
👉👉 জুতা পরে সালাত / নামাজ আদায় করার বিধান , এই নিবন্ধে দলিল সহ সবিস্তারে আলোচনা করা হলোঃ
👉👉 আমাদের দেশে ,বিশেষ করে ভারতীয় উপমহাদেশের সমাজে জুতা পায়ে দিয়ে নামাজ পড়ার কথা কেউ চিন্তাও করতে পারে না।
অথচ জুতা পায়ে দিয়ে নামাজ পড়া একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত।
রাসূলুল্লাহ সাঃ বাড়িতে এবং সফল উভয় অবস্থায় জুতা পরে নামাজ পড়তেন।
সফরে তিনি জুতা খুলে নামাজ পড়েছেন এমন কোন দলিল পাওয়া যায় না।
তবে মসজিদে নামাজ পড়ার সময় তিনি জুতা খুলে নিয়েছেন অথবা ঘরে জায়নামাজে নামাজ পড়ার সময় তিনি জুতা খুলে নিয়েছেন।
মোটকথা, সফরে নামাজ সংক্ষিপ্ত বা কসর করা যেমন একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত, তদ্রূপ সফরে জুতা পায়ে দিয়ে নামাজ পড়াও একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত।
🤔🤔 আমাদের অভ্যাস হলো, যা সুন্নত নয় তা খুব করে প্রচার করি আর যা সুন্নত তা গোপন রাখি।
যেমন নামাজে টুপি পরার কোন দলিল কোথাও নাই। যা দুই একটা দলিল আছে ঐ সকল হাদিস গুলো প্রচুর সন্দেহযুক্ত অত্যন্ত দুর্বল অথবা জাল।
অথচ আমাদের সমাজে টুপি না পড়ে কেউ নামাজ পড়লে তাকে তিরস্কার করা হয় এবং ভিন্ন দৃষ্টিতে দেখা হয়। (টুপি অবশ্যই একটি উত্তম পোশাক এবং পবিত্র কোরআনে উত্তম পোশাক পড়ে নামাজ পড়ার কথা বলা আছে । তাই টুপি পরা ভালো)
কিন্তু আমাদের সমাজে কেউ যদি জুতা পড়ে নামাজ পড়ে তাহলে শুরু হয়ে যাবে চারদিক থেকে ফতোয়াবাজি। এবং আর কিছু যদি না পায় তাহলে বলবে জুতার তলায় নাপাকি লেগে থাকে তাই জুতা পরে নামাজ পড়া নাজায়েজ। অথচ হাদিসে স্পষ্ট উল্লেখ আছে গরু ছাগল তথা হালাল প্রাণীর প্রস্রাব পায়খানা অপবিত্র নয় এবং পথের ধুলা সব সময় পবিত্র। বরং ধুলা-মাটি মেখে তায়ামুম করে আমরা আরো পবিত্র হতে পারি।
👉👉 রাসুল সাঃ জুতা পরে সালাত আদায় করেছেন এবং এর দলিলগুলো নিম্নরূপ-
১// আবু মাসলামাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আনাস ইবন মালিক (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম, নবী (সাঃ) কি তাঁর জুতা পরে সালাত আদায় করতেন? তিনি বললেন, হাঁ’’ [বুখারী ৩৮৬, ৫৮৫০; মুসলিম ৫৫৫; তিরমিযি ৪০০; নাসায়ী ৭৭৫; মুসনাদ আহমাদ ৪০১]
২// আমর ইবন শুয়াইব (রাঃ) হতে পর্যায়ক্রমে তাঁর পিতা ও দাদার সুত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সাঃ)-কে কখনো খালি পায়ে আবার কখনো জুতা পরে সালাত আদায় করতে দেখেছি’’ [আবু দাউদ ৬৫৩; ইবন মাযাহ ১০৩৮; মুসনাদ আহমাদ ৩৯৯]
৩// ইবন আবু আওস তাঁর দাদা হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেনঃ ‘’আমি রাসুলুল্লাহ (সাঃ)-কে তাঁর জুতাজোড়া পরিহিত অবস্থায় সালাত আদায় করতে দেখেছি’’ [ইবন মাযাহ ১০৩৭; মুসনাদ আহমাদ ৪০৭]
৪// আবুদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসুল (সাঃ)-কে জুতা পরিহিত অবস্থায় এবং মোজা পরিহিত অবস্থায় সালাত আদায় করতে দেখেছি’’
–ইবন মাযাহ ১০৩৯!
৫// আবু হুরায়রাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুল (সাঃ) বসে ও দাঁড়িয়ে, জুতা পায়ে ও খালি পায়ে নামাজ পড়েছেন’’
–মুসনাদ আহমাদ ৪০২!
৬// আবু ‘আলা ইবন সিখইয়ির থেকে বর্ণিত। তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেনঃ ‘’আমি রাসুল (সাঃ)-কে জুতাজোড়া পরে নামাজ পড়তে দেখেছি’’
–মুসনাদ আহমাদ ৪০৩!
৭// আবু আওবয়ার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি আবু হুরায়রাহ (রাঃ)-এর নিকট এসে জিজ্ঞেস করলো, আপনি কি জুতা পরে লোকদেরকে নামাজ পড়তে নিষেধ করছেন? তিনি বললেনঃ না, আমি রাসুল (সাঃ)-কে এ স্থানে জুতা পরে নামাজ পড়তে এবং জুতা পরে স্থান ত্যাগ করতে দেখেছি’’
–মুসনাদ আহমাদ ৪০৪!
৮// মুজাম্মা ইবন ইয়াকুব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি কুবার এক গোলাম থেকে বর্ণনা করেন। সে একজন বৃদ্ধ লোকের সাক্ষাৎ পেল। তিনি বলেন রাসুল (সাঃ) আমাদের কাছে কুবায় আসলেন, তখন এক বাড়ির আঙ্গিনায় বসলেন। তাঁর চারপাশে কিছু লোকেরা একত্রিত হল। তখন রাসুল (সাঃ) পানি পান করতে চাইলেন, পান করার সময় আমি তাঁর ডান পাশে বসা ছিলাম। লোকদের মধ্যে আমি ছিলাম সবচেয়ে ছোট। তখন তিনি আমাকে পানি পান করতে দিলেন, আমি পান করলাম। আমার স্মরণ আছে, তিনি আমাদের নিয়ে সে দিন জুতা পরে নামাজ পড়েছিলেন, তা খুলেন নি’’
–মুসনাদ আহমাদ ৪০৫!
৯// অন্য আরেকটি বর্ণনায় আছে। তিনি মুহাম্মাদ ইবন ইসমাইল ইবন মুজাম্মা (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবন আবী হাবিবাকে বলা হল, আপনি রাসুল (সাঃ) থেকে কি শিখেছেন? রাসুল (সাঃ) যখন (কুবায়) আসেন তখন তিনি ছিলেন ছোট বালক। তিনি বলেন, রাসুল (সাঃ) একদিন আমাদের মসজিদে (অর্থাৎ কুবা মসজিদে) আসেন। তখন আমরা সেখানে গমন করি এবং তাঁর পাশে বসি। লোকেরাও তাঁর পাশে বসেন। অতঃপর তিনি নামাজ পড়তে দাঁড়ান। তখন আমি তাকে জুতা পরিহিত অবস্থায় নামাজ পড়তে দেখি’’
-মুসনাদ আহমাদ ৪০৫!
১০// আবদুল্লাহ ইবন মাস’উদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসুল (সাঃ)-কে মোজা ও জুতা পরে নামাজ পড়তে দেখেছি’’
-মুসনাদ আহমাদ ৪০৬!
১১// আবু সাইদ আল-খুদরী (রাঃ) সুত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসুলুল্লাহ (সাঃ) তাঁর সাহাবীদেরকে নিয়ে সলাত আদায়কালে তাঁর জুতাজোড়া খুলে তাঁর বাম পাশে রেখে দিলেন। এ দৃশ্য দেখে লোকেরাও তাঁদের জুতা খুলে রাখল। রাসুল (সাঃ) সালাত শেষে বললেনঃ ‘’জিবরীল (আঃ) আমার কাছে এসে আমাকে জানালেন, আপনার জুতাজোড়ায় অপবিত্র বস্তু লেগে আছে।
তিনি আরও বললেন, তোমাদের কেউ মসজিদে প্রবেশ করলে সে যেন জমিনে তা ঘসে নিয়ে পরিধান করে সালাত আদায় করে’’।
— আবু দাউদ ৬৫০; মুসনাদ আহমাদ ৪৬, ৪০০; দারিমী ১৩৭৮; ইবন খুজাইমাহ (২/৪৩১।
১২// আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
“যখন তোমাদের কেউ (মসজিদে) সালাত আদায় করতে এসে নিজ জুতা জোড়া পা থেকে খুলে ফেলে তখন সে যেন তা দিয়ে কাউকে কষ্ট না দেয়। সে যেন জুতা জোড়া নিজ দু’ পায়ের মাঝখানে রাখে অথবা তা পরেই সালাত পড়ে”।
–আবু দাউদ, হাদীস নং ৬৫৫।
১৩// অন্য বর্ণনায় রয়েছে,
“যখন তোমাদের কেউ (মসজিদে) সালাত আদায় করতে আসে তখন সে যেন নিজ জুতা জোড়া পা থেকে খুলে নিজের ডানে কিংবা বাঁয়ে না রাখে। কারণ, তা সে ব্যক্তির বাঁ দিক হলেও তা কিন্তু অন্য মুসল্লির ডান দিক। তবে তার বাঁ দিকে কোনো মুসল্লি না থাকলে তা আর অন্য মুসল্লির ডান হচ্ছে না। বরং সে যেন তার জুতা জোড়া নিজ দু’ পায়ের মাঝখানেই রাখে”।
–আবু দাউদ, হাদীস নং ৬৫৪।
কারোর পায়ে ফিতা বিশিষ্ট কোনো জুতা কিংবা মোজো পরা থাকলে যা পা থেকে খোলা খানিকটা কষ্টকর, তা হলে তা পরেই সালাত পড়া সুন্নাত: তবে মসজিদে ঢুকার পূর্বে নিজ জুতা জোড়া ভালোভাবে দেখে নিবে। তাতে কোনো নাপাক বা ময়লা দেখলে তা অতি সত্বর ভালোভাবে পরিষ্কার করে নিবে। যাতে করে মসজিদের কার্পেট, পাটি ইত্যাদি নষ্ট না হয়। অতঃপর তা পরেই সালাত পড়বে।
তবে একটা বিষয় লক্ষ্য রাখবে, আজকাল প্রায় সব মসজিদে এমন ভাবে কার্পেটিং করা অথবা টাইলস করা আছে যে সেখানে জুতা নিয়ে যাওয়ার কোন বন্দোবস্ত নেই।
তখন অবশ্যই জুতা খুলে মসজিদে প্রবেশ করবে।
১৪// শাদ্দাদ ইবন আউস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
“তোমরা ইয়াহূদীদের বিরোধিতা করো। তথা জুতা কিংবা মোজা পরেই সালাত পড়ো। কারণ, ইয়াহূদীরা জুতা কিংবা মোজা পরে কখনো সালাত পড়ে না”।
— আবু দাউদ, হাদীস নং ৬৫২
উপরোক্ত হাদিস থেকে এটাই প্রমাণ হয় যে জুতা খুলে নামাজ পড়ার সম্পূর্ণ অপশন থাকলেও মাঝেমধ্যেই জুতা পায়ে দিয়ে নামাজ পড়তে হবে কেননা ইহুদিদের বিরোধিতা করা ও এক প্রকার বড় রকমের নেকীর কাজ।
অনেকেরই মনে হয়তো প্রশ্ন আসতে পারে,-
আমরা তো জুতা বা স্যান্ডেল খুলেই সালাত আদায় করি! এতে কি ইয়াহুদী-নাসারাদের অনুকরণ হচ্ছে?
উত্তর হল, আমাদের জুতা খোলা ও তাদের জুতা খোলার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। আমরা জুতা খুলি পরিছন্নতার জন্য আর তারা জুতা খুলে পবিত্রতার জন্য। জুতা পরিচ্ছন্ন থাকলে একজন মুসলিম জুতা পরে সালাত আদায় করতে পারেন ও মসজিদে প্রবেশ করতে পারেন। কিন্তু ইয়াহুদী-নাসারা জুতা খোলাকে ইবাদতের অংশ ও ইবাদত গৃহের জন্য অসম্মানজনক বলে মনে করে। ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গিতে পাদুকা পায়ে মসজিদে প্রবেশ করলে মসজিদের পবিত্রতা নষ্ট হয় না,
তবে পরিচ্ছন্নতা নষ্ট হতে পারে। যদি বুঝতে পারা যায় যে জুতা পায়ে দিয়ে মসজিদে প্রবেশ করলে পরিচ্ছন্নতা নষ্ট হবে তাহলে উচিত হল জুতা খুলেই মসজিদে প্রবেশ করবে। এবং পৃথিবীর মসজিদ গুলোর ৯৯% মসজিদে এখন জুতা খুলে যাওয়ারই সিস্টেম রাখা হয়েছে।।
তবে যদি সন্দেহ হয় যে জুতাতে নাপাকি লেগে থাকতে পারে তাহলে মাটিতে কতক্ষণ ঘষে নেবে তবেই পবিত্র হয়ে যাবে। কেননা মাটি পানির মতোই পবিত্র। নাপাক জুতা মোজা পড়ে অথবা শরীরে নাপাকি লেগে থাকলে নামাজ হবে না।
👉👉 কেউ হয়তো প্রশ্ন করতে পারেন যে কোন ধরনের জুতা পরে নামাজ হবে আর কোন ধরনের পরে হবে না?
মূলত এই জাতীয় প্রশ্ন হলো অবান্তর প্রশ্ন। জুতা মানে জুতা অর্থাৎ যা পা’য়ে পরা হয়।
তা চামড়ার হোক, কাপড়ের হোক, কাগজের হোক, কিংবা আর্টিফিশিয়াল লেদারের হোক, বা প্লাস্টিকের হোক, জুতা হলেই হবে।
হাদিসে কেবল জুতার কথা অর্থাৎ পাদুকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে ব্যাস এতটুকুই যথেষ্ট।
👉👉 কেউ হয়তো এ প্রশ্ন করতে পারেন যে, আমি কি সুন্নত পালন করার জন্য বাংলাদেশের বা অন্যান্য মসজিদ সমূহে জুতা পায়ে দিয়ে প্রবেশ করব??
মূলতঃ এ জাতীয় অহেতুক প্রশ্নের অবতারণা করা কোন বিষয়কে জটিল ও হাস্যকর করার নামান্তর। বর্তমানে পৃথিবীতে ৯০% এর উপরে মসজিদে জুতা নিয়ে প্রবেশ করার পদ্ধতি নেই। বরং যাতে জুতা পরে মসজিদে প্রবেশ করতে না হয় সেই সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে। মানুষ যাতে জুতা খুলে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন হয়ে মসজিদে প্রবেশ করতে পারে তার জন্য মসজিদের পাশেই অজুখানা এবং টিস্যু,গামছা ইত্যাদি সবকিছুর ব্যবস্থা করে রাখা হয়,
ফলে বর্তমান সময়ে জুতা নিয়ে প্রবেশ করতেও হয় না আর এই জাতীয় পাগলামি করার কথা কেউ চিন্তাও করবে না।
বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে এটাই ঠিক যে, আপনি জুতা নিয়ে মসজিদে প্রবেশ করবেন না কেননা সেখানে জুতা না নিয়ে প্রবেশ করার পরিবেশ ও সুযোগ সৃষ্টি করে রাখা হয়েছে।
অতএব, সুযোগ সুবিধা থাকা সত্ত্বেও যে ব্যক্তি সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করে না তাকে পাগল ছাড়া আর কি বলা যায়?
মসজিদে আপনার ওযুর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, আরামে নামাজ পড়ার জন্য কার্পেটের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, ফ্যান, এয়ার কন্ডিশনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, হাতমুখ মোছার জন্য কাপড় অথবা টিস্যুর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে ।
এত ব্যবস্থা সত্ত্বেও কেউ যদি জুতা নিয়ে মসজিদে প্রবেশ করে তাহলে তো তাকে পাবলিক তিরস্কার করবে অথবা পাগল বলবে।
সাহাবায়ে কেরাম এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম তো কখনো আমাদের মত আধুনিক বাথরুমে প্রস্রাব-পায়খানা করতেন না বরং তিনি এই জাতীয় প্রয়োজন হলে লোকালয় থেকে দূরে আড়ালে চলে যেতেন।
কিন্তু এখন যদি কেউ বলে যে টয়লেটে রাসুল প্রস্রাব-পায়খানা করেননি তাই এটাই সুন্নত।
অতএব আমি বাইরে জঙ্গলে করব।
আর টয়লেট থাকা সত্ত্বেও যদি এই অপকর্ম আপনি করেন, তাহলে আপনাকে কি করা দরকার?? অতএ বন্ধু,সহজ জিনিসটাকে জটিল করবেন না। প্রশ্ন করার ইচ্ছা থাকলে হাজারো প্রশ্ন তৈরি করা যায়।
👉👉 সর্বশেষ আরো একটি প্রশ্ন থেকে যায়, আর তা হল– নাপাক জুতা অথবা শরীরে নাপাকি নিয়ে অথবা নাপাক শরীর নিয়ে নামাজ শুদ্ধ হবে না এটাই সর্বসম্মতি মত।
আমাদের বাংলাদেশ জুতার তলায় কাদা বা ধুলা মাটি ইত্যাদি লেগে থাকে।
এ পর্যায়ে মনে রাখতে হবে,
প্রথমতঃ পথের ধুলা মাটি সব পবিত্র। বরং পানি না থাকলে ধুলামাটি দ্বারা তা এমন করে পবিত্রতা অর্জন করতে হয়।
দ্বিতীয়তঃ মাত্র তিন প্রকারের জিনিস অপবিত্র। আর তা হলো,
১. মানুষের মলমূত্র,
২.যে কোন নাপাক প্রাণী যেমন শুকর, কুকুর ইত্যাদি প্রাণীর মলমূত্র।
৩. যে কোন প্রাণীর পচা দুর্গন্ধযুক্ত মৃতদেহ ।
উপরোক্ত তিন প্রকারের বস্তুর শরীরে বা জুতার মধ্যে লেগে থাকলে তা সেই জুতা ও শরীর সহ নামাজ পড়া বৈধ নয়। বরং জুতা খুলে ফেলতে হবে আর শরীরে কোন জায়গায় লাগলে তা ধুয়ে ফেলতে হবে।
উল্লেখ্য যে, পৃথিবীর সকল হালাল প্রাণীর মলমত্র অপবিত্র নয় এবং তা শরীরে বা জুতায় লেগে থাকলে সেই জুতা দিয়ে নামাজ হয়ে যাবে।
এবং বিড়াল, বাঘ , সিংহ ইত্যাদি প্রাণী খাওয়া হারাম হলেও প্রাণীগুলো অপবিত্র নয়। এবং এই জাতীয় প্রাণীর মলপুত্র শরীরের লাগলেও বা জুতার তলায় থাকলেও নামাজ হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ।















