
অনেককেই বার বার বলতে শুনি মদীনার আলেম সঠিক আর মদীনার বাইরের আলেম ঠিকনা । তবে সত্য কথা হল সাহাবা কেরাম ও তাবেয়েঈগণের পর মদীনায় তেমন উল্লেখযোগ্য আলেম আজো জন্ম গ্রহণ করেন নি ।আসুন আমরা জেনে নেই মদীনার বাইরে জন্ম গ্রহণ করা আলেম এবং ইমামগণের কিছু বৃত্তান্ত ।মাত্র ২%আলেম মদীনায় জন্মেছেন । বাকী ৯৮ % ইসলামী স্কলারই জন্মেছেন মদীনার তথা আবরবের বাইরে । নিচে মাত্র ২৫ জনের বৃত্তান্ত দিলাম । বাকিটুকু নিজেই বিচার করে নিন ।আরো জানার জন্য পড়ুন ইসলামী বিশ্বকোষ । ইসলামী ফাউন্ডেশন থেকে প্রকাশিত ।
০১/ ইমাম বুখারীঃ ১৯৪ হিজরীতে (৮১০ খ্রিস্টাব্দ) খোরাসানের বুখারা বর্তমানে উজবেকিস্তানে জন্মগ্রহণ করেন।
০২/ইমাম মুসলীমঃ ৮১৯ সনে খুরাসানের অন্তর্গত নায়সাবুরে বর্তমানে ইরানে জন্মগ্রহণ করেন ।
০৩/ ইমাম তিরমিজিঃ ২০৯ হিজরি মোতাবেক ৮২৪ খ্রিস্টাব্দে বর্তমান উজবেকিস্তানের জিহুন নদীর বেলাভূমিতে অবস্থিত বিখ্যাত শহর তিরমিজের ‘বুগ’ নামক পল্লীতে জন্মগ্রহণ করেন
০৪/ ইমাম আবু দাঊদঃ২০২ হিজরী মোতাবেক ৮১৭ খ্রিষ্টাব্দে কান্দাহার ও চিশতের নিকটবর্তী সিজিস্তানে জন্ম গ্রহণ করেন।
০৫/ ইমাম নাসাঈঃ তিনি খোরাসান বর্তমান উজবেকিস্তানের -এর অধিবাসী ও ৯১৫-১৬-এ মৃত্যুবরণ করেন।
০৬/ ইবনে মাজাহঃ তিনি ২০৯ হিজরী মোতাবেক ৮২৪ খ্রিষ্টাব্দে ইরাকের প্রসিদ্ধ শহর কাযভীনে জন্মগ্রহণ করেন ও ২৭৫ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন।
০৭/ইমাম তাহাবীঃ ইমাম আবূ জা’ফর আহমদ তাহাবী (রহ:)মিসরের ‘তাহা’ নামক জনপদের অধিবাসী হিসেবে তিনি ‘তাহাবী’ নামে পরিচিত।
০৮/ ইমাম আল-গাজ্জালিঃ ইমাম আল-গাজ্জালির ১০৫৮ সালে ইরানের খোরাসানের তুশ নগরীতে জন্মগ্রহণ এবং মৃত্যুবরণ করেন।
০৯/আবু জাফর মুহাম্মদ ইবনে জারির আল তাবারিঃ ৮৩৯ –খ্রিষ্টাব্দ বর্তমান ইরানের অন্তর্গত মাজানদারানের তাবারিস্তানে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৯২৩ খ্রিষ্টাব্দে ওফাত হয় ।
১০ / ইবনে তাইমিয়াঃ ইবনে তাইমিয়া রাহিমাহুল্লাহর জন্ম হয়েছিলো দামেস্কের হাররান প্রদেশে, আর মৃত্যু হয়েছিলো দামেস্কে।
১১/ইমাম আয-যাহাবিঃআয-যাহাবী ৫ অক্টোবর ১২৭৪ সালে দামেস্কে জন্মগ্রহণ করেন,১৩৪৮ সালে এই মহান ইমাম মৃত্যুবরণ করেন।
১২/ইবনে কাসীরঃ ইবনে কাসীরের প্রকৃত নাম ইসমাইল,আবুল ফিদা তার ডাকনাম একং ইমামুদ্দিন।তিনি সিরিয়ার বসরান মাজদল নামক স্থানে ৭০০ হিজরী সালে জন্মগ্রহণ করেন।
১৩/ নাসির উদ্দিন আলবানিঃ নাসির উদ্দিন আলবানি রহঃ ১৩৩৩ হিজরী মোতাবেক ১৯১৪ খৃষ্টাব্দে আলবেনিয়ার রাজধানী স্কোডার (Shkodër-বর্তমান নাম তিরানা) এ জন্ম গ্রহণ করেন।
১৪/ ইমাম নববীঃ ইমাম নববী রহঃ দামেস্কের অধীন “নওবি” গ্রামে মুহররম ৫, ৬৩১ হিজরী জন্ম গ্রহণ করেন।মাত্র ৪৫ বছর জীবিত ছিলেন।মৃত্যু: রজব, ৬৭৬ হিজরী।
১৫/ইবনে হাজার আসক্বালানীঃ ইবনে হাজার আসক্বালানী রহঃ এর আসল নাম হলো আহমদ বিন আলী বিন মুহাম্মদ। আবুল ফজল হলো তাঁর উপনাম। শিহাবুদ্দীন হলো তাঁর উপাধি। এছাড়া তিনি হাফেজ উপাধিতেও ভূষিত হয়েছেন। তাঁর পরিবার মূলত তিউনিসিয়ার অন্তর্গত কাবেস এলাকার অধিবাসী ছিল। পরবর্তীতে তারা ফিলিস্তিনের অন্তর্গত আসক্বালান নামক এলাকায় বসতি গড়ে। তার পরিবার আসক্বালানের অধিবাসী ছিল বলে তাকে আসক্বালানী (আসক্বালান সংশ্লিষ্ট)বলা হয়, যদিও তাঁর জন্ম মিশরে।
১৬/ ইমাম আবু হানিফাঃ ইমাম আবু হানিফা ৬৯৯ হিজরীতে ইমাম আবু হানিফা ইরাকের কুফা নগরীতে জন্মগ্রহণ করেন ।
৭৬৭ সালে আবু হানিফা কারাগারে মৃত্যুবরণ করেন।ইমাম শাফি-রঃ মতে: যে ব্যক্তি ফেকাহর জ্ঞান অর্জন করতে চায়, সে যেন ইমাম আবু হানিফা এবং তার ছাত্রদের সান্নিধ্য লাভ করে। কারণ ফেকাহর ব্যাপারে সকলেই আবু হানিফা-র মুখাপেক্ষী।
১৭/ইমাম আহমদ বিন হাম্বলঃ ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল আশ্ শায়বানী আল-মারুযী (রহ:)-এর জন্ম ১৬৪ হিজরী মোতাবেক ৭৮০ সালে বাগদাদ নগরীতে এবং বেসালও সেখানেই ২৪১ হিজরী/৮৫৫ সালে।
১৯/ইমাম শাফেয়ীঃ ইমাম শাফেয়ী (রহ:)মিসরের আসকালনা প্রদেশের গাযাহ নামক স্থানে ১৫০ হিজরী সনে জন্মগ্রহণ করেন।
২০/ইমাম মালেকঃ ইমাম মালেক ইবনে আনাস (রা:) ৯৫ হিজরী মোতাবেক ৭১৫ খৃষ্টাব্দে মদীনা মোনাওয়ারায় জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৭৯ হিজরী/৭৯৫ খৃষ্টাব্দ সালে সেখানেই বেসালপ্রাপ্ত হন।
২১/ ইমাম জালাল উদ্দীন সুয়ূতীঃইমাম হাফেয সুয়ুতী রাহিমাহুল্লাহর জন্ম ১ লা রজব, ৮৪৯ হিজরীতে মিশরের ‘আস্য়ুত্ব’ শহরে।৯১১ হিজরীতে এ যুগশ্রেষ্ঠ জ্ঞানী ও গুণী ইমামের ইনতিক্বাল হয়েছে।
২২/ মুহাম্মাদ শফী উসমানীঃমুফতী মুহাম্মাদ শফী (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) ১৩১৪ হিজরী সনের শা’বান মাসের ২১ তারিখে (২৫ জানুয়ারি ১৮৯৭ খ্রিষ্টাব্দ) অভিভক্ত ভারতে জন্মগ্রহণ করেন ।এই আলেমে দ্বীন ও মনীষী ১৩৯৬ হিজরী সনের শাওয়াল মাসের ১০ তারিখে ইন্তেকাল করেন।
২৩/ সাইয়েদ কুতুবঃসাইয়েদ কুতুব শহীদ রহঃ ১৯০৬ সালের ৯ অক্টোবর মিসরের উসইউত জিলার মুশা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন ।সাইয়েদ কুতুব ছিলেন মিসরের প্রখ্যাত আলেম ও সাহিত্যকদের অন্যতম। ছোটদের জন্যে আকর্ষণীয় ভাষায় নবীদের কাহিনী লিখে তার সাহিত্যক জীবনের সূচনা। পরবর্তীকালে ‘আশওয়াক’ (কাটা) নামে ইসলামী ভাবধারাপুষ্ট একখানা উপন্যাস রচনা করেন।ফি যিলালিল কুরআন (কুরআনের ছায়াতলে) – কুরআনের তাফসীরটি একটি বিখ্যাত ও বহুল পঠিত তাফসীর ।ইসলামী সমাজ বিপ্লবের ধারা (মা’আলিম ফিত তারিক্ব);গ্রন্থ রচনার জন্য জালিম শাষক তাঁকে ফাঁসী দিয়ে শহীদ করে ।
২৪/ সাইয়েদ আবুল আ’লা মওদুদীঃ মাওলানা মওদুদী, বা শাইখ সাইয়েদ আবুল আ’লা মওদুদী নামেও পরিচিত, ছিলেন।তিনি আওরঙ্গাবাদ (বর্তমানে মহারাষ্ট্রের মধ্যে), হায়দারাবাদ, ভারত এ জন্ম নেন ।আল্লামা মওদূদী একজন মুসলিম গবেষক, সাংবাদিক, রাজনৈতিক নেতা ও বিংশ শতাব্দীর একজন গুরুত্বপূর্ণ ইসলামী চিন্তাবিদ ও দার্শনিক।তিনি ছিলেন ২০ শতাব্দীর সবচেয়ে প্রভাবশালী মুসলিম স্কলারদের মধ্যে একজন। তিনি ইতিহাসের দ্বিতীয় এবং সর্বশেষ ব্যক্তি যাহার গায়েবানা জানাজার নামাজ পবিত্র কাবাতে পড়া হয়।ইমাম ইবনে তাইমিয়ার পর তিনি (মওদুদী) দ্বিতীয় চিন্তাবিদ যিনি আধুনিক বিশ্বে ইসলামী রাজনৈতিক চিন্তাধারা-কে প্রভাবিত করেছেন।তিনি তাফহীমুল কুরআন – তাফসির সহ শতাধিক ইসলামী ও গবেষনা গ্রন্থ রচনা করেন । কিদীয়ানীদের বিরুদ্বে কাফের ফতোয়ার ভিত্তিতে তাঁকে জালিম শাষক ফাঁসিক হুকুম দেয় ও পরে জনরোষে রহিত করে মুক্তি দেয়।
২৫/ভারতের ডাঃ জাকির নায়েক তো একজন জীবন্ত কিংবদন্তী । ওনার কথাতো সবারই জানা ।
ধন্যবাদ ।।
——–মরুচারী মুসাফির ।।










