প্রথমেই বলতে হয়- ইসকন কিন্তু হিন্দুদের কোন সংগঠন নয়, হিন্দুবেশধারী ইহুদীদের একটি সংগঠন। আবু রুশদের লেখা—“বাংলাদেশের গোয়েন্দা সংস্থার সাবেক প্রধানদের কথা- বাংলাদেশে ‘র’ বইয়ে লেখা আছে- “‘ইসকন নামে একটি সংগঠন বাংলাদেশে কাজ করছে। এর সদর দফতর নদীয়া জেলার পাশে মায়াপুরে। মূলতঃ এটা ইহুদীদের একটি সংগঠন বলে জানা গেছে। এই সংগঠনের প্রধান কাজ হচ্ছে বাংলাদেশে উস্কানিমূলক ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করা, যার উদ্দেশ্য হচ্ছে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সৃষ্টি।”. (বই- বাংলাদেশের গোয়েন্দা সংস্থার সাবেক প্রধানদের কথা- বাংলাদেশে ‘র’ পৃষ্ঠা:১৭১)
আপনাদের জেনে রাখা দরকার, ইসকনের সৃষ্টি কিন্তু ভারতে নয় আমেরিকার নিউইয়র্কে। মাত্র ৫০ বছর আগে, ১৯৬৬ সালে। সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতার নাম ‘অভয়চরণারবিন্দ ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদ’। অবাক হওয়ার মত বিষয়, এ ব্যক্তি ভারতে কোন হিন্দু শিক্ষালয়ে লেখাপড়া করেনি, লেখাপড়া করেছে খ্রিস্টানদের চার্চে। পেশায় সে ছিলো ফার্মাসিউটিকাল ব্যবসায়ী, কিন্তু হঠাৎ করেই তার মাথায় কেন হিন্দু ধর্মের নতুন সংস্করণের ভুত চাপলো, কিংবা কোন শিক্ষাবলে চাপলো তা সত্যিই চিন্তার বিষয়। স্বামী প্রভুপাদ নতুন ধরনের হিন্দু সংগঠন চালু করতেই প্রথমেই তাতে বাধা দিয়েছিলো মূল ধারার সনাতন হিন্দুরা। অধিকাংশ হিন্দুই তার বিরুদ্ধচারণ শুরু করে। কিন্তু সেই সময় স্বামী প্রভুপাদের পাশে এসে দাড়ায় জে. স্টিলসন জুডা, হারভে কক্স, ল্যারি শিন ও টমাস হপকিন্স-এর মত চিহ্নিত ইহুদী-খ্রিস্টান এজেন্টরা। (https://goo.gl/vf9wyi)।
ইসকন একটি উগ্র সাম্প্রদায়িক সংগঠন। এ সংগঠনটির বেসিক কনসেপ্ট মধ্যযুগের চৈতন্য’র থেকে আগত। চৈতন্য’র অনতম থিউরী হচ্ছে- “নির্যবন করো আজি সকল ভুবন”। যার অর্থ- সারা পৃথিবীকে যবন মানে মুসলমান মুক্ত করো।
উল্লেখ্য- এ সংগঠনটি হিন্দুদের অধিকাংশ বেসিক কনসেপ্ট স্বীকার করে না। তারা হিন্দুদের উপর সম্পূর্ণ নিজস্ব কনসেপ্ট চাপিয়ে দেয়। এদের চেনার সহজ উপায়- এরা সব সময় ইউরোপীয় সাদা চামড়াদের সামনে নিয়ে আসে। সংগঠনটি মুলত এনজিও টাইপ। এরা নিম্নবর্ণের হিন্দুদের দলে ভিড়িয়ে দল ভারি করে। এ কারণে তাদের আস্তানাগুলো হয় নিম্নবর্ণের হিন্দুদের আস্তানার পাশে। যেমন ঢাকা শহরে স্বামীবাগ মন্দিরের পাশে ইসকন মন্দির হওয়ার কারণ, স্বামীবাগে রয়েছে বিশাল মেথর পট্টি। এই মেথর পট্টির নিচুবর্ণের হিন্দুদের নিয়ে তারা দল ভারি করে। সিলেটেও ইসকনদের প্রভাব বেশি। কারণ চা শ্রমিকদের একটি বিরাট অংশ নিচু বর্ণের হিন্দু। এদেরকে দলে নিয়ে সহজে কাজ করে তারা।
বর্তমানে ইসকন চালায় ডাইরেক্ট ইহুদীরা। ইসকনের মূল নীতিনির্ধারকদের প্রায় অর্ধেক হচ্ছে ইহুদী। এটি আমার কোন দাবি নয়, এক ইসকন নেতারই দাবি। (http://goo.gl/xS3sfH)
বাংলাদেশে ইসকন কি চায় ও কি করে ?? স্বাভাবিকভাবে ইসকনের কর্মকাণ্ড শুধু নাচ মনে হলেও আদৌ তা নয়। ইসকনের কয়েকটি কাজ নিম্নরূপ-
১) বাংলাদেশে সনাতন মন্দিরগুলো দখল করা এবং সনাতনদের মেরে পিটিয়ে তাড়িয়ে দেয়া। যেমন স্বামীবাগের মন্দিরটি আগে সনাতনদের ছিলো, পরে ইসকনরা কেড়ে আগেরদের ভাগিয়ে দেয়। এছাড়া পঞ্চগড়েও সনাতনদের পিটিয়ে এলাকাছাড়া করে ইসকনরা। ঠাকুরগাও-এ সনাতন হিন্দুকে হত্যা করে মন্দির দখল করে ইসকন। এছাড়া অতিসম্প্রতি সিলেটের জগন্নাথপুরে সনাতনদের রথযাত্রায় হামলা চালিয়েছে ইসকন নেতা মিণ্টু ধর। (খবরের সূত্র-http://goo.gl/XwkLvm,http://goo.gl/7hegYE)
২) বাংলাদেশের মসজিদগুলোতে সাম্প্রদায়িক হামলা করা। কিছুদিন আগে ঢাকাস্থ স্বামীবাগে মসজিদের তারাবীর নামাজ বন্ধ করে দিয়েছিলো ইসকন। নামজের সময় ইসকনের গান-বাজনা বন্ধ রাখতে বলায় তারা পুলিশ ডেকে এনে তারাবীর উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। পরে বিষয়টি নিয়ে সংঘর্ষ হয়। এবার হলো সিলেটে।
৩) বাংলাদেশে বিভিন্ন সাম্প্রদায়িক সংগঠন তৈরী করে, উগ্রহিন্দুত্ববাদের বিস্তৃতি ঘটানো। যেমন- জাতীয় হিন্দু মহাজোট, জাগো হিন্দু, বেদান্ত, ইত্যাদি। বর্তমান অনলাইন জগতে যে ধর্ম অবমাননা তার ৯০% করে ইসকন সদস্যরা।
৪) বাংলাদেশে সম্প্রতিক সময়ে চাকুরীতে প্রচুর হিন্দু প্রবেশের অন্যতম কারণ-ইসকন হিন্দুদের প্রবেশ করানোর জন্য প্রচুর ইনভেস্ট করে।
৫) সিলেটে রাগীব রাবেয়া মেডিকলে কলেজের ইস্যুর পেছনে রয়েছে ইসকন। ইসকন আড়াল থেকে পুরো ঘটনা পরিচালনা করে এবং পঙ্কজগুপ্তকে ফের লেলিয়ে দেয়। এখন পঙ্কজগুপ্ত জমি পাওয়ার পর সেই জমি নিজেদের দখলে নিতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে বিচারবিভাগে ইসকনের প্রভাব মারাত্মক বৃদ্ধি পাওয়ার অন্যতম কারণ খোদ প্রধানবিচারপতিও একজন ইসকন সদস্য। (http://goo.gl/g3w0KK)
সবার শেষ কথা হচ্ছে- বাংলাদেশে যদি এখনই ইসকনকে নিষিদ্ধ না করা হয়, তবে বাংলাদেশের জন্য বড় ধরনের বিপদ অপেক্ষা করছে, যেই বিপদে বাংলাদেশে স্বাধীনতা হারালেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।
হাদিসে এসেছে ইসলামে দল হবে ৭৩ টা আর আহলে হাদীস একাই ১৬৮ টারও বেশী দলে ভাগ হয়ে গেছে! তাহলে বুঝা যায় বর্তমানের আহলে হাদীস সম্পূর্ন ভুয়া দল ———————————————– ১।
নবজাত শিশুর যেমন প্রথমেই কোন নাম থাকে না, কিছু দিন পর তার একটা নাম রাখা
হয়, পছন্দ না হলে প্রয়োজনে তাও আবার পরিবর্তন করা হয়, অনুরুপভাবে
ভারতবর্ষে নবজন্মা গাইরে মুক্বাল্লিদ নামক বিদ্য়া’ত ও ভয়াবহ ফিৎনাটিরও
প্রাথমিক পর্যায়ে কোন নাম ছিল না। তাদের ভ্রান্ত তৎপরতা লক্ষ্য করে জনগণ
যখন তাদেরকে “ ওহ্হাবী ” বা “ লা-মায্হাবী ” বলতে থাকে তখন তারা
নিজেদেরকে “ মুহাম্মদী ” বলে ঘোষণা করে এবং পর্যায়ক্রমে সুবিধামত “
মুয়াহ্হিদ ” “ গাইরে মুক্বাল্লিদ ” “ আহ্লে হাদীস ” ইত্যাদি নাম বরাদ্দ
করতে থাকে। সউদী আরবে তেল, পেট্রোলের পয়সা জমজমাট হওয়ার মুরাদে আরবীদেরকে
ধোঁকা দিয়ে পেট পালার ব্যবস্থা হিসেবে বর্তমানে তারাই “ সালাফী ” নামে
আত্নপ্রকাশ করেছে।
২। এ ব্যাপারে গাইরে মুক্বাল্লিদ্দেরই
অন্যতম ব্যক্তি মৌলভী মুহাম্মাদ শাহজাহানপুরীর উক্তি ইতিপূর্বে উল্লেখ করা
হয়েছে। এছাড়া তাদের অনেকেরই বই-পুস্তকে এর অসংখ্য প্রমাণ রয়েছে। তন্মধ্য
হতে গাইরে মুক্বাল্লিদ আলিম মৌলভী আসলাম জিরাজপুরী তার বিশিষ্ট রচনা “
নাওয়াদিরাতে ” লিখেন,
“ প্রথমত এ জামাত নিজেদের বিশেষ কোন নাম
রাখেনি। মাও: ইসমাইল শহীদ (রহ.) এর শাহাদাতের পর প্রতিপক্ষের লোকেরা যখন
দুর্নাম করা জন্য তাদেরকে ওহ্হাবী বলতে শুরু করে, তখন তারা নিজেরদেকে “
মুহাম্মাদী ” বলতে থাকে, অত:পর এ নামটি পরিহার করে “ আহলে হাদীস ” উপাধি
চয়ন করে যা আজ পর্যন্ত বলবৎ রয়েছে। ”
এই গ্রুপের আরো যত নাম আছে তা নিম্নে দেওয়া হল ! (1) Makhamahs, (2) Najdaatis, (3) Thu’aalabahs, (4) Ajaaridahs, (5) Zariqahs, (6) Abaadhiyyas (7) Safriyyas (8) Ash-Sharaahs (9) Khamariyyas, (10) Huooriyyas (11) Shyaybiyyas (12) Ibaathiyyas, (13) Shamraakhiyyas, (14) Salaydiyyahs, (15) Sirriyyahs, (16) Azriyyahs, (17) Ajradiyyahs, (18) Shakkiyyas, (19) Fadhaliyyahs, (20) Bayhasiyyahs, (21) Atwiyyahs, (22) Fadeekiyyahs, (23) Jadiyyahs, (24) Ibadi Salafis, (25) Nafusa Salafis, (26) Hinawis Salafis, (27) Ghaffiri Salafis, (28) Mzabi Salafis, (29) Jerba Salafis, (30) Modernist or Neo Salafis (31) Madkhali, or Super Salafis, (32) Conventional or Najdi or Wahhabi Salafis, (33) Jihadi Salafis, (34) Qutubi Salafis, (35) Laskar Jihad Salafis (followers of Ja’far Umar Talib), (36) Al-Bani Salafis, (37) Academic Salafis, (38) GSPC Algerian Salafis, (39) Murji Salafis, (40) Talafi Salafis, (41) Ma’ribi Salafis, (42) Hizbi Salafis, (43) Khariji Salafis, (44) Takfiri Salafis, (45) Nasibi Salafis, (46) Ghloovi Salafis, (47) Qawmi Salafis, (48) Taqleedi Salafis, (49) Asabi Salafis, (50) Nation of Islam Salafis, (51) Ahle Hadith Salafis, (52) Deo Bandi Salafis, (53) Nadwatul Ulema Salafis, (54) Ilyasi Salafis or Tabhlighee Salafis, (55) Jamiat Ulema-e-Islam Salafis, (56) Jamiat-e-Ulema Hind Salafis, (57) Millat-e-Islamia Salafis, (58) Israri Salafis or Tanzeem-e-Islami Salafis, (59) Islahi Salafis, (followers of Amin Islahi 1904-97) (60) Ikhwan-ul-Muslimeen Salafis, (61) Jamaah Islamiya Salafis, (62) Darul Islam Salafis (63) Jam’iya al-Salafiya al-Mujahida Salafis (64) Islamic Salvation Front Salafis (65) Maududi Salafis or Jamat-e-Islami Salafis, (66) Ansar As-Sunnah Salafis, (67) Tehrik-e-Taaliban Salafis, (68) Zaakiri Salafis (followers of Zakir Naik), (69) Jama’t-ud-Dawa Salafis, (70) Lashkar-e-Taiba Salafis, (71) Nabhani Salafis or Hizb ut-Tahreer Salafis, (72) Jamiyya Salafis, (73) Invitation to Paradise Salafis (74) Hussami Salafis (Followers of Aqil Hussami), (75) Ta’meer-e-Millat Salafis, (76) Tafweedi Salafis, (77) Sahwi Salafis, etc. (78) Islamist Salafis, (79) Tauseefi Salafis (followers of Tauseefur Rahman) (80) Pathless Salafis (Non Arabs living in Saudi Arabia) (81) Athari Salafis, (82) Jamat-ul-Muslimeen Salafis, (83) Guraba-e-Ahle-Hadith Salafis, (84) Thanaiyah Salafis, (85) Al-Maqdisi Salafis, (86) At-Tawheed wal Jihad Salafis, (87) Al-Wala’ wal Bara Salafis, (88) Mean Green Salafis, (89) Almost Salafis, (90) Yemeni Salafis, (91) Kung Fu Salafis, (92) Bidda Salafis, (93) Red Beard Salafis, (94) Blood Salafis, (95) Maxican Salafis, (96) Jordanian Salafis, (97) Canadian True blue Salafis, (98) Sipah-e-Sahabah Salafis, (99) Lashkar-e-Jhangvi Salafis, (100) Harakat-e-Inqilab-e-Islami Salafis, (101) Harakat-ul-Ansar Salafis, (102) Hizb-ul-Mujahideen Salafis, (103) Counterfeit Salafis, (104) Al-Shabab Salafis, (105) Jund Ansar Allah Salafis, (106) Jaysh Al-Islam Salafis, (107) Jaysh Al-Umma Salafis, (108) Nour Salafis, (109) Freedom and Justice Salafis, (110) Deobandi Army of Islam Salafis, (111) International Islamic Front Salafis, (112) Freedom and Justice Salafis, (113) Student Islamic Movement of India (SIMI) Salafis, (114) Jamiat-ul-Hekma Salafis, (115) Al-Ehsan Salafis, (116) Al-Sururi Salafis, (followers of Al-Sururi) (117) Islamic Heritage Restoration Salafis, (118) Islah Salafis, (119) Al-Ahdi Salafis (followers of Faysl Al-Ahdi) (120) Muqbil Salafis, (followers of Muqbil Al-Wadi) (121) Independent Yemeni Salafis, (122) Kuwaiti Islamists Salafis, (123) Purists Indonesian Salafis, (124) Partai Keadilan Sejahtera (PKS), Salafis, (125) Darul Islam Salafis, (126) Jemaah Islamia Salafis, (127) Strict Indonesian Salafis, (128) Wahda Islamiyya Salafis, (129) Mohammadiyah Salafis, (130) Persatuan Islam (Persis) Salafis, (131) Al-Irsyad Salafis, (132) Dewan Dakwah Islam Indonesia (DDII) Salafis, (133) Mutamar al-Alam al-Islami Salafis, (134) Rabithah al-Alam al-Islami Salafis, (135) LIPIA Salafis, (136) Pesantren Salafis, (137) Nida Salafis (followers of Abu Nida) (138) FKASWJ (Forum Komunikasi ASWJ) Salafis (139) Al-Sofwa Salafis, (140) At-Turots Salafis, (141) IREF Indian Salafis, (142) Kumpula Muhahidin Malaysia (KMM) Salafis, (143) Parti Se-Islam Malaysia (PAS) Salafis, (144) Brotherhood of Inner Power (Al-Maunah) Salafis, (145) Darul Islam Nusantara Salafis, (146) ABIM Malaysian Salafis, (147) Al-Arqam Salafis, (148) Reformasi Salafis, (149) Islamic Algerian Salafis, (150) Sayyafi Salafis (followers of Abu Sayyaf), (151) Moro Islamic Liberation Front Salafis, (152) Australian Salafis, (153) Al-Muhajiroun Salafis, (154) UK Saved Sect Salalfis (155) UK Al-Ghuraba Salafis, (156) Takfiri Algerian Salafis, (157) Jam’iyyah Ihyaa Turaath Al-Islami Salafis, (158) Jam’iyyah Ihyaa Minhaj as-Sunnah Salafis, (159) Salafi Publications (OASIS) Salafis, (160) Tajik Salafis, (161) Al-Ansar Tabhlighee Salafis, (162) Jamiatul Ansar Salafis, (163) Harakatul Mujahideen Salafis, (164) Harakatul Jihad al-Islami (Huji) Salafis, etc
১।
একটু লক্ষ্য করলেই বুঝা যাবে যে, গাইরে মুক্বাল্লিদ্দের নিজেদেরই অনুভূতি
নেই যে তারা কি? কখনো তারা নিজেদেরকে “ মুহাম্মাদী ” বলে কখনো “
মুয়াহ্হিদ ” কখনো “ গাইরে মুক্বাল্লিদ ” কখনো “ লা-মায্হাবী ” কখনো “
আহলে হাদীস ” আবার কখনো “ আসারী ” আবার কখনো “ সালাফী ” ইত্যাদি। যে দলটি
নিজের নাম নিয়েই আজ পর্যন্ত সংশয়ে নিপতিত (!) তারাই জানে তাদের ধর্ম ও
দ্বীন নিয়ে কেমন সংশয় ও সন্দেহে আপতিত। আর যে ধর্ম ও মতবাদে এত সংশয় ও
সন্দেহের অবকাশ রয়েছে তা গ্রহণ করা নিঃসংশয় নিঃসন্দেহযুক্ত তথা হক্ব হওয়ার
নিশ্চয়তা কোথায় ?
২। সম্মানিত পাঠকবর্গ নিশ্চয়ই অবগত আছেন যে,
নির্বাচনের সময় কোন কোন চরিত্রহীনা মহিলা তার প্রকৃত নাম, স্বামীর নাম ও
বোরকা পরিবর্তন করে বিভিন্ন পরিচয়ে পালাক্রমে ভোট প্রদান করে থাকে। কিন্তু
সময়-সুযোগে গণধোলাই আর কিছু উত্তম মাধ্যম দিলে তার মূল পরিচয় বেরিয়ে আসে।
অনুরূপ ভাবে, গাইরে মুক্বাল্লিদরাও সুবিধামত বিভিন্ন সময়ে, বিভিন্ন নামে,
বিভিন্ন পরিচয়ে আত্নপ্রকাশ করে থাকে। তাই, আহ্লে হকের পক্ষ থেকে সঠিক
পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলেই তাদের আসল রূপ ও মূল উদ্দেশ্য বেরিয়ে আসবে।
বীন বাজালে সিনেমায় সাপ নাচে। বাস্তবে নাচে না। সাপের কান নাই। শোনার জন্য ঘনঘন জিহ্বা বের করতে হয়। সাপ আপনাকে আক্রমণ করবে না। আপনি যদি শব্দ করে হাঁটেন, সে বুঝতে পারে। সাপের বুকের তলায় খোলসের রঙ আলাদা। সেখানে বিশেষ স্নায়ুতন্তু থাকে। মাটির কম্পন বুঝতে পারে। আপনি কতদুরে আছেন, আপনি সাইজে কতবড়, সে বুঝতে পারে। পালিয়ে যায়।
বেলি, হাস্নাহেনার গন্ধে কখনো সাপ আসে না। কেউকেউ জীবদ্দশায় বেলি, হাস্নাহেনা গন্ধরাজের তলায় সাপ দেখেছেন হয়তো। মনে রাখবেন, সাপের ঘ্রাণশক্তি খুবই দূর্বল। সে গন্ধ পায় না। সুগন্ধি ফুলে পোকামাকড় আকৃষ্ট হয় বেশি। পোকা খেতে ব্যাঙ আসে। ব্যাঙ খেতে মাঝেমাঝে সাপ আসতে পারে। খাবার পর মানুষের মত সাপও ক্লান্ত হয়। মানুষ খাবারের পর যেমন আয়েশ করে ঘুমায় তেমনই সাপও বেলি-হাস্নাহেনার তলায় ঘুমুতে পারে। তবে এসব গাছ যদি বাড়ির ভেতর থাকে তবে সাপ কম আসে। কারণ মানুষের উপস্থিতি তারা ভয় পায়। তবে বাড়ির সাইডে, ঝোপঝাড়ে এমন গাছ থাকলে সাপ আসা স্বাভাবিক।
একটা সাপকে মারলে তার জোড়া সঙ্গী কখনোই আপনাকে খুঁজে দংশন করতে আসবে না। সাপের স্মৃতিশক্তি খুবই দূর্বল। কিন্তু একটা সাপ মারার পর আরেকটা সাপ প্রায়ই একই স্থানে দেখা যায়, কারণ কী? সিম্পল। মেটিং এর সময় তাদের পার্টনার আশেপাশে থাকতেই পারে কিংবা আশেপাশে গর্ত থাকলে তার বাচ্চাকাচ্চা কিংবা আরো সাপ উঠে আসতেই পারে। সে প্রতিশোধ নিতে আসেনি বরং ভুল করে গর্ত থেকে চলে এসেছে।
ছোট সাপের বিষ নাই। কথাটা ভুল। সাপের বাচ্চাও সাপ। কেঁচোর সমান একটা কেউটের কামড়ে আমার চোখের সামনে এক রোগীকে টানা ২৪ ঘণ্টা জীবনের সাথে ফাইট করতে হয়েছে। আইসিইউতে আমরা তিন ডাক্তার তার পাশে ২৪ ঘন্টা লড়েছিলাম। আর্টিফিশিয়াল ভেন্তিলেশন থেকে শুরু করে একাধিকবার অ্যান্টি-ভেনম দিয়েছি। সে সুস্থ হয়ে বাড়িতে গেছে। যাবার আগে আমাদের গালিগালাজ করে গেছে। আমরা নাকি তাকে অনেক দামী ঔষদুহ দিয়েছি। সে জানে না, একডোজ অ্যান্টিভেনমের দাম ১০ হাজার তাকা লোকতার দোষ নেই। সে ছিল জেলে। দিনে হয়তো এক দেড়শ টাকা তার ইনকাম। তবে জেলেদের সাপ বেশি কাটে। এরা বর্ষায় রাতে আইলে দিয়ে নদী বা নালায় মাঝ ধরে। সাপ শুকনো ভেবে সেখানে থাকে। কামড় দেয়।
সিনেমা বলে, সাপ দুধ খায়। গরুর দুধ খেতে গোলাঘরে হানা দেয়। ভুল কথা। এসব সাপ পোকামাকড় খায়। কালো রঙ্গের দাড়াশ সাপ দেখি, এরা আমাদের উপকার করে। ফসল বাঁচায়। এদের না মারা উত্তম।
সাপে কাটলে ব্লেড দিয়ে কেটে দিলে বিষ বের হয়ে যায়। কথাটা ভুল। ভুলেও এই কাজ করবেন না। ব্লেড দিয়ে কাটলেন তো বিষকে রক্তের সাথে নিজহাতে মিশিয়ে দিলেন।
দশন করা সাপকে উল্টোকামড় দিলে বিষ ফেরত চলে যায় সাপের ভেতরে। কথাটা ভুল। পায়ে কাটলে বিষ সেখানে। আপনার মুখের দাঁতে তো বিষ নাই। কীভাবে ফেরত দিবেন? সাপের বিষ তার দাঁতে থাকে না। সে যখন কামড় দেয় তার মুখের পেশিগুলো টানটান হয়ে যায়। দাঁতের কাছেই ঠাকে বিষধর। সেখান থেকে বিষ দাঁত বেয়ে আপনার শরীরে প্রবেশ করে।
শক্ত করে বাঁধলে বিষ ছড়াতে পারে না এমন ধারনা ভুলে যান। আপনি নিজেও নিশ্চিত না সাপটা বিষধর ছিল কি না, তাহলে শক্ত করে বাঁধবেন কেন? ফুটবলের অ্যাংলেট পায়ে দিলে যেমন আটসাট হয়ে থাকে এমন ভাবে গামছা বা শার্ট বা শাড়ি দিয়ে দংশনের কিছু উপরে পেঁচিয়ে নিন। বাঁধন অবশ্যই ঢিলা রাখবেন। দুট আঙ্গুল ঢোকে এমনভাবে ঢিলা করবেন। আবার খুব ঢিলাও না। ২০ মিনিট পরপর খুলে আবার লাগাতে পারেন। ভুলেও লোহার তার, সুতলি, কারেন্টের তার বা অন্য সরু জিনিস দিয়ে বাঁধবেন না। বাঁধলে রক্তপ্রবাহ বন্ধ হয়ে হাতে-পায়ে পঁচন শুরু হবে। চিরতরে হাত বা পা খোয়ানোর সম্ভাবনা প্রবল। হয়ট আপনাকে বিষধর সাপ কাটেই নি অথচ আপনি ভয়ে গিট্টু দিয়ে হাত পা পঁচিয়ে পঙ্গু হয়ে গেলেন। কেমন হবে?
সাপ কাটলে কিন্তু আংটি, চুড়ি, ব্রেসলেট খুলে ফেলবেন। কিছু সাপের বিষে আপনার আঙ্গুল, হাত বা পা ফুলে যেতে পারে। আংটি বা চুড়ি থাকলে রক্তপ্রবাহ বন্ধ হয়ে পঁচন ঘটতে পারে।
সাপ কখন দংশন করে?
১। যদি ভুলে আপনার মুখোমুখি হয় সে পালাতে চেষ্টা করে। কিন্তু সে নিজে ভয় পেলে হিংস্র হয়। সব প্রাণিই এমন। মুরগীরও মাঝেমাঝে মানুষকে ঠোকর দেয়। সামনে সাপ পড়লে তাকে চলে যেতে দিন।
২। বর্ষাকাল মানেই হাসপাতালে সাপে কাটা রোগী। বর্ষায় গর্তে পানি উঠে যায়। ফলে সাপ ডাঙ্গায়, শুকনো জায়গায় উঠে আসে। সেটা ক্ষেতের আইল, রাস্তা কিংবা আপনার ঘরের তোশকের তলা, বালিশের তলা, আলনার ভেতর, কাঠের স্তুপ যেকোন জায়গাতেই আসতে পারে।
৩। অন্ধকারে সাপের শরীরে পা পড়লে। জঙ্গলায় ভুলে তার শরীরে পা পড়লে কামড় দেয়।
৪। ইদুরের গর্তে সাপ থাকলে সেখানে পা রাখলে বা বসে থাকলে কামড় দিতে পারে। বাচ্চা ছেলেরা মাঝেমাঝে বসে গর্তের মুখে প্রস্রাব করে। সন্তানকে শিক্ষা দিন। এই কাজ যেন না করে।
সব সাপ বিষাক্ত? বাংলাদেশে ৮০ ধরণের সাপ আছে। মাত্র ২৭ তা বিষাক্ত। আপনার চোখের সামনে নিয়মিত যাদের ঘোরাফেরা দেখেন, তারা বিষাক্ত নয়। পানির সাপ অধিকাংশই বিষাক্ত নয়। তবে সামুদ্রিক সাপ সবাই বিষাক্ত।
যদি চেনেন তবে বলি গোখরা, কালকেউটে, শঙ্খচূড়, চন্দ্রবোড়া বিষাক্ত।
সাপে কাটলে বুঝবেন কীভাবে?
দংশন করেছে এমন মনে হবার পর যদি সরাসরি সাপ দেখেন, তাহলে ভাবতে পারেন সে আপনাকে দংশন করেছে।
একবার এক ছেলে হাসপাতালে আসল। মাটির ঘরে অন্ধকারে হেলান দিয়ে ছিল। পীঠে সাপ কেটেছে। সারাদিন হাসপাতালে আমাদের অবজারভেশনে ছিল। রাতে রিলিজের আগে খবর আসল, যেখানে হেলান দিয়ে ছিল, সেখানে কে যেন তারকাটা পুতে রেখেছিল। পীঠে লেগে তারকাটা দেয়ালে ঢুকে যায়। খোচা লাগাকে সাপে কাটা ভেবে সে হাসপাতালে আসে। ২৪ ঘণ্টা ভয়ের অভিজ্ঞতা নিয়ে ঘরে ফেরে সুস্থ অবস্থায়।
বিষাক্ত সাপে কাটলে বোঝা বেশ সহজ।
১। শিকারি পশুর মত সাপের দুটো দাঁত বড় থাকে। বাঁকানো। দংশন করলে গভীর ক্ষত হয়। দুঁটো দাঁতের অস্তিত্ব থাকলে ধরে নিতে পারেন, আপনাকে বিষাক্ত সাপ দংশন করেছে। ২। যদি অনেকগুলো দাঁত থাকে, সেখানে মাংস তুলে নিলেও ভেবে নিতে পারেন এটা ছাগলের মত। অনেক দাঁত কিন্তু বিষদাঁত নাই। আপনার কিছু হবে না।
৩। সাপের বিষ কয়েক ধরণের। সবচেয়ে বেশি মৃত্যু ঘটে নিউরোটক্সিন রিলিজ করা সাপের কামড়ে। এক্ষেত্রে ঝিমঝিম লাগবে। চোখে ঝাঁপসা দেখবে। চোখের উপরের পাতা নেমে চোখ অংশিক বন্ধ হয়ে যাবে। মাথা ঝুলে যাবে। জিহ্বা ও শ্বাসনালী ফুলে যাবে। শ্বাস নিতে পারবে না। মুখে লালা ঝরবে। দাঁড়িয়ে থাকতে পারবে না। বমি করতে পারে।
আরো নানাবিধ লক্ষণ আছে। চন্দ্রবোড়া কামড় দিলে লোহিত রক্তকনিকা ভেঙ্গে যায়। ফলে রক্তবমি, রক্তপায়খানা হতে পারে। কামরের জায়গায় রক্ত ঝরতে পারে। ফুলে যেতে পারে, লাল হতে পারে। ফোস্কা পড়তে পারে। কালোও হতে পারে। কিছু সাপের কামরে হার্ট অ্যাটাক হয়ে মারাও যেতে পারে।
সাপে কামড়ে সিনেমায় গড়াগড়ি দেখেন, বিষের কারণে চেঁচামেচি দেখেন। এগুলো অভিনয়। সাপ্র বিষ নিয়ে একটা প্রবাদ আছে, কেমন ব্যাথা বুঝিবে সে কীসে কভু আশীবিষে দংশেনি যারে… এইসব ভুলে যান। সাপে কাটা মানুষ খুব স্বাভাবিক থাকে শুরুতে। কোন ব্যাথা নাও থাকতে পারে। এমনকী মৃত্যু ঘতার আগ মুহুর্ত পর্যন্ত কোন ব্যাথা নাও বুঝতে পারে।
চিকিৎসা? একদম ঘাবড়াবেন না। বেশি ঘাবড়ালেই বিষ বেশি ছড়াবে। সাপেকাটা জায়গা ধুয়ে ফেলুন সাবান দিয়ে। কাটবেন না ব্লেডে। চুষে রক্ত বের করবেন, এমন চিন্তা ভুলে যান। যেখানে কামড়াবে সেখানকার নাড়াচাড়া বন্ধ। হাতে কামড়ালে হাত নাড়ালে বিষ দ্রুত ছড়িয়ে যায়। হাত একদম নাড়াবেন না। পায়ে কামড়ালে হাঁটবেন না। সাপেকাটা স্থানে ভুলেও অ্যাসিড ঢালবেন না। মরিচের গুড়ো দিবেন না। কার্বলিক অ্যাসিডে ঝলসাবেন না। কোন ফলের বীজ, সর্পরাজ তেল, গুটি, আটি, বড়ি, তাবিজ কিছুই লাগাবেন না।
সাপটাকে পারলে চিনে রাখুন। ডাক্তারকে বললে চিকিৎসা পেতে সুবিধা হবে। তবে ধরে যাবেন না। পারলে মেরে ফেলুন। জীবিত ধরে ওঝার কাছে যাবেন, এমন চিন্তা থাকলেও ঝেড়ে ফেলুন। ওঝা সাপের বিষ নামাতে পারে না। ওঝারা অনেক রোগী ভালো করে। যেগুলো আসলেই বিষাক্ত সাপের কামড় ছিল না। বিষ্কাত হলে এরা রোগী রেফার করে। আমরা হাসপাতালে অনেক পাই যারা একেভবারে শেষ মুহুর্তে আসে। ওঝার কাছে গিয়ে জীবন খুইয়ে ফেলার পরিস্থিতি তৈরি করে আসে।
বিষাক্ত সাপে কাটলে আপনি বাঁচতে পারেন একটামাত্র পথন অনুসরণ করলে। সেটা হল- দুনিয়ার কারো মতামত নিবেন না। সরাসরি হাসপাতাল যাবেন।
সাপে কাটলে এক সেকেন্ড সময় নষ্ট না করে সরকারি বড় হাসপাতালে যান। শঙ্খচূড় বাদে সব সাপেরই বিষের অ্যান্টিভেনম আছে। ২৪ ঘন্টার মধ্যেই চিকিৎসা শেষে ফিরে আসবেন।
যদি বুঝে ফেলেন, সাপতা বিষধর নয়, তাহলে কী করবেন?
তবুও হাসপাতালে যাবেন। ভর্তি হয়ে প্রয়োজনে বিছানায় ২৪ ঘন্টা বসে থাকবেন। তবুও হাসপাতালে যাবেন।
কার্বলিক অ্যাসিডে সাপ পালায়?
সাপের ঘ্রাণ শক্তিই এত দূর্বল যে ফুলের গন্ধেও আসে না, তাহলে কার্বলিকে সাপ পালাবে কে বলল আপনাকে? এসব সেইফটি এককালে প্রচলিত ছিল। এখন ব্যর্থ টোটকা।
বাড়িতে খড়ের গাদা, লাকড়ির স্তুপ থাকলে আপনার মা বা স্ত্রীকে সতর্ক করে দিন। খড় বা লাকড়ি নেবার আগে সেখানে লাঠি দিয়ে কিছুক্ষণ শব্দ করুন। সাপ থাকলে চলে যাবে। রাতে বিছানা এমনকী বালিশের তলাও চেক করবেন। আলনার ভেতরে থাকতে পারে। শব্দ করে কাপড় নিতে যাবেন।
বাড়ির আশেপাশে ঝোপঝাড় থাকলে কেটে ফেলুন। ঈদুরের গর্ত থাকলে ভরাট করে ফেলুন। অনেকেই বলেন, মরিচপড়া দিয়ে ইদুরের গর্তের মুখে ধরলে সাপ চলে যায়। এ ব্যাপারে আমার জানা নাই। অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দিতে পারেন।
বর্ষাকাল এসেছে। এখন সাপ আপনার বাড়িতে-ঘরে আশ্রয় নিতে আসতেই পারে। সাবধান থাকুন। অন্যদের সতর্ক করে রাখুন। গ্রামের আপন মানুষদের (বাবা-মা, বউ-বাচ্চা-বন্ধু) সাপের ব্যাপারে বিস্তারিত জানিয়ে রাখুন। সতর্ক থাকবেন-ভয় পাবেন না-অবহেলা করবেন না।
ফিলিস্তিন মুক্তি আন্দোলন হামাসের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস..
হামাস শব্দটির অর্থ আশা, বা উদ্দীপনা। এটি মূলত حركة المقاومة الاسلامية হারাকাত আল-মুকাওয়ামা আল-ইসলামিয়া, “ইসলামী প্রতিরোধ আন্দোলন” এর একটি আদ্যক্ষর। ইজ্জদ্দীন আল কাসাম নামে হামাসের একটি সামরিক শাখাও রয়েছে। গাজা এবং পশ্চিম তীরে ইসলামি এই প্রতিরোধ আন্দোলন এর প্রকাশ্য আত্মপ্রকাশ ঘটে ১৯৮৭ সালে, প্রথম ইন্তিফাদা’র মাধ্যমে। হামাস এর প্রতিষ্ঠাতা হলেন শেখ আহমেদ ইয়াসিন, যিনি মূলত ছিলেন তৎকালীন ইখওয়ানুল মুসলিমীনের ফিলিস্তিন শাখার নেতা। ইয়াসিন ছিলেন পঙ্গু কিন্তু তবুও যুবক বয়স থেকেই তিনি ছিলেন গাজার নেতা। ১৯৭৮ সালে ৪৯ বছর বয়সী শেখ আহমেদ ইয়াসিন ফিলিস্তিনিদের সাহায্যের জন্য আল মুজাম্মা আল ইসলামি নামে একটি ইসলামি সংগঠন গড়ে তুলতে অধিকৃত ইসরায়েলী কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেন৷ ইসরায়েল তা মন্জুর করে, কেননা ইজরাইলের লক্ষ্য ছিল গাজায় জাতীয়তাবাদী আন্দোলন ফিলিস্তিনি মুক্তি সংস্থা পিএলও এর গুরুত্ব হ্রাস করা। কিন্তু ইজরাইলের সেই প্রচেষ্টা বুমেরাং হয়ে যায় । খুব সহসাই তারা বুঝতে পারে শেখ আহমেদ ইয়াসিন ঝানু মাল এবং পাক্কা মুসলমান। ইজরাইলের মাথায় তাল রেখে কায়দামত ঠিকই হামাসকে দাঁড় করিয়ে ফেলেছে। ১৯৮৮ সালে গৃহীত হয় “হামাস চার্টার” যার লক্ষ্য হলো অধিকৃত ফিলিস্তিন থেকে দখলদারিত্বের অবসান ঘটানো।
একনজরে গাজাঃ
গাজা ভূখণ্ড (আরবি: قطاع غزة ক্বিত্বা` গ়াজ়্জ়া, হিব্রু ভাষায়: רצועת עזה রেৎসু’আৎ ‘আজ়্জ়া) ভূমধ্যসাগরের তীরে অবস্থিত একটি ভূখণ্ড। এর ৩২০ কিলোমিটার এলাকায় রয়েছে চারটি শহর, আটটি ফিলিস্তিনী শরনার্থী শিবির আর এগারোটি গ্রাম। মাত্র ৩৬০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এক চিলতে এলাকা গাজার জনসংখ্যা প্রায় আঠারো লক্ষ, যেখানে প্রতি বর্গ কিলোমিটারে প্রায় ৫০০০ মানুষ বাস করে। (আমাদের ঢাকা শহরের আয়তনও কিন্তু ৩৬০ বর্গকিলোমিটার !) মিশরের সাথে ১১ কিঃমিঃ, ইসরায়েলের সাথে ৫২ কিঃমিঃ সীমানা আর সামনে রয়েছে অবারিত ভূমধ্যসাগর, যেটিও ইসরায়েলী নৌবাহিনী দ্বারা অবরুদ্ধ। এছাড়া, গাজার প্রায় ১৮ লক্ষ মানুষের মধ্যে প্রায় ১০ লক্ষ মানুষই জাতিসংঘের তালিকাভুক্ত উদ্বাস্তু। এমন একটি ভূখন্ডে প্রায় আট বছরব্যাপী অবরোধের মধ্যে থেকেও সরকার পরিচালনা করছে হামাস।গাজা ভূখণ্ডের পশ্চিমে রয়েছে ভূমধ্যসাগর, দক্ষিণ-পশ্চিমে রয়েছে মিশর, এবং উত্তরে, পূর্বে, ও দক্ষিণ-পূর্বে রয়েছে ইসরায়েল। যদিও জাতিসংঘে এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে গাজা ভূখণ্ডের স্বাধীনতা পুরোপুরি স্বীকৃত নয়, এই অঞ্চলটি ইতমধ্যে ফিলিস্তিনী হামাস সরকারের শাসনে পড়ে। গাজা ভূখণ্ডের পূর্ব সীমান্ত ইসরায়েলের দখলে, এবং সাইনাই মরুভূমিস্থ দক্ষিণ সীমান্ত মিশরের দখলে রয়েছে। ১৯৪৮ সাল হতে ১৯৬৭ পর্যন্ত পুরো ভূখণ্ড মিশরের দখলে ছিল।
সংগঠন হিসাবে হামাসঃ
সংগঠন হিসেবে হামাস মূলত তিনটি শাখার সমষ্টিঃ রাজনৈতিক শাখা, সমাজকল্যাণমূলক শাখা এবং সামরিক শাখা। মজলিশে শূরা হামাসের প্রতিনিধিদের মিলনস্থল, যার মাধ্যমে হামাস সমগ্র ফিলিস্তিনে তার কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। তবে হামাসের নীতিনির্ধারণী পরিষদ হলো পনেরো সদস্যের “পলিটিক্যাল ব্যুরো”। বর্তমানে হামাসের প্রধাণ হলেন খালেদ মিশাল; আর গাজা অঞ্চলে প্রধাণমন্ত্রী হিসেবে রয়েছেন ডঃ ইসমাইল হানিয়া।
হামাসের সামাজিক কর্মকাণ্ড
হামাসের শত্রু ইসরায়েলি বিশেষজ্ঞদের গবেষণায়ই উঠে এসেছে, হামাসের কার্যক্রমের ৯০% হলো সামাজিক, শিক্ষা বিস্তার, সংস্কৃতি ও জনকল্যাণমূলক কাজ, এবং এই সামাজিক কাজের মধ্যে দাতব্য চিকিৎসা, মসজিদ স্থাপন, স্কুল ও শিশুশিক্ষা অর্থায়ন, খেলাধূলার জন্য ক্লাব প্রতিষ্ঠা অন্যতম। শত অবরোধের মধ্যেও বার্ষিক ৭০-৯০ মিলিয়ন ডলারের একটি বাজেট দিতে সক্ষম হয় হামাস, যার প্রায় ৮৫% অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয় সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কাজে। প্রতিরক্ষা এবং সামরিক খাতে বরাদ্দ যায় মাত্র ১৫% (রেফারেন্সঃ কিংডম অফ গড (২০০৭), লেখক রুভন পাস)।
সবসময় ঘর ভাঙ্গা অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ায় হামাস। ইসরায়েলী বিমান হামলা কোন ঘর বিদ্ধস্ত হলে ১৫মিনিটের মধ্যেই সরকারী সেবাদানকারী মানুষেরা (উদ্ধারকর্মী, অ্যাম্বুলেন্স এবং পুলিশ) চলে আসেন তাদের সাহায্যার্থে। এছাড়া ইসরাইলী আগ্রাসনে শহীদ হওয়া ফিলিস্তিনীদের পরিবারের ভরণ পোষণের জন্য এককালীন ও নিয়মিত অর্থ সাহায্য দিয়ে থাকে হামাস (যার পরিমান ৫০০ থেকে ৫০০০ ডলার হয়ে থাকে)। এছাড়া ধ্বংস হয়ে যাওয়া বাড়ি ঘর, স্কুল বা মসজিদ পুনঃনির্মাণে সহায়তা দিয়ে থাকে হামাস। যদিও হামাস মূলত একটি ইসলামী আন্দোলন হিসেবে কাজ করে, কিন্তু জোরপূর্বক কাউকে ইসলামী অনুশাসন মানতে বাধ্য করবার কোন নজির এখানে নেই। হামাস সরকারের দাওয়াহ মন্ত্রনালয়ের অধীনে ‘ফাদিলা’ বা ‘Virtue Committee’ নামে কিছু নাগরিক কমিটি আছে, যারা বিভিন্নভাবে জনসাধারণকে ইসলামী অনুশাসন মেনে চলতে আহবান জানায়, অনুরোধ করে। কিন্তু স্কুলছাত্রীদের জোর করে হিজাব পরানোর একটি উদ্যোগ হামাস সরকারের শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের তৎপরতায় বন্ধ করা হয়। এছাড়াও জোর করে নিজেদের এলাকায় আঞ্চলিকভাবে শরীয়াহ আইন কায়েম করার প্রচেষ্টাকেও নস্যাৎ করে দেয় হামাস।
শিক্ষাঃ
টানা আট বছর অবরোধ এবং নানা ঝড়ঝাপটা সহ্য করেও গাজা উপত্যকায় শিক্ষার আলো জ্বালিয়ে রেখেছে হামাস। ২০১২ সালের হিসাব মতে, গাজা উপত্যকায় শিক্ষার হার প্রায় ৯৯%। সেখানে পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। এছাড়া প্রায় চার লক্ষাধিক ছাত্রছাত্রীর জন্য ৬৮৩ টি স্কুল রয়েছে যার মধ্যে ৩৮৩ টি স্কুল সরকার অর্থাৎ হামাস পরিচালনা করে।
স্বাস্থ্য সেবাঃ
স্বাস্থ্যসেবায় হামাস নিজেকে নিয়ে গিয়েছে এক অনন্য অবস্থানে। অব্যাহত অবরোধে থাকবার কারণে খাদ্যের মান কমে যাওয়ায় গাজা উপত্যকায় ফিলিস্তিনিদের মধ্যে শৈশবকালীন অপুষ্টির হার মারাত্নক হারে বেশি। এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে ইসরায়েলী আগ্রাসনে আহত মানুষজনের চিকিৎসা প্রয়োজন তো রয়েছেই। হামাস পরিচালিত হাসপাতালে কম খরচে বা বিনা খরচে সুচিকিৎসা দেয়া হয়। মৃত্যু উপত্যকা গাজায় বর্তমান জন্মহার প্রায় ৪%। এছাড়াও শিশুদের জন্য অসংখ্য নার্সারি, কিন্ডারগার্টেন স্কুল বা মক্তব প্রতিষ্ঠা করেছে হামাস যার মাধ্যমে তাদের এক বেলা খাবারও সরবরাহ করা হয়। বিভিন্ন দাতব্য সংস্থা বা দাতা দেশ থেকে আসা সাহায্য ও আর্থিক অনুদান ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রেও যথেষ্ট দক্ষতা ও স্বচ্ছতার পরিচয় দিয়েছে হামাস; অপরপক্ষে ফাতাহ গোষ্ঠী এই দিকে আকন্ঠ দুর্নীতিতে নিমজ্জ। হামাসের এই সামাজিক কার্যক্রমের জনপ্রয়তা শুধু গাজা স্ট্রিপেই নয়, বরং ফাতাহ শাসিত পশ্চিম তীর এমনকি আশেপাশের অন্যান্য মুসলিম দেশগুলোতেও অনেক বেশি জনপ্রিয়।
মিডিয়াঃ ২০০৬ সাল থেকে হামাস চালু করেছে স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেল ‘আল আকসা টিভি’। হামাসের মিডিয়া গুরু ফাতহি হাম্মাদের মিডিয়া হাউজ ‘আর-রিবাত কমিউনিকেশন্স’ এর নেতৃত্বে আরও রয়েছে নিজস্ব রেডিও স্টেশন ‘ভয়েস অফ আল আকসা’ এবং সংবাদ পত্রিকা ‘দ্য মেসেজ’। অনলাইন জগতে টুইটার এবং ফেসবুকসহ অন্যান্য সামাজিক গণমাধ্যমগুলোতে রয়েছে হামাসের সরব উপস্থিতি। এছাড়া লন্ডন থেকে আল ফাতিহ নামে শিশু-কিশোরদের জন্যেও একটি পাক্ষিক পত্রিকা নিয়মিত বের করা হয়।ৎ
সামরিক শাখাঃ হামাসের সামরিক শাখা ইজ্জদ্দিন আল ক্কাসাম ব্রিগেড যাকে সংক্ষেপে আল ক্কাসাম ব্রিগেড বলা হয়। এটি ১৯৯১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়, এবং তখন থেকেই ইসরায়েলকে সামরিকভাবে তটস্থ করে রেখেছে তারা। সীমিত সাধ্যের মধ্যেও লিমিটেড টেকনোলজী আর অর্থায়নে ক্কাসাম রকেট দিয়েই ইসরায়েলি বিলিয়ন ডলার ব্যয়ের আয়রন ডোম অ্যান্টিমিসাইল সিস্টেমকে চ্যালেঞ্জ করেছে। ইসরায়েলের প্যাট্রিয়ট মিসাইল এবং এফ-১৬ এর মোকাবেলায় ক্কাসাম ব্রিগেডের ব্যবহার করা অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে স্বল্প মাত্রার আল বানা, আল বাতার এবং আল ইয়াসিন রকেট, এছাড়াও ট্যাংক বিধ্বংসী গোলাসহ কিছু হালকা যুদ্ধাস্ত্র। সম্প্রতি ভূমধ্যসাগরের তলদেশ দিয়ে ইসরায়েলে পৌছে এক দুঃসাহসিক কমান্ডো অভিযানের চেষ্টা চালায় হামাস যোদ্ধারা। ইরানের পর মুসলিম দেশ হিসেবে সাফল্যজনকভাবে ড্রোন তৈরি করতেও সক্ষম হয়েছে হামাস, যা তেলাবিবের আকাশ পর্যন্ত পৌছে গিয়েছে। তবে হামাস যোদ্ধারা গ্রাউন্ড কমব্যাটে যথেষ্ট প্রশিক্ষিত। প্রবাসী হামাস নেতা খালিদ মিশালকে হত্যার একাধিক প্রচেষ্টা চালিয়েছিলো ইসরায়েলী গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ এবং সিনবেথ, তবে হামাসের অপারেটিভদের সাহস এবং দৃঢ়তায় তারা সফল হতে পারে নি।
দ্বীন প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে সীমাহীন আত্নত্যাগ, সততা – দক্ষতা ও নিপীড়িত মানুষের মধ্যে থেকে তাদের পাশে দাড়ানোর পাশাপাশি তাদের জন্য আমরণ লড়াইয়ের অদম্য মানসিকতাই হামাসকে দাঁড় করিয়েছে এক অনন্য অবস্থানে; শুধু ফিলিস্তিনীদের হৃদয়ে নয় বরং সারা বিশ্বের মজলুম সংগ্রামী মানুষের মধ্যে। আসুন আমরা ফিলিস্তিনের মর্দে মুজাহিদ হামাসের ভাইদের জন্য আল্লাহর দরবারে দুহাত তুলি।
শ্রমিকদের
ন্যায্য অধিকার আদায় ও চর্চায় বিশ্বের সবচেয়ে খারাপ দেশের তালিকার শীর্ষে
বাংলাদেশ। এই তালিকায় বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয়। বাংলাদেশের ওপরে
রয়েছে আলজেরিয়া।
বিশ্বের শ্রম অধিকার পরিস্থিতি নিয়ে ব্রাসেলসভিত্তিক ‘‘বৈশ্বিক শ্রম
অধিকার সূচক : শ্রমিকদের জন্য সবচেয়ে খারাপ দেশ’ শীর্ষক ইন্টারন্যাশনাল
ট্রেড ইউনিয়ন কনফেডারেশন (আইটিইউসি) এর বার্ষিক প্রতিবেদনে এ তালিকা প্রকাশ
করা হয়। মোট ১৪৫টি দেশের শ্রম অধিকার পরিস্থিতি মূল্যায়নের পর আইটিইউসি এই
প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
খারাপ দেশের তালিকায় থাকা বাংলাদেশ ও আলজেরিয়া ছাড়া অন্য দেশগুলো হলো-
যথাক্রমে-ব্রাজিল, কলম্বিয়া, গুয়াতেমালা, কাজাখস্তান, ফিলিপাইন, সৌদি আরব,
তুরস্ক এবং জিম্বাবুয়ে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ছয়টি বিষয়ে ১ থেকে ৫ ও তদূর্ধ্ব রেটিংয়ের
ভিত্তিতে এই শ্রম অধিকার সূচক তৈরি করা হয়েছে। বিশেষ করে শ্রম অধিকারের
স্বীকৃতি নেই এমন দেশগুলোকে রাখা হয়েছে ৫ বা তদূর্ধ্ব রেটিংয়ের তালিকায়।
রেটিং ৪-এর মধ্যে থাকা দেশগুলোতেও পরিকল্পিতভাবে অধিকার লঙ্ঘন হয়। ৩
রেটিংপ্রাপ্ত দেশগুলোয় অধিকার লঙ্ঘন নিয়মিতভাবে। ২ রেটিং পাওয়া দেশগুলোয়
অধিকার লঙ্ঘনের পুনরাবৃত্তি হয়।
তবে রেটিং ১ পাওয়া দেশগুলোয় বিক্ষিপ্তভাবে অধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটে। এ
ক্ষেত্রে সমন্বিতভাবে সবচেয়ে বেশি শ্রম অধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটে
মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকায়। এর পরে যথাক্রমে রয়েছে এশিয়া প্যাসিফিক,
আফ্রিকা, আমেরিকা ও ইউরোপের নাম। সূচকে শ্রম অধিকারের কোনো স্বীকৃতি নেই
এমন ৩৪টি দেশের মধ্যে রেটিং ৫-এর মধ্যে আছে বাংলাদেশ। যা বিবেচনার ক্ষেত্রে
বাংলাদেশে শ্রমিকদের ওপর নৃশংসতা, গণছাঁটাই ও ইউনিয়ন নেতাদের গ্রেফতারের
বিষয়টিকে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। তালিকার শীর্ষ ১০-এ না থাকলেও একই রেটিং
পেয়েছে শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনামও।
শ্রমিকরা সবচেয়ে বেশি হত্যার শিকার হয়েছে কলম্বিয়াতে। আইটিইউসি বলছে,
২০১৮ সালে শুধু কলম্বিয়াতেই অন্তত ৩৪ জন ট্রেড ইউনিয়ন সদস্যকে হত্যা করা
হয়েছে। এ ছাড়া ট্রেড ইউনিয়ন সদস্যরা হত্যার শিকার হয়েছেন বাংলাদেশ,
ব্রাজিল, কলম্বিয়া, গুয়াতেমালা, হন্ডুরাস, ইতালি, পাকিস্তান, ফিলিপাইন,
তুরস্ক ও জিম্বাবুয়েতেও। হিংস্রতার শিকার হয়েছেন মোট ৫২টি দেশের শ্রমিকরা।
অনেক দেশে কেড়ে নেওয়া হয়েছে শ্রমিকদের কর্মবিরতির অধিকার।
বাংলাদেশ খারাপ শীর্ষে থাকার অন্যতম কারণ গণগ্রেফতার, শ্রমিকদের ওপর
নৃশংসতা, গণছাঁটাই। বাংলাদেশে শ্রমিকদের কর্মবিরতি কঠোর হাতে দমন করা
হয়েছে, তেমনি দেওয়া হয়েছে শাস্তি। বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকরা
প্রায়ই কর্মবিরতি ও আন্দোলনে নামেন। কিন্তু এর বিরুদ্ধে নৃশংসভাবে পুলিশ
শক্তিপ্রয়োগ করেছে। যদিও গত বছর শ্রম অধিকারের ক্ষেত্রে অনেক দেশ আগের চেয়ে
উন্নতি করেছে।
এর মধ্যে রয়েছে মরিশাস, মেক্সিকো, পাকিস্তান। ইউরোপেও শ্রম অধিকার
পরিস্থিতি ভালো নয়। সেখানকার অন্তত ২৫ শতাংশ দেশে নানা কারণে শ্রমিকদের
গ্রেফতার ও আটক করা হয়েছে। বিশেষ করে ইতালি ও তুরস্কে হত্যার শিকার হয়েছেন
ট্রেড ইউনিয়ন নেতারা।
একযুগ আগেও #কম্পিউটার নিয়ে যারা বেশির ভাগ সময় কাটাতেন তাঁরা ছিলেন প্রধানত তথ্য প্রযুক্তির লোক কিংবা চাকরীজীবি এবং সেই সময়টুকুর জন্য তাদেরকে বেতন-ভাতা দেওয়া হত। ইন্টারনেটের ব্যাপক জনপ্রিয়তার কারণে আজ বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ কম্পিউটার ও #মোবাইল বা #স্মার্টফোন নিয়ে বেশির ভাগ সময় কাটায় এবং সেই সময়টুকুর জন্য নিজেরাই মুল্য পরিশোধ করে। কমপিউটার মোবাইল ও ইন্টারনেট আজ আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। ইন্টারনেটে কী আছে – সে প্রশ্নের উত্তরের চেয়ে কী নাই – তার উত্তর দেওয়া অনেক সহজ। ইন্টারনেটকে সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষা করা এখন প্রায় অসম্ভব। সংবাদ, তথ্য, যোগাযোগ, কেনাকাটা, ব্যবসা-বানিজ্য, সোশ্যাল নেটওয়ার্ক, বিনোদন ইত্যাদি অনেক কিছুর জন্য মানুষ এখন ইন্টারনেটের উপর নির্ভরশীল। কিন্তু কেউ যদি ইন্টারনেটের উপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল হয়ে পড়ে, ইন্টারনেটের কারণে যদি কারো স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বিঘ্নিত হয় এবং সিগারেট, মদ ও ড্রাগের মত ইন্টারনেটের প্রতি যদি কেউ আসক্ত হয়ে পড়ে তখনই সমস্যা। ইন্টারনেট আসক্তির ব্যাপারটা প্রথমবারের মত #মনোবিজ্ঞানীদের নজরে আসে ১৯৯৭ সালে Cincinnati Case-এর মাধ্যমে। Sandra Hacker নামে একজন মহিলা তাঁর তিনটি শিশু সন্তানকে অবহেলা করে ও নির্জন কামরায় আবদ্ধ রেখে দৈনিক ১২ ঘন্টারও বেশি সময় ইন্টারনেটে অতিবাহিত করতেন। এই মহিলাকে পর্যবেক্ষণ করে মনোবিজ্ঞানীদের অনেকেই সম্মত হলেন যে সিগারেট, মদ ও ড্রাগের মত ইন্টারনেটেরও compulsive ক্ষমতা আছে অর্থাৎ যা একটি পর্যায়ে এসে মানুষ ইচ্ছার বিরুদ্ধেও ব্যবহার করতে বাধ্য হয়। সেই ধারণা থেকেই ‘Internet Addiction’ কথাটির সৃষ্টি। সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে ইন্টারনেটেরও পরিবর্তন হচ্ছে। আসছে নতুন নতুন ফিচার, ফাংশন, কনসেপ্ট। সেই সাথে দিনদিন বাড়ছে ইন্টারনেট ব্যবহাকারী। জরিপে দেখা গেছে যে ৫-১০% ব্যবহাকারী ইন্টারনেট আসক্ত। এর সংখ্যা যে দিনদিন বাড়ছে তাতে কোন সন্দেহ নেই। এক কথায় ইন্টারনেট আসক্তিকে প্রকাশ করা বেশ কঠিন ব্যাপার। ইন্টারনেটকে কেন্দ্র করে মানুষের যে ব্যাপক কৌতুহল, সার্বক্ষণিক চিন্তা, অদমনীয় ইচ্ছা, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া এবং অসংযত আচরণবোধ এসব কিছুকেই ইন্টারনেট আসক্তি বলা যায়। ইন্টারনেট আসক্তির প্রধান কারণগুলো হল :১। কৌতুহল ও উৎসাহ – ইন্টারনেটে নতুন ব্যবহারকারীদের অনেকেই ব্যাপক উৎসাহের সাথে প্রায় সব লিঙ্কে ক্লিক করে দেখে সেখানে কী আছে। সাইট থেকে সাইটে ঘুরে ঘুরে নিত্য নতুন তথ্য-বিনোদনের আবিষ্কারে মোহগ্রস্ত হয়ে পড়ে। এভাবে অনলাইনে ঘন্টার পর ঘন্টা কাটিয়ে দেয়। ২। তথ্য নিয়ে হিমশিম খাওয়া – ইন্টারনেট এখন সব বয়সের ও সব পেশার লোকের জন্য এক বিশাল তথ্য ভান্ডার। পেশার কারণেই হোক বা সখের কারণেই হোক নতুন নতুন তথ্য সংগ্রহের নেশা একজন মানুষকে এমনভাবে পেয়ে বসে যে সে বেশিরভাগ সময় ক্রমাগত ওয়েব পেজ হাতড়িয়ে পার করে দেয়। আর এভাবেই সে নিজের অজান্তেই সব কিছু থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে। ৩। সাইবার সেক্সুয়েল আসক্তি – এ ক্ষেত্রে একজন মানুষের মধ্যে ইন্টারনেটে প্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য নির্ধারিত চ্যাট রুম এবং সাইবার পর্ণের প্রতি আকর্ষণ বিশেষভাবে বেড়ে যায়। তার চিন্তা-ভাবনায় স্থান করে নেয় এ ধরনের নগ্ন ও বিকৃত রুচির সাইটগুলো। সাধারণত প্রথমদিকে কৌতুহল থাকলেও বেশিরভাগ লোকই পরবর্তীতে এগুলোতে আর আকর্ষণ বোধ করে না। এসবের প্রতি কারো কৌতুহল ও আকর্ষণ যদি স্থায়ীরুপ লাভ করে তখনই সমস্যা। ৪। কম্পিউটার আসক্তি – এ ক্ষেত্রে একজন ব্যক্তির কম্পিউটার গেম, কম্পিউটার প্রোগ্রাম, কম্পিউটার সেটিং প্রভৃতির প্রতি আকর্ষণ আর নির্ভরতা এমন পর্যায়ে চলে আসে যে সারাক্ষণ সে ওগুলো নিয়েই সময় কাটাতে পছন্দ করে। দিনে একাধিকবার ডেস্কটপের ব্যাকগ্রাউন্ড, স্ক্রীন সেভার ইত্যাদি পরিবর্তন করছে, একই গেম বারবার দিনের পর দিন খেলার পরও বিরক্ত হচ্ছে না, প্রয়োজন থাক আর না থাক নতুন নতুন প্রোগ্রাম ইনস্টল/আনইনস্টল করছে। এধরনের লোক relax হয়ে বসে থাকতে পারে না, কমপিউটার নিয়ে কিছু একটা করতে হবেই। ৫। ভার্চুয়াল বন্ধুবান্ধব – ইন্টারনেটের সুবাধে দুর-দুরান্ত, দেশ-বিদেশের মানুষের মধ্যে সৃষ্টি হচ্ছে বন্ধুত্ব, প্রেম, ভালোবাসা। ব্লগ, ফোরাম, চার্টরুম, ফেইসবুক, টুইটার ইত্যাদিতে একজনের সাথে আরেকজনের পরিচয় হচ্ছে, বন্ধুত্ব হচ্ছে। সে কারণে ইমেইল, অনলাইন চাটিং, ফেসবুকে বন্ধুর তালিকা দিনদিন বড় হচ্ছে। সুতরাং যতই দিন যাচ্ছে ভার্চুয়াল বন্ধুবান্ধবদের সিডিউল দিতে অনলাইনে সময়ের পরিমানও বাড়ছে। আবার অনেকেই আছেন ডেটিং/ফ্রেন্ডশীপ সাইটের নিয়মিত ভিজিটর বা সদস্য, যারা জীবনসঙ্গী, যৌনসঙ্গী, প্রেমিক-প্রেমিকার সন্ধানে বেশিরভাগ সময় ইন্টারনেট হাতড়িয়ে পার করে দেয়। ৬। বিকল্প বিনোদন – ইন্টারনেটকে অনেকে বিকল্প বিনোদন হিসেবে বেছে নিয়েছে। গান, ভিডিও ক্লিপ, মুভি, নাটক, গেম, টিভি, ভিডিও, লাইভ খেলাধুলা ইত্যাদি অনেক কিছু এখন ইন্টারনেটে উপভোগ করা যায়। অনেকে এগুলোর প্রতি এত বেশি আসক্ত হয়ে পড়ে যে জীবনের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কাজকে অবহেলা করতে শুরু করে। নতুন নতুন গান, ভিডিও, মুভি সংগ্রহের জন্য দিনরাত ইন্টারনেট হাতিয়ে বেড়াচ্ছে। যত পায় আরও চায় – এভাবে প্রতিদিন ঘন্টার পর ঘন্টা অনলাইনে ব্যয় করছে যা একসময় আসক্তির পর্যায়ে চলে আসে। ইন্টারনেট আসক্তি মাদকাসক্তির চেয়ে ভয়াবহঃইন্টারনেটের যেমন উপকারিতা রয়েছে, তেমনি রয়েছে অপকারিতা। ইন্টারনেট, ফেসবুক – এসবের বেশি ব্যবহার বিভিন্ন মানসিক সমস্যা তৈরি করছে। ইন্টারনেট বহু ধরনের মানসিক সমস্যা তৈরি করছে ।মাদকাসক্তি যেমন ভয়াবহ, ইন্টারনেট, ফেসবুক, তেমন ভয়াবহ। আমরা যেমন মাদকাসক্তিকে একটি মানসিক রোগ হিসেবে চিন্তা করি বা বলি, সেরকমভাবে FAD বা ফেসবুক এডিকশন ডিজঅর্ডার, IAD- ইন্টারনেট এডিকশন ডিজঅর্ডার, এগুলো সমভাবে তরুণ সমাজকে ধ্বংস করছে।আমার যে সন্তান খুব সুন্দর পড়ালেখা করত, সে কিন্তু আজকাল আর পড়ালেখা করে না। সারাক্ষণ মোবাইল টিপছে। ফেসবুক টিপছে। আপনার যে সন্তান ক্লাসে খুব ভালো ফলাফল করত, মা- বাবার সঙ্গে সুন্দর ব্যবহার করত, সমাজের সঙ্গে বন্ধনটাকে দৃঢ় করেছিল, একসঙ্গে হৈ হৈ করে চলত, এক সঙ্গে সব বিকাশ হতো, এখন সেটি করছে না।ডাক্তারগণ বলেন,কোন মানুষ যখন মানুষের সঙ্গে মিশে চলে তখন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেকগুণ বাড়ে। বই পড়ত, গান শুনত, নাটক করত, বিতর্ক প্রতিযোগিতা করত, খেলাধুলা সব করত। কি না ছিল? এগুলো কিন্তু নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এতে আসক্তি বাড়ছে। এটি মাদকাশক্তির চেয়েও শক্তিশালী। তরুণ সমাজ তাদের মূল্যবান সময় অপচয় করছে ফেসবুক, হোয়াটস অ্যাপ ও ইউটিউবের মতো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে। কেউ যদি এগুলোতে অতিমাত্রায় নির্ভরশীল হয়ে পড়ে এবং এ কারণে যদি তার স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বিঘ্নিত হয়, তখনই বাধে সমস্যা। এর ফলে ভুক্তভোগীর পাশাপাশি সমস্যায় পড়তে হয় বন্ধু, পরিবার ও সমাজকে। অতিরিক্ত ইন্টারনেট ব্যবহার অনেকটা মাদকাসক্তির মতো। এতে করে স্থূলতা দেখা দেয়া, ঘুম কমে যাওয়া, সৃজনশীল চিন্তাভাবনায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হওয়া, মানসিক অস্থিরতা সৃষ্টি হওয়াসহ নানা সমস্যা দেখা দেয়। বাংলা সাহিত্যের একজন লেখক বলেছেন, ‘বিজ্ঞান মানুষকে দিয়েছে বেগ, কিন্তু কেড়ে নিয়েছে আবেগ।’ আজকাল বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে আড্ডায় বসলে দেখা যায়, যে যার মতো স্মার্টফোন নিয়ে ব্যস্ত। বাস বা ট্রেনে চলার সময় অনেককেই দেখা যায় ফেসবুকিং বা ব্রাউজিং করে দীর্ঘ সময় পার করতে। অথচ এই দীর্ঘ সময়ে একটা ভালো বই পড়া যেতে পারে।বর্তমান বাংলাদেশ ও ভারত সহ পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই ফেসবুক সাংবাদিকতা বেড়ে যাচ্ছে। ভুল তথ্য দিয়ে মানুষকে হয়রান করা হচ্ছে। অনেকে বিভিন্ন নামে-বেনামে ফেসবুক ফেক আইডি খুলছে এবং খারাপ ও মিথ্যা তথ্য দিচ্ছে ও শেয়ার করছে। এসব বিষয়ে আমাদের সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। ইন্টারনেট আসক্তি কাদের হয়ঃআজ থেকে দশ-বারো বছর আগে কম্পিউটার নিয়ে যারা বেশির ভাগ সময় কাটাতেন তারা ছিলেন প্রধানত তথ্যপ্রযুক্তির লোক এবং সেই সময়টুকুর জন্য তাদেরকে বেতন-ভাতা দেওয়া হতো। ইন্টারনেটের ব্যাপক জনপ্রিয়তার কারণে আজ বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ কম্পিউটার নিয়ে বেশির ভাগ সময় কাটায় এবং সেই সময়টুকুর জন্য নিজেরাই মূল্য পরিশোধ করে। কম্পিউটার ও ইন্টারনেট আজ আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। সংবাদ, তথ্য, যোগাযোগ, কেনাকাটা, ব্যবসা-বাণিজ্য, সোশ্যাল নেটওয়ার্ক, বিনোদন ইত্যাদি অনেক কিছুর জন্য মানুষ এখন ইন্টারনেটের উপর নির্ভরশীল। কিন্তু কেউ যদি ইন্টারনেটের উপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল হয়ে পড়ে, ইন্টারনেটের কারণে যদি কারো স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বিঘ্নিত হয় এবং সিগারেট, মদ ও ড্রাগের মতো ইন্টারনেটের প্রতি যদি কেউ আসক্ত হয়ে পড়ে তখনই সমস্যা। এক কথায় ইন্টারনেট আসক্তিকে রোধ করা বেশ কঠিন ব্যাপার। ইন্টারনেটকে কেন্দ্র করে মানুষের যে ব্যাপক কৌতূহল, সার্বক্ষণিক চিন্তা, অদমনীয় ইচ্ছা, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া এবং অসংযত আচরণবোধ এসব কিছুকেই ইন্টারনেট আসক্তি বলা যায়। যাদের ইন্টারনেটে আসক্ত হওয়ার আশঙ্কা বেশি >> যারা আগে থেকেই অন্য কোনো কারণে উদ্বেগে রয়েছেন। >> যারা বিষণ্নতায় বা একাকিত্বে ভুগছেন। >> যারা ড্রাগ, অ্যালকোহল, জুয়াখেলা এবং বিকৃত মানসিকতায় আসক্ত। >> টিনএজার, যারা রোমাঞ্চপ্রিয় ও সব কিছুতে অতি উত্সাহী। >> শারীরিকভাবে যারা অলস ও ঘরকুনো। >> যারা কোনো কিছুকেই হালকাভাবে নিতে পারে না, সব কিছুতেই সিরিয়াস। >> বাস্তব জীবনে যাদের বন্ধু-বান্ধব খুবই কম ও বিপদ-আপদে সাহায্য করার মতো কেউ নেই। >> যারা অসামাজিক, লাজুক এবং মানুষের সাথে মিশতে ভয় পায়। >> যারা বাস্তব জীবনের সমস্যাকে এড়িয়ে চলতে চায়। #ইন্টারনেট_আসক্তিতে_বেড়ে_যায়শা_রীরিক_সমস্যাঃপ্রযুক্তির ব্যবহার জীবকে যেমন সহজ করেছে, তেমনি প্রযুক্তির আসক্তি ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রযুক্তির অপব্যবহারের কারণে ঘটছে বিভিন্ন বিপত্তি। বিশেষ করে প্রযুক্তির অপব্যবহারের কারণে শরীর ও মনে বিভিন্ন ধরনের পরিবর্তন হচ্ছে। ঘুমের অনিয়ম, মেজাজ বিগড়ে থাকা, ঘন ঘন মাথা ব্যথাও শরীরে ব্যথা বেড়ে যাওয়াসহ বিভিন্ন ধরনের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে আজকাল অনেককে।ইন্টারনেট প্রযুক্তির অপব্যবহারের কারণে আপনার শরীর ও মনের বহু ধরনের ক্ষতি হতে পারে—ইন্টারনেট আসক্তরা বেশি একা থাকতে পছন্দ করেন। তারা কাউকে সময় দিতে চান না। আসক্তিকালে তাদের আচরণে বিভিন্ন পরিবর্তন দেখা দেয়। ফেসবুক, ইমেইল, ইমু, ইউচেট, হটস্পটসহ বিভিন্ন প্রযুক্তি এখন মানুষের দোরগোড়ায়। এসবের আসক্তির কারণে মেজাজ সব সময় চড়ে থাকে,অল্পতে ক্ষেপে যায়, সম্পর্কের অবনতি ঘটে ।আসক্তির কারণে বন্ধু, আত্মীয়-স্বজনকে এড়িয়ে চলে। প্রযুক্তির অধিক ব্যবহার মানুষের আসক্তিতে পরিণত হয়। ফলে কাইকে সময় দেয়া এ সময় বিরক্তিকর ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়।। ইন্টারনেটে আসক্তির কারণে অনেক সময় আপনার প্রিয় কাজটিও অনেক বিরক্তির কারণ হয়ে যেতে পারে। যারা ইন্টারনেট ব্যবহার করেন, তা যেন নেশায় পরিণত না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।অধিক সময় একটানা বসে অনেকে ইন্টারনেট ব্যবহার ওজন বাড়িয়ে দেবে এতে কোনো সন্দেহ নেই।টানা নেট ব্যবহার মাথা ব্যথার একটি কারণ । কম্পিউটার ও মোবাইলের আলো চোখের জন্য যেমন ক্ষতিকর তেমনি মাথা ব্যথা হওয়া খুব স্বাভাবিক।কম্পিউটারের আলো চোখের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ। একটানা অধিক সময় কম্পিউটারের সামনে বসে থাকলে চোখের সমস্যা হবে।#ইন্টারনেট_আসক্তিতে_তরুণ_প্রজন্মঅনেকে বলেন যে, মাদকের পরিবর্তিত সংস্করণ হচ্ছে ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো বা ইন্টারনেটে অকারণে অতিমাত্রায় আসক্তি। হাতের অন্ধকারে আলোকিত পৃথিবী দেখা, ঘুম ঘুম চোখে রঙিন দুনিয়ায় প্রবেশ ইত্যাদি তারুণ্যকে ক্রমেই ফেসবুক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বা ইন্টারনেট আসক্তির দিকে নিয়ে যাচ্ছে। মনোবিজ্ঞানী ও গবেষকরা বলছেন যে, একান্ত ব্যক্তিগত আবেগ-অনুভূতি যারা শেয়ার করেন এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বন্ধুদের সমবেদনা দিয়ে থাকেন এ ব্যাপারে উভয়ই অতিমাত্রায় ফেসবুক বা যোগাযোগ মাধ্যমে আসক্ত। বলা হচ্ছে, সপ্তাহে ৩৮ ঘণ্টার বা এর বেশি যারা সামাজিক মাধ্যমে ডুবে থাকেন তাদের আসক্তি বলা যায়। মাদক ছাড়া যেমন অনেকে থাকতে পারেন না, সেরূপ ইন্টারনেট বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ছাড়া থাকতে পারেন না! নেট সমস্যা বা কিছু সময়ের জন্য এ সব মাধ্যম বন্ধ থাকলে হতাশায় রি-অ্যাকশন দিয়ে পোস্ট দেন তাদের মোটা দাগে আসক্ত বলা যায়! যে সব ফেসবুক ব্যবহারকারী একাকিত্বে ভোগেন তারাই ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে বেশি স্ট্যাটাস দেন। প্রেম বা অন্য ক্ষেত্রে ব্যর্থতার বহিঃপ্রকাশ ঘটে বা যারা অযথা ফেসবুক তর্কে লিপ্ত হয় বা প্রশ্ন ছুড়ে উত্তর আশা করে তারাও ফেসবুকে অতিমাত্রায় আসক্ত। দেখা যায় খেলা বা কিছুকে কেন্দ্র করে ব্যক্তিগত চরিত্র হননে লিপ্ত থাকে, পারস্পরিক মতামতে অসহিষ্ণু বা অযথা ইস্যু তৈরি করে পারস্পরিক বা অন্যের পক্ষ-বিপক্ষ নিয়ে (যেখানে নিজের লাভ লোকসান নেই) গালিগালাজ বা চরিত্রহননের চেষ্টা করে থাকে অনেকে। ফেসবুকে অতিমাত্রায় আসক্ত হলে ‘কাজ নেই তো খই ভাজ’ অবস্থা সৃষ্টি হয়। এটা আমাদের দেশে অতিমাত্রায় হচ্ছে এবং ক্রমেই নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাচ্ছে। এ অবস্থা কিন্তু উন্নত বিশ্বে (যেমন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ কান্ট্রিতে) বেশি নেই। কুরুচিপূর্ণ এ অবস্থা বাংলাদেশ এবং ভারতে বেশি। এটা ইন্টারনেটের অপব্যবহার বলা যেতে পারে। এর মধ্য দিয়ে আমরা পারস্পরিক একটা অসহিষ্ণু স্টুডেন্ট কমিউনিটি তৈরি করছি। যারা আগামীতে দেশকে নেতৃত্ব দেবে, সমাজকে নেতৃত্ব দেবে। সে জায়গায় তারা নেতৃত্ব দিতে পারবে না, কারণ তারা সামাজিকভাবে অসুস্থ। এমন কমিউনিটি কখনো একটা বৃহৎ কমিউনিটিকে লিড দিতে পারে না। ফুটবল বিশ্বকাপেও দেখলাম এ অসহিষ্ণুতা! যারা আসক্ত তাদের যে সব শারীরিক সমস্যা হয় বলে চিকিৎসকরা বলে থাকেন তা হলো- পিঠে ব্যথা, মাথাব্যথা, মেরুদণ্ড সমস্যা, ওজনে ভারসাম্য নষ্ট, ঘুমের ব্যাঘাত, চোখে ব্যথা বা কম দেখা ইত্যাদি। ইন্টারনেটের ব্যাপক জনপ্রিয়তার কারণে আজ বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ কম্পিউটার নিয়ে বেশির ভাগ সময় কাটায় এবং সেই সময়টুকুর জন্য নিজেরাই মূল্য পরিশোধ করে। কম্পিউটার ও ইন্টারনেট আজ আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। সংবাদ, তথ্য, যোগাযোগ, কেনাকাটা, ব্যবসা-বাণিজ্য, সোশ্যাল নেটওয়ার্ক, বিনোদন ইত্যাদি অনেক কিছুর জন্য মানুষ এখন ইন্টারনেটের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু কেউ যদি ইন্টারনেটের ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। ইন্টারনেটের প্রতি আসক্তি আজকের যুগের একটি অত্যন্ত জটিল সমস্যা ও অভিশাপ। অন্যান্য নেশার মতোই এটি একটি সর্বনাশা নেশা, যা ব্যক্তির সামাজিক, পারিবারিক ও পেশাগত জীবনকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করে। ইন্টারনেট ছাড়া থাকতে না পারা, বাদ দিতে গেলে দুশ্চিন্তা, বিষণ্ণতা ও অন্যান্য সমস্যা আসা। মাত্রাতিরিক্ত ইন্টারনেট ব্যবহারের মাধ্যমে স্বাভাবিক, পারিবারিক, সামাজিক ও পেশাগত জীবনকে ব্যাহত করা। এতে করে শারীরিক প্রতিক্রিয়ায় দেখা যায় ঘাড় ও কোমরব্যথা, মাথাব্যথা এবং চোখে অস্বাভাবিক চাপজনিত সমস্যা হচ্ছে। মানসিক প্রতিক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে- অনিদ্রা, অতিরিক্ত টেনশন বোধ, বিষণ্ণতা, যৌন সমস্যা, অপরাধপ্রবণতা, মনোযোগ কমে যাওয়া। সন্তানকে শান্ত রাখতে মুঠোফোনসহ নানা যন্ত্রপাতি তাদের হাতে তুলে দেন ব্যস্ত বাবা-মায়েরা। এ থেকে সন্তানের মধ্যে প্রযুক্তি উপভোগ করার অভ্যাস জন্মায়। অনেক সময় নিরাপত্তাহীনতার অজুহাতে সন্তানকে সব সময় ঘরে বন্দি রাখতে চান। নিজের চোখের সামনে দেখতে চান। সে ক্ষেত্রে তাদের হাতে মুঠোফোন-ল্যাপটপ তুলে দিয়ে আপাত স্বস্তি অনুভব করেন, যা শিশু-কিশোরদের যন্ত্রের প্রতি আসক্ত করে ফেলে। বাবা-মা নিজেরাও সারা দিন ইন্টারনেট নির্ভর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মগ্ন থাকেন। সন্তানরা এতে উৎসাহিত হয়। কখনো কখনো কিছু বিজ্ঞাপনের ভাষা ও উপাদান শিশুদের প্রযুক্তি বা গেমের প্রতি আসক্ত করে তুলতে পারে। অতিরিক্ত ইন্টারনেট আসক্তি মানসিক রোগের সৃষ্টি করে। আক্রান্ত শিশুরা খিটখিটে মেজাজের হয়, মিথ্যে কথা বলে এবং সবার সঙ্গে অহেতুক তর্কে লিপ্ত হয়। এ ছাড়া স্কুলের রেজাল্ট দিন দিন খারাপ হতে থাকে। শিশুকে আত্মকেন্দ্রিক, অসহনশীল ও অসামাজিক করে। শিশুর বুদ্ধির বিকাশে বাধা দিয়ে সৃষ্টিশীলতা নষ্ট করে দেয়, শিশুর শারীরিক খেলাধুলার সময় কেড়ে নেয়। এতে শিশুরা শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে, শিশু শারীরিক পরিশ্রম কমিয়ে দেয়। শিশুদের ফেসবুকের আসক্তি কমাতে অভিভাবকরা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। সন্তানকে অবশ্যই সময় দিতে হবে। সন্তান কখন কি করছে, কোথায় যাচ্ছে, কার সঙ্গে চলছে সে বিষয়ে খোঁজ নিতে হবে। সপ্তাহে অন্তত একদিন তাকে বাইরে বেড়াতে নিয়ে যান। শিশুকে গুণগত সময় দিন। মা-বাবা নিজেরাও যদি প্রযুক্তির প্রতি আসক্ত থাকেন, তবে সবার আগে নিজের আসক্তি দূর করুন। ফেসবুকের আসক্তি কমাতে স্কুলে স্কুলে সচেতনতা-প্রচার শুরু করলে এখনকার তরুণ প্রজন্মকে ওই কুপ্রভাব থেকে রক্ষা করা যাবে। স্কুলগুলোতে কর্মশালার আয়োজন করা যেতে পারে। কর্মশালায় ইন্টারনেট ও সোশ্যাল মিডিয়ার কুফল নিয়ে আলোচনা, পাঠচক্র করা যেতে পারে। ইন্টারনেটের কুফল থেকে সন্তানদের বাঁচাতে বিকল্প হিসেবে খেলাধুলা বা পরিবারের সদস্যদের সময় দেয়া একান্ত প্রয়োজন। প্রতিদিন বিকেলে পড়া শেষে তাকে খেলাধুলার সময় দিতে হবে। শিশুদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলুন। সব কিছু খোলামেলা আলোচনা করুন। তাহলে অনেক সমস্যাই সমাধান হয়ে যাবে। শিশুদের জন্মদিন কিংবা বিশেষ দিনে শিশুদের বই উপহার দিন। তাকে আস্তে আস্তে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। বই পড়লে একে তো জ্ঞান বাড়বে অন্যদিকে ফেসবুকের আসক্তি কমবে। সম্ভব হলে শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন মোবাইল। শিশুদের হাতে মোবাইল না দেয়া গেলেই ভালো। ১৮ বছরের নিচের সন্তানের ইন্টারনেটের যাবতীয় পাসওয়ার্ড জানুন। তবে লুকিয়ে নয়, তাকে জানিয়েই তার নিরাপত্তার জন্য পাসওয়ার্ডটি আপনার জানা দরকার; এটি বুঝিয়ে বলুন। বাসার ডেস্কটপ কম্পিউটারটি প্রকাশ্য স্থানে (কমন এরিয়া) রাখুন। শিশু যাতে আপনার সামনে মুঠোফোন, ট্যাব, ল্যাপটপ ইত্যাদি ব্যবহার করে, সেদিকে গুরুত্ব দিন। নিরাপত্তামূলক অনেক সফটওয়্যার আছে। সেগুলো ব্যবহার করুন, যাতে আপনার বাসার সংযোগ থেকে কোনো নিষিদ্ধ ওয়েবসাইটে প্রবেশ করা না যায়। #ইন্টারনেট_আসক্তির_আরো_প্রতিকারঃইন্টারনেট আসক্তি থেকে রেহাই দিতে তরুণদের সমাজকল্যাণমূলক কার্যক্রমে অংশগ্রহণে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। খেলাধুলা ও চিত্তবিনোদনের ব্যবস্থা করতে হবে। এছাড়া অভিভাবকরা সন্তানদের কাছে ইন্টারনেটের ভালো ও ক্ষতিকর দুটি দিক নিয়ে আলোচনা করতে পারেন। শুধু অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল দিয়ে নিজেদের দায়িত্ব শেষ না করে সন্তানদের সময় দিতে হবে। এতে তরুণ-তরুণীরা সচেতন হবে। সমাজ, পরিবার, ব্যক্তি তথা সবার সচেতনতাই পারে এ ধরনের সমস্যা থেকে আমাদের মুক্তি দিতে। তাছাড়া নিন্মোক্ত বিষয়গুলোও সাথে যুক্ত করতে হবে —– >>চিত্ত বিনোদনের অন্য উপায়গুলোর মাঝে নিজেকে পরিব্যাপ্ত করা। >>পরিবারের সাথে দায়িত্বশীল ব্যক্তি হিসেবে আরও বেশি সময় দেওয়া। >> নিজের প্রকৃত দুঃখ-কষ্ট-সমস্যাগুলোকে চিহ্নিত করা এবং তা দূর করার জন্য সচেষ্ট হওয়া। >> নিজের সমস্যাগুলো নিজের মাঝে গুটিয়ে না রেখে আত্মীয়স্বজন আর বন্ধুবান্ধবের সাথে আলোচনা করা। >> ইন্টারনেট প্রযুক্তিকে নিজের সহায়ক কাজেই একমাত্র ব্যবহার করা, নির্ভরতা যেন পারিবারিক বা সামাজিক গণ্ডিকে অতিক্রম না করে। >> ড্রাগ, অ্যালকোহল বা অন্য কোনো মানসিক সমস্যা থাকলে তার চিকিত্সা করা। >> বাস্তব জীবনে বেশি মানুষের সাথে ভালো সম্পর্ক গড়ে তোলা। তখন ইন্টারনেটের সাথে সম্পর্ক কম থাকলেও চলবে। >> অসামাজিক, লাজুক বা ঘরকুনো স্বভাব থাকলে তা পরিবর্তন করা। >> প্রয়োজনে মানসিক বিশেষজ্ঞের দ্বারস্থ হয়ে চিকিত্সা নেওয়া। >> ধাপে ধাপে ইন্টারনেট ব্যবহারের সময় ও গুরুত্ব কমিয়ে আনা।#ইন্টারনেট_আসক্তি_দূর_করার_৭টি_বাস্তব_কার্যকর_উপায়—আপনি এককভাবে বা পরিবারের সহযোগিতা নিয়ে ইন্টারনেট আসক্তি দূর করার চেষ্টা করতে পারেন। তবে যেভাবেই চেষ্টা করুন না কেন, আসক্তি ভয়ানক পর্যায়ে পৌঁছানোর আগেই চেষ্টা করুন, এবং সুনির্দিষ্ট সেইসব বিষয়ে চিকিৎসা নিন যেসব বিষয়ে আপনার সত্যি চিকিৎসা প্রয়োজন। যদি আপনি নিজের ব্যাপারে সন্দিহান থাকেন এবং সমস্যা সমাধানে নিজেকে ব্যর্থ মনে করেন, তবে অবশ্যই অভিজ্ঞদের পরামর্শ নিন।১. অনলাইন কর্মীরা একটি ভার্চুয়াল সাহায্যকারী খুঁজে নিন অনলাইন সাহায্যকারী ইন্টারনেটে আপনার ব্যয় করা সময় কমিয়ে আনতে সাহায্য করবে। এতে আপনার স্ক্রিন টাইম কমবে, যা আপনার আসক্তির মাত্রা কমিয়ে আনবে। এই পদ্ধতি কোনো সমাধান দিবে না সত্য, কিন্তু অনলাইন কর্মীদের কর্মহীন অবস্থায় ইন্টারনেট আসক্তির মাত্রা কমিয়ে আনতে সাহায্য করবে। অনলাইন সাহায্যকারী আপনার ইন্টারনেট ব্যবহারকে একটা বাস্তবসম্মত কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসবে, যা আপনার ইন্টারনেট আসক্তির মাত্রা উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে দিবে।২. ইন্টারনেট ব্যবহারের মাত্রা নির্ধারণ করুন ইন্টারনেট আসক্তি দূর করতে কম্পিউটার এবং ইন্টারনেট ব্যবহারের সময়সীমা নির্ধারণ করুন। দৈনন্দিন ইন্টারনেট ব্যবহারের মাত্রা নির্ভর করে আপনার নির্ধারিত সীমানা মান্য করার উপর।নির্ধারণ করুন এখন থেকে আপনি দিনে কতক্ষণ ইন্টারনেট ব্যবহার করবেন, কেন ব্যবহার করবেন, কী কী কাজ ব্যবহার করবেন? এসব কিছু আগে নির্ধারণ করুন। তারপর কাজে নেমে পড়ুন। পরিকল্পনা করার পর কোনোক্রমেই পরিকল্পিত সীমারেখা অতিক্রম করবেন না। তাহলে খুব দ্রুতই আপনার ইন্টারনেট আসক্তির মাত্রা কমে আসবে।৩. পরিবার এবং বন্ধুদের কাছে টেনে নিন ইন্টারনেট আসক্তি নিশ্চয়ই আপনাকে পরিবার এবং বন্ধু থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছে? সুতরাং ইন্টারনেট আসক্তি কমাতে ইন্টারনেটকে দূরে ঠেলে পরিবার ও বন্ধুকে কাছে টেনে নিন। আপনার ইন্টারনেট ব্যবহারের ব্যাপারে খোঁজখবর নিলে অভিভাবকদের সঠিক তথ্য দিন। নিজের ইন্টারনেট ব্যবহারের সময়সীমা নিয়ে পরিবারের কাছে দায়বদ্ধ থাকুন। দৈনন্দিন ইন্টারনেট ব্যবহারের নির্ধারিত সময়সীমা পার করার পর সম্পূর্ণভাবে পরিবার এবং বন্ধুবান্ধবকে সময় দিন। এরপর থেকে আর কখনোই ইন্টারনেট ব্যবহার নিয়ে পরিবারের সাথে মিথ্যাচার করবেন না। মনে রাখবেন এই মিথ্যাচার নিজের সাথে প্রবঞ্চনার শামিল।৪. অন্যদের কম্পিউটার ব্যবহারের অনুমতি দিন আপনি নিশ্চয়ই এতদিন নিজের কম্পিউটার কাউকে ব্যবহার করতে দেননি! কম্পিউটারের সকল পাসওয়ার্ড গোপন রেখেছেন। এবার নিজের ইন্টারনেট আসক্তি দূর করতে অন্যদের কম্পিউটার ব্যবহারের সুযোগ দিন, এমনকি কম্পিউটারের সকল পাসওয়ার্ড তাদের দিন।যখনই আপনি পরিবার বা আপনার সাথে থাকা মানুষদের আপনাকে সহযোগিতা করতে আগ্রহী করে তুলতে পারবেন তখনই আপনার কম্পিউটারের সকল পাসওয়ার্ড তাঁদের হাতে দিয়ে দিন। এবং এমনকি তাদের পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করার অনুমতি দিন। আপনার ইন্টারনেট মোডেম বা রাউটার, সবকিছুর নিয়ন্ত্রণ পরিবারের অন্যদের হাতে দিয়ে দিন। একমাত্র আত্মবিশ্বাসীদের জন্যই আমি এই কাজগুলো করার পরামর্শ দিতে চাই। আত্ম উৎশৃংখল অবস্থাকে নিয়ন্ত্রণে আনতে এটি অত্যন্ত কার্যকরী উপায়। একবার অন্যের হাতে কম্পিউটারের নিয়ন্ত্রণ দিলে আপনি চাইলেই ইন্টারনেটে প্রবেশ করতে পারবেন না, যা ধীরে ধীরে আপনার ইন্টারনেট আসক্তির মাত্রা কমিয়ে আনবে।৫. আপনার রুটিন পরিবর্তন করুন ইন্টারনেট আসক্তি কমিয়ে আনার আরেকটি মোক্ষম উপায় হলো দৈনন্দিন রুটিন পরিবর্তন করা। আপনার যদি প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে ইমেইল চেক করার অভ্যাস থাকে, বা কর্মক্ষেত্র থেকে ফিরেই ইন্টারনেটে বসার জন্য ব্যাকুল হয়ে থাকেন, তবে শুরুতে এটি পরিবর্তন করার চেষ্টা করুন। ইমেইল চেক করে নয়, আপনার প্রতিটি সকাল শুরু হোক অন্য কিছু দিয়ে। দিনের শুরুতেই কম্পিউটারের কাছে না গেলে এটি ব্যবহারের আসক্তি থেকে কিছুটা হলেও মুক্তি পাওয়া সম্ভব। প্রতিদিন সকালের প্রয়োজনীয় কাজ করুন। নিজের পরিবারকে পর্যাপ্ত সময় দিন। এরপর ইন্টারনেট ব্যবহারের কিছুটা সময় বের করুন। এক কথয় ইন্টারনেটের চেয়ে বাস্তব জীবনের মানুষগুলোকে বেশি গুরুত্ব দিন।৬. বিনোদনমূলক উদ্দেশ্যে কম্পিউটার ব্যবহার বন্ধ করুন যেহেতু আপনি ইন্টারনেট আসক্ত তাই এই আসক্তি দূর করতে আপনাকে বিশেষ কিছু করতে হবে। ব্যবসায়িক বা পেশাদারী কাজের বাইরে বিনোদনমূলক কোনো কাজে কম্পিউটার ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন। কম্পিউটার ব্যবহার করে বিনোদিত হওয়ার ছেলেমানুষী আবেগ পরিহার করার চেষ্টা করুন। অন্তত কয়েক মাসের জন্য কম্পিউটার গেম, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার থেকে দূরে থাকুন।ইন্টারনেটের অলিগলিতে খোঁজ করা বিনোদন বাস্তব জীবনে খুঁজে নিন। সম্পূর্ণভাবে ইন্টারনেট জগত থেকে বের হয়ে রক্ত মাংসের মানুষের সাথে বাস্তব জীবনের আনন্দ উপভোগ করুন।৭. অগ্রগতি পরিমাপ করুন ইন্টারনেট আসক্তি দূর করতে প্রচেষ্টা শুরু করার পর থেকে ক্ষণে ক্ষণে নিজেকে স্মরণ করিয়ে দিন আপনি ইন্টারনেট আসক্তি দূর করতে চেষ্টা করছেন। ধাপে ধাপে নিজের অনলাইনে ব্যবহৃত সময়ের চেয়ে বাস্তব জীবনে ব্যবহৃত সময়ের পরিমাণ বাড়িয়ে তুলুন। তুলনামূলকভাবে অনলাইনে পূর্বের তুলনায় কতটা সময় দিচ্ছেন তা পর্যালোচনা করুন। চেষ্টা করুন সপ্তাহে সর্বোচ্চ ৮ থেকে ১০ ঘন্টা ইন্টারনেট ব্যবহার করতে এবং পর্যায়ক্রমে আরো কমিয়ে আনতে।আপাতদৃষ্টিতে বিচার করলে, এই পরামর্শগুলো পড়ে আপনার মনে হতে পারে আমি আপনাকে কর্মহীন হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছি। না, মোটেও তা নয়। আপনি যদি ইন্টারনেট আসক্তি দূর করতে এখনই প্রচেষ্টা শুরু না করেন তবে অদূর ভবিষ্যতে জীবনে অনেক বড় বিপর্যয় নেমে আসবে, যা আপনার শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যহানি ঘটাবে, ব্যক্তি ও পারিবারিক জীবনে অসুখী করে তুলবে। সুতরাং আসক্তি দূর করতেই হবে। আর এই কাজে শুরুতে আপনাকে একটু বেশি ত্যাগ স্বীকার করতেই হবে।ধন্যবাদ । সকলেই #ইনশাআল্লাহ ভাল থাকুন ।রচনা,সংগ্রহ ও সম্পাদনায়–#মরুচারী_মুসাফির
বিংশ শতাব্দীতে বিশ্ব জুড়ে ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে নিজ দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য যে কয়জন নেতা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বীরদর্পে লড়াই করে গেছেন, তাদের মধ্যে সেনুসী আন্দোলনের নেতা ওমর আল-মুখতার অন্যতম। অকুতোভয় এই বীর দীর্ঘ ২০ বছর ধরে ইতালিয়ান শাসনের বিরুদ্ধে লিবিয়ান মুজাহিদদের লড়াইয়ে নেতৃত্ব দিয়ে গেছেন।
সমসাময়িক অন্যান্য নেতার মতো ইতালিয়ানদের প্রস্তাব করা সুযোগ সুবিধার কাছে নিজেকে বিকিয়ে না দিয়ে, ৭৩ বছর বয়স পর্যন্ত লড়াই করে অবশেষে তিনি ইতালিয়ানদের হাতে ধরা পড়েন। প্রহসনের এক বিচারের মাধ্যমে ইতালির ফ্যাসিস্ট সরকার ১৯৩১ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর তাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যদণ্ড দেয়।
ওমরের বাল্যকাল এবং তার উপর সেনুসি আন্দোলনের প্রভাব
ওমর আল-মুখতারের জন্ম ১৮৫৮ সালে (মতান্তরে ১৮৬২ সালে), লিবিয়ার পূর্বাঞ্চলের তবরুক শহরের নিকটবর্তী জাওইয়াত জাঞ্জুর নামক গ্রামে, মানফি নামক এক আরব বেদুইন গোত্রে। ওমরের বয়স যখন ১৬ বছর, তখন তারা বাবা হজ করতে গিয়ে ইন্তেকাল করেন। বাবার ইচ্ছে অনুযায়ী, এতিম ওমরের দায়িত্ব গ্রহণ করেন স্থানীয় সেনুসি শেখ শেরিফ আল-গারিয়ানি।
সে সময় লিবিয়াতে সেনুসি আন্দোলনের বেশ প্রভাব ছিল। এই আন্দোলনের যাত্রা শুরু হয় মক্কায়, ১৮৩৭ সালে। এর প্রবর্তক ছিলেন দ্য গ্র্যান্ড সেনুসি, মোহাম্মদ বিন আলি আস্-সেনুসি, যিনি ছিলেন পরবর্তীতে লিবিয়ার রাজা মোহাম্মদ ইদ্রিস আল-সেনুসির দাদা। দাবি করা হয়, তারা ছিলেন হযরত ফাতিমা (রা) এর দিক থেকে রাসূল (সা) এর বংশধর। সেনুসি আন্দোলন মূলত সুফি এবং সালাফির মাঝামাঝি দর্শনের একটি ধর্মীয় এবং রাজনৈতিক সংস্কারমূলক আন্দোলন। মক্কায় যাত্রা শুরু করলেও সেনুসি আন্দোলন সবচেয়ে বেশি প্রভাব বিস্তার করে লিবিয়া, সুদান, মরক্কো সহ উত্তর আফ্রিকার দেশগুলোতে।
লিবিয়াতে সেনুসি দর্শনের প্রতিষ্ঠাতাদের অন্যতম ছিলেন শেরিফ আল-গারিয়ানির চাচা হুসেন আল-গারিয়ানি। তিনি সর্বপ্রথম ১৮৪৪ সালে আল-বেইদাতে গ্র্যান্ড সেনুসির ছেলে মোহাম্মদ আল-মাহদির সাথে মিলে সেনুসি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। ছোটবেলা থেকেই ওমর আল-মুখতার সেনুসিদের প্রতিষ্ঠিত মসজিদ এবং মাদ্রাসায় শিক্ষা গ্রহণের মধ্য দিয়ে বেড়ে ওঠেন। বাবার মৃত্যুর পর শেরিফ আল-গারিয়ানির তত্ত্বাবধানে তিনি আল-জাগবুবের সেনুসি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৮ বছর ধর্মীয় বিষয়ে পড়াশোনা করেন। এ সময় তিনি পবিত্র কুরআন শরিফ মুখস্ত করেন। শিক্ষা জীবন শেষ করার পর, তাকে স্থানীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কুরআনের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
ওমর আল-মুখতার অত্যন্ত ধার্মিক ছিলেন। তিনি পাঁচ ওয়াক্ত নামায জামাতের সাথে আদায় করতেন। রাতে তিনি তিন-চার ঘণ্টার বেশি ঘুমুতেন না। রাত গভীর থাকতেই তিনি ঘুম থেকে উঠে তাহাজ্জুদের নামায আদায় করতেন। প্রতি সপ্তাহে তিনি একবার কুরআন শরিফ খতম করতেন। তার ধর্মজ্ঞান এবং শিক্ষক হিসেবে সুনামে মুগ্ধ হয়ে সেনুসি কর্তৃপক্ষ তাকে কুরআনের শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব দিয়ে সুদানে প্রেরণ করে।
ফরাসীদের বিরুদ্ধে চাদের যুদ্ধে অংশগ্রহণ
১৮৯৪ সালে ওমর আল-মুখতার সুদানের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। এ সময় আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে ইউরোপীয় পরাশক্তিগুলোর আগ্রাসন চলছিল। ফরাসি ঔপনিবেশিক শক্তি যখন চাদ দখল করে আরো উত্তরে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করতে থাকে, তখন সেনুসিরা তাদের বিরুদ্ধে জিহাদ শুরু করে। ১৮৯৯ সালে ওমর আল-মুখতার তৎকালীন সেনুসিদের প্রধান, মোহাম্মদ আল-মাহদির নির্দেশে সেনুসি যোদ্ধাদের সাথে যোগ দিয়ে চাদে যান। ১৮৯৯ সাল থেকে ১৯০০ সালে চাদের নেতা রাবিয়া আজ-জুবায়েরের পতনের পূর্ব পর্যন্ত এই দু’বছর ওমর চাদে ফরাসীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। ওমর এবং তার সেনুসি সহযোদ্ধারা পরবর্তীতে অল্প কিছুদিন মিসরে ব্রিটিশদের আগ্রাসনের বিরুদ্ধেও যুদ্ধ করেন।
১৯০২ সালে মোহাম্মদ আল-মাহদি মৃত্যুবরণ করেন। তার ছেলে ইদ্রিসের বয়স তখনও কম থাকায় সেনুসীদের প্রধানের দায়িত্ব নেন তার ভাই আহমেদ শেরিফ আস্-সেনুসি। তিনি ওমরকে আবারও কুরআনের শিক্ষক হিসেবে পাহাড়ি এলাকা জাবাল আল-আখদার তথা দ্য গ্রিন মাউন্টেইন্সের জাওইয়াত আল-কুসুরে নিযুক্ত করেন। এ সময় শিক্ষক এবং ধর্ম প্রচারক হিসেবে ওমরের সুনাম চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়ে। তার অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি অটোমান সুলতানের কাছ থেকেও প্রশংসাপত্র অর্জন করেন।
ইতালো-তার্কিশ যুদ্ধে অংশগ্রহণ
১৯১১ সালে ইতালিয়ানরা লিবিয়া আক্রমণ করে। সেসময় লিবিয়া ছিল অটোমান সাম্রাজ্যের অধীনে তিনটি প্রদেশে বিভক্ত- পশ্চিমের ত্রিপলীতানিয়া, পূর্বের সাইরেনাইকা বা বারকা এবং দক্ষিণের ফেজ্জান। অটোমান সাম্রাজ্যের শক্তি তখন ক্রমেই হ্রাস পাচ্ছিল। কাজেই ইতালিয়ানরা যখন লিবিয়ার উপকূলে এসে অটোমান সাম্রাজ্যের কাছে লিবিয়াকে হস্তান্তর করার নির্দেশ দেয়, তখন তারা যুদ্ধ না করে ইতালিয়ানদের সাথে সমঝোতায় গিয়ে লিবিয়ার আংশিক নিয়ন্ত্রণ ইতালির হাতে তুলে দিতে চেয়েছিল।
কিন্তু এতেও সন্তুষ্ট না হয়ে ইতালিয়ানরা ত্রিপলী এবং বেনগাজীতে আক্রমণ শুরু করে। টানা তিন দিন ধরে তারা ত্রিপলী এবং বেনগাজীতে জাহাজ থেকে বোমা বর্ষণ করে। ফলে বাধ্য হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলে অটোমান সৈন্যরা। আর তাদের সাথে যোগ দেয় স্থানীয় লিবিয়ানরা, বিশেষ করে চাদ যুদ্ধ অভিজ্ঞতা অর্জনকারী সেনুসি সৈন্যরা।
ইতালিয়ানদের আক্রমণের সময় ওমর আল-মুখতার ছিলেন জালো উদ্যানে। সংবাদ পেয়েই সাথে সাথে তিনি জাওইয়াত আল-কুসুরে যান এবং সেখানকার স্থানীয় আল-আবীদ গোত্রের সক্ষম সকল পুরুষকে দখলদার ইতালিয়ান বাহিনীর বিরুদ্ধে জিহাদে উদ্বুদ্ধ করেন। তাদেরকে সাথে নিয়ে ওমর বীরদর্পে ইতালিয়ানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেন এবং পূর্বাঞ্চলীয় সাইরেনাইকার অধিকাংশ এলাকাকে ইতালির কাছে পতনের হাত থেকে রক্ষা করেন। ইতালিয়ানদের সাথে স্থানীয় লিবিয়ান এবং অটোমান তুর্কি সেনাদের এ যুদ্ধ ইতিহাসে ইতালো-তার্কিশ যুদ্ধ নামে পরিচিত।
এক বছর ধরে চলমান এ যুদ্ধে ইতালিয়ানদের বিশাল বাহিনী তুলনামূলকভাবে অনেক কম স্থানীয় বেদুইন আরব এবং তুর্কি যোদ্ধাদের অল্পস্বল্প অস্ত্রশস্ত্রের কাছে বারবার নাস্তানাবুদ হতে থাকে। এক বছর পরেও সমুদ্র উপকূলের অল্প কিছু স্থান ছাড়া লিবিয়ার বিশাল এলাকায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে ব্যর্থ হওয়ায় ইতালিয়ানরা অটোমান সাম্রাজ্যের সাথে একাধিক চুক্তি করে। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, ইতালিয়ানরা লিবিয়ার বাইরের কিছু এলাকা এবং দ্বীপের দখল ছেড়ে দেয়, বিনিময়ে অটোমান সৈন্যরা লিবিয়া ছেড়ে চলে যায়।
সেনুসিদের প্রধান আহমেদ শেরিফ আস্-সেনুসি এবং তার ভ্রাতুস্পুত্র মোহাম্মদ ইদ্রিস প্রথম দিকে ইতালির বিরুদ্ধে বিভিন্ন যুদ্ধে নেতৃত্ব দিলেও, অটোমানরা চলে যাওয়ার পর তারাও লড়াইয়ে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। ১৯১৩ সালে আহমেদ শেরিফ অবসর নিলে মোহাম্মদ ইদ্রিস সেনুসিদের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন। কিন্তু ক্ষমতায় এসে তিনি ইতালিয়ানদের সাথে যুদ্ধের পরিবর্তে বিভিন্ন ধরনের সমঝোতা এবং ব্রিটিশদের সাথে বন্ধুত্ব গড়ে তোলেন।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় ইতালিয়ানরা অন্যান্য এলাকায় যুদ্ধ এবং অর্থনৈতিক চাপ সামাল দিতে গিয়ে লিবিয়া থেকে তাদের অধিকাংশ সৈন্য সরিয়ে নেয়। এ সুযোগে ইদ্রিস তাদের সাথে একাধিক সমঝোতা চুক্তি করে পূর্বাঞ্চলের অধিকাংশ এলাকার উপর সেনুসিদের কর্তৃত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন। ১৯২০ সালে ইতালিয়ানরা তাকে সাইরেনাইকার আমির হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
মুসোলিনির ফ্যাসিস্ট সরকারের রিকনকুইস্তার বিরুদ্ধে যুদ্ধে নেতৃত্ব
পরিস্থিতি পাল্টাতে শুরু করে ১৯২২ সালে, যখন ইতালিতে মুসোলিনির ফ্যাসিস্ট সরকার ক্ষমতায় আসে। তারা ক্ষমতায় এসেই অটোমানদের সাথে এবং ইদ্রিস আল-সেনুসির সাথে করা বিভিন্ন সমোঝতা চুক্তি বাতিল করে। ১৯২৩ সালে মুসোলিনির সরকার ‘রিকনকুইস্তা’ বা পুনর্বিজয় নামে একটি প্রকল্প শুরু করে, যার উদ্দেশ্য ছিল যেকোনো উপায়ে প্রাচীন রোমান সাম্রাজ্যের অধীনস্থ ত্রিপলী এবং বেনগাজীর কলোনিগুলোকে পুনরায় ইতালির অধীনস্থ করা। জেনারেল পিয়েত্রো বাদুলিওর নেতৃত্বে ফ্যাসিস্ট ইতালীয় বাহিনী নতুন করে সম্পূর্ণ লিবিয়া দখলের জন্য অভিযান শুরু করে।
প্রতিরোধ সৃষ্টি না করে আমির ইদ্রিস এ সময় মিসরে চলে যান। ওমর আল-মুখতারের ছোটবেলার পৃষ্ঠপোষক, আরেক গুরুত্বপূর্ণ সেনুসি নেতা শেরিফ আল-গারিয়ানিও ইদ্রিসের পদাঙ্ক অনুসরণ করেন। তিনি এই সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে, অল্প সংখ্যক যোদ্ধা নিয়ে বিশাল ইতালিয়ান বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে জয় লাভ করা যাবে না। বরং এতে বৃহত্তর জনগোষ্ঠী আরও বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হবে। ফলে তিনিও ইতালিয়ানদের আধিপত্য মেনে নিয়ে তাদের সাথে সমঝোতার মাধ্যমে যতটুকু পাওয়া যায়, তা নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে আগ্রহী হন। এ সময় এসব বিষয়কে কেন্দ্র করে ওমরের সাথে শেরিফ এবং ইদ্রিসের দূরত্ব তৈরি হয়।
ইদ্রিস আল-সেনুসি এবং শেরিফ আল-গারিয়ানির অনুপস্থিতিতে ওমর আল-মুখতার ঔপনিবেশিক ইতালির বিরুদ্ধে সেনুসি আন্দোলনের প্রধান নেতা হিসেবে আবির্ভূত হন। চাদে, মিসরে এবং ইতালির বিরুদ্ধে প্রথম যুদ্ধের অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ হয়ে তার সামরিক জ্ঞান বেশ ভালো ছিল। তাছাড়া শিক্ষক হিসেবে পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াত করার কারণে, এ অঞ্চলের ভৌগলিক গঠন সম্পর্কেও তিনি জ্ঞাত ছিলেন। তার নেতৃত্বে মুজাহিদরা নতুন করে সংগঠিত হতে থাকে এবং একের পর এক ইতালিয়ানদের ঘাঁটি আক্রমণ করতে থাকে। তাদের রাত্রিকালীন গেরিলা আক্রমণগুলোর কারণে তারা লিবিয়ানদের কাছে ‘নিশাচর সরকার’ নামে পরিচিত হয়ে ওঠেন।
১৯২৩ সালে ওমর আল-মুখতার মিসরে যান তার যোদ্ধাদের জন্য খাবার এবং অস্ত্রশস্ত্র আনার জন্য। সেখানে তিনি ইদ্রিস আল-সেনুসির সাথে সাক্ষাৎ করেন। কিন্তু তার কাছ থেকে তেমন কোনো সাহায্য না পেয়ে তিনি লিবিয়াতে ফিরে আসেন। সেখানে অবস্থানকালে এক ইতালিয়ান কর্মকর্তা তাকে ইতালিয়ানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ বন্ধ করার বিনিময়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন এবং লিবিয়াতে ফিরে এসে যুদ্ধের পূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি তুরস্কে অবস্থানরত অবসরপ্রাপ্ত সেনুসি নেতা আহমেদ আল-শেরিফ আল-সেনুসিকে একটি চিঠি পাঠিয়ে তাদের নীরবতার প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং জানান যে, তাদেরকে নেতৃত্বশূন্য করে রেখে গেলেও, তারা তাদের যুদ্ধ ঠিকই চালিয়ে যাবেন।
ওমরের মুজাহিদ বাহিনীকে দমন করতে না পেরে ইতালিয়ান বাহিনী স্থানীয় লোকালয়ের উপর আক্রমণ শুরু করে। স্থানীয় জনগণ যেন ওমরকে সাহায্য না করতে পারে, সেজন্য ইতালিয়ানরা জনগণ এবং তাদের গবাদিপশুর উপর বিমান থেকে বোমা বর্ষণ করত, লোকালয়ে বিষাক্ত গ্যাস ছিটিয়ে দিত, পানির কূপগুলোতে বিষ ঢেলে দিত, বন্দীদেরকে নির্যাতন করার পর প্লেন থেকে ছুঁড়ে ফেলে দিত এবং রাজবন্দীদেরকে জনসমক্ষে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করত।
ইতালিয়ানরা ধীরে ধীরে জাগবুব, জালো, ঔজেলা এবং ফেজ্জানের সবগুলো মরুদ্যান দখল করে নিলে ওমর আল-মুখতার জাবাল আল-আখদার তথা গ্রিন মাউন্টেইন্স এলাকায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। তখন তিনি দারনায় ইতালিয়ান বাহিনীর উপর আক্রমণ করেন। দারনায় দুদিনের প্রচণ্ড যুদ্ধে ওমর আল-মুখতারের অসাধারণ রণকৌশলের কাছে ইতালিয়ানরা শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়। তারা তাদের কামান, অস্ত্রশত্র এবং গাড়ি-ঘোড়া ফেলে পালিয়ে যায়। দখলকৃত অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে ওমরের বাহিনী নব উদ্যমে ইতালিয়ানদের বিভিন্ন ক্যাম্পে গেরিলা আক্রমণ চালাতে শুরু করে। ধূসর মরুভূমির দিগন্ত ভেদ করে হঠাৎ করে তারা আবির্ভূত হতো, তাদের গেরিলা আক্রমণে হতভম্ভ ইতালিয়ানরা নিজেদেরকে গুছিয়ে ওঠার আগেই আবার তারা নিরুদ্দেশ হয়ে যেতো।
১৯২৪-২৫ সালে কয়েকটি যুদ্ধে ওমর আল-মুখতারের বাহিনী ইতালিয়ানদের হাতে পরাজিত হলেও, শীঘ্রই তিনি তার রণকৌশলে পরিবর্তন আনেন। ১৯২৭-২৮ সালের দিকে ওমর সেনুসি যোদ্ধাদেরকে সম্পূর্ণরূপে পুনর্গঠিত করেন। তিনি বিভিন্ন এলাকায় পৃথক পৃথকভাবে যুদ্ধরত দলগুলোর মধ্যে সমন্বয় স্থাপন করেন। তারা অকস্মাৎ ইতালিয়ান বাহিনীর বিভিন্ন চেকপয়েন্টে, তাদের রসদ বহনকারী গাড়ির বহরে এবং তাদের স্থাপিত টেলিগ্রাফ লাইনে আক্রমণ করেই আবার আত্মগোপন করতেন। সে সময়ের ইতালিয়ান জেনারেল তেরুজ্জি ওমরকে ব্যতিক্রমধর্মী, অধ্যাবসায়ী এবং কঠোর ইচ্ছাশক্তির অধিকারী বলে বর্ণনা করেন।
ওমর আল-মুখতারকে গ্রেপ্তার করে লিবিয়ার বিদ্রোহ চূড়ান্তভাবে দমন করার জন্য ইতালির ফ্যাসিস্ট নেতা বেনিতো মুসোলিনি ১৯২৮ সালে রুডলফ গ্র্যাজিয়ানিকে দায়িত্ব দিয়ে লিবিয়াতে পাঠান। গ্র্যাজিয়ানি লিবিয়াতে আসেন এই শর্তে যে, তিনি লিবিয়া শাসনের ব্যাপারে কোনো জাতীয় বা আন্তর্জাতিক নিয়ম-কানুন মেনে চলবেন না। বিদ্রোহ দমনের জন্য যা করা প্রয়োজন, তা-ই করবেন।
১৯২৯ সালে শেরিফ আল-গারিয়ানির মধ্যস্থতায় ইতালি কর্তৃক নিযুক্ত লিবিয়ার গভর্নর পিয়েত্রো বাদুলিও ওমর আল-মুখতারের সাথে একটি বৈঠকে বসেন। প্রথমে তিনি তাকে প্রস্তাব দেন যে, যুদ্ধ বন্ধ করলে তাকে সরকারি উচ্চপদে দায়িত্ব দেওয়া হবে এবং বিপুল পরিমাণ অর্থ-সম্পদ দেওয়া হবে। কিন্তু ওমর রাজি না হওয়ায় তিনি ওমরের সাথে লিবিয়ানদের অনুকূলে যায় এমন কিছু শর্তাবলি সহ শান্তিুচুক্তি স্থাপন করেন। কিন্তু পরবর্তীতে ইতালিয়ানরা এই চুক্তিনামার ধারাগুলো পরিবর্তন করে ফেলে এবং প্রচার করে যে, ওমর আল-মুখতার লিবিয়ার পরিপূর্ণ নিয়ন্ত্রণ তাদের কাছে হস্তান্তর করেছে। এ সংবাদ শোনার পর ওমর সমঝোতা চুক্তি বাতিল করেন এবং পুনরায় যুদ্ধের ময়দানে ফিরে গিয়ে গ্র্যাজিয়ানির বাহিনীর বিরুদ্ধে চূড়ান্ত যুদ্ধের জন্য প্রস্ততি গ্রহণ করতে থাকেন।
ওমরের সেনুসি যোদ্ধারা যেন মিসর এবং সুদান থেকে কোনো অস্ত্র সাহায্য না পায়, সেজন্য গ্র্যাজিয়ানি লিবিয়ার সীমান্ত বরাবর প্রায় ৩০০ কিলোমিটার দীর্ঘ কাঁটাতারের বেড়া স্থাপন করেন। স্থানীয় জনগণের কাছ থেকে পাওয়া সাহায্য বন্ধ করার জন্য তিনি পুরো লিবিয়া জুড়ে বিশাল বিশাল কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্প স্থাপন করেন এবং জাবাল আল-আখদারের প্রায় সম্পূর্ণ জনগোষ্ঠীকে এসব ক্যাম্পে স্থানান্তর করেন। প্রচণ্ড অত্যাচারে এবং অনাহারে এসব কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্পের এক লাখ বন্দীর প্রায় অর্ধেকই মৃত্যুবরণ করে।
গ্রেপ্তার, বিচার এবং মৃত্যুদণ্ড
১৯৩১ সালের শুরু থেকেই গ্র্যাজিয়ানির নেওয়া কঠোর পদক্ষেপগুলো ওমরের নেতৃত্বাধীন মুজাহিদ বাহিনীর উপর প্রভাব ফেলতে শুরু করে। তাদের খাবার-দাবার এবং অস্ত্রশস্ত্রের সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। তাদের উপর বিমান হামলা অব্যাহত থাকে। স্থানীয় রাজাকারদের সাহায্যে ইতালিয়ানরা তাদের অবস্থানের সংবাদ পেয়ে তাদের উপর উপর্যুপরি আক্রমণ করতে থাকে।
ওমর আল-মুখতার প্রতি বছরই অন্তত একবার তার নিজের প্রতিরোধ কেন্দ্র থেকে বেরিয়ে অন্যান্য প্রতিরোধকেন্দ্রগুলোতে যেতেন তাদের অবস্থা পরিদর্শনের জন্য। তাদের সাথে প্রতিবারই শতাধিক যোদ্ধা থাকত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য। কিন্তু গ্র্যাজিয়ানির আক্রমণে পরিস্থিতি দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছিল। তাই ১৯৩১ সালের সেপ্টেম্বরে মাত্র ৪০ জন সঙ্গী নিয়ে যাত্রা শুরু করেন ওমর। ১১ সেপ্টেম্বরে তারা যখন আল-বেইদার নিকটবর্তী জাবাল আল-আখাদরের সোলোন্তা নামক এলাকায় একটি খাল পার হয়ে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন, তখন স্থানীয় আরব রাজাকারদের কাছ থেকে সংবাদ পেয়ে ইতালিয়ান বাহিনী তাদেরকে চারদিক থাকে ঘিরে ফেলে এবং তাদের উপর আক্রমণ শুরু করে।
যুদ্ধে ওমর আল-মুখতারের ঘোড়া আহত হলে তিনি ঘোড়ার পিঠ থেকে পড়ে যান। উঠে দাঁড়ানোর আগেই এক সৈন্য তাকে দেখে ফেলে। সে ওমরকে চিনতে না পেরে তাকে গুলি করতে উদ্যত হয়, কিন্তু আরেকজন সৈন্য নাম জিজ্ঞেস করলে ওমর যখন নিজের পরিচয় দেন, তখন তারা তাকে ঘিরে ফেলে। যুদ্ধে আহত ৭৩ বছর বয়সী এ বৃদ্ধকে ইতালিয়ানরা হাতে-পায়ে ভারী শিকল পরিয়ে বন্দি করে নিয়ে যায়।
ওমরের বিচার এবং মৃত্যুদণ্ড প্রত্যক্ষ করার জন্য জেনারেল গ্র্যাজিয়ানি রোম থেকে ছুটে আসেন। তিনি ওমরকে জিজ্ঞেস করেন, তারা আসলেই ইতালির মতো পরাশক্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধে জয়লাভ করার আশা করত কিনা। উত্তরে ওমর বলেন, “যুদ্ধ করাটা আমাদের কর্তব্য, আর বিজয় আসবে আল্লাহ্র কাছ থেকে।”
বন্দী ওমর আল-মুখতারকে দেখে ইতালিয়ান কর্মকর্তারা অবাক হয়ে যান। তারা ভেবেছিলেন ওমর হয়তোবা শক্ত-সমর্থ মাঝবয়েসী এক ব্যক্তি। কিন্তু তারা দেখতে পান, যে দুর্ধর্ষ যোদ্ধার হাতে তাদের বিশাল বাহিনী বারবার পর্যুদস্ত হয়েছে, তিনি সত্তোরোর্ধ এক বৃদ্ধ, বার বার যুদ্ধে আঘাত পেয়ে যার শরীর ছিল জর্জরিত, বেশ কিছু হাড় ছিল ভাঙ্গা। কিন্তু তার কণ্ঠ ছিল দৃঢ়, ব্যক্তিত্ব ছিল আকর্ষণীয়। জেনারেল গ্র্যাজিয়ানি ওমরের বর্ণনা দেন এভাবে যে, তিনি ছিলেন মাঝারি উচ্চতার, বলিষ্ঠ গড়নের, সাদা চুল এবং দাড়ি-গোঁফ বিশিষ্ট। তার চেহারায় ছিল বুদ্ধিদীপ্ততা, তিনি ছিলেন ধর্মীয় বিষয়ে জ্ঞানী। তিনি ছিলেন আত্মবিশ্বাসী, নিঃস্বার্থ এবং আপোষহীন। তিনি ছিলেন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সেনুসি নেতাদের একজন, অথচ অত্যন্ত দরিদ্র।
ইতালিয়ানরা ওমরের জন্য এক প্রহসনমূলক বিচারের আয়োজন করে। মাত্র তিন দিনের মধ্যে তার বিচার সম্পন্ন করে তারা তাকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করে। রায় শুনে ওমর আল-মুখতার পবিত্র কুরআন শরিফ থেকে উচ্চারণ করেন, “নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহ্র জন্য, এবং তার কাছেই আমরা ফিরে যাব।”
১৯৩১ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর, বুধবার, বেনগাজীর নিকটবর্তী সুলুক শহরে ওমর আল-মুখতারের ফাঁসির আয়োজন করা হয়। লিবিয়ানদের মনোবল ভেঙে দেওয়ার জন্য ইতালিয়ানরা প্রায় ২০,০০০ মানুষকে ফাঁসির ময়দানে উপস্থিত করে। সকাল নয়টার সময় প্রকাশ্য ময়দানে জনসমক্ষে তার ফাঁসি কার্যকর করা হয়। শহীদ হন বিংশ শতাব্দীর অন্যতম এক বীর যোদ্ধা, যিনি পরাজয় নিশ্চিত জেনেও অন্যায়ের কাছে কখনও মাথা নত করেননি। ৭৩ বছর বয়সে জীবনের শেষ দিনটি পর্যন্ত যিনি লড়ে গেছেন দখলদার বাহিনীর হাত থেকে নিজের দেশকে মুক্ত করার জন্য।
ওমর আল-মুখতারের স্মরণীয় গাঁথা
ওমরকে ফাঁসি দেওয়ার মধ্য দিয়ে ইতালিয়ানরা সেনুসি আন্দোলন এবং লিবিয়ার স্বাধীনতা সংগ্রাম দমন করতে সক্ষম হয়েছিল ঠিকই, কিন্তু শেষ পর্যন্ত ইতিহাস ওমরের নামই শ্রদ্ধা সহকারে স্বর্ণের অক্ষরে লিখে রেখেছে। গ্র্যাজিয়ানি সহ ইতালিয়ান জেনারেলদের নামই ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর গ্র্যাজিয়ানি সহ অনেকেরই যুদ্ধাপরাধের দায়ে বিচার এবং শাস্তি হয়েছে। অন্যদিকে ওমর আল-মুখতার পরিণত হয়েছেন শুধু লিবিয়া না, পুরো আরব এবং মুসলিম বিশ্বের সংগ্রামের প্রতীকে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ১৯৫১ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় লিবিয়া যখন ব্রিটিশদের কাছ থেকে স্বাধীনতা অর্জন করে, তখন লিবিয়া যুক্তরাজ্যের রাজা হিসেবে অধিষ্ঠিত হন ইদ্রিস আল-সেনুসি। কিন্তু ইদ্রিসের শাসনামলে ওমর আল-মুখতারের অবদানকে যথেষ্ট সম্মান করা হয়নি। ১৯৬৯ সালে এক রক্তপাতহীন অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে যখন তরুণ ক্যাপ্টেন মুয়াম্মার আল-গাদ্দাফী ক্ষমতায় আসেন, তখন তিনি পুনরায় ওমর আল-মুখতারকে জাতীয় বীর হিসেবে সবার সামনে তুলে ধরেন।
গাদ্দাফী ক্ষমতা দখল করেন ১ সেপ্টেম্বর। কিন্তু তিনি জনগণের উদ্দেশ্যে প্রথম ভাষণ দেন ১৬ সেপ্টেম্বর, ওমর আল-মুখতারের শাহাদাত দিবসে। এবং ভাষণটি তিনি দিয়েছিলেন বেনগাজীতে ওমর আল-মুখতারের কবরের সামনে দাঁড়িয়ে। গাদ্দাফী ওমর আল-মুখতারের ইতালি বিরোধী যুদ্ধের নেতৃত্বকে জনগণের সামনে তুলে ধরার মাধ্যমে নিজের পশ্চিমাবিশ্ব বিরোধী অবস্থানকে আরও জনপ্রিয় করে তোলেন।
ওমর আল-মুখতারের নাম লিবিয়ার প্রতিটি জায়গায় ছড়িয়ে আছে। লিবিয়ার ১০ দিনারের নোটে তার ছবি আছে। আল-বেইদাতে একটি বিশ্ববিদ্যালয় আছে তার নামে। এছাড়াও ত্রিপলী সহ বিভিন্ন স্থানে তার নামে বিভিন্ন রাস্তা, গ্রাম এবং মসজিদের নাম আছে। শুধু লিবিয়া না, ওমর আল-মুখতারের নামে রাস্তা আছে মিসর, তিউনিসিয়া, সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার, জর্ডান, ফিলিস্তিন সহ আরব বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। এমনকি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডাতেও ওমর আল-মুখতারের নামে একটি মসজিদ আছে।
গাদ্দাফীর উদ্যোগে সিরীয়-আমেরিকান পরিচালক ওমর আল-মুখতারের শেষ বছরগুলো নিয়ে একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন। ‘লায়ন অফ দ্য ডেজার্ট’ নামে এ চলচ্চিত্রটি আরব বিশ্বে ক্লাসিক হিসেবে পরিচিত হয়। ২০১০ সালে গাদ্দাফী যখন ইতালি ভ্রমণে যান, তখন তিনি ঔপনিবেশিক ইতালির লিবিয়ার উপর শোষণের প্রতিবাদ হিসেবে ওমর আল-মুখতারের বন্দী অবস্থায় শিকল পরা ছবিটি তার জামার বুকে ধারণ করেন। ইতালির প্রধানমন্ত্রী সিলভিও বার্লুসকোনি সে সময় ইতালির অতীতের ভূমিকার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
২০১১ সালে গাদ্দাফী বিরোধী বিদ্রোহ শুরু হলে বিদ্রোহীরা ওমর আল-মুখতারের ছবি ব্যাপকভাবে তাদের প্রচারণায় ব্যবহার করে। ওমর আল-মুখতারের একটি বিখ্যাত উক্তি ছিল “নাহনু লান্ নাস্তালেম; নান্সোর, আও নামুত” অর্থাৎ, “আমরা আত্মসমর্পণ করব না, আমরা বিজয় লাভ করব, অথবা মৃত্যুবরণ করব।” বিদ্রোহের সময় উক্তিটি বিদ্রোহীদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে। এই উক্তি সহ ওমর আল-মুখতারের ছবি সম্বলিত ব্যানার এবং বিলবোর্ডে বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলো ছেয়ে যায়। এ সময় ওমর আল-মুখতারের একমাত্র জীবিত বংশধর, তার ছেলে মোহাম্মদ আল-মুখতারও বিদ্রোহীদের পক্ষে তার সমর্থন ব্যক্ত করেন।
গাদ্দাফীর মৃত্যুর পর লিবিয়ার পতাকা, জাতীয় সঙ্গীত সহ সবকিছু আমূল পরিবর্তিত হয়ে গেলেও ওমর আল-মুখতারের প্রতি লিবিয়ানদের শ্রদ্ধা আগের মতোই আছে। তিনি সকল প্রকার রাজনৈতিক বিতর্কের ঊর্ধ্বে। যতদিন লিবিয়া থাকবে, যতদিন আরব বিশ্ব থাকবে, যতদিন বহিঃশক্তির আগ্রাসন এবং তার বিরুদ্ধে সংগ্রাম থাকবে, ততদিন পর্যন্ত ওমরের স্মৃতি মানুষের হৃদয়ে অটুট থাকবে।
সেনুসিদের নেতা মোহাম্মদ আল-মাহদি আস্-সেনুসি ওমর আল-মুখতার সম্পর্কে ঠিকই বলেছিলেন, “বিশ্বে নির্যাতিত মুসলমানদের বিজয়ের জন্য ওমরের মতো শুধু দশ জন নেতা দরকার।”
তিনি
যখন অনলাইনে এলেন, সাঈদী নিয়ে কথা বললেন, জামায়াতের বিরুদ্ধে অগ্নি
উদ্গীরণ করলেন, বাংলাদেশের আপামোর উলামায়ে কিরাম নিয়ে তুচ্ছ তাচ্ছিল্যের
হাড়ি বাজালেন, তখন আমি একজন গুণমুগ্ধ শ্রোতা মাত্র। দু’ বছরের মধ্যে দেখলাম
আমার সতীর্থরা সবাই শিবির ও জামায়াতের ভীষণ ও তীর্যক সমালোচক হলেন, এবং
তথা কথিত এই দুষ্ট চক্রের একনিষ্ঠ মুক্বাল্লিদ হয়ে
গেলেন। যারা ক’দিন আগে জামায়াতের পক্ষে হয়ে তাগুতের বিরুদ্ধে জান দিতে
প্রস্তুত ছিলেন, তারাই হয়ে গেলো এখন এই মাদানী সাহেবের একটু সমালোচনা হলেই
অনলাইনে সমালোচনাকারীকে মুন্ড কাটা সীমার। আমি এই মাদানীদের চিনি। এদের
মূল গুলোকে দেখেছি কাছে থেকে। ফলে আমার খুব কষ্ট লেগেছে যখন এদের দিয়ে
বাংলাদেশের দ্বীনী আন্দোলন ধ্বংশ করে তার স্তুপ থেকে সেক্যুলারদের
চারাগাছে সার সহ পানি ঢালা হচ্ছে। ১৯৮৮ এর দিকে হঠাৎ শুনলাম মাওলানা
আব্দুল মতীন আব্দুর রহমান আস সালাফী বাংলাদেশ থেকে বিতাড়িত হয়েছেন। তিনি
ছিলেন পশ্চিম বংগের মানুষ এবং এই শায়খ মতিউর রহমান মাদানীর পরিবারের তিনি
মুরুব্বি। তিনি মদীনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএ পাস করে সাউদী সরকারের দায়ী
ইলাল্লাহর চাকুরি নিয়ে বাংলাদেশের নামকরা মাদ্রাসা তা’মীরুল মিল্লাতে
পড়াতেন বিনা বেতনে। খুব ভালো আলিম ছিলেন তাতে কেও সন্দেহ করবেনা, তবে তাকে
পাঠানো হয়েছিলো বাংলাদেশের অভ্যন্তরে মারাত্মক ষড়যন্ত্রের বীজ বপন করতে। সে
বীজটা ছিলো ভারতের র’ এর কিছু কাজের ধর্মীয় সাপোর্ট দিতে। তিনি পাগল ছিলেন
না, কোথায় কিভাবে কাজ করতে হবে তা নিখুঁত ভাবে করে যেতে থাকলেন। তিনি
তিনটি কাজ অত্যন্ত সফল ভাবে দেখাতে সক্ষম হনঃ ১। বাংলাদেশ আহলে হাদীসকে
কার্যত দ্বিখন্ডিত করে শুব্বান বা যুব সংঘের ধারাকে বেগবান করে একদিকে ডঃ
আসাদুল্লাহিল গালিবের নেতৃত্বে একটি বুদ্ধিবৃত্তিক শুব্বান গ্রুপ তৈরী
করেন, অন্য দিকে তার বন্ধু ও সাগরেদ শায়খ আব্দুর রহমান কে সামনে নিয়ে তৈরী
করেন জামায়াতি আদলে একটা আন্দোলনী গ্রুপ যারা রাস্ট্র ক্ষমতা দখলের চেষ্টায়
জামায়াতে ইসলামির বিকল্প শক্তি হয়ে দাঁড়াতে পারে। ২। যেহেতু সাউদী
সরকারের মৌলিক ঝামেলা ছিলো এই সব ইসলামি আন্দোলনের সাথে। না পারতেছিলো
তাদের অর্থায়ন করে তাদের বাগে আনতে, আর না পারতেছিলো তাদের ইগনোর করে ইরানী
ও সুফী চেতনার বিপরীতে তাদের হেল্প পায়ে ঠেলতে। কাজেই আব্দুল মতিন
সালাফীরা যখন এই মোর্চা শক্তিশালী করে তোলে, তারা সাঊদীদের কাছে প্রমান
করতে পারে তারাই হবে জামায়াতের বিকল্প। এ করতে যেয়ে ১৯৯১ সাল থেকে শুরু করে
তারা সাউদী আরবের জামায়াতের অর্থায়ন কারীদের কাছে সাঈদী সাহেবের ভিডীও
দিখিয়ে বুঝাতে সক্ষম হয় এই সব জামায়াতী আলিমরা বেদআতী। এবং ১৯৯১ সালেই
সরকারের পক্ষ থেকে সাঈদী সাহেবের যে ক্যাসেট সাউদী সরকার বাংলাদেশি হাজিদের
নিকট বিলি করতে সিদ্ধান্ত নেয় তা এদের প্রচারণায় বন্ধ হয়। ঐ একই বছর তারা
গোলাম আযমের ক্যসেট ও সংবাদ মাধ্যমে দেয়া তার এক বিবৃতি সাউদী নীতি
নির্ধারণীদের হাতে পৌঁছাতে সক্ষম হয় যাতে গোলাম আযম সুস্পষ্ট বলেছিলেনঃ
“জামায়াত ক্ষমতায় গেলে হানাফী ফিক্বহ অনুযায়ী দেশ চালাবে”। এতে তারা
জামায়াত যে খাঁটি ইসলামি দল নয় বরং একটা মুতাআসসিব হানাফী দল তা প্রমান
করতে সক্ষম হয়। ৩। যে মাওলানা ইউসুফ ও তার অফিস দারুল আরাবিয়্যাহ ছিলো
আরব ডোনার ও বুদ্ধিজীবিদের আস্থার স্থল। তা নড়বড়ে করে দিয়ে আব্দুল মতিন
সালাফীরা হয়ে ওঠেন অনেক আস্থা ভাজন। শায়খ আব্দুল মতিন সালাফীর এই
উত্থান ডঃ আব্দুল বারী গ্রুপ ভালো ভাবে নেয়নি। কারণ ডঃ আব্দুল বারী ছিলেন
গোলাম আযম সাহেবের আত্মীয় ও ঘনিষ্ঠ বন্ধু, এতে করে জমইয়্যতে আহলে হাদীসের
একনিষ্ঠ সমর্থন জামায়াতে ইসলামি লাভ করতো। এবং সে সময় উত্তর বংগই বলা যায়
জামায়াতের বেশ বড় জন সমর্থন গড়ে ওঠে। ডঃ আব্দুল বারীর প্রভাব থেকে আহলে
হাদীসকে আব্দুল মতিন সাহেব যখন আলাদা করে মিশরের আলনূরের আদলে একটা
আন্দোলন সফল ভাবে সম্পন্ন করে ফেলেছেন তখন আব্দুল বারী সাহেব এইটার
উদ্দেশ্য বিধেয় নিয়ে জানা বুঝার চেষ্টা করেন। এবং প্রেসিডেন্ট এরশাদের
সরকারী সাহায্য নেন। তখন ডঃ বারী সাহেব ছিলেন সম্ভবত জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের
ভাইস চ্যান্সেলর। সরকার এই ব্যপারের খোঁজ নিতে যেয়ে কেঁচো খুড়তে কাল শাপ
দেখতে পায়। আব্দুল মতিন সালাফীকে র’ এর বংগভূমি আন্দোলনের এজেন্ট হিসেবে
পেয়ে যায়, এবং কয়েক ঘন্টার নোটিসে বাংলাদেশ থেকে বের করে দেয় সরকার। তার
বাসার জিনিষ পত্র গুলোরও কোন ব্যবস্থাও তিনি করতে পারেননি। তিনি
বাংলাদেশ ছেড়ে ছিলেন তবে তার গড়া আন্দোলন দু’টোই হয়ে যায় মিশরের আলনূর
সালাফীর মত সুন্দর এক বিকল্প আন্দোলন, যারা জামায়াতের শেকড় উপড়ানোর পেছনে
তৎপর হয় মারাত্মক ভাবে। একদিকে ডঃ আসাদুল্লাহিল গালিবের নিয়মতান্ত্রিক
আন্দোলন ওন্য দিকে শায়খ আব্দুর রহমানের জিহাদী আন্দোলন যখন বিপুল বেগে
এগিয়ে যাচ্ছে তখন কাছ থেকে আমরা দেখতে পাই দুটো ভয়াবহ অবস্থা। ১।
ব্যাপক সংখ্যক ছাত্ররা তাদের দলে যোগ দেয়, এমন কি দূর্বল মনা ছাত্র শিবিরের
অনেক কর্মীদের ও তাদের দলে যুক্ত করে। চিটাগাং ও উত্তরাঞ্চলের বেশ কিছু
স্থানে তারা শায়খ আব্দুর রহমান ও বেশ কিছু আফগান ফেরত যোদ্ধা এবং কিছু
অজ্ঞাত যোদ্ধাদের মাধ্যেমে সরাসরি অস্ত্র প্রশিক্ষন দিতে থাকে। তাদের কথা
ছিলো গণতন্ত্রের মাধ্যমে ইসলাম কায়েম সম্ভব নয়, বিজয় ছিনিয়ে আনতে হবে
সরাসরি যুদ্ধের মাধ্যমে। ২০০৫ সালের ১৭ই আগস্টে যে বোমা হামলা সরাসরি
প্রত্যক্ষ করি তা এই গ্রুপের, এবং দুঃখের সাথে আমরা লক্ষ্য করি তারা যা
বোমা গুলো ব্যবহার করে তা ছিলো ভারতের তৈরি করা। ২। এদের একটা বড় গ্রুপ
মদীনা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াতে পাঠান আব্দুল মতিন আসসালাফীরা। এই সালাফী
সাহেবের বোনের ভাই হলেন তথা কথিত শায়খ মতিউর রহমান মাদানী, এদের দলেই হলো
শায়খ আকরামুজ্জামান ও তার আরো তিন ভাই, শায়খ আমানুল্লাহ, শায়খ শাহীদুল্লাহ,
শায়খ এনামুল হক ইত্যাদিগণ যারা মদীনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রী নিয়ে এক
যোগে কাজ করতেন। এমনকি ডঃ আব্দুল বারী সাহেবের আস্থা ভাজন ও জামায়াতের এক
কালীন রোকন ডঃ মুসলিহুদ্দীনের মত শায়খগণ ও এই গ্রুপে যোগ দেন। এই গ্রুপ কেই
সামনে নিয়ে আসে সালাফীদের নব্য গ্রুপ মাদখালীরা। যারা সকল ইসলামি দল ও
গ্রুপ কে ইসলামের শত্রু ও ইসলামের খাওয়ারিজ বলে আখ্যা দেয়। এরাই হয়ে ওঠেন
সাউদীর সবচেয়ে বেশি আস্থা ভাজন ব্যক্তিত্ব এবং এদেরকেই নানা মুখি চাকরি
দিয়ে বাংলাদেশে পাঠানো হয় কাওকে, আর অধিকাংশকে আরব বিশ্বের যেখানে যেখানে
বাংলাদেশী আছে সেখানে সেখানে দায়ী ইলাল্লাহ বানায়ে মগয ধোলায়ে সহায়তা করে।
এরা শুধু সাউদী সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা পেয়েছে তা নয়, সাউদীদের বড় বড় ডোনার
যারা বাংলাদেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আগে জামায়াতের হাত দিয়ে বা শায়খ
ইউনুস কিংবা শায়খা সুলতান যাওক্ব অথবা ডঃ আব্দুল বারীর মাধ্যমে চালাতো, তা
একচেটিয়া এদেরকে দেয়া হয়। বিশাল বই ভান্ডার, এমন কি বড় বড় ওয়েব পেইজের
সহায়তা এদের জন্য অবারিত হয়ে যায়। বাংলাদেশে এই কাজে তারা ৪টা সহায়তা পেয়েছে।
১। যেহেতু বাংলাদেশ আওয়ামিলীগের কয়েকজন বড় বড় নেতা ছিলেন আহলে হাদীসের।
যেমন ঢাকার মেয়র মোহাম্মাদ হানিফ এবং উত্তর বংগের বেশ কয়েকজন নেতা। এমন কি
শায়খ আব্দুর রহমানের শ্যালকও। ফলে এরা আওয়ামিলীগের ছত্র ছায়াকে জামায়াতের
বিপরীতে দাঁড়াবার প্লাট ফরম হিসেবে গ্রহন করে। যেহেতু শায়খ আব্দুর রহমান ও
ডঃ গালিব কে চার দল শেষ করে বা জেলে পোরে, কাজেই তাদের বিপরীত সরকারই হলো
এদের প্রিয় সরকার যাদের বিরোধিতা করা ঈমানের সাথে সাংঘর্ষিক বলে তারা ফতোয়া
দেয়। তারা এখন সরকারের কাছে অত্যন্ত সহনীয় মাত্রার। ২। আওয়ামি ঘরাণার
ব্যবসায়িক শ্রেনীও এদের প্রিয়পাত্র হেতু তাদের মিডীয়াতে তারা গ্রহনযোগ্য
ব্যক্তিত্ব হয়েছেন। ডঃ যাকির নায়েক যখন পীস টিভির বাংলা ভার্সন শুরু করেন,
তার চিন্তা ছিলো উর্দু ও ইংলিশের আদলে এটাকে প্রতিষ্ঠিত করবেন। এ্টাকে
রাখবেন বিভিন্ন মতের লোকদের মিলন মেলা বানায়ে। কিন্তু তিনি এর দ্বায়িত্বে
বসান ভারতের আরেক শায়খ আব্দুর রহমান নামে মদীনা বিশেবিদ্যালয়ের আরেক শায়খকে
যিনি ঐ আহলে হাদীসের শুব্বান গ্রুপের শায়খদের বন্ধু ছিলেন। এদেরকেই এই
ভারতীয় শায়খ আব্দুর রহমান পীস টিভির প্লাটফর্ম দিয়ে দেন। এবং তাদের
রিকমেন্ডেশান পাওয়া শায়খরাই এখানে যেতে পারতেন। এই পীস টিভিতেই সালমান এফ
রহমানের মত দাতা গণ শত শত কোটি টাকা দান করে বাংলাদেশের সালাফিয়্যাত
প্রসারে সাহায্য করেছেন। ৩। বিগত দশ এগারো বছরে মতিউর রহমান মাদানী সহ
একটা সংঘবদ্ধ গ্রুপ জামায়াতে ইসলামীর মর্মমূলে আঘাত করে একে শেষ করার
চেষ্টা করেছেন। তারা দুটা বিষয়ে অত্যন্ত সফলতার সাথে পরিস্কার করতেছেন যে,
এই জামায়াতে ইসলামি একটা ইসলামি দল নয়, এর গোড়া থেকে শুরু করে সবই খাঁটি
ইসলাম থেকে দূরে। কাজেই দল যদি করতেই হয় সহীহ আক্বীদার দলে থাকতে হবে। দুই,
যারা জামায়াতের সাথে কাজ করবে তারা আহলুস সুন্নাহ থেকে খারিজ হয়ে কুতুবি,
ইখওয়ানি বা খাওয়ারিজ হয়ে গেছে। তাদের এই এক্সট্রীম প্রচারণায় বলীর পাঠা হয়
বাংলাদেশ জামায়াতের জনশক্তি। যারা এক দিকে সরকার দ্বারা নিষ্পেশিত। অন্য
দিক দিয়ে এই সব শায়খদের দ্বারা নির্যাতিত এবং দেশবাসীর কাছে তাদেরকে
সন্দেহের বধ্য ভূমিতে এমন ভাবে তারা রেখেছে যে, এদের হত্যা করাও যেন
সওয়াবের কাজ বলে মনে করা হচ্ছে। এই নিকৃষ্ট মানসিকতা তৈরিতে তারা ইবনে
যিয়াদের চেয়ে মারাত্মক হিসেবে আবির্ভূত। ৪। বাংলাদেশে ইসলামের
প্লাটফর্ম গুলো বন্ধ করা্তে তারা ভূমিকা রেখেছে অনেক। ফলে জামায়াতের বেশ
কিছু বুদ্ধিজীবি উলামাকে তারা তাদের দলে ভিড়িয়ে তাদের মতবাদকে প্রচারে বেগ
তৈরি করেছে মারাত্মক ভাবে। ডঃ মাঞ্জুরে ইলাহী, ডঃ সায়ফুল্লাহ মাদানী, ডঃ
আবু বাকার মুহাম্মাদ যাকারিয়া, মুফতি ইব্রাহীম এরা সবাই জামায়াতের
নেতৃস্থানীয় ছিলেন। দেশের পরিবর্তিত পরিস্থিতি তে তারা এদেরকে সুযোগ করে
দিয়ে তাদের সালিফিয়্যাত প্রচারে দারুণ এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশকে আরেক
মিশর বানানোর সৌদি প্লানের সাথে যুক্ত এই আহলে হাদীস ভায়েরা যেভাবে একটা
ইসলামি দলকে শেষ করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত তা ইতিহাসে বিরল। যে সব মাসআলাতে
তারা মাওলানা মাওদূদীকে অমুসলিম বলে তা সম্পূর্ণ সঠিক নয়। মাওদূদীর চিন্তা
দর্শনে যে সব ভুল আছে তা একটাও ইসলাম বিরোধী নয়। তার সময়ের যে সমস্ত
উলামায়ে কিরাম যে সব ভুল তার ধরেছেন কোনটাতেই তাকে কাফির বলেননি। তবে তার
ভুল ধরা হয়েছে, আর পৃথিবীতে নবী ও রাসূল ছাড়া কেও ভুলের উর্ধে নন। এ সব এই
গ্রুপরা ভালোভাবেই জানে। জেনেও তারা এক এজেন্ডা নিয়ে সামনে যাচ্ছে, আমার
কথা হলো ঐখানেই। শেরে বাংলা বলতেনঃ আমার কোন কথায় যদি হিন্দু দাদারা সন্তোষ
হয়, বুঝবা আমি আমার কওমের সাথে গাদ্দারি করছি। এখন আমি দেখি এই চক্রের কথায় উপকৃত হলো কারা?
পুরো ভারত যেন এক টুকরো গুজরাট; মানবাধিকার থাকতেও নেই মুসলমানদের!
ভারত ক্রমেই অসভ্যতার দিকে ধাবমান হচ্ছে। তাদের থেকে মানবিক গুণাবলী হ্রাস পাচ্ছে। উগ্র হিন্দুদের হাতে একের পর এক ধর্মীয় বিদ্বেষের শিকার হচ্ছে সেখানকার মুসলমানরা। সম্প্রতি মুসলিম যুবক তাবরেজ আনসারী’র উপর র্নিমম নির্যাতনের চিত্রটি দেখেছে বিশ্ববাসী। হতবাক হয়ে সবাই দেখেছে একটি উগ্র জাতীর কর্মকান্ড।
আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত ধর্মনিরপেক্ষতার ধ্বজাধারী হয়েও সংখ্যালঘু মুসলমানদের উপর শুধুমাত্র ধর্মীয় বিদ্বেষের কারণে নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে। বিনা দোষে নিরপরাধ মুসলমানদের নির্যাতনের মাধ্যমে ভারত তাদের হীনমন্যতার পরিচয় দিচ্ছে। এমনটি তারা সেখানে রায়টের পরিবেশ তৈরি করছে। তাদের এই জুলুম-নির্যাতন বন্ধ না হলে সামগ্রিকভাবে যদি উপমহাদেশের রাজনীতিতে কোন বৈরি পরিবেশের সৃষ্টি হয় সেজন্য ভারতকে এর দায়ভার গ্রহণ করতে হবে। ভারতে নির্যাতিত মুসলমানদের বোবা কান্না নতুন নয়। দুর্দশার শেষপ্রান্তে নিক্ষিপ্ত ভারতের মুসলিম সম্প্রদায় ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমে অনুপস্থিত। তাদের বোবা কান্নার আওয়াজ মানবতাবাদীদের কর্ণকুহরে কখনো পৌঁছে না।
দেশটিতে ধর্মীয় সহিংসতা বলতে মূলত মুসলমানদের বিরুদ্ধে সহিংসতা বোঝানো হয়। ১৯৪৭ সালে ভারতের বিভাজনের সময়ে মুসলমানদের বিরুদ্ধে ধর্মীয় সহিংসতার বেশ কয়েকটি ঘটনা ঘটেছিল, প্রায়শই হিন্দু জনতা দ্বারা মুসলমানদের উপর সহিংস হামলার আকারে ছিল, যা সংখ্যাগুরু হিন্দু ও সংখ্যালঘু মুসলমান সম্প্রদায়ের মধ্যে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার একটি নকশা গঠন করে। ১৯৫০ সালের পর থেকে ১৯৫৪ থেকে ১৯৮২ সালের মধ্যে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ৬৯৩৩ টি ঘটনায় হিন্দু-মুসলিম সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় ১০,০০০ এরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। (সূত্র : উইকিপিডিয়া) যদিও প্রকৃত সংখ্যা আরও অনেক বেশি হবে।
কেবল ২০০২ সালে গুজরাট দাঙ্গায় প্রায় ৫০০০ হাজার মুসলমানদের শহীদ করে দেওয়ার তথ্য প্রকাশিত হয়েছিলো। সেই গুজরাট দাঙ্গায় উগ্র হিন্দুরা মুসলমানদের সাথে এমন কোনো অমানবিকতা নেই যা করেনি। মুসলিম নারীদের পেট কেটে ভ্রুণ থেকে সন্তান বের করে খুন করার মতো অমানবিকতাও তারা দেখিয়েছে। প্রায় ১০০০ হাজার নারীকে সে সময় ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছিলো। ভারতের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তখনকার গুজরাটের মূখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রত্যক্ষ সহযোগীতায় এই নারকীয় হত্যাকান্ড চালানো হয়েছিলো। সেই নরেন্দ্র মোদিই এখন ভারতের প্রধান ক্ষমতায় আরোহন করে আছেন। পুরো ভারত যেন তিনি এক টুকরো গুজরাটে পরিণত করেছেন। ভারতের মুসলমানদের বর্তমান অবস্থা যেন ২০০২ সালের সেই গুজরাটের মতো। তবে কেবল গুজরাটেই নয়; ভারতে মুসলিম নির্যাতনের এই ধারা অব্যাহত ছিলো ধারাবাহিকভাবেই।
ভারতের পুলিশরা ব্যাপকহারে মুসলিম বিদ্বেষী। মুসলমান হত্যায় তারা ওতপ্রোতভাবে জড়িত থাকে। ২০০২ সালের গুজরাটে দাঙ্গা তার অব্যর্থ প্রমাণ। ১৯৯৬ সালে ৩১৩ জন মুসলমানকে সিমি সদস্য বলে আটক করা হয়। অথচ তখন সিমির সদস্য সংখ্যা ছিল ১৩২ জন। ভারতের সংবাদ মাধ্যম সংবাদ সংগ্রহ করে রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষের সূত্র থেকে। সন্ত্রাসবাদ সম্পর্কে বিশেষজ্ঞ বলা হয় সাংবাদিক প্রবীণ স্বামীকে। এদের প্রতিবেদনে প্রতিফলিত হয় হিন্দু জাতীয়তাবাদীদের দৃষ্টিভঙ্গি এবং স্বভাবত তা হয়ে ওঠে ইসলাম ও মুসলিম বিদ্বেষী।
২০০৬ সালে সাচার কমিটির রিপোর্টে বলা হয়, পর্যাপ্ত সংখ্যক যোগ্য আইনজীবীর অভাবে ভুগছেন মুসলিম জনগণ। সন্দেহভাজন সন্ত্রাসীদের ওপর অবৈধ পন্থায় বর্বর নির্যাতনের সংবাদ মাধ্যমে কোনোকালে ফুটে ওঠে না। সন্দেহভাজনদের জন্য টর্চার সেল কায়েম করা হয়। আইনবহির্ভূত কয়েদখানা তৈরি হয় তাদের জন্য। পুলিশ এনকাউন্টারের নামে তাদের হত্যা করা হয়। বেআইনী পুলিশ বর্বরতায় সাক্ষ্য-প্রমাণ লোপাট করে দেয়া হয়। এভাবেই বেপরোয়া হত্যা-নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন ভারত জুড়ে নির্দোষ মুসলিম জনগণ শুধুমাত্র সন্দেহের ভিত্তিতে। কথিত মুসলিম সন্ত্রাসীদের নিয়ে ভারতীয় ও পাশ্চাত্য সংবাদ মাধ্যমে গল্প রচনার জোয়ার দেখা দিয়েছে। অথচ ভারতের আনাচে-কানাচে মুসলমানদের ওপর নির্যাতনের চিত্র ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। গণমাধ্যমে সেসব নির্যাতনের কোনো চিত্র পাওয়া যায় না। তারপরও আলোচিত কিছু ঘটনার দ্বারা বিশ্বব্যাপী মানুষরা বুঝতে পেরেছে ভারতের মুসলমানদের ওপর নির্যাতনের ভয়াবহতা। তেমন কয়েকটি ঘটনা উল্ল্যেখ করা হলো ; (১) মে ২০০৮-এ ১৪ বছরের এক মুসলিম কিশোরকে তুলে নিয়ে যায় গুজরাট পুলিশ। বন্দুকের ডগায় গাড়িতে তুলে নিয়ে গিয়ে বন্দি-শিবিরে তার ওপর নির্যাতন চালানো হয়। ছেলেটির মায়ের দরখাস্তে সাড়া দিয়ে কোর্ট তার মুক্তির আদেশ দেয় এবং দশদিন পর ওই কিশোর মুক্তি পায়। আদালতে মোকদ্দমা এগিয়ে নেয়ার চেষ্টা করলে ভয়াবহ পরিণতি ভুগতে হবে বলে ছেলেটির পরিবারকে পরে পুলিশ শাসিয়ে দেয়। ভারতীয় আইনজীবীরা মুসলিমদের পক্ষে মোকদ্দমা চালাতে প্রায়শই ইতস্ততঃ করেন। অবলম্বনহীন একটি জনসম্প্রদায়ে পরিণত হয়েছে ভারতের মুসলিম সম্প্রদায়। (২) কর্ণাটক রাজ্যের সালেগাঁওয়ে একটি মুসলিম কবরস্থানে ২০০৬ সেপ্টেম্বরে বিস্ফোরণে নিহত হয় ৩৫ ব্যক্তি। হত্যাকান্ডের দোষ সংবাদ মাধ্যম মুসলমানদের ঘাড়ে চাপায়। হায়দরাবাদের মক্কা মসজিদে বোমা বিস্ফোরণে মারা যান ১০ জন মুসলমান। প্রবীণ স্বামী নির্বিচারে দোষ চাপিয়ে দেয় কথিত মুসলিম সন্ত্রাসীদের ওপর। ভারতীয় শহরগুলো ইসলামপন্থী সন্ত্রাসীদের খপ্পরে চলে গেছে- এমন মন্তব্যও ছড়িয়ে দেন প্রবীণ স্বামী। কিন্তু পরবর্তীতে তদন্তে প্রকাশ পায় সালেগাঁওয়ে ও মক্কা মসজিদে হামলা চালিয়েছিলো উগ্র হিন্দুত্ববাদী জাতীয়তাবাদীরা। (৩) তাবরেজ আনসারী নামের ২৪ বছরের এক মুসলিম যুবক, ভারতের বনাখন্ডের জামশেদপুরের খার সাওয়ান্দ সারাই বেলাতে তার নিবাস। ‘স্থানীয়রা রোববার চোর সাব্যস্ত করে ওই যুবককে। তাকে বেদম মারপিট করা হয়। এরপর তাকে রোববার সকালে ভর্তি করা হয় সদর হাসপাতালে। সেখান থেকে তাকে স্থানান্তর করা হয় জামসেদপুরের টাটা মেইন হাসপাতালে। তার পরিবারের দাবি, তার ওপর যে হামলা হয়েছে তা সাম্প্রদায়িক। তাকে জয় ‘শ্রী রাম’ এবং ‘জয় হনুমান’ স্লোগান দিতে বাধ্য করা হয়েছে। পরিবার আরো বলছে, কিছু মানুষ তাবরেজকে প্রচন্ড মারপিট করে। পরে তাকে তুলে দেয় পুলিশে। চুরির সন্দেহে তার সঙ্গে এমন আচরণ করা হলেও সে সাম্প্রদায়িক হামলার শিকার। তাকে মরপিট করা হয়েছে সে একজন মুসলিম বলে।“বারবার তাবরেজকে ‘জয় শ্রীরাম’ ও ‘জয় হনুমান’ স্লোগান দিতে বাধ্য করা হয়েছে। তাকে হাসপাতালে দেখতে যেতে চাইলেও আমাদের (আত্মীয়দের) অনুমতি দেয়া হয়নি। “ভিডিওতে দেখা গেছে, তিনি কাতর কণ্ঠে বলতে থাকেন, আমার মা মারা গেছেন। তার নামে শপথ করে বলছি, আমি এমন কাজ করিনি।” (৪) “একটি মাইক্রোবাস থামিয়ে নিরীহ একজন দাড়ি-টুপিওয়ালা লোককে সাম্প্রদায়িক যুবকরা চর-থাপ্পর মারছে। বলছে, বল, জয় শ্রীরাম। লোকটি প্রাণের ভয়ে ভয়ে ‘শ্রী রাম’ বললেও কিল, চড় ও গালি থামছে না। অপর এক ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, যেখানে সত্তর বছরের এক বৃদ্ধকে এমনভাবে সাম্প্রদায়িক যুবকরা মারধোর করছে যেমনটি মানুষ সন্ত্রাসী চোরকেও করে না। একপর্যায়ে রক্তাক্ত ও আহত এ বৃদ্ধকে শূকরের মাংস খেতে বাধ্য করা হয়।’ (৫) “ত্রিপুরায় সবচেয়ে ধনী মুসলমানের বাড়িটিকে শত শত সাম্প্রদায়িক লোক লুটপাট করে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছে। প্রতিদিন বহু বাড়িঘর ও দোকান হয় জ্বালিয়ে দেয় হচ্ছে, নয়তো ভেঙে তছনছ করে দেয়া হচ্ছে। দু’তিনজন শ্রমিক শ্রেণীর লোককে বিজেপির কর্মী, আরএসএস এবং বজরাঙ্গী ইত্যাদি নামধারী কিছু যুবক নির্মমভাবে জুতাপেটা, কিলঘুষি, লাথি এমন কি লাঠিপেটা করছে। তাদের অপরাধ- এসব হতদরিদ্র ভুখা নাঙ্গা শ্রমিকরা নাকি গরুর গোশত খেয়েছে।’ (সূত্র : ইনকিলাব) দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়ার বরাতে লেখা হয়েছে- “ভারতের গত নির্বাচনের বহু আগ থেকে যে সাম্প্রদায়িক উন্মাদনা কিছু নেতা সৃষ্টি করেছিলেন নির্বাচনের পরেও তা যথারীতি চলছে। ….এসব নেতার ইঙ্গিত আছে বলেই পরিস্থিতি নির্বাচন চলে যাওয়ার এত পরেও শান্ত না হয়ে দিন দিন বরং আরও উত্তপ্ত হচ্ছে।’ স্যোশাল মিডিয়ায় দেখবেন, কোনো মুসলিম বাড়িতে বজরং দল কিংবা আর এস এস নামধারী যুবকরা প্রবেশ করে বাড়ির নারী-পুরুষ-শিশুকে নির্মমভাবে পেটাচ্ছে। ঘরের দরজা এঁটে দিনে-দুপুরে শ্লীলতাহানি করছে নারীদের। ঠিক গুজরাতের নৃশংসতার মতো, সেখানে হাজার হাজার মুসলমানকে হত্যা করা হয়েছিল। মুসলিম এমপিকে তাঁর বাসায় গণপিটুনিতে হত্যা করা হয়েছিল। সাম্প্রদায়িক গুন্ডারা প্রকাশ্যে রাজপথে মুসলিম নারীদের ধর্ষণ করে। নিজেদের লোক দিয়েই ভিডিও ধারণ করেছিল। আজকের প্রধানমন্ত্রী মোদি তখন গুজরাটের দায়িত্বে ছিলেন। যে পুলিশ কর্মকর্তা গুজরাটের ঘটনার জন্য দায়ীদের চিহিৃত করে রিপোর্ট দিয়েছিলেন তিনি এখন যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি।” ‘আমরা ভারতের বন্ধু রাষ্ট্র দাবি করি’। আমাদের কথা ভারতের বিরুদ্ধে নয়, ভারতের মুসলমানদের ওপর নির্যাতন-নিপীড়ন তাদের ধর্মীয় অধিকার মানবাধিকার দলন, হরণের বিরুদ্ধে। সম্প্রতি ভারত সফরে এসে দেশটিতে সংখ্যালুদের উপর নির্যাতন ও সহিংসতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেন মার্কিন পররাষ্ট্র সচিব মাইক পম্পেও। তিনি বলেন, ধর্মীয় স্বাধীনতার সঙ্গে আপস করা মানে বিশ্বকে খারাপ পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দেয়া। ভারতের মাটিতে দাঁড়িয়ে দেয়া পম্পেওর এই বক্তব্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। কারণ গত সপ্তাহে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের বার্ষিক আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা শীর্ষক রিপোর্টে বলা হয়, ভারতে বিশেষত মুসলমানরা চরমপন্থী হিন্দু গোষ্ঠীর দ্বারা নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। গরুর মাংস খাওয়া ও রাখা নিয়েও হিংসার বলি হতে হচ্ছে তাদের। এই পরিস্থিতিতে ভারতের অন্যতম বন্ধু যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র সচিবের এই বার্তা হালকা করে নেয়ার কোন সুযোগ নেই। যদিও, রিপোর্ট প্রকাশের পরই ভারত সরকারের পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়েছিল। আর এবার পম্পেও খোদ ভারতে এসে ধর্মীয় স্বাধীনতার পক্ষে কথা বলে বুঝিয়ে দিলেন, ভারত ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকলেও ধর্মীয় সহিংসতার বিষয়ে তারা কঠোর অবস্থানেই থাকবেন। পম্পেওর এর এই বক্তব্যকে আমরা সাধূবাদ জানাই। তার কথায়, ‘বিশ্বের ৪টি বহুল প্রচলিত ধর্মের জন্মভূমি ভারত। আসুন সবাই মিলে ধর্মীয় স্বাধীনতার পক্ষে একজোট হই। সবাই মিলে ধর্মীয় স্বাধীনতার জন্য উঠে দাঁড়াই। না হলে এ বিশ্ব সুন্দর থাকবে না।’ প্রতিবেশি এই রাষ্ট্রটির জন্য আরেকটি ভয়ানক তথ্য হলো নারীর জন্য সবচেয়ে বিপজ্জনক স্থান। ভারত যে ক্রমেই মানুষ বসবাসের অযোগ্য হয়ে উঠেছে এর প্রমাণ হলো : “নারীর জন্য সবচেয়ে বিপজ্জনক ভারত’’ সংবাদটি। নারীর জন্য বিপজ্জনক দেশের তালিকায় সবার উপরে রয়েছে দেশটি। সম্প্রতি নারীর জন্য বিপজ্জনক ১০টি দেশের তালিকা প্রকাশ করেছে লন্ডনভিত্তিক চ্যারিটি প্রতিষ্ঠান থমসন রয়টর্স ফাউন্ডেশন। ছয়টি মানদণ্ড নির্ধারণ করে জাতিসংঘের ১৯৩ দেশে এই জরিপ চালনো হয়। এশিয়ার ছয়টি, আফ্রিকার তিনটি এবং উত্তর আমেরিকার একটি দেশের নাম তালিকায় আসে। জরিপে এ বছরের ২৬ মার্চ থেকে ৪ মে পর্যন্ত পৃথিবীজুড়ে নারীদের পরিস্থিতি নিয়ে কাজ করা মোট ৫৪৮ জন বিশেষজ্ঞের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। অনলাইনে, ফোনে এবং সরাসরি কথা বলে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। যেসব বিশেষজ্ঞদের মতামত নেওয়া হয়েছে তারা দীর্ঘ দিন থেকে ইউরোপ, আমেরিকা, এশিয়া এবং প্রশান্ত এলাকায় নারীদের অধিকার নিয়ে কাজ করছেন। এদের মধ্যে ছিলেন শিক্ষক, সরকারের নীতি-নির্ধারক, স্বাস্থ্যকর্মী, এনজিও কর্মী, উন্নয়ন ও সহায়তাকর্মী এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধি।জরিপে মানদন্ডগুলো ছিল— স্বাস্থ্যসেবা; অর্থনৈতিক অবস্থান বা সম্পদের পরিমাণ; সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যবাহী কাজে অংশগ্রহণ; যৌন সহিংসতা ও যৌন নির্যাতন; সহিংসতা (যৌন নির্যাতন ছাড়া) ও মানবপাচার। বিশেষজ্ঞদের মতামত বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, নারীদের জন্য সবচেয়ে বিপদজনক দেশ ভারত। এখানে নারীদের ওপর সবচেয়ে বেশি যৌন নির্যাতন হয়। ক্রীতদাস হিসেবে নারীর ব্যবহারও এখানে বেশি। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র নারীর জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি যৌন সহিংসতা। ২০১২ সালের নির্ভয়া কাণ্ডের কথাই মনে করিয়ে দেয় নারীর জন্য কতটা বিপদজনক এই দেশটি। ২৩ বছরের তরুণীকে রাতে বাসে একা পেয়ে চালক এবং অন্যান্য যাত্রীরা ধর্ষণের পর হত্যা করে। নারীর প্রতি অপরাধের মাত্রা বেড়েই চলেছে দেশটিতে। সরকারি হিসাব অনুয়ায়ী, ২০০৭ থেকে ২০১৬ পর্যন্ত নারীর সঙ্গে হওয়া অপরাধের মাত্রা আগের বছরগুলোর তুলনায় শতকরা ৮৩ ভাগেরও বেশি বেড়েছে। যার অর্থ দাঁড়ায়, এই বছরগুলোতে ভারতে প্রতি ১৫ মিনিটে একজন নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। ভারতে নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতার বিপক্ষে সচেতনতা বাড়লেও খুব একটা লাভ হয়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর কারণ হলো প্রাচীনকাল থেকে চলে আসা বদ্ধমূল নানা প্রথার চর্চা। এসবের মধ্যে রয়েছে কন্যা শিশুহত্যা, গৌরি দান, যৌনদাসত্ব, পারিবারিক ক্রীতদাসত্ব বা অধীনতা, মানবপাচার এবং সাম্প্রদায়িক হত্যা। ভারতের নির্যাতিত নিপিড়িত মুসলমানদের পাশে দাড়ানো দায়িত্ব আমাদের। রাষ্ট্রীয়ভাবে আমাদের সোচ্চার হওয়া উচিত ভারতের এই অন্যায় অবিচার ও মুসলমানদের মানবাধিকার লঙ্ঘণসহ ধর্মীয় স্বাধীনতা বিনষ্ট করার বিপরিতে। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন, ‘ইন্নামাল মুমিণূনা ইখ্ওয়াহ-ফআস্লিহু বাইনা আখ্ওয়াইকুম’ (মুসলমানরা পরস্পরে ভাই ভাই। তোমরা তোমাদের ভাইদের পরস্পরের মধ্যে সৌহার্দ্য স্থাপন করে দাও) বিশ্বনবী (সা.) বলেন, মুসলমানরা পরস্পরে ভাই। সে তার প্রতি জুলুম করবে না এবং তাকে শত্রুর নিকট সমর্পণ করবে না। যে মুসলিম অপর মুসলিম ভাইয়ের বিপদ-দূর করার চেষ্টা করে আল্লাহতায়ালা তার বিপদ দূর করে দেন। যে মুসলিম অপর কোন মুসলিম ভাইয়ের একটি কষ্ট দূর করে দেন আল্লাহপাক কিয়ামতের কষ্টসমূহের তার একটি কষ্ট দূর করে দেবেন। (বুখারী ও মুসলিম) প্রিয়নবী (সা.) আরও বলেন, দুনিয়ার মুসলমান মিলে একজন মানুষের মত। যদি তার চক্ষু যন্ত্রণাপ্রাপ্ত হয় তবে তার সর্বশরীর যন্ত্রণা প্রাপ্ত হয়। এরূপ যদি তার মাথা আক্রান্ত হয় তবে তার সর্বশরীর যন্ত্রণায় অধীর হয়। অর্থাৎ দুনিয়ার প্রায় দুইশ কোটি মুসলমান কেবলমাত্র একটি জাতি, মিল্লাত বা উম্মাহ নয়। সবমিলে একটি দেহ। এই দেহের কোন একটি অঙ্গ যদি আঘাত প্রাপ্ত হয়। অর্থাৎ দুনিয়ার কোথাও একটি মুসলমানও যদি আক্রান্ত হয়, আঘাত প্রাপ্ত হয় তবে দুনিয়ার প্রতিটি মুসলমানেই সে যন্ত্রণা অনুভব করবে এবং সেই যন্ত্রণা, সেই কষ্ট দূর করার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করবে। যতক্ষণে না সেই যন্ত্রণা দুরীভূত হয় সে চেষ্টা চালিয়ে যাবে। অব্যাহত রাখবে। এই হলো মুসলমানের সংজ্ঞা বা পরিচয় প্রশ্ন হল সেই পরিচয় আমরা কি দিতে পারছি।’ যেখানে আমাদের ভাইয়েরা লাঞ্ছিত হচ্ছে, অপমানিত হচ্ছে, মার খাচ্ছে, খুন হচ্ছে, প্রাণ হারাচ্ছে, আমাদের মা বোনরা নরপিচাশদের হাতে নিগৃহিত হচ্ছে, আব্রু ইজ্জত হারাছে, ধর্ষণ, গণধর্ষনের শিকার হচ্ছে। তা প্রতিহত করার জন্য উম্মাহ হিসাবে আমরা কি সাধ্যানুযায়ী চেষ্টা করছি? এ সমস্যা ও প্রশ্ন দীর্ঘদিনের হলেও সাম্প্রতিক সময়ে আমাদের প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতে যা ঘটছে তাতে আবার নতুন করে এ জিজ্ঞাসা তীব্র আকারে সম্মুখে এসেছে।
ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের
একটি পবিত্র হজ। ইসলাম ধর্মে হজ পালনে সামর্থ্যবান মুসলমানদের উপর অন্তত
একবার হজকে ফরজ করা হয়েছে। তাই প্রতিবছর জিলহ্বজ মাসে পবিত্র মক্কায় লাখ
লাখ মুসলমান হজ পালন করে থাকেন। কিন্তু অনেকেই হজ পালনের সঠিক নিয়ম কানুন
জানেন না। ফলে সৌদি আরবে হজ করতে গিয়ে অনেকেই বিব্রতকর অবস্থায় পড়েন। তাই
জেনে নিন পবিত্র হজ পালনের সঠিক নিয়ম।
১। হজ কি?
হজ আরবি শব্দ। অর্থ নিয়ত করা, দর্শনকরা, সঙ্কল্প করা, এরাদা করা,
গমনকরা, ইচ্ছা করা, প্রতিজ্ঞা করাসহ কোনো মহৎ কাজে ইচ্ছা করা। শরীয়তের
পরিভাষায় নির্দিষ্ট দিনে নিয়তসহ ইহরামরত অবস্থায় আরাফার ময়দানে অবস্থান করা
এবং বায়তুল্লাহ শরীফ তাওয়াফ করা।
হজ কাদের উপর ফরজ?
(১) মুসলিম হওয়া।
(২) বালিগ হওয়া।
(৩) স্বাধীন হওয়া।
(৪) বিবেকবান হওয়া।
(৫) নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক যে ব্যক্তির এ পরিমাণ ধনসম্পদ আছে যে,
সে হজের সফর (পথ খরচ) বহন করতে সক্ষম এবং তার অনুপস্থিতিকালীন তার
পরিবারবর্গের প্রয়োজন মেটানোর মতো খরচও রেখে যেতে সক্ষম, এমন ব্যক্তির ওপর
হজ ফরজ। অথবা এমন ব্যক্তি যিনি হজের মৌসুমে অর্থাৎ শাওয়াল মাস শুরু হওয়া
থেকে সৌদি আরবে অবস্থানরত ছিল এবং জিলহজ মাস পর্যন্ত সৌদি আরবে অবস্থান
করতে থাকে এবং তার ওপর যদি কোনো বিধি-নিষেধ, ওজর ও অসুবিধা না থাকে তাহলে
তার ওপরও হজ পালন করা ফরজ ইত্যাদি।
(৬) যাতায়াতে নিরাপত্তা।
(৭) মহিলাদের সাথে মাহরুম থাকা।
হজের ফরজ তিনটি-
১. ইহরাম বাঁধা অর্থাৎ হজ্বের নিয়ত করা। আল্লাহুম্মা ইন্নি উরিদুল
হজওয়াল উমরাতা ওয়াজ জিয়ারাতা ফাইয়াস সিরহুলি ওয়াতা ক্কাব্বালহুমিন্নি-অর্থ ‘
হে আল্লাহ! আমি হজ উমরা এবং কাবা গৃহ তাওয়াফের জন্য নিয়ত করলাম।তুমি তা
কবুল কর।
ইহরাম বাঁধার নিয়ম : হজ ও ওমরাহর আমলগুলোর মধ্যে সর্বপ্রথম আমল হলো
ইহরাম বাঁধা। ইহরাম বাঁধার নিয়ম হলো-হজ অথবা ওমরাহর নিয়তে সেলাইকৃত কাপড়
খুলে সেলাই বিহীন দুটি চাদর পরিধান করে ‘তালবিয়াহ্’ পাঠ করা, শরীয়তের
পরিভাষায় একেই ‘ইহরাম’ বলা হয়।
ইহরাম বাঁধার উত্তম পদ্ধতি হলো-যখন ইহরাম বাঁধার ইচ্ছা করবে তখন প্রথমে
গোসল অথবা অজু করবে, নখ কাটবে, বগল ও নাভীর নিচের চুল পরিষ্কার করবে এবং
মাথা ও দাড়ি চিরুনি করে সর্ব বিষয়ে পরিচ্ছন্নতা অর্জন করবে।
ইহরামের জন্য দুটি নতুন অথবা ধোলাই করা পরিষ্কার চাদর হওয়া সুন্নত। একটি
চাদর দিয়ে লুঙ্গি বানাবে। অন্যটি দিয়ে চাদর বানাবে। ইহরামের কাপড় পরিধান
করার পর নামাজের মাকরুহ সময় না হলে মাথা ঢেকে দুই রাকাআত নফল নামাজ আদায়
করা মুস্তাহাব। নামাজ পড়ে মাথার কাপড় খুলে ফেলবে এবং যেই হজের ইচ্ছা করবে
মনে মনে সেই হজের নিয়ত করে ইহরামের ‘তালবিয়াহ্’ পাঠ করবে।
২. জিলহজ্ব মাসের ৯ তারিখ ফজরের পর থেকে সূর্যাস্ত যাওয়া পর্যন্ত আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করা।
৩. তাওয়াফে জিয়ারাত অর্থাৎ মক্কা শরীফ পৌঁছার পর সর্ব প্রথম কাজটি হলো
চারবার কাবা গৃহটি প্রদক্ষিণ করা আবার হজ্বের কাজ শেষ করে বাড়িতে ফিরার সময়
সর্বশেষ কাজ হলো তিনবার কাবা গৃহ প্রদক্ষিণ করে রওনা হওয়া।
হজের ওয়াজিব কাজ সাতটি-
১. সাফা ও মারওয়া উভয় পাহাড় সাত বার প্রদক্ষিণ করা।
২. মুজদালিফায় রাত যাপন করা।
৩. মিনায় তিনটি জামরাতে তিনদিনে প্রত্যেক জামরাতে ৭টি করে ৪৯টি পাথর শয়তানের উদ্দেশে নিক্ষেপ করা।
৪. মিনার ময়দানে কোরবানি করা।
৫. মাথা মুণ্ডন করা।
৬. ফরজ তাওয়াফ শেষে ৩ চক্কর দেয়া।
৭. বিদায়ী তাওয়াফ করা।
প্রথম দিনের করণীয় কাজঃ (৮ই যিলহাজ্জ)
১. যিনি মক্কা মুকাররামাহ ও তার আশেপাশের স্থান থেকে আগমন করবেন তিনি
নিজ অবস্থান থেকে হজের জন্যে ইহরাম বাঁধবেন, গোসল করে সুগন্ধী ব্যবহার
করবেন এবং ইহরামের পোশাক পরিধান করবেন। এরপর হজের নিয়তে এ তালবিয়া পাঠ
করবেনঃ লাইব্বাইকা হাজ্জান, লাইব্বাইকা আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা
শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হামদা ওয়ান নি’ মাতা লাকাওয়াল মুলক লা
শারিকা লাক (আমি হজের জন্যে হাজির, হে আল্লাহ! আমি হাজির-আমি হাজির, আপনার
কোনো শরীক নেই, আমি হাজির, নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা ও নিয়ামত আপনারই, আর সকল
বাদশাহী আপনার, আপনার কোনো শরীক নেই)।
০২. মিনা অভিমুখে রওয়ানা করবেন এবং মিনায় গমন করে যিলহাজ্জ মাসের নয়
তারিখ ভোরে সূর্যোদয় পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করবেন। মিনাতে আট তারিখ যোহর,
আসর, মাগরীব ও ইশার নামাজ, এবং নয় তারিখ ফজরের নামাজ যথাসময়ে আদায় করবেন
এবং চার রাকআত বিশিষ্ট নামাজ কসর করে আদায় করবেন।
দ্বিতীয় দিনের করণীয় কাজঃ (৯ ইযিলহাজ্জ)
১. সূর্যোদয়ের পরে আরাফাতের ময়দানের অভিমুখে রওয়ানা করবেন। আরাফাতের
ময়দানে যোহরের সময় ও আসর নামাজ একত্রে কসর করে আদায় করবেন এবং মধ্যাহ্নের
পূর্বে (পৌঁছা)সম্ভব পর হলে মসজিদে নামিরায় যাবেন।
২. নামাযের পর হাত উঠিয়ে কিবলামুখী হয়ে সূর্যাস্ত পর্যন্ত দোয়া ও যিকির করবেন।
৩. সূর্যাস্তের পর মুযদালিফা অভিমুখে রুওয়ানা করবেন, ওখানে পৌঁছার পর
ইশার সময় মাগরীব ও ইশার নামাজ আদায় করবেন। কিন্তু ইশা কসর করে দু’ রাকাআত
নামাজ আদায় করবেন এবং মুযদালিফায় ফজর পর্যন্ত রাত্রি যাপন করবেন।
৪. ফজরের ওয়াক্ত হলে ফজরের নামাজ আদায় করবেন, অতঃপর আলো উদ্ভাসিত হওয়া পর্যন্ত দোয়া ও যিকির করবেন।
৫. সূর্যোদয়ের পূর্বে মিনা অভিমুখে রওয়ানা হবেন।
তৃতীয় দিনের করণীয় কাজঃ (১০ই যিলহাজ্জ ঈদের দিন)
যখন মিনায় পৌঁছাবেন, জামারা আকাবায় যাবেন এবং তাতে পর্যায়ক্রমে
সাতটি কঙ্কর নিক্ষেপ করবেন, একটির পর অন্যটি এবং প্রত্যেক কঙ্কর নিক্ষেপের
সময় তাকবীর বলবেন।
২. যদি সাথে হাদী (কোরবানীর পশু) থাকে তাহলে তা যবাই করবেন।
৩. মাথা মুণ্ডন করবেন অথবা চুল খাটো করবেন এবং এর মাধ্যমে প্রাথমিক
হালাল হবেন। অর্থাৎ ইহরামের কাপড় খুলে তার সাধারণ পোশাক পরিধান করবেন এবং
সুগন্ধী ব্যবহার করবেন।আর তার জন্য স্ত্রী সহবাস ব্যতীত ইহরাম অবস্থায়
নিষিদ্ধ সমস্ত কাজ হালাল হয়ে যাবে।
৪. মক্কায় গিয়ে কা’বা শরীফে “তাওয়াফে ইফাদ্বাহ” করবেন। আর এটাই হচ্ছে
হজ্জের (ফরয) তাওয়াফ। অতঃপর তামাত্তু হজকারী সাফামা এওয়াহতে হজের সা’য়ী
করবেন। অনুরূপ যদি তামাত্তু হজকারী না হয়ে থাকেন কিন্তু তাওয়াফুল ক্বুদুমের
পরসা ’ইয়ো করেন নি, তাহলে এখন সা’য়ী করবেন। আর এভাবে দ্বিতীয় বার হালাল
হবেন এবং স্ত্রী সহবাসসহ ইহরাম অবস্থায় নিষিদ্ধ সমস্ত কাজ হালাল হয়ে যাবে।
৫. মিনায় ফিরে আসবেন এবং সেখানে (যিলহাজ্জ মাসের) একাদশ রাত যাপন করবেন।
চতুর্থ দিনের করণীয় কাজঃ (১১ই যিলহাজ্জ)
১. তিনটি জামারায় গিয়ে কংকর নিক্ষেপ করবেন। শুরুতে প্রথম জামারাতে,
তারপর মধ্যবর্তী তারপর জামারা আকাবাতে (বড়টি)। প্রত্যেকটিতে সাতটি করে
একটির পর আরেকটি কংকর নিক্ষেপ করবেন। প্রত্যেক কঙ্কর নিক্ষেপের সময় তাকবীর
বলবেন। এ দিনের কংকর নিক্ষেপ করতে হবে মধ্যাহ্নের পর।
মধ্যাহ্নের পূর্বে নিক্ষেপ জায়েয নয়, এবং প্রথম জামারায় ও মধ্যবর্তী
জামারায় কংকরে নিক্ষেপের পর দোয়া করার বিষয়টি বিশেষ ভাবে খেয়াল রাখবেন।
২. এগার তারিখ দিনগত অর্থাৎ (দ্বাদশ)রাত্রটি মিনায় যাপন করবেন।
পঞ্চম দিনের করণীয় কাজঃ (১২ই যিলহাজ্জ)
১. চতুর্থ দিনের নিয়মে তিন জামারাতে কংকর নিক্ষেপ করবেন।
২. এই তারিখে (আগে আগে) মিনা ত্যাগ করতে চাইলে সূর্যাস্তের পূর্বে মিনা
থেকে চলে আসবেন, আর দেরী করে আসতে চাইলে সেখানে রাত্রিযাপন করবেন।
ষষ্ঠ দিনের করণীয় কাজঃ (১৩ই যিলহাজ্জ)
বিশেষভাবে মিনা ছাড়তে যারা বিলম্ব করেছেন এই দিনটি তাদের জন্যে। এই দিনেঃ
১. তিন জামারাতে কংকর নিক্ষেপ করবেন যেভাবে পূর্বের দু’দিন করেছেন।
২. এরপর মিনা ছেড়ে চলে যাবেন।
হজের সর্বশেষ করণীয় কাজ হচ্ছে বিদায়ী তাওয়াজ করা। আর আল্লাহই সবচেয়ে অধিক জ্ঞাত।
হজের গুরুত্ব এবং ফযীলত
আল্লাহর নির্দেশ পালন: হজ একটি অন্যতম ফরজ ইবাদাত। হজ পালনের মাধ্যমে
আল্লাহর নির্দেশ পালন হয়ে থাকে। আল্লাহ তায়ালা সামর্থবান মুসলিমের উপর হজ
ফরজ করেছেন। কুরআনে এসেছে, ‘এবং সামর্থ্যবান মানুষের উপর আল্লাহর জন্য
বায়তুল্লাহর হজ করা ফরয। আর যে কুফরী করে, তবে আল্লাহ তো নিশ্চয় সৃষ্টিকুল
থেকে অমুখাপেক্ষী’।(সূরাআলে ইমরান-৯৭)
যিকরুল্লাহ প্রতিষ্ঠা : হজ এমন একটি ইবাদাত যার প্রত্যেকটি কাজে আল্লাহর
যিকর করা হয়। তাওয়াফ, সাঈ, রমঈলজিমার (পাথরনিক্ষেপ),মিনা, মুযদালিফাহ,
আরাফাহসহ প্রত্যেকটি নির্দেশনায় আল্লাহর যিকরে ধ্বনিত, প্রতিধ্বনিত হচ্ছে।
আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘তারপর যখন তোমরা তোমাদের হজের কাজসমূহ শেষ করবে,
তখন আল্লাহকে স্মরণ কর, যেভাবে তোমরা স্মরণ করতে তোমাদের বাপ-দাদাদেরকে,
এমনকি তার চেয়ে অধিক স্মরণ। আর মানুষের মধ্যে এমনও আছে যে বলে, হে আমাদের
রব, আমাদেরকে দুনিয়াতেই দিয়ে দিন। বস্তত আখিরাতে তার জন্য কোনো অংশ
নেই।(সূরা আল বাকারাহ-২০০)।
হজ জাহান্নামের আগুন থেকে পরিত্রান দান করে। মহানবী (সঃ) বলেন; মহান
আল্লাহ আরাফাতের দিন যত মানুষকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দান করেন অন্য কোনো
দিনে এত লোককে মুক্তি দেন না।(মুসলিম)
হজ পালনকারী সদ্যজাত শিশুর মতো নিষ্পাপ হয়ে যায়:
হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, আমি রাসূল (সঃ) কে বলতে শুনেছি; যে
ব্যক্তি হজ করে এবং হজকালে যৌন সংযম ও কোনো পাপাচারী কাজে লিপ্ত হয় না, সেই
ব্যক্তি সদ্য মাতৃগর্ভ থেকে ভূমিষ্ট শিশুর মত নিষ্পাপ হয়ে বাড়ি ফিরে যায়।
(বুখারী ও মুসলিম)।
এক হাদীসে এসেছে, ‘তোমরা পর-পর হজ ও উমরা আদায় করো। কেননা তা দারিদ্র্য ও
পাপকে সরিয়ে দেয়। যেমন সরিয়ে দেয় কামারের হাপর লোহা-স্বর্ণ-রুপার ময়লাকে।
আর হজে মাবরুরের প্রতিদান তো জান্নাত ভিন্ন অন্য কিছু নয়। (সহিহ নাসায়ী)
হজ্জের এক মাত্র প্রতিদান জান্নাত:
হজের বিনিময় জান্নাত ছাড়া আর কিছুই হতে পারে না। হযরত আবু হুরায়রা থেকে
বর্ণিত; মহানবী(সঃ)বলেন, এক উমরাহ হতে অন্য উমরাহ পর্যন্ত সময় গুনাহের
কাফ্ফারা হয়। হজের একমাত্র প্রতিদান হল জান্নাত। (বুখারী ও মুসলিম)
বিধর্মী হওয়া থেকে মুক্তিঃ
যাদের উপর হজ ফরজ হওয়ার পর হজ না করে মৃত্যুবরণ করবে তাদের ব্যাপারে কঠোর হুশিয়ারী দেওয়া হয়েছে।
রাসূল(সাঃ) বলেন, ‘যার উপর হজ ফরজ হল অথচ সে যদি হজ না করে মৃত্যুবরণ
করে তাহলে সে কি ইয়াহূদী হয়ে মরল নাকি খ্রিষ্টান হয়ে মরল তাতে আমার কিছু
যায় আসে না।’
উত্তম নেক আমলঃ
যারা সঠিকভাবে হজ সম্পাদন করবে তারা ইসলামের একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ করার সৌভাগ্য অর্জন করবে।
রাসূল (সাঃ)বলেন, ‘উত্তম আমল কি এই মর্মে রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-কে জিজ্ঞাসা
করা হল। উত্তরে তিনি বললেন, ‘আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান। বলা হল,
‘তারপর কী?’ তিনি বললেন, আল্লাহর পথে জিহাদ। বলা হল তারপর কোনটি? তিনি
বললেন, মাবরুর হজ । (বুখারী)
একদা রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-কে প্রশ্ন করে আয়েশা (রাঃ) বলেন, ‘ইয়া
রাসূলাল্লাহ! আমরা কি আপনাদের সাথে জিহাদে ও অভিযানে যাব না? তিনি বললেন,
‘তোমাদের জন্য উত্তম ও সুন্দরতম জিহাদ হল ‘হজ ’, তথা মাবরুর হজ ।” (বুখারী)
আল্লাহর উদ্দেশ্য পূর্ণঃ
আল্লাহ পাক মানুষকে এই উদ্দেশ্যে সৃষ্টি করেছেন যে, তারা কেবলমাত্র এক
আল্লাহর ইবাদত করবে। যারা হজ করবে তাদের সেই উদ্দেশ্য পূর্ণ হবে।
মুহাম্মদ (সাঃ) এর সাথে সাক্ষাৎ লাভঃ
যারা হজ পালন করবে তারা আমাদের প্রিয়নবী মুহাম্মদ (সাঃ) এর সাথে সাক্ষাৎ
করার সৌভাগ্য অর্জন করবে। এই ব্যাপারে মুহাম্মদ(সাঃ) বলেন, ‘আমার মৃত্যর
পর যে হজ করল আর আমার কবর যিয়ারত করল সে যেন আমার সাথে জীবিত অবস্থায়
সাক্ষাৎ করল।’
আল্লাহর নৈকট্য লাভঃ
হজ ব্রত অবস্থায় আল্লাহর একজন প্রিয়বান্দা বিভিন্ন ধরনের আমল পালন করে।
আল্লাহর যিকির করে থাকে। কাবা শরীফ প্রদক্ষিণ করে থাকে। এসকল আমলের মধ্য
দিয়ে একজন বান্দা অতি সহজে আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করতে পারে।
চারিত্রিক বিশুদ্বতাঃ
হজব্রত অবস্থায় মানুষ সহজে তার চারিত্রিক বিশুদ্ধতা অর্জন করতে পারে।
কারণ হজ অবস্থায় ঝগড়া করা, হাঙ্গামা সৃষ্টি করা, গীবত করা, হিংসা করা,
কৃপণতা প্রদর্শন করা, অপচয় করা সম্পূর্ণরুপে নিষিদ্ব।
তাই হাজীগণ এই সময় এসকল খারাপ কাজ থেকে নিজেদের বিরত রাখার জন্য চেষ্টা করেন এবং এর দ্বারা সে তার চরিত্রকে পূত-পবিত্র করতে পারে।
সামগ্রিক ইবাদত পালনঃ
নামাজ এবং সাওম হল কেবল দৈহিক ইবাদত আর যাকাত হল আর্থিক ইবাদত। আর হজ
এমন একটি ইবাদত যা কিনা দৈহিক এবং আর্থিক উভয় ইবাদতের সমন্বয়ে সাধিত হয়।
তাই রাসূল (সাঃ) বলেন, “উত্তম জিহাদ হল হজ ”।
আখিরাতের কথা স্মরণঃ
হজের প্রত্যেকটি কাজ মানুষকে আখিরাতের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। ১. এহরামের
কাপড় গায়ে জড়িয়ে আত্মীয়-স্বজন ছেড়ে হজের সফরে রওয়ানা হওয়া কাফন পরে
আত্মীয়-স্বজন ছেড়ে আখেরাতের পথে রওয়ানা হওয়াকে স্মরণ করিয়ে দেয়।
হজের সফরে পাথেয় সঙ্গে নেয়া আখেরাতের সফরে পাথেয় সঙ্গে নেয়ার
প্রয়োজনয়ীতাকে স্মরণ করিয়ে দেয়। এহরাম পরিধান করে পুত-পবিত্র হয়ে আল্লাহর
দরবারে হাজিরা দেয়ার জন্য ‘লাব্বাইক’ বলাসমস্ত গুনাহ-পাপ থেকে পবিত্র হয়ে
পরকালে আল্লাহর কাছে হাজিরা দেয়ার প্রয়োজনীয়তাকে স্মরণ করিয়ে দেয়। আরো
স্মরণ করিয়ে দেয় যে এহরামের কাপড়ের মতো স্বচ্ছ-সাদা হৃদয় নিয়েই আল্লাহর
দরবারে যেতে হবে।
বদলী হজ
যে সকল মুসলিম নর-নারীর উপর হজ ফরজ ছিল, তাদের মধ্যে যদি কেউ মৃত্যুবরণ
করে অথবা জীবিত কিন্তু শারিরীক দুর্বলতা ও অসুস্থতা ও অমতার কারণে হজ করতে
অপারগ হয়, তাহলে অন্য কাউকে দিয়ে বিশেষ করে বিজ্ঞ আলেম বা হজে পারদর্শী
ব্যক্তি দ্বারা তার বদলী হজ করাতে পারবে। অর্থাৎ যার জন্য বদলী হজ করা হবে
তারই নামে ইহরাম পরিধান ও নিয়্যাত করে অন্য একজন হজ আদায় করতে পারবে।