে মুসলিম ব্রাদারহুড মিশরের প্রত্যক্ষ রাজনীতিতে নিষিদ্ধ ছিল। তাই তিনি সতন্ত্রভাবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। সাংসদ হিসেবে ২০০৫ সাল পর্যন্ত মিশরের সংসদে বহাল ছিলেন মুরসি। এ সময়ে তিনি মুসলিম ব্রাদারহুডের একজন নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিত্বে পরিণত হন।

ভালবাসা দাবিয়ে রাখা যায়না ।

২০১১ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি গণবিক্ষোভের মুখে হোসনি মোবারকের পতন হয়। এরইমধ্যে মুসলিম ব্রাদারহুডের রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকায় দলটির প্রত্যক্ষ সমর্থনে ‘মুসলিম ব্রাদারহুড ফ্রিডম অ্যান্ড জাস্টিস পার্টি’ (এফজেপি) নামে নতুন রাজনৈতিক দল গঠিত হলে মুরসি তার চেয়ারম্যান নিযুক্ত হন। ২০১২ সালে মে ও জুনে দুই পর্বের নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিপুল জনসমর্থনে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন মুরসি। এ সময় মুসলিম ব্রাদারহুড ও এফজেপি আনুষ্ঠানিকভাবে  মোহাম্মদ মুরসিকে ‘মিশরের সর্বস্তরের মানুষের রাষ্ট্রপতি’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

তবে ক্ষমতাগ্রহণ করেই দীর্ঘ সামরিক শাসনের যাতাকলে ক্ষয়িষ্ণু মিশরকে পতনের হাত থেকে রক্ষার জন্য দ্রুত কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেননি মুরসি।

সমালোচক ও নাস্তিক্য মানসিকতার বিরোধীদের ভাষ্য ছিল, মুরসি না কি দেশের অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সঙ্কট মোকাবেলায় ব্যর্থ হয়েছিলেন। একইসঙ্গে তিনি দেশের স্বার্থের চেয়েও মুসলিম ব্রাদারহুডের ইসলামপন্থি কর্মসূচিকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছিলেন।

ক্ষমতা গ্রহণের মাত্র এক বছরের মধ্যেই মুরসি সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে নামে মিশরের জনগণ। এরই সুযোগ নিয়ে মুরসির বিরুদ্ধে ওই গণবিক্ষোভ ও অভ্যুত্থানে সমর্থন দেয় সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইসরায়েলের মতো আঞ্চলিক শক্তিগুলো। সরকারিভাবে বিবৃতি দিয়ে মুরসি সমর্থকদের ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে আখ্যায়িত করে সৌদি আরব।

এ সুযোগে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন নিয়ে ২০১৩ সালের ৩ জুলাই দেশটির তৎকালীন সেনাপ্রধান আবদেল ফাত্তাহ আল সিসি মুরসিকে ক্ষমতাচ্যুত করে ও বন্দি করে।

বাস্তবতা এই যে, প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর নির্যাতিত ফিলিস্তিনিদের পাশে দাঁড়ান মুরসি। দখলদার ইসরায়েল অবরুদ্ধ গাজাবাসীর জন্য মিশরের সীমান্ত খুলে দিয়ে জেরুজালেম ও আল আকসা মসজিদের ওপর ফিলিস্তিনিদের নিয়ন্ত্রণের পক্ষে অবস্থান নেন তিনি। একইসঙ্গে তিনি ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টাও করেন। তার এ দুটি পদক্ষেপই কাল হয়ে দাঁড়ায়। মুরসিকে ক্ষমতাচ্যুত করতে আদাজল খেয়ে মাঠে নামে সৌদি আরব, আরব আমিরাত ও ইসরায়েল। অভিযোগ রয়েছে মুরসির বিরুদ্ধে জনবিক্ষোভ উস্কে দেওয়ার জন্য এই তিনটি দেশ বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করেছিল।

২০১৩ সালের ৩০ জুন মিশরজুড়ে রাস্তায় রাস্তায় মুরসির সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এ সুযোগে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন নিয়ে ২০১৩ সালের ৩ জুলাই দেশটির তৎকালীন সেনাপ্রধান আবদেল ফাত্তাহ আল সিসি মুরসিকে ক্ষমতাচ্যুত করে ও বন্দি করে।

ব্যক্তি জীবনে মোহাম্মদ মুরসি তার চাচাতো বোন নাজলা মাহমুদকে বিয়ে করেন। এ দম্পতির পাঁচ সন্তানের মধ্যে দুই জন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ করেন এবং জন্মসূত্রে তারা মার্কিন নাগরিক।

sin, tan, sec ত্রিকোণমিতির এই নামগুলো কোত্থেকে এল

সাইন, ট্যান, সেক-তোমাদের মধ্যে ত্রিকোণমিতির সামান্য জ্ঞান যাদের আছে, তারা সবাই এই নামগুলো চেন। কিন্তু এই নামগুলো কোত্থেকে এল, সেটা কি জানো?  কদিন আগে একটা দারুণ বই পড়ছিলাম ‘Great moments in mathematics before 1650’। সেখানে খুব সুন্দর করে sin এর গল্পটা বলা ছিল। উইকিপিডিয়া ঘেঁটে আরও কিছু শিখলাম। ভাবলাম যা জেনেছি, তোমাদের সাথে ভাগ করে নিই। সে জন্যেই এই লেখা। চলো আগে নামগুলোর আভিধানিক অর্থ জেনে নিই। এই আভিধানিক অর্থ আমি আগেও জানতাম, কিন্তু সেই জানাটাই আসলে আমাকে আরও দ্বিধায় ফেলে দিয়েছিল!

sine (সংক্ষেপে আমরা লিখি sin)শব্দটা এসেছে ল্যাটিন sinus থেকে, যার মানে হলো গর্ত বা গহ্বর ! নাকের গহ্বরে প্রদাহ হলে তাকে sinusitis বলে, তখন প্রচণ্ড মাথাব্যথা হয়। তোমরা হয়তো তার কথা শুনেও থাকতে পার। tangent(যাকে সংক্ষেপে আমরা লিখি tan)মানে হলো স্পর্শক। তোমরা জানো কোন একটা সরলরেখা যখন কোন বৃত্তকে একটা মাত্র বিন্দুতে ছুঁয়ে যায়, সেই রেখাটিকে বলে স্পর্শক রেখা। tangent শব্দটা এসেছে ল্যাটিন tangere থেকে যার মানে স্পর্শ করা। secant শব্দটার অর্থ হলো ছেদক। একটা সরলরেখা যখন বৃত্তের একপাশ দিয়ে ঢুকে অন্যদিক দিয়ে ফুঁড়ে বেরিয়ে যায়, অর্থাৎ দুটো বিন্দুকে ছেদ করে বেরিয়ে যায় তাকে বলে ঐ বৃত্তের ছেদক। এই নামটা এসেছে ল্যাটিন secare শব্দটি থেকে যার মানে হলো কেটে ফেলা, ছেদ করা। co-sine বা cos, co-tangent বা cot এবং co-secant বা cosec (একে সংক্ষেপে csc-ও লেখা হয়) – এই নামগুলো আসলে sin ,tan আর  sec থেকেই এসেছে। cosine হলো sine এর সাথী, cotangentহলো tangent এর সাথী এবং cosec হলো sec এর সাথী। সাথী কী জিনিস সেটাতে একটু পরে আসছি। তার আগে নামগুলোর অর্থের দিকে আবার তাকাও। স্পর্শক আর ছেদক নাহয় গণিতের ব্যাপার , এর সাথে tan আর sec কোনভাবে মিলতেও পারে, কিন্তু গর্ত? এর সাথে sin এর সম্পর্ক কী? মজার ব্যাপার হলো- সম্পর্ক আসলেই নেই। এটা একটা ভুল অনুবাদের ফসল!! একটা দারুণ ব্যাপার কী জানো- আমরা আমাদের চারপাশে যা কিছু দেখি তার সবকিছুই যে একেবারে সঠিক নিয়ম মেনেই এসেছে তা কিন্তু না। কিছু অদ্ভুত সুন্দর ‘ভুল’ হয় বলেই আমাদের পৃথিবীটা অনেক বেশি বৈচিত্রময়। যাহোক, এই পর্যায়ে পুরনো ব্যাপারগুলো আরেকবার ঝালিয়ে নেয়া যাক। একটা সমকোণী ত্রিভুজের বাহুগুলো থেকে দুটো দুটো করে নিয়ে মোট ছয়রকম অনুপাত পাওয়া সম্ভব। এই অনুপাতগুলোর সংজ্ঞা দেয়া হয়েছে এভাবে-

অতিভুজ হলো সবচেয়ে বড় বাহুটা। যেমন ছবিতে AC হলো অতিভুজ।

লম্ব আর ভূমি কোনটা হবে এটা বাচ্চাদেরকে অনেক সময়ই ঠিকমতো শেখানো হয় না। অনেকেই মনেই ভুল ধারণা থাকে যে মাটি বরাবর অর্থাৎ অনুভূমিকভাবে যে বাহুটা শুয়ে আছে সেটাই সবসময় ভূমি আর তার উপর লম্বা যে দাঁড়িয়ে আছে, সেই হলো লম্ব। কিন্তু মূল ব্যাপারটা এমন না। আসলে অন্যদুটো বাহুর যেকোন একটা লম্ব আর আরেকটাকে ভূমি ধরা যেতে পারে। কোনটাকে আমরা ভূমি বলব সেটা নির্ভর করবে কোন কোণটিকে নিয়ে আমরা কাজ করছি সেটার উপর। সমকোণ তো সবসময়ই  -এটা নিয়ে এখানে আসলে ভাবার কিছু নেই। বাকি যে সূক্ষকোণ দুটো রইল তাদেরকে নিয়েই আমাদের যত চিন্তা। এখানে  এখানে ∠BAC এবং ∠BCA হলো এমন দুটো কোণ। প্রথমে আমরা ∠BAC এর কথা চিন্তা করি। দেখ এই কোণটি AC এবং AB এই দুটো বাহু মিলে তৈরি। AC তো অতিভুজ। এখন এই AC এর সাথে আর যে বাহুটি রয়েছে সেটিই হবে ‘ভূমি’ অর্থাৎ এখানে AB হলো ভূমি। নিখুঁত করে বললে বলা যায় ভূমি হলো ‘কোণ সংলগ্ন বাহু’। এক্ষেত্রে লম্ব হবে BC (আর কে হবে বলো, আর কেউ কি বাকি আছে??)। লম্বকে তাই বলা যায় ‘কোণের বিপরীত বাহু’। তাহলে

এখন যদি আমরা অন্য কোণটি অর্থাৎ ∠BCA এর কথা ভাবি, তখন আমরা দেখব ভূমি হয়ে গেছে BC এবং লম্ব হয়ে গেছে  এর বিপরীত বাহু AB । এইবার

এবারে লক্ষ কর, cos BAC এর মান যা, sin BCA এর মানও তা। আবার sin BAC এর মান যা, cos BCA এর মানও তা। একই সমকোণী ত্রিভুজে থাকা এমন সূক্ষ্মকোণদুটোকে বলে পরস্পরের পূরক কোণ (complementary angle)। এমন একটা কোণের সাইন অন্য কোণের কোসাইনের সমান। সাথী অর্থাৎ co ব্যাপারটা আসলে এখান থেকেই এসেছে। সুতরাং অনুমান করতে পার- এভাবে একটা কোণের সেকান্ট হবে অন্য কোণটির কোসেক্যান্ট এর সমান এবং একটা কোণের ট্যানজেন্ট হবে অন্য কোণটির কোট্যানজেন্ট এর সমান।

আবার ফিরে যাই মূল প্রসঙ্গে- সাইন যদি লম্ব আর অতিভুজের অনুপাত হয়, সেখানে গর্ত কোত্থেকে এল? সেক্যান্ট মানে যদি ছেদকই হবে তার সাথে অতিভুজ আর ভূমির অনুপাতের সম্পর্ক কী?  ট্যানজেন্ট দিয়ে বোঝায়  লম্ব আর ভূমির অনুপাত, তার সাথে স্পর্শকের সম্পর্ক কোথায়?

এই চিন্তাগুলোর জন্ম হয়েছিল গ্রীসে, আর আদরে আদরে বেড়ে উঠেছিল হয়েছিল আমাদের এই উপমহাদেশে। এখন থেকে প্রায় দেড় হাজার বছর আগে আর্যভট (৪৭৬-৫৫০ খ্রিস্টাব্দ) তার ‘সূর্যসিদ্ধান্ত’ বইটির মধ্যে লিখে গেছেন এই বিষয়গুলোর কথা। তার ধারণা বুঝতে গেলে আমাদেরকে এমন একটা বৃত্তের দিকে তাকাতে হবে, যার ব্যাসার্ধ ১ একক।  ছবিতে আমরা এমন একটা বৃত্ত এঁকেছি । এখানে OB=OD=বৃত্তের ব্যাসার্ধ= ১ একক। AB হলো BB’ জ্যা-এর অর্ধেক। একে বলা হয় অর্ধ-জ্যা। CC’ এই বৃত্তের একটা ছেদক। এর একটা অংশ হলো OC । এখানে ছেদক বা ছেদকের দৈর্ঘ্য বলতে আমরা OC অংশটুকুকেই বুঝব। আর স্পর্শক বলতে বুঝব CD । এবারে আমরা পুরনো সংজ্ঞাগুলোর দিকে আবার তাকাব। কোণ COD কে আমরা θ নাম দিলাম। তাহলে ΔCOD থেকে আমরা দেখি

যাক বাবা, এতক্ষণ পরে আমরা দেখাতে পেরেছি, সেক্যান্ট আসলেই ছেদকের মান বের করে। এখন tangent –ও আমাদের হতাশ করবে না!

আর বাকি রইল sin । সাইনকে আর্যভট আসলে অর্ধ-জ্যা বলে ডাকতেন। কেন্দ্রে বিভিন্ন রকম কোণের জন্য অর্ধ-জ্যা এর মান কেমন হবে তার একটা বিশাল লিস্টি তিনি বানিয়েছিলেন। যাহোক, ΔBOA থেকে আমরা sinθ এর মান বের করি।

sin  যে অর্ধ-জ্যাকে প্রকাশ করে এটা জেনেও আসলে স্বস্তি হয় না। অর্ধ-জ্যা এর সাথে ‘গর্ত’ ব্যাপারটা কিভাবে মিলল? এখানে আসলে অনুবাদকদের কারসাজি। আর্যভট অর্ধ-জ্যাকে কখনও কখনও ‘জ্যা-অর্ধ’ আবার কখনও কখনও শুধু ‘জ্যা’ লিখতেন। আরব অনুবাদকেরা ভারতবর্ষের গণিতের কাজগুলো যখন সংস্কৃত থেকে আরবিতে অনুবাদ করছিলেন, তারা দেখলেন আরবিতে ‘জ্যা’ এর কোন প্রতিশব্দ নেই। তারা উচ্চারণের সাথে মিল রেখে এটার নাম দিলেন ‘যিবা’(জ্যা → যিঅ্যা → যিবা) । তোমরা হয়তো জানতেও পারো, আরবিতে যখন মানুষ লেখে , অনেক সময়ই তারা আকার-ওকার না দিয়ে অর্থাৎ যের, যবর, পেশ ব্যবহার না করেই লিখে ফেলে। ফলে তারা লিখল ‘য্ ব্’ । পরবর্তী প্রজন্মের লেখকেরা যখন এই ‘য্ ব্’ শব্দটা দেখলেন, তারা আর বুঝতে পারলেন না যে এটা হলো ‘যিবা’। তারা দেখলেন য আর ব এর সাথে আকার –ইকার বসিয়ে সুন্দর একটা আরবি শব্দ হয় ‘যাইব্’ যার মানে হলো খাদ বা গর্ত। এরপর ল্যাটিন ভাষার অনুবাদকেরা যখন অনুবাদ করলেন , তারা ল্যাটিন ভাষায় গর্তের প্রতিশব্দ হিসাবে এর নাম রাখলেন sinus , তার থেকেই পরবর্তীতে এল sine. এভাবেই আর্যভটের সেই অর্ধ-জ্যা অর্ধদুনিয়া ঘুরে হয়ে গেল গর্ত! কী অদ্ভুত!

এসব জেনে লাভ কী??এই প্রশ্নটার মুখোমুখি আমাকে প্রায়ই হতে হয়। এই যে এসব নাম-টাম কোত্থকে এল, কে নাম দিল-এইসব জেনে লাভটা কী? তার চেয়ে শুধু এগুলো কিভাবে কাজ করে এইটা জানলেই কি হয় না? নাহ! চোখের দেখা দেখেই লাভ-ক্ষতির হিসেবটা আসলে করে ফেলা যায় না। যা কিছু শুধুই যুক্তির, শুধুই প্রয়োজনের, তা দিয়ে ভালবাসা ব্যাপারটাকে বোঝা যায় না! যে মানুষটা শুধুই তার প্রয়োজনের সময় তোমাকে স্মরণ করে, সে তোমাকে ভালবাসে কিনা তুমি বুঝবে না! ধরো তোমার পাশের বন্ধুটার সাথে তোমার এমন সম্পর্ক- তুই আমাকে এই নোটটা দিবি, আমি তোকে ঐটা দেব। এমন প্রয়োজনের সম্পর্ক থেকে তোমাদের বন্ধুত্ব কতখানি তীব্র, এটা বোঝা যাবে না। কিন্তু ধরো, একদিন বন্ধুটা চুপচাপ বসে আছে, তুমি পাশে গিয়ে শান্ত ভঙ্গিতে জিজ্ঞেস করলে- ‘তোর কি মন খারাপ’? এই ‘অপ্রয়োজনীয়’ কথাটুকুর মধ্যে অনেক বেশি গভীরতা আছে, ভালবাসা আছে! এবং তুমি প্রায়ই দেখবে একটা তুচ্ছ অপ্রয়োজনীয় কথা কিংবা কাজ থেকে তৈরি হওয়া বন্ধুত্বটুকু, ভালবাসাটুকু সারাজীবনে তোমাকে যা কিছু দেবে, হাজার হাজার প্রয়োজনীয় কথাও সেটা পারবে না! জ্ঞানের ব্যাপারটাও ঠিক তাই। গণিত এর একটা ছোট্ট ‘অপ্রয়োজনীয়’ গল্প তোমার মধ্যে যদি ভালবাসার একটা একটা ছোট্ট বীজ বুনে দেয়- সে যে একদিন মহীরূহ হয়ে উঠবে না, কে বলতে পারে! আমরা মানুষ- যুক্তি দিয়ে যা বুঝি তাকে যখন আবেগ দিয়ে অনুভব করি , সেই জ্ঞানটা আমাদেরকে অনেক বেশি মানসিক শক্তি যোগায়, এগিয়ে নিয়ে যায় আরও অনেক অনেক দূর!

ইসরাইলকে সহায়তা করার জন্য আমার বন্ধু সিসি’কে ধন্যবাদ: নেতানিয়াহু

ইহুদিবাদী অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলকে সহায়তা করায় মিশরের প্রেসিডেন্ট আব্দেল ফাত্তাহ আল সিসি’কে ধন্যবাদ জানিয়েছেন ইহুদিবাদী ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। শুক্রবার (২৪ মে) নিজের ফেরিফাইড টুইটারে এ কথা লিখেছেন নেতানিয়াহু।

নেতানিয়াহু বলেন, ইসরাইলে অগ্নিনির্বাপণের জন্য দুটি হেলিকপ্টার পাঠানোয় আমার বন্ধু সিসি’কে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। উল্লেখ্য, গতকাল ইহুদিবাদী ইসরাইলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। অগ্নিনির্বাপণে সহায়তা স্বরূপ মিশর থেকে দুটি হেলিকপ্টার পাঠানো হয়।

মুরসি’র মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেনি সৌদি!

মিশরে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত একমাত্র প্রেসিডেন্ট মুহাম্মাদ মুরসি ইন্তেকাল করেছেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রাজিউন।

৬৭ বছর বয়সী মুহাম্মাদ মুরসি আজ সোমবার (১৭ জুন) দেশটির আদালতে ইন্তেকাল করেন। আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম আলজাজিরা ও মিডল ইস্ট মনিটর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন কাতার, তুরস্ক সহ ভিবিন্ন রাষ্ট্র। বিশ্বের ভিবিন্ন ইসলামিক ও গনতান্ত্রাতিক দল ও দলের নেতারা।

কিন্তু ইসলামী রাষ্ট্র হিসেবে মুরসির মৃত্যুতে কোনো প্রকার শোক বার্তা বিবৃতি প্রকাশ করেনি সৌদি আরব। এখন পর্যন্ত সৌদি থেকে শোক বার্তা বা বৃবিতি প্রকাশ করা হয় নি।

প্রেসিডেন্ট মুরসীর ইন্তেকালে শোক জানালেন কাতারের আমীর!

আরিফ মুসতাহসান মিশরের সাবেক নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসীর ইন্তেকালে শোক জানিয়েছেন কাতারের আমীর শেখ তামিম বিন হামাদ আলে ছানি। সোমবার (১৭ জুন) নিজের ফেরিফাইড টুইটার একাউন্টে তিনি এ শোকবার্তা প্রকাশ করেন।

কাতারের আমির উক্ত টুইটে বলেছেন, মিশরের সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসীর হঠাৎ মৃত্যুর খবর পেয়ে খুব দুঃখ পেয়েছি। তাঁর পরিবার ও মিশরবাসীর জন্য সমবেদনা জানাই। নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর জন্য এবং তাঁর নিকট সবাইকে ফিরে যেতে হবে।

৬৭ বছর বয়সী মুহাম্মাদ মুরসী গতকাল সোমবার (১৭ জুন) দেশটির আদালতে বক্তৃতারত অবস্থায় ইন্তেকাল করেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রাজিউন। মিশরে স্বৈরশাসক হোসনি মোবারকের পতন হলে প্রথমবারের মতো গণতান্ত্রিকভাবে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন মুহাম্মাদ মুরসী।

ক্ষমতা গ্রহণের এক বছরের মাথায় ২০১৩ সালে, তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইহুদিবাদী ইসরাইলের দোষর আবদেল ফাত্তাহ আল সিসির নেতৃত্বে এক রক্তক্ষয়ী সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে অবৈধভাবে মুহাম্মাদ মুরসীকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়। ক্ষমতাচ্যুত করার পর মুরসীকে কারাবন্দি করে পশ্চিমাদের সমর্থন পাওয়া সিসির সরকার।

এরপর রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তিসহ তথাকথিত বিভিন্ন অভিযোগে বিচারের মুখোমুখি করা হয় তাকে। কয়েকটি মামলায় মুরসীকে ৪৮ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়। গত ৬ মে মুহাম্মদ মুরসীর পরিবার জানায়, তাকে বর্তমানে নির্জন কারাবাসে রাখা হয়েছে। এটা তাকে বন্দিদশার শর্ত-বিরোধী।

ইচ্ছাকৃতভাবেই এমনটা করা হচ্ছে। মুরসীর পরিবার আরও জানায়, কারাগারে সাবেক প্রেসিডেন্টের ঠিকমতো চিকিৎসা হচ্ছে না এবং সেখানে তাকে বারবার হত্যা করার হুমকি দেয়া হচ্ছে। এমনকি হুমকির বিষয়টি আদালতকে জানানো হলেও এ ব্যাপারে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না।

মুহাম্মাদ মুরসীর পরিবারের পক্ষ থেকে প্রকাশিত বিবৃতিতে কারাগারে তার দুরবস্থার জন্য প্রেসিডেন্ট আব্দেল ফাত্তাহ আস-সিসি সরকারকে সরাসরি দায়ী করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, মিশিরের সাবেক প্রেসিডেন্টকে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে এবং তার সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের সাক্ষাৎ করতে না দিয়ে আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার মারাত্মকভাবে লঙ্ঘন করা হচ্ছে।

এছাড়া, চলতি বছরের মার্চ মাসে প্রেসিডেন্ট মুহাম্মাদ মুরসী চিকিৎসার অভাবে কারাগারে মৃত্যুবরণ করতে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছ ব্রিটেনের সংসদীয় কমিটি। ব্রিটিশ দৈনিক ‘দ্য টাইমস’ কয়েকজন সংসদ সদস্য ও আইনজীবীর বরাত দিয়ে লিখে, মুহাম্মাদ মুরসী বিভিন্ন ধরণের রোগে ভুগছেন।

ডায়াবেটিস, ব্লাড প্রেশার ও লিভার সমস্যায় ভুগলেও তার সঠিক চিকিৎসা হচ্ছে না। তাকে মিশরের রাজধানী কায়রোর একটি জেলখানার নির্জন সেলে রাখা হয়েছে। খারাপ আচরণ এবং চিকিৎসার অভাবে মুরসীর জীবন এখন হুমকির মুখে রয়েছে।

মুরসির মৃত্যু; বর্তামন প্রেসিডেন্ট সিসিকে দায়ী করে যা বললেন এরদোগান!

মিশরের সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসির মৃত্যুর পর দেশটির বর্তমান প্রেসিডেন্ট আবদুল ফাত্তাহ আস-সিসি ও ইউরোপীয় দেশগুলোর সমালোচনা করেছেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগান।

তিনি বলেছেন, মিশরের বর্তমান প্রেসিডেন্ট সিসি জনগণের ভোটে নির্বাচিত মোহাম্মদ মুরসিকে ক্ষমতাচ্যুত করে জোরপূর্বক ক্ষমতা দখল করেছেন ও গণতন্ত্রকে পদদলিত করেছেন এবং ক্ষমতায় এসে ৫০ জনকে ফাঁসি দিয়েছেন।

এরদোগান বলেন, মুরসি গণতান্ত্রিক উপায়ে ৫২ শতাংশ ভোট পেয়ে মিশরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন কিন্তু দেশটির সামরিক বাহিনী এই বাস্তবতা মেনে নেয়নি এবং তারা মুরসিকে ক্ষমতাচ্যুত করার সব ক্ষেত্র সৃষ্টি করেছিল।

তুর্কি প্রেসিডেন্ট ইউরোপীয় ইউনিয়নের সমালোচনা করে বলেন, সিসি ক্ষমতায় আসার পর মিশরীয়দের ফাঁসি দিলেও ইউরোপীয় ইউনিয়ন এ বিষয়ে নীরব থেকেছে এমনকি মিশরে আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ইউরোপীয় দেশগুলো অংশ নিয়েছে যখন সেখানে ফাঁসির ঘটনা ঘটছিল।

এরদোগান বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন তুরস্ককে ফাঁসির আদেশ বাতিলের জন্য বারবার আহ্বান জানাচ্ছে কিন্তু মিশরে তারা আন্তর্জাতিক সম্মেলনে এমন সময় অংশ নিয়েছে যখন সে দেশের নাগরিকদেরকে ফাঁসি দেয়া হচ্ছিল।

আর এ থেকে প্রমাণিত হয় ইউরোপ মানবাধিকার বিষয়ে দ্বিমুখী আচরণ করছে। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট বলেন, মিশরের সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসি তার হাজার হাজার বিপ্লবী সমর্থককে নিয়ে গত-

পাঁচ বছর ধরে কারাগারে ছিলেন কিন্তু পাশ্চাত্যের কেউ তার পক্ষে কথা বলেনি। মোহাম্মদ মুরসি গতকাল মিশরের আদালতে বিচার চলাকালীন সময়ে মারা যান। গত ৭ মে তিনি আদালতে বলেছিলেন তার জীবন হুমকির মুখে।

AB sign” এর নেপথ্যে কি এবং কারা!?

AB sign” এর নেপথ্যে কি এবং কারা!?এই নৃত্যভঙ্গিটি খুব জনপ্রিয়তা লাভ করেছে সারা বিশ্বেই। কিন্তু অনেকেই হয়তো জানেনা এই চিহ্নের মানেটা কি। এর পেছনে একটি অন্ধকার অতীত রয়েছে। এটিকে ড্যাব(DAB) সাইন বলা হয়। এর পূর্ণরূপ Devils are bright. যার অর্থ অনেকটা এররকম দাড়ায়-“শয়তানেরা চির উজ্জল”(নাউজুবিল্লাহ)এটা সাতানিজম বা শয়তানের পূঁজা কে প্রমোট করে । জঘন্যতম শিরকের একটি এটি। কারণ এই চিহ্ন দ্বারা শয়তানকে সিজদাহ করা বোঝানো হয়। এটা আল্লাহ্‌-তায়ালাকে সিজদাহ করার বিপরীত। বর্তমানে তারকা খেলোয়াড়দের থেকে শুরু করে অনেকেই এই চিহ্নের অনুকরণ করছে। এটাকে মূর্খ মুসলীমরা “এপ্রিল ফুল” এর মত ফান হিসেবে দেখছে। কিন্তু এই কালো ফান আপনার জাহান্নামে যাওয়ার কারণ হতে পারে! এটি ইলুমিনাতি(Illuminati) বা শয়তানের পূঁজারিদের দ্বারা মুসলিমদের ঈমান আকিদা ক্ষতিগ্রস্ত করার জন্য ছড়ানো ।অনেক স্বনামধন্য তারকাদেরই এই দলের অন্তর্গত বলে ধরা হয়। একটাই অনুরোধ,না জেনে বুঝে কিছু অনুকরণ করতে যাবেন না। শেষে ক্ষতিটা হয়তো আপনারই হবে।