‘আমি সারাজীবনই মুসলামন ছিলাম, তবে বুঝতে পারি নি’ ৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯,
জনপ্রিয় আইরিশ সংগীত শিল্পী সিনেড ও’কনর বলেছেন, ‘আমি সারাজীবন ধরেই একজন মুসলমান ছিলাম, তবে আগে কখনও উপলব্ধি করতে পারি নি।’ শুক্রবার রাতে একটি আইরিশ টিভি চ্যানেলে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এই কথা বলেন। প্রায় একবছর আগে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন ও’কনর। সাক্ষাৎকারে তিনি প্রথমবার পবিত্র কুরআন শরীফ পড়ার অনুভূতি পরবর্তীতে মুসলমান হওয়ার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন। লেট লেট শো নামের এক অনুষ্ঠানে দেয়া সাক্ষাৎকারে ও’কনর বলেন, ‘আপনি যদি পবিত্র কোরআন পড়েন তাহলে বুঝতে পারবেন যে, আপনি সারা জীবনই মুসলমান ছিলেন কিন্তু এটি কখনো উপলব্ধি করতে পারেন নি। আমার সাথেও এমনটি ঘটেছে।’ তিনি বলেন, ‘আমার বয়স ৫২ বছর। আমি যে আয়ারল্যান্ডে বেড়ে উঠেছি তা এখনকার তুলনায় আলাদা ছিল। ধর্মীয়ভাবে বলতে গেলে তখন এটি একটি বাজে দেশ ছিল। সবাই ছিল হতভাগ্য, কারণ কেউ ইশ্বরের বিশ্বাসে শান্তি পাচ্ছিল না।’ আইরিশদের জীবন নিয়ে গান গেয়ে দীর্ঘ সময় শ্রোতাদের মুগ্ধ করে রাখা এই গায়িকা জানান, তিনি ছোটবেলা থেকেই বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থ পড়েছেন এবং পরে ইশ্বর সম্পর্কে জানতে আরো সত্যের সন্ধান করেছেন। ইসলাম গ্রহণ করতে তিনি এতো দেরি করেছেন কারণ, এই ধর্ম সম্পর্কে তার মনে কিছু কুসংস্কার ছিল। অনুষ্ঠানটির উপস্থাপক রায়ান টুব্রিডি এই গায়িকার কাছে জানতে চেয়েছিলেন, তিনি ৫২ বছর বয়সে তিনি জীবন উপভোগ করছেন কিনা। উত্তরে ও’কনর জানান, তিনি এখন ১৭ বছরের বয়সের মতো অনুভব করছেন। তিনি বলেন, ‘আমার বার্ধক্যের অভিজ্ঞতা হল, আমার শরীরের বয়স বাড়ার সাথে সাথে আমার মনের বয়স আরো কম হচ্ছে।’ উল্লেখ্য, ১৯৯০ সালে ‘নাথিং কমপেয়্যার টু ইউ’ গানটির মাধ্যমে তিনি বিশ্বজোড়া খ্যাতি অর্জন করেন। তার অসংখ্য গানের অ্যালবাম প্রকাশ হয়েছে এবং আয়ারল্যান্ডের সবচেয়ে জনপ্রিয় শিল্পীদের মধ্যে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছেন। চলতি মাসের শেষ দিকে কো টিপ্পেরিতে ফেইল’১৯ শোতে পারফর্ম করতে চলেছেন। সূত্র: আইরিশ টাইমস।
উসমানি খিলাফায় বিয়ের কিছু চমৎকার আইন ছিল। . (এক) ঐচ্ছিক বিয়ের বয়েস শুরু হতো আঠার থেকে। শেষ হতো পঁচিশে। এর মধ্যে বিয়ে না করলে, তাকে বাধ্য করে বিয়ে করানো হতো। . (দুই) যদি কেউ অসুস্থতার অজুহাত দেখাতো, তদন্ত করে দেখা হতো, বক্তব্যটা সঠিক কি না। রোগটা নিরাময়যোগ্য হলে, সুস্থ্য হওয়া পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় চাপ স্থগিত রাখা হতো। আর দুরারোগ্য ব্যধি হলে, রাষ্ট্রের পক্ষ থেকেই বিয়ে করতে বাধা দেয়া হতো। . (তিন) পঁচিশ হয়ে যাওয়ার পরও যদি কেউ বিনা কারণে বিয়ে না করে থাকতো, তার আয়/ব্যবসা বা সম্পদের এক চতুর্থাংশ কেটে রাখা হতো। জব্দকৃত অর্থ নিয়ে বিবাহোচ্ছুক গরীবদের বিয়ের বন্দোবস্ত করা হতো। . (চার) পঁচিশের পরও বিয়ে না করলে, তাকে রাষ্ট্রীয় কোনও চাকুরিতে নেয়া হতো না। কোনও সংগঠনেও ভুক্তি দেয়া হতো না। আর চাকুরিতে থাকলে, ইস্তেফা দেয়া হতো। . (পাঁচ) কোনও ব্যক্তির বয়েস যদি পঞ্চাশ হয়ে যায়, ঘরে বিবি থাকে একটা, কিন্তু তার আর্থিক সংগতি ভালো, তখন তাকে সামাজিক কোন কাজে অর্থ দিয়ে অংশগ্রহণ করতে বলা হতো। গ্রহণযোগ্য কোনও কারণ দেখিয়ে অপারগতা প্রকাশ করলে, সামর্থ্য অনুসারে অন্তত এক থেকে তিনজন এতীমের ভরণপোষণের দায়িত্ব নিয়ে বাধ্য করা হতো। . (ছয়) আঠার থেকে পঁচিশের মধ্যে যদি কোনও গরীব যুবা বিয়ে করতো, তাকে হুকুমতের পক্ষ থেকে ১৫৯ থেকে শুরু করে ৩০০ দুনমা পরিমাণের জমির বন্দোবস্তি দেয়া হতো। চেষ্টা করা হতো জমিটা যেন তার বাড়ির কাছাকাছি কোথাও হয়। এক দুনমা সমান: ৯০০ মিটার। . (সাত) গরীব বর যদি কারিগর বা ব্যবসায়ী হয়, তাকে পূঁজিপাট্টা দেয়া হতো। কোনও বিনিময় ছাড়াই। তিন বছর মেয়াদে। . (আট) ছেলে বিয়ে করার পর, বাবা মায়ের সেবা করার জন্যে আর কোনও ভাই না থাকলে, বরকে বাধ্যতামূলক সেনাকার্যক্রম থেকে রেহাই দেয়া হতো। তদ্রƒপ মেয়ের বিয়ের যদি বাবা মায়ের সেবার জন্যে ঘরে কেউ না থাকে, মেয়ের জামাইকেও বাধ্যতামূলক সেনা কার্যক্রম থেকে রেহাই দেয়া হতো। . (নয়) পঁচিশের আগেই বিয়ে করে তিনসন্তানের বাবা হলে, নৈশস্কুলে বিনামূল্যে তাদের লেখাপড়ার ব্যবস্থা করে দেয়া হতো। সন্তান তিনজনের বেশি হলে, তিনজনের লেখাপড়ার ব্যবস্থা বিনামূল্যে করা হতো। বাকী সন্তানদের জন্যে দশ টাকা করে বরাদ্দ করা হতো। তের বছর বয়েস হওয়া পর্যন্ত। . কোনও মহিলার ঘরে চার বা তার চেয়ে বেশি ছেলে সন্তান থাকতো, তাকে মাথাপিছু ২০ টাকা করে বরাদ্দ দেয়া হতো। . (দশ) কোন ছাত্র লেখাপড়ার কাজে ব্যস্ত থাকলে, লেখাপড়া শেষ হওয়া পর্যন্ত বিয়ে স্থগিত রাখার অনুমতি দেয়া হতো। . (এগার) কোনও কারণে স্বামীকে অন্য এলাকায় থাকতে হলে, বাধ্য করা হতো সাথে করে স্ত্রীকেও নিয়ে যেতে! যুক্তিসঙ্গত কোনও কারণে স্ত্রীকে সাথে নিতে না পারলে, স্বামীর যদি আরেক বিয়ে করার সামর্থ থাকতো, তাকে কর্মস্থলে আরেক বিয়ে করতে বাধ্য করা হতো। তারপর চাকুরি শেষে নিজের এলাকায় ফিরলে, দুই স্ত্রীকেই সমান অধিকারে রাখতে বাধ্য করা হতো। . বর্তমানের প্রেক্ষাপটে আইনগুলো হয়তো বেখাপ্পা শোনাবে, কিন্তু সমাজে প্রচলিত সব ধরনের অনাচার রোধে, আইনগুলো বেশ কার্যকর বলেই মনে হয়।
#গাজীপুরের_ঐতিহ্যঃ দেশের অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক উদ্যান হল গাজীপুর জেলার ‘#ভাওয়াল_জাতীয়_উদ্যান’
দেশের অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় উদ্যান ‘ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান’।
ঢাকা থেকে প্রায় চল্লিশ কিলোমিটার দূরে এই উদ্যানের অবস্থান। গাজীপুর জেলার
সদর ও শ্রীপুর উপজেলায় এ উদ্যানের বিস্তৃত।
পৃথিবীর অন্যান্য জাতীয়
উদ্যানের আদলে ৫০২২ হেক্টর জমিতে ১৯৭৩-৭৪ সালে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন
(১৯৭৪) অনুযায়ী এই উদ্যান সরকারিভাবে গড়ে তোলা হয়। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে
জাতীয় উদ্যান হিসেবে ঘোষণা করা হয় ১৯৮২ সালে।
ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানে একসময় বাঘ, কালোচিতা, চিতাবাঘ, মেঘলা চিতা, হাতি,
ময়ূর, মায়া হরিণ ও সম্বর হরিণ দেখা যেত। ১৯৮৫ সালে এ বনে খেঁকশিয়াল,
বাঘডাস, বেজী, কাঠবিড়ালী, গুঁইসাপ আর কয়েক প্রজাতির সাপ দেখা গেছে। একটি
হিসাব অনুযায়ী, ভাওয়াল গড়ে ৬৪ প্রজাতির প্রাণী রয়েছে যার মধ্যে ৬
প্রজাতির স্তন্যপায়ী, ৯ প্রজাতির সরীসৃপ, ১০ প্রজাতির উভচর ও ৩৯ প্রজাতির
পাখি রয়েছে। বনবিভাগ এ বনে অজগর, ময়ূর, হরিণ ও মেছোবাঘ ছেড়েছে। এছাড়া
২০১২ সালে ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানে ১৬টি তক্ষক ছাড়া হয়।
ভাওয়াল
জাতীয় উদ্যান মূলত ক্রান্তীয় পতনশীল পত্রযুক্ত বৃক্ষের বনভূমি। ২২১
প্রজাতির উদ্ভিদ রয়েছে এই বনে; যার মধ্যে ২৪ প্রজাতির লতা, ২৭ প্রজাতির
তৃণ, ৩ প্রজাতির পামজাতীয় বৃক্ষ, ১০৫ প্রজাতির ঔষধি, ১৯ প্রজাতির গুল্ম,
৪৩ প্রজাতির বৃক্ষ। এই উদ্যানের মূল বৃক্ষ শাল (Shorea robusta)। অন্যান্য
বৃক্ষের মধ্যে কাঁঠাল, আজুলি, কুম্ভী, গান্ধী গজারি ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।
এছাড়া এ বনে কৃত্রিমভাবে ইউক্যালিপটাস আর রাবারের বনায়ন করা হয়েছে।
ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান বাংলাদেশের আকর্ষণীয় একটি পর্যটন কেন্দ্রও। এখানে
বেশ কয়েকটি পিকনিক স্পট রয়েছে। স্পটগুলোর হলো: আনন্দ, কাঞ্চন, সোনালু,
অবকাশ, অবসর, বিনোদন। এখানকার কটেজগুলো হলো: বকুল, মালঞ্চ, মাধবি, চামেলী,
বেলী, জুঁই ইত্যাদি। এখানে ১৩টি কটেজ ও ৬টি রেস্টহাউজ রয়েছে। রাত্রি
যাপনের জন্য এখানে অনুমতি দেওয়া হয় না। পিকনিক স্পট কিংবা রেস্ট হাউস
ব্যবহার করতে হলে বন বিভাগের মহাখালী কার্যালয় থেকে আগাম বুকিং দিতে হয়।
নির্ধারিত প্রবেশ মূল্য দিয়ে ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানে ঢুকতে হয়। এছাড়া গাড়ি
নিয়ে ভেতরে প্রবেশ করলে নির্দিষ্ট হারে মূল্য পরিশোধ করতে হয়। ভাওয়াল
জাতীয় উদ্যান প্রতিদিন সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত খোলা থাকে। ভ্রমণের
সময়ে উদ্যানের ভেতরে মাইক কিংবা উচ্চ শব্দ তৈরি করা কোনো যন্ত্র বাজানো
নিষেধ। এছাড়া বন্যপ্রাণীরা বিরক্ত হয় এমন কোনো আচরণ করাও নিষেধ।
বনের ভেতরে পাখি শিকার কিংবা লেকে মাছ ধরা দণ্ডনীয় অপরাধ। বনের ভেতরে কিছু এলাকা বেশ নির্জন। এসব জায়গায় যাওয়া বিপজ্জনক। ইদানিং ওসব স্থানে দেদারসে দেহ ব্যবসা চলে । আর ছিনতাইকারীরতো অভাব ই নেই ।
কিভাবে যেতে হবেঃ
ঢাকা থেকে ময়মনসিংহগামী যে কোনো বাসে চড়ে ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানের গেটের
সামনেই নামা যায়। এছাড়া ঢাকার গুলিস্তান থেকে প্রভাতী বনশ্রী পরিবহনসহ বেশ
কয়েকটি বাস চলে এই পথে। আর নিজস্ব বাহনে গেলে জয়দেবপুর চৌরাস্তা ছাড়িয়ে
ময়মনসিংহের দিকে কিছু দূর এগিয়ে গেলে হাতের ডানে পড়বে এর প্রধান প্রবেশপথ।
রাস্তায়
চলার পথে অনেক সময় কুকুরের উপদ্রব দেখা যায়। এই কুকুরের কামড়ে জলাতঙ্কের
মতো মরণ ব্যাধি রোগ হতে পারে। তাই কুকুর আপনার দিকে তেড়ে এলে কি করা উচিত,
তা অবশ্যই জেনে রাখা উচিত।
কুকুর তাড়া করলে বাঁচার জন্য ৮টি পথ অবলম্বন করুন:
১। ভয় পাবেন না। অযথা আতঙ্কিত হবেন না। মানুষের ভয়-ভীতি কুকুর কিন্তু টের
পায়। কাজেই যথাসম্ভব নির্বিকার থাকুন। তাহলে কুকুরটিও ক্রমে আপনার প্রতি
আগ্রহ হারাবে।
২। একেবারেই দৌড়ানোর চেষ্টা করবেন না। কেননা তাতে
কুকুরটি আরও উত্তেজিত হবে। গতিশীল বস্তু দেখলে কুকুরের আক্রমণের প্রবণতা
বাড়ে। তা ছাড়া আপনি উসেইন বোল্ট না হলে দৌড়ে কুকুরটির সঙ্গে পেরে ওঠার
চান্সও কম! কুকুর তাড়া করলে ছুটবেন না।
৩। হাঁটার গতি কমিয়ে দিন। দরকারে একদম থেমে যান। কুকুরটি শান্ত হলে ফের ধীরে ধীরে আগান।
৪। মুখোমুখি নয়, কুকুরের দিকে পাশ ফিরে দাঁড়ান। তাতে কুকুরটির দৃষ্টিতে
আপনাকে পাতলা লাগবে। কুকুরটির মনে আপনাকে নিয়ে ভয় তৈরি হবে কম।
৫। কুকুরটির সঙ্গে সরাসরি চোখাচোখি করবেন না। আড়চোখে দেখুন। নইলে কুকুরটি আরও হিংস্র হয়ে উঠতে পারে।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যখন ছাত্র-ছাত্রীরা লেখাপড়া সমাপন করে, তখন
সমাবর্তন অনুষ্ঠানে মাথায় চারকোণাবিশিষ্ঠ ছাতাওয়ালা একটি টুপি পরে। গায়ে
জুব্বার মতো ঢিলেঢালা গাউন পরে। এগুলো পশ্চিমা অনুকরণ। শিক্ষার ক্ষেত্রে
যেহেতু মুসলিম দেশগুলো পাশ্চাত্যরীতি অনুসরণ করে, সেহেতু মুসলিম দেশেও
সমাবর্তন অনুষ্ঠানে এভাবে টুপি ও গাউন পরার প্রচলন ঘটে গেছে। পশ্চিমারা তো
এককভাবে দাবি করে, এই রীতি তাদের খ্রিষ্টধর্মের সভ্যতার সাথে জড়িত।
প্রাচীনকালে ক্যাথলিক যাজকরা এই ধরণের টুপি ও আলখাল্লা পরতেন।
কিন্তু বিষয়টা কি আসলে তা-ই?! না, বিষয়টা আসলে তা নয়। এটিকে একতরফাভাবে
পশ্চিমা সভ্যতা বললে চলবে না। এই সভ্যতার ইতিহাস একটি মতানৈক্যপূর্ণ
ইতিহাস। ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, এই টুপি ও গাউন পরার ইতিহাস মুসলিমসভ্যতার
সাথে জড়িত। স্বয়ং পশ্চিমা ঐতিহাসিকদের কলমেও এর তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়। এর
প্রচলন ঘটেছে আন্দালুসে। আজ থেকে শত শত বছর পূর্বে। কিন্তু কীভাবে? তাহলে
জানুন–
যখন ইউরোপ ছিল অজ্ঞতার অতল সমুদ্রে নিমজ্জিত, তখন আন্দালুস
ছিল শিক্ষা ও সভ্যতার স্বর্গরাজ্য। টলেডো, সেভিল ও গ্রানাডার বিদ্যালয়গুলো
ছিল জ্ঞানের আলোকবর্তিকা। কুরআন-সুন্নাহর বিদ্যাধরদের পাশাপাশি চিকিৎসা,
রসায়ন, জ্যামিতি, ফিলোসফি, পদার্থ ও অন্যান্য আধুনিক শিক্ষার জ্ঞানতাপসদের
তীর্থস্থান ছিল আন্দালুস। তদুপরি আন্দালুসের ঘরে ঘরে ছিল শিক্ষিতা নারী।
এজন্য স্বয়ং ইউরোপের সম্রাটরা তাদের শাহজাদা-শাহজাদিদের প্রেরণ করত
আন্দালুসে। ইউরোপ থেকে দলে দলে শিক্ষার্থীরা আগমন করত আন্দালুসে। একসময়
তাদের ভাষা মিশ্রিত হয়ে যেত! ইউরোপে ফিরে যেত ঢিলেঢালা আজানুলম্বিত পোশাক
পরে। আরব্য শিক্ষিত হওয়ার বেশধারণ করে। শুধু তাই নয়; কথায় কথায় তারা আরবি
বুলি আওড়াতো। শিক্ষার ঘ্রাণ শুঁকাতে!
আন্দালুসের মুসলিম পণ্ডিতরা
যখন স্বীয় ছাত্রদের শিক্ষাদান শেষ করতেন, তখন সমাবর্তন উনুষ্ঠানের আয়োজন
করতেন। এই অনুষ্ঠানে ছাত্রদের মাথায় চারকোণাবিশিষ্ট ছাতাওয়ালা টুপি পরিয়ে
দিতেন। যাতে সেখানে এককপি কুরআনুল কারিম রাখা যায়। ছাত্রদেরকে সুরা ইউসুফের
আল্লাহ তা’আলার সেই বাণী স্মরণ করিয়ে দিতে– {فوق كل ذي علم عليم}, অর্থাৎ
প্রত্যেক জ্ঞানীর ওপর মহাজ্ঞানী রয়েছেন।
ছাত্ররা সেই টুপির ওপর
এককপি কুরআন রাখত। আর বুঝত যে, তারা যতোই জ্ঞান হাসিল করুক না কেন; তাদের
ওপর স্বয়ং আল্লাহ মহাজ্ঞানী রয়েছেন। এছাড়াও সাথে তারা জ্ঞানের
সাক্ষ্যস্বরূপ একখানা শাহাদাহ বা সার্টিফিকেট লাভ করত। উস্তাদরা নিজ হাতে
লিখে এই শাহাদাহ দান করতেন।
উপরের তথ্যগুলোর সূত্র খুঁজে পাওয়া যায়
স্বয়ং পশ্চিমা ঐতিহাসিকদের লিখনীতে। প্রসিদ্ধ ঐতিহাসিক জ্যাক গোডি তাঁর
লিখিত বই ‘Islam In Europe’-এর মধ্যে বলেন, আজও পর্যন্ত আরবদের ইসলামি
পোশাক জ্ঞানগর্বমূলক মর্যাদায় অন্যতম প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়। বিশেষ করে
শিক্ষাবিষয়ক উপলক্ষগুলোতে। যেমন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বিতর্ক-অনুষ্ঠান এবং
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সমাবর্তন অনুষ্ঠানমালায়।
১৪৯২ সালে ক্যাথলিক
খ্রিষ্টানদের হাতে আন্দালুসের পতন ঘটে। উজাড় হয়ে যায় আমাদের এ বাগান।
কিন্তু আন্দালুসি সভ্যতা হারায়নি। বিভিন্ন দেশে, বিভিন্ন রুপে ও নানা ঢঙে
জীবিত আছে আজও। আন্দালুসের মুসলিম শিক্ষানবিসদের সমাবর্তনীয় এই রীতি
ক্যাথলিকরা পুরোপুরি গ্রহণ করে। এরপর তা গোটা ইউরোপে ছড়িয়ে পড়ে। ইউরোপ থেকে
পুরো বিশ্বে। এভাবেই আন্দালুসি মুসলিমদের প্রচলনকৃত এই সভ্যতা আজ এককভাবে
পশ্চিমাদের সভ্যতা হয়ে যায়!
আহ! আন্দালুস!! আমাদের হারানো ফিরদাউস!!! —— সূত্রাবলি: (১) المسلمون في الأندلس (আন্দালুসের ইতিহাস-গবেষক ড. মাহির মাহমুদ পরিচালিত ফেসবুক পেইজ) (২) الإسلام في أوروبا: ১৫৩, জ্যাক গোডি। (Islam In Europe-এর আরবি অনুবাদ) (৩) صفحة روايتي الثقافية (নির্ভরযোগ্য আরবি সাইট)
লিখার প্রথমেই ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি । কারণ এ লিখা অনেকের পছন্দ নাও হতে পারে । সময়ের অভাবে লিখা হয়না । আজ কছুটা সময় পেলাম ।যাইহোক—-
বলতে লজ্জা নেই যে আসলেই জাতি হিসেবে আমরা অলস ও বাকপটু এবং
পরচর্চাকারী।আমরা চামচামি আর চাকর হিসেবেই থাকতে বেশি পছন্দ করি।আমাদের
অহংকার বেশি তাই আজ আমাদের এই অবস্থা।এই দেশে মসজিদ কমিটি ও স্কুল কমিটি
তৈরী নিয়ে রাজনৈতিক মারামারি হয়, মন্ত্রী হস্তক্ষেপ করে মক্তব কিটিতে ।এ
দেশে স্কুলের ছাত্ররাও পড়াশোনা রেখে ছাত্র রাজনীতির নামে গ্যাং গঠন করে, এ
দেশে ব্যবসায় করতে গেলে চাঁদাবাজির মুখোমুখি হতে হয় কম বেশি সবাইকে,
রাজনীতি মানেই হলো এদেশে ক্ষমতার লড়াই,। এ দেশে সুন্দরী প্রতিযোগিতার নামে
নষ্টামিতে কোটি টাকার বিনিয়োগ হয় কিন্তু দেশীয় বিশ্ব বিদ্যালয়ের গবেষনায়
কোন বরাদ্দ নেই। এই দেশের ছেলেরা চায়নার বানানো রোবোটকে চায়নার ডিবাইস দিয়ে
মুডিফাই করে বানিয়ে পথে পথে ঘুরে। এ দেশের ছেলেরা ভূয়া সোফিয়া প্লাষ্টক
ডলদের পিছে কোটা টাকা খরচ করে ।,এ দেশে চীনের অগ্রগতির কথা বলে এমন কিছু
আশা করা শুধুই আকাশ কুসুম ভাবনা বলে অনকেই ধারণা করেন। আমাদের দেশে
গনতন্ত্র নাই আছে পরিবার তান্ত্রিক রাজনীতি, যতদিন পরিবার তন্ত্র চলবে
ততদিন এই দূর অবস্থা থাকবে ।বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে তো পরিবার তান্ত্রিক
রাজনৈতিক সরকার তার লাভের জন্যে জনগনের সুবিধায় নিজের রাজস্বে অর্থায়ন
করছে! তারা দেশের ছেলে/মেয়ে কি করলো লেখাপড়া করলো নাকি বেকার থাকলো তাতে
তার কোন কিচ্ছু আসে যায় না। লেখাপড়ায় নতুন নতুন বেহুদা সব ফালতু নিয়ম বের
করবে আর নাহীদ মিয়া বছর শেষে বলবে পাশের হার আগের তুলনায় অনেকাংশে বেশি !
নাহিদরা কেউ কখনো বলে না আজ দেশে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা কমছে। বেকারের এই
দেশে ঘূষে সব হয় । লেখাপড়ায় কিছুই হয়না । বাংলাদের মানুষ লেখা পড়া শেষ
করে চাকরী পায় না, বেকারের ভার বছর বছর বেড়েই চলছে।লেখা পড়া করে বেকার থাকা
বড় কষ্টকর , যারা লেখা পড়া শেষ করে বসে আছে তাহারা ক্ষেতে খামারে কাজ করে
না, করতেও পারে না। কারণ প্রেস্টিজ বলে কথা । আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো
সনদধারী বানায় কিন্তু কর্মঠ বানয়না । ইদানিং কিছু মূর্খসুলভ অদ্ভুত কথা
শুনছি বড় বড় নেতা নেত্রীর মুখে ।তারা আমাদেরকে সস্তায়
ইন্টারনেট,ফেসবুক,মেসেঞ্জার দিয়েছে এই জন্য যে ,এতেই না কি আমাদের তরুণ
তরুণীরা স্বাবলম্বী হবে ! কি তামাশামূলক কথা । অথচ দ্বিতীয় মাদক এই ইন্টারনেট। একটা ছাত্র দিনে যদি আট থেকে দশ ঘণ্টা মোবাইল নিয়ে বসে থাকে তবে সে ভবিষ্যতে সমাজকে কি দিবে?
পরিকল্পিত কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে যেমন সমস্যা রয়েছে
তেমন সমস্যা আমাদের মন মগজেও।উপযুক্ত ও প্রয়োজনীয় শিক্ষা পেলে কেউ কখনও
বেকার থাকেনা।শিক্ষা মানুষের দেহ মন ও আত্মার বিকাশে সহায়তা করে। কিন্তু
আমাদের শিক্ষা ও শিক্ষা ব্যবস্থার মধ্যেই গলদ।স্বার্থনীতি, স্বজনপ্রীতি, অপ
রাজনীতি, অসততা, ধর্মীয় কুপমন্ডুকতা , ধর্মীয় গোড়ামী যা আসলে কোন ধর্মই
নয় তা আমাদের শিক্ষাকে কুশিক্ষায় পরিণত করছে।ভিন্ন ভিন্ন ধারার শিক্ষা
পদ্ধতি ও ঐ সকল পদ্ধতিতে ফালতু সব উর্দূ ফার্সীর সমন্ময়ে সম্পূর্ণ বাজে
কিছু সিলেবাস শিক্ষার ১২টা বাজিয়েছে । উন্নতি করতে হলে এগুলোর পরিমাণ
উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করতে হবে।উন্নয়নের জন্য উন্নত মানসিকতার প্রয়োজন
যা আমাদের শিক্ষায় নেই।প্রকৃত কোরআন হাদীস দিয়ে ধর্মীয় শিক্ষা সংস্কার করা
জরুরী ।পীর ব্যবসাটা মাসিক ও জাতীয় উন্নতির প্রধান অন্তরায় ।মূর্খ পীরেরা
এদেশে শিক্ষকের ভূমিকা পালন করে পুরো জতিকে ধর্মীয় ও অর্থনৈতিক দিক দিয়ে
দেউলিয়া বানিয়েছে । তাছাড়া শিক্ষক নিয়োগে সবচেয়ে বেশি অনিয়ম যে দেশে
সেদেশের শিক্ষার্থীদের উপযুক্ত শিক্ষা ও নৈতিক শিক্ষা পাওয়ার সুযোগ
কোথায়? আমরা কোন কিছু বদলাতে পারিনি। বৃটিশরা এদেশ শাসন করেছে ১৯০
বছর। তারা নিজেরা এদেশে নীল/ চামড়া বা খাজনা আদাইয়ের ব্যবসা করেছে।তারা
শোষন করে বা চুরি করে এদেশ থেকে সব নিয়ে বৃটেন আজ ধনী রাষ্ট্র।অথচ ও দেশে
তিন মাসের খাদ্য শস্যও উৎপন্ন হয়না । তাছাড়া বৃটেনের আবহাওয়া অত্যন্ত খারাপ
। সেই বৃটিশরা এদেশের মানুষকে কৌশলে চাকর বানিয়েছে চাকুরী দিয়ে। আর
চাকুরীর পদগুলো ছিল মানুষকে শাসন করবার এক একটি দন্ড। মানুষ চাকরী করলেই
নির্ভেজাল লাইফ ফ্লো করা যায় এটা বৃটিশরা খুব ভালভাবে আমাদের মন মগজে
ঢুকিয়ে দিয়ে গেছে। ফলে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা ঠিক সেইভাবে চাকরীনির্ভর
ভাবে গড়ে উঠেছে।যাকে বলে কেরাণী তৈরীর শিক্ষা ব্যবস্থা।অথচ ভারী শিল্পগুলো
সব তাদের দেশে । বৃটিশদের তৈরী প্রশাসন ব্যবস্থায় কেউ রাজা আর কেউ প্রজা
হয়ে আমরা চলছি। এ প্রথা বিলুপ্তির কেউ চেষ্টা করে না বা পারে না। এখন যে
শিক্ষায়ই আমরা পেয়ে থাকি না কেন,টার্গেট থাকে চাকরি করা । চাকরী করাই
আমাদের মূল টার্গেট । ব্যাবসা বা উৎপাদন আমরা পছন্দ করিনা ।সমাজে কিছু লোক
থাকে যরা খোঁচাতে ভালবাসে।শিক্ষিত ছেলের বাবা মাকে সেই সব লোকেরা এসে বলে-
ছেলের তাহলে চাকরি বাকরি হলো না! বাবা মায়ের ও তখন মন খারাপ হয়ে যায়।কিচ্ছু
করার নাই ।এভাবেই চলছে । আমার দেশের লোক যদি পড়াশুনা করে চাকরি না পায়
তাহলে কাজও করতে লজ্জা । এই হলো শিক্ষিত লোকের অবস্তা । অথচ অস্ট্রেলিয়া
নিউজিল্যান্ড ও আমেরিকার মত দেশের উচ্চ শিক্ষিত লোকেরা গরু ছাগল মুরগী ভেড়া
পালন করে সারা দুনিয়া জুড়ে মাংস বেঁচে ধনী হচ্ছে । আর আমরা সার্টিফিকেতে
উম দিচ্ছি কবে তা ফুঁটে বাচ্চা মানে চাকরী বের হবে । তাছাড়া
গ্রাম-গঞ্জের কলেজে অনার্স মাষ্টার খুলে উচ্চ শিক্ষার ২৫টা বাজিয়েছে ।৭-৮
বছর অনার্স, মাষ্টার্স পড়ে দুটো নামেমাত্র সার্টিফিকেট ছাড়া আর কিছুই
অর্জিত হয় না। জীবন থেকে ঝরে যায় অনেক অনেক সময়, অপচয় হয় অর্থ, মেধা ও
শ্রমের। তার উপর বর্তমানে কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে কোন গবেষণা কর্ম হয়না।এসব
কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় শুধু বেকার বানানোর কারখানা নয়।বরং বলতে গেলে
শিক্ষক/ছাত্র অপরাজনীতির কারখানা বলাই শ্রেয়। এই সার্টিফিকেট নিয়ে না
পায় চাকুরী না করে অন্য কোন কাজ। হতাশা ও দুশ্চিন্তায় কেউ নেতা বনে যায় ।
কেউ নেশার তরী বায় আবার কেউ প্রেমে ডুবে যায় ।জীবন এলোমেলো হয়ে যায় । এসব শিক্ষিত বেকার দেশ, জাতি, সমাজ, ও পরিবারের বোঝা। আরো একটি শয়তানী চিন্তা প্রায় সকলের মনে কাজ করে । তা হলো সরকারি বা ভাল চাকরি না করলে মেয়ের বাপ মেয়ে দিবে না। বি সি এস না দিলে সমাজ তোমাকে দাম দিবে না।
তবে এখন কাজের কাজ হবে যদি একাদশ শ্রেণির পর শিক্ষা কার্যক্রম সংকুচিত করা
হয় কমপক্ষে ২০ বছরের জন্য । আর ট্রেড কোর্স গুলো সহজ লভ্য করা উচিত ।
চাকরীর(চাকরের) নীতি থেকে সরে ব্যবসা(মালিক) নীতি গ্রহন করা ও মানসিকতা
তৈরী করা উচিত। কেননা সকলের উচ্চ শিক্ষা অর্জনের প্রয়োজন নেই । তবে এটা
ঠিক যে সকলেরই একটা জিনিসের প্রয়োজন । আর তা হলো টাকা । আদর্শ জাতি তৈরীর
শর্ত হলো সুশিক্ষা । উচ্চ শিক্ষা নয় । চাকরীর বাজার না থাকা সত্ত্বেও উচ্চ
শিক্ষার অফুরন্ত দার উন্মূক্ত রাখলে আর কিছু না হলেও একটি উচ্চ শিক্ষিত
নাস্তিক সম্প্রদায় তৈরা হবে যারা নব নব তত্ত্ব দিয়ে সমাজ ও রাষ্ট্রে
বিশৃঙ্খলা তৈরী করবে । করণ অসল্য মস্তিস্ক শয়তানের কারখানা ।
চীন অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার জন্য প্রায় ১২ বছর তাদের দেশে
বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি কার্যক্রম বন্ধ রেখেছিলো। চীন সরকারের বক্তব্য ছিল- এত ছেলেমেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে কি করবে??? কোথায় চাকরি পাবে??? কেই বা চাকরী দিবে???
এত হাজার হাজার বেকারকে চাকরী দেয়ার মত প্রতিষ্ঠান চীনে নেই। এই সময়টায়
চীন ছাত্রছাত্রীদের আধুনিক প্রশিক্ষন দিয়েছিল নানা ধরণের ট্রেড কোর্সে।
স্বল্প মেয়াদী ট্রেড কোর্স শিখে চীনের ছেলেমেয়েরা স্বাবলম্বী হয়ে গেলো।
প্রতিটি বাড়ি গড়ে উঠল একটা করে ছোট ছোট কারখানায়।
পরিবারের সবাই সেখানে কাজ করে। বড় ফ্যাক্টরী করার আলাদা খরচ নেই। ফলে
পণ্যের উৎপাদন খরচ কমে গেলো। বর্তমানে যে কোন পণ্য স্বস্তায় উৎপাদন করার
সক্ষমতায় তাদের ধারে কাছে কেউ নেই। পৃথিবীর প্রতিটি অঞ্চলে চাইনিজ পণ্যের
প্রসার বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে তারা বিশ্ব বাণিজ্যের এক অপ্রতিরোধ্য পরাশক্তি।
উপযুক্ত মুল্য দিলে তারা এমন জিনিস বানিয়ে দেবে যার গ্যারান্টি আপনি চাইলে
১০০ বছরও দিতে পারবেন। বাংলাদেশে সিমফোনি, ওয়ালটনসহ বহু প্রতিষ্ঠান এই চায়নার বদৌলতেই কিছু করে খাচ্ছে।
অপর দিকে বাংলাদেশে প্রতিনিয়ত গড়ে উঠছে বেকার বানানোর কারখানা। এর
আধুনিক নাম বিশ্ববিদ্যালয়। প্রতি বছরই দুই একটা নতুন বিশ্ববিদ্যালয় তৈরী
হচ্ছে আর বের হচ্ছে কয়েক হাজার বেকার। দল বেঁধে পড়ানো হচ্ছে বিবিএ, এমবিএ
অথবা চিরচরিত সেই ডাক্তারি অথবা ইঞ্জিনিয়ানিং। এত বেকারের ভীড়ে চাকরী
বাংলাদেশে একটি সোনার হরিণ। কোম্পানীরাও এটা বুঝে। ফলে এই দেশের শিক্ষিত
ছেলেরা প্রত্যাশা অনুযায়ী- বেতন পায় না, চাকরী পায় না আর পেলেও সহ্য করতে হয় মালিক অথবা বসের নানাবিদ অদ্ভুত পরীক্ষা ও অপেশাদার আচরণ ।
অবশ্য, দীর্ঘদিন বিভিন্ন জাতির শোষণের যাতাকলে পিষ্ট হয়ে আমাদের জাতির
জীবনে প্রবেশ করেছে ভৃত্যগিরির মানসিকতা। আমরা মনে করি স্যুট, টাই পড়ে কোন
কাজ করতে পারলেই বুঝি সেখানেই জাতির সফলতা। এটা আসলে একটি অপ্রকাশ্য
দৈন্যতা, যা কেউ স্বীকার করছেন না। এই দেশের অর্থনীতির জন্য সামনে খুব
ভয়াবহ দিন অপেক্ষা করছে। তাই, বাংলাদেশের উচিত চীনের মত একটা পদক্ষেপ
নেয়া। চাকরী করে দেশের উন্নতি হয় না, আমাদের উদ্যোক্তা প্রয়োজন। তাই
শিক্ষা ব্যবস্থার আমুল পরিবর্তন প্রয়োজন, গুরুত্ব দেয়া উচিত কর্মমুখী
শিক্ষায়। সরকার একটু সচেতন হলেই খুব অল্প কয়েক বছরের মধ্যেই আমরা এই
দেশের চেহারা পালটে দিতে পারি!!
ফেইসবুকের বিভিন্ন funny এ্যাপ কেড়ে নিচ্ছে মুসলিমদের ঈমান!
আমার wife কেমন হবে, আমার gf কেমন হবে,আমার কয়টি বাচ্চা হবে, ২০ বছর পর আমি দেখতে কেমন হব, বলে যারা বিভিন্ন পোষ্ট করছেন তারা নিজের অজান্তেই নিজের ঈমান হারিয়ে ফেলেছেন!
ভাই আপনারা কি আমার এই কথায় আশ্চর্য হচ্ছেন? এতে আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই যেটা সত্য সেটাই বললাম..
আপনি ফেইসবুকের যেসব এ্যাপ ইউজ করে নিজের ভবিষ্যৎ জেনে নিচ্ছেন তা আপনার নিজের অজান্তেই আপনাকে মুশরিক বানিয়ে ফেলেছে! বানিয়ে ফেলছে আপনাকে কাফির ! বের করে দিচ্ছে আপনাকে মুসলিম মিল্লাত থেকে! তওবা করে ফিরে আসুন..
ভাই আপনারা হয়তো ফান করার জন্যই পোষ্ট গুলি করছেন কিন্তুু এটা এমন এক বিষয় নিয়ে ফান করা হচ্ছে যা আপনার ঈমান ধ্বংস করে দিচ্ছে!
আপনি যে এপের আশ্রয় নিয়ে নিজের ভবিষ্যৎ জানলেন তাকে ইসলামী পরিভাষায় গায়িব বলা হয় বা ভবিষ্যৎ বক্তা বা গনকের কথা বিশ্বাস করাকে বুঝায়!
মনে রাখতে হবে পৃথিবীর কোন এ্যাপ গনক শুধু নয় পৃথিবীতে যত নবী রাসুল এসেছিলেন তারা কেউই গায়িব বা ভবিষ্যৎ জানতেন না! অথচ আপনি বিশ্বাস করছেন একটি এ্যাপ আপনার ভবিষ্যৎ জানে! আস্তাগফিরুল্লাহ! আল্লাহ বলেনঃ ﻗُﻞ ﻟَّﺎ ﻳَﻌْﻠَﻢُ ﻣَﻦ ﻓِﻰ ﭐﻟﺴَّﻤَٰﻮَٰﺕِ ﻭَﭐﻟْﺄَﺭْﺽِ ﭐﻟْﻐَﻴْﺐَ ﺇِﻟَّﺎ ﭐﻟﻠَّﻪُ ﻭَﻣَﺎ ﻳَﺸْﻌُﺮُﻭﻥَ ﺃَﻳَّﺎﻥَ ﻳُﺒْﻌَﺜُﻮﻥَ বলুন, আল্লাহ ব্যতীত নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলে কেউ গায়বের খবর জানে না এবং তারা জানে না যে, তারা কখন পুনরুজ্জীবিত হবে। সূরা আন নম্ল ( ﺍﻟﻨّﻤﻞ ), আয়াত: ৬৫
উপরের আয়াতটি ভালভাবে দেখুন যেখানে পৃথিবীর কেউই গায়িব জানেনা একমাত্র আল্লাহ ছাড়া সেখানে আপনি একটি এ্যাপকে গায়িব জানে বলে বিশ্বাস করছেন! যেটা সরাসরি আল্লাহর সাথে শরিক করা..
রাসুল ﷺ বলেনঃ যে ব্যাক্তি কোন ভবিষ্যৎ বক্তা তথা গনক এ্যাপ পীর জ্বীনের কথা বিশ্বাস করে সে আমার উপর নাযিলকৃত কোরআন হাদিস অস্বীকার করল! বলুনতো, যে ব্যাক্তি কোরআন হাদিস অস্বীকার করে সে কি মুসলিম হতে পারে?? অবশ্যই না! ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻲ ﻫُﺮَﻳْﺮَﺓَ ﻭَﺍﻟْﺤَﺴَﻦِ ﻋَﻦ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲِّ ﷺ ﻗَﺎﻝَ ﻣَﻦْ ﺃَﺗَﻰ ﻛَﺎﻫِﻨًﺎ ﺃَﻭْ ﻋَﺮَّﺍﻓًﺎ ﻓَﺼَﺪَّﻗَﻪُ ﺑِﻤَﺎ ﻳَﻘُﻮﻝُ ﻓَﻘَﺪْ ﻛَﻔَﺮَ ﺑِﻤَﺎ ﺃُﻧْﺰِﻝَ ﻋَﻠَﻰ ﻣُﺤَﻤَّﺪٍ ﷺ আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘যে ব্যক্তি কোন ভবিষ্যৎ বক্তার নিকট উপস্থিত হয়ে সে যা বলে তা সত্য মনে (বিশ্বাস) করল, সে ব্যক্তি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপর অবতীর্ণ (কুরআনের হাদিস ) অস্বীকার করল।’’ গ্রন্থঃ হাদীস সম্ভার অধ্যায়ঃ ২২/ নিষিদ্ধ কার্যাবলী হাদিস নম্বরঃ ২০৫৩ আহমাদ ৯৫৩৬, হাকেম ১৫, সহীহুল জামে’ ৫৯৩৯, ইবনু মাজাহ ৬৩৯, তিরমিজি ১৩৫ ইফাঃ হাদিসের মানঃ সহিহ অভিশপ্ত শয়তান আপনাদের কোথায় নিয়ে যাচ্ছে তা কি একটুও ভাববেন না?? রাসুল ﷺ আরো বলেন,যে ব্যাক্তি কোন ভবিষ্যৎ বক্তার কথা বিশ্বাস করে তার চল্লিশ দিনের সালাত কবুল হবেনা! ﻭَﻋَﻦْ ﺻَﻔِﻴَّﺔَ ﺑِﻨﺖِ ﺃَﺑِﻲ ﻋُﺒَﻴﺪٍ ﻋَﻦ ﺑَﻌﺾِ ﺃَﺯﻭَﺍﺝِ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲِّ ﷺ ﻭَﺭَﺿِﻲَ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻨﻬَﺎ ﻋَﻦِ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲِّ ﷺ ﻗَﺎﻝَ ﻣَﻦْ ﺃَﺗَﻰ ﻋَﺮَّﺍﻓﺎً ﻓَﺴَﺄَﻟَﻪُ ﻋَﻦْ ﺷَﻲْﺀٍ ﻟَﻢْ ﺗُﻘْﺒَﻞْ ﻟَﻪُ ﺻَﻼَﺓٌ ﺃَﺭْﺑَﻌِﻴﻦَ ﻟَﻴﻠَﺔ ﺭﻭﺍﻩ ﻣﺴﻠﻢ স্বাফিয়্যাহ বিনতে আবূ উবাইদ নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কোন স্ত্রী (হাফসাহ রাযিয়াল্লাহু আনহা) হতে বর্ণনা করেছেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি গণকের নিকট এসে কোন (গায়বী) বিষয়ে প্রশ্ন করে, তার চল্লিশ দিনের নামায কবুল করা হয় না।’ গ্রন্থঃ সহীহ মুসলিম (ইফাঃ) অধ্যায়ঃ ৪০/ সালাম ( ﻛﺘﺎﺏ ﺍﻟﺴﻼﻡ ) হাদিস নম্বরঃ ৫৬২৭ হে আমার মুসলিম ভাইয়েরা শয়তানের ফাঁদে পড়ে কেন এভাবে নিজের ঈমান বিসর্জন দিচ্ছেন? ? একটু ফান করতে গিয়ে শয়তান আপনাকে কাফির মুশরিকে পরিনত করছে অথচ আপনি টেরও পাচ্ছেন না! কবে ফিরবে আপনাদের হুশ??
>>>টাই বা গলাবন্ধনীর উৎপত্তি – নেপথ্যের ইতিহাস ((মূর্খতা থেকে বাঁচার জন্য ও মূর্খদের থেকে নিজেকে আলাদা করার জন্য নিচের লিখাটা ধৈর্য ধরে পড়ুন))
>>> গলাবন্ধনী বা টাই আজকাল খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি জিনিস। ফরমাল
পোশাক আর ফ্যাশনের নামে গলাবন্ধনী ব্যবহার না করলে যেন হবেই না ব্যাপারটা
এমন। শব্দটাও খুবই গুরুগম্ভীর। ছোটবেলায় একবার বাবা বলেছিলেন, একজন
গ্র্যাজুয়েটের নিদর্শন হল এই গলাবন্ধনী। কারো গলায় যদি দেখতে
পাও গলাবন্ধনী আটা রয়েছে, ধরে নিতে হবে সে একজন গ্র্যাজুয়েট, স্নাতক
সম্পন্ন করেছে। তুমিও যেদিন স্নাতক সম্পন্ন করবে, সেদিন থেকে গলাবন্ধনী পড়া
শুরু করতে পারবে।
সেই চিন্তা মাথায় নিয়েই বড় হয়েছি, স্নাতক এখনো
শেষ হয়নি, মেডিক্যালের ছাত্র হিসেবে আরো পাঁচ বছর অপেক্ষা করা চাই আমার।
(যদিও মাঝে মাঝে পড়ে ফেলি) গুরুগম্ভীর এক শব্দ বারবার উচ্চারণ করছি,
ব্যাপারটা দৃষ্টিকটু ও উচ্চারণকটু। এবার থেকে “টাই” উল্লেখ করব বাকি লেখায়।
যা বলছিলাম, ফ্যাশনের নামে টাই খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারো কি কখনো মনে
হয়েছে, কীভাবে আমরা এই টাই এর সাথে পরিচিত হলাম। একটুকরো একটা কাপড়, গলায়
বেঁধে গলা আটকে দিলেই হয়ে গেল, অনেক উপকারীও বটে, সবথেকে বড় কথা হল, দেখতেও
খারাপ লাগছে না, স্ট্যান্ডার্ড মনে হচ্ছে। দেখতে খুবই স্ট্যান্ডার্ড মনে
হওয়াটাই ছিল টাই এর উৎপত্তিস্থল। এভাবেই আসলে কালের পরিক্রমায় টাই চলে আসে
আমাদের সামনে।
সপ্তদশ শতাব্দীতে ফ্রান্সের মাটিতে ৩০ বছর ধরে যে
রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ (১৬১৮-১৬৪৮) চলছিল, তখন হঠাৎ করেই শোভা পেতে দেখা যায়
সৈনিকদের গলায় এক টুকরো কাপড়। টাইগুলোর উৎপত্তি সম্পর্কে গবেষকদের তাই
ধারণা। তখনকার সময়ে একদেশ অন্যদেশ থেকে সৈনিক ভাড়া করে নিতো, তাদের হয়ে
যুদ্ধ লড়ে দেয়ার জন্য। রাজা ত্রয়োদশ লুই ও তার পক্ষের সৈনিক সংখ্যা বৃদ্ধির
উদ্দেশ্যে, ক্রোয়েশিয়ান কিছু সৈনিক ভাড়া করে নিয়ে আসে। ক্রোয়েশিয়ান সেই
যোদ্ধাদের সকলের গলায় এক টুকরো করে কাপড় শোভা পেতে দেখা যায়। তাদের সৈনিক
সাজ পোশাকে জ্যাকেট পরতে হতো, সেই জ্যাকেটকে গলা পর্যন্ত আটকিয়ে রাখতেই
তারা কাপড়ের টুকরো গলায় বেঁধে রাখতো, দেখতেও ভাল লাগতো।
রাজা
ত্রয়োদশ লুই সৈনিকদের গলায় এমন টুকরো কাপড় দেখে মোহিত হয়ে যান। তার কাছে
এতটাই ভাল লেগে যায় যে, রাজকীয় সভাগুলোয় সকল সভাসদদের জন্য গলায় টুকরো কাপড়
বেঁধে আসার আইন জারি করেন। আর যেহেতু, ক্রোয়েশিয়ানদের থেকে এমনটা শুরু
হয়েছে, তাদের সম্মানে এর নাম দেন “La Cravate”।
গলাবন্ধনীর আরো
পুরনো এক গল্প পাওয়া যায় চৈনিক সভ্যতায়। ২১০ খ্রিস্টপূর্বাব্দের দিকে চীনের
সম্রাট ছিলেন শিহ্ হুয়াং তি। সম্রাট শিহ্ হুয়াং তি এর সময়কালীন যে সকল
সৈনিকের টেরাকোটা শিল্প বর্তমানে পাওয়া গেছে, তা থেকে জানা যায় যে,
প্রত্যেক সৈনিকের গলায় সিল্কের তৈরি এক টুকরো কাপড় পেঁচানো থাকতো।
খ্রিষ্টপূর্ব ১১৩ এ রোমান সাম্রাজ্যেও পাওয়া যায় এক নিদর্শন। রোমান
সাম্রাজ্যে, চাকর আলাদা করে চিহ্নিত করে রাখার কাজে তাদের গলায় একটুকরো
কাপড় পেঁচিয়ে বেঁধে রাখা হতো, মালিকেরা নিজের নিজের চাকরকে আলাদা করতে
পারতেন তখন এই পেঁচানো কাপড় দেখে। কোন রোমান সৈন্যকে যদি টাইম ট্র্যাভেল
করে বর্তমানে নিয়ে এসে, বলা হয় টাই পড়তে, তাহলে সে নিশ্চয় যারপরনাই অপমানিত
বোধ করবে। কারণ তৎকালীন সময়ে সেটাই ছিল রীতি। তবে এখনও এ ধরণের টাই রয়েছে
কিন্তু, একে বলা হয় Bolo Tie, মাঝে মাঝে জনি ডেপকে এমন টাই পড়তে দেখা যায়।
টেক্সাসের আরিজোনায় এ টাই অফিসিয়াল পোশাকের সাথে পড়ার নিয়ম রয়েছে।
যতগল্পই থাকুক না কেন, টাই এর ফ্যাশন আমাদের সাথে পরিচিত করিয়ে দিয়েছিল
ক্রোয়েশিয়ান সৈনিকেরাই, তারাই এই টাই পরিধানকে ফ্যাশনে পরিণত করেছিল তাদের
ইউনিফর্মের অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে।
গত দু’শ বছরে টাই পরিধানে
পরিবর্তন এসেছে অনেকবার। ক্রোয়েশিয়ান সৈনিকেরা যে টাই পরিধান করতো, তার
সামান্যই বর্তমানে রয়েছে, টাই পরিধানের আইডিয়া টা ছাড়া পুরো ফ্যাশনেই চলে
এসেছে আমূল পরিবর্তন। সবথেকে বড় পরিবর্তনটি এসেছে ১৯২০ এর দশকে। টাই ই মনে
হয় একমাত্র ফ্যাশনের বস্তু, যেটা গত দু’শ বছর ধরে টিকে রয়েছে। অন্য যতসব
ফ্যাশন পোষাকজগতে এসেছে, সবই প্রতি দশকে পরিবর্তিত হয়ে পুরনো হয়ে গেছে।
বর্তমানে আমরা যে টাই ব্যবহার করি, সেটি মূলত গত শতাব্দীতেই উৎপত্তি ঘটে।
গত শতাব্দীতে এই টাই পুরুষদের সাজপোষাকের প্রধান বস্তুতে পরিণত হয়। ১৯২০
সালের দিকে এই টাইয়ের বিবর্তনে চলে আসে আমূল পরিবর্তন, তাও আবার ভুলক্রমে।
ইতিহাসে অনেকগুলো মজার ভুল রয়েছে, যেগুলো আমাদের জন্য বিপদের পরিবর্তে নিয়ে
এসেছে বিপ্লব। নিউইয়র্কে একজন টাই মেকার ছিলেন, নাম হল জেসি ল্যাংসডর্ফ।
তিনি একদিন একটা টাই তৈরির কাজ করছিলেন। ভুল করে টাই এর কাপড়টি মাঝখান দিয়ে
তিনি কেঁটে ফেলেন। তিনি দেখেন যে, প্রতিবার এইভাবে যদি কেঁটে রেখে দেন,
তাহলে টাই পড়ে আবার সেটা খুলে ফেলা যায়। আগেকালের টাইগুলো ছিল ফিক্সড,
একবার বানিয়ে ফেললে শুধু ঐ একই স্টাইলে বারবার পড়তে হতো, আবার খুলে রেখে
দিতে হতো। কিন্তু বর্তমানে আমরা যে টাই ব্যবহার করি সেটাই তৈরি হয় জেসি
ল্যাংসডর্ফ এর হাত ধরে। পরা শেষে, গিঁট খুলে ফেলা যায়, পছন্দানুযায়ী গিঁট
পরিবর্তন করা যায়। গিঁট যখন নিজের ইচ্ছামতো দেয়া যাচ্ছে, তখুনি মানুষের
কাছে চলে এলো অবাধ স্বাধীনতা। ফলে আস্তে আস্তে নতুন নতুন অনেক গিঁট তৈরি
হতে শুরু করলো।
গত শতাব্দীর পুরো সময় জুড়েই টাই এর বিবর্তন হয়েছে।
তবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়টুকু ছাড়া। যুদ্ধের দশকে মানুষ জীবন নিয়ে
শঙ্কিত ছিল, তাই টাই এর উল্লেখযোগ্য কোনরকম পরিবর্তন আসেনি। বর্তমানে অনেক
ধরণের টাই পাওয়া যায়। দৈর্ঘ্যভেদে, কাপড়ের নমনীয়তা, আকার-আকৃতি ইত্যাদি
ভেদে। পুরুষদের নিজস্ব স্টাইলকে প্রকাশ করার জন্যই এত ব্যতিক্রমী টাই পাওয়া
যায় আজকাল। তবে স্ট্যান্ডার্ড টাই এর প্রস্থ হবে ৩.২৫-৩.৫ ইঞ্চি। তবে গত
কয়েকবছরে আমাদের চোখের সামনেই টাইয়ের ফ্যাশনে একটা পরিবর্তন এসেছে, হয়তো
সবার কাছে আগের বড় প্রস্থের টাইগুলো বর্তমানে দৃষ্টিকটু লাগতে পারে। আজকাল
সবাই অল্প প্রস্থের (২.৭৫-৩ ইঞ্চি) টাই ই পরিধান করে থাকে।
টাই
পরিধানের পেছনে হাজার বছরের পুরনো আরো একটি গল্প প্রচলিত রয়েছে। গলায় এক
টুকরো কাপড় বেঁধে দেয়াকেই যদি, টাই বলে মানা হয়, তাহলে সেই গল্পটিও
সমর্থযোগ্য। ঠান্ডা-সর্দিতে বাঁচতে, গলায় এক টুকরো কাপড় পেঁচিয়ে রাখাটা
হাজারো বছরের বেশি সময় ধরে চলে আসছে। কিন্তু ফ্যাশন হিসেবে আসে সেই ৩০বছরের
ফরাসী যুদ্ধ থেকেই।
Ascot Tie বর্তমানের আধুনিক টাই থেকে খানিকটা
ব্যতিক্রম। দেখতে খুবই সুন্দর লাগে, পড়তেও বেশ আরামদায়ক, আমার ব্যক্তিগত
পছন্দ। এই টাইগুলো উনিশ শতকেই প্রচলন হয়, ইংল্যান্ডে। তৎকালীন সময়ে বিখ্যাত
ঘোড়দৌড় হতো, নাম ছিল “The Royal Asoct”; সেখান থেকেই এই টাইয়ের নামের
উৎপত্তি। Tailcoat Jacket এর সাথে বেশি মানায় এই Ascot Tie গুলো। আজকাল
অতবেশি একটা দেখা না গেলেও, বিয়ের রিসেপশনগুলোতে হরহামেশাই দেখা যায়।
টাই অনেক গুরুত্বপূর্ণ এক সাজপোশাক আমাদের জন্য। কোন ফর্মাল পোশাকে, পুরুষ
হিসেবে আমরা হয়তো রঙিন কিছু পরিধান করিনা, সেটা শোভা দেয় না আমাদের। সবসময়
কালো কিংবা প্রুশিয়ান ব্লু ব্যবহার করে থাকি, সাদা শার্টের সাথে কাল
স্যুট, আমাদের সার্বজননীন সাজ। কাল জুতো, কাল প্যান্ট। এতকিছু সঙ্গে রঙ বয়ে
নিয়ে আসার একমাত্র উপায় হল এই আমাদের টাই। আমাদের একমাত্র সুযোগ। তবে কেউ
কেউ মনে করেন, টাই আমাদের শার্টের বোতামকে ঢেকে রাখছে। তবে টাই প্রধানত
আমাদের গলায় শার্টকে এঁটে রাখে, গলাকে উষ্ণ রাখে।
প্রতি বছরের ১৮ই অক্টোবর ক্রোয়েশিয়ায়, টোকিও, সিডনী, ডাবলিনের মত বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য শহরে আন্তর্জাতিক টাই উৎসব পালিত হয়।
নারীদের প্রতি অমানবিক ৬টি বর্বরতার ইতিহাস যার একটিও মুসলীমদের দ্বারা সংগঠিত হয়নি…
জকের দিনে পত্রপত্রিকা খুললে কিংবা টেলিভিশনের অন করলে যে বিষয়টি সবচেয়ে
বেশি পীড়া দেয়, তা হলো নারীদের প্রতি সহিংসতা। সারা বিশ্বেই চলছে একই
অবস্থা; কোথাও কম, কোথাও বেশি- পার্থক্য কেবল এখানেই। তবে নারীদের সাথে এমন
সহিংস আচরণের শুরু হয়েছে অনেক আদিকাল থেকেই। প্রাচীন রোম, গ্রীস, মিশরের
মতো সভ্যতাগুলোতে এর প্রমাণ খুব সহজেই খুঁজে পাওয়া সম্ভব।
প্রাচীন বিশ্বে নারীদের প্রতি সহিংসতার তেমনি ৬টি দুঃখজনক ইতিহাস নিয়ে সাজানো হয়েছে আজকের লেখা।
১) সদ্যোজাত কন্যাসন্তানের দুর্ভাগ্য
প্রাচীন এথেন্সে যদি কোনো কন্যাসন্তান জন্ম নিতো, তাহলে প্রায় সময়ই তাকে
বন-জঙ্গলে ফেলে রেখে আসতো পাষাণ বাবা, উদ্দেশ্য সেখানেই যেন অনাহারে কিংবা
বন্যপশুর আক্রমণে মারা যায় নিষ্পাপ মেয়েটি। তখনকার দিনের খুবই সাধারণ ঘটনা
ছিলো এটি। এই চর্চার তারা নাম দিয়েছিলো শিশুকে ‘প্রকাশিত করা’! এক গ্রীক
লেখকের লেখনি থেকে জানা যায়, “পুত্রসন্তানের জন্ম হলে নিজেরা গরীব হলেও
যেকোনো বাবা-মা তাকে বড় করে তুলতে চাইতো। অন্যদিকে কন্যাসন্তানের জন্ম হলে
ধনী পরিবারের সদস্যরা পর্যন্ত তাদেরকে ‘প্রকাশ করে’ দিত।”
এমন
ঘটনা রোমেও ছিলো বেশ সাধারণ, বিশেষত দরিদ্র সমাজে। প্রাচীন নথিপত্র ঘেঁটে
দরিদ্র এক রোমান লোকের চিঠি পাওয়া গিয়েছে, যিনি তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে
চিঠিতে লিখেছেন, “একটি কন্যাসন্তান বোঝা ছাড়া আর কিছুই নয়, আর আমাদের অত
টাকাও নেই। যদি তুমি মেয়ের জন্ম দাও, তাহলে আমাদের তাকে মেরে ফেলতে হবে।”
এমনকি প্রাচীন মিশরে, যেখানে নারীরা অন্যান্য অনেক সভ্যতার তুলনায় পুরুষের
কাছাকাছি সুযোগ-সুবিধা ভোগ করত, প্রায় সময়ই সদ্যোজাত কন্যাসন্তানকে রেখে
আসা হতো মৃত্যুর আকাঙ্ক্ষায়। একবার তৎকালের এক ব্যক্তি তার স্ত্রীকে
লিখেছিলো, “যদি আমি ফিরে আসার আগেই তোমার সন্তানের জন্ম হয়ে যায়, তাহলে
ছেলে হলে তাকে বাঁচিয়ে রেখ, আর মেয়ে হলে তাকে ‘প্রকাশিত করে’ দিও।”
২) ঋতুমতী নারী অস্পৃশ্য
রোমান দার্শনিক প্লিনি দ্য এল্ডার লিখেছেন, “এমতাবস্থায় একজন নারীর আগমনে
দুধও টক হয়ে যাবে”। ঋতুমতী নারী যার দিকে তাকাবে, সে-ই মারা যাবে বলে মতবাদ
ব্যক্ত করেছিলেন তিনি। এমনকি তিনি বলেছিলেন, “এক ঝাঁক মৌমাছির দিকেও যদি
সে তাকায়, তাহলে তারাও সাথে সাথেই মারা যাবে।”
প্রাচীন মিশরে
ঋতুচক্র চলাকালে নারীরা আলাদা একটি স্থানে গিয়ে থাকতো, যেখানে কোনো পুরুষের
প্রবেশাধিকার ছিলো না। এমন কুসংস্কার অন্যান্য আরো সভ্যতাতেও প্রচলিত
ছিলো। ইহুদীরা তো এ সময় একজন নারীকে স্পর্শও করতো না। তারা মনে করতো, এ সময়
যে জিনিসেই নারীর শরীরের ছোঁয়া লাগবে, সেটাই অপবিত্র হয়ে যাবে। হাওয়াইয়ে
ঋতুমতী নারীদের জন্য আলাদা করে রাখা ঘরে যদি কোনো পুরুষ প্রবেশ করতো, তবে
তার মৃত্যুর পরোয়ানা পর্যন্ত জারির সম্ভাবনা ছিলো!
পাপুয়া
নিউগিনির লোকেরা তো ছিলো আরো এক কাঠি সরেস। তারা মনে করতো, কোনো পুরুষ যদি
কোনো ঋতুমতী নারীকে স্পর্শ করে, তাহলে তার রক্ত কালো হয়ে যাবে, বুদ্ধিনাশ
হবে এবং সর্বোপরি ধীরে ধীরে সে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাবে!
৩) সতীত্ব হারানো ছিলো মৃত্যু পরোয়ানার নামান্তর
প্রাচীন এথেন্সে যদি কোনো বাবা জানতে পারতেন যে তার মেয়ে অবিবাহিতা
অবস্থায় অন্য কোনো পুরুষের শয্যাসঙ্গী হয়েছে, তাহলে তিনি তাকে দাসী হিসেবে
বিক্রি করে দিতে পারতেন।
স্ত্রীর সতীত্বের ব্যাপারে সামোয়ার
অধিবাসীরা নিজেরা যেমন নিশ্চিত হতে চাইতেন, তেমনি তারা আর সবাইকেও সেই
ব্যাপারে জানাতে চাইতেন। সেখানকার কোনো বিয়ের সময় গোত্রপতি সবার সামনেই
আঙুল দিয়ে নববধূর হাইমেন ছিড়ে দেখাতেন এটা প্রমাণ করতে যে, মেয়েটি পবিত্র!
প্রাচীন রোমে দেবী ভেস্টার কোনো পূজারিণী যদি ৩০ বছর বয়সের আগে কুমারীত্ব হারাতেন, তাহলে তাকে জীবন্ত পুঁতে ফেলা হতো।
৪) নববধূর অপহরণ
ব্যাপারটা বেশ অদ্ভুত শোনালেও এটাই সত্যি যে, ইতিহাসে নববধূকে অপহরণের
ঘটনার বহু নজিরই রয়েছে। গত শতকের চল্লিশের দশক পর্যন্ত চীনে নববধূকে অপহরণ
করা হয়েছে। জাপানে এমনটা সর্বশেষ ঘটেছিলো ১৯৫৯ সালে। আঠারো শতকে
আয়ারল্যান্ডে অন্যতম দুশ্চিন্তার বিষয় ছিলো এই অপহরণের বিষয়টি।
রোমের ইতিহাসের সাথেও ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে নববধূ অপহরণের কালিমা। তাদের
কিংবদন্তীর সূচনাই হয়েছে বলা যায় রোমান পুরুষরা স্যাবাইন (ইতালির এক গোত্র)
নারীদের অপহরণের মধ্য দিয়ে। গল্পে আছে, রমুলাস নারীদের বলছেন, অপহৃত হওয়ায়
তাদের গর্ববোধ করা উচিত। কারণ তারা সম্মানজনক বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হতে
যাচ্ছেন।
৫) সন্তান হত্যায় বাধ্য করা নাড়িছেঁড়া ধন সন্তানকে
একজন মা কতটা ভালোবাসেন, সেটা আর নতুন করে না বললেও চলে। প্রতিনিয়ত এর
নিদর্শন আমরা আমাদের চোখের সামনেই দেখে চলেছি। কোনো কোনো ভালোবাসা আবার
কালোত্তীর্ণ হয়ে চিরস্থায়ী জায়গা করে নিয়েছে ইতিহাসের বুকে।
এর
বিপরীতের কথাও অবশ্য জানা যায় ইতিহাস ঘেঁটে। তবে সেগুলো যে জন্মদাত্রী মা
স্বেচ্ছায় করতেন না সেটা না বললেও চলে। জন্মের পর শিশু দুর্বল হলে তাকে
মেরে ফেলার চল ছিলো স্পার্টায়। শুধু স্পার্টার কথাই বা বলা হচ্ছে কেন? এমন
অমানবিক রীতি এককালে প্রচলিত ছিলো বিশ্বের আরো অনেক দেশেই।
সন্তান
যদি জন্মগত ত্রুটি নিয়ে পৃথিবীতে আসতো, তাহলে সবাই এটাই চাইতো যেন মা তার
সন্তানকে হত্যা করে ফেলে। এমনকি রোমে তো এটা আইন হিসেবেই চালু ছিলো, যেখানে
উল্লেখ করা ছিলো- “ভয়ঙ্করভাবে বিকৃতি নিয়ে জন্ম নেয়া শিশুকে যত দ্রুত
সম্ভব হত্যা করতে হবে।” মায়ের হাতে তখন ২টি পথ খোলা থাকতো- হয় নিজ হাতে গলা
টিপে সন্তানকে হত্যা করতে হবে, নতুবা সন্তানকে পরিত্যাগ করতে হবে। তৎকালে এ
ঘটনা অহরহ ঘটতো। এভাবে ঠিক কতজন শিশু মারা গিয়েছিলো তার সঠিক সংখ্যা জানা
না গেলেও ইতিহাসবিদগণ ধারণা করেন, প্রতি চারজন রোমান শিশুর একজনই এক বছর
বয়সের আগে এ প্রথার কারণে পৃথিবী থেকে বিদায় নিতো!
শুধুমাত্র এই
বর্বরতাকে কেন্দ্র করে ইতিহাসে অনেক স্থানই নারকীয় হত্যাযজ্ঞের সাক্ষী হয়ে
আছে। ইসরায়েলের এক শহরের পয়ঃনিষ্কাষণ প্রণালীতে এ প্রথার বলি হিসেবে শতাধিক
শিশুর দেহাবশেষ খুঁজে পাওয়া গিয়েছিলো।
৬) বাক-স্বাধীনতা হরণ
প্রাচীন গ্রীস ও রোমে বাড়িতে কোনো পুরুষ অতিথি আসলে তাদের সামনে গিয়ে কথা
বলা কিংবা তাদের সাথে বসা নারীদের জন্য একপ্রকার নিষিদ্ধই ছিলো বলা যায়।
এটা করা হতো এই আশঙ্কায় যে, নারীদের উপস্থিতি না আবার পুরুষদের বিরক্তির
কারণ হয়ে দাঁড়ায়!
এককালে ডেনমার্কে যদি কোনো নারী অবাধ্য হয়ে
কাউকে গালাগালি করতো কিংবা কোনোভাবে রাগ প্রকাশ করতো, তাহলে তার অবস্থা হতো
খুবই করুণ। তাকে ‘বদমেজাজির ভায়োলিন’ নামক একটি যন্ত্রের সাহায্যে শাস্তি
দেয়া হতো। কাঠের তৈরি এ জিনিসটি দেখতে ছিলো অনেকটা ভায়োলিনের মতো। এজন্যই
এমন নামকরণ। এখানে সেই নারীর দু’হাত আর মুখ আটকে দেয়া হতো। এরপর তাকে পুরো
নগরী ঘুরিয়ে বেড়ানো হতো। প্রকাশ্যে রাগ দেখানোয় রাস্তার জনগণ তাকে তখন দুয়ো
দিতে থাকতো।
ইংরেজ নারীদের অবস্থা হতো আরো খারাপ। তারা প্রকাশ্যে
বদমেজাজ দেখালে একধরনের ধাতব মুখোশ পরানো হতো, যেটার মুখের দিকে কাটার মতো
অংশ এবং একটি ঘণ্টা লাগানো থাকতো। ঘণ্টার শব্দ শুনে আশেপাশের লোকজন জড়ো
হতে থাকতো আর সেই মহিলাকে নিয়ে সবাই মজা করতো।