জুতা পরে বা জুতা পায়ে দিয়ে নামাজ পড়া সুন্নত।

👉👉 জুতা পরে সালাত / নামাজ আদায় করার বিধান , এই নিবন্ধে দলিল সহ সবিস্তারে আলোচনা করা হলোঃ

👉👉 আমাদের দেশে ,বিশেষ করে ভারতীয় উপমহাদেশের সমাজে জুতা পায়ে দিয়ে নামাজ পড়ার কথা কেউ চিন্তাও করতে পারে না।
অথচ জুতা পায়ে দিয়ে নামাজ পড়া একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত।
রাসূলুল্লাহ সাঃ বাড়িতে এবং সফল উভয় অবস্থায় জুতা পরে নামাজ পড়তেন।
সফরে তিনি জুতা খুলে নামাজ পড়েছেন এমন কোন দলিল পাওয়া যায় না।
তবে মসজিদে নামাজ পড়ার সময় তিনি জুতা খুলে নিয়েছেন অথবা ঘরে জায়নামাজে নামাজ পড়ার সময় তিনি জুতা খুলে নিয়েছেন।
মোটকথা, সফরে নামাজ সংক্ষিপ্ত বা কসর করা যেমন একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত, তদ্রূপ সফরে জুতা পায়ে দিয়ে নামাজ পড়াও একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত।

🤔🤔 আমাদের অভ্যাস হলো, যা সুন্নত নয় তা খুব করে প্রচার করি আর যা সুন্নত তা গোপন রাখি।
যেমন নামাজে টুপি পরার কোন দলিল কোথাও নাই। যা দুই একটা দলিল আছে ঐ সকল হাদিস গুলো প্রচুর সন্দেহযুক্ত অত্যন্ত দুর্বল অথবা জাল।
অথচ আমাদের সমাজে টুপি না পড়ে কেউ নামাজ পড়লে তাকে তিরস্কার করা হয় এবং ভিন্ন দৃষ্টিতে দেখা হয়। (টুপি অবশ্যই একটি উত্তম পোশাক এবং পবিত্র কোরআনে উত্তম পোশাক পড়ে নামাজ পড়ার কথা বলা আছে । তাই টুপি পরা ভালো)
কিন্তু আমাদের সমাজে কেউ যদি জুতা পড়ে নামাজ পড়ে তাহলে শুরু হয়ে যাবে চারদিক থেকে ফতোয়াবাজি। এবং আর কিছু যদি না পায় তাহলে বলবে জুতার তলায় নাপাকি লেগে থাকে তাই জুতা পরে নামাজ পড়া নাজায়েজ। অথচ হাদিসে স্পষ্ট উল্লেখ আছে গরু ছাগল তথা হালাল প্রাণীর প্রস্রাব পায়খানা অপবিত্র নয় এবং পথের ধুলা সব সময় পবিত্র। বরং ধুলা-মাটি মেখে তায়ামুম করে আমরা আরো পবিত্র হতে পারি।

👉👉 রাসুল সাঃ জুতা পরে সালাত আদায় করেছেন এবং এর দলিলগুলো নিম্নরূপ-

১// আবু মাসলামাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আনাস ইবন মালিক (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম, নবী (সাঃ) কি তাঁর জুতা পরে সালাত আদায় করতেন? তিনি বললেন, হাঁ’’ [বুখারী ৩৮৬, ৫৮৫০; মুসলিম ৫৫৫; তিরমিযি ৪০০; নাসায়ী ৭৭৫; মুসনাদ আহমাদ ৪০১]

২// আমর ইবন শুয়াইব (রাঃ) হতে পর্যায়ক্রমে তাঁর পিতা ও দাদার সুত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সাঃ)-কে কখনো খালি পায়ে আবার কখনো জুতা পরে সালাত আদায় করতে দেখেছি’’ [আবু দাউদ ৬৫৩; ইবন মাযাহ ১০৩৮; মুসনাদ আহমাদ ৩৯৯]

৩// ইবন আবু আওস তাঁর দাদা হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেনঃ ‘’আমি রাসুলুল্লাহ (সাঃ)-কে তাঁর জুতাজোড়া পরিহিত অবস্থায় সালাত আদায় করতে দেখেছি’’ [ইবন মাযাহ ১০৩৭; মুসনাদ আহমাদ ৪০৭]

৪// আবুদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসুল (সাঃ)-কে জুতা পরিহিত অবস্থায় এবং মোজা পরিহিত অবস্থায় সালাত আদায় করতে দেখেছি’’
–ইবন মাযাহ ১০৩৯!

৫// আবু হুরায়রাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুল (সাঃ) বসে ও দাঁড়িয়ে, জুতা পায়ে ও খালি পায়ে নামাজ পড়েছেন’’
–মুসনাদ আহমাদ ৪০২!

৬// আবু ‘আলা ইবন সিখইয়ির থেকে বর্ণিত। তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেনঃ ‘’আমি রাসুল (সাঃ)-কে জুতাজোড়া পরে নামাজ পড়তে দেখেছি’’
–মুসনাদ আহমাদ ৪০৩!

৭// আবু আওবয়ার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি আবু হুরায়রাহ (রাঃ)-এর নিকট এসে জিজ্ঞেস করলো, আপনি কি জুতা পরে লোকদেরকে নামাজ পড়তে নিষেধ করছেন? তিনি বললেনঃ না, আমি রাসুল (সাঃ)-কে এ স্থানে জুতা পরে নামাজ পড়তে এবং জুতা পরে স্থান ত্যাগ করতে দেখেছি’’
–মুসনাদ আহমাদ ৪০৪!

৮// মুজাম্মা ইবন ইয়াকুব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি কুবার এক গোলাম থেকে বর্ণনা করেন। সে একজন বৃদ্ধ লোকের সাক্ষাৎ পেল। তিনি বলেন রাসুল (সাঃ) আমাদের কাছে কুবায় আসলেন, তখন এক বাড়ির আঙ্গিনায় বসলেন। তাঁর চারপাশে কিছু লোকেরা একত্রিত হল। তখন রাসুল (সাঃ) পানি পান করতে চাইলেন, পান করার সময় আমি তাঁর ডান পাশে বসা ছিলাম। লোকদের মধ্যে আমি ছিলাম সবচেয়ে ছোট। তখন তিনি আমাকে পানি পান করতে দিলেন, আমি পান করলাম। আমার স্মরণ আছে, তিনি আমাদের নিয়ে সে দিন জুতা পরে নামাজ পড়েছিলেন, তা খুলেন নি’’
–মুসনাদ আহমাদ ৪০৫!

৯// অন্য আরেকটি বর্ণনায় আছে। তিনি মুহাম্মাদ ইবন ইসমাইল ইবন মুজাম্মা (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবন আবী হাবিবাকে বলা হল, আপনি রাসুল (সাঃ) থেকে কি শিখেছেন? রাসুল (সাঃ) যখন (কুবায়) আসেন তখন তিনি ছিলেন ছোট বালক। তিনি বলেন, রাসুল (সাঃ) একদিন আমাদের মসজিদে (অর্থাৎ কুবা মসজিদে) আসেন। তখন আমরা সেখানে গমন করি এবং তাঁর পাশে বসি। লোকেরাও তাঁর পাশে বসেন। অতঃপর তিনি নামাজ পড়তে দাঁড়ান। তখন আমি তাকে জুতা পরিহিত অবস্থায় নামাজ পড়তে দেখি’’
-মুসনাদ আহমাদ ৪০৫!

১০// আবদুল্লাহ ইবন মাস’উদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসুল (সাঃ)-কে মোজা ও জুতা পরে নামাজ পড়তে দেখেছি’’
-মুসনাদ আহমাদ ৪০৬!

১১// আবু সাইদ আল-খুদরী (রাঃ) সুত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসুলুল্লাহ (সাঃ) তাঁর সাহাবীদেরকে নিয়ে সলাত আদায়কালে তাঁর জুতাজোড়া খুলে তাঁর বাম পাশে রেখে দিলেন। এ দৃশ্য দেখে লোকেরাও তাঁদের জুতা খুলে রাখল। রাসুল (সাঃ) সালাত শেষে বললেনঃ ‘’জিবরীল (আঃ) আমার কাছে এসে আমাকে জানালেন, আপনার জুতাজোড়ায় অপবিত্র বস্তু লেগে আছে।
তিনি আরও বললেন, তোমাদের কেউ মসজিদে প্রবেশ করলে সে যেন জমিনে তা ঘসে নিয়ে পরিধান করে সালাত আদায় করে’’।
— আবু দাউদ ৬৫০; মুসনাদ আহমাদ ৪৬, ৪০০; দারিমী ১৩৭৮; ইবন খুজাইমাহ (২/৪৩১।

১২// আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
“যখন তোমাদের কেউ (মসজিদে) সালাত আদায় করতে এসে নিজ জুতা জোড়া পা থেকে খুলে ফেলে তখন সে যেন তা দিয়ে কাউকে কষ্ট না দেয়। সে যেন জুতা জোড়া নিজ দু’ পায়ের মাঝখানে রাখে অথবা তা পরেই সালাত পড়ে”।
–আবু দাউদ, হাদীস নং ৬৫৫।

১৩// অন্য বর্ণনায় রয়েছে,
“যখন তোমাদের কেউ (মসজিদে) সালাত আদায় করতে আসে তখন সে যেন নিজ জুতা জোড়া পা থেকে খুলে নিজের ডানে কিংবা বাঁয়ে না রাখে। কারণ, তা সে ব্যক্তির বাঁ দিক হলেও তা কিন্তু অন্য মুসল্লির ডান দিক। তবে তার বাঁ দিকে কোনো মুসল্লি না থাকলে তা আর অন্য মুসল্লির ডান হচ্ছে না। বরং সে যেন তার জুতা জোড়া নিজ দু’ পায়ের মাঝখানেই রাখে”।
–আবু দাউদ, হাদীস নং ৬৫৪।

কারোর পায়ে ফিতা বিশিষ্ট কোনো জুতা কিংবা মোজো পরা থাকলে যা পা থেকে খোলা খানিকটা কষ্টকর, তা হলে তা পরেই সালাত পড়া সুন্নাত: তবে মসজিদে ঢুকার পূর্বে নিজ জুতা জোড়া ভালোভাবে দেখে নিবে। তাতে কোনো নাপাক বা ময়লা দেখলে তা অতি সত্বর ভালোভাবে পরিষ্কার করে নিবে। যাতে করে মসজিদের কার্পেট, পাটি ইত্যাদি নষ্ট না হয়। অতঃপর তা পরেই সালাত পড়বে।
তবে একটা বিষয় লক্ষ্য রাখবে, আজকাল প্রায় সব মসজিদে এমন ভাবে কার্পেটিং করা অথবা টাইলস করা আছে যে সেখানে জুতা নিয়ে যাওয়ার কোন বন্দোবস্ত নেই।
তখন অবশ্যই জুতা খুলে মসজিদে প্রবেশ করবে।

১৪// শাদ্দাদ ইবন আউস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
“তোমরা ইয়াহূদীদের বিরোধিতা করো। তথা জুতা কিংবা মোজা পরেই সালাত পড়ো। কারণ, ইয়াহূদীরা জুতা কিংবা মোজা পরে কখনো সালাত পড়ে না”।
— আবু দাউদ, হাদীস নং ৬৫২
উপরোক্ত হাদিস থেকে এটাই প্রমাণ হয় যে জুতা খুলে নামাজ পড়ার সম্পূর্ণ অপশন থাকলেও মাঝেমধ্যেই জুতা পায়ে দিয়ে নামাজ পড়তে হবে কেননা ইহুদিদের বিরোধিতা করা ও এক প্রকার বড় রকমের নেকীর কাজ।

অনেকেরই মনে হয়তো প্রশ্ন আসতে পারে,-
আমরা তো জুতা বা স্যান্ডেল খুলেই সালাত আদায় করি! এতে কি ইয়াহুদী-নাসারাদের অনুকরণ হচ্ছে?
উত্তর হল, আমাদের জুতা খোলা ও তাদের জুতা খোলার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। আমরা জুতা খুলি পরিছন্নতার জন্য আর তারা জুতা খুলে পবিত্রতার জন্য। জুতা পরিচ্ছন্ন থাকলে একজন মুসলিম জুতা পরে সালাত আদায় করতে পারেন ও মসজিদে প্রবেশ করতে পারেন। কিন্তু ইয়াহুদী-নাসারা জুতা খোলাকে ইবাদতের অংশ ও ইবাদত গৃহের জন্য অসম্মানজনক বলে মনে করে। ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গিতে পাদুকা পায়ে মসজিদে প্রবেশ করলে মসজিদের পবিত্রতা নষ্ট হয় না,
তবে পরিচ্ছন্নতা নষ্ট হতে পারে। যদি বুঝতে পারা যায় যে জুতা পায়ে দিয়ে মসজিদে প্রবেশ করলে পরিচ্ছন্নতা নষ্ট হবে তাহলে উচিত হল জুতা খুলেই মসজিদে প্রবেশ করবে। এবং পৃথিবীর মসজিদ গুলোর ৯৯% মসজিদে এখন জুতা খুলে যাওয়ারই সিস্টেম রাখা হয়েছে।।
তবে যদি সন্দেহ হয় যে জুতাতে নাপাকি লেগে থাকতে পারে তাহলে মাটিতে কতক্ষণ ঘষে নেবে তবেই পবিত্র হয়ে যাবে। কেননা মাটি পানির মতোই পবিত্র। নাপাক জুতা মোজা পড়ে অথবা শরীরে নাপাকি লেগে থাকলে নামাজ হবে না।

👉👉 কেউ হয়তো প্রশ্ন করতে পারেন যে কোন ধরনের জুতা পরে নামাজ হবে আর কোন ধরনের পরে হবে না?
মূলত এই জাতীয় প্রশ্ন হলো অবান্তর প্রশ্ন। জুতা মানে জুতা অর্থাৎ যা পা’য়ে পরা হয়।
তা চামড়ার হোক, কাপড়ের হোক, কাগজের হোক, কিংবা আর্টিফিশিয়াল লেদারের হোক, বা প্লাস্টিকের হোক, জুতা হলেই হবে।
হাদিসে কেবল জুতার কথা অর্থাৎ পাদুকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে ব্যাস এতটুকুই যথেষ্ট।

👉👉 কেউ হয়তো এ প্রশ্ন করতে পারেন যে, আমি কি সুন্নত পালন করার জন্য বাংলাদেশের বা অন্যান্য মসজিদ সমূহে জুতা পায়ে দিয়ে প্রবেশ করব??
মূলতঃ এ জাতীয় অহেতুক প্রশ্নের অবতারণা করা কোন বিষয়কে জটিল ও হাস্যকর করার নামান্তর। বর্তমানে পৃথিবীতে ৯০% এর উপরে মসজিদে জুতা নিয়ে প্রবেশ করার পদ্ধতি নেই। বরং যাতে জুতা পরে মসজিদে প্রবেশ করতে না হয় সেই সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে। মানুষ যাতে জুতা খুলে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন হয়ে মসজিদে প্রবেশ করতে পারে তার জন্য মসজিদের পাশেই অজুখানা এবং টিস্যু,গামছা ইত্যাদি সবকিছুর ব্যবস্থা করে রাখা হয়,
ফলে বর্তমান সময়ে জুতা নিয়ে প্রবেশ করতেও হয় না আর এই জাতীয় পাগলামি করার কথা কেউ চিন্তাও করবে না।
বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে এটাই ঠিক যে, আপনি জুতা নিয়ে মসজিদে প্রবেশ করবেন না কেননা সেখানে জুতা না নিয়ে প্রবেশ করার পরিবেশ ও সুযোগ সৃষ্টি করে রাখা হয়েছে।
অতএব, সুযোগ সুবিধা থাকা সত্ত্বেও যে ব্যক্তি সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করে না তাকে পাগল ছাড়া আর কি বলা যায়?
মসজিদে আপনার ওযুর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, আরামে নামাজ পড়ার জন্য কার্পেটের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, ফ্যান, এয়ার কন্ডিশনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, হাতমুখ মোছার জন্য কাপড় অথবা টিস্যুর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে ‌ ।
এত ব্যবস্থা সত্ত্বেও কেউ যদি জুতা নিয়ে মসজিদে প্রবেশ করে তাহলে তো তাকে পাবলিক তিরস্কার করবে অথবা পাগল বলবে।
সাহাবায়ে কেরাম এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম তো কখনো আমাদের মত আধুনিক বাথরুমে প্রস্রাব-পায়খানা করতেন না বরং তিনি এই জাতীয় প্রয়োজন হলে লোকালয় থেকে দূরে আড়ালে চলে যেতেন।
কিন্তু এখন যদি কেউ বলে যে টয়লেটে রাসুল প্রস্রাব-পায়খানা করেননি তাই এটাই সুন্নত।
অতএব আমি বাইরে জঙ্গলে করব।
আর টয়লেট থাকা সত্ত্বেও যদি এই অপকর্ম আপনি করেন, তাহলে আপনাকে কি করা দরকার?? অতএ বন্ধু,সহজ জিনিসটাকে জটিল করবেন না। প্রশ্ন করার ইচ্ছা থাকলে হাজারো প্রশ্ন তৈরি করা যায়।

👉👉 সর্বশেষ আরো একটি প্রশ্ন থেকে যায়, আর তা হল– নাপাক জুতা অথবা শরীরে নাপাকি নিয়ে অথবা নাপাক শরীর নিয়ে নামাজ শুদ্ধ হবে না এটাই সর্বসম্মতি মত।
আমাদের বাংলাদেশ জুতার তলায় কাদা বা ধুলা মাটি ইত্যাদি লেগে থাকে।
এ পর্যায়ে মনে রাখতে হবে,

প্রথমতঃ পথের ধুলা মাটি সব পবিত্র। বরং পানি না থাকলে ধুলামাটি দ্বারা তা এমন করে পবিত্রতা অর্জন করতে হয়।

দ্বিতীয়তঃ মাত্র তিন প্রকারের জিনিস অপবিত্র। আর তা হলো,
১. মানুষের মলমূত্র,
২.যে কোন নাপাক প্রাণী যেমন শুকর, কুকুর ইত্যাদি প্রাণীর মলমূত্র।
৩. যে কোন প্রাণীর পচা দুর্গন্ধযুক্ত মৃতদেহ ।
উপরোক্ত তিন প্রকারের বস্তুর শরীরে বা জুতার মধ্যে লেগে থাকলে তা সেই জুতা ও শরীর সহ নামাজ পড়া বৈধ নয়। বরং জুতা খুলে ফেলতে হবে আর শরীরে কোন জায়গায় লাগলে তা ধুয়ে ফেলতে হবে।
উল্লেখ্য যে, পৃথিবীর সকল হালাল প্রাণীর মলমত্র অপবিত্র নয় এবং তা শরীরে বা জুতায় লেগে থাকলে সেই জুতা দিয়ে নামাজ হয়ে যাবে।
এবং বিড়াল, বাঘ , সিংহ ইত্যাদি প্রাণী খাওয়া হারাম হলেও প্রাণীগুলো অপবিত্র নয়। এবং এই জাতীয় প্রাণীর মলপুত্র শরীরের লাগলেও বা জুতার তলায় থাকলেও নামাজ হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ।

ভারত বর্ণ প্রথার প্রবর্তন করে পুরো মানব সভ্যতাকে কলঙ্কিত করেছে। অপরদিকে ইউরোপিয়ানরা দাস প্রথার প্রবর্তন করে পুরো মানবতাকে কলঙ্কিত করেছে।

ভারতে বর্ণপ্রথার এক করুণ চিত্র ফুটে উঠেছে ১৯৪৭ সালে মার্গারেট-বোর্ক হোয়াইটের তোলা এই ছবিতে। এখানে দেখা যাচ্ছে একজন উঁচু বর্ণের জমিদার বেশ নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে ও কোনো রকম শারীরিক স্পর্শ যাতে না হয় তা নিশ্চিত করে পাতায় মুড়িয়ে মজুরি দিচ্ছেন তার জন্য কাজ করা নিম্ন বর্ণের শ্রমিকদের বেতন দিচ্ছেন।

ভারতের বর্ণপ্রথা একটি সামাজিক স্তরবিন্যাস পদ্ধতি, যা সমাজকে বিভিন্ন শ্রেণিতে বিভক্ত করে। এই প্রথা মূলত দুটি ধারণার ওপর ভিত্তি করে গঠিত: ‘বর্ণ’ ও ‘জাতি’।
বর্ণ ও জাতি: পার্থক্য ও সংজ্ঞা

  • বর্ণ: ‘বর্ণ’ শব্দের আক্ষরিক অর্থ ‘প্রকার’, ‘শ্রেণি’ বা ‘রঙ’। প্রাচীন ভারতে সমাজকে চারটি প্রধান বর্ণে বিভক্ত করা হয়েছিল:
  • ব্রাহ্মণ: পুরোহিত ও শিক্ষাবিদ
  • ক্ষত্রিয়: যোদ্ধা ও শাসক
  • বৈশ্য: ব্যবসায়ী ও কৃষক
  • শূদ্র: শ্রমিক ও সেবক
  • জাতি: ‘জাতি’ শব্দের অর্থ ‘জন্ম’। এটি সমাজের আরও সূক্ষ্ম বিভাজন নির্দেশ করে, যেখানে পেশা, অঞ্চল ও অন্যান্য সামাজিক বিষয়ের ভিত্তিতে হাজারো উপগোষ্ঠী রয়েছে।
    বর্ণপ্রথার বৈশিষ্ট্য
    বর্ণপ্রথার প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে রয়েছে:
  • জন্মগত সদস্যপদ: একজন ব্যক্তি যে বর্ণে জন্মগ্রহণ করেন, সাধারণত সেই বর্ণের সদস্যপদ বহন করেন।
  • এন্ডোগ্যামি: প্রত্যেক বর্ণের মধ্যে বিবাহ সম্পন্ন হয়; অন্য বর্ণের সঙ্গে বিবাহ সাধারণত নিষিদ্ধ।
  • পেশাগত নির্ধারণ: প্রত্যেক বর্ণের নির্দিষ্ট পেশা বা কাজ নির্ধারিত থাকে, যা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে চলে আসে।
  • সামাজিক পৃথকীকরণ: বিভিন্ন বর্ণের মধ্যে খাদ্য গ্রহণ, সামাজিক মেলামেশা ও বসবাসের ক্ষেত্রে পৃথকীকরণ বজায় থাকে।
    বর্ণপ্রথার উদ্ভব
    ঐতিহাসিকদের মতে, আর্যদের ভারতে আগমনের পর ঋগ্বৈদিক যুগে বর্ণপ্রথার সূচনা হয়। প্রথমে এই প্রথা পেশা ও কর্মের ভিত্তিতে ছিল, কিন্তু সময়ের সাথে সাথে এটি জন্মভিত্তিক হয়ে ওঠে।
    আধুনিক ভারতে বর্ণপ্রথা
    ভারতীয় সংবিধান বর্ণভিত্তিক বৈষম্য নিষিদ্ধ করেছে। তবে, সমাজে এখনও বর্ণপ্রথার প্রভাব দেখা যায়। সরকার তফসিলি জাতি ও উপজাতির জন্য সংরক্ষণ নীতি গ্রহণ করেছে, যাতে তাদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নতি নিশ্চিত হয়।
    বর্ণপ্রথা ভারতের সমাজে গভীর প্রোথিত একটি প্রথা, যা সময়ের সাথে সাথে পরিবর্তিত হয়েছে, তবে এর প্রভাব এখনও বিদ্যমান।

প্রসঙ্গ: বিষয় ভিত্তিক শিক্ষা এবং বর্তমান চাকরির বাজার

🤔🤔 আমার কয়েকজন ক্লাসমেট/ বন্ধু আছে যারা ডাক্তার। নিয়মিত প্র্যাকটিস করেন। একজনকে একটা স্বাস্থ্য পরামর্শের জন্য ফোন করার পর এক ফাঁকে বলল, দোস্ত , তুই তো মধ্যপ্রাচ্যে আছিস । সেখানে কোন একটা ক্লিনিকে আমার একটা চাকরির ব্যবস্থা করে দে না।
বললাম, জামাই বউ দুইজন মিলে ডাক্তারি করছিস দেশে, তোদের আর কত টাকার দরকার? টাকা পয়সা কি কবরে নিয়ে যাবি??
এই কথা শুনে সে বলল, দোস্ত, ফিনাইলের গন্ধযুক্ত ক্লিনিকের ভৌতিক পরিবেশে সাদা গাউন পরা গলায় ঝুলানোর টেথিস্কোপ দেখে অনেকেই মনে করে আমরা মহাজাগতিক কোনো প্রাণী।
কিন্তু তুই তো জানিস বর্তমান চাকরির অবস্থা। সরকারি হাসপাতালের চাকরিতে বেতন কম, বর্তমান সামাজিক প্রেক্ষাপটে সংসার চলে না, তাই চাকরি ছেড়ে দিয়ে সকল পয়সা একত্র করে ক্লিনিক দিয়েছিলাম এবং এক কোটি টাকা ধরা খেয়ে সরষে ফুল দেখছি।
এটা হল একটি ছোট্ট ঘটনা।

👇👇নিচে একজন ডাক্তারের একটি স্ট্যাটাস তুলে ধরলাম–
২০১১ সালের কথা। মাত্র ইন্টার্ন শেষ করেছি। ঢাকায় এসে দেখি প্রাইভেট হাসপাতাল গুলো জবের জন্য রীতিমত কাড়াকাড়ি অবস্থা । ডিউটি ডাক্তার খুঁজে পায় না তারা। তাই খুব সহজে একজন পাশ করা ডাক্তার হ্যান্ডসাম স্যালারিতে জব পেয়ে যেতো। তখন চাকুরির জন্য বিয়ে আটকে থাকত না।

যারা একটু চতুর, তারা একসাথে ৩ হাসপাতালে একি রোস্টারে জব করত। আমার MMC এর এক বড় ভাই একি সাথে পাশাপাশি ৩ হাসপাতালে একি রোস্টারে ডিউটি করত (মডার্ণ, কিডনি এন্ড জেনারেল, প্যানোরমা হাসপাতাল) 😛 । বলা চলে ৩ হাসপাতালে একসাথে অন কল ডাক্তার। সাথে সাথে মৌসুমী ডাক্তার হিসেবে কুমিল্লা, নোয়াখালীর বড় মাত্রায় খ্যাপ। সাথে চলত পোস্ট গ্রাজুয়েশন অনাহারী (অনারারী) ট্রেইনিং।
কিন্তু দিন বদলে গেছে। এখন দিনে দিনে পাশ করা ডাক্তার এর সংখ্যা এতোই বেড়েছে যে, ছোট খাটো একটা হাসপাতালে একজন ডিউটি ডাক্তার পদের জন্য ধন্না দিতে হয় মাসের পর মাস। বিএমডিসি রেজিস্ট্রেশন করা ডাক্তার এর সংখ্যাই প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজারের মতো আর বেনামে, ভুয়া ডাক্তার লাখ ছাড়াবে।

পোস্ট খালি নাই নোটিশও দেখা যায় অনেক হাসপাতালে। সিভি জমা দিয়ে রেখে ধুলায় গড়ায়। তবুও কল আসে না। আজকাল দেখি প্রাইভেট হাসপাতাল গুলো বিনা বেতনে চিকিৎসক খুঁজতেছে। প্রতিযোগিতার মার্কেটে সুযোগ নিচ্ছে প্রাইভেট হাসপাতাল গুলো।

এদিকে এমবিবিএস পাশ করে বাবা মায়ের কাছে হাত পাতাও লজ্জার ব্যাপার। অন্য দিকে বয়স ও বিবাহের দিকে তাকানোর সময় নাই পোস্ট গ্রাজুয়েশন এর কথা ভেবে। দোটানায় নাও বেয়ে কুল কিনারা নাই বেশির ভাগের। সরকার এমবিবিএস পাশের গ্যারান্টি দিলেও সরকারী চাকুরীর নিশ্চয়তা দেয় না। আশির দশকের মত পাশের পর সরকারি চাকুরি ও মোটরসাইকেল পাওয়া এখন রীতিমত ইতিহাস।

সরকারী মেডিকেলে না হয় খরচ কম, কিন্তু প্রাইভেট মেড়িকেলে প্রায় অর্ধ কোটি টাকা খরচ করে এমবিবিএস পাশ করে নামের সাথে বেকার ডাক্তার লাগানোর কষ্ট কেউ বুঝবে না। বন্ধুমহল ভাববে আপনি হাজার ডলার কামান মিনিটে মিনিটে।

এখনি ভাবার সময়। কি অবস্থা হবে আরো ৫ বছর পর। কি অবস্থা হবে ১৫ বছর পর।। পোস্ট ফাঁকার জন্য খুন করে সিট দখল করতে হবে।।
সবাই ভাবে ডাক্তার মানেই হেব্বি টাকাওয়ালা। কিন্তু সেটা শুধুমাত্র কয়েকজন নামকরা বড় মাপের প্রফেসরের বেলায় প্রযোজ্য। বাকিরা গড়ের মাঠের না খাওয়া জমিদার। সো, এখনি চিন্তা করে দেখেন। ড্রিম কিন্তু ড্রিম নয়, এখন নাইটমেয়ার হয়ে গেছে।

  • Dr. Sayed Sujon

👉👉 উপরের এই ডাক্তারের স্ট্যাটাস থেকে হয়তো বর্তমান অবস্থাটা মোটামুটি কিছুটা অনুধাবন করতে পারা যায়। এবার আমার কথা বলি।
আমার আরেক অত্যন্ত কাছের বন্ধু একটি কলেজে শিক্ষকতা করে।
বেশ কয়েক বছর আগে আমার এলএলবি পরীক্ষার সময় হঠাৎ পরীক্ষার হলের সামনে তার সাথে দেখা হয়।
দূর থেকে দৌড়ে এসে জড়িয়ে ধরে বলল দোস্ত তুই এখানে কি করছিস? বললাম উকিল হওয়ার জন্য পরীক্ষা দিতে আসছি। সে বলল, আমিও!
আমি অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলাম, তোরা তো হাজবেন্ড ওয়াইফ দুজনেই কলেজে শিক্ষকতা করিস। তা তোদের আবার ওকালতি শিক্ষা করার দরকার পড়লো কেন?
পাল্টা প্রশ্ন করল, তুই কেন আইন পড়ছিস?
বললাম, তুই তো ভালো করেই জানিস আইন নিয়ে পড়াশোনা করাটা আমার সেই ছোটবেলার শখ।
সেই শখ পূরণ করার জন্য এলএলবি করছি।

👉👉 বর্তমানে নির্দিষ্ট বিষয়ে পড়াশোনা করে সেই নির্দিষ্ট কাজ পাওয়া যায়। আমার এক বন্ধু লেদার টেকনোলজিতে উচ্চতর ডিগ্রি নিয়ে ,সে এখন সচিবালয়ে কেরানির কাজ করে। বেতন কম, তবে ঘুষ আছে। সে ঘুষ খায় কিনা আমি জানিনা।

👉👉আরেক বন্ধু জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে “রসায়ন বিজ্ঞানে” অনার্স, মাস্টার্স ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট হয়ে এখন ‘রসগোল্লা’ আর ‘রসমালাই’ এর বিজনেস করে অনলাইনে । ব্যবসা তেমন সুবিধার না।

👉👉আমার অন্য আরেক বন্ধু একাউন্টিং ও বিজনেস ম্যানেজমেন্টে উচ্চতর ডিগ্রি নিয়ে সৌদি আরব গিয়ে এখন সে সিনিয়র নার্স হিসেবে হাসপাতালে চাকরি করে 😀।

👉👉 এবার একজন ডাক্তারের কথা বলি, যিনি এমবিবিএস পাস করে বহু টাকা খরচ করে সবকিছু শেষ করে ইংল্যান্ডে চলে গিয়েছিলেন। এবং বর্তমানে তিনি ইংল্যান্ডের সিটিজেন। তবে তিনি চাকরি করেন আমার সাথে মধ্য প্রাচ্যে।
এমবিবিএস ডিগ্রি নিয়ে চাকরি না পেয়ে ইংল্যান্ডে গিয়ে ও কোন সুবিধা করতে পারেননি। কারণ সেখানেও ডজন ডজন নয়, বরং হাজার হাজার ডাক্তার বেকার।
অবশেষে তিনি দুবাই এসে আমার সাথেই বেশ কিছু বছর টুরিস্ট গাইড হিসেবে চাকরি করেছেন।
আমি এখন ফ্রিল্যান্সিং ট্রান্সপোর্ট বিজনেস এ আছি, সে কোথায় আছে জানিনা।।

✅✅ কয়েকদিন আগে আমার এক বন্ধু আমাকে ফোন করে বলল, দোস্ত, তুইতো ইউরোপ আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কিছু দেশ ঘুরেছিস। একটা পরামর্শ দে। আমার মেয়েটা ভালোভাবে ইন্টারমিডিয়েট পাশ করেছে এবং আমি তাকে ডাক্তারি পড়াতে চাই।
সরকারি মেডিকেল কলেজগুলোতে যে প্রতিযোগিতা হয়, তাতে চান্স পাওয়ার সম্ভাবনা খুব কম। তাই আমি বেসরকারি মেডিকেলে পড়াতে চাচ্ছি।
ইউরোপ, আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যে ডাক্তারদের চাকরির বাজার কেমন?
আমি তাকে এক কথায় বললাম, দুনিয়ার সব জায়গায় সর্ব কাজের ব্যাপক প্রতিযোগিতা। মেয়েটা যদি স্বাভাবিকভাবে কোন সরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তি হতে পারে তাহলে পড়াতে পারিস। কিন্তু বেসরকারি মেডিকেল কলেজ মানেই হল 50 থেকে 70 লক্ষ টাকা। তারপর চাকরি পাওয়ার কোন গ্যারান্টি নেই।
এরচেয়ে ভালো, স্বাভাবিকভাবে পড়াশোনা করতে থাকুক। আর এরই মধ্যে ভালো পাত্র পেলে দ্রুত বিয়ে দিয়ে দে।

👉👉 আমার সাথে চাকরি করতেন একজনকে জানি যার সাথে এখনো মাঝেমধ্যে দেখা হয়। তিনি গত তিন বছর যাবত দেশে যেতে পারছেন না , কারণ বেসরকারি মেডিকেল কলেজে তার মেয়েকে ভর্তি করিয়েছেন এবং প্রতিনিয়ত পয়সার যোগান দিতে হয়। নিজের উপর এক বিরাট মুসিবত চাপিয়ে নিয়েছেন।।

👉👉 এবার একজন বয়স্ক মুরুব্বির কথা বলি যাকে আমি খুব নিকট থেকে জানি। বিদেশে থেকে বহু কষ্ট করে তার বড় ছেলেকে তিনি ডাক্তার বানিয়েছেন এবং গতবছর ইন্টার্নি শেষ করে বের হয়েছে।
তিনি আশা করছিলেন, ডাক্তারি ডিগ্রী নেওয়ার পরপরই হয়তো ছেলে দুই হাতে টাকা ইনকাম করবেন এবং তার কষ্টের লাঘব হবে।
কিন্তু আসলে কি তাই?? তিনি বৃদ্ধ বয়সে রোগ-ব্যাধি নিয়ে এখনো কষ্ট করে যাচ্ছেন। আশা করছেন ছেলের একটা ভালো চাকরি হবে। আমরাও আশা করি।
কিন্তু পথ এখনো অনেক দীর্ঘ।
বিসিএস করতে হবে। বিসিএস দিলেই পাস করবে এমন কোন কথা নেই। আর বহু কষ্ট করে পাশ করলে কোন মফস্বলের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জেনারেল ফিজিশিয়ান হিসেবে হয়তো চাকরি হবে।

আর সরকারি হাসপাতালে চাকরি পেলে; সরকারি হিসাব মতে “বেতন স্কেল পাবে নবম গ্রেডে”।
নবম গ্রেডের বেতন স্কেল মাত্র ২২ হাজার টাকা এবং আরো অন্যান্য সবমিলিয়ে বেতন পাবে সর্বমোট ৪০ হাজার টাকা!
তবে বেসরকারিভাবে হিসাব করতে গেলে আগে স্থানীয় উপযোগ এর বিষয়টি ভাবতে হবে।
একজন এমবিবিএস ডাক্তার কোন অঞ্চলে তার ডাক্তারি সেবা প্রদান করছেন, তার উপর নির্ভর করবে উপার্জন।
একজন এমবিবিএস ডাক্তার যদি ঢাকা শহরে কোন প্রাইভেট ক্লিনিকে চিকিৎসা দেয়, তবে সে সৎ ভাবে উপার্জন করতে পারবে সর্বোচ্চ দেড় লক্ষ টাকা।
আর যদি অসৎ ও হারাম পথ অবলম্বন করে, বিভিন্ন ঔষধ কোম্পানির প্রলোভনে প্রভাবিত হয়ে তাদের সাজেস্ট করা নরমাল ঔষধ লিখে দেয়, তাহলে সে কোম্পানির তরফ থেকে মোটা অংকের কালো টাকা পাবে।
তাছাড়া বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যদি সে রুগি পাঠায় তাহলে সেখান থেকেও মোটা কমিশন পাবে ঘুষ হিসাবে। তাছাড়া যদি কোন নার্সিংহোমে বা অন্য কোন ক্লিনিকে রোগী পাঠায়, তাহলেও সেখান থেকে এসে মোটা অংকের কমিশন পাবে।
মোটকথা কত টাকা এভাবে অসৎভাবে আসবে তার কোন সীমা পরিসীমা নাই। কারণ চুরি এবং লুটের মালের কোন সীমা থাকে না।
✅✅তবে দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য কথা হলো বাংলাদেশের শতকরা 95 থেকে 98% ডাক্তার এই জাতীয় নিকৃষ্ট দুই নাম্বারি কাজের সাথে জড়িত।।
আবার এই ডাক্তার যদি, ঢাকায় চিকিৎসা না দিয়ে রাজশাহী দিনাজপুর কিংবা চট্টগ্রামে চিকিৎসা দেয়। তবে সে অনায়াসে সৎভাবে এক লক্ষ টাকা ইনকাম করতে পারবে। (ঘুষ, চুরি ও দুর্নীতি ছাড়া)
এবং একই ডাক্তার যদি যেকোনো উপজেলা সদরে চিকিৎসা সেবা দেয় তাহলে সে ইনকাম করতে পারবে ৫০ থেকে ৭০ হাজার টাকা।।
আমি এই ধারণাগুলো পেয়েছি, আমার ডাক্তার বন্ধুদের কাছ থেকে।

✅✅ সে যাই হোক, ডাক্তারি পেশা সরাসরি একটা সেবামূলক পেশা। তবে সেবার মানসিকতা আমার দেশের ডাক্তারদের ৯৯% এর নেই। জনগণের ট্যাক্সের টাকায় পরিচালিত মেডিকেল কলেজগুলোতে পড়াশোনা করে জনগণের সাথেই তারা প্রতারণায় লিপ্ত হয়। অনেকেই হয়তো মনে করে যে আমার ছেলেকে সরকারি মেডিকেল কলেজে পড়াতেও খরচ পড়েছে ২০ লক্ষ টাকা।
কিন্তু এটা অনেকেই জানে না যে, কোন মেডিকেল কলেজ থেকে একটা ছেলেকে এমবিবিএস পাস করাতে, অথবা যে কোন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একটা ছেলেকে এমএ পাস করাতে সরকারের খরচ হয় এক কোটি টাকার উপর, যা আসে জনগণের ট্যাক্সের পয়সা থেকে।
আর বাবা-মা মনে করে এবং বাহাদুরি করে বলে যে, আমার পয়সা দিয়ে আমি আমার ছেলেকে উন্নত পড়াশুনা করিয়েছি।
ধন্যবাদ।
Mahabubur Rahman
mahabuburrahman1720@gmail.com

ইসলামে গালাগালি করা কি আদৌ জায়েজ??

📕📘 প্রসঙ্গঃ ইসলামে গালাগালি করার বিধানঃ
এখানে প্রশ্ন হল, ইসলামী শরীয়তে কি কাউকে গালাগালি করা জায়েজ আছে?? বিশেষ করে ওয়াজের মাহফিলে আলেম নামক কিছু লোক যেভাবে ভিন্ন মতামলম্বী ও ভিন্নমতের আলেম ও মানুষদের গালাগালি করে এটা কতটুকু শরীয়ত সম্মত বা এর কুফল বা পরিণতি কি???
এবং মানুষকে (বাইন চো*দ বলে) গালি
দেওয়ার হুকুম কি⁉️

📕📘 ইসলাম হলো একটা সার্বজনীন জীবন বিধান। পবিত্র কোরআন নাজিল হয়েছে মানুষের জন্য। এই কোরআন শুধু মুসলিমদের জন্য নাযিল হয়েছে এই কথা আমরা বলতে পারিনা। পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে- …… هذا بيان للناس… এটা (কুরআন) বয়ান করা হয়েছে বর্ণনা করা হয়েছে মানুষের জন্য।।
আর সৃষ্টিকর্তা ও পালনকর্তার পক্ষ থেকে যা কিছু বয়ান করা হয় এবং যা জীবন বিধান দেওয়া হয় সেখানে খারাপ কোন কিছুর অস্তিত্ব থাকার প্রশ্নই আসে না। গালাগালি তো হলো শয়তানের কর্ম।।
প্রশ্নকারীর ভাষাগুলি নিকৃষ্ট হওয়া সত্ত্বেও এ
বিষয়ে কথা বলার প্রয়োজন রয়েছে ।
প্রথমেই বলতে চাই যে, কোন মুমিন মুসলিম অন্য কাউকে কষ্ট দিতে পারে না। চাই সে গালির মাধ্যমেই হোক বা অন্য কোন মাধ্যমে।
যারা গালাগালি করে এরা মুনাফেক। কারন ইসলামে সে ব্যক্তি মুমিন নয় যার হাত ও মুখ থেকে অন্য ব্যাক্তি নিরাপদ নয়।
তাছাড়া, এখানে যে গালির কথা বলা হয়েছে তা আরও নিকৃষ্ট্য। যারা এ ভাষা ব্যাবহার করে তারা কি কখন ও ভেবে দেখেছে, যে সে কি বলছে?
বাইন চোদ (হিন্দিতে বেইন চোদ থেকে বাংলায় বাইন চো*দ এসেছে। উল্লেখ্য যে বেইন অর্থ বোন ) শব্দটি ব্যাবহার করে তাদের কাছেও প্রশ্ন, তারা কি যাকে গালি দিচ্ছে তার বোনকে জ্বেনা করতে চায় নাকি তার নিজের বোনকে অন্যকে দ্বারা জ্বেনা করাতে চায়। নাউজুবিল্লাহ।

অনেকেই ভাবতে পারে, আমরা তো এভাবে ভেবে গালি দেই না, তাদের কে আমি বলতে চাই মানুষের মুখ দিয়ে কথা বের হবে অথচ তার কোন অর্থ থাকবে না সেটা কি হয়। যদি অর্থ থাকে তাহলে উক্ত দুটি অর্থ ছাড়া কোনও অর্থ আছে কি?
পৃথীবিতে বাক স্বাধীনতা কি এই জন্য যে, যার মুখে যা আসবে সে তাই বলবে। যদি তাই হত তবে কেন নবি (সা:) এর নামে কথা বলায় সমস্থ বিশ্ব আদালতে, মামলা মোকাদ্দমায় ছোটাছুটি করেছিল।

এখান থেকে কি এ কথা স্পষ্ট বোঝা যায় না যে, কোন মানুষ কথা বললে তার কোন না কোন অর্থ থাকবেই।

দু:খ জনক হলেও সত্য যে, যারা আজকে শিক্ষিত দাবি করছে তারাই সবচেয়ে বেশি অশিক্ষিতের মত গালি দিচ্ছে। আর এক দল আছে এরা কোন প্রতিবাদ তো দূরের কথা আরো হেসে সেটাকে সাপর্ট করছে।
কি দু:খ সে ব্যক্তি বুঝলই না যে তাকে কি বলে গালি দেওয়া হল। এর অর্থই বা কি।
ইসলামে যদি কোন ব্যাক্তি অন্যের মাকে গালি দেয় তবে তা তার নিজের দিকেই ফিরে আসে। বেইন চোদ বা বাইন চোদ দ্বারা অন্যের বোনকে জ্বেনা করতে চাবে সে প্রথমে নিজের বোনকেই……..উক্ত নিকৃষ্টতম কাজ করতে চাইবে। নাউজুবিল্লাহহ। কত নিকৃষ্ট।

অথচ একদল নিকৃষ্ট লোক উক্ত ককথাটি নির্দিধায় ব্যবহার করছে।

রাসূল (সা:) বলেছেন: কিয়ামতের পুর্বে শিক্ষা উঠে যাবে, মুর্খতা বর্ষন হবে।

কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি যে শিক্ষিতের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলছে, তাহলে কি আল্লাহর রাসূল (সা) মিথ্যা বলেছেন নাউজুবিল্লাহ। তিনি মিথ্যা বলেন নি বরং বর্ত্মানে জেটাকে শিক্ষা বলা হচ্ছে তাই মুলত মুর্খতা যার বর্ষনের কথা রাসূল (সা) বলেছেন।
যে শিক্ষা মানুষকে নিকৃষ্ট ভাবে গালিগালাজ করাকে জায়েজ মনে করছে, যে শিক্ষা অন্যের মাকে, বোন কে নিয়ে অমানুষের মত মন্তব্যকে হালাল মনে করছে,
যে শিক্ষা অন্যের মা, বোন কে গালি দিতে গিয়ে নিজের মা, বোনের ইজ্জত নষ্ট করছে অথচ সে বিন্দুমাত্র ভ্রুক্ষেপ করছে না সেটা কোন শিক্ষাই না।
আল্লাহর রাসূল (সা) বলেছেন: মোনাফেকের লক্ষন চারটি (অন্য এক বর্ননায় তিনটি)
কথা বললে মিথ্যা বলে, ওয়াদা করলে ভঙ্গ করে, আমানতের খেয়ানত করে, ও বিবাদের সময় মুখদিয়ে নিকৃষ্ট ভাষা বলে। এরা মোনাফেক। যার স্থান জাহান্নামের নিন্মতর স্থরে অথচ পৌতলিকদের কেও নিন্মতর স্থরের কথা বলা হয় নি।

👉👉আল্লাহ তায়ালা বলেন :
তোমরা একে অন্যেকে সৎকাজ ও আল্লাহভিরুতার কাজে সাহায্য কর। পাপ ও সীমালঙ্ঘনের ব্যাপারে একে অন্যকে সহায়তা কর না। আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চই আল্লাহ তায়ালা কঠোর শাস্তিদাতা।
—সূরা মাইদা: ২!!
হে মুসমান ভাই বোন দ্রুত সেই মহান আল্লাহর দিকে ফিরে আসো, যিনি তোমাকে অস্থিত্যহীন থেকে শুস্ক পোড়া মাটির ন্যায় হতে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর দুনিয়াতে বসবাসের তাওফিক দিয়েছেন, অতঃপর যার কাছে আবার তোমাকে ফিরে যেতে হবে।
যার দেওয়া মুখ দিয়ে নিকৃষ্ট ভাষা বলছ কাল কিয়ামতের মাঠে তার কাছে কি জবাব দিবে। তোমার কি বিবেক নেই, তোমার কি মনুসত্য নেই, তোমার কি হিতাহিত জ্ঞান নেই, তোমার কি বুদ্ধি নেই। তুমি মানুষ নাকি পশু।
যারা আল্লাহর বিধান অমান্য করে এবং মানুষের সাথে ভালো আচরণ করে না আর তাদেরকে আল্লাহ পশু এবং পশুর চেয়ে নিকৃষ্ট বলেছেন।
আল্লাহ বলেন— اولئك عنعم بل هم عدل… এরা হলো বিভিন্ন জন্তু জানোয়ারের মতো বরং এদের চেয়েও নিকৃষ্ট।
আলেম হয়ে যারা অন্যকে গালাগালি করে তারা শুধু আল্লাহর বিধান অমান্যকারী নয় বরং তারা হল ইসলাম বিকৃতকারী এবং ইসলামের দুর্নাম বয়ে আনে এই সমস্ত লোক। যেহেতু এরা আলেম নাম ধারী সেহেতু জনগণ এবং অন্য ধর্মের লোকেরা মনে করে এটাই বুঝি ইসলামের পন্থা এবং গালাগালি করা ইসলামের একটি পদ্ধতি। নাউজুবিল্লাহ। আর এভাবেই তারা ইসলামকে অন্যান্যদের কাছে অপদস্ত করে থাকে। বলে তারা দ্বিগুণ অপরাধী

আল্লাহ কি তাহলে তোমার কথাই বলেছেন:
আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি সুন্দরতম অবয়বে। অত:পর তাকে নামিয়ে দিয়েছি নিচ থেকে নিচে। ( তখন সে পশু, বরং পশুর চেয়েও খারাপ)।
অতএব, ফিরে এসো সেই মহান আল্লাহর দিকে।
ইয়া আল্লাহ তুমি আমাদের মুসলিম ভাই বোনদের কে এ ধরনের মোনাফিকি বাক্য বলা থেকে ফিরে আসার তাওফিক দান কর। এবং সুন্দর অর্থবহ কথা বলার তাওফিক দান কর।
=======আমিন======
আমি দু:খিত যে অনিচ্ছা সত্ত্বেও খারাপ ভাষাগুলো ব্যাবহার করতে হয়েছে। আমি এ জন্য সবার কাছে ক্ষমা চাচ্ছি।

গুড টাচ এবং বেড টাচ হঠাৎ ভালো স্পর্শ এবং মন্দ স্পর্শ কিভাবে শিখাবেন শিশুদের।

👉👉 আলহামদুলিল্লাহ।। বাংলাদেশের সংস্কৃতিতে বড়দের শ্রদ্ধা এবং ছোটদের স্নেহ এই বিষয়টা অনেকটাই প্রতিষ্ঠিত এক ধরনের বাস্তবতা। সেই জায়গা থেকে শিশুদের আদর করাটাও সামাজিকভাবে বেশ প্রচলিত।
🤔🤔এটা ঠিক যে বিশ্বের অনেক দেশেই মা-বাবা ছাড়া অন্য কেউ বা বাইরের কেউ শিশুদের আদর করাকে বেশ নেতিবাচক দৃষ্টিতে দেখা হয়। মা-বাবার অনুমতি ছাড়া এমন ক্ষেত্রে অনেক সময় শক্ত আই’নের ব্যবস্থাও বিভিন্ন দেশে।
আর এর পেছনে একটা বড় কারণ শিশুদের যৌ’ন হয়রানির শিকার হওয়ার ঝুঁ’কি। কারণ সাবধানতা সত্ত্বেও বিশ্বজুড়ে শিশুদের যৌ’ন নিপী’ড়নের শি’কার হওয়ার ঘটনা ঘটছে প্রতিনিয়ত এমনকি নিজের আপন ভাই ও বাবার দ্বারাও পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে এমন কি বাংলাদেশও যৌন নিপীড়নের শিকার হচ্ছে শিশুরা।। শুধু যে নারী শিশু তা নয় বরং পুরুষ শিশু ও এ থেকে বাদ যায় না।।

🤔🤔এক্ষেত্রে অভিভাবকদের করণীয় হল–

👉১. শিশুর সঙ্গে একা সময় কাটাতে চাওয়া ব্যক্তির বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। অভিভাবক ছাড়া কাউকে, এমনকি শিশুর পছন্দের ব্যক্তির সাথেও বাইরে ঘুরতে দেয়া যাবে না। শিশুদের সঙ্গে ছোট বলে এমন আচরণ মেনে নেওয়া যাবে না যাতে তারা অস্বস্তি বোধ করে।
👉২. মা-বাবা ও অভিভাবকদের মাথায় রাখতে হবে পরিবারের ভেতরে-বাইরে কারো কারো অন্যের শরীরে খারাপভাবে হাত দেওয়ার অভ্যাস থাকতে পারে। যেসব জায়গায় হাত দেওয়া উচিত না তেমন জায়গায় হাত দিলে শিশুরা যেন মা-বাবাকে বলে দেয় সেটা শেখাতে হবে।
👉৩. যে ব্যক্তি শিশুদের ব্যক্তিগত জায়গায় স্পর্শ করবে বা শিশুকে দিয়ে তাদের শরীরে এমনভাবে স্পর্শ করার কথা বলবে যেটা শিশুর পছন্দ হবে না, সেক্ষেত্রে শিশুদের বাধা দেওয়া শেখাতে হবে।
👉৪. সব বয়সী শিশুর প্রতি নজর রাখতে হবে। শিশু এমন কোনো অভিযোগ করলে সেটা গুরুত্ব দিয়ে শুনতে হবে।
👉 গুড টাচ-ব্যাড টাচ বা ভালো স্পর্শ, মন্দ স্পর্শ ধারণার সঙ্গে শিশুকে পরিচিত করিয়ে দিতে হবে।
👉 বাচ্চাদের মন খুলে কথা বলা শেখাতে হবে যেন সমস্যার বিষয়ে বলতে তারা ভয় না পায়।
👉 যদি তেমন অপ্রী’তিকর ঘটনা ঘটে যায় সেক্ষেত্রে শিশুকে আশ্বস্ত করতে হবে যে সে ঘটনার জন্য শিশুটি কোনোভাবে দায়ী নয় এবং নিপীড়নকারী ব্যক্তির এমন আচরণ গ্রহণযোগ্য না।
👉 পরিবারের অন্য সদস্য বা পরিচিতদের নিপীড়নকারী ব্যক্তি সম্পর্কে জানাতে হবে যেন তারা নিজ সন্তানদের নিয়ে সতর্ক থাকতে পারেন।
👉 ঘটনাকে তুচ্ছ হিসেবে দেখা বা নিপীড়নকারীর পক্ষ নেয়া যাবে না। আবার এ নিয়ে বাড়াবাড়ি রকমের দুশ্চিন্তা বা প্রতিক্রিয়া বা অতিরিক্ত প্রশ্ন করা থেকেও বিরত থাকতে হবে।

👉👉 প্রথম থেকেই সন্তানকে জানাতে হবে যেন এমন পরিস্থিতিতে তারা না পড়ে একদম, তারপরও যদি ধরনের ঘটনা হয়ে যায় সেটা লঘু মাত্রার হলেও সন্তানদের আগলে রাখতে হবে, চোখে চোখে রাখতে হবে।
আত্মীয় হলেও তেমন ঘটনা ঘটানো ব্যক্তিকে বাড়িতে যতটা সম্ভব আসতে না দেওয়া উচিত , অথবা এমন আচরণ করে এই জাতীয় ব্যক্তিদেরকে সবসময় এগিয়ে চলতে হবে, শিশুকে অস্বস্তিকরভাবে স্পর্শ করা ব্যক্তিদের নিজেদের জীবন থেকে যতদূর সম্ভব ছেঁটে ফেলা অথবা প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিত হবে ।

🤔🤔শিশুদের কীভাবে বোঝাতে হবে⁉️
সন্তানদের সুরক্ষার জন্য এ বিষয়গুলো বোঝানোটাও বাবা-মায়ের দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে। আর ‘গুড টাচ ও ব্যাড টাচ’ এই ধারণা দিতে প্রায় সব পর্যায়ের বিশেষজ্ঞরা যেটা উল্লেখ করেন সেটা হচ্ছে শিশুদের ব্যক্তিগত অঙ্গ সম্পর্কে ধারণা তৈরি করা।
👉ছেলে শিশুদের ক্ষেত্রে ঠোঁট, গোপ’নাঙ্গ ,পায়ুপথ; মেয়েদের ক্ষেত্রে এই তিন অংশ ছাড়াও বুকের দিকের অংশ।
জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা এই অঙ্গগুলোকে একান্ত ব্যক্তিগত হিসেবে শিশুকে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার কথা বলে।
তবে একই সঙ্গে এটাও বলা হয় যে কোনো কোনো ক্ষেত্রে সেখানে স্পর্শ করার প্রয়োজন হতে পারে। যেমন শিশুর যদি টয়লেটে বা গোসলে সাহায্যের প্রয়োজন হয় এবং ডাক্তারের কাছে স্বাস্থ্যের পরীক্ষার জন্য যেতে হয়।
এক্ষেত্রে নিরাপদ স্পর্শের উদাহরণ হিসেবে বলা হয় যদি দাদা-দাদি বা নানা-নানি কেউ জড়িয়ে ধরে এবং গালে চুমু দেয় ।

👉তবে অনিরাপদ স্পর্শ হিসেবে ইউনিসেফ উল্লেখ করেছে––
১. যদি ধরলে ব্যথা লাগে
২. যদি এমন জায়গায় ধরা বা স্পর্শ করা হয় যেখানে ধরলে ভালো লাগে না বা যেখানে ধরা উচিত না (ব্যক্তিগত অঙ্গ)
৩. অস্বস্তি বোধ হয় বা খারাপ লাগে এমনভাবে কেউ ধরলে
৪. যদি এমনভাবে কেউ ধরে যাতে ভয় বা নার্ভাস লাগে
৫. যদি তাকে ধরার জন্য বা স্পর্শ করার জন্য শিশুকে জোর করে
৬. যদি স্পর্শ করে কাউকে এ বিষয়ে বলতে নিষেধ করে, চুপ থাকতে বলে
৭. যদি স্পর্শের কথা কাউকে বললে তার ক্ষতি করার হুমকি দেওয়া হয়
৮. অস্বস্তি বলতে বোঝানো হচ্ছে – মন খারাপ, রাগ, ভয়, লজ্জা কেউ এমন করলে যাকে বিশ্বাস করা যায় বা আস্থা রাখা যায় এমন মানুষকে বলতে হবে।
বাচ্চাদের বুঝাতে হবে শরীরের সেসব ব্যক্তিগত জায়গাগুলোতে যদি কেউ অনাকাঙ্ক্ষিত স্পর্শ করে তাহলে আমরা না বলবো, চিৎকার করবো এবং আমাদের মা-বাবাকে জানাবো বিষয়টা। যদি এরকম পরিস্থিতি হয় যে আমাদের বিপদ মনে হচ্ছে তাহলে সাথে সাথে দৌড়ে আমাদের ওই জায়গা থেকে বেরিয়ে যেতে হবে।
কেউ যদি আমাদেরকে এমনভাবে স্পর্শ করে যেটা আমাদের খারাপ লাগছে তখন আমরা চুপ করে থাকবো না, আমরা কথা বলবো, আমরা জোরে না বলবো।
ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট ডা. ইশরাত শারমিন রহমানও বিবিসি বাংলাকে এই অঙ্গের ক্ষেত্রে বলেছিলেন এখানে বাবা মা গোসল করানো বা পরিষ্কার করার সময় ছাড়া অন্য কেউ স্পর্শ করতে পারবে না। কেউ সেটি করলে সে কী করবে সেটিও তাকে জানানো। সেটা বাবা মাকে যে জানাবে সেটি শেখাতে হবে। এতে বাচ্চারা সচেতন থাকবে।

মৃত্যু হল পরকালীন Endless জীবনের প্রবেশ পথ। মৃত্যু মানব জীবনের শেষ নয়।

📕📕 মৃত্য জীবনের শেষ নয় বরং Endless life বা পরকালের অনন্ত জীবনে প্রবেশের পথ!
🇸🇦🇸🇦 আলহামদুলিল্লাহ, নাহমাদুহু ওয়া নুসাল্লি আলা রাসূলিহিল কারীম।
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ তা’য়ালার জন্য, শান্তি এবং কল্যাণ বর্ষিত হোক রাসূলুল্লাহ সঃ ও তাঁর পরিবারবর্গ, তাঁর বংশধর, তাঁর সাহাবায়ে কিরাম রাঃ ও সলেহ বা নেক বান্দাদের বান্দাগণের প্রতি।
আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নাই এবং মুহাম্মাদ সাঃ আল্লাহর বান্দা ও তার রসুল। নিশ্চয়ই শুভ পরিণতি কেবলমাত্র মুত্তাকীনদের জন্যই নির্ধারিত।

🇸🇦🇸🇦 মৃত্যু প্রত্যেক জীবের জন্য নির্ধারিত একটি সত্য ঘটনা। মৃত্যু না থাকলে এই দুনিয়ার জীবন দুর্বিষহ হয়ে পড়তো। তাই আল্লাহ এই দুনিয়া জীবনের মৃত্যু নির্ধারণ করেছেন।

🤔🤔জীবন-মৃত্যু সৃষ্টির লক্ষ্যঃ
আল্লাহ তা’য়ালা মানব জাতিকে দুনিয়ায় তাঁর খলিফা বা প্রতিনিধি হিসেবে কেবলমাত্র তাঁরই ইবাদত করার জন্য সৃষ্টি করেছেন। সৃষ্টির মানবাত্মাকে অন্ততঃ পাঁচটি জগতে অবস্থান করতে হবে। যথা- আলমে আরওয়াহ, আলমে দুনিয়া, আলমে বারযাখ, ইয়াওমুল হাশর এবং জান্নাত বা জাহান্নাম এর চিরস্থায়ী আবাসস্থল।
দুনিয়ার জীবন মানুষের ক্ষণস্থায়ী আবাসমাত্র। দুনিয়ায় আগমনের পর মৃত্যুর মাধ্যমে মানুষ অনন্ত জীবনে প্রবেশ করে। এই জীবন-মৃত্যু সৃষ্টির লক্ষ্য প্রসংগে আল্লাহ তা’য়ালা বলেন :

-“তোমাদের মধ্যে কে আমলে সবচেয়ে ভাল তা পরীক্ষা করার জন্য যিনি মৃত্যু ও জীবন সৃষ্টি করেছেন। তিনি মহাপরাক্রমশালী, অসীম ক্ষমাশীল।”

  • সূরা মুলকঃ আয়াত ২।

👉👉প্রত্যেক প্রাণকেই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবেঃ
দুনিয়ার জীবনের সবচেয়ে চরম সত্য হল মৃত্যু। ছলনাময় ভোগসামগ্রী দিয়ে দুনিয়ার জীবনকে সুশোভিত করে রাখা হয়েছে। আল্লাহ তা’য়ালা এই ছলনায় আকৃষ্ট না হয়ে মৃত্যু পরবর্তী অনন্ত জীবনের পাথেয় সংগ্রহের জন্য মানব জাতিকে নসিহত করেছেন। কারণ প্রত্যেক প্রাণকেই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। এ প্রসংগে তিনি বলেন :

-“প্রতিটি প্রাণই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবে। কিয়ামাতের দিন তোমাদের কাজের প্রতিফল তোমাদেরকে পুরোপুরিই দেয়া হবে। এরপর যাকে জাহান্নাম থেকে দূরে রাখা হবে এবং জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে, সেই সফল। আর দুনিয়ার জীবন ছলনাময় ভোগসামগ্রি ছাড়া আর কিছু নয়।” – [সূরা আলে ইমরানঃ আয়াত ১৮৫]

তিনি আরও বলেন :
-“প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। আমি তোমাদেরকে ভাল ও মন্দ দ্বারা পরীক্ষা করে থাকি এবং আমারই কাছে তোরা পত্যাবর্তিত হবে।”

  • সূরা আম্বিয়াঃ আয়াত ৩৫

তিনি আরও বলেন :
-“মৃত্যু যন্ত্রণা নিশ্চিতভাবেই আসবে, এ থেকেই তুমি টাল বাহানা করতে।”

  • সূরা ক্বফঃ আয়াত ১৯।

তিনি আরও বলেন :
“প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। অতঃপর তোমরা আমার কাছেই পত্যাবর্তিত হবে।” – —সূরা আনকাবুতঃ আয়াত ৫৭!

-“বলুন, তোমরা যে মৃত্যু থেকে পলায়নপর, সেই মৃত্যু অবশ্যই তোমাদের মুখামুখি হবে, অতঃপর তোমরা অদৃশ্য, দৃশ্যের জ্ঞানী আল্লাহর কাছে উপস্থিত হবে। তিনি তোমাদেরকে জানিয়ে দিবেন সেসব কর্ম, যা তোমরা করতে।” – (সূরা আল-জুমুয়াঃ আয়াত ৮)

তিনি আরও বলেন :
-“হে মানুষ, নিশ্চয় আল্লাহর ওয়াদা সত্য; অতএব দুনিয়ার জীবন যেন তোমাদেরকে কিছুতেই প্রতারিত না করে; আর বড় প্রতারক(শয়তান) যেন তোমাদেরকে আল্লাহর ব্যাপারে প্রতারণা না করে। নিশ্চয় শয়তান তোমাদের শত্রু, অতএব তাকে শত্রু হিসেবে গণ্য কর। সে তার দলকে কেবল এজন্যই ডাকে যাতে তারা জ্বলন্ত আগুনের অধিবাসী হয়।” – (সূরা আল ফাতিরঃ আয়াত ৫-৬)

🤔🤔প্রতিটি প্রাণের মৃত্যুকাল নির্ধারিতঃ

মানুষের মৃত্যুর সময় ও স্থান আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত। এর কোন পরিবর্তন নাই। মৃত্যু থেকে কোনভাবেই পলায়ন করা যায় না। মৃত্যুর নির্ধারিত সময়ের আগে বা পরে কোনক্রমেই কারও মৃত্যু আসে না। এ প্রসংগে আল্লাহ তা’য়ালা বলেন :

وَمَا كَانَ لِنَفْسٍ أَنْ تَمُوتَ إِلاَّ بِإِذْنِ الله كِتَابًا مُّؤَجَّلاً وَمَن يُرِدْ ثَوَابَ الدُّنْيَا نُؤْتِهِ مِنْهَا وَمَن يُرِدْ ثَوَابَ الآخِرَةِ نُؤْتِهِ مِنْهَا وَسَنَجْزِي الشَّاكِرِينَ

-“আল্লাহর হুকুম ছাড়া কেউ মরতে পারে না-সেজন্য একটা সময় নির্ধারিত রয়েছে। বস্তুতঃ যে লোক দুনিয়ায় বিনিময় কামনা করবে, আমি তাকে তা দুনিয়াতেই দান করব। পক্ষান্তরে-যে লোক আখেরাতে বিনিময় কামনা করবে, তা থেকে আমি তাকে তাই দেবো। আর যারা কৃতজ্ঞ তাদেরকে আমি প্রতিদান দেবো।” – [সূরা আলে-ইমরানঃ আয়াত ১৪৫]

তিনি আরও বলেন :

نَحْنُ قَدَّرْنَا بَيْنَكُمُ الْمَوْتَ وَمَا نَحْنُ بِمَسْبُوقِينَ 0

  • “আমি তোমাদের মৃত্যুকাল নির্ধারণ করেছি আর এ ব্যাপারে আমি অক্ষম নই।”
  • [সূরা ওয়াক্বিয়াঃ আয়াত ৬০]

তিনি আরও বলেন :

أَيْنَمَا تَكُونُوا يُدْرِكُكُمُ الْمَوْتُ وَلَوْ كُنْتُمْ فِي بُرُوجٍ مُشَيَّدَةٍ وَإِنْ تُصِبْهُمْ حَسَنَةٌ يَقُولُوا هَذِهِ مِنْ عِنْدِ اللَّهِ وَإِنْ تُصِبْهُمْ سَيِّئَةٌ يَقُولُوا هَذِهِ مِنْ عِنْدِكَ قُلْ كُلٌّ مِنْ عِنْدِ اللَّهِ فَمَالِ هَؤُلَاءِ الْقَوْمِ لَا يَكَادُونَ يَفْقَهُونَ حَدِيثًا0

  • “তোমরা যেখানেই থাক না কেন, মৃত্যু তোমাদের নাগাল পাবেই, এমনকি তোমরা যদি সুউচ্চ সুরক্ষিত দুর্গেও থাক। যদি তাদের কোন কল্যাণ হয় তাহলে তারা বলে: এটা আল্লাহর নিকট থেকে। আর তাদের যদি কোন অমঙ্গল হয়, তারা বলে: এটা আপনার পক্ষ থেকে। হে নবী (স)! আপনি বলে দিন: কল্যাণ-অকল্যাণ সবকিছুই আল্লাহর নিকট থেকে। আর এসব লোকের কী হল যে, তারা কোন কথাই বোঝে না!” – [সূরা নিসাঃ আয়াত ৭৮]

তিনি আরও বলেন :

اللَّهُ يَتَوَفَّى الْأَنْفُسَ حِينَ مَوْتِهَا وَالَّتِي لَمْ تَمُتْ فِي مَنَامِهَا فَيُمْسِكُ الَّتِي قَضَى عَلَيْهَا الْمَوْتَ وَيُرْسِلُ الْأُخْرَى إِلَى أَجَلٍ مُسَمًّى إِنَّ فِي ذَلِكَ لَآَيَاتٍ لِقَوْمٍ يَتَفَكَّرُونَ 0

  • “নিশ্চয় আল্লাহ মৃত্যুর সময় মানুষের জান কবয করেন এবং যাদের মৃত্যুর সময় হয়নি, তাদের জান কবয করেন ঘুমের সময়। এরপর তিনি যার মৃত্যুর সিদ্ধান্ত নেন তার জান রেখে দেন এবং অন্যদের জান একটি নির্ধারিত সময়ের জন্য ফিরিয়ে দেন। এরমধ্যে অবশ্যই চিন্তাশীল লোকদের জন্য নিদর্শন আছে।” – [সূরা জুমারঃ আয়াত ৪২]

قُلْ يَتَوَفَّاكُمْ مَلَكُ الْمَوْتِ الَّذِي وُكِّلَ بِكُمْ ثُمَّ إِلَى رَبِّكُمْ تُرْجَعُونَ 0

  • “(হে রাসূল!) আপনি বলুন, তোমাদের প্রাণ হরণের দায়িত্বে নিয়োজিত ফিরিশতা তোমাদের প্রাণ হরণ করবে, অতঃপর তোমরা তোমাদের পালনকর্তার কাছেই পত্যাবর্তিত হবে।” – [সূরা সিজদাহঃ আয়াত ১১]

তিনি আরও বলেন :

إِنَّ اللَّهَ عِندَهُ عِلْمُ السَّاعَةِ وَيُنَزِّلُ الْغَيْثَ وَيَعْلَمُ مَا فِي الْأَرْحَامِ وَمَا تَدْرِي نَفْسٌ مَّاذَا تَكْسِبُ غَدًا وَمَا تَدْرِي نَفْسٌ بِأَيِّ أَرْضٍ تَمُوتُ إِنَّ اللَّهَ عَلِيمٌ خَبِيرٌ0

  • “নিশ্চয় কিয়ামাতের জ্ঞান রয়েছে একমাত্র আল্লাহর, তিনিই বৃষ্টি বর্ষণ করেন এবং তিনিই জানেন জরায়ুতে কী আছে। কেউ জানে না, আগামিকাল সে কী অর্জন করবে এবং কেউ জানে না, কোন স্থানে সে মৃত্যুবরণ করবে। নিশ্চয় আল্লাহ সবকিছু জানেন, সব বিষয়ের খবর রাখেন।” – [সূরা লোকমানঃ আয়াত ৩৪]

🇸🇦🇸🇦মৃত্যু উপস্থিত হলে সবাই আফসোস করবেঃ
যখন কারো মৃত্যুর নির্ধারিত সময় উপস্থিত হবে, তখন সবাই আফসোস করবে। বদকার হলে এ জন্য আফসোস করবে যে, কেন সে নেক কাজ করল না। আর নেককার হলে আফসোস করবে যে, কেন সে আরও অধিক নেক কাজ করল না। এ প্রসংগে আল্লাহ বলেন :

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آَمَنُوا لَا تُلْهِكُمْ أَمْوَالُكُمْ وَلَا أَوْلَادُكُمْ عَنْ ذِكْرِ اللَّهِ وَمَنْ يَفْعَلْ ذَلِكَ فَأُولَئِكَ هُمُ الْخَاسِرُونَ 0 وَأَنْفِقُوا مِنْ مَا رَزَقْنَاكُمْ مِنْ قَبْلِ أَنْ يَأْتِيَ أَحَدَكُمُ الْمَوْتُ فَيَقُولَ رَبِّ لَوْلَا أَخَّرْتَنِي إِلَى أَجَلٍ قَرِيبٍ فَأَصَّدَّقَ وَأَكُنْ مِنَ الصَّالِحِينَ 0 وَلَنْ يُؤَخِّرَ اللَّهُ نَفْسًا إِذَا جَاءَ أَجَلُهَا وَاللَّهُ خَبِيرٌ بِمَا تَعْمَلُونَ 0

-“হে মুমিনগণ! তোমাদের অর্থ-সম্পদ এবং তোমাদের সন্তুান-সন্তুতি যেন তোমাদেরকে আল্লাহর স্মরণ থেকে বিরত না রাখে। যারা আল্লাহর যিকর থেকে বিরত থাকে, তারাই (দুনিয়া ও আখিরাতে) ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তোমাদের কারো মৃত্যু উপস্থিত হওয়ার আগেই আমি তোমাদেরকে যে জীবিকা দিয়েছি তোমরা সেখান থেকে দান কর। যে তা করবে না সে মৃত্যু উপস্থিত হলে বলবে: হে আমার প্রতিপালক! আমাকে যদি আরো কিছু দিনের সুযোগ দিতেন তাহলে আমি (মুক্ত হস্তে সম্পদের) সাদাকা দিতাম এবং সৎকর্মশীল লোকদের অন্তর্ভুক্ত হতাম। কিন্তু যখন কারো মৃত্যুর নির্ধারিত সময় উপস্থিত হবে, তখন আল্লাহ তাকে কোনক্রমেই (মৃত্যুর সময় আগে পরে করার) কোন সুযোগ দেবেন না। তোমরা যা কর আল্লাহ সে সম্পর্কে সকল খবরই জানেন।” -[সূরা মুনাফিক্বূনঃ আয়াত ৯-১১]

তিনি আরও বলেন :

حَتَّى إِذَا جَاءَ أَحَدَهُمُ الْمَوْتُ قَالَ رَبِّ ارْجِعُونِ (99) لَعَلِّي أَعْمَلُ صَالِحًا فِيمَا تَرَكْتُ كَلَّا إِنَّهَا كَلِمَةٌ هُوَ قَائِلُهَا وَمِنْ وَرَائِهِمْ بَرْزَخٌ إِلَى يَوْمِ يُبْعَثُونَ (100)

  • “যখন তাদের কারও কাছে মৃত্যু আসে, তখন সে বলে, হে আমার পালণকর্তা ! আমাকে পুনরায় (দুনিয়াতে ) প্রেরণ করুন, যাতে আমি সৎকর্ম করতে পারি। কখনোই নয়, এ তো তার একটি কথার কথা মাত্র। আর তাদের সামনে পর্দা রয়েছে পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত।” – [সূরা আল-মুমিনুনঃ আয়াত ৯৯-১০০]

🇸🇦🇸🇦মুমিন বা ইমানদাদের মৃত্যুকালীন অবস্থাঃ
রূহ তখন তার স্বাধীনতা ও দুনিয়ার মহব্বত স্বেচ্ছায় বিসর্জন দিয়ে আল্লাহকেই রব হিসাবে ঘোষণা দেয় এবং এর উপর কায়েম থাকে তখন তার জীবন ধারা আল্লাহ তা’য়ালার পছন্দনীয় পথে পরিচালিত হয়। মৃত্যুকালীন মহান প্রভু আল্লাহ তা’য়ালার পক্ষ থেকে সুসংবাদ নিয়ে তার কাছে ফিরিশতাগণ আগমন করেন। আল্লাহ তা’য়ালা বলেন :

إِنَّ الَّذِينَ قَالُوا رَبُّنَا اللَّهُ ثُمَّ اسْتَقَامُوا تَتَنَزَّلُ عَلَيْهِمُ الْمَلَائِكَةُ أَلَّا تَخَافُوا وَلَا تَحْزَنُوا وَأَبْشِرُوا بِالْجَنَّةِ الَّتِي كُنْتُمْ تُوعَدُونَ ০ نَحْنُ أَوْلِيَاؤُكُمْ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَفِي الْآَخِرَةِ وَلَكُمْ فِيهَا مَا تَشْتَهِي أَنْفُسُكُمْ وَلَكُمْ فِيهَا مَا تَدَّعُونَ ০ نُزُلًا مِنْ غَفُورٍ رَحِيمٍ ০

-“নিশ্চয়ই যারা বলে আমাদের প্রভু হচ্ছেন আল্লাহ, অতঃপর তারা অটল রয়েছে, তাদের প্রতি ফিরিশতা অবতীর্ণ হয়, (এবং বলে) তোমরা ভয় পেয়ো না, চিন্তা করো না আর সেই জান্নাতের সুসংবাদ গ্রহন কর যার প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে। পার্থিব জীবনেও আমরা তোমাদের বন্ধু ছিলাম এবং পরকালেও থাকব, তোমাদের জন্য সেথায় রয়েছে, যা কিছু তোমাদের বাসনা হবে আর তাও মজুদ রয়েছে, যা কিছু তোমরা চাইবে। আর এগুলো ক্ষমাশীল ও করুণাময়ের পক্ষ থেকে মেহমানদারী।” – (সূরা হা মীম সিজদা : আয়াত ৩০-৩২)

মুমিন বান্দাগনের মৃত্যু কষ্টদায়ক হয় না। জীবন হরণকারী ফিরিশতা আত্মাকে আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে সন্তুষ্টির সাথে বের হয়ে আশার নির্দেশ দেয়ার সাথে সে হাসিমুখে বের হয়ে আসে। এমন আত্মার পরিত্যাক্ত দেহের মুখে তাই মৃত্যুর পরও হাসি লেগে থাকে। এ প্রসংগে আল্লাহ বলেন :

يَا أَيَّتُهَا النَّفْسُ الْمُطْمَئِنَّةُ 0 رْجِعِي إِلَى رَبِّكِ رَاضِيَةً مَّرْضِيَّةً 0 فَادْخُلِي فِي عِبَادِي 0 وَادْخُلِي جَنَّتِ

  • “হে প্রশান্ত আত্মা! তুমি তোমার প্রভুর দিকে এমনভাবে ফিরে আস যে, তুমি তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট আর তিনিও তোমার প্রতি সন্তুষ্ট। অতঃপর শামীল হয়ে যাও আমার বিশিষ্ট বান্দাগণের মধ্যে আর দাখিল হয়ে যাও আমার জান্নাতে।” – (সূরা আল-ফাজরঃ আয়াত ২৭-৩০)

👉👉গুনাহগার বা অপরাধীদের মৃত্যুকালীন অবস্থাঃ
কাফির, মুশরিক, মুনাফিক, তাগুত, জালিম ও পাপাচারী বান্দাগনের মৃত্যু মারাত্মক কষ্টদায়ক হয়। আল্লাহর পক্ষ থেকে তাদের অনন্ত জীবনের জন্য অবধারিত শাস্তি মৃত্যুর সময় থেকেই শুরু হয়ে যায়। জীবন হরণকারী ফিরিশতা তাদের উপর চড়াও হয়ে মারাত্মক কষ্ট দিয়ে তাদের আত্মা কবজ করে থাকেন। এ প্রসংগে মহাণ আল্লাহ তা’য়ালা বলেন :

….. وَلَوْ تَرَى إِذِ الظَّالِمُونَ فِي غَمَرَاتِ الْمَوْتِ وَالْمَلَائِكَةُ بَاسِطُو أَيْدِيهِمْ أَخْرِجُوا أَنْفُسَكُمُ الْيَوْمَ تُجْزَوْنَ عَذَابَ الْهُونِ بِمَا كُنْتُمْ تَقُولُونَ عَلَى اللَّهِ غَيْرَ الْحَقِّ وَكُنْتُمْ عَنْ آَيَاتِهِ تَسْتَكْبِرُونَ 0

“…….. আপনি যদি দেখতেন, যখন যালিমরা মৃত্যু যন্ত্রণায় থাকবে, ফেরেশতাগণ হাত বাড়িয়ে বলবেন: তোমাদের প্রাণ বের করে দাও। আজ তোমাদেরকে অপমানকর শাস্তি দেয়া হবে কেননা তোমরা আল্লাহ সম্পর্কে অশোভন কথা বলতে ও তাঁর আয়াতসমূহ কবূল করার ব্যাপারে অহঙ্কার করতে।” – [সূরা আনআমঃ আয়াত ৯৩]

তিনি আরও বলেন :

وَلَوْ تَرَى إِذْ يَتَوَفَّى الَّذِينَ كَفَرُواْ الْمَلآئِكَةُ يَضْرِبُونَ وُجُوهَهُمْ وَأَدْبَارَهُمْ وَذُوقُواْ عَذَابَ الْحَرِيقِ0
ذَلِكَ بِمَا قَدَّمَتْ أَيْدِيكُمْ وَأَنَّ اللّهَ لَيْسَ بِظَلاَّمٍ لِّلْعَبِيدِ0

-“আপনি যদি দেখতে পেতেন, যখন ফেরেশতাগণ কাফিরদের হত্যা করে এবং তাদের মুখে ও পিঠে আঘাত করে আর তাদেরকে বলে : তোমরা আগুনে পোড়ার শাস্তি ভোগ কর – এ শাস্তি তার (সে অপকর্মের) বিনিময় যা তোমাদের হাত আগেই প্রেরণ করেছে। নিশ্চয় আল্লাহ তাঁর বান্দাদের প্রতি অত্যাচারী নন।” – (সূরা আনফালঃ আয়াত ৫০-৫১)

🇸🇦🇸🇦শহীদদের মৃত্যু কষ্ট হবে নাঃ
হযরত আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মওতের ছোঁয়া একজন শহীদের কাছে তেমন, যেমনটি তোমাদেরকে কেউ চিমটি কাটলে অনুভব করে।” – (তিরমিযী, নাসায়ী ও দারেমী)

মৃত ব্যক্তির জানাজার খাটিয়া বহণকালীন অবস্থার বিবরণঃ

হযরত আবূ সাঈদ খুদরী রাদ্বিয়াল্লা-হু আনহু কর্তৃক বর্ণিত । তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লা-হু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যখন জানাযা খাটে রাখা হয় এবং লোকেরা অথবা পুরুষেরা কাঁধে বহন করতে শুরু করে, তখন সে নেককার হলে বলতে থাকে, ‘আমাকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাও।’ আর বদকার হলে সে বলতে থাকে, ‘হায় ধ্বংস আমার ! তোমরা আমাকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছ ?’ মানুষ ছাড়া সবাই তার শব্দ শুনতে পায়। মানুষ তা শুনলে জ্ঞান হারিয়ে ফেলত (বা মারা যেত)”।-[বুখারীঃ ১৩১৪,১৩১৬,১৩৮০]

মুর্দাকে কবরে রেখে সবাই ফিরে যায়, শুধু তার আমল সাথে থেকে যায়ঃ হযরত আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “করে; তার পরিবার-পরিজন, তার ধন-সম্পদ এবং তার আমল। এসবের দু’টি ফিরে আসে এবং শুধু তার আমল তার সাথে থেকে যায়।” -[বুখারী: ৬০৩৩]

✅✅পরকালের অনন্ত জীবনে প্রবেশ পথের বিবরণঃ

হযরত বারা ইবনে আযেব রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক আনসারী ব্যক্তির দাফন-কাফনের জন্য আমরা একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সাথে বের হলাম। আমরা কবরের কাছে পৌছে গেলাম তখনও কবর খোড়া শেষ হয়নি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সেখানে বসলেন। আমরা তাঁর চার পাশে এমনভাবে বসে গেলাম যেন আমাদের মাথার উপর পাখি বসেছে। আর তাঁর হাতে ছিল চন্দন কাঠ যা দিয়ে তিনি মাটির উপর মৃদু পিটাচ্ছিলেন। তিনি তখন মাথা জাগালেন আর বললেন : তোমরা কবরের শাস্তি থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করো। কথাটি তিনি দু বার কিংবা তিন বার বললেন।

অতঃপর তিনি আরো বললেন : যখন কোন ঈমানদার বান্দা পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়ে আখেরাতের দিকে যাত্রা করে তখন আকাশ থেকে তার কাছে ফেরেশতা আসে। তাদের চেহারা থাকবে সূর্যের মত উজ্জল। তাদের সাথে থাকবে জান্নাতের কাফন ও সুগন্ধি। তারা তার চোখ বন্ধ করা পর্যন্ত তার কাছে বসে থাকবে। মৃত্যুর ফেরেশতা এসে তার মাথার কাছে বসবে। সে বলবে, হে সুন্দর আত্মা! তুমি আল্লাহ তাআলার ক্ষমা ও তার সন্তুষ্টির দিকে বেরিয়ে এসো। আত্মা বেরিয়ে আসবে যেমন বেড়িয়ে আসে পান-পাত্র থেকে পানির ফোটা। সে আত্মাকে গ্রহণ করে এক মুহুর্তের জন্যেও ছাড়বে না। তাকে সেই জান্নাতের কাফন পরাবে ও সুগন্ধি লাগাবে। পৃথিবিতে যে মিশক আছে সে তার চেয়ে বেশী সুগন্ধি ছড়াবে। তাকে নিয়ে তারা আসমানের দিকে যেতে থাকবে। আর ফেরেশতাদের প্রতিটি দল বলবে, কে এই পবিত্র আত্মা? তাদের প্রশ্নের উত্তরে তারা তার সুন্দর নাম নিয়ে বলবে যে, অমুক অমুকের ছেলে। এমনিভাবে প্রথম আসমানে চলে যাবে। তার জন্য প্রথম আসমানের দরজাগুলো খুলে দেয়া হবে। এমনি করে প্রতিটি আসমান অতিক্রম করে যখন সপ্তম আসমানে যাবে। তখন আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলবেন : আমার বান্দা আমলনামাটা ইল্লিয়ীনে লিখে দাও। আর আত্মাটা দুনিয়াতে তার দেহের কাছে পাঠিয়ে দাও। এরপর কবরে প্রশ্নোত্তরের জন্য দুজন ফেরেশতা আসবে। তারা প্রশ্ন করবে, তোমার প্রভূ কে? সে বলবে, আমার প্রভূ আল্লাহ। তারা প্রশ্ন করবে, তোমার ধর্ম কি? সে উত্তর দেবে, আমার ধর্ম ইসলাম। তারা প্রশ্ন করবে, এই ব্যক্তিকে কি চেন, যাকে তোমাদের কাছে পাঠানো হয়েছে? সে উত্তরে বলবে, তিনি আল্লাহর রাসূল। তারা বলবে, তুমি কিভাবে জানলে? সে উত্তরে বলবে, আমি আল্লাহর কিতাব পাঠ করেছি, তার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করেছি এবং তাকে সত্য বলে স্বীকার করেছি। তখন আসমান থেকে একজন আহবানকারী বলবে : আমার বান্দা অবশ্যই সত্য বলেছে। তাকে জান্নাতের বিছানা বিছিয়ে দাও। তার কবর থেকে জান্নাতের একটি দরজা খুলে দাও। জান্নাতের সুঘ্রাণ ও বাতাস আসতে থাকবে। যতদূর চোখ যায় ততদূর কবর প্রশস্ত করে দেয়া হবে।

এ সময় তার কাছে সুন্দর চেহারার সুন্দর পোশাক পরিহিত সুগন্ধি ছড়িয়ে এক ব্যক্তি আসবে। সে তাকে বলবে, তুমি সুসংবাদ নাও। সূখে থাকো। দুনিয়াতে এ দিনের ওয়াদা দেয়া হচ্ছিল তোমাকে। মৃত ব্যক্তি সুসংবাদ দাতা এ ব্যক্তিকে সে জিজ্ঞেস করবে, তুমি কে? সে উত্তরে বলবে, আমি তোমার নেক আমল (সৎকর্ম)। তখন সে বলবে, হে আমার রব! কেয়ামত সংঘটিত করুন! হে আমার রব! কেয়ামত সংঘটিত করুন! যেন আমি আমার সম্পদ ও পরিবারের কাছে ফিরে যেতে পারি।

আর যখন কোন কাফের দুনিয়া থেকে বিদায় হয়ে আখেরাত পানে যাত্রা করে তখন তার কাছে কালো চেহারার ফেরেশতা আগমন করে। তার সাথে থাকে চুল দ্বারা তৈরী কষ্ট দায়ক কাপড়। তারা চোখ বুজে যাওয়া পর্যন্ত তার কাছে বসে থাকে। এরপর আসে মৃত্যুর ফেরেশতা। তার মাথার কাছে বসে বলে, হে দুর্বিত্ত পাপিষ্ট আত্মা বের হয়ে আল্লাহর ক্রোধ ও গজবের দিকে চলো। তখন তার দেহে প্রচন্ড কম্পন শুরু হয়। তার আত্মা টেনে বের করা হয়, যেমন আদ্র রেশমের ভিতর থেকে লোহার ব্রাশ বের করা হয়। যখন আত্মা বের করা হয় তখন এক মুহুর্তের জন্যও ফেরেশতা তাকে ছেড়ে দেয় না। সেই কষ্টদায়ক কাপড় দিয়ে তাকে পেচিয়ে ধরে। তার লাশটি পৃথিবীতে পড়ে থাকে। আত্মাটি নিয়ে যখন উপরে উঠে তখন ফেরেশতারা বলতে থাকে কে এই পাপিষ্ট আত্মা? তাদের উত্তরে তার নাম উল্লেখ করে বলা হয় অমুক, অমুকের ছেলে। প্রথম আসমানে গেলে তার জন্য দরজা খোলার অনুরোধ করা হলে দরজা খোলা হয় না।

এ সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ আয়াতটি পাঠ করলেন: “ তাদের জন্য আসমানের দরজাসমূহ খোলা হবে না এবং তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে না, যতক্ষণ না উট সূঁচের ছিদ্রতে প্রবেশ করে। -(সূরা আরাফ, আয়াত ৪০) অতঃপর আল্লাহ তাআলা বলবেন, তার আমলনামা সিজ্জীনে লিখে দাও যা সর্ব নিম্ন স্তর। এরপর তার আত্মাকে পৃথিবীতে নিক্ষেপ করা হবে।এ কথা বলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ আয়াতটি পাঠ করেন : “আর যে আল্লাহর সাথে শরীক করে, সে যেন আকাশ থেকে পড়ল। অতঃপর পাখি তাকে ছোঁ মেরে নিয়ে গেল কিংবা বাতাস তাকে দূরের কোন জায়গায় নিক্ষেপ করল।” -(সূরা আল হজ, আয়াত : ৩১)

অতঃপর তার দেহে তার আত্মা চলে আসবে। দুই ফেরেশতা আসবে। তাকে বসাবে। এরপর তাকে জিজ্ঞেস করবে, তোমার প্রভূ কে? সে বলবে,হায়! হায়! আমি জানি না। তারা তাকে আবার জিজ্ঞেস করবে, তোমার ধর্ম কি? সে বলবে, হায়! হায়!! আমি জানি না। তারপর জিজ্ঞেস করবে, এ ব্যক্তি কে যাকে তোমাদের মধ্যে পাঠানো হয়েছিল? সে উত্তর দেবে, হায়! হায়! আমি জানি না। তখন আসমান থেকে এক আহবানকারী বলবে, সে মিথ্যা বলেছে। তাকে জাহান্নামের বিছানা বিছিয়ে দাও। জাহান্নামের একটি দরজা তার জন্য খুলে দাও। জাহান্নামের তাপ ও বিষাক্ততা তার কাছে আসতে থাকবে। তার জন্য কবরকে এমন সঙ্কুচিত করে দেয়া হবে যাতে তার হাড্ডিগুলো আলাদা হয়ে যাবে।

এ সময় তার কাছে এক ব্যক্তি আসবে যার চেহার বিদঘুটে, পোশাক নিকৃষ্ট ও দুর্গন্ধময়। সে তাকে বলবে, যে দিনের খারাপ পরিণতি সম্পর্কে তোমাকে বলা হয়েছিলো তা আজ উপভোগ করো। সে এই বিদঘুটে চেহারার লোকটিকে জিজ্ঞেস করবে, তুমি কে? সে বলবে, আমি তোমার অসৎকর্ম। এরপর সে বলবে, হে প্রভূ! আপনি যেন কেয়ামত সংঘটিত না করেন। -(আহমদ, আবু দাউদ, হাকেম)

👉👉 মৃত্যুর পর অথবা কবরে রাখার পরে ঈমানী পরীক্ষার বিবরণঃ
আনাস রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাঃ বলেছেনঃ “কোনো বান্দাকে যখন তার কবরে রাখা হয়, অতঃপর তার সঙ্গী সাথীরা ফিরে যায়, এমনকি ঐ মৃত ব্যক্তি তাদের চলন্ত অবস্থায় জুতার আওয়াজ শুনতে পায়। তখন তার নিকট দুজন ফেরেশতা আগমন করে, অতঃপর তারা তাকে উঠিয়ে বসায় এবং জিজ্ঞাসা করে, মুহাম্মদ সা. কে ? তখন মৃত ব্যক্তি মুমিন হলে বলে, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, তিনি আল্লাহর বান্দা ও রাসূল। তখন তাকে বলা হয়, তুমি তোমার জাহান্নামের স্থানটি দেখে নাও। আল্লাহ্ ইহা জান্নাতের বিনিময়ে তোমার জন্য পরিবর্তন করে দিয়েছেন। নবীজি সা. বলেন, তখন সেই ব্যক্তি উভয় স্থানটি দেখতে পায়। আর যদি মৃত ব্যক্তি কাফের বা মুনাফিক হয়, তাহলে সে বলতে থাকে, আমি কিছুই জানি না। লোকেরা যা বলতো আমিও তাই বলতাম। তখন তাকে বলা হয় তুমি কিছুই জানার চেষ্টা করোনি এবং কিছুই পড়নি। অতঃপর লোহার হাতুড়ি বা মুগুর দিয়ে তার ঘাড়ে আঘাত করা হয় ফলে সে এত জোরে চিৎকার করে যে, জ্বীন ও মানব জাতি ছাড়া আশে পাশের সবাই তা শুনতে পায়।”
-সহীহ বুখারী, সহীহ মুসলীম।
অন্য একটি বর্ণনায়ঃ আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন : “যখন তোমাদের মধ্য হতে কোন মৃত ব্যক্তিকে কবর দেয়া হয় তখন কালো ও নীল বর্ণের দু জন ফেরেশতা আগমন করে। একজনের নাম মুনকার অন্যজনের নাম হল নাকীর। তারা তাকে জিজ্ঞেস করে, এই ব্যক্তি সম্পর্কে তোমরা কী বলতে? সে বলবে, সে আল্লাহর বান্দা ও রাসূল। আমি স্বাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল। তখন ফেরেশতাদ্বয় বলবে, আমরা আগেই জানতাম তুমি এ উত্তরই দেবে।এরপর তার কবরকে সত্তর হাত প্রশস্ত করে দেয়া হয়। সেখানে আলোর ব্যবস্থা করা হয়। এরপর তাকে বলা হয়, এখন তুমি নিদ্রা যাও। সে বলবে, আমি আমার পরিবারের কাছে ফিরে যাবো, তাদেরকে (আমার অবস্থা সম্পর্কে) এ সংবাদ দেব। তখন ফেরেশতাদ্বয় তাকে বলে, তুমি ঘুমাও সেই নব বধুর মত যাকে তার প্রিয়জন ব্যতীত কেহ জাগ্রত করে না। এমনিভাবে একদিন আল্লাহ তাকে জাগ্রত করবেন।

আর যদি সে ব্যক্তি কাফির বা মুনাফিক হয়, সে উত্তর দেবে আমি তাঁর (রাসূলুল্লাহ) সম্পর্কে মানুষকে যা বলতে শুনেছি তাই বলতাম। বাস্তব অবস্থা আমি জানি না। তাকে ফেরেশ্‌তাদ্বয় বলবে, আমরা জানতাম, তুমি এই উত্তরই দেবে। তখন মাটিকে বলা হবে তার উপর চাপ সৃষ্টি করো।মাটি এমন চাপ সৃষ্টি করবে যে, তার হাড্ডিগুলো আলাদা হয়ে যাবে। কেয়ামত সংঘটনের সময় তার উত্থান পর্যন্ত এ শাস্তি অব্যাহত থাকবে।” -(তিরমিজী, তিনি বলেছেন হাদীসটি হাসান গরীব। আলবানী রহ. বলেছেন হাদীসটির সুত্র হাসান। হাদীসটি ইমাম মুসলিমের বিশুদ্ধতার শর্তে উত্তীর্ণ)

শহীদের কবরের প্রশ্ন করা হবে নাঃ হযরত রাশেদ বিন সা’দ জনৈক সাহাবী থেকে বর্ণনা করেছেন- কোনো এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! কবরে সকল মুমিনের পরীক্ষা হবে, কিন্তু শহীদের হবে না, এর কারণ কি? হুজুর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জবাবে বলেন: তার মাথার ওপর তলোয়ার চমকানোই তার পরীক্ষার জন্যে যথেষ্ট”।

  • সুনানে নাসায়ী।

✅✅পেশাব শেষে পবিত্র না হওয়া চোগলখুরীর কারণেও বারযাখের জীবনে বা কবরে আজাব হয়ঃ

ইবনে আব্বাস রাঃ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, “নবী সাঃ একবার মদীনা বা মক্কার কোন এক বাগানের কাছ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি এমন দুব্যাক্তির আওয়াজ শুনতে পেলেন, যাদের কবরে আযাব হচ্ছিল। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহে অসাল্লাম) বললেন: এদের দুজনকে আযাব দেয়া হচ্ছে, অথচ কোন বড় গুনাহের জন্য এদের আযাব দেয়া হচ্ছে না। তারপর তিনি বললেন: হ্যাঁ, এদের একজন তার পেশাবের নাপাকি থেকে সতর্কতা অবলম্বন করতো না। আর একজন চোগলখুরী করত। তারপর তিনি একটি খেজুরের ডাল আনালেন এবং তা ভেঙ্গে দু’খন্ড করে প্রত্যেকের কবরের উপর একখন্ড রাখলেন। তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হল, ইয়া রাসূলুল্লাহ! এরুপ কেন করলেন? তিনি বললেন: হয়ত তাদের আযাব কিছুটা লাঘব করা হবে, যতদিন পর্যন্ত এ দুটি না শুকায়।” – (বুখারীঃ হাদিস নং: ২১৬)

✅✅আখেরাতের প্রথম মঞ্জিল হল কবরঃ
উসমান রাঃ যখন কবরের পাশ দিয়ে যেতেন এতটাই কাঁদতেন যে তার দাড়ি ভিজে যেত।
মানুষ তাঁকে জিজ্ঞাসা করতেন,”আপনি জান্নাত – জাহান্নামের কথা শুনলে কাঁদেন না, অথচ কবরের কথা ভাবলেই এত কেঁদে ওঠেন!?” তিনি বললেন, রাসুল সাঃ কে বলতে শুনেছি : “কবর হচ্ছে আখিরাতের বাসস্থানসমূহের মাঝে প্রথমটি। যদি এখানে সে পরিত্রাণ পেয়ে যায়, তবে এরপর যা আসবে সবই তার জন্য আরও সহজ হয়ে যাবে। আর যদি এখানে সে পরিত্রাণ না পায় তবে তার জন্যপরে আরও কঠিন দুর্দশা অপেক্ষা করছে।” তিনি সাঃ আরও বলেন – “আমি এমন কোনও দৃশ্য দেখিনি যার চাইতে কবর অধিক ভয়াবহ নয়।”
-আত-তিরমিযী, ইবন মাজাহ ও আল-হাকিম।

✅✅সব মৃত্যুবরণকারীগণ লজ্জিত ও অনুতপ্ত হয়ঃ
আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাঃ বলেছেনঃ
“যে ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করে, সে লজ্জিত ও অনুতপ্ত হয়। সাহাবায়ে কেরাম জিজ্ঞাসা করলেন, এই অনুশোচনার কারণ কী? রাসূলুল্লাহ সাঃ বললেন, যদি সে নেককার হয় তবে এই কারণে অনুতপ্ত হয় যে, কেনো সে আরো অধিক নেককাজ করেনি। আর যদি লোকটা গুনাহগার হয় তবে সে এই কারণে অনুতপ্ত হয় যে, কেনো সে নিজেকে মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখেনি।”

  • তিরমিযী, মিশকাত-৫৩১১

🇸🇦🇸🇦মৃত্যুকে বেশী বেশী স্মরণ করাঃ
আবু সাঈ’দ রাদিয়াল্লাহু আ’নহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, “একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম নামাযের জন্য মাসজিদে আসলেন। দেখলেন যে, হাসির কারণে কিছু লোকের দাঁত দেখা যাচ্ছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করলেন, যদি তোমরা স্বাদ বিনষ্টকারী মৃত্যুকে বেশী বেশী স্মরণ করতে তবে তোমাদের এই অবস্থা হত না যা আমি দেখছি। সুতরাং স্বাদবিনষ্টকারী মৃত্যুকে বেশী বেশী স্মরণ কর। কেননা কবরের উপর এমন কোনদিন যায় না যেদিন সে এই আওয়াজ দেয় না যে, আমি অপরিচিতের ঘর, আমি একাকিত্বের ঘর, আমি মাটির ঘর, আমি পোকামাকড়ের ঘর।”-তিরিমিযী।

    আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে পরিপূর্ণ ঈমানের সাথে দুনিয়াতে থাকার এবং নেক আমল করার তৌফিক দান করুন। যে কাজগুলো রাসুল সাঃ এবং সাহাবাগণ করে গেছেন তার ইত্তেবা করার তৌফিক দান করুন। আর অবশ্যই আমাদের মৃত্যুদান করুন ঈমানের সহিত, সুস্থ শরীরে, এবাদত দ্রুত অবস্থায় এবং প্রিয়জনদের মাঝে। তামিম ইয়া রাব্বুল আলামিন।

    পীর অস্বীকার করা নাকি রাসূল সাঃ এর উদ্দেশ্য কি অস্বীকার করার শামিল। বলেছে কওমি দেওবন্দী  মোল্লা হাসান জামিল।

    🤔🤔পীরকে অস্বীকার করা নাকি রাসূলের উদ্দেশ্যকে অস্বীকার করার শামিল?!
    — বয়ানে জামানার দাজ্জাল হাসান জামিল

    বিস্‌মিল্লাহির রাহ্‌মানির রাহিম।
    “যাহারা অন্তরের কার্পণ্য হইতে মুক্ত; তাহারাই সফলকাম”। — সূরা তাগাবুন ৬৪:১৬।
    {{👉👉প্রথমেই আমি মন্তব্যকারীদের জ্ঞাতার্থে দুটি কথা বলতে চাই: এ লেখার সাথে যে কেউ অবশ্যই দ্বিমত পোষন করতে পারেন। সে ক্ষেত্রে লেখাটির কোন অংশের সাথে আপনি দ্বিমত পোষন করছেন, তা সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ পূর্বক আপনার মতে তা কি হওয়া উচিত, কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে মন্তব্যে তুলে ধরুন, কারো মত বা ফতোয়া এক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। অনুগ্রহপূর্বক ঢালাও ও মনগড়া মন্তব্য পরিহার করুন। ঢালাও ও মনগড়া মন্তব্য মূলতঃ অজ্ঞতারই বহিঃপ্রকাশ। আলোচ্য বিষয়ের উপর মন্তব্য করা বাঞ্ছনীয়। অশ্লীল বাক্য প্রয়োগ ইসলাম পরিপন্থী। অশ্লীল বাক্য প্রয়োগের মাধ্যমে ইবলিশের দাসত্ব করা বুদ্ধিমানের কাজ নয় }}

    ✅✅সম্প্রতি কওমি দেওবন্দী মতাদর্শের আলেম হাসান জামিল, যিনি দুইদিন আগেও অত্যন্ত অহংকার করে একটি বক্তৃতায় বলেছেন যে তার আমল আবু বকরের আমলের চেয়ে অনেক বেশি তার তেলাওয়াত আবু বকরের আমলের চেয়ে অনেক বেশি এবং সে আবু বকরের চেয়ে অনেক বেশি হজ করেছে ইত্যাদি ইত্যাদি, সেই অহংকারী তারিখ জামিলের একটি ভিডিও লিংক ভাই Nurulislam BD গত ১লা মার্চ আপলোড করেছেন। তিনি এ ভিডিওটির ক্যাপশনে লিখেছেন “পীরকে অস্বীকার করা এটা রসূলের উদ্দেশ্যকে অসিকার করার সামিল”” (নাউজুবিল্লাহ)Hasan Jamil,,,,.
    Dolil sunun,,। বড় বড় পুস্তক করে বা মুখস্ত করে বক্তৃতা করলেই সে বড় আলেম হয়ে যায় না, অনেক সময় সে বড় দাজ্জাল হয়ে যায়।

    🤔🤔আমি গভীর আগ্রহ নিয়ে হাসান জামিলের চার মিনিট একুশ সেকেন্ডের ভিডিওটি দেখি। হাসান জামিলের প্রায় সাড়ে চার মিনিটের এ বক্তব্যটির সারাশং এখানে তুলে ধরছি।
    হাসান জামিল পীরের পক্ষে সাফাই গাইতে গিয়ে এবং পীরগীরি যে ইসলামেরই অংশ তা প্রমাণ করার জন্য সূরা জুমুআ’র ২নং আয়াত তিলাওয়াত ও ব্যাখ্যা করেছেন। সূরা জুমুআ’র ২নং আয়াতে আল্লাহ্‌তাআ’লা বলেন,

    👉👉“তিনিই উম্মীদের মধ্য থেকে তাহাদের জন্য একজন রাসূল পাঠিয়েছেন, যে তাহাদের নিকট তাঁহার আয়াতসমূহ পাঠ করে; তাহাদিগকে পবিত্র করে এবং কিতাব ও হিক্‌মত শিক্ষা দেয়; ইতিপূর্বে উহারা সুস্পষ্ট পথভ্রষ্টতায় নিমজ্জিত ছিল”। _ সূরা জুমু’আ ৬২:২।

    আল্লাহ্‌তাআ’লা এখানে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামাকে পাঠানোর উদ্দেশ্য সম্পর্কে বলছেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অনেক কাজ সমূহের মধ্যে অনত্যম কাজ ছিল মানুষকে আল্লাহ্‌র কিতাব পাঠ করে শোনানো এবং তাদেরকে পবিত্র করা এবং পথভ্রষ্টা থেকেও রক্ষা করা। হাসান জামিল এখানে শুধু কিতাব পাঠ এবং পবিত্রকরণ করার মধ্যেই তার বক্তব্য সীমাবদ্ধ রেখেছেন, পথভ্রষ্টার ব্যাপারে কিছুই বলেননি। আল্লাহ্‌তাআ’লা এখানে পবিত্রকরণ করতে কি বুঝিয়েছেন সে সম্পর্কেও হাসান জামিল কোন ব্যাখ্যা করেননি।

    আমরা জানি পবিত্রতা দু্ই প্রকার, এক বাহ্যিক পবিত্রকরণ যেমন আমরা অজু গোসলের মাধ্যমে বাহ্যিক পবিত্রতা অর্জন করি। দুই, কুফর ও শির্‌ক থেকে পবিত্রকরণ। এখানে একটি কথা মনে রাখতে হবে কুফর এবং শির্‌কের অপবিত্রতা দূর না করে যতই বাহ্যিক পবিত্রতা হাসিল করা হউক না কেন, তার কোন মূল্য নেই। সুতরাং এ আয়াতে আল্লাহ্‌ সুব্‌হানাহু ওয়া তাআ’লা কুফর ও শির্‌ক থেকে পবিত্রকরণ করার কথাই বলেছেন। হাসান জামিল এখানে গুরুত্তপূর্ণ এ বিষয়টি উপেক্ষা করে চরম দায়িত্ব জ্ঞানহীনতারই পরিচয় দিয়েছেন। কারণ বেশিরভাগ মুসলমানই পবিত্রতা বলতে তারা বাহ্যিক পবিত্রতার কথাই বুঝে থাকেন।

    👉👉আল্লাহ্‌তাআ’লা বলেন,
    “হে মু’মিনগণ! মুশরিকরা তো অপবিত্র; সুতরাং এই বৎসরের পর তাহারা যেন মসজিদুল হারামের নিকট না আসে”। _ সূরা তাওবা ৯:২৮।

    শির্‌ককারীকে বলা হয় মুশরিক এবং আল্লাহ্‌তাআ’লা বলছেন মুশরিকরা অপবিত্র তাই তাদেরকে মসজিদুল হারামের কাছে আল্লাহ্‌তাআ’লা যেতে নিষেধ করেছেন। এখন প্রশ্ন ঈমানদারদের মধ্যে যারা মুশরিক যেমনটা আল্লাহ্‌তাআ’লা বলেন,
    “তাহাদের অধিকাংশ আল্লাহ্‌তে বিশ্বাস করে, কিন্তু তাঁহার শরীক করে”। _ সূরা ইউসুফ ১২:১০৬।

    তাদের জন্যেও কি এ নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে?
    আল্লাহ্‌ সুব্‌হানাহু ওয়া তাআ’লা শির্‌ক মিশ্রিত ইবাদত কবূল করেননা, তিনি বলেন,

    “তুমি আল্লাহ্‌র শরীক স্থির করিলে তোমার কর্ম তো নিষ্ফল হইবে এবং অবশ্য তুমি ক্ষতিগ্রস্থ হইবে। অতএব তুমি আল্লাহ্‌র ইবাদত কর এবং কৃতজ্ঞ হও’’। _ সূরা যুমার ৩৯:৬৫-৬৬।

    আল্লাহ্‌তাআ’লা তাঁর রাসূলকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পাঠানোর উদ্দেশ্য ছিল কুফর ও শির্‌ক থেকে মানুষকে পবিত্রকরণ। এখানে হাসান জামিল এ বিষয়টির উপর গুরুত্ব আরোপ না করার কারণ তার অজ্ঞতা, নাকি পীরের পক্ষে ওকালতি করতে গিয়ে ইল্‌ম গোপন তা আল্লাহ্‌তাআ’লাই ভাল জানেন। আল্লাহ্‌তাআ’লা ইল্‌ম গোপনকারীদের বিরুদ্ধে হুশিয়ারী উচ্চারণ করে বলেন,

    “নিশ্চয়ই আমি যে সব স্পষ্ট নির্দশন ও পথ নির্দেশ অবতীর্ণ করিয়াছি মানুষের জন্য কিতাবে উহা স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করার পরও যাহারা উহা গোপন রাখে আল্লাহ্ তাহাদিগকে লা’নত দেন এবং অভিশাপকারীরাও তাহাদিগকে অভিশাপ দেয়”। –+সূরা বাকারা ২:১৫৯।

    👉👉“আল্লাহ্ যে কিতাব অবতীর্ণ করিয়াছেন যাহারা তাহা গোপন রাখে ও বিনিময়ে তুচ্ছমূল্য গ্রহন করে তাহারা নিজেদের পেটে আগুন ব্যতীত আর কিছু ভরে না। কিয়ামতের দিন আল্লাহ্ তাহাদের সাথে কথা বলিবেন না এবং তাহাদিগকে পবিত্র করিবেন না। তাহাদের জন্য মর্মন্তুদ শাস্তি রহিয়াছে। তাহারাই সৎপথের পরিবর্তে ভ্রান্তপথ এবং ক্ষমার পরিবর্তে শাস্তি ক্রয় করিয়াছে; আগুন সহ্য করিতে তাহারা কতই না ধৈর্যশীল!”– সূরা বাকারা ২:১৭৪-১৭৫।

    হাসান জামিল পীর পদ্ধতিকে রাসূলে আগমনের উদ্দেশ্যের সাথে সম্পর্কিত করে ধৃষ্টতার পরিচয় দিয়েছেন। ‌আমাদের দেশে যারা প্রচলিত অর্থে পীর তারা আসলে ধর্ম ব্যবসায়ী। তারা মানুষের আত্মাকে পরিশুদ্ধ করবে তো দূরের কথা তারা নিজেদের আত্মাই শির্‌ক বিদআ’তের আবর্জনা দ্বারা কলুষিত। তারা মানুষদেরকে শির্‌কের দিকে আহ্‌বান করে অর্থাৎ মুশরিক বানায়। সূরা জুমুআ’র ২নং আয়াতের শেষে আল্লাহ্‌তাআ’লা আরেকটি কথা বলেছেন যে, “ইতিপূর্বে উহারা সুস্পষ্ট পথভ্রষ্টতায় নিমজ্জিত ছিল”। কিন্তু এ পীরের দল মানুষকে পথভ্রষ্টতার দিকেই আহ্‌বান করে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে পাঠানোর দুটি উদ্দেশ্যকেই এরা ধ্বংস করছে।

    আমাদের দেশে এ পীর নামক শ্রেণীটি বেশিরভাগই দেওবন্দী ঘারানার আলিম (নাকি জালিম আল্লাহু আ’লাম)। হাসান জামিলও দেওবন্দী, সুতরাং সে পীরগীরির সাফাই গাইবে সেটাই স্বাভাবিক। হাসান জামিল হয়তো ভবিষ্যতে পীর হিসাবে আত্মপ্রকাশ করার ধান্দায় আছে। কারণ পীর হচ্ছে বিনা পূজির এক বিরাট লাভজনক ব্যবসা। হাসান জামিল তার বক্তব্যে এও ব্যাখ্যা করেননি কিভাবে বা কোন ফর্মুলায় পীরেরা মানুষের আত্মাকে পরিশুদ্ধ করে। রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কিভাবে মানুষের আত্মাকে পরিশুদ্ধ করতেন তার কোন উল্লেখ হাসান জামিল করেননি। তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর অবর্তমানে সাহাবা আজমাঈনগণ কিভাবে মানুষের আত্মাকে পরিশুদ্ধ করবে, সে বিষয়ে তিনি কি দিক নির্দেশনা দিয়ে গিয়েছিলেন সেটারও উল্লেখ হাসান জামিল করেননি, যার মাধ্যমে আমরা বুঝতে পারতাম সেই ধারাবাহিকতায় এ কথিক পীরের দল মানুষের আত্মাকে পরিশুদ্ধ করণের লাইসেন্স পেয়েছে?

    হাসান জামিল তার বক্তব্যে বলেছে, …. “কিতাব তিলাওয়াত কে করবে নবী করবে, আত্মা পরিশুদ্ধ কে করবে নবী করবে। আল্লাহ্‌তাআ’লা বলেন নাই কিতাব পড়লেই তোমার আত্মা পরিশুদ্ধ হয়ে যাবে। তুমি হাদীস পড়লেই তোমার আত্মা পরিশুদ্ধ হয় যাবে। কোন ব্যক্তির এখানে কোন কিছু করার নাই আল্লাহ্‌তাআ’লা একথা কিন্তু বলেন নাই এ আয়াতে”। ….. ঠিক আছে এ আয়াতে আল্লাহ্‌তআ’লা একথা বলেন নাই। অন্য কোন আয়াতে আল্লাহ্‌তাআ’লা এ সম্পর্কে কোন কিছু বলেছেন কি-না দেখে নেয়া যাক।

    কোন ব্যক্তি সে পরিশুদ্ধ হবে কি হবে না, সে ক্ষমতা বা এখতিয়ার কি আল্লাহ্‌তাআ’লা কোন নবী রাসূলকে দিয়েছিলেন? যেমনটা আল্লাহ্‌ সুবহানাহু ওয়া তাআ’লা বলেন,
    👉👉“ (হে নবী)তুমি যাহাকে ভালবাস, ইচ্ছা করিলেই তাহাকে সৎপথে আনিতে পারিবে না। তবে আল্লাহ্‌ই যাহাকে ইচ্ছা সৎপথে আনয়ন করেন এবং তিনিই ভাল জানেন সৎপথ অনুসারীদিগকে”।
    —সূরা কাসাস ২৮:৫৬।

    আবূ লাহাব আবূ জাহেলরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কথায় পরিশুদ্ধ হয়েছিল কি?

    👉👉আল্লাহ্‌তাআ’লা বলেন,
    “সে ভ্রূকুঞ্চিত করিল এবং মুখ ফিরাইয়া লইল, কারণ তাহার নিকট অন্ধ লোকটি আসিল। তুমি কেমন করিয়া জানিবে- সে হয়তো পরিশুদ্ধ হইত, অথবা উপদেশ গ্রহন করিত, ফলে উপদেশ তাহার উপকারে আসিত। পক্ষান্তরে যে পরোয়া করে না, তুমি তাহার প্রতি মনোযোগ দিয়াছ। অথচ সে পরিশুদ্ধ না হইলে তোমার কোন দায়িত্ব নাই”।
    👉👉সূরা আবাসা ৮০:১-৭।

    উপরের আয়াতের মাধ্যমে বোঝা গেল কাউকে জোড় জবরদস্তি পরিশুদ্ধ করার দায়িত্ব রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ছিল না। এ প্রসঙ্গে

    👉👉আল্লাহ্‌তাআ’লা আরও বলেন,
    “তোমরা আল্লাহ্‌র আনুগত্য কর এবং রাসূলের আনুগত্য কর; যদি তোমরা মুখ ফিরাইয়া লও, তবে আমার রাসূলের দায়িত্ব কেবল স্পষ্টভাবে প্রচার করা”। —-সূরা তাগাবুন ৬৪:১২।

    মানুষ আল্লাহ্‌র প্রতি ঈমান না আনার কারণে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হয়রান পেরেশান হয়ে গেলে ।
    👉👉আল্লাহ্‌তআ’লা তাঁর রাসূলকে উদ্দেশ্য করে বলেন,
    “তোমার প্রতিপালক ইচ্ছা করিলে পৃথিবীতে যাহারা আছে তাহার সকলে অবশ্যই ঈমান আনিত। তবে কি তুমি মু’মিন হইবার জন্য মানুষের উপর জবরদস্তি করিবে? আল্লাহ্‌র অনুমতি ব্যতিত ঈমান আনা কাহারও সাধ্য নহে”।
    —-সূরা ইউনুস ১০:৯৯-১০০।

    কোন মানুষের আত্মাকে পরিশুদ্ধ করার প্রথম ধাপ হচ্ছে আল্লাহ্‌তাআ’লার প্রতি ঈমান আনা। এরপর শির্‌ক সম্পর্কে যথাযথ জ্ঞান অর্জন করা এবং শির্‌ক থেকে দূরে থাকা। কারণ শির্‌ক হচ্ছে সবচেয়ে বড় গোনাহ্‌, শির্‌ককে বলা হয়েছে চরম যুল্‌ম (৩১:১৩)।

    আল্লাহ্‌তাআ’লা একাধিক আয়াতে শির্‌ককারীদের ভয়াবহ পরিণতির কথা বলেছেন। আল্লাহ্‌তআ’লা বলেন,
    “নিশ্চয়ই আল্লাহ্‌ তাঁহার সহিত শরীক করাকে ক্ষমা করেন না; এ ছাড়া সব কিছু যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন এবং যে আল্লাহ্‌র শরীক করে সে ভীষনভাবে পথভ্রষ্ট হয়”। _ সূরা নিসা ৪:১১৬। “কেহ আল্লাহ্‌র শরীক করিলে আল্লাহ্ তাহার জন্য জান্নাত অবশ্যই নিষিদ্ধ করিবেন এবং তাহার আবাস জাহান্নাম। যালিমদের জন্য কোন সাহায্যকারী নাই।” _ সূরা মায়িদা ৫:৭২।

    পক্ষান্তের রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে বিদআ’ত থেকে দূরে থাকতে বলেছেন। তিনিও বিদআ’তকারীদের ভয়াবহ পরিণতির কথা উল্লেখ করেছেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন বিদআ’তিরা পথভ্রষ্ট এবং তাদেরও পরিণতি জাহান্নাম। সুতরাং কোন মু’মিন কোন আক্কেলে শির্‌ক ও বিদআ’তের মত ভয়াবহ গোনাহে লিপ্ত হতে পারে?

    এখন আমরা যদি এই কথিত পীরের দল যারা স্বঘোষিত আত্মা পরিশুদ্ধ করণের লাইসেন্সধারী তাদের কর্মকান্ড রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তো অনেক দূরের কথা শুধু সাহাবা আজমাঈনদের সাথে তুলনা করি তাহলে আমরা কি দেখতে পাই? সাহাবা আজমাঈনগণ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ইন্তেকালের পর কোন খানকা দরগা বানিয়ে কি মুরিদ কালেকশন করতেন? তারপর সেই মুরিদদের হাদিয়া তোহ্‌ফা দিয়ে কি জীবন ধারণ করতেন? সাহাবা আজমাঈনদের কথা বাদ দিন, ইমাম আবূ হানীফা(র), ইমাম মালিক(র), ইমাম শা’ফি(র), ইমাম আহ্‌মাদ ইব্‌ন হাম্বল(র), ইমাম বুখারী(র), ইমাম মুসলিম(র) প্রমূখ, তারা কি খানকা দরগা বানিয়ে পীরগীরি করতেন, মুরীদদের কাছ থেকে হাদিয়া আদায় করতেন, উরশের মেলা করতেন?

    হাসান জামিলের কথা অনুযায়ী ধরে নিলাম এরাও পীর ছিলেন। কিন্তু তাদের ইন্তেকালের পর তাদের পরীগীরি তাদের সন্তানেরা করেননি কেন যেমনটা আমাদের দেশের পীরেরা করে? আমাদের দেশের পীরের দলেরা বংশ পরম্পরায় পীর। পীর মারা গেলে পীরের ছেলে গদ্দীশীন হন অর্থাৎ গদিতে আসন গ্রহন করেন। পুরান ঢাকার বিভিন্ন আড়তের মালিকদের বসার স্থানকে গদি বলা হয়। গদি বলতে আমরা এ প্রকার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বসার স্থানকেই বুঝে থাকি। পীরগীরিও যে আমাদের দেশে বিনা পূজিঁর লাভজনক একটি ব্যবসা এ গদ্দীনশীন হওয়া থকেই তা প্রমাণিত হয়। আরও প্রমাণিত হয়, পীরের ছেলেরা বাবার সম্পত্তির উত্তরাধিকার হওয়ার মতই পীরগীরিরও উত্তরাধিকার হন। রাজনৈতিক গদির মত এ গদিরও এমন মজা যে পীরের কোন ছেলে এ গদীর অধিকার লাভ করবে তা নিয়ে মারামারি হতে দেখা যায়। আমার সাথে একবার এক পীরের ছেলের সাথে সাক্ষাত হয়েছিল, তিনি তার ভিজিটিং কার্ডে (পীরের আবার ভিজিটিং কার্ড লাগে?) নিজের পরিচয় দিতে গিয়ে লিখেছেন ‘প্রধান গদ্দীনশীন’ তার মানে আমি বুঝে নিলাম এ গদির জন্য অনেক প্রার্থী রয়েছে আর তিনি হচ্ছেন একেবারে উপরে অবস্থানরত। এ যেন অনেকটা ‘ক্রাউন প্রিন্স’-এর মত!

    হাসান জামিলের যদি সৎ সাহস থেকে থাকে তাহলে আমাদের দেশের পীরদের একটি তালিকা প্রকাশ করুক। কে হাক্কানী পীর আর কে ধাক্কানী পীর সেটি উল্লেখ করুক। তাদের প্রত্যেকের জীবন বৃত্তান্ত প্রকাশ করে তাদের আয় রোজগারের উৎস সম্পর্কে জনগণকে জানাক, অর্থাৎ তাদের জীবন ধারণের মত মৌলিক চাহিদাগুলি কোন আয়ের উৎস থেকে নির্বাহ হচ্ছে তা জনগনকে জানাক। এ পীরদের বর্তমান স্থাবর অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ এবং তা কিভাবে অর্জিত তার বিস্তারিত বর্ণনা পীরদের স্বচ্ছতার স্বার্থেই প্রকাশ করুক।

    পীরের নামে যত প্রকার তরিকার উদ্ভব হয়েছে যেমন নকশ্‌বন্দী, মুজাদ্দেদী, কাদেরিয়া, চিশ্‌তিয়া, সোহ্‌রার্দী ইত্যাদি যে কুরআন সুন্নাহ্‌র আলোকেই হয়েছে হাসান জামিল তার বিস্তারিত তুলে ধরে সাধারণ মানুষের সন্দেহ সংশয় কে দূর করতে সাহায্য করুক। পীরদের যে উরসের উৎসব হয় তাও যে কুরআন ও সুন্নাহ্‌র আলোকেই হয় সে তথ্য দিয়ে হাসান জামিল মানুষকে উপকৃত করুক।

    কিছুদিন আগে আল্লামা(?) আহমাদ শফি সাহেবের মুরিদ বানানোর জন্য বায়াতের অনুষ্ঠানের একটি ভিডিও প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে আল্লামা(?) আহ্‌মাদ শফি সাহেব যে বক্তব্য রেখেছেন, সেখানে তিনি যে বিভিন্ন তরিকার কথা উল্লেখ করেছেন কুরআন ও সুন্নাহ্‌র আলোকে হাসান জামিল তা নির্ভরযোগ্য হওয়ার দলীল পেশ করুক। চরমোনাই পীরসহ অনান্য পীরদের যে ঘটা করে বাৎসরিক উরস মাহফিল হয়, কুরআন সুন্নাহ্‌র আলোকে তা যে বিদআ’ত নয় তা প্রমাণ করুক। এ সব উরসের মাধ্যমে পীরেরা হাদীয়া সংগ্রহ করে তা যে কুরআন ও সুন্নাহ্‌ সম্মত অর্থাৎ আল্লাহ্‌ এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নির্দেশ মোতাবেকই হয় তা প্রমান করুক।

    হাসান জামিল তার বক্তব্যে বলেছেন, “যদিও কোন কোন পন্ডিত ওস্তাদ ছাড়া দীন শিখা হাজারো লাখো মানুষকে বিভ্রান্ত কইরা সবাইকে মুস্তাহিদ বানাইয়া দিছে। এখন ঘরে ঘরে মুস্তাহিদ, বুখারী আছে বগলের নীচে খুইলা দেখে জোড়ে আমীন বলা, শুরু করে জোড়ে আমীন বলা, খুইলা দেখে রফ ইয়াদাঈন করা, শুরু কইরা দেয় রফ ইয়াদাঈন। আমরা বলি অসুবিধা নাই, জোড়ে আমীন বল, বল সমস্যা নাই, রফ ইয়াদাঈন কর, কর সমস্যা নাই। কিন্তু কোনটা করবা কোনটা করবা না সেটা সিদ্ধান্ত তুমি নেওয়ার কে? সে সিদ্ধান্ত দিবেন আইমায়ে মুজতাহীদীন, সে সিদ্ধান্ত দিবেন হাদীস ও কুরআনের উপর পুরাপুরি পান্ডিত্য যাদের আছে, তারা সিদ্ধান্ত দিবেন”।

    কোন্‌ কোন্‌ পন্ডিত ওস্তাদ ছাড়া দীন শিখে হাজারো লাখো মানুষকে বিভ্রান্ত করে মুস্তাহীদ বানিয়েছে হাসান জামিল তার উল্লেখ করেননি। হাসান জামিল কিসের ভয়ে তাদের নাম উল্লেখ করলেন না? তার উচিত ছিল তাদের নাম উল্লেখ করা তাহলে বোঝা যেত হাসান জামিল সত্য প্রকাশে ভীত নন। আসলে হাসান জামীলদের কথা এখন আর মানুষেরা শোনা না, তাদেরকে এখন আর কেউ বিশ্বাস করে না। কারণ তাদের অবস্থা হয়েছে হিন্দু পন্ডিতদের মত। হিন্দু পন্ডিতেরা যেমন সবাইকে তাদের ধর্মীয় গ্রন্থ ধরতে ও পড়তে দেয় না। আমাদের দেশেও হাসান জামিল মার্কা আলিমরা সাধারণ মানুষ কুরআন সুন্নাহ্‌ বুঝে পড়ুক সেটা চায় না। আগে মানুষ তাদেরকে অনেক মূল্যায়ন করতো এখন করে না। কারণ তারা দুনিয়াবী স্বার্থে ইল্‌ম গোপন করতো। হাসান জামিলদের মুশকিল হচ্ছে এখন সাধারণ মুসলমানরা আগের তুলনায় অনেক সচেতন এবং তারা এখন নিজেরা কুরআন সুন্নাহ্‌র জ্ঞানে নিজেদেরকে সমৃদ্ধ করছে। তারা এটা করতে পারেছে এ কারণে যে আগে কুরআন ও হাদীসের বাংলা তরজমা ছিল না, এখন এগুলি হাতের নাগালে। ইসলামের বিষয় ভিত্তিক অনেক গবেষণামূলক লেখার বাংলা অনুবাদ এখন পাওয়া যাচ্ছে। তাছাড়াও সৌদি আরবের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইসলামের উপর উচ্চ ডিগ্রী নিয়েছেন এমন অনেক ভাইয়েরা বাংলায় বই লিখছেন। হাসান জামিলের উপরের বক্তব্য তার ক্ষোভ এবং নীচু মানসিকতারই বহি:প্রকাশ।

    এক মসজিদের ইমাম কুরআন হাদীসের বাংলা তরজমা পড়ে যারা জ্ঞান অর্জন করছে তাদের প্রতি বিষেদাগার করতে দেখা গেল। তার বক্তব্য “এখন অনেকেই কুরআন হাদীসের বাংলা তরজমা পড়ে নিজেদেরকে মুফাস্‌সীর মুহাদ্দীস ভাবতে শুরু করেছে”। তার এ ক্ষোভের কারণ বাংলা তরজমা পড়ে জ্ঞান অর্জনকারী ভাইদের বিভিন্ন বিষয়ে এ ইমামদের কাছে প্রশ্ন রাখা, বিশেষত যে সমস্ত বিদআ’তি রসূম রেওয়াজের অনুষ্ঠান পরিচালনার মাধ্যমে তারা বাড়তি উপার্জন করেন। তারা দিনরাত বাংলা ভাষায় যে বয়ান করছেন সেটা কি তরজমা নয়? তারা যখন কুরআন হাদীসের জ্ঞান অর্জন করেছে তা কি তরজমার আশ্রয় ছাড়াই করেছে? তাদের বাংলা বক্তব্য শুনে যদি মানুষ কিছু শিখতে পারে অর্থাৎ জ্ঞান অর্জন করতে পারে, তাহলে যারা এ সমস্ত ইমামদের চাইতে উচ্চ ডিগ্রী সম্পন্ন আরও বেশি জানলে ওয়ালা, তাদের বই পড়ে কেন মানুষের জ্ঞান অর্জন হবে না?

    হাসান জামিলরা আসলে সব সময় হীনমন্যতায় ভোগেন। আমি এখন পর্যন্ত কোন মসজিদের ইমামকে পাইনি যিনি মুসোল্লিদেকে কুরআন ও সুন্নাহ্‌ বুঝে পড়ার উপদেশ দেয়, উৎসাহ দেয়, সাহায্য সহযোগীতা করে! তাদের এ হীনমন্যতার কারণ দুনিয়াবী ফায়দা।

    “যাহারা অন্তরের কার্পণ্য হইতে মুক্ত; তাহারাই সফলকাম”। __ সূরা তাগাবুন ৬৪:১৬

    [হাসান জামিলের বক্তব্যের ভিডিও লিংক।
    https://www.facebook.com/video.php?v=1563275260624555&set=vb.100008262887456&type=2&theater%5D

    বিশ্বের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ধনী মানুষ মনসা মুসা।

    🇸🇦🇸🇦বিশ্বের সবচে ধনী মানুষ কে?
    নিঃসন্দেহে বিল গেটস, কার্লোস স্লিম, ওয়ারেন বাফেট, রথচাইল্ড কিংবা রকফেলার পরিবার, অথবা তরুণ বিলিয়নেয়ার মার্ক জাকারবার্গের নামই মনে আসবে। কিন্তু না, এরও অনেক আগে ১৪ শতকে পশ্চিম আফ্রিকার এক ধনকুবের তাদের সবার চেয়ে ঢের বেশি সম্পদের মালিক ছিলেন।

    কিছুদিন আগে প্রকাশিত ফোর্বস বিলিয়নিয়ারের তালিকায় সেরা ধনী হয়েছেন আমাজোনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস। ১৩১ বিলিয়ন (১৩ হাজার ১০০ কোটি) ডলার সম্পদের মালিক মি. বোজোস আধুনিক সময়ের সেরা ধনী।
    তবে সর্বকালের সেরা ধনীর সম্পদের কাছাকাছিও তিনি নেই।

    সেই খেতাবের মালিক #মানসা_মুসা, ১৪ শতকে পশ্চিম আফ্রিকার এই মুসলিম শাসক এতটাই ধনী ছিলেন যে তার দানশীলতার কারণে একটি পুরো দেশের অর্থনীতিতে পর্যন্ত ধস নেমেছিল।

    “মুসার সম্পদের যে শ্বাসরুদ্ধকর বর্ণনা পাওয়া যায় তাতে আসলে তিনি যে কতটা সম্পদশালী এবং ক্ষমতাশালী ছিলেন তা ধারণা করাও কঠিন,”- বিবিসিকে বলেন রুডলফ বুচ ওয়ার, ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়ার ইতিহাস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক।

    “কারো পক্ষে যতটা বর্ণনা করা সম্ভব তার চেয়েও ধনী ছিলেন মানসা মুসা,”- ২০১৫ সালে মানি ডট কমের জন্য লেখেন জ্যাকব ডেভিডসন।

    ২০১২ সালে একটি মার্কিন ওয়েবসাইট, সেলিব্রিটি নেট ওর্থ তাঁর মোট সম্পদের মূল্য ৪০ হাজার কোটি ডলার বলে একটি ধারণা দেয়। তবে অর্থনীতির ইতিহাসবিদরা একমত যে সংখ্যা দিয়ে তাঁর সম্পদের কোন সঠিক ধারণা দেয়া একরকম অসম্ভব।

    ২০১২ সালে ইতিহাসে ধনী ব্যক্তিদের সম্পদের পরিমাণ নিয়ে গবেষণাকারী সংস্থা ‘সেলিব্রেটি নেট ওয়ার্থ’ ওই ধনকুবেরকে বিশ্বের সর্বকালের সবচে ধনী মানুষের খেতাব দিয়েছে। ২০১৫ সালে ফোর্বস ম্যাগাজিনও বিশ্বের সবচে ধনী মানুষের তালিকায় শীর্ষে রেখেছে তাকে।

    বর্ণের_রাজাঃঃ——

    ১২৮০ সালে একটি শাসক পরিবারেই জন্ম মানসা মুসার। তিনি ক্ষমতায় আসার আগে মালি সাম্রাজ্যের শাসক ছিলেন তাঁর ভাই মানসা আবু-বকর। ১৩১২ খ্রিস্টাব্দে আবু-বকর সিংহাসন ত্যাগ করে একটি অভিযানে বের হন।

    চতুর্দশ শতকের সিরীয় ইতিহাসবিদ শিহাব আল-উমারির বর্ণনা অনুযায়ী, আটলান্টিক মহাসাগর এবং তার ওপারে কী আছে তা নিয়ে মারাত্মক কৌতুহলী ছিলেন আবু-বকর। বলা হয় ২ হাজার জাহাজ এবং হাজার-হাজার পুরুষ, নারী এবং দাস-দাসী নিয়ে সমুদ্রে পাড়ি জমান তিনি, এবং এরপর আর কখনো ফিরে আসেননি।

    প্রয়াত মার্কিন ইতিহাসবিদ আইভান ভ্যান সারটিমার মতো অনেকেই মনে করেন আবু-বকর শেষপর্যন্ত দক্ষিণ আমেরিকায় পৌঁছুতে পেরেছিলেন। যদিও এর কোন প্রমাণ নেই।

    যাইহোক, উত্তরাধিকার সূত্রে ভাইয়ের ফেলে যাওয়া রাজত্বের শাসনভার নেন মানসা মুসা।

    তাঁর শাসনামলে মালি রাজত্বের আকার বাড়তে থাকে। তিনি তার রাজত্বে আরো ২৪ টি শহর যুক্ত করেন, যার একটি ছিল টিম্বাকটু।

    তাঁর রাজত্ব বিস্তৃত ছিল ২,০০০ মাইলজুড়ে, আটলান্টিক মহাসাগর থেকে শুরু করে বর্তমান নিজার, সেনেগাল, মৌরিতানিয়া, মালি, বুর্কিনা ফাসো, গাম্বিয়া, গিনি-বিসাউ, গিনি এবং আইভোরি কোস্টের বড় অংশ ছিল তার রাজত্বে।এই বিশাল সাম্রাজ্যের সাথে তাঁর আয়ত্ত্বে আসে মূল্যবান খনিজ সম্পদ- বিশেষ করে স্বর্ণ এবং লবণ।

    ব্রিটিশ মিউজিয়ামের হিসেবে মানসা মুসার শাসনামলে তৎকালীন বিশ্বে যে পরিমাণ স্বর্ণের মজুত ছিল তার অর্ধেকই ছিল মালিতে।

    আর তার সবটারই মালিক ছিলেন মানসা মুসা।

    “শাসক হিসেবে মধ্যযুগের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদটির প্রায় অফুরান যোগান ছিল মানসা মুসার,”- বিবিসিকে বলেন ক্যাথলিন বিকফোর্ড বারজক, নর্থওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে আফ্রিকাবিষয়ক বিশেষজ্ঞ।

    “বড় বাণিজ্যিক কেন্দ্রগুলো তার সাম্রাজ্যে স্বর্ণ এবং অন্যান্য পণ্যের ব্যবসা করতো, সেই বাণিজ্য থেকে আরো সম্পদশালী হয়ে ওঠেন মানসা মুসা”।

    বিশ্বের সর্বকালের সেরা ধনী ওই ব্যক্তির নাম মানসা মুসা। ‘মানসা’ তার নামের অংশ নয়; উপাধী। এর অর্থ সুলতান বা সম্রাট। মুসার পুরো নাম ‘প্রথম মুসা কিতা’। পশ্চিম আফ্রিকার দেশ মালির সুলতান হওয়ার কারণে তাকে মানসা খেতাবে ভূষিত করা হয়। মানসা ছাড়াও কমপক্ষে আরো ডজনখানেক উপাধী ছিল তার। তাকে প্রথম মুসা, মালির আমির, ওয়াংগারা খনির সম্রাট, কনকান মুসা/কানকো মুসা, মালির সিংহ, গঙ্গা মুসা ইত্যাদি নামেও ডাকা হয়।

    মানসা মুসার জন্ম আনুমানিক ১২৮০ সালে এবং মৃত্যু ১৩৩৭ সালে। তিনি ছিলেন মালি সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা সান্দিয়াতা কিতার ভাগ্নে। ১৩০৭ সালে ৩২ বছর বয়সে তিনি সিংহাসনে আরোহণ করেন। তিনি প্রথম আফ্রিকান শাসক, যিনি ইউরোপ এবং মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপকভাবে প্রভাব বিস্তার করতে পেরেছিলেন।

    মুসা মালির দশম মানসা। ২০১২ সালের জরিপ মতে, ৪০ হাজার কোটি ডলারের মালিক ছিলেন মুসা। যেখানে ২০১৭ সালে ফোর্বসের হিসাব মতে, বিল গেটসের নেট সম্পদের পরিমাণ ৮ হাজার ৪৫০ কোটি মার্কিন ডলার।

    শুধু সম্পদ নয়, বিশাল একটি সেনাবাহিনীও ছিল তার, যাকে আজকের দিনে বলা যায়, ‘সুপারপাওয়ার আর্মি’। তার সেনাবাহিনীতে সদস্য ছিল দুই লক্ষাধিক, যার মধ্যে ৪০ হাজারই ছিল তীরন্দাজ। তখনকার দিনে এত সংখ্যক সেনাবাহিনী ছিল কল্পনাতীত। ক্ষমতায় আরোহণের পর আফ্রিকার ২৪টি বড় বড় শহর জয় করেছিলেন তিনি।

    মুসা ছিলেন একাধারে দক্ষ শাসনকর্তা, ধর্ম প্রচারক, শিক্ষা ও বিজ্ঞান অনুরাগী এবং অত্যন্ত দানশীল ব্যক্তিত্ব। ইউরোপকেও তিনি এতোটা প্রভাবিত করতে পেরেছিলেন যে তাদের আঁকা আফ্রিকার মানচিত্রে মুসার ছবি ব্যবহার করা হতো।

    মক্কার উদ্দেশ্যে মানসা মুসাঃঃ—-

    মালি সাম্রাজ্যে স্বর্ণের বিশাল মজুত থাকলেও, এই রাজত্ব বহির্বিশ্বে অতটা পরিচিত ছিল না।

    তবে ধর্মপ্রাণ মুসলিম মানসা মুসা যখন সাহারা মরু এবং মিশর পার হয়ে মক্কায় হ্জ্জ্ব পালনের উদ্দেশ্যে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন, তখনি সেই অবস্থার পরিবর্তন হতে শুরু করলো।
    বলা হয় ৬০,০০০ মানুষের একটি দল নিয়ে মালি ত্যাগ করেন মুসা।

    তার সেই দলে ছিলেন সম্পূর্ণ মন্ত্রী পরিষদ, কর্মকর্তারা, সৈনিক, কবি, ব্যবসায়ী, উটচালক এবং ১২,০০০ দাস-দাসী। একইসাথে খাবারের জন্য ছিলো ছাগল এবং ভেড়ার এক বিশাল বহর।

    মরুর বুক দিয়ে যেন একটি শহর চলছিল।

    যে শহরের এমনকি একজন দাসের গায়েও স্বর্ণখচিত পারস্যের সিল্কের জামা। শহরের সাথে চলছিল শত-শত উটের আরেকটি বহর, যার প্রতিটির পিঠে শত-শত সের খাঁটি স্বর্ণ।

    দেখার মত দৃশ্য ছিল সেটি।

    সেই দেখার মত মানুষ পাওয়া গেল যখন পুরো ক্যারাভানটি কায়রোতে পৌঁছুল।

    কায়রোর স্বর্ণধসঃঃ——

    কায়রোতে মানসা মুসার ভ্রমণ সেখানকার বাসিন্দাদের মনে এতটাই দাগ কেটেছিল যে তাঁর ভ্রমণের ১২ বছর পর যখন আল-উমারি শহরটিতে যান, তখনো মানুষের মুখে মুখে ছিল মানসা মুসার স্তুতিবাক্য।

    কায়রোতে তিন মাস অবস্থানের সময় তিনি যে হারে মানুষকে স্বর্ণ দান করেছেন তাতে পরবর্তী ১০ বছর ঐ পুরো অঞ্চলে স্বর্ণের দাম তলানিতে গিয়ে পৌঁছায়, অর্থনীতি ভেঙ্গে পড়ে।

    যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্মার্টঅ্যাসেট ডট কমের এক হিসেবে, মানসা মুসার মক্কা যাত্রার ফলে স্বর্ণের যে অবমূল্যায়ন হয় তাতে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে তৎকালীন সময়ে ১৫০ কোটি ডলারের অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়েছিল।

    ফেরার পথে আবারো মিশর পার হন মানসা মুসা। অনেকের মতে যেসময় দেশটির অর্থনীতিকে সাহায্য করার চেষ্টা করেন তিনি। চড়া সুদে তিনি বেশকিছু স্বর্ণ ধার করে সেগুলো তিনি বাজার থেকে তুলে নেন। আবার অনেকে বলেন, তিনি এত বেশি খরচ করেন যে তাঁর স্বর্ণ শেষ হয়ে যায়।

    লন্ডনের স্কুল অফ আফ্রিকান এবং ওরিয়েন্টাল স্টাডিজের লুসি ডুরান বলেন, মালির চারণকবি, যারা কিনা গানের সুরে ইতিহাস বর্ণনা করতেন, তারা মানসা মুসার প্রতি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন।

    “তিনি মালির এত বেশি স্বর্ণ দান-খয়রাত করেন যে তারা (চারণকবিরা) তাদের গানে মানসা মুসার প্রশংসা করেন না। কারণ তারা মনে করেন, তিনি দেশটির সম্পদ বিদেশের মাটিতে নষ্ট করেছেন”।

    হৃদয়ে ছিল শিক্ষা

    মানসা মুসা তার তীর্থযাত্রায় যে প্রচুর পরিমাণ স্বর্ণ খরচ অথবা নষ্ট করেছেন তাতে কোন সন্দেহ নেই। তবে তার এই অতি দানশীলতাই তাকে বিশ্বের নজরে এনে দেয়।

    মানসা মুসা আক্ষরিক অর্থেই মালি এবং নিজেকে বিশ্বের মানচিত্রে স্থান করে দেন। ১৩৭৫ সালের একটি কাতালান মানচিত্রে টিম্বাকটুর ওপরে একজন আফ্রিকান রাজাকে স্বর্ণের টুকরো হাতে বসে থাকার ছবি দেখা যায়। তিনিই মানসা মুসা।

    দূর-দুরান্ত থেকে মানুষজন টিম্বাকটু দেখতে আসা শুরু করেন।

    উনিশ শতকেও টিম্বাকটু ছিল কিংবদন্তীর হারিয়ে যাওয়া এক স্বর্ণের শহর। ভাগ্যান্বেষণে ইউরোপ থেকেও পরিব্রাজকেরা খোঁজ করতেন এই টিম্বাকটুর। আর এর পেছনে মূল কারণটিই ছিল ৫০০ বছর আগে মানসা মুসার সেই শাসনামল।

    মক্কা থেকে বেশ কয়েকজন ইসলামী চিন্তাবিদকে সাথে নিয়ে আসেন মানসা মুসা। যাদের মধ্যে ছিলেন নবী মোহাম্মদের সরাসরি বংশধর এবং একজন আন্দালুসিয়ান কবি ও স্থপতি আবু এস হক এস সাহেলি, যাকে কিনা বিখ্যাত জিংগারেবার মসজিদের নকশাকার হিসেবে ধারণা করা হয়।

    মানসা মুসা সেই কবিকে পারিশ্রমিক হিসেবে ২০০ কেজি স্বর্ণ দিয়েছিলেন বলে কথিত আছে। যার বর্তমান বাজারমূল্য ৮২ লক্ষ মার্কিন ডলার।

    শিল্প এবং স্থাপনায় উৎসাহ দেয়ার পাশাপাশি তিনি সাহিত্যক্ষেত্রে অনুপ্রেরণা দেন, স্কুল, লাইব্রেরি এবং মসজিদ তৈরিতে অর্থ দান করেন। অল্প সময়ের মধ্যেই টিম্বাকটু হয়ে ওঠে শিক্ষার কেন্দ্র এবং সারাবিশ্ব থেকে মানুষজন সেখানে পড়তে আসা শুরু করে, যা পরবর্তীতে পরিচিত হয় সাংকোর বিশ্ববিদ্যালয় নামে।

    ধনী সেই রাজাকে পশ্চিম আফ্রিকায় শিক্ষার প্রসারের অগ্রদূত হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যদিও সেই সাম্রাজ্যের বাইরে তার সেই গল্প খুব কম মানুষই জানতে পেরেছিলেন।

    মুসার সময় থিমবুকতু শহরের শাঙ্কোর বিশ্ববিদ্যালয় হয়ে ওঠে মধ্যপ্রাচ্য এবং আফ্রিকার আইন বিশেষজ্ঞ, জ্যোতির্বিদ এবং গণিতবিদদের একটি মিলনমেলা। ১৩৩০ সালে পার্শ্ববর্তী মোসি সাম্রাজ্য থিমবুকতু দখল করে নেয়। সঙ্গে সঙ্গেই সেনাবাহিনী পাঠিয়ে তা নিয়ন্ত্রণ পুনর্দখল করতে সক্ষম হন মানসা মুসা।

    দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিল বলেছিলেন, “ইতিহাস লেখে বিজয়ীরা”।

    ১৩৩৭ সালে ৫৭ বছর বয়সে মানসা মুসার মৃত্যুর পর তার ছেলেরা আর সেই সাম্রাজ্য ধরে রাখতে পারেনি। ছোট রাজ্যগুলো একে একে বেরিয়ে যেতে থাকে এবং একসময় পুরো সাম্রাজ্য ধসে পড়ে।
    পরবর্তীতে ইউরোপিয়দের আফ্রিকায় উপনিবেশ স্থাপন ছিল প্রতাপশালী সম্রাট মানসা মুসার কফিনের শেষ পেরেক।

    “মধ্যযুগের ইতিহাসকে এখনো অনেকটা পশ্চিমা ইতিহাস হিসেবেই দেখা হয়,”- মানসা মুসার কাহিনী কেন এতটা প্রচারিত নয় তার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বলেন ব্লক মিউজিয়ামের পরিচালক লিসা করিন গ্রাজিও।

    “কয়েক’শ বছর পরে না এসে, মানসা মুসার সময়ে মালি যখন সামরিক এবং অর্থনৈতিক শক্তিতে সবার শীর্ষে ছিল, তখন যদি ইউরোপিয়রা আফ্রিকায় আসতো- তাহলে হয়তো পুরো বিষয়টা অন্যরকম হতো,” বলেন মিস্টার ওয়ার।

    মুসার মক্কায় হজ করতে যাওয়ার একটি ঘটনা আফ্রিকা এবং মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাসে খুবই আলোচিত। মালির এই শাসক মনে করতেন, ইসলামে প্রবেশ মানে হচ্ছে একটি সভ্য সাংস্কৃতিক দুনিয়ায় পদার্পণ। নিজের সাম্রাজ্যের মধ্যে ধর্ম প্রসারের কাজেই বেশিরভাগ সময় ব্যস্ত থাকতেন তিনি। ১৩২৪-২৫ সালের মধ্যে হজ করতে গিয়েছিলেন মুসা। ওই সময় তার সঙ্গে ছিল ৬০ হাজার মানুষ। এদের মধ্যে ১২ হাজার ছিল সেবক।

    এসব সেবকের প্রত্যেকের সঙ্গে ছিল একটি করে সোনার বার। এছাড়া ৮০ থেকে ১০০টি উট ছিল বহর, যেগুলো প্রত্যেকটি প্রায় ১৪০ কেজি করে স্বর্ণ বহন করছিল। যাত্রাপথে কয়েকশ কোটি টাকা মূল্যের সোনা বিতরণ করেন তিনি। এত বেশি স্বর্ণ বিতরণ করেছিলেন যে পরের কয়েক বছর কায়রো, মক্কা এবং মদিনায় সেখানে স্বর্ণের দাম একেবারেই নেমে গিয়েছিল। এতে অবশ্য শহরগুলোর অর্থনীতিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। বেড়ে গিয়েছিল মুদ্রাস্ফীতি।

    মুসার এই হজযাত্রায় সঙ্গী হন তার প্রথম স্ত্রী। এছাড়া নিযুক্ত ছিলেন আরো ৫০০ সেবিকা। কাফেলায় বেশ কয়েকজন শিক্ষক, চিকিৎসক, সরকারি কর্মকর্তা ও সংগীতশিল্পীও ছিলেন। কথিত আছে, প্রতি জুমাবারে একটি করে মসজিদ নির্মাণ করতেন তিনি। মক্কায় হজ পালনের পর আরব বিশ্বের একটি বড় অংশ ঘুরে বেড়াতে থাকেন এই পশ্চিম আফ্রিকান শাসক।

    তখন মক্কাবাসীর জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চা দেখে অভিভূত হয়ে পড়েন তিনি। ফেরার সময় সেখান থেকে বহু উট বোঝাই করে চিকিৎসা, জোতির্বিদ্যা, দর্শন, ভূগোল, ইতিহাস, গণিত এবং আইন বিষয়ে প্রচুর বই নিয়ে আসেন। এছাড়া মক্কার সবচে মেধাবী এবং সেরা গণিতবিদ, চিকিৎসক, বিজ্ঞানী ও স্থাপত্যবিদদের আমন্ত্রণ করে নিয়ে আসেন মালিতে। ইসলামি শিক্ষাভিত্তিক অনেকগুলো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন এবং নিজের সাম্রাজ্য থেকে উত্তর আফ্রিকার ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অনেক শিক্ষার্থী প্রেরণ করেন মুসা।

    বলা হয়ে থাকে, ওই হজে মুসা আজকের দিনের প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার পাউন্ড ওজনের স্বর্ণ ব্যয় করেছিলেন। মালি সাম্রাজ্যের প্রায় ৪০০ শহরকে আধুনিক রূপ দিয়েছিলেন আলোচিত এই শাসক। তার নির্মিত উল্লেখযোগ্য স্থাপত্যের মধ্যে ইউনিভার্সিটি অব শাঙ্কোর, হল অডিয়েন্স, গ্র্যান্ড প্যালেস ইত্যাদি রয়েছে।

    আফ্রিকার বিশাল অংশজুড়ে বিস্তৃত ছিল মুসার সাম্রাজ্য। তার সময়েই মালি সাম্রাজ্য সবচে বেশি বিস্তার করে। ইতিহাসবিদদের মতে, তার সাম্রাজ্যের আয়তন ছিল প্রায় ১২ লাখ ৯৪ হাজার ৯৯৪ বর্গকিলোমিটার। বর্তমান সময়ের মালি, আইভরি কোস্ট, মৌরিতানিয়া, সেনেগাল, নাইজার, গাম্বিয়া, বুর্কিনা ফাসো, গিনি, গিনি বিসাউ, ঘানা ইত্যাদি দেশগুলোও তখন মালি সাম্রাজ্যের অধীনে ছিল।

    মক্কায় হজপালনকালেই মুসা খবর পান, তার জেনারেল সাগমান্দিয়া গাও শহর দখল করেছে। বিজয়ের পর শহরটি সফর করতে যান তিনি। সেখানে গিয়ে গাও সম্রাটের দুই পুত্রকে বন্দিদশা থেকে মুক্তি দেন এবং মালি সাম্রাজ্যের রাজধানী নিয়ানিতে নিয়ে আসেন। তাদের দুই ভাইকেই উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করেন। মালির থিমবুকতু শহরকে বৃত্তিপ্রাপ্ত মুসলিমদের শিক্ষাকেন্দ্রে পরিণত করেন এই সম্রাট। একইসঙ্গে শহরটি হয়ে ওঠে বাণিজ্য এবং সংস্কৃতি চর্চার একটি কেন্দ্রও। ভেনিস, গ্রানাডা এবং জেনোয়ার মতো ইউরোপীয় শহরগুলোতে যখন এই বাণিজ্যকেন্দ্রটির সংবাদ পৌঁছায় তখন সেখানকার ব্যবসায়ীরা দ্রুত এটিকে তাদের বাণিজ্যিক শহরের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে নেন।

    মুসার সময় থিমবুকতু শহরের শাঙ্কোর বিশ্ববিদ্যালয় হয়ে ওঠে মধ্যপ্রাচ্য এবং আফ্রিকার আইন বিশেষজ্ঞ, জ্যোতির্বিদ এবং গণিতবিদদের একটি মিলনমেলা। ১৩৩০ সালে পার্শ্ববর্তী মোসি সাম্রাজ্য থিমবুকতু দখল করে নেয়। সঙ্গে সঙ্গেই সেনাবাহিনী পাঠিয়ে তা নিয়ন্ত্রণ পুনর্দখল করতে সক্ষম হন মানসা মুসা।

    ওই শহরের রাজপ্রাসাদটি ধ্বংস হয়ে গেলেও এখনো কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় এবং মসজিদগুলো। তার সময়েই লাইব্রেরি অব আলেকজান্দ্রিয়ার পর আফ্রিকার দ্বিতীয় বৃহত্তম শিক্ষাকেন্দ্রে পরিণত হয় ইউনিভার্সিটি অব শাঙ্কোর। সেই সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ২৫ হাজার আবাসিক শিক্ষার্থী বিদ্যার্জন করতো এবং পাঠাগারে ছিল এক লাখেরও বেশি বই।

    টানা ২৫ বছর মালি শাসন করে ১৩৩২ সালে মৃত্যুবরণ করেন বিশ্বের সর্বকালের সবচে ধনী এই ব্যক্তি। তবে মৃত্যুর সঠিক কোনো কারণ এখনো উদ্ধার করতে পারেননি ইতিহাসবিদরা। মৃত্যুর সাল নিয়েও আছে বিতর্ক। ইতিহাসবিদ ইবনে খালদুনের মতে, কমপক্ষে ১৩৩৭ সাল পর্যন্ত বেঁচে ছিলেন তিনি। ওই বছরই আলজেরিয়া বিজয়ে সেনাবাহিনী পাঠিয়েছিলেন মুসা।

    মুসার মক্কায় হজ করতে যাওয়ার একটি ঘটনা আফ্রিকা এবং মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাসে খুবই আলোচিত। মালির এই শাসক মনে করতেন, ইসলামে প্রবেশ মানে হচ্ছে একটি সভ্য সাংস্কৃতিক দুনিয়ায় পদার্পণ। নিজের সাম্রাজ্যের মধ্যে ধর্ম প্রসারের কাজেই বেশিরভাগ সময় ব্যস্ত থাকতেন তিনি। ১৩২৪-২৫ সালের মধ্যে হজ করতে গিয়েছিলেন মুসা। ওই সময় তার সঙ্গে ছিল ৬০ হাজার মানুষ। এদের মধ্যে ১২ হাজার ছিল সেবক।

    এসব সেবকের প্রত্যেকের সঙ্গে ছিল একটি করে সোনার বার। এছাড়া ৮০ থেকে ১০০টি উট ছিল বহর, যেগুলো প্রত্যেকটি প্রায় ১৪০ কেজি করে স্বর্ণ বহন করছিল। যাত্রাপথে কয়েকশ কোটি টাকা মূল্যের সোনা বিতরণ করেন তিনি। এত বেশি স্বর্ণ বিতরণ করেছিলেন যে পরের কয়েক বছর কায়রো, মক্কা এবং মদিনায় সেখানে স্বর্ণের দাম একেবারেই নেমে গিয়েছিল। এতে অবশ্য শহরগুলোর অর্থনীতিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। বেড়ে গিয়েছিল মুদ্রাস্ফীতি।

    মুসার এই হজযাত্রায় সঙ্গী হন তার প্রথম স্ত্রী। এছাড়া নিযুক্ত ছিলেন আরো ৫০০ সেবিকা। কাফেলায় বেশ কয়েকজন শিক্ষক, চিকিৎসক, সরকারি কর্মকর্তা ও সংগীতশিল্পীও ছিলেন। কথিত আছে, প্রতি জুমাবারে একটি করে মসজিদ নির্মাণ করতেন তিনি। মক্কায় হজ পালনের পর আরব বিশ্বের একটি বড় অংশ ঘুরে বেড়াতে থাকেন এই পশ্চিম আফ্রিকান শাসক।

    তখন মক্কাবাসীর জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চা দেখে অভিভূত হয়ে পড়েন তিনি। ফেরার সময় সেখান থেকে বহু উট বোঝাই করে চিকিৎসা, জোতির্বিদ্যা, দর্শন, ভূগোল, ইতিহাস, গণিত এবং আইন বিষয়ে প্রচুর বই নিয়ে আসেন। এছাড়া মক্কার সবচে মেধাবী এবং সেরা গণিতবিদ, চিকিৎসক, বিজ্ঞানী ও স্থাপত্যবিদদের আমন্ত্রণ করে নিয়ে আসেন মালিতে। ইসলামি শিক্ষাভিত্তিক অনেকগুলো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন এবং নিজের সাম্রাজ্য থেকে উত্তর আফ্রিকার ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অনেক শিক্ষার্থী প্রেরণ করেন মুসা।

    বলা হয়ে থাকে, ওই হজে মুসা আজকের দিনের প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার পাউন্ড ওজনের স্বর্ণ ব্যয় করেছিলেন। মালি সাম্রাজ্যের প্রায় ৪০০ শহরকে আধুনিক রূপ দিয়েছিলেন আলোচিত এই শাসক। তার নির্মিত উল্লেখযোগ্য স্থাপত্যের মধ্যে ইউনিভার্সিটি অব শাঙ্কোর, হল অডিয়েন্স, গ্র্যান্ড প্যালেস ইত্যাদি রয়েছে।

    আফ্রিকার বিশাল অংশজুড়ে বিস্তৃত ছিল মুসার সাম্রাজ্য। তার সময়েই মালি সাম্রাজ্য সবচে বেশি বিস্তার করে। ইতিহাসবিদদের মতে, তার সাম্রাজ্যের আয়তন ছিল প্রায় ১২ লাখ ৯৪ হাজার ৯৯৪ বর্গকিলোমিটার। বর্তমান সময়ের মালি, আইভরি কোস্ট, মৌরিতানিয়া, সেনেগাল, নাইজার, গাম্বিয়া, বুর্কিনা ফাসো, গিনি, গিনি বিসাউ, ঘানা ইত্যাদি দেশগুলোও তখন মালি সাম্রাজ্যের অধীনে ছিল।

    মক্কায় হজপালনকালেই মুসা খবর পান, তার জেনারেল সাগমান্দিয়া গাও শহর দখল করেছে। বিজয়ের পর শহরটি সফর করতে যান তিনি। সেখানে গিয়ে গাও সম্রাটের দুই পুত্রকে বন্দিদশা থেকে মুক্তি দেন এবং মালি সাম্রাজ্যের রাজধানী নিয়ানিতে নিয়ে আসেন। তাদের দুই ভাইকেই উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করেন। মালির থিমবুকতু শহরকে বৃত্তিপ্রাপ্ত মুসলিমদের শিক্ষাকেন্দ্রে পরিণত করেন এই সম্রাট। একইসঙ্গে শহরটি হয়ে ওঠে বাণিজ্য এবং সংস্কৃতি চর্চার একটি কেন্দ্রও। ভেনিস, গ্রানাডা এবং জেনোয়ার মতো ইউরোপীয় শহরগুলোতে যখন এই বাণিজ্যকেন্দ্রটির সংবাদ পৌঁছায় তখন সেখানকার ব্যবসায়ীরা দ্রুত এটিকে তাদের বাণিজ্যিক শহরের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে নেন।

    ওই শহরের রাজপ্রাসাদটি ধ্বংস হয়ে গেলেও এখনো কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় এবং মসজিদগুলো। তার সময়েই লাইব্রেরি অব আলেকজান্দ্রিয়ার পর আফ্রিকার দ্বিতীয় বৃহত্তম শিক্ষাকেন্দ্রে পরিণত হয় ইউনিভার্সিটি অব শাঙ্কোর। সেই সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ২৫ হাজার আবাসিক শিক্ষার্থী বিদ্যার্জন করতো এবং পাঠাগারে ছিল এক লাখেরও বেশি বই।

    টানা ২৫ বছর মালি শাসন করে ১৩৩২ সালে মৃত্যুবরণ করেন বিশ্বের সর্বকালের সবচে ধনী এই ব্যক্তি। তবে মৃত্যুর সঠিক কোনো কারণ এখনো উদ্ধার করতে পারেননি ইতিহাসবিদরা। মৃত্যুর সাল নিয়েও আছে বিতর্ক। ইতিহাসবিদ ইবনে খালদুনের মতে, কমপক্ষে ১৩৩৭ সাল পর্যন্ত বেঁচে ছিলেন তিনি। ওই বছরই আলজেরিয়া বিজয়ে সেনাবাহিনী পাঠিয়েছিলেন মুসা।

    দুজন নারী আপনার জান্নাত অথবা জাহান্নাম।কন্যা সন্তান হল জাহান্নাম থেকে মুক্তির উপায় এবং মায়ের পদত্যলে সন্তানদের জান্নাত।

    ♥️♥️ এ পৃথিবীর আপনার নিকটতম দুজন নারী হলো আপনার জান্নাত এবং জাহান্না নির্ধারক তুলাদন্ড। এই দুইজন নারীকে আপনি সঠিক যত্ন করলে এবং আল্লাহ নির্দেশিত পথে পরিচালিত করলে যেমন আপনার জন্য জান্নাত নির্ধারিত তদ্রুপ তাদের অপছন্দ করলে অথবা তাদের অবহেলা করলে কিংবা তাদেরকে আল্লাহর নির্দেশিত পথ ভিন্ন অন্য কোন পথে পরিচালিত করার ব্যবস্থা করলে আপনার জাহান্নাম নির্ধারিত।

    👉👉 জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচতে হলে কন্যা সন্তানের প্রতি যত্নবান হন। তাদেরকে আদর করুন। ইসলামী শিক্ষা প্রদান করুন। এবং দ্বীনদার ছেলে দেখে পাত্রস্থ করুন। ছেলে মেয়ের মধ্যে বৈষম্য করবেন না। জীবিত অবস্থায় আপনি ছেলেমেয়েদেরকে কোন কিছু দান করলে সমান হারে দান করুন।
    ( মেয়ে একভাগ আর ছেলে দুই ভাগ পাবে আপনার মিরাস। অর্থাৎ আপনি মরে যাওয়ার পর আপনার রেখে যাওয়া সম্পত্তি। জীবিত অবস্থায় ছেলে-মেয়েকে কিছু দান করতে চাইলে একেবারে সমান সমান দান করতে হবে । একটু বেশকম করলে আপনাকে জাহান্নামে হতে হবে।
    দলিলঃ একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাই সালাম এর কাছে এক সাহাবী এলেম রাসুলকে সাক্ষী রাখার জন্য। সাহাবী এসে বললেন, ইয়া রাসুল আল্লাহ আমি আমার অমুক ছেলেকে একটা কাজের লোক এবং কিছু সম্পত্তি দান করতে চাই। রাসূলুল্লাহ বললেন, তোমার ছেলে মেয়ে কয়জন। সাহাবী বললেন, ৯ জন।
    এবার রাসুলুল্লাহ লোকটির দিকে তাকিয়ে বললেন, তুমি কি তোমার প্রত্যেক ছেলে মেয়েকে একটি করে দাসী এবং সমপরিমাণ সম্পদ দান করেছ?? লোকটি বলল, না ইয়া রাসুল আল্লাহ। আমি শুধু তাকেই দিতে চাই এবং তার জন্য আপনাকে সাক্ষী রাখতে চাই। রাসূলুল্লাহ বললেন, আমি তোমার এই জুলুমের সাক্ষী হব না। তুমি যদি জীবিত অবস্থায় কিছু দান করতে চাও তাহলে অবশ্যই ছেলেমেয়ে উভয়কে সমান হারে দান করতে হবে।)

    🖋️🖊️আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন আমার নিকট একটি মহিলা তার দুটি কন্যাকে সঙ্গে করে ভিক্ষা করতে (গৃহে) প্রবেশ করল। কিন্তু সে আমার নিকট খেজুর ছাড়া আর কিছু পেল না। আমি খেজুরটি তাকে দিলাম সে সেটিকে দুই খণ্ডে ভাগ করে তার দুটি মেয়েকে খেতে দিল। আর নিজে তা হতে কিছুও খেলনা। অতঃপর সে উঠে বের হয়ে গেল। তারপর নবী (সাঃ) আমাদের নিকট এলে আমি ঐ কথা তাঁকে জানালাম। ঘটনা শুনে তিনি বললেন, “ যে ব্যাক্তি একাধিক কন্যা নিয়ে সঙ্কটাপন্ন হবে, অতঃপর সে তাদের প্রতি যথার্থ সদ্ব্যবহার করবে, সেই ব্যাক্তির জন্য ঐ কন্যারা জাহান্নাম থেকে অন্তরাল (পর্দা) স্বরূপ হবে।” (বুখারী, মুসলিম)

    পৃথিবীতে অদ্যবতী পর্যন্ত যত লোক নিহত হয়েছে তা প্রায় সবই ধর্ম যুদ্ধে। আসলে কি তাই ⁉️

    🤔🤔এক নাস্তিক তার আইডিতে পোষ্ট করেছে-“পৃথিবীতে অদ্যাবধি যত যুদ্ধ হয়েছে, এবং যত মানুষ যুদ্ধে নিহত হয়েছে, তার চেয়েও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে ধর্মযুদ্ধে।
    ধর্মেধর্মে বা একই ধর্মভূক্ত মানুষের মধ্যে বহুধা বিভক্ত মানুষ পরস্পর হানাহানি বা যুদ্ধে লিপ্ত।
    ধর্মযুদ্ধই একমাত্র যুদ্ধ যা বিরামহীন।
    যা কখনওই শেষ হয়না।
    মানুষে মানুষে ভেদ সৃষ্টিতে ধর্মের রয়েছে এক বিশেষ ভুমিকা”।

    👉👉মূলতঃ নাস্তিকেরা খুব কম চিন্তা করে এবং কম জানে বলেই তারা নাস্তিক। ভালো করে পড়াশুনা করলেই কেউ কখনো নাস্তিক হয় না। আর যারা আল্লাহকে ভয় করে তাদেরকে আল্লাহ পবিত্র কোরআনে এই জ্ঞানী বলেছেন।
    আল্লাহ বলেছেন, “একমাত্র জ্ঞানীরাই আল্লাহকে ভয় করে”!
    যাই হোক, ধর্মের জন্য খুউব কম লোকই মরেছে ।

    শুনুন তাহলে আমি এখানে ছোট্ট একটা ফিরিস্তি দিছি মাত্র।
    ২য় বিশ্বযুদ্ধেই নাস্তিকদের বাবা ডারউইনের মতবাদকে কায়েম করতে ৫ কোটি লোক নিহত হয়েছিল। আর তা করেছিল হিটলার নাস্তিকের থিওরি অনুসরণ করে ।
    বেনিতো মোসোলিনি ইতালী ও উত্তর আফ্রিকায় মেরেছে প্রায় ৯০ লক্ষ লোক যা কোন ধর্মের জন্য হয়নি ।
    এ্যারিস্টটলের একান্ত শিষ্য আলেকজেন্ডার শুধু এ্যারিস্টটলের মতবাদকে প্রতিষ্ঠিত করতে যেয়ে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কোটি কোটি বনি আদম হত্যা করেছে যা কোন ধর্মের জন্য হয়নি ।

    নিমরদ বা নমরুদ শুধু ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য কোটি লোক হত্যা করেছে ।
    ফিরাউন বংশের শাষকরা শুধু ক্ষমতার চেয়ারের জন্য টানা ৩০০০ বছর কোটি কোটি মানুষ হত্যা করেছে যা কোন ধর্মের জন্য হয়নি ।

    গত শতাব্দীতে সমাজতন্ত্রকে কায়েমের জন্য শুধু রাশিয়াতেই স্তালিনের নির্দেশে কেজিবি ও তাদের দোসর দ্বারা নিহত হয়েছে ২কোটি বনিআদম ।
    চীন ও পূর্ব ইউরোপে সমাজবাদ কায়েমের বিরোধীতা করায় গত শতকে প্রাণ দিয়েছে ৪ কোটি লোক ,যা কোন ধর্মের জন্য হয়নি ।

    তাছাড়া শুধু আমেরিকা গত ২০০বছর যাবত তাদের বিশ্বে প্রধান্য বজায় রাখার জন্য প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বিভিন্ন জায়গায় যুদ্ধ এবং মহামারী আর কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে মেরেছে প্রায় ৩০ কোটি লোক , যা কোন ধর্মের জন্য হয়নি ।
    বিটিশ ১৬০০ সাল থেকে শুরু করে ১৯০০ সাল পর্যন্ত গোত্রে গোত্রে যুদ্ধ লাগিয়ে হত্যা করেছে কোটি কোটি লোক, যা কোন ধর্মের জন্য হয়নি ।
    তারা আমেরিকায় গুটিবসন্তের জীবানুযুক্ত কম্বল বিতরণ করে পুরো আমেরিকাকে রেড ইন্ডিয়ান শূণ্য করেছিল ফলে বর্তমান আমেরিকার প্রায় সবাই ইউরোপীয় যা কোন ধর্মের জন্য হয়নি ।

    তারা আফ্রিকা উপকুল ও ভূমধ্যসাগরীয় এলাকায় প্লেগ রোগের জীবানু ছড়িয়ে কোটি কোটি লোক মেরে ফেলেছিল যার একটিও কোন ধর্মের জন্য হয়নি ।
    এমন হাজারো ফিরিস্তি দেয়া যাবে ।
    আমি নাস্তিকদের সাথে তর্ক করার জন্য নয় বরং বন্ধুদের জানানোর জন্য কয়েকটি ঘটনা উল্লেখ করলাম ।
    👉👉 আমি সকল ভাইদের কাছে বলব, দয়া করে আপনারা পড়াশোনা করুন এবং চারদিকে দৃষ্টি রাখুন। ইতিহাস গুলো পড়ুন এবং বর্তমান ইতিহাসের উত্তরসূরী নাস্তিকদের দিকে খেয়াল রাখুন এবং তাদের কর্মতৎপরতা পর্যবেক্ষণ করুন। আর যতটুকু পারেন সমাজে পরিবারের এবং অনলাইনে কাজ করুন।
    আপনার অবহেলার জন্য যদি আপনার পরিবার অথবা সমাজ কিংবা সভ্যতা বিনষ্ট হয়, তাহলে অবশ্যই আপনাকে আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করতে হবে। কেননা জ্ঞান আপনার নিকট আমানত রাখা হয়েছে।
    সময় কে আপনি কিছুতেই অপচয় করতে পারেন না, এবং জ্ঞানের অপব্যবহার বা লুকাতে পারেন না।

    mahabuburrahman1720@gmail.com